কবিতা

মানচিত্রফুল

মানচিত্রফুল

সূর্য মরে গেলে নীহারিকার দিকেআঙুলের উপত্যকায়যদি নাঈম ফিরোজতার কবিতার হতো সূর্যোত্থান— আঙুলে আঙুলে সুন্দর তাকিয়ে দেখা যেতো ভোরের ছোট ছোট বাচ্চা সূর্যনামছে নখের নিচে নীচে। দেবদারু আর নীম গাছ—ভালোই লাগতেসে— পাশাপাশি— পাতাগুলা একইরকম— তীক্ষ্ণ চিক্কণ— চিরল ও চামেলী। সূত্র মেনে নিলেএখন কপালে খারাবি আছে— ভারী আইসোটোপের আচ্ছাদনেঢেকে যাবে বৃক্ষবৃন্দ ও সৌরমন্ডলী। গ্যানিমেড অভ ট্রয় [Ganymedes] was the loveli... »

রোমেনা বিলাস

রোমেনা বিলাস

চিচিংফাঁক ফুটপাতটা এ্যাকাএ্যাকা ছিল না, ঝুলন্তশার্টছিল, ছিল জিনস ও গেঞ্জিকোথাওকোথাও ছাতা ছিল, কোথাও নাইমানুষ মানুষের জন্য, প্রাণ প্রাণের জন্য—পলিথিন কুচকানোমুচকানো অশ্বত্থ গাছের নীচেইকটু আগে মানুষের হাত থেকেপতিত হয়েছে, নিজ অস্তিত্ব খুয়েনুয়ে আনমন—মানুষ মানুষের জন্য, প্রাণ প্রাণের জন্য—রেললাইনটা এ্যাকাএ্যাকা শুয়ে আছে, দারুণ রোদঝিকমিক স্লিপার, সাপের ভঙ্গিটিকেট শূণ্য, খোদাহাফেজ ব... »

প্রাণীবিতান

প্রাণীবিতান

১) জিরাফ ডাক কমে গেলে মানুষ দাড়ি কাটে। আফটার শেভ মাখে। চান করে পরিচ্ছন্ন লিফটে ঢুকে যায়। ফ্লোর এর বোতাম টিপে উঠতে উঠতে তার গলা কলারের ওপরে ঢলঢল করে।  ডাক কমে গেলে মানুষের গলা বড় হয়ে যায়। আর জিরাফ ডাকতে পারে না। ফলত ভাষাতত্ত্ববিদ হিসেবে এই এক প্রাণী মুখস্ত থেকে অনেক দূরে সরে পাতা খায়। ফল খায়। অনেক উঁচু থেকে দেখতে পায় নিম্ন-বুনিয়াদি, সয়াতুঁদগাছ গোলাপি মরচে পড়া সেড! গ্লোসি ও বার্নিশ ক... »

চিলমারী সিরিজ

চিলমারী সিরিজ

উপকূলে এখানে দক্ষিণের বাতাস মন ছুঁয়ে যায়, প্রাণ ভরে দেয় বনবিবির পালা। আমাদের ঘিরে বাঘের দেশে পূজা হয়, বনদেবীর আরাধনায় পালন করি ব্রত। জলে জঙ্গলে ডাঙায় স্মরণ করি তাকে, বিপদে আপদে আমাদের হাত ধরে হাঁটে শাজঙ্গলী ভাই। আর একজন কবি চাণক্য বাড়ৈ, বন-দুর্গার নামে কবিতা পড়ি- কবিতা পড়ে আমাদের। আমাদের চোখ জুড়ে থাকে ডোরাকাটা দাগ, শেষ জন্মে স্মৃতি হয় বড়ো মামা। বাঘমামির পাঁচালি আর বড়দার পুথিকুলে জন্মা... »

Photo By: Bruno Ramos Lara | Unsplash

তিনটি কবিতা

ভ্রমণ কক্সবাজারে আগেও এসেছি। আমার এক আর্টিস্ট বন্ধু থাকে কক্সবাজারে। ভিন্ন গ্রহের প্রাণীর নামে নাম। একটার পর একটা হোটেল সমুদ্রের পাড়ে। ওর মারমেড নামে একটা ক্যাফে আছে। আমেরিকা, রাশিয়া, জাপান থেকে প্রচুর পর্যটক আসে। + সস্তা হোটেলের সংখ্যাও অনেক। সারি সারি দোকান, রেস্তোরাঁ। এখানে একটা দারুণ সাজানো বাজার আছে পর্যটকদের জন্য। উঁচু উঁচু আকাশ ছোঁয়া হোটেলের ছড়াছড়ি। দু-এক বছর পরপরই এই জায়গার স্কাই লাইন দ্র... »

Photo By: Eberhard Grossgasteiger | Unsplash

অসামাজিক

বাস আসছে। বাস যাচ্ছে। ঠাসা ঠাসা মানুষ। পোকামাকড়ের মত মানুষ। কেউ কারো দিকে পর্যন্ত তাকাচ্ছে না। + ছাউনির পাশে কোলে বাচ্চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক যুবতী মা। কিছুতেই উঠতে পারছে না বাসে। পুরুষ মানুষদের হুলুস্থুল পেশী-বুহ্যের মধ্যে একটা ছোট্ট দরদী ফাঁক খুঁজে পেতে বারবার ব্যর্থ হয়ে, ধাক্কা ঠেলা, চাপ খেয়ে, শেষে ফিরে এসে দাঁড়িয়ে আছে ছাউনির পাশে; নিরেট মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকা কোন এক ভেজা কাকের মত। মানুষেরা আর ম... »

নিকাবি গফ, গোলাপি খউফ

নিকাবি গফ, গোলাপি খউফ

করোনার দিনে তোর সনে আমার পিরিতি রে নিকাবি আমাগো প্রকাশ্য চুমু, অধর দংশন, চারুকলার ছাদে আমাদের হৈ হৈ রিক্সা, জিলাবি ও ফুচকা, শূন্য গাওসিয়া আমাদের ওল্ড ঢাকা, টাকি মাছের পুরি, লিটনের ফ্ল্যাটে চা আমাকে উদোম দেখে, আমার পেশল বুকে, তোর লেপ্টে যাওয়া তোর বয় ফ্রেইন্ড, বানু, মার্ক্সবাদ করে, ফেসবুক বিপ্লবী তার ধ্বজামার্কা পদ্য দৈনিক একতা ও প্রথম আলো ছাপে তার নামে শুনে, বাঘ ও বকরী কাঁপে, টিএসসিতে! তাঁকে লাল... »

Photo By: Jr Korpa | Unsplash

আমাকে দেখো না কেউ

আমাকে দেখা যায় সামনের বাড়ির জানালা দিয়ে তারে পেটিকোট, পাজামার সাথে ফ্যানের নিচে শুকোচ্ছি নিজেকে ভেজা আধা ভেজা। নিচে যে কুকুরটা, ওকি আমি! কতো গভীর নীরবে সেঁধিয়ে আছি গুটিসুটি একা আর বৃষ্টির বন্যা ভাসিয়ে দিয়েছে যত আবর্জনা তবুও রেলিং ঝুঁকে দেখছে বাড়ির মেয়েরা! যতই লুকাতে চাই নিজেকে ততই কোঠার মত প্রকাশিত হতে থাকি ধীরে ধীরে; আমাকে দেখো না কেউ তোমরা, না, আমাকে দেখো না তোমরা। »

Photo By: Ilya Lix | Unsplash

উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায়

ফড়িং-মেয়ে, ফড়িং-মেয়ে আরো কাছে উড়ে আসো, রাখো পলকা পা’গুলি আমার আঙুল চূড়ায় মোটেও তোমার লেজে সুতা দিয়ে গিট্টু মারবো না + যদি নাকে এসে বসো, দিবো না থাপ্পড় + হেলিকপ্টার হলেও হতে পারো, করবো না গুলি + তোমার পেটের মধ্যে বসে ওম নিতে নিতে দেখবো অনেক উপর থেকে আমাদের গ্রামটাকে + মাঝেমধ্যে ইস্পাতের পেট থেকে নামিয়ে দিবে চঙ + এক পা শূন্যে, আরেক পা তোমার ঝুলন্ত সিঁড়িতে রেখে হাই ইউ হাই ইউ উ উ উ শব্দ করে... »

আমার কাজ

আমার কাজ

আজ সারাদিন হাইওয়ে রোডের উপর দিয়ে বাইক চালিয়ে মশার মতো এলাম, একটা মরা মৌমাছির শুকনো কণ্ঠনালী রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখলাম। + তোমার স্তন দুটাতে কাঠের রুল দিয়ে টোকা মারার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে নিলাম আজ। গ্রামের বৌ-ঝিদের কাঁথাতে ফুল তোলার কাজ দেখে এলাম; পেটকাটা গাছেদের রক্ত চুয়ে পড়া দেখলাম। রক্ততৃষ্ণায় বড় হতে থাকা পাড়ার মাস্তানদেরও দেখা গেল রামদায়ে কুপিয়ে কুপিয়ে ভাগ করছে একটা বাচ্চা পেয়ারাকে... »

Skip to toolbar