<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Rana Zaman | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/ranazaman/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/ranazaman/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Rana Zaman.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 06 Jun 2026 16:45:14 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">d90d89406640fd2fb2345d8eb707faa0</guid>
				<title>কেউ বুঝে না আমাকে
রানা জামান



আমি মাঝে মাঝে হয়ে যাই একা
মরুভূমির ক্যাক্টাস প্রচণ্ড উত্তাপে
ভালো লাগে একক সংখ্যা হয়ে থাকতে
মাছির গুঞ্জন বিরক্ত ধরায় ভীষণ

বন্ধুদের হাসি সীসা ঢালে কানে
ওদের ফোনকল না ধরে ফেলে রাখি ফোন
মা-বাবার ডাকে থাকি নিস্পৃহ 
কমোডে বসে নখ খুটে কাটে সময়

আমাকে বুঝে না কেউ, একদম না
কিশোর বয়স কি দায়ী এর জন্য?
একটু অবহেলা সহ্য হতে চায় না
ভাংচুর করতে ইচ্ছে করে সবকিছু 

ঘড়ির কাঁটায় ঝুলে থাকে ভাবনাগুলো
আমি কি বুঝাতে অক্ষম আমার ভাবনা?
কেনো কেউ আমাকে বুঝে না? মা-বাবা? বন্ধু?
এই দুর্বিসহ দেয়াল কিভাবে ভাঙবে?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/211875/</link>
				<pubDate>Fri, 12 Apr 2024 05:11:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কেউ বুঝে না আমাকে<br />
রানা জামান</p>
<p>আমি মাঝে মাঝে হয়ে যাই একা<br />
মরুভূমির ক্যাক্টাস প্রচণ্ড উত্তাপে<br />
ভালো লাগে একক সংখ্যা হয়ে থাকতে<br />
মাছির গুঞ্জন বিরক্ত ধরায় ভীষণ</p>
<p>বন্ধুদের হাসি সীসা ঢালে কানে<br />
ওদের ফোনকল না ধরে ফেলে রাখি ফোন<br />
মা-বাবার ডাকে থাকি নিস্পৃহ<br />
কমোডে বসে নখ খুটে কাটে সময়</p>
<p>আমাকে বুঝে না কেউ, একদম না<br />
কিশোর বয়স কি দায়ী এর জন্য?<br />
এক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-211875"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/211875/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9ff35fe34c7e59dfee856731f1bcfaff</guid>
				<title>অতলান্তে অন্তঃস্রোত
রানা জামান




মনটা অনেক অনেক খারাপ হয়েছে খালেদ চৌধুরীর আজ। এভাবে প্রত্যাখাত হবেন ভাবেন নি কখনো। পঞ্চাশ বছরে এমনটা কখনো ঘটে নি। তাকিয়ে আছেন ছাদের দিকে। কক্ষে শূন্য ক্ষমতার বাল্ব জ্বলায় কক্ষের সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পাশে দ হয়ে শুয়ে আছেন নাফিসা তরফদার। বিয়ের পরে নাফিসা বাবার পদবি ছেড়ে স্বামীর পদবি নেন নি। ওদের দুটো সন্তান। নন্দিতা ও বিজয়। ওরা এখনো পড়ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। গেলো ক&#039;বছর যাবৎ বড়লোকদের সন্তানেরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে পারছে না। ওদের মেধা কম নাকি বাবা-মার টাকা বেশি থাকায় ঠাঁট দেখাবার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়? গবষেকগণ ভাবুক তা নিয়ে, আমরা গল্পে যাই!
খালেদ চৌধুরী স্ত্রীকে একবার দেখে বেরিয়ে এলেন শয্যাকক্ষ থেকে। ড্রয়িংরুমে ঢুকে একটা একক সোফায় বসলেন। সোফাটা এল-প্যাটার্ণের; বামদিকে একটা ডিভান আছে। এটা ওঁর সোফা। ওঁ বরাবর এটায় বসে থাকেন। এই সোফার বাম বাহুর পাশে একটা দেরাজ আছে। ওখানে কিছু ব্যক্তিগত সরঞ্জাম থাকে ওঁর; যেমন সিগার বা সিগারেট, লাইটার, পানমশলা ইত্যাদি। খালেদ চৌধুরী বাম হাতে দেরাজ খুলে একটা সিগারেট ও লাইটার বের করে চলে গেলেন ব্যালকনিতে। সিগারেট জ্বালিয়ে টানতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পরে পদশব্দে পেছনে তাকিয়ে বিজয়কে দেখতে পেয়ে সিগারেটে একটা লম্বা দিলেন। 
বিজয় জিজ্ঞেস করলো, বাবা, এতো রাতে এখানে সিগারেট টানছো কেনো? মার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে নাকি?
না রে! ঘুম আসছিলো না, তাই এখানে এসে সিগারেট টানছি।
আমি ভেবেছিলাম তুমি সিগারেট টানা ছেড়ে দিয়েছো!
মনটা বেশি এলোমেলো হলে মাঝে মধ্যে টানি। 
আগামীকাল বাড়িতে একটা বড় প্রোগ্রাম হতে যাচ্ছে। তুমি নির্ঘুম রাত কাটালে কাকে নিয়ে প্রোগ্রামটা করবো!
খালেদ চৌধুরী বিজয়ের দিকে ফিরে বললেন, তুই জেগে আছিস কেনো? স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেছে? কেউ আছে নাকি স্বপ্নে এসে ডিস্টার্ব করার মতো?
লজ্জা পেয়ে বিজয় মাথা নিচু করে বললো, তেমন কিছু না বাবা! হাঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে কেনো জানি না মনে হলো এদিকে আসি। ড্রয়িংরুমে এসে সিগারেটের গন্ধ পেয়ে বুঝতে পারলাম তুমি ব্যালকনিতে আছো। 
খালেদ চৌধুরী বিজয়ের কাঁধে হাত রেখে বললেন, তুই শুতে যা! আমি সিগারেটটা শেষ করে যাচ্ছি।
না বাবা! তুমি সিগারেটটা শেষ করো। তোমাকে রুমে পৌঁছে দিয়ে আমি আমার রুমে যাবো।
খালেদ চৌধুরী দ্রুত সিগারেট টানতে গিয়ে কেশে উঠলেন। বিজয় বাবার হাত থেকে সিগারেটটা নিয়ে ফেলে দিয়ে বললো, আর টানতে হবে না বাবা! যে কোনো কারণে তুমি অস্থির হয়ে আছো। এমনিতে ঘুম না আসলে একটা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে নাও। ঘুমের ট্যাবলেট আছে তোমাদের কাছে?
বলতে পারি না!
চলো, খুঁজে দিচ্ছি। 
পিতার সাথে পুত্র শয্যাকক্ষে ঢুকতেই নাফিসা তরফদার চিৎ হয়ে ওদের দিকে তাকালে বিজয় বললো, বাবার ঘুম আসছে না। ঘুমের ঔষধ খুঁজতে এসেছি মা।
রহস্যময় হাসি ধরে নাফিসা তরফদার বললেন, তুই নিজ বেডরুমে যা। তোর বাবার ঘুমের ঔষধ আছে আমার কাছে!
বিজয় কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো কক্ষ থেকে। নাফিসা তরফদার বিছানা থেকে নেমে দরজার ছিটকিনি আটকে স্বামীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললেন, আমার কাছে তোমার ঘুমের ঔষধ আছে না?
খালেদ চৌধুরী তোতলিয়ে বললেন, আ-আছে তো!
নাফিসা তরফদার খালেদ চৌধুরীর একটা হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকলেন বিছানার দিকে। 
আধাঘণ্টা পরে দিগম্বর নাফিসা তরফদার ঢুকলেন ওয়াশরুমে। দুই মিনিট পরে বারোটা বাজার সতর্ক সংকেত বাজলো। অর্থাৎ শুরু হলো আরেকটা দিনের, এই পরিবারের জন্য একটি বিশেষ দিনের। নাফিসা তরফদার ঝর্ণা অন করতে যাবেন তখন ম্যাসেজ টোন শুনতে পেয়ে মনে মনে বললেন: এসময় কে এসএমএস পাঠালো? নাফিসা তরফদার ঠোঁট উল্টে স্নান সমাপনে মনযোগ দিলেন। পাক গোসল করতে একটু সময় লাগে বৈকি! শরীরের সর্বত্র সাবান মাখাতে হয় যত্নের সাথে! তো নাফিসা তরফদার পনেরো মিনিট সময় নিয়ে গোসল সেরে গায়ে তোয়ালে জড়িয়ে শয্যাকক্ষে ঢুকে দেখতে পেলেন স্বামী প্রবর গোসল না করেই নাক ঢেকে ঘুমাচ্ছেন! মুখ টিপে হেসে আলমারির দিকে যাবার সময় মনে পড়লো এসএমএস-এর কথা। নাফিসা ঘুরে এগিয়ে গেলেন খাটের দিকে। খাটের পাশে পার্শ্বটেবিলে মোবাইল ফোনটা রাখা আছে। 
একটি অচেনা নম্বর থেকে এসেছে এসএমএসটা: Congests for successful 50th anniversary! 
ভ্রু কুচকে নাফিসা তরফদার ভাবছেন: কে? আজ আমাদের এনিভারসারি জানলো কিভাবে? সবার আগে ঠিক বারোটায় উইস করে এসএমএস পাঠালো! ওদিকে আমার স্বামী প্রবর নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন! থ্যাঙ্ক ইউ জানাবো? না থাক!
নাফিসা তরফদার মোবাইল ফোনটা রেখে এগিয়ে গেলেন ওয়ারড্রবের দিকে। স্লিপিং স্যুট পরে হাই তুলতে তুলতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বিছানায়। আরেকবার হাই তুলেই মুদে নিলেন চোখ। সকালে ঘুম ভাংলো খালেদ চৌধুরীর ডাকে। দেয়ালে তাকিয়ে দেখতে পেলেন ঘড়ির কাঁটা আটটার ঘর ছাড়িয়ে গেছে। ফের হাই তুলে চোখ মুদতে গেলে খালেদ চৌধুরী বললেন, হ্যাপি এনিভার্সারি! আমি অফিসে গেলাম।
আরেকবার হাই তুলে নাফিসা বললেন, অফিসে যাচ্ছো মানে? তুমি না আজ ছুটি নিয়েছো?
সরি! ভুলেই গিয়েছিলাম!
নাক ডেকে ঘুমালে কি কিছু মনে থাকবে? ঠিক রাত বারোটায় অচেনা লোক আমাকে উইস করলো; কিন্তু তুমি পারলে না! 
তখন মোবাইল ফোন থেকে এসএমএস আসার টোন শোনা গেলে হাত বাড়িয়ে মোবাইল ফোনটা তুলে নিলেন নাফিসা তরফদার। খালেদ চৌধুরী হলেন কক্ষান্তর। এসএমএসটা এরকম: ঘুম তো ভাংলো! এবার ফ্রেশ হয়ে পঞ্চাশ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা কবিতা লিখে ফেলুন না!
যেনো মুখোমুখি বসে কথা বলছেন এমনভাবে বললেন নাফিসা তরফদার, কবিতা লিখবো আমি! জীবনে পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোনো কবিতা পড়ি নি!
যেনো এসএমএস প্রেরণকারি ওঁর কথা শুনে জবাব দিচ্ছে এমনভাবে এসএমএস পাঠালো: চেষ্টা করে দেখুন না! মানুষের অসাধ্য কিছু না! দুই লাইনের একটা কবিতা লিখবেন। গদ্য কবিতা। সময় এক ঘণ্টা। টাইম স্টার্ট নাও!
তখন বিজয়ের ছোট বোন নন্দিতার ডাক শোনা গেলো, মাম্মি, আমরা তোমার জন্য ডাইনিং টেবিলে অপেক্ষা করছি।
আসছি! বলে মোবাইল ফোনটা রেখে এগিয়ে গেলেন ডাইনিং স্পেসের দিকে নাফিসা তরফদার। দুই সন্তান ও স্বামী পাতে নাস্তা উঠিয়ে ওর জন্য অপেক্ষা করছে। নাফিসা চেয়ারে বসতেই ওরা শুরু করলো খাওয়া। নাফিসা পাতে রুটি ও ভাজি নিয়ে ভুলে গেলেন মুখে তুলতে। ওঁর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে কবিতার শব্দরাশি!
মাকে খেতে না দেখে নন্দিতা বললো, মাম্মি, খাওয়া বাদ দিয়া কী ভাবছো?
খালেদ চৌধুরী টিটকারি কেটে বললেন, তোদের মাম্মি কবি হয়ে গেছে মনে হচ্ছে! 
নাফিসা তরফদার চমকে খালেদ চৌধুরীর দিকে তাকালেও কিছু বললেন না। ভাজি নিয়ে এক টুকরো রুটি মুখে ঢুকিয়ে না চিবিয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, গাছের পাতা যতই সবুজ থাকুক, ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে এক সময় ঝরে পড়ে।
এক টুকরো ডিমের ওমলেট মুখে পুড়ে নন্দিতা বললো, এটা কি তোমার কথা, নাকি কোনো কবির?
আমার হলে কেমন হয়?
খাবার চিবুতে চিবুতে বিজয় ও নন্দিতা হাততালি দিলো। আর খালেদ চৌধুরী মুচকি হেসে দ্রুত খাবার চিবুতে লাগলেন। এরপর চলতে থাকলো ভাইবোনের কথোপকথন মার কবিতা নিয়ে।

নাস্তা সেরে কফির কাপ নিয়ে নিজ কক্ষে চলে এলেন নাফিসা তরফদার। মূলত লাইন দুটো লিখে ফেলার জন্যই চলে এসেছেন। কফির কাপটা টেবিলে রেখে মোবাইল ফোনটা হাতে নিতেই ম্যাসেজ টোন এলো। ঐ অদেখা লোকের ম্যাসেজ!
নাস্তা খাওয়ার সময় নিশ্চয়ই চলে এসেছিলো ভাব? লিখেছেন লাইন দুটো?
নাফিসা তরফদার আগের মতোই বলে ফেললেন, লিখি নাই!
টেক্সট করে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন এক্ষুণি!
তখনই এসএমএস করে লাইন দুটো পাঠিয়ে দিলেন নাফিসা তরফদার। তখন সিগারেট টানতে টানতে কক্ষে ঢুকলেন খালেদ চৌধুরী। বিছানায় উঠে স্ত্রীর পাশে আধশোয়া হয়ে সিগারেটে একটা লম্বা দম দিয়ে নাকেমুখে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললেন, আমাদের ফিফটিন্থ এনিভার্সারি উপলক্ষে ছেলেমেয়েরা বিরাট আয়োজন করছে!
নাফিসা তরফদার মোবাইল ফোনটা টেবিলে রেখে বললেন, জানি!
আমিও তোমাকে রাতে একটা সারপ্রাইজ দেবো।
কী সেটা?
এখন বললে সেটা সারপ্রাইজ থাকে কিভাবে?
ও!
ছেলেমেয়েদের ঠেলায় সারাদিন ব্যস্ততায় কাটলেও নাফিসা তরফদারের মনটা পড়ে থাকলো এসএমএস পাবার প্রত্যাশায়। দুটো লাইন আসলেও কি কোন কবিতা হয়েছে কিনা, এর প্রত্যয়ন ঐ রহস্যময় এসএমএস-দাতার নিকট থেকে পাওয়া দরকার। আচ্ছা, লোকটা পুরুষ না মহিলা? পরক্ষণে ভাবলেন: মহিলা হয়ে এরকমভাবে উইস করে কবিতা লিখতে বলবে কেনো! সারাদিন কোন এসএমএস না আসায় বেশ হতাশ হয়ে সন্ধ্যার পরে বিউটি পার্লারে যাবার সিদ্ধান্তঃ নিলেন। পঞ্চাশতম বিয়ে বার্ষিকীতে একটু বিশেষ সাজগোজ করা দরকার! বুড়োত্বের ছাপ পড়তে থাকবে আরো। ছেলেমেয়ে দুটো তরতর করে বাড়ছে। বিশেষ করে মেয়েটা। আগের যমানা থাকলে এতোদিনে বিয়ে হয়ে কয়েক বাচ্চার মা হয়ে যেতো নন্দিতা। তখন মোবাইল ফোনে অচেনা নম্বর থেকে একটা কল এলো। নাফিসা অচেনা নম্বরের কল ধরে থাকেন। ওর তো কোন ক্ষতি হয় না! রং নম্বর হলে সরি! বলে কেটে দেন। কলটা গ্রহণ করে মোবাইল ফোনটা কানে ঠেকাতেই ওদিকের কবিতা আবৃত্তির সুর শোনে শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে উঠলো নাফিসার। এতো মধুর কণ্ঠ! আর এতো চমৎকার কবিতা আবৃত্তি এর আগে কখনো শোনেন নি! দুটো লাইন বারবার আবৃত্তি করে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে: লাইন দুটো কোথায় যেনো শুনেছেন। তখন ওঁর মনে পড়লো: এ দুটো লাইন ওর-ই! 
মন ভরে শোনার জন্য নিরিবিলি দরকার। একটু পরে মেয়েটা ওকে ডাকতে আসবে। স্বামী তো কক্ষে ঢুকেই আধশোয়া হয়ে শুয়ে থাকে বিছানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা! ছেলেও আসতে পারে। সুনসান নিরবতা দরকার ওঁর। মোবাইল ফোন কানে জোরে চেপে ধরে উঠে এলেন ছাদে। ছাদে বেশ আলো-আঁধার অবস্থা এবং নিরিবিলিও। হঠাৎ আবৃত্তি থেমে মধুমাখা পুরুষ কণ্ঠটা বললো, আবৃত্তি কেমন হয়েছে বলবেন কী?
নাফিসা তরফদার ভুলে গেলেন কয়েক ঘণ্টার এসএমএস-এর মাধ্যমে পরিচয় লোকটার সাথে, যার নাম এখনো অজানা। অভিমানাহত কণ্ঠে নাফিসা বললেন, সারাদিন আপনার খবর নেই! কবিতাটা আমার হলো কী হলো না জানাবেন তো!
সরি! আপনার কবিতাটা এত্তো ভালো হয়েছে যে আবৃত্তি চর্চায় লেগে গেলো এই সময়টুকু। এবার বলেন কেমন হয়েছে আবৃত্তি।
অপূর্ব! আমি বিমোহিত আবৃত্তি শোনে। তাছাড়া আপনার কণ্ঠের মধুরতা কোকিলকেও হার মানায়।
লোকটি প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে বললো, আপনি কি ব্যস্ত?
পার্লারে যেতে চেয়েছিলাম।
আপনি পার্লারে যাবেন কেনো! আপনি এমনিতেই অনেক অনেক সুন্দর! মুখে রং মাখালে আপনাকে সঙ-এর লাগবে! তখন আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে যাবে। 
আপনি কি আমাকে দেখেছেন কখনো?
না দেখে না জেনে আপনাকে বিয়ের পঞ্চাশ বছরের প্রথম সেকেন্ডে উইশ করলাম কিভাবে!
তাইতো!
কয়েক সেকেন্ড নিরবতা।
লোকটি জিজ্ঞেস করলো, কী করছেন?
ছাদে দাঁড়িয়ে আপনার আবৃত্তি শুনছিলাম। এখন প্রশ্বাস নিচ্ছি, নিঃশ্বাস ফেলছি!
খুব ভালো কাজ! আমি মাঝে মাঝে ভুলে যাচ্ছি প্রশ্বাস নেয়া!
কেনো?
আপনার সাথে এতক্ষণ ধরে কথা বলছি এই আনন্দে! 
ও।
কী ঠিক করলেন?
কোন বিষয়ে?
পার্লারে যাবার বিষয়ে!
যাচ্ছি না!
থ্যাঙ্ক ইউ! পার্টি করছেন একটা রেস্টুরেণ্টে। ঠিক?
ঠিক। 
সময়টা আনন্দে কাঠুক আপনার। পার্টি থেকে ফিরে এলে ফের আমি কল দেবো।
আমি আপনার কলের অপেক্ষায় থাকবো।
লাইন কেটে যেতেই ছেলেমেয়ে দু&#039;জনেই এলো ছাদে।
নন্দিতা বললো, কী মাম্মি! তুমি ছাদে কী করছো? পার্লারে যাবে না?
নাফিসা তরফদার বললেন, না রে! বাসায় সেজে নিলেই হবে!
বেশ! চলো নিচে। আটটার মধ্যে বের হতে হবে।
আটটার মধ্যে বের হতে পারে নি ওরা। সোয়া আটটায় বের হয়ে চলে গেলো এক রুফটপ রেস্টুরেণ্টে। বেশ আনন্দ হলো; মূলতঃ কেক কেটে বার্ষিকী উদযাপনের পরে বাফেট ডিনার হলো। বাসায় ফিরতে ফিরতে বেজে গেলো রাত এগারোটা। গাড়ি থেকে নামতেই প্রহরি একটি বড় ফুলের তোড়া ও একটা বাঁধানো শো-পিস দিয়ে বললো যে একটা লোক দিয়ে গেছে। শোপিসটা নাফিসা তরফদারের কবিতার দুই লাইন ছাপিয়ে বাঁধানো হয়েছে।
নন্দিতা শো-পিসটা হাতে নিয়ে বললো, তুমি কখন বাঁধাই করতে দিলে মাম্মি?
নাফিসা তরফদার রহস্যময় হাসলেও কোনো জবাব না দিয়ে ঢুকলেন ভেতরে। দুই ছেলেমেয়ে মা-বাবার বেডরুমকে বাসরশয্যায় রূপ দিয়েছে। সবকিছু গোছগাছ করতে করতে রাত বারোটা বেজে গেলো নাফিসা তরফদারের। বাসরঘর তথা শয্যাকক্ষে ঢুকতে যাবেন তখন এসএমএস এলো রহস্যময় লোকটার: জানি বাসরের মুডে আছো! আজ রাত বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি!
চমকে উঠলেও এসএমএস পাঠালেন নাফিসা তরফদার: কিভাবে সম্ভব? 
ঘুমের ঔষধ হতে পারে!
তখন নাফিসা তরফদারের মনে পড়লো পুরনো ছায়াছবিতে নববধূ দুধের গ্লাস নিয়ে বাসরঘরে ঢুকতো! উত্তেজনাকে সংযত করতে সক্ষম হলেও হাতের কাঁপুনি থামাতে পারলেন না নাফিসা।
স্ত্রীর দুধের গ্লাসধরা হাতটা মৃদু কাঁপতে দেখে খালেদ চৌধুরী বললেন, বাহ! নববধূর মতোই লাগছে তোমাকে দুধের গ্লাস নিয়ে আসায়। কিন্তু তোমার হাত কাঁপছে কেনো?
উত্তেজনায়!
খালেদ চৌধুরী স্ত্রীকে একবার চোখ টিপে গ্লাসটা নিয়ে ঢকঢক করে পান করছেন। নাফিসা তাকিয়ে আছেন স্বামীর দিকে এক দৃষ্টে। মনে দ্বিধা: কাজ হবে? কতটুকু কাজ হবে?
খালেদ চৌধুরী একবারেই পুরোটা দুধ পান করে গ্লাসটা টেবিলে রেখে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে ফেলে দিলেন বিছানায়। অন্যসময় হয়তোবা বাঁধা দিতেন, কিংবা সক্রীয় হতেন। এখন তিনি হতভম্ব হয়ে আছেন। খালেদ চৌধুরীর হা-পা থেমে নেই নাফিসা তরফদারের শরীরে! কিন্তু ঠোঁটটা নাফিসার ঠোঁটে লাগার সাথে সাথে গা এলিয়ে পড়ে গেলেন একদিকে। 
নাফিসা তরফদার স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে উঠে বসে মোবাইল ফোনটা নিয়ে এসএমএস পাঠালেন: কাজ হয়েছে! এখন কী করতে হবে?
উত্তর এলো: নিশ্চিন্তে ঘুম দাও! তুমি সকালে হাঁটো। তাই আগামীকাল ভোর পাঁচটায় চলে আসবে চন্দ্রিমা উদ্যানে। তোমার সাথে আমার প্রথম দেখা হবে। ঘুমুতে যাবার আগে তোমার সাথে আমার কথোপকথনের এসএমএসগুলো ডিলিট করে দিয়ো! শুভরাত্রি!

ভোর পাঁচটায় বের হবার সময় খালেদ চৌধুরীকে ঘুমে রেখে এলেন নাফিসা তরফদার। চন্দ্রিমা উদ্যানে লোকটাকে দেখে বিস্মিত হলেও খুশি হলেন খুউব! স্পষ্টতই বুঝা যায় বয়স ওর চেয়ে অনেক কম! কথা বলতে বলতে কখন আটটা বেজে গেলো বুঝতেই পারলো না ওরা। নন্দিতার ফোন এলে চমকে উঠলেন নাফিসা। রহস্যময় লোকের হাত ছেড়ে দিয়ে ছুটে এলেন বাড়িতে। ডাক্তার চলে এসেছে। অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ খাওয়ায় খালেদ চৌধুরী মারা গেছেন শুনে পরিবারের সবাই হয়ে গেলেন স্তম্ভিত। খালেদ চৌধুরীর বালিশের নিচ থেকে বিমানের দুটো টিকিট পাওয়া গেলো ঢাকা টু চায়নার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/211874/</link>
				<pubDate>Fri, 12 Apr 2024 05:08:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অতলান্তে অন্তঃস্রোত<br />
রানা জামান</p>
<p>মনটা অনেক অনেক খারাপ হয়েছে খালেদ চৌধুরীর আজ। এভাবে প্রত্যাখাত হবেন ভাবেন নি কখনো। পঞ্চাশ বছরে এমনটা কখনো ঘটে নি। তাকিয়ে আছেন ছাদের দিকে। কক্ষে শূন্য ক্ষমতার বাল্ব জ্বলায় কক্ষের সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পাশে দ হয়ে শুয়ে আছেন নাফিসা তরফদার। বিয়ের পরে নাফিসা বাবার পদবি ছেড়ে স্বামীর পদবি নেন নি। ওদের দুটো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-211874"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/211874/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9516a2d4afa03a83175b05c3222c7afd</guid>
				<title>টাকা ভালো টাকা মন্দ
রানা জামান


টাকা উড়িয়ে নিয়ে যায় মানব সন্তান
আকাশে অথবা পাতালে
নেশাগ্রস্ত হলে ছুড়ে ফেলে অন্ধকূপে

টাকা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ
টাকা ছাড়া চলেই না
টাকা বাঁচায় 
আবার মারেও 

টাকা ছড়া কবিতা প্রবন্ধ কখনো পত্রিকা 

কর্জ দেয়া টাকা বেশি চাইলে সম্পর্কে ফাটল

টাকার কমতি থাকলে প্রেমিকা পালায়
সংসারে অশান্তি থাকে টাকার অভাবে

টাকার শরীরে রক্ত লেগে থাকে
রক্তমুক্ত টাকা পাওয়া মুস্কিল

নির্লোভের টাকা না থাকলেও শান্তি থাকে মনে
যত টাকা কম ততো শান্তি 
যদিও টানাটানি থাকে জীবন যাপনে

টাকা সময় মতো হাতে এলে কাজের
অনেকের প্রয়োজন ফুরালে টাকা আসে

শত্রুতা সৃষ্টিতে টাকা মোক্ষম অস্ত্র

টাকা ভালো টাকা মন্দ
টাকায় থাকে বাজে গন্ধ
টাকা থাকলে হাতে কম
সীসামুক্ত থাকে দম।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/88943/</link>
				<pubDate>Wed, 12 Jan 2022 04:36:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>টাকা ভালো টাকা মন্দ<br />
রানা জামান</p>
<p>টাকা উড়িয়ে নিয়ে যায় মানব সন্তান<br />
আকাশে অথবা পাতালে<br />
নেশাগ্রস্ত হলে ছুড়ে ফেলে অন্ধকূপে</p>
<p>টাকা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ<br />
টাকা ছাড়া চলেই না<br />
টাকা বাঁচায়<br />
আবার মারেও </p>
<p>টাকা ছড়া কবিতা প্রবন্ধ কখনো পত্রিকা </p>
<p>কর্জ দেয়া টাকা বেশি চাইলে সম্পর্কে ফাটল</p>
<p>টাকার কমতি থাকলে প্রেমিকা পালায়<br />
সংসারে অশান্তি থাকে টাকার অভা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-88943"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/88943/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b815da1ed976c1e8aa4b18905ed7f336</guid>
				<title>ঝিঙ্গে ফিঙ্গে
রানা জামান


বাজটাকে তেড়ে আসতে দেখে মোটেই ভয় পাচ্ছে না ফিঙ্গেটা। ও জানে ওকে দেখতে পেলে উল্টো লেজ গুটিয়ে পালাবে বাজটা। বরাবর এমনটাই হয়ে আসছে। তবু বাজগুলো তেড়ে আসে ফিঙ্গে দেখলেই। বাজটা চলে এসেছে কাছাকাছি। ফিঙ্গেটা আড়াল থেকে বের হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো বাজের উপর।
ফিঙ্গেটাকে নিচে পড়তে দেখে প্রফেসর মাসুদ বললেন, কিরে ঝিঙ্গে, আবার স্বপ্ন দেখছিলি? কত যে বাজ মারলি স্বপ্নে!
ঝিঙ্গে নামের ফিঙ্গে এক ঝটকায় পাখা ঝাপটা দিয়ে কক্ষটায় এক পাক উড়াল দিয়ে বসলো এসে চেয়ারের হাতলে। ফের একবার পাখা ঝাপটে বললো, তুমি আমাকে অনুমতি দাও প্রফেসর একটা বাজকে থাপ্পড় মেরে আসি!
তোকে নিয়ে হলো এই এক মুস্কিল! খালি মারামারি করতে চাস! সেজন্য তোকে ঘুম পারিয়ে রাখি। তুই ঘুমে গিয়েও স্বপ্নে মারামারি করিস! তোকে নিয়ে আমি কী করবো বলতে পারিস?
তুমি দিনে একবার বাজের সাথে মারামারির চান্স দাও, তাহলে আর স্বপ্নে মারামারি করবো না। 
দিনে একবার মারামারির ব্যবস্থা করতে হলে আমাকে তোর মারামারি এরেঞ্জ করতেই ব্যস্ত থাকতে হবে! আমার আর কাজ আছে না?
তাহলে কী করতে বলো তুমি প্রফেসর?
সপ্তাহে একদিন। রাজি হলে ব্যবস্থা করবো, না হলে তুই তোর রাস্তা মাপ!
না না! ঠিক আছে! তোমার প্রস্তাবই ওকে। যে দৈনিক মারামারি করে, সে ভদ্র থাকে না! প্রথম মারামারিটা আজ হলে তোমার কোনো সমস্যা হবে প্রফেসর?
প্রফেসর মুখটিপে হেসে বললেন, এখন কোথায় গেলে বাজ পাওয়া যাবে বল্।
তোমার কোথাও যাওয়ার দরকার নেই প্রফেসর। আমাকে বাড়ির বাইরে যাবার ব্যবস্থা করে দাও। তুমি কী করেছো আমার শরীরে যে আমি বাড়ির বাইরে গেলেই পাখা দুটো অবস হয়ে আসে!
সেটা রহস্যই থাক। তুই আমার হাতে এসে বস। আমি তোকে বাইরে যাবার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। সময় একঘন্টা।
ঝিঙ্গে ফিঙ্গে ছোট্ট উড়াল দিয়ে প্রফেসর মাসুদের ডান বাহুতে বসলো। প্রফেসর ঝিঙ্গেকে হাতের তালুতে বসিয়ে দুটো পাখায় বিশেষভাবে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, এবার যা। 
ঝিঙ্গে ফিঙ্গে টুক করে প্রফেসর মাসুদের কপালে চঞ্চুটা ছুঁইয়ে দিলো উড়াল। বাড়ির সীমানা পেরিয়ে একটু থমকালো। এখন পাখা অবস হচ্ছে না! খুশিতে লম্বা উড়াল দিলো ফিঙ্গেটা। উড়ছে ফিঙ্গে উড়ছে। অনেক উঁচুতে তাকাচ্ছে আশেপাশে। খুঁজছে শিকার অর্থাৎ বাজপাখি। চোখে পড়ছে না। মনে মনে ভাবছে ঝিঙ্গে ফিঙ্গে: বাজ পাখি এক্সটিঙ্ক্ট হয়ে গেলো? এতো তাড়াতাড়ি! উপরে তাকিয়ে ওর থেকে অনেক অ-নে-ক উঁচুতে একটা বাজকে পাখা মেলে ভেসে থাকতে দেখতে পেলো। কিন্তু একি! আরো উঁচুতে উঠতে সাহস পাচ্ছে না ও। তাকিয়ে দেখে ইতোমধ্যে ও নেমে এসেছে অনেক নিচে। নিস্তেজ হয়ে ঝিঙ্গে একটা গাছের ডালে গিয়ে বসলো চুপচাপ। মনটা খারাপ হয়েছে বেশ ওর। এতোদিন বাড়িটা থেকে বের হয়ে বাজের কাছেই যেতে পারলো না! 
একটা বন্য ফিঙ্গে ওকে দেখে এগিয়ে এলো। মুখোমুখি একটা ডালে বসে বললো, আমার নাম ফাইটার। তোমার নাম কী ফ্রেন্ড?
ঝিঙ্গে বললো, আমার নাম ঝিঙ্গে।
বাহ! সুন্দর নাম তো! শাকসবজির নামও রাখা যায় জানা ছিলো না! এখন থেকে আমার নাম দিলাম পটল।
পটল নাম নিও না!
কেনো? ওটাতে দোষ কী?
বাংলায় একটা বাগধারা আছে-পটল তোলা। যার অর্থ মারা যাওয়া। কেউ যদি তোমাকে বলে-এই পটলা, পটল তোল! তখন তোমার কেমন লাগবে?
ভালো লাগবে না! তাহলে তুমিই আমার নামটা ঠিক করে দাও ফ্রেন্ড।
ঢেঁড়স নামটা কেমন লাগে তোমার?
ঢেঁড়স?! ভালোই লাগছে! তাহলে এখন থেকে আমার নামাকরণ হলো ঢেঁড়স। এবার বলো ঝিঙ্গে ফ্রেন্ড, তুমি চুপচাপ এখানে বসে আছো কেনো?
ঝিঙ্গে একবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো, বহুদিন পর আজ বের হলাম বাসা থেকে। বাজ খুঁজতে উপরে উঠার পর দেখি আর উঠতে পারছি না এবং কিভাবে নিচে নেমে এসেছি বুঝতেই পারলাম না।
ঢেঁড়স বিস্মিত হয়ে বললো, কী বলছো তুমি! এতোদিন তুমি ছিলে কোথায়?
এক পাগল বিজ্ঞানির বাসায়। কিভাবে ওখানে গিয়েছি বলতে পারবো না। শুনেছি উনি আমাকে মূমুর্ষ অবস্থা থেকে সুস্থ করে তুলেছেন। 
দাঁড়াও, আমি তোমার পাখা দুটো দেখি।
ঢেঁড়স ঝিঙ্গের কাছে এসে বসলো। চঞ্চু দিয়ে নেড়ে ঝিঙ্গের পাখা দুটো ভালো করে পরখ করে বললো, সমস্যাটা চোখে ধরা পড়ছে না। তবে একটা সমস্যা আছে। এটা তোমার ঐ বিজ্ঞানি ছাড়া আর কেউ সারাতে পারবে না।
তুমি ওর কাছেই ফিরে যাও ঝিঙ্গে ফ্রেন্ড।
ঝিঙ্গে ঢেঁড়সের পুচ্ছতে একবার পুচ্ছ স্পর্শ করে উড়াল দিলো। উড়ার গতি অনেক ধীরে। ইচ্ছে করলে একটা শিশুও ওকে ধরে ফেলতে পারবে!
ঝিঙ্গে বাসায় ঢুকতেই প্রফেসর মাসুদ জিজ্ঞেস করলেন, কী হে ঝিঙ্গে! কেমন হলো তোর বাজ পেটানো?
ঝিঙ্গে চঞ্চু ফুলিয়ে বললো, তুমি এখনই আমার টৃটমেন্ট শুরু করো!
বেশ তো আছিস! তোর আবার কী হলো? 
আমার কী হয়েছে মানে? আমি তো শেষ!
ক্ষোভ প্রকাশের দরকার নেই। কী হয়েছে খুলে বল।
কত আগ্রহ করে গেলাম বাজ তাড়াতে। কিন্তু বেশি উপরে উঠতে পারলাম না। যা-ও একটু উপরে উঠেছিলাম, তা থেকে কখন নিচে গেলাম টেরই পেলাম না। আমার ডানায় শক্তি নেই প্রফেসর। তুমি কী করেছো আমার ডানায় প্রফেসর?
তোমার ডানায় কোনো সমস্যা নেই। কিছুদিন রেগুলার ব্যায়াম করলেই ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু আমার ডানা এমন হলো কেনো?
তোর তো ডানাই ছিলো না! 
আমার ডানা ছিলো না মানে? সব খুলে বলো আমাকে। 
তোকে নদীর ধারে মারাত্মক আহত অবস্থায় পাই। তোর পাখা দুটো ছিলো কাটা। কিভাবে তোর পাখা কাটা গিয়েছিলো তুই বলতে পারিস নি। তোর স্মৃতি ভ্রষ্টও হয়েছে।
কী বলছো প্রফেসর! তাহলে এই ডানা?
আমার ল্যাবে তোর ডানা গজিয়েছি। অনেক দিন সময় নিয়েছে ডানা দুটো গজাতে। নতুন ডানা বিধায় এখনো উড়ায় প্রফেশনাল হয়ে উঠেনি। অনেক চেষ্টা করেও তোর স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারিনি। সরি ফর দিস!
এখন আমার ডানার কী হবে প্রফেসর? এভাবেই উড়ে যাবো মুরগীর চেয়ে একটু উপরে একটু বেশি গতিতে!
এক্সারসাইজ করতে হবে। সেজন্য একজন ইনস্ট্রাক্টর রাখতে হবে। ডোন্ট অরি। আমি ব্যবস্থা করছি।
রাতে সম্পাদকের সাথে কথা বলে একজন ইনস্ট্রাক্টর চেয়ে বিজ্ঞপ্তিটা পাঠিয়ে দিলেন প্রফেসর মাসুদ পত্রিকা অফিসে। সম্পাদক বিজ্ঞপ্তিটা পেয়ে সম্পাদনা করে ছাপিয়ে দিলো নিজ পত্রিকায়। সম্পাদক যথারীতি বিজ্ঞপ্তি থেকে ঝিঙ্গে ফিঙ্গে শব্দ দুটো বাদ দেয়ায় পরদিন প্রফেসর মাসুদের বাসার সামনে যত বেকার ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর ছিলো ঐ শহরে, সবাই সিভি হাতে নিয়ে সারি ধরে দাঁড়িয়ে আছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/84101/</link>
				<pubDate>Wed, 29 Dec 2021 23:51:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঝিঙ্গে ফিঙ্গে<br />
রানা জামান</p>
<p>বাজটাকে তেড়ে আসতে দেখে মোটেই ভয় পাচ্ছে না ফিঙ্গেটা। ও জানে ওকে দেখতে পেলে উল্টো লেজ গুটিয়ে পালাবে বাজটা। বরাবর এমনটাই হয়ে আসছে। তবু বাজগুলো তেড়ে আসে ফিঙ্গে দেখলেই। বাজটা চলে এসেছে কাছাকাছি। ফিঙ্গেটা আড়াল থেকে বের হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো বাজের উপর।<br />
ফিঙ্গেটাকে নিচে পড়তে দেখে প্রফেসর মাসুদ বললেন, কিরে ঝিঙ্গে, আবার স্বপ্ন দেখছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-84101"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/84101/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">19b32991ca434ce221f3a76a3d43f092</guid>
				<title>নতুন বর্ষের ভালোবাসা
রানা জামান


নতুন বছর আসছে আবার
যেমন প্রতিবার
আশার সাথে খুশির উর্মী
থাকে অনিবার 

পুরাতন সব ঝেরে ফেলি
অভিজ্ঞতা বাদ
সামনের বছর লাগলে কাজে
প্রাপ্তি অপার স্বাদ

ভালো হবে বিচার আচার
বন্ধ হবে গুম
ঢাকা সহ সকল স্থানে
থাকবে সমান ওম

বিলীন হবে অনিয়ম সব
শাসন হবে সবার
বস্তি কিংবা পাঁচ তারাতে
সুবাস রবে জবার

চোরের মায়ের বড় গলার
কাটা পড়ার আশা
সবার প্রতি নতুন বর্ষের
অসীম ভালোবাসা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/83424/</link>
				<pubDate>Tue, 28 Dec 2021 05:26:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নতুন বর্ষের ভালোবাসা<br />
রানা জামান</p>
<p>নতুন বছর আসছে আবার<br />
যেমন প্রতিবার<br />
আশার সাথে খুশির উর্মী<br />
থাকে অনিবার </p>
<p>পুরাতন সব ঝেরে ফেলি<br />
অভিজ্ঞতা বাদ<br />
সামনের বছর লাগলে কাজে<br />
প্রাপ্তি অপার স্বাদ</p>
<p>ভালো হবে বিচার আচার<br />
বন্ধ হবে গুম<br />
ঢাকা সহ সকল স্থানে<br />
থাকবে সমান ওম</p>
<p>বিলীন হবে অনিয়ম সব<br />
শাসন হবে সবার<br />
বস্তি কিংবা পা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-83424"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/83424/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">02da7f938d2ab1829653a9943b808e6d</guid>
				<title>Title: Fair kiss
Writer: Rana Zaman 
Country: Bangladesh 

Renewal of old will
Purchase new quill 
Learning from old
Create special mold
Expectation of justice
Providing fair kiss.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/83189/</link>
				<pubDate>Mon, 27 Dec 2021 06:06:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>Title: Fair kiss<br />
Writer: Rana Zaman<br />
Country: Bangladesh </p>
<p>Renewal of old will<br />
Purchase new quill<br />
Learning from old<br />
Create special mold<br />
Expectation of justice<br />
Providing fair kiss.</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ce579b7b11fbd62f29af8c378429ea96</guid>
				<title>মুক্তিযোদ্ধা রওশন আরা
রানা জামান


পিরোজপু্র মহকুমার রামনগর গ্রামে রওশন আরার বাড়ি। উনিশ শ একাত্তর খৃস্টাব্দের জুন মাসের কোনো এক সময়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এক সকালে চলে এলো গ্রামটায়। বেশ কয়েকটি বড় ট্রাক, ছোট পিকাপ ও জিপ ভর্তি হানাদার বাহিনীর সৈন্যে। গ্রামের রাজাকাররা পথ দেখিয়ে ওদের নিয়ে এসেছে। ভয়ে গ্রামের লোকজন আহাজারি করতে করতে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে লাগলো।
হৈ চৈ কান্নাকাটির শব্দে রওশন আরা বিরক্ত হলো। সে এসএসসি পরীক্ষার্থীনী। পড়া করছিলো। মনযোগে বিঘ্ন ঘটায় চিৎকার করে বললো, কী হইছে মা? এতা চিল্লাপাল্লা চেচাচেচি হইতাছে ক্যান? গ্রামে কি ডাকাইত পড়ছে?
মা মতিজান বিবি বললেন, আমি কী জানি! আমিও তোর মতো ঘরে কাম করতাছি। তুই দেইখ্যা আয় না!
বইটা বন্ধ করে রওশন আরা ঘরের বাইরে এসে বারান্দায় দাঁড়ালো। উঁকি দিয়ে বাইরে দেখার চেষ্টা করলো। কিন্তু খাটো হওয়ায় কিছুই দেখতে পেলো না। সে বরান্দা থেকে নেমে দৌড়ে বাড়ির বাইরে এসে হতভম্ব হয়ে গেলো। চিৎকার করে মাকে ডাকতে লাগলো, মা মা দেইখ্যা যাও। গ্রামে এইসব কী হইতাছে?
মেয়ের ডাকে মতিজান বিবি শাড়ির আঁচলে ভেজা হাত মুছতে মুছতে বেরিয়ে এলেন বাইরে। মেয়ের কাছে এসে আশেপাশে তাকিয়ে হতবাক হয়ে গেলেন। দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। মনে হচ্ছে পুরো গ্রামটা জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছে। তালুকদার বাড়ি, মাতবরবাড়ি, হাওলাদার বাড়ি ও মোল্লাবাড়ি পুড়ছে। বোমা ফাটার শব্দে পুড়ছে বাঁশ।
মতিজান বিবি বেদনার্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, অমন কইরা কেডা আগুন দিলো রে? এই শত্রুটা কেডা? তোর বাপ বাইচ্যা থাকলে সবার আগে দৌড়ায়া আগুন নিভাতে যাইতো।
রওশন আরা বললো, আমিও হেই কথা ভাবতাছি। আমি যাই মা? দেইখ্যা আসি?
মা নিষেধ করলেন, তোর একলা যাওনের কাম নাই।
রওশন আরা ডান হাত তুলে সামনে দেখিয়ে বললো, ঐ দেখো মা, মানুষজন কেমন ছুটাছুটি করতাছে। আগুন নিভাইতে না গিয়া কেমন যেনো ছুটাছুটি কইরা পালাইতাছে। ব্যাপারটা কী মা?
মতিজান বিবি বললেন, তুই বাড়িত থাক। আমি দেইখ্যা আহি।
রওশন আরা বললো, আমারও যাইতে ইচ্ছা করতাছে মা!
মতিজান বিবি বললেন, হুড়াহুড়ির মধ্যে খালি বাড়িতে চুরি হয়। তুই এইখানেই খাড়ায়া থাক। আমি তাড়াতাড়ি চইলা আসবো।
মতিজান বিবি এগিয়ে গেলেন। ছুটন্ত একজন মতিজান বিবিকে ওদিকে যেতে দেখে বললেন, ঐদিকে যাইও না ভাবি। 
মতিজান বিবি জিজ্ঞেস করলেন, ক্যান? কী হইছে ঐদিকে? গ্রাম জুইড়া আগুন দিছে কেডা?
লোকটি বললেন, গ্রামে পাক বাহিনী আয়া পড়ছে। ঐ শয়তানরা আগুন দিতাছে আর লুট করতাছে। জোয়ান মাইয়াগুলারে ধইরা নিয়া যাইতাছে। তুমি তোমার মাইয়া নিয়া অহনই পালাও।
মতিজান বিবি আর সামনে না গিয়ে ফিরে এলেন নিজ বাড়িতে।তখন বিদ্যালয় থেকে শাহ আলমও ফিরে এলো। সে হাপাচ্ছে হাপড়ের মতো।
মতিজান বিবি জিজ্ঞেস করলেন, তুই অতো হাপাইতাছস ক্যান রে বাপ? দৌড়ায়া আইছস?
শাহ আলম দম সামলে নিতে নিতে বললো, হ মা। গ্রামের অবস্থা ছেড়াবেড়া হয়া গেছে মা। পাক বাহিনী সব বাড়িঘর পুড়ায়া দিছে।
মতিজান বিবি বললেন, জানি। আমিও দেখতে গেছিলাম।
শাহ আলম বললো, গ্রাম ছাইড়া সবাই চইলা যাইতাছে মা। আমাদেরও চইলা যাইতে কইছে।
মতিজান বিবি বললেন, আমারেও কইছে। কিন্তুক কই যামু?
রওশন আরা বললো, বহুদিন মামার বাড়ি যাই না। চলো মামার বাড়ি চইলা যাই।
মামার বাড়ি কই যাবি? তোর মামারা কেউ বাইচা নাই। খালি ভিটা পইড়া আছে।
শাহ আলম জিজ্ঞেস করলো, কোনো ঘর নাই ভিটায় মা?
ভিটায় কেউ না থাকলে কি ঘর থাকে? ভাইঙ্গা টাইঙ্গা কবেই মাটির সাথে মিশ্যা গেছে।
তাইলে আমরা কোথাও যাইতাম না? এখানে থাকলে যদি পাক বাহিনী ধইরা লইয়া যায়? তখন কী হইবো?
মতিজান বিবি বললেন, চুপ থাক। আমারে ভাবতে দে।
মতিজান বিবির দুই সন্তান নিয়ে গ্রাম ছেড়ে কোথাও যাওয়া হলো না। কোথায় যাবেন? এই গ্রামের বাইরে কিছুই চিনেন না। না যেতে যেতে বাবার বাড়ি যাবার পথটাও স্মৃতিতে ঝাপসা হয়ে গেছে। দুই সন্তান নিয়ে তিনি সাহস করে গ্রামেই রয়ে গেলেন; তবে মেয়েকে ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করলেন। মেয়ের কথা গ্রামের কেউ জিজ্ঞেস করলে মিথ্যে করে বলেন যে রওশন আরাকে মামার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। শাহ আলমকে আল্লাহর কিড়া দিয়ে বোনের ব্যাপারে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করেছেন। শাহ আলম তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছে।
এই ঘটনার কিছুদিন পরে গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল এলো। তাঁরা গ্রামের যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে উৎসাহিত করতে লাগলেন। যারা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবার জন্য এলেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে লাগলেন।
একদিন রাতে রওশন আরা মাকে বললো, মা, আমি ও শাহ আলম মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেই?
মতিজান বিবি আঁতকে উঠে বললেন, কী কস তুই! তোরা বাচ্চা পোলাপান। তোরা যুদ্ধ করবি কিভাবে? না না! তাছাড়া তোদের কিছু হইলে আমি কারে লইয়া থাকুম? তোদের যাওনের দরকার নাই।
ঐ রাতে দুই ভাইবোন আর কিছু বললো না। শাহ আলমের বিদ্যালয়ে আর ক্লাশ হয় না। সে সারাদিন ঘুরে বেড়ায়; আর রওশন আরা ঘরের ভেতর ঘাপটি মেরে ইচ্ছের বিরুদ্ধে বসে থাকে। ঘরের বাইরে গেলে কী বিপদ হতে পারে আঁচ করতে পেরে সে চুপ মেরে গেছে। শাহ আলম মাঝে মাঝে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পের আশেপাশে ঘুরঘুর করে ওদের কার্যকলাপ তথা গ্রামের যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান দেখে।
রাতে দুই ভাই বোন পাশাপাশি শুয়ে থেকে ভাই-এর কাছ থেকে গ্রামের খবরাখবর জেনে নেয় রওশন আরা; বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের বিষয় আশয় জানতে চেষ্টা করে। আর ওর মনে মুক্তিযুদ্ধে যাবার কামনা বাসনা আকুলি বিকুলি করতে থাকে। এক রাতে রওশন আরা ফের মার কাছে মুক্তিযুদ্ধে যাবার ইচ্ছা ব্যক্ত করে।
মা মতিজান বিবি আবেগে দুই সন্তানকে বুকে চেপে ধরে নিরবে অশ্রুপাত করে বলেন, তোদের যখন এতই ইচ্ছা মুক্তিযুদ্ধে যাওনের, তখন যা। আামি আর নিষেধ করুম না। আগামীকাল আমি তোদের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে লইয়া যামু। এখন ঘুমা।
পরদিন মতিজান বিবি দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে গেলেন। কথা শুনে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. গোলাম মোস্তফা বললেন, তোমরা দুই জন এখনো বাচ্চা। যুদ্ধ করবে কিভাবে?
তখন কিশোরী রওশন আরা বললো, আমরা যুদ্ধ করতে পারুম কমান্ডার ভাইজান। আমারে বন্দুক চালনা শিখায়া দেন।
কমান্ডার ডা. গোলাম মোস্তফা বুঝতে পারছেন না কী করবেন।ওদের গ্রুপে কোনো মহিলা মুক্তিযোদ্ধা নেই। একজন কিশোরীকে দলে নিলে কী ধরনের সমস্যায় পড়বেন বুঝতে পারছেন না। রওশন আরা ও শাহ আলমকে একবার দেখে বললেন, তোমরা এখন যাও। আগামীকাল আসো। আমি ভাবি।
রওশন আরা বললো, ভাবার কিছু নাই ভাইজান। আমি জান দিয়া যুদ্ধ করুম।
মতিজান বিবি বললেন, আপনার গ্রামে ক্যাম্প করার পর থাইকা যুদ্ধে যাওনের কথা কইতাছে। প্রথমে আমি রাজি হই নাই। পরে ভাইবা দেখলাম, যাউক যুদ্ধে। ঘরে বইসা থাইকা পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়নের চাইতে যুদ্ধে গিয়া মইরা যাওয়া অনেক ভালো হইবো, অনেক সম্মানের হইবো।
ঠিক আছে। আপনারা আগামীকাল আসেন।আমি রাতটা ভেবে দেখি।
তিনজন চলে এলো বাড়িতে। দিনের বাকিটা ও পুরো রাত দুশ্চিন্তায় কাটলো কিশোরী রওশন আরার। যদি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজি না হন, তাহলে কী হবে? কী করবে তখন ওরা? কী করবে?
রওশন আরা মাকে জিজ্ঞেস করলো, কমান্ডার ভাইয়া রাজি না হলে কী হইবো মা? তখন আমরা কী করুম?
শাহ আলম জিজ্ঞেস করলো, আমরা একা যুদ্ধ করতে পারুম না মা?
মতিজান বিবি বললেন, একলা কী আর যুদ্ধ করন যায় রে বেটা। যুদ্ধ করতে হইলে টেরেনিং লাগে, অস্তর লাগে। তোরা টেরেনিং পাইবি কই, অস্তর পাইবি কই।
অনিশ্চয়তার ভাবনা নিয়েই ওরা ঘুমিয়ে গেলো। পরদিন ভোর হবার সময় থেকে ওরা ছটফট করতে লাগলো ক্যাম্পে যাবার জন্য। আনুমানিক সকাল দশটায় ওরা বেরিয়ে পড়লো বাইরে। দ্রুত হেঁটে চলে এলো ক্যাম্পে। ওদের দুশ্চিন্তাকে মাটি করে দিয়ে কোম্পানি কমান্ডার ডা. গোলাম মোস্তফা দুই ভাইবোনকে দলে যোগ করে নিলেন।
বীরপাশা উচ্চ বিদ্যালয়ে শুরু হলো ওদের প্রশিক্ষণ। অন্যান্যদের সাথে দুই ভাইবোনের প্রশিক্ষণ চলতে থাকলো। এক সময় মুক্তিযোদ্ধারা ওদের বাড়িতে ঘাঁটি স্থানান্তর করলো। প্রশিক্ষণের ফাঁকে ফাঁকে রান্নার কাজে রওশন আরা মাকে সহায়তা করতে থাকলো।
প্রশিক্ষণ শেষ। অপারেশনে যেতে হবে। অপারেশন কোথায় হবে তা ঠিক করার পর রাতে রওশন আরা দেশাত্ববোধক গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবলকে চাঙ্গা করতো।
শাহ আলম ছোট থাকায় সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে গিয়ে খবর নিয়ে আসতো। ও ছোট থাকায় পাক বাহিনী ওকে সন্দেহ করতো না। শাহ আলম মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে খবর পৌঁছে দেবার পাশাপাশি খাবারও পৌঁছে দিতো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/71123/</link>
				<pubDate>Wed, 08 Dec 2021 06:31:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মুক্তিযোদ্ধা রওশন আরা<br />
রানা জামান</p>
<p>পিরোজপু্র মহকুমার রামনগর গ্রামে রওশন আরার বাড়ি। উনিশ শ একাত্তর খৃস্টাব্দের জুন মাসের কোনো এক সময়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এক সকালে চলে এলো গ্রামটায়। বেশ কয়েকটি বড় ট্রাক, ছোট পিকাপ ও জিপ ভর্তি হানাদার বাহিনীর সৈন্যে। গ্রামের রাজাকাররা পথ দেখিয়ে ওদের নিয়ে এসেছে। ভয়ে গ্রামের লোকজন আহাজারি করতে করতে এদিক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-71123"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/71123/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">67dde88244ed41ac7cd7d8071477868d</guid>
				<title>গর্জে উঠে স্টেনগান 
রানা জামান 

যন্ত্রণা নিদ্রার গলায় পরিয়ে রাখতো ফাঁস
চোখ মুদে নিলে পাপড়িতে লেগে যেতো দাবানল
মা-বোনের আর্তনাদে শুনে হৃদযন্ত্র হয়ে যেতে স্তব্ধ 
আর মানুষের আহাজারি চোখে ধরাতো আগুন

আমার পায়ের গতি দেখে অশ্ব পেতো লজ্জা
মশা ক্লান্ত হয়ে যেতো রক্ত চুষে খেতে খেতে
সর্বদা শেয়াল ভড়কে গেছে আমার ক্ষিপ্রতা দেখে
ভুলে যাই আমি কিভাবে পলক ফেলে চোখ

শত্রু নিধনের ব্রত কমে নি কখনো একাত্তরে
পাক হানাদার আর ওদের দোসর জন্মশত্রু 
ওদের ক্ষমার চিন্তা মনে আসে নি কখনো
সাত-ই মার্চের ভাষণ আমার অস্ত্র আমার চেতনা
তখনো এখনো সর্বকালে সর্বাবস্থায়

ঐ রাত্রিতে টের পাই নি কখন গুলি লাগে পায়ে
এক পায়ে ছুটে গেছি সামনে শুধু সামনে
দেশের শৃঙ্খল মুক্তির নিমিত্তে প্রাণ তুচ্ছাতিতুচ্ছ
ষোল ডিসেম্বর থেমে ছাড়ি বিজয়ের শ্বাস

প্রথম বিজয় দিবসে ক্রাচ পেয়ে আমি আনন্দিত 
ক্রাচে ভর দিয়ে আজো হাঁটি পথে-প্রান্তরে
দেশও আমার সাথে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটছে-
এ ভাবনা এলে গর্জে উঠে মনে রাখা স্টেনগান !</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/70543/</link>
				<pubDate>Tue, 07 Dec 2021 07:03:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গর্জে উঠে স্টেনগান<br />
রানা জামান </p>
<p>যন্ত্রণা নিদ্রার গলায় পরিয়ে রাখতো ফাঁস<br />
চোখ মুদে নিলে পাপড়িতে লেগে যেতো দাবানল<br />
মা-বোনের আর্তনাদে শুনে হৃদযন্ত্র হয়ে যেতে স্তব্ধ<br />
আর মানুষের আহাজারি চোখে ধরাতো আগুন</p>
<p>আমার পায়ের গতি দেখে অশ্ব পেতো লজ্জা<br />
মশা ক্লান্ত হয়ে যেতো রক্ত চুষে খেতে খেতে<br />
সর্বদা শেয়াল ভড়কে গেছে আমার ক্ষিপ্রতা দেখে<br />
ভুলে যাই আমি কি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-70543"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/70543/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6925935eb55089d096c63bbd8aa2669a</guid>
				<title>Be vocal against domestic violence 
Rana Zaman
Country: Bangladesh 


Think a little before you scold her 
The girl worker works all day, all the day! 
She washes the dishes while you are asleep 
In the afternoon she took care of your small child 
And do not give time to breathe in the morning! 

You are giving her the leftovers of food
Or pulses in stale or panta rice 
Even if a piece of fish is added, what is the meat?
The beating is assigned only if it is a little sideways
Do you notice the sore marks on his back? 
Once your wife was holding a hot iron 
But she talked about human rights! 

Doesn&#039;t preventing domestic violence 
come under human rights?

Think once that adolescent like your child
Give her a quarter of your child&#039;s affection 
You will see that the girl will work with more enthusiasm 

How much more! Now be a little humane! 
Being poor or miserable is not a crime 

Speak out against domestic violence with a clean hand.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/69806/</link>
				<pubDate>Mon, 06 Dec 2021 05:37:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>Be vocal against domestic violence<br />
Rana Zaman<br />
Country: Bangladesh </p>
<p>Think a little before you scold her<br />
The girl worker works all day, all the day!<br />
She washes the dishes while you are asleep<br />
In the afternoon she took care of your small child<br />
And do not give time to breathe in the morning! </p>
<p>You are giving her the leftovers of&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-69806"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/69806/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">58a3ea15018af6c3b36c89170a7ff07a</guid>
				<title>কিশোর মুক্তিযোদ্ধা যতীন
রানা জামান


উনিশ শ একাত্তর খৃস্টাব্দের এপ্রিল মাস।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আগ্রাসী ইচ্ছা নিয়ে আস্তে আস্তে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।যেখানে যাচ্ছে সেখানে সহযোগীদের সহায়তায় আশেপাশের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে; লুটপাট করছে এবং হত্যা করছে অসহায় বাঙালিদের; ধরে নিয়ে যাচ্ছে মা-বোনদের-সম্ভ্রম নষ্ট করছে।
অকুতোভয় বাঙালিরা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সেই ২৬ মার্চ হতেই যার যা অস্ত্র আছে তা নিয়েই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।ইন্ডিয়া থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করছে।গেরিলা যুদ্ধ, সন্মুখ যুদ্ধ। যখন যেখানে যেমন প্রয়োজন তেমন চলছে যুদ্ধ।
এপ্রিলের ২৫ তারিখ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী প্যারাস্যুট নিয়ে বরিশাল জেলার ইছাকাঠি এলাকায় নামে।স্থানীয় থানা দখল করে ঘাঁটি গাড়ে।পরদিন থেকে শুরু হয় হানাদার বাহিনীর আক্রমণ ও জ্বালাও-পোড়াও।নথুল্লাবাদ হয়ে হাসপাতাল রোড থেকে চড়বাড়িয়া ইউনিয়নে লামছড়িতে চলে যায় পাক হানাদার বাহিনী। ঝুনাহার গ্রামে চালায় আক্রমণ।আগুন দিতে থাকে বাড়িঘরে।চলতে থাকে লুটপাট এবং বাঙালি হত্যা।হানাদার বাহিনী এসে ঢুকে উপেন্দ্রনাথ কর্মকারের বাড়িতে।তখন উপেন্দ্রনাথ ঘরের বারান্দায় বসা ছিলেন।পাশে কিশোর যতীন।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এক মেজর উর্দুতে জিজ্ঞেস করেন,তোমার বড় ছেলে সচিন কোথায়?
উপেন্দ্রনাথ কর্মকার ভয়ে কাঁপতে থাকলেও নিজকে সংযত রেখে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, মার সাথে মামার বাড়ি বেড়াইতে গেছে।
হানাদার বাহিনীর সাথে এক মৌলানা ছিলেন।তিনি সাথে সাথে বলেন, হে মিছা কথা কইতাছে স্যার।হের বড় পোলা সচীন মুক্তিবাহিনীতে গেছে।
উপেন্দ্রনাথ কর্মকার মৌলানার দিকে তাকালেও কিছু বলতে সাহস পান না।সাথে সাথে পাক বাহিনীর সৈন্যরা ওর দিকে একে ফরটি সেভেন রাইফেল তাক করে ধরে।যতীন ভয় পেয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে যান।একটু পর সবগুলো রাইফেল একসাথে গর্জে উঠে।রাইফেলের ব্রাশ ফায়ারের প্রচণ্ডতায় যতীনের কানে তালা লাগার যোগার তখন। তিনি ভয়ে ঠক ঠক করে কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে বসে পড়েন। দুই হাতে তিনি দুই কান চেপে ধরে আছেন।হঠাৎই সব শান্ত হয়ে যায়।যতীন কান ছেড়ে আস্তে আস্তে উঠে বসেন।উঁকি দিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে বেরিয়ে আসেন বারান্দায়।বাবার রক্তাক্ত দেহটা পড়ে আছে উল্টাপাল্টা অবস্থায় বারান্দায়।যতীনের চোখ শুকনো।সে বাবার নিথর দেহের পাশে বসে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকেন।হঠাৎ ওর মনে হয় দাদা স্বরূপকাঠি থানায় একটা স্কুলে আছে,যেটা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্থায়ী ক্যাম্প।যতীন একবার গিয়েছিলেন।তিনি বারান্দা থেকে নেমে দৌড়াতে শুরু করেন।
যতীন দৌড়াচ্ছেন।কেউ ওকে দেখছে কিনা বা অনুসরণ করছে কিনা এই বোধ ওঁর মাঝে নেই।হাঁপালেও ক্লান্তি ওঁকে স্পর্শ করছে না।নিজ এলাকা ছেড়ে চলে এলেন স্বরূপকাঠি এলাকায়।দৌড়ানোয় বিরতি নেই ওঁর।উর্ধশ্বাসে দৌড়াতে থাকেন তিনি। দৌড়াতে দৌড়াতে চলে এলেন আটঘর কুড়িয়ানা হাইস্কুলে।মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের সবাই ওঁকে চেনে। কিশোর থাকায় সবাই আদরও করে বেশ।ওকে হাপাতে দেখে ক্যাম্পের সবাই অবাক হন।
সচীন কর্মকার বেরিয়ে আসতেই যতীন বড় ভাইকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন।ওর কান্নায় সবাই অবাক।সবাই একে অপরকে দেখতে থাকেন।
সচীন ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে রেখে জিজ্ঞেস করেন, কী রে ছোটদাদা? তুই এইভাবে কানতাছস ক্যান? কী হইছে?
যতীন হেচকি টানতে টানতে এমনভাবে জবাব দিলেন যে সচীন বা অন্যরা কিছুই বুঝতে পারলেন না।সচীন ফের জিজ্ঞেস করেন, কীরে ছোট? কী হইছে? এইভাবে কানতাছিস ক্যান? কেউ মারছে তোকে?
এবার সচীন একবার হেচকি টেনে স্বর স্পষ্ট করে বলেন, পাক বাহিনী বাবারে মাইরা ফালাইছে দাদা।
সবাই বুঝতে পেরে স্তব্দ হয়ে গেলো।কারো মুখে কোনো কথা নেই।পিন পতন নিরবতা কক্ষটায়।নিরবতা বজায় রেখে ধীর পায়ে একে একে সবাই এগিয়ে আসতে থাকেন দুই ভায়ের দিকে।ছোট ভাইকে আকড়ে ধরে থাকা সচীনের হাত আস্তে আস্তে শক্ত হতে থাকে; আর ওঁর চোখ দুটো ভিজতে শুরু করে।হঠাৎ হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করেন সচীন।দুই ভায়ের কান্নায় অন্যদের চোখেও অশ্রু দেখা দেয়।
ক্যাম্প-ইন-চার্জ অশ্রু মুছে বলেন, কেঁদে আর কী হবে সচীন।যুদ্ধ শুরু হবার পর থেকে হানাদার বাহিনী শুধু তোমার বাবাকেই হত্যা করে নি; বহু সন্তান বাবা-মাকে হারাচ্ছে; বোনকে হারাচ্ছে;আত্মীয়স্বজনকে হারাচ্ছে।আমাদের এই স্বজন হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে।অশ্রু মুছো।ছোট ভাইকেও শান্ত করো।তুমি কাঁদতে থাকলে ও-তো কাঁদবেই।আজ থেকে ও আমাদের সাথে ক্যাম্পেই থাকবে।
ক্যাম্প-ইন-চার্জ সচীনের কাছে গিয়ে পিঠে হাত রাখেন।সাথে সাথে সচীন কান্না থামিয়ে ক্যাম্প-ইন-চার্জের দিকে তাকান।ক্যাম্প-ইন-চার্জ চোখ বুজে মাথা নেড়ে ইতিবাচক সায় দেন।
সচীন একটা হেচকি গিলে ছোট ভাই যতীনের দিকে তাকান।ছোটভাইকে বুকে আরেকটু চেপে ধরে বলেন, কান্দন থামা যতীন।আমরা আর কাঁদবো না।আমরা বাবা হত্যার বদলা নিবো।
যতীন কান্নার শব্দ থামিয়ে নিরবে কাঁদতে থাকেন।ক্যাম্প-ইন-চার্জ যতীনের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন স্কুলের একটা কক্ষের দিকে, যেটা ক্যাম্প-ইন-চার্জের শয্যাকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।কক্ষে ঢুকে বিছানায় বসে যতীনকে পাশে বসান।হাত দিয়ে যতীনের অশ্রু মুছিয়ে দিয়ে বলেন, বাবার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। তাই না?
যতীন একবার হেচকি টেনে ইতিবাচক মাথা নাড়েন।
ক্যাম্প-ইন-চার্জ বলেন, তোমার সামনেই কী পাক বাহিনী তোমার বাবাকে গুলি করেছে?
যতীন ফের একবার হেচকি টেনে ইতিবাচক মাথা নাড়েন।
ক্যাম্প-ইন-চার্জ বলেন, আমরা ওদের ছাড়বো না যতীন।আজ থেকে তুমি এখানেই থাকবে।কদিন পরই তোমার ভায়ের ট্রেনিং শেষ হবে।তখন সে যুদ্ধে চলে যাবে।
যতীন বলেন, বাবারে মারলো ক্যান? ওরা কারা?
ক্যাম্প ইন-চার্জ বলেন, তোমার বড় ভাই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে।তাই ওরা তোমার বাবাকে মেরে ফেলেছে।আমরা এর বদলা নেবো।
যতীন জিজ্ঞেস করেন, ওরা কারা ভাইয়া? ওরা মানুষ মারে ক্যান? 
ওরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
হানাদার বাহিনী কী?
যে সেনা বাহিনী অন্য দেশে জোরপূর্বক ঢুকে যুদ্ধ বাঁধায়, ওদের হানাদার বাহিনী বলে।পাকিস্তানি সেনা বাহিনী আমাদের দেশে জোর পূর্বক ঢুকে যুদ্ধ বাঁধিয়েছে।
আমার বাবা কী দোষ করেছিলো?
তোমার বাবা দোষ করে নাই।কিন্তু তোমার বড় ভাই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে, সেকারণে তোমার বাবাকে মেরে ফেলেছে।ওরা এমনই করছে। আমরা ওদের এদেশ থেকে হটানোর জন্য যুদ্ধ করছি।
আপনেরা ওদের সাথে পারবেন?
অবশ্যই পারবো।আমাদের পারতেই হবে।আর কথা না।তুমি আমাদের সাথে থাকো।ঘুরাফেরা করো।তোমার ভায়ের সাথে কথা বলে কোনো একদিন তোমাকে তোমাদের কোনো আত্মীয় বাড়ি পাঠিয়ে দেবো।
যতীন ক্যাম্পে অবস্থান করে এদিক সেদিক ঘুরাফেরা করেন আর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেখেন।ওঁর ভালোই লাগে।তিনি মাঝে মাঝে স্টেনগান, গ্রেনেড গুলি হাতিয়ে দেখেন।অস্ত্র গোলাবারুদ দেখলে খুব ভালো লাগে ওঁর।
একদিন যতীন ক্যাম্প-ইন-চার্জের অফিস কক্ষে ঢুকে মুখোমুখি দাঁড়ান। একদৃষ্টে তিনি তাকিয়ে থাকেন ক্যাম্প ইন-চার্জের দিকে।
ক্যাম্প-ইন-চার্জ জিজ্ঞেস করেন, কী দেখছো অমন করে?
যতীন দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,আমি মুক্তি যুদ্ধে যাইতে চাই কমান্ডার ভাই!
ক্যাম্প-ইন-চার্জ অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করেন, তুমি মুক্তিযুদ্ধে যাইতে চাও!তোমার বয়স কত জানো তুমি? তাছাড়া থ্রি নট থ্রি বন্দুক তোমার চাইতে লম্বা! তুমি বন্দুক চালাবে কিভাবে?
আমি বন্দুক চালাইতাম না।
তাহলে যুদ্ধ করবে কী দিয়ে? খালি হাতে?
স্টেনগান আর গ্রেনেড দিয়া।
ক্যাম্প-ইন-চার্জ কিছু বলতে গিয়ে থেমে তালেন যতীনের চোখের দিকে।যতীনের চোখ স্থির, যেনো আগুন ঠিকরে বের হচ্ছে।প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে অগ্নিগিরির মতো।
ক্যাম্প-ইন-চার্জ জিজ্ঞেস করেন, তোমার বয়স কত?
যতীন বলেন, সতেরো।
ক্যাম্প-ইন-চার্জ চেয়ার ছেড়ে উঠে যতীনের হাত ধরে বাইরে আসেন।তখন বাইরে কয়েকটি দলের প্রশিক্ষণ চলছিলো।একটি দলের সাথে যতীনকে ভিড়িয়ে দেন প্রশিক্ষণের জন্য।
আটঘর কুড়িয়ানা হাইস্কুলে ছাব্বিস দিন প্রশিক্ষণ চলার পর হঠাৎ একরাতে পাক বাহিনী ঐ ক্যাম্প আক্রমণ করে।যুদ্ধ চলে সারারাত।গোলাবারুদ ফুরিয়ে গেলে মুক্তিবাহিনী পিছু হটতে থাকে।এবং চলে যায় আত্মগোপনে।বাইশ মে তারিখে মুক্তিযোদ্ধারা ফের কুড়িয়ানা হাইস্কুলে ক্যাম্প স্থাপন করে।কিছুদিন পরে রাজাকারের সহায়তায় হানাদার বাহিনী পুনরায় আক্রমণ করলে যুদ্ধ চলে দুই পক্ষে।কিছুক্ষণ যুদ্ধ চলার পরে ফের গোলাবারুদ ফুরিয়ে গেলে মুক্তিযোদ্ধারা ফের পিছু হটে খুলনা হয়ে ইন্ডিয়া চলে যায়।যতীন হাসনাবাদে নয় নম্বর সেক্টরে সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলের নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শুরু করেন। প্রশিক্ষণের ফাঁকে যতীন মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করা লেখাসংবলিত পত্রিকা বিলি করেন এলাকায়।যতীনের এ ধরনের পত্রিকা বিলি করায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে উঠতে থাকে।
প্রশিক্ষণের ফাঁকে ফাঁকে যতীন গোপালগঞ্জ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র-গোলাবারুদ সরবরাহ করেন।এসময় যতীন হেমায়েত বাহিনীর সাথে বেশ কয়েকটি অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন।নভেম্বরের শেষের দিকে যতীন খুলনা চলে আসেন এবং পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সন্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।যতীনের দল একে একে শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও খুলনার গল্লাবেরি রেডিও সেন্টার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মু্ক্ত করে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/60366/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Nov 2021 12:34:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোর মুক্তিযোদ্ধা যতীন<br />
রানা জামান</p>
<p>উনিশ শ একাত্তর খৃস্টাব্দের এপ্রিল মাস।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আগ্রাসী ইচ্ছা নিয়ে আস্তে আস্তে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।যেখানে যাচ্ছে সেখানে সহযোগীদের সহায়তায় আশেপাশের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে; লুটপাট করছে এবং হত্যা করছে অসহায় বাঙালিদের; ধরে নিয়ে যাচ্ছে মা-বোনদের-সম্ভ্রম নষ্ট করছে।<br />
অকুতোভয় বাঙালিরা ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-60366"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/60366/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">84880671a564dca0791c0e5c4da7bf88</guid>
				<title>প্রত্যাশার মৃত্যু 
রানা জামান


কী কারণে কার বারণে শুরু উদ্বেগ 
নিয়ে নিচ্ছে নয়তো কিচ্ছে সকল উদ বেগ

সে আজ খাচ্ছে পেঁয়াজ সুগার আলু সব্জি
শীর্ষে থেকে বীর সে এখন নিচ্ছে সব জি

রাগের চোটে এসে জোটে বললে বান্দর
নেড়ে লাঙ্গুল তেড়ে বলে নিজের বান ধর

খাওয়া মন্দ পাওয়া বন্ধ আছে হার্নিয়া
বেশ্যা পাড়ায় সামনে দাঁড়ায় হীরের হার নিয়া

পদের জোরে বদের হাড্ডি ধনী অতিকায়
পাবার ক্রমে খাবার বেলায় ঘুষটা অতি কায়

সকল সেক্টর আজকে ফ্যাক্টর ছাড়া বল্গা
আমজনতা কার ক্ষমতা তারে বল গা

চারিদিকে হচ্ছে ফিকে নামছে অন্ধকার
মানুষ ভাবে না হুশ বিবেক অন্ধ কার

বলতো আগে অনুরাগে নেতা সেবক
আজকের দিনে সবাই চিনে লোভী সে বক

পেয়ে যাচ্ছে খেয়ে হাসছে রাক্ষস একটানা
হাজার কোটি বাজার ভরা ওসব একটা না

নিয়ে যাবে শান্তি পাবে কে এই বৈতরণি 
হালের মাঝি টালের কাজী ডুবছে বই-তরণী

যাদের আছে তাদের ভরছে গুদাম অতিরিক্ত 
প্রান্তিক লোকে দামের শোকে অতি রিক্ত

এই ব্যারামে কোন্ গেরামে আছে ডাক্তার
খবর দেবার করতে ফেভার বাতিল ডাক তার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/59781/</link>
				<pubDate>Mon, 22 Nov 2021 12:20:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রত্যাশার মৃত্যু<br />
রানা জামান</p>
<p>কী কারণে কার বারণে শুরু উদ্বেগ<br />
নিয়ে নিচ্ছে নয়তো কিচ্ছে সকল উদ বেগ</p>
<p>সে আজ খাচ্ছে পেঁয়াজ সুগার আলু সব্জি<br />
শীর্ষে থেকে বীর সে এখন নিচ্ছে সব জি</p>
<p>রাগের চোটে এসে জোটে বললে বান্দর<br />
নেড়ে লাঙ্গুল তেড়ে বলে নিজের বান ধর</p>
<p>খাওয়া মন্দ পাওয়া বন্ধ আছে হার্নিয়া<br />
বেশ্যা পাড়ায় সামনে দাঁড়ায় হীরের হার নিয়া</p>
<p>পদের জ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-59781"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/59781/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">47ac507e73b7f0edfb18bea60980d0ca</guid>
				<title>Title: Cultivation of light
Writer: Rana Zaman
Country: Bangladesh  

The expectation of a ray of light in the dark is endless 
Killing the dark the glory of light gives indescribable relief
Darkness in the deep of water gives more peace than light 
In search of the mine of light, I dig the darkness endlessly 

Who knows how much light dispels how much darkness? 
The glory of the solar system is famous all over the world 
A slice of moon at the top of darkness is like the joy of moonlight 
In surging waves a small boat is a light of reliance

Let there be darkness, let there be light also 
We understands the importance of light because of darkness 
Dark farming is never needed, never 
Cultivation of light is needed to kill darkness.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/59306/</link>
				<pubDate>Sun, 21 Nov 2021 06:09:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>Title: Cultivation of light<br />
Writer: Rana Zaman<br />
Country: Bangladesh  </p>
<p>The expectation of a ray of light in the dark is endless<br />
Killing the dark the glory of light gives indescribable relief<br />
Darkness in the deep of water gives more peace than light<br />
In search of the mine of light, I dig the darkness endlessly </p>
<p>Who knows how much light&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-59306"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/59306/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7a9033fc5c1d6e779b0bf2ee6facb3ef</guid>
				<title>একজন আহত মুক্তিযোদ্ধার কথা
রানা জামান




মসজিদে আযান শোনার সাথে সাথে মুসলেমা বিবির ঘুম ভেঙে যায়। সেদিনও তাই হলো। তখন দেশ ব্যাপি মুক্তিযুদ্ধ চলছিলো।দেশের মানুষেরা একটা ভয়ের মধ্যে কাল কাটাচ্ছিলো।
মুসলেমা বিবি একটি ছোট্ট কুড়েঘরে একা থাকেন। স্বামী মারা গেছে বহু বছর হলো। কোনো সন্তানও নেই। পাঁচ কাঠা জমি আছে। এই জমি বর্গা দিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে তার দিন চলে যায়।
মুসলেমা বিবির কাজ বলতে নিয়ম মেনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা আর বাকি সময়টা আল্লাহ তাআলাকে ডাকা।
মুসলেমা বিবি স্বভাবসুলভ আস্তে আস্তে হেঁটে বাড়ির পেছনে বয়ে যাওয়া নদী ফুলেশ্বরীর দিকে যেতে থাকেন।বাড়ির সামনে কোনো পুকুর না থাকায় গোসলসহ অন্যান্য কাজের জন্য মুসলেমা বিবি ঐ নদী থেকে পানি এনে ওযু করে ফজরের নামাজ আদায় করেন। এটা তাঁর অভ্যাস। একটি পিতলের লোটা হাতে নিয়ে ঘরের ঝাপ খুললেন মুসলেমা বিবি। ঘরের বাইরে এসে ঝাপটা আটকে দিয়ে আকাশের দিকে তাকালেন। ধ্রুবতারা জ্বলজ্বল করছে আকাশের পূর্বকোণে। ফর্সা হয়ে আসছে আকাশ; সুবেহ সাদেক। গুটিগুটি পায়ে হেঁটে মুসলেমা বিবি চলে এলেন নদীর পাড়ে। আশেপাশে কেউ নেই। এ ধরনের আলোআঁধারিতে মুসলেমা বিবির ভয় করে না।
নদীতে কোনো ঘাট নেই। এক জায়গা দিয়ে মুসলেমা বিবি সবসময় নদীতে নামেন। তিনি ঐ জায়গায় এসে দাঁড়ালেন। নিচে নামতে যাবেন, তখন অদূরে একটা কিছু দেখে দৃষ্টি আটকে গেলো ওর। তিনি পায়ে পায়ে সেদিকে এগিয়ে গেলেন। কাছাকাছি গিয়ে জিনিসটা দেখে চমকে উঠলেন। বুকটা তাঁর ধড়ফড় করতে লাগলো। একটা মানুষের লাশ। উপুর হয়ে আছে। কী করবেন তিনি বুঝতে পারছেন না। হঠাৎ ওঁর ভয় করতে লাগলো। তিনি হাতের লোটা ফেলে বাড়ির দিকে দৌড়াতে লাগলেন। 

মুসলেমা বিবি বাড়িতে ঢুকে হাঁপাতে লাগলেন। আশেপাশের বাড়িতে তখনো কেউ জাগে নি। তিনি পশ্চিম দিকের বাড়িতে ঢুকে শোবার ঘরের বারান্দায় উঠে দরজায় একবার টোকা দিলেন।
সাথে সাথে শরীফ আহমেদ সাড়া দিলেন, কেডা? কী হইছে?
মুসলেমা বিবি ভীত কণ্ঠে বললেন, দরজা খুলো বড় মিয়া। জরুলি দরকার!
শরীফ আহমেদ দরজা খুলে চৌকাঠের উপড় দাঁড়ালেন। গায়ে হাতাওয়ালা সাদা গেঞ্জি। জিজ্ঞেস করলেন, কী চাচি? এতো সকালে কী কাম? চোরে সিং কাটছে নাকি?
মুসলেমা বিবি কণ্ঠ নামিয়ে বললেন, নদীর পাড়ে একটা লাশ দেইখা আইছি! 
চমকে উঠে শরীফ আহমেদ বললেন, কী কও চাচি? হাছা কইতাছো? নাকি কোনো গাছের ঠোমরে লাশ মনে করছো?
নাগো বড় মিয়া। আমি ঠিক লাশই দেখছি।
মনে হয় কোনো মুক্তিযোদ্ধার লাশ। পাক বাহিনী মাইরা নদীত ফালায়া দিছে। তুমি কাউরে কিছু কয়ো না চাচি। আমি যাইতাছি।তুমি ঘরে যাও।
মুসলেমা বিবি ঘরের দিকে গেলেন। আর শরীফ আহমেদ গোমস্তা রশীদকে সাথে নিয়ে ছুটলেন ফুলেশ্বরি নদীর দিকে। তখন পূর্বাকাশ লালচে, দিনের আলো ফুটতে শুরু করেছে।

শরীফ আহমেদ সহজেই লাশটাকে খুঁজে পেলেন। তিনি নেমে গেলেন নিচে। লাশটাকে উল্টে বুকে কান ঠেকালেন। এবং চমকে উঠে রশীদের দিকে তাকিয়ে বললেন, বুকের ভিতরে দিলটা ধড়ফড় করতাছে রে রশীদ! অহনো জেতা আছে!
রশীদ বললো, কী কও তুমি চাচা?
শরীফ আহমেদ বললেন, তুই বুকে কান লাগাইয়া দেখ!
শরীফ আহমেদ একটু সরে দাঁড়ালেন এবং রশীদ লোকটির কাছে গিয়ে বুকে কান ঠেকিয়ে চমকে উঠে শরীফ আহমেদের দিকে তাকিয়ে বললো, হ চাচা।বুকে অহনো জান আছে! কী করবাইন অহন?
লোকটা মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করতাছে। আমি তো যুদ্ধে যাইতে পারি নাই। এই মুক্তিডারে চিকিসসা দিয়া সুস্থ করতে হইবো। তয় খুব সাবধান। কামডা গোপনে করতে হইবো এবং ঘটনাডা গোপন রাখেতে হইবো। রাজাকাররা টের পাইলে এও শেষ, আমরাও শেষ হয়া যায়াম। মনে থাকবো কথাডা?
মনে থাকবো চাচা।
তাইলে অহন এই মুক্তিডারে কান্দে উঠায়া তাড়াতাড়ি বাড়িত চল। মানুষ দেখলে বিপদ বাড়বো।
শরীফ আহমদে আহত মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি নিয়ে এলেন। শোবার ঘরে ভেতরের কক্ষে শুইয়ে দিয়ে বাড়ির সবাইকে ডেকে আনলেন। সবাইকে একে একে দেখে বললেন, এই লোকটা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আহত হয়া নদীর পাড়ে পইড়া আছিলো। আমি লইয়া আইছি। এরে চিকিসসা আর সেবা কইরা সুস্থ করত হইবো। এ আবার যুদ্ধে যাইবো; পাক বাহিনীকে পরাজিত কইরা দেশটারে স্বাধীন করবো। দেশ স্বাধীন না হইলে আমরা কেউ বাচতাম না। এই ঘটনা য্যান কেউ জানতে না পারে! রাজাকাররা টের পাইলে আমাদের মাইরা বাড়িঘর জ্বালাইয়া দিবো।
আায়েশা খাতুন স্বামীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এই মুক্তিডার চিকিসসা করতে হইলে ডাক্তর লাগবো। ডাক্তর পাইবাইন কই?
ডাক্তর লাগতো না। আমরাই চিকিসসা করবাম। আগে দেখি জখমডা ক্যামন। তারপর শুরু হইবো টোটকা চিকিসসা।
শরীফ আহমেদ আহত মুক্তিযোদ্ধার জখম পরীক্ষা করলেন। গুলিটা লেগেছে বাম কাঁধে। এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে গেছে।অর্থাৎ ভেতরে গুলি নেই। 
শরীফ আহমেদ খুশি হয়ে বললেন, কান্দে গুলিডা লাইগা বাইর হয়া গেছে। তুমি কাঁচা হলদি বাইট্টা নিয়া আসো।কাঁচা হলদি ঘরে না থাকলে ক্ষেত থাইকা তুইলা নিয়া আসো। আর দুধ গরম কইরা রাখো। জ্ঞান ফিরলে গরম দুধ খাওয়াইতে হইবো। 

নাম না জানা আহত মুক্তিযোদ্ধাকে সুস্থ্য করে তোলার জন্য চললো শরীফ আহমেদের টোটকা চিকিৎসা। খুবই গোপনে। বাড়ির কেহই এ ঘটনা কাউকে বলছে না। পরদিন আহত মুক্তিযোদ্ধার জ্ঞান ফিরলো; তবে গায়ে প্রচণ্ড জ্বর থাকায় প্রলাপ বকতে থাকলো। বাজার থেকে জ্বরের ঔষধ এনে খাওয়ানো হলো।
পরদিন রাতে মুক্তিযোদ্ধার জ্বর কমে এলো। সবাই ওকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।সবার মুখে তৃপ্তির আভা।
আহত মুক্তিযোদ্ধা সবাইকে একবার দেখে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কোথায়? পাক বাহিনীর ক্যাম্পে নাকি?
শরীফ আহমেদ মৃদু হেসে বললেন, পাক বাহিনীর ক্যাম্পে কি কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে এইভাবে নরোম বিছানায় শুইতে দিবো? তুমি আমার বাড়িতে আছো এবং নিরাপদেই আছো। এখন ক্যামন লাগতাছে তাই কও।
মুক্তিযোদ্ধাটি বুঝতে পারলেন তার আর কোনো বিপদ নেই। তিনি স্বস্থির নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, এখন খুব ভালো লাগছে চাচা। আমি ভেবেছিলাম মরেই গেছি। 
ঘটনাটা কী হইছিলো একটু কও দেহি মুক্তিযোদ্ধা ভাতিজা।
উলুহাটিতে একটা অপারেশন করতে গিয়ে রাজাকারের হাতে ধরা পড়ে যাই। ওরা নান্দাইল পাক বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়া যায়।খুব অত্যাচার করে তথ্য বের করার জন্য। আমি একদম বোবা থাকি। তখন রেগেমেগে পাক বাহিনী আমাকে ফুলেশ্বরি নদীর পাড়ে নিয়া গুলি করে। এরপর আর কিছু মনে নাই। 
শরীফ আহমেদ বললেন, এরপরের ঘটনা হইলো আমরা তোমারে নদীর পাড়ে পইড়া থাকতে দেইখ্যা বাড়িত লইয়া আইছি। গোপনে তোমার চিকিসসা করতাছি। তুমি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়া উঠবা। গুলিডা কান্দে লাইগা পিঠের দিক দিয়া বাইর হয়া যাওয়ায় এইবার তুমি বাইচ্চা গেলা মুক্তি বেটা।
মুক্তিযোদ্ধা যুবক বললেন, আপনাদের হাতে না পড়লে কি আর বাঁচতে পারতাম চাচা। আপনাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবো না। 
তুমি সুস্থ হয়া আবার যুদ্ধে যাইবা, নাকি বাড়িত চইলা যাইবা? ওহো তোমার বাড়ি কই তা জানা হইলো না, তোমার নামটাও অহনো জানি না।
তখন আয়েশা খাতুন এক গ্লাস গরম দুধ হাতে নিয়ে এসে দাঁড়ালেন।দুধের গ্লাসটা যুবকের দিকে বাড়িয়ে ধরে বললেন, কথা পরে হইবো। আগে দুধটা খায়া লন। 
আহত মুক্তিযোদ্ধা যুবক দুধের গ্লাসটা হাতে নিয়ে বললেন, আমার নাম নকিব। আমার বাড়ি নেত্রকোণা মহকুমার ধোবাউড়া থানায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/54565/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Nov 2021 05:17:51 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একজন আহত মুক্তিযোদ্ধার কথা<br />
রানা জামান</p>
<p>মসজিদে আযান শোনার সাথে সাথে মুসলেমা বিবির ঘুম ভেঙে যায়। সেদিনও তাই হলো। তখন দেশ ব্যাপি মুক্তিযুদ্ধ চলছিলো।দেশের মানুষেরা একটা ভয়ের মধ্যে কাল কাটাচ্ছিলো।<br />
মুসলেমা বিবি একটি ছোট্ট কুড়েঘরে একা থাকেন। স্বামী মারা গেছে বহু বছর হলো। কোনো সন্তানও নেই। পাঁচ কাঠা জমি আছে। এই জমি বর্গা দিয়ে যা আয় হয় ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-54565"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/54565/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">15cf05802421f43e2156004c0ab96c31</guid>
				<title>রূপশালী ধানের ঘ্রাণ পাই
রানা জামান


অফিসে যাবার তাড়া নেই আজ অবস্থান গৃহরাজ্যে
চানাচুরে কাঁচা মরিচ মিশিয়ে নুন পেঁয়াজের কুচি
বৌ-এর বকুনি মিশে গেলে স্বাদের তুলনা নেই
একটু কুড়েমি হলে গায়ে জল ঢালা ভ্যালেন্টাইন ডে তুচ্ছ
ছানাদের হুড়োহুড়ি মনে মিশে সাগরের জলোচ্ছ্বাস
জানলা খুলে পাশের বাড়ির দৃশ্য দেখে বেড়ি পরাই চিন্তায়
সবে মিলে একসাথে খাওয়া হার মানে বনভোজন
দুপুরে ভাতঘুম কিছু হয়ে গেলে বিকেলটা গোয়ার সি-বিচ
রূপশালী ধানের ঘ্রাণ পাই ছেলেমেয়ের গা থেকে
গলা ধরে ঝুলে থাকা সন্তানের খুনসুটি বাজায় অর্কেস্ট্রা
দিন অবসান হলে ইজেলের রং হতে থাকে ফিকে
আতিপাতি খুঁজি কোনো কিছু সময় আটকে দেবার
হৃদয়ের ম্লানিমা বাড়িয়ে নেমে আসে রাত টোনাটুনির উঠোনে
সন্তানের পড়ার টেবিলে বসে থাকি তারছেঁড়া ভায়োলিন</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/54128/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Nov 2021 06:07:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রূপশালী ধানের ঘ্রাণ পাই<br />
রানা জামান</p>
<p>অফিসে যাবার তাড়া নেই আজ অবস্থান গৃহরাজ্যে<br />
চানাচুরে কাঁচা মরিচ মিশিয়ে নুন পেঁয়াজের কুচি<br />
বৌ-এর বকুনি মিশে গেলে স্বাদের তুলনা নেই<br />
একটু কুড়েমি হলে গায়ে জল ঢালা ভ্যালেন্টাইন ডে তুচ্ছ<br />
ছানাদের হুড়োহুড়ি মনে মিশে সাগরের জলোচ্ছ্বাস<br />
জানলা খুলে পাশের বাড়ির দৃশ্য দেখে বেড়ি পরাই চিন্তায়<br />
সবে মিলে একসাথে খাওয়া হার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-54128"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/54128/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">db7bd4e3deee86cb6c6a7bbc1ea13833</guid>
				<title>Title: Punch Ego
Writer: Rana Zaman 
Country: Bangladesh 

The ego does not allow to think well
Life of ego bearing is as like as hell
Ego is a big challenge to achieve goal
Having an ego means losing the soul

When the ego is created, face it first
Punching immediately to make it dust
If you care, it will dance like a monkey
Then you will be a ego carrying donkey.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/53459/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Nov 2021 05:24:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>Title: Punch Ego<br />
Writer: Rana Zaman<br />
Country: Bangladesh </p>
<p>The ego does not allow to think well<br />
Life of ego bearing is as like as hell<br />
Ego is a big challenge to achieve goal<br />
Having an ego means losing the soul</p>
<p>When the ego is created, face it first<br />
Punching immediately to make it dust<br />
If you care, it will dance like a monkey<br />
Then you&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-53459"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/53459/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2f9b940d4dce89fafc661df11686cd47</guid>
				<title>উচ্চতা সাড়ে চার ফুট
রানা জামান

রবিউল হোসেন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।সে পুলেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ছে।পুলেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়টা যশোর জেলার সদর থানায় অবস্থিত।আর রবিউল হোসেনের গ্রামের নাম ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া।রবিউল হোসেনের বয়স আনুমানিক পনেরো বছর।কিশোর।
উনিশ শ একাত্তর খৃস্টাব্দের মার্চ মাসে শুরু হয় স্কুলের ক্লাশে শুরু হয় অনিয়ম।বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণের পর আরো অনিয়ম বাড়তে থাকে।পচিশ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হবার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।কিশোর-তরুণ-যুবক-পৌঢ় বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে থাকে বাংলাদেশকে হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করার দৃঢ় শপথ নিয়ে।
আকাশ বাণী কলিকাতা ও বিবিসি’র সংবাদ, বাবা-চাচা এবং চারিদিকে আশেপাশের গ্রামে পাক হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের কথা শুনে রবিউলের মনে যুদ্ধে যাবার ইচ্ছা জাগে।আস্তে আস্তে ঐ ইচ্ছা প্রবল হতে থাকে।
একদিন রবিউল হোসেন বাড়িতে মা-বাবার কাছে বলেন, আমি যুদ্ধে যেতে চাই বাবা।
মা আঁতকে উঠে বলেন, না বাপ। তোর যুদ্ধে যাওনের কাম নাই।
বাবা বলেন, তুই ছোট মানুষ।তুই যুদ্ধে গিয়া কী করবি।রাইফেলই ধরতে পারবি না।
রবিউল হোসেন দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, রাইফেল ধরতে না পারলে অন্য অস্ত্র ধরবো।তবু আমি যুদ্ধে যাবো মা বাবা।তোমরা অনুমতি না দিলে আমি একদিন পালায়া যুদ্ধে চলে যাবো।
মা ছেলের কাছে এসে দুই হাতে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, অমন কথা বলিস না বাপ।আমার এখনই কান্না পাচ্ছে।মা ফুপিয়ে উঠেন।
বাবা বলেন, দেশ স্বাধীন করতে হলে কাউকে না কাউকে যুদ্ধে যেতে হবে।তোর যুদ্ধে যেতে আমার আপত্তি নাই।কিন্তু তুই তো খুব ছোট।যুদ্ধে গিয়া কী করবি তুই?
আমি গ্রেনেড চালাবো বাবা।আরো বহু অস্ত্র আছে মা।আমাকে যুদ্ধে যাবার অনুমতি দাও তোমরা।
মা আকুল নয়নে বাবার দিকে তাকিয়ে রইলেন।বাবা মার দিকে একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলেন।রবিউল হোসেনের দিকে তাকিয়ে বলেন, ঠিক আছে।যা।কবে যাবি?
মা ভেজা কণ্ঠে বলেন, আপনি আমার দুধের বাচ্চাটাকে যুদ্ধে যাবার অনুমতি দিচ্ছেন? আপনি কী পাষাণ?
বাবা বলেন, যুদ্ধে যাওয়ার জন্য বয়সের চাইতে সাহস দরকার। দেখো না, আমার বয়স ওর চাইতে কত বড়; কিন্তু আমার সাহস না থাকায় যাইতে পারতাছি না। আমার পোলার সাহস আমার চাইতে বেশি; তাই বয়স কম থাকা সত্ত্বেও সে যুদ্ধে যেতে চাচ্ছে।হে যুদ্ধে যাক।তুমি কেদে ওর মনটাকে নরোম করতে চাইও না রবিউলের মা।
কয়েক দিন পর এপ্রিল মাঝের মাঝামাঝি সময়ে গ্রামের ঈমান আলি, মোহাম্মাদ নুরু ও আরো কয়েক জন সহ রবিউলি হোসেন হেটে মণিরামপুর আসে। সেখানে অনেক শরণার্থি ছিলো। ওদের সাথে ইণ্ডিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করে সবাই।রাত হয়ে যাওয়ায় সাতক্ষিরা মহকুমার কলারোয়া থানায় একটি স্কুলে রাত কাটায় সবাই। পরদিন ইণ্ডিয়ার বশিরহাট মহকুমার হাকিমপুর সীমান্তে যায় সবাই। 
ইণ্ডিয়ার বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স কাউকে কিছু না বললেও রবিউল হোসেনকে হিন্দিতে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কেনো এসেছো?
রবিউল হোসেন হিন্দি কিছু কিছু বুঝতে পারলেও বলতে পারে না। সে বাংলায় বলে, আমি যু্দ্ধ করতে এসেছি।
তখন ইণ্ডিয়ার বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স-এর সদস্যরা ওদের হাকিমপুর ক্যাম্পে নিয়ে যায়।ওখানে যশোরের রাজারহাট এলাকার আবুল হোসেন নামের একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি রবিউল হোসেনের কথা শুনে ছুটে আসেন।
আবুল হোসেন রবিউল হোসেনকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তুমি যুদ্ধ করতে চলে এসেছো।তুমি কি যুদ্ধ করতে পারবে?
রবিউল হোসেন দৃঢ় কণ্ঠে বলে, খুব পারবো ভাইয়া।আপনি আমাকে ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করে দেন।
আবুল হোসেন বললেন, ব্রেভো ব্রাদার! আজ বিকেলেই তোমাকে ট্রেনিং দেবো যাতে তুমি থ্রি নট থ্রি রাইফেল চালাতে পারে।
রবিউল হোসেন অত্যন্ত খুশি হয়ে আবুল হোসেনকে জড়িয়ে ধরলো।আবুল হোসেনও হাসিমুখে রবিউলকে জড়িয়ে ধরলেন।ওর পিঠ চাপড়ে দিয়ে বললেন,ওকে ছোট ভাইয়া।এখন তাবুতে যাও।আর মন খারাপ করো না।ঠিক তিনটায় মাঠে চলে আসবে।ট্রেনিং হবে তোমার একার।আর ট্রেনার আমি। ওকে?
রবিউল হোসেন আবুল হোসেনের বুক থেকে সরে এসে বললো, ওকে ভাইয়া।
রবিউল হোসেনের মনে উত্তেজনা।অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণের উত্তেজনা।ও তাবুতে থেকে ছটফট করতে লাগলো।দুপুরে ও ভালো মতো খেতেও পারলো না।পৌণে তিনটা বাজতেই সে তাবু থেকে বেরিয়ে এলো।তিনটায় এলেন মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসে; কাঁধে একটা থ্রি নট থ্রি রাইফেল।শুরু হলো প্রশিক্ষণ।কয়েকবার দেখিয়ে দিতেই রবিউল হোসেন থ্রি নট থ্রি রাইফেল ধরা থেকে শুরু করে গুলি ছোড়া পর্যন্ত রপ্ত করে ফেললো।
আবুল হোসেন বললেন, তুমি থ্রি নট থ্রি রাইফেল চালানো বেশ শিখে ফেলেছো।এখন কেমন শিখেছো তা দেখার জন্য আমার সাথে তোমাকে একটা যুদ্ধে যেতে হবে।
রবিউল হোসেন উৎফুল্ল হয়ে জিজ্ঞেস করলো, অবশ্যই যাবো ভাইয়া।কোথায় ভাইয়া? কবে?
কলারোয়া সীমান্তে।আর ইউ রেডি?
ইয়েস ভাইয়া! 
এক বেলার প্রশিক্ষণ নিয়ে রবিউল হোসেন আবুল হোসেনের সাথে কলারোয়া সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন।
কিন্তু পরদিন নিয়মিত রিক্রুটিং-এর সময় রবিউল হোসেনকে উচ্চতা কম থাকায় বাদ দেয়া হয়। বাঙালিরা দৈর্ঘে কম থাকায় উচ্চতা পাচ ফুট রাখা হয়। কিন্তু রবিউল হোসেনের উচ্চতা সাড়ে চার ফুট হওয়ায় তাকে বাদ দেয়া হয়।
রবিউল হোসেনের মন খুব খারাপ হয়ে যায়।সে ক্যাম্পের এক কোণে চুপচাপ বসে থাকে।এ খবর আবুল হোসেনের কানে গেলে আবুল হোসেন খালেদ সহ আরো মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ইন চার্জের কাছে ছুটে আসেন।আবুল হোসেন বলেন, রবিউল হোসেনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রিক্রুট না করলে আমরা কেউ যুদ্ধে যাবো না। 
ক্যাম্প ইন চার্জ থমকে যান আবুল হোসেনের কথা শুনে।অনেক আলোচনার পর ক্যাম্প ইন চার্জ রবিউল হোসেনকে রিক্রুট করেন।
তখন রবিউল হোসেন আবুল হোসেনের কাছে এসে অশ্রুসিক্ত চোখে বললো, আপনাকে ধন্যবাদ ভাইয়া।
আবুল হোসেন জিজ্ঞেস করলেন, ধন্যবাদ দিচ্ছো কেনো রবিউল?
রবিউল হোসেন বললো, আপনি জিদ না ধরলে আমাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রিক্রুট করতো না ভাইয়া।
তা ঠিক।তোমার হাইটটা তো কম। সেকারণে ওদের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিলো। কিন্তু তোমার অতি আগ্রহ আমাকে ওমন জিদটা করতে বাধ্য করেছে।তুমি আমার সম্মান রক্ষা করো ছোট ভাই।ভালো মতো ট্রেনিং নেবে আর প্রাণপণে যুদ্ধ করবে।
রবিউল হোসেন বললো, জ্বী ভাইয়া।আমি আপনার সম্মন অবশ্যই রক্ষা করবো।আমি মন লাগিয়ে ট্রেনিং নেবো এবং যুদ্ধ করবো প্রাণের মায়া ত্যাগ করে।
ওকে। এবার যাও।
রবিউল হোসেনকে সরাসরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিয়ে ৪২ দিনের উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য হাকিমপুর ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়।প্রশিক্ষক ছিলেন ক্যাপ্টেন ই. আর. আজম চৌধুরি, পুলিশ সুপার মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ ও ইণ্ডিয়ান সেনাবাহিনীর মেজর কাশ্মির সিং।হাকিমপুর ক্যাম্পে ৪২ দিন প্রশিক্ষণের পর রবিউল হোসেনকে পাঠিয়ে দেয়া হয় নদীয়া জেলার ইস্ট ইণ্ডিয়া ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
রবিউল হোসেন বহু যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।সাতক্ষীরার ভাদিয়ালী সীমান্তের দীঘিরপাড়ে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সংঘটিত ভয়াবহ যু্দ্ধে রবিউল হোসেন অংশ গ্রহণ করেন।এই যুদ্ধে বহু যোদ্ধা হতাহত হয়-১৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং কমপক্ষে এক শ’ জন হানাদার সৈন্য নিহত হয়।
এ ছাড়াও রবিউল হোসেন ৫ ডিসেম্বর মেহেরপুর সীমান্তে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।ঐদিন মুক্তিযোদ্ধারা রেকি করতে আসে সীমান্ত এলাকায়।তখনই এক ব্যাটালিয়ন পাকিস্তানি সেনা বাহিনী ৫০ থেকে ৬০টি সাজোয়া ট্রাক ও জিপে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতে আক্রমণ করে।মুক্তি যোদ্ধারা প্রস্তুত থাকায় শুরু করে পাল্টা আক্রমন।শুরু এক ভয়াবহ যুদ্ধের।সারারাত যুদ্ধ চলে।প্রাণের মায়া ত্যাগ করে মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধ করতে থাকে। 
অবশেষে পাক বাহিনী পরাজিত হয় ঐ যুদ্ধে।রবিউল হোসেন মুক্তিবাহিনীর প্লাটুন আত্মসমর্পণকৃত পাক বাহিনীর সদস্যদের পাকরাও করে ফেলে। 
এর কিছুদিন পর দেশ স্বাধীন হয়ে যায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/51104/</link>
				<pubDate>Tue, 02 Nov 2021 03:51:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>উচ্চতা সাড়ে চার ফুট<br />
রানা জামান</p>
<p>রবিউল হোসেন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।সে পুলেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ছে।পুলেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়টা যশোর জেলার সদর থানায় অবস্থিত।আর রবিউল হোসেনের গ্রামের নাম ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া।রবিউল হোসেনের বয়স আনুমানিক পনেরো বছর।কিশোর।<br />
উনিশ শ একাত্তর খৃস্টাব্দের মার্চ মাসে শুরু হয় স্কুলের ক্লাশে শুরু হয় অনিয়ম।বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-51104"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/51104/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5608564410e70fc522d4687bb11f8a7f</guid>
				<title>হেমন্তের আগমনে
রানা জামান 


হেমন্তের আগমনে ফসলের ঘ্রাণ
অঘ্রাণের প্রতিক্ষণে উছলায় প্রাণ
সোনালি ধানের স্পর্শ কৃষকের হাসি
প্রতিঘরে শুরু হর্ষ থাক বারো মাস-ই
নতুন ধানের পিঠা পুলি কাটা ভাপা
নতুন বৌ-এর মিঠা যায় নাকো মাপা
ঘাসের ডগায় হাসে ভোরের শিশির
কৃষকেরা এই মাসে বীজ বুনে তিসির

চাষীর খুশির জের মরে মাস শেষে
মুনাফার সর ফের ব্যবসায়ীতে মেশে
কৃষকের হাতে যায় খুব অল্প দাম
সিন্ডিকেট চুষে খায় কৃষকের ঘাম।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/50826/</link>
				<pubDate>Mon, 01 Nov 2021 03:32:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হেমন্তের আগমনে<br />
রানা জামান </p>
<p>হেমন্তের আগমনে ফসলের ঘ্রাণ<br />
অঘ্রাণের প্রতিক্ষণে উছলায় প্রাণ<br />
সোনালি ধানের স্পর্শ কৃষকের হাসি<br />
প্রতিঘরে শুরু হর্ষ থাক বারো মাস-ই<br />
নতুন ধানের পিঠা পুলি কাটা ভাপা<br />
নতুন বৌ-এর মিঠা যায় নাকো মাপা<br />
ঘাসের ডগায় হাসে ভোরের শিশির<br />
কৃষকেরা এই মাসে বীজ বুনে তিসির</p>
<p>চাষীর খুশির জের মরে মাস&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-50826"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/50826/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">da64f0fa31e0a806f44ba5bd9248dad2</guid>
				<title>কাঠবিড়ালি কাঠ কাটে না 
রানা জামান




ডাক্তার আশরাফ কলবেল টিপে ধীরে নাচাতে লাগলেন ডান পা।
দরজা সামান্য খুলে কেউ একজন জিজ্ঞেস করলো, হু আর ইউ?
ডাক্তার আশরাফ ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে কাউকে না দেখে ভ্রু কুচকালেন।
নিচ থেকে আগের কণ্ঠস্বরটা ফের বললো, হু আর ইউ মিস্টার?
এবার ডাক্তার আশরাফ নিচে তাকিয়ে একটা কাঠবিড়ালিকে কথা বলতে দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন। 
তখন ভেতর থেকে কাঁপা কণ্ঠে প্রফেসর মাসুদ বললেন, মিনি বিড়ালি?
কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে ডাক্তার আশরাফ ফের কাঠবিড়ালিকে একবার দেখে ভেতরের দিকে এগিয়ে গেলেন। প্রফেসর মাসুদ শুয়ে আছেন বিছানায়। ডাক্তার আশরাফ বিছানার কাছে গিয়ে বললেন, তোর কি আমাকে মনে আছে? আমি আশরাফ। এখন পশুর ডাক্তার। 
প্রফেসর মাসুদ বললেন, ও আমার জিগরি দোস্ত। ওকে আসতে দাও মিনি বিড়ালি।
ডাক্তার আশরাফ বললেন, কিরে পাগলা, তুই এখনো শুয়ে আছিস? ইট ইজ নাউ টেন এএম! তুই শরীরটা ধরে রেখেছিস সেই আগের কলেজের মতো! আর আমাকে দেখ! এক হাত ভুড়ি!
প্রফেসর স্মিত হেসে আধশোয়া হয়ে বললেন, বস্। আমার ঠিকানা জানলে কিভাবে?
ডাক্তার আশরাফ প্রফসর মাসুদের মুখোমুখি একটা চেয়ারে বসে বললেন, তোর হুলোটার বদৌলতে। তোর হুলেটাকে দেখছি না যে! 
ওর নাম ফিট-ফর-অল।
যথার্থ নাম। সেদিন একটা সুপারশপে দেখা হয়েছে। ওখানেই তোর হদিস জানতে পারি। কোথায় হুলো বেড়াল সরি ফিট-ফর-অল?
ও ঘরজামাই হয়ে চলে গেছে।
বিয়ে করেছে হুলোটা!
তুই ঠিকই শুনেছিস। ও বিয়ে পাগলা হয়ে গিয়েছিলো। 
এখন বানিয়েছিস কাঠবিড়ালি। কিভাবে বানালি এটাকে?
ক্লোনিং। 
আর মানুষের কণ্ঠস্বর?
ভোকাল স্যাকে মিউটেশান।
বাহ! তারপরও তোকে নোবেল প্রাইজ দেয়া হচ্ছে না কেনো! ঘরে বৌ থাকলে এসব কিছুই করতে হতো না তোকে!
প্রফেসর মাসুদ মুচকি হাসলেন মাত্র। মিনি বিড়ালি লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে প্রফেসরের মাথার পাশে বসলো। ডাক্তার আশরাফ ওর মাথায় হাত রাখলে এক ঝটকায় কাঠবিড়ালিটা অন্যদিকে সরে বসলো। 
প্রফেসর মাসুদ বললেন, আমি ছাড়া অন্য কেউ ওর মাথায় হাত দিলে সহ্য করতে পারে না। 
সরি!
মিনি বিড়ালি বললো, এতো বছর পর তোমাদের দেখা হলো। তোমাদের নিশ্চয়ই খুব ভালো লাগছে। আমার খারাপ লাগছে।
কেনো?
আমার কোনো বন্ধু নাই। 
একটু থমকে গেলেন প্রফেসর মাসুদ। পরক্ষণে হাসিমুখে বললেন, কে বললো নেই? তুমি বাইরে গেলেই অনেক অনেক বন্ধু পাবে।
কয়েকবার বাইরে গেছি। সবাই আমাকে এলিয়েনের মতো দেখে।
বুঝেছি। তোমার জন্য সঙ্গী বানাতে হবে। ডোন্ট অরি। হয়ে যাবে।
মিনি বিড়ালি বললো, থ্যাঙ্কু প্রফেসর। তোমরা কী খাবে বলো।
হু। অনেক দিন পর পুরনো বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ। ফিরনি পাকাও! আমার বন্ধুর ফিরনি খুব পছন্দ। তাই না পশু ডাক্তার?
ডাক্তার আশরাফ মুচকি হেসে ইতিবাচক মাথা নাড়লেন।
মিনি বিড়ালি এক লাফে নিচে নেমে চলে এলো রান্নাঘরের দিকে। 
ডাক্তার আশরাফ দাঁড়ালে প্রফেসর জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় যাচ্ছো বন্ধু?
ডাক্তার আশরাফ বললেন, রান্নাঘরে! কাঠবিড়ালির রান্না দেখতে। 
রান্নাঘরে সবকিছু রোবোটাইজড তথা যন্ত্রচালিত। বোতাম টিপে কাজ করে যাচ্ছে মিনি বিড়ালি। এক বোতাম টিপতেই একটা মাঝারি আকৃতির পাতিল পাটাতনে নেমে চলে গেলো একটা নলের নিচে। নলের উপরের বোতাম টেপায় আড়াই শ কেজি চাল পড়লো পাতিলে। একটি বোতাম টেপায় পাতিল চলে গেলো একটি গ্রাংন্ডিং মেশিনের নিচে এবং নেমে এলো গ্রাইন্ডিং মেশিন। প্রতিটি চাল চার টুকরা হলে বন্ধ হয়ে গেলো মেশিন। এরপর পাতিল সিঙ্কে ধৌত হয়ে চলে গেলো দুধের নলের নিচে। দুধ নিয়ে পাতিল উনুনে যেতেই জ্বলে উঠলো আগুন। 
ডাক্তার আশরাফ ফিরে এসে চেয়ারে বসে হাততালি দিতে লাগলেন। 
প্রফেসর মাসুদ বললেন, হাততালি দিচ্ছিস যে?
ডাক্তার আশরাফ বললেন, স্প্লেনডিড এরেঞ্জমেন্ট! 
রান্না কদ্দূর?
ওভেনে বসে গেছে।
তাহলে পাঁচ মিনিট পর ফিরনি খেতে পারবি।
দুই বন্ধুর সাথে মিনি বিড়ালিও খেতে চেষ্টা করলো ফিরনি। কয়েক চামচ খেয়ে বললো, এখন থেকে আমি ফিরনিই খাবো!
ডাক্তার আশরাফ মিনি বিড়ালির মাথা চাপড়ে দিতে গিয়ে থেমে পিঠ চাপড়ে দিয়ে চলে গেলেন। 
প্রফেসর মাসুদ মিনি বিড়ালিকে কোলে নিয়ে বললেন, গুড জব মিনি! আমি এখন তোমার কম্পেনিয়ন বানাতে যাচ্ছি।
মিনি বিড়ালি বললো, থ্যাঙ্ক ইউ প্রফেসর!
এতে তোমার টিসু লাগবে। আমার সাথে ল্যাবে আসো। 
এক সপ্তাহে মিনি বিড়ালি পেয়ে গেলো সাথি। ওকে বুঝতে পারে, ওকে সঙ্গ দেয়, ওর সাথে চলাফেরা করে এবং ওর মতো প্রফেসর মাসুদকে অত্যন্ত পছন্দ করে। 
ভালোই কাটতে দিনকাল দুই কাঠবিড়ালিকে নিয়ে প্রফেসর মাসুদের। সপ্তাহের শেষ দিন অর্থাৎ শুক্রবার বিকেলে দুই কাঠবিড়ালি বেড়াতে বেরিয়ে আর ফিরে আসে নি। একে ওকে ফোন করে খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া গেলো না দুই কাঠবিড়ালিকে। শেষে পুলিশের পরামর্শে দৈনিক পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তি দিলো। পরদিন সকাল দশটায় দরজার টোকার শব্দে দরজা খুলে চোখ ছানাবড়া প্রফেসর মাসুদের।
বাড়ির সামনে রাস্তা বন্ধ করে বসে আছে শত শত মানুষ জোড়া কাঠবিড়ালি নিয়ে। দরজা ভেজিয়ে দ্রুত ভেতরে এলেন প্রফেসর। পত্রিকাটা খুঁজে বের করে বিজ্ঞপ্তিটি পড়লেন-
ভুল মনে করে এবারও পত্রিকার সম্পাদক &#039;কাঠবিড়ালি দুটো মানুষের মতো কথা বলতে পারে।&#039; লাইনটি বাদ দিয়ে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/46071/</link>
				<pubDate>Wed, 20 Oct 2021 06:28:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কাঠবিড়ালি কাঠ কাটে না<br />
রানা জামান</p>
<p>ডাক্তার আশরাফ কলবেল টিপে ধীরে নাচাতে লাগলেন ডান পা।<br />
দরজা সামান্য খুলে কেউ একজন জিজ্ঞেস করলো, হু আর ইউ?<br />
ডাক্তার আশরাফ ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে কাউকে না দেখে ভ্রু কুচকালেন।<br />
নিচ থেকে আগের কণ্ঠস্বরটা ফের বললো, হু আর ইউ মিস্টার?<br />
এবার ডাক্তার আশরাফ নিচে তাকিয়ে একটা কাঠবিড়ালিকে কথা বলতে দেখে বিস্ময়ে হতবাক হ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-46071"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/46071/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">af59c75723bdabf311c2e1fe73607d5b</guid>
				<title>অশ্রুর নিস্ফল প্রতিবাদ

রানা জামান



শরীর নেতিয়ে গেলো কী কারণে
চোখে আবছা পর্দা পড়ে যাচ্ছে যেনো
শুয়ে আছি হাসপাতালে
কী কারণে কবে এসেছি এখানে বোধে নেই
উঠতে ব্যর্থ হয়ে এখন উঠার চেষ্টা পরিত্যাক্ত
ডাক্তার জবাব দিয়েছেন কবে ভুলে গেছি
ভুলে গেছি আমি কে আমার পরিচয়
কতক মানুষ কেনো কাঁদে বুঝি না!
শুধু দেহ জুড়ে ব্যথাটা পারিনা ভুলতে কিছুতেই

চোখ বুজে থাকে নাকি খোলা সমান ফিলিং
কিম্ভূত আকৃতি নাচে অবিরাম নাচে
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বোধ না থাকায় তাড়াতে চাই ইশারায়
নড়ে না কিছুই! একদম না
তেতোর মতোই সয়ে যাচ্ছি নাচের ভাঙ্গা রেকর্ড
অন্ধকার গাঢ় হয়ে আসছে পল হতে পলে
পৃথিবীর এতো আলো শেষ পুরো আমার বেলায়

কান্নার ঘনত্ব বাড়ছে বুঝতে পারছি
নিঃশ্বাসে কে যেনো দড়ি বেঁধে টানছে ক্রমান্বয়ে
শরীরের কোনো অংশে প্রতিবাদ নেই কোনো
চক্ষুকোণ বেয়ে চলছে অশ্রুর নিস্ফল প্রতিবাদ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/45781/</link>
				<pubDate>Tue, 19 Oct 2021 11:19:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অশ্রুর নিস্ফল প্রতিবাদ</p>
<p>রানা জামান</p>
<p>শরীর নেতিয়ে গেলো কী কারণে<br />
চোখে আবছা পর্দা পড়ে যাচ্ছে যেনো<br />
শুয়ে আছি হাসপাতালে<br />
কী কারণে কবে এসেছি এখানে বোধে নেই<br />
উঠতে ব্যর্থ হয়ে এখন উঠার চেষ্টা পরিত্যাক্ত<br />
ডাক্তার জবাব দিয়েছেন কবে ভুলে গেছি<br />
ভুলে গেছি আমি কে আমার পরিচয়<br />
কতক মানুষ কেনো কাঁদে বুঝি না!<br />
শুধু দেহ জুড়ে ব্যথাটা পারিনা ভুলতে কিছুতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-45781"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/45781/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c9096803117b961fbdfe3deb67f60e90</guid>
				<title>যত হুশ খরগোশ 
রানা জামান




খরগোশগুলোর চ্যাচামেচিতে প্রফেসর মাসুদ মহাবিরক্ত। ভেবেছিলেন শান্ত প্রকৃতির জীবগুলো নিয়ে আরামেই থাকবেন। পৌঢ় বয়সে শান্তি আর মিলছেই না! সারাজীবন কাটিয়েছেন নিরীহ পশু-পাখিদের নিয়ে; তাই মানুষে অস্বস্তি লাগে। কাঠবিড়ালি দুটো বেশ মানিয়েছিলো ওর সাথে। কিন্তু একদিন বেড়াতে বেরিয়ে আর ফিরে এলো না। নিখোঁজ বিজ্ঞাপন দিয়ে পড়তে হয়েছে উঢকো ঝামেলায়। সংবাদপত্রের লোকগুলো যতবার পণ্ডিতি করেছে, ততোবার ঝামেলায় পড়তে হয়েছে ওকে। 
অনেক চিন্তা-ভাবনা করে পাঁচটি খরগোশ সংগ্রহ করেছেন প্রফেসর মাসুদ। প্রশিক্ষণ দিতে হয়েছে টানা তিনমাস! মূল সমস্যা: কার কী কাজ তা মনে রাখতে পারছে না খরগোশগুলো। সবসময় কাজের মধ্যে থাকতে চায় খরগোশগুলো। যত গণ্ডগোল এই কাজ নিয়ে। ওদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ তো নেই প্রফেসর মাসুদের হাতে বা বাসায়। অলস মস্তিষ্ক যে শয়তানের কারখানা তা এখন হাড়ে হাড্ডিতে টের পাচ্ছেন প্রফেসর মাসুদ।
খরগোশগুলোর চেচামেচি সহ্য করতে না পেরে বিছানায় উঠে বসলেন প্রফেসর মাসুদ। অটোমেটেড হুইলচেয়ারে বসে বোতাম টিপে এগিয়ে গেলেন ড্রয়িংরুমে। ওখানেই খরগোশগুলো শোরগোল পাকাচ্ছে। ড্রয়িংরুমে ঢুকে দেখতে পেলেন:
পাঁচটি খরগোশ একে অপরকে ঝাপটে ধরে হুটোপুটি খাচ্ছে মেঝেতে। 
প্রফেসর মাসুদ রাগ করলেন না-রাগ দেখালে খরগোশগুলো আরো পাগলামি শুরু করে। প্রফেসর রাগ হজম করে মোলায়েম অথচ উচ্চ কণ্ঠে বললেন, ফৃজ!
থেমে গেলো খরগোশগুলোর হুটোপুটি ও শোরগোল। জড়াজড়ি অবস্থায় স্থির হয়ে আছে পাঁচ খরগোশ।

একই স্বরে ফের বললেন প্রফেসর মাসুদ, স্প্লিট ফাইভ, প্লিজ!
এক লহমায় পাঁচ খরগোশ ছিটকে গেলো পাঁচ দিকে। ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকলো প্রফেসরের দিকে মুখ করে।
প্রফেসর ফের বললেন, এবার তোমরা আস্তে ধীরে এসে আমার সামনে এসে পাশাপাশি দাঁড়াও। 
পাঁচ খরগোশ এসে পাশাপাশি দাঁড়ালো পেছনের দুই পায়ে ভর দিয়ে। তিনজনের সামনের দুই পা সামনে এবং দুই খরগোশের পেছনে।
প্রফেসর মাসুদ দুই খরগোশের দিকে তাকিয়ে বললেন, থিটা গামা, তোমাদের হাত পেছনে কেনো?
থিটা ও গামা আস্তে ধীরে পেছন থেকে হাত দুটো সামনে এনে মেলে ধরলো। প্রত্যেকের হাতে ওর-ই সামনের উপরের পাটির একটি দাঁত।
আবার ভেঙ্গে ফেলেছো দাঁত! তোমাদের দাঁতের সাথে এতো শত্রুতা কেনো? 
থিটা বললো, এবার ডান দিকেরটা ভেঙ্গেছে প্রফেসর!
কার ডান দিক? আমার না তোমার?
আমার ডান দিক হলে তোমার বাম দিক। 
গামা বললো, আমারও তাই প্রফেসর।
এ নিয়ে তোমরা দুজন তিনবার দাঁত ভেঙ্গেছো!
আমার দাঁত ভাংতে ভালো লাগে!
থিটা বললো, আমারও ভালো লাগে। 
একে একে সবাই বলতে লাগলো তাদের দাঁত ভাংতে ভালো লাগে। সবাই একসাথে সুর করে বলতে বলতে একটি চক্র তৈরি করে নাচতে লাগলো। প্রফেসর মাসুদ কিছু বলতে গিয়ে থেমে মুচকি হাসলেন। মৃদু লয়ে হাত তালি দিতে লাগলেন।
দশ মিনিট নেচে ওরা আচমকা থেমে সারি ধরে আগের মতো দাঁড়িয়ে গেলো।
প্রফেসর মাসুদ হাততালি থামিয়ে বললেন, তোমাদের সমস্বরে গান অতি চমৎকার হয়েছে। নাচও অতি মনোরম হয়েছে।
পাই জিজ্ঞেস করলো, সমস্বরে মানে কী প্রফেসর?
সমস্বরে মানে কোরাস।
বিটা জিজ্ঞেস করলো, মনোহর মানে?
মনোহর মানে স্প্লেনডিড। এবার কাজের কথায় আসি। তোমাদের আনন্দের গান ও নাচ দেখে বুঝতে পারলাম তোমাদের দাঁতের প্রয়োজন নেই। ভালো কথা! আমি বারবার দাঁত বানানো থেকে বেঁচে গেলাম! 
সব খরগোশ সমস্বরে উল্লাসধ্বনি করে উঠলো, হুর রে!
তখন একটা সমস্যা হতে পারে তোমাদের। প্রকট সমস্যা!
কী সমস্যা?
তোমরা চিবুবে কিভাবে? অবশ্য যদি লিকুইড খাও তাহলে কোনো সমস্যা থাকে না!
ল্যাম্ডা বললো, না না! আমি লিকুইড খেতে পারি না! খাওয়ার পরপরই পেচ্ছাব হয়ে পেট খালি হয়ে যায়!
থিটা বললো, আমারও লিকুইড খাবার পছন্দ না!
একে একে সকল খরগোশ বলে গেলো ওদের লিকুইড খাবার পছন্দ না।
ফৃজ বলে সবাইকে থামিয়ে প্রফেসর বললেন, তার মানে তোমাদের সবার দাঁত দরকার। 
জ্বী প্রফেসর!
তাহলে এই কথাট মনে রাখো: খেলার ছলে আর কখনো দাঁত ভাঙ্গা যাবে না! এবার বলো: তোমরা হুটোপুটি করছিলে কেনো? থিটা বলো!
থিটা ভাংগা দাঁত দেখিয়ে বললো, আমার দাঁত ভেংগে গেছে। তাই কথা বলতে ইচ্ছে করছে না!
গামাও ভাংগা দাঁত দেখিয়ে বললো, আমারও কথা বলতে ইচ্ছে করছে না!
ওকে। সবার পক্ষে বিটা বলো।
বিটা এক কদম এগিয়ে এসে বললো, আমরা কাজ চাই। কাজ ছাড়া থাকতে ভালো লাগে না। বেড়ানোর জায়গা চাই।
প্রফেসর মাসুদ বললেন, আমার জানামতে তোমাদের সবার কাজ আছে।
যে কাজ আছে তাতে সময় কাটে না। আরো বেশি কাজ চাই। 
আমার কাজ যা আছে তার চেয়ে বেশি কাজ দেবো কিভাবে!
ল্যাম্ডা ফস করে বলে দিলো, আমরা লোক বেশি হয়ে গেছি, তাই না প্রফেসর?
প্রফেসর মাসুদ বিস্মিত হয়ে বললেন, আরে! তোমাদের দেখছি ব্রেন খুলে যাচ্ছে! আমি ভেবেছিলাম তোমরা পাঁচ জন মিলেমিশে আমার বাড়িতে থাকবে, খেলাধূলা করে সময় কাটিয়ে দেবে। আমি একা মানুষ। ডালভাত খেয়ে অভ্যাস। 
সাদাসিধা জীবন যাপন করি। তাই ভেবেছিলাম তোমাদের নিয়ে হাসিখুশি জীবন কাটিয়ে দেবো। তোমরা পাঁচ জনই আমার খুব প্রিয়। তোমরাই বলো কয় জনকে বিদায় দিলে তোমরা বিজি থাকতে পারবে। 
বিটা বললো, দুই জনকে বিদায় করে দাও!
কাকে কাকে?
আমাকে আর থিটাকে বিদায় করতে পারো!
থিটা ও বিটা! কিন্তু কিভাবে বিদায় করা যায় বলো!
থিটা বললো, তুমি খেয়ে ফেলো!
খেয়ে ফেলবো মানে?
আমাদের সবাই খায়। মানুষ, বাঘ, শেয়াল সবাই। তুমি আমাদের বানিয়েছো, তুমিই খেয়ে ফেলো! তাহলে আমাদের কষ্ট কম হবে।
তোমরা জানো আমি নিরামিষ ও মৎসভোজি-মাংশ খাই না। তোমাদের বাইরে ছেড়ে দিলে মানুষ অথবা কোনো জন্তু-জানোয়ার খেয়ে ফেলবে। পেপারে একটা বিজ্ঞপ্তি দেই। কোনো পশুপ্রেমিক আগ্রহী হলে তোমাদের লাইফটা সেট হয়ে যাবে; আর যদি কেউ আগ্রহী না হয় তো চিড়িয়াখানায় দিয়ে দেবো। 
বিজ্ঞপ্তিটা পড়ে বন বিভাগের জেলা অফিস প্রধান ভ্রু কুচকে মনে মনে বললেন, পেপারে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ্যে বন্যপ্রাণী বিক্রি করা হচ্ছে! এখনই রেইড করতে হবে কালপ্রিটকে।
এবারও পত্রিকার সম্পাদক বিজ্ঞপ্তিটায় সামান্য সংশোধনী দিয়েছে ভুল মনে করে। প্রফেসর মাসুদ কর্তৃক প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে খরগোশ দুটোর কোনো মূল্য উল্লেখ করা ছিলো না-দৈনিক এলেবেলে পত্রিকার সম্পাদক খরগোশ দুটোর মূল্য উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/39014/</link>
				<pubDate>Wed, 29 Sep 2021 05:08:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যত হুশ খরগোশ<br />
রানা জামান</p>
<p>খরগোশগুলোর চ্যাচামেচিতে প্রফেসর মাসুদ মহাবিরক্ত। ভেবেছিলেন শান্ত প্রকৃতির জীবগুলো নিয়ে আরামেই থাকবেন। পৌঢ় বয়সে শান্তি আর মিলছেই না! সারাজীবন কাটিয়েছেন নিরীহ পশু-পাখিদের নিয়ে; তাই মানুষে অস্বস্তি লাগে। কাঠবিড়ালি দুটো বেশ মানিয়েছিলো ওর সাথে। কিন্তু একদিন বেড়াতে বেরিয়ে আর ফিরে এলো না। নিখোঁজ বিজ্ঞা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-39014"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/39014/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5189e69da5c976a60f7d1ef667933d6b</guid>
				<title>কাশবনে গ্রহণ
রানা জামান



এখনো কাশবনের পেলবতা 
হারিয়ে যায় নি; প্রাকৃতিক 
সৌন্দর্য কখনো বিলীন হয় না
ল্যাবরেটরির পদার্থে গ্রহণ লাগছে
পাতায় পাতায়; ফিল্টার ব্যবহার
না করলে হিমোগ্লোবিন পুরো
রোগাত্রান্ত হতে বেশি সময় লাগবে না
তখন ওঝার ঝারফুকে কোনো
হবে না আছর; কম্পিউটারের পর্দা
নিভে যাবে চিরতরে ক্রাশ হয়ে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/38462/</link>
				<pubDate>Mon, 27 Sep 2021 05:08:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কাশবনে গ্রহণ<br />
রানা জামান</p>
<p>এখনো কাশবনের পেলবতা<br />
হারিয়ে যায় নি; প্রাকৃতিক<br />
সৌন্দর্য কখনো বিলীন হয় না<br />
ল্যাবরেটরির পদার্থে গ্রহণ লাগছে<br />
পাতায় পাতায়; ফিল্টার ব্যবহার<br />
না করলে হিমোগ্লোবিন পুরো<br />
রোগাত্রান্ত হতে বেশি সময় লাগবে না<br />
তখন ওঝার ঝারফুকে কোনো<br />
হবে না আছর; কম্পিউটারের পর্দা<br />
নিভে যাবে চিরতরে ক্রাশ হয়ে।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0149fc7c59d8bd437a8bf65563960be5</guid>
				<title>বান্দর কান ধর!
রানা জামান



এই বান্দর কান ধর!
বানরটাও সাথে সাথে বললো, তুইও কান ধর!
বানরকে কথা বলতে দেখে চমকে গেলো লোকগুলো। বানর বাঁদরামি করে এই বিবেচনায় ওর এ কথায় কেউ কিছু মনে করলো না। তবে সবাই অবাক ওর কথা বলায়। অবশ্য বানরের হাতে একটা টর্চ লাইটের মতো ছোট ডিভাইস আছে। 
একজন ভদ্রলোক ওকে তাচ্ছিল্য না করে ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা বানর, নিশ্চয়ই তোমার একটা নাম আছে। 
তুমি মানুষের মতো কথা বলা শিখলে কিভাবে?
বানরটি গলায় ডিভাইস ঠেকিয়ে বললো, আমাকে তাচ্ছিল্য না করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমার নাম আওরঙ্গজেব। নামটা আমিই নিয়েছি। আর আমি কথা বলি এই ডিভাইসের সাহায্যে।
আমাদের পূর্ব পুরুষ! এই ডিভাইস আবিস্কার করলো কে?
প্রফেসর মাসুদ। 
প্রফেসর মাসুদটা কে?
আরেকজন এগিয়ে এসে বিস্মিত কণ্ঠে বললো, প্রফেসর মাসুদকে চেনেন না? বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক; তবে অনেকটাই পাগল টাইপের। সেকারণে নাম কামাতে পারলেন না-টাকাপয়সা তো নয়ই।
আওরঙ্গজেব বললো, আমি গেলাম। সবাই ভালো থাকবেন। আর একটা কথা: আমার প্রফেসর পাগল না।
আওরঙ্গজেব এগিয়ে চললো। ও কখনো রিক্সা বা গাড়িতে চড়ে না। একটা কলার দোকান দেখে দাঁড়ালো। সব বানরের মতো ওরও কলায় খুব লোভ। 
দোকানের সামনে আসতেই বেঞ্চে বসা একজন ভদ্রলোক বললেন, এই বান্দর যা! গরীব মানুষের কলা চুরি করিস না!
আওরঙ্গজেব কন্ঠে ডিভাইস ঠেকিয়ে কথা বলায় সবাই চমকে ওর দিকে তাকালেন। ও বললো, আমি চোর না! কলা চুরি করবো না।
পাশে বসা আরেক ভদ্রলোক বিস্মিত কণ্ঠে বললেন, দেখেছো, বানরটা মানুষের মতো কথা বলছে!
দোকানী বললেন, তুমি ভুল শুনেছো রায়হান। বানর কথা বলবে কিভাবে?
তখন আওরঙ্গজেব টকিং ডিভাইসটা দেখিয়ে ফের বললো, আমি এই ডিভাইসের সাহায্যে কথা বলতে পারি। আমি কলা কিনতে এসেছি। হালি কত করে?
দোকানী বিস্ময় হজম করতে গিয়ে তোতলিয়ে বললেন, আ-আচ্ছা! কলার হালি কুড়ি টাকা।
ওকে। আমাকে এক ডজন এক হালি দিন। কলাতে ফরমালিন দেয়া নেই তো?
বলতে পারি না। থাকতেও পারে।
আওরঙ্গজেব এক ডজন কলা কিনে ওখানে বসে এক হালি কলা খেয়ে খোসাগুলো ডাস্টবিনে ফেলে ডেরার দিকে চললো আওরঙ্গজেব। 
কিছু উৎসাহী পথচারী ওর পিছু নিলে আওরঙ্গজেব পেছনে তাকিয়ে বললো, আমি বানর। এর আগেও আপনারা বানর দেখেছেন। কাজেই আমার পিছু নিয়েন না। আপনারা আমার পিছু নিলে আমার হাটতে সমস্যা হয়।
ওর কথা শুনে থেমে গেলো উৎসুক পথচারীগণ। আরেকটু দ্রুত হেটে আওরঙ্গজেব চলে এলো ডেরায়। বাসায় ঢুকে দেখে প্রফেসর মাসুদ ল্যাবে কাজ করছেন। আওরঙ্গজেব দরজার পাশে ঝুলিয়ে রাখা ইন্টারকমে বললো, খুব বেশি ব্যস্ত না হলে কলা খেতে পারো। এক ডজন এক হালি কিনেছিলাম। দোকানে বসেই খেয়ে ফেলেছি এক হালি। 
খুব ভালো কাজ করেছো। বাকিগুলোও তুমি খেয়ো। রাতে। এখন এক কাপ কফি করো। নো সুগার!
তুমি কি শুধু রান্নাবান্নার জন্য আমাকে রেখেছো? 
কেনো? তুমি তো শপিং-এও যাচ্ছো? 
আওরঙ্গজেব এক চিলতে হেসে বললো, ব্রুট জোকিং!
তুমি কী করতে চাও আওরঙ্গজেব?
তোমার ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট হতে চাই।
আমার এই ল্যাবে অন্য কারো ঢুকা নিষেধ। তাছাড়া রিসার্চ করার মতো তুমি এতো বুদ্ধিমান হয়ে উঠোনি।
তুমি চেষ্টা করলে আমার ব্রেনের আরো ডেভেলপমেন্ট সম্ভব।
তোমার ধারনা ভুল আওরঙ্গজেব। মানুষের ব্রেনের সাথে বানরের ব্রেনের তুলনা হয় না। এ নিয়ে তুমি আর জেদ করো না। 
এ জীবন আমার ভালো লাগে না প্রফেসর। আমাকে মুক্তি দাও। আমি ফিরে যেতে চাই জঙ্গলে।
তুমি এভাবে জঙ্গলে গেলে টিকতে পারবে না। 
কেনো?
তোমার মাঝে আর বানরের বিহেভিয়ার নাই। 
আমি কি মিউটেন্ট মাঙ্কি?
প্রফেসর ল্যাব থেকে বের হয়ে বানরের হাত ধরে ড্রয়িংরুমে ঢুকলেন। আওরঙ্গজেবকে একটি চেয়ারে বসিয়ে হুইলচেয়ারের চাকা ফিক্স করে বললেন, না আওরঙ্গজেব। তোমার মাঝে মিউটেশন করা হয় নি। এক্সক্লুসিভ ট্রেনিং দিয়ে তোমার বিহেভিয়ার চেঞ্জ করা হয়েছে। মাথা খারাপ করো না আওরঙ্গজেব। এসো। এখন আমি কফি বানাবো। তার আগে তোমার সাথে কলা খাবো। কলা খাওয়ার একটা কম্পিটিশন হয়ে যাক। কী বলো? তুমি কলাগুলো নিয়ে এসো এখানে।
বানরটা নিরাসক্ত ভাব দেখিয়ে চলে গেলো ভেতর। একটু পর দুই হালি কলা নিয়ে ফিরে এলো। কলাগুলো রেখে দিলো টেবিলে। ওর ফের বেশ লোভ লাগছে কলাগুলো দেখে। অপেক্ষায় আছে প্রফেসরের শুরু বলার। 
প্রফেসর মাসুদ কলাগুলো একবার দেখে মনে মনে বললেন: বেশ বড় বড় কলা! কটা খেতে পারবো আমি। প্রকাশ্যে বললেন, তো আওরঙ্গজেব, শুরু করা যাক। কী বলো?
আওরঙ্গজেব বললো, জ্বী প্রফেসর।
আমি এক দুই করে পাঁচ বলার সাথে সাথে খাওয়া শুরু করবো। এক দুই তিন চার পাঁচ!
পাঁচ বলা শেষ হবার আগেই বানর থাবা বসালো কলায়। প্রফেসর মাসুদের এক কলার সাথে আওরঙ্গজেবের এক হালি খাওয়া শেষ! প্রফেসর আরেকটি কলা তুলে নিলেন কাদি থেকে।প্রফেসরের অর্ধেক কলা শেষ হবার আগেই বানরের ছয় কলা খাওয়া শেষ।
প্রফেসর আধখাওয়া কলাটা বানরের দিকে বাড়িয়ে ধরে বললেন, এটাও তুমি খেয়ে ফেলো!
বানর থাবা দিয়ে প্রফেসর মাসুদের হাত থেকে কলাটুক নিয়ে খেয়ে ফেললো।
প্রফেসর মাসুদ বললেন, আমার দেড় কলার সাথে তুমি ছয়টি কলা খেয়ে ফেলেছো! সাব্বাস! এবার চলো বাহির থেকে ঘুরে আসি। মন কি তোমার এখনো খারাপ আওরঙ্গজেব?
আওরঙ্গজেব বললো, চলো প্রফেসর।
হুইলচেয়ার অটো হলেও চলছে আস্তে আস্তে। পাশে হাটছে বানর। মানুষ উৎসুক। নিজ কাজ ফেলে অনেকেই পিছু নিচ্ছে ওদের। 
মধ্যবয়স্ক এক ভদ্রলোক ওদের পাশে গিয়ে বললেন, কেমন আছেন প্রফেসর? বহুদিন পর আপনাক বের হতে দেখলাম।
প্রফেসর মাসুদ ভদ্রলোককে চিনতে না পারলেও বললেন, অসুস্থ থাকায় বের হই নি।
জন্তু-জানোয়ার না পুষে একজন মানুষ রাখলেই তো পারেন প্রফেসর?
প্রফেসর মাসুদ হাসিমুখে বললনে, মানুষের চেয়ে জন্তু-জানোয়ার বিশ্বস্থ বেশি। এরা চুরিচামারি করে না।
এটা ঠিক বলেছেন প্রফেসর। ভালো থাকবেন। চলি, কেমন?
ভদ্রলোক পিছিয়ে চলে যেতে থাকলেন নিজ গন্তব্যের দিকে। ওরা ঢুকলো পাশের ওয়াকিং স্পেসে। মধ্যবয়স্ক হতে বুড়োরা হাটছে ওয়াকিং ওয়ে ধরে। হকাররা মাঠে হাটছে আর নিজ পণ্যের নাম ধরে হাকছে। 
প্রফেসর মাসুদ বানরকে জিজ্ঞেস করলেন,বাদাম চিবুবে আওরঙ্গজেব?
আওরঙ্গজেব ঠোঁট উল্টে বললো, বাদাম খাওয়া ঝামেলা! চোচা ফেলতে হয়। আমি চোচা ফেলতে পারি না!
তাহলে আইসক্রিম খেতে পারো। চোচা ফেলার ঝামেলা নাই!
ঠিক আছে। একটা আইসক্রিম খাই।
আইসক্রিমওয়ালা দেখলে ডাকো।
কোনো আইসক্রিমওয়ালা ভেতরে না থাকায় আওরঙ্গজেব বললো, ভেতরে কোনো আইসক্রিমওয়ালা নেই। আমি বাহির থেকে আইসক্রিম আনতে যাচ্ছি।
টাকা আছে তোমার কাছে আওরঙ্গজেব?
হাঁ প্রফেসর।
আওরঙ্গজেব চলে গেলো বাইরে। এক ভ্যান আইসক্রিম নিয়ে ফিরে এলো ভেতরে। সাথে সাথে ছেলেমেয়েরা ওকে ঘিরে ধরে আইসক্রিম চাইতে থাকলো। হতভম্ব আওরঙ্গজেব ইতস্তত করলেও শেষে দিতে থাকলো আইসক্রিম শিশুদের হাতে।
ওর জন্য থাকলো না একটিও। প্রফেসর মাসুদ ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন মাত্র। 

পরদিন প্রফেসর মাসুদ একটি বিজ্ঞপ্তি স্থানীয় পত্রিকায় পাঠাতে বাধ্য হলো। বিজ্ঞপ্তির বিষয়বস্তু এরকম: একটি বানরকে বানরের আচার-আচরণ শিখাবার জন্য প্রশিক্ষক প্রয়োজন। দৈনিক আধুনিক জমিনের সম্পাদক ভ্রু কুচকে ভাবলেন: নিশ্চয়ই এটা বুড়ো প্রফেসরের ভুল; মানুষ বানরের আচার-আচরণ শেখাবে কিভাবে? প্রশিক্ষক শব্দের আগে বানর শব্দটি লাগিয়ে ছাপিয়ে দিলেন পত্রিকায়। প্রশিক্ষক হিসেবে কোনো মানুষ না আসায় বা যোগাযোগ না করায় প্রফেসর মাসুদের সাথে আওরঙ্গজেবও হতাশ হলো খুব। 
দুই দিন পর সকাল দশটায় সাইরেনের শব্দে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে হয়ে গেলেন হতভম্ব। শতেক বানর রাস্তা বন্ধ করে বসে আছে। সবার হাতে একটা প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা: বানরের আচার-আচরণ শেখানোর অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37423/</link>
				<pubDate>Wed, 22 Sep 2021 05:12:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বান্দর কান ধর!<br />
রানা জামান</p>
<p>এই বান্দর কান ধর!<br />
বানরটাও সাথে সাথে বললো, তুইও কান ধর!<br />
বানরকে কথা বলতে দেখে চমকে গেলো লোকগুলো। বানর বাঁদরামি করে এই বিবেচনায় ওর এ কথায় কেউ কিছু মনে করলো না। তবে সবাই অবাক ওর কথা বলায়। অবশ্য বানরের হাতে একটা টর্চ লাইটের মতো ছোট ডিভাইস আছে।<br />
একজন ভদ্রলোক ওকে তাচ্ছিল্য না করে ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-37423"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/37423/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">664c5b62423737426dd86938c86247d9</guid>
				<title>স্বাধীনতা
রানা জামান 



কাপড় কেঁচে নিশ্চিন্তে 
বারান্দায় শুকানো;ভেলায়
চড়ে হুটোপুটি 

পরীক্ষায় মেধার বিকাশ
ফসলের ন্যায্য
দাম পাওয়া; মুক্ত জলাশয়ে
নির্বিঘ্নে মাছ ধরা; আহার
নির্ভেজাল খাদ্যে 

প্রিয় নেতাকে 
ভোট; আরামের 
ভ্রমণ; অকপটে কথা 
বলতে পারা;রাতে
বিন্দাস চলাচল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37171/</link>
				<pubDate>Tue, 21 Sep 2021 03:52:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্বাধীনতা<br />
রানা জামান </p>
<p>কাপড় কেঁচে নিশ্চিন্তে<br />
বারান্দায় শুকানো;ভেলায়<br />
চড়ে হুটোপুটি </p>
<p>পরীক্ষায় মেধার বিকাশ<br />
ফসলের ন্যায্য<br />
দাম পাওয়া; মুক্ত জলাশয়ে<br />
নির্বিঘ্নে মাছ ধরা; আহার<br />
নির্ভেজাল খাদ্যে </p>
<p>প্রিয় নেতাকে<br />
ভোট; আরামের<br />
ভ্রমণ; অকপটে কথা<br />
বলতে পারা;রাতে<br />
বিন্দাস চলাচল।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">af0f4b0f947044c6a0ee80d8fa211911</guid>
				<title>টাইগার
রানা জামান



কুকুরটা বের হলে রাস্তার কুকুরগুলো ওকে তাড়া করে। ও কণ্ঠে ডিভাইস লাগিয়ে মানুষের মতো কথা বললে প্রথমে ভড়কে গেলেও পরে দ্বিগুণ বেগে তাড়া করে ওকে। স্বস্তি একটাই: দৌড়ে ওর সাথে কেউ পারে না। এই কুকুরটার নাম দিয়েছেন প্রফেসর মাসুদ টাইগার। 
এই টাইগার এখন লেজ গুটিয়ে দৌড়াচ্ছে। পেছনে পাঁচটি কুকুর। ভো দৌড়ে টাইগার পাঁচ কুকুরের চেয়ে অনেক দূরে। ঝোলা হাতড়ে দেখে ডিভাইসটা পড়ে গেছে কোথাও। দমটম সামলে নিয়ে নিঃশব্দে লাইটপোস্টের আড়াল নিয়ে নেড়ি কুকুরগুলোর পেছনে আসছে টাইগার। কিছু দূর এসে দেখতে পেলো পাঁচ কুকুর ওর ডিভাইস নিয়ে খেলা করছে। বিপদ! কী করবে সে এখন? ওকে কথা বলতে দেখে কুকুরগুলো ফের তাড়া করবে। কথায় আছে অধিক ঠেলায় বেড়াল গাছে উঠে; আর নেড়ি কুকুরের তাড়া খেয়ে টাইগারকেও মাঝেমধ্যে উঠতে হয় গাছে! এখন গাছে উঠার মতো তাড়া না খেলেও প্রফেসরের সাথে কথা বলার জন্য সামনের একটি গাছে উঠে পড়লো টাইগার। এবার প্রফেসর মাসুদ টাইগারকে একটি মোবাইল ফোন দিয়েছে। ডিভাইস পড়ে গেলেও মোবাইল ফোনটা পৃথকভাবে গলায় ঝুলানো থাকায় রয়ে গেছে। 
প্রফেসরকে কল করতে গিয়ে মনে পড়লো টাইগারের ওর কাছে টকিং ডিভাইসটা নেই। প্রফেসরের সাথে কথা বলবে কিভাবে? কিন্তু কথা তো বলতেই হবে। কুকুরগুলোর কাছ থেকে ডিভাইসটা উদ্ধার করা দরকার এবং ওর গাছ থেকেও নামা দরকার। টাইগার কল করে নিম্ন স্বরে কয়েকবার ঘেউ ঘেউ করে কেটে দিলো লাইন। ওর ধারনা এতেই কাজ হবে। ও এতোদিনে বুঝতে পেরেছে যে প্রফেসর মাসুদ খুউব খুউব বুদ্ধিমান। এখন অপেক্ষা করতে হবে। হাত উল্টে দেখলো কোনো ঘড়ি নেই। মনে মনে বললো: একটা ঘড়ি কিনতে হবে। তখনই ওর মনে পড়লো: মোবাইল ফোনেও ঘড়ি আছে। সে মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে সময় দেখলো: সকাল এগারোটা। 
দশ মিনিট পর প্রফেসর মাসুদকে দেখা গেলো গাছতলায়। ওঁকে দেখে টাইগার তরতরিয়ে গাছ থেকে নিচে নেমে হাত বাড়ালো প্রফেসরের সামনে। প্রফেসর মাসুদ ডিভাইসটা ওর হাতে দিলেন। টাইগার ডিভাইসটা গলায় ঠেকিয়ে বললো, আবার তোমাকে কষ্ট দিলাম প্রফেসর!
প্রফেসর মাসুদ টাইগারের মাথায় একটা চাটি মেরে বললেন, হয়েছে কী তোর? নেড়িগুলাকে দেখলেই সবকিছু ফেলে তুই দৌড়াস! আগে ফেলে দিস এই ডিভাইসটা!
টাইগার বললো, তুমি ওদের নেড়ি বলছো! ওদের তুলনায় আমাকেই তো নেড়ি মনে হয়!
তাহলে তোর নাম হুদাই টাইগার রাখলাম! তোর নাম পাল্টে নেড়ি রাখতে হবে!
কী বলছো তুমি প্রফেসর! টাইটেলের এই ডিমোশান মেনে নেয়া যায় না!
তাহলে তুই ওদের সাথে মোকাবেলা কর!
তুমি রেসলিং-এর আয়োজন করবে নাকি প্রফেসর?
সেটাই করি!
এই স্বাস্থ্য নিয়ে ওদের সাথে আমি পেরে উঠবো না প্রফেসর!
রেগুলার ব্যায়াম শুরু কর! তোকে কবে থেকে বলছি এক্সারসাইজ করতে। তুই ভয়ে হাটতেই বের হোস ন! ভীতুর ডিম কোথাকার!
এইটা কেমন কথা? ভীতুর আবার ডিম হয় নাকি?
এইটা কথার কথা। বাংলা ভাষায় এমন বহু কথা আছে। ঘোড়ার ডিম, সাপের পাঁচ পা ইত্যাদি।
তুমি শাহরুখ খানের মতো আমার বডি বানাবার ব্যবস্থা কর!
যেমন?
ঔষধ খাওয়ায় শাহরুখ খানের হঠাৎ বডি হয়ে গেলো।
বাসায় চল আগে। ল্যাবে ঢুকলে একটা না একটা সমাধান বেরিয়ে আসবে।
কিন্তু যাবো কিভাবে? ভয় করছে যে!
কেনো? ও বুঝেছি! ওরা তো রাস্তায় আছে!
আছেই তো! এই নেড়িগুলা খুব পাঁজি!
তাহলে কী হবে টাইগার!
তুমি তো মস্ত সাইন্টিস্ট। একটা বুদ্ধি বের করে ফেলো।
আমি সাইন্টিস্ট, মিউজিসিয়ান তো নই যে আগরাম বাগরাম ফু, আর অমনি নেড়িগুলা হাওয়া হয়ে যাবে!
তোমার কথায় আমি আরো ভয় পাচ্ছি প্রফেসর!
এদিকওদিক তাকিয়ে প্রফেসর মাসুদ বললেন, এক কাজ করা যেতে পারে। তোর গায়ে তো মাংসটাংস নাই! তুই এই হুইলচেয়ারে আমার পায়ের পেছনে জবুথবু হয়ে পড়ে থাক!
টাইগার প্রফেসরের হাত চেটে দিয়ে বললো, এই তো চমৎকার বুদ্ধি বেরিয়ে এসেছে।
টাইগারকে পেছনে রেখে প্রফেসর মাসুদ ছেড়ে দিলেন হুইলচেয়ার। সাইকেল লেন ধরে হুইলচেয়ার এগিয়ে যাচ্ছে। ঐ স্থানে কুকুরগুলো এখনো আছে। হুইলচেয়ার দেখতে পেয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে আসছে কুকুরগুলো। প্রফেসর মাসুদ হুইলচেয়ার না থামিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হুইলচেয়ারের গতি ধরে রাখতে পারছেন না প্রফেসর। কুকুরগুলো পথ ছেড়ে না দেয়ায় হুইলচেয়ার থামাতে বাধ্য হলেন প্রফেসর। হুইলচেয়ার থামার সাথে সাথে কুকুর গুলো চেয়ার ঘিরে করতে থাকলো ঘেউ ঘেউ। 
প্রফেসর বললেন, কী চাস তোরা?
পাঁচটি কুকুরই একসাথে করতে থাকলো ঘেউ ঘেউ।
প্রফেসর মাসুদ ডান হাত উচিয়ে বললেন, সবাই একসাথে কথা বললে বুঝবো কিভাবে?
অপেক্ষাকৃত স্বাস্থ্যবান একটা কুকুর এক কদম সামনে এসে লেজ নাড়িয়ে বললো, ঘেউ ঘেউ ঘেউ ঘেউ ঘেউ!
বুঝেছি। টাইগার এখন তোর সাথে পারবে না। ও চ্যালেঞ্জ দিয়েছে একমাস পর এখানে আসবে লড়তে। তোরাও ব্যায়াম করতে থাক!
কুকুর গুলো কুই কুই করে ছেড়ে দিলো পথ। টাইগারের স্বস্তির নিঃশ্বাস শুনতে পেয়ে মুচকি হাসলেন প্রফেসর মাসুদ। সামনের বাঁকে ঢুকে প্রফেসর বললেন, এখন বের হয়ে আসতে পারিস টাইগার। 
টাইগার ফুড়ুৎ করে প্রফেসরের দুই পায়ের ফাঁক গলে বের হয়ে বললো, ধন্যবাদ প্রফেসর! কিন্তু এক মাসের চ্যালেঞ্জ তো আমি দেই নি!
তোর পক্ষে আমি দিলাম। এটা না করলে ওরা আমাদের ছাড়তো না।
কিন্তু এক মাসে কি মাসল হবে?
না হলে ওদের হাতে মার খাবি! যাতে মার খেতে না হয় সেই চেষ্টা করতে থাক এখন থেকে! 
কী মুস্কিল!

বাসায় ঢুকে প্রফেসর মাসুদ ল্যাবের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, আমি ল্যাবে ঢুকছি। তুই চিনি ছাড়া এক কাপ চা দিয়ে যাবি আমাকে ল্যাবে।
প্রফেসর মাসুদ ঢুকে গেলেন ল্যাবে। বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক তরল পদার্থের আলমারির সামনে এসে দাঁড়ালেন।
দুই দিন পর প্রফেসর মাসুদ এক শিশি জোলাপ টাইগারের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, চা-এর চামচে এক চামচ জোলাপ খাবি। দিনে তিনবার। খাওয়ার পরপর। 
টাইগার অত্যন্ত খুশি হলো ঔষধটা পেয়ে। সে একটা পাক দিয়ে বললো, এবার নেড়িগুলা যাবে কোথায়! 
এতো খুশি হওয়ার কিছু নাই টাইগার। এই ঔষধটা এক্সপেরিমেন্টাল। কাজে নাও লাগতে পারে! আবার উল্টো ফলও হতে পারে!
টাইগার থমকে গিয়ে বললো, উল্টো ফলটা কী প্রফেসর?
জানি না। তবে হোপ ফর দ্য বেস্ট।

টাইগার অনেক উৎসাহ নিয়ে জোলাপ খেয়ে যাচ্ছে; আর মনে মনে কিভাবে নেড়িগুলোকে শায়েস্তা করবে তার ফন্দি আটছে। 
তো দিন যায় রাত আসে দিন যায়। 
এক সপ্তাহ পর একদিন ভোরে ভারি পায়ে চলাচলের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো প্রফেসর মাসুদের। তাকিয় সামনের দৃশ্য দেখে ভড়কে গেলেন খুব। আশেপাশে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছেন: নিজের বাসায়-ই আছেন, না কোনো জঙ্গল বা চিড়িয়াখানায় আছেন!
কক্ষ জুড়ে অতিকায় একটা ঐরাবত। কিন্তু শূঁড় নেই এই ঐরাবতের, বড় বড় কান নেই, লেজও নেই। জিভ বের হয়ে থাকায় বুঝতে পারলেন এটা কোনো হাতি না-টাইগার। কিন্তু হাড্ডিসার টাইগারটা হঠাৎ এতো মোটা হলো কিভাবে? প্রফেসর মাসুদ জিজ্ঞেস করলেন, কিরে টাইগার, তোর এই অবস্থা হলো কী করে?
হাউমাউ করে কেঁদে দিয়ে টাইগার বললো, তোমার জোলাপ না কী বলো ওটা খেয়ে!
প্রফেসর মাসুদ বিস্মিত হয়ে বললেন, কী বলছিস তুই? নিয়ম মেনে আমার ঔষধ খেলে এমন রিএকশান হওয়ার কথা না। তুই নিশ্চয়ই ঔষধ খেতে গিয়ে উল্টাপাল্টা কিছু করেছিস!
টাইগার কান্না থামিয়ে মুখ ঝুলিয়ে বললো, আমি ডাবল ডোজ খেয়েছি!
কী করছিস রে তুই গাধা! ডাবল ডোজ খাওয়াতে কয়েক ডাবল হয়ে গিয়েছিস! থাক এভাবেই! আর নেড়ি কুকুরগুলাকে এক হাত নিয়েও আয়!
সেটাই ভেবেছিলাম!
তারপর?
দরজা দিয়ে বের হতে পারছি না!
তাহলে তো বেশ মুস্কিল হলো! আমাকে আবার ল্যাবে ঢুকতে হবে কিছু একটা বানানোর জন্য!
টাইগার প্রফেসরের হাত ধরে বললো, কিছু একটা করো প্রফেসর! আধা ঘন্টায়ই আমার অবস্থা কাহিল! হাতি গণ্ডার এতো মোটা হয়ে চলাফেরা করে কিভাবে!?
জিজ্ঞেস করিনি!
বলে প্রফেসর মাসুদ ঢুকলেন ল্যাবরেটরিতে। আরেকটি জোলাপ তৈরি করে বেরিয়ে এলেন বাইরে। টাইগারের হাতে দিয়ে বললেন, এবার এটা খাওয়ায় গড়বড় করলে বেড়াল থেকে চিকা হয়ে যেতে পারো!
দুই দিনে টাইগারের শরীর কমে স্বাভাবিক আকারে নেমে এলো; তবে গায়ে বেশ মাংস লেগে গেছে। কিন্তু পেশিবহুল না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে টাইগার বললো, মাসল তো শাহরুখ খানের মতো হয় নাই প্রফেসর! আমার কী হপ্পে?
প্রফেসর বললেন, শুধু টোটকা খেয়ে মাসল হয় না। মাসল করতে হলে এক্সারসাইজ করতে হবে।
আমি তাই করবো। একজন পিটি ট্রেনার রেখে দাও।
শরীরচর্চা প্রশিক্ষকের জন্য যথারীতি প্রফেসর মাসুদ একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠালেন স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশের জন্য। পরদিন সকালে কলবেলের শব্দে প্রফেসর মাসুদ দরজা খুলে দেখেন সেই পাঁচ নেড়ি কুকুর দাঁড়িয়ে, পেছনে পৌরসভার একজন কর্মকর্তা। 
প্রফেসর জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? আপনারা?
পৌরসভার কর্মকর্তা হাতের পত্রিকাটা বাড়িয়ে দিলেন প্রফেসরের দিকে। প্রফেসর মাসুদ পত্রিকাটা হাতে নিয়ে শরীরচর্চা প্রশিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটা দেখলেন। এটাতেও সম্পাদক সংশোধন করেছেন ভুল ভেবে। প্রশিক্ষকের আগে কুকুর শব্দটা বসিয়ে দিয়েছেন।
প্রফেসর মাসুদ তাকাতেই লোকটা বললেন, এই পাঁচটা পৌরসভার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর। কোনো কুকুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং নিতে চাইলে এরাই দিয়ে থাকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/35877/</link>
				<pubDate>Wed, 15 Sep 2021 06:06:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>টাইগার<br />
রানা জামান</p>
<p>কুকুরটা বের হলে রাস্তার কুকুরগুলো ওকে তাড়া করে। ও কণ্ঠে ডিভাইস লাগিয়ে মানুষের মতো কথা বললে প্রথমে ভড়কে গেলেও পরে দ্বিগুণ বেগে তাড়া করে ওকে। স্বস্তি একটাই: দৌড়ে ওর সাথে কেউ পারে না। এই কুকুরটার নাম দিয়েছেন প্রফেসর মাসুদ টাইগার।<br />
এই টাইগার এখন লেজ গুটিয়ে দৌড়াচ্ছে। পেছনে পাঁচটি কুকুর। ভো দৌড়ে টাইগার পাঁচ কুকুরের চেয়ে অ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-35877"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/35877/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e5f29b1ed9918f1c7423608c5017937f</guid>
				<title>অন্তরঙ্গ জলছবি
রানা জামান


অন্তরঙ্গ জলছবি ছুঁয়ে দেয় মন
অন্ধকুঞ্জ আঁখি মেলে দেখে জলরাশি
মঞ্চস্থিত ফুলে শুধু বাড়ে উচাটন
পুস্পগর্ভ দেখে কি না কারো খল হাসি

মন্দগন্ধ ভাগে দূরে অনিবার দেখো
নগ্নবক্ষ ঢেকে দিয়ে খুলে রাখো দোর
বৃত্তাবদ্ধ কবি মন খুলে কিছু লেখো
রাত্রি জব্দ হবে বেশ হয়ে গেলে ভোর

ফুল্ল পত্র নিমিলিত হলে ঝরে শোক
সর্পগন্ধা থেকে রতি দূর কাঁটা বিঁধে 
স্বপ্নাবিষ্ট থেকে ভাবি কুসুমিত হোক
রুদ্ধক্লিষ্ট হয়ে আছে মননের ক্ষিধে 

পরিশুষ্ক হয়ে রবে কি উষর জলে
চক্ষুনেত্র খোলা থেকে চাঁদবুকে চলে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/35340/</link>
				<pubDate>Tue, 14 Sep 2021 04:43:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অন্তরঙ্গ জলছবি<br />
রানা জামান</p>
<p>অন্তরঙ্গ জলছবি ছুঁয়ে দেয় মন<br />
অন্ধকুঞ্জ আঁখি মেলে দেখে জলরাশি<br />
মঞ্চস্থিত ফুলে শুধু বাড়ে উচাটন<br />
পুস্পগর্ভ দেখে কি না কারো খল হাসি</p>
<p>মন্দগন্ধ ভাগে দূরে অনিবার দেখো<br />
নগ্নবক্ষ ঢেকে দিয়ে খুলে রাখো দোর<br />
বৃত্তাবদ্ধ কবি মন খুলে কিছু লেখো<br />
রাত্রি জব্দ হবে বেশ হয়ে গেলে ভোর</p>
<p>ফুল্ল পত্র নিমিলিত হলে ঝরে শোক<br />
সর্পগন্ধা থেকে রতি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-35340"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/35340/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7548fec7ef91b814fee91802e432794c</guid>
				<title>Acrostic Poem
Theme: Nothing impossible 
Title: Intellection 
Writer:Rana Zaman 
Country: Bangladesh 



None other than you annoy me
Olive oil is strengthening my knee
Table of contents is not enough 
Hostility makes one very rough
Inking Between us will be good
Non veg is taking by me as food
Growing trend of love may change 

Irritating thing keep out of range
Motivation will remove bad sector
Politeness may an inevitable factor
Something is better than nothing 
Saying you have gone for bathing
Intellection evolute my negativity 
Bravery always creates compatibility 
Little more effort break the barrier 
Eft emotion over throw one&#039;s career.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/35121/</link>
				<pubDate>Mon, 13 Sep 2021 13:31:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>Acrostic Poem<br />
Theme: Nothing impossible<br />
Title: Intellection<br />
Writer:Rana Zaman<br />
Country: Bangladesh </p>
<p>None other than you annoy me<br />
Olive oil is strengthening my knee<br />
Table of contents is not enough<br />
Hostility makes one very rough<br />
Inking Between us will be good<br />
Non veg is taking by me as food<br />
Growing trend of love may change&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-35121"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/35121/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">43d8fb201a3444a345877415189af460</guid>
				<title>ফিট-ফর-অল
রানা জামান




বেড়ালটা রাস্তায় বের হতেই একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো চারিদিকে। অবশ্য আতঙ্কটা মানবজাতির মধ্যে না-পশুকূলে। ফুটপাতে দুটো নেড়ি কুকুর শুয়ে ঝিমোচ্ছিলো-হুলো বেড়ালের গন্ধ নাকে লাগতেই গুটানো লেজ আরো গুটিয়ে কুই কুই করতে করতে দৌড়ে চলে গেলো পাশের গলি দিয়ে যতদূর যেতে পারে। 
বেড়ালটা সাধারণ বেড়ালের চেয়ে বেশ লম্বা, তবে বাঘডাসার চেয়ে খানিকটা ছোট। হুলোর একটু বড় হলেও এটাকে হুলো বেড়াল বলা যায়। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো হুলো বেড়ালগুলোও ওকে ভয় পায়। 
বেড়ালটা হেটে যাচ্ছে বেশ রাজসিক চালেই। ডানে-বামে তাকাতে তাকাতে হেটে যাচ্ছে। চলায় কোনো তাড়া নেই ওর-গেলেই হলো কোনো এক সময় ভাবটা এমন। একটা মেশিনে চলা রিক্সা ওর পাশে দাঁড়াতেই ও উঠে বসলো ওতে। সিটেই বসলো হুলোটা কায়দা করে। পথচারীদের মধ্যে যারা ওকে দেখেনি কেবল ওরাই বিস্ময়ের দৃষ্টি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকছে। 
চলতে চলতে রিক্সা এসে একটি সুপার শপের সামনে দাঁড়ালো। গলায় ঝুলানো ব্যাগ থেকে টাকা বের করে ভাড়া পরিশোধ করে হুলোটা এগিয়ে গেলো প্রবেশপথের দিকে। ও জানে সুপারশপগুলোয় পশুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। সে চামড়ার থলে থেকে ছোট টর্চের মতো একটা ডিভাইস বের করলো। প্যান্টের পকেট থেকে একটা ফর্দ বের করে এক দারোয়ানের হাতে দিয়ে ডিভাইসটা গলায় ঠেকিয়ে মানুষের কণ্ঠে বললো, এই পণ্যগুলো কিনে দেবেন প্লিজ!
দারোয়ান পণ্যের ফর্দটা একবার পড়ে হুলো বেড়ালের দিকে তাকালে হুলো ব্যাগ থেকে একটি ক্রেডিট কার্ড বের করে ওর হাতে দিলো। দারোয়ান চলে গেলো ভেতরে। হুলো বেড়ালটা পাশেই একটি খামের আড়ালে বসে থাকলো। হুলোটা নিম্নস্বরে মিউ মিউ করে গুনগুনিয়ে গান গাচ্ছে। 
একজন পশু ডাক্তার যাচ্ছিলেন সুপার শপের ভেতরে। নিম্নস্বরে মিউ মিউ শব্দ শুনে দাঁড়িয়ে পড়লেন প্রবেশপথে। এদিকওদিক তাকিয়ে খামের আড়ালে হুলোটাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলেন সেদিকে। হুলোটাকে চোখ বুজে মিউ মিউ করতে দেখে মনে মনে ভাবলেন: নিশ্চয়ই হুলো বেড়ালটা অসুস্থ! তিনি কাঁধের ব্যাগ থেকে একটা পশুর পাল্সবিট দেখার স্টেথোস্কোপ বের করে হুলোর গায়ে হাত দিতেই হুলোটা মিউ মিউ থামিয়ে চোখ বড় বড় করে তাকালো ডাক্তারের দিকে।
ডাক্তার হুলো বেড়ালের মাথায় একবার হাত বুলিয়ে বললেন, ডোন্ট অরি! সব ঠিক হয়ে যাবে। আগে আমাকে পাল্সবিটটা চেক করতে দাও হুলো!
কেউ হুলো বললে হুলোটার খুব রাগ হয়। ও গম্ভীর স্বরে ম্যাও ম্যাও করে উঠলে ডাক্তার ফের বললেন, রাগ করার কিছু নেই। মাটির শরীরে রোগবালাই হতেই পারে। সেজন্য ডাক্তার আছে না! আমি কুড়ি বছর যাবৎ তোমাদের ট্রিটমেন্ট করছি। আমি পথপশুদের কাছে থেকে ফি নেই না! ফৃ ট্রিটমেন্ট! তবে ঔষধ তোমাকে কিনে খেতে হবে! টাকা আছে তো সাথে? নাকি?
বিপদ বুঝতে পেরে হুলো বেড়াল আরো জোরে ম্যাও ম্যাও করতে লাগলো। ভয়ানক স্বরে ম্যাও ম্যাও শুনে বাইরে থাকা প্রহরিরা চলে এলো এদিকে। পুরোনোরা হুলোকে চেনে; কিন্তু বলার সুযোগ পাচ্ছে না-ডাক্তার পাল্সবিট মাপার জন্য জবরদস্তি করছেন হুলো বেড়ালের সাথে। একজন প্রহরি ভেতরে গিয়ে ম্যানেজারকে বললে ম্যানেজার ছুটে এসে ডাক্তারকে টেনে দূরে সরিয়ে বললেন, কী করছেন স্যার!
ডাক্তার স্টেথোস্কোপটা গলায় ঝুলিয়ে বললেন, বেড়ালটা অসুস্থ। তাই প্রেসক্রিপশান করার আগে ওর পাল্সবিটটা মাপতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু কী বেড়াল রে বাবা! নিজের ভালো বুঝে না! চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছে!
ম্যানেজার হুলো বেড়ালের মাথায় একবার হাত বুলিয়ে বললো, আপনি বোধ হয় এই এলাকায় নতুন এসেছেন স্যার!
আমার এই এলাকায় নতুন আসার সাথে এই বেড়ালের ট্রিটমেন্টের সম্পর্ক কী?
ও প্রফেসর মাসুদের বেড়াল। ওর নাম ফিট-ফর-অল। আমরা ওকে চিনি। প্রফেসর মাসুদ অসুস্থ হলে ওকে শপিং করতে পাঠান। 
কোন প্রফেসর মাসুদ?
বাংলাদেশে প্রফেসর মাসুদ একজনই আছেন স্যার।
ও বুঝেছি। পাগলা প্রফেসর মাসুদ। আমরা একই কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়েছি। 
তখন ঐ দারোয়ানটা বাজারের ব্যাগ এনে ফিট-ফর-অল এর গলায় ঝুলিয়ে দিলে ও ডাক্তারের দিকে একবার তাকিয়ে মিউ শব্দ করে একটা রিক্সায় উঠে পড়লো। রিক্সা চলতে লাগলো। বাসার সামনে এসে রিক্সা থাকলে ও নেমে ভাড়া দিয়ে দরজার তালা খুলে নিঃশব্দে ভেতরে ঢুকলো। প্রফেসর মাসুদ তখনো ঘুমাচ্ছেন।
ফিট-ফর-অল বাজারের ব্যাগটা ডাইনিং টেবিলে রেখে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো-কাঁটায় কাঁটায় এগারোটা। প্রফেসর মাসুদের ঔষধ খাওয়ার সময় হয়ে গেছে। প্রফেসর মাসুদ নিজের চিকিৎসা নিজেই করেন। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। ঔষধ তৈরি করে পাশের টেবিলে রাখা আছে। একটা চা-কাপে অর্ধেক পানি ঢাললো ফিট-ফর-অল। একটা ঔষধের শিশি নিয়ে দশবার ঝাকি দিয়ে দশ ফোঁটা ঔষধ ঢেলে চা-চামচ দিয়ে নাড়লো। 
ডিভাইসটা গলায় ঠেকিয়ে বললো, অনেক ঘুমের ভান হয়েছে প্রফেসর! এখন ঔষধ সেবনের জন্য গাত্রোত্থান করো! 
সাথে সাথে প্রফেসর মাসুদ চোখ মেলে হুলোর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতে গিয়ে চমকালেন। দাঁড়িতে একবার হাত বুলিয়ে বললেন, তোর চোখ খানিকটা লাল দেখাচ্ছে কেনো রে ফিট? সুপারশপে কোনো সমস্যা হয়েছে?
প্রফেসর টেবিল থেকে ঔষধের কাপটা নিয়ে এক ঢোকে ঔষধ পান করে টেবিলে রেখে দিলেন কাপটা।
আর বলো না! এক পাগল ডাক্তার জোর করে আমার চিকিৎসা করতে চেয়েছিলো! 
নিশ্চয়ই তুই গুনগুনিয়ে গান করছিলি যা রোগীর মতো শোনায়?
হাঁ।
এমন হতেই পারে। কিন্তু তুই ম্যাও ম্যাও করে চিৎকার না করে ডিভাইসে কথা বললি না কেনো?
রাগের চোটে ডিভাইসের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম!
এর মানে তোর রাগ বেড়ে গেছে! সেসাথে ভুলের ব্যারাম ঢুকেছে! আমাকে আবার ল্যাবে ঢুকতে হবে।
সে পরে করো। আগে সুস্থ হয়ে নাও!
হাঁ! আগে সুস্থ হতে হবে। একটু পরে কিছু একটা খেতে হবে। কী এনেছিস?
সুপ খাবে।
রান্না করতে পারবি?
আমি চুলার ধারেকাছে নেই প্রফেসর! আগুনের আঁচে গায়ের পশম পুড়ে যায়! পশম পুড়া বেড়ালের সাথে কে মেয়ে দেবে বলো?
তাও ঠিক। তোর জন্য এখন থেকেই মেয়ে দেখতে হবে। দুই বেড়ালের ধাক্কা কি আমি সামলাতে পারবো? কী বলিস তুই?
তাহলে আমি ঘরজামাই চলে যাই? শ্বশুরবাড়ি পায়ের উপর পা তুলে খাবো!
আমারও অমন প্ল্যান ছিলো! কিন্তু মনের মতো মেয়েও পেলাম না, শ্বশুরও পেলাম না! বুড়ো বয়সে এখন তোর উপর ডিপেন্ড করতে হচ্ছে! তুই আমার মতো ভুল করিস না! এখন সুপটা বানিয়ে দে!
ফিট-ফর-অল ব্যাগ থেকে দুটো সুপের কাপ বের করে টেবিলে রাখলো। একটা কেটলিতে পানি ঢেলে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে বললো, এভাবে ঘরে বসে থাকলে কি কনে পাওয়া যাবে প্রফেসর?
প্রফেসর মাসুদ ভ্রু নাচিয়ে বললেন, দেখা যাচ্ছে হঠাৎ তুই বিয়েপাগলা হয়ে গেছিস!
বিয়ে যখন করতেই হবে, তখন সময় থাকতে সেরে ফেলা ভালো! আমি বুড়ো বয়সে তোমার মতো কষ্ট পেতে রাজি না!
কী করতে বলিস তুই আমাকে?
পেপারে পাত্র চাই বিজ্ঞাপন দিয়ে দাও।
ঠিকাছে। আগামীকাল পেপারে বিজ্ঞপ্তিটা দিয়ে আসিস।

পত্রিকায় পাত্রচাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরদিন বাসার সামনে পাত্রী/পাত্রীর অভিভাবকদের লাইন লেগে গেলো বাসার সামনে; তবে বেড়ালের না-মানুষের। পত্রিকার সম্পাদক ভুল মনে করে বিজ্ঞপ্তি থেকে বেড়াল শব্দটা বাদ দিয়ে দিয়েছে!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/32326/</link>
				<pubDate>Tue, 07 Sep 2021 05:01:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফিট-ফর-অল<br />
রানা জামান</p>
<p>বেড়ালটা রাস্তায় বের হতেই একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো চারিদিকে। অবশ্য আতঙ্কটা মানবজাতির মধ্যে না-পশুকূলে। ফুটপাতে দুটো নেড়ি কুকুর শুয়ে ঝিমোচ্ছিলো-হুলো বেড়ালের গন্ধ নাকে লাগতেই গুটানো লেজ আরো গুটিয়ে কুই কুই করতে করতে দৌড়ে চলে গেলো পাশের গলি দিয়ে যতদূর যেতে পারে।<br />
বেড়ালটা সাধারণ বেড়ালের চেয়ে বেশ লম্বা, ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-32326"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/32326/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">22546355c8fe4e036e309dd575467486</guid>
				<title>জগাখিচুড়ি কবিতা:
তেতুল গাছের ভূত
রানা জামান


তেতুল গাছের ভূতে নাচে উল্টো 
তেতুল খায় না কোনো ভূতে 
থাকে না তেতুল কোনো গাছে

শুধু গর্ভবতী নারী কি তেতুল খায়?
তেতুলখেকোর অভাব আছে কি?

তেতুল ভূতের ভীতি স্বার্থসিদ্ধি আনে কি না?
তেতুলের টক কাজে কি লাগে না?
হকার কেমন ব্যাপার করিচ্ছে তেতুলে?
হকারের কথা কি তেতুল টক?

তেতুলের গাছ নিয়ে যায় কেমন রাক্ষস? 
ওরা কি ভূতের চেয়েও প্রকট ভূত?

তেঁতুল গাছের ভূত ভাগায় না কেউ!
আসলে কি ভূত আছে তেঁতুলের গাছে?


তেঁতুল গাছের ভূতেরা সব
ঝুলে তেঁতুল গাছে
ছোঁয় না তেঁতুল খায় না তেঁতুল 
উল্টো ঝুলে নাচে

ভূতের বড় ভূতেরা সব
পর্দার আড়াল থেকে
তেতুল ও গাছ করছে সাবার 
মুখ মুখোশে ঢেকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/32168/</link>
				<pubDate>Mon, 06 Sep 2021 04:14:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জগাখিচুড়ি কবিতা:<br />
তেতুল গাছের ভূত<br />
রানা জামান</p>
<p>তেতুল গাছের ভূতে নাচে উল্টো<br />
তেতুল খায় না কোনো ভূতে<br />
থাকে না তেতুল কোনো গাছে</p>
<p>শুধু গর্ভবতী নারী কি তেতুল খায়?<br />
তেতুলখেকোর অভাব আছে কি?</p>
<p>তেতুল ভূতের ভীতি স্বার্থসিদ্ধি আনে কি না?<br />
তেতুলের টক কাজে কি লাগে না?<br />
হকার কেমন ব্যাপার করিচ্ছে তেতুলে?<br />
হকারের কথা কি তেতুল টক?</p>
<p>তেতুলের গাছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-32168"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/32168/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">51ae005af24e1501cce099ecad0b0c37</guid>
				<title>আসল নকল
রানা জামান

দু’টো জমজ শিশু কোলে হাস্যোজ্জ্বল সিম্ফনি। নৌসাদ ঢুকলো কেবিনে। হাতে প্রকাণ্ড আকারের এক ফুলের তোড়া। ওর পেছনে ঢুকলো অফিসের দু’জন অফিস সহায়ক। ওদের হাতে শিশুদের জন্য রাজ্যের জিনিসপত্র। ওরা জিনিসগুলো কেবিনের এক পাশে পাশাপাশি রেখে বেরিয়ে গেলো। নৌসাদ এগিয়ে গেলো বেডের দিকে।
কনগ্রেচুলেশন! মেনি মেনি কনগ্রেচুলেশন! আই এম ভেরি মাচ হ্যাপি।
নৌসাদ ফুলের তোড়াটা বাড়িয়ে ধরলো স্ত্রী সিম্ফনির দিকে। সিম্ফনির দুই বাহুতে দুই শিশু। ঘুমুচ্ছে। দুটি প্রস্ফুটিত শাদা গোলাপ যেনো। সিম্ফনি ভ্রু নাচিয়ে দেখালো হাত বন্ধ-ফুলের তোড়া নেবে কিভাবে?
সরি!
নৌসাদ ফুলের তোড়াটা পাশের টেবিলে রাখলো। বেডের পাশে বসে তাকিয়ে রইলো শিশু দুটোর দিকে। হাত বাড়ালো একটি শিশু কোলে নেবার জন্য।
ঘুমুচ্ছে। এখন দেয়া যাবে না। ঘুম ভাঙুক। যাও এখন।
যাবো কেনো? আমি ওদের বাবা না?
তাই?
নিশ্চয়ই!
কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না পুরোপুরি।
কেনো?
বুবু চলে গেলো। শিশু দুটো বেঁচে থাকলেও ওর স্মৃতিটা থাকতো। আল্লাহয় কেনো যে এতো নিষ্ঠুর হলেন!
আমার শাশুড়ি মানে তোমার মা খুব কাঁদছেন। 
মা এখনো আমার কাছে আসেন নি। আমার যাওয়া দরকার। তুমি কি আমাকে ধরে নিয়ে যাবে? ডাক্তার আমাকে বিছানা থেকে উঠতে বারণ করেছেন!
একটা বিষয় বুঝতে পারছি না এখনো।
কোনটা?
বুবুর শিশু দুটো জীবিত ছিলো। হঠাৎ মারা গেলো কেনো?
আমিও বুঝতে পারছি না। ডাক্তার কিছু বলেনি?
ডাক্তারও কিছু বুঝতে পারছে না।
আর বুবুর মৃত্যু? হঠাৎ বুবু মারা গেলো কেনো? আমার আদরের বুবু। আমাকে কত আদর করতো। 
সিম্ফনি ফুপিয়ে উঠলো। দুই হাত কেঁপে উঠায় শিশু দুটোর ঘুম গেলো ভেঙে। সাথে সাথে ওয়া ওয়া শব্দে কেঁদে উঠলো।
নৌসাদ সিম্ফনির কোল থেকে একটা শিশু নিয়ে বললো, সিম্ফনি, একটা কথা।
সিম্ফনি কোলের শিশুকে বুকের দুধ দেবার চেষ্টা করতে করতে বললো, কী?
শেষ আল্ট্রাসনোগ্রামে ডাক্তার বলেছিলো তোমার গর্ভের বাচ্চা নড়ছে না। কিন্তু এই কথাটা আমি তোমাকে বলি নি তুমি কষ্ট পাবে বলে। এখন দেখছি ডাক্তারের বক্তব্য ঠিক ছিলো না।
সিম্ফনি বিজ্ঞের মতো করে বললো, ডাক্তারের কথা সবসময় সত্য হয় না! 
নৌসাদের কোলের শিশুটি কেঁদেই চলেছে। কিন্তু সিম্ফনির কোলের শিশুটির কান্না না থামায় নৌসাদ বললো, কী ব্যাপার? দুধ পাচ্ছে না নাকি?
সিম্ফনি অসহায়ের মতো নৌসাদের দিকে তাকিয়ে বললো, মনে হচ্ছে তাই। বাবুটা নিপল মুখে নিয়ে চুষে ছেড়ে দিয়েই কাঁদছে। এখন কী হবে?
তুমি কোনো চিন্তা করো না। আমি সিস্টারকে ডাকছি।
বেডের পাশে ঝুলানো সুইচ টিপে দিতেই সিস্টার ঢুকেই ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো, শিশু দুইটা কাঁদছে কেনো? বুকের দুধ! মার বুকের প্রথম দুধটা শিশুর জন্য খুবই পুষ্টিযুক্ত।
সিম্ফনি বললো, চেষ্টা তো করছি। কিন্তু বুক দিয়ে কোনো দুধ বের হচ্ছে না। 
কোনো চিন্তা নাই। আমাদের স্টোরে আছে নিউ বর্ণ বেবির জন্য বেবিমিল্ক। পরে আপনারা কিনে নেবেন। আর একটার দাম দিলেই হবে। 
সিস্টার কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলো। 
নৌসাদ বললো, ওটাকেও আমার কাছে দাও। আচ্ছা তোমার পেটের অবস্থা কী? সেলাই ব্যথা করছে না তো?
ব্যথা তো একটু করবেই। কিন্তু দুই শিশুর মুখ দেখলে আর ব্যথা অনুভূত হয় না!
দাও, ওকেও আমার কাছে দাও।
তুমি দুটো শিশু নিয়ে রাখতে পারবে?
প্রথমবার তো নেই। 
সিম্ফনি বাচ্চাটা বাড়িয়ে ধরলে নৌসাদ ডান হাতের কোলে নিলো। তখন সিস্টার দুটো ফিডারে দুধ নিয়ে এলো। নৌসাদের কাছে এসে দুই হাতে দুই শিশুর মুখে ধরলো। শিশু দুটো কান্না থামিয়ে ফিডারের নিপল চুষতে লাগলো। 
কৌশল করে দুই হাতে দুটো ফিডারের বোতল ধরলে সিস্টার হাসিমুখে বললো, কী কিউট হয়েছে বাচ্চা দুইটা তাই না ভাইজান?
নৌসাদ শিশু দুটোর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বললো, ইয়েস সিস্টার। 
এই খুশিতে একটা হ্যাণ্ডসাম বখসিস দিয়েন ভাইজান।
ওকে। দেবো।
সিম্ফনি বললো, বখসিস নিয়ে আপনি কোন চিন্তাই করবেন না সিস্টার। যাবার সময় কেনো, আগেই বখসিস দিয়ে দেবো।
সিস্টার চলে যাবার সাথে সাথেই সাফিয়া খাতুন শব্দ করে কাঁদতে কাঁদতে কেবিনে ঢুকলেন। দুজনকে হাসিখুশি দেখে তাঁর রাগ হলো খুব। তিনি একবার হেকচি টেনে শাড়ির আঁচলে অশ্রু মুছে বললেন, আমার বড় মেয়েটা মরে গেলো, আর তোরা দু্ই জন হাসছিস! কী আশ্চর্য!
নৌসাদ প্রথমে ভড়কে গেলো। পরক্ষণে সামলে নিয়ে বললো, আমরা হাসছি না আম্মা। এই প্রথম আমি বাচ্চা দুটোকে কোলে নিলাম। 
সিম্ফনি বললো, বুবুর মৃত্যু সংবাদ শুনে আমার খুব কষ্ট হয়েছে আম্মা। আমি যেতে চেয়েছি। কিন্তু ডাক্তার আমাকে নড়াচড়া করতে বারণ করেছে। হঠাৎ বুবু মারা গেলো আম্মা? বাচ্চা দুটোও মারা গেলো। আশ্চর্য! এমন ঘটনা আগে কখনো শুনি নি।
তোর বুবুর নরমাল ডেলিভারি হয়েছিলো। বাচ্চা দুইটাও সুস্থ ছিলো। সন্ধ্যায় সব ঠিকঠাক ছিলো। ভোরে সবকিছু উল্টাপাল্টা হয়ে গেলো! এটা কী করে সম্ভব হলো?
সাফিয়া খাতুন এগিয়ে এলেন নৌসাদের দিকে। শিশু দুটোকে অপলকনেত্রে তাকিয়ে থেকে কী মনে হতেই সিম্ফনির দিকে তাকালেন। বললেন, তোর আর অর্কেস্ট্রার ডেলিভারি কি একই সময় হয়েছে?
নৌসাদ বললো, প্রায় আম্মা। বুবুর রাত আটটায় আর সিম্ফনি আটটা পাঁচ-এ। 
আমি অর্কেস্ট্রার কাছে ছিলাম। অর্কেস্ট্রার ডেলিভারি হবার পর তোর এখানে আসতে চাইলাম। আজকাল ডাক্তাররা নরমাল ডেলিভারি করতেই চায় না। সিজার করলেই মুঠোভর্তি টাকা। কিন্তু এরপর কী হলো আার মনে নেই। ভোরে ঘুম ভাঙলে দেখি অর্কেস্ট্রার পাশের বেডে শুয়ে আছি। 
সিম্ফনি বললো, তুমি বুবুর ডেলিভারি নিয়ে খুব টেনসনে ছিলে আম্মা। অথচ দেখো বুবুর হলো নরমাল ডেলিভারি আর আমার হলো সিজার। 
লাভ কী হলো তাতে। নিজেও মরলো, শিশু দুটোকেও সাথে নিয়ে গেলো।
সাফিয়া খাতুন ফুপিয়ে উঠে মুখে শাড়ির আঁচল চাঁপা দিলেন। 
সিম্ফনি ফুপিয়ে উঠে বললো, বুবুর জন্য আমারও মন খারাপ করছে আম্মা। কিন্তু ডাক্তারের নিষেধ থাকায় শব্দ করে কাঁদতে পারছি না। বুবুর কবরের কী হবে আম্মা?
জসিমকে দেখছি না। নৌসাদের দিকে তাকিয়ে সাফিয়া খাতুন জিজ্ঞেস করলেন, তুমি দেখেছো ওকে নৌসাদ? নৌসাদ সিম্ফনিকে একবার দেখে বললো, না আম্মা। আমি তো এদিকেই ব্যস্ত ছিলাম। রাত থেকে দুলাভাই-এর সাথে আমার দেখা নাই।
সিম্ফনি জিজ্ঞেস করলো, ডাক্তার কী বলে আম্মা?
ডাক্তারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ছুটি নিয়ে ইণ্ডিয়া চলে গেছে বেড়াতে।
বুঝলে কিভাবে?
চেম্বারে একটা ছুটির দরখাস্ত রেখে গেছে।
আর দুলাভাই কোথায়?
ওকেও তো দেখছি না। 
ফোন করেছিলে?
ফোন বন্ধ পাচ্ছি।
আমার মনে হয় এটা ঠিক দুলাভাই এর কাজ!
চমকে উঠে নৌসাদ জিজ্ঞেস করলো, কী বলছো তুমি সিম্ফনি? দুলাভাই কী করেছে?
অবাক দৃষ্টি নিয়ে সাফিয়া খাতুন সিম্ফনির দিকে তাকিয়ে রইলেন। 
বুবু আমাকে বলেছিলো দুলাভায়ের কোন একটা মেয়ের সাথে আনএথিক্যাল রিলেশন চলছিলো। আমার বিশ্বাস, ঐ মেয়েটার জন্যই দুলাভাই বুবু ও শিশু দুটোকে মেরে ভেগে গেছে!
কী বলছিস তুই হাবিজাবি! জসিম অমন করতে পারে না! আমি বিশ্বাস করি না! তুই জানিস না জসিম অর্কেস্ট্রার জন্য কী রকম পাগল ছিলো? অর্কেস্ট্রা রাজি না হওয়া পর্যন্ত জসিম আমাদের বাসার সামনে এক পায়ে দাড়িয়ে ছিলো। সাতদিন। তখন বর্ষাকাল। মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। ও দাঁড়িয়েই আছে এক পায়ে। আমাদেরই মায়া হলো খুব। আমার দুইদিন ধরে অর্কেস্ট্রাকে বুঝালাম। তারপর সে সম্মতি দিলো। ততক্ষণে জসিমের হয়ে গেলো নিউমোনিয়া। যমে মানুষে টানাটানি অবস্থা। আর তুই বলছিস জসিমের অপর একটা মেয়ের সাথে আনএথিক্যাল সম্পর্ক ছিলো? ঐ মেয়েটার জন্য জসিম আমার অর্কেস্ট্রা আর সন্তান দুটোকে খুন করেছে?
সত্য কিনা বলতে পারবো না। তুমি পোস্টমর্টেম করাও বুবু আর নবজাতক দুটোর।
কী বলছিস তুই? তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে রে সিম্ফনি?
নৌসাদ বললো, এই কথাটা সিম্ফনি ভালো বলেছে আম্মা। যদি সত্যই দুলাভাই আকামটা করে থাকে তাহলে পোস্টমর্টেম করলেই বুঝা যাবে।
এদিকে শিশু দুটোর ফিডারের নিপল চুষা হয়ে গেলো দুধ শেষ হয়ে যেতেই। ঘুমিয়ে গেলো। 

পোস্টমর্টেম হলো অর্কেস্ট্রা ও দুটো নবজাতকের। অর্কেস্ট্রাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে তা প্রমাণিত; তবে শিশু দুটোর ব্যাপারটা পরিস্কার হয় নি-মৃত জন্মেছিলো নাকি জন্মাবার পরপরই গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিলো বুঝা যাচ্ছে না। 
জসিমের বাড়িতে খবর দিলে সবাই ছুটে চলে এলো। সব শুনে ওরা হতবাক। 
কিন্তু জসিম কোথায়? ওকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দু’জন ডাক্তারও নিখোঁজ, যে দু’জন দুইবোনের ডেলিভারি করেছিলো। থানায় একটি হত্যা মামলা ও তিনটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়রি করা হলো।
আস্তে আস্তে ভুলে গেলো অর্কেস্ট্রা ও ওর দুই নবজাতকের মৃত্যু শোক এবং জসিমের নিখোঁজ হওয়ার ব্যথা। দুই যমজ বাড়ছে সিম্ফনির কোলে। যজমের নামাকরণ করা হলো সার্জিল ও শার্জিল। সঠিক উচ্চারণ শিখে ডাকতে হবে। এভাবে পার হয়ে গেলো তিন বছর।
একদিন সাফিয়া খাতুন দুই নাতিকে কোলে নিয়ে চেহারার দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন। একি! তিনি দুই হাতে চোখ রগড়াতে লাগলেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/27887/</link>
				<pubDate>Tue, 24 Aug 2021 04:39:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আসল নকল<br />
রানা জামান</p>
<p>দু’টো জমজ শিশু কোলে হাস্যোজ্জ্বল সিম্ফনি। নৌসাদ ঢুকলো কেবিনে। হাতে প্রকাণ্ড আকারের এক ফুলের তোড়া। ওর পেছনে ঢুকলো অফিসের দু’জন অফিস সহায়ক। ওদের হাতে শিশুদের জন্য রাজ্যের জিনিসপত্র। ওরা জিনিসগুলো কেবিনের এক পাশে পাশাপাশি রেখে বেরিয়ে গেলো। নৌসাদ এগিয়ে গেলো বেডের দিকে।<br />
কনগ্রেচুলেশন! মেনি মেনি কনগ্রেচুলেশন! আই এম ভেরি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-27887"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/27887/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">26fa52874db1804cf3d0ac45f322d4ed</guid>
				<title>ইলিশ, বারে বারে মিলিস
রানা জামান 



ইলিশ! আহা রূপার বর্ণের ইলিশ 
লোনা জলে তুই বেশ আরামে ছিলিস
ক্ষিধে পেলে বেশ উদ্ভিদ কণা গিলিস

শরীরে তোর কত কাঁটার ছড়াছড়ি 
গলায় আটকালে মেঝে জুড়ে গড়াগড়ি 
মুক্তি পেতে বেড়ালের পায়ে ধরাধরি

তবু মজা কাঁটা ভরা ইলিশের ভাজা
আরো মজা যদি ওটা থাকে পুরা তাজা
ইলিশ বিলাসিরা বাজা রে বাদ্য বাজা 

নোনতা ইলিশ সকলেই খেতে চায় না 
যার পছন্দ সে তা যে সর্বদা পায় না
কারো থাকে নোনতা ইলিশ খাবার বায়না

ইলিশের ঝোলে রসনা ডুবিয়ে খাওয়া
পটল ঝিঙ্গায় স্বাদটা অধিক পাওয়া
আঙ্গুল চাটিয়া প্রিয় গান গেয়ে যাওয়া

ডিমের ইলিশ মজা হলেও ধরবো না
যারা ধরে ওদের ক্ষমা কভু করবো না
এ সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও নড়বো না

সতর্ক নোটিশ! ধরা যাবে না তো ঝাটকা
অদ্যের ঝাটকা আগামীর ইলিশ টাটকা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/27885/</link>
				<pubDate>Tue, 24 Aug 2021 04:10:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ইলিশ, বারে বারে মিলিস<br />
রানা জামান </p>
<p>ইলিশ! আহা রূপার বর্ণের ইলিশ<br />
লোনা জলে তুই বেশ আরামে ছিলিস<br />
ক্ষিধে পেলে বেশ উদ্ভিদ কণা গিলিস</p>
<p>শরীরে তোর কত কাঁটার ছড়াছড়ি<br />
গলায় আটকালে মেঝে জুড়ে গড়াগড়ি<br />
মুক্তি পেতে বেড়ালের পায়ে ধরাধরি</p>
<p>তবু মজা কাঁটা ভরা ইলিশের ভাজা<br />
আরো মজা যদি ওটা থাকে পুরা তাজা<br />
ইলিশ বিলাসিরা বাজা রে বাদ্য বাজা </p>
<p>নোনতা ইলিশ সকলেই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-27885"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/27885/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7bbe778bb871ff46da697227d4ed8d92</guid>
				<title>রানা জামানের দুটো জগাখিচুড়ি কবিতা
১.বাজিমাত

তেলরঙে অভিভূত জলরঙে কুপোকাত
তেলে জলে মিলেমিশে জীবন বাজিমাত

পর্দার ওপাশে ধাঁধাঁ
নোংরা জলে গাধা

কবিতার বই হাতে বুঁদ চাঁদনি রাতে
ক্লোরোফিল ঘ্রাণে না থাকুক কেউ সাথে।


২.ফার্মের মুর্গির জীবন

পশুর মুখস্থ শক্তি কিনতে চেষ্টা করি
বাবার ট্রেজারি নায়াগ্রা জলপ্রপাত
মশার কামড় পশুবিদ্যা শেখার অন্তরায়

ছুটিতে রিসোর্ট বনাম মামির আদর তফাতে
ফার্মের মুর্গির জীবন সুইমিংপুলের লাইফবেল্টে 

বাগানের জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি
মুখ বুজে ভেজাল খাদ্য অবিরাম খাচ্ছি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/22309/</link>
				<pubDate>Tue, 20 Jul 2021 06:04:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রানা জামানের দুটো জগাখিচুড়ি কবিতা<br />
১.বাজিমাত</p>
<p>তেলরঙে অভিভূত জলরঙে কুপোকাত<br />
তেলে জলে মিলেমিশে জীবন বাজিমাত</p>
<p>পর্দার ওপাশে ধাঁধাঁ<br />
নোংরা জলে গাধা</p>
<p>কবিতার বই হাতে বুঁদ চাঁদনি রাতে<br />
ক্লোরোফিল ঘ্রাণে না থাকুক কেউ সাথে।</p>
<p>২.ফার্মের মুর্গির জীবন</p>
<p>পশুর মুখস্থ শক্তি কিনতে চেষ্টা করি<br />
বাবার ট্রেজারি নায়াগ্রা জলপ্রপাত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-22309"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/22309/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6a32d895eb7813b93948f6bdfb69397c</guid>
				<title>আর্যকালের সারস
রানা জামান





কলসিটা কাণা করে জল পান করে
আর্যকালের সারস; আরব বিশ্বের
তেল অনিবার্য শিখায় অবিরাম
পুড়েও ঝুড়ির তলা ফাটে না; পঙ্গপাল
জন্মে নি তাই দ্রাবিড় পুরুষ নাসিকা
ডেকে ঘুমায়; কেবল যুদ্ধ বাঁধে
মোলায়েম নক্ষত্রের ভোগাধিকার
নিয়ে; আদম হাওয়া নিক্ষিপ্ত 
খরাক্রান্ত পৃথিবীতে; অলস মগজ
শয়তানের সরস কারখানা; সমাজে তুচ্ছ
ঘটনায় সতিনে সতিনে চুলোচুলি
এখনো আমরা বাঘের গলার হতে
পারি নি সারস; ব্যাংকের ভল্টেতে জাল
মুদ্রা ঢুকিয়ে আত্মমেহন করি 
মাইক্রোস্কোপে রাখি না দৃষ্টি
সিঁধ কাটার শাবল চুরি করে আনি
কুম্ভকর্ণ বুঝে না প্রজনন যন্ত্রের তাড়না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/20396/</link>
				<pubDate>Tue, 13 Jul 2021 05:05:51 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আর্যকালের সারস<br />
রানা জামান</p>
<p>কলসিটা কাণা করে জল পান করে<br />
আর্যকালের সারস; আরব বিশ্বের<br />
তেল অনিবার্য শিখায় অবিরাম<br />
পুড়েও ঝুড়ির তলা ফাটে না; পঙ্গপাল<br />
জন্মে নি তাই দ্রাবিড় পুরুষ নাসিকা<br />
ডেকে ঘুমায়; কেবল যুদ্ধ বাঁধে<br />
মোলায়েম নক্ষত্রের ভোগাধিকার<br />
নিয়ে; আদম হাওয়া নিক্ষিপ্ত<br />
খরাক্রান্ত পৃথিবীতে; অলস মগজ<br />
শয়তানের সরস কারখানা; সমাজে তুচ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-20396"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/20396/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">019f71cb6376a61dd15e312ce3effaeb</guid>
				<title>ভালোবাসার খেতা পুড়ি
রানা জামান

ভালোবাসার খেতা পুড়ি বৃন্দাবনে মই
নিদ্রাদেবি আড়ি মেরে ভাজতে থাকে খই
অশ্রুজলে নদী গড়ে পরিবেশবাদি চুপ
মজনু মিয়া ঘাট পাল্টে জ্বালে প্রেমের ধূপ
যন্ত্রর মন্ত্রর তাবিজ কবজ মারতে থাকে ফেল
কারো জীবন গরুর গাড়ি কারো তুফান মেল
হিসাব ছাড়া ভালোবাসা পদ্মার বুকে চর
শ্যামের বাহুয় হাজার নারী রাধার পুড়ে ঘর
ফুলের মালা বুকের জ্বালা ব্যথা সর্বক্ষণ
ভুলতে চাইলে খুলতে দেয় না মরার এ মন
হুতুম প্যাঁচা গুতুম দেখে চমকে আটকে দম
সিদুর পোড়া ইদুর এলে ছড়িয়ে দেয় গম
ভালোবাসা জ্বালো ঠেসে বুকের অক্সিজেন
খাতার বুকে সাঁতার চলুক হাতে নিয়ে পেন!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/18454/</link>
				<pubDate>Wed, 07 Jul 2021 05:24:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভালোবাসার খেতা পুড়ি<br />
রানা জামান</p>
<p>ভালোবাসার খেতা পুড়ি বৃন্দাবনে মই<br />
নিদ্রাদেবি আড়ি মেরে ভাজতে থাকে খই<br />
অশ্রুজলে নদী গড়ে পরিবেশবাদি চুপ<br />
মজনু মিয়া ঘাট পাল্টে জ্বালে প্রেমের ধূপ<br />
যন্ত্রর মন্ত্রর তাবিজ কবজ মারতে থাকে ফেল<br />
কারো জীবন গরুর গাড়ি কারো তুফান মেল<br />
হিসাব ছাড়া ভালোবাসা পদ্মার বুকে চর<br />
শ্যামের বাহুয় হাজার নারী রাধার পুড়ে ঘর<br />
ফুলের মালা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-18454"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/18454/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ea10690d39009428fa3e19bc9a09c468</guid>
				<title>গ্রাসচক্র
রানা জামান



রোগী বৃদ্ধি পেতে থাকলে হাসি 
ঠেকে কানে ডাক্তারের
লাশের মন্দায় ডোম রোষে 
কাটে নিজের শরীর

আমি জিমে থেকে হৃষ্টপুষ্ট 
করে রাখছি আপন গা

ডাক্তারের শ্যেন দৃষ্টি থেকে বেঁচে 
পড়ে যাই পুলিশের নীল নক্সায়
একদিন বাজারের ব্যাগ ঘেটে 
পেয়ে যায় &#039;খাত&#039; ট্যাংরা মাছের উদরে
থানার হাজত থেকে চলে যাই 
ডাক্তারের স্ট্যাথোর থাবায়

এরপর হতে পুলিশের প্রয়োজনে 
মাঝে মাঝে চলতে থাকে হাজতবাস
ক্ষোভগুলো চিবিয়ে আহত করলে 
বাবা-মার অশ্রুজলে ঘুচে পরিতাপ

এক সন্ধ্যায় ক্রসফায়ারে বেওয়ারিশ 
লাশ হয়ে ডোমের টেবিলে
ডোমের নিপুণ হাতে ইচ্ছেগুলো 
ছিড়ে ছিড়ে জমে মার চোখের পাতায়

পুলিশ ডাক্তার ডোমের গ্রাসচক্র 
দেখে তৃপ্তিতে দু&#039;ফোটা অশ্রুপাত।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/10985/</link>
				<pubDate>Wed, 09 Jun 2021 05:19:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গ্রাসচক্র<br />
রানা জামান</p>
<p>রোগী বৃদ্ধি পেতে থাকলে হাসি<br />
ঠেকে কানে ডাক্তারের<br />
লাশের মন্দায় ডোম রোষে<br />
কাটে নিজের শরীর</p>
<p>আমি জিমে থেকে হৃষ্টপুষ্ট<br />
করে রাখছি আপন গা</p>
<p>ডাক্তারের শ্যেন দৃষ্টি থেকে বেঁচে<br />
পড়ে যাই পুলিশের নীল নক্সায়<br />
একদিন বাজারের ব্যাগ ঘেটে<br />
পেয়ে যায় &#8216;খাত&#8217; ট্যাংরা মাছের উদরে<br />
থানার হাজত থেকে চলে যাই<br />
ডাক্তারের স্ট্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-10985"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/10985/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">69ff860054f6c0be4755cbb406e3570d</guid>
				<title>আমজনতার কণ্ঠে ফাঁস
রানা জামান 


কত যে দেখিলাম কড়া থেকে ক্রান্তি 
কাটতে গিয়েও থাকিয়া যাচ্ছে ভ্রান্তি
সেরে চাপছে সোয়া সের
ঢাক পিটিয়ে শক্তের নামে ফসকা গিরো
গুণতে গিয়ে দেখি বামে সকল জিরো
সকল কি কপালের ফের

সিস্টেম তুলছে ঢেকুর আত্মতৃপ্তির ঘোলে 
পার্টির ছত্রছায়ায় সোনার চাঁদরা দোলে
চাঁদা তোলায় বলিয়ান
শিক্ষাকাল শেষ না হতে-ই কোটিপতি
বাড়াবাড়ির কাজেকর্মে নেই রে যতি
প্রতিবাদীর বলিদান

চলে যাচ্ছে সম্পদ স্বদেশ থেকে বাইরে 
পাটে থাকায় ওদের ঠেকাবার কেউ নাই রে
কব্জায় মূল্যবৃদ্ধির রাশ
ব্যাংকের টাকা মারছে বছরের পর বছর
কৃষি ঋণে হাজত ওদের চাঁদনি পসর
আমজনতার কণ্ঠে ফাঁস।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/9351/</link>
				<pubDate>Wed, 28 Apr 2021 16:45:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমজনতার কণ্ঠে ফাঁস<br />
রানা জামান </p>
<p>কত যে দেখিলাম কড়া থেকে ক্রান্তি<br />
কাটতে গিয়েও থাকিয়া যাচ্ছে ভ্রান্তি<br />
সেরে চাপছে সোয়া সের<br />
ঢাক পিটিয়ে শক্তের নামে ফসকা গিরো<br />
গুণতে গিয়ে দেখি বামে সকল জিরো<br />
সকল কি কপালের ফের</p>
<p>সিস্টেম তুলছে ঢেকুর আত্মতৃপ্তির ঘোলে<br />
পার্টির ছত্রছায়ায় সোনার চাঁদরা দোলে<br />
চাঁদা তোলায় বলিয়ান<br />
শিক্ষাকাল শেষ না হতে-&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-9351"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/9351/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>