Profile Photo

বিষণ্ন সুমনOffline

  • logolabbd
  • হঠাৎ বৃষ্টি
    নিজেকে ভীষন অপরাধী মনে হচ্ছে রাতুলের। এতটা বাড়াবাড়ি করা বোধহয় ঠিক হয়নি। অবশ্য সেইসময় পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছিল, তখন আর নিজেকে ধরে রাখা সম্ভবপর হয়নি ওর পক্ষে। ফলশ্রুতিতে অনেকটা ইচ্ছের বিরুদ্ধেই তাকে রুঢ় হতে হয়েছিল।

    সন্ধ্যা থেকেই আকাশটা গুমোট হয়ে ছিল। অফিস থেকে যখন বাসায় ফিরছিল, তখনি থেমে থেমে মেঘ ডাকছিল।…Read More

    4
    5 Comments
  • একটা বয়সী হাত বড় দরকার

    ইদানীং তিনি হাঁটতে পারেন না।
    আসলে দাঁড়াবার শক্তিটুকুই নেই তার।
    মাঝে মাঝে ঘুনে ধরা লাঠির জোরে
    উঠে দাঁড়াবার প্রয়াস পান।

    বয়সের ভারে ন্যুজ দেহ তার
    কড়মড়িয়ে উঠে
    যেন ভেঙ্গে পড়বে এখুনি।

    আমি স্মিত হেসে তাকে বুড়ো বলে উপহাস করি।
    বলিঃ অযথাই লাফাচ্ছেন বুড়ো মিয়া।
    আপনার তো তিনকাল গিয়ে শেষকালে ঠেকেছে।
    এখন কি আর না দাঁড়াল…Read More

    4
    7 Comments
  • প্রিয়ার চোখে জল
    মানুষটা সুন্দর। অসম্ভব সুন্দর। দেখলেই শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। কি রকম দেবদূতের মত শান্ত সৌম্য চেহারা। এরকম একজন মানুষকে আর কিছুক্ষণ পরেই এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যেতে হবে ভাবতেই কেমন জানি লাগছে। কিন্তু মানুষটার সেটা নিয়ে কোন ভাবনা আছে বলে মনে হচ্ছে না। কাঠের খটখটে চৌঁকিতে কিরকম পরম নিশ্চিন্তে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। যে…Read More

    3
    2 Comments
    • অন্ধকার পেরিয়ে সত্য যখন সামনে এলো, ততক্ষণে সব শেষ। চমৎকার এবং হৃদয়স্পর্শী লেখা।

  • রাত পোহালেই আলো
    (রহস্য কাহিনী)

    ১ম পর্ব
    অফিস থেকে সবে বের হয়েছি। এগিয়ে যাচ্ছি গলির মাথার দিকে। টং দোকান থেকে একটা সিগারেট ধরিয়ে বড় রাস্তার দিকে হেঁটে যাবো। তারপর ওখান থেকে মেইন রোডে যেয়ে বাস ধরে সোজা বাসা।

    আমার অফিস লালমাটিয়া। এদিকে কোন বাস ষ্ট্যান্ড না থাকায় শংকর পর্যন্ত হেঁটে যেতে হয়। সন্ধ্যের এই বেলাটায় গলিটা কিছুটা অন্ধকার থাকে। আশ…Read More

    4
    2 Comments
  • আকাশলীনা

    এক অক্টোপাস হাতে লিখে ফেলি আমার বাগান
    গল্প-কবিতায় সয়লাব ভূতের রোজ নামচা।
    কারো চোখের অভিশাপে পোড়ে শব্দলীলা
    ভয সব মরে হয় আকাশলীনা।

    বৃষ্টির দানা দেখেছ
    চোখ ছাপিয়ে নামে জলবসন্তের মালা গেঁথে।
    ভূতের গলায় বাজে অষ্টব্যাঞ্জনার সুর
    তাতে আকাশ নীল হয়
    বুকের ভেতর ফাঁকা হয়
    লেজ নাড়িয়ে আসে কষ্টের সরীসৃপ
    তোমার অনুভুতির শরীরে তুমি হয়ে যা…Read More

    3
    1 Comment
  • Profile picture of বিষণ্ন সুমন
    3
    2 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “নয়”
    তদন্ত টীম রাফিকে নিয়ে থানায় ফিরে এলো। তাকে দেখেই শিরিনের চোখ-মুখ গেল শুকিয়ে। উল্টোদিকে রাফির চোখে তখন আগুন। তার চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়াটা নজর এড়ালো না শামিম সাহেবের। তাকে নিয়ে তিনি আলাদা একটা ঘরে ঢুকলেন।

    “আপনি বলছেন, লিনাকে আপনি খুন করছেন। তা মোটিভ কি?” সামনে রাখা একটা চেয়ারে বসতে বললেন রাফিকে। নিজে…Read More

    6
    8 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “আট”
    তদন্তকারী অফিসার ভবন মালিকের ড্রাইভারের সাথে কথা বলেন। তার নাম সেলিম। সে জানায়, “সেদিন খুনের আগের সপ্তাহে এক সন্ধ্যায় ছাদে গিয়েছিলাম, সিগারেট খেতে। অন্ধকারে একজন মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। আর তার সঙ্গে একটা লোক ছিল।”

    “লোকটা কে, চিনতে পেরেছো কি?”

    “দেখতে পাইনি স্যার। ছায়া ছায়া। কিন্তু শরীরের কাঠ…Read More

    6
    6 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “সাত”
    পুলিশ এখন শিরিনের ব্যাকগ্রাউন্ডের খোঁজ নিচ্ছে । জানা গেল, সে একসময় পুরনো ঢাকার এক বস্তিতে থাকত। তার ভাই বিভিন্ন ক্রাইমে জড়িত থাকার অভিযোগে জেল কেটেছে। তবে তার মধ্যে কোনটাই খুন ছিল না।

    তবে শিরিন নিজে বছর চারেক আগে এক শিশুর মৃত্যু ঘটনার সময় সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশের ডাকে থানায় গিয়েছিল। যদিও পরে কোন
    প্রমাণ…Read More

    5
    2 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “ছয়”
    ইন্সপেক্টর শামিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটা চৌকষ দল গেল মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে, একটা পুরনো ভাঙাচোরা বাড়িতে। বাড়িটা তিনতলা, আধাপাকা। মানে কাঠামোটা সলিড হলেও, দেওয়ালগুলো টিনের বেড়া দেওয়া। পেছনের দিকটা গলির শেষ মাথায় আটকে আছে। এরপর আর কোন রাস্তা নেই। নিচতলায় এক কোণে ছোট্ট একটা রুম, ওখানেই রাজ…Read More

    5
    6 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “পাঁচ”
    একতলার সিড়ি ঘরের মাঝখানে পাতা চেয়ারগুলোয় গোল হয়ে বসে আছে আইসোটেক টিমের সদস্যরা। তাদের মাঝে চাপা ফিসফাস। পাশেই তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টর শামিম উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে সিড়ির দিকে। কন্সটেবল এসে জানালো শিরিন আজ দুপুরের পরেই বাসায় চলে গেছে।

    শামীম সাহেব এবার নিজেই চলে গেলেন তিন তলায়, বাড়ির ম…Read More

    3
    6 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “চার”
    দুপুর ১১টা ৩০ মিনিট। সবাই একমনে সিসিটিভি ফুটেজ দেখছে।

    রাফি বেরিয়ে যাবার ঠিক পরপরই একটা অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়লো। দারোয়ান ইউনুস গলির মোড় থেকে ভবনের গেটের দিকে সবে ফিরছে, এমন সময় দেখা গেল একজন লোক খুব সাবধানে গেট দিয়ে ভবনের ভেতরে ঢুকছে। লোকটা মাঝবয়সী। মুখে চাপ দাড়ি। চুল কোকড়া। মুখটা স্পষ্ট বুঝা না গেলেও তার…Read More

    4
    6 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “তিন”
    রাত হয়ে এসেছে। ঘড়ির কাঁটা প্রায় ৯টা ছুঁই ছুঁই।

    মোহাম্মদপুরের খুন হওয়া বাড়িটায় এক অদ্ভুত নিরবতা বিরাজ করছে।

    একতলার সিড়ি ঘরের মাঝখানে অনেকগুলো চেয়ার পাতা। তার মাঝে বসে আছেন সায়মা রহমান। চারপাশে পুলিশ, তদন্তকারী অফিসার আর আশে-পাশের ফ্লাটের ক’জন প্রতিবেশীও যোগ দিয়েছে ।

    তদন্ত চলছে। ইন্স…Read More

    3
    8 Comments
  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “দুই”
    রাফির ফ্ল্যাটের দরজায় দাঁড়িয়ে পুলিশ। চারপাশ কেমন যেন থমথমে। কোন সাড়া-শব্দ নেই। দুইতলার করিডোরে মোট দুইটা ফ্ল্যাট। অপর পাশের ফ্লাটের দরোজা খোলা। ভেতর থেকে একজন মহিলার কৌতুহলী মুখ উঁকি দিচ্ছে।

    প্যাসেজ জুরে নরম আলো ছড়িয়ে আছে। সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে কৌতূহলী মুখে ২এ ফ্লাটের দিকে তাকিয়ে আছে কিছু মানুষ। তাদের চোখেও…Read More

    3
    4 Comments
    • দুর্দান্ত মনস্তাত্ত্বিক বিল্ড-আপ! সকাল ১০:১৮-র সেই শেষ ফোন কলটাই রাফিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল। তবে থ্রিলারের নিয়ম অনুযায়ী, এত সহজে যাকে খুনি মনে হয়, আসল খুনি হয়তো তার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে। শামীম সাহেব এই জট কীভাবে খোলেন, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি!

    • অনেক সুন্দর রচনা শৈলী

  • আড়ালের ছায়া (ক্রাইম থ্রিলার)

    “এক”
    ঢাকার মোহাম্মদপুরের এক শান্ত নিবিড় গলি। ভেতরের শেষ মাথায় একটা তিনতলা বাড়ি। এরই প্রথম তলায় ছোট্ট একটা ফ্লাটে থাকেন মা সায়মা রহমান আর তার এমাত্র মেয়ে লিনা।

    সায়মা রহমান, হাউজওয়াইফ। বয়স ৪৫ এর কাছাকাছি। স্বামী মারা গেছেন আজ প্রায় সাত বছর। একমাত্র মেয়ে লিনাকে নিয়েই তার ছোট্ট সংসার। তার সকল ব্যস্ততা মেয়ে লিনাকে ঘি…Read More

    4
    4 Comments
  • Profile picture of বিষণ্ন সুমন

    বিষণ্ন সুমন changed their profile picture

    4
    3 Comments
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন

ডিজাইনার

স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।

Skip to toolbar