Profile Photo

G M Harun RashidOffline

  • G-M-Harun-Or-Rashid
  • Profile picture of G M Harun Rashid

    G M Harun Rashid

    5 years, 1 month ago

    বাবাকে ধার দিবেন প্রভু
    ———————————
    প্রভু,
    আমার মৃত বাবাকে
    সাতদিনের জন্য ফিরিয়ে দিন,
    অথবা ধার দিন,
    আপনি যে ভাবেই ভাবুন,
    আমার কোনো কিছুতেই আপত্তি নেই।
    তবুও আমার কাছে সাতদিনের জন্য জমা দিন আমার বাবাকে,
    আমি আমার মায়ের কসম খেয়ে বলছি,
    সাত’দিন পর বাবা’কে ফেরত দিবোই।

    প্রভু,
    বাবাকে যেদিন ফিরিয়ে দিবেন,
    দয়া করে একটু খেয়াল রাখবেন
    ভালো পোষাক পরে যেনো থাকে।
    অনেকদিন পর সংসারে ফিরবে
    তাই একটু ভালো কাপড় পরা না থাকলে
    আমার মায়ের মন খারাপ হবে।

    প্রভু,
    মা অনেকদিন পর বাবাকে দেখে লজ্জা পেতে পারে,
    কিন্তু বাবার পচ্ছন্দের সাদা পোলাও মা ঠিকই রান্না করবে।
    আমি আড়াল থেকে উনাদের ভালোবাসার কথা শুনবো।
    আমি জানি এটা ‌অন্যায় ,
    তবুও আমি শুনবো,দেখবো।
    আমি আমার মায়ের হাসি দেখি না অনেকদিন,
    সেদিন আমি আসলে আমার মায়ের হাসি দেখবো।

    প্রভু,
    একদিন বাবাকে নিয়ে শিশু পার্কে যাবো।
    ছেলেবেলায় বাবা সুযোগ পেলেই আমাদের সবাইকে নিয়ে শিশু পার্কে ঘুরতে যেতো।
    আসলে অল্প টাকায় এর চেয়ে ভালো বেড়াতে যাওয়ার যায়গা
    আমাদের বোধহয় ছিলো না।

    প্রভু,
    বাবার খুব শখ ছিলো একটা ভালো স্যুট বানানো।
    গুলিস্তান থেকে পুরোনো একটা স্যুট কিনেছিলো আমার জন্মেরও আগে।
    সেটা পরেই সব অনুষ্ঠানে যেত।
    মা প্রায়ই বলতো,
    “একই কাপড় আর কত দিন পরবে?”
    বাবা বলতো
    “এই বছরই একটা দামি স্যুট বানাবো, দেখো,”
    বাবার আর কখনই দামি স্যুট বানানো হয়নি টাকার অভাবে।
    মার তাই আর বাবার দামি স্যুট দেখা হয়নি।
    আমি বাবাকে একটা দামি স্যুট বানিয়ে দিবো এবার,
    মা খুব খুশি হবে নতুন স্যুটে বাবাকে দেখে।

    প্রভু,
    আমি বাবাকে একটা দামী হোটেলে খাওয়াবো একদিন ।
    সেদিন মা, ভাই, বোন সবাই থাকবে।
    বাবাকে প্রায়ই আক্ষেপ করে বলতে শুনতাম,
    “কিছু টাকা জমলেই সবাইকে নিয়ে একদিন দামি একটা হোটেলে একবেলা খাবো।”
    বাবার আর টাকা জমানো হয়নি।
    প্রভু,
    তার আগেই আপনি আমার বাবাকে
    আপনার কাছে নিয়ে গেলেন।

    একদিন বিমানে করে বাবা-মাসহ সমুদ্র দেখতে যাবো।
    বিমানের আওয়াজ পেলেই বাবা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতো,
    “ পরের বছর তোদের সবাইকে বিমানে করে সমুদ্র দেখতে নিয়ে যাবো,”

    প্রভু,
    সেই পরের বছর কখনোই আসেনি আমাদের পরিবারে,
    বাবা থাকতে কখনোই আসেনি।

    একদিন বাবাকে নিয়ে সারাদিন হাঁটবো।
    বাবার হাত এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়বো না।
    ছোটবেলা রাস্তায় হাঁটতে বের হলে বাবা শক্ত করে আমার হাত ধরে রাখতেন
    যেনো হারিয়ে না যাই,
    প্রভু,
    আমিও বাবার হাত ধরে রাখবো ,
    বাবা যেনো হারিয়ে না যায়।

    একদিন বাবার কাছে ছোটবেলার সব মিথ্যাগুলো স্বীকার করবো।
    স্কুল ফাঁকি দেওয়া,
    লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া,
    না বলে পকেট থেকে ঘুড়ির টাকা নেওয়া,
    ওজু না করেই নামাজ পড়া,
    সব মিথ্যাগুলো স্বীকার করবো।
    আমি চাই মিথ্যার জন্য বাবা আমাকে শাসন করুক।
    প্রভু,
    আমাকে বকা দেওয়ার মানুষ একজনই ছিলো,
    শুধু বাবাই বকতো,
    মা কখনো কেন যেনো বকে না!

    প্রভু,
    মা যদি বাবাকে আর যেতে না দেয়,
    অথবা বাবাই থেকে যেতে চায়,
    আপনার কি বিশেষ ক্ষতি হবে?
    আপনার কাছে তো লক্ষ কোটি মানুষ।
    আমারা নাহয় আমাদের একজনকে রেখেই দিলাম।
    শাস্তি নাহয় আমাকেই দিবেন,
    কথা দিয়ে কথা রাখতে না পারার জন্য।

    প্রভু,
    সাতদিন না হোক,
    অন্তত একবেলার জন্য হলেও
    আমার বাবাকে ধার দিবেন।
    ————————————
    রশিদ হারুন
    কাব্যগ্রন্থ- সময় ভেসে যায় বৃষ্টির জলে
    ৩১/০৮/২০১৮

    7
    4 Comments
Skip to toolbar