Profile Photo

মোহাম্মদ শাহজামান শুভOffline

  • Mohammad-Shahzaman
  • ভালো স্বামীর পাঠশালা
    কুমিল্লার তিতাস উপজেলার পূর্ব দিকে বিস্তীর্ণ ধানের খেত, মাঝে মাঝে শিউলি আর কাশবন ভেদ করে চলে যাওয়া সরু মাটির পথ। পাখির ডাক আর সকালের শিশির মিলে এক প্রশান্ত পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। সেই গ্রামের কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে আছে একটি ছোট্ট টিনশেড মসজিদ। মসজিদটি খুব বড় নয়, তবে গ্রামের মানুষের আস্থা আর ভালোবাসায় ভরপুর। এখানেই ইমাম হাফেজ…Read More

    4
    2 Comments
  • চুপ থাকা নয়
    শহরের ভোরের ব্যস্ততা যেন প্রতিদিন একই ছন্দে শুরু হয়। স্কুলগামী বাচ্চাদের হইচই, অফিসগামী মানুষের তাড়াহুড়া, আর ভিড়ভাট্টায় ঠাসা বাসগুলো। গৌতমী তখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। বয়স মাত্র এগারো-বারো। ভোরবেলা বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে প্রতিদিনের মতো বাসে উঠে দাঁড়ায়।
    তার শরীরটা ছোট, তাই ভিড়ে ঠাসা বাসে সে প্রায়শই খুঁজে পায় না…Read More

    5
    2 Comments
  • শেষ জানালার আলো
    ঢাকা শহরের গলিগুলোয় সন্ধ্যার আলো নেমে আসছে। রাস্তায় হালকা যানজট, হর্নের ভিড়, মানুষের ভিড়। তবে সেই কোলাহলের মাঝেও লাবণ্যের মনে যেন এক অদ্ভুত নীরবতা।
    লাবণ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। বাংলায় মাস্টার্স করছে। বয়স বাইশ। ছোট চুল, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, হালকা বাদামি রঙের শাড়ি তার পরিচিত সাজ। চারপাশে সবাই বলে, সে অনেকটা ভিন্ন ধরনের…Read More

    5
    4 Comments
  • কলাগাছের ভেলায় ভেসে
    পশ্চিম লোন্দা গ্রামে ভোর মানেই শুধু সূর্য ওঠা নয়—এ যেন জল আর জীবনের প্রতিদিনের দ্বন্দ্বের নতুন সূচনা। গ্রীষ্ম হোক কিংবা শীত, বাতাসে লবণাক্ততার ধুলো মিশে থাকে, মাটির গন্ধে লেগে থাকে একরকম বিষণ্নতা। গ্রামটিকে ঘিরে আছে নদীর ধূসর জল, আর দূরে, অনেক দূরে, সমুদ্রের গর্জন যেন এক দীর্ঘশ্বাসের মতো শোনা যায়।
    হালিমা আয়শার ঘুম ভাঙল তখনও…Read More

    5
    4 Comments
  • দেয়ালের ভেতরের ঝড়
    পুরান ঢাকার বকশিবাজারে সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই ব্যস্ত। রাস্তায় ভিড়, চায়ের দোকানে রাজনীতি থেকে ক্রিকেট—সব নিয়ে তর্ক। কিন্তু কারা অধিদপ্তরের ভেতরে সে দিন অন্যরকম এক সজাগতা ছড়িয়ে ছিল। কক্ষে কক্ষে অফিসাররা নথি গোছাচ্ছিলেন, নিরাপত্তাকর্মীদের চোখে অস্বাভাবিক কড়া দৃষ্টি। সবার কানে গুঞ্জন—আজ মহাপরিদর্শক নিজে সংবাদ সম্মেলন কর…Read More

    5
    4 Comments
  • “মাঠের ধারে পাঠশালা”

    পান্নাগাঁওয়ের বিকেলটা ছিল শান্ত। মাঠের ধারে বটগাছের নিচে বসে রোহান দূরের আকাশে উড়ন্ত শালিক দেখছিল। সে জানত না, আজকের এই দিনটিই তাকে জীবনের এমন কিছু পাঠ শিখিয়ে দেবে, যা কোনো বইতে লেখা নেই।
    দূরের খালপাড়ে হঠাৎ হৈচৈ শুরু হলো। বাঁধে ফাটল ধরা পড়েছে—যদি তা ভেঙে যায়, গ্রামের সারা বছরের ধান ভেসে যাবে। মানুষ দৌড়াচ্ছে, কেউ বালি আন…Read More

    4
    6 Comments
  • অন্ধের ছুরি
    লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    কায়রোর এক বিকেল ছিল সেদিন অদ্ভুত শান্ত। সূর্যের আলো শহরের পুরোনো অলিগলিতে সোনালি রঙ ঢেলে দিচ্ছিল, অথচ মানুষের চোখে ছিল অজানা এক শঙ্কা। সেই নীরবতা হঠাৎ ভেঙে গেল পুলিশি গাড়ির সাইরেনের তীক্ষ্ণ শব্দে। গাড়িটি থামল এক পুরনো বইয়ের দোকানের সামনে। দোকানের দরজার কাছে মাটিতে ছড়িয়ে পড়া বই আর কাগজের উপর…Read More

    4
    2 Comments
  • ________________________________________
    অন্তরের নীড়ে ফেরা
    লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    শহরটা যেন অবিরাম শব্দের এক জটলা।
    বাইরে গাড়ির হর্ন, মানুষের চিৎকার, বিজ্ঞাপনের উজ্জ্বল আলো, মোবাইল স্ক্রিনের অবিরাম ঝিলিক—সব মিলে যেন এক দম বন্ধ করা কোলাহল।
    এই শহরের এক কোণে, ৩৫ বছরের যুবক নওশাদ বসে আছে নিজের ফ্ল্যাটের বারান্দায়। হাতে কফির মগ, চোখ স্থি…Read More

    3
    2 Comments
  • শেষ রোদ্দুরের মানুষ
    লেখকের নামঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রশিদাবাদ গ্রাম তখনো ছিল শান্ত-নিস্তব্ধ। চারপাশে বিস্তৃত সবুজ ধানক্ষেত, মাঝখানে সরু মেঠোপথ, আর দূরে পাহাড়ের নীলাভ রেখা। ১৯২৯ সালের ৬ আগস্টের ভোরে, যখন পাখির ডাক আর হালকা কুয়াশা মিলে গ্রামজুড়ে এক অপার্থিব পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, তখন জন্ম নিল এক শিশু—…Read More

    4
    2 Comments
  • হৃদয়ের ধন

    বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রাম—বাহারকান্দি। আধুনিকতার ছোঁয়া এখনও খুব একটা লাগেনি এই গ্রামে। তবে প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা গ্রামের মানুষগুলো সরল, অকৃত্রিম আর আতিথেয়তায় ভরপুর।
    এই গ্রামে বেড়াতে আসে শহরের এক কিশোর, নাম তার অনিক। ক্লাস এইটে পড়ে। গরমের ছুটিতে মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছে। শুরুর দিকে সবকিছুই তাকে নতুন আর অচেনা মনে হয়। গ…Read More

    7
    2 Comments
  • তৃতীয় বার আঁকা ছবি

    ________________________________________
    আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছিল সুদীপ্তা। তার চোখে-মুখে ক্লান্তি, তবুও একরকম তৃপ্তি যেন ঘিরে আছে তাকে। আজ অনেকদিন পর সে আবার নিজের মুখোমুখি হয়েছে। ঠোঁটের কোনে একটুখানি হাসি ফুটিয়ে বলল নিজেকেই, “তুই তো ভালো অভিনেত্রী, তবে বোধহয় ভালো স্ত্রী হতে পারলি না।”
    ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল আটটা ছু…Read More

    5
    1 Comment
    • ভালোবাসা থাকতে পারে, কিন্তু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে লাগে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গ্রহণযোগ্যতা, এবং নিজের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার অধিকার।…………………চমৎকার

  • ________________________________________
    আলোর প্রহরী
    ________________________________________
    তিতাস নদীর ঢেউয়ের মতোই ছিল তার চলন—নিরব, ধীর, অথচ গভীর। তিতাস চৌধুরীর নাম উচ্চারণ করলেই কেউ যেন থমকে যেত। কেউ ভাবত—এও কি সম্ভব? এমন এক মানুষ, যার জীবন ছিল নীরব সংগ্রামে ভরা, অথচ কোনও প্রচার ছিল না; যার কাজ ছিল পাহাড়সম, অথচ কণ্ঠ ছিল পাখির মতো শান্ত।…Read More

    6
    2 Comments
  • পাগলের নাম শুভ

    ________________________________________
    বৃষ্টিভেজা এক দুপুর। শহরের প্রান্তে পুরোনো একটা ঘর, চারপাশে ধুলো, গাছপালার গায়ে জমে থাকা ছত্রাক আর ক্ষয়ে যাওয়া সীমানা প্রাচীর। সেই ঘরের দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একজন মানুষ—চোখে ঘুমহীন ক্লান্তি, মুখে একরাশ স্থিরতা, নাম শুভ।
    তাকে নিয়ে শহরে অনেক গল্প। কেউ বলে, “সরকারি চাকরি ছেড়ে প…Read More

    6
    2 Comments
  • “আকবরের রক্তাক্ত জেদ”

    রাত তখন সাড়ে তিনটা। শহরের সব বাতিগুলো নিভে গেছে, কেবল একটা জানালার নিচে হালকা আলো—দূরে থেকে দেখলে মনে হবে হয়ত কেউ ঘুমোতে পারেনি। জানালার পাশে বসে ছিল আকবর। তার সামনে ছড়িয়ে ছিল একটা পুরোনো ডায়েরি, কিছু বাদামি কাগজে হাতে লেখা কিছু নোট, আর এক কাপ ঠান্ডা কফি। চোখের পাতা ভারি হয়ে আসছিল, কিন্তু সে জানত—এ ঘুম এখন তাকে বা…Read More

    5
    1 Comment
  • শ্বাসের হিসেব
    ফিরোজা বেগম কাশছিলেন টানা সাত দিন। প্রথমে মনে হলো, আবহাওয়া বদলের প্রভাব। কখনও কখনও বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে ওঠে, যেন পুরোনো কোনো দুঃখ জমে আছে ফুসফুসে। কিন্তু এবার কেমন জানি অন্য রকম—একটানা হাঁটতে গেলে শ্বাস ছোট হয়ে আসে, ঘুমের সময় মাঝেমাঝে দম আটকে যায়। বুকের পাঁজরে যেন কারও অদৃশ্য মুঠো।
    তামান্না, তাঁর একমাত্র মেয়ে, এইসব দে…Read More

    4
    1 Comment
    • জীবন মানে শুদ্ধভাবে বাঁচা।……………………চমৎকার অভিব্যক্তি

  • আমানতের ঘর
    ঢাকার অদূরে এক শান্ত শহর। শহরের ঠিক মাঝখানে একটি পুরোনো উপজেলা অফিস দাঁড়িয়ে আছে, যেন সময়ের সাক্ষী হয়ে। দিনের শুরুতেই সেখানে জমে ওঠে জনতার আনাগোনা, নানা সরকারি কাজের ফাইলে ডুবে যায় সবাই। সেখানেই কাজ করেন জাফর সাহেব—একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা। বয়স পঞ্চাশ পেরোলেও চোখে-মুখে সততার দীপ্তি ঠিকরে পড়ে। অফিসের সবাই তাকে ‘কাজে…Read More

    3
    2 Comments
  • বাঁশবাগানের চাঁদ
    আমাদের যুগে স্কুল থেকে বই দেওয়া হতো না। পহেলা জানুয়ারির “বই উৎসব” তখনো আসেনি। বই মানে তখন বিশাল এক চাহিদার জিনিস। একদিকে বইয়ের ঘ্রাণে মাতোয়ারা হয়ে ওঠার লোভ, আরেকদিকে সেটা ছিঁড়ে গেলে পিঠে বেতের দাগ—এই ছিল আমাদের শৈশবের বই কেন্দ্রিক জীবন।
    আমাদের বাড়ির পাশেই শামীমদের বাড়ি। আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি, একই ক্লাসে পড়ি, কিন্তু আমি সবসময় এ…Read More

    2
    2 Comments
  • ছোট সাপের বড় সত্য
    সন্ধ্যা নামছে। গ্রামের নাম অজানাপুর। গাছপালা, ধানের ক্ষেত আর চারপাশে সরু মেঠোপথে ঘেরা এ গ্রামটিতে মানুষের চেয়ে ইঁদুর আর সাপই যেন বেশি। গ্রামের প্রবীণ লোকজন বলেন, আগে এখানে বাঘ ছিল, শেয়াল ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। আছে শুধু সাপ আর সাপের ভয়।
    সন্ধ্যার আকাশে হাস্নাহেনার গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। গ্রামের শেষ প্রান্তে পাটকাঠির গাদার পাশ…Read More

    2
    5 Comments
  • ________________________________________
    ধরিত্রীর কান্না
    অরণ্যের কোলে এক ছোট্ট গ্রাম ছিল, নাম তার বনগ্রাম। চারপাশে ছিল প্রাচীন শাল, গর্জন, মহুয়া, পলাশ, তেঁতুল আর বটগাছের ছায়া। সকাল হলেই শালবনের ফাঁক দিয়ে রোদ পড়ত গ্রামের মাটিতে। গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যেত কাকলী নদী। সেই নদীর জলে সূর্য পড়ার সময় লাল আভা দেখা যেত, যেন নদী নিজে…Read More

    4
    5 Comments
    • অসাধারণ

    • আমরা প্রাণ-প্রকৃতিরই অংশ। ধরিত্রি মা বা প্রকৃতিকে বিনস্ট করে আমরা ভালো থাকবো, এ হতেই পারে না। বিষয়টি চমৎকারভাবে তুলে আনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 04 July 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

  • আলোপথের যাত্রী
    সুমনা চোখে সে ছিল প্রাণবন্ত, হাসিখুশি আর কর্মঠ। কিন্তু এই বাইরের উজ্জ্বল মুখের আড়ালে এক ছিল একটি সাধারণ মেয়ের নাম। সে ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা করত। বন্ধুবান্ধবদের বিষণ্ণ পৃথিবী গড়ে উঠছিল, যেটা কেউ বুঝতে পারত না— এমনকি সুমনাও ঠিক করে বুঝে উঠতে পারত না কী ঘটছে তার ভেতরে।
    সেই শুরুটা হয়েছিল হঠাৎ…Read More

    2
    2 Comments
  • Load More Posts
Skip to toolbar