<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Anup Dey | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/anup-dey/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/anup-dey/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Anup Dey.</description>
	<lastBuildDate>Wed, 21 Oct 2026 09:31:22 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">efa31313b85fb9fe7f68f446acc37f20</guid>
				<title>....আপনার সামনে একটি আয়না, 


&#124;&#124;&#060;&#060;&#060;&#124;&#124;&#124;&#124;&#124;&#124;&#124;&#124;&#124;&#062;&#062;&#124;&#124;


---আপনার  সামনে  একটি  দন্ডায়মান  আয়না  রয়েছে ----
...আপনার  সামনে  প্রমাণ  সাইজ একটা  আয়না  এখন!
---আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন?
আয়নাতে আপনাকে  দেখা যাবে অতি অবশ্যই... 
তাহলে আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন, কি দেখতে পান?

আপনার ডান গালে বহু আগে থেকেই  কয়েক&#039;টি দাড়ি পেকে শাদা হয়েছিলো!

আপনার চোখ দুটির নীচে কালো ছোপ পড়েছে-- যে কখন?
---আজ আপনার মনে পড়ে না...

মুখের  চামড়ায়  একপাশে,  নাকের  দক্ষিণ  দিকে, 
বেশ ক&#039;টি মুখের গর্ত ছিলো-  আপনি যৌবনে ওটা জেনেছেন।
তারপর কতো&#039;কাল আপনি  ওইগুলি দেখেননি, 
---আয়নাই!

ছুটেছেন শুধু--- সামনে-- দু&#039;হাতে সময়কে পিছনে ফেলে, নিজেকে ভেবে ছিলেন গতিময় কিছু, আর গতির ধর্ম-ছুটে চলা;-- 

আপনি শ্রমকে-স্বপ্নকে-গতিকে ত্রিবেণী করে- অর্থবিত্ত, সংসার, ঘর থেকে অফিস, সকাল বিকাল, চশমা চোখে দেখেছেন শুধু; টেবিল মিটিং --পদন্নোতি, ব্যবসার প্রসার, শীতাতপ-সুসজ্জিত-- হোটেল কক্ষে নিজের সুউচ্চ অবস্থান, --- 

দেখেননি শুধু নিজেকে, নিজের আঙ্গুলগুলিকে, হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুলের নখটা দেখতে কেমন?  আপনি জানেন না;--

এক সময়ে-- আপনার কপালের  উপরে ছড়িয়ে থাকতো কিছু-- তারুণ্যদীপ্ত স্বাধীন ঘন কালো চুল! আজ ওইগুলি কিন্ত নেই, 
আজ আপনার ঘন যৌবন বিগত, পদক্ষেপে জড়তা, চোখে বিবর্ণতা, দীর্ঘ-সময়ের, 
---আপনার প্রত্যক্ষ বাস্তব সামাজিক সফলতাগুলি-- আপনার কাছে আজকে---  কিছু মুহূর্ত মাত্র! এবং কিছু অপেক্ষা করে নেই আপনার  জন্য-- 
...কামনাঘন প্রেম; সবুজ সকালের যৌবন; পদোন্নতির তেজ;--
--সবই ছুটছে, সবাই ছুটছে, আপনি একদা ছুটেছেন যেমন! ... 
--শুধু আপনার সামনে-- সময়ের অযত্ন আয়নাটি পড়ে আছে!

(১)(১২)(২০২১)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/189406/</link>
				<pubDate>Fri, 13 Jan 2023 13:51:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8230;.আপনার সামনে একটি আয়না, </p>
<p>||&lt;&lt;&lt;|||||||||&gt;&gt;||</p>
<p>&#8212;আপনার  সামনে  একটি  দন্ডায়মান  আয়না  রয়েছে &#8212;-<br />
&#8230;আপনার  সামনে  প্রমাণ  সাইজ একটা  আয়না  এখন!<br />
&#8212;আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন?<br />
আয়নাতে আপনাকে  দেখা যাবে অতি অবশ্যই&#8230;<br />
তাহলে আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন, কি দেখতে পান?</p>
<p>আপনার ডান গালে বহু আগে থেকেই  কয়েক&#8217;টি দাড়ি পেকে শাদা হয়েছিলো!</p>
<p>আপনার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-189406"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/189406/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8a9fc44699284571b0684905f9379717</guid>
				<title>লাভ লেইনের আশ্চর্য যুবক   
-----------------------------------------------------------


অরুণ বাবুর এখন পরিণত বয়স। তাঁর স্পট করে মনে পড়ছে সেই- ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ সাল অবধি তখন তিনি কিশোর বয়েসী ছিলেন।আর অন্যদিকে কয়েক বছর আগে নতুন একটা দেশের জন্ম হয়েছিলো।যখন অরুণ বাবু মাতৃগর্ভে ছিলেন তখন জন্ম নেয়া নতুন দেশটি অন্য আরেকটি দেশ ছিলো।সেই দেশের একটা অন্য নামও ছিলো।অবশ্য অরুণ বাবুর জন্ম হয়েছে পুরোনো ভূ&#039;রাষ্ট্রের পুনরায় জন্ম নেয়া সদ্য একটি নতুন দেশে।সেই নতুন দেশের নতুন করে নাম রাখা হয় বাঙলাদেশ।যদিও জন্ম নেয়া নতুন দেশের আগের নামটি ছিলো পূর্ব-পাকিস্তান! 

আহা! এই রকম দেশ-ভূ&#039;রাষ্ট্র;- যেনো কোনো দুর্ভাগিনী কপালের নারীর এক, দুই, তিনবার বিয়ে সম্পন্ন হবার পর একহাত থেকে অারেক হাতে হাত বদল হয়ে, পুরোনো বাদ দিয়ে নতুন বেশ-ভূষণে, অধিকারসহ কাউকে নিশ্চিত দখল লাভের পরে- নতুন ভাবে স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করবার মতো! নতুন নাম নিয়ে জন্ম হওয়া বাঙলাদেশ রাষ্ট্রের ভূখন্ড- মোগল আমলে ছিলো, ইংরেজ আমলে ছিলো, এরপর পাকিস্তানী আমল হয়ে আজকের বাঙলাদেশ!
কিন্ত কোনো একজন নারী জীবনের জন্য নিজের একান্ত অধিকার ও শরীর মন দখলের স্বাধীনতার স্বাদ যেমনই হোক না কেনো, কিন্ত কোনো এক দেশের নতুন করে জন্ম নেয়ার সময় পূর্ব-নির্ধারিত নিয়তির মতো- যুদ্ধ, মুক্তি-সংগ্রাম, বিদ্রোহ --এই সবের মধ্য দিয়ে জন-সাধারণের জীবন উৎসর্গ; তাজা রক্ত উৎসর্গ; সম্ভ্রম উৎসর্গ; এমন কি রাষ্ট্রের সম্পদ উৎসর্গ বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে!

....সাধারণভাবে দেখবো- একটি নতুন দেশের জন্ম গ্রহণের প্রক্রিয়া এমনই হয়!
আবার সব কিছুকে বাদ দিয়ে রক্তপাতহীন রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার ঘটনা এই দুনিয়াতে মোটামুটি একটি বিরল গল্পের ব্যাপার! 
আবশ্যিক মুক্তিযুদ্ধ ও নানা কিছুর মধ্য দিয়ে নতুন করে জন্ম নেয়া পুরোনো ভূ&#039;খন্ড আজকের বাঙলাদেশের একটি বিভাগের নাম হচ্ছে চট্টগ্রাম।চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্র স্থল নিউ মার্কেট এলাকা।তখনকার নিউ মার্কেট এলাকা এটির আশপাশকে বর্তমানের সাথে তুলনা করলে আটপৌরে শহরতলীর মতো দেখাতো! নিউ মার্কেট থেকে ডান হাত হয়ে এগিয়ে অল্প দূরে বোস ব্রাদার্স। সামনে সোজা একটু কব্জি বাড়িয়ে গেলে রোম্যান্টিক সবুজ সবুজে পাহাড় ঘেরা ডিসি হিল।আরেকটু সামনে গেলে মিলবে বৌদ্ধ মন্দির এলাকা।মন্দির এলাকার চোখ সোজা বড়ো রাস্তা চলে গেছে চেরাগী নামের মোড় পার করে-- এই দিকে ওই দিকে, বহু দূরে... 

আজকের বৌদ্ধ মন্দির মোড়কে যদি রাজপথের মাথা ধরি- তাহলে অতীতে এই রাজপথ দেহের বাম হাতের মতো চলে গিয়েছিলো এক বড়ো গলি; বৌদ্ধ মন্দির মোড়ের হৃদয় হতে জন্ম হয়ে ভালোবাসার হাতের পরশ বুলিয়ে বুলিয়ে মৃদু এঁকে বেঁকে সামনে এগিয়ে এক শাখা গলির রুপ ধারণ করেছিলো। কিন্ত সত্যি সত্যি
এই শাখাগলির নাম লাভ লেইন! লাভলেইন বর্তমানেও আছে।এই লাভ লেইনের রয়েছে শতাব্দী পুরাতন অতীত ইতিহাস ও রোম্যান্টিক ঐতিহ্য। ভূ&#039;-ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময়- আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে এজেন্ট, বর্তমান চট্টগ্রাম বটতলী এলাকায় একটি বাণিজ্যিক রেলস্টেশন গড়ে তোলে। এছাড়াও ব্রিটিশরা নিজেদের প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য বর্তমান চট্টগ্রামের CRB খ্যাত পাহাড়ী এলাকা জুড়ে- বিখ্যাত সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং, পাহাড়ের এক টুকরো দর্শনীয় হাতির বিল্ডিং খ্যাত আরো নানা পাকা ভবন তৈরি করে।সেই সাথে তাদের সদর দপ্তরের কর্মচারীদের আবাসস্থল হিশেবে বর্তমান লাভ লেইন এলাকাকে ব্যবহার করা হয়েছিলো।শোনা যায়- আজকের লাভ লেইনে শাদা রঙের ব্রিটিশ দম্পতি থেকে ব্রিটিশ তরুণ তরুণীরা পর্যন্ত তাদের প্রেমের মানুষ বা প্রিয় জনের সঙ্গে  রোম্যান্টিক পরিবেশে গল্প -আড্ডা -পানাহার করে একান্ত সঙ্গ উপভোগ করতো।তারা এভাবে প্রত্যক্ষ প্রেম মূখর পরিবেশে সময় কাটিয়ে ছিলো বলে পরবর্তীতে
ওই গলি- Love Lane নাম নিয়ে লোকমুখে পরিচিত হয়ে উঠে। ১৯৪৭ সালে  ব্রিটিশ ভারতে তাদের ঔপনিবেশিক শাসনকাল শেষ হয়েছিলো। পরবর্তীকালে- নয়া ঔপনিবেশিক পাকিস্তানী আমলে একিই গলি লাভ লেইনের দুই পাশে ছিলো বেশ কিছু বিখ্যাত শাহী মিষ্টিপানের দোকান।এই মিষ্টিপান তৈরির মূল রহস্য ছিলো পানের সাথে ব্যবহার করা সুপোরির মধ্যে! এই সুপোরী চিনির রসে ডুবিয়ে আগে থেকে মিষ্টি করে নেয়া হয়! এই মিষ্টি পানের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণীয় অংশ হিশেবে- বানানো পানের গায়ে জড়ানো থাকতো সূক্ষ পাতলা রুপোলী বর্ণের রাংতা, যেটি পানের সঙ্গে খাওয়া যায়।তখন Love Lane এলাকা ছাড়িয়ে চারদিকে নাম করেছে মিষ্টিপান পাতা দিয়ে বানানো- এই শাহী খিলি মিষ্টিপান!... 

সময় ঘুরে, বর্তমান বাঙলাদেশ পর্বে, এইতো কিছুকাল আগেও বলা হতো চট্টগ্রাম শহরে বাস করে যে মানুষের লাভ লেইনের মিষ্টি পান অন্তত একবার হলেও খাওয়া হয়নি-তো ও&#039; ব্যাক্তির চট্টগ্রাম শহরের অন্দরে বাস করার মধ্যে খুঁত রয়ে গেলো...

১৯৭৯- ১৯৮৩ ইংরেজী সাল।বৌদ্ধ মন্দিরের মুখোমুখি-ওই পারের লাভ লেইনের গায়ে লাগানো এক চিকনা গলির ভিতর দিয়ে একটা বাসা ঘরে তখনকার কিশোর আজকের অরুণ বাবু ছোটবেলায় নিজের বাবা না হলে মা, নয়তো অন্য কারো সঙ্গে অনেক অনেকবার সেই বাসায় গিয়েছে।বেশ চিকনা গলিটির মুখ থেকে ভিতরে- একটু হাঁটা পথ ধরে ওই বাসায় যেতে হয়।পায়ে চলাচল চিকনা গলির একেবারে শেষ যেখানে হয়েছে, ওখানে আগে থেকে ছিলো একটি বড়ো গাছ।
সময় হলে ওই গাছে অনেক ফুল ফুটে থাকতো। হালকা ধুসর শাদা রঙের ফুলদের দূর থেকে দেখায় বকপাখির মতো! (সেই কারণে হতে পারে মানুষের মুখে মুখে এই ফুল বকপাখি ফুল, আরো সংক্ষেপ হয়ে গিয়ে বকফুল নাম হয়ে গিয়েছিলো) কিন্ত কিশোর বয়সের অরুণ কারো কাছে না জেনে এই ফুলের নাম ভূল করে নিজের মতো ভেবেছিলো আরেক নাম করা ফুল- বকুল ফুল! এই ফুলের নাম যে বকফুল তাও জানতো না সে।তখনো পর্যন্ত-- কিশোর অরুণ আসল বকুল ফুলের কোনো ছবি বইয়ের বুকে দ্বিতীয় কথা সরাসরি গাছে ফোঁটা আসল বকুল ফুলকে চোখে দেখেনি! কিশোর বয়সের অরুণ মনের মধ্যে মনগড়া সৌন্দর্য আর গন্ধ শূণ্য বক ফুলকে দীর্ঘ সময় ধরে হালকা হলুদাভ শাদা রঙের সুবাসিত বকুল ফুলই ভেবে ছিলো!...

এই ভূলের বকুল তলে, একদিন কিশোর অরুণের সাথে পরিচয় হয়েছিলো তার রঞ্জনা মাসির বাসায় যাওয়া আসার চিকনা গলির পাশের ঘরের আরেক জন সম বয়েসি বন্ধু, --জীবন কুমার ভদ্র, মানে ছোট্ট নামে- জীবনের সঙ্গে... 

পায়ে হাঁটা চিকনা গলি ধরে যেতে যেতে অরুণ দেখতে পেতো গলির দু&#039;পাশে পর পর সাজানো বাঁশ&#039;বেড়ার তৈরি করা বাসা-ঘর।একবাসা ঘরের সাথে আরেকটা ঘর লাগানো ছিলো।মনে হবে এরা পাশাপাশি পিঠের সাথে পিঠ লাগিয়ে পূর্ব কথা মতো শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থেকেছে!
--অরুণ আরো দেখতে পেয়েছিলো এখানকার কোনো কোনো ঘরদোরের ভিতরে বাঁশ বেড়ার পার্টিশনের গায়ে আঁটা দিয়ে লাগানো হয়েছিলো বাতিল হওয়া দৈনিক খবরের কাগজ।বেশ সকাল বেলা কোনো কোনো ঘরে বেজে উঠে রেডিওর গান।একটি ঘরে খানিক অন্যরকমের গান বাজতো।বিশেষ করে সূরেলা ধরণের গান।যেই ঘরে গান বাজে ওই ঘরের দুটো ঘর পরে- অরুণের রঞ্জনা মাসির বসবাসের ঘরটা।মাসির বাসায় গেলে পাশের ওই ঘর থেকে গানের হালকা আওয়াজ ভেসে আসে।অরুণ এই রকম বহুবার শুনেছে।তবে একটা গান প্রায় ঘুরে ফিরে বাজতো। --এক পুরুষ গায়কের নাসিকা গম্ভীর কন্ঠে, অরুণ চোখ বন্ধ করলে আজো ঠোঁট মুখস্ত বলে দিতে পারবে গানের কথা ক&#039;টি;...
         
          --&#039;চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে,
        ---অন্তরে  আর  দেখবো  যখন  আলোক  নাহি রে--
      ---ধরায় যখন দাও না ধরা-হৃদয় তখন তোমায় ভরা;
    ----এখন তোমার আপন আলোয় তোমায় চাহিরে&#039;...

[..অরুণ অবশ্য দীর্ঘদিন পরে, বড়ো হয়ে ওই গান, গানের গায়কের নামটি জানতে পেরেছিলো।ওটা ছিলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের লেখা এক গান।এই গানকে আমরা রবীন্দ্র সংগীত নামে জানি। অনেক নাম করা একজন আধুনিক গানের গায়ক ওই রবীন্দ্র সংগীত গেয়েছেন- নাম শ্যামল মিত্র।]

রঞ্জনা মাসির বাসার উদ্দেশ্যে-- 
লাভ লেইন দিয়ে- অরুণ তার বাবার সঙ্গে রিক্সায় বসে যেতে যেতে এক অদ্ভুত ব্যাপার দেখতো।লাভ লেইন গলির অল্প দূরে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে, নয়তো গলি রাস্তার কিনার ধরে হাঁটতে।যাকে অরুণ দেখেছে সে একজন যুবক,
যে কি না দেখতে অবিকল না হলেও প্রায় তার মতোন দেখতে! শুধু পার্থক্য বলতে
দু&#039; জনের অসম বয়স! অরুণ হবে বয়সে ছোট আর সে যাকে দূর থেকে দেখতে পাই- ওই আশ্চর্য যুবক তার থেকে কিছু বছরের বড়ো হবে...

অরুণ দেখেছিলো আশ্চর্য যুবক তার রঞ্জনা মাসির বাসার চিকন গলির ভেতরে অন্য এক বাসা ঘরে যাতায়াত করতে।পরে পরে অরুণ নিজে গরজ করে যুবককে যতোটা পারে চোখে চোখে রাখার জন্য মনে মনে সংকল্প করেছিলো।অবশ্য দূর হতে দেখে শুনে যুবককে চোখের আড়াল না করার।অরুণ দেখতো কেমন যেনো-ওই যুবকের দাঁড়িয়ে থাকায় লজ্জা ছিলো, হাঁটা চলাতে আড়ষ্টতা, চোখের চাউনি তে সংকোচ আর কথা বলতো অল্প অল্প।লাভ লেইনের লম্বা গলি পথের ধার ঘেঁষে যুবক পায়ে পায়ে পায়চারী করে হয়তো অপেক্ষা করতো কারো জন্য। যুবকের অধীর অপেক্ষার জন্য ছটফটানির হাবভাব ফুটে উঠতো মুখের আয়নায়; চেপে রাখা অস্থিরতা শেষে ঢেউ হয়ে ছড়িয়ে যেতো- হাঁটার সময় মৃদু কেঁপে উঠা তার সারা শরীরে;---
এইভাবে বহুদিন গেছে।অরুণ যতোবার কারো না কারো সঙ্গে লাভ লেইনে মাসির বাসায় গিয়েছিলো ততোবার তার দু&#039;চোখ খুঁজে বেড়িয়েছে সেই আশ্চর্য যুবককে! 
বলা যাবে- ওই যুবক কিশোর অরুণের ভবিষ্যৎ বড়োকালের প্রতিরূপ! 
অরুণের বয়স বেড়ে আঠা ঊনিশ বছরের যুবক হয়ে উঠলে এই আশ্চর্য যুবকের মতোই হয়তোবা দেখতে দেখাবে।এটা হবে এক বিস্ময়কর ব্যাপার! অরুণ খানিক বিস্ময়বোধ করে- নিজের চোখের সামনে সে কি কোনো অাগাম দূরের ভবিষ্যতের ছবি দেখতে পাচ্ছে?...

অরুণ জানতে পেরেছিলো যুবকের কিছু পরিচয়।তার রঞ্জনা মাসির ঘর বাদ দিয়ে 
দুইটা ঘর পরের ঘরের একজন যুবতীর উদ্দেশ্যে অরুণের দেখা আশ্চর্য ওই যুবক, এখানে বৌদ্ধ মন্দির এলাকাই লাভ লেইনে আসতো। এটাই নাকি মূল কারণ! সে এইসব খবরাখবর যোগাড় করতে পেরেছিলো তারই সমান বয়েসের আরেক কিশোর বন্ধু জীবনের কাছে শুনে।জীবন মোটামুটি এক ইঁচড়েপাকা কিশোর।পেটে তার কতো যে খবর আর বেখবর-কোনোটি কারো গোপন খবর, চাপা খবর, জলন্ত খবর, জীবন্ত খবর, গন্ধ খবর!... 

বন্ধু জীবনই প্রথম অরুণকে সংবাদটি দিয়েছে- সে যাকে খুঁজে সেই যুবক দেখতে অনেকটুকু বড়োকালের অরুণের মতোন দেখতে! জীবন এও বলেছে তার কাছে এই যুবকের গোপন কিছু খবরও আছে।যুবকের নাম হলো- অনুপম।যুবকের পুরো নাম ধাম্, যুবকের কোথায় বাসা, ঘরবাড়ি জীবন এখনো অতোসব জানতে পারেনি।তবে লাভ লেইনে যুবক অনুপমের আসবার একমাত্র কারণ হচ্ছে- এখানে আছে যুবকের একজন ভালোবাসার মেয়ে মানুষ।এই জন্যে যুবককে এখানে বেশি বেশি ঘোরাফেরা করতে সবাই দেখে!

এই ব্যাপারে-- অরুণ আরো কিছু জানতে আগ্রহ প্রকাশ করলে, পেটের ভেতর থেকে খবর উগড়ে দিতে নিবেদিতপ্রাণ জীবন হড়বড়িয়ে বলতে শুরু করে- যুবক অনুপমের ভালোবাসার মেয়ে হলো জীবনের বর্তমান প্রাইভেট মাষ্টার যতীন স্যারের তিনঘর পরের ঘরের বিন্দু দিদি।যখন জীবন স্কুল থেকে ফিরে প্রাইভেট মাষ্টারের কাছে পড়তে যায়, সেখানে সে কানাঘুষায় অনেক কিছু শুনতে পাই- তারই মতোন প্রাইভেট পড়তে আসা বড়ো ক্লাসের ছাত্রদের ফিস্ ফিসানো কথা বার্তায়।বিন্দু দিদি নাকি ওই যুবক অনুপমকে পরীক্ষা করার জন্য বলেছে- যদি যুবক নিজের হাতের আঙ্গুল কেটে দেখাতে পারে, তবে বিন্দু দিদি যুবকের সঙ্গে কথাবার্তা বলবে।অরুণ কিন্ত এই কথা শুনে চমকে উঠলো।
জানতে চাই- তারপর সত্যি কী হয়েছিলো? অরুণের অগ্নুৎপাতের মতো আগ্রহ টের পেয়ে কথা বলা, কথা বলতে পারায় অক্লান্ত- কথাগুরু জীবন বললো- বিন্দু দিদির ওই ঘটনা থেকে অনেক কান্ড ঘটনা হয়েছিলো!
যুবক ও বিন্দুদিদি দুজনের সম্পর্কের ঘটনা সবার কাছে জানাজানি হয়ে যাওয়ার পরে- যুবককে এলাকার পূজো কমিটির বড়ো সদস্যরা ক্লাব ঘরে ডেকে যুবককে বুঝিয়েছে- নিজের আঙ্গুলের ডগাফগা এমন করে কেটে ফেলা তার উচিত হয়নি।যুবকের আঙ্গুল কাটার কান্ড কারখানার সেই ঘটনাটি, পানির ছোট ধারার মতো গড়িয়ে গড়িয়ে পুলিশের কান পর্যন্ত পৌঁছে শেষে- থানা পুলিশ হয়ে আরো জটিল কান্ড ঘটতে পারে।তাই যুবক অনুপমকে লাভ লেইনে কোনো দিন না আসার জন্য বলা হয়েছে। আর বিন্দু দিদির পরিবারকে বলা হয়েছিলো তারা যেনো শীঘ্রই  এখানের ঘরদোর তাড়াতাড়ি বদলিয়ে অন্য কোথাও চলে যায়।
...তারপর থেকে যুবককে এই লাভ লেইনে কেউ আর দেখতে পায়নি!

--কিশোর অরুণের খুব মনে চেয়েছিলো- বন্ধু জীবনকে জিজ্ঞেস করে, -শেষ পর্যন্ত বিন্দু দিদিরা কোথায় চলে গেছে- এখন বিন্দু দিদির কি রকম অবস্থা? 

--------------------------------

পরিণত বয়েসে এসে, -- অরুণ বাবুকে বহুদিন পর্যন্ত বিষয়টি ভাবিয়ে ছিলো;- 
যেমন তিনি নিজের কিশোর জীবনে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভূল ভেবে মনগড়া বকফুলকে- বকুল ফুলই জেনেছেন! ঠিক্ তেমনি- লাভ লেইনের ওই আশ্চর্য যুবকও কি সেই বিন্দু দিদির মধ্যে প্রকান্ড কোনো সিন্ধু-সাগরের সন্ধান করেছিলো-- কে, জানে? 



************************
গল্প লেখা: 
১০/১১/২০২২ ইং</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/183317/</link>
				<pubDate>Fri, 09 Dec 2022 13:20:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>লাভ লেইনের আশ্চর্য যুবক<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;</p>
<p>অরুণ বাবুর এখন পরিণত বয়স। তাঁর স্পট করে মনে পড়ছে সেই- ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ সাল অবধি তখন তিনি কিশোর বয়েসী ছিলেন।আর অন্যদিকে কয়েক বছর আগে নতুন একটা দেশের জন্ম হয়েছিলো।যখন অরুণ বাবু মাতৃগর্ভে ছিলেন তখন জন্ম নেয়া নতুন দেশটি অন্য আরেকটি দেশ ছিলো।সেই দেশের একটা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-183317"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/183317/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">640ee69b68b48fb5b5e837ee32dc42d3</guid>
				<title>মাঝে মাঝে---
চিত্রকল্প ভাবনাকে দূর ভবিষ্যতে নিয়ে যেতে ইচ্ছে করে! টান টান মধ্যবিত্তের আটপৌড়ে জীবন, যাপিত সংসারে একজন পিতার আসলে মনোদৈহিক জীবনের সৌজন্য শেষ আশ্রয় কেমন হতে পারে? বলা ভালো সাধারণত যেমন হয়ে থাকে, যা আমরা প্রত্যক্ষ দেখতে পাই, তারই একটি বিশ্বাসযোগ্য portrait দেখবো, ---কবিতার রক্ত-মাংসে।

‌‌&#060;&#060;&#060;&#062;&#062;&#062;&#062;&#060;&#060;&#060;&#062;&#062;&#062;&#062;&#060;&#060;&#060;&#060;&#062;&#062;&#062;&#062;&#060;&#060;&#060;&#060;&#062;&#062;&#062;

পিতা
------------------

একদিন, 
রৌদ্র ঝলমলে দিনের আলো ফুরিয়ে, 
আসবে চুপিচুপি কাঠকয়লার মতো অন্ধ আঁধার;-
গতদিনও আমি ছিলাম এখানে, --সেই ঘর, 

ঘরের এককোণে আমার বিছানাপত্তর, স্থানে 
স্থানে প্লাস্টার খসে পড়া দেওয়ালে একটু বাঁকা করে 
ঝুলে আমি, ফ্রেমে বাঁধা ছবিতে!

পাশে একপায়া ভাঙ্গা পাশ-টেবিলে এখনো রয়েছে
আমার চেয়েও নিঃসঙ্গ আধ খাওয়া সিলভারের 
পানির গ্লাস;-

অনেকটা অন্ধকারাচ্ছন্ন এই ঘরে একমাত্র ছেলেটা,
অল্পক্ষণ আগেই পঞ্চবটী নামের ধূপকাঠি জ্বালিয়ে 
দিয়ে গিয়েছিলো;-

যখন পৃথিবী থেকে আমার বেকার শারীরিক অস্তিত্ব 
বিলুপ্ত হচ্ছিলো...

একেলা একটি পাখির মতোন বহুদিন ধরে বিষন্ন 
সময় ধরে অবসন্ন শূণ্য আমি বেঁচেছি।

কতো মধুযামিনীর পর,
 আমার ছেলেটার পিতা হয়েছিলাম,-
----ছেলেটা দেখতে হুবহু আমার মতোন হয়েছে, 
----দূর থেকে দেখে মনে হবে জুনিয়র আমি! 

কঠিন শাস্তির বাস্তব জীবনে রক্তজল করা কষ্টে-
শিষ্টে আমরা বাবুকে বড়ো করেছিলাম- তারপর, 

আমি মেঘলা ভোরের নিঃসঙ্গ ফুলের ঝরার শব্দে 
হারিয়ে গেছি নিশ্চিন্ত মৃত্যুর ভেতর দিয়ে!--- 

এখন আমি ছবির স্মৃতি অস্তিত্ব, একটা রোগাক্রান্ত 
দেওয়ালের গায়ে জংপড়া পেরেকে আঁটকে।

[ ২২/০৯/২২ ]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/155153/</link>
				<pubDate>Sun, 02 Oct 2022 13:43:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মাঝে মাঝে&#8212;<br />
চিত্রকল্প ভাবনাকে দূর ভবিষ্যতে নিয়ে যেতে ইচ্ছে করে! টান টান মধ্যবিত্তের আটপৌড়ে জীবন, যাপিত সংসারে একজন পিতার আসলে মনোদৈহিক জীবনের সৌজন্য শেষ আশ্রয় কেমন হতে পারে? বলা ভালো সাধারণত যেমন হয়ে থাকে, যা আমরা প্রত্যক্ষ দেখতে পাই, তারই একটি বিশ্বাসযোগ্য portrait দেখবো, &#8212;কবিতার রক্ত-মাংসে।</p>
<p>‌‌&lt;&lt;&lt;&gt;&gt;&gt;&gt;&#038;l&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-155153"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/155153/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f1c3925899f05508bdb1dfd760d78868</guid>
				<title>আজকে মা&#039;--কে খুব মনে পড়ছে.... 

সকাল থেকে চোখের সামনে আমার ছোটবেলা, আমার মাকে ছবির মতো দেখতে পাচ্ছিলাম।আমার শিশুবেলা মানেইতো আমার মা! দেখতে পাচ্ছি- মা আমাকে অক্ষর জ্ঞানের সাথে পরিচয় করে দিচ্ছে।মা বলতো-- সুতো-লিপি পড়া।আমি মা&#039;র কাছে শিখে নিচ্ছি; 

আমি এক সাধারণ মানুষ। আমার মাও সাধারণ একজন।
শুধু ভালো ভাবে বুঝেছি, আমার মা আমার জন্ম ঋণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। নিজেকে যখন আজো আমি আয়নায় দেখি;-- 
বোধ করি মাথানত অপার কৃতজ্ঞতা-মায়ের জন্য...  কিন্ত কঠিন বাস্তবতায় মায়েরা ও গল্পের মায়েরা কেমন হয়? এই মিশ্র অনুভূতি ও আগ্রহ থেকে এ গল্প লেখা এগিয়ে গেছে। নাম--- &#039;মা&#039;।

&#060;&#060;&#060;&#062;&#062;&#062;&#060;&#062;&#062;&#062;&#062;&#062;&#060;&#060;&#060;

~মা~

ওই যে শাদা মেঘ-- শরতের নীলাকাশে; বৃষ্টিধারায় কতোবার যে অগুণতি ফোঁটার স্বাদ নিয়েছি জিভে চেখে। ডিমের কুসুমের মতোন শেষ বিকেলে সূর্যের হাসি; ঋতুর যাতায়াতে প্রকৃতির রুপ বৈচিত্র্য! বসন্তকাল তার অজস্র রঙিন ফুল ফুলের সুগন্ধি, 
প্রতি সন্ধ্যাবেলা, মধ্যরাতের জ্যোৎস্নার আলো, গভীর রাত্রির মহিমা, ভোর সকালে শিউলি তলার সুগন্ধ, দিনের বেলায় সূর্যের সতেজ আলোয় সবুজ পাতার  মাখামাখি; আঁকা ছবির মতো নদীপারে বাতাসের ছোটাছুটির আনন্দ! এই সব আরো কতো কি দেখে -শুনে-বোঝে সুখ পেতাম ছোটবেলাতে!
 ----কেননা আমি পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছি বলে।
আবার বড়োবেলায় এসে,-
চোখের সামনে দেখেছি অপার প্রকৃতি; মানুষের সৃষ্টিশীলতা; বেঁচে থাকার লাভ-লোকসান; সামাজিক অর্জন; পরিচিতি; প্রতিষ্ঠা অথবা যা কিছু এবং এই আমি বা আমরা আমাদেরই মায়ের দশ মাসের নিঃশব্দ কষ্টো ও অন্তরের সুখের ফসল।
নিকষ ঘনকালো অন্ধকার জরায়ু নামক কুঠুরিতে স্বযত্নে লালন ও ভূমিষ্ঠ হবার পরে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মমতায় এক দশকেরও বেশি সময়কাল ব্যাপি প্রতিপালন; কোনো রকমের প্রতিদান বিহীনভাবে,-
 ---ভাবা যায়! 
আমাদের মা, এই মা এই শব্দটি সর্বাধিক উচ্চারিত এক নাম! বিশ্বের সব ভাষাতে এই নামটির ওজন গুরুত্ব মান মমত্ব ও আবেগের আবেদন একই! হয়তো আমি এগারো কি বারো মাস বয়স থেকে মা ডাকতে শুরু করেছিলাম।হয়তো আমার মা, আমি যখন প্রথম মাটির উপরে অতি কোমল দোদুল্যমান পা দুটি ফেলে গুটি গুটি হাঁটছি, আমার মা সেইদিকে সুখী মুখে তাকিয়ে দেখতো! এই অনন্য প্রকৃতির অনন্য এক অবদান মায়ের দুধ, স্তন্যপায়ী শিশুরা সবচেয়ে নিশ্চিন্তে যা পান করে বড়ো হতে থাকে।... 
দশ বা এগারো বছর বয়সে একদিন ঝড়ের রাতে আমার খুউব শীত শীত করছিলো।কুঁকড়ে শুয়ে আছি, গায়ে শীত মানার কোনো কাঁথা নেই।ঘুমের ঘোরে এক সময়ে মনে হলো আর শীত লাগছে না-- মা কখন যে নিঃশব্দে এসে গায়ের উপর কাঁথা এনে দিয়ে গেছে! একটু বড়ো হয়ে পরীক্ষার পড়া মুখস্থ করে করে যখন নিজের ভেতর শূণ্য শূণ্য লাগতো, কিছু আর ভালো লাগতো না, মা এসে কাছে যখন বসতো আমি ভুলে যেতাম আমার শূণ্যতাবোধ! পরীক্ষার দুঃশ্চিন্তা মেশানো চাপ নিজেকে একাকী করে তোলে, মায়ের মমতার সঙ্গ সেই দুর্ভাবনা দূরে টেলে দিতো!-- আরো একটু বড়ো হয়ে ইস্কুল পার করে কলেজে যখন গেছি-- মায়ের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব বাড়ে... প্রত্যক্ষ মমতা কমতে থাকে।লেখাপড়া শেষ করে কর্মযজ্ঞে যখন ঢুকে পড়ি তখন আরো একটু করে বাড়ে দূরত্ব, হ্যাঁ মায়ের সঙ্গে!--  এরপরে---- 
জীবন চক্রের নিয়মে মায়ের ইচ্ছাই বৈবাহিক সম্পর্কে যখন আমি জড়াই এবং যোগ হয় একজন নতুন সঙ্গিনী-- আমি থেকে এখন আমরা হয়েছি... 
মায়ের সঙ্গে আরো দূরত্ব তৈরি হয়।কর্মব্যস্ততা, বাস্তবের সংসার, ঝুট ঝামেলা আরো কতো কি আমাকে পেয়ে বসে...  তবু মা, আমাকে দূর থেকে দেখে।চোখাচোখি হতে থাকে।খুব কাছ দিয়ে যাওযার সময় জানতে চাই-- &#039;বাবারে, কেমন আছিস, শরীরটা ভালো আছেতো?&#039; আমার বড়ো হয়ে যাওয়ার দম্ভ বা অভিমান, আমাকে পিছন থেকে টেনে ধরে, শুধু বলি- &#039;সব ভালো আছে।&#039; কেবল আগ বাড়িয়ে জানতে চাইনি;-
---&#039;তুমি কেমন আছো মা?&#039;
 যেদিন সত্যি সত্যি আমাদের বাবা চিরদিনের জন্য পরপারের যাত্রী হলেন, বুঝেছিলাম এই ভুবনে শতভাগ বিশ্বাস করার মতো একটি ব্যাপার রয়েছে যে, একদিন আমরা কেউ বেঁচে থাকবো না! আমার বাবার মৃত্যুর পরে আমার মা খুব একেলা হয়ে পড়ে এবং সব কিছুর বাইরে পড়ে যায়... আমার মা যে আছে সেটাও ভূলতে থাকি; নগর বাস্তবতার প্রাণহীন বিষময় জীবন যাপনে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি! মাকে হারায় তারও আগে।
পঞ্চাশ পেরোনো আমি---
এক মধ্যরাত্রিতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে, উঠে আমি দেয়ালের এক কোণে অযত্ন, আঁধার আর অকৃতজ্ঞ ভাবে ঝোলানো মায়ের ছবিটার সামনে এসে দাঁড়াই।হাত বাড়িয়ে মায়ের মুখটা মুছে দিই, মনে হলো মায়ের চোখগুলো যেনো ভেজা... ছবিটি নামিয়ে আলোতে আনি।ভালো করে দেখার চেষ্টা করি, মা কি কাঁদছে?... 
এবার পুরো ছবিই ঝাপসা দেখছি! হাত দিয়ে ভালো মতো মোছার চেষ্টা করি; এতোক্ষণ খেয়ালই করা হয়নি আমারই টপ টপ করে পড়া চোখের জলে মায়ের চোখ দুটো ভিজে যাচ্ছিলো!

[ গল্প ]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/148545/</link>
				<pubDate>Sun, 18 Sep 2022 05:33:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজকে মা&#8217;&#8211;কে খুব মনে পড়ছে&#8230;. </p>
<p>সকাল থেকে চোখের সামনে আমার ছোটবেলা, আমার মাকে ছবির মতো দেখতে পাচ্ছিলাম।আমার শিশুবেলা মানেইতো আমার মা! দেখতে পাচ্ছি- মা আমাকে অক্ষর জ্ঞানের সাথে পরিচয় করে দিচ্ছে।মা বলতো&#8211; সুতো-লিপি পড়া।আমি মা&#8217;র কাছে শিখে নিচ্ছি; </p>
<p>আমি এক সাধারণ মানুষ। আমার মাও সাধারণ একজন।<br />
শুধু ভালো ভাবে বুঝেছি, আমার মা আমার জন্ম ঋণের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-148545"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/148545/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e2419fb63532aac440b83b2a96815faf</guid>
				<title>বিশ্বাসের জগতের মুখোমুখি একটি ঘুণ্ পোকা
&#060;&#060;&#060;&#060;&#062;&#062;&#060;&#062;&#062;&#124;&#060;&#060;&#062;&#062;&#060;&#060;&#062;&#062;&#062;&#062;

এই গ্রামটির সাথে শহরতলীর সুন্দর যোগাযোগ আছে।বড়ো গাড়ির রাস্তা ছেড়ে ভেতর মুখী হাঁটা একটি মেঠো পথ।সেটা আবার মুখের দিক থেকে বড় হয়ে আস্তে আস্তে শেষে এসে ছোট হয়েছে।এই পথটি যেখানে শেষ হলো তার ঠিক হাতের ডানে একটা ঠাকুর ঘর।পাশেই তুলসী গাছের ছোটখাটো বন।সেই সঙ্গে আছে একটি তুলসীমঞ্চ।প্রতি সন্ধ্যায় এখানে তেলের পিদিম জ্বলে;
-----বেশ কিছু পরিবারকে নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে  একটি সনাতনী পল্লী।এখানকার একমাত্র ঠাকুর ঘরের জন্মলগ্ন থেকেই আছেন একজন সাধুনী মা।অল্প বয়সে মহিলা বিধবা হবার পরে মন বিবাগী হয়ে বৈষ্ণবী হয়েছিলেন।ঠাকুর ঘরের আরাধ্য দেবের পূজা পাঠে তাঁর এখন সারাদিন কাটে।অনেকে সাধুনী মায়ের কাছে আসেন দেবের কৃপার্থী হতে।নিঃশব্দ নিরুত্তর দেবের হয়ে সাধুনী মা ভক্তের সমস্ত অভাব অভিযোগের উত্তর ও সমাধা দেন। এখানে এবং আশেপাশে সবাই সাধুনী মাকে একনামে চিনে।ঠাকুর ধ্যানে বসে উনি বহুজনের মনের পাথর চাপানো মনের-খবর, মন-ব্যাধির কথা বলে দিতে পারেন।এই সব ব্যাপার স্যাপারের জন্য সাধুনী মা লোকের মুখে মুখে একজনা আশ্চর্যের হয়ে উঠেছেন!
দূর শহর থেকেও অনেকে, তাদের মধ্যে বেশির ভাগ বিবাহিত নারীরা নিজেদের সমস্যার আধ্যাত্মিক উপকার চাইতে এখানে আসেন।এমন নাম ডাকের  জন্যই সাধুনী মায়ের কথা আমার গিন্নীর কানেও পৌঁছেছে। ইদানিং সে অল্প অল্প করে আমার কানেও আশ্চর্য সাধুনী মার নামটি বলছে।এতে আমি তেমন  আগ্রহ বোধ করছি না।আমার গিন্নী জানে এসব বিষয়ে  আমি কখনো আকর্ষণ দেখাইনি। আমার এক কথা;  লৌকিকতার চার্তু্য্যের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে  কারসাজির দারুণ অলৌকিকতা! গিন্নী অন্ধকারে কোনো নিশানা সনাক্ত করার মতো একটি দুর্বল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেই!...
আমাকে বেশ কয়েকবার সে আশ্চর্য সাধুনী মায়ের কথা বলেছে।ওখানে আমাকে সঙ্গে নিয়ে নিজে একবার গিয়ে দেখতে চাইছে।আশ্চর্য সাধুনী মাকে সে বিশ্বাস করেছে।আমি তাকে বলি--&#039;বিশ্বাস যে একেবারে খারাপ  ব্যাপার তা কিন্ত নয়।বিশ্বাস পুরোনো আদিম এক শক্তিময় ব্যাপার।কিন্ত একে যাচাই না করে পরীক্ষা বা পরখ না করে শুধু কেউ একজন বলেছে বলে আমাকেও সেই লোকের মতো বিশ্বাস করতে হবে কেনো? আমি আরো যোগ করে বললাম--&#039;দেখা গেছে অপরীক্ষিত বিশ্বাস বেশির ভাগই ভূল হয়! আমি কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করলাম তার অর্থ হলো- অবচেতন মনে হলেও তাকে আমি খুশি করতে চাইছি।তবে ভরসা ও বিশ্বাস এককথা নয়-- পুরো ভরসা করা হচ্ছে কারুর উপর আমার ইচ্ছে বা চাওয়ার ব্যাপারকে তার কাছে (নিজেকে) ছেড়ে দিলাম।এখন আমাকে সে বাঁচাবে বা উদ্ধার করবে অথবা আমি উপকৃত হবো।পুরো বিশ্বাস করা বুঝায় অজান্তেই অন্য কারো অধীনস্থ হয়ে উঠা! সে জন্যেই ভূল বিশ্বাস ভূল মানুষ তৈরী করে! আমি গিন্নীকে জিজ্ঞেস করি-- &#039;আশ্চর্য সাধুনী মায়ের কথা তুমি কিভাবে জানো? গিন্নীও বলে-- &#039;এক নিকট আত্মীয়ার কাছে জেনেছি।এই আত্মীয়া বেশ কয়েকবার সেখানে গেছে এবং নিজের এখন মনোবাঞ্ছা পূরণ হতে চলেছে!&#039;
---এই শুনে আমিও বলি- &#039;তাহলেতো সেই আত্মীয়ার সঙ্গে গিয়ে ঘুরে আসতে পারছো।শুধুমাত্র আমার সঙ্গে  যাবার কি দরকার?
গিন্নী কঁকিয়ে বলে উঠলো--&#039;আমাদের একান্ত সমস্যার কথা অন্যে কেনো জানবে? আমি বলি--&#039;তোমার এই যুক্তিটি বেশ মানবিক।&#039;
মুখে একটু হাসি টেনে নিয়ে আমি গিন্নীকে দেখি।বললাম--&#039;হ্যাঁ, আমি যেতে পারি।&#039;
---দেখি গিন্নী চুপচাপ আছে...
কর্মজীবি মানুষের এই এক সমস্যা।কর্ম করে না গেলে ধর্ম ঠিক থাকে না।জীবনে প্রত্যাশিতভাবে বেঁচে থাকার ধর্ম।ইদানিং কালে খুব কাজের চাপ যাচ্ছিলো।কোথাও যাবার জন্য সময় বের করতে পারছিলাম না।একদিন ব্যস্ততার চক ভেঙ্গে বেড়িয়ে পড়েছি সাধুনী মা&#039;র আশ্চর্য কিছু দেখবো বলে --- একা এই আমি।
যাচ্ছি, মনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে নানা প্রশ্ন ও তার  স্বয়ম্ভূ উত্তর! গিয়ে আমি ওখানে কী দেখবো?
----অন্য কোনো ভূবনের অলৌকিকতা...! -----
আমি যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছালাম তখন পশ্চিম আকাশে আসন্ন সন্ধ্যা নামছিলো।সেখানে গিয়ে দেখলাম ছোট আকারের এক তুলসীমঞ্চে পিদিম জ্বালানো হচ্ছে।হয়তো প্রতিদিনের কর্তব্যের মতো এটি জ্বালানো হয়।অনাহূত ছায়ার মতো আমাকে দেখে কেউ একজন চমকে উঠেও নিজেকে সামলে নিলো।আমি নিজে থেকে পরিচয় দেয়ার মতো বললাম--&#039;শহর থেকে এসেছি ঠাকুর দর্শন করতে। দর্শন করে ফিরে যাবো।&#039; তুলসীতলা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এক যুবতী মেয়ে একটু নড়েচড়ে এবার এগিয়ে যেতে যেতে বললো--&#039;এই রকম বেলায় কেউ আসে না।এখন সন্ধ্যা পূজাতে আমাদের মা ব্যস্ত থাকে। আপনি অন্য একদিন না হয়....&#039;
মেয়েটির মুখের কথা শেষ না হতেই... মন্দিরের আলো আঁধারি এক চিলতি উঠোন থেকে এক নারী কন্ঠে  শোনা গেলো--&#039;এই কিশোরী, উনাকে সঙ্গে করে ঘরে নিয়ে আয়।&#039; ----বোঝাই গেলো এই যে মেয়ে এ মেয়ের নাম হলো কিশোরী! এবার কিশোরী যেচে আমার  প্রতি  সদয় হওয়ার মতো বলে--&#039;আসেন, আপনি ভেতর বাড়িতে আমার সঙ্গে আসেন।&#039;
আমি সামান্য সংকোচ করে এগিয়ে গেলাম।অস্বস্তি আর সংকোচের কিছুটা চাপে আমি পথ চলতে আড়ষ্ট বোধ করতে থাকি।উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই নারী কন্ঠ হাতের ইশারা দিয়ে আমাকে একচালার একটি ঘরের চৌকির উপর বসতে বলছে।
আমি অল্পক্ষণ ঠাঁই বসেছিলাম।পরে আমাকে ডেকে নেয়া হলো মূল মন্দির ঘরে সাধুনী মায়ের কাছে।----
আমার সামনে এখন আশ্চর্য সাধুনী মা বসে আছেন।এই ঘরটাতে সাধারণ পাওয়ারের একটি ইলেকট্রিক বাতি জ্বলছিলো।এই আলোয় অবশ্য ঘরের সব কিছু  দেখে চিনে নেয়া যায়।এ আলোয় সাধুনী মায়ের মুখ দেখে মনে হলো সাধারণ গোছের একজন নারী।তবে চোখ দুটিতে নির্ঘুম ক্লান্তির ছাপ রয়েছে।আমি দু&#039;হাতে নমস্কারের ভঙ্গি করে একটু কৈফিয়তের মতো এবারে বললাম---&#039;সময় হয় না বলে দূর থেকে আসতে সন্ধ্যা করে ফেলেছি। কিছু মনে করবেন না। আমি এখন উঠবো&#039;----
সাধুনী মা আমার চোখের দিকে এবারে সরাসরি  তাকিয়েছেন।তাঁর চোখে মুখে গ্রাম্য ভাবালুতার রেষ  বেশ কম! বোঝা যায় এখানে তাঁকে দর্শন করতে বহু পদের মানুষজন ও ভক্তরা আসে।সাধুনী মায়ের দুই চোখের নির্লিপ্ততাতে সেটায় বোঝা যাচ্ছে।তবে সরাসরি চাউনিতে একধরণের তীব্রতা আছে! ----
সাধুনী মা এই বারে বললেন- &#039;আপনি কি চলে যেতে চান?&#039;
আমি বলি-- &#039;এই রকম ভূল একটা সময়ে এলাম বলে  লজ্জিত।তাই আমার চলে যাওয়াই উচিত।&#039;
সাধুনী মা বলেন--&#039;দেবতার দর্শনে সকাল কি সন্ধ্যা,
রাতের কাল বা ভোরের বেলা এমন কিছু নেই।আমার কিন্ত মন বলছে, আপনি আমার সঙ্গে কথা বলতে বা আমাকেই দেখতে এসেছেন।আপনার নিজের অবিশ্বাসই আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছে।সেই সঙ্গে আপনার একান্ত কৌতুহল আছেই!
আমার মুখে কোনো কথা নেই।একদৃষ্টিতে সামনে যা কিছু আছে দেখে আছি।কেবল সাধুনী মায়ের কথাগুলি
কানে আসছিলো।
---&#039;কৌতুহল থেকেই আগ্রহ।তাই এখানে আমার কাছে টেনে এনেছে আপনাকে।
----আমি মুখে কিছু বলরাম না।স্থির দৃষ্টিতে তাঁকে শুধুমাত্র দেখছি....
এখন বলুন- &#039;কেন&#039;বা আপনি এলেন? একটা কিছু  সমস্যাতো আপনার থাকবে।শহর থেকে এতদূরে, আপনি শুধু শুধু সময়টা নষ্ট করার জন্যে এখানে আসেননি।  ----কি ঠিক বলছিতো?&#039;
কথার উত্তরে আমি বললাম-- &#039;আপনার এই রকম মনে হবার কারণ কি? আপনি যে কারো কি মনের বাঞ্চিত ইচ্ছের কথা বলে দিতে পারেন?&#039;
সাধুনী মা বললেন- &#039;নাহ! কিন্ত আপনার মুখের কঠিনভাব দেখে আমি তা বললাম।&#039;
------------------=-----------------
[আমি বেশ ভাবনাতে পড়লাম! ....
পকেটে দিয়াশলাই সহ সিগারেটের প্যাকেট ছিলো।একটি শলাকা জ্বালিয়ে ঠোঁটে গুঁজে দিতে খুউব ইচ্ছে করছিলো।আবার মনে হলো এখানে এই পরিস্থিতিতে সেটা ভালো দেখাবে কি না।অনভিপ্রেত অস্বস্তি এড়াতে নিজের মনকে শান্ত করার দিকে মনোযোগ দিলাম।
দ্রুত ভাবছি-- কী জানি, মনের মধ্যে খুব অবিশ্বাসের জন্য মুখের উপর কাঠিন্যতার এক প্রকার ছাপ ফুঠে উঠলো কিনা? এটাই কি সাধুনী মা পড়তে পারছেন?তাহলে তা আশ্চর্যতো!
---চলমান ভাবনার মতোন মনে হলো আমার।চঞ্চল মনের স্থিরতা বা নিত্য ধ্যান-জ্ঞান, যার ফলাফলে এক
অসামান্য দক্ষতা জন্মে! তখন অন্যের মনের গতিবিধি- কে ধরে ফেলা বা সেটি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা ধরা দেয়, চিন্তার সূক্ষ্মতায় পৌঁছে গিয়ে মানব মনের চিত্তরস চিহ্নিত করা, -- এইসব বিষয় দীর্ঘ সময়ের নিত্যকার একাগ্র চর্চাতে ক্ষমতার মতো অর্জিত হয় বলে জেনেছি।আমরা সাধারণ ভাবে যাকে সাধনা বলি।মনে পড়ে গেলো, সনাতনালম্বীদের পরমহংস রামকৃষ্ণকে, যদিও তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চতর পড়ালেখা ছিলো না। কিন্ত উনার দর্শন কথনের চমৎকার রসবোধ ছিলো বলে তিনি বাঙালি দার্শনিকগণের মধ্যে স্হান করে নিয়েছেন!
(কী জানি) বেশি বেশি মনের আকাংখা মানুষকে এক জাতীয় চিন্তা ভাবনা করতে শেখায়! যেমন- যে মেয়েদের বেশি রকমের অলংকারের প্রতি মোহ থাকে তাদের কিছু কেনাকাটার  সুযোগ থাকলে, তারা কিছু অলংকার কেনাকাটাকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে চাইবে।অতিরিক্ত মনের চাওয়ার চাপ থেকে অনেক সময় আমাদের যুক্তি বা বুদ্ধি কাজ করে না।মনের মধ্যে খুব অবিশ্বাসের জন্য মুখের উপর কাঠিন্যতার একটা ছাপ ফুঠে উঠে।দুর্মর ইচ্ছে শক্তি ও মনের মোহের মধ্যে পার্থক্য আছে।কে যেনো বলেছেন- আমাদের দুঃখের মূলে লুকিয়ে থাকে দুটি উপাদান- এক হচ্ছে ভয়।অন্যটি আকাংখা।ভয় পাই বলে কল্পিত কিছুর দিকে চলে যায় এবং নিজেকে সমর্পণ করি।আকাংখার সীমানা ছাড়িয়ে গেলে জন্ম নিতে থাকে চাওয়া অপূরণের অতৃপ্তি বা নিজস্ব দুঃক্ষের! আটকে থাকা  বদ্ধ সমাজের পরিবর্তনের সমাজবাদী চিন্তা অথবা রুগ্ন, অসুস্হ সামাজিক আচরণের বন্দীদশা থেকে মুক্তির  শুভকরি চিন্তা চেতনায় ভাবিয়ে তুলতে পারে কোনো ইউটোপিয়া বা ডিসটোপিয়া।সেটি এমনই এক কল্পনার সমাজ ব্যবস্হা যেটি বৈষম্যহীন, উৎকর্ষে, উন্নতিতে, সুস্হতায়, আমাদের চেনা বিভেষিকার সমাজ থেকে আলাদা রকম হবে! আর দুটির মধ্যে পার্থক্য দাঁড়ায় স্বর্গ-নরকের মতো! -----এটি একটি মনোজগতের খেলা।কল্পিত নিশ্চয়তা বা কল্প-স্বর্গবাদ; বাস্তবিক বিচারে যার অস্তিত্বের দৃষ্টিগ্রাহ্য কোনো রুপ অবশ্য থাকে না।বেগম রোকেয়ার-&#039;সুলতানার স্বপ্ন&#039; এ রকম একটি কল্পিত নিশ্চয়তার হর্ষ উপাখ্যান!]
----সাধুনী মা আমার অহেতুক ঘোরলাগা তন্ময় ভাবটাকে ভাঙ্গালেন! তাকে বললাম--&#039;আমি ভেবেছি বলা ঠিক হবে না, মনেই করেছিলাম যে আপনি আমার  সমস্যাকে ঠিকঠাক সনাক্ত করে বুঝে ফেলবেন এবং  অবাক করে দিয়ে আমাকে বলবেন-- &#039;এখানে আমি এসেছি স্ত্রীর ইচ্ছে পূরণে জন্য!&#039; ---&#039;সত্যি বলতে কি আমি এটা মনে করেছিলাম আপনি তা চিহৃিত করে দে-বে-ন-
সাধুনী মা বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে স্হির মুখভঙ্গি করে বলেন--&#039;মানুষের মনের খবর ক্ষণে-ক্ষণে কেউ পড়তে পারেন না।আন্দাজে বা অনুমান করে কিছু কথা বলতে পারাওতো বেশ বড় কথা! কি নয়, বলুন? তবে এইসব কিছু বিষয় নিয়ে একটি উচ্চবিদ্যে আছে বলে আমি শুনেছিলাম।যেটা আমি জানি না।আমি ভক্তের মন্ পড়বার জন্যে আপ্রাণ উদ্দ্যেগ লই।এটা আমার প্রতিদিনের অভ্যাস।এটা রোজ রোজ করতে করতেই আমার ভেতরে  আমি অন্যকিছু একটা টের পাই।
কেমন এক ক্ষমতা! এটিই লোকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে! লোকে মুখে
মুখে ওই খবর এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমি মানুষের অন্তর মনের কথা বলে দিতে পারি!&#039;----
আমি আমার মধ্যে তটস্থ হয়ে রইলাম।মনে মনে ভাবতে চাইলাম--- এই মহিলা অজান্তে নিজে নিজে পুন:পুন এক সাধনার মতো চর্চাচক্র পালন করে নিজের মধ্যে এক ধরণের ক্ষমতা অর্জনের  দিকে ধাবিত হয়েছেন। হয়তো একটা চমৎকার লৌকিক গুণের ক্ষমতা এই সাধুনী মাকে ধরা দিয়েছে! তবে শুনে ভালো লাগল যে, সাধুনী মা আদ্-তে আমার কাছে কোন লুকোচুরি করেননি এই-টা নিয়ে...
আমি এবার সাধুনী মাকে বলি--&#039;নিজের আত্মবিশ্বাসকে  মনে ও প্রাণে মনঃসংযোগ করে এটাকে কাজে লাগিয়ে, এক রকমের বিশেষ ক্ষমতা আয়ত্ব করা যায়। নিজের উপর বিশ্বাসকে প্রচন্ডভাবে বিশ্বাস করে নিজের মধ্যে একপ্রকার যাদুকরী গুণ বা ক্ষমতা তৈরি করে নেয়া যায়।যাকে বলে-প্ল্যাসিবো।এটি এক রকমের চিকিৎসা পদ্ধতি অবশ্য। কিন্ত-- দর্শকদের মন্ পড়তে পারার ব্যাপারটি উঁচু পর্যায়ের যাদুকরেরা করতে পারেন।তবে তা সব সময়ের জন্য নয়।গভীরতম ভাবে অনুমান এক ধরণের খুবই দক্ষতা নির্ভর ক্ষমতা।&#039;---
---সাধুুনী মা আমার দিকে না তাকিয়ে সকরুণ মমতা মাখানো মুখে, মুখ নামিয়ে ধড়া গলাতে বলে চললেন-- &#039;আমি একজন মেয়ে মানুষ-- এই সমাজটা যাদের, সেইসব পুরুষ মানুষের সাথে প্রতারণা করিনি,-- আর আমার মনের এই শুদ্ধতাটুকুই আমি।&#039;
তারপর.... অনেকটা নিঃশ্বাস নিয়ে... বলছেন,
&#039;বুদ্ধিবান, জ্ঞানীওয়ালারা আর বোকা ভালো মনের  মানুষগুলি তাদের স্ত্রীদের খুব ভালোবাসেন কিন্ত তারা সেটা তাদের বউদের দেখাতে চান না! এমন মানুষ বউয়ের সামান্য কথাও ফেলতে পারেন না।আপনি  হলেন তাদের মধ্যে একজন।মনে হচ্ছে, আপনি নিজের জন্য হলে একা এতোটা দূরে আসতেন না;--
----- তাঁর এই কথাতে আমিও হেসে উঠি।----
সাধুনী মা আমার কাছে এই প্রথম জানতে চাইলেন, তাঁর কোন্ ব্যাপারটা আমার কাছে ভালো লেগেছে?
এই কথা শুনে আমিও মজাবোধ করে বলতে চাইলাম ---&#039;আপনাকে কি পাশ মার্ক দিতে বলছেন?&#039;
সাধুনী মা মুখটা না নাড়িয়ে এবারে হালকা হেসে উঠেছেন। ---&#039;আমি বললাম-- &#039;শহর ছাড়িয়ে এইদিকে, এমন গ্রামে বাস করেও আপনার মধ্যে গ্রাম্য ভাবালুতার রেষ কম! এটি আমার কাছে বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।&#039;....
সাধুনী মা হাসেন আমার কথাতে।উনি হাসি থামিয়ে পুন: প্রশ্নে জানতে চান- &#039;তাই, -- আর কিছু?&#039;
আমি বললাম-- &#039;আমার কিন্ত কিছু জানবার ছিলো?&#039;
সাধুনীমা মুখের হাসিটুকু লুকিয়ে ফেলে এবার বললেন-  &#039;আপনার গিন্নি একটি ছেলে সন্তানের মা হতে চাচ্ছেন!&#039;
....আ আ-মি- এইবারে সত্যি অবাক হয়ে গেলাম!
জানতে চাই-- &#039;এই-টা- আপনি কিভাবে বলতে পারেন?&#039; .... কথা শুনে অপ্রস্তুত আমি একটু কেঁপে উঠি।....
সাধুনী মা বলেন-- &#039;আপনাকে দেখে আগেই আমি বোঝার চেষ্টা করেছিলাম।&#039;
আমি বললাম-- &#039;আমার গিন্নি সন্তানের মা হতে চাই-  সেটা ঠিক আছে কিন্ত কি করে বললেন যে, একটা ছেলে সন্তানেরই মা হতে চাইলো?&#039;...
সাধুনী মা কোন্ ফাঁকে ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে নিয়ে বললেন,--&#039;আপনাকে দেখে বোঝা যাচ্ছে আপনাদের  বিবাহিত জীবন বহুদিনের।এই লম্বা দাম্পত্য জীবনে আপনাদের একটি সন্তান থাকতে হবে।এখানে সন্তানটা রয়েছে মেয়ে এবং এবার পরবর্তীটাকে হতে হবে একটি ছেলে সন্তান, ---এভাবেই হিসাবটা সোজা! তবে আমি, এই আমার দীর্ঘদিনের সাধন ভজনের জীবনে আমার কাছে এসে কাউকেতো একটা মেয়ে সন্তানকে কামনা করতে দেখলাম না! সবারই আমার এখানে আসার কারণ বলেন, যাই বলেন সবার প্রথম ও শেষ লক্ষ্য
ও উদ্দেশ্য আর সমাধান একটাই, সেটি একটা ছেলে সন্তান লাভ করা...  মানে মনের প্রাপ্তি; এখান থেকেই অনুমান করে বলেছিলাম আপনারটাও! ---আর হ্যাঁ, এখানে সেটি আশ্চর্যের মতো মিলে গেলো! তাছাড়া, কোনো কোনো পুরুষজনের মুখের উপর বয়সজনিত একটি ছাপ পড়ে। --এটাকেও খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায় তাদের ক্ষেত্রে ছেলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।আমি নিজের এই সাধন ভজনের জীবনে সেটা বহুবার দেখেছি।&#039;-
আমার এই সাধুনী মাকে জিজ্ঞেস করতে মন থেকে ইচ্ছে হলো---  যদিও সংকোচ হচ্ছে, তাঁকে একটি প্রশ্ন করি, আপনার পড়াশোনা কী পর্যন্ত?
আমি আবার মন থেকে তা বাদ দিই। ক্ষেত্র বিশেষে আদ্-তে পড়ালেখা কোনো কিছুর নির্ধারণের একমাত্র মানদন্ড হিশেবে কাজে নাও আসতে পারে; ---আমি সাধুনী মাকে উদ্দেশ্য করে বললাম--&#039;এটা কিন্ত আপনার অভিজ্ঞতা সুলভ জ্ঞানমাত্র! মনে করা হয়, মকর ক্রান্তির লগ্নক্ষণে- কেউ জন্মালে তার মুখের উপর বয়স-জনিত একটি ছাপ পড়ে! এই কারণে বয়স ওই ব্যাক্তি মানুষটির যা&#039; হোক তাকে কিছুটা তার নিজস্ব বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখাবে! এদের ক্ষেত্রে সংখ্যানুপাতে ছেলে জন্ম দানের সক্ষমতা বেশি থাকে।যদিও এটি পরীক্ষিত কোনো সত্য নয় বরং এটির মূলে থাকে বিজ্ঞান।বিজ্ঞান বলছে, জৈবিকভাবে ব্যাক্তির নিজ জীনের কারণই এই জন্য দায়ী হয়।&#039;
আমি সংকোচ না করেই সাধুনী মার কাছে জানতে চাই-- &#039;আমার স্ত্রীর কি ইচ্ছে-পূরণটা হবে?&#039;
সাধুনী মা হঠাৎ রহস্যে তাঁর মুখটি ভরিয়ে তোলে বললেন--&#039;তাতো একমাত্র গৌর-গৌরাঙ্গ বলতে পারেন।তিনি যদি কৃপা করেন।যদি তিনি সহায় হোন...&#039;
তাঁর এই কথাতে আমি কিছু বললাম না।কিন্ত আমি এই ব্যাপারে প্রত্যাশিত ছিলাম যে সাধুনী মা আমাকে চমকপ্রদ কিছু বলবেন।--
এবারে সাধুনী মা অনুজ্জ্বল মুখে অন্যদিকে তাকিয়ে উল্টো আমার কাছেই জানতে চাইছেন--&#039;আচ্ছা, আর এই-জগৎ-প্রেম? এই প্রেম কাকে বলে?&#039;...
আমি বলি-- &#039;নর নারীর প্রেমের কথা বলছেন? সাধুনী মা আঁড় হাসিমুখে তাকিয়ে আছেন।আমি বলি-&#039;প্রেম হচ্ছে প্রকৃতির মাকড়সা জালের মতো পাতানো ফাঁদ! প্রকৃতির মূল উদ্দেশ্য অথবা প্রকৃতি নিরবে চাইছে, সব প্রাণীকুলের মাঝে নিরন্তর বংশ বিস্তার হোক; এই ভাবে ★প্রকৃতি হলো সমস্ত জীবকুলে বংশ সম্প্রসারণের জন্য প্রলুব্ধ করবার উর্বরতাময় একটি স্তর স্বরুপ! নিয়মে বন্দী জন্মান্ধ প্রকৃতির কাছে তাই মাথাকুটে বিশেষ কোনো লাভ হয় না! প্রকৃতি কিন্ত চিহ্নিত কারো খবর জানে না।না মানুষের- না নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর! তবে এই প্রকৃতি বিকশিত হতে পারে! এই যে আমাদের চারদিকের জলবায়ু পরিবর্তনে, এখন জীববৈচিত্র্যের মাঝে নীরবে মহা পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে... কোনো কোনো প্রাণী জন্মদানে বছরে যারা একবার মাত্র সময় নিতো কিন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় সেইসব প্রাণীরা প্রজননে এখন বছরে দুইবারও সময়।নিতে দেখা যাচ্ছে।এখানে এটা হলো প্রকৃতির খাপ খাইয়ে নেয়া বা নিজের বিকাশ।তবে হ্যাঁ সেই বিকাশ সাধিত হওয়ার জন্য প্রকৃতির মধ্যে সংঘটিত প্রাকৃতিক চাপের দরকার।তখন শুধু প্রকৃতি নিজেকে বিকশিত করে নেয়---
---&#039;যাকে আমরা প্রেম নামে ভাবছি তা হলো আসলে প্রাকৃতিকভাবে পাতানো ফাঁদের তীব্রতম মায়া! যেটা নানা রকম কামনার আবরণে মোড়া থাকে! প্রকৃতির প্রভাবিত তীব্র মায়ার বাঁধনের অনুভূতি আমরা বরাবর বুঝতে পারি।তা কিছুতে এড়িয়ে যেতে পারি না।কিন্ত পারমার্থিক স্তরের মায়ার বন্ধনের যোগ আমাদের মাঝে বাইরে থেকে চেপে জন্মাতে হয়।কেননা সেটা প্রকৃতি থেকে নিয়ন্ত্রিত নয়! এই মায়ার টান আমাদের সাধারণের মনের মধ্যে ঢুকাতে আমাদের গুরুজীদের মধ্যে আপ্রাণ চেষ্টা করতে হচ্ছে!&#039; -----
এরই মধ্যে পূজোর থালার মতো দেখাচ্ছে তেমন এক থালাতে করে খই মুড়ি মিশিয়ে দেয়া একটি বাটি সঙ্গে ধোঁয়া উঠা এককাপ চা, আমার সামনে দিয়ে গেছে কেউ একজন,--
সাধুনি মা আমার দিকে তাকিয়ে স্মিতহাস্য মুখে সেসব খেতে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। ---আমি চায়ের কাপে মুখ দিয়ে বুঝে গেলাম গাভীর দুধ আর গুড় দিয়ে বানানো চা, আহা!
....&#039;কতো ভক্ত নারীপুরুষ এখানে গৌরাঙ্গ দর্শন শেষে আমার কাছে একান্ত বহু&#039;কিছু বিষয়ে জানতে চাই, কিন্ত আমি আপনার কাছে জানতে চাইবো-- &#039;আমার এই জীবনটা এমন হলো কেনো আমার ভবিতব্যে (কপালে) কি এই ছিলো?&#039;
----- আমার কাছে, ---- এটি সাধুনী মাযের করুণ একটা প্রশ্ন ছিলো।
---নাহ, আমি বলি। ---&#039;ভবিতব্য আমাদের বিকলন চিন্তার ফল; প্রকৃতির মধ্যে জীবনের মূল্য হচ্ছে- অঙ্কুরোদগম! একটি নতুন সকালে বাঘ নিজেও জানে ★না যে সে শিকার করে পেট পুরে খেতে পাবে কি না? বাঘের নিজের যৎ সামান্য বুদ্ধি খাটিয়ে শিকার করাই তার জীবন! সে ওর গোটা জীবনে তাই করে।বৃদ্ধ হয় যখন শিকারের শক্তিটা নিঃশেষ হয় তখন জঙ্গলের কতো বাঘ খাবাবের অভাবে মারা পড়ে? প্রকৃতির গোটা রাজ্যে সব প্রাণীকুলের পরিণতি প্রায় একই! কিন্ত মেধা বুদ্ধিতে মানুষ ব্যাতিক্রম হয়েছে! সে নিরেট নিয়ম চক্রে বন্দী প্রকৃতি রাজ্যের বন্দীত্বকে জয় করে নিয়েছে নিজের উদ্ভাবনী ও সৃষ্টিশীলতায়! সভ্যতা ও কৃষ্টি, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, ধর্মচর্চা এভাবে অনেক কিছুর ভিতর দিয়ে সে এখন আধুনিক বিশ্বের সফলতম প্রাণী এবং নগর সভ্যতার নাগরিক।কিন্ত মনের জগতে বেশির ভাগ মানুষ বা আমরা আজো আদিম!&#039;
----আমি একটু থেমে আবার বলি,--&#039;আমার ধারণা এই, বিবাহিত জীবনে আপনি অল্প বয়সে বিধবা হয়েছিলেন।গ্রামের হিন্দু সমাজে একজন অল্প বয়েসী বেশ সুশ্রী নারীর বৈধব্য জীবন অনেক কলংকপূর্ণ হয়।সম্ভ্রম রক্ষা করে করে জীবনযাপন করা ও তথাকথিত সামাজিক বৈধব্যের আরোপিত পবিত্রতা বজায় রেখে চলা কঠিন একটি কাজ! হয়তো... আমি এইটুাকু বলে চোখ নামিয়ে বললাম, ...সে ক্ষেত্রে বিবাগী মনে ঠাকুরের পথ বেছে নেওয়া, আর জীবনকে সঁপে দেয়া যেমন নিরাপদ তেমনি লাভের লাভ ব্যাক্তিগত অভিলাষ মিটিয়ে নেয়া যাচ্ছে&#039;---
আমার এই কথার পরে, -- সাধুনী মায়ের সামনে বসে থাকাটা আমার জন্যে কেমন এক মনো-সংকোচের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালো।হাতের ঘড়িতে সময়টাকে দেখে বুঝতে পারি এখন বেরিয়ে পড়লে, শহরে পৌঁছে যেতে পারবো।
-------------------
বেশ পা চালিয়ে চলে আসছিলাম।কী জানি কেনো ইচ্ছে হলো-- পুরোপুরি পিছনে না ফিরে আড় চোখে দেখতে পেয়েছি, -----বহু মানুষের মুখে মুখে নামী হয়ে উঠা সবার সাধুনী মা নিস্পলক অন্যমনস্ক দৃষ্টিতে আমার চলে আসার দিকে তাকিয়ে আছেন!
[ গল্প ]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/140190/</link>
				<pubDate>Tue, 30 Aug 2022 15:32:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিশ্বাসের জগতের মুখোমুখি একটি ঘুণ্ পোকা<br />
&lt;&lt;&lt;&lt;&gt;&gt;&lt;&gt;&gt;|&lt;&lt;&gt;&gt;&lt;&lt;&gt;&gt;&gt;&gt;</p>
<p>এই গ্রামটির সাথে শহরতলীর সুন্দর যোগাযোগ আছে।বড়ো গাড়ির রাস্তা ছেড়ে ভেতর মুখী হাঁটা একটি মেঠো পথ।সেটা আবার মুখের দিক থেকে বড় হয়ে আস্তে আস্তে শেষে এসে ছোট হয়েছে।এই পথটি যেখানে শেষ হলো তার ঠিক হাতের ডানে একটা ঠাকুর ঘর।পাশেই তুলসী গাছের ছোটখাটো বন।সেই সঙ্গে আছে একটি তুলসীমঞ্চ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-140190"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/140190/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6bbe57f2ec06db1176a580fa6d750ddc</guid>
				<title>&#039;চারদিকে সূর্যের তাপদহন।আমাদের মধ্যে জবজবে ঘর্মাক্ত গরম বোধ হচ্ছে খুব! স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ভালোবাসতে কষ্ট হচ্ছে। বিরক্ত লাগছে সূর্যের-তাপিত আলো রোদের কাছে যেতে---  এখন, এই সময়ে চোখের সামনে কালো মেঘ করা তুমুল বৃষ্টিপাতই আরাধ্য... 
কিন্ত প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত নেই বরং খুব গরম পড়ছে। যদিও এই গরমের হাত থেকে
মুক্তি পেতে চাই ---বৃষ্টির শীতলতা!.... 
----এখন অবশ্য বিবিসি ওয়াইল্ডলাইফ প্রোগ্রামের শব্দ ধারণে, --&#039;তুমুল বৃষ্টিধারার সাউন্ড রেকর্ড&#039; ---শোনা যায়। আমরা যেমন মনেমনে মাইন্ড ট্রাভেল করি, তেমনই কানে হেডফোন লাগিয়ে, ওই সাউন্ড রেকর্ডে-- বৃষ্টিপড়ার কাব্যিক শব্দাবলী শোনা যেতে পারে।গরমকে মেনে না নেওয়ার জন্য বা অস্বীকার করতে-- &#039;কবিতা পড়ার&#039; মতোই অনুভূতিক একটা চেষ্টা!&#039;... 
----------------------------------------------------------------
বৃষ্টিপাত নিয়ে এক নাগরিক কবিতা।কিন্ত ইচ্ছেমাত্র নাগরিক কবিতা লিখে ফেলা যায় না।আবার ভীষণভাবে চাইলে লিখতে হয়তো অসম্ভবও নয়। কবিতার নাম, ---&#039;ভিজে যাচ্ছে।&#039;
 

ভিজে যাচ্ছে
--------------------

----আজ বৃষ্টির ধারায়,
বাইরের খোলা আদি-দিগন্তের সুশ্রী মুখটি ভিজে যাচ্ছে,--

ভিজছে-- বহুদিনের-- আমাদের খুবই চেনা&#039;জানা, 
বিরহিত মনামনের আঙ্গিনা ডিঙ্গিয়ে একটি শূণ্য প্রান্তর!

----ওই প্রান্তর, 
কোনো রাতের পূর্ণিমার দ্বিখণ্ডিত চাঁদের বিশাখার মুখ,--

বাইরে চারদিকের রোমাঞ্চিত সবুজের শরীর থেকে চুঁইয়ে 
পড়তে থাকে বৃষ্টিজল!  
 
ধৌত হচ্ছিলো, খোলা গোটা দূরের কালো শাদা আকাশটা;
আমাদের পুরোনো দিনের সব স্মৃতিকণারা আজ অশ্রুকণার 
মিছিল হয়ে বৃষ্টিকণাতে মিশে যাচ্ছে কি?

----দেখতে পাচ্ছিলাম আবছা-- 
প্রেমের দিন থেকে আমার মনের উদ্যানে বেড়ে উঠা 
রোম্যান্টিক সোনালু গাছটার সব&#039;কটা শাখা-প্রশাখা থেকে
ঝড়ে গেছে সমস্ত সোনালু ফুল!---

মাথার উপর কালোরঙের মেঘাচ্ছন্ন জলবতী আকাশ;-- 
যে কোনো মুহূর্তে আসবে নেমে বৃষ্টি, আচমকা তুমুলভাবে
বৃষ্টি নেমেছে--- এক রিক্সাই আমরা যাচ্ছি কোথাও, 
----তখন বৃষ্টিবন্দী হয়ে যায়।

বাইরে লক্ষকোটি বৃষ্টিফোঁটা লক্ষকোটি সুঁচ হয়ে ঝরে পড়ে!...
আমাদের রিক্সাটার বয়েসী রিক্সা চালক গাড়ি থামিয়ে----
নিজের মাথাটা বাঁচাতে কোথাও দাঁড়িয়ে পড়েছে।

ভিজে যাচ্ছে, 
আমাদের শীতল ভবিষ্যত, আমার তোমার মন;
আগামীতে দুইজনের হাতে হাত রাখবার সম্ভাবনাটা,-- 
অনেক দিনের তৃষ্ণার্ত ওষ্ঠযুগল,-- 

ভিজে যাচ্ছে-- ভিজে ধুয়ে যাচ্ছে-- বৃষ্টিবন্দী রিক্সাতে 
পাশাপাশি দুইজনের এক হতে চাওয়ার ইচ্ছেটি!

ভিজে মুছে গেছে হয়তো এখন আমাকে, 
---তোমার প্রবাসী নাগরিক মন হতে,---

বহুকাল আগেই, বৃষ্টি বিধৌত হয়ে ধূসরিত কালির লেখা 
অক্ষরদ্বয়েরা মুছে গেছে;--
আমি প্রেরক ছিলাম, ---ছিলে তুমি ডাকপত্র প্রাপক, 

দীর্ঘদিন বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে মুছে গিয়েছে--- 
হলুদ রঙের মসৃণ খামগুলোর শরীরে আমারই লেখা--- 
লিপিবদ্ধ শেষ ঠিকানাটা পর্যন্ত!...


---- অনুপ দে। 
১৬/০৫/২০২২ ইং
★ ছবিঃ সংগ্রহ, ফেসবুক।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/113343/</link>
				<pubDate>Fri, 20 May 2022 07:19:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8216;চারদিকে সূর্যের তাপদহন।আমাদের মধ্যে জবজবে ঘর্মাক্ত গরম বোধ হচ্ছে খুব! স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ভালোবাসতে কষ্ট হচ্ছে। বিরক্ত লাগছে সূর্যের-তাপিত আলো রোদের কাছে যেতে&#8212;  এখন, এই সময়ে চোখের সামনে কালো মেঘ করা তুমুল বৃষ্টিপাতই আরাধ্য&#8230;<br />
কিন্ত প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত নেই বরং খুব গরম পড়ছে। যদিও এই গরমের হাত থেকে<br />
মুক্তি পেতে চাই &#8212;বৃষ্টির শীতলতা!&#8230;.&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-113343"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/113343/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">187db9973af3a148dbfc45230ed6b9e5</guid>
				<title>রুশ &quot;শিশু সাহিত্য&quot; যখন পড়েছি ছেলেবেলাই, তখন মনে নির্মল নরোম অনুভূতি বোধ হতো।নিবিড় সময়ে ভাবলে, স্পষ্ট করে আজো সেই অনুভুতির মিষ্টি অনুভব করতে পারি।নিজের শিশুকাল,তারপরে অনেক অনেক সময় গড়িয়ে বড়োবেলাই এসে পৌঁছে, এখন ওই সময়টাকে দামী অনন্য কিছুর মতো লাগে! 
পূর্ণাঙ্গ বয়সের শেষে এসে অথবা জীবনের শেষ কিনারায় পৌঁছে গিয়ে শিশু, বাল্য, কিশোর বেলাকার অনন্য মিষ্টি স্মৃতিময় সময়গুলির দাম দিন শেষে অমূল্য মনে হতে থাকে।


রুশ শিশু সাহিত্য পাঠ স্মরণে--- এই কবিতাটা একবার এখানে পড়তে চাই;--
---------------------------------------------------------------------------------------



খোকন, যেনো আমার বাল্যকালের ছায়া!

&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;
খোকন যেনো আমারই শিশুকাল, বালককালের 
ছায়ার আয়না,--- 
দেখি,
---তার মুখে আমার শিশুবেলার ছায়াবিম্ব খেলা করে,
তার শরীরের অবয়বে নিজের সেই সময়ের অনুভবের
প্রতিচ্ছায়া খুঁজে ফিরি-- 
আমাকে দেখি,
-----ওর কচি আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে, মঙ্গলময় নরোম 
রোদের মতো ঠোঁটের কোণে কোণে, গালের টোল্-টা,
মুখের ভেতর গুঁজে আঙ্গুল চোষা-টা পর্যন্ত !
খোকনের শিশুবেলা-- তার আধো আধো কথার বুলিতে,
থাপি থাপি কদম কদম হেঁটে চলায়,--মুখে অচিনপুরের 
অদ্ভুত শব্দাবলীতে!  
---ছোট্ট শরীরে প্রকৃতির নিজস্ব শিল্পকলা সে বয়ে চলে! 
ওর হুটোপুটি চঞ্চল দুষ্টুমি আরো কতোকিছু....
ওর প্রকৃতিপুষ্ট তাজা দু&#039;চোখে-- তাকে দেখি, আমাকে 
দেখি---
মুখের সামনে যা পাচ্ছে টুপ্ করে মুখে পুরে দিচ্ছে, 
আমার মা বলেছিলো আমিও তেমন করতাম!
তার পায়ের তালু বেড়ালের পায়ের তালুর মতো পশম
নরোম!
সে ঘরের মুখ থেকে দিগবিদিকশূণ্য দৌড়ে হেঁটে দেউরি
ঘরের মুখ পর্যন্ত গিয়ে থামে--
আমার মা বলতো, আমিও ওইরকম অল্পটুক্ ছুটে ছুটে
ওইখান পর্যন্তই যেতাম!
আমার খোকনের এখন চল্লিশ পেরোনো বয়স, ---  
তার ছোট্টকালের খেলার একটা মাটির ঘোড়া আজো 
আমার কাছে আছে।
এককোণে অল্পটুক্ ক্ষয়ে গেছে ঘোড়াটার মাটির গা, 
রঙচঙ উঠে গেছে কোথাও;---
----বিবর্ণ ওটার গায়েমুখে আমি বৃদ্ধবয়সের কাঁপা হাতে
পরশ বোলাই, 
আহা! তীব্র নিঃসঙ্গ আমারই যেনো--,
-----মুখেগায়ে হাতের পরম পরশ বোলাতে থাকি!....</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/105943/</link>
				<pubDate>Tue, 12 Apr 2022 05:09:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রুশ &#8220;শিশু সাহিত্য&#8221; যখন পড়েছি ছেলেবেলাই, তখন মনে নির্মল নরোম অনুভূতি বোধ হতো।নিবিড় সময়ে ভাবলে, স্পষ্ট করে আজো সেই অনুভুতির মিষ্টি অনুভব করতে পারি।নিজের শিশুকাল,তারপরে অনেক অনেক সময় গড়িয়ে বড়োবেলাই এসে পৌঁছে, এখন ওই সময়টাকে দামী অনন্য কিছুর মতো লাগে!<br />
পূর্ণাঙ্গ বয়সের শেষে এসে অথবা জীবনের শেষ কিনারায় পৌঁছে গিয়ে শিশু, বাল্য, কিশোর বেলাকার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-105943"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/105943/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c2fc0354e3c1b48130d2cca58af5c903</guid>
				<title>[ গল্প ]


দ্বিতীয় লিঙ্গের দ্বিতীয় জীবন!
________________________


গল্পকার তার এক গল্পের একটি নাম ঠিক করা নিয়ে বহুক্ষণ একটা বাক্যকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লিখছেন! শেষপর্যন্ত তিনি মনস্থির করে উঠতে পেরেছেন--&#039;একজন দ্বিতীয় লিঙ্গের দ্বিতীয় জীবন! পরে বাক্যের  প্রথম থেকে  &#039;একজন&#039;  শব্দটা কেটে দিলেন।ভাবলেন  একজন লেখা  হলে তাহলে  কোনো একজনের  কথাই বলা  হলো!
------এখানে  তার গল্পটাতে  তিনি  সমস্ত দ্বিতীয় লিঙ্গের  কথা বলতে  চাইছেন....
এখন  গল্পের  নামটি  ঠিক  হলো-- &#039;দ্বিতীয় লিঙ্গের দ্বিতীয় জীবন!&#039;  লিখে  গল্পকার হাসলেন। তিনি  মনে মনে  একপ্রকার  প্রশান্তি পাচ্ছেন।  ....এরপর তার গল্প লেখা এগিয়ে গেলো।
গল্পকারের পড়ালেখার ঘরটি ছোট।কিন্ত নিরিবিলি।তার জানালা দিয়ে একটু দূরের উদ্যানের  স্বর্ণ শিমুল  গাছ &#039;কটিকে  দেখা  যায়। যখন  গাছে  গাছে ফুল  ধরে তখন হঠাৎ দেখলে মনে হবে থোকা থোকা স্বর্ণখন্ড ঝুলে রয়েছে!
--------------------------------------------------------------------------------------

ধর্মপাড়া ছোট্ট বাস স্টেশন থেকে কিছু দূরে শ্যাওলাদীঘি গ্রাম। কি যে সুন্দর চারদিকের গ্রামীণ পরিবেশ।প্রকৃতির সবুজে মোড়ানো কত রকমের গাছপালা, বিল কে বিল সবুজ ধানী জমি।কোথাও এরই বুক ছিঁড়ে তৈরি হয়েছে রেখার মতো মানুষজনের হাঁটা পথ।

মৃন্ময়ী এই শ্যাওলাদীঘি গ্রামেরই মেয়ে।কিছুদিন হয়েছে তার বিয়ে হয়েছে দূরের এক ছোট শহরে।সে এখন এসেছে তার বাবার বাড়ি-- অর্থাৎ এই শ্যাওলাদীঘি গ্রামের নিজের বাড়িতে বেড়াতে।তাদের কাকচক্ষুর মতোন পরিস্কার জলের পুকুরে মনের সুখে স্বাদ মিটিয়ে সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে।সামান্য দুপুরটা গড়িয়েছে... তবু সে পুকুর ছেড়ে পারে উঠে আসছে না।এ নিয়ে তার বাড়ির কেউ কিচ্ছু বলছেও না।তারা ভাবছে-- মেয়েটা কতোদিন হয় অন্তত বিয়ের পরে এই তার প্রিয় পুকুরটাতে সাঁতার কাটতে পারেনি।তাই নিজের মতো করে আঁশ মিটিয়ে পুকুরের এপার-ওপার যতো ইচ্ছে সাঁতার কাটুক্। এটা তার বাবার বাড়ি, এখানে তার জন্ম স্বাধীনতা.... 

শ্বশুরবাড়ি থাকাকালিন অন্যরকমের দ্বিধা, লজ্জা, সচেতনতা বা সতর্কতা এখানে মৃন্ময়ীর নেই।সে এখানে শ্বশুরবাড়ির আবহ থেকে একপ্রকার মুক্ত।তার মনটা খুব চেয়েছে বলে, সে ক&#039;দিনের জন্য কিছুটা কাকুতি আর্তির স্বরে শ্বশুরবাড়িতে বলে কয়ে এখানে বাবার বাড়ি মানে নিজের বাড়িতে বেড়াতে এলো।মৃন্ময়ীর স্বামী দূরের বড়ো শহরে চাকুরী করে।মাসের শেষে শেষ বৃহস্পতিবার রাতের গাড়িতে উঠে পর দিন শুক্রবার ভোর সকালে বাড়ি এসে পৌঁছোয়। আবার শনিবার রাতের গাড়িতে করে কাজের জায়গায় ফিরে যায়। এইভাবে মৃন্ময়ীর স্বামী নিজের বাড়িতে আসা যাওয়া করে দুদিন বাড়িতে থেকে চলে যায়।

মৃন্ময়ীর কদিন থেকেই বাবার বাড়ির জন্য মনটা হুহু করে উঠছিলো।গ্রামে অনেক দিনের চেনা বাড়িটার জন্য, মায়ের জন্য, বাবার জন্য, ছোট ভাইবোনের জন্য, প্রায় সমবয়েসী পিসি খুকুর জন্য, পুকুরের পারের গাছগুলির জন্য... ছোটবেলায় পুকুর পারের গাছগুলোর সাথে তার কতো সখ্যভাব ছিলো। বিভ্রমে মনে হতো অনেক সময়ে, ওই গাছেরা যেনো তার সঙ্গে কথা বলতে চাইতো।--- কী কথা এরা বলতে চাইতো, মৃন্ময়ী অবশ্য ওই বিষয়ে কিছু জানতে পারলো না এখনো! 

তবে তাদের পুকুরের টলটলে স্বচ্ছ্ব জলে মৃন্ময়ীর যে মোহাবিষ্টের মতোন শুধু সাঁতার কাটতে ইচ্ছে করতো বা করে, ---এই বিষয়ে তার শ্বশুরবাড়ির কেউ কিচ্ছু 
জানে না। সে নিজের স্বামীকেও এই নিয়ে কিছু বলেনি। পাছে আবার তাকে ভূল বুঝে।দুরন্ত দস্যি একটা মেয়ে বলে শ্বশুরবাড়ির পাঁচকান না হয়ে যায়! 
---এই শংকায়, সে কাউকে তার নিজের এই মুক্ত ইচ্ছেটার কথা বললো না। এটি আজও মৃন্ময়ীর একান্ত ব্যাক্তিগত এক ব্যাপার হয়ে রইলো! 

তাদের বাড়ির সবার আদরের মৃন্ময়ীর ভাইপো টুকুটা প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে পুকুর পারে এসে সাঁতার নিয়ে ব্যস্ত মগ্ন মৃন্ময়ীকে দিলো----  এক মস্ত দুঃসংবাদ! 

এসেই টুকু ডাকতে শুরু করে--- &quot;মিনি পিসি (ঘরে মৃন্ময়ীর ডাক নাম মিনি), ও মিনি পিসি-- তোমার শ্বশুরবাড়ি থেকে দুজন মানুষ এসেছে।&quot;
এই ভর দুপুরে দগ্ করে মৃন্ময়ীর বুকে বিঁধে লাগলো টুকুর বলা কথা ক&#039;য়েকটি... 
মাঝ পুকুরে সে জলে আর ভেসে না থেকে পুকুর পারে চলে আসার চেষ্টা করে; 
পারে দাঁড়ানো ভাইপো টুকুর মুখ থেকে ভালো করে শুনতে চাইলো সেসব কথা পুনর্বার।
---&quot;হেঁ রে কারা আসলো বলছিলি?&quot; 
---&quot;তোমার শ্বশুরবাড়ি থেকে দুজন এসেছে।একজন তোমার ছোট দেবর হয়।আরেকজন নাকি তারই বন্ধু।&quot;
---&quot;ও আচ্ছা, তাই নাকি&#039;রে!&quot;
 ----একটু থেমে মৃন্ময়ী, সে ভেবেছিলো আরো বড়ো কিছুর দুর্ঘটনার কথা! এখন তার অল্প স্বস্তি হচ্ছে ভাগ্যিস সেসব কিছু নয়।....
--&quot;জানো, ওই তোমার দেবরটা বলছে তারা নাকি আজই তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছে। বললো  পিসো মশাই বাবু,  তোমার বর--   আজকে রাতেই  নাকি বাড়ি আসবেন।&quot;
----একটুক্ষণ থেমে টুকু শেষ কথাটি বললো--&quot;তাই তোমাকে আজই জরুরী এদের সাথে ফিরে যেতে হবে।&quot;

মৃন্ময়ী নিজের কানকে যেনো বিশ্বাসই করতে পারছে না। তাদের টুকুটা যা বলে যাচ্ছে সেই কথা কতোটুকু সত্য?...  
মৃন্ময়ী সিঁড়ি ভেঙ্গে পুকুর পারে উঠেই একবার পিছনে ফিরে তাকায়।তার মনে হলো এই পুকুরের কাঁপা জলের দোলন যেনো স্তব্ধ হয়ে গিয়ে দুঃখিত হয়ে গেছে।ওইপারের এলোমেলো ঝোপালো গাছের দলের সংখ্যাহীন পাতার সবুজাভ আলো যেনো চোখের পলকে প্রভাহীন হয়ে গেলো,  হঠাৎই মৃন্ময়ীর আজকের বিদায়ের বার্তায়!.... 

হন্তদন্ত হয়ে জলসিক্ত বসনা মৃন্ময়ীর কাছে ছুটে এলেন মৃন্ময়ীর মা।মুখোমুখি হতেই বলেন--&quot;মিনি, তোকে নিতে তোর দেবর ও ওর একজন বন্ধু এসেছে।আজই যেতে হবে।রাতে নাকি জামাই আসছে।এভাবে আসবার কথা ছিলো না, একেবারে হঠাৎ সিদ্ধান্তে সে আসছে। --- তোকে যে যেতে হবেরে--মিনি, বিয়েথা হবার পরে সব মেয়েদেরই প্রকৃত ঠিকানা হচ্ছে নিজ স্বামীর ঘর, ওই শ্বশুরবাড়িরে --মা!&quot;....
মৃন্ময়ী অব্যস্ত মুখে মায়ের দিকে তাকালো। কিছু বললো না। তারপর আড়ষ্টভাবে ভেজা কাপড়ে বাড়ির পিছন দরজা দিয়ে ভিতর ঘরে চলে এলো।

শুষ্ক মন তবু মুখে হাসি ধরে রেখে মৃন্ময়ী তাকে সঙ্গে করে নিতে আসা দেবর আর তার বন্ধুটির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।  
দেবরটি প্রথমে কথা বলে--&quot;বউদি বড়ো&#039;দা হঠাৎ করে আসছে আজ রাতে।তাদের 
অফিসে কি এক কারণে অফিসিয়াল সবার দুদিনের ছুটি মিলেছে।তাই আজকে রাতে দাদা চলে আসছে।&quot;
---&quot;ও আচ্ছা।&quot;  মৃন্ময়ী ভাবলেশহীন মুখে শুধু এটুকুই বলতে পেরেছে।
---&quot;আমাদের কিছুক্ষণ পরেই কিন্ত বেরুতে হবে। তুমি রেডি হয়ে নাও।&quot;
চোখ নামিয়ে মৃন্ময়ী ভিতর ঘরে চলে গেলো। তার যেনো খুব করে বোবা কান্না পাচ্ছে, সে এটা কাউকে দেখাতে চাই না।সে এখনই কান্না করে দিতে চাই না----
ঘর হতে দ্রুত ছুটে যাওযার মুহূর্তে মৃন্ময়ীর নিজের মায়ের সাথে চোখাচোখি হলো--
মৃন্ময়ীর মা বুঝলেন যা বোঝার।এক পা দু&#039;পা করে কুটুমদের বসার ঘরে এসে থামেন।লাজুক মুখ করে বললেন---
&quot;বাবারা, তোমাদের আসবার খবরটা পাইনি বলে এমন কিছুইতো করতে পারিনি। এসো তোমরা, হাতমুখ ধুয়ে দুটো ডাল ভাত খাবে।তোমাদের বউদিও এখনো ভাত খায়নি। সবাই একসঙ্গে বসে খাবে--- বাবারা এসো।&quot;

মৃন্ময়ীর ছোট দেবরটা খেতে বসে এবার বুঝতে পারলো যে, তাদের এমন করে  এখানে হূট্ করে আসাটি ঠিক্ হলো না।খেতে বসে দেখতে পেলো সামান্য সময়ের ব্যবধানে এরা কি আন্তরিক আয়োজনেরই না চেষ্টা করেছে!... 

মৃন্ময়ী মাথা নিচু করে খাচ্ছিলো।মৃন্ময়ীর একটু পিছনে তার ঠাকুর মা দাঁড়িয়ে।মৃন্ময়ীর ঠাকুর মায়ের আবার পিছনে মৃন্ময়ীর বড়ো জেঠিমা দাঁড়ানো।
মৃন্ময়ীর ঠাকুর মা বললেন--&quot;বড়ো কুটুমেরা এতো অল্প সময়ের জন্য আসলো, ভালো করে যত্নআত্তির করারওতো সময় পেলাম না।ভালো করে তাদের একটু চোখের দেখা দেখবো সেই সুযোগওতো আমাদের হাতে নেই।&quot;...
এবার মৃন্ময়ীর ছোট দেবর চোখ তোলে চারপাশটা দেখে।সে দেখলো তাকে সবাই
দেখছে।
---&quot;আমি এভাবে এখানে আসতে চাইনি।ঘর থেকেই ঠেলে পাঠালো।এমন করে আমরা এসে অযথা আপনাদেরকে ডিসটার্ব করলাম।&quot;
মৃন্ময়ীর ছোট দেবর কথাগুলি বলে বর্তমানের পরিস্থিতিটা বুঝতে চেষ্টা করলো----
---&quot;না, না-- বড়ো কুটুম, আমরা মোটেই বিরক্তি হইনি।হ্যাঁ হঠাৎ তোমাদের দেখে একটু অবাক হয়েছি। এতো চট্ জলদি আমরা কিছুই আপ্যায়নের জন্য করতে পারিনি।&quot;
---&quot;এতো অল্প সময়ের নোটিশে বউদিকে এভাবে দুম্ করে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে ভালো লাগছে না।&quot;
কলেজ পড়ুয়া আর টিউশন করা তুখোড় ছাত্র, মৃন্ময়ীর ছোট দেবরটা, এই লাজুক ও গুমোট্ এমন পরিবেশটাকে সামান্য বাজিয়ে নিলো--- 
এবার মৃন্ময়ীর বড়ো জেঠিমা বললেন--&quot;তা আজকে রাতটা থেকে গেলে হতো না।খুব কি অসুবিধা হবে না গেলে?&quot;
--&quot;আমাদের ঠিক্ অসুবিধা নেই।তবে আমরা বউদিকে সাথে নিয়ে আজই ফিরে যাবো এমন কথা বাড়িতে বলে এসেছি।এখন যদি না যায় তাহলে বাড়িসুদ্ধ লোক খামোকাই চিন্তাই পড়বে।হয়তো উল্টোপাল্টা কতো কিছু ভাববেন! বরং ফিরে গেলেই সবদিক ভালো হবে।&quot; 
এবার মৃন্ময়ীর বাড়ির লোক আর এগিয়ে কথা বাড়ানো না।তারা বেশ বুঝলো  মৃন্ময়ীকে শ্বশুরবাড়ি ফিরে যেতেই হবে...
---&quot;আচ্ছা, তোমরা আরাম করে খাও।&quot; -- এমন কথা বলে সেখান থেকে সবাই সড়ে গেলেন।

এই পর্যন্ত সময়টাতে মৃন্ময়ী কোনো কথাই বলেনি।শুধু ছোট দেবরের কাছে জানতে
চাইলো---&quot;তোমার দাদা কি আমাকে আর্জেন্ট নিয়ে যেতে বলেছে?&quot; 
বলার পরেই মৃন্ময়ীর বেশ লজ্জা লাগতে শুরু করে!
সে দেখতে পাচ্ছে ছোট দেবর ও তার বন্ধুটা শুধু নিজেদের মধ্যে চোখাচোখি করে হাসছিলো।
---&quot;দাদার কথাটা, বউদি আমি ঠিক্ বলতে পারবো না।আমি ঘরের কথার ঠেলাতে হঠাৎই চলে এলাম তোমাদের বাড়ি। এজন্য সরি&quot;...
 মৃন্ময়ী নিঃশব্দে খাওয়া শেষ করে উঠে পড়ে।যেতে যেতেই বলে--
 ---&quot; আচ্ছা এখনই তৈরি হয়ে নিচ্ছি।তোমরা খেয়ে উঠে বসার ঘরে গিয়ে বসো।আমি এই আসছি।&quot;

ঘর থেকে বেরুবার মুখেই মৃন্ময়ী দেখে-- দুয়ারের একপাশে জায়গাটিকে আলো করে একগাদা  হলুদ কলাবতী  ফুল ফুটে আছে। আঁড় চোখে  মৃন্ময়ী এগুলিকে একবার দেখে মুহূর্তেই আবার চোখ ফিরিয়ে ধীরস্হ পায়ে সামনে এগুতে থাকে।  

----------------------------


---এই আচমকা  ঘটনাটার  একুশ বছর পরে,  মৃন্ময়ীর মেয়ের  বিয়ে হলো। মেয়েটা নিজের বাবার বাড়িতে নাইওরে ক&#039;দিনের জন্য বেড়াতে এসেছে।আগে থেকেই কথা ঠিক্ ছিলো মেয়েটার শ্বশুরবাড়ি হতে  স্বয়ং  শ্বশুর এসে তাকে নিয়ে যাবে। মৃন্ময়ীর মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে নিতে  মেয়ের শ্বশুর মশাই এসেছেন। তিনি বউমাকে ফিরিয়ে নিতে এসে বেশ তাড়াহুড়ো শুরু করে দিয়েছেন। বললেন-- আমাদের অল্প কিছুক্ষণ  বাদেই  বেড়িয়ে যেতে হবে। আমার বিশেষ  একটা  কাজও রয়েছে। তাই যতো জলদি পারি বেরিয়ে পড়তে চাইছি।&quot;

মৃন্ময়ীর যেনো এখন মেয়ে বিদায়ের হূট জলদি্ এই ঘটনায়, বহুদিন আগের এমনই নিজের বাবারবাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে চলে আসার ঘটনাটি, তার হরহর করে মনে পড়তে থাকে।মেয়েটা এইমাত্র চলে গেলো।মৃন্ময়ীর মনে হচ্ছে ঘরটা শূণ্য করে দিয়ে গেলো.... 
অল্পদূর কোথাও হতে একটা গানের কথা ও সূর ভেসে আসছিলো;
-----&quot;হিমেল হাওয়া ডাক দিয়ে যায়---
       কাঙাল করে  নিলো কেড়ে, 
       সব আবরণ  কোন্ ইশারায় &quot;.... 

মৃন্ময়ীর দু&#039;চোখ ভিজে উঠেছে বহুক্ষণ আগে।
মনের দোলনায় ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্নটি অথবা একটি জিজ্ঞাসা;--- 
&#039;মানুষের পৃথিবীতে মেয়েরা কি সবাই দ্বিতীয় লিঙ্গ, এই কি তাদের নিয়তি নির্ধারিত দ্বিতীয় জীবন?&#039;....</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/103204/</link>
				<pubDate>Tue, 29 Mar 2022 10:28:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>[ গল্প ]</p>
<p>দ্বিতীয় লিঙ্গের দ্বিতীয় জীবন!<br />
________________________</p>
<p>গল্পকার তার এক গল্পের একটি নাম ঠিক করা নিয়ে বহুক্ষণ একটা বাক্যকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লিখছেন! শেষপর্যন্ত তিনি মনস্থির করে উঠতে পেরেছেন&#8211;&#8216;একজন দ্বিতীয় লিঙ্গের দ্বিতীয় জীবন! পরে বাক্যের  প্রথম থেকে  &#8216;একজন&#8217;  শব্দটা কেটে দিলেন।ভাবলেন  একজন লেখা  হলে তাহলে  কোনো একজনের  কথাই বল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-103204"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/103204/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2b7e50cef45967376a6e0a1e8bbd0863</guid>
				<title>আমি নিজেই আমার দুর্বলতা হবো! 
----------------------------------------------------

অভ্যাসবশতঃ  প্রতিবেলা আয়নায়  যে  আমাকে  দেখি---
একে কখনো  একান্ত করে দেখিনি,  একান্ত করে  ভাবিনি;


প্রত্যেকদিন যে চায়ের কাপটি নিয়মমতো অভ্যাসের চোখে, 
হাতে তুলে নিই, সেই হাতটিকে কখনো ভালো করে দেখিনি---


যে  চোখজোড়া  দিয়ে  দূর-দিগন্তের  রোমাঞ্চরাঙা  গোধুলি, 
আসন্ন শীতলসন্ধ্যা, স্বর্ণরঙের  নরম  সকালবেলা  দেখেছি,--
সেই চোখদু&#039;টিকে  কোনোদিন  ভালোবাসার  দৃষ্টিতে দেখিনি;


দু&#039;পা আমাকে নিয়ে গেছে নির্দ্বিধায় সবখানে, আমার মন যখন
চেয়েছে;--
কখনো  এই  পা&#039;কে  মমতার  স্পর্শে  হাত  বুলিয়ে  দিইনি!


সফলতার কাগজগুলি  যে আঙ্গুলে তুলে নিতাম,  সেই আঙ্গুল 
ক&#039;টিকে কখনো আদরও করিনি---


যে নাক আর কান আমাকে সমস্ত সৌরভ, সুগন্ধ, সুমিষ্ট শব্দ, সূর
উপভোগ করতে সাহায্য করতো, এদের কখনো আমি ফিরেও চাইনি---


খাদ্যবস্তুর  সকল স্বাদ যে নিষিমে  আমাকে চিহ্নিত  করে দেয়, 
শাদা দাঁতেরা শক্ত কিছুকে  চিবিয়ে খেতে আমাকে অগুণনবার 
সেবা করেছে;
----এদের আমি কখনোই মর্যাদাবান মনে করিনি; ---


মাথার ভেতর তীব্র অন্ধকারে বসবাস করে যে কিংম্বদন্তি মস্তিষ্ক,
একে আমি কখনো চোখে দেখিনি, যে আমাকে সমস্ত স্বপ্ন, চিন্তা,
আবেগ,  অনুরাগ, ভালোবাসা,  মানবিকতার  অনুভূতি  উপলব্ধি 
জাগিয়ে তোলে---  একে মন থেকে  কৃতজ্ঞতা  জানানোর কথা 
কখনো আমার মনে পড়েনি!


আমার  ভেতরের  আমাকে  কখনো  আমার  মনেই  পড়েনি!
----আজ থেকে আমি নিজেই আমার দুর্বলতা হবো! 

--------------------------------------</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/101999/</link>
				<pubDate>Tue, 22 Mar 2022 13:37:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমি নিজেই আমার দুর্বলতা হবো!<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-</p>
<p>অভ্যাসবশতঃ  প্রতিবেলা আয়নায়  যে  আমাকে  দেখি&#8212;<br />
একে কখনো  একান্ত করে দেখিনি,  একান্ত করে  ভাবিনি;</p>
<p>প্রত্যেকদিন যে চায়ের কাপটি নিয়মমতো অভ্যাসের চোখে,<br />
হাতে তুলে নিই, সেই হাতটিকে কখনো ভালো করে দেখিনি&#8212;</p>
<p>যে  চোখজোড়া  দিয়ে  দূর-দিগন্তের  রোমাঞ্চরাঙা  গোধুলি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-101999"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/101999/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">380407e2c574b12ffaab5a4fbf31afd2</guid>
				<title>দ্বিতীয় লিঙ্গের দ্বিতীয় জীবন!
 __________________________


গল্পকার তার  এক গল্পের  একটি নাম  ঠিক করা নিয়ে বহুক্ষণ একটা বাক্যকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লিখছেন! শেষপর্যন্ত তিনি মনস্থির করে উঠতে পেরেছেন--&#039;একজন দ্বিতীয় লিঙ্গের দ্বিতীয় জীবন! পরে বাক্যের  প্রথম থেকে  &#039;একজন&#039;  শব্দটা কেটে দিলেন।ভাবলেন  একজন লেখা  হলে তাহলে  কোনো একজনের  কথাই বলা  হলো!
------এখানে  তার গল্পটাতে  তিনি  সমস্ত দ্বিতীয় লিঙ্গের  কথা বলতে  চাইছেন....

এখন  গল্পের  নামটি  ঠিক  হলো-- &#039;দ্বিতীয় লিঙ্গের দ্বিতীয় জীবন!&#039;  লিখে  গল্পকার হাসলেন। তিনি  মনে মনে  একপ্রকার  প্রশান্তি পাচ্ছেন।  ....এরপর তার গল্প লেখা এগিয়ে গেলো।

গল্পকারের পড়ালেখার ঘরটি ছোট।কিন্ত নিরিবিলি। তার জানালা দিয়ে একটু দূরের উদ্যানের  স্বর্ণ শিমুল  গাছ &#039;কটিকে  দেখা  যায়। যখন  গাছে  গাছে ফুল  ধরে তখন হঠাৎ দেখলে মনে হবে থোকা থোকা স্বর্ণখন্ড ঝুলে রয়েছে!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/101489/</link>
				<pubDate>Sat, 19 Mar 2022 16:27:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>  দ্বিতীয় লিঙ্গের দ্বিতীয় জীবন!<br />
 __________________________</p>
<p>গল্পকার তার  এক গল্পের  একটি নাম  ঠিক করা নিয়ে বহুক্ষণ একটা বাক্যকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লিখছেন! শেষপর্যন্ত তিনি মনস্থির করে উঠতে পেরেছেন&#8211;&#8216;একজন দ্বিতীয় লিঙ্গের দ্বিতীয় জীবন! পরে বাক্যের  প্রথম থেকে  &#8216;একজন&#8217;  শব্দটা কেটে দিলেন।ভাবলেন  একজন লেখা  হলে তাহলে  কোনো একজনের  কথাই বলা  হলো!<br />
&#8212;&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-101489"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/101489/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">05e666cd85913ae1fed217a807bef333</guid>
				<title>&#039;মৃত বেদনার স্মৃতিরাকাশে;-
উড়ে গিয়ে মন্  হংস ডানাতে,
উড়ে উড়ে কেবল, শাদা আর
কালো কষ্টের আলপনা আঁকছে!&#039;...
...................  ................ ........... 

আজকের গল্পের নাম— 


‘সীমাবদ্ধ সীমারেখা।’
——————————————————————————

স্মৃতি সততই সুখের! আজো আমি মিষ্টি অনুভূতি বোধ করি– স্মৃতি কাতরতাই!
এখনো আমার প্রিয় বাল্য, কিশোর কালকে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে। কিন্ত খুব স্মৃতি কাতরতা আবার আবদ্ধ করে ফেলে স্মৃতির জেলখানায়!

কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় বা সৃষ্টিতে স্মৃতির ভার কাটিয়ে উঠতে পারেননি।বলা ভালো-হয়তো সেভাবে চাননি।তবে সংশয়ী মনে চেষ্টা করেছেন, সেই চেষ্টাও ছিলো অসাধারণ!
এখানে, সুধীন বাবু বা কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘যযাতি’ কবিতায় সরাসরি প্রগতি চেতনা আর অতীত নস্টালজিয়ার বাইরে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন–
( বিদগ্ধ কাব্য সমালোচকরা- অসামান্য, মহান কবিদের কিছু কবিতা চিহ্নিত করেন।এবং তাঁরা যদি এই কবিতাগুলি না লিখতেন, তাহলে আর লেখাই হতো না! ক্ষতি হতো বোধ ও কাব্যের, ও সভ্যতার!যেমন– সুধীন্দ্রনাথের- যযাতি; জীবনানন্দের– অবসরের গান; রবীন্দ্রনাথের– নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ…. )

আমি বিংশ শতাব্দীর সমানবয়সী;
মজ্জমান বঙ্গোপসাগরে ; বীর নই,
—–তবু জন্মাবধি যুদ্ধে যুদ্ধে,
বিপ্লবে বিপ্লবে–
বিনষ্টির চক্রবৃদ্ধি দেখে, মনুষ্য ধর্মের
স্তবে নিরুত্তর, অভিব্যক্তিবাদে অবিশ্বাসী,
প্রগতিতে যত না পশ্চাত্পদ, ততোধিক
বিমুখ অতীতে কারণ ভূতের নির্বন্ধাতিশয়ে,
তথা ভবিষ্যের নিষেধে, অধুনা ত্রিশঙ্কু,
এবং সে-খণ্ডে বিশ্বের মধ্যে দ্বৈপায়ন আমরা
সকলে, জানি কি না জানি, নাস্তিরই
বিবর্তবাদ &#124;

এবং জীবনানন্দের উচ্চারণ এমনঃ–

জানি— তবু জানি নারীর হৃদয়—
প্রেম— শিশু— গৃহ– নয় সবখানি;
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়—
আরো- এক বিপন্ন বিস্ময় আমাদের
অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে ক্লান্ত, ক্লান্ত করে;
লাশকাটা ঘরে সেই ক্লান্তি নাই;
তাই লাশকাটা ঘরে চিৎ হ’য়ে শুয়ে
আছে টেবিলের’ পরে &#124;
————————————————————————————
তবু এক টুকরো স্মৃতি বা স্মৃতিকাতরতা আমার মনের ভেতর আমাকে জড়িয়ে রাখে।ঘোর লাগা স্বপ্নের মতো বিভোর করে তোলে ——আশ্চর্য, এই আমাকে!
…………………………………………………………………………………………

সীমাবদ্ধ সীমারেখা
—————————-

আমরা হেঁটে হেঁটে হেঁটে বহুদূর হয়ে সবশেষে রেলওয়ে একাডেমিতে এসেছি।তুমি আর আমি।সঙ্গে আমার এক বন্ধুসহ! সে অবশ্য আমাদের থেকে বেশ দূরে দূরেই
ছিলো। আমরা যখন পাশাপাশি হেঁটেছি তখন আমাদের তেমন কথা হয়নি– কথা বলার বিশেষ প্রয়োজন ছিলো না।তোমার সঙ্গ যেনো তোমার কথা বলেছে, আবার
আমার সঙ্গ যেনো– আমার কথা বলেছে! তোমার মুখে বা চোখে আমি চোখ রেখে হেসেছি– এতেইতো হাজার কথার জন্ম হয়েছে!… তুমি তাকিয়েছো আমার মুখে ও চোখে– ওতেই আমি— তোমার সহস্র কথামালার শব্দ গুঞ্জন শুনেছিলাম!….

আমাদের সঙ্গের —- অল্প দূরবর্তী আমার বন্ধু বেচারা– মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকতো। কতোবার তার সাথে চোখাচোখি হয়েছে।কিন্ত তার অস্বস্তি ও বিব্রতবোধ আমি ভূলে গিয়েছিলাম।তোমার সঙ্গ পরশে আমি হয়ে উঠেছিলাম মহারাজা! চারপাশের সবাইকে তখন নতজানু প্রজা মনে হয়েছে! আমি চলেছি তোমার পাশে বিজয়ীর বেশে, রাজ্য জয়ের পরে সংবর্ধিত কোনো একজন রাজার মতো!

আহা! ছাত্রজীবন! আমার অব্যক্ত প্রথম প্রেম! —- তুমি,
তারপর আমরা সেই একাডেমির দীঘির পারে— একটু কম ঝোঁপালো, আগাছার দঙ্গল ছাড়িয়ে—- তৎক্ষনাৎ একটা বসবার জায়গা তৈরি করে নিয়ে—- সেখানে বসলাম– দুজন পাশাপাশি।…
—-এখানেও অল্পদূরেতে আমার ওই আশৈশব বন্ধু দাঁড়িয়ে বা বসেছিলো! আমি তাকে ক’বার দেখেছি।দেখে মনে হয়েছিলো— হাসি ছড়ানো মুখের সে, —আসলে আমার অথবা তখন আমাদের—– শাদা মনের প্রকৃতই শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলো।

দুজন পাশাপাশি বসেছিলাম।আমাদের চোখের সামনে ছিলো পড়ন্তবেলার রোদের ম্রিয়মান আলো খেলার অবারিত দীঘির জল। হাওয়াতে সৃষ্টি হওয়া দীঘির জলে মৃদু ঢেউয়ের খেলা। দূরের কয়েকটি পুরোনো রেইনট্রি, —–গাছগুলির গা বেয়ে উঠেছিলো কিছু বড়ো পাতার ফার্ণ জাতের গাছ। সঙ্গে পাতাবিহীন হলুদ সোনালী রঙের স্বর্ণলতার জঙ্গল! দূর আকাশে উড়ছে এলোমেলো দু’চারটি কাক।আকাশের ক্যানভাসে কিছু ধবধবে শাদা মেঘ।কাছেই দীঘির পারে— অযত্নে বড়ো হওয়া গাছে কলাবতীর ফুল ফুঠেছিলো। আমাদের থেকে দু’হাত দূরেতে ছিলো আকারে বেশ লম্বা লম্বা দল্ ঘাসের আগাছা!—- তুমি হাত বাড়িয়ে দল্ ঘাসের আগা ছিঁড়ে নখে খুঁটে খুঁটে ফেলছিলে। তোমার মুখে কোনো কথা নেই! আমি তোমার উদাসীনতা কিভাবে ভাঙ্গাবো বুঝে উঠতে পারি না! ——যদিও অসম্ভব ভালোলাগায় তোমার মুখটি ভরে উঠেছিলো! ওই মুখের কথা বলার কোনো প্রয়োজন হয়তো সেই সময় ছিলো না। —–তবু তুমি মৌনতা ভেঙ্গে দিয়ে আমার দিকে তাকালে।বললে, —- ‘এই জায়গাটি অন্য রকমের সুন্দর!’
— আমি বলি, –‘হ্যাঁ। আমরা এখন প্রকৃতির মাঝে বসে আছি।এই সুন্দর, এবং এই ভালোলাগার কোনো তুলনা হয় না।’
আমার কথা শেষ না হওয়ার আগেই– হঠাৎ তুমি বললে– ‘আমি সুখী।’
এই কথার উত্তরে কী বলা যায়, ভেবে না পেয়ে আমিও বলি–‘আমরা সুখী।’
—- তুমি কাজল আঁকা ডাগর নয়নে আমাকে দেখলে, মুখে কিছু বললে না। শুধু তোমার মুখের দ্যুতিময় হাসি– সেদিন অজস্র কথা বলেছিলো!….

এভাবে বহুক্ষণ কাটে।আমরা ঠাঁই বসে থেকেছি! আমাদের মনে অন্যরকম ভালো লাগা– প্রথম সূর্য উদয়ের মতো নরম কোমল উষ্ণ ভালোবাসারই পূর্বরাগ!….

আমি দেখলাম– আমার বন্ধু উঠে গিয়ে কিছুদূরে চলে যায়।সে ঘুরে ঘুরে দেওয়াল সংলগ্ন দীর্ঘকালের পুরোনো বড়ো বড়ো গাছগুলি দেখতে থাকে।আমি জানি না–
সেও কি তার ভালোলাগার কথা নিঃশ্চুপ বৃক্ষদের শোনাতে চেয়েছিলো!—–

তুমি হাসি মুখেই আমাকে বললে– একটা কি গান গাইতে পারি না?
——আমি থতমত খেয়ে তোমাকে দেখি।আমার এতোক্ষণের নিরেট ভালোলাগার কাচের গোলক ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম! তবুও মুখে হাসির রেখা টেনে বললাম–‘

—‘প্রশিক্ষিত গানের গলার গায়কতো আমি নই।তবে খালি গলাতে আমি সূর-বেসূরের —একটি গান, —-হয়তো স্মৃতি থেকে গাইবার চেষ্টা করতে পারি।এই গানকে অবশ্য গান মনে নাও হতে পারে!’…..
তুমি বললে–‘আমার কাছে এটিই গান মনে হবে!’….

আমি প্রথমে কোন্ গানটি গাইবো বুঝতে পারলাম না।তালগোল লাগছে। আমার মস্তিষ্ক অতিরিক্ত ভালোলাগার সাথে আর কিছু মেলাতে দিচ্ছে না যেনো! নার্ভাস ভাব লাগছে।সেই ভাবটা, মুখের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আগেই গোপনে তা লুকাতে যথেষ্ট চেষ্টা করে যায়…. গেয়ে উঠি রাগাশ্রয়ী এই গান।—–

“ভোরের শিশির হয়ে, একফোঁটা সুখ যদি কুড়িয়ে পেতাম,—
—-আমি কুড়িয়ে পেতাম।
—–ফুলের পরাগ হলে প্রজাপতি, চুম্বনে ভরিয়ে দিতো।
———নাহ, নাহ– নাহ, কিছুই হওয়া হলো না।——

—-ডানা পেলে শূণ্যে হারিয়ে যেতাম, ডুবুরী হলেও খুঁজে মুক্তো—-
পেতাম।
—-না পাওয়ার থেকে এই পাওয়ার আশা, বুকভরা তৃষা তবু—-
ভালোবাসা।
—–তারা হলে, আকাশে জ্বলে থাকতাম। তুমি এলে এই প্রাণের—
——কথা বলতাম।…
———— নাহ– নাহ, নাহ! কিছুই বলা হলো না।——–

ভোরের শিশির হয়ে, একফোঁটা সুখ যদি কুড়িয়ে পেতাম,—
——আমি কুড়িয়ে পেতাম।
——ফুলের পরাগ হলে প্রজাপতি, চুম্বনে ভরিয়ে দিতো।
———নাহ, নাহ– নাহ, কিছুই হওয়া হলো না।”———-

এখন আমাদের—–
সেই রেলওয়ে একাডেমির সেই দীঘিপাড়, কলাবতীর গাছ, দল্ ঘাস– হালকা ধরণের সবুজাভ ঝোপঝাড়, দীঘির টলোমলো পানিতে মৃদু ঢেউ, আশপাশের বহুকিছু ও আমাদের প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিচিহ্নটুকু কোথাও কিচ্ছু নেই! এখানে এখন দীঘিটি আর চারপাশের অনেক কিছুকে বাণিজ্যিক করণ করা হয়েছে।হারিয়ে গেছে সেই দিনের এখানে তোমার আমার বা আমার তোমার মনের পরিচয় পর্বের মতো– বহু কিছু!

এখন আমরা,
—-তুমি বহু দূরের খুব পরিচিত বড়ো এক শহরে,
—-আর আমি এখানে, এই ছোট প্রায় অচেনা এক শহরে বাস করি।
পুবেকার আমাদের মধ্যখানে শুধু, —-অনেক পূর্ব স্মৃতিদের হাওয়াটুকু বয়ে যায়!….
—————– 
[ গল্প ]
পুনঃপ্রকাশ</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92682/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Jan 2022 10:24:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8216;মৃত বেদনার স্মৃতিরাকাশে;-<br />
উড়ে গিয়ে মন্  হংস ডানাতে,<br />
উড়ে উড়ে কেবল, শাদা আর<br />
কালো কষ্টের আলপনা আঁকছে!&#8217;&#8230;<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;.  &#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;. &#8230;&#8230;&#8230;.. </p>
<p>আজকের গল্পের নাম— </p>
<p>‘সীমাবদ্ধ সীমারেখা।’<br />
——————————————————————————</p>
<p>স্মৃতি সততই সুখের! আজো আমি মিষ্টি অনুভূতি বোধ করি– স্মৃতি কাতরতাই!<br />
এখনো আমার প্রিয় বাল্য, কিশোর কালকে বুকে জড়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-92682"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/92682/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">51018d48427cd6c3ee868d0f8b29a805</guid>
				<title>অভিব্যাক্তিমূলক কবিতা--২
----------------------------


বীতশ্রদ্ধ মানসিকতা
----------------------

বইয়ের  পাতায়, কৃষ্ণ কালো  শব্দ বন্ধের  উপর,
আমার  আঙ্গুলে  নিজের  আঙ্গুলটি  রেখে;---
তুমি ছোটবেলায়  শিখিয়েছো-- &quot;সদা সত্য কথা 
বলবে&quot;....
কতোকাল  কেটেছে--  শিশুকাল,  যৌবনকাল,
তরুণকাল;-- 

---আজোও মাস শেষে  টাকা গুনে বাড়ি ভাড়াটা
তুলে দিতে গিয়ে ঘেমে উঠি!
তুমি, ---
যে বাসাতে সারা জীবনটা কাটিয়ে দেহ রাখলে-- 
আমি আজো সেখানে পড়ে আছি।

তোমার, ---
নিশ্চিত মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তোমার দু&#039; হাত মুঠোতে 
নিয়ে-- আমি  কথা  দেয়ার  সন্ধিক্ষণে  বলেছিলাম,
--&quot;সদা সত্য বলবো, সৎ পথে চলবো, সৎ উপার্জন
করবো।&quot; 

যেনো, ----
আমি আমার ছলোছলো চোখের সামনে দেখতে
পাচ্ছি, গ্রন্হের কালো সেই স্বপ্রাণ শব্দবন্ধ&#039; বাক্যদ্বয়!
তুমি জন্ম-পিতা, এপাশ ওপাশ মাথা নাড়তে থাকো--
এর&#039;অর্থ-- না&#039;না&#039;না,---- 

একটা জীবন তুমি উৎসর্গ করে বুঝেছিলে;---- 
----&quot;এখন  এই সময়ের জন্য  বাক্যগুলো চিরস্থায়ী
সত্য নয়---
----চিরন্তন  সত্য মানে  ইউনিভার্সাল ট্রুথ্  নয়।&quot;
....তোমার চোখের জল দরদর করে ঝড়ে পড়ছিলো---

পরিবর্তনের  দুনিয়াই,  সব কিছু  বদলে  যায়---
এমন কি-- যে কোনো বিশ্বাস,  ভালোবাসাটাও!

শুধু, 
মানুষের  মূল্য, তার সদ্&#039;গুণ, সততাটা, মানবিকতা---
----অপরিবর্তনীয় থাকা উচিত,  শত&#039;-লক্ষ বছর.... 

১০/০১/২০২২</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/91803/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Jan 2022 12:54:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অভিব্যাক্তিমূলক কবিতা&#8211;২<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-</p>
<p>বীতশ্রদ্ধ মানসিকতা<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-</p>
<p>বইয়ের  পাতায়, কৃষ্ণ কালো  শব্দ বন্ধের  উপর,<br />
আমার  আঙ্গুলে  নিজের  আঙ্গুলটি  রেখে;&#8212;<br />
তুমি ছোটবেলায়  শিখিয়েছো&#8211; &#8220;সদা সত্য কথা<br />
বলবে&#8221;&#8230;.<br />
কতোকাল  কেটেছে&#8211;  শিশুকাল,  যৌবনকাল,<br />
তরুণকাল;&#8211; </p>
<p>&#8212;আজোও মাস শেষে  টাকা গুনে বাড়ি ভাড়াটা<br />
তুলে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-91803"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/91803/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1b06b6066156b301818b2b22b856a7ed</guid>
				<title>অভিব্যাক্তিমূলক কবিতা--১
----------------------------
[ জর্জ বার্ণাড &#039;শ বলেছেন--- &#039;মানুষ যেটা  কথায় প্রকাশ  করতে পারে না, সেটা প্রকাশ করে গানে, আর গানেও যার প্রকাশ সম্ভব হয় না, তা প্রকাশ করে কবিতাতে।&#039; ]


জ্ঞানের একনায়কতন্ত্র 
----------------------------

বরীন্দ্রগ্রন্হ পড়ে  রবীন্দ্রচিন্তাই  আকৃষ্ট  হই,
অনেক লম্বা ভবিষ্যতের জন্য রবীন্দ্রজ্ঞানের
জীবনবোধ, দর্শন, আমি  মেনে  নিই।
রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা, নাটক, গল্পগাথাঁয়...
বরীন্দ্র ছায়াতলে দাঁড়িয়ে আমি সুখী হয়েছি।

অনেকদিন পরে, 
হে প্রিয়, তুমি এসে বললে--
আমার চেতনার  মেরুদন্ড ধরে  টান দিলে--
আমি  নাকি--- এক  জায়গায়  দাঁড়িয়ে  আছি!
আমি নাকি--- প্রচার-বিমুখ এক রবীন্দ্র সৈনিক! 

---- সাহিত্যে  নজরুল; শরৎবাবু; তারাশঙ্কর; 
 মানিক; বিভূতি;  আরো রয়েছেন...
---- ঊনিশো তিরিশ দশকের-- পঞ্চ কবিগণ,
বিশদ ভাবে জীবনানন্দ দাশকে ও অন্যান্য....

তুমি বললে--&#039;হচ্ছে  না। আমি  আঞ্চলিকতার
চক্রে বাঁধা পড়ে যাচ্ছি। আমি সীমাবদ্ধ হচ্ছি!&#039;... 
আমাকে বাঁধন কাটতে হবে,  এগুতে হবে পথ,---
বিশ্বের দিকে পথ পেরোতে হবে, অনেকটা পথ।

আমি দ্বিধাহীন হতে পারি না, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হই....

কিছুকাল পরে--- ধরলাম শেক্সপিয়ারকে...
রোমিও জুলিয়েট, কিং লিয়ার, হেমলেট্, 
ম্যাকবেথ্, টেমিং অব দ্যা শ্রু, ... ও আরো....
তুমি বললে, আমি শেক্সপিয়োরিক বন্দীশালায়
আটকে পড়ছি!

তারপর.... 
তলস্তয় থেকে দস্তয়েভস্কির সাহিত্য সমূহ, গোর্কি 
থেকে মার্ক টোয়াইন, বার্ণাড &#039;শ থেকে হেমিংওয়ে 
অথবা এলান&#039;পো, কামু ও কাফকা, এন্টন্ চেকভ।
হাইনরিশ হাইনে থেকে অন্যান্য...  
----দর্শনে-- জ্যাঁ পল্ সাত্র, সিমোন দ্যা বোভয়্যার, 
বার্ট্রান্ড রাসেল, ও আরো....
যাযাবর হয়ে পদরেখার মতো জ্ঞানপথে হেঁটেছি...

হে প্রিয়,---
তুমি বললে-- আরো  জ্ঞানের  পথে  যেতে  হবে,
গভীরের  মুক্তপথ  চিনে  নিতে  হবে,  এই  বিশ্ব;--
প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় ভাগ, জগতের পূর্ব-পশ্চিম, 
উত্তর-দক্ষিণ দিকের,---

তুমি বলছো, 
অনেক পড়ো, পড়ো, পড়ো, আরো পড়ো;--
শব্দবাক্য পাঠে, লেখাপাঠের অভিজ্ঞতাই জ্ঞান!...

তোমাকে না জানিয়ে পড়ে ফেলেছিলাম---
হিটলারের আউসউইজ্ ক্যাম্পের ঘটনা; মহামতি 
বুদ্ধের আবির্ভাব--&#039;বুদ্ধের শরণ লই&#039;;  ইসলাম পূর্ব 
আরব,--ইসলামের-জয়; সিন্ধুপারের হিন্দুধর্ম-বেদ-
বেদান্ত; ক্রুশবিদ্ধ জেসাসের যন্ত্রণা;---

আজ পঞ্চাশ পেরোনো আমি--- ক্লান্ত পাঠক ও 
পথিক,--
পড়তে পড়তে পড়তে দীর্ঘসময়ে যা কিছু নাগালে
পেয়েছিলাম পড়েছি, গিলেছি...
নিজের শিয়রে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটা করেছিলাম আমাকে-- 
&#039;কতোটা হলাম শুদ্ধতম- কতোটা হয়েছি দীপান্বিত?&#039;  
নিজের কাছেই জানতে চাই?---

তোমাকে কখনো বলিনি আমি;---
বুঝেছি মানুষের ধর্ম EGOতে পরিপূর্ণ হয়ে আছে!---
শুধু প্রাকৃতিক ধর্মই, EGOমুক্ত ECOতে পরিপূর্ণ!  
 
০২/০১/২০২২</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/91795/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Jan 2022 12:52:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অভিব্যাক্তিমূলক কবিতা&#8211;১<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
[ জর্জ বার্ণাড &#8216;শ বলেছেন&#8212; &#8216;মানুষ যেটা  কথায় প্রকাশ  করতে পারে না, সেটা প্রকাশ করে গানে, আর গানেও যার প্রকাশ সম্ভব হয় না, তা প্রকাশ করে কবিতাতে।&#8217; ]</p>
<p>জ্ঞানের একনায়কতন্ত্র<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-</p>
<p>বরীন্দ্রগ্রন্হ পড়ে  রবীন্দ্রচিন্তাই  আকৃষ্ট  হই,<br />
অনেক লম্বা ভবিষ্যতের জন্য রবীন্দ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-91795"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/91795/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">30497c26ab29c6fb141969d21fc2cc7a</guid>
				<title>নীড়ার কুকুরদের সংক্ষিপ্ত সংবাদ
-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-

পূর্বতমার ঘরোয়া একটা  নাম আছে। তার বাবার, তার  জন্মের কিছুদিন পরে অত্যন্ত খাপছাড়া  উচ্ছন্ন  মনের   পরিবর্তন  ঘটে  যায়।  তিনি  ঘরে ফিরেন  বা  ঘরের  প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠেন। পূর্বতমার  বাবার ঘরে বা নীড়ে ফেরা  নিয়ে  ঘরের  সবাই  মুখে  মুখে  ছোট্ট  শিশুকন্যা  পূর্বতমাকে ছোট্ট করে ছোট নামে ডাকতে শুরু করে-নীড়।ছোট্ট এই নামটি লিঙ্গান্তরের  শীতল ভাঁপে শেষে হয়ে যায়--  শব্দ নাম, নীড় থেকে-- নীড়া!

নীড়ার যতো আহলাদ সব তার দিদুনের সাথে। ----- এই দিদুন হচ্ছেন, তার মায়ের মা।বলা ভালো, দিদুন হলেন তার তৃতীয় চোখ! পারিবারিক ভাবে নীড়া খুব আদুরে, যত্নে, অনেকটুকু স্বাধীনতা পেয়ে বড় হয়েছে।কিন্ত তার শৈশবের বেশীর ভাগ সময় কেটেছে তার দিদুনের সাথে।নীড়ার দিদুন তার কাছে অন্য রকমের প্রিয়, অন্য ধরণের একজন মানুষ।
তিনি কখনো  তাকে  রুপকথার  কাহিনী বা ঠাকুরমার  ঝুলি  শোনাতেন  না।জং ধরা মামার বাড়ি, ঝড় বাদলার দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ- এসব বলতেন না,যে বানোয়াট গল্পের রাজপুত্তুর এসে আলো ছড়ানো  মুখের কোনো গরীব  রাজকন্যাকে উদ্ধার করে নিজের রাজ্যে নিয়ে যাবে! ---
দিদুন তাকে যে কোন মানুষের ভেতরের মূল্যবান মানবিকতার কথ্য কথা শোনাতেন। আর  বলতেন  আবার  একই  মানুষের  বিপরীত  আরেক  দিকের  খুব  কুৎসিত  রুপের ঘটনার  সত্য কথা। যে  সত্যগুলি  চকচকে  মিথ্যার  আবরণে  ঢাকা  থাকতো।বাইরে থেকে শোভিত থাকতো। দগদগে আগুনের মতো, লালচে পোড়া ঘা&#039;য়ের মতো, কোনো সত্যকে মিথ্যার অন্ধকারে লুকিয়ে রেখে-ওই সত্যকে বাইরে থেকে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে লতাপাতায় ঢেকে রাখা, এসবকে  গৌরভের  ভাবাকে  নীড়ার  দিদুন বেশ ঘৃণা করতেন।
তিনি নীড়াকে ছোটবেলায় ঘুম পাড়িয়ে দেয়ার সময়- মানুষের মানবিক নানা কাহিনীর ঘটনা  বলতেন। নীড়া  যখন  অনেক  অনেক  বড় হয়ে উঠেছে তখনও মানুষের শুভ দিকের কথা  তিনি পুনঃপুনঃ শুনিয়েছেন। মানুষের  আরেকটা  দিক, নিকষ অন্ধকার দিকের কথা বলেছেন নীড়ার অনেক বড়ো বেলা পর্যন্ত ---

নীড়া যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায়---
বড়োকালে  নীড়ার  দিদুন  তাকে  বলে-  বাইরের  জগতে  চলতে  ফিরতে, পথে  পথে কুকুরের  হাতে  না পড়ে একজন  কুকুরের  সঙ্গে  থাকা ভালো।যে হবে কুকুরের ভীড়ে আলাদা, অন্য রকম একজন।দূর থেকে মনে হবে পুরুষ সিংহ ! 
দিদুন আরো বলতো- &#039;বুঝলি বইন, কোনো পুরুষলোকই বউয়ের কাছে ভদ্রলোক নয়।বিবাহিত জীবনে পুরুষ মানুষের ভদ্রলোক হওয়া আয়নায় পুরো নিজেকে দেখে মেয়ে লোক ভেবে লজ্জা পাওয়া সমান&#039;---

নীড়া তার জীবনে প্রথম একজন কুকুরের মুখোমুখি হয়েছিলো নিজের গৃহ শিক্ষকের কাছে। গৃহ শিক্ষকটা  প্রথম যেদিন  তাদের বাড়িতে  আসে- মুখ কাচুমাচু করে হাতের উপরে হাত রেখে, মাথা নিচু করে তাদের ড্রয়িং ঘরে  সোফার  এক কোণে বসেছিলো।তার  সঙ্গের জন হড়বড়  করে বলে  যাচ্ছিলো গৃহ শিক্ষকটার  যতো  গুণকীর্তন! এই ছেলে খুব মেধাবী ছাত্র।মাধ্যমিক পরীক্ষায় বোর্ড স্ট্যান্ড করেছে।দেবতার কাছাকাছি চরিত্র।ফুলের মতো পবিত্র,আরো কতো কি- এই সেই.. নীড়ার মা একমনে শুনছিলো... নীড়া শুধু দূর থেকে দেখতে পাচ্ছে ওই মেধাবী ছাত্রটির অমেধাবী চোখদুটো... 
 
এরপর  গৃহশিক্ষকটা  নীড়াকে  ঘরে এসে  পড়াতে  শুরু  করে। গৃহশিক্ষক  বিজ্ঞানের ক্ষমতার কথা  বলে, ভূগোলের জ্ঞানের  কথা বলে, গণিতের শক্তির কথা বলে, বাঙলা ভাষার  যাদুর  কথা  বলে, বিদেশী  কবির  ইংরেজি  কবিতা  আউড়াতে  থাকে, সমাজ বিদ্যার নীতি নৈতিকতার কথা শোনাতে থাকে ...

একদিন  গৃহশিক্ষকটা  প্রায়  ঘর  ফাঁকা  পেয়ে  সুযোগ  বুঝে  নীড়াকে মনোবিজ্ঞানের অবোধ্য কলা কৌশল শেখাতে চাই... কিন্ত নীড়ার বড়ো বোনের উপস্থিতির জন্য সেটা হতে হতে হলো না।হালকাভাবে  ভেজানো দরজায় এসে নীড়ার দিদি ডাকে, এই নীড়া- চা-টা নিয়ে যা....
বিদ্বান গৃহশিক্ষকের অধ্যবসায়ী হাত বিরাট এক সরল অংক করার জন্য যখন প্রস্তুত হচ্ছিলো তখনই ঘটে এই বিপত্তি... 
সেদিনই নীড়া ঠিক করে, তার এই বিদ্যাভর্তি জ্ঞানগম্যির গৃহশিক্ষককে আর প্রযোজন নেই।সদ্য কুকুর হয়ে উঠা এটাকে সে একটু বুদ্ধি কাটিয়ে চিরবিদায় করে----
----- নীড়া সোজা দিদিকে গিয়ে বলে- তার মাষ্টার তার দিদিকে প্রতি রাতেই স্বপ্নে দেখে এবং তাকে  নিয়ে  এক সরল  অংক  করতে  চায়, নীড়া যেনো এই ব্যাপারে  মাষ্টারকে সাহায্য করে।--ব্যস্...
নীড়া জানে, বড়ো বড়ো সরল অংকের উত্তর সাধারণত শূণ্য হয় !......

নীড়া  সমাজবিদ্যার ছাত্রী। সে জানে বা সমাজবিদ্যা নির্দেশ করে- উন্নত সমাজ, উন্নত মানুষ তৈরি করে।উন্নত মানুষ কি নৈতিক উন্নত মানুষকে বোঝায়; ---
যে  সমাজ  যতো  আবদ্ধ, যতো  বেশি পৌরাণিক সেই সমাজের মানুষ মেয়ে লোককে ততো বেশি ব্যবহারিক ভোগ্য পণ্য ভাববে এটাই সত্যি...
-----দেবদেবীর কনসেপ্ট আসলে নারীকে খুশি করার চেষ্টা..

নীড়ার দিদি নিশার জন্মদিন।খুব বড়ো কোনো আয়োজন নয়।ঘরোয়া অনুষ্ঠানে নীড়ার
দিদির কজন কাছের বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করা হয়।নীড়া জানে দিদির ভালো একজন বন্ধু বলে  আরণ্য&#039;দাকে। তার  দিদিও  এই  দাদার  স্বভাব  চরিত্রের  ভালো  গল্প তার কাছে  করেছে। এই  আরণ্য  সাংস্কৃতিক  অঙ্গনের  একজন  খুব  চেনা  মুখ। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাকে এক নামে সবাই চিনে।শিল্পমনা এই দাদার টুকরো টুকরো অনেক গল্প নীড়া  দিদির  মাধ্যমে  জানে। তাদের  বাড়িতে  দিদির  জন্মদিনের  ঘরোয়া  অনুষ্ঠানে আরণ্য&#039;দাও সে-বার এসেছিলো।
ওইদিন  নীড়া  তার ঘরেই  ছিলো। সারাদিন  অনুষ্ঠানের কাজ নিয়ে বেশ খাটুনি গেছে।তাই একটু বিশ্রাম মতো নিচ্ছিলো।বসার ঘরে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় নীড়ার ঘরে আরণ্য&#039;দাকে বসতে দেয় নীড়ার দিদি ---নিশা।

নীড়া বুঝতে পারে---
তথাকথিত শিল্পমনা তার আরণ্য&#039;দা একটু উসখুস করে, বসা অবস্থায় বেশ চঞ্চল হয়ে উঠতে চায়।অস্থিরতা বাড়ে ঘরে একা নীড়ার সাথে একান্ত আলাপ করার জন্য।কেমন হ্যাংলার  মতোন  খুব  যেচে কথা  বলতে  আসে। নীড়ার ঘোর  অপছন্দের মধ্যেও সে নীড়ার নব-যৌবনের দেহের খাঁজের শ্লীল বর্ণনা করতে  থাকে।এক পর্যায়ে-- তার সঙ্গে তুলনায়  তার দিদি  নিশাকে ছোট  করতে  থাকে। বারে  বারে  বোঝাতে  থাকে- নীড়ার লুকানো  উদ্ভিন্ন যৌবনের মহিমার কাছে  তার নিশা দিদি নিতান্ত যেনো  আলোর পাশে ছায়ার মতো! ....
নীড়ার এসব ভালো লাগে না।সে অসহ্য বোধ করতে থাকে।মন দ্রোহী হয়ে উঠতে চাই, কিন্ত মুখে কিছু বলতে পারে না দিদির অসম্মান হবে ভেবে---
তারপর-----
নীড়া চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে---  একটি অভুক্ত কামনাতুর কুকুরের ছবি!-- আরণ্যকে---নীড়া, সুস্থির  থাকার  জন্য বার বার  বলতে  থাকে। আরণ্য ঘোলা চোখে নীড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। সেই-- চোখ দুটোতে  নীড়া দেখে একজন  আলিঙ্গন মত্ত মানুষের  মুখ! ওই  মুখ  থেকে  লালা  ঝরে  পড়ার  কুৎসিত  রুপ.... নীড়ার  ইচ্ছে হচ্ছিলো-- তার  সুডৌল  গঠনের  ডান হাত বা  বাম হাত,  মানুষের  ভেতর  থেকে ধীরে ধীরে পশু হয়ে উঠতে  চাওয়া একে কামড়াতে দিতে ---
নীড়ার দিদি নিশা এসে ঘরে ঢুকে এমন মুহূর্তে --- দুজনকে-- বসার ঘরে যাওয়ার জন্য ডাকতে....

বেশ কিছুদিন আগে--- নীড়ার বাবার শরীরটা বেশ খারাপ করেছিলো।দেখতে দেখতে তিনি  খুব অসুস্থ  হয়ে  পড়েন।রাত বিরাইতে নীড়ার বাবাকে ডাক্তার  হাসপাতাল বাড়ি করতে  হয়েছিলো। এই  সময়ে  নীড়ার  বাবার  দীর্ঘদিনের  পরিচিত  ও  দূর  সম্পর্কের জ্যাঠাতো  বড়ো ভাই  নিশিকান্ত বাবু  বেশ কাটা খাটুনী করেছিলেন।তাঁর কাছে নীড়ার পরিবার কৃতজ্ঞ। 
বাড়িতে নীড়ার বাবা কিছুটা সুস্থ বোধ করলে, তিনি নিশিকান্ত বাবুর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য  খুব উদগ্রীব  হয়ে  উঠেন। নীড়ার মাকে  এ কথা তিনি  বার বার  বলতে  থাকেন।
-----নিশিকান্ত বাবু বেশ ক&#039;বছর  হয় বিপত্নীক হয়েছেন। বড় ছেলেটি বিবাহিত।তারাও কিছুদিন হলো নিজেরা আলাদা থাকছে।এখন নিশিকান্ত বাবু, নিজের বাড়িতে নিজের ঘরে তিনি একাকী মানুষ।
নীড়ার রোগী বাবাকে খুশি করতে নীড়ার মা&#039;ই নীড়াকে বললো-&#039;এই যা-না নীড়া, তোর  নিশিকান্ত জেঠুকে আজ বিকেলে গিয়ে ডেকে নিয়ে আয়।&#039;
---&quot;আমি একা একজন মেয়ে যাবো-- জেঠুর বাড়িওতো ঠিকমতো চিনি না? &quot;
নীড়ার  মা বলেন- &#039;প্রয়োজনে  কারো বাড়িতে  যাচ্ছিস। একা না গিয়ে কি দলবল সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। ওই জেঠু একাকী থাকেন না।-- বড় বিবাহিত ছেলের বউয়ের সাথেই আছেন জানি।আচ্ছা, যাবার সময়ে-- আমার কাছ থেকে ঠিকানাটা লিখে নিয়ে যাবি।&#039;

পড়ন্ত বিকেল বেলা।পশ্চিমের আকাশ ম্লান হতে থাকে ধীরে ধীরে----
এলাকার বাসিন্দাকে জিজ্ঞেস করে-- নীড়া অল্প হাঁটতেই বাসাটি পেয়ে যায়।ভেতর বাড়ি ঢুকার মুখে একটা দায়সাড়া গোছের গেট আছে।সেটি খুলে নীড়া প্রধান দরজার সামনে  এসে  দাঁড়ায়। জেঠু জেঠু  বলে  হালকা  ডাক  দিতেই  নিশিকান্ত  বাবু দরজা খুলেন। চোখে  মুখে  ঘুম ভাঙ্গার  ছাপ  নিয়েও  তিনি অবাক হন একা নীড়াকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে!   
-------- হাসিমুখে হাত ইশারা করে তিনি নীড়াকে ঘরের ভেতর ডাকেন।

নীড়ার একটু একটু কেমন লাগে।তবু সেই ভাবনা মুখে প্রকাশ না করে সে হালকা করে চেয়ারে বসলো।ওপাশে মুখোমুখি নিশিকান্ত বাবুও বসেন।ডুলুডুলু চোখে নীড়ার দিকে তিনি তাকিয়ে আছেন।
নীড়া বলে-  &#039;বাবা  আপনার  কথা  খুব  বলছে। যদি  সম্ভব  হয়- আমার সাথে আসুন।আমার বাবা আপনাকে খুব দেখতে চাচ্ছে।&#039;
নীড়ার কথায় নিশিকান্ত বাবু কিঞ্চিৎ হাসলেন।বললেন- আমি নিজে এই রকম সময়ে চা বানিয়ে খাই।আমার সঙ্গে একটু চা খাও....
নীড়া  কী  বলবে  ভেবে পায় না। এভাবে  সময়ক্ষেপণও তার  কাছে ভালো লাগছে না।আবার নিশিকান্ত জেঠুর চা পানের এই নিমন্ত্রণকে ছোট ভাবে দেখাও উচিত নয়।এটি জ্যেঠুর নিজের বাড়ি।বাড়িতে তিনি অতিথি সেবা অধিকার নিয়ে করতে পারেন----
নিশিকান্ত বাবু বসা থেকে উঠতে উঠতে বলেন- ঠিক আছে, একটু বসো। আমি চা বানিয়ে  আনছি। -------এই বলে তিনি ভেতরে চলে গেলেন।
নীড়া একা বসে আছে।তার ইচ্ছে করছিলো উঠে বেরিয়ে যেতে, কিন্ত সে&#039;তো এই জ্যেঠুকে তারই সাথে তাদের বাড়ি যেতে বলেছে--- সে কি করবে ভেবে পাই না--- ভাবতে গিয়েও ভাবতে পারে না।বরং খাপ ছাড়া অনেক এলোমেলো দুর্ভাবনা এসে ভীড় করতে থাকে --- 
একটু পর--প্লেটে বিস্কুট সাজিয়ে নিশিকান্ত বাবু দু&#039;কাপ চা নিয়ে নীড়ার সামনে এসে দাঁড়ালো।
----&#039; চা খাও।খুব ভালো চা আমি বানাতে পারি না।আমি এখন একা মানুষ, একা থাকি। একা মানুষের অনেক দোষ&#039;.... 

নীড়া মুখে কষ্ট করে হাসি টেনে নিয়ে চা&#039;য়ে চুমুক দিতে থাকে।তার বারে বারে মনে হয় এখনি সে --নিশিকান্ত জেঠুর অন্য একটি রুপ দেখবে-- নিশিকান্ত বাবুর কথাগুলি ও ঘরের ভেতরের আলো ছায়ার নির্জন নিষ্প্রাণ পরিবেশটা ভয়কে যেনো আরো ভরিয়ে তুলছিলো! নীড়ার মনে হতে থাকে ভোরের ঘন কুয়াশা এখন ঘরটাকে ছেঁয়ে ফেলবে--
সেই কুয়াশার ভেতর থেকে কুয়াশা জড়ানো একটি হাত বেরিয়ে এসে তাকে জাপটে ধরবে!
তারপর একটি, সঙ্গম কামনামত্ত জান্তব মুখ গোঁৎ গোঁৎ করে তার মাংসে কামড় বসাতে চাইবে... 
নীড়া নিচু মুখে অপেক্ষা করে, এই ঘরের পরিবেশ নীড়াকে অপেক্ষা করতে বাধ্য করে।চোখের দৃষ্টিতে সামনের সবকিছুই এখন ভীষণ ঝাপসা লাগে।
নীড়া শুধু বুঝতে পারে তার সামনাসামনি কেউ বসলো---
চায়ের কাপ হাতে নিয়ে এবার নিশিকান্ত বাবু নীড়ার মুখোমুখি চেয়ারে বসলেন।দ্রুত চা পান শেষ করলেন।
নীড়া খুব তাড়াতাড়ি সবকিছু ভাবার চেষ্টা করে।প্রথমেই তার মনে হয় জেঠু এখনো একবারও তার বাবার অসুখের খবরাখবর জানতে চাইলেন না, --কেনো?
নিশিকান্ত বাবু চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে নীড়ার পাশে এসে দাঁড়ালেন ---
ঘোরলাগা নীড়ার মনে হতে থাকে এইতো কুয়াশাময় সেই হাত তার কাঁধে হাত রাখলো---
নিশিকান্ত বাবু স্তব্ধ নীড়ার কাঁধে মমতার হাত রেখে জানতে চান-- তোমার কি হলো--? 
নীড়া নিশিকান্ত বাবুকে, খুব স্বাভাবিক ভাবে বলার চেষ্টা করে--  না, কিছু নয়। মাথাটা একটু ধরেছিলো।আমি এবারে উঠি, বাইরে সন্ধ্যা হয়ে আসছে।&#039;...
নীড়ার মনের গভীরের ভয়ের কারণ নিশিকান্ত বাবু ভালোই বুঝতে পারলেন।এবারে তিনি বলেন--&#039;একা পুরুষ মানুষ, ফাঁকা ঘর, একাকী একজন মেয়ে.. এভাবে অন্ধ প্রকৃতির ফাঁদে পা দিয়ে একটি মাতাল অংকের জন্ম নিতে পারে।কিন্ত মানুষের চৈতন্য, রুচিবোধ,শিক্ষা ও সংযম নীতি নিষ্ঠা মনের ইচ্ছেকে অবশ্যই ভারসাম্য দিতে পারে&#039;---
-----&#039;দেখো মেয়ে, আমি সেই যুগের একজন মানুষ, যে যুগেতে আমাদের মহাবিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে একগাদা ছেলে ছাত্রদের ভীড়ে এক অথবা দুজন মাত্র মেয়ে ছাত্রী থাকতো! এবং আমরা তাদের দূর থেকে দেখে দেখে ক্লাসের সময় পার করে দিয়েছি&#039;।...

নীড়া রক্তরাঙা লজ্জিত মুখে উঠে দাঁড়িয়ে বললো-&#039;এখন আমি যাই।-আপনি কি সাথে  যাচ্ছেন-?&#039;

----&#039;নীড়া কিছু মনে করো না-আমি সৌজন্য করেও তোমাকে জিজ্ঞেস করিনি তোমার বাবা এখন কেমন আছে।-এটুকু বলে- তিনি থামেন, পরক্ষণেই আবার তিনি বললেন- আমি খবর পাই।তোমার বাবা কিন্ত এখন অনেক ভালো আছে।

----&#039;নীড়া তুমি যাও।আমি কোনো একদিন যাবো।.....আর একজন ঋণগ্রস্ত পিতা বিবৃত হোক এটা কাম্য নয়&#039;--- 

নীড়ার বহুবার মনে হয়েছে তার সহপাঠী মঈনুর আমান অন্যদের থেকে বিশেষ আলাদা।
দূর থেকে তাকে দেখলে- মনে হতো কুকুরের ঝাঁকে পৌরুষ দীপ্ত কেউ একজন।সিংহের
স্বভাবজাত বহুকিছু তার মধ্যে আছে।তর্জন গর্জন থেকে শুরু করে মেঘ মুক্ত আকাশের মতোন দৃষ্টি, মোহনীয় হাসি, শুধু শুনতেই ইচ্ছে করে তার কথা বলা, রাজ্যবান রাজার মতো রাজকীয় কাঁধ দোলানো, বীর সেনাপতির মতো পদযাত্রা, আরো আরো কতো কি! .... 
নীড়ার সঙ্গে অবশ্য মঈনুরের ভাব নেই।শুধুমাত্র দুজনের আলাপ পরিচয় হয়েছে।কিন্ত মঈনুর দিকবিজয়ের মতো নীড়ার মনরাজ্যের পুর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ দখল করে নিতে থাকে।মঈনুরের জন্য তার দিদুন থেকে শেখা পুরুষ তত্ত্ববোধ নীড়ার আর মনে পড়ে না।
সে ভূলতে থাকে অতীতের পুরুষ সম্পর্কীয় কুকুরদের সংক্ষিপ্ত সংবাদ!...
নীড়ার ভিতরে একজনকে নিয়ে বিভোর হওয়ার দুর্বলতা শেষপর্যন্ত মঈনুর আমান পর্যন্ত পৌঁছে যায়! 
তারপর মঈনুরের সাথে নীড়ার সখ্যতা তৈরি হয়।ধীরে ধীরে এই মোহন সম্পর্ক গভীরে অতলে পৌঁছানোর জন্য খুব তাড়াতাড়িই অধৈর্য্য হয়ে পড়ে,  ---নীড়াই প্রথমে বুঝতে পারলো...
------- একদিন তারা দুজনে রিক্সাতে করে ঘুরতে বেড়িয়েছে।একটি খোলা পথ ধরে রিক্সা এগুচ্ছিলো ... পথের দুইপাশে গাছ গাছালি ও সবুজাভ প্রাকৃতিক নির্জনতা ছিলো।- 
নীড়ার পাশে বসা আমান অস্থির হয়ে উঠে-- আমানের গোটা শরীরটা অল্প অল্প ঝুঁকছে, 
তাতে-- নীড়ার একই সঙ্গে অস্বস্তি ও অবাক হয়।আমান শরীর দিয়ে নীড়াকে লেপটে চাপতে থাকে-
আমানের নিঃশ্বাস প্রশ্বাস বেড়ে যাচ্ছে... নির্বাক নীড়া এখন কি করবে বুঝতে পারছে না, কি করা উচিত হবে তাও জানে না।নীড়া চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে- প্রবল তুফানের মুখে একটি মহীরুহ গাছের কোমড় ভেঙ্গে গিয়ে- সেটির অর্ধাংশের গুড়িটা নীড়ার ঘাড়ে এসে পড়ে নীড়াকে চেপে ধরেছে!... নীড়ার নিজস্ব ভাবনায় পুরুষের সৌন্দর্যে লুকিয়ে ছিলো যে মঈনুর-  নীড়ার একান্ত পুরুষ সিংহ,ওটাকে এখন রাজসিক গুচ্ছ গুচ্ছ কেশর খসে পড়ে পড়ে একটি তুচ্ছ কুকুরে পরিণত হতে দেখচ্ছে!... 
নীড়া এক সময় রিক্সাটিকে থামিয়ে একা- নেমে যায়... নীড়ার চোখের কোণে স্বপ্নভঙ্গের অশ্রু চিক চিক করে... অনেকটুকু ভেতর থেকে ঠেলে হু হু করে একটা ডুকঁরানো কান্না বেরিয়ে আসতে চাইছে.... 

নীড়া এই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছে আজ আঠারো দিন।এখনো তার উর্দ্ধতন মূল নির্বাহী কর্মকতার সাথে দেখা হয়নি। নীড়া শুনেছে, তার উর্দ্ধতন কড়া ধরণের প্রকৃতির ব্যাক্তি।কাজের বাইরে তেমন কিছু বুঝতে চান না।কারো ব্যাক্তিগত বিষয়ে বুঝতে তিনি নারাজ।
হঠাৎ হঠাৎ কাজের খোঁজ খবরের জন্য যে কাউকে নিজের অফিস কক্ষে ডেকে পাঠান।
------অফিস এলাকায় সবাই বলাবলি করে নির্বাহী লোকটি কাজ পাগল নয়, এটা বাইরে থেকে দেখানো মাত্র, আসলে মতলবী মানুষ।মেয়েলোক কর্মীদের জন্যে তার কাজের বাহানা শিথিল থাকে... এটি অনেকের কাছে সন্দেহজনক !... 
এমন উড়ো খবরে নীড়ার কান দিতে ইচ্ছে হয় না।কিন্ত মনের ভেতরে অস্বস্তি তবু খচখচ করে।মন মেনে নিতে চাই না বহুকিছু যা কানে শোনা যায়....
------ যথারীতি একবার নীড়ার ডাক পড়ে- নির্বাহীর ঘরে--- 
একা নীড়া নির্বাহীর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।এই ঘরে তারা এখন শুধুমাত্র দুজন! --নির্বাহী
চোখ না তুলেই জানতে চাইলেন- &#039;অফিসে নতুন জয়েনিংতো, কয়দিন হয় ?&#039;
নীড়া মুখে বলে- &#039;হ্যাঁ, আজকে এক মাস চার দিন হয়েছে।&#039;
নির্বাহী বললেন-&#039; হুম্ আচ্ছা- বসুন---। নীড়া ইতস্তত করে একটি চেয়ার দখল করে বসলো।--
দেখছি, সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন।আর চাকুরী করতে এলেন পণ্য হিসাবের&#039;....  নীড়া মুখে কিছু বলতে পারে না।অল্প করে হাসে।হাসিমুখ নিয়ে নির্বাহীর দিকে তাকিয়ে থাকে।
---- &#039;আপনার বয়স কতো হবে, সার্টিফিকেটের বয়স নয়, আসল বয়স-?
নীড়া স্তব্ধ মুখে শুধু উচ্চারণের মতো বলে- &#039;চব্বিশ বছর&#039;।---
-----&#039;আপনাকে দেখে বয়সের তুলনায় আরো বেশি বয়স্ক দেখাচ্ছে&#039;---
-----এই প্রথম নীড়া নিজ থেকে বললো-&#039;স্যার, আমাকে কেনো ডাকা হয়েছে।&#039;
---&#039;পণ্যের  হিসাব  রাখছেন। পণ্যের  মধ্যে  বহুকিছু  পড়ে... এ  যেমন  আপনিও  পণ্য আমিও  পণ্য,  আমার  হিসাব  আপনি  রাখবেন  না। আমিতো  আপনার  রাখছি&#039;...
নীড়া  বুঝতে  পারে  না  এখানে  তারা  কিভাবে  পণ্য  হয়ে  উঠেছে! নীড়ার  চাপা  ভয় করতে  থাকে।  --দেখে  তার  নির্বাহী  মাসুক  হেলালী  চেয়ার ছেড়ে  উঠে দাঁড়িয়েছেন।এবারে  নীড়ার  ব্যাপারটি  ভালো  লাগছে  না। প্রকৃত  সময়ে  মনকে  সংযত  করা খুব কঠিন একটি কাজ...  নীড়াও উঠে দাঁড়ালো -----

---&#039;নতুন চাকুরী, নতুন অনেক কিছু শিখতে হবে, অজানা কতোকিছু দেখবেন-- এভাবে 
পণ্যের গুণগত মানের হিসাব রাখবেন- এই দুর্ভাগ্যের দুনিয়ায় একটি চাকুরী পাওয়া ও একে টিকিয়ে রাখাই বড় কথা&#039;... এবার নির্বাহী নীড়ার খুব কাছে চলে আসে--
নীড়া  দেখতে  পাই- তার  নির্বাহীর  বিরাট  কাঁঠালের  মতো  ভুঁড়ি  পেট, কটমটে  মুখ, দাঁতাল, কাঠিন্য  ধরণের  চেহারা, লোলুপ  দুটি  চোখ  কিন্ত  চোখ ছোট করে নীড়াকে দেখতে লাগলো---
....দাঁড়ানো নীড়ার এইবার কি চোখ বন্ধ করে থাকা উচিত...  নীড়া কিছু ভেবে পাই না।
ঠের  পাচ্ছে  তার  কাঁধের  উপরে  গরম  নিঃশ্বাস  পড়ার  অনুভূতি.... তারপর পিঠে...
-----এক দলা ঘৃণা অশ্রদ্ধার আকৃতি নিয়ে নীড়ার হাতকে দ্রোহী করে তুললো... 

আচমকা গালে প্রচন্ড চড় খেয়ে নির্বাহী ঘুরে পড়ে গেলেন।নিচে পড়ে গিয়ে টালমাটাল হয়ে আগুন দৃষ্টিতে নীড়াকে দেখতে থাকেন----
নীড়া বলতে বলতেই পা বাড়ায়।-- &#039;আমার  হাত  দিয়ে পণ্যে&#039;র গুণগত মান যাচাই হয়ে গেছে, এবারে উঠে পড়ুন.....

--------------------
৩/১১/২০২০ইং

[ গল্প ]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/87361/</link>
				<pubDate>Fri, 07 Jan 2022 13:22:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নীড়ার কুকুরদের সংক্ষিপ্ত সংবাদ<br />
-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-</p>
<p>পূর্বতমার ঘরোয়া একটা  নাম আছে। তার বাবার, তার  জন্মের কিছুদিন পরে অত্যন্ত খাপছাড়া  উচ্ছন্ন  মনের   পরিবর্তন  ঘটে  যায়।  তিনি  ঘরে ফিরেন  বা  ঘরের  প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠেন। পূর্বতমার  বাবার ঘরে বা নীড়ে ফেরা  নিয়ে  ঘরের  সবাই  মুখে  মুখে  ছোট্ট  শিশুকন্যা  পূর্বতমাকে ছোট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-87361"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/87361/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">13e56da2f64559f845e54a1ae48a6098</guid>
				<title>রুপান্তরিত জীবন
;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;; 

কমল, এইবারে দেখে বেশ অবাক হলো। প্রথম দেখেতো ভেবে নিয়েছিলো এটা অন্য কেউ একজন হবে। ---তার চেনা রুক্মিণী,  ছোট্ট নামে--রুনুদি, নিশ্চয় নয়। 
....এই দিদিকে কমল যদিও বেশ কিছুদিন ধরে দেখতে পাচ্ছিলো না।

ভালোমতো  তাকিয়ে দেখে কমল  অবশেষে বুঝতে  পারলো আসলে  অন্য কেউ নয়, ওই নারী তার অতিচেনা রুনুদিই ছিলো!  হঠাৎ দিদির পরণে ঝলমলে রঙের  নতুন শাড়ির  ঝিলিক।সুন্দর পরিপাটি করে সিঁথি কেটে  চুল আঁচড়ানো, সিঁথিতে উজ্জ্বল লাল রঙের সিন্দুর, কপালেও সিন্দুর।বোঝাই যাচ্ছে-- বেশ যত্নে নববধূর বেশে সেজেছে!
----- কী আশ্চর্য!  আবার বিয়ে করলো দিদি? --এটিতো তার দ্বিতীয়বারের বিয়ে...
কমল নিশ্চিত করে জানতো। এই দিদি অকাল বিধবা  ছিলো। এক বছরের কিছু আগে দিদির স্বামী  বলা কওয়া নেই একদম হঠাৎ করে  স্নানের ঘরে  স্নান করতে ঢুকে দীর্ঘ সময় পরেও যখন আর বেরুলো না, তখন তাকে একপ্রকার দরজা ভেঙ্গে বের করতে হয়েছিলো।অবশ্য দ্রুত ধরাধরি করে কাছের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।শেষে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছিলো খবরটা  অবশ্য, ----আসলে  লোকটা  বেশ কিছুক্ষণ আগেই স্ট্রোক করে মারা গিয়েছেন। 
এইভাবে কমলের বেশ পরিচিত রুক্মিণীদির কপালের লাল সিঁদুর মুছে গেছে!...

তার বহুদিনের চেনাজানা রুক্মিণী, ---এই রুনুদি, তার দোকানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কমল ডিপার্টমেন্টালের একজন নিয়মিত ক্রেতা ছিলো।----
----- সাদাসিধে রুনুদি যখন  তার  দোকানে নিত্য  প্রয়োজনের  জিনিসপত্রের জন্য আসতো-- দিদির কর্মক্লান্ত মুখ, সেই মুখে সারাদিনের শ্রমের সমাপ্তির মলিন ছাপ থাকতো।পরণে অল্পদামী হালকা রঙিন শাড়ি। মুখে কিন্ত মায়া ছড়ানো সুখের হাসি!  কমল জানতো, দিদির সংসার জীবন যে খুব সুখের ছিলো তা কিন্ত নয়।সংগ্রামের জীবন, কষ্টের জীবন যাপনটা যেমন হয়ে থাকে। রুনুদি একটা বস্ত্রকলে চাকুরী করতো।ওর স্বামীও কোনো আধা-সরকারী একটি প্রতিষ্ঠানে চুক্তি ভিত্তিক ছোটপদে চাকুরী করতেন। মানুষটার মাসিক বেতন অনিয়মিত হওয়াতে রুনুদিকে বাধ্য হয়ে নিজের এই চাকুরী করতে হয়।
তবু দিদিটা, কমলের দোকানে এলে কিছু কথাবার্তা হতো।দোকানে বকেয়া পড়তো বলে দিদি লজ্জিত যেমন হতো, তেমনি কমলের সঙ্গে এটা ওটা ঘরের গল্পও তাকে বলতো---
--&#039;ওদের ঘরেতে অভাব আছে ঠিকই কিন্ত তারা দুজনে অসুখী নন।রাঙামুখ করে নীচু গলায় বলতো-- ওর স্বামী তাকে বেশ ভালোবাসেন।&#039;
কমল সংকোচ করে জানতে চাইতো। 
--&#039;আর দাদাকে অাপনি ভালোবাসেন না? ----মুখটা নামিয়ে নীচু করে বলতো---
 --&#039;হ্যাঁ, আমিও তোমার দাদাকে ভালোবাসি।উনি লোকটা খারাপ নয়।&#039;
(কমল হাসিমুখে এসব কথাগুলি শুনতো। সে বহুজনের কষ্টক্লিষ্ট জীবনের সংগ্রাম, তাদের মধ্যকার  নীরব প্রেম ও ছায়াঘন বিরহব্যাথা  আবার কিছুটা  সুখের মুখের সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্যে দিনান্ত পরিশ্রম;  ---এই সব তার চোখের সামনে ঘটতে থাকে।এখন সে অন্তরের চোখে ওসব দেখতে পায়!)
---কমল এখন শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে। তার অনেকদিনের চেনা জানা রুক্মিণীদি আবার বিয়ে করেছে...
আর মনে মনে কমল বলতে থাকে, আহারে মানুষের জীবন! এমন জীবন অসম্ভব বৈচিত্র্যে নয়তোবা মনের রহস্যে টাঁসা থাকে! তবু কমল মনে মনে খুশি হলো---
....রুক্মিণীদি  নিজের  অবদমিত  অকাল বৈধব্যের কাল  থেকে  মুক্তি পেয়েছে--- তার বর্তমানের রুপান্তরিত জীবনে; 

কিন্ত কমলকে খারাপী মন-মানসিকতার মানুষজনের মুখের সুন্দর সুন্দর ফুলঝুরি তত্ত্বকথাও শুনতে হয়। অনেকে ভেতরে থাকে  সাক্ষাৎ প্রতারক। কিন্ত বাইরে  সাধু-সন্তের স্বভাব দেখিয়ে ভনিতা করে চলে।এমন লোকদের  সমাজের সব স্তরেই দেখা মিলবে!  কমল নিজের ছোট দোকানদারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, কতো চরিত্রের ক্রেতা মানুষ দেখতে পাই। তাদের সাথে ব্যবসার লেনদেনেরই সুবাদে মিশে!---
এমনো হয়েছে একদিন।
কমলের ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে-- খুবই অল্প মুখচেনা পরিচয়ের একজন সুশ্রী মেয়ে গ্রাহক,  হুট্ করে কমলের হাতটা টেনে নিয়ে বললো, ---&#039;কমলবাবু, আমাকে পাঁচশত টাকা ধার দিবেন। আমার আর্জেন্ট দরকার ছিলো।&#039; কমল বেশ দ্বন্ধে পড়ে গিয়েছিলো। সেই সময়ে তার ব্যবসার জন্যে  পাঁচশত টাকার ক্ষতি হয়ে যাওয়া  মানে অনেকটুকু। কমল ইতঃস্তত করতে থাকে। এটা তার  কাছে সবে শুরু করা-- অল্প পুঁজির ব্যবসার জন্য ঝুঁকি মনে হতে থাকে।
মেয়েটা যেনো কমলের মনের খবর ধরতে পারার মতোন আচমকাই বলে উঠে, --&#039;ভাবছেন, শুধু শুধু কেনো টাকাটা আমাকে দিবেন?  জানবেন তাহলে আমাকেই আপনি পাবেন।&#039;....
অপরাধবোধ মনে চেপে রেখে কমল শেষে নিজের সবে শুরুর ব্যবসাটাকে বাঁচিয়ে রাখার পক্ষ নিলো। তার মনে পড়ে যায়। সে যখন কলেজ ছাত্র ছিলো। কলেজের স্যার পড়িয়েছেন-- &#039;গরীবের বেশি রকম মানবিকতা দেখানো তাদের দারিদ্রতাকে  আরো বাড়িয়ে তোলে!&#039;

কমলের পুরো নাম কমলেশ গুহ। এই নন্দীপাড়া  এলাকার চারপাশে  মুখ পরিচিত একজন  শিক্ষিত যুবক  ব্যবসায়ী। মোটামুটি সে সজ্জ্বন মনের।  মনেপ্রাণে  শুধুই ব্যবসায়ী  স্বার্থ, ----এইকরম স্বভাবের কৌশলী নিষ্প্রাণ ধুরন্ধর একজন ব্যবসায়ী মাত্র, এমনটা কমলেশ আজো হতে পারেনি!
যদিও জীবনে সে একজন ব্যবসায়ী হবে-- এমনটা ভাবেনি। কমল এখন ভালোই বোঝে-- নিম্ন বা মধ্যবিত্ত নামক স্তরের মানুষ জনের নিয়তি হচ্ছে তারা জীবনে যা হতে চাইবে, সেটা না হয়ে অন্যকিছু হবে। আসলে কিন্ত আদৌ যেটা হতেই চায়নি! 

কমলের বাবা মোটামুটি বেতনের একজন চাকুরীজীবি ছিলেন। কমল মন লাগিয়ে নিজের বি&#039;কম-- পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 
---সেই  সময়ে  কমলেশের জীবনে  একটি দুঃখজনক  ঘটনা ঘটলো। গাড়ির এক দুর্ঘটনাতে তার বাবার ডাঁনপাটা কেটে ফেলতে হয়েছিলো। তিনি আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান। এজন্য তার চাকুরীটি হারাতে হয়। সেই সঙ্গে কমলদের পরিবারে দ্রুতই নেমে আসে অভাব নামের অন্ধকার!  এই পরিস্থিতিতে কমলের মা আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন সংসারের চাহিদার যোগান দিতে। বিয়ের আগে নিজের বাবার বাড়িতেই দেখা ও শেখা সুচীকর্ম ও নতুন কেনা সেলাই মেশিন দিয়ে মহিলা চেয়ে চিন্তে কাজ করে রোজগারপাতি যেটুকু করে থাকেন--- তাতে অবশ্য টেনেটুনেও তাদের সংসারটা চলছিলো না....
----পরিশেষে নিরুপায়,  সেই সাথে অসহায় কমলের পঙ্গু বাবা নিজে উদ্দ্যেগী হয়ে-- নন্দীপাড়ার  বড়ো গলির মুখে  ছোট্ট একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে, দোকানদারি আরম্ভ  করেছিলেন। পরবর্তীতে  কমল  তার  কলেজের  বি&#039;এ  পরীক্ষাটি  ইস্তফা দিয়ে সেই দোকানদারির হাল নিজের হাতে তুলে নিয়ে আজকের বড়ো আকারের দুটো&#039; স্টোরেজ সহ-- &#039;কমল ডিপার্টমেন্টাল&#039;টা গড়ে তুলেছে।
----- কিন্ত জীবন সংগ্রামের ঝড়ো ঘূর্ণি হাওয়াতে ভেসে ভেসে অনিশ্চয়তার পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতে বইপত্রের  লেখাপড়াটা  আর কমলের  হলো না। আবার সেটার খুউব যে দরকার ছিলো তাও নয়।যেখানে এক সময় তাদের বেঁচে থাকাটাই ছিলো আসল  ব্যাপার,  ওখানে  পুঁজিবাদী  নির্মম  সমাজ  ব্যবস্হায়  লেখাপড়ার  শেষে-- কাগজের  একটি  সার্টিফিকেট  অর্জন করে তার এমন  কীই বা লাভ হতো। বড়ো জোর নয়টা- থেকে পাঁচটার একটা চাকুরী হাতে পাওয়া ছাড়া!...  

আজকের কমল, দারিদ্রতার তুফানের মুখে টিকে যাওয়া সফল একজন ব্যবসায়ী। সে এখন অনেক স্বপ্নবান যুবকদের চোখে আইকন!   

কমলেশ  নিজের ব্যবসায়িক জীবনে দেখেছে,  দেখে  আশ্চর্য হয়েছে,  এমন সৎ মানুষকে,  যে মানুষটি অর্থের বিচারে দরিদ্র  কিন্ত  নৈতিকতা মানবিকতা  মিশিয়ে বেশ দরদী আর সৎ! সে দেখেছে  তার ক্রেতাদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন, মাসের শেষে  চাকুরীর  বেতনের টাকাটা,  নিজের ঘরে নিয়ে  যাওয়ার আগে স্বয়ং তার দোকানে এসে খাতাতে লেখা বকেয়া পরিশোধ করে দিয়ে যায়।আর্থিক বিষয়ে লেন দেনের ক্ষেত্রে এই সৎ মানুষেরা তার কাছে স্পেশাল মনে হয়! এমন লোকগুলিই তার কাছে প্রিয়.... কমল মনে করে--  এমন লোকেরা সমস্ত ব্যবসায়ীদের কাছেও প্রিয় হবেন!  আজকের এই সমাজে  যে সব মানুষের আর্থিক লেনদেন প্রশ্নযুক্ত নয়,  সততার বিচারে তারাই হলেন সৎ মনের ব্যাক্তি  অথবা  লাভ-লোকসানের সাথে জড়িত কেউ বুকে হাত দিয়ে এই ব্যাপারটি এড়িয়ে যেতে পারবেন না---

কমল ধারণা করতে পারে----
-----জীবনের ঝাঁকুনিতে পরাস্ত মানুষগুলো সাধারণত ভালো গোছের আর মনের ব্যাক্তি হন।যাদের জীবনে সাধারণত হাসির কিছুই ঘটে না-- তবু তারা হাসেন। এই হাসিটুকু তাদেরকে ভালো রাখে। ঠোঁটের কোণায় ইচ্ছের বিরুদ্ধে হাসি ধরে রাখাও  আসলে রুপান্তরিত জীবনের কিছুটা অংশ... 

=============

[গল্প]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/85876/</link>
				<pubDate>Mon, 03 Jan 2022 05:37:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রুপান্তরিত জীবন<br />
;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;; </p>
<p>কমল, এইবারে দেখে বেশ অবাক হলো। প্রথম দেখেতো ভেবে নিয়েছিলো এটা অন্য কেউ একজন হবে। &#8212;তার চেনা রুক্মিণী,  ছোট্ট নামে&#8211;রুনুদি, নিশ্চয় নয়।<br />
&#8230;.এই দিদিকে কমল যদিও বেশ কিছুদিন ধরে দেখতে পাচ্ছিলো না।</p>
<p>ভালোমতো  তাকিয়ে দেখে কমল  অবশেষে বুঝতে  পারলো আসলে  অন্য কেউ নয়, ওই নারী তার অতিচেনা রুনুদিই ছিল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-85876"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/85876/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">488017d624ead9eff8638452ae3225c0</guid>
				<title>&#039;মাঝে মাঝে গল্পের শরীরে নিজেও ঢুকে যেতে ইচ্ছে করে! ওটি একটি নির্মোহ পরিতৃপ্তি। গল্পের অন্যান্য চরিত্রের  সাথে মিলেমিশে একাকার হওয়ার... 
যেমন-- নিচের গল্পটি; যেখানে আমি নিজেকে আবিস্কার করেছিলাম অন্যরুপে!&#039;

নগর পতিতা  আম্রপালী  ও  আমি অনুগত দাস  
--------------------------------------------------------------

তার সাথে ছিলো আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়।ছিলো দাদা ও বন্ধু সুলভ সখ্যতা।যাকে বলতে পারি, ---শ্রদ্ধাবোধ সঙ্গে ভালোবাসার সম্বন্ধ। আমরা অনেক  মনোরম বিকেল বেলা, সন্ধ্যাবেলা কাটিয়ে ছিলাম।তখন সে ছাত্র ছিলো।আমি ছাত্রকালটা পার করে চাকুরীর বাজারে  ভাগ্য বঞ্চিত হয়ে,  সহজপথ  হিশেবে  টিউশনি করা শুরু করেছি।
এইভাবে  শূণ্য পকেট  ও  হাত  খরচ  হয়েও  নিজেকে  টানতে পারতাম  বন্ধু  মহলে আনুষ্ঠানিক ভাবে,  কিছুটা সামাজিকভাবে। বেশ  কয়েকটা  ঘরে  ছাত্রছাত্রী  পড়িয়ে ক্লান্ত অবসন্ন  হয়ে যখন ফিরতাম,  তখন  কোনো  কোনো সময়ে  তার সাথে আমার দেখা  হতো। অবশ্যই  সাপ্তাহিক বন্ধের  দিনটাতে  আমাদের  দেখা হতোই,  ----সেটা অঘোষিত নিয়ম হয়ে যায়! আমরা  কোনো কোনো সময়ে  জায়গা  নির্বাচন  করতাম, ---আজকে  কোথায়  যাওয়া  যায়?

তার নাম বলাটা এখানে উহ্য থাক। প্রসঙ্গান্তরে তেমন জরুরীও নয়---- 

আমাদের  একটা  পছন্দের  জায়গা  ছিলো। খোলা  প্রকৃতির  নির্মল  সবুজ দৃশ্য ও দরিদ্র লোকবসতির সংমিশ্রণে ছিলো  সেটা! রেলওয়ে  জংশনের  পাশে খোলামেলা অনেক বড়ো ওই  এলাকা জুড়ে,  নিম্ন আয় মানুষজনদের দখলদারিত্ব ছিলো। কিন্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশের এলাকাটাকে হঠাৎ করে কেউ দেখলে, তার কাছে ছবিময় মনে হবে!  অল্প দূরে  রয়েছে  মাঝারী  আকারের  এক  দীঘি। এই  দীঘির  পাড়েই  আছে নারিকেল গাছদের  সারি। শেষ বিকেলে এ দীঘির  জলে  পড়তো  খোলা  আকাশের মেঘের ছায়া। আর সারা প্রান্তর জুড়ে ছেঁয়ে আছে  কচি সবুজ ঘাসের চাদর! কখনো দেখেছি গাভীর  চঞ্চল বাছুরেরা খেলাচ্ছলে ছুটে বেড়াচ্ছে-- দিকবিদিকশুন্য! একটু বড়ো বাচ্চাগুলি আবার ঘাস চিবিয়ে চলেছে এক মনে...  উদাস দৃষ্টিতে দূর-দিগন্তের কিনারের ছোট ছোট গাছপালাদের কালোছায়া-- আমি যে দেখেছিলাম কতো! 
 
 সেখানে  আবছা  সন্ধ্যার  আঁধারে,  নয়তো  গড়ানো  বিকেলে  আমরা,  একটা  টঙ&#039; চায়ের দোকানে প্রায়ই যেতাম।মুখোমুখি বসতাম-- কখনো বা  পাশে, দুজনে।আজো আমি  শিহরিত  হই,  ওই  জায়গাটির  জন্য! 
 ---কী এক  ভালোলাগাটুকু আমাদের মনকে ভরে তুলতো!  আমাকে  সে  শব্দ খরচ  করে তার ভেতরের ওই  সময়ের পল্লবিত ভালোলাগাটুকু মুখে এনে বলেছেও! বুঝতাম সেও আমার মতো বুকের ভেতর সুন্দরী প্রকৃতিটার কাঁচা সবুজের রুপে ভরে উঠতো!  ----আমার  সঙ্গে  থেকে থেকে----  তার কি এইটা হয়েছে সঙ্গ দোষে , না কি সঙ্গ গুণে?

টঙ  চায়ের দোকানটার  পাশ  হয়ে পিছনে  পর্যন্ত ছিলো  হাঁটু সমান  জলের একটা জলাধার।শেষ বিকালবেলা অথবা সন্ধ্যার আঁধারে-- আমরা দেখেছি কতো কালচে সবুজের সমাহার। অল্প দূরেতে  দাঁড়িয়ে  ছিলো  নল  খাগড়ার  ঝোপ ঝাড়। পাশেই কিছুটা নানান গাছগাছালির জঙ্গল!  অনেক  মাথা সমান  উঁচু  নল খাগড়ার চিকন পাতাগুলির  পাতলা  সরু  মাথাগুলি  হাওয়াই  উড়তো। দোল  খেতো  এপাশ  হয়ে ওপাশে।হাঁটু সমান পানিতে ছড়ানো ছিটানো খুচরো পয়সার মতো শাপলা শালুকের পাতাদের  একচ্ছত্র। কিনারে কিনারে ঢোল কলমীর ফুলের সাম্রাজ্য দেখতে ভালো লাগতো।কখনো বিকেলে  আমরা সেখানে  গেলে--- চা  খেতে খেতে আমি  বহু দূর পর্যন্ত দৃষ্টি প্রসারিত করে দেখতাম--  হঠাৎই আমার মনে হতো,  এ&#039;তো নিসর্গী শিল্পী ক্লদ্ মনে্র আঁকা--- কোনো পদ্মপুকুরের পাশেই যেনো বসে আছি!

আমি বহুবারই দূর থেকে এই গানটি শুনেছি।এখানে কাছের কোনো বাসা বাড়ি থেকে ভেসে আসতো।গায়ক শ্যামল মিত্রের গান--- &#039;নাম  রেখেছি  বনলতা  যখন  দেখেছি, হয়তো বা সেই ক্ষণেই তোমায় ---ভালবেসেছি। ....জল ভরা মেঘ  ঐ দুচোখে  দেখতে আমি পেয়েছি,  ---একলা মনে নির্জনেতে তোমার ছবি এঁকেছি...&#039;

দেখতাম দূরের আকাশে  সূর্য বিদায়ের  রক্তিম  লালিমা  ডালিম  ফুলের মতো রাঙা  রঙে সাজতো....  সেই সাথে চোখের সামনে  দেখা  শিল্পী মনে্&#039;র আঁকা--   পদ্মপুকুর আর আমার--আমি,  ও  সে একজন। সেই সব  স্বপ্নীল বিকেল  বা  সন্ধ্যা  উপভোগ করেছি। তার  কাঁচা  মনেও  সেসবি  ভালো  লাগতো।  আমাকে  বলতো  সে  কথা... আমিতো  আবেগে--  ওই  মনোমুগ্ধকর  অনবদ্য  প্রকৃতির  শোভা,  আসন্ন  সন্ধ্যার সময়বেলা  আর  চিরচেনা পদ্মপুকুর, সেই সাথে টঙ ঘরের চা&#039;য়ের  দোকান-- 
সব মিলেমিশে আমার ভেতরে--- আমি ভরে উঠেছি!..... 

আমাদের  দুজনের যোগাযোগ রক্ষা হতো  প্রধানত দেখা সাক্ষাৎ হলেই! আমাদের এই  সৌজন্য  মুখোমুখির  বাইরে,  আমরা  পরস্পরের জন্য  অদেখার পীড়নবোধ করতাম না অবশ্য। এর  প্রয়োজনও বিশেষ ছিলো না। মনের  ভেতর  ঢুকে  যাওয়া হারানো আশৈশবের মতো--- আমাদের মনের ভেতর কিছুটা কষ্টবোধ হওয়াটাইতো স্বাভাবিক  ছিলো। অন্তত আমি  টের পেয়েছিলাম। হয়তো  সেও  অনুভব  করেছে।  যে সময়কালের কথা বলছি,  তখন সহজ যোগাযোগের জন্যে--  সুলভ কোনো যন্ত্র হাতের  মুঠোতে  ছিলো  না। তারবিহীন মোবাইল ফোন, আন্তর্জাল  যোগাযোগ  বা  ফেসবুকের মতো নিমিষেই সহজতর কোনো প্রকার যোগাযোগ!

অতীতের সময়কে  পিছনে ফেলে তারপরে আমরা, আমাদের কর্মজীবন  বা জীবন সংগ্রামে--- যে  যার মতোন ছিটকে গিয়েছিলাম। দুইদিকে দু&#039;জন! 

----- গোটাদিনের কর্ম জীবন, ব্যস্ততা, ঝুট ঝামেলা  ছাড়িয়ে  আমার দিন  শুরু হতো রাতের দিকে। মানে আমার  ব্যাক্তিগত সময় শুরু হয়!  কোনো কোনো সময়ে কিছুটা রাত গভীরে  ইন্সোমোনিয়া---  অনিদ্রার অসুখ  চেপে ধরে আমাকে। তখন  অন্তরের অস্থির ভাবটা কাটাতে, নিশুতি রাতের চাপকে শান্ত রাখতে ভালো লেখার কোনো বই অথবা  আমার পছন্দের  বইটা পড়ি। কবিতার বই হলে--  প্রথম পছন্দ  হিশেবে কবি  সমর সেন পড়ি।অসাধারণ সব কবিতা তাঁর। নিরালা ও বিস্মৃতি কবিতা  দুটি অবশ্যই পড়ি।পড়ি আর সেই  সাথে  চিত্রকল্পনা করি।ভাবনা আর স্বয়ংম্ভু চিন্তা করতে করতে, ----একটা  সময়ে  অবশ্য  চোখে  ঘুম নেমে আসে।....   

-----ঠিক এগারো বছর পরে.... 
তার সাথে  আমার  পুনরায়  দেখা  হয়েছে  আমারই এলাকায়।এই পেরোনো সময়ে আমার কতো পরিবর্তন হয়ে গেছে! তারও দেখছি  নাকের নিচে  ঢাউস  এক গোছা গোঁফ। মিলিটারিদের চেহারার একটা ভাবসাব তার সারা মুখে,তার চোখ জোড়াতে!
স্থির  তাকিয়ে মুখের হাসির মতো নরম স্বরে সে জানতে চাইলো--
---&#039;দাদা, এই যে- প্রজ্ঞাদা&#039;--&#039;
আমি  কয়েক  মুহূর্ত  নির্বাক  থেকে  তাকে দেখলাম। এদ্দদিন্  পরে  তাকে  দেখতে পেয়ে--- মনের  কোণে  আমার  ভালোলাগাটুকু  লুকিয়ে  না  রেখে  আমি  বললাম,
---&#039;আরে, ---তুমি যে!  কদ্দিন বাদে তোমাকে দেখলাম্। --সব ভালোতো?&#039;...

দাঁড়িয়ে থেকে  সে  চারিদিক  পরখ  করে  দেখতে লাগলো। হয়তো চোখের সামনে দেখা--- নতুনের সাথে পুরোনোকে মেলাতে থাকে।  মুখ ঘুরিয়ে আমাকে দেখে বলে উঠলো-
---&#039;আপনাকে  দেখতে  এসেছি। একে  তাকে জিজ্ঞেস  করে  করে  শেষে  আপনার সন্ধান  পেলাম। এখানে  বহুকিছুই পাল্টে গেছে দেখছি! চারপাশের  উন্নতি  হয়েছে--- কি বলেন?&#039; 
আমি বললাম,---&#039;বাইরের পরিবর্তন সহজে চোখে পড়ে যায়।কিন্ত মনের পরিবর্তন সহজে চোখে পড়বে না।মনের পরিবর্তনটাই হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে কাম্য।&#039; পরক্ষণেই বলি-- &#039;এসো আমার সাথে।&#039;

বাইরে তখন বিকেল বেলা গড়াচ্ছে।আমিও ঘর থেকে বেরুবো ভাবছি।একটা অল্প দরকারী  কাজও  ছিলো। ব্যাক্তিগত ব্যবসার  কাজে প্রায়ই আমাকে বের হতে হয়।কিন্ত আজ তাকে দীর্ঘকাল পরে এতো কাছে পেয়ে,  তার সঙ্গ পেতে ও নিজের সঙ্গ তাকে দিতে ইচ্ছে হচ্ছিলো।
আমি ও সে-- ঘরে ঢুকলাম।আমার স্ত্রীর সাথে পরিচয় করে দিয়েছি।ছোট ছোট পা বাড়িয়ে এখন হাঁটতে শিখেছে।আমার শিশুপুত্রটা কাছাকাছি  এসেই  বা-বা, বা-বা করে ডাকতে লাগলো। তাকে  বললাম, ---এই  হলো আমার  জগত সংসার...  অল্প দূরেতে দাঁড়ানো আমার স্ত্রী  রাঙা মুখে  আমাদের দেখে  বললো--  &#039;আপনারা বসুন, আমি একটু চা&#039; করে আনি।&#039; 

[একটা  বিষয়ে  আমার কিন্ত চোখের দৃষ্টি  এড়িয়ে গেলো না। সে পরণের  পোশাকে ক্রেতাদুরস্ত বেশ ফিটফাট  হয়ে আছে। কিছু বছর আগে আমি-- তার  মধ্যে এমনটা দেখতাম  না। যেটা  এখন  দেখছি। আবার  বেশ  চোখে  পড়বারই  মতো-- সে  নাক সিঁটকানো ব্যাপার করছিলো। আমার  স্ত্রী তাকে  বসতে বলাতে  সে&#039;তো  বসলোই না বরঞ্চ কেমন একটা বিব্রত হচ্ছে!  তার মুখটা দেখে যে,  কেউ এটি বলে দিতে পারে।এমনভাবে সে--  আমার  পিছনে  দাঁড়ালো যেনো কোনো  কিছুর সাথে ছোঁয়াছুঁয়ি না হয়ে যায় এবং আমার ঘরদোর যে তার ভালো  লাগছে এমনও নয়। মনে  হলো, তবু  সে নিজের মনের বিব্রত বোধকে চেপে ধরে মুখে হাসির প্রলেপ মেখে-- হাত দুটোকে বুক সমান উঁচুতে তুললো।নমস্কারের মতো ভঙ্গিমা করে আমার স্ত্রীর দিকে দেখালো! যদিও আমার স্ত্রী তাকে হাসিমুখে  বেশ আন্তরিকতার সহিত  প্রতি উত্তর দিয়েছিলো। ----সে  তার মুখে  শুধুই সাইনবোর্ডের  মতোন হারানো  হাসিটুকু ধরে  রেখে শুকনো দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো! আমার মনে হয়েছে, অযথা  হাসি মাখানো মুখে  আন্তরিকতা দেখাতে গিয়ে কেউ যদি  আন্তরিকতার ভানের অভিনয় করে-তবে এই অভিনয়টা ধরে ফেলতে খুব বেশি বুদ্ধি জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না]

---আমিই স্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বলি,-- &#039;নাহ,  আমরা বসছি না। বরং এক্ষুনি বের হয়ে যাচ্ছি।&#039; 
ঠিক  তখনই  তার  মোবাইলে  রিং  টোন  বেজে  উঠে। সে  ফোনটা  কানে  লাগিয়ে আমাকে অনুসরণ করতে থাকে।আমি শুধু শুনতে পেলাম এটুকু-- ফোনে বলছিলো, জ্বী, --জ্বী --স্যার.... 
আরো দেখছি-- সে  এমনভাবে হাঁটছে যে-- বিরক্তি আর শাস্তিকে একযোগ করলে যা হবে! ফোন কলটা  কেটে দিয়ে--- সে এবারে  দুঃখিত মুখে  আমাকে দেখে বলে, --&#039;এভাবে আমার আপনার ঘরে যাওয়া ঠিক হয়নি।আমি একদমই  শূণ্য হাতে  ঘরে গেছি।&#039;
আমি বলি--&#039;কিচ্ছু  ভূল  হলো না।আমার যে দেখা পাবে তুমি ওই  বিষয়ে নিশ্চিত ছিলে না।তাছাড়া আমি যে ঘরে নিয়ে যাবো --সেটাও তুমি আগে থেকে জানতে না।&#039; 
সে বললো-- &#039;তবুও&#039;--- 
আমি তার কাঁধে স্বস্নেহে হাতটা রেখে বলি--&#039;চলো, ---এসো--- যাই&#039;....
বললো--&#039;আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি?&#039;...
আমি বলি--&#039;বহুদিন আগে এই আমরা যে জায়গাটাই যেতে চাইতাম-- তোমার কি মনে আছে, -- কোন্ জায়গা?&#039;
সে বলে--&#039;হ্যাঁ-- অবশ্যই মনে আছে।কিন্ত আমি কি এখন আপনার কোনো সময় নষ্ট করে দিচ্ছি নাতো?&#039;...
তার দিকে না তাকিয়ে আমি বললাম--
--&#039;সময়কে নষ্ট করবার  মতো বিলাসিতা  আমার হাতে থাকে না। জীবনে সংগ্রাম ও পরিশ্রমকে, আমি একমাত্র পাথেয় করেছি।নিজের মনের সততা, সমাজ ও সংসারে একটু ভালো করে বাঁচবার আশাতে-- এটি আমাকে করতেই হয়।&#039;

----দুজনে পথ চলতে চলতে--- সামনে একটা রিক্সা পেয়ে গেলাম। জায়গাটির নাম বলা মাত্রই--  রিক্সা চালক বলে--  &#039;উঠেন।&#039;  আমরা রিক্সাতে চললাম----
আমি দেখতে পাচ্ছি-- আবারো তার পকেটের মোবাইল ফোনটা বাজছে!...

এগারো বছর আগেকার  সেই টঙ চায়ের দোকানটি  আর নেই।এখন নতুন অনেক দোকান হয়েছে। কিছুটা যুগের চলতি হাওয়াতে টিপটাপ্ ধরণের। আমরা একটাতে গিয়ে  বসেছি। সেইদিনের  অল্প দূরের  প্রকৃতির  সবুজাভ ছবি,  আমার দেখা  সেই স্বপ্নময়ী  পদ্মপুকুরের শ্রী  আজ অনেকটা ম্লান  হয়ে এসেছে। পরিবর্তনে  সব সময় ভারসাম্য  রক্ষা হয় না।দিগন্তের সবুজে ছাওয়া প্রকৃতিকে পদদলিত করে মানুষ যে পরিবর্তন আনে  নিজের সাছ্বন্দ্যের জন্যে,  ---ওইটা  প্রকৃতিকে  এক  প্রকার  ধ্বংস করেই! 

---- এখন আমরা দুজনে--- চোখের সামনে যা দেখে চলেছি....

দোকানের ছেলেকে আমি চায়ের সঙ্গে কিছু দিতে বললাম।তারপরও আমি সৌজন্য করে তাকে জিজ্ঞেস করলাম। চা-বিস্কুট,  ঝাল কিছু খাবে কি-না?&#039;
সে বলে গরম গরম সেই তেলেভাজা পুরি-কচোরী কি এখন আর পাওয়া যায় না?&#039;
বললাম-- &#039;হ্যাঁ আছে। তবে আগের আকারেতে নেই।এখন সাইজে ছোট হয়ে গেছে!&#039;
------------------------

আমরা মুখোমুখি বসেছি।কিন্ত তার বসবার চেয়ারটি যথেষ্ট পরিছন্ন থাকার পরেও, সে পকেট থেকে টিস্যু পেপার বের করে-- আস্ত করে ঘষে মুছে নিলো। এরপর বসে এমন করছিলো যে, এখানে বসে তার স্বস্তি হচ্ছে না। আমার চোখাচোখি  হওয়াতে বসলো তবু। ...সেই সঙ্গে ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসি লেগেছিলো---
(খেয়াল করলাম যে-- হয়তোবা পূর্ব আবেগ, প্রবল শুচিবাই ও নাক সিঁটকানো, এই তিন ব্যাপার--  সম্ভবতো চেপে রাখা যায় না! )

.....চা&#039;য়ের পর্বটা সেরে বাইরে চলে এসেছি।

আমরা শেষ বিকেলে দুজন পাশাপাশি হাঁটছিলাম।আমি দেখছি তাকে ও চারদিকটা। দূরে বড়ো আকারের একটি লম্বা টাওয়ারের মাথায় হেলোজেন লাইটের উপর একটা  কাক বসেছিলো।তাকে ঘিরে আরও  তিন চারটি কাক নানা দিকে বসেছে। এদের কি কোনো শোকসভা বসেছে,  নাকি এরা নিজেদের জীবন সংগ্রামের গল্প করছে?... আরো কিছুটা দূরে-- অনেক লম্বা একটা মালবাহী রেল লাইনের উপর দাঁড়িয়ে ছিলো এ্যানাকোন্ডা সাপের মতো। মাঝে মাঝে ওটা কাঁপুনি দিয়ে দুলে দুলে উঠছে! 
আমার  এক হাত  দূরেই সে। দুই হাত  নিজের প্যান্টের পকেটে  ঢুকিয়ে  তন্ময় হয়ে দেখছে চারপাশটা। প্রত্যক্ষ  অনেক কিছু  পরিবর্তনের নামে  যা  হয়েছে, সেই  সব মিলিয়ে  নিতে চাচ্ছে  হয়তো।তারপর সেখান থেকে চোখ ফিরিয়ে জানতে চাই---
---&#039;আপনিতো একজন ভালো বই পড়ুয়া ছিলেন। আপনার এই দিকটি আমি বেশিই পছন্দ করতাম। আপনি পড়ুয়া যেমন তেমনি এক প্রেমিকও ছিলেন।&#039;  
একটুক্ষণ থেমে।সে যেনো থিতু হয়ে নিয়ে বলে--
---&#039;আমি যদি নামটা ঠিক ভূল না বলি-- তাহলে পূর্বা&#039;দি  তার কি খবর? শেষ পর্যন্ত দিদিটা কি অাপনার ঘরের ঘরণী হলো না? এইতো আপনার ঘরে যে বউদিকে দেখে এলাম, ----ইনি নিশ্চয় পূর্বাদি  নয়?&#039;
আমি বলি--&#039;নাহ্--  ও পূর্বা ছিলো না।দেখো তখনতো আমি একটা বেকার প্রেমিক ছিলাম।প্রেমিক  হিশেবে  বেকার ছেলেগুলো  ভালো  হয়। কিন্ত ঘরোয়া নুন তেলের হিসেবে গড়া  একজন স্বামী হিশেবে  ঠিকঠাক মনে করে না--  আমাদের এই সমাজ অবশ্য ! 
তবে এখন আমার মনে হয় যে, ------&#039;যাকে  ভালোবেসেছি খোলা প্রকৃতির মতো, তাকে ঘরে নিয়ে এলে-- শুধু মানুষটা ঘরে আসবে। বাইরের খোলা উদার প্রকৃতিময় তার ভালোবাসাটা কিন্ত আসতো না! আর যাকে (বিয়ে করে) ঘরে নিয়ে এসেছি-- আগে চিনতাম না, জানতামও না-- সে শুধু ভালোবাসাটা নিয়ে আসে, হয়তো মানুষটা আসেনি--  আশ্চর্য লাগে-- হা&#039;হা&#039;হা !&#039; 
---আমি নিঃশব্দে হেসে উঠি।
সে বললো--&#039;আপনার এই আশ্চর্যকর চিন্তা-ভাবনা আমাকে কিভাবে যে তখন মুগ্ধ করতো,  ---এখন ভেবে অবাক হতে হয়!---    
-----তার এই কথা শুনে আমি পুনরায় হাসলাম।
---&#039;আই  ক্যান  নট  টীচ্  এ্যানিবডি এ্যানিথিং,  আই ক্যান অনলি মেইক দ্যাম্ থিং।&#039; (আমি  কাউকে  কিছু  শেখাতে  পারি  না। আমি  কেবল  তাদের  ভাবাতে  পারি।)---এটি  মহান  দার্শনিক  সক্রেটিসের  বয়ান,---  বললাম  আমি।সে এবারে জানতে চাই-- &#039;চোখ নিয়েও আপনি তখন সুন্দর একটা  কথা  বলতেন-- 
---&#039;হ্যাঁ,  সুন্দরতম চোখ। বলা হয়ে থাকে  ----প্রাচীনকালে দুনিয়ার  সব চেয়ে  সুন্দর   চোখের অধিকারী ছিলো-- গৌতমপুত্র কুনালের!  
---&#039;সত্যি কথা না কি?&#039; ----সে প্রশ্ন করে।  
    আমি বললাম---&#039;হতে  পারে। এটি  একটি  ঐতিহাসিক  সত্যি!  ইতিহাসের  বুকেই এর সৌন্দর্য!....

 ...তার ফোনটা আবার বাজছে... কড়া রিং টোনটা শোনা যাচ্ছে!... 

একটু সড়ে গিয়ে  সে কানে ফোন লাগিয়ে  কি সব  যেনো বলছিলো। আমি  শুধু শুনেছি শেষে এই----  জ্বী-- জ্বী স্যার, ঠিক আছে।

...সে আবার পকেটে হাত ঢুকিয়ে  বুক কিঞ্চিৎ স্ফীত করে আমার পাশে হাঁটছিলো।বললো--- &#039;দাদা, আমিই তাকে থামিয়ে দিয়ে বলি চলো এবারে কোথাও একটু বসা যাক...
--&#039;আচ্ছা-- নীতি-নৈতিকতা, কি অনেক বড়ো ব্যাপার নয়?&#039;  ----সে জানতে চেয়েছে।
--&#039;এটা  এক কথায় নীতিবোধ। এটি আমাদের মনের শুদ্ধতা। এই শুদ্ধতা প্রত্যেকের ব্যাক্তিগত  ব্যাপার।  সত্যিকারের  ভালো  মানুষ  এই  শুদ্ধতা  হারিয়ে  ফেলেন  না।&#039; ---&#039;নৈতিকতা---  নিয়ে  প্রাচীনকালের  এক মজার  কাহিনী  মনে পড়ছে।  ---বলি,---
 সন্মতি হিশেবে সে,  মৃদু করে মাথাটা নাড়লো শুধু! ---
--&#039;আমরা আস্রপালী নামের যে আমটি এখন খায়। এই নামটি এক সময়ে একজন নগর পতিতার  নাম  ছিলো। এই নারী  নাগরিক  সমাজে  যেমন  সম্মানিতা  ছিলেন তেমনি ছিলেন অপরুপা।তাকে যে কেউ শর্ত সাপেক্ষে কামনা করতে পারতো।এখন কার সময়ে এটা ভাবা যাবে? ভীষণ রুপসী ছিলেন বলে রাজ্যের ক্ষমতাধর অনেকেই  তাকে বিয়ে করে নিজের করে  পেতে  চাইলো! এই জন্য রাজ্য ঘোষণা করে-- তাকে  কেউ একার করে  পাবে না। এই নারী  হবে সবার... সে হবে  নগর বধূ মানে পতিতা। তার পছন্দ ও অবশ্যই শর্ত মেনে  যে কেউ  তার গৃহে যেতে পারবে। ---রাজ্যের নীতি আর ওই নারীর নীতিবোধ তোমার কাছে কেমন লাগছে?&#039;  
--- আমি প্রশ্নটা করলাম তার কাছে।

দেখি সে  চুপচাপ। দূরের দিকে তাকিয়ে ছিলো। আমি অপেক্ষা করছিলাম সে তার নিজের বর্তমানের (জীবন) গল্প--- নিজ থেকে কখন বলবে...
----&#039;প্রজ্ঞাদা, আমি এখানে বড়ো একটি নামী প্রতিষ্ঠানের-- শাখা ব্যবস্হাপক হয়ে,  গত দু&#039;দিন আগে---- ঢাকা থেকে বদলি হয়ে এলাম।&#039;
আমি  বলি-- &#039;বেশ দায়িত্বপূর্ণ পদের চাকরি।&#039; আমার কথাতে তার মুখে যেনো এক ঝিলিক&#039;চ্ছটা খেলে গেলো!---  
সরাসরি  আমার  চোখের  দিকে  তাকিয়ে--  সে  জিজ্ঞেস  করলো---
---&#039;এবারে বলুন--  প্রজ্ঞাদা,  আপনি আসলে কেমন আছেন?&#039;
[ আমি এতোক্ষণে বুঝলাম। সে আমাকে কী বোঝাতে চাইছে? চোখে আঙ্গুল দিয়ে    সে আমাকে জানাতে চাই, তার বর্তমানের সামাজিক অবস্থান ও পদের ক্ষমতাবলী...  তাহলে  তার  আমার সাথে  দেখা করার প্রকৃত লক্ষ্য--  অবস্থানের পরিমাপ করা! ---এগারো  বছর  আগে--  দুই জন  যখন  নিজেদের  দুই রকম জীবনের গতি স্রোতে  আলাদা হয়ে গিয়েছি।তখন সে ছিলো ছাত্রাবস্হায়। আমি ছিলাম শিক্ষিত বেকার। তারপর---  আজ এগারোটা বছর পরে, সে দেখতে  আর পরিমাপ  করতে এসেছে, -----আমাদের দু&#039;জনের প্রথাগত সফলতা কি?...]

আমি অনেক দূর পর্যন্ত তাকিয়ে ছিলাম। সেখান থেকে চোখ ফিরিয়ে তাকে দেখি-- তার কাছে জানতে চাইলাম-- &#039;তুমি যাকে স্যার বলছো। কে উনি?&#039; সে বললো-- &#039;আমার উপরের-- উর্দ্ধতন।&#039; 
--&#039;তুমি কি জানো,  স্যার কথাটার প্রকৃত অর্থ কি বোঝায়?&#039;
--&#039;উর্দ্ধতনকে--- অধীনস্থরা স্যারইতো বলবে--
--&#039;হ্যাঁ  বলে।এটা বলাতে বাধ্য করে। এটা বলা লিখিতভাবে বাধ্যতামূলক নয় কিন্ত।সার্ভিস রেগুলেশনেও  বলা নেই। একজন  সরকারী  কর্মকর্তাকে একজন সরকারী কর্মচারী  স্যার বলতে বাধ্য নন। স্যার, মানে স্লেভ আই রিমেইন্ হলো, আমি অনুগত দাস। ব্রিটিশরা চালাকি  করে ভারতীয় প্রজাদের পদানত  বা চেপে রাখার জন্য এই &#039;স্যার&#039;  শব্দ সংক্ষেপ  দাপ্তরিকভাবে  ব্যবহারের  প্রথা চালু  করেছিলো। কিন্ত  তারা তাদের  শাদা বর্ণের  উর্ধতনকে,  কর্তৃপক্ষকে  বলতো--- ইওর এক্সেলেন্সী!  সুতরাং  সরকারী,  অসরকারী  কোনো  উর্ধতনকে  স্যার  না ডেকে-- মিঃ  অমুক  বলা  যায়।কারণ-- কেউ কারো অনুগত দাস  নয়।গণতন্ত্র ব্যবস্হা এটিকে সমর্থন করতে পারে না।&#039;
---আমি একটু থেমে এবারে বলি-- &#039;প্রতিদিন তুমি  কয়বার এই স্যার, মানে  স্লেভ আই  রিমেইন্--- কথাটি উচ্চারণ করো--   পঞ্চাশবার  হয়তো  এরও বেশি হবে?

সে এবারে নিশ্চুপ।মাথাটা খানিকটা ঝুঁকে আছে সামনের খোলা আকাশের দিকে। আমি তাকে বলি-- &#039;মোবাইল ফোনে  আমাকে  সারাদিনে  হয়তো একবারও  স্যার শব্দটি বলতে হয় না। প্রয়োজন পড়ে না।&#039;

সে অস্ফুট স্বরে বললো-- &#039;সরি&#039; দাদা... কিন্ত আপনার গুণমুগ্ধ-- মন-- থেকে...

আমার হাতটা তার কাঁধে আবারো স্ব&#039;স্নেহের ছোঁয়াই রেখে পরিশেষে হেসে বললাম--- &#039;আজো  আমি একজন  তোমার সত্যিকারের  শুভাকাঙ্ক্ষী আছি।আর  এই যে আমি, ----আছি আমি আমার মতোন,  ----খারাপতো নেই। এখানে, এই পৃথিবীতে জন্মে আমি সুখী বোধ করেছি নিবিড়ভাবে-- আহা! 
---&quot;ঘাসের ভিতর ঘাস হ&#039;য়ে জন্মাই কোনো এক নিবিড় ঘাস-মাতার শরীরের সুস্বাদ অন্ধকার থেকে।&quot; 
সে জানতে চাইলো---&#039; এটি কার লেখা?&#039;
তাকে বললাম।----&#039;কবিতার  রাজপুত্র  কবি জীবনানন্দ দাশের।&#039;
সে হাসতে থাকে। অবশেষে, তার আন্তরিকতাও ভনিতাহীন হতে থাকে!...

আমি উঠে দাঁড়ালাম। সাথে অবশ্য সেও উঠে --দাঁড়ালো---
---&#039;আচ্ছা অনেক কথা হলো আজকে। যাই,  ----চলি আমি... 
বলেই সামনে নিজের পা বাড়ালাম।... 
---- সে দাঁড়িয়ে ছিলো---
....আমি পিছনে তার দিকে আর না তাকিয়ে চলে এসেছি এইখানে, চির সময়ের গভীরে যেখানে অপেক্ষারত আমার ঘর বাড়ি।
----এই জীবনের শেষ সময় অবধি, যেখানে আমি বসবাস করবো!....
------------------------
[  গল্প  ]
আগষ্ট, ২০২১ ইং</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/68745/</link>
				<pubDate>Sat, 04 Dec 2021 10:31:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8216;মাঝে মাঝে গল্পের শরীরে নিজেও ঢুকে যেতে ইচ্ছে করে! ওটি একটি নির্মোহ পরিতৃপ্তি। গল্পের অন্যান্য চরিত্রের  সাথে মিলেমিশে একাকার হওয়ার&#8230;<br />
যেমন&#8211; নিচের গল্পটি; যেখানে আমি নিজেকে আবিস্কার করেছিলাম অন্যরুপে!&#8217;</p>
<p>নগর পতিতা  আম্রপালী  ও  আমি অনুগত দাস<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;</p>
<p>তার সাথে ছিলো আমার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-68745"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/68745/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">31f34a73789b4cec6c6335724e5a24c7</guid>
				<title>[বৃদ্ধকাল, বা জীবশ্রেষ্ঠ প্রাণীর বৃদ্ধ সময়ের  অবস্থাটি আমাকে ভাবাই। মানুষ  জীবশ্রেষ্ঠ বলে-- তার বৃদ্ধ বয়সের সময়টাকে আমি সবিশেষ চিহ্নিত করি, একে যতটুকু  সাধ্য বোঝার জন্য  ভাবনা-চিন্তা করি। শব্দ, বাক্যে ওই ব্যাপারটি  আমার  যৎসামান্য  লেখালেখিতে  ধরবারও  চেষ্টা  করেছি। মনে  হয়েছে, মানুষের শেষ কাল,  বৃদ্ধ  বয়সের  ব্যাপারটি---   এই  সময় কালের  শারীরিক  অক্ষমতা,  প্রাকৃতিক ভাবেই  এক পরাজিত  সময়ের কাল!  এই  সময়ের  মানুষের  মান-যশ-সামাজিক শক্তি-মেধা-প্রতিভা-জ্ঞান-বুদ্ধি,  ----এমন কি কর্মের  সৃষ্টিশীলতা  বিশেষ  কাজে  আসে  না! (যদিও  সুদূরপ্রসারী  সৃষ্টি- কর্মের প্রভাব, পরবর্তী সময়ের মানুষের মাঝে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখে।ব্যাক্তির এই গুণাগুণ  তাঁর জন্য  সৌভাগ্য  অবশ্যই! ) প্রকৃতির কাছে  মানুষের এই চিরন্তনী সমর্পিত হার মানা--  একটি নিমর্ম পরাজয়ের মতো!]
=================================================
------&#039;সবথেকে  ইন্টারেস্টিং  এই,  মানুষের  জন্ম-প্রক্রিয়াও  বেশ  কষ্টের,  আবার  মৃত্যু-প্রক্রিয়া  আরো  কষ্টের  কিন্ত  এই  দুই  মধ্যখানের  সময়ের  আশ্চর্য  বেঁচে থাকাটা অসম্ভব সুখের!&#039;....


....আপনার সামনে একটি আয়না, 

=========================================

----আপনার  সামনে  একটি  দন্ডায়মান  আয়না  রয়েছে----
....আপনার  সামনে  প্রমাণ সাইজ  একটা আয়না এখন!
---- আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন?
আয়নাতে আপনাকে  দেখা যাবে অতি অবশ্যই... 
তাহলে আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন, কি দেখতে পান?

আপনার ডান গালে বহু আগে থেকেই  কয়েক&#039;টি দাড়ি পেকে,
শাদা হয়ে ছিলো!

আপনার  চোখ দুটির নীচে   কালো ছোপ পড়েছে-- যে কখন?
----আজ আপনার মনে পড়ে না....

মুখের  চামড়ায়  একপাশে,  নাকের  দক্ষিণ  দিকে, ---
বেশ ক&#039;টি মুখের গর্ত ছিলো-  আপনি যৌবনে ওটা জেনেছেন;
তারপর  কতো&#039;কাল আপনি  ওইগুলি দেখেননি,  ---আয়নাই!

ছুটেছেন  শুধু---  সামনে--  দু&#039;হাতে  সময়কে  পিছনে  ফেলে, 
নিজেকে ভেবে ছিলেন গতিময় কিছু, --আর গতির ধর্ম- ছুটে
চলা;-- 

আপনি শ্রমকে-স্বপ্নকে-গতিকে ত্রিবেণী করে- অর্থবিত্ত, সংসার, 
ঘর থেকে অফিস, সকাল বিকাল, চশমা চোখে দেখেছেন শুধু;--
টেবিল মিটিং-- পদন্নোতি, ব্যবসার প্রসার,  শীতাতপ-সুসজ্জিত--
হোটেল কক্ষে নিজের সুউচ্চ অবস্থান, --- 

দেখেননি শুধু নিজেকে, নিজের আঙ্গুলগুলিকে, হাতের কনিষ্ঠা 
আঙ্গুলের নখটা দেখতে কেমন?  আপনি জানেন না; --

একসময়ে--  আপনার কপালের  উপরে ছড়িয়ে থাকতো কিছু--
তারুণ্যদীপ্ত  স্বাধীন ঘন  কালো চুল!  আজ ওইগুলি কিন্ত নেই, 

আজ,
আপনার ঘন যৌবন বিগত,  পদক্ষেপে জড়তা,  চোখে বিবর্ণতা, 
দীর্ঘ-সময়ের, 
---আপনার প্রত্যক্ষ  বাস্তব সামাজিক  সফলতাগুলি-- আপনার 
কাছে আজকে--- কিছু মুহূর্ত মাত্র! 
এবং  কিছু  অপেক্ষা  করে  নেই  আপনার  জন্য-- 
.....কামনাঘন প্রেম; সবুজ সকালের যৌবন; পদোন্নতির তেজ;--

---সবই ছুটছে, সবাই ছুটছে, আপনি একদা ছুটেছেন যেমন! ... 
---শুধু  আপনার সামনে--  সময়ের অযত্ন  আয়নাটি পড়ে আছে!

(১)(১২)(২০২১)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/67542/</link>
				<pubDate>Thu, 02 Dec 2021 06:42:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>[বৃদ্ধকাল, বা জীবশ্রেষ্ঠ প্রাণীর বৃদ্ধ সময়ের  অবস্থাটি আমাকে ভাবাই। মানুষ  জীবশ্রেষ্ঠ বলে&#8211; তার বৃদ্ধ বয়সের সময়টাকে আমি সবিশেষ চিহ্নিত করি, একে যতটুকু  সাধ্য বোঝার জন্য  ভাবনা-চিন্তা করি। শব্দ, বাক্যে ওই ব্যাপারটি  আমার  যৎসামান্য  লেখালেখিতে  ধরবারও  চেষ্টা  করেছি। মনে  হয়েছে, মানুষের শেষ কাল,  বৃদ্ধ  বয়সের  ব্যাপারটি&#8212;   এই  স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-67542"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/67542/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">07399cbf8818e138bd6306976b24ab9a</guid>
				<title>স্মৃতিতে হেমন্তঃ&#x2665;
------------------------

&#039;তুমি বিষন্ন; বিধুর; ধূসর--- হেমন্তকাল&#039;

[ বাঙলার মহান বহমান প্রকৃতির যেনো ফাঁক সময়--- এই হেমন্ত&#039; কাল!]


হেমন্ত যেনো বহুদূর থেকে আসে।আমরা কোনো এক সন্ধ্যায় তাকে আবিষ্কার করি।
এক অচেনা বিষন্ন মনঃকষ্ট চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে! সুদূরের ধূসরতা, বাদামী বর্ণের হৈমন্তিক লজ্জা, নিয়ম করে এক বিরহীর সাথে যেনো-- দেখা করতে আসে? 
খোলা মাঠে, জংলা ঘাটে, ঘাসের আঙ্গিনায়, গাছের পাতায়, বিরহিনীর খোঁপায়--- 
আমার চোখে, তোমাদের ঘুমালো মনে, হেমন্তকাল আসে সন্ধ্যার মতো চুপি চুপি...
প্রেমিকা অথবা প্রেমিক হারা বিধুর হেমন্ত, আমার বুকে ভোরের শিশির কণা হয়ে জমতে থাকে!
আমি নিমগ্ন জমাট দুঃখের সাক্ষী হয়ে আছি বহুকাল, এলোমেলো খড়ের গাদা বিছানো মাঠে একা উপুর বা চিৎ হয়ে শুয়ে দেখছি দূরের আসন্ন সন্ধ্যার হেমন্ত!
মাথার উপরে প্রায় কালো হয়ে আসা নীলচে আকাশ, অনেক দূরের দিগন্তের পারে আবছা কুয়াশার রেখা ঘিরে রেখেছে শূণ্য বুকের এক প্রিয়ার মুখ! আমি সূর্যাস্তের ঘন বাদামী আলোর রঙে, সেই মুখ দেখে দেখে আমার খুব ভিতরে-- আমি বিষন্ন অবসন্ন হয়ে, ভেঙ্গে পড়তে থাকি;---
কার্তিকের মৌন দুপুরে-- ভাষা বিমুখ যৌবনের আলস্যতা, পূর্ণিমা রাতের অগ্রহায়নের জোৎস্না, মধ্যরাতে মাঠের একপাশে কেটে রাখা খড়ের স্তুপে, জীবনানন্দের একটি লক্ষী পেঁচার ভেতরের আত্মচিৎকার, তারই কিছু দূরে শিশির পড়ার শীৎকারের শব্দ,
----হলদে রঙের কুয়াশা আচ্ছন্ন শেষ বিকেলের বিরাট মাঠে..., 
----হেমন্তরাতে মেঘে ঘেরা একফালি চাঁদের মুখ লুকানোর খেলা,...
হিম হয়ে জমে যাওয়া বিবর্ণ হেমন্তের পড়ন্ত বেলার আবচ্ছায়া ক্লান্ত প্রজাপতিদের ডানায় লেগে থাকতে দেখেছি কতো!  
আত্মায় ঘোর লাগা আমি তার গ্রীবা স্পর্শে ছুঁয়েছিলাম কোনো এক হেমন্ত আঁধারে,  
সে চোখ তুলে দেখেছিলো--- আমাকে, নদীপাড়ের হৈমন্তিক রঙের গোধূলি মেখে।
বহু হেমন্ত পেরিয়ে, আজ আরেক হেমন্তে-- সে শাদাকালো স্মৃতির চোখে তাকিয়ে দেখে আমাকে.... 
আমার বুকের অলিন্দে অচেনা ঢেউয়ের কষ্ট, শুকিয়ে যাওয়া মাঠের মতো বিদায়ী হেমন্তের ধূসর বিষন্নতা, 
আর,  তেমনি ঘাঁসফুলের রঙে আমার স্বপ্নে&#039;রা অগ্রহায়নের আকাশে রাত জাগা নক্ষত্রেরা, ভোরের আকাশে যেমন ঝাপসা হতে থাকে!....</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/54708/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Nov 2021 14:26:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্মৃতিতে হেমন্তঃ&#x2665;<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;</p>
<p>&#8216;তুমি বিষন্ন; বিধুর; ধূসর&#8212; হেমন্তকাল&#8217;</p>
<p>[ বাঙলার মহান বহমান প্রকৃতির যেনো ফাঁক সময়&#8212; এই হেমন্ত&#8217; কাল!]</p>
<p>হেমন্ত যেনো বহুদূর থেকে আসে।আমরা কোনো এক সন্ধ্যায় তাকে আবিষ্কার করি।<br />
এক অচেনা বিষন্ন মনঃকষ্ট চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে! সুদূরের ধূসরতা, বাদামী বর্ণের হৈমন্তিক লজ্জা, নিয়ম করে এক বিরহীর সাথে যেনো-&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-54708"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/54708/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">132db83c8f3b1475b2667c37ad350ca6</guid>
				<title>&#039;কেবল আঘাত  দেয় মূর্খ  চতুর্দিক;
আমিও  এখনো  নিষ্ক্রিয়  নির্ভীক---
ভারাক্রান্ত মন আজ অবিশ্রান্ত যায়, 
তবু  নিকটস্থ  ফুল সুগন্ধে  মাতায়।&#039;
                          ----- কবি সুকান্ত।
---------------------------------------------------------------------------------------

.....মাতৃহারা  একজন বালক  বা সদ্য কিশোরের  মনোজাগতিক নৈঃশব্দিক  কষ্টের গল্প। গল্পের নাম--- &#039;মনোযোগী শ্রোতা।&#039;


&#060;&#062;
মনোযোগী শ্রোতা
----------------------


শতদ্রুু ----- 
এখানে তার ঠাকুর দাদার আমলের পুরোনো, এই যে পুকুর পাড়ের পশ্চিম কোনায়,  একটি নিদিষ্ট  গাছের  নীচে  প্রতিদিন  আসে, ---প্রত্যেক দিনই? 
-- নাহ, বলা ভালো হবে,  শতদ্রুুর হাতে যখন সময়টা হয়-- তখনই সে এই গাছটির নীচে এসে দাঁড়ায়।....
তার যতো কথা--  এই একটি গাছের সাথে,  যতোসব না বলা একান্ত কথা  এই গাছটার সাথে!  এতো কীসের কথা তার, ---এই নির্ভাষিক গাছের  সাথে?  মনের কথা,  প্রাণের কথা,  সে অন্য ভাষাবান  কারো সঙ্গে  আদান প্রদান করতে পারে না!

পশ্চিম দিকের প্রশস্ত পুকুর পাড়টায় বারোমাসি সবুজ রঙের জঙ্গলে ভরা  থাকে। কিছু পুষ্ট ফুলবতী কলাবতী  গাছের সাথে আরো রয়েছে কিছু  চেনার সাথে অচেনা সব জঙ্গলি ফুল ফলের গাছগাছালিতে,  ওই জায়গাটা পরিপূর্ণ হয়ে থাকে।...  সেখানে হয়তো খুঁজলে পাওয়া যাবে-- কালোবাসক, তেলাকুচা, বনকচু, আলকুশী, ঘেঁটু, লজ্জাবতী,  ডুমুর,  শাদা নয়নতারা,  মান্দার, শিয়াল কাঁটা, বকফুল, ভেরেণ্ডা, মধুজবা ইত্যাদি....

পুকুরে যাবার পথের মুখ ছাড়িয়ে,  বাঁয়ে পায়ে চলার  আলরেখার চিকন  পথ ধরে অল্প দূর এগুলে, গাছের ছায়ার নিচের শ্যাঁতশ্যাঁতে জায়গার মাটিতে অথবা গাছের গায়ে আশ্রিত, বড় আকারের ব্যাঙের ছাতা গজিয়ে রয়েছে।
শেষ বিকেলের দিকে-- যেখানে আবার কয়েকটি নাচুনে ছাতারে পাখিদের সশব্দ আনাগোনা!....
পুকুরে যাবার অন্য পাড়ে  ---পথিমধ্য হতে  হাতের  ডানপাশে--  নিঃশব্দে দাঁড়ানো আছে পেটমোটা বড় বড় কয়েকটি আম গাছ।ওইখান থেকে শুরু হালকা জঙ্গলের মতো  দুই এক জাতের  নকশা কাটা সবুজ পাতার  পঙ্খীরাজ ফার্ন, ঢেঁকি শাকের  গাছগাছালি।পাশে এদেরই সাথে রয়েছে সারা গায়ে ছড়ানো কাঁটাযুক্ত সুচালো ফণী মনসার  ঝোঁপঝাঁড়। বহুদিন  পর পর  এই ক্যাকটাস  জাতীয় গাছে  অন্য  রকমের সুন্দরী ফুল ধরে! 
অল্পদূরের ওদিকটায় পুকুর ঘাটলার কাছাকাছি, শতদ্রুুর ঠাকুরমার নিজ হাতে লাগানো একটি এলাচি লেবুর গাছ।কখনো সন্ধ্যাকালের হালকা-আঁধারের বাতাসে অজস্র এলাচি লেবুদের মুকুলের গন্ধে চারপাশটা মৌ মৌ করে!....


প্রায় শতদ্রুুর মা বারণ করে তাকে বলে --&#039;এই &#039;শতো, পুকুর পারে-- ঠিক ভর দুপুর বেলা, শেষ বিকেলে একদম যাবি না।&#039;
&#039;কেনো যাবো না- মা?&#039;-- শতদ্রুু দ্রুত জানতে চাইতো মায়ের কাছে---
শতদ্রুুর মা বলতেন--- &#039;ওই সময়গুলি ভালো না রে বাবু&#039;,---
শতদ্রুু বলে--&#039;গেলে কি হবে মা?&#039;,---
বকুনির সূরে শতদ্রুুর মা বলতেন--&#039;তোমার খারাপ করবে, ওই সময়ে নির্জন জায়গায় পরী, দেউরা থাকে।এরা তোমাকে ভয়টয় দেখিয়ে কোনো অজানা স্হানে সঙ্গে করে নিয়ে যাবে। তাহলে-- তুমি,  আমাদের সবার কাছ থেকে হারিয়ে যাবে, ---&#039;বাবা, 
--- পরক্ষনেই, 
আরো যোগ করে তিনি বলেন, --পুকুরের নিচে, সেখানে গভীরে থাকে মহাকাল,  ভর দুপুর বেলায় তুমি যখন একা থাকবে ---পুকুর ঘাটলার জলে নামবে, তখন মহাকাল তোমার পায়ে লোহার শেকল পড়িয়ে জলের নিচে টেনে নিয়ে যাবে---  আর কোনো দিন ফেরত দিয়ে যাবে না--  বাবু তোমাকে! 

মায়ের কথাতে শতদ্রুুর মনে কিছুটা ভয় ঢুকে পড়ে...  সে  অনেক দিন পর্যন্ত মায়ের এই কথার অবাধ্য হয়নি।---


পঞ্চম শ্রেণীতে পড়বার  সময়ে শতদ্রুুর মায়ের শক্ত এক রোগ ধরা পড়ে। সে ছোট বলে কেউ সরাসরি তার মায়ের কী যে রোগ হয়েছে, তাকে সেকথা বলেনি।কিন্ত এই কান ওই কান, পাঁচ কান হয়ে, সে জেনেছে তার মায়ের ক্যান্সার হয়েছে।এই রোগটা হলে মানুষটা আর বাঁচে না। সেদিন থেকে শতদ্রু মায়ের খুউব কাছে ঘেঁষতে চেয়েছে। সেদিন থেকে সে বুঝেছে, তার চেনা জগতের রঙিন সবকিছুর পেছনে লুকিয়ে আছে নিকষ কালো রঙের অন্ধকার! চোখের দেখায় আমরা আবেগের সঙ্গে সে সব শাদাকালোকে আসলে রঙ ছড়িয়ে রঙিন বানায়! গোপনে কিন্ত থেকে যায় বিবর্ণ ধূসরতা, সত্যিকারের বাস্তব শাদাকালোই! সেটা দাঁত খেলিয়ে বের হয়ে আসে তখনই---- যখন হাতের মুঠোয় আর রঙ থাকে না!....

শতদ্রুুর মায়ের দিনে দিনে রোগটি বেড়ে যেতে থাকে।তার মা কাহিল হয়ে পড়েন... মায়ের জন্য চিকিৎসা নামক সুরক্ষা কী হচ্ছে, সেটা সে জানে না।প্রকৃতিরই কাছে সে হাত পাতে...

বিরাট সীমামুক্ত নীল আকাশ,  সবুজ বনানী, পাহাড়,  নদী,  সাগর থেকে মহাসাগর,  ভাসমান মেঘের কাছে,  রুদ্র বাতাস,  তীব্র আগুন, রিমঝিম বৃষ্টির কাছে, দিনের প্রতাপী সূর্য, পূর্ণিমার রাতের স্নিগ্ধ চাঁদের কাছে-- সে অশ্রু সজল আকুল হয়ে মায়ের রোগ মুক্তির জন্য হাতজোড় করে মিনতি করে... 

তার মায়ের এখন চোখের নীচে চওড়া কালির ছোপের রেখা পড়েছে।ঠোঁট দুটিও নীলচে রঙের খসখসে শুকনো। চুলে চিরুনীর আঁচড় পড়েনি বহুদিন হয়। শরীর শীর্ণকায় হতে থাকে।তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়া প্রায় উঠে গেছে... 
শতদ্রুু বুঝতে পারে তার মা আর বেশিদিন বাঁচবে না। ---তবু শতদ্রুুর মা মলিন মুখে তাকে কাছে ডেকে নেয়, জানতে চান-- ঠিক মতোন সে ইস্কুলে যাচ্ছে কি না? পিঠে শীর্ণ হাতখানা বুলিয়ে দিতে দিতে কাঁপা কন্ঠে বলেন--  দুষ্টুমি না করতে,  ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করতে, পড়ালেখা করতে... 
শেষে বললেন প্রধান কথাটি--  সে যেনো এখন থেকে  একা একা নিজের সব কিছু করতে শেখে... এই কথা বলে, শতদ্রুুর মা&#039; অঝোরে কাঁদতে থাকেন।শতদ্রুুর দু&#039;চোখ থেকে টপটপ  করে জল গড়িয়ে পড়ে...  কিন্ত ওই কান্নার কোনো শব্দ তৈরি হয় না!

কিছুদিন পরেই--  শতদ্রুু মাতৃহারা হয়।---  নিজের ঘরেই এখন শতদ্রুু এক এতিম পুত্র!
এক কথায় শতদ্রুুর দৈনন্দিন-যাপন,  দিনের  শুরু থেকে  শেষ পর্যন্ত  সবকিছুর  সময় অনুযায়ী করার যে তাগিদ অথবা তাগাদা, মাথার উপরের যে ছায়াটি, --অতি মমতা দিয়ে, শাসন করে, অপার স্নেহ আদর ও উৎসাহ দিয়ে করাতো-- আজ তা নেই বলে, সে যেনো হঠাৎই ছিটকে ছন্দোময় সব কিছুর বাইরে পড়ে গেছে! তাকে ডাকাডাকি করে প্রয়োজনে মিষ্টি মধুর শাসন বা অনুপ্রেরণা যোগানোর কেউ নেই! তবে আছে একজন,  সেটা সে নিজেই!.. এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, নিজেকেই নিজে টেলে এগিয়ে সামনে নিয়ে যেতে হবে!....

মাতৃহারা শতদ্রুুদের ঘরে এখন তার বাবার দিকের দূর সম্পর্কের হতদরিদ্র, পোড়া কপালী, অসহায়া বয়স্কা এক মেয়েলোক থাকছেন।ফুঁসে উঠা রুদ্র দরিয়ার বুকে একটি পাল গুটানো বড় নৌকার যেমন অবস্থা হতে পারে, তাদের সংসারের তেমন দুরাবস্থায়---  এই মেয়েলোকটা তাল ঠিকঠাক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন---  তবু শতদ্রুুর মনে হতে থাকে-- এ যেনো দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো! তার অসুস্থ অক্ষম মা-টা বেঁচে থাকা অবস্থায়ও তাদের সংসারটা চারদিক ঘিরে, এতোটা শূণ্যতাই ভরে উঠেনি!... 

একটি করে দিন যেতে থাকে-- প্রত্যেকটা দিনের শুরুতে এবং দিনের শেষে নানা রকম অপ্রিয় কিছু ঘটতে থাকে। এতে শতদ্রুুর বাবা অসহিষ্ণু হয়ে উঠেন... তিনি মর্মাহত হতে থাকেন, এমন কি তিনি রুষ্টও হচ্ছেন! যা বাইরে থেকে দেখে যে কেউ বুঝতে পারছিলো! ...আড়ালে সবাই এই ব্যাপারটকে নিয়ে কানাঘুষা করছিলো-- সদ্য শূণ্য হয়ে উঠা এই সংসারটা হয়তো আর বেশিদিন শূণ্য থাকবে না।
নতুন মুখের কোনো বউকে দিয়ে-- সেটা সহসাই ভরাট করা হবে!....

প্রথমে ব্যাপারটি বুঝতে পারে শতদ্রুু নিজে।  তার মনে হতে লাগলো, তার এতো দিনেকার  চেনা জানা বাবাটা,  এই অল্প কয়েকদিনে কেমন বদলে যেতে থাকে!    সে বোঝে---  বাবার এই বদলে যাওয়া তার মায়ের মৃত্যু শোকের জন্য অবশ্য নয়।কেমন দুঃখিত চোখে তার বাবাটা চারদিকে তাকাচ্ছেন, কেমন নিঃসঙ্গ মনে সব ভূলে যেতে থাকেন। কিন্ত এই ভূল ভালে তিনি নিজেই বেশ বিরক্ত হতে থাকেন... অযথাই একে ধরে, ওকে ধরে বকাঝকা করেন।এতে শতদ্রুুর অনেক মন খারাপ হয়।
-----  শতদ্রুু তার মায়ের এমন হঠাৎ করে,  চিরদিনের জন্য চলে যাওয়ার অতিশোকে ও মনের কষ্টে যেখানে খুউব কাতর আর নিঃসঙ্গ হয়ে গেছে, সেখানে তার বাবার এই রকম আচরণে--- তাকে মনের অতলে পোড়াতে থাকে.... যা কেউ দেখতে পায় না!....

একদিন, শতদ্রুেুর মৃতা মায়ের অন্তেষ্টিক্রিয়ার তিন মাস পরে--- তার বাবা, তাদের ঘর সংসারের আপাতত রক্ষাকারী---  যে মেয়েলোকটা  দৈনিক উদয় অস্ত তাদের ঘরের  গেরস্থালি সামাল দেবার জন্য বেশ খাটাখাটুনি করছেন--  শতদ্রুুর বাবা সেই মেয়েলোকটার মুখোমুখি হন। রক্তজবার মতো লাল দুই চোখ পাকিয়ে তিনি মেয়ে লোকটার প্রতি খড়গহস্ত হলেন---   মেয়েলোকটাকে এহেন হেনস্তা করার জন্য--- দূর থেকে শতদ্রুুর কী যে লজ্জা লেগেছিলো....

কোনো মুখরোচক ঘটনার ধর্মই হচ্ছে--  ঘটনা ঘটার পরে, ঘটনাটার ডালপালা গজানো, তারপর সময়ের পুষ্টিতে বাড়ন্ত ঘটনার বুক থেকে কুঁড়ি থেকে ফুল থেকে মুকুল--- সবশেষে ফল হয়ে ফলাফল প্রকাশ পাওয়া! 
শতদ্রুুর মামাবাড়ির দোরগোড়া পর্যন্ত বিদ্যুগতিতে এই খবরটি, বর্ষার আকাশের মেঘ গুড়গুড় গম্ভীর ধ্বনির মতো পৌঁছে যায় যে, শতদ্রুুর একজন সৎমা আসছে!
শতদ্রুুর মা বিগত  হয়েছেন মাস  তিনেকের বেশি হয়--  এরি মধ্যেই এমন বেমক্কা সংবাদ যেই শুনছে বা যে কোনো মানবিক শ্রোতাকেই ব্যাথিত করে তুলছে!.... 

শতদ্রুুর মায়ের বাবা বাড়ির এক এলাকারই, তার মা&#039;র বড়োবেলার বেশ ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর মেয়ে। যাকে শতদ্রুু ছোটকাল থেকে তাসলিমা আপু ডেকে এসেছে।
----শতদ্রুুর মামাদের বিশেষ অনুরোধ ও ইচ্ছেতে,  তাসলিমা আপু  ও  তার  মা, শতদ্রুুকে দেখতে এলেন। 
----শতদ্রুু স্কুল থেকে ফিরে দেখে--- তার সেই তাসলিমা আপু নিজের মায়ের সাথে তাদের বাড়িতে এসেছে।
প্রথমেই শতদ্রুুর তার তাসলিমা আপুর সাথে চোখাচোখি হয়।হাসিমুখে তাসলিমা তাকে কাছে ডেকে জানতে চাইলো---
--&#039;এই শতো&#039; তুমি কেমন আছো?&#039; 
শতদ্রুুও মুখ হাসি হাসি করে মাথাটা সামান্য নেড়ে উত্তর দেয়--  সে ভালো আছে।
তাসলিমা  বুঝে নিলো  এটা  শতদ্রুুর  কোনো মতে  দেয়া জবাব মাত্র!  তার চোখ দেখেই তাসলিমা বুঝতে পেরেছে-- শতদ্রুুর ছোট্ট বুকে, পাথর চাপানো কষ্টগুলির ঝড়ো বাতাস বইছে... তবু তাসলিমা শতদ্রুুকে কাছে ডাকলো-- 
--&#039;শোনো, আমার কাছে আসো&#039;-- শতদ্রুু শুকনো মনে  মুখস্থ পড়া বলার মতো পা চালিয়ে--- তার তাসলিমা আপুর দিকে এগিয়ে যায়।তাসলিমার সামনে দাঁড়াতেই-- তাসলিমা  তার হাতটা  ধরে বলে উঠে--  &#039;চলো--  তোমাদের পুকুর  পাড়ের দিকে যায়... 
অগত্যা শতদ্রুু নামেমাত্র  মুখহাতটা ধুইয়ে--  তাসলিমার সঙ্গে  পাশাপাশি হাঁটতে থাকলো।তাসলিমা,  শতদ্রুুর  জন্যে বিস্কুট, চকোলেট, চানাচুর  এনেছে--  সেসব শতদ্রুুর হাতে দেয়... 
শেষ বিকেলের ক্লান্ত  রোদ তাদের  দুজনের নাকে মুখে  পড়েছিলো---  শতদ্রুুর বুকের মাঝখানে একটা বোবা কান্না ঘুরপাক খায়। তার ছোট্ট বুকের আকাশে আকারে অনেক  বড়ো আকৃতির  একটা  কালো রঙের  কষ্টের মেঘ  আনাগোনা করে, সে কাউকে-- এটা দেখাতে পারে না, কাউকে সে- সেই কথাটি বলতে চাইও না.... 
আবার যেনো তার বুকের ওই কষ্টের মেঘটা--- তাসলিমার সান্নিধ্যে এসে গম্ভীর নাদে্ ডাকতে শুরু করলো!...
যেতে যেতে তাসলিমা জানতে চাইলো--  &#039;শতো, তুমি কেমন আছো, আমাকে বলো-- আমি সত্যি সত্যি জানতে চাইছি,  তারও আগে তুমি কিছু খেয়ে নাও।
আমরা হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি? &#039; 
শতদ্রুু উপর নীচে-- মাথা নাড়ে শুধু... কিন্ত নিচু মাথায় হাঁটতে থাকে। 
তারা পুকুর পাড়ের মুখে এসে থামে।শতদ্রুু বিস্কুট মুখে দিয়ে খেতে খেতে জানতে চাই--
---&#039;তাসলিমা আপু,  আপনি কেনো এসেছেন?&#039;
---&#039;বা&#039;রে-- তোমাকে দেখতে এসেছি।তোমাকে দেখতে খুব মন চেয়েছে, তাই না-- এলাম।&#039;
---&#039;আমার মা যখন বেঁচেছিলেন তখনতো আসেননি। মা&#039;কে দেখতে মন চাইনি?&#039;
এক কিশোরের মুখে এমন প্রশ্নে-- তাসলিমা একটু চমকে্ উঠে! কিন্ত সেটা দেখালো না।এবারে তাসলিমা ভালো করে দেখে শতদ্রুুকে, আর এবার তাসলিমা বুঝতে পারলো নিজের ভূলটা! আসলে শতদ্রুু এরি&#039;মধ্যে বেশ বড়ো হয়েছে।মমতা মাখানো আবেগের জন্যে এতোক্ষণ---- এটা তাসলিমার দৃষ্টিগোচরই হয়নি!... 
---&#039;তখন  আমার বিএ  পরীক্ষাটা নিয়ে একটা  ঝামেলা হয়েছিলো। এইসব কিছুর  কারণে আসা হয়নি।তুমি দেখেছোতো আমি কিন্ত একা আসিনি।আমার সঙ্গে করে আমার মা&#039;ও এসেছেন।আমি ইচ্ছে করলেও, তখন একা এখানে আসতে পারতাম না।&#039;
(শতদ্রুুর তাসলিমা আপু, শতো&#039;কে ইচ্ছে সত্ত্বেও এটা বলতে পারলো না-- তার মা&#039; ও সে- দুজনে,  শতদ্রুুর মামাদের বিশেষ অনুরোধে ও ইচ্ছেতে...  তবে তাসলিমার এই শতো&#039;কে একবার দেখতে মনে ছেয়েছে বলে অন্তত নিজে তাসলিমা এসেছে।)

---&#039;শতো,  তোমাকে  আমি আরো  ছোটকাল  থেকে দেখছি। সেই দেখাও  তোমার মামাবাড়িতে।এখন তুমি বড়ো হয়েছো।ভবিষ্যতে আরো বড়ো হয়ে একজন ভালো মানুষ  হবে। এখন  তুমি  আমাকে  বলো,  শুনেছিলাম  এই  পুকুর পাড়ে  তোমার একান্ত একটি জগত আছে?&#039;
---&#039;তুমি কি এখানে এসে আজো সময় কাটাও?&#039;
---&#039;হ্যাঁ। পুকুর পাড়ে সময় কাটালে আমার মন ভালো হয়ে যায়।&#039;
----&#039;তোমার মন খারাপ কেনো?&#039;
শতো&#039; মাথা নুয়ে চুপ করে থাকে।মুখে কথার উত্তর দিতে চাই না।

পুকুর ঘাটলা থেকে কাছেই---  ডানদিকের পরিত্যক্ত একটা জায়গা জুড়ে অজস্র সূর্যকন্যা ফুল ফুটে আছে। দূরে থেকে দেখলে মনে হবে---   এই সূর্যকন্যা ফুলেরা কাঁচা সবুজের বুকে-- হলুদ রঙের বড়ো ফোঁটা ফোঁটা, শিল্পীরই নিপুণ হাতে আঁকা যেনো কোনো ছবির মতোন!  সেই দিকে আঁড় চোখে  এক মনে তাকিয়ে তাসলিমা, শতদ্রুুর কাছে জানতে চাইলো-- &#039;শতো, তোমার মন খারাপ থাকার বিশেষ কোনো কারণ কি আছে?&#039;
----শতদ্রুুর চোখের কোণা জলে ভরে খানিকটা চিকচিক করছিলো।
----&#039;আপু, যেদিন আমার মা বলেছিলো-- আমি যেনো একা একা নিজের সব কাজ করতে শিখি, নিজের কাজগুলি নিজে করি-- ওইদিন থেকে আমি বুঝেছি আমার কেউ নেই।&#039;....

এই কথা শুনে তাসলিমা নিজের মধ্যে চমকে উঠে!  ----একজন একা কিশোর নিজের মধ্যে নিজেকে কিভাবে গুটিয়ে নিলে--- এমন কথা সব বলতে পারে!... 

---&#039;শতো, তুমি একদম একা-- এমন করে কেনো ভাবছো? তোমার বাবা রয়েছেন, পরিবারের ঘনিষ্ঠ পরিজনরাও আছেন,  আর মামারা আছেন,  ---এই যে  আমিও তোমাকে দেখতে এসেছি। ---শুধু শুধু তুমি যে একা, কেনো ভাবছো?&#039;
----&#039;আমার মন এটা বলেছে--  একদিন আমি একা হয়ে যাবো।আমার মা&#039;ও ঘুমের স্বপ্নে  এসে বলেছে,  ----আমার একজন নতুন  মা আসবে। তখন আমার  মা স্বপ্নে আর আমাকে দেখতে আসবে না।&#039;....
---&#039;বুঝেছি...&#039;  তাসলিমা বললো।
---&#039;আচ্ছা, তুমি কি নিশ্চিত যে, তোমার নতুন একজন মা আসছে?&#039;....
---&#039;সবাইতো বলাবলি করে এই কথা---  আমার বাবা আরেকটা বিয়ে করবেন।আবার ইস্কুলেও বন্ধুরা এই বলে ক্ষ্যাপায়, আমার নাকি &#039;ডাবল মা&#039; হবে।&#039;

( শতদ্রুুর মায়ের অকাল মৃত্যু&#039;টার শূণ্যতা বোধ, তার বুকে ঝাঁক বেঁধে কষ্টগুলো ----যেনো সব কাঁচপোকা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে!) 

---&#039;এই খবরটা কি শেষপর্যন্ত কানাঘুষাও হতে পারে না?&#039;  ----তাসলিমা শতোর দিকে না তাকিয়ে কথাটি বললো।

( কথাগুলি বলে তাসলিমার মধ্যে অপরাধ বোধের মতো অনুভূতি হয়। কেননা সে নিজেও নিশ্চিত জানে না, আদৌ ওই কানাঘুষার খবরটি মিথ্যে হয়ে যাবে কি না?)

শতদ্রুু নিশ্চুপ।শুধু মৃদু মাথাটা নাড়লো.... 
---&#039;শতো তুমি, তোমার প্রিয় পুকুরপাড়ের সবকিছু আমাকে ঘুরিয়ে দেখাবে না?      এখানে এসেছি যখন, তোমার প্রিয় এই জগতটার সঙ্গে আমিও, একবার পরিচিত হয়ে যায়।&#039;...
-----শতদ্রুু এই কথারও কোনো প্রতিউত্তর দিলো না। সামান্য একটু হাসলো মাত্র....
তাসলিমা শতদ্রুুকে সঙ্গে  করে পুকুরপাড়ের সবুজের  ভিতরে প্রবেশ করলো। দেখতে লাগলো বিকেলবেলার আলোতে এক অন্যরকম প্রকৃতির শোভাকে!   দেখে দেখে এগুতে থাকে।কিন্ত অল্প দূরে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে...
চারিদিকের  দারুণ প্রকৃতির,  এই রকম নিজস্ব  ছবিময় শ্রী সৌন্দর্য--- ইতিপূর্বে তাসলিমা দেখেনি। সে একই সাথে  মুগ্ধ হয়েছে,  আবার বিষন্ন  হয়ে উঠে! যখন তাসলিমা দেখতে পাই--  
বড়ো একটা গাছের গায়ে  সাঁটানো মোটা সাইজের বড়ো  টুকরো কাগজে শতদ্রুু কয়লা  বা এই রকমের কিছু দিয়ে এঁকেছে---  একটা এলোকেশী নারীমুখের ছবি! ছবিটির নিচে হাতে লিখেছে গোটা গোটা অক্ষরে... &#039;আমার মাকে ভালো করে দাও ---অসীম আকাশ; মাকে ভালো করে দাও-- প্রজাপতি মেঘ; মাকে ভালো করে দাও ---সবুজ গাছপালা;  ...সূর্যদেব;  ----এভাবে সে আরো কিছু লিখেছে...
আহা! ছোট্ট শাদা মনে---  মাকে সুস্হ করে তোলার জন্য একজন কিশোর প্রাণের আকুতিতে, তাসলিমার নিজেরই অজান্তে চোখদুটি জলে ভরে ঝাপসা হয়ে উঠতে চাইলো!   
এখন শেষ বিকেল।দিনের বেলার প্রায় শেষ সময়।চারিদিকে উদিত সূর্যের আলোর রোশনাই কমে এসেছে।নিঝুম এই পুকুরপাড়ের এক টুকরো প্রকৃতির, ঘন সবুজের সান্নিধ্যে তাসলিমা  যেমন অন্যরকম সুখের  আবেশে ভরে উঠেছে,  সাথে সাথে এই 
একা নিঃসঙ্গ একজন কিশোর শতো&#039;র জন্যে, তার তেমন মনের ভেতরটা কষ্টে ভরে উঠলো!
---&#039;শতো&#039; তুমি কি তোমার মা&#039;কে দেখতে পাও, মানে হচ্ছে--- খালা&#039;মণিকে, উনি কি আসেন-- তোমার সাথে দেখা করতে?&#039;
শতদ্রুু পুকুরপাড়ের সেই গাছের দিকে তাকিয়ে ছিলো।যে গাছটার গায়েতে সে তার মা&#039;য়ের আঁকা ছবিটি সেঁটে ছিলো।----
--&#039;ধরো,  এই পুকুরপাড়ের  নির্জনতায় তোমার মা&#039;--- কি,  কোনো কিছুর  রুপ ধরে, তোমার সাথে দেখা করতে আসেন?&#039;
---&#039;নাহ! এইভাবে মা&#039;য়ের সাথে আমার কোনো সময়ে দেখা হয়নি।&#039; 
--- এই&#039;টা বলে--  শতদ্রুু চুপচাপ থাকে।

দৃশ্যত জগত সংসারটা নিবেদিত কিছু অদৃশ্য সংযোগ তারের সমাহার! তারই মধ্যে এই শতদ্রুুর,  একটি সংযোগ  তার ছিঁড়ে গেছে...  ওই বিচ্ছিন্ন  সংযোগ তারটির নিজস্ব পরিচয়-- মা ও সন্তানের মধ্যেকার প্রাকৃতিক সম্বন্ধ! 
তাসলিমা চোখের সামনে এখন দেখতে পাচ্ছে, একজন শতদ্রুু যেনো, কোনো সুতো কেটে যাওয়া, ঘুড়ির মতোন মনের আপন ভূবনে, চরকি হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে!...

---&#039;শতো, বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেলো-- এখানে এলাম। চলো, এবারে ফিরে যাই।
---&#039;তাসলিমা আপু, আপনারা কি আজ রাতে আমাদের বাড়িতে থাকবেন?&#039;
---&#039;নারে-- শতো, তোমার সাথে দেখা হলো।তোমার বাবার সাথে যদি দেখা হয়ে যায়, তাহলে ভালো।  আমরা কিন্ত  কাছেই আজ রাতে,  আমার আব্বুর  ছোট রবিউল চাচুর বাড়িতে থাকবো। তারপর সকালে-- না হয়, দুপুরে ফিরে যাবো।&#039;

চলতে চলতে তাসলিমা শতদ্রুুর কাছে জানতে চাইলো--
---&#039;তোমার কি মামাবাড়িতে  একেবারে চলে যেতে ইচ্ছে করে, ওখানে ভবিষ্যতে  তুমি বসবাস করলে?&#039;... 
---&#039;আপু, আমি কোথাও যেতে চাই না।&#039; 
---এই বলে পথ চলতে, শতদ্রুু হোঁচট খেলো---
সে মাটিতে বসে পড়ে। এই সময়ে তাসলিমা দেখতে পেলো শতদ্রুুর পায়ে মারের কয়েক&#039;টা দাগ, আহারে-- কালচে রঙ হয়ে চামড়ায় বসে গেছে! 
তাসলিমার  মনটা-- এই জন্য হু হু  করে উঠে,  কিন্ত এই আবেগটাকে সে লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন বোধ করে।

রাত গভীরে হঠাৎ ঘুমের ঘোরে---  শতদ্রুু দেখে, কী যে সুন্দর একজন দেবী মা!   তার কিছুদূর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ভীষণ সুন্দরী দেবী মা, দেবীর গা থেকে রুপের জ্যোর্তি বের হচ্ছে।শুভ্র বসন, কাঁচা হলুদের মতো গায়ের বরণ, কাজলটানা চোখ, রক্তাভ ঠোঁট, ঢেউ খেলানো খোলা চুলের রাশি, হাসি মাখানো মুখশ্রী... 
একটু একটু করে-- খালি পায়ে দেবী মা শতদ্রুুর সামনে এগিয়ে আসছে...  
----কিন্ত এই কি, ---দেবী মা&#039;র চেহারাটা অবিকল তার নিজের মায়ের মতো যে!...

বহুদিন পরে---  
শতদ্রুু নাম জেনেছে তার ওই প্রিয় গাছটির।সেটি ছিলো একটা বরুণ ফুলের গাছ।অনেককাল আগে--  সে এই গাছেরই গায়ে সিরামিকের ভাঙ্গা কাপের টুকরো দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁটিয়ে লেখার চেষ্টা করেছিলো---
&#039;আমার প্রিয় বোবা বন্ধু!&#039; 
যদিও তার লিখতে মন চেয়েছিলো পুরো একটি লাইন, 
--&#039;আমার একমাত্র একান্ত বোবা শ্রোতা বন্ধু&#039;... 

[ গল্প ]

২২/৯/২০২১</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/48612/</link>
				<pubDate>Wed, 27 Oct 2021 07:20:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8216;কেবল আঘাত  দেয় মূর্খ  চতুর্দিক;<br />
আমিও  এখনো  নিষ্ক্রিয়  নির্ভীক&#8212;<br />
ভারাক্রান্ত মন আজ অবিশ্রান্ত যায়,<br />
তবু  নিকটস্থ  ফুল সুগন্ধে  মাতায়।&#8217;<br />
                          &#8212;&#8211; কবি সুকান্ত।<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;</p>
<p>&#8230;..মাতৃহারা  একজন বালক  বা সদ্য কিশোরের  মনোজাগতিক নৈঃশব্দিক  কষ্টের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-48612"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/48612/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fdfb5f90d9d7e4a7002c48040c4db2b0</guid>
				<title>মানুষ  যা  কথায়  প্রকাশ  করতে  পারে না,  তা  প্রকাশ  করে গানে,            আর  গানেও  যার  প্রকাশ  সম্ভব  নয়,  তা  প্রকাশ  করে  কবিতায়।
                                                                            ----  বার্ণাড শ।


নীলাভ  এক  মুখোচ্ছবি,  বই,  এবং  একটি  সিগারেট
&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&#039;&quot;&quot;&#039;&quot;&#039;&quot;&quot;&#039;&quot;&#039;&quot;&#039;&quot;&#039;&quot;&#039;&quot;&quot;&quot;&#039;&quot;&#039;&quot;&quot;&#039;&quot;&#039;&quot;&#039;&quot;&quot;

আজকে আমার  আগুন ধরানো একটি  সিগারেটের জন্য, 
------যে  বিপুল  কাতরতা;-

লাল   রক্তের  ভেতর  জ্বালা   ধরে-  কাঁপুনি  বোধ   করি;-
-----মজে  যায়  সময়  মতো। 
কখন  ধরাবো  একটি সিগারেট?  দু&#039; টান  দিয়ে  বুঝে নেবো, 
-----আমার পৃথিবী, ---আমার সাথেই ঘুরছে!

আজকে  আমার  নিজস্ব লেখালেখির  জগতে  কোনো বন্ধু 
নেই---  হয়তো  কেউ নেই, আমি  একান্ত  এবং  নৈঃশব্দিক! 
সরব  যদিও  আমার  পছন্দ  হয়  না।

তবে  মাঝে মাঝে সরবে প্রথাগত হতে  মন্  একটু নেচে উঠে!
যেখানে সবাই সরবে নেচে যাচ্ছে,  সেই আগুন  নাচের হল্কার 
ঝাপটা,  আমার ভুবনের বেড়া ডিঙ্গিয়ে---   ঢুকে পড়ে আমার 
-----ভেতরে;  ------তারপরে অজানাতে হারিয়ে যায়...

অত্যন্ত  লাবন্যের  সুন্দরীর  নীলাভ  মুখটি,  এক সময়ে মনে
না  পড়লে,  বুকের  কেন্দ্রস্থলে ---চিন্ ---চিন্ করতো!...
কিন্ত আজ  একটি জলন্ত  সিগারেট---   ওই  মুখটির  চেয়ে 
শক্তিশালী  হয়ে  উঠলো! 

আবার  কোনো  একটি  বিদগ্ধ  ভালো  গ্রন্হ, রাত ভরে পড়ার 
সুখের জলের জোয়ারে, সিগারেটের মুখের আগুন নিভে যায়!

[ ১৪১২২০১৮ ]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37017/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Sep 2021 13:36:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মানুষ  যা  কথায়  প্রকাশ  করতে  পারে না,  তা  প্রকাশ  করে গানে,            আর  গানেও  যার  প্রকাশ  সম্ভব  নয়,  তা  প্রকাশ  করে  কবিতায়।<br />
                                                                            &#8212;-  বার্ণাড শ।</p>
<p>নীলাভ  এক  মুখোচ্ছবি,  বই,  এবং  একটি  সিগারেট<br />
&#8220;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;'&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8216;&#8221;&#8216;&#8221;&#8221;&#8216;&#8221;&#8216;&#8221;&#8216;&#8221;&#8216;&#8221;&#8216;&#8221;&#8221;&#8221;&#8216;&#8221;&#8216;&#8221;&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-37017"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/37017/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>15</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">94331917f4730766a92e2ae768b61aed</guid>
				<title>আজ  ভোর  সকালে  ঘুমটা  ভেঙ্গে  যায়। ঘুম  ভাঙ্গার  পর  থেকেই  কানাইবাঁশিকে  মনে  পড়তে থাকে...  কানাইবাঁশি  কিন্ত  গল্পের  একজন  চরিত্র! বলা ভালো-- ঋদ্ধ, জীবন বৌদ্ধিক বয়োজ্যেষ্ঠ এক চরিত্র। একদিন- নিজেকে যে  ঘুমের  ভেতরে  মৃত  মানুষ হিশেবে আবিষ্কার  করে। এভাবেই একটি গল্প, কানাইবাঁশির হাত ধরে এগিয়ে যায়... 
গল্পের নাম---&#039;মৃত্যুর দেয়াল&#039; 

-------------------------------
------[ মৃত্যুর দেয়াল ]------


একটা বিচ্ছিরি--- মনের ভেতর ভয় ধরিয়ে দেয়---- শিরদাঁড়া বেয়ে বইয়ে যায়--- 
----অজানা অপার্থিব এক শীতল হিমস্রোত--- যখন ঘুম ভাঙ্গে---

ভোর হবার আগে আগে কানাইবাঁশি ঘুমের মধ্যে গোঁ গোঁ করতে থাকে।তার আধো আধো মনে হয় মাথার ভেতর কিছু ঝিঁঝি পোকা ঝাঁ-ঝাঁ- করে! সেই সাথে তার মাথাও ঘুরতে থাকে-- একটা মোচড় খাওয়া দুঃস্বপ্নে!-- এভাবে থাকে ত্যক্ত করে চলছিলো!--
----- কানাইবাঁশি নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছে-- তার চোখের সামনের পাকা দেয়ালে তারই হুবহু মুখের ছবি, --কি আশ্চর্য, ছবির উপরে নীচে যা লেখা আছে-- সে-সব মৃত্যু হওয়া মানুষের জন্য লেখা হয়! সে যা দেখছিলো তা দ্রুতই দেখে শেষ হয়ে যায়--- ঘুম থেকে জেগে উঠে কানাই-- একটুক্ষণ ধাঁধায় পড়ে--- সন্দেহ হয়, সে--কি বেঁচে আছে? তাহলে ঘুমঘোরে তার যে ছবিটা দেয়ালে লাগানো দেখেছে... ছবির উপরে- নীচে লেখা ছিলো--- স্বর্গীয় কানাইবাঁশি--  ....আমরা তার আত্মার সদ্-গতি কানা করি.. ---- এখনো চোখের সামনে সেসব যেনো কানাই দেখতে পাচ্ছিলো।কিন্তু সে তার মৃত্যু তারিখটা কোনোভাবেই মনে করতে পারে না।কানাই বুঝতে পারছেনা অথবা স্মরণ করতে পারে না, --আদৌ সেখানে তার মৃত্যু তারিখ, লেখা ছিলো কি না?--

কানাইবাঁশি ঢোল বাজায়।এটা তার বাপ দাদার পেশা নয়। তাদের  পূর্ব-পুরুষের পেশা জলে জাল ফেলে মাছ ধরা।সেও এই পেশা আঁকড়ে ছিলো এৎদিন।---কিন্তু এই পেশায় সংসার চলে না।পেটে ভাত জোটে না।বেশ কষ্টে দিন যায়।আজকাল ঢোল বাজনার কিছু চল হয়েছে।কানাইবাঁশি জেলের পেশা সরিয়ে রেখে ঢোল বাজাতে আরম্ভ করে।-- সেও আজ বহুকাল হয়।--- এখন অবশ্য ঢোল জোড়হাই বাজনার বিশেষ কদর নেই।সামাজিক কিছু বান্দা অনুষ্ঠান পার্বণে তার ডাক পড়ে!এভাবে কোনো রকমে জীবনের জোড়াতালি দিয়ে সে চালিয়ে নেয়।এখন কানাই বাঁশির পঞ্চাশ পেরোনো বয়স।---পেটানো শরীর,-- রোদে পোড়া,-- কালচে তামাটে গায়ের রঙ,-- নাকের উপর গাম লাগিয়ে আটকে রাখার মতো পুষ্ট গোঁফ জোড়াতে যেনো কাঁচি পড়েনি বহুদিন হয়!-- তেল চপচপে মাথার ঢেউ খেলানো চুল,-- চোখ দুটো হালকা রক্তাভ বর্ণের, --চোখের কোল কিছুটা ঝুলে পড়েছে-- তাড়ি, চোলা, রঙ মাখানো পাহাড়ী, ভুসভুসে ঢেকুর গন্ধের বাঙলা, শর্ষণার ক্যারো মদ-- সবই-- সুযোগ সুবিধা মতো কানাই পেলে পান করে।খদ্দেরের ডাকে কোনো অনুষ্ঠানে গেলে কানাই তক্কেতক্কে থাকে বিনে পয়সাতে যদি একটু পান করতে পারে! নইলে মনের কবর থেকে ভাব-ভাবনার জন্যে ঢোলে ঘোর লাগা বাজন ধরার জন্যে সস্তার গাঁজা খেতে হয়! চপচপে তেল মাখানো কাঁধ লম্বা লড়া চুলের আগা ব্যাঁকা, ঢোলের বারির বাজনের তালে তালে মাথা দুলিয়ে কানাই--- এক অন্যরকম আবহের জনম দেয়!-- আফসোস, --জীবনে তার এই ভাব-চিন্তার উচ্চতা কেউ মাপলো না! সেও--কাউকে বোঝাতে পারলো না! আজব এই রঙিলা দুনিয়ার শাদাকালো মানুষগুলি! ---অথবা শাদাকালো এই আজব দুনিয়াটার রঙিলা মানুষেরা সব!---
কানাইবাঁশি -- এসব ভাবভাবনা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বোঝার চেষ্টা করে।সেও ঠিকঠাক এই ব্যাপারে বুঝতে পারছে কি না--- সে যদিও নিজে নিশ্চিত নয়!--

চৈত্র মাস-- এক ঘরোয়া বিয়েশাদির অনুষ্ঠানে ঢোল বাজানোর জন্য-- কানাইয়ের ডাক এলো-- এমন মোক্ষম সময়ে তার যুৎসই প্রিয় ঢোলের চামড়া ফেটে গেলো!-- তখন তার বউ বেঁচে ছিলো।কানাইয়ের চোখ ভিজে উঠে।----এক সময়ে সে- ঝর ঝরিয়ে কেঁদে ফেলে!--
তার বউ অবাক হয়-- জানতে চায়-- সামান্য চামড়া ফাটার জন্য-- পুরুষ  মানুষ কাঁদবে কেনো-? কানাই শান্তশিষ্ট হয়ে বলে-- বউ,  ----এই তুই বুঝবি না, --তোর বোঝার দরকার নাইরে&#039; ----
কানাইবাঁশির বউ কি বুঝলো না বুঝলো আমরা জানি না-- কিন্তু এই ঘোর বিপদের দিনে---  অনেক পুরোনো  বাপের বাড়ি  থেকে আনা  নিজের হাতের আংটিটা খুলে কানাইয়ের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে- এটা বেচে যা করার করো! ঢোলটা ঠিক করতে যা করতে হয়-- করো&#039;--- কানাইয়ের  অশ্রুসজল চোখ থেকে  ঠপ্ ঠপ্ করে  জলের ফোঁটা ঘরের দাওয়াই গড়িয়ে পড়ে! -- 

জেলেপল্লী থেকে খানিকটা দূরে--পূর্বে---
পুবকুলের ইস্কুলের হারেন মাষ্টর।এই তল্লাটে সক্কলে হারাধন মাষ্টারকে হারেন মাষ্টর বলে। ---একদিন কী যেনো বায়না কাজের কথা বলার জন্য কানাইবাঁশিকে ডাকে--সে ইস্কুলে গেছে হারেন মাষ্টরের সাথে দেখা করতে-- ক্লাস ঘরে--- তখন ছাত্রছাত্রী পড়াচ্ছিলো-- হারেন মাষ্টর।-- &#039;এই বোঝলি-- তোরা, -- ভগবান শব্দটার অর্থ কি-- মানে কি, জানিস কেউ-- বলতে পারবি কেউ?---
উপস্থিত ছাত্রের মুখগুলি নিরব-- কেউ বলার জন্য হাত তুলছে না-- হারেন মাষ্টার হাঁক দেন------&#039;কি-রে- তোদের আগের সপ্তাহে বুঝিয়ে বলেছিলাম- না--ভগবান তাকেই বলে-- যিনি দুঃখ দূর করেন-- মহান ভগবান আমাদের দুঃখ দূর করেন বলেই-- তাঁকে আমরা ভক্তকুলেরা ভগবান মানি-- বুঝছোস্&#039;---
...ইস্কুল ঘরের বাইরে থেকে-- প্রায় ঘরের সঙ্গেই লাগানো বহু দিনের পুরানা জাম গাছটার তলে দাঁড়িয়ে কানাই এসব শুনতে থাকে--&#039;দুঃখ দূর করেন যিনি&#039;--খুবই ভাবের কথা-- এই ভাবের কথার গূঢ় মানে কানাই আগাগোড়া ভাবতে থাকে!--- তাহলে যে কিছু আমাদের দুঃখ দূর করতে সহায়তা করে ওটাওতো ভগবান হবে? এই যেমন কানাইয়ের ঢোলগুলি!-- সে ঢোল বাজিয়ে জীবন চালিয়ে নেয়। ঢোল নেইতো তার হাত খালি-- টাকাপয়সা নেই-- পেটে ভাতও নেই-- সরাসরি কানাইয়ের খাওয়া পরণের দুঃখ কষ্ট দূর করতে পারে- কানাইয়ের ঢোল!-- তাহলে তার আসল ভগবান কে?-- খুবই ভাব-ভাবনার কথা! 
কানাইবাঁশি ভেবেও যার কুল-কিনারা করতে পারে না।একবার সে ভেবেছিলো হারেন মাষ্টরকে তার--এই দুঃখ দূরীকরণের ভাবের কথা জিজ্ঞেস করবে-- আবার ভাবে, সে নিরক্ষর মূর্খ-- সেটা যদি হারেন মাষ্টর তাকে মনে করিয়ে দেয়-- অথবা এই কথাতে হারেন মাষ্টর লজ্জা পাবে-- সেও লজ্জা পাবে-- 

বউ মরে যাওয়ার পরে--- কানাই বাপ দাদার জেলে পল্লী ছেড়ে এখানে খুশিপুরে চলে আসে।এলাকাটি শহরতলীর শেষ মাথা--- এটাও  এক টুকরো  জেলেপল্লী।   সে এখানকার গোষ্ঠী প্রধান।সেটা শুধু নামে মাত্র! ---তাকে কেউ অতীত সময়ের মতো মানে না-- বা-- মানতে চায় না।এখনো কানাইবাঁশিকে বিচার আচারে ডাকে--- বেশির ভাগই ঘরের গৃহস্হী বউদের  পেট বানানোর  কাহিনীর অপরাধের  বিচার করার জন্যে--- কার বউ কার দ্বারা পেট বানিয়েছে--- এই  রকম  সন্দেহের  বিচার করা খুব কঠিন কর্ম-- তীব্র অপবাদের তাপে শুকিয়ে যাওয়া মুখের কোনো ছোট খাটো সুন্দরী বধূকে দেখলে---- কানাইয়ের বুক গুড় গুড় করে--- কি করে--- ওই মেয়েটাকে কলংকের আপদ থেকে বাঁচাবে।---সে বুঝে ঘরের কেউ কচি মনের বধূ মেয়েটাকে কথায় ও স্বপ্নে ভূলিয়ে ফুসলিয়ে এই আকামটা করেছে।কিন্তু দোষ এনেছে, গোপনে বউটা বাইরের কোনো পুরানা--- খুউব পরিচিত নাগরের সাথে----শরীলের ফুর্তিফার্তা করে এই নিন্দার পেট নামিয়েছে!----

বছর দুই আগে---- একবার এই রকম এক ঘটনার বিচার এনেছে কানাই বাঁশির কাছে--
মেয়েটা খুকি বধূ--- বিয়ে হয়েছে বছর ঘুরছে-- তারই পরের গলির শেষ মাথার ঘরে থাকে----  এরই মধ্যে  বউটার জামাই না কি, থানা পুলিশের কেসে ফেঁসেছে!-- সেই থেকে জামাইটা পলাতক রয়েছে।গত ক&#039;দিন থেকে বউটা মাঝে মাঝে রাত বিরাতে বমি করছে!---- রাস্তার মোড়ের অষুধের দোকানের ডাক্তারকে দেখালে ডাক্তার সনাক্ত করে--- এই বউয়ের পেট হয়েছে! ---এখন প্রশ্ন উঠেছে তাহলে এই বউয়ের পেট বানাইছে কে-- কি-ভাবে?-- যার জামাই ফেরারী, ঘরে থাকে না-- পলাতক আসামী--- খুউব জটিল আনিত অভিযোগ......  
-----সব শুনে, ---কানাই দ্বন্ধে পড়ে যায়।---- কি করবে এই চিন্তায় ধাঁধায় পড়ে।সে বউটিকেই বিচার কার্যের খুঁটি করে! কাহিনীর রহস্যটি সে সহজে বুঝতে পারে--- বউটিকে কানাই আড়ালে ডাকে জানতে চায়-- তোমার জামাই হরিমরণ কি রাইতে তোমার লগে দেখা করতে আসে?-- রাইতে তোমার লগে সহবাস করে ভোর থাকতে পলাইয়া যায়?--
----ঠিক করে কও আমারে-- কথা সত্যি কি না? কানাইয়ের চেপে ধরা কথার জালে আটকে বউটা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে!-- মাথা নেড়ে বলে হ-হ্যাঁ-- সেবার বিচারে শর্ত হয় যে হরিমরণ দিনের বেলায় এসে-- পুলিশকে ধরা দিবে, সমাজের সবার সামনে সে সব কথা খুলে বলে ক্ষমা চাইবে।--- 
কানাইবাঁশির এখানে ছোট্ট একটি ঢুলির দল আছে।--- কানাইঢুলি নামে চারপাশে
সবার কাছে মুখচেনা পরিচিত।সে---ঢোল, মৃদঙ্গ, নাল, ডুগি,খমক, বিলেতী ড্রাম বাজায়।সঙ্গে থাকে প্রতিবেশি বয়োজ্যেষ্ঠ কমলা খুড়ো-- তিনি-- বাঁশের  বাঁশি-- মুরলী, গম্ভীরা নাদের কৃষ্ণ বাঁশি, কুনকুনি যন্ত্র, সানাই, হারমোনিয়াম বাজান।তাদের দলে আছে কমলা খুড়োর নাতি সম্পর্কের একজন ছেলে--- ছেলেটা খঞ্জনী, করতাল, একতারা, বাদ্যঘন্টা-- ঝুনঝুনি বাজাতে পারে--

কানাইয়ের এই ঝুপড়ি ঘরে-- একখানা ঝাপসা শাদাকালো--- তার বউয়ের ছবি আছে।
এই একটি ছবিই আছে।তাদের বিয়ের পর বউ এটি সঙ্গে এনেছিলো।অল্প বয়সে তোলা ছবি, এখন বিবর্ণ প্রায়-- তবু সে এই ছবির সাথে নেশার ঘোরে কথা বলার চেষ্টা করে!-- প্রথম প্রশ্নও সে করে-- বউরে তুই ক্যামন আছোস্? রাততো অনেক অইছেরে ভাত খাবি না?-- তার বউয়ের নির্বাক নিরীহ ছবিটা-- কানাইয়ের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয় না!-- কানাই এর প্রতি উত্তর দেবার চেষ্টা করে--&#039;ও মোহনের বাপ্--- আমার ভাত তরকারী খাইতে হয় না।এয়ানে-- পেটের কোনো ক্ষুধা নাই!রাইত অইছে-- তুমি ভাত খাইলা না? আবার বাড়তি কথার মতো- কানাই বউয়ের দিক থেকে জানতে চায়- &#039;আমার পোলাটার কোনো খবর লও না-- ক্যামন আছে হে-?&#039; 
সস্তা ঘোলা মদের নেশা ছাড়িয়ে পেটের ক্ষুধা চাগাড় দিতে চায়--  কানাই দুপুরের গলা ভাত- লবণ- কাঁচা লঙ্কা, বাসি একটু ডালের সাথে মেখে-- তৃপ্তির মুখে খেতে থাকে---
হাত পুরিয়ে নিজের জন্য রান্না বান্না করার কাজ সে দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে--- 
আজ মন টনটন করছে--- কি জন্যে করছে-- সে ভালো করে ঠাহর করতে পারে না--  
বউয়ের কথা, বউটার মুখ-- খুব করে মনে পড়ে যাচ্ছে--- কাঁচাপাকা দাড়ি গোঁফে সে আনমনে আঙ্গুল চালিয়ে কানাই ভাবে- এই তার বেকার ঢুলির জীবন--- রাধা-মাধবকে তার বউ খুব মানতো-- জপ করতো এঁদের নামে-- তাকেও কতোবার বলেছে এই নাম ধারণ করো--- মন থেকে জোড় আসতো না--- কিছু ভাবভঙ্গি আনতো বউকে দেখাবার জন্য-- সে বিড়বিড়িয়ে ডেকেছে কতকবার- আজ আর কেউ সেসব বলার নাই, শাসন করার কেউ রইলো না- তার এমন একা থাকাটা অসহ্য হয়ে  উঠে-- কোথায় যাবে-- সে জানে না--- বউটা মরে গিয়ে কোথায় গিয়েছে?--
ছেলে মোহনের কথা মনে পড়ে-- ব্যাটা বিয়ে করা তার হাড়বদ্ বউয়ের কথা শুনে ঘর জামাই হয়ে-- তার জন্মদাত্রী মাকে-- বাপ কানাইয়ের কথা না ভেবে--- তাদের মনকে পায়ে দলে--- শূণ্য করে দিয়ে--- সেই জেলে পল্লীর ঘরে অসহায় দু&#039;জনকে ফেলে--- রেখে চলে যায়!-- 
ছেলের এমন করে চলে যাওয়া তার মা- কানাইয়ের বউ, ----মন থেকে মেনে নিতে পারেনি--
হঠাৎ এক রাতে বুক ছটফট করে সকালে নিস্তেজ হয়ে যায়-- তারপর-- নিঃশব্দ-- সুনসান....
কানাই তার সমাজ-- পাড়া পড়শীদের কথা ধরে--  অনেক চেষ্টা তদবির করে-- তবু ছেলে মায়ের মরা মুখ দেখতে এলো না!-- উড়োউড়ো কানাই জেনেছে ছেলে নাকি মৃতা মায়ের জন্য গলায় উত্তরী পরেছে!-- ধর্মাচার!-- করেছে!-- এসবই অবশ্য শোনা কথা---

কানাইবাঁশির  ঝুপড়ি  থেকে বেরিয়ে একটু এগুলে চোখের সামনে পড়বে-- বিরাট একটি দেয়াল। ----এইটি একটি --স&#039;মিলের সীমানা দেয়াল।এই পারের দেয়ালে এই পারের  পাড়ার  সামর্থ্যবান বাসিন্দারা তাদের প্রিয় জনের--মৃত্যুতে, পোষ্টার  বানিয়ে সেই দেয়ালের গায়ে সেঁটে দেয়!-- এই দেয়ালে এখন--- অনেক জন--- মৃত মানুষের ছাপানো মুখের ছবি-- আঁটকে আছে--- হঠাৎ করে বাইরের কেউ--  এই দেয়ালের মুখোমুখি হলে অবশ্যই তার কাছে মনে হবে---- এইটি একটি মৃত্যুর দেয়াল! ....


[গল্প ]
২৬/১১/২০২০</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/30433/</link>
				<pubDate>Wed, 01 Sep 2021 13:43:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজ  ভোর  সকালে  ঘুমটা  ভেঙ্গে  যায়। ঘুম  ভাঙ্গার  পর  থেকেই  কানাইবাঁশিকে  মনে  পড়তে থাকে&#8230;  কানাইবাঁশি  কিন্ত  গল্পের  একজন  চরিত্র! বলা ভালো&#8211; ঋদ্ধ, জীবন বৌদ্ধিক বয়োজ্যেষ্ঠ এক চরিত্র। একদিন- নিজেকে যে  ঘুমের  ভেতরে  মৃত  মানুষ হিশেবে আবিষ্কার  করে। এভাবেই একটি গল্প, কানাইবাঁশির হাত ধরে এগিয়ে যায়&#8230;<br />
গল্পের নাম&#8212;&#8216;মৃত্যুর দেয়াল&#8217; </p>
<p>-&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-30433"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/30433/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c45fb6c218d34b186fe91b32da51250b</guid>
				<title>বৃদ্ধকালের নিয়তি, বয়স অতিক্রমনের শেষবেলা!
...........................................................................

[১]

এই শহরতলীর অশ্বথতলা বাজার লাগোয়া এলাকাতে-- মনু বা মনতোষ পরিচিত একজন।মনতোষ পোস্ট অফিসে চাকুরী করে।ডাক পিয়ন থেকে পদোন্নতি পেয়ে টেবিল কেরানি হয়ে পড়ে আছে সেতো বহুকাল। তার থেকে কতো পরে এসে নিম্ন পদেরা তার উপরের পদে চলে গেছে।মনতোষ ঠাঁই এক জায়গায় রয়েছে।এতে  তার মন খারাপ হয়।বুকে কষ্টও হয় কিন্ত এলাকার লোকজন যখন পোস্ট অফিসে এসে-- প্রথমেই মনু বাবু বলে তার খোঁজ খবর করে, তখন মনের কষ্টটা তার উবে যায়! 
সেও যথা সম্ভব এলাকার লোকের তড়িৎ উপকার করে চোখ ছোট করে তাদের দিকে চেয়ে থাকে--- 
-----তার এই চাউনির ভাষা এখন অবশ্য সবাই বুঝতে পারে!... 
-----তবে এই মৃদু লেনদেনের কোনো সাক্ষী থাকে না!

মনতোষের বাবার ষাটোর্ধ বয়স এখন।তিনি একটা সময়ে পেশায় সচ্ছল কৃষক ছিলেন।একমাত্র ছেলে মনতোষের পড়া, স্কুল এইসব নিয়ে তিনি- গ্রাম থেকে এই এলাকাতে এসেছিলেন বিগত আটাশ বছর আগে।এখানে তিনি পৌনে দু&#039;গন্ডার উপরে একজনের বাঁশ বেড়ার পুরোনো ঘরবাড়ি কিনে নেন।অনেক পরে এই ঘর-বাড়িকে ছেলে মনুর তদারকিতে তিনি আধা পাকা ঘরে রুপান্তর করেছিলেন।  শুরুর দিকে তিনি গ্রামের বাড়ি ও এখানে আসা যাওয়া করেছেন।পরে বয়স আর রোগ শোকের ফলে শরীরের সামর্থ্য কমে আসলে, নিজের বাপদাদার ভিটেমাটি বাদে জমি জিরাত সব বিশ্বস্ত একজনের হাতে বর্গার বন্দোবস্ত করে-- ছেলে মনতোষের কাছে চলে এসেছিলেন।কিন্ত চোখের আড়াল হওয়াতে তাকে ওই বর্গা চাষী লোকটি ভীষণ ঠকাতে থাকে, মালিক পক্ষের ভাগের হিসাব নিয়ে।তারপরে তিনি ও তার স্ত্রী-- আসতে যেতেন! এভাবে বলতে গেলে-- তার স্ত্রীর উপরে গ্রাম থেকে শহরে, এই করে করে তাদের দুজনের মনের শ্রমের,শরীরের শ্রমের অনেক ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়েছিলো!... 
---পরবর্তীতে ছেলে মনতোষ ও মনুর বউয়ের যৌথ চাহিদা মতোনই গ্রামের- ভিটে বাড়ি, পুকুর,জমিটমি স্হাবর সবকিছুই বিক্রি করে দিয়ে চিরকালের জন্য এখানে চলে এলেন... 
গ্রামের আদি বসত বাড়ি, জমিজমা বিক্রির সময়ে খুব কাছের আত্মীয়ের একজন মনতোষের বাবাকে বলেছিলেন-- এসব করে তিনি ভূলই করছেন।কিন্ত মনতোষের বাবা, অনড় বিশ্বাসে নিজের ভবিষ্যৎ বংশ পরিচয় তার পুত্র-- মানে নিজের রক্তের উপরে নির্ভর করতে চেয়েছেন।একমাত্র পুত্র এই মনুর মুখের হাসি ও সুখের জন্যই তারা মনতোষ পুত্রের হাতে নিজেদের গোটা জীবন সংগ্রামের বিনিময়ে যে সম্বল-- গয়না, টাকাকড়ি সব তুলে দিলো! 
------এতে করে তারা এক ধরণের রিক্ত হস্ত বা শূণ্য কিছু বা নিঃসম্বল হয়ে যায়।....

এরপরে বহুদিন কেটে গেলো।তারা আরো বয়স্ক হয়েছেন।বিপরীতে তারা আরো ছেলে ও ছেলের বউয়ের মুখাপেক্ষী হয়েছেন!...
এলাকার লোকজন মনুর বাপকে ভালো লোক বলে চিনে জানে।মনুর বাবার এখন বয়সের টানে পড়ন্তবেলা! শরীরটা ন্যুজ  হয়ে পিঠের দিকটা কিছুটা বেঁকে গেছে।মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেছে।তবে তিনি চলৎ শক্তিহীন নন।তবু তাকে দেখলে মনে হতে পারে-- যেনো নুয়ে পড়া কোনো বুড়ো গাছের মতো! কপালে তিন কি চারটা মোটা দাগের রেখা ভেসে উঠেছে বেমানান হয়ে। দূরে থেকে লাগে দেখতে-- বাঁকা ধনুকের মতো! চোখের মণি দুটো ঝাপসা কালো রঙের, শাদা অংশও বিবর্ণ। দুই চোখের নিচের কোল ফুলে বেরিয়ে আছে কিছুটা। জলজ দু&#039;চোখের কোণে ফোঁটার মতো লেগে আছে কেতুর।চোখের দূরদৃষ্টি উদাস, নির্মোহ চাউনি।মুখের, হাতের, গায়ের রঙ রোদে পোড়া কালো তামাটে।মাথার সামনের অংশের চুল ঝরে পড়েছে বহুদিন হয়েছে।বাকি সব আধপাকা চুলের অবস্থা পাতলা হয়ে আসা তুলোর মতো!  শুষ্ক ঠোঁটের অবস্থা খরা কোনো মাঠের সঙ্গে মিলে গেছে! ফাটাফাটা, যদিও ঠোঁটের উপর হালকা সরিষার তেল দেওয়ায় ফাটার উগ্রতা ভাব কমে গেছে খানিকটা! আবার তেলাভাবের বড়ো বড়ো কান দুটির ভেতর থেকে আগাছা ঘাসের মতো কিছু পক্ক কেশ গজিয়ে বেরিয়ে এসেছে! হাতের আঙ্গুলের মোটা লম্বাটে নখগুলির রঙ ফ্যাকাশে ধূসর হলুদ হয়ে আছে।নাকের নিচে থুতনির গোড়াতে ও সারা ভগ্ন গালে কোঁচা কোঁচা শাদা দাড়ি।খুব  বেশি  দিন  না কামালে সেমাইয়ের মতোন মাথা বের করে এসব-- যখন লম্বা লম্বা হয়ে পড়ে তখন বৃদ্ধের স্ত্রীর পীড়াপীড়িতে বৃদ্ধের একমাত্র ছেলে মনতোষ-- মনু, মায়ের কথাকে ফেলতে না পেরে কোনো এক সকালে বটতলা বাজারের নাপিত হেমাঙ্গকে ডেকে নিয়ে আসে----

হেমাঙ্গ জাত নাপিত নয়। তার বাপ দাদার বংশে কেউ নাপিত পেশাতে ছিলো না।অভাবের সংসারে সে হাল ধরবার জন্য ইচ্ছে করে এই কাজটাতে জড়িয়ে পড়ে। পড়ালেখা করে স্কুলের গন্ডিটা পার করে শহরতলির একটা কলেজে হেমাঙ্গ ভর্তি হয়ে কিছুকাল লেখা পড়া পর্যন্ত করেছিলো!..কিন্ত সত্যি দুর্ভাগ্য, কলেজে ২য় বর্ষে পড়াকালিন সময়ে হঠাৎ তার বাবাটা গত হয়। আর বাধ্য হয়ে তার এখানের নিজ কলেজ জীবনের ইতি টানতে হয়েছিলো।সে-ই ছিলো তার ঘরের বড়ো ছেলে।এই জন্যই পরিবারটা  বাঁচাতে  তাকে উপার্জন করবার দায়িত্বটা কাঁধে নিতে হয়।কিন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে হাতের কাছে আর কিছু পাওয়া যায়নি বলে, সে নাপিতের কাজটা করতে শুরু করেছিলো।দৈনন্দিন আয় রোজগারের জন্যে তার কাছে অপেক্ষাকৃত এই কাজকে সহজ মনে হয়েছে।কিছুটা স্কুল কলেজের বিদ্যা আর কৌতুহলী মনের জন্যে-- হেমাঙ্গ অল্প ক&#039;দিনেই এই কাজটাতে পাক্কা হয়ে উঠেছে! সেলুন থেকে সেলুনে তার চাহিদাটা সেই সময়ে বেড়ে যেতে থাকে! একটা সময়ে এসে-- হেমাঙ্গের মনে হতে থাকে, এখন নিজে একটা দোকান খুললে কেমন হয়? 

আজকের হেমাঙ্গ-- লেখাপড়া জানা আন্ডার ইন্টারমিডিয়েট একজন নাপিত! সে ছিলো বিজ্ঞানের বিভাগের ছাত্র।মনের মাঝে বিজ্ঞান মনষ্কতা অথচ বাইরে ঘরের তীব্র অভাব, মধ্যখানে কৌতূহলী যুবক মন- আহা! অসময়ে  তার বাবার  অকাল-- মৃত্যুটা হেমাঙ্গকে হাসি খেলার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে! সে বুঝে গিয়ে ছিলো যে, টিকে থাকার জন্য বাস্তব জীবনে টাকাপয়সা উপার্জন না করার আর কোনো বিকল্প পথই খোলা নেই! কিন্ত  পরিহাস  এই, বর্তমান কালে সেলুন  ব্যবসার নিত্য নতুন প্রতিযোগিতার বাজার! এখন ঝিকঝাক সাজসজ্জার আলো ঝলমলে সেলুন দোকানের চাহিদা খুব বেড়ে গেছে।এইসবের সঙ্গে আরো কিছু কারণে- হেমাঙ্গের পেশাগত ব্যবসাটা এখন বেশ মন্দাগ্রস্ত।প্রথম দিককার তার রমরমা ব্যবসা বা ক্রেতার চাহিদা অনেকটা হারিয়ে গেছে।আগামী কোনো সুদিনের জন্য বুকে আশা বাঁধে, পরক্ষণেই আবার বর্তমান অবস্থার জন্য দুঃশ্চিন্তা হেমাঙ্গের হাত যশেও বেশ প্রভাব ফেলে-- কাজ করতে এখন তার হাতটা কেঁপে যায়!....
আজো নিয়ম করে হেমাঙ্গকে দেশগ্রামের বাড়িতে নিজের বউ, সন্তান, মা বাবা ----সংসারের জন্য রোজগার করে টাকা পাঠাতে হয়।নিজের ছেলেপিলেরা বড়ো হচ্ছে সেই সাথে সংসারের হা-মুখের খরচও বেড়ে চলেছে।অনিশ্চয়তার দুঃশ্চিন্তায় হেমাঙ্গটার বুকের ভেতরের ধুকপুকানিও বাড়তে থাকে, ---- 

আজ সকালে হেমাঙ্গ এসে, মনতোষের বাপের মুখে সেভিং ক্রীমের ফেনা তুলছে- এরই সাথে নানাভঙ্গির কসরত করতে থাকে।আর বুড়ো মানুষটার আগাছার মতো ক&#039;টা গোঁফ আর দাড়ি, ক্ষুর ব্লেডের ধারে কাটতে কাটতে গোঙ্গানির মতো বিড়বিড় করে,----আর অস্ফুট শব্দ করে ঈষ্টদেবের নাম মুখে নেয়।ইদানিং হেমাঙ্গের এমন হয়েছে যে- কোনো পরিবেশকে পরিস্থিতিকে সে বিবেচনা না করে এমনটাই করছে! তার মনে এখন আগামী দিনের অনিশ্চয়তার একটা ভয় ঢুকে গেছে!----

মনুর বৃদ্ধ বাবা এক সময়, এক হাত দূর থেকে হেমাঙ্গকে ডাকে।সেই ক্ষীণস্বর কিন্ত শুনে মনে হবে- বহুদূর থেকে যেনো হেমাঙ্গকে ডাকছেন-
---- &#039;এই হেমাঙ্গ, আর কতোক্ষণ দের্ করবি বাপরে, এট্টু এবার জোরে হাত চালা;... ঝিম্ মেরে বসে থাকতে কষ্ট হয় বড়ো, তড়া কর না- আর কত্তোক্ষণ?&#039; 
--দম নিয়ে কেঁপে কেঁপে কথাগুলি বলে শেষ করে মনতোষের বাবা। 
শুনে হেমাঙ্গ গলার বেগতিক সূর নরম করে ইচ্ছে করে-- মুখের বিড়বিড় করা শব্দ স্বর থামিয়ে দেয়।বলে উঠে---
-----&#039;তা জেঠু, এট্টু ধৈর্য্য সহ্য করো না।এ হইলো হাতের কাম-- বোঝলে না, হের উপরে দাড়ি কামানি-- এইদিক ওদিক হলে গাল ফাল কেটে এক রক্তারক্তি কান্ড হয়ে যাবে!&#039;... 
হেমাঙ্গ নাপিতের কথা শেষ হলে-- এবার বৃদ্ধ বললেন, --
---&#039;হই বাপ, বোঝলাম।আরো দেরি হবে- তোর থেকে তাড়াতাড়ি ছাড়া পাবো না- আইজকেও!&#039;
হেমাঙ্গ একগাল হেসে পরক্ষণে হাসিটা লুকিয়ে ফেলে আপত্তির সূরে কথা ক&#039;টি বলে যায়,
 ----&#039;দোকান ফেলে এখানে এসেছি শুধু তোমার ছেলে মনুদা&#039;র মুখের দিকে চেয়ে... বুঝলে কিনা, এই যে এলাম, -- কওতো, তোমার দাড়ি চুল ফেলে কত্তো-বা পাবো, এই সময়ে দোকানে যদি থাকতাম, ভেবে দেখো যে কি রকম আমার লাভ... মানে -- টুপাইস কামাই হতো!&#039; 
(বৃদ্ধ মনতোষের বাবা জানেন না এখন হেমাঙ্গের বেশ দুর্দিন যাচ্ছে! সে দুটো টাকা বেশি উপার্জনের জন্য লোকের বাড়ি বাড়ি পর্যন্ত গিয়ে চুলদাড়ি কাটছে; শুধু ডাকলেই হলো-- সাত সকালে সে এসে উপস্থিত হচ্ছে!...)
বৃদ্ধ এবারে মুখের চোয়াল শক্ত করে,  নীচু গলাতে থেমে থেমে বললেন, --
----&#039;শুধু নিজের দিকে তাকানো শিখছোস।বেঁচে থাকার জন্যে পয়সাকড়ি রোজ গারের দরকার আছে। আরে, --বাঁচতে যা দরকার হের বেশি টাকাকড়ি কামানির নেশা পাইলে, নিজের মনের আনন্দ ফূর্তি হারিয়ে যায়রে ব্যাডা।সংসারের অভাব দূর করার জন্য-- সারাজীবনকে তুমি পাঁঠা বলি দিয়ে দাও।এর নাম কি জীবনরে বাপ?&#039;...
(বৃদ্ধ এতোসব কথা যে-- কাকে শুনালো নিজেই যেনো ঠাহর করতে পারেন না, হেমাঙ্গকে ---না কি একান্তই নিজেকে?...)
---কথাগুলি বলে বৃদ্ধ হাঁপিয়ে ওঠেন।
হেমাঙ্গও এইসব কথার ভেতর মাথা গলিয়ে দিয়ে ভাবতে থাকে, সে কি বুঝতে পেরেছে যে-- এই বুড়ো জেঠুটার এত্তো সব কথার মানে কি? কথাবার্তার মধ্যে এখন গভীরতা লুকিয়ে থাকার ব্যাপারটা, তাকে আর তেমন আকর্ষণ করছে না।নিজেরই দৈনন্দিনের অভাবগ্রস্ততা--- তার মনের মাঝের গভীরতাকে-- আর আনন্দ-ফুর্তি ---এসবকে পাংশু করে তুলেছে হয়তো!--- 
শুধুই হেমাঙ্গ জানে-- অভাবতো তাকে পেয়ে বসেছে--- তার প্রথম জীবনের নিকষ কালো রঙের অভাব--- আবার যেনো তার বর্তমান জীবনে  ফিরে আসছে...

তাই নিজেরই পুরোনো স্বভাবের গন্ডির ভেতর থেকে ধীরে সুস্থে হাত চালিয়ে হেমাঙ্গ এবার জানতে চাইছে, 
-----&#039;তা জেঠু, তোমার একটা মাত্র পোলা- মনু&#039;দা, সে বাদে তার বউ-- বুঝলে না ছেলের বউয়ে তোমারে, জেঠিমা&#039;রে কি খাতির যত্ন, দেখ্ ভালো করে ঠিক মতো?  দেহো, আমার বহুত দিনের চোখের দেখা অভিজ্ঞতা আছে, ---এই বুড়াকালে কেউ কারো নয়;-- গুড়াকালে সবার আদর যত্ন, ভালোবাসা ও গালেত চুমা পর্যন্ত পাবে,  কিন্তু, এই যে বুইড়া কালে কিচ্ছু নাই, তুমি বাঁইচ্চা আছো- এইটাতো বড়ো বেশি ঝামেলা করে দিলো অন্যদের, এই যে---সংসার, ---সংসারটা কিন্তক তোমার নিজের হাতে তৈরি করেছো! ম&#039;গার, এই তোমার সংসারে, তোমারেই ছুটি দিতে চাইবো অন্যরা! বুইড়া কালে কেউ কারো নয় জেঠু।দেওনের সংসারেতে--তোমার যোগান শেষ-- আর তুমিও শেষ!&#039;
---বৃদ্ধ নিচু স্বরে, প্রায় চেঁচিয়ে ওঠলেন!
---&#039;আহা! হে-মা-ঙ্গ, তাড়াতাড়ি কর-লে্&#039;-----একটু থেমে নিয়ে বললেন।
---&#039;ক্যান্ বগর বগর করোস্।মনুর (মনতোষ) বউয়ে, তোর-আমার এই সব কথাগুলা শুনতে পাইলে-- বড়ো রাগারাগি করবো, ছেলে মনুটাসহ ঘরে অশান্তি করবো, তোর জেঠিমারে শুনিয়ে শুনিয়ে নানান কথা বলে কাঁদাইবো-- বুঝলি কিছু বাপ্ রে?&#039;
--- জোরে একটা শ্বাস টেনে দম্ নিয়ে পুনরায় বৃদ্ধ বললেন----
----&#039;শেষমেষ আমারেও দোষাবে, তাড়াতাড়ি তোরে তোর কাজটা শেষ করার জন্য ক্যানো আমি তাগাদা না দিয়ে-  তোর সাথে গল্প করেছিলাম, ঘরের নাম করা বাদে  হুদা বদনাম করে-- বেবাগ কথা বাইরে পাচার করে দিয়েছি!&#039;....

হেমাঙ্গের চোখ চলে যায়।সে দেখতে পেলো ঘরটার এক ধারে বহু পুরোনো একটা চৌকি রয়েছে।চৌকিটার একটা পায়া আগে থেকে কিন্ত ভাঙ্গা ছিলো।ওখানে ক&#039;টি ইট দিয়ে পায়ার অভাব পূরণ করা হয়েছে! ওই চৌকির উপরে এখন বৃদ্ধ কুঁকড়ে শুয়ে পড়েছে।

হেমাঙ্গও তার হাতের কাজ দ্রুত শেষ করে জিনিসপত্র ধূয়ে মুছে গুছিয়ে নিয়েছে।এখন তার অবসর, চলে যাবার সময়।শুধু অপেক্ষা করছিলো সেভিংয়ের কাজ করার জন্য টাকাকড়ি হাতে পেলে, এখান থেকে বেরিয়ে সে চলে যাবে।

কিন্ত, --বৃদ্ধ জেঠুর বুক থেকে এই সব পাত্থর চাপানো কষ্টের কথা শুনে-- সে বেশ তাজ্জব হয়ে গেছে! --এই বাড়িটাতে আরো বহুবার সে এসেছিলো।হয় মনুদা&#039;র ছেলের মাথার চুল কাটতে ----নয়তো এই বৃদ্ধ জেঠুর চুলদাড়ি কেটে দিতে....
আগে কখনোতো জেঠু- এমন সব কথা তারে বলতো না, কিন্ত আজকে বললো ক্যান্ যে? ---আহারে!  সে  শুনেছিলো---  এই  যে বৃদ্ধ জেঠু, নিজের শক্তি আর সামর্থ্য থাকতে এই সংসার, ও নিজের একটা মাত্র ছেলে মনতোষদার জন্য কি না করেছিলো।এই সমাজটার অনেকেরই সেইসব নিজের চোখেতে দেখা-- হেমাঙ্গ অবশ্য সেসব ঘটনার কথা আগেই শুনেছিলো...
--- মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো হেমাঙ্গের।--- সে আনমনা হতে থাকে।তার মনে পড়ে যাচ্ছে... বাবার অকাল মৃত্যু; ছাত্রজীবন বাদ দিয়ে কর্মজীবনে ঢুকে যাওয়া; সংসারের কিছু ক্ষুধার্ত মুখে- ভাত কাপড়ের যোগান দিতে--টাকা উপার্জনের জন্য হাঁড় খাটুনি; তার বিগতকালের দুঃখিত পীড়িত জীবনের বহুকিছুর কথা মনে হতে থাকে.....


[২]
---অনেককাল আগে, সুদূর রাজধানী ঢাকা থেকে খুরশীদ হাসান এসেছিলেন।তিনি এখানকার স্হানীয় মানুষ।কিন্ত ঢাকাতে পড়া শোনা শেষ করে- ওখানেই কর্মজীবন শুরু করেন।পাশাপাশি তিনি উদীয়মান পরিচিত মুখের একজন লেখক।লেখালেখি করে পাঠক সমাজে বেশ আলোড়ন তোলেন।নিজের বাড়ি ও এলাকায় এসে ছিলেন নিজের ছাত্র জীবনের এক শিক্ষকের খোঁজে।এই শিক্ষক মানুষটি তার লেখালেখি তে আকৃষ্ট হওয়ার পেছনে প্রেরণার মতো কাজ করেছে!

হেমাঙ্গ সবে নতুন সেলুনের দোকান খুলেছে।এখানে তার ব্যবসা নতুন, আবার সেও এই জায়গায় নতুন এসেছে।এই অশ্বথতলা বাজারে সপ্তাহে দু&#039;বার বাজার বসে।বাজার সদাই করতে বহু জায়গা থেকে মানুষজন আসে যায়।তখন লোকে পুরো বাজার চত্বর গমগম করতে থাকে।শুরুতে হেমাঙ্গ ঝামেলা পোহাতে চায়নি-- নিজের হাত টাত পুড়ে ভাত তরকারী রান্নাবান্নার।কিন্ত বেশ কিছুদিন বাজারের হোটেলে, দুপুরে কি রাতে খেয়ে-- সে এটুকু বুঝে নিয়েছে যে- তাকে অবশ্যই নিজের রান্নাটা নিজেই করে খেতে হবে।এটা হবে তার জন্য সঠিক।কেননা সে কিন্ত এখানে বাজার এলাকা তে দোকানটা দিয়েছে নিজের ভাগ্য অন্বেষণ বা তারই অর্থনেতিক মুক্তির কথা মাথাই রেখে।
অশ্বথতলা বাজারের তার এই সেলুনে-- নানা পদের মানুষ আসে যায়।কতো পদের, কতো রকমের মানুষজন-&#039;ভালো ও মন্দ&#039; নিয়ে তর্ক জুড়ে দেয়।মাসেরও বেশি সময় বাদে চুল কাটাতে তার দোকানে আসে---  সততা, নীতিজ্ঞান্  করে  করে জীবনটা প্রায় পার করে দেয়া--স্থানীয় এলাকার স্কুলের শিক্ষক, চিরকুমার বাবু শঙ্কর মাষ্টার।যখন তিনি সেলুনে চুল কাটাতে আসেন।কখনো কারো কারো সাথে মাষ্টার বাবুর কথা প্রসঙ্গে-- ভাবের কথা উঠে, তখন হেমাঙ্গ কাঁচি চালানোটা ধীরে সুস্থে গতিতে করে, কান্ পেতে শোনার চেষ্টা করে থাকে---  কী সব বলছেন মাষ্টার বাবু!
-----একদিনের কথা তার খুুউব মনে আছে।হেমাঙ্গ সেসব কিছু মনে করবার চেষ্টা করে-- তার সেলুনে শঙ্কর মাষ্টার বাবু সময় মতো চুল কাটাতে এসেছিলেন।
-----ওই দিন দোকানে, কথায় কথায় মাষ্টার বাবুর সঙ্গে তারই প্রাক্তন একজন ছাত্রের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে! ---খুব কাকতালীয় একটা পরিচয় পর্বের ঘটনা ঘটে! হেমাঙ্গ চুল কাটার কাজের ফাঁকে ফাঁকে শুনছিলো---
....ওই ছাত্র নাকি ঢাকাই থাকে।নাম করা কোনোখানে পড়াই, মানে-- মাষ্টারি করে।সংবাদপত্রে লিখেও নাকি অনেক নাম করেছে।শরমিদা হয়ে এইসব নিজের মাষ্টার বাবুকে বলছিলো---
শেষে, তাদের মধ্যে কিছু কথাবার্তা হয়েছিলো।কতো রকমের কথা তারা যে বলে;
-----এই সাধের জীবনটার কথা, ভাবের কথা, জীবন যৌবন মরণের কথা...
মাষ্টারের ছাত্রই বেশি কথা বলে।বেশি বেশি জানতে চেয়েছিলো- শঙ্কর মাষ্টারের কাছে--- 
---&#039;স্যার, এখন পরিণত বয়সে আপনি জীবনকে কিভাবে দেখছেন?&#039;
---&#039;জীবনের আরেক অর্থ হচ্ছে রুপান্তর! যেমন- বর্তমান সময়টা ভবিষ্যতে পৌঁছে গিয়ে হয়ে যায় অতীতকাল! সময়ের দোষে, ----সময়ের কিন্ত দোষ গুণ থাকে, সময়ের গুণে আমরা জন্ম নিই, শিশুকাল যৌবনকাল পার করে বৃদ্ধ হয়ে যায়।এটাকে নিশ্চয়ই সময়ের গুণ বলা যাবে না! মৃদু তিরস্কার করে তাই বলতে চাইছি  --একে সময়ের দোষ।মানুষের শেষ বেলাটা বৃদ্ধকাল! --সবাইকে বৃদ্ধ সময়টা পার করতে হবে। কিন্ত বৃদ্ধবেলা যার সুখের হয় সেই প্রকৃত পক্ষে সুখী।এই সময়ে যে ব্যাক্তিটা যত্ন-আত্তির, সেবা-শুশ্রূষা, মনের থেকে ভালোবাসা পাবে-- সে আসলে  প্রকৃত সুখী একজন।এই বিষয়ে- বাকি অন্য সব কথা কওন, কথার আঁশ চারান!&#039;---
---&#039;স্যার, আরো কিছু বলুন&#039;...
---&#039;জানো,--আমাদের মতো গরীব মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন নিয়তি কি?&#039;
---&#039;স্যার, আমার কথা থাক।আপনার কাছে শুনতে চাইবো, ----নিয়তির কথা?&#039;
---&#039;গরীবেরা নিজের সারা জীবনে শুধু জীবন ধারণের জন্য শ্রম দেয়।শ্রম দিয়ে বেঁচে থাকা তাদের এক ধরণের নিয়তি! এদিকে বয়সের টানে যৌবন চলে গিয়ে শরীরের শক্তি সামর্থ্যও নিঃশেষ হয়।বেলা শেষে, গরীব বুঝতে পারে না-- সে এতোদিন শূণ্যতার মাঝ বরাবরে বাস করেছিলো! আজীবনের সঙ্গী দারিদ্রতা তাকে শুধু শ্রম দিতে বাধ্য করেছে।আর শেষ বয়স তাকে ফেলে দিয়েছে সবকিছুর বাইরে!...
মাষ্টার বাবু আরো যোগ করেন-- গরীবকে কিন্ত আসল মৃত্যুর আগেই মেরে ফেলে-তার বয়স, দারিদ্রতা, নিরন্তর শ্রম এবং সব শেষে নিরাময় অযোগ্য বার্ধক্য- স্ট্রোক্!&#039; 

---ওইদিন নাপিত হেমাঙ্গ দেখতে পেয়েছিলো, মাষ্টারের ছাত্রটি শুধুই চোখ বুজে শুনছিলো...  
হঠাৎই মাষ্টার বাবু, নিজের ছাত্রটার কাছে জানতে চাইলো---
---&#039;তুমি আধুনিক, তোমার ভাবনাও হবে আধুনিক।তোমার কাছে জীবনের দর্শন কি?&#039;
---ছাত্রটি একটু হেসে ওঠে। তারপরে বলেছিলো--
---&#039;স্যার আপনার কথাগুলি ভালো লাগছে।আমি মূলতঃ অন্বেষণকারী।আমার বয়স কম- তাই শিখছি, খুঁজে বেড়াচ্ছি জীবনের মানে, এর আন্তর দর্শন! তবে মানুষ নিয়ে জগতের অসারবাদীদের মতামতে-- আমি হয়তো মজা পাই কিন্ত এইগুলোতে মজে যায় না।আমি মনে করি--দর্শন, কোনো এলোমেলো ব্যাপার নয়।সব কিছু আগের মতোন ঠিকঠাক আছে--চোখের সামনে দেখা ঘরবাড়ি, গাছপালা, জীবনের রঙ, --শুধু এই সবের পেছনের কারিগর মানুষটা আর নেই! --এই সব নিয়ে ভাববার চেষ্টা করি।--- স্যার, আপনার গরীবের জীবনের নিয়তি, আপনার জীবন নিয়ে চিন্তার দর্শন-- এমন ঋদ্ধ বোধকে সাধুবাদ জানাই।ভাবা যায় না--  গ্রামে থেকে এমন নিগূঢ়, অসহজ ভাবনা কিভাবে ভাবতে পেরেছেন?&#039;
---&#039;তোমার কথাগুলোতে আমার সময়ের দোষ&#039; কথাটাকেই সমর্থন করলো&#039;...
----&#039;কোনো কি উঁচু মানের দর্শনের বইটই পড়েছেন, যা আপনাকে ভাবনা চিন্তার 
কেন্দ্র পৌঁছোতে সাহায্য করেছিলো-- এইসব দারুণ কিছু ভাবাতে?&#039;

কাজের ফাঁকে হেমাঙ্গ কান উঁচিয়ে শুনতে পায়...
শঙ্কর মাষ্টার বাবু বলেছিলেন--&#039;আমি দরিদ্র মানুষ।ভালো বই কিনে পড়ার সামর্থ্য ও সুযোগ আমার নেই।ছাত্রজীবনে বিদ্রোহী কবি নজরুলের লেখা-&#039;মন্দির ও মসজিদ&#039; পড়ে বুঝেছিলাম---এই যে জীবন; আমাদের ধর্ম; মানুষের তৈরি রাজনীতি নামক ফাঁকি বাজিটাকে! আরেকটি কাজ আমি করি-- বহুকাল আগে থেকে।আমি স্বপ্ন দেখলে- সেসব স্বপ্নের কথা-- লিখে রাখতে শুরু করি।ভয়ঙ্কর স্বপ্ন,  মধুরস্বপ্ন, অর্থহীন স্বপ্ন, বোধকে নাড়িয়ে তোলে-- এমন স্বপ্ন, ধারণার জন্ম দিতে পারে তেমন স্বপ্ন।আমার দেখা স্বপ্নই, আমার জন্য এক ধরণের বইপড়া!....&#039;

হেমাঙ্গ শেষে দেখেছে, --ছাত্রটা উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে কদমবুচির ন্যায় মাষ্টার বাবুর দিকে ঝুঁকেছিলো! ওইদিন মাষ্টার বাবু আর নিজের চুল না কেটে,  তার ছাত্রসহ দুজনে বের হয়ে যায়....
  
আহারে! কি যে সব বুঝ্ জ্ঞানের কথা... হেমাঙ্গ এইসব কথার গূঢ়অর্থ বোঝে না বোঝে, কিন্ত মনে মনেই মাষ্টার বাবুর কথাগুলির জন্য হাততালি দিতে থাকে!---

[ হেমাঙ্গ অবশ্য কিছুদিন পর জেনেছিলো যে- শঙ্কর স্যারের এই ছাত্রই আসলে এই এলাকাতে খুব পরিচিত নাম খুরশীদ হাসান। তিনি একজন স্হানীয় বাসিন্দা হলেও ঢাকাতে রয়েছেন দীর্ঘদিন-- বেশ নাম হয়েছে লেখালেখি করে।মাঝে মধ্যে তারই সেলুনের দোকানের জন্য নেয়া ঢাকা থেকে আসা সংবাদপত্রের কাগজে লেখক খুরশীদ হাসানের নামটাকে ও তার লেখা সেও পড়ে দেখেছে। ]

[৩]

আজকে এই --মনতোষ&#039;দার বৃদ্ধ বাবাটার-- তলপেট থেকে উঠে আসা কষ্টের কথা গুলানের  সাথে তার  কিছুকাল  আগের গত জীবনের কষ্টবোধটা,  কি রকম খাপ খাওয়ানোর মতোন মিলে যাচ্ছে.... আচ্ছা,  সব দুঃক্ষিত মানুষেরই কি মুখগুলি দেখতে একই রকমের হয়?

---হেমাঙ্গের ঝিমুনি ভাবের তন্ময় ঘোরটা কেটে যায়...
সে দেখতে পেলো-- ভিতর ঘর থেকে এক ছায়াবী নারী এইদিকে আসছে... মনুদার বাপ ও সে, --তাদের কাছে শীর্ণকায়ার একজন বয়স্কা নারী এসে দাঁড়ালো।এবারে চিনেছে হেমাঙ্গ, ---এই বয়স্কাতো মনুদার মা, বৃদ্ধার মুখে যেনো অযত্ন ও অভাব অভিযোগের ছায়া স্পষ্ট খেলা করছে--  শুকিয়ে  কাঠ কিন্ত  চোখ দুটিতে মৃত্যুর মতো শূণ্যতা আবার মাতৃ প্রশান্তির আঁচ রয়ে গেছে!... হেমাঙ্গের দিকে শীর্ণ হাতে কিছু একটা বাড়িয়ে ধরে-- হেমাঙ্গ পরম যত্নে হাতে নিয়ে দেখে তারই প্রাপ্য টাকা ক&#039;টা।মুখে কিছু না বলে টাকা ক&#039;টা না গুণেই সে পকেটে রাখে।আজ হেমাঙ্গ হাত বাড়িয়ে--এই টাকা ক&#039;টা যে নিলো, তার কাছেও বেশ খারাপ লাগছে।কিন্ত কি করবে সে, ---দৈনিক আটপৌড়ে দারিদ্র্যের জীবন রশিতে সেওতো বাঁধা পড়েছে।
হেমাঙ্গ দেখলো-- বৃদ্ধার কোটরাগত দুই চোখে জল ছল্ ছল্ করছে...

হেমাঙ্গ আগে থেকে যাবার জন্যে তৈরিই ছিলো।ছিলো বিদায় উন্মুখ হয়ে।এইবারে সে নির্বাক মনে--- দুই বৃদ্ধ&#039;বৃদ্ধার কাছে বিদায় না নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।যেতে যেতে --কেনো --যেনো তারও দুটি চোখ, জলে ভরে উঠতে চাইছে! .... 

----সে মনে করবার চেষ্টা করতে থাকে, ----শঙ্কর স্যার কি এই রকম বৃদ্ধকালের জীবনের কথা বলেছিলো? ---যে জীবনটা থেকে সুখ হারিয়ে গেলে বৃদ্ধ বয়সটা পরাজিত কাল হয়ে উঠে!.... 

[ গল্প ]
-----------------</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/27066/</link>
				<pubDate>Sat, 14 Aug 2021 17:25:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বৃদ্ধকালের নিয়তি, বয়স অতিক্রমনের শেষবেলা!<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;</p>
<p>[১]</p>
<p>এই শহরতলীর অশ্বথতলা বাজার লাগোয়া এলাকাতে&#8211; মনু বা মনতোষ পরিচিত একজন।মনতোষ পোস্ট অফিসে চাকুরী করে।ডাক পিয়ন থেকে পদোন্নতি পেয়ে টেবিল কেরানি হয়ে পড়ে আছে সেতো বহুকাল। তার থেকে কতো পরে এসে নিম্ন পদেরা তার উপরের পদে চলে গেছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-27066"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/27066/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>15</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ec29fefa6d9142811b7f80b21d21f8f0</guid>
				<title>[ শিল্পকলা ]
___________   

শিল্প অনেক কিছুর মধ্যে স্বপ্নময়ও! স্বপ্নও  শিল্পে পরিণত হতে পারে, এবং  শিল্প  আবার  পুরোপুরি  জীবনের উপস্হাপনও নয়। শিল্পকে  হতে  হবে খুব  বাস্তব  বা  অবাস্তব  এমনও নয়। শিল্প  সময়ের  বিবর্তনের পথ ধরে কালে কালে কালের রঙ ধারণ করতে পারে।

যেমন-কবি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্হ রুপসী বাংলায় তিনি গ্রামের গ্রাম্যতাকে  শিল্পরূপ  দিয়েছেন। শিল্পকে  পরিসীমা  দিয়ে  বাঁধতে  হয় না। রবীন্দ্রনাথ  বৈশ্বিক শৈল্পিক সৌরভকে ভারতীয় চেতনায় মিশিয়ে নিয়ে করেছেন অনবদ্য সৃষ্টি! 

----যদিও একজন খেটে খাওয়া কৃষকের সারা জীবন শিল্পের খোঁজ খবর  না  নিলেও তার জীবনের চাকার চলাচল থেমে থাকে না।তেমনি নৌকোর মাঝি, খনি শ্রমিক, ধান কাটা, মাছ ধরা, মাটি কাটা, নির্মাণ শ্রমিক ---এদের শিল্পের খবর  না  রাখলেও জীবন নির্বাহ হয়। কিন্ত উপস্থাপনের গুণাগুণে এরাই আবার হয়ে উঠতে পারে শিল্পের বিষয়বস্তু! খুব শিক্ষা দীক্ষা, প্রেম বোধ, প্রকৃতি বন্দনা, বংশ গৌরভ, প্রভাব প্রতিপক্তি, ক্ষমতা এসব শিল্পসৃষ্টির কোনো নিশ্চয়তা দেয় না! 

শিল্পের সাথে শিক্ষার বিরোধ নেই।কিন্ত এমন নয় যে, খুব শিক্ষিত জন হলেই তিনি কবি  হওয়ার  নিশ্চয়তা  রাখেন। তবে  আধুনিক  সময়ে অশিক্ষিত  কবির  বিপদ অনেক!
গ্রহণ যোগ্যতার প্রশ্নে এখন কবিকে বৈশ্বিক অভিজ্ঞানের খোঁজখবর রাখতেই হবে। সময়ের দাবীর কাছে জ্ঞান এখন সীমাবদ্ধ নয়।কবিদের এখন নিজের দেশ-অঞ্চল-প্রকৃতি- জল- আকাশ- মাটি- নদী- জন মানুষ- নারী- প্রেম রোমাঞ্চ- ঋতু বৈচিত্র্য-এসবের গন্ডি থেকে বেরিয়ে পড়তে হবে....

বহুদিন  আগে আঞ্চলিকতার কানায় কানায় পূর্ণ এক লিটল ম্যাগাজিনে একটি কবিতা পড়ি। কবিতাটি  পড়ে  অনেকদিন ধরে আমি কবিতা  আতংকে  ভুগেছি! কবিতা উপভোগ করার প্রেমবোধ আমার মধ্যে নষ্ট হতে থাকে! ওই কবিতাটির প্রথম পঙক্তি এখনো মনে পড়ে---- &#039;মধ্য দুপুরে কাঠ চেরাইয়ের শব্দ মাপছি...&#039;
কোথাও এক  বিভাগীয় আঞ্চলিক কবির সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম।কবিকে  প্রশ্ন করা হয়--- &#039;আপনার প্রিয় খাবার কি?&#039;
প্রশ্নোত্তরে কবি বললেন-- &#039;যা খাইলে পেট ভরে না।&#039; 
----এমন কাব্যিক উত্তর একমাত্র জন্ম কবিরাই দিতে পারেন!

----পেটের ক্ষুধার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বা কোন কাজের নিদর্শনই এই সময়ের বহু পুরস্কৃত আলোকচিত্র! যেগুলি আসলে দগদগে দারিদ্রতার ক্যালেন্ডার... 
ক্যামেরা যন্ত্রে তোলা বাস্তব দর্শনের কোনো ছবির চেয়ে বরং জল রঙে আঁকা স্বপ্নোময় কোনো ছবি, হোক না একই বিষয়বস্তুর, 
...শিল্পের বিচারে নান্দনিকতা ছড়িয়ে দিতে পারে জলরঙের আঁকাটি! 
...শিল্প বা শিল্প চিন্তা কলংকিত হয় স্রষ্টার হাতে! 

প্রকৃতিতে শিল্প সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে ----
খেয়ালি  প্রকৃতি  অনেক  সময় সেটা  প্রকাশও করে দেয়! তবে প্রকৃতিতে কোনো শৈল্পিকতা তৈরি এক দুই দিনে হয় না। হাজার বছরে লক্ষ বছরে একটু একটু করে অথবা চাপের তীব্রতায় পাথর ক্ষয়ে ক্ষয়ে, তীব্র ঘূর্ণি বাতাসের ধাক্কায় বৃষ্টি বাদল জলোচ্ছ্বাসে, পানির প্রচন্ড তোড়ে অনবরত ঘর্ষণে ঘর্ষণে-- সীমাহীন এলাকা জুড়ে বনে আগুনের দাবানলে, ভূমিকম্পে ভূতল পাহাড় পর্বত উলটপাটল হয়ে গিয়ে, ----এভাবে নানা কিছুর মধ্য দিয়ে প্রকৃতিতে শিল্পিত সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়!

কোনো শৈল্পিক নির্দশনই  প্রকৃতির জন্মলগ্ন থেকে তৈরি হয়ে নেই। সময়ের হাত ধরে প্রকৃতির নানা বিবর্তন তাকে সৃষ্টি পথের শিল্প নির্দশন উপহার দেয়। বাঙলার শরতের আকাশে মেঘের চিত্রকলা; বসন্ত ঋতুতে প্রকৃতির বুকে ফুলে ফুলে শিল্প সৌন্দর্যের বাহার; অঘোর বর্ষায় বৃষ্টির নান্দনিকতা; শীতের ভোরবেলা; আসন্ন সন্ধ্যার কুয়াশার নকশা, শিল্প ছোঁয়ায় ভরে উঠে! পুর্বদিকের সূর্যোদয়--- পশ্চিমের সূর্যাস্ত--- প্রতিদিনের এক অপরূপ  শিল্পসৃষ্টি! কোনো কোনো সময়ে গোধূলীকালে অস্তাকাশে সূর্যের রক্তিম রঙ আর মেঘ দিয়ে আঁকা চিত্রকলা অনবদ্য!

বলা যাবে,
----পাহাড়ের মৌন সৌন্দর্য; সমুদ্রের একের পর এক অগুনতি ঢেউয়ের শৃংখলার শিল্পকলা অপূর্ব! গহীন বনের ছায়া বীথি; রাতের আকাশের নক্ষত্র, তারাদের সীমা মুক্ত বিরাট শৈল্পিক ক্যানভাস; ভরা পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় গাছের শাখা প্রশাখার আলো আঁধারের নকশা কাটার চিত্রাবলী; এমন কি অমাবস্যার ঘুট ঘুটে অন্ধকারে ঝোঁপ জঙ্গলে অসংখ্য জোনাকি পোকাদের আলোর মিছিল জীবন্ত এক শিল্পসৃষ্টি যেনো! গভীর অরণ্যের ঘন শ্যামল গাছগাছালির ভিতর পাখিদের কল কাকলি সবুজ প্রকৃতির হৃদয়কে মুখরিত করে!

------এমন কুজনের Dawn Chorus বা শিল্পময় সংগীত চারদিকে প্রাকৃতিক পবিত্রতাকে ছড়িয়ে দেয়! অন্যদিকে পুরোনো কালের সপ্তম আশ্চর্যের এক আশ্চর্য-- মানুষেরই অনবদ্য শিল্প সৃষ্টি তাজমহল! যেনো-- খোলা প্রান্তরে শ্বেত পাথরের ফুটন্ত পদ্মফুল স্থলে ফুঠে আছে! এই কথা সত্যি যে,
 ---প্রকাশ ভঙ্গির গুণাগুণের জন্য প্রায় কিছুই শিল্প উপস্থাপন হতে পারে!

-------------------------------------------------------------------------------------</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/26802/</link>
				<pubDate>Tue, 10 Aug 2021 21:16:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>[ শিল্পকলা ]<br />
___________   </p>
<p>শিল্প অনেক কিছুর মধ্যে স্বপ্নময়ও! স্বপ্নও  শিল্পে পরিণত হতে পারে, এবং  শিল্প  আবার  পুরোপুরি  জীবনের উপস্হাপনও নয়। শিল্পকে  হতে  হবে খুব  বাস্তব  বা  অবাস্তব  এমনও নয়। শিল্প  সময়ের  বিবর্তনের পথ ধরে কালে কালে কালের রঙ ধারণ করতে পারে।</p>
<p>যেমন-কবি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্হ রুপসী বাংলায় তিনি গ্রামের গ্রাম্যতাকে  শ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-26802"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/26802/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>17</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a7a9f839e2fede63ca87d685a220b6c5</guid>
				<title>আজকের গল্পের নাম--- &#039;সীমাবদ্ধ সীমারেখা।&#039;
-----------------------------------------------------------------------------------
স্মৃতি সততই সুখের! আজো আমি মিষ্টি অনুভূতি বোধ করি-- স্মৃতি কাতরতাই!
এখনো আমার প্রিয় বাল্য, কিশোর কালকে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে। কিন্ত খুব স্মৃতি কাতরতা আবার আবদ্ধ করে ফেলে স্মৃতির জেলখানায়! 

কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় বা সৃষ্টিতে স্মৃতির ভার কাটিয়ে উঠতে পারেননি।বলা ভালো-হয়তো সেভাবে চাননি।তবে সংশয়ী মনে চেষ্টা করেছেন, সেই চেষ্টাও ছিলো অসাধারণ!  
এখানে, সুধীন বাবু বা কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘যযাতি’ কবিতায় সরাসরি প্রগতি চেতনা আর অতীত নস্টালজিয়ার বাইরে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন–
( বিদগ্ধ কাব্য সমালোচকরা- অসামান্য, মহান কবিদের কিছু কবিতা চিহ্নিত করেন।এবং তাঁরা যদি এই কবিতাগুলি না লিখতেন, তাহলে আর লেখাই হতো না! ক্ষতি হতো বোধ ও কাব্যের, ও সভ্যতার!যেমন-- সুধীন্দ্রনাথের- যযাতি;  জীবনানন্দের-- অবসরের গান;  রবীন্দ্রনাথের-- নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ.... )   

আমি  বিংশ  শতাব্দীর  সমানবয়সী;  
মজ্জমান বঙ্গোপসাগরে ; বীর  নই, 
-----তবু জন্মাবধি যুদ্ধে  যুদ্ধে, 
বিপ্লবে বিপ্লবে--
বিনষ্টির  চক্রবৃদ্ধি  দেখে, মনুষ্য  ধর্মের
স্তবে নিরুত্তর, অভিব্যক্তিবাদে অবিশ্বাসী,
প্রগতিতে যত না পশ্চাত্পদ, ততোধিক
বিমুখ অতীতে কারণ ভূতের নির্বন্ধাতিশয়ে,
তথা  ভবিষ্যের  নিষেধে, অধুনা  ত্রিশঙ্কু,
এবং সে-খণ্ডে বিশ্বের মধ্যে দ্বৈপায়ন আমরা
সকলে, জানি কি না  জানি, নাস্তিরই
বিবর্তবাদ &#124;

এবং জীবনানন্দের উচ্চারণ এমনঃ–

জানি—  তবু   জানি  নারীর  হৃদয়— 
প্রেম— শিশু— গৃহ–  নয়  সবখানি;
অর্থ  নয়, কীর্তি  নয়,  সচ্ছলতা  নয়—
আরো- এক বিপন্ন বিস্ময় আমাদের 
অন্তর্গত রক্তের  ভিতরে খেলা  করে;
আমাদের ক্লান্ত করে ক্লান্ত, ক্লান্ত করে;
লাশকাটা  ঘরে  সেই  ক্লান্তি  নাই;
তাই  লাশকাটা  ঘরে  চিৎ  হ’য়ে শুয়ে 
আছে  টেবিলের&#039; পরে &#124;
------------------------------------------------------------------------------------
তবু এক টুকরো স্মৃতি বা স্মৃতিকাতরতা আমার মনের ভেতর আমাকে জড়িয়ে রাখে।ঘোর লাগা স্বপ্নের মতো বিভোর করে তোলে ------আশ্চর্য, এই আমাকে! 
......................................................................................................

সীমাবদ্ধ  সীমারেখা 
----------------------------

আমরা হেঁটে হেঁটে হেঁটে বহুদূর হয়ে সবশেষে রেলওয়ে একাডেমিতে এসেছি।তুমি আর আমি।সঙ্গে আমার এক বন্ধুসহ! সে  অবশ্য  আমাদের থেকে বেশ দূরে দূরেই 
ছিলো। আমরা যখন পাশাপাশি  হেঁটেছি তখন আমাদের তেমন কথা হয়নি-- কথা বলার বিশেষ প্রয়োজন ছিলো না।তোমার সঙ্গ যেনো তোমার কথা বলেছে, আবার
আমার সঙ্গ যেনো-- আমার কথা বলেছে! তোমার মুখে বা চোখে আমি চোখ রেখে হেসেছি-- এতেইতো হাজার কথার জন্ম হয়েছে!... তুমি তাকিয়েছো আমার মুখে ও চোখে-- ওতেই আমি--- তোমার সহস্র কথামালার শব্দ গুঞ্জন শুনেছিলাম!....

আমাদের সঙ্গের ---- অল্প দূরবর্তী আমার বন্ধু বেচারা-- মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকতো। কতোবার তার সাথে চোখাচোখি হয়েছে।কিন্ত তার অস্বস্তি ও বিব্রতবোধ আমি ভূলে গিয়েছিলাম।তোমার সঙ্গ পরশে আমি হয়ে উঠেছিলাম মহারাজা! চারপাশের সবাইকে তখন নতজানু প্রজা মনে হয়েছে! আমি চলেছি তোমার পাশে বিজয়ীর বেশে, রাজ্য জয়ের পরে সংবর্ধিত কোনো একজন রাজার মতো! 

আহা! ছাত্রজীবন! আমার অব্যক্ত প্রথম প্রেম! ---- তুমি, 
তারপর আমরা সেই একাডেমির দীঘির পারে--- একটু কম ঝোঁপালো, আগাছার দঙ্গল ছাড়িয়ে---- তৎক্ষনাৎ  একটা বসবার  জায়গা তৈরি করে নিয়ে---- সেখানে বসলাম-- দুজন পাশাপাশি।...  
 ----এখানেও অল্পদূরেতে আমার ওই আশৈশব বন্ধু দাঁড়িয়ে বা বসেছিলো! আমি তাকে ক&#039;বার দেখেছি।দেখে মনে হয়েছিলো--- হাসি ছড়ানো মুখের সে, ---আসলে আমার অথবা তখন আমাদের----- শাদা মনের প্রকৃতই শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলো।

দুজন পাশাপাশি বসেছিলাম।আমাদের চোখের সামনে ছিলো পড়ন্তবেলার রোদের ম্রিয়মান আলো খেলার অবারিত  দীঘির জল। হাওয়াতে  সৃষ্টি হওয়া  দীঘির  জলে মৃদু  ঢেউয়ের খেলা। দূরের  কয়েকটি  পুরোনো  রেইনট্রি,  -----গাছগুলির  গা বেয়ে উঠেছিলো কিছু বড়ো  পাতার ফার্ণ জাতের গাছ। সঙ্গে  পাতাবিহীন  হলুদ  সোনালী রঙের স্বর্ণলতার জঙ্গল! দূর আকাশে উড়ছে এলোমেলো দু&#039;চারটি কাক।আকাশের ক্যানভাসে কিছু ধবধবে শাদা মেঘ।কাছেই দীঘির পারে--- অযত্নে বড়ো হওয়া গাছে কলাবতীর ফুল ফুঠেছিলো। আমাদের  থেকে  দু&#039;হাত  দূরেতে ছিলো  আকারে  বেশ লম্বা লম্বা দল্ ঘাসের আগাছা!----  তুমি হাত  বাড়িয়ে দল্ ঘাসের আগা ছিঁড়ে  নখে খুঁটে  খুঁটে ফেলছিলে। তোমার  মুখে কোনো  কথা  নেই! আমি  তোমার  উদাসীনতা কিভাবে  ভাঙ্গাবো বুঝে উঠতে পারি না!  ------যদিও  অসম্ভব  ভালোলাগায় তোমার মুখটি ভরে উঠেছিলো! ওই মুখের  কথা বলার  কোনো প্রয়োজন  হয়তো সেই সময় ছিলো না। -----তবু তুমি মৌনতা ভেঙ্গে  দিয়ে আমার দিকে তাকালে।বললে, ---- &#039;এই জায়গাটি অন্য রকমের সুন্দর!&#039;
--- আমি বলি, --&#039;হ্যাঁ। আমরা এখন প্রকৃতির মাঝে বসে আছি।এই সুন্দর, এবং এই ভালোলাগার কোনো তুলনা হয় না।&#039; 
আমার কথা শেষ না হওয়ার আগেই-- হঠাৎ তুমি বললে-- &#039;আমি সুখী।&#039; 
এই কথার উত্তরে কী বলা যায়, ভেবে না পেয়ে আমিও বলি--&#039;আমরা সুখী।&#039; 
---- তুমি কাজল  আঁকা  ডাগর নয়নে আমাকে দেখলে,  মুখে কিছু বললে না। শুধু তোমার মুখের দ্যুতিময় হাসি-- সেদিন অজস্র কথা বলেছিলো!....

এভাবে বহুক্ষণ কাটে।আমরা ঠাঁই বসে থেকেছি! আমাদের মনে অন্যরকম ভালো লাগা-- প্রথম সূর্য উদয়ের মতো নরম কোমল উষ্ণ ভালোবাসারই পূর্বরাগ!.... 

আমি দেখলাম-- আমার বন্ধু উঠে গিয়ে কিছুদূরে চলে যায়।সে ঘুরে ঘুরে দেওয়াল সংলগ্ন দীর্ঘকালের পুরোনো বড়ো বড়ো গাছগুলি দেখতে থাকে।আমি জানি না-- 
সেও কি তার ভালোলাগার কথা নিঃশ্চুপ বৃক্ষদের শোনাতে চেয়েছিলো!-----

তুমি হাসি মুখেই আমাকে বললে-- একটা কি গান গাইতে পারি না?
------আমি থতমত খেয়ে তোমাকে দেখি।আমার এতোক্ষণের নিরেট ভালোলাগার কাচের গোলক ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম! তবুও মুখে হাসির রেখা টেনে বললাম--&#039; 

---&#039;প্রশিক্ষিত গানের গলার গায়কতো আমি নই।তবে খালি গলাতে আমি সূর-বেসূরের ---একটি গান, ----হয়তো স্মৃতি থেকে গাইবার চেষ্টা করতে পারি।এই গানকে অবশ্য গান মনে নাও হতে পারে!&#039;.....
তুমি বললে--&#039;আমার কাছে এটিই গান মনে হবে!&#039;....

আমি  প্রথমে কোন্  গানটি গাইবো বুঝতে পারলাম না।তালগোল  লাগছে। আমার মস্তিষ্ক  অতিরিক্ত ভালোলাগার  সাথে আর কিছু  মেলাতে দিচ্ছে না যেনো!  নার্ভাস ভাব লাগছে।সেই ভাবটা,  মুখের  মধ্যে  ছড়িয়ে পড়ার  আগেই গোপনে তা লুকাতে যথেষ্ট চেষ্টা করে যায়....     গেয়ে উঠি রাগাশ্রয়ী এই গান।-----

               &quot;ভোরের শিশির হয়ে,  একফোঁটা সুখ যদি কুড়িয়ে পেতাম,--- 
                        ----আমি কুড়িয়ে পেতাম। 
              -----ফুলের পরাগ  হলে  প্রজাপতি,  চুম্বনে ভরিয়ে দিতো।
               ---------নাহ, নাহ-- নাহ, কিছুই হওয়া হলো না।------
               
          ----ডানা পেলে শূণ্যে হারিয়ে যেতাম, ডুবুরী হলেও খুঁজে মুক্তো---- 
                   পেতাম।
          ----না পাওয়ার থেকে এই পাওয়ার আশা,  বুকভরা তৃষা তবু---- 
                   ভালোবাসা।
         -----তারা হলে, আকাশে জ্বলে থাকতাম। তুমি এলে এই প্রাণের---
                     ------কথা বলতাম।...
               ------------ নাহ-- নাহ,  নাহ!   কিছুই বলা হলো না।--------
               
                ভোরের শিশির হয়ে,  একফোঁটা সুখ যদি কুড়িয়ে পেতাম,--- 
                    ------আমি কুড়িয়ে পেতাম। 
         ------ফুলের পরাগ  হলে  প্রজাপতি,  চুম্বনে ভরিয়ে দিতো।
               ---------নাহ, নাহ-- নাহ, কিছুই হওয়া হলো না।&quot;----------
               


এখন আমাদের-----
সেই  রেলওয়ে  একাডেমির  সেই  দীঘিপাড়,  কলাবতীর  গাছ, দল্  ঘাস-- হালকা ধরণের  সবুজাভ  ঝোপঝাড়,  দীঘির  টলোমলো  পানিতে  মৃদু  ঢেউ,  আশপাশের বহুকিছু  ও আমাদের  প্রথম পরিচয়ের  স্মৃতিচিহ্নটুকু কোথাও কিচ্ছু নেই! এখানে এখন  দীঘিটি  আর  চারপাশের  অনেক  কিছুকে  বাণিজ্যিক করণ  করা  হয়েছে।হারিয়ে গেছে সেই দিনের এখানে তোমার আমার বা আমার তোমার মনের পরিচয় পর্বের মতো-- বহু কিছু! 

এখন আমরা, 
----তুমি বহু দূরের খুব পরিচিত বড়ো এক শহরে, 
----আর আমি এখানে, এই ছোট প্রায় অচেনা এক শহরে বাস করি।
পুবেকার আমাদের মধ্যখানে শুধু, ----অনেক পূর্ব স্মৃতিদের হাওয়াটুকু বয়ে যায়!....   

----------------- 
[ গল্প ]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/26436/</link>
				<pubDate>Thu, 05 Aug 2021 15:21:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজকের গল্পের নাম&#8212; &#8216;সীমাবদ্ধ সীমারেখা।&#8217;<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
স্মৃতি সততই সুখের! আজো আমি মিষ্টি অনুভূতি বোধ করি&#8211; স্মৃতি কাতরতাই!<br />
এখনো আমার প্রিয় বাল্য, কিশোর কালকে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে। কিন্ত খুব স্মৃতি কাতরতা আবার আবদ্ধ করে ফেলে স্মৃতির জেলখানায়! </p>
<p>কবি জীবনানন্দ দাশ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-26436"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/26436/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>13</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0d70e54528d65528a2d0acdd4e77ec38</guid>
				<title>আমার  খোকন  
---------------------


খোকন, আমার খোকন, 
যখন  এই  পৃথিবীতে  ভূমিষ্ট  হয়নি  তারও আগে  থেকে-- 
আমাকে ডাকতো,  ---গভীর ঘুমে আমি মগ্ন তখন, 
ডাকতো--- বা&#039;-বা&#039;আ,.. 
আমি ঘুম অঘুমের ঘোরে, সেই বাবা&#039; ডাক শুনতে পেতাম;
খুউব আদুরে খুউব কোমল গলায় খোকন ডাকতো--  
বলতাম,   ------কি বাবা  ----কোথায় তুমি?
খোকন বলতো-- এ&#039;এ&#039;এতো-- আ&#039;আ&#039;মি,  অন্ধো-কা-আরে,... 
ওতাতো মাইয়ের পেত্!
আমি বলতাম, -----বাবা, -----সেখানে খুউব অন্ধকার--
-----তুমি কি ভয় পাও? 
খোকন বলতো---- হ্যাএঁএঁ,  বা বা&#039;আ,... 
আমি বলি---  বাবা, আর ক&#039;য়েকটা দিন থাকো--- 
-----তারপর তুমি বাবাকে দেখতে পাবে, ভয় পেয়ো না;- 


.....তারপর নৈঃশব্দ!
আমার প্রাকৃতিক খোকন অঘোর ঘুমে গর্ভঘরে ঘুমোতে থাকে;-
এমন প্রতিরাতেই যে খোকন আমাকে ডাকে তা কিন্ত নয়-- 
----মাঝে, মাঝে,--
---ঘনতমো অন্ধকারে ফুঠে থাকা একটি টকটকে লাল ফুল!
আমার খোকনের চোখ, --নবদ্বীপ বাসিনী বিষ্ণুপ্রিয়ার মতো!
মুখটি শিশিরে ভেজা কমলা লেবুর মতো! 
নাকটি চৈত্র সংক্রান্তির মেলার পুতুল ঠেপাই ঠাকুরের মতো!
ঠোঁট বরুণ দেবতার মতো!
চুলে সব বৈশাখী আধো আধো কালো মেঘরা যেনো খেলা করে---
খোকন এক সময়ে নড়াচড়া করতে থাকে আমার বুকে, 
আমি বুকে ব্যাথা বোধ করলে মনে হয় খোকন কাঁদছে! 
জাগতিক জগতের আলো অপেক্ষা করে খোকনের--- 
আমি একটি একটি দিন গুনি।


-----আমার খোকন বহুদিন স্বপ্নে আসে না... 
----সে এখন হাঁটে থপ্ থপ্ করে পবিত্র পা ফেলে মাটির উপর---
তার একটি সামাজিক নামও আছে অবনীশ।
আমি দেখি আমার খোকন স্বপ্নদুয়ারী দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে; 
অবনীশকে লুকিয়ে আমি খোকন ডাকি। 
তখন অবনীশের মুখটি অবিকল খোকনের মতো লাগে!
একদিন দুপুরবেলা শুনি। বা&#039;-বা&#039;আ... 
তাকিয়ে দেখি আমার খোকন! 
আমার কোলে অবনীশ,  দু&#039;হাত দু&#039;পা ছুঁড়ে খেলা করে।

---------------------------------------------------------------------</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/25233/</link>
				<pubDate>Wed, 28 Jul 2021 17:09:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার  খোকন<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;</p>
<p>খোকন, আমার খোকন,<br />
যখন  এই  পৃথিবীতে  ভূমিষ্ট  হয়নি  তারও আগে  থেকে&#8211;<br />
আমাকে ডাকতো,  &#8212;গভীর ঘুমে আমি মগ্ন তখন,<br />
ডাকতো&#8212; বা&#8217;-বা&#8217;আ,..<br />
আমি ঘুম অঘুমের ঘোরে, সেই বাবা&#8217; ডাক শুনতে পেতাম;<br />
খুউব আদুরে খুউব কোমল গলায় খোকন ডাকতো&#8211;<br />
বলতাম,   &#8212;&#8212;কি বাবা  &#8212;-কোথায় তুমি?<br />
খোকন বলতো&#8211; এ&#8217;এ&#8217;এতো&#8211; আ&#8217;আ&#8217;মি,  অন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-25233"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/25233/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">be599e92f9af30d60580469b1586fe83</guid>
				<title>আলবেয়্যার কামুকে মনে পড়ে....  
-------------------------------------------
[ সবুজ  পাহাড়টার  গাঁ  ঘেঁষে  ছড়িয়ে  ছিটিয়ে  থাকা  সংগোপন সম্পর্কের বৃক্ষদের এক সুনসান বনানী এখানে! এমনই বনবীথিকার ভেতরে নির্মাণ হয়েছে  শহর তলীর  এক হোটেল। বহু  পুরনো  এই হোটেলের  কোনো  এক  কক্ষে বসে, ----মঞ্চবিহীন, কোলাহল মুক্ত, পরিশ্রান্ত একজন খ্যাতনামা কবি। ...একান্তে  কিছু কবিতা লিখতে চেষ্টা করেছিলেন।কবিতাগুলোর মধ্যে একটি কবিতার নাম এমন,   ----&#039;হোটেল কক্ষে আগুন্তক&#039;। ]
--------------------------------------------------------------------------------


হোটেল  কক্ষে  আগুন্তক! 




বহুদিন  নিজের  চারপাশে  অদৃশ্য  নিয়তি  দন্ডিত  ছায়ামূর্তি, 
অতিথি  আগুন্তক,  একজন  নৈঃশব্দের  মুখর  সৃষ্টিশীলতা!


জালানা দিয়ে একচিলতি আকাশ দেখা যায়, পাশে পূর্ব পৌরুষীয়--
লেখার একটি মাত্র টেবিল!  শহরের আকাশে বৃষ্টিমেঘ রাশি রাশি 
জমে, বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 


অনেক দিনের পুরানা জানালার ফ্রেমে জমে থাকা ধোঁয়ার মতো--
ধুলিমাখা কুয়াশা নৈঃশব্দের সৃষ্টিশীলতার মুখোমুখি হতে চাই, ---


নিজের  চারিদিকে  নিঃসঙ্গতম  আত্মার  সমান  বয়সের  ভাবনারা, 
আমার  উপর এখন ভরসা খুঁজতে আর আসে না!


বহুদিনের  শূণ্যতাটুকুর  অনুভূতি  শুধু, আমাকে  পরিত্যাগ  করেনি;-- 


স্তব্ধদুপুরে, এই  সময় শ্রম-ক্লান্তরা  আলস্য  হজম করতে  ঘুমুতে চায়,
যখন কোথাও তখন ডাক দেয় জীবনমুখী শীৎকার কন্ঠী ফেরিওয়ালা!


এদের হাঁকে ডাকে নিস্তরঙ্গ জীবাত্মাদের কারো কারো সঙ্গ বোধ হয়। 


অন্ধকার ঘরে একা জেগে উঠে দেখতে পাই,-- 
আমি নিজের কাছেই যেনো আরেকজন নিঃসঙ্গতম আগুন্তক!
উত্তরের মতো ভাবতে থাকি,  &#039;কি মহৎ অর্থ হয়--  এই যে বেঁচে আছি?&#039;


মাঝে  মাঝে  মাঝে অবশ্য স্মৃতির এ্যাবসার্ড কোলাজের রোমাঞ্চ থেকে ---


&#039;মাঝ বয়সের অলকানন্দার কর্মক্লান্ত মুখের কালোছায়ার মুখোশ দেখি! 
কখনো মধ্যরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে ঘনপল্লবের মতো সে মুখের দীর্ঘছায়া দেখি!&#039; ----


&#039;মেঘপাল গ্রামের হেমাঙ্গিনী সুদেহী অলকার পছন্দ ছিলো আদি কামনার  ভূগোল! ---
আমার পছন্দ কামনাবতীর গিরিশৃঙ্গের সভ্য আধুনিক ব্যাকরণ&#039; ;--


-----কতো বছর হবে? হয়তো কুড়ি বছর বা তারও বেশি, নীল জ্যোৎস্নার  নগ্ন স্বপ্ন;


প্রস্তরে ফুল ফোঁটাবার যাদুমন্ত্র কৃষ্ণকায়া অলকা আমাকে শেখাবে বলে আর শেখালো না! 
-----জীবন মোহের কাছে পরাজিত নন্দিনী নিজের পদবী পাল্টিয়ে ছিলো কুড়ি বছর আগে! ----  


অস্বাভাবিক নিরব ছিলো --- এই হোটেল&#039; কক্ষে একজন আগুন্তক;

অস্বাভাবিক তার নৈঃশব্দিক স্থির সময়! -----


আজ  উৎপাদনহীন  কবিমন---   কবিতার  খেরো  খাতায়  অক্ষর;  শব্দ; বাক্যের মিছিলে--
দুর্দিনের স্খলনের আওয়াজ উঠে আসে। 


হোটেল কক্ষের দেয়ালে দেয়ালে সেই গর্ভজাত আওয়াজ ঘুরপাক খায়  আগুন্তকের;---


চোখের  কোণা  সিক্ত  হয়,  সূর্যালোকে  চিকচিক  করে  লবণ  জল।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
উৎসর্গঃ  বিশ্ববিখ্যাত  উপন্যাস  &#039;দি আউটসাইডার&#039;  এর  লেখক আলবেয়ার কামুকে।তিনি পৃথিবীর প্রথম সারির গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের একজন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/23741/</link>
				<pubDate>Sat, 24 Jul 2021 16:03:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আলবেয়্যার কামুকে মনে পড়ে&#8230;.<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
[ সবুজ  পাহাড়টার  গাঁ  ঘেঁষে  ছড়িয়ে  ছিটিয়ে  থাকা  সংগোপন সম্পর্কের বৃক্ষদের এক সুনসান বনানী এখানে! এমনই বনবীথিকার ভেতরে নির্মাণ হয়েছে  শহর তলীর  এক হোটেল। বহু  পুরনো  এই হোটেলের  কোনো  এক  কক্ষে বসে, &#8212;-মঞ্চবিহীন, কোলাহল মুক্ত, পরিশ্রান্ত একজন খ্যাতনামা কবি।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-23741"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/23741/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8dd8655779e4671163ffc16599234c5c</guid>
				<title>দ্বিতীয় ভাগ
[২]
প্ল্যাটফর্ম
======

কপিলাও সাগ্রহে জিজ্ঞেস করে-&#039;তাইলে আমাগো বড়ো কালের পেরেমের বা কি অর্থ?&#039;
---বড়োভাইয়ের মুখে হাসি ফুঠে উঠে।তিনি বলেন, --&#039;বড়োকালের প্রেম আবার কি সবতো হিসাব কিতাব।এক সময়ে গিয়ে প্রেমের অংক মিলে গেলে আপনার নামের পাশে আপনার মন মানসীনির নামটি লিখতে পারবেন।না হলে সব শূণ্য!&#039;

আমিও একটি প্রশ্ন করি--&#039;কবির প্রেম কি কবিতার জন্য দুর্বলতা হতে পারে।প্রেমে জড়িয়ে প্রেমের কবিতা লেখাকে আপনি কিভাবে নিবেন?&#039;
---বড়োভাই চোখ স্থির করে বললেন,
---&#039;কবিতা নামক-- কবি কল্পনায় সারাক্ষণ কোনো একজন মেয়েকে নিজের লম্বা দুই বেণী দুলিয়ে কিশোরীর মতো উচ্ছ্বাসে ও কল্পনার--- এই মাথা থেকে ওই মাথা পর্যন্ত দৌঁড়াতে হবে কেনো? নারী মুখ ছাড়াও কবিতা হয়! এই আকাশ; পাহাড়; নদী; প্রকৃতি; ফুল; পাখি; ধানের মাঠ; মানুষ; প্রতিবাদ; প্রেম; বিরহ; জীবন এমন কি কাউকে থাপ্পড়; অপমান; আইনকে প্রশ্নবিদ্ধ; রাষ্ট্রকে লজ্জা দেয়া, -----সবকিছু নিয়ে কবিতা লেখা হতে পারে।&#039;

-----কবি মানুর মুখে আমি দেখি একই সাথে হাসি আর হাসিহীনতা! মানু জানতে চাইলো-- &#039;তাহলে মানুষের মনের প্রেমের কি কোনো ভালো দিক থাকবে না?&#039; 
মানুর এই প্রশ্নোত্তরে বড়োভাই বলে গেলেন-- &#039;প্রেম সম্পর্কে এক গুণী লেখকের কথা আমার খুব মনে ধরেছিলো।তিনি বলেছিলেন-- বাল্য জীবনের প্রেমই ভালো।সাধারণত যে প্রেমের থাকে না কোনো দীর্ঘ ভবিষ্যত,  হিসাব কিতাব। তখন মন ও চোখ, স্পর্শে থাকে অর্থহীন স্বপ্নে ভরা! সেই স্বপ্ন পরে হারিয়ে গেলে বুক খালি হয় না।&#039;
রজত এবার একটি প্রশ্ন করে-- &#039;তই সুন্দরী মাইয়ার কি প্রয়োজন আছে।হেরাতো নিজেগো একেক জন পেরেমের রাণী ভাবে?&#039;
---বড়োভাই একটু হেসে নিয়ে উত্তর দিলেন-- &#039;এই জীবনে সুন্দর মুখের মেয়েদের দেখে মনের তাৎক্ষণিক ভালোলাগাকে নিশ্চয়ই প্রেম বলা যাবে না। সুন্দর হলে সুন্দরের দিকে চোখ তোলে তাকানো মানুষের স্বাভাবিক এক প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি!সুস্থ কোনো মানুষই এই আকর্ষণ এড়িয়ে যায় না! এসব কিন্ত ঘটে ব্যাক্তির মনে।এই পর্যন্ত অবশ্য সৌন্দর্য উপভোগ ঠিক আছে।ঠিক থাকবে না যখন তীব্র অবদমন কামনা ওই ব্যাক্তিকে অনৈতিক ধর্ষণের ইচ্ছে জাগিয়ে দিয়ে মানবিক মানুষ থেকে পশুতে রুপান্তর করে দেয়!&#039;
আবার তিনি হেসে বলেন- &#039;সুন্দরী রমনী প্রকৃতির একটি নিবেদিত অংশ, বা বংশ বিস্তারের জাল... হাহাহা---&#039;
অনেকক্ষণ পরে আমাদের মুহিন জানতে চাইলো--&#039;একাকী মানুষের সংজ্ঞা আপনি কিভাবে করেন?&#039; 
---বড়োভাই বললেন-- &#039;আমার মনে হয়, মনের দিক থেকে নিঃসঙ্গ, একাকী---- মানুষেরাই ট্রেন, বাসে জানালার পাশের সিটে বসতে চায়!&#039;
------এই কথা বলার পর তিনি খানিকটা হাসলেন। 
......এই কথা শোনার পরে মুহিনের চোখ পিটপিট করতে থাকে!.... 
সে এবার সত্যিকারের কিছু জানার জন্য প্রশ্ন করে--&#039;আমাদের ছাত্র সমাজের শিক্ষা বা আদৌ শিক্ষা কি রকম হওয়া উচিত?&#039;
মুহিনের জিজ্ঞাসার উত্তরে বড়োভাই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বলেন--&#039;পুরোনো সমাজে এই রকম একটি কথা প্রচলিত ছিলো ----আধা শিখলে গাধা হয়!  আজো বর্তমানের সমাজকে দেখলে ওই কথার প্রতিফলন অতীতের সময়কাল থেকে অনেক বেশি সত্য মনে হয়!&#039;
মুহিন এবারে দ্বিতীয় প্রশ্নটি করে জানতে চাইলো-- &#039;দেশ বাঁচাতে সংগ্রাম, মুক্তির জন্য লড়াই, দেশকে মানবিক দেশ বানানোর আদর্শ--- বুকে নিয়ে মুখ বুঁজে কাজ করে যাওয়াকে আপনি কি বলবেন ?&#039; 
----আমাদের প্রিয় বড়ভাই, মুহিনের এই জানতে চাওয়ার উত্তরে চমৎকার করে বলবার চেষ্টা করলেন-- &#039;রাষ্ট্রের আচরণ নানামুখী হয়।আবার মুখোশের নীতি, আদর্শের চাপে দেশের ভেতরেই দেশের বুক ছিঁড়ে জন্ম নিতে দেখা যাবে নতুন দেশের! রাষ্ট্রনীতি সব সময় লাভ লোকমানের দিকে চোখ রাখে।এক সময়ে বাপে কেদানো, আদর্শ কামড়ানো কিছু আঁতেলদের জীবনবাজির প্রতিবাদ সংগ্রামের জন্যে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন সফল হয়েছিলো! আর বর্তমান সময়ে &#039;বাপে কেদানো আদর্শ কামড়ানো স্বপ্নবান আঁতেল&#039;দের অবদান আর কেউ দেখেনি!      ----কেনো? এমনো হতে পারে----  মহানতম রাষ্ট্রনীতির ব্রিটিশ ল্যান্ডলর্ড ফিরে যাওয়ার সময় তাদেরও মৃত্যু নিশ্চিত করে গেছে!&#039;
----বড়োভাইয়ের খুবই ভাব-গম্ভীর এমন মতঃপ্রকাশ শোনার পরে নতুন কিছু জিজ্ঞেস করবার কথা আমাদের আর মনে পড়ে না।সবাই যেমন স্তব্ধ, তেমনি মুগ্ধ হই!---
সম্বিৎ ফিরে পেয়ে যেনো শেষপ্রশ্নের মতো মুহিন প্রশ্ন করে জানতে চাইলো-- &#039;মনে গেঁথে রাখার মতো আজীবনের একনীতি, আদর্শের কোনো প্রকারের উপকার বা প্রয়োজন কি নেই বলছেন?&#039; 
----একটু চুপ থেকে বড়োভাই বললেন---- &#039;আমার একজন সিনিয়র বন্ধুর থেকে শুনেছিলাম এক গল্প।প্রসঙ্গ মিলে যাওয়ার জন্য এখানে---  একবার আপনাদের গল্পটি বলতে চাই।প্রথমে বলি রাখি-- জ্ঞানের জন্য কখনো সখনো অশ্লীল কিছুকে তুচ্ছ ভাবতে হবে যদি জানাটা উপকার করে।---
&#039;এক রাতে আমার সেই সিনিয়র ভাই আবার বন্ধুও, তার সাথে পারেখ দাশ নামের একজনের সঙ্গে চুম্বক এক জমাটি এক আলাপ হয়েছিলো।
----&#039;আমাদের ক্লাবের নাম আইনস্টাইন ক্লাব।আমাদের গলির মোড়ের বাঁয়ে সেটা পড়ে।এই ক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক হচ্ছে পারেখ দাশ।হাসি মুখে এক নামে তাকে সবাই চিনতো।কারণ ছিলো পারেখ দাশের সরেস রসিকতা করা! ক্লাব ঘরে পারেখ আছে মানে হলো--- সেদিন ক্লাবের চেয়ার খালি পড়ে থাকবে না!এক ঝড়ের রাতে, হয়তো ঝড়বৃষ্টির রাত বলে ক্লাব ঘর প্রায় ফাঁকা ছিলো।সেই সময়ে পারেখ এলো-- কোথা থেকে কাক ভেজা ভিজে।ঘরের কোণার দিকে একটি চেয়ারে গিয়ে বসলো। -----এরপর শোনালো একজন পিতার গল্প।নিজের অনাথ সন্তানকে শেখানো আর্দশ ও নীতির বাস্তব ফলাফলের এক কাহিনী!-----
---&#039;ডাকসাইটে জাঁদরেল একজন জেনারেল তার স্ত্রী বিয়োগের পরে খুব ছোটো বেলা থেকে নিজের অনাথ ছেলেকে কড়া নীতিবোধ ও আদর্শের উপর বড়ো করেন।যথারীতি তিনি ছেলের বিয়েও দিলেন।সদ্য বিবাহিত ছেলে বাসর ঘরে ঢুকবে তার আগ মূহুর্তে তিনি ছেলেকে ডেকে বললেন, ---দেখ্ রে বাবা, সব সময়ে নিজের কাজ নিজেই করবি।পর নির্ভরশীলতা ব্যাক্তিত্বকে ছোট করে দেয়।তারপর জেনারেলের বিবাহিত ছেলে নতুন বউকে নিয়ে ঘুমুতে যায়।মাঝরাতে ছেলেটির খুব পিপাসা পেলে পাশের বউকে সে না ডেকে, নিজে উঠে গিয়ে গ্লাস থেকে পানি ঢেলে খেয়ে নেয়।যখন নতুন বউয়ের পানির তৃষ্ণা পেয়েছে, বউটাও পানির কথা সংকোচে বলতে পারছে না-- বউটি ভাবলো তার নতুন স্বামী এতে কী মনে করবেন।সেওতো তার কাছে পানি না চেয়ে নিজেই পানি খেলো।নতুন বউ এবার নিজে হাতে পানি খেয়ে ঘুমানোর জন্য স্বামীর পাশে ঘনিষ্ঠ হয়ে শুয়ে পড়ে।আর ছেলেটির বউয়ের উষ্ণতায় ভেতরে কামনা জেগে উঠে। সে ঘনিষ্ঠ হতে যাবে হঠাৎ তার জেনারেল বাবার কথা মনে পড়ে &#039;পরনির্ভরশীলতা&#039; ভালো নয়।কামনায় পুড়তে পুড়তে ছেলেটি সবশেষে বাথরুমেই চলে গেলো!
এই ভাবে.... মহান মানুষেরা অনেক সময় তাদের দেখানো পথের একনিষ্ঠ নীতি, আজীবনের জন্য কোনো আদর্শকে তাদের অনুরাগীদের ভেতর ছড়িয়ে দেয়--- আগামী পঞ্চাশ একশো বা আরো বেশি সময়ের জন্য। কিন্ত নীতি বা আদর্শগত বোধ তাদেরকে ভাবনা মুক্ত করার নামে আরো স্থির করে তোলে! কিন্ত আমাদের দূর ভবিষ্যতের সময়, পরিস্থিতি বা পরিবেশ বরং সেই স্থিরনীতি আদর্শকে, প্রশ্নের ফণা তুলে ক্ষত বিক্ষত করে তুলতে পারে! ---এটায় সময়ের জন্য স্বাভাবিক। এই জগতে সময়ের চলার গতি সব সময় ভবিষ্যৎমুখী। ইতিহাসের পাতা থেকে আমরা জানতে পারছি---  মানুষের হাতে গড়া কতো সমৃদ্ধ জনপদ--- সভ্যতা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, ধর্মাচারকে মহাকালের মাটিতে মিশে যেতে হয়েছে।বলতে গেলে--- সময়ের বিচার অলঙ্ঘনীয়! এই রকম, ----এই ভাবে সময় আপন চলার গতিকে ভারসাম্য করে তোলে!&#039;...
----আমাদের মানু মানে কবি মনোজ, চোখ বুজে শুনছিলো।বাকী আমরাও প্রচন্ড ভালোলাগার অনুভূতিতে বিমূঢ় হয়ে উঠি এমন দার্শনিক যুক্তিচিন্তা ও চেতনায়!...

স্টেশনের নাম ছিলো জামতলা রেলওয়ে স্টেশন।আমি বিকেল পাঁচটা বাজে ঘর থেকে বের হলাম।ঘরের সবাই জানে আমি এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বোনের বিয়েতে যাচ্ছি।দিন দুই দিন বাদে ফিরবো।আমার এখন বড়ো রকমের ভরসা বন্ধু মুহিন।রাত নয়টা নাগাদ তার সঙ্গে প্ল্যাটফর্মেই দেখা হবে।আমাদের এই রকম কথা হয়েছিলো।হয়তোবা বোনাস পাওনা হিশেবে--- আমাদের সঙ্গী হয়ে যোগ দিতে পারে বন্ধু-- রজত, কপিলা।
----এখন আমাকে যেতে হবে প্রথমে গাড়িতে করে বড়ো রাস্তা ধরে পাহাড়িকা সদর বাজার।গাড়ি থেকে বাজার নেমে হাতের ডানের মোড়।সেখান থেকে কিছু দূরে হাঁটা পথে চৌচালা ট্রেন জংশন।এখান থেকে সাতটা লোকালের কোনো ট্রেনে করে সোজা নামতে হবে---- মূল জামতলা রেলওয়ে স্টেশন।

----আমি এইমাত্র জামতলা স্টেশন এসে পৌঁছালাম।ট্রেন থেকে নেমে মনে হলো আমি সবার আগে এসেছি।পরিচিত কাউকেই চোখে পড়ছিলো না।মুহিন, রজত, কপিলা বা কংগ্রেসের জালালুকে। আমার ভেতরে একটু চাপ চাপ অস্বস্তি হতে লাগলো!  দুরু দুরু বুকে হাঁটতে লাগলাম। হেঁটে স্টেশনের বাইরের দিকে চলে এলাম।আর এখানেই দেখা হয়ে গেলো মুহিনের সঙ্গে।আমার মনে এবার স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। সেও- না -কি এইমাত্র স্টেশনে ঢুকলো।হাতের ঘড়িতে দেখি, নয়টা বেজে গেছে।মুহিন আমাকে দেখে জানতে চাই-- রজত কপিলারা কেউ এলো  কি-- না? আমি না&#039;  বলে মাথা নাড়ি।আমরা দুজনে এগিয়ে গেলাম কুলিদের হাঁক ডাক ছাড়িয়ে প্ল্যাটফর্মের ভিতরে।এক রাতের ট্রেন যাত্রী কুলিকে সমানে সাবধান করে চলেছে--- এই মালপত্র সামলে নাও, আমার আগে আগে হাঁটো, দৌঁড়াবে না...।&#039; 
মুহিনই প্রথমে আমাকে দেখালো--- ওই দেখ, ঐ যে দূরে, কে দাঁড়িয়ে আছে? আমি তাকিয়ে দেখলাম কপিলা একলা দাঁড়ানো।বার বার এদিক ওদিকে তাকাচ্ছিলো।দাঁড়াবার ভঙ্গিতে অস্থিরতা বোঝা যাচ্ছে! মুখে ভয় ধরানো একটু ভাব। আমাদের সে এখনো দেখেনি। আমরা দুজনে কপিলার দিকে হেঁটে যায়---কপিলা আমাদের এখন দেখতে পেয়েছে। আমাদের দেখেই তার মুখ থেকে যেনো কালো মেঘের ছায়া সড়ে যাচ্ছে....
আমি কাছে গিয়ে জানতে চাই-- &#039;এখানে কতোক্ষণ হয়েছে ---এলি?&#039; 
কপিলা উত্তর দিলো---&#039;মেলা সময় হইছেরে।&#039; আমি জানতে চাইলাম- তোর সাথের ঝিগিরি দোস্ত, ওই ভাববাদী এলো না?&#039;
উত্তরে কপিলা যেটুকু বলে এতেই আমার লজ্জিত হওয়া উচিত হবে--- 
রজত শেষপর্যন্ত আসতে পারেনি।কারণ ঘরে রজতের বাবা খুব অসুস্থ।বুকে ব্যাথা উঠেছে।এই অবস্থায় সে কি করে আসে।এটি শোনার পরে, মনটা আমার ভারী হয়ে উঠলো।রজতের দুঃখিত মুখটি যেনো এখন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম! ---
কপিলা বলে গেলো-&#039;বুঝছোসনি, জালালুগো লগের আরেক চ্যালা আনিস আছে না, ওই সোম্বন্দির পো, হেই হইলো ছাত্র কল্যাণ কংগ্রেসের বড়ো ভাইগো আদেশ পালনের জন্যে বাঁধা বান্দিনীগো লাহান! হুনলাম্--- হে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা সাইজ্জা আমরার বইনগো বাসার কলোনীর পরে-- ঝাউতলি পট্টির বেবাগগো ঘরের বুড়া ছাত্রগো ঢাকাত্ সম্মেলনের মাঠে সাপ্লাই দেওনের কাম লইছে! হেতার সোনা মুখের কথার পাল্লায় পইড়া তোগো সাথে না আইয়া সোজা এয়ানে আইলাম।&#039;
আমি ভদ্রতা করে জানতে চাইলাম--- &#039;হুঁম! তারপরে কি হলো?&#039;
কপিলা বললো- &#039;মানব, হাঁচা কইলাম আমি কিন্ত তোর লগেই দেহা করণের লাইগা বইনের বাসাতন্ বাইর হইছি। আওনের কালে আনিসচ্ছার লগে পথে দেখা অইয়া গেলো,  এর বাদে না এই কান্ড! হেতার লাহান, মুখের সোনা আর দুইখান কেউ আছেনি!&#039; 
এই পর্যন্ত বলে কপিলা থামলো।একটু হাঁপাবার মতো করে। পুনঃরায় বলতে শুরু করবে, ---এই সময়ে মুহিন তার কাছে জানতে চাইলো,--
--&#039;জালালু, আনিস ভাইকে-- তুই এখানে আসার পরে কোথাও দেখেছিলি?&#039; 
কপিলা বলে ---&#039;জালালুরে কিছুক্ষণ আগেও দেক্ ছিলাম।অন্যগোরে হে সুন্দর ঢাকাত্ ভ্রমনের বাণী দিতাছিলো।&#039;
মুহিনের মুখ একটু একটু কঠিন হতে থাকে।আমার দিকে সরাসরি তাকিয়ে মুহিন বলল-&#039;আমাদের এখন জালালুকে খুঁজে বের করতে হবে।চল্ তো এগিয়ে---দেখি, সন্ধান করি-- এখন সে কোথায় আছে।&#039; 
------ আমি প্ল্যাটফর্মের ভেতর চারদিকে তাকাই।এখন আমরা একসাথে কপিলা মুহিন ও আমি হাঁটছি।
কপিলা বললো--- &#039;জালালুর লগে দেখা হউনের মামলা পরে হবে, আগে চল্ সিরকট্ খামু।আনিসচ্ছা, দিলে বহুত নির্যাতন দিছেরে! দুই টান দিয়া হের বাদে তাগো লগে দেখা করবি।&#039; 
আমি মনে মনে বলি অতীব উত্তম প্রস্তাব।ধুমপান সংক্রমনের রোগ।এটি এখন আমার মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে চাইছে! মুহিন চোখ না তুলেই কি যেনো ভেবে বলে তাহলে চল্।&#039; .....যেতে যেতেই কপিলার কাছে জানতে চাইলো,
----&#039;আচ্ছা, তুই কি কারণে আনিসের উপর এতো ক্ষেপে আছিস?&#039;
প্রত্যত্তুরে কপিলা বলে--&#039; কইছিলো স্টেশনে হগ্গলের আগে আইলে সিটে বইতে পারুম।আগেরতোন্ এরা রেলের বগি রেডি কইরা রাখবো।ভাবছিলাম--সিটে গা ছাইড়া দিয়া-- পায়ের উপর পাও তুইল্ল্যা আরামে ঢাকাত্ যাইতে পারুম।এয়ানেতে আইয়া দেখি কিচ্ছু ঠিক নাই! রাম কলা পাকে নাই! লোভেই পইড়া গেছিলাম্ রে ------স&#039;অরি।&#039;
মুহিন এবার চুপচাপ।আমিও বা কি বলবো বুঝতে পারি না---
......দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলো জালালু ভাই আরো কয়জনসহ।কাছে যেতে সে আমাদের হাতের ইশারায় এক পাশে সড়ে দাঁড়াতে বললো।আমরা দেখলাম সে রাগত স্বরে কথা বলছিলো কয়েকজনের সঙ্গে।একটুপর আমাদের বলে--
-&#039;আজকে ঢাকার যাত্রী গেস্টের সংখ্যা যা ভেবেছিলাম তার থেকে অনেক বেশি হবে।এখনো গেস্টরা আসছে।&#039; -------এই কথায় মুহিনের মুখ কালো হয়ে উঠে।

রাত এগারটা বেজে পনের মিনিট।প্ল্যাটফর্মের আনাচে কানাচে দুঃসংবাদের মতো এক খবর ছড়িয়ে পড়লো যে, পেটোয়া পুলিশ নেমেছে! লাঠি চার্জ করেছে সমানে।কি জন্যে তারা লাঠি চার্জ করছে তার স্পষ্ট কারণ কেউ বলতে পারে না।বাতাসের আগে আগে শুধু আতংক ছড়িয়ে দেয়ার মতোন সবাই বলাবলি করে যাচ্ছে।অনেকে কান কথায় আতংকিত হয়ে দিকশূণ্য দৌড়াদৌড়ি করছিলো।আমরা ঢাকা গামী ট্রেনের লোকাল একটি বগিতে উঠবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।খুব দ্রুত আমাদের এদিকেও সেই খবরটি অগ্নিকান্ড আতংকের খবরের রুপ নেয়! এবার শুনতে পেলাম পুলিশ শুধু অবৈধ যাত্রী চিহ্নিত করে নাকি লাঠিপেটা করছে।এই খবর সবার মধ্যে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে।পাশের জন তার বিপরীত জনকে বড় গলায় বলছিলো আজকে কোথা থেকে দেদার ছাত্র জনতা এখানে জোড়ো হয়েছে।এরাই আবার অবৈধ ভাবে ফার্স্ট ক্লাসের, সেকেন্ড ক্লাসের বগির সিট দখল করে বসে আছে।এখন আসল টিকিট কাটা ঢাকার যাত্রীরা নিজেদের নাম্বারিং সিটের অধিকার পেতে পুলিশকে ডেকেছে! ------সে জন্যই পুলিশের এই এলোপাতাড়ি এ্যাকশনের গণপিটুনি... 
অনেকে ভয় ধরা মুখে নার্ভাস হয়ে একজন অারেকজনের কাছে জানতে চাইলো পুলিশ কি ট্রেনের সব বগিতে চেক করবে? আমি বুঝতে পারি-- এই ভয় পাওয়া মুখগুলো অধিকাংশই আমাদের মতো ঢাকাগামী ছাত্র জনতার! এদেরও বিভিন্ন জায়গা থেকে সু-বন্দোবস্তের লোভ দেখিয়ে আনা হয়েছে!

আমরা তিনজন একটু আগের ট্রেনে উঠার চিন্তাকে বাদ দিয়ে ফাঁকা দেখে এক জায়গা গিয়ে দাঁড়ালাম। কপিলা ভীত মুখে এদিক ওদিক দেখেছিলো।আমি মুহিন কে বলি---&#039;এখন কী করবো আমরা?&#039;
মুহিন আমাকে না দেখেই বলল--&#039;পরিস্থিতি আরেকটু দেখবো।বুঝতে পারছি না--
যদি ঢাকা নাও যেতে পারি--- তাহলে এতো রাতে কোথায় যাবো?&#039;
দুঃখিত মুখে কপিলা বলে-- &#039;ইচ্ছা কইরাও এহন এতো রাইতে বইনের বাসায় ক্যামনে ফিইরা যাই।সকাল হইলে এক কথা আছিলো।&#039;
আমিও এবার বলি--&#039;আমার সমস্যাও একই।রাতবিরাতে ঘরে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।দিনের বেলা হলে ম্যানেজ করতে পারতাম।&#039;
মুহিন কিন্ত বলে--&#039;আমার সমস্যা এক না হলেও, তোদের ফেলে আমি কোথাও যাবো না।&#039;
আমরা দেখতে পাচ্ছি একদল ছাত্র জনতা হাত উঁচু করে শোরগোল করতে করতে
আমাদের এইদিকে আসছে।কপিলার মুখ কাঁচুমাচু।সে বললো-- &#039;হালারগো ছাত্র কল্যাণ, বিনা টিকিটে মায়ের কোলত্ কইরা ঢাকাত্ যাইবার চাও?&#039;---
ছাত্র কল্যাণ কংগ্রেস সংগঠনটির বড়ো ভাইয়েরা জোড়ো হয়ে ঘোঁট পাকাতে থাকে।তারা স্টেশন মাষ্টারের দায়িত্বরতো যিনি, তাকে ঘেরাও করে।তাদের দাবী আজকে রাতের জন্য--- দু&#039; থেকে তিনটি খালি বগি যেনো বরাদ্দ করেন।ছাত্র কল্যাণের নিবেদিত প্রাণ তৃণমূল মাঠকর্মী আমাদের বন্ধু মুহিনকে সেই বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা হতে--- আমি বহুকষ্টে একপাশে সড়িয়ে আনার চেষ্টা করতে থাকি!---

কিছুক্ষণ হয় আমরা আরো খানিকটা সড়ে গিয়ে দূরের এক ঝুপড়ি চা-দোকানের পাশে এসে দাঁড়ালাম।বড় এক ছেলে, ঝুপড়ি দোকানটির পাশে--পানের পেটি নিয়ে মন লাগিয়ে পান বিক্রি করছিলো।আমাদের মধ্যে কপিলাকে দেখতে পেয়ে সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে! মাথা নিচু করে সে উসখুস করতে থাকে।গলা নিচু করে ছেলেটি এবার আমাদের উদ্দেশ্যে বলে--&#039;ভাইগো, ইস্টিশনে পরতেইক দিন কিছু না কিছু কান্ড হয়! কোনো সোম দেহি সোন্দর কাপড় পড়া চোরেরা, যাত্রিগো লাগেজ চুরি করে পলানির সোম্ পাবলিক হেতার পিছনে ধাওয়া করে! তয় ধরা খাইলে কথা বাদে ডাইরেক মাইর।&#039; কথাগুলি একটানা বলে ছেলেটি থামে।চোখ তুলে কপিলাকে একবার দেখে নেয়।এরপরে বলে--&#039;পাবলিকের হাতে ধরা পইড়লে দাঁত ফালায় দেয়, হাড় ঝুরঝুরা কইরা দেয়।&#039; 
আমরা দেখি কপিলা এখন ছেলেটির দিকে চোখ পিটপিট করে তাকাচ্ছে।&#039; 
সেই পান বিক্রেতা ছেলে এবারও মুখ না তুলেই আমাদের উদ্দেশ্যে বললো- 
&#039;একটু সাবধানে থাইক্যান্।আউজকা হুনলাম পুলিশ আইয়া টিকিট দেখতাছে।যাগো টিকিট নাই তারেই ধইরা মারতাছে।পুলিশগো ভাব বিচার পরিস্কার না।হেরা জনতাকে এভারেজে মারে।কারো সমস্যা হুনতে চাইতো না!&#039;
কপিলা চোখ উল্টে ছেলেটাকে কড়া কিছু বলতে যাচ্ছিলো।আমি তার হাতটি ধরে মুহিনসহ একপাশে চলে আসলাম।মুহিন ভাবনা মুখে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে।কপিলা মুখের ভিতর গোঁঙগানীর মতো করতে থাকে।বলে---&#039;হালা চোরের পুতে কয় কি, আমগো দেইখতে কি তোর চোরের লাহান লাগতেছেনি, দিন রাইত পানেত্ খদ্ লাগানি তোর কাম, ---চোর পুলিশের সাইকোল্জি তুই ক্যামনেতে পোন্দাজ্?&#039;

রাত বারোটা বেজে গেছে।আমাদের ছাত্র কল্যাণ পুলিশের হাত ধরে; স্টেশন মাষ্টারের করুণা নিয়ে; অবশেষে একটি থার্ড ক্লাস লোকাল বগির ব্যবস্হা করতে পেরেছিলো।কিন্ত উপস্থিত ছাত্র জনতার সংখ্যা ছিলো দুই বগি সমান।ওই একটি মাত্র বগিতে প্রচন্ড হুড়োহুড়ি হাতাহাতি আর কার আগে কে উঠবে।এমন ঠেলা ঠেলিতে আমরা কেউ আর ঢাকার যাত্রী হয়ে উঠতে চাইনি।আমরা ঠিক করি স্টেশনে রাতটা কাটাবো।সিদ্ধান্ত হয় পরদিন-- সকালে তিনজনে রজতের অসুস্হ বাবাকে দেখতে যাবো।আমরা রজতের এই দুঃসময়ে আন্তরিকভাবে তার পাশে দাঁড়াবো। ---

কপিলা দ্বিতীয় কিস্তি সিগারেট পানের জন্য উসখুস করে।দুই আঙ্গুলে সিগারেট বিহীন-- সিগারেট মুখের কাছে ধরে-- পান করার ভঙ্গি করতে থাকে!---
মুহিন চুপচাপ হাঁটছে।হাঁটা পথেই আমি ও কপিলা ফাঁকা একটি বসার জায়গা দেখতে পেলাম।মুহিনকে বলি--চল ওখানে কিছুক্ষণ গিয়ে বসি।আমাদের এখনতো হাতে অনন্ত সময়রে... 
পাশাপাশি তিনজনে বসে আছি।মুহিন কপিলাকে কিছু টাকা দিয়ে বললো-- &#039;তিন জনের জন্যে পাউরুটি, কলা আনিস।&#039; ----সাথে আমিও সিগারেট কেনার পয়সা দিতে গেলে কপিলা গলা খাঁকারি দিয়ে বলে--- &#039;আহা, রাখোস না।আমি সিরকট্ খাওয়া মুনে।হেইডা আমার পার্ট।&#039; আমি কথা না বাড়িয়ে একটি পানির বোতলের দাম দিয়ে বললাম-- &#039;এটা দিয়ে পানির বোতল কিনে নিবি।&#039;..... দোকানের সন্ধানে কপিলা পা বাড়ায়...
আমি হেসে উঠে পাশে বসা মুহিনকে বললাম--&#039;আজ যদি মানু আর রজত উপস্থিত থাকতো-- তাহলে ব্যর্থ ঢাকা যাত্রার অভিযানের এই কালো রাতে, কপিলাসহ মিলে ছাত্র কল্যাণ&#039;কে--- তারা কথার বীর্যপাতে পাঁচ মাসের প্রেগনেন্টই বানিয়ে দিতো!&#039; 

মুহিন কিছু না বলে ঝরঝরিয়ে হাসতে থাকে আমার কথায়----
মুহিনের হাসি থামার পরে আমি একান্তভাবে তার কাছে জানতে চাইলাম-
&#039;মুহিন তুই কি নিজেকে এখনো ছাত্র কল্যাণ কংগ্রেসের একজন বিশ্বস্ত, নিষ্টাবান, মাঠকর্মী হিশেবে ভাবিস?&#039;  --মুহিন অন্ধকারে আমাকে কি দেখলো জানিনা।উল্টো আমার কাছে জানতে চাইলো--- &#039;ছাত্র কল্যাণ সম্পর্কে তোর নিজের কি ভাবনা? 
আমি বললাম--- &#039;আমাকে ছাত্র কল্যাণের ঠিক একনিষ্ঠ কর্মী বলা যায় না।এই সংগঠন সম্পর্কে আমি ভালো কিছু বুঝিও না।তবে আমাকে এদের মূল আচরণের প্রতি একজন সন্দেহবাদী বলা যায়।&#039;
মুহিন বললো--&#039;হ্যাঁ- বহুকিছু না বুঝে আবেগী হয়ে এদের কথা দিয়েছিলাম--আমি সংগঠনের জন্য কাজ করবো।নিজের মনের কাছে ছোট না হওয়ার জন্য নিজেকে নিষ্ঠাবান একজন কর্মী ভেবেছি।আবার আমি মনে করি, এই ছাত্র কল্যাণ বৃহত্তর ছাত্র সমাজের কল্যাণে কোনো কাজে আসবে না!&#039;
মুহিনের এই কথায় আমি চমকে উঠি।জানতে চাই---&#039;এই কথা কেনো বলছিস?&#039; 
মুহিন আমাকে আরেকবার দেখার চেষ্টা করে।তারপর আলো আঁধারির দূরে কোথাও কিছু দেখতে পেয়েছে সেইদিকে তাকিয়ে বলে--&#039;এদের জনগণকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিক কোনো শক্তি নেই।কেন্দ্রের অভিভাবকদের সুদূর লক্ষ্যও গোলমেলে ভবিষ্যতহীন।দেখ্ মানব, শক্তি নির্ভর রাজনীতি ফিল্ডে কিছু ফলাতে পারে।অন্যের পকেটের, নিজের পকেটের দান দিয়ে কতোদূরে যাওয়া যায়?&#039; ---মুহিন অল্প থেমে আবার আমাকে বললো--&#039;তাছাড়া ছাত্র সমাজের প্রধান কাজই হচ্ছে পড়াশোনা করে নিজেকে চাকুরির বাজারের জন্য যোগ্য করে তোলা।হয়তো ছাত্র রাজনীতিতে ছাত্রনেতার লাভ হতে পারে।সে ভালো কোনো চাকুরী; মাষ্টারি; ব্যবসায়; ঠিক নিজের মার্জিনটি সুবিধামতো আদায় করে নিতে পারবে! অন্যদিকে কিন্ত একজন সাধারণ মার্কা ছাত্রের ভাগ্যে কিছু জোটে না। ----তাদের সময়, শ্রম ও তাজা স্বপ্নের অপমৃত্যু ছাড়া!...&#039;

[ গল্প ]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/22972/</link>
				<pubDate>Thu, 22 Jul 2021 13:21:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দ্বিতীয় ভাগ<br />
[২]<br />
প্ল্যাটফর্ম<br />
======</p>
<p>কপিলাও সাগ্রহে জিজ্ঞেস করে-&#8216;তাইলে আমাগো বড়ো কালের পেরেমের বা কি অর্থ?&#8217;<br />
&#8212;বড়োভাইয়ের মুখে হাসি ফুঠে উঠে।তিনি বলেন, &#8211;&#8216;বড়োকালের প্রেম আবার কি সবতো হিসাব কিতাব।এক সময়ে গিয়ে প্রেমের অংক মিলে গেলে আপনার নামের পাশে আপনার মন মানসীনির নামটি লিখতে পারবেন।না হলে সব শূণ্য!&#8217;</p>
<p>আমিও একটি প্রশ্ন করি&#8211;&#8216;কবির প&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-22972"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/22972/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e39b61219b75835f6295fef58d555f2a</guid>
				<title>[ ১ ]

প্ল্যাটফর্ম
======


আমরা  ক&#039;জন  কলেজ  পড়ুয়ারা  মিলে--- &#039;ছাত্র  কল্যাণ  কংগ্রেস&#039;  নামে,  একটি সংগঠনের সাথে জড়িত হয়েছিলাম।নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে--আমি  মানব রাষ্ট্রী,  রজত রুদ্র,  মুহিন সিকদার, কফিলউদ্দিন সৈয়দ-- ডাক  নাম  কপিলা, আর মনোজ বাগচী হচ্ছে মানু।আমরা বন্ধুরা কোনো কোনো বিকেলে এক শিরীষ গাছের তলে আড্ডা দিই। পরিচিত বন্ধু  মহলে আমাদের  ডাকে পাঁচের জন্য-- পঞ্চ&#039; গ্যাং। আড়ালে বলে পাঁচালী গ্যাং!
আমাদের  মধ্যে সবার  চেয়ে সুন্দর করে  বুঝিয়ে কথা বলতে পারে, ---বন্ধু  মুহিন।এরপর  মনোজ বা মানু,  কিছুটা আমি। রজত  আর কপিলা-- তারা  দুজনে  জন্ম ভাষাতেই  কথা  বলে। আমাদের  মধ্যে  সবার  চেয়ে লম্বা  মুহিনকে সিনিয়র লাগে।আমরা  সবায়  মুহিনকে নেতা মেনে নিয়েছিলাম। সে যদিও  সবার চাইতে আমাকে বেশ  অন্য রকম  বন্ধু বলে দেখে। তার  মতোন বন্ধু অন্ত:প্রাণ আমরা কেউ বিশেষ দেখিনি। চিন্তাতে বুদ্ধিতে সে ছিলো সপ্রতিভ। রজত ছিলো বগর বগর। কপিলা যা মুখে বলবে কাজ করবে তার অর্ধেক!
কেবল বন্ধু মনোজের ছিলো অন্য রকমের ঝোঁক।লেখা কবিতা আউড়াতে চাইতো।

--&quot;মধ্যরাতে জ্বরের ঘোরে ঘুম ভেঙ্গে গেলে;-
----মৃত উনুনে আগুন জ্বালি; ---
----মনপ্রিয়া তোমার জন্য এক পেয়ালা,--
 -----স্বপ্নের চা বানাতে।&quot;

কফ বুকে জমে বসে যাবার মতো ছিলো---  তার  সহজ  প্রেমের  জটিল জ্ঞান! সে একবার কোথায় নাকি পড়েছে নারীলতা, না নারীফুল আছে। ওই নিয়ে কি যে তার ভারিক্কি ভাববাদী কথা বার্তা! এরই জেরে আমি আর  মুহিন কয়েকদিন  তার থেকে পালিয়ে থাকার মতো দূরে থেকেছিলাম। লাভ হয়নি শেষ পর্যন্ত, ---সেই নারীফুলের উপর মানুর বক্তৃতা শুনতে হয়েছিলো অবশ্য....
&quot;নারীলতা...  যদিও বলা হচ্ছে  নারীলতা, আদতে  এটি  ডালপালা  ছড়ানো একটি গাছ!&quot; ---মাঝারি মোটা ধরণের হয়।হিমালয়ের দিকে জন্মে। তবে এই গাছে যে ফুল ফুঠে  তা হুবহু  হাত পা  মাথাসহ  নারীর শরীরের  মতো  দেখতে! কুড়ি বছর  অন্তর অন্তর এই গাছে একবার  করে ফুল ফোটে।&quot;... মানু, আমাদের বক্তৃতা দেয়ার মতো বলে শেষ করে।----

---আমরা প্রথমে জানতে পারি রজত থেকে।--&#039;এই তোরা কি ঢাকাত্ যাবিনি?&#039;
এটি শুনে কপিলা বলে--&#039;কিরে ঢাকাত্ তোর পকেডের টেকায় বেড়াতে লই যাবিনি আমগো?&#039;
এই কথায় থতমত্ খেয়ে রজত বলে-&#039;নাহ, জালালু ভাই আইছিলো।হেই কইছে, ঢাকাত্ যাইতে পারুম।যে চাই হেই যাইতে পারবো। তই হেরতন্ ছাত্র কংগ্রেস করণ লাগবো।&#039;
মুহিন আমার দিকে তাকায় মুখে কিছু বলে না।আমি এবার সবার দিকে তাকিয়ে বলি---&#039;জালালু কি তোর কাছে এসেছিলো, না-কি আমাদের কাউকে না পেয়ে এই কথা তোকে বলে গেলো?&#039; 
রজত মুখের ভাষা খারাপ করতে গিয়েও নিজকে সামলে নেয়।বলে--&#039;হে আমার বইনের জামাই হয়নি যে-- হুদা আমারে কইবো, হে আমাগো কাছেই আইছিলো।তোগো কাউরে না পাইয়া হেই কথা কইয়া গেছে আমারে!&#039;
 মুহিন এইবারে বলে--&#039;শুনেছিলাম, বড়ো করে এবার ছাত্র কল্যাণ কংগ্রেস কর্মীদের মহাসম্মেলন হবে রাজধানী ঢাকা।সারাদেশের কর্মীরা সে সম্মেলনে যোগ দেবে।&#039; 
শুনে কপিলা বলল---&#039;হ এরা হারাডা বছর, অপিসে-- দোকানে-- কমিশন ব্যবসায়ী-- আর এর ওর কাছে চাঁদা চাইয়া হাত পাতবো।হেই টেহা গুলান দিয়া বহুত দূরে রাজধানীতে কথা কওনের লাইগা বড়ো মঞ্চ বানাইবো। হেরপরে গান বাজনা হইবো, তারো--- পরে কোনো পেরেশান অতিথির বাক বাকুম কান খাড়া কইরা হোনতে অইবো।&#039; 
মানু রসিকতা করে ধড়া গলাতে বলে--&#039;শোন্ তোরা সন্ধ্যা রাতে হাঁটা দিবি তারপরে হেঁটে হেঁটে কুমিল্লার শনির আখড়া পেরোতে পারলেই তো ভোর  সকালে, আহা ----ঢাকা!
রজত বলে,---&#039;হ-- মান্নুয়ার তালতো ভাইয়েরা আমগো লাইগা ঢাকাত্ গেন্দাফুলের মালা লইয়া গলাত্ পরাইবার জন্যে পোজ লই খাড়াই থাইকবো!&#039; 
কপিলা এই সময়ে ফোঁড়ন কাটে।বললো--&#039;তই তালতোগো লগে যদি মান্নুয়ার সেইরম্ সুন্দরী একখান তালতো বোইন তাহে-- তাইলে তো হালার আঁই এক্ষুনি দৌঁড় দিমু।&#039; রজত বলে-&#039;হঅ --তরে তার আগেই শনির আখড়ার তালতোগো আদর সোহাগ মাখানি খাতির খাইয়া যাওন লাগবো।&#039; 
আমরা হাসতে থাকি।মনোজ ভেতরে ভেতরে ফুঁসতে থাকে!
মুহিন এবারে কথা বলে--&#039;শোন্ --ঢাকায় সম্মেলনে যদি যেতে চাস তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।ঢাকা বহুদূরের পথ।মনে হয় আমরা এই প্রথম ঢাকাতে যাবো।তাই এটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।সবার আগে জানতে চাইবো কে তোরা যেতে চাচ্ছিস?&#039; 
মুহিন চাইছে আমিও কিছু এই ব্যাপারে বলি---
আমি বললাম--&#039;আমাদের জালালউদ্দিন মানে জালালু ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে ঢাকা যাবার সব বৃত্তান্ত জানতে হবে, প্রথম কথা। তারপরে আমাদের মধ্যে কারা যেতে চাই-- সেটি ঠিক জানতে হবে।এই ঢাকাই যাওয়া বা না যাওয়ার বিষয়ে কার কি-- অসুবিধা, আলোচনা করে পরিষ্কার জেনে নিতে হবে।&#039; 
মুহিন হাসি মুখে বললো-- &#039;হুম-  সুন্দর বলেছিস মানব।&#039; রজত ও কপিলা প্যাঁচার মতো তাকিয়ে দেখে আমাদের দিকে--

সেদিনের মতো আমরা যে যার বাড়ি যাবার পথ ধরি।কিন্তু মুহিনকে দেখলাম দাঁড়িয়ে আছে।আমি তার কাছে এগিয়ে যাই।সে বললো--&#039;মানব, তুই কি ঢাকাতে যাবি?&#039;
আমি তাকে কি বলবো প্রথমে তার কথা শুনে বুঝতে পারিনা।
তবু আমি বলি--&#039;আসলে ঠিক জানি না যেতে পারবো কি না।ভাবছি, ঘরে কি বলে রাজি করাবো যে, তারা আমাকে নিশ্চিন্তে সেখানে যেতে দেবে।তাছাড়া সঙ্গেতো কিছু টাকা পয়সা নেয়ার ব্যাপার আছে।&#039; 
--মুহিন আরো যোগ করে--&#039;ট্রেনে গেলেতো টিকিট লাগে।সেই টিকিট কি জালালুরা ব্যবস্হা করবে-- এটিও জানতে হবে।&#039;
আমি বললাম---&#039;হ্যাঁ, আগে সেটাই জানতে হবে।&#039; 
-----আমাদের কথা শেষে আমি দেখলাম-- মুহিন অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে।তাকে দেখে একটু ভাবিত মনে হলো।দূর আকাশের দুটি উড়ন্ত চিলের দিকে তাকিয়ে কি যেনো দেখছিলো!--
আমি জিজ্ঞেস করি--&#039;কিরে, দাঁড়ালি যে?&#039; 
মুহিন বলে---&#039;ঢাকা যেতে পারলে ভালো হতো।ঢাকাতে এখন অমর একুশের বইমেলা শুরু হয়েছে।এতো বড়ো বইমেলা... &#039;তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই জানতে চাই---&#039;শাহানার জন্যে বইও কিনতে পারবি কমিশনে।বইয়ের নাম হবে-- &#039;আকাশে অনন্ত নক্ষত্র বীথি বা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই।&#039;
আরো বলি--&#039;তোর-- ঢাকার অমর একুশের বইমেলায় যাওয়ার আগ্রহের কথা মানুর কান পর্যন্ত না গেলেই ভালো হয়--&#039;
মুহিন ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে এনে জানতে চায়---&#039;কেন-রে?&#039; 
---&#039;মনোজ দৈনিক পত্রিকার বিশেষ সংখ্যাতে নারীদের পাতায় -কামিনী নন্দী- নাম দিয়ে কবিতা পাঠায়।পত্রিকার সম্পাদকতো আর মানু কবির দুই&#039;নম্বরীর খবর জানে না।তারা মেয়ে কবি ভেবে মানুর চুটকি কবিতা ছাপিয়ে দেয়-- বুঝলি! যদি ঢাকা মানু যেতে না পারে-- তোকে সে কাজে লাগাবেই।তোর হাতে লেখা কবিতা ধরিয়ে দিয়ে অনুরোধ করবে-- দোস্ত, ডাইরেক্ট পত্রিকার অফিসে সাময়িকী সম্পাদকের হাতে হাত রেখে দিয়ে আসবি।এঁরা এতে সম্মান বোধ করেন।&#039;
----আমার কথায় মুহিন হাসে শুধু।আমরা আর দাঁড়ায়নি---

নিরিবিলি রেলের রাস্তাটি পাড় করে-- অল্পদূরের কোন বিকেল বেলাতে আমাদের পাঁচ জনের প্রিয় শিরীষ গাছতলের সেই বন্ধুসভায়- রজত মনোজ কফিলা উপস্থিত থাকলে আর কি লাগে! ওরা তিনজনে ঠিক একটি পথ তৈরি করবে আলোচনাকে জমজমাট করে নিতে! সেই সব কথাবার্তার যুদ্ধে মুহিন প্রায় নিরব থাকে।আমার কাজ হচ্ছে হাসি লুকিয়ে তিনজনকে সমান তালে খুশি করা।এদের আলোচ্য কথা বার্তায় রসিকের মতো পুষ্টি জোগানো। একবার বন্ধু রজত রুদ্র, কবি মনোজ বাগচীর পিছনে লেগেছে--- আমাদের কবি মানু-- সে রজতকে নাকি বলেছে কবিতা লেখা সবার কম্মো নয়।--ব্যস্ হয়ে গেলো।হায়, মানু কবি-- কি করলে, ঢিল ছুঁড়লে ঠিক মৌচাকের নাক বরাবরে!...  রজত বলতে থাকে।আমি, মুহিন তখন অন্যমনস্ক শ্রোতা।মুহিন হাসি চাপতে পিছন ফিরে বসেছিলো।কফিলা সময় বুঝে পক্ষ বদল করে রজতের পক্ষে বাজনদার সাজে---  আমরা শুনতে পাচ্ছি..
---&#039;হাতোর আঙ্গুল গোল কইরা, হের ভিত্-রে আরেক আঙ্গুল হান্দাইয়া তুমি না কু ঝিক্ ঝিক্ মালুমের কবিতাখানি লেহো মানু মিঁয়া। ---ওই কবিতাতো আধা জিন্দা আধা কল্পনার বিন্দিরাণীর জন্যে, ---পুরাপুরি রসের চিকন সাপ্লাইতো তোমার! --হেই মাইয়ারে একবেলা দেইখাইতো তোমার একমাস চইল্যা যাই! তারো-- বাদে-- বুকের মাঝখান তন্ আরেকখান কবি মাইয়ারে জম্ম দিয়া বাইর করছো।হেই মাইয়া তোমার আদেশে--- নাহি কবিতা লেহে, হুন্ ছি! নাম--- দিলা কামিনী নন্দী। বিয়ালে ভোরের ফুল পত্রিকায় হেই নাম দেখছি।&#039;
বুঝতে পারছি না হাততালি হবে কি না? ---এই&#039;  মুহিন আমি ডাকি। সেও পেটের হাসি চাপতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আমি হাসিতে নিজের পেটের কিল্ ধরা ভাব কাউকে না দেখানোয় ব্যস্ত থেকেছি! 

জালালুভাই মুহিন আর আমি একটা চায়ের ঝুপড়ি দোকানে বসে আছি।জালালুই আগ বাড়িয়ে আমাদের সামনে তিন কাপ চা&#039; দেবার জন্য ইশারা করে।যথারীতি চা হাজির হয়েছে।আমরা কাপ তুলে চা খাচ্ছিলাম।মুহিন প্রথমে জানতে চাইলো---
&#039;জালালু ভাই ঢাকা যে যেতে বলছেন সেটি কিভাবে সম্ভব।কোথায় কিভাবে আমরা যাবো? &#039;
জালালু মুহিনকে থামিয়ে বলতে শুরু করে-- &#039;দেখো এটি বিরাট এক আয়োজন।সারাদেশ থেকে কংগ্রেসের কর্মী শুভাকাংখী সদস্যরা ঢাকায় যাবে।তোমরা আমাকে আগে বলো তোমাদের মধ্যে ক&#039;জন যেতে পারবে?&#039;
মুহিন আমাকে দেখে।আমি বললাম--&#039;আমরা পাঁচবন্ধু সবাই যেতে আগ্রহী।তাহলে কি আমরা পাঁচজনের জন্যে-- আপনাদের কাছ থেকে ট্রেনের টিকিট পাবো?&#039; 
আমার কথাই জালালুর চা পান একটু থমকে গেলো! সে সেটা বুঝতে দিলো না--- বলল--&#039;জনে জনে আমরা টিকিট দেবো না।তবে এই যে তোমরা বলছো পাঁচজন যাবে-- সে ব্যবস্হা আমরা অবশ্যই করবো।&#039; 
মুহিন সহাস্যে পুনরায় বলে--&#039;জালাল ভাই, আমাদের বাকীসব বন্ধু এই বিষয়ে পরে কিন্ত পরিস্কার জানতে চাইবে।আমরা মূলত এই জন্যে খুঁটিয়ে জানতে চাচ্ছিলাম।&#039;
শুনে যেনো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে জালালু।চায়ের কাপ দ্রুত শেষ করে বলে--
&#039;তোমরা সবাই হচ্ছো-- ছাত্র কল্যাণের প্রাণের মাঠকর্মী তোমাদেরকে কংগ্রেসের বড়ো পদের ভাইয়েরা খুব সুনজরে দেখছে-- সব সময় এটা মনে রেখো।&#039; 
আমি ও মুহিন কিছু না বলে মুখ চাউয়া চাউয়ি করি।
মুহিন একটু থেমে যায়।পরে জিজ্ঞেস করে--&#039;রাত কয়টায় ঢাকা যাবার সেই ট্রেন ছাড়বে?&#039;
জালালু ভাবগম্ভীর শব্দস্বরে বলে,---&#039;রাত হবে।এগারটার পরে হয়তো মধ্যরাতের ট্রেন।&#039;
পরের প্রশ্নে মুহিন জানতে চাই--&#039;ট্রেনে আমাদের জন্য সিট কি রিজার্ভ থাকবে- মানে, আমরা ঢাকা পর্যন্ত সিটে বসে যেতে পারবো?&#039;  ---পরপর প্রশ্নে সে জালালুর কাছে আরো কিছু জানতে চাইলো।---
--&#039;যদি আমি চার বন্ধুর দায়িত্ব নিয়ে রাতে জামতলা রেল স্টেশনে উপস্থিত হই। আপনি আমাদের জন্য কি করবেন?&#039; 
জালালু বাক্য তৈরি করার মতোন বললো--&#039;স্টেশনে তোমাদের মতো আরো অনেকে সেই রাতে আসবে।আমরা সবাইকে ঢাকা নিয়ে যাবার চেষ্টা করবো।কংগ্রেসের ঢাকা কেন্দ্র হতে সেইভাবে ব্যবস্হা করে রাখা হবে।&#039;  
আমি বুঝতে পারি-- মুহিন এই প্রশ্ন ইচ্ছে করেই করলো।
---&#039;আমরা ঢাকা যাওয়ার জন্য ঘর থেকে একবার বেড়িয়ে গেলে যদি কোনো কারণে অথবা আপনারা ঢাকা নিতে পারলেন না-- তখন কি হবে-- ওই মাঝরাতে আমরা ক&#039;জন কোথায় যাবো?&#039;
জালালু মুহিনের কথায় অবাক হবার ভান করে বললো--&#039;রাতে যারা কারণবশত যেতে পারবে না তাদের সকালে আমরা বাড়ি ফিরে যেতে সহায়তা করবো।এটা আমাদের মাথায় আছে।সেই যাবতীয় খরচপাতি কেন্দ্র বহন করবে।&#039;  ---হঠাৎই জালালু মুহিনের দিকে মুখ ঝুঁকিয়ে তাকে বলে-- &#039;তোমরা মনে হয় কোনো ভাবে এসব নিয়ে একটু বেশি ভাবছো--!&#039;
মুহিনকে হাতের ইশারা করে থামিয়ে দিয়ে আমি বললাম--&#039;ভাই আমরা এক জায়গা থেকে আসব না।দু&#039; তিন জায়গা থেকে এসে স্টেশনে জড়ো হবো।পাঁচ বন্ধু কেউ এক পাড়াতেও থাকি না।কেউ কলোনীবাসী, পাড়া, মহল্লাবাসী।সবার থেকে বাড়ি দূরে-- বন্ধু, এই মুহিনের! কিন্ত সে একজন এ্যাক্টিভ তেমনি দায়িত্বপরায়ণ ছেলে।&#039;
জালালু এবারে উঠার শশব্যস্ততা দেখায়।যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।যেতে যেতেই সে আমাদেরকে বললো---&#039;তোমরা মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে।আমি দিন তারিখ ফাইনাল হলে আবার দেখা করে জানাবো, ---- চলি----&#039;
হন্ হন্ করে জালালু চলে যাচ্ছে-- আমরা দেখতে পাচ্ছি।মুহিন আমি অন্যমনস্ক সেইদিকে তাকিয়ে থেকেছি----
  
আজকে শিরীষ গাছের তলে আমাদের পূর্ব কথামতো জড়ো হওয়ার কথা হয়েছে।কিন্ত এখনো দুজন আসেনি।মুহিন আর রজত।কপিলা কবি মানুর মাঝে টোকাটুকি লাগতে চাইছে! আমি ভাবছিলাম আজকে এই প্রয়োজনীয় আসরে মুহিনের আসা খুব দরকার ছিলো।আমি এখনকার পরিবেশকে সহজ স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট হই।পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবার জন্যে মানুকে জিজ্ঞেস করলাম--&#039;কিরে, মানু, তোর কবিতা লেখালেখি কেমন হচ্ছে?&#039; 
আমার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে কপিলা বললো---&#039;হঅ, এহন মানুর বুকছেঁদা কবিতা-ই মাইয়ারা বেণু বাঁশির করুণ সূরে কাপর চোপর পড়তেও ভুইল্যা যায়---- ---এতো দুঃক্ষের কবিতা লেহে আমগো মানু মিঁয়া!&#039;
কবি মানু মুখ বেঁকিয়ে কপিলা বরাবর বলতে শুরু করে--- 
-&#039;হালা&#039;পো, কয়টা কলম ভাঙ্গছোস এই কয় মাসে।একটি কবিতাও কি দাঁড় করতে পারলি।কবিতা লিখতে গিয়ে ব্যাটা ঘুমিয়ে পড়ে কার বুকে সাঁতার কাটিস মনে করছোস জানি না।তোমার সব্বোজনীন শরীফা বানুর রুপের খবর শালা আমাদের কানেও আসে।শরীফার পা দেইখাইতো বেহুঁশ হয়ে যাস! তুই যেনো শরীফা বানুর কতো নম্বর সিরিয়াল? তা ওই প্রেমতলাতে ছাতি নিয়ে বসে থাকতে শুরু করছোস কতদিন হয়? তোদের গুষ্টি শুদ্ধা পাটক্ষেতের সংস্কৃতি চর্চা করতেছস-- জেনেছি।আর ওই রজতের পো&#039;--- হচ্ছে তোদের আউলা বাউলা শিল্পের পো&#039;মারা একটা এক্সট্রা আইটেম&#039;----

আমি বুঝতে পারি, পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে।দুই উঠতি কবির যাত্রাপালায়, আমি শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্হানের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবো কি না? সে কথা ভাবছি। সেই মূহুর্তে দেখতে পেলাম রজত মুহিন একসাথে আসছে।
কপিলা রজতকে দেখেই বলে--&#039;এয়ানে তুই আর আঁমি একলগে আইমু কইছিলাম। এই রমইতো কথা অইলো আমগো মইধ্যে, তুই কোই পট্টন দিছোস্ দেইখ্যা-না- আঁমি এয়ানে একেলা আগে চইল্যা আইলাম। ---গেছিলি কোই, কোঁত্তোন এহন আইয়োছ?&#039;
এই কথায় মনোজ চিমটি কাটার মতো বলে---&#039;রজত, তোর কবিতার ফিউজ তার জোড়া লাগাইতে গেছিলো!&#039;
আমি তাকিয়ে দেখছিলাম মুহিনকে।যা বোঝার সে বুঝে নেয়।সবার দিকে একবার করে তাকিয়ে মুহিন মুখে হাসি টেনে নিয়ে বলতে চেষ্টা করে---
&#039;-এই প্লিজ এবার থাম না।&#039;  ওর কথাতে কাজ হয়। ---সবাই চুপ!
আমি বললাম--&#039;আজকে আমরা এখানে এসেছি এক বিশেষ দরকারে।ছাত্র কল্যাণ
কংগ্রেসের ঢাকা সম্মেলনে কারা যাবো-- সেই বিষয়ে কথা বলতে। এবার বাকি কথা আমাদেরকে মুহিন বলুক।&#039;
মুহিন সবার মুখের উপরে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নেয়।আমি দেখছি কপিলা আর রজতকে।পরস্পর বিচ্ছিন্ন দুজনে-- জন্তুর মতো দৃষ্টি তাক্ করে চোখের আগুনে কবি মানুকে পুড়িয়ে ঝল্ সে দিতে চাইছে আর ফুঁসছে!  
মুহিন হালকা করে একটু কাশে।তারপরে বলে--&#039;দেখ্ দোস্তরা, ব্যাপারটি হালকা করে নিবি না।ঢাকা যদি যেতে চাস&#039;----
এ পর্যন্ত বলে মুহিন অল্প করে একটু থামে।তারপরে বললো---&#039;জালালু অবশ্য বলছিলো কেন্দ্র সব ব্যবস্হা করে রাখবে।গিয়ে যদি দেখলি ছাত্র কল্যাণের কর্মীরা সবাই মিলে জোড় জবরদস্তি ট্রেনের বগি দখল করে তবেই ঢাকা যেতে চাচ্ছে, তাহলে আমাদের মধ্যে কে কে যাবি?&#039;
এতটুকু বলার পরে মুহিন থামলো। হেসে উঠে একটু! বললো--&#039; আমি জোকস করছিলাম&#039;- মুহিন যেনো শুকনো কন্ঠে এই কথাগুলি বলে উঠে...
মুহিনের কথায় প্রথম আমিই আঁতকে উঠি মনে মনে! ভাবি-- মুহিনের এই অনুমান মিথ্যে নাও হতে পারে---  আমি মুগ্ধ হই তবু মুহিনের দূরদর্শী বিবেচনায়;---
মুহিন আজকের প্রসঙ্গ এগিয়ে নিতে বললো-- &#039;মানু তুই বল্ তোর অভিমত।তোর থেকে প্রথম জানি।ঢাকা ----যাবিতো?&#039;
মনোজ আমতা আমতা করতে থাকে।শেষে মানু বলে--&#039;দেখ ভাই, আমিতো বড়ো ভাইয়ের সংসারে আছি।আমার বাবা নেই মানে-- আমার মাথার উপর স্বাধীন অভিভাবক নেই। মা আছেন সেটা নামে মাত্র। বড়ো ভাইকে কিছু বললে একা সে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। বউয়ের কানে প্রথমে আমার কথা তুলবে, দুজনে বুঝবে। তারপরে আমার কথা এদের মনঃপুত হলে---  তবে অনুমোদনের প্রসঙ্গ আসবে।&#039;
আমি বুঝলাম কবি মনোজ বাগচী বাদ পড়লো।এবার রজত রুদ্রের পালা ---?
মুহিন সহজ করে জানতে চাই মানুর কাছে--- &#039;তুই যেতে পারবি না। -----এইতো?&#039;
মনোজ বললো---&#039;হুম।&#039;
মুহিন চুপচাপ রজতের দিকে তাকালো এবার--&#039;রজতের কি কোনো খবর আছে-- থাকলে বল্ শুনি?&#039;
রজত ঢোঁক গিলে জানতে চায়, &#039;মুহিন তুই, আর মানব তরা দুইজনে যাইবি ঢাকাত্। 
হে কথা মন্ কইছিল।এহন আমার কথাখান কি ঠিক, ক-তো?&#039; ----অনেকক্ষণ পরে কপিলা ভিন্ন কথা বলে---&#039;তোরা কবে ঢাকাত্ যাবি &#039;ক, আমি যাবার চাই?&#039; 
আমরা দুজনেই চম্ কে উঠলাম একথা শুনে! আমি বলেই ফেললাম--&#039;কপিলা তুই ঘরে কিভাবে মানাবি ঢাকা যাওয়ার কথা?&#039;
কপিলা না থেমে বলে যায়--- &#039;আমি ঢাকাত্ যাওনের আগেরদিনে বইনের বাড়ি যামুগা।বইনরে বুঝাইয়া মানান আমার লাইগ্যা মামুলি অইবো।হের বাদে জামতলা স্টেশনে রাইতে যামু।হেয়ানে তোগো লগেতো দেহা অইবো।তোগো লগেই একসাথে ঢাকাত্ যামু।এখন তোরা কি কছ্ ?&#039;
মুহিন হাসিমুখে আমার দিকে তাকায়।প্রশ্ন করে রজতকে, ---&#039;রজত তুই কি যাবি?&#039;
জালালুকে জানাতে হবে আমরা কয়জনে ঢাকাতে যেতে পারবো।নিশ্চয়ই বুঝেছিস এবার---&#039;
রজত বলে--&#039;তোগোরে কাইলক্যা কমু।এহনই ফাইনাল কতা কবার চায় না।আঁমারে একটু ভাইব্বার দে না।&#039;
দেখি আসর ভঙ্গের আগেই--- কবি মানু উঠে বড়ো বড়ো পা ফেলে হাঁটা শুরু করে দিয়েছে।যেনো সে দু&#039;পায়ে রণপা লাগিয়ে দৌঁড়াচ্ছে।আমি, রজত, মুহিন, কপিলা, উঠে দাঁড়ায়।আমরা চারজনে হাঁটতে থাকি---  কিছুদূরে হেঁটে এসে রজত আর কপিলাকে আমরা বিদায় দিই।---
এক সময় হাঁটা থামিয়ে মুহিন দাঁড়িয়ে পড়ে।তার পিছনে আমিও।মুহিন আমাকে জিজ্ঞেস করলো---&#039;মানব তোর কথা যে কিছু বললি না, ঢাকাই যাবিতো?&#039;
 আমি বলি---&#039;একা আমি যেতে চাই না। তোর সাথে যাবো।&#039;
আর কোনো কথা না বলে মুহিন আবার হাঁটে সঙ্গে আমিও।হাঁটতে হাঁটতে মুহিন আমার কাছে জানতে চাই--
&#039;কি --বুঝলি, মানু কি আসলে অভাবের কারণ দেখিয়ে যেতে চাচ্ছে না।&#039; 
আমি বললাম--&#039;আমরা টাকা ম্যানেজ করে জোড় করে তাকে নিয়ে গেলেও সমস্যা আছে।আমরা নিজেরা তো পরিস্কার জানি না।সেইদিনের ট্রেনে ঢাকার যাত্রা কেমন হবে?&#039; মুহিন আমার কথা সমর্থন করে বলে--&#039;হ্যাঁ, সেতো ঠিক কথা।বুঝতে পারছি না  জালালুরা কিভাবে আমাদের ঢাকা নেবে?&#039; 
একটুক্ষণ থেমে মুহিন যেতে যেতেই আমাকে বললো-- &#039;আমি কেনো ঢাকা যেতে চাই জানিস।জালালু তাচ্ছিল্য করে তোর সামনে সেদিন বলছিলো না, আমরা নাকি একটু বেশিই ভাবছি।কিন্ত সে বুঝিয়েছে আমরা ভয় পাচ্ছি ঢাকা যেতে।কথার প্যাঁচে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।জালালু আমাদেরকে গ্রাম্য ছেলে ভাবছে।সেজন্য ঢাকা একবার যেতে চাই।&#039;

মনোজের একজন মানসকন্যা আছে।নাম বৃন্দা সিনহা বলে জানি।তবু বলবো এই ব্যাপারে আমি পুরোপুরি আবিষ্কার করতে পারিনি।আমি যেটুকু জানি বলা ভালো হবে--- তা অন্য বন্ধুদের মাধ্যমে। পর্যাপ্ত না জানতে পারলে-- জানতে না পারার আগ্রহকে গাঢ় এক কৌতুহল ঘিরে রাখে।ওই কৌতুহল পরে অল্প অল্প বেড়ে গিয়ে মনের ভেতর চাপ তৈরি করতে থাকে! --প্রশ্ন করে, মানুর একান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে সে সোজা করে সদুত্তর বা সঠিক কিছু বলে না। কথাবার্তার ধরণে বোঝাবে সহজ করে কথা বলা খুব কঠিন এক ব্যাপার! প্রশ্ন করলে মূল উত্তর বাদ দিয়ে এমন কিছু শোনাবে যা শুনে মনে হবে সে অন্য কিছুর উত্তর দিচ্ছে!

একদিন আমরা বন্ধুরা শিরীষতলের আড্ডায় জড়ো হলাম।সেদিন আমাদের বন্ধু মুহিন আসার কথা হলেও শেষমেষ সে এলো না। আর এমন এক সুযোগে মানু--রজত -কপিলা, তারা আমাকে চেপে ধরে।আমার পেট থেকে তারা কিছু কথা বের করতে চায়।মানুই প্রথম শুরু করেছিলো----
-&#039;মানব, তোর ইয়ে সম্পর্কে আমাদের কিছু বল্?&#039;  মানু অন্ধকারে নিশানা তাক্ করতে পেরেছে মনে করে আমাকে দেখে।আমি অবাক হয়েছি এমন ভাব নিয়ে মাথার উপর শিরীষ গাছের নতুন ডালপালার উপর একবার চোখ বোলাই।শিরীষের এক অর্ধেক ভাঙা শাখার মাঝামাঝি বসে-- ক্লান্ত বিকেলে অচেনা শান্ত এক পাখি ডাকছিলো। এটি কি এই পাখির ডাক, না গান-- বোঝা যাচ্ছে না! আমি মানুর প্রশ্নে একটুও বিব্রত হলাম না।আমি মানুর কাছেই উল্টো জানতে চাইলাম-- &#039;বুঝেছি, ইয়ে হলো একজনের নাম, কার নামরে এটা-- মানু?&#039; এবারে খানিকটা মানু বিব্রত বোধ করে।চোখে মুখে হালকা সেই ভাব ভাসিয়ে তোলে বললো---&#039;ইয়ে হচ্ছে, মানে- বন্ধু মুহিনের ইয়ের নাম যেমন শাহানা। ওই শাহানা পুকুরে সে অনেকদিন হয় হাবুডুবু খাচ্ছে! তোর পাতে যে ইয়ে আছে-- তার নাম কি সেটা জানতে চাইছি?&#039; ---আমি হেসে উঠি-- কিছু বলি না--
আমি ভাবতে থাকি মুহিনের অনুপস্থিতির কারণে তার একান্ত ব্যাক্তিগত কিছুকে এদের হাতে অসম্মানিত না হতে দিয়ে, তাকে রক্ষা করা আমার এখন দায়িত্ব মনে করা উচিত। মুহিনের প্রসঙ্গে তাই ভেবেচিন্তে কথা বলতে হবে। যা মুহিনের পক্ষে গিয়ে ভারসাম্য উত্তর তৈরি করবে। আমাকে চুপচাপ দেখে মানু মনে মনে হয়তো আহত বোধ করে।মানু এবার জানতে চাই---&#039; ...মনের প্রেমের পেরেকটি কার বুকে মেরে বসে আছো সোনা, না-কি স্কুল জীবনে সেসব সীল গালা করে এখন বিবাগীর পথ বেছে নিয়েছো?&#039; 
আমি বললাম--&#039;জীবনে যে বুকে প্রেমের জ্বর থাকতেই হবে-- এমন তো কোনো আইন অথবা সামাজিক বাধ্যকতা নেই।আমি এমনি ভালো আছি। একলা, একান্ত, মুক্ত মনে দিন কাটাই।নিজের স্বপ্নের মতোন এই জীবনকে বোঝার চেষ্টা করছি।আর লম্বা সময়ের এই বেঁচে থাকার মধ্যে সুখ খুঁজে বেড়াই।&#039;
আমার বলা শেষ হলে-- কপিলা, রজত কি বলবে বুঝতে একটু সময় নেয়।রজত বলে-- &#039;আমাগো কবি সব্বাইরে নিজের লাহান ভাবে।কবিগোতো বাধ্যতামূলক প্রেম করণ লাগবো। ---নইলে বুক থেইক্কা একটা শব্দও বাইর হইবো না। পুরা কবিতা জোড়া লাগবো না।&#039;
রজতের বলা শেষ হলে কপিলা এবার তাতে আরেকটু শব্দ বাক্য খরচ করে--
----&#039;কব্বিতা এতো সোজা জিনিষ না। হগলে্ এই কাম পারে না।কেউ কেউ পারে।কথাখান বহুত বড়ো একজন কবি-- জীবনানন্দ দাশ-- কইছিলো।&#039;
-------রজত ফের কপিলার শেষ থেকে বলতে শুরু করে---
---&#039;প্রেমোর কতা বড়ো শরমের কতা--  হে মুখ ফুটে কিছু কইতে পারে না।কইতে ছটফট করে কিন্তু বুক ফাইটা যাবেতো মুখ ফোটে না,  তাইতো কলম ধরছে শক্ত কইরা,  আর দিন রাইত মনের ভেতরে পরিস্কার কইরা লেহে প্রেমোর কবিতা!&#039;
---এইটুকু কবি মানুর জন্য যথেষ্ট ছিলো। আমি জানি, সে রাগ এবার উগরে দেবে--
---&#039;ওই হা&#039;পো-রা, মানবের কোনো ইয়ে নেই তোরা তা প্রমাণ করে দিতে পারবি?&#039;
কপিলা মানুর মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বলে,---
---&#039;আমরারে পরমাণ করতে অইবো ক্যান্ পরমাণ করণের কামতো তোর।মানবের ইয়ের লাইগ্যা-- ভনভন মাথা ঘোরাই কার, আমগো না-হি,  তোর? তাইলে পরমাণ কইরা দেহা না আমগো মানবের একখান ইয়ে আছে-- মানবতো যোক্তি ভইরা জবাব দিছে।&#039;
অপ্রস্তুত মানু- রজত কপিলার ইচ্ছে করে উস্কানো, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাকে রাগিয়ে দেয়া রাগকে খুব কষ্টে নিজের ভিতরে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।দেখতে পাচ্ছিলাম- মানুর মুখের রাগের ছায়া কমতে থাকে--
সূর্য হেলে পড়েছে পশ্চিমে, বিকেল গড়িয়ে এখন সন্ধ্যা প্রায়।দূরে কালো হয়ে আসা আকাশে পাখিরা উড়ে উড়ে ঘরে ফিরে যাবার দৃশ্যাবলীতে আমার চোখ আটকে গিয়েছে। মনে পড়লো--- আমাদেরকেও ফিরে যেতে হবে যে যার পথে;--
মানুর দিকে ফিরে আজকের আড্ডার শেষ প্রশ্ন করি-- &#039;তোর কবিতার কোনো বই যদি বের হয় তাহলে-- উৎসর্গপত্রে কী লিখবি?&#039;
মানু উত্তরে যা বলে--তাকে কি বলবো আমি বুঝে উঠতে পারি না! রজত, কপিলাও মুখ চাওয়া চাওয়ি করে---
--&#039;উৎসর্গপত্রে লিখতে চাই--- বুকে যাদের একগুচ্ছ তাজা গোলাপের মতো খুব বাসনা ছিলো-- কবিতা লেখার, কিন্ত সংসার নামক কাঁকড়ার কামড়ে খাবু হয়ে সেটা হলো না;  তাদের উদ্দেশ্যে...&#039;
  
আমার ও মুহিনের প্রিয় একজন পত্রবন্ধু বড়োভাই আছেন।এখানে পত্রবন্ধু বলার কারণ--  পত্রে যোগাযোগ করে এই বড়োভাইয়ের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়।একজন সমৃদ্ধ মনের অনবদ্য ভাবনা চিন্তার মানুষ।কথাও বলেন চমৎকার করে।সব্যসাচী হয়ে নানা জায়গায় লিখছেন--- কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটার মতো, বাঙলার নিসর্গ; প্রেমিক পথতরু; বৃক্ষের আর্তনাদ; দিগন্ত জুড়ে শ্যামলীলিমা-- এসব বিষয়  ও মানবিক সুচেতনা সম্পর্কে মনোজ্ঞ লেখা নিয়ে---প্রবন্ধ। প্রকৃতির মতো বিমুক্ত পল্লবিত চিন্তার মুক্ত লেখক ও ব্যাক্তি মানুষ তিনি! মুহিনের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে আমার মূলত পরিচয়। তিনি বারো মাসে নয় মাসই ঘুরে বেড়ান নানান জায়গায়!নিসর্গ রক্ষা নিয়ে কাজ করছে, এমন এক বিদেশী এনজিও সংস্থার--- প্রকল্প ব্যবস্হাপনা-- সুপারভিশনের, বড়ো একটি পদের দায়িত্বে আছেন। তিনি নিসর্গী--প্রকৃতির জন্য অন্তঃপ্রাণ একজন মানুষ। তাঁর কথাতেও প্রকৃতি প্রদত্ত অক্সিজেন খুঁজে পাওয়া যায়!  আমাদের সেই শিরীষ গাছতলের বৈকালিক আড্ডাতে---   মুহিন তাঁকে একদিন নিয়ে এসেছিলো।

যেদিন প্রথম তিনি এলেন।শুরুতেই আমাদের সাথে এমন ভাবে কথা বলতে চান-- 
মুহিন বাদে যেনো আমরা তাঁর কেউ অপরিচিত নই। সম্বোধনেই চমকে দিলেন!চাইলে তিনি আমাদের নির্দ্বিধায় তুমি করে বলতে পারেন।কিন্ত আপনি করেই কথা বললেন!
তাঁর আচরণে রজত মানু কপিলা মহাখুশি ছিলো।তারা সেই উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেনি।সেই দিনের আড্ডায় বড়োভাইয়ের সাথে প্রথম কথা বলার সূচনা করলো কবি বন্ধু মনোজ-- মানু --
---&#039;আমার জানতে ইচ্ছে করে-- প্রেমের কবিতা কি মূল প্রেমকে খর্ব করে?&#039; 
নিসর্গী প্রিয় বড়োভাই বললেন--&#039;মনের মধ্যে জন্ম নেয়া প্রেম, ব্যাক্তি আবেগের এক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া অন্য কিছু নয়। প্রেমকে মহিমা দিয়েছে কবিতা; উপন্যাস; গল্প; গান; আঁকা ছবি; সিনেমা;-- এভাবে মানুষের সৃষ্টিকলার সবকিছু! কিন্ত প্রকৃতির উদ্দেশ্য অন্যকিছুতে। জন্ম শাসনের প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করতে ভারসাম্যকে ধরে রাখা! ----কবি ও প্রেমের কবিতা প্রাকৃতিক উদ্দেশ্যের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।এই শিল্প বোধ ও সৃষ্টির প্রেরণা মানুষের নিজস্ব।এই কৃতিত্বও মানুষের একার! প্রেমের কবিতা এভাবে সৃষ্টি হয়েছে।তবে আমাদের বাস্তব জীবনের প্রেম শক্তিশালী অনুভূতি ছাড়া আর কিছু না!&#039;
( চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/22115/</link>
				<pubDate>Mon, 19 Jul 2021 06:45:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>[ ১ ]</p>
<p>প্ল্যাটফর্ম<br />
======</p>
<p>আমরা  ক&#8217;জন  কলেজ  পড়ুয়ারা  মিলে&#8212; &#8216;ছাত্র  কল্যাণ  কংগ্রেস&#8217;  নামে,  একটি সংগঠনের সাথে জড়িত হয়েছিলাম।নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে&#8211;আমি  মানব রাষ্ট্রী,  রজত রুদ্র,  মুহিন সিকদার, কফিলউদ্দিন সৈয়দ&#8211; ডাক  নাম  কপিলা, আর মনোজ বাগচী হচ্ছে মানু।আমরা বন্ধুরা কোনো কোনো বিকেলে এক শিরীষ গাছের তলে আড্ডা দিই। পরিচিত বন্ধ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-22115"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/22115/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8aab98fa15f75cea30b483f0386b6026</guid>
				<title>......গরীব দুই বাঙলার ভাষাগত  ও  জাতি হিশেবে সৌভাগ্য যে-- বাঙলা  ভাষায়  অসামান্য,  বিশ্বমানের-- কথা-সাহিত্য;  কবিতা;  সংগীত; নৃত্য;  নাটক; চলচ্চিত্র; চিত্রকর্ম; ---- অর্থাৎ  শিল্পকলার (শিল্পসৃষ্টির নানা শাখা) প্রায়  কিছুতে  সৃজনে,  রচনায়, গায়নে, অসাধারণ মেধা- প্রতিভার স্বরুপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটিই গরীব বাঙলা ও ভাষার গৌরব!.... 
এখানে শুধু কবিতা-বিষয়ক কিছু কথা বলা যাক।কবিতা, সাহিত্য কলার অন্যতম পুরোনো বিষয়।সবচেয়ে পুরোনো এমন  বলাটা বিতর্ক  হতে পারে। আদিতে মানুষ নিজেদের ভাব প্রকাশের জন্য পাথরের গায়ে,শক্ত বা অক্ষয় কিছুতে এবং গুহার গায়ে চিত্র একেঁ নিজেদের উপলব্ধিগত জ্ঞান,  অভিজ্ঞতা, ভাবপ্রকাশ করেছে।এবং 
সময়ের সঙ্গে পথ চলে বিকশিত  হওয়ার  পথ-পরিক্রমায়, শব্দগত মুখের কথা বা ইশারা- ইঙ্গিতের বাচনভঙ্গি থেকে বিকাশের পথ ধরে মুখের ভাষার উৎপত্তি, আরো বহু পরে-- মুখের কথার লিখিত রুপ ভাষার জন্ম  হয়েছে। শুরুতে  নানা  চিহ্ন একেঁ ভাব প্রকাশের চেষ্টা থেকে বিকাশের ধারাবাহিকতায় অক্ষর, শব্দ, বাক্যের মাধ্যমে ভাষার পূর্ণতা লাভ করেছে এবং তারপরে বিকশিত নৃ&#039;গোষ্ঠীর ভাব, অনুভূতি,  মনের  কথার  বহিঃপ্রকাশের  অন্যতম  মাধ্যম  হিশেবে  প্রথম  দিকে  লিখিত-- মানস  সুপ্ত  কথাবলীই  কবিতা&#039; নামে জন্ম নিয়েছে।  
বিকাশ এক  আবশ্যিক ব্যাপার  প্রাকৃতিক ভাবেই! বাঙলা ভাষার অন্যতম অাধুনিক কবি-- জীবনানন্দ দাশের প্রথম দিকের লেখা কবিতা, মধ্য সময়ের লেখা এবং শেষের দিকের লেখার ধারা-বাহিকতা লক্ষ্য করলে, বিকশিত হওয়ার ব্যাপারটি বেশ স্পষ্টতই বোঝা যাবে! ---  

(১) ----নামবিহীন একচ্ছত্র কথামালার কবিতা; কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কৈশোরে এইটি লিখেছিলেন।অনুঃ ইংরেজি ১৯০৯/১০ সাল।

&quot;এল বুঝি বৃষ্টি এল
পায়রাগুলো উড়ে যায় কার্নিশের দিকে এলোমেলো।&quot;
 
(২) &#039;বর্ষা-আবাহন&#039;
      জীবনানন্দ দাশ
[ব্রহ্মবাদী পত্রিকা।বরিশাল, ইংরেজি ১৯২০ সাল] 

&quot;ওই যে পূর্ব তোরণ-আগে
দীপ্ত-নীলে, শুভ্র রাগে
প্রভাত রবি উঠল জেগে
দিব্য পরশ পেয়ে।

নাই  গগনে মেঘের  ছায়া
যেন  স্বচ্ছ স্বর্গ ছায়া
ভূবনভরা  মুক্ত মায়া
মুগ্ধ - হৃদয়  চেয়ে।

অতীত  নিশি  গেছে  চলে,
চির-বিদায়-বার্তা ব&#039;লে,
কোন আঁধারের গভীর তলে
রেখে  স্মৃতি-লেখা।

এস  এস  ওগো  নবীন,
চলে  গেছে  জীর্ণ  মলিন
আজকে  তুমি  মৃত্যু-বিহীন
মুক্ত  সীমা-রেখা।&quot;

--------------------
 
(৩) &#039;অবসরের গান&#039;– 
      জীবনানন্দ দাশ
[কাব্যগ্রন্হঃ ধূসর পাণ্ডুলিপি।ইংরেজী ১৯৩২ থেকে ১৯৩৬ সাল]

&quot;শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
      অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের খেতে;
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার—চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
      তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,
                 দেহের স্বাদের কথা কয়;----
বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট ক’রে দেবে তার সাধের সময়।
      চারিদিকে এখন সকাল, —
           রোদের নরম রং শিশুর গালের মতো লাল,
     মাঠের ঘাসের’ পরে শৈশবের ঘ্রাণ, —
  পাড়াগাঁর পথে ক্ষান্ত উৎসবের এসেছে আহ্বান।

      চারিদিকে নুয়ে প’ড়ে ফলেছে ফসল,
তাদের স্তনের থেকে ফোঁটা-ফোঁটা পড়িতেছে শিশিরের জল;
      প্রচুর শস্যের গন্ধ থেকে-থেকে আসিতেছে ভেসে
পেঁচা আর ইঁদুরের ঘ্রাণে ভরা আমাদের ভাঁড়ারের দেশে!
      শরীর এলায়ে আসে এইখানে ফলন্ত ধানের মতো ক’রে,
যেই রোদ একবার এসে শুধু চ’লে যায় তাহার ঠোঁটের চুমো ধ’রে
      আহ্লাদের অবসাদে ভ’রে আসে আমার শরীর,
চারিদিকে ছায়া—রোদ—খুদ—কুঁড়ো—কার্তিকের ভিড়;
      চোখের সকল ক্ষুধা মিটে যায় এইখানে, 
এখানে হ’তেছে স্নিগ্ধ কান,
       পাড়াগাঁর গায় আজ লেগে আছে রূপশালি-
  ধানভানা রূপসীর শরীরের ঘ্রাণ।&quot;

★ এখন আমরা দেখবো-- 
অন্য ভাষা, --বা হিন্দি ভাষার একজন মহিলা কবির অন্য রকম একটি কবিতা।এই কবিতাটি অভিব্যাক্তিময়, কিন্ত বেশ ইন্টারেস্টিং!
(আদিতে ভাষার জন্মলগ্নে কিন্ত-- বাঙলা, অসমীয়া এবং হিন্দি ভাষা, এই তিনটি ভাষা--- প্রায় একই সাথে বিকশিত হয়েছে!) ----এখানে কবিতাটি পড়তে চাই;---
--------------------------- 
 &#039;উত্তরাধিকার&#039;
 
ইচ্ছেগুলো  লিখে  রাখছি...
সজ্ঞানে।
আমার  মৃত্যুর  পরে  তোমাকে
কিছু  কাজ  করতে  হবে।
ভালো  করে  খুঁজে  দেখে  নিয়ে
তালাবিহীন ঘর, প্রতিটি  জিনিস
বিলিয়ে  দেবে---যেমন  লিখছি
ঠিক সেভাবে।

খাটের নীচে যে  স্বপ্নেরা শুয়ে আছে
তাদের জাগিয়ে তুলো সেই মেয়েদের
 বুকে--
যারা, রান্নাঘর থেকে বিছানার যাত্রা 
পথে--- ভুলে গেছে স্বপ্ন দেখতে।

টেবিলের  ওপর  কিছু  রং  রয়েছে,
ছড়িয়ে দিও, বিধবাটির  সাদা থানে---
সীমান্তে  যার  প্রিয়তম  শহীদ  হলো 
কালো রাতে।

মান সন্মান যা আছে দেরাজে তা দিয়ে 
দিও বেশ্যাটিকে, যে তার ছেলের পড়ার
খরচ  চালায় নিজের শরীর বেচে।

শান্তি  কিছু  ছড়িয়ে  ছিটিয়ে  আছে,
পারবে একটু পৌঁছে দিতে বৃদ্ধাশ্রমে?
যেখানে  এমন  কিছু  বাবা-মা  আছে
যাদের ছেলেরা হারিয়ে গেছে অনেক
টাকার দেশে।

ছোট্ট শিশি ভরে  রাখা চোখের জলে,
পৌঁছে দিও নুতন কোন কবির কাছে।
প্রতি ফোঁটায় এক কবিতা জন্ম নেবে
বেদনার  জঠর  থেকে, কলম  বেয়ে। 

আক্রোশ  ভরা  পুঁটলিটা  আছে
ঝুল ঝাড়নির পিছে।
যুবক রক্তে দিও তা মিশিয়ে, বিপ্লব
এলে লাগবে কাজে।

বাক্সতে রাখা যত পাগলামী ভরিয়ে
তুলবে বাউলের ঝুলি---- ঘর ছেড়ে
দিয়ে যাবে পথে পথে আপনজনের 
তালাশে।

বাকি  পড়ে  থাকা  ক্রোধ  ও  ঈর্ষা, 
লালসা,  মিথ্যা,  স্বার্থপরতা,
সব  তুলে দেবে  চিতার আগুনে----
আমার সাথেই পুড়তে।
----------------------------------------------
কবিঃ হিন্দি ভাষার কবি (জ্ঞানপীঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত)
------ বাবুষা কোহলি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/18960/</link>
				<pubDate>Thu, 08 Jul 2021 20:38:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8230;&#8230;গরীব দুই বাঙলার ভাষাগত  ও  জাতি হিশেবে সৌভাগ্য যে&#8211; বাঙলা  ভাষায়  অসামান্য,  বিশ্বমানের&#8211; কথা-সাহিত্য;  কবিতা;  সংগীত; নৃত্য;  নাটক; চলচ্চিত্র; চিত্রকর্ম; &#8212;- অর্থাৎ  শিল্পকলার (শিল্পসৃষ্টির নানা শাখা) প্রায়  কিছুতে  সৃজনে,  রচনায়, গায়নে, অসাধারণ মেধা- প্রতিভার স্বরুপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটিই গরীব বাঙলা ও ভাষার গৌরব!&#8230;.&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-18960"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/18960/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0e4506f31ba170a0b674798c5820d2f0</guid>
				<title>কল্পনা সমান দূরের শ্বেতাঙ্গিনীদের মুখ
---------------------------------------------------

১.
অনুরন মুৎসুদ্দি একজন  কিশোরের নাম। ছোট্ট করে--- অনু, এটা  আবার  তারই ডাক নাম।এই নামে তাকে ঘরেই ডাকে।ইস্কুলে-- ভালো  নামের  শেষে লিখিত হয়ে এই &#039;অনু&#039; নামটা  অবশ্য নেই। অনুরন এই  জন্যে নিজেকে কিছুটা ভাগ্যবান  ভাবে। সে দেখেছে তার বয়েসী অনেকের  বা অন্যদের নামের শেষে ডাক  নাম লেগে যায়!তারপর এদেরই  নিজ ঘরের চৌকাঠ  পার করে, ওই  ডাক  নামটি তড়িৎ বিদ্যুতের মতো ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মুখে মুখে! এই যেমন, মূল নামের পরে-- তুতন,  টুকুল, টুলু, দুখু, তোতা, খোকা, চান্দু, গেঁদু, মন্টু, পাখি ভাই! ------এই  রকম আরো কতো কতো প্রধান  নামের শেষে টুকরো ডাক নাম! রাস্তায় চলতে  ইলেকশনের  বাজারে দেওয়ালের গায়ে সাঁটা মুখের ছবিসহ পোষ্টারে বড়ো বড়ো অক্ষরে নাম লেখা থাকে -- &#039;ফটিকচাঁদ উদ্দিন গেঁদু&#039; অত্র এলাকার আমাদের প্রিয় গেদুঁ ভাইকে  ঢেঁকি মার্কায় আপনার  মূল্যবান ভোট  দিয়ে জয়যুক্ত করে--- দেশ  তথা  এলাকার  সেবা  করার সুযোগ দিন....
অনুরন এক সময় ভাবতে চেষ্টা করে---- প্রধান নামের বয়স বাড়তে থাকে।নাম যার সেই ব্যাক্তি মানুষের সাথে নামেরও বয়স বাড়ে।কিন্ত কারো ডাক নামের বয়স ওই ব্যাক্তি মানুষের মূল নামের সাথে আর বাড়ে না!
কোনো ষাট বছরের প্রৌঢ়কে, --যদি ডাক নাম ধরে ডাকলে কেমন শুনাবে?
যেমন, তাকে (পঁয়ষট্টি বছরের অনুরনকে) যদি কেউ বৃদ্ধকালে তারই &#039;ডাক নাম&#039; ধরে ডাকে-- এই অনু, --অনু!... তাই ডাক নাম শৈশবের বয়স কালেই থেকে যায়! তাকে বাল্যকালের বয়সেই কিন্ত মানায়... তাই বড়োকালে কারো পুরো নামের শেষে ছোট্ট করে লিখিত কোনো ডাক নাম -----এ এক বিব্রতকর ব্যাপার!...

২.
অনুরন এখন  দশম শ্রেণীতে পড়ছে। যাকে বলা যাবে নিউ টেন। সে এখনো পর্যন্ত স্কুল পরীক্ষায় কোনো ক্লাসে প্রথম হতে পারলো না।তিন, পাঁচ বা সাত খুব সামান্য নম্বরের ব্যবধানে প্রতিবার পিছিয়ে থেকেছে!
তাদের ক্লাসে যে ছেলেটি প্রত্যেক বছরই অনুরনকে পিছনে ফেলে প্রথম হচ্ছিলো, অনুরনের মনে হয়েছে-- সে ছেলেটা একাডেমিক মেধাবী।ভীষণ রকম শৃংখলার ছকে বাঁধা, পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখে একেবারে নকশা ছবির মতো! দাড়ি, কমা, হাইফেন কোথাও কোনো ভূলভাল হয় না! তার মুখে থাকে ইচ্ছেকৃত পরিমিত হাসি, অন্তর থেকে উদাত্ত কোনো কিছু নেই, ---কেমন যেনো, অকাব্যিক, বেরসিক.... অন্তরস্পর্শী ব্যাপার ওর মধ্যে বিশেষ নেই।
&quot;আকাশের রঙ নীল হয় কেনো?&quot; 
--এই প্রশ্নের উত্তরে সে কাঠখোট্টা ভাবে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের কথাতে উত্তর দিতে যাবে! পাঠ্য সিলেবাসের পদ্য অংশের কবিতাগুলি তার ঠোঁট মুখস্থ।কিন্ত রবিঠাকুরের---- 

&#039;আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে--- 
বোশেখ  মাসে  তার  হাঁটু  জল  থাকে।&#039;... 
----এই সহজ অতি স্বপ্নময় ছড়াটি বলতে বললে-- সে নার্ভাস হয়ে পড়বে।ফ্যাকাশে মুখ করে হার না মানা দৃষ্টিতে কঠিনভাবে তাকাবে!---- 

আবার একে যদি জিজ্ঞেস করা হয়ে থাকে--
&quot;দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, 
ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া;---
একটি ধানের শীষের উপর
একটি শিশির বিন্দু&quot;... 
-----এখানে কি বুঝাচ্ছে? তাদের ক্লাসের ফার্স্টবয় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে উত্তরে-- চোখের জল ধানের গাছ বা ধানের গাছের উপরে চোখের জল... মিলিয়ে মিশিয়ে জম্পেশ ব্যাখা দিবে!.....
অনুরন শুনেছে তাদের ক্লাসের ফার্স্ট বয়ের বিশেষ কোনো বন্ধু নেই।একজন বান্ধবী বানাতে গিয়েও নাকি একসা করেছে! তার সেই কথিত বান্ধবী ভীষণ অবাক হয়ে অভিযোগ করেছে, ---সেই খবর পাঁচ, দশ কান হয়ে সবাই জেনে গিয়েছিলো।ফার্স্টবয় বন্ধু প্রার্থী হয়ে বান্ধবী বরাবরে যে চিঠিটা পাঠিয়েছিলো সেটি এতো একাডেমিক লেখা ছিলো যে, ---ওটা কি আসলে বন্ধুত্বের আহবান পত্র বা প্রেম অথবা বক্তৃতামালা না কি বিরস উড়োচিঠি ছিলো, সেই মেয়েটি বুঝতেই পারলো না!..  এ-ই-ভাবে ফার্স্টবয়ের ইস্কুল জীবনের বন্ধু ভাগ্য উল্টো ঘুরেছে!.... 

অনুরনের ক্লাসের ফার্স্ট বয়টি তাদের ইস্কুল--&#039;মন্ডল পাড়া হাই স্কুল&#039; থেকে কিছু দূরের স্টার কলোনীর বাসায় থাকে।আর অনুরনদের বাড়ি মন্ডলপাড়াতে।অবস্থান আর দুই রকম পরিবেশের বৈষমের কারণে, তারা একই ক্লাসের ছাত্র হলেও তাদের মধ্যে মন থেকে কাছে টানার বন্ধুত্ব তৈরি হয়নি।যদিও চোখের দেখা অনেকে বাইরে থেকে মনে করেছিলো--তারা বন্ধু! তবে তাদের মধ্যে কথাবার্তা হয় অবশ্য, যতো-টুকুতে সৌজন্য রক্ষা হয়!---

৩.
অনুরন  নবম শ্রেণীতে পড়বার  সময়ে তাদের ইস্কুলে, ওদের ক্লাসে একজন নতুন ছাত্র ভর্তি হয়েছিলো। ছেলেটি একটু অন্যরকম।তার ভাবনা অনেকের মতো নয়।চোখের চাউনি রোমাঞ্চকর!... এই ব্যাপারটা অনুরনের চোখ এড়িয়ে যায় না। সে কিছুটা আকৃষ্ট হয় ক্লাসের নতুন মুখের ছেলেটার প্রতি। তাদের ক্লাসের ফার্স্ট বয়- এই নতুন ছাত্রটার সম্পর্কে নির্বিকার।অন্যান্য ছাত্রেরা স্বাভাবিক কৌতুহলের ছকে বাঁধা ছিলো---
নতুন মুখ ছাত্রটির নাম অনন্য আজাদ।অনুরনদের ক্লাসের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরা টিফিন  পিরিয়ডে কাছেই সামান্য হাঁটা পথের দূরত্বে  মন্ডল পাড়ার বাড়ি বা বাসায় গিয়ে  ভাত খেয়ে আসতো। অনুরনও বাড়ি এসে ভাত খেয়ে যেতো। কিন্ত একদিন টিফিন টাইমে-- কারণবশতঃ সে  বাড়িতে গেলো না। ওইদিন অনুরন  দেখতে  পাই ক্লাসের নতুন ছাত্র, অনন্য-- টিফিন টাইমে কোথাও  না  গিয়ে ক্লাসের  ভেতর বসে ছিলো। সে কিছু একটা লেখার চেষ্টা মতো করছিলো।--
নিজ থেকেই অনুরন-- অনন্যের কাছে যায়।বলে--&#039;হ্যালো, আমি অনুরন, ক্লাসে আমাকে দেখেছো নিশ্চয়ই।টিফিন টাইমে বাড়িতে গেলে না?&#039;
নতুন মুখ বলে-&#039;আমার নাম- অনন্য।আউটার ডিস্ট্রিক্।আর তুমি যে অনুরন, তা আমি জেনেছি।আমি তোমাকে দেখি-- তুমি ক্লাসের সেকেন্ড বয়।-- আমার বাসা স্কুল থেকে বেশ দূরে বলে টিফিন পিরিয়ডে যায় না।&#039;
------অনন্য জানতে চাই- &#039;টিফিন টাইম চলছে। তুমি বাড়ি গেলে না-যে?&#039;
অনুরন বললো-&#039;এখন ঘরে মা থাকবে না। কোথাও যাবে বলেছিলো।-- তাই ঘরতো তালাবন্ধ থাকবে।আর আমি ভুলে গিয়ে সঙ্গে ঘরের চাবিও আনিনি।&#039;                 
 ....দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরন এবার জানতে চাইলো, ---&#039;কি যেনো লিখছিলে-?&#039;
-----&#039;হ্যাঁ, একটি চিঠি লিখছি-- penpalকে।&#039;
-----&#039;penpal-কি, ঠিক বুঝিনি-- তোমার বন্ধু না বান্ধবীর নাম?&#039;
-----&#039;এটা pen friendship-কলমের বন্ধত্ব।তাকে সামনাসামনি দেখিনি-- শুধু চিঠি লিখে পরিচয়।একে পত্রমিতা বলে।চিঠিবন্ধুও বলতে পারি।--- এখানে বন্ধুর চেয়ে কোনো বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগটা আকর্ষণীয়! তবে সেটি প্রথম দিকে খুব থাকে।পরে একঘেয়েমি লাগে।&#039;-- 
বলা শেষ করে অনন্য আজাদ হাসিমুখ করে অনুরনকে তাকিয়ে দেখে।অনুরনও নিঃশব্দে হাসতে থাকে।
------&#039;তোমার যদি আপত্তি না থাকে, আমার সঙ্গে করে আনা টিফিনকে ভাগ করে আমরা খেতে পারি?&#039; 
------&#039;আপত্তি নেই।তবে আমিও ভাগ বসালে তোমারতো কমই পড়বে&#039;--  
-------&#039;নো টেনশন, এই নাও খাও&#039;....
অনুরন প্রথম পরিচয়ের জন্য মনে সংকোচ রেখে হাত বাড়াই...
-------&#039;সরি-- তোমার চিঠি লেখায় ডিস্টার্ব করে দিলাম।&#039;----
-------&#039;আমি কিছু মনে করিনি।তোমার সাথে আলাপ হয়ে ভালো লাগলো।&#039;
অনুরন এখন কথাবার্তা এগিয়ে নেয়ার জন্য জিজ্ঞেস করে,---
-------&#039;তোমার পত্রমিতার নাম কি?&#039; অনুরন জানতে চাইলো।
-------&#039;স্কুলে তোমার বান্ধবী সংখ্যা কেমন?&#039; -----অনন্য প্রশ্ন করে।
-------&#039;আমি সদালাপী বলে হয়তো বন্ধু বান্ধবীর সংখ্যা সমান সমান... তবে ওই যে চিঠিবন্ধু বললে ওরকম কিন্ত একজনও নেই।আচ্ছা, দূরের অদেখা চিঠিবন্ধু বা বান্ধবীর সঙ্গে আমাদের এই ক্লাসের চোখের দেখা বন্ধু বান্ধবীর সাথে ঠিক্ পার্থক্যটা কোন্ খানে?&#039;
-----&#039;পার্থক্যটা কল্পনা, ভাবনার... হয়তো মনের মধ্যে কৌতুহলের চাপ তৈরি হয় বলে! আমার পত্রমিতার নাম হচ্ছে নীলা।কি বলবো-- এটা যে তার আসল নামই, তা আমি জানি না।এটাকে প্রমাণ করাও যাবে না।চিঠিপত্রে ভালোই মিথ্যে বলা যায়।তাই এটা খুব বিশ্বাসের এক জায়গা!&#039;...
.....বাইরে থেকে ফাঁকা ক্লাসে ছাত্রছাত্রীরা আসতে শুরু করেছে।দূর থেকে শোনা গেলো-- টিফিনের টাইম শেষ হবার ঘন্টা ধ্বনি... 

সেদিন ইস্কুল ছুটির শেষে অনুরন--  অনন্যকে হাঁটা  পথে  কিছু  দূর  এগিয়ে  দিয়ে আসে। বিদায়  কালে  অনন্য  আজাদ  বলে---&#039;আমি  তোমাকে  বলিনি--  আমার বান্ধবীটা শ্বেতাঙ্গিনী, বিদেশী। নাম-Neela gurner।ওই গল্প তোমাকে পরে একদিন বলবো।এখন আমি যাই।&#039;---

৪.
অনুরন বাড়ি ফেরার পথে তার ভেতরে তৈরি হওয়া কৌতুহলের চাপ; আগ্রহবোধ; অন্যরকম এক ভালোলাগায়, ----পথচলতি সে উদাস হয়ে যায়,---
সেদিন ভোরবেলার স্বপ্নেও-- অনুরন বহুদূরের কল্পিত অচেনা এক শ্বেতাঙ্গিনী চিঠি বান্ধবীর মুখ দেখতে পেলো!...
পরদিন- অনুরন তাদের ক্লাসের নতুন মুখ নতুন বন্ধু অনন্য আজাদের-penpalএর গল্প শোনবার  দারুণ আগ্রহ  বুকে চেপে  ইস্কুলে গিয়ে জানতে পারলো--  আজকে অনন্য আজাদ ইস্কুলেই আসেনি।এভাবে সদ্য জন্ম  নেয়া ঢেউ  খেলানো  আগ্রহের বুকে ধাক্কা খেলো! তার পরের  দিন ছিলো  ইস্কুল ছুটির দিন। গুনে  গুনে পাঁচ দিন পরে-- অনন্য, ইস্কুলে তার অনুপস্থিতির কারণ দর্শানোর জন্য  দরখাস্তসহ উপস্থিত হয়।-----অনুরনের সঙ্গে চোখাচোখি হওয়াতে একটু হাসার চেষ্টা করে।

৫. 
বাইরে প্রথম ক্লাস শুরু হওয়ার ঘন্টাটা এইমাত্র পড়লো।
এখন শ্রেণী শিক্ষক আসবেন।অনুরন হাত উঁচিয়ে অনন্যকে বলতে চাইলো টিফিন টাইমে  কথা হবে।অন্যদিনের  চেয়ে  আজ  অনন্যের  লাজুক  মুখটা  থমথমে হয়ে আছে।কিছুটা বিবৃতবোধে উসখুস করছিলো।বোঝা গেছে এবারে কারণটি, অনুরন  দেখতে পেলো--- অনন্য ছেলেদের বসার বেঞ্চে জায়গা না পেয়েই হয়তো বাধ্য হয়ে পাশের মেয়েদের বেঞ্চের শেষ একটি বেঞ্চে বসে আছে!
...শ্রেণী শিক্ষক, যথারীতি রোল কল শেষ করে প্রাত্যহিক রুটিনে অনুপস্থিতির দরখাস্তগুলি দেখছিলেন।
-- &#039;অনন্য  আজাদ  কে  আছো  এখানে- দাঁড়াও ?&#039; অনন্য  লজ্জিত  ভঙ্গিতে  উঠে  দাঁড়ায়.... শ্রেণী শিক্ষক, একটু  হাসি  মুখ করে  অনন্যকে  উদ্দেশ্য  করে বললেন- ------&#039;আজকে কি ছেলেদের সব বেঞ্চ ফিলআপ হয়ে গেছে নাকি...স্ট্রেঞ্জ?&#039; 
পুরো শ্রেণীকক্ষেই  ভ্রমর  গুঞ্জরণের  মতো  মৃদুস্বরে  হাসি ছড়িয়ে পড়ে!
---&#039;এই স্টপ....আই  সেইড  স্টপ।শ্রেণী শিক্ষক সবাইকে থামিয়ে দিলেন।এবার তিনি অনন্যকে কাছে ডেকে নিলেন।-- &#039;তোমার ----এই  ইংরেজীতে  লেখা দরখাস্তটা  কে লিখেছেন?&#039; অনন্য  চোখ  নামিয়ে বলে--&#039;স্যার, আমি লিখেছি তারপরে আব্বু সাইন করে দিয়েছেন।&#039; দূর থেকেও অনুরন দেখতে পাচ্ছে-- অনন্যের এই  কথাতে তাদের  শ্রেণী শিক্ষক অল্প চমকালেন-- সূক্ষ্মভাবে  হলেও  মুখ দেখে  সেটা  বোঝা  যাচ্ছে! কিন্ত তিনি কাউকে ওটা বুঝতে না দিয়ে  পুনঃরায় অনন্যকে জিজ্ঞেস করেন। ------&#039;দেখছি, গত পাঁচ দিন স্কুলে তুমি আসো-নি, কেনো-?&#039;
অনন্য  বললো- &#039;গ্রামের বাড়ি নড়াইলে, আমার  দাদার  কুলখানিতে আব্বুর সাথে যেতে হয়েছিলো।&#039;
---&#039;তুমিতো এই স্কুলে নতুন এসেছো, আগের স্কুলটা কোথায় ছিলো।&#039; 
---&#039; স্যার, আমার আব্বুর ট্রান্সফারের চাকুরী বলে-- মাত্র ক&#039;য়েকদিন হয় কুমিল্লা থেকে এখানে আমরা নতুন এসেছি।&#039;
---&#039;ওখানে তোমার ক্লাস রোল-- কতো ছিলো?&#039; 
---&#039;আগের স্কুলে আমি ফার্স্টবয় ছিলাম।ক্লাসের ক্যাপ্টেনও ছিলাম।&#039;
অনুরন দেখে-- শ্রেণী শিক্ষক তাতে খুশি কি অসন্তুষ্ট কিছুই বোঝা গেলো না অবশ্য; -----কিন্ত এই কথা শুনে তাদের পুরো ক্লাসের যে ফার্স্টবয় রয়েছে, সে হকচকিয়ে গেছে! চোখের চাউনিতে কোনো ঈর্ষা খেলা না করে সে কিন্ত নির্বিকার বসেছিলো।
শ্রেণী শিক্ষক অনন্যকে শুধু বললেন- &#039;আচ্ছা, যাও-- সিটে গিয়ে বসো।&#039;

সময় মতো টিফিন পিরিয়ডের ঘন্টা পড়লো। ---এখন পুরো ক্লাস ফাঁকা।অনন্যের মুখে আগের থমথমে ভাবটা এখন আর নেই।সে অনুরনের দিকে তাকিয়ে আছে।অনুরনই এগিয়ে গেলো তার কাছে।বললো---&#039;কি খবর তোমার, কেমন আছো?&#039; 
---&#039;মোটামুটি আছি। ---বসো, টিফিন টাইমে বাড়ি যাচ্ছো না?&#039;
---&#039;নাহ, একটু আসছি, অপেক্ষা করো--&#039; এই বলে অনুরন হুটহাট বেরিয়ে যায়।--- ফিরে এলো একটু পরেই... তার হাতে ঝাল খাবারের কাগজের টোঙ্গা।
---&#039;এসব কেনো-?&#039; অনন্য উৎসুক হয়ে জাতে চাই।---
---&#039;সামান্য একটু, এখানে নিচে স্কুলের ওই পাশের দোকানে চমৎকার ছোলা ভাজি পাওয়া যায়।সাথে সমুজা, সিঙ্গাড়া, সালাদ... নাও শুরু করো।&#039; 
 অনন্য হাসিমুখে হাত বাড়ায়।
---&#039;তো এবার বলো-- penpalকে ইংরেজিতে লিখে লিখে হাত বেশতো পাকিয়েছো! সত্যি বলতে কি তোমার শ্বেতাঙ্গিনী নীলার গল্প শুনবো বলে-- আমি টিফিন টাইমে বাড়ি গেলাম না!&#039;
---&#039;আমি তা জানি-- দূরের হাতছানির রোমাঞ্চ তোমাকে পেয়ে বসেছে!&#039; --অনন্য মুখ টিপে হেসে বলে।
---&#039;মিথ্যে বলো-নি, তোমার মুখ থেকে pen-friendship এর গল্প শুনবো বলে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছি।&#039;
--&#039;আমার Neela gurner-- সে জার্মানীর একজন penpal। আমি তার পাঁচ &#039;কিস্তি উত্তর পেয়েছি। চিঠি পৌঁছাতে, আর তার লেখা উত্তর  হাতে পেতে  দু&#039;মাসের মতো সময় লাগে।দারুণ অপেক্ষার পালা... মনের ভেতর রোমাঞ্চকর এ্যাংজাইটি হতে থাকে।গুনে গুনে এক-দিন দুই-দিন পার করা!&#039;... 
----&#039;কিভাবে তুমি এই খোঁজ খবর পেয়েছো-?&#039;
--&#039;আমার বয়েসী এক খালাতো ভাইয়ের কাছ থেকে নীলার ঠিকানাটি পেয়েছিলাম। সে  একটি  নামী  খ্রীস্টান  স্কুলে  পড়ে। ও নাকি  বিদেশী  একটা  জার্নালে---I-Y-S (International Youth Service) ফিনল্যান্ড, নামের-স্কুল  চিলড্রেনদের জন্য এক penpals- এরেঞ্জারের প্রথমে খোঁজ পায়।তারপর  ওখান থেকে  ডলার খরচ করে এইসব ঠিকানা কিনে নিয়েছিলো।একজন চারটা করে--- যেকোনো  দেশের  চারটা ঠিকানা কিনতে পারবে।এক ঠিকানা, এক ডলার অথবা বদলে দুটি করে I-R-C-(যাকে-- International reply coupon বলে।এইগুলি জিপিও, পোস্ট অফিসে কিনতে পাওয়া যায়।) দিয়ে কিনতে হয়।এই ছিলো নিয়ম।এই নীলাকে চিঠি লিখে খালাতো ভাই কোনো উত্তর পাইনি দেখে, আশা ছেড়ে দিয়ে মনে হয় আমাকে এটা দিয়ে দিয়েছে।আমি অবশ্য রিপ্লাই পেলাম--- পাঁচ বার হাহা-হা হা!&#039;....
----&#039;তুমি কি এই নীলাকে কোনো উপহার পাঠাওনি, ফ্রেন্ডশীপ কার্ড বা অন্যকিছু।আর -----সেও তোমাকে কিছু দিলো না?&#039;--- অনুরন জানতে চাইলো।
---&#039;আমি চাবির রিং--ছোট্ট শামুকের গায়ে নীলা নামটি লিখে- সেটি ও সাথে কিছু লিখে  তাকে  পাঠালাম। লিখেছিলাম----- এই  চাবির  রিংটি  দেখলে দূরতম এই বাঙলাদেশের বন্ধুটার  কথা তার মনে পড়বে।নীলাও  আমাকে  ক্রিস্টমাস  কার্ডে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছে।সাথে ওই দেশের সুন্দর একটি দৃশ্যের ভিউ কার্ড পাঠিয়ে ছিলো।&#039;
----&#039;তারপর&#039;... অনুরন তন্ময় হয়ে শুনে মুখ ফুটে প্রশ্নটি করলো।--
----&#039;তারপর কি, -----একবার আমি বঙ্গোপসাগরের তীরের উদাসীন সৌন্দর্যের খুঁটিনাটি বর্ণনা দিয়ে তাকে লিখলাম।নীলার কাছে খুব সেসব ভালো লাগে!
সে তার মায়ের কাছে বাঙলাদেশের বঙ্গোপসাগরের নাম শুনেছে।আমাকে লিখলো- নীলার খুব ইচ্ছে করেছে-- আমার সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের পাড় ধরে হাঁটতে!&#039;
---&#039;উফ্ --দারুণ! তুমি কি IYS সম্পর্কে আরো কিছু জানো--এদের কোনো পোস্টাল এড্রেস-?&#039;
--------&#039;কেনো,  তোমারও  কি  অন্য কোনো  একজন নীলা  বান্ধবী চাই। সামলাতে পারবেতো?&#039;  অনন্য ঠেস্ মেরে কথাটি বললো।--
---&#039;দেখি না-- বেশি ওজন হয়ে গেলে, তুমি আছো না।&#039; 
অনুরন, হাত বাড়ানো নির্ভরতার সূরে কথাগুলি বলে।
---&#039;ঠিক আছে।একদিন, তোমার জন্য IYS এর ঠিকানা নিয়ে আসবো।&#039; 
অনন্য জানায়।

৬.
তারপর  কিছু  দিন  কেটে  যায়। অনন্য  আজাদ  অনিয়মিতভাবে  ইস্কুলে  আসতে থাকে।আরো কয়েকদিন পরেই তাদের ক্লাসে চুড়ান্ত নবম শ্রেণীর ইস্কুল রেজিষ্ট্রেশন শুরু হয়।কিন্ত  অনন্য  তাদের  ইস্কুলে নিজের রেজিষ্ট্রেশন করলো না। অনন্য নিজে থেকে কিছু এই  বিষয়ে বলে না। অনুরনও  অযথা  তাকে জিজ্ঞেস  করেনি।তাদের পরিচয়ের তিন মাস পরে অনুরনকে জানালো-- সে অন্য একটি  স্কুলে চলে যাচ্ছে... অনুরন এতে আশ্চর্য বা ব্যথিত হয় না।সামান্য মন খারাপ হয়।স্তব্ধ অনুরন বুঝতে পারে---- অনন্যের একেবারে চলে যাবার সাথে তার দূরবিশ্বের penpal এর বিষয়ে মনের কেন্দ্র স্হানে জন্ম নেয়া প্রচন্ড আগ্রহটারও হয়তো মৃত্যু হবে!---
যেদিন,  সত্যি অনন্য তাদের ইস্কুল ছেড়ে চলে যাবে, টিফিন  পিরিয়ডে  অনুরনকে ডেকে  বলে--  &#039;নাও  এ  কাগজে  ঠিকানা  লেখা  আছে। বেশ  কসরত  করে  এটি  যোগাড় করেছিলাম তোমার  জন্যে!--  সরি, দেরি হয়ে গেলো দিতে... penpal এর জন্য IYS&#039;কে  আমার  কখনো  দরকার ছিলো না। আজো আমার  প্রয়োজন নেই। সেটা তুমি ভালো করে জানো, কেনো?&#039;
----&#039;আর একটা  কথা...বলি,  আচ্ছা, না থাক্। ভালো  থাকবে-- যাচ্ছি।&#039;.... অনন্য চলে গেলো।অনুরনের ভেতর শূণ্য শূণ্য লাগলো!-- আনমনে সেও ইস্কুলের  বাইরে পা রাখে।
-----------------------------------------------------
--------অনুরন এখন নিউ-টেনে পড়ছে...
এক সোমবার, --জুলাই মাস, ১৯৯৯ সাল।পুবের আকাশ ছেঁয়ে  আছে মেঘে মেঘে। জলবতী কালো  মেঘের ঝড়  বৃষ্টিতে  চারপাশে  এখনো  বৃষ্টির  জলে ভেজা।যদিও বৃষ্টিপাত থেমেছে কিছুক্ষণ  আগে। --তবুও  উঁচু গাছের  ডালপালা  থেকে টুপ টাপ জলের ফোঁটা পড়ছিলো। ইস্কুলের সামনের ব্যস্ত বড়ো রাস্তায় পথচারীদের অনেকে অভ্যাসবশত  মাথার  উপর  ছাতা  ধরে  হেঁটে  যাচ্ছেন!-  মন্ডল পাড়া  হাই  স্কুলের  মুখোমুখি রাস্তার ওপাশের ছোট্ট লাইব্রেরীটাই কাকভেজা হয়ে একজন ডাক পিয়ন সবেমাত্র  দুটি  চিঠি  দিয়ে  গেলো। একটিতে  এয়ার মেইল শব্দটি ছাপ মারা  ছোট গোলাপী রঙের খামের গায়ে  গোটা  গোটা  অক্ষরে  হাতে লেখা  ছিলো-  প্রাপকের  নাম-অনুরন মুৎসুদ্দি।প্রযত্নেঃ লাইব্রেরীর নাম ও ঠিকানা।প্রেরকঃ Katie Dawson. 18,  hocke  street,  Raglan,  AUSTRALIA।অন্যটি- সাদা খামের উপরে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা অনুরনের নাম।এই লাইব্রেরীর নাম ও ঠিকানা। এটির প্রেরকঃ  Mikaela Mattsson.110, Godby, Aland, FINLAND।

৭.
ইস্কুল ছুটির পরে অনুরন--  লাইব্রেরীর  পথটা ধরে হেঁটে  যেতেই ভেতর থেকে হাত উঁচিয়ে তাকে ডাকে।অনুরন কাছে যেতে কোনো রকম কথা না বলে তার হাতে শাদা ও গোলাপী রঙের খাম দুটি দেয়।খাম হাতে পেয়ে অনুরন---- প্রথমে নির্বাক ও পরে অন্যরকম নিঃশব্দ আনন্দে মনের ভেতরে তার নেচে উঠলো!...

অনুরন বাড়ি  ফিরে কমপক্ষে সাত  আট  বার  অষ্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড  থেকে  আসা penpal এর চিঠি দু&#039;টি পড়েছে। খুঁটিয়ে দেখলো, খামের গায়ের যা যা কিছু...খামের উপরে ডানপাশে দুটি সে দেশের ডাক টিকিট লাগানো রয়েছে।টিকিটটার গায়ে-বাম দিকে  লম্বালম্বি  ছাপার অক্ষরে লেখা আছে- ইন্টারন্যাশনাল পোস্ট ও অদ্ভুত প্রাণী কোয়ালা ছানার রঙিন ছবি,অন্যটাই ইউক্যালিপটাস গাছের লম্বা লম্বা সবুজ রঙের পাতার ছবি।
শাদা রঙের-- আয়তকার খামের  চার  কোনাতে ছাপা আছে ফুল ও হার্ট  মার্ক!... ডান  পাশে  লাগানো  আছে  পরপর  দু&#039;টি  ডাক টিকিট।এগুলিতে  প্রাগৈতিহাসিক যুগের  দুটো  অঙ্কিত  অদ্ভুত প্রাণীর ছবি!... খামের  ডান  দিকে  স্টিকার লাগানো। এতে একটি ছোট্ট বিমানের  ছবিসহ  লেখা আছে- priority par avion। চিঠির খামের অপর পাশে গাম দিয়ে  বন্ধ  মুখের উপরে  রঙিন ফুলের স্টিকার লাগানো! ----ছিলো দুইটি দেশের চিঠি দুটির খামের-- দু&#039;জোড়া টিকিটের উপরে সেই দেশের পোস্ট অফিসের সীল ছাপ্পর... 
অনুরন নেশাগ্রস্তের মতো তার penpalদের  কাছে  চিঠি লিখে অথবা চিঠির প্রতি উত্তর পেতে অধীর অপেক্ষা করে!... 

৮.
অনুরন বুঝতে পারে-- সুদূরের পিয়াসীর মতো সে যেনো penpals শেতাঙ্গিনীদের মুখেই বিশ্বমানস ভ্রমনের  তীব্র  অনুসঙ্গ  খুঁজে  ফিরেছিলো! এখন  সে  বহুকিছুই বোঝে।ক্ষনিকের বন্ধু অনন্য  আজাদ, কেনো তাকে শেষ  বিদায়  কালে কি যেনো  বলতে চেয়েও ব-লে-নি! 
.....ইউরোপ আমেরিকার penpals বা কলমী বন্ধুরা, আমাদের  থেকে নানা দিকে এগিয়ে থাকে।তিন চারটা দেশের ভাষা জানা- ভাষার জ্ঞান, ভ্রমন বৈচিত্র্য, মৌলিক শিক্ষা, ভৌগোলিক  সীমার  বোধ,  খেলাধুলা,  সংগীত,  নৃত্য,  ছবি আঁকা,  এমন  কি  হাতের লেখাটা পর্যন্ত! আসলে তারা বিদ্যালয় জীবনের সহজতাকে  ভবিষ্যত  জীবনের জটিলতার উপাদানে ভরে তোলে না-- তারা এই সময়ে মুক্ত কিন্ত সারল্য বন্ধুত্বেরই  ছবি  আঁকে!...   কোনো  কিছু  জানাকে  যদি  জ্ঞান  ধরা  হয়,  তাহলে তারা জ্ঞানের বৈচিত্র্যের জন্য নিজে কলমবন্ধু হয়ে অন্য দেশের কলমবন্ধু খোঁজে! 
বিপরীত  ভাবে  আমরা  ইষ্টার্ন  দেশের  কলম বন্ধুরা  বুকের ভেতর স্বপ্ন জমায়! কলম বান্ধবীকে  মনে মনে স্কেচের মতো আঁকতে থাকি! নতুন জ্ঞানের বৈচিত্র্যকে ফুল স্টপ করে, বন্ধু থেকে নামিয়ে প্রেমের নির্বাক আলোছায়ার প্রতিমা বানাই!আমাদের রক্তের মধ্যে মেশানো আছে রোমাঞ্চ ও রোমান্টিকতা ঘুলিয়ে ফেলার মন্ত্র! দীর্ঘ বহুকালের এই রুগ্নতরো সমাজ ব্যবস্হায়- বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত, কো&#039;এডুকেশনের শিক্ষাও, আমাদের অধিকাংশের আবার উত্তরাধিকারে পাওয়া রক্ত দুষণকে পরিশুদ্ধ করতে পারে না!--- 
অনুরন যথেষ্টই অনুমান করতে পারে।-- তার ইস্কুল জীবনের নতুন পরিচয়ের বন্ধু অনন্য আজাদের জার্মানীর penpal, --নীলা গার্ণার পাচঁ থেকে আট কিস্তি চিঠির উত্তর দেবার পরে ফুল স্টপ হয়ে গিয়েছিলো!.....

৯.
আজ ষোল বছর পরে, -- 
অনুরনের জীবনে কতো কিছু  ঘটে গেছে।অনেক চড়াই-উতরাই পার করে অনুরন এখন পুরোদমে  সংসার বন্ধী এক  গৃহস্থ  মানুষ! জীবনের জন্য জীবিকা, শিক্ষিত  মানুষদের জন্যে এই অমোঘ নিয়তির  ছকে বাঁধা!  প্রতিদিন  সকালে  উঠে অফিস পাড়ায় তাকে  যেতেই  হয়। এই নিয়তির আটপৌরে পথ চলাতে সে এভাবে একটি দিন শেষ করে! কিন্ত রুদ্ধ সময়ের  ভেতর কখনো কখনো মনে পড়ে যায়, ----সুদূর থেকে দেখা শাদা রক্তিম ফ্যাসফ্যাসে ফর্সা কোনো মুখ! তার ইস্কুলে পড়ার সময়ের  পথে---- পথ হারানো কোন কোন penpals শেতাঙ্গিনীর মুখ! সেটা ঘন হয়ে আসা কোনো নেশার রেষ হয়ে তার মনের অনেক গভীরে দেবে বসে আছে যেনো! আজো অনুরন মাদকাগ্রস্থের মতোন সেই মাদকের আকুলতা বোধ করে!....

[ কিশোর-গল্প ]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17731/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 20:17:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কল্পনা সমান দূরের শ্বেতাঙ্গিনীদের মুখ<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;</p>
<p>১.<br />
অনুরন মুৎসুদ্দি একজন  কিশোরের নাম। ছোট্ট করে&#8212; অনু, এটা  আবার  তারই ডাক নাম।এই নামে তাকে ঘরেই ডাকে।ইস্কুলে&#8211; ভালো  নামের  শেষে লিখিত হয়ে এই &#8216;অনু&#8217; নামটা  অবশ্য নেই। অনুরন এই  জন্যে নিজেকে কিছুটা ভাগ্যবান  ভাবে। সে দেখেছে তার বয়েসী অনেকের  বা অন্যদে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-17731"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/17731/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0984cc4fe7cb97bc931303ccaf649e63</guid>
				<title>বৃষ্টি; সশব্দ ধ্বনির কাব্য, বর্ষার ফুল, জলজ পত্রাবলী, মেঘদল, সবুজ্যারণ্য!
----------------------------------------------------------------------------

ঘোরতর বর্ষা দিনে-- ভোরের বৃষ্টিপাত আমার অন্যরকম প্রিয়।সবেমাত্র ভোরের আলো ফুঠেছে, আবছা ওই আলোতে বৃষ্টি পড়ার রিনিঝিনি সশব্দ ধ্বনির কাব্য, সমস্ত মন-টাকে অন্য  আচ্ছন্ন অনুভূতিতে বিবশ করে।মনে হয় এই ক্ষণিক সুখ থেকে সুখময় স্বর্গীয় আর কিছু কী হতে পারে? এটাই  নিবিড় ঋতু বর্ষার সশব্দ শক্তি! 

বর্ষায়- ফুলের সুগন্ধ সৌন্দর্যের গৌরব অতুলনীয়।প্রথমেই এই ঋতুর মন ভোলানো ফুলটিকে মনে পড়ে- কেয়া, কবিতার কেতকীকে। অনুরণিত হয় এই ফুলের উতলা সুবাস, রাগাশ্রয়ী বাঙলা গানে ধরা পড়ে, সংস্কুত নামের ফুল কেতকীর সাথে কারো মনের কথা.... এক বিচ্ছেদী মুখের জন্য এক বিরহী হৃদয়ের আকুলতা!
------&#039;উতলা বায়ে কেতকী সুবাসে... তারি স্মৃতি ভাসে-- আমারে কাঁদায়...

-------সেই সাথে মনে পড়ছে যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কবিতা-- &#039;কেয়া ফুল&#039;,

 &#039;তখনো শ্রাবণ-সন্ধ্যা নিঃশেষে হয়নি বন্ধ্যা-----  
 থেকে থেকে ঝরিতেছে জল; পবন উঠিছে জেগে,  
 বিজলী ঝলিছে বেগে, মেঘে মেঘে বাজিছে মাদল।
........................
শূন্য ঘরে, হিয়া গুমরিয়া মরে--  স্মরি’ যত জীবনের 
ভুল;  অকস্মাৎ তারি মাঝে, ধ্বনি কার কানে বাজে-----  
চাই ফুল---  চাই কেয়াফুল!&#039;

বর্ষাকালের রানী ফুল কদম্ব, কদম ফুল! কমলা-হলদে রঙের উপর শাদার মিশেল হয়ে এক অপরুপ শোভাময় ফুল হয়, ----এই কদম ফুল! 
যেদিন ভালো করে পাতার ফাঁকে প্রথম কদমকে দেখি,আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম! প্রেমে পড়ে যে তীব্র ভালোলাগাটা তৈরি হয় প্রাথমিক স্তরে মনের ভেতরে, আমারও ওই অনুভূতি হয়েছিলো!

সন্ধ্যার আবছা আঁধারে অসংখ্য সদ্য ফোটা শাদা রেইন লিলির রোম্যান্টিক মাতাল সুগন্ধে, একান্ত সুখে, ----মনের কিনারা পর্যন্ত ভরে উঠতো! 
  
মোহিনী কামিনীকে তখনো চোখে দেখিনি-- শুধু বইয়ে এই ফুলের নাম ও তার কিছু বৃত্তান্ত পড়ে জেনেছি।
খুব সকালে, আমাদের পাড়ায় সুপরিচিত গাছপালা আর বাঁশের বেড়ায় ঘেরা ইভা&#039; দিদিদের,  -----অল্প পরিসরের পুরোনো দিনের বাগান বাড়িতে, বইয়ে পড়া ফুল সহ কামিনীর বড়ো গাছের সামনে, -----যেদিন আমি প্রথম দাঁড়ালাম!  দেখেছি অসংখ্য ছোট ছোট গাঢ় সবুজ রঙের পাতাদের ভীড়ের ভেতর হতে, -----মুখ বের করা শাদা শাদা রঙের মাতাল করা মোহিনী সুগন্ধময় কামিনী ফুলদের দেখে, বিভোর আগ্রহে যে, -----কতোক্ষণ দেখেছিলাম, আজ আর মনে নেই! 
এটুকুই মনে পড়ছে, ----এই ফুলের রুপের থেকেও এই ফুলের সুগন্ধের শক্তি গহন গভীর ছিলো এবং কামিনী নিজের রাজকীয় সুঘ্রান ছড়িয়ে দিয়ে ওই ক্ষমতা দিয়ে  আমাকে জয় করে নিয়েছিলো! 


বৃষ্টিভেজা বড়ো কোনো গাছ থেকে--  ধরা যাক, সেগুন গাছ।এই গাছটির জলজ পত্রাবলী থেকে  বড়ো বড়ো  ফোঁটার  বৃষ্টিজল  যখন ঝরে পড়ে  তখন বৃষ্টি ক্লান্ত মূহুর্তকে উপভোগ করি-- চোখ মুখের উপর পুন:পুন: জলের পতন অভ্যাসবশত: বিব্রতও করে, কিন্ত ভিতরে ভিতরে আমি শিহরিত হই জলজ কামনায়! 

বাঙলার নির্জনতম কবি জীবনানন্দ দাশ---- বর্ষার  বৃষ্টিজলকে  কামনাতুর  করে পেতে ছেয়েছেন! কবিতায় ব্যক্ত করেছেন সেই হচ্ছেটুকু! ...

&#039;এই জল ভালো লাগে;  বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে দিয়েছে চুল- চোখের  উপরে--

তার  শান-স্নিগ্ধ  হাত রেখে  কত খেলিয়াছে,  আবেগের ভরে
ঠোঁটে এসে চুমো দিয়ে চলে গেছে কুমারীর মতো ভালোবেসে;

এই জল ভালো লাগে; ---নীলপাতা মৃদু ঘাস রৌদ্রের দেশে
ফিঙ্গা  যেমন তার  দিনগুলো ভালোবাসে----  বনের  ভিতর

বার বার উড়ে যায়,- তেমনি  গোপন  প্রেমে এই  জল ঝরে
আমার দেহের পরে, আমার চোখের পরে, ধানের আবেশে&#039;...

------আকাশটা গম্ভীর।দিকে দিকে কৃষ্ণ মেঘের দল।ভরা বাদল দিনের আকাশটা,  আলোর  দেবতা  সূর্যদেবকে ঘোমটা  ঢাকা  করে  রেখেছে  সেই ভোররাত্রি থেকে!    তাই আকাশ দেখে বোঝার উপায় নেই, এখন ঠিক কোন্ সময়? তবু সময় যন্ত্র ঘড়ি, জানিয়ে দিচ্ছে সকাল, কি মধ্যাহ্ন, না কি শেষ বিকেল বা সন্ধ্যা?  
একদিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে।আকাশ আগে থেকেই কৃষ্ণ ঘন মেঘে আচ্ছন্ন ছিলো, সারা আকাশ আরো যেনো কালো হয়ে এসেছে! ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে চারপাশ থেকে,  আশপাশের লোকজন একটু  দিকবিদিক  হয়ে ঘন হাঁটা শুরু করেছে,  সাথে বলাবলি করছে------ &#039;এখনই ভীষণ জোরে বৃষ্টি আসবে।এই  ঝড়  বৃষ্টি  অনেকক্ষণ স্হায়ী হবে?&#039;....      
আমিও  দৌড়ের  উপর হেঁটে একপাশে সড়ে আসতে না আসতেই কী যে --ঝড়ো বেগের বৃষ্টি, আমাকে অর্ধেকটাই ভিজিয়ে--- কাকভেজা করে দিলো!....

বাঙলার বর্ষাকে, কাব্য সাহিত্যে  অসামান্য ব্যাঞ্জনায় রুপবতী করে তোলেন বরষ  প্রেমিক  ও  বৃষ্টি বিলাসী রবীন্দ্রনাথ! স্বপ্নময়  রঙের  মনের  ও  রুপের  খুব  সুন্দরী  কিশোরী আষাঢ়&#039;কে,  আর  উদ্ভিগ্না  যৌবনবতী  রুপসীনি শ্রাবণ&#039;কে একচ্ছত্র শব্দ  বাক্যের বর্ণনায় দৃষ্টি-সীমাহীন  বৃষ্টি প্রকৃতির অপরুপাকে, এক আঁজলা স্বপ্ন তুলে আনার মতোন করে চিঠিতে লিখলেন---
-----&#039;&#039;সমস্ত আকাশ অন্ধকার করে নিবিড় হয়ে জমে এসে বৃষ্টি আরম্ভ হল- আমার নীচের ঘরের চারদিকে শার্সি বন্ধ করে বসে বসে মেঘ দূত’ এর উপর প্রবন্ধ লিখছি। প্রবন্ধের উপর  আজকের এই  নিবিড় বর্ষার দিনের বর্ষণ মুখর ঘনান্ধকারটুকু যদি এঁকে  রাখতে  পারতুম, যদি  আমার  শিলাইদহের  সবুজ  ক্ষেতের  উপরকার  এই শ্যামল  আবির্ভাবটিকে  পাঠকদের কাছে চিরকালের জিনিস করে রাখতে পারতুম তাহলে কেমন  হতো! কি অনায়াসেই জল স্থল আকাশের উপর এই নির্জন মাঠের নিভৃত বর্ষার দিনটি&quot;...

..... আহা, গহন ঘন বর্ষা, নাকি ঘন গভীর বরষা! 
বৃষ্টি পিয়াসী আমি সবুজ প্রকৃতির বুকে সবুজ্যারণ্য, বর্ষার দিনে বৃষ্টি স্নাত বিভিন্ন আকারের  ও  ভঙ্গির লক্ষ  লক্ষ সবুজ পাতাদের মেলার অপরুপ অরণ্য---  সব সময়ের জন্য আমার প্রিয়..... বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর যখন সবুজ অরণ্যের বুকে হাঁটি, ভেজা পাতা হতে খসে পড়া--- টুপটাপ বৃষ্টি পতনের শব্দ, জলজ হাওয়া, জলসিক্ত অনুভূতি, শীতল ভালোলাগাটুকুই ভরে উঠে বর্ষা কাতর এ বুক! 
.............................          ..................................          ...........

------ এক বিকেলে, ছুটিরদিনে আমরা ক&#039;জন অনুরাগী মিলে কাছাকাছির মধ্যে এক সবুজ অরণ্যে ঘুরতে যায়।জায়গাটি ছিলো সংরক্ষিত এলাকা। আমরা পূর্ব অনুমতি নিয়েই সেখানে যায়।বৃষ্টি থেমে গিয়েছিলো বহুক্ষণ আগেই।আমরা দিক দিকের বৃক্ষ পত্রাবলীদের জল মাখানো সবুজের দর্শনে, দারুণ ভালোলাগায় ভরে উঠি! কি সুন্দর ছায়া ছায়া জলসিক্ত স্বতঃস্ফূর্ত সবুজ চারদিকে!... আমরা সবুজ দেখে দেখে সামনে পথ চলি-- দেখতে থাকি এটা-ওঠা। আমাদের চোখে মুখে ধরা পড়ে, ---বৃষ্টিভেজা অরণ্য ও স্বপ্নের মতোন অরণ্যের প্রাকৃকিক সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করছে!... 
অনেকক্ষণ ছিলাম সেই অরণ্য প্রান্তর মাঝে।এবার ফিরতে হবে।একেবারে সেখানে থেকে বেরিয়ে ফটকের মুখ থেকে বিদায় নিয়ে--- যে যার পথ ধরেছি।আমি একাকী  আরেকটু হাঁটার ইচ্ছেতে হাঁটতে থাকি।পথের পাশে ফুটপাত ধরে হাঁটছি।এমন করে হাঁটতে গিয়ে বুঝতে পারি, আমার ভূল হলো! খুউব ঝড়ো বেগে বৃষ্টি প্রায় মাথার উপর চলে এসেছে...
এমন সময়ে হাতের ছাতাটি খুলতে গিয়ে- বেশ বাদল হাওয়ার মুখে ছাতা উল্টে যায়... বিব্রতকর অবস্থা এড়াতে তড়িঘড়ি একটা রিক্সা ডেকে ওঠাতেই উঠে যাই। বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। ঝুপঝুপ বৃষ্টি হচ্ছে, রিক্সাও চলছে।কিছু দূরে এসে গাড়ী বাঁক নেয়ার সময়ে দেখতে পাই, ভেজা দেয়ালের নিচে এক ছোট্ট পথশিশু, মাথা উপরের বৃষ্টিপড়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে।হাতে ধরা ছিলো কিছু খাবার। দেখেছি  ভেজা  সীমানা  দেওয়ালটার  উপরে মাথা  বের করা কিছু জঙ্গলা আগাছা গোছের লম্বা লম্বা পাতার গাছ ছিলো।হঠাৎ আসা বৃষ্টি এড়াতে পথশিশুটা এইসব গাছে নিচে আশ্রয় নেয়!....
----এই মন দুলে উঠা দৃশ্য দেখে আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ আগের স্বপ্নের মতো ভালোলাগাটাও বিস্বাদ লাগলো.... 
ভাবতে থাকি--- আমি রিক্সা থেকে নেমে গিয়ে কি পথশিশুটার আগামী জীবনকে নিরাপদ করে দিতে পারবো? -----সেই ক্ষমতা কি আমার হাতে আছে, আমিও টিকে থাকার জীবনের জন্য সংগ্রাম করি, আমি একজন পরিশ্রমী সাধারণ কর্মজীবি।-- যাকে আজকের দিন শেষের কিনারায় এসে দাঁড়িয়ে, আগামীকালের কথা ভাবতে হয়! 
খুউব করে মাথার মধ্যে জটলার মতো ঘুরপাক করতে থাকে-- কিছু অক্ষর, শব্দ,  বাক্য! ... 
----- ALAS ! RAIN IS NOT ROMANTIC FOR EVERYONE! ....

.....&#039;আমি বিশ্বাস করতে শুরু করি, ----কঠিন বাস্তব জীবনে অন্তত যাদের, অর্থকষ্ট বলতে কিছু নেই, --------তাদের জন্যই বৃষ্টি সম্পর্কীয় যতো বি-লা-স!&#039; ....


লেখাঃ ২৮/০৬/২১ ইং</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/15920/</link>
				<pubDate>Mon, 28 Jun 2021 18:41:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বৃষ্টি; সশব্দ ধ্বনির কাব্য, বর্ষার ফুল, জলজ পত্রাবলী, মেঘদল, সবুজ্যারণ্য!<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-</p>
<p>ঘোরতর বর্ষা দিনে&#8211; ভোরের বৃষ্টিপাত আমার অন্যরকম প্রিয়।সবেমাত্র ভোরের আলো ফুঠেছে, আবছা ওই আলোতে বৃষ্টি পড়ার রিনিঝিনি সশব্দ ধ্বনির কাব্য, সমস্ত মন-টাকে অন্য  আচ্ছন্ন অনুভূতিতে বিবশ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-15920"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/15920/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f118b209256b880821f76a63f7a98a7f</guid>
				<title>কবি  জীবনানন্দ দাশের  কবিতা-- &#039;বোধ&#039;। এটি  উপভোগ  অথবা আয়ত্ত্ব করার জন্য কবিতা মাতাল  হওয়ার যদিও  প্রয়োজন নেই। কিন্ত  অবশ্যই  প্রয়োজন  কবিতাকে  আনন্দ  মনে  হজম করবার বোধের; --আমাকে  এক  সময়ে  এই  কবিতা  খুব  আচ্ছন্ন  করে   রাখতো!  আজো  এ  কবিতার মুখোমুখি  হলে-- থম্ কে  যায় এবং ভাবনাই চল্ কে উঠি! অনেকের  মনে হবে, --প্রেমের  কবিতা  এটি। পুরো  কবিতা পড়ে শেষ করলে তখন তা মনে হবে না।এই কবিতাটি--পড়ে  অনেকে  নিজের  কবিতা  লেখার  অনুপ্রেরণার  টান অনুভব করেন। অর্থাৎ, এই  কবিতাটি  কবিতার  জন্ম  দিতে  পারে, কবিতা লেখার  বোধ তৈরি  করে  দিতে পারে!  এটি-- এই  কবিতার  শক্তি! কবিতাটির এই শক্তিই শৈল্পিকতা! কবি  জীবনানন্দের-  &#039;বোধ&#039;  অনেক বড়ো  কবিতা। এখানে  আদ্যান্ত বা পুরো কবিতাটি তুলে দিচ্ছি, ------- 


বোধ

আলো- অন্ধকারে যাই—মাথার ভিতরে
স্বপ্ন নয়, কোন্ এক বোধ কাজ করে;
স্বপ্ন নয়—শান্তি নয়—ভালোবাসা নয়,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়;
আমি তারে পারি না এড়াতে,
সে আমার হাত রাখে হাতে,
সব কাজ তুচ্ছ হয়—পণ্ড মনে হয়,
সব চিন্তা—প্রার্থনার সকল সময়
শূন্য মনে হয়,
শূন্য মনে হয়।

সহজ লোকের মতো কে চলিতে পারে।
কে থামিতে পারে এই আলোয় আঁধারে
সহজ লোকের মতো; তাদের মতন ভাষা
কথা, কে বলিতে পারে আর; কোনো-- 
নিশ্চয়তা কে জানিতে পারে আর? 
শরীরের স্বাদ-- কে বুঝিতে চায় আর?
প্রাণের আহ্লাদ, সকল লোকের মতো কে 
পাবে আবার।
সকল লোকের মতো বীজ বুনে আর
স্বাদ কই, ফসলের আকাঙ্ক্ষায় থেকে,
শরীরে মাটির গন্ধ মেখে,
শরীরে জলের গন্ধ মেখে,
উৎসাহে আলোর দিকে চেয়ে
চাষার মতন প্রাণ পেয়ে কে আর রহিবে
জেগে পৃথিবীর ’পরে? স্বপ্ন নয়- শান্তি নয়—
কোন্ একবোধ কাজ করে মাথার ভিতরে।


পথে চ’লে পারে--পারাপারে উপেক্ষা করিতে 
চাই তারে; মড়ার খুলির মতো ধ’রে আছাড় 
মারিতে চাই, জীবন্ত মাথার মতো  ঘোরে-- 
তবু সে মাথার চারিপাশে, তবু সে চোখের চারি
পাশে, --তবু সে বুকের চারিপাশে; আমি চলি, 
সাথে-সাথে সেও চ’লে আসে।

আমি থামি— সেও  থেমে  যায়;

সকল লোকের মাঝে ব’সে আমার নিজের 
মুদ্রাদোষে-- আমি একা হতেছি আলাদা?
আমার চোখেই শুধু ধাঁধা? আমার পথেই
শুধু বাধা?

জন্মিয়াছে যারা এই পৃথিবীতে
সন্তানের মতো হ’য়ে— সন্তানের জন্ম 
দিতে-দিতে যাহাদের কেটে গেছে অনেক
সময়, কিংবা আজ সন্তানের জন্ম দিতে হয়
যাহাদের; কিংবা যারা পৃথিবীর বীজ খেতে
আসিতেছে চ’লে জন্ম দেবে—জন্ম দেবে
ব’লে; তাদের হৃদয় আর মাথার মতন
আমার হৃদয় না কি? তাহদের মন
আমার মনের মতো না কি?
—তবু কেন এমন একাকী?
   তবু আমি এমন একাকী।


হাতে তুলে দেখিনি কি চাষার লাঙল?
বাল্‌টিতে টানিনি কি জল?
কাস্তে হাতে কতোবার যাইনি কি মাঠে?
মেছোদের মতো আমি কতো নদী ঘাটে
ঘুরিয়াছি; পুকুরের পানা শ্যাঁওলা—আঁশ্‌টে 
গায়ের ঘ্রাণ গায়ে গিয়েছে জড়ায়ে;
–এই সব স্বাদ; —এ-সব পেয়েছি আমি, 
বাতাসের মতন অবাধ বয়েছে জীবন,
নক্ষত্রের তলে শুয়ে ঘুমায়েছে মন
একদিন;  এইসব  সাধ জানিয়াছি একদিন—
অবাধ—অগাধ; চ’লে গেছি ইহাদের ছেড়ে;

ভালোবেসে দেখিয়াছি মেয়েমানুষেরে,
অবহেলা ক’রে আমি দেখিয়াছি মেয়ে
মানুষেরে, ঘৃণা ক’রে দেখিয়াছি মেয়ে
মানুষেরে;
আমারে সে ভালোবাসিয়াছে,
আসিয়াছে কাছে, উপেক্ষা সে করেছে 
আমারে, ঘৃণা ক’রে চ’লে গেছে—
যখন ডেকেছি বারে-বারে ভালোবেসে তারে;
তবুও সাধনা ছিলো একদিন–এই
ভালোবাসা; আমি তার উপেক্ষার ভাষা
আমি তার ঘৃণার আক্রোশ অবহেলা ক’রে
গেছি; যে-নক্ষত্ৰ—নক্ষত্রের দোষ, আমার 
প্রেমের পথে বার-বার দিয়ে গেছে বাধা---

আমি তা’ ভুলিয়া গেছি;
তবু এই ভালোবাসা -ধুলো আর কাদা।

মাথার ভিতরে স্বপ্ন নয়—প্রেম নয়—
কোনো এক বোধ কাজ করে।
আমি সব দেবতারে ছেড়ে আমার 
প্রাণের কাছে চ’লে আসি,
বলি আমি এই হৃদয়েরে:
সে কেন জলের মতো ঘুরে-ঘুরে একা-
কথা কয়!
অবসাদ নাই তার? নাই তার শান্তির সময়?
কোনদিন ঘুমাবে না? ধীরে শুয়ে থাকিবার 
স্বাদ--- পাবে না কি? পাবে না আহ্লাদ
মানুষের  মুখ দেখে কোনোদিন!
মানুষীর  মুখ দেখে কোনোদিন!
শিশুদের  মুখ দেখে কোনোদিন!

এই বোধ—শুধু এই স্বাদ পায় সে কি 
অগাধ—অগাধ! পৃথিবীর পথ ছেড়ে 
আকাশের নক্ষত্রের পথ--- চায় না সে?
করেছে শপথ দেখিবে সে মানুষের মুখ?
দেখিবে  সে মানুষীর  মুখ?
দেখিবে  সে শিশুদের  মুখ?
চোখে  কালো শিরার  অসুখ,
কানে যেই বধিরতা আছে, যেই কুঁজ--
গলগণ্ড  মাংসে  ফলিয়াছে  নষ্ট শসা— 
পচা চাল্‌কুমড়ার ছাঁচে, যে-সব হৃদয়ে 
ফলিয়াছে ------ সেই সব।

 জীবনানন্দ দাশ।------</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/15663/</link>
				<pubDate>Tue, 22 Jun 2021 07:31:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবি  জীবনানন্দ দাশের  কবিতা&#8211; &#8216;বোধ&#8217;। এটি  উপভোগ  অথবা আয়ত্ত্ব করার জন্য কবিতা মাতাল  হওয়ার যদিও  প্রয়োজন নেই। কিন্ত  অবশ্যই  প্রয়োজন  কবিতাকে  আনন্দ  মনে  হজম করবার বোধের; &#8211;আমাকে  এক  সময়ে  এই  কবিতা  খুব  আচ্ছন্ন  করে   রাখতো!  আজো  এ  কবিতার মুখোমুখি  হলে&#8211; থম্ কে  যায় এবং ভাবনাই চল্ কে উঠি! অনেকের  মনে হবে, &#8211;প্রেমের  কবিতা  এটি।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-15663"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/15663/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0f769d76c1a2dffac586da4d9e909635</guid>
				<title>পত্র(পাঠ) সাহিত্যের--- &#039;২য় অংশ&#039;–
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ হবে।&#039;…


[ জন্মদাত্রীর ছায়া--  সন্তানের জীবনছকে, জীবাস্মের মতো বেঁচে থাকে যেনো!]

প্রিয় মা, 

কোনোদিন ভাবিনি তোমাকে নিয়ে কিছু লিখবো।তোমার সংসারে-তুমি, ছায়া-প্রতি চ্ছায়ার মতো এতো বিস্তারিত স্বাভাবিক সহজ সরল কোমল মমতাময়ী ছিলে যে, তুমি বাদে-- দূর থেকে দেখা এই সুখী পারিবারটা দু&#039;ঘন্টার মধ্যে অচল হয়ে পড়বে! ছন্দ হারাবে, গতি হারাবে, খুশি আর উচ্ছ্বাস হারাবে এবং খুব সহজেই কয়দিনের ভেতরে দুঃখী এক পরিবারে রুপান্তরিত হবে!--- এটা আমার বিশ্বাস হয়; 

তুমি প্রায়ই বলতে কথাটি, যেদিন সন্তানের মা হবি সেদিন বুঝবি মায়ের মর্ম-বেদন!
তখন হেসে দিতাম, না বুঝেই হেসেছি। কী যে এক বিশাল বোধের কথা তুমি তখন 
সরল করে বলতে! এখন বুঝি।যতদিন যাচ্ছে ততো একটু একটু করে আরো বেশি বুঝতে পারছি.... 

মা, মা, তুমি যে কি বিশাল এক ব্যাপার -----জগত সংসারে, তুমি হয়তো নিজেও জানো না।প্রকৃতি মহান মহান উপাদান সব তোমার ভেতর জড়ো করে তোমাকে গঠন করেছে।এ জন্যই তুমি তোমার ভেতরে সবংসহা! কি নেই তোমার ভেতরে--
তোমার সন্তানদের জন্য--- প্রীতি-মমতা, মায়া-দয়া, অনুভব-অনুভূতি, মন-বোঝা, ভালোবাসা-আদর, ক্ষোভ রাগ, সতত অশ্রু অভিযোগ, এক সমুদ্র হৃদয়, একটা নিশ্চিন্ত ছায়া, সহ্য-ধৈর্য, তোমার দখিনা শীতল মিষ্টি হাওয়ার মতো গায়ের গন্ধ, উদয়-অস্ত টানা পরিশ্রমের পর তোমার স্মিতহাস্য মুখ ও সন্তানদের মাঝে ফূর্তি!---  আরো কতো কতো গুণ!...

যখন একটু একটু করে তোমার মর্ম বুঝতে শিখছি--- তখন থেকেই আমি তোমার গুণমুগ্ধ! এভাবে যতদিন গেছে তুমি ধীরে ধীরে এক মহীরুহ রুপের দিকে এগুতে থাকলে! মা, সবাই বলে- সমাজ বলে, তুমি একজন সাধারন নারী, হয়তো আমিও
এক মেয়ে বলেই তোমাকে বুঝতে চেয়েছি। তোমার মধ্যের বিশালতার ছায়াটাকে দেখতে চেয়েছি।
আমাদের শিক্ষক বাবার ঘরে পয়সা দিয়ে কেনা সুখের প্রাচূর্য ছিলো না-সত্যি কথা, কিন্ত শিক্ষা, সাহিত্য-রুচি, নীতি, শিষ্টাচার, সৎবোধ-এসবের মানবিক এক ধরনের সুখ বিরাজ করতো!

প্রিয় মা, তোমাকে কি পুরোপুরি ধরতে পেরেছি, অথবা এই পৃথিবীর মহা-মা&#039;কে? 
..... ছুঁতে কি পেরেছি তোমার ঠিকঠাক মহত্বকে?

হয়তো পারিনি।চেষ্টা করলাম যদিও।কিন্ত মা, এবার পারবো-- প্রকৃতি নিজের নিয়মে আমার ভেতর নির্মাণ কাজ শুরু করে দিয়েছে.... আর ক&#039;টা মাস পরেই--- তোমাকে ছুঁয়ে ফেলবো!...  যখন তুমিও দিদুন হবে!

ডাক্তারের কড়া নির্দেশে--  এখন আমার প্রায় গৃহকোণে বন্দী জীবন যাপন! সব কিছু  মাঝে মাঝে এমন ভালো লাগে আবার বিষাদ লাগে...  হাতে এখন অনন্ত সময়-তাই কাগজ-কলম জোগাড় করে তোমাকে নিয়ে যৎসামান্য কিছু লিখলাম।কিন্ত এটি পোস্ট করবো কিভাবে- ভাবছি, ভাবনাও হচ্ছে! সেই সাথে কাউকে দিয়ে 
চিঠি পোস্ট করতেও এক রকমের লজ্জা লাগছে! বার বার মনে হচ্ছে- খাম ছিঁড়ে চিঠিটা পড়ে নিবে!..... এমন কেনো মনে হচ্ছে, মা ?

এখন আমার বন্দীপ্রাণের নগর জীবন অসহ্য মনে হয়।ঘর থেকে বেরুলে অপার সবুজ দেখি না, বিমুক্ত হাওয়া নেই, প্রকৃতির নিজস্ব ঋতুর সৌন্দর্য নেই, সদ্য তাজা মাছ নেই, সবজি, তরকারি থেকে কতোকিছু নেই, নেই, নেই...

মা, আমার মাথা ভেতর একটু পাগল পাগল লাগে! এখানে শহরে এসে বহু কিছু উল্টানো দেখছি!
শহরের বড়ো মহিলা ডাক্তার বলেছেন- প্রথম যারা বেবির মা হয়, তাদের মধ্যে এই রকম অনেকের হয়।আমারও সেইজন্য হচ্ছে....
আমার তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে, তোমার কাছের সঙ্গ পেতে মন চাই, মা--

.....আমার দূর গ্রামের মা&#039;য়ের কাছে কিভাবে এই হাতে লেখা চিঠি পৌঁছোবে, এটা ভাবতে ভাবতেই আমার গভীর ঘুম পাচ্ছে! নাহ, ঔষধের প্রভাবে চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসছে! --

ইতি, মুখশ্রী, তোমার কন্যা--

১৭ই জুলাই, ২০১৭ইং</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/15019/</link>
				<pubDate>Wed, 16 Jun 2021 13:57:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পত্র(পাঠ) সাহিত্যের&#8212; &#8216;২য় অংশ&#8217;–<br />
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ হবে।&#8217;…</p>
<p>[ জন্মদাত্রীর ছায়া&#8211;  সন্তানের জীবনছকে, জীবাস্মের মতো বেঁচে থাকে যেনো!]</p>
<p>প্রিয় মা, </p>
<p>কোনোদিন ভাবিনি তোমাকে নিয়ে কিছু লিখবো।তোমার সংসারে-তুমি, ছায়া-প্রতি চ্ছায়ার মতো এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-15019"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/15019/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e88fdd1b2b57f976de5af9e78a77c00b</guid>
				<title>পত্র(পাঠ) সাহিত্যের--- &#039;২য় অংশ&#039;–
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ হবে।&#039;…

পুষ্পাঞ্জলি চৌধুরী। 
সরোজ পার্ক, ২য় গলি,
চাঁপাডালির মোড়।
বারাসাত, চব্বিশ পরগণা,
পশ্চিম বঙ্গ।

২রা মে, ২০১৮ইং

প্রিয় পুষ্প দিদি,

মনটা বেশ ভারী হয়ে উঠেছে।যখন শুনলাম, ---মেসো মশাইয়ের গত হওয়ার খবরটি!... 
আমি জানি, --আমার বাবার চলে যাওয়ার বেদনা... বুকের ভেতর ওই শূণ্যতা, দুঃখবোধ আজো বয়ে চলেছি।বাবা বেচেঁ ছিলেন, এটি আমাকে সঙ্গ দিতো--    তিনি এখন নেই।কোনোদিন থাকবেন না।চোখের সামনে বাবার ছায়াস্মৃতি মাঝে মাঝে রাতের বেলা ঘুম ভেঙ্গে গেলে যেনো দেখতে পাই!আমি ব্যাথিত হয়ে চমকে উঠি এবং জানি, --এসব আমার মনের কল্পনা! আমার মনের শূণ্যতাবোধকেই আমার অবচেতমন মন আমাকে খুশি করার জন্যে দেখায়-- বাবার ছায়া কল্পনা; 
হঠাৎ কোনো অনুপস্থিতির অতিরিক্ত শূণ্যতা বোধের ভাবনা থেকে কল্পনার জন্ম! 
বিজ্ঞান ব্যাপারটিকে বলে-- Reflection images of the unconscious mind.  এসব আমারই অচেতন মনের মধ্যে থাকা প্রতিচ্ছবি, চিত্রসব!

একদিনতো ঘুম ভেঙ্গে গেলে- আমি জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করি, আমার বাবা কি আমাকে দেখতে এসেছিলেন?আসলে কোথাও কিছু নেই-- সবই আমার মনে ঘটছে! বাবাকে আমি বা আমরা মা&#039;য়ের থেকেও বেশি ভালোবাসতাম! সেই জন্য তাঁর শূণ্যস্হান আমাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত করে বেশি!

প্রিয় দিদি,  আপনার বাবা মানে---  মেসো মশাই,  দেখতে শুনতে অনেকটা  আমার বাবার মতোনই ছিলেন!  যেদিন প্রথম দেখেছি আপনার মূল বাড়িতে, দেখেই মন থেকে ভালো লেগেছে, একজন ভালো মানুষের প্রতিমূর্তি!...
এবং দেখেই মনে হয়েছে আমার বাবার মতোন গোছের একজন মানুষ! আমাদের বাবার যথেষ্ট বয়স হয়েছিলো।তাঁর বিদায় ছিলো অনেকটা অবধারিত।কিন্ত মেসোর অতো বয়সতো হয়নি- এনার এভাবে বিদায়, বড়ো রকমের দুঃখের!... 

প্রিয়জন হারানোর শোককষ্ট, কোন সমবেদনা দিয়ে পূরণ হয় না! অন্ততঃ ভাষার শক্তি দিয়ে বলে কয়ে পূরণ হয় না!... এই কষ্টঃবোধ শক্তিশালী এক ফিলিংস! তবু-- বর্তমানের আপনজনদের মুখের দিকে তাকিয়ে মনকে কিছুটা পাথর চাপা দিতে হবে-- বাঁচতে হবে নিজেকে এগিয়ে নেয়ার জন্য... অশ্রু ছাপিয়ে সুখের সন্ধানে... 
আর পারছি না লিখতে... ভালো থাকবেন, নিজের জন্য--  অন্যদের জন্য....

ইতি, স্নেহধন্য---
----প্রদায়ন দে।

N.B.
-----আজ থেকে তিন মাস অথবা পাঁচ মাস পরে,  আমার  এই  বাবা বিষয়ক কাতর লেখাটি পড়ে দেখবেন। তখন হয়তো এ লেখার জন্য মায়া লাগবে-- কারণ মায়া লাগবে, বাবা নামের ছোট্টবেলার মাথার উপরের ছাতাটার জন্য!--</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/15018/</link>
				<pubDate>Wed, 16 Jun 2021 13:52:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পত্র(পাঠ) সাহিত্যের&#8212; &#8216;২য় অংশ&#8217;–<br />
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ হবে।&#8217;…</p>
<p>পুষ্পাঞ্জলি চৌধুরী।<br />
সরোজ পার্ক, ২য় গলি,<br />
চাঁপাডালির মোড়।<br />
বারাসাত, চব্বিশ পরগণা,<br />
পশ্চিম বঙ্গ।</p>
<p>২রা মে, ২০১৮ইং</p>
<p>প্রিয় পুষ্প দিদি,</p>
<p>মনটা বেশ ভারী হয়ে উঠেছে।যখন শুনলা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-15018"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/15018/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b39eff1fb324c4b768890197e6178386</guid>
				<title>পত্র(পাঠ) সাহিত্যের-- &#039;২য় অংশ&#039;–
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ হবে।&#039;…

[ বিস্মৃতি মুখটা-- এখনো আমি দেখতে পাই। পঞ্চাশ, ত্রিশ গজ বা তিন হাত দূরে থেকে! মহাকবি দান্তে যেমন দূর থেকেই দেখতেন তাঁর বিবাহিত প্রেমিকা বিয়াত্রিচ-- কে! ]


প্রিয় ফাল্গুনী,

মনের এপার থেকে অনেক দূরতম তুমি, ---এখন কেমন আছো?

একদিন। কোন্ দিন্ ঠিক্ মনে পড়ছে না-- শনিবার, কি রবিবার, সোম, মঙ্গল নাকি বুধবার ছিলো?  আমার কানের কাছে আচমকা, তুমি মুখ এনে বলেছিলে- ফাল্গুন মাসে তোমার জন্ম বলে, তোমার নাম রেখেছে ফাল্গুনী -----কী অবাক করা কথা! 
অবশ্য তুমি যা বলতে তাতেই আমি মুগ্ধ হয়েছি।তোমাকে ভালোবেসে ছিলাম বলে- তোমার উত্তর-দক্ষিণ-পুব-পশ্চিম সবকিছুকেই আমার ভালো লাগতো! 
--- যদি তুমি বলতে,-ওই দেখো, গাছটার শুকনো পাতাটি বোঁটা থেকে ঝরে গিয়ে বাতাসে কেমন--  পাখির মতো উড়ছে!&#039;... আমি মুগ্ধ ও ভালোলাগা নিয়ে-- সেদিকে তাকিয়ে দেখেছি।আমার ভালোলাগাটা মুখে হাসি টেনে এনে প্রকাশ করেছি।তোমাকে ভালোবেসেছি বলে তোমার সবকিছু ভালো লাগতো! 

একটি পাখি, একটি ঘাসফড়িংকে শিকার করতে মরিয়া হয়ে উঠলো! তুমি সেটা দেখে-- আমাকেও দেখালে।আর হাত দুটি জোড় করে সামান্য উর্দ্ধ পানে তুলে কাকে যেনো উদ্দেশ্য করে বললে- পাখিটা যেনো--কিছুতেই ফড়িংকে ধরতে না পারে!
....তারপর আমার দিকে তাকালে--- আমিও তোমার মতো ওই রকম করে হাত সামান্য তুলে... বলেছি!
 ---এই ব্যাপারটি প্রকৃতিতে বেশ সাধারণ একটি ঘটনা...
হয়তো আমাদের জন্য তুচ্ছ! তবু আমার ভালো লেগেছে- তোমার বুক ভরা মমতা দেখে... তোমাকে ভালোবাসি বলে---

একদিন- যদিও কি বার&#039; ছিলো মনে পড়ছে না! ফ্যাকাসে আকাশ, টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছিলো।আমাদের ঠিক করা নির্দিষ্ট জায়গাটায়, ---আমার আসতে দেরি হবার জন্য তোমাকে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছিলো।সেই সময়ে --এক বুড়ো রিক্সাওয়ালা তোমাকে সঙ্গ দিয়েছিলো।তুমি বুড়োর রিক্সা করেই এসেছিলে।লোকটা তোমাকে একা ফেলে চলে যায়নি!সেদিনের--- কাকভেজা বুড়োকে আমার এতো যে ভালো লেগেছে,    ---মন্ চেয়েছিলো বুকে জড়িয়ে ধরি!..
 
---তুমি যে পথ ধরে হেঁটে যেতে... আমার সেই পথটা ধরে বার বার হাঁটতে ইচ্ছে করতো!... যেদিকে তুমি--- তাকাতে আমারও সেদিকে তাকাতে ভালো লাগতো! 

...রুঢ়,বাস্তব,কঠিন পৃথিবীতে অবাস্তব তোমার জন্য আমার সবকিছু করতে ভালো লাগতো!
তোমাকে যুক্তি দিয়ে ভাঙ্গতে...অথবা তোমাকে অবিশ্বাস বা প্রশ্ন করতে আমি মনে মনে কখনো কল্পনাও করিনি!... কঠিন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মের চক্রে হাত পা বাঁধা এই   সমাজ ও সমাজের প্রেমে নিরুৎসাহিত ব্যবস্হা, আমার বোকাসোকা ভালোবাসার ভবিষ্যতকে নিজের হাতে শতবর্ষী প্রথাবদ্ধতার ছুরিকা দিয়ে খুন করে!....  

দরিদ্র ও বোকা মানুষের বোকা ভালোবাসার কোনো মূল্য বা ভবিষ্যত, যাকে আমরা পরিণতি বলি, --আমাদের সমাজ অনুমোদন করে না!....

......বুকের মধ্যে, তোমাকে নিয়ে নানা ঘোরাঘুরির কাঙাল স্মৃতিগুলি গুঞ্জরিত হয় শুধু!

&quot;আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার  জীবন  যা  চায়  সেখানে  হেঁটে  হেঁটে 
পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর 
আছে।
জীবনের বিবিধ  অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা
অন্য  সবাই  বহন করে  করুক; আমি  প্রয়োজন 
বোধ করি না :
আমি এক  গভীরভাবে  অচল  মানুষ  হয়তো 
এই  নবীন  শতাব্দীতে  নক্ষত্রের  নিচে।&quot;

২.
জায়গাটির নাম ছিলো---- ওয়ার সেমিট্রি।---এটি এক কবরস্থান এবং বিরাট এক  উদ্যান।ঢুকার মুখে বড়ো বড়ো অনেক সেগুন গাছের সারি।----
........আমরা একটা তলে বসেছিলাম।
চোখের সামনে যৌবন বয়েসী সেগুন গাছেরা,তাদের  বড়ো  বড়ো পাতাগুলি ঝিরিঝিরি বাতাসে কাঁপছে; আমি আনমনে দেখছিলাম ভারী পাতাগুলির মৃদুমন্দ কাঁপন! আমার ভেতর মনের আকাশে উদাসী, এক বিরহ কষ্টের ছায়াচ্ছন্ন মেঘ! তোমাকে হারানোর অচেনা ভয়&#039;...
তুমি সুখ মাখা মুখে আমার পাশে বসেছিলে।এমন সীমাহীন সুখেও আমি দেখছি--- আমার---- চোখ ভরে নেমে আসছে কালো ছায়ার আঁধার!---
আবেগে হারানো আমার মন্ ---হুহু করে উঠছে কষ্টের অশ্রুকণায়; ভুলেই গিয়ে ছিলাম তুমি পাশে বসাছিলে! মনের গভীরে কেউ ধ্বনিত গলায় তখন--- সুরের সুরভি দিয়ে গেয়ে চললো- &#039;তুমি আবার এসো ফিরে, এক হারানো মনের কিনারে!&#039;... একি, --দেখলাম আমি! 
----এও হতে পারে যে,--- সময় আমাকে কি দূর ভবিষ্যতের বাস্তবতা দেখাচ্ছে?
--------- যা একদিন,  সত্যি আমাকে বরণ করে নিতে হয়েছিলো!----

আজ একুশ বছর পরে, হেডফোনে ওই গানটা শুনছি! আমার চোখের সামনে--- বিস্মৃতি&#039;র তোমাকে হারানোর ভয়ের মেঘচ্ছায়া হয়তো-- আর এখন নেই।কিন্ত আমার পাশে ওইদিন যে তুমি বসেছিলে- আজ সেই তুমিটা দূর-দূরের ভবিষ্যতে চলে গেছো!....

সময়ের চরকায়, ----দুজনে ভেসে যাচ্ছি....
আমি যখন আবার ওই দূর ভবিষ্যতের কাছে গিয়ে পৌঁছবো--- তখন তুমি আরো দূরের.... ভবিষ্যতে  গিয়ে পৌঁছাবে!  এই জীবনে মনে হয় আর ওই ভবিষ্যতের কাছে আমার পৌঁছানো হবে না!....

------তবুও ভালো থেকো।

তোমার একজন একান্ত শুভাকাঙ্ক্ষী।

[ বিস্মৃতি&#039; লেখাটার তারিখঃ ৩রা জুলাই, ২০১৭ ইং ]

-------------------------------------------------------------------------------
কবিতাঃ- জীবনানন্দ দাশ।
সংগীতঃ- পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী।

পত্র(পাঠ ) সাহিত্যঃ ২য় অংশ-- 
( সমাপ্ত )</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/15016/</link>
				<pubDate>Wed, 16 Jun 2021 13:42:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পত্র(পাঠ) সাহিত্যের&#8211; &#8216;২য় অংশ&#8217;–<br />
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ হবে।&#8217;…</p>
<p>[ বিস্মৃতি মুখটা&#8211; এখনো আমি দেখতে পাই। পঞ্চাশ, ত্রিশ গজ বা তিন হাত দূরে থেকে! মহাকবি দান্তে যেমন দূর থেকেই দেখতেন তাঁর বিবাহিত প্রেমিকা বিয়াত্রিচ&#8211; কে! ]</p>
<p>প্রিয় ফাল্গুনী,</p>
<p>মনের এপার থেকে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-15016"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/15016/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a65be4a2d1771a6dcb438ddc13486198</guid>
				<title>পত্র(পাঠ) সাহিত্যের-- &#039;২য় অংশ&#039;– 
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ  হবে।&#039;…

[যে মুখের স্মৃতিচ্ছবি, বড়ো একফোঁটা অশ্রুবিন্দু হয়ে মনের দেয়ালে ঝুলে আছে!]


প্রিয় বন্ধু মনীশ, 

বন্ধু তুই হলি, আমাদের বন্ধু মহলে,-কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কথায়--- &#039;ভারাক্রান্ত মন আজ-- অবিশ্রান্ত যায়, তবুও নিকটস্থ ফুল সুগন্ধে মাতাই।&#039; --তেমন একজন!
তুই সহ আমরা ক&#039;জন বন্ধুরা-- উনিশশো পঁচাশি সালে, কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি যখন হয়েছিলাম।আমাদের মধ্যে ছিলো তখন অন্য রকমের উত্তেজনা ও কৌতুহল, আর টগবগে যৌবনের সাহস! তুই হলি আমাদের সবার চেয়ে মেধাবী।কিন্ত আমরা টান্ টান্ নিম্ন বিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলাম।কলেজ পড়ুয়া ছাত্র জীবনে আমাদের জন্যে, পকেটের স্বাস্থ্য খারাপের জন্যে --এটা ছিলো দারুণ এক অর্থনৈতিক বাঁধা!
তখন উত্তাল ব্যান্ডের গান, এ্যাকশনধর্মী অথবা মনোরম রোম্যান্টিক কাহিনীর সিনেমা, ----যতো দুম্-ধারাক্কা কিছুকেই জীবন ভেবেছি!

স্পষ্ট মনে পড়ছে-- তুই আর আমি একই সাবজেক্ট নিয়ে এক কলেজেই পড়তাম।সবে ভর্তি হলাম কলেজে। প্রথম বর্ষ--  স্কুলের গন্ডি পেরোনোর ভীষণ উত্তেজনা আমাদের দুজনের মনে।কলেজে পড়ার দারুণ মজা ছিলো,  একটি মাত্র বলপেন একটি প্যাড খাতা-ব্যস্! কোনো বই নেয়ার দরকারই ছিলো না.. আহারে, স্বাধীনতা কাকে বলে?... কলেজে আমরা এক বেঞ্চে পাশাপাশি বসতাম।--খুনসুটি, --ইয়ার্কি, গল্প, ক্লাস স্যারের নোট নিতাম।এভাবে চলছিলো, দিন যেতে থাকে।আমাদের পাশে, মেয়েদের বেঞ্চে বসা রুপবতী সিনথিয়া যখন, ----তোর দিকে তাকাতো,  তোর মনে হতো- তুই ভেসে গেছিস! আবার সে, আমার দিকে যখন তাকিয়েছে, আমার তখন মনে হয়েছে, এবার আমি ভেসে গেলাম!... অবশ্য অনেক পরে, আমরা জেনে ছিলাম।সিনথিয়া গোমেজ উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ পাড়ি দিয়েছে....
আমিই আবিষ্কার করেছিলাম।আমাদের দিবারাত্রির স্বপ্নকন্যার কাব্য,--সিনথিয়ার চোখ জোড়া ছিলো, নাম করা-  নারী ভাস্কর, অবিকল নভেরা আহমেদের মতোন! দু&#039;চোখে কাজলের কড়া রেখা টানতো!... আমার মনে আছে তুই সিনথিয়াকে, মনে মনে অনেক বেশি ভালোবেসে ছিলি।তার প্রমাণ সেই-- কবিতাটি, তোরই লেখা।কবিতার নাম --&#039;সিনথিয়ার ভেলভেটের ওড়না&#039;।
....ইস্ --সিনথিয়া নামের মেয়েটা জানতেই পারলো না সে কথা!....

আমাদের বন্ধু সংখ্যা ছিলো চার জন।একজন এক্সট্রা।সে ছিলো বন্ধুর পরিচয়ে বন্ধু।কলেজ ছুটিতে, পূজোই বা ঈদের বন্ধে-- আমরা বন্ধুরা নিবিড় করে মিলিত হতাম। তখন আমাদের রাজ্যের কথা হতো।আমার মনে পড়ছে না-- এমন কোনো বিষয় বাদ নেই যে, ---আমরা ওই সম্পর্কে কথা বলিনি! তবে সিনেমার বিষয়টাই ঘুরেফিরে বেশি আলোচনা হয়েছে।বলা যাবে-আমরা  একেকজনে একেকজন সিনেমার নায়ককে অনুকরণ করতাম! কেউ সৌমিত্রকে,  উত্তম- কুমারকে, জ্যাকি স্রফকে, বুলবুল আহমেদকে, জাফর ইকবালকে।যদিও আমাদের মনের নায়িকারা বাস করতো- টেলিভিশনের পর্দায়!
সুবর্না, তারানা হালিম, নায়লা নুপুর, প্রিসিলা, ত্রপা মজুমদার, ইলোরা গহর... 

আমরা বন্ধুরা, নিজেদের পকেট থেকে চাঁদা তুলে- মনীশ তোকে, কোনো সিনেমা হলে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা দেখতে পাঠাতাম।যাতে  তুই সিনেমাটাকে আদ্যপান্ত গিলে হুবহু আমাদের মধ্যে বর্ণনা করতে পারিস।কারণ,---- ওই মেধা তোর কাছে ছিলো।
মনে পড়ে... কি সাসপেন্স নিয়ে তুই বলতিস।বুঝলি, ধরাম্ করে নায়ক দুয়ার খুলে বন্দিনী নায়িকার বাবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে... পরপরই তুই মুখে একটা ঠাডা-বিজলীর বিকট্ শব্দ করলি, এই&#039;রে--- আমরা রীতিমতো ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম!
হেসে তুই বললি--এটি সিনেমাতে ওই দৃশ্যাংশের ব্যাকগ্রাউন্ড ছিলো!
এটা তোর কাজ ছিলো যে- সিনেমার কাহিনী বলার সঙ্গে সঙ্গে মুখে শব্দ রচনা করে ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড করতিস! কখনো সখনো আমরা তোর মুখে শব্দ তুলে করা ব্যাকগ্রাউন্ডের জ্বালায় অতিষ্ঠ নতুবা বিরক্ত হয়ে বলেছি,--আহ! বাপ, থাক্ না, বাদ দে-- নির্জলা কাহিনীটাই বলে যা...  তবুও দেখেছি তোর হাসিমাখা মুখ! তুই জানতিস যে, --কোনো একটা সিনেমা, দেখার জন্যে তোকে টাকাটা কিন্ত আমরা দিই...    তাই হাসিমাখা মুখ করে থাকাটা তোর দায়-দায়িত্বের মধ্যে পড়ে!---

মনীশ আমাদের বন্ধু, --তুই দরিদ্র ঘরের ছেলে বলে, ---পরিবারের দায়িত্ব এড়িয়ে  যেতে পারতিস না।টুকটাক টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ চালাতে হতো।কোত্থেকে যেনো-একটা লক্কড় যক্কড় মার্কা সাইকেল যোগাড় করে, বন্ধু তুই সেটা চালিয়ে কয়েকটি বাড়ি গিয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াতিস।ওটাই একদিন তোর কাল হলো! 
একদিন শেষ বিকেলে--- টিউশনি শেষ করে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বেপরোয়া একটা ঘাতক ট্রাকের ধাক্কায়--- অনেক দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েছিলি।তোর সাইকেলটা দুমড়েমুচড়ে গিয়েছিলো! সেদিনের তোর রক্তাক্ত দুর্ঘটনা আমরা বা আমি ভূলিনি...
কিছুদিন সরকারী হাসপাতালের বেডে শুয়ে--  মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে- বন্ধু তুই আমাদের ছেড়ে একলা চলে গেলি- ওইপাড়ে! বন্ধুরে--- তুই চলে যাবার দগদগে ক্ষত, ওই শূণ্যতা আমি বহুদিন ভূলতে পারিনি।
-----------স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে, বুকের মধ্যে হু হু করে উঠে এক অব্যক্ত দুঃখ! ভেতর থেকে এক দলা পাকানো কান্না টেলে বেরিয়ে আসতে চায়!....
একবার, তুই আমার কলেজ খাতায় কী সুন্দর আলংকারিক আঁকিবুঁকি করে, --- নিচে লিখলি। 
                   ----&quot;বন্ধু, 
                   ----তোমার  খাতায়  এঁকেদিলাম, 
                   ---- জীবন  মনের  আলপনা -----
                   ----আমার  স্মৃতি  কবে  কথা, ----
                   -----যখন  আমি  থাকবো  না!&quot;.... 

 ....আমার দু&#039;চোখ ভিজে উঠছে!
পরপারে, --সেখানে ভালো থাকিস বন্ধু, তোর মঙ্গলকামী---
যদিও সেখানে আমাদের সবাইকে একদিন যেতে হবে বয়সের কাছে পরাজিত হয়ে...  

ইতি, একদার কলেজ বন্ধু-- 
৩রা, জুলাই, ২০১৭ইং</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/11068/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Jun 2021 12:21:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পত্র(পাঠ) সাহিত্যের&#8211; &#8216;২য় অংশ&#8217;–<br />
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ  হবে।&#8217;…</p>
<p>[যে মুখের স্মৃতিচ্ছবি, বড়ো একফোঁটা অশ্রুবিন্দু হয়ে মনের দেয়ালে ঝুলে আছে!]</p>
<p>প্রিয় বন্ধু মনীশ, </p>
<p>বন্ধু তুই হলি, আমাদের বন্ধু মহলে,-কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কথায়&#8212; &#8216;ভা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-11068"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/11068/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0ccca45ea970abf8ddd87beabef444ed</guid>
				<title>পত্র(পাঠ) সাহিত্যের-- &#039;২য় অংশ&#039;–
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ হবে।&#039;…

[ বুকের দেয়ালে একটা মোটা দাগের চিহ্ন বয়ে বেড়াই আমি-- আজো! ] 


প্রিয় বাবা, 

কতোদিন আপনাকে দেখি না!
আমি কিন্ত বুকে আপনারই অল্প বয়সকালের একটি ছবি, ছাপ চিত্রের মতো রেখে দিয়েছি।ছোটবেলায় রবারের একটা বলের জন্যে বায়না করেছিলাম বলে,--আপনি যে একজন দরিদ্র পিতা, সেটি বুঝতে না দিয়ে- একদিন দুপুরবেলা, বাতিল খবরের কাগজ ও ভাতের মন্ড যোগাড় করে- তা দিয়ে গোলাকার  একটি বল বানাতে শুরু  করেছিলেন।আমি পাশে বসে দেখেছিলাম।এখনো চোখে ভাসে! ---কতোটা বুকের  ভালোবাসা আর আন্তরিকতা দিয়ে আমার জন্য-- সেই বল আপনি বানালেন! 

বলটা কি সুন্দর হয়েছিলো!... আমি কাছে থেকে দেখেছিলাম- সেদিন তপ্ত দুপুর বেলা নাওয়া খাওযা ভূলে, নিবিষ্ট, একমনে আপনি ছেলের জন্য, ছেলের আবদার রাখতে কাজ করে চলেছেন। --স্তব্ধদুপুরে, বাইরে গ্রীস্মের ঝলসানো রোদ, এমনই ভ্যাপসা গরমে, আপনার কপালে, নাকের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠেছিলো! আপনি কাগজ কাটাকুটি করে তাতে মন্ড মাখিয়ে ছোট্ট একটি পিন্ড থেকে ধীরে ধীরে কাগজের গোলাকার একটা বলই বানিয়ে ফেললেন- আমার জন্য! কি করে আমি ভূলবো ওসব!... আপনি গত হলেন কতোকাল হয়ে গেলো-- কিন্ত আপনি আছেন আমার বাল্য জীবনে, কিশোর জীবনে-- কিছুটা যুবককালে...এবং আজো স্মৃতির মিছিলে--

প্রিয় বাবা,  চোখের ভেতর যদি ছবি করে রাখা যেতো,  তাহলে আমি  চোখ দিয়ে  ছবি তুলে সেই ছবিটা,  চোখের ভেতর রেখে দিতাম।কেউ যখন আমার দু&#039;চোখের দিকে তাকাবে-- আপনার সেই ছবিটা দেখতে পেতো!  

কিশোরকাল পেরোনোর কালে আমি গল্পের বই পড়তে চাইতাম।খুব আগ্রহ বোধ করতাম।আপনি পড়ানোর  ছলে্ আমাকে গল্প শোনাতেন। -রবিঠাকুরের  কাবুলি ওয়ালা, ডাকঘর;  অবন ঠাকুরের- ক্ষীরের পুতুল  বা  সুকুমার রায়ের-  আবোল-তাবোলের কঠিন উচ্চারণের শব্দের খেলা; শরৎ বাবুর লেখা গল্প; বিভূতিভূষণের অরণ্য-প্রকৃতি-অভিযানের গল্প, পথের পাঁচালী; মস্কো প্রকাশনীর-বাঙলা ভাষাতে অনুদিত  রাশিয়ান  সাহিত্যের  গল্প;  নিসর্গী দ্বিজেন শর্মার- &#039;কুর্চি; বকুল;  হিজল;  বরুণ; নাগলিঙ্গম&#039;-  গাছপালার গল্প;  কবি নজরুলের ছোটবেলাকার গল্প।আরো কতো গল্প... 
কতো রকমের গল্প শোনাতেন! কিন্ত আমি জানি, সংসারের খরচ বাঁচিয়ে আমার জন্যে গল্পের বই,  কেনার মতো টাকা আপনার হাতে থাকতো না বলে, ---আপনি আমাকে নিজেই, গল্প শোনাতেন!  সেই গল্পের কথা, কাহিনী, আপনার আবেগ- গলার স্বর, হাত নাড়িয়ে গল্প বলবার ঢঙ, --আমি কী করে ভূলে যায়, বাবা!...

অনেকদিন পরে---- 
মনে আছে।যেদিন আমার লেখা--- গল্পের বইটা, পাঠকপ্রিয়তা  আদায় করে-- মেধাবী সব সমালোচক, লেখকদের বিচারে,-শ্রেষ্ঠ গল্পগ্রন্হ  বিবেচিত হয়েছিলো,-- তারপর একটি দৈনিক পত্রিকা আমাকে ডাকে।ছোট করে তারা -গল্পপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি, বিষয়ক অনুষ্ঠান করে। ----দু&#039;জন কবিদের সঙ্গে আমাকেও সন্মান দিলো।মঞ্চে ডেকে সবার সামনে হাতে তুলে দেয়,--- &#039;স্মারকপত্র  ও  শরৎ রচনাবলী!&#039;  আমাকে কিছু কথা, অনুভূতি বলার জন্যে যখন ডায়াসে ডাকে, তখন আমি কথা বলার শুরুতেই-- ঝরঝরে কেঁদে ছিলাম।
.....আমি সেদিন আনন্দে কাঁদিনি।কেঁদেছি---  আমার বাবা বেঁচে নেই বলে! হাতে একগাদা শরৎ রচনাবলী পেয়ে, সবার প্রথমে আমার মনে পড়েছিলো আমার গরীব বাবার মুখটি, ভেবে অশ্রু সজল হয়েছে চোখের দু&#039;কোণা! আমার বাবা, মনের দিক থেকে কতো বড়ো মাপের মানবিক মানুষ ছিলেন, -----আর কতো বড়ো ঐশ্বর্যবান ছিলেন!... তার আমি পরিমাপ করার যোগ্যতা রাখি না।...

বাবা, আপনি যদি আমাদের ছেড়ে না যেতেন-- তাহলে সেদিনের আপনার গল্পকার ছেলেকে দেখে,-- হয়তো, আপনার  বুক  ভরে উঠতো আনন্দে, কিছুটা গৌরবে,-- --------- &#039;ছেলেকে গল্প শোনানো আপনার একদম বৃথা যায় নি।&#039;....

বাবা আপনি, আমার কাছে এক মানবিক শূণ্যতার নাম! আমার আগামী জীবনের জন্য এক অসামান্য স্মৃতিকাতরতা! আমার মনের জগতে থাকবেন, একজন মানব বৃক্ষ হয়ে!...

ইতি, আপনার আদরের ছেলে--
----নিখিলেশ গৌড়া।

লেখাঃ আগষ্ট, ২০২০ইং, 


( N.B. বাবাকে আমি- &#039;আপনি&#039; করে বলতাম।মা-কে তুমি করে।আজকে আমার Missing বাবাকে খুব বলতে ইচ্ছে করছে-&#039;বাবা, তোমাকে, আমি খুব ভালোবাসি...)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/11066/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Jun 2021 11:50:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পত্র(পাঠ) সাহিত্যের&#8211; &#8216;২য় অংশ&#8217;–<br />
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ হবে।&#8217;…</p>
<p>[ বুকের দেয়ালে একটা মোটা দাগের চিহ্ন বয়ে বেড়াই আমি&#8211; আজো! ] </p>
<p>প্রিয় বাবা, </p>
<p>কতোদিন আপনাকে দেখি না!<br />
আমি কিন্ত বুকে আপনারই অল্প বয়সকালের একটি ছবি, ছাপ চিত্রের মতো রেখ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-11066"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/11066/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">321c60167fefebe9aaa0aa43fc1f5868</guid>
				<title>আজ পত্র(পাঠ) সাহিত্যের-- &#039;২য় অংশ&#039;–
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ হবে।&#039;…

[ এখনো, আদ্র হয়ে ভিজে উঠে যে পিতার বুকের হৃদয়!]


প্রিয় সোনালী মামি, 

কেমন আছেন ?...
আমিতো খুব খুব ছোট।---- কিভাবে আমি এই পৃথিবীতে এসেছি জানি না? জন্মের পরপর আমার ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে ধর কষাকষি শুরু হয়! আমি বেশ ক&#039;জন মানুষের মুখ দেখেছি।তাদের কারোর মুখ পবিত্র ছিলো না।তারপর আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের মায়ের কোলে চড়ে এই আপনাদের বাসায় এসেছি।ভালো মানুষ, মন্দ মানুষ, কাদের বলে জানি না।আমি খুউব ছোট্টতো!!  কিন্ত আমি গন্ধ শুঁকে বুঝতে পারি-- কাদের হৃদয় পবিত্র, --অকল্পনীয় বড়ো প্রকৃতিই ছোট্ট একটি ক্ষমতা আমাকে দিয়েছে  এবং  প্রকৃতি নিজের হাতে এই পৃথিবীতে আমাকে দিয়ে গেছে! এখন আমি কিছু পবিত্র মানুষদের মাঝে আছি। -----তাদের মধ্যে আপনি একজন। 

সোনালী মামি, ---আমার বাবা, মা, আপনারা ছাড়াতো কেউ নেই-- এই পৃথিবীতে! আমার অস্তিত্ব তাই আপনাদের ঘিরে।নিজের বাড়ি কোথায় এখনোতো জানি না?হয়তো আমার মার সঙ্গে যাবো।তখন দেখবো বাড়ির সবাইকে।তখন দেখবো, আমার দাদা ভাইদের সৌম্য মুখ ও অন্যদের মুখগুলি।আমি সব সময় দেখি-- দিদুনকে, ---মানে দিদিমণি! আমার সবচেয়ে বড় পবিত্র মুখ আমার দিদিমণি...!

আমার মায়ের মুখটা আমার খুউব ভালো লাগে।এই মুখ&#039;টিকে আমার সারাক্ষণ দেখতে ইচ্ছে করে! কিন্ত আমি মাকে দেখি সেই সন্ধ্যারাতে! মা&#039; অফিসে যায়তো! ---তারপরে, আমার ভালো লাগে দাদুর মুখ, মামাটার ক্লান্ত অথচ স্মিতহাস্য মুখ, দুধ&#039;মা মাসির কৃষ্ণকলি মুখ, কতো আরো- পবিত্র মুখসব দেখছি...

আমার বাবা,  ক&#039;দিন পরে পরে এসে আমাকে দেখে যায়।বাবা যখন কোলে নিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে আমাকে আদর করে, তখন বাবার মুখের পবিত্র হাসি- আমার খুউব ভালো লাগে। আমার বাবা যখন আমাকে ছেড়ে চলে যায়।বাবার গোপন দুঃখী মুখটা দেখে আমার কান্না পাই।আমি আমার বাবা মায়ের পার্থিব জীবনের এক টুকরো স্বপ্নের সন্তান! আমার এখন জীবনটাই স্বপ্নোময়।চারপাশের স্বপ্নের জগত, তারপরে স্বপ্নের মুখচ্ছবিদের ভেতর আপনি সোনালী মামি; ---আপনাকে আমার খুউব মনে পড়ে....

খু-উ-ব শুনতে ইচ্ছে করে আপনার আদরের ডাক।মা, মা নয়তো এই-টুনটুনি, টুন টুনি, ---নাম ধরে এ-ধ্বনির ডাকটা! এমন আপন কোমল স্নেহময় পবিত্র নিষ্কলঙ্ক নিঃস্বার্থ- ডাকটা, আমি কোথায় পাবো, -----আমাকে দেখতে কবে আসবেন ???

ইতি, আপনারই টুনটুনি&#039;মা,  ----ঐকান্তি। 

লেখাঃ ১৮ মে, ২০১৭ ইং-
--------------------------------</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10986/</link>
				<pubDate>Wed, 09 Jun 2021 08:00:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজ পত্র(পাঠ) সাহিত্যের&#8211; &#8216;২য় অংশ&#8217;–<br />
‘পত্র(পাঠ) সাহিত্য– বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ হবে।&#8217;…</p>
<p>[ এখনো, আদ্র হয়ে ভিজে উঠে যে পিতার বুকের হৃদয়!]</p>
<p>প্রিয় সোনালী মামি, </p>
<p>কেমন আছেন ?&#8230;<br />
আমিতো খুব খুব ছোট।&#8212;- কিভাবে আমি এই পৃথিবীতে এসেছি জানি না? জন্মের পরপর আমার ভাগ্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10986"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10986/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ac54dedaf1f8d89e49574271c2e47048</guid>
				<title>Anup Dey changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10944/</link>
				<pubDate>Mon, 07 Jun 2021 16:56:27 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">93430e4d0f470e6b17350b903b7b6195</guid>
				<title>[এ গল্পটি-- বড়ো এক  কিশোর গল্প। যদিও &#039;পত্রসাহিত্য&#039; -অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়।কিন্ত বিষয় ভিত্তিক প্রাসঙ্গিক! এই গল্পেও আছে, এক কিশোর ছেলের পাখির জন্য তার অসাধারণ আন্তরিকতা ও ভালোবাসা... 
পরবর্তীতে ছেলেটা আন্তর্জাতিকতার দিকে গেছে! একটি পাখিই বা পাখিটাকে হারানোর তীব্র শূণ্যতা, ছেলেটাকে পৌঁছে দেয় ওই স্তরে! সে  হয়েছিলো  বিখ্যাত  স্নায়ু বিজ্ঞানী ডঃ কিশোর চৌধুরী- পুষ্পল।গল্পের নাম-- কালোকাক। ]



কালো কাক
-.-.-.-.-.-.-.-.-


ছেলের দামালপনা দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে- কি করবে এই নিয়ে ছেলের মা ভাবনায়  পড়লো?
যদিও ছেলেটি বাবা মার অত্যন্ত আদরের।সন্ধ্যারাতে ছেলের বাবা বাড়ি ফিরলে তখন ছেলের মা, ছেলের বাবার কানে বহু অভিযোগ উপস্থাপন করবে।কিন্ত ছেলের বাবা  সারাদিনের ছেলের দুষ্টুমির খবর জেনে, যখন ঠিক করে আগামীকাল ছেলে যেনো  দুষ্টুমি অনেক কম করে, এই জন্যে ছেলেকে ডেকে শাসন করবে।তখন আবার ছেলেরই মা&#039;এগিয়ে আসবে, চেষ্টা করবে ছেলেকে রক্ষা করার জন্য।মা আর ছেলের এক অদ্ভুত সুন্দর সম্পর্ক এটি!
ছেলের বাবা নাম ধরে ছেলেটিকে ডাকলো, ----- &#039;পুষ্পল, এই দিকে আয়---&#039;
এইবার পুষ্পল, তার বাবার কড়া ডাকে সাড়া না দিয়ে তা এড়াতে পারবে না।মাথা নীচু করে একটু একটু করে হেঁটে অনিচ্ছায় বাবার সামনে এসে দাঁড়াবে।-- 
পুষ্পল একদম ছোট বয়সের কেউ নয়।তার বয়স এখন বার বছর।সে এখন কিশোর।তার বাবা তার আসার দেরি দেখে আবার হাঁক ডাক দেয়;-
-&#039;পুষ্পল, কোথায়-রে, গেলি কই।বলছি না, আমার কাছে আসতে?&#039;
পুষ্পল বাবার সামনে, নিঃশব্দ পায়ে হেঁটে এসে দাঁড়ালো।মাথা নীচু কিন্ত আঁড় চোখে  বাবাকে দেখছিলো।তার মুক্ত দুটি হাত স্হির।তবে পায়ের তলা অল্প একটু একটু যেনো কাঁপছে!
......ভালোবাসার ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান মানুষটি প্রচন্ড ভালোবাসা তার বুকে লুকিয়ে রাখে ঠিকই কিন্ত প্রকাশ করে খুব কম! বুদ্ধিমানরা ভাবে-পরিমিত প্রকাশই ভালোবাসাকে খাঁটি করে তোলে!----
পুষ্পলের বাবা দেখতে পেয়েছেন কিশোর পুত্রের ভয়ের চোটে পা একটু নড়ছিলো।তিনি ভাবলেন,-এটিই কি তার কিশোর ছেলের সারাদিনের অপরাধের শাস্তি হতে পারে
না-?
ঠিক এমন মূহুর্তে ছেলের মা ছেলের পিছনে এসে দাঁড়ালো।পুষ্পলের বাবা এতে একটু
খুশিও হন।তিনি মনে মনে এটি চাইছিলেন।প্রায় সময় বেতের প্রহার করলে ছেলে বেঁকে গিয়ে বকে যাবে---
পুষ্পলের মা, এবারে পুষ্পলের বাবার সামনে এসে স্বামীর চোখের দিকে না তাকিয়ে  বলে,--
-&#039;পুষ্পলকে আমিও খুব বকেছি।দিনের অনেকটা সময় সে- বাড়ির পিছনের জঙ্গলে কাটালো বলে!&#039;
পুষ্পলের বাবা ফ্যাল ফ্যাল করে পুষ্পলকে অল্পক্ষণ দেখেন।তারপরে পুষ্পলের মায়ের দিকে তাকালেন----
-&#039;আমি নতুন করে কোনো নালিশ যেনো আর না শুনি।&#039; বলা শেষ করে তিনি হাত ইশারা করে ছেলে পুষ্পলকে সামনে থেকে চলে যেতে বলেন।
পুষ্পল যেভাবে ধীর পায়ে বাবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, এবারে- তার থেকে অনেক দ্রুত সেখান থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়---
পুষ্পল তার পড়ার ঘরে ফিরে আসে।যে ঘরটায় তাকে একজন মধ্য বয়স্ক মাষ্টার এসে পড়িয়ে যান।আগামীদিনের ইস্কুলের পড়া নিয়ে সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে...

মুখের ঘাম আঁচলে হালকা আলতো করে মুছে নিয়ে......
পুষ্পলের মা এবার ভেতর ঘরে যখন ফিরে যাবে ভাবছে, তখন পুষ্পলের বাবা বলে
উঠলেন--
-&#039;আমার ছেলে, --- এ কথা বলে, তিনি স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে খানিকটা বিবৃতবোধ করেন।পুনরায় বললেন- &#039;আমাদের ছেলে, দুষ্টুমি করে বাড়ির পিছনে একা একা সময় কাটায়।ওর যে বয়েস, এই বযসের চঞ্চলতার জন্য- সে একটু ডানপিটে, --মানছি।&#039;
একটু থেমে পুষ্পলের বাবা আবার বললেন-&#039;কিন্ত ছেলে পড়াশোনায় কোনো ফাঁকি বাজি করে না।&#039;
পুষ্পলের মা এবারে মুখ নাচিয়ে জানতে চায়-&#039;আমাদের বাবুর এই খবর আপনি কি করে জানেন?&#039;
পুষ্পলের বাবা স্মিতহাস্য মুখে বলেন- &#039;আমি জেনেছি।এটি খুব সত্যি।বাবুর ঘরের মাষ্টার আমার সঙ্গে দেখা করে, এই কথা আমাকে বলেছে।&#039;
----সারামুখে হাসি ছড়িয়ে পুষ্পলের মা কিছুটা গর্বিত ভাবে ছেলের বাবার দিকে তাকায়।
------&#039;আমাদের বাবু সোনা, বড়ো হলে অনেক বিদ্বান হবে।বিখ্যাত মানুষ হবে।বাবু আমার অন্য ছেলেদের মতোন নয়!&#039;  .....এভাবে কথা শেষ করে পুষ্পলের মা।------
....এবং ছেলে সম্পর্কে আরো কিছু শোনার জন্য আগ্রহ নিয়ে পুষ্পলের বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে -----
--&#039;দেখো গিন্নি, জীবনের ভবিষ্যত এক অনিশ্চিত অধ্যায়।অনেক দূরের ভবিষ্যৎ হয়তো  আন্দাজ করা  যায় নিখুঁত করে কিন্ত  ভবিষ্যত  জীবনে- কার কি  ঘটে  যাবে, এসবের দিন তারিখ মিলিয়ে, দাঁড়ি কমা&#039; সহ বাণী দেওয়া সম্ভব নয়।&#039;
আবার- তিনি  মুখে  হাসি  টেনে  নিয়ে  বলেন, -&#039;তবে  আমাদের  বাবুর  ভবিষ্যত  নিয়ে তোমার মতো আমারও  মন বলছে, বাবু একদিন  সাড়া জাগানো কেউ হবে।এই-টুকুন আমি বলে রাখতে চাই।&#039;--
পুষ্পলের বাবা নিজের কথা শেষ করার পরে---  সরাসরি ছেলের  মায়ের  মুখের দিকে তাকান।চমৎকার হাসি দিয়ে পুষ্পলের মাকে জানান, ---&#039;গিন্নি তোমারতো, কপাল ভাগ্য ভালো।একদিন বিখ্যাত একজন সন্তানের মা হবে।&#039;

পুষ্পলের মায়ের -রমণীর শোভা কিন্ত আরো বাড়ে হাসিতে, --এটি জানা আছে বলে-- এবারে আর ঝনঝনিয়ে না হেসে, সারামুখে আবেগী হাসিটির ঝিলিক ছড়িয়ে দিতে দিতে- মুখে আবার ওই হাসিটুকু ধরে রেখে, নারীসুলভ দুলে-দুলে হেঁটে- রসুই ঘরের দিকে পা বাড়ায়...
-----পুষ্পলের বাবা পুত্র মুগ্ধতায় তাঁর হাসিও লুকিয়ে ঠাঁই অনড় বসেছিলেন।--

এক বছরের বেশি হয়।
খেলার সঙ্গী বন্ধুদের, বর্তমান যশোরের প্রধান শহর থেকে অল্পদূরে, পুষ্পলের বাবার পুরোনো বিরাট বড়ো বনেদী বাড়ি।বাড়ির চারপাশ গলা উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা আছে।পুষ্পলের দাদুরও বাবা ব্রিটিশ আমলে-এই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন।বাড়ির দেয়ালের কোথাও কোথাও প্লাস্টার খসে পড়েছে।অধিকাংশ জায়গাতে চুনকাম উঠে বিবর্ণ হয়ে গেছে বহুকাল হয়।এক সময়কার ঐশ্বর্যধারী সিংহদুয়ার এখন কালের স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রায় নিশ্চিহ্ন! হাতে গড়া কারু কাজের বড়ো খিড়কী জানালা আর কাঠের বড়ো বড়ো পেল্লাই কপাট দরজা, জায়গায় জায়গায় গুলগুলিদের প্রাচীন নিদর্শনের হাসি-এই মহাবাড়িকে- এখনো অতীতের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সাহায্য করছে।বহুদিনের নিরব পুষ্টি পেয়ে মানিপ্ল্যান্ট গাছেরা দেয়ালের গায়ে এমন ভাবে নিজেকে আটকে নিয়ে মিশে গেছে- যেনো এরাও এই বাড়ির সমান বয়সী।আকারে বড়ো বড়ো পাতায় পাতায় গাছ গুলো এই বাড়িকে আরো বুড়ো করে তুলেছে! বাড়ির মুখে ঢুকতেই চোখে পড়ে দু&#039;দিকের বাগান বিলাস আর সন্ধ্যামালতীর স্বাধীন বিস্তার! এরা--- এক সময়কার ধ্বংসাবশেষ সিংহ সদর দুয়ারকে, পরম মমতায় ঘিরে রেখেছে।কিছুদূর থেকে দেখতে লাগে- সবুজের সদর দুয়ার!

এ বাড়ির পিছনে আছে পুকুর।যেটি প্রাকৃতিক আবর্জনা আর মাটি ভর্তি হতে হতে বড়ো ডোবায় পরিণত হয়েছে সেও অনেকদিন আগে।রয়েছে চেনা অচেনা জাতের নানান রকমের ফুল, দেশী ফলের গাছ।বাড়ির পিছন দিকের পাঁচিলের ওপারে রয়েছে বিরাট ফসলি মাঠ।ঠিক পাঁচিলের সাথেই অনেক পুরোনো একটি অশ্বত্থের গাছ।অনেকে বলেন-এটি আসলে তমাল তরু।এই গাছ থেকে ঝুড়ি নেমে গেছে পুষ্পলদের পাঁচিল পেড়িয়ে বাড়ির ভেতর পর্যন্ত।পুষ্পল কোনো কোনো সময় এসব চিকন মোটা ঝুড়ি দিয়ে দড়ি পাকায়! বাড়ির পাঁচিলের ভেতরেই রয়েছে একটি নিঃসঙ্গ কদমের গাছ।যে গাছটি বয়োবৃদ্ধির সাথে তেমনটা বাড়েনি।প্রত্যেক ঘন বর্ষার আগে আগে বিয়ে বাড়ির বরের মাথাতে পড়া- মুকুটের ঝোলানো বলফুলের মতো অনেক ফুল ধরে।স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল বেয়ে উঠেছে অনেক গাছ।গাছে ফুঠে ফুল, ধরে ফলও--প্রাকৃতিক গোপন অনিন্দ্য সুন্দরের লুকানো বিরাট মায়াবী বুনো নিসর্গের সবুজ ছায়া কিছুটা এখানে এসে জমাট বেঁধেছে।সেই ছবিটা ফসিল হয়ে বসে গেছে পুষ্পলের শাদা হৃদয়ে।তাদের বাড়ির পিছনের চারদিকের গাছ গাছালির নৈঃশব্দিক পাতা-ফুল- ফলের- প্রকৃতির একান্ত সবুজের সুষুমার প্রাণস্পন্দন কিশোর পুষ্পল শুনতে পায়!

এখানে, প্রকৃতির যে বুনো পরিবেশ আছে, এই মুগ্ধতায় পুষ্পলের স্কুল ছুটির পরে আর কোথাও তার যেতে ইচ্ছে করে না।পুষ্পল গত নয় মাস ধরে- একা একা থাকে।বাড়ির পিছন দিকের এই অদ্ভুত যাদুময় বন্য সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ তার সবচেয়ে ভালো লাগছে।স্কুল ছুটি হলে- একদম সময় নষ্ট হতে না দিয়ে, সে সোজা বাড়ি ফিরে আসে।তারপর হাত মুখ ধুয়ে মায়ের ইচ্ছেতে, কিছু একটা খাওয়ার পর আর এতটুকু না দাঁড়িয়ে, ভোঁ-দৌঁড়ে পিছন বাড়িতে চলে আসা পুষ্পলের রোজ রুটিন কাজের একটি।অন্তত একঘন্টা সময় হলেও সে সেখানে থাকবে।ঘন সবুজ ছায়াতে ঘেরা এখানের বুনো প্রকৃতির এই অপরূপ আয়োজন, পুষ্পলের মনের ইচ্ছে পূরণের মতো রুপাঙ্গিনী হয়ে গাছ গাছালিতে ফুল ফুঠে -ফল ধরে।পুষ্পল দেখতে পাচ্ছে, বাড়ির পিছন দিকটায় আসবার পায়ে হাঁটা রাস্তার দু&#039;পাশে, ফুলের মিছিল হয়ে ফুঠে থাকে নীল জোৎস্নার রঙে মাখানো অজস্র ঘাঁসফুল।কখনো ফুঠে অবহেলায় বনফুলের রানী ঘেঁটু ফুল।বেগুনী শাদার আকন্দ ফুল।মোহনীয় সুবাসের পল্লী কেতকী।পুকুর পারের কলাবতী।বিপরীত কোণার দিকের মাটির টিলায়- আনন্দে ফুঠে হাসে নিশিন্দা, হৈম লতা, লজ্জাবতী, নয়নতারা, জংলী গোলাপ, রক্ত জবা, লংকা জবা, ঝুমকো জবা।পাঁচিলের গা ঘেঁষে বড়ো গাছটিতে ফুঠে রাতের শিউলি,পাঁচিল বেয়ে উঠে গেছে-- পাঁচিলের মাথার উপর নীল অপরাজিতার লতা, তাতে ফুল ধরে নীল শাদার স্বপ্নের মতো! ফুলে ফুলে কোথাও ভরে উঠে গ্রাম্য জুঁই শাখার ঝোঁপঝাড়।সকালের শিশির সিক্ত শাদা ধুতরার ফুল, অনাদরের ফুল ঢোল কলমি, ছোট ছোট থোকায় ফুঠে নানা বর্ণের ল্যান্টানা,খুব অনাদরের কয়েক রঙের বন্য কন্টিকারির নিঃসঙ্গ সৌন্দর্য! মানুষের অবহেলার মধ্যেও লকলকে মাথায় বেড়ে উঠেছে ভেরেন্ডা বা রেড়ি গাছ।নিম গাছের নিমফুল,-বর্ষাতে আবার গাছের সারা গায়ে ফুঠে দৃষ্টিকাড়া শাদা কাঠ গোলাপ।আগাছার মতোন এখানে ওখানে বেড়ে চলেছে পঙ্খিরাজ ফার্ন; কোথাও উঁকি মারছে ফণিমনসা।পুষ্পলদের বাড়ির শাকের চমৎকার উৎস হয়েছে এখন- কিছু হেলেঞ্চার জঙ্গল।তেঁতুল গাছে ঝুলছে জিভে জল আনা কাঁচা পাকা তেঁতুল।আরো কতো নামের ফুল বা ফল-!
----- বেত ঝাঁড়ের ফল, ঔষধী বাসক, সুগন্ধ বকুলের গাছ!----

পুকুরের ওই দিকটায় এখন ঢোল কলমি গাছে ভরে গেছে।সাথে মাথা উচুঁ করে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে দেখবার মতো, বেশ লম্বা দল্ ঘাসের আগাছার দঙ্গল! এরই ঠিক কয়েক হাত দূরেতে রয়েছে বড়ো বড়ো পাতার মাঝারি গড়ণের এক যজ্ঞ ডুমুরের গাছ।সেই গাছের এক পাতাকে কায়দা করে মুড়ে নিয়ে কি সুন্দর বাসা তৈরি করেছে দুর্গা টুন টুনির এক দম্পতি!
কালচে সবুজ ঘন পাতার তেঁতুল গাছে হাবিজাবি খুড়খুটু দিয়ে, দুটি অচেনা কাক বাসা বানিয়ে নিয়েছে কিছুদিন আগে।চোখের সামনে পুষ্পল কাক দম্পতিদের বাসাটি বানাতে দেখেছিলো।
একদিন, দু&#039;দিন বাদে বাদে, একবার হলেও পুষ্পলের তেঁতুল গাছে উঠে চড়া- দীর্ঘ দিনের পুরোনো অভ্যাস ছিলো। 

ইদানিং তেঁতুল গাছ বেয়ে উপরে উঠতে চাইলেও পুষ্পলকে উঠতে দিচ্ছিলো না ওই কাক দম্পতি।কোথা থেকে এসে এই কাকের দম্পতি পুষ্পলদের তেঁতুল গাছটিতে বাসা বানিয়ে নিয়েছে।তারা খুব সর্তক পাখি।যেনো, কোনো বাচ্চার কাঁচা হাতে আঁকা ছবির মতো, গাছের উঁচু ডালে খড়খটু, শুকনো ডালপালা পাতা-লতা, মরছে পড়া লোহার চিকন তার, এসব হাবিজাবি দিয়ে বাসা তৈরি করেছে।অসুন্দর বাসাটির ভেতর থেকে কোনো কোনো মরা ডালপালার মুখ, চিকন লোহার তারের বাঁকা মাথা বেরিয়ে পড়েছে! ...
পুষ্পল দেখেছে, কাক সমাজে কোনো কাকের যদি মৃত্যু হয়, অন্য কাকেরা সবাই মিলে মৃত্যু সভা করে- শোক পালন করে।পুষ্পল কয়েকবার গাছে উঠার চেষ্টা করেছে।তার খুব মন ছেয়েছে গাছে উঠে দেখবে, ওই বাসায় কাক দম্পতি ডিম পেরেছে কি না?
প্রতিবার কাকেরা রেগে মেগে তীব্র আওয়াজে কা-কা করে তেড়ে এসে- তাকে ঠোকর দিতে চাইলো।কাক সামাজিক পাখি ও ছানাদের বুক আগলে জীবন দিয়ে বাঁচাবার চেষ্টা করে থাকে!---- তাহলে,
দিনে দিনে কৌতুহল বাড়তে থাকে পুষ্পলের।কাকের আস্ত বাসাটি তার দেখবার খুব শখ হয়।-----নিঃশব্দে চুপি চুপি গাছে উঠার সে বেশ কয়েকবার ব্যর্থ চেষ্টাও করে ফেলেছে।পারেনি শেষমেশ কাকের প্রতিরোধের মুখে।পুষ্পল প্রতিশোধ পরায়ন না হয়ে বুঝতে পারে, এ কাক দুটিকে এদের মতো করে স্বাধীন থাকতে দেওয়াই ভালো।শুধু শুধু এদের পিছনে পড়ে থেকে সে আর বিরক্ত হতে চাই না--
দিন যেতে থাকে--- এক খুব সকালে পুষ্পল নেপথ্য ধ্বনির মতোন শুনে কোমল স্বরের কা-কা শব্দরব! শুনেই সে বুঝতে পারলো- এই ডাকাডাকি বড়ো কাকদের নয়।মন তার এই নতুন আগ্রহে আথালি পাথালি করতে থাকে, কখন গিয়ে দেখবে কাকের এই ডাকাডাকির রহস্য আসলে কি?
এতো সকালে ঘুম থেকে সে- কখনো উঠে না।সে সকালে উঠে কিন্ত ভোর সকালে নয়।
কিন্ত সে আজকের এই সকালে আকুলতাবোধ করতে থাকে।ঘুম থেকে উঠেই বাড়ির পিছনে চলে যাওয়ার!
তার বাবাকে পুষ্পল ভয়ও করে ভালোও বাসে।সে বাবাকে আপনি করে বলে।আর তার মাকে বলে তুমি করে।সে বোঝে তার বাবাও তাকে অনেক ভালোবাসে।ঠিক তার মায়ের মতো।কিন্ত সেটি তিনি দেখান না।আবার কড়া শাসনও করেন না।একবার স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় পুষ্পল ভালো পাশ করেছে।তার বাবা তার জন্য- চুইংগামের সাথে দামী কলম কিনে মায়ের হাত দিয়ে তাকে দিয়েছিলো।আজো পুষ্পলের ওই দিনটির জন্য ভালো লাগে।বাবা যে তাকে ভালোবাসে এটি ভাবতেই তার ভালো লাগে।
আজকে যদি এতো সকালে সে একা একা দুযার খুলে বাইরে বেড়িয়ে যায়, তাহলে তার বাবা কি অনেক রেগেমেগে কড়া শাসন, -----বা এই রকম কিছু করবেন? পুষ্পল এ--সব ভাবতে তাকে ---- 
আবার এত্তো ভোরে কাকের ডাক শোনার কৌতুহল তাকে ভেতর থেকে চঞ্চল করে তোলে।শেষপর্যন্ত সে বেড়িয়ে যায় না।কঠিন মনে অপেক্ষা করতে থাকে, কখন নিয়মের সকালে উঠতে পারবে।বিছানায় এপাশ ওপাশ করে ছটফট করে ধৈর্য্য ধরে, হবে ভোর পার করে, কখন নিয়মের সকালবেলাটি আসবে?----
একটু পরে পরে, তেঁতুল গাছের একমাত্র কাকের বাসা থেকেই আওয়াজটি আসতে থাকে-- কোমল কন্ঠের কাকের কর্কশ গলার শব্দ-রব! 
পূর্ব ভয়ে পুষ্পল কিন্ত গাছে উঠে কাকের বাসার বাচ্চাগুলিকে দেখার আগ্রহকে, এক- প্রকার জোর করে নিজের মধ্যে দমন করে।সে নিচ থেকে দাঁড়িয়ে দেখে গাছের পাতা আর ডালপালার জন্য আবছা মতোন্ কাকের ছানারদের নড়াচড়া যেনো-স্পষ্ট বুঝতে পারছে!---

তারপরে পুষ্পলের নিয়ম করে স্কুলে যাওয়া, আর সামনে পরীক্ষার পড়াশোনা নিয়ে সে ব্যস্ত থাকে।ভূলে না গেলেও পুষ্পল উদাসীন হতে থাকে কাকের বাসা ও বাসার ছানাদের নিয়ে তার তাতানো আগ্রহ! একদিন যায়, দুদিন বা তিনদিন।হঠাৎ-- এমন একদিন, বিকেলবেলা দীর্ঘদিনের অভ্যাসের বশে পুষ্পল বাড়ির পিছনে গেছে।সেখানে গিয়ে দেখতে পাই, সেই তেঁতুল গাছের নিচে কাকের একটি বাচ্চা পড়ে আছে।একদম বাচ্চা অবশ্য নয় বড় হয়েছে।সারা গায়ে পালকে ভরপুর কুচকুচে কালো রঙের কাক। কিন্ত বাচ্চা বলে একটু পর পর ডানা ঝাপটিয়ে কা-কা করে ডাকছে কারো সাহায্যের জন্য।বাচ্চাটি বেশ আহত হয়েছে।ঠিক মতো দাঁঁড়াতে পারছে না।কাকের বাচ্চাটি যখন ডেকে উঠে, তেঁতুল গাছে বসা বাচ্চাটার বাবা মা কাক অস্থির হয়ে আরো আওয়াজ তুলে ডেকে চলেছে।পুষ্পল বুঝতে পারে না এখন সে কী করবে?বাচ্চাটির কাছে গেলেই কাক মা, কাক বাবা উড়ে নিচে নেমে এসে পুষ্পলের দিকে তেড়ে আসতে চাইছে।পুষ্পল একই সাথে ভয় পাচ্ছে আবার কাকের বাচ্চা পাখিটার- কাছে যেতে চাইছে।--- এইভাবে কিছুক্ষণ পুষ্পল নিষ্ফল চেষ্টা চালাতে থাকে।

সে খেয়াল করেছে, এ বাচ্চা কাকের প্রধান সমস্যা হাঁটতে না পারা।শুধু দুই&#039;ডানা ঝাপটিয়ে কয়েক হাত উড়ে যেতে পারে।কাকের বাচ্চাটি মাথা নিচু করে ভয় ধরানো গলায়, কা-কা করতে থাকে।হয়ত ডেকে ডেকে মা-বাবাকে খুঁজতে থাকে।পুষ্পল চিন্তা করে কি ভাবে এই বাচ্চাকে পুনরায় ওর বাপ মায়ের কাছে পৌঁছানো যাবে।তেঁতুল গাছে বানানো বাসায়-একে কোনো ভাবে তুলে দিতে পারলে- কাকের বাচ্চাটা বেঁচে বর্তে যেতো।পুষ্পল মনে মনে ঠিক করে নেয়, সে কাকের এই বাচ্চাকে বাঁচাবে।সে সন্ধ্যা নামার অপেক্ষা করতে থাকে।প্রথম সন্ধ্যার গা-অাঁধারে পায়ের সমস্যায় আহত বাচ্চা কাকটাকে সে ধরে ফেলবে-- এরপর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে না উঠা পর্যন্ত কাককে নিজের কাছে রেখে সেবা করবে।

পশ্চিমাকাশ কালো হয়ে আসছে চোখের পলকে।পুষ্পল সুযোগের অপেক্ষা করতে।   
সে মনের চঞ্চলতাকে যতটুকু সম্ভব চেপে ধরে।খুব অল্প আঁধার থাকতে থাকতে কাকের বাচ্চাটিকে ধরতে পারলে নিজের কাছে রেখে দিবে।গোপনে খাবার খাইয়ে- সুস্থ ও বড়ো করে তুলবে। ---তারপর উড়িয়ে দিয়ে স্বাধীন করে দিবে....

এক বছরের বেশি হবে-- পুষ্পল খেলার সঙ্গী বন্ধুদের সাথে নিয়ে তেঁতুল গাছে চড়ে দস্যিপনা করতে গিয়ে হাত ভাঙ্গলো।সেটা তাকে অনেকদিন ভুগিয়েছে।তার বাবা বাড়ির পিছনে যাওয়ার রাস্তার মুখে বাঁশের বেড়া দিয়ে সেটা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।সন্ধ্যাবেলা পড়তে বসলে পুষ্পল হাতের ব্যাথার যন্ত্রণায়- ভালো করে পড়ালেখা করতে পারতো না।--তখন পুষ্পলের মা এসে ছেলের পাশে বসে-আদরের একমাত্র ছেলেটার মাথায় নিজের হাত বুলিয়ে দিতো।পুষ্পলের বাবা যদিও ওই রকম কিছু করেন না।কিন্ত ভদ্রলোক বার বার এসে পুষ্পলকে দেখে যেতেন। 
-----একবার ঝোঁপের কাঁটা গুল্মলতাতে গভীর ভাবে পা ছিঁড়ে ফেলেছিলো পুষ্পল।তার বাবা খুব রেগে গিয়ে মারবে মারবে করেও সেবার আর তিনি তা করেননি।ছেলের মাকে শুনিয়ে শুনিয়ে ছেলেকে কড়া করে শাসিয়ে দিয়ে সাবধান করেছিলেন-- যেনো এই রকম ভবিষ্যতে আর না ঘটে;----

---পুষ্পল দেখতে পাই, তার প্রতাপী মনের বাবার সামনে মায়ের শূণ্য ভঙ্গিতে দাঁড়ানো,  সেটি তাকে বেশ ভাবায়।মনে হবে- পুষ্পলের বাবা হচ্ছেন, ডালপালা ছড়ানো বড়ো উঁচু কোনো ঝোপালো অশথের গাছ! পুষ্পলের মা- এই গাছের ছায়ার নিচে মাথা নিচু করে এলোমেলো দাঁড়িয়ে থাকা ফুলবতী বামন কোনো হিজলের গাছ !-- 
সে আরো দেখে, ----সব কিছুই সহ্য করে মায়েরা।পুষ্পলদের বাড়ির অল্পদূরে বালিকা মিনিদের ঘর।সে দেখেছে- মিনির মাকেও মিনির বাবার সামনে পরাজিত কিছুর মতো টলোমলো হয়ে দাঁড়াতে।যদিও তার বাবার সামনে মা পরাজিত কোনো কিছুর মতো দাঁড়ায় না।

কিন্ত তার কিশোর মনে দাগ কাটলো যেটি, প্রকৃতিতে সে দেখেছে কয়েকবার, বিরাট কোন মহীরুহ গাছের ছায়ার তলে জন্মানো কোন ছোট গাছটাকে, আকারের পার্থক্যে এদের তুলনা করলে হয়তো তুচ্ছই মনে হবে।কিন্ত প্রকৃতির নজরে, প্রাকৃতিক মায়াতে ওরা সমান।বড়ো ও ছোট দুই&#039;গাছের পাতাতে কিন্ত হেমন্তের ভোরের শিশির জমে,    ---দিনের সূর্যের প্রথম আলোতে তা চিকচিক করে! 

পুষ্পল বাড়িতেই পেয়ে গেলো ভাঙ্গাচোরা কাঠের পরিত্যক্ত এক পায়রার খোপ।ওটাকে মায়ের চোখ এড়িয়ে অনেক সাবধানে বাড়ির পিছনে নিয়ে গেছে।সন্ধ্যার আঁধারের আগে আগেই সে আহত কাককে ধরে ফেলে।তাদের বাড়ির পিছনে ডোবা পুকুরের পশ্চিম পাড়ে কিছুটা উঁচু মতোন, ঘন লতাগাছের দঙ্গলে ভরে উঠেছিলো যে স্হানটি, --সেখানে পুষ্পল কাঠের পরিত্যক্ত পায়রার খোপটিকে রাখে।এবারে ওটার ভিতরে আহত ওই কাককে রেখে, দুরু দুরু বুকে ঘরে ফিরে আসে।তার যদিও মনের আগ্রহের ষোল আনাই পড়েছিলো সেখানে!---- 

পরদিন সকালে তড়িঘড়ি পুষ্পল তার ভিতরের চাপা অদম্য এক কৌতুহলকে সঙ্গে করে,গতদিন নিজের হাতে রাখা ভাঙ্গা পায়রার সেই খোপের সামনে এসে দাঁড়ালো।অপার আগ্রহ নিয়ে সে দেখে, খোপের ভিতরের আহত সেই কাক নিশ্চুপ বসে আছে।কোনো ডাকাডাকিও করছে না।এটা দেখে পুষ্পলের খুব মায়া লাগলো।সে আলতো করে সন্তর্পণে কাকের গায়ে হাত বুলিয়ে দেবার চেষ্টা করে।পুষ্পল অবাক হয়ে যায়, যখন বুঝলো আজকে কাকটি তাকে কোনো ঠোকর দিলো না! এটি ভাবিয়ে তুললো তাকে, তবে কি কাকের খুব ক্ষিধে পেয়েছে? 
কিছুক্ষণ পরে পুষ্পল একমুঠো খই, ডাল মাখা অল্প ভাত- কাকের সামনে রেখে, ঘরে  ফিরে আসলো।----
এবারে ভাবনায় পড়ে যায় কাকের কি নাম রাখবে... সে বিজ্ঞানের বইয়ে পড়েছিলো- মহাকাশ যাত্রার প্রথম প্রাণীটি ছিলো- সোভিয়েত রাশিয়া নামেরর একটি দেশের কুকুর।--নাম ছিলো লাইকা।তখন পুষ্পলের নামটাকে খুব মনে ধরেছিলো।খুব পছন্দ হয়েছিলো লাইকা নামটা।সে আজ এই কাকেরও নাম রাখবে- লাইকা! তারও মনের মহাকাশে এই কাক লাইকা নাম নিয়ে ঘুড়ে বেড়াবে।বহুদিন পরে তার পছন্দের সেই লাইকা নাম এখন যেনো এক সার্থকতা খুঁজে নিয়েছে!.....

ভিতর বাড়িতে এসে কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে নিয়ম করে- সে স্কুলে চলে যায়।স্কুল ছুটির শেষে সোজা বাড়ি ফিরে ঘোর লাগা সময়ের ভেতর কিছু একটা খেয়ে নিয়ে ---সে একপ্রকার দৌড়ে বাড়ির পিছনে চলে যায়।দ্রুত গিয়ে দাঁড়ায় খোপের সামনে।পুষ্পল দেখতে পেলো তার কাকটি ডাল মাখা ভাত প্রায় খেয়ে নিয়েছে।খই সব এলো মেলো ছড়িয়েছে হয়তো- খেতে চেয়েছিলো! এসবই দেখে পুষ্পলের বেশ খুশি লাগে।চোখের পলকে ঘরে ফিরে এলো পুষ্পল।এই চিন্তা করে- তার কাক রাতে ক্ষিধে পেলে কিছু খেতে পারবে, -এজন্য কিছু খাবার নেয়ার জন্য।রসুই ঘরে বিশেষ কিছু পেলো  না।সকালে মায়ের হাতে বানানো একটি রুটির বেশ কিছু অংশ পড়েছিলো,বৈয়ামের তলানি থেকে কুড়িয়ে বিস্কিটের কিছু টুকরো, এবারে একমুঠো দানা গম- এক সাথে কাকের সামনে সে রেখে আসে।সেই সঙ্গে কাকটার পায়ের চড়কে যাওয়া ক্ষতে লাগিয়ে দিয়েছিলো ঘরের তৈরি চিরিং মাছের তেল দিয়ে বানানো কাটা-ছেঁড়ার ঔষধ বার্ণল নামের- থেকে খানিকটা,.... 
সেটি খুব কাজে লেগে গেলো।এখন কাকটা হাঁটতে পারছে...
----এভাবে ক&#039;দিনেই তার কাক বেশ সুস্হ আর সবল হয়ে উঠতে থাকে।দিন যেতে থাকে---
পুষ্পলের কাক এখন মৃদু ডাক দিলে তার কাছে চলে আসে।এসেই গা ঘেঁষতে থাকে।কোলেও উঠে যায়।এখন ওটি পুষ্পলের হাত থেকেই খুঁটিয়ে খাবার খেতে পারে--- হালকা একটু ওড়াউড়িও করতে চাইছে, কি যে কোমল স্বরে ডেকে উঠে.. পুষ্পলের এখন স্কুল ফেরত সময়টা বাড়িতে ভালোই কাটছে....

নয় দিনের মাথায় পুষ্পলের মা জেনে গেছে তার ছেলে একটি পাতি কাকের বাচ্চাকে নিজের হাতে খাইয়ে পোষছে! --এটি নিয়ে পুষ্পল বেশ ভয়ে ছিলো।যদি তার মা&#039;য়ের মাধ্যমে বাবার কানে চলে যায়, তাহলে কি হবে? কিন্ত পুষ্পলের মা তার কাছ থেকে সব জানতে পেরে নিজেই বলে- পুষ্পল যেনো বাচ্চাটাকে সুস্হ করে তোলে।মায়ের কথায় পুষ্পল একই সাথে খুশী হয় আবার অবাকও হয়।পুষ্পলের প্রতি মায়ের এই রকমের ভালোবাসায় তার বুকের ছাতি ফুলে উঠে দুই বিগত! 

একদিন বিকেলবেলা পুষ্পল বুঝলো তার কাক আগের মতো তার চাওয়াতে সাড়া দিচ্ছিলো না।কেমন ঝিমুনি মেরে আছে।ডাকলেও ঠিক কাছে আসে না।কা-কা করে ডাকেও না অন্যদিনের মতোন!
পুষ্পলের বুক এতে  হু হু করে উঠে।কু ডাকে মনের ভিতর কাকের কি হলো, সে এখন কি করবে? মনটায় খারাপ হয়ে যায়।বুঝতে চাইছে কাকের কি ঠান্ডা লাগলো- মাকে কি জিজ্ঞেস করবে? তার কাককে বাঁচাতে হবে এটুকুই বুঝতে পারে।তার মাথায় আর কিছুই আসছে না।মাথা এলোমেলো লাগছে।সে জেনেছে, পোষা কবুতর সাদা রঙের হাগু করলে নাকি সেই কবুতর বেশিদিন আর বাঁচে না।পুষ্পল উদ্বিগ্ন হয়ে কাকের আশে পাশে সাদা রঙের হাগুর সন্ধানে লেগে যায়--
নাহ! সে রকম কিছুই তার চোখে পড়লো না।সে দিকেহারা হয়ে ভাবতে থাকে...মাকে কি একবার জানাবে এই ব্যাপারে?  ----এভাবে জট পাকানো ভাবনাতে সে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে থাকে...
মা&#039;কে তার কাকের এই নতুন উপসর্গের কথা বলতেই পুষ্পলের মা হাসি মুখে জানায়, -গরম ভাতের সাথে রসুন মেখে ওই ভাত খাওয়ালে তার কাক ভালো হয়ে যাবে।মায়ের  এই কথায় পুষ্পল অন্ধজনের মতোন ভরসা পাচ্ছে।পুনরায় তবে সুস্থ হবে তার লাইকা
--
পুষ্পলের মা কাঁচা রসুন ছেঁচে একমুঠো গরম ভাতের সঙ্গে মেখে পুষ্পলের হাতে দিয়ে তার কাককে খাওয়াতে বললো।পুষ্পলের মন আনন্দে নেচে যায়, রসুন ভাত হাতে নিয়ে সে সোজা তার লাইকার কাছে যায়।চেপে ধরে ঠোঁট ফাঁক করে কিছু রসুন ভাত খাইয়ে দেয়।সঙ্গে খাওয়ালো জল।

পুষ্পল স্কুল থেকে ফিরে দেখতে পাই, তার লাইকার চোখে পড়বার মতো কোনো উন্নতি হয়নি।চোখ বুজে আছে তার কাক এখনো।ঠিক মতোন খাবার না খাওয়াতে নেতিয়ে পড়েছে।পুষ্পলের মনের আকাশ নিরানন্দের কালো মেঘে ভরে উঠতে থাকে, ---- 
তার মাথা কাজ করছে না, এক অজানা আশংকায় লাইকাকে হারানোর ভয়ে পুষ্পলে র চোখ ঝাপসা হতে থাকে... 
সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ক্লাসের বন্ধু রঞ্জু&#039;কে লাইকা সম্পর্কে সব কথা জানায়।সব শুনে রঞ্জু তার অসুস্হ লাইকাকে একবার দেখার জন্য পুষ্পলের বাড়িতে আসতে চাইলো।তারা দুজনে এখন লাইকা কাকের সামনে দাঁড়ানো। 
রঞ্জু লাইকাকে দেখেই বলে ফেলে-&#039;এই কাকের বাচ্চা বাঁচবে না-রে।&#039; পুষ্পল জানতে চাই-&#039;কেনো একথা বলছিস।আমার লাইকা ক&#039;দিন আগেও ভালো ছিলো।আমার হাত থেকে খাবার খেযে নিতো, এখন বাঁচবে না কেনো?&#039;
 কথাগুলি বলে সে বুঝতে পারে তার চোখ ভিজে উঠছে... সে দ্রুত কৌশল করে চোখ মুছে নেয়।রঞ্জু যেনো বুঝতে না পারে---- 
রঞ্জু বললো এবার-&#039;একে দেখেই বলছি।আর কোনো কারণ নেই।হয়তো রাতে একে বিষাক্ত কিছু কামড় দিয়েছে যা তুই জানিস না।&#039;
পুষ্পল বললো-&#039;না, তুই ঠিক বললি না।কারণ, কোনো বিষাক্ত কিছু কামড়ায়নি।কামড় দিলে ওই জায়গায় ফুলে উঠবে অথবা বিষে লাইকা মরে যেতো।&#039;
&#039;মরে... যেতো&#039; শব্দটি অনেক কষ্টে সে উচ্চারণ করতে পারলো।রঞ্জু পুষ্পলের কথা শুনে বলে-&#039;হ্যাঁ, হতে পারে।তাহলে তোর কি মনে হয়।এই কাকের কি হয়েছে?&#039; 
কথা শেষ করে রঞ্জু পুষ্পলের মুখে দিকে তাকিয়ে থাকে।
পুষ্পল বলল-&#039;আমি ঠিক বুঝতে পারছিনা।আমার লাইকা এইভাবে মৃতপ্রায় হয়ে গেলো কি করে!--&#039;
----&#039;লাইকাকে আমি বাঁচাতে চাই।আমি কি করবো এখন তুই বল্?&#039;
 রঞ্জু বললো- &#039;আমিও জানি না একে বাঁচানো উপায় কি, --তবে...&#039; 
পুষ্পল সঙ্গে সঙ্গেই জানতে চাইলো--&#039;তবে --কি?&#039; 
রঞ্জু এবার আমতা আমতা করে বলেই ফেলে-, এমন হতে পারে- ঠান্ডা লেগে বুকে কফ জমে আছে।সেজন্য হয়তবা ঝিমুনী মেরে থাকবে।কিছু খাচ্ছে না বলে খুব দুর্বল হয়ে গেছে।ঘরের মুরগী, কবুতর এমন করে কষ্ট পেয়ে মরে কিন্ত! আমি একটা কথা বলি শুনবি?&#039; 
পুষ্পল খুব আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলো।বলল- &#039;বল্-।&#039; 
রঞ্জু বলে -&#039;মানুষের শেষ মুহূর্তে একটা অষুধ ইনজেশন করে।অনেক সময়ে এই অষুধে মৃতপ্রায় রোগী আবার বেঁচে উঠে! 
কালোকাক
---------------

এই রকম একটা অষুধ এখনো আমাদের ঘরে পড়ে আছে।আমার ঠাকুমমার শেষ সময়ে এই অষুধটা আনা হয়েছে।কিন্ত ঠাকুমমা এই অষুধ দেবার আগেই মরে গেছিলো।কোরামিন -না কি যেনো নাম।&#039;
---&#039;এই ইনজেকশন ছোট্ট লাইকাকে দিতে পারবো।যদি খারাপ কিছু হযে যায়? 
রঞ্জু হেসে ফেলে, -&#039;আরে তোর কাকতো এমনিতেই মরবে।তাহলে একটি শেষ চেষ্টা করে দেখবি না?&#039;
দিকভ্রান্ত পুষ্পল- দারুণ ভাবনায় পড়ে যায় রঞ্জুর প্রস্তাবে।--
কিছু মাথায় ঢুকছেও না।শুধু ভাবে ওর পাখিটাকে বাঁচাতে হবে।মন খারাপের ঘোরের মধ্যে সে বলে দেয়- ঠিক আছে।
যথারীতি সেই অষুধটা পুষ্পল নিজের মনকে চেপে- মুমূর্ষু লাইকার পায়ে ইনজেক্ট করে দেয়-----
সন্ধ্যা নেমে গেছে চারদিক।একটু পরে অন্ধকারে ভরে যাবে আদিগন্ত!পুষ্পলের মনে এর চেয়ে অনেক বেশি আঁধার নেমেছে কিছু হারানোর আশংকায়।পুষ্পল বই খুলে পড়তে বসে,-কি পড়ছিলো সে নিজেও অনেকক্ষণ বুঝতে পারে না।এই সন্ধ্যারাত তার কাছে অনেক দীর্ঘ মনে হয়।সে মনেপ্রাণে অপেক্ষা করতে থাকে পরের দিনের সকালের 
জন্য!----
তারপরে- মায়ের চোখের সামনে যেনোতেনো করে রাতে কিছু খেয়ে ঘুমোতে যায়। কিন্ত সহজে ঘুম আসলো না আজ।ছটফট করতে থাকে বিছানায়।চোখের সামনে এলে বেলে কতো দুঃশ্চিন্তা তাকে ত্যক্ত করে।অনেক রাত গভীরে একসময়ে পুষ্পল ঘুমিয়ে পড়ে।অগভীর ঘুমের মধ্যে কেঁপে কেঁপে উঠেছে কয়েকবার।ছাড়া ছাড়া পাতলা ঘুমের মধ্যে সে দেখতে পাচ্ছে-তার প্রিয় কাক লাইকা- কিছুদূর থেকে ডানা ঝাপটিয়ে তার কাছে ছুটে আসছে।কাছে এসেই- পুষ্পলের কোলে উঠতে চাচ্ছে।পুষ্পল অবাক হচ্ছে দেখে-- তার লাইকার আর কোনো অসুখ নাই।লাইকা ভালো হয়ে গেছে।-----এই-বার উড়িয়ে দেবার সময় হয়ে এসেছে.. লাইকা... পুষ্পলের হাত থেকে উড়ে যাচ্ছে, ---আবার একটু পরে উড়ে তারই কাছে ফিরে আসছে!... 
ঘুম ভেঙ্গে গেলে পুষ্পল দেখতে পেলো আসলে কোথাও কেউ নেই।রাতের অন্ধকারে-- সে একা কেবল শুয়ে আছে।তার ভারি কান্না পাচ্ছে।মনে হচ্ছিলো-তার প্রিয় লাইকা এখনো কি বেঁচে আছে-তো?
এক সময়ে রাত পোহালে সূর্যের প্রথম আলোয়, সে দৌড়ে গিয়ে দেখে, তার লাইকা মারা গেছে অনেকক্ষণ আগে।মৃত লাইকার শরীর শক্ত হয়ে পড়ে আছে।ইনজেকশন পুশের জায়গাটা বড় হয়ে ফুলে আছে।পুষ্পল আর চোখের জল ধরে রাখতে পারলো না আর।ঝর-ঝরিয়ে কেঁদে দিলো।নিজেরই কাছে নিজেকে খুনি মনে হতে লাগলো! এক সময়ে তার বিরহী কান্নার শব্দ অদ্ভুত ভাবে, বাড়ির ভিতরে তার মায়ের কানে গিয়ে পৌঁছে।পুষ্পলের মা এতে অবাক হয় না।নিজের ছেলের মনের অবস্থা বুঝতে পারে।---
নিঃশব্দে ছেলের পিছনে এসে দাঁড়ায়।শোকাহত সন্তানের কাঁধে হাত ছোঁয়ায়।পুষ্পল ফিরে দেখে তার মা দাঁড়ানো।মা বলতে থাকে,&#039;-পোষা কিছু হারানোর কষ্ট,খুব কষ্টের!...
কাকের জন্য তার এই পবিত্র কান্না এই কাকের জন্মকে পূণ্যবান করেছে।এই কাকের ওপারেও ভালো হবে....&#039; পুষ্পল হাত দিয়ে চোখ মুছে উঠে দাঁড়ায়।একটু দূরের জঙ্গলা মতোন এক স্থানে মাটি কুঁড়ে, সে তার প্রিয় লাইকাকে মাটি চাপা দেয়।--এর-পরে নিশ্চুপ পুষ্পল অবিশ্রান্ত মনে ঘরে ফিরে আসলো।-----
প্রায় একচল্লিশ বছর পরে, টেক্সাসের একটি নামী অডিটোরিয়ামে বিজ্ঞান সম্মেলন হচ্ছে।বিশ্বের নানা দেশ থেকে প্রতিভাবান বিজ্ঞানী, বিজ্ঞান গবেষকেরা এসেছেন এই সম্মেলনে।আজকে বিজ্ঞান সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন।ডায়াসে দাঁড়িয়ে নাম করা মার্কিন মহিলা বিজ্ঞানী ক্রিস্টিনা ব্লুজ গায়।সামনে বসা দর্শক বিজ্ঞানীদের সারিকে লক্ষ্য করে একটি নামের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডাকলেন-&#039;গ্রেট বেঙ্গলী সায়েন্টিস্ট, ডঃ কিশোর চৌধুরী পুষ্পল, --প্লিজ, আপনি এখানে এসে আমাদেরকে আপনার মূল্যবান বিজ্ঞান চিন্তার কিছু বলুন...&#039;
অসংখ্য হাততালির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আমাদের দারুণ চেনা কিশোরবেলার সেই পুষ্পল! ----আজকের নামী বাঙালী বিজ্ঞানী ডঃ কিশোর চৌধুরী পুষ্পল।
একটু দূরে দাঁড়িয়েছেন মাইক্রোফোন হাতে আজকের সঞ্চালক, বিজ্ঞানী ক্রিস্টিনা ব্লুজ গায়।তিনি হাসিমুখে জানতে চান-&#039;আপনি কেনো জীববিজ্ঞানের একদম আলাদা কিছু স্নাযু বিজ্ঞানী হলেন, আমাদেরকে এ সম্পর্কে কিছু বলুন?.... 
সামনের সারিতে বসা উপস্থিত প্রতিভাবানদের হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে ডঃ কিশোর চৌধুরী পুষ্পল বলতে শুরু করেন তাঁর কথা---
-&#039;উপস্থিত সম্মানিতরা, ও নানা প্রান্তর থেকে এসেছেন সকল অসামান্য চিন্তার নায়ক দের এখানে স্বাগত,এবং আমাকে কথা বলার সুযোগের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।প্রিয় বিজ্ঞানী ক্রিস্টিনাকে শুভেচ্ছা.....।&#039; 

...চারদিক থেকে স্বতঃস্ফূর্ত হাততালি শোনা যেতে থাকে।----
--&#039;আমার নিজের কিশোর বেলার একটি ঘটনা আমাকে স্নাযু নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী করে তোলে! প্রিয়তর এক কাকের জন্য আমি খুব ব্যাথিত হয়েছিলাম।সেই কাকের নাম রেখেছিলাম- লাইকা।--সেই লাইকাকে, আমি বাঁচাতে পারিনি।
---আমিই না বুঝেসুঝে প্রিয় সেই লাইকাকে বাঁচাবার জন্য একটি ভূল ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলেছিলাম।যদিও ওই প্রিয় কালো কাক এমনিতেই মারা যেতো।এর যে রোগ হয়েছিলো, সেটি কি রোগ ছিলো তখন জানতে পারিনি। ....মানুষের অন্তিম মূহুর্তে ডাক্তার এক শেষ চেষ্টা করে দেখেন যে ঔষধটি ইনজেক্ট করে-সেই ঔষধটিই আমার মৃত প্রায় লাইকা নামের কাককে আমি ওটি পুশ করি! কিন্ত পরদিন আমার কাক আর বাঁচলো না --- সেইদিন আমার মন খুব খারাপ হয়েছিলো।আমার মনে হয়েছে তীব্রতর আকাংখা বা কামনাও শেষপর্যন্ত ভয়ের জন্ম দিতে পারে।আমার মাথায় শুধু ঘুরছিলো আমার লাইকাকে বাঁচাতে হবে।সেটিই শেষপর্যন্ত মনের মধ্যে ভয়ের জন্ম দিলো।ভয়, সামনের চিন্তাকে অন্ধকারের পর্দায় ঢেকে দেয়!&#039;
-----এই পর্যন্ত একটানা বলে ডঃ কিশোর থামলেন, ডায়াসের কোণায় রাখা জলের গ্লাস হাতে তুলে নিয়ে জল পান করলেন।----
সঞ্চালক বিজ্ঞানী ক্রিস্টিনা, এবার ডঃ কিশোরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন করে জানতে চাইলেন সে-ই ভয়ের স্বরুপ কি রকম ছিলো?
-&#039;আমার কখনো বিন্দুমাত্র মনে হয়নি, আমার কাক লাইকাকে একদিন আমার চোখের সামনে মৃত দেখতে পাবো! কিন্তু লাইকার মৃত্যু আমাকে দেখতে হয়েছে! 
বাস্তব ভিত্তিক চিন্তার বদলে আমি ওই ছোট্ট প্রাণীকে নিয়ে মানবিক মমতা ও আবেগের বশবর্তী হই।সেই বয়সে অবশ্য তা হতে পারে।বড়ো হয়ে ওই বোধ, আমাকে পীড়ন করে।সমস্যা সমাধান বা রোগ নির্ণয়, মনের মমতা অথবা খুব আবেগ থেকে আলাদা ব্যাপার।যখন সুযোগ হয়েছে আমার ভাবনা চিন্তাগুলি প্রতিফলন ও প্রয়োগের, আমি তখন বেছে নিয়েছি জীববিজ্ঞানের এই দিকটিকে।অবশ্যই আমার প্রিয় কাক লাইকার মৃত্যু শোকটি মাথায় ছিলো।যেটি এক সময়ে কিন্ত আমার মধ্যে পূর্ব ভয়ের সঞ্চার করেছিলো।এই-যে ভয় নিয়ে কাজের গবেষণার ব্যাপারটি, এভাবে এগিয়েছে...।&#039;
আবারও দর্শকদের মূর্হু মূর্হু হাততালি শোনা যেতে থাকে।-----
আজকের সঞ্চালক বিজ্ঞানী ক্রিস্টিনা শেষ প্রশ্ন রাখলেন ডঃ কিশোর চৌধুরী পুষ্পলের কাছে--- 
--&#039;আপনার গুরুত্বপূর্ণ নির্ণয় মস্তিষ্কে নতুন কোষ তৈরি, সেটি ভবিষ্যৎ পৃথিবীর মানুষকে কি রকম সাহায্য করবে?
---পরিশেষে আপনাকে অভিনন্দন এখানে আমাদেরকে কিছুক্ষণ মূল্যবান সময় দেয়ার জন্যে।&#039;
বিজ্ঞানী ডঃ কিশোর বলেন, -
------&#039;মানুষের মানে, আমাদের মস্তিষ্কের যাবতীয় অনুভুতির প্রাণকেন্দ্র যে অংশটি, একে বলে(amygdalar)অ্যামিগডালা।আমি মূলত এটি নিয়ে এখন কাজ করছি।এই অংশের কার্যপ্রক্রিয়া বেশ রহস্যময়, জটিল, জট পাকানো।এ অংশটির অনেক জটিল স্বভাব আমি বোঝার চেষ্টা করেছি।পুরোপুরি একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ভবিষ্যতে অঙ্গের অবশতা,স্মৃতি লোভের সমস্যা, ইনজুরি থেকে ব্রেনের জটিলতা, ব্রেন ক্যান্সার ইত্যাদি কিছু থেকে সন্তোষজনক ভাবে আরোগ্য লাভ সম্ভব হবে।---
-----সবাইকে ধন্যবাদ, গুড ডে।-- &#039;
কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে প্রথম সারির দর্শক বিজ্ঞানী গবেষকরা দাঁড়িয়ে এবার ডঃ কিশোরকে তাঁদের ভালোলাগা, মুগ্ধতা প্রকাশ করে হাততালি দিতে থাকে। ------

[ গল্প, আগষ্ট- ২০২০ ]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10870/</link>
				<pubDate>Fri, 04 Jun 2021 16:20:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>[এ গল্পটি&#8211; বড়ো এক  কিশোর গল্প। যদিও &#8216;পত্রসাহিত্য&#8217; -অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়।কিন্ত বিষয় ভিত্তিক প্রাসঙ্গিক! এই গল্পেও আছে, এক কিশোর ছেলের পাখির জন্য তার অসাধারণ আন্তরিকতা ও ভালোবাসা&#8230;<br />
পরবর্তীতে ছেলেটা আন্তর্জাতিকতার দিকে গেছে! একটি পাখিই বা পাখিটাকে হারানোর তীব্র শূণ্যতা, ছেলেটাকে পৌঁছে দেয় ওই স্তরে! সে  হয়েছিলো  বিখ্যাত  স্নায়ু বিজ্ঞানী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10870"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10870/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">768ed84eecb80a577ffb4ee0896c06b6</guid>
				<title>আজ ---সবশেষে, তোতাপাখি;  মাছরাঙা;  বক ও পেঁচা&#039;র  গল্পঃ

[ &#039;পাখিদের জন্যে আন্তরিকতা, এদের জন্যে ভালোবাসা&#039; ]

&quot;তোতাপাখি&quot;

বাঙলাদেশের পতাকাটার রঙের সৌন্দর্য একমাত্র এই পাখির মধ্যে আছে। দূর থেকে দেখতে মনে হবে, এই পাখিটি আমাদের জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে নিয়েছে।তোতা-- আমাদের সুন্দর পাখিদের একটি।বহুদিন আগের এক ঘটনা, আমাদের বাড়ি থেকে হাঁটা পথের দূরত্বে ছিলো নন্দীপাড়ার শ্বশানখোলা মাঠ।এই মাঠ আমার ইস্কুলে যাওয়া আসার পথেই পড়তো।ওই মাঠের দক্ষিণ দিকে এখনো মৃত মানুষের শবদাহ করা হয়।মাঠের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে পুরোনো দিনের অনেক বড়ো বড়ো গাছ রয়েছে।এইসব গাছের গর্ত কোঠরে প্রচুর তোতাপাখিরা বাস করে।ডিম পেড়ে, বাচ্চা বড়ো করে তোলে।ওই মাঠে- আমি ইস্কুল জীবনে- প্রায় যেতাম নাটাইসহ ঘুড়ি উড়াতে।একদিন ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে দেখে ছিলাম,উঁচুতে উড়া উড়ন্ত ঘুড়ির সুতোই, উড়ন্ত ঝাঁকের একটা তোতাপাখির কি করে যেনো পাখা পেঁচিয়ে গেছে ! দেখেছি নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে পাখিটা-- ঘুড়ির সুতোতে নিজেকে আরো জড়িয়ে ফেলে।ঘুড়িটা সুতোই পেঁছানো তোতাপাখিটাসহ অল্পদূরে কাত হয়ে পড়ে যায়... আমরা উৎসুক ছেলেরা দেখলাম-তোতাটা নিজেকে মুক্ত করার জন্যে সে-কি প্রাণান্ত চেষ্টা করে! ----এইদিকে বিকেল গড়িয়ে গাঢ় সন্ধ্যা ঘনিয়ে অাসছিলো।যে ছেলেটার ঘুড়ির সুতোই, দুর্ভাগা তোতাটার পাখা জড়িয়ে যায়, সেই ছেলে ও তার অন্য দুজন বন্ধুসহ ব্যাপারটিতে নির্বিকার দেখেছি।তোতাপাখিকে তারা ছাড়িয়ে নিয়ে মুক্ত করে দেবার বদলে পাখিটাকে ধরা ফেলার জন্যে তারা খুউব বেশী আগ্রহ দেখাচ্ছে! বেশী সন্ধ্যা হওয়ার আগে ভাগে, আমি শ্বশানখোলা মাঠ থেকে চলে এসেছিলাম।পরে জানলাম, শেষ পর্যন্ত অাহত পাখিটি ধরে তারা বাড়ি নিয়ে গেছে।এই খবরটি শোনার পরে-- আমার খারাপই লেগেছে।আহা! অবমুক্ত একটি পাখি, বন্দী হলো।

এও অনেকদিন আগের কথা।আমাদের পাশের বাড়িতে শখ করে- একটা তোতা পাখি কিনে এনেছে খাঁচাতে পুষবে এজন্য। আমি দেখেছিলাম- আহা! মুক্তি পেতে তোতাটা যা ছটফট করতো! দেখে- খারাপই লেগেছে।একদিন শুনি যে--এই তোতা পাখি, পালাবার একটি পথ করে নিয়েছে।ঘরের কেউ আনাড়ি হাতে খাঁচার ভিতর পাখির খাবার দিতে গিয়ে, তোতাকে বিমুক্ত করে দিয়েছে।খুউব সুখ পেয়েছিলাম সেদিন।পাখিটি নিজ অধিকারের মুক্ত নীলাকাশকে ফিরে পেয়েছে। আর আমিও পেলাম মন খারাপ থেকে মুক্তি।
অাজো পাখিটার কথা মনে পড়ে, চোখের সামনে দেখতে পাই মুক্তাকাশে, অবমুক্ত সেই তোতাপাখিটি উড়ে ছুটে চলেছে নিরুদ্দেশে।   অামি দেখেছি, --&#039;একটি পাখির দুর্ভাগ্য, অন্যটির সৌভাগ্য!&#039;

&quot;মাছরাঙা&quot;

আকারে একমুঠো!  কিন্ত গায়ে এদের শাহেনশাহদের মতো রঙ বাহারের ঝালর দেয়া দামী কাপড়,--এমনই রঙিন রঙবাজ পাখি মাছরাঙা! গাছের ডালে,ঝোঁপের পাতার আড়ালে, অনড়ভাবে কোনো খুঁটির মাথায় মাছরাঙা যখন ধ্যানী হয়ে চুপ চাপ বসে থাকে, তখন ওই দৃশ্যটা দেখলে- ছবির মতোন মনে হবে! এদের গায়ের রঙের জৌলুশ এমন যে, -স্বর্ণাভ কমলা, আকাশি নীল,  মৃদু সবুজ মেশানো ফিরোজা।এদের ঠোঁট রঙিন, সাথে একটুকুন্ লেজ আছে।যখন উড়ে চলে যায়, আমরা দেখি, -- উড়ন্ত এক টুকরো রঙের ঝিলিক দিগন্তে ভেসে গেলো...  মাছরাঙাদের-- ছোট্ট খাল, দীঘি, বড়োপুকুর ও যে কোনো জলাশয় থেকে- মাছ ধরবার যাদুকরী দৃশ্য, এমন নিপুন কৌশলী হয় যে, দেখে তাক্ লেগে যাবে! কোনো একটি উঁচু স্থান থেকে,  নিশ্চুপে বসা ---স্থির মাছরাঙা হঠাৎই ঝুপ্ করে পানিতে ঝাঁপ দেয়-- পরক্ষণেই উঠে আসে, --আর ঠোঁটে করে নিয়ে অাসে জীবন্ত কোনো মাছ! এমনটা বার বার করতে থাকে, --এই শিকার চক্রে, মাছরাঙা পানির বুকটা ছিঁড়ে ভিতরে ঢুকে গিয়ে জলজ্যান্ত কোনো মাছ ধরে ডাঙ্গাতে তুলে আনে! সব সময়ে মাছরাঙা যে, --মাছ শিকার করতে পারে এমনটা নয়, তবু  মাছরাঙার শ্রমলব্ধ অধ্যবসায় এর মাছ ধরবার খাটুনিকে পূর্ণতা দেয়।গায়ে এদের সাতরঙের রঙধনুর যেনো-- রঙ! পরম মমতায় দিয়ে কে যেনো মাখিয়ে দিয়েছে স্বযত্ন হাতে! 
     
---দিকে দিকে সবুজাভ প্রকৃতির বুকে,  কোনো-- &#039;উড়ন্ত রঙিন মাছরাঙা&#039;কে- প্রথম দৃষ্টির বিভ্রমে--  দেখে মনে হতে পারে- একমুঠো জীবন্ত হৃৎপিণ্ড উড়ে যাচ্ছে,  কী যে আশ্চর্যকর!

&quot;বক&quot;

লম্বাটে গলার এই পাখির পা দুইটিও লম্বা, ও একটি লম্বা ঠোঁট রয়েছে। সাধারণভাবে-- দুই রঙের ভিন্ন অাকৃতির বক পাখি আমি ছোটবেলাই সব সময় দেখেছি।একটি সাদার মধ্যে হালকা ধূসর রঙের খয়েরি রেখা আঁকা।অন্যটি ছিলো ধবধবে পুরো সাদা।অামরা এই বক&#039; পাখিকে চিনতাম ধলীবকা&#039; নামে।বকের চোখ দুটি হয় চকচকে ছানাবড়া।সূঁচালো ঠোঁট।সবুজাভ লম্বা পায়ের এই বক যখন--    পা তুলে তুলে হাঁটে, তখন মনে হবে মানুষের মতোন কদম ফেলে ফেলে হাঁটছে! আমি দেখেছি, --বিস্তীর্ণ খোলা সবজির মাঠে, একঝাঁক বকের খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো।সন্তর্পণে এরা মাটিতে পা রেখে রেখে খুটে খুটে খাবার সন্ধান করে চলেছে।এই দৃশ্যটি--  সাধারণ কিন্ত প্রাকৃতিকভাবে খুউব সুন্দর! আবার শাদা রঙের ধলী বকদের দেখেছি--  অনেকটুকু শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিলের-- পানি থেকে মাছ ধরে খাচ্ছে।ভাটার টানে পানি কমে আসা ছোট নদীর পাড়ে, এদের চড়ে চড়ে ছোট মাছ ধরে খেতেও দেখা যাবে।ছোটবেলায় আমাদের ছোট্ট পুকুর পাড়ের ঝোঁপালো তেঁতুল গাছটাই বকেরা বাসা বেঁধে ছিলো।সংখ্যায় ছিলো এরা অনেক--বক পাখি।কিছুদিন পরে এদের ছানাপোনাদের ঝাঁপাঝাঁপি করতে দেখতাম।গা-অন্ধকারের সন্ধ্যায়, গাছের গোড়ায় এক বিড়ালকে প্রায় ঘুরঘুর করতে দেখেছি।পরে বুঝেছিলাম-- এই বিড়ালের মতলব কী ছিলো? তেঁতুল গাছ থেকে কোনো  অসাবধানতাই নিচে কোনো বকের ছানা পড়ে গেলে, ওই বিড়ালটা খুশি মনে নিচে পড়া বকের ছানাকে ধরে খেতো! এই সংবাদে হৃদয়ী মানুষের মন খারাপ হবে।মনে হবে,  এটা অমানবিক,  কিন্ত  নির্মোহ প্রকৃতির কাছে  এইটি একটি  নিপুণ খাদ্য শৃংখলা! আবার এই খাদ্য শৃংখলাই মানুষও যোগ দেয়।মানুষ শিকারীরা বক পাখিকে শিকার করে মেরে খেয়ে ফেলে।এখনো হাটে বাজারে গঞ্জে দিবালোকে ফাঁদ পেতে ধরা-- জীবন্ত বকপাখিদের ফেরি করতে দেখা যায়।মাঝে মাঝে দৈনিক খবরের কাগজে ছবিসহ ওই খবর উঠে আসে।মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব।কিন্ত মমতাহীন অন্ধ মনের মানুষের মানবিকতাও সীমাবদ্ধ।মানুষ ও তার নিজের শ্রেষ্ঠ মন বা মানবিকতা কিন্ত এক কথা নয়।মহৎ মানবিকতার বোধকে অর্জন করে নিতে হয়।কোনো নিকৃষ্ট কাজ আর অপরাধ প্রায় একই ব্যাপার! 

....দামী ক্যামেরা যন্ত্রটা তাক্ করে-- মাঠে ঘাটে গিয়ে কসরত করে তোমার ছবি তোলা মেকি পাখিপ্রেমী অামি নই।আমি...সত্যি তোমাকে ভালোবাসি।এখনো চলতি পথের ধারে কোনো পরিত্যক্ত জলাশয়ে; ঘাসের নিঃসর্গে; অদূরের ফসলী মাঠে তোমাদের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়াই আমি।তাকাই ও দেখি এবং দেখার চেষ্টা করি, তোমার সৌন্দর্যকে, প্রকৃতি ও তোমাকে, তোমাদের বেঁচে থাকার জন্য তোমাদের দিনান্ত সংগ্রামকে, হয়তো অজান্তেই আমি মনে মনে বলি---&#039;ভালো থেকো....ভালোবাসা নিও&#039;...


&quot;পেঁচা&quot;

পেঁচা বা পেঁচক।একটি নিশাচর পাখি।আবহমান গ্রাম বাংলার শিল্প রুচি ও ঐতিহ্য প্রকাশের ---এটি একটি প্রতীক পাখিও।ধর্মীয়ভাবেও মহিমান্বিত করা হয়েছে।হিন্দু ধর্মালম্বীদের কাছে বিশ্বাস ও মান্যতা পেয়েছে এই পেঁচা, --ধনসম্পদের আরাধ্য ও পুজিত দেবী,  ধন-দায়িনী লক্ষীর স্ববাহন।যদিও দেবীর বাহন এই পেচঁকের নাম, দেবী লক্ষীর নামানুসারে হয়েছে লক্ষীপেঁচা! বহু সুপ্রাচীন কালের চিত্রিত ছবিতেও অঙ্কিত পেঁচার দেখা মিলবে।এই পাখিটি নানা গল্প গাঁথায় ঢুকে গিয়ে নিজের স্থানটি উজ্জ্বল করে নিয়েছে! এভাবে এরা অশরীরিও বেঁচে থাকে।পেঁচা বাস্তবে, বিশ্বাসে, অশরীরি বিভিন্নভাবে আমাদের মধ্যে আছে।পেঁচার সাথে রাতের সম্পর্ক বেশ নিবিড়।পেঁচাকে রাতের পাখিও বলা যায়।নিশিরাতেই যতো অবাধে বিচরণ করে! অমানিশার আঁধারেই চারপাশটাকে ভালো দেখতে পায় এরা! এই পাখি নিজের ইচ্ছে মতোন সামনে পিছনের দৃশ্যাবলী দেখতে পারে।পেঁচা সম্পুর্ণ মাথাটাকে ঘুরিয়ে নিয়ে পিছনে কী হলো- তা দেখে, একই সাথে সামনে কী হচ্ছে তাও দেখতে পায়! নিরব রাত রহস্যময়, পেঁচাও রহস্যময়।নিশুতি গভীর রাত্রিবেলা, বুদ্ধিমত্তাকে আটকে দেয়।    এই সময়ের মধ্যরাত, মনের অচেনা ভয় আর পেঁচার উপস্থিতি সমান রহস্যময়ী হয়ে উঠে! যদিও তা নয়।ভরা দিনের অালোয় পেঁচাতে কোন রহস্য থাকে না।গভীর রাত রহস্যে ভরা-- এই খবরটা পেঁচা জানে না।রাত গভীরে অবশ্যই পেঁচা স্বছন্দ অার নির্বিঘ্ন--এটিই এদের সহজ স্বভাব।প্রাকৃতিকভাবে পেঁচা এটা পেয়েছে।পেঁচাকে রহস্যময় করে তোলে মানুষ। তার সাহিত্যে, চিত্রকলায়, ও নানা বিশ্বাসে! 

পেঁচা আসলে সাধারণ নিরহ একটি পাখি মাত্র।গাছের কোঠরে বা কন্ধে, নিরুপদ্রব কোনো গর্তে, এমন কি মাটির ঢিবির ভেতরে পেঁচা নিজের বাসা বানিয়ে থাকে।ইন্দ্রজাল বিদ্যায় ও চর্চায় অথবা কালো শক্তির পুজোই বা যাদুতে, এই পাখিটার মহিমাকে জুড়ে দেয়া হয়েছে।পেঁচার দুই চোখের ধরণ-গঠন রাতের বেলাতে দেখার জন্য বিশেষ উপযোগী।চোখ-- গোলাকার একটু  হলুদাভ।মানুষের চোখের মতো এই পেঁচার দু&#039;চোখের অবস্থান পাশাপাশি।পাখিদের মধ্যে এই ব্যাপারটি বেশ বিরল! এই জন্যে, ---পেঁচা মানুষের মতো সামনের দৃশ্যাবলী সামগ্রিকভাবে দেখতে পায়! এটিও এই পাখিটার জন্যে এক বিশিষ্ট ব্যাপার হয়েছে।রাতের আঁধারে কাছে- কি দূরে- থেকে ভেসে আসা পেঁচার ডাক, ---- এক ভৌতিক আবহ তৈরী করে তোলে! আর মানুষের মনে সেটা সহজেই অশুভের অনুভুতি; আর শিশুর মনে প্রবল ভয় জাগিয়ে দেয়!  এই পরিস্থিতিটা  তৈরি হয়েছে পেঁচার কারণে অবশ্য নয়, মানুষের পেঁচাকে ভুল ভাবে উপস্হাপনের ফলে! ...

এখানে--১ম অংশ, পাখির গল্প,
সমাপ্ত।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10673/</link>
				<pubDate>Sun, 30 May 2021 12:30:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজ &#8212;সবশেষে, তোতাপাখি;  মাছরাঙা;  বক ও পেঁচা&#8217;র  গল্পঃ</p>
<p>[ &#8216;পাখিদের জন্যে আন্তরিকতা, এদের জন্যে ভালোবাসা&#8217; ]</p>
<p>&#8220;তোতাপাখি&#8221;</p>
<p>বাঙলাদেশের পতাকাটার রঙের সৌন্দর্য একমাত্র এই পাখির মধ্যে আছে। দূর থেকে দেখতে মনে হবে, এই পাখিটি আমাদের জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে নিয়েছে।তোতা&#8211; আমাদের সুন্দর পাখিদের একটি।বহুদিন আগের এক ঘটনা, আমাদের বাড়ি থেকে হাঁটা পথের দূরত্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10673"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10673/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">48308d0383a98a4ee6ec7913258c3a0c</guid>
				<title>দুঃখু মিঞা অতঃপর একজন কবি! ---
-----------------------------------------------------

আমার ব্যাক্তিগত ভাবে ---তাঁর কিছু কবিতা,  অনেক গান বিশেষ পছন্দের।তিনি দুঃখু মিঞা। অল্প বয়সে খুব দুঃক্ষের ভেতর জীবন কেটেছে। দারিদ্র্যতাকে ঠেকাতে  গিয়ে  জীবন  সংগ্রাম  করেছেন।বালক  বয়সে রুটির  দোকানে  পযর্ন্ত  চাকুরি  করেছিলেন। হায়! দারিদ্র্যতা, --সত্যি তুমি মহানায়ক! কিন্ত পরিশেষে  একটি নিয়তিই  সুনির্দিষ্ট হয়। ভবিষ্যতে  তিনি  হবেন  কবি। আজকের কবি--কাজী নজরুল ইসলাম। আমরা জানি, তিনি  সমাজ বিপ্লবী, জনপ্রিয় ভাবে বিদ্রোহী, সূরস্রষ্টা,  এবং প্রধানতমভাবে তাঁর  পরিচয় তিনি একজন কবি।টগবগে পূর্ণ- যৌবনে জীবন  সংগ্রামের  কিনারায়  এসে- দুঃখু মিঞার খোলস ভেঙ্গে বেরিয়ে  এলেন  একজন  কবি।আমারও পূর্ণ যৌবনে-- তাঁর  অনেক  কবিতা,  সূরে  সূরে  সূরভিত  কিছু  গান, আমাকে অন্যমনা  করে দিয়ে যেতো... তাল-  লয়কারি-  ছন্দে-- বিভোর  করা  সূরের  সৌরভে,  সর্ব  ভারতীয়  রাগ সংগীতের এমন অপূর্ব ব্যবহার মনোমুগ্ধ করে, আজও!....

&quot;কোন্ কূলে আজ ভীড়লো তরী, এই কোন্ সোনার গাঁয়....
আমার ভাঙ্গা তরী আবার কেনো উজান যেতে চায়&quot;-
                  --------------

&quot;সে দিন ছিল কি গোধূলীর লগন- শুভ দৃষ্টির ক্ষণ!&#039;
                  --------------

&quot;তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি, --এ কি মোর অপরাধ&quot;....
                 ---------------

&quot;ভরিয়া পরান শুনিতেছি গান, --আসিবে আজি বন্ধু মোর&quot;...
                 ---------------

&quot;শূন্য এই বুকে পাখি মোর আয়, ---ফিরে আয় ফিরে অায়&quot;....
                 ---------------

&quot;আমি চিরতরে চলে যাব, ---তবু আমারে দেবো না ভূলিতে&quot;...

কবিতার ক&#039;য়েকটি পংক্তি;--

&#039;বইছে আবার চৈতী হাওয়া, গুমরে ওঠে মন,
পেয়েছিলাম এমনি হাওয়ায় তোমার পরশন---&#039;
               ----------------

&quot;তোমার রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান,
সকল শাস্ত্র খুজেঁ পাবে সখা খুলে দেখো নিজপ্রাণ!
তোমাতে  রয়েছে  সকল  ধর্ম,  সকল  যুগাবতার,
তোমার  হৃদয়  বিশ্ব- দেউল  সকলের  দেবতার।
কেনো খুজেঁ ফেরো দেবতা ঠাকুর মৃত-পুঁথি-কঙ্কালে?
হাসিছেন  তিনি  অমৃত- হিয়ার  নিভৃত  অন্তরালে!
বন্ধু, বলিনি ঝুট&quot;---</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10591/</link>
				<pubDate>Thu, 27 May 2021 06:25:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দুঃখু মিঞা অতঃপর একজন কবি! &#8212;<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;</p>
<p>আমার ব্যাক্তিগত ভাবে &#8212;তাঁর কিছু কবিতা,  অনেক গান বিশেষ পছন্দের।তিনি দুঃখু মিঞা। অল্প বয়সে খুব দুঃক্ষের ভেতর জীবন কেটেছে। দারিদ্র্যতাকে ঠেকাতে  গিয়ে  জীবন  সংগ্রাম  করেছেন।বালক  বয়সে রুটির  দোকানে  পযর্ন্ত  চাকুরি  করেছিলেন। হায়! দারিদ্র্যতা, &#8211;সত্যি ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10591"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10591/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2341f5b27b0922f0a3be5ffedfece6e8</guid>
				<title>আজ-- বাবুই পাখি;  দাঁড়কাক;  বুলবুলি;  ঘুঘু&#039;র  গল্পঃ

[ &#039;পাখিদের জন্যে আন্তরিকতা, এদের জন্যে ভালোবাসা&#039; ]


&quot;বাবুই পাখি&quot;

চিরায়ত গ্রাম  বাংলা নয়তো  মফস্বলের গার্ডেন বার্ডের  মধ্যে কেবল বাবুই পাখি নিপুণ কারিগর শিল্পী পাখি। এরা গোষ্টীবদ্ধ বসবাস করে। ---এই বাবুই খেজুরগাছ,ছোটবড়ো তালগাছ, নারিকেলগাছ, রেন্ট্রি বা অন্য কোনো  গাছে খুব খাটুনি  করে বাসা  তৈরি  করে  নেয়।দূরে বা কাছ থেকে দেখা, --ঝাঁক বেঁধে  এই পাখিদের  বাসা তৈরির  শৈল্পিক প্রচেষ্টা কী যে ভীষণ মনোরম হয়ে থাকে ! যে গাছে এরা বাসা বানাই। ওই গাছের অাশেপাশের কোনো কোনো গাছের পাতা,  ঠোঁটে করে ছিঁড়ে ছিঁড়ে এনে, নির্বাচিত  গাছটার শাখা প্রশাখায়  নিজের বাসাটি তৈরি করে।একটু দুরে থেকে দেখতে লাগে- একঝাঁক কারিগর পাখি গাছটার  শাখা ডালে  একটা  আবাসিক  কলোনী বানাচ্ছে!  এই লৌকিক কর্মকান্ড  কিন্ত দেখার  মতো এক ব্যাপার। এদের অক্লান্ত কিচিরমিচিরে  মুখরিত  হয়  গাছটার  চারপাশের  জগৎ। খুউব কাছেপিঠে  যাওয়া  যায়  না  তাদের  একসাথের  কলরোলের
তীব্রতাই! বাবুই পাখির মধ্যে  কোনো  কোনো  পাখি  বাসা তৈরিতে আশ্চর্য  কান্ড  ঘটিয়ে  থাকে। এদের  বাসাগুলি  ঝুলন্ত  অবস্হাতে লম্বাটে গোল গোল এক দু&#039;তিন বা চারতলা পর্যন্ত হতে দেখা যায়! গোধূলিকালে অদূর থেকে দেখলে মনে হবে- যেনো অনেকগুলি নিবু নিবু  হারিকেন গাছটির  নানা দিকেতে  ঝুলে আছে!  বাসাগুলি বেশ মজবুত হয়। প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়ার বৃষ্টিবাদলে ছিঁড়ে পড়ে না।অবশ্যই বাসাটির অন্দরমহলও সুুরক্ষিত থাকে!... 

বাবুই পাখি- এদের স্বাধীনতার সুখ;  কবি রজনীকান্ত সেন- বাবুইয়ের স্বাধীনতার সুখের সংবাদটি অসাধারণ করে লিখেছেন তাঁর কবিতাই;-

বাবুই  পাখীরে  ডাকি&#039;  বলিছে   চড়াই,----
&quot;কূঁড়ে ঘরে  থেকে  কর  শিল্পের  বড়াই ? 
আমি  থাকি  মহাসুখে  অট্টালিকা&#039; পরে,
তুমি  কত  কষ্ট পাও  রোদ,  বৃষ্টি, ঝড়ে !&quot;

বাবুই   হাসিয়া  কহে, &quot;সন্দেহ  কি  তায় !
কষ্ট  পাই,  তবু  থাকি   নিজের  বাসায় ;
পাকা হোক্,  তবু  ভাই,  পরের  ও-বাসা ;
নিজ হাতে  গড়া মোর  কাঁচা ঘর,--খাসা।&quot;


&quot;দাঁড়কাক&quot;

---এখন দুঃখ হয় ফেলে আসা বাল্যকালের জন্যে।তখন ঘর থেকে বেরিয়ে নানা পাখি, অবারিত বিস্তারিত সবুজাভ প্রকৃতি, ছোট নদীর পাড়ে  অবহেলিত  শরতের  কাশফুল  রাশি  রাশি  ফুঠতো। আবার আমাদের  অজান্তেই ঝরে পড়তো। সেই  কাশগুচ্ছের  এক টুকরো মতো-- বনে  বাদাড়ে  মাঝে  মাঝে দেখা  মিলতো-- সহেলি, কসাই, ছাতারে, ফিঙ্গে আরো অনেক পাখিদের।কারো প্রতিযোগিতাই কাটা ঘুড়ি  খুঁজতে গিয়ে দেখা  মিলেছে কতো পাখির!  মনে  পড়ে  যাচ্ছে, একবার  একেলা  একটা  পাখি--  দাঁড়কাককে ক&#039;টি  সাধারণ কাক মিলে ঠোকরে ঠোকরে আহত করে তুলছিলো।হয়তো ওই দাঁড়কাক না বুঝে সাধারণ কাকদের এলাকায় এসে পড়েছে।দাঁড়কাক আকারে বড়ো  পাখি  হয়। অলস  এদের  চাহনি। আনমনা  স্বভাবের  হয়  এ দাঁড়কাকদের  অঙ্গভঙ্গিমা!  গায়ের  রঙ  চকচকে  হালকা  নীলাভ কালো। একে  দূর  কোনো  দেশের  পাখি  মনে  হয়।  লোকালয়ে দাঁড়কাককে বিশেষ দেখা যাবে না। আকারে বড়ো পাখি বলে আমরা অবাক  চোখে  তাকাতাম। ভাবতাম কোত্থেকে  এই  পাখিটা  আসে, কোথায় যে আবার ফিরে যায়।এই বড়বেলাতেও সেসব নিয়ে ভাবতে মজা লাগে।


&quot;বুলবুলি&quot;

বুলবুলি একটি গানের পাখি।এদের মোটা গমক দেয়া ঝনঝনে গম্ভীর গলার স্বর।অন্য রকম এই কন্ঠ মাধূর্য্যের স্বর, সকালবেলাতে না হয়, ঠিক ভর দুপুরে গৃহস্থ বাড়ির অাঙ্গিনার গাছপালাকে মুখরিত করে তোলে।অনেকটা চুপিচুপিই এদের অাসা যাওয়ার স্বভাব, ---যদিও খাবারের খোজেঁ এদের জায়গায় জায়গায় দর্শন মেলে। এই পাখিটি বর্ণিল,  মাথাতে  একটুকু  ঝুটিঁর  মতো  থাকে  বলে  এরা  রাজকীয় অভীধা  পেতে  চায়। লেজের  গোড়ার  তলাতে,  লাল  গোলাকার বর্ণোচ্ছটা বুলবুলিকে করেছে  রুপোময়,  চলনে  বলনে এদের মধ্যে হারানো  রাজবংশের আচরণ  দেখি। এরা  যদিও  আটপৌড়ে  কিন্ত, নিত্যদিনের  সাধারণ  পাখি। যারা  শতাব্দী  পুরোনো  কোনো  ঋতু গৌরবের মতোন এ পাখির  সুনাম সরব হয়ে উঠেনি। মহিমাহীন এই পাখিরা  গানের  নীরব ওস্তাদ। আহা!  মহান  প্রকৃতিই  খুশি  হয়ে  এ বুলবুলিকে  বৈচিত্র্য  প্রদানের  মতোন-- ওদের  নিজস্ব  মহিমা  দান করেছে। তবু লোকালয়ে,  --এদের  রয়েছে অপবাদ, বুলবুলিতে  ধান খেয়েছে....


&quot;ঘুঘু&quot;

ঘুঘু দেখতে দৃষ্টিনন্দন। ছোটবেলা  থেকে এই  পাখিটার সাথে আমার পরিচয়। নির্জন দুপুরের মাঠ। মাঠের  পাশের জঙ্গলের  ভেতর থেকে মন কেমন  করা ঘুঘুর ডাক। এমন  এক  উদাসী, হাহাকার  জাগানো পাখির ডাক, খুউব  কম  পাখিদের  মধ্যে  দেখা যাবে। কোন দুপুরে হয়তো ঘরে আছি।তখন বাইরে কোথাও ঘুঘু ডাকছে।ঘুমুতে পারতাম না। শুধু  বাইরে  ছুটে যেতে  মন  চাইতো। বালক  জীবনে  আমাকে প্রকৃতি খুুউব  টানতো। গাছগাছালির  ছায়াবীথির  বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়াতে মনে শুধু চাইতো। এই রকম টানের আকর্ষণ ফেরানো বেশ কষ্টের  ছিলো  এখন বুঝি। খয়েরী  রঙের  সঙ্গে  মেশানো  হালকা জড়ানো বেগুনী  রঙের  চাপা--- ডোরা কাটা;  অনেকটুকু কবুতরের সাথে মিলে যায়-- এদের চোখ, ঠোঁট, পা, মাথাটার গঠনের জন্য।এই ঘুঘুকে শিকারীদের চমৎকার শিকার  হতে দেখেছি। সৌন্দর্যহীন শূন্য মনের অন্ধশিকারীরা ঘুঘু পাখি মারতো।এদের  পছন্দের ভীড়ে ঘুঘুর কদর বেশ উজ্জ্বলই ছিলো বলা যায়।ঘুঘু বনচারী পাখি।তবে গ্রামের দিকে  বা  মফস্বলের  বাস্তুভিটার  গাছে  গাছে  এদের  দেখা  মেলা সাধারণ  ব্যাপার  ছিলো-- একটা  সময়ে!  বড়োসড়ো কোনো গাছের ডালে বসে  ঘুঘুর আত্মডাকের  সূরের দোলা  দূরে  হতে  কারো  প্রেম রিক্ত  বিরহী  মনকে  উদাসীন করে  তুলবেই!  ঘুঘুর  ওইরকম  ডাকে এখনো আমার কিশোর কালে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। টিফিন ছুটিতে ইস্কুল পালিয়ে  মাঠেঘাটে টো-টো করা- সেই  মোহনীয়  কালের  ছোট বেলাটা,  -যখন ঘুঘুর সঙ্গে কাটতো আনমনা!  পাতায় পাতায় ছাঁওয়া  ছাতিম গাছটির পাতার ফাঁকে ডেকে উঠা সেই  ঘুঘুকে এখনো ওইসব স্মৃতির  দৃশ্যাবলী  আজো  চোখের  সামনে দেখতে  পাই  যেনো! তবে স্পষ্ট করে দেখি না।সুদূর অতীতের বাল্যে দেখা--- ওই  ঘুঘু পাখিদের ছায়া ছায়া মতো দেখি।সেই ছায়া ঘুঘুর জন্যে,---সেই হারানো কিশোর জীবনের জন্যে,--এখনো বুকের ভিতর দুঃখ বোধ করি আমি---

ক্রমশঃ</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10521/</link>
				<pubDate>Mon, 24 May 2021 20:06:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজ&#8211; বাবুই পাখি;  দাঁড়কাক;  বুলবুলি;  ঘুঘু&#8217;র  গল্পঃ</p>
<p>[ &#8216;পাখিদের জন্যে আন্তরিকতা, এদের জন্যে ভালোবাসা&#8217; ]</p>
<p>&#8220;বাবুই পাখি&#8221;</p>
<p>চিরায়ত গ্রাম  বাংলা নয়তো  মফস্বলের গার্ডেন বার্ডের  মধ্যে কেবল বাবুই পাখি নিপুণ কারিগর শিল্পী পাখি। এরা গোষ্টীবদ্ধ বসবাস করে। &#8212;এই বাবুই খেজুরগাছ,ছোটবড়ো তালগাছ, নারিকেলগাছ, রেন্ট্রি বা অন্য কোনো  গাছে খুব খাটুনি  করে বাসা  তৈরি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10521"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10521/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ab37e849bb5b29ac60103eb9f59f21b0</guid>
				<title>-----আজকে &#039;ফিঙ্গে; কাঠঠোকরা; ডাহুকের গল্পঃ
[&#039;পাখিদের জন্যে আন্তরিকতা, এদের জন্যে ভালোবাসা&#039;]


&quot;ফিঙ্গে&quot;

নবান্নের পাকা ধান কাটা হয়ে গেছে।গোটা ধূ-ধূ মাঠের এদিকে ওদিকে কাটা ধানের খড় আজাবের স্তুপ।ওই মাঠে আসন্ন সন্ধ্যার হালকা আঁধারে ফিঙ্গেরা উড়ে উড়ে কীটপতঙ্গ ধরে খেতে দেখেছি।পাখিটির সেই দক্ষতা এখনো চোখে লেগে আছে।ওই মুক্ত দৃশ্যের ছবিটা ছিলো যেনো ফটোগ্রাফিক ফ্রেমের সিল্যুট ছবির মতো!  ওই আলো আঁধারিতে কুচকুচে কালো রঙের দুই তিনটা ফিঙ্গে মিলে, সন্ধ্যার মুহুর্তে-- উড়ে উড়েই উড়ন্ত কীট পতঙ্গ ধরে ধরে খাওয়ার দৃশ্যকে! কী বলবো, অপুর্বই! দুই আঙ্গুলে করা বিজয় চিহ্নের মতোন ফিঙ্গের লেজের গড়ন।বিজয়ী শিকারী পাখি এই ফিঙ্গেরা।গলার স্বর কিছুটা কর্কশ।কিন্ত একসাথে দুই ফিঙ্গে পাখি দেখা না-কি সৌভাগ্যের- এমন ভাবা হয় এখনো গ্রামীণ সমাজে! --যদিও এটি পল্লী এলাকার সরল লোকজ বিশ্বাস মাত্র।এই বিশ্বাস, বিশ্বাসী মানুষদের ঘেরাটোপে বন্দী হয়ে আছে আজো।কিন্ত নাগরিক জীবনধারায় এমন বিশ্বাসের খবর, শিক্ষিত মানুষেরা রাখেন না।অপরীক্ষিত বিশ্বাসের গুরুত্ব শহরে আদৌ নেই।তাই পাওয়া যাবে না এখানে--- ওই বিশ্বাসের বাস্তব ভিত্তি ও তীব্রতা!


&quot;কাঠঠোকরা&quot;

একটি নতুন দিন শুরু হওয়ার সকালের শান্ত আবেশকে... &#039;কোনো নিঃস্তব্ধ দুপুরের মৌনতাকে...;&#039;  &#039;সকাল গড়িয়ে বিকালের আচ্ছন্ন গম্ভীরতাকে...&#039;  &#039;বা আসন্ন সন্ধ্যার দিনশেষের ক্লান্তিকে...&#039;ফালি ফালি করে হঠাৎই স্বশব্দে চতুর্দিক খান্ খান্ করে দিতে পারে,--কাঠঠোকরার তারই স্বরের ডাকাডাকি! এমনই আবার-- &#039;ছবির মতো নিঃসঙ্গ গ্রামীন বনের সকাল... দুপুর... বিকাল... সন্ধ্যাবেলা..; হয়তো গৃহস্হ বাড়ির আঙ্গিনার গাছ গাছালিদের সারাদিনের যে কোনো সময়ের নৈঃশব্দিক পরিবেশকে সঙ্গ দেয় !
কয়েক রকমের কাঠঠোকরা আছে।তবে সাধারণ কাঠঠোকরাটা দারুণই রঙিন হয়!  নানা রঙের রঙশৈলীর বৈচিত্র্য এদেরকে করেছে আলাদা।এই  কাঠঠোকরাটাকেই আমরা এখানে ওখানে-- সর্বত্র দেখতে পায়।এই পাখিটি নিকটবর্তী কোনো গাছে থাকলে সেটা টের পাওয়া যাবেই! এদের অস্থির স্বভাব, চঞ্চল ভাবে গাছের গায়ে টুক্ টুক্ করে ঠোকরানোর শব্দ তৈরির জন্য।কোথাও দূরে পাখিটির উপস্হিতিকে সহজে বোঝা যায় তার অদ্ভুত রকম ডাকাডাকিতে।এ কাঠঠোকরার তারস্বরের আওয়াজের পুনঃ পুনঃ শব্দ দোলা- আমার আশৈশবকে রাঙা করেছিলো নিঃসন্দেহে।এই চেনা পাখিটির ডাকা ডাকি আমাদের পরিচিত চারপাশটার বহুদূরের পর্যন্ত দিগন্তকে ভরিয়ে তোলে।বাঙলার সবুজ গাছপালার নিঝুম অরণ্যে, আমাদের চেনা প্রকৃতির গার্হস্হ্য বনানীতে অন্যরকম মাধুর্য্য এনে দেয়।এই পাখি---  বাঙলার গার্ডেন বার্ড পাখিগুলির একটি।


&quot;ডাহুক&quot;

চট্টগ্রাম এলাকায়, লোকমুখে চাটগাঁ ভাষায় এই পাখিকে ডাকা হয়-&#039;ডক্&#039;পাখি।পাখিটি ঝোঁপঝাড়ের আড়াল বা লোকজনের চলাচল খুব নেই, তেমন জায়গায় নিজের বাসা তৈরি করে।ডাহুক সুন্দর একটি পাখি।পেছনের দিকে লেজ অাছে।কিন্ত দেখে মনে হবে যেনো কেউ এর লেজকে ছেঁটে দিয়েছে! এই ডাহুক স্বভাবে খুউব চঞ্চল, এদের চোখ দু&#039;টোও খুউব সুন্দর হয়! একটু ছলছল ছোটাকৃতির ডাগর নয়ন যেনো! এরা ডোবা-জলা-পুকুরের পানির উপরে থাকা ভাসমান পাতার উপর দিয়ে- এমন ভাবে হেঁটে ঘুড়ে বেড়ায়, দেখে যে কারুরই তাজ্জব লাগবে! অবশ্য এইটা, এই ডাহুকদের ভারসাম্যের এক প্রত্যক্ষ, অসামান্য উদাহরণ।ডাহুকের ছানাদের দূর থেকে দেখে মনে হবে, পাকানো গোল গোল- ধূসর কালো রঙের, হাতে গড়া খৈ&#039;ছাতুর- ক&#039;টি নারু গড়িয়ে গড়িয়ে ছুটছে! মুখে কুঁইকুঁই চাপাশব্দ করে-- ছানাগুলো এদের মায়ের সঙ্গে থেকে থেকে সবকিছু জেনে বুঝে নেয়।চিনে ফেলে এরা- প্রকৃত কে শত্রু, কে নয়? বাল্যকালেতো অতশত কিছু বুঝিনি।মনে পড়ে --দুরন্ত বালককালে এক দুষ্টুমনের দামাল ছেলে বন্ধুর পাল্লায় পড়ে, আমি খেলাচ্ছলে ডাহুকের কাঁচা ডিম ভেঙ্গে দিয়েছিলাম।এখন মাজর্না চাইছি... আহা!  ...নিঃস্তব্ধ রাত কি দুপুরে, এদের নিজের ছানা হারানোর ছোট্ট বুকভরা কষ্টের হাহাকার নয়তো আহাজারি এখনো শুনি, ---আমার স্মৃতির মাজারে। হায়, --ডাহুক তোমাকে ভালোবাসি।

ক্রমশঃ</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10494/</link>
				<pubDate>Sun, 23 May 2021 21:21:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8212;&#8211;আজকে &#8216;ফিঙ্গে; কাঠঠোকরা; ডাহুকের গল্পঃ<br />
[&#8216;পাখিদের জন্যে আন্তরিকতা, এদের জন্যে ভালোবাসা&#8217;]</p>
<p>&#8220;ফিঙ্গে&#8221;</p>
<p>নবান্নের পাকা ধান কাটা হয়ে গেছে।গোটা ধূ-ধূ মাঠের এদিকে ওদিকে কাটা ধানের খড় আজাবের স্তুপ।ওই মাঠে আসন্ন সন্ধ্যার হালকা আঁধারে ফিঙ্গেরা উড়ে উড়ে কীটপতঙ্গ ধরে খেতে দেখেছি।পাখিটির সেই দক্ষতা এখনো চোখে লেগে আছে।ওই মুক্ত দৃশ্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10494"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10494/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9d1aed681f4509027c6eef1b114a19dc</guid>
				<title>আজকে-- চড়ুই; টুনটুনি আর দোয়েলের গল্পঃ

[ &#039;পাখিদের জন্যে আন্তরিকতা, এদের জন্যে ভালোবাসা&#039; ]

&#039;&#039;চড়ুই&#039;&#039;

প্রিয় চড়ুই, এ পাখিটি আকারে ছোট। কিন্ত বর্ণিল। পুরুষ পাখিটি সুন্দর হয়। সম্ভবত: আকারে একটু বড়ো হয়।যেমন  চঞ্চল  তেমন  হুঁশিয়ার থাকে। মানুষের ঘরের চালায় তারা বেশি বাসা বাঁধে এবং এক রকম সেই পরিবারের প্রতিবেশী হয়ে উঠে।তারা সংসারী পাখি, গৃহস্থের মতো দাম্পত্য  জীবন  অতিবাহিত করে।খাবারের জন্য নানা চেষ্টা ও তদবির করে থাকে। তাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার দৃশ্যও বেশ চোখে পড়ে।নাগরিক জীবনে কোনো সন্ধ্যায় বড়ো কোনো এক ঝোপালো গাছে, ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই পাখিদের কিচিরমিচির কলরোল... পথচলতি উৎসাহী পথচারীকে, একটু  হলেও চমকে দেবে! ঘর বানানোর জন্যে চড়ুইর মুখে করে খড়কুটো জোগাড় করবার সুখকর দৃশ্য পাখি প্রেমীদের দৃষ্টি এড়াবে না!  অনেকদিন আগে--- আমার থাকবার ঘরের ভেন্টিলেটরে  একজোড়া  চড়ুই দম্পতি  বাস করতো।---- প্রতি সকালে, প্রতি দুপুরে, প্রতি বিকেলে বা সন্ধ্যায়-- ওদের মুখরিত উপস্থিতিতে আমি মজা পেতাম। হ্যাঁ, মাঝে মধ্যে বিরক্তও হতাম।তবু সুখ পেয়েছি, আমার চোখের দেখা-- ওই চড়ুই দম্পতির সুখ ও অসুখ; টেনশন নয়তো ফূর্তি,    ----ওদের এক টুকরো সময় বন্দী  জীবনকাল  দেখে...

&quot;টুনটুনি&quot;

এই পাখিটি নানাভাবে আমার মধ্যে আছে।ছেলেবেলায় অনেকভাবে টুনটুনির সাথে সময় কেটেছে।আমাদের ছোট্ট একটি পুকুর ছিলো।পুকুরের তিনধারে মৃদু জংগল ছিলো।একধারে ছিলো মাঝারি বড়ো আকারের যজ্ঞডুমুর ফলের একটি গাছ। এই গাছের বড়ো বড়ো দুইপাতাকে জড়িয়ে টুনটুনি বাসা বেধেঁছে। নির্জন দুপুরবেলাতে--  আমি কোনো না কোনো সময় সুযোগ করে- টুনটুনির ওই বাসাটির কাছে যেতাম-- দেখতে,  এদের  সদ্যজাত পাড়া ডিমগুলি! টুনটুনির বাসা তৈরির কৌশল যে কাউকে চমৎকৃত করবে! পাতা পেচিঁয়ে নিয়ে সেলাই করার মতো যেভাবে, এই পাখি নিজের বাসা বাধেঁ তা দেখার জিনিস!  একটা-- শিল্পকর্মও  বলা  যায়। সুনসান্  দুপুর  বেলাতে টুনটুনি পাখির  টুন্ টুন্ কূজন আমাকে  বিভোর বা আনমনা  করে তুলতো। গাছের পাতার আড়ালে ঢাকা পড়া এদের অনড় বাসাটি, যখনই দেখতে পেতাম, মনে মনে খুশিতে ভরে উঠেছি! গাছের ডালে ডালে টুনটুনির অস্থির  উড়া উড়ি আর এই টুনটুনির স্বভাব স্বরে ডাকাডাকি-- আমি আজো শুনতে পাই।সেই মধুর ডাক, ওই স্মৃতি, মনের জানালা দিয়ে  এখনো যেনো ছায়াচিত্রের মতো দেখি! বাল্যকালের সেই অমর স্মৃতি অাজো বুকের দু&#039;পাশ জুড়ে রয়ে গেছে।...

&quot;দোয়েল&quot;

গায়ক  পাখি  দোয়েল। গম্ভীর  অথচ  চঞ্চলতা  মেশানো ওদের চলাফেরা। সুনির্দিষ্ট কিন্তু অানমনা এই পাখিটার স্বভাব! দু &#039;রঙে জড়ানো মিষ্টি এদের গায়ের রঙ।দাশর্নিক এদের চাহনি। পাখিটির দিকে তাকালে মনে হবে যেনো কিছুই দেখছে না, অথচ আশপাশের সব কিছুই দেখছে! যদিও এই পাখি চারপাশের পঙ্কিলতা নিয়ে ভাবে না। উদাস মনে যখন এদের  উদাসী করা গান শুনি---, তখন মনে হয়, দোয়েল সব গান কি নিজের জন্যে গায়? ইলেক্ট্রিক খুটিঁর মাথায় বা গাছের পাতার আড়ালে বা অন্য কোনো উচুঁতে যখন মনের সুখে গান করে, ওই সুরধ্বনির অাবেশ চারপাশকে ভরিয়ে তোলে।এমন এক মোহন সূর বিমুগ্ধ করবে-- যেকোন হৃদয়বান পাখি প্রেমিককে! সন্ধ্যার  আগে  আগে  ইস্কুলে পড়া  ছেলেবেলাকার  দিনে,  যখন দোয়েলের ডাক বা গান শুনতাম মনে হতো বাইরের মহান প্রকৃতি রাতের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে--- সেই মূহুর্তের অবস্হা বিবশ  করে দিতো অামাকে। মনে মনে ভাবতাম, --ছাত্র জীবনে আটকে পড়া অামাদের সবার থেকে এই  পাখিগুলো  কতো  সুখী! এদের কুচকুচে কালো চোখ, এদের গায়ের রঙের সাথে যেনো খাপখেয়ে যায়। কালোর উপরে  শুভ্র সাদা  রেখার আছঁড়ের টান,  --দারুণ লাগে! দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি হওয়ার  সম্পুর্ণ যোগ্যতাই রাখে। এভাবে এই দোয়েলদের এমন সম্মানের দাশর্নিক চাওয়াটা পুর্ণ  হয়েছে যেনো! ----

ক্রমশ;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10432/</link>
				<pubDate>Sat, 22 May 2021 14:55:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজকে&#8211; চড়ুই; টুনটুনি আর দোয়েলের গল্পঃ</p>
<p>[ &#8216;পাখিদের জন্যে আন্তরিকতা, এদের জন্যে ভালোবাসা&#8217; ]</p>
<p>&#8221;চড়ুই&#8221;</p>
<p>প্রিয় চড়ুই, এ পাখিটি আকারে ছোট। কিন্ত বর্ণিল। পুরুষ পাখিটি সুন্দর হয়। সম্ভবত: আকারে একটু বড়ো হয়।যেমন  চঞ্চল  তেমন  হুঁশিয়ার থাকে। মানুষের ঘরের চালায় তারা বেশি বাসা বাঁধে এবং এক রকম সেই পরিবারের প্রতিবেশী হয়ে উঠে।তারা সংসারী পাখি, গৃহস্থের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10432"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10432/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">48782cc1f4e13235e72259610e242ee1</guid>
				<title>[ &#039;পত্র(পাঠ)সাহিত্য এবং পাখিদের নিয়ে ছেলেবেলার নির্মল অনুভূতির স্মৃতিকথন&#039;--এই বিষয়দুটি  আমাকে  বেশ   আকর্ষণ   করে।  আমি  একটা   সময়ে  পক্ষীপ্রেমে  বিভোর হয়েছি! পাখির জগত  আর আমার তীব্র ভালোলাগা মিলেমিশে যখন একাকার হয়েছে, ---সেই উপলব্ধি ও খানিকটা  অভিজ্ঞতা থেকে ২০১৩/১৪ সালের  দিকে, -- আমি পাখির ছবি/ স্কেচ  এঁকে,  পাখিদের সম্বন্ধে  নিজের  কিছু  ভালোবাসার কথা লিখতে চেষ্টা করেছিলাম।আমার ওই লেখাগুলোর  মজা  হচ্ছে-- &#039;পাখির  ছবির  সাথে  এদের  নিয়ে লেখা।&#039; বিবিধ কারণে কিন্ত,  তুলট  লেখক মঞ্চে এখন, নিজের আঁকা ছবি পোস্ট করার সুযোগ নেই। এখানে  তাই, ---দ্বিতীয়  বিকল্প  হিশেবে পাখিদের নিয়ে আমার লেখাগুলি শুধুমাত্র পোস্ট করতে পারি;--- 
১ম অংশে-- পাখিদের গল্প।  
২য় অংশে-- পত্র(পাঠ) সাহিত্য।

&#039;পত্র(পাঠ) সাহিত্য&#039;--বলতে চিঠিটি পড়ার মধ্য দিয়ে  সাহিত্য আস্বাদন! পাঠক যখন পত্র সাহিত্যটি পড়বেন তখনই সেটি নৈঃশব্দিক পত্রপাঠ হবে।... 

পাখির জগত এবং আমার ভালোলাগাময়, --পুরোনো লেখাগুলিকে আর পরিমার্জন না করে এখানে পোস্ট করছি।কেননা- এই লেখা গুলি  ওই   সময়কে;  মানসিকতাকে;  পাখির  জন্য  কাতরতাকে;  প্রতিবেশ   অনুভূতিকে--- যে  রকমভাবে  প্রকাশ  করেছিলো সেই বোধকে  ঠিকঠাক রাখার উদ্দেশ্যে-- এমন কি লেখার শিরোনামটা পর্যন্ত! --&#039;পাখিদের জন্যে আন্তরিকতা, এদের জন্যে ভালোবাসা&#039; ]

আজকে &#039;কাক&#039; এর গল্প ---

&#039;পাখিদের জন্যে আন্তরিকতা, এদের জন্যে ভালোবাসা&#039;
-----------------------------------------------------------------------------

★ওয়াইল্ডলাইফে মনে করা হয় যে, -----পাখি হলো সবুজ প্রকৃতির হৃদয় !

[ কাক ]

আমাদের অধিকাংশের, -----
অর্ধেক নগর অর্ধেক গ্রাম মফস্বল জীবন, ---এই পরিবেশে এই  জীবনে, আমার অবশ্য প্রিয় কিছু পাখিদের নিয়ে-- ভাবতে ভালো  লাগে।এই যে নয় পূর্ণ নগর, নয় পূর্ণ গ্রামে প্রায় কল- কাকলীবিহীন  চারিদিকে শুধু একটি পাখিই, সব  সময়ে সহজভাবে পাখি দেখার  চাহিদা মেটানোর অগ্রে থাকে  এবং পাখিপ্রেমি  কারো ছেলেবেলা থেকে তাকে আজন্ম  সঙ্গ যে  দেয়, --সেটি  অবশ্যই হবে কাক! আমার বড়োবেলায় এখনো কাককে ভালোবাসি।খুউব  চালাক হয়  এই  পাখি-- কাক।বালক  বয়সে  যখন  খড়ের বেড়া বা টিনের চালে  বসে থাকা কাক,  ছুড়েঁ দেয়া রুটির ছোট্ট  টুকরো বা ছুঁড়ে দেওয়া মুড়িকে খট্  করে  লুফে নিত! সেটা  দেখে  মুগ্ধ হতাম  আশ্চর্যতো... ভাবতাম কী করে করতে পারে! শীতকালে তার মোলায়েম কুচকুচে  কালো রঙ দেখে চমৎকৃত হয়েছি। এই  কাকেরা অবশ্য সামাজিক পাখিও।কাকদের ছানাপোনাকে ধরে,  কেউ অত্যাচার করলে, --দল বেধেঁ এদের  সে কি  রাগতঃ আচরণ দেখেছি!  সাধারণভাবে  জানা  মতে  এরাই  একমাত্র  পাখি,  যে  পাখিরা  স্বজনের  মৃত্যুতে শোক প্রকাশ বা শোকসভা করে। এরা বাসা বাধেঁ উঁচু  ইলেক্ট্রিক খুঁটির মাথায়, কোনো মাঝারি  গাছের  উচ্চতর  ডালে।--দুর থেকে কোনো কাকের বাসাকে দেখলে মনে হবে, কাঁপা হাতে কেউ যেনো সবেমাত্র তার প্রথম জলরঙের ছবিটা একেঁ শেষ করেছে! এই কাকেরা যেমন চতুর  তেমন  বোকামিও করে।কোকিল  পাখি  কাকের  বাসায়  ডিম পেড়ে  চলে  যায়। এরপরে  কাক,  কোকিলের  পেড়ে  যাওয়া  ডিমে দিনকে দিন বুকের তাপ&#039; দিয়ে ছানা ফুটায়।আর নিজের বাচ্চা ভেবে সানন্দে বড়  করে তোলে।এটি  প্রকৃতির এক অসামান্য কারসাজি কাকের সাথে! ঝড় বাদলের দিনে-- তুমুল বৃষ্টির ফোঁটায় ভিজে জব জবে হয়ে, যখন কোথাও চুপচাপ বসে কাক-- নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতো, খুউব খারাপ লেগেছে সেই সব কষ্টের ছবি দেখে।আমি নরম মনে এক ধরণের অপরাধবোধে ভুগতাম। অন্য পাখির চেয়ে রঙ সৌষ্টবে এদের হয়তো-রঙ বাহারের ঐশ্বর্য নেই,  কিন্ত আধাআধি নগর বা মফস্বলি  জীবনে  ভোর  সকালে,  --রোজ ঘুম ভাঙ্গানিয়ার  কাজ কাকই কিন্ত করে! প্রায় ভোর রাতে এদের কর্কশ ডাকে, ভোর হওয়ার  অামেজকে সার্থক করে তোলে --আহা!  সন্ধ্যার আকাশে যখন দেখেছি কাকেরা উড়ে উড়ে  নিজেদের বাসায় ফিরে যাচ্ছে,  --চলমান  কালোছায়ার  সেই  সিল্যুট  ছবিকে, নাহ, ---আজো ভুলতে পারিনি!...

লেখা- ১৫.১১.১৫ ইং
ক্রমশ...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10406/</link>
				<pubDate>Fri, 21 May 2021 16:47:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>[ &#8216;পত্র(পাঠ)সাহিত্য এবং পাখিদের নিয়ে ছেলেবেলার নির্মল অনুভূতির স্মৃতিকথন&#8217;&#8211;এই বিষয়দুটি  আমাকে  বেশ   আকর্ষণ   করে।  আমি  একটা   সময়ে  পক্ষীপ্রেমে  বিভোর হয়েছি! পাখির জগত  আর আমার তীব্র ভালোলাগা মিলেমিশে যখন একাকার হয়েছে, &#8212;সেই উপলব্ধি ও খানিকটা  অভিজ্ঞতা থেকে ২০১৩/১৪ সালের  দিকে, &#8212; আমি পাখির ছবি/ স্কেচ  এঁকে,  পাখিদের সম্বন্ধে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10406"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10406/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>16</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">94aa91177af6212960f4364ddd9becb2</guid>
				<title>~মা~

এই যে শাদা মেঘ-- শরতের নীলাকাশে, বৃষ্টিধারার কতোবার অগুণতি ফোঁটার স্বাদ নিয়েছি চেখে জিভে, ডিমের কুসুমের মতোন শেষ বিকেলে সূর্যের হাসি, ঋতুর যাতায়াত-- প্রকৃতির রুপ বৈচিত্র্য!  বসন্তকাল তার অজস্র রঙিন ফুল, ফুলের সুগন্ধি, প্রতি সন্ধ্যাবেলা, জ্যোৎস্নার আলো, গভীর রাত্রির মহিমা, ভোর সকালে শিউলিতলার সুগন্ধ, দিনের বেলায় সূর্যের সতেজ আলোয় সবুজ পাতার মাখামাখি, আঁকা ছবির মতো নদীপারে বাতাসের ছোটাছুটির আনন্দ! এই সব আরো কতো কি দেখে-শুনে-বোঝে সুখ পেতাম ছোটবেলাতে! ----কেননা আমি পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছিলাম বলে।
বড়োবেলায়, ---
চোখের সামনে অপার প্রকৃতি;  মানুষের সৃষ্টিশীলতা;  বেঁচে থাকার লাভ-- সামাজিক অর্জন;--পরিচিতি;--প্রতিষ্ঠা;-- অথবা যা কিছু, এবং--এই আমি বা আমরা, আমাদেরই মা&#039;য়ের দশ মাসের নিঃশব্দ কষ্টো ও অন্তরের সুখের ফসল।নিকষ ঘন কালো অন্ধকার জরায়ু নামক কুঠুরিতে স্বযত্নে লালন ও ভূমিষ্ঠ হবার পরে-- পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মমতায় এক দশকেরও  বেশি সময়কাল ব্যাপি প্রতিপালন- কোনো রকমের প্রতিদান বিহীন ভাবে, ভাবা যায়! আমাদের মা-- এই মা, এই শব্দটি-সর্বাধিক উচ্চারিত এক নাম! বিশ্বের সব ভাষাতে এই নামটির ওজন -গুরুত্ব -মান- মমত্ব ও আবেগের-- আবেদন একই! হয়তো আমি এগারো কি বারো মাস বয়স থেকে মা ডাকতে শুরু করেছিলাম।হয়তো- আমার মা, আমি যখন প্রথম মাটির উপরে--অতি কোমল দোদুল্যমান পা দুটি ফেলে গুটি গুটি হাঁটছি-- আমার মা সেই দিকে সুখীমুখে তাকিয়ে দেখতো! এই অনন্য প্রকৃতির অনন্য এক অবদান মায়ের দুধ- স্তন্যপায়ী শিশু সবচেয়ে নিশ্চিন্তে যা পান করে বড়ো হতে থাকে...  দশ বা এগারো বছর বয়সে একদিন ঝড়ের রাতে আমার খুউব শীত শীত করছিলো--কুঁকড়ে শুয়ে আছি, গায়ে শীত মানার কোনো কাঁথা নেই--ঘুমের ঘোরে এক সময়ে মনে হলো আর শীত লাগছে না-- মা কখন নিঃশব্দে এসে গায়ের উপর কাঁথা এনে দিয়ে গেছে! একটু বড়ো হয়ে-- পরীক্ষার পড়া মুখস্থ করে করে যখন শূণ্য শূণ্য লাগতো--কিছু আর ভালো লাগতো না, মা এসে কাছে যখন বসতো- আমি ভুলে যেতাম আমার শূণ্যতাবোধ! পরীক্ষার দুঃশ্চিন্তা মেশানো চাপ নিজেকে একাকী করে তোলে-- মায়ের মমতার সঙ্গ সেই দুর্ভাবনা দূরে টেলে দিতো!--- আরো একটু বড়ো হয়ে ইস্কুল পার করে কলেজে যখন গেছি-- মায়ের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব বাড়ে... প্রত্যক্ষ মমতা কমতে থাকে।লেখাপড়া শেষ করে কর্মযজ্ঞে যখন ঢুকে পড়ি তখন আরো একটু করে বাড়ে দূরত্ব মায়ের সঙ্গে- এরপরে---- 
জীবনচক্রের নিয়মে মায়ের ইচ্ছায় বৈবাহিক সম্পর্কে যখন আমি জড়াই-- আমি এবং একজন নতুন সঙ্গিনী-- আমি থেকে এখন আমরা হয়েছি...   
মায়ের সঙ্গে আরো দূরত্ব তৈরি হয়-- কর্মব্যস্ততা, বাস্তবের সংসার, ঝুট ঝামেলা আরো কতো কি আমাকে পেয়ে বসে... তবু মা, আমাকে দূর থেকে দেখে-- চোখাচোখি হতে থাকে, খুব কাছ দিয়ে যাওযার সময় জানতে চাই-- &#039;বাবারে, কেমন আছিস-- শরীরটা ভালো আছেতো?&#039; আমার বড়ো হয়ে যাওযার দম্ভ বা অভিমান আমাকে পিছন থেকে টেনে ধরে--শুধু বলি- &#039;সব ভালো আছে।&#039; কেবল আগ বাড়িয়ে জানতে চাইনি--&#039;তুমি কেমন আছো মা?&#039; যেদিন সত্যি সত্যি আমাদের বাবা চিরদিনের জন্য পরপারের যাত্রী হলেন-
বুঝেছিলাম এই ভুবনে শতভাগ বিশ্বাস করার মতো একটি ব্যাপার রয়েছে যে,-- একদিন আমরা কেউ বেঁচে থাকবো না! বাবার মৃত্যুর পরে আমার মা খুব একেলা হয়ে পড়ে--এবং সব কিছুর বাইরে পড়ে যায়... আমার মা যে আছে সেটাও ভূলতে থাকি-- নগর বাস্তবতার প্রাণহীন বিষময় জীবন যাপনে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি- মা&#039;কে হারায় তারও আগে-- পঞ্চাশ পেরোনো আমি-- এক মধ্য রাত্রিতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে, উঠে আমি দেয়ালের এককোণে অযত্ন, আঁধার আর অকৃতজ্ঞ ভাবে ঝোলানো মায়ের ছবিটার সামনে এসে দাঁড়ায়।হাত বাড়িয়ে মায়ের মুখটা মুছে দিই,-মনে হলো-মায়ের চোখগুলো যেনো ভেজা... ছবিটি নামিয়ে আলোতে আনি-- ভালো করে দেখার চেষ্টা করি-- মা কি কাঁদছে?... এবার পুরো ছবিই ঝাপসা দেখছি-- হাত দিয়ে ভালো মতো মোছার চেষ্টা করি-- এতোক্ষণ খেয়ালই করা হয়নি-- আমারই টপ টপ করে পড়া চোখের জলে মায়ের চোখ দুটো ভিজে যাচ্ছিলো!....

[গল্পঃ ৯/০৫/২০২১]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10007/</link>
				<pubDate>Sun, 09 May 2021 16:32:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>~মা~</p>
<p>এই যে শাদা মেঘ&#8211; শরতের নীলাকাশে, বৃষ্টিধারার কতোবার অগুণতি ফোঁটার স্বাদ নিয়েছি চেখে জিভে, ডিমের কুসুমের মতোন শেষ বিকেলে সূর্যের হাসি, ঋতুর যাতায়াত&#8211; প্রকৃতির রুপ বৈচিত্র্য!  বসন্তকাল তার অজস্র রঙিন ফুল, ফুলের সুগন্ধি, প্রতি সন্ধ্যাবেলা, জ্যোৎস্নার আলো, গভীর রাত্রির মহিমা, ভোর সকালে শিউলিতলার সুগন্ধ, দিনের বেলায় সূর্যের সতেজ আলোয় সবুজ পাত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10007"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10007/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">96f31c37cdfd93f350a39a0893f4fa44</guid>
				<title>&quot;রবি&#039;র কিরণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও জন্ম-দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা&quot;....
--------------------------------------------------------------------------------
বিশ্বখ্যাত  বাঙালী  কবি- রবীন্দ্রনাথের  বৃদ্ধ  বয়সের--- শয্যাশায়ী  তাঁর  শাদা দাড়িতে গোঁফেতে পূর্ণ সৌম্যকান্তির মুখ মন্ডলটিকে চিত্র কল্পনা করে;---- &#x1f48c;

&quot;....শান্ত-শায়িত, অমগ্ন, পরিশ্রান্ত, জীবনক্লান্ত- কিন্ত সৌম্যদর্শন জ্যোর্তিপ্রভায়! বাঙলা  সাহিত্যের  সূর্যালোক! এই  ভাষাটির &#039;সাহিত্য ও  শিল্পকলা&#039;কে  সূর্যকিরণের  মতো সব দিক দিয়ে রাঙিয়ে দিতে সচেষ্ট ছিলেন....
ব্যাক্তি তিনি শেষ বয়সে এসে রুপান্তরিত হন! তাঁর নারীবাদে যোগ হয়, নারী-স্বাধীনতা; আর নারীদেরই উদ্যোগের এক জনারণ্য সভায় এই-বিষয়ে-- স্বপক্ষ মূল্যবান বক্তৃতাও করেছেন যিনি, ---তিনি রবীন্দ্রনাথ ! &quot;

৮ই মে, ২০২১ইং,</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/9914/</link>
				<pubDate>Sat, 08 May 2021 08:31:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;রবি&#8217;র কিরণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও জন্ম-দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা&#8221;&#8230;.<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
বিশ্বখ্যাত  বাঙালী  কবি- রবীন্দ্রনাথের  বৃদ্ধ  বয়সের&#8212; শয্যাশায়ী  তাঁর  শাদা দাড়িতে গোঁফেতে পূর্ণ সৌম্যকান্তির মুখ মন্ডলটিকে চিত্র কল্পনা করে;&#8212;- &#x1f48c;</p>
<p>&#8220;&#8230;.শান্ত-শায়িত, অমগ্ন, পরিশ্রা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-9914"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/9914/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3b297ad5e26311de915aa3cf0f7e8826</guid>
				<title>[কোনো ঐতিহাসিক বিষয়, প্রেক্ষাপট বা পটভূমি যখন কবিতার শরীর মনের ভিত্তি হয়- সুনির্দিষ্টতাই কবিতার  স্বাধীনতা বাঁধা পড়ে, কবিতাটি হয়ে উঠে তখন ঐতিহাসিক এক ছবি!...]  





স্তব্ধ দুপুর
&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;&quot;

জ্যোষ্ঠের   খরা   তপ্ত   স্তব্ধ   দুপুর   বেলা;- 
দিনান্তে,  সময়টির  বেশ  আগ  মুহূর্ত  এখন;
বাল্যকাল  থেকে  এই  বয়সে  কতো  বেলা দেখেছি, 
কতো  অনন্তক্ষণ  দেখলাম!  বয়স,  বৎসর,  সময়,
সমান্তরাল  অযৌথ  আমার  জীবনে  ক্ষণবেলা- 
ক্ষণকাল; অগুণতি ঘন্টা; মিনিট; সেকেন্ডের মিছিল।
কুসুম  কোমল পদ্ম ফুলের  স্বপ্নে মূর্ছিত  সোনালু;-- 
পশ্চিমের  হৃদয়াকাশ  আমার,  কয়েকটি  নীলাম্বরী 
পদ্মফুল কালের  ব্যবধানে ফুঠেছিলো;-
দু&#039;চারটি জোনাকি পোকা রাত ভেবে তাদের 
অলৌকিক নীল আলোর দ্যুতি ছড়িয়েছিল। 
তারপর ইচ্ছে মৃত্যুর কাছে তারা নিজেকে সঁপে দেয়।
 ---আমার জীবন;-- 
এই  আমি,  অকাল বিদায় দেখে দেখে  এই সময় 
ফুরিয়ে  ফেলা  নিষ্ফলা  এক সময়ের  শেষ  অথবা 
অন্তিমকালে এসে  আমি  দাঁড়িয়েছি। 
এখান থেকে এ বিন্দু থেকে যে কেউ নিমন্ত্রণের জন্য
 আমন্ত্রণের আবেদন করে নাম লেখায়।
যেখানে দেখবো না ইহজীবনের কোনো স্তব্ধ দুপুর বেলা।
আমার সোনাঝরা ইহজীবনের কোনো কিছুু সেখানে 
খুঁজে পাবো না,  কেউ পাবে না!---
ক্লদ মনের পদ্মপুকুরে পদ্ম ফুলের ছায়ামুখ;---
এই জীবন, গল্পচ্ছলে বিজয়ী বিক্রমাদিত্য ছিলাম।
তুমি  বহু  দূরের  সৌবির কন্যা  মানবী  অঙ্গনা;--
ঘাসের ডগায় রোমাঞ্চের শিশির ভেজা দুটি ঘাস
ফড়িং, কয়েকটি প্রজাপতি, মৃত স্বাতী নক্ষত্রের বিরহ।
আরো  কতো  কিছু  নিয়ে--- এ  সোনাঝরা  জীবন;--
এখন  এসব  দূর  অতীতের  চিত্রকল্প;
একদিন  ঠিক  স্তব্ধ দুপুরে--- বিস্মরণের  গ্রেভইয়ার্ডে 
একটি এপিটাফ,  কিছু লাল বটফল,  কিছু ভাঁটফুল 
ভূল  করে দিয়ে  গেছে কেউ  একজন!----
এমন  মৃত  জীবনের  উপর  যেটি  স্মৃতিক্ষত; 
প্রকৃতির  মিহি  ধূলোর  আস্তরণ  পড়ে  থাকবে--
আমি  শুধু  নেই,  আমাকে  কি  তোমার  মনে  পড়বে,--
ইতিহাসের  উজ্জ্বয়িনী  এক  মানবী?
--------   ---------   --------  --------   --------   --------

 [* গ্রেভইয়ার্ড-- সমাধিস্থল। 
  * অঙ্গনা-- যার কল্যাণসূচক অঙ্গ আছে, সুন্দরী।
  * সৌবীর-- সিন্দুনদের তীরবর্তী প্রাচীন দেশ। 
  * প্রচ্ছদ- নারীমুখ, রবীন্দ্রনাথের নিজের হাতে আঁকা।]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/9830/</link>
				<pubDate>Thu, 06 May 2021 07:12:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>[কোনো ঐতিহাসিক বিষয়, প্রেক্ষাপট বা পটভূমি যখন কবিতার শরীর মনের ভিত্তি হয়- সুনির্দিষ্টতাই কবিতার  স্বাধীনতা বাঁধা পড়ে, কবিতাটি হয়ে উঠে তখন ঐতিহাসিক এক ছবি!&#8230;]  </p>
<p>স্তব্ধ দুপুর<br />
&#8220;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;&#8221;</p>
<p>জ্যোষ্ঠের   খরা   তপ্ত   স্তব্ধ   দুপুর   বেলা;-<br />
দিনান্তে,  সময়টির  বেশ  আগ  মুহূর্ত  এখন;<br />
বাল্যকাল  থেকে  এই  বয়সে  কতো  বেলা দেখেছি,<br />
কতো  অনন্তক্ষ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-9830"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/9830/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>15</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">030af53ec7855d91e3d3e045bae2c42c</guid>
				<title>ভোর সকালের বৃষ্টিতে ধোয়া রেইনট্রি ফুল
````````````````````````````

শিল্পী মেঘদত্তের-আজকে ভোর সকালেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো।এমনটা সাধারণত হয় না। আজকে হলো।গভীর রাত পর্যন্ত ছবি আঁকতে যে অভ্যস্ত, ভোরের দিকে তার গাঢ় ঘুম হবে এটাইতো স্বাভাবিক। ---এক পুরানো পাকা বাড়ির দ্বিতীয় তলাতে কোনার দিকের একটি ছোট খাটো ঘর আছে ছবি আঁকার জন্যে শিল্পী মেঘদত্তের।যাকে বলে- স্টুডিও রুম।এই ঘরে ছবি আঁকতে গিয়ে যদি কখনো রাত পার করে ভোর হয়,  মেঘদত্ত এই ঘরেই কোনো ভাবে কুন্ডুলী পাকিয়ে ঘুম ঘুম চোখে শুয়ে পড়ে! 
মেঘদত্ত বুঝতে পারছে, তার চোখে এখন ঘুমটা আর আসছে না। বিছানা ছেড়ে উঠে এসে খিড়কী জানালার পাশে--- টেবিল লাগোয়া চেয়ারটাতে বসলো।জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে-- অল্প দূরের বড়ো রেইনট্রি গাছটির ডালে ডালে অজস্র ফুল ফুঠে আছে।শিল্পী মেঘদত্ত প্রথমে খেয়াল করেনি, বাইরে যে বৃষ্টি হচ্ছিলো।এই বৃষ্টিপড়ার কারণে ভোরের ফর্সা আকাশ, ফর্সা দেখানোর বদলে কিছুটা কালো দেখাচ্ছে!...
কী সুন্দর ফুল! শিল্পী মেঘদত্ত দীর্ঘ সময় চোখের পলক না ফেলে ফুলের সৌন্দর্য, চোখ দিয়ে নয়, হৃদয় দিয়ে দেখতে চেষ্টা করে। ভাবতে থাকলো,---- 
ছোটবেলায় শুনেছে, ---এই ফুলকে ওদের গ্রামের মানুষ শীল-কড়ই ফুল বলতো।গোলাপী রঙের সাথে সাদা মেশানো অনাদরের এমন সুন্দর ফুলগুলিকে, হাজার সংখ্যায় এক সাথে দেখলে, মনের ভেতরে ঘুমিয়ে পড়া সৌন্দর্য বোধের ঘুম অবশ্যই ভাঙ্গবে- যদি কেউ তা হৃদয়টা দিয়ে দেখে-----

আজকের শিল্পী মেঘদত্ত এই শহরে একজন নামকরা পোর্ট্রেট পেইন্টার। তার আছে একটি চমৎকার পরিচিতি মহল।এই পরিচিত মহলে মেঘদত্তের আরেকটি শিল্পগুণের সুখ্যাতি পাওয়া যায় তার অভিনব দক্ষতায় আঁকা-ন্যুড স্টাডির, অন্যটি ল্যান্ডস্কেপের! মেঘদত্ত কম সময়ে Facture দিয়ে ছবি আঁকে।নিজস্ব শিল্প নিপুণতায় চমৎকার মুন্সিয়ানাতে- বিষয়ের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলার কাজ গুলি, শিল্পী মেঘদত্তকে বিশিষ্ট করেছে।অবশ্য তার করা পোর্ট্রেট বা আঁকা মুখের ছবি এতোটাই, নিখুঁত হয় ক্যামেরার লেন্সকে পর্যন্তকে হারিয়ে দিতে পারে!
মেঘদত্তের ছবি আঁকার ঘরটি ছোটো।বড়ো কোনো ছবি আঁকার কাজ সে ক্লায়েন্টের পছন্দসই জায়গায় গিয়ে করে।অনেকে শুয়ে বসে বা সিটিং দিয়ে ছবি আঁকাতে চান, তখন সেটা তার স্টুডিও ঘরে আঁকা সম্ভব হয় না।অাবার অনেক খেয়ালী ক্লায়েন্ট- ব্যাক্তিগত ভাবে ছবি আঁকান।সেইসব ক্লায়েন্টরা তাদের রিজার্ভ ছবি আঁকার ব্যবস্হা নিজেরাই করে থাকেন।

মেঘদত্তের স্ত্রী শিউলি, ঘুম ভাঙ্গলে দেখতে পাচ্ছে- তার স্বামী বিছানায় নেই।গ্রিলের জানালার পাশের চেয়ারটাতে ঠাঁই বসে আছে।দক্ষিণের কামরায়- তাদের মেয়ে আন্না, এবারে যে নবম শ্রেণীতে পড়ছে।সঙ্গে ছোট ভাই যে ষষ্ঠ শ্রেণীতে এবারে উঠলো--এরা দুজন এখনো বেঘোর ঘুমিয়ে আছে! পাশে  লাগালাগি ড্রয়িং কাম এক জনের থাকার ব্যবস্হা রয়েছে। --এখানে মেঘদত্তের বাবার দূর সম্পর্কের বোন, সম্পর্কে মেঘদত্তের পিসি একা ঘুমাচ্ছিলেন।তার এই পিসি বিধবা হওয়ার পর কষ্টে ছিলো।মেঘদত্তের ছেলের জন্মের দুঃসময়ে তার পিসি এসেছিলো।আর ফিরে যায়নি.... 

মেঘদত্তের পিছনে স্ত্রী শিউলি নিঃশব্দে পিছনে এসে কখন দাঁড়িয়েছে, মেঘদত্ত বুঝতে পারে না।তন্ময় হয়ে জানালার বাইরে রেইনট্রি গাছের অজস্র ফুলগুলো দেখছিলো।ভোরের বৃষ্টিপাতে কাক ভেজা হয়ে এই নগর ফুলেরা, ভিজে ভিজে সজীব হচ্ছিলো যেনো!---
তার স্ত্রী শিউলি না ডেকে আলতো করে তার কাঁধে হাত রাখে।হাতের স্পর্শে মগ্ন ভাব থেকে ফিরে আসে শিল্পী মেঘদত্তের... দিনের বেলার আটপৌড়ে বাস্তবে!
স্ত্রী বললো- &#039;তোমার কি হয়েছে।এতো ভোরে জেগে উঠলে যে?&#039;
----মেঘদত্ত মাথা নেড়ে বোঝায়-- সে ভালো আছে।মুখে কিছু বলল না।
মেঘদত্তের স্ত্রী শিউলি বুঝতে পারছে তার স্বামীর নিশ্চয় কিছু হয়েছে।নিজের স্বামীকে সে দীর্ঘদিন ধরে চিনে।এই মানুষটা মুখে কিছু না বললেও মানুষটার মুখ কিন্ত নিজের মনের অনেক কথায় বলে দেয়।শিউলি স্বামীর মুখটা, ঘরের ভেতরের আলো আঁধারি তে তবু ভালো করে দেখে বুঝতে চেষ্টা করছিলো--- এমন কি হতে পারে...
ভোরের বৃষ্টিস্নাত হালকা ঠান্ডার পরিবেশটাকে চাঙ্গা করতে শিউলী তার স্বামীকে বলে-
-&#039;চা খাবে? তোমার পছন্দের লবঙ্গ তেজপাতার চা করে আনি।&#039; 
মেঘদত্ত স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে শুধু হাসে।চা বানাতে তার স্ত্রী রান্না ঘরের দিকে পা বাড়াবে এই সময়ে মেঘদত্ত ডাকে- -&#039;আমাকে কয়েকদিনের জন্য বাইরে থাকতে হবে।একেবারে কাজ শেষ করে ফিরতে হবে।&#039;
মেঘদত্তের স্ত্রী জিজ্ঞেস করে- &#039;কাজটা কিসের, ছবি আঁকারতো?&#039; 
মেঘদত্ত শুধু &#039;হুম--।বলে- চুপ করে থাকে।
মেঘদত্তের স্ত্রী বলে-&#039;তাতে কি, কাজের জন্য যাবে।কাজের জন্য আগেও তুমি বাইরে গেছো।তখন যতো রাতই হোক বাসায় ফিরে আসতে।এবারে-- কি দূরে কোথাও যেতে হবে?&#039;
মেঘদত্ত জানালা থেকে চোখ না সড়িয়ে বললো- &#039;ঠিক অতো দূরে নয়।ধরো-- এখান হতে পাঁচ মাইল হবে, এই শহরের মধ্যে।এবারের ক্লায়েন্ট রিজার্ভ করে ন্যুড ফিগার আঁকাতে চাইছে।&#039;
এই পর্যন্ত বলে সে একটু থামলো।আঁড় চোখে তাকালো স্ত্রীর দিকে।ভাবান্তরহীন মুখে জিজ্ঞেস করে- &#039;তুমি কি বলছো, ---আমি কি যাবো?
শিউলি আলতো করে ঠোঁট কামড়ে তার স্বামীকে দেখলো।তারপরে জানতে চাই- &#039;তোমার এবারের ক্লায়েন্ট কি --মেয়েলোক?&#039; 
মেঘদত্ত কিছুটা সংকোচ ও দ্বিধার সাথে মৃদুভাবে মাথা দুলিয়ে ছোট্ট করে বললো- &#039;হ্যাঁ-।&#039;
-&#039;আমি চা করে আনছি। ....মুখহাত ধুয়ে এসে, তোমার ছবি আঁকার ঘরে গিয়ে বসো---।&#039;

-----রান্না ঘরের দিকে যেতে যেতে----
মেঘদত্তের স্ত্রী শিউলির এখন মনে হতে থাকে শুধু যে- বাইরে ভোরের বৃষ্টি হচ্ছে তা নয়, এই বৃষ্টি গোপনে তার মনের ভেতরও ঝড়ছে।কালো মেঘের বৃষ্টি..  ..একটি দীর্ঘ শ্বাসকে শিউলি চেপে ধরে মনের বৃষ্টি-বিরহ&#039;কে গোপন করার চেষ্টা করতে থাকে।মুখ ঘুরিয়ে দ্রুত পা চালায়- যাতে স্বামী মেঘদত্তকে তার এই মুখটি আর দেখাতে না হয়।-
...মেঘদত্ত আড়ষ্ঠ হয়ে তার স্ত্রীর তাড়াতাড়ি চলে যাবার দিকে অর্থহীন তাকিয়ে দেখে- 
মেঘদত্তের এখন, নিজেকে কিছুটা হালকা মনে হতে থাকে।গুরুত্বের বাইরেই পড়ে যাওয়া যেমন! এমন আগে মনে হতো না।কাজের উদ্যমে হয়তো সে এসব আগে খেয়াল করতো না।সংগোপনের কোনো ইচ্ছে কি মানুষকে বিব্রত করতে পারে, শূণ্য করে তুলতে পারে? এসব কখনো ভাবেনি।ভাবার প্রয়োজনও মনে করেনি।কিন্ত স্ত্রী শিঁউলির চোখে নিজেকে এখন কেনো হালকা মনে করছে? মনের কোনো পাপ নাকি মানুষকে মনের ভেতরে ক্ষুদ্র করে তোলে--- বলে সে জেনেছে...
তাদের চারুকলা কলেজের এক প্রিয় স্যার প্রায়ই এই কথাটি বলতেন।তারপর একটা সময় পরে,ওই চেপে বসা বোধ- অজ্ঞাত ছুরিকার মতো খোঁচানি দিয়ে লাগাতার পীড়ন করতে থাকবে! ---তাহলে, তারও মনে কি কোনো ভূলে যাওয়া অতীতের কোনো পাপ রয়েছে। --এখন যা সে-- মনে করতে পারছে না....
মাথায় আবোল তাবোল শংকার চিন্তারা খেলা করে যেতে থাকে! --এতে অন্য রকমের এক অপরাধ বোধের ছায়া তাকে ক্রমশ ঘিরে ফেলতে থাকে।এইসব ভাবতে না চাইলে ও সে এড়িয়ে যেতে পারবে না! স্বয়ংক্রিয় হয়ে তাকে চেপে ধরতে থাকবে!...

-----এরই মধ্যে মেঘদত্তের স্ত্রী হাতে করে চায়ের কাপ নিয়ে ঘরে ঢুকলো--

চায়ের কাপটি মেঘদত্তকে বাড়িয়ে দিয়ে স্ত্রী শিউলি জানতে চাই,
-&#039;এখন যদি আমি বলি, ছবি আঁকবার এই ট্যুরটা বাদ দাও তাহলে কি তুমি যাবে না?&#039;
---স্ত্রী শিউলির এই কথাতে মেঘদত্ত কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যায়... 
মেঘদত্ত বলে- &#039;এইবারের ছবি আঁকবার ডাকটি পেয়েছি অত্যন্ত ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যাক্তির কাছ থেকে।টাকাপয়সা  আর  রাজনীতির  ক্ষমতা এদের হাতের মুঠোয়।এই শহরের এমন ধনী ও ক্ষমতাসীন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক মানুষের ব্যাক্তিগত ইচ্ছায় ছবি আঁকবার অনুরোধ আগেতো পাইনি।এখন পেলাম।--না গেলে ক্যারিয়ারের জন্য খারাপ হবে।&#039;
শিউলি বলে-&#039;এবারেরটা কি আসলে ছবি আঁকার অনুরোধ, নাকি আদেশ এসেছে?&#039; 
মেঘদত্ত মুখ শক্ত করে শেষ করা চায়ের কাপটা টেবিলের উপরে রেখে বললো,
--&#039;এই রকম মানুষদের কাছ থেকে কাজ করার অনুরোধকে বুঝতে হয় আদেশ।আর আদেশ অমান্যের বিপরীতে যা হতে পারে, তাহলো নিজের পেশাগত জীবনের উপর নিজের হাতে ভয়াল রাহুকেতুর দাঁতের কামড় বসিয়ে দেওয়া।আমাকে কিন্ত সুনামের উপর চলতে হয়।কেটেকুটে পরিশ্রম করে ক্লায়েন্টের ভালো ছবি আঁকার যে সুনাম।&#039;
---&#039;তাহলে- আমার থেকে অনুমতি নেয়ার আদৌ কি কোনো দরকার আছে?&#039;      শিউলি জানতে চাই --
--এই কথাতে তার স্ত্রী শিউলির মন খারাপের ব্যাপারটি ঠিকরে বেরিয়ে পড়েছে!মেঘদত্ত সেটা বুঝতে পারলো।সে-- এইবার অভিমান পেরোনো- তার দুঃখিতা স্ত্রীকে প্রশ্ন করে,-&#039;আচ্ছা, আমি গেলাম না।কাজটি শেষপযর্ন্ত করলাম না।তাহলে কি হবে?&#039; 
তার স্ত্রী মাথা নিচু করে আছে।ব্যাথিত মুখে বললো- &#039;আমি জানি না।&#039;
--&#039;ছবি আঁকাআঁকি যদিও আমার পেশা।তবে পেশার বাইরে আমিও কিন্ত একজন ব্যাক্তি মানুষ।এই ব্যাক্তিই তোমার নিজস্ব কিছু।পেশার সাথে আমার সম্পর্কটি রোজ গারের।আমি পেশাদার আর্টিষ্ট হলেও আমার ব্যাক্তিগত একটা মন আছে।এই মন- টাকে যেমন ভালোবাসি তেমন আমার পরিবারকে আমি ভালোবাসি।মনে রেখো, পেশার বাইরে এই যে মানুষটা কিন্ত তোমার হাজব্যান্ড।সে শুধু তোমার, তোমাদের কথা, সংসারের জন্য ভাববে।&#039;  
মেঘদত্তের বলার পরে--স্ত্রী শিউলির গুমোট হয়ে যাওয়া বৃষ্টিস্নাত মনের কৃষ্ণমেঘ যেনো-- ধীরে ধীরে সরে যেতে শুরু করেছে...
....মেঘদত্ত আরো বলে,
-&#039;দেখো, আমার মনের একান্ত শিল্পচিন্তার স্বাধীনতাকে বন্ধক রেখে, কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা বিভাগের প্রধান পদকে আমি জীবনের লক্ষ্য হিশেবে দেখিনি। ছবি আঁকবো বলে শিল্পী হতে চেয়েছি।আমার বাবা মনে প্রাণে তাই চেয়েছিলেন।হয়তো-রোজগারের এই পালিশ করা বাজারে ব্যর্থ একজন, --আমি গরীব মানুষ বলে।একেই তুমি, আমার বাস্তব ভূল বলতে পারবে।যদিও শিল্পশ্রম আমার বর্তমানের পেশা।কিন্ত মাথা নত করে শিল্প বেঁচে খায় না।&#039;

মেঘদত্তের স্ত্রী শিউলি- তন্ময় হয়ে নিজের কাপের চা একটু একটু শেষ করতে থাকে।মুখে কোনো কথা না বললেও বোঝা যায়, হৃদয় দিয়ে স্বামীর কথাগুলি শুনছে... 
--সেদিন বিভাস বাবুর সাথে আর্ট গ্যালারীতে দেখা হল।আমাদের উপরে, তিন তলায় এক সময়ে যিনি থাকতেন।বিশিষ্ট আর্ট সমালোচক, জ্ঞানী মানুষ।তোমাদের খোঁজ খবরও নিলেন।কথায় কথায় আলাপের এক পর্যায়ে আমার কাছে জানতে চেয়েছেন,- বর্তমান কালের আধুনিক শিল্পকলা ও আধুনিক শিল্পী জীবন নিয়ে আমি কি ভাবছি....
আমি বলেছিলাম,--
....&#039;পুরোনো কালের মহান শিল্পীরা প্রায় সবাই ছন্নছাড়া ছিলেন। তাঁরা সকলেই বাস্তব বিবর্জিত, বলতে হবে-সংসার উন্নাসিক মানুষ! আমি নগন্য একজন অাধুনিক কালের  চিত্রকর।কিন্ত পরিবার বিমুখ হইনি।আধুনিক এই-কালটা, শিল্প-রসে ডুব দিয়ে নিমগ্ন সাধনা করবার সময় নয়।শিল্পকে চর্চা করার কাল! ভবঘুরে জীবন বিমুখ হয়ে শিল্পের আদি শেখড় সন্ধানী সাধকদের পুরাকালের সক্রেটিসের মতোন, বটবৃক্ষের তলে সাধনার জ্ঞান বিলানোর সুযোগ এই কালে আর হবে না। বরং এই জীবনকেই শিল্প বোধে দাঁড় করে তুলতে হবে। যেটা আমি বুঝেছি।&#039; 
---তিনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখেন আমাকে। তারপরে বললেন,
--&#039;আমিও মনে করি--আদিম শিল্পকলা থেকে নানাকালের শিল্প নিদর্শনের খসড়াগুলি থাকবে যাদুকরে।এগুলিকে মনের গ্যালারীতে ভাবাদর্শের মতোন স্হান দেয়ার কিছু নেই।যাদের পেশা এগুলোকে জানা বা ছাত্রদের পড়ানো- তারাই ওসবের খোঁজ খবর নেবেন।লেখা পড়া করবেন।&#039;
-----এখন কি পঞ্চাশ&#039; বছর আগের সেই শান্তিনিকেতনী লম্বা কাঁধের ব্যাগ, খদ্দের পাঞ্জাবি, কোলাপুরী পা-চটি, কাঁধ ছাড়ানো বাউলা চুল বা মুখে রবীন্দ্র ভাবনা ফুটিয়ে তোলা মুখের প্রচলনের কি কোনো দরকার আছে?&#039;---
.....মেঘদত্ত বাইরের বৃষ্টিধোয়া ঘোলা আকাশ থেকে চোখ সড়িয়ে স্ত্রী মুখের দিকে ফিরে বললো-- &#039;বুঝলে, তাঁর কথায় আমি আন্তরিক শ্রোতা না হয়ে, আর কি বলতে পারি--বলো, তবে তিনি বাইরের আচরণে নন।শিল্পলোকের ভাববাদী হাল ফ্যাশানদার থেকেও অনেক আলাদা। ভেতর থেকেই চেতনায় আধুনিক একজন মানুষ।সময়ের সঙ্গে শিল্পের স্পিরিটকে ধরতে পারা অনেক বড়ো কথা!&#039;  
  ----কি বলবে কি বলবে করেও মেঘদত্তের কাছে তার স্ত্রী শিউলি জানতে চাইলো-
--&#039;আজ এতো শিল্পের কথা আমাকে কেনো বলছো- আমি কি কখনো অভিযোগ তুলেছি,আমাদের কিছু অভাবের মূলে রয়েছে তোমার দিন রাতের শিল্প-ভাব, ভাবনা? &#039;
পরক্ষণে আবার ঠোঁটের ডান কোণে হাসি ফুটিয়ে বলে-&#039;তুমি যে ছবি আঁকো, আমার স্বামী একজন শিল্পী মানুষ। ---এটা ভাবতেই আমার ভালো লাগে।&#039;....
-----&#039;আমাদের সংসার জীবনে আমি বলবো না আমি অসুখী।তুমি এ সংসারকে সুখী করার জন্য শ্রম দাও।এই সংসারের জন্য তোমার খাদহীন মনোযোগটুকু আমি বুঝতে পারি।&#039;
শিউলির কথার শেষে মেঘদত্ত বলে--&#039;বাইরের কেউ- ধরো, কোনো মেয়েলোক চাইলে- বাইরের এই আমাকে হয়তো বুঝে ফেলতে পারে- কিন্ত আমার একান্ত ভিতরের শিল্পীসত্তাকে কিভাবে বুঝবে? এখানে আমরা এক ছাদের তলায় বাস করছি।স্ত্রী হিশেবে একমাত্র তোমারই আমার ভিতরের আমাকে বোঝার সুযোগ আছে, - তাই- না...?&#039;
----শিউলি এবারে রাঙামুখে জানতে চাই,-&#039;তুমিও কি আমার ভেতরের আমাকে বুঝতে পারো?&#039;
মেঘদত্ত, তার স্ত্রীর সলজ্জ মুখের দিকে ভালো করে দেখে- মমতা মিশিয়ে বললো-&#039;
-&#039;কারুকে- উজার করে ভালোবাসতে হলে তাকে ভাঙ্গলে হবে না।এখানে ইচ্ছে করে অন্ধতা থাকতে হয়।সবকিছু বুঝেসুনে চলাটা হচ্ছে ব্যবসায়িক পথ ধরে চলা।তোমার সঙ্গে আমার সে সম্পর্ক নয়।আমার ধারণা- আমার নিজস্ব নৈতিকতা নিয়ে তুমি চিন্তিত নও, বা-সন্দেহ করো না।তার কারণে বলবো-কাজটা যদি শহরের ভেতরে হয়-সাধারণত গভীর রাত হলেও কাজ শেষে আমি বাসায় ফিরবার চেষ্টা করেছি।তোমার সঙ্গে আমার কি এমন কোনো কমিটমেন্ট হয়েছে, আমাকে রাতে ফিরতেই হবে? কিন্ত আমি একা বাইরে রাতে থাকি না।আমি যখন সরকারী চারুকলা কলেজে পড়ছিলাম। সে সময়ে আমাদের এক প্রিয় স্যার, যিনি মূর্তিকলা নিয়ে পড়াতেন। একদিন ক্লাসে বললেন-এক চমৎকার তত্ত্ব কথা- ভারতবর্ষের সতীশ গুজরাল নামের এক নাম করা শিল্পী,উনি বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে-কোলাজিং স্থাপত্যধাঁচের ছবি তৈরি করতেন।তাঁর তিরিশ বছরের বেশি বিবাহিত জীবনে তিনি হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাদে স্ত্রীকে ছাড়া কোথাও একা থাকেননি। আমাদের স্যার সেদিন এ ব্যাপারটিকে খুবই উচ্ছ্বাসের সাথে ব্যাখা করে শেষে ছোট্ট কথায় বলেছিলেন-এটা-তাঁর একটি ঐশ্বরিক কমিটমেন্ট আপন প্রিয়ার সাথে!&#039;
মেঘদত্তের স্ত্রী শিউলীর লজ্জিত রক্তিম মুখে এবার সকালের ফিকে আলো এসে ধরা দিয়েছে-- ঠোঁটের কোণে আঁচলের মাথা কামড়ে ধরে জানতে চাইলো,-- 
-&#039;তুমি তাহলে ভারতবর্ষের ওই শিল্পীর মতো এতোদিন নিজেকে ভেবেছো?&#039;
শিল্প জগতের অধিকাংশ ভাবনাজুড়ে থাকে নিরাশা,এই জগতে কিছু অাশা পথচলা&#039; কে নিরুৎসাহিত করে।চিত্রশিল্পে-কল্পনার নিরাশা এক ব্যাপার,বাস্তবতায় নিরর্থক কথা,অন্য এক ব্যাপার! স্ত্রীর কথা&#039; শুনে কিন্ত মেঘদত্ত বলে--
--&#039;কথার স্থূলতা, সব সময় বলা কথাকে ওজনহীন করে।আর্ট কলেজের যখন আমি ছাত্র ছিলাম, স্যারের বলা সেই কথা আমার মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলো।-- এই কথা সত্যি।তবে ভারতবর্ষের ওই শিল্পীর জীবনকে দাঁড়ি-কমা-সহ আমি অনুকরণ করছি, অবশ্য এটা সত্যি নয়।ছোটবেলা থেকে দেখেছি বাবা,আমার মাকে খুব ভালোবাসতেন।সেটা চোখে পড়বার মতো ছিলো।বাবার হৃদয়ের এই আবহ সবচেয়ে আমাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে।একজন মানুষের ভেতরে কতোটা উদাত্ত ভালোবাসা থাকলে, তিনি নিজের ইচ্ছেটুকুকে স্বপ্নের মতো আমাকে দিতে পারেন- অথচ যে ছেলেটার ভেতরেই তাঁর বংশজাত রক্তপ্রবাহ নেই--, ভাবা যায়! ..বাবাতো শিল্পী সতীশ গুজরালকে চিনতেন না--  এই মানুষটার জীবন দর্শনও জানতেন না। --তাহলে?&#039; 
---অশ্রু ছল্ ছল্ নতমুখী শিউলি, মেঘদত্তের মুখের দিকে তাকিয়ে---
--&#039;হাত জোড় করছি, ---এভাবে আমি ভাবিনি- তোমার মনে কষ্ট দিবো বলে এমন কথা বলিনি। আমার শ্বশুরের  মতো এতো ভালো  মানসিকতার মানুষ আমি আর দেখি নি। তোমাদের ঘরে এসে আমার নিজেকে কপালবতী মনে হয়েছে।&#039;
মেঘদত্ত বললো-
&#039;আমি বলছি না, --তুমি একজন আর্টিষ্টের বউ, এই জন্য মন-মানসিকতায় সেজে গুজে শৈল্পিক হয়ে থাকতে হবে! ভাবনাগুলিকে, চিন্তাকে একটু এগিয়ে নিয়ে ভেবে দেখলেই হবে, --আর কিছু না..&#039;

শিউলির মুখময় হাসি আর মুগ্ধতায় সারামুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠে---

-&#039;ভালো মানুষ আমার শ্বশুরের ভালো দিক তোমার মধ্যেও ফুলের মতো ফুঠে রয়েছে।আমাদের ছেলে নীলমেঘ&#039;এর জন্মের সময়ে আমার অতিরিক্ত ব্লিডিং সমস্যার জন্যে, ডাক্তার  যখন  তোমাকে জানায়- তাদের পক্ষে হয়তো একজনকে বাঁচানো সম্ভব হবে-তখন কি  করবো? তখন তুমি বলেছিলে- সম্ভব হলে  আমার বেবিকে  বাঁচাবেন, কিন্ত সবার আগে  অবশ্যই বেবির মাকে বাঁচাতে হবে। -সেই ঘটনায় হাসপাতালের সবখানে সাড়া পড়ে গিয়েছিলো।পরে আমাকে অনেকে দেখতে এসেছিলো।বহু নার্সেরা- আমার গালে চুমু দিয়ে তাদের আনন্দ জানিয়ে যেতো!..&#039;
মেঘদত্ত বললো,-
--&#039;ইংরেজিতে একটি শব্দ আছে এপ্রেশ।যার অর্থ প্রেমমুগ্ধ।সামাজিক পরিচয়ে তুমি, স্ত্রী  হলেও  তুমি  হচ্ছো আমার  পারিবারিক  প্রেরণা,  প্রেয়সী। সব  সময়  আমি এই প্রেয়সীর প্রেমমুগ্ধ!&#039;...

মেঘদত্তের স্ত্রী বড়ো বড়ো চোখ করে সারামুখে আনন্দ অনুভুতির দ্যুতি ছড়িয়ে গভীর মনোযোগে স্বামীর কথা শুনছিলো।----
মেঘদত্তও তার স্ত্রীকে- কথাগুলি বলতে  পেরে  চাপা আনন্দ  আর  আগ্রহবোধ করে।
-&#039;আমি হলাম সংসার অনভিজ্ঞ রঙ তুলির ভাবুক মানুষ।মাথায় ভাবনারা জট পাকিয়ে শুধু তুলির রঙে ছবি আঁকতে  পারে।। বাস্তব  দিনের  আলোতে  সংসারের চাল তেল নুনের  হিসেব  আমার জটিল  অংকের মতো মনে হয়। আর  এখানেই  তুমি,  তোমার সংসারে নারীশক্তির বিকাশ করতে পারছো।&#039;
দাঁড়িয়ে থাকা স্ত্রী  শিউলি গুণমুগ্ধ শ্রোতা  হয়ে  স্বামী  শিল্পী মেঘদত্তকে  দেখছিলো--- মেঘদত্ত বলতে থাকে---
-&#039;কখনো মঞ্চে উঠে আমি রঙ তুলির স্বপ্নের কথা শোনাই।বক্তব্যে- অক্ষর, শব্দ, ভাষা দিয়ে শিল্পের হয়তো গভীরতা মাপি।কিন্ত আমার, আমাদের সংসারের আসল প্রকৃতি প্রদত্ত শিল্পীকে আমি এখনো চেনার বোঝার চেষ্টা করছি।--ওই শিল্পী এই--মেঘদত্তের শিল্পী।আমি ছবি আঁকি কাগজে ক্যানভাসে।তেমনি আমার ওই শিল্পী ছবি আঁকছে মানবিকতার বাস্তব সংসারে!&#039;---

------স্ত্রীর দিকে স্হির তাকিয়ে মেঘদত্ত প্রশ্নটি করে--&#039;আমি কেনো  ন্যুডের  ছবি  আঁকতে  শুরু  করেছিলাম। আমি  কি বলেছি  কখনো?&#039;
--&#039;না-তো, তবে মনে পড়ছে না।হতে পারে-ওই ঘটনা আগে বলেছো।এখন আমার মনে নেয়...&#039;  
মেঘদত্ত  স্ত্রীর  কথায়  হাসবার  চেষ্টা  করে-----
-&#039;চারুকলাই আমাদের সঙ্গে পড়তো অরুলিনা রোকসানা।অরু&#039;--সবাই ছোট্ট এই নামে   চিনতাম।ছাত্র জীবনে ক&#039;জনের আমাদের একটা গ্রুপ ছিলো।নাম দিলাম-- শিল্পাঙ্গন।এই অরুও ছিলো দলের একজন। অরু, -----এই শহরের বিরাট ধনী পরিবারের মেয়ে ছিলো। ধনবানের দুলালী এই  যে অরুর  চারুকলায় পড়তে আসা, এটা আসলে তার এক  ধরণের  মনের  খেয়ালীপনা। মনের থেকে  সিরিয়াস  ছিলো না। দলের অন্যদের থেকে  আমার  দিকে  ঝোঁক ছিলো অন্যরকম। এটা নিয়ে অনেক অস্বস্তিতে আমাকে পড়তে  হয়েছিলো। শুধু  ক্যাম্পাসের  ভেতরে  আমরা  সীমাবদ্ধ থাকিনি। ক্যাম্পাস ও বাইরে  আমরা  বিভিন্ন  সময়ে  গ্রুপ এক্সিবিশন  করতাম। এক্সিবিশন  করার উদ্দেশ্য ছিলো দুটি- শিল্পবোধের  উৎকর্ষ- বা পাবলিক রিএ্যাকশন  অর্থাৎ  আমাদের শ্রমলব্ধ কাজগুলি যাতে শিল্পরসিক ও বোদ্ধাদের নজরে পড়ে আর নিজেদের চিত্রকর্ম বিক্রির একটা  সচেতন চেষ্টাও  থাকতো। আমি নিজেই ছিলাম একজন Needy- নিডি ঘরের ছেলে।চারুকলাই পড়ার খরচ চালাতে ছবি বিক্রির ওই টাকাতে সাহায্য পেতাম।অরু শুধু তার  ছবিতে আঁকতো  হলুদ রঙ চড়িয়ে  জগৎখ্যাত ভ্যানগগের  স্টাইলে চোপ চোপ সূর্যমুখী&#039; ফুলের  প্রতিকৃতি  বা  ফ্লাওয়ার  স্টাডি!....
বারে বারে একই  অংকন  পদ্ধতির  চিত্রকর্ম  দিয়ে এক্সিবিশনে  অংশ নিচ্ছিলো।নতুন কিছু নতুন চিন্তার বা শৈলীর কোনো কাজ থাকতো না।সে নিজেও তার ছবির ব্যাপারে বুঝতে পারতো- গ্রুপের  সক্রিয়  অন্যরা  অনিকেত মাহমুদ, বিল্লাল, শেখর  তারা বেশ বিরক্তই হতো, আমার কাছে প্রকাশও করতো। .... হেসে আমি উড়িয়ে দিতাম। তাদের বলি- অরু শখ করে ছবি আঁকে।শিল্প ও বাণিজ্য তার কাজ নয়।সে আমাদের----এই-- শিল্পাঙ্গনকে সঙ্গ দেয়!----
....এবারে, শিউলি চোখ পিট  পিট করে তাকালো, হাসলো না।বললো-&#039;ও তাই না কি?&#039;

----মেঘদত্ত  তার স্ত্রীর  কথার প্রতি উত্তরে  নয়  স্বাভাবিক  ভাবে  বললো,-
--------- &#039;কাউকে খুশি  করার  জন্য দেখানো  নৈতিকতার  চেয়ে, নিজেকে ভালোবেসে নৈতিকতার চর্চা যথেষ্ট আনন্দের, আমার বন্ধুদের  মধ্যে দু&#039;একজন  হঠাৎ মদ্যপানের সুযোগ  পেয়ে তুমুল পান  করে এবং  মাতাল হয়।পরে যখন মনে পড়ে- এবার  তাদের ঘরেই  ফিরতে  হবে,  ---তাদের তখন পেয়ারা পাতাকে মনে পড়ে।প্রচুর পেয়ারা পাতা চিবোতে  পারলে  নাকি মুখ  থেকে পান  করার  গন্ধ বোঝা  যায় না! ওদের মুখ থেকে বউয়েরা যাতে মদ্যপানের  গন্ধ আর না  পায়। তখন  ওদের  নীতিবোধ  শাস্তিতে রুপ নেয়!&#039;---
এটুকু বলে মেঘদত্ত  থামে। তার চোখ  পুনঃবার চলে  যায়.. জানালা পেরিয়ে রেইনট্রি
ফুলের দিকে----  বললো,
---&#039;একবার অরু আমাকে চেপে ধরে- আমার জীবনের গল্প সে শুনবে।আমি বলি বলি করে দিন পার করি।আমার নিজের জীবন নিয়ে নিজেরই কিছু নিজস্ব সংকোচ আছে। শেষ পর্যন্ত নাছোড়বান্দা অরুকে বলতে হলো।তাকে আমার এ-ই গল্প বলাটা, আমার জন্য ভূল হয়েছে।সেটা বুঝতে পেরেছি অবশ্য পরে,---
এভাবে কিছু কিছু মেলামেশায় আমার অজান্তে- অরু, আমাকে একান্ত মানুষ হিশেবে ভাবতে শুরু করে। আমি কিছু জানি না। যখন জেনেছিলাম হেসে উঠেছিলাম।
অরুকে বলেছি,৷ --&#039;তুই  আমার  চির  জীবনের  শুভাকাংখী ও বন্ধু।&#039;
---&#039;মনের জোড়,  মনের শুদ্ধতা বজায় রেখে-আমি অরুকে  এই  কথাগুলি  বলতে পেরেছিলাম।&#039;

মেঘদত্ত বড়ো করে এক  নিঃশ্বাস ফেলে।স্ত্রী শিউলির দুটো চোখ তার মুখেটার উপর নিবদ্ধ- সেও ওই  মুখে  এতোক্ষণ এতো কথা  বলার প্রতিক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করতে থাকে।বললো-
----&#039;আজো আমার  মনে  পড়ে। অরুর বলা  দুটি স্মৃতির  কথা। জানতে চেয়েছিলাম-আমার কোন দিকটা তার কাছে  ভিন্নভাবে ভালো লেগেছে। উত্তরে অরু  বলেছিলো-আমি গ্রামের ছেলে  হয়েও  আমার  চিন্তা-চেতনায়, ভাবনাতে  কোনো  গ্রাম্যতা  নেই।আমি হচ্ছি- ফ্রেশ  আধুনিক  এক  ছেলে। দ্বিতীয়টা, সে-ই  আমাকে  প্রথম  জানিয়ে ছিলো- শিল্পাঙ্গন  গ্রুপের  অন্যরা  মানসিক  দিক  দিয়ে  প্রাপ্ত বয়স্ক ছিলো না।অন্তত তাদের চিত্রকর্মে।----এ কথা শুনে আমি স্তব্ধ হই। পরে অরুই খুলে বলেছে ব্যাপারটি, রুচিবোধ ও শিল্পবোধের চমৎকার  সব ন্যুডের  ছবি আঁকেন পশ্চিম বিশ্বের অাধুনিক চিত্রকরেরা। প্রাপ্তবয়স্ক চিত্রকর্ম বলতে  অরু- ন্যুড পেইন্টিংকে  বুঝিয়েছে। আমাকে বলে  -এমন ছবি  আঁকতে  শিল্পের শক্ত  হাত  লাগে ও  দরকার ইচ্ছের  সততা...
এই  কথাতে আমি ভাবনায়  পড়ে  যায়। বুঝতে  পারলাম- অরু  অন্যভাবে  আমাকে চ্যালেন্জ করছে, নগ্নিকার  ছবি  আঁকতে  আমি  কতোটা ব্যর্থ  হই... আমার চোখের সামনে প্রাচ্য ও বাঙলার দুজন চিত্রশিল্পীকে খুব মনে  ধরেছিলো,  রবি বার্মা-  হেমেন মজুমদারকে।.. অনেক পরে আমি ন্যুড আঁকার নিজস্ব এক স্টাইল খুঁজে বের করি।&#039; 

---&#039;অরুকে বলা আমার জীবনের গল্পটি শুনতে চাও? প্রশ্নটি মেঘদত্তের।---

শিউলি মুখে হাসি ধরে রেখে বললো- &#039;আমিতো সেই গল্পের পুরো অংশকে পেয়েছি।তবু তোমার বলতে ভালো লাগলে, আমি শুনবো।&#039;

-------&#039;অরুকে বলা আমার নিজের গল্পটা খুব সংক্ষেপে ছিলো এই রকম-
আমি নিজে গ্রামে অনেকটা  বড়  হয়েছি। গ্রামের  স্হানীয় স্কুলে পড়েছি। এক  সময় বাবার  নিজেদের  পরিবারে খুব  ঝামেলা  হয়। আমরা একেবারের জন্য  শহরে  চলে এলাম। আমার বাবা শহরে  আগে থেকেই  ছিলেন। অাধা সরকারী  একটি প্রতিষ্ঠানে ছোট চাকুরী করতেন।পাহাড়ে ঘেরা সরকারী চারুকলা কলেজের অদূরেই আমাদের বাসা ছিলো।চারুকলার পথ  দিয়েই  তিনি প্রায়  সময় যাতায়াত করতেন।চারুকলাতে পড়া ছেলে মেয়েদের, আসা  যাওয়ার  পথে  খুঁটিয়ে দেখতেন। একটা  সময়ে বাবার চারুকলার বিষয়টি মনে ঢুকে যায়। তিনি মনে  মনে ঠিকই করে নিয়ে নেন-- ছেলেকে আর্টিষ্ট করবেন।শহরে আসার দীর্ঘদিন পরে আমার এক বোনের জন্ম হয়।ছোটকাল থেকে আমাদের বাবা আকাশের মেঘকে খুব  ভালোবাসেন।বারো মাসের  আকাশের মেঘ তাঁর খুব প্রিয় ছিলো।কালিদাসের লেখা বাঙলায়- মেঘদূতের  পরদেশী মেঘপর্ব তাঁর প্রিয়পাঠ  ছিলো।খুব মেঘপ্রীতির  জন্যে বাবা  মেয়ের নামও  রাখলেন মেঘাঙ্গিনী, ছোট্ট করে মেঘা।তুমিতো  জানো  মেঘা এখন  শহরতলীর  এক  অসরকারী  কলেজে পড়ায়।আমি এই দীর্ঘ শহরবাসে শহুরে পরিণতিকে মেনে নিয়েছিলাম।কোনো গ্রাম্যতা কে গ্রহণ করিনি।&#039;

....এইবারে যেনো--স্ত্রীকে শুনিয়ে, মেঘদত্ত বলতে চাই---
&#039;আমি এখনো ল্যান্ডস্কেপ, কোনো প্রাকৃতিক  দৃশ্যাবলীর ছবিতে ইচ্ছে করেই আকাশ জোড়া মেঘ বা  প্রাসঙ্গিক  মেঘের শরীর আঁকি। সম্পূর্ণ ছবি আঁকা শেষ  করে- আমি যেনো দেখতে পাই! দূরেতে দাঁড়িয়ে আমার বাবা চিত্রকর্মের আকাশে ঠিকঠাক মতো মেঘের দৃশ্য আঁকা হয়েছে কি-না মনোযোগ দিয়ে দেখেন।আমার এটিকে অলীক কিছু দর্শন বা হেলুসিনেশন-- মনের ভ্রমও বলতে পারো।&#039; 

চাপা মুগ্ধতায় শিউলি স্তব্ধ প্রশান্ত।স্বামীকে মুখে কিছু না বলে শুধু তার দিকে তাকিয়ে থাকতে ভীষণ ভালো লাগছিলো। আর নিজের মনে হতে থাকে সৌম্যকান্তি শিল্পী এই মেঘদত্তকে এতদিনের সংসার জীবনে সে আসলে চোখ তোলে ভালো করেই দেখলো না।শিউলির মনে পড়ে কতো রাগারাগি করেছে এই মানুষটার সঙ্গে।এই মানুষটার মা, শিউলির শ্বাশুড়ি মায়ের, কোনো দিন রাতের বেলা, প্রতিদিনের খাওয়ার পান, নয়তো পানে  খাওয়ার  সাদা  চুন  শেষ  হয়ে  গেলে, সে কথা ছেলেকে বললে-- রাত যতোই হোক ছেলে বাসা থেকে বেরিয়ে কিনে আনতো।স্বামী মেঘদত্তের এই  অতি মাতৃভক্তি শিউলির পছন্দ হতো না।তাদের  মধ্যে এটি নিয়ে এমন  কতো মনো-মালিন্য হয়েছে! 
শিউলির আজকে মনে পড়ছে, সে তা স্বচক্ষে দেখেছে, কানে শুনেছে-- শ্বশুর মশায়.. তখন শয্যাশায়ী। তার স্বামী মেঘদত্তের বাবা  সুকান্ত কুন্ডু-- একদিন  ছেলেকে  কাছে ডেকে বলেছিলেন, ---&#039;খোকা, আমি বাদে তুমি আর বউমা ছাড়া তোমার মায়ের আর কেউ রইলো না। তোমাদের হাতে তোমাদের মা থাকলো। মাকে দেখে রেখো...&#039;
তার স্বামী মেঘদত্ত বিছানার সাথে মিশে যাওয়া বাবার খুব ক্লান্ত শীর্ণ হাতে হাত বুলিয়ে কাঁদো স্বরে কথা দিয়েছিলেন।মাকে তারা--সেবা-যত্ন-করে  মর্যাদার  সাথে  রাখবে।&#039;               ---আরো বলেন-&#039;বাবাকে, মাকে, সে নিজের অস্তিত্বের মতন ভালোবাসে।&#039;
--------------------
মেঘদত্তের বাবা ছিলেন টান টান নিম্নবিত্তের সংসারে  হারিয়ে যাওয়া একজন শিল্পী মনের মানুষ।শরতের  বা  শ্রাবণের  মেঘ। মেঘ,  বৃষ্টি,  আকাশ,  দূরের  মেঘের  প্রতি আকুলতা ছিলো তার বাবার দেখবার মতো! বারো মাসের আকাশের মেঘ তাঁর প্রিয় ছিলো।তিনি ভালোবাসতেন  মেঘের  কথা বলতে। মেঘ নিয়ে ভাবতে।দৈনিক পত্রিকা পড়ার  শেষে তাতে  তিনি  ফাউন্টেন  পেন  দিয়ে মেঘের  ছবি  আঁকবার  আঁকিবুকি করতেন।আজকের সুপরিচিত শিল্পী মেঘদত্ত ও তার এই নামটাও তারই বাবার দেয়া  অত্যন্ত মেঘপ্রীতির ফসল! ছোটকালে মেঘদত্ত মাকে বলতে শুনেছে, যখন  দু&#039; তিন মাস তার বয়স ছিলো, সেই সময়ে বাবা তাকে কোলে নিয়ে আনন্দিত মুখে তার মাকে বলতো-- আমার এই খোকন স্বপ্নমেঘ--এর সন্তান।খোকন আমাদের জন্য মেঘ হয়ে এসেছে।এই সন্তান  হচ্ছে মেঘের  দান, তাই আমার খোকার নামটি দেবো- মেঘদত্ত।
মেঘদত্তের এখনো চোখের কোলে অশ্রুবিন্দু জমে উঠে।যখন মনে পড়ে যায়--- সেই মহাসত্য, আজ মেঘদত্ত জানে তার বাবাই তাকে একজন শিল্পী তৈরি করতে চেয়েছে।সে হচ্ছে তার বাবা মায়ের মেঘ থেকে পাওয়া দত্তক সন্তান! যাঁরা তাকে কুড়িয়ে পেয়ে  বুকে তুলে নিয়েছিলেন পরম মমতায়! শিল্পী মেঘদত্তের  একান্ত অন্তরে  তার স্মৃতির বাবা, মেঘে মাখা স্বপ্নের শিল্পী হয়েই বাস করে! তার বাবা আজো বেঁচে আছে কোনো উপরের ভাসমান মেঘের বুকে নয়--পালক পুত্র সন্তান, শিল্পী মেঘদত্ত কুন্ডের বুকে.... 

( গল্প, ০৮/২০২০)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/9473/</link>
				<pubDate>Fri, 30 Apr 2021 07:37:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভোর সকালের বৃষ্টিতে ধোয়া রেইনট্রি ফুল<br />
&#8220;&#8220;&#8220;&#8220;&#8220;&#8220;&#8220;&#8220;&#8220;&#8220;&#8220;&#8220;&#8220;&#8220;</p>
<p>শিল্পী মেঘদত্তের-আজকে ভোর সকালেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো।এমনটা সাধারণত হয় না। আজকে হলো।গভীর রাত পর্যন্ত ছবি আঁকতে যে অভ্যস্ত, ভোরের দিকে তার গাঢ় ঘুম হবে এটাইতো স্বাভাবিক। &#8212;এক পুরানো পাকা বাড়ির দ্বিতীয় তলাতে কোনার দিকের একটি ছোট খাটো ঘর আছে ছবি আঁকার জন্যে শিল্পী মেঘদত্ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-9473"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/9473/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>