<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Mahira S | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/rahman-n-zinnia/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/rahman-n-zinnia/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Mahira S.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 06 Jun 2026 20:25:32 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">8801d95fbf0d517579bf058603b76ca3</guid>
				<title>Mahira S changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/168509/</link>
				<pubDate>Fri, 28 Oct 2022 07:50:16 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">96fa79d3c8ce084ca7c6a6f53344b19c</guid>
				<title>গল্প- শ্রাবণ সন্ধ্যা
পর্ব-৭
নানু পরিস্থিতি হালকা করার জন্যে বললেন,

-আরেহ, কখন এলে তুমি মা? বুঝিই নি। এসো, বসো। তুমি বিশ্রাম নিয়েছিলে?

সন্ধ্যা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। মুখে শূন্য অভিব্যক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে। 

কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা তার মুখে নকল হাসি উপলেপন করে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, 

-এইতো নানু, এখনই এসেছি। আসলে একটু বিশ্রাম নিয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু আপনাদের ছাড়া ভালো লাগছিল না। 

সন্ধ্যা কাছে যাওয়ার পর নানু খেয়াল করলেন সন্ধ্যার চোখে পানি। 

-একি, তুমি কান্না করছ? 

হাসি নিয়েই সন্ধ্যা বলল, 

-ওহ, না নানু, একটু আগে বাতাস এসেছিল রুমের জানালা দিয়ে, তখন চোখে বালি ঢুকে গেছে। 

-আহারে আমার সোনাটা। তোমার এখানে থাকতে কষ্ট হচ্ছে না তো? 

-না, নানু কি বলেন। অনেক ভালো লাগছে। সব চেয়ে ভালো লেগেছে আপনাদের আন্তরিকতা। 

শ্রাবণ চুপচাপ চোরের মত তাকিয়ে ছিল সন্ধ্যার দিকে। সে ওর কাছ থেকে কথা লুকিয়েছে দেখে খুবই অপরাধী মনে হচ্ছে। কিন্তু শ্রাবণ এটাও খেয়াল করেছে যে সে শ্রাবণের চোখে তাকাচ্ছেনা। সন্ধ্যার চোখ শ্রাবণের চোখকে এড়িয়ে চলছে।

নানু সন্ধ্যাকে নানা আর উনার মাঝে বসিয়েছেন। নানু সন্ধ্যার মাথা হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। আর নানা প্রসঙ্গে কথা তুলছেন যাতে সন্ধ্যা ওই কথাটা ভুলে যায়। 

একটু পর নানু তাকে নানুর রুমে নিয়ে যান। 

-তোমার জন্যে একটা উপহার আছে। 

সন্ধ্যার মনটা একটু হালকা হয়েছে। তার মুখে এখন সত্যিকারের হাসি। 

-কি সেটা নানু? আগে বলো আমরা যেভাবে বলি সেভাবে করবে? 

-উমম, আমি চাচার বাসা থেকে আগেই বের হয়ে গিয়েছিলাম, আমার জীবন এখন আমিই চালাই। এখন আর কারও পারমিশন নেওয়ার প্রয়োজন হবেনা। বলুন কি করব? 

 -তা এখন না। পরে বলব। আগে শাড়িটা পড়ে ফেলো চট করে। 

-আপনি যা বলবেন তাই হবে নানু। আচ্ছা নানু, এটা কি আপনার শাড়ি নাকি আন্টির শাড়ি? 

-এটা আমার শাড়ি। 

-ওয়াও নানু, আপনাদের সময় শাড়িগুলো এত সুন্দর ছিল? 

-হ্যাঁ। জানো প্রতিবার যখন আমি এই শাড়িটা পড়তাম, তোমার নানা প্রতিবারই আমার প্রেমে পড়তো।

-নানা খুব রোমান্টিক ছিল তাইনা নানু? 

-হ্যাঁ, এখনো রোমান্টিক। দুই বুড়ো বুড়ি মিলে এখনো বৃষ্টিতে ভিজি।  

-ওয়াও নানু। আরও বলুন আপনাদের স্পেশাল মোমেন্টের কথা। 

নানু একটু লজ্জা পেয়ে বললেন, 

-বলবো সোনা, রাতে বলবো। এবার যাও, শাড়িটা পড়ে নাও। নিজে নিজে পড়তে পারো? 

-জ্বী নানু, পারি। 

-আচ্ছা আমি তাহলে একটু বাহিরে যাচ্ছি আমার কাজ আছে। 

সন্ধ্যার মুখের হাসিটা দেখে নানু রুম থেকে বের হয়ে গেলেন। 

বের হয়ে তিনি নানার কাছে গেলেন। 

-এইযে, একটু এদিকে আসবেন? 

নানা প্রায় দৌড়ে চলে এলেন, 

-বলেন বেগম সাহেবা, কি করতে পারি? 

-আপনার সেই পাঞ্জাবীটা শ্রাবণকে দিন। 

-কিন্তু কেন? এখন পাঞ্জাবী পরে কি করবে? 

-উফফ, আপনি সারাজীবন টিউবলাইটই থেকে যাবেন। 

নানু আস্তে করে সব বুঝিয়ে দিলেন নানাকে। 

-ইশশ, আমার বৌটা যদি এই কাজটা নিজের মেয়ের সাথে করতো, তাহলে হয়তো আজ কাছে থাকতে পারতাম।  

-হেহে, কারণ তখন আমিও আপনার মত টিউবলাইট ছিলাম। 

নানা নানুর কপালে চুমু দিয়ে শ্রাবণের কাছে গেলেন। এদিকে নানু সব কাজ সেরে নিলেন। 

সন্ধ্যা রেডি হওয়া শেষে নানুকে ডাক দিল। নানু ঘরে ঢুকে চোখ গুলো বড় করে ফেললেন। 

-কি হলো নানু? আমাকে দেখতে বাজে দেখাচ্ছে? 

-মাশাল্লাহ। এই জন্যই তো আমার শ্রাবণ তোমার প্রেমে পড়েছে। 

-হ্যাঁ? বাজে দেখাচ্ছে বলে প্রেমে পড়েছে? 

-আরে না। তুমিও কি এই বুড়ো বুড়ির মত টিউবলাইট? 

অনেক্ষণ পর সন্ধ্যা মন খুলে খিলখিল করে হেসে উঠল।  তারপর সুন্দর করে শাড়ির আচল দিয়ে মাথা কাপড় দিল। 

-এবার ঠিক আছে নানু? 

-একদম পারফেক্ট। থু থু তোমার দিকে যেন নজর না লাগে। হাহা, চোখে কাজল নেই তাই থু থু দিয়ে দিলাম। 

অথৈ আবার খিল খিল করে হেসে উঠল আর এবার সে নানুকে জড়িয়ে ধরল। 

-এত কুল নানু কোনোদিন দেখিনি। আসলেই আমি অনেক ভাগ্যবতী। 

নানু অথৈয়ের কপালে চুমু দিলেন। 

-আচ্ছা একটু দাঁড়াও। আমার একটু আকজ আছে। তুমি বসে থাকো। 

-আচ্ছা নানু। 

এবারও নানু অথৈয়ের হাসিটা দেখে চলে এলেন বাহিরে। এসে নানাকে জিজ্ঞেস করলেন, 

-এইযে, শ্রাবণকে রেডি হতে বলেছেন? 

-হ্যাঁ হয়ে গেছে। 

-আর সন্ধ্যার চাচা চাচির খবর নিয়েছেন? 

-হ্যাঁ কাছাকাছিই আছে। আচ্ছা বলোতো ওর চাচা চাচি এত সহজে মেনে নিল কীভাবে?

-আরে আমার টিউবলাইট জামাই, শুনো নি যখন শ্রাবণ বলছিল কিভাবে ওদের দেখা হয়েছে? তখন সে বলেছিল যে সে সন্ধ্যার চাচা চাচির সাথে আগেই দেখা করেছে। 

-ও হ্যাঁ তাইতো। মনে পড়েছে। হেহে, তোমার প্রেমে বুড়ো হয়ে গেছি তো তাই সব ভুলে যাচ্ছি। 

নানু মুচকি হাসি দিল। পরেই বেল বাজলো দরজার। শ্রাবণ দরজা খুলল, 

-আরেহ, চাচা চাচি আপনারা? ভালো আছেন? আসুন আসুন ঘরে আসুন। 

চাচি শ্রাবণের মাথায় আদর করে দিয়ে বললেন, 

-কেমন আছো বাবা? 

-আন্টি আমি ভালই আছি আর আপনাদের মেয়েটাও ভালো আছে আলহামদুলিল্লাহ। আসেন আন্টি বসেন।  

ড্রয়িং রুমে চাচা চাচি বসলেন। 

সন্ধ্যা অধির হয়ে বসে আছে খাটের এক পাশে। কিছুক্ষণ পর সে আবার একটা কলিং বেল শুনলো। এর আগেও সে বেল এর আওয়াজ শুনেছিল ঠিকই  কিন্তু তখন কে এসেছিল বুঝতে পারেনি।   

কিছুক্ষণ পর নানু একজন হুজুর কে নিযে ঘরে নিয়ে এলো। সন্ধ্যা ঠিক মত মাথায় কাপড় দিয়ে দাঁড়াল।  

নানু সব বললেন সন্ধ্যাকে। সন্ধ্যা বলল, 

-নানু আমি রাজি আছি, কিন্তু আমার চাচা চাচি যারা আমাকে এত আদর করেছেন বাবা মা চলে যাওয়ার পর থেকে, তাদেরকে ছেড়ে কিভাবে এত বড় কাজটা করি?

নানু শুধু একটা মুচকি হাসি দিল। এরপর যা ঘটেছিল, মনে হয়েছিল নানা যেন নানুর মনের কথা শুনতে পেরেছে। সুন্দর করে চাচা চাচিকে সেই রুমে নিয়ে এলো। সন্ধ্যা কান্না করে দিয়েছে তাদের দেখে। চাচি বললেন, 

-ওমা, আমার এতো স্ট্রং মেয়েটা কান্না করছে কেন? চুপ, কান্না করেনা। 

-না, চাচি আমি ভেবেছিলাম আপনাদের ছাড়া আমার এই বিশেষ দিনটার অংশীদার হতে হবে। 

-আহা, কান্না করবি না সোনা। আমরা আছি তো। তোর সাথে দেখা করার জন্যে তিশ্মাও এসেছে। 

তিশ্মা সন্ধ্যার চাচাতো বোন। তিশ্মাকে দেখে সন্ধ্যা জড়িয়ে ধরল।  

রাত আট টার দিকে সব কাজ শেষ করে নিল। 

ড্রয়িং রুমে বসে সবাই কথা বলছিল। 

শ্রাবণের রুমে বসে তিশ্মা, সন্ধ্যা আর সামিহা গল্প করছিল। 

একটু পর শ্রাবণ এলো, একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, 

-তিশ্মা আপু খেতে আসেন।
-আহা, ভাইয়া আমি মনে হয় আপনার ছোট হব। আপনি করে ডাকতে হবে না।
শ্রাবণ মুচকি হাসি দিল,
-যদি আমার মিসেস এর কোন সমস্যা না হয় তাহলে বলতে পারি।
- আচ্ছা ওসব তুমি আপনি পরে দেখা যাবে এখন খেতে যাই। এসো সামিহা,  আমরা খেয়ে আসি।

যাওয়ার আগে মুখে মুচকি হাসি নিয়ে শ্রাবণের কাছে যেয়ে ফিসফিস করে বলল তিশ্মা,
-ভাইয়া আপনি একটু পরে আসতে পারেন, যদি কিছুক্ষণ আপনার মিসেস এর সাথে সময় কাটাতে চান আমি কিছু একটা বলে বাহানা দিয়ে দিব।

শ্রাবণ লজ্জা পেয়ে উল্টো মুচকি হাসি দিলো। তিশ্মা চলে যাওয়ার পর শ্রাবণ দরজাটা লাগিয়ে একটু গলা খাঁকারি দিলো সন্ধ্যা এর মনোযোগ পাওয়ার জন্য।  তবুও সন্ধ্যা তার দিকে তাকালো না। শ্রাবণ বুঝতে পেরেছে যে মনটা এখনো সন্ধ্যা এর মুড অফ হয়ে আছে। এতক্ষণ সন্ধ্যা খাটের পাশে  দাঁড়িয়ে ছিল। শ্রাবণ কাছে যেতেই সে দূরে চলে গেল। এবারও শ্রাবণের চোখে চোখ রাখছে না সন্ধ্যা। ড্রেসিং টেবিলের সামনে যেয়ে কানের দুল গুলো খুলছিল। শ্রাবণ আবার কাছে আসলো কিন্তু, এইবারও সে কোন কাজ করার বাহানা নিয়ে দূরে চলে গেল। এবার শ্রাবণ আরেকবার চেষ্টা করল। যখন চলে যেতে নিচ্ছিল তখনই সন্ধ্যার বাহু ধরে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে এলো। 

- তুমি কি আমার উপর রাগ করে আছো?

সন্ধ্যা কিছুই বলল না। নিজেকে শ্রাবণের হাত থেকে সরিয়ে নিয়ে জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। এত কিউট লাগছে যে তাকে আদর করতে মন চাচ্ছে শ্রাবণের।

-প্লীজ কথা বলো, চুপ করে থেকো না। আমার ভালো লাগছে না আর। তোমার কি হয়েছে বলবে? তুমি কি..... আচ্ছা তুমি কি একটা সত্যি কথা বলবে? তুমি কি আসলেই শুনে ফেলেছিলে সেই কথাটা?

এবারও সন্ধ্যা কোন উত্তর দেয়নি। জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলে শ্রাবণ বলল,
-আচ্ছা এতই যদি অভিমান থাকে, তাহলে শুধু মাথাটা নাড়িয়ে বল আমি বুঝে নেব আর যদি না থাকে তাহলে মুখেই বলো।

সন্ধ্যা একটু মাথা নাড়ালো। যাক, কোন কিছুতে তো সাড়া দিয়েছে। শ্রাবণ তো ভাবতেই শুরু করেছিল যে সে অদৃশ্য হয়ে গেছে তাই সন্ধ্যা ওর কথা বুঝছে না।

শ্রাবণ আলতো সন্ধ্যা এর কোমরে স্পর্শ করলো। কানের কাছে এসে বলল,
-দেখো তুমি কষ্ট পাবে দেখে আমি তোমাকে বলতে চাইনি কথাটা। মা যে তোমাকে নিয়ে এত কিছু বলেছেন সব সহ্য করি নিয়েছি। আসলে মায়ের বুঝতে ভুল হয়েছে কি করবো বলো? মাকে তো আর ফেলে দিতে পারি না।

সন্ধ্যা তার কোমর থেকে শ্রাবণের হাত সরিয়ে নিল। এবার সে মুখ খুলল,
-দেখেন, কথাটা এটা না। আমি এজন্য আপনার সাথে রাগ করিনি বা মায়ের সাথে রাগ করিনি। কথাটা হচ্ছে আপনি আমাকে যথেষ্ট বিশ্বাস করতে পারেননি। আপনি ভেবেছেন এই কথাটা শুনে আমি খুবই ভেঙে পড়বো। আসলে খারাপ লাগবে, সবারই লাগবে। কিন্তু আপনি আমার কাছ থেকে কথাটি লুকিয়েছেন এই ভেবে যে আমার মনে আপনার মায়ের প্রতি অসম্মান বা ঘৃণা বেড়ে যাবে। কিন্তু আমি অমন মেয়ে না। আপনি যদি আমাকে বলতেন, মা যেমন ছেলের বউ চায় আমি সেরকম হওয়ার চেষ্টা করতাম। এটা সত্যি আমি কষ্ট পেয়েছি কিন্তু কষ্ট পেলেই কি জীবন শেষ হয়ে যাবে?  না, কষ্ট পেয়েছি কষ্ট চলেও যাবে। আপনার শুধু আমার উপর বিশ্বাস রাখতে হবে।

- না তুমি ভুল ভাবছো আমি তোমার ওপর যথেষ্ট বিশ্বাস করি কিন্তু আমি চাইনা তোমাকে কষ্ট দিতে আমি চাইনা তুমি কোন ভাবে কষ্ট পাও। কারণ তুমি কষ্ট পেলে আমিও পাবো, সন্ধ্যা। আমি অনেক স্বার্থপর।  আমি আমার নিজেকে কষ্ট দিতে চাইনা, কারণ তুমি পেলে সেটা আমাকেও আঘাত করবে।

আরও কিছু বলতে নিচ্ছিল শ্রাবণ কিন্তু সন্ধ্যা চট করে নিজের ঠোঁট শ্রাবণের ঠোঁটে বসিয়ে দিল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/168497/</link>
				<pubDate>Fri, 28 Oct 2022 05:02:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- শ্রাবণ সন্ধ্যা<br />
পর্ব-৭<br />
নানু পরিস্থিতি হালকা করার জন্যে বললেন,</p>
<p>-আরেহ, কখন এলে তুমি মা? বুঝিই নি। এসো, বসো। তুমি বিশ্রাম নিয়েছিলে?</p>
<p>সন্ধ্যা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। মুখে শূন্য অভিব্যক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে। </p>
<p>কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা তার মুখে নকল হাসি উপলেপন করে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, </p>
<p>-এইতো নানু, এখনই এসেছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-168497"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/168497/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f7480ecbfad3a89bba0e9a7746973445</guid>
				<title>গল্প- তোমার ফেরার অপেক্ষায়
পর্ব-৪
-আরে আপা। এখানে কি ভালো মেয়ে আছে যে ভালোটাই খুঁজবে? আচ্ছা যাই হোক, তবুও আমার মনে হয় তোমার আরেকবার দেখে আসা উচিত, কিজানি কথা বলতেছে শুনলাম। তুমিই বলো, অচেনা থাকলে কি এত কথা পাইতো বলার মত?

কিছুক্ষণ ভেবে হাতে চাবিটা নিয়ে রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো। 

*****

লিয়ানা বেডের এক পাশে বসে ছিল পা ঝুলিয়ে। ইমতিয়াজ এসে পাশে বসে বলল, 

-আচ্ছা, একটা কথা বলবো? 

-হুমম, বলো। 

-আমি ভেবেছিলাম তুমি আমাকে চিনতেই পারবেনা। আমাকে ভুলে গিয়েছিলে এত জলদি। হ্যাঁ তবে আমাদের যদি ১০ বছর পর দেখা হতো তাহলে হয়তো পুরোপুরি ভুলে যেতে। 

লিয়ানা জোড়ে শ্বাস ফেলল, 

-আসলে ভুলে যাইনি, যিনি আমাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন উনি আমাকে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন, আর আমি চেষ্টা করেও তোমার সাথে পালাতে পারতাম না। একে তো  তুমি কিছুই জানো না, আর যদি তোমাকে সব বলতে যাই অনেক সময় লাগবে, আর দ্বিতীয়ত, উনি আমার ফ্যামিলির ক্ষতি করবে আমি পালালে। 

-মানে? উনি কে? 

-আমার কলেজের টিচার। 

-সিরিয়াসলি লিয়ানা? একজন কলেজের টিচার কিভাবে তার ছাত্রকে এসব জায়গায় এনে রেখে দিতে পারে? আচ্ছা, সব বলোতো কি হয়েছে? 

-আ... 

এবার করিডোরে জোড়ে হাটার শব্দ এলো, মনে হচ্ছে ওদের রুমেই কেউ আসছে। 

ওরা দুইজনই চোখ বড় করে তাকালো একে অপরের দিকে। 

লিয়ানা তাড়াতাড়ি বলে উঠলো, 

-হায় হায় এখন কি করবো? 

-আবার একই জিনিস। সরি লিয়ানা। আবার করতে হবে। 

আবার যখন দুইজনই আগের অবস্থায় ফিরে গেলো, তখন দরজায় চাবি ঢুকানোর শব্দ এলো। 

এবার ইমতিয়াজ বুঝলো, আগের মত থাকলে আর বিশ্বাসই করবেনা। কোনো উপায় না পেয়ে লিয়ানাকে দেয়ালে ঠেকিয়ে লিয়ানার ঠোঁটে ঠোঁট বসিয়ে দিলো। ইমতিয়াজ ভেবেছিল লিয়ানা ওকে চড় দেবে, বা রাগ হয়ে দূরে সরিয়ে দেবে। কিন্তু লিয়ানা কিছুই করলো না। উলটো আরও ইমতিয়াজের কাঁধের উপর হাত রেখে দিয়ে আরেকটু কাছে এলো। 

দরজা খুলতেই মহিলা ঘরে ঢুকে দেখলো ওরা এই অবস্থায় আছে, মহিলার পেছনে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এবার ইমতিয়াজ পেছনে ফিরে রাগি চোখে তাকিয়ে বলল, 

-বুঝলাম না, মানে কি এসবের? আপনার কি দেখার শখ হয়েছে আমরা কি করি কি না করি? একটু শান্তি মত কাজটাও করতে দেবেন না? এমন যদি করতেই হয় তাহলে দিন আমার সব টাকা ফেরৎ দিন আমি অন্য কোথাও চলে যাবো। 

মহিলা ভড়কে যেয়ে তোতলাতে শুরু করলো, 

-না না... মানে...আ...ইয়ে ...মানে ...আসলে আমি ...

মাথায় কিছু আসছেনা তাই একটু থেমে বলল, 

-আমি আপনাকে জানাতে এসেছিলাম যে বেড সাইড টেবিলের ড্রয়ারে অনেকগুলো কন্ডোম আছে। দরকার হলে নিতে পারেন। 

-আমি কন্ডোম দিয়ে করবো কি করবোনা এটা আপনার ভাবার বিষয় না। আরেহ মিয়া, আপনি তো ভারি জ্বালাতন করছেন। কি সমস্যা কি বলবেন? অন্য কারও রুমেও কি এভাবে ঢুকে পড়েন নাকি? আপনাদের টাকা দিয়েছি একটু শান্তিতে কাজ সারার জন্য, আর আপনারা যদি এভাবে এসে জ্বালাতন করেন তাহলে কেমনে হবে? বের হন তো এখান থেকে। আর জ্বালাতন করবেন না প্লীজ। 

ইমতিয়াজের এই কথা শুনে লিয়ানা অনেক লজ্জা পেলো, গাল গুলো গরম হয়ে গেছে মনে হচ্ছে।

মহিলাটা কাঁপা গলায় বলল,  

-ওহ, খু...খুবই দুঃখিত স্যার।আ... আপনি চালিয়ে যান। 

বলে তাড়াতাড়ি রুম থেকে বের হয়ে গেলো মহিলাটি। 

সাথে সাথে কাপড় পড়ে নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে লাইট অফ করে দিলো। আর দরজায় কান পেতে শুনলো মহিলাটা একজন কর্মীকে বকা দিচ্ছে অনেক।  মনে হয় মহিলাটার পেছনে যেই মেয়েটা দাঁড়িয়ে ছিল সে মেয়েটাকেই বকা দিচ্ছে। 

বকা শুনে দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে হাসলো। মুখে হাসি নিয়েই লিয়ানা বেডে বসার জন্য গেলো। আর সাথে সাথে ইমতিয়াজের মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেলো।

লিয়ানার সামনে হাটু গেড়ে বসে বলল,

-সরি, আমার মাথায় এর থেকে ভালো প্ল্যান আসছিলো না। আমি কি করবো, তড়িঘড়ি করে এটা ছাড়া আর কিছুই মাথায় আসেনি দেখে আমি জোড় করে তোমাকে ই...ইয়ে করে ফেলেছি। আমাকে প্লীজ মাফ করে দাও। আমার অন্য কিছুর ইনটেনশন নেই। প্লীজ মাফ করে দাও।

কথা শেষ হতে না হতেই লিয়ানা বলে উঠলো,

-আরে আরে, আমাকে কি কিছু বলতে দেবে না? আমার কি কথা বলার অধিকার নেই?

-সরি, সরি, বলো। তোমার সব কিছুর অধিকার আছে, এবার বলো।

একটু চুপ থেকে লিয়ানা বলল,

-তুমি পাগল? আমাকে কোনো দিক দিয়ে দেখে মনে হচ্ছে আমি রাগ করেছি?

চোরের মত চাহনি দিয়ে তাকালো সে লিয়ানার দিকে। লিয়ানা হেসে ফেলল এটা দেখে,

-তুমি আসলেই একটা পাগল। আমি একদম রাগ করিনি। আমি জানি তুমি আমাকে সাহায্য করার জন্যই করেছ। 

-কিন্তু যে কোনো মেয়েই রাগ হবে তার বিরুদ্ধে তাকে ইয়ে করলে। 

-যে কোনো মেয়েই চড় বসিয়ে দিতো গালে, আমি দিয়েছি?

মাথা নিচু করে বলল, 

-তবুও, কখনো এসব নিয়ে রাগ করবেনা। 

-চুপ। আমি জানি তুমি আমাকে বাঁচানোর জন্য করেছ এটা। তাই আমি নারাজ হইনি। 

ইমতিয়াজ মৃদু হাসলো। 

লিয়ানা খিলখিল করে হেসে উঠলো। 

ইমতিয়াজ বলল, 

-কি হলো? খিলখিল করে হাসার কি আছে? 

-হিহিহি, ইয়ে করেছ তুমি আমার সাথে? ইয়ে? 

বলে আবার হাসলো লিয়ানা। 

ইমতিয়াজ লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকালো। 

-আচ্ছা হয়েছে তো। হাসি বন্ধ করো। আমি ...আমি কাওকে কোনদিন এই কথা বলিনি। তাই মুখে আসছিলো না। 

লিয়ানা তার হাসি বন্ধ করলো না। 

এবার ইমতিয়াজ এক হাতে ওর গাল চেপে ধরলো। ব্যাথা পাওয়ার মত করে না, আস্তেই ধরেছে। 

ঘটনার আকস্মিকতায় চোখ বড় করে ইমতুর দিকে তাকালো লিয়ানা। 

ইমতিয়াজ বলল, 

-বন্ধ না করলে আবার দেবো। 

এই কথা শুনেই হাসি উধাও। 

এবার ইমতিয়াজ হাসলো আর লিয়ানা লজ্জা পেয়ে চুপ করে বসে রইলো। 

ইমতিয়াজ লিয়ানার পাশে বসে বলল, 

-এবার সব কিছু খুলে বলো। 

লিয়ানা দুষ্টুমি করে বুকে হাত দিয়ে আত্বরক্ষার ভঙ্গি নিয়ে বলল, 

-ছি! কি বলো এসব? সব কিছু খুলে বলবো মানে?

ইমতিয়াজ মাথায় হাত দিয়ে বলল, 

-ওরে আল্লাহ, এই মেয়ে একটা কথা কোথা থেকে কোথা যে নিয়ে যায়। আরে, আমি বলেছি সব খুলে বলতে। ইয়ে মানে... সব পরিষ্কার করে বলতে। 

ইমতিয়াজের মুখে আবার লজ্জার ছাপ পড়লো। 

লিয়ানা খিলখিল করে হেসেই চলছে। তবে আস্তেই হাসছে যাতে বাহিরে কেউ শুনতে না পায়। 

একটু থেমে লিয়ানা কথা বলার জন্যে মুখ খুলল, কিন্তু এবার আবার বাঁধা পেলো ইমতিয়াজের ফোনের জন্য। 

কল রিসিভ করে কথা বলল, যতটুকু মনে হলো ওর মা ফোন দিয়েছে। মায়ের কথা শুনা যাচ্ছেনা তবে শুধু ইমতিয়াজ যা বলছে তা বুঝতে পারছে। 

-হ্যাঁ মা বলো। 

------

আমি একটা বন্ধুর বাসায় আছি। 

------

না মা আসলে ব্যবসার একটা কাজে আসতে হয়েছে। তাই রাতে এখানেই থাকবো। কতদিন থাকবো ঠিক নেই। হ্যাঁ একদিন দুই দিন পর পর আসতে পারি বাসায়।

------

হ্যাঁ মা তোমরাও সাবধানে থেকো। 

------

আচ্ছা রাখি। 

লিয়ানা চুপচাপ তাকিয়ে রইলো ইমতিয়াজের দিকে। 

-কি হলো? এমন ভাবে তাকিয়ে আছো যেন ভূত দেখেছ? 

-ইমতু, তুমি আমার জন্যে মিথ্যে বললে কেন?

-তোমার কি মনে হয় আমি যদি বলি আমি একটা পতিতালয়ে আছি, মা আমাকে আস্ত রাখবে? 

লিয়ানা একটু হাসলো। 

-না, তোমাকে ড্রেনে চুবিয়ে বাথরুমের জুতা দিয়ে দাত ব্রাশ করিয়ে ছাগলের টাট্টী দিয়ে ডিনার করাবে। 

-বাবারে, আমার তো শুনেই ভয় লাগছে। 

ইমতিয়াজের এমন অভিব্যক্তি দেখে অনেক হাসলো লিয়ানা। আর ইমতিয়াজ শুধু মুচকি হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ছিল। মনে মনে ভাবছে, ওকে হাসাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। মেয়েটার উপর দিয়ে কতকিছু  গিয়েছে একমাত্র আল্লাহ মাবুদ জানেন। মনে মনে আল্লাহর কাছে দোয়া করলো যাতে ওকে একটু শান্তি দেয় আর এই ঝামেলা থেকে সরিয়ে নেয়। 

এই কথা মনে পড়তেই ইমতিয়াজ বলল,

-লিয়ানা, সরি তোমার হাসিটা নষ্ট করতে চাইনা, কিন্তু আমাকে বলো কি হয়েছে। আমাকে না বললে তোমাকে আমি সাহায্য করতে পারবো না। 

লিয়ানার হাসি উধাও হয়ে গেলো, আর ইমতিয়াজের হাতের ফোনটার দিকে তাকিয়ে ছিল কিছুক্ষণ চুপ হয়ে। ইমতিয়াজ লিয়ানার দৃষ্টি অনুসরণ করে নিজের মোবাইলের দিকে তাকিয়ে বলল, 

-এই দেখ, আমি আমার ফোন অফ করে দিচ্ছি। কেউ কল দিবেনা এখন আর। এবার বলো আমাকে। 

-আসলে একটা সময় আমাদের আর্থিক অবস্থা অনেক খারাপ পর্যায়ে চলে যায়। আমাদের পক্ষে ঢাকায় থাকা একেবারেই সম্ভব হচ্ছিল না। তাই বাবা ভেবে চিন্তে বলল আমাদের নিয়ে দিয়াতলি গ্রামে চলে যাবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/168496/</link>
				<pubDate>Fri, 28 Oct 2022 04:59:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- তোমার ফেরার অপেক্ষায়<br />
পর্ব-৪<br />
-আরে আপা। এখানে কি ভালো মেয়ে আছে যে ভালোটাই খুঁজবে? আচ্ছা যাই হোক, তবুও আমার মনে হয় তোমার আরেকবার দেখে আসা উচিত, কিজানি কথা বলতেছে শুনলাম। তুমিই বলো, অচেনা থাকলে কি এত কথা পাইতো বলার মত?</p>
<p>কিছুক্ষণ ভেবে হাতে চাবিটা নিয়ে রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো। </p>
<p>*****</p>
<p>লিয়ানা বেডের এক পাশে বসে ছিল পা ঝুলিয়ে। ইম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-168496"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/168496/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">435b98ab7acb807bf39d6fcbab17ff44</guid>
				<title>গল্প- তোর কাছে আমার অনেক কথা বলার ছিল
পর্ব-৪

মায়ের চোখ কপালে উঠলো,

-&#039;হ্যাঁ? মাথা ঠিক আছে তোর? নাকি আবার সেই সিলি প্র্যাঙ্ক নিয়েই আছিস?&#039; 

আইভি আশ্বাস দিলো,

-&#039;প্র্যাঙ্ক না মা। আসলেই।&#039; 

কথাটা শুনে চেয়ার থেকে সাথে সাথেই উঠার উদ্যোগ নিচ্ছিল মা, তার মধ্যেই আইভি আটকে দিয়ে বলল,

-&#039;আম্মু, নিজেকে সামলে রাখো প্লীজ। ও কিন্তু এখন আমাদেরকে চিনেনা। নিজের বাবা মাকেই চিনেনা। আমরা তো দূরের মানুষ।&#039; 

মায়ের মন কিছুটা খারাপ হলো। কিন্তু আবার চেহারায় উজ্জ্বলতা এনে বলল,

-&#039;যাক, ভাগ্যক্রমে আবার আমাদের কাছে এসেছে এটাই বেশি। ভাগ্যিস আমার ছেলেকে আর কোনো বিয়ে দেইনি।&#039; 

আইভি বলল,

-&#039;আচ্ছা আম্মু এবার শুনো, ওকে এখানে কোনোভাবেই রাখা যাবেনা। কারণ তোমরা আসার আগে ওর বাবা দুই তিনবার এসে ওকে খুঁজে গেছে। ভাগ্যিস আমি সব চেঞ্জ করার সরঞ্জাম দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তাও ওর বাবা হাতের দাগটা দেখতে চেয়েছিল। এখানে ওকে রাখলে যদি আবার এসে পড়ে?&#039; 

শুভ্র বলল,

-&#039;হুম, ঠিকই বলেছিস রিস্ক নেওয়া যাবেনা।&#039; 

মা বলল,

-&#039;এক কাজ কর, ওকে তোর সাথে রিসোর্টে নিয়ে যা। ওখানে রাখ কয়দিন, কিছু মনে পড়লে পরে দেখা যাবে।&#039; 

আইভির দিকে ফিরে বলল,

-&#039;আইভি, তোকে কি ওর বাবা চিনেনাই? তোর চেহারা তো ইয়ানার সাথে মিল আছে।&#039; 

-&#039;মনে হয়না চিনেছে আম্মু। অনেকদিন হয়ে গেছে তো। হয়তো চেহারা ভুলে গেছে। যদিও আমাকে উনি দেখেন নাই কোনোদিন।&#039; 

-&#039;যাই হোক, তাহলে এই কথাই থাকলো। কাল সকালে তুই ওকে রিসোর্টে নিয়ে যাবি।&#039; 

শুভ্র বলল,

-&#039;আচ্ছা।&#039; 

রুম থেকে বের হয়ে একটা চেয়ারে চুপচাপ ভদ্র মেয়ের মত বসে থাকতে দেখে শুভ্রর মা কাছে যেতেই উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিলো স্পর্শিতা। 

মা কাছে এসে চোখ ছলছল পানি নিয়ে মাথায় হাত বুলাতে বলাতে বলল,

-&#039;কেমন আছিস মা?&#039;

-&#039;ভালো আছি আন্টি। আপনি কানছেন কেন?&#039;

-&#039;না মানে চোখে একটা পোকা ঢুকেছে, তাই পানি পড়ছে আর কি।&#039;
স্পর্শিতা নরম স্বরে বলল,

-&#039;আন্টি, আপনি আমাকে হেল্প করবেন প্লীজ? আমার একটা জব খুবই দরকার। আমি বিয়েতে বসতে চাইনা। প্লীজ আন্টি।&#039; 

-&#039;আহা, এতবার রিকুয়েস্ট করতে হবেনা রে পাগলী। আচ্ছা শোন, আমার ছেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট হবি? কতদিন ধরে মাথাটা খেয়ে ফেলছে অ্যাসিস্ট্যান্টের জন্য। কতগুলো মেয়েকে খুঁজে দিলাম রাজিই হলোনা। মেয়েরা তো অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ভালো হয়। কিন্তু তোকে দেখে কিভাবে সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলো।&#039;

শুভ্র আর আইভি দুইজনই বুঝতে পারলো মা আর কথা ধরে রাখতে পারছেন না।
সাথে সাথে আইভি বলে উঠলো,
-&#039;শুনো আপু, তুমি অ্যাসিস্ট্যান্ট হতে পারবে। কিন্তু তোমাকে এখানে রাখবো না আমরা। এখান থেকে অনেকটা দূরে এক জায়গায় তুমি যাবে ভাইয়ার সাথে। সেখানে আলাদা রুম, তোমার যা যা দরকার সব পাবে। তুমি কি রাজি আছো?&#039;

স্পর্শিতা ভাবনায় মশগুল হয়ে গেলো,
&#039;আমি যদি যাই তাহলে আমি এখান থেকে বাঁচতে পারবো। কিন্তু যাওয়ার পর কি হবে জানিনা। কেন জানি মন চাইছে লোকটাকে বিশ্বাস করতে। লোকটাকে নারী পাচারকারীও মনে হয়না। কারণ ওর নিজের মা বোন আছে। আবার যদি না যাই, তাহলে বাবা মা আমাকে খুঁজে ফেলবে। তারপর জোড় করে বিয়েতে বসাবে।&#039;
স্পর্শিতাকে ওরা তিনজনই একটু সময় দিলো ভাবার। কারণ এত বড় একটা ডিসিশন হুটহাট করে নেওয়া যায়না।

স্পর্শিতা রাজি হয়ে গেলো।
-&#039;আমি রাজি আছি, যতদিন পর্যন্ত ভালো কাজ হয় আমি রাজি আছি।&#039;

শুভ্র এই কথার মানেটা সাথে সাথে বুঝেছে। কারণ এটা সে আগেও শুনেছে স্পর্শিতার কাছ থেকে। সে বোঝাতে চেয়েছে সে কখনও অবৈধ কাজে লিপ্ত হতে চায়না।

রাতের বেলা স্পর্শিতাকে আইভিদের বাসায় নিয়ে আসলো ওরা।
আইভি নিজের রুমটাও দিয়ে দিলো স্পর্শিতাকে থাকার জন্যে। কিন্তু স্পর্শিতা মেয়েটা আগে থেকেই শেয়ার করে সব কিছু। তাই জোড় করে আইভিকেও সাথে থাকতে বলল।

ডিনারের সময় টেবিলে চুপচাপ বসে খাচ্ছিল স্পর্শিতা। সে এখনও কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেনি কোথায় যাবে কীভাবে যাবে, এই নিয়ে।
হঠাৎ শুভ্র নিস্তব্ধতা ভাঙলো,
-&#039;আচ্ছা তোমার নামটা যেন কি বললে?&#039;

জেনেও না জানার ভান করে বসলো সে।
আইভি বলল,
-&#039;এখন যেহেতু ওর পরিচয়টা দেওয়া ঠিক না, তাই ওর নাম মুমতারিনই থাক।&#039;

শুভ্র আবার বলল,
-&#039;অত বড় নাম মনে থাকবেনা, আচ্ছা তোমাকে মুন ডাকবো আমি। সমস্যা আছে এতে?&#039;
স্পর্শিতা মাথা নেড়ে সায় জানালো, তার কোনো সমস্যা নেই।
শুভ্র জিজ্ঞাসা করলো,
-&#039;আচ্ছা তুমি এভাবে অন্ধভাবে কেন বিশ্বাস করছো আমাদের?&#039;

স্পর্শিতা বলল,
-&#039;আমার আশে পাশে সব কিছু এখন অন্ধকার। কোথাও একা গেলেও পড়ে যাবো। তাই ভাগ্যক্রমে আপনাদের থেকে যেটুক সাপোর্ট পেয়েছি, সেটুকু ধরেই আগাতে হবে আমাকে। নাই মামার থেকে কানা মামা ভালো।&#039;

ওর কথা শুনে সবাই নিঃশব্দে খাওয়া শেষ করে নিলো।

রাত ১২টা ৩০ মিনিট।
পাশে আইভি আরামের ঘুম ঘুমুচ্ছে। স্পর্শিতা টানা দুই ঘন্টা ঘুরন্ত ফ্যানের দিকে তাকিয়েও ঘুমাতে পারছেনা। মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে গেলে, ঘুম থেকে উঠে এই বুঝি ওর বাবা মাকে দেখতে পাবে। সব কিছু অচেনা লাগবে। ওর বাবা মা আবার তাকে জোড়াজুড়ি করবে বিয়ের জন্য।
জোড়ে নিঃশ্বাস নিয়ে সে রুম থেকে বের হলো। হাটতে হাটতে তার পা গুলো তাকে কোথায় নিয়ে গেলো সে টের পায়নি।
যখন টের পেয়েছে তখন বুঝলো সে ছাদে এসেছে।

জোছনার আলোয় আবছা দেখাচ্ছে সব কিছু।
আস্তে আস্তে এগোলো সামনের দিকে। ঠিক রেলিংয়ের কাছে এসে সে একটা কট করে শব্দ পেলো পেছনে।
বুকটা কেঁপে উঠলো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/168490/</link>
				<pubDate>Fri, 28 Oct 2022 04:49:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- তোর কাছে আমার অনেক কথা বলার ছিল<br />
পর্ব-৪</p>
<p>মায়ের চোখ কপালে উঠলো,</p>
<p>-&#8216;হ্যাঁ? মাথা ঠিক আছে তোর? নাকি আবার সেই সিলি প্র্যাঙ্ক নিয়েই আছিস?&#8217; </p>
<p>আইভি আশ্বাস দিলো,</p>
<p>-&#8216;প্র্যাঙ্ক না মা। আসলেই।&#8217; </p>
<p>কথাটা শুনে চেয়ার থেকে সাথে সাথেই উঠার উদ্যোগ নিচ্ছিল মা, তার মধ্যেই আইভি আটকে দিয়ে বলল,</p>
<p>-&#8216;আম্মু, নিজেকে সামলে রাখো প্লীজ। ও কিন্তু এখন আমাদেরকে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-168490"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/168490/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">372efbc65c52e61e7f1897ceee7f0150</guid>
				<title>Mahira S and Humayra Jannat are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/157524/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Oct 2022 15:56:01 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a5fffeac8fe96604e1951e1103b36082</guid>
				<title>Mahira S and Foyzur Khan are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/143526/</link>
				<pubDate>Tue, 06 Sep 2022 10:01:43 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">39c4a71654163831f38251fef7256edb</guid>
				<title>Mahira S and sanjida akter jim are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/143118/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Sep 2022 12:49:16 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4851b6e5c9483453b876ab7d5566abd7</guid>
				<title>Mahira S and Fazilatun Nesa are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142888/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Sep 2022 01:51:18 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">09d00e0529dbf4cd86adab3bf34d51b3</guid>
				<title>Mahira S and ISMAT JAHAN LIPI are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142798/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Sep 2022 17:46:46 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">039901ea40572dda48e360cf785eb313</guid>
				<title>Mahira S and ফারহান are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142743/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Sep 2022 16:49:11 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">07010d2dfe35ca47d2a4927c8acf17cb</guid>
				<title>Mahira S and Soma are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142722/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Sep 2022 16:14:03 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">83e4e4e707d3281173fa377a1b2ec695</guid>
				<title>গল্প- তোর কাছে আমার অনেক কথা বলার ছিল
পর্ব-৩
কথাটাটুকু শুনে শুভ্রর একটু রাগ হলো। 

স্পর্শিতা শুভ্রকে দেখার সাথে সাথেই ঘড়িটা লুকিয়ে ফেলল, তার খেয়ালই নেই শুভ্র যে তার কথা শুনে ফেলেছে। 

শুভ্র জেনেও না জানার ভান করে জিজ্ঞেস করলো, 

-&#039;হাতে কি?&#039;

একবার ড্রেসিং টেবিলের দিকে তাকিয়ে আবার স্পর্শিতার দিকে তাকালো। 

-&#039;আমার ঘড়ি কোথায়?&#039; 

-&#039;ম~ মানে?&#039;

স্পর্শিতার মাথা কাজ না করায় এই প্রশ্ন করে বসলো। শুভ্র যতই সামনে এগোচ্ছে স্পর্শিতা ততই পেছনে যাচ্ছে। জানালার পাশের দেয়ালের সামনে এসে স্পর্শিতা আটকে যায়। হাতটা এখনও পিছনে, হাতে ঘড়িটা। 

শুভ্র তাকে ভয় দেখানোর জন্য একটু রাগি চেহারা নিয়ে বলল,

-&#039;আমার ঘড়িটা দিয়ে দিন।&#039; 

স্পর্শিতার মাথা এখনও কাজ করছেনা। তোতলাতে শুরু করে দিয়েছে। 

শুভ্র স্পর্শিতার থেকে ১০ ইঞ্চি দূরে দাঁড়িয়ে বলল,

-&#039;ভালোয় ভালোয় দিয়ে দিন, খারাপ হবে কিন্তু।&#039;

স্পর্শিতা চোখাচোখি করতে চাচ্ছেনা না তাই আশে পাশে তাকাতে থাকলো। 

শুভ্র খেয়াল করলো ভেজা চুল থেকে এক ফোঁটা পানি তার গলার তিলটার কাছে পড়ে আছে। কিছু মুহুর্ত শুভ্র চুপ হয়ে ছিল। কোনো কথা না বলেই হাতটা ঘাড়ে স্পর্শ করে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে পানিটা মুছে দিলো। 

স্পর্শিতা একটু থমকে গেলো। পরক্ষণেই শুভ্র হাতটা সরিয়ে নিয়ে তোতলাতে শুরু করলো,

-&#039;আ ইয়ে মানে ও~ ওই ওই তিলটা দিয়ে দিন। ধুরু, কি বলে ওটাকে, ঘ~ ঘড়িটা দিয়ে দিন।&#039;

শুভ্র স্পর্শিতার গায়ে যাতে টাচ না লাগে তাই এমন ভাবে তার ড্রেসের হাতাটা টেনে হাতটা সামনের দিকে এনে ঘড়িটা নিয়ে নিলো। 

এরপর কিছু না বলেই সে বাথরুমে ঢুকে গেলো।

আইভির ডাকে আবার ভাবনা থেকে ফিরে এলো সে। আইভি টপিক চেঞ্জ করে বলল,

-&#039;ভাইয়া, মিটিংয়ে কোনো প্রব্লেম হলো নাকি আবার? এত টেনশনে আছিস কেন? সেই কখন থেকে অন্যমনস্ক হয়ে আছ। সে যে কিছু একটা বলল এটা কি মাথায় ঢুকেছে তো?&#039; 

-&#039;সরি, আজকে কাজের চাপ বেশি ছিল তো তাই আর কি অন্যমনস্ক হয়ে ছিলাম। তো বলেন ম্যাডাম, কি বলছিলেন? আচ্ছা তার আগে বলুন তো আপনি এতদিন কোথায় ছিলেন?&#039; 

স্পর্শিতা অবাক হয়ে পালটা প্রশ্ন করলো,

-&#039;ক~ কোথায় ছিলাম মানে?&#039; 

আইভি বলল,

-&#039;ভাইয়া, আজাইরা আলাপ রেখে সে কি বলতে চায় শুনো। আর গেটটা লাগিয়ে নাও আগে। যে কোনো সময় কাহিনীর ভিলেন এসে পড়তে পারে।&#039; 

স্পর্শিতা ভাবলো আইভির কথায় যুক্তি আছে, কিন্তু লোকটা কি আবোল-তাবোল জিজ্ঞেস করছে?&#039; 

শপের মেইন গেটটা লাগিয়ে নিয়ে শুভ্র আবার জিজ্ঞেস করলো তার এখানে এত রাতে আসার কারণ।

আইভি বলল,

-&#039;ভাইয়া, মাত্র এসেছে। একটু সময় দাও ওকে। হুট করে কীভাবে বলবে? আমাদের সাথে মিশার টাইম তো লাগবে।&#039; 

স্পর্শিতা এই কথাটা শুনে একটু শান্তি পেলো। জোড়ে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,

-&#039;আসলে আইভি ঠিকই বলেছে। আমার মাথা কাজ করছেনা। আমাকে সব কিছু সর্ট আওট করতে একটু টাইম লাগবে। আমি শুধু একটা জিনিস বলতে পারি, আমার ফ্যামিলি আমাকে বিয়ের চাপ দিচ্ছিল তাই চলে এসেছি বাসা থেকে। আমি একটা ছোট্ট অনুরোধ করি। আমাকে প্লীজ একটা জব দিন। আমি আপনাদের ঋণ শোধ করে দিব, সত্যি। আমাকে প্লীজ একটা জব খুঁজে দিন।&#039;

শুভ্রর প্র্যাঙ্ক করার স্বভাবটা আবার ফিরে এলো। মনের খুশিতে সে বলল,

-&#039;সরি ম্যাডাম, আমি এখন আপনাকে কোনো জব দিতে পারবো না। আমার এখানে বর্তমানে কোনো লোক নিচ্ছিনা। আর আগামি কয়েক মাস নেওয়ার প্রয়োজনও পড়বেনা।&#039;

স্পর্শিতা তার সামনে যেয়ে বলল,

-&#039;প্লীজ স্যার। প্লীজ, একটু বুঝুন অবস্থাটা। বাবা মায়ের বাসা থেকে বের হয়েছি তার মানে নিজেকে নিজের পেট চালাতে হবে। দরকার হলে আমি এখানে প্রতিদিন পরিষ্কারের কাজ করবো, নাহয় ওয়েট্রেস হয়ে কাজ করবো। প্লীজ স্যার। আমি ভিক্ষা চাচ্ছিনা, অনুরোধ করছি। যেভাবেই হোক একটা জব দিন আমাকে, আমাকে একটু শিখিয়ে দিলেই পারবো। আমার বেশি বেতন লাগবে না, দরকার হলে আমার বেতন থেকে কিছু টাকা কেটে নিন, যাতে আপনাদের ঋণ শোধ করতে পারি। প্লীজ স্যার।&#039; 

শুভ্র মনে মনে বলল,

-&#039;অ্যাঁই পাগলী, তোর মনে হয় আমি তোকে এখানে ঘর মোছা আর পরিষ্কার রাখার কাজ করতে দেবো? এসব তোকে আমি কখনও করতে দেবো না।&#039; 

শুভ্র ভাবলো এই মেয়েটা এমনেই অনেক কষ্টে ছিল, আর কষ্ট না দেই। সাথে সাথে বলে ফেলল,

-&#039;আচ্ছা একটু ভেবে দেখি আমি, কি করা যায়।&#039; 

শুভ্র সেই রুমটায় চলে গেলো যেখানে ওর মা ছিল। 

আইভি বলল,

-&#039;আপু, তুমি একটু এখানে বসো। আমি ওই রুমেই আছি, কিছু লাগলে বলবে। আর কেউ আসলে তুমি খুলোনা কিন্তু, আমাদের এখানে এসে নক দিলেই হবে।&#039;

-&#039;আচ্ছা।&#039; 

আইভি শুভ্রর পেছন পেছন দৌড় দিলো। 

রুমে ঢুকে শুভ্র একটু ড্রামাটিক ভাব নিয়ে মায়ের বসে থাকা চেয়ারটার পিছনে যেয়ে কাঁধ মাসাজ করে দিয়ে বলল,

-&#039;মা, মাগো। আম্মাজান, আমার কলিজার টুকরা।&#039;

-&#039;কি এখন এত তেলাচ্ছিস কেন? কি লাগবে?&#039; 

-&#039;ছোট্ট একটা ফেভার।&#039;

-&#039;কি আবার?&#039; 

-&#039;আর কখনও বলবোনা অ্যাসিস্ট্যান্ট খুঁজতে, আর লাগবেনা।&#039;

-&#039;মানে? এতদিন ধরে আমার সাথে চিৎকার করে দুনিয়া উলটে দিচ্ছিলি, আজ হঠাৎ রাতারাতি মাইন্ড চেঞ্জ হয়ে গেলো?&#039; 

-&#039;না মানে, আমার যাকে লাগবে আমি পেয়েছি, তাই বললাম। অ্যাসিস্ট্যান্ট আর লাগবেনা। সে হলেই চলবে আমার।&#039;

আইভির দিকে তাকিয়ে ধমক দিয়ে বলল,

-&#039;অ্যাঁই, তুই ওকে একা রেখে এসেছিস কেন?&#039;

-&#039;বলে দিয়েছি যাতে কেউ আসলে গেট না খুলতে যায়। কিছু লাগলে ডাক দিতে।&#039; 

মা বলে উঠলো,

-&#039;ও মানে? কে? আমাদের সাথে কেউ আছে নাকি?&#039; 

-&#039;হ্যাঁ মা, তুমি দেখনি?&#039; 

-&#039;না তো, কে সে? দেখ তোরা আমার ধৈর্যের পরীক্ষা করিস না।&#039; 

শুভ্র বলল,

-&#039;তোমার ছেলের বউ।&#039;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142704/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Sep 2022 15:38:01 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- তোর কাছে আমার অনেক কথা বলার ছিল<br />
পর্ব-৩<br />
কথাটাটুকু শুনে শুভ্রর একটু রাগ হলো। </p>
<p>স্পর্শিতা শুভ্রকে দেখার সাথে সাথেই ঘড়িটা লুকিয়ে ফেলল, তার খেয়ালই নেই শুভ্র যে তার কথা শুনে ফেলেছে। </p>
<p>শুভ্র জেনেও না জানার ভান করে জিজ্ঞেস করলো, </p>
<p>-&#8216;হাতে কি?&#8217;</p>
<p>একবার ড্রেসিং টেবিলের দিকে তাকিয়ে আবার স্পর্শিতার দিকে তাকালো। </p>
<p>-&#8216;আমার ঘড়ি কোথায়?&#8217; </p>
<p>-&#8216;&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-142704"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/142704/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ae3e6b3fd4bf38d5a997cc1a51c177a7</guid>
				<title>গল্প- তোর কাছে আমার অনেক কথা বলার ছিল
পর্ব-২

আইভি বলল,
-&#039;স্যার এবার কিন্তু বেশি হয়ে যাচ্ছে, এভাবে একটা মেয়ের প্রাইভেসি নষ্ট করাটা কি ঠিক হচ্ছে?&#039;

আইভি স্পর্শিতার দিকে তাকিয়ে দেখলো সে কনফিডেন্টলি হাতের কনুইটা দেখালো। খালি! কিছুই নেই। আইভি অবাক হলো। কিন্তু সেই সাথে স্পর্শিতার এই জিনিসটার দিকে মনোযোগেও ইম্প্রেস হলো। যাক! মেয়েটার এই দিকটাও খেয়াল আছে। 

স্পর্শিতার বাবা বলে উঠলো,

-&#039;আচ্ছা, তো যা হোক। তোমার কাছে একটা জিনিস রিকুয়েস্ট করি। যদি কখনও এমন মেয়ে দেখে থাকো, প্লীজ আমাকে ইনফর্ম করবে। এই নাও আমার ভিজিটিং কার্ড। একটা বাবা কখনও মেয়ের ক্ষতি চায়না।&#039; 

বাবা চলে গেলে আইভি শিওর হয়ে দেখে বলল তারা চলে গেছে কিনা। গাড়িটা যখন চোখের আড়াল হয়ে গেলো সে আবার শপের ভিতর এসে বলল,

-&#039;চলে গেছে। এবার আমাকে বলো তো কি হয়েছে?&#039;  

মাথার ওড়নার প্যাঁচগুলো খুলতে খুলতে উত্তর দিলো,

-&#039;আসলে আমি নিজেও জানিনা। সব কিছু উলট পালট লাগছে আমার কাছে। ৩ মাস আগে যখন চোখ খুলি তখন কিছুই চিনতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল অনেক লম্বা ঘুম থেকে উঠেছি। কিন্তু যখন উনাদের দেখতে পেলাম, উনারা বলল আমার বাবা মা। আমি আরও দুই মাস নাকি হসপিটালে ছিলাম এভাবেই ঘুমিয়ে। কিন্তু কেন বা কি হয়েছিল আগে তা কিছুই মনে নেই। তারপর আস্তে আস্তে তাদেরকে বাবা মা হিসেবে মেনে নিলাম, কারণ বাবা মা ছাড়া কেউই এত খরচ করবেনা বা এত কিছু কিনে দিবেনা। মনে হয় নতুন সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চার জন্য যেমন অনেক কিছু কিনে দেয়, আমি কিছু বললেই আমাকে দেয়। তারপর এখন একটু সুস্থ হয়েছি, কিন্তু তারা আমাকে বিয়ের তাড়া দিচ্ছে। আমি চাচ্ছিনা করতে। তাও জোড় করছে। আমার নাকি বয়স পার হয়ে যাচ্ছে, আরও কত কিছু।&#039; 

-&#039;ওহ, এই জন্যই তুমি এভাবে ভেগে এলে।&#039; 

-&#039;হ্যাঁ, শুনো আইভি। আমি তোমার ঋণ সব শোধ করে দিবো, প্লীজ আমাকে এখানে বা কোনো একটা জায়গায় জব খুঁজে দাও। আমাকে একটু কাজ শিখিয়ে দিলেই আমি পারবো। প্লীজ আইভি। আমি উনাদের কাছে আর যেতে চাইনা। নিজের খরচ নিজেই চালাবো।&#039; 

প্রায় কাঁদো কাঁদো অবস্থায় কথাটা শেষ করলো সে। 

-&#039;দেখ, এই দোকান আমার না। আমার ভাইয়ের মেইনলি। সো, চাইলেই তোমাকে এখানে কাজ দিতে পারবোনা। কারণ এর সবই আমার ভাইয়ের হাতে। আমি শুধু এখানে মাঝে মাঝে ফ্রী টাইমটায় বসি।&#039; 

কিছুক্ষণ পরেই একটা মহিলা শপটায় ঢুকলো। ক্যাশ কাউন্টারের অপর পাশে যেয়ে একটা প্রায় অলক্ষিত একটা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে গেলো, স্পর্শিতার উপস্থিতি খেয়াল করেনি। 

বাহিরে আবার হাঁটার আওয়াজ শুনা গেলো। ভেতরে একটা লোক ঢুকলো। বয়েস পঁচিশ বা ছাব্বিশ হবে।  

ছেলেটা কথা বলতে বলতেই ঢুকলো, 

-&#039;মা, আমার একটা অ্যাসিস্ট্যান্ট লাগবে। তুমি কেন হেল্প করছো না আমাকে?&#039;

রুমের ভেতর থেকে মা চেঁচিয়ে বলল,

-&#039;ওরে আমার শুভ্র, তোকে না বললাম একটা মেয়ে পেয়েছি সব কাজ করতে ইচ্ছুক।&#039; 

শুভ্র মুড অফ করে বলল,

-&#039;ওরে আমার মা, তোমাকে না আমি বললাম আমি মেয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট রাখতে চাইনা।&#039; 

আইভি তাকে দেখে গলা খাঁকারি দিয়ে তার অ্যাটেনশনটা নেওয়ার চেষ্টা করলো। এদিকে তাকানোর সাথে সাথেই স্পর্শিতার কেমন যেন একটা ফিলিং আসলো। সে নিজেও জানেনা কেন। মনে হচ্ছে ওর হার্ট একটা বিট মিস করেছে। 

আইভি ইশারা দিলো স্পর্শিতার দিকে। স্পর্শিতা যত দ্রুত সম্ভব চোখ নামিয়ে ফেলল। শুভ্র প্রথমে তাকে চিনতে পারে নি। 

জিজ্ঞেস করলো,

-&#039;উনি কে? এত রাতে এখানে কি করছে? কাস্টোমার এই সময়টা আসতে পারবেনা তুমি বলোনি?&#039;

আইভি আবার ইশারা দিয়ে কিছু একটা বোঝালো। 

সে কাউন্টার টেবিলে একটু ঝুঁকে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল, 

-&#039;এক্সকিউজ মি?&#039; 

মেয়েটা নার্ভাস হয়ে তাকালো তার দিকে। 

মাথা হালকা উঠাতে উঠাতে বলল,

-&#039;জ~ জ্বি?&#039;
এই জিজ্ঞেস করে সাথে সাথে মাথা নামিয়ে ফেলল লজ্জ্বায়।
ওর চেহারা দেখা মাত্রই হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো শুভ্র। রাতের এই স্তব্ধতার মাঝে, রাস্তায় কোনো কোলাহল নেই, মাঝে মাঝে দু-একটা গাড়ির হর্ণ বেজে উঠে। কিন্তু এই দুটি হৃদয়ের সেই থমকে যাওয়া সময়টা কেউ টের পায়না।
পাশে থেকে আইভি চেঁচিয়ে উঠলো,
-&#039;অ্যাঁই ভাইয়া। কি হলো?&#039;

শুভ্র বাস্তবে ফিরে এসে বলল,
-&#039;হ্যাঁ? ওহ না কিছুনা।&#039;
শুভ্রর চোখটা না চাইতেও স্পর্শিতার গলার দিকে চলে এলো। সে নিজেও জানেনা কেন তাকিয়েছে সে।
তিলটা দেখতেই সে আরও বেশি উৎফুল্ল হলো মনে মনে।

********
বিয়ের ৭ দিন পর,
শুভ্র আর স্পর্শিতা এখনও নিজেরদেরকে মানিয়ে নেওয়ার হিমশিম খাচ্ছে।
সবার সামনে ভদ্র।
কিন্তু আলাদা হলে একে অপরের থেকে ১০ হাত দূরে থাকে।
স্পর্শিতা এখনও শুভ্রর সাথে রাগ করে আছে সেদিনের জন্যে। কিন্তু স্পর্শিতা শুভ্রকে ক্ষমা করতো যদি সে মন থেকে সেটার ব্যাপারে সরি বলতো। কিন্তু শুভ্র কথাই বলেনা। কথা ইচ্ছে করেই বলেনা নাকি বলার কিছু পায়না সেটা শুধু শুভ্রই জানে।

দুপুর ১২টা বাজে, স্পর্শিতা গোসল থেকে এসে চুল খুলে ফ্যানের নিচে বসে আছে। শুভ্রর ড্রেসিং টেবিলে হঠাৎ একটা ছোট্ট কম্পাস দেখতে পেলো। আস্তে আস্তে যেয়ে সেটা হাতে নিয়ে পরখ করে দেখছে। একটা ছোট্ট বাটনে চাপতেই কম্পাস খুলে গেলো। কিন্তু সে হতবাক হলো। এটা কম্পাস না। ঘড়ি ছিল। দেখতে পুরানো মনে হলেও এখনও উজ্জ্বলিত হয়ে আছে। ঘড়িটার পিছনে খোদাই করে লিখা-


&quot;যেখানেই থাকো, যেভাবেই থাকো, আমি তোমার সাথেই থাকবো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত

-from DDV&quot;


স্পর্শিতা ভাবলো এটা নিশ্চয় শুভ্রর প্রাক্তনের দেওয়া গিফট।
স্পর্শিতা বেখেয়ালে বলে ফেলল,
-&#039;এহ, নেকামো কত্ত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নাকি থাকবে। তো আমার সাথে এই বান্দার বিয়ে হলো কেন? সেই ডিডিভি নামের মেয়ের সাথেই হইতো!&#039;
শুভ্র বাহির থেকে এসে হুট করে রুমে ঢুকে আর স্পর্শিতার কথা শুনে ফেলে সব।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142702/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Sep 2022 15:29:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- তোর কাছে আমার অনেক কথা বলার ছিল<br />
পর্ব-২</p>
<p>আইভি বলল,<br />
-&#8216;স্যার এবার কিন্তু বেশি হয়ে যাচ্ছে, এভাবে একটা মেয়ের প্রাইভেসি নষ্ট করাটা কি ঠিক হচ্ছে?&#8217;</p>
<p>আইভি স্পর্শিতার দিকে তাকিয়ে দেখলো সে কনফিডেন্টলি হাতের কনুইটা দেখালো। খালি! কিছুই নেই। আইভি অবাক হলো। কিন্তু সেই সাথে স্পর্শিতার এই জিনিসটার দিকে মনোযোগেও ইম্প্রেস হলো। যাক! মেয়েটার এই দিকটা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-142702"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/142702/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">139be673a4e59890d1c7eb8489dfa479</guid>
				<title>গল্প- তোর কাছে আমার অনেক কথা বলার ছিল
পর্ব-১ 
স্পর্শিতার মাথা একদমই কাজ করছেনা। ওর বাবা মা একটা ছেলে দেখেছে তার জন্য। ও আগে থেকেই বলছে ও কোনো ভাবেই রাজি না। তবুও বাবা মা জোড় করে বললেন,

-&#039;ছেলেটা ভালো আছে, একবার পরিচয় করেই দেখ। সব ঠিক হবে।&#039; 

-&#039;না, আমি জানিনা আপনারা কেন এভাবে আমাকে ফোর্স করছেন। আমি তো বলেছিই আমি বিয়ে করবো না।&#039;

এই বলে সে তার রুমে দৌড় দিলো। জানালার পাশে বসে চুপচাপ নিকষ কালো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। ওর মাথা পুরোটাই খালি হয়ে আছে। মনে  হচ্ছে কোত্থেকে যেন টপকে পড়লো। 

পেছনে মা এসে বলল,

-&#039;কি হয়েছে রে মা? বিয়ে করতে তোর সমস্যা কি?&#039;

-&#039;দেখেন, আমি জানিনা আমি কেন বিয়ে করতে চাইনা। আমি নিজেকে মনে করতে করতেই হিমশিম খাচ্ছি, আর বিয়ে করে একটা সংসার কিভাবে করবো?&#039; 

-&#039;ছেলেটা সব মেনে নিয়েছে তো। ও তোকে সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা দেবে।&#039; 

-&#039;মানুক আর না মানুক। আমার মন সায় দিচ্ছেনা। আমার কেন জানি সবসময় মনে হচ্ছে আমার জন্য কেউ অপেক্ষা করছে।&#039;

-&#039;এগুলো সব তোর মনের ভুল। কে অপেক্ষা করবে তোর জন্য? মাথা থেকে এগুলো ঝেড়ে ফেল আর ছেলেটাকে জানার চেষ্টা কর। কাল আবার আসবে তোকে দেখতে। আর বিয়ের আলাপ আলোচনা হবে।&#039;

রাত ৯ টা। স্পর্শিতা কিছুই বুঝতে পারছেনা কি করবে। সব কিছুই যেন অচেনা লাগে। প্রথম যখন চোখ খুলেছিল, তীব্র মাথার বেথা নিয়ে আশে পাশে দুটো মানুষকে দেখতে পেয়েছে। জিজ্ঞেস করতে তাকে বলা হয়েছে তারা তার বাবা মা। বিশ্বাস না হলেও মেনে নিয়েছে। কারণ কোনো মানুষই এত টাকা খরচ করবেনা একজনের জন্য। হসপিটালে এমনেই খরচ, খাওয়া দাওয়া, সব কিছুই তারা শর্তহীনভাবে দিচ্ছে, বাবা মা ছাড়া কোনো মানুষই এমন করবেনা। 

পরদিন সন্ধ্যা বেলা,

স্পর্শিতা যদিও একটা সেফ জায়গায় আছে কিন্তু তবুও তার মনে হচ্ছে বদ্ধ জায়গায় আছে।সিম্পল ডিজাইনের একটা শাড়ি পড়ে বসে আছে রুমে। মা বলেছে অপেক্ষা করতে, সময় হলে এসে নিয়ে যাবে।

কারও সাথেই দেখা করতে মন চাচ্ছেনা তার। কি যেন তাকে বাঁধা দিচ্ছে। দ্বিতীয় বার না ভেবে সে সরাসরি বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। 

অজান্তেই হাটা দিলো অজানায়। কিছুটা দূর এসে সে পেছনে কয়েকজনের চিল্লা চিল্লি শুনতে পেল। তার মধ্যে একজনের আওয়াজ শুনে মনে হলো এটা তার বাবা। সে আরও জোড়ে দৌড় দিলো। 

রাতের বেলায় রাস্তাটায় খুব মানুষ নেই। তবে মাঝে মাঝে একটা দুইটা গাড়ি যায়। সামনে এসে একটা স্ন্যাক্স বার দেখতে পেল। শপটা সুন্দর করেই সাজিয়েছে মনে হচ্ছে। এক পার্শ্বে ক্যাশ কাউন্টার। আর বাকিটা রুম জুড়ে ছড়ানো ছিটানো গোল গোল টেবিল, দুই একজনের বসার মত জায়গা। আর সেই টেবিল গুলোর মাঝে মাঝে কয়েকটা চকোলেট ভেন্ডিং মেশিন। এক একটার মধ্যে এক একরকম চকোলেট। ক্যাশ কাউন্টারের সামনে একটা মেয়ে বসে ছিল। শপটায় সেই একটা মেয়ে ছাড়া অন্য কাওকে দেখতে পেলো না সে। ভিতরে ঢুকে সে জলদি তার কাছে যেয়ে বলল, 

-&#039;আপু প্লীজ আমাকে হেল্প কর। আমাকে কিছু মানুষ খুঁজছে। কিন্তু আমি যেতে চাইনা তাদের কাছে। আমি সব খুলে বলবো, শুধু আমাকে একটু জায়গা দাও লুকিয়ে থাকার জন্যে। ওরা চলে গেলে আমি সব বলবো।&#039;

মেয়েটার চেহারায় একটা মায়া দেখতে পেল। তাকে দেখে মনে হলো সে হেল্প করতে ইচ্ছুক। একটু অবাকও হলো স্পর্শিতাকে দেখে। কিন্তু নিজেকে অনেক পারদর্শীতার সাথে সামলে নিলো। মেয়েটা তাড়াতাড়ি  বলল,

-&#039;আসলে আমি জানিনা আমি কীভাবে কি করবো। তবে আমার কাছে কিছু জিনিস আছে তুমি সেজে নিজেকে চেঞ্জ করে নিতে পারো যাতে অন্যরকম দেখায়। আর এই ড্রেসটা নাও, যত জলদি সম্ভব পড়ে নাও।&#039; 

দুই মিনিটও লাগেনি স্পর্শিতা শাড়িটা খুলে ড্রেসটা চেঞ্জ করে আইভির দেওয়া জিনিস গুলো ঘাটলো। তার মধ্যে সবার আগে দেখলো লেন্স, মেয়েটা বলেছে আজকেই এটা কিনেছিল আর এটা সে ব্যবহার করতে পারেনি এখনও। স্পর্শিতা লেন্সটা নিয়ে চোখে পড়ে ফেলল কিন্তু সে যে পড়তে পারে সেটা সে জানেই না। ফাউন্ডেশনটা চোখে পড়তেই হাতের জন্মদাগটা মুছে নিল। আইভি যেই শেডের ফাউন্ডেশন কিনেছে সেটা স্পর্শিতার গায়েও সুট করে। 

হঠাৎ শুনলো কিছু লোকের আওয়াজ। সে বুঝতে পেরেছে তার বাবাও আছে ওদের মধ্যে। স্পর্শিতা ভয় পেয়ে গেলো, ওর এখনও সাজা শেষ হয়নি, ওর বাবা যদি এখানে এসে পরে? কিন্তু ভাগ্যবশত লোকগুলো চলে যায় শুধু একটা প্রশ্ন করেই। 

সে যতদূর সম্ভব তাড়াতাড়ি করতে চেষ্টা করলো। স্টাফ রুমে বসে আর কি করবে কিছুই মাথায় আসছেনা তার। তাই সে ক্যাশিয়ার মেয়েটার দেওয়া ওড়নাটা মাথায় পেঁচিয়ে নিলো যাতে চিনতে না পারে।  পুরোপুরি অন্যরকম না লাগলেও, কিছুটা বদলাতে পেরেছে খুব কম সময়ে। স্পর্শিতা জিজ্ঞেস করলো,

-&#039;আমি কাপড় পড়তে যাওয়ার সময় কেউ কি এসেছিল? লোকের শব্দ শুনেছিলাম বোধহয়।&#039;

-&#039;এসেছিল, জিজ্ঞেস করে গেছে শাড়ি পড়ে যাওয়া কোনো মেয়েকে দেখেছি কিনা। আমি অন্য একটা দিকে ইঙ্গিত করে বললাম সেদিকে যেতে দেখেছি।&#039; 

-&#039;থ্যাংক ইউ আপু। আমি যত দ্রুত সম্ভব তোমার ঋণ শোধ করে দেব।&#039; 

-&#039;ওই কথা বাদ, আর আমি কোনো আপু-টাপু না, আমাকে দেখতে ম্যাচিউর লাগলেও আমি এখনও মাত্র উনিশ বছরের মেয়ে। আমি আইভি। আমি ছোট তোমার থেকে। আচ্ছা এবার আমাকে বলো তুমি কেন এভাবে ভেগে আসলে, আর লোকটা কে হয় তোমার?&#039;

যদিও আইভি সবই জানে ওই লোকের সাথে স্পর্শিতার কি সম্পর্ক তাও সে না জানার ভান করলো।

আইভির কথা শুনে একটু ভরকে গেলো। তার চেহারায় কি বয়সের ছাপ আছে যে আইভি বলল সে তার থেকে ছোট? কিন্তু কথাটা পরোয়া না করে সে উত্তর দিলো। 

-&#039;আ~ আসলে সে আমার বাবা। অনেক কাহিনী আছে, তুমি আমাকে হেল্প...&#039;

কথা শেষ না করতেই বাহিরে আওয়াজ পেলো ওরা,

আইভি আবার ক্যাশ কাউন্টারে চলে গেলো। 

লোকটা গম্ভীর মুখ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 

-&#039;এখানে একটা মেয়ের আওয়াজ পেয়েছি, তাকে কি দেখা যাবে?&#039;

-&#039;আমাকে দেখে কি মেয়ে মনে হয়না?&#039;

-&#039;মেয়ে মনে হয়না, কিন্তু তোমার গলার আওয়াজ আর সেই মেয়েরটা এক না। তোমারটার সাথেই সেই মেয়েটার আওয়াজ পেয়েছি। ডাকো তো তাকে। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমার মেয়েটা এখানেই আছে।&#039;

-&#039;আপনার মেয়ে কেন এখানে আসবে, ওটা এখানের স্টাফ।&#039; 

-&#039;ডাকো তাকে। না দেখা পর্যন্ত আমি যাবো না।&#039; 

আইভি একটু ভয় পেলো। কিন্তু তবুও ডাকলো অন্য এক নামে,

-&#039;মু~মুমতারিন... এদিকে এসো তো।&#039; 

মেয়েটা রুম থেকে বের হয়ে সামনে আসলো। মনের মধ্যে আতঙ্ক, মনে হচ্ছে এই বুঝি ওর বাবা ওকে বকে দিয়ে বলবে বাসায় যেতে। কিন্তু সে যেতে চায়না। 

শুকনো গলায় বলল,

-&#039;আমাকে ডেকেছেন?&#039; 

আইভি লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 

-&#039;এটা কি আপনার মেয়ে?&#039; 

আইভিও মনে মনে অনেক ভয় পাচ্ছিল, সে জানে এর পরিণতি কি হবে। সে জানে লোকটা তাদেরকে সহ্যই করতে পারেনা। তবুও জিজ্ঞেস করলো। 

লোকটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, 

-&#039;কি নাম তোমার? মুমতারিন? কে রেখেছে এই নাম?&#039; 

এই প্রশ্ন শুনে আইভি আর স্পর্শিতা নিরানব্বই ভাগ শিওর হয়ে গেলো ওর বাবা ওকে চিনে গেছে। 

স্পর্শিতা ভয়ে ভয়ে যতটা সম্ভব গলার স্বর চেঞ্জ করে উত্তর দিলো,

-&#039;জ্বি, কেন?&#039; 

-&#039;না, মানে তোমাকে দেখতে অনেকটা আমার মেয়ের মত। তোমার গলার স্বরটাও। কোথায় থাকো তুমি?&#039;

আইভি কথা কেড়ে নিয়ে বলল,

-&#039;সরি স্যার, আমরা আমাদের স্টাফদের ইনফরমেশন লিক করিনা। এটা আমাদের পলিসির বাইরে।&#039; 

-&#039;আরে ধ্যাৎ তোমাদের পলিসি, আমার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিনা আর পলিসি নিয়ে পড়ে আছো তোমরা। এসব কারণে একটা দুইটা রুল ব্রেক করলে কিচ্ছু হয় না।&#039;

আইভি এবার কথা বানাতে বাধ্য হয়ে বলল,

-&#039;কুড়িপাড়ায় থাকে, ওর বাবা মায়ের সাথে।&#039; 

তবুও যেন লোকটার মনকে এই উত্তরটা স্বান্তনা দিলো না। 

-&#039;আচ্ছা তোমার ডান হাতের কনুইটা দেখাও তো।&#039;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142701/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Sep 2022 15:27:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- তোর কাছে আমার অনেক কথা বলার ছিল<br />
পর্ব-১<br />
স্পর্শিতার মাথা একদমই কাজ করছেনা। ওর বাবা মা একটা ছেলে দেখেছে তার জন্য। ও আগে থেকেই বলছে ও কোনো ভাবেই রাজি না। তবুও বাবা মা জোড় করে বললেন,</p>
<p>-&#8216;ছেলেটা ভালো আছে, একবার পরিচয় করেই দেখ। সব ঠিক হবে।&#8217; </p>
<p>-&#8216;না, আমি জানিনা আপনারা কেন এভাবে আমাকে ফোর্স করছেন। আমি তো বলেছিই আমি বিয়ে করবো না।&#8217;</p>
<p>এই বলে সে ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-142701"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/142701/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c316c3c609177ec192308a1b475688dd</guid>
				<title>গল্পের নামঃ তোমার ফেরার অপেক্ষায় 
পার্ট-৩ 

-কি হইছে? তুই এভাবে কাঁপা গলায় কথা বলতেছিস কেন?

-ভাই, পরে বলবো সব। তোর বাবার সাথে কথা বলতে হবে আমার। নাম্বারটা দিস।

-কেন?

-ধুর, পরে বলবো। তুই দে আগে।

নাম্বারটা নিয়ে তামজিদের বাবার কাছে ফোন দিয়ে কিছু প্রশ্ন করলো আর সব খুলে বলল।



*******

সকাল এগারোটা বাজে।

তামজিদের বাবা সেই এলাকার কাছা কাছিই একটা দোকানে বসে ছিল তার এক দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই এর সাথে। বয়েস খুব বেশি না। তামজিদের বাবার থেকে ৮ বা ৯ বছর ছোট। চুল কিছু কিছু পাকা। সাদা শার্ট আর ছাই রঙের প্যান্ট পড়ে আছে। 

তামজিদের বাবা কিছুক্ষণ আলাপ করতে করতে হঠাৎ একটা পরিচিত কণ্ঠ বলে উঠলো, 

-আরে, আব্দুল্লাহ না রে? 

-কিরে ইলিয়াস কেমন আছিস? কতদিন পর দেখা হলো। 

-কোথায় ছিলি এতদিন? তোর নাম্বারও নেই যে যোগাযোগ করবো। 

-অনেকদিন এদিকে আসা হয়না। অন্য কোথাও কাজ থাকে। বুঝিসই তো আমার যেই পোস্ট সেই পোস্টে জায়গায় জায়গায় গিয়ে ইনফরমেশন নেওয়া লাগে। 

-অহ আচ্ছা ভাল কথা। তোর কাছে কোনো ছাত্রী হবে? আমার বোন একটা মহিলা কলেজ খুলেছে এক বছর হলো। 

এই কথা শুনে তামজিদের বাবার কান খাড়া হয়ে গেলো। 

মনে মনে ভাবলো এটা কি সেই কলেজ যেটার কথা গতকাল ইমতিয়াজ আমাকে বলেছিল?

মুখের চাহনি বদলে তামজিদের বাবা আবার জিজ্ঞেস করলেন, 

-আরে তাই নাকি রে? কিন্তু আমি তো জানতাম তোর কোনো বোন নেই। 

-আরে সে তো আমার চাচাতো বোন।

-বেশ। তবে কলেজটা কোথায়?

-ঐ যে এই রাস্তা দিয়ে কিছুটা পথ হাটতে হয় আরকি। 

তামজিদের বাবা ভাবলেন, 

-হ্যাঁ, যাক এবার জেনে নেওয়া যাবে। কিন্তু এখনি সিওর হওয়া যাবেনা কারণ এই লোক এখনো  মিসেস মাজিদার কথা বলেনি । 

আবার ইলিয়াসের উদ্দেশ্যে বলল,  

-বলিস কি? স্কুল কলেজ হলে এত ভেতরে কেন? এদিকে বাজারের দিকে থাকা উচিত। 

-আর বলিস না। আমি ওকে অনেক বলেছিলাম। ও একটু রাগি তো, বেশি মানুষজনের মধ্যে থাকতে পছন্দ করেনা। আর ছোট একটা কলেজ। গ্রামের খুব গরীব মেয়েদের জন্যই খুলা আরকি। 

-হুমম, তবে দোস্ত আমি তো তোকে কোনো মেয়ে দিতে পারবো না। তবে যদি সম্ভব হয় আমার এই ভাইটাকে একটা চাকরি দে। 

-ও উনি তোর ভাই। তা কিসের চাকরি? শিক্ষক নিয়োগ নাকি?

ইলিয়াস নামের লোকটা এমন একটা চাহনি দিলো করিমের দিকে। এমন মনে হলো যে মনে মনে বলছে, 

-এই লোককে দেখে অশিক্ষিত বর্ববর মনে হয়, এই লোকটাকে কিভাবে শিক্ষকের চাকরি দেবে মানুষ?

একটু হেসে তামজিদের বাবা বললেন, 

-আরে না, না। ও মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। এত উঁচু পদের কর্মচারী হতে পারবেনা সে। 

মুখের উপর মিথ্যে কথা বলে দিলো ইমতিয়াজের বাবা, তবুও ইলিয়াস বুঝেনি। করিম পঞ্চম শ্রেণি না, ম্যাট্রিক পাশ। তবে এটায় করিম কিছু মনে করেনি, কারণ করিম সব জানে। 

-তবে এক কাজ করা যায়, একজন পিয়ন লাগবে আমাদের। আমি দেখি মাজিদার সাথে কথা বলে। কিন্তু একেবারে শিওর হবেন না, কারণ মাজিদার অনেক চাহিদা, যেন তেন মানুষ হলে  চলবেনা। 

তামজিদের বাবার ঘারের লোম খাড়া হয়ে গেলো। বুঝতে আর বাকি নেই কিছু। পরে কিছুক্ষণ করিমের ব্যাপারে গীত গাইলো। 

কিন্তু এই ইলিয়াস লোকটা এত সহজে মানবে বলে মনে হয়না। উনার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে কিছু শর্ত থাকা লাগবে সেখানে চাকরি করার জন্য। 

শেষে তামজিদের বাবা মিসেস মাজিদার চাহিদার ব্যাপারে প্রশ্ন করায় ইলিয়াস মুখ খুলল, 

-আসলে সে চায় একেবারে বিশ্বাসযোগ্য মানুষ। মানে আমাদের কলেজের ভেতর কি হয় না হয় সেসব যাতে কোথাও না যায় সেই দিকটায় বেশি প্রাধান্য দেয় সে। 

ইলিয়াস একটু ফিসফিস করে বলল, 

-বুঝিসই তো টাকা ছাড়া দুনিয়া চলেনা। 

তারপর আর যেসব ব্যাপারে ধ্যান দিতে হবে সেসবও জানিয়ে দিলো। 

তামজিদের বাবা মাথা নাড়লো তবে এই ব্যাপারে আর কোনো প্রশ্ন করলো না। কারণ করলে ইলিয়াস সন্দেহ করতে পারে। 

-তা বুঝলাম, তবে কলেজটা কেমন চলে? 

-আসলে এত বেশি পুরাতন না তো, মানুষজন কম চেনে। খুব একটা শিক্ষার্থী নেই। ওই যে বললাম, অত্যন্ত গরীব যারা তাদের জন্যই তো খোলা। 

-হুমম, তা এখন কি মিসেস মাজিদার সাথে কথা বলতে পারবি?

হাতের ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে সময় দেখে নিলো ইলিয়াস। 

তারপর বলল, 

-সে বোধহয় আর ২০ মিনিটের মধ্যে বাসায় চলে যাবে একটা কাজে। চল তবে গিয়ে কথা বলি। 

-হ্যাঁ চল। আয়, করিম। এবার তোর পরিবারের আর কষ্ট হবেনা ইনশাআল্লাহ। 

মিসেস মাজিদার বাসা পাড় করে সেই পুরনো বিল্ডিং এ আসলো। বিল্ডিংটা দেখে, তামজিদের বাবার হঠাৎ মনে পড়লো আজ থেকে ৬-৭ বছর আগে এইরকম গ্রামে এই বিল্ডিংটা বানানো হয়েছিলো একটা স্কুলেরই জন্য, তবে এত ভেতরে কেউ আসতে চাইতো না। তাই লস খেয়ে এই বিল্ডিংয়ের মালিক এটাকে পরিত্যক্ত করে দিয়েছে। তামজিদের বাবা শুনেছে, বিল্ডিংয়ের মালিক এত পরিমাণ লস খেয়ে পরিবারসহ পরের বছরই জায়গা ছেড়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু তার কয়েক মাস পরই মালিকটা মারা যায়। মালিকানার কথা কিছুই স্পষ্ট ছিলনা বলে বিল্ডিংটা তেমনই আছে, কেউ এসে কিছু করেনি এখানে। 

*****

মিসেস মাজিদা একটা খাকি আর সবুজ রঙের পাতার ডিজাইনের একটা থ্রী পিছ পড়ে বসে আছে বিল্ডিংটার সামনে। উপরের বারান্দায় দুই একজন শিক্ষার্থীকে দেখা যাচ্ছে অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে। কিছু কিছু শিক্ষার্থীর চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। টেনশনে হয়তো সারা রাত ঘুমাতে পারেনা। 

মিসেস মাজিদা পায়ের উপর পা তুলে বসে চা খাচ্ছেন। এই দুপুর সাড়ে ১২টার সময় কেউ চা খায়? 

যাই হোক, তো উনি একটা চশমা পড়ে আছেন যেটা উনার বয়সের সাথে একদমই যায়না।

ইলিয়াস দূর থেকেই বলে উঠলো, 

-মাজিদা, দেখ আমার বন্ধুকে এনেছি। 

মহিলাটার চেহারা দেখে মনে হয়নি যে উনি খুব একটা খুশি হয়েছেন দেখে। তবুও মুখে জোড় করে হাসি এনে তামজিদের বাবার উদ্দেশ্যে বলল,

-আসেন ভাই, কেমন আছেন। 

-জ্বী আপা, ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন? 

-এই তো আছি মাথায় এত গুলো প্যারা নিয়ে। 

পুরো বিল্ডিংটার দিকে একবার তাকিয়ে বললেন তামজিদের বাবা, 

-শুনলাম আপনি নাকি অত্যন্ত গরীব পরিবারের মেয়েদের জন্য স্কুল কলেজ খুলেছেন। অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন আপা। আল্লাহ আপনার পাশে সবসময় থাকুক, এটাই আমার কাম্য। 

মিসেস মাজিদা একটা মৃদু হাসি নিয়ে মাথা নাড়লো। আর পাশে থাকা একটা বিশ-বাইশ বছরের মেয়েকে বলল, 

-ঐ মাইয়া, যা ভাইয়ের জন্য চা নিয়া আয়। 

তামজিদের বাবা জলদি বলে উঠলেন, 

-আরে আপা, থাক থাক। আমি একটু কথা বলতে এসেছি আপনার সাথে। কিছুক্ষণ আগেই চা খেয়ে এসেছি। 

মিসেস মাজিদা আর বেশি জোড়াজুড়ি করলেন না। বুঝা গেলো মেহমান আপ্পায়নে তিনি অনেক দুর্বল। 

তামজিদের বাবা আবার শুরু করলেন, 

-তো আপা, যেটা বলতে এসেছিলাম। আমার এই ভাইটাকে একটা চাকরি দিলে ভালো হতো। কিছু মাস হলো ওর পরিবার অনেক কষ্ট করছে। চাকরি পাচ্ছেনা কোথাও। তার আবার একটু পরিবারের প্রতি মায়া বেশি তো। তাই সে ঢাকা যেয়ে চাকরি নিতে চায়না। দুইটা বাচ্চা আছে, এখনো ছোট। ওদের খাওয়া পড়ানো করাটাও অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে। 

মিসেস মাজিদা কিছক্ষণ গম্ভীর চোখে তাকিয়ে রইলো করিমের দিকে। করিম কি বলবে কিছু বুঝতে পারছেনা। মিসেস মাজিদার দিকে একটু তাকিয়ে মাথা চুলকালো। 

পরে করিম ভাবলো একটু কান্না কান্না ভাব নিয়ে অভিনয় করবে, 

-আপা, আমার এই দুইটা বাচ্চার প্রতি অনেক মায়া। আপা, একটু বুঝেন আমার কষ্টটা। এখানে আর কোথাও কাজ করার মতো কিছু পাইনা। ব্যবসা ট্যাবসা নিয়ে আমি কিছু বুঝিনা তাই ওসব করার সাহস পাইনা। একটু দয়া করেন আপা। আপনি যেভাবে বলবেন আমি সেভাবেই কাজ করবো। কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করবোনা। 

মিসেস মাজিদা ইলিয়াসের দিকে তাকিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করলো সব বলে দেওয়া হয়েছে কিনা করিমকে।

পরে ইলিয়াস বলল, 

-যা যা শর্ত বললাম সবই মেনে নিয়েছে। এখন পালন কতটুকু করে সেটা হলো বিষয়। 

মিসেস মাজিদা গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,

-দেখ করিম, তুমি সব কিছুতে রাজি হয়েছ ঠিকই, কিন্তু বুঝে নিয়ো। এখানে এসেছো যেহেতু, আর ছাড়া পাবেনা। পরিবারের সাথে কম দেখা সাক্ষাৎ করতে হবে। যদি এখানে কাজ করতে চাও, তবে মন প্রাণ দিয়ে করতে হবে। একটু কাজে অবহেলা হলে অনেক রকম শাস্তি পেতে হবে। রাজি?

করিম একটু ঢোক গিলে কিছুক্ষণ ভেবে নিলো, কিন্তু সে তাতক্ষনাৎ রাজি হয়ে গেলো কারণ সে তার ভাইকে নিচু করতে চায়না। তামজিদের বাবা ওকে অনেক সাহায্য করেছে, কঠিন সময়গুলোতে সবসময় পাশে থেকেছে। এই মানুষ্টার জন্যই এত কিছু সহ্য করতে হবে করিমকে। তবে, সে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখেছে, যে যাই হোক না কেন। আল্লাহ তার পাশে সবসময়ই থাকবে।

করিমকে রেখে তামজিদের বাবা বের হয়ে গেলো সেখান থেকে। আলাদা করে কিছু বলেনি তামজিদের বাবা, কারণ যা বলার আগেই বলে নিয়েছে। 

*******

এই কয়টা দিন ইমতিয়াজ কোন কাজেই ঠিক মত মন লাগাতে পারেনি আর ঘুমাতেও পারেনি। শুধু মনে মনে লিয়ানার কথা ভাবছে। লিয়ানা কেমন আছে? কি করছে? ওই মহিলাটা তো বলল যে ওকে কোনো কাজ দিবেনা। তবে যদি ওই মহিলাটা মিথ্যা বলে থাকে? না, লিয়ানার কিছু হলে ইমতিয়াজ সহ্য করতে পারবেনা। আগে লিয়ানার কাছে যেয়ে ওকে মনে করাতে হবে তাদের অতীতের কথা। কিন্তু লিয়ানা কি আসলেই ভুলে গেছে? গেলে, শেষবার তো ইমতিয়াজের ভয়েস শুনে ওইরকম চাহনি নিয়ে তাকাতো না। যা হবে পরে সেখানে গেলেই দেখা যাবে। 

ঠিক ৫ দিন পর, রাত ১০ টায় সব কাজ শেষ করে আবার সেখানে গেলো ইমতিয়াজ। পকেটে হাত দিয়ে মুখে গম্ভিরতা নিয়ে ভেতরে ঢুকলো। সেই মহিলাটা ইমতিয়াজকে আগমন করলো। ইমতিয়াজের হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে। ভয় হচ্ছে, লিয়ানাকে যদি খারাপ অবস্থায় দেখে? 

ইমতিয়াজ সব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে একটা রুমের দরজার সামনে দাঁড়ালো। মনে মনে অনেক বলছে যাতে লিয়ানাকে অসহায় অবস্থায় না দেখে। 

পরিবেশটাও ভালো লাগছেনা ইমতিয়াজের। আশে পাশের যে মেয়েগুলো আছে তারা কিভাবে তাকাচ্ছে। আর কিছু কিছু ঘর থেকে তো আজগুবি শব্দও শোনা যাচ্ছে। পরিবেশে মদ ও সিগারেট মিশ্রিত একটা বাজে গন্ধ। উফফ কি বিপদ। 

রুমের দরজা চাবি দিয়ে খুলে দিলো মহিলাটা। রুম অন্ধকার হয়ে আছে। হয়তো লিয়ানা লাইট অফ করে রেখেছে। 

মহিলাটা ঢুকতে ঢুকতে বলল, 

-স্যার, একদম ইন্ট্যাক্ট আছে। আপনার জন্যই রিজার্ভ ছিল। 

ইমতিয়াজ মাথা নাড়ালো। 

রুমের ভেতর গেলে মহিলাটা লাইট জ্বালাতে নিলে ইমতিয়াজ বলল, 

-আপনার কিছু করতে হবেনা। আপনি যান আমাকে আমার কাজ করতে দিন। 

মহিলাটা চলে গেলে ইমতিয়াজ দরজা লাগিয়ে দেয়। 

লাইটটা জ্বালিয়ে নেয়। লিয়ানা খাটের পাশে ফ্লোরে হাটুর উপর মাথা নিচু করে রেখে বসে আছে। 

ইমতিয়াজ সামনে গেলে মাথা উঠায়। চোখ মুখ দেখে মনে হলো কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। আবার শুরু হলো কান্নাকাটি, ইমতিয়াজের পা ধরে চিৎকার করতে করতে বলল,

-প্লীজ, আমাকে কিছু করবেন না। প্লীজ, আমি নিজেকে নষ্ট করতে চাইনা। প্লীজ, প্লীজ, প্লীজ। আমাকে নিজের ছোট বোন ভেবে ছেড়ে দিন প্লীজ। 

ইমতিয়াজ হতচকিত হয়ে বলল, 

-আরে, কি করছো পা ছাড়ো আমার। 

তবুও আগের মত একইভাবে কান্না আর চিৎকার করতে করতে কথা বলল। 

ইমতিয়াজ জোড়ে ধমক দিলো এবার, 

-আমার পা না ছাড়লে তোমাকেও আমি ছাড়বো না।

লিয়ানা ধমক খেয়ে হাত সরিয়ে আবার গুটি শুটি করে বসে কাঁপতে থাকলো আর ঠান্ডা গলায় বলল, 

-প্লীজ, আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনার জন্যে দোয়া করবো। টাকা দরকার হলে আমি বাসায় বাসায় কাজ করে আপনাকে দেব। তবুও আমাকে ছেড়ে দিন প্লীজ। 

ইমতিয়াজ লিয়ানার সামনে হাটু গেড়ে বসলো। লিয়ানা এখনো মাথা নিচু করে চোখ বুজে আছে। চোখ ভিজে আছে অসংখ্য অশ্রুতে। 

ইমতিয়াজ ঠান্ডা গলায় বলল, 

-আমার দিকে তাকাও। 

তবুও তাকালো না লিয়ানা। কণ্ঠ পরিচিত হলেও এখন লিয়ানার মাথায় কিছুই ঢুকছেনা। তার মাথায় শুধু এখন এটাই আছে কিভাবে তার সামনে থাকা দানবকে ওর গায়ে হাত দেওয়া থেকে আটকাতে পারবে। 

ইমতিয়াজ লিয়ানার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে নরম সুরে  আবার বলল, 

-একটা বার আমার দিকে তাকাও, প্লীজ। 

মানে? লিয়ানা অবাক হলো। তার সামনে থাকা লোকটা এভাবে নরম সুরে কেন কথা বলছে ওর সাথে। লোকটার কথা শুনে মনে হচ্ছে, তার মনে কোনো খারাপ চিন্তা নেই। তবুও ভয়ে ভয়ে  লিয়ানা চোখ খুলল। ধিরে ধিরে মাথা উঁচু করে দেখে কিছু মুহুর্ত চোখ বড় করে চেয়ে ছিল। পরিস্থিতি বুঝে উঠায় তাৎক্ষনাত সে ইমতিয়াজকে জড়িয়ে ধরলো। আর শক্ত করেই ধরলো। ইমতিয়াজের শার্ট এমন ভাবে ধরে রেখেছিল যে যেখানে ধরেছে সেই জায়গাটা কুঁচকে গেছে। অঝোরে কান্না করছে সে, কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু ইমতিয়াজের নাম ছাড়া কিছুই বের হচ্ছেনা মুখ দিয়ে, 

-ইমতু...আ...তুমি... ইমতু। 

ইমতিয়াজ একটু মজা করে বলল, 

-আমার শ্বাস বের হয়ে গেলো আস্তে ধরো, বাবাগো। 

লিয়ানা জলদি ইমতুকে ছেড়ে দিলো, 

-সরি, আ...আসলে। আ...আমি...

ইমতিয়াজ লিয়ানার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করিয়ে দিলো, 

-একদম চুপ। সরি বলতে হবেনা। তুমি এখানে কিভাবে এলে আমাকে তা বলো। 

লিয়ানা কান্না থামিয়ে বলল, 

-আসলে... আমাদের অবস্থা... 

পুরো কথাটা বলতে পারলো না দরজায় টোকা পড়লো। একবার পিছনে ফিরে ইমতিয়াজ বলল, 

-শুনো, তুমি কি চাও এখান থেকে বের হতে?

লিয়ানা জোড়ে মাথা নাড়লো, 

-অবশ্যই চাই, নাহলে এত কান্নাকাটি কিসের জন্যে, বলো?

-তাহলে আমার সাথে অ্যাক্টিং করতে হবে তোমার। পারবে? 

-কি করবো? 

-দেখ, এটা শুনতে খারাপ লাগলেও করতে হবে। কিন্তু আমি তোমাকে আশ্বাস দিচ্ছি আমি কিছুই করবো না তোমার সাথে। 

-বলো। 

ইমতিয়াজ সব কিছু বুঝিয়ে দিলো লিয়ানাকে। 

সে দরজার কাছে যেয়ে নিজের শার্টটা খুলে ফ্লোরের এক পাশে ছুড়ে ফেলে দিলো। দরজাটা খুলে মুখে বিরক্তির ছাপ নিয়ে বলল, 

-কি হয়েছে? 

-না আসলে একজন বলল মেয়েটা নাকি চিল্লা পাল্লা করছে। আপনার সাথে বেয়াদবি করেনি তো? 

ইমতিয়াজের কাঁধের ওপাশে তাকিয়ে দেখলো লিয়ানা বেড এ বসে আছে, গায়ে শুধু ব্রা পড়া আর ওর পড়া কামিজটা দিয়ে বুক ঢেকে রেখেছে।

ইমতিয়াজ বলল, 

-আপনাকে বলেছি আমার জানা আছে অনেক কিছু। মেয়েদের কীভাবে উত্তেজিত করতে হয় জানা আছে। তাই এবার দয়া করে আমাকে জ্বালাবেন না। চলে যান এখান থেকে। 

মহিলাটা একটু অবাক হলো। আমতা আমতা করে বলল, 

-ওহ, আ...মানে... আচ্ছা ঠিক আছে। দুঃখিত।

মহিলাটা রুম থেকে ত্যাগ করার পর ইমতিয়াজ দরজা লাগিয়ে দিয়ে একই ভাবে দাড়িয়ে থাকলো। পেছনে তাকানোর সাহস করলো না। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বলল, 

-পড়েছ? 

লিয়ানা জলদি করে কাপড়টা পড়ে নিয়ে গায়ে ওড়নাটা দিয়ে বলল, 

-হ্যাঁ। 

ইমতিয়াজ নিজের শার্টটা উঠিয়ে পড়ে নিলো।

পেছনে ফেরার আগে আর একবার জিজ্ঞেস করে পেছনে ফিরলো। 



******

দিশা কিছুক্ষণ ভুরু কুঁচকে দাঁড়িয়ে রইলো দরজার দিকে। মনে মনে বলল, 

-কি এমন পাইছে মেয়েটার মধ্যে? আমি তো এই মেয়ের থেকে কত সুন্দর। আমাকে চুজ না করে ওই বস্তির মেয়েকেই চুজ করতে হইলো? এই মেয়েকে আমি শিক্ষা দিব। 

রাগে ফুঁস ফুঁস করতে করতে ওই মহিলাটার কাছে গেল। 

ওকে দেখে মহিলাটা বলল, 

-কিরে দিশা। কি অবস্থা? 

-কি আর। আছি ভালই। আচ্ছা আপা, এখানে যে নতুন একটা মেয়ে এসেছে না? 

-হ্যাঁ, তো? 

-এই পোলাটা যে আসলো, আমার মনে হয় মেয়েটারে চিনে। নাইলে ওরেই কেন চুজ করবে? আমিও তো কত সুন্দর, রাস্তা দিয়া হাটলে সব মানুষ তাকায়া থাকে। এই মেয়ের মধ্যে কি পাইলো? বুকও তো বেশি ফোলা না। 

-আরে বুঝিস না? যে তারে নিছে, সে একদম নতুন চায়। যারা একবার করছে জীবনে, তাদেরকেও নিবেনা। দেখে দেখে ভালোটাই নিবে।

-আরে আপা। এখানে কি ভালো মেয়ে আছে যে ভালোটাই খুঁজবে? আচ্ছা যাই হোক, তবুও আমার মনে হয় তোমার আরেকবার দেখে আসা উচিত, কি জানি কথা বলতেছে শুনলাম। তুমিই বলো, অচেনা থাকলে কি এত কথা পাইতো বলার মত? 

কিছুক্ষণ ভেবে হাতে চাবিটা নিয়ে রুমের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো। 







(বিঃ দ্রঃ দেখেন আমি এতটাও খারাপ কথা ইউজ করিনা। গল্পের থিমের সাথে মিলাতে যেয়ে বাধ্য হয়ে ইউজ করতে হচ্ছে। আমি ভালো বাচ্চা। :D

**ইনজয়**)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/93066/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Jan 2022 17:55:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পের নামঃ তোমার ফেরার অপেক্ষায়<br />
পার্ট-৩ </p>
<p>-কি হইছে? তুই এভাবে কাঁপা গলায় কথা বলতেছিস কেন?</p>
<p>-ভাই, পরে বলবো সব। তোর বাবার সাথে কথা বলতে হবে আমার। নাম্বারটা দিস।</p>
<p>-কেন?</p>
<p>-ধুর, পরে বলবো। তুই দে আগে।</p>
<p>নাম্বারটা নিয়ে তামজিদের বাবার কাছে ফোন দিয়ে কিছু প্রশ্ন করলো আর সব খুলে বলল।</p>
<p>*******</p>
<p>সকাল এগারোটা বাজে।</p>
<p>তামজিদের বাবা সেই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-93066"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/93066/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">29228fef809e7fa13cd34db860fc5255</guid>
				<title>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা
পার্ট-৬ 

মেয়েটা ঘুরে চলে যেতে নিচ্ছল তখনই থামিয়ে দিল শ্রাবণ,
-আচ্ছা নামটা তো বলে যান?
-নিজে অনুসন্ধান করে নিন।
এই বলে আবার দৌড় দিল।

এবার শ্রাবণের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়েছে। সে কোনো কিছু পরোয়া না করে সরাসরি তাসরিফের কাছে গেল। বাকি বন্ধুদের সাথে সেও ছিল।

প্রায় তারাহুরো করে তাসরিফের কাছে গেল শ্রাবণ।
-এদিকে আয়, কথা আছে।
তাফসির বাকি বন্ধুদের রেখে এলো একটু দূরে।
-বল কি হয়েছে?
-মেয়েটাকে চিনিস?
-কোন মেয়েটা?

জোড়ে নিঃশ্বাস নিল শ্রাবণ।
-ওয়েট, ওয়েট। বলিস না তুই কারও প্রেমে পড়ে গিয়েছিস।
-নিজেকে সামলাতে পারিনি। তুই চিনিস ওকে। ওর নামটা বল প্লীজ। 
-আরে ভাই থাম। আগে ক্লু দে মেয়েটা কেমন দেখতে।
-এত কিছু বলতে পারবো না। শুধু এইটুক জানি যে সে নিশার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী আর একটু মোটা।
-ওহ সেই মোটি মেয়েটা। ভাই! তুই একটা চিজ। তোর মা মোটা মেয়েদের পছন্দ করেনা আর তুই একটা মোটা মেয়ের প্রেমেই পড়লি?
বলে একটু হাসলো।
শ্রাবণ রাগে তাফসিরের পেটে ঘুষি দিল।
-খবরদার, ও তোর ভাবী। তোকে কেটে তোর মাংস গুলো কুকুরকে খেতে দিব যদি খারাপ কিছু বলিস ওকে নিয়ে। 
-ও বাবা। থাক থাক আমি দেখি তোর ভাবীকে জিজ্ঞেস করে। মোটিটার নাম, নাম্বার আর ফেসবুক আইডি নিয়ে দিব।
শ্রাবণ রাগান্বিত চোখে তাকালো তার দিকে।
একটু হেসে নিয়ে সে কল দিল নিশাকে।
ফোন দিয়ে জেনে নিলো আর ফেসবুক আইডি ও নিয়ে নিলো।

প্রায় তারাহুরো লাগিয়ে শ্রাবণ তার ফোন বের করে ফেসবুক আইডি খুঁজে রিকুয়েষ্ট দিল।

তাফসিরের কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে জলদি করে বাসার উদ্দেশ্য রওয়ানা হলো।

বর্তমান....

ওরা নৌকা থেকে উঠে আবার গাড়ির কাছে গেল।
শ্রাবণ ড্রাইভারের সিটের দরজাটা খুলতে যাবে তখনই সন্ধ্যা থামিয়ে দিল ওর হাত ধরে।

শ্রাবণ তাকালো।
-কি ব্যাপার? এখানেই থাকতে চাও?
-তা চাই, তবে স্পেশাল মানুষের সাথে দেখা করতে হবে না? আসলে আমি বলছিলাম কি...
শ্রাবণ একটু কাছে এসে এক চোখ টিপে বলল,
-কি বলছিলে বলো?
-খবরদার এভাবে তাকাবেনা, একদম চোখটা গালিয়ে দেব।
-তা যদি তোমার হাতের আঙ্গুল দিয়ে হয় তাহলে রাজি আছি।
-আচ্ছা এসব বাদ দাও, যা বলছিলাম শোনো। তুমি অনেক পরিশ্রম করেছ। এবার আমি চালাবো দাও। 

শ্রাবণ তো অবাক হয়ে গেল। গোল গোল চোখে সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 

-তুমি গাড়ি চালাতে পারো? 

-অবশ্যই। কেন? মেয়ে বলে এতটা পিছিয়ে থাকবো? 

-তুমি আমাকে প্রতিবারই বাকরুদ্ধ করে দাও। 

-হয়েছে এত ঢং করতে হবেনা। এবার সরো, আমি চালাবো গাড়ি। 

-কিন্তু তুমিতো চিনো না। 

-ছাগল তুমি একটা। তোমাকে গাড়ি চালাতে মানা করেছি, ঘুমাতে বলিনি। তুমি আমার পাশে বসবে। 

-কিন্তু সামিহাকে কি করবো? 

-ওর কথা ভেবো না। ওর ঘুম পেয়েছে, খুব সকালে উঠেছে। ও পিছনের সিটে ঘুমাবে। 

এই বলে শ্রাবণকে সামনে থেকে সরিয়ে ড্রাইভার সিটে বসলো সন্ধ্যা। 

শ্রাবণ মাথা নামিয়ে ড্রাইভার সিটের জানালা দিয়ে সন্ধ্যার মুখোমুখি হলো, 

-সন্ধ্যা? 

-বলো। 

-তুমি সত্যি পারবে? 

সন্ধ্যা শ্রাবণের নাকটা টেনে দিয়ে বলল,

-দেখুন মিস্টার আরফান মোটা বলে অনেকেই আমাকে অনেক বাজে কথা শুনিয়েছে, তবে এই মোটা মেয়েটার মধ্যে যে কত ট্যালেন্ট আছে সেটা খুব কম মানুষই জানে। যাই হোক, যাও তুমি পাশের সিটটায় বসো আর আমাকে দিক নির্দেশনা দাও। 

শ্রাবণ চুপচাপ কথা মত কাজ করলো। 

কিছুটা পথ দেখানোর পর শ্রাবণ বলল, 

-তুমি আসলেই গুণবতী। কয়েক মিনিট হলো মাত্র, আর তুমি আমাকেও পেছনে ফেলে দিলে? 

-দেখতে হবে না কার পছন্দের মানুষটা আমি? 

-অবশ্যই আমার, অন্য কারও হতে দেব নাকি আমি? আচ্ছা শোনো এখান থেকে সোজা চালাতে থাকবা আর কিছুক্ষণ পর একটা ছোট হোটেল পাবা, বাঁশের তৈরী। সেখান থেকে ডান দিকে যাবে। অবশ্য আমিই দেখিয়ে দেব। তবুও বলে রাখলাম। কথা বলতে বলতে আমার মুখ ব্যাথা হয়ে গেছে। 

সন্ধ্যা খিলখিল করে হেসে উঠলো।

-তোমার কি মনে হয়েছে আমি নিজে শুধু কষ্ট করব? তোমাকেও কষ্ট দিচ্ছি। 

-বাঁদরামি ছাড়ো আর গাড়ি চালানোতে মন দাও। নাহয় আমাদের শেষ গন্তব্য হবে ড্রেইনে নয়, গরুর গোবরে। 

সন্ধ্যা হেসেই চলল, তবে সে মন দিয়ে গাড়ি চালাতে ভুলেনি। শ্রাবণ মুচকি হেসে তার দিকে চেয়ে রইলো। 

.......

শ্রাবণ অধীর হয়ে বসে আছে কবে মেয়েটি তার রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করবে। ভাবতে ভাবতে সে প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিল। 

হঠাৎ একটা নোটিফিকেশন এলো। হতচকিত হয়ে উঠে বসে পড়ল সে, চোখ কঁচলালো । হাতে ফোন টা নিয়ে দেখলো সে।

খুশিতে সে আত্মহারা হয়ে ফোনটা প্রায় ফেলেই দিচ্ছিল। জোড়ে শ্বাস নিয়ে ফোনটা হাতে নিল। ফেসবুকে কোন ছবি নেই তার, তবুও শ্রাবণের মন বলছিল এটা সেই মেয়েটিই। 

সে মেসেজ দিল, 

-আমাকে কি এখনো চিনতে পারেন নি? নিশাকেও কি চেনেন না? 

-না তো, নিশা আবার কে? আর আমরা কি আগে কোনোদিন দেখা করেছি? আজ নাহয় পার্কে দেখা হলো। আর এত জলদি আমাকে খুঁজলেন কিভাবে?

-কি করলে আপনার মনে পড়বে বলুন তো? 

-আপনি এত মনে করাতে চাচ্ছেন কেন শুনি?  

-দেখেন মিস সন্ধ্যা, আমি জানি আপনি দুষ্টুমি করছেন। আপনি আমাকে চিনতে পেরেছেন ঠিকই।  আমার মন বলছে আপনি আমাকে চিনেছেন। 

-মন তো কত কিছুই বলে। 

-আচ্ছা, কাল কথা হবে, আমার ছোট বোনকে পড়াতে হবে। 

-আচ্ছা। 

পরদিন শ্রাবণ ফন্দি আঁটলো। 

বিকেল বেলা সে কিছু না বলেই সরাসরি কল দিয়ে দিল সন্ধ্যাকে।

-হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম। 

শ্রাবণ একটু  ক্লান্ত ছিল, আর খুবই ইচ্ছে করছিল সন্ধ্যার কন্ঠস্বরটা একটু শুনতে। ব্যস, তার মনের আশা পুরণ হয়ে গেলো। শ্রাবণের অফিসের কাজের চাপে আজ যে মানসিক চাপটা তৈরি হয়েছিল তা নিমিষেই হালকা হয়ে গেল। মনের মধ্যে যে অস্থিরতাগুলো জ্বালাতন করছিল, সেগুলো এখন শান্ত হয়ে গেছে। 

মৃদু স্বরে উত্তর দিল, 

-কেমন আছেন? 

-জ্বী ভালো, আপনি?

-আছি, তো আপনার বাসার সবাই কেমন আছে? 

সন্ধ্যা কিছুক্ষণ চুপ থাকল, পরে একটু নিরাশ হয়ে উত্তর দিল, 

-ভালো। আপনার? 

শ্রাবণ বুঝতে পেরেছে তবে কিছু জিজ্ঞেস করল না। সে টপিকটা পালটে ফেলল।

-ভালো। আচ্ছা আপনার বান্ধবী নিশা কেমন আছে? অনেকদিন দেখা হয়না ওর সাথে। আমার বন্ধুও ইদানিং ব্যস্ত থাকে তাই ওকে জিজ্ঞেস করা হয়না। 

-ভালো আছে। 

-আপনি জানেন ওরা হানিমুনে কোথায় গিয়েছিল? 

-হ্যাঁ, মানালিতে। 

-কতদিন থেকেছে? 

-২০ দিন। 

শ্রাবণ কিছু না বলেই হেসে উঠলো, তার হাসির শব্দ শুনে সন্ধ্যা একটু রাগ হলো। 

-হাসছেন কেন? হাসির কিছু বললাম? 

-আপনার দেখি সব কিছু মনে পড়ে গেছে। 

ওপাশে কিছু মুহুর্ত নির্জনতার পাহাড় গড়ে উঠলো। শ্রাবণ না দেখেই বলতে পারবে যে সন্ধ্যার চোখ গুলো ফুটবলের মত গোল হয়ে গেছে।  

একটু পর দুজন একসাথেই হেসে উঠল। 


বর্তমানে....

ওরা ওদের নানু বাড়ি এসে পৌঁছাল। 

সন্ধ্যাকে গাড়ির ভেতরেই থাকতে বলা হয়েছে, কারণ শ্রাবণ নানুকে সারপ্রাইজ দেবে। 

শ্রাবণ নানুকে আনতে গেল। আর এদিকে সন্ধ্যা নিজেকে ঠিকঠাক করে নিল। 

সন্ধ্যা দেখতে পেলো শ্রাবণ নানুর চোখ বন্ধ করে এদিকে নিয়ে আসছে। সন্ধ্যার সামনে দাঁড় করিয়েছে। 

শ্রাবণ বলল, 

-নানু, এখন এমন একজনের সাথে দেখা করবে যে তোমার মতই আমার জীবনে অনেক স্পেশাল। তবে তুমি একটু বেশিই স্পেশাল থাকবে। 

নানু চোখ খোলার পর সন্ধ্যা ভদ্রতা ও বিনয়ের সুরে নানুকে অভিবাদন করল, 

-আসসালামু আলাইকুম নানু, ভালো আছেন? আমি সন্ধ্যা। 

শ্রাবণ একটু নার্ভাস হয়ে গেল। 

নানু কিছুক্ষণ গম্ভীর চেহারা নিয়ে তাকিয়ে ছিল সন্ধ্যার দিকে। তারপর শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বলল, 

-তুই জানিস তো তোর মা এমন মেয়ে পছন্দ করেনা? 

মাথা নিচু করে শ্রাবণ উত্তর দিল, 

-জানি নানু, এই জন্যেই তোমার কাছে এসেছি। 

হঠাৎ নানুর চেহারার অভিব্যক্তি বদলে গেল। এখন তাকে হাসিখুশি ও প্রাণোচ্ছল দেখাচ্ছে।

-ধুর, ওই বজ্জাত মহিলা ড্রেনে পড়ুকগে। আমার তো ওকে অনেক ভালো লেগেছে। আসো মা, আমার সাথে এসো। 

নানু এমন ভাবে খুশিতে ওকে টেনে নিয়ে গেলো যেন মনে হচ্ছে একটা ছোট মেয়ে নতুন বান্ধবী বানিয়েছে। 

শ্রাবণ গাড়িতে হেলান দিয়ে হাত গুটিয়ে রেখে ওদেরকে ঘরের ভেতর যেতে দেখল। মুখে ছিল খুশির, শান্তির ও তৃপ্তির হাসি। 

গাড়িটা এক পাশে পার্ক করে আসার সময় শ্রাবণের তার নানার সাথে দেখা হয়। বাজার থেকে ফিরছিল নানা।  

-কিরে ব্যাটা। কি খবর? 

-আরেহ বুড়ো নানা। খবর তো ভালই। আপনার কি খবর? আমার নানুকে নিয়ে তো সুখেই আছেন। আমার তো হিংসে হয় এখনো। 

-তোর নানি যতদিন পাশে থাকবে ততদিন ভালই থাকব। 

-ইশশ, নানা আপনি আরও ঈর্ষান্বিত করছেন আমাকে। তবে এখন আমিও একজনকে পেয়েছি। 

-হুমম, আমার ব্যাটা বড় হয়ে গেছে। তাকে নিশ্চয় এখানে এনেছিস? 

-আপনাদের সাথে দেখা করার জন্যই তো এনেছি নানা। আপনার মেয়ে কেমন তাতো জানেনই। প্লীজ হেল্প করুন আমাকে। 

-আচ্ছা চল, দেখা করে আসি তোর সেই স্পেশাল মানুষটার সাথে। যদি তোর নানুর ভালো লাগে, আমার কোন আপত্তি নেই। একবার একজনকে হারিয়েছি। আর হারাতে চাইনা। চল।

ঘরে ঢুকে সন্ধ্যা আগের মতই সুন্দর করে অভিবাদন জানালো। নানাও নিজের নাত্নীর মত আদর যত্ন দিয়ে ভরিয়ে দিল।  

তারপর নানু কয়েকটা বাচ্চার সাথে দেখা করিয়ে দিল। বাচ্চাগুলো নানা নানুর সাথে থাকে। তারা এতিম, তবে নানা নানুর আদরে ওরা নিজেদের এতিম মনেই করেনা। তাদেরকে খাওয়ান, কাপড়-চোপড় কিনে দেন, আর নিজেরাই ঘরে বসে শিক্ষা দেন।   

দুপুরের দিকে শ্রাবণ আর তার নানা মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। আর সন্ধ্যা নানুকে রান্না-বান্নায় সাহায্য করে। মসজিদ থেকে এসে দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে বিকেলে ওরা সবাই ছাদে যেয়ে বসে। 

অন্যদিকে সামিহা সেখানের সেই বাচ্চাগুলোর সাথে খেলা করে বাড়ির আশে পাশে। 

কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে নানু সন্ধ্যাকে বিশ্রাম নিতে বললেন। সন্ধ্যা বিশ্রাম নিতে যাওয়ার পর নানা বললেন, 

-এবার বল তোর সমস্যার কথা। যুদ্ধ করতে হবে নাকি কারও সাথে? 

-না আসলে তেমন কিছু না। গোড়া থেকেই বলব? 

-হ্যাঁ। 

-আচ্ছা।

শ্রাবণ তার নানা নানুকে সব খুলে বলল কীভাবে মেয়েটির সঙ্গে দেখা হয়েছে, কিভাবে তারা এগিয়েছে।

-কিন্তু নানা, আপনারা তো জানেনই যে মা মোটা মেয়ে একদমই পছন্দ করেন না। জানিনা শুধু মোটা মেয়ের জন্যে কিনা। কিন্তু আরেকটা কারণও আছে। 

-কি সেটা? 

-ও ওর চাচার বাসায় থাকতো। ওর বাবা মা নেই। যেদিন আমার ওর সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল, সেদিন একটা ফোন আসাতে সে তারাহুরো করে চলে যায়। পরে ওর সাথে কথা হওয়ার পর থেকে বুঝতে পারলাম যে সেদিন ওর বাবা মা বাসে সেখানে আসার সময় বাস এক্সিডেন্ট হয় হাইওয়েতে। কয়েকজন ছাড়া সবাই নিহত হয়েছিল। সেখানে ওর বাবা মা ও ছিল। 

জোড়ে নিঃশ্বাস নিয়ে আবার বলল, 

ওর চাচা চাচি ওকে অনেক আদর করে, কিন্তু একদিন ও শুনে ফেলে যে চাচা চাচির একটু সমস্যা হচ্ছে ওকে বাসায় রাখার জন্যে। চাচা চাচি আসলে চায় নি ওকে জানাতে। কিন্তু তারপর সে নিজে একটা পার্ট টাইম জব খুঁজে নিয়েছে। এখন আলহামদুলিল্লাহ কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কয়েক মাস আগে সে হোস্টেলে উঠে যায় বিভিন্ন বাহানা দিয়ে। কিন্তু মা মনে করেন যে এসব মেয়েরা টাকার জন্যে এমন করে। নানা দেখুন, আমি আসলে এটা বিশ্বাস করতে চাইনা। তবুও মা আমাকে বার বার একই কথা বলে। কত চেষ্টা করলাম। বাবার তো এত সমস্যা নেই কিন্তু সব সমস্যা মায়ের। নানা, মা আমাকে বলেছে যে এই মেয়েকে নিয়ে সে সুখে থাকতে পারবেনা। কিন্তু বিয়ে তো একটা ছেলে আর মেয়ের মধ্যে, ছেলেটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছে যে মেয়েটা পারবে তার সাথে সুন্দর ভাবে থাকতে। আচ্ছা একবার অন্তত দেখে নিতে পারতো? একবার অন্তত খোঁজ খবর নিতো? বা একটা সুযোগ দিতো? কিন্তু নানা সেদিনের পর থেকে সন্ধ্যার মনটা খারাপ থাকে। সে আমাকে না বললেও আমি বুঝতে পারি। 

-কি হয়েছিল সেদিন?

শ্রাবণ জোড়ে নিঃশ্বাস নিল। 

-সেদিন মাকে অনেক রাজি করিয়ে সন্ধ্যাকে বাসায় নিয়েছিলাম দেখা করার জন্যে। আর মা, সাথে সাথেই তাকে ঘর থেকে বেড়িয়ে যেতে বলল। কিন্তু নানা জানেন? সেটার পর তার উত্তর কি ছিল? উত্তর দিয়েছিল যে, &quot;আন্টি, আমি যদি আপনাকে কোনো কারণে কষ্ট দিয়ে থাকি বা আপনার ইগোতে হার্ট করে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু করিনি। আপনি না চাইলে আমি আর কোনোদিন এই  বাসায় আসবো না। ভালো থাকবেন আন্টি।&quot; 

নানা নানু দুইজনের চোখই বড় হয়ে গেছে।  

শ্রাবণ আবার বলা শুরু করল, 

-ওর কথা শুনে আমার চোখে পানি এসেছিল। সে চলে যাওয়ার পর আমি পেছন পেছন যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু মা আমাকে যেতে দেয়নি। আর অন্যদিকে, সন্ধ্যা মনে করেছিল যে মা পছন্দ করেনি আর রাজি হয়নি কারণ আমি না জানিয়ে প্রেম করেছি আর মাকে কষ্ট দিয়েছি। আমিও তাকে কিছু বলিনি। কিন্তু সন্ধ্যা আসল কথাটা জানেনা। সন্ধ্যা বাসা থেকে যাওয়ার পর মা অনেক খারাপ মন্তব্য করেছে তার নামে। অনেক বাজে ভাষায় গালি দিয়েছে। আসলে রাগ উঠলে কেউ থামাতে পারেনা বাবা ছাড়া। আর বাবা তখন বাজারে ছিলেন। 

বলতে বলতে শ্রাবণের কিছুই মনে ছিল না। সে খেয়াল করল চোখের কোণে কিজানি নড়ে উঠল। তাকিয়ে দেখে অথৈ দাঁড়িয়ে আছে। চোখ পানিতে ভরা। শ্রাবণ জলদি উঠে দাঁড়ালো, সাথে নানা নানুও। 

নানু পরিস্থিতি হালকা করার জন্যে বলল, 

-আরেহ, কখন এলে তুমি মা? বুঝিই নি। এসো, বসো। তুমি বিশ্রাম নিয়েছিলে? 

সন্ধ্যা চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। মুখে কোনো অভিব্যক্তি ছিল না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/93022/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Jan 2022 17:18:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা<br />
পার্ট-৬ </p>
<p>মেয়েটা ঘুরে চলে যেতে নিচ্ছল তখনই থামিয়ে দিল শ্রাবণ,<br />
-আচ্ছা নামটা তো বলে যান?<br />
-নিজে অনুসন্ধান করে নিন।<br />
এই বলে আবার দৌড় দিল।</p>
<p>এবার শ্রাবণের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়েছে। সে কোনো কিছু পরোয়া না করে সরাসরি তাসরিফের কাছে গেল। বাকি বন্ধুদের সাথে সেও ছিল।</p>
<p>প্রায় তারাহুরো করে তাসরিফের কাছে গেল শ্রাবণ।<br />
-এদিকে আয়, কথ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-93022"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/93022/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ad246bf41dccf4c1976a282242394668</guid>
				<title>Mahira S changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92298/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Jan 2022 04:51:16 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7540a89ce86cbc5bb174df383c461b51</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92297/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Jan 2022 04:48:13 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7c24a58aff1797b40c1a3993bc715d81</guid>
				<title>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা
পার্ট-৫


বর্তমান.... 

শ্রাবণ আগেই দেখেছিল সেখানে নদী ভ্রমণের জন্য কয়েকটি নৌকা আছে। তবে বেশি মানুষ নেই। সে নৌকা চালকের সাথে কথা বলে আসলো। 

সামিহা আর সন্ধ্যার সামনে এসে হাটু গেড়ে বসলো সে। তারপর দুইজনের দিকে দু&#039;হাত বাড়িয়ে দিল। 

-আমার হাতে হাত রাখো। 

সন্ধ্যা একটু দুষ্টুমি করে বলল,
-কেন? ড্রেনে ফেলে দেবে নাতো?  

চোখ ঘুরিয়ে শ্রাবণ উত্তর দিল, 
-আমি কি এত খারাপ? 

সন্ধ্যা আর সামিহা খিল খিল করে হাসলো কিন্তু এবার দুইজনই হাত রাখলো শ্রাবণের  হাতে। 

ওদের নিয়ে গেল নৌকার কাছে। সামিহা খুশিতে লাফিয়ে উঠলো। 
-ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে। আমরা নৌকায় চড়ব। 

ওকে এমন খুশি দেখে শ্রাবণ আর সন্ধ্যা দুইজনই মুচকি হাসি দিল। 

ওরা নৌকায় উঠল। শ্রাবণ অথৈ কাছাকাছি বসলো। আর সামিহা দাঁড়িয়ে আছে। একটুও ভয় করছেনা ওর। 

সন্ধ্যা যত্নশীল ও সাবধানী কন্ঠে সামিহার উদ্দেশ্য বলল,
-সাবধানে সোনা পাখি। বেশি লাফালাফি করো না কিন্তু, পড়ে যাবে। 

সামিহাও ভদ্র বাচ্চাদের মত উত্তর দিল,
-ঠিক আছে আপু। 

বলে চুপ করে বসে পড়ল সে। হাসি আর যায় না মুখ থেকে।  

শ্রাবণ খেয়াল করলো সন্ধ্যা নিচু হয়ে পানিতে হাত দিচ্ছে। নদীর ঠান্ডা পানিটা তার স্পর্শ করতে ভালোই লাগছে। সামিহাও সন্ধ্যার সাথে যোগ দিতে দ্বিধাবোধ করল না। কিছুক্ষণ হাসি খুশি পানি নিয়ে খেলল তারা।

অপরদিকে এই  মুহুর্ত দেখে শ্রাবণ আবার গভীর ভাবনার জগতে চলে গেল। 

......
সেদিনের পর প্রায় ৫ মাস মেয়েটির সঙ্গে দেখা হয়নি। বিয়ের দিনও খুজেছিল শ্রাবণ তাকে, কিন্তু সে সেদিন আসেই নি। কাউকে জিজ্ঞেসও করেনি। জানা কথা, তাফসিরকে জানালে আগে কিছুক্ষণ পচাবে, তারপর নাম্বার বা ফেসবুক আইডি জোগাড় করে দেবে। তাই আর সে কিছু বলেনি। 

কিন্তু একটা কথা নিশ্চিত, সাফওয়ান মেয়েটিকে ভালোবেসে ফেলেছে। প্রথমে একটু নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্ত ১ মাস পর সে আর পারলো না। ওর কথা খালি মনে পড়ে যায়। এমন মানুষ কি আর প্রতিদিন পাওয়া যায়? মাঝে মাঝে ভয় হয় শ্রাবণের, যদি মেয়েটির জীবনে অন্য কেউ থেকে থাকে? আর যদি শ্রাবণকে তার প্রথম ভালোবাসাটাই হারাতে হয়? শ্রাবণ এমন একটি মেয়েকে পছন্দ করলো যেই মেয়েটিকে কখনোই তার মা পছন্দ করবেনা। বাবা তেমন কিছু বলবেনা। কারও ভুল হলে সেটা ধরিয়ে দেবে। শ্রাবণের বিশ্বাস যে যদি সে ওই মেয়েটিকে ভালোবেসে ভুল করে থাকে, তবে তার বাবা তাকে বুঝাবে, কিন্তু যদি না করে তার বাবা একটা কথাও বলবেনা, বরং নিজের মেয়ের মত আদর ও ভালোবাসা দেবে।  

শ্রাবণ আরও একটা জিনিস নিশ্চিত করে রেখেছে, তা হলো যদি কখনও দেখা হয় ওদের পিপোর সাথেও সেই মেয়েটিকে দেখা করাবে। তাই শ্রাবণ সেদিনই পিপোকে নিয়ে চলে যায় তার এক বান্ধবী মনিকার বাসায়। মনিকার একটা কুকুর পালার খুব শখ। তাই শ্রাবণ তাকে তার জন্মদিনে গিফট দিল। দু&#039;টি কারণে সে মনিকার কাছে রেখেছে, এক হলো মনিকার জন্মদিনের উপহার। কিন্তু সবচেয়ে বড় কারণ যেটা, তা হলো সেই অচেনা মানুষটার সাথে দেখা করানো।

৫ মাস পর, শ্রাবণ আজ একটা নীল পাঞ্জাবী পড়ে বের হলো বিকেলে। কথা ছিল বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যাবে। আজ শুক্রবার, তাই পারছে আর নাহয় অফিসের ব্যস্ততার কারণে কিছু করতে পারে না। 

বিকেলে একটা রেস্টুরেন্টে নাস্তা করে কাছাকাছি একটা পার্কে চলে গেলো ওরা। পায়ের উপর পা তুলে শ্রাবণ বসে আছে। কিছু একটা ভাবছে। আর পাশে ওর বন্ধুরা কথা বলছে। 

হঠাৎ সে একটা চেনা পরিচিত গলার স্বর শুনতে পেলো। সেই চেনা পরিচিত আওয়াজটি আর কারও নয়, শ্রাবণের সেই অচেনা মেয়েটি। তার চোখ দু&#039;টো প্রায় পাগলের মত খুঁজতে লাগল। আশে পাশে কোথাও পেলো না তাকে। কিন্তু সে এটাও ভাবতে চাইছেনা যে এটা শুধু মনের ভুল আর কিছুই না। কারণ সে স্পষ্ট শুনেছে আওয়াজটা। 
বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
-আমি আসছি। 
বন্ধুরা সন্দেহ করেনি, কারণ ওরা জানে শ্রাবণ হাসি খুশি আর প্রাণোচ্ছল হলেও মাঝে মাঝে একাকিত্বের সঙ্গী হতে পছন্দ করে।  

শুধু শ্রাবণের চোখ নয়, পুরো মন মস্তিস্ক সেই মেয়েটির আওয়াজকে অনুসরণ করছে। মেয়েটির কন্ঠস্বর তার মস্তিস্কে প্রতিধ্বনি হচ্ছে। প্রায় ছুটে চলছে সে তাকে খোঁজার জন্যে। 
সে দেখতে পেল হাটু গেরে বসে মেয়েটি একটি বিড়াল ছানাকে আদর করছে। আবার চুপচাপ দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দেখল সে। বিড়াল ছানাটাকে একটি নিরাপদ স্থানে রেখে দিল। এবার মেয়েটি উঠে দাঁড়াল। 

-ভালো থাকিস ছোট্ট বন্ধু। 
মেয়েটি ঘুরতেই দেখল একজন দাঁড়িয়ে আছে তার দিকে তাকিয়ে।

শ্রাবণ মুখ খুলল,
-অবশেষে আবার দেখা হলো আমাদের।

মেয়েটি তাকে চিনতে পেরেছে, তবে একটু দুষ্টুমি করলো,
-মানে? আবার দেখা হলো?
-জ্বী মিস অচেনা সেই মেয়েটি।
-বুঝলাম না। আমাদের কি এর আগে কখনো দেখা হয়েছে?
-উফফ, আপনি ভুলে গেছেন?
-সরি আপনাকে চিনতে পারলাম না। 
-সিরিয়াসলি? লেকের পার? দোলনা? বাদাম? পিপো? কিছুই মনে পড়ছে না? 

মেয়েটা বোকা চেহারা বানালো। ভান করলো যেন ওর মাথায় কিছু ঢুকছেনা ছেলেটা কি বলছে। 

লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে আবার বলল শ্রাবণ, 
-আপনি এখানে থাকেন?
-তা আপনি জেনে কি করবেন? অচেনা মানুষদের আমি এত কিছু বলি না। 

শ্রাবণ অস্থির হয়ে যাচ্ছিল,
-হ্যাঁ বা না একটা বললেই হয়, অত কিছু বলতে হবেনা। আমি আপনার ঘরে ডাকাতি করতে আসবো না। 
-এইখানে না, আশে পাশের কোনো এলাকায়। 

এই কথায়ই শ্রাবণ বুঝতে পারলো মেয়েটা দুষ্টুমি করছে। কারণ সে একটু আগেই বলেছিল অচেনা মানুষদের সে এত কিছু বলি না। 

মেয়েটা ঘুরে চলে যেতে নিচ্ছল তখনই থামিয়ে দিল শ্রাবণ, 
-আচ্ছা নামটা তো বলে যান? 
-সাহস থাকলে নিজে অনুসন্ধান করে নিন। 
এই বলে আবার দৌড় দিল। 

এবার শ্রাবণের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়েছে। সে কোনো কিছু পরোয়া না করে সরাসরি সেই বন্ধু, তাফসিরের কাছে গেল। বাকি বন্ধুদের সাথে সেও ছিল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92296/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Jan 2022 04:44:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা<br />
পার্ট-৫</p>
<p>বর্তমান&#8230;. </p>
<p>শ্রাবণ আগেই দেখেছিল সেখানে নদী ভ্রমণের জন্য কয়েকটি নৌকা আছে। তবে বেশি মানুষ নেই। সে নৌকা চালকের সাথে কথা বলে আসলো। </p>
<p>সামিহা আর সন্ধ্যার সামনে এসে হাটু গেড়ে বসলো সে। তারপর দুইজনের দিকে দু&#8217;হাত বাড়িয়ে দিল। </p>
<p>-আমার হাতে হাত রাখো। </p>
<p>সন্ধ্যা একটু দুষ্টুমি করে বলল,<br />
-কেন? ড্রেনে ফেলে দে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-92296"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/92296/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6ba555588f4b1704bb9ead649521768c</guid>
				<title>গল্পের নামঃ তোমার ফেরার অপেক্ষায়

পার্টঃ ২

ইমতিয়াজ নিজের চোখ আর মন কোনটাকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা। সে যাকে প্রথম ভালোবেসেছিল, যাকে নিয়ে এত স্বপ্ন দেখেছিল, তার ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত একটা পতিতালয় জুটলো? কি এমন হয়েছে তার জীবনে যে তাকে এখানে আসতে হলো? ওর জীবনটা শেষ পর্যন্ত এত নিকৃষ্ট রূপ নিলো?

***

লিয়ানা ভেতরে ঢুকে চারপাশে দেখে নিলো। একদমই ভালো লাগছেনা জায়গাটা। কয়েকজন লোক বসে আছে। ভাগ্যিস, লিয়ানার দিকে চোখ পড়েনি। নয়তো কি হতো কে জানে।

মিসেস মাজিদা লিয়ানাকে আবার টান দিয়ে ডেস্কের ওপাশে চেয়ারে অশ্লীল অবস্থায় বসে থাকা একটা মহিলার দিকে নিয়ে গেলো।

মহিলাটা এগিয়ে এসে লিয়ানার পাশে দাড়ালো। ঠিক মত দেখে নিলো সে লিয়ানাকে। লিয়ানার হাতের দিকে তাকিয়ে মিসেস মাজিদার দিকে রাগি চোখে তাকায়,

-আপনি এমন কেন করলেন? এখানে এনেছেন ভালো কথা, এভাবে কোনো কাঁটাকুটি বা ক্ষত থাকলে কাস্টোমাররা রাগ হবে। ওকে নিতে চাইবেনা।

-আমি এতকিছু জানিনা, আমি তো আপনাকে আরও অনেক মেয়ে দিয়েছি। তখন তো এসব বলেন নি।

-তখন এমন অবস্থা করেন নি, তাই বলিনি।

-এখন বলুন কবে থেকে টাকা দেওয়া শুরু করবেন।

-আরেহ, ধৈর্য ধরেন। ওকে কিছুদিন এখানে রাখতে হবে। আশেপাশের পরিবেশ দেখে, আরাম আয়েস দেখে ওরও করতে মন চাইবে। কয়টা দিন যাক। তারপর ক্যাটালগে ওর ছবি ছাপিয়ে দেব।

-বেশি অপেক্ষা করাবেন না। আর আমার কিছু অভিযোগ আছে, আগে যেসব মেয়েকে আমি দিয়েছিলাম তাদের টাকা এখন কম আসছে কেন? যতটা পাওয়ার কথা ততটা দিচ্ছেন না।

-ওরা পুরানো হয়ে গেছে তাই এক কাস্টোমার ওদের নিতে চায়না।

-যাই হোক, যেভাবে পারেন টাকাটা সময় মত দিয়ে দেবেন, আর খেয়াল রাখবেন ও যাতে পালিয়ে না যায়।

পালিয়ে গেলে কি হতে পারে তার শর্ত গুলো ফোনে আগে বলে নিলেও আবার সামনাসামনি মনে করিয়ে দিয়ে মিসেস মাজিদা আবার ফেরৎ চলে যায়।

******

ইমতিয়াজ ওদের জন্য প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করলো। মহিলাটা বের হলেও সাথে লিয়ানা বের হয়নি। তার মানে লিয়ানাকে এখানে রাখার জন্যই এনেছে।

মহিলাটাকে এদিকে আসতে দেখেই আড়াল হয়ে গেলো ইমতিয়াজ। ভাগ্যিস ইমতিয়াজকে দেখেনি। নাহলে ওদের সাবধান করে দিতো।

মহিলাটা চলে যাওয়ার ৫ মিনিট পর ইমতিয়াজ সেই পুরোনো বাড়িটার দিকে রওয়ানা দিলো। এতক্ষণ ওর সহ্য হচ্ছিল না। সে ভাবছে কখন সে ভেতরে যাবে আর লিয়ানাকে নিয়ে আসবে। কিন্তু তাকে এখন বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এগোতে হবে। ওরা এত সহজে লিয়ানাকে ছাড়বেনা। ছাড়বেনা অবশ্যই, কারণ এভাবে একটা মেয়েকে যেতে দিলে ওদের ব্যবসার ক্ষতি হবে।

ইমতিয়াজ ওর ক্যাপটা এক কোণায় রেখে সেদিকে গেল।

বাড়ির ভেতর ঢুকার পর দেখলো সামনেই একটা ডেস্ক নিয়ে বসে আছে একজন মহিলা। উনাকে দেখেও যে খুব সৎচরিত্রা মনে হয়ে তা না। ওড়না ছাড়া বসে ছিল সে।

ইমতিয়াজকে দেখে মুখে বড় একটা হাসি নিয়ে বলল,

-আসেন স্যার আসেন। রাত কাটানোর জন্য এসেছেন?

ইমতিয়াজ কিছু না বলে মাথা নাড়লো। তার লজ্জা করছে মহিলার দিকে তাকাতে। কিন্তু তার দুর্বলতা প্রকাশ করছেনা। এই দুর্বলতা মেয়েদের এভাবে দেখে যেই দুর্বলতা হয় তা নয়, এই দুর্বলতা হলো তার মধ্যে যে লজ্জা আর ঘৃণা। মেয়েদেরকে এমন অবস্থায় দেখলে মেয়েদের দিকে তাকায় না সে। প্রকৃতপক্ষে, সে অনেক লাজুক। লিয়ানার সাথেও ফোনে কথা বলতে লজ্জা পেতো। শুধু চ্যাট করেই দিন কাটাতো।

মহিলাটা সব ডিটেল বলে দিলো। ইমতিয়াজ বলল,

-যে মেয়েটা নতুন এসেছে তাকে আমি চাই।

-নতুন?

এক ভুরু উঁচু করে কথাটা বলল মহিলাটা। তারপর মনে পড়লো,

-ওহ, আচ্ছা ওই মেয়েটা? স্যার আসলে আমরা সদ্য নতুন আসা মেয়েদের কাজ করতে দিই না। কিছুদিন থেকে আশে পাশে কি হচ্ছে, কিভাবে হচ্ছে সব বুঝে নিলে তারপর কাজে লাগাই। এখন চাইলেও ওকে দিতে পারবো না আমরা।

-এটা আবার কেমন নিয়ম? আচ্ছা কতদিন পর দিতে পারবেন?

-এই ধরেন ৪-৫ দিন। এতদিনে ও বুঝে নেবে সব।

-হুমম। আমি বুকিং দিয়ে রাখতে চাই। আমার আগে কাউকে দিলে আপনাদের খবর আছে। একদম পিওর মেয়ে লাগবে আমার।

মনে মনে ইমতিয়াজ নিজেকে গালি দিচ্ছে এসব কথা বলার জন্যে। কিন্তু কি করবে। লিয়ানাকে বাঁচানোর জন্য তাকে এভাবে অভিনয় করে যেতেই হবে।

-ঠিক আছে স্যার তার জন্য আপনাকে অগ্রিম ১৫,০০০ টাকা পেমেন্ট করতে হবে।

-এত কেন?

-স্যার আসলে এটা আমাদের নিয়মের মধ্যে পড়ে, কোনো নতুন মেয়েকে রিসার্ভ করে রাখলে ১৫,০০০ টাকা অগ্রিম দিতে হয়, আর পুরোনো মেয়ে নিলে ১০,০০০।

-আমার কাছে এই মুহুর্তে ক্যাশ নেই। আপনার ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার দিন। আশা করি আমাকে ভালো সার্ভিস দেবেন আর হতাশ করবেন না।

-আরে, না স্যার আপনি ওটা নিয়ে চিন্তা করবেন না। সব আপনার মন মতই হবে, শুধু বলে দিয়েন কিভাবে কি চান, আমরা ব্যবস্থা করে দিব।

ইমতিয়াজ পেমেন্ট করে সেখান থেকে বের হয়ে গেলো।

কিন্তু ইমতিয়াজের একদমই ভালো লাগছে না। সেই বাড়িটা থেকে বের হয়ে নিজেকে শত শত গালি দিল। যেই ছেলে নিজের ভালোবাসার মানুষের সাথে ফোনে কথা বলতে লজ্জা পেতো সে আজ একটা পতিতালয়ে যেয়ে এতগুলো টাকা দিয়ে এসেছে। তার মনে এখন শুধু একটাই কথা, লিয়ানাকে বাঁচাতে হবে।

ইমতিয়াজ মেইন রোডের কাছে এসে ওর একটা বন্ধুকে কল করলো, যার বাবা একজন গোয়েন্দা।

-হ্যালো, তামজিদ।

-কিরে কি অবস্থা?

-তোর হেল্প লাগবে রে ভাই।

ইমতিয়াজ একটু আগে যা বলে এসেছে তার জন্য এখন হৃদস্পন্দন বেড়ে গেছে। কথাটাও স্পষ্ট করে বলতে পারছেনা।

-কি হইছে? তুই এভাবে কাঁপা গলায় কথা বলতেছিস কেন?

-ভাই, পরে বলবো সব। তোর বাবার সাথে কথা বলতে হবে আমার। নাম্বারটা দিস।

-কেন?

-ধুর, পরে বলবো। তুই দে আগে।

নাম্বারটা নিয়ে তামজিদের বাবার কাছে ফোন দিয়ে কিছু প্রশ্ন করলো আর সবকিছু খুলে বলল।













(বিঃদ্রঃ পতিতালয়ের রিসিপশনিস্ট মহিলাটা আর নায়কের বন্ধু তামজিদ অবশ্যই আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলবে, আমি চাটগাইয়া ভাষায় এত অভিজ্ঞ না। তাই এখানে লিখিনি। আর যারা পড়বে তারাও যে সবাই এই ভাষা বুঝবে এমন তো না।

ইমতিয়াজ ছেলেটার পারসোনালিটিটা একটু অন্যরকম, ওর ব্যাপারে আরও জানবেন। আশা করি মজা পাবেন লেখাগুলো পড়ে।)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92295/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Jan 2022 04:38:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পের নামঃ তোমার ফেরার অপেক্ষায়</p>
<p>পার্টঃ ২</p>
<p>ইমতিয়াজ নিজের চোখ আর মন কোনটাকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা। সে যাকে প্রথম ভালোবেসেছিল, যাকে নিয়ে এত স্বপ্ন দেখেছিল, তার ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত একটা পতিতালয় জুটলো? কি এমন হয়েছে তার জীবনে যে তাকে এখানে আসতে হলো? ওর জীবনটা শেষ পর্যন্ত এত নিকৃষ্ট রূপ নিলো?</p>
<p>***</p>
<p>লিয়ানা ভেতরে ঢুকে চারপাশে দেখে নিলো। একদমই ভাল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-92295"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/92295/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ab9190d192585f4c50c48a3e34a61fda</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92291/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Jan 2022 04:26:25 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6ad99feb16c24d449ef09a9a210fb0ba</guid>
				<title>গল্পের নামঃ তোমার ফেরার অপেক্ষায় 
পার্ট-১

*****

অসভ্য মহিলাটা লিয়ানার হাতটা শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। খুব ব্যাথা হচ্ছে তার, মনে হচ্ছে মহিলাটি তার হাতের নরম চামড়ায় নখ বসিয়ে দিচ্ছে। এমনটা করছে যাতে ভেগে যেতে না পারে লিয়ানা, তাও আবার এমন একটা জায়গায় নখ বসিয়েছে যেখানে খুব জোড়ে হাত সরিয়ে নিলে কেটে যাবে জায়গাটা।

লিয়ানা না পারছে ভেগে যেতে, না পারছে এই অশ্লীল মহিলার থাবা থেকে বাঁচতে। সে কি করবে বুঝতে পারছেনা। মনের মধ্যে এই জিনিসটা গেঁথে আছে যে ওর জীবনে এখন কেউ বা কিছুই নেই, অন্ধকার ছাড়া। সে নিজেকে এতিম ভেবে নিয়েছে। যে পরিবারে বাবা মা ভাই নিজের মেয়েকে বিশ্বাস করেনা, সে পরিবারে মেয়ের তেমন জায়গাও থাকেনা। কি করার, ওর ভাগ্যে যে এমন কিছু ছিল কে জানতো। লিয়ানার এখন মাথায় শুধু এটা ঘুরছে, ওর জীবন পুরো অন্ধকার হয়ে গেছে। এই মুহুর্তে একটা মানুষ তো দূরের কথা একটা কাক পক্ষীও তাকে সাহায্য করতে আসবেনা। তবুও সে মনে মনে আল্লাহকে স্মরণ করছে। 

যে মহিলাটা ওর হাতে শক্ত করে ধরে রেখেছে, সে আর কেউ নয় বাকেরগঞ্জ উপজিলার এক অখ্যাত সরকারি কলেজের শিক্ষিকা। একটা শিক্ষিকা এত নিকৃষ্ট হতে পারে বিশ্বাস করার মত না। 

মহিলাটা কর্কশ কণ্ঠে বলল, 

-তাড়াতাড়ি না হাঁটলে চুল গুলো ছাঁটাই করে দিব। পা চলছেনা কেন? বিচার দেওয়ার সময় তো মুখ খুব তাড়াতাড়ি চলে।

চোখ ভরা পানি আর হাতের নখ গাঁথা জায়গাটার তীব্র বেদনা নিয়ে ধ্বংসের পথে যাচ্ছে লিয়ানা। এই ধ্বংস সেই ধ্বংস নয়, নিজের জীবনটাই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অচেনা জায়গায় এসে তার পা অবশ হওয়ার উপক্রম হলো। মনে মনে আর্তনাদ করছে, যেখানে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেখানে সে যেতে চায়না। টাকা পয়সা পেলেও জীবনটা নষ্ট করা ছাড়া আর কোনো কিছুই পাবেনা সেখান থেকে। 

এত কান্নাকাটির পর ভেজা ও দুর্বল চোখে আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো সে কোথায় আছে। ঘোলা চোখে ঠিক মত বুঝতে পারছেনা লেখা, তবে একটা বুঝেছে চট্টগ্রামের কোন একটা শহরে আছে। 

অন্ধকারের মধ্যে একজন অসৎ চরিত্রের মহিলাকে বাধ্য হয়ে অনুসরণ করে কোথায় যাচ্ছে সে নিজেও জানেনা। কান্না করতে করতে চোখ আর মাথা দুটোই ব্যাথা হয়ে গেছে। 

বাস থেকে নেমে লিয়ানার জানামতে অজানা পথে হাঁটা ধরলো ওরা।

হঠাৎ একটা পরিচিত তবুও অপরিচিত গলা বলে উঠলো, 

-আরেহ, তুমি লিয়ানা না? 

অস্পষ্ট দৃষ্টি নিয়ে মাথা উচিয়ে তাকালো সে। সামনে একজন লম্বা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটাকে দেখে লিয়ানার মনে আশার আলো জাগলো। 

হ্যাঁ, এতো সে-ই। এটা ইমতু। আমার চিরকুমার ইমতু। আসলে ইমতু নয়, ওর নাম ইমতিয়াজ। ইমতু ডাকতেই ভালো লাগতো লিয়ানার।

ভেজা চোখে ইমতিয়াজের দিকে তাকিয়ে দুর্বল একটা হাসি ফুটিয়ে তুললো লিয়ানা। 

ইমতিয়াজ বুঝতে পেরেছে কোনো একটা ঝামেলা আছে। 

লিয়ানার হাত ধরে রাখা মহিলাটা আরও জোড়ে নখ বসিয়ে দিলো লিয়ানার হাতে। খুব কষ্টে মুখ থেকে বেড়িয়ে যাওয়া আর্তনাদটা আটকে নিলো। এবার হাত থেকে রক্ত বের হবে শিওর। 

লিয়ানা মহিলাটার দিকে তাকালো, চাহনি দেখেই বুঝেছে যে মহিলাটা বলতে চাইছে কোনো পরিচিত তো দূর, অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বললেও ওর কপালে খারাবি আছে। 

লিয়ানা এই ইশারা বুঝে নিয়ে ইমতিয়াজের দিকে অজানা চেহারায় তাকালো, 

-আপনি কে? আমাকে কি চেনেন আপনি?

ইমতিয়াজের মাথায় বাজ পড়লো। ৫-৬ বছর ধরে ওরা একে অপরকে চিনে, বন্ধুত্বও আছে। হয়তোবা তার থেকেও বেশি কিছু ছিলো এক সময়। কিন্তু এত জলদি ইমতিয়াজকে ভুলে যাবে এটা আশা করেনি। নিজেকে সামলে নিলো সে। 

মহিলাটার দিকে তাকিয়ে ইমতিয়াজ বলল,

-আপনি কে? আর আপনি ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? 

-আমি যে-ই হই না কেন আপনার তাতে কি? বেশি কেচর-মেচর করলে কেস করে দিবো। 

-আমি ওর বন্ধু। বন্ধু হিসেবে আমার জানার অধিকার আছে অবশ্যই। 

-ধুর আপনার অধিকার। আমার এত আজাইরা প্যাঁচাল পারার সময় নেই। 

মহিলাটা আবার লিয়ানাকে টানা শুরু করলো। 

মিসেস মাজিদা অর্থাৎ সেই অসভ্য মহিলাটার দৃষ্টি অন্য দিকে গেলে লিয়ানা পেছনে ফিরে দেখে ইমতিয়াজ আগের জায়গায়ই দাঁড়িয়ে আছে। লিয়ানা শেষ বারের মত বিধ্বস্ত, অসহায় আর দুর্বল চেহারা নিয়ে তাকালো ইমতিয়াজের দিকে। 

ইমতিয়াজ ওর চাহনি দেখেই  বুঝে গেছে সে যেখানেই যাচ্ছেনা কেন সেখানে সে যেতে চায়না। 

ইমতিয়াজ কাছের একটা দোকান থেকে একটা ক্যাপ নিয়ে পড়ে ফেলল। গায়ের উপর যে জ্যাকেটটা ছিলো সেটা একজন ডাব বিক্রেতাকে দিয়ে বলল, 

-মামা এই জ্যাকেটটা একটু আপনার কাছে রাখেন তো, আমি একটু আসছি। রোদ পড়েছে তো, একটু পরে এসে নিয়ে যাবো। 

সেই লোকটাকে ইমতিয়াজ চিনে বলেই তার কাছে দিয়েছে। 

মাথায় ক্যাপ পড়ে সে চুপচাপ ওদের অনুসরণ করলো। 

যে রাস্তা ধরে ওরা হাটছে, তা খুব একটা সুবিধার মনে হচ্ছে না। জন্মের পর থেকে সে এই শহরে থাকে, প্রায় সব কিছুই ওর চেনা। 

প্রায় ১৫-২০ মিনিট হাঁটার পর, সে বুঝলো তার ধারণাই ঠিক ছিলো। আগেই অনুমান করে নিয়েছিলো সে যে ওরা এই জায়গাটাতেই আসবে। 

বাজার থেকে একটু ভিতরে কয়েকটা গলি পাড় করে কতগুলা বাসা বাড়ির পেছনে একটা ছোট জায়গা আছে। অনেকদিন পুরোনো একটা বাড়ির কাছে এসে দেখলো সেখানে মহিলাটা লিয়ানাকে নিয়ে ঢুকলো। বাড়িটা একটা ছোট লেকের পাশে। লেকের ওপাশে একটা ঘন বন। 

ইমতিয়াজ নিজের চোখ আর মন কোনটাকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা। সে যাকে প্রথম ভালোবেসেছিল, যাকে নিয়ে এত স্বপ্ন দেখেছিল, তার ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত একটা পতিতালয় জুটলো? কি এমন হয়েছে তার জীবনে যে তাকে এখানে আসতে হলো? ওর জীবনটা শেষ পর্যন্ত এত নিকৃষ্ট রূপ নিলো?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92151/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Jan 2022 16:16:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পের নামঃ তোমার ফেরার অপেক্ষায়<br />
পার্ট-১</p>
<p>*****</p>
<p>অসভ্য মহিলাটা লিয়ানার হাতটা শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। খুব ব্যাথা হচ্ছে তার, মনে হচ্ছে মহিলাটি তার হাতের নরম চামড়ায় নখ বসিয়ে দিচ্ছে। এমনটা করছে যাতে ভেগে যেতে না পারে লিয়ানা, তাও আবার এমন একটা জায়গায় নখ বসিয়েছে যেখানে খুব জোড়ে হাত সরিয়ে নিলে কেটে যাবে জায়গাটা।</p>
<p>লিয়ানা না পারছে ভেগে য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-92151"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/92151/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f57303564e28e00fc059bbda0cf3ee0a</guid>
				<title>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা 
পার্ট-৪

-বসতে মন চাইলে বসতে পারেন। আমার আপত্তি নেই।
শ্রাবণের চোখ কপালে উঠলো। বুকটা দুরুদুরু করে কেঁপে উঠলো। জলদি করে আশে পাশে তাকালো। কাউকে দেখতে পেল না। তাহলে এই মেয়েটা কাকে এই কথা বলল?
মেয়েটি আবার শ্রাবণের উদ্দেশ্যে বলল,
-আশে পাশে আমি আপনাকে ছাড়া কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। আপনাকেই বলেছি।

শ্রাবণ কথা শুরু করতে চাচ্ছিল কিন্তু সে বুঝতে পারল যে তার গলা ভেঙে আসছে। গলা একটু ঝেড়ে নিয়ে বলল,
-আপনি কিভাবে বুঝলেন যে আমি এখানে এসেছি? আপনি কোন জ্বীন-পরী না তো?
মেয়েটা আবার খিল খিল করে হাসলো,
-দেখেন আমি কোন জ্বীন-পরী বা সুপার পাওয়ারের অধিকারী না।
কথাটা বলে সে আবার হাসি দিল।
-আপনি যখন কাছাকাছি এসেছিলেন তখন আমি টের পেয়েছি। আমার কথায় কি ভয় পেয়েছেন?
ঢোক গিলে নিজেকে সামলে নিয়ে শ্রাবণ বললো,
-না, আসলে একটু চমকে গিয়েছিলাম।
-আপনার কি দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগে?
-সব সময় না, কেন?
-এত সুন্দর একটা প্রকৃতি রেখে, আর সামনে এত সুন্দর একটা বসার জায়গা রেখে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন যে তাই বলছি।
-ওহ।

শ্রাবণ দোলনায় মেয়েটার পাশে বসলো।

এবার মেয়েটার চেহারা ঠিক মত দেখল সে। গালগুলো হালকা ফোলা। চোখগুলো গোল গোল, আর চোখের ভারি পাপড়ি গুলো ছড়িয়ে থাকার কারণে চোখটাকে ফুলের মত দেখাচ্ছে। ঠোঁটটা হালকা গোলাপি, তবে এটা ঠিক যে সে কোনো মেকাপ দেয়নি। খুব কিউট লাগছে দেখতে। এই প্রথম এই মেয়েটাকে দেখে ওর মনটায় হঠাৎ কেমন একটা অনুভুতি এলো। তবুও শ্রাবণ চেষ্টা করছে নিজের অনুভুতিটাকে সামলে রাখতে। সে নিজেকে কষ্ট দিতে চায়না। 

মেয়েটা শুধু একবার তাকিয়েছিল শ্রাবণের দিকে। কিন্তু মেয়েটা যে এত বুঝদার কে জানতো।

কিছুক্ষণ নীরবে প্রকৃতি উপভোগ করার পর মেয়েটি বলল,
-আপনাকে ক্লান্ত মনে হচ্ছে। পানি খাবেন? বাদামও আছে সাথে।
আবার অবাক হয়ে গেল শ্রাবণ। ক্লান্ত বা মন খারাপ থাকা সত্ত্বেও কেউ কখনো বুঝতে পারে না শ্রাবণের চেহারা দেখলে। আর এই মেয়েটি কয়েক মিনিটের দেখাতেই বুঝে গেল?

শ্রাবণের নীরবতা দেখে মেয়েটি কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে বলল,
-ভয় পাবেন না আমি কোনো মাইন্ড রিডার না। অবশ্য আমার কথা যদি সত্য হয় তাহলে আপনাকে বাদামগুলো খেতে হবে।

মাইন্ড রিডার না মানে? সব পট পট করে বলে দিচ্ছে আমি কি ভাবছি বা আমার ভাব দেখলে কি মনে হয়।

কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে শ্রাবণ বলল,
-দিন তাহলে বাদাম।
মেয়েটি লাফিয়ে উঠল,
-ওয়াও, তারমানে আমি ঠিক ধরেছি।
-মনে হয়। আপনার পোষা কুকুরটা সুন্দর। আমি কি একটু কোলে নিতে পারি?

মেয়েটি তার হাতের কুকুর ছানাটাকে শ্রাবণের হাতে তুলে দিল সাবধানে।

-হাহা, না না এটা পোষা না। কিছুক্ষণ আগে ওর সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে। ওর নাম রেখেছি &quot;পিপো&quot;। 
-বাহ সুন্দর নাম।
-হ্যা ওর মতই সুন্দর।
-কুকুর পালতে মন চায়?
-নাহ, তবে কুকুর হোক বা বিড়াল হোক মাঝে মাঝে আদর করতে ভালো লাগে। ওসব পালার ধৈর্য নেই আমার।

একটু ভেবে নিয়ে আবার বলল,
-তবে পিপোকে আমার সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে। ওকে বাসায় নিব না, তবে ওর সাথে আরেকবার সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা আছে। জানিনা আবার কবে দেখা হবে। আবার দেখলেই ওকে চিনে ফেলব। 

শ্রাবণ একটা মুচকি হাসি দিয়ে কুকুরটাকে আদর করছে আর মেয়েটি চুপচাপ দেখছে।

হঠাৎ শ্রাবণ প্রশ্ন ছুড়ে দিল,
-আপনি এখানে একা একা কি করছেন?
-এমনিই বসে আছি। অত ধুমধাম ভালো লাগেনা আমার।
-তো আপনি কি ছেলে পক্ষ না মেয়ে পক্ষ?

মেয়েটি হেসে দিল। আর শ্রাবণ একটা ভুরু উঁচু করে বলল,
-হাসছেন যে?
-হাসছি কারণ এই প্রশ্নটা বিয়ে বাড়িতে খুব জনপ্রিয়।
-হ্যাঁ। তা ঠিক। সবাই কম বেশি প্রশ্নটা ছুড়ে দেয়।
-তা দেয়। আমি মেয়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী।
-ও আচ্ছা। 
-আর আপনি?
-আপনার আপনার ঠিক বিপরীত।
-বরের বন্ধু?

শ্রাবণ শুধরে দিল,
-না, ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

একটু মুচকি হাসি দিল মেয়েটি। দুজনই নাম জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছে কিন্তু লজ্জা পাচ্ছে। এভাবে কিছুক্ষণ নীরবতা পার হলো। পিপো এখনও শ্রাবণের কোলে।
কিছুক্ষণ পর দু&#039;জনের মাঝে পিপোকে রাখলো শ্রাবণ। এবার মেয়েটাও পিপোকে আদর করার জন্যে হাত বাড়ালো। কিছুক্ষণ এভাবে আদর করার পর হঠাৎ মেয়েটির হাতে স্পর্শ লাগলো শ্রাবণের হাত। সাথে সাথে দুজনের চোখ মিলিত হলো। আশে পাশে আর যাই হোক না কেন দু&#039;জনের হৃদস্পন্দন ঠিকই বেড়ে গেছে।
২ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকার পর হঠাৎ মেয়েটির ফোনে ফোন এলো। প্রায় চমকে উঠলো সে। কথা শুনে মনে হলো তাকে জলদি যেতে হবে। ওর ফ্যামিলি মনে হয় চলে যাচ্ছে।

এবার শ্রাবণ সিদ্ধান্ত নিয়েই নিল, সে মেয়েটির নাম জিজ্ঞেস করবে। তবুও কাজটা অনেক কঠিন মনে হচ্ছিল।
সে নাম জিজ্ঞেস করার জন্য মুখটা খুলতেই নিচ্ছিল তখনই তাকালো মেয়েটা তার দিকে।

-সরি, আজ আর নামটা জানা হলো না। আর স্পর্শের জন্যেও সরি। ভালো থাকবেন।

খুব দ্রুত বলল সে কথাগুলো। শুনেই বোঝা গেলো সে খুব তাড়ায় আছে।

কথাগুলো বলেই দৌড় দিল মেয়েটি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে চোখের আড়াল হয়ে গেল। কিন্তু শ্রাবণকে সে বিস্মিত বানিয়ে দিয়ে চলে গেল।

শ্রাবণ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এমন কেন হচ্ছে? মেয়েটা কিভাবে বুঝে যায় আমার মনের অবস্থা আর মনে কি চলছে?

একটু পর পিপো তার ছোট্ট থাবা দিয়ে শ্রাবণের হাতে স্পর্শ করলো। মনে হলো সে আদর করার জন্য বলছে। শ্রাবণ পিপোকে আদর করতে করতে আবার বসলো দোলনায়। অজান্তেই মুখে মৃদু হাসি চলে এলো।

পিপোকে বলা শুরু করলো,
-পিপো, মেয়েটা বড় অদ্ভুত তাইনা? কিন্তু কিউট আছে। জানিনা আবার কবে দেখা হবে।

পিপোর চেহারায় এমন অভিব্যক্তি ছিল যেন মনে হচ্ছে সে শ্রাবণের সব কথা বুঝতে পারছে। প্রথমে যখন কিউট বলেছে সে তার জিভ বের করে বড় একটা হাসি দিল। আর দিতীয়বার যখন বলেছে কবে দেখা হবে জানে না তখন মন খারাপের অভিব্যক্তি আনলো মুখে।

শ্রাবণ আদর করে দিল পিপোকে। শ্রাবণেরও যাওয়ার সময় হয়েছে। কিন্তু তার পিপোকে রেখে যেতে মন চাচ্ছে না। দু&#039;টো কারণে, এক হলো পিপোর মায়ার জাল, আর দিতীয় শ্রাবণের জীবনে ঘটে যাওয়া বিস্ময়কর কিন্তু মধুর মুহূর্তের জন্যে। এই দিনটা সে ভুলতে পারবেনা কোনোদিন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92150/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Jan 2022 16:15:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা<br />
পার্ট-৪</p>
<p>-বসতে মন চাইলে বসতে পারেন। আমার আপত্তি নেই।<br />
শ্রাবণের চোখ কপালে উঠলো। বুকটা দুরুদুরু করে কেঁপে উঠলো। জলদি করে আশে পাশে তাকালো। কাউকে দেখতে পেল না। তাহলে এই মেয়েটা কাকে এই কথা বলল?<br />
মেয়েটি আবার শ্রাবণের উদ্দেশ্যে বলল,<br />
-আশে পাশে আমি আপনাকে ছাড়া কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। আপনাকেই বলেছি।</p>
<p>শ্রাবণ কথা শুরু কর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-92150"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/92150/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">10468dbf76e83d8bf5dde1a70b9c2dfb</guid>
				<title>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা 
পার্ট-৩ 

দু-দিন পর...

সামিহা সকালেই উঠে গেছে। সে খুবই উত্তেজিত। কারণ আজ অনেকদিন পর সে নানুর বাসায় বেড়াতে যাবে।
নানুর বাসাটা একটা গ্রামের মধ্যেই। আসে পাশে চিরসবুজের সমাহার। জায়গাটায় খুব একটা ঘর বাড়ি নেই। সব দূরে দূরে। তবে খুবই সুন্দর জায়গা।

সামিহা আগে থেকেই টিপটপ হয়ে বসে আছে। কখন যে রওয়ানা দিবে তা ভাবছে।
সামিহা ক্লাস টুতে পড়ে। সব কথা সুন্দর করেই বলতে পারে, তার কথা বলা দেখলে মন চায় অনেক আদর করতে। একটা কঠোর ও রাগি মানুষও তার সামনে হার মানবে।

আজ সামিহা বেগুনি রঙের একটা ফ্রক পড়েছে। আর বেগুনি রঙের সাইড ব্যাগ নিয়েছে। সাইড ব্যাগে তার ছোট্ট লিপজেল, কয়েকটা চকোলেট, আর দুটো ছোট কাগজের ফুল যেগুলো সে নানুর জন্য আর অথৈ আপুর জন্য বানিয়েছে।

শ্রাবণের মা জানেনা যে সন্ধ্যাও যাবে ওদের সাথে। যদি জানতো, ওদের যেতেই দিত না।
শ্রাবণও আগে থেকে সামিহাকে বুঝিয়ে দিয়েছে যাতে তাদের মাকে না বলে। সামিহা অতি ভদ্র মেয়ে, তাকে কিছু বলতে বা করতে মানা করা হলে সে আর করবেনা। তাই সে বলেনি।

ওরা রওয়ানা দিল নানু বাড়ির উদ্দেশ্যে। আবসার আংকেল তাদেরকে বাসে একা যেতে দিতে চাচ্ছিলেন না, তাই নিজের গাড়িটা নিয়ে যেতে বললেন। অবশ্য গাড়ির চেয়ে নিজের ছেলে মেয়ের গুরুত্ব বেশি তাঁর কাছে। আবসার আংকেলও জানেন না যে সন্ধ্যা যাবে সাথে। তবে একদিকে ভালো হলো যে সাথে সন্ধ্যাও যেতে পারবে, কারণ ওরা যদি বাসে যেত তাহলে আবসার আংকেল হয়তো মাত্র দুটো বাসের টিকেট কাটতো।

এবার শ্রাবণ গাড়ি চালাবে। চেয়েছিল সন্ধ্যাকে পাশের সিটে রাখতে, কিন্তু সামিহা আবদার করেছে সামনে বসবে, সামনে বসলে সব কিছু ভালো মতো দেখা যায়। কেউ সামিহাকে মানা করতে পারলো না।
বাড়ি যাওয়ার মাঝপথে একটা সুন্দর নদী আছে। অর্থাৎ ৩০ মিনিট গাড়ি চালানোর পর নদীটা পথে পড়বে সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটালো তারা। এই জায়গাটা শ্রাবণের খুব প্রিয় একটি জায়গা। ছোটবেলায় নানা বাড়িতে আসলে নানা জানো ওকে এখানে নিয়ে আসতো। যদিও তখন সামিহা ছিল না। সামিহা হওয়ার পর আসতে আরো ভালো লাগে শ্রাবণের।

তারা সবাই নদীর কিনারে ঘাসের উপর বসে আছে। তারা যেই পাশটায় আছে, সেখানে নদীর কিনারাটা এত উঁচু না। মনে হয় একটু হাত বাড়ালেই পানি ছুঁতে পারবে।

শ্রাবণ তাকিয়ে আছে সন্ধ্যার দিকে। সন্ধ্যা সামিহাকে বাদাম ছিলে দিচ্ছে।

শ্রাবণের মনে পড়ে গেলো সেই দিনটার কথা যেদিন ওর সাথে দেখা হয়েছিল।

শ্রাবণ তার ফ্রেন্ডের বিয়েতে গিয়েছিল ১ বছর আগে। এমনিতে শ্রাবণকে অনেক মেয়েই পছন্দ করে কিন্তু সে কেন জানি মন থেকে কাওকে পছন্দ করতে পারেনা, বা কারও জন্য তেমন অনুভুতিও জন্মায়নি ওর মনে। এক কথায় বলা যায়, সে নিজেও জানেনা তার কেমন মেয়ে পছন্দ।

সেই দিনটি ছিল শ্রাবণের ফ্রেন্ড তাফসিরের গায়ে হলুদ। তাফসির আর নিশার গায়ে গলুদ একসাথেই হয়েছিল। তাই দুই পরিবার থেকে মেহমান এক দিনেই এসেছে। 
শ্রাবণ মিশুক অনেক কিন্তু খুব বেশি মানুষ পছন্দ করে না সে। এমনিতেও সে একটু ক্লান্ত ছিলস সেদিন। অফিসে কাজ ছিল অনেক। অফিস থেকে সরাসরি ভেন্যু তে চলে গিয়েছিল। ভাগ্য ভালো তাফসির ওর জন্য নতুন পাঞ্জাবী কিনে রেখেছিল। সেটাই পড়ে নিয়েছে।
মেয়েরা পড়েছে হলুদ আর সাদা শাড়ি, আর ছেলেরা হলুদ পাঞ্জাবী।

হলুদ দিয়ে এসে ক্লান্ত বোধ করে শ্রাবণ একটু দূরে এলো। সেখানে বড় একটা লেক ছিল। আসে পাশে হালকা গাছপালা। জায়গাটা আসলে মানুষের মনোরঞ্জনের জন্যই বানানো হয়েছিল্প, তবে এখন সবাই অনুষ্টানে বসে আছে। তাই জায়গাটায় একটু শান্তি ছিল।
লেকের কিনারায় একটা দোলনা ছিল। আসল প্রকৃতি প্রেমিকরা বুঝবে এখানে বসার মজা। বিয়ের আগে একদিন এসে জায়গাটা দেখে গিয়েছিল সে আর তাফসির। আজ, এত ক্লান্ত হয়ে তার এই নিঃশব্দ পরিবেশে বসতে ইচ্ছে হলো।

কিছুক্ষণ পর একটা মেয়ের খিলখিল করে হাসি শুনলো। এতক্ষণ খেয়াল করেনি শ্রাবণ কারণ সে অন্যদিকে তাকিয়ে ধিরে ধিরে হাটছিল।

একটু অবাক হলো সে। শুধু একটা ব্যাপারে অবাক নয়, বহু ব্যাপারেই। কিন্তু আপাতত দুইটা জিনিস তার মাথায় ঘুরছে। প্রথমত, সে জানে যে সব মানুষ অনুষ্ঠানে বসে আছে, তাহলে এখানে কে বা কখন আসলো? আর দিতীয়ত, শ্রাবণের কেন যেন মনে হলো এই হাসির শব্দটা শুনে তার ক্লান্তি অনেকটা কমে গেছে। আরেকটু শুনতে মন চাইল। যেই হোক না কেন তার কন্ঠস্বরটা মন হালকা করে দেওয়ার মত। মধুর মনে হলো শ্রাবণের কানে।
সে নিঃশব্দে সামনে আগালো। আরেকটু সামনে যেয়ে শুনতে পেলো,
&#039;আজ থেকে তোমার নাম হবে &quot;পিপো&quot; &#039;
আবারও শ্রাবণের খুব ভালো লাগলো শুনে। চোখ দুটো দেখতে চাইলো কে সেই মেয়েটি। অবশ্য বুড়ো দাদু হলেও সমস্যা নেই, গল্প করতে পারবে। কিন্তু তাকিয়ে শুধু পেছনের দিকটা দেখল মেয়েটির। মেয়েটি একটু মোটা। এত মোটাও না আবার। ভাব দেখে মনে হলো তার কোলে কোনো ছোট প্রানী বসে আছে, আর সেই মেয়েটি আদর করছে। শ্রাবণ এতক্ষণে খেয়াল করলো যে মেয়েটি সেই দোলনায় বসে ছিল৷ দোলনায় দুই জন বসা যায়। মেয়েটি মাঝে বসেছে।
সে আবার বলছে,
&#039;অ্যাঁই পিপো? ভাগ্যিস আমি আগেই চলে এসেছি। নাহলে তোর মত এত সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চাটাকে দেখতেই পেতাম না। তুই মজা পাচ্ছিস তো বাদাম খেতে?&#039; 

সেই ছোট্ট প্রানীটি মৃদু শব্দ করে উঠল। শুনে মনে হলো কুকুর ছানা। তার মানে এই মেয়েটি একটি কুকুর ছানা নিয়ে খেলছে।

শ্রাবণ দোলনার একটু পেছনে একটা গাছের পাশে দাঁড়িয়েছে। চুপচাপ মনোযোগ দিয়ে দেখছিল সে মেয়েটার কাণ্ড। মেয়েটার চেহারা দেখতে না পেলেও গলার স্বরটাই মন হালকা করে দিচ্ছিল। শ্রাবণ বুঝলো না ওর ভয়েস এ এমন কি আছে যা শ্রাবণের এত ভালো লাগছিল। 

মেয়েটি শ্রাবণকে অবাক করে দিয়ে দোলনাটায় একটু সরে বসলো মনে হলো কাউকে বসার জায়গা করে দিয়েছে।
আরও অবাক করে দিয়ে শ্রাবণের উদ্দেশ্যে বলল,
-বসতে মন চাইলে বসতে পারেন। আমার আপত্তি নেই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92149/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Jan 2022 16:12:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা<br />
পার্ট-৩ </p>
<p>দু-দিন পর&#8230;</p>
<p>সামিহা সকালেই উঠে গেছে। সে খুবই উত্তেজিত। কারণ আজ অনেকদিন পর সে নানুর বাসায় বেড়াতে যাবে।<br />
নানুর বাসাটা একটা গ্রামের মধ্যেই। আসে পাশে চিরসবুজের সমাহার। জায়গাটায় খুব একটা ঘর বাড়ি নেই। সব দূরে দূরে। তবে খুবই সুন্দর জায়গা।</p>
<p>সামিহা আগে থেকেই টিপটপ হয়ে বসে আছে। কখন যে রওয়ানা দিবে তা ভাবছে।<br />
সা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-92149"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/92149/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f55c2345ab8e2ab0fd7a9df982f2c9a5</guid>
				<title>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা
পার্ট-২

এভাবে এক সপ্তাহ কেটে গেলো মায়ের সাথে কথা না বলে। বলেছে, তবে দরকার ছাড়া একটা শব্দও বলেনি সে মায়ের সাথে। সানিয়া আন্টি বলতে চাইলেও সে বলে না, দূরে সরে যায়। তারপর আবসার আংকেল বুঝিয়ে সুঝিয়ে বলল কিছুদিন সময় দিতে, এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।

রাত ৯ টা বাজে। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি। শ্রাবণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। সে সন্ধ্যার কথা ভাবছে আর ভাবছে সেদিনের কথা, যেদিন মা তাকে চড় মেরেছিল।
সন্ধ্যা একটু হেলদি মানে একটু মোটা। সন্ধ্যা খুবই নরম মনের মানুষ। মিশুক কিন্তু লাজুক। অনেক কিউট লাগে।

শ্রাবণ বুঝতে পারেনা যে তার মা কেন সন্ধ্যাকে অপছন্দ করে। শ্রাবণ এটা জানতো যে ওর মা মোটা মানুষ পছন্দ করেনা। কিন্তু শ্রাবণ একটা মোটা মেয়েকেই পছন্দ করেছে। এটায় শ্রাবণের কিছু যায় আসেনা। সব চেয়ে বড় কথা শ্রাবণ ওর চেহারায় মায়া দেখতে পায়। ওর মনের সরলতা বুঝতে পারে।

শ্রাবণ তার বাবার মত হয়েছে। তার বাবা তার মার অনেক কেয়ার নেয়। একটুও কষ্ট হতে দেননি কোনদিন। যদিও তার বাবা চায়নি ভেগে বিয়ে করতে। তিনি চেয়েছিলেন আরেকটু চেষ্টা করতে। কিন্তু শ্রাবণের মা মাথা খেয়ে ফেলছিলেন, তারাহুরো লাগিয়ে দিয়েছিলেন বিয়ের জন্যে। বলছিল বিয়ে করে ফেললেই সব ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু হয়নি।

শ্রাবণ ও সামিহার জন্মের পর শ্রাবণের নানা নানু ওদের অনেক আদর করেছেন। কোনদিন কষ্ট দেননি শ্রাবণ ও সামিহাকে। উনাদের রাগ শুধু শ্রাবণের মার প্রতি।

এত কিছু ভাবতে ভাবতে শ্রাবণ কখন যে বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে বুঝতে পারেনি। এখনো সে ভাবনার জগতে ডুবে আছে। 

ভাবছে কিভাবে ওর মা বাবাকে রাজি করানো যায়। যদিও শ্রাবণের বাবার এত সমস্যা নেই। উনি শুধু চান যে আসুক না কেন তখনই বউ হিসেবে সে যাতে শ্রাবণকে অনেক হাসিখুশি রাখে।

কিছুক্ষণ পর শ্রাবণ বুঝতে পারলো যে তার টি-শার্ট ভিজে গেছে। জোড়ে নিঃশ্বাস নিয়ে ঘরে ঢুকলো। টি-শার্ট চেঞ্জ করে সে মোবাইলটা হাতে নিয়ে সন্ধ্যাকে কল দিল। দুইবার রিং হতেই কল ধরল।

নরম শুরে সন্ধ্যা উত্তর দিল, 
-হ্যালো? কেমন আছেন মিস্টার লাবিব আরফান শ্রাবণ?

শ্রাবণ চুপ করে আছে। সে জানে যখনই তার মন খারাপ থাকে, সন্ধ্যার গলার আওয়াজ শুনলেই তার মন ভালো হয়ে যায়। মন চায় ওর গালগুলো টেনে দিতে। অজান্তেই শ্রাবণের মুখে মৃদু হাসি চলে এলো।

অপরদিকে সন্ধ্যাও বুঝতে পারে যে শ্রাবণের কোনো কিছু নিয়ে মুড অফ। কারণ যখনই ওর মুড অফ, রাগ, বা মন খারাপ হয়, তখনই সে সন্ধ্যা কল দিবে আর চুপ করে থাকবে, সন্ধ্যার আওয়াজ না শোনার আগ পর্যন্ত তার মুড ঠিক হবেনা।

-বুঝেছি। উমম, আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করব না কি হয়েছে। মানুষের প্রাইভেসি বলে একটা কথা আছে।

কিছুক্ষণ ভেবে নিল সন্ধ্যা। তারপর একটা গান শুরু করলো, যেটা শ্রাবণের পছন্দের একটা গান,

-বৃষ্টি এলে, ভাবি তোমাকে ,
আজ এই বৃষ্টিতে খুব কাছে ।

এ যেন কল্পনা , প্রেমের আলপনা,
আজ তুমি খুব কাছে ।

চাইলে কি দেবে অধরে সেই অধর ।
পবিত্র এই প্রেম, আমার উপহার...
অন্তহীন স্পর্শের অলংকার ।

এটুকু বলা শেষে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্যে থামলো।
শ্রাবণ তাকে একটু চমকে দিয়ে গানের বাকি অংশ নিজেই গাওয়া শুরু করলো।

-স্পর্শ করো, জড়িয়ে ধরো,
তোমার প্রেমের চাঁদরে ।
মোমের আলো, প্রথম আলো
আজ তুমি খুব কাছে ।

চাইলে কি দেবে অধরে সেই অধর ।
পবিত্র এই প্রেম, আমার উপহার...
অন্তহীন স্পর্শের অলংকার ।

সন্ধ্যার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। সে আবার বলল,
-আমি দোয়া করি তোমার মধ্যে যেই ব্যাপারটা জ্বালাতন করছে, তা যাতে খুব জলদি অপসারণ হয়।

শ্রাবণের মুখে হাসি চলে এলো। মৃদু স্বরে বলল,
-থ্যাংক ইউ।

সন্ধ্যা কিছু বলল না, শুধু হাসি দিল। শ্রাবণকে সে জোড়াজুড়ি করছেনা কি হয়েছে তা জানার জন্যে। কারণ সন্ধ্যা জানে, শ্রাবণ মন ভালো হলো সে নিজেই সব কিছু বলবে।

কিন্তু শ্রাবণ ভাবছে সে এই কথা সন্ধ্যা বলবেনা, কারণ সন্ধ্যা কষ্ট পাবে। অবশ্য শেষে সন্ধ্যা কোন না কোনভাবে বুঝে যায় যে কোন জিনিস নিয়ে শ্রাবণের মন খারাপ হয় বা হয়েছে।
তখনই শ্রাবণের মাথায় একটা আইডিয়া ফুটে উঠল। সন্ধ্যা ব্যাতীত আরও একজন আছে যে শ্রাবণের মনের কথা শুনতে পায়। সে আর কেও নয়, শ্রাবণের নানু। যদি শ্রাবণ তার নানুকে পটাতে পারে, খুব সহজেই নানু বিয়ে করিয়ে দিতে পারবে সন্ধ্যার সাথে। আর নানু তাকে সন্ধ্যার সাথে জোড় করে বিয়ে করিয়ে দিলে মা আর কিছু বলতে পারবেনা। নানু কষে ধমক লাগিয়ে দিবে মাকে। আর শ্রাবণ জানে, নানু সন্ধ্যাকে অনেক পছন্দ করবে, কারণ নানু যেমন মেয়ে পছন্দ করে সন্ধ্যা ঠিক তেমনি।

সন্ধ্যা গলা খাঁকারি দিয়ে বলে উঠলো,
-নীরবতা এবার ভেঙেই ফেলেছ। এবার কথাতো বলো!
-আচ্ছা সন্ধ্যা?
-হুমম?
-আমার একটা ছোট্ট অনুরোধ রাখবে?
-অবশ্যই। আমার সামর্থ থাকলে জান প্রাণ দিয়ে রাখবো। বলো কি করতে হবে।
-আমি আমার স্পেশাল মানুষটাকে আরেকজন স্পেশাল মানুষের সাথে দেখা করাতে চাই। করবে?
-হুমম! নিশ্চই সেই স্পেশাল মানুষটা তোমার প্রিয়তমা। যার কথা আমাকে বলো সারাদিন, আর আমিও তার প্রেমে পড়ে গেছি। আমি এক পায়ে খাঁড়া তাঁর সাথে দেখা করার জন্যে।
-তুমি সব সময় আমার কথা কেড়ে নাও। শুধু মুখের নয়, মনের কথাও।
-হয়তো।
-আচ্ছা তাহলে তোমাকে নিয়ে যাবো। কবে ফ্রী আছো বলো?
-শুক্রবার।
-পারফেক্ট সময়! 
-কেন?
-পরে বলবো। একটু পর কথা বলি। আমার প্রিয়তমাকে বলে দিই যে দুইটা সারপ্রাইজ আছে। আর অফিসে ফোন দিয়েও জানিয়ে দিতে হবে। 
-ঠিক আছে। পরে কথা হবে।

ফোন রেখে শ্রাবণ তার নানুকে কল দিল।
-আমার সুন্দরী কমলা কেমন আছে?
-সে তো ভালোই আছে। আর আমার কলিজার টুকরোটা কেমন আছে?
-ভালো, তবে আমার নানার প্রতি এখনও হিংসে হয়।
-কেন সে আবার কি করলো।
-আরে নানু, আমি যদি নানার জায়গায় থাকতাম তবে আজ আমার সুন্দর ফুটফুটে বউ থাকতো।

নানু একটু লজ্জা পেয়ে হাসি দিল।
-আচ্ছা নানু আমি কিন্তু সামনের শুক্রবারে আসবো।
-আচ্ছা। অনেক মজার মজার রান্না করে খাওয়াবো।
-নানু, এখনি লোভ দেখিয়ে দিচ্ছ? আজ মায়ের সাথে রাগ করে খাইনি। ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে।
-আহা, আমার বাচ্চাটা খায়নি? কি করেছে ওই মহিলাটা? বল আমাকে! আমি কুঁচি কুঁচি করে কেঁটে ফেলবো!
-পরে বলবোনে নানু আম্মু। আমি আসি আগে।
-আচ্ছা বাচ্চা! শুন, আমার দেওয়া পিঠা কি এখনো আছে?
-আছে নানু।
-পিঠা খেয়ে নে। নাহয় শরীর খারাপ করবে।
-ঠিক আছে নানু।
-আর হ্যাঁ, আমার সামিহাটা কেমন আছে রে?
-আছে ভালোই। নতুন ক্লাস এ উঠে নতুন বান্ধবী হয়েছে। এখন ভাইকে ভুলে গেছে।
-কি আর করবি। বড় হচ্ছে। বান্ধবীদের সাথে সব শেয়ার করতে পারবে। তোর সাথে কি আর করবে নাকি?
-কিন্তু নানু, এটা সত্য ওকে কখনই একলা হতে দিব না। আমার ভালোবাসা সব সময় পাবে।

বলতে বলতেই সামিহা দরজায় নক করলো।
-মিয়াও, আমি কি আসতে পারি?

শ্রাবণ নানুর উদ্দেশ্যে বলল,
-ওই দেখোসে গেছে আমার ছোট বিড়ালটা।

এবার সামিহার উদ্দেশ্যে বলল,
-আয়, দরজা খোলা আছে।

সামিহা ঘরে ঢুকলো হাতে একটা টেডি বিয়ার নিয়ে
মুখে বড় একটা হাসি নিয়ে উত্তেজিত কন্ঠে বলল,
-নানু আম্মু ফোন করেছে? দাও, দাও, আমিও কথা বলবো।

শ্রাবণ ফোনটা সামিহার হাতে দিল।
সামিহার কথার স্টাইল দেখলে যে কারও মন গলে যাবে।
-নানু আম্মু নানু আম্মু, জানো আজকে না আমি নতুন বান্ধবী বানিয়েছি।
-তাই? তোমার বান্ধবীকে আমার হাতের পিঠা খেতে দিও।
-আচ্ছা নানু আম্মু। তোমার সাথে ঘুমুতে মন চাচ্ছে নানু, কতদিন দেখিনা। অনেক মিস করছি তোমাকে।
-ঘুমাবে তো। তোমার ভাইয়া সামনের শুক্রবার আসবে। তুমিও এসো সাথে।
-আসলেই?
সামিহার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। খুশিতে সে ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-থ্যাংক ইউ সু মাচ ভাইয়াটুস।
এই বলে সে শ্রাবণের গালে চুমু বসিয়ে দিল।

-ভাইয়া তোমাকে একটা চকোলেট এনে দিব।
শ্রাবণ হাসি দিল,
-আচ্ছা।
সামিহা আবার নানুর সাথে কথা বলা শুরু করলো,
-নানু জানো? একটা কিউট আপু....

যখনই এই কথা বলতে নিয়েছিল তখনই শ্রাবণ ওর মুখ চেপে ধরলো। ইশারায় বলে দিল যাতে নানুকে কিছু না বলে।
সামিহা কথা বুঝতে পেরে কথা চেঞ্জ করলো,
-আমাদের স্কুলে আজকে একটা কিউট আপু এসেছিল, আপুটা অনেক আদর করেছে আমাকে।
-তাই নাকি? ভালো তো।
-হ্যাঁ।
বলেই একটা হাই দিয়ে উঠলো সামিহা।
-আমার সোনাটার ঘুম পেয়েছে। যাও পাখি ঘুমিয়ে পড়ো, রাত হয়েছে।
-গুড নাইট নানু আম্মু।
-গুড নাইট সোনা, শ্রাবণকেও গুড নাইট বলে দিও।
-গুড নাইট শ্রাবণ, নানু বলেছে।

পাশ থেকে শ্রাবণও গুড নাইট দিয়ে দিল।
সামিহা শুয়ে পড়লো শ্রাবণের পাশে।
-একি? আজ তোর রুমে ঘুমাবি না?
-যেতে আলসে লাগছে ভাইয়া। প্লীজ আজ এখানে ঘুমাই।
-আচ্ছা। রাতে আবার আমার জায়গা নিয়ে নিস না।
-হিহিহি, আচ্ছা।
শ্রাবণ সামিহার কপালে চুমু দিয়ে বেডসাইড ল্যাম্প অফ করে দিল।
তারপর ফোন হাতে নিয়ে সন্ধ্যাকে মেসেজ দিল, &quot;গুড নাইট&quot;।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো সন্ধ্যার উত্তরের।
উত্তর আসার পর সে মুচকি হাসি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/91818/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Jan 2022 13:52:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা<br />
পার্ট-২</p>
<p>এভাবে এক সপ্তাহ কেটে গেলো মায়ের সাথে কথা না বলে। বলেছে, তবে দরকার ছাড়া একটা শব্দও বলেনি সে মায়ের সাথে। সানিয়া আন্টি বলতে চাইলেও সে বলে না, দূরে সরে যায়। তারপর আবসার আংকেল বুঝিয়ে সুঝিয়ে বলল কিছুদিন সময় দিতে, এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।</p>
<p>রাত ৯ টা বাজে। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি। শ্রাবণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। সে সন্ধ্যার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-91818"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/91818/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">997da14d3f645131c4170af4d4deb186</guid>
				<title>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা
পার্ট-১


-মা প্লিজ বোঝার চেষ্টা কর।

-না, আমি তোর কোনো কথা শুনবো না। প্রেম করার আগে আমাকে বলে করেছিস? এখন আসছিস আমার কাছে কান পড়া দিতে।
-মা, ভালোবাসা কি কখনো বলে হয়? আর তুমি তোমার ছেলেকে এত ভালবাসো, ছেলেকে কিভাবে খুশি করা যায় তা নিয়ে সবসময় ব্যস্ত থাক। তাহলে আজ তুমি আমার খুশি আমার থেকে এভাবে কেড়ে নিতে চাচ্ছ কেন?

শ্রাবণের মা চুপচাপ ভ্রুকুটি করে বসে রইলেন। খবরের কাগজে চোখ রেখে বসে আছেন। শুধু তাকিয়ে আছেন, পড়ছেন না। শ্রাবণের হাসি মুখটা দেখার জন্যে কত কিছুই না করতেন তিনি। আজ শ্রাবণের পছন্দের মেয়েটাকেও শ্রাবণের হতে দিতে চাচ্ছেন না।
তিনি ভাবছেন কিভাবে সেই মেয়েটির প্রতি শ্রাবণের ঘৃণা বাড়াবেন।

-মা, প্লিজ। খুব কষ্ট হবে আমার ওকে ছাড়া থাকতে। আমার তো ওকে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তোমার শুধু ওর স্বাস্থ্য নিয়েই সমস্যা তাইনা? মা, ও এতটাও মোটা না। বোঝার চেষ্টা কর। আচ্ছা, যদি তোমার এতই সমস্যা হয় তাহলে আমি ওকে চিকন বানিয়ে দিব।

-তোর সমস্যা না হলেও আমার আছে। শুধু স্বাস্থ্য নয়, এসব মেয়েরা ছেলেদেরকে তাদের পরিবার থেকে আলাদা করে দেয়। আর ও যেই মোটা, আমাদের বাসায় এলে তো ঢুকতেই পারবেনা। শুধু তাই না, ওরা টাকার লোভেও এমন করে। মিথ্যে ফাঁদে ফেলে। মোট কথা হলো, আমার ওই মেয়েকে কোনো ভাবেই পছন্দ না। আমি কোনোদিনও মানতে পারবো না। ওকে বিয়ে করতে হলে আমার মরা লাশ দেখে বিয়ে করবি।

শ্রাবণের একটু রাগ হলো। প্রায় গর্জে উঠলো।

-মা। একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে। ও এতটাও মোটা না। তোমার এত সমস্যা হলে আমি চলে যাবো ঘর থেকে। আজ তুমি আমার খুশি নিয়ে যাচ্ছ না? পরে কিভাবে থাকবে আমাকে ছাড়া?

পুরো কথাটা শেষ করতে পারলো না। শ্রাবণকে অবাক করে দিয়ে তার গালে কষে একটা চড় বসিয়ে দিলেন সানিয়া আন্টি। শ্রাবণ বিশ্বাস করতে পারছেনা। শ্রাবণের মা ওরফে সানিয়া আন্টি কোনোদিনও শ্রাবণের গায়ে হাত তুলেননি। আজ প্রথমবার সানিয়া আন্টি শ্রাবণকে মেরেছেন।

সানিয়া আন্টির বুকও কেঁপে উঠলো শ্রাবণের চেহারা দেখে। শ্রাবণ যাতে এটা নিয়ে আর কোনো কথা না বাড়ায় সেই জন্য জলদি করে বলে উঠলো,

-প্রেমে পড়ে এতটা বেয়াদব হয়েছিস? এতটা? নিজের মাকে এসব কি বলছিস? মাথা ঠিক আছে তোর? তোর জন্ম থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত কখনই তোকে মারিনি। তোর বেয়াদবির কারণে আজ তোকে মারতে বাধ্য হয়েছি। মায়ের পছন্দ অপছন্দ বুঝিস না কেন? আমি সুখে থাকতে পারবো না ওকে নিয়ে।

শ্রাবণের চোখ পানিতে ভরে গেছে। চুপচাপ দাড়িয়ে ছিল। হাত পাও কাঁপা শুরু করে দিয়েছে।

এবার শান্ত গলায় সানিয়া আন্টি বললেন,

-ঘরে যা। আমার মাথা ফেটে যাচ্ছে।

শ্রাবণ রাগি কিন্তু কাঁদোকাঁদো গলায় বলল,

-মা, মনে করে দেখ, তুমিও বাবাকে বিয়ে করার জন্যে নানা নানুর সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিলে। নানু আমাকে বলেছে সব।

এই বলে শ্রাবণ চলে গেল নিজের রুমে। দরজাটা দড়াম করে লাগিয়ে দিল।

সানিয়া আন্টি আর ভাষা খুঁজে পাচ্ছেনা বলার জন্যে।

চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে তাঁর জায়গায়। ঠিক জায়গামত খোঁচাটা দিয়ে দিলো শ্রাবণ। তিনি এখন বুঝতে পারছেন, এটা তাঁর পাওনা ছিল। কথায় আছেনা, যে যা করে সে তা পায়।

লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে সানিয়া আন্টি তার রুমের জানালার পাশে বসলো। বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে।

আগের কথাগুলো তাঁর মনে পড়ছে। সেদিন আকাশ মেঘলা ছিল। তিনি তাঁর মার সামনে বসে অনেক অনুরোধ করছিল। অনেক কান্নাকাটি করে তাঁর মাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি শ্রাবণের বাবাকে অনেক ভালোবাসতেন। অনেক চেষ্টার পরও তিনি তাঁর মাকে রাজি করাতে পারেননি৷ আজ তাঁর সাথেও এমন হচ্ছে। তিনি শ্রাবণের বাবা ও উনার পরিবারের সাথে ভালোভাবেই কাটিয়েছেন। এতদিন পরেও তার বাবা মার সাথে তার রিলেশন এখনও ভালো হয়নি। শ্রাবণ আর সামিহাকে তাদের নানা নানু অনেক আদর করেন। কিন্তু সানিয়ার সাথে কথা বলেন না। সানিয়াও চেষ্টা করেন না৷ শ্রাবণ হওয়ার পর শুধু একবার গিয়েছিলেন সেখানে। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে তাঁর যাওয়াতে শ্রাবণের নানা নানু বেশি খুশি হননি। এরপর কোনোদিন যাননি। এভাবে তিনি অনেকক্ষণ পর্যন্ত চিন্তার জগতে ডুবে ছিলেন।

ভাবনার চিন্তায় ডুবে গিয়ে তাঁর চোখে কখন যে পানি চলে এলো বুঝতেই পারলো না।
পাশের রুম থেকে শ্রাবণের বাবা এসে বললেন,
-কি হলো? এত চেঁচামেচি কিসের?

শ্রাবণের মা কোন উত্তর না দিয়ে চুপচাপ বসে রইল।

শ্রাবণের বাবা মিস্টার আবসার বুঝে গেছেন যে সানিয়া আন্টির মন খারাপ।

পাশে এসে দাঁড়িয়ে কাঁধে হাত রাখলেন।
-কি হয়েছে আমার সানিয়ার?
সানিয়া আন্টি প্রায় কান্না করে দিচ্ছিলেন।

তারপর শ্রাবণের বাবা সানিয়া আন্টির মুখোমুখি বসলেন।

মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে বললেন,
-কে আমার সানিয়াকে কষ্ট দিয়েছে? কে? নাম বলো এখনি তাকে আমি মেরে দিয়ে আসবো।
মিস্টার আবসার এখনও মাঝে মাঝে সানিয়া আন্টির সাথে অতি নরম সুরে কথা বলেন। কারণ তিনি চান না তার ছেলে কঠোর হোক। কথায় আছেনা, ছেলেরা বাবার মত হয়। আর বাচ্চারা ছোট বেলায় যা দেখে তাই শিখে। তাই শ্রাবণ আর সামিহার ছোটবেলা থেকেই মিস্টার আবসার অনেক চেষ্টা করেন যাতে কখনো ছেলে বা মেয়ের সামনে নিজের খারাপ দিক না আনতে। তেমন একটা খারাপ দিক নেইও তাঁর মধ্যে।

সানিয়া আন্টি নিজেকে সামলাতে না পেরে শ্রাবণের বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলেন।
কাঁদোকাঁদো গলায় বললেন,
-আমি সারাজীবনে যার সুখের জন্যে এত কিছু করলাম আজ তাকেই আমি কষ্ট দিলাম।

একটু থেমে আবার বললেন,
-আমি আমার শ্রাবণকে কষ্ট দিয়েছি। আমি আমার শ্রাবণকে মেরেছি, আবসার।

আবসার আংকেল মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন,
-আমি জানি, সন্তানের গায়ে হাত তুললে বুকটা কেঁপে ওঠে। কিন্তু রাগ উঠলে কিছুই মাথায় থাকেনা।

কিছুক্ষণ এভাবে চলার পর, আবসার আংকেল সানিয়া আন্টির চোখের পানি মুছে দিলেন।

-আচ্ছা অনেক অশ্রু ঝরিয়েছ। এবার চলো তোমাকে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে নিয়ে যাব। তারপর মাথা ঠান্ডা করে এসে শ্রাবণের সাথে কথা বলবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/91817/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Jan 2022 13:49:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পের নামঃ শ্রাবণ সন্ধ্যা<br />
পার্ট-১</p>
<p>-মা প্লিজ বোঝার চেষ্টা কর।</p>
<p>-না, আমি তোর কোনো কথা শুনবো না। প্রেম করার আগে আমাকে বলে করেছিস? এখন আসছিস আমার কাছে কান পড়া দিতে।<br />
-মা, ভালোবাসা কি কখনো বলে হয়? আর তুমি তোমার ছেলেকে এত ভালবাসো, ছেলেকে কিভাবে খুশি করা যায় তা নিয়ে সবসময় ব্যস্ত থাক। তাহলে আজ তুমি আমার খুশি আমার থেকে এভাবে কেড়ে নিতে চাচ্ছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-91817"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/91817/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">130a56117e4588ab6cd7a5596e4dac8e</guid>
				<title>Mahira S changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/91815/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Jan 2022 13:40:23 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>