<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | রুপকথা | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/rupkatha/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/rupkatha/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for রুপকথা.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 19 Jun 2026 20:08:28 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">0194feba8e768333ba03a1a122dc43d9</guid>
				<title>ছোটগল্প - রমজানের এক সন্ধ্যায় 
----------------------------------------------
কাজ করতে করতে যখন ক্লান্ত তখন হঠাৎ পিওন এসে বলে গেল, &quot;ম্যাডাম, আপনার সাথে একজন দেখা করতে আসছে। নিচে অপেক্ষা করছে।&quot;
আমি বিব্রত হলাম একটু। এখন এই মুহূর্তে কারো আসার কথা না, তাও আবার অফিসে। এই মুহুর্তে হোক আর যে কোন মুহূর্তেই হোক, কেউই আসার কথা না।  ভাবতে ভাবতে আমি আবার কাজে মনোযোগী হয়ে পরি। ভাবলাম হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে, অন্য কাউকে বলতে গিয়ে আমাকে এসে বলে গিয়েছে অথবা যে এসেছে সে অন্য কাউকে খুঁজতে গিয়ে আমার কথা বলে ফেলেছে। কিন্তু যদি সত্যিই কেউ এসে থাকে, আমার কি গিয়ে দেখা উচিত? ঠিক তখন আবার আমাকে এসে ডেকে গেল পিওন, এবার একটু বিরক্ত হয়েই। আমার আর কি করার! হাতের কাজ সব রেখে নিচে গেলাম। লিফ্ট নষ্ট হয়ে আছে অফিসের আর রোজা রেখে সিড়ি দিয়ে উঠা নামা করতে হচ্ছে। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল। 
নিচে গিয়ে চারপাশ ঘুরে দেখলাম। কেউই তো নেই। ওয়েটিং রুমে, লবিতে অথবা অফিসের বাইরেই রাস্তায়, কাউকেই দেখতে পেলাম না। রিসিপশনিস্টকে জিজ্ঞেস করলে সেও কিছু বলতে পারলো না। পিওনের উপর রাগ হলো। তারপর নিজের উপর। নিশ্চয় যে এসেছিল সে তার মানুষের সাথে দেখা করে চলে গিয়েছে, পিওন ভুলেই আমাকে এসে বলে গিয়েছে। রমজান মাস নাহলে মুখটাই খারাপ হয়ে যেত এখন। গরম মেজাজ নিয়ে যখন আবার উপরে উঠতে যাবো তখন পেছন থেকে কে যেন কাধে টোকা মারলো। একবার দুইবার তিনবার। মাথা ঠান্ডা রেখে তবুও বিরক্তি নিয়ে ঘুরে তাকালাম। 
যা হলো তা আমি আশা করিনি কল্পনাতেও। মুহূর্তেই রাগ আমার পানি হয়ে গেল আর অবাক হ‌ওয়ার কারণে কি থেকে কি করবো ভেবে উঠতে পারছিলাম না। খুশি হয়েছিলাম? হয়েছিলাম বোধহয় তবে সেটা বুঝে উঠার আগেই মনে হলো চারপাশে সবাই তাকিয়ে আছে। হুট করেই এভাবে একজনকে জড়িয়ে ধরার চিত্র নিশ্চয় সচরাচর কেউ অফিসে দেখে না! তাই আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখা রোহানকে জোর করেই ছাড়ালাম কিন্তু তখন আবার আরেক কাহিনী করলো সে। ঠিক যখন আমাকে ছাড়বে তখন আমার ঘাড়ে একটু চুমু বসিয়ে দিল আর আমার সামনে দাঁড়ালো। আমার চোখ কপালে উঠে গেল। কেউ দেখেছে কিনা সেটা দেখার মত সাহস করতে পারলাম না। কিন্তু মহাশয় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছেন। 
&quot;তুমি হঠাৎ এখানে? এই সময়ে?&quot;
রোহানকে আমি প্রশ্ন করলাম। আমার অফিসে কখনো সে আসে না। আমি অনেক অনুরোধ করেও কখনো তাকে আমার অফিসে নিয়ে আসতে পারি নি, বসের সাথে পরিচয় করাতে পারি নি আমার স্বামীর আর এটা নিয়ে একটা চাপা অভিমান আমার সবসময়ই কাজ করতো তার উপর। অদ্ভূত কোন কারণেই হয়তো সে আসতে চায় নি। আমি জানি না। অনেকবার জিজ্ঞেস করার পরেও রোহান আমাকে কোন উত্তর দেয় নি। তাই আমিও জোরাজুরি করা বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু আজকে বিয়ের ছয় মাস পরে হঠাৎ সেই রোহান আমার অফিসে কিভাবে চলে আসলো? 
&quot;একসাথে ইফতার করবো আজকে আমরা। তুমি তোমার সব কাজ শেষ করে নাও তাড়াতাড়ি, আমি এর মাঝে তোমার বসের সাথে একটু কথা বলে আসি।&quot;
আমি আবার‌ও অবাক হলাম। একটু না, অনেক অবাক হলাম। আজকে সূর্য কোন দিক থেকে উঠেছে? রোহান হঠাৎ এরকম আচরণ করছে কেন? রোহানের কপালে হাত রাখলাম তার জ্বর হয়েছে কিনা দেখার জন্য কিন্তু সব‌ই তো ঠিক আছে। তাহলে এরকম করছে কেন সে? 
আমার চাহনি দেখে নাকি নিজে থেকেই জানি না, রোহান আমাকে একটু ব্যাখ্যা করলো তার কাজের পেছনের কারণ। 
&quot;আজকে এদিকেই কাজ ছিল আমার। ভাবলাম একসাথে ইফতার করি আজকে। আমাদের তো বিয়ের পরে প্রথম রমজান, একটু তো সেলিব্রেট করাই উচিত। আর তুমি এতো করে আসতে বলতে, সবার সাথে দেখা করতে বলতে, চলে আসলাম তাই আজকে। সবার সাথে দেখাও হবে, তোমাকেও সাথে করে নিয়ে যাবো। ঠিক আছে?&quot;
আজকে একটার পর একটা শক রোহান আমাকে দিয়েই যাচ্ছে। এই অত্যাচার কেন আমার উপর? মাথা ফেটে যাচ্ছে আমার! যাই করছে সে যেই কারণেই করুক, হঠাৎ তার চিন্তার মধ্যে আমার অফিসে আসার কথা কিভাবে আসলো? রোহান কি সত্যিই এসব ভেবেই আসলো নাকি অন্য কিছু? 
রোহান এতটা রোমান্টিকও না, বিয়ের পরে একবার কি দুবার আমরা বের হয়েছিলাম তাও বাড়ির সবার জোরাজুরিতে নাহলে নিজে থেকে রোহান কখনোই কিছু করতো না। তাই আজকে ইফতারে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটাও হজম হচ্ছে না ঠিক মত। কোন গণ্ডগোল হবে নাকি আজকে? 
&quot;কি হলো? দাড়িয়ে দাড়িয়ে কি ভাবছো? যাও। শেষ করো সব। আমাদের বের হতে হবে।&quot;
&quot;তোমাকে বসের কাছে নিয়ে যাই চলো।&quot;
রোহানকে নিয়ে আগাবো যখন পিওন সামনে এসে দাঁড়ালো আমাদের। 
&quot;স্যারকে আমি নিয়ে যাচ্ছি ম্যাডাম, আপনি আপনার কাজ শেষ করেন।&quot;
রোহান পিওনের সাথে বসের রুমের দিকে চলে গেল। লিফ্টের কারণে বস অস্থায়ীভাবে নিচতলার কেবিনে চলে এসেছে তাই রোহানকে ঢুকতে দেখলে আমিও উপরে চলে যাই। 
কাজ সব শেষ করতে আরো দেড় ঘন্টার মত লেগে গেল। যত দ্রুত করার চেষ্টা করি, তত যেন কাজ আরো হাতে এসে পরে। যাই হোক, অবশেষে সব শেষ করে রোহানের সাথে বের হয়ে পরলাম। স্টার কাবাবে নিয়ে এসেছে আমাকে আর এখন আমরা বসে আছি খাবার অর্ডার করে। ঢাকা শহর আমি বেশি একটা চিনি না ভালো মত। চট্টগ্রামের মেয়ে আমি কিন্তু বিয়ে করে এখন ঢাকায় আসতে হয়েছে। আমার অফিসের একটা ব্রাঞ্চ এখানে থাকায় বদলি করে চলে আসতে পেরেছি নাহলে চাকরিটাও ছাড়তে হতো। 
&quot;তোমার কাজ কর্ম কেমন যাচ্ছে?&quot;
নীরবতা ভেঙ্গে রোহান কথা বললো। এই প্রথম তাকে ভালো মত খেয়াল করলাম। একটা নীল টি শার্টের উপরে সাদা শার্ট পরেছে, বুক পর্যন্ত বোতামগুলো লাগানো আর সেখানে তার গলায় আমার দেওয়া লকেটটা ঝুলছে। সাধারণত লকেটটা শার্টের ভেতরেই রাখে সে সবসময়, বাসায় গেলে মাঝে মাঝে চোখে পরে যদিও সারাক্ষণ‌ই তার গলায় থাকে কিন্তু আজকে যেন গর্বের সাথেই এটা সবাইকে দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। সেই সাথে চুলে জেল দিয়েছে, হাতে ঘড়ি আর মুখের নিচে হাত দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। রোহান আর আমার দৃষ্টি এক হতেই সে চোখ তুলে ইশারায় প্রশ্ন করলো আবার। আমি একটু গলা পরিষ্কার করে নিলাম। আজকে এত মাস পরে তার এত আদিখ্যেতা কেন সেটাই বুঝতে পারছি না। ভালোই তো যাচ্ছিল সময় দুজন শুধুই একে অন্যের জীবনে থেকে, কোন রকম রোল প্লে না করে। শুধু জানি সে আছে, এ ছাড়া আর কিছুই নেই আমাদের মাঝে। আমি শত চেষ্টা করেও তার কাছে যেতে পারি নি তাই ছেড়ে দিয়েছি তাকে তার হালে। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। 
&quot;ভালোই যাচ্ছে অফিস। কাজের চাপ বাড়ছে দিন দিন।&quot;
&quot;তাই তো চোখের নিচে কালি পরেছে। পার্লারে যাও না তুমি? মেয়েরা তো সাধারণত খুব সচেতন হয় সেসব বিষয়ে।&quot;
&quot;তুমি খুব জানো মেয়েদের ব্যাপারে!&quot;
&quot;জানতে হয়, বোন আছে একটা বাসায় আমার।&quot;
&quot;ওহ।&quot;
এরপর আবার নীরবতা ছেয়ে গেল। এরকম কেজুয়াল কথোপকথন আমাদের মাঝে হয় নি কখনো, পরিবারের কোন সদস্য ছাড়াও আমরা দুজন একা হ‌ই নি কখনো। তাই আজকে অস্বস্তি হচ্ছে তা সত্যি কিন্তু রোহান যদি এক পা এগোতে পারে, আমার‌ও এগিয়ে যাওয়া উচিত। রোহানের দিকে তাকাতেই খেয়াল করলাম সে তার চোখ সরিয়ে ফেললো। এতক্ষণ দেখছিল আমাকে? 
&quot;তো বললে না, তুমি পার্লারে যাও না?&quot;
রোহান আবার এক‌ই প্রশ্ন করলো। 
&quot;না। আমার ঠিক যাওয়া হয় না। পার্লারে একবার যাওয়া শুরু করলে সেটা চালিয়ে যেতে হয় আর আমি রেগুলার যেতে পারবো না। তার উপরে আমার দরকার পরে না।&quot;
&quot;তোমার যাওয়া উচিত। অন্তত মাসে একবার। একটা হেয়ার ট্রিটমেন্ট, একটু মাসাজ আর স্পা। এই কয়টা জিনিস করা উচিত। এটা রেগুলার না করলে কোন ক্ষতি হয় না কিন্তু যতবার‌ই তোমার পক্ষে করা সম্ভব হয় যদি করো, দেখবে খুব ভালো লাগবে। কাজে, কর্মে, জীবনের সব অধ্যায় আরো বেশি ফোকাস করতে পারবে কারণ তোমার মন ও শরীর দুটোই ভালো থাকবে।&quot;
একটানা কথাগুলো বলে থামলো রোহান। জবাবে আমি শুধু মাথা নাড়ালাম। পার্লারে যাওয়া নিয়ে এত কথা? আর বেশি কিছু বলার সুযোগ হলো না, আজানের সময় হয়ে গেল আর আমরাও ইফতারের প্রস্তুতি নিলাম। 
এখানের খাবার বেশ ভালোই আমার মতে। চিকেন তো আমার সবসময়‌ই পছন্দ আর সেই সাথে তাদের চা বেশ ভালো লেগেছে। খাওয়া শেষ করতে করতে রাত নয়টা বেজে গেল। কিন্তু রোহান তারপরেও বসে থাকলো, পাশের চেয়ারে এক হাত রেখে আরাম করে বসে আছে আর এক নাগারে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার কেমন যেন লাগছিল। এভাবে কেউ কখনো আমার দিকে তাকিয়ে থাকে না এতটা সময়, রোহান তো কখনোই না। আমি আমার মত করে ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম, আয়নায় একটু দেখলাম নিজেকে, পানি খেলাম, চুলগুলো ঠিক করলাম, হাত ঘড়িতে সময় দেখলাম কিন্তু পুরোটা সময় জুড়ে রোহানের চোখ আমার উপরেই ছিল। কি হচ্ছে কিছু বুঝতে পারলাম না আর যেই আমি কিছু একটা বলবো তখন রোহান টেবিলের উপরে থাকা আমার হাত তার হাতের মুঠোয় নিলো। এতে সে আমার আরো কাছাকাছি চলে এসেছে আর আমার দম যেন একটু বন্ধ‌ই হয়ে আসলো। সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আমার হাতে চুমু খেলো। এই নিয়ে দুবার, তাও একদিনে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। রোহান এরকম অদ্ভূত আচরণ কেন করছে? 
&quot;রুপকথা, আমি ঘুরিয়ে পেচিয়ে কথা বলতে পারি না। কোন কথাই আসলে বলতে পারি না, সেটা তুমি এতদিনে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছো। কিন্তু কিছু কথা আজকে বলতে চাই নাহলে পরিণতি কি হবে তা আমি ভালো করেই বুঝতে পারছি। তাই সরাসরি বলে দেবো আজকে সব কথা।&quot;
এতটুকু বলে রোহান থামলো। সে আর কি নার্ভাস হবে? তার থেকে বেশি আমিই নার্ভাস। রোহানের কি কোন রোগ আছে? বড় কোন গোপন কথা কি সে বলতে যাচ্ছে? এমন কি কিছু আছে যেটা না জানিয়ে ধোকা দিয়ে আমাকে বিয়ে করেছে? ঢোক গিললাম আমি আর খেয়াল করলাম রোহানের দৃষ্টি আমার গলার দিকে চলে গেল। বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে আমার হাত আরো জোরে চেপে ধরে রোহান আবার আমার চোখের দিকে তাকালো। 
&quot;আমি তোমাকে ভালোবাসি রুপকথা। বিয়ের রাতেই আমি তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু বলতে পারি নি। সাহস করে উঠতে পারি নি। আর বলতে পারছিলাম না বলেই নিজের উপর আরো রেগে ছিলাম। সেই রাগ বোধহয় তোমার উপরেও ঝেড়েছি তাও তুমি কিছুই বলো নি আমাকে। তোমাকে যেদিন প্রথম দেখেছি তার আগে থেকেই আমি তোমাকে ভালোবাসি। মায়ের হাতে প্রথম তোমার ছবি দেখার পর আমার কি যেন হয়ে যায়, আমি নিজে চট্টগ্রাম চলে যাই তোমাকে দেখার জন্য, আমার কেন কি হচ্ছে সেসবের কারণ খোঁজার জন্য আর সেদিন তোমাকে যখন প্রথম নিজের চোখে দেখলাম তখন উত্তরটা আমি পেয়ে গিয়েছিলাম। এরপর আর একটুও দেরী করি নি। আল্লাহর রহমতে তুমিও বিয়েতে অমত দাও নি কিন্তু এত ভালোবেসে যাকে বিয়ে করলাম তাকে ভালোই বাসতে পারছিলাম না। খুব‌ই কষ্ট লাগছিল, তোমাকেও কষ্ট দিচ্ছিলাম জানি। আসলে, আমি কখনো মেয়েদের সাথে মিশতে পারতাম না। দূরে দূরে থাকতাম তাই তোমাকে ভালোবাসলেও তোমার সাথে সহজ হতে পারছিলাম না। তার উপরে একটা ভয় কাজ করতো যে তুমি কি সত্যিই নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছো নাকি পরিবারের কথায়। তুমি কি অন্য কারো সাথে জড়িত ছিলে, কাউকে কি ভালোবাসতে, কোন কিছুই না জেনে তোমাকে বিয়ে করে নিয়ে আসলাম। সেটার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও প্লিজ কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। জানি না তোমার উত্তর কি হবে কিন্তু আর যাই হোক, আমি তোমাকে হারাতে পারবো না তাই তো আজকে কথাগুলো বলে ফেললাম। নাহলে কি হতো ভবিষ্যতে কে জানে! অপেক্ষা শুধু এখন তোমার উত্তরের।&quot;
খুশি হবো নাকি অভিমান করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না তবে আর যাই হোক, আল্লাহ যে আমার জন্য শ্রেষ্ঠ একজনকে পাঠিয়েছেন সেটায় আমার কোন সন্দেহ নেই আর। বিয়ের পরে স্বামী যখন স্ত্রীকে ভালোবাসার কথা বলবে, আবার তার কাছ থেকে উত্তরের অপেক্ষা করবে, এভাবে হাতে হাত রেখে বসে থাকবে কাতর এক চাহনি নিয়ে তখন কোন বলদ মেয়েই পারবে সেই ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে। ভালো লাগছে ভেবে যে আমার স্বামী তাহলে সত্যিই আমাকে চায়, আমার মত। এবার গল্পটা তাহলে বেশ জমবে।
-----------------------------------------------------
--সমাপ্ত--</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/106749/</link>
				<pubDate>Tue, 19 Apr 2022 18:38:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছোটগল্প &#8211; রমজানের এক সন্ধ্যায়<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
কাজ করতে করতে যখন ক্লান্ত তখন হঠাৎ পিওন এসে বলে গেল, &#8220;ম্যাডাম, আপনার সাথে একজন দেখা করতে আসছে। নিচে অপেক্ষা করছে।&#8221;<br />
আমি বিব্রত হলাম একটু। এখন এই মুহূর্তে কারো আসার কথা না, তাও আবার অফিসে। এই মুহুর্তে হোক আর যে কোন মুহূর্তেই হোক, কেউই আসার কথা না।  ভাবতে ভাবতে আম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-106749"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/106749/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b05db89caf9e24072bdd6499a8ca195d</guid>
				<title>ছোটগল্প - মুনিয়ার বিয়ে
------------------------------
মুনিয়ার ছোটবেলা থেকেই বিয়ে করার শখ। বিয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তার। পারিবারিক হোক আর প্রেমের, বিয়ে তার মন মত হতে হবে। একদম স্বপ্নের দেশের রাজকন্যার মত, যা দেখে সবার চোখ জুরিয়ে যাবে।

বিয়ে তো জীবনে মানুষ একবার‌ই করে সুতরাং বিয়ে নিয়ে কেন হাজার স্বপ্ন থাকবে না? মুনিয়া তাই ভাবে।

বাবা-মায়ের এক মাত্র সন্তান মুনিয়া। অনেক আদরের সাথে বড় হয়েছে, যখন যা চেয়েছে তাই পেয়েছে, না চাইতেও অনেক কিছুই পেয়েছে। মুনিয়া মেয়েটা ভারি মিষ্টি একটা মেয়ে। দুধে আলতা গায়ের রঙ, ডাগর বড় চোখ, লম্বা ঘন চুল, উচ্চতা ৫ ফিট ৭ আর সবার আদরের। সবচেয়ে বড় কথা, মেয়েটার মন খুব ভালো। বড়লোক বাবার বিগড়ে যাওয়া সন্তান নয় সে। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সে ছিল প্রথম। পড়াশোনা থেকে শুরু করে খেলাধূলা, ঘরের কাজ সবকিছুতে সে পারদর্শী। সবসময় সবাইকে যেভাবে পারে সাহায্য করার চেষ্টা করে। বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করাটা সে খুব ভালো করেই জানে। এক কথায় বলতে গেলে সর্বগুণে সম্পন্ন মুনিয়া, যার কারণে সবসময়‌ সবার চোখের মণি হয়েই থেকেছে। আরেকটা গুণ আছে তার যেটা তার সর্বকালীন গর্ব, তার নৃত্য।

মুনিয়া নাচতে ভীষণ পছন্দ করে। কখনো কোথাও তেমন ভাবে নৃত্য পরিবেশনা করে নি স্কুল কলেজের কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়া কিন্তু নিজের ঘরে অবসর সময়ে পছন্দের গানে প্রায়‌ই সে নৃত্য করে থাকে। কখনো কখনো নৃত্যের ভিডিও দেখে শিখে নেয় আবার কখনো গানের ছন্দে নিজেই একটা নৃত্য তৈরি করে ফেলে।

বিশেষ এই গুণটি থাকার ফলে তার প্রধান ইচ্ছা তার বিয়েতে সে নিজে একটা নৃত্য পরিবেশনা করবে। তার খুব ইচ্ছা তার স্বামীও তাকে সঙ্গ দিবে তার সেই নৃত্যে কিন্তু যদি নাও দেয় তাতে তার কোন মাথা ব্যথা নেই। স্বামীর উদ্দেশ্যেই তো তার নৃত্য থাকবে। চলচ্চিত্রে যেভাবে সে দেখেছে ধুমধাম নানান আয়োজনে বিয়ে কিছুটা সেরকম‌ই তার ইচ্ছা।

স্বপ্ন দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল অনেকগুলো বছর। কানাডা থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফিরে এখন সে ঘরে বসা। তেমন কিছু করার নেই তার হাতে। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ঘোরাফেরা, পরিবারকে সময় দেওয়া আর এর মাঝে বাবাকে না জানিয়ে একটা চাকরি খোঁজা, এইভাবেই তার সময় চলে যাচ্ছে।

খুব ভালো একটা কম্পানিতে একাউন্ট্যান্ট পদে চাকরি হলো তার। বাবাকেও জানালো সে। বাবা প্রথমে ঘোর আপত্তি করে। মুনিয়ার বাবা অনেক বড় একজন শিল্পপতি, তার সকল সম্পত্তি তার মেয়ের তাহলে মেয়ের চাকরি করার দরকার কি! তার যা দরকার বাবাকে বললে তো সে পাচ্ছেই তাহলে কেন?

এর প্রতিউত্তর মুনিয়া খুব সুন্দর করেই দিয়েছিল। সে এইবার নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে চায়। এভাবে বাবার উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে চায় না। সে যদি আজকে ছেলে হতো তাহলে তো তাকে উপার্জন করতে চাকরি করাই লাগতো কিন্তু মেয়ে হ‌ওয়ার ফলে তার সেটা করা লাগছে না। কয়েকদিন পরে বিয়ে হয়ে যাবে তারপর সে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে তাদের সেবায় ব্যস্ত থাকবে। কিন্তু সে বিশ্বাস করে যে মেয়েদের জীবনটা এর থেকে বেশি কিছু হ‌ওয়া উচিত। তাদের যে কোন কিছু করার স্বাধীনতা থাকা উচিত। আর মুনিয়ার মত বড় ঘরের কেউ যদি চাকরি করে তাহলে সেটা দেখে আরো দশজন নারী অনুপ্রাণিত হবে। তারাও সাহস পাবে ঘর থেকে বেরিয়ে নিজে কিছু একটা করে দেখানোর। আর তারপরেও তার বাবা যখন মানতে চাইলেন না তখন মুনিয়া বললো তার পেছনে আনুমাণিক প্রতি মাসে যত খরচ হয় সেটা যেন তার বাবা কোন অনাথ‌আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রমে দান করে কিংবা অগণিত অসহায় মানুষদের খাবার ও পোশাক দিয়ে সাহায্য করে। এই কথা শোনার পরে মুনিয়ার বাবার আর কিছু বলার ছিল না, মেয়ের কথা শুনে সে মুগ্ধ। সে ছোট্ট মুনিয়ে কবে এত বড় হয়ে গেল সে টের‌ই পায় নি।

মুনিয়ার সময় কাটতে থাকে। নতুন কিছু গানে সে নাচ তুলে ফেলে, নিয়মিত নাচার কারণে তার শরীর বেশ আকর্ষনীয় হয়ে উঠে দিনে দিনে। সুন্দর এক রমনীতে পরিবর্তন হতে থাকে সে। তার বিয়ে নিয়ে কথা বার্তা চলতে থাকে। হাজার বিয়ের প্রস্তাব তার জন্য কিন্তু ছেলে পছন্দ হয় না। মুনিয়ার না, তার মায়ের। তার মায়ের কথা হলো তার মেয়ে যেমন রূপবতী এবং সর্বগুণে সম্পন্ন, তার বরকেও ঠিক তেমন কিংবা আর‌ও বেশি কিছু হতে হবে। এই যাবৎ যত প্রস্তাব আসলো কেউ‌ই মুনিয়ার ধারের কাছেও নেই। কেউ খাটো তো কারো চামরা কালো, কারো ভালো উপার্জন নেই তো কারো পরিবার ছেলের ব‌উর চাকরি মেনে নিবে না। কেউ কেউ জানে না বড়দের সম্মান কিভাবে করতে হয় আবার কেউ কেউ শুধু টাকার জন্য পাগল। মেয়ের বিয়ে নিয়ে মহা বিপদে পরেছে তার মা।

মুনিয়ার এসব নিয়ে কোন চিন্তা নেই, সে আছে বিন্দাস। বিয়ের কথা শুরু হ‌ওয়াতে সে ব্যস্ত হয়ে পরেছে তার মন মত সবকিছু আয়োজন করা নিয়ে। আর ছেলে? মুনিয়া ভালো করেই জানে যে তার মা তার জন্য সবচেয়ে সেরা কাউকেই বেছে নিবে যাকে তার পছন্দ তো হবেই, তার সাথে সুখে শান্তিতে ঘর‌ও করতে পারবে।

মুনিয়া শুধু বিয়ে করা নিয়েই স্বপ্ন দেখেছে, তার পরে কি হবে সে জানে না। এটা নিয়ে যে সে ভয় পাচ্ছে এমন‌ও না, তার বিয়ের উৎসবে সে যেমন মগ্ন হয়ে আছে ঠিক তেমন‌ই বিয়ের পরের জীবন নিয়েও সে অনেক আশাবাদী। সবচেয়ে বড় কথা সেই পরিবারের সকল সদস্যকে সে তার নিজের করে নিবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মাধ্যমে। এরপরে আর কোন সমস্যা হবে না বলেই সে বিশ্বাসী।

অবশেষে তার মায়ের একটি ছেলে পছন্দ হলো। তার বাবার এক পুরনো বন্ধুর ছেলে, নাম তার আরিফ আহমেদ। পড়াশোনার পরে আমেরিকায় সেটেল হয়ে গিয়েছিল কিন্তু আরিফের চাই একজন নির্ভেজাল বাঙ্গালি মেয়ে। বিয়ের জন্য‌ই দেশে ফিরে সে এবং মন মত পাত্রি পেলে দেশেই থেকে যাবে ভেবে রেখেছে। আরিফ দেখতে যেমন সুদর্শন ঠিক তেমন‌ই অনেক মেধাবী। অল্প বয়সেই সফলতা অর্জন করেছে নিজ পরিশ্রমে, কোন রকম কারো সাহায্য ছাড়াই। সাইকোলজিতে পিএইচডি করেছে, আমেরিকায় নিজের একটা রিসার্চ সেন্টার খুলেছে আর একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হিসেবে আছে। মাঝে মাঝে নিজের রিসার্চ সেন্টারেই বসে।

খুব‌ই ভালো ছেলে, দুই পরিবারের সবাই রাজি। আরিফের‌ও মুনিয়াকে বেশ পছন্দ হয়েছে। রূপে গুণে ভরপুর একজন বাঙ্গালি মেয়ে। দেশে থেকে যাওয়ার জন্য এর থেকে ভালো কারণ হতে পারে না বলেই মনে করে আরিফ।

বর্তমান যুগের তারা তাই তাদের একা কিছু সময় কাটানোর অনুমতি দেওয়া হলো পরিবার থেকেই। দুজনে মেলামেশা করে একটা খুব ভালো বন্ধুত্ত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে নিজেদের মাঝে। একে অন্যের পছন্দ অপছন্দ সব কিছুই জেনে নিয়েছে তারা। মুনিয়া এই প্রথম একটা কাজ করতে ভীষণ ভয় পেয়েছে। আরিফকে তার বিয়ে নিয়ে সকল স্বপ্ন, ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষার কথা বলা। তার ভয় ছিল যদি আরিফ আপত্তি করে তখন তো সব শেষ। এমন নয় যে আপত্তি করলে মুনিয়া বিয়েটা ভেঙ্গে দিবে। আরিফের সকল সিদ্ধান্তকে সে সম্মান করে, তার উপরে আরিফকে তার বেশ পছন্দ‌ও হয়েছে। পরিবারের সকলের‌ও এই সম্পর্কে মত আছে, সবাই একটা স্বপ্ন দেখছে তাদের বিয়ে নিয়ে। সেই সাথে মুনিয়া এটাও জানে যে আরিফ তাকে কত ভালোবাসে। শুধু মাত্র তার বাল্যকালের কিছু ইচ্ছা পূরণ না হ‌ওয়ার জন্য এত ভালো একজন মানুষের সে মন ভাঙতে পারে না। সবার পছন্দ তো আর এক হবে না। তাও সে আশাবাদী ছিল আরিফকে সে যতটুকু চিনে, আরিফ নিজে নৃত্যে অংশগ্রহণ না করলেও মুনিয়াকে বাধা দিবে না। তার বাদ বাকি সব কিছুই আরিফ মেনে নিয়েছে, এখন যদি আরিফ তো দূরে থাক মুনিয়া নিজেও যদি নাচার সুযোগ না পায় তাহলে নাই বা পেলো। তাতে তার কোন আফসোস থাকবে না। সবার সামনে না হোক, বাসর ঘরে খুব‌ই একান্ত সময়ে না হয় ইচ্ছেটা পূরণ করবে সে। তারপরেও আরিফকে তো বলতেই হয়, সে কি বলে অন্তত সেটা জানার জন্য হলেও মুনিয়া একবার বলে দেখতেই পারে।

সময় সুযোগ করে মুনিয়া একদিন তার চাপা কথাটা আরিফকে সাহস করে বলেই দিলো।

&quot;আরিফ, তুমি যা বলবে তাই হবে। আমি কোন চাপ দিচ্ছি না তোমাকে। তোমাকে যে নাচতেই হবে এমন কোন কথা নেই। আবার আমাকেও যে তোমার অনুমতি দিতেই হবে এমন‌ও কোন কথা নেই। আমি শুধু এমনেই বললাম, হলে ভালো না হলে আর‌ও ভালো। কারণ মন মত না হ‌ওয়া মানে সেটাতে আল্লাহ তা&#039;য়ালার ইচ্ছা থাকে এবং তিনি যেটা করেন ভালোর জন্য‌ই করেন।&quot;

মুনিয়া এক নিঃশ্বাসে সব কথা যেন বলে দিল আর অপেক্ষা করতে থাকলো আরিফের জবাবের। আরিফ রাজি হয়ে গেলো সাথে সাথেই।

&quot;মুনিয়া, প্রথম কথা হলো তুমি এখন‌ও আমার স্ত্রী হ‌ও নি তাও তুমি আমার কাছে অনুমতি চেয়েছো সেটাই আমার খুব ভালো লাগছে। তুমি যে আমাকে তোমার জীবনের একটা অংশ হিসেবে এখন থেকেই গ্রহণ করেছো, তোমার মনের ইচ্ছা তুমি মন খুলে আমাকে বলতে পেরেছো আবার সেটাতে আমার মতামতের যে একটা মূল্য আছে সেটা ভেবেই আমার সত্যি খুব ভালো লাগছে। আর পাগলি, আমি কেন মানা করতে যাবো? নিজের স্ত্রীর সাথে একবার কেন, হাজারবার নৃত্য করতে আমি রাজি আছি। তাও আবার শুধু নৃত্য না, তোমার মুখের এই মায়াবি হাসি দেখতে আমার যা করতে হয় আমি তাই করে যাবো সারা জীবন। শুধু আশা করি আমার ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখা হবে কারণ আমি তো আর তোমার মত পারদর্শী না এই ব্যপারে। তবে তুমি শিখিয়ে দিলে আমি পারদর্শী হয়েও যেতে পারি।&quot;

আরিফের কথা শুনে মুনিয়ার খুশির বাধ র‌ইলো না। এত্ত খুশি মুনিয়া বোধহয় জীবনেও হয় নি। তার জীবনের সকল প্রাপ্তি যেন এই প্রাপ্তির সামনে তুচ্ছ হয়ে গেলো। সত্যিই তার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।

এক সপ্তাহ পরে তার বিয়ের আয়োজন শুরু হয়ে গেলো। বিয়ের সকল পোশাক, সাজ, সরঞ্জাম আরিফের বাড়ি থেকে আসলো। তার পছন্দের লাল-গোলাপি মিশ্রণের কাতান শাড়ি, সাথে মিল রেখে লাল চুরি, গহনা, নূপুর সহ আর‌ও অনেক কিছু। সারা বাড়ি জুরে উৎসবের আমেজ। এসবের মাঝেই আরিফ আর মুনিয়া তাদের নৃত্য চর্চা করতে থাকলো। বাড়ির আর কেউ এই ব্যপারে জানতো না। মুনিয়ার পছন্দের কয়েকটি গান বেছে নেওয়া হলো তাদের নৃত্যের জন্য। সবগুলো গানকে একটি গানে পরিবর্তন করা হলো, প্রায় ১৫ মিনিটের মত। চর্চা চলতে থাকলো, কিন্তু এর‌ই মাঝে মুনিয়া আরেকটি কাজ করলো।

মুনিয়া আরিফের জন্য একটা ভিন্ন নৃত্য পরিকল্পনা করলো, সারপ্রাইজ বলা যায়। সেটা থাকবে তার একক নৃত্য, হলুদের দিন নাচবে সে। সেইটা নিয়ে সে অনেক উত্তেজিত। আরিফ দেখে কি বলে, তার প্রতিক্রিয়া কি হবে, সে খুশি হবে কিনা, কতটুকু আশ্চর্য হবে সব ভেবেই মুনিয়ার যেন ঘুম হয় না। আরিফ অপছন্দ বা রাগ করবে না সেটা সে ভালো করেই জানে। শুধু জানতে চায় তার প্রতিক্রিয়া যাই হবে সেটা কেমন হবে। এতটা উত্তেজিত মুনিয়া আগে কখনো ছিল না। 

দেখতে দেখতে আরো এক সপ্তাহ পার হয়ে গেল এবং চলে আসলো মুনিয়ার বিয়ে। অনেক বড় করেই আয়োজন করা হয়েছিল তবে অনুষ্ঠান ছিল দুই দিনের। প্রথম দিন সন্ধ্যা থেকে থাকবে সঙ্গীত আর হলুদের অনুষ্ঠান। দ্বিতীয় দিন রাতে হবে বিয়ে। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল, পরিকল্পনা মত‌ই সব যাচ্ছিল।

&#039;আরিফ-মুনিয়ার হলুদ সন্ধ্যা&#039;
বিকালের পর থেকেই মেহমানদের আসা শুরু হয়ে গেলো। মুনিয়ার যেখানে তৈরি হ‌ওয়া নিয়ে ব্যস্ত হ‌ওয়ার কথা ছিল সেখানে সে ব্যস্ত ছিল তার নাচ নিয়ে। আরেকবার আরেকবার বলে সে এই নিয়ে দশবারের‌ও বেশি চর্চা অরে ফেলেছে। কিন্তু এইবার সত্যি সত্যি তাকে তৈরি হয়ে যেতে হবে না হলে হলুদ আর আজকে হচ্ছে না।

হলুদ বেনারসী শাড়ি পড়লো একদম ঐতিহ্যবাহী বাংলা স্টাইলে। সেই সাথে কাঁচা হলুদ রঙের চুড়ি, কানে আর গলায় লাল রঙের ফুলের গহনা, আর হাতে-পায়ে আলতা। এই যুগে আলতা কে পড়ে? আরিফের পছন্দ আর মুনিয়ার যে অপছন্দ তাও না তাই আরিফের পছন্দটাই করলো সে।

অবশেষে পৌঁছালো হলুদ মণ্ডলে। শহরের ঠিক মাঝেই তাদের একটা বাড়ি আছে, সিকদার ম্যানশন, সেখানেই সব আয়োজন করা হয়েছে। বাড়ির ভেতরে হলুদ মণ্ডল, বর-কনে দুজনেরটা মুখোমুখি অপর পাশে। সামনে বড় খোলা জায়গা মেহমানদের বসা, হাটা, চলা ফেরার জন্য। বাড়ির বাইরে উঠোনে করা হয়েছে খাবারের আয়োজন। হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হলো মুনিয়া পৌছাঁনোর সাথে সাথেই। আরিফের মা মুনিয়াকে এবং মুনিয়ার মা আরিফকে প্রথম হলুদ লাগিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করলো।

আনন্দের আমেজে অনুষ্ঠান চলতে থাকলো, সবাই বেশ মজা করেছে কিন্তু মূল আকর্ষণ যেটা সেটাই এখন‌ও হলো না। কি আবার? আরিফের জন্য মুনিয়ার নৃত্য!

মুনিয়ার বাল্যকালের বান্ধবীকে সে জানিয়েছিল শেষ মুহূর্তে, কিছু সহযোগিতা দরকার ছিল তাই। বান্ধবীকে ইশারা করে বুঝিয়ে দিল এখন‌ই সময়। মুনিয়ার বান্ধবী বুদ্ধি করে বাড়ির মেইন সারকিট বন্ধ করে দিল। হলের মধ্যে হৈচৈ পরে গেলো ততক্ষণাৎ লাইটের ব্যবস্থা করতে, এরকম একটা দিনে কোন ভেজাল হতে দিতে চান না মুনিয়ার বাবা। তিনি‌ই সবচেয়ে বেশি রাগান্বিত হয়ে গিয়েছিলেন এই কাণ্ডের পরে কিন্তু পরোক্ষণেই সব ঠিক হয়ে গেলো।

মুনিয়ার সবচেয়ে পছন্দের গানের মধ্যে একটি বেজে উঠলো। ইমরান মাহমুদুলের কণ্ঠে &#039;বলবো তোকে আজ&#039; গানটি ছিল এক সময়ের ভীষণ জনপ্রিয়। গানটির প্রথম সুর শুনেই বুঝে আরিফের হার্টবিট একটু বেড়ে গিয়েছিল, কেননা সে এই গানটির কথা হাজার বার মুনিয়ার মুখে শুনেছিল।

লাইট চলে যাওয়া? হঠাৎ মুনিয়ার পছন্দের গানটি বেজে ওঠা? ঘটনা কি? ভাবতে থাকলো আরিফ। আবার‌ও সবাইকে চমকে দিয়ে লাইট জ্বলে উঠলো কিন্তু এবারের লাইটটা ছিল শুধু মুনিয়াকে কেন্দ্র করে। মুনিয়াকে দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছিল, চোখ যেন ফেরাতেই পারছিল না আরিফ। কয়েক ঘণ্টা আগে যখন দেখেছিল তখন‌ও এরকম লাগে নি এখন যেমন লাগছে। মুনিয়া কি...?

আরিফকে চমকে দিয়ে মুনিয়া তার মধুর কণ্ঠে বলে উঠলো,

&quot;আরিফ, শুধু তোমার জন্য।&quot;

সাথে সাথেই মুনিয়া তার নৃত্য শুরু করলো। গানের প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি ছন্দে, তালে তালে মুনিয়া তার অসাধারণ নাচ নাচতে থাকলো।

বলবো তোকে আজ
বলবো কিছু কথা
চলবো অচেনা পথ
ভেঙ্গে সব নীরবতা...

গানটির প্রতিটি লাইন আরিফের মনে গেথে গেলো, বেশ রোমান্টিক ছিল গানটা। গানের লাইনগুলো যেন মুনিয়া নিজেই আরিফকে বলছিল। মুনিয়া যেমন অনুভূতির সাথে নেচে যাচ্ছিল, আরিফ‌ও অনুভব করছিল মুনিয়ার প্রতিটি তাল।

সেই গানটি শেষ হ‌ওয়ার পরে ইমরানের আরো বেশ কয়েকটি গানে মুনিয়া তার নাচ দেখালো। মুনিয়া কখনো ভাবে নি সে বাস্তবে তার স্বপ্ন আসলেই পূরণ করতে পারবে। বিয়ে নিয়েই সে স্বপ্ন দেখেছে, পূরণ করলে সেই একটি স্বপ্ন‌ই সে পূরণ করতে চেয়েছে। এরকম ভাগ্যবতী পৃথিবীতে খুব কম মানুষ‌ই থাকে তবে তাদের মধ্যে একজন যে মুনিয়া সেটার জন্য সে আল্লাহর কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।

এরকম ভাবতে ভাবতেই আরিফ বিহীন আরেকটি রাত পার হয়ে গেলো। পরেরদিন সকালে সবাই ব্যস্ত হয়ে পরলো নানান কাজে। মুনিয়ার ঘুম ভাঙলো বেশ দেরী করে, অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিল আগের দিন তাই সকালে সময় মত উঠতে পারলো না। তবে কেউ তাকে কেন ডেকে দিল না এই নিয়ে একটু অভিমান করেছিল আমাদের কনে। কিন্তু কনের তো আজকে তৈরি হয়ে বিয়ের পিড়িতে বসা ছাড়া আর কোন কাজ নেই, সেই সাথে ঠিক মত ঘুম না হলে চোখের নিচে কালো দাগ পরে যাবে আর দেখতে খারাপ দেখাবে তাই কেউ তার ঘুমের বাঁধা হয় নি। তার ঘুম ভাঙলো আরিফের ফোন পেয়ে। আরিফ বুঝতে পারছিল না কিভাবে কি হবে, সে খুব চিন্তিত ছিল সবকিছু নিয়ে। তার মতে এটা তার জন্য প্রথম বার আর সে জানে না কিভাবে কি করতে হবে। ঘুম দেরীতে ভাঙ্গার জন্য তার মেজাজ খারাপ হয়ে থাকলেও আরিফের কথায় সে এক ফোটাও রাগ করে নি। খুব‌ই স্বাভাবিক চিন্তার মাথায় সে এরকম আবোল তাবোল কথা বলেছে, এসবের হিসাব বিয়ের পরে নেওয়া যাবে। সেই সাথে আরিফ আরো চিন্তিত ছিল তাদের নৃত্য পরিবেশনা নিয়ে। এটা সত্যি সত্যি তার জীবনের প্রথম একটা অভিজ্ঞতা, ঠিক ঠাক যদি না হয় সেটাই তার ভয়।

নানান কথা বলে মুনিয়া ঠিক তাকে বুঝিয়ে দিলো আর চিন্তা মুক্ত করে দিলো। তাদের নৃত্য কোন প্রতিযোগিতার জন্য না, তাদের নৃত্য শুধুই একে অন্যের জন্য। এক কথায় বলা যায় তাদের বিয়ে হ‌ওয়ার খুশিতে তারা নাচছে, সেটা শুধু তাদের‌ই পরিবারের সদস্যরা দেখবে। এখানে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। তাদেরকে নম্বর দেওয়ার মত নৃত্যের কোন গুরু সেখানে উপস্থিত থাকবে না সুতরাং একটা সতেজ মস্তিষ্ক নিয়ে যাওয়ার অনুপ্ররণাই দিলো মুনিয়া।

আরিফ শুধু মুগ্ধ হয়ে মুনিয়ার কথা শুনছিল, সম্ভব হলে তার চোখের দিকে তাকিয়ে সেই গভীরতায় হারিয়ে যেতো। কিন্তু প্রথা অনুযায়ি হলুদের পরে বিয়ে না হ‌ওয়া পর্যন্ত বর কনে একে অন্যকে দেখতে পারবে না সুতরাং বিয়ের মুহূর্ত পর্যন্ত আরিফ তাকে দেখতে পাবে না। কিন্তু কথা তো বলা যাবে তাই সকল টেনশন মুনিয়ার সাথে কথা বলে দূর করে নিলো।

আরিফের সাথে কথা শেষ করে মুনিয়া গোসল সেড়ে নাশতা করে নিলো পেট ভরে। এরপরে কখন খাওয়ার সুযোগ পাবে আল্লাহ মালুম। গরুর কালো ভুনার সাথে আটার রুটি, যত সম্ভব খেয়ে নিলো। খাওয়া শেষ করে হাতে মেহেদী দিতে বসে পরলো সে। নৃত্য নিয়ে তার আর তেমন কোন চিন্তা নেই, সব শেষ করে বিয়ের সাজে একবার শুধু চর্চা করে নিবে যাওয়ার আগে। এর বেশি তার মতে আর দরকার নেই।

পছন্দ মত মেহেদী লাগালো, সেখানে ছোট্ট করে আরিফের নাম। পায়েও মেহেদী মুনিয়ার, দেখে একদম মেহেদী রাঙ্গা ব‌উ লাগছিলো দেখতে। শুধু বিয়ের সাজ সাজা বাকি। পায়ের মেহেদী শুকিয়ে আসলেই পার্লারে চলে গেলো তৈরি হ‌ওয়ার জন্য। সেই কাতান শাড়ি, হাতে চুড়ি, পায়ে নূপুর আর হাত-পা মেহেদী রাঙ্গা...দেখতে তাকে অপরূপ লাগছিল। আরিফের পছন্দকে বেশ বাহ্বা দিলো। মুনিয়াকে এর আগে কখনো এত সুন্দর লেগেছে বলে সে মনে করতে পারছে না।

পার্লারে সাজতে সাজতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। বিয়ের এখনো বেশ সময় বাকি আছে। ৭টা থেকে মেহমানদের আসা শুরু হয়ে যাবে, এখন বাজে ৬.৩০। মুনিয়া র‌ওনা হবে কিছুক্ষণ পরেই। বর আসার আগেই তাকে পৌছাঁতে হবে আর কিছু জিনিস দেখে নিতে হবে। সামনের জায়গা, ডিজে কে গান বুঝিয়ে দেওয়া, যাওয়ার সাথে সাথেই যেন বিয়ে হয়ে যায় সহ আরো অনেক কিছু।

প্রায় ৭.৩০ এর দিকে মুনিয়া গিয়ে পৌঁছালো বিয়ের হলে। বিয়ে তাদের অনেক বড় একটা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন করা হয়েছে। আগে গেলেও মুনিয়া বেশ চমকে গিয়েছিলো সেখানে যাওয়ার পরে। নিজের চোখকে একদম‌ই বিশ্বাস করতে পারছিলো না।

মুনিয়ার স্কুল জীবন থেকে শুরু করে কলেজ জীবন, ভার্সিটির সকল বন্ধু-বান্ধবরা সেখানে ছিল। সেই সাথে তার সর্বকালের পছন্দের শিক্ষক, ইলিয়াস স্যার সহ আরো কয়েকজন শিক্ষক‌ও উপস্থিত ছিলেন। কনের আসনে গিয়ে বসা তো দূরের কথা, সবার সাথে সাক্ষাৎ করতে করতেই সময় পেরিয়ে যাচ্ছিলো। সবার সাথে কথা বলে জানা গেলো যে এইসব আরিফ করেছে, সবার সাথে যোগাযোগ আরিফ নিজে করেছে এবং বিশেষ ভাবে আমন্ত্রণ করেছে তাদের বিয়েতে আসার জন্য। আরিফ নিশ্চিত করেছে তারা সবাই যেন অবশ্য‌ই আসে।

বর-কনের স্টেজ পুরোটা গোলাপ ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিলো। ছবি তোলার জন্য আলাদা একটা জায়গা ঠিক করা হয়েছিলো অন্য সবার জন্য, পেছনের ব‌্যাকগ্রাউন্ড ছিলো সেন্চুরি পাতার রঙ্গে। স্টেজের সামনে রেড কার্পেট দিয়ে যাওয়ার রাস্তা করা হয়েছে এবং দুপাশে ছিলো মেহমানদের বসার ব্যবস্থা। কমিউনিটি সেন্টারটা ছিল দুই তলা আর উপরের তলায় খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিয়ের আগে বর কনেকে আলাদা বসানোর জন্য মঞ্চ করা হয়েছে প্রধান স্টেজ থেকে একটু দূরে। মাঝে একটি পর্দা দিয়ে আলাদা করা আর পর্দার দুই পাশে দুই জন বসবে। কাজী তার কাজ অনুযায়ি প্রথমে বর তারপর কনের মতামত নিবে আর তাদের বিয়ে সম্পন্ন করবে।

যতটুকু আয়োজন করা হয়েছে সব ছিল মুনিয়ার পছন্দের। সারা জীবন তার বাবা মায়ের সাথে সে যেভাবে সব শেয়ার করেছিল ঠিক সেভাবেই তার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাঝে নতুন করে শুধু আরিফকে তার পুরনো দিনের স্মৃতি বলার সময় বলেছিল কিছু মূল্যবান মানুষের কথা যারা থাকলে তার বিয়েটা পরিপূর্ণ মনে হবে তার কাছে আর আরিফ সেটাও পূরণ করে দিলো‌। জীবনে আর কিছু বোধহয় মুনিয়ার চাওয়ার নেই।

মুনিয়াকে তার জায়গা মত আসনে গিয়ে বসে পরলো আর অপেক্ষা করতে থাকলো আরিফের জন্য। আরিফ কখন আসবে, কখন তাদের বিয়ে সম্পন্ন হবে আর কখন সে তাকে সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ জানাবে। তারপর তাদের নৃত্য হবে, অনেক মজা হবে, খাওয়া দাওয়া তারপর অবশেষে বিদায় নিয়ে চলে যাবে শ্বশুড় বাড়ি। শুরু হবে তার নতুন জীবন, আরিফের সাথে।

এসব ভাবতে ভাবতে বাইরে হঠাৎ হৈচৈর শব্দ শোনা গেলো। প্রথমে একটু ভয় পেয়ে গেলো মুনিয়া, বিয়েতে কোন রকম ঝামেলা সে চায় না। যদিও কোন ঝামেলা হ‌ওয়ার কথা না তাহলে কিসের এত আওয়াজ?

মুনিয়ার বান্ধবীদের কাছ থেকে জানতে পারলো সবাই জামাইকে ধরেছে। মুনিয়ার আর বুঝতে বাকি র‌ইলো না যে সবাই মিলে আরিফের গেট ধরেছে। মুনিয়ার ভাই বোন কেউ ছিল না তাই বন্ধু-বান্ধবরা সহ তার কিছু চাচাতো-মামাতো-খালাতো-ফুফাতো ভাই বোনরা আরিফকে আটকেছে গেটে। আজকে পকেট খালি না করিয়ে আরিফকে তারা ছাড়বে না। সবকিছুই মুনিয়া উপভোগ করতে লাগলো। অবশেষে তার অপেক্ষার পালা শেষ হলো। গেটে সবাইকে খুশি করে আরিফ তার কাছে চলে এসেছে।

পর্দার অপর দিকে আরিফ এসে বসলো, তাকে দেখা যাচ্ছে না কিন্তু মুনিয়া আরিফের উপস্থিতি ঠিক অনুভব করতে পারছিলো। এতক্ষণে অনেক সময় পার হয়ে গেলো, আর দেরী না করে কাজীকে দ্রুত খবর দেওয়া হলো। কাজী হাসেব এসে তাদের বিয়ে পড়ালো, প্রথমে আরিফ তারপর মুনিয়া তিন বার কবুল বললো। সবার একটাই প্রশ্ন মুনিয়া খুব তাড়াতাড়িই নিজেকে বরের কাছে ধরা দিয়ে দিলো‌। কোন রকম দেরী করলো না, কান্না করলো না, কাজী বলার সাথে সাথেই মুনিয়া কবুল বলে দিলো। এটা কেমন কথা?

মুনিয়ার কথা ছিল যে তার বিয়েটা কোন দুঃখের বিষয় না যে সে এমন দিন কেঁদে ভাসিয়ে দিবে। আর কবুল যেহেতু বলতেই হবে সেহেতু নানান ভাব-ভনিতা দেখিয়ে দেরী করার কোন মানে হয় না।

বিয়ে ঠিকঠাক ভাবে সম্পন্ন হ‌ওয়ার পরে বর কনেকে নিয়ে স্টেজে বসানো হলো‌। এই প্রথমবার মুনিয়া আরিফকে মন ভরে দেখে নিলো। কি সুন্দর লাগছিলো তাকে দেখতে! একদম তার স্বপ্নের রাজকুমারের মত! লাল শেরোয়ানি, মাথায় পাগরি, সেই লাগছিলো তাকে দেখতে। সাধারণত ছেলেরা এত গাড়, চোখে পরার মত রঙ পরিধান করে না কিন্তু মুনিয়ার ইচ্ছের কথা ভেবে আরিফ পড়েছে। এমন না জোর করে পড়েছে, কিন্তু এই শেরোয়ানি পছন্দ করার পেছনে বেশিরভাগ মত ছিলো মুনিয়ার।

- দিদি, আর কত তাকিয়ে থাকবি? এবার আমাদের দিকেও একটু তাকিয়ে দেখ!

বলে তার মামাতো বোন হেসে দিলো। এভাবে এক দৃষ্টিতে আরিফের দিকে তাকিয়ে থাকা সবার চোখে পরে গেলো।

- কি দেখছিলে অমন করে?

আরিফ জিজ্ঞাসা করলো।

- তোমাকে দেখছিলাম।
- সারা জীবন‌ই তো দেখবে এখন থেকে।

মুনিয়া একটা কিছু বলতে যাচ্ছিলো যখন খেয়াল করলো যে আরিফের ঠোট কেমন লাল হয়ে আছে, চোখগুলো রক্তলাল, ঘামছে অনবরত আর কান থেকে যেন ধোয়া বের হচ্ছে। চিন্তিত হয়ে আরিফকে জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে তার আর আরিফ যা বললো...

- কি আর হবে! তেমন কিছু না, সচরাচর যা হয় আর কি। সরবত নিয়ে এসেছিলো আমার জন্য গেটে, আমিও বলদের মত খেয়েছি আর খেয়ে এই অবস্থা। মরিচের সরবত ছিলো সেটা, ঝালটা এখন‌ও কাটে নি মুখ থেকে।
- কি?? ওরা তোমাকে মরিচের সরবত পান করতে দিয়েছে? দাড়াও আমি ওদের খবর নিচ্ছি। নিশাত...
- শুধু শুধু তুমি আবার নিশাতকে ডাকছো কেন? ওরা তো মজা করবেই আর আজকে একটা দিন‌ই তো। এমন দিন কি বারবার আসে। প্রথমত ভুল আমার ছিল, গেটে কিছু খেতে দিলে সেটা না খাওয়াটাই উত্তম একজন বরের জন্য নাহলে ভুগতে হবে এভাবে আমি জানতাম তাও খেয়েছি। সে কোন ব্যপার না, তুমি কাউকে কিছু বলো না।

বলেই হেসে দিলো আরিফ।

- কিছু বলবো না মানে কি? তোমার সাথে এরকম করবে কেন? দেখো তো কি অবস্থা হয়েছে তোমার! ফাজলামোর একটা সীমা থাকে!
- মুনিয়া, চিন্তা করো না। এটা চলে যাবে। আর যাবে নাই বা কেন, এমন মিষ্টি ব‌উ আমার, পৃথিবীর সব ঝাল হার মেনে যাবে।

কথায় তার দুষ্টুমির ছোঁয়া। মুনিয়া লজ্জা পেয়ে গেলো। বিয়ে তো হলো, পরিকল্পনা অনুযায়ি যেটা বাকি আছে সেটা করা বাকি এখন শুধু। আরিফকে সে মনে করিয়ে দিলো আর আরিফ কি একটা ঠিক করবে বলে উঠে চলে গেলো। বেশ অনেকটা সময় পার হয়ে গেলো আরিফের কোন খবর নেই। মেহমানরা এখন উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছিল, বর গেলো কোথায়!

হঠাৎ করেই সেন্টারের সব লাইট বন্ধ হয়ে গেলো। আর দূর থেকে গানের সুর শোনা যাচ্ছিলো। হলের সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলো, চারপাশ হয়ে গেলো নিস্তব্ধ। এই গানে তো কিছু হ‌ওয়ার কথা ছিলো না। তাহলে কি?

রাতের যত তারা আছে
দিনের গভীরে
বুকের মাঝে মন যেখানে
রাখবো তোকে সেখানে...
তুই কি আমার হবি রে?

এই গান? এই গান তো মুনিয়ার সবচেয়ে পছন্দের, সেই এক‌ই গায়কের। হঠাৎ করেই লাইট সব চলে এলো আর সামনে আসলো আরিফ। এ কি করছে আরিফ? আরিফ সহ আরিফের কিছু বন্ধুরা সবাই মিলে এই গানটায় নেচে যাচ্ছিলো, মুনিয়া কল্পনা করছে না তো? যেই ছেলে জীবনে কখনো নাচে নি, তার কথায় একটা নাচের জন্য রাজি হয়েছে সেই ছেলে কিভাবে সবার সাথে এখন এত ভালো করে নাচছে? মুনিয়ার নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।

সামনের যে জায়গাটায় তাদের নাচার কথা ছিল, আরিফ সহ বাকিরা সবাই সেখানেই নাচছে। মুনিয়া মুগ্ধ নয়নে আরিফকে দেখতে দেখতে তার আসন ছেড়ে নিচে নেমে এসে দাড়ালো। একদম ছবির মত করে আরিফ তাকে ঘিরে, কয়েকবার তার গালে স্পর্শ করে দিয়ে গেলো। গানের যেই অংশটি থেকে গায়িকার গলা ভেসে আসলো ঠিক তখন‌ই সেই নৃত্যে মুনিয়াও যোগ দিলো। মুনিয়া এই গানটায় নাচ অনেক আগে থেকেই পারতো তাই তার কোন অসুবিধা হয় নি আরিফকে সঙ্গ দিতে। দুজন মিলে পরে বাকিটা গান একসাথে নেচে গেলো। গান শেষ হ‌ওয়ার সাথে সাথেই আরিফ মুনিয়ার কানে কানে বললো,

- কেমন দিলাম?
- আরিফ? কিভাবে?
- সোনা, তুমিই শুধু সারপ্রাইজ দিতে জানো, আমি জানি না?
- আচ্ছা! তো আমাদেরটা কি হবে?
- হবে না আবার! আলবাদ হবে!

এই বলেই তাদের সেই প্লেলিস্ট চালু হলো যেটাতে তারা নৃত্য করার পরিকল্পনা করেছিলো। &quot;আমার গরুর গাড়িতে&quot; সহ পুরনো দিনের আর নতুন কিছু গানের মিশ্রণ ছিলো।

মুনিয়ার সকল স্বপ্ন পূরণ হলো, আর আল্লাহর কাছে সে জন্য সে সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবে। আরিফের মত এত ভালো একজন স্বামী, আরিফের বাবা মায়ের মত এত স্নেহময়ী শ্বশুড়-শ্বাশুড়ী শুধু একজন ভাগ্যবতীর কপালেই সম্ভব। এরকম একটা পরিবার পাশে থাকলে যত ঝড়‌ই আসুক না কেন নিশ্চিন্তে সারা জীবন পার করে দেওয়া যাবে।

[ সমাপ্ত ]

----------------------------------

প্রিয় বন্ধুরা,
আপনারা যারা আমার লেখা পড়েন, আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। বেশ কয়েকদিন লিখতে পারি নি নানান ব্যস্ততার কারণে, আশা করছি এবার নিয়মিত থাকবো ইনশাল্লাহ। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/38631/</link>
				<pubDate>Mon, 27 Sep 2021 16:43:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছোটগল্প &#8211; মুনিয়ার বিয়ে<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;<br />
মুনিয়ার ছোটবেলা থেকেই বিয়ে করার শখ। বিয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন তার। পারিবারিক হোক আর প্রেমের, বিয়ে তার মন মত হতে হবে। একদম স্বপ্নের দেশের রাজকন্যার মত, যা দেখে সবার চোখ জুরিয়ে যাবে।</p>
<p>বিয়ে তো জীবনে মানুষ একবার‌ই করে সুতরাং বিয়ে নিয়ে কেন হাজার স্বপ্ন থাকবে না? মুনিয়া তাই ভাবে।</p>
<p>বাবা-মায়ের এক মাত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-38631"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/38631/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c5ca2e338d2a5add639570684f954c1c</guid>
				<title>গল্প- “ভালোবাসি আজীবন”
পর্ব ৮ - অন্তিম পর্ব
-------------------------------------------
-নয় বছর পর-

--বাবা, মায়ের কথা আজকে বলো না একটু। মায়ের কথা খুব মনে পরছে। তার উপর &#039;মা&#039; নিয়ে রচনা লিখত দিয়েছে স্কুলে, সে জন্য।

--নীলেশ, তুমি জানো না মায়ের ব্যপারে?

--হ্যা বাবা জানি।

--তাহলে কি লিখতে হবে, সেটার জন্য আবার শুনতে চাইছো কেন?

--না বাবা, কি লিখতে হবে আমি সেটা জানি কিন্তু সেই উসিলায় মায়ের কথা আবার শুনতে ইচ্ছা করছে। আর তুমি তো মায়ের ছায়া বলা যায়, তোমার কাছ থেকে যতবার মায়ের কথা শুনি আমার মনে হয় যেন মা আমার পাশেই বসে আছে। আর আজকে লিখার সময় আমি চাই মা যেন আমার পাশে বসে দেখে আমি কি লিখছি তার জন্য।

--মা সবসময় তোমার পাশে থাকে, আমি বলি আর না বলি। ঠিক আছে যাও, আমি আসছি।

--তাড়াতাড়ি এসো বাবা।

নীলা, আমাদের সন্তান এখন‌ও তোমার কথা বলে, তোমার কথা মনে রেখেছে। তোমার ব্যপারে সবকিছু জানে। আমি নীলেশকে কখনো তোমাকে ভুলতে দিবো না। আর নীলেশ আরেকটু বড় হলেই তোমার কথা মত তোমার চিঠিটা তাকে দিয়ে দিবো, চিন্তা করো না।

নীলা, ছেলেটা কিন্তু একদম তোর মত হয়েছে। কখনো একা ভাবিস না নিজেকে, আমি সবসময় তোর সাথে ছিলাম, আছি আর থাকবো‌। তোর জীবনের শেষ আটটা বছর তুই আমাকে দিয়েছিস, ধন্যবাদ সে জন্য। তোর ছেলে.. না না আমাদের ছেলে আমাকে আরো বাঁচার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আর ভুলেও ভাবিস না আমি আরেকটা বিয়ে করবো। তোর ছেলেকে আর কেউ সামলাতে পারবে না তুই ছাড়া, হাহা। ভালো থাকিস।

.....

&#039;সুপ্রিয় সবুজ,

আমি চলে গিয়েছি কিন্তু নিয়ে গিয়েছি তোমার কাছ থেকে অনাবিল ভালোবাসা। আমি জানি না পৃথিবীতে কোন মৃত্যু পথযাত্রী প্রেমিকের কাছ থেকে এতটা ভালোবাসা নিয়ে যেতে পেরেছে কি না। কিন্তু আমি... আমি পেরেছি। আমি সৌভাগ্যবান। আমরা সবসময় সৃষ্টিকর্তার কাছে অকৃতজ্ঞ থাকি। কিন্তু না, প্রতিটি সময় আমাদের তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। তোমাকে ছাড়া আমার থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে, তাই তো ওপারে তোমার জন্য এক বুক ভালোবাসা নিয়ে বসে আছি আমি। আমি জানি, একদিন না একদিন আমাদের দেখা হবে।

ইতি তোমার
নীলা&#039;

**সমাপ্ত**</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37044/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Sep 2021 14:19:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- “ভালোবাসি আজীবন”<br />
পর্ব ৮ &#8211; অন্তিম পর্ব<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
-নয় বছর পর-</p>
<p>&#8211;বাবা, মায়ের কথা আজকে বলো না একটু। মায়ের কথা খুব মনে পরছে। তার উপর &#8216;মা&#8217; নিয়ে রচনা লিখত দিয়েছে স্কুলে, সে জন্য।</p>
<p>&#8211;নীলেশ, তুমি জানো না মায়ের ব্যপারে?</p>
<p>&#8211;হ্যা বাবা জানি।</p>
<p>&#8211;তাহলে কি লিখতে হবে, সেটার জন্য আবার শুনতে চাইছো কেন?</p>
<p>&#8211;না বা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-37044"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/37044/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a01a1347482f8d1ab707ddea64e53080</guid>
				<title>গল্প- “ভালোবাসি আজীবন”
পর্ব ৭
--------------------------------------
মাথাটা এত ব্যথা করছে, চোখটাও খুলতে পারছি না। কিন্তু মুখে কি এটা? কোথায় আমি? ঝাপসা দেখছি কেন সব, এত ব্যথা হচ্ছে কেন পেটে? বেচে কি আছি..

--নীলা, নীলা, তুই ঠিক আছিস?

--সবুজ আমি কোথায়? আম্মু কোথায়? কি হলো, কথা বল? আমরা তো বাসায় ছিলাম আমার ঘরে, এখানে এলাম কিভাবে? কি হয়েছে আমার? আমার শেষ সময় কি চলে এসেছে? বল না কিছু।

--আরে পাগলি, কিসের শেষ সময়! তুই সেদিন কথা বলতে বলতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলি, পরে তোকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তারপর পরিস্থিতি অনুযায়ি তোর অপারেশনটা করিয়ে ফেললাম, এখন তুই সম্পূর্ণ সুস্থ। আজকে দুই দিন পর চোখ খুললি তুই, আমার কি অবস্থা হচ্ছিল তুই যদি দেখতি! তবে তোর ক্যান্সারের সব চিকিৎসা এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে।

--সবুজ এত কিছু এত কম সময়ে, কিভাবে?

--আমি গত ছয় মাস কোথায় ছিলাম জানিস? তোর কথা শুনে সেদিন ভার্সিটি থেকে বের হয়েই আমি রিসার্চ শুরু করেছিলাম এই ব্যাপারে কারণ আমার জীবনের এরপর একটাই লক্ষ্য যে তোকে সুস্থ করে তুলতে হবে। শুধু ক্যান্সারের বিষয়টা নতুন শোনার পরে ওইটা নিয়ে ডাক্তার দেখতে দেখতে একটু সময় লেগে গিয়েছিল। না হলে তো যেদিন তুই জেনেছিলি আমিও সেদিন‌ই জেনেছিলাম, আর সাথে সাথেই চলে আসতাম তোর কাছে। এখন চিন্তার কোন কিছু নেই, সব ঠিকঠাক। এখন শুধু দয়া করে আমাকে বিয়ে করে আমাকে ধন্য কর। আর সন্তানের ব্যাপার যেটা সেটা এই যুগের মেয়ে হয়ে তোর চিন্তা করা ঠিক হচ্ছে না। তোর গর্ভে না হলেও সন্তান আমাদের‌ই হবে।

--তুই অনেক দূর ভাবছিস, ততদিন তো আমি বাচঁবোই না। এর আগেই আমি..

--উল্টা পাল্টা কথা বলবি তোকে আমি নিজের হাতে এখন উপরে পাঠায় দিবো। আমি পুরো পৃথিবী এক করে দিচ্ছি তোর জন্য আর তুই আগে চলে যাওয়ার কথা বলছিস? আর কখনো এ কথা শুনলে তোর খবর আছে, বিয়ে না করলে না করবি, এসব কথা বলবি না খবরদার।

--সবুজ, আমার ঘরে আলমারিতে দ্বিতীয় ড্রয়ারে একটা লাল রঙের খাম আছে, আমি চলে গেলে ওইটা তোর জন্য থাকলো। পড়ে নিস মনে করে, ভুলিস না যেন।

--আমাকে এভাবে বলছিস কেন? তুই নিজেই তো আমাকে দিতে পারিস, আমি রেখে দিবো আমার কাছে যত্ন করে।

--আমি তো ভাবলাম যে এখান থেকে সরাসরি আমাকে বিয়ে করে সাথে নিয়ে যাবি তুই। আর তোর সাথে সর্বোচ্চ সময় কাটাবো বলে আমি আমার বাসায় যাওয়ার সুযোগ‌ই পাবো না, পেলেও হয়তো আমার মনে থাকবে না তোকে দিতে। কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে যে আমার ভাগ‌্যে বিয়ের ফুল ফুটতে এখন‌ও অনেক দেরী আছে। কবে যে কবুল বলতে পারবো..

--কবুল, কবুল কবুল। নে, বলে দিলাম আমি, এবার তুই বল।

--ভেবে দেখি আগে।

--তোকে আমি..

(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37043/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Sep 2021 14:17:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- “ভালোবাসি আজীবন”<br />
পর্ব ৭<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
মাথাটা এত ব্যথা করছে, চোখটাও খুলতে পারছি না। কিন্তু মুখে কি এটা? কোথায় আমি? ঝাপসা দেখছি কেন সব, এত ব্যথা হচ্ছে কেন পেটে? বেচে কি আছি..</p>
<p>&#8211;নীলা, নীলা, তুই ঠিক আছিস?</p>
<p>&#8211;সবুজ আমি কোথায়? আম্মু কোথায়? কি হলো, কথা বল? আমরা তো বাসায় ছিলাম আমার ঘরে, এখানে এলাম কিভাবে? কি হয়েছে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-37043"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/37043/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">80875cfcf51246567f29f47ffb87d33a</guid>
				<title>গল্প- &quot;ভালোবাসি আজীবন&quot;
পর্ব ৬ 
------------------------------------
--কি হলো? আমাকে ভুলে গেলি নাকি?

-সবুজ তুমি..

--কি তুমি? আমি তোর স্বামী নাকি? তুই ঠিক আছিস তো?

--তুমি.. মানে তুই এখানে?

--নীলা তোর কি হয়েছে? ছেলেটা এতদিন পরে আসলো আর তুই কি শুরু করেছিস? যা, ওকে ঘরে নিয়ে যা, আমি ওখানে নাশতা দিয়ে এসেছি।

--দেখলেন খালাম্মা, এখনো দাড়িয়ে আছে। নীলা মনে হয় আমাকে ভুলেই গিয়েছে তাই এখন চিনতে পারছে না।

--কি রে এখনো দাড়িয়ে আছিস, যা সবুজকে নিয়ে যা।

--জ্বি যাচ্ছি। সবুজ..

--হ্যা হ্যা চল।

সবুজ কেন আসলো হঠাৎ? এত কিছু হওয়ার পরেও..

--কি রে, তোর হয়েছে টা কি?

--সবুজ তুই এখানে?

--ঝটকা খেলি? জানতাম। আচ্ছা নীলা, আমাদের বন্ধুত্ত্ব কত বছরের তোর মনে আছে? কত বছর তো দূরে থাক, তুই তো আমাদের বন্ধুত্ত্বটাকেই ভুলিয়ে দিয়েছিস। সে হিসেবে তোর এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো স্বাভাবিক।

--এ্যাই, কি বলছিস তুই? আমি ভুলে গিয়েছি? তুই বলতে পারলি একথা? সবুজ, ভালবাসার চাদরে জরিয়ে তুই আমাদের বন্ধুত্ত্ব নষ্ট করেছিস, তুই আমাকে একা রেখে চলে গিয়েছিলি। আমি সেই দিনের কথা বলছি না যেদিন আমাদের শেষ দেখা, আমি বলছি দুই বছর আগের কথা যখন তুই আমাকে প্রেম নিবেদন করেছিলি। সেদিনই আমি আমার বন্ধুকে হারিয়েছিলাম, তুই জানতি না যে আমার কি অবস্থা ছিল? তুই ছাড়া আমার আর কে ছিল বলতো? আর সে তুই..

--হ্যা সেই আমি তোকে ছেড়ে চলে গেলাম। তাই না, এটাই বলতে চাচ্ছিস? নীলা, দুইটা মানুষ একসাথে থাকলেও একে অন্যের প্রতি মায়া জন্মায় আর আমি তোকে সেই কবে থেকে চিনি। তোকে কি ভালোবাসতে পারি না আমি? আমাকে তুই আর তোকে আমি সবচেয়ে ভালো চিনি আর তাই সারা জীবন তোর সাথে থাকতে চেয়েছিলাম। তোকে সারা জীবন আগলে রাখতে চেয়েছিলাম, বোধহয় ওইটাই আমার ভুল ছিল। গোপনে তোকে ভালোবেসে যেতাম তাহলে তোকে আর হারাতে হতো না আমাকে। তুই আমাকে ভালোবাসিস না ভালো কথা, আমাকে বললেই তো পারতি যে..

--বলি নি তোকে?

--বলেছিস, বলে চলে গিয়েছিলি সারা জীবনের জন্য। একবারের জন্যেও বলিস নি যে সবুজ, ভালোবাসা বাদ দে, বন্ধু হয়েই থাক। সেভাবেই আমি থাকতাম, বিশ্বাস কর কখনো জোর করতাম না। সারা জীবন তোর সাথে থেকে যেতাম বন্ধু হয়ে কিন্তু তুই সেটা করলি না। আমি একটা কথা বললাম আর তুইও সেটা ধরে সব শেষ করে দিলি, গালে একটা চর পর্যন্ত বসালি না আজ পর্যত্ত। আর এখন তোর একটা সংকটের সময়ে ওই ছাগলটাকে সাথে রাখলি আর আমাকে কিছু বললি না।

--কি বলছিস?

--তোর জরায়ুর ক্যান্সারের কথা? থাক, তোকে কিছু আর বলতে হবে না। আমি সব জানি, আমার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মিথ্যা বললি আর সেটাই সত্যি হয়ে গেল। কিসের জন্য করলি রে এসব তুই? আমি কি এতটাই খারাপ নাকি? একবার কি আমাকে বিশ্বাস করতে পারলি না?

--সবুজ আমি তোকে আকাশ ভাই চলে যাওয়ার পর থেকেই ভালোবাসি।

--নীলা..

--হ্যা সবুজ, কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম না কারণ এরকম অনুভূতি তো আবীর আর আকাশ ভাইয়ের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। একটা মানুষ কিভাবে এতজন কে ভালোবাসতে পারে? তুই সব জানিস, তোকেও আমি আবীরের জায়গায় ফেলতে চাই নি। তোকে আমার খুব প্রয়োজন আর তাই তোকে হারানোর কোন রিস্ক আমি নিতে চাই নি।

--অথচ এখন নিজেই দূরে সরিয়ে দিলি? আচ্ছা, তুই সত্যি করে বলতো, আকাশ আর আবীরের থেকে আমার প্রতি কি একটুও ভিন্ন বা বেশি কিছু অনুভব করেছিলি? না, আমাকে বলতে হবে না। তুই নিজেই নিজেকে জিজ্ঞাসা কর, কারণ উত্তরটা আমি জানি, তুই জানিস না। তুই নিজে না বুঝলে কেউ বোঝাতে পারবে না। আর তুই কি ফেরেশতা যে তোর ভুল হবে না? তোর ভুল না হয় প্রেমের ব্যাপারে হলো তাই বলে কি নতুন করে শুরু করা সম্ভব না? তুই..

--না, সবুজ, তুই ব্যাপারটা বুঝতে পারছিস না। আমার..

--&#039;আমার জীবনের সাথে যে জরাবে তার জীবনটা ধ্বংস হয়ে যাবে&#039;, এটাই বলবি তো? তুই এখনো এইটা ভাবিস? নীলা, তোকে নিয়ে আমি কোথায় যাবো? তুই আমাকে না চিনলেও আমি ঠিক তোকে চিনেছি তাই তো আজকে চলে আসলাম সুবর্ণার কাছ থেকে সব শোনার পরে। ছাগল হলেও মেয়েটা কাজের আছে। শোন আমার কথা, আমাকে একবার বিশ্বাস করলেই পারতি। একবার বলেই দেখতি, আমাকে তুই চিনলিই না। তুই ছাড়াই বা আমার কে আছে বল? তোর সব পাগলামি কত মনে পরে আমার জানিস? আচ্ছা ভালো তো বাসিস, এইবার বিয়ে করবি তো? তোর নিশ্চিত হতে হবে না ভালোবাসিস কি না, শুধু এতটুকু নিশ্চিত থাকতে পারবি যে তুই সারা জীবন আমার সাথে থাকবি? কখনো আমাকে ছেড়ে চলে যাবি না? তোর বাকি সব দায়িত্ত আমার, আমি কথা দিলাম তোকে। বিশ্বাস করবি আমাকে?

--সবুজ, আমার পক্ষে সম্ভব না তোকে বিয়ে করা। তুই জানিস তাও পাগলামি করছিস, আমি কখনো মা হতে পারবো না। সেই সাথে ইনফেকশনের কারণে সারা শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পরেছে। আমি যে কোন সময়... সাথে আছি, সাথে থাকবো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কিন্তু বিয়ে করতে বলিস না। তুই..

--নীলা, কি হলো? নীলা?

(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/18792/</link>
				<pubDate>Thu, 08 Jul 2021 08:27:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- &#8220;ভালোবাসি আজীবন&#8221;<br />
পর্ব ৬<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;<br />
&#8211;কি হলো? আমাকে ভুলে গেলি নাকি?</p>
<p>-সবুজ তুমি..</p>
<p>&#8211;কি তুমি? আমি তোর স্বামী নাকি? তুই ঠিক আছিস তো?</p>
<p>&#8211;তুমি.. মানে তুই এখানে?</p>
<p>&#8211;নীলা তোর কি হয়েছে? ছেলেটা এতদিন পরে আসলো আর তুই কি শুরু করেছিস? যা, ওকে ঘরে নিয়ে যা, আমি ওখানে নাশতা দিয়ে এসেছি।</p>
<p>&#8211;দেখলেন খালাম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-18792"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/18792/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1f9e1fa3f23ac2946f3649ae9563d6cc</guid>
				<title>গল্প- &quot;ভালোবাসি আজীবন&quot;
পর্ব ৫
-------------------------------------
এক ঘন্টা ধরে বসে আছি অথচ ডাক্তারের খবর নেই। সিরিয়াল দিয়ে এসেও কোন লাভ হয় না, সময় মত ডাক্তার পাওয়া যায় না। কি এমন করছে সে যা তার সব রুগি থেকেও মূল্যবান! আমাদের হাতে না হয় কোন কাজ নেই, কত মানুষ দূর থেকে এসেছে, আবার যেতে হবে। তাদের অবস্থা ভেবেই খারাপ লাগছে।

ডাক্তার আসলো ঠিকই কিন্তু কথা ঠিক মত না শুনেই হাজারটা পরীক্ষা করতে দিল। রুগির কথা শুনে বুঝতেই পারে না আজকালকার ডাক্তার যে সমস্যা কোথায়। আমি ভাবি যে এরা আদৌ ডাক্তার না অন্য কিছু, রিপোর্ট দেখে তারপর বুঝে কি হয়েছে। অদ্ভূত!

--মিস নীলা সিকদার? ভেতরে যান।

যাক ডাকলো তাহলে অবশেষে।

--রিপোর্ট নিয়ে আসতে বলেছিলাম তো আপনাকে।

--জ্বি আমি রিপোর্ট সাথে করে নিয়ে এসেছি। আসলে আজকের দিনটাই আমার হাতে আছে তাই আমি একবারে কাজ শেষ করে যাচ্ছি।

--দিন, রিপোর্টগুলো দিন। মিস নীলা, একদিনে তো শেষ হওয়ার মতো কাজ মনে হচ্ছে না আমার কাছে।

--খুলে বলবেন কি?

--আপনার জরায়ুতে ক্যান্সার ধরা পরেছে আর সেটা অনেকদিন হয়েছে। জরায়ুটা আপনার ফেলে দিতে হবে অপারেশন করে, যত দ্রুত সম্ভব করে নিবেন..

--কি বলছেন এইসব?

--কথা শেষ করতে দিন, আপনার অনেক জটিল অবস্থা। বুঝতেই পারছেন দুঃখের কথা যে আপনি আর কখনো মা হতে পারবেন না। আর ক্যান্সারের সময় হয়েছে অনেক, যার ফলে আপনার জরায়ুতে ইনফেকশন হয়ে তা আশে পাশে ছরিয়ে গিয়েছে। জরায়ু ফেলে দিলেও আপনার ক্যান্সার থেকে যাবে। সেটার চিকিৎসাও আছে আর আপনার বাচাঁর সম্ভাবনা এখনো আছে। আপনি নিয়ম মেনে যত দ্রুত সম্ভব অপারেশন করিয়ে ফেলুন তারপর ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করে দিন। ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে উঠবেন।

--নীলা, নীলা, কিছু তো বল। কি হয়েছে তোর?

--সুবর্ণা, ডাক্তার এসব কি বলছে? আমি কখনো মা..কখনো..

--নীলা, কিছু হবে না। সময় থাকতে জানতে পেরেছি সেটাই অনেক। আর চিকিৎসা তো আছে, চিন্তা করছিস কেন?

--সব দাদুর জন্য। সেদিনের স্বপ্নটাই আমার জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে, তার উপর আমার জীবনে করা সব পাপের শাস্তি এটা।

--কি বলছিস এসব? কিসের স্বপ্ন? তোর দাদু আসলো কোথা থেকে?

--কিছু না। ডক্টর আজকে তাহলে আমরা উঠি, সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাবো।

--মিস নীলা, যাই সিদ্ধান্ত নিবেন ভেবে নিবেন আর যত দ্রুত সম্ভব। দেরী করলে সমস্যা আরো জটিল হয়ে উঠবে।

--জ্বি। সুবর্ণা চল।

বের হয়ে গেলাম আমরা। আমার মাথা কাজ করছে না, আসলেই তার কুফা লেগে গেল। আর এখন কোন ইমামের কাছে গিয়ে লাভও নেই, যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে।

--কি ভাবছিস নীলা?

--শোন, বাসায় কাউকে কিছু জানাবি না তুই, কথা দে আমাকে।

--কি বলছিস? জানাবো না মানে? আর আমি কেন জানাতে যাবো, তুই নিজেই জানাবি।

--না, আমি এখন জানাচ্ছি না। আর তুইও জানাবি না, কথা দে। এটা আমাদের মধ্যে গোপন থাকবে, শুধু তুই আর আমি জানবো আর কেউ না।

--কিন্তু..

--প্লিজ সুবর্ণা, আমার কষ্ট আর বাড়াস না। যেটা বলছি সেটা কর। হয়তো আমি একা আসলে তোকে এসব বলা লাগতো না। আমার মাথাই নষ্ট ছিল শুধু শুধু তোকে নিয়ে আসলাম সাথে।

--আমাকে সাথে আনবি না তো কাকে আনবি? এমন পরিস্থিতি একাই পার করবি? আচ্ছা আমি কাউকে কিছু বলবো না। যত দ্রুত সম্ভব যা করার কর, কিন্তু দেখ সময় নিবি না বেশি এই ব্যাপারে। এটা হেয়ালির বিষয় না। এখন চল, তোকে বাসায় দিয়ে আসি।

--না, আমি বাসায় যাবো না এখন। তুই বাসায় যা, আমি একটু লেকের ধারে বসবো, মাথাটা একটু ঠিক করতে হবে।

--ঠিক আছে, সাবধানে থাকিস আর ঔষধগুলো নিয়ে যাস যাওয়ার সময়। আমি আসি তাহলে, আল্লাহ হাফেজ।

--আল্লাহ হাফেজ

-এক সপ্তাহ পর-

কি হচ্ছে এই সব। সবুজ, আজকে তোর কথা খুব মনে পরছে। তোর কাধে মাথা রাখতে ইচ্ছা করছে, মনের সব কথা বলতে ইচ্ছা করছে, মন খুলে কাদঁতে ইচ্ছা করছে। কোথায় তুই সবুজ? তোর চুল ধরে টানি না কত দিন, তোকে তুই বলেই তো ডাকতে পারি না। তুই কেন দূরে চলে গেলি? আমাকে কেন ভালোবাসতে গেলি তুই? কেন? 

আহ, সবুজ আমার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা করছে। একটু জরিয়ে ধরবি? একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দিবি? একটু পিঠে মেরে বলবি যে আমি নিজের খেয়াল রাখছি না ঠিক মত। কোথায় তুই সবুজ? ভুলে গিয়েছিস আমাকে? ভালো আছিস তো? তোকে যে কারণে দূরে সরিয়ে দিলাম, তুই সুখে আছিস তো? বিয়ে করেছিস? তোর পাশে আমি বসতে চেয়েছিলাম, আর না হয় তোর বিয়ের দাওয়াতটা তো পাওনা ছিল আমার।

--নীলা?

--জ্বি আম্মু।

--দেখ কে এসছে।

--কে এসেছে...

--দেখ, কতদিন পর সবুজ আসলো। সেই যে কবে ছেলেটা এসেছিল, এরপর তো দেখাই নেই। আমি নীলা কে বলেছি কতবার তোমাকে নিয়ে আসতে কিন্তু আমার কথা শোনেই না মেয়েটা। দাড়িয়ে আছিস কেন ছাগলের মত, ওকে আজকে নতুন দেখছিস নাকি? তোরা কথা বল, আমি চা-নাশতার ব্যবস্থা করছি।

আমি কি আবার কল্পনা করছি? সবুজকে কল্পনা করতে যাবো কেন? কিন্তু আজকে হঠাৎ..

(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17779/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Jul 2021 07:12:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- &#8220;ভালোবাসি আজীবন&#8221;<br />
পর্ব ৫<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
এক ঘন্টা ধরে বসে আছি অথচ ডাক্তারের খবর নেই। সিরিয়াল দিয়ে এসেও কোন লাভ হয় না, সময় মত ডাক্তার পাওয়া যায় না। কি এমন করছে সে যা তার সব রুগি থেকেও মূল্যবান! আমাদের হাতে না হয় কোন কাজ নেই, কত মানুষ দূর থেকে এসেছে, আবার যেতে হবে। তাদের অবস্থা ভেবেই খারাপ লাগছে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-17779"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/17779/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9e4224acd7c51b2ec13bc06b39b6eb02</guid>
				<title>গল্প- &quot;ভালোবাসি আজীবন&quot;
পর্ব ৪
-------------------------------------
ছয় মাস পর-

ভার্সিটির ৪ বছর শেষ হয়ে গেল, কত কিছু বদলে গেল এর মাঝে। কতজনকে হারালাম, কত নতুন কিছু জানলাম, কত রহস্য বের হলো, নতুন করে কতজনকেই না কষ্ট দিলাম। 

ছয়টা মাস হলো সবুজের কোন খবর নেই, তাকে কষ্ট দিয়েও আমি তো সুখে নেই। আমি তো তাকে আজও ভালোবাসি কিন্তু আমার জীবনের সাথে জরিয়ে তার জীবনটা নষ্ট করতে পারি না। আমি নিজেই বুঝি না আদৌ কি আমি সবুজকে ভালোবাসি? আবীরকেও তো বাসতাম তাও আরেকজনের প্রতি দুর্বল হয়ে পরেছিলাম, আকাশ ভাইয়ের কথাও এখন তেমন একটা মনে পরে না যার জন্য আবীরের সাথে এমনটা করলাম। কি নিশ্চয়তা যে সবুজকে পাওয়ার পরেও আমি আরেকজনের প্রতি আসক্ত হবো না? আমার যদি আবার মনে হয় যে আমি সবুজকে ভালোবাসি না, ওর সাথে জীবন কাটাতে পারবো না? তাহলে তো আবার আরেকজনের মন ভাঙতে হবে আমাকে। নাহ নাহ, আর কারো মন ভাঙ্গার বোঝা নিয়ে আমি থাকতে পারবো না।

--নীলা, নীলা, নীলা..

--কি রে, এত সকালে তুই আমার বাসায়?

--চলে আসলাম, বাসায় বসে বসে আর ভালো লাগছিল না তাই দেখা করতে চলে এলাম।

--ভালো করেছিস এসে, আমারো খুব একা লাগছিল।

--তো, এইবার কি করবি?

--কি করবো, তোর সাথে এক কাপ চা খাবো। আর কি করবো?

--আরে নীলা, জীবনে এবার কি করবি? পড়াশোনা তো শেষ, এখন কি?

--এখন আর কি? ঘুমাবো আর ঘুমাবো। তারপর ঘুরাঘুরি করবো, তারপর..

--তারপর আমি বলছি। তারপর আমাদের নীলা যাবে কানাডায়, অনেক বড় একজন মনোবিজ্ঞানী হয়ে আসবে।

--কি বলছিস এইসব?

--ঠিকই তো বলছি, পরীক্ষার আগেই আমরা সবাই জানি যে তুই স্কলারশীপ পাবি, তারপর যাবি কানাডায়।

--আরে নাহ, ওরকম কিছু হবে না।

--তো কি হবে? আচ্ছা ধরলাম বাইরে যাবি না, তাহলে কি করবি? দেখ আমি সিরিয়াস, এখন মজা করছি না।

--তুই আবার সিরিয়াস! নদীর একুল আর ওকুল যা কখনোই এক হবে না। হাহা। আমি সত্যি জানি না আমি কি করবো, কিচ্ছু ভালো লাগছে না।

--তুই পড়াশোনায় এত ভালো হয়ে যদি বলিস তুই জানিস না কি করবি, তাহলে আমরা কোথায় যাবো? হুম? তবে আমি জানি তোর কেন কিছু ভালো লাগছে না।

--কেন?

--কারণটা হচ্ছে সবুজ ভাই। তার জন্য তোর কিছু ভালো লাগছে না।

--তেমন কিছু না।

--হয়েছে, আর ঢং করতে হবে না। আমার কাছ থেকে কেন লুকাচ্ছিস বলতো? সবুজ ভাই চলে যাওয়ার পর থেকে তোর এই অবস্থা। কি মনে করিস আমি কিছু বুঝি না? কি হয়েছিল বলতো আমাকে। কোথায় গিয়েছে সে? সেদিন কি এমন হয়ে গেলো?

--সে কোথায় আমি তা জানি না তবে সেদিন আমি তাকে একটা মিথ্যা কথা বলেছি যে আমি কখনো মা হতে পারবো না, এরপর থেকে তার কিছু আমি জানি না। আমার সাথে কোন যোগাযোগ নেই।

--নীলা? তোর মাথা ঠিক আছে? তুই এটা কি করেছিস? তুই ঠিক করিস নি, নীলা।

--আমার হাতে আর কোন উপায় ছিল না রে। সবুজ এখন না হয় একটু কষ্ট পেয়েছে কিন্তু আমার জীবনের সাথে জরিয়ে গেলে তাকে সারা জীবন কষ্ট পেতে হতো। আমাকে ভুলে যাওয়াটাই তার জন্য শ্রেয় তাই আমি এমনটা করেছি।

--তোর কি মনে হয় যে সবুজ ভাই তোকে ভুলে গিয়েছে? তুই তাকে চিনলি না নীলা।

--মানে কি? কি বলছিস তুই?

--গত ছয় মাসে সবুজ ভাই আমাকে প্রতি সপ্তাহে একবার হলেও ফোন করে তোর কথা জানতে চেয়েছে। আমি শুরুতে খুব জানার চেষ্টা করেছিলাম তোদের মাঝে কি হয়েছে, সবুজ ভাই ই বা কোথায় চলে গেল কিন্তু আমি অসফল ছিলাম।

--তুই আমাকে এটা আজকে বলছিস? এতদিন বলিস নি কেন???

--আমি সবুজ ভাইকে কথা দিয়েছিলাম যে তোকে কিছু বলবো না তাই। কিন্তু আজকে তোর কথা শুনে মনে হয়েছে তোর বিষয়টা জানা দরকার তাই না বলে থাকতে পারলাম না।

--জানিয়েছিস ভালো করেছিস। শেষ কবে ফোন দিয়ছে তোকে?

--শেষ ফোন দিয়েছে অনেক দিন হয়েছে। আমি শুধু বলতাম তুই ভালো আছিস আর সে বলতো আলহামদুলিল্লাহ, এক কথা শুনতে শুনতে হয়তো এখন আর ফোন দেয় না।

--শোন, আবার ফোন দিলে এমন কিছু বলবি যেন সে আমার কথা আর কখনো জানতে না চায়।

--কিন্তু...

--কোন কিন্তু না, যেটা বলছি সেটা করবি। আচ্ছা শোন এবার, আজকে তোর হাতে সময় আছে? একটা সাহাজ্য লাগতো তোর।

--বল কি করতে হবে, আমি এখন সর্বক্ষণ ফ্রি।

--আমি ডাক্তারের কাছে যাবো, একটু আমার সাথে যাবি?

--হ্যা যাবো কিন্তু ডাক্তার কেন হঠাৎ? কার জন্য ডাক্তার? আর আমাকে নিয়ে যাচ্ছিস কেন? আন্টির কিছু হয়েছে?

--না না, আম্মুর কিছু হয় নি। আমার সমস্যা, গত কয়েক দিন পেটে খুব ব্যথা হচ্ছে আমার তাই। আম্মুকে বললে অযথা চিন্তা করে প্রেশার বাড়িয়ে ফেলবে তাই আমি নিজেই যাচ্ছি কিন্তু একা যেতে আবার কেমন যেন লাগছে। ডাক্তারের কাছে কখনো একা যাই নি, তাই তুই যদি সাথে যেতি আর কি।

--অবশ্যই যাবো, কোন সমস্যা নেই। কখন বের হবো?

--এই তো নাশতা করে আস্তে ধীরে বের হবো। তুই বোস, আমি চা নিয়ে আসি।

(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17435/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 04:19:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- &#8220;ভালোবাসি আজীবন&#8221;<br />
পর্ব ৪<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
ছয় মাস পর-</p>
<p>ভার্সিটির ৪ বছর শেষ হয়ে গেল, কত কিছু বদলে গেল এর মাঝে। কতজনকে হারালাম, কত নতুন কিছু জানলাম, কত রহস্য বের হলো, নতুন করে কতজনকেই না কষ্ট দিলাম। </p>
<p>ছয়টা মাস হলো সবুজের কোন খবর নেই, তাকে কষ্ট দিয়েও আমি তো সুখে নেই। আমি তো তাকে আজও ভালোবাসি কিন্তু আমার জীবনের সা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-17435"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/17435/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">61f3697799cd703e9c12e07530b08614</guid>
				<title>গল্প- &quot;ভালোবাসি আজীবন&quot;
পর্ব ৩ 
------------------------------------
এক সপ্তাহ হয়ে গেল, সবুজের খবর নেই কোন। ছেলেটা ঠিক আছে তো? আমি আবার একা হয়ে গেলাম। যে কারণেই হোক, তার সাথে আমার প্রতিদিন একবার হলেও তো কথা হতো। এখন তো... সবই আমার ভাগ্য। না আমি সবুজকে ভালোবাসতাম, না সবুজও আমাকে ভালোবাসতো। ভালোই তো ছিলাম আমি আমার এক তরফা ভালোবাসা নিয়ে, ওকে কে বললো এসব করতে? শুধু বন্ধু হয়ে থাকলে কি হতো? কেন আমাকে সে ভালোবাসতে গেল?

--নীলা?

--জ্বি আম্মু।

--শোন, একটু কথা আছে।

--কি আম্মু, বলো। এত গম্ভীর দেখাচ্ছে কেন তোমাকে?

--ইদানিং তুই কোন বড় স্বপ্ন দেখেছিস নাকি? অনেকক্ষণের এমন?

দেখেছি তো বটে কিন্তু আম্মু কেন জানতে চাইছে। না, আগে জানতে হবে। বিষয়টা কি!

--কেন আম্মু, হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?

--তোকে যেটা জিজ্ঞাসা করেছি সেটার উত্তর দিতে পারছিস না?

--আচ্ছা বাবা, বলছি। এতো রাগ হচ্ছো কেন? নাহ, কোন স্বপ্ন দেখি নি। মাঝে মধ্যে...

--কি? মাঝে মধ্যে কি?

--মাঝে মধ্যে আর কি দেখি যে আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে, কত সুন্দর ফুটফুটে সন্তান আমার। তোমাদের সাথে আর থাকা লাগছে না, তোমার কা কা আর শোনা লাগছে না। কত্ত সুন্দর হয় সেই স্বপ্নগুলো! আহা!

--হ্যা, তা তো দেখবিই। আমি তো সারাদিন কা কা করি। আসুক না তোর বাবা, কে কা কা করে বের করছি আমি।

--ওরে আমার লক্ষ্মী আম্মু, আমি তো মজা করছিলাম। নাহ, আমি কোন ধরণের স্বপ্ন দেখি না। এবার বলবে কেন জিজ্ঞাসা করলে?

--তুই তোর দাদা বাড়ির সম্পর্কে সবকিছু জানিস কিন্তু একটা কথা তোকে এখনো বলা হয় নি।

--কি কথা আম্মু?

-- কথাটা হচ্ছে যে, শোন মা মনোবল রাখিস। কিচ্ছু হবে না তোর।

--আম্মু, তুমি বলবে কি হয়েছে।

--তোর দাদি, কুফুরি করছিল তোর উপর কিন্তু তোকে কোন ক্ষতি করতে পারে নি কারণ আমরা তার ধারে কাছে ছিলাম না। তারপরেও সে একটা কাজ করেছে।

--কি কাজ?

--তোর দাদি কুফুরি করে তোর স্বপ্ন নষ্ট করে দিয়েছিল। মানে আমি বুঝিয়ে বলছি। এমন কিছু একটা করেছে যার ফলে তুই নিজেকে নিজেই যদি কখনো ১৮ বছর বয়সের পরে স্বপ্নে দেখিস সেটা কোনভাবে সত্যি হয়ে যাবে।

--কি যা তা বলছো আম্মু? এইসব ফালতু, এরকম কখনো হয় না। আর ভালো কিছু দেখলে, তখন কি? তখন তো সেটাই সত্যি হবে, তখন কি হবে?

--মা রে, সমস্যাটা এখানেই। তুই জীবনে একবার হলেও খারাপ কিছু একটা দেখবি আর সেটাই লেগে যাবে। ভালো কিছু দেখার সম্ভাবনা খুব কম, আর দেখলেও তোর কিছু মনে থাকবে না। খারাপ যেটা দেখবি সেটা তোর স্পষ্ট মনে থাকবে, তোর মনে হবে যে তোর সাথে এটা সত্যি সত্যি হয়েছে আর বাস্তব মনে হবে। তুই মনে করে দেখ, বিগত কয়েক বছরে তুই কি কোন।খুব ভালো কিছু দেখেছিস যেটা তোর এখনো মনে আছে? এমন ভালো কিছু যেটা তুই কখনো ভুলতে পারছিস না আর মনে হচ্ছে তোর সাথে সত্যি সত্যি এমনটা হয়েছিল?

--না।

--কিন্তু ভয়ানক দুস্বপ্ন একটা দেখলে তখন এমন মনে হবে। সেটা দুস্বপ্ন কিনা তুই বুঝবিও না কিন্তু খারাপ কিছু একটা তোর নিজেকে নিয়ে।

--বুঝলাম, কিন্তু তোমরা এই ব্যাপারে কারো সাথে আলাপ করো নি? আব্বু কিছু করে নি?

--করেছি তো, কুফুরি কাটায় যারা গিয়েছি তাদের কাছে। মসজিদের ইমামের সাথে কথা বলেছি। সবাই বলেছে যতক্ষণ না তুই এমন কিছু দেখছিস ততক্ষণ কিছু করা সম্ভব না, আগে হলে তারপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছু একটা করা যেতে পারে। তাই তোকে আজকে জিজ্ঞাসা করা। ৪ বছর তো প্রায় পেরিয়ে গেল, তুই এর মাঝে কখনো কিছু দেখেছিস কি না জেনে নিলাম।

--না, কিছু দেখি নি। দেখলে জানাবো আর তোমার স্বামীকে বলে দিও তার মায়ের মত মা এই পৃথিবীতে যেন কেউ না পায় সেই দোয়া যেন আল্লাহর কাছে নিজের মুখে করে।

আমি চলে গেলাম তার সামনে থেকে। দাদু কিভাবে করতে পারলো এমনটা, আমি তার বংশেরই একজন। তাহলে কেন করলো সে এমন? আমি তার কি ক্ষতি করেছিলাম, কোন সম্পত্তির দাবিও কখনো করি নি। এই মহিলা এখনো বেঁচে আছে! এই জন্যেই সবাই বলে যে, যে আগে চলে যায় সে ভালো মানুষ ছিল আর বেশি দিন যে বাঁচে তাকে আল্লাহ সময় দিচ্ছে শুধরানোর তাই সহজে নিয়ে যায় না। এই মানুষটা হাজার বছর বাঁচলেও ঠিক হবে না, উল্টো আরো কত মানুষের জীবন যেন নষ্ট করে।

(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17252/</link>
				<pubDate>Sat, 03 Jul 2021 12:30:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- &#8220;ভালোবাসি আজীবন&#8221;<br />
পর্ব ৩<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;<br />
এক সপ্তাহ হয়ে গেল, সবুজের খবর নেই কোন। ছেলেটা ঠিক আছে তো? আমি আবার একা হয়ে গেলাম। যে কারণেই হোক, তার সাথে আমার প্রতিদিন একবার হলেও তো কথা হতো। এখন তো&#8230; সবই আমার ভাগ্য। না আমি সবুজকে ভালোবাসতাম, না সবুজও আমাকে ভালোবাসতো। ভালোই তো ছিলাম আমি আমার এক তরফা ভালোবাসা নিয়ে, ওকে কে বল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-17252"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/17252/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">90ac93e349d4d44fa248d8da99ecdf6c</guid>
				<title>গল্প- &quot;ভালোবাসি আজীবন&quot;
পর্ব ২
-----------------------------
আমি হঠাৎ করে উঠে বসলাম। উঠেই আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে দেখলাম, নাহ গায়ের রঙ তো ঠিকই আছে। আমি ছোটকাল থেকে যেমন তেমনই আছি, লাল ফর্সা। এতক্ষণ কি স্বপ্ন দেখছিলাম? হৃদয়টা কে আবার? কিন্তু বুকে তো সত্যি সত্যিই ব্যথা করছে। হার্ট এটাক কখনো এভাবে হয় বলে শুনি নি, স্বপ্নেই সম্ভব। কিন্তু ব্যথা হচ্ছে কেন সত্যি সত্যি!

-- কি রে নিজেকে আজকে নতুন দেখছিস নাকি?

-- আম্মু, আমার বুকে ব্যথা করছে কেন যেন।

-- ব্যথা তো করবেই।

-- কেন আম্মু?

-- কালকে রাতে ঘুমানোর আগে কি পড়ছিলি মনে আছে?

-- হ্যা, ওই অনেক দিন পরে এনসাইক্লোপেডিয়া নিয়ে বসেছিলাম একটু। কিন্তু হঠাৎ এই প্রশ্ন?

-- তোর সেই এনসাইক্লোপেডিয়া নিয়ে শুধু বসে ছিলি না, পড়তে পড়তে ওটা নিয়ে শুয়ে পরেছিলি। তারপর সেই অবস্তাতেই ঘুম, আর সেই মোটা ভারি বইটা তোর বুকের উপর ছিল সারা রাত। আমি একটু আগে ঘরে এসে দেখে তারপর নামিয়ে রাখলাম। এভাবে এতো ভারি একটা বই সারা রাত বুকের উপর থাকলে তো ব্যথা করবেই। আর তুই এত ঘামাচ্ছিস কেন? কি হলো?

-- না কিছু না।

--যা, হাত মুখ ধুয়ে তৈরী হয়ে আয়, আমি নাশতা দিচ্ছি।

কিছুই বুঝলাম না, শুধুমাত্র একটা এনসাইক্লোপেডিয়া আমাকে কি স্বপ্ন দেখালো! হৃদয় ছেলেটা খুব খারাপ, ভালোবাসি বলে, হারাতে চাই না বলে অথচ ভালোবাসার মানুষের কোন কদর নেই, কোন মূল্য নেই তার কাছে। এরকম &#039;হৃদয়&#039; যেন কারো ভাগ্যে না জোটে আল্লাহ।

নাশতা খেয়ে বের হয়ে পরলাম, ক্লাসে যেতে ইচ্ছা করছে না। তার উপর সবুজের উত্তক্ত করা, আর সহ্য হয় না। ভালোবাসা কি গাছে ধরে যে চাইবে দিয়ে দিব? অদ্ভুত!

আল্লাহ আমার মাথায় এটা আগে আসে নি কেন? এত ভালো বুদ্ধি আগে কেন মাথায় আসলো না! হে আল্লাহ, ধন্যবাদ আজকে স্বপ্ন দেখানোর জন্য। এখন ভার্সিটি যাওয়া যাবে, কোন চিন্তা নেই। এসব রোডসাইড রোমিও কে কিভাবে সায়েস্তা করতে হয় আমার ভালো করেই জানা আছে। আজ দেখাচ্ছি মজা।

ভার্সিটিতে আজকে হরতাল নাকি? একজনকেও দেখা যাচ্ছে না, বন্ধ তো নেই কোন তাহলে কি হলো? বুঝলাম না কাহিনী!

-- এই নীলা, দাড়া। আরে দাড়া না, মেয়েটা বয়রা হয়ে গেল নাকি।

-- কি রে সুবর্ণা, চেচাচ্ছিস কেন? কি হয়েছে?

-- তোকে দাড়াতে বলছি, শুনছিস না কেন?

--শুনতে পাই নি তোকে, দুঃখিত।

--শুনবি কিভাবে, মাথার মধ্যে তো শুধু সবুজ ভাইয়া ঘুরে। তার কথা ভাবলে কি আর আমার কথা কানে যাবে!

--দেখ, ঢং করবি না বললাম খবরদার।

--আচ্ছা করবো না, কিন্তু তুই তো তার কথাই ভাবছিলি। কি ঠিক বললাম নীলা?

--সেটা ঠিক বলেছিস, কিন্তু আমি ভাবছি তাকে সায়েস্তা করার কথা। কিভাবে তার থেকে মুক্তি পেতে পারি।

--নীলা, এইটা আমাদের শেষ বছর। এবার তো সব মেনে নিতে পারিস, সবুজ ভাইয়া তোকে আসলেই অনেক বেশি ভালোবাসে। আর তোরা আগে কত কাছের বন্ধু ছিলি, আমার থেকে তুই ভালো জানিস, ণাহলে শুধু মাত্র একটা ভালোবাসার বিষয় নিয়ে বন্ধুত্ত কেন নষ্ট করতে যাবি?

--সুবর্ণা, তুই এসেছিস এক বছর। তার আগের কয়েক বছর আমার জীবনে কি ঘটেছে তুই জানিস তারপরেও এসব বলছিস?

--হ্যা হ্যা, আমি সব জানি। আমি জানি কিভাবে তুই ৬ বছর আগে তুই আবীর ভাইয়ার সাথে সম্পর্কে গিয়েছিলি, সে তোকে অনেক ভালোবাসলেও ধীরে ধীরে তার প্রতি তোর অনুভূতি কমে যাচ্ছিল আর তুই তোর এক সিনিয়রের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছিলি। এরকম ভাবে ১ বছর যায়, আবীর ভাইয়া বুঝতে পেরে তোকে মুক্তি দেয় আর সেই সিনিয়র ভাইয়া, যে তোর ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছিল, সে তোকে ভালোবাসতো না। পড়াশোনার জন্য সেই যে গেল, আর কোন যোগাযোগ নেই। এরপর থেকে আবীর ভাইয়াকে কষ্ট দিয়েছিস বলে তুই নিজে ভুলের মাশুল দিতে চাস সারা জীবন কাউকে ভালো না বেসে, কাউকে তোকে ভালোবাসতে না দিয়ে। কিন্তু তুই কি আবারও সবুজ ভাইয়া কে কষ্ট দিচ্ছিস না?

--সুবর্ণা তোকে যতটুকু বলেছি তুই ততটুকু জানিস, কিন্তু কাহিনী এখানেই শেষ নয়। সবুজকে আমি...

--নীলা...নীলা

--হাজার বছর বাচঁবে সবুজ ভাইয়া। হাহা। তোরা কথা বল, আমি গেলাম। শুভ কামনা।

--তোকে এবার আমি মেরে হাড় সব ভেঙ্গে দেব।

দৌড়াতে দৌড়াতে সবুজ সামনে এসে দাড়ালো। ওই সয়তানটাকেও এখনি চলে যেতে হবে। হায় আল্লাহ, রক্ষা করো আমায়। আমি মুখ ফিরিয়ে উল্টা দিকে হাটা দিলাম, কিন্তু সবুজ তারপরেও আমার সামনে এসে আমার পথ আটকে ধরলো।

--কি, হচ্ছে কি এসব সবুজ?

--নীলা এটা তোমার জন্য।

--কি এটা?

--এটা আমার ভালোবাসা, তোমার জন্য।

একটা কার্ড, সাথে গোলাপ ফুল।

--তোমার কাছে রাখো, যে তোমার এইসব পেতে চায় তাকে গিয়ে দাও।

--কেন, তুমি চাও না?

--সবুজ, উত্তরটা তোমার জানা আছে।

--হ্যা, জানা আছে তাও জিজ্ঞাসা করা যদি ভিন্ন কোন উত্তর আসে তাই।

--সেই আশা করো না, স্বপ্নেও তা সম্ভব না।

--স্বপ্নে তো তুমি আমাকে কবেই স্বামী বানিয়েছো, বাস্তবেই শুধু বাকি।

এইবার ঠিক সময়, এখনি সবুজকে বলতে হবে কথাটা। আমি নিশ্চিত, এইটা ঠিক কাজ করবে। সবুজও একটা ছেলে, এইটা কখনোই সে মেনে নেবে না।

--সবুজ তোমার একটা কথা জানা দরকার।

--বলো না, তোমার ব্যাপারে আমি সব জানতে চাই। একটা সময় ছিল যখন তুমি আমাকে কিছু না বলে থাকতে পারতে না, আমিও তোমার সকল কথা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে থাকতাম। তোমার অভ্যাসটা বদলে গিয়েছে কিন্তু দিনে দিনে আমার অভ্যাস ইচ্ছায় পরিণত হয়েছে আর তীব্র হয়েছে। বলো কি বলবে, আমি সারাদিন আছি তোমার কথা শোনার জন্য।

--সবুজ, আমাকে ভালোবাসো তুমি তাই তোমার একটা কথা জানা দরকার আমার ব্যাপারে। আমি আগেই হয়তো বলতাম কিন্তু কখনো প্রয়োজনবোধ করি নি কিন্তু আজকে তোমাকে বলতেই হবে। সবুজ, আমি কখনো মা হতে পারবো না। আল্লাহ আমাকে সেই ক্ষমতা দেয় নি, কখন কিভাবে কি হয়েছে জানি না তবে এটাই সত্য। আমি ছোটকাল থেকেই জানতাম, কখনো পাত্তা দেই নি কিন্তু এখন বুঝি বিষয়টা কত গম্ভীর।

--নীলা, এসব কি বলছো? কিভাবে সম্ভব? তাহলে আবীরের সাথে কিভাবে কি?

--বললাম তো, আমার কাছে এটা কোন ব্যাপার ছিল না আগে কিন্তু এখন আমি জানি এই বিষয়টা কত গুরুতর। তোমার জানার অধিকার আছে তাই তোমাকে বলা...

সবুজ আর কোন কথা না বলে চলে গেল। একটি বারের জন্যেও ফিরে তাকালো না, যাক বাচা গেল। সবুজ, আমার হাতে আর কোন উপায় ছিল না। তোমার জীবনটা আমি ধ্বংস করতে পারবো না, আমায় তুমি ক্ষমা করো। তবে আমি জানি স্বপ্ন হোক আর বাস্তব, হৃদয়ের মত ছেলেরা সব জায়গাতেই আছে।

(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16949/</link>
				<pubDate>Fri, 02 Jul 2021 16:08:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- &#8220;ভালোবাসি আজীবন&#8221;<br />
পর্ব ২<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
আমি হঠাৎ করে উঠে বসলাম। উঠেই আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে দেখলাম, নাহ গায়ের রঙ তো ঠিকই আছে। আমি ছোটকাল থেকে যেমন তেমনই আছি, লাল ফর্সা। এতক্ষণ কি স্বপ্ন দেখছিলাম? হৃদয়টা কে আবার? কিন্তু বুকে তো সত্যি সত্যিই ব্যথা করছে। হার্ট এটাক কখনো এভাবে হয় বলে শুনি নি, স্বপ্নেই সম্ভব। কিন্তু ব্যথ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-16949"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/16949/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ec97f41aa197b2a44f9bc5a209ec250c</guid>
				<title>গল্প- &quot;ভালোবাসি আজীবন&quot;
পর্ব ১
-------------------------------
বুকের বাম পাশটা দুপুর থেকে ব্যথা করছে। কারণটা বুঝতে পারছি না। নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে, কিছুই ভালো ঠেকছে না আমার কাছে। শুধু ব্যথা না আবার, একটু অন্যরকম লাগছে আবার। বুকের ভেতরটা খুব ফাঁকা লাগছে, কিসের একটা শূন্যতা অনুভব করছি। হয়তো স্বাভাবিক, আপন মানুষের মাঝে থেকেও যখন একা থাকি তখন এরকম তো লাগবেই। প্রায়ই তো হয় এরকম, চলে যাবে কিছুক্ষণ পরে। বুকটা আবার ভারও হয়ে আছে। তবে একটু ঘুমালে হয়তো ঠিক লাগতে পারে।

ব্যথাটা বেরেই চলছে, উঠে গিয়ে মাকে বললাম অবশেষে। এরকম যন্ত্রণা হয়নি আগে কখনো, এ শুধু একাকিত্তের জন্য না। মা পরে নিয়ে গেল ডাক্তারের কাছে। ইসিজি করালাম, রিপোর্টের অপেক্ষায় এখন। 

রিপোর্ট রাতেই চলে আসলো, গিয়ে আনতে হবে কালকে সকালে। আমি দেখিনি, মাকে বললাম দেখে নিতে। আমার ব্যথার জন্য উঠতেই পারছি না শোয়া থেকে। 

মা হঠাৎ কেমন যেন চিৎকার করে উঠলো। কি হয়েছে? আমি উঠে যাওয়ার আগেই মা দৌঁড়ে ঘরে আসলো আমার কাছে।

-- কি হয়েছে মা? এতো চেচাচ্ছো কেন?

-- মা রে তোর এ কি হলো? কেন....

-- মা, তোমার ঢং দেখার একদম ইচ্ছা আর শক্তি নাই আমার। এমনেই প্রচণ্ড ব্যথা করছে, প্রতি মুহূর্ত যেন বাড়ছে..ওহ, ভালো কথা, ভুলেই তো গেলাম আমি। রিপোর্ট দেখেছো? নাকি এই ফাউ কান্নাকাটির জন্য সেটাও ভুলে গিয়েছো?

-- ওই টা নিয়েই তো কথা বলতে আসলাম..

-- তো বলো, কিসের জন্য অপেক্ষা করছো?

-- নীলা, তুই সকালের দিকে হার্ট এটাক করেছিলে, সে জন্যেই তোর ব্যথা হচ্ছে।

-- মা, কি বলছো এসব? দেখি আমি দেখে আসি তো। ল্যাপ্টপ কোথায়? তোমার মাথা দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কি যে বলছো, নিজেই জানো না..

বলতে বলতে বাইরে গিয়ে নিজেই মেইল খুলে দেখলাম। রিপোর্ট দেখে আমার পায়ের নিচের মাটিই যেন সরে গেল। একিউট হার্ট এটাক? কিভাবে সম্ভব? কিন্তু আমার তো কখনো হার্টে সমস্যা ছিল না, স্পোর্টসেও সবসময় ভালো ছিলাম। আমার তো কোন রকম স্বাস্থও নেই, সবসময় নিজেকে নিয়ে সচেতন থেকেছি তাও আজকে এটা কি দেখছি! মাথা কাজ করছে না।

-- আরে মা, এতে কান্নার কি আছে বলো তো? আমি তো আর মরে যাই নি। হয়েছিল আর কি, ডাক্তারের সাথে কথা বলে দেখবো নে কাহিনী আসলে কি। তোমার এতো চিন্তা করতে হবে না।

-- তুই কি বলছিস এসব? তোর এই অবস্থা আর আমি চিন্তা করবো না? তোর কি হয়েছে বলতো মা সত্যি করে?

-- মা আমার কিচ্ছু হয় নি। হয়তো ইদানিং ভারসিটির টেনশন করছি তাই এমন হতে পারে..

-- তুই চুপ থাক। সবসময় হেয়ালি করিস তুই। তোর কিছু হলে আমার কি হবে ভেবেছিস কখনো? তোর বাবা নেই এখন, তুই না থাকলে আমি...

-- উফফ, মা কি শুরু করলে? আমার কিচ্ছু হবে না, চিন্তা করো না তো। ঝামেলা যেটাই হয়েছে ডাক্তার বুঝবে, আর আমি তোমাকে জানাবো। এখন যাও তো, হাত মুখ ধুয়ে নাও আর খেতে দাও। হার্টে সমস্যা কিন্তু তাও খাবার বন্ধ করতে পারবো না। হাহা

-- যাচ্ছি, সবসময় হাসি ঠাট্টা। এই মেয়েটাকে নিয়ে যে আমি কোথায় যাবো..

বলতে বলতে মা বের হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে সামলে নিতে হলো, আমি ভেঙ্গে পরলে মায়ের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। কিন্তু তাও মাথায় কিছু ঢুকছে না। এসব কি করে... ক্রিং ক্রিং...

কে ফোন দিল এই অসময়! হৃদয়! হৃদয়কে কি বলবো আমি। কয়েক দিন পরে আমাদের বিয়ে, কথা সব পাকা হয়ে আছে। যে কোন সময় বিয়ে হয়ে যাবে কিন্তু এখন আমার এই অবস্থা।

-- হ্যালো হৃদয়।

-- তারপর বলুন, আমাকে ছাড়া আর কার কথা ভাবা হয়? হুম?

-- হবু স্বামী।

-- ওহ আচ্ছা, তাই নাকি? তো তার কথা ভাবতে ভালো লাগে নাকি আমার কথা?

-- তার কথা.. আচ্ছা শুনো একটা কথা বলার ছিল।

-- বলো শুনছি।

-- আমার আজকে সকালে মাইল্ড হার্ট এটাক হয়েছিল। আমি বুঝতে পারি নি, বুকে ব্যথা করছিল পরে ডাক্তারের কাছে গেলাম। তারপর জানতে পারলাম।

-- তাই নাকি? তো বেঁচে ফিরলে কিভাবে?

-- হৃদয় আমি বেঁচে আছি তুমি সেটাতে খুশি না?

-- তুমি কি সত্যি বলছো?

-- তো? এসব বিষয় নিয়ে কি কেউ ইয়ার্কি করে?

-- নীলা, তুমি আমাকে বলবে আমাকে তোমার আর কত কিছু মেনে নিতে হবে?

-- হৃদয়..

-- না না তুমি বলো আমাকে। তুমি কখনো মা হতে পারবে না, আমি সেটা মেনে নিয়েছি। তুমি আমার সাথে ফ্রান্সে বিয়ের পরে থাকবে না, আমি সেটাও মেনে নিয়েছি। তোমার জন্য আমি আমার সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে আসছি। কথা সব পাকা হয়ে আছে, কাল বাদে পর্শু আমাদের বিয়ে আর আজকে তুমি আমাকে এটা শুনালে? তোমার আর কত সমস্যা আছে আমাকে বলবে? তুমি এখন স্বাস্থের দিক দিয়েও ঠিক নেই, তোমার মত অসুস্থ একজনকে কিভাবে মেনে নিবে আমার পরিবার? আমার ভালোবাসার কি ফায়দা উঠাচ্ছো তুমি? তোমাকে ভালোবাসি বলে আর কত ত্যাগ স্বীকার করতে হবে আমাকে? এমনেই তারা জানে না তোমার মা না হতে পারার কথা তার উপর.

-- কি? ফায়দা উঠাচ্ছি? এ কথা তুমি বলতে পারলে? আর তুমি তাদেরকে জানাও নি কিছু?

-- নাহ, বিয়ের পরে জানাবো। বলবো যে আমিও জানতাম না আর যেহেতু বিয়ে হয়েই গিয়েছে তাই এখন কিছু করার নেই। পালক নিবো অথবা টেস্ট টিউব বেবীতে যাবো।

-- হৃদয়, তুমি তোমার পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করবে আর পরে বলবে তুমি জানতে না? তার মানে তো সব দোষ আমার উপর আসবে, সারা জীবন এর দায় ভার আমাকে নিতে হবে কিন্তু আমার তো কোন দোষ নেই। আমি তোমাকে আমাদের সম্পর্ক হওয়ার আগেই সব জানিয়েছি আর তুমি মেনে নিয়েছিলে তাহলে কেন..

-- আহহা, আমি তো বলছি না আমি মেনে নেই নি। আমি তো নিয়েছি, এখন তাদেরকে তো কিছু একটা বলতে হবে, তার উপর আমি তোমাকে হারাতে চাই না।

-- লোকে ঠিকই বলে, বিপদের সময়েই মানুষের আসল চেহারা দেখা যায়। তুমি কে হৃদয়? আমি তোমাকে চিনতে পারছি না, তুমি সে নও যাকে আমি ভালবেসেছিলাম..

-- আচ্ছা আর ঢং করতে হবে না, মা ফোন দিয়েছে, পরে কথা বলছি। রাখি এখন।

ফোনটা রেখে দিল।

সত্যিই আজকে আমি এইসব কি শুনছি। প্রথমে হার্ট এটাক তারপর হৃদয়ের এসব কথা, আমার এই হার্ট এটাকের মাধ্যমে কি আল্লাহ আমাকে কিছু বোঝাতে চাইছেন? আবার হৃদয়ের ফোন।

-- হ্যালো নীলা।

-- এত তাড়াতাড়ি কথা শেষ?

-- নীলা আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না। আমার পক্ষে সম্ভব না। এমনেও মা তোমাকে তেমন একটা পছন্দ করে না তোমার গায়ের রঙের কারণে, এখন এসব শুনলে সে কখনোই মেনে নেবে না। আমি তোমার মা কে জানিয়ে দিবো, আমাদের এক হওয়া ভাগ্যে নেই। ভালো থেকো।

বলেই ফোনটা রেখে দিল হৃদয়।

আমি কিছুই বলতে পারলাম না। হয়তো আসলেই এটাই ভাগ্যে লিখা ছিল। আমার গায়ের রঙ নিয়ে যে একদিন হৃদয়ের কথাও শুনতে হবে জানতাম না। আশ্চর্য বুকের ব্যথাটা এখন নেই কেন? মাথাটা শুধু ঘুরাচ্ছে হালকা।

-- নীলা, এই নীলা। আর কতক্ষণ ঘুমাবি? উঠ এইবার, দেখ কটা বাজে। ক্লাসে যাবি না আজকে? ১১টা বেজে গেল তো, উঠ না মা।

(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16755/</link>
				<pubDate>Fri, 02 Jul 2021 04:23:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- &#8220;ভালোবাসি আজীবন&#8221;<br />
পর্ব ১<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
বুকের বাম পাশটা দুপুর থেকে ব্যথা করছে। কারণটা বুঝতে পারছি না। নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে, কিছুই ভালো ঠেকছে না আমার কাছে। শুধু ব্যথা না আবার, একটু অন্যরকম লাগছে আবার। বুকের ভেতরটা খুব ফাঁকা লাগছে, কিসের একটা শূন্যতা অনুভব করছি। হয়তো স্বাভাবিক, আপন মানুষের মাঝে থেকেও যখন একা থাক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-16755"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/16755/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4a0b5c4e2cb32c9872dca2bdba915533</guid>
				<title>রুপকথা changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16627/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Jul 2021 14:36:08 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">452408e3db542c6974eac80d074fb03f</guid>
				<title>&quot;তোমাকে চাই&quot;
------------------------
কবিতারা সব হারিয়েছে ভাষা,
মেলে না যে শব্দ, মেলে না ছন্দ।
কার জন্য লিখবো কবিতা? কে পড়বে?
যার জন্য লিখবো কবিতা,
সেই তো গেছে হারিয়ে।

কোথায় পাবো তাকে খুঁজে?
পাবো না তাকে খুঁজে,
তার মত কবিতারাও আজ আমায়
নিঃসঙ্গ করে চলে গেছে।

সঙ্গহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি আজ
অচেনা পথে ঘাটে,
হারিয়ে গেলে খুঁজবে না কেউ
দিবে না আমার নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তি।

তবুও আজ এই বিলবোর্ড নিষিদ্ধ শহরে,
এক বুক &quot;তোমাকে চাই&quot; বিজ্ঞাপন নিয়ে,
ঘুরে বেড়াচ্ছি তাকে খুঁজে পাবো বলে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16626/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Jul 2021 14:31:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;তোমাকে চাই&#8221;<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;<br />
কবিতারা সব হারিয়েছে ভাষা,<br />
মেলে না যে শব্দ, মেলে না ছন্দ।<br />
কার জন্য লিখবো কবিতা? কে পড়বে?<br />
যার জন্য লিখবো কবিতা,<br />
সেই তো গেছে হারিয়ে।</p>
<p>কোথায় পাবো তাকে খুঁজে?<br />
পাবো না তাকে খুঁজে,<br />
তার মত কবিতারাও আজ আমায়<br />
নিঃসঙ্গ করে চলে গেছে।</p>
<p>সঙ্গহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি আজ<br />
অচেনা পথে ঘাটে,<br />
হারিয়ে গেলে খুঁজবে না কেউ<br />
দিব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-16626"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/16626/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">51b2679e4560653343f8af91e4e64ab0</guid>
				<title>&quot;তুমি...?&quot;
--------------
আজ বেঁচে থাকা বড় দায়
তোমায় ছাড়া,
ভাবি নি আসবে এমন‌ও দিন
ছন্নছাড়া।
কোথায় তুমি?
ভালো আছো তো?
আমায় মনে পরে কি?
নাকি মেঘেদের ভিড়ে আজ
আমার স্মৃতিগুলো বিলীন?
আজ আমি বড় একা
নিঃস্বঙ্গ আর অবহেলিত,
তুমি ছাড়া এ ভুবন
শুধুই যে একাকিত্ত।
আজ তোমায় মনে পড়লেও
মনে পড়া যে বারণ,
তোমার ঠাই শুধুই
এই মনের কোণে আজীবন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16625/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Jul 2021 14:29:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;তুমি&#8230;?&#8221;<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
আজ বেঁচে থাকা বড় দায়<br />
তোমায় ছাড়া,<br />
ভাবি নি আসবে এমন‌ও দিন<br />
ছন্নছাড়া।<br />
কোথায় তুমি?<br />
ভালো আছো তো?<br />
আমায় মনে পরে কি?<br />
নাকি মেঘেদের ভিড়ে আজ<br />
আমার স্মৃতিগুলো বিলীন?<br />
আজ আমি বড় একা<br />
নিঃস্বঙ্গ আর অবহেলিত,<br />
তুমি ছাড়া এ ভুবন<br />
শুধুই যে একাকিত্ত।<br />
আজ তোমায় মনে পড়লেও<br />
মনে পড়া যে বারণ,<br />
তোমার ঠাই শুধুই<br />
এই মনের কোণে আজীবন।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">27874c0420e3e0a3febd3abc2d97d2a4</guid>
				<title>&quot;ভালোবাসি তোমায় আজও&quot;
-------------------------------------
অনেকটা পথ হেটে এসে
হয়নি হাটা তোমার পাশে
খুঁজি যে আজও তোমায় আমি
শুধুই আমার পাশে।

তোমাকে পাবো ভেবে
তোমার জন্য পাগল না
তোমায় পাবো না মেনে নিয়েও
তোমায় ভালোবাসা থামাবো না।

সুখে থাকো তুমি অন্য কারো গল্পে
অন্য কারো তুমি হয়ে
মনে রেখো শুধু
বেচে থাকবে আমার ভালোবাসা
শুধু তোমারই মাঝে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16624/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Jul 2021 14:28:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;ভালোবাসি তোমায় আজও&#8221;<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
অনেকটা পথ হেটে এসে<br />
হয়নি হাটা তোমার পাশে<br />
খুঁজি যে আজও তোমায় আমি<br />
শুধুই আমার পাশে।</p>
<p>তোমাকে পাবো ভেবে<br />
তোমার জন্য পাগল না<br />
তোমায় পাবো না মেনে নিয়েও<br />
তোমায় ভালোবাসা থামাবো না।</p>
<p>সুখে থাকো তুমি অন্য কারো গল্পে<br />
অন্য কারো তুমি হয়ে<br />
মনে রেখো শুধু<br />
বেচে থাকবে আমার ভালোবাসা<br />
শুধু তোমারই মাঝে।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6803cde92227c3f5dfa5ed977f5316fa</guid>
				<title>&quot;চন্দ্র-সূর্য-তারা&quot;
-------------------------
আকাশ জুরে মেঘের ভেলা
মাঝে আছে একটি সূর্য
আমার কাছে তুমিও এমন
হাজার সূর্যের উর্ধ।

আকাশ জুরে তারার খেলা
মাঝে একটি চাঁদ
সারাজীবন থাকবো তোমার
হয়ে সেই একটি চাঁদ।

দুটি দেহের দুটি আত্মা
প্রাণ যে তবুও একটি
তোমার আমার মিলন হবে
এই কথাটিও সত্যি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16623/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Jul 2021 14:25:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;চন্দ্র-সূর্য-তারা&#8221;<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
আকাশ জুরে মেঘের ভেলা<br />
মাঝে আছে একটি সূর্য<br />
আমার কাছে তুমিও এমন<br />
হাজার সূর্যের উর্ধ।</p>
<p>আকাশ জুরে তারার খেলা<br />
মাঝে একটি চাঁদ<br />
সারাজীবন থাকবো তোমার<br />
হয়ে সেই একটি চাঁদ।</p>
<p>দুটি দেহের দুটি আত্মা<br />
প্রাণ যে তবুও একটি<br />
তোমার আমার মিলন হবে<br />
এই কথাটিও সত্যি।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>