<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Md Nurnobi islam sumon | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/mdnurnobiislamsumon/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/mdnurnobiislamsumon/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Md Nurnobi islam sumon.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 05 Jun 2026 00:03:59 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">be92a3ea4f9d5610d2a438a3e0473e73</guid>
				<title>কফিশপের টেবিল নাম্বার সাত
মোঃ নুরনবী ইসলাম সুমন 

কফিশপের ঘড়ি ঠিক সকাল নয়টার সময় বাজল, আর ঠিক তখনই সে টেবিল নাম্বার সাতের দিকে এগোল। টেবিলটা জানালার পাশে, যেখানে ভোরের সূর্যের হালকা আলো কাচের ফাঁক দিয়ে ঢুকত। সে আগে কখনো এই টেবিলে বসেনি। তবু আজ যেন কোনো অদ্ভুত তাড়না তাকে টেনে এনেছিল।

টেবিলের across দিকে একজন বসে আছেন, একরাশ নীরবতায়। তিনি বয়সে প্রায় তিরিশ, চশমার ফ্রেম ঘন কালো, গায়ে ধূসর শার্ট, হাতে ল্যাপটপ। সে যেদিকে তাকাল, চোখগুলো যেন ভিজে ভিজে আলো খুঁজছিল। প্রতিদিন এই সময়, ঠিক এই টেবিলে, তিনি বসে থাকতেন।

সে হেসে স্বাভাবিক স্বরে বলল, &quot;সকালের কফি মানে, নতুন দিনের শুরু?&quot;
অচেনা মানুষটি কিছুক্ষণ থমথম করে তাকাল। তারপর কাঁধ উঁচু করে হালকা হেসে বললেন, &quot;হ্যাঁ, ঠিক তাই। প্রতিদিন এই সময়।&quot;

প্রথম দিনটা ছিল অদ্ভুত। তারা শুধু চেয়েছিল কফি। কিন্তু পরের দিন, আর তার পরের দিনও, দুজনেই এই টেবিলে এসে বসতে থাকল। কোন কথা শুরু হলো না। শুধু নীরবতা, আর মাঝে মাঝে হালকা চোখের যোগাযোগ।

এক সপ্তাহ পর, প্রথমবারের মতো সে জিজ্ঞেস করল, &quot;আপনি কি সবসময় এই সময়ে আসেন?&quot;
&quot;হ্যাঁ,&quot; অচেনা মানুষটি বললেন, &quot;প্রায় তিন বছর ধরে। ঠিক এই সময়, ঠিক এই টেবিলে।&quot;
তাহলে কী, তিন বছর ধরে টেবিল সাতেই তিনি বসেছেন? সে অবাক হয়ে বলল, &quot;তিন বছর? এবং এই টেবিলে কেউ আপনার সাথে বসেনি?&quot;
&quot;না,&quot; অচেনা মানুষটি উত্তর দিল, &quot;কেবল আমি। আর আজ, আপনি।&quot;

এদিকে, প্রতিদিন আসার এই অভ্যাসে ধীরে ধীরে একটা অদ্ভুত দৃঢ় বন্ধন তৈরি হলো। তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করত না, কেবল থাকত। কখনো কখনো একে অপরের দিকে তাকানো, আরেকজনের চশমার আড়ালে থাকা চোখ পড়ার অনুভূতি, ছিল যেন সারা দিনের সমস্ত কথা।

একদিন, সে নিজেই ভেঙে পড়ল। &quot;আমি এই টেবিলে কেন আসি, তা জানি না। হয়তো… এখানে কিছু খুঁজছি।&quot;
অচেনা মানুষটি নীরব রইলেন। তারপর হঠাৎ বললেন, &quot;আমিও ঠিক তাই। এখানে বসে আমি নিজের ক্ষতগুলো দেখি। আর হয়তো কিছু ঠিক করতে চেষ্টা করি।&quot;

দিনগুলো কেটে গেল। জানালার আলো বদল হলো, বারান্দার চা-গন্ধ মিশে গেল কফির গন্ধে। টেবিল নাম্বার সাত যেন তাদের দিনের সঙ্গী হয়ে উঠল। কেউ কিছু বলত না, শুধু বসে থাকত।

এক বিকেল, হঠাৎ বাইরে ঝড় এল। কফিশপের জানালা কাঁপতে লাগল, বাতাসের সঙ্গে কাগজ উড়ে গেল। সে হাত বাড়িয়ে খোলা জানালার পাশে বসা অচেনা মানুষটির দিকে তাকাল। &quot;আজকে কেন এখানে আসলেন?&quot;
অচেনা মানুষটি ধীরে ধীরে উত্তর দিল, &quot;আজও খুঁজছি। কিন্তু মনে হচ্ছে কিছু মিলে গেছে। হয়তো আমরা দুইজন একে অপরের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, না জানি।&quot;

এরপর থেকেই তারা কথাবার্তা শুরু করল। ছোট ছোট, অদ্ভুত প্রশ্ন “আপনি আজ কেমন আছেন?” “আজ চা নেবেন নাকি কফি?” এগুলো ধীরে ধীরে দীর্ঘ আলোচনায় রূপ নিল।

একদিন, সে লক্ষ্য করল, অচেনা মানুষটির টেবিলের কোণে ছোট্ট খাতা। খাতার পাতা ভরা অক্ষর, ছোট ছোট নোট। সে আগ্রহ নিয়ে খাতাটি দেখল। অচেনা মানুষটি হালকা হেসে বললেন, &quot;এটা আমার ছোট্ট রহস্য। প্রতিদিন এখানে বসে আমি নিজের গল্প লিখি।&quot;

সে খাতার পাতায় চোখ পড়ল ছোট গল্প, কবিতা, মানুষের চোখের কথা, শহরের শব্দ, ঝড়ের গন্ধ। যেন সেই নীরবতাতেই অচেনা মানুষটি সমস্ত জীবনকে লিখে রেখেছেন।

ধীরে ধীরে সে বুঝল, কফিশপের টেবিল নাম্বার সাত শুধু কফি বা নীরবতার স্থান নয়। এটা ছিল এমন এক জায়গা যেখানে মানুষ নিজের সঙ্গে কথা বলতে পারত। যেখানে চোখের ভাষা কথা বলে, আর নীরবতা সবচেয়ে বড় সংলাপ হয়।

কিছুদিন পর, দুজনের মধ্যে অদ্ভুত বন্ধুত্ব তৈরি হলো। তারা একে অপরকে বলল না, কেবল বোঝে। টেবিল নাম্বার সাত যেন তাদের সম্পর্কের এক অদৃশ্য সেতু।

এক বিকেল, কফিশপের মালিক নতুন করে সাজানোর কথা বলল। সব টেবিল নতুন রঙে রাঙানো হবে। সে ভাবল, যদি টেবিল সাত বদলে যায়? সেই নীরবতা, সেই আলো, সেই ঝড়ের গন্ধ, সব কি হারিয়ে যাবে?

তাদের অচেনা মানুষটি হেসে বলল, &quot;টেবিল নাম্বার নয়, সময় এবং অভ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেখানে বসব, সেখানে আমাদের গল্প হবে।&quot;

আর তাই, প্রতিদিন তারা আসতে থাকল নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট টেবিলে। আর কফিশপের অন্যান্য অতিথিরা তাদের নীরব বন্ধন লক্ষ্য করত। কেউ জানতে চায়, কেন তারা কথা বলেন না। কেউ কৌতূহল দেখায়। কিন্তু তারা শুধু বসে থাকত, কফি চুমুক দিয়ে, চোখের কোণে এক অদ্ভুত হাসি নিয়ে।

ধীরে ধীরে কফিশপের অন্য গ্রাহকেরাও টেবিল নাম্বার সাতের রহস্য উপলব্ধি করতে শুরু করল। তারা বুঝতে পারল, এখানে বসা দুজনের মধ্যে কিছু আছে কোনো সাধারণ কফি সময়ের চেয়ে বেশি। এটা ছিল একটি নীরব অভ্যাস, যা ধীরে ধীরে তাদের জীবনের নিঃশব্দ গল্পের অংশ হয়ে উঠল।

এক বিকেল, ঝড়ে ভরা শহরের মধ্যে কফিশপের জানালা দিয়ে সূর্যের আলো ঢুকল। সে আবার টেবিল নাম্বার সাতের দিকে এগোল। অচেনা মানুষটি সেখানে বসে আছেন, হালকা ধূসর চশমার নিচে চোখে ভরা অজানা গল্প। সে চুপচাপ বসে গেল। দুই চোখের মধ্যে চোখ পড়ল, আর নীরবতা আবার তাদের মধ্যে কথার মতো ভেসে উঠল।

টেবিল নাম্বার সাতের কাছে বসে, কফির গন্ধ, ঝড়ের শব্দ, সূর্যের আলো সব মিলেমিশে একটি অদ্ভুত সুর তৈরি করল। যেন এই নীরব বন্ধন তাদের নিজের জীবনের অর্ধেক অংশ হয়ে গিয়েছে। তারা জানত না, কখনও এই গল্পের শেষ হবে কিনা। তবে আজ, এই মুহূর্তে, টেবিল নাম্বার সাত ছিল তাদের পৃথিবী।

প্রতিদিন ঠিক সকাল নয়টার সময়, তারা আসত। অচেনা মানুষটির চোখে কাগজের পাতার গল্প, আর তার নিজের চোখে নতুন দিনের প্রত্যাশা। তারা বলত না, শুধু বুঝত। কফিশপের টেবিল নাম্বার সাতের কাছে, নীরবতা হয়ে গিয়েছিল কথার বিকল্প, এবং কফি হয়ে উঠেছিল একটি সময়ের সাক্ষী।

এভাবে প্রতিদিন চলতে থাকল। ঝড় এল, রোদ উঠল, শহরের শব্দ এসে গেল। কিন্তু টেবিল নাম্বার সাত তাদের জন্য অচল, অদ্বিতীয়। এখানে বসে তারা বুঝল, কোনো মানুষকে বোঝার জন্য শব্দের প্রয়োজন হয় না, চোখ, অভ্যাস এবং নীরবতা অনেক বেশি বলবৎ হতে পারে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/250323/</link>
				<pubDate>Fri, 22 May 2026 10:21:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কফিশপের টেবিল নাম্বার সাত<br />
মোঃ নুরনবী ইসলাম সুমন </p>
<p>কফিশপের ঘড়ি ঠিক সকাল নয়টার সময় বাজল, আর ঠিক তখনই সে টেবিল নাম্বার সাতের দিকে এগোল। টেবিলটা জানালার পাশে, যেখানে ভোরের সূর্যের হালকা আলো কাচের ফাঁক দিয়ে ঢুকত। সে আগে কখনো এই টেবিলে বসেনি। তবু আজ যেন কোনো অদ্ভুত তাড়না তাকে টেনে এনেছিল।</p>
<p>টেবিলের across দিকে একজন বসে আছেন, একরাশ নীরবতায়। তিনি বয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-250323"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/250323/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9d957387605681187b920e1cc88603d5</guid>
				<title>ভাঙা হোস্টেলের জানালা
 মোঃ নুরনবী ইসলাম সুমন 

ভাঙা হোস্টেলের জানালার কাচ এখন শুধুই শব্দমুক্ত ধুলো। কিছুদিন আগে পর্যন্ত সেই জানালা ছিল একটি ছোট জগৎ। ছাত্রের একা থাকা, রাতের নিঃশ্বাস, এবং অদৃশ্য হাওয়ার গল্পে ভরা।

সুমন প্রথমদিন হোস্টেলে এলে দেখেছিল কেমন অচেনা শান্তি। বর্ষার ঝড় এসে হোস্টেলের পুরনো দেয়াল গিলে খেয়েছে, আর জানালার একপাশে কাঁচ ফাটার রেখা নদীর মতো ছড়িয়ে আছে। সেই ফাটায় ঢুকা বাতাস কেঁপে ওঠে তার হৃদের সঙ্গে।

প্রথম রাতেই সুমন বুঝতে পারে, হোস্টেল কেবল দেয়াল ও দরজা নয়। এখানে স্মৃতিগুলোই বসবাস করে। সে জানালার কাছে বসে এক ডায়েরি খুঁজে পায়। ধুলো ছুঁয়ে কিছু শব্দও উঠে আসে “যদি কেউ পড়ে, জানো আমি এখানে ছিলাম।”

ডায়েরিটা একটি ছাত্রের লেখা। নাম নেই। কিন্তু হাতের দাগ, শব্দের ফাটল, তার দৃষ্টির আঘাত সবকিছু জানায় এটি একজনের জীবনের টুকরো। সে লিখেছে,

&quot;এই জানালার বাইরে আমি কখনো যাব না। সবাই বাইরে জীবনের দিকে ছুটে যায়, আমি শুধু এখানে তাকিয়ে থাকি। হয়তো কেউ বুঝবে, হয়তো কেউ চোখ রাখবে, আর আমি অদৃশ্য হব।&quot;

সুমন প্রথমে ভেবেছিল, এটি শুধু এক ভাঙা ছাত্রের ডায়েরি। কিন্তু পড়তে পড়তে সে বুঝতে পারে, প্রতিটি শব্দ তার নিজের হৃদয়ের ভাঙা অংশকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিন বিকেলবেলা হোস্টেলের উঠোনে আড্ডা হয়। কেউ জানালার দিকে তাকায় না। কেবল সুমন। সে বুঝতে পারে যে, জানালার ফাঁক দিয়ে কখনো একজন ছাত্র চুপচাপ বাইরে তাকাতো। কখনো কাঁদতো, কখনো হাসতো। কেউ তা লক্ষ্য করত না।

একদিন সন্ধ্যায়, বাতাসে একটা অদ্ভুত গন্ধ আসে। ধুলো ও গামছার মিশ্রণ। সুমন জানালার কাছে বসে থাকে। হঠাৎ সে দেখে, ডায়েরির পাতা যেন নিজেই উড়ে গেছে, বাতাসে। লেখা এসেছে &quot;আমি চলে যাচ্ছি। জানালা হবে শুধু একটি স্মৃতি।&quot;

সুমন অবাক হয়ে যায়। কি করে এটি সম্ভব? ডায়েরি তার হাতেই আছে। কিন্তু শব্দগুলো যেন বাতাসে ভেসে গেছে।

পরের দিন সুমন জানালার পাশে বসে নতুন চিঠি খুঁজে পায়। এইবার শব্দগুলো আরও তীব্র, আরও গভীর।

&quot;যখন কেউ শোনে না, তখন শব্দই আমার বন্ধু। জানালা আমার কান, বাতাস আমার আত্মা। তুমি যদি পড়ো, বুঝবে। কিন্তু তুমি থাকবে কেবল পাঠকের মতো, কখনো আমার মতো।&quot;

সুমন বুঝতে পারে, এই জানালা শুধু একটি কাঁচের ফাটাই নয়। এটি এক জীবনের কাহিনী, যেটা কোনো মানুষ পড়তে পারে না। সে ভেতরে ভেতরে কেঁদে ওঠে, জানালা যেন তার চোখের জলও চুষে নেয়।

কয়েকদিন পর হোস্টেলে খবর আসে, যে ছাত্রটি অদৃশ্য। কেউ জানে না কোথায় গেল। কেউ খুঁজে পায়নি। কিন্তু জানালার ফাটায়, বাতাসে, ধুলোতে এখনও তার চিঠি লুকানো।

সুমন জানালার পাশে বসে থাকে। বাতাসের শব্দ শুনে। ধুলোয় লেখা পড়ে। কিছু বলতে চায় না। শুধু বসে থাকে। কখনও কখনও মনে হয়, জানালার দিকে তাকিয়ে কেউ তাকে দেখে।

হোস্টেল আরও পুরনো হয়ে গেছে। কিন্তু জানালার ফাঁক, বাতাসের শব্দ, ধুলো—সবকিছু অদৃশ্য ছাত্রটির গল্প বলতে থাকে। সুমন জানে, সে আর ফিরে আসবে না। তবে তার চিঠি, তার শব্দ, জানালার ফাটায় লুকানো সবকিছু আছে।

সুমন নিজেও অদৃশ্য হয়ে যেতে চায়। জানালা দেখেছে তাকে। বাতাস শুনেছে। ধুলো লিখেছে। সে লিখে রাখে,

&quot;আমি জানালার পাশে বসে তার গল্প শুনি। সে নেই, তবে আছে। অদৃশ্য, কিন্তু জীবিত।&quot;

শরতের রাত আসে। হোস্টেলের উঠোনে বাতাস নেমে আসে। জানালার কাচের ফাটায় ঝলসানো আলো পড়ে। সুমন চুপচাপ বসে থাকে। বাতাস ভেঙে যায়, শব্দ ভেঙে যায়, কিন্তু চিঠি এখনও আছে।

দিন যায়। কেউ জানালা লক্ষ্য করে না। কেউ ডায়েরি পড়ে না। কিন্তু সুমন জানে, প্রতিটি শব্দ তার হৃদয়ে মেলে। সে বুঝতে পারে, এই জানালা শুধু স্মৃতি নয়, এটি হলো একটি ছাত্রের অদৃশ্যতার সাক্ষ্য।

কয়েক সপ্তাহ পর হোস্টেলের দরজা বন্ধ থাকে। ধুলো জমে। কিন্তু জানালার ফাটায়, বাতাসের হাওয়ায়, অদৃশ্য ছাত্রের চিঠি লুকানো থাকে।

সুমন প্রতিদিন জানালার পাশে বসে। পড়ে, শব্দ শোনে। ধুলো ছুঁয়ে অনুভব করে। সে জানে, এই জানালা আর কেবল জানালা নয়। এটি একটি জীবনের প্রতিচ্ছবি, একটি অদৃশ্যতার চিঠি, একটি গল্প যা কেউ লিখেছে, কেউ পড়েছে, কিন্তু কেউ কখনো পুরোপুরি বুঝতে পারেনি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/249836/</link>
				<pubDate>Thu, 21 May 2026 02:30:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভাঙা হোস্টেলের জানালা<br />
 মোঃ নুরনবী ইসলাম সুমন </p>
<p>ভাঙা হোস্টেলের জানালার কাচ এখন শুধুই শব্দমুক্ত ধুলো। কিছুদিন আগে পর্যন্ত সেই জানালা ছিল একটি ছোট জগৎ। ছাত্রের একা থাকা, রাতের নিঃশ্বাস, এবং অদৃশ্য হাওয়ার গল্পে ভরা।</p>
<p>সুমন প্রথমদিন হোস্টেলে এলে দেখেছিল কেমন অচেনা শান্তি। বর্ষার ঝড় এসে হোস্টেলের পুরনো দেয়াল গিলে খেয়েছে, আর জানালার একপাশে কাঁচ ফা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-249836"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/249836/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">14679fbe92cae535258041cd8e3a030e</guid>
				<title>গুমরাতের শেষ সাক্ষী
মোঃ নুরনবী ইসলাম সুমন

রাতের আকাশ ছিল অন্ধকারে জড়ানো, যেন তার কোনো সীমা নেই। শহরের আলো দূরে দূরে ছড়িয়ে ছিল, কিন্তু সেই আলোও নিঃশব্দ, নিঃশেষ। এমন রাতে, যখন শহরের প্রায় সব মানুষ ঘুমোয়, তখন একা একা রাস্তায় হাঁটা পথিকেরা প্রায়ই নিজের ছায়ার সঙ্গে কথা বলে। আর সেই ছায়ার সঙ্গে কথা বলা কেউ শুনে না, কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য চোখ সব দেখছে।

নূরানী, এক তরুণী, একেবারেই সাধারণ জীবনের মানুষ। তবে আজকের রাতটা তার জন্য ছিল অস্বাভাবিক। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হঠাৎ অনুভব করল রাত যেন তার চারপাশে অদৃশ্যভাবে ঘনিয়ে আসছে। গাছের ছায়া তার উপর নেমে এল, রাস্তার বাতিগুলো যেন আরও দূরে সরে গেল। তার পায়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছিল না, কিন্তু মনে হচ্ছিল কেউ তার পেছনে আছে।

একটি গলিতে ঢুকতেই সে দেখল, একটি পুরনো ঘর। ঘরের জানালা থেকে আলো ফেটে আসছে না, কিন্তু ভেতরের অন্ধকারে যেন কেউ তাকিয়ে আছে। নূরানী স্থির হয়ে দাঁড়াল। হৃদয় দ্রুত ধড়ধড় করছিল, কিন্তু কৌতূহল তাকে দূরে যাওয়ায় বাধা দিল।

“কে আছে সেখানে?” সে ধীরে ধীরে বলল। কোনো উত্তর এল না। কিন্তু অদৃশ্য চোখগুলো তার প্রতি নজর রেখেছে তাকে দেখছে, কিন্তু প্রকাশ করছে না।

গলির শেষে পৌঁছে নূরানী বুঝতে পারল, শহরের এই নিঃশব্দ রাতে কেউ তার গল্প শুনছে। সে নিজেও অবাক হয়েছিল কেন রাতের এই নিঃশব্দে তাকে কেউ খুঁজে বের করল। এই অনুভূতি একধরনের অদ্ভুত এক শান্তি এনে দিল, যা তার কখনও আগে অনুভূত হয়নি।

নূরানীর মতো শহরে অনেক মানুষ রাতের নিঃশব্দে একাকী হয়। কেউ তার একাকীত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে, কেউ স্মৃতির সঙ্গে। কিন্তু এই রাতের সাক্ষী—যে গুম হয়ে যাওয়া রাতের একমাত্র জীবন্ত চোখ সব কিছুই দেখছে। সে শুধু দেখেই থেমে থাকে না; রাতকে অনুভব করে, রাতকে নিজের করে নেয়।

নূরানী অজান্তে সেই সাক্ষীর সঙ্গে যোগাযোগ করছিল। তার চোখের কোণে কিছু অদ্ভুত ছায়া নাচছে। মনে হচ্ছিল, যদি সে একটু সাহস দেখায়, সে অদৃশ্য চোখের রহস্যের সঙ্গে মিলিত হতে পারবে।

হঠাৎ, একটি হাওয়া বয়ে এলো। গাছের পাতার শব্দ, দূরের কুকুরের ঘেউ ঘেউ সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত সুর তৈরি করল। নূরানী বুঝতে পারল, সে কেবল এই রাতে একা নয়। কেউ, কিছু, বা এমনকি রাতের নিজস্ব এক চেতনা তাকে দেখছে, শোনছে।

তার পথ চলা আরও গভীরে প্রবেশ করল। গলির মোড়ে হঠাৎ একটি ছোট ছায়াময় বারান্দা দেখা গেল। বারান্দার নিচে একটি পুরনো বেঞ্চ। বেঞ্চে বসে থাকা মানুষগুলো নিঃশব্দে চেয়ে থাকে। কিন্তু আজ সেখানে কোনো মানুষ নেই শুধু শীতল বাতাস আর কিছু অদৃশ্য উপস্থিতি। নূরানী অনুভব করল, এই রাতের সাক্ষী তার চারপাশে ঘিরে আছে।

সে ধীরে ধীরে বসল। মনে হচ্ছিল, এই নিঃশব্দ রাতের মধ্যে সে তার সব ভয়, তার সব কষ্ট, তার সমস্ত অনুভূতি প্রকাশ করতে পারবে। কিন্তু কোন শব্দ বের হয়নি শুধু নিঃশব্দ। নিঃশব্দ সেই শক্তি যা মানুষকে কখনও ভয় দেয়, কখনও শান্তি দেয়।

একটা মুহূর্তে নূরানী নিজেকে হারাতে বসেছিল। কিন্তু সেই সময়েই সে বুঝল এই রাতের সাক্ষী কেবল দেখছে না, সে বাঁচতে চায়। বাঁচার ইচ্ছা এমন এক শক্তি যা রাতের আঁধারেও জীবন্ত।

নূরানী নিজের বুকের ভেতর সেই শক্তি অনুভব করল। তার জীবনের ছোট ছোট ঘটনা ভালোবাসা, দুঃখ, হাসি, কান্না সব কিছু যেন একসাথে তার সামনে চলে এল। সেই অভিজ্ঞতা তাকে বলল, রাত কখনও শেষ হয় না; রাতের গভীরে সঠিক চোখ থাকলেই সব কিছু জীবন্ত থাকে।

সেই অদৃশ্য চোখ নূরানীর দিকে আরও ঘনিষ্ঠ হলো। মনে হলো, এটি শুধু একজন সাক্ষী নয়, বরং সেই নিঃশব্দ রাতের প্রতিফলন, যা জীবনের এক অদ্ভুত বাস্তবতা জানাচ্ছে। নূরানী হঠাৎ অনুভব করল, এই সাক্ষী তার নিজের জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে।

রাত আরও গভীরে ঢুকে গেছে। শহরের সব শব্দ ধীরে ধীরে মরে গেছে। কেবল নিঃশব্দ এবং নিঃশব্দের সঙ্গে তার হৃদয়ের স্পন্দন বাকি। নূরানী বুঝতে পারল, এই নিঃশব্দে তার জীবন এবং এই রাতের সাক্ষীর জীবন একাকার হয়ে গেছে।

নূরানী কিছুটা ভয় পেলেও, তার ভয় আর ভাঙতে পারল না। কারণ সে বুঝেছে এই গুমরাতের শেষ সাক্ষী শুধু দেখছে না, বাঁচার চেষ্টা করছে। আর বাঁচার চেষ্টা করলেই, নিঃশব্দ রাতের মধ্যে নতুন এক জীবন খুঁজে পাওয়া যায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/249481/</link>
				<pubDate>Wed, 20 May 2026 04:47:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গুমরাতের শেষ সাক্ষী<br />
মোঃ নুরনবী ইসলাম সুমন</p>
<p>রাতের আকাশ ছিল অন্ধকারে জড়ানো, যেন তার কোনো সীমা নেই। শহরের আলো দূরে দূরে ছড়িয়ে ছিল, কিন্তু সেই আলোও নিঃশব্দ, নিঃশেষ। এমন রাতে, যখন শহরের প্রায় সব মানুষ ঘুমোয়, তখন একা একা রাস্তায় হাঁটা পথিকেরা প্রায়ই নিজের ছায়ার সঙ্গে কথা বলে। আর সেই ছায়ার সঙ্গে কথা বলা কেউ শুনে না, কিন্তু কোনো এক অদৃশ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-249481"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/249481/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9193307c5e4a836560033c21f2af0592</guid>
				<title>Md Nurnobi islam sumon and সেলিনা বিনতে কারীম are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248987/</link>
				<pubDate>Mon, 18 May 2026 15:12:27 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">784979971c08a27551e9e47fd6819bde</guid>
				<title>Md Nurnobi islam sumon changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248659/</link>
				<pubDate>Sun, 17 May 2026 17:08:03 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4a33a98dbc273312968edfc8fcec7fea</guid>
				<title>নীরব চত্বরে ছায়া
মোঃ নুরনবী ইসলাম সুমন 


আন্দোলনের দামামা থেমে গেছে। পিছনে ফেলে যাওয়া সেই তীব্র উত্তেজনার রেশটুকুও আজ আর বাতাসে নেই। এখন কেবল একটিই শব্দ, যা এই বিশাল শিক্ষাঙ্গনকে গ্রাস করে আছে—সেটি হলো নীরবতা। সেই নীরবতা এতই ঘন, এতই ভারি যে মনে হয় এটি যেন কোনো শূন্যস্থান নয়, বরং একটি নতুন, অপ্রকাশিত পদার্থের মতো ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে জমে আছে।
​প্রধান ফটক থেকে শুরু করে অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোর মাঝের পথ ধরে হেঁটে গেলে পায়ের নিচে স্যান্ডেলের ঘর্ষণে সৃষ্ট যে শব্দ হয়, তা-ও যেন এই নৈঃশব্দ্যের কারণে অস্বাভাবিক জোরে কানে বাজতে থাকে। পিচ্ছিল পথে ধূলো জমে আছে বহুদিনের অব্যবহারে, যেন সময় এখানে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল কিছুদিনের জন্য। আর সেই ধুলোর সঙ্গে মিশে আছে ঝরা পাতার এক গাঢ়, স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ; যা একই সঙ্গে পুরনো স্মৃতি এবং বর্তমানের শূন্যতাকে মনে করিয়ে দেয়।
​যেখানে এক সপ্তাহ আগেও হাজারো কণ্ঠের উন্মত্ত চিৎকার, স্লোগানের গর্জন, এবং প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতিতে আকাশ বাতাস কাঁপতো, আজ সেখানে কেবল নীরবতা। চারপাশের বিশাল অট্টালিকাগুলো যেন বোবা সাক্ষী। ক্লাসরুমের বন্ধ, কিন্তু কাঁচ ভাঙা জানালা দিয়ে ফিসফিস করে বাতাস ঢুকছে। সেই বাতাস ফাঁকা ব্ল্যাকবোর্ড, ধুলো জমা ডেস্ক আর চকহীন ডাস্টার স্পর্শ করে বেরিয়ে যাচ্ছে—কিন্তু কোনো ছাত্র নেই, কোনো শিক্ষকের উপস্থিতি নেই। অডিটোরিয়ামের ভেতরে অসংখ্য লাল রঙের চেয়ারগুলো সারি সারি করে ফাঁকা পড়ে আছে। প্রতিটি চেয়ার যেন একজন অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর প্রতীক, যাদের জায়গা এখন চিরকালের জন্য শূন্য। কারো পদচারণার শব্দ নেই, কোনো সাইকেলের রিংটোন নেই। শুধু একটি দূরের ঘড়ির যান্ত্রিক টিকটিক শব্দ, যা সময়ের সাথে সঙ্গে যেন একাকীত্বের সুর বাজাচ্ছে।

​নূরনবী প্রধান গেটের ঠিক বাইরে, পরিচিত মার্বেল পাথরের পিলারের পাশে দাঁড়ানো ছিল। তার চোখে এক অদ্ভুত ক্ষতচিহ্ন লেগে আছে—যা কেবল বাইরের চোখ দিয়ে দেখা যায় না, বরং তা হৃদয়ের গভীরতম স্তরের আঘাত। এটি কোনো সাধারণ শারীরিক আঘাত নয়, বরং আন্দোলনের চরম মুহূর্তগুলোতে দেখা কিছু দৃশ্য যা তার আত্মাকে বিদ্ধ করেছে।
​সেদিন, যখন পুলিশবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লো, নূরনবী অনুভব করেছিল তার বুক পকেটে হৃদপিণ্ড যেন আছড়ে পড়ছে। শব্দহীন সেই চিৎকারের স্মৃতি আজও তার কানে বাজে—চিৎকারটি তার নিজের ছিল না, ছিল তার সামনের সারিতে দাঁড়ানো এক বন্ধুর। ছুরির মতো ধারালো পুলিশের দৃষ্টি, হাতের লাঠির নির্মমতা এবং একটু দূরে মাটিতে লুটিয়ে পড়া এক বন্ধুর কাঁদা মুখ—এই দৃশ্যগুলো এখন তার কাছে ফ্যাকাশে ফটোগ্রাফের মতো, যা কখনোই স্মৃতি থেকে মোছা যাবে না।
​নূরনবী নিজের বুকের ভিতরে হাত চেপে ধরল। সে ভয় অনুভব করছে, কিন্তু এই অনুভূতিটি সাধারণ ভয় নয়; এটি হলো এক ধরনের অসহায় কষ্ট। সেই কষ্ট যা আসে যখন কেউ দেখে যে সে তার সবটুকু দিয়েও একটি পবিত্র উদ্দেশ্যকে রক্ষা করতে পারেনি। একটি প্রশ্ন তার মনে বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে: এত রক্ত, এত অশ্রু কি তবে বৃথা গেল?
​ক্যাম্পাসের মধ্যবিত্ত চত্বরে—যেখানে একসময় ছাত্ররা মুক্ত পাখির মতো উড়ত, হাসি-ঠাট্টা আর আড্ডায় মেতে থাকত—আজ শুধু লম্বা লম্বা ছায়া। সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ছিল, তাই প্রতিটি গাছ, প্রতিটি ভবন তাদের দীর্ঘায়িত ছায়া ফেলেছিল মাটিতে। প্রতিটি ছায়া যেন চিৎকার করছে, কিন্তু শব্দ নেই—তারা যেন সেই ছাত্রদের অনুপস্থিতির শোক পালন করছে।
​নূরনবী দেখল মাটিতে পড়ে থাকা একটি রঙহীন ব্যাগ, হয়তো কোনো ছাত্রী তাড়াহুড়োয় ফেলে গিয়েছিল। ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে পড়ে আছে কিছু প্রতিবাদী পোস্টার, যাদের স্লোগান এখন নীরব। আর একটু দূরে, ধূলোর মধ্যে চকচক করছে একটি জিনিস—একটিমাত্র ছুরি। কেউ হয়তো আত্মরক্ষার জন্য এনেছিল, বা ভয়ের তাড়নায় দ্রুত ফেলে দিয়েছিল। সেই ছুরিটি দেখে নূরনবীর হাতে এক দমবন্ধ করা অনুভূতি হলো। সে অনুভব করল—ভয় এখনও বাতাসে মিশে আছে, এবং এই নীরবতা কেবল একটি ক্ষণস্থায়ী বিরতি মাত্র।
​নূরনবী ভাবলো, এই ক্যাম্পাস এখন আমাদের স্মৃতিগুলোর বিশাল কবরস্থান। আমরা প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছি সেই কবরগুলোর ওপর দিয়ে।

নূরনবী ধীরে ধীরে মধ্য চত্বরের গভীর শূন্যতার দিকে এগিয়ে চলল। প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে গিয়ে তার মনে হলো, যেন সে মাটির ওপর দিয়ে নয়, বরং সময়ের মধ্যে দিয়ে হাঁটছে—এমন এক সময়, যা বর্তমানে স্থির কিন্তু অতীতে ভারাক্রান্ত। আন্দোলনের রেশে ক্ষতবিক্ষত এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণেই তার সহযোদ্ধাদের স্মৃতি যেন একটি অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করছে।
​হঠাৎ, একটি অচেনা শীতলতা অনুভব করে সে থমকে দাঁড়াল। সূর্য আরও খানিকটা হেলে পড়েছে, তাই চারপাশের ছায়াগুলো এখন গাঢ় এবং দীর্ঘ। ভিড়ের মধ্যে থেকেও সে স্পষ্ট দেখতে পেল জাকিয়ার ছায়া, যদিও জাকিয়া বাস্তবে সেখানে ছিল না। এই ছায়াটি কেবল একটি মায়া বা দৃষ্টিভ্রম ছিল না; এটি ছিল গভীর সংযোগের ফল। জাকিয়া ছিল আন্দোলনের সময় তার পাশে, তার অবিচল হাসি ছিল কঠিনতম সময়েও তাদের অনুপ্রেরণা। আজ সেই হাসি কেবল স্মৃতি, আর বাস্তবে সে নেই।
​“জাকিয়া, তুমি কি সত্যিই চলে গেছো, নাকি এই নীরবতার আড়ালে লুকিয়ে আছো?” নূরনবী ফিসফিস করে ভাবলো।

​কেবল সেই ছায়া, নীরব কিন্তু শক্তিশালী। নূরনবী বুঝতে পারল, তার বন্ধুরা কেবল অনুপস্থিত নয়, তারা এই ক্যাম্পাসের প্রতি ইঞ্চি জায়গায় তাদের শক্তি এবং প্রতিজ্ঞা রেখে গেছে। সে এগিয়ে চলল, যেন ছায়াটি তাকে পথ দেখাচ্ছে—প্রতিটি ধাপ যেন মাটির মধ্যে হারাচ্ছে, কিন্তু এক অদৃশ্য পথে তারা আবার মিলিত হতে চলেছে।
​নূরনবী একসময় তাদের প্রিয় ক্লাসরুমের দিকে এগোতে শুরু করল। করিডোরেও একই নীরবতা, কিন্তু একটি কক্ষের দিকে তাকাতেই সে একটি পরিচিত দৃশ্য দেখল: মিমির ব্যাগ। ব্যাগটি খোলা, এবং তার বইগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মিমি, যে সবসময় গুছিয়ে থাকতে ভালোবাসতো, তার ব্যাগ এভাবে পড়ে থাকাটা এক অস্বাভাবিক সংকেত।
​নূরনবী বইগুলো হাতে তুলে নিল। কয়েকটি পৃষ্ঠায় কিছু লেখা, কিছু আঁকা—হয়তো শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়োয় কিছু লিখে গিয়েছিল। সে মিমিকে জানে, সে সাধারণত কোনো লেখা শেষ করে যায় না, কিন্তু এবার যেন তাকে থামানো হয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট পৃষ্ঠায় তার দৃষ্টি আটকে গেল:
​“আমরা হারব না। তারা চাইছে আমরা ভয় পাই। কিন্তু আমরা নীরব নই।”

​এই লাইনগুলো কোনো সাধারণ লেখা ছিল না; এটি ছিল একটি শপথ, একটি অদম্য আত্মার শেষ বার্তা। নূরনবী নিজেকে শক্ত হাতে ধরে রাখল। এই ক্যাম্পাস চত্বরে সে হয়তো একা, কিন্তু তার বন্ধুরা এই নীরবতার মধ্যেই তাদের বার্তা রেখে গেছে। প্রতিটি লিফলেট, প্রতিটি দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি, প্রতিটি ছায়ায় সে তাদের স্মৃতি আর সংকল্প খুঁজে পাচ্ছে। এই নীরবতাই তাদের যোগাযোগ মাধ্যম।
​ক্যাম্পাসের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে, যেখানে পুরনো বট গাছটির নিচে প্রায়শই তাদের আলোচনা সভা বসতো, সেখানে একটি মূর্তির মতো স্থির হয়ে বসে ছিল সুমি। তার চোখ লাল, স্পষ্টতই বহু কান্নার ছাপ, কিন্তু মুখে কোনো শব্দ নেই। তার নীরবতা যেন এই ক্যাম্পাসের সামগ্রিক কষ্টের প্রতিচ্ছবি।
​নূরনবী খুব সাবধানে তার কাছে চলে গেল। কোনো প্রশ্ন নয়, কোনো সান্ত্বনাও নয়। তারা দুজনে কেবল একে অপরের দিকে চেয়ে রইল—এক গভীর নৈঃশব্দ্যের মধ্যে। এই চুপ, এই দৃষ্টির সংযোগ—হাজার শব্দের চেয়েও শক্তিশালী। এটি ছিল একে অপরকে বোঝার, একে অপরের ভয়কে স্বীকার করে নেওয়ার এবং টিকে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার একটি ভাষা।
​ঠিক সেই মুহূর্তে, পিছনের গেটের দিকে একটি দ্রুত নড়াচড়া দেখা গেল। ঘাসের উপর লাফিয়ে আসে সৌরভ, যার চোখে ভয়ের চিহ্ন থাকলেও তার মুখে বিজয়ের দৃঢ়তা। সে কিছু বলল না, কেবল তার হাতে ধরা বস্তুটি দেখাল—একটি ছিন্ন-ভিন্ন পোস্টার, যা সে সম্ভবত গেটের কাছে লুকিয়ে রেখেছিল বা খুঁজে পেয়েছে।
​পোস্টারে লেখা ছিল: “আমাদের মুক্তি অনিবার্য।”
​নূরনবীর চোখে পানি আসে। সৌরভের এই নীরব উপস্থাপনাই যেন তাদের শক্তিকে ধরে রেখেছে। সেই ছিন্নভিন্ন পোস্টার—আন্দোলনের শেষ প্রতীক—যেন তাদের মনে করিয়ে দিল যে তারা কেবল ব্যক্তি নয়, তারা একটি ধারণা, যা সহজে ধ্বংস করা যায় না।
​ছায়ার মধ্য দিয়ে তারা ধীরে ধীরে একত্রিত হতে শুরু করল। নূরনবী, সুমি এবং সৌরভ—তিনজন নীরব যোদ্ধা। প্রতিটি চত্বরে, প্রতিটি ফাঁকা জায়গায় তারা অনুভব করল তাদের বন্ধুরা এখনও অদৃশ্যভাবে উপস্থিত। তবে সবাই জানে, কোথাও কোথাও পুলিশের আতংক এখনও বাস করছে। নীরবতা কীভাবে কাটানো যাবে, তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, কিন্তু তাদের এই সংযোগই ছিল প্রতিরোধের প্রথম ধাপ। এই গভীর নীরবতা আর বিচ্ছিন্নতা তাদের নতুন করে এক হতে সাহায্য করছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248658/</link>
				<pubDate>Sun, 17 May 2026 17:04:51 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নীরব চত্বরে ছায়া<br />
মোঃ নুরনবী ইসলাম সুমন </p>
<p>আন্দোলনের দামামা থেমে গেছে। পিছনে ফেলে যাওয়া সেই তীব্র উত্তেজনার রেশটুকুও আজ আর বাতাসে নেই। এখন কেবল একটিই শব্দ, যা এই বিশাল শিক্ষাঙ্গনকে গ্রাস করে আছে—সেটি হলো নীরবতা। সেই নীরবতা এতই ঘন, এতই ভারি যে মনে হয় এটি যেন কোনো শূন্যস্থান নয়, বরং একটি নতুন, অপ্রকাশিত পদার্থের মতো ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-248658"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/248658/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c67e812bfed110f0aa2d86f53a49c20f</guid>
				<title>রাতের গোপন সমাবেশ
মোঃ নুরনবী ইসলাম সুমন 

​নূরনবী ধীরে ধীরে তার ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া হাত দুটো পকেটের আরও গভীরে ঢুকিয়ে দিল। এই শীতের রাতটি কেবল হাড়-কাঁপানো ছিল না, এর মধ্যে যেন মিশে ছিল এক চাপা ইতিহাস, যা এই শহরে দীর্ঘকাল ধরে লুকিয়ে আছে। গভীর শ্বাস নিতেই তার ফুসফুস শীতল, ধোঁয়াটে বাতাস টেনে নিলো— মনে হলো সেই বাতাস তার রুক্ষ গালগুলোকে কেবল স্পর্শ করছে না, বরং একটি চাপা ক্ষোভের মতো দংশন করছে। রাস্তার পিচেট ঢালা মাটিতে জমে থাকা জল হালকাভাবে চাঁদ-আলোর এক প্রতিচ্ছবি তৈরি করেছিল; কেউ হয়তো অল্পক্ষণ আগেই দ্রুত পায়ে হেঁটে গেছে, কিন্তু সেই ছায়ামূর্তি বা তার পায়ের শব্দ কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। নূরনবী চোখ ফেরানোর আগেই সেই জমে থাকা জল আর চারপাশের গভীর আঁধার এমনভাবে মিলেমিশে গেল, যেন প্রকৃতিও তাদের এই গোপন যাত্রাকে নিজের কাছে লুকিয়ে রাখছে।
​তার প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল এক নিদারুণ সতর্কতা। সে এগিয়ে গেলো পুরনো ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের সেই জরাজীর্ণ পেছনের গেটটির দিকে। এই গেট বহু বছর ধরে বন্ধ, যেন প্রবেশ করার অনুমতি দিতে সে নারাজ। এই ফটকের পিছনেই ছিল সেই বহু পুরনো ভবনটি, যার জানালাগুলো দীর্ঘ দিন আগে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। কক্ষগুলো তখন থেকেই ছিল তালাবন্ধ, ঘরগুলো তখন থেকে নির্জনতার এক অঘোষিত মন্দির। এই নির্জনতা কেবল মানুষের অনুপস্থিতির কারণে নয়, বরং এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক ভয়ংকর সত্যের নীরবতার কারণে।
​ভেতরের জানালা দিয়ে ফিকে চাঁদের চুয়াশা আলো ভেন্টিলেটরের মরিচা ধরা জালে আটকে ফিল্টার হয়ে প্রবেশ করছিল। সেই দুর্বল, ভূতুরে আলোয় কক্ষের ভেতরের দেয়ালগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছিল, যেখানে জমে থাকা শত যুগের ধুলা, ভাঙা পাথরের টুকরো আর স্যাঁতসেঁতে মরচে পড়ার এক অদ্ভুত গন্ধ মিশে ছিল— এ এক এমন গন্ধ যা শুধু সময়ের নয়, চাপা পড়া অপমানেরও। এই ভাঙা, পরিত্যক্ত ভবনের নীরবতার মাঝেই আজ এক গোপন সভার আয়োজন হয়েছে, যেখানে চারজন মানুষ তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে একত্রিত হয়েছে।
​কক্ষের ঠিক মাঝখানে মেঝেতে রাখা একটি মাত্র মোমের ক্যান থেকে হলদেটে, ভেজা আলো ছিটকে পড়ছিল। এই দুর্বল আলোর বৃত্তে ইতোমধ্যেই চারজন ছায়ামূর্তি অপেক্ষার প্রহর গুনছিল। তাদের নীরবতা এতটাই তীব্র ছিল যে মনে হচ্ছিল যেন তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসও বাইরে থেকে শোনা যাচ্ছিল না। এক কোণায় ছিল একটি ভাঙা কাঠের চেয়ার, তার জীর্ণতা যেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক প্রতীকী ছবি। আরেক কোণায় পুরনো মেঝেতে পড়ে ছিল ছিঁড়ে যাওয়া স্মৃতির একটি ছবি— হয়তো কোনও ফেলে আসা দিনের হাসি-খুশির টুকরো, যা এখন এই অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে তাদের বর্তমান যন্ত্রণার বিপরীতে এক তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ। লাভাল আলোর কম্পন আর গাঢ় ছায়ার খেলাতে তাদের চোখ-মুখ এতটাই অস্পষ্ট ছিল যে তাদের ভিতরের ভাবনাগুলো কেবল অনুমিত হচ্ছিল, কিন্তু তা বোঝার সাধ্য ছিল না কারও। এই অস্পষ্টতা যেন তাদের নিরাপত্তার এক প্রতীক।
​নূরনবী দরজাটা ধীরে ধীরে, প্রায় ইঞ্চি ইঞ্চির মাপে ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল। তার চামড়ার জুতো যখন ভেজা মেঝে স্পর্শ করল, তখন সেই সামান্য আওয়াজটুকুও যেন দেওয়ালে কানে টিপে ধরে থাকা গভীর নিস্তব্ধতাকে ভাঙতে পারল না, বরং তা নীরবে এই নতুন উপস্থিতিকে স্বীকার করে নিলো।
​“আসছি,” সে ফিসফিস করে বলল। এই শব্দটি যেন তার নিজের অস্তিত্বের এক নিবেদন ছিল, এক শপথ ছিল।
​চাপা নিস্তব্ধতার মধ্য থেকে এক কন্ঠস্বর উঠে এলো— সেই কন্ঠ ছিল চাপা, সতর্ক।
“সব ঠিক আছে, নূরনবী? কেউ পিছু নেয়নি তো?”
​নূরনবী মাথা নাড়ল। এই মাথা নাড়া ছিল শুধু হ্যাঁ-সূচক নয়, ছিল তার ভেতরের সমস্ত সংকল্পের এক নীরব স্বীকৃতি। সে হাতে ধরে থাকা পুরনো, হলুদ হয়ে যাওয়া একটি মোটা দিয়ালোগ ফাইলের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো। ফাইলটি সাবধানে মেঝেতে নামিয়ে রেখে বলল, “এইটা নিয়ে এসেছি। সব ভিডিও ফুটেজ, নথিপত্র আর স্মৃতি— সবকিছু এখানে সুরক্ষিত আছে, এক মিনিটের জন্যও আমার চোখের আড়াল হয়নি।”
​সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষমাণ ছায়ামূর্তির মধ্যে থেকে একজন উঠে দাঁড়ালো। এই মানুষটির চিবুকে অবিন্যস্ত দাড়ি, যা দীর্ঘদিনের ঘুমহীন রাত ও মানসিক উদ্বেগের প্রতীক। তার চোখে ছিল গভীর ক্লান্তি ও সতর্কতার ছাপ। এ হলো সৌরভ, এই গোপন দলের নীরব নেতা।
​“ঠিক আছে, সৌরভ,” সে বলল এক অদ্ভুত শান্ত, প্রায় ধীরভাবে। তার কন্ঠে যেন বহুদিনের জমে থাকা ঝড়ো মেঘের চাপা গর্জন ছিল। “সময় নষ্ট করা যাবে না। প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। চলো শুরু করি।”
​দরজাটি সাবধানে, শব্দহীনভাবে বন্ধ হলো। জানালার ভাঙা ফাঁক দিয়ে চাঁদের মুখ যেন একটু ফিসফিস করে উঠলো, যেন সেও তাদের এই গোপন কথোপকথন শোনার জন্য উন্মুখ। মোমের আলো কমে যাওয়ায় ভেজা দেয়ালগুলো উষ্ণ হলো না, বরং সেই ঠাণ্ডা, ভেজা স্পর্শে ঘরটা থরথর করে কাঁপতে লাগলো— যেন এই দেয়ালগুলোও কেবল দর্শক নয়, তারা দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ সত্যের প্রথম সাক্ষী হতে প্রস্তুত হচ্ছিল।

​সৌরভ প্রথম তার নীরবতা ভাঙল। তার মুখটি এখন মোমের ক্ষীণ আলোয় আরও অচেনা লাগছিল, যেন বহুদিনের মানসিক যন্ত্রণায় তার পরিচিত রেখাগুলো মুছে গেছে। গলা ছিল ভেঙে যাওয়া, রুক্ষ— আবেগের ভারে থমকে যাওয়া এক নদী যেন। চোখে ছিল কৈফিয়ত দেওয়ার চাপা ভার আর ভয়, যা বহু কষ্টের পরে আজ মুক্তি পেতে চাইছে।
​“সে দিন… মাঝরাতে আমাকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল,” সে এক গভীর, কষ্টকর নিশ্বাস টেনে বলল, যেন তার ফুসফুস থেকে দীর্ঘদিনের জমানো বাতাস বেরিয়ে যাচ্ছে। “চোখ বাঁধা, গলা বাঁধা, সমস্ত কিছুই ছিল কেঁদে ওঠার জন্য প্রস্তুত। এই বাঁধন শুধু শরীরের ছিল না, ছিল আমার কণ্ঠস্বরের। তারা আমার ওপর চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করছিল, জোর করছিল থানায় গিয়ে একটা মিথ্যা বয়ান দিতে। তারা জানতে চেয়েছিল কারা আছে আমার সাথে, কোথা থেকে আসা, আমাদের উদ্দেশ্য কী— আমি শুধু বলেছিলাম, আমি ছিলাম একা। এই একা থাকার দাবি ছিল আমাদের বাকিদের সুরক্ষার একমাত্র ঢাল।
​&quot;তিনদিন ধরে… তারা শুধু মিথ্যা কথা বললো, সেটাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় ভীতি। আমার সত্য ছিল তাদের ক্ষমতার বিপরীত, তাদের তৈরি করা মিথ্যা আখ্যানের ঠিক উল্টো। আমি ছিলাম আমার দেহের এক প্রহরী, আমার ভেতরের সত্যকে আগলে রাখা এক দুর্ভেদ্য দেয়াল, যার কোনো দুর্বলতা তারা খুঁজে পায়নি। তারা চেষ্টা করেছিল আমার ভেতরের মানুষটাকে ভেঙে দিতে, কিন্তু আমি জানতাম, আমার এই নীরবতা আরও বড় এক প্রতিবাদের জন্ম দেবে।
​&quot;তারপর এক রাতে… একটি ছলনায় তারা আমাকে ছেড়ে দেয়। শহরের বাইরে নদীর ধারে, যেখানে নীরবতা ছাড়া আর কিছু ছিল না। আমি বাঁচি— শুধু এই বাঁচা আর নিঃশ্বাসটুকুই আমার প্রাপ্তি ছিল, কিন্তু সেই বাঁচার ভেতরে কোনো শান্তি ছিল না। আমি আজ এখানে বসেছি, এই আলো-অন্ধকারে, এই স্মৃতির মাঝে, কারণ আমি জানি— আজ সেই ভয়কে জয় করে সত্য বলার সময় এসেছে। এই সত্য শুধু আমার একার নয়, এটি এই নীরব প্রজন্মের সত্য।”
​কক্ষের ভেতরে চেপে বসা নীরবতা যেন আরও গাঢ় হলো। সবাই সৌরভের প্রতিটি শব্দকে যেন নিজেদের ভেতরে গ্রহণ করছিল।
​মোমের শিখা একটি ক্ষীণ ফিসফিস শব্দ করল। দেয়ালগুলো যেন সেই শব্দ শুনে শিউরে উঠলো। সময় যেন সেই মুহূর্তে থমকে গিয়ে সমস্ত ক্যালেন্ডারের কাঁটা বন্ধ করে দিলো, যেন প্রকৃতিও এই কঠিন সত্য হজম করার জন্য সময় নিচ্ছিল।
​এর পরে মোমের ক্যানটি নিজের হাতে তুলে ধরলো জাকিয়া। তার মুখে কালো স্কার্ফ শক্তভাবে বাঁধা ছিল, কেবল চোখ দুটি উন্মুক্ত। সেই চোখে ছিল লালচে রেশ, যা কেবল তীব্র ক্রোধ অথবা দীর্ঘস্থায়ী কান্নার পরেই দেখা যায়— এ যেন অবিচারের বিরুদ্ধে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ।
​“আমরা ছিলাম আটজন মেয়ে…” সে শুরু করলো। তার কণ্ঠস্বর প্রথমে নিচু হলেও ধীরে ধীরে দৃঢ় হয়ে উঠলো, যেন একটি চাপা আগুন জ্বলে উঠছে।
​“ছাত্রাবাসের মেয়েদের ঘর। রাতটা ছিল শান্ত, প্রকৃতির কোনো কোলাহল ছিল না, চাঁদ উঠেছিল, বাতাস যেন একটা শান্ত গানের মতো বয়ে যাচ্ছিল। আমরা গল্প করছিলাম… হাসছিলাম, আমাদের ছোট ছোট স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করছিলাম। সেই স্বপ্নগুলো ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। হঠাৎ করেই দরজায় একটা বিকট শব্দ হলো, আর ভাঙা দরজাটা খুলে গেল। তারা ঢুকে পড়ল। যারা এসেছিল, তারা নিজেদের ‘পুলিশ’ নামে পরিচয় দিয়েছিল, কিন্তু তাদের চোখে কোনো আইন বা মানবতা ছিল না, তারা ছিল ক্ষুধার্ত পশুর মতো। তাদের লক্ষ্য ছিল ভয় সৃষ্টি করা, স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া।
​&quot;কেমন ভয়, কী সাংঘাতিক আতঙ্ক! আমাদের কেউ ভয়ে চিৎকার করতে পারেনি। মুখ, গলার স্বর, চোখ, সব যেন এক অদৃশ্য দড়ি দিয়ে বাঁধা পড়ে গিয়েছিল।
​&quot;আমি… আমি তখন… শুধু মাটিতে পড়েছিলাম, স্তব্ধ হয়ে, যেন আমি আর আমার শরীর এক নই।
আমি সবাইকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে সেই পশুতুল্য আক্রমণকে বাধা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু…
​&quot;কেউ বাঁচেনি। আমাদের ভেতরের আত্মাটা কেউ বাঁচাতে পারেনি। তারা আমাদের কণ্ঠস্বর কেড়ে নিয়েছে, আমাদের সাহসকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আজ আমরা সেই নীরবতা ভেঙেছি।”
​তার গলা এই কথাগুলো বলেই থেমে গেল, তীব্র আবেগে তার চোখ ছলছল করে উঠলো। মোমরশ্মিটা নড়ে উঠলো, যেন সেও জাকিয়ার সাথে সেই গভীর কান্নাকে অনুভব করতে চাইল।
​বাতাস আবার একটু ঠাণ্ডা হয়ে উঠলো, যেন ভেতরের উষ্ণতাকেও গ্রাস করতে চাইল। ধুলো ভিজে যায়, কিন্তু মাঝখানে রাখা পুরনো পেনড্রাইভটা গলে যায় না, বরং সেই যন্ত্রের ভেতরেই একটি দাম্পত্যের মতো করে স্মৃতিগুলো সযত্নে সংরক্ষণ করা আছে, মুক্তির অপেক্ষায়।

​নূরনবী তখন উঠে দাঁড়ালো। তার হাত এক পুরনো কাঠের টেবিলের রুক্ষ পৃষ্ঠে রেখে সে বলল, তার কন্ঠস্বরে এখন আর ভয় নেই, আছে এক শীতল ইস্পাত-কঠিন সংকল্প।
​“আজ রাত যা-ই হোক, এইখানে এই আঁধারে আমরা সত্যকে বাঁচাবো।
এই ভিডিও আর ডেটা ছাড়া অন্য কোনো জায়গায় কেউ জানতে পারবে না আসল ঘটনা। এই শহর, এই বিশ্ববিদ্যালয়, এই দেশ— সবার জানতে হবে, এমন কী হলে আমরা নীরব থাকি? কী কারণে আমরা মাথা নিচু করে নিজেদের বিবেককে বলি দিই? আমাদের নীরবতা তাদের অপরাধকে বৈধতা দেয়, আর আজ আমরা সেই বৈধতা ছিন্ন করব।”
​এরপর সুমনা— হালকা ছায়ার প্লাস্টিক চেয়ারে বসে থাকা মেয়েটি তার নীরবতা ভেঙে দিল। তার কথাগুলো ছিল হাঁ করে ছুরি মারার মতো তীক্ষ্ণ, সরাসরি আঘাতকারী।
​“এই পেনড্রাইভে… প্রায় সাতচল্লিশ মিনিটের ভিডিও আছে। চারুকলা অনুষদের সেই ল্যাব থেকে গোপনে তোলা। আমার যে বন্ধুরা ছিল, তারা ভয়ে আমাকে বারবার বলেছিল— ‘ভালো হয় নাকি না তোর! এ সব ছেড়ে দে!’ কিন্তু আমি বলেছিলাম, সত্য একটাই: তারা যা করেছে, তার বিবরণ দেব, আমি মুখ খুলব। ভিডিওতে স্পষ্ট আছে— ব্যারিকেড ভাঙার শব্দ, পা ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার আওয়াজ, চিৎকার, লাঠির আঘাত, রক্ত, কান্না, এবং সব শেষে নদীর আঁকাবাঁকা পথে তাদের পলায়ন, তাদের কাপুরুষতা। সবাই বলল— জীবন বাঁচুক।
​&quot;কিন্তু… আমি বাঁচতে চাই না এই মিথ্যা আর ভয়ের চাপে। এই জীবন মূল্যহীন যদি সত্য না থাকে। আমি চাই, যারা নিজেদের ক্ষমতার ছাপ ফেলেছে, তারা জানুক তাদের সেই ছায়া আর দেশ-প্রেমিকের নয়, তারা হয়েছে ‘মানুষ হত্যাকারী’, আর তাদের এই অপরাধের জন্য কোনো ক্ষমা নেই।”
​মোমরশ্মি ক্ষণিকের জন্য ঝাপসা হলো, দেয়াল আরও ভিজে উঠলো, কক্ষটা যেন এখন পুরোপুরি বুঝতে পারল— স্মৃতি ফিসফিস করছে না, স্মৃতি চিৎকার করছে, ন্যায়বিচার চাইছে।
​তখন তাকবীর ভাইয়া— যার মুখে ছাঁচ পড়া বিরক্তি, আর চোখে নিরাপত্তাহীনতার দুশ্চিন্তা— তিনি বললেন,
“সময়ের সামান্য ক্ষতি হলেই তারা এই ভিডিওর অস্তিত্ব মুছে দেবে, যেমন তারা আমাদের ইতিহাস মুছে দিতে চায়। তাই আজ রাতেই এই ভিডিও পাঠাতে হবে— বাইরে, এমন এক ঠিকানায় যেখানে এটি চিরকাল থেকে যাবে, যেখানে তাদের হাত পৌঁছাবে না।
আমরা তিনটি মাধ্যম বেছে নেব: একটি নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, একটি নির্লিপ্ত ব্লগার নেটওয়ার্ক, আর একটি শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, যার মাধ্যমে একযোগে সব প্রকাশিত হবে।
সবকিছুতে FOIA-এর (Freedom of Information Act) মতো করে সমস্ত তথ্য প্রকাশিত হোক, যেন কেউ আর নীরব না থাকতে পারে, যেন সবাই শুনতে বাধ্য হয়।
আমাদের আত্মা মুক্ত হবে না, যতক্ষণ এই সত্য গোপন থাকবে, যতক্ষণ এই জঘন্য অপরাধের কোনো বিচার না হবে।”
​দরজাটি একবার নড়ে উঠলো, সামান্য একটু ঠাণ্ডা বাতাস ভেতরে ঢুকলো। মোম জ্বলে উঠলো আবার, ধুলো নড়ে উঠলো, আর চাঁদের আলো ভেতরে আরও তীব্রভাবে প্রবেশ করলো।
​কেউ আর কিছু বলল না।
​ফিরে পাওয়া ফাইলগুলো সযত্নে টেবিলে রাখা হলো। পেনড্রাইভ, নথি, চাঁদের হালকা ছায়া, আর পুরনো মেঝে— এই সমস্ত কিছু মিলে যেন এক অদ্ভুত সুরক্ষা কম্বল তৈরি করেছিল, যার ভেতরে ছিল মুক্তির বীজ।
​বাতাস যেন তখন এক নীরব সুর শোনালো। শান্ত, কিন্তু ভেজা। এক করুণ গানের মতো, নিঃশব্দ, কিন্তু গভীর আর্তনাদময়, যা কেবল আত্মার গভীরতম স্তরে শোনা যায়।
​জাকিয়া গলা ভাঙা, কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলল,
“আমরা যদি না বলি, কে বলবে? আমরাই তো শেষ সাক্ষী।
আমরা যদি ভয়ে চুপ থাকি, কে শোনাবে? আমাদের নীরবতা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পাপ।
এই শহরের দুষ্কৃতীরা যদি আজ বাঁচে— কলঙ্ক শুধু আমাদের নয়, তাদেরই, যারা ভয়কে অস্ত্র বানিয়ে মানুষ হত্যা করে, এবং যারা জেনে-শুনে নীরব থাকে, যারা সত্যকে চাপা দিতে চায়।”
​কেউ উত্তর দিল না। উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনও ছিল না।
​নূরনবী, যার মুখে এখন শীতল দৃঢ়তা, আর চোখে প্রতিশোধের আগুন, সে হাত বাড়িয়ে মোমটা তুলে নিলো।
​“চলো,” সে শান্তভাবে বলল। তার কন্ঠস্বর ছিল চূড়ান্ত আদেশের মতো।
​“একদম রাত ৩:৩৩ মিনিটে, এই ভিডিও ছাপিয়ে, URL, HASH, PASSWORD— সব গোপনভাবে পাঠানো হবে। আমরা এমন এক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করব, যা তাদের প্রযুক্তির নাগালের বাইরে।
কেউ যদি এক ফাইল ডিলিট করে দেয়— অন্য ফাইল আছে, দশটা কপি আছে, মেঘের আড়ালে লুকিয়ে আছে।
কেউ যদি জানালা ভেঙে তোলে— অন্য জানালা আছে, শত চোখ জেগে আছে, আমাদের পক্ষ থেকে পুরো পৃথিবী দেখবে।
কেউ যদি চেয়েও ধোঁয়া জমায়— আমরা ব্যাকআপ রাখবো, যুগের পর যুগ ধরে, এই সত্য কখনোই পুরোনো হবে না।
​&quot;আমাদের এই কাজ ভয় নিয়ে নয়, আমাদের ভালবাসা নিয়ে। ভালোবাসা সত্যের, আর সত্য কখনো মুছে যায় না, তা চিরন্তন। আজকের এই রাত হবে নীরবতার বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম জয়।”
​একেকটা প্রতিশ্রুতি, একেকটা সংকল্প যেন তাদের মনের গভীরে বাজতে লাগলো। তারা একে অপরের দিকে তাকালো, চোখে ছিল গভীর এক আস্থা।
​মোম একবার flicker করল, বাতাস ভেঙে গেলো, ধুলো ভিজে পড়ল।
​তাদের নীরবতা এক পাগল নীরবতা। সকলের চোখ জলের মতো ঝাপসা, কিন্তু সেই চোখেই এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক নতুন যুদ্ধের সংকল্প। কেউ আর বেশি কথা বলতে চাইল না, কারণ কথা শেষ হয়ে গেছে, এবার কাজের পালা।
​কিন্তু রাত আর অপেক্ষা করতে চায় না।
​তাই তারা মিলল চুপচাপ, এক গভীর কমটেড়ানো ঘুমের মতো, কিন্তু তাদের ভেতরের চেতনা ছিল পুরোপুরি সজাগ।
​ফিরে যাওয়ার পথে নূরনবী হাঁটে— হেঁটে মাটির নিচে কখনো পানি, কখনো কুয়াশা, যা তার জুতোকে ভিজিয়ে দিচ্ছিল। তার পায়ে পড়েছে গাছের শুকনো পাতা, যা প্রতি পদক্ষেপে মৃদু শব্দ করছিল। কোনো কণা অচেনা ধুলোর সাথে মিশে গেছে। সে অনুভব করে এই পথের ধুলো আর জল যেন তার ভেতরের ভয়ের সাথে বাইরের পৃথিবীর এক গভীর সংযোগ স্থাপন করছে।
​চন্দ্র যখন তার গায়ে শীতল, কিন্তু দৃঢ় আলো ফেলল, সে অনুভব করল— ভয় আর বিশ্বাস একসঙ্গে কাজ করছে, একে অপরের হাত ধরে। ভয় আছে, কারণ এই পথ বিপদসঙ্কুল; কিন্তু বিশ্বাস আছে, কারণ তারা সত্যের পথে হাঁটছে। তার মনে হলো, সে শুধু হাঁটছে না, সে ইতিহাসের এক নতুন পাতায় স্বাক্ষর রাখছে।
​আর আমি, লিখি না, বলি না— শুধু হেঁটে চলি। এই পথ, এই রাত, এই সমাবেশ— সবই এক বৃহত্তর সত্যের অংশ।
​রাত শেষ হয়নি।
সমাবেশও হয়নি শেষ।
আর সত্য— মোল্লাপড়া আঁধার নয়, আলো খুঁজে পেয়েছে, এবং সেই আলো এখন ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247638/</link>
				<pubDate>Wed, 13 May 2026 15:56:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রাতের গোপন সমাবেশ<br />
মোঃ নুরনবী ইসলাম সুমন </p>
<p>​নূরনবী ধীরে ধীরে তার ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া হাত দুটো পকেটের আরও গভীরে ঢুকিয়ে দিল। এই শীতের রাতটি কেবল হাড়-কাঁপানো ছিল না, এর মধ্যে যেন মিশে ছিল এক চাপা ইতিহাস, যা এই শহরে দীর্ঘকাল ধরে লুকিয়ে আছে। গভীর শ্বাস নিতেই তার ফুসফুস শীতল, ধোঁয়াটে বাতাস টেনে নিলো— মনে হলো সেই বাতাস তার রুক্ষ গালগুলোকে কেবল স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247638"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247638/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>