<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Md Majnur Rahman John (Krishno John) | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/krishno-john/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/krishno-john/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Md Majnur Rahman John (Krishno John).</description>
	<lastBuildDate>Sat, 06 Jun 2026 17:21:40 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">6947b73ba2ba634d824b5bb5c2c4e8ed</guid>
				<title>লাল জ্যোৎস্নায় স্নান (প্রিয়ংবদ)/কৃষ্ণজন
 
আদিমিত্র: তুমি ছিলে না যখন প্রেম ছিল বর্ণহীন,
                 চাঁদ হাসেনি মিষ্টি করে, 
                 হয়নি রক্ত জ্যোৎস্নায় স্নান   
                  কালো মেঘের ভেলায় চড়ে 
                  দিয়েছি শুধু ধূসরনগর পারি 
                  শুষ্কতাপ চুষে নিয়েছিল হৃদয়ের আদ্রতা
                  চোখের জলগুলো হয়েছিল অয়োময়
                  ঘন রক্তে ছিল না পৌরুষের উত্তাপ 
                  মশারিতে শুয়ে শুয়ে অর্থহীন অলীক জগৎ 
                   এভাবে অনেক দিন..................

প্রেমাগ্নি:      তারপর?

আদিমিত্র:   তারপর? 
                 তারপর তোমার দেখা! 
                 চলতে গিয়ে পা পিছলে আলুর দম!
                 চোখের তারায় নানান রঙের সর্ষেফুল 
                 কুৎসিত কাককেও ময়ূর বলে ভ্রম 
                 রাত ভরে লাল জোছোনায় গা মাখামাখি
                 ঘুমের মধ্যে মিষ্টি স্বপ্নের মৃদ হাসি
                 নীল জলে নগ্ন স্নান, 
                 ঝড়ো বাসাতে উদ্যাম নৃত্য 
                 বজ্রমুষ্টিতে বিদ্যুতের ঝলক  
                 উত্তপ্ত অগ্নিকে আলিঙ্গন!

প্রেমাগ্নি:   ওরে বাবা! এতো মারমুখি ধারণ
                ধীরে ধীরে দেখি রূপের পরিবর্তন?
                ভদ্রবেশে হৃদয় হরণ তারপর দস্যুবৃত্তির লিপ্সা 

আদিমিত্র: প্রেমতো এমনই হয়
                 দুঃখ সয়ে সয়ে যার জন্ম সে তো বিদ্রোহী হবেই
                 প্রতি কদমে জ্বলবে তার প্রতিশোধের জ্বালা
                 জ্বলজ্বল করে তাই কামনার চোখ

প্রেমাগ্নি:   ওটা তো ভালবাসার চোখ! 

আদিমিত্র: ভালবাসা তো একধরনের প্রতিশোধই

প্রেমাগ্নি: কীসের প্রতিশোধ?

আদিমিত্র: যৌবনের প্রতিশোধ 
                 অহংকারী ঘন রক্তের প্রতিশোধ
                 উম্মাতাল বসন্তের মাতাল হাওয়ার প্রতিশোধ
                 তোমার অস্তিত্বকে ধারণ করার যে তীব্র কষ্ট, তার প্রতিশোধ!!!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/236792/</link>
				<pubDate>Wed, 07 Jan 2026 06:23:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>লাল জ্যোৎস্নায় স্নান (প্রিয়ংবদ)/কৃষ্ণজন</p>
<p>আদিমিত্র: তুমি ছিলে না যখন প্রেম ছিল বর্ণহীন,<br />
                 চাঁদ হাসেনি মিষ্টি করে,<br />
                 হয়নি রক্ত জ্যোৎস্নায় স্নান<br />
                  কালো মেঘের ভেলায় চড়ে<br />
                  দিয়েছি শুধু ধূসরনগর পারি<br />
                  শুষ্কতাপ চুষে নিয়েছিল হৃদয়ের আদ্রতা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-236792"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/236792/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1c0bdff800ea0c5fec871ba3fa18ac2d</guid>
				<title>অভিমান/কৃষ্ণজন

তোমাকে ভালোবাসার অনুমতি চাই,
প্রাপ্তির নয়।
প্রমিথিউস যেমন মানুষ ভালোবেসে,
আমিও তেমন তোমায় ভালোবেসে
শৃঙ্খল গায়ে জড়িয়ে জড়িয়ে,
বিরহ জ্বালার ঠোকরে ঠোকরে-
দেবতা হয়ে নয় প্রেমদাস হয়ে
তোমার প্রেমেতে মরতে চাই।

তোমার নামেতে জপতে চাই।
তোমার অবগাহনে ভাসতে চাই।
অপমান-অবহেলার নোনতা সাগরে
প্রতি ঢোকে ঢোকে বিষ গিলে গিলে
প্রেম নয় সখী বিরহের আগুন
পরতে পরতে পুড়তে চাই।

আমাকে না বোঝার অভিমানটুকু
হৃদয় গহীনের নিখাঁদ কোঠায়
অতি গোপনে, অতি সযতনে
আমারই কাছে শুধু রাখতে চাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/235436/</link>
				<pubDate>Fri, 14 Nov 2025 09:50:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অভিমান/কৃষ্ণজন</p>
<p>তোমাকে ভালোবাসার অনুমতি চাই,<br />
প্রাপ্তির নয়।<br />
প্রমিথিউস যেমন মানুষ ভালোবেসে,<br />
আমিও তেমন তোমায় ভালোবেসে<br />
শৃঙ্খল গায়ে জড়িয়ে জড়িয়ে,<br />
বিরহ জ্বালার ঠোকরে ঠোকরে-<br />
দেবতা হয়ে নয় প্রেমদাস হয়ে<br />
তোমার প্রেমেতে মরতে চাই।</p>
<p>তোমার নামেতে জপতে চাই।<br />
তোমার অবগাহনে ভাসতে চাই।<br />
অপমান-অবহেলার নোনতা সাগরে<br />
প্রতি ঢোকে ঢোকে বিষ গিলে গিলে<br />
প্রেম ন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-235436"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/235436/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">57d6ce038fea641ae39de1ad886c44ad</guid>
				<title>ঋণ
কৃষ্ণজন  

প্রচণ্ড পিপাসা লেগেছে! বারবার গলা শুকাচ্ছে। মনে হচ্ছে, সাহারা মরুভূমিতে এসে পড়েছি। ধু ধু করে যেদিক পানে চাই, কোনোখানে জনমানব নাই! ঘামতে ঘামতে ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়ে যাচ্ছি। ভিষণ ভয় লাগছে! তবে গলা শুকানোর কারণ কোনটা বুঝতে পারছি না? ভয় না ঘাম? মনে হচ্ছে দৌঁড়ে পালাই। সীমার কথা মনে হল। ইচ্ছেটা উবে গেল একনিমিষেই। সীমাকে পেতেই হবে। যে করেই হোক। ওর জন্য একটা কেন দশটা খুন করতেও আপত্তি নাই। এতো সুন্দর মেয়ে জীবনেও দেখিনি আমি! আহ! কী মায়াবতী। হ্যা, ওর জন্য খুনটা আমাকে করতেই হবে। খুনটা করতে পারলেই অনেক টাকা! স্পষ্ট বলে দিয়েছে সীমা, আমাকে ভালোবাসে ঠিকই কিন্তু শূন্যহাতে পালাতে পারবে না। স্বামী নিয়ে সে সুখে নাই কিন্তু অভাব তার চেয়েও অনেক বড় শত্রু। সীমার স্বামী নাসির, একটা নাম্বার ওয়ান হারামি। সরকারি দলের নেতা। আসলে সে একটা সন্ত্রাসী। আন্ডার গ্রাউন্ডে অনেক ধরনের যোগাযোগ তার। দু’টি নেশার স্পট আছে, একটি বেশ্যা পাড়াও চালায়। দু’হাতে টাকা কামায়। সারাদিন মদের উপর থাকে, বেশির ভাগ রাত পাড়াতেই কাটায়। এইসব পুরুষদের যা হয় সাধারণত, শরীরের উপর নানা অত্যাচারে এক সময় পুরুষত্বহীনতা চলে আসে। নাসির শালারও তাই হয়েছে। রাত-দিন দুর্ব্যাবহার। মারধোর আর আদর-সোহাগের অভাবে সীমা ভিতরে ভিতরে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। আমার সাথে যখন দেখা হয়, নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি। উজার করে ঢেলে দেয় তার জমানো সব ভালোবাসা। আহা! কী যে সুখ। আমি নাকি তার ভালোবাসার প্রকৃত পুরুষ। আবার প্রথমও বলে? তবে সীমার এই কথায় কিছুটা সন্দেহ আছে। এর আগেও দু’চারজন কে নাড়াচাড়া করেছে বলে আমার মনে হয়। কে জানে? হয়তো মন মতো হয়নি তারা। যাহোক ভাই, আমার তাতে মাথাব্যাথা নেই। আমার জন্য এখন সে পাগল, এটাই আসল কথা। 
সীমার ওখানে আছি আজ দু’বছর হতে চলল। সয়মটা ছিল এমন, আমার যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। বাবা-মা নেই! পরের ঘরে আশ্রিত হয়ে ভালই ছিলাম। যে বুড়ো পালত, ভালই আদর করত। প্যাঁচ লাগল বুড়ো মরার সময়। বেচারা খাটে স্থায়ী আসন নিয়ে নিয়েছে ততদিনে। একদিন চার ছেলে-মেয়েকে ডেকে বলল, আমি মিজানরে কাঁসিপুরের জায়গাটা দিয়া যাইতে চাই। বেচারার কেউ নাই! লেখাপড়া যা শিখছে তা দিয়া বড় কোন চাকরিও পাইবো না। জায়গাডা পাইলে অন্তত মাথা গোঁজার একটা ব্যবস্থা হইত। বড় ভাই মফিজ খুব খুশি হয়ে উঠল। বলল, দারুন কইছেন আব্বা, মিজান আমাগো ভাইয়ের মত। আমরা না দেখলে ওরে দেখবো কে? সব ভাইবোন সহজেই মেনে নেওয়াতে বুড়ো খুব খুশি হল। 

পরের দিন, বড়ভাবির গলার হার পাওয়া গেল আমার বিছানার নিচে। হারের দাম যা-তা নয়। এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা! সাথে সাথেই পাকড়াও হলাম। বড়ই সৌভাগ্য! মারধোর করা হলো না। তবে দড়ি দিয়ে বাঁধা হলো ভাল করে। নেওয়া হল বুড়োর কাছে। মফিজ ভাই বলল, 
দুধ-ভাত দিয়া এতোদিন কালসাপ পালছেন আব্বাজান! 
কী হইছে? মিজানরে বাঁনছস ক্যান?
যারে আপনি লাখ-লাখ টাকার সম্পত্তি দিতে চাইছেন, সে হাজার টাকার লোভই সামলাইতে পারে না। আপনের বড় বউয়ের হার চুরি করছে। ওরে এখনি থানায় দিতে হইব। 
বুড়ো বলল, 
এক্কবারে ঠিক কথা। এই কাল সাপরে এখুনি থানায় দেওন উচিৎ। তয় এতদিন যখন পালছি একটু মায়া পইড়া গেছে। থানায় না দিয়া ওরে ঘেটিতে ধইরা বাইর কইরা দে। তোরা যা, আমি নিমকহারামডারে আরও কয়টা কথা কইয়া লই। 
ছেলেরা বেড় হয়ে যেতেই বুড়ো বলল, 
খুব কাঁচা কাজ! সবই বুঝিরে বাজান, কিন্তু কি আর করমু? দিন ঘনাইয়া আইছে, চাইলেও এহন আর কিছু করা সম্ভব না। তুই চইলা যা মিজান! তরে যদি সম্পদ দেওনের জিদ ধইরা থাকি তয় ওরা তরে জানেই বাঁচতে দিব না। 
একদম খালি হাতে বেড়িয়ে আসলাম। এতো বড় দুনিয়া! কই যাই? এঘাটে-ওঘাটে করতে লাগলাম। কোন কাম-কাজ মিললো না। শেষমেষ আর কি, রিক্সাচালকই হলাম। কিন্তু ম্যাট্রিক পাশ করা মানুষ, রিক্সা চালাতে মন সায় দিচ্ছিল না। নিজেকে সান্ত¡না দিলাম, আজকাল বহু শিক্ষিত লোকই তো রিক্সা চালায়। 

রাত ১০টা। প্যাসেঞ্জার মনমত পাচ্ছি না। বসে বসে বিড়ি ফুকছি। ভাবছি, রিক্সা জমা দিতে যাওয়া যাক। হঠাৎ করেই দেখলাম, কে যেন এসে আছাড় খেয়ে পড়ল চাকার সামনে। ভাল করে তাকাতে দেখি, রক্তে মাখামাখি হয়ে আছে লোকটা। পায়খানার রাস্তা বরাবর একটা ডেগাড় ঢোকানো। বলে উঠল, ভাই আমারে বাঁচান! ওরা এহনি আবার ধইরা ফালাইতে পারে, আমারে বাঁচান! ভাল-খারাপ যেমনই হই-আর দশজনের মতই মানবতা জেগে উঠল! বহুত কষ্ট, টেনেটুনে লোকটাকে রিক্সায় উঠালাম। পিছনে ছোরা গেঁথে থাকায় স্বাভাবিক ভাবে বসতে পারল না। পিছন ফিরে কোনমতে রিক্সার হুডকে ঝাপটে ধরল। লোকটি গোঙ্গাতে লাগল। টিকে থাকতে পারবে কি না সন্দেহ হলো? 
ধইরা থাকতে পারবেন তো?
চিন্তা কইরেন না, বিলাইর জান আমার। আপনি টানেন। 
কিছু লোককে এদিকেই দৌঁড়ে আসতে দেখা গেল। আমাদেরকে দেখে, ধর ধর করে উঠল। টান দিলাম রিক্সায়, চালক জীবনের সর্বচ্চো গতিতে। একদম ঢুকে পড়লাম থানার ভিতর। প্রাণে বেঁচে গেল এই যাত্রায় নাসির। পরে জেনেছিলাম, টুন্ডা ফারুকের কাজ ছিল এটা। নাসিরের সবচেয়ে বড় শত্রু। মাস্তান হিসেবে নাসিরের প্রভাব ছিল বেশি। সরাসরি আঘাত করার সুযোগ পাচ্ছিল না ফারুক। তক্বে তক্বে ছিল। হঠাৎ একটা সুযোগ পেয়ে যায় ফারুক। খুব চালাকি সাথে চমৎকার একটা গুটি বিছায়। মরিয়মকে ব্যবহার করে এ কাজে। নাসিরকে বশ করতে খুব একটা কষ্ট করতে হলো না। নাসিরের আলুর দোষ মারত্মাক! তাকে মেয়ে দিয়ে ফাঁসানো খুব একটা কঠিন কাজ না। বেঁচে যাওয়ার পর আমার প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ হয়ে উঠল নাসির। হয়ে উঠলাম তার খাস লোক!

 মানুষ হিসেবে বেশ শক্তিশালী আমি। পোড় খাওয়া মানুষ সাধারণত এমনই হয়। বিষয়টি খুব দ্রুত চোখে পড়ে সীমার। অল্প সময়ের মধ্যেই তার আমন্ত্রণ পাই। এতো রূপবতী নারীর সারা এড়াতে পারে কোন বুদ্ধু? খুব দ্রুত অন্তরঙ্গ হয়ে উঠি আমরা। এখনতো একজন আরেকজনের জান। সীমাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম।  কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নাসির। শুধু তো সমস্যা না মহাসমস্যা! শালাকে খুন করা খুব কঠিন। সারাক্ষণ গার্ড নিয়ে চলে। নিজ গণ্ডির বাইরেও যায় না এখন খুব একটা। বিকল্প চিন্তা শুরু করতে লাগলাম। ভেগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি আমরা। কিন্তু ভাগলেই তো হবে না? বাঁচার জন্য টাকা দরকার। নাসিরের সাথে থেকে বড় ধরনের মাল কামানো সম্ভব না। শালা বড় কাষ্টে। নিজের বউর কাছে কোন টাকা পয়সা রাখে না। কর্মচারী আর চ্যালাদের খাইয়ে-দাইয়ে যে টাকা দেয় তা অনেকটা বেতনের মত। নাসির গুণ্ডা হলেও ভদ্রলোক। নিয়মিত ব্যাংকে টাকা জমায়। সীমার চাপ বেড়েই চলছে, 
কিছু একটা কর মিজান। আমার দম অতিষ্ট হইয়া যাইতাছে। 
চেষ্টায় তো আছি, পথ তো পাইতাছি না!
কোনোভাবে লাখ পাঁচেক হইলেও যোগাও, পলাইয়া গিয়া যাতে পানিতে না পড়ি। 
কি করব বুঝতে পারছিলাম না। সুযোগটা আসল তখনই। নাসিরকে পাহারা দিচ্ছি, ঘরে ঢুকল দুইজন লোক। হাত মিলানোর ধরনেই বোঝা গেল পূর্ব পরিচিত। একজন কথা বলে উঠল, 
বস, একটা বড় কাম নিয়া আইছি। 
কি কাম? 
একটা সুপারি। অনেক বড় কাম। 
কত বড়? 
দশ লাখ!  
তোমগো লোক থাকতে আমার কাছে কেন? 
লোকটা ব্যাখ্যা দেয়া শুরু করল, 
সমস্যা আছে বস। যারে খামু সে একটা হারামী দারোগা। আমাগো বসের ডাইন হাত সাজুরে এরেস্ট করছে। সেটিং দিলাম বিশ লাখ টাকার, হালায় টাকা খাইয়া পাল্টি দিছে। এখন টাকার কথা পুরা অস্বীকার করে আর সাজুরে কোর্টে চালান দিয়া দিছে। বসের এখন মাথা খারাপ! কয়, যত টাকা লাগুক আমি ঐ দারোগার লাস দেখতে চাই। আমোগো লোকজন কমবেশী সবাইরে  তারা চিনে। খাইতে গিয়া ঊন্নিশ-বিশ হইলে আরও বিপদে পইড়া যাইতে পারি। আমারে বস তাই আপনার কাছে পাঠাইলো। যেমনেই হোক লোক ম্যানেজ কইরা দিতে হইব। নাসির বলল, 
খাইতে হইব কোন জায়গায়? 
চিটাগাং রেলস্টেশনে, 
হালার উপর নজর রাখতাছিলাম, পরশুদিন ওই হালার বউ-বাচ্চা ঢাকা থেইকা আইবো। খবরটা দিছে ওর বাড়ির বুয়া। পাক্কা ইনফরমেশন। খবরটার জন্য মেলা টাকা দিছি ওই বেটিরে। কাজটা খুব একটা বেশি কঠিন না। স্টেশনের ভিতরে আগে থেইকাই ঢুইকা থাকতে হইব। ওই হালায় ফ্যামিলির কারবারে লগে পুলিশ রাখে না। আপনেগো লোক গেলে হেগো চিনবোও না। হালায় স্টেশনে আইলেই একটু আড়াল থেইকা মাথায় দুইডা গুলি ভইরা দিলেই হইব। ভোর বেলায় এমনেও মানুষ বেশি থাকে না। বাইরে আমাগো গাড়ি থাকব, ফাঁকা গুলি কইরা বাইর হইয়া আইলেই আমরা গাড়ি লইয়া টান দিমু। 
পাখি চিনমু কেমনে? 
ফটো নিয়া আইছি। 
লোকটি একটা ছবি রাখলো টেবিলে উপর। নাসির বলল, আইচ্ছা তোমরা এখন যাও আমি লোক ঠিক কইরা তোমাগো জানামুনে। লোক দুটি চলে গেল। নাসির তাকালো বিলাই কিরণের দিকে,
কি রে, যাবি নাকি?
আপনে কইলে তো যামুই। 
তরে পাঠাইতে মন চায় না, কিন্তু অন্য কাউরে পাঠাইতেও সাহস পাইতাছি না! 
আমিও বুঝি, তয় এতো দূরে যাওনডা ঠিক হইব কি না তাও বুঝতাছি না? 
বিলাই কিরণ খুনের জগতে এক মহা ত্রাশ! এই পর্যন্ত নয়জন মানুষ খুন হয়েছে তার হাতে। এদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রিও আছে একজন। তার কণ্ঠে দ্বিধা শুনে বিরক্ত হলো নাসির। খিস্তি দিয়ে উঠল, 
কস কি? তুই ডরাইসস নাকি? 
কী যে কন ভাইজান? ডরাই না, তয় লগে একজন থাকলে ভাল হয়। 
কাকে পাঠানো যায় নিয়ে নাসির চিন্তায় ডুব দিল। ভাবলাম, এটাই সুযোগ। কোনভাবেই এটা হাতছাড়া করা যাবে না। বললাম, নাসির ভাই, একটা কথা কইতে চাই। এই খুনের সুযোগটা আমারে দেন। আমার টাকা দরকার। এই গরিবী হাল আর ভাল লাগে না! নাসির হা হা করে হেসে উঠল। বলল, কও কি মিয়া? তুমি করবা খুন? কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, আচ্ছা যাও, তোমারে একটা সুযোগ দিলাম। তয় কন্ডিশন আছে। তুমি যদি আগে গুলি চালাও তয় পাইবা ৭০% পার্সেন্ট, মানে সাত লাখ। আর যদি বিলাইয়ের গুলি করতে হয় তয় একটাকাও পাইবা না। কি রাজি? কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম। বললাম, শর্ত মঞ্জুর। সে রাতেই পৌঁছলাম চট্টগ্রাম।

প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেল, পাখির  খবর নাই। পাখির নাম বেলয়েত হোসেন। ছবিটা দেখে নিয়েছি ভাল করে। নিজেকে ভয়ঙ্কর দেখানোর জন্য মোটা একটা গোঁফ রেখেছে। মুখটা লম্বাটে। এই ধরনের লোকদের চেহারা চাড়ালদের মত হয় কিন্তু লোকটার চেহারায় মায়া-মায়া ভাব আছে। পানির পিপাসায় অতিষ্ট হয়ে উঠলাম। পানি খোঁজার সিদ্ধান্ত নিলাম। তখনই, বিলাই ফিসফিস করে উঠল, পাখি আইসা গেছে! কথা শুনে ভিতরটা কেমন যেন শিরশিরিয়ে উঠল। কিন্তু মাথার উপর ঠাটা পড়ল! দেখলাম, দুই জন কনেস্টেবলও  বেলায়েতের সঙ্গে এসেছে। বিলাই খিস্তি দিয়ে উঠল, শুয়রের বাচ্চারা ভূল ইনফরমেশন দিছে। বিলাইকে বললাম, 
বস এখন কি করমু? 
চুপচাপ খাড়াইয়া থাকেন, দেখি কি হয়? 
ট্রেন এসে থামল। দেখলাম, যাত্রীদের ভীরের মধ্যে থেকে একজন ভদ্রমহিলা ও ছ’সাত বছরের একটা বাচ্চা বেলায়েতের কাছে এসে দাঁড়ালো। ছেলেটি দৌঁড়ে বেলায়েত কাছে যেতেই তাকে কোলে তুলে নিল। বেলায়েতের বউ বেলায়তকে কিছু বলল। বেলায়েত কনেস্টেবলদের দিকে মুখ করে কিছু বলল। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দুটি ট্রেনের দিকে ছুটল। কিছুই বুঝতে পারছিলাম না? তবে মনে হলো, ট্রেনে বোধয় কিছু হারিয়েছে? খোঁজ করার জন্যই বোধয় পুলিশ দুটি ট্রেনের দিকে যাচ্ছে। অপূর্ব সুযোগ এসে পড়ল! দ্রæত এগিয়ে গেলাম। অনেক কাছে চলে আসলাম। বিলাই ফিসফিস করে উঠল, মিজান ভাই দেরি কইরেন না গুলি চালান। ধীরে ধীরে জ্যাকেটে আড়াল করে রিভলবার বেলায়েতের দিকে তাক করলাম। হাত কাঁপতে লাগল! শত হলেও মানুষ খুন। আমার তো আর বিলাইয়ের মত নয়টা খুনের অভিজ্ঞতা নেই। মোটেসোঁটে একটা । তাও আমার আবার নিজের বাপকে।

বয়স চৌদ্দতে পড়েছে। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখেছি, ঊনিশ থেকে বিশ হলেই মায়ের গায়ে হাত তোলে বাবা। বাবা ছিল গ্রামের মাতব্বর। টাকা-পয়সা, জায়গা-সম্পত্তির অভাব ছিল না। মাতবর কিসিমের মানুষদের মত সব বদগুণই ছিল তার। ভিলেইজ পলিটিক্স, খুন, মদ, নারী মোট কথা কোন গুণই তার চরিত্র থেকে বাদ ছিল না। হঠাৎ করে ঘোষণা দিল, আবার বিয়ে করবে। শুনেই মা হাউকাউ শুরু করল। মইরা যামু, সতীনের ঘর করমু না! বাবারও একই কথা, আমার বাড়ি আমার ঘর, আমি যাকে খুশি ঘরে আনমু, তুই কওনের কে? এক কথায়-দু’কথায় শুরু হল তুমুল ঝগড়া। একপর্যায়ে বাবা উঠান থেকে কঞ্চি নিয়ে মাকে পেটাতে শুরু করল। এবার আর সহ্য হলো না আমার! আমের চারা লাগাব, দাঁ দিয়ে মাটি খুঁড়ছিলাম। ঝড়ের বেগে উঠে দাঁড়ালাম। পিছন থেকে বাবার ঘারে, দিলাম এক কোপ। কম বয়স থেকেই আমি শক্তিশালী। বাবার গলায় অর্ধেক  ঢুকে গেল ধারাল দাঁ। গড়ড়ড়ড়ড়ড়ড় করে একটা আওয়াজ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। আকস্মিক ঘটনায় হতভম্ব হয়ে গেল মা! একটু হুশ হতেই চিৎকার করে উঠল, কে কোথায় আছ? আমার স্বামীরে মাইরা ফেলছে! আমার পোলায়! চিৎকার করে কেঁদে উঠল। বলতে লাগল, এইডা তুই কী করলি? তুই আমার পোলা না। তুই একটা খুনি। তুই আমারে বিধবা করছস। বাগানে ছিল মতি চাচা। চিৎকার করে উঠল, ধর, ওরে ধর। মায়ের গালি খেতে খেতে আর মতি চাচার ধরতে আসা দেখে, হুশ হলো। মনের ভিতর থেকে শুনতে পেলাম, বাঁচতে চাইলে মিজান পালা। এক ছুটে পৌঁছলাম লঞ্চঘাটে। ঢাকামুখী লঞ্চটা তখন ঘাট ছেড়েছে মাত্র। কী করি, কী করি? লঞ্চ ধরার জন্য দিলাম লাফ। পড়লাম গিয়ে পানিতে। সবাই হৈ হৈ করে উঠল, আহারে! বাচ্চাটা কে? মারা পড়বে তো? কে আছ উদ্ধার কর? সবাই শুধু উদ্ধার করতেই বলছে, বাঁচাতে নামছে না কেউ! এসময় কেউ একজন ঝাঁপিয়ে পড়ল। সাঁতার জানতাম না যে তা নয়। তবুও কেন জানি সাঁতরাতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল, আমি মারা যাচ্ছি! লঞ্চে উঠানো হলো। উদ্ধারকারী দেখলাম বাপের বয়সী। জিজ্ঞেস করল, কি নাম তোমার? পানিতে ঝাঁপ দিছ কেন? ভিষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, শুধু বললাম, বাপরে খুন করছি! লোকটি আমার মুখে হাত চাপা দিল। বলল, আর কারও সামনে এই কথা কইও না। ঢাকায় নিয়ে আমাকে আশ্রয় দিল। জানি না, কী কারণে যেন ওই বুড়ো আমাকে খুব  স্নেহ করত। কী দেখেছিল আমার মুখে কে জানে? 

বেলায়েত বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে বউয়ের সাথে রগড় করছে। বা হাতে জ্যাকেটটা আরেকটু সরিয়ে নিলাম। রিভলবারটা এমনভাবে তাক করলাম যাতে ওর ঘাড়ের গুলি লাগে। বিলাই বলে উঠল, মিজান ভাই আপনে আর আধা মিনিট সময় পাইবেন। তারপর আর সময় দিমু না। এতক্ষণে আমি ফালাইয়া দিতাম, আপনেরে সম্মান করি বইলাই ওয়েট করতাছি। যা আছে কপালে! প্রস্তুত হলাম গুলি করার জন্য। গুলিটা করতে যাচ্ছি, দেখতে পেলাম বাচ্চটার মুখ। কোলে তুলে রাখায় বাচ্চাটার মুখ বরাবর হয়ে আছি। বাচ্চাটা হাসছে, পিতার কোলে নিরাপদ আশ্রয়ের সুখ তার চোখ মুখ বেয়ে ঝরে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে অদ্ভূদ ঘটনা ঘটল! খুব পুরানো একটা স্মৃতি ভেসে উঠল মনে। আমাদের উঠানে বিরাট আসর জমেছে। লোকে লোকারণ্য। উঠানে সারিবদ্ধ কয়েকটি চেয়ার। মাঝের চেয়ারে বাবা, অন্য চেয়ারগুলিতে গ্রামের মান্যগণ্য ব্যক্তিরা। চারপাশে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গ্রামবাসী। উঠানের ঠিক মাঝখানে, একটি লোক পিঠমোড়া করে বাঁধা। লোকটি নিমাই। কুখ্যাত গরুচোর! গ্রামের কত গরু যে সে চুরি করেছ ইয়ত্তা নেই! বহুদিন ধরে গ্রামবাসী খুঁজছিল। আজ ভোরবেলা, ফজল মুন্সীর গরু চুরি করতে গিয়ে হাত নাতে ধরা পড়েছে। নিমাইয়ের পাশেই বসে আছে তার সাত বছরের মেয়েটি। মেয়েটি বসে বসে কাঁদছে। কতটুকুই বা সে বুঝতে পারছে? কী কারণে যে কাঁদছে, সেই ভাল জানে। বাবাকে বলতে শুনলাম, কি করা যায়? কেউ বলছে চোখ অন্ধ করে দিতে, কেউ বলছে পুলিশে দিতে। বাবা বলল, না। এই আপদ রাখন যাইব না। অন্ধ করলে পরে আমগোই পালতে হইব। পুলিশে দিলে ফিরা আইসা আবার এই কাম শুরু করব। ওরে মাইরা ফেলতে হইব। পিটাইয়া মারমু যাতে এই ধরনে সাহস ভবিষ্যতে আর কারো না হয়। মেয়েটাকে জোর করে সরিয়ে আনা হলো। শুরু হল মার। আকাশ ফাটিয়ে চিৎকার করছে নিমাই! আমি চেয়ে চেয়ে দেখছি। নিমাইয়ের মেয়ে চিৎকার করে কাঁদছে। বলছে, বাপেরে ছাইড়া দেও! ছাইড়া দেও তোমরা।  বুকে একটা চাপা কষ্ট অনুভব করছিলাম। মনে হচ্ছে ছুটে গিয়ে তাদের থামাই। বলি, নিমাইরে আপনারা  ছাইড়া দেন। মাইয়াডা বড় কষ্ট পাইতাছে। মাইয়াডারে এতিম কইরেন না। ছোটকাল থেকে এতিম শব্দটা অনেক শুনেছি। সেদিনই বোধয় এতিম কী তা প্রথম বুঝলাম। গরু চুরির অপরাধে মানুষ পিটিয়ে মারা সঠিক কি না জানি না, সেটা বোঝার জ্ঞান তখন হয়তো আমার হয়নি। কিন্তু একটা অসহায় শিশুর সামনে ভয়ঙ্করভাবে তার পিতাকে পিটিয়ে মারা আমার কচি মনে দাগ কেটে বসেছিল। অনেকদিন ভুলতে পারিনি। নিরব দর্শকের মত শুধু দেখেই গিয়েছিলাম। দেখা ছাড়া আর কিইবা করার ছিল? দশ মিনিটও লাগল না, পাঁচ-সাতটা বাশের বাড়িতে নিমাইয়ের কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে গেল। মেয়েটি গিয়ে বাবার লাসের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।

বিলাইয়ের ফিসফিসানি উৎকন্ঠায় পরিণত হলো। উত্তেজনায় তার কণ্ঠ কাঁপতে লাগলো।
মিজান ভাই করতাছেন কি? গুলি করেন না কেন? 
বেটার কোলে তো বাচ্চা! গুলি করলে তো বাচ্চাটার গায়েও লাগবো? 
লাগলে লাগুক। তাতে কি হইছে? এক জনের জায়গায় দুই জন মরব, সমস্যা কি? তাড়াতাড়ি করেন। 
আমার হাত তখন থেমে গেছে। বুঝে গেছি আমার পক্ষে সম্ভব না! শুধু বললাম, বিলাই আমি পারুম না। অশ্লীল ভাষায় খিস্তি দিয়ে উঠল বিলাই, এইসব মাগিদের নিয়া কোনো কিছ্ইু করা সম্ভব না! সীমা ভাবী যে আপনের মতো একটা মাগির লগে কেমনে প্রেম করে হালার দেমাগেই আইতাছে না? বিলাইয়ের কথায় আমি একটু হকচকিয়ে গেলাম! মনে মনে ভাবলাম, সীমার ব্যাপারটা তবে কি গোপন নেই? পুশিল দুজনকে দেখা গেল ট্রেন থেকে নামতে, বোঝাগেল তারা ফিরে আসছে। বিলাই তার পিস্তল বের করল। তাক করল বেলায়েতের দিকে। বলল, জীবনে কখনও ফেল মারি নাই এইবারও মারুম না। বুম করে একটা গুলির আওয়াজ হল। এক মুহূর্তের জন্য বুঝি সবকিছু থমকে গেল। চমকে উঠল বেলায়েত ও তার স্ত্রী। তাকাল গুলির উৎসের দিকে! পুলিশ দুজনও নিজেদের জায়গায় থমকে গেল। লুটিয়ে পড়ল বিলাই স্টেশনের ফ্লোরে। চোখ দুটি ভরা অসীম বিষ্ময়! বেলায়েত তী² দৃষ্টি নিয়ে তাকালো আমার দিকে। রিভলবারের মুখ থেকে ধোঁয়া তখনও পুরোপুরি বাতাসে মিশে যায়নি। বেলায়েত যা-ই বুঝুক না কেন তার চোখে হিংস্র হয়ে উঠল। কোমরে হাত চলে গেল। অদ্ভুত একটা তৃপ্তি পেলাম। মনে মনে ভাবলাম, বহুদিন ধরে সিন্ধুকে আটকে রাখা ঋণটা আজ শোধ করলাম। দারুণ হালকা মনে হলো নিজেকে! পুলিশ দুজন দৌড়াতে শুরু করেছে। সম্বিত ফিরে আসল আমার। বুঝলাম পালাতে হবে। ধরা খেলে রক্ষা নাই! এখানে ধরা পড়লে জেল, বাইরে ধরা পড়লে নাসিরের হাতে মরণ। বেঁচে থাকলে সীমার মতো বহু মেয়েই পাওয়া যাবে। তাছাড়া ওসব খানকিদের উপর এমনিতেও ভরসা করা ঠিক না। ওরা শেষ পর্যন্ত কারোই হয় না! ঊর্ধ্ব গতিতে দৌড়াতে শুরু করলাম। ঠিক সেভাবে, বাবাকে খুন করে লঞ্চ ঘাটের দিকে যেভাবে দৌড়ছিলাম।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/235068/</link>
				<pubDate>Wed, 05 Nov 2025 05:06:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঋণ<br />
কৃষ্ণজন  </p>
<p>প্রচণ্ড পিপাসা লেগেছে! বারবার গলা শুকাচ্ছে। মনে হচ্ছে, সাহারা মরুভূমিতে এসে পড়েছি। ধু ধু করে যেদিক পানে চাই, কোনোখানে জনমানব নাই! ঘামতে ঘামতে ডিহাইড্রেশনের শিকার হয়ে যাচ্ছি। ভিষণ ভয় লাগছে! তবে গলা শুকানোর কারণ কোনটা বুঝতে পারছি না? ভয় না ঘাম? মনে হচ্ছে দৌঁড়ে পালাই। সীমার কথা মনে হল। ইচ্ছেটা উবে গেল একনিমিষেই। সীমাকে পেতেই হব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-235068"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/235068/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">170379773ec7969a81ae72cd4d773dbe</guid>
				<title>লজ্জা
কৃষ্ণজন

মতিঝিল নামার পর মনে হলো, রিকশায় না উঠে বাকি পথটুকু হেঁটে যাই। মনরোম আবহাওয়া, মজার কিছু স্বপ্ন ভেবে হাঁটা যাবে। 
দাওয়াত খেতে যাচ্ছি চাচার বাড়ি। ধুপখোলা, গেন্ডারিয়া। হাঁটছি আর দেশের মহৎ মহৎ উন্নতি নিয়ে স্বপ্ন দেখছি! অনেক অনেক টাকা পেলে, কী কী করতাম দেশের মানুষের জন্য। অনেক বড় না হলে তো আসলে কিছুই করা সম্ভব না। আমি একটা কথা খুব পছন্দ করি- বিগ পাওয়ার বিগ রেসপন্সিবিলিটি। হাঁটতে হাঁটতে মেথর পট্টিতে এসে গেলাম। মতিঝিল থেকে গেন্ডারিয়া যাওয়ার পথে এ জায়গাটা পড়ে। রোডের পাশে দোতলা মার্কেটের মতো, তার উপর-নীচে বোধয় তারা থাকে। আগে এমনটা ছিল না, তখন ছিল বস্তির মতো। এখনও বস্তি তবে উন্নত হয়েছে, এখন দোতলা বস্তি। অনেক আগে এখানে রাস্তার দুপাশে শুয়র দেখা যেত। রিক্সা থেকে সেগুলিকে যখন দেখতাম একধরনের ভয় মিশ্রিত ঘৃণায় শরীর শিরশির করে উঠত। জাতিভেদের কারণে নাকি নোংড়া হওয়ার কারণে, কে জানে? হাঁটছি আর দু’পাশ দেখছি। চোখ পড়াতে দেখলাম, 
দোতলার বাড়ান্দা থেকে এক মেথরনি দড়িতে শুকাতে দেয়া কাপড়গুলি তুলে ফেলছে। দড়ি থেকে কাপড় নামাতে গিয়ে মেথরনি হঠাৎ একটা কাপড় নীচে ফেলে দিল। ওটা জামা না ওড়না বুঝলাম না এবং বোঝার আগ্রহও বোধ করালাম না। মহিলাটির তেমন কোন ভাবান্তর দেখতে পেলাম না। মেথরনিটা কেমন যেন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওপরদিক থেকে একজন মহিলাও হেঁটে আসছিল। কাপড়টা যেখানে পড়েছে তার কাছাকাছি চলে এসেছি, দেখলাম ঐ মহিলাও হাঁটতে হাঁটতে মাটিতে পড়ে থাকা জামাটির পাশে চলে এসেছে, ঠিক তখনই মেথরনি ঐ মহিলাকে ডাকতে শুরু করল কিন্তু মহিলাটি না শোনার ভান করে এবং কোন সারা না দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসতে থাকল, আমি মনে মনে ভাবলাম কাম সেরেছে! আমিওতো ঐ জায়াগাটর কাছাকাছি চলে এসেছি আমাকেও কি ডাকে নাকি আবার তার কাপড়টা তুলে দেওয়ার জন্য? সাথে সাথে শুরু হয়ে গেল মনের সাথে যুদ্ধ; কী করব তখন? খুব দ্রুতই স্পষ্টভাবে মন জানিয়ে দিল, 
দাঁড়ানো যাবে না, এমনিতেই অনেক দেরী হয়ে গেছে, সবাই দুপুরের খাবারে আমার উপস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছে। 
তাছাড়া এটা এমন কোন উপকারের কিছু না। কেউ না কেউ তো করবেই বরং এসব ক্ষুদ্র উপকার সমাজের কোন পরিবর্তনও করবে না। যেই আমি ঐ জায়গাটার কাছাকাছি আসলাম একটা ভ্যানগাড়িও সেখানে এসে থামল আমি হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলাম, 
মহিলাটা ‘এ্যা ভাই, এ্যা ভাই’ বলে ডাকতে লাগল। 
আমি ঐ ভ্যানচালককে ডাকছে বলে ধরে নিলাম অথবা মনটাকে সেটাই প্রবোধ দিয়ে হাঁটতে লাগলাম। ফিরে আর চাইলাম না।

প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়েছে। খুব ভাল লাগছে, চাচাতো ভাইয়ের বউ ফ্রাইড রাইস রান্না করেছিল। কতটুকু স্বাদ হয়েছে জানি না কিন্তু খেলাম বুক পর্যন্তই। খাওয়া শেষে আসল কাজই এখন বাকি-সিগারেট খেতে হবে। চাচাতো ভাইকে নিয়ে নামলাম সিগারেট খেতে। নিচে নেমে দেখি, ওরে বাবা! ভয়াবহ অবস্থা! রাস্তায় গোড়ালি সমান পানি। আর তো বের হতে পারছিনা, এখন উপায়? মাথা খারাপ হয়ে গেল। টেনশনে পড়ে গেলাম; যে একটা ভুরিভোজ দিয়েছি তারপর সিগাটের না খেলেই না। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে দুই ভাই ভাবতে লাগলাম কী করা যায়? মক্কেল খুঁজতে থাকলাম দোকানে পাঠানোর জন্য। দোকান খুব কাছেই কিন্তু যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। হঠাৎ একটা ছাতা দেখতে পেলাম কিন্তু মানুষ দেখতে পেলাম না। ছাটাটা কি একাই হেঁটে আসছে নাকি? নাকি ওটা ভূতের ছাতা? দ্বিতীয় ধারণাটা অবশ্য বিশ্বাসযোগ্য মনে হলো না, ভূত কোন কালেই বিশ্বাস করিনি। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর  দেখলাম ৬/৭ বছরের একটা ছোট্ট মেয়ে, খালি গায়ে ছাতাটা নিয়ে এগিয়ে আসছে,  মানুষের চাইতে ছাতাটা বেশি বড় হওয়ায় প্রথমে শুধু ছাতাটাই দেখা যাচ্ছিল এখন মানুষটাকেও দেখা গেল। মেয়েটি সম্ভবত গরীব বা যাকে আমরা  নিম্ন শ্রেণীর বলি সে ধরনের কোন পরিবারের। মধ্যবিত্ত পরিবারের হলে এই বয়সের মেয়েকে খালি গায়ে বেড় হতে দেয়ার কথা না। কাছে আসতেই ডাক দিলাম। অদ্ভূদ বিষয়! মেয়েটি খুব সহজেই এগিয়ে আসল। সিগারেট এনে দেয়ার কথা বলতেই রাজি হয়ে গেল। এজাতীয় সেবা করার অভ্যাস হয়তো বেশ ভাল রকমই মেয়েটির আছে। আমরা তার হাতে সিগারেটের টাকা ছাড়াও ২ টাকা ঘুষ দিলাম। মেয়েটি বলল, সেও নাকি দোকানেই যাচ্ছে। এতে আরো ভাল হলো, একদম সোহায় সোহাগা। বৃষ্টি থামার কোন লক্ষণই দেখছি না। এখন কেন জানি আর বৃষ্টি ভাল লাগছে না। বাড়ি ফিরতে হবে, অতি সাধের বৃষ্টিকেই এখন কেন জানি খোদার গজব মনে হচ্ছে! একটু পরই মেয়েটি  সিগারেট এনে দিলো, সিগারেট হাতে দিয়ে মেয়েটি ঐ ২ টাকা ফিরত দিল। 
বলল, দুই টাকা কম রাখছে। 
আমরা যে মেয়েটিকে দুই টাকা বখশিশ আসলে যা ঘুস দিয়েছিলাম, মেয়েটি তা বুঝতেই পারলো না। আমরা তাকে টাকাটা রেখে দিতে বললাম। মেয়েটি চলে গেল। দূর থেকে আবার শুধু ছাতাটাই দেখা যেতে লাগল। তার যাওয়ার দৃষ্টিটি উপভোগ করতে করতে অতি স্বাদের সিগারেটটা ধরিয়ে ফেললাম। সিগারেটটা আয়েশ করে ধরিয়ে টান দিতেই মগজে একটা ধাক্কা অনুভব করলাম। প্রচণ্ড এক লজ্জায় কুঁকড়ে গেলাম! আসার সময়ে মেথরনির কাপড় পড়ে যাওয়ার বিষয়টা মনে পড়ল। আমি একটা ফিলোসফি খুব পছন্দ করি তা হলো, অন্যের কাছে ভাল হওয়ার দরকার নেই, সবার কাছে কখনোই ভাল হওয়া যায় না কিন্তু নিজের কাছে যেন নিজে ভণ্ড না হই। আয়নায় দাঁড়িয়ে যেন নিজের চোখের দিকে তাকাতে পারি। নিজেকে বড় হাস্যকর মনে হতে লাগলো! মনে হলো ফিলোসফিটা যেন আমাকে ভেংচি কাটছে! কেন জানি না, কোনো না কোনোভাবে ভণ্ডামি হয়েই যায়!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/234493/</link>
				<pubDate>Sat, 25 Oct 2025 06:43:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>লজ্জা<br />
কৃষ্ণজন</p>
<p>মতিঝিল নামার পর মনে হলো, রিকশায় না উঠে বাকি পথটুকু হেঁটে যাই। মনরোম আবহাওয়া, মজার কিছু স্বপ্ন ভেবে হাঁটা যাবে।<br />
দাওয়াত খেতে যাচ্ছি চাচার বাড়ি। ধুপখোলা, গেন্ডারিয়া। হাঁটছি আর দেশের মহৎ মহৎ উন্নতি নিয়ে স্বপ্ন দেখছি! অনেক অনেক টাকা পেলে, কী কী করতাম দেশের মানুষের জন্য। অনেক বড় না হলে তো আসলে কিছুই করা সম্ভব না। আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-234493"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/234493/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ba8a9d8f6351d4f7d06c0960a4aeef15</guid>
				<title>মন কেমন কেমন করে!
কৃষ্ণজন (মোঃ মজনুর রহমান জন) 

ছিদ্রটা শেষ করা গেল শেষে! নিজেকে দক্ষ কাঠমিস্ত্রি মনে হলো শিপনের। কাঠমিস্ত্রি ভাবতে লজ্জা লাগলেও সাফল্যের আনন্দে আসল কাজে মনযোগ দিল। দরজার ছিদ্রতে উঁকি দিল সে। ওপাশের ঘরটি মোটামোটি দেখা যাচ্ছে। আশ^স্ত হলো। পনেরো দিন ধরে খুব গোপনে ছিদ্রটা করে যাচ্ছে সে। এতদিন লাগার কথা না। শিহাব ঘরে থাকলে কাজটা করতে পারে না শিপন। তবে আনন্দের বিষয়! শিহাব মাঝে মাঝেই বাড়ি থাকে না। সে ফাঁকেই ছিদ্র করার কাজটি চালিয়ে যায় শিপন। প্রায় একমাস ধরে তার মাথা খারাপ হয়ে আছে! মাথাটা খারাপ করেছে তাজ। শিপনের বন্ধু। সকল ‘সুকর্মের’ সঙ্গী। তাজু সেদিন তারুণ্যের শ্রেষ্ঠ রসগোল্লাটি উপভোগ করার স্বাদ পেয়ে যায়। তাজুর মামা শফিক পাটোয়ারী। ভাল ব্যবসায়ী। রাজশাহী থাকে। নতুন বিয়ে করে ঢাকা এসেছে হানিমুন করতে। তাজুর মা জোর করে শফিক ও তার বৌকে  নিজেদের বাড়িতে রেখে দেয়। তার এক কথা, যতদিন ঢাকা থাকবি আমার বাড়িতেই থাকতে হবে। এতে তাজুদের  আরো লাভ হয়েছে। শফিকের হাত বড়। প্রতিদিন নানা মজার মজার খাবার খেয়ে বাড়ির সবাই মহাআনন্দে আছে! 

সেদিন রাত ১০টা। তাজু সিগারেট খাওয়ার জন্য বারান্দায় গেল। এ বয়সেই কড়া স্মোকার হয়ে গেছে। এই নিয়ে বন্ধুদের কাছে গর্বেরও শেষ নেই তার। মজার ব্যাপার হলো, নতুন দম্পত্তিকে যে রুমে থাকতে দেয়া হয়েছে সেটি বারান্দা সংলগ্ন। সিগারেট খেতে খেতে তাজু লক্ষ্য করল জানালটি ভিড়িয়ে রাখা। সামান্য ফাঁক দিয়ে হালকা আলো বারান্দায় এসে পড়েছে। এসব আমলে না নিয়ে সিগারেট ফুঁকতে লাগল তাজু। কিন্তু অবচেতনভাবেই কান সর্তক হয়ে উঠল তার। ভিতরের কিছু অদ্ভুত ও অস্পস্ট আওয়াজে তাজুর কৌতুহল সৃষ্টি হলো। মনকে শত বাধা দেয়ার পরও কৌতুহলের চরমে উঠল তার। অতঃপর! জানালার ফাঁক দিয়ে ভিতরে দৃষ্টি দান। 
কথাটা শুনে, বিশেষ করে সার্বিক বিবরণ শোনার পর শিপনের মাথাটা গরম হয়ে যায়। রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে। ১৮ বছর বয়সে তাজু যে মূল্যবান গুপ্তবিদ্যা দর্শন করে ফেলল সে তার কিছুই করতে পারল না! বসে বসে আঙ্গুল চোষা ছাড়া! এটা শিপন মেনে নিতে পারছিল না। হঠাৎ করে তার মাথায় আসলো পাশের রুমের ভাড়াটিয়া সাব্বিরের কথা। 

শিপনদের বাড়িটা টিনসেডের একতলা। মেইন গেট বরাবর একটি সরু গলি, দুপাশে একাধিক ঘর আর পিছনের দিকে রান্নাঘর ও বাথরুম। বাড়তি আয়ের জন্য ওর বাবা একটি রুম ভাড়া দিয়েছে। ভাড়াটিয়ার নাম সাব্বির। তার রুমটি শিপনদের রুমের পাশাপাশি। মধ্য দিয়ে কাঠের একটি দরজা আছে। দরজাটি সাব্বিরদের দিক থেকে আটকানো। অনেকদিন ধরেই শিপন চাচ্ছিল সাব্বিরদের উঠিয়ে পাশের রুমটি দখল করার। শিহাবের সাথে থাকতে শিপনের ভাল লাগে না। শিহাব শিপনের বছর দেড়েকের বড়। শিপনের মনে হচ্ছে হঠাৎ করেই শিহাব অতিমাত্রায় হুজুর শ্রেণির হয়ে উঠেছে। বড়বড় দাঁড়ি রেখেছে, জুব্বা পড়ে, আতর মাখে। বছর দুয়েক ধরে তাবলীগে যায়। ঘরে থাকলে শিপনকে নামাজের জন্য চাপ দেয়। নানা রকম ধর্মীয় ওয়াজ নসিহত দান করে। শিপনের চোখে এগুলি প্রচÐ যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছু নয়! বয়সে বড় তাই ধাপকি দিয়ে থামিয়ে দিতে পারে না। বাবা-মার কাছে বললে বলে, শিহাব তো ভাল কথাই বলে। তুই মানার চেষ্টা করিস না কেন? ওতো তোর মঙ্গলের জন্যই বলে। আজকাল শিপনের মনে অন্য একটি ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। শিহাব যে সব বইপত্র ঘরে আনে সেগুলো তাবলীগের বই মনে হয় না। পুরোপরি না বুঝলেও শিপনের মনে হয় বইগুলি উগ্রবাদী ধরনের কিছু। তার মনে বদ্ধ ধারণা হয়েছে, শিহাব কোন জঙ্গী সংগঠনের সাথে জড়িত! তাবলীগের সাথে নয়। তাবলীগের বাহানা দিয়ে অন্য জায়গায় যায়। বিষয়টা মা-বাবাকে জানায় শিপন। কিন্তু তাতে কোন লাভ হলো না। বাবা বলে, 
শিহাব যাই করুক তোর চেয়ে অনেক বেশি ভাল কাজ করে। ওর উপর আমাদের পুরো বিশ্বাস আছে। 
এসব আজেরা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই সে পাশের রুমটি চেয়েছে কয়েকবার। বাবা রাজি হয়নি। মনে মনে ভিষণ মনক্ষুণœ শিপন! তাজুর গল্প শোনার পর থেকেই শিপনের মনে হলো, যে করেই হোক সাব্বিরের রুমে উঁকি দিতে হবে। 

সাব্বির বিয়ে করছে বছর খানেক হলো। সে একটা ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করে। সাব্বির মেধাবী ছাত্র ছিল। নেশায় আসক্ত থাকায় উচ্চ শিক্ষা শেষ করতে পারেনি। যে প্রতিষ্ঠানে সে অনায়াসে একজন ফার্মাস্টিট হওয়ার যোগ্যাত রাখতো, নেশার গুণে সেধরনের একটি প্রতিষ্ঠনে প্রোডক্শনের শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। বিয়ে করার পরপরই শিপনদের বাড়িতে ভাড়া আসে। বিনয়ী, ভদ্র ও ভাড়া নিয়ে কোন ধরনের ঝামেলা না করায় শিপনের বাবা-মা খুব খুশি সাব্বিরের উপর। তবে খুশি হওয়ার আরো কারণও আছে। সাব্বির প্রায়ই বিভিন্ন দরকারি মেডিসিন তাদেরকে দিয়ে থাকে। কীভাবে যোগার করে- এসব শিপনদের মাথা ব্যাথা নয়। তারা মাগনা পাচ্ছে এটাই বড় কথা। সবাই খুশি হলেও শিহাব একদম খুশি নয় সাব্বির মিয়ার উপর। শিহাব তাকে দেখতেই পারে না। শিহাবের কথা একথাটাই - নাস্তিক ব্যক্তির কোন গুণই গুণ নয়। সাব্বির নাস্তিক ধরনের লোক। এটা সে নিজেই স্বীকার করে। সাব্বিরকে তালিম দিতে গিয়ে শিহাব উদ্দীন বড়সড় একটা হোঁচট খায়। বিষয়টা সে তখনই ভালভাবে বুঝে। রাগটাও তখন থেকেই। সাব্বিরকে নিরিহ গোছের মানুষ মনে করে শিহাব অনেকদিন ধরেই তাকে তালিম দেয়ার তালে ছিল; 
সাব্বির ঘরের ভিতরে কখনো সিগারেট খায় না। এমন না যে রুমা পছন্দ করে না, তাই। আসলে এটা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তার বাবা ছিলেন ভীষণ কড়া। এক ধমকেই মুতে দেয়ার মতো অবস্থা! বাপের ভয়ে যত নেশাপানি সাব্বির সব বাইরে থেকে সেরে আসতো। সে অভ্যাস এখনো রয়ে গেছে। শিহাব দেখল সাব্বির গেটের বাইরে বিড়ি ফুঁকছে, ভাবল এই সুযোগ। এগিয়ে গেল সাব্বিরের দিকে।  
সাব্বির ভাই, নামাজ বেহেশতের চাবি। নামাজ বিহীন কোন গুণই গুণ না-এটা নিশ্চয়ই শুনেছেন?
হুম, শুনেছিরে ভাই, তোমার যত না বয়স তার চেয়েও বেশিবার শুনেছি।
শুধু শুনলেই হবে?  মানতেও তো হবে, নাকি?
কেন মানবো? নামাজ পড়লে বেহেশতে যাব, তাইতো? কিন্তু বেহেশতে গিয়ে করবো কী? মদ খাব আর অনেকগুলি নারী আকৃতির জীব নিয়ে ফুর্তি করবো?  শেষেমেষ এই তবে মানব জীবনের স্বার্থকতা? পার্থিব জীবনে আত্মউন্নয়ন ঘটিয়ে ঐ জীবনে গিয়ে লাম্পট্য প্রদর্শন? আবার হুরের যে বর্ণনা শুনি তাতে তো রুচিই আসে না। রক্তনালীও বলে দেখা যাবে! আরে মিয়া, নারীর স্বাদ কী কখনো পরী দিয়া হয়? 
এভাবে বলছেন কেনরে ভাই? ঐসব তো পুরস্কার হিসেবে পাবেন। একালের কষ্টের ফল। 
আর হুরের সমন্ধে না জেনেই বলছেন কেন? তাদের সৌন্দর্যের উপমা দিতে গিয়েই এরকম বলা হয়েছে। স্বচ্ছ-স্ফটিকের মতো তাদের সৌন্দর্য! আসলে সাব্বির ভাই আপনাকে তো শয়তানে ধরছে! তাই আপনি কাফির-নাস্তিকদের মতো কথা বলছেন?
যে কোনো একটা বল শিহাব। হয় কাফির নয় নাস্তিক। দুইটা এক জিনিস না।  যাকগে, আমি কাফির না, আমি নাস্তিক। আর শয়তানের কথা বললে না? শয়তান হলো মহাজগতের সর্বপ্রথম বিপ্লবী। 
মানে?
সে মানে তুমি বুঝবে না। আর আমি তোমাকে সে ব্যাখ্যাও দেব না। সেই ব্যাখ্যা সহ্য করতে তো পারবেই না বরং শোনার পর আমাকে খুন করার চিন্তা মাথায় ঢুকবে। তোমাদের তো ভাই আবার ভাল না লাগলেই তাকে আল্লাহর ওয়াস্তে জবাই দেয়ার চেষ্টা কর।
সাব্বির ভাই আপনি ভুলে যাচ্ছেন, আমি তাবলীগের সাথে জড়িত। তাবলীগকারীরা বুঝিয়ে আল্লাহর রাস্তায় আনার চেষ্টা করে অন্যভাবে নয়।
সে হলেই ভালো ভাই। 
দেখ শিহাব, ধর্ম মানে কী? 
সারক্ষণ স্রষ্টাকে ভয় পাওয়া! কোন কাজই ভয়শূন্যভাবে করতে না পারা। তার মানে সারাক্ষণ মাথায় টেনশনের লোড নেয়া। এতে কী হয় বলতো? এতে ব্রেইনের উপর চাপ পড়ে, হার্টে ক্ষতি হয়। এসব ছাড়াও নানা শারীরিক ক্ষতি হয়। আমি ভাই টেনশন মুক্ত থাকতে পছন্দ করি। হো হো করে হাসা ইসলামে না-জায়েজ কিন্তু আমি হো হো করেই হাসতে পছন্দ করি। এতে হার্ট ভাল থাকে। আমি ভাই ভয় মুক্ত জীবন চাই।
অসহিষ্ণু হয়ে উঠলো শিহাব। চেচিয়ে বলতে লাগলো,
কিসের মধ্যে কি? কিসের সাথে কিসের তুলনা! ইসলামে বেহুদা হাসি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামই একমাত্র আপনাকে ভয়মুক্ত জীবন দিতে পারে। আসলে আপনি ভাই পুরাই পাগল হয়ে গেছেন! আপনি মুসলমান, এসব কথা বলে আর গুনাহ কামাবেন না। মসজিদে আসুন, কুরআন পড়ুন। আমি শুধু নিশ্চিত নই কথাও দিচ্ছি, আপনি যদি আমল শুরু করেন তবে সব প্রশ্নের উত্তরই একে একে পেয়ে যাবেন।
আমাকে এসব বলে লাভ নেই। আমি সাত ঘাটের পানি খাওয়া। তুমি এত আমলদার তো তোমার ভাই এমন কেন? তোমরা না পিঠাপিঠি? তাকে লাইনে আনতে পারছ না কেন? যাও গিয়ে নিজের ভাইকে আগে লাইনে আনো।
শিহাব বুঝতে পারল সাব্বিরের সাথে তর্ক করা অর্থহীন। সে কোন কারণে ইসলামের প্রতি প্রচণ্ড বিদ্বেষ পোষণ করে। 
শিহাব বলল, সাব্বির ভাই নাস্তিকদের কাছে যুক্তি সবসময় বেশি থাকে। তারা যুক্তি দিয়েই চলতে চায়। কিন্তু শুধু যুক্তি দিয়ে তো জীবন চলে না, জীবনের জন্য কিছু বিশ্বাসেরও প্রয়োজন আছে। সে বিশ্বাস আপনাকে দিবে ইসলাম। আল্লাহ আপনাকে হেদায়াত দান করুন। 
মনে মনে প্রচণ্ড একটা ক্ষোভ নিয়ে ভারাক্রান্ত মনে সরে আসে শিহাব। তখন থেকে শিহাবের মাথায় একটা কথা ঢুকে, বেশি বোঝা মানুষগুলিই আল্লাহর দুশমন। আর ভদ্র হলেই মানুষ ভাল হয় না। 

শিপনের জন্য আজ রাতটা অবিস্মরণীয়। সন্ধ্যা থেকেই অস্থির হয়ে আছে। কখন যে মধ্যরাত হবে? একটা ভয় গুমরে খাচ্ছে তাকে। রাতে বাতি নিভিয়ে ঘুমাবে না তো? সে সম্ভাবনা কম। নিজেকে সান্ত্বনা দিল শিপন। অবশ্য এই সান্ত¡নার কারণ আছে। যখন থেকে শিপন পাশের রুমের প্রতি আগ্রহ বোধ করছে, তখন থেকেই সে দরজাটির দিকে খুব লক্ষ্য রাখে। সে দেখেছে, প্রায় সারা রাতই বাতি জ্বালানো থাকে। আকাশ-পাতাল ভাবতে ভাবতে রাত ১২টার মতো বাজতেই নিজের ঘরের বাতি বন্ধ করে শিপন দরজার কাছে গিয়ে ছিদ্রতে চোখ রাখলো। সাব্বিরের স্ত্রী রুমা ছোটখাটো টাইট ধরনের একজন  মেয়ে। শান্ত, একা একা নিজ ঘরে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। শিপনের মা আজো বুঝতে পারলো না মেয়েটা কোন প্রকৃতির। শিপন ছিদ্র দিয়ে বড় বড় করে তাকানোর চেষ্টা করল। রুমা সাব্বিরের পাশে শুয়ে  আছে। একা একা কথা বলে যাচ্ছে, সাব্বির কোন উত্তর দিচ্ছে না। দেখে মনে হচ্ছে সাব্বির মরার মতো ঘুমাচ্ছে। রুমা হাত দিয়ে ধাক্কা দিল কয়েকবার, সাব্বির কোন সাড়া শব্দ করলে না। রুমা কিছুক্ষণ গুঙ্গিয়ে গুঙ্গিয়ে কাঁদল এরপর পাশ ঘুরে শুয়ে পড়লো। ভিষণ হতাশ হলো শিপন! এতো পরিশ্রমের এই রেজাল্ট? কেন জানি সাব্বিরের উপর শিপনের খুব রাগ হতে লাগল। শালা! বিয়ে করেছ মাত্র এক বছর, এখনই এতো আগ্রহ কম কেন? মনে মনে সাব্বিরকে ইচ্ছামতো কিছু গালি দিয়ে শুয়ে পড়লো শিপন। 

মাস তিনেক হয়ে গেছে। প্রতিদিন একই ঘটনা। প্রথম প্রথম শিপন খুব অবাক ও বিষ্ময়বোধ করতো। আশ্চর্য! নতুন বিয়ে অথচ.....? সাব্বিরের বিষয়ে কৌতুহলী হয়ে উঠে শিপন। কিছু খোঁজ-খবর নিতেই জানতে পারল সাব্বিরের মারাত্মক বদভ্যাসের কথা। সাব্বির মারাত্মক নেশাখোর। এমন কোন নেশা নাই যে সাব্বির করেনি। এখন সে নিয়মিত এলকোহল পান করে। ঔষধ ফ্যাক্টোরিতে কাজ করার দরুন এলকোহল যোগার করা তার জন্য কোন ব্যাপার নয়। প্রতি রাতে কারখানা থেকে বেড়িয়ে বন্ধুদের নিয়ে এলকোহল খেয়ে চুপটি করে ঘরে এসে ঢুকে। তাজু বলল, 
বুঝলি শিপন ঐ ব্যাটা এলকোহল খাইয়া খাইয়া শেষ কইরা লাইছে সব। এর লেইগাই হের বউ গুনগুনাইয়া কান্দে। তোর জন্য তো দারুণ সুযোগ! এই চান্সে দেখ হের বউর সাথে খাতির করতে পারস কিনা। 
তাজুর কথা শিপনের মাথায় দারুণভাবে ঢুকে গেল। তাজুর কাছে ভাল সাজার ভাণ করলো।
যা বেটা কী কস? এইটা ঠিক হইব না।
তোর ব্যাপার ভাই। আমার বাড়ির হইলে আমি চান্স ছাড়তামই না।
তাজু কোন উত্তর দিল না। কিছুদিন যেতেই ভিতরে ভিতরে দারুণ মরিয়া হয়ে উঠল। প্রথম যৌবন আর কাকে বলে! 

শিহাবের আজকাল প্রায়ই বাইরে বাইরে থাকতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে হেদায়েত করতে হয়। জিহাদের দাওয়াত দিতে হয়। সব কিছুই করতে হয় খুব গোপনে। শিহাবের মনে বড় কষ্ট- একটি মুসলিম দেশ হয়ে মুসলমানদের জিহাদের আহŸান করতে হয় গোপনে! শিহাব দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, যে করেই হোক দেশটি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। শিহাব যে সংগঠনটির সাথে জড়িত তার নাম ইসলামী জিহাদ সঙ্ঘ। সংক্ষেপে ওঔঝ, সংগঠনটির সাথে হঠাৎ করেই তার পরিচয় হয়ে যায়। শিহাব মূলতঃ তাবলীগ জামায়াতের সাথে জড়িত ছিল। এলাকার মসজিদ থেকে তাবলীগ-এর প্রচারণায় সে এই বিষয়ে উৎসাহি হয়ে ওঠে। প্রথম তিন দিন করে লাগানো শুরু করে এরপর চিল্লায়ও যায়। এভাবে চলছিল। ভেজালটা লাগল তখন, যখন সাথী ভাই সিরাজের সাথে অন্তরঙ্গতা বাড়লো। সিরাজ তাকে নতুনভাবে ইসলামী দায়িত্বের কথা বোঝাতে শুরু করল। জিহাদের গুরুত্ব ও ফজিলত  সম্পর্কে বোঝাল। বোঝায়, এ দায়িত্বই ইসলামের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব, এই দায়িত্ব ফেলে রেখে অন্য আমল একদম মূল্যহীন। শিহাব ভাবনা পরিবর্তন হতে লালগ। সে ভাবে, এতোদিন শুধু মানুষকে বুঝিয়ে মনে করেছি দায়িত্ব শেষ, ও মা! দায়িত্বতো দেখি এতো সোজা না। ভিতরে ভিতরে শিহরিত হয়ে ওঠে শিহাব। একটা বিষয়ে খটকা লাগাতে শিহাব জিজ্ঞেস করে:
সিরাজ ভাই এসব কথা তো তাবলীগ জামায়াতের কেউ বলে না, আপনি এসব কথা পেলেন কোথায়? 
আরে এই জন্যইতো তাবলীগ পরিপূর্ণ ইসলাম নয়। 
এমন কথা শিহাব আশা করেনি, সে ভিষণ অবাক হয়!
তাহলে আপনি তাবলীগ-জামায়ত করেন কেন ?
আমি তোমার মত প্রকৃত ইসলামী সেনানীদের খুঁজে বেড়াচ্ছি। তাবলীগের ভিড়েও তাই  খাঁটি সোনা খুঁজি। 
সিরাজ ভাই আপনাদের কথা কি এরা কেউ জানে? 
আরে না। 
-এটা জানতে পারলে সমস্যা আছে। তারা অতি নমনীয় মতাদর্শ অনুসরণ করে।  জানলে তারা তো কোন সাহায্য করবেই না উল্টো জানাজানি করে আমাদের বিপদে ফেলবে। 
-আমাদের দাওয়াত অতি গোপনীয়ভাবে হয়। আমরা অনেক বিচার করে শুধু তাদেরকেই বলি যাদের আমাদের কাছে প্রকৃত মুমিন মনে হয়। তোমাকেও আমরা তাই মনে করি। তুমি যদি সত্যিই আল্লাহ’র প্রিয় বান্দা হতে চাও তবে আমার সাথে আমাদের সংগঠনে যোগ দাও। 
-এই দুনিয়া কিছুই না রে ভাই সেই দুনিয়ার কাছে! তাই সেই দুনিয়ার জন্য কামাও। মুক্তি পেয়ে জান্নাতে যেতে পারবে। ইসলাম প্রচার প্রসার ও কামিয়াবী না হওয়ার জন্য প্রত্যেক মুসলমানকে জবাব দিতে হবে। কোন কথা বলে তখন পার পাবে না। ইসলামের প্রকৃত খেদমত তোমরা যদি না কর তবে কারা করবে? 
শিহাব রক্তের গন্ধে রোমাঞ্চ অনুবভ করে। বলে ওঠে, 
অবশ্যই ভাই আমি প্রস্তুত। 


IJS-র বিভিন্ন বই পড়ে শিহাব জিহাদ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানে। শিহাবের মনে দেশটাকে প্রকৃত ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন জেগে ওঠে। তাবলীগ-জামায়ত শিহাবের কাছে এখন আর ভালো লাগে না বরং এটার প্রতি এখন কিছুটা বিদ্বেষই পোষণ করে। এখন শিহাবের মতে-এরা কোন কামের না! শিহাবের কাছে একটা বিষয় পরিষ্কার, যে কোন অবস্থাতেই জিহাদ করতে হবে। ইসলামের দুশমনকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই  তাকে কতল করতে হবে। সহযোদ্ধাদের সাথে জিহাদ নিয়ে আলাপে নতুন নতুন তথ্য পায়, মক্কার এক কবি একবার হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-কে নিয়ে কবিতার মাধ্যমে নানা রকম কুৎসা গাইতে লাগলো। মদিনায়ও এখবর এসে পৌঁছল। তখন মুহাম্মদ (সঃ) বললেন, কে আছো ঐ ব্যক্তির হাত থেকে আমাকে নিষ্কৃতি দেয়ার জন্য? এক বা দুই সাহাবা উঠে দাঁড়ালো, গোপনে মক্কায় গিয়ে তাকে কতল করে আসল। এ গল্পটি শিহাবের মনে চরমভাবে ঢুকলো। সে চিন্তা করতে লাগল ইসলামের দুশমনকে যদি অন্য জায়গায় গিয়ে কতল করা যায় তবে নিজের ঘরে যে ইসলামের দুশমন বসে আছে তাকে কী করা উচিৎ?  শিহাব একটা সিদ্ধান্ত নিল মনে মনে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথও আঁকতে লাগল। ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, শিহাবের এই পরিবর্তন তাবলীগের সাথী ভাইরাই কেউ বুঝতে পরল না, বাড়ির কেউ আর বুঝবে কী?

শিপন এখন আর ছিদ্র দিয়ে চোখ দেয় না। জানে এটা নিরর্থক। বরং একজন নারীর নিঃশব্দ কান্না তাকে কষ্ট দেয়। শিপন রুমাকে দেখলে বড় বড় করে তাকায়, চোখ দিয়ে তাকে ভষ্ম করে দিতে চায়। সে এখন বাইরের চেয়ে বাড়িতেই বেশি সময় দেয়। আকার-ইঙ্গিত বুঝতে পেরেও রুমা প্রথম দু’চারদিন পাত্তা দিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। যৌবনের ডাক অস্বীকার করা বড় কঠিন। রুমার চোখে রিপিট আমন্ত্রণের তীব্র ভাষা দেখে শিপন মস্তবড় ধাক্কা খেল! টাইফুনের ঝড় বহা শুরু করল তার হৃদয়ে। যেন স্বর্গ হাতে পেল! শিপনের আর তর সইছিল না। নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাহস করে একদিন একটা চিঠি দিল। চিঠির উত্তর ‘হ্যা’ হওয়ায় শিপনের আর কোন বাধা রইলো না। খুব দ্রæতই রুমার সাথে অন্তরঙ্গতা তৈরি হয়ে গেলো। নিভৃতে একে অপরকে কাছে পাওয়াটাই এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো। সাব্বির মাঝে মাঝে নাইট উিউটি করে। যেদিন নাইট ডিউটি করে সেদিন রাতে আর বাড়ি ফেরে না। শিহাব তাবলীগের দোহাই দিয়ে মাঝে মাঝে ঘরে থাকে না। কিন্তু মুশকিল হলো, সাব্বির যখন নাইট ডিউটি করে তখন শিহাব বাড়িতে থাকে আবার শিহাব যখন বাইরে থাকে তখন সাব্বির বাড়িতে থাকে। শত কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও দাঁত কামড়ে শিপন ধৈর্য ধরতে লাগল একটি সুযোগের আশায়! এমন একটি রাত, যেদিন শিহাব বা সাব্বির দুজনের কেউই বাড়ি থাকবে না। 

শিহাব তার প্রথম জিহাদের পরিকল্পনা পূর্ণ করে ফেলেছে। সিদ্ধান্ত নিল, কাজটা করতে হবে মধ্য রাতে। শিহাবের প্রায় প্রতি রাতেই একবার করে টয়লেট-এ যাওয়ার অভ্যাস আছে। অনেকেরই এই অভ্যাস আছে, যেমন আছে সাব্বিরের স্ত্রী রুমারও। সে দেখেছে প্রায়ই এসময়ে রুমা বাথরুমে যায়। শিহাবদের একতলা টিনসেডের বাড়িতে রান্নাঘর ও বাথরুম সব কমন। ঐদিকে যাতায়াত করলে স্বভাবতই এটা চোখে পড়ে। শিহাব জিহাদের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হলেও  ফাঁসিতে ঝুলতে রাজি নয়। তার মতে, তাকে আরো অনেক জিহাদ করতে হবে। কাজটা করতে হবে তাই গোপনে। জবাই করার জন্য ধারালো চাপতিও যোগার করল সে। 

শিপনের যেন সময়ই কাটছে না। শিপন আজ খুব খুশি! উত্তেজনায় টগবগ করছে। শিহাব গতকাল তাবলীগের কথা বলে গেছে, দুদিনের আগে আর ফেরার সম্ভাবনা নেই- এটা জানে শিপন। এদিকে সাব্বিরের আজ নাইট ডিউটি। সন্ধ্যা থেকে অপেক্ষা করছে রাত ১২টা বাজার জন্য কিন্তু কিছতেই কাটছে না। বার বার ক্ষেপে উঠছে ভিতরের বাঘটি, কিছুতেই আর মানানো যাচ্ছে না! সময় যে এতো দীর্ঘ হতে পারে শিপন আজ তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। বেহেস্তি সুখের অপেক্ষা করতে করতে যখন হালকা তন্দ্রাভাব এসে পড়ল ঠিক তখনি শিপন দুই রুমের মাঝখানের দরজাটা খোলার আওয়াজ পেল। 
শিহাবদের বাড়ির ছাদ বেয়ে ওঠা খুব সহজ। ১০ সেকেন্ডের বেশি লাগে না ছাদে উঠতে। রাত ১টা থেকে ছাদের উপর ঘাপটি মেরে বসে আছে শিহাব। হঠাৎ করে তাকে দেখলে কেউ জীনও মনে করে বসতে পারে। ধবধবে ফর্সা গায়ের রং, আরবীয় জুব্বা, সুন্নতি দাঁড়ি। চাঁদের আলোয় মুখটা নুরানী নুরানী লাগছে। বুকটা ধরফর করে উঠল শিহাবের যখন দেখল সাব্বিরের বউ ঘর থেকে বেড়িয়ে বাথরুমের দিকে যাচ্ছে। সাহস বাড়ালো শিহাব। মনে মনে বলল, ঝড়ের বেগে কাজটা সারতে হবে। রুমা বাথরুমে ঢুকতেই নিচে নেমে আসল শিহাব। বেড়ালের মত নিঃশব্দে সাব্বিরের ঘরে ঢুকলো। বাতি নিভানো তাই পকেট থেকে মোবাইলটা চাপ দিয়ে আলোকিত করল। বিছানার কাছে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। অল্প আলোতে ঘুমন্ত মানুষটিকে ঠিকমতো বোঝা গেল না।  গলাটা অনুমান করে সজোরে কোপ চালালো শিহাব। প্রথম কোপটা জায়গামতো পড়লো না। দ্রæত দ্বিতীয় কোপটা চালালো শিহাব। বিভৎসভাবে একটা চিৎকার তার কানে আসতে-আসতে দ্বিতীয় কোপটাও গলায় বসিয়ে দিল শিহাব।
 ‘বড়ড়ড়ড়ড় ভাইইইই, 
শব্দের চিৎকারটা শুনে চমকে উঠল শিহাব! অতি পরিচিত শব্দটা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেল! মোবাইলটা আলোকিত করে আবার মুখে ফেলল।  অব্যক্ত এক যন্ত্রণায় গুঙ্গিয়ে উঠল শিহাব! থরথর করে কাঁপতে লাগল! চাপাতিটা মেঝেতে পড়ায় ঠন্ করে একটা শব্দ হলো। চিৎকার শুনে বাড়ির সবাই জেগে উঠলো। হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকলো রুমা। নিজের রুম থেকে অদ্ভুত একটা চিৎকার আসাতে ভীষণ ভয়ে পেয়ে গেছে সে। রুমে ঢুকেই লাইট জ্বালালো। রক্ত হিম করা একটা চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল রুমা। কী হয়েছে! কী হয়েছে! বলতে বলতে শিপনের বাবা সাব্বিরের ঘরে ঢুকল, পিছনে অন্যরাও। সব কিছুরই বোধ হারিয়ে নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শিহাব। কোন কিছুর দিকেই লক্ষ্য নেই। তাকিয়ে আছে শুধু ধর বিচ্ছিন্ন ভাইয়ের লাশটির দিকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/233829/</link>
				<pubDate>Tue, 07 Oct 2025 10:55:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মন কেমন কেমন করে!<br />
কৃষ্ণজন (মোঃ মজনুর রহমান জন) </p>
<p>ছিদ্রটা শেষ করা গেল শেষে! নিজেকে দক্ষ কাঠমিস্ত্রি মনে হলো শিপনের। কাঠমিস্ত্রি ভাবতে লজ্জা লাগলেও সাফল্যের আনন্দে আসল কাজে মনযোগ দিল। দরজার ছিদ্রতে উঁকি দিল সে। ওপাশের ঘরটি মোটামোটি দেখা যাচ্ছে। আশ^স্ত হলো। পনেরো দিন ধরে খুব গোপনে ছিদ্রটা করে যাচ্ছে সে। এতদিন লাগার কথা না। শিহাব ঘরে থাকলে কাজট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-233829"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/233829/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b17256d14e5d22d7ce9be7405bdc5264</guid>
				<title>আমারে আমি বেসেছি ভালো, কেবলই পরের তরে!
কৃষ্ণজন

আম্মা দশটা টাকা দেন না?
আচমকা সংবিৎ ফিরলো যেন নীলার! মনে হচ্ছিল দূর থেকে ভেসে আসছে কথাগুলি। আসলে এতোটাই ঘোরে ডুবেছিল সে, চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্নই হয়ে গিয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। তবে ঘোর নয়, প্রবল বিষন্নতায় নিমগ্ন ছিল। হুঁশ ফিরতেই বুঝলো সে তো আসলে ট্রেন স্টেশনে বসে আছে। দেখলো একটা ছোট মেয়ে, বয়স ৮/১০ এর বেশি হবে না, গায়ে নোংরা পোশাক। কাঁদো কাঁদো ভাব নিয়ে ভিক্ষে চাইছে। ভীষণ মেজাজ খারাপ হয়ে গেল নীলার। বলল,
যাও এখান থেকে। সামনের দিকে যাও।
কে শোনে কার কথা! মেয়েটি আবারও বলে উঠলো,
আম্মা দশটা টাকা দিবেন?
এবার সত্যি সত্যি ক্ষেপে গেল সে। ধমক দিয়ে বলে উঠলো
ভাগো বলছি! আর একবার ভিক্ষে চাইলে চড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিবো।
আজকাল দেশের অবস্থা জঘন্য হয়ে যাচ্ছে। অসভ্য বাপ-মা’গুলো ছোট ছোট বাচ্চাগুলিকে দিয়ে ভিক্ষা, চুরি-ডকাতির ইত্যাদির অভ্যাস গড়ে তুলছে। ইচ্ছে করে ময়লা পোশাক পরিয়ে পাঠানো হয়, কান্না কান্না অভিনয় করতে শেখায় যাতে অন্যের সহানুভ‚তি সৃষ্টি করতে পারে। বিরবির করে কথাগুলো বলে কিছুটা শান্ত হলো সে। শান্ত হতেই অবাক হলো নীলা। মনে মনে ভাবলো, এ আমি কী করছি? একটা ছোট বাচ্চার সাথে এমন ব্যবহার করাটা কি ঠিক হচ্ছে? আবার ভাবনায় ডুবে গেল। 

অন্য সময় হলে নীলা হয়তো বাচ্চাটাকে হাত ধরে পাশে বসাতো, পছন্দের কিছু কিনে দিতো। বাচ্চাদের খুবই আদর করতে পছন্দ করে। কিন্তু এই মুহূর্তে পরিস্থিতিটা ভিন্ন। বাসা থেকে প্রচÐ রাগ করে বের হয়েছে সে। একরকম চির বিদায় নিয়েই বলা চলে। মনে মনে ঠিক করেছে আর ফিরে যাবে না। গতরাতে একচোট হয়ে গেছে রাজিবের সাথে। মেয়েও কম যায় না! ২৫ বছর সংসার করার পর নীলার এখন মনে হচ্ছে, বৃথাই এই সময়টুকু পার করেছে সে এই সংসারে, কেউই তার আপন নয়। সকাল বেলা একদম নীরবে বের হয়ে আসে ঘর থেকে। গন্তব্য জামালপুর। একবার বেড়াতে গিয়ে একটা জায়গা খুব ভালো লেগে যায় তার। খুব ছোট একটা জায়গা কিনে নিজের টাকায়। টিন আর বেড়া দিয়ে গ্রাম্য ঘর বানিয়ে রেখেছিল। মাঝে মাঝে বেড়িয়ে আসে, খুব ভালো লাগে। কিন্তু এবারে বিষয়টা ভিন্ন। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর ফিরবে না। কাদের জন্য ফিরবে? কারো জন্য কম করেনি সে? বিনিময়ে অবহেলা আর অপমান ছাড়া কিছুই ভাগ্যে জুটেনি তার। পরিবার, স্বামী-সংসারের কথা চিন্তা না করলে আজ সে অনেক উপরে উঠতে পারতো। নীলা মেধাবী ছাত্রী ছিল, পেশাগত জীবনেও অনেক ধরনের বড় বড় সুযোগ এসেছে তার কিন্তু স্বামী-সন্তান, বৃদ্ধ মাতা-পিতা এদের ছেড়ে দুরে সরে যেতে চায়নি সে। নিজের ক্যারিয়ারের সাফল্যের জন্য নামকাওয়াস্তে সংসার করতে চায়নি সে। একজন আদর্শ স্ত্রী, একজন আদর্শ মাতা হয়েই থাকতে চেয়েছে সে। জীবনে অসংখ্য সাধ-আহ্লাদ ত্যাগ করেছে এই পরিবারের জন্য। আজ এই পরিবারই তাকে বোঝা মনে করে। 
আম্মা সকাল থেকে কিছু খাই নাই! দেন না দশটা টাকা? 
ভাবনায় ছেঁদ পড়লো আবার। তবে এবার আর চটলো না সে। শুধু বলল,
আমার কাছে দশ টাকা নেই!

আসলেই তার কাছে দশ টাকা নেই। ব্যাগে আছে কিছু হাজার টাকার নোট। একটা অভিমানের ঘোরে হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছে স্টেশনে। টিকেট কাটতে গিয়ে দেখে কোনো ভাঙ্গতি নেই। একদম সকাল সকাল, কাউন্টারের লোকটিও বললো ভাঙ্গতি নেই। কী করবে, কী করবে ভাবতে ভাবতে প্লাটফর্মের একটা ওয়েটিং সিটে বসে পড়ে। বসেই আবার বিষণ্ণতায় গ্রাস করে তাকে। এবার আর সে নিতেই পারছে না। গতরাতেও গায়ে হাত তুলেছে রাজিব। রিশমার কর্মকাণ্ড নিয়ে নাকি তাকে কিছু বলা যাবে না? তার মেয়ে, সে ভাববে না তো কে ভাববে? রিশমার আজকাল যাদের সাথে ওঠা-বসা, তাদের একদম মেনে নিতে পারছে না নীলা। আধুনিকতা মানেই যে মধ্য রাতে বাড়ি ফিরতে হবে, অকেশনের নামে ছেলে বন্ধুদের সাথে মদ-গাঁজা খেতে হবে, এমনটা নীলা মোটেও মানতে রাজি নয়। যদিও রিশমা দাবি করে, সে এসব কিছুই খায় না। কিন্তু নীলা ওর মুখে সিগারেট এর গন্ধ পেয়েছে কয়েকদিন, একবার এলকোহলের গন্ধও পেয়েছে। সে এই গন্ধ ভালো করেই চিনে। রাজিব একজন নিয়মিত ড্রাংকার। তার অফিসিয়াল স্ট্যাটাসের জন্য প্রায়ই ড্রিংক করতে হয়। অবশ্য এটা তার দাবি। সত্যিটা কী কে জানে? একসময় এসব মানতে না পারলেও ধীরে ধীরে নীলা মেনে নিয়েছে। গতকাল রাতেও এই বিষয় নিয়ে মেয়েকে বকাঝকা করছিল নীলা। বাবাও এসে পক্ষ নিলো মেয়ের। বলে,
এই বয়সে এসব একটু আধটু করবেই। আজকাল ছেলে-মেয়ে বলে আলাদা কিছু কি আছে? যুগ বদলেছে।
তাই বলে মেয়ে হয়ে নেশাপানি করবে, এটা কেমন কথা? নিজে  মাতাল আর মেয়েটাকেও মাতাল বানাবে?
এটা আর নিতে পাররো না বোধ হয় রাজিব। তাছাড়া ড্রিংক করা অবস্থায় ছিল। সজোরে চড় মারে স্ত্রীর গালে। স্তব্ধ হয়ে যায় নীলা। অন্যসময় পাল্টা ঝগড়ায় মেতে ওঠে নীলা। কিন্তু এবার আর  তা করলো না। প্রচণ্ড আত্মসম্মানে লাগলো তার। মনে হলো কুকুরকে যতই বোঝানো হোক কুকুর ঘেউ ঘেউই করবে। দারুণ অভিমান আর লজ্জায় চলে গেল নিজের রুমে। তখনই সিদ্ধান্ত নিল, এদের সাথে আর নয়। ভোরবেলা নিঃশব্দে ছোট একটি ব্যাগে কিছু কাপড় গুছিয়ে বের হয়ে পড়ে সে। 

ঠিক আছে, তাইলে আর কী!
কথাটা বলে মেয়েটা সরে যেতে লাগলো, এগিয়ে গেলো সামনের ওয়েটিং সিটে বসা আরেকটি লোকের দিকে। অবাক হলো নীলা, এতো সহজে মেনে নিল! যেভাবে জোঁকের মতো এঁটে গিয়েছিল তাতে তো মনে হয় সহজে পার পেতো না সে। কিন্তু ধমক দিয়ে যাকে সরাতে পারছিল না সে, নরম কথায় কাজ হয়ে গেল দেখে নিজেই একটু হকচকিয়ে গেল! হঠাৎ খুব মায়া হলো মেয়েটার জন্য। বাবা-মা বা পরিবেশ তাকে যাই শিখাক, মেয়েটা তো নিষ্পাপ । নীলা ডাক দিয়ে উঠলো,
এক খুকি? এই? এই?
মেয়েটা ঘাড় ঘুরে তাকালো। কিছুটা দ্বিধাচিত্তে এগিয়ে আসলো তার দিকে।
কী? 
বলেন?
কী নাম তোমার?
নীলার হঠাৎ মমতায় মেয়েটা অস্বস্তিতে পড়লো। কিছুটা সন্ধিহান চোখে বলল,
ক্যান?
বলই না?
জি, ময়না।
নীলা মেয়েটির নাম আরো আধুনিক কিছু ভেবেছিল। আজকাল বস্তিতেও অনেক আধুনিক নাম শোনা যায়। বিশেষ করে সেলিব্রেটিদের নাম।  নীলা ব্যাগটা খুললো, একটা একহাজার টাকা নোট বের করে ময়নাকে বলল,
নাও এটা।
মেয়েটি চোখে বিষ্ময়!
দ্বিধা করছে সে।
আমারে দশ টাকা দিলেই হবে।
আরে বোকা আমার কাছে তো ভাংতি নেই, এটাই নাও। এখন আর ভিক্ষে না করে বাসায় চলে যাও। বাবা-মাকে এই টাকাটা দিয়ে ভালো কিছু রান্না করতে বল।
ময়না লোভকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না। এক হাজার টাকার নোট কী বা কত বড় এটা না বুঝলেও সে এটা ভালোই বুঝে, এই নোটটা অনেক দামি! অনেক কিছু কেনা যায় এটা দিয়ে। 

এর মধ্যে একটি ট্রেন চলে গেল। নীলা বসেই আছে, টিকেট কেনার আগ্রহ বোধ করছে না। আসলে এতোটাই বিষণœ হয়ে আছে যে আবার উঠে গিয়ে টিকেট কাটার চেষ্টা করবে সে ইচ্ছেটাই জাগছে না। ময়মনসিংহ থেকে জামালপুরের অনেক লোকাল ট্রেনই আছে, তাই জলদি যাওয়ার তারাটা কম তার। আবার নিজের চিন্তায়  ডুব দিতে দিতে দেখতে পেল, ময়না সামনের ওয়েটিং সিটে বসা একজন লোকের সাথে কথা বলছে। মনে মনে  ভাবলো, ভিক্ষা এদের অভ্যাস, শত পেলেও ভিক্ষা করবেই। হঠাৎ মনে হলো এতো টাকা দেওয়াটা মনে হয় ঠিক হয়নি। এর মূল্য সে বোঝেনি। আসলে তার মূল্য কেউই বোঝেনা, আবার অভিমানের ভাবনায় ডুব দিলো সে। 

লোকাল ট্রেনের শব্দে আবার সম্বিত ফিরে পেল নীলা। মনটা শক্ত করলো সে। মনে মনে ভাবলো, না এভাবে বসে থাকার কোনো মানে নেই। হয় ফিরে যেতে হবে না হয় গন্তব্যে রওয়ানা দিতে হবে। মোহগ্রস্ত হয়ে এক জায়গায় সারাদিন পার করে দেওয়ার কোনো মানে হয় না। নিজেকে ধোঁকা দেয়ার কোনো মানে নেই। আসলে মনে মনে নীলা ভাবছিল তাকে খুঁজতে রাজিব বা রিশমা কেউ না কেউ এদিকে হয়তো আসবে। মনে যতই অভিমানের পাহাড় জমুক অবচেতন মন প্রবল মায়া কাটাতে পারছিল না। অবচেতন মন চাইছিল এটা দেখত যে, তার জন্য পরিবার অস্থির হয়ে উঠেছে। কিন্তু এবার মনকে শক্ত করার চেষ্টা করলো, না তারা কেউই আসবে না! তাদের কাছে এতো গুরুত্ব নেইও তার। থাকলে তো এমন পরিবেশ হতোই না যে তাকে রাগ করে বাড়ি ছাড়তে হয়। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ খেয়াল করলো সেই মেয়েটিকে দেখা যাচ্ছে না। ভাবলো, বোধ হয় বাড়ি ফিরে গেছে। বড় একটা টাকা নোট পেয়েছে, বাপ-মাকে দেখানো জন্য হয়তো অস্থির হয়ে আছে। টাকাটা দেখে বাবা-মা হয়তো বিষ্ময়ে চোখ বড় বড় করে ফেলবে! প্রথমে হয়তো বিশ্বাসই করতে চাইবে না এটা আসল টাকা। হয়তো ভাববে চুরি করেছে অথবা তার কাছে হয়তো নিয়েই আসবে বিশ্বাস করানোর জন্য। মেয়েটার কথা ভাবতে ভাবতে নীলা কৌতুহলী হয়ে উললো, মেয়েটা গেল কই? কী যেন নাম?- ময়না! খানিক আগে একটা মাঝ-বয়সী লোকের সাথে কথা বলছিল একটু দূরেই, লোকটাও নেই! কী জানি, লোকটা হয়তো ট্রেনে উঠে চলে গেছে। নীলা সিদ্ধান্ত নিল এবার যে ট্রেনটা আসবে তাতে উঠে পড়বে। টিকেট কাটার জন্য উলে দাঁড়ালে। হঠাৎ খেয়াল করলো, ময়না আর লোকটা যে সিটে বসে কথা বলছিল তার নিচে একটা টাকার মতো কী যেনো দেখা যাচ্ছে। এগিয়ে গেল সে। নীলা উপর হয়ে টাকাটা নিল, অবাক হলো তার দেয়া এক হাজার টাকার নোটটা! নীলা ভাবলো, মেয়েটা বোধ হয় টাকার গুরুত্ব বোঝেনি তাই ফেলে দিয়ে চলে গেছে। একটা কেমন যেন গন্ধ আসতে লাগলো নীলার নাকে। কীসের গন্ধ বুঝে উঠতে পারলো না, এদিক ওদিক তাকাতে থাকলো। খেয়াল করলো গন্ধটা ফ্লোর থেকে আসছে। তাকিয়ে বিশেষ কিছু দেখতে পেল না। দেখলো একটা চকলেটের মোড়ক। কী মনে করে যেন নীলা উবু হয়ে চকলেট এর কাগজটা উঠালো। নাকের কাছে নিতেই একটা গন্ধ লাগলো, গন্ধের ধাক্কায় মাথাটা চক্কর দিয়ে ঘুরে উঠলো। একটু হলেই পড়ে যেত মাটিতে। সিটের হাতল ধরে নিজেকে সামলালো। প্রচন্ড এক আশঙ্কায় মন কেঁড়ে উঠলো ভীষণভাবে! ধীরে ধীরে সিটটাতে বসলো, মন চলে গেল পুরোনো একটি স্মৃতিতে। বড়ই তিক্ত সেই স্মৃতি। 

নীলা পুতুল খেলছিল। একা একাই খেলছিল। মা বলল, 
নীলা মা যা তো, তোর হাবু কাকাকে নাড়ুগুলি দিয়ে আয়।
নীলা বলল, 
একটু পরে, আমি এখন খেলছি।
নীলার বয়স তখন নয় কি দশ হবে। স্কুল থেকে এসেই তার নতুন বানানো পুতুলটা নিয়ে খেলতে বসেছে। গ্রামের স্কুল, বাড়ি থেকে একটু দূরে। হেঁটে এসে ক্লান্ত হয়ে পুতুলটা নিয়ে খেলতে বসেছে মাত্র। সাথে সাথে ওঠে যেতে ইচ্ছে করলো না। হাবু কাকা ওদের ম্যানেজার ধরণের কর্মচারী। ওদের জমি-জমা, বাজারের আড়ত সব কিছু দেখাশোনা করে। সে নীলাদের দুর্সম্পর্কের আত্মীয় বলে লোকদের বলে বেড়ায়।  অনেকদিন ধরেই তাদের আশ্রয়ে আছে। মা এসে নাড়ুর বাটিটা রেখে বলল,
একটু পরে দিয়ে আসিস কিন্তু।
আচ্ছা মা।
কথাটা বলেই নীলা আবার খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো। বর পুতুল আর কনে পুতুলের বিয়ে দিতে দিতে হঠাৎ তার মনে হলো, আরে নাড়ুগুলি তো এখোনো দিয়ে আসিনি। দৌড়ে রওয়না হলো, হাবু কাকার ঘরের উদ্দেশ্যে। হাবুর ঘরটা ওদের বাড়ির পিছনদিকে বেশ খানিকটা দূরে। এই পুরো জায়গাটাই ওদের। হাবুর নিরিবিলি থাকতে ভালো লাগে বলেই একটু দূরে ঘর ওঠাতে বলেছিল। ওরাও চিন্তা করলো বাইরের লোক একটু  দূরে থাকাই ভালো। সেই থেকে সে ওখানে আছে। তার বয়স ৪০ পার করেছে কিন্তু দেখতে আরো বৃদ্ধ লাগে। তার একটা বদঅভ্যাস আছে। সুযোগ পেলেই জুয়া খেলে। জুয়া খেলে খেলেই সর্বশান্ত হয়েছে! তাও নেশা কাটাতে পারেনি। নীলার বাবাও তাই তাকে নগদ টাকা পয়সা দেয় না খুব একটা। হাবুর যখন যা লাগে কিনে দেয়। সারাদিন বিড়ি ফুঁকে, কেউ কেউ বলে তার গাঁজার নেশা আছে। কিন্তু ওরা তেমন কিছু কখনো লক্ষ্য করেনি। তাই তার তেমন আর কোনো খারাপ অভ্যাস আছে বলে তাদের জানা নেই।

নীলা বাইরে থেকে ডাক দিল,
হাবু কাকা! হাবু কাকা!
কে?
আমি নীলা, মা নাড়ু দিছে
আয় ভিতরে আয়।
কথাটা বলে হাবু দরজা খুললো।
নীলা বলল,
আমি এখন বসুম না, তোমার নাড়ু নাও।
আরে একটু বস। তোর জন্য আমি হাট থেকে সন্দেশ আনছি।
চকলেট শুনে নীলা খুশি হয়ে উঠলো! এটা তার খুব পছন্দ।
দাও, দাও, তাড়াতাড়ি দাও
দিচ্ছি! দিচ্ছি!
বলেই হাবু একটা ছোট ব্যাগের দিকে হাত বাড়ালো। ভিতর থেকে কয়েকটা কাগজে মোড়ানো প্যাকেট বের করলো। নীলার হাতে দিতেই নীলা বলল,
আচ্ছা, আমি তাহলে যাই? পরে খামুনে।
আরে না না, এখনই খা, কেমন মজা আমাকে বল?
বাধ্য হয়ে নীলা প্যাকেট খুলে একটা সন্দেশ মুখে দিল। মুখটা স্বাদে ভরে গেল।
উফ হাবু কাকা! দারুন মজা!
নীলা একটা সন্দেশ শেষ করে আরেকটা সন্দেশ মুখে দিল। হঠাৎ কেমন যেন ঝাপসা মনে হতে লাগলো চারপাশ! প্রচণ্ড ঘুমের একটা অনুভ‚তি আসলো তার! হাত পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। সে অবস্থাতেই সে দেখলো, হাবু কাকা তাকে বিছানায় শুয়ে দিচ্ছে। তার জামা খোলা চেষ্টা করছে। সে ভালোমতো বুঝতে না পারলেও এটা বুঝলো, হাবু কাকা ভালো কিছু করছে না। আর খুব গোপনীয় কিছু। নীলা চিৎকার করা চেষ্টা করলো কিন্তু তার আওয়াজ জোরালো হলো না!

মরিয়ম মাছ কাটতে বসেছিল, দেখলো বটিটাতে ধার কমে গেছে। রান্না ঘর থেকে উঠে বটিটা ধার করানো  জন্য ঘরের বারান্দার দিকে আগোলো। বারান্দার খুঁটির সাথে একটা দা-বটি ধার করানো পাথর ফিক্স করে লাগিয়ে রেখেছে নীলার বাবা। বিভিন্ন সময়েই যেহেতু ধারের প্রয়োজন হয় তাই এলোমেলো না খুঁজে যাতে একজায়গায়ই এসে সবাই তাক করতে পারে। উঠানে এসে নীলাকে না দেখতে পেয়ে মরিয়মের মনে হলো, নীলা কই? এতোক্ষণ লাগে নাকি নাড়ু দিয়ে আসতে? ওকি হাবুর ঘরেই গেছে নাকি নাড়ু নিয়ে বন্ধুদের খাওয়ানোর জন্য নিয়ে গেছে? ওর এই স্বভাব সম্পর্কে মরিয়ম ভালোই জানে। মেয়েটা অনেক উদার মনের। সবার জন্যই কিছু না কিছু করতে চায়। এই বয়সে এই ধরনের গুণী মেয়েকে নিয়ে এক ধরনের গর্ব বোধই হয় তার মনে মনে! চিন্তা করতে করতে অবচেতন মনে বটি হাতে নিয়েই এগিয়ে গেল সে হাবুর ঘরের দিকে।
অস্পষ্ট গোঙ্গানির আওয়াজ আসছে হাবুর ঘর থেকে। সর্তক হলো মরিয়ম! কীসের আওয়াজ? অনেক কিছুই হতে পারে কিন্তু মায়ের মন, নীলাকে নিয়েই আশঙ্কা জাগলো তার মনে। দ্রুত দরজা ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকলো সে। ঢুকেই পিলে চমকে গেল! দেখলো তার ছোট মেয়েটা আপ্রাণ ধস্তাধস্তি করছে হাবুর সাথে। মরিয়ম কিছু ভাবার আগেই খুন চেপে গেল মাথায়। সজোরে একটা কোপ বসালো হাবুর ঘাড়ে। চিৎকার করে কাঁতরাতে থাকলো হাবু। কিছু কিছু পরিস্থিতি সাধারণ মানুষকেও অনেকসময় প্রবল ব্যক্তিত্বময় করে তুলে। বিশেষ করে সন্তানের বেলায় মা। মরিয়ম হঠাৎ করে খুব ঠান্ডা মাথার হয়ে গেল। দ্রুত নীলাকে পোশাক পরালো। মরিয়ম বুঝতে পেরেছে, শয়তানটা এখনো নীলার কোনো সর্বনাশ করতে পারেনি তবে আরেকটু দেরী হলে হয়তো হয়ে যেত। নীলা মাথা তখনো দুলছে। হাবুর চিৎকার শুনে রফিক ছুটে আসলো। রফিক ওদের গোমস্তা, একটু দুরেই কাজ করছিল। রফিকের আওয়াজ শুনে। মরিয়ম বের হয়ে আসলো, রফিকে আর হাবুর ঘরে ঢুকতে দিল না। রফিকের চরম কৌতুহলী চেহারাকে পাত্তা না দিয়ে বলল, 
এখনই নীলার বাপকে আসতে বল। তাড়াতাড়ি যা।
হাবু শেষ পর্যন্ত মারা যায়নি। আর নীলা বাবাও বিষয়টা নিয়ে হাউ কাউ করে নিজেদের সম্মান নষ্ট করতে চাইলো না। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে হাবু নিরুদ্দেশ হলো। নীলারা আর কখনো তাকে দেখেনি।


হুশ ফিরলো নীলার! কেন জানি অজানা আশংকায় ভরে গেল তার মন। লোকটাকে দেখেই তার পছন্দ হয়নি তখন। কেমন যেনো চাহুনি! কিন্তু নিজের অশান্তির চিন্তায় বিষয়টা লক্ষ্য করলেও পাত্তা দেয়নি তখন। কেন জানি নিজেকে খুব অপরাধী মনে হতে থাকলো তার। যে জানে যৌক্তিকভাবে কোনো দোষই নেই তার কিন্তু সে যে মানবিক প্রাবল্য হৃদয়ে ধারণ করে তাতে তার নিজেকে নিজেই দোষ দিতে থাকলো। মনে মনে ভাবলো, না! বসে থাকা যাবে না। মেয়েটাকে খুঁজতে হবে। স্টেশনের চারপাশে অনেক নিরব জায়গা আছে। ঝোপ-ঝাড়ও আছে। কেথায় খুঁজবে ওকে? মেয়েটার জন্য প্রবল মায়া হতে থাকলো তার। ভাবতে ভারতে সিদ্ধান্ত নিল, ট্রেনের কিছু পুরানো বগি ফেলে রাখা আছে একপাশে। ক্রিমিনালি চিন্তা যদি করে থাকে ঐ লোক, সেদিকেই যাওয়া করা। নীলা যাত্রা করলো সেদিকে। সে ভুলেই গেল কেন ট্রেন স্টেশনে এসেছিল? আর তার মনের কষ্টই বা কী? কিছুদূর যাওয়ার পর বাঁ পায়ের একটা সেন্ডেল দেখলো, ছোট বাচ্চাদের। সঙ্গে সঙ্গেই ও বুঝলো এটা সেই মেয়েটারই সেন্ডেল। প্রকৃতি কেন জানি মা’দের অসম্ভব অনুভ‚তির ক্ষমতা দিয়েছে। তার অনুমান পুরোপরি সত্য হলো। অল্প খুঁজতেই সে দেখতে পেল একটা বগির ভিতরে তাদেরকে। মেয়েটাকে প্রায় বিবস্ত্র করে ফেলেছে। অসভ্যটা উলঙ্গ হতে যাচ্ছে।

কী করবে? কী করবে? নীলার কিছু বুঝে আসছিল না। মেয়েটার বাবা-মা কাউকেই সে চেনে না! আর চিনলেই বা কী? এতো সময় নেই! পুলিশে ফোন দেবে? আশে পাশে কোনো পুরুষ লোকও দেখতে পাচ্ছে না। হঠাৎ রাগ হলো নীলার, কী এসব ভাবছি! এখন এসব ভাবার সময় আছে নাকি? যা করার নিজেকেই করতে হবে। সেদিন নীলাকে তার মা বাঁচিয়েছিল, আজ নীলাকে ময়নার মা হতে হবে। হঠাৎ তার মনে হলো, যে দুঃস্বপ্ন সে রিশমাকে নিয়ে দেখে আজ তার বাস্তাব রূপ ময়নার মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছে। ময়নাকে এখন আর নীলার ময়না হলো হলো না, ও স্পষ্ট রিশমাকে দেখতে পাচ্ছে। দ্রæত চারপাশে তাকালো নীলা। মনমতো কিছু পেল না। আকেটু তাকাতেই একটা পুরানো কাঠের টুকরো দেখতে পেল। হাল ফিরে পেল যেন নীলা। দ্রত কাঠের টকুরোটা নিয়ে এগিয়ে গেল। লোকটি নিজের কাজে ব্যস্ত হয়েছিল। ময়নাও আপ্রাণ ধস্তাধস্তি করছিল দুর্বলভাবে। সজোরে কাঠের টুকরোটা চালালো লোকটি মাথায়। আঘাতে চমকে উঠলো লোকটি। কাঁপতে কাঁপতে ঘুরে তাকালো। একজন মহিলা দেখে তার ভয় কিছুটা কমে গেল। নীলা চিৎকার করে উঠলো,
ছেড়ে দাও ওকে! ছেড়ে দাও! না হলে একদম মেরে ফেলবো!
নীলা ভেবেছিল, ওর কথায় লোকটা ভয় পেয়ে পালাবে। কিন্তু হলো উল্টো। একেই তার আনন্দে বাগড়া বসিয়েছে তার উপর মাথায় প্রচÐ ব্যাথা দিয়ে এই মহিলা। দ্রæত প্যান্টটা পরে, কোমর থেকে একটা ছুড়ি বের করে নীলার পেটে বসিয়ে দিল। দুবার চালালো। বিষয়টা এমনই আচমকা হলো যে নীলা কিছু বুঝে উঠতে পারলো না। সে ভেবেছিল লোকটা পোশাক পরে এখান থেকে পালাবে কিন্তু এতো দ্রæত যে তাকে আক্রমণ করবে ভাবতেও পারেনি। ছুরি চালিয়েই লোকটা দৌড় মারলো। তার প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে গেছে। নীলা বুঝতে পারলো সে জ্ঞান হারাচ্ছে! শেষ মুহূর্তে সে দেখতে পেল মেয়েটা ছুটে তার দিকে আসছে। 

আম্মু! আম্মু!
খুব দূর থেকে শব্দটা ভেসে আসছে- মনে হলো নীলার। চারপাশ অন্ধকার! এমন কেন লাগছে? ও কোথায় আছে? কিছুই বুঝতে পারছিল না সে! হঠাৎই সব মনে পড়লো। বুঝতে পারলো ও বেঁচে আছে। কিন্তু চোখ খুলতে কষ্ট হচ্ছে। আবার শুনতে পাচ্ছে, 
আম্মু আম্মু! 
আহা কী মমতা মাখা! ভালোবাসা, শঙ্কা-উদ্বেগ মিশানো কণ্ঠে মেয়েটা ডাকছে তাকে। কিন্তু ময়নার গলা রিশমার মতো লাগছে কেন? আর ময়না তাকে আম্মুই বা ডাকবে কেন?  ততোক্ষণে নীলার ঘোর অনেকটা কেটেছে। জোর করে চোখটা খুলল। দেখেই চমকে উঠলো! মনটা আনন্দে ভরে গেল। দেখলো, রাজিব এবং রিশমা। পরম মমতামাখা চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। চোখ খুলতেই রিশমা বলে উঠলো,
আম্মু! আম্মু! আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি কখোনো তোমার কথার অবাধ্য হবো না। আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি আম্মু।
আমিও তোকে অনেক ভালোবাসিরে মা। আমার সবচেয়ে বড় ভালোবাসাটাই তুমি।
রাজিব হাত রাখলো নীলার কপালে। বলল,
নীলা আমি তোমাকে ছুঁয়ে বলছি , আমি আর কখনো মদ পান  করবো না। শুধু মেয়ে নয় পারিবারিক সকল সিদ্ধান্ত তোমার কথায় চলবে। আমাকে মাফ করে দাও। আরেকটাবার সুযোগ দাও প্লিজ। 
নীলা জানে রাজিব কথা রাখতে পারবে না। কিন্তু তাতে আসলে কিছু আসে যায় না। সকলেরই সীমাবদ্ধতা আছে। এগুলো মেনেই তো তারা আপনজন। তাছাড়া সে যে চেষ্টা করে না, তা না। সবাই তো আর মহাপুরুষদের মতো দৃঢ় প্রত্যয়ী হতে পারে না। নীলা বলল,
মনে থাকে যেন 
থাকবে! থাকবে!
নীলর হঠাৎ মনে হলো,
আচ্ছা আমি হাসপাতালে কীভাবে এলাম? আর ময়না কোথায়? অস্থির হয়ে উঠলো নীলা।
তার অস্থিরতা দেখে রাজিব বলল,
অস্থির হইও না! ময়না ভালোই আছে। ওর বাবা-মা নিয়ে গেছে। তারা তোমাকে নিয়ে বারবার কৃজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তুমি জ্ঞান ফিরলে আবার আসবে বলেছে?
আমি এখানে আসলাম কীভাবে?
রাজিব বলল, 
এটা ভাগ্য বলতে পারো। কিছু কিছু সময় প্রকৃতি মানুষকে খুব ফেভার করে! তোমাকে সকালে বাসায় দেখতে না পেয়ে প্রথমে কিছু বুজিনি। অনেক্ষণ পরে যখন বুঝতে পারলাম, সাথে সাথে ফোন করা শুরু করলাম তোমাকে, মোবাইল বন্ধ তোমার, টেনশন বেড়ে গেল আরো! সবইকে ফোন দেওয়া শুরু করলাম কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারলো না! বাধ্য হয়ে রিশমা আর আমি বেরিয়ে পড়লাম তোমার খোঁজে। ট্রেন স্টেশনে চলে আসলাম, জামালপুর যাওয়ার জন্য। কেন জানি  মনে হচ্ছিলো তুমি ওখানেই গেছ। আসতে না আসতেই দেখলাম একটা ছোট মেয়ে ছুটে আসছে, চিৎকার করতে করতে, গায়ে রক্ত লেগে আছে। লোকজন যারা ছিলাম জড়ো হয়ে গেলাম। ভাবলাম, মেয়েটাকে বোধ হয় কেউ আঘাত করেছে। কিন্তু মেয়েটা এসে যা বলল, তাতে চমকে উঠলাম! মেয়েটা বলতে লাগলো,
আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন, ম্যাডামকে মাইরা ফেলসে! একটা ব্যাডা আমাকে বগিতে নিয়া গেছিল, তখন ম্যাডাম গিয়া ঐব্যাডার মাথায় লাঠি দিয়া বাড়ি মারসে।  ঐ ব্যাডা ছুড়ি দিয়া ম্যাডামরে কোপ দিয়া পালাইছে, তাড়াতাড়ি আসেন। রাজিব বলে চলছে,
কেন জানি না আমার মন কেঁপে উঠলো! দৌঁড় দিলাম, রিশমাও পিছে পিছে দৌঁড়াচ্ছে। যা ভেবেছিলাম! এমন সাহসী কাজ কোন ম্যাডাম করতে পারে তা আমার জানা আছে। আমি অপদার্থ হতে পারি কিন্তু আমি খুব ভালোমতোই জানি আমি এক মহিয়সী নারীর স্বামী। দ্রæত গিয়ে তোমাকে কোলে তুলে নিলাম। হাসপাতালে এসে তোমার অপারেশন করে তোমাকে আশঙ্কামুক্তা করেছে ডাক্তার।

হঠাৎ করে নীলার কাছে পৃথিবীটা অসম্ভব সুখের মনে হচ্ছে। এই আপনজনদের জন্যই তো সবকিছু। আমরা অভিমান করি! রাগ করি! ভুল বুঝি! কিন্তু বিপদে এই আপনজনরাই পাশে থাকে। যেমন সেদিন ছিল তার মা, আজ পাশে তার স্বামী ও মেয়ে। এই মুহূর্তে এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে মরে যেতে একটুও ইচ্ছে হলো না তার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/230562/</link>
				<pubDate>Tue, 24 Jun 2025 07:39:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমারে আমি বেসেছি ভালো, কেবলই পরের তরে!<br />
কৃষ্ণজন</p>
<p>আম্মা দশটা টাকা দেন না?<br />
আচমকা সংবিৎ ফিরলো যেন নীলার! মনে হচ্ছিল দূর থেকে ভেসে আসছে কথাগুলি। আসলে এতোটাই ঘোরে ডুবেছিল সে, চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্নই হয়ে গিয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। তবে ঘোর নয়, প্রবল বিষন্নতায় নিমগ্ন ছিল। হুঁশ ফিরতেই বুঝলো সে তো আসলে ট্রেন স্টেশনে বসে আছে। দেখলো একটা ছোট মেয়ে,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-230562"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/230562/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cda7828e9b4f97c9f4578610bec7664f</guid>
				<title>Md Majnur Rahman John (Krishno John) changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/226699/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Feb 2025 07:26:29 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">710a1692dc26c3136dd96e2b2293b426</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/226697/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Feb 2025 07:18:13 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">75e81d2abfdcbb62885d95d67df82a24</guid>
				<title>প্রেম পিঞ্জিরা
কৃষ্ণজন
জলেই ছিল নজর।
হয়তো উপরে চাঁদ, জোছোনার মহোনীয় হাসি
অপষ্ট আয়নায় কষ্টকে স্পষ্ট করে চেনা।
ঊর্ধ্বাকাশ অবলোকন ছেড়েছি সেই কবে!
ভুলেছি প্রিয়ার আলিঙ্গনের স্বপ্ন
ভেবেছিলাম; প্রেমানলে আর মন পোড়াবো না
সন্ন্যাসের প্রতিজ্ঞায় শ্মশ্রু অমুণ্ডিত নির্বাসন ।
আবার দেখা হয়ে গেলো!
আবার সর্বনাশের বাঁশি বাজল!
মৌতাতের রঙিন নেশায় বিভর হলাম আবার।
বারবার দেখার বুভুক্ষায় হলাম কাতর!
জেগে উঠল একমুখী প্রেমপিয়সা
চোখে জমলো ভালোবাসার নোনা জল
হৃদয়ে লাল-নীল স্বপ্নিল ফেনা।
কেন এমন হয়?
কেন যে এমন হয়!
কিছু না পেয়েও ভালোবাসতে হয়!
বেসে যেতে হয়!
জল ছেড়ে আবার জোছোনায় গিয়ে স্নান,
হৃদয় দিয়ে হৃদয় গাঁথার প্রাণান্ত সংগ্রাম।
জেনে শুনে, আবার নুতন করে-
প্রেম পেয়ালার বিষে, কষ্টকে আলিঙ্গন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/226693/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Feb 2025 06:12:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রেম পিঞ্জিরা<br />
কৃষ্ণজন<br />
জলেই ছিল নজর।<br />
হয়তো উপরে চাঁদ, জোছোনার মহোনীয় হাসি<br />
অপষ্ট আয়নায় কষ্টকে স্পষ্ট করে চেনা।<br />
ঊর্ধ্বাকাশ অবলোকন ছেড়েছি সেই কবে!<br />
ভুলেছি প্রিয়ার আলিঙ্গনের স্বপ্ন<br />
ভেবেছিলাম; প্রেমানলে আর মন পোড়াবো না<br />
সন্ন্যাসের প্রতিজ্ঞায় শ্মশ্রু অমুণ্ডিত নির্বাসন ।<br />
আবার দেখা হয়ে গেলো!<br />
আবার সর্বনাশের বাঁশি বাজল!<br />
মৌতাতের রঙিন নেশায় বিভর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-226693"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/226693/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4c481a576886a6b0c3532c4e4ea6f1e4</guid>
				<title>Md Majnur Rahman John (Krishno John) and ইফতিশা খানম are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/159447/</link>
				<pubDate>Mon, 10 Oct 2022 04:27:10 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">513c6de72ae98709383f51f1f09994ca</guid>
				<title>নিরঞ্জন
কৃষ্ণজন

আজ উদাসী প্রেম পিয়াসী 
উদাস করে মন
শুধাই তোরে দয়ার সাগর 
প্রভু নিরঞ্জন।
বল আমারে কোন প্রেমেতে
যায় তোরে চেনা?
সাদা-কালোর জাতের ভীরে
তুই যে অচেনা!
তোর ধ্যানেতে হাতের মুঠোর
নানান ঘরানা
এক ভঙ্গিমায় অপর বলে
ব্যর্থ সাধনা!    
তোর ডাকেতে জটিল ভাষা
আমি বুঝি না
নিজ ভাষাতে যায় না ডাকা
বন্ধ রসনা।
তোর রূপেতে নানান পোশাক  
নানান কেশের ঢং
দেখে দেখে ভ্রান্ত হলাম
বুঝি না তোর রঙ!
সব শেষেতে নিজ জ্ঞানেতে
পেলাম যে তোর রূপ
বলল সবে জ্ঞান যে তোমার
গহীন অন্ধকূপ!
সবার চোখে মূর্খ আমি
দোষের নাই শেষ
কোন প্রেমেতে সত্যি পাব
দেখাও তোমার দেশ?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/101418/</link>
				<pubDate>Sat, 19 Mar 2022 05:23:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নিরঞ্জন<br />
কৃষ্ণজন</p>
<p>আজ উদাসী প্রেম পিয়াসী<br />
উদাস করে মন<br />
শুধাই তোরে দয়ার সাগর<br />
প্রভু নিরঞ্জন।<br />
বল আমারে কোন প্রেমেতে<br />
যায় তোরে চেনা?<br />
সাদা-কালোর জাতের ভীরে<br />
তুই যে অচেনা!<br />
তোর ধ্যানেতে হাতের মুঠোর<br />
নানান ঘরানা<br />
এক ভঙ্গিমায় অপর বলে<br />
ব্যর্থ সাধনা!<br />
তোর ডাকেতে জটিল ভাষা<br />
আমি বুঝি না<br />
নিজ ভাষাতে যায় না ডাকা<br />
বন্ধ রসন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-101418"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/101418/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b4ab215b07529fe04d1c973bf1008537</guid>
				<title>শীতল বিবি
কৃষ্ণজন

লোকটির সাথে সহবাস করতে হবে! হাসিটা চলে গেল শাহিদার। পুরো ঘটনাটা ভাবছিল, মনে মনে হাসছিল শাহিদা। হঠাৎ স্বামীর কথা মনে হলো, মনটা তিঁতে হয়ে গেল সাথে সাথে! সংম্বিত ফিরে পেতেই হাতটা কেঁপে উঠল। একটু হলেই টেম্পোটার সাথে মুখোমোখী সংঘর্স হয়ে যেত আর কি! বাইকটা নিয়ন্ত্রণ করল। আসলে কিছুটা ঘোরের মধ্যেই বাইক চালাচ্ছিল সে। বাইক চালাতে ভাল লাগে শাহিদার। এনজিও-এর চাকুরি করাতে এই সুবিধাটা পাওয়া গেছে। ৬ মাস হলো চাকরিটায় জয়েন করেছে। এ নিয়ে অনেকেই হাসি-ঠাট্টা করে, কিন্তু শাহিদার তাতে কিছু যায়-আসে না। মেয়েরা যদি আগের দিনে ঘোড়া চালাতে পারে তবে এখন কেন গাড়ি চালাতে পারবে না? অন্যের গাধামির জন্য নিজে লজ্জিত হতে রাজি নয় শাহিদা। 

মনিটরিং-এর কাজে বেড়িয়েছে। মধুপুরের ছোট একটি গাঁয়ে। এক ঋণগ্রহীতা মারা গেছে! সেই তদন্তে। মেয়েটির বয়স ২০/২১। অবিবাহিতা। মৃত্যুটা একটু অদ্ভুদ! বনের ভিতর লাসটা পাওয়া গেছে। মাথার পিছনে, ঘাড়ের উপরে, খুলির কাছাকাছি, পাশাপাশি দুটি ছোট ছিদ্র। মধুপুরের এ অংশটায় বেশ ঘন জঙ্গল। অধিকাংশের ধারণা সাপের কামড়। কেউ কেউ বলছে, হিং¯্র কোন পশুর। এমন কোন পশু, যা হয়তো এদিকে সচরাচর আসে না। তাদের যুক্তিটা অকাট্য! এমন কোন বিষাক্ত সাপ এখানে নেই যেটার দাঁত এতো বড়। লাঞ্চ সেরে আঞ্চলিক অফিসে রেস্ট নিচ্ছিল শাহিদা। 
মরিয়ম হঠাৎ বলে উঠল,  
এটা নাগকন্যার কাম। 
মরিয়ম স্থানীয় প্রতিনিধি। কাজের চেয়ে কথা বলাতে আরাম বোধ করে বেশি। তাকে দেখলে মনে হয় পৃথিবীটা শুধু কথা বলার জন্যই। সম্ভবত নিজেকে সে একজন ভাল বক্তা মনে করে? শাহিদা বুঝতে পারল, মরিয়ম একটা মজার গল্প বানানোর চেষ্টা করছে। রহস্যময় মৃত্যু হলে গ্রাম-গঞ্জে এধরনে গল্প যে তৈরি হয়, শাহিদা ভালই জানে। শোনার ইচ্ছা না থাকলেও কৌতুহল বশতঃ জিজ্ঞেস করে ফেলল, 
মানে? 
নাচের বুড়ি ঢোলের বাড়ি পেয়ে গেল। মনের আনন্দে বলতে শুরু করল,
বহুতদিন আগে এই এলাকায় কাপিলারা থাকত। 
কাপিলা কী? 
এরা হইল কালীর পুজারী। জ্যান্ত মানুষ বলি দিত কালীর নামে! 
শাহিদা বুঝল মরিয়ম কাপালিক সন্ন্যাসীদের কথা বলছে। কথা বলে চলল মরিয়ম, হেগো মইধ্যে একজন নাকি খুব ভয়ঙ্কর ছিল! প্রায়ই বলি চড়াইতো। ১০৮টা কুমারী বলি দিলেই বলে হেয় অমর হইয়া যাইবো। ১০৭টা পর্যন্ত দিছিলো। এমন সময় একদিন হেয় দেখলো তার বউ এক বেডার লগে শুইয়া রইছে। দেইখা তো কাপিলার মাথায় আগুন ধইরা গেল! যেই বউ আর তার নাগররে ধরতে গেল, অমনি বেডায় খোলস বদলাইতে লাগল। কাপিলা বুইঝা গেল, আরে এইডা তো একটা নাগ! কাপিলা খুব চালাক আছিলো, তখনি নাগের দুই চোখের মাইঝ বরাবর চাকু গাঁইথা দিল। নাগের দুই চোখের মইধ্যেখানে কালো একখান জায়গা আছে। নাগ তার অন্দরের শক্তিতে ঐ জায়াগায় চাপ দিয়াই, মানুষ আর সাপের রূপ বদলায়। এইটা কাপিলা জানতো। জায়গামত ছুরি গাঁথনে, কষ্টে নাগ তার ভিতরের শক্তি কাজে লাগাইতে পারল না! সাপও হইতে পরল না। কাপিলার বউও ছিল তন্তর-মন্তর জানা এক ডাইনী! হেইডাও কম শয়তান আছিলো না। কাপিলা নাগ আর তার বউরে মুখামুখি কইরা বাঁনলো, নিয়া চলল বলি দিতে-
বউ কইল, আমারে মাইরা কোন লাভ হইব না কাপিলা। আমার মাইয়ার মইধ্যে আমি আর নাগে বাইচা থাকুম। ঐ মাইয়া আমার আর নাগের, তোর কিছুই না। আমার মাইয়া অমর হইবো, তারে তুই মারতে পারবি না। নাগ আর ডাইনী হাসতে লাগল। কাপিলা এক কোপে দুইজনের মাথা আলাদা কইরা ফেলাইল।  এবার মাইয়াটারে ধইরা আনল। কাপিলার ৭ বছরের একটা মাইয়া আছিলো। মাইয়াটারে কাপিলা বড় মায়া করত। কিন্তু কাপিলা তার মনরে নরম হইতে দিল না। তারবাদেও, এইটা তার মাইয়া না মনে হওয়নে মাথা আরো গরম হইয়া গেল! একটা বড় আগুনের চুলা বানাইলো। হের মইধ্যে মাইয়াটারে ফালাইলো। আগুনে পইড়াই মাইয়াটা হাসতে লাগল। 
মাইয়াটা বইলা উঠল, বোকা কাপিলা, তুই মায়ের ফান্দে ঠিকই ধরা দিলি। মায় জানতো, তুই আমারে আগুন দিয়া পোড়াইতে চাইবি। তুই যদি আমারে বলি দিতি আমির মইরা যাইতাম। এখন আর আমি মরুম না! আমি এখন শকুন হইয়া উইড়া যামু, যতদিন আমারে কেউ মাটিতে না ফেলব, ততদিন তোগো সুভাইগ্য। হেরপরে তোগো জীবনে নাইমা আইবো গহীন আন্ধার! মাটিতে পড়াইয়াই আমি নাগকন্যায় রূপ লমু। চাইরটা ২১ বছইরা কুমারী মাইয়ারে মারমু। হেই দিয়া আমার চাইর যজ্ঞ পূরণ হইবো। তাগো শক্তি চুইষা আমি সব ডাইনীগো সেরা হমু। ১মটা দিয়া হমু ২১ বসন্তের! আমার বয়স সারাজীবনই ২১ থাকব। ২য়টা দিয়া হমু কামনার আগুন! আমার কামনা, আমার যাদু ভাঙ্গনের ক্ষমতা কারো হইবো না। ৩নম্বরটা দিয়া হমু ভয়ঙ্কর শীতল!  ঠাÐা! অনেক ঠাÐা! কারো কোনো দুঃখ কষ্টই আমার দিলে ঢুকব না। আমারে নরম করতেও পারবো না। আর ৪নম্বরটা দিয়া হমু রূপবদলাইন্না রাণী! যেই মানুষের মন চায় হেই মানুষের ভেগই ধরতে পারমু। আমি হমু আন্ধারের রাণী! তোরে এইসব কইলাম ক্যা জানস? তুই ক্যা, কেউই আমার কিছু করতে পারব না। তুই না অমর হইবি? আমিও তোর অপেক্ষায় থাকলাম। আহিস তুই, পারলে আমারে ঠেকাইছ। কথাগুলি কইতে কইতে নাগকন্যা শকুন হইয়া উইড়া গেল। একটু থেমে কী জানি ভাবল মরিয়ম।
আপা জানেন? আমাগো গ্রামে বহুদিন ধইরা কেউ কোন শকুন মারে না। 
হেসে উঠল শাহিদা। ভাবল, গল্পে ডুবে গেলে এটাই সমস্যা, না চাইলেও প্রশ্ন চলে আসে।
এখানে না মারলে কি হবে? অন্য জায়গায় কী মারছে না? তাহলে তো এতোদিনে হাজার হাজার নাগকন্যা জন্ম নিয়ে নিয়েছে! 
বিশ্বাস করেন নাই বুঝতাছি, আমরা কিন্তু করি।
তাই?
হ, তয় এইটাও শুনছি, ঐ শকুনের মধুপুরেই পড়তে হইব।
আচ্ছা মানলাম। কিন্তু এতো কথা তোমরা জানলে কিভাবে? মনে হয়, তুমি নিজেই ঐখানে ছিলে?
কাপিলা অমর হইতে পারে নাই! বলির জন্য কুমারী মাইয়া আর খুঁইজা পায় নাই। হেতদিনে মরণে সময় ঘনাইয়া আইছে। মরার আগে সে তার চ্যালা-চামচা আর গ্রামের মানইষেগো এইসব কইয়া গেছে। 
যদিও এই গাঁজাখুরি বিষয়ের প্রতি শাহিদার মোটেও বিশ্বাস নেই তবুও গল্পটি শুনে বেশ মজা পেল। সেও কথা চালিয়ে গেল,
আচ্ছা, বলত এটা কতবছর আগে ঘটেছে? 
বলতে পারি না আপা। কেউ কয় ১০০, কেউ কয় ১৫০, কেউ কয় তার চেয়েও বেশি। 
তা কি করে হয়? এটা যদি সত্যি ঘটনা হয় তাহলে সময়ের এতো হেরফের কেন? 
তা জানি না আপা, তয় এইডা যে সত্য ঘটনা, গ্রামের বুড়া-বুড়িরা সবাই কয়।
বল কি?
হ, আসলে বহুদিন ধইরা শুইনা আইতাছি তো, কোন সময়ের ঘটনা এখন আর কেউ কইতেই পারে না। আপা জানেন? মাস তিনেক আগে, এই বনে এক সাহেব আইছিল, তার নাকি পাখি শিকারের খুব সখ! তার লগের মানুষরা পরে কইছে, সে একটা বড় পাখি দেইখা গুলি করে। গুলি খাইয়াও পাখিটা উড়াল দেওনের চেষ্টা করে। তয় ঠিকমত উইড়া যাইতে পারে নাই, কিন্তু আশপাশে খুঁইজাও, কেন জানি  ঐটারে আবার পাওয়াও যায় নাই! দেখতে বলে বিশাল এক শকুনে মতো লাগতাছিল! এতবড় পাখী কেউই নাকি আগে দেখে নাই। 
শাহিদা ভাবতে লাগল, সবই দেখি পরের মুখে শোনা। তারমানে আর দশটা গুঃয মতো এটাও একটা গুঃয, যার পুরোটাই মিথ্যা। শাহিদা আবার প্রশ্ন চলে আসলো মুখে, 
‘সাথের মানুষরা বলেছে’ বললে, ঐ সাহেব নিজে কেন বললো না? 
আরে আপা! হেই রাইতেই সাহেব মারা যায়! ডাক্তার কইসে, হার্ট এট্যাক। কিছু একটা দেইখা ভয় পাইছে মনে হইতাছিল। আপা জানেন? এই পর্যন্ত আমাগো থানায় তিন জন আবিয়াইত্তা মাইয়া মরছে। সবাই কইতাছে, এগুলি সব ঐ নাগকন্যার কাম। 
আবারও মানলাম। কিন্তু... আচ্ছা ধর, এটা না হয় নাগকন্যার কামড়ে মরেছে? বাকিগুলিও যে নাগকন্যার কামড়ে মরেছে তার প্রমাণ কি? তারাও যে কুমারী, তারই বা প্রমাণ কী? ওগুলির পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কী তুমি জেনেছ? তাছাড়া অবিবাহিত হলেই যে সে কুমারী থাকবে এমন নিশ্চয়তা কী আছ? বিবাহিত হওয়ার পরও কুমারী থেকে যায় এমন ঘটনাও আছে। বিয়ে করা বা না-করা, কুমারিত্বের সঠিক নির্ধারক নয়। হা হা করে হেসে উঠল মরিয়ম। মনে হলো খুব মজা পেয়েছে।
হায় হায় আপা কয় কী? বিয়াইত্তা মাইয়া আবার কুমারী হয় নাকি? 
কথা বলতে গিয়েও চুপ হয়ে গেল শাহিদা। বিয়ে হয়েও যে কুমারিত্ব থাকতে পারে, সে নিজেই যে তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ- এ তর্কে শাহিদার যেতে চাইল না। মরিয়ম থেমে থাকার পাত্রী নয়। বলেই চলল, না তা জানি না। তয় ভাল মতো খোঁজ নিয়া দেখেন ওগো মাথার পিছনেও নাগকন্যার কামড়ের দাগ পাইবেন। 
শাহিদা হাসতে লাগল। মরিয়ম মুখ ভার করে রইল। 
আচ্ছা মরিয়ম তুমি কি এসব বিশ্বাস করো? 
অবশ্যই করি। 
এতো বড় বিপদের কথা অথচ তোমার চেহারায় তো কোন ডর-ভয় দেখছি না? 
হায় আল্লাহ! এইডা তো হিন্দুগো বিষয়, আমাগো কী?  
মানে? 
আরে, এরা আমাগো কোন ক্ষতি করতে পারবো না, একমাত্র জীনই আমগো ক্ষতি করতে পারে। 
মরিয়ম হাসতে লাগল। শাহিদা আহাম্মক হয়ে গেল! এরা যে কোন জগতের মানুষ শাহিদা বুঝতেই পারল না। এদের ধর্মান্ধতা বিষ্ময়কর! আরে বিষয়টা যদি সত্যিই হয় তবে নাগকন্যা কি মুসলমানদের ছেড়ে দিবে? ভ‚তপ্রেত বা জীনের উপর শাহিদার নিজেরই যেহেতু বিশ্বাস নেই তাই এসব যুক্তি মরিয়মকে বোঝাতে শাহিদার রুচি হলো না। এমনিতেই বিকাল হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরতে রাত হবে। বাইক চালাতে তার যত ভালোই লাগুক সন্ধ্যার পর অন্ধকারে ড্রাইভ করতে সমস্যা হয়। এযুগে, এখনো যে মানুষ এসব বিশ্বাস করে ভাবতে অবাক লাগে! জেনিটিক সাইন্স প্রমাণ করে দিয়েছে মানুষ ইদুর, গরিলা ও শিম্পাঞ্জি থেকে পৃথক হয়েছে বিবর্তনের ধারায়। বিবর্তনের পথ ধরেই তারা আধুনিক মানুষে রূপে নিয়েছে। তারপরও মানুষ কেন যে ধর্মান্ধ হয়ে আছে! শাহিদা বিষ্ময় বোধ করে!  
 
মরিয়মের নাগকন্যার গল্প ভাবতে ভাবতে হাসছিল শাহিদা। হঠাৎ মফিজের কথা মনে হলো। আজ সকালেই ঘরে এসে উপস্থিত।  দেখেই মনটা খারাপ হয়ে গেল! দিন পনের আগে, বাবা মৃত্যুশয্যায় শুনে বাড়ি গেল। সাথে সাথেই বিয়ের পিড়িতে বসানো হলো। প্রতিবাদ করার সুযোগই পেল না। স্বামী মহাশয়কে দেখেই শাহিদার মেজাজ সপ্তমে। বুড়া একটা বেডা! নামে মফিজ বেটা দেখতেও মফিজ! বাবা-মায়ের উপর বড্ড অভিমান হল। শুধু ধনী হলেই পাত্র ভাল হয়? মফিজকে কথা বলার সুযোগই দিল না। রাতটা মাথাব্যাথার উছিলায় কাটালো। ভোর হতেই ইমার্জেন্সি বলে সোজা কর্মস্থলে। আসার পর থেকে বেশ চাপের মুখে আছে। প্রতিদিন বাড়ি থেকে ফোন, নানা কাজের দোহাই দিয়ে বাড়ি ফিরছে না। এই যখন অবস্থা! সকাল বেলা মহাশয় এসে হাজির! তাড়িয়ে দিতে পারেনি, আবার সহ্যও করতে পারছিল না! বসতে বলে বেড়িয়ে পড়ে অফিসের কাজে। 

সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। এখনো মূল রাস্তায় উঠতে পারেনি। এক বোরখাওয়ালী হাত ইশারা করল। এই আরেক ঝামেলা! মফস্বল এলাকাগুলিই এমন, প্রায়শঃ লিফ্ট দিতে হয়। মহিলা বলে পুরুষদের এড়িয়ে যেতে পারে, কিন্তু মহিলাদের তো আর এড়ানো যায় না। বাইক থামিয়ে জিজ্ঞেস করল,
কই যাবেন? 
সদরে। আমার স্বামী খুবই অসুস্থ। 
মহিলা ব্যাখ্যা দেয়া শুরু করল, বাড়ি এসেছিলাম কিছু টাকাকড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য। যে স্ক্রুটারে এসেছিলাম নষ্ট হয়ে গেছে! কখন ঠিক হবে বলা যাচ্ছে না? আমার এখনই হাসপাতাল পৌঁছতেই হবে। 
মহিলার মুখে নির্ভেজাল শুদ্ধ ভাষা শুনে শাহিদা একটু হোঁচট খেলো। তবে এতো কথার প্রয়োজন ছিল না- শাহিদা মনে মনে ভাবল। সন্ধ্যার অন্ধকারেও বোঝা যাচ্ছে, মেয়েটি অসম্ভব রকমের রূপসী! এতো বেশি সুন্দর যে ভয় ধরিয়ে দেয়! রূপবতী হয়ে জন্মায়নি ভেবে মনটা একটু খারাপ হলো শাহিদার। নিরস গলায় বলল,
পিছে উঠে বসুন। 

একা একা যাওয়ার চেয়ে একজন সঙ্গীই উত্তম মনে হলো। বাইক চালু করতেই ঠাÐা লাগা শুরু করল। হেমন্তকালটাই এমন। দিনের বেলা গরম, সন্ধ্যার পর ঠাÐা, বাইক চালালে সেই ঠাÐা আরো তিনগুনে পরিণত হয়। শীত একটু বেশিই মনে হচ্ছে শাহিদার। ধীরে ধীরে শীতের মাত্রা তীব্র হতে লাগল। শাহিদার পক্ষে সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়লো। হাতদুটি অবশ হয়ে আসল। তন্দ্রাচ্ছন্ন একটা ভাব হতে লাগল, মাথা তুলে রাখাই কষ্ট হয়ে দাঁড়াল। হঠাৎ পিছন দিকে, মাথা ও ঘাড়ের ঠিক মাঝামাঝি, তীব্র ঠাÐা অনুভ‚ত হলো শাহিদার! মনে হলো, প্রচÐ শীতল দুটি দাঁত কেউ বিঁধিয়ে দিচ্ছে সেখানে। 

রাত ৮.০০টার দিকে বেলের শব্দ পেল মফিজ। এতক্ষণে একটু স্বস্তি পেল। কি করবে, বুঝে উঠতে পারল না। সারদিন ঘরে বসা! এটা তার দ্বিতীয় বিয়ে। আগের বউ মারা গেছে বছর দশেক হলো। কোন সন্তান হয়নি। অনেক জমির মালিক সে। ভিন্ন ব্যবসাদিও আছে। নতুন বউ দূরে বলে ছটফট করছিল। মনের টানে চলে এসেছে আজ। সে বুঝতে পারছে, শাহিদা এই বিয়েতে খুশি নয়। তার ধারণা, একদিন ভালমতো কথা হলে শাহিদার রাগ ভাঙ্গানো যাবে। এ জন্যই তার কর্মস্থলে, কিছু না বলে, হুট করে চলে এসেছে। আজ ১০/১২ বছর হলো, কোন নারী সঙ্গ পায়নি সে। এ কারণেই ছটফাটানি বেড়েছে বহুমাত্রায়। আর তর সইল না তার! গেট খুলল মফিজ। দাঁড়িয়ে আছে শাহিদা, অদ্ভূতভাবে! চোখে কামনার জ¦লন্ত শিখা! চোখ দিয়েই যেন সব গিলে খাচ্ছে। এতো কামনা! মফিজ কারো চোখে দেখেনি আগে। এ কামনা অগ্রাহ্য করা ক্ষমতা তার নেই। সে কেন, পৃথিবীর কারোরই নেই। ঠোটগুলি লাল টকটকে হয়ে আছে। মনে হচ্ছে, সব ভালোবাসা এক নিমিষেই চুষে নিতে পারে ঠোটদুটি। অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে রইল মফিজ! চোখ সরাতেই পারছে না ! হঠাৎ অজানা ভয়ে আঁতকে উঠল মফিজ! শিরশির করে কেঁপে উঠল দেহ। ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে। ঝাপিয়ে পড়ল তার উপর শাহিদা, কুমারীত্ব বিসর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষায়  ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92827/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Jan 2022 03:42:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শীতল বিবি<br />
কৃষ্ণজন</p>
<p>লোকটির সাথে সহবাস করতে হবে! হাসিটা চলে গেল শাহিদার। পুরো ঘটনাটা ভাবছিল, মনে মনে হাসছিল শাহিদা। হঠাৎ স্বামীর কথা মনে হলো, মনটা তিঁতে হয়ে গেল সাথে সাথে! সংম্বিত ফিরে পেতেই হাতটা কেঁপে উঠল। একটু হলেই টেম্পোটার সাথে মুখোমোখী সংঘর্স হয়ে যেত আর কি! বাইকটা নিয়ন্ত্রণ করল। আসলে কিছুটা ঘোরের মধ্যেই বাইক চালাচ্ছিল সে। বাইক চালাতে ভা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-92827"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/92827/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7b5a5dd30fe3e2d2b0a5958194c8ec8f</guid>
				<title>অগ্নিস্নান//কৃষ্ণজন

আমি যদি আস্তিক হতাম
ঈশ্বর থাকতেন না!
আজ আমি নাস্তিক
তাই তিনি আছেন।
আমি প্রকৃতির প্রতিপক্ষ
অথবা প্রকৃতি আমার।
এ যেন অদৃষ্টের এক চির শত্রুতা! 
ভূমিষ্ঠ  হওয়ার মধ্য দিয়েই যার শুরু।
জন্ম দিয়ে দেখালেন তাঁর প্রথম ক্ষমতা
না চাইলেও আমি জীবন দিতে পারি
না চাইলেও আমি যুদ্ধে নামাতে পারি।
স্বাগত জানানো হল ঢিসুম ঢিসুম খেলায়-
কখনও নিজের সাথে, কখনও বা অপরের।
পরস্পর বিরোধী ভীষণ এক যুদ্ধ। 
আমি যদি গরীব না হতাম
কোন কষ্ট থাকতো না!
আজ আমি গরীব
তাই এতো কষ্ট!
আমি যদি প্রেমিক না হতাম
না চাইতেই পাওয়া যেত সব প্রেম! 
আজ আমি প্রেমিক 
নুলো ভিখেরি হয়েও তার প্রেম পাই না!
প্রতিটি মুহূর্তেই পরস্পর বিপরীত অবস্থান। 
সব দেখাবে সব চেনাবে, কিছুই দেবে না!
মাঝে মাঝে মনে হয়,
গা ঝাড়া দিয়ে যুদ্ধে নামি
ছিনিয়ে আনি সব।
আকাশ নীলিমা, সমুদ্র বিলাস, সোনার হরিণ।
আর কঙ্কাবতী।
কিন্তু জোর করে তো আর সব পাওয়া যায় না-
যেমন তোমার ভালবাসা।
আর এখানেই আমার জয়!
কারণ?
কারণ,
ঈশ্বরও ওটা পায় না আমার কাছ থেকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/23608/</link>
				<pubDate>Sat, 24 Jul 2021 07:35:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অগ্নিস্নান//কৃষ্ণজন</p>
<p>আমি যদি আস্তিক হতাম<br />
ঈশ্বর থাকতেন না!<br />
আজ আমি নাস্তিক<br />
তাই তিনি আছেন।<br />
আমি প্রকৃতির প্রতিপক্ষ<br />
অথবা প্রকৃতি আমার।<br />
এ যেন অদৃষ্টের এক চির শত্রুতা!<br />
ভূমিষ্ঠ  হওয়ার মধ্য দিয়েই যার শুরু।<br />
জন্ম দিয়ে দেখালেন তাঁর প্রথম ক্ষমতা<br />
না চাইলেও আমি জীবন দিতে পারি<br />
না চাইলেও আমি যুদ্ধে নামাতে পারি।<br />
স্বাগত জানানো হল ঢিসুম ঢিসুম খেলায়-<br />
কখনও নিজের স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-23608"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/23608/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7be6a416f9011e0d0c49606a5bf32fc2</guid>
				<title>বাওগোল্লা//কৃষ্ণজন 
কথাটা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল! 
ফাইল দেখিয়ে বলল বুড়া ভামটা, এটার কাজ শেষ করে যাও! 
চেয়েছিলাম দ্রুত কাজ সেরে বেড়িয়ে পড়তে। আপ্রাণ চেষ্টা ছিল দুপুরের পরই যেন অফিস থেকে নামা যায়। রাত ৮টা নাগাদ হয়তো বাড়ি পৌঁছতে পরবো। এখন যা দাঁড়ালো! সন্ধ্যার মধ্যেও গাড়ি ধরতে পারবো কিনা সন্দেহ? বাড়ি পৌঁছতে পৌঁছতে অনেক রাত হয়ে যাবে। ছুটির আগে প্রতিবারই বস এধরনে ভেজাল করে। ঈদের ছুটি হলে তো কথাই নেই। লোকটার খুব বিনয়ী ভাব। ‘আহ্লাদে গদগদ’ ধরনের। কিন্তু স্বার্থে লাগলে খুব দ্রুত রং বদলে যায়। এ নীতিবান ব্যক্তিটি ঘুস একদম খায় না। খাওয়া-দাওয়ার প্রতি একট-আধটু লোভ আছে বলা যায়; তবে সেটা তার ভাষায়। আমাদের ভাষায় লোকটা একটা আস্ত খাদক! কেউ যদি পুকুরের বড় মাছ, ক্ষেতের বড় সবজি, ফল ইত্যাদি উপহার দেয় তবে আর কথা নেই, খুশিতে একদম বাকবাকুম। উপহার প্রাদনকারীদের কাজটাও মোলায়েমভাবে উদ্ধার হয়ে যায়।  অফিসে আসে সাধারণত ১১টার দিকে। ফার্স্ট আওয়ারে আমাদের জ্ঞানের ক্লাস নেয়া হয়। ক্লাসটা নেয়া হয় একটু ভিন্নভাবে, প্রায় দিনই লাঞ্চের আগ পর্যন্ত মিটিং চলে। দুপুরে খেয়ে দেয়ে চেয়ারে বসে বসে একটা ঘুম দেয়। কাজ শুরু করে বিকাল ৫টার পর। অফিস আওয়ারের পর কার কাজ করতে মন চায়? সে চায় সবাই অফিসে থাকুক। দুর্ভাগ্যক্রমে যে ক’জন অফিসে থাকে, বসে বসে তাঁর মহাজ্ঞান গ্রহণ করে তাদের ধন্য হতে হয়। পিওন তোতা মিয়া তো এখন তার ঘরের কাজের লোক হয়ে গেছে। বসের বাড়িই এখন তার অফিস। লোকটা নিজেকে জমিদার মনে করে। নানানভাবে বোঝানোর চেষ্টাও করে তা। সুযোগ পেলেই রাজার প্রতি প্রজাদের বিভিন্ন আনুগত্যের উদাহরণ দেয়। কর্মচারীদের মধ্যে কেউ তার স্ত্রীকে ভাবি বললে মাইন্ড করে। সেটা নানভাবে সে বুঝিয়েও দেয়। নতুন কেউ অফিসে আসলেই আমরা তাকে জানিয়ে দেই, বসের সামনে তার স্ত্রীকে যেন খালাম্মা বলে ডাকা হয়। আগের দিনের জমিদারনীদের মা, আম্মা ইত্যাদি ডাকা হতো। এখনকার জমিদারনীদের বোধয় একটু ডিমোশন হয়েছে? মোদ্দা কথা জেলা অফিগুলিতে একজন সরকারি কর্মকতা যত ধরনের রাজত্ব করার থাকে তিনি তার একফোটও ছাড় দেন না। ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, আমি পরওয়া  করি না। প্রায় সব সময়ই ৫টা বাজলে অফিস থেকে কিছু না বলে বেড়িয়ে যাই। এতো ভয়ের কিছু দেখি না, সরকারি চাকরি এতো সহজে যায় না। এমনিতেই অন্য জেলায় বদলী হয়ে আছি আমার আবার ভয় কীসের? আমার কাছে এখন সব জায়গাই এক। সমস্যা হচ্ছে, ছুটির সময় আসলেই প্রতিশোধ নেয় বুড়ো ভামটা! সে জানে, দূরের পথ দ্রুত বেড় হতে চাইব তাই ইচ্ছে করেই সেদিন এমন কাজগুলি তুলে দেয় যে সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রাখা যায়। গোমড়া মুখে কাজ শুরু করলাম। চার’টার পর থেকেই আকাশ মেঘলা হতে শুরু করল। একই সাথে ঝড়ো বাতাস। আকাশ অন্ধকার হয়ে আসলো। মনটা আরো অস্থির হয়ে গেল বাড়ি ফেরার জন্য! কাল আমার এঙ্গেজমেন্ট। বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে মা। পাঁচদিন পর বিয়ে। বিষয়টা হাস্যকর! কিন্তু মা বড় একরোখা। মাকে বললাম, 
পাঁচদিন পরই বিয়ে, তার আবার এঙ্গেজমেন্টের কী দরকার?  
দরকার আছে, আমি আমার এক মাত্র ছেলের বিয়ের সবগুলো পর্বই উপভোগ করতে চাই।
তাহলে এখন শুধু এঙ্গেজমেন্টই হোক? বিয়েটা আরো পরে কর?
না, এবারই। একসাথে দুটোই হবে। এ নিয়ে আর কথা বলতে চাই না ।
বুঝতে পারলাম মা এবিষয়ে আর কোন কথা বলবেন না। এটুকু যে বলেছেন তাই বেশি। মিথিলার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমার বিয়ের কোন গরজই আর নেই। হবুপাত্রীর ছবিও পাঠিয়েছিল মা। আমি দেখার প্রয়োজন বোধ করিনি। তবে মন অস্থিরতার কারণ বিয়েশাদী কিছু নয়। আসলে আমি অস্থির প্রকৃতির। কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে সেটা না হওয়া পর্যন্ত আর স্বস্তি পাই না। 

অফিস থেকে নামলাম ঠিক সনধ্যা সাত’টায়। রাগের চোটে মাথা ব্যাথা ধরে গেল। বাইকটা দিয়ে যেতে হবে সাব্বিরের বাসায়। সে আজ অফিসে আসেনি। তার স্ত্রী ভিষণ অসুস্থ। এ আরেক উটকো ঝামেলা! বড় কোন ছুটি পেলেই সাব্বির মোটর সাইকেলটা চেয়ে বসে। লোকটা আমার ব্যাপারে সব সময় হেল্পফুল তাই নাও করতে পারি না। তাছাড়া অফিসের গ্যারেজে পড়ে থাকার চেয়ে একজনের উপকার যদি হয় ক্ষতি কী? প্রচ-  বাতাস তার সঙ্গে বৃস্টি শুরু হলো। সরকারি প্রতিষ্ঠান মানেই চোরের আখড়া। বাজেট ভালো থাকার পরও সব সময় নি¤œমানের রেইনকোট কেনা হয়। যতবারই প্রবল বর্ষণের মুখে পড়ি ততবারই বুকটা ভিজে যায়। বাস স্ট্যান্ড থেকে সাব্বিরের বাসা খুব বেশি দূরে না হওয়ায় ততটা বিরক্ত হলাম না। এ সময়টুকুর মধ্যে বুক ভিজবে না আশা করা যায়।  নানা কথা ভাবতে ভাবতে সাব্বিরের বাড়ির কাছে এসে পড়লাম। চিন্তায় ডুব দিলে আমি আশপাশ ভুলে যাই। অভ্যাসটা আজো বদলাতে পারলাম না! পর পর তিনটা গলি। তিনটার মুখের দিকই দেখতে এক রকম। এর আগে দুবার এসেছি। প্রথমবার সাব্বিরের সাথে দ্বিতীয়বার একা কিন্তু সেটা দিনের বেলায়। স্পষ্ট মনে আছে দ্বিতীয় গলি দিয়েই ঢুকতে হয়। তবে গলিতে ঢুকতেই তার বাসা না। সেখানে অল্প কয়টা বাসা মাত্র। রাস্তাটি গলি ছাড়িয়ে অনেকদূর গিয়েছে। কিছুদূর এগিয়েই মাটির রাস্তা। প্রায় দেড় কিলোমিটার গেলে সাব্বিরের বাসা। ঢুকে পড়লাম, দেরী আর সহ্য হচ্ছিল না।  বৃষ্টির বেগ বেড়েই চলছে, বাতাসও প্রবল হয়ে উঠেছে। কোথাও বোধয় বড় ধরনের ঝড় হচ্ছে। মনে মনে ভীত হয়ে উঠলাম, এমন ঝড়-বৃষ্টিতে গাড়ি ছাড়বে তো? কিছুদূর যাওয়ার পড় একটা দৃশ্য দেখে ভাল লাগল। ঝড়ো বাতাস রাস্তার মধ্যে গোল হয়ে ঘুরছে। অনেকটা ঘুর্ণিঝড়ের মতো। মজাটা হচ্ছে, লাল একটা কাপড়ের মতো কী যেন সে বাতাসে পাক খাচ্ছে। অনেকটা ঘুড়ি ওড়ার মতো মনে হচ্ছে। কাছে গিয়ে বাইকটা স্লো করলাম। ওটা একটা শাড়ি, কারো বাড়ির ছাদ থেকে উড়ে এসেছে হয়তো। চমৎকারভাবে ঘুরে ঘুরে বাতাসের মধ্যে উড়ছে। এদিকের রাস্তা এখনো পাকা হয়নি অথচ তারখাম্বায় নতুন স্ট্রিট লাইট। বিষয়টা প্রসংশা না সমালোচনার যোগ্য ঠিক বুঝে আসল না? সে যাই হোক,  স্ট্রিট লাইটের আলোতে ঝকঝক করছে ছোট ঘুর্ণিঝড়টা আর লাল শাড়িটাকে লাগছে ঘাইরাল ঘুড়ির মতো। হঠাট করেই যেন ছোটবেলায় চলে গেলাম। প্রচ- ঘুড়ি ওড়ানোর নেশা ছিল আমার। দিনরাত মাঞ্জা দেয়া আর কাটাকাটি খেলা। কখনো কখনো  ঘুড়িকে এলোমেলো বাতাসে পেত। উড়তে উড়তে কখনো ডানে কখনো বায়ে চলে যেত। মনে হতো ঘুড়িট যেন ঘুড়ে ঘুড়ে উড়ছে। কদাচিৎ এমন হলে খুব মজাই পেতাম। আবার  ভয়ও পেতাম। কীভাবে কার কাছে প্রথম শুনেছি মনে নেই? শুনেছি যে, এটাকে বলে বাওগোল্লা। জীন-টিনদের নাকি বিশেষ কিছু। যে ঘুড়িটা বাওগোল্লায় পড়ে সেটা ছিঁড়ে নাকি জ্বীন পরীদের দেশে চলে যায়। মজার ব্যাপার হলো, দু’এবার যে আমার ঘুড়িও সে বাওগোল্পায় পড়েনি তা নয় কিন্তু কখনো ছিঁড়ে যায়নি। মনে মনে হাসি আসলো, শিশুকালে মানুষের বিশ্বাসের মাত্রা কতোই না প্রবল থাকে! ছোট্ট ঘুর্ণিঝড়টাকে বাওগোল্লা ভেবে খুব মজা লাগলো। মনে মনে ঠিক করলাম বাওগোল্লাটা থেকে শাড়িটা উদ্ধার করতে হবে। খামোখা জিনিসটা নষ্ট করে লাভ কি? সাব্বিরকে দিয়ে দিব। যার শাড়ি তাকে পারলে ফেরত দেবে, না পারলে তার ঘরের মানুষ ব্যবহার করবে। ক্ষতি কি? বাওগোল্লাটা তীরের মতো ছেঁদ করে বেড়িয়ে যেতে ইচ্ছে করল। হঠাৎ করেই পোলাপান হতে খুব ইচ্ছে করছে। পিকআপটা বাড়িয়ে বাইকটা টান দিলাম। চলন্ত অবস্থায় বা হাত দিয়ে শাড়িটা ধরে এগিয়ে গেলাম। ছোট ঘুর্ণিঝড়টুকু পেরুতেই বাচ্চাদের মতো একটা আনন্দ অনুভব করলাম! বাইকটা থামিয়ে শাড়িটা হাতের মধ্যে ভাঁজ করলাম। ভেজা কাপড় ব্যাগে রাখা যাবে না, বাইকের সামনে পেচিয়ে নিলাম। পিছনে ফিরে দেখলাম ঘুর্ণিঝড়টা মিলিয়ে যাচ্ছে, বুঝলাম এটার পাওয়ার শেষ। বাড়ি ফেরার কথাটা ক্ষণিকের জন্য ভুলে গিয়েছিলাম। কথাটা মনে আসতেই আবার গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিলাম। হঠাৎ করেই যেন সুক্ষ্ম একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম। নিজেকে কেন যেন আগের চেয়ে হালকা মনে হচ্ছে, বেশ হালকা! বিষয়টাকে গুরুত্ব দিলাম না। সাব্বিরের বাড়ির দিকে এগিয়ে চললাম। বাতাসের ঝাপটায় বুকটা ভিজে উঠেছে। মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল! কাক ভেজা হয়ে বাসে উঠতে মন চাইছিল না অথচ শেষ পর্যন্ত তাই হবে মনে হচ্ছে। চমকে উঠলাম! কি ব্যাপার? সাব্বিরের বাড়ি পৌঁছতে এতো সময় লাগছে কেন? ভালমতো চারপাশ লক্ষ্য করলাম। অন্য রকম লাগছে। রাস্তার দু’পাশে মাঠ, বাইকটা থামালাম। রাস্তার পাশে বিশাল একটা বট গাছ। খট্কা লাগলো খুব? তবে কি সাব্বিরের বাসা ছাড়িয়ে অনেক দূরে এসে পড়েছি? তাইতো মনে হচ্ছে। বাইকটা ঘুরালাম। খুব ধীরে ধীরে, সাব্বিরের বাসা খুঁজতে খুঁজতে বাইক চালাতে লাগলাম। যাচ্ছি তো যাচ্ছি, এবার আর পথ ফুরাচ্ছে না। ধৈর্য্যহারা হলে যা হয় আর কী। অনেকটা এগুনোর পর দেখলাম বিশাল একটা বটগাছ। ভালমতো দেখতেই চমকে উঠলাম, আরে এতো সেই বটগাছটাই! মাথাম-ু কিছুই বুঝতে পারলাম না। এইবার খুব জোড়ে বাইক টানা শুরু করলাম। কেন জানি বুকটা ধরফর করা শুরু করেছে। বেশ কিছুক্ষণ চলার পর একই জায়গায় এসে পৌছলাম। ভয় পেলাম! কী হলো বিষয়টা? কোথায় এসে পড়লামরে বাবা! ঠা-া মাথায় ভাবা শুরু করলাম এমন হওয়ার কারণটা কী? দ্বিতীয় গলি দিয়ে সম্ভবত আমি ঢুকিইনি। তাড়াহুড়োয় অন্য গলি দিয়ে ঢুকে পড়েছি। সম্ভবত অনেক দূর পর্যন্ত এসে পড়েছি এবং এখানে এসে রাস্তা হারিয়েছি। তাহলে বট গাছ? বার বার একই বটগাছের তলে কেন ফিরে আসা?  এখানেও আমার কোন ভুল হচ্ছে নিশ্চয়ই। হয়তো নিদির্ষ্ট একটা ডিস্টেন্স পর পর একটা করে বটগাছ লাগানো হয়েছে। সাথে সাথে এ প্রশ্নওটা জাগল, প্রতিটি বটগাছের একই সাইজ ও গড়ন হবে কেন? এটারও একটা সমাধান টানার চেষ্টা করলাম, সম্ভবত একই সময়ে এই গাছগুলি লাগানো হয়েছিল আর পরিচর্যা করে একই রকম শেইপ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া মোটরসাইকেলের আলোতে বটগাছগুলি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না তাই হয়তো সব একরকম লাগছে। সমাধানগুলি একটুও বিশ্বাসযোগ্য হলো না নিজের কাছেই। চিন্তায় পড়ে গেলাম। একটা ভয় শিরশির করে ঘাড় থেকে তলপেটে এসে পৌঁছল।  সত্যি সত্যি কি তবে বাওগোল্লার মধ্যে পড়লাম? ধ্যাৎ! একি কখনো সত্যি হতে পারে নাকি? আচ্ছা, জ্বীন-পরীর পাল্লায় পড়িনিতো? ভয় লাগল! গা গুলিয়ে উঠল অজানা আতঙ্কে! আবার নিজেকে ঠা-া করার চেষ্টা করলাম। জ্বীন-ভূত কিংবা পরী কিছুই আমি বিশ্বাস করি না। এ সবই আমার মনের কল্পনা। রাস্তা হারিয়ে নির্জন জায়গায় এসে পড়ার কারণেই এসব ভুল হচ্ছে। নানা ভ্রান্ত ধারণা হচ্ছে। খুব ঠা-াভাবে আবার গাড়ি চালিয়ে যেতে হবে। এই বটগাছে একটা মার্ক করে রেখে যেতে হবে। মার্ক করার মতো কিছুই পাচ্ছি না, কোন ইটের টুকরাও চোখে পড়ছে না। বুদ্ধি আসলো মাথায়। বাইক থেকে শাড়িটি নিয়ে গাছের গোড়ায় একটি শিকড়ের সাথে পেচিয়ে রাখলাম। বাইকে স্টার্ট নিলাম। খুবই অস্থির হয়ে গেছি। খুব জোরে বাইক ছুটালাম। নির্দিষ্ট দূরত্বের পর বটগাছটা আবার দেখা যেতে লাগলো। আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে বটগাছের নীচে বাইক থামালাম। গাছে যে মার্ক করেছিলাম হেডলাইটটা সেখানে ঘুরালাম। কলজে কেঁপে উঠল! শাড়িটি দেখা যাচ্ছে। জীবনে এই প্রথম সত্যিকারের ভয় পেলাম! তীব্র ভয়! মাথা খারাপ হয়ে গেল! দিক্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে বাইকটা টান দিলাম। মনে হলো পিছন থেকে কারা যেন ছুটে আসছে? হঠাৎ হেডলাইটের আলোতে সামনে একটা মানুষের অবয়ব দেখা গেল। মানুষ না প্রেতাত্মা ভাবতে ভাবতে তার কাছে এসে পড়লাম। অবয়বটা আলো দেখে আমার দিকে ঘুরলো, হেডলাইটের আলোতে যা দেখলাম তাতে চক্ষু চরকগাছ! একটা মেয়ে মানুষ, গায়ে শুধু ব্লউজ আর পেটিকোট। এলোমেলো ভাবে চুলগুলি ছড়িয়ে আছে। মুখের দিকে তাকালাম, অপরূপ সুন্দর! বুঝতে আর বাকি রইল না, নির্ঘাত পরীর পাল্লায় পড়েছি। মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। বাইকটা সহই লুটিয়ে পড়লাম।

সূর্যের আলোতে চোখ খুলতে কষ্ট হলো। রাতের ঘটনা মনে হতেই লাফ দিয়ে উঠার চেষ্টা করলাম। কপালের ডানপাশে ব্যথা অনুভব হলো। হাত দিতেই দেখলাম ফুলে আছে।
কেমন বোধ করছেন এখন?
নারী কণ্ঠ শুনে চমকে উঠলাম! তাকিয়ে দেখলাম রাতের সেই পরী বা ভূতুনীটা। ভয়ে কাঁপতে লাগলাম। গলা দিয়ে কথা বেরুলো না। বুঝতে চেষ্টা করলাম বিষয়টা কী? সুর্যের আলো দেখা যাচ্ছে, ভূতপেত্মী হলে তো দিনের আলোতে থাকার কথা না। ভালোমত চারপাশে তাকালাম। রাতে যেমন দেখেছিলাম অনেকটা তেমনই। দুই পাশে বিস্তির্ণ লাল মাঠ মাঝখান দিয়ে মাটির  রাস্তা। আবারও মাথা এলোমেলো হলো। এ পরিবেশ তো একদমই চেনা লাগছে না? ছটফট শুরু করলাম। মেয়েটির উপস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে ভুলে গেলাম। মেয়েটি আবার কথা বলে উঠল,
আমরা এখানে কেন বলতে পারেন কি?
আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন? 
মেয়েটির কথায় ঘোর কাটল। দুটো প্রশ্নের একটিও আমার দেয়া সম্ভব হলো না। ভালো করে তাকালাম মেয়েটির দিকে। পেত্মী বা পরীর মতো কিছু মনে হলো না। রাতে গায়ে শাড়ি দেখিনি এখন দেখা যাচ্ছে। বুঝতে পারলাম শিকড় থেকে খুলে নিয়ে শাড়িটি পরেছে। রাগ হলো, আমার শাড়ি আমাকে না জিজ্ঞেস করে পরবে কেন? কিন্তু লাল শাড়িতে মেয়েটিকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে যে কিছু আর মুখ দিয়ে বের হলো না। তবে এতো সুন্দরের মাঝেও মেয়েটির  চোখ-মুখে তীব্র ভয় ও বিদ্ধস্তভাব স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করলাম।
আপনাকে কি আমার চেনার কথা? এটা কোন জায়গা আমি নিজেই তো কিছু বুঝতে পারছি না!
মেয়েটির মুখ দেখে মনে হলো হতাশ হয়েছে! খুব প্রতাশা নিয়ে তাকিয়েছিল। আচ্ছা হতাশ বেশি হলো কোনটাতে? আমি চিনি না বলে না জায়গাটা চিনিনা বলে? 
মেয়েটি বলল, আমি ভেবেছিলাম আপনি আমাকে চিনতে পারবেন! 
কিভাবে এখানে এসে পৌঁছলাম বুঝতেই পারছি না? জ্ঞান আসতেই প্রথম প্রচ- ভয় পেলাম! ভাবলাম, কোথায় আমি? অন্ধকারে কিছু বুঝতে পারছিলাম না। একটু খেয়াল করতেই দেখলাম গায়ের শাড়িটা নেই। শরীরে প্রচ- অবসাদ তাও  উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলাম। কোন রকম দাঁড়িয়েছি দেখি একটা আলো এগিয়ে আসছে। আলোটা কাছে আসতেই দেখি আপনি। মোটর সাইকেলটা নিয়ে পড়ে গেলেন। জ্ঞান হারালেন। ধীরে ধীরে আপনার কাছে এগিয়ে গেলাম। অন্ধকারে আপনার চেহারাটা চিনতে পারলাম না! অনেক ডাকাডাকি করলাম। কোনভাবেই আপনার জ্ঞান ফেরাতে পারলাম না। আশা ছেড়ে দিলাম! ভাবলাম, হয়তো মরেই গেছেন! হতাশ হয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। একটু এগুতেই প্রচ- ক্লান্ত অনুভব করলাম। জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লাম। চোখ খুলে দেখি, ভোরের আলো। প্রথমেই যে বিষয়টা বোধ হলো প্রবলভাবে, আমার গায়ে শাড়ি নেই। ভীষণ লজ্জা করতে লাগলো। কিন্তু জীবনের ভয় লজ্জার চেয়ে বেশি। ভাবলাম বাঁচতে হলে কিছু একটা করতে হবে। মরে আছেন ভেবে আপনার আশা বাদই দিয়েছিলাম। তাই ওদিকে আর আগালাম না। বাঁচার তাগিদে বড় রাস্তাটা ধরে হাটতে শুরু করলাম। চারপাশ খুব অপরিচিত লাগল। ভাবলাম, হাঁটতে  হাঁটতে একটা না একটা লোকালয় তো পাবই। কিছুদূর যাওয়ার পর একটা বটগাছ চোখে পড়ল। গাছের গোড়ায় আমার শাড়িটা দেখে অবাক লাগল! ভাবার সময় নেই, শাড়িটা ছাড়িয়ে তাড়াতাড়ি পরে নিলাম। আবার হাঁটা শুরু করলাম। দেখি আপনার কাছে চলে এসেছি। তখনও আপনি উপুর হয়ে পড়ে আছেন, পাশে বাইকটা! অদ্ভুত লাগলো! এমনতো হওয়ার কথা ছিল না? আমি তো আপনার উল্টো দিক ধরে হাঁটা দিয়েছিলাম। খটকা লাগল। আপনার পাশ কাটিয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। ওমা! দেখি আবার সেই বটগাছ। বুঝতে পারলাম কোন এক গোলক ধাঁধায় এসে পড়েছি। খুব ভয় হতে লাগল! কোন মানুষজন চোখে পড়ল না। ভাবলাম, যাও একজন মানুষ পেলাম সেও মৃত পড়ে আছে! একা একা কী করবো? আমার পক্ষে আর কিছু করা সম্ভব মনে হচ্ছিল না। আপনার কথা আবার মনে আসলো। ভাবলাম, আবার একটু চেষ্টা করি। সত্যিই যদি আপনি না মরে থাকেন? এগিয়ে আসলাম আপনার দিকে। ঠেলে চিত করলাম। এবার ভালমতো মুখটা দেখতে পেলাম। চমকে উঠলাম! সাথে সাথেই প্রাণ কেঁদে উঠল। শুধু মনে হলো, যে করেই হোক আপনাকে বাঁচাতে হবে। দৌড়ে বট গাছটার কাছে গেলাম। একটা গর্তে বৃষ্টি পানি জমে ছিল। দুহাত দিয়ে অতি যতেœ পানি নিয়ে এসে আপনার মুখে ছিঁটালাম। তিন-চার বার এমন করার পর আপনি নড়ে উঠলেন। প্রাণটা যেন ফিরে পেলাম!

বুঝলাম মেয়েটি আমার জন্য ভালই কষ্ট করেছে। ধন্যবাদ দিতে চাইলাম, মুখ দিয়ে বের হলো না। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। মেয়েটির কথায় একটা বিষয় পরিষ্কার হলো, আসলেই আমরা কোন রহস্যময় জায়গায় এসে পড়েছি। যে বাওগোল্লা নিয়ে হেসেছিলাম সে বাওগোল্লার মধ্যেই ফেঁসে গেছি হয়তো? এতো দুঃখের মাঝে একটা শান্তনা পেলাম, যে উদ্দেশ্যে শাড়িটা উদ্ধার করেছিলাম তা পূরণ হয়েছে। এটাকে মালিকের হাতে তুলে দেয়া গেছে। কিন্তু একটা বিষয় খুব খটকা লাগল? মেয়েটি বার বার তাকে চেনার কথা বলছে কেন?
সত্যি করে বলুনতো আপনাকে কি আমার চেনার কথা? 
ঠিক জানি না, হয়তো আবার হয়তোন না!
তাই? কিন্তু আপনাকে কখনও দেখেছি বলে মনে পড়ছে না? 
বলছি, আগে বলুন তো আপনার নাম কি তাশফিন আহমেদ? 
খুবই বিষ্মিত হলাম! রহস্যময় এই জায়গার মতো এটাও রহস্যময় মনে হলো আমার। 
বললাম, হ্যাঁ
বাড়ি রংপুর, চাকরি করেন টাঙ্গাইাল?
হ্যাঁ। এতো কিছু আপনি কি করে জানেন?
মেয়েটি খিলখিলিয়ে হেসে উঠল, প্রাণ জুড়ানো হাসি মেয়েটির। এতো ভীতিকর অবস্থার মধ্যেও মেয়েটির নিশ্চিন্ত হাসি অবাক করল! মেয়েটি আবার বলল, 
আপনার বিয়ে ঠিক হয়েছে না?
হ্যাঁ! সবইতো জানেন দেখছি? 
আচ্ছা আর হয়রান করছি না আপনাকে। শেষবারের মতো আরেকটি প্রশ্ন, যে মেয়েটির সাথে আপনার বিয়ে ঠিক হয়েছে, তাকে কি আপনি একবারও দেখেছেন? 
কথাটা বলে মেয়েটির মুখ  আজানা কারণে লাল হয়ে উঠল? বললাম, না। মনে হলো, মেয়েটির সুন্দর মুখটা কেমন যেন অন্ধকার হয়ে গেল। মনটা নরম হলো। বললাম, দেখুন আপনি বা আমি উভয়ই ভীষণ বিপদের মধ্যে আছি! আসলেই কোন বিপদ কি না, আর বিপদ হলে সেটা কত বড়- এসবের কিছুই আন্দাজ করতে পারছি। এ মুহূর্তে কোন ধরনের রহস্যই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক নয়। সত্য বিয়ষটা একটু খুলে বলুন প্লিজ। এসব কথার কাছেও গেল না সে। সে বলে যেতে লাগল,আপনাকে দেখানোর জন্য সে মেয়েটির একটা ছবি না পাঠানো হয়েছিল? আপনি কি তা দেখেননি?
মেয়েটির কথায় পুরানো বিষয়টি আবার মনে পড়লো। দিন পনের আগে কুরিয়ারে মায়ের চিঠি আসল।

প্রিয় তাশফিন
যেই মেয়েটির সহিত তোমার বিবাহ ঠিক করিয়াছি তাহার একটি ছবি প্রেরণ করা হইল, অবসর মুহূর্তে তাহা দেখিয়া লইও। মেয়েটি অতীব সুন্দরী। ভালো থাকিও, শরীরের যতœ নিও। 
ইতি 
তোমার মা 

আমার মা অতি মাত্রায় স্বল্পভাষী। আমিও স্বল্পভাষী কিন্তু তার কাছে ফেল মেরেছি। সারাদিনে মোট দশটি কথাও বলে কি না সন্দেহ? পুরনো আমলের শিক্ষিত হওয়ার কারণেই কি না জানি না, তিনি সব সময় সাধু ভাষায় লেখালেখি করেন। মিলিথার বেইমানীর পর থেকেই বিয়ের প্রতি আমার আর কোন আগ্রহ ছিল না। অনেকদিন ধরেই মিথিলা তলে তলে বদলেছে। আমি এতো গাধা যে টেরই পাইনি। যখন টের পেলাম তখন স্বামী নিয়ে অস্ট্রেলিয়া পগারপার।  ফোন করলে ঠিকমত রিসিভ করতো না। বাড়ির সবার আচরণও যেন কেমন মনে হচ্ছিল? বিষয়গুলি খট্কা লাগলেও ব্যস্ততার কারণে ভাবার সুযোগ হয়নি। ভাববোই বা কেন? দীর্ঘদিনের প্রেম, বিয়ে ঠিক। আমি শুদ্ধ চরিত্রের মানুষ, অল্প কদিন পরই বিয়ে। ভাবার কি’ই বা আছে? পাঁচ কান ঘুরে খবরটা আসতেই ছুটে গেলাম ওদের বাড়িতে। বাড়ির কেউই কোন কথা বলতে চাইলো না। মিলিথার বাবা খুব অপমান বোধ করলেন! কেন তার বাড়িতে আসলাম? বিয়ের বিষয়টা আমাকে তো জানিয়ে দেয়াই হয়েছে তবে এখন কেন এখানে এসে তাদেরকে বিব্রত করা? অবাক হলাম! এই লোকটাই আমাকে কথায় কথায় বাবা বাবা করতো। বাড়ি তৈরি সময় নিজে থেকেই তিন লাখ টাকা দিয়েছি। বলেও দিয়েছি ও টাকা ফেরত দেয়ার দরকার নেই। আজ তার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে আমি তাদের কাছে স্্েরফ একটা উটকো ঝামেলা! শেষ পর্যন্ত কথা বলল নাবিলা, মিথিলার ছোট বোন। 
তাশফিন ভাই, আপু অনেকদিন ধরে বলতে চেয়েও, বলতে পারেনি আপনি কষ্ট পাবেন বলে! প্রায় বছর খানেক হলো হাফিজ ভাইয়ের সাথে আপুর একটা ভাব হয়। তিনি বড় ভাইয়ার মামাতো শালা। হাফিজ ভাই অস্ট্রেলিয়া থাকে। দেশে এসেছিল বিয়ে করতে। সে একজন ডাক্তার। আপু তাকে বলেছিল আপনার কথা কিন্তু হাফিজ ভাই এতো জিদ্দী! এতো ছেলে মানুষ! কী আর বলব? খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে মরার মত অবস্থা! শেষে তাকে বাঁচানোর জন্য আপু তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যায়। 
এসব জানতে পারলে আপনি আঘাত পাবেন! আপু তাই সিদ্ধান্ত নেয়, কিছুই আপনাকে বলবে না। আমাদের বলে যায়,তারা চলে যাওয়ার সাথে সাথেই যেন আপনাকে জানানো হয়। আপুর কথা, এসব শুনে আপনি তাকে ঘৃণা করলেই ভালো। তাহলেই আপনি তাকে ভুলে নতুনভাবে আবার জীবন শুরু করতে পারবেন। আপু সবসময়ই আপনার মঙ্গল চেয়েছে। 
আপু আরো বলেছে, আপনার টাকাটা খুব শীঘ্রই শোধ করে দেওয়া হবে। এ নিয়ে আপনি যেন চিন্তা না করেন।
আমি হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না। বিস্ময় কাটতেই বললাম, ঠিক নাবিলা। তোমার আপু সত্যিই আমার মঙ্গল চায়। 
সত্যিই ধন্যবাদ তাকে, এমন একজন লোভি মেয়ের সাথে জীবন কাটাতে হবে না বলে। আমাকে আগে জানায়নি তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়া মিস হয়ে যেতে পারে এই ভেবে। আর টাকার যে কথা বললে, এতোদিনে আমার দানটা সত্যিকারের দানে পরিণত হয়েছে। আপনজনকে কিছু দিলে ওটা প্রকৃত দান হয় না, প্রকৃত দান হয় দূরের কাউকে দিলে।
দুনিয়া উল্টে যায় আমার! ভেবেছিলাম আর বিয়েই করব না। মা আঠার মতো লেগে থাকে। তার একমাত্র ছেলে স্ত্রী-সন্তানহীন হয়ে মারা যাবে, এটা মোটেও মেনে নেয়ার মতো মানুষ সে নয়। বড় বুদ্ধিমতি তিনি। বছর দুয়েক কিছুই বললেন না, এরপর শুরু হলো বিয়ের জন্য পিড়াপিড়ি। সময়ের চেয়ে বড় মলম কিছু নেই। যতবড় ক্ষতই হোক না কেন একদিন তা শুকিয়ে যায়। মায়ের খুশির জন্য শেষ পর্যন্ত রাজি হলাম। একবছর পর্যন্ত মা নীরবে পাত্রী খুঁজে গেল। মাস খানেক আগে ফোনে বলল, তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, বাড়ি এসে মেয়ে দেখে যাও। বললাম, কোন দরকার নেই, তোমার পছন্দই আমার পছন্দ। মা কিছু আর বলল না। দিন পনের পর ছবি পাঠিয়ে দিল। কী কারণে জানি ছবিটা দেখার কোন আগ্রহ বোধ করিনি। মেয়েটি কথা বলে উঠল, বর্তমানে ফিরলাম।

কি হলো এমন চুপ হয়ে আছেন কেন? কিছু বলছেন না যে?
না। ছবিটা আসলে দেখা হয়ে উঠেনি। কিন্তু কেন?
না, মানে, যে মেয়েটির সাথে আপনার বিয়ে হচ্ছে তাকে আপনি দেখবেন না? 
মেয়েটির চেহারায় একটা আড়ষ্টভাব দেখতে পেলাম। মেয়েটাকে এতো ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব না। তার দরকারও নেই। কিন্তু মেয়েটি চরম বিপদের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে এতো গুরুত্ব দিচ্ছে দেখে অবাক হলাম! বিষয়টা এতো ঘাটাচ্ছে কেন? বেশি বিরক্ত হলাম। মনে হলো মেয়েটা যতটাই সুন্দর ততটাই নিবোর্ধ। এই বিপদের মাঝে কী সব ছেলেমানুষী কথাবার্তা চালাচ্ছে। অনেকটা রাগ করেই মুখ দিয়ে বেড়িয়ে আসলো, আপনি যেভাবে বিষয়টা নিয়ে ঘাটাচ্ছেন তাতে মনে হচ্ছে সেই ছবিটা আপনার ছিল?
কথাটা বলেই ধাক্কা খেলাম! মেয়েটির মুখ লজ্জায় ভীষণ লাল হয়ে উঠল!। এমন লাজুক মুখ আমি আর কখনো দেখিনি। মেয়েটি মুখটা নামিয়ে নিয়েছে মাটির দিকে। এবার আমি অস্থির হয়ে উঠলাম। সন্দেহ দানা বাঁধলো মনে।  
বলালম, প্লিজ এভাবে চুপ করে থাকলে তো হবে না। হ্যা-না একটা কিছু একটা বলুন।
মেয়েটি বুদ্ধিমতি, পরিবেশ সর্ম্পকে যথেষ্ঠ সচেতন মনে হলো। সাথে সাথে গম্ভীর হয়ে জবাব দিল, হ্যাঁ।  
মুখে রক্ত জমলো বিষ্ময়ে! এটা কি করে সম্ভব? এও কি কখনো হয়? একটার পর একটা অবিশ্বাস্য বিষয়ে ঝাটকা খেতেই লাগলাম! বিষ্ময়ের সাথে কথা বলতে লাগলাম:
গত রাতে এখানে আসার আগে আপনি কোথায় ছিলেন? 
কেন?
দরকার আছে
আমার বাড়িতে। 
বাড়িতে?
বাড়িতে মানে বিকেলে মাঠে গিয়েছিলাম হাটতে। হঠাৎ করেই ঝড়ো বাতাস, বৃষ্টি শুরু হলো। কোত্থেকে একটা ঘুর্ণিঝড় মতো কী যেন এসে পড়লো সামনে। দৌঁড়ে সরে যেতে চাইলাম। কিন্তু পারলাম না। ঘুর্ণঝড়ের মধ্যে পড়তেই আর কিছু মনে নেই। 
তার মানে আপনি ছিলেন রংপুর? আর আমি টাঙ্গাইল। দুজন দুজায়গায়। আপণি ঘুর্ণিঝড়ে পরেছিলেন কিন্তু আমিতো কোন ঘুর্ণিঝড়ে পড়িনি। তাহলে আমার বেলায় এমনে হলো কেন? কাল রাত বহুবার এখান থেকে বেড়িয়ে যেতে চেয়েও পারিনি। কেন? এটা কোন জায়গা? কেমন জায়গা? দুইজন দুইজায়গা থেকে একজায়গায় কেমন করেই বা আসলাম? কিছুই তো মাথায় আসছে না!
আমার নাম তিথি।
মেয়েটি নাম বলাতে লজ্জা পেলাম, এতক্ষণেও তার নামটা জিজ্ঞেস না করা, একধরনের অভদ্রতা। হঠাৎ মনে হলো গত রাতে ছোট একটা ঘুর্ণিঝড়ের মতো কী যেন দেখেছিলাম এবং এর মধ্যে দিয়ে বাইক চালিয়েছিলাম। তবে কি সেটাও এই মেয়েটির ঘুর্ণিঝড়ের মতোই কিছু ছিল? সত্যিই কি বাওগোল্লা বলতে কিছু আছ? মাথা পুরোই আওলা হয়ে গেল! মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম
আপনার নাম কি শুধুই তিথি?
সাবিকুন নাহার, ডাক নাম তিথি।
সুন্দর নাম।! 
মনে মনে ভাবলাম তোমার রূপের মতোই সুন্দর! মাথাটা একটু ঠান্ড করে একমিনিট সময় নিলাম। বললাম, 
শোন তিথি, খুব ভালভাবে আমাদের দুজনকেই একটা বিষয় বুঝতে হবে। যতই আজগুবি মনে হোক না কেন এটাই এখন বাস্তব, আমরা অদ্ভুত কোন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছি। জানিনা আমাদের শেষ পরিণতি কী? দু’জন দুইস্থান থেকে এক জায়গায় কেন পৌঁছলাম- যদিও এটা বিরাট রহস্য তবুও যাই ঘটুক না কেন আমাদের দুজনকে একসঙ্গেই থাকতে হবে। 
তিথি বলল, আমার মনে হচ্ছে এটা কুদরতের একটা খেল, আমরা যেহেতু স্বামী-স্ত্রী তাই এক জায়গায় এনে ফেলেছে। 
স্বামী-স্ত্রী? অবাক হলাম!
হ্যা তাইতো, এক সপ্তাহের মধ্যে তো তাই হয়ে যেতাম, তাই না?
তাশফিন আপনি আমাকে আসলেই চিনতে পারেননি! আমরা একই কলেজে পড়েছি। আমি ভর্তি হওয়ার পরপরই আপনি পাশ করে বেড়িয়ে যান। খুব কম সময়ই আপনাকে দেখেছিলাম। যদিও তেমন কোন রসগোল্লা না আপনি, তবুও আপনাকে কেন জানি আমার খুব ভাল লাগতো।  
কিন্তু আপনি বোধয় অন্য কারো প্রেমে অন্ধ ছিলেন! যখন আপনার সাথে বিয়ের প্রস্তাব আসলো, পুরানো ভাললাগাটা আবার জেগে উঠলো। 
জানতে পারলাম আপনিও বিয়েতে রাজি, ভাললাগাটা ভালোবাসায় রূপ নিল। মনে মনে আপনাকে আমি স্বামী ভাবাই শুরু করেছিলাম। বিষয়টাকে ছেলেমানুষী হিসেবে ধরে নিতে পারেন। 
আপনাকে দেখার পর থেকে তাই আমার একটুও ভয় লাগছে না। কিন্তু আপনি যে পুরান প্রেমিকাকে এখনও ভুলতে পারেননি সেটা বোঝাই যাচ্ছে। সেটা ভেবে মনটাও খুব খারাপ হচ্ছে এখন!
মনটা নরম হয়ে গেল। 
দেখ তিথি, বিষয়টা তা না। 
মিথিলাকে আসলেও এখন আমার আর মনে পড়ে না। কিন্তু মেয়েদের প্রতি একটা অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল! বিয়েটা করতে চেয়েছিলাম শুধু দায় এড়ানো জন্য তাই পাত্রী দেখার বিষয়টা এতো গরজ করিনি। 
তুমি এতো সুন্দর জানলে কী আর না দেখে পারতাম? 
কখন যে তুমিতে নেমে এসেছি লক্ষ্য করিনি। ভালই লাগল। তিথি বলে উঠল, আপনি মিথ্যে বলছেন? খুশি করতে চাইছেন। কথায় অভিমানের সুর থাকলেও মুখে তার খুশি খুশি ভাবই ফুটে উঠল। বললাম, একদম মিথ্যে বলছি না, তুমি অনেক সুন্দর!
লজ্জা পেল তিথি, পর মূহুর্তেই ভীত হয়ে উঠল তার কণ্ঠে বলে উঠ
আচ্ছা এখন কি করব আমরা?
জানি না।
আমার তো খুব ক্ষিদে পেয়েছে
আমারও 
বলার সাথে সথে লক্ষ করলাম ভয়াল এক দানব পেটে নাড়া দিয়ে উঠেছে! শোন তিথি আমাদের এখন যে কাজটা করতে হবে... বলতে বলতে মোবাইলটার কথা মনে আসলো। তাড়াতাড়ি করে বাইক থেকে ব্যাগটা নামিয়ে মোবাইলটা বের করলাম। যা ভেবেছিলাম তাই, কোন নেটওর্য়াক নেই। গম্ভীর হয়ে উঠলাম। 
বাইকে উঠে বললাম, তিথি
হুম
পিছে বসো।
বটগাছটার নিচে আসলাম। বটগাছটা খুব ভাল করে দেখলাম। আসলেই কি বটগাছ? সাধারণ বট গাছের তুলনায় এর উচ্চতা অনেক বেশি তবে গড়ন ও পাতা বটের মতোই। এত দেখার টাইম নেই। রওয়না দিলাম আবার। দশ মিনিট পর সেখানেই আবার ফিরে আসলাম। অদ্ভুত ব্যাপার! রাস্তাটা গেছে সোজা অথচ ঘুরে কেন একজায়গায় আসতে হচ্ছে বুঝতে পারছি না? বুঝলাম রাস্তা দিয়ে গিয়ে কাজ হবে না। এবার  রাস্তার পাশ দিয়ে  চলতে লাগলাম। একই কাহিনী। বেপরয়া হয়ে উঠল মন। রাস্তার ডান পাশের মাঠে নামলাম। মাঠ ক্রস করে উত্তর দিকে বাইক চালালাম। বৃষ্টিতে লাল মাটি আঠা আঠা হয়ে আছ। চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। কিছুদূর যাওয়ার পর ঝোপ ঝাড়ের মতো দেখতে পেলাম, আম, আপেল, কলা সহ অনেক জানা-অজনা ফল-ফুলের গাছ দেখতে পেলাম। প্রচ- ক্ষুধা থাকার পরও এ মুহূর্তে সেগুলির প্রতি আগ্রহ বোধ করলাম না। একটা খালের মত দেখা গেল। খুশি হয়ে উঠলাম, সামনে হয়তো নদী পাব। এগিয়ে চললাম, প্রায় ঘণ্টা খানেক চালানো পর অদ্ভুত এক জায়গায় আসলাম। নীচে পানি এসে মিশেছে, উপরে ঘন কালো মেঘ। এতো ঘন যে আকাশ দেখাই যায় না। বুঝলাম আর এগুনো যাবে না। বাইক ঘুরালাম, তিথি কথা বলে উঠল, কি করবে এখন? 
ওর মুখে তুমি শোনাতে শিহরিত হলাম! বিপদের কারণেই হয়তো বেশ দ্রুত সহজ হয়ে যাচ্ছি আমরা। বলালম, 
রাস্তার ঐপাড় দিয়ে চেষ্টা করবো আবার। কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল তিথি। প্রচ- খিদে পেয়েছে তারপরও গাছ থেকে কিছু পাড়তে সাহস পেলাম না। খেয়ে আবার কী না কী হয়? মূল রাস্তার কাছে চলে আসলাম। রাস্তার বা পাশের মাঠ দিয়ে এবার চলতে লাগলাম। একটু যাওয়ার পর প্রচ- একটা ধাক্কা খেলাম। ডান পাশের দৃশ্যাবলী যেমন লাগছিল বা পাশেও তেমনই লাগছে। একই রকম ঝোপ ঝাড়, একই রকম ভাবে গাছের ফলমূল ঝুলছে। একটু এগুনোর পর খালের অবয়বটি ফুটে উঠল। সব কিছু একই রকম। তাও জিদ করে এগুলাম। মাঠ শেষ হয়ে গেছে। পানি এসে মিশেছে মাটিতে, উপরে ঘন কালো মেঘ। তিথিকে বললাম,  
তিথি, জানি না আমাদের ভাগ্যে কি আছে? যে দিকে যাই আমার মনে হয় এমনই পাবো। আমার মনে হয় ঐ বটগাছের নীচেই আমাদের আপাতত আশ্রয় নিতে হবে। তিথি বলল, তোমার যা খুশি তাই কর। এসব তোমার দায়িত্ব।
এবার আর ভুল করলাম না, ফেরার পথে যতটুকু পারলাম ফলমূল সাথে করে নিয়ে নিলাম। বট গাছটাকেই আশ্রয় স্থল বানালাম। 

মাস খানেক হয়ে গেছে কোন মানুষের দেখা পাইনি। জায়গাটা অদ্ভুত! কিন্তু মাটি, গাছপালা আমাদের দেশের মতই। ঝোপÑঝাড়ে কিছু  পরিচিত পাখি দেখতে পেয়েছি। ভালোমত পাখি চিনি না তাই এদের নামও মনে করতে পারলাম না। কাঠ বিড়ালী দেখেছি।  ঝোপের থেকে ডালপালা কেটে বটগাছের নীচে একটা ছাপড়ার মতো করেছি। ব্যাচেলোর মানুষদের একটা সুবিধা থাকে, তারা প্রয়োজনের তাগিদে এমন কিছু না কিছু জিনিষ রাখে যা বিপদের সময় কোন না কোনভাবে কাজে লাগে। আমার ফল খাওয়ার খুব নেশা। রাস্তাঘাটে ফল কিনে সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অনেক সময় আমি ফল খাই। আমার সাথে একটা ফল কাটা নাইফ সবসময় থাকে। নাইফটা খুবই সুন্দর, হাতলের মধ্যে ভেঙ্গে ভরে রাখা যায়। এই বিপদে নাইফটা আমার খুবই কাজে লাগছে। আর কাজে লাগছে ম্যাচ লাইটটা। আমি ধুমপান করি না, ম্যাচ লাইটটা রাখি অন্যকারণে, এটার পিছনে চর্ট সিস্টেম। তাছাড়া ক্যারেন্ট গেলে মোম ধরানোর কাজেও লাগে, এজন্যই সাথে রাখা। যখন বুঝলাম এখানে থাকা ছাড়া উপায় নেই তখন প্রথম চিন্তা হলো, পানি পাবো কোথায়? পানির খোঁজে বেশি কষ্ট করতে হলো না। উত্তর দিকে কিছুদূর আগানোর পরই একটা খালের মতো দেখা গেল, তারমানে দক্ষিণেও একই হবে। বক দেখা গেল কিছু। আরো দু’চার ধরনের পাখি। অদ্ভুত এক জালে আঁটকে গেছি! যেদিকেই যাই না কেন একই বিষয়, নীচে পানি মিশেছে, উপরে ঘন কালো মেঘ। ফিরে আসি বারবার ভগ্ন মনে। প্রতিটি দিন পার করার সঙ্গে সঙ্গে তিথির প্রতি ভালোবাসা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিদ্ধান্ত নিলাম তাকে বিয়ে করার।
বললাম, 
তিথি 
হুম
আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। 
খিলখিল করে হেসে উঠল তিথি। হাসি থামতেই চাইছে না যেন। বলল, বিয়ে করবে কাজী কই? সাক্ষী কই? এগুলি ছাড়া কি বিয়ে হয়?
বললাম, তুমি রসিকতা করছ, সিরিয়সলি ভাব, এখানে আমরা কতদিন থাকব তার ঠিক নেই। আমি তোমাকে ভালবাসি তুমিও তাই। এতোদিনে আমাদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সাক্ষী নাই কে বলেছে? এই যে বট গাছ, এই বটগ্ছাাই কাজী, এই বটগাছই সাক্ষী। তুমি রাজি কিনা তা বল?
তিথি রসিকতা করতে চাইল, আমার গাম্ভির্য দেখে আর সাহস পেল না। বলল, আমি রাজি।
পাখী শিকারে বের হলাম। বিয়ের উৎসব মাংস ছাড়া মানায়?

দেখতে দেখতে তিন বছর পার হয়ে গেছে। পরিবেশটা অনেক আপন হয়ে গেছে এখন। হঠাৎ হঠাৎ ভয় পাই না। কোন কিছু দেখে আঁৎকে উঠি না। দক্ষ শিকারী হয়ে উঠেছি। ঘরটা একটু বড় করেছি। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো তিথির কোল জুড়ে এসেছে আমার সন্তান। দু বছরে পা দিয়েছে। নাম দিয়েছি সাক্ষ্য। নামকরণের যথেষ্ঠ স্বার্থকতা আছে। আমাদের এই রহস্যময় জগতের একমাত্র জীবন্ত সাক্ষ্যই তো সে।  ঘর ভরে তার দৌঁড়াদৌঁড়ি, মুখে ভাঙ্গা ভাঙ্গ মা, বাবা ডাক মন ভরিয়ে দেয়। সত্যিই খুব সুখী মনে হচ্ছে নিজেকে। আজকাল ভিষণভাবে একটি বিষয় আমাকে চিন্তিত করে তুলেছে! তিথিকে বলতে সাহস পাচ্ছি না। তাকেও চিন্তায় ফেলে লাভ নেই। কিন্তু বিষয়টা এড়াতেও পাড়ছি না। সেদিন মাছ ধরতে গিয়েই প্রথম বিষয়টা চোখে পড়েছে। বেশ বড় একটা মাছ বড়শীতে গেঁথে ফেলেছিলাম প্রায়, ঠিক তখনই ঘটল ঘটনাটা। এতো দ্রুত ঘটে গেল যে ভালমত বুঝতেও পাড়লাম না। কী যেন একটা মাছটাকে টুক করে গিলে ফেলল! যতটুকু বুঝলাম বিশাল একটা কিছু পানির নিচে দেখা গেল। ভয়ের একটা ¯্রােত শিরদাঁড়া বেয়ে বয়ে গেল। কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলাম! আজাকাল নদীতে যাওয়া একদম কমিয়ে দিয়েছি। পাখী শিকাড়ের চেষ্টা করি বেশি। তিথি বিষয়টা লক্ষ্য করল।
আজকাল মাছ ধর না কেন?
ভাল লাগে না!
কী বল? তোমার তো মাছ ধরার খুব নেশা! হঠাৎ কি হলো?
কিছু হয়নি। শোন, সাক্ষ্যর দিকে ভালভাবে খেয়াল রেখ
কেন? হঠাৎ করে আবার কী হলো?
না, তেমন কিছু না, যাহোক ও যেন নদীর দিকে না যায়!

খুব দূর থেকে একটা চিৎকারের শব্দ ভেসে আসছিল। প্রায় অস্পষ্ট। আস্তে আস্তে স্পষ্ট হতে লাগলো। যখন পুরোপরি স্পষ্ট হল দেখলাম আমি আসলে ঘুমের মধ্যে শুনছিলাম। ভাবলাম স্বপ্ন! ঠিক তখনই আবার চিৎকারটা শোনা গেল। বুকটা কেঁপে উঠলো! এতো তিথির গলার আওয়াজ। হুরমুর করে ঘর থেকে বেড় হলাম। শব্দটা নদীর দিক থেকে আসছে। পাগলের মত দৌড় দিলাম। অজানা আতঙ্কে মনটা ভরে গেল। নদীর কাছে পৌঁছতেই তিথি চিৎকার করে কেঁদে উঠল আমাকে বলতে লাগলো, ওগো! সাক্ষ্য নদীর মাঝখানে ভেসে চলে গেছে। দ্রুত চোখ বুলালাম নদীর দিকে,দেখলাম সাক্ষ্য একটা কলাগাছে জড়িয়ে ভাসছে। গতকালই কিছু কলাগাছ কেটেছিলাম ভেলা বানানোর জন্য। নদীটা পেরিয়ে যাওযার খুব ইচ্ছ কাজ করছিল। নদীটা পার হলে কী আছে খুব জানতে ইচ্ছা করছিল। শরীরটা ভাল না লাগায় গাছগুলিকে আর বাঁধা হয়নি। ছোট বাচ্চা, এভাবে বেশিক্ষণ ভেসে থাকতে পারবে না। আমাকে দেখেই বাবা বাব বলে চিৎকার শুরু করলো। তিথি কে কিছু জিজ্ঞেস করার মত সময় নেই! আগে বাচ্চাকে উদ্ধার করতে হবে। দানবটার কথা মনে হলো, ঝরের গতিতে দৌড়ে গেলাম ঘরে। পাথর ঘষে ঘষে একটা ধারালো ছুরির মত বানিয়ে ছিলাম, কাটাকাটির কোন রকমের কাজ চালাতাম সেটা দিয়ে।হাতে নিয়ে ছুটলাম ঊর্ধ্বশ^াসে। তিথিকে কিছু বলার মত সময় পেলাম না, ঝাপ দিলাম নদীতে। সাঁতরানো শুরু করতেই ভয়ে শীতল হয়ে গেলাম! চোখের কোণে স্পষ্ট দেখতে পেলাম দানবটাকে। মাছ আর কুমিরের সংমিশ্রণে ভীষণ ভয়ানক কিছু একটা। সাক্ষ্যর কাছাকাছি আসতেই আমার আর সাক্ষ্যর মাঝামাঝি ভেসে উঠল দানবটা। হঠাৎ করেই ভয় শূন্য হয়ে গেলাম। আমার সন্তানকে বাঁচতে হবে, দুনিয়ার কোন কিছুকেই পরোয়া করার সময় নেই। হা করে উঠল দানবটা হয়তো আমাকে গিলে ফেলার জন্যই। বোঁথা ছুরিটাই চালালাম ওটার মুখ বরাবর। হারামিটা আক্রমণটা বুঝে ফেললো। সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে আমাকে লেজ দিয়ে একটা বারি মারলো। কপালে এসে লাগলো আঘাতটা। প্রচ- ব্যাথায় কেঁপে উঠলাম। তিথি আর সাক্ষ্যর ভয়ার্ত চিৎকার শুনতে শুনতে তলিয়ে যেতে লাগলাম নদীর গভীরে। প্রচ- কষ্টে দম বন্ধ হয়ে আসলো।

বাবা.... বাবা....বাবা.... আবারো দূর, অনেক দূর থেকে চিৎকার কানে ভেসে আসছে। চোখ খুলতে খুব কষ্ট হচ্ছে! মনে হচ্ছে এ জনমে আর চোখদুটি খোলা যাবে না। সাক্ষ্যর কথা মনে পড়লো। মনে বল চলে আসলো। ভাবলাম, যে করে হোক চোখ খুলতেই হবে। দেখতে হবে দাবনটাকে ভালমতো। দানবটার দুর্বল স্থান বেড় করে আক্রমণ করতে হবে। পেটের মধ্যে ছুরি চালাতে পারলে ওটাকে হয়তো কাবু করা যাবে। আবার বাবা..... বাবা... ডাক কানতে আসতে লাগলো। বহু কষ্টে চোখ দুটি খুললাম। একদম মুখের কাছে দাবনটার মুখটা দেখতে পেলাম। কিন্তু কেমন যেন ঘোলা ঘোলা লাগছে। একটু সময় নিতে নারী মুখের মত লাগতে লাগলো। ঘোরা ভাবটা সরতেই চমকে উঠলাম! এ দেখী মায়ের মুখ! খুব দ্রুতই ঘোর কেটে গেল। দেখি মা মুখের কাছে গভীর উদ্বেগে তাকিয়ে আছে। চোখ দুটো ভেজা। হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞাস করলাম মা তুমি? আমার কণ্ঠ শুনতেই মা চিৎকার করে উঠল। ওরে তোরা কোথায়? খোকার জ্ঞান ফিরেছে! তাশফিনের জ্ঞান ফিরেছে! মা বাচ্চাদের মত আনন্দে নাচতে লাগলো। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন একসাথে ঘরে ঢুকলো, ঠিক যেন রেলগাড়ির বগির মতো সারিবদ্ধ হয়ে। কারা ঢুকলো সেগুলো দেখার মত সময় নেই। তিথি আর সাক্ষ্যর কথা ভেবে আমি অস্থির হয়ে উঠলাম। বললাম, মা আমি এখানে কীভাবে এলাম! তোমরা এখানে কেন? 
মা তখন তখন খুশিতে কাঁদছে। 
বড় দুলাভাই বলল,  কীভাবে এলাম মানে? তোর কিছু মনে নেই। 
মনে নেই মানে? কী মনে থাকবে?
কিছুই মনে নেই?
আমি “না” বলে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম!
বড় দিদি বলল, তোর এক্সিডেন্ট হয়েছিল মনে নেই? টাঙ্গাইলে যে মটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করেছিলি?
আমার কিছুই মনে আসছে না!!!!
বড় দিদি বলল, খোকা আজ তিন বছর হলো তুই কোমায় ছিলি। দীর্ঘদিন তুই হাসপাতালে ছিলি। তোর মাথায় প্রচ- আঘাত লেগেছিল। এই মাস ছয়েক হলো তোকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। সবাই তো আশা ছেড়েই দিয়েছিল। চাচি আশা ছাড়েনি। তার একটাই কথা আমার ছেলের কিছু হয়নি। ও সেরে উঠবে। ওকে সেরে উঠতেই হবে। সত্যি, চাচির ভালোবাসারই শেষ পর্যন্ত জয় হলো।
আমি একদম বাকহারা হয়ে গেলাম! এসব কী বলছে সবাই! স্বপ্ন দেখছি না তো! কিন্তু তাই বা কীকরে হয়? এতো জীবন্ত স্বপ্ন হয় নাকি? তাহলে তিথি আর সাক্ষ্য কী আমার স্বপ্ন? তিনবছরের দীর্ঘ কোন স্বপ্ন? কিন্তু সেটাই বা কীভাবে সম্ভব? এতো জীবন্ত কোন স্বপ্ন হয় নাকি?
মা কথা বলে উঠল, শোন খোকা তোর এতো কথা এখন বলার দরকার নেই। কিছু মনে না পড়লে নেই। ওই তিক্ত স্মৃতি মনে না পড়াই ভালো। তোর এখন জ্ঞান ফিরেছে,  কীভাবে দ্রুত সুস্থ্য হওয়া যায় এটাই এখন জরুরী। বিশ্রাম নে বাবা। সবাই ঘর থেকে বেড় হয়ে গেল। আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার শুধু মনে হচ্ছিল তিথি আর সাক্ষ্য আমার স্বপ্ন হতেই পারে না। কিন্তু এ বিষয়ে সবাইকে কিছু বলতেও পারলাম না। এই অসম্ভব ঘটনা নিজেরই এখন বিশ^াস হচ্ছে না  অন্যদের হবে কি? খুব আপন কিছুকে হারানোর অনুভুতি নিয়ে গভীর নিঃশ^াসে চিৎ হয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইলাম শুধু। 

তিথির বিষয়ে খুব জানতে ইচ্চা করছিল। নিশ^য়ই এতোদিনে বিয়ে হয়ে গেছে। হয়তো সন্তান হয়েছে। হয়তো সেই সন্তানের নামও রেখেছে সাক্ষ্য। হাসি আসলো, এমনটা হলেতো মজাই! মাকে তিথির বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা হলো। কিন্তু লজ্জা পাচ্ছিলো খুব। জিজ্ঞেস করবো কি করবো না ভাবতে ভাবতে বলেই ফেললাম,
মা 
কী?
একটা কথা বলবো?
কী বলবি?
তুমি লজ্জা দিবে নাতো?
মা সন্দিহান হয়ে তাকালো। কী এমন বলবিরে বাপ যে লজ্জা পেতে হবে? 
না তেমন কিছু না, ঐযে... তুমি আমার জন্য একটা মেয়েকে ঠিক করেছিলে না?
হুম?
তার খবর কী? মানে এতোদিনে নিশ্চয়ই বিয়ে হয়ে গেছে?
তিনি কথা জানতে চাইতেই মায়ের মুখটা উদাস হয়ে গেল! মুখটা বেজার করে মা যে উত্তরটা দিল তাতে আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।
আর বলিশ না, মেয়েটার কথা ভাবলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়!
কেন মা?
মেয়েটা খুব লক্ষ্মী ছিল। তোর বউ করে আনার খুব সখ ছিল আমার। কিন্তু তা আর হলো না!
কেন মা? অন্য জায়গায় বিয়ে করে ফেলেছে তাই?
আরে না! মেয়েটা তোকেই পছন্দ করতো, আমি সেটাও জানতে পেরেছিলাম। বিষয়টা আসলে তা না, মেয়েটা হারিয়ে গেছে!
মানে? সে কি বাচ্চা নাকি মানসিক ভারসাম্যহীন যে হারিয়ে গেল?
আরে সে সব কিছুই না। মেয়েটা এক ঝরের রাতে হারিয়ে গেছে!
বুকটা ধরফর করে উঠলো! কেমন যেন বিপদের গন্ধ পেলাম। গলার স্বর আর শান্ত রাখতে পারলাম না। আহা মা! এতো না ঘুরিয়ে খুলে বলতো?
আমার আচরণে মা একটু অবাক হলো। কিন্তু গল্পের মুডে থাকায় এতোটা মাথা ঘামালো না বোধ হয়? মা বলতে লাগলো,  আরো খোকা বলছি,বলছি, 
যেদিন তোর এক্সিডেন্ট হয় সেদিনেই কথা, একই দিনে দুটো ঘটনা হওয়াতে বিষয়টা আমার স্পষ্টই মনে আছে। আমাদের এখানে প্রচ- ঝর হয়েছিল। মেয়েটা সন্ধ্যার দিকে নদীর পাড়ে গিয়েছিল বেড়াতে। সঙ্গে করে কাউকে নিয়েও যায়নি। কপাল খারাপ! ঝরের মধ্যে পড়ে। অনেক বড় একটা ঘুর্ণিঝর হয়েছিল। ঝরের পর মেয়েটাকে খোঁজা শুরু হয়, ওর বাবা ফোন করে জানায় তিথিকে পাওয়া যাচ্ছে না! ঠিক তখনই তোর এক্সিডেন্টের খবর পাই। পাগল হয়ে ছুটে যাই টাঙ্গাইল। এরপর আর তেমন বিস্তারিত জানি না শুধু জানি ওকে আর পাওয়া যায়নি!
আর পাওয়া যাবে কীভাবে? মনে মনে ভাবলাম। ওতো ছিল আমার সাথে। মাথাটা খারাপ হয়ে যাওয়ার দশা হলো। আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে! আমার বউ বাচ্চাকে মৃত্যুকুপে ফেলে আমি এখানে আরামে বসে আছি। আর সবকিছু স্বপ্ন ভেবে স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলছি!!! ঘৃণায় গা’টা রি রি করে  উঠল! নিজেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলতে ইচ্ছা করছে। তখনই ভেবেছিলাম, এতো জীবন্ত স্বপ্ন হয় কী করে? হতেই পারে না। কী অদ্ভূত পৃথিবী! একটি নারী যাকে কোনভাবেই চিন্তাম না, সে মনে প্রাণে আমাকে ভালোবেসেছি! বায়গোল্লার দেশে সে একা যায়নি। তার ভালোবাসার মানুষটিকেও সঙ্গে নিয়ে যেতে পেরেছিল। কিন্তু নিয়তি তার বুড়ো আঙ্গুলটি ঠিকই দেখিয়ে দিল। না জানি কোন নতুন খেলার মজায় আবার দুজনের বিচ্ছেদ ঘটালো। কী করি? কী করি? আমার সেখানে ফিরতেই হবে।  মাথার চুলগুলি টানাটানি করা শুরু করলাম। আমার আচরণে স্তম্ভিত হয় গেল মা। বলল, খোকা তুই এমন করছিস কেন? তোর কি আবার মাথায় ব্যাথা উঠেছে! এক মুহূর্তের জন্য বাস্তবে আসলাম। বলতে গিয়েও মাকে কিছু বললাম না। মা কিছুই বুঝবে না। মা একটু আসি বলে উঠে গেলাম।  

বিশাল একটা দাও নিয়েছি কোমরে। ঐ দানবটাকে মারার জন্য শক্তিশালি অস্ত্র দরকার। একবার বন্দুকের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু পরে দেখলাম এতো গুলি নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তার চেয়ে একটা দাও নিয়ে গেলে অনেক কাজেই আসবে। আমার কোমরে দাও দেখে সবাই আমাকে ভয় পায়। সবাই ভাবে পাগল হয়ে গেছি! মায়ের কষ্ট যেন আরো বেড়ে গেছে! কিন্তু আমার তো কিছুই করার নেই! মা বোঝে না, তার সন্তানের অমঙ্গল কামনায় সে যেমন ভীত আমিও তেমন আমার সন্তানের অমঙ্গল কামনায় ভীত। ঝর দেখলেই ছুটে যাই। সামান্য একটু ঝর দেখলেই তার মাঝে গিয়ে দাঁড়াই! কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না! দিনরাত শুধু ঝরের জন্য দোয়া করি। একটা ঝর শুধু একটা ঝর! আর এক বার রহম কর। নিয়ে যাও আমায় আর একবার বাওগোল্লার দেশে। আমার সন্তান মৃতুর মুখে! শতানটার হাত থেকে ওকে বাঁচাতে হবে। আমার স্ত্রী আমার পানে চেয়ে আছে। শুধু একটাবার দয়া করা হে ঈশ^র! হে ঝর! হে বাওগোল্লা!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10429/</link>
				<pubDate>Sat, 22 May 2021 12:50:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বাওগোল্লা//কৃষ্ণজন<br />
কথাটা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল!<br />
ফাইল দেখিয়ে বলল বুড়া ভামটা, এটার কাজ শেষ করে যাও!<br />
চেয়েছিলাম দ্রুত কাজ সেরে বেড়িয়ে পড়তে। আপ্রাণ চেষ্টা ছিল দুপুরের পরই যেন অফিস থেকে নামা যায়। রাত ৮টা নাগাদ হয়তো বাড়ি পৌঁছতে পরবো। এখন যা দাঁড়ালো! সন্ধ্যার মধ্যেও গাড়ি ধরতে পারবো কিনা সন্দেহ? বাড়ি পৌঁছতে পৌঁছতে অনেক রাত হয়ে যা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10429"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10429/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>16</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1a705ef5ef15ed5aaa6ea5e76ae4c5cc</guid>
				<title>Md Majnur Rahman John (Krishno John) and Neel tripura are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/5753/</link>
				<pubDate>Sat, 03 Apr 2021 08:34:04 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a3e52bb139575d5305ba72e9865ee1a2</guid>
				<title>বিশ্বাসী
কৃষ্ণজন

ভোলা মন আমার!
নিজের ঘোরে চলি।
তোমার প্রত্যাখ্যানে প্রতিবার মনে পড়ে ঈশ্বর আছেন।
মেনে নিতে বাধ্য হই তার উপস্থিতি।
যেমন মেনে নেই তুমিহীনা আমার পৃথিবী!
তোমার অহমীয় অবজ্ঞায় মনে পড়ে আমার জন্ম-কারণ।
জগত অধিপতির নাটকে খল চরিত্রের সুপাঠ রূপায়ন,
যেখানে একদল নায়ক আরেকদল খলনায়ক।
একদল দেব অন্যদল অসুর।
ভালবাসার লেজ টানাটানির নিষ্ঠুর নিষ্ঠুর খেলা।
এ নাটকে আমি সর্বদাই তোমার খলনায়ক
জিউস নয় রোনস। শুম্ভ-নিশুম্ভ, কিংবা দুর্ভাগা মেঘনাদ
অথবা ঘৃণিত রাবণ!
ঘৃণার শুরু না হয় হলোই মিত্রপক্ষের দ্বারা?
আমার সৃষ্টি শুধু পার্থক্য বোঝানো জন্য।
মানুষের সাথে অমানুষের, দেবতার সাথে অসুরের।
আর তোমার কাছে? তোমার প্রেম পুরুষকে চেনার।
তুলনার। তার আর আমার।
আমার ক্ষুদ্রতা তার বিশালতা
আমার দৈনতা তার ঐশ্বর্যের
আর,আমার কদর্য ও তার সৌন্দর্যের
তবু ভুলে যাই!
সব ভুলে যাই!
দিন যায়, বার বার ভুলি!
সময়ের সাথে অস্পষ্ট হয় ঈশ্বরে বিশ্বাস,
আবার তোমাকে দেখে ফেলি!
আবার হৃদয় ধুয়ে প্রেমে পড়ি।
চিরসত্য হিসেবে আবার ঈশ্বরে বিশ্বাস শুরু করি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/5035/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Mar 2021 17:33:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিশ্বাসী<br />
কৃষ্ণজন</p>
<p>ভোলা মন আমার!<br />
নিজের ঘোরে চলি।<br />
তোমার প্রত্যাখ্যানে প্রতিবার মনে পড়ে ঈশ্বর আছেন।<br />
মেনে নিতে বাধ্য হই তার উপস্থিতি।<br />
যেমন মেনে নেই তুমিহীনা আমার পৃথিবী!<br />
তোমার অহমীয় অবজ্ঞায় মনে পড়ে আমার জন্ম-কারণ।<br />
জগত অধিপতির নাটকে খল চরিত্রের সুপাঠ রূপায়ন,<br />
যেখানে একদল নায়ক আরেকদল খলনায়ক।<br />
একদল দেব অন্যদল অসুর।<br />
ভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-5035"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/5035/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e4a314024a692bf52f447d42943ea3b9</guid>
				<title>ষাট সেকেন্ড -কৃষ্ণজন
তৃতীয় কাঠিতে সফল হল আরিফ। আজকাল খুব হাত কাঁপে তার। সিগারেটটা জ্বলে উঠতেই দৃশ্যটা চোখে পড়ল আরিফের। ধাম করে মেরে গেল গাড়িটা। একটা প্রাইভেট কার। কোন ব্র্যান্ডের বুঝল না? আদার ব্যাপারী হওয়ায় জাহাজের খবর রাখে না সে।
 
আঘাতের যন্ত্রণায় কেউ কেউ করে উঠল কুকুরটা। মৃত্যু যন্ত্রণায় ঘেউ ঘেউ, কেউ কেউ-এ বদলে গেছে বোধ হয়! মাথায় বাড়ি খেয়েছে কুকুরটা। মনে হয় রাস্তা পার হচ্ছিল? পাঁড় মাতাল ঢলে পড়ার আগে যেমন ডানে একবার বাঁয়ে একবার এলোমেলো পা ফেলে, কুকুরটাও তেমন পা ফেলতে লাগল। শেষমেশ একটা দীর্ঘ ডাক দিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লো কুকুরটা! উত্তেজনায় শেষ টানে তামাকের স্বাদ পেল না আরিফ।
 
দৃশ্যটা উপভোগ করতে করতে সিগারেটটা পুঁড়ে যে শেষ হয়ে গেছে তা আর লক্ষ্য করেনি। ফেলে দিল সিগারেটটা। পা দিয়ে ডলে নিভিয়ে দিল আগুন। হাঁটা দেওয়ার আগে তার মনে একটা প্রশ্ন দোলা দিল, আচ্ছা কে বেশি মূল্যহীন? কুকুরটা না ডলা খাওয়া সিগারেটটা?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/4824/</link>
				<pubDate>Mon, 22 Mar 2021 05:50:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ষাট সেকেন্ড -কৃষ্ণজন<br />
তৃতীয় কাঠিতে সফল হল আরিফ। আজকাল খুব হাত কাঁপে তার। সিগারেটটা জ্বলে উঠতেই দৃশ্যটা চোখে পড়ল আরিফের। ধাম করে মেরে গেল গাড়িটা। একটা প্রাইভেট কার। কোন ব্র্যান্ডের বুঝল না? আদার ব্যাপারী হওয়ায় জাহাজের খবর রাখে না সে।</p>
<p>আঘাতের যন্ত্রণায় কেউ কেউ করে উঠল কুকুরটা। মৃত্যু যন্ত্রণায় ঘেউ ঘেউ, কেউ কেউ-এ বদলে গেছে বোধ হয়! মাথায় বাড়ি খেয়ে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-4824"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/4824/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>20</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>