Profile Photo

বিষণ্ন সুমনOffline

  • logolabbd
  • ব্যাক টু হেল (ওয়েস্টার্ণ)

    অধ্যায় দুই
    রকীং স্প্রীং ক্রীকের উপর ভোরটা নেমে আসে খুব ধীরে। যেন রাতটা হঠাৎ করে যেতে চায় না। আকাশের রং বদলায়, কিন্তু আলো আসে না। কুয়াশা কেবল জমাট বাঁধে জলের উপর, ঘাসের উপর, কাঠের গুঁড়ির উপর, আর জেসন স্কটের আধা-তৈরি ঘরের চারপাশে। এই কুয়াশা কোনো স্বাভাবিক কুয়াশা নয়; এতে ভেজা মাটির গন্ধের সঙ্গে মানুষের ঘাম আর…Read More

    5
    4 Comments
  • একদিন স্বপ্নের দিন

    রোদটা আজকে বেশ কড়মড়ে। চৈতালী সুর্যটা যেন একটু বেশী মাত্রায় তেতে উঠেছে। মাথার উপরে থাকা হেলানো ছাতার নিচে বসেও ঘামছে মর্জিনা। ফিসফিনে আাঁচল দিয়ে কপালটা মুছে পেটের কাছে লেপ্টে থাকা বাচ্চাটাকে টেনে বুকের কাছে নিয়ে এলো। বুকের কাছে কাপড়টা ক্ষানীক উঁচু করে বাচ্চাটার মুখ ঠেলে দিল ভেতরে। ওর শুষ্ক ঠোঁটজোড়া খোঁজে নিল মায়ের স্তনবৃন্…Read More

    4
    5 Comments
  • চল সবে মিলে করি চিৎকার

    একদিন রাতভর চিৎকার করে যাবো।
    গ্রচন্ড গরমে এলেবেলে গান গেয়ে
    ঘুমহীন রাতটাকে পার করে দেবো।

    রাতের ডাকাত কেড়ে নেয় সম্ভ্রম
    চোখের পাতায় জুড়ে থাকা শান্তির ঘুম
    কিম্বা সফলতায় মোড়ানো পরিশ্রমের অর্জন।

    অঢেল চাহিদার ভীড়ে যতটুকু মেলে
    তার সবটুকু হারিয়ে গেলেও
    ইচ্ছে হলেই গড়ে নেওয়া যায় আবার।
    সম্ভ্রমের ছেড়াফাঁটা তোবড়ানো &#x2…Read More

    6
    7 Comments
  • ব্যাক টু হেল (ওয়েস্টার্ণ)

    অধ্যায়-এক
    রকীং স্প্রীং ক্রীক। এটা এমন কোনো নদী নয়, যাকে মানচিত্রে বড় করে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা সরু জলধারা, বছরের বেশির ভাগ সময় শান্ত, প্রায় নিরীহ। কিন্তু, যারা এই এলাকার প্রকৃতিকে বোঝে, তারা জানে এই ক্রীকের স্বভাব মানুষের মতো। বাইরে শান্ত, ভেতরে গভীর। বর্ষার সময় পাহাড়ের তুষার গলে নামলে স…Read More

    4
    5 Comments
  • হঠাৎ বৃষ্টি
    নিজেকে ভীষন অপরাধী মনে হচ্ছে রাতুলের। এতটা বাড়াবাড়ি করা বোধহয় ঠিক হয়নি। অবশ্য সেইসময় পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছিল, তখন আর নিজেকে ধরে রাখা সম্ভবপর হয়নি ওর পক্ষে। ফলশ্রুতিতে অনেকটা ইচ্ছের বিরুদ্ধেই তাকে রুঢ় হতে হয়েছিল।

    সন্ধ্যা থেকেই আকাশটা গুমোট হয়ে ছিল। অফিস থেকে যখন বাসায় ফিরছিল, তখনি থেমে থেমে মেঘ ডাকছিল।…Read More

    4
    5 Comments
  • একটা বয়সী হাত বড় দরকার

    ইদানীং তিনি হাঁটতে পারেন না।
    আসলে দাঁড়াবার শক্তিটুকুই নেই তার।
    মাঝে মাঝে ঘুনে ধরা লাঠির জোরে
    উঠে দাঁড়াবার প্রয়াস পান।

    বয়সের ভারে ন্যুজ দেহ তার
    কড়মড়িয়ে উঠে
    যেন ভেঙ্গে পড়বে এখুনি।

    আমি স্মিত হেসে তাকে বুড়ো বলে উপহাস করি।
    বলিঃ অযথাই লাফাচ্ছেন বুড়ো মিয়া।
    আপনার তো তিনকাল গিয়ে শেষকালে ঠেকেছে।
    এখন কি আর না দাঁড়াল…Read More

    4
    7 Comments
  • প্রিয়ার চোখে জল
    মানুষটা সুন্দর। অসম্ভব সুন্দর। দেখলেই শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। কি রকম দেবদূতের মত শান্ত সৌম্য চেহারা। এরকম একজন মানুষকে আর কিছুক্ষণ পরেই এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যেতে হবে ভাবতেই কেমন জানি লাগছে। কিন্তু মানুষটার সেটা নিয়ে কোন ভাবনা আছে বলে মনে হচ্ছে না। কাঠের খটখটে চৌঁকিতে কিরকম পরম নিশ্চিন্তে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। যে…Read More

    3
    2 Comments
    • অন্ধকার পেরিয়ে সত্য যখন সামনে এলো, ততক্ষণে সব শেষ। চমৎকার এবং হৃদয়স্পর্শী লেখা।

  • রাত পোহালেই আলো
    (রহস্য কাহিনী)

    ১ম পর্ব
    অফিস থেকে সবে বের হয়েছি। এগিয়ে যাচ্ছি গলির মাথার দিকে। টং দোকান থেকে একটা সিগারেট ধরিয়ে বড় রাস্তার দিকে হেঁটে যাবো। তারপর ওখান থেকে মেইন রোডে যেয়ে বাস ধরে সোজা বাসা।

    আমার অফিস লালমাটিয়া। এদিকে কোন বাস ষ্ট্যান্ড না থাকায় শংকর পর্যন্ত হেঁটে যেতে হয়। সন্ধ্যের এই বেলাটায় গলিটা কিছুটা অন্ধকার থাকে। আশ…Read More

    4
    2 Comments
  • আকাশলীনা

    এক অক্টোপাস হাতে লিখে ফেলি আমার বাগান
    গল্প-কবিতায় সয়লাব ভূতের রোজ নামচা।
    কারো চোখের অভিশাপে পোড়ে শব্দলীলা
    ভয সব মরে হয় আকাশলীনা।

    বৃষ্টির দানা দেখেছ
    চোখ ছাপিয়ে নামে জলবসন্তের মালা গেঁথে।
    ভূতের গলায় বাজে অষ্টব্যাঞ্জনার সুর
    তাতে আকাশ নীল হয়
    বুকের ভেতর ফাঁকা হয়
    লেজ নাড়িয়ে আসে কষ্টের সরীসৃপ
    তোমার অনুভুতির শরীরে তুমি হয়ে যা…Read More

    3
    1 Comment
  • Profile picture of বিষণ্ন সুমন
    3
    2 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “নয়”
    তদন্ত টীম রাফিকে নিয়ে থানায় ফিরে এলো। তাকে দেখেই শিরিনের চোখ-মুখ গেল শুকিয়ে। উল্টোদিকে রাফির চোখে তখন আগুন। তার চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়াটা নজর এড়ালো না শামিম সাহেবের। তাকে নিয়ে তিনি আলাদা একটা ঘরে ঢুকলেন।

    “আপনি বলছেন, লিনাকে আপনি খুন করছেন। তা মোটিভ কি?” সামনে রাখা একটা চেয়ারে বসতে বললেন রাফিকে। নিজে…Read More

    6
    8 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “আট”
    তদন্তকারী অফিসার ভবন মালিকের ড্রাইভারের সাথে কথা বলেন। তার নাম সেলিম। সে জানায়, “সেদিন খুনের আগের সপ্তাহে এক সন্ধ্যায় ছাদে গিয়েছিলাম, সিগারেট খেতে। অন্ধকারে একজন মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। আর তার সঙ্গে একটা লোক ছিল।”

    “লোকটা কে, চিনতে পেরেছো কি?”

    “দেখতে পাইনি স্যার। ছায়া ছায়া। কিন্তু শরীরের কাঠ…Read More

    6
    6 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “সাত”
    পুলিশ এখন শিরিনের ব্যাকগ্রাউন্ডের খোঁজ নিচ্ছে । জানা গেল, সে একসময় পুরনো ঢাকার এক বস্তিতে থাকত। তার ভাই বিভিন্ন ক্রাইমে জড়িত থাকার অভিযোগে জেল কেটেছে। তবে তার মধ্যে কোনটাই খুন ছিল না।

    তবে শিরিন নিজে বছর চারেক আগে এক শিশুর মৃত্যু ঘটনার সময় সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশের ডাকে থানায় গিয়েছিল। যদিও পরে কোন
    প্রমাণ…Read More

    5
    2 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “ছয়”
    ইন্সপেক্টর শামিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটা চৌকষ দল গেল মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে, একটা পুরনো ভাঙাচোরা বাড়িতে। বাড়িটা তিনতলা, আধাপাকা। মানে কাঠামোটা সলিড হলেও, দেওয়ালগুলো টিনের বেড়া দেওয়া। পেছনের দিকটা গলির শেষ মাথায় আটকে আছে। এরপর আর কোন রাস্তা নেই। নিচতলায় এক কোণে ছোট্ট একটা রুম, ওখানেই রাজ…Read More

    5
    6 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “পাঁচ”
    একতলার সিড়ি ঘরের মাঝখানে পাতা চেয়ারগুলোয় গোল হয়ে বসে আছে আইসোটেক টিমের সদস্যরা। তাদের মাঝে চাপা ফিসফাস। পাশেই তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টর শামিম উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে সিড়ির দিকে। কন্সটেবল এসে জানালো শিরিন আজ দুপুরের পরেই বাসায় চলে গেছে।

    শামীম সাহেব এবার নিজেই চলে গেলেন তিন তলায়, বাড়ির ম…Read More

    3
    6 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “চার”
    দুপুর ১১টা ৩০ মিনিট। সবাই একমনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখছে।

    রাফি বেরিয়ে যাবার ঠিক পরপরই একটা অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়লো। দারোয়ান ইউনুস গলির মোড় থেকে ভবনের গেটের দিকে সবে ফিরছে, এমন সময় দেখা গেল একজন লোক খুব সাবধানে গেট দিয়ে ভবনের ভেতরে ঢুকছে। লোকটা মাঝবয়সী। মুখে চাপ দাড়ি। চুল কোকড়া। মুখটা স্পষ্ট বুঝা না গেলেও তার…Read More

    4
    6 Comments
  • Load More Posts
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন

ডিজাইনার

স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।

Skip to toolbar