Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • Profile picture of নাদিম হোসাইন

    নাদিম হোসাইন

    4 years, 1 month ago

    ========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
    লেখক ঃ নাদিম হোসাইন।।
    পর্ব নাম্বার ০৮
    ——————————————————————————————————————

    আজ প্রায় দেড় মাস হয়ে গেল। তবুও লোকমান সাহেব সুস্থ হতে পারেননি। তার দুঃস্বপ্নগুলো তার পেছনে ছাড়ছেনা। তাকে আঁকড়ে ধরে আছে। দিন দিন তার শরীর অত্যন্ত শুকিয়ে গেছে। তিনি এখন আর স্বাচ্ছন্দ নিয়ে কথা বলতে পারেন না। তার সারা শরীর সারাক্ষণ ব্যথা করে। গত কিছুদিন হয়েছে তার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে । ডাক্তারি সব ধরনের চেকআপ, এক্সরে করানো হয়েছে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। কোনো অসুস্থতা বা কোন রোগ ধরা পড়েনি। সকলে বলছেন এটা একটা মানসিক রোগ। তিনি প্রচণ্ড ভয় পেয়েছেন আর সেই ভয়টা এখনো তার মনের মধ্যে বিচরণ করছে এবং এরই ফলে তার এখন পর্যন্ত জ্বর দূরীভূত হয় নি। কিন্তু লোকমান সাহেব কাউকে বলছেন না তিনি কি ধরনের দুঃস্বপ্ন দেখছেন অথবা কেন দেখছেন। তিনি হয়তো কোন কিছু গোপন করতে চাচ্ছেন।
    লোকমান সাহেবের কোন বোন নেই। শুধু দুই ভাই আছে। দুই ভাই দুদিন হয়েছে বাংলাদেশে এসেছেন। লোকমান সাহেব কে দেখতে দুই ভাই এসেছে। দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ভাইয়ের নাম রিপন আর মেজ ভাইয়ের নাম শিপন। মেজ ভাইয়ের দুটি মেয়ে আর ছোট ভাইয়ের একটি মেয়ে আর একটি ছেলে। মেজ ভাই শিপন এর মেয়ের নাম শিলা এবং ছোট মেয়ের নাম নিলা। নিলা দুই বছরের ছোট । শীলা আর আবির তিন মাসের ছোট বড়।
    আর ছোট ভাই রিপন এর বড় ছেলের নাম সীমান্ত এবং ছোট মেয়ের নাম সোমা। সোমা ক্লাস ফাইভে এবং সীমান্ত ক্লাস নাইনে পড়ে। তবে এদের মধ্যে আবির অবশ্য কিছুটা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। চাচাতো ভাইবোন সবাই যেন আবির কে খুঁজে। আবির প্রায় তাঁদের নিয়ে ঘুরতে বের হচ্ছে। সারা বাড়ির মধ্যে যেন একটা উৎসব মুখর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
    বেলা দশটা বাজে। আবির পাঞ্জাবি আর জিন্স পড়ে রেডি হচ্ছে। এমন সময় শিলা ঘরে ঢুকলো। আর বলছে,
    => কিরে কোথায় যাচ্ছিস?
    আবির উত্তর দিল
    => বাহিরে যাচ্ছি।
    => তাতো বুঝতে পারছি। কিন্তু বাহিরে কোথায় যাবি?
    => আজ আমার রেজাল্ট দিবে তা জানতে যাচ্ছি।
    => আমি কি তোর সঙ্গে যেতে পারি।
    আবির চোখগুলো বাঁকা করে কি যেন ভাবলো তারপর বলল,
    => তুই আমার সঙ্গে সত্যিই যাবি!!
    => না যদি কোন সমস্যা থাকে, তবে থাক।
    => ধুর কিসের সমস্যা। চলতো।
    => ঠিক আছে। আমি রেডি হয়ে আসি।
    => তাড়াতাড়ি করিস। দেরি করিস না যেন।
    শিলা রেডি হতে বের হল। আবির চিন্তা করল, সে তার বাবার সাথে দেখা করে তারপর যাবে। সে তার বাবার রুমে গেল। সে দেখতে পেল লোকমান সাহেব তার ক্লান্ত শরীরটাকে বিছানায় হেলান দিয়ে আছেন। বাবাকে এই অবস্থায় দেখে আবিরের মনটাই খারাপ হয়ে গেল। সে ধীরে ধীরে বাবার নিকট এগুলো। তারপর বাবার পাশে গিয়ে বসলো। তারপর ধীর কণ্ঠে বলল,
    => আব্বু,, তুমি কি ঘুমাচ্ছ?
    লোকমান সাহেব আলতো করে চোখ খুললেন। অনেক কষ্ট করে বললেন,
    => না ঘুমাইনি।
    => আব্বু আজ আমার রেজাল্ট দেবে। দোয়া করো।
    লোকমান সাহেব বলছেন,
    => যাও।। কোন টেনশন করো না।।
    এতোটুকু বলতেই লোকমান সাহেবের খুব কষ্ট হয়েছে। তার মুখ দেখে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। আবির চিন্তা করল বাবার সাথে আরো কিছুক্ষণ কথা বলবে। কিন্তু তা আর হয়ে উঠলো না। কারন সে বুঝল তার বাবা অত্যন্ত কষ্ট করে এই কথাগুলো বলেছেন। সে উঠে বেরিয়ে গেল।
    শিলা আর আবির রিকশায় করে কলেজে যাচ্ছিল। শিলা বলছে,
    => কিরে তুই একদম চুপ করে বসে আছিস কেন?
    => তাহলে কি করব বল।
    => আশ্চর্য!! আমার সঙ্গে কথা বলবি।
    => কি কথা বলব?
    => কত রকম কথা আছে। শুধু খুঁজে বের কর।
    => ঠিক আছে। এই গুরুদায়িত্ব টা আমি তোকে দিতে চাই।
    শিলা একটু কেশে নিল ।। তারপর বলছে,
    => আমি যখন তোকে প্রথম দেখি। ভেবেছি তুই একটা গাধা।
    => তাহলে এখন কি ভাবিস?
    => এখন মনে হয়,, আসলেই বাঙালি খুব চালাক।।
    => কিন্তু আমি তোকে দেখে ভাবতে পারিনি তুই এমন।।
    => আমি আবার কেমন!!
    => সে কথা যদি মুখে বলতে পারতাম,, ভালোই হতো।
    => দেখ উলটাপালটা কথা বলবি না।
    => না না আমি উল্টোপাল্টা কথা বলছি না। সত্যি বলছি আমিতো ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম।
    => কি হয়েছে বল।। নয়তো তোকে খামচি দেবো।।
    => বোকা মেয়ে, তোর কথাবার্তা শুনে।
    => মানে!! আমার কথাবার্তায় কি।।
    => তুই বিদেশ থেকে এত সুন্দর বাংলা বলিস কিভাবে??
    শিলা সজোরে হেসে উঠলো।। আবির শিলার দিকে তাকালো।। সে দেখল শিলার হাসিটা অত্যন্ত চমৎকার।। শিলা হাসলে গালে টোল পড়ে এবং সেটা তার হাসিকে অত্যন্ত চমৎকার করে তুলেছে। শিলা অত্যন্ত চমৎকার একটি মেয়ে দেখতে। খুবই সুন্দর এবং চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে। খুবই ফর্সা, চেহারাটাও কেমন মায়াবী। চুলগুলো অসাধারণ। সবচেয়ে বড় কথা হল কোন দিক দিয়েই ফেলা যাবে না। তবে কথায় আছে চাঁদ অনেক সুন্দর তবুও তার কলঙ্ক আছে। শিলাও সে দিক থেকে ধরতে গেলে ঠিকঠাক। তবে সমস্যা সে খুবই বেটে। কিন্তু সেটা চোখে পড়ার মতো নয়। যাই হোক আবির আর শিলা রিক্সা থেকে নেমে কলেজের ভিতরে প্রবেশ করলো। তার অন্যান্য বন্ধুবান্ধব সবাই একত্রে দাঁড়িয়ে আছে। আবির ওদের সামনে গিয়ে শিলাকে তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। শিলা একটা নতুন মেয়ে, দেখতে সুন্দর, স্মার্ট এক কথায় অসাধারণ অথচ আবিরের কোন বন্ধুর শিলার প্রতি কোনপ্রকার আগ্রহ নেই। আবির একটু অবাকই হল।
    আবির যে কলেজে পড়ে সেইখানে আবার অর্পিতা স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। অর্পিতা ভার্সিটি থেকে বের হয়ে দেখল আবির এবং তার বন্ধুরা সাথে একটি সুন্দরী মেয়ে। অর্পিতার পুরো শরীরে আগুন ধরে গেল। সে চেয়েছিল আজ আবিরকে বেস্ট অফ লাক জানাবে এবং রেজাল্ট দেয়ার পর কোথাও যাবে। কিন্তু এখন তার মাথা প্রচন্ড গরম হয়ে আছে। অর্পিতা হাঁটা শুরু করল। আবির অর্পিতাকে এতক্ষণ পর দেখল। সে ডাকলো অর্পিতা, অর্পিতা।।
    কিন্তু অর্পিতা দ্রুত হেঁটে চলে গেল। বেচারা আবির আবার আহত হল। সে যতবারই অর্পিতার নিকট যাবে ঠিক ততোবারই আহত হবে। হয়তো আবিরের কপালে এটাই লেখা আছে।।

    6
    2 Comments
    • মেয়েদের এই এক স্বভাব, নিজের চেয়ে সুন্দরী কাউকে দেখলে আহত হয়। শুভেচ্ছা নেবেন গল্পকার! গল্পের সাথেই আছি!

    • শুভকামনা।

Skip to toolbar