কবিতা

দবির মিয়ার দোপা সংসার

দবির মিয়ার দোপা সংসার

তোমার এল্লে খাপসো প্যাঁচাল লিত্তিদিনই শুনে কান হামার তালি মারে আসে- মনে হয় এল্লে ফালেফুলে দিয়ে দুনের বাইরে চলে যাই- ছবার পাইনে কিচু কবারও পাইনে কিচু একবার কচনু জোলেখার মায়োক হামার কথা শুনে কোদ্দো করসিলো নাকোত মাটি দিয়ে কসলো হামি যদি লোকমানের বেটি হয়্যা থাকি এই খেড়ি ঘর ভাঙ্গে মাটিত পড়লেও আর কমু না কিচু- সেই থেকে কইনে কিচু নাকোত হামি মাটি দিছনু- + কিন্তু হামি না কলেও এখন পাড়ার গিতেনেরা কয় বিবধে মানু... »

পাহাড়ি মদ ও ধানী মরিচ

পাহাড়ি মদ ও ধানী মরিচ

+ ১. বিছানার দুপাশে দুজন মাঝ বরাবর সরু ফোয়ারা এখান থেকেই যাত্রার শুরু পেরিয়ে গেলে কালকূট,আলিপুর দুয়ার দিল্লি বিমানবন্দর পথে যেতে যেতে গোলাকার চাঁদ, পপিক্ষেত পাহাড়ি মদ ও ধানী মরিচ জীভে নুন স্বাদ সুগারের মাত্রায়ও কম-বেশি আছে এখানে কেউ জীবিত নয় সাদা কাফনে মোড়া জোড়া লাশ এখানে কোনো পাখি ডাকছে না নীরব রাত্রি + ২. চন্দ্রিমা ও উষাকালে সিনথেটিক বৃষ্টি জানালায় চৈনিক পর্দা তোমার হাতও আজ মাটি ঘাঁটছে খুঁড়ে নিচ... »

দেওদীন

দেওদীন

১. তোমাকে তুমি বলা যায় তোমাকে তুমি বলা যায় না এক ঝাঁক টিয়া আকাশে ডানা মেলছে ঠা ঘরে সারি সারি বরফের স্তূপ লাল এবং কফি রঙ আকাশের সানুদেশে এখানে একজন বাতাসের ঢেউ এখানে একজন নৌকার ছৈ কেউ কাউকে স্পর্শ করেনি তবু নরম ঠোঁট ছুঁয়েছে নাভিমূল তেত্রিশ কোটি দেবতার ত্রিশূল তোমার চোখে হাওরের গহ্বর, উন্মুক্ত তলোয়ার! হেন মরুভূমির দেশে কেন অকারণ জেগে ওঠো ইট-কাঠ? আমার পাঁজরের অস্থি সকল বিরতিহীন ফিরতিট্রেন? কেন এক নাম... »

খালি আন্দার আর আন্দার

খালি আন্দার আর আন্দার

হামাগোরে জন্যি কি থুয়ে যাচ্চো বার‌্যা খালি হাত আর পাও লিয়ে কদ্দুর আর দৌড়োমু ইংকে খালি হাত লিয়ে তালি বাজালে হামরা তো মানসের কাছে কদি লাত্থিই খামু যেদিক দিয়ে হাঁটপের যামু সেদিকে খালি উষ্টোই খামু + হামাগেরে জন্যি কি থুয়ে যাচ্চো বার‌্যা এনা ভিউও তো থুয়ে যাচ্চো না যেটি এনা করলের আবাদ করে খামু দুডে গরু লিয়ে মই দিমু ধান লাগামু, আলু লাগামু যেডে লিয়ে ট্রাকোত করে কারওয়ান বাজারোত খ্যাপ মার‌্যা আসমু + হামাগোর... »

কৃষ্ণ

কৃষ্ণ

পাতার সবুজ এখনও রয়েছে ছড়িয়ে তুমি এসো রাত্রির দ্বি-প্রহরে ছোট ঘাস এবং তারারা যখন ঘুমিয়ে তোমার চোখে হাজার রাত্রির কুহেলিকা পত্রমঞ্জরি, বৃতি, স্ত্রী কেশর সব যখন ঘুমিয়ে তুমি এসো রাত্রির দ্বি-প্রহরে চেনাজানা লোকালয় ছাড়িয়ে প্রখর আলোর সমুদ্রে তুমি এসো ভোরের মৃদু আলোয় শিউলির না ফোটা কোরক তুমি এসো বর্ষা ও শীতের মধ্যাহ্নে তোমার কৃষ্ণাভ চুলের আড়ালে লুকিয়ে থাকা যত প্রজাপতি ফুল হয়ে ঝরে পড়ছে স্তনের কোমল খাঁজে এ... »

ডায়মন্ড হোটেল

ডায়মন্ড হোটেল

ডায়মন্ড হোটেলের গরম আবহাওয়াতে বসে থাকে দুইজন একজন চা খায় অন্যজন কিছুই খায় না ঘড়ি দ্রুত চলতে থাকে একজনের হৃদস্পন্দন বাড়তে থাকে হাতের আঙুলে কাঁপুনি আরেকটা হাতের দিকে আঙুল আগাতে থাকে এভাবে একসময় দুই হাত মিলিত হয় যেন কতকাল পরে দেখা আঙুলের কানা উপচানো অস্থিরতা দেখে চায়ের কাপ চোখ নামিয়ে নেয় ডায়মন্ড হোটেলের পাশেই একজন কবির বাড়ি পথ দ্রুত শেষ হয়ে আসে সকালের রোদ চশমায় পড়তেই একটা অস্থিরতা ঘিরে ধরে দুজনকে আশি... »

টানাপোড়েন

টানাপোড়েন

বিভিন্নভাবে মেঘের ঢল দেখা শুরু করলে বাজারফেরতা লোক হিসেবে একজন দোকানদারকে তো দেখেই ফেললে একটা জ্যান্ত আনারসকে ঘাড় ধরে ব্যাগে ঢোকাতে! + কিছু যুবককে দেখলে পাহাড়ের গা থেকে মাংস ছাঁটাতে ছাঁটাতে সমতলভূমিতে বিছিয়ে দিলো পাহাড়কে! + চারদিকে ফাঁকা আওয়াজ হচ্ছে হাওয়া তার গলায় দড়ি দিচ্ছে পেটের ভেতর খাই খাই করছে কৃমিগুলো কাঁধে টিউমারের মতো ফলগুলো নিয়ে ঘোরাফেরা করছে বৃদ্ধরা আমরা যাই কই? + আমরা মিছেমিছিই ভাই ভাই ... »

নিঃশব্দে চলে যাওয়া

নিঃশব্দে চলে যাওয়া

  ১. বৃষ্টি পড়ছে সবুজপত্রে ভোরের আলো অকস্মাৎ মাধবীর জেগে ওঠা তোমরা তাকে যে নামেই ডাকো হরিদ্রাভ, পীতাভ, ব্যালেরিনা গাড়িবারান্দায় একটা কালো গুঁইসাপ সরসর চলে যাচ্ছে তুমিও নিঃশব্দে বেলেকান্দায় তোমার পাশের গ্রামেই হারিশ শেখ এখান থেকে ওখানে যেতে কয়েক যুগ সিভিল ড্রেসে পলাতক যোদ্ধারা লেফট-রাইট করতে করতে নিঃশব্দে চলে যাওয়া তুমিও…   ২. কথা বলতে বলতে চোখ বুজে এলো একগুচ্ছ করবীর স্মৃতি কপালে ম্... »

বর্তমানের তুমি

বর্তমানের তুমি

    বহুদিন পর দেখা বেশ শুকিয়ে গেছো চোখটা ফোলা ফোলা শার্টের কাট বদল হয়েছে প্রিয় মানুষের সাথে বহুদিন পর দেখা অনেক কথা বলতে ইচ্ছে করে কেন শেষবার দেখা করতে আসো নি? কেন এতো কাল একবারও খোঁজ নাও নি? কেন আমরা দূরে সরে গেলাম ? কেন কেন ? এতো সব কেনোর  ভিড়ে বর্তমানের তুমি বেশ দূরে ছিটকে পড়লে »

বিশ শতকের গণহত্যা

তুমি গণহত্যার কথা বলছো তার বিচার এখনো হয় নি সারি সারি নরকঙ্কাল আর তাদের মাথার খুলি এলোমেলো পড়ে ছিল কালাপানির স্বচ্ছ জলে জল ক্রমশ রক্তিম হয়ে উঠলো একটা জাতি তার শরীরের সমস্ত রক্ত দিয়ে বানালো স্মৃতিস্তম্ভ এই সব স্মৃতিস্তম্ভ এখন ধ্বংসস্তূপ গবাদি পশুর চারণ ক্ষেত্র- মানুষ আসলে বর্তমানকে ভালোবাসে বর্তমানের মধ্যে দিন কাটাতে চায় অতীত নিয়ে ভাবতে চায় না ভুলে যেতে চায় পুস্তক আর আর্কাইভে রাখা গণহত্যার বীভৎসতা ... »

Skip to toolbar