-
মৃৎপাত্র ও মহাকালের ছায়া
বুকের গহীনে এক নিভৃত নগর—
মন যেখানে আঁকে নিঃশব্দ প্রহর।
ভালোবাসা সেখানে এক সুরঞ্জিত নদী,
হৃদয়ের সুপ্ত দীপ্তি জাগে যদি,
তবে সেই স্রোতে ধুয়ে যায় ক্ষয়ের শৃঙ্খল,
মানুষ তো কেবলই এক মাটি দিয়ে গড়া পাত্র নয়।
রণ-পায়ে নেমে আসে তৃষ্ণার্ত চিল—
কাঞ্চনের মোহ, ভোগবিলাসের দীর্ঘ জিল।
লক্ষ্মী কি তবে কেবলি সোনা ও মুদ্রার চাও…Read More8 Comments -
যেখানে কোনো পতাকা নেই
আঁধার তখন ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে চটের ছাউনিটার ওপর। টিনের থালায় এক মুঠো ঠান্ডা ভাত মাখতে মাখতে মেহেরুন হাত দুটো চেপে রাখলেন। ওপাশে বসে থাকা সাত বছরের মেয়েটা অপলক চোখে মায়ের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। কতদিন পর ভাত! এই কিছুদিন আগেও তো রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পাওয়া দুই মুঠো চাল কিংবা আটার গন্ধই ছিল মেহেরুনদের আস্ত এক সুখ…Read More
8 Comments -
অনিবার্য অভিসার
ঘর ছেড়েছি কেবল একটিমাত্র নাম জপে,
বাতাসে আজ অদ্ভুত এক সংকেত কাঁপে।
হৃদয় জুড়ে এখন নতুন ভোরের কাঁচা রোদ,
দ্রুত চরণে মেটে যত থমকে থাকার ক্ষোভ।
চোখের তারায় প্রখর আলো, দৃষ্টি গেছে খুলে,
পথের যত ধূসর ধুলা ফুটছে যেন ফুলে।
জমে থাকা হাজার কথা বুকের গহীনে জাগে,
এমন চঞ্চল ব্যাকুলতা কখনো হয়নি আগে।
মনে প্রশ্ন জাগে—তুমি কিভাবে দাঁ…Read More3 Comments -
নিঃশর্ত সমর্পণ
প্রেম শিখেছি বাতাসের কাছে—
স্পর্শে যার কোনো শর্ত থাকে না,
যে এসে জড়িয়ে ধরে নিখিল প্রকৃতিকে,
অথচ কোনোদিন প্রতিদান বা বাঁধন চায় না।
প্রেম শিখেছি আলোর কাছে—
যে নীরবে বিলিয়ে দেয় নিজের সত্তা,
আঁধারকে দূর করে আলোয় ভরিয়ে দেয় কোণ,
যে প্রেমে থাকে কেবলই সত্য ও শুভ্রতা।
প্রেম শিখেছি অফুরন্ত পানির কাছে—
যে নদীর মতো বয়ে চলে সতত…Read More2 Comments -
চির-উন্নত মম শির: ‘বিদ্রোহী’ কবিতার নন্দনতত্ত্ব ও শাশ্বত সাহিত্যমূল্য
ভূমিকা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু সাহিত্যকর্ম কেবল কালানুক্রমিক সৃষ্টি হিসেবে টিকে থাকে না; তা হয়ে ওঠে কোনো এক অবরুদ্ধ জাতির মনন-বিপ্লবের দ্রোহদীপ্ত স্মারক। ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি ঠিক তেমনই এক ধ্রুপদ…Read More -
খোকন সোনা আর চাঁদের বুড়ি
(শিশুতোষ ছড়া)নীল আকাশে তারার মেলা,
চাঁদের বুড়ি কাটায় বেলা।
খোকন সোনা বায়না ধরে—
উড়বে সে যে মেঘের ওপরে!
তুলো মেঘে ভাসিয়ে ডিঙি,
পায়রা নাচে তাথৈ তিঙি।
বাতাস বাজে বাঁশের বাঁশি,
খোকন মুখে মিষ্টি হাসি!
রাত পোহালেই ফুটবে আলো,
মনটা হবে সবার ভালো!3 Comments-
আপনার এই লেখাটিতে চাঁদের বুড়ি আর শিশুর আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন যেভাবে ফুটে উঠেছে তা অত্যন্ত চমৎকার ও প্রাণবন্ত। শব্দের মেলবন্ধনে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা তৈরি হয়েছে, যা পাঠকমাত্রকেই এক শান্ত ও সুন্দর অনুভূতির জগতে নিয়ে যায়। আপনার এই কল্পনাপ্রবণ ও সুন্দর লেখাগুলো নিয়মিত পড়তে পারলে আমাদের সকলেরই অনেক ভালো লাগবে, আপনি নিয়মিত লিখতে থাকুন।
-
সেজদার নির্জনতা
ধূলির বুকে কপাল ঠেকায় ধুলোর তৈরি কায়,
সাতটি অঙ্গ সঁপে দিয়ে অসীম করুণায়।
দুনিয়ার যত রিক্ত কোলাহল থমকে দাঁড়ায় দূরে,
আত্মা কেবল নিমগ্ন হয় অনন্ত সুরের নীড়ে।
”সুবহানা রাব্বিয়াল আলা”—পবিত্র সুর বাজে,
স্রষ্টার প্রেমে নতশির মানব চরম সমর্পণে সাজে।
কপাল, নাসিকা, তালু ও হাঁটুতে শুভ্রতার আহ্বান,
আকাশপ্রদীপে সমর্পিত নশ…Read More2 Comments -
উপন্যাসঃ তটরেখার বিজয়
অষ্টম পরিচ্ছেদ: মাটির টানে মিছিল
খবরটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল পুরো উপকূলে। ড্রেজার মেশিন আসছে। সরকার এই নদীর বুক চিরে বিশাল এক নৌ-পথ করবে, যার জন্য ড্রেজিংয়ের সমস্ত বালু ফেলা হবে রাশেদদের সেই কষ্টের চরে। যে চরে মাত্র কয়েকদিন আগে নোনা-সহিষ্ণু ধানের চারা লাগানো হয়েছে, সেটি বালুচাপা পড়ে এক বন্ধ্যা মরুভূমি হয়ে যাবে।…Read More2 Comments-
Syed Farah, মাটির প্রতি মানুষের এই অকৃত্রিম টান এবং কুসুমের অদম্য সাহসের বর্ণনা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আপনি চাইলে এই লড়াইয়ের প্রতিটি মুহূর্তের অনুভূতিগুলোকে আরও বিস্তারিতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন, যা পাঠকদের আরও গভীরভাবে আচ্ছন্ন করবে। আপনার এই চমৎকার লেখাটি অনেক দূর এগিয়ে যাক এবং আপনার সৃজনশীলতা সবসময় অম্লান থাকুক।
-
Zinnat ara Begum and
Syed Farah are now friends
-
পানির নিচের রূপকথা
(ছড়া)রুই, কাতলা আর মৃগেল সোনা,
ঝিলমিলে আঁশ গুনতে মানা!
বোয়াল রাজা দেয় হাঁক-ডাক,
টেংরা-পাবদার নাচের ঝাঁক।
শিং-মাগুরের গোঁফের খেলা,
চিংড়ি বাজায় ঢাকের মেলা!
হাঁসেদের দল দিচ্ছে সাঁতার,
নদীর বুকে রুপোর ফিতার।
সবুজ-শ্যামল রূপের আবেশ,
পানির নিচে রঙিন দেশ।
নদী চলুক আপন সুখে,
হাসি ফুটুক সবার মুখে!6 Comments -
Syed Farah and
নাদিয়া রিপাত রিতু are now friends
-
Syed Farah and
Salful Alam are now friends
-
পাহাড়ে সার্কাস ও এক বুড়ো হাতির গল্প
পার্বত্য বান্দরবানের লামার গহীন পাহাড়ি খাদে যখন বিকেলের মরা আলো এসে পড়ে, তখন পঞ্চান্ন বছর বয়সি মেটে রঙের বিশাল হাতি ‘সামশেদ’-এর পায়ে শিকলের ঝনঝনানি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুরো যৌবন আর জীবনের দীর্ঘ তিনটা দশক সামশেদ কাটিয়েছে দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক সার্কাস দলের রঙিন তাঁবুর নিচে। মানুষের করতালির শব্দ আর মা…Read More
8 Comments-
Syed Farah, আপনার লেখা এই মায়ার গল্পটি পড়ে আমি সামশেদের বন্দিদশা থেকে মুক্তির পুরো যাত্রাটি যেন নিজের চোখে দেখতে পেলাম এবং হাতিটির শেষ মুহূর্তের প্রশান্তির চিত্রটি সত্যিই খুব হৃদয়স্পর্শী ছিল। আপনি চাইলে পরবর্তীতে সামশেদের অনুভূতির আরও কিছু সূক্ষ্ম দিক নিয়ে বিস্তারিত লিখতে পারেন, যা পাঠককে তার আবেগের সাথে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে। আমাদের…Read More
-
উপমহাদেশের ইতিহাস: রক্তপিচ্ছিল ঠগী অধ্যায়
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে ‘ঠগী’ বা ‘ঠগ’ শব্দটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ, রহস্যময় ও ভীতিকর অধ্যায়। মূলত মধ্যযুগ থেকে শুরু করে উনিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত এই ধূর্ত ও সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীর তাণ্ডবে অগণিত পথচারী ও তীর্থযাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।
উৎপত্তি ও নামকরণ
সংস্কৃত ‘ঠগ’…Read More4 Comments -
Syed Farah and
Ariyan Abir are now friends
-
Rupantor Roy and
Syed Farah are now friends
-
পাখিদের মেলা
ময়না বলে, “বউ কথা কও”,
টিয়ে শুধায়, “হক কথা কও!”
হলুদ পাখি শাখায় বসে
মিষ্টি সুরে শিস দিয়ে গায়।সবুজ গাছে পাতার মেলা,
ফুল আর ফলে রঙের খেলা,
হাওয়ার দোলায় প্রকৃতি হাসে,
পাখির গানে ভোর হয়ে আসে।4 Comments -
মেঘের খেয়া
(ছড়া)মেঘ দোলে রে মেঘ ভেসে যায়,
বৃষ্টি পড়ে টিপ টিপ,
উছলে ওঠে খালের পানি,
জ্বাল রে আলো দীপ!বিলের কোণে শাপলা ফোটে,
নদী হাঁকে চলো ভাই,
উচ্ছল ওই সাগরের পানে
ছুটে চলার ছুতো পাই।টাপুর টুপুর মেঘের মেলা,
ঝমঝমিয়ে পানি ঝরে,
নদীর বুকে নাও ভাসিয়ে
চলব রে দূর দেশান্তরে!2 Comments -
Syed Farah and
গোলাম রাব্বানী are now friends
-
Syed Farah and
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ are now friends
- Load More Posts
Friends
Humayra Archives
@nurhumayra
Borno
@borno1
শারমিন আক্তার
@sarmin
মোহাম্মদ নোমান
@nomankhalovi
শায়লা এ্যামিন
@shaylaaemin945gmail-com
সুবহা জাহান
@subhajahan
Anika
@anikaa
ঈশিতা ঈরু
@eshitabiswaseru15
মো মবিনুল ইসলাম সিয়াম
@mobinulislam





তবে সেই স্রোতে ধুয়ে যায় ক্ষয়ের শৃঙ্খল