<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | প্রদীপ্ত দে চৌধুরী | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/pradiptadey12006024/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/pradiptadey12006024/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for প্রদীপ্ত দে চৌধুরী.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 15 Jun 2026 18:26:08 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">12a7c08554576fd55b7266ea9eafa0f5</guid>
				<title>গল্পঃ সময়স্রোতের জীবন 

আজকে থেকে দুদিন আগের কথা বলছি। অফিসের সামনে প্রাইভেট কারে উঠতে দেখলাম একজন মহিলাকে। তার সাথে দুটো বাচ্চা আছে- ছেলেটা বড়, মেয়েটা ছোট। মহিলার গায়ে কাতান শাড়ি। বার্ধক্যে স্বাভাবিক রেখার খেলা চোখে মুখে,আঁচলের ঘোমটার বিপরীতে চুলগুলো কমে গেছে বুঝতে পারা যায়- ওই মহিলাকে চিনতে পারলাম আমি। আমার একসময়কার বড্ড আপন মানুষ ছিল সে। 

সাদেক ভ্রু কপালে তুলে জিজ্ঞেস করলো, কি বলছেন - ছিল - এখন নেই-মানে-
- উহু! নেই। ও বড্ড আগের কথা। বলছি, আগে একখিলি পান খাওয়াও। 

সাদেক পাশ কেটে যাওয়া একটা লোককে ডেকে এক খিলি পান নিলো। সাধারণত ৫ টাকা- ট্রেনে উঠার জন্য বাড়তি ৫ টাকা। বুড়ো লোকটি পান নিয়ে মুখের এককোণে রেখে চিবোতে লাগলেন - চোখ বন্ধ করে। তারপর গব গব স্বরে বললেন, সাদেক আমি তোমার চেয়ে বয়সে বড়। বয়সে বড় হলেই কাউকে কেন সম্মান দিতে হয় তা তুমি বুড়ো হলে বুঝতে পারবে। দুনিয়ার বেশিরভাগ ভুল তুমি করে ফেলেছো, অভিজ্ঞতার একটা পাহাড় তোমার ভেতরে, একটা ঘটনা দেখেই তুমি বুঝে ফেলতে পারো- এর পরে কি ঘটতে চলেছে। তারচেয়েও বড় কথা- তুমি বুঝতে পারো, এই পৃথিবীর সবকিছুই পরিবর্তন হয়- কাউকেই ধরে রাখা যায় না, স্থির অপরিবর্তিত করে রাখা যায় না। সময় মানুষের চিন্তা- চেতনা-পছন্দকে বদলে দেয়। এ এক ভয়ানক সুন্দর ব্যাপার! 

সাদেকের কলিগ হয় বুড়ো লোকটি। সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট। এইযে সময় পরিবর্তন আর তার সাথে চিন্তা চেতনা পরিবর্তন -এই কথাটি উঠেছে সাদেকের থেকেই। অফিসের কাজে সাদেক আর তার সিনিয়র বস যাচ্ছেন দূর শহরে। সাদেক একটু বইপড়ুয়া মানুষ ছিল আজীবন- তার ঘরে বিশাল একটা শোকেসে বিশাল সংখ্যক বই। তবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে তাতে নতুন বই নেই- দশ বছর আগে আপডেট হয়েছিলো শোকেসটা, তারপর থেকে বইগুলো শুধু রাখার জন্য রাখা। কেন- কারণ সাদেকের এখন আর বই পড়া হয়না। ৮ টা- ৫টা অফিস, তারপর সংসার, বাজার, বাচ্চাদের দেখাশোনা- এখন বই পড়ার সময় কোথায়!যুবক বয়সে সাদেকের ইচ্ছে ছিল- সে কবি হবে। পাঞ্জাবি পড়ে গভীর চিত্তে মাঝে মাঝে উদাস হয়ে তাকিয়ে থাকতো আকাশের দিকে। তারপর যখন চাকরি নিল, সংসার হলো- কর্পোরেট অফিসের চাপে কোথায় পালালো তার উদাসীনতা আর কোথায় সেই কবি হওয়ার তাড়না। 
দশ বছর পর কি মনে করে সাদেক কবিতার বই নিল- রেলস্টেশনে। ট্রেনে উঠবার আগে একটা বইয়ে চোখ আটকে গেল তার। একটা কবিতাসমগ্র, দশ বছর আগে শুধুমাত্র টাকার অভাবে এই বইটা কিনতে পারেনি।বইটা হাতে নিল, তারপর কি ভেবে শেষমেষ কিনে ফেললো বইটা। তার ইচ্ছে ছিল -ট্রেনে একটা দীর্ঘ যাত্রা হবে, সেখানে সে একটা দুটো করে কবিতা পড়ে ফেলবে। কিন্তু যা ভাবল সাদেক, তার কিছুই হল না। ট্রেন ঝিক ঝিক করে যখন চলতে শুরু করলো বটে কিন্তু সাদেকের কবিতা পড়া আর হয় না। সাদেক কোন কবিতাই ভালো করে পড়তে পারলো না- কিছুটার অর্থ বুঝলো না- কয়েকটা পড়ে বিষম অনাগ্রহে তার মাথাটা ধরে এল।
 সামনে থাকা বৃদ্ধ সিনিয়রের দিকে বিরক্তি নিয়ে বললো, আমি বুঝতে পারলাম না, এই কবিতার বইয়ের জন্য একসময় আমি পাগল ছিলাম! কি সব লিখেছে এতে! দুটো কবিতা পড়লাম- ছাই পাশ লাগছে সব। 

বুড়ো লোকটি হাসলেন। বললেন, সাদেক আমাদের জীবনে সময় ব্যাপারটা খুব জরুরি। সময় পালটে যায়, সাথে সাথে পালটে ফেলে আমাদের সবকিছু। সেটাই নিয়ম- সেটাই স্বাভাবিক। 
বুড়ো লোক তারপর পাড়লেন দুদিন আগে দেখা এক মহিলার কথা। পান খেতে খেতে শুরু করলেন গল্প, সাদেক তোমাকে কল্পনা করতে হবে - একটা হাসনাহেনার বাগান। ভার্সিটির ট্যুরে আমরা সেখানে গিয়েছি। সাদেক তুমি হাসনাহেনা দেখেছো কখনো? 
সাদেক মাথা নাড়ালো। 
আমি হাসনাহেনার বাগানে প্রথম নীরাকে দেখলাম। নীরাকে আগেও দেখেছি - ভালো লাগতো- কিন্তু যখন ওই বাগানে দেখলাম তাকে- আমার কাছে মনে হল তাকে এর আগে এভাবে কখনো আমি দেখিনি। আমি অবাক হয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম তার দিকে। নীরা খুব সম্ভবত বুঝতে পারলো আমি তার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে আছি । আমার সামনে এসে হেসে বললো, কিরে ওমনভাবে তাকিয়ে কি দেখছিস? 
আমি আমতা আমতা করে খুব আস্তে বললাম, তোমাকে ভালোবাসি...
বলার পরেই সম্বিৎ ফিরে পেলাম। তৎক্ষনাৎ কোনমতে বিষয় পাল্টে-  হাসনাহেনা নিয়ে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করেছিলাম। লজ্জায় কোনমতে সে জায়গা থেকে পালিয়ে এসেছিলাম। 
আমার ধারণা ছিল নীরা কিছুই শুনতে পায়নি। তার একসপ্তাহ পরে টিফিন টাইমের এক ফাঁকে বসেছিলাম কয়েকজন। বাকিরা উঠে গেলে আমি-নীরা বসেছিলাম। নীরা খুব সন্তপর্ণে বললো, সেদিন হাসনাহেনার বাগানে আমায় কি বলেছিলি আমি শুনতে পেরেছিলাম। 
আমি চোখ বড়বড় করে রইলাম। লজ্জায় আমার হাত কাঁপতে লাগল। 
নীরা মাথা নিচু করে, তর্জনী দিয়ে বুড়ো আঙুল ঘষে বললো, আমারও - অনুভূতি- একই...... আর কিছু বলল না, বোধ হয় গুছিয়ে উঠতে পারলো না। নীরা উঠে গেল। 
সাদেকের মনে হল সে হাসনাহেনার বাগান আর নীরাকে সামনাসামনি দেখছে। আঙুলগুলো মুখে চেপে বললো, তারপর?  থামলেন কেন -আশ্চর্য! 
বুড়ো বললেন, নীরাকে শেষ দেখলাম এই দুদিন আগে- একটা গাড়িতে উঠছে। সঙ্গে দুটো বাচ্চা। আমাদের কথা হল। আমি তোমাকে বোঝাতে পারবো না সাদেক, আমার নিজেকে চেনা তখনও বোধ হয় বাকি ছিল। আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে যে মানুষকে দেখেছিলাম, একই মানুষ- অথচ এতটুকু কোন কিছু অনুভব করলাম  না। আর দশটা পরিচিত মানুষের মতো তার সাথে আমার কথা হলো! যেন পাশের ঘরের বিদেশ চলে যাওয়া কোন বান্ধবী- অনেকদিন পরে হয়েছে দেখা। 
অথচ নীরা যখন ছেড়ে চলে গেল আরেক শহরে। আমি তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, কখনো বিয়েশাদী করবো না। এসব কিছুই হল না- বিয়েতে বসেছিলাম আমি। একবছর পর আমার মনে হল আমার স্ত্রীর চেয়ে সুন্দরী আর ভালো মানুষ- এ পৃথিবীতে আর কেউ হতে পারে না- কেন তার সাথে আগে কখনো আমার পরিচয় হল না! 
সাদেক, এই হচ্ছে সময়। সময় বদলে যায়, সাথে সাথে আমাদেরও বদলে দিয়ে যায়। আমাদের পছন্দগুলো প্রতিস্থাপিত হয়ে যায়। অথচ আমরা গো ধরে বসে থাকি, যাকে - যেসব জিনিসকে যেতে দিলে কিছু হয় না, সেসবকে যেতে দিতে অস্বীকার করি। এখন আমি মানুষকে বলি, সময় স্রোতে ভেসে জীবনটাকে দেখতে। কারণ মানুষ জানেই না, আজকে তার কাছে যে ব্যাপারটা খুব আকর্ষণীয়- আজ থেকে ক দশক পরে সেটা হয়তো প্রচন্ড বর্ণহীন কোন কিছু! কি অদ্ভুত সুন্দর আমাদের এই জীবনটা, তাই না?

সাদেক দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ট্রেন ছোট ছোট গ্রাম পেরিয়ে শহরে যায়, দৃশ্যের বদল হয় দ্রুত- প্রতিটা দৃশ্য নতুন; এক দৃশ্যের অবতারণায় পূর্বের দৃশ্যের আবেদন স্তিমিত হয়ে আসে- এই তো বাস্তব, এই তো জীবন!

সাদেক কবিতার বইটি ফের খোলে। তারপর কি ভেবে আলতো করে বইটা রেখে দেয় ব্যাগের ভেতরে। কর্পোরেট সাদেকের প্রকাশে কবি সাদেকের মৃত্যু হয়েছে- সময়ের এই বাস্তবিক বদল স্বাভাবিক মনে হয় তার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/123387/</link>
				<pubDate>Tue, 05 Jul 2022 04:53:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ সময়স্রোতের জীবন </p>
<p>আজকে থেকে দুদিন আগের কথা বলছি। অফিসের সামনে প্রাইভেট কারে উঠতে দেখলাম একজন মহিলাকে। তার সাথে দুটো বাচ্চা আছে- ছেলেটা বড়, মেয়েটা ছোট। মহিলার গায়ে কাতান শাড়ি। বার্ধক্যে স্বাভাবিক রেখার খেলা চোখে মুখে,আঁচলের ঘোমটার বিপরীতে চুলগুলো কমে গেছে বুঝতে পারা যায়- ওই মহিলাকে চিনতে পারলাম আমি। আমার একসময়কার বড্ড আপন মানুষ ছিল স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-123387"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/123387/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5008bca22d471a771836c407995d7e3d</guid>
				<title>*অর্ডার নং-৪১ &#x1f3f5;&#xfe0f;

কাউন্টার থেকে কেউ একজন ডাক দিল, &quot;৪১ নম্বর অর্ডারটা কার? হয়ে গিয়েছে, নিয়ে যান!&quot; 
রেস্টুরেন্টে বসে ঝিমুচ্ছিলাম। দুপুর-বিকেল একটানা টিউশনি শেষে সন্ধ্যার দিকে ফুড ডেলিভারির কাজটা যখন আসে, তখন বসার সুযোগ পেলেই চোখজুড়ে ঘুম নামে! যে রেস্টুরেন্টে বসে আছি, ওখানে খাওয়ার সুযোগ এ জীবনে হবে না সেটা নিশ্চিত। ফুড ডেলিভারিম্যানের কাজ করতে গিয়ে এটা একটা সুবিধা, এমন কিছু জায়গায় যাওয়া যায় যেখানে হয়তো সাধারণভাবে কখনো যাওয়া হতো না কখনো!
কাউন্টার থেকে অর্ডারগুলো প্যাক করে পিঠের ইয়া বড় ব্যাগটাতে নিয়ে রেস্টুরেন্টে নিচে রাখা সাইকেলের কাছে চলে এলাম। গায়ে কোম্পানি লোগোওয়ালা গেঞ্জি আর কাঁধে বড় ব্যাগ নিয়ে সাইকেলের প্যাডেলে পা দিলাম!
বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে এসে টিউশনি আর পার্টটাইম ডেলিভারিম্যানের কাজ করে আমার দিন যায়। কাজগুলো যে খারাপ লাগে তা না, কখনো কখনো অনেক ভালো লাগে। যেমন সন্ধ্যায় সাইকেল চালানোর সময় যদি একটু ঠান্ডা হাওয়া পাওয়া যায়, তাহলে রাস্তার সোডিয়াম বাতির ভেতর দিয়ে সাই সাই করে চলে যাওয়াটার মাঝেও একরকম রোমান্টিকতা কাজ করে। যদিও এসবকিছু ভাবার সময় থাকে না; সময়টাই যে বড্ড অল্প!অর্ডার যত দ্রুত পারা যায় তত তাড়াতাড়ি ডেলিভারি দেওয়াটাই মঙ্গল, নয়তো কখনো কটু কথা তো কখনো নাক সিটকানো-&quot; আপনারা এতো লেইট কেন করেন? অর্ডার তো সেই কবে দিয়েছিলাম! কাস্টোমার সার্ভিস টু লো! এত দেরী কেন করেছেন, খিদে তো মিটেই গেল আপনার আসতে আসতে-&quot;
এই হড়হড়ামি তাড়াতাড়ির দুনিয়ায় আমার আর সাইকেল করে  চাদনী রাতের ঠান্ডা বাতাসে সোডিয়াম আলো উপভোগ করা হয় না!

৪১ নং অর্ডারের ঠিকানায় পৌঁছে ফোন দিতেই ওপর পাশ থেকে এক নারী কন্ঠের আওয়াজ শোনা যায়, &quot;আপনি নিচে থাকেন, আসছি!&quot;
সাইকেল এক সাইডে রেখে কাঁধে ব্যাগ থেকে অর্ডার হাতে নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে থাকি। মিনিট পাঁচেক পড়ে এক তরুণীকে দেখতে পাওয়া যায় সামনের দালান থেকে হেঁটে আসছে। আমি অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকি, তরুণী এসে জিজ্ঞেস করে, &quot;আপনার কত হয়েছে টাকা?&quot; 

ঠিক এই প্রশ্নটায় আমি আটকে যাই। অর্ডারের দাম আমি জানি, কত টাকা দিতে হবে সেটাও বলতে পারবো- দুইশত পয়ত্রিশ টাকা! সেটা শুনে আমি ভড়কে যাইনি, আমি ভড়কে গিয়েছি গলার আওয়াজ শুনে। এই আওয়াজটা কোথায় যেন বড্ড পরিচিত, বড্ড শোনা, বড্ড আকাঙখিত!
আমি চোখের পলক নিচের দিকে ফেলে একটু গলা নামিয়ে বলি, &quot;জ্বি-জ্বি, দুইশ-দুইশ পয়ত্রিশ টাকা!&quot;
চেহারটার দিকে তাকাতে পারি না প্রথমবার, তারপর কোন একসময় হঠাৎ চোখে পড়ে। এক মুহুর্তের জন্য মনে হয় এই পৃথিবীতে সময়-স্থান-কাল সব এক হয়ে বিলীন হয়ে পড়েছে।
আমার হাত থেকে প্যাকেট নিয়ে তরুণী বলল, পাঁচশ টাকা ভাঙতি হবে?
আমি তখন অপ্রস্তুতভাবে হড়হড় করে বলি, &quot;জ্বি...ইয়ে... দেখছি...হবে...&quot; 

তরূণী আমার দিকে তাকায় না, তাকালেও কিছু নয়, কোম্পানির লোগোওয়ালা মাস্কে আমার মুখ ঢাকা। তরুণী মাস্ক পড়েনি, তাহলেও তাঁকে চিনতে অসুবিধে হতো না, তাঁর আওয়াজ, প্রকন্ড মানুষীয় গন্ধ আমায় ঠিক চিনিয়ে দিতো। 

মিতুকে যখন প্রথম বলেছিলাম, তোমায় ভালোলাগে- তার আগে পরিচয়ে কেটেছে চারটে বছর। মিতু আমি একই বাসায় থাকতাম, প্রথম যেদিন বললাম, মিতু কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আমার সামনে থেকে চলে গেল। আমি চুপসে গেলাম। তার এক সপ্তাহ পরে মিতুর সাথে এক শপিং মলের লিফটে দেখা হয়। অনেক কষ্টে বললাম, &quot;তোমায় একটা কথা বলেছিলাম যে মিতু, যদি কিছু একটা বলতে-&quot; 
মিতু একটা কফি শপে আমায় আসতে বলে, আমি যাই। কোল্ড কফিতে চুমুক দিয়ে মিতু গম্ভীর গলায় বলে, &quot;প্রেম আর ভালোবাসার মাঝে পার্থক্য করতে পারো, হাসান?&quot;
আমি তখন হ্যাঁ অথবা না শোনার জন্য বসেছিলাম, এমন উদ্ভট প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেলাম। মিতু জবাব দেয়, &quot;প্রেম ব্যাপারটা খুব জলদি আসে, যায় খুব জলদি, ভালোবাসা ব্যাপারটায় ধীর স্থিরতা থাকে, তার আদি-অন্ত থাকে না, যাকে ভালোবাসা হয়, মনে হয় সে প্রথম থেকেই ছিল জীবনে, কোন একভাবে জানা হয়নি শুধু! তুমি প্রেমে পড়েছো, নাকি ভালোবেসেছো?&quot;
আমি একটু সময় নিই, তারপর আস্তে করে বলি, &quot;ভালোবেসেছি, মিতু!&quot;
মিতু অনেকসময় কথা বলে না, তারপর ফের গম্ভীর গলায় বলে, &quot;তোমার অনুভূতিতে আমার সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে হাসান। তবে আমি তোমায় একটা শর্ত দিবো, তুমি এক বছর আমার সাথে যোগাযোগ করবে না। তারপর সেই এক বছর পরে এসে যদি তোমার মনে হয়, আজকের মতোই তুমি আমায় দেখছো- তাহলে মেনে নেব তুমি সত্যিই ভালোবেসেছো! সম্পর্কের ভাঙা-গড়া প্রচুর দেখেছি, হাসান, এখন বিশ্বাসে বড় কষ্ট হয়!&quot;

মিতুর কথা মেনেছিলাম আমি। তার সাথে যোগাযোগ আমি বন্ধ করে দিই, প্রথমে যদিও অপমান বোধ করেছিলাম, মিতু আমার কথাকে অবিশ্বাস করেছে; কিন্তু যত সময় গেল, আমার ধৈর্য ফুরিয়ে আসতে লাগলো, এই এক বছরের কথাটাকে তখন তত ভারী মনে হতে লাগলো! অন্যদিকে ভয়ও হতে শুরু হল, তবে কি আমি ভুল ছিলাম? নেহায়েত আকর্ষণ বৈ কিছু ছিল না কি? তবে যদি সেটা না হয়, যদি সত্যিই ভালোবেসে থাকি, তবে সেই ধীর স্থিরতা কেন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে আমার ভেতর- দ্বিধা আশংকায় দিন কাটতো আমার!

মিতু বোধহয় আমার অস্থিরতা টের পেয়েছিল, তাই ছয় মাসের মাথায় আমি এক ক্যাম্পেইন থেকে ফিরে এসে দেখি মিতুরা বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছে! মিতু নেই, আমার অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশও নেই!

মিতুকে যখন আজকে পাঁচশ টাকার ভাঙতি দিতে পকেট থেকে টাকা বের করছি, মিতুর সাথে শেষ দেখার তখন তিন-সাড়ে তিন বছর হয়ে গিয়েছে। মিতু কিভাবে আবার এই শহরে এল সে আমার জানা নেই। আমি টাকা ভাঙতি দিয়ে অর্ডারের টাকা রেখে বাকিটুকু ফেরত দিই। মিতু ফেরত যায়।

অন্ধকার কোণায় দাঁড়িয়ে আমার খুব করে ইচ্ছে হয়, মিতুকে &quot;মিতু&quot; বলে ডাক দিই, মাস্কটা খুলে বলি, আমায় চিনতে পারছো, আমি হাসান, মনে পড়ে আমার কথা?সেই কফি শপ, ১ বছরের কঠিন শর্ত, মনে পড়ে কি?

মিতু চলে যাচ্ছে, আমার কন্ঠ ফেটে আওয়াজ আসতে চায়, কিন্তু দ্বিধান্বিত হয়ে যাই। তাকাই আমার লোগোয়ালা গেঞ্জি আর ভাঙাচোরা আমার আমি-টার দিকে, মিতু আমায় শ্রদ্ধা করতো, চাইলেই সেদিন অপমান করে দূরে ঠেলে দিতে পারতো- সেটা সে করেনি। কিন্তু আজ আমার এই কাজ দেখে সেটাও কি হারিয়ে ফেলবো আমি? আমার এই ভাঙা স্বাস্থ্য আর প্রচন্ড বদলে যাওয়া রূপে মিতু কি মেনে নিতে পারবে? দ্বিধা উৎকন্ঠায় আমি কাঁপতে থাকি। কোন এক অজানা কারণে আমি আওয়াজ দিয়ে ফেলি, &quot;জ্বি, ম্যাম, ইয়ে..শুনছেন?&quot;

নিজের কন্ঠ শুনে নিজেই ভড়কে যাই, আমি কেন আওয়াজ দিলাম! মিতু ফিরে তাকিয়েছে, আমি এখন কি বলবো! এদিক ওদিক ভেবে সামনে যাই, প্রচন্ড ঘেমেনেয়ে গিয়ে বলি, &quot;ম্যাম, আব....আপনাকে একটা জিনিস বলা হয়নি, আপনি আমাদের ফুড স্ট্রোক কোম্পানির আজকের লাকি কাস্টোমার, আপনাকে তাই.....১০০ টাকা ক্যাশব্যাক দেওয়া হবে! ম্যাম আম.. কনগ্রেচুলেশনস!&quot; 

আমি টাকা বের করতে থাকি, আমার সামনের তরুণী আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি মুখটা পেছন দিকে ঘুরিয়ে ১০০ টাকা বের করে তরূণীর দিকে বাড়িয়ে দিই, তরূণী কেন জানি তবু চোখ সরায় না, ছোটছোট করে তাকিয়ে থাকে কয়েক মুহূর্ত।  তারপর আওয়াজ দেয়, &quot;আমি কি...আমি কি আপনাকে আগে....কখনো দেখেছি?&quot; 

আমি তাকিয়ে থাকি সামনে তরুণীর দিকে। দ্বিধা অদ্বিধার মাঝে আমার স্নায়ু বইতে থাকে। আমার মনে হয়, তরুণীর ওপর পাশের রাস্তায় একজন চাদর ঢাকা মানুষ সোডিয়ামের আলোয় বসে আছেন। চোখ বন্ধ করে গম্ভীর আওয়াজে তিনি আবৃত্তি করছেন জীবনানন্দের কবিতা....

&quot;জীবন চলে গিয়েছে আমাদের কুড়ি-কুড়ি বছরের পার-
তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার!
তখন হয়তো মাঠে হামাগুড়ি দিয়ে পেঁচা নামে-
বাবলার গলির অন্ধকারে
অশত্থের জানালার ফাঁকে 
কোথায় লুকায় আপনাকে!
চোখের পাতার মতো নেমে চুপি কোথায় চিলের ডানা থামে....

কুড়ি বছরের পরে সেই কুয়শায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে!&quot;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/58582/</link>
				<pubDate>Fri, 19 Nov 2021 07:01:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*অর্ডার নং-৪১ &#x1f3f5;&#xfe0f;</p>
<p>কাউন্টার থেকে কেউ একজন ডাক দিল, &#8220;৪১ নম্বর অর্ডারটা কার? হয়ে গিয়েছে, নিয়ে যান!&#8221;<br />
রেস্টুরেন্টে বসে ঝিমুচ্ছিলাম। দুপুর-বিকেল একটানা টিউশনি শেষে সন্ধ্যার দিকে ফুড ডেলিভারির কাজটা যখন আসে, তখন বসার সুযোগ পেলেই চোখজুড়ে ঘুম নামে! যে রেস্টুরেন্টে বসে আছি, ওখানে খাওয়ার সুযোগ এ জীবনে হবে না সেটা নিশ্চিত। ফুড ড&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-58582"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/58582/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cb5a72116190d7743045489cb3386e56</guid>
				<title>প্রদীপ্ত দে চৌধুরী and Ershad Mazumder are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/28271/</link>
				<pubDate>Thu, 26 Aug 2021 16:15:00 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">65a8dbac15d076c9bf8eb3220bb400bc</guid>
				<title>*আতপ চালের পিঠা &#x1f3f5;&#xfe0f;

আর দশটা দিনের মতো ইদ্রিস মিয়া রুমের সামনে রাখা বেঞ্চিতে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছেন। মুখে ধবধবে দাড়িগুলো অগোছালো হয়ে রয়েছে ; পরনের গেঞ্জিটা সাদা থেকে বেশ খানিকটা হলুদ হয়ে পড়েছে- কেউ হুট করে দেখলে হলুদ গেঞ্জি বলেই মনে করবে। মাথার চুল পড়ে টাক পড়ে গেছে- সেই রক্ষে! নয়তো এলোমেলো অযত্নের চুলগুলো হয়তো আরো বিভৎস দেখাতো। 

বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় ইদ্রিস মিয়া প্রতিদিন নিয়ম করে বসে থাকেন- ঘন্টার পর ঘন্টা। সামনে কিছু দূর পরেই একটা ছোট্ট গেইট, গেইটের ওপাশ দিয়ে একটা ছোট্ট রাস্তা, সেই রাস্তা দিয়ে গাড়ি যায়। ইদ্রিস মিয়া এতদূর অব্দি চোখ যায় না, ঝাপসা ঝাপসা দেখেন, তবুও নিজের স্থবির পৃথিবীতে একটু নড়াচড়া দেখতেই যেন ভীষণ ভালো লাগে। নিজের খয়েরী ফ্রেমের চশমাটা অবশ্য ভেঙেছে বছরখানেক হয়ে যাচ্ছে, নতুন চশমা কেনাটা এখন একরকম বিলাসিতা বটে!

বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট গেইটটা মাড়িয়ে খুব একটা মানুষ আসে না। ইদ্রিস মিয়া মাঝে মাঝে দোয়া করেন দিনে অন্তত একজন মানুষ আসুক, অপরিচিত মানুষ- অন্তত নাম-টাম জিজ্ঞেস করা যায়, তাতেও একটু কিনা সময় কাটে!
ইদ্রিস মিয়ার অবশ্য সেদিনকার সকাল ভালো ছিল, গটগট করে এক যুবক আসে বৃদ্ধাশ্রমে। এসেই ম্যানেজারের খোঁজ করে। বৃদ্ধাশ্রমের রান্নার বাজার করতে ম্যানেজার বাজারে গেছেন- আসতে দেরি হবে- দারোয়ান সামনের বেঞ্চিতে বসতে বলে। 
যুবক ইদ্রিস মিয়ার পাশে প্রথমেই বসে না। খানিক চারদিক পায়চারী করে। রুমগুলো দেখে আসে।স্যাঁতস্যাতে গন্ধে নাক চাপা দেয়।  তারপর কিছু পরে ফোনে কার সাথে কথা বলে,&quot; রুমা, খারাপ দেখছি নে, এখানেই এডমিট করে দেবো-&quot;

যুবকের দেখাশোনা চলে আরো খানিকক্ষণ। তারপর অপ্রস্তুতভাবে ইদ্রিস মিয়ার পাশে এসে বসে। 
ইদ্রিস মিয়া ধারণা করেন, এ যুবক তার কথার জবাব দিবে না, তারপরো তিনি প্রশ্ন করেন, &quot;কাউকে ভর্তি করাতে এসেছো, দাদু?&quot;

যুবক জবাব দিল, তবে ছোট্ট করে, &quot;জ্বি!&quot; 

-মা না বাবাকে? 
-জ্বি, মা-কে! ভর্তি করাতে এসেছি, কিভাবে বুঝলেন?

ইদ্রিস মিয়া হাসেন, &quot;বৃদ্ধাশ্রমে যুবকদের মূলত দুই ধরনের কাজে এখানে আসতে দেখা যায়। এক হলো ভর্তি করাতে, দুই খাবার দাবার বা অনুদান দিতে- তবে দুজনার চেহারা দেখলেই টের পাওয়া যায় কে কোন কাজে এসেছে। অনুদান দেওয়া যুবকরা কড়া গলায় কথা বলে, স্বেচ্ছায় কথা বলে যায়- ভর্তি করানো যুবকরা চোরের মতো আসে, কোনমতে এখান থেকে সরলে বাঁচি-এরকম মনোভাব থাকে।&quot;
ইদ্রিস মিয়া কাশেন। তারপর ফের বলেন, &quot;আরো একধরনের যুবক থাকে, যারা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে যাওয়া মা-বাবাদের সাক্ষাতের জন্য আসেন- তবে ও অমবস্যার চাঁদের মতোই, বছরে একবার যদি দেখা যায়, তবেই মনে হয় সার্থক!&quot; 

যুবক বুঝতে পারে সে কোন দলে পড়ছে। বিরক্ত হয়, ইদ্রিস মিয়ার কথার পিঠে কথা বলে না। দারোয়ানকে ধমকে বলে, &quot; কি ব্যাপার, এখনো ম্যানেজার আসে না কেন?&quot; 

ইদ্রিস মিয়া চুপ করে যান, কথা বলেন না অনেকক্ষণ। পরের কথাটা পাড়ে যুবক নিজেই। 

&quot;প্রত্যেকের জীবনে ঘটনা থাকে চাচা। এমনিতে কেউ কি আর সাধে মা কিংবা বাবাদের এখানে রেখে যায়? এই আমারেই দেখেন, বউ সহ্য করতে পারে না আম্মারে, সারাদিন ঝগড়া থাকে, এখন কি করব? ফেলে তো দিচ্ছি না, বৃদ্ধাশ্রমে খাইয়ে পড়িয়ে রাখবো-&quot;

ইদ্রিস মিয়া হাসেন। সরাসরি কিছু বলতে যান না। রাস্তার দিকে ঝাপসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে একটাসময় বলেন, &quot; বুড়ো হওয়াটা আশীর্বাদ, বুঝলে দাদু? আমরা মনে করি অনেকে, বুড়ো হলে পৃথিবী বুঝি বর্ণহীন হয়ে যায়, সেটা ঠিক নয়। তুমি যখন বুড়ো হবে, এই পৃথিবীর বেশিরভাগ ঘটনার আগাম ফলাফল তুমি বলে দিতে পারবে। অতীত জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোতে তুমি কি করে এসেছো, কি করা তোমার উচিত ছিল- সবকিছু কি জানো তো কাঁচের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়।&quot;
ইদ্রিস মিয়া বলতে থাকেন, &quot; আমি গটগট করে ইংরেজি বলতে পারতাম তোমাদের সময়ে। বাবা বড় আয়েশে আদরে বড় করেছিলেন আমাকে। মানুষের নানারকম শখ থাকে। আমার বাবার একমাত্র শখ ছিল, তিনি তাঁর ছেলেকে অনেক বড় করবেন। 
বাবার শখ পূরণ হয়েছিল, সেই সময়ে এত পড়াশোনা পাঁচ গাঁয়ের মানুষ কেউ করেনি। পড়াশোনা শেষ করলাম, বিদেশে পাড়ি জমালাম। এসে শহরে বাড়ি করলাম। মা-বাবা গাঁয়েই থাকলেন। কখনো কোন প্রয়োজনে যেতাম, একটা সময়ে প্রয়োজনেও যেতাম না। বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়েন, আমি বলি এদিকে অনেক ব্যস্ত। অথচ কক্সবাজারে বউ-বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে যাই। ভালোই লাগতো না তখন সেইসব স্থবির মানুষগুলোকে দেখতে।
মা মারা গেলেন, কাজের অজুহাতে বড় ভাইয়ের উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলাম। 

মনে আছে সেই দিনের কথা, ফোনে খবর পেলাম আব্বা মারা গেছেন। অফিসে ছিলাম, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম, তারপর আবার কাজে লেগে পড়লাম- যেন কিছুই হয়নি। বরং প্রকৃতিতে যা হবার ছিল, তাই হয়েছে!&quot; 

ইদ্রিস মিয়া মলিনভাবে হাসেন। তারপর বলেন, &quot; সেই ঘটনার মাত্র পনেরোটি বছর পরে আমার ছেলেরা বিদেশ চলে যায়, স্ত্রী মারা যায়; ছেলেরা এই বৃদ্ধাশ্রমে আমায় ভর্তি করিয়ে যায়!

এখন আমার পৃথিবীটা স্থবির, একটু কথা বলবার তৃষ্ণায় বুকটা ফেটে কাঠ হয়ে যায়। এখন বুঝি কি করেছি, কি করা দরকার ছিল- বুড়ো সময়টা তাই এত সুন্দর, এত নির্মম সুন্দর।&quot;

যুবক কথা বলে না। বৃদ্ধাশ্রমের মেঝের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। ইদ্রিস মিয়া যুবকের কাঁধে হাত রাখেন। হেসে বলেন, &quot;লুঙ্গি পড়বার অভ্যাস আছে? না করলে করে ফেল! আজ থেকে পনেরো-বিশ বছর পরে এভাবেই যে হলদে গেঞ্জি আর ছেঁড়া লুঙ্গি পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হবে গেটের সামনে। তখন তোমার জীবনে কোন অভিমান থাকবে না, যা থাকবে - তা শুধুই অনুশোচনা; কেবলই অনুশোচনা!&quot;

যুবক আরো কিছুসময় বসে থাকে। তারপর কিছু একটা বলতে যায় ইদ্রিস মিয়াকে, বলতে পারে না। দারোয়ানের দিকে একবার তাকিয়ে কি মনে করে উঠে যায়, ছোট্ট গেইটটা ডিঙিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পথ ধরে।

যুবক চলে গেলে দারোয়ান ম্যানেজারের বন্ধ দরজায় কড়া নাড়ে। ম্যানেজার প্রৌঢ় খালেদ সাহেব বেরিয়ে আসেন। লম্বা দাঁড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে ইদ্রিস মিয়ার পাশে বসেন। খালেদ সাহেব আর ইদ্রিস মিয়া এই ঘটনা গত পাঁচ বছর ধরে করে যাচ্ছেন। নতুন কোন যুবক আসলেই, খালেদ সাহেব অফিস রুমের ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে রেখে দেন। ইদ্রিস মিয়া তখন সামনের বেঞ্চিতে বসে থাকেন। যুবকেরা উশখুশ করে, ম্যানেজারকে না পেয়ে বেঞ্চিতে বসে ইদ্রিস মিয়ার সাথে কথা বলে। ইদ্রিস মিয়া তার জীবনের কথা বলেন, বলেন যুবক বয়সে কি ভুল করেছেন তিনি- যুবকরা শুনে যায়। সবাই ফের&#x200d;ত যায়, কেউ পরদিন আবার আসে, খালেদ সাহেব তখন তাদের ভর্তি করিয়ে দেন।কেউবা ইদ্রিস মিয়ার জীবনে নিজেকে খুঁজে পায়, হলদে গেঞ্জি আর ছেড়া লুঙ্গিতে বিভৎস ইদ্রিস মিয়া যেন সেই যুবকেরই প্রতিবিম্ব হয়ে ওঠেন, যুবকরা আর আসে না....

খালেদ সাহেব জিজ্ঞেস করেন, &quot; ইদ্রিস ভাই, কি মনে করেন, এই ছেলেটা আবার আসবে ?&quot; 

ইদ্রিস মিয়া হাসেন, &#039; হয়তো আসবে, নিজের স্ত্রীকে ভালোবেসে মা-কে রেখে যাবে। হয়তো আসবে না, এখন পথ চলতে চলতে মুদি দোকানের পাশে হঠাৎ থমকে দাঁড়াবে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে দোকানে সারি সারি চালের বস্তার দিকে। মাকে ফোন দিয়ে বলবে, &quot;মা, তোমার হাতের আতপ চালের পিঠে খাইনা অনেকদিন! আজকে আনি? চালের গুঁড়ি করে ভাপা পিঠে করবে, নারকেলও না হয় এক-দুটো আনলাম,করবে তো মা?&quot; 
ফোনের ওপাশের যুবকের মা হয়তো খুশিতে গদগদ হয়ে যাবেন, কিছুসময় কথা বলতে পারবেন না, তারপর একে একে বলতে থাকবেন কি কি লাগবে কি কি লাগবে না - এরকমও তো হতেই পারে, তাই না?&quot;

বৃদ্ধাশ্রমের অন্ধকার বারান্দায় বসে ইদ্রিস মিয়া আর তার আতপ চালের পিঠের গল্প শুনে মলিনভাবে হাসেন ম্যানেজার খালেদ সাহেব...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17474/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 08:59:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*আতপ চালের পিঠা &#x1f3f5;&#xfe0f;</p>
<p>আর দশটা দিনের মতো ইদ্রিস মিয়া রুমের সামনে রাখা বেঞ্চিতে ঘুম ঘুম চোখে বসে আছেন। মুখে ধবধবে দাড়িগুলো অগোছালো হয়ে রয়েছে ; পরনের গেঞ্জিটা সাদা থেকে বেশ খানিকটা হলুদ হয়ে পড়েছে- কেউ হুট করে দেখলে হলুদ গেঞ্জি বলেই মনে করবে। মাথার চুল পড়ে টাক পড়ে গেছে- সেই রক্ষে! নয়তো এলোমেলো অযত্নের চুলগুলো হয়তো আরো বিভৎস দেখাতো। </p>
<p>বৃদ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-17474"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/17474/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cf716d02cd511236e5bcffefdd652167</guid>
				<title>প্লাটফর্ম 
পর্ব-২

ঘুম ভাঙল দুপুরের দিকে।

চোখ কচলাতে কচলাতে ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখলাম দুইটা বাজে। &quot;আরে, দেরী হয়ে গেছে!&quot; বলেই ওয়াশরুমে ছুটলাম। গোসল সেরে খাবার খেয়ে রুমে আসলাম। 
চিন্তার বিষয় হল, কি পোশাক পরা যায়! গত চারবছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে, ঢোলা কাপড়চোপড় আর পরি না। চুলে তেল দিয়ে আচড়ানোও হয় না। 
বেছে বেছে একটা নীল রঙা শার্ট পরলাম। প্রেমের রঙ লাল হয়, কিন্তু কোথাও নীলের সাথে একটা সম্পর্ক আছে। কালো টাই, আর একটা ক্যাজুয়াল প্যান্ট-জুতা পরে রওনা হয়ে গেলাম।

বিকেল চারটা বাজে। এখন যেটা করতে হবে, ফুল কিনতে হবে। অনেকদিন পর দেখা হচ্ছে ফারিনের সাথে। সেই একইভাবে চাঁপা ফুল দিয়ে সম্বর্ধনা জানালে মন্দ হবে না। ফারিনের সাথে হয়তো তার জামাই থাকবে, ইংরেজিতে গট গট করে কথা বলবে। এক/দুটো বাচ্চাও থাকতে পারে। &quot;মাম্মি, মাম্মি!&quot; বলে অস্থির করে তুলবে ফারিনকে! 
ফারিন হয়তো সামলে নিয়ে একটু ফুসরত পেয়ে আমার সামনে দাঁড়াবে। জিজ্ঞেস করবে, &quot;শাহেদ, ভালো আছো?&quot; আমি মাথা নাড়াবো। দাঁড়িয়ে থাকবো নিচের দিকে মাথা করে। চার বছরের না বলা কথাগুলো হয়তো গলায় এসে আটকে থাকবে,  কিছুই বলতে পারবো না। বলতে পারবো না, কতটা অনুতপ্ত দিন কাটাই সেদিন রাতের ঘটনার জন্য। নিজের অপারগতা কতটা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে আমাকে- হয়তো কিছুই বলতে পারবো না। তবু দেখাটা হোক, শেষবারের মতো হলেও, একবার হোক! 

ফুলের দোকান থেকে স্বর্ণ চাঁপা ফুল নিয়ে রাস্তায় বেরোলাম। ফারিনের ফুলের গন্ধ ঘ্রাণের একটা বিশেষ তত্ত্ব আছে। সেটা হচ্ছে যতটুকু পারা যায় চোখ বন্ধ করে এক নিঃশ্বাসে সবটুকু ঘ্রাণ নিয়ে নেওয়া। তারপর প্রশ্বাস মুখ দিয়ে বের করে নিয়ে শব্দ করে বলা, &quot;আহাহা, অমৃতো!&quot;

ফারিনের সাথে যতদিন দেখা হতো, আমাকে একইভাবে স্বর্ণচাপা ফুলের গন্ধ নিতে বলতো। আমি মানা করতাম সাথে সাথে, &quot;আরে না- মানুষ আছে- ফুলের গন্ধ পাচ্ছি তো এমনি-এভাবে চোখ বন্ধ করে- একই তো গন্ধ পাবো...&quot;
ফারিন কটমট করে তাকিয়ে বলে, &quot;লজ্জা লাগে, না তোমার?&quot; 
আমি &quot;হু&quot; করে সায় দিই। 
ফারিন হতাশ হয়ে বলে, &quot;তোমার এই লজ্জাকে যদি তুমি গাঙ্গে না ভাসাও, শাহেদের বাচ্চা শাহেদ!&quot; তারপর একটু পরে বসতে বসতে বলে, &quot;তুমি কি জানো শাহেদের বাচ্চা শাহেদ এখন আমার কাছে একটা গালিতে পরিণত হয়ে গিয়েছে। রাগ উঠলেই যে কাউকে শাহেদের বাচ্চা শাহেদ বলে গালি দিই!&quot;

আমি মুখ টিপে হাসি।
ফারিন হাতের আঙুল তুলে বলে, &quot;এই হাসবা না একদম, জানে মেরে ফেলব তাহলে...&quot;

গাড়িতে বসে রেলস্টেশন যেতে যেতে স্বর্ণচাপা গুলো নাকের কাছে নিয়ে ঠিক ফারিনের মতো দুইচোখ বন্ধ করে এক নিঃশ্বাসে সমস্ত ঘ্রাণ টেনে নিলাম, কিছুক্ষণ আটকে রাখলাম। তারপর &quot;আহ, অমৃতো!&quot; বলে আটকে রাখা সবটুকু শ্বাস ছেড়ে দিলাম। সেই স্বর্ণ চাপার গন্ধ, সেই অমৃত উচ্চারণ, সেই নির্জীব আমি- এই তিনটে জিনিসকে পূর্ণতা পাইয়ে দিতে পারে, শুধু সেই-ই নেই! 

বন্ধ চোখজোড়া খুলতেই দুঁফোটা জল গড়িয়ে পড়ল চোখ থেকে। 

(বাকি ৩ পর্ব শীঘ্রই, বিলম্বের জন্য দুঃখিত)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10700/</link>
				<pubDate>Sun, 30 May 2021 19:26:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্লাটফর্ম <img loading="lazy" alt="🏵️" class="emojioneemoji" src="https://cdn.jsdelivr.net/emojione/assets/3.1/png/32/1f3f5.png" /><br />
পর্ব-২</p>
<p>ঘুম ভাঙল দুপুরের দিকে।</p>
<p>চোখ কচলাতে কচলাতে ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখলাম দুইটা বাজে। &#8220;আরে, দেরী হয়ে গেছে!&#8221; বলেই ওয়াশরুমে ছুটলাম। গোসল সেরে খাবার খেয়ে রুমে আসলাম।<br />
চিন্তার বিষয় হল, কি পোশাক পরা যায়! গত চারবছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে, ঢোলা কাপড়চোপড় আর পরি না। চুলে তেল দিয়ে আচড়ানোও হয় না।<br />
বেছে বেছে একটা নীল রঙা শার্ট পরলাম। প্রেমের রঙ লাল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10700"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10700/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b4d11ab19f0805a4581a5985e017d957</guid>
				<title>*প্লাটফর্ম

চার্জে রাখা ফোনটা ভনভন করে নড়ে ওঠল। 

লেখাজোখায় ডুবে ছিলাম। শব্দ হতেই অন্যমনস্কভাবে একবার তাকিয়েই ফের আগের কাজ শুরু করে দিলাম। রাত তখন ১২ টা ছুঁই ছুঁই। এখন কে মেসেজ দেবে!

কে আর, সিম কোম্পানিরাই হয়তো। এতটাকায় এত ইন্টারনেট, নয়তো ওতো টাকায় ওত মিনিট! তাই বলে রাত বারোটায় কেন মেসেজ দিবে! বিরক্তকর বিষয়-আশয়!
 
মাসের শেষ। অফিসের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তাই যাই হোক, আজ রাতে ঘুম হোক বা না হোক অফিসের মাসিক হিসাব লেখা শেষ করতে হবে। রিপোর্ট লিখতে লিখতেই অন্যমনস্কভাবে টেবিল ঘড়ির দিকে চোখ পড়ল- বারোটার উপর কাটা নড়ছে।

কিছু হিসাবপত্র মেলানো শুরু করলাম। কাগজে কাগজে শব্দ হচ্ছে। এরই মাঝে, কেন জানি না, হুট করেই কোন দিক থেকে একটা শব্দ মাথায় ঢুকে গেল। শব্দটা হল &quot;ফারিন&quot;!  

আমার কাজ থমকে যায়। চোখ বড়বড় করে থাকি কতসময়। আচ্ছা, ফারিন মেসেজ দেয় নি তো? ঠিক বারোটার সময় প্রতিদিন তার মেসেজ পেতাম এককালে। একটা মুহুর্তের জন্যও মনে হল না, এতকাল পরে কেন তার কথা হুট করে মাথায় আসল!

আমার শ্বাস প্রশ্বাস গভীর হয়ে পড়ে। চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে সোজা চার্জারটা খুলে ফোনটা হাতে নিই। ফোনের লক খুলতে গিয়েই দেখি, মেসেজ নয়, একটা ইমেইল এসেছে! ইউজার নেমের জায়গায় বড় বড় করে লেখা &quot; তাসনোভা ফারিন&quot;! 

আমি কিছু সময় বরফ শীতল হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। নাক বেয়ে দ্রুত শ্বাস পড়তে থাকে, হাঁতগুলোতে স্পন্দন শুরু হয়। ফারিন ইমেইল করেছে আমাকে? 

কি লিখেছে ফারিন আমাকে? গলাটা শুকিয়ে যায় কেন জানি। দ্রুতই লক খুলে ইমেইলটা খুললাম। ইমেইলটা ছোট্ট, এক নিঃশ্বাসে পড়লাম সবটুকু। একবার, তারপর আরো কয়েকবার। 

&quot; আগামীকাল ট্রেনে করে যাবো এয়ারপোর্টে। কানাডায় কালকেই যাওয়া হচ্ছে। পারলে দেখতে এসো একবার প্লাটফর্মে। সন্ধ্যা সাতটায় ট্রেন। 

ফারিন&quot;

ফারিন কানাডা যাচ্ছে? আমার চোখগুলো দিগবিদিক ঘুরোঘুরি করতে লাগল। ফোনটা রেখে দিয়ে একবার বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করলাম। তারপর কোল বালিশে হাত পা জড়িয়ে কিছুসময় শুয়ে থাকলাম। তারপর আবার উঠে পায়চারী শুরু করলাম। মনে একটাই প্রশ্ন, &quot;ফারিন, ফারিন কি তাহলে আমায় ক্ষমা করে দিয়েছে?&quot;

ঘরের বারান্দার এদিক থেকে ওদিকে অন্যমনস্কভাবে হাঁটতে হাঁটতে চিন্তা করলাম আর মেলাতে থাকলাম সবকিছু। ফারিনের সাথে অবশ্যই আমার বিয়ে হয়নি, তার তাহলে কানাডার একজনের সাথে বিয়ে হয়েছে। সে বাংলাদেশে এসেছে ঘুরতে, অনেকদিন ঘুরাঘুরি করে যাওয়ার দিন তার আমাকে দেখবার ইচ্ছে হয়েছে। যত যাই হোক, প্রথম প্রেম-এত সহজে কি ভুলা যায়! প্রশ্নটা এর আগেও নিজেকে করে ফেলেছি কয়েকবার, এখন আবার করলাম, &quot;ফারিন কি তবে আমায় ক্ষমা করে দিয়েছে?&quot; 
জবাব এল, &quot;অবশ্যই দিয়েছে, নয়তো ইমেইল পাঠিয়ে কেন আসতে বলবে প্লাটফর্মে?&quot; 

রাতে ঘুমালাম অনেক দেরিতে, ঘুম যখন ভাঙল তখন সকাল এগারোটা বাজে। অথচ দশটায় আমার অফিস ছিল, আজকে রিপোর্ট করবার দিনও ছিল। তোয়াক্কাই করলাম না, ফারিন ডেকেছে আমায় আজকে। এর চাইতে বড় কাজ আর কি হতে পারে। হ্যা, ট্রেন অবশ্য সাতটায়- তবু একটা প্রস্তুতির ব্যাপার স্যাপার আছে না! 
কোলবালিশে পা দিয়ে আরাম করে ফারিনের সাথের দিনগুলো কল্পনা করতে থাকলাম। 

একটা লেকের ধারে বসে আছি। ফারিন নীল রঙের একটা সালোয়ার কামিজ পরা, আমি হাবাগোবা সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পরে বসে আছি। দুটোই ঝোলা টাইপের কাপড়, হাঁটলে মনে হয় একটা প্যারাসুট নিয়ে হাঁটছি। স্বভাবে এমনই একটু নির্জীব ধরনের মানুষ আমি। বোকাসোকা নিজেকে বলতে লজ্জা লাগে, তাই নির্জীব বলি। কিন্তু সেইদিন লেকের ধারে বসে কথা বলবার সময় হঠাৎ করে বুদ্ধিমান হয়ে গেলাম।

-&quot;ফারিন!&quot;
-&quot; হু? &quot;
হাতে একটা ছোট লাঠি নিয়ে পানিতে ঝাপটিয়ে বললাম, &quot;বুড়ো হবে আমার সাথে?&quot; 
ফারিন ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকায়, কিছুক্ষণ ভাবে কি বলতে চেষ্টা করছি। তারপর দ্বিধা নিয়ে বলে, &quot;তুমি কি আমায় প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছো, শাহেদ মিয়া?&quot; 
আমি মাথা নেড়ে না করলাম। বললাম, &quot;উহু, প্রেম নয়, বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছি!&quot; 

ফারিনের চোখ কপালে উঠে গেল। ছোট্ট করে বলে, &quot;আচ্ছা!&quot; তারপর একটু সময় নিয়ে জিজ্ঞেস করল,&quot;এই...এই বুড়ো হবার... না কি লাইনটা বললে, এটা কি নিজে বানিয়েছো? সুন্দর তো!&quot; 

আমি একটু লাজুক হাসি হেসে বললাম, &quot; ইয়ে..আসলে, ইন্টারনেট থেকে পেয়েছি। কালকে সার্চ দিয়েছিলাম, এর মধ্যে মানে এই লাইনটা ভালো লেগেছিল...&quot;

ফারিন কতসময় অবাকভাবে তাকিয়ে থাকে, তারপর মুখ কুঁচকে রাগী গলায় বলে, &quot;মানে, প্রপোজ করতেছো, সেটাও ধার করা লাইন নিয়ে?&quot; উঠে পড়ে ফারিন, চোখ ছোট করে বলে, &quot;আগে নিজে থেকে লাইন বানিয়ে প্রস্তাব পাঠাও, তখন দেখা যাবে উত্তর হ্যা না- না আসে!কিছু ইউনিকনেস শেখো, শাহেদ মিয়া। বিয়ে করতে হলে বরের যোগ্যতা দরকার হয়, যোগ্যতা! বুঝলা?&quot; বলেই মুখ ঘুরিয়ে চলতে শুরু করে ফারিন।
 
আমি হাসি হাসি মুখ নিয়ে তাড়া দিয়ে বললাম, &quot;আরে দাঁড়াও, চাঁপা ফুলগুলো যে এনেছি, নিয়ে যাবে না!&quot; 

(আগামীকাল শেষ পর্ব)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10649/</link>
				<pubDate>Sat, 29 May 2021 07:52:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*প্লাটফর্ম</p>
<p>চার্জে রাখা ফোনটা ভনভন করে নড়ে ওঠল। </p>
<p>লেখাজোখায় ডুবে ছিলাম। শব্দ হতেই অন্যমনস্কভাবে একবার তাকিয়েই ফের আগের কাজ শুরু করে দিলাম। রাত তখন ১২ টা ছুঁই ছুঁই। এখন কে মেসেজ দেবে!</p>
<p>কে আর, সিম কোম্পানিরাই হয়তো। এতটাকায় এত ইন্টারনেট, নয়তো ওতো টাকায় ওত মিনিট! তাই বলে রাত বারোটায় কেন মেসেজ দিবে! বিরক্তকর বিষয়-আশয়!</p>
<p>মাসের শেষ। অফিসের রিপোর্ট জম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10649"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10649/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7c8e2ca6ff31f14aad3d7fb3f59fdc35</guid>
				<title>*একুশ নম্বর

রাত ১০ টা। রাসেল মিয়া একটা কলসেন্টারের বাইরে টঙের দোকানে বসে চা খাচ্ছে। চায়ে অতিরিক্ত চিনি হয়েছে, শরবত টাইপের কিছু একটা লাগছে। তবে তাতে রাসেল মিয়ার খেয়াল নেই, সে কলসেন্টারটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মাঝে মাঝে সিগারেটে ফু দিয়ে আবার সুরুৎ করে চায়ে চুমুক দিচ্ছে। 

রাত দশটায় একটা ব্যাচের কাজ শেষ হল। একপাল অফিসের মানুষ বেরিয়ে আসে কলসেন্টার থেকে। বাড়ি যাবে সবাই, রাত হয়ে গেছে- তাই সবার মধ্যে একটা তাড়াহুড়ো ভাব। এই ভিড়ের মধ্যে গুনগুন আওয়াজ থেকে জোরে &quot;ট্যাক্সি!&quot; বলে আওয়াজ শোনা গেল। একটা মেয়েকন্ঠ- লিজা! একটা ট্যাক্সি পেয়ে রীতিমতো ঝড়ের বেগে ঢুকে পড়েই বলল,&quot;ভাই একটু তাড়াতাড়ি চলেন!&quot; রিটায়ার্ড বাবা, মা অসুস্থ- তাই এতো রাতেও কলসেন্টারে কাজ করা। বাবার পছন্দ নয় লিজার কাজ করাটা, কিন্তু এইসময়ে আসলে বাবার কথা উপেক্ষা করা ছাড়া -লিজারও তো কোন উপায় নেই।

ট্যাক্সি চলতে শুরু করে, পাশের টঙের দোকানে রাসেল মিয়াও চায়ের কাপে শেষ চুমুকটা দিয়ে উঠে পড়ে।

চারদিকে একটা ভীষণ বাজে গন্ধ পাচ্ছে লিজা, শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তার। খুব ক্লান্তভাবে চোখটা খুললো সে। সবদিকে শুধু অন্ধকার, ঘুটঘুটে অন্ধকার; একটা ভ্যাপসা গন্ধ চারদিকে। লিজা খেয়াল করল, সে একটা ট্যাক্সির দরজার বাইরের দিকে হেলান দিয়ে মাটিতে বসে আছে। লিজা মনে করতে পারছে না, কীভাবে এখানে এল সে। একটু সামনের দিকে চোখ ফেরাতেই দেখলো সামনে একটা রাস্তা এবং রাস্তার ওপর একটা লোক পায়ের ওপর ভর দিয়ে বসে আছে। অনবরত সিগারেটের ধোঁয়া উড়ছে তার চারপাশে। বুকটা ধক করে উঠল লিজার, অস্পষ্টভাবে মনে পড়লো, সে ট্যাক্সিতে উঠবার পড়ে একটা লোক না বলে কয়ে উঠে পড়ে তার পাশে। তারপরই হঠাৎ কি একটা মুখের ওপর চেপে ধরে; আর কিছু বলতে পারে না লিজা। 

লিজা অস্থির হয়ে ওঠে কিন্তু নড়তে পারে না, ভীষণ, খুব ভীষণ ক্লান্ত। একটু ওঠবার চেষ্টা করতেই অস্ফুট শব্দ করে উঠল সে!
চোখ ফেরাল রাসেল মিয়া। মেয়েটা নড়াচড়া শুরু করছে। খুব আস্তে আস্তে কিছু একটা বলছে বুঝতে পারল রাসেল। কাছে গিয়ে কান পাততেই শুনতে পেল মেয়েটা বিড়বিড় করছে, &quot; আমায় যেতে দাও....মায়ের... মায়ের ওষুধ ব্যাগে রয়ে গেছে....ওগুলো দিতে হবে....যেতে দাও...কোথায় এনেছ...কে...কে তুমি...আমায় যেতে দাও..&quot;
রাসেল মিয়া আরেকবার সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ল চারপাশে। তারপর দুইটান দিয়েই কি মনে করে মাটিতে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে নিভিয়ে দিল সিগারেটের আগুন। নেভাতে নেভাতেই হঠাৎ বলতে শুরু করল, &quot; আমার বউটার সাথে বিয়া হয় পাঁচ বছর আগে। কত সুন্দইর আলো চারপাশে....... চোখটা বন্ধ করলেই আর খুলবার ইচ্ছা করে না। মনে পইড়া যায় সে রাইতটার কথা, আমি বউয়ের চোখের দিকে তাকায়া আছি, বউ আমার দিকে....কত সুন্দর আছিল চোখখানা- কত সুন্দর! মনে হইতো....মনে হইতো যেন.. চোখটা একটা সমুদ্দুর, আর আমি ওই সমুদ্দুরে একটা ডুব দিয়া আহি..! 

বউটা ঘোমটা দিয়া আইতো আমার সামনে, কইলজ্যাটা ধইরা যাইতো, ভাবতাম এই জনমে কত ভ্যালা কাজ করছি জানি না, এইরকম সুখের জীবন কেমনে আইলো আমার কাছে! দুই-দুইটা বছর কেমনে যে কাটল বুঝবারই পারলাম না! &quot;
রাসেল মিয়া থামে একটু। সময় নেয়, লিজা খেয়াল করলো লোকটার গা কাঁপছে একটু করে। ফের বলতে শুরু করলো সে, গলা থমথমে, ভরাট গলা, &quot; কিন্তু বেশিদিন টিকলো না এই সুখ....! বউ কইলো চাকরি করবো.... গার্মেন্টসে! আমি না কইরা দিলাম, বাড়ির বউ  অন্য মানুষে কেনে দেখবো! সারাদিন ঘোমটা দিয়া থাকবো, ঘরে আইলে স্বামীরে সেবা দিবো....এটাই তো কাজ! কিন্তু না, বউ জেদ ধরলো ও চাকরি করবো, কাপড় সেলাই করবার নাকি ওর শখ! আমি না কইরা দিলাম, না মানে না! কিন্তু বউ কথা শুনলো না, আমার সাথে তর্ক কইরা গিয়া গার্মেন্টসে যোগ দিল....রাগে হুস হারাই ফেললাম আমি! বুঝাইবার চেষ্টা করলাম, বউরে কত হাত পায়ে ধরলাম, কিন্তু ও মানলো না!
তারপর সেদিন, মান্নাদের দোকানে চা খাইতে গেলে কোথাকার কোন এক ছোকরা আমার বউ নিয়া কথা তুললো, দিলাম শালারে দুই কোপ। তারপর ঘরে আইসা রাগের মাথায় বউরে দিলাম চড়! বউ কান্না করতে করতে চইলা গেল বাপের বাড়ি।
একটা সময় বুঝলাম, খারাপ করছি, এরকম করাটা ভুল হইছে। গেলাম শ্বশুর বাড়ি,গিয়াই শুনি বউ আমারে তালাক দিবো! হয় গার্মেন্টসে কাজ করা মানমু, নয়তো তালাক! আমার মাথায় আগুন ধইরা গেলো, এত বড় সাহস মেয়েমানুষের? এতখানি সাহস?  আমারে তালাক দিবো, শুধু কাজের জন্য- চাকরির জন্য? বিশ্বাস উইঠা গেল আমার মানুষের প্রতি- এত ভালোবাসা দিলাম, আর এই অইলো প্রতিদান? সবকিছু মাইনা ঘরে আইনা সেই রাতেই খুন করলাম বউরে! ঠিক এই জায়গায়... এই জায়গায় আইন্যা.......&quot;

রাসেল মিয়া থামলো, তার গলার আওয়াজ বেড়ে গেছে, কাঁপছে সে প্রচন্ড রকমভাবে, মাঝে মাঝেই দাঁতে দাঁত ঠেকিয়ে ভয়ঙ্করভাবে আওয়াজ করছে! 
&quot; হো, খুন করছি আমি, দু হাতে খুন করছি আমি....&quot; বলে খিল খিল করে হাসতে লাগল রাসেল মিয়া। প্রথমে আস্তে আস্তে, তারপর জোরে, এরপর ভয়ঙ্করভাবে- প্রচন্ড ভয়ঙ্করভাবে! হাসির সাথে যোগ হল বজ্রের শব্দ। চারদিক কাঁপিয়ে ছড়িয়ে পড়ল হাসির শব্দ! আকাশটা চিরে ফেটে যাচ্ছে যেন এই অট্টহাসির শব্দে।
&quot; শুধু ওরে খুন করি নাই, আরো বিশটা মাইয়ারে খুন করছি...আরো বিশটা! সবগুলায় চাকরি করে। ওত পাইতা থাকতাম দিনের দিন, তারপর শিকার করতাম। তুই...তুই...তুই হলি একুশ নম্বর..একুশ নম্বর! জানিস...জানিস কেমনে খুন করতাম আমি?&quot;

কাছেই কোথাও বজ্র পড়ে, চারদিকে আলো হয়ে ওঠে। সেই আলোতেই লিজা স্পষ্ট দেখতে পায় তার সামনের লোকটার কুৎসিত বিভৎস মুখটা। শিউরে ওঠ লিজা, তার চোখ বেয়ে উষ্ণ জল বেয়ে পড়ে। খুব অসহায় লাগছে তার, এরকম পরিণতি সে হয়তো কখনো দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি।
রাসেল মিয়া হঠাৎ চিৎকার করে লিজার চোয়াল শক্ত করে ধরে বলে, &quot;চাকরি করবি না শালী? হা? চিরে কেটে খুন করবো তোকে....বাকি বিশটাকে এভাবেই খুন করছি, কেউ চিনতেও পারে নাই লাশগুলোরে...আরো খুন করমু, সবগুলারে শেষ কইরা দিমু আমি !&quot;

ফের হাসতে শুরু করে রাসেল মিয়া। লিজাকে ছেড়ে রাস্তায় ওঠে চিৎকার করে বলতে থাকে, &quot;তোর আইজ দিন শ্যাষ শালী। প্রত্যেক অমাবস্যার রাইতে এইখানে খুন অয়, আইজক্যাও অইবো। আইজক্যাও অইবো, আইজক্যাও অইবো...&quot; বলেই হাসতে থাকে। কিন্তু হাসিটা শেষ হয়না পুরোপুরি, তার আগেই তীব্র শব্দে ব্জ্রপাত হয়, আর তারই সাথে দিনের আলোর মতো এক উজ্জ্বল আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই আলোতেই স্পষ্ট দেখা যায়, একটা দৈত্যের মতো দানব আকৃতির ট্রাক কোথা থেকে যেন হঠাৎ করে তীব্র বেগে সবকিছুকে চিরে ফুঁরে এসে ধুম করে ধাক্কা দেয় রাসেলকে। বজ্রের প্রচন্ড শব্দের সাথে মিশে যায় অস্ফুট তীব্র এক আর্তচিৎকার! 

চারদিকে ঝড়ের বাতাসের তাণ্ডব শুরু হয়, বাতাস বইতে থাকে চারিপাশে। একটা সময় শান্ত হয়ে আসে। পাহাড়ের উপত্যকার ওই রাস্তাজুড়ে বহু আকাঙ্খিত সেই বৃষ্টিটা দিগন্ত জুড়িয়ে নামতে শুরু করে। সেই বৃষ্টির পানির সাথে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা লাশটির রক্ত মিশে যায়। লাল রক্তের পানিতে ভেসে যায় রাস্তার ধারের ঘাসগুলো। রাসেল ঠিক ছিল। সেই অমাবস্যাতেও পাহাড়ের উপত্যকার ওই রাস্তাটায় একুশ নম্বর খুনটা হয়েছিল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10537/</link>
				<pubDate>Tue, 25 May 2021 10:01:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*একুশ নম্বর</p>
<p>রাত ১০ টা। রাসেল মিয়া একটা কলসেন্টারের বাইরে টঙের দোকানে বসে চা খাচ্ছে। চায়ে অতিরিক্ত চিনি হয়েছে, শরবত টাইপের কিছু একটা লাগছে। তবে তাতে রাসেল মিয়ার খেয়াল নেই, সে কলসেন্টারটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মাঝে মাঝে সিগারেটে ফু দিয়ে আবার সুরুৎ করে চায়ে চুমুক দিচ্ছে। </p>
<p>রাত দশটায় একটা ব্যাচের কাজ শেষ হল। একপাল অফিসের মানুষ বেরিয়ে আসে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10537"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10537/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>15</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c316f7b75d9c63fa807e2753ae4f4d71</guid>
				<title>*অভিনয় 
.
রাস্তার পাশে একটা বড় মাঠ, তা পেরিয়ে একটু ফসলি জমি আর তার পরেই নদী। নদীটা আকারে ছোট, স্রোতের পরিধিও কম। ধীর শান্ত স্থির তার গতি। সেই নদীর তীরে পা জড়সড় করে বসে আছে এক মধ্যবয়স্ক লোক। নদীর পানি ছোট ছোট ঢেউ করে লোকটার পায়ে এসে ছুঁয়ে যায়। কাছে গেলে বোঝা যায়, কাঁদছে লোকটা। খুব মৃদু স্বরে, চাপা কন্ঠে, তবে বড় গভীর সে কান্না। লোকটা চোখ বুজে কাঁদতে থাকে, উষ্ণ জলগুলোর প্রস্রবণে তার চোখ-মুখ লাল হয়ে যায়। 

শাহেদ বলল, অভিনয়?

চায়ে সুরুৎ করে চুমুক দিয়ে শেষ করল খলিফা। তারপর একরকম অদ্ভুত শব্দ করে বলল, &quot;করবা? তোমার তো মঞ্চনাটকের প্র&#x200d;্যাকটিস   আছে, এসে যাও। গোয়েন্দা কাহিনী তো, অনেক মানুষ দরকার।  একটা ছোটোখাটো রোল করে ফেল,কিছু পয়সাপাতিও পাবা, আর আমারও মানুষ খোঁজাখুঁজি বন্ধ হবে।&quot;

শাহেদ কতসময় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মাটির দিকে। তারপর দোকানের জিনিসপত্র মুছতে মুছতে বলে, &quot;খলিফা ভাই, আপনারে একটু কয়দিন পরে জানাই?&quot; 

খলিফা শ্রাগ টানে, &quot; দুদিনের মধ্যে জানাইও, শুটিঙ চলে তো, বেশি দেরি করলে অইবো না!&quot;

খলিফা চলে যায়, ডিপার্টমেন্ট স্টোরে বসা শাহেদ অন্যমনস্ক হয়ে যায়। ক্রেতা আসে, সে জিনিস বেচে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার সহস্র চিন্তা চলতে থাকে। দুপুরবেলা সে দোকান বন্ধ করে রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকে, রাস্তা পেরিয়ে মাঠ, তারপর ছোট ফসলি জমি, তারপর ছোট্ট সুন্দর নদী। শাহেদের প্রিয় জায়গা এটা। নৌকাগুলো ঢিমে তালে চলে, নদীর পানি একটা কলকল শব্দে চারদিকে জুড়িয়ে রাখে- শাহেদ বড় মুগ্ধ চোখে এগুলো দেখতে থাকে। হাঁটুর উপর হাত দুখানার ভার দিয়ে বড় নিঃশব্দে কয়েকটা মুহুর্ত কাটায় সে। আজ নদীর কিনারে পা মেলিয়ে যখন সে বসল, তার মাথায় তখন একটাই শব্দ &quot;অভিনয়!&quot;

দীর্ঘশ্বাস ফেলল শাহেদ। অভিনয়- চারটে অক্ষরের একটা শব্দ। অথচ এই চারটি অক্ষর মিলিয়ে শব্দটা যখন উচ্চারণ করা হয়, শাহেদের পুরো শরীর বেয়ে তখন অদ্ভুত এক শিহরণ বয়ে যায়। মঞ্চনাটক করতো শাহেদ। কীভাবে যেন এই মঞ্চনাটকের অভিনয় শাহেদের জীবনটা এভাবে জড়িয়ে যায় যে, অভিনয় হয়ে ওঠে শাহেদের ধ্যান জ্ঞান। কীভাবে কত কারুকাজ করে কোন একটা মানুষের চরিত্রে ঢুকে যাওয়া যায়, শাহেদের চিন্তাভাবনা সারাক্ষণ সেদিকে থাকত। দিনের পর দিন কোন এক চরিত্র নিয়ে সে পড়ে থাকতো, সেই চরিত্রের পুরোপুরি সবকিছু তার মধ্যে ফুটে না উঠলে সে নিজেকে রেহাই দিতো না। গভীর রাত অব্দি বড় আয়নায় নিজেকে শান দিতো সে। আর স্বপ্ন দেখতো, একদিন সে সিনেমা করবে। সিনেমার নায়ক হবে সে। তার অভিনয়ের গভীর অনুরাগে মুগ্ধ হবে পুরো জগৎ!

শাহেদ দোকান শেষ করে সেদিন রাতে নিজের রুমে গিয়ে অনবরত হাঁটাহাঁটি করতে থাকে। একসময় খলিফাকে ফোন দিয়ে বলে, খলিফা ভাই আমি রাজি। আগামীকাল চরিত্রটা আমায় বুঝিয়ে দিয়েন।

পাড়ায় একটা শুটিং এর টিম এসেছে। গোয়েন্দা সিনেমা। একঝাঁক ভর্তি মানুষ। সবাই শহুরে মানুষ। গ্রামে হঠাৎ এসে দু-একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তার জায়গাতেই খলিফাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় গ্রামে যারা আগে অভিনয়ে কাজ করেছে তাদেরকে দিয়ে কাজটা করিয়ে ফেলতে। শাহেদের দিকে তাকিয়ে খলিফা বলল, তোমার চরিত্রটা হচ্ছে পথচারীর। 

শাহেদ কিছুসময় তাকিয়ে থাকে। তারপর হতাশ কন্ঠে বলে, &quot;পথচারী?&quot;

খলিফা যোগ করে, &quot;হ্যা, সেটাই। খুব ছোট কিন্তু গুরত্বপূর্ণ। ঘটনা হল, সিনেমার নায়ক মানে গোয়েন্দা অন্যমনস্কভাবে কিছু একটা ভাবতে ভাবতে পথের মধ্যে হঠাৎ তোমার সাথে ধাক্কা খাবে। তুমি মোটামুটি বয়স্ক মানুষ, হাতে একটা লাঠি থাকবে। ধাক্কার কারণে হাত থেকে লাঠি পড়ে যাবে। গোয়ন্দা অপ্রস্তত হয়ে তোমার লাঠি তুলে দিবে। তুমি কাঁপা কন্ঠে বলবে, একটু ধীরে চলো বাবা! গোয়েন্দা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবে, তারপর হঠাৎ কিছু একটা মনে চলে আসায় উলটো দিকে দৌড় দিবে। তুমি তখন তাকে বুঝতে না পেরে বলবে, &quot;আজকালকার ছেলেগুলোও না....&quot;
এইটুকুই!&#039; &quot;

শাহেদ একমনে শুনে যায়। একটা সময় মাথা নেড়ে জিজ্ঞেস করে, &quot;কবে হবে আমার এই শুটিং?&quot;

&quot;এই ধরো আজকে থেকে তিন দিন পর&quot;, খলিফা বলে।

সেদিন দুপুরে আবার নদীর ধারে বসে শাহেদ। অভিনয় নিয়ে রঙধনুর মতো যে স্বপ্ন শাহেদের ছিল, তার আশেপাশের আর কারো তা নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না। শাহেদের বিয়ের পর সমস্যাটা আরো প্রকট হল। মঞ্চনাটক ছাড়া শাহেদের আর কোন উপার্জন ছিল না, এতে শাহেদের আর্থিক সমস্যা দেখা দেয়। নিজের স্ত্রীর সাথে অশান্তি চলে শাহেদের। তবে এসবকিছুর পরেও সে সিনেমার নায়কের অডিশনের জন্য সুযোগ খুঁজে যায়। দিনের দিন কোন এক চরিত্র নিয়ে সে নিজেকে ঝালাই করে যায়। হাজারটা সমস্যার মধ্যেও চোখভরা স্বপ্নগুলো তাকে চাঙা রাখে।

দোকানের কাজ শেষ করে জীবনের প্রৌঢ় পর্যায়ে পা দেওয়া শাহেদ সেদিন রাতে তার খাতা নিয়ে বসে। ছয়বছর হয়ে গেছে শাহেদ অভিনয় ছেড়েছে। এই খাতায় সে চরিত্রগুলোর বর্ণনা লিখে রাখতো, তারপর নিজের মতো করে সেগুলোকে আয়ত্ত্ব করবার জন্য প্র&#x200d;্যাকটিস করতো। শাহেদ ভাবেনি, এই খাতাটা তার আবারও খুলবার প্রয়োজন হবে। 

খাতায় গটগট করে লিখল, তার চরিত্রটা হচ্ছে একজন বুড়ো মানুষের। তার মানে নুইয়ে নুইয়ে হাঁটতে হবে। কথা বলতে হবে একটু ধীরে ধীরে। দুই লাইনই মাত্র বলতে হবে, তবে সেটা একদম নিখুঁত হওয়া চাই। ছয়বছরে আয়নাটা ঘোলাটে হয়ে গেছে, শাহেদ আয়নায় দাঁড়িয়ে একজন বুড়ো মানুষকে নিজের ভেতরে ফুটিয়ে তুলবার চেষ্টা করে।

পরদিন খুব ভোরে উঠে ধ্যানে বসল শাহেদ। কল্পনা করতে থাকে একজন বুড়ো মানুষ হাঁটছেন। এক পা দু পা, হাতটা একটু কাঁপছে, চোখ দুটো বিচ্ছিন্ন ভাবে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে.....একটু বেলা হতেই শুটিং টিমের সাথে দেখা করল শাহেদ। কস্টিউমের ব্যাপারটা জেনে নিল, তার সাথে কাজের ব্যাপারটাও খলিফার সাহায্যে নিশ্চিত করে আসল। ফেরার সময় সেদিন আর দোকানে বসল না শাহেদ। একটা কর্পোরেট অফিসের সামনে চলে গেল সে। সেখানে অনেক মানুষ, তাকে এখন যে জিনিসটা করতে হবে সেটা হচ্ছে ধাক্কা খেতে হবে। ব্যাপারটা একদম নিখুত হওয়া চাই। শাহেদ অন্যমনস্ক হওয়ার ভঙ্গি করে নানাজনের সাথে ধাক্কা খায়, বোঝার চেষ্টা করে কৃত্রিমতা আসছে কিনা। একটা ছোট্ট স্ক্রিন টাইমের জন্য শাহেদ পুরো তিনদিন একটানা নিজেকে নিয়ে কাজ করে গেল, দোকানেও বসল না তিনদিন। 

শুটিং এর ঠিক আগের রাতে শাহেদ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, মধ্যরাতে হঠাৎ করে কোথা থেকে প্রচন্ড জোরে কোন বাচ্চার চিৎকার শুনতে পায় সে। ধড়মড়িয়ে ওঠে শাহেদ, ঘেমে নেয়ে যায়। পানি খায় ঢকঢক করে। শাহেদ জানে কেন সে এই চিৎকার শুনছে। সারারাত আর ঘুমাতে পারে না। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকে। 
রাতের হলুদ রঙা গোল চাঁদটার দিকে তাকাতে তাকাতে শাহেদের মনে পড়ে ছয় বছর আগের সেই ঘটনাগুলোর কথা। শাহেদের ছোট্ট ছেলেটার তখন নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। হাসপাতালে ছুটোছুটি করছে সে। অক্সিজেন নিয়ে আর ট্রিটমেন্ট করতে করতে কিছুটা স্ট্যাবল হয় ছোট্ট ছেলেটা। তবু ঘরঘর করা শ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়না। 
হাসপাতালে বসে ছিল শাহেদ, তখনই তার কাছে ফোনটা আসে। তার প্রোফাইল চেক করে সিনেমার নায়কের জন্য অডিশনে ডেকেছে তাকে। পরের দিনই রিপোর্ট করতে হবে। এক মুহুর্তের জন্য শাহেদের মনে হল, সে যেন হাওয়ায় ভাসছে। যে স্বপ্নটা সে এতদিন দেখেছিল, তবে কি অবশেষে সেটা হতে চলেছে! পরক্ষণেই তার হুশ ফেরে, তার ছেলে অসুস্থ- এই অবস্থায় সে কিভাবে যাবে! সারাদিন সারারাত অনেক ভাবে শাহেদ, তারপর ভাবে যেহেতু ছেলেটা মোটামুটি স্থির আছে, অডিশনটা করেই ফিরে আসলেই তো হবে। 

দ্বিধাগ্রস্ত শাহেদ পরদিন তার স্ত্রী আর একজন আত্মীয়কে রেখে বাসে চড়ে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বাসে চড়তে চড়তে অজানা ভয় কাজ করে শাহেদের মনে, সে কি স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে, নিজের জন্য ছেলেটাকে রেখে এসেছে- এটা কি ঠিক করেছে সে!
সবকিছু ঝেড়ে ফেলে অডিশনে পৌঁছে অপেক্ষা করতে থাকে। সিরিয়াল এগুতে থাকে। আর একজন বাদে তার ডাক পড়বে- এমন সময় কল আসে শাহেদের। তার ছেলেটার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। শাহেদ হতবম্ব হয়ে যায়, কি করবে বুঝতে পারে না। দাঁড়িয়ে থাকে অনেকক্ষণ। হঠাৎ ডাক আসে, শাহেদ আলী, ভেতরে আসুন!

২. 

শাহেদ একটা ফুটপাতের একপাশে দাড়িয়ে আছে। ডিরেক্টর তাকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন কোথা থেকে হেঁটে যেতে হবে। সিনেমার নায়ককেও ডিরেক্টর বুঝিয়ে দিলেন। 
শাহেদ বৃদ্ধের কস্টিউম পরে দাঁড়িয়ে আছে। আজকে সেই দিন যেদিনটার জন্য তার এতো এতো দিনের অপেক্ষা ছিল। আজকে সেই দিন, যে দিনটার জন্য স্বপ্নালু মন দিন গুনছিল। আজকের দিনটার প্রতিটা মুহুর্ত সে টেনে টেনে বড় করতে চায়। 
অবশেষে এল সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত নির্দেশ, &quot;লাইট, ক্যামেরা, একশন!&quot; 
শাহেদের হঠাৎ মনে হল ধক করে সবকিছু যেন স্থির হয়ে গেছে। সে হেঁটে চলছে, অথচ চারদিক খুব স্থির, প্রচন্ড ধীর। নায়ক অন্যমনস্কভাবে সামনে আসছে তার সামনে, বৃদ্ধ সাজা শাহেদ কাঁপা কাঁপা পায়ে এগুচ্ছে। একসময় ধাক্কা, তারপর শাহেদের ধীর কন্ঠে বলা, &quot; একটু দেখে চল বাবা..&quot; তারপর নায়কের লাঠি তুলে দেওয়া...দিতে দিতেই নায়কের কিছু একটা মনে আসায় পেছনে ঘুরে ছুটে চলা...অকৃত্রিম হাসি দিয়ে শাহেদের বলা, &quot;আজকালকার ছেলেগুলোও না....&quot; - খুব সাধারণ একটা স্ক্রিনপ্লে, কিন্তু এত নিখুঁতভাবে হল যে সেটের সবাই একরকম হা করে তাকিয়ে থাকল। ডিরেক্টর &quot;কাট!&quot; বলতেই হাততালির রো পড়ে গেল চারদিকে।
শাহেদ তাকায় চারপাশে। মানুষ বাহবা দিচ্ছে- এতো ছোট সময়ের একটা অভিনয়ে বাহবা দিতে পারে কেউ সেটা শাহেদের ধারণার মধ্যে ছিল না। পেছন থেকে খলিফা কাঁধ চাপড়ে বলে, &quot;ফাটায় দিছো ভাই!&quot; 
শাহেদ আলী মলিন মুখে হাসে, কি বলবে বুঝতে পারে না। 

শুটিং এর আরো টুকিটাকি কিছু কাজ করে প্যাক করে দেওয়া হয়। বিকেলে নাম ডাকা হয় টাকা দেওয়ার জন্য। একজন একজন করে আসে। একটা সময় জোরে ডাকা হয়, &quot;শাহেদ আলী!&quot; 
কিন্তু শাহেদ আলীকে তন্নতন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যায় না কোথাও। ম্যানেজার ঠোট উলটে বলে, &quot;লোকটা গেল কোথায়, ভালো করেছিলো তো, টাকা নিবে না-&quot; 

৩. 
গ্রাম পেরিয়ে মাঠ, মাঠের পর সবুজ জমি, তারপর ছোট্ট নদী, সেই নদীর ধারে বসে মধ্যবয়স্ক একজন লোক অঝোর ধারায় কান্না করছে। লোকটার নাম শাহেদ আলী।

শাহেদের ছেলে মারা গিয়েছিল। অডিশন দিয়ে ঝড়ের বেগে বাড়ি ফিরতে বাসে উঠে সে। অর্ধেক রাস্তায় গিয়ে আরেকটা ফোন আসে। ওপার থেকে ছেলের সংবাদটা জানায় কেউ। শাহেদ স্তম্ভিত হয়ে যায়, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। নিজেকে অপরাধী মনে হয় তার। মনে হতে থাকে, অভিনয়ের নেশায় ছেলেকে সে মেরে ফেলেছে। বাস থেকে নেমে সেই নদীর ধারে বসে থাকে সে, বাড়ি ফেরার সাহস তার হয়না। ঘন্টা খানেক বসে থেকে হঠাৎই চিৎকার করে কান্না শুরু করে শাহেদ। 

আজ ছয় বছর পরে ঠিক একই নদীর ধারে বসে সে অঝোরে কান্না করে যাচ্ছে। কিন্তু দুই ঘটনার কি অমিল! ছয়বছরের আগের সেই শাহেদ নিজেকে অপরাধী ভেবে কাঁদছিল আর আজকের শাহেদ দিনের পর দিন নিজের মনের সাথে প্রচন্ড যুদ্ধ করে জয়ী হয়ে স্বপ্নপূরণের সেই আকুন্ঠ অনুভূতি পেয়ে কান্না করছে। 

মধ্যবয়স্ক লোকটার শিশুদের মতো কান্না দেখে ভারী হয়ে ওঠে ছোট্ট নদীটা, পাশের সবুজ মাঠটা, আর হুহু করে বয়ে যাওয়া শীতল বাতাসটা। তবু শাহেদকে তারা থামায় না। তারা চায়, একটু কাঁদুক লোকটা,আরেকটু কাঁদুক। দিনের পর দিন পাথর করে ফেলা মনটাকে ওই চোখের উষ্ণ জলগুলো গলিয়ে ফেলুক। 

কাঁদতে থাকুক শাহেদ আলী। কাঁদতে থাকুক রঙধনুর মতো স্বপ্ন দেখা মানুষটা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10407/</link>
				<pubDate>Fri, 21 May 2021 16:48:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*অভিনয়<br />
.<br />
রাস্তার পাশে একটা বড় মাঠ, তা পেরিয়ে একটু ফসলি জমি আর তার পরেই নদী। নদীটা আকারে ছোট, স্রোতের পরিধিও কম। ধীর শান্ত স্থির তার গতি। সেই নদীর তীরে পা জড়সড় করে বসে আছে এক মধ্যবয়স্ক লোক। নদীর পানি ছোট ছোট ঢেউ করে লোকটার পায়ে এসে ছুঁয়ে যায়। কাছে গেলে বোঝা যায়, কাঁদছে লোকটা। খুব মৃদু স্বরে, চাপা কন্ঠে, তবে বড় গভীর সে কান্না। লোকটা চো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10407"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10407/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fbadbd8e5a1605a828c7b2409181545a</guid>
				<title>আচ্ছা,আমি একটা প্রশ্ন করছি!

আমরা যদি একটু Generalised করে দেখি, তাহলে Actually কোন বিষয়গুলো হচ্ছে একজন মানুষকে Define করে?

তার কথাবার্তা, তার পোশাক আশাক, তার সৌন্দর্য, তার ধর্মীয় বিশ্বাস, তার জ্ঞান,তার শিক্ষা....কোন বিষয়গুলোতে উন্নতি করলে একজন মানুষকে বলা যাবে যে, হ্যা সে Authentically একজন পারফেক্ট মানুষ হয়েছে! এই মুহুর্তে দুজন মানুষের কথা আমরা দেখব, তারপর উত্তরটা নিয়ে আমরা কথা বলবো।

The Iron Lung ( আসল নাম পল) একজন মানুষের নাম। তিনি ছোটবেলায় পোলিও আক্রান্ত হয়েছিলেন, তার পুরো শরীর একটা সময় প্যারালাইজড হয়ে যায়। তার ফুসফুস কাজ করতে পারে না, জীবনের সব আশা একটা সময় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজন ডাক্তার তার জীবনে আসেন এবং তাকে ট্রিটমেন্ট করে একটা মেশিনের ফুসফুসের মাধ্যমে তাকে শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। মেশিনটা এত বড় যে, পলের অস্তিত্ব বলতে শুধু একটা মুখমন্ডল ছাড়া আর কিছু বাকি ছিল না। স্রেফ এই মুখমন্ডল নিয়ে তিনি যা কাজ করেছেন পরবর্তীতে, যেসব কিছুর স্বপ্ন তিনি দেখেছেন, তা আমি-আপনি এত সুন্দর সুস্থ শরীর নিয়েও কল্পনা করতে পারব বলে মনে হয় না।

তাকে জিজ্ঞেস করা হল, পল এই মুহুর্তে তোমার জীবনের লক্ষ্যটা কি? 
পলের উত্তরঃ &quot;To not to polio defeat me but to defeat polio! 
Therefore I wanted to accomplish the things I was told I couldn&#039;t accomplish, and to achieve the dreams that I dreamt.&quot; 

এই কথাটা আরেকবার পড়ুন। অনুভব করুন, একজন মানুষের অনুভূতি কতটা গভীর হতে পারে!

আরেকজন মানুষের নাম বলি, মানুষটার নাম Lizzie. ধরুন আপনি হলেন লিজি, একদিন লিপস্টিক মেখে, একটু মেকাপ করে আপনি ফেসবুকে ছবি ছাড়লেন। ছেড়েই আপনি অপেক্ষা করছেন মানুষ আপনার ছবিতে লাভ রিয়েক্ট দিবে, কমেন্ট করে বলবে, &quot;লিজি, Omg! you are looking so swweet!&quot; 
আপনি লজ্জা পাবেন, মুখ চেপে হাসবেন, কমেন্টের জবাব দিবেন,&quot; থ্যাংকিউউ!&quot; 

সেরকম কিছু হল না, মানুষ আপনার ছবি দেখলো, কমেন্ট করলো...&quot; Holy shit! You are a monster! &quot;
আরেকজন লিখলো, &quot;Jeez! Are you a alien?&quot;
অন্যজন লিখলো, &quot; Oh my god! Someone just  shoot her out! She is terrible!&quot;

একবার...স্রেফ একবার অনুভব করুন সেই কম্পলিমেন্টগুলো।চিন্তা করুন, আপনি কোন এক রাতের অন্ধকারে ওয়াশরুমে বসে অঝোর ধারায় কান্না করছেন আর সৃষ্টিকর্তাকে বলছেন, &quot;Why me God, why me?&quot; 

বলছিলাম World&#039;s ugliest woman খেতাব পাওয়া Lizzie এর কথা। হরমোনাল ডিজওর্ডারের কারণে লিজি একজন হাড় শিকশিকে, এক চোখ অন্ধ, চামড়া কুঁচকানো নারী। স্রেফ সৌন্দর্য না থাকার কারণে মেয়েটাকে কি পরিমাণ গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে- চিন্তা করতে পারেন? অথচ একটিবারের জন্য লিজির ইন্টারভিউ আপনি দেখে আসুন, TED TALK এ তার চমৎকার দৃষ্টিভঙ্গি, তার ড্রিমস, তার লাইফ স্ট্রাগলগুলো শুনে আসুন- আপনার হঠাৎ করে মনে হবে পৃথিবীতে এমন সুন্দর মেয়ে আপনি বোধ হয় কম দেখেছেন! 

আমরা প্রশ্নের উত্তরটা দিব। What things actually define you or On what things you should work on? 

তিনটে জিনিস। তিনটে জিনিস যেটা Actually আপনাকে ডিফাইন করে। আমি বলছি না সেটা, হ্যাল এলরড, এপিজে আব্দুল কালাম, ব্রায়ান টেসিরা এই উত্তর&#x200d;টা দিয়ে গেছেন। 

1. Your Thoughts
2. Your Dreams
3. The way you behave towards people

চিন্তা করুন যতটা সুন্দর চিন্তা আপনি করতে পারেন, স্বপ্ন দেখুন যতটা সুন্দর স্বপ্ন আপনি দেখতে পারেন, আপনার শত্রু মিত্র আত্মীয়- ব্যবহার করুন যতটা সুন্দর করে ব্যবহার আপনি কর&#x200d;তে পারেন- যদি এই তিনটে বিষয় সবচে সুন্দরভাবে আপনি করে ফেলতে পারেন, তাহলে অভিনন্দন, অভিনন্দন হে প্রিয়! আপনিই এই পৃথিবীর সবচে সুন্দরতম মানুষগুলোর একজন!&#x1f3f5;&#xfe0f;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10010/</link>
				<pubDate>Sun, 09 May 2021 20:48:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আচ্ছা,আমি একটা প্রশ্ন করছি!</p>
<p>আমরা যদি একটু Generalised করে দেখি, তাহলে Actually কোন বিষয়গুলো হচ্ছে একজন মানুষকে Define করে?</p>
<p>তার কথাবার্তা, তার পোশাক আশাক, তার সৌন্দর্য, তার ধর্মীয় বিশ্বাস, তার জ্ঞান,তার শিক্ষা&#8230;.কোন বিষয়গুলোতে উন্নতি করলে একজন মানুষকে বলা যাবে যে, হ্যা সে Authentically একজন পারফেক্ট মানুষ হয়েছে! এই মুহুর্তে দুজন মানুষে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10010"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10010/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">13c8dc27f0f4ea2fbe717510d19c0721</guid>
				<title>*এলবাম &#x1f3f5;&#xfe0f;

সকালবেলা অনেকটা দেরী করে ঘুম ভাঙল। দুদিন ধরেই ব্যাপারটা ঘটছে- ঘুম ভাঙলেও উঠতে ইচ্ছে করে না।
ফ্রেশ হয়ে এসে চা খেতে খেতে খবরের কাগজে চোখ বুলালাম। পড়তে ইচ্ছে করলো না। মনটা ভীষণ রকমের ভারী হয়ে রয়েছে। 
বসার ঘরের চেয়ারে অনেকটা সময় কাটালাম। তারপর খানিকটা পায়চারী করলাম বারান্দায়। একটা বড় অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে বাড়িতে কয়দিন আগে- আমেজটা কোথাও যেন লেগে রয়েছে এখনো।
একটা সময় কি মনে করে দোতালার দিকে পা বাড়ালাম। দোতালার সামনের রুম। রুমটার দরজায় নানারকম নকশা করে লেখা Jinat&#039;s Room. ইংরেজিতে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা - নক বিফোর ইউ এন্টার। 
রুমটা বন্ধ- কেউ নেই ভেতরে। তারপরেও কোন এক অজানা কারণে দরজায় ঠক ঠক করে আওয়াজ করলাম। ক্ষীণ গলায় জিজ্ঞেস করলাম, মে আই কাম ইন, জিনাত মামনি?

ভেতরে কেউ নেই, জবাবও এল না; আমি একটু হাসি দিয়ে রুমের দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকলাম। বড় চিরচেনা, বড় আপন, বড় মিষ্টি একটা হাওয়া আমার গায়ে এসে লাগল। গভীর একটা শ্বাস নিলাম। খুলে দিলাম জানালাগুলো- একটা হালকা মৃদু বাতাসে জুড়িয়ে গেল রুমটা।

ড্রেসিং টেবিলের মেকাপ বাক্স - লিপস্টিক, পড়ার টেবিলে কলম দিয়ে রাখা উপন্যাস কিংবা জানালার গ্রিলের ওপারে পাতাবাহার আর ক্যাকটাস গাছ - সব ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতে লাগলাম। দেয়াল জুড়ে নকশা আর বিছানা বালিশের উপরের টেডি বিয়ার- সবগুলো খুব চেনা, তবু এখন দেখতে যেন খুব ভালো লাগছে। 
টেবিলের পাশে একটা চেয়ার, এখানেই সপ্তাহ খানেক আগে জিনাত বসেছিল। আমিও বসলাম - একই ভঙ্গিতে, এক পায়ের উপর আরেক পা তুলে। ছোটোবেলায় জিনাত বিতর্ক করতো, সে কারণে যেটা হয়েছে- সব জিনিসে তার লজিক দেখা চাই। সপ্তাহ খানেক আগে এরকম একটা সময়ে আমার সামনে বসেছিল জিনাত। হাতে একটা কলম ধরে বলছিল,&quot; দ্যাখো আব্বু.....&quot;
আমিও একটা কলম হাতে নিলাম, চোখ মুখ বাঁকিয়ে জিনাতের মতো বলতে চেষ্টা করলাম, &quot;আব্বু দ্যাখো, ব্যাপারটা হচ্ছে-&quot; হেসে ফেললাম নিজে  নিজেই। 

ঘরে রাখা একটা ছোট্ট শোকেস, সেখানেই একটা এলবাম রাখা- নজরে পড়তেই এলবামটা নিয়ে হাঁটু মুড়ে বিছানায় বসলাম। একটা সাধারণ ছবির-এলবাম। জিনাতের ছোটোবেলার ছবি আছে এই এলবামে। এলবামের প্রথম ছবি, টাওয়েল মোড়ানো অবস্থায় সদ্য জন্ম নেওয়া জিনাত- আমি বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। হুট করে বিশ বাইশ বছর পেছনে চলে গেলাম। তখন তাগড়া জোয়ান, বাহু বলে শক্তি অফুরান। তবুও নার্স এসে যখন ছোট্ট জিনাতকে টাওয়েল মুড়িয়ে আমার হাতে দিল- আমার মনে হল আমার হাত কাঁপছে! কি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলাম ছোট্ট বাচ্চাটির দিকে- এখন মনে পড়লে লজ্জা লাগে, হাসিও পায়। 

এলবামের ছবি উল্টাতে থাকি। কাদা মাখামাখি অবস্থায় জিনাতের ছবি, কান্না করছে সে - দেখেই হেসে উঠলাম। সেবার পিকনিকে গিয়েছিলাম, সাদা ধবধবে একটা ফ্রক পড়ে জিনাত গিয়েছিল সঙ্গে। কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে একটু দূরে যেতেই পা পিছলে কাদায় পড়ে জিনাতের পুরো ফ্রক নষ্ট হয়ে গেল। সে কি চিৎকার করে কান্নাকাটি! 

ছবির এলবাম এগোতে থাকে, ছোট্ট জিনাতও বড় হতে থাকে। কখনো প্রাইজ পাওয়া ছবিতে দাঁত বের করে হাসা তো কখনো কাকাদের সাথে দুষ্টুমির সময় ক্যামেরায় ধরা পড়া - ছবিগুলো উল্টোতে থাকি আর মনের অজান্তে হাসতে থাকি। কতটা দিন পার করে ফেলেছি- এখন ভাবলেও কেমন লাগে! মনে হয় এইতো সেদিন না পিচ্চি জিনাতকে পিঠে চড়িয়ে ঘুরে বেড়াতাম বাড়িময়। কিভাবে কেটে গেল এতদিন!

ছবির এলবামে ছবি শেষ হয়ে আসে। বড় করে দীর্ঘশ্বাস ফেলি আমি। জিনাতের বিয়ে হয়েছে দুদিন হলো। শাড়ি পড়ে বড় ঘোমটা দিয়ে জিনাত যখন রওনা হল, জিনাতের মা কান্না করছিলেন। আমি মনকে শক্ত করে নিলাম, মেয়ে শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে- সেটাই তো নিয়ম। একটু আধটু মন খারাপ হবে, তবে সে কিছু নয়- সময় গেলেই ঠিক হয়ে যাবে। 
দুদিন কেটে গেল। মনটা ঠিক সেরকমই ভারী হয়ে আছে। একটা প্রচন্ড শূন্যতা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে মনটাকে। ফোঁস করে শ্বাস ফেলে তাকিয়ে থাকলাম বাইরের জানালাটার ওপারে। 
বসন্তের দুপুরবেলা; মৃদু বাতাসে পাতাগুলো হেলেদুলে নড়ছে। গাছের বড় ডালে বসে দুটো চড়ুই পাখি খুনশুটি করছে, তাদের কিচিরমিচির শব্দ জিনাতের রুমজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে- কত সুন্দর, কত সুন্দর! ছবির এলবামটা বুকে জড়িয়ে পরম আবেশে তাকিয়ে রইলাম তাদের দিকে.....</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/9900/</link>
				<pubDate>Fri, 07 May 2021 16:27:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*এলবাম &#x1f3f5;&#xfe0f;</p>
<p>সকালবেলা অনেকটা দেরী করে ঘুম ভাঙল। দুদিন ধরেই ব্যাপারটা ঘটছে- ঘুম ভাঙলেও উঠতে ইচ্ছে করে না।<br />
ফ্রেশ হয়ে এসে চা খেতে খেতে খবরের কাগজে চোখ বুলালাম। পড়তে ইচ্ছে করলো না। মনটা ভীষণ রকমের ভারী হয়ে রয়েছে।<br />
বসার ঘরের চেয়ারে অনেকটা সময় কাটালাম। তারপর খানিকটা পায়চারী করলাম বারান্দায়। একটা বড় অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে বাড়িতে কয়দিন আগে- আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-9900"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/9900/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ce29e6c0807e51347c554c43afc80c81</guid>
				<title>প্রদীপ্ত দে চৌধুরী and ahmadullah araf are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/9090/</link>
				<pubDate>Sun, 25 Apr 2021 21:50:35 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0fa8d3a6e4f57104713b4c5fd1ac0cfb</guid>
				<title>প্রদীপ্ত দে চৌধুরী and Rehana Akter are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/9070/</link>
				<pubDate>Sun, 25 Apr 2021 15:57:30 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">340272c82bb26bb62b202eb5cd0d763f</guid>
				<title>প্রদীপ্ত দে চৌধুরী and মোঃ বায়েজীদ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/9064/</link>
				<pubDate>Sun, 25 Apr 2021 15:25:20 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fe29e9d536a98d02dea02ef016644dc3</guid>
				<title>*কাঁচের ফ্রেম


‘দিদি-এই দিদি, শোন না...’
খুব মন দিয়ে হোম ওয়ার্ক করছি, একাউন্টিং এর হোম ওয়ার্ক। করতে করতেই মাঝে মাঝে আটকে যাচ্ছি। মাথার চুল ছিঁড়তে মন করছে তখন।

‘দিদি, শুনছিস? এই দিদি-’
ভয়ানক বিরক্ত হয়ে ওঠলাম। রাহুলটা আজকাল জ্বালাচ্ছে প্রচুর।

আমি কড়া স্বরে বললাম, ‘এই রাহুল ! কি হইছে? দেখিস না কাজ করি-সর এখান থেকে-’
আমার ধমকে সে সরে যাবে, এমন পাত্র সে নয়। অনবরত বকবক করে যাচ্ছে। আমি আবার বললাম, এই তুই যাবি না?

সে কোনরকম ভ্রুক্ষেপ না করে আবার বলল, ‘দিদি, এবারের জন্মদিনে আমায় কি দিবি রে? জন্মদিন তো এসেই গেল- গতবার তো ঘড়ি দিয়েছিলি - এবার ওমন কিছু দিস না কিন্তু......’ 

আমি তাকালাম তার দিকে। মুখজুড়ে পণ্ডিত পণ্ডিত একটা ভাব। বিরক্ত হয়ে বললাম, ‘ এখন এখান থেকে না গেলে - আমি তোকে কিছুই দেবো না...’
এতে তাকে খানিকটা উদাস দেখা গেল, দুঃখী দুঃখী ভাব নিয়ে সে আমার কাছাকাছি ঘেষতে শুরু করল। মুখ বাঁকা করে বলল, ‘ এই দিদি, এমন করিস না...’ তারপর খানিক ইতস্তত করে বলল, ‘দিদি, আমায় একটা রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি দিবি?’

আমি সরাসরি বলে দিলাম, ‘তুই সরছিস না তো? যাহ,গাড়ি তো দূরে থাক- কচুও দেব না তোকে......’

‘তুই দিবি না তো? দাঁড়া-’ এই বলেই ছোঁ মেরে আমার খাতা আর কলম নিয়ে দৌড় দিল সে! আমি চিৎকার করে উঠলাম, ‘রাহুল, এটা ঠিক হচ্ছে না- আমার খাতা কলম দে বলছি- রাহুল!&quot; 
.
‘হি হি..এইবার নিয়ে দেখা তো আমার কাছ থেকে!&quot; এই বলেই বসার ঘরের দিকে ছুটল। তার পিছু পিছু আমিও ছুটে বসার ঘরে আসলাম। কিন্তু তাকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না- নিশ্চয় লুকিয়ে পড়েছে। 
আমি জোরে জোরে বললাম, ‘আমি জানি রাহুল তুই পর্দার আড়ালে লুকিয়েছিস! বেরিয়ে আয় রাহুল...খুব মার খাবি আজ......’

আমি ছুটে গিয়েই পর্দা ধরে তুলে ধরতেই অবাক হয়ে গেলাম। রাহুল ছিল না সেখানে! আমি ঘাড় ফিরিয়ে ফের রাহুলের নাম ধরে ডাকতেই দেওয়ালের একটা ছোট ছবির দিকে চোখ পড়ল আমার। রাহুলের ছবি। একটু দমে গেলাম আমি ,গলাটা ধরে গেল। নিজের অজান্তেই বলে ওঠলাম, রাহুল...খাতা...খাতা কলম ...দিয়ে দে আমায়...

গলায় ক্ষীণ স্বর, শুকিয়ে যাচ্ছে জিভ। আমি একটা সাধারণ ছবির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। স্বচ্ছ কাঁচের ফ্রেমের ওপারে একটা ছোট বালক, তার চোখ মুখে কি হাসি! দুষ্টুমির রেশটা ছড়িয়ে পড়ছে সারা গায়ে......চোখের চশমাটায়ও...

আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। দেহটাকে ক্লান্ত অবসান্ন মনে হচ্ছে, চোখের জলগুলি আষ্টপৃষ্টে জড়িয়ে ধরছে চোখকে। আমি ভাঙা ভাঙা গলায় বললাম, &quot;রাহুল, বানর কোথাকার, আমি দিব তো তোকে গাড়ি......একবার কাঁচের ওপার থেকে বেরিয়ে আয় ভাই..একবার আয়....একটু জড়িয়ে ধরবো তোকে...&quot;

কাঁচের ফ্রেমের ওপার থেকে বেরিয়ে আসে না রাহুল। আমার হৃদয়ে তোলপাড় করে কান্না আসে। আমি চিৎকার করে তার নাম ধরে ডাকি-কেউ তার উত্তর দেয় না......</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/8833/</link>
				<pubDate>Sat, 24 Apr 2021 04:14:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*কাঁচের ফ্রেম</p>
<p>‘দিদি-এই দিদি, শোন না&#8230;’<br />
খুব মন দিয়ে হোম ওয়ার্ক করছি, একাউন্টিং এর হোম ওয়ার্ক। করতে করতেই মাঝে মাঝে আটকে যাচ্ছি। মাথার চুল ছিঁড়তে মন করছে তখন।</p>
<p>‘দিদি, শুনছিস? এই দিদি-’<br />
ভয়ানক বিরক্ত হয়ে ওঠলাম। রাহুলটা আজকাল জ্বালাচ্ছে প্রচুর।</p>
<p>আমি কড়া স্বরে বললাম, ‘এই রাহুল ! কি হইছে? দেখিস না কাজ করি-সর এখান থেকে-’<br />
আমার ধমকে সে সরে যা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-8833"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/8833/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d7b79aa355a05500dc244b96b8adb793</guid>
				<title>*জোড়া শালিক

বৃদ্ধ হাজেরা বেগম  বাড়ির উঠোনে বসে রোদ পোহাচ্ছিলেন। কুচকে যাওয়া চামড়া আর হাড় শিকশিকে হাতগুলোতে একটু করে তেল মালিশ করছিলেন। 
ঘরের ভেতর কোন কিছু পড়বার শব্দ শোনা গেল। হাজেরা বেগম না দেখেই বললেন, &quot; ময়না আইছোছ? উঠান ডা ঝাড়ু দিয়ে যাইছ, বুঝছছ? পাতা পুতা পইড়া ভইরা গেছে!&quot;
ভেতর থেকে শব্দ এল, &quot;ঠিকাছে খালাম্মা!&quot;

হাজেরা বেগম একটু শ্রাগ টানলেন, সরিষার তেলের বাটি থেকে এক চিলেত তেল হাতে ঘষে নিয়ে ফের মালিশ শুরু করলেন। &quot;খালাম্মা&quot; শব্দটা তিনি গত চারবছর ধরে শুনে যাচ্ছেন। অনেক দিন হয়, সামনের খালা শব্দটা তার মন খারাপ করে দেয়। হাজেরা বেগম নিজের মনে হাসেন, দিনদিন জোয়ান হয়ে যাচ্ছেন আরকি তিনি, এই বুড়ো বয়সে নতুন মায়েদের মতো &quot;আম্মা&quot; ডাক শুনবার ইচ্ছে হয়েছে তাঁর! 
বাড়িতে আম্মা ডাকবার মতো মানুষও তার অবশ্য নেই, একটা কাজের মেয়ে আর দুসম্পর্কের এক নাতি তার দেখাশোনা করে। তার তিন ছেলেরাই ঠিক করে দিয়ে গেছে তাদের। মাঝে মাঝে তারা আসে, আম্মা আম্মা রব তোলে, হাজেরা বেগমের বুকটা ভরে যায়। তিনি রীতিমতো দিশেহারা হয়ে যান কয়েকটা দিনের জন্য, চুল এলোমেলো করে এদিক ওদিক দৌড়াতে শুরু করেন। ময়নাকে সারা দিন বকাবকি করেন। &quot;অনেক শুকাই গেছিস বাবা&quot;,  &quot;ঠিকঠাক খাচ্ছিস না, সব জ্বালা তো আমার&quot;, &quot; রাত জাইগা জাইগা চোখে কালি ফেলে দিচ্ছিস&quot; এসব কথা হাজেরা বেগম বলতে বলতেই দিনগুলো পার করে দেন। 

হাজেরা বেগমের তেল মালিশ শেষ হয়েছে। তিনি বারান্দায় বসে উঠোনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। দুটো শালিক জুটি বেধে উঠোনের এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাজেরা বেগম জানেন, দুই শালিক দেখতে পাওয়া ভালো কোন কিছু ঘটবার আগাম লক্ষণ।
বিদ্রুপের হাসি হেসে উঠে পড়লেন বুড়িমা, সরিষার তেলের বাটি নিতে নিতে বিড়বিড় করলেন, &quot; আমার আর ভালো জিনিস! &quot; তারপরই গলা হেঁকে বললেন, &quot;কিরে ময়না সাড়া শব্দ পাওন যায়না!&quot; 
ভেতর থেকে ময়নার কিছু একটা আওয়াজ শুনতে পেলেন হাজেরা বেগম।
হাতের বাটিটা নিয়ে উচু বারান্দায় পা-টা রাখতেই আচমকা একটা ঘটনা ঘটে গেল- হাজেরা বেগম পা মচকে পড়ে গেলেন! 

চিৎকার শুনে ভেতর থেকে দৌড়ে এল ময়না। তেলের বাটি উলটানো, মুখ থুবড়ে বুড়ি মা পড়ে আছেন। ময়না উদভ্রান্ত হয়ে চারদিকে ছুটোছুটি লাগিয়ে দিল। তারপর ও-বাড়ির শালুকের মাকে ডেকে হাজেরা বেগমকে ধরাধরি করে শোয়ার ঘরে নিয়ে গেল। হাজেরা বেগম কোকাচ্ছিলেন শব্দ করে। ময়না স্বভাবশুদ্ধ কিছু কথা শুনিয়ে বুড়িমার পায়ে তেল মালিশ করতে লেগে গেল। 

অবাক করা কান্ডটা ঘটল দুপুরের সময়। হঠাৎ করে তার তিন ছেলে দলবল নিয়ে বাড়িতে হাজির হয়ে গেলেন। কেউই একদমই জানতেন না হাজেরা বেগমের কাহিল অবস্থা, বাড়িতে এসে মোটামুটি তুলকালাম কান্ড বাধিয়ে দিলেন ছেলেরা। একজন গেলেন ডাক্তার আনতে, একজন গেলেন ঔষধ জোগাড় করতে, আর আরেকজন বসে না থেকে ফলমূল কিছু পান কিনা দেখতে বাজারে ছুটলেন। বড় দুই ছেলে বিবাহিত, দুই বউ আম্মা আম্মা করে মাতিয়ে রাখলেন। 

আর দশটা বারের মতো হাজেরা বেগম বাচ্চাদের মতো হয়ে গেলেন। বিছানায় শুয়ে শুয়েই &quot;রাজিবটা শুকাই গেছে রে&quot;, &quot;মিঠু, দুধের মাঠা খায়, রাখছি বাটি কইরা&quot; ; আর এর মাঝেও ময়নাকে তিন চারবার বকাঝকা তিনি করে ফেললেন। তার পায়ের গোড়ালির চিনচিন ব্যাথা কোথায় গেল টেরই পেলেন না। সবকিছু ছাপিয়ে হাজেরা বেগম বলতে লাগলেন তার আজকে সকালে দুই শালিক দেখবার কাহিনীটা। কীভাবে দেখলেন, কখন দেখলে কি হয়, আপাদমস্তক বর্ণনা করে গেলেন তিনি। এক শালিকে অমঙ্গল আর দুই শালিকে মঙ্গল, বিষয়গুলো নতুন বউদের বুঝিয়ে দিলেন।প্রমান হিসেবে আজকে এই দুঃসময়ে হাজেরা বেগমের খবর না জানতে পেরেও তাদের এই আসা- ওগুলো ওই দুই শালিকের কাজ ছাড়া আর কি হয়! 
ময়নাকে এর মধ্যে আবার ডাক দিলেন হাজেরা বেগম, &quot;ময়না, শুন! উঠানে যে দুইডা শালিক বয়, কাইল থাইকা খাওন দিমু ওগুলারে বুঝলি?&quot; ময়না বাসন মাজছিল, কোথাকার শালিক, কেন খাবার দিবেন কিছুই বুঝল না; প্রশ্নও করল না- ধমক তো খাবেই প্রশ্নটা করলে। হাজেরা বেগম তারপর শুধালেন, &quot;আচ্ছা, যা, হাত চালা জলদি, আমার চান্দের টুকরাগুলারে খাওয়ামু মন ভইরা!&quot; 

সন্ধ্যা অব্দি পুরো বাড়ি জুড়ে কোলাহল লেগে থাকল। ডাক্তার এলেন, ঔষধ লাগিয়ে দিলেন। ছেলেরা খাবার খেল, একটু ঘুরাঘুরি করলো। হাজেরা বেগমও কেউ শুনুক না শুনুক, এতদিনের জমা রাখা কথাগুলো বলে গেলেন। রাতের খাবারের পর ধীরে ধীরে থেমে আসল কোলাহল। 

বিছানায় শুয়ে শুয়ে হাজেরা বেগম নানারকম চিন্তা করছিলেন, তখনই তার তিন ছেলে ঘরে ঢোকে। পায়ের খবর নেবার পরই তিন ভাই তাদের যাত্রাপথের গল্প করে মায়ের সাথে। হাজেরা বেগম তাদের গল্প শুনে যান, মাঝে মাঝে তাদের কথা ছাপিয়ে নিজের গল্প বলেন। 
একটা সময় গল্পের ঝুলিতে বিরতি পড়ে, বড় ছেলে একটু ইতস্তত করে বলেন, &quot;আম্মা!&quot; 
হাজেরা বেগমের গা কাটা দিয়ে উঠল, এই একটা শব্দের জন্য তিনি কত আহাজারি করতেন, আজকে একটা দিনে কতবার শুনছেন এই শব্দটা। অন্যমনস্ক হয়ে যান বুড়িমা। 
তার মধ্যেই বড় ছেলে বলেন, &quot;আম্মা, আজকে আমরা আসলে আমাদের জমিটা ভাগ করতে এসেছিলাম!&quot;
হাজেরা বেগমের মনে আম্মা শব্দের রেশ সহজে কাটে না, শুনতে না পারায় তিনি বলেন, &quot; কি বললে বাবা, &quot;

বড় ছেলে বাকিদের দিকে তাকিয়ে ফের বলেন, &quot;আম্মা, আসলে দেখেন, আমাদের জমিগুলো ভাগ করে ফেলা উচিত, বিক্রি করে কিছু টাকাও আসে। এভাবে ফেলে রেখে কি করা আর শুধু শুধু-&quot; 

বড় ছেলে আরো কিছু কথা বলে, কিন্তু হাজেরা বেগম ফের অন্যমনস্ক হয়ে যান। সারাদিনের জমিয়ে রাখা আনন্দবাষ্পটা হুহু করে উড়ে যায়। পায়ের চিনচিনে ব্যাথাটা হঠাৎ করেই পুরো শরীর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তার; যেন এতসময় ব্যাথাগুলো কোন একটা কিছু দিয়ে আটকে ছিল, বাধা খুলতেই সবদিকে ছড়িয়ে পড়ল! হাজেরা বেগম দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করে ব্যথা সামলাতে থাকেন। শরীরটা এক মুহুর্তের জন্য অসার অনুভব করেন বুড়িমা। &quot;ভাগ, জমি, বিক্রি&quot; শব্দগুলো শুনে ভেতরকার কিশোরী হাজেরা যেন ধপ করে অসহায় বুড়ো হয়ে পড়ে!

বড় ছেলে জিজ্ঞেস করে, আম্মা, আপনি শুনছেন তো?

হাজেরা বেগম &#039;হু&#039; করে একটা শব্দ করেন।  ছেলেরা কথা চালিয়ে যায়।

চিন্তা দুশ্চিন্তা আর হাহাকারে ডুবে যান হাজেরা বেগম। ছোট্টবেলায় বউ হয়ে আসা থেকে দিন জীবন এই মাটিতে কাটানো- সব একে একে চোখের সামনে ভাসতে থাকে হাজেরা বেগমের। 

 কুয়াশা পড়া রাতের কুপি বাতির মৃদু শীতল আলোয় আজকের দিনের সেই দুটো শালিকজোড় আর তাদের মঙ্গল কথা এতসব কিছুর মাঝেও মনে পড়ে কি না বুড়িমায়ের - ঠিক বুঝতে পারা যায় না!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/8789/</link>
				<pubDate>Fri, 23 Apr 2021 15:51:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*জোড়া শালিক</p>
<p>বৃদ্ধ হাজেরা বেগম  বাড়ির উঠোনে বসে রোদ পোহাচ্ছিলেন। কুচকে যাওয়া চামড়া আর হাড় শিকশিকে হাতগুলোতে একটু করে তেল মালিশ করছিলেন।<br />
ঘরের ভেতর কোন কিছু পড়বার শব্দ শোনা গেল। হাজেরা বেগম না দেখেই বললেন, &#8221; ময়না আইছোছ? উঠান ডা ঝাড়ু দিয়ে যাইছ, বুঝছছ? পাতা পুতা পইড়া ভইরা গেছে!&#8221;<br />
ভেতর থেকে শব্দ এল, &#8220;ঠিকাছে খালাম্মা!&#8221;</p>
<p>হাজেরা বেগম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-8789"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/8789/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">68015c5aceb4d6450f0b7cce7b0d3c88</guid>
				<title>প্রদীপ্ত দে চৌধুরী and Dhruba Roy are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/8783/</link>
				<pubDate>Fri, 23 Apr 2021 14:03:10 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a15b8694889ec6a08ba21ffb4621d20f</guid>
				<title>প্রদীপ্ত দে চৌধুরী and Mahmuda Sultana are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/8561/</link>
				<pubDate>Thu, 22 Apr 2021 06:49:03 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3eb8f6e97bd8ca58b48965ae92605306</guid>
				<title>*শেষের শুরু


পড়ন্ত বিকেল। সমুদ্র সৈকতে কাঠের লম্বা ইজিচেয়ারটায় হেলান দিয়ে বসে আছি। চেয়ারটার সামনের দিকে বসা প্রৌঢ় এক নারী। অনেকক্ষণ ধরে দুজনে বসে আছি। কোন কথা নেই- তাতে খারাপও লাগছে না। যতদিনই দুজনার সাথে দেখা হয়, এরকমই চুপচাপ বসে থাকি।

&quot;বাবু, রেবু আন্টি! তোমরা এখনো বসে?  সি বীচে কি বসে থাকতে এসেছ?&quot; তেইশ বছরের এক যুবতী বলতে বলতে ছুটে আসে আমাদের দিকে।

আমি তাকিয়ে বললাম, &quot;এই বয়সে কি আর দৌড়াদৌড়ি ভালো লাগে-&quot;
তরুণী চোখ বড় বড় করে বলল, &quot; কি বললে বাবু?&quot; 

&quot;আরি বাপরে, না না কিছু না, আসছি &quot;- হেসে হেসে বললাম আমি। চেয়ারের পাশে রাখা লাঠিটায় ভর করে দাঁড়িয়ে গেলাম। 
&quot;এইতো ঠিকাছে,&quot; তারপর রেবু আন্টির দিকে তাকিয়ে বললো, &quot;আন্টি, এসো তুমিও এসো!&quot; 

দুজনেই উঠে পড়লে আমি থেমে বললেন, &quot;রাইসা, তোর জামাই কোথায়? দেখছি নে&quot; 

রাইসা হেসে বলল, ওইতো বাবু, ওই যে ওদিকে দাঁড়িয়ে আছে। 

রাইসা আমায় বাবা না ডেকে বাবু কেন ডাকে, কাছের অনেকে সেটা মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করে। রাইসা তখন ক্লাস ফাইভ না ফোরে পড়ে। সারাদিন এদিক ওদিক ছুটে বেড়াতো, পড়তো না বলে মাঝে মাঝে রাগ করতাম। এরকম একদিন রাগ করে বললাম, &quot; যা, তোর সাথে আর কথা নেই!&quot;
রাইসা কাঁচুমাচু হয়ে বলল, &quot;বাবা!&quot;
আমি মুখ বাঁকিয়ে বললাম, &quot;এই বাবা ডাকবি না আর আমাকে!&quot;
রাইসা গলা জড়িয়ে বলল, &quot;আচ্ছা তাহলে বাবু ডাকি?&quot;

সী বিচে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ ঘটনাটা মনে পড়ে যাওয়ায় হাসি পেয়ে গেল। বুড়ো বয়সে একটা বাতিক ধরেছে, ক্ষণে ক্ষণে পেছনে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। 
রেবতীর দিকে তাকালাম, আমার পাশাপাশি সেও ঠিক চুপচাপ হাঁটছে। একটু ইতস্তত করে জিজ্ঞাসা করলাম, &quot;রেবতী, সি বীচ তোমার ভালো লাগছে তো!&quot; 

রেবতী দ্রুত বলতে থাকে, &quot;হ্যা হ্যা, অনেক সুন্দর লাগছে, অনেক দিন পর এসেছি তো-&quot;  তারপর আবার চুপ! 

রেবতী আগে এত চুপচাপ ছিল না। ভার্সিটিতে পড়াকালীন সময়ে বিয়ে হয়ে যায় রেবতীর। কয়েক বছর পর একটা ফুটফুটে মেয়েও আসে। কিন্তু বিধাতার ভাগ্য খন্ডায় কে! রেবতী ও তার স্বামী একদিন অফিস থেকে ফিরতে গিয়ে ভয়াবহ এক্সিডেন্টের মুখোমুখি হয়। রেবতীর স্বামী ওখানেই মারা যান, রেবতী বেঁচে যায়, তবে খুব খারাপ অবস্থা নিয়ে। আইসিউতে ভর্তি হয়, তারপর কোমায় চলে যায়। এক-দুই দিন নয়, পুরো আট বছর কোমায় ছিল রেবতী! 

হঠাৎ পানির ছিটে গায়ে লাগতেই ভড়কে গেলাম। &quot;রাইসা! আমায় পানি মারছিস? দাঁড়া!&quot;  এই বলেই ছুটতে ছুটতে কয়েক মুঠো পানি হাতে নিয়ে রাইসার দিকে ছুড়ে ফেললাম। 
রেবতী কেবল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাপ মেয়ের কাণ্ড দেখে হাসতে লাগল। 
রাইসা হাসতে হাসতে বলছে, &quot; বাবু, সাবধান! তোমার ওই বিষম উদর নিয়ে এত দৌড়িও না! কখন উলটে পড়বে!&quot; 

আমি বললাম, &quot; রাইসা! এই পেট নিয়ে কিছু বলবি না! এ আমার পৈতৃক সম্পত্তি-&quot; 

মুখ উলটে রাইসার জবাব, &quot;এহ নড়াচড়া করো না, আবার পৈতৃক সম্পত্তি! ওই দেখো রেবু আন্টিরে, এই বয়সেও কত ফিট, উহু!&quot;

রেবতী স্রেফ হেসে যায়। 

বিকেল গড়ায়, কিছুটা খাওয়া দাওয়া পরে সবাই ইজিচেয়ারে বসে বসে গল্প করে। খানিক পরে রাইসা তার জামাইকে নিয়ে কেনাকাটা কর&#x200d;তে চলে যায়। যাবার সময় রেবতীকে জিজ্ঞেস করে, &quot;রেবু আন্টি, তোমার জন্য একটা ঝিনুকের মালা আনবো, ঠিকাছে?&quot;

আমি মুখ ফিরিয়ে বললাম, &quot;হ্যা, আমি তো বানের জলে ভেসে এসেছি, আমার জন্য তো কেউ কিছু আনবে না-&quot;
-তোমার জন্য কি আনবো, সারাদিন তো গেঞ্জি আর লুঙ্গি পড়ে ঘুরে বেড়াও- আচ্ছা আনবো নে! তারপর যেতে যেতে বললো,&quot; রেবু আন্টি, যাচ্ছি ঠিকাছে?&quot; 

রাইসা রেবতীকে রেবু আন্টি বলে ডাকে, যদিও তার আজকে... মা বলে ডাকবার কথা। হ্যা, রাইসা রেবতীরই মেয়ে। রেবতীর দুর্ঘটনার খবর শুনে যখন প্রথম হাসপাতালে গেলাম, রাইসা তখন তার চাচা- চাচীর কোলে বসে কান্না করছিল। রাইসাকে কে রাখবে- এই নিয়ে চাচা-চাচীর মধ্যে ঝগড়াঝাটি শুনতে পাচ্ছিলাম। ছোট্ট রাইসার দিকে একপলক তাকিয়েই কি ভেবে যেন সাহস সঞ্চার করে তাদের সামনে গিয়ে বলে ফেললাম, &quot;আমি রাখবো রাইসাকে!&quot; 

রাইসার চাচা-চাচী সাথে সাথে দিলেন না, কিন্তু ছয় মাস যাওয়ার পরও যখন দেখলেন, রেবতী কোমা থেকে উঠতে পারছে না- রাইসার ভরণপোষণের দায়িত্ব তখন আমায় দিয়ে দেওয়া হয়। 
আমি তখন তরুণ, একটা মেয়েকে কিভাবে বড় করে তুলতে হয়- তার কোন ধারণা আমার ছিল না।  শত প্রতিকুলতায়ও দাঁতে দাঁত চেপে হাসিমুখে রাইসাকে বড় করে তুলে তাকে যখন বিয়ের আসরে বসালাম, সেদিন মনে পড়ল - আমার নিজেরই বিয়ে করাটা হয়নি! 
অসুখ সেরে পুরোপুরি ঠিকঠাক হয়ে রেবতীর সাথে প্রায় বারো বছর পর দেখা হয়। আমার একটা প্রচন্ড ভয় ছিল, রেবতী যদি রাইসাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়, তাহলে আমি বাঁচবো কি আশায়? কিন্তু সেরকম কিছু হয়নি, রেবতী শুধু মাঝে মাঝে রাইসাকে দেখবার অনুমতি চায় আমার কাছে!

রাইসা চলে আসে, তারপর একটা ঝিনুকের মালা রেবতীর  গলায় পরিয়ে আমায় জিজ্ঞেস করে, &quot; দ্যাখো তো, কেমন লাগে রেবু আন্টিকে?&quot;  আমার হুট করেই মুখটা মলিন হয়ে যায়, আমার মনে হয় আমি সেই বিশ পচিশ বছর আগের রেবতীকে দেখছি। অনেক কষ্টে বলি, &quot;ভালো দেখাচ্ছে!&quot; 

রাইসা আমার হাতে একটা ব্রেসলেট পরিয়ে দেয়, আমি অন্যমনস্ক হয়ে থাকি। আমার কেবলই মনে হতে থাকে সেই দিনগুলোর কথা, রেবতী আর আমি - একই ব্যাচে পড়তাম। কতদিন তাকে অগোচরে, লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা হয়েছে- তার ইয়ত্তা নেই! দুজন দুজনে কথা হয়েছে অনেকবার, কিন্তু &quot;রেবতী ভালো লাগে তোমায়&quot; কখনো বলা হয়নি! কত কত দিন সাহস করে সামনে দাঁড়িয়ে কথাটা বলবার জন্য আকুতি করেছিলাম, কিন্তু বলা হয়নি। একটাসময় শুনি, বিয়ে হয়ে যাবে রেবতীর। দমে গেলাম আমি, আর কথা হয়নি রেবতীর সাথে। 
তারপরের কথাটা হয় বারো বছর পর যখন রেবতী মাঝে মাঝে রাইসাকে দেখা করবার জন্য বলছিল আমায়। 

সূর্যটা তখন নিভু নিভু প্রায়। লাল একটা আলো দিগবিদিক ছড়িয়ে যেন এক অদ্ভূত স্নিগ্ধ করে তুলছে সবদিকে। রাইসা আর তার জামাই দুজনে এখনো সৈকতজুড়ে হাঁটাহাঁটি করছে। রেবতী তাকিয়ে আছে তাদের দুজনার দিকে- চুপচাপ!

সূর্যের লাল আলোটা রেবতী আর তার ঝিনুকের মালার উপর পড়ছিল। হঠাৎ করেই তাকে যেন সেই বিশ বছর আগের ভার্সিটি পড়ুয়া তরুণী রেবতীর মতো ঠেকে। আর আমি- ভার্সিটির এক কোণে চুপি চুপি দেখতে থাকা সেই মুগ্ধ তরুণ। 

আমি মৃদু স্বরে ডাকলাম, &quot;রেবতী-&quot; 

&quot;হুম?&quot;  রেবতীর ছোট্ট জবাব। 

বার কয়েকবার চোখের পলক ফেলে, কাপা স্বরে আমার প্রশ্ন, &quot;আমায় বিয়ে করবে?&quot;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/8364/</link>
				<pubDate>Tue, 20 Apr 2021 12:47:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*শেষের শুরু</p>
<p>পড়ন্ত বিকেল। সমুদ্র সৈকতে কাঠের লম্বা ইজিচেয়ারটায় হেলান দিয়ে বসে আছি। চেয়ারটার সামনের দিকে বসা প্রৌঢ় এক নারী। অনেকক্ষণ ধরে দুজনে বসে আছি। কোন কথা নেই- তাতে খারাপও লাগছে না। যতদিনই দুজনার সাথে দেখা হয়, এরকমই চুপচাপ বসে থাকি।</p>
<p>&#8220;বাবু, রেবু আন্টি! তোমরা এখনো বসে?  সি বীচে কি বসে থাকতে এসেছ?&#8221; তেইশ বছরের এক যুবতী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-8364"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/8364/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0db44a2dc854abcb0cf0bef1bb90ff3a</guid>
				<title>*সময়

&quot;তারপরে আসুন!&quot; 
গলা হেঁকে রাসেল সাহেব পরের রোগীকে ডাকলেন। রাসেল সাহেব অবসরপ্রাপ্ত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, শহরের পাট চুকিয়ে এবার শেষ বয়সে নিজের বাড়িতেই সামনের একটা রুমকে চেম্বার বানিয়ে রোগী দেখেন। 

সামনে এসে রোগী বসলেন। রাসেল সাহেব না তাকিয়েই হাতে কলম নিয়ে প্রেস্ক্রিপশন ঠিক করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন, &quot;নাম?&quot;
- জালাল উদ্দীন
- বয়স? 
- জ্বি, সত্তর চলছে। 
রাসেল সাহেব তাকিয়ে বললেন, আপনি দেখছি আমার মতোই বুড়ো হয়ে-
কথা শেষ হয়না রাসেল সাহেবের, তার আগেই বলেন, &quot; এ কি জালাল, তুমি?&quot;

জালাল সাহেব একটু কেশে বললেন, &quot;ভালো আছো, রাসেল?&quot;

রাসেল সাহেব জবাব দিলেন না। বেশ কতক্ষণ অপলক তাকিয়ে থাকলেন জালাল সাহেবের দিকে। তারপর উঠে গিয়ে বাইরের কিছু রোগীর সাথে কথা বলে দরজাটা ভিরিয়ে দিলেন। 
তারপর রুমের সাথে লাগানো একটা ছোট জানালায় মুখ বাড়িয়ে বললেন, &quot; দু কাপ চা দিও তো!&quot; 

রাসেল সাহেব সিটে এসে বসলেন। ভালো করে তাকালেন জালাল সাহেবের দিকে। বুড়ো দুর্বল অশীতিপরায়ণ লাগছে তাকে। চুলগুলো উশকো খুশকো, মুখে দাড়ি খোচা খোচা। 
রাসেল সাহেব আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করলেন, &quot; এ কিরকম দশা হয়েছে তোমার জালাল?&quot;

একটা মলিন রেখা দেখা গেল জালাল সাহেবের মুখে, &quot;বুড়ো তো তুমিও হয়েছো রাসেল!&quot; তারপর হঠাৎ কিছু একটা বলবার প্রস্তুতি নিতে দেখা যায় জালাল উদ্দীনকে। দুবার ঘন ঘন শ্বাস নিয়ে জালাল সাহেব জিজ্ঞেস করেন, &quot;রেহানা...রেহানা কেমন আছে, রাসেল? &quot; 

রাসেল সাহেব বোধহয় এই প্রশ্নের অপেক্ষা করছিলেন। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি।

চা এসে যায়, রাসেল সাহেব বাড়িয়ে দেন চায়ের কাপ। দুজনেই চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে খানিকক্ষণ চুপচাপ থাকেন। 

পঁচিশ ত্রিশ বছর আগের কথা, একটা বিশাল বিয়ের অনুষ্ঠান। চারদিকে হুল্লোড়। কাজী সাহেব সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ছেলেকে বললেন, বাবা, বল কবুল! আপাদমস্তক ঘোমটায় মোড়ানো সামনের যুবতীর দিকে একবার তাকিয়ে স্পষ্ট করে তরুণ বলল, &quot;কবুল&quot;!  
খানিকপরে কন্যার মুখ থেকেও শোনা গেল সম্মতির চিরচেনা শব্দ, &quot; কবুল!&quot; হাসি ফুটল দুই পরিবারের মুখে, জালাল আর রেহানার মুখেও!

জালাল রেহানার প্রথম সাক্ষাৎ হয় একটা নৃত্যানুষ্ঠানে। নৃত্যের কোন কিছু না বুঝলেও রেহানার নৃত্যকৌশলে মুগ্ধ হয়ে তরুণ জালাল, অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে প্রথম কথা বলেন রেহানার সাথে। প্রথম কথা, তারপর প্রণয়, অতঃপর পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ! 

সুখ যেন কুঁড়ি হয়ে ফুটল জালাল রেহানার জীবনে। সম্মান শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় তাদের শুরু হল পথচলা। আশেপাশের মানুষ তাদের দেখলেই বলতো, আহা! কি জোড়, তোমাদের দেখলেই যে চোখ জুড়িয়ে যায়।
বছর ঘুরে একটা সন্তান আসে তাদের জীবনে, সুখের কুঁড়ি যেন ফুল হয়ে চারদিকে মেলে ধরে।

কিন্তু সেই সুখের ফুলে একদিন পোকা ধরল। জালাল সাহেবের পরিবারের রেহানার নৃত্যতে আপত্তি ছিল বরাবরের মতো। জালালের ওপর প্রচন্ড চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন তারা, জালাল একপর্যায়ে  রেহানার নাচের ক্লাস বন্ধ করে দিতে বলেন। আঁতকে ওঠেন রেহানা, তাঁর বাবা একসময়ের নামকরা নাচের শিক্ষক ছিলেন। রেহানার ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন সে বাবার মতো একদিন নাচের শিক্ষক হয়ে ওঠবেন, দিনের পর দিন  তিনি শ্রম দিয়েছেন এই নাচের জন্য। এখন এভাবে শেষ করে দিলে- তার এতদিনের শ্রম স্বপ্ন সবই যে ধুলোয় মিশে যাবে। 

কিন্তু কোথাও একটা গন্ডগোল হয়ে যায়। জালালের নাচের সম্পর্কে কোন আগ্রহ ছিল না, তিনি কোন কিছু বুঝতেনও না৷ তার কাছে স্রেফ &quot;একপ্রকারের দৌড়াদোড়ি&quot; ছাড়া আর কিছু মনে হত না।তিনি তার কথায় অনেক সময় অসতর্কভাবে অপমান করতে থাকেন রেহানাকে। সুখের ফুলে পোকার মাত্রা বাড়তে থাকে। ভুল বুঝাবুঝি থেকে একসময় ঝগড়াঝাটি, তারপর একসময় রাগের বশে গায়ে হাত দেন জালাল। 

সুখের ফুলে তখন পোকাদের জয়জয়কার চলে, নেতিয়ে যায় চির সৌন্দর্যের ফুলখানি। রেহানা আর জালালেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। মামলা করে একমাত্র ছেলেকে নিজের কাছে রেখে দেন জালাল। রেহানাকে একপ্রকার নিঃস্ব অবস্থায় ছেড়ে দেন তিনি। 

রাসেল সাহেবের চা শেষ হয়ে যায়, তিনি শব্দ করে কাপটা টেবিলে রাখেন।

&quot;রেহানা ভালো আছে জালাল!&quot; ছোট্ট করে উত্তর দিলেন রাসেল সাহেব। &quot; তুমি তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর রীতিমতো নিঃস্ব অবস্থায় তাকে পাই আমি। দুজোড়া নুপুর ছাড়া আর কিছু ছিল না তার কাছে। তারপরের টুকু তুমি জানো হয়তো, তাকে বিয়ে করলাম। তোমাদের গ্রাম ছেড়ে বহুদূর শহরে পাড়ি জমালাম। রেহানা গানের ক্লাস খুলল, ধীরে ধীরে ছাত্র বাড়তে লাগল, একটা সময় পুরো স্কুল হয়ে গেল তার। এখন দুজনেই বুড়ো হয়েছি, তাই আর সব শেষ করে গ্রামে এসে জুড়লাম...&quot;


&quot;আমি একটা অপদার্থ, রাসেল,&quot; জালাল সাহেবের চোখে অশ্রু চলে আসে, &#039; আমি আমার স্ত্রীর স্বপ্নগুলোকে দাম দেইনি, সেগুলোকে মূল্যায়ন করিনি, ছেলেটাকেও মানুষ করতে পারিনি। ছেলেটা আজ যখন পুলিশের তাড়া খেয়ে পালিয়ে বেড়ায়, তখন বালিশ চেপে শুধু কান্না করি, কত সুন্দর ছিল আমার সময়টা- নিজের দোষেই সবকিছুকে নষ্ট করেছি আমি... &quot;
চোখ দুটো মুছে জালাল উদ্দীন বলতে থাকেন, &quot; যৌবনকালে আমরা অনেককিছুকে গুরুত্ব দেই না রাসেল, বুড়ো বয়সে সেই বিষয়গুলোই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে! &quot;
তারপর একটু থেমে বললেন, &quot; বিগত দুই বছর যাবত তোমাদের খুঁজছিলাম রাসেল। গ্রামের পর গ্রাম, শহরের পর শহর তোমাদের খুজিয়ে বেরিয়েছি, কোথাও পাইনি! আমার আল্লাহর কাছে শেষ ইচ্ছে ছিল, রেহানাকে একটাবার শেষ দেখা দেখে মরতে চাই! রাসেল, আমি একবার রেহানাকে দেখতে পারি?&quot;

রাসেল সাহেব শান্তভাবে চায়ের কাপটা পাশে সরিয়ে রাখলেন। তারপর গম্ভীরভাবে বললেন, &quot;দেখ জালাল, এত বছরের পুরনো বিষয়কে আর সামনে আনতে চাই না-&quot;

জালাল সাহেব আকুতি জানান, &quot;রাসেল, রাসেল... এভাবে বোলো না, আমি কেবল শেষবারের দেখা দেখতে চাই, গত দুই বছর কত জায়গায় তোমাদের খুজে বেরিয়েছি, এভাবে বোলো না ভাই...&quot;

রাসেল সাহেব গাঢ় কন্ঠে বললেন, &quot; যেদিন রেহানাকে নিঃস্ব অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছিলে, সেদিন তোমার আকুতি মিনতি কোথায় ছিল জালাল! জালাল, রেহানা এখন আমার স্ত্রী- তাকে যে কারো সামনে আমি দেখাতে পারি না!&quot; 

জালাল সাহেব চুপসে গেলেন, তার কিছুই বলার নেই। শুকনো ওষ্ঠে কতকবার ঢোক গিললেন জালাল সাহেব। তারপর দিকবিদিক তাকিয়ে ম্লান কন্ঠে বললেন, আচ্ছা ঠিকাছে...আমি তাহলে আসি...

উঠে পড়েন জালাল উদ্দীন। দুকদম সামনে এগুলে রাসেল সাহেব ফোস করে শ্বাস ফেলেন, &quot;বোসো জালাল!&quot; 
&quot;আমাদের ছেলেপেলে নেই জালাল, বড় ভাইয়ের ছেলেটাকেই মানুষ করেছি &quot;,তারপর রুমের সাথে লাগানো ছোট জানালাটা খুলে বললেন, &quot;এই খিড়কি দিয়ে দেখতে পারো এক ঝলক। এসো এদিকে। &quot;
জালাল সাহেব লাঠিতে ভর করে রীতিমতো ছুটে এলেন। এসে জানালায় মুখ বাড়ালেন। 

বারান্দায় বসে তিন চারজন নারী কাজ করছেন আর কথা বলছেন। তাদের মধ্যে একজন সবচেয়ে বয়স্ক। জালাল উদ্দীনের চিনতে অসুবিধা হয়না, বয়স্ক নারীই হলেন রেহানা। তিনি অস্ফুট স্বরে বললেন, &quot;রেহানা অনেক... বদলে গেছে রাসেল...&quot;

রাসেল সাহেব বলেন, &quot; তুমি বদলেছো, আমি বদলেছি, সময়টাও যে বদলে গেছে জালাল!&quot; 

জালাল সাহেব অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে দুফোঁটা জল তার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে, টেরই পান না তিনি....</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/7788/</link>
				<pubDate>Sat, 17 Apr 2021 19:59:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*সময়</p>
<p>&#8220;তারপরে আসুন!&#8221;<br />
গলা হেঁকে রাসেল সাহেব পরের রোগীকে ডাকলেন। রাসেল সাহেব অবসরপ্রাপ্ত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, শহরের পাট চুকিয়ে এবার শেষ বয়সে নিজের বাড়িতেই সামনের একটা রুমকে চেম্বার বানিয়ে রোগী দেখেন। </p>
<p>সামনে এসে রোগী বসলেন। রাসেল সাহেব না তাকিয়েই হাতে কলম নিয়ে প্রেস্ক্রিপশন ঠিক করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন, &#8220;নাম?&#8221;<br />
&#8211; জালাল উদ্দীন<br />
&#8211; বয়স?<br />
&#8211; জ্বি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-7788"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/7788/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>