<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Alock | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/alock/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/alock/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Alock.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 03 Aug 2026 00:30:12 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">006efbda33d669181ce347828bdab3de</guid>
				<title>&#x2764;&#xfe0f; “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী” &#x2764;&#xfe0f;

&#x270d;&#xfe0f; &#x1f327;&#xfe0f; পর্ব পনেরো: ( স্বপ্নের নতুন সীমানা )

শৈলীর পূর্বের সেই চিঠিটা পড়া শেষ করার পরও অনেকক্ষণ পাথরের মতো স্থির হয়ে বসে রইল রবিন। বাইরে তখন শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ। জানালার কাঁচ বেয়ে গড়িয়ে পড়া জলের রেখাগুলো যেন রবিনকে বলছিল—এ শুধু বৃষ্টি নয়, এ তো তাদের মনের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।

রবিনের মনে বারবার দোলা দিয়ে যাচ্ছিল শৈলীর সেই অভিমান মেশানো মিষ্টি অভিযোগ—“আমাকে ভুলেই গিয়েছো মনে হচ্ছে...”। এই কয়েকটি শব্দ চোখের সামনে ভাসতেই রবিনের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে সুখের হাসি ফুটে উঠল। সে তো জানে, এই কৃত্রিম রাগের আড়ালে কতটা তীব্র ব্যাকুলতা আর ভালোবাসা লুকিয়ে রেখেছে মেয়েটি!

তবে রবিনের হৃদয়ে সবচেয়ে বড় আনন্দের ঝড় তুলেছিল চিঠির শেষ লাইনটি—“তোমার কলেজেই ভর্তি হব...”। এই একটিমাত্র বাক্য যেন তার ধূসর কল্পনার আকাশে সাতরঙা আবির ছড়িয়ে দিল। এতদিন তাদের প্রেম বেঁচে ছিল শুধু ধোঁয়াটে চিঠিতে, একাকীত্বে আর যোজন যোজন দূরত্বের দীর্ঘশ্বাসে। কিন্তু এবার? এবার তবে দূরত্বের সেই কঠিন দেয়ালটা ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়ার সময় এসেছে! খুব জলদিই তবে একই আঙিনায়, একই বাতাসে দুজনের নিঃশ্বাস মিশবে!

সেই গভীর রাতেই রবিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, বুকে জমানো সবটুকু আবেগ ঢেলে সে উত্তর লিখতে বসল। কেরোসিন বাতির কাঁপা কাঁপা হলুদ আলোয়, সাদা কাগজের বুকে কলমের কালিতে যেন তার হৃদস্পন্দনগুলোই এক একটি শব্দ হয়ে ফুটে উঠতে লাগল:

“আমার আকাশের প্রথম তারা,
তোমাকে ভুলে যাব? এই বুকে স্পন্দন থাকা পর্যন্ত সেই ক্ষমতা বা ইচ্ছে কোনোটিই যে আমার নেই, শৈলী! পরীক্ষার ভীষণ চাপ ছিল, দম ফেলার ফুরসত ছিল না—তাই হয়তো মন চাঙ্গা করার মতো করে তোমার কাছে যাওয়া হয়নি। কিন্তু বিশ্বাস করো, প্রতিটি রাত জাগা প্রহরে, বইয়ের পাতার প্রতিটি লাইনে আমি শুধু তোমার মুখটাই দেখেছি। তোমার এই চিঠিটা যেন তপ্ত মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টির মতো আমার তৃষ্ণার্ত হৃদয়ে আছড়ে পড়েছে।

তুমি সত্যিই আমাদের কলেজে আসবে? বিশ্বাস করো, এই খবরটা পাওয়ার পর থেকে আমার বুকটা খুশির চোটে কেমন যেন কাঁপছে! আমরা একই চত্বরে হাঁটব, ভাবতেই তর সইছে না। তবে তার আগে লক্ষ্মী মেয়ের মতো রেজাল্টটা কিন্তু অনেক ভালো করতে হবে। আমি জানি আমার শৈলী ঠিক পারবে।

আর আমার এইচ.এস.সি-র পর কোথায় যাব তা এখনও জানি না, তবে যেখানেই যাই না কেন—আমাদের অলিখিত চুক্তির সেই স্বপ্নের সীমানা ছুঁয়েই থাকব। নিজের খেয়াল রেখো, রাত জেগে বেশি ভেবো না।

ইতি—
চিরকাল শুধু তোমারই,
রবিন।”

চিঠিটা পরম মমতায় ভাঁজ করে খামের ভেতর পুরে বুকের ওপর চেপে ধরল রবিন। তার মনে হলো, জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সে আগে কখনও এতটা আশাবাদী, এতটা রোমাঞ্চিত আর আনন্দে উদ্বেলিত বোধ করেনি।

এরপর কেটে গেল দীর্ঘ উন্মুখ প্রতীক্ষার আরও কয়েকটি সপ্তাহ। আকাশ থেকে কালো মেঘের আনাগোনা কমে আসছে, বর্ষা বিদায় নিয়ে এক চিলতে সোনালী রোদ উঁকি দিচ্ছে। ঠিক যেন রবিনের জীবনের মতোই!

এমনই এক আলোঝলমলে স্নিগ্ধ সকালে হঠাৎ সেই পরম কাঙ্ক্ষিত খবরটা এল—আজ এস.এস.সি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে!

খবরটা নিয়ে রিসা প্রায় এক নিঃশ্বাসে দৌড়ে এল রবিনের উঠোনে। খুশিতে তার চোখ-মুখ চকচক করছে, হাঁপাতে হাঁপাতে চিৎকার করে বলল,
— “রবিন ভাই! ও রবিন ভাই! মিষ্টি খাওয়ান! আমাদের শৈলী একদম ফাটিয়ে দিয়েছে! ও অনেক অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে!” &#x1f603;&#x1f389;

খবরটা শোনা মাত্রই রবিনের মনে হলো তার চারপাশের পুরো পৃথিবীটা যেন আনন্দে থমকে গেছে। বুকের ভেতর আনন্দের এক তীব্র জোয়ার এসে আছড়ে পড়ল। মনে হলো, এ যেন শৈলীর নয়, রবিনের নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় কোনো যুদ্ধ জয়ের মহাসংবাদ! খুশিতে তার চোখ দুটো কেন জানি অকারণেই জলে ভিজে উঠল।

আহ্লাদের সেই ঘোর কাটতে না কাটতেই, সেদিন বিকেলে রিসা আবার এসে রবিনের হাতে একটা ছোট চিরকুট গুঁজে দিয়ে চোখে দুষ্টুমিভরা ইশারা করল। চিরকুটটা খুলতেই শৈলীর চেনা, ছটফটে হাতের লেখা রবিনের চোখে একরাশ আনন্দধারা এনে দিল। সেখানে শৈলী লিখেছে—

“রবিন!
আলহামদুলিল্লাহ, আমি পেরেছি! অনেক অনেক ভালো ফল করেছি। আজ সব ভয়ডর ভুলে, বুক ফুলিয়ে আম্মাকে বলেই ফেলেছি—আমি শুধু তোমাদের কলেজেই ভর্তি হতে চাই, অন্য কোথাও না! আম্মা মুচকি হেসেছেন, বকেননি। শেষ পর্যন্ত কী হবে জানি না রবিন, কিন্তু আমার মনটা আজ প্রজাপতির মতো ডানা মেলে আকাশে উড়ছে! মনে হচ্ছে আমাদের মিলনের নতুন একটা সিংহদুয়ার খুলতে যাচ্ছে। খুব জলদিই দেখা হচ্ছে আমাদের!

— তোমার সেই চিরকালের দুষ্টু শৈলী” &#x2764;&#xfe0f;

চিরকুটটা বুকের সাথে মিশিয়ে রবিন একছুটে ঘরের বাইরে এসে দাঁড়াল। পশ্চিম আকাশে ততক্ষণে সন্ধ্যার প্রথম তারাটি রূপালী আলো ছড়িয়ে ডানা মেলেছে।

রবিন অপলক চেয়ে রইল সেই তারাটার দিকে। আজ তার মনে হলো, জীবনের কিছু কিছু দীর্ঘ অপেক্ষা আসলে মোটেও বৃথা যায় না। এই দূরত্ব, এই অপেক্ষা মানুষকে ভেতর থেকে আরও পরিণত করে তোলে, ভালোবাসার গভীরতা বাড়িয়ে দেয়, আর একসাথে সারাজীবন পথ চলার এক অদম্য শক্তি আর সাহস জোগায়।

দূরত্ব পেরিয়ে, মেঘের সীমানা ডিঙিয়ে, এক চিলতে সন্ধ্যাতারার আলো ধরে রবিন আর শৈলীর এই অবুঝ রূপকথাটি যেন আজ এক পরম পূর্ণতা আর রঙিন উৎসবের দিকে পা বাড়াল।

&#x2728;&#x1f48c;&#x1f31f;
(চলবে...)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255043/</link>
				<pubDate>Sun, 21 Jun 2026 08:43:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x2764;&#xfe0f; “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী” &#x2764;&#xfe0f;</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; &#x1f327;&#xfe0f; পর্ব পনেরো: ( স্বপ্নের নতুন সীমানা )</p>
<p>শৈলীর পূর্বের সেই চিঠিটা পড়া শেষ করার পরও অনেকক্ষণ পাথরের মতো স্থির হয়ে বসে রইল রবিন। বাইরে তখন শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ। জানালার কাঁচ বেয়ে গড়িয়ে পড়া জলের রেখাগুলো যেন রবিনকে বলছিল—এ শুধু বৃষ্টি নয়, এ তো তাদের মনের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।</p>
<p>রব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255043"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255043/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">607168e70f731f59cc5bcbcec7cd631f</guid>
				<title>&#x2764;&#xfe0f; “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী” &#x2764;&#xfe0f;

&#x270d;&#xfe0f; পর্ব চৌদ্দঃ (নতুন মাধ্যম, নতুন অপেক্ষা )

নীরার বিয়ের সানাই বাজতেই রবিন ও শৈলীর প্রেমের প্রথম চিঠি-বাহক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে যে মেয়েটি তাদের দুজনের হৃদয়ের মাঝখানে এক নীরব সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, সে এবার নিজের নতুন জীবনের পথে পা বাড়াল। নীরার চলে যাওয়া যেন তাদের ভালোবাসার পথ থেকে একটি পরিচিত ছায়াকে সরিয়ে দিল, কিন্তু থামিয়ে দিতে পারল না তাদের অনুভূতির যাত্রা।
শৈলীর পরামর্শ অনুযায়ী এবার রবিন যোগাযোগের চেষ্টা করল রিসার সঙ্গে।
রিসা ছিল শৈলীদের বাড়ির অদূরে থাকা একটি পরিচিত মুখ। তার বাড়ির পাশের সরু কাঁচা পথ দিয়েই মাঝেমধ্যে শৈলীদের পুরোনো বাড়িতে যাতায়াত করতে হতো শৈলীকে। একদিন কলেজে যাওয়ার পথে রিসাকে একা পেয়ে কিছুটা ইতস্তত করেই রবিন বলল,
— রিসা, একটা অনুরোধ ছিল...
রিসা মুচকি হেসে বলল,
— বলুন রবিন ভাই।
— শৈলী কি তোমাদের ওদিকে আসে?
কথাটা শুনেই রিসার ঠোঁটের কোণের হাসিটা একটু চওড়া হলো। যেন সে আগেই প্রশ্নটির জন্য প্রস্তুত ছিল।
— বুঝেছি। শৈলী আমাকে আগেই সব বুঝিয়ে রেখেছে। চিন্তা করবেন না, আপনাদের চিঠিপত্রের দায়িত্ব আজ থেকে আমার। যতদিন আমি আছি, বিষয়টা একদম নিরাপদ।
তারপর দুষ্টুমি ভরা হাসি হেসে যোগ করল,
— তবে একটা কথা বলে রাখি রবিন ভাই, একদিন কিন্তু এই উপকারের বদলা চাইব। গিভ অ্যান্ড টেক বলে একটা কথা আছে না? আপনার কলেজের সেই বন্ধুটাও কিন্তু আমার বেশ পছন্দের মানুষ। সুযোগ হলে একদিন ওকে নিয়ে একটু বিস্তারিত আলাপ করব, কেমন?
রিসার কথায় রবিন হেসে ফেলল। বুকের ভেতর জমে থাকা দুশ্চিন্তার মেঘটাও যেন খানিকটা সরে গেল। সে বুঝতে পারল, তাদের ভালোবাসার গোপন সেতুটি ভেঙে যায়নি; শুধু একজন পথিকের জায়গায় আরেকজন এসে দাঁড়িয়েছে।
নতুন এক মাধ্যমের মাধ্যমে আবারও চলতে শুরু করল তাদের ভালোবাসার গোপন আদান-প্রদান।
সেদিনগুলো ছিল অপেক্ষার দিন।
দিনের বেলা কলেজ, পড়াশোনা, সংসারের নানা ব্যস্ততা—আর রাত হলেই যেন খুলে যেত অন্য এক জগৎ।
গভীর নীরব রাতে কেরোসিন ল্যাম্পের হলদে আলোয় বসে রবিন চিঠি লিখত। সাদা কাগজের ওপর ফুটে উঠত তার মনের সব অপ্রকাশিত কথা। কখনো ভবিষ্যতের স্বপ্ন, কখনো শৈলীকে নিয়ে ছোট্ট কোনো অভিমান, আবার কখনো শুধুই নিঃশব্দ ভালোবাসার স্বীকারোক্তি। কাগজের পাতায় লেখা প্রতিটি শব্দ যেন তার হৃদয়েরই একেকটি স্পন্দন হয়ে উঠত।
অন্যদিকে শৈলীও দিন গুনত।
রিসাদের বাড়ির পেছনের সুপারি বাগানের নির্জন ছায়ায় দাঁড়িয়ে সে অপেক্ষা করত। সুযোগ বুঝে রিসার হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে দ্রুত নিজের পোশাকের ভাঁজে লুকিয়ে ফেলত। তারপর বাড়িতে ফিরে নির্জনে বসে সেই চিঠি পড়ত বারবার। কখনো একবার, কখনো দুবার, কখনো বা এতবার যে কাগজের ভাঁজগুলোও যেন মুখস্থ হয়ে যেত।
চিঠির প্রতিটি শব্দ তাদের দূরত্বকে একটু একটু করে কমিয়ে দিত।
একদিন রিসার হাত ধরে শৈলীর একটি ছোট্ট চিঠি এসে পৌঁছাল রবিনের কাছে।
চিঠিতে লেখা ছিল—
&quot;প্রিয় রবিন,
পড়াশোনা কেমন চলছে?
তুমি তো চা একটু বেশিই খাও। কিন্তু আমার অনুরোধ, রাত জেগে খুব বেশি চা খেয়ো না। তার বদলে পানি একটু বেশি খেয়ো। আমার আম্মা প্রায়ই বলেন, অতিরিক্ত চা শরীরের জন্য ভালো নয়।
সামনে তোমার এইচ.এস.সি পরীক্ষা। জানি তুমি মন দিয়ে পড়ছ, তবুও কেন জানি বুকের ভেতর একটা অকারণ ভয় কাজ করে। তুমি ভালো ফলাফল না করলে আমাদের সেই অলিখিত চুক্তির কাছে আমি নিজেকেই অপরাধী মনে করব।
নিজের খেয়াল রেখো।
আর হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে আকাশের দিকে তাকিও। সন্ধ্যার প্রথম তারাটা দেখলেই আমার তোমার কথা মনে পড়ে। যদি পারো, প্রতিদিন একবার সেই তারাটার দিকে তাকিয়ো। আমিও তাকাব।
তখন মনে হবে, দূরে থেকেও আমরা একই আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। মনে হবে, আমাদের দুজনের দৃষ্টি এই বিশাল আকাশের কোনো এক অদৃশ্য বিন্দুতে গিয়ে মিলেছে।
আর বেশি দিন নয়। তোমার পরীক্ষার সময় খুব শিগগিরই আমাদের দেখা হবে।
ইতি—
তোমার শৈলী।&quot;
চিঠিটা পড়া শেষ করে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল রবিন।
মুখে অজান্তেই এক টুকরো হাসি ফুটে উঠল।
তার মনে হলো, শৈলী আর আগের সেই চঞ্চল কিশোরীটি নেই। সময় তাকে ধীরে ধীরে অন্যরকম করে গড়ে তুলছে। এখন সে শুধু ভালোবাসতে জানে না, ভালোবাসার মানুষটিকে আগলে রাখতেও জানে। তার প্রতিটি কথায় যেন মিশে আছে দায়িত্ব, মমতা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তা।
একসময় রবিন আলতো করে চিঠিটা ভাঁজ করল। তারপর পরম যত্নে বুক পকেটে রেখে আকাশের দিকে তাকাল।
সন্ধ্যার আলো তখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে। পশ্চিম আকাশে জ্বলে উঠছে প্রথম তারা। সেই তারার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রবিনের মনে হলো, এই মুহূর্তে হয়তো শৈলীও কোথাও দাঁড়িয়ে একই তারাটার দিকে তাকিয়ে আছে।
এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে এলো তার মনে।
রবিন মৃদু হেসে মনে মনে বলল—
&quot;আমি কথা রাখব, শৈলী। আমাদের অলিখিত চুক্তি আমি কোনোদিন ভাঙব না।&quot; 

&#x2728; দূরের সন্ধ্যাতারায় এসে মিশে গেল দুটি তরুণ হৃদয়ের দৃষ্টি, প্রতীক্ষা, অগণিত স্বপ্ন আর একদিন সমস্ত বাধা পেরিয়ে এক হওয়ার নীরব অঙ্গীকার। &#x2728;

 আকাশের প্রথম তারাটি &#x1f31f; তখনও জ্বলজ্বল করছিল—দূরত্বের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি প্রেমময় হৃদয়ের নীরব সাক্ষী হয়ে। &#x1f495;&#x1f4ab;

 (চলবে...) &#x2764;&#xfe0f;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/254294/</link>
				<pubDate>Sun, 14 Jun 2026 12:49:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x2764;&#xfe0f; “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী” &#x2764;&#xfe0f;</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; পর্ব চৌদ্দঃ (নতুন মাধ্যম, নতুন অপেক্ষা )</p>
<p>নীরার বিয়ের সানাই বাজতেই রবিন ও শৈলীর প্রেমের প্রথম চিঠি-বাহক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে যে মেয়েটি তাদের দুজনের হৃদয়ের মাঝখানে এক নীরব সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, সে এবার নিজের নতুন জীবনের পথে পা বাড়াল। নীরার চলে যাওয়া যেন তাদের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-254294"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/254294/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2f62465d51eb6cfcec48c68300cfc7ae</guid>
				<title>( ১৮+ ) “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”

&#x270d;&#xfe0f; পর্ব তেরো: ( নীরার কামনা ও অনভিজ্ঞ রবিনের একচ্ছত্র শৈলী-প্রেম )

নীরা এবং শৈলীদের এস.এস.সি পরীক্ষা শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেক পরের কথা। নীরার এক চাচার বিয়ে ঠিক হলো, আর পাত্রী ছিলেন রবিনের চেনা এবং একই ব্যাচের সহপাঠী শিখা। চেনা গণ্ডির মধ্যে এমন একটি আনন্দের উপলক্ষ আসায় চারপাশের পরিবেশটা বেশ উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল। নিজেদের মধ্যে এই আনন্দকে আরও একটু বাড়িয়ে নিতে বিয়েবাড়ির উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা সবাই মিলে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিল। বড়দের বুঝিয়ে-শুনিয়ে কিছু টাকা জোগাড় করে তারা বৌভাতের রাতে ভিডিও ক্যাসেট প্লেয়ার (ভিসিপি) ভাড়া এনে সিনেমা দেখার ব্যবস্থা করল।

নব্বইয়ের দশকের সেই সময়ে ভিডিও দেখা মানেই ছিল এক বিশাল আয়োজন। সে রাতের অনুষ্ঠানে শৈলী ও তার বান্ধবী ফিয়ানাকে নিমন্ত্রণ জানানোর কথা রবিন তুললে, নীরা বেশ কৌশলে তা এড়িয়ে গেল। সে মুখে নানান সামাজিক ঝামেলার অজুহাত দিলেও, রবিনের সরল মন বিন্দুমাত্র টের পায়নি যে এর পেছনে লুকিয়ে ছিল নীরার এক সুগভীর ও গোপন নীল নকশা। শৈলীকে এই আয়োজন থেকে দূরে রাখাটা ছিল মূলত নীরার আগে থেকে সাজানো প্ল্যানের প্রথম ধাপ—যাতে রবিনের ওপর নিজের কামনার জাল বিছাতে কোনো সামাজিক বা মানসিক বাধা না থাকে। রবিন কোনোদিন নীরাকে তার বন্ধুর বোন এবং শৈলীর চিঠির বাহক ছাড়া অন্য কোনো চোখে দেখেনি; এমনকি কোনোদিন তাকে নিয়ে মনে কোনো মলিন চিন্তাও আসেনি। তাই নীরার মনের এই অন্ধকার ও কামার্ত কোণের হদিস পাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব ছিল।

যথাযথ সময়ে সন্ধ্যার দিকেই ভিডিওর সব সরঞ্জাম নিয়ে আসা হলো। পুরো আয়োজনের দায়িত্ব ছিল রবিনের ওপর। রাতের খাবার শেষ হতেই শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত ‘ভিডিও শো’। সবাই যার যার মতো গুছিয়ে আসনে বসল। এই পুরো অনুষ্ঠানের মেয়েদের দলের নেত্রী ছিল নীরা। তাই বসার আসন বিন্যাসটা সে নিজের সুচারু পরিকল্পনা অনুযায়ী মনের মতো করেই সাজিয়েছিল, যেন রবিনকে একদম নিজের শারীরিক নাগালের মধ্যে পাওয়া যায়। নীরা গিয়ে বসল সবার পেছনের সারির এমন এক বেঞ্চে, যার ঠিক পাশেই বসা ছিল রবিন।

পর্দায় তখন চলছিল ‘হৃদয় আমার’ ছবি। সিনেমা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নীরার অবদমিত কামনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে লাগল। নীরা অন্ধকারের সুযোগে নিজের পা দিয়ে রবিনের পায়ে হালকা খোঁচা মেরে ফিসফিসিয়ে বলতে লাগল, “দেখ দেখ রবিন, পর্দায় ওদের দেখলেই কেন জানি তোর আর শৈলীর কথা মনে পড়ে রে... আর দেখ, হিরোর শার্টের সাথে তোর শার্টের কেমন মিল, তাই না?”
শুরুতে রবিন বিষয়টিকে সাধারণ রসিকতা বা বান্ধবীর খুনসুটি ভেবেই উড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সিনেমা যত এগোতে লাগল, নীরার আচরণে কামোদ্দীপনা ততই লাগামহীন ও উগ্র হয়ে উঠল। হেতুক বা অহেতুক, সে বারবার নিজের পা দিয়ে রবিনের পায়ে আলতো আঘাত করতে লাগল। একপর্যায়ে সে তার পা রবিনের পায়ের ওপর বেশ কিছুটা সময় চেপে ধরে রাখাল। রূপালি পর্দার কাহিনীর নানান দিক নিয়ে কথা বলতে বলতে নীরা একসময় নিজের অবাধ্য পা দিয়ে রবিনের পায়ের ওপর অনবরত ঘষতে শুরু করল। নীরা তখন রবিনকে এক তীব্র আদিম আকর্ষণে উত্তেজিত করার আদিখ্যেতায় ব্যাকুল। তার প্রতিটা ছোঁয়া যেন এক তীব্র শারীরিক ক্ষুধা ও লালসার জানান দিচ্ছিল।

রবিন এক তীব্র অস্বস্তি বোধ করলেও সমস্ত কিছু মুখ বুজে সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছিল। কারণ, সে তখন নীরার কাছে এক প্রকার জিম্মি! এই নীরাই ছিল তার আর শৈলীর একমাত্র ভালোবাসার দূত, তাদের সমস্ত গোপন চিঠির বাহক। সে রবিনের প্রেমের সব হাঁড়ির খবর জানত। রবিন মনে মনে শুধু শৈলীর পবিত্র মুখের ছবিটা স্মরণ করছিল—এই তীব্র কামুক ও উত্তপ্ত পরিবেশেও তার মন জুড়ে ছিল কেবলই শৈলীর একচ্ছত্র রাজত্ব, যেখানে অন্য কোনো নারীর প্রবেশাধিকার নেই।
এভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক কাটার পর, হুট করেই নীরা রবিনকে বলল, “আমার ভালো লাগছে না রে, আমি রুমে চলে যাব। আমাকে একটু রুমে দিয়ে আসবি?” রবিন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “আচ্ছা চল, রেখে আসি।” রবিন জানত না, এই নিভৃত রুমে যাওয়াটাও ছিল নীরার সেই পূর্বপরিকল্পিত ছকেরই মূল অংশ।

ঘর থেকে বের হতেই নীরা অন্ধকারের অজুহাতে রবিনের বাহুতে শক্ত করে নিজের স্তনের খুব কাছাকাছি চেপে ধরল, বলল, “রাতের অন্ধকারে আমার বড্ড ভয় লাগে রে।” হাঁটতে হাঁটতে নীরা হঠাৎ কামাতুর ও অবদমিত এক স্বরে জিজ্ঞেস করে বসল, “আচ্ছা রবিন, এতক্ষণ যে তোর পায়ের ওপর আমি অমন করছিলাম... তুই কি কিছু বুঝতে পারছিলিস?”
রবিন পরিস্থিতি হালকা করতে কিছুটা বোকার মতোই উত্তর দিল, “কই, না তো! এখন শুধু বুঝতে পারছি পায়ের উপরিভাগের চামড়াটা ছিলে গিয়ে কেমন যেন জ্বলছে!”
নীরার কণ্ঠে তখন এক বুক অভিমান আর তীব্র কামজ আকুতি মিশে গেল। সে ফিসফিসিয়ে বলল, “উহ্, তুই একটা আস্ত গাধা! আজ যদি শৈলী এভাবে ঘষত, ঠিকই বুঝতি, তাই না?”
রবিন কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলল, “শোন নীরা, আমি তো তোর চেয়ে বয়সে এক বছরের ছোট। তাই হয়তো এসব জটিল ব্যাপার বুঝতে আমার একটু সময় লাগে। তুই একটু বুঝিয়ে বল তো, কী বলতে চাস?”

নীরা শুধু বলল, “আগে রুমে চল, তারপর বলছি।”
চলতে চলতে নীরা রবিনের হাতটা এমনভাবে নিজের শরীরের সাথে জড়িয়ে ধরল, যেন তাদের মাঝখানে সে আর বিন্দুমাত্র দূরত্ব রাখতে চাচ্ছিল না। স্লিম গড়নের লম্বা কেশী, কিছুটা লম্বাটে নীরা ছিল মফস্বলের অন্যতম সুন্দরী এক মেয়ে। তার গায়ের রঙ ছিল ফর্সা, আর বড় বড় চোখ দুটিতে ছিল এক মায়াবী, গভীর চাহনি—যা আজ রাতে পুরোপুরি কামনার তীব্র রঙে রাঙানো এক অগ্নিচুলা। যেখানে পুড়ে ভস্মীভূত হতে খুব বেশি সময় লাগবে না খুব শক্ত মনের পুং জাতকে।

কক্ষে প্রবেশ করার সাথে সাথেই রবিন এক তীব্র, ঝাঁঝালো ও ঘর্মাক্ত শরীরের ঘ্রাণ পেল। সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কিরে নীরা, তোর শরীর কি বেশী ঘামছে মনে হচ্ছে?” নীরা জবাব দিল, “হ্যাঁ ঘামছে, তবে আমার শরীরের বাইরে নয়, ভেতরে ঘামছে বেশি। আমার শরীরটা বেশী ভাল লাগছে না।“

(ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে পড়ার সময় রবিন ‘যৌবনের ঢেউ’ নামের একটি নিষিদ্ধ বই পড়েছিল।) 
সেই বইয়ের পাতা থেকে পাওয়া তাত্ত্বিক জ্ঞান দিয়ে আজ তার বুঝতে বাকি রইল না যে, এই ঘ্রাণ আসলে এক অবদমিত তীব্র শারীরিক लालসা আর কামাসক্তিরই অনিয়ন্ত্রিত বহিঃপ্রকাশ। নীরার এই উন্মত্ত ও উগ্র রূপ রবিনকে স্তম্ভিত করে দিল, কারণ সে কোনোদিন নীরাকে এমন কামুক দৃষ্টিতে দেখার কথা ভাবতেও পারেনি।

রবিন নীরাকে একটি চেয়ারে বসতে বলল, কিন্তু নীরা বসতে চাইল না। সে কামনায় অন্ধ ও জড়িয়ে যাওয়া গলায় বলল, “আমাকে পাশের রুমের বিছানায় পর্যন্ত দিয়ে আয়।”
মাঝখানের রুমে নীরাকে নিয়ে বিছানার দিকে যেতেই, নীরা আচমকা রবিনের গলা জড়িয়ে ধরে তাকেসহ বিছানায় আছড়ে পড়ল। রবিন এমন আকস্মিক ও চরম মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল। ( রবিনের জীবনে প্রথম এমন মুহুর্তের স্বাক্ষী হতে যাচ্ছে ) নীরার পুরো শরীর তখন রবিনকে গ্রাস করার জন্য উন্মুখ, তার নিঃশ্বাসে আগুনের উত্তাপ।

রবিন নিজেকে রীতিমতো জবরদস্তি করে ছুটাতে গিয়ে আবিষ্কার করল, নীরার বক্ষবন্ধনীবিহীন উন্মুক্ত একটি স্তনাবৃন্তের অগ্রভাগ রবিনের  এক হাতের মুঠোয় বন্দী। তপ্ত, নিরেট ও আদিম সেই ছোঁয়ায় রবিনের শিরায় উপশিরায় কামনার বিদ্যুৎ খেলে যাচ্ছে, শরীরের সমস্ত ইন্দ্রিয় যেন এক মুহূর্তের জন্য হলেও ফিনকি দিয়ে উঠছে — রবিনের অবস্থা প্রায় ত্রাহি মধুসূদন! নীরা তাকে আরও কাছে টানার জন্য পাগল হয়ে উঠেছিল, কামনার তীব্র অনলে দুজনকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে চাচ্ছিল।

কিন্তু রবিন নিজের ওপর থেকে মানসিক নিয়ন্ত্রণ হারাল না; চরম মুহূর্তেও তাদের দুজনের নিম্নবস্ত্রের বন্ধন রইল সম্পূর্ণ অক্ষত এবং চুম্বন স্পর্স ঘটে নাই এখনো। তার হৃদয়ের পুরোটা জুড়ে তখন শৈলীর অলিখিত চুক্তির সেই পবিত্র প্রেমের ছবি ভেসে উঠল । অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায়, এক অদ্ভুত মানসিক শক্তিতে সে নিজেকে সামলে নিল। এক ঝটকায় নিজের হস্তমুষ্টি খুলে নীরার স্তনাবৃন্তের অগ্রভাগ সম্পূর্ণ মুক্ত করে দিয়ে সে বিছানা থেকে সটকে উঠে দাঁড়াল। 

নীরার চোখ দিয়ে তখন কামনার বিফলতায় অগ্নিজল গড়িয়ে পড়ছে। সে বিছানা থেকে উঠে রবিনের বুকের খুব কাছে এসে আকুল ও উন্মত্ত হয়ে বলল, “শোন রবিন, আমি তোকে পাওয়ার জন্য এই পুরো নাটকটা সাজিয়েছি! আমি তোকে অনেক ভালোবাসি রে! হয়তো শৈলীর চেয়েও অনেক বেশি ভালোবাসি। তোদের ভালোবাসার গভীরতা মাপতে আমি তোর দেওয়া প্রতিটি চিঠি আগে নিজে মন দিয়ে পড়তাম, তারপর শৈলীর হাতে দিতাম।  ইনিয়ে বিনিয়ে শৈলীকে লেখা তোর চিঠি পড়তে পড়তেই আমিও তোর প্রেমে পড়েছিলাম এবং তোকে পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় আমার মনের গহীন থেকে আরও গহীনে। আমি তো নেংটাবেলা থেকেই তোর সাথে বড় হয়েছি... প্লিজ রবিন, তুই আমাকে শুধু আজকের এই একটি রাতের জন্য তোর নিজের করে নে। আমি আর কোনোদিন তোর কাছে কিচ্ছু দাবি করব না, কোনোদিন তোদের মাঝে এসে দাঁড়াব না, শৈলীর প্রেমেও ভাগ বসাব না... কথা দিলাম, প্লিজ আমার আজকের এই ক্ষুধাটা মিটিয়ে দে! প্লিজ...”

নীরার এই তীব্র, কামুক আত্মসমর্পণ এবং সুপরিকল্পিত ছকের কথা জানতে পেরে রবিনের মন বিষিয়ে উঠলেও তার ভেতরে শৈলীর জন্য তুলে রাখা পবিত্র ভালোবাসার দেয়াল একটুও টলল না। কোনো প্রলোভন বা কামনার উত্তাপ তাকে এই পাপের সাগরে ডুবতে দিতে পারল না। রবিন আলতো করে নীরার বাঁধন থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে এক কদম পিছিয়ে গেল। অত্যন্ত শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল, “মাফ করিস নীরা... তুই এত বড় ছক কষেছিস তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। তোকে আমি কোনোদিন অন্য কোনো নজরে দেখিনি আর দেখবও না। আমি শৈলী ছাড়া এই পৃথিবীতে অন্য কোনো নারীকে ছোঁয়া তো দূর, ভাবতেও পারি না। আমার সব শুধু শৈলীর জন্য। আর তুই যদি পারিস, এই সত্যিটা শৈলীকেও জানিয়ে দিস।”

এই একটি বাক্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়ে রবিন আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। সে সোজা ঘর থেকে বের হয়ে রাতের নিস্তব্ধ রাস্তা ধরে নিজের বাড়ির দিকে পা বাড়াল। বুক পকেটে তখনো তার শৈলীর দেওয়া অলিখিত চুক্তির সেই চিঠি আর رেইন্ট্রি ফুলের সুবাস জেগে ছিল, যা তাকে এক অদ্ভুত পবিত্রতায় ও একচ্ছত্র ভালোবাসার চাদরে আগলে রেখেছিল।

________________________________________
সেই ঝোড়ো রাতের পর কেটে গেল দুটো দিন। ঘটনার আকস্মিকতা আর নিজের কৃতকর্মের লজ্জা নীরাকে ভেতরে ভেতরে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। দুদিন পরে, নীরা নিজেই কাঁচুমাচু মুখে রবিনের সামনে এসে দাঁড়াল। তার চোখে তখন কামনার সেই উগ্রতা নেই, বরং সেখানে জমা হয়েছে অপরাধবোধ আর অনুশোচনার অশ্রু।

রবিনকে একান্তে পেয়ে নীরা অত্যন্ত অনুতপ্ত গলায় ক্ষমা চেয়ে বলল, “আমায় ক্ষমা করে দিস রবিন। সেদিনের সেই আচরণ আমার একদম উচিত হয়নি। আসলে আমিই ভুল ছিলাম... তোদের দুজনের পবিত্র প্রেমের গভীরতা আমি মাপতে পারিনি। আমার এই ভুলের জন্য প্লিজ আমাদের বন্ধুত্বটা নষ্ট করিস না।”

নীরার এই সহজ স্বীকারোক্তি আর ক্ষমা চাওয়ার পর রবিনের মনের ওপর চেপে থাকা ভারী পাথরটা যেন নেমে গেল। সে বুঝতে পারল, সাময়িক মোহ কেটে গিয়ে নীরা আবার আগের সেই চিরচেনা বন্ধু আর শৈলীর ভালোবাসার বিশ্বস্ত দূতে ফিরে এসেছে।
________________________________________
গল্পের পর্ব চলমান থাকবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/254205/</link>
				<pubDate>Sat, 13 Jun 2026 09:17:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> ( ১৮+ ) “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; পর্ব তেরো: ( নীরার কামনা ও অনভিজ্ঞ রবিনের একচ্ছত্র শৈলী-প্রেম )</p>
<p>নীরা এবং শৈলীদের এস.এস.সি পরীক্ষা শেষ হওয়ার সপ্তাহখানেক পরের কথা। নীরার এক চাচার বিয়ে ঠিক হলো, আর পাত্রী ছিলেন রবিনের চেনা এবং একই ব্যাচের সহপাঠী শিখা। চেনা গণ্ডির মধ্যে এমন একটি আনন্দের উপলক্ষ আসায় চারপাশের পরিবেশটা বেশ উৎসবমুখর হয়ে উঠে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-254205"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/254205/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">30ac71e9e8d8dc75a6c987fc66fe444a</guid>
				<title>“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”

&#x270d;&#xfe0f; পর্ব বারো: (অলিখিত চুক্তি ও নতুন পত্র মাধ্যমের খোঁজ)

পরীক্ষার শেষ ঘণ্টার তীব্র আওয়াজটা যখন স্কুলের দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে মিলিয়ে গেল, তখন বুকের ভেতরটা যেন এক অচেনা শূন্যতায় মুচড়ে উঠল। অবশেষে জীবনের একটা বড়, চঞ্চল আর রঙিন অধ্যায় শেষ হলো। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের কোলাহলমুখর করিডোরের এক শান্ত কোণে দাঁড়িয়ে নীরার হাত থেকে শেষ চিঠিটা এসে পৌঁছাল রবিনের হাতে। নীরা যখন চিঠিটা বাড়িয়ে দিচ্ছিল, ওর চোখে ছিল এক অদ্ভুত বিদায়ের বিষাদ, ঠোঁটের কোণে ম্লান একটুখানি মায়াভরা হাসি। রবিন তখনো জানত না, এই সামান্য কাগজের টুকরোটি শুধু একটা চিঠি নয়—এ তাদের ভালোবাসার এক নতুন অগ্নিপরীক্ষার অলিখিত দলিল।
নিরালা এক জায়গায় গিয়ে, চারপাশের শোরগোল থেকে নিজেকে আড়াল করে কাঁপা কাঁপা হাতে রবিন ভাঁজ খুলল। চিঠিটা খুলতেই হালকা গোলাপী আভার একটা রেইন্ট্রি গাছের ফুল আলতো করে এসে পড়ল রবিনের হাতের তালুতে। চিঠির প্রতিটি ভাঁজে শৈলীর হাতের চেনা ও প্রিয় সুবাস, আর প্রতিটি লাইনের অক্ষরে অক্ষরে মিশে আছে এক বুক আকুলতা আর গভীর ভালোবাসা। চিঠির ভাষায় যেমন ছিল,
________________________________________
“আমার প্রিয় রবিন,
________________________________________
আমাদের পরীক্ষা আজকে শেষ হলো। খাতার পাতায় শেষ কলমের আঁচড়টা কেটে যখন উঠে দাঁড়ালাম, বুকটা কেমন যেন খাঁ খাঁ করে উঠেছিল। পরীক্ষা মোটামুটি ভালোই হয়েছে, আমার জন্য একটু মন থেকে দোয়া কোরো, কেমন?
শোনো রবিন, বুকটা ফেটে যাচ্ছে এটা বলতে গিয়ে যে, নীরার সাথে আমার আর প্রতিদিন দেখা হবে না। আমাদের এতদিনের চেনা, সবচেয়ে নিরাপদ যোগাযোগের উপায়টা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নীরা এখন আর আমাদের এই গোপন চাতক পাখি হয়ে থাকতে পারছে না। ওর বাড়িতে বিয়ের জোর কথাবার্তা চলছে, আজ শুনলাম বিয়েটা নাকি মোটামুটি ফাইনালও হয়ে গেছে। ওর জন্য যেমন মনটা ভীষণ খারাপ, তেমনি বুকটা কেঁপে উঠছে আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। নীরা চলে গেলে আমি কার হাত ধরে তোমার কথা বলব? কার বুকে মুখ গুঁজে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলব বলো?
এখন আমাদের যা করতে হবে, সেটাকে আমাদের দুজনের হৃদয়ের মাঝখানের এক ধরনের ‘অলিখিত চুক্তি’ বলতে পারো। এই চুক্তি ভাঙার অধিকার কিন্তু আমাদের কারও নেই। আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা বজায় রেখে দুজনেরই পড়াশোনায় খুব ভালো করতে হবে। তুমি কিন্তু নিজের বিন্দুমাত্র অবহেলা করবে না, খুব ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। অল্প কিছুদিন পরেই তোমার এইচ.এস.সি পরীক্ষা শুরু, মনে আছে তো? আমার ভালোবাসা যেন তোমার এগিয়ে যাওয়ার শক্তি হয় রবিন, কখনো দুর্বলতা নয়।
পড়াশোনার সমান্তরালে আমাদের এই পবিত্র ভালোবাসাকে বুকে আগলে রেখে যদি আমরা পথ চলতে পারি, তবে আমাদের সম্পর্কের পরিপক্ক বয়স পর্যন্ত পৌঁছাতে পৃথিবীর কোনো শক্তি, কোনো দূরত্ব বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। আমাদের দুজনের ভালোবাসার পবিত্র দায়িত্ব আমাদের দুজনকেই কাঁধে তুলে নিতে হবে। এই পরিপক্ক দায়িত্ববোধই পারে একদিন আমাদের একটা সুন্দর, নিটল ও সামাজিকভাবে স্বীকৃত ভালোবাসা উপহার দিতে। আর যদি আমরা কোনো কারণে হেরে যাই, তবে এই নিষ্ঠুর সমাজ হাসাহাসি করবে, সবাই আমাদের পবিত্র অনুভূতি নিয়ে মজা নেবে। আমি মরে গেলেও সেই অপমান সইতে পারব না রবিন।
মনে রেখো, এই পত্রের উত্তর পেতে তোমার যত দেরি হবে, তুমি কিন্তু ওপারে থাকা আমাকে তত বেশি কাঁদাবে। প্রতিটি সেকেন্ড আমার কাছে তখন একেকটি যুগের মতো কাটবে। এখন নীরাকে যেহেতু সবসময় পাচ্ছি না, তাই মন খারাপ করে বসে থেকো না। একটু চেষ্টা করে দেখো ‘রিসা’-কে আমাদের এই ভালোবাসার নতুন মাধ্যম হিসেবে ম্যানেজ করা যায় কিনা। আমি মাঝে মাঝে আমাদের পুরনো বাড়ি যাওয়ার কথা বলে রিসাদের বাড়ির পাশ দিয়েই হেঁটে যাই। তুমি যদি রিসাকে রাজি করাতে পারো, তবে ওর কাছ থেকে তোমার চিঠিটা লুকিয়ে নিজের মুঠোয় পুরে নিতে আমার খুব সুবিধা হবে।
চিঠির সাথে একটি রেইন্ট্রি গাছের ফুল দিলাম তোমায়। গাছতলায় কুড়িয়ে পাওয়া ফুলটার মিস্টি মিস্টি ঘ্রাণটা বেশ ভালোই লাগছে আমার, তোমার ভাল লাগবে কিনা জানিও পরে। এই ফুলের স্পর্শ যেমন নরম, আমিও ঠিক এভাবেই প্রতিদিন তোমায় ছুঁয়ে থাকি আমার মনের এবং চিন্তার গভীর নরম অংশ থেকে। তুমি আফটার সেভের পর তোমার মুখাবয়বে এই ফুলের স্পর্শটা একটু বুলিয়ে নিও, কেমন? মনে কোরো আমিই তোমায় ছুঁয়ে দিলাম...
উত্তরের চাতক হয়ে পথ চেয়ে রইলাম। খুব ভালো থেকো আমার রবিন।
________________________________________
ইতি— তোমার হৃদয়ের, তোমার ভালোবাসার শৈলী”
________________________________________

চিঠিটা পড়া শেষ করে রবিন একটা দীর্ঘ, তপ্ত শ্বাস ফেলল। সে হাতের তালুতে রাখা নরম রেইন্ট্রি ফুলটা নাকের কাছে ধরল। অদ্ভুত এক বুনো মিষ্টি সুবাস তার স্নায়ুতে মিশে গেল। এরপর সে পরম আবেশে চোখ বুজে চিঠির পাতায় শৈলীর হাতের স্পর্শের সেই চেনা ঘ্রাণটা নেওয়ার চেষ্টা করল। মনে হলো, শৈলী যেন ঠিক তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে, তার নিঃশ্বাস এসে পড়ছে রবিনের মুখে। আলতো করে ঠোঁটের ছোঁয়া দিয়ে চিঠি আর ফুলটা ফোল্ড করে সে তার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছাকাছি—বাম পাশের বুক পকেটে রেখে দিল। যেখানে তার হৃদস্পন্দন প্রতি মুহূর্তে শৈলীর নামের সাথে তাল মিলিয়ে চলে।

নীরার চলে যাওয়াটা রবিনের বুকে একটা বড় ধাক্কা দিয়ে গেল, তৈরি করল এক গভীর শূন্যতা। রবিন মনে মনে নীরার প্রতি এক অদ্ভুত কৃতজ্ঞতা বোধ করল। এই নীরাই তো ছিল তাদের ছায়াসঙ্গী, দুই হৃদয়ের অঘোষিত দূত। রবিন পরবর্তীতে জানতে পেরেছিল, নীরা শুধু চিঠিই আনা-নেওয়া করেনি, বরং শৈলীর একাকীত্বের দিনগুলোতে তাকে সবসময় আগলে রেখে সঙ্গ দিয়েছে। এমনকি রবিন আর শৈলীর অবুঝ মনের কত শত অভিমান, রাগ-গোসসার মাঝে নীরা নিজেই শৈলীর কাছে গিয়ে রবিনের হয়ে বারবার ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে, আলতো হাতে জোড়া লাগিয়েছে তাদের মান-অভিমানের সুতো। সেই নিঃস্বার্থ মেয়েটার এভাবে হুট করে পর হয়ে যাওয়াটা মেনে নেওয়া সত্যিই বড্ড কঠিন।

তবে নীরার এই চলে যাওয়ার বেদনার মাঝেই শৈলীর এই পরিণত, ভালোবাসায় মোড়ানো চিঠিটা রবিনের চোখের সামনে এক নতুন আশার আলো জ্বেলে দিল। চিঠির পাতায় ছড়ানো প্রতিটি কথায় সে পরম বিস্ময়ে ও ভালোলাগায় উপলব্ধি করল, তাদের কৈশোরের সেই চপল, লুকোচুরি প্রেমটা আজ সময়ের হাত ধরে এক দায়িত্বশীল ও পরিপক্ক গভীর ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে। শৈলী এখন আর শুধু এক চঞ্চল প্রেমিকা নয়, সে এক দায়িত্বশীল জীবনসঙ্গিনী—যে রবিনকে আগলে রাখার মন্ত্র শিখে গেছে।

রবিন জানত, সামনের দিনগুলো ভীষণ কঠিন। পড়াশোনার কঠিন চাপ, সমাজের হাজারো চোখরাঙানি আর প্রিয়তমার থেকে দূরে থাকার একাকীত্বের এক দীর্ঘ লড়াই। কিন্তু আজ তার বুকে আর কোনো ভয় নেই, কোনো সংশয় নেই। বুক পকেটে পরম যত্নে রাখা শৈলীর সেই ভালোবাসার পরশমণি আর রেইন্ট্রি ফুলের মৃদু সুবাস, আর মনের ভেতর প্রিয়তমাকে আজীবন নিজের করে জয় করার তীব্র জেদ নিয়ে সে এক নতুন, সুন্দর এবং আলোয় ভরা ভবিষ্যতের দিকে চোখ মেলল। যে ভবিষ্যতে শুধু তারা দুজন থাকবে, আর থাকবে এক পৃথিবী পবিত্র ও নিটোল ভালোবাসা।

গল্পের পর্ব চলমান থাকবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253870/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 07:09:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; পর্ব বারো: (অলিখিত চুক্তি ও নতুন পত্র মাধ্যমের খোঁজ)</p>
<p>পরীক্ষার শেষ ঘণ্টার তীব্র আওয়াজটা যখন স্কুলের দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে মিলিয়ে গেল, তখন বুকের ভেতরটা যেন এক অচেনা শূন্যতায় মুচড়ে উঠল। অবশেষে জীবনের একটা বড়, চঞ্চল আর রঙিন অধ্যায় শেষ হলো। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের কোলাহলমুখর ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253870"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253870/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f292df0924a570e42fc39c88d424bdbb</guid>
				<title>&#x2764;&#xfe0f; “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী” &#x2764;&#xfe0f;

&#x270d;&#xfe0f; পর্ব এগারো: ( ১৯৯৮ এবং একই প্রান্তরে দুটি পরীক্ষা )

সাল ১৯৯৮। ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো তখন যেন বড্ড দ্রুত এগোচ্ছিল, আবার একই সাথে বুকের ভেতরটা কেমন একটা অদ্ভুত ভারী পাথরের মতো চেপে বসছিল। দ্রুত—কারণ সামনে পরীক্ষা, জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অলিখিত এক সন্ধিক্ষণ। ভারী—কারণ এই সময়টাই ঠিক করে দেবে তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন আর কিশোরী বয়সের সেই অবুঝ ভালোবাসার শেষ পরিণতি। মধ্যবিত্ত পরিবারের নিয়মের বেড়াজাল আর সমাজ-সংসারের বাস্তবতার মাঝে দাঁড়িয়ে তখন শুধুই একটা ভালো ফলাফলের অপেক্ষা।

অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনেরই ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছিল। শৈলী—এস.এস.সি পরীক্ষার্থী, যার চোখে একরাশ চঞ্চলতা আর চাপা ভয়; আর রবিন—এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী, যার কাঁধে বড় হয়ে ওঠার অলিখিত এক দায়িত্ব। কিন্তু নিয়তি এবার তাদের দূরে সরায়নি, পরীক্ষার কঠিন নিয়মের আড়ালে এসে যেন এক চমৎকার অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে দিল দুজনকে। শৈলীর এস.এস.সি পরীক্ষার কেন্দ্র পড়ল রবিনের নিজের কলেজেই! খবরটা যেদিন প্রথম জানা গেল, শৈলীর বুকের ভেতর একঝাঁক পায়রা যেন একসাথে ডানা ঝাপটে উঠেছিল।

স্থানটা তাই এক হয়ে গেল—একই চিরচেনা ক্যাম্পাস, একই পাথুরে করিডোর, একই কৃষ্ণচূড়া তলার সবুজ মাঠ। এই সময়টা হয়ে উঠেছিল এক জীবন্ত রুটিন আর তীব্র নীরব অপেক্ষার এক মহাকাব্য। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক তিন দিন আগে, বিকেলবেলা পড়ার টেবিল থেকে উঠে শৈলী তীব্র এক অস্থিরতা অনুভব করল। ডায়েরির পাতা ছিঁড়ে নীল কালির কলমে দ্রুত হাতে সে নিজের মনের কথাগুলো সাজাল। তারপর তার পরম নির্ভরযোগ্য বান্ধবী নীরার মাধ্যমে ছোট্ট একটি ভাঁজ করা চিরকুটে রবিনকে লিখে পাঠাল—

“প্রিয় রবিন,
জানি না কথাগুলো কেন লিখছি, তবে তোমার অবয়ব দেখলে আমার পড়াশোনার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। ভালো রেজাল্ট না হলে তুমি যদি রাগ করো—সবসময় সেই চিন্তাই আমার মাথায় ঘোরে। যদিও তোমার দেওয়া প্রতিটি বিষয়ের সাজেশন আমি অক্ষরে অক্ষরে ফলো করছি। তা-ও বলছিলাম কি, আমার প্রতিটি পরীক্ষা শুরুর আগে অন্তত একবার তোমাকে দেখতে চাই, রবিন। তোমার নিজের পরীক্ষার পড়াশোনার একটু কষ্ট হলেও প্রতিদিন ঠিক সময়ে কলেজের গেটের কাছে থেকো কিন্তু—এটা আমার আবদার নয়, আদেশ। না থাকলে কিন্তু তোমার সাথে আর কোনোদিন কথা বলব না, আড়ি!

ইতি — তোমার শৈলী”

বিকেলের হালকা আলোয় কলেজের পেছনের মাঠে বসে চিরকুটটা পড়ার পর রবিন কিছুক্ষণ একদম চুপ করে রইল। চারপাশের কোলাহল যেন এক নিমেষে ম্লান হয়ে গেল। তারপর তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে চেনা প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবল— ‘শৈলী, তুমিও তাহলে ধীরে ধীরে ভালোবাসার বরফ টুকরো হয়ে সাগরে ভাসতে শিখে গেলে? সেই চঞ্চলা, চপলা মেয়েটা, যে কিনা সারাক্ষণ প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়াত, সে আজ কত ধীরস্থিরভাবে অনুরোধ করতে শিখে গেছে... বড্ড পাগলী একটা!’ সেই হাসির ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক বিশাল দায়িত্ব, অপার মমতা আর এক শান্ত, গম্ভীর হৃদয়ের স্বীকৃতি।

পরদিন সকাল থেকেই শুরু হলো এক নতুন নিয়ম, এক নীরব প্রেমের উৎসব। প্রতিদিন সকালে কেন্দ্রের সামনে একই চেনা দৃশ্য—গেটের সামনে অভিভাবকদের ভিড়, শেষ মুহূর্তে নোটবই ওল্টানোর খসখস শব্দ, করিডোরে পরীক্ষার্থীদের চঞ্চল দৌড়াদৌড়ি, রিকশার টুংটাং শব্দ আর চারপাশের এক চাপা অস্থিরতা। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝখানে ঠিক একটা নির্দিষ্ট শান্ত মুহূর্ত তৈরি হতো।

শৈলী পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে ভিড়ের মাঝে চশমাটা ঠিক করতে করতে একবার চোখ বুলিয়ে খুঁজে নিত রবিনকে। রবিনও জানত শৈলীর চোখ দুটি ঠিক কোথায় এসে থামবে। কখনো কলেজের মূল গেটের বড় কৃষ্ণচূড়া গাছটার পাশে, কখনো করিডোরের শেষ মাথার জানালার ধারে, কখনোবা নোটিশ বোর্ডের আড়ালে—এক মুহূর্তের জন্য শুধু চার চোখের মিলন হতো। কোনো কথা হতো না, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখার সুযোগও ছিল না।

কিন্তু সেই এক মুহূর্তের চাহনিতেই শৈলীর ভেতরের সব ভয়, সব অস্থিরতা যেন কর্পূরের মতো বাতাসে উড়ে যেত। অবাধ্য বুকটার ধড়ফড়ানি থেমে গিয়ে মুখে আসত এক শান্ত, আত্মবিশ্বাসী দৃঢ়তা—যেন পুরো পৃথিবীটা এক নিমেষে ভীষণ সহজ হয়ে গেছে। রবিনও এই দেখার গুরুত্ব মনে-প্রাণে বুঝত। নিজের এইচ.এস.সি পরীক্ষার প্রচণ্ড চাপ, দিন-রাত জাগা পড়াশোনার ক্লান্তি—সবকিছুর মাঝেও সে প্রতিদিন ঠিক সময়ে সেই নির্দিষ্ট জায়গায় হাজির থাকত। দূর থেকে শুধু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, যেন তার এই নীরব উপস্থিতিই শৈলীর জন্য এক মহাসমুদ্রের সমান শক্তি আর সাহস।

একদিন গণিত পরীক্ষার ঠিক আগে, যখন চারপাশের সবাই উপপাদ্য আর সূত্রের টেনশনে নীল হয়ে আছে, শৈলী ভিড়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় খুব আস্তে করে, প্রায় ফিসফিসিয়ে রবিনকে বলে ফেলেছিল, “আজ যদি দেখা না হতো, মনটা শান্ত হতো না হয়তো। জ্যামিতি সব ভুলে যেতাম।”

রবিন হালকা হেসে চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে নিচু গলায় উত্তর দিয়েছিল, “তাহলে ধরে নাও, এটা এখন তোমার নতুন কলেজের নিয়ম। পরীক্ষা শুরু হবে আমাকে দেখেই। এর কোনো ব্যতিক্রম হবে না।”

শৈলী প্রথমে লজ্জায় ও ভালোলাগায় লাল হয়ে হেসে ফেলেছিল, তারপর পরীক্ষার হলের সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে নিচু গলায় বলেছিল, “পাগল একটা...”
কিন্তু সেই ‘পাগল’ শব্দটার ভেতরেই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, এক পরম নির্ভরতার আকাশ।

দিনগুলো এভাবেই কাটছিল—পরীক্ষা, রাত জেগে পড়াশোনা আর ভোরের এই ছোট্ট ছোট্ট দেখার অপার্থিব আনন্দ। একই সময়, একই বাতাস, একই ক্যাম্পাস—তবুও দুটি আলাদা জীবনের পরীক্ষা। কিন্তু তাদের হৃদয়ের ভেতরের গল্পটা ছিল এক ও অভিন্ন।

শৈলীর পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর যখন রবিনের নিজের পরীক্ষার দিনগুলো ঘনিয়ে এল, তখন রবিনের ভেতরে এক অদ্ভুত, অলৌকিক শক্তি কাজ করছিল। পড়ার টেবিলে হারিকেনের আলোয় যখন সে একা বসত, তখন তার মনে হতো—তাকে জিততেই হবে। সে বুঝতে পারল, ভালোবাসা শুধু কোনো আবেগ বা পাওয়ার নাম নয়, ভালোবাসা মানে অপর প্রান্তের মানুষটার জন্য নিজেকে যোগ্য করে তোলার দায়িত্ব নেওয়ার নামও বটে।

এক গভীর সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে বসে, জানলা দিয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় যখন তার খাতার পাতাগুলো উড়ছিল, তখন সে পড়া থামিয়ে নিজের ডায়েরির এক কোণে কলম দিয়ে যত্ন করে লিখে রাখল—

“ভালোবাসা শুধু সাময়িক কোনো অনুভূতি নয়... এটা একটা বিশাল বড় দায়িত্ব। আর দায়িত্ব মানে, জীবনের শত ঝড়েও নিস্পৃহ থেকে নীরবে পাশে থাকা—সব সময়, সব পরিস্থিতিতে।”

গল্প চলমান…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253718/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 09:33:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x2764;&#xfe0f; “শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী” &#x2764;&#xfe0f;</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; পর্ব এগারো: ( ১৯৯৮ এবং একই প্রান্তরে দুটি পরীক্ষা )</p>
<p>সাল ১৯৯৮। ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো তখন যেন বড্ড দ্রুত এগোচ্ছিল, আবার একই সাথে বুকের ভেতরটা কেমন একটা অদ্ভুত ভারী পাথরের মতো চেপে বসছিল। দ্রুত—কারণ সামনে পরীক্ষা, জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অলিখিত এক সন্ধিক্ষণ। ভারী—কারণ এই সময়টাই ঠিক করে দেবে তাদের ভবিষ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253718"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253718/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5dd6a1e09f448174bd7790056f081b13</guid>
				<title>“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”

&#x270d;&#xfe0f; দশ: ( সম্পর্কের নতুন সমীকরণ ও লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি )

সব বাধা, ভয় আর অনিশ্চয়তার মাঝেও রবিন আর শৈলীর গল্পটা থেমে না গিয়ে বরং আরও গভীর হতে লাগল। সময় যেন প্রতিদিন তাদের নতুন করে পরীক্ষা নিচ্ছিল। কখনো পরিস্থিতির মাধ্যমে, কখনো মানুষের আচরণে, আবার কখনো নিজেদের নীরব সিদ্ধান্তের ভেতর দিয়ে।

হাঞ্জার সরাসরি চাপ ধীরে ধীরে কমে এলেও তার কালো ছায়া পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি। এবার সে সামনে থেকে আঘাত না করে আড়াল থেকে খেলা শুরু করল। ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করা, গুজব ছড়ানো আর দুজনের মাঝে অদৃশ্য দূরত্ব গড়ে তোলাই হয়ে উঠল তার নতুন কৌশল।

একদিন কলেজ থেকে ফেরার পথে রবিন লক্ষ্য করল, শৈলী আগের মতো নেই। কথা বলছে, হাসছেও মাঝে মাঝে, কিন্তু তার চোখের গভীরে যেন এক অদ্ভুত ক্লান্তি আর দ্বিধা বাসা বেঁধেছে।

রবিন নীরার মাধ্যমে বিষয়টা জানার চেষ্টা করল। কিন্তু স্পষ্ট কোনো উত্তর পেল না। শুধু একটা কথাই বারবার ফিরে এল—

“সবকিছু ঠিক আছে রবিন ভাই... কিন্তু আসলে কোনো কিছুই আর আগের মতো নেই।”

এই কয়েকটি শব্দ রবিনকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিল।

পরদিন বিকেলে সে সিদ্ধান্ত নিল, সরাসরি শৈলীর সঙ্গে কথা বলবে।

স্কুলের সেই পুরোনো আমগাছটা আজও দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু চারপাশের বাতাস যেন আগের চেয়ে অনেক বেশি ভারী।

শৈলী ধীর পায়ে এসে দাঁড়াল তার সামনে। আজ সে অস্বাভাবিক শান্ত। না আগের মতো লাজুক, না আগের মতো প্রাণবন্ত। যেন দীর্ঘ সময়ের ভাবনা তাকে আরও পরিণত করে তুলেছে।

রবিন নরম গলায় বলল,

— “তুমি কি আমার কাছে কিছু লুকাচ্ছ, শৈলী?”

শৈলী কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাটির দিকে তাকাল।

— “লুকাচ্ছি না... শুধু বুঝতে চেষ্টা করছি।”

— “কী বুঝতে?”

সে ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকাল।

— “আমরা কি সত্যিই এই সমাজ আর পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারব, রবিন? নাকি সারাজীবন এভাবেই লুকিয়ে, ভয় নিয়ে বাঁচতে হবে?”

প্রশ্নটা শুনে রবিন কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে রইল।

উত্তরটা তার নিজের কাছেও খুব সহজ ছিল না।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে বলল,

— “ভয় তো থাকবেই, শৈলী। কিন্তু আমরা যদি সেই ভয়কে জিততে দিই, তাহলে একদিন নিজেদেরই হারিয়ে ফেলব। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ ভালোবাসার জন্য নয়, ভালোবাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি আফসোস করে।”

শৈলীর চোখে জল চিকচিক করে উঠল।

— “আমি তোমাকে হারাতে চাই না, রবিন। কিন্তু এই দমবন্ধ করা পরিবেশে নিজের জীবনটাকেও থামিয়ে রাখতে পারছি না।”

কথাগুলো রবিনের বুকের গভীরে গিয়ে আঘাত করল।

চারপাশে কিছুক্ষণ শুধু বাতাসের শব্দ।

তারপর সে শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

— “তাহলে চল, আমরা পালিয়ে না গিয়ে লড়াই করি। নিজেদের যোগ্য করে তুলি। এমন জায়গায় পৌঁছাই, যেখানে আমাদের সিদ্ধান্তের মূল্য থাকবে।”

শৈলী অনেকক্ষণ তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল।

সেই চোখে ভয় ছিল, কষ্ট ছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল বিশ্বাস।

ধীরে ধীরে সে মাথা নাড়ল।

কোনো বড় প্রতিশ্রুতি নয়।
কোনো নাটকীয় শপথ নয়।

শুধু এক নীরব সম্মতি।

সেদিন তারা বুঝেছিল, ভালোবাসা মানেই সারাক্ষণ হাত ধরে পাশে থাকা নয়। কখনো কখনো দূরে থেকেও একে অপরের প্রতি আস্থা ধরে রাখার নামই ভালোবাসা।

এরপর থেকে তাদের সম্পর্কের ধরন বদলে গেল।

দেখা হতো কম, কিন্তু বোঝাপড়া বাড়ল।

কথা হতো কম, কিন্তু অনুভূতির গভীরতা বেড়ে গেল।

রবিন মন দিল নিজের পড়াশোনা আর ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে।

শৈলীও নিজেকে আরও শক্ত করে গড়ে তুলতে শুরু করল।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাঞ্জাও বুঝে গেল, সত্যিকারের ভালোবাসাকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায় না। একসময় সে নিজেই তাদের জীবন থেকে দূরে সরে গেল।

এক সন্ধ্যায়, অনেকদিন পর শৈলী নীরাকে বলেছিল,

— “জানিস নীরা, আমি এখন আর ভয় পাই না। শুধু অপেক্ষা করতে শিখেছি।”

নীরা মুচকি হেসে বলেছিল,

— “অপেক্ষাই তো সবচেয়ে কঠিন ভালোবাসা, পাগলী।”

শৈলী আকাশের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল।

— “হয়তো... কিন্তু এটাই সত্যি।”

আর সেই সময় দূরে কোথাও নিজের পড়ার টেবিলে বসে রবিন ডায়েরির পাতায় লিখছিল—

&quot;কিছু সম্পর্ক চোখে দেখা যায় না, শুধু দূর থেকে অনুভব করা যায়। ঠিক আমাদের মতো...&quot; &#x2764;&#xfe0f;

গল্প চলমান …</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253391/</link>
				<pubDate>Sat, 06 Jun 2026 20:51:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; দশ: ( সম্পর্কের নতুন সমীকরণ ও লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি )</p>
<p>সব বাধা, ভয় আর অনিশ্চয়তার মাঝেও রবিন আর শৈলীর গল্পটা থেমে না গিয়ে বরং আরও গভীর হতে লাগল। সময় যেন প্রতিদিন তাদের নতুন করে পরীক্ষা নিচ্ছিল। কখনো পরিস্থিতির মাধ্যমে, কখনো মানুষের আচরণে, আবার কখনো নিজেদের নীরব সিদ্ধান্তের ভেতর দিয়ে।</p>
<p>হাঞ্জার সরাসরি চাপ ধীরে ধীরে কমে এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253391"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253391/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6cfc3d2667a834c74f470d4e0bab3803</guid>
				<title>&quot;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী&quot;

&#x270d;&#xfe0f; পর্ব নয় : ( কলেজের কোন্দল )
শৈলী তখন নবম শ্রেণির কিশোরী, আর রবিন সদ্য কলেজে পা রাখা ইন্টারমিডিয়েটের প্রথম বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার ক্রমবর্ধমান চাপ, দুটো ভিন্ন ক্যাম্পাস—সবকিছুর ব্যস্ততার মাঝেও তাদের ভালোবাসার নদীটি নীরবে, অবাধ্য গতিতে আপন মোহনায় ছুটে চলছিল। সময় তার নিজস্ব নিয়মে বয়ে যাচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের মনের গভীরে বেঁধে রাখা সেই অদৃশ্য রেশমি সুতোটা একচুলও আলগা হয়নি।

তবে এই নিস্তরঙ্গ ভালোবাসার পথটা যে এতটা কণ্টকাকীর্ণ হয়ে উঠবে, তা কে জানত! একদিন হঠাৎ করেই শৈলীর কানে এমন এক খবর এল, যা তার পায়ের তলার মাটি কাঁপিয়ে দিল। কলেজের ত্রাস হাঞ্জা নাকি রবিনকে নির্মমভাবে মারধর করার জন্য বাইরে থেকে লোক ভাড়া করেছে। খবরটা শোনা মাত্রই শৈলীর বুকের ভেতরটা চড়কগাছের মতো ঘুরতে লাগল। সে আর এক মুহূর্তও দ্বিধা করল না। কাউকে কিছু না জানিয়ে, পরম বিশ্বস্ত বান্ধবী ফিয়ানাকে একপ্রকার টেনেহিঁচড়েই ছুটে গেল নীরাদের বাড়ির দিকে—যেকোনো মূল্যে রবিনকে এই আসন্ন বিপদ থেকে সতর্ক করতেই হবে।

ঠিক সেই মুহূর্তে রবিন তার সাইকেলটা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দূর থেকে নীরা তাকে দেখেই প্রায় চিৎকার করে ডাকল, “এই রবিন, এদিকে আয়! জলদি আয়, খুব জরুরি কথা আছে।”

রবিন কিছুটা অবাক হলো। সাইকেলটা স্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে সে নীরাদের উঠোনে পা রাখল। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা শৈলী আর ফিয়ানাকে দেখে তার বিস্ময় আরও বাড়ল। বিশেষ করে শৈলীর ফ্যাকাশে মুখ আর চোখের কোণে জমে থাকা স্পষ্ট ভয়ের ছাপ দেখে রবিনের বুকের ভেতরটা খটকা লাগল।

“কী হয়েছে শৈলী? এমন সময়ে তোমরা এখানে? কোনো সমস্যা?” — রবিন কিছুটা উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করল।

শৈলী বুক ভরে একটা শ্বাস নিয়ে, কাঁপানো গলায় একশ্বাসে বলে উঠল, “শোন রবিন, ওই শয়তান হাঞ্জা তোমাকে কাল কলেজে মারার জন্য গুন্ডা ঠিক করেছে। আমি খবরটা পাওয়া মাত্রই আর ঘরে থাকতে পারলাম না। দোহাই তোমার, কাল তুমি কলেজে যেয়ো না!”

রবিন কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে শান্ত গলায় বলল, “ঠিক আছে শৈলী, আমি বিষয়টা দেখছি। তোমরা এখন বাড়ি যাও, সন্ধ্যা হয়ে আসছে। রাস্তায় একা থাকা ঠিক হবে না।”

মুখে শান্ত ও নির্বিকার ভাব ধরে রাখলেও, রবিনের ভেতরে তখন চিন্তার ঝড় বইছে। হাঞ্জা যে কতটা নিচে নামতে পারে, তা সে ভালো করেই জানে। তাই বিষয়টিকে সে মোটেও হালকাভাবে নিল না। সেদিন রাতেই সে তার কলেজের বিশ্বস্ত বন্ধুদের এক জায়গায় ডেকে পুরো ঘটনাটা খুলে বলল। বন্ধুরা সে কথা শুনেই রাগে ফেটে পড়ল। সবাই একবাক্যে সিদ্ধান্ত নিল—পরদিন ক্লাস থাকুক আর না থাকুক, তারা সবাই সকাল সকাল কলেজে হাজির হবে এবং ছায়ার মতো রবিনের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

পরদিন কলেজের বাতাস যেন এক অদ্ভুত থমথমে ও চেনা উত্তেজনায় ভারী হয়ে ছিল। দোতলার বারান্দার এক কোণে বন্ধুদের শক্ত বেষ্টনীতে বসে ছিল রবিন। হঠাৎ করেই সেই স্তব্ধতা ভেঙে, হাতে একটা চকচকে হকিস্টিক নিয়ে ‘শাহিন’ নামে কলেজের এক পরিচিত ছেলে তাদের সামনে এসে রুখে দাঁড়াল। শাহিনের চোখ-মুখে তখন মারকুটে ভাব। সে গম্ভীর, কর্কশ গলায় জিজ্ঞেস করল, “অরুনকে খুঁজছি। তোরা কেউ চিনিস ওরে?”

রবিনের বন্ধুরা একে অপরের দিকে তাকাল। রবিনকে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা ছদ্মনামে ‘অরুন’ বলেও ডাকত, যা বাইরের অনেকেই জানত না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এক বন্ধু চেয়ার ছেড়ে উঠে একটু এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কেন ভাই? ওরে দিয়া কী কাম আপনার?”

শাহিন হাতের হকিস্টিকে আলতো করে হাত বোলাতে বোলাতে তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, “ওকে একটু ভালোমতো শিক্ষা দিতে হবে। আমার এক বড় ভাইয়ের পছন্দের তালিকায় নাকি হাত দিয়েছে ও। বড্ড বাড় বেড়েছে ছোঁড়ার!”

“তা তোর সেই বড় ভাইয়ের নামটা কী জানা যাবে?” — অন্য এক বন্ধু শান্ত গলায় প্রশ্ন করল।

“হাঞ্জা।”

নামটা উচ্চারণ হওয়া মাত্রই বারান্দার পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে বরফের মতো জমে গেল। তবে রবিনের বন্ধুরা ভয় পাওয়ার বদলে একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। এবার এক বন্ধু শাহিনের ঠিক মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াল। তার কাঁধে হাত রেখে অত্যন্ত শান্ত কিন্তু ধারালো গলায় বলল, “শাহিন, তুই যার খাতা দেখে ১ম সেশনের পরীক্ষাটা পাস করেছিলি, তোর ঠিক সামনে বসা যে ছেলেটা তোকে প্রতিটা উত্তরের জন্য সাহায্য করেছিল—সে-ই অরুন। আর ওর আসল নাম রবিন।”

শাহিন যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে কিছুক্ষণ পাথরের মতো স্থির হয়ে রবিনের দিকে তাকিয়ে রইল। রবিনের মুখের দিকে তাকাতেই পুরোনো সেই পরীক্ষার হলের স্মৃতি, রবিনের সেই নিঃস্বার্থ সাহায্যের কথা তড়িৎবেগে তার মনে পড়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে যেন জাদুর মতো সবকিছু বদলে গেল। শাহিনের ভেতরের সমস্ত রাগ আর হিংস্রতা কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে হাতের হকিস্টিকটা একপাশে ছুড়ে ফেলে দিয়ে, দু-পা এগিয়ে এসে রবিনকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরল।

“তুই-ই অরুন! ধুর ব্যাটা, বন্ধু আগে বলবি না!” — শাহিনের কণ্ঠে তখন আর কোনো হুমকি ছিল না, বরং সেখানে উপচে পড়ছিল পুরোনো বন্ধুত্বের উষ্ণতা আর কৃতজ্ঞতা।

এদিকে দূরে দাঁড়িয়ে হাঞ্জা আর তার প্রধান সহযোগী মোয়াইজ অধীর আগ্রহে সব দেখছিল। তাদের হাতে ছিল একটা বড় মিষ্টির বাক্স—পরিকল্পনা ছিল রবিন মার খাওয়ার পর তারা দলবল নিয়ে মিষ্টি মুখ করে উদযাপন করবে। কিন্তু চোখের পলকে পাশার দান এভাবে উল্টে যাবে, তা তারা স্বপ্নেও ভাবেনি।

শাহিন রবিনকে ছেড়ে সোজা হাঞ্জাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তাদের মিষ্টির বাক্সের দিকে তাকিয়ে আঙুল উঁচিয়ে বজ্রকণ্ঠে বলল, “আমি অরুন বা রবিন—কাউকেই ছোঁব না। ও আমার বন্ধু, অত্যন্ত ভালো এবং মেধাবী একটা ছেলে। যদি পারেন, নিজের সম্মানটুকু থাকতে থাকতে ওর রাস্তা থেকে আপনারা সরে দাঁড়ান। অন্যথায় এর ফল ভালো হবে না।”

পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে এল। কোনো বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছাড়াই সেদিনের মতো মেঘ কেটে রোদ হাসল। এরপর থেকে হাঞ্জা আর কখনো সরাসরি রবিনকে হুমকি দেওয়ার বা তার সামনে দাঁড়ানোর সাহস পায়নি।

তবে কলেজে হেরে গেলেও, শৈলীকে ঘিরে হাঞ্জা তার পারিবারিক কূটচাল ও ষড়যন্ত্র থামাল না। সে বিভিন্নভাবে, শৈলীর ভাইদের কান ভাঙানি দিয়ে ও মিথ্যা রটিয়ে তার চলাফেরায় অদৃশ্য এক দেয়াল তুলে দিল। কোনো পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে শৈলী একটু সাজগোজ করে বের হতে গেলেও তার ভাইয়েরা কড়া চোখে তাকাত, বিনা কারণে বাধা দিত।

কিন্তু এসব সংকীর্ণতা আর মানসিক নির্যাতন শৈলীকে দমাতে পারেনি। বরং এই প্রতিকূলতাগুলো তাকে ভেতর থেকে ইস্পাতের মতো শক্ত করে তুলেছিল। ভীরু নবম শ্রেণির সেই মেয়েটি ধীরে ধীরে এক সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী নারীতে রূপান্তরিত হচ্ছিল। ওদিকে রবিনও দিন দিন হয়ে উঠছিল আরও পরিণত, আরও দায়িত্বশীল।

চারপাশের সমস্ত বাধা, ভয় আর পারিবারিক চাপের দমবন্ধ করা পরিবেশের মাঝেও তারা নিজেদের জন্য ঠিকই এক চিলতে ভালোবাসার আকাশ বের করে নিত। কখনো দূর থেকে এক ঝলক দেখা, কখনো কোনো উৎসবের ভিড়ে হঠাৎ চোখাচোখি, কিংবা মৃদু একটু মুচকি হাসি—এই ছোট ছোট অবাধ্য মুহূর্তগুলোই ডানা মেলে তাদের ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখছিল, এক বুক আশা নিয়ে আগামী দিনের সুন্দর সকালের অপেক্ষায়।

গল্প চলমান... (পর্ব ১০ প্রস্তুত হচ্ছে )</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/252281/</link>
				<pubDate>Thu, 28 May 2026 10:07:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী&#8221;</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; পর্ব নয় : ( কলেজের কোন্দল )<br />
শৈলী তখন নবম শ্রেণির কিশোরী, আর রবিন সদ্য কলেজে পা রাখা ইন্টারমিডিয়েটের প্রথম বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার ক্রমবর্ধমান চাপ, দুটো ভিন্ন ক্যাম্পাস—সবকিছুর ব্যস্ততার মাঝেও তাদের ভালোবাসার নদীটি নীরবে, অবাধ্য গতিতে আপন মোহনায় ছুটে চলছিল। সময় তার নিজস্ব নিয়মে বয়ে যাচ্ছিল ঠিকই, কিন্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-252281"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/252281/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8907ac31d876ac27c9754bccc0394200</guid>
				<title>“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”

&#x270d;&#xfe0f; পর্ব আট: ( খলনায়কের আগমন ও নিটোল প্রেমের শপথ ) 

হ্যাঁ, সেই ‘শপথের’ কথা কেন তুলতে হলো, এবার তবে সেটাই বলা যাক। রবিন আর শৈলীর এই নিটোল, নিষ্পাপ প্রেমের মাঝে হঠাৎ করেই এক খলচরিত্রের কালো ছায়া এসে পড়ল। লোকটার নাম ‘হাঞ্জা’। সে ছিল শৈলীর প্রাইভেট টিউটর। তথাকথিত ‘শিক্ষক’ হওয়ার সুবাদে শৈলীদের পুরো পরিবারকে সে নিজের আঙুল দিয়ে নাচাত; বাড়ির সবাই তাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করত। কোনো এক গোপন সূত্রে এই হাঞ্জা তাদের প্রেমের কথা জেনে যায়। আর জানা মাত্রই সে শৈলী এবং তার পুরো পরিবারকে ডেকে রীতিমতো চোটপাট ও হম্বিতম্বি শুরু করে। এলাকার মানুষ তাকে ভদ্র ও শিক্ষিত ছেলে হিসেবেই জানত, তাই তার মুখের কথাই সবার কাছে ‘বেদবাক্য’ হয়ে উঠল।
রবিন এর আগে হাঞ্জাকে ব্যক্তিগতভাবে কখনো চিনত না। একদিন স্কুলের পাশের বাজারে রবিনকে একা পেয়ে হাঞ্জা ডেকে বলল, “তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিল।”
রবিন অত্যন্ত বিনীতভাবে জবাব দিল, “হুম, বলেন ভাই।” (বয়সে হাঞ্জা রবিনের চেয়ে প্রায় চার-পাঁচ বছরের বড় ছিল)।
কথার শুরুতেই হাঞ্জা এক অদ্ভুত আর তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দিল, “তোমার নিজের প্রতি তোমার কতটুকু বিশ্বাস আছে?”
রবিন বেশ অবাক হয়ে বলল, “মানে? কেন? কী বলতে চাচ্ছেন আপনি ভাই?”
তখন হাঞ্জা সরাসরি আসল কথায় এসে বলল, “তুমি কি একটা মেয়েকে তোমার নিজের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করতে পারো?”
কোন মেয়ে বা কার কথা হচ্ছে—তা রবিন মুখে আনার সুযোগ পাওয়ার আগেই হাঞ্জা তর্জনী উঁচিয়ে হুমকি দেওয়ার সুরে বলে উঠল, “এটা কোনোভাবেই হতে পারে না। আমরা জানি তুমি খুব ভালো ছেলে, ভালোভাবেই চলার চেষ্টা করো। নয়তো সামনে কিন্তু অনেক বড় ঝামেলা হবে। নিজের দিকে খেয়াল রাখিও।” এইটুকু বলেই সে হনহন করে প্রস্থান করল।
সেদিনই হাঞ্জা শৈলীর ভাইদের ডেকে ঘটনাটিতে নুন-মরিচ মাখিয়ে এক কাল্পনিক গল্প ফাঁদে। শৈলীর এক ভাইকে সে পুরোপুরি নিজের কব্জায় নিয়ে নেয়। আর এর ফলেই রবিন ও শৈলীর সহজ-সরল প্রেমটা এক কঠিন বেড়াজালে আটকে যায়। হাঞ্জা যেন চক্রান্তের জাল বুনে তাদের পবিত্র সম্পর্কটাকে গলা টিপে হত্যা করতে চাইল। রবিনের শান্ত জীবনে এটাই ছিল প্রথম কোনো প্রকাশ্য হুমকি।
রবিন তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি ফিরে তার বাড়ির পাশের বন্ধুটির সাথে পুরো বিষয়টি শেয়ার করল। বন্ধুটির শরীরে তখন গরম রক্ত। সে তক্ষুনি ফুঁসে উঠে বলল, “চল, দেখে আসি কার এত বড় সাহস!” সে রাতেই সে রবিনকে সাথে নিয়ে ওই হাঞ্জাদের বাড়িতে গিয়ে চড়াও হলো। তবে হাঞ্জা তখন বাড়িতে ছিল না। তার বাবার আন্তরিক আপ্যায়ন শেষে রবিন ও তার বন্ধু ফিরে এল ঠিকই, কিন্তু সেই রাত থেকেই সম্পর্কের সমীকরণ বদলে গেল। হাঞ্জা তার দলবল নিয়ে সব জায়গায় রবিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান নিতে শুরু করল; সোজা কথায়, সে রবিনকে চোখে চোখে ‘গার্ড’ দেওয়া শুরু করল।
পরদিন রবিন কলেজে গেল। সেখানেও দূর থেকে হাঞ্জা আর তার অনুসারীরা তার ওপর শকুনের মতো নজর রাখছিল। অনেক চিন্তাভাবনা করে রবিন নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজের কয়েকজন প্রভাবশালী বন্ধুকে বিষয়টি খুলে বলল। বন্ধুরা ওর কাঁধে হাত রেখে আশ্বস্ত করে বলল, “তুই একদম চিন্তা করিস না, বাকিটা আমরা দেখছি।”

এদিকে দিন যত যাচ্ছিল, ওদিকে শৈলীও রবিনের ওপর মারাত্মক চটে ছিল। তার মনে ক্ষোভ জমেছিল—আমাদের গোপন প্রেমের বিষয়টি কীভাবে হাঞ্জা জানল? আর রবিন কেন হাঞ্জার সামনে স্বীকার করতে গেল যে সে শৈলীকে ভালোবাসে? (অথচ রবিন কিন্তু কিচ্ছু স্বীকার করেনি, চতুর হাঞ্জা তাকে কোনো কথা বলার সুযোগই দেয়নি!)
সরাসরি কথা বলার উপায় ছিল না, তাই চিঠির কাগজে জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিয়ে দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড রাগারাগি আর ভুল বোঝাবুঝি শুরু হলো। মনে হচ্ছিল, যেন সব বুঝি এখানেই শেষ হয়ে যাবে। দুজনের এই তীব্র অভিমান আর জেদের কারণে একপর্যায়ে সম্পর্কটা পুরোপুরি থমকে যাওয়ার উপক্রম হলো।

এই দীর্ঘ নীরবতা, অসহ্য দূরত্ব আর ভুলের প্রাচীর ভেঙে দিতে শৈলী নিজেই এগিয়ে এল। রবিনের আজও স্পষ্ট মনে আছে—চৈত্রের এক প্রচণ্ড রোদ আর দাবদাহের দুপুরে, স্কুলের টিফিনের ঘণ্টায় বান্ধবী নীরার মাধ্যমে একটি চিঠি এসে পৌঁছাল রবিনের হাতে। দুজনের মধ্যে তৈরি হওয়া ভুলের দূরত্ব কমাতে কাঁপা কাঁপা হাতের চেনা লেখায় শৈলী লিখেছিল:

“প্রিয় রবিন,

জানু আমার।
জানি তুমি খুব কষ্ট পেয়েছ, আর হয়তো আমার প্রতি ভীষণ রাগ করে আছ। লক্ষ্মী সোনা, রাগ করে না। তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম, আর আসলে আমিও এদিক থেকে একা একা সব সহ্য করতে পারছিলাম না, খুব ভয় পেয়েছিলাম। যদি পারো প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি তোমাকেই ভালোবাসি রবিন, এই পৃথিবীতে আমি অন্য কাউকেই ভালোবাসতে পারি না, এমনকি ভাবতেও পারি না। তুমিই আমার শুরু, আর তোমাতেই যেন আমার সব শেষ হয়।
যদি শপথ চাও, এসো আমরা দুজন মিলে ওপরের একজনকে সাক্ষী রেখে শপথ করি।
‘শপথ যদি চাহ...’

ইতি,
তোমার প্রিয়তমা, 
তোমার জান,
শৈলী”

শৈলীর চিঠি কখনো খুব বেশি দীর্ঘ হতো না, এই নিয়ে রবিন মাঝে মাঝে খুব অভিমান করত। আসলে বড় করে লেখার মতো রোমান্টিক উপাদান বা জাগতিক অভিজ্ঞতা তখনও তাদের জীবনে জমেনি। কোনো কামুক অনুভূতি বা শারীরিক স্পর্শের ছোঁয়া তখনও তাদের পবিত্র গায়ে লাগেনি। চিঠির ওই অল্প কটি লাইনেই মিশে ছিল এক মহাসমুদ্রের সমান নিখাদ ভালোবাসা।
________________________________________

গল্পের ( পর্বঃ নয় ) আসছে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/251716/</link>
				<pubDate>Tue, 26 May 2026 09:59:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; পর্ব আট: ( খলনায়কের আগমন ও নিটোল প্রেমের শপথ ) </p>
<p>হ্যাঁ, সেই ‘শপথের’ কথা কেন তুলতে হলো, এবার তবে সেটাই বলা যাক। রবিন আর শৈলীর এই নিটোল, নিষ্পাপ প্রেমের মাঝে হঠাৎ করেই এক খলচরিত্রের কালো ছায়া এসে পড়ল। লোকটার নাম ‘হাঞ্জা’। সে ছিল শৈলীর প্রাইভেট টিউটর। তথাকথিত ‘শিক্ষক’ হওয়ার সুবাদে শৈলীদের পুরো পরিবারকে সে নিজের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-251716"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/251716/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4b8227fa906a301efb31f5d8f7acc4de</guid>
				<title>&quot;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী&quot;

&#x270d;&#xfe0f; পর্ব : সাত (কলেজের দিনগুলো ও কবিতার ছোঁয়া)

স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে রবিন এবার পা রাখল কলেজে। কলেজে যাওয়া-আসার একটাই রাস্তা ছিল, যা শৈলীদের ঘরের ঠিক পাশ ঘেঁষেই চলে গেছে। জীবনের প্রথম প্রেম, নতুন কেনা সাইকেল, আর একদম নতুন কলেজ জীবন—সব মিলিয়ে রবিনের দিনগুলো কাটছিল এক অন্যরকম রোমাঞ্চে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিল, শৈলী যখন বাড়িতে থাকত, সে দূর থেকেই রবিনের যাওয়া-আসা টের পেয়ে যেত। আর সেটা হতো তাদের এক গোপন সংকেতের মাধ্যমে—রবিনের নতুন সাইকেলের মেটালিক বেলের স্পেশাল হার্ডি ‘টিং-টাং’ শব্দে! শৈলীদের বাড়ি পার হওয়ার সময় রবিন ঠিক একবারই বেলটি বাজাত, আর তাতেই শৈলীর মন চঞ্চল হয়ে উঠত।

এভাবেই দিন কাটছিল। কলেজে উঠে রবিন কিছুটা স্বাধীনতা পেয়েছিল। আর এই নতুন সাইকেল আর চেনা বেলের আওয়াজে শৈলীও নিজের হারানো নির্ভরতা ফিরে পাচ্ছিল। তবে একটা সমস্যা তৈরি হলো—শৈলী রয়ে গেল স্কুলে আর রবিন চলে গেল কলেজে, যার ফলে প্রতিদিন চোখে চোখে কথা বলার সুযোগ কমে গেল। দূরত্ব ঘোচাতে তারা আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরে গেল—চিঠি লেখা।

এখন আর দু-এক লাইনের চিরকুট নয়, রীতিমতো এক-দুই পাতার দীর্ঘ চিঠি লেখা হতো। তাও যেন মনের কথা শেষ হতে চাইত না! বান্ধবীদের মাধ্যমে এই চিঠি আদান-প্রদান হতো। তবে শৈলীর জন্য চিঠি পড়াটা ছিল এক মহা যুদ্ধ। সে বাড়িতেও চিঠি পড়তে পারত না, স্কুলেও না। চিঠি পাওয়ার পর দু-তিন দিন ধরে সে মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষায় থাকত। কখনো নির্জন ধানক্ষেতের আড়ালে, আবার কখনো পাশের বাড়ির বান্ধবীর ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে সে রবিনের ভালোবাসার কথাগুলো গো-গ্রাসে পড়ত।

এরই মাঝে রবিন সুযোগ খুঁজতে লাগল কীভাবে শৈলীর আরও কাছাকাছি যাওয়া যায়। সে বছরই সে এলাকার একটি আঞ্চলিক ত্রৈমাসিক পত্রিকা এবং একটি দেয়ালিকা সম্পাদনার দায়িত্ব পেয়ে গেল। শৈলী এবং তার বান্ধবীদের কয়েকজনের আবার লেখার হাত বেশ ভালো ছিল। নব্বইয়ের দশকের সেই সময়ে তরুণদের কাছে লেখালেখি মানেই ছিল কবিতা; গল্প, উপন্যাস বা প্রবন্ধের ধারেকাছে কেউ ঘেঁষত না। সবাই যেন কবি!

পত্রিকার সুবাদে রবিন ও তার বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে লাগল। আর সেই সুযোগেই কোনো কোনো দিন শৈলীর খুব কাছাকাছি হওয়ার বা তার দৃষ্টির সীমানায় আসার সুযোগ মিলত। আরেকটি বড় সুবিধা ছিল, রবিন প্রায় সব অনুষ্ঠানেই উপস্থাপকের দায়িত্বে থাকত। মঞ্চ থেকে রবিন সবসময় নিচের দিকে তাকিয়ে শৈলীকে খুঁজতে না পারলেও, শৈলী দর্শকদের মাঝে বসে তার নিজের মতো করে রবিনের বাচনভঙ্গি আর আপাদমস্তক দেখে তৃপ্তি পেত।

এমনকি স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানেও রবিনের সদা উপস্থিতি ছিল। স্কুলের শিক্ষকদের সাথে বিভিন্ন পর্ব পরিচালনার দায়িত্বে থাকত সে। সবকিছু মিলিয়ে তাদের প্রেম তখন বেশ জমজমাট। সে সময়ে  ‘স্বজন’ ছবির গানটি দুজনেই খুব শুনত। ক্যাসেট প্লেয়ারে যখন বাজত—

“অনেক ভালোবেসে হয়েছি তোমার....।।
শপথ যদি চাও ও তো, শপথ দেব তাই...।।”
তখন মনে হতো এই সুন্দর কথামালা যেন তাদের নিজেদের জীবনের জন্যই লেখা হয়েছে।

(গল্প চলমান )</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/251361/</link>
				<pubDate>Mon, 25 May 2026 16:27:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী&#8221;</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; পর্ব : সাত (কলেজের দিনগুলো ও কবিতার ছোঁয়া)</p>
<p>স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে রবিন এবার পা রাখল কলেজে। কলেজে যাওয়া-আসার একটাই রাস্তা ছিল, যা শৈলীদের ঘরের ঠিক পাশ ঘেঁষেই চলে গেছে। জীবনের প্রথম প্রেম, নতুন কেনা সাইকেল, আর একদম নতুন কলেজ জীবন—সব মিলিয়ে রবিনের দিনগুলো কাটছিল এক অন্যরকম রোমাঞ্চে।</p>
<p>সবচেয়ে মজার ব্যাপার ছিল, শৈলী যখন বা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-251361"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/251361/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">eaaf4a142a9f770f4a2ffa3230527f53</guid>
				<title>Alock and তাজুল ইসলাম তপু are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/250720/</link>
				<pubDate>Sat, 23 May 2026 16:20:05 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1b8b6a478e9b34be6abaea5f0a7900ac</guid>
				<title>&quot;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী&quot;   
(পর্ব: ছয়)
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রবিনের জীবনে হুট করেই একটা হালকা শূন্যতা নেমে এলো। এতদিনের চেনা ব্যস্ততা যখন হঠাৎ থেমে যায়, মানুষ তখন নিজের ভেতরের অবদমিত কথাগুলো বেশি শুনতে পায়। রবিনের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হচ্ছিল। শৈলীর কথা সে কিছুতেই ভুলতে পারেনি। চেষ্টা যে করেনি তা নয়, কিন্তু কিছু অনুভূতি মন থেকে চাইলেই মুছে ফেলা যায় না—তাও আবার যদি হয় জীবনের প্রথম প্রেম! সেই অনুভূতির শিকড় এত গভীরে ছিল যে, তা সহজে উপড়ে ফেলার মতো নয়।

অন্যদিকে শৈলীও নিজের মতো করে দিন কাটাচ্ছিল। বাইরে থেকে তাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে হলেও, তার মনের কোথাও একটা বড়সড় অপূর্ণতা আর চাপা দীর্ঘশ্বাস রয়ে গিয়েছিল।

অবশেষে এলো সেই বহুল প্রতীক্ষিত দিন—এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন। সকাল থেকেই স্কুলের সামনে উপচে পড়া ভিড়। চারদিকে এক তীব্র উত্তেজনা; কেউ চিন্তিত, কেউ আনন্দিত, কেউ বা ফলাফল জানার অপেক্ষায় ছটফট করছে। রবিনও সেই ভিড়ে সামিল হয়েছিল, তবে তার মনে শুধু নিজের রেজাল্ট জানার আগ্রহ ছিল না, বরং অবচেতন মনে কাজ করছিল অন্য এক অদৃশ্য প্রত্যাশা।

হঠাৎ ভিড়ের মাঝেই রবিনের চোখ আটকে গেল—শৈলী!

অনেকদিন পর, ঠিক একই জায়গায় আবার তাদের দেখা। দুজনেই কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইল। চারপাশের কোলাহল যেন মুহূর্তের জন্য থমকে গেল, সময় থমকে গেল কয়েক সেকেন্ডের জন্য।

নীরবতা ভেঙে প্রথমে শৈলীই এগিয়ে এলো। মুখে চেনা দুষ্টুমির হাসি ফুটিয়ে বলল, “রেজাল্ট কেমন হলো, জনাব?”

রবিন হালকা হেসে উত্তর দিল, “ভালো… আলহামদুলিল্লাহ।”

“তাহলে তো মিষ্টি খাওয়াতে হবে! কবে খাওয়াচ্ছো বলো?” শৈলী বেশ দাবি খাটিয়েই বলল।

“মিষ্টি তো অবশ্যই খাওয়াবো, তবে কীভাবে খাওয়াবো সেটাই ভাবছি। আচ্ছা, আগে নীরার সাথে কথা বলে সব গুছিয়ে নেই, কেমন? তোমার পড়াশোনার কী খবর?”

“ভালো,” শৈলী ছোট করে উত্তর দিল।

এরপর আবার কিছুক্ষণ দুজনের মাঝে নীরবতা নেমে এলো। তবে এই নীরবতা আগের মতো অস্বস্তিকর ছিল না—বরং এর মাঝে জড়িয়ে ছিল এক অদ্ভুত পরিণত অনুভূতি।

রবিন একটু নরম গলায় বলল, “অনেকদিন পর…”

শৈলী আলতো করে মাথা নেড়ে সায় দিল, “হ্যাঁ… অনেকদিন।”

চারপাশে তখনো তুমুল শোরগোল, কিন্তু তাদের দুজনের জন্য যেন পৃথিবীর সব শব্দ ম্লান হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর শৈলী মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কেমন আছো?”

রবিন খানিকটা থমকে গিয়ে বলল, “ভালো থাকার চেষ্টা করি।”

এই সামান্য কয়েকটা শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গভীর অর্থটুকু বুঝতে শৈলীর বিন্দুমাত্র সময় লাগল না। সেও চোখ নামিয়ে হালকা করে বলল, “আমিও…”

এই সংক্ষিপ্ত আর সাধারণ কথোপকথনের মাঝেই তারা দুজন বুঝতে পারল—সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, মনের ভেতরের কিছু অনুভূতি ঠিক আগের মতোই অবিচল থেকে যায়।

হঠাৎ করেই সেখানে নীরা এসে হাজির হলো। তার সেই আগের মতোই প্রাণোচ্ছল আর হাসিখুশি কণ্ঠস্বর, “এই যে! তোদের আবার দেখা হয়ে গেছে দেখছি!”

নীরার উপস্থিতিতে পরিবেশের জমাট বাঁধা ভাবটা নিমেষেই হালকা হয়ে গেল। রবিন সুযোগ বুঝে বলল, “এই নীরা শোন, তোর এই শৈলী মহারানী তো মিষ্টি খেতে চাচ্ছে। তাহলে কাল স্কুলের টিফিন টাইমে তোরা ক্লাসের সবাইকে নিয়ে এই টাকাটা দিয়ে মিষ্টি এনে খেয়ে নিস, কেমন?”

এরপর রবিন একটু ইতস্তত করে শৈলীর চোখের দিকে তাকাল। কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে বলল, “আমরা কি আবার… নতুন করে বন্ধু হিসেবে শুরু করতে পারি?”

শৈলী কিছুক্ষণ চুপ করে রইল, যেন মনে মনে কিছু ভাবল। তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বলল, “হয়তো… তবে এবার একটু বুঝে-শুনে, জনাব।”

এই ছোট একটা “হয়তো” শব্দের মাঝেই লুকিয়ে ছিল তাদের জীবনের এক নতুন বসন্তের ইঙ্গিত।

(গল্প চলমান থাকবে...)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/250704/</link>
				<pubDate>Sat, 23 May 2026 15:40:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> &#8220;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী&#8221;<br />
(পর্ব: ছয়)<br />
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রবিনের জীবনে হুট করেই একটা হালকা শূন্যতা নেমে এলো। এতদিনের চেনা ব্যস্ততা যখন হঠাৎ থেমে যায়, মানুষ তখন নিজের ভেতরের অবদমিত কথাগুলো বেশি শুনতে পায়। রবিনের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হচ্ছিল। শৈলীর কথা সে কিছুতেই ভুলতে পারেনি। চেষ্টা যে করেনি তা নয়, কিন্তু কিছু অনুভূতি মন থেকে চাইলেই মুছে ফেল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-250704"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/250704/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a97b713d3e6256baee21ffb63111e97b</guid>
				<title>শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী
&#x270d;&#xfe0f; (পঞ্চম পর্ব)
কিছুদিন পরেই রবিনের এস.এস.সি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। পরীক্ষার ঠিক আগের দিন বিকেলে রবিন তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শৈলীদের বাড়ি গেল—উদ্দেশ্য পরীক্ষার জন্য বড়দের দোয়া নেওয়া। তবে মনের গহীনে উদ্দেশ্য যে অন্য কিছু ছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না; এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের মতোই অনেকটা! শৈলীদের বাড়ি যাওয়ার অবশ্য আরও একটি সহজ উছিলা ছিল—রবিনের সেই বন্ধুটি ছিল শৈলীদের দূর সম্পর্কের আত্মীয়। আর এদিকে রবিন ও শৈলীর এই নতুন প্রেমের সূচনা তখন পর্যন্ত শৈলীর মা আর বড় বোন ছাড়া পরিবারের অন্য কেউ, বিশেষ করে তার ভাইয়েরা জানত না।

ঠিক সেই পড়ন্ত বিকেলে শৈলীও স্কুল থেকে বাড়ি ফিরল। রবিন যখন তার মায়ের সাথে কথা বলছিল, তখন বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যার উপক্রম। এমন সময় শৈলী কোনো কথা না বলে একদম চুপচাপ ঘরের দরজার পাশে, বাইরের উঠোনে কুমড়ো আর শসার বীজ রোপণ করতে এলো। নিভৃতে কাজ শেষ করে সে আবার নীরবেই ঘরে চলে গেল।

মিনিট তিনেক পর তার মা ঘর থেকে ডেকে বললেন, “কিরে শৈলী! তুই রবিনদের সালাম করবি না? শুভ কাজের আগে বড়দের সালাম করে দোয়া নিতে হয়।”

মায়ের কথা শেষ হতে না হতেই শৈলী ঘর থেকে প্রায় দৌড়ে এলো। আচমকা রবিনের পা ছুঁয়ে কদমবুসি করেই আবার এক দৌড়ে ভেতরের ঘরে নিখোঁজ! আকস্মিক এই কাণ্ড দেখে রবিন ভীষণ ইতস্তত বোধ করতে লাগল। তার এই অপ্রস্তুত অবস্থা দেখে শৈলীর মা এবং বড় বোন হেসেই ফেললেন। তারা বলেই বসলেন, “কেউ সালাম করলে তার মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করতে হয়, রবিন।”

সত্যি বলতে, এভাবে হঠাৎ কেউ কদমবুসি করলে কী করতে হয় বা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে হয়, তা রবিনের একদমই জানা ছিল না। তাছাড়া সবার সামনে আমতা আমতা করতে গিয়ে যদি তাদের এই নতুন সম্পর্কের কথা প্রকাশ পেয়ে যায়—সেই ভয়ে তার বুক দুরুদুরু করছিল। অবশেষে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে যে যার বাড়ি ফিরে এলো। এবার সব ভাবনার ইতি টেনে শুধু পড়ার টেবিলে বসার পালা, কারণ পরদিনই জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা।

চারদিকে তখন পরীক্ষার তীব্র চাপ—বই, খাতা আর রাত জেগে চূড়ান্ত প্রস্তুতির ব্যস্ততা। ক্লাসের টপ ছাত্র হওয়ায় রবিনের ওপর সবার প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বী। তবে এত ব্যস্ততা আর পড়ার চাপের মাঝেও, তার মনের একটা বড় অংশ জুড়ে সারাক্ষণ মায়াবী এক আলোড়ন তুলে যাচ্ছিল শৈলী এবং সেই কদমবুসি করার চঞ্চল দৃশ্যটি।

মাঝে মাঝে বইয়ের পাতা খুললেই চোখের সামনে ভেসে উঠত সেই আমগাছটার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শৈলীর মুখ। তার সেই বিদায়বেলার শেষ চাহনি—যে চাহনিতে লুকিয়ে ছিল না-বলা হাজারো আকুলতা।

রবিন নিজের অবুঝ মনকে বোঝানোর চেষ্টা করত—

“এখন নয়, আগে পরীক্ষা ভালো করে দিতে হবে। সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে।”

তবুও মন কি আর সবসময় সব যুক্তি মানতে চায়?

অন্যদিকে, শৈলীও কিন্তু দূর থেকে চুপচাপ রবিনের খবর রাখত। সরাসরি কথা বলার সুযোগ না থাকলেও, তাদের কমন বন্ধু নীরার মাধ্যমে সে প্রায়ই খোঁজ নিত—

“রবিন কেমন পড়াশোনা করছে?”

“ও ঠিকঠাক আছে তো?”

অবশেষে এলো সেই পরীক্ষার প্রথম দিন। পরীক্ষার হলের গেটে ঢোকার মুহূর্তে হঠাৎ করেই দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেল। ভিড়ের মাঝে কোনো কথা হলো না ঠিকই, তবে শৈলী খুব মৃদু ঠোঁট নাড়িয়ে আস্তে করে বলল, “ভালো করে পরীক্ষা দিও।”

রবিনও প্রত্যুত্তরে আলতো মাথা নেড়ে একটা মৃদু হাসি উপহার দিল। এই যৎসামান্য শুভকামনাটুকুই যেন রবিনের ভেতরে এক অদ্ভুত শক্তির জোগান দিল।

প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ হতেই একঝাঁক বন্ধুবান্ধবসহ রবিনের সাইকেলের বহরটি এসে থামল শৈলীদের বাড়ির নিচে। শৈলীর মা যেন আগে থেকেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। রবিনকে দেখেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন পরীক্ষা কেমন হয়েছে।

সেই সুবর্ণ সুযোগটা হাতছাড়া না করে রবিন কথা বলতে বলতে একেবারে তাদের মূল ঘরে গিয়ে প্রবেশ করল। তার সাথে সেই পরীক্ষার্থী বন্ধুটিও ছিল। তখন শৈলীর ভাই ঘরে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল, সেও এবার এস.এস.সি পরীক্ষা দিচ্ছিল। শৈলীর বড় বোন আর মায়ের আন্তরিক জবরদস্তিতে রবিন আর তার বন্ধুটিকেও সেদিন তার ভাইয়ের সাথে খেতে বসতে হলো।

এদিকে শৈলী তখন পাশের রুমে শুয়ে শুয়ে সব খেয়াল করছিল। হয়তো একফালি জানালার পর্দার আড়াল থেকে চাতক পাখির মতো দেখছিল তার প্রিয় মুখটি। খাওয়া-দাওয়া শেষে রবিনরা বিদায় নিয়ে বাড়ির পথ ধরল।

দিন গড়াতে লাগল, আর এক এক করে সবগুলো পরীক্ষাই শেষ হয়ে এলো। পরীক্ষার চাপ কমার সাথে সাথে রবিনের মনের ভেতরের শূন্যতাটা যেন আরও ঘনীভূত হতে শুরু করল।

শেষ পরীক্ষার দিন, হল থেকে বের হয়ে রবিন বেশ কিছুক্ষণ স্কুলের চেনা গেটটার সামনে দাঁড়িয়ে রইল। তার মন অবচেতনভাবেই আশা করছিল—আজ অন্তত শেষবারের মতো একটা দেখা হবে। কিন্তু না, সেদিন শৈলী আসেনি।

বুকের ভেতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে রবিন একা একাই বাড়ির পথ ধরল। সে জানত না—তাদের মাঝের এই সাময়িক দূরত্বটা কি কেবলই সময়ের খেলা, নাকি এটাই তাদের অসমাপ্ত গল্পের কোনো নতুন রোমাঞ্চকর মোড় !

(গল্প চলমান থাকবে...)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/249612/</link>
				<pubDate>Wed, 20 May 2026 07:24:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী<br />
&#x270d;&#xfe0f; (পঞ্চম পর্ব)<br />
কিছুদিন পরেই রবিনের এস.এস.সি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। পরীক্ষার ঠিক আগের দিন বিকেলে রবিন তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শৈলীদের বাড়ি গেল—উদ্দেশ্য পরীক্ষার জন্য বড়দের দোয়া নেওয়া। তবে মনের গহীনে উদ্দেশ্য যে অন্য কিছু ছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না; এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের মতোই অনেকটা! শৈলীদের বাড়ি যাওয়ার অবশ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-249612"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/249612/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5c20fab6a7a23e80d2a7d01e60cdd463</guid>
				<title>&quot;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী &quot;
&#x270d;&#xfe0f; চার 
দিনগুলো সুন্দরভাবেই কেটে যাচ্ছিল। ছোট ছোট মুহূর্তে ভরে উঠছিল তাদের ভালোবাসা—কখনো চোখের ইশারা, কখনো লুকিয়ে দেখা, কখনোবা নীরার মাধ্যমে আদান-প্রদান হওয়া দু-এক লাইনের চিঠি।
কিন্তু সব প্রেমের মতো, তাদের প্রেমেও ধীরে ধীরে আসতে শুরু করল কিছু অদৃশ্য বাধা।
একদিন ক্লাসের ভেতরে ফিসফাস শুরু হলো। রবিনের বাড়িতে তার বোনেরা চিঠিগুলো দেখে যেন তাদের ব্যাপারটা টের পেয়ে গেছে। সেই খবর দুজনের গার্জিয়ানের কাছেই প্রকাশ হয়ে গেল। প্রথমে ছোট ছোট কথাবার্তা, তারপর ধীরে ধীরে সেটা ছড়িয়ে পড়তে লাগল।
“রবিন আর শৈলী নাকি...”
এই কথাগুলো কানে আসতেই শৈলী ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ে যায়। সে আগের মতো আর বারান্দায় দাঁড়াত না, চোখ তুলে তাকাত না। সবকিছু এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিল।
রবিন বিষয়টা বুঝতে পারছিল, কিন্তু কিছু করার উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না। একদিকে তার নিজের অনুভূতি, অন্যদিকে শৈলীর অস্বস্তি—দুটোর মাঝখানে সে আটকে গেল।
একদিন টিফিনের সময়, অনেক কষ্ট করে নীরার মাধ্যমে শৈলীকে বার্তা পাঠায়—
“একবার দেখা করো, খুব দরকার।”
স্কুল ছুটির পর, অনেক দ্বিধা নিয়ে শৈলী আগের সেই আমগাছটার নিচে আসে। তবে আজকের সে আগের মতো নয়—চোখে ভয়, মুখে দ্বিধা।
রবিন শান্ত গলায় বলে, “তুমি আমাকে এড়িয়ে চলছো কেন?”
শৈলী কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে, “সবাই জেনে যাচ্ছে... আমি ভয় পাচ্ছি।”
“ভয় কিসের?” — রবিন জিজ্ঞেস করে।
“বাড়িতে জানলে সমস্যা হবে... স্কুলেও...” — তার গলা কেঁপে ওঠে।
কিছুক্ষণ নীরবতা নেমে আসে।
রবিন ধীরে বলে, “তাহলে তুমি কি চাও... আমরা আর কথা বলবো না?”
এই প্রশ্নে শৈলী এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়। তার চোখ ভিজে ওঠে, কিন্তু সে নিজেকে সামলে নেয়।
“আমি এটা চাই না... কিন্তু এখন সবকিছু আগের মতো রাখা কঠিন।”
এই কথাগুলো শুনে রবিনের ভেতরে একটা চাপা কষ্ট জমে ওঠে। তবুও সে বুঝতে চেষ্টা করে।
“ঠিক আছে,” — সে ধীরে বলে,
“যদি তোমার ভালো থাকার জন্য দূরে থাকতে হয়... আমি থাকবো।”
শৈলী কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। শুধু একবার তাকায়—সেই চাহনিতে ছিল কৃতজ্ঞতা, কষ্ট, আর না বলা অনেক কথা।
সেদিন তারা আলাদা হয়ে যায়—
কেউ কোনো প্রতিশ্রুতি দেয় না, কিন্তু দুজনের মনেই থেকে যায় এক অসমাপ্ত গল্পের ভার।

লেখক-রনতান ত্রুত্তি 
 ৫মে, ২০২৬
গল্প চলমান থাকবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248932/</link>
				<pubDate>Mon, 18 May 2026 10:28:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী &#8221;<br />
&#x270d;&#xfe0f; চার<br />
দিনগুলো সুন্দরভাবেই কেটে যাচ্ছিল। ছোট ছোট মুহূর্তে ভরে উঠছিল তাদের ভালোবাসা—কখনো চোখের ইশারা, কখনো লুকিয়ে দেখা, কখনোবা নীরার মাধ্যমে আদান-প্রদান হওয়া দু-এক লাইনের চিঠি।<br />
কিন্তু সব প্রেমের মতো, তাদের প্রেমেও ধীরে ধীরে আসতে শুরু করল কিছু অদৃশ্য বাধা।<br />
একদিন ক্লাসের ভেতরে ফিসফাস শুরু হলো। রবিনের বাড়িতে তা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-248932"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/248932/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2e5e95ed5abf04c28b7174ed037160c9</guid>
				<title>&quot;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী&quot;
&#x270d;&#xfe0f; তিন
চিঠির পর থেকে তাদের সম্পর্ক যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা পড়ে গেল। কথার চেয়ে বেশি কথা বলত তাদের চোখ—লাজুক, নীরব, কিন্তু গভীর, যেখানে না বলা অনুভূতিগুলো খুব সহজেই একে অপরকে ছুঁয়ে যেত।
পরদিন স্কুলে গিয়ে রবিনের মনটা অদ্ভুতভাবে অস্থির ছিল। বারবার নিজের অজান্তেই সে ভাবছিল—শৈলী কি চিঠির উত্তর দেবে? নাকি সবকিছু আগের মতোই নীরবতায় থেমে যাবে? এই অজানা অপেক্ষা তাকে ভেতর থেকে অস্থির করে তুলছিল। সে বারবার বারান্দার দিকে তাকাচ্ছিল, যদি একবার তাকে দেখা যায়।
অবশেষে টিফিনের সময়, দূর থেকে শৈলীকে দেখা গেল। সে তার বান্ধবীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল, হালকা হাসাহাসির ভেতরে নিজের মতো করে মিশে আছে। ঠিক তখনই হঠাৎ এক মুহূর্তের জন্য তাদের চোখে চোখ পড়ে গেল। সময় যেন থেমে গেল কয়েক সেকেন্ডের জন্য। শৈলী হালকা করে হাসলো—একটা ছোট্ট, লাজুক হাসি, যেখানে অনেক কিছু লুকানো ছিল।
এই ছোট্ট হাসিটুকুই রবিনের কাছে উত্তর হয়ে গেল। কোনো শব্দ লাগেনি, কোনো ব্যাখ্যা দরকার হয়নি—সবকিছু যেন চোখের ভাষাতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।
সেদিনই নীরার মাধ্যমে আরেকটি ছোট্ট বার্তা আসে—
“আজ স্কুল শেষে একটু থাকবা?”
রবিনের বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে যায়। সেই কয়েকটা শব্দই তার পুরো দিনটাকে বদলে দেয়। সময় যেন আর কাটতেই চাইছিল না, প্রতিটি ক্লাস শেষ হওয়া মনে হচ্ছিল এক একটা দীর্ঘ অপেক্ষা।
স্কুল ছুটির পর, সবাই যখন একে একে চলে যাচ্ছিল, রবিন নির্ধারিত জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল—স্কুলের পেছনের সেই পুরোনো আমগাছটার নিচে। চারপাশ ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছিল, শুধু তার ভেতরের উত্তেজনা আর অপেক্ষা বাড়ছিল।
কিছুক্ষণ পর শৈলী ধীরে ধীরে সেখানে এসে দাঁড়ায়। তার চোখ নিচের দিকে, হাত দুটো জড়ানো—স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল সে ভীষণ নার্ভাস। বাতাসের মধ্যে একটা অদ্ভুত নীরবতা যেন তাদের ঘিরে ধরেছিল।
রবিন নরম গলায় বলে, “তুমি... আমার চিঠিটা পড়েছো?”
শৈলী মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়, কিন্তু কিছু বলে না। তার নীরবতা যেন শব্দের চেয়েও বেশি ভারী ছিল।
“তাহলে... কিছু বলবে না?” — রবিন একটু সাহস করে আবার জিজ্ঞেস করে।
শৈলী খুব আস্তে বলে, “সব কথা কি মুখে বলতে হয়?”
এই একটুকু বাক্যই যেন হাজারো কথার চেয়েও বেশি ছিল। সেখানে ছিল লজ্জা, অনুভূতি, আর এক ধরনের নীরব স্বীকৃতি—যা শব্দ দিয়ে বোঝানো যেত না।
রবিন হালকা হেসে বলে, “তাহলে আমি কি ধরে নেবো...?”
শৈলী এবার মুখ তুলে একবার তাকায়, তারপর আবার চোখ নামিয়ে ফেলে—
এই ছোট্ট চাহনিতেই উত্তরটা স্পষ্ট হয়ে যায়।
সেদিন থেকে শুরু হয় তাদের নতুন এক পথচলা—
লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করা, বারান্দায় চোখে চোখ রাখা, আর নীরার মাধ্যমে ছোট ছোট বার্তা আদান-প্রদান।
তাদের ভালোবাসা ছিল খুব সরল, খুব নির্ভেজাল—কোনো বড় প্রতিশ্রুতি নয়, শুধু একে অপরকে দেখলেই মনে হতো দিনটা পূর্ণ হয়ে গেছে, আর বাকিটা পৃথিবী তখন আর ততটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হতো না।
লেখক-রনতান ত্রুত্তি 
২৭ এপ্রিল, ২০২৬
গল্প চলমান থাকবে...... See less</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248744/</link>
				<pubDate>Mon, 18 May 2026 05:03:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী&#8221;<br />
&#x270d;&#xfe0f; তিন<br />
চিঠির পর থেকে তাদের সম্পর্ক যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা পড়ে গেল। কথার চেয়ে বেশি কথা বলত তাদের চোখ—লাজুক, নীরব, কিন্তু গভীর, যেখানে না বলা অনুভূতিগুলো খুব সহজেই একে অপরকে ছুঁয়ে যেত।<br />
পরদিন স্কুলে গিয়ে রবিনের মনটা অদ্ভুতভাবে অস্থির ছিল। বারবার নিজের অজান্তেই সে ভাবছিল—শৈলী কি চিঠির উত্তর দেবে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-248744"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/248744/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d9a4b04580cff6e2254ba0c26be75b74</guid>
				<title>শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী
&#x270d;&#xfe0f; দুই
প্রেমের প্রথম প্রকাশ হিসেবে, পরদিন সকালেই নীরার মাধ্যমে শৈলীর কাছে একটি চিঠি পৌঁছে যায়।
চিঠিটা ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু কথাগুলো ছিল গভীর অনুভূতিতে ভরা—
“প্রিয় শৈলী,
গতকালের ঘটনাটা হয়তো খুব সাধারণ একটা দুর্ঘটনা ছিল, কিন্তু আমার জন্য সেটা একেবারেই সাধারণ নয়।
তোমার সাথে হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনার পর থেকে কেন জানি বারবার সেই মুহূর্তটাই মনে পড়ছে। তোমার চোখের সেই লাজুক চাহনি, আর নীরবতা—সবকিছুই যেন আমাকে অদ্ভুতভাবে ছুঁয়ে গেছে।
আমি জানি না এটা কী অনুভূতি, তবে মনে হচ্ছে তোমাকে না দেখে আর থাকতে পারবো না।
যদি আমার এই কথাগুলো তোমার কাছে অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়, তাহলে ক্ষমা করে দিও।
আর যদি তোমার মনেও আমার জন্য সামান্য কোনো অনুভূতি থাকে, তাহলে একবার জানাবে।
– রবিন”
চিঠিটা হাতে নিয়ে শৈলী কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে থাকে। তার চোখে-মুখে লাজুক হাসি, বুকের ভেতর এক অচেনা কাঁপুনি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। যেন শব্দহীন কোনো স্বীকারোক্তি তাকে ঘিরে ফেলেছে।
নীরা পাশ থেকে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলে, “কী রে, কিছু বলবি না?”
শৈলী মৃদু হেসে নিচু স্বরে বলে, “কি বলবো? যা মনে ছিল, সে তো আগেই বুঝে ফেলেছে…”
সেদিন স্কুলের বারান্দায় আবার তাদের দেখা হয়। কোনো কথা হয়নি, কিন্তু চোখের ভাষায় অনেক কিছুই বলে দেওয়া হয়েছিল। এক পলকের দৃষ্টি, আবার চোখ নামিয়ে নেওয়া—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোতেই যেন লুকিয়ে ছিল তাদের অজানা অনুভূতির গল্প।
সেই নীরবতাতেই শুরু হয়েছিল তাদের ছোট্ট এক ভালোবাসার গল্প।
লেখক-রনতান ত্রুত্তি 
২৪এপ্রিল, ২০২৬
গল্প চলমান থাকবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248402/</link>
				<pubDate>Sun, 17 May 2026 03:56:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী<br />
&#x270d;&#xfe0f; দুই<br />
প্রেমের প্রথম প্রকাশ হিসেবে, পরদিন সকালেই নীরার মাধ্যমে শৈলীর কাছে একটি চিঠি পৌঁছে যায়।<br />
চিঠিটা ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু কথাগুলো ছিল গভীর অনুভূতিতে ভরা—<br />
“প্রিয় শৈলী,<br />
গতকালের ঘটনাটা হয়তো খুব সাধারণ একটা দুর্ঘটনা ছিল, কিন্তু আমার জন্য সেটা একেবারেই সাধারণ নয়।<br />
তোমার সাথে হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনার পর থেকে কেন জানি বারবা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-248402"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/248402/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1aa24b0d0d2d545955fcdf90b873f670</guid>
				<title>Alock changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248160/</link>
				<pubDate>Sat, 16 May 2026 07:19:51 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5af4cdec77dc9053592d11f74a6af832</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248159/</link>
				<pubDate>Sat, 16 May 2026 07:18:24 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e06490c9c8667157f9458761f8feb0bd</guid>
				<title>&quot;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী&quot;
&#x270d;&#xfe0f;এক
বরাবরের মতো রবিন ও তার এক বন্ধুর সাথে স্কুলের বারান্দা ধরে তার ক্লাসরুম একেবারে স্কুলের শেষের কক্ষের দিকে যাচ্ছিল। এদিকে স্কুল মাঠে তখন স্কুলের আন্তঃজেলা ফুটবল প্রতিযোগিতার প্রাতঃকালীন প্র্যাকটিস চলছিল। হঠাৎ তার এক বন্ধু জোরে লাথি মেরে কাদামাখা ফুটবলটি ছুড়ে দেয়, আর বলটি সোজা রবিনের দিকে এসে পড়ে। 
নিজেকে সেইফ করতে রবিন সামনে থাকা বন্ধুটির সাথে দৌড়াতে চেষ্টা করে, কিন্তু সে আগেই সরে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে অষ্টম শ্রেণির ক্লাসরুম থেকে হঠাৎ একটি মেয়ে দৌড়ে বের হয়ে এসে রবিনের বুকের বাম পাশে সজোরে ধাক্কা লাগে এবং রবিনের বাহুবন্দি হয়ে পড়ে। 
রবিন চোখ খুলে কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। মুহূর্তটা যেন থেমে গিয়েছিল। মেয়েটি তার পরিচিত কেউ নয়—হাফপ্যান্ট আর ফ্রক পরা, একেবারে সরল-সাধারণ কিন্তু খুবই চঞ্চল একটি মেয়ে। সম্ভবত ক্লাসের ভেতরে ক্লাস শুরুর আগে বান্ধবীদের সঙ্গে খেলতে খেলতেই হঠাৎ বাইরে বেরিয়ে এসেছিল।
মেয়েটি দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে লজ্জায় মুখ নিচু করে আবার ক্লাসরুমে ঢুকে যায়। বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন ছেলে-মেয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হালকা হাসাহাসি করে। কেউ কেউ জিজ্ঞেস করে—“তোরা কেউ আঘাত পেয়েছিস?”
বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও, রবিন ভেতরে ভেতরে এক অদ্ভুদ আঘাত পেয়েছিল—শরীরে নয়, অন্য কোথাও। হঠাৎ ঘটে যাওয়া সেই মুহূর্তটা তার মনে এক অচেনা অনুভূতির ঢেউ তুলে দেয়, যার মানে সে নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। আর অল্প দূর থেকে দাঁড়িয়ে থাকা শৈলী, নীরবে সবটা দেখছিল—রবিনের সেই অস্বস্তি, সেই থেমে যাওয়া দৃষ্টি—সবকিছুই।
সেই আঘাতের গভীরতা বোঝার জন্য, সেদিন বিকেলেই শৈলী তার ক্লাসের এক বান্ধবী ফিয়ানাকে নিয়ে রবিনের বাড়ির সামনে থাকা তাদের আরেক বান্ধবী নীরার বাড়িতে আসে।
প্রতিদিনের মতো সেদিনও বিকেলে রবিন ঘুমাচ্ছিল। নীরা এসে ডাক দিয়ে তাকে ওঠায় এবং বলে, “তোমাকে আমার ভাইয়া জরুরি কাজে ডাকছে।”
রবিন নীরাদের বাড়িতে গিয়ে দেখে, তার ভাইয়া নেই। সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, “কিরে নীরা, তোর ভাইয়া কোথায়?”
নীরা একটু মুচকি হেসে বলে, “তোমাকে অন্য একটা কাজে ডেকেছি।”
কিছুক্ষণ পর পাশের রুম থেকে একটি মেয়ে লাজুকভাবে সামনে আসে এবং বলে, “আমাকে চিনেন?”
রবিন একটু থেমে, তাকিয়ে বলে, “চিনি বলতে… আমাদের স্কুলের সবচেয়ে ছোটদের মধ্যে একজন &#039;ফিয়ানা—এই পর্যন্তই।”
ঠিক তখনই শৈলীও পাশের ওই রুম থেকে বেরিয়ে আসে। তাকে দেখে রবিন কিছুটা অবাক ও অপ্রস্তুত হয়ে যায়। “কী রে নীরা, এসব কী?”
নীরা হালকা হাসি দিয়ে বলে, “আসলে কি জানিস, আজকে সকালে স্কুলে যে ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য সরি বলতে এসেছে।” বলে সে বাইরে চলে যায়।
রবিন শান্তভাবে বলে, “ওটা তো হঠাৎই হয়ে গেছে, কারো কোনো দোষ ছিল না। ঠিক আছে, এখন তোমরা বাড়ি চলে যাও।”
এই বলে রবিন বাইরে বেরিয়ে যায়।
দিনটি ছিল ৩১শে মার্চ, রবিবার। 
সেদিন বিকেলেই শৈলীর নীরব চাহনিতে রবিন যেন একটি অজানা অনুভূতির ইঙ্গিত পায়—শব্দহীনভাবে বলা একটি কথা:
“আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি।”
লেখক-রনতান ত্রুত্তি 
১৭ই এপ্রিল, ২০২৬
গল্প চলমান থাকবে......</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/248158/</link>
				<pubDate>Sat, 16 May 2026 07:15:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী&#8221;<br />
&#x270d;&#xfe0f;এক<br />
বরাবরের মতো রবিন ও তার এক বন্ধুর সাথে স্কুলের বারান্দা ধরে তার ক্লাসরুম একেবারে স্কুলের শেষের কক্ষের দিকে যাচ্ছিল। এদিকে স্কুল মাঠে তখন স্কুলের আন্তঃজেলা ফুটবল প্রতিযোগিতার প্রাতঃকালীন প্র্যাকটিস চলছিল। হঠাৎ তার এক বন্ধু জোরে লাথি মেরে কাদামাখা ফুটবলটি ছুড়ে দেয়, আর বলটি সোজা রবিনের দিকে এসে পড়ে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-248158"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/248158/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>