<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Md Joynul Abedhin | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/j-a-sagor/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/j-a-sagor/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Md Joynul Abedhin.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 18 Jun 2026 08:11:26 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">43a01a2d7204cf528e442b1f73dacf30</guid>
				<title>কবিতাঃ খোঁপা 
আর কত বিরহে একটা সনেট লিখতে পারব? 
যে প্রেম হারিয়ে গেছে তার জন্য আর কোন ব্যথা নেই।
মানুষ হারিয়ে গেলে ব্যথা পুষে কদিন যাবে প্রিয়া?
বাঁশের ঝাড় দিয়ে যে চাঁদ উকি দেয়
তাকে বলেছি মন খারাপের কথা,
পাথর আসওয়াদের মত আমার সব ব্যথা নিয়ে
চাঁদ আমার মতই নির্জন। 
তবুও যদি কোনদিন আগ্রহ নিয়ে দেখতে আসো,
 আটলান্টিকের তলদেশে টাইটানিক -এর মত ধ্বংসাবশেষ পাবে।
শীতল স্রোতে ব্যাথা ভাসিয়ে চুপ করে বসে
পৃথিবীর কোলাহল দেখে যাই। 
আমার রাত জাগার সঙ্গী গলির মাথার নেড়ে কুকুর।
কারো হৃদয়ের উষ্ণ পরশ পাবার ভাগ্য আমার হলনা,
তবুও এই মেগাসিটিতে হৃদয় সদাই করে 
এক ঝুড়ি  কষ্ট মাথায় করে মেসে ফিরি
শুধু তোমায় সপ্ন দেখব বলে। 
তোমার খোঁপার ঘ্রাণ আজো 
আমার সপ্নে তাজা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/203896/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Aug 2023 16:40:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতাঃ খোঁপা<br />
আর কত বিরহে একটা সনেট লিখতে পারব?<br />
যে প্রেম হারিয়ে গেছে তার জন্য আর কোন ব্যথা নেই।<br />
মানুষ হারিয়ে গেলে ব্যথা পুষে কদিন যাবে প্রিয়া?<br />
বাঁশের ঝাড় দিয়ে যে চাঁদ উকি দেয়<br />
তাকে বলেছি মন খারাপের কথা,<br />
পাথর আসওয়াদের মত আমার সব ব্যথা নিয়ে<br />
চাঁদ আমার মতই নির্জন।<br />
তবুও যদি কোনদিন আগ্রহ নিয়ে দেখতে আসো,<br />
 আটলান্টিকের তলদেশে টাইটানিক -&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-203896"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/203896/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6d5cde958ec03508aa6bdd4b7b6fc07e</guid>
				<title>ফড়িং মন- ১ম পর্ব 
ডিপার্ট্মেন্টের করিডোরে ফ্রেশারদের বেশ জটলা। গায়ত্রী বেশ হীনমন্যতায় ভুগছে। সবই ঠিক আছে, দেখতে সে বেশ সুন্দর কিন্তু পায়ের জুতাটা নিয়ে ঠিক আত্মবিশাসী নয় । প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ঝক্কি, বাসা ভাড়ার খরচ, প্রথম মাসের কেনাকাটা এসব কুলিয়ে ওঠা তার মফঃস্বল শহরে ছোটখাট ব্যবসায়ী বাবার পক্ষে সামলানো কঠিন। আপাত সামলেছেন তবে এর জের যে তার বাবাকে টানতে হবে সামনের কয়েক মাস তা গায়ত্রী আঁচ করতে পারে। ফলাফল- সবদিক সামলে এটা ওটা কিনে শুধু ভাল জুতাই কেনা হলনা। করিডরে হাই হ্যালো চলছে। ক্লাশের বেশ আগেই এসেছে সবাই। কাল ওরিয়েন্টেশনে যাদের সাথে কথা হয়েছিল তাদের খুঁজছে গায়ত্রী। পিছন দিক থেকে ডাক এল- গায়ত্রী। পিছনে ফিরে গায়ত্রী দেখল নিপা ডাকছে। কাল নিপার সাথেই কথা হয়েছে বেশি। নিপাকে দেখে মুখ জুড়ে হাসি এনে হাই বললো গায়ত্রী। 
নিপা কাছে এসে একদম জড়িয়ে নিল গায়ত্রীকে। কিছু মানুষের সাথে বেশিদিন না মিশেই বুঝতে পারা যায় তারা খুব সহজ। নিপা যেন খোলা দরজা। এত সহজেই কেউ বুকে জড়িয়ে নেয়নি। গায়ত্রীর বেশ লাগল। 
নিপা বলল- বাহ,খুব সিরিয়াস ছাত্রী তুই। এত আগেই হাজির। তোকেই আমার দরকার। আমি বাঙ্ক করব আর  তুই আমায়  নোট করে দিবি। 
গায়ত্রী হেসে বলল- ধ্যাত, আমি ভয়েই  আগে এসেছি। দেরী হলে কে না আবার বকা দেয়। 
সেটাই তো, ভীতুরা ভাল স্টুডেন্ট হয়। আচ্ছা চল ক্লাসে যাই। 
ক্লাসে সবাই মোটামুটি বসে গেছে। 
তুই কোথায় থাকিস? গায়ত্রী তাকিয়ে দেখল নিপা চুয়িং গাম মুখে ব্যাগে কি খুঁজতে খুঁজতে জিজ্ঞ্যেস করল। 
একটু দুরেই থাকি। মিরপুরে। 
তাহলে খুব সমস্যা হবে, জ্যাম ঠেলতে হবে নিত্য। মোহাম্মদপুরে আসবি। আমার ফ্ল্যাটে সিট  ফাঁকা আছে। 
ওমা, খুব ভাল হয়। থ্যাঙ্ক ইউ দোস্ত । এবার গায়ত্রী নিপাকে ছোট করে একটা হাগ দিল। 
সেদিনের মত ক্লাস থেকে বেরিয়ে  নিপার সাথে মোহাম্মদপুরে এল গায়ত্রী। কাটাসুরের  পাঁচতলা বাসা। গেটম্যান নিপাকে দেখেই বলল- আফা আপনের বাইক দিয়ে গেছে। 
তাই নাকি? বাসার নীচে কিছু কার পার্ক করা দেখল গায়ত্রী। এক কোনায় একটি বাইক । নিপা স্টার্ট দিল , চেক করা হয়ে গেলে আবার জায়গায় স্ট্যান্ড করাল। 
তুই বাইক চালাস?
নিপা অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল- হ্যাঁ, কেন? 
নিপার অবাক দৃষ্টিতে গায়ত্রী একটূ বিব্রত হল। সে না হয় ছোট শহরের মেয়ে কিন্তু নিপা তো ঢাকার। তাকে এমন প্রশ্ন করা ঠিক হয়নি। 
না , এমনি। 
একদম পাঁচতলায় মেয়েদের ফ্ল্যাট। তিন রুম। পাঁচজন আছে। এক আপু চলে গেছেন। গায়ত্রীকে নিজের রুম মেট রুবাইদার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। ফ্ল্যাটের অন্যরা বাইরে। 
কেমন আমার রুম?
গায়ত্রী দেখল জানালা বেশ বড়। পুরো রুম জুড়ে দিনের আলো। বাতাস আসছে। জানালার পাশে একটা দেবদারু গাছ। বেশ পরিবেশ। কিন্তু ভাল লাগার সাথে ভয় বাড়ল- ভাড়া কত কে জানে? গলা শুকিয়ে গেল। 
ভাড়া কত রে? 
ভাড়া নিয়ে ভাবতে হবেনা। কবে আসবি তাই বল।
গায়ত্রীকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত রাখল নিপা। নিপা রুবাইদা আর গায়ত্রী মিলে জমিয়ে আড্ডা দিল। 
রুবাইদা বলল- গায়ত্রীকে রেখে আয়। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। 
মিরপুত্রে যাবার জন্য নীচে নামল গায়ত্রী-নিপা। বাইক স্টার্ট দিল । গায়ত্রীকে বলল- পিছনে বস। গায়ত্রীর একটু অস্বস্তি হল। বাইকে কখনো ওঠেনি। কিন্তু সেটা বলতেও লজ্জা লাগছে। 
কি রে কি হল? বস পিছনে। 
কাছে গিয়ে গায়ত্রী বলল-বাইকে আগে উঠিনি। ভয় লাগছে। 
চোখ পাঁকাল নিপা। এই ভয় নিয়ে এই শহরে টিকতে পারবি না, কদিন পর এই বাইক তোকেই চালাতে হবে, আমি পিছনে বসব। উঠ শালী। 
নিপার বকা খেয়ে কোন রকমে বসল গায়ত্রী। নিপা পিছনে তাকিয়ে বলল- নড়বি না। আমাকে জড়িয়ে থাকবি তাহলেই হবে।
গায়ত্রী শুধু হু বলল। 
বাইক চলে এল মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ডে। আশেপাশে তাকাল গায়ত্রী। ঢাকা শহর। এই শহর নিয়ে কত গল্প কত ভয় তার। মা-বাবা কত সাবধানে থাকতে বলেছে। আজ একটূ হলেও সাহস হয়েছে। সাহসের নাম নিপা। নিপার মত কেউ থাকলে অন্তত ভয় পাবেনা গায়ত্রী। নিপাকে জড়িয়ে ধরে নিজেই একটা মুচকি হাসি দিল গায়ত্রী। 
বাইক তখন জ্যামে পড়ল। 
পিছনে তাকিয়ে নিপা বলল- জ্যাম পড়েছে সোনা, এভাবে জড়িয়ে ধরলে লোকে কেইস করে দেবে। ছাড় এ বেলা। 
লজ্জা পেয়ে গায়ত্রী বলল- ধ্যাত ভয় লাগছে আমার। 
এত ভয় কেন তোর?
কিছু না বলাই ভাল। গায়ত্রী এবার বলল- তোর শরীর এত শক্ত কেন রে? কাঠ একদম।
কেন ধরে মজা নেই বুঝি। আমার কি দোষ বল। সব আল্লাহর চাল। আমাকে হয়ত ছেলেই বানাবেন ভাবছিলেন কিন্তু শেষ মুহুর্তে সিদ্ধান্ত পাল্টিয়েছেন। আর তাই প্লাগের বদলে সকেট বসিয়ে দিলেন। আমি মেয়ে হয়ে গেলাম। 
গায়ত্রী হাসতে হাসতে আবার নিপাকে জড়িয়ে ধরল। জ্যাম ছুটল। বাইক ছুটল। বাতাসে গায়ত্রীর খোলা চুল উড়ছে। এক অন্য রকম ভাল লাগা। ঢাকার আলোয়  চোখ গায়ত্রীর। অনেক ভয়ের শহর কিন্তু ভয় কেটে যাচ্ছে। নিপাকে জড়িয়ে ভয় উড়ে যাচ্ছে। এই শহরে টিকতে হলে নিপাকে তার গাইড হিসাবে লাগবেই। নিপাকে আরো শক্ত করে ধরল গায়ত্রী। আবার জ্যামে পড়ল আইডিবির মোড়ে। 
ইস রে পিষে দিবি নাকি আমায়?
দেব তো। 
পিছনে তাকাল নিপা। মুখে হাসি। 
আর যাই কর, জড়িয়ে ধরার নামে আবার ওসব জায়গা হাতাবি না, খবরদার। 
গায়ত্রী ছি ছি করে উঠল। তুই কি রে? শরম লাগেনা তোর? 
ইস কি ঢং, ঠিক হয়ে  বস শালী, জ্যাম ছেড়েছে। 
শ্যাওড়াপাড়ার এক গলিতে বাসার সামনে নামল গায়ত্রী। 
যা তাহলে। শুক্রবারে তোকে নেয়ার জন্য আসব। জিনিসপত্র  গুছিয়ে রাখিস। এখানে থেকে আর কাজ নেই। খামাখা। 
আচ্ছা। 
যাই তাহলে। 
আচ্ছা। 
বাইক ঘুড়িয়ে নিল নিপা। নিপার বাইক চলে যাচ্ছে- ভরসা করার মত কাউকে পেয়ে গায়ত্রীর বড় ভাল লাগছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/200097/</link>
				<pubDate>Thu, 04 May 2023 02:33:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফড়িং মন- ১ম পর্ব<br />
ডিপার্ট্মেন্টের করিডোরে ফ্রেশারদের বেশ জটলা। গায়ত্রী বেশ হীনমন্যতায় ভুগছে। সবই ঠিক আছে, দেখতে সে বেশ সুন্দর কিন্তু পায়ের জুতাটা নিয়ে ঠিক আত্মবিশাসী নয় । প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ঝক্কি, বাসা ভাড়ার খরচ, প্রথম মাসের কেনাকাটা এসব কুলিয়ে ওঠা তার মফঃস্বল শহরে ছোটখাট ব্যবসায়ী বাবার পক্ষে সামলানো কঠিন। আপাত সামলেছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-200097"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/200097/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">99ab140c0a35bd2fbab374d4853d5300</guid>
				<title>কবিতা: খেয়া 
খেয়া,কতদিন তোমাকে দেখিনা!
আজ প্রায় ১৬ বছর!
অথচ সকাল গড়িয়ে বিকেল হলেই আর মন 
মানতো না।
টিউশনির টাকায় চলা আমি ছুটে যেতাম
রিকসা ভাড়া করে তোমার মেসের পাশে।
না দেখে থাকা যায়!
যায়। 
আজ না দেখার প্রায় ১৬ বছর।
দেখার কত তৃষ্ণা দুই চোখে!
ডাহুক পাখি জানে তার সাথে রাত জাগে কার দুটি চোখ।
তোমার সাথে আজ কয়েকশ কিলোমিটারের দূরত্ব। 
তবু মন এই বয়সে বেহায়া হতে চায়-
দেখে আসিনা কেমন আছে,
রাস্তায় দাঁড়িয়ে শুধু দেখব বারান্দায় কাপড় শুকাতে আসে কিনা। 
দূর থেকে সেই চুলগুলি দেখলেও হবে।
অথবা সেই হাত। 
ঠিকানা জানিনা তার, শুধু শহরের নাম জানি।
ভাবি -সেই শহরে কদিন থেকে আসি,
যদি অলিতেগলিতে দেখা হয় 
অথবা কোন শপিংমলে।
হতেও তো পারে,সিনেমায় যেমন হয়।
কত মানুষ এই দুনিয়ায় 
কত চেনাজানা। 
তবুও একজন নেই বলে চোখের কোণে তৃষ্ণা লবণ হয়ে জমে আছে।
চোখের কি দোষ?
তোমায় সেই যে খুব আপন করে দেখত
তারপর থেকে চোখের পাতায় 
তোমার জন্য মায়া।
এক জীবন যেন শুধু দীর্ঘনি:শ্বাস হয়ে শামুকের খোলে বন্দী হয়ে পড়ে আছে সাগর তলে। 
রূপালি জ্যোৎস্নায় পেচা চেয়ে থাকে 
সেই চোখ জ্বলে,
অপেক্ষার চোখ। 
কত সকাল বিকেল হল
কতদিন রাত হল।
তবুও তোমাকে আর দেখা হয়না।
চোখ তবু পেচার মত চেয়ে আছে।
মৃত মানুষের চোখে কেন তৃষ্ণা লেগে থাকে আমি জানি।
কাউকে যেন দেখা হয়নি বহুদিন,বহু বহুদিন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/197037/</link>
				<pubDate>Tue, 21 Mar 2023 16:39:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা: খেয়া<br />
খেয়া,কতদিন তোমাকে দেখিনা!<br />
আজ প্রায় ১৬ বছর!<br />
অথচ সকাল গড়িয়ে বিকেল হলেই আর মন<br />
মানতো না।<br />
টিউশনির টাকায় চলা আমি ছুটে যেতাম<br />
রিকসা ভাড়া করে তোমার মেসের পাশে।<br />
না দেখে থাকা যায়!<br />
যায়।<br />
আজ না দেখার প্রায় ১৬ বছর।<br />
দেখার কত তৃষ্ণা দুই চোখে!<br />
ডাহুক পাখি জানে তার সাথে রাত জাগে কার দুটি চোখ।<br />
তোমার সাথে আজ কয়েকশ কিল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-197037"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/197037/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7db52b30b924de8e055dd0745d82fb9d</guid>
				<title>কবিতাঃ প্রেম 
প্রেমিকাকে মনে পড়েনা,
বুড়ী হলদে চাঁদটা যখন উকি দেয়,
এ সময় প্রেমিকাকে মনে পড়ার কথা,
আর আমি মশারীর ভিতর মশা আছে কি না দেখি। 
প্রেমিকাকে মনে পড়েনা আমার। 
তাকে মনে করে দুঃখ পাবার আগে
পিছনের বাস হর্ন দেয়, হেল্পার ভাড়া চায়,
মাসের টাকা শেষ হয়, লেবুচেপা বাজার করি,
আমার অনেক কাজ।

প্রেমিকাকে মনে পড়েনা আমার। 
কিন্তু তাকে ভীষন মনে করতে ইচ্ছে করে এমন নয়।
শুধু মাঝে মাঝে অবাক হই,
একদিন এমন ছিল তার হাত শুকে মনে হয়েছিল এই ঘ্রাণ চিরদিন থাকবে,
গুড়েবালি- হাতে শুধু ঘাম আর লবণ স্বাধ লেগে থাকে।

প্রেমিকাকে  মনে পড়েনা আমার। 
পড়ার কথাও নয়,
যে প্রেম মনের নয়-হরমোনের,
তার বেধে রাখার শক্তি নেই।
কি আছে নারীর!
 এক জোড়া উদ্ধত বক্ষমালা
আর ঊরুসন্ধি ছাড়া। 
পুরুষ-মন স্থির না হলে নারীর সাধ্য নেই তাকে মুগ্ধ করে।
প্রেমিকাকে মনে পড়েনা আমার। 
তার হাতের ছোয়া, মুখের হাসি 
আমার মনে একটুও পলি জমায় নি,
চর জাগলেই না  ঘর বাধা হয়।
গহীন নিস্তব্ধতা আর প্রাচীণ উর্নাজাল বোনা 
মন এক অতল অচেনা পাতাল পুরী। 
হে নারী, পুরুষ নিজেই নিজেকে জানেনা 
তোমাকে ভালবাসবে কি করে?
পুরুষ যতখানি ভালবাসে ভাব,
তার প্রেম ঢের পরাগায়নের খেলা মাত্র।
প্রেমিকাকে মনে পড়েনা আমার। 
একটুও না।
অথচ নুডলস রান্না করে এনে যে মেয়েটি নিজের সপ্নের
কথা বলে যেত,
সে সব সপ্ন কবে গুবরে পোকারা তাদের গর্তে নিয়ে 
গেছে!
প্রেমিকাকে মনে পড়েনা আমার। 
সে পোষা বিড়ালের মত চুপ করে মনে
বসে  উম নিতে চেয়েছিল।
আমার অবহেলা যেন চ্যালাকাঠ, আর সে যেন সারমেয়। 
প্রেমিকাকে মনে পড়েনা আমার। 
তার চোখে ভাসত  নীল প্রজাপতি, হলুদ বিকেল আর হাতে হাত রেখে কুয়াশার সর মাখা শীতের সন্ধ্যা। 
আমার মাথায় তখন রেশম পোকা লালা ঝড়াত- একটি বিছানা, নরম তোশক আর এক প্যাকেট ডটেড স্ট্রবেরি...।
আহা প্রেম। হায় প্রেম।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/195930/</link>
				<pubDate>Fri, 10 Mar 2023 03:04:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতাঃ প্রেম<br />
প্রেমিকাকে মনে পড়েনা,<br />
বুড়ী হলদে চাঁদটা যখন উকি দেয়,<br />
এ সময় প্রেমিকাকে মনে পড়ার কথা,<br />
আর আমি মশারীর ভিতর মশা আছে কি না দেখি।<br />
প্রেমিকাকে মনে পড়েনা আমার।<br />
তাকে মনে করে দুঃখ পাবার আগে<br />
পিছনের বাস হর্ন দেয়, হেল্পার ভাড়া চায়,<br />
মাসের টাকা শেষ হয়, লেবুচেপা বাজার করি,<br />
আমার অনেক কাজ।</p>
<p>প্রেমিকাকে মনে পড়েনা আমার।<br />
কিন্তু ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-195930"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/195930/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9673d21ab5c61e4dd2c15d4ed805b43e</guid>
				<title>কবিতাঃঘুম

আমি একজন ক্লান্ত মানুষ।
না না আমি হাজার বছর ধরে হাটছি এমন নয়।
আমি একটু হেটেই ক্লান্ত। 
মানুষের সাথে একটু কথা বলেই ক্লান্ত হই।
কথার ভিতর মানুষের কংকাল বের হয়ে আসে।
মানুষের স্বরযন্ত্র যেন পাবলিক টয়লেট।
গন্ধ আর গন্ধ। 
একটু কথা বলেই-
শুরু হয় কামের কথা , টাকা আর ক্ষমতার গল্প। 
মানুষের আর মানুষ হওয়া হলনা। 
কথা না বলে চুপ থাকি। সেই ভাল।
প্রেম অপ্রেমেও ক্লান্ত।
কাম আর প্রেমের তফাৎ কতদূর?
নারী আজ কেবল যোনি 
পুরুষ আজ  কেবল খদ্দের,
প্রেমিক আর প্রেমিকা বলে কেউ নেই। 
মানবীয় সম্পর্কে তাই  আজ অনাগ্রহ। 
এর চেয়ে আকাশে চিলের উড়ে যাওয়া দেখি,
ধানের শীষের উপর বাতাসের খেলা দেখি।
দেখি মাছরাঙ্গা কেমন অপেক্ষায় আছে
কখন একটা বোকা মাছ নড়ে উঠবে গাঁয়ের পুকুরে।
মানুষ থেকে দূরে থাকি।
মানুষ আমাকে ক্লান্ত করে।
তখন শুধু ঘুম পায়। খুব ঘুম পায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/195070/</link>
				<pubDate>Tue, 28 Feb 2023 08:48:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতাঃঘুম</p>
<p>আমি একজন ক্লান্ত মানুষ।<br />
না না আমি হাজার বছর ধরে হাটছি এমন নয়।<br />
আমি একটু হেটেই ক্লান্ত।<br />
মানুষের সাথে একটু কথা বলেই ক্লান্ত হই।<br />
কথার ভিতর মানুষের কংকাল বের হয়ে আসে।<br />
মানুষের স্বরযন্ত্র যেন পাবলিক টয়লেট।<br />
গন্ধ আর গন্ধ।<br />
একটু কথা বলেই-<br />
শুরু হয় কামের কথা , টাকা আর ক্ষমতার গল্প।<br />
মানুষের আর মানুষ হওয়া হলনা।<br />
কথা না বলে চুপ থাকি। সেই ভাল।<br />
প্র&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-195070"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/195070/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">53c3eb60e997915c844476e3590674c0</guid>
				<title>কবিতাঃ কবি 
-আপনার কবিতার ভাষা সহজ,পানসে,পড়েই বুঝতে পারা যায়।
এসব কবিতা লিখে কি  কবি হওয়া যায়?
কবিতার ভাষা হবে কটকটে কঠিন যাতে পাঠক কিছুই না বুঝে,
পড়ে যাতে মনে হয় বাব্বাহ কি কঠিন ভাষা তবেই না কবির প্রতি তার সন্মান আসবে।
কিছু মনে করবেন না, আপনি কবিতায় কঠিন শব্দ আনুন।
আর কি ছাই লেখেন- পাঠক দাতকপাটি লেগে পড়ে যাবে কিন্তু আপনার কবিতা বুঝবে না।
-ওমা আমি যে ওমন কবিতা লিখতে জানিনা।
আচ্ছা আর কবিতাই লিখবনা।
আমার কবিতা সহজ মানুষের জন্যে।
দুই একজন সহজ কবি থাকনা,খুব ক্ষতি কিছু হবেনা। 
-তবে বলি আপনাকে,
সহজ মানুষেরও জটিল জিনিস পছন্দ।
সহজ কিছু আমাদের ভাল লাগেনা-ভাল লাগেনা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/194711/</link>
				<pubDate>Sat, 25 Feb 2023 16:03:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতাঃ কবি<br />
-আপনার কবিতার ভাষা সহজ,পানসে,পড়েই বুঝতে পারা যায়।<br />
এসব কবিতা লিখে কি  কবি হওয়া যায়?<br />
কবিতার ভাষা হবে কটকটে কঠিন যাতে পাঠক কিছুই না বুঝে,<br />
পড়ে যাতে মনে হয় বাব্বাহ কি কঠিন ভাষা তবেই না কবির প্রতি তার সন্মান আসবে।<br />
কিছু মনে করবেন না, আপনি কবিতায় কঠিন শব্দ আনুন।<br />
আর কি ছাই লেখেন- পাঠক দাতকপাটি লেগে পড়ে যাবে কিন্তু আপনার কবিতা বুঝ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-194711"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/194711/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4bbf39d5f92d06ae9f3619fb05d13204</guid>
				<title>উপন্যাসঃশারদ বিষুব (পর্ব-২) 
চারুকলার পুকুরের ধারে চোখ বন্ধ করে আছে তিতুল। হাতে সিগারেট। 
-যা, আবার কি হল তোর? মার্জা আলতো টোকা দিল। 
-ধ্যানে আছি। তিতুলের চোখ বন্ধ। আসলেই ধ্যানে আছে এমন একটা ভঙ্গি আনার চেষ্টা প্রকট।
-জাতিকে উদ্ধারের ধ্যান বুঝি? তাহলে আগাম বাদ দিতে পারিস। এ জাতি ধ্যানী লোক পছন্দ করেনা, ধ্যানের কথাও এদের মগজে ধরেনা। মার্জা দেখল তিতুল চোখ বন্ধ করেই ওর কথা শুনে হুম বললো মাত্র। 
-ভাবছি, চিত্রে সোসালিজম তুলে ধরার উপায় কি? কিভাবে আঁকা যায় যাতে শ্রেণী সংঘাত স্পষ্ট বুঝা যায়? 
দিহান সিগারেটের ধোয়া উড়িয়ে বললো- এই ভোগবাদের যুগে সমাজতন্র আর চলবেনা ভায়া। এখানে আফিমের চাষ হয়। মরা সমাজতন্রকে কোন মন্ত্রেই এ দেশে জনপ্রিয় করা যাবেনা। তার থেকে সুলতানের মত বড় বড় স্তনবতী নারীর ছবি একে দৃক গ্যালারীতে একটা শো কর, আর যাই হোক পার্ভার্টেড জেনারেশন তোর খুব তারিফ করবে। 
পৌষা হা করে দিহানের দিকে তাকিয়ে বলল- মানে যারা বাস্টি কিছু দেখে তারা কি পার্ভার্টেড? 
দিহান বুঝতে পারল একটু বুঝিয়ে না দিলে পৌষা ক্যাচাল লাগিয়ে ছাড়বে- আহা তা নয়, আমি বলছিলাম, অনেকে আসলে সুলতানের শিল্প না বুঝে শুধু ঐ জিনিসের দিকে তাকিয়ে ভাবে-বড় ভাল চিত্রকর। আহ। সেজন্য বলছিলাম আর কি। 
-এসব বাদ দিয়ে পারলে তিতুলকে আইডিয়া দে। 
-সমাজতন্ত্র নিয়ে আমার কোন আশা নেই, ইট ইজ আ হিস্ট্রি ইন বাংলাদেশ। 
সিগারেট শেষ হয়ে এসেছে তিতুলের। চোখ চাইনিজদের মত করে দিহানের দিকে তাকিয়ে বলল- সমাজতন্ত্রকে এদেশে জনপ্রিয় করার জন্য আমি ছবি আঁকতে ইচ্ছুক নই। চে চাইলে আর্জেন্টিনায় বসে আরামে জীবন কাটাতে পারতেন, সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে মানুষের দারিদ্র্য দেখে কষ্ট পেতেন না, আমি সারা জীবন এই আদর্শ মাথায় করে রাখব যে কারণে চে সারা লাতিন আমেরিকা কিউবা জুড়ে বিপ্লবে অংশ নিয়েছেন আর শেষে সেই আদর্শের জন্য জীবন দিয়েছে্ন। 
-তা তুই কি সেই আদর্শের জন্য জীবন কাটিয়ে দিবি যে আদর্শ মৃত প্রায়। মরা গাছে পানি ঢেলে কি লাভ? আর এখন অনেক দেশই ক্যাপিটালিজমে থেকেই সোসাল ওয়েল ফেয়ার রাস্ট্রের দিকে হাটছে ফলে এমনিতেও সমাজতন্ত্রের আবেদন কমছে। 
-কি করে যে বলিস, ক্যাপিটালিজম সব সময়ই মানুষ শোষণ করে এসেছে, ভবিষ্যতেও করবে, তার গঠনটাই এমন। মানুষ কোন না কোন ভাবে এখানে শোষনের শিকার হবেই হবে। সমাজতন্ত্র তাই বিলুপ্ত হবেনা। 
-এদেশে হবে। যারা এখানে বাম রাজনীতি করেছে তারা আসলে এই আদর্শ পপুলার করতে পারেন নি। আবার পশ্চিম বাংলায় বেশি মাত্রায় দর্শন কপচাতে গিয়ে ক্ষমতা হারিয়ে বামধারা এখন বিলুপ্তির পথে। আমি অন্তত আর আশা দেখিনা। 
-অন্য ভাবে চেষ্টা করে দেখতে দোষ কি?
-কি রকম?
-আমি অলরেডি শুরু করেছি।
বাকি সবাই তিতুলের দিকে চেয়ে আছে। খুব দারুন কিছু শুনবে বলে। 
-যা বাব্বা বল ভাই, দিহানের তাড়া।
সিগারেটের ধোয়া ছেড়ে মার্জার দিকে তাকিয়ে তিতুল বলল-
আমার বাবার বেশ কিছু জমি আছে গ্রামে। কিছু ফসল হয়। তেমন বলার মত কিছু না। আমি ভাবছি গ্রামে যাব। 
-বাহ দারুন, তা গ্রামে গিয়ে ধান চাষ করে সমাজতন্ত্র কায়েম করবি? মুখে হাসি মার্জার।
-মজা নিস না। আমার মাথায় যা আছে তাহল সমবায় জীবন। একটা গ্রাম এককভাবে বেচে থাকবে,পরিবার ভিত্তিক  নয়। গোটা গ্রাম গোটা গ্রামের আয়ে চলবে। আলাদা ভাবে না । গ্রামের সকল সম্পদ এবং আয় যোগ করে সবার জন্য ব্যয় করা হবে।
-অনেক ঝামেলা হবে। মার্জা ওর চেয়ারটা সরিয়ে নিয়ে বসল।
কি রকম, জানতে চাইল তিতুল।
সবাই কেন তোর সাথে যোগ দেবে, ধর গ্রামের অবস্থা সম্পন্ন কৃষক বা ছোট চাকুরে যারা তারা তো এমনিতেই ভাল আছে, তোর সমবায় ভিত্তিক গ্রাম পরিকল্পনায় তারা আসবে কেন?
-শুরুতে তো তারা আসবেনা সে আমিও জানি। আমার যাত্রা শুরু হবে একদম দীনহীন যারা তাদের নিয়ে। যারা ভুমিহীন কিংবা ছোট পেশার মানুষ। 
-হুম,সাউন্ডস গুড। কিন্তু ফিল্ডে এই সপ্ন বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন হবে। গুড লাক। তা কবে যাবি গ্রামে? 
-খুব শীঘ্রই। 
-সত্যি নাকি?
-হ্যা,খুব সত্যি। আমি দেখতে চাই, পরিবার বা ব্যক্তি ভিত্তিক সমাজের চেয়ে গ্রাম ভিত্তিক জীবন কেমন হবে।  সফল নাকি ব্যর্থ চিন্তা তা যাচাই না করা পর্যন্ত  শান্তি পাচ্ছিনা। জানিস আমার কেন জানি মনে হয় মানুষের একক ভাবে বেচে থাকা উচিত নয়। এতে একটা মানুষের উপর অনেক প্রেশার আসে। সে একা পারেনা, সবাই একসাথে বাচঁলে  তার জন্য বাচাঁ সহজ। একটা গ্রাম সংঘবদ্ধভাবে বেচেঁ থাকবে,এতে সবার বিপদ কমে আসবে। প্রাচীনকালে আমরা এভাবেই বাচঁতাম,আমাদের এই পথেই খুব দ্রুত ফিরতে হবে। এই এক্সপেরিমেন্ট আমার জীবনের সপ্ন। 
- তাহলে তোকে আমরা আর পাচ্ছিনা। 
- বলা যায়। জানিস এটা আমার মাথায় যখন ঢুকেছে সেদিন থেকেই মনে হচ্ছিল একবার হলেও চেষ্টা করা উচিত। খুব উচিত। 
মার্জা দিহানরা দেখল- তিতুলের চোখ আর মুখশ্রী একদম অচেনা,এমন তিতুলকে ওরা আগে দেখেনি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/194686/</link>
				<pubDate>Sat, 25 Feb 2023 10:18:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>উপন্যাসঃশারদ বিষুব (পর্ব-২)<br />
চারুকলার পুকুরের ধারে চোখ বন্ধ করে আছে তিতুল। হাতে সিগারেট।<br />
-যা, আবার কি হল তোর? মার্জা আলতো টোকা দিল।<br />
-ধ্যানে আছি। তিতুলের চোখ বন্ধ। আসলেই ধ্যানে আছে এমন একটা ভঙ্গি আনার চেষ্টা প্রকট।<br />
-জাতিকে উদ্ধারের ধ্যান বুঝি? তাহলে আগাম বাদ দিতে পারিস। এ জাতি ধ্যানী লোক পছন্দ করেনা, ধ্যানের কথাও এদের মগজে ধরেনা। মার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-194686"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/194686/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c0c2f71d0be513ed6ac5c496352cf90b</guid>
				<title>কবিতাঃ আহা জীবন 

জীবন নিজেই গজব।
হলুদ রঙয়ের প্রজাপতি নই,
ফুলের কানে কানে কথা বলে বিকেল কেটে যাবে -তেমন নয়। 
সারা জীবন কেটে যায় নিয়ম পালন করে।
আমার আমি কই?
কালো মাছি মশা পাখি নিজের মত
আর আমি শিকল পরে মুড়ি চাবাই ।
কথা বলা নিষেধ।
সত্য বলতে মন চায়?
ঢোক গিলে সত্য পাকস্থলীতে পাঠিয়ে দাও।
তারা আমাদের হয়ে টক শোতে কথা বলেন-
আমরা নাকি তাদের সাথেই আছি।
আমরা শুনে গালে হাত দিই,মাথা চুলকাই।
আমাদের কলমের নিবের নীচে হাতকড়া,
আমাদের গলায় দড়ি 
কোথা থেকে কথা আসবে?
নর্দমার কীটের মত কিলবিল করে এক জীবন গেল।
মরেও কি শান্তি আছে?
মৃত্যুর পরেও নাকি কেচ্ছা আছে।
আরব্য রজনীর গল্প ঘরে ঘরে। 
আহা মৃত্যুকে ভেবেছিলাম ঘুমের দেশের যাবার রাস্তা,
শুনি মোড়ে মোড়ে যমরাজ দাঁড়িয়ে আছে দাত কেলিয়ে।
পাল্লা দিয়ে মাপা হবে আমাকে।
কেউ কি বলবে-কে চেয়েছিল এই জীবন?
খাচায় বন্দি টিয়া পাখির চোখে আমি নিজেকে দেখেছিলাম
মুক্ত আকাশ আর সবুজ বনের সপ্নে যার এক জীবন গেছে। 
এক জীবনে অনেক পাপ হয়েছে ঈশ্বর-আর মানব জীবন চাই না-
পর জন্মে হলুদ প্রজাপতি হতে চাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/194303/</link>
				<pubDate>Wed, 22 Feb 2023 05:44:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতাঃ আহা জীবন </p>
<p>জীবন নিজেই গজব।<br />
হলুদ রঙয়ের প্রজাপতি নই,<br />
ফুলের কানে কানে কথা বলে বিকেল কেটে যাবে -তেমন নয়।<br />
সারা জীবন কেটে যায় নিয়ম পালন করে।<br />
আমার আমি কই?<br />
কালো মাছি মশা পাখি নিজের মত<br />
আর আমি শিকল পরে মুড়ি চাবাই ।<br />
কথা বলা নিষেধ।<br />
সত্য বলতে মন চায়?<br />
ঢোক গিলে সত্য পাকস্থলীতে পাঠিয়ে দাও।<br />
তারা আমাদের হয়ে টক শোতে কথা বলেন-<br />
আমরা নাকি তাদ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-194303"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/194303/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ee3f93bbc73899047ebc56de01b7546b</guid>
				<title>লুট
মায়া লেগে থাকে শস্যের গায়ে গায়ে। 
আদরের কুয়াশা ভিজিয়ে রাখে প্রতিটি দানা। 
ডালির পর ডালি সাজে,     
আদর আর যত্নে,নীচ থেকে উপরে। 
সারা শরীর যেন পরম আদরে মাখা।
লাল সবুজ টমেটো, ধবধবে সাদা মুলো, 
সবুজ শাক , মটর কিংবা ডাল।
অথবা শীতের ঘ্রান মেখে ফুলকপির খাচি।   
নগরের দুপেয়েরা আর কতটুকু জানে 
কত আদর গায়ে গায়ে! 
পুব থেকে পশ্চিমে যাওয়া সূর্য সাক্ষী
কত ঘামে  চুকাতে হয়েছে দলিত হবার কর,
নগরে পিচ গলে যাবার কালে
থামেনি তাদের শস্য বুনন।
আমপাতার ফাক দিয়ে দোয়েল দেখেছে নির্মম ব্যস্ততায় শস্য মানবের ভাত খাওয়া-গাছের নীচে।
বাড়ি ফেরার অবসর মেলেনি। 
ধান গাছ জানে  চাষাদের  বিষন্ন মুখ।
সার দিতে দিতে মুখ আরো শুকিয়ে যায়, রোদ আর চিন্তায়। 
তবু, বাজারে এলে বিকে যায় তাদের শস্য  সন্তান। 
কত সস্তায়! আহা! 
লুট হয় তাদের যত্ন-ভালবাসা।
কোথায় নিঃস্ব হয় তারা?
বাজারে?
না।
কৃষক লুট  হয় রাজধানীতে। 
ডাকাতের দল এখানেই থাকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/194058/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Feb 2023 04:48:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>লুট<br />
মায়া লেগে থাকে শস্যের গায়ে গায়ে।<br />
আদরের কুয়াশা ভিজিয়ে রাখে প্রতিটি দানা।<br />
ডালির পর ডালি সাজে,<br />
আদর আর যত্নে,নীচ থেকে উপরে।<br />
সারা শরীর যেন পরম আদরে মাখা।<br />
লাল সবুজ টমেটো, ধবধবে সাদা মুলো,<br />
সবুজ শাক , মটর কিংবা ডাল।<br />
অথবা শীতের ঘ্রান মেখে ফুলকপির খাচি।<br />
নগরের দুপেয়েরা আর কতটুকু জানে<br />
কত আদর গায়ে গায়ে!<br />
পুব থেকে পশ্চিমে যাওয়া সূর্য সাক্ষ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-194058"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/194058/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">51102b1f5ac7244e918af690593c18a8</guid>
				<title>গল্পঃ রঙের পুতুল 

গদাধর সেই ভোরে উঠে মাটির পুতুল বানানোর কাজে লেগে গেল। বান্নি মেলা কদিন পর। পুতুলগুলি শুকিয়ে নানা রঙ দেবে গদাধর। বছরের এই একদিন ভাল লাভ হয়। দিন রাত কাজ। উঠানে মিনতিকে আগের বানানো মাটির খেলনা, বাসন ও পুতুল বের করে শুকনো কলাপাতার উপর বিছিয়ে দিতে দেখল গদাধর। মিনতি তার সাথে সমান তালে কাজ করে। পুত্রবধুর জন্য কষ্টের শেষ নেই। এমন রুপ নিয়ে কেন যে এখানে জীবন শেষ করে দিচ্ছে গদাধর তার হিসাব মেলাতে পারেনা। কবছর আগে হাটের রাস্তায় ট্রাকের চাপায় ছেলেটা গেল। বৃদ্ধ গদাধর আর তার বৌ শান্তি মিলে কি কম বুঝ বুঝিয়েছে! কিন্তু ঐ এক গো, বিয়ে একবারই হয়, এ বাড়ি থেকে সোজা শ্মশানে যাব। এ কথা যে মিনতি কতবার বলেছে তার হিসাব নেই। তা তার ছেলে পরশ যখন বেঁচে ছিল কি মানাতো দুটিতে। একই আঙ্গিনার খুনসুটি মাঝে মাঝেই কি তার চোখে পড়ত না! গদাধরের বেশ আনন্দ হত। ভগবানের কাছে তারা দুইজন এই প্রার্থনাই করতেন- হরি ওদের সুখে রাখো। কিন্তু গরীবের সুখে ভগবানের পিত্তি জ্বলে। তিনি তখন মর্ত্যলোকে নেমে আসেন শাপ দিতে। শাপের আগুনে গরীব পুড়ে ছাই হয়, পুর্বজন্মের পাপ মোচন হয়।

মিনতি চুলার পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ ভাবল-আজ কি? কিছু ক্ষুদি চাল আছে, জঙ্গল থেকে তুলে আনা জংলা শাক, কাঁটা শাক আছে কিন্তু চুলায় আগুন দেবার পাতা নেই। কাল সময় পায়নি মিনতি। কিন্তু জঙ্গল মিনতি এড়াতে চায়। পরশ যাবার পর থেকে মিনতি রুপের হরিণ। সাজগোজ ছাড়াই মিনতি যেন আগের জন্মের মহারানী যার ঐশ্বর্য গেছে কিন্তু রুপ জন্মান্তরেও দুর্দান্তভাবে বহাল । এমন কি পরশের বন্ধুদের চোখেও আজকাল কেমন যেন খুশির ঝিলিক দেখে মিনতি। রাস্তাঘাটে দেখা হলে এমন স্বরে বৌদি ডাকে যাতে সন্মান নেই কিন্তু ইঙ্গিত আছে আর মুখের দিকে তাকালে ঠোটের কোনায় কামনার হাসি স্পষ্ট। পাড়ার অতনু ঘোষ তো উঠেপড়ে লেগেছে। অতনুর উচ্ছিষ্টভোগী নারীকুলের দুই একজন তার শ্বাশুড়ির কাছে এসে “ভাল একটা কাজের” প্রস্তাব দিয়ে গেছে। এর মানে শান্তি নিজেও জানেন। মিনতিকে তিনি আরো সাবধান করে দিয়েছিলেন।

“বাবা আমি পুতুলে রঙ করি আপনি একটু পাতা নিয়ে আসুন। পাতা নেই”।

গদাধর মিনতির গলার কন্ঠ চেনেন । উৎকণ্ঠার কারণও জানা। রঙের হাত রেখে কাস্তে নিয়ে জঙ্গলের দিকে পা বাড়ালেন গদাধর। এই জঙ্গল শুধু যেন জঙ্গল নয়, অন্নদাতা। হিন্দুপাড়ার একদম প্রান্তে অন্য অংশ থেকে এই জঙ্গল দিয়েই বিচ্ছিন্ন তার পরিবার। বিচ্ছিন্নতার অবশ্য ঐশ্বরিক কারণও আছে তবে সে সব নিয়ে তেমন চিন্তিত নয় গদাধর। শাঁক কচুঘেঁচুতে আর অন্য কেউ ভাগ নিতে আসেনা, কিন্তু ভয়ও আছে, মিনতিকে নিয়ে ভয়। গদাধর তাই এই জঙ্গলটাকে যেমন ভালবাসে কিন্তু পরশ যাবার পর থেকে তেমনি তার মনও ছমছম করে। শান্তিও একই শঙ্কায় ভোগে।

মিনতি খুব যত্নে রঙ করে প্রত্যেকটি পুতুল। অন্তরে হরিনাম যপে চলে নীরবে। মনে মনে বলে &#039;&#039;ওকে তুমি ক্ষমা করে দিও হরি, না বুঝে ওমন অলক্ষুণে কথা বলতো’’। মিনতির মাঝে মাঝে মনে হয় ভগবান বুঝি রেগে গিয়েই তুলে নিল পরশকে । পরশের মাথা খেয়েছিল হামিদপুরের বাদশা মিয়া। লোকে বলে সে নাকি আল্লাহ ভগবান মানে না। পরশ তার কাছেই যেত আর সব অলক্ষুণে কথা শিখে আসত। কখনো পরশকে হরিনাম করতে দেখেনি মিনতি। বাজারের সেলুনে যেখানে কাজ করতো সেখানে নজরুলের একটা কবিতা ঝুলানো- সাম্যবাদী ।

“ভগবানের আশির্বাদ মাথার উপর থাকতে হয়, লাগাও না একটা গনেশ ঠাকুরের ছবি”।

নিরুত্তর ছিল পরশ। চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়েছিল।

“আমি মাধবকে বলে দিই”?

“দ্যাখ মিনতি ও আমি পারবো না, আর কারো ভক্তিতে আঘাত দেবার ইচ্ছে আমার নেই”।

“কেন গো তোমার কি ভক্তি নেই”?

“আছে মিনতি, ভক্তি আছে, মানুষে ভক্তি আছে, কারণ মানুষ সত্য”।

“আর ভগবান বুঝি মিথ্যা? ভগবানে ভক্তি রেখে মানুষে ভক্তিতে অসুবিধা কি!

মিনতির মনে আছে এই প্রশ্ন শুনে তড়াক করে উঠে বসেছিল পরশ কিন্তু খুব শান্তভাবেই বলেছিল,

“ও ফাঁকির কথা। বাদশা ভাই বলে আল্লায় ভগবানে ভক্তি রেখে মানুষে ভক্তি হয়না, ভারতে বাবরী মসজিদ নিয়ে কি হল শুনিস নি? মানুষ মানুষকে গায়ের জোড়ে মারে নি, ভক্তির জোরে মেরেছে। লাশ হয়েছে হাজার হাজার জ্যান্ত মানুষ, তারা সবাই ভক্তির বলি মিনতি। তাকে ভক্তি করলে যেখান থেকে ভক্তি আসে সেখান থেকে হিংসাও আসে । এই হিংসা থেকে রাস্ট্রের জন্ম হয়, ট্রেন ভর্তি মানুষ লাশ হয়, করুক্ষেত্র হয়, ক্রুশেড হয়, জিহাদ হয়, দেশে দেশে সীমানা পড়ে, সামনের মানুষকে অন্য চোখে দেখি, মানুষ হিসেবে দেখিনা, তার টুপি আছে কিনা দেখি, পৈতা টিকি খুঁজি, ধর্ম স্রেফ কল্পনা কিন্তু মানুষ কল্পনা নয়, জলজ্যান্ত সত্য। কাল্পনিক এক সৃষ্টিকর্তার জন্য মানুষ তার মত দেখতে আর একজন মানুষকে ছুড়ি চালিয়ে দেয় – এ এক ভয়ঙ্কর কথা । থাক এ সব বলতে ভাল লাগেনা। এসব বলাস নে , তোর ভক্তির সাথে বিরোধ নেই, আমি কেন ভক্তি করিনা তাই বললাম মাত্র। তোর ভাল লাগে তুই ভক্তি কর। আমি পারবনা” ।

মিনতির বুক কেঁপে উঠেছিল সেদিন । এসব বাদশা মিয়ার শেখানো বুলি তা জানে মিনতি। মিনতি সেদিন বাদশা মিয়াকে ইচ্ছেমত শাপ শাপন্ত করেছিল । এরপর আর তেমন ঘাটায় নি মিনতি। ঐ এক দোষ ছাড়া লোকটি একদম কাঁদা মাটির মানুষ ছিল । এত ভালবাসে যাকে, সে নরকে যাক তা মিনতি চায়নি। তাই এক রাতে সাহস করে বলেছিল তোমার ভয় করে না যদি নরকে যাও?

“কোন অপরাধে? মানুষকে যবন বলে গালি দিইনি সেইজন্য, নাকি নিজেকে কাফির বলে মেনে নিইনি সেইজন্য”?

পরশের এমন উত্তরে কোন কথা খুঁজে পায়নি মিনতি। বাদশা মিয়া তাকে সব প্রশ্নের উত্তর মুখস্ত করিয়ে দিয়েছে যেন।

মিনতি শুনেছে বাদশা মিয়ার কথার জন্য তার বাড়িতে কারা যেন আগুন দিয়েছিল। পরশ মারা যাবার পর ঢাকা না কোথায় চলে গেছে আর আসেনি।

গদাধর পাতা কুড়িয়ে আনলে মিনতি চুলায় আগুন দিল।

বান্নি মেলার দিন আঁধার ভোরে উঠে ভারে সব সাজিয়ে দিল মিনতি। আগে পরশ বয়ে নিয়ে যেত; গদাধর শুধু মেলায় বিক্রি করত। পরশ নেই । বাঁশের ভারের দুইপাশে সব তুলে দেওয়া হলে; কাঁধে নিয়েই গদাধর দেখলেন চোখের সামনে কেমন ঝাপসা হয়ে গেল। কাঁধের বুড়ো হাড্ডি যেন দেবে গেল।

‘’বাবা, কষ্ট হচ্ছে বুঝি?’’ নিজের আশঙ্কা যাচাইয়ের জন্যই মিনতির এই জিজ্ঞাসা।

‘’না রে মা, আগেও তো বয়ে নিয়ে গেছি।’’ বলেই কাঁপা শরীরে পথ ধরলেন গদাধর।অতিকষ্টে তিনি মিনতির নজর এড়াতে চাইলেন। বুড়ো কাহিল শরীর মনের আদেশ সেভাবে মানেনা। ভোরের আবছা আঁধার তাকে বাঁচিয়ে দিল নাহলে মিনতি তাকে মেলায় যেতে দিত কিনা সন্দেহ আছে।

বান্নি পাঁচ কিলোর পথ। এই পথ পেরুতেই গদাধর মৃত্যুর নিঃশ্বাস শুনতে পেলেন কতবার-একটু যেতেই বুকের ভিতর ধপ ধপ শব্দ হয়; ডানেবামে টলে যান; দম ফুরিয়ে আসে। ভগবানের লীলাখেলায় মর্ত্যে অবিন্যাসের নৃত্য চলে । এই ভার তার নেবার কথা নয় কিন্তু ভগবান যেন নিজ হাতে পুর্ব জন্মের সাজা দেন। সন্তান সরিয়ে দিয়ে ভগবান যেন ক্রুর হাসি দিয়ে বলছেন-কেমন লাগছে গদা? দেখি তোমার ভক্তিতে চির ধরে কি না- কিন্তু হরি ভক্তিতে অবিচল গদাধর। ভার বইতে গিয়ে বুড়ো হাড় কচকচ করে উঠলেও তাতে ভক্তি কমেনা। যেমন খেলাই খেল হরি, তোমার নাম যপেই কাঙ্গাল হব।

গদাধর যখন মেলার প্রান্তরে, ততক্ষনে রঙ বেরঙের তাবু খাটিয়ে যে যার মত বসে গেছে। বান্নি মেলার এই এক নিয়ম, যে আগে আসবে সে তার ইচ্ছেমত বসে যাবে। পরে আসলে তাই লোকসানের শেষ নেই। বান্নি মেলায় বর্গাকার খোলা মাঠের চারদিকে যে যার পসার সাজায় কিন্তু মাঝ মাঠ ফাঁকা রাখতে হয়। নিরুপায় হয়ে মেলার মুলস্থান থেকে একটু তফাতে বসে গেল গদাধর। মানুষ মেলার মাঠে বর্গাকারে ঘুরছে। গদাধর কিঞ্চিত দৃষ্টির অন্তরালে। মিনতি তাবুর জন্য কাপড় দিয়েছে কিন্তু দুই কাঁধই যেন আর নাড়ানো যাচ্ছেনা। ভাবলেন একদিনের রোদে কি কাবুই আর হবেন! বেচাবিক্রিতে একটু তফাৎ অনেক কিছু। দুপুর গড়িয়ে গেলেও গদাধরের বিক্রি তেমন হলনা কিছুই, মোটে দুটি রঙের পুতুল আর কিছু মাটির খেলনা বাসন। এখনো কিছু আশা আছে। মেলা বিকেলে জমে বেশি। বিক্রি নেই তাই নড়াচড়ার ভরসা পেলেন না গদাধর পাছে কেউ ফিরে যায়। বিকেল হলেও দুই চারটি পুতুল আর খেলনাই বিক্রি হল শুধু। শুধু কৌতূহলবশত কেউ কেউ হয়তো আসে কিন্তু তাদের সবাই তো ক্রেতা নয়। বিকেল গড়িয়ে গেলে মেলায় শিশু কিশোরের সংখ্যা কমে, বড়দের ভীর বাড়ে । গদাধরের ক্রেতারা শিশু কিশোর। তাই শেষ বিকেলে গদাধরের চোখে শুন্যতা ভর করে এল। কি পরিশ্রমই না তিনি আর মিনতি করেছেন। মাটিকে পুতুল, বাসনে রুপ দিয়েছেন কত যত্ন করে আর শুধু একটু হেরফেরে এই পরিনাম। ঘরে চাল নেই কদিন ধরে। চালের কুড়ো জঙ্গলের কাটা শাঁক দিয়ে একবেলা দুইবেলা একটু আধটু খাওয়া চলছে। মিনতির সামনে কি করে দাড়াবেন গদাধর তাই ভাবছেন। শরীরের শক্তি ক্ষুধায় আর অভিমানে যেন নিঃশেষ হয়ে গেছে। উঠে দাড়াতেই তিনি বুঝলেন জ্বরের একটা ভাব আছে । অতি যত্নে গড়া মাটির বাসন পুতুল ফেলে সন্ধ্যার একটু পর ধীর পদে হাটতে শুরু করলেন তিনি। রুনিপুরের জঙ্গলের ধারে আসতেই অশ্বথ গাছের নীচে এসে গদাধর দেখলেন তার পা চলে না, শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে। উপর হয়ে পড়ে গেলেন গদাধর। সময় শেষ তা যেন নিজেই বুঝে গেলেন; গদাধর তাই যাবার আগে শুধু বলে গেলেন- ‘’হরি, আমার মিনতি মাকে দেখে রেখ’’।

****



যে শান্তি  গদাধর থাকতে বাড়ির চৌহদ্দিতেই বসে কাজ করতেন, এখন বাতের পা নিয়ে তাকেও পাতা কুড়ানো, শাঁক তোলার কাজে মিনতির সাথে থাকতে হয়। তপন ঘোষের স্ত্রী শিল্পার সাথে একটু খাতির থাকায় কুঁড়ো চাল অথবা মিনতি গিয়ে একটু গৃহস্থালির কাজে হাত দিলে কিছু পাওয়া যায়। তবে শান্তি  মিনতিকে একা ছাড়েন না। শিল্পা তাতে বরং খুশিই হোন। হাজার হোক মিনতি সুন্দরী, বাড়ির পুরুষে ভরসা কি? কুপিতে তেল না থাকলে সন্ধ্যার পর পরই শুয়ে পড়তে হয়। শান্তি রাতের বেলা শিসের শব্দ পান, দিনের বেলা মিনতির সাথে সাথে থাকেন কিন্তু তিনি ভয় পান , একজন তো হঠাত গেলেন তারই বা ভরসা কি। মিনতির আর যাবার কোন জায়গা নেই।বাপ-মা মরা মেয়েটার শুধু এক দিদি আছে যার নিজের সংসার নিয়েই টানাটানি । অন্ধকারে মিনতির মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে কোন খেই খুঁজে পাননা শান্তি । মনে মনে বলেন একটা উপায় দাও হরি।

“মিনতি,মা, বলি তুই বিয়ে করে নে না আরেকটা। কি আর বয়স তোর?’’

‘’এ বাড়ি থেকে আমি কোথাও যাবো না মা, এখান থেকে সোজা চিতায়’’।

“তা আমি গেলে একা থাকবি কেমন করে, তুই কি কিছু টের পাস না”?

“পাই মা, এ বাড়ি থেকে হরি আমাকে শ্মশানে নেবেন এই বিশ্বাস আমার আছে”।

আর কথা বাড়ান নি শান্তি । এ কথা তাকে বহুবার শুনতে হয়েছে।

রাত গভীর হলে শান্তির উতকন্ঠা বাড়ে। যেসব শব্দ আগে কখনো শোনেন নি সেসব কানে আসে। এত রাতে মানুষের পায়ের ধুপধাপ আগে ছিলো না। ফিসফাস শব্দ হয় তাও কানে আসে। বিছানার মাথার নীচে একটা হাঁসুয়া রাখেন শান্তি , মিনতির বালিশের নীচে ছোট ছুড়ি কিন্তু তার আর শক্তি কি, সাথে বেতো পা। অসহায় বোধ করেন শান্তি। হরি এ কি বিপদে ফেললে! রাত জেগে পাহারা দিয়ে কদ্দিন মেয়েটাকে বাঁচিয়ে রাখবো?

সকালে ঘুম থেকে উঠে মিনতি দেখল তার শ্বাশুড়ি ঘুমিয়ে আছে। নিজের ঘুমকাতুরে স্বভাবের জন্য মাঝে মাজে লজ্জা লাগে মিনতির। ঘুম আসলে সহজে ঘুম ভাঙ্গেনা তার অথচ শ্বাশুড়ি জেগে থাকে। বেশ সকাল হলেও মিনতি একা একা জঙ্গলে ঢুকতে ভরসা পায়না আর । হাজার হোক নারী আর পুরুষের মধ্যে আদিম সম্পর্ক শিকারী আর শিকারের। নিজের অসহায়ত্বের কথা জানে বলেই মিনতি কোমরে ছুড়ি গুঁজে, কাস্তে আর ঝুড়ি নিয়ে জঙ্গলে ঢুকে গেল। শ্বাশুড়ি ওঠার আগেই যদি কিছু রেঁধে দেওয়া যায় । বাশ আর লতাপাতার ঝোপে বেশ ঘন গ্রামের জঙ্গল। কিছু বুনো কলার গাছ আর ফাঁকে ফাঁকে কাটা শাঁক বা জংলা  শাঁক। মাঝে মাঝে চোখ ঘুরিয়ে সতর্কভাবে শাঁক তুলছে মিনতি। ছোট ঝুড়ি যখন শাকে ভরে এল, ফেরার জন্য পিছনে তাকিয়ে দেখতেই মিনতি কেঁপে উঠল- পাড়ার বখাটে চারজন ছেলে নিয়ে অতনু দাঁড়িয়ে। এখানে শুধু শুধু আসার মত লোক অতনু নয়, তবে? ইঙ্গিত পরিষ্কার। হাতে কাস্তেটা শক্ত করে ধরে সামনের দিকে উচিয়ে ধরলো মিনতি।

“ও বাবা, কাস্তেতে অনেক ধার মনে হয় বলে নিজের এক চ্যালার দিকে তাকিয়ে খিক করে হেসে দিল অতনু। কাস্তে দেখে যে ওরা দমে যাবেনা সে অতনুর হাসিতে স্পষ্ট। কোমরের ছুড়িটাতে হাত দিতেই ডাক এল,

“মিনতি, ও মিনতি”।

নিজের শ্বাশুড়ির গলা শুনে গায়ের সমস্ত জোড় দিয়ে মিনতি জবাব দিল,

“এখানে মাআআআআআআ”।

ঝুড়ি ফেলে এক হাতে কাস্তে আরেক হাতে ছুড়ি উচিয়ে পাশ কাটিয়ে শ্বাশুড়ির কাছে আসলেও শান্তি দেখলেন মিনতি ভীষনভাবে কাঁপছে। জংলার ভিতর দিয়ে অতনুদের যেতে দেখে মিনতির কাঁপনের কারণ বুঝে গেলেন শান্তি । মিনতির দিকে তাকাতেই মিনতি চোখের ইশারায় বুঝিয়ে দিল অল্পের জন্য রক্ষা। নিথর হলেন শান্তি, এই ভয়েই সিটিয়ে থাকেন তিনি। একটা ভয়ের তীব্র স্রোত শরীর বেয়ে ওঠানামা করছে যেন, এই ভয়েই ঘুমাতে পারেন না। মিনতির মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে কুটিরে ফিরে এলেন। সারাদিন সারা রাত ভাবলেন । কখনো গালে, কখনো মাথায় হাত দিয়ে বিশ্ব  সৃষ্টি রহস্য ভেদ তিনি করতে পারলেন না। যিনি হরিণ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই কেন সিংহ সৃষ্টি করেছেন তা শান্তির  মাথায় আসেনা। শাঁক পাতা খেয়েও তার শান্তিতে ঘুমানোর কোন উপায় নেই। মানুষ এত অসহায়- হরি, কোন পথ যে দেখিনা।

পরের দিন তপন ঘোষের বাড়িতে মিনতিকে রেখে সারা দিন ধরে শান্তি  অনেক ডালপালা এনে ঘরে জড়ো করলেন। ছোট ঘরের ফাঁকা জায়গা ও চৌকির নীচ শুকনো পাতা ডালে ভরিয়ে ফেললেন ।

সন্ধ্যায় মিনতিকে যখন ফিরিয়ে আনলেন তখন সে এসে জিজ্ঞ্যেস করলো,

‘’মা, এত ডাল পালা কেন?’’

‘’নিত্য জঙ্গলে ঢোকার চেয়ে একদিনে নিয়ে আসাই ভাল।’’

“চুলার পাশে রাখতেন”।

‘’শুনলাম বৃষ্টি হতে পারে, সেই জন্য ঘরেই আনলাম”।

সন্ধ্যায় শান্তি  নিজেই রান্না করলেন। জোড় করেই করলেন। শিল্পার কাছ থেকে নিয়ে আসা তেল দিয়ে কুপি জ্বালিয়ে রাতে মিনতিকে খাবার তুলে দিলেন।  খেতে খেতেই শান্তির জিজ্ঞাসা-

“তোর কি মনে হয় পর জনমে আবার পরশকে পাবি”?

“এই জন্যই তো হরিনাম যপি মা, শুধু তাকেই যেন পাই, বারবার পাই”।

“আমারও কেন জানি বিশ্বাস হরি তোকে ঠকাবেন না। 

ভাত হাতে আনমনা মিনতিকে দেখে শান্তি আবার জিজ্ঞ্যেস করলেন,

কি রে খাচ্ছিস না কেন?

মা, ও যে অলক্ষুনে কথা বলত,হরি যদি রেগে যায়?

কি যে বলিস, তাকে কেউ স্বীকার করুক আর না করুক তাতে হরির কিছু যায় আসেনা। সবাই তার,তিনি সবার। কারো কথায় তিনি কেন কিছু মনে করবেন?  তুই কিছু ভাবিস না। 

খাওয়া শেষ করেই মিনতি বলল- মা আমার ঘুম পাচ্ছে, খুব ঘুম পাচ্ছে। এমন তো  হয়না। 

আজ তুই সারাদিন কাজ করেছিস,ঘুমিয়ে যা। 

রাত গভীর হয়। খুব শান্তিতে ঘুমাচ্ছে মিনতি। এত সুন্দর মায়া মুখে। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছেন শান্তি । ওরে তোর এত রুপ কেন রে মা, কেন এত মায়া তোর মুখে। বিছানার পাশ থেকে কুপিটা  নিয়ে হাতে শক্ত করে ধরলেন শান্তি । চিত হয়ে অঘোরে ঘুমাচ্ছে মিনতি। শান্তির হাত একটুও কাপলোনা। একটুও না। কাঁপার কথা নয়। এ যে মুক্তি দেয়া;মুক্তি পাওয়া । গুন গুন করে হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ হরে রামো করেই চলেছেন । অদ্ভুতভাবে এই নামযপ তাকে শান্ত আর ভাবলেশহীন রাখছে।

কুপিটা বিছানার একপাশে রেখে মিনতিকে বুকে নিলেন শান্তি । নিথর কিন্তু মুখের মায়া একটুও কমেনি। মিনতির মাথাটা কাঁধের উপর নিয়ে হরে কৃষ্ণ হরে রাম যপে যাচ্ছেন আর মিনতিকে দোল দিচ্ছেন। শেষ কাজের আগে মিনতিকে একবার দেখে নেওয়ার সাধ হল শান্তির । নিজের দুইহাত মিনতির মাথার পিছনে দিয়ে নিজের মুখের নীচে নিলেন। “মা, ওমা , আমাকে ক্ষমা করে দিস,” বলে মিনতির গালে কপালে চুমু এঁকে দিলেন। শেষে মিনতিকে বুকে জড়িয়ে আকাশে থাকা হরির দিকে মুখ উচিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে বললেন,

“যতবার জন্ম নেব, ও হরি, আমার মিনতিকে আমি যেন আমার বুকে বারবার পাই”।

০০০০

‘’মা আমি এ বাড়ি থেকেই সোজা শ্মশানে যাব।’’

শান্তি  মিনতির ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/190374/</link>
				<pubDate>Fri, 20 Jan 2023 13:51:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> গল্পঃ রঙের পুতুল </p>
<p>গদাধর সেই ভোরে উঠে মাটির পুতুল বানানোর কাজে লেগে গেল। বান্নি মেলা কদিন পর। পুতুলগুলি শুকিয়ে নানা রঙ দেবে গদাধর। বছরের এই একদিন ভাল লাভ হয়। দিন রাত কাজ। উঠানে মিনতিকে আগের বানানো মাটির খেলনা, বাসন ও পুতুল বের করে শুকনো কলাপাতার উপর বিছিয়ে দিতে দেখল গদাধর। মিনতি তার সাথে সমান তালে কাজ করে। পুত্রবধুর জন্য কষ্টের শেষ নেই। এমন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-190374"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/190374/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4f42a92e5795200ee6602baa873b1f22</guid>
				<title>গল্প(ডার্ক থিম)- বাশপাতার নৌকা
ছুড়িটা সবজি কাটার। দুপুরের রোদে বেশ চক চক করছে। লতিফ তাকিয়ে আছে। ছোট একটা ছুড়ি খুব সহজেই তার সব যন্ত্রনার অবসান করতে পারে। বাহ, কি দারুন ক্ষমতা। 
নিজের গাড়ি হাঁকিয়ে ঢাকা থেকে বেশ দূরের এক নিভৃত পল্লীর এক পুকুর ঘেষা জংলার পাশে লতিফ নিজের জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তাভাবনার শেষ প্রান্তে। কিছু দূরে গ্রাম আর জংলার এক ধারে হাইওয়ে। লতিফ কদিন আগে এই স্থান দেখে গেছে। সেবার মন  এত অনিয়ন্ত্রিত ছিল যে লতিফ ফিরে গিয়েছিল। আত্মহত্যা অনেকে ঝোকের বশে করে কিন্তু লতিফের  একটা কারণ আছে, তার কারণ যথার্থ। 
যদিও বাসা থেকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বের হয়েছিল লতিফ কিন্তু মানুষের যতক্ষন শ্বাস ততক্ষন তার মনের অস্থিরতা অনিবার্য। 
যা করছি ঠিক তো? 
ঠিক নয় কেন?
মানে বেঁচে থাকারই তো একটা আনন্দ আছে, সেই বা কম কি? 
কিন্তু অপমানবোধটাও সত্য। প্রতিটা রাত তার কাছে অমাবশ্যা,অপমানের। রাত ঘুমাতে দেয়না। এই অনুভুতি  কি মিথ্যে?  কাকে বোঝাবে লতিফ রাত এলেই কি কষ্ট শুরু হয়। মনে হয় কেন বেঁচে আছি? কি জন্য? কেন এত অপমান সইতে হবে? কেউ যে অপমান করে তা নয়, নিজের শরীর অসম্পুর্ন, কোন অদৃশ্য হরমোনের খেলায় অথবা শারীরিক কোন গোলযোগের জন্য সে নারীর কাছে পুরুষ নয়। 

নিজের জীবন নিজে না নিয়ে অপেক্ষা করলে মৃত্যু একদিন নিজের নিয়মেই আসবে। কিন্তু লতিফের নিত্য অপমান বোধের কি হবে? রাত নেমে এলেই মানসিক যন্ত্রণা শুরু হয়। নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে  মাঝে মাঝে ভাবে-সবই তো ঠিক ছিল অথচ…।  অফিসে আর মন বসেনা।কোন কাজ করে লতিফের একটুও শান্তি নেই। একটু পর পরেই নিজের অক্ষমতা যেন চাবুক হাতে ফিরে আসে, সে ক্ষত বিক্ষত হয় । কি হবে এসব করে? এত টাকা এই নিজের বাড়ি -সব কিছু থেকেও কিছুই নেই। শরীরের অল্প একটু কমতি জীবনের সব কিছু মিথ্যে করেছে। ভাল্লাগেনা, ভাল্লাগেনা-কিচ্ছু ভাল্লাগেনা। 


নিজের কোন ভুল হয়নি। লতিফ কি করে জানবে নিজের অক্ষমতা। যদি আগে থেকে জানত তবে সে বিয়েকে এড়িয়ে যেত সঙ্গত কারণেই।কিন্তু মানুষ বলে কথা- যার পা নেই সে ভিক্ষুকও তার জীবনকে   তার ভিক্ষার থালার মত ঠেলে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু তাকে কি বেচেঁ থাকা বলে? 
কিন্তু আমি বেঁচে থেকে কি করব? জারিনকে ডিভোর্স দেব? কি বলে দেব?  
খুব ভদ্র মেয়ে জারিন সন্দেহ নেই। অপেক্ষায় আছে হয়ত  কিছু একটা হবে আর লতিফকে পুরুষ হিসাবে পাবে।

পুকুরের ধারে কিছু তাল গাছ। চড়া দুপুরে জায়গাটা বেশ নির্জন। রাস্তা দিয়ে অবশ্য গাড়ি গেলে অপার্থিব এই নীরবতার ছন্দপতন হয়। জংলার শব্দহীনতা যেন লতিফের শেষ ইচ্ছাকে আরো হাতছানি দিয়ে ডাকছে। পুকুরের জলে কিছু বাঁশ পাতার নৌকা ভেসে আছে। মৃদু বাতাসে সেগুলি দোল খাচ্ছে। নিশ্চিত পাশের গ্রামের ছেলেরা বানিয়ে খেলা করেছে। বেশ দেখতে নৌকাগুলি। লতিফের মনে হল তার সাথে বাঁশপাতার নৌকাগুলির তফাৎ নেই। সে নিজেও দেখতে শুধু পুরুষের মত কিন্তু সে আসলে কার্যকর অর্থে পুরুষ নয়। নৌকাগুলিকে বালকেরা যেমন আনন্দের জন্য বানিয়েছে লতিফও তেমন কারো খেলার বস্তু মাত্র। কেউ একজন হয়ত স্রেফ সৃষ্টির বিচিত্রতা আনতে গিয়ে তাকে ন-পুরুষ বানিয়েছে। কারো  কাছে হয়ত সৃষ্টির খেলা, কিন্তু  লতিফ যে প্রতি রাতে অপমানিত হয়, প্রতিক্ষণে জন্ম রহস্যের কূলকিনারা খুঁজে ফেরে,তার নিজের জীবন রাখতে না চাওয়ার পিছনের শব্দহীন কান্না-এতে কারো জন্যে আছে অপার আনন্দের খোরাক। 
একেক সময় লতিফের মনে হয়েছে- যে খেলা খেলতে চাও, যে মজা নিতে চাও কি হবে যদি তোমার সেই খেলা না খেলি, কি হবে যখন থাকব না? তখন এই মজা এই আনন্দ কি আর থাকবে? আমি আছি বলেই তো তোমার এত আনন্দ- আচ্ছা, বেশ। 
কাল রাতে সুইসাইড নোট লিখেছে  লতিফ। পকেট থেকে বের করে নিজের চোখের সামনে নিল । বেশ গুছিয়ে লেখা-
আমার লাশ দেখে উৎসুক হয়ে যারা ভাবছেন আমি কে- তাদের বলি, 

আমি লতিফ। 
অপর পাশে আমার ঠিকানা দেয়া আছে। আমার আত্মহত্যার কারণ খুব বড় কিছু নয়। আমি চাইলেই হাওয়া বাতাস খেয়ে পৃথিবীতে থাকতে পারতাম। খুব সম্ভব ছিল সেটা। যে কোন কারণেই হোক হতাশ ছিলাম। 
কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বা অভিমান নেই। পৃথিবী অনেক সুন্দর জায়গা। তবে কারো কারো জন্যে এখানে না থাকাটাই বরং ভাল। 
চাকুটার দিকে তাকিয়ে আছে লতিফ। সব কেমন নিঝুম হয়ে আছে। জংলার ছায়ায় দাঁড়িয়ে লতিফের মনে হল মহাবিশ্বের সবকিছু যেন থমকে আছে। প্রকৃতির শব্দহীনতা  সুইসাইডাল। জংলার বাইরে বিরান প্রান্তর । ধানকাটা  হয়ে গেছে, বিস্তীর্ন খোলা ন্যাড়া সুর্যের প্রচন্ড দাপট নিজের মনের অশান্তিকে  উসকে দিচ্ছে। 
একজন সুখী মানুষ হলে হয়ত লতিফ এমন নির্জনতা উপভোগ করত। কিন্তু জীবন যন্ত্রণা  আর বাইরের খরতাপ- লতিফের কেমন বিরক্তবোধ হচ্ছিল। উন্মুক্ত বিশাল আকাশে চোখ রেখে লতিফের মনে হল- একজন অতি সামান্য মানুষের এই পৃথিবী থেকে চলে যাওয়া বড় কোন ঘটনা নয়। সে ঝোকের বশে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে না। তার যাবার যুক্তি আছে। সে যে কোম্পানিতে কাজ করে সে্খানে  পণ্যে ডিফেক্ট থাকলে সে পণ্য জাস্ট  ছুড়ে ফেলা হয়। সে সেরকম কিছুই। সে জাস্ট বাতিল হবার কাজটা নিজেই করছে। অপমান সইবার চেয়ে সাহস করে নিজেকে অপমানের হাত থেকে মুক্তি দেয়াই ভাল। 
যথার্থ কারণ থাকলে মানুষ কি জীবন দান করেনা?
নিজের দেশের জন্য, প্রিয় কারো জন্যে অনেকেই নিজের জীবন উতসর্গ করেন।  এই প্রাণ উতসর্গ করা কি আত্মহত্যা নয়? তাদের মনে হয়েছে নিজের দেশ নিজের প্রাণের চেয়ে বড়, তাই দেশের জন্য মৃত্যু গর্বের। যদি তাই হয় তাহলে নিজের অপমানের চেয়ে যদি মৃত্যুকে শ্রেয় মনে হয় তবে নিজের সন্মানের জন্য আমি কেন নিজের জীবন নিজেকে উতসর্গ করতে পারবনা? এখানে কোথায় ভুল? এই মৃত্যু গর্বের নয় কেন? আত্মহত্যা না করে আত্ম উতসর্গ করা যায়না। 
লতিফ নিজেও অনেক চেষ্টা করেছে, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে এই আশায় সে নিজেও তো কম অপেক্ষা করেনি । কিন্তু কোন আশার আলো নেই। লতিফের মনে হল- আমার জীবন রাখা দরকার কি দরকার নেই তা আমার চেয়ে কেউ ভাল জানেনা। বাইরের কেউ বুঝবেনা আমার যন্ত্রণা কোথায়। বাইরের লোক বাইরে থেকে মন্তব্য করবে মাত্র। এদের কে বোঝাবে কেউ শখ করে এ রাস্তা মাড়ায় না। জীবনকে কে না ভালবাসে! আজ সব ঠিক থাকলে এই তপ্ত দুপুরে রোদে পোড়া গ্রামের ছবি তুলে নিত  লতিফ, ধান কাঁটা প্রান্তর দেখে কত কবিতা লিখে গেছে জীবনানন্দ। তার প্রিয় কবি। তার মৃত্যু নিয়েও অনেক কথা শুনেছে লতিফ। 


রোদ যেন আরো বেড়ে যাচ্ছে। সবকিছুর শেষ তাই যেন এক প্রকার শান্তি লাগছে।  দিঘীর জলের উপর একটা ফড়িঙের দিকে চোখ আটকে গেল। বাহ, সেই ছোট থাকতে গ্রামে ফড়িঙ দেখত অনেক। আজ যাবার আগে আগে ফড়িঙ দেখে বেশ লাগল লতিফের। পৃথিবীর নিজের যেন একটা টান আছে। জীবনে যতই অশান্তি থাক, মানুষ তবু এই পৃথিবীর মায়ায় বাচে। প্রত্যেক প্রাণ তো পৃথিবীরই সন্তান। এই হাওয়া,এই রোদ, এই মেঘ এই জল -পৃথিবী এইসব কিছু দিয়ে নিজের সব সন্তানকে নিজের বুকের ওমে আগলে রাখে। এই মায়ের বাধন ছেঁড়া কি এত সহজ! 
ছুড়ি নিয়ে লতিফ জংলার এক পিতরাজের গাছের নীচে  ঠেস দিয়ে বসল। পুকুরটা বেশ টলটল করছে। কেমন নীরব বোবা চারপাশ। গ্রামের ধার থেকে গরুর হাম্বা রব বেশ লাগছে। যাবার জন্য এর চেয়ে ভাল সময় আর হয়না। 
মিসাও ফুজিমুরাকে মনে পড়ছে এখন। আত্মহত্যার আগে গাছের ছাল তুলে কবিতা লিখেছিল মাত্র ১৬ বছরের জাপানি ছেলে। খুব ছোট একটা কারণ। স্কুলের সহপাঠী তামিকো তার ভালবাসা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এইটুকু বয়সেই ফুজিমুরা মহাবিশ্বের রহস্য অনুসন্ধান করে কোন লাভ নেই মনে করে প্রস্থানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তার আত্মহত্যার কবিতাই তাকে অমর করেছে। 
গাছের ছাল তুলে নিজের শেষ কথা লিখে ফেলল লতিফ- 
 
ছায়াপথ ধরে হেটে এক অন্তহীন নক্ষত্রলোকের পথে যাচ্ছি, তোমাদের মুখরিত জীবনকে অভিনন্দন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/190138/</link>
				<pubDate>Wed, 18 Jan 2023 17:20:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প(ডার্ক থিম)- বাশপাতার নৌকা<br />
ছুড়িটা সবজি কাটার। দুপুরের রোদে বেশ চক চক করছে। লতিফ তাকিয়ে আছে। ছোট একটা ছুড়ি খুব সহজেই তার সব যন্ত্রনার অবসান করতে পারে। বাহ, কি দারুন ক্ষমতা।<br />
নিজের গাড়ি হাঁকিয়ে ঢাকা থেকে বেশ দূরের এক নিভৃত পল্লীর এক পুকুর ঘেষা জংলার পাশে লতিফ নিজের জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তাভাবনার শেষ প্রান্তে। কিছু দূ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-190138"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/190138/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">55c70dd881b8ab36e0e27cd17d1fbcbb</guid>
				<title>কবিতাঃ হরিণ 
তোমার চোখ শুধু চেয়েছিল সবুজ প্রান্তর,
ঘাস আর ঘাস,
বাতাস আর জলাভুমি।
তবু তৃনভুমির নীরিহ সন্তান
তুমি অস্থির চিত্তে 
ব্যাঘ্র কিংবা হায়েনার পদধবনি জাগ্রত। 
নরম তৃনের ডগা রস আস্বাদনের বিলাস 
তোমার হয়না।
অন্ধকার হলে জ্যোৎস্নার আলো পৃথিবীতে 
মোমের শান্তি আনে, বাতাসে দুলে ওঠে তোমার বুক
খস খস শব্দ হলেই, চিন চিন ভয় সারা জীবন লেগে 
থাকে তোমার মাংশের চর্বিতে। 
হায়েনারা জিহবায় কামনার লালসা ঝড়ায়। 
কি অদ্ভুত! তোমার নরম তুলতুলে শরীরের 
পরই কারিগর কামার হায়েনার মুখে বসাল 
ক্ষুরধার দন্তমালা।
তুমি ক্ষত বিক্ষত হলে সৃষ্টি খেলার রহস্য আরো জটিল হয়।
তোমার যে চোখে সবুজ প্রান্তরের সপ্ন ছিল,
হায়েনা মাংশ খুবলে নেয়ার কালে সেখানে নীল
আকাশ মস্ত অভিমানের ছায়া ফেলে।
তোমার চোখ দেখে বিধাতার করুনা হয় না,
শকুনেরা ঈশ্বরের মান রাখতে তোমার চোখ
উপড়ে নেয়।
সৃষ্টি রহস্য হয়ে পড়ে থাকে শুধু হাড়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/189905/</link>
				<pubDate>Tue, 17 Jan 2023 09:24:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতাঃ হরিণ<br />
তোমার চোখ শুধু চেয়েছিল সবুজ প্রান্তর,<br />
ঘাস আর ঘাস,<br />
বাতাস আর জলাভুমি।<br />
তবু তৃনভুমির নীরিহ সন্তান<br />
তুমি অস্থির চিত্তে<br />
ব্যাঘ্র কিংবা হায়েনার পদধবনি জাগ্রত।<br />
নরম তৃনের ডগা রস আস্বাদনের বিলাস<br />
তোমার হয়না।<br />
অন্ধকার হলে জ্যোৎস্নার আলো পৃথিবীতে<br />
মোমের শান্তি আনে, বাতাসে দুলে ওঠে তোমার বুক<br />
খস খস শব্দ হলেই, চিন চিন ভয় সার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-189905"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/189905/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6028ef9d34e8e672afa4fd534f123c3b</guid>
				<title>গল্পঃ রুপালি জ্যোৎস্নার রাত 
আকাশের দিকে তাকিয়ে মাতু দেখলো  রুপালি জ্যোৎস্না বালাসির  দিগন্ত জুড়ে  মায়াবী আলো ফেলে রাস্তা দেখিয়ে দেয় যেন। বালু পথ মাড়িয়ে  মাতু নৌকায় উঠে বসল। কাদের চাচা নৌকার মাঝি। বালাসি থেকে চরে যেতে সময় লাগে বিশ মিনিট। যমুনা নেমে গেছে । নৌকায় যারা আছে তারা সবাই খাটিয়ামারি চরেই যাবে। 
    -সলিম  নাকি  ঢাকাত যাবার নাগছে, নদের দাদুকে কথা বলতে শুনলো মাতু। কথা নৌকায় এমনিতেই শুরু হয়। তারপর নৌকা চলে,কথা চলে। নদীর বাতাস আর রাতের আলোয় যেকোন গল্প জমে ওঠে। 
    - হ, ঢাকাত গার্মেন্সত কাম পাওয়া যায়, সগাই যাতিছে , কাদের চাচা বললো। 
    - ও চাচা, ঐমারাও নাকি যাব্যে ঢাকাত, মাতু বলল।  
কে একজন মাতুর কথায় হ্ বললো জোস্নার আধাঁর মেশানো আবছা আলোয় মাতু ভাল করে দেখতে পেলো না। তবে সবাই সবার কন্ঠ চেনে। জহির চাচা।  নৌকা যমুনার ধার ঘেষে যাচ্ছে। বর্ষায় যমুনার দাপট দেখে কে বলবে এই একই যমুনা অন্য সময় বৃদ্ধ মানুষের মত মৃত্যুশয্যায় শুয়ে থাকে । বালির আগ্রাসনে যমুনার তীর যেন সাহারা। মাতুরা আগে যমুনার তীরে ছিলো। মাতু হবার দুই বছর আগে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয় পিতৃপুরুষের ভিটা। আজও সেই স্থানের পাশ দিয়ে নৌকা গেলে মাতু বাবাকে পাংশু চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে। বাবার পাংশুল চোখে যেন রাজার রাজ্য হারিয়ে নিঃস্ব হবার কষ্ট মিশে আছে, যে রাজা আর কোন দিন তার রাজ্য ফিরে পাবেনা। রাতে কাথার নিচে শুয়ে রাজাদের রাজ্য হারানোর গল্প মাতু শুনেছে, কষ্ট পেয়েছে সেই সব রাজাদের জন্য।  বাবার কষ্ট দেখে খুব খারাপ লাগে মাতুর। ওর অবশ্য কষ্ট অতটুকুই। যার সাথে স্মৃতি নেই  সে বিষয়ে কষ্ট অনুভব করা মানুষের জন্য  বেশ কঠিন । মাতু তবু বাবার কষ্ট  অনুভব করে। দাদী এখনো মাথায় হাত দিয়ে বিলাপ করেন- কোথায় পায়ের উপর পা তুলে খেয়েছেন আর আজ কিনা কচু-ঘেচু খেয়ে থাকতে হচ্ছে। চরের জীবন অনিশ্চয়তার জীবন, কখন জীবন ভেসে যায় তার ঠিক নেই। নৌকা এগিয়ে চলে। চাঁদের আলোয় খাটিয়ামারি  চর সপ্নের কোন মায়াবী পুরীর মত মনে হয় । নদীর জলে চাঁদের প্রতিবিম্ব নড়ে নড়ে উঠলে মাতুর সেদিকে তাকিয়ে থাকতে বেশ লাগে। 
    - কুলসুমের নাকি খবর পাওয়া যাতিছেনা, কাদের চাচা বললো। 
মাতুর কান যেন সজাগ হল। কাউকে কাদের চাচার কথার উত্তর দিতে শুনলোনা মাতু।
 কুলসম বু ক’মাস আগে ঢাকা গেছে। তারপর  আর আসেনি। প্রথম দুই এক মাস খবর কিছু পেয়েছিল মাতু কিন্তু এরপর আর খবর আসেনি ।  ওকে কত আদর করতো কুলসুম বু । কোথা থেকে কাঁচা আম পেয়ে তার মাখা, কাঁঠালের বিচি পুড়িয়ে ভর্তা থেকে জঙ্গলের নানাপদের শাক রান্না করে ছোট বাটিতে করে ওদের ঘরে দিয়ে যেত কুলসুম বু । চরের ঝোপে শাক খোঁজার সঙ্গী হিসেবে মাতুই থাকতো। শাক তোলা হলে নিত্য মাতু বারণ করে দিত শাক যেন বাটিতে করে না দিয়ে আসে। 
    - তুই এলা বাড়িত যা, মুখে হাসি মেখে বলতো কুলসুম বু। 
    - বড়ম্মা তোক গালাবে শাক দিলে। 
    - দিক, তুই বাড়িত যা। 
কুলসুম  মাতুর খাবার সময় জানে। ঠিক ওর খাবার কিছু আগে অন্ধকার পথ মাড়িয়ে একটা সলতে ন্যাম্পো নিয়ে বাটি হাতে বাড়ির উঠানে এসে আস্তে করে  মাতুর মাকে ডাক দিত কুলসুম - চাচী, ও চাচী। 
   - কুলসুম, আয় রে ঘরত আয়। 
    - মাতু কি খাচ্যে? 
    - এখন খাব্যে । 
শাকের বাটি রেখে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতো কুলসুম । মাতু তখন চট করে উঠে পড়তো খাবার খেতে। 
    - তোর আন্না অর খুব ভাল নাগে। মোক কয় মা কুলসুম বুর আন্না খুব মজা। 
মায়ের এমন কথায় বেশ লজ্জা পেয়েছিলো মাতু। মাতুর খাবার শেষ হলেই কেবল কুলসুম উঠে যেত। মাতু জানে ঘরে ফিরে কুলসুমবুকে গাল শুনতে হবে। মুখে হাসি মেখে গাল শুনে যাবে কুলসুমবু। আজ কতদিন হয়ে গেল কুলসুমবুকে দেখেনা মাতু। খাটিয়ামারি  চরের ঘাটে নৌকা এসে ভিড়ল। নৌকার ঝাঁকুনিতে মাতুর চিন্তাতন্দ্রা কেটে গেল। চর ছোট । চাঁদের আলোয় ঠিক পথ চেনা যায়। মায়াবী আর ভুতুরে এই আলো। 
ঢাকা যাওয়ার কথা শুনে কুলসুম বুকে কত বারণ করেছিলো মাতু। ছোট নৌকায় বসে চরের ধার ধরে কলা গাছের ঝোপ থেকে নেমে আসা হেলেঞ্চা শাক তুলতে তুলতে মাতু কুলসুমকে অনেক অনেক অনুরোধ করেছিলো। 
    - ও কুলসুম বু যাস ন্যা  ঢাকাত? 
    - মাক কি খিল্যাম রে, দেকিসনা ভাই ট্যাকা দেয়না, বিয়া কর&#x200d;্যা একন শ্বশুর বাড়িত থাকে সেই বল্লমঝাড়। ঢাকাত না গেলে ক্যামনে কি করিম, সগাই যাবার নাগছে। 
আর কিছু বলতে পারেনি মাতু। মাতু জানে কিভাবে চলে কুলসুমবুদের। চর ডিঙ্গিয়ে কুলসুমবুর  বৃদ্ধা মা কোথায় যেন যান, ফিরে আসেন চালের ঝোলা হাতে আর কুলসুমবুর  কাজ হল শাক লতা পাতা বা যমুনা থেকে যদি অল্প কিছু মাছ পাওয়া যায়। 
ঢাকায় যাবার দিন মাতু  তার  কুলসুমবুকে   খুঁজে পায়নি। শেষে আর থাকতে না পেরে কুলসুমবুর খড়ে ছাওয়া নড়বড়ে ঘরের উঠানে হাজির হয় মাতু। গালে হাত দিয়ে বসে আছেন বড়ম্মা। উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ঘরের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা কলা গাছের পাতার দিকে। হালকা বাতাসে কলা পাতাটা নড়ছে, বিকেলের রোদে কেমন বিষন্ন হয়ে আছে কলা পাতাটা। 
    - কি রে মাতু? আয়। দীর্ঘ নিঃশ্বাস মেশানো শুষ্ক কন্ঠে মাতুকে ডাকলেন বড়মা।
    - কুলসুম বু কোন্টে বড়ম্মা ? 
এই প্রশ্ন করার জন্য মাতুর বেশ তাড়া ছিলো। উত্তরের জন্য আশঙ্কা নিয়ে তাকিয়ে  আছে বড়ম্মার দিকে। মনে মনে সে বলছিলো কুলসুমবু যাতে ঢাকা না যায় আল্লা। 
    - ঢাকাত গেছে। 
মাতুর আশঙ্কা সত্যি করে কুলসুমবু ঠিকই ঢাকাতেই গেছে। আর দাড়ায়নি মাতু। শরীরের সমস্ত শিরা-উপশিরা থেকে অভিমান দলা পাকিয়ে যেন বুকে এসে জমে গেল আর চোখের ইশারায় সামনে থাকা বড় একটা কুমড়ার ক্ষেত কেমন ঝাপসা হয়ে এল।  পৃথিবীতে অনেক বন্ধনের কোন নাম নেই। আত্মার বাধঁনই সেখানে মুখ্য। বাইরে থেকে কোন পরিচয় না থাকলেও যারা সেই বাধঁনে বাঁধা পড়েন শুধু তারা জানেন যেন তারা একে অপরকে  আদিকাল থেকে চেনে। এই চরে কুলসুমবুই একমাত্র যাকে মাতু নিজের আত্মার কেউ  বলে মেনেছে। অনেক সময় সম্পর্কের জোরে  যারা আত্মীয় তারাই আত্মার নাগাল পাননা  আবার দূরের কেউ আত্মার মাঝে আসন নেন। হেলেঞ্ছা শাক, কাশবন, আর প্রমত্তা যমুনা জানে মাতুর কাছে কুলসুমবু কে ছিলো। মন যেন কিছুতেই মানছিলনা মাতুর। কোনভাবে যদি কুলসুমবুকে আটকাতে পারতাম- এই অপ্রাঙ্গমতার আফসোসে তার সেদিন কেটে গেল।
সে রাতে অভিমানে  মাকে মাতু বললো,
    - কুলসুম বু মোক না কয়্যাই ঢাকাত গেল মা। 
    - যাওয়ার আগে তোক না দেকপ্যার আচ্চিল । খুব ভোরে আচ্চিল, তুই তকন ঘুমাচ্চিলু, তাই তোক ডাকপ্যার দেয় নাই কুলসুম। মোক কল চাচী -থাক, ডাকেন না, ঐ ঘুম্যাক। তারপরে তোর পিঠ শুত্ত্যা থ্যুয়া গেল। তোক খুব আদর করে কুলসুম। ট্যাকা নাই তাই ঢাকাত গেলোরে বাবা। 
    - কুলসুম বু কি আর আস্প্যা নয় মা?
    - এলা, আসপ্যা নয় ক্যা, আসপি। কয়েক মাস পর ঠিকই আসপি।
খুশি মনে ঘুমাতে গেল মাতু। কুলসুম বু ফিরে এলে চরে কোথায় কোথায় কি করবে সে কথা ভেবে ভাল লাগলো মাতুর। দিনের সব অভিমান মুছে গেল মায়ের মুখে কুলসুমবুর আদরের কথা শুনে। 

কয়েকদিন পর। 
বালাসি বাজারে বাবার সাথে মাতু। যমুনার তীরের এই বাজার মাতুর বেশ লাগে। মানুষের ভীড়, দর-দাম, বড় বড় পিদিম জ্বালিয়ে হরেক ধরনের পণ্যের পসরা। বাজারের এই গম গম ভাব মাতুকে ভীষণ পুলকিত করে। বাবা বাজার শেষে একটু ছোলাবুট ভাঁজা বা বাদাম অথবা খুরমা কিনে দেন।  আলু চাল সবজির ব্যাগ  নিয়ে মাতু  চরে যাবে আর বাবা আসবে পরে । বাজারে আড্ডা দিয়ে তবেই বাবা চরে ফেরে। সে বেশ রাতের কথা। বাজার শেষ হলে ব্যাগ হাতে নিয়ে যমুনা পারের দিকে রওনা হল মাতু। 
মাতু বলে কে যেন ডেকে উঠল। মাতু পিছনে তাকিয়ে দেখল তার চরের ছেলে ডাবলু ওর দিকে দৌড়ে আসছে। 
    - কি হচে রে ডাবলু? চরত যাবু?
    - তুই খবর শুনিস নাই?
    - কি খবর রে?
    - কুলসুমবুক কারা য্যান  নিয়া আচ্ছে। ঢাকাত কুলসুম বু মারা গেছে, লাশ নিয়া কেডাবা আচ্ছে। তুই যাবু নাকি হাট?
মাথা ঝিম ঝিম করে উঠল মাতুর। বুক ভীষণ ভাবে কেঁপে উঠল। ডাবলু দেখলো মাতুর হাত -পা কাঁপছে। 
কোন রকমে বির বির করে বললো-
    • কুলসুম বু মারা গেছে! 
মাতুর চোখের সামনে দোকানের পিদিম যেন একসাথে মিলে একাকার হয়ে উপর নীচে যাচ্ছে। 
    • হ, মুই খানিক আগে শুন্নু? অল্প এনা আগেই নাকি লাশ নিয়া গেছে । হাট যাই।
আকস্মিকতার জাল কেটে মাতু তড়িৎ সংবিৎ ফিরে এনে ব্যাগ ফেলে নৌকায় ওঠার জন্য দৌড় দিল। বালুয়া থেকে নৌকা বাঁধা থাকে বেশ নাবাল এক জায়গায়। প্রানপনে রুপালি জোস্নার রাতের পথে  দৌড় দিল মাতু। বুকের পাঁজর  লোহার খামচি  দিয়ে কে যেন টানছে। আল্লাহ এই খবর য্যান সত্যি না হয়, আল্লাহ এই খবর য্যান সত্যি না হয়- এমন দোয়া করতে করে হাঁপাতে হাঁপাতে নৌকার ঘাটে এল মাতু। কাদের চাচাকে নৌকায় দেখে সে বললো,
    - ও চাচা, তাড়াতাড়ি ন্যাও। কুলসুম বু নাকি মারা গেছে? লাশ নাকি নিয়া আচ্চে? ও চাচা, ন্যাও চাচা। তাড়াতাড়ি চাচা তাড়াতাড়ি। 
নৌকায় খাটিয়ামারি চরের আরো কয়েক জন। কাদের মাঝি আর দেরি করলেন না, ডাবলুও ততক্ষনে নৌকায় উঠে পড়েছে। 
কে একজন বললো,
    - নে কাদের যা। কি কথা বাহে, একটা ছোল মানুষ  ঢাকাত গেল মাওক ভাল থুব্যার জন্যে, আলো লাশ হয়্যা। 
    - বুঝনুনা কি হল? কি ভাল একটা মাইয়া। আহা, কথা কইতো কম। কথা কম কওয়া মাইনষের বিপদ বেশি। পিছ থেকে কিছু না ঠেলা দিলে গলাত দড়ি কি মাইনষে এমনই দেয়! 
শুনে মাতুর শরীর হিম হয়ে এল। গলাত ক্যা দড়ি দিবে কুলসুম বু!  তার তো ফিরে আসার কথা, আর মাতুর সাথে শাক তুলতে যাওয়ার কথা। আজো যমুনার জলে রুপালি  জ্যোৎস্না । কিন্তু মাতুর ইচ্ছে করছে বৈঠা দিয়ে চাঁদটাকে পেটাতে। নির্মম পৃথিবীতে সুন্দর জিনিস মানায় না।  পৃথিবীর কিছুই তার আর ভাল লাগছেনা। 
    - ঢাকাত যাওয়ার দুই একদিন আগে আতত দেকম ন্যাম্পো নিয়া হাট্যে যাতিছে । মুই কনু কেটা বাহা? তে কলো – ও চাচা মুই কুলসুম। কনু – কোটে যাস ? কোল-মাতুর ঘরে বাড়িত যাম। তো হাতত বাটি দ্যাখে কনু- হাতত কি রে, কোল- চাচা মাতুর জন্যে এনা তরকারি নিয়া যাতিছম। 
এই শুনে মাতু ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো। ডাবলু মাথা বুলিয়ে বললো,
    - কান্দিস না মাতু, কান্দিস না। 
    - বুড়া মাওটার একন এলা কি হবে? ভিক্ষা কর&#x200d;্যা  খায়। ব্যাটা থাকে বল্লমঝাড়, বাড়িত আসেনা। বুড়ির তো কেউ থাকলো না, দুঃখ করে বললেন তমিজ চাচা। 
    - চিন্তাই করব্যার পাতিছম না, কুলসুম কিসক এই কাম কল্লো?  আবার আফসোস করলো কাদের চাচা।  
নৌকা যেন যমুনার উপর ভাসছে আফসোস আর অবিশ্বাসে। কুলসুমের মত একটা শান্ত মেয়ে! নৌকার মানুষ বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও পৃথিবী অবিশ্বাস্য কর্মকাণ্ডে পুর্ণ। অবিশ্বাস্য ঘটনা মানুষকে প্রবল্ভাবে নাড়া দেয়। সেখানে ছোট্ট মাতু কেঁপে কেঁপে উঠবে তা স্বাভাবিক। তার ক্ষণিকের প্রার্থনা নৌকার কথপোকথনে মিলিয়ে গেল। চাঁদনী আঁধার  মাতুর অশ্রুধারা, কুলসুম বু’র জন্য তার আবেগের প্রকাশ অপ্রকাশিত রাখলো। কিছু কিছু সত্য শুধু সৃষ্টি আর স্রষ্টা জানেন। 
যমুনা এই সন্ধ্যা রাতে অনেক বড় মনে হচ্ছে মাতুর। অধৈর্য্য আর অশান্তিতে মনে হচ্ছে কুলসুম বু’র লাশ দেখতে সে অনন্তের পথে পাড়ি জমিয়েছে। নৌকা যেন অন্ধকার দেশের এক প্রান্ত থেকে গভীরতর অন্ধকার প্রান্তে বেয়ে যাচ্ছে। মাতু পারলে পানির উপর দিয়ে দৌড়ে খাটিয়ামারি চরে যায়। 
নৌকা খাটিয়ামারি চরের ঘাটে ভীড়তেই মাতু লাফ দিয়ে নেমে প্রাণপণে দৌড় দিল কুলসুম বু’র বাড়ির দিকে। কুলসুমবুদের বাড়ির আঙিনায় সত্যি সত্যি জটলা। একপ্রান্তে মহিলারা ন্যাম্পো হাতে দাঁড়িয়ে আছে আর এক হাতে শাড়ির আঁচল দিয়ে  মুখ ঢেকে রেখে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মাতু যখন সামনে এল তখন দেখলো সাদা কাফনে শুয়ে আছে কেউ। মুখ ঢাকা। 
পাশের মহিলারা কথা বলে যাচ্ছিলো মাতুর কানে শুধু চারপাশের কথোপকথন 
    - কি দুনিয়া মাইও, কি ভাল একটা মাইয়া, কেটাবা ঢাকাত ধরে নষ্ট কর&#x200d;্যা দিলো, কে একজন বললো। 
মাতু কি হয়েছে জানার জন্য সেই কন্ঠস্বরকে খুঁজতে লাগলো। তারপাশে থাকা রেহানা’বুর মা বললো,
    - কেটা করবি বিচার? এর কি আর বিচার আচে? 
পাড়ার ঝগড়াটে মহিলা আবুলের বউ শাড়ির আঁচল থেকে মুখ বের করে বললো,
    - তোমার  ঘরে আর ঢঙের কথা, গরিব মানুষের আবার বিচার আচে নাকি! গরিবের  খালি মানার জন্যে  আইন আছে কিন্তু পাবার  জন্যে  বিচার নাই। বিচার বড়নোকের ঘরে জন্যে। কোর্টত খালি বিচার চাবার যাও, পায়ের ছাল উঠপি, জুতার তলা ক্ষয় হবি, ট্যাকা যাবি গোচ্চারি, ফকির হবা , কিন্তু বিচার পাবা নন। ম্যালা দেকচি।  
ন্যাম্পোর আলোয় আবুলের বউকে বেশ রাগী দেখাচ্ছিল। কিন্তু মাতু কি হয়েছিল শোনার জন্য কাকে জিজ্ঞ্যেস করবে বুঝে উঠতে পারছিলনা। খড়ে ছাওয়া ঘরের একপাশে পুরুষদের জটলা সেখানে গেল মাতু। একটি ছেলে আর একটি মেয়েকে চেয়ারে বসতে দিয়ে বাকিরা তাদের ঘিরে দাড়িয়ে আছে।
-তা তোমরা কি কিছু করেন নাই? জব্বার চাচার প্রশ্ন। 
-কিছু করার নাই, মাঝে মদ্দেই এংক্যা ঘটনা ঘটে, কেউ কিচু  করে না। ছেলেটি উত্তর দিয়ে আমিন চাচার দিকে তাকিয়ে আছে।
-হামি তো অনেক দিন হল গার্মেন্সত আচি, ম্যালা হচে এংক্যা কিন্তু ঐ ছেংড়্যাগুলাক কেউ কিচু করব্যার পায়না। কেউ সয়া যায় কেউ বাড়িত যায়, আর কুলসুম তো সবার না পায়া গলাত দড়ি দিল। মেয়েটি এত সাধারনভাবে বলল তাতে সবাই বুঝল এমন ঘটনা সেখানে হরহামেশাই হয়। অবাক হবার কিছু নেই যেন। 
-এটা ক্যাংক্যা কথা বাহে, আস্তাত থাকে একটা মেয়েক তুল্যা নিয়া যায় কেউ দ্যাকে না? ঢাকাত কি মানুষ থাকে না? বিস্ময়ের সাথে সেই ছেলেটির  দিকে তাকিয়ে আলি চাচাকে প্রশ্ন করতে দেখল মাতু। 
কুলসুমবুর লাশ নিয়ে আসা সেই ছেলে আর মেয়েটিকে ঘিরে সবাইকে প্রশ্ন করছে। বেশ কয়েকবার একই ঘটনা বলে গেল তারা। গার্মেন্টস ছুটি হলে একা ফিরছিল কুলসুম। স্থানীয় কিছু বখাটের পাল্লায় পড়ে সে। নিজের এই অপমান কুলসুম  বু মানতে পারেনি। কয়েক দিন নাকি শুধু কেদেঁছে।  
এক হতবিহবল রাত। অবিশ্বাস্য আর অভাবনীয়। মাতু স্বপ্ন দেখেছিলো কুলসুম বু ফিরে এলে কোথায় কোথায় শাক তুলবে আর এখন কিনা লাশ চোখের সামনে। পৃথিবীর কিছুই যেন তার বুঝে আসছেনা। তার চাওয়া কি কঠিন কিছু ছিল। আল্লাহ কেন তার ছোট এই চাওয়া পূরণ করলো না সে বুঝে উঠতে পারছেনা। পৃথিবীর এই অহেতুক নির্মমতা একজন বালকের বোধের বাইরে। কুলসুম বু ঢাকায় গেল কিন্তু লাশ হয়ে এল কেন – মাতু কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেনা। মাতুর বিহ্বলতা কাটিয়ে ওঠার আগেই এশার নামাজের পর গ্রামের ছোট কবরস্থানে কুলসুমের দাফন সম্পন্ন হল। আর সবাই মাটি দিতে পারলেও মাতু শুধু দাঁড়িয়ে ছিলো একপাশে, ঝাপসা দৃষ্টিতে। কুলসুম বু’কে কেড়ে নেওয়ার জন্যে সে কিছুতেই পৃথিবীকে যেন ক্ষমা করতে পারছেনা।    
  
সে রাতে মাতু তার মাকে বিলাপ করতে দেখল। 
আহা রে আল্লা, হামার মাতুক কত ভালবাসত। মানুষ এত জানোয়ার হয় ক্যাম্নে? কি ভাল একটা মাইয়া? আল্লার এ কি অবিচার? এখন কেটা করবি বিচার? আচে কেউ। আহারে। 
মাতু দাফন হবার পর থেকে শক্ত হয়ে আছে। তার কাদঁতে ভাল লাগছেনা। ঠান্ডা গলায় তার মায়ের কাছে জানতে চাইল, 
     -মা, কেটা বিচার করে?
    - আজারা বিচার করে বাবা। যারা দেশ চালায় তারা। 
    - কেটা আজা?
    - শুনিস ন্যা, মন্ত্রী, জজ,পুলিশ এরা হল আজা। দেশের আজা। এরা বিচার করে। 
    - এরা কি কুলসুম বুর বিচার করব্যা নয়?
    - আজারা বড় বড় জিনিস নিয়া থাকে বাবা, হামার ঘরে কুলসুমের সাথে কি হচে এগুল্যা নিয়া চিন্তা করার সময় আজার ঘরে নাই- আজার ঘরে নাই বলে আবার কান্না জুড়ে দিল মাতুর মা। 
বিচার করার সময় যে রাজাদের নাই তা মাতু যেন বুঝে গেল। ঘটনা শুনে মাতু শুধু জানে কুলসুমবুর সাথে খুব খারাপ কিছু হয়েছে যার কারণে গলায় দড়ি দিতে হয়েছে। আর কেউ বিচার করার নেই শুনে ক্রোধে নির্বাক হয়ে আছে, চোখের চেয়ে বুকের জ্বালা তাকে কাদঁতে দিচ্ছেনা। মাথা কেমন ক্ষোভে ঝিম হয়ে আছে। 
বাবা ঘরে এলেন গভীর রাতে। মাকে সব খুলে বললেন। কোথায় কিভাবে কি হয়েছে। ঘুম নেই মাতুর। কয়েকবার শুনেছে,আবার শুনল সে। মাতুর মা জানতে চাইল,
-কেউ কি নাই বিচার করার?
-তোমার আর কতা? কতদিন গাইবান্ধার অপিসে গেছি, কত কছি স্যার হামার ঘরে ঘর-বাড়ি সব ভ্যাসে যাবার নাগছে,কিচু করেন স্যার-কচ্চে কেউ কিচু? নিজের চোখের সামনে ঘর ভ্যাসে গেল, ফকির হন্যাম,কেউ খবর থয়? কেউ নাই,কেউ নাই। দুনিয়ায় সগাই সগার তালত আচে বুচ্চিস? তুই খুজিঁস বিচার! 
-কত ভাল একটা মাইয়া, আল্লাও কি বিচার করব্যা লয়   গো?
-আল্লা বিচার না হয় করবে। কিন্তু তোর তো বুক জ্বলে একন? এই বুক জ্বলার কি করবু? নিজের ঘর ভ্যাসে গেল, বুকের জ্বলন তো নগদ। কেউ জানে কত কষ্ট। আল্লার বিচারের আশায় থ্যাকে কি লাভ- তোর বুকের জ্বলনের মলম কই? কুলসুমের সর্বনাশ যারা কচ্চে তারা ভালই আচে, এদিকে তোর বুক জ্বলে। তোর ঘা হইলে তুকি মলম নাগান নাগবি, অন্য কেউ তোক মলম নাগে দিব্যা নয়, কারন তোর জ্বালা  অন্য কেউ জানেনা। আল্লার আশায় থাক আর মন্ত্রীর আশায় থাক- তোর বুক ঠিকই জ্বলবি,ধিক ধিক করে জ্বলবি। দেশের মন্ত্রীদের আর কি? তারা তো আর কুলসুমক চেনে না,না তার ঘরে বুক জ্বলবে। গোটা দুনিয়ায় খালি অবিচার রে,বিচার করার কেউ নাই। কারো যদি বুক জ্বলে তাকি সে জ্বালা নিভ্যান নাগবি,,অন্য কেউ তোমার বুকের আগুনের খবর জানেনা। 
বাবার কথা শুনে মাতুর চোয়াল শক্ত হয়ে এল। নির্ঘুম চোখ অভিমানী চোখ-পাথর হয়ে গেল। দাতের শব্দ হল যেন। 
মা-বাবাকে আরো কতক্ষণ কথা বলতে শুনল মাতু। মা আরো কয়েকবার ফুপিয়ে কাদঁল। এক সময় পাশের ঘর শব্দহীন। রাতের খাটিয়ামারি শব্দহীন কবরস্থান । 
 
তখনো অন্ধকার। ভোর হতে আরো কিছু বাকি। চরের ঘাটে কিছু ছোট নৌকা বাধাঁ থাকে। সকাল সকাল হতেই চরে খবর চাউড় হল-মাতু নেই। গায়ের এক বুড়ি জানাল- ভোর হবার কিছু আগে ঘাটের এক ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে মাতুর মত কাউকে চলে যেতে দেখেছে কিন্তু ভাল করে দেখার উপায় ছিলনা। মাতুর মা শুধু দেখল বাড়ির বড় ছুড়িটা নেই,মাতু নিয়ে গেছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/171882/</link>
				<pubDate>Sat, 05 Nov 2022 11:17:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ রুপালি জ্যোৎস্নার রাত<br />
আকাশের দিকে তাকিয়ে মাতু দেখলো  রুপালি জ্যোৎস্না বালাসির  দিগন্ত জুড়ে  মায়াবী আলো ফেলে রাস্তা দেখিয়ে দেয় যেন। বালু পথ মাড়িয়ে  মাতু নৌকায় উঠে বসল। কাদের চাচা নৌকার মাঝি। বালাসি থেকে চরে যেতে সময় লাগে বিশ মিনিট। যমুনা নেমে গেছে । নৌকায় যারা আছে তারা সবাই খাটিয়ামারি চরেই যাবে।<br />
    -সলিম  নাকি  ঢাকাত যাবার নাগছে,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-171882"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/171882/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7b33ae096f09d401d95a24f28471ea57</guid>
				<title>গল্পঃ বিধিলিপি 
ভাঙ্গা পা নিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে টিভির রিমোট ঘুরিয়ে যাচ্ছে পারকি। আর ভাল্লাগেনা! মা-বাবা অফিসের জন্য বেড়িয়ে গেছে। এক্সিডেন্টের পর থেকে প্রাণে বাঁচলেও ডান পা এক্ষুণি সারবার নয়। যত বেশি রেস্ট তত তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হাটা চলা করা সম্ভব হবে-এই আশায় শুধুই সোফা-বিছানা করে দুই মাস গেল। প্রথমে প্রাণে বেঁচে থাকবার একটা ভাল লাগা ছিল। এখন তা উবে গেছে। রেস্ট নেয়া অতিরিক্ত হলে বিরক্তির শেষ থাকেনা। সেখানে দু মাস গত হল। ইউটিউব ফেসবুক কিংবা টিভি মাঝে মাঝে জানালা গলে আকাশ দেখা- হাঁপিয়ে ওঠা ছাড়া আর কোন গতি নেই। মাঝ দুপুর নাগাদ কখন  যে সোফায় ঘুমিয়ে গেল পারকি কিছুই জানেনা। যখন তখন ঘুম আসে আর সেও ঘুম আসতে চায়। অন্তত ঘুমের সময়টা ভাল থাকে সে। চোখ যখন মেলল- তখন শরীর কেঁপে উঠল। বুক এমন কষে মোচড় দিল যে ঢোক গিলে নিতেই কষ্ট হল।  একটা লোক সামনে বসে আছে-হাতে ছুঁড়ি। পারকি চিৎকার করতে যাবে কিন্তু শরীর যেন অবশ।ভয়ে হাত পা কাঁপছে। চিতকার করবে কি, নির্বাক হয়ে নিজের কাঁপুনির চোটে কথা এলোনা মুখে।   লোকটি বলে উঠল
- চিৎকার করবেন না। আমি আপনার কোন ক্ষতি করবোনা। আমি চোর সত্যি কিন্তু আপনার কোন ক্ষতি করার ইচ্ছে আমার নেই। আমার জাস্ট কিছু টাকা দরকার। টাকাটা পেলে আমি চলে যাব। নিজেই নিজেই খুঁজেছি ,পেলে হয়ত নিয়ে চলেও যেতাম কিন্তু কোথাও টাকা খুঁজে পেলাম না। তাই ভাবলাম আপনি উঠে সাহায্য করলেই কেবল টাকা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু আপনার ঘুম ভাঙ্গাতে ইচ্ছে হয়নি তাই টিভির ভলিউম কমিয়ে টিভি দেখছিলাম। 
এ পর্যন্ত শুনে হা হয়ে গেল পারকি। একজন কি করে এত জেন্টলম্যান হতে পারে! পারকি অবাক হয়ে দেখল ওর শরীর আর কাপছেনা। একটূও না। একজন মানুষ হৃদয় থেকে কথা বললে তা অন্য জনের হৃদয়কে স্পর্শ করে। পারকির তাই হয়েছে। লোকটির চোখে-মুখে কেন জানি সত্য বচনের রেশ স্পষ্ট। বেশ আশ্বস্ত হওয়া যায়। ফ্রিজ থেকে বের করে চাউমিন খাওয়া প্লেট পাশেই, মানে লোকটা একটুও মিথ্যা বলেনি। 
তবুও পারকির জিজ্ঞাসা- ক্ষতি করবেন না তার নিশ্চয়তা কি? ভয় গেলেও আশ্বস্ত হওয়া ভাল। 
- যদি তাই হত তবে আপনার ঘুম ভাঙ্গিয়ে , মুখে টেপ লাগিয়ে জানতে চাইতাম টাকা কোথায়?
আরে তাই তো, ভাবল পারকি। 

-আপনাকে দারোয়ান দেখেনি?
-না। সে ঘুম। আমি কদিন ধরে আপনাদের বাসা পর্যবেক্ষণ করেছি। মোটে বাসায় তিনজন। আপনি বাসায় থাকেন কিন্তু নড়তে পারেন না। আপনাদের দারোয়ান দুপুরে ঘুমিয়ে যায়। যদিও তার হাতে ইয়া বড় লাঠি থাকে কিন্তু খুব ঘুম কাতুরে যা  আমার জন্য  বেশ ভাল । অনেক টাকা লাগবে তা নয় অল্প টাকা হলেই চলবে। গরীব মানুষের কাছে বেশী টাকা থাকতে নেই, বেশি টাকা গরীব ছোট চোর হজম করতে পারেনা। ধরা যাক আপনাদের বাসা থেকে যদি আমি দশ লক্ষ টাকা চুরি করি তাহলে আপনার বাবা পুলিশ লাগিয়ে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করবেন। কিন্তু আশি হাজার -এক লাখ চুরি গেলে তিনি গুরুত্ব কম দেবেন। পুলিশকে জানাতে পারেন আবার নাও পারেন। পরিমাণ কম বিধায় পুলিশেরও আগ্রহ থাকবে কম। এটা আমার জন্য ভাল। আশি হাজার-এক লাখে আমার আরামসে কয়েক মাস যাবে। বেশি টাকার লোভে সারাক্ষণ পুলিশের ভয়ে থাকার চেয়ে এটাই আমার কাছে ভাল মনে হয়। 
- আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে পড়াশুনা জানেন তাহলে চুরি করেন কেন?
- এই প্রশ্নে পৃথিবীর সকল চোর বিব্রত হয়। তারা যে কেন চোর তার ব্যখ্যা তাদের কাছে নেই। তবে চুরি করা দক্ষতার কাজ। সবাই এই কাজ পারেনা। যারা পারে তারা এই কাজ পারে বলেই হয়ত চোর। অথবা পৃথিবীর অনেক কিছুরই ব্যাখ্যা মানুষের জানা নেই। কেউ কেউ ঘোরের মধ্যে থেকে জীবন পার করে দেয়। ভাল কথা আমি পড়াশুনা করিনি কিন্তু ভাল করে কথা বললে মানুষকে বোকা বানানো সহজ,তাই এটা শিখেছি। 
-আপনি কি এখন আমাকে বোকা বানাচ্ছেন? 
-না, আপনাকে বোকা বানিয়ে লাভ নেই,ক্ষতি। 
পারকির মনে হল  এই লোকটি যে চোর তা বিশ্বাস করা কষ্টকর। এমন একজন মানুষ চোর!  কিন্তু পৃথিবীতে বিস্ময়ের শেষ নেই। এমন চোর হতেই পারে এবং সে এখন একজন ভদ্র চোরের সাথে একই ঘরে আছে- এটা সত্য, সপ্ন নয়।
- আপনি এই যে চুরি করেন , ধরা পড়েন না, মার খাননা? 
- দু বার ধরা পড়েছি। মাইর খেয়েছি। গরীব চোরকে মানুষ বেশ উল্লাস করে মারে। তবে আমি যে চোর বলে মাইর খাই তা কিন্তু নয়। মানুষ চুরির জন্য মাইর খায়না, সমাজে অবস্থানের জন্য মাইর খায়। একজন রিকশাওয়ালাকে সহজেই চড় দেয়া যায়।কারণ মানুষের জানা আছে সে রিকশাওয়ালা, সমাজে সে নীচুতলার মানুষ। অথচ একজন প্রাইভেট কারের মালিকের গায়ে কেউ হাত তুলতে চায়না। কারণ তার অবস্থান উপড়ে। মানুষ তখন ভয় পায়। চুরি অনেক রকমের। ঘুষ যারা খায় তারা মূলত কি করে ? তারা মূলত ডাকাতি করে, যারা টাকা পাচার করে তারা মূলত চুরি করে। যারা বাজারে সিন্ডিকেট করে তারা মূলত কি করে-ডাকাতি করে। কিন্তু মাইর খেতে হয় শুধু আমাদের মত ছিঁচকে চোরকে। কেন জানেন? কারণ চুরি করার জন্য আমার কোন এসি লাগানো রুম নেই। এসি রুমে বসে চোর চুরি করলে মানুষ তাকে স্যালুট দিয়ে স্যার বলে। তাই চোর হবার জন্য আমার আসলে আফসোস নেই, আমার আফসোস আমার একটা এসি লাগানো রুম নেই বলে তাহলেই আমার চুরি সিস্টেম হয়ে যেত। হা হা হা। 

পারকির কেন জানি মনে হচ্ছে এই লোক বেখেয়ালে চোর। পৃথিবীর প্রতি তার কোন মোহ নেই। 
-কিন্তু আপনি কাজ করেন না কেন? কাজ করলেই তো আপনাকে এত রিস্ক নিতে হয়না। 
-তা ঠিক। কিন্তু শহরে যখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিলাম কি করে খাব কি করে খাব তখন পরিচয় একদল চোরের সাথে। তারপর থেকে এই পেশাটা আসলে আর পেশা নয়-নেশা। তাই বলে যে ভাল হবার চেষ্টা করিনি তা নয়। কিন্তু সমাজে নীচু তলার কাজ করতে গেলে মানুষ কথা শোনায়। বাসের হেল্পার গালি খায়, গার্মেন্ট কর্মী গালি খায়, বিক্রয়কর্মী  গালি খায়। তার থেকে চোরের পেশা ঢের ভাল। শুধু ধরা পরার দিনে মাইর খেতে এই যা। তবে জানেন প্রত্যেক বার নতুন বাসায় ঢুকে পড়া একটা দারুন উত্তেজনা। এটা আমার ভালই লাগে।  
-আপনি কি ভাল হতে চাননা? 
-চাই না তা নয়, কিন্তু কেউ একটু অপমান করলেই মনে হয়- আরে, এর থেকে তো আমার চোর হওয়াই ভাল। হা হা হা।
-আচ্ছা আমি কি আপনার জন্য চেষ্টা করে দেখব। কথা দিচ্ছি আপনাকে কথা কেউ শোনাবেনা। আর কথা শোনালেই কি? মানুষ যে যার জায়গা থেকে কথা শোনে। কথা শোনা থেকে দেশের মন্ত্রীরও নিস্তার নেই। তাহলে আপনার এত খারাপ লাগবে কেন? আমি আপনার জন্য একটা চেষ্টা করব, এবং আপনি ভাল হবেন এই কথা আমাকে দিতে হবে। 
লোকটি অবাক করা চোখ নিয়ে পারকির দিকে তাকাল। এই প্রথম বার মনে হল ভাল হবার একটা বাসনা সবারই থাকে। নীরবে থাকে।  অনেক মানুষ আছে যারা ভাল হতে চায়, কিন্তু পথ জানা নেই, পথ দেখানোর কেউ নেই। অনেকেই ভাল হতে পারেনা কারণ কেউ তাদের ভাল হতে বলেনি।
-আপনি যেহেতু বলছেন তাহলে একবার চেষ্টা করে দেখব। একটু হাসি লোকটির ঠোটে। 
খুব খুশি হল পারকি। 
-আমি তবে আমার বাবার সাথে কথা বলব। বাবা চট্টগ্রামে গেছে। তিন দিন পরে আসবে। বাবা আসলেই আমি কিছু একটা করতে পারব। আপনি আপনার মোবাইল নাম্বার থাকলে আমাকে দিন। 
- নাহ, ভেবেছিলাম আপনাদের বাসায় চুরি করে কয়েক মাস আরামে থাকব, তা আর হলনা। 
শুনে পারকিও একটু হাসল। একজন মানুষকে সাহায্য করার মধ্যে স্বর্গীয় অনুভূতি কাজ করে। নাম্বার সেইভ করল পারকি।
 
-আমি তবে আর এখানে না থাকি। চলে যাই। দেখি আপনার কথা রাখতে পারি কি না। 
-পারবেন, আমার বিশ্বাস আছে- আপনি পারবেন। 
-জি, ভাল থাকবেন । 
লোকটি উঠে গেল। পারকি ওঠার চেষ্টা করল। পারকির বুক কাঁপছে । অনেক সময় বড় পর্বত ওঠার চেয়ে নেমে আসা কঠিন। লোকটি ভালয় ভালয় বের হতে পারলে হয়।  রুমে বসে  আর কোনদিন এত ঘামেনি পারকি। কিন্তু ভয়ের জায়গাতেই সর্বনাশ হয়। একটু পরেই নীচ থেকে শোরগোল আসতে লাগল। চোর চোর শব্দে দারওয়ান আবুল চাচা  কোন দিকে যেন  ছুটে যাচ্ছে । অনেক কষ্টে পারকি বারান্দায় এল গলিতে চোখ রেখে বুঝল গলির একদম মাথায় বেশ হট্টগোল। কয়েকটি কিশোর ছেলে গলির মাথার দিকে দৌড়ে যাচ্ছে। বুক কাপঁছে,দম দম করে কাপঁছে। ইস কেন কেন !   
মার শালারে মার এমন শব্দ কানে আসছে। এমন দিশেহারা কোনদিন বোধ হয়নি। কেমন পাগল পাগল লাগছে- কি করা যায় কি করা যায়- মাথায় কিছুই আসছেনা। বসে বসে সিঁড়ি বেয়ে দুই তলা থেকে নেমে এল পারকি। সময় লাগল।  গেট গলিয়ে চোখ দিয়ে তাকাতেই দেখল- 
দারওয়ান আবুল চাচা  লোকটির শার্টের পিছন কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে আনছে। রক্তে মুখ ভেসে গেছে ,শার্ট লাল হয়েছে। 
আবুল চাচা বেশ উল্লাস করেই জানাল- ঘরে ঢুকেছিল। ধইরা ফালাইছি। দিছি মাইর। জন্মের শিক্ষ্যা দিছি, হাড্ডি সব পাউডার করে দিছি। আর কোনদিন চুরি করবোনা। কি রে তুই কিছু চুরি করিস নাই তাহলে কোন মতলবে ঢুকছিলি? দারওয়ানের এমন কথায় আশেপাশের দুই একজন বিস্ময় প্রকাশ করল। চোর ধরা পড়লে এই দেশে একটা উতসবের আমেজ তৈরি হয়। জনবহুল এই দেশে উতসুক  জনতার কমতি নেই। পারকি দেখল জনতার ভীড় কম নয়। আর দাড়োয়ান আবুল চাচা নিজের অজান্তে যে প্রশ্ন ছুড়েছে তার উপর পারকির,তার পরিবারের মান-সন্মান দাঁড়িয়ে আছে। 
উতসুক জনতার চোখে মুখে প্রশ্নের উত্তরের প্রতীক্ষা।  সমাজের এই জিজ্ঞাসু চোখ অত্যন্ত ভয়ানক তা জানে পারকি। তার উত্তরের উপরেই সমাজের ভিত যেন দাড়িয়ে আছে। চুরির মতলব যদি না থাকে -তাহলে? 
পারকির জন্য দেরী করা ঠিক নয়,একদমই নয়। 
-আরে আমাদের বাসায় কিছু নেই তো, বাসায় আমরা টাকা রাখিনা , তাই কিছু নিতে পারেনি হয়ত। সমাজের  বিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং সন্দেহ মুক্ত  করতে পারকি আরো বলল- কি রকম বোকা লোক , দিনের বেলা কেউ চুরি করতে আসে!  মানুষের চোখের দিকে পারকির মনে হল তারা আশ্বস্ত হয়েছে।  

কিন্তু লোকটি মাথা তুলে পারকিকে দেখতে চাচ্ছে কিন্তু মাথা তুলতে পারছেনা। গাঢ় লাল রক্ত মুখ বেয়ে নীচে মাটিতে পড়ছে ফোটা ফোটা। কিশোর একটা ছেলের হাতে গাছের ডাল। সপাং চালিয়ে দিল পিঠের উপর। 
-এই শালাই মনে হয় সেদিন দোকান থেকে আমার মোবাইল গায়েব করে দিয়েছে। এখন কেমন লাগে? সপাং সপাং সপাং।মাটিতে মাথা দিয়ে একপাশে পড়ে গেল লোকটি। 
 
আর দাড়াল না পারকি। নিজের রুমে এসে কাঁদল সে। এ কেমন অসহায় সে। 
জীবনের কি মুহুর্ত যেখানে না সওয়া যায় না কিছু বলা যায়?  
রাত বারোটা নাগাদ পারকি মায়ের বকাবকির আওয়াজ শুনলো। । মা পাশের রুমে দারোয়ান আবুল চাচাকে  বকছে। 
পারকির রুমে এসে জানাল,
-সেই চোর না কি হাসপাতালে মারা গেছে। কি জ্বালা! এত কেউ মারে।
এবার আর কাদেঁনি পারকি। হাসি এসেছে, হাসি এসেছে এই ভেবে যে লোকটি ভাল হতে চেয়েছিল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/160642/</link>
				<pubDate>Tue, 11 Oct 2022 12:40:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ বিধিলিপি<br />
ভাঙ্গা পা নিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে টিভির রিমোট ঘুরিয়ে যাচ্ছে পারকি। আর ভাল্লাগেনা! মা-বাবা অফিসের জন্য বেড়িয়ে গেছে। এক্সিডেন্টের পর থেকে প্রাণে বাঁচলেও ডান পা এক্ষুণি সারবার নয়। যত বেশি রেস্ট তত তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হাটা চলা করা সম্ভব হবে-এই আশায় শুধুই সোফা-বিছানা করে দুই মাস গেল। প্রথমে প্রাণে বেঁচে থাকবার একটা ভাল লাগা ছিল। এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-160642"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/160642/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a83454b8c4b4f0b3001527471cc159d6</guid>
				<title>গল্পঃ জাল 



শীতে নলুয়া নদী অনন্যা। কুয়াশার চাদর এমন মায়ার জাল বিছিয়ে দেয় যেন স্বর্গের পথ বেয়ে অন্যকোন নক্ষত্রলোকে যাওয়া যায়।  ১২ বছরের ছেলে ফজলুকে নিয়ে ছগির মিয়া নৌকা বেয়ে চলেছেন উত্তর দিকে। টেংরা পুটি খলিশা কিছু মেলে। পানি কমে এলে নদীর গভীর তলদেশ থেকে বোয়াল, কার্প আর বড় শোলের দেখা মেলে। সে মাছ দেখার আলাদা সৌন্দর্য। নদীর অগভীর জায়গায় জাল ফেলছে বাবা। মাছের টুকরি ধরে আছে ফজলু। বাবা যখন জাল টেনে নৌকায় তোলে তখন মাছ ধরে টুকরিতে রাখে ফজলু। টেংরা পুটির লাফালাফি ভালই লাগে ওর।

নৌকায় জাল তৈরি করে ছুড়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে বাবাকে দেখে ফজলু বললো

আব্বা, ঐ কচুরিপানার জাগাত দেও। 

ছগির মিয়া দেখলেন একটি কচুরিপানা শীতের বাতাসে নদীর কিনার ঘেষে হালকা দুলছে। ছেলের কথা শুনে সেখানে জাল ছুড়ে দিলেন। ঝপ। জাল টানার একটু পরেই বুঝলেন বড়সড় কিছু একটা জালে বেঁধেছে ।

ফজলু, দড়ি ধর , মনে হচ্চে বড় মাছ।

ফজলু দড়ি ধরামাত্রই ছগির মিয়া পানিতে লাফ দিয়ে জালের কাঠি কাঁদার ভেতর সেঁধিয়ে দিলেন। পানি এখানে তার বুক বরাবর। পা দিয়ে খচে খচে অবশেষে বড় মাছের নাগাল পেলেন । পায়ের নীচ থেকেই বেশ জোড়ে ঝাঁকুনি দিল মাছটি। মাছটি ধরার জন্য ডুব দিলেন , জাল দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে উপরে উঠে ফজলুকে জাল টানতে বললেন।

ফজলু নিজেও উত্তেজিত ছিল- বড় কিছু একটা যে জালে ফেঁসেছে তা সেও বুঝেছে । সেও জোরেশোরে জাল টানতে লাগলো। একটু পরেই ফজলু দেখলো বিশাল এক বোয়াল জালের ভিতর মাথা দিয়ে ঝাঁকুনি দিচ্ছে বেড়িয়ে আসার জন্য। কি বড় বোয়াল! বাবা এত শক্ত করে ধরেছে তবু যেন গায়ে কত শক্তি তার! বোয়ালসহ জাল নিয়ে ছগির মিয়া নৌকায় উঠলেন। বোয়াল জালের মধ্যে মাথা দিয়ে ঝাঁকুনি দিয়েই যাচ্ছে। জাল ছিড়ে বেড়িয়ে আসার সেকি চেষ্টা, কিন্তু জাল বেশ শক্ত। ফেরার পুরো পথ ফজলু জালের সাথে বোয়ালের যুদ্ধ দেখেই এল। মা কি খুশি হবে , সে আজই মাকে রান্না করতে বলবে। স্কুলে গিয়ে বোয়াল খাওয়ার গল্প করবে। ফজলুকে খুব খুশি দেখাচ্ছিল । সবে রোদ নলুয়াতে নেমেছে, শীতের রোদে জালের নীচে থাকা বোয়ালের গা কেমন চকচক করছে ।

ডাঙ্গায় নেমে, বোয়াল বের করা মাত্রই ফজলু নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বাড়ির দিকে ভো দৌড় দিল। সে কি ঝাঁকুনি মাছের, তেজ এখনো কমেনি। রাস্তায় তার কাছের বয়সী ছেলেমেয়ে কয়েকজন বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে ছিল। তারা ‘’ওমা কত বড় বোল’’ বলে ফজলুর পিছু নিল । নিজেকে রাজা রাজা মনে হচ্ছিল ফজলুর।

নিজের বাড়ির আঙিনায় গিয়ে মাছটা চুলার কাছে রেখে ফজলু তার মাকে ডাকলো,

মা , ও মা, দেখে যা কি ধরা পচ্চে আজ।

পানি আনতে গিয়েছিল ফজলুর মা , এসে দেখলেন বাড়ির আঙিনায় একগাদা ছেলেমেয়ে। আর মাঝখানে মস্ত বোয়াল। মাকে দেখে ফজলু বেশ উত্তেজিত ভাবে বললো,

মা দ্যাখ, কত্ত বড় বোল মাছ।

বড় বোয়াল দেখে ফজলুর মাও খুশি হলেন।

মা এখনি পাক কর, আজগেই খামো।

ছেলের আবদারে তিনি হেসে শুধু আচ্ছা বলে  বোয়ালের দিকে তাকালেন। সত্যি বেশ বড় বোয়াল।

ছেলেমেয়েদের জটলা থেকে কে জানতে চাইলো,

ক্যাংকা করে মাছটা ধরা পল্লো রে ফজলু?

ফজলু যেন এমন একটা প্রশ্নের অপেক্ষাই করছিলো। ওর দাদীও ঘর থেকে বেড়িয়ে এসেছে। ফজলু এবার গল্প বলা শুরু করলো কিভাবে ওর কথামত  ওর বাবা ওর দেখানো জায়গায় জাল ফেললো আর তারপর কিভাবে বাবা মাছটাকে নৌকায় তুললো, বোয়ালের সে কি আক্রোশ- কিছুই ফজলুর গল্পে বাদ গেলোনা। সবাই মুগ্ধ হয়ে ফজলুর রোমাঞ্চকর গল্প শুনলো। কিছু ছেলেমেয়ে বেশ সময় নিয়ে বোয়াল দেখে বিদায় নিল, আরো কয়েকজন এত্ত বড় বোয়াল কাটার দৃশ্য দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। মাছ কাটার দৃশ্য দেখাটাও আনন্দের। মা এখনো কেন মাছ কাটছেনা দেখে ফজলু মাকে তাগাদা দেয়ার জন্য বললো,

&quot;কাট না মা মাছটা।&quot;

ফজলু দেখলো ওর মায়ের কোন উত্তর নেই। বেশ গম্ভীর মুখ। এত্ত বড় বোয়াল দেখে খুশি হয়েছিলেন , সেই হাসি মুখ আর নেই। মা কি যেন ভাবছে।

&quot;মা কাট না ।&quot;

&quot;এ যা তো এট থ্যাকে। ভ্যান ভ্যান করবু না ।&quot;

মায়ের এমন গলায় ফজলু কেমন গুটিয়ে গেল। রাগ হচ্ছিল খুব। মাছই তো কাটতে বলেছে শুধু, কিন্তু মা হঠাত ক্ষেপে গেল কেন তা তার বুঝে আসছেনা। নিজের ছেলের বউকে বেশ ভয় পান ফজলুর দাদী , তবু নাতির ওমন মুখ দেখে আর থাকতে পারলেন না।

&quot;ফজলু এনা খাবার চাতিছে, কাট বাহে ।&quot;

শুধু এতটুকু বলেছেন। গলা চড়িয়ে দিলেন ফজলুর মা,

&quot;এত সোহাগের দরকার নাই। গরীবের ছলের এত বোল খাওয়ার শখ ক্যা? গরীব মানুষের শখ খারাপ জিনিস। বড় মাছ খাব্যে বড়লোক। ফজলু, তোর বাপক যায়া ক, মাঠের হাট যায়া বোল মাছটা ব্যেচে আসুক।&quot;

ফজলু হা করে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে পানিও এসেছে, কটা টাকার জন্য মা কিনা মাছটা বিক্রি করে দেবে! দাদী ফজলুর মনের কথা জানেন যেন, তাই আবার একটু চেষ্টা করলেন,

&quot;মাছটা পাক করো বাহে, ছোট ছোল এনা খাবার চাছে।&quot;

নিজের শ্বাশুরীর দিকে অগ্নিদৃষ্টি দিলেন ফজলুর মা ।

&quot;কাল কিস্তির টেকা নিয়া এত্ত গুলা কথা শুননু আপনার সামনত,, এরপরও ক্যাংকা করে এই কথা কন! কিস্তির টাকা কোটে পামো ? একটু পরেই তো আস্যে হাজির হব্যে, আছে কিস্তির টাকা?এই বোল মাছটা বেচলে তাও এ সপ্তার কিস্তির টেকা হয়া যাব্যে । আইজগ্যা  কিস্তি দিব্যার না পালে  কথা  কেটা শুনবে?&quot;

ছেলের বউ তার খারাপ নয়। কাল অনেক কটু কথা তার সামনেই বকে গেছে কিস্তির লোক। ফজলুর দাদী আর কোন উপায় পেলেন না,শুধু ফজলুর পানে চাইলেন। 

ফজলু এত কিছু বোঝেনা, বোয়াল মাছ খাওয়া হচ্ছেনা দেখে মায়ের দিকে নাখোশের চোখে তাকিয়ে ছিল সে। তার মা যেন চোখের ভাষা বুঝলেন। চুলার চোঙ্গা ফজলুর দিকে ছুড়ে মারলেন।

&quot;ভাগ এট থাক্যে। গরীবের ছল হয়া তোর ক্যা এত আল্লাদ রে!&quot;

মায়ের তাড়া খেয়ে আর বোয়াল মাছ যে খাওয়া হচ্ছেনা তার দুঃখে ফজলু ক্ষেতের আইল ধরে ধান ক্ষেতের ভিতর দিয়ে নদীর ধারের রাস্তায় গিয়ে উঠল। মার উপর ভীষণ রাগ হচ্ছে তার।

কিছু সময় পর বাবাকে ধান ক্ষেতের ভিতর দিয়ে আসতে দেখলো ফজলু। হাতে বোয়াল মাছ ঝুলছে। বাবা মাঠের হাট যাচ্ছে বোয়াল বিক্রি করতে। রাস্তায় উঠে ছগির মিয়া দেখলেন তার ছেলে কাঁদছে। আহা, ছেলেটার খুব শখ হয়েছিল বোয়াল খাবার। ছেলের জন্য খুব কষ্ট হল তার।

&quot;ফজলু , তোর জন্যে বাতাসা নিয়ে আসিম এলাই, কান্দিস ন্যা।&quot;

&quot;তুমিই খাও বাতাসা।&quot;

ফজলু ফুঁপিয়ে কাঁদছে এবার। ছগির মিয়া ঘাড় ঘুড়িয়ে নিলেন- ছেলের এমন কান্না তিনি যেন সহ্য করতে পারলেন না। তার চোখও ঝাপসা হয়ে আসছে । ও ছোট বলেই হয়তো জানেনা কিন্তু বড় হলে জানবে গরীব কেন নিজের হাতে ধরা বোয়াল খেতে পারেনা।

বেশ খানিকটা পথ হেটে যখন পিছনে তাকালেন ছগির মিয়া , দেখলেন ফজলু তখনো তাকিয়ে আছে। কে জানে হয়তো এখনো বোয়ালটাকে দেখতে পাচ্ছে ফজলু।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/155048/</link>
				<pubDate>Sun, 02 Oct 2022 11:06:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ জাল </p>
<p>শীতে নলুয়া নদী অনন্যা। কুয়াশার চাদর এমন মায়ার জাল বিছিয়ে দেয় যেন স্বর্গের পথ বেয়ে অন্যকোন নক্ষত্রলোকে যাওয়া যায়।  ১২ বছরের ছেলে ফজলুকে নিয়ে ছগির মিয়া নৌকা বেয়ে চলেছেন উত্তর দিকে। টেংরা পুটি খলিশা কিছু মেলে। পানি কমে এলে নদীর গভীর তলদেশ থেকে বোয়াল, কার্প আর বড় শোলের দেখা মেলে। সে মাছ দেখার আলাদা সৌন্দর্য। নদীর অগভীর জায়গায়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-155048"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/155048/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ec8df7fdbfb71437b2811d35352c2deb</guid>
				<title>উপন্যাসঃ শারদ বিষুব 
পর্ব-১
ঘুম থেকে উঠে গা ঝাড়া দিয়ে চোখ কচলে কল পাড়ে গেল কেয়া। সকাল বেলা মেজাজ খারাপ হল। একটাই টয়লেট - ভাবী গিয়েছে মনে হয়। বেশি সকালে নারীরা ছাড়া কেউ ওঠে না। সকাল ৮ টার মধ্যেই সবাই বেড়িয়ে যাবে। কামরাঙ্গীড়গীর চরের বাসা, ভাড়া নয় নিজেদের কিন্তু দারিদ্র্য দাঁত চেপে বসে আছে এ বাড়িতে। সকাল বেলা একবার বাড়ির দিকে তাকিয়ে হতাশ হয় কেয়া। তিন তিনটা ভাই, ছোট দুই বোন, পক্ষাঘাতগ্রস্থ বাবা আর ডায়বেটিস রোগী মা, ভাবলে কেয়ার মাথা ঝম ঝম করে। সব খরচের খাতায়, আয়ের কোন পথ যেন জানা নেই কারো। বড় ভাই মিতুল রাজনীতি করে জীবন কাটিয়ে দিল বলা যায়, মেজ ভাই টুটুল  ভবঘুরে ছোট তিতুল আকাবুকি করে বেড়ায়, মাথা ভর্তি দর্শন। কেয়া জানে বাড়িতে সে যতক্ষন আছে, এসব চিন্তা করে মাথা চিন চিন করবে একটু পরেই। ভাল লাগেনা। যত দ্রুত সম্ভব এখান থেকে বেরুতে হবে। বাসা থেকে না বেরুনো পর্যন্ত ভাল লাগবেনা। টয়লেট থেকে ভাবী বেরুলে কেয়া দ্রুত ঢুকে গেল। যেতে যেতে বললো- আজ কি রান্না হচ্ছে ভাবী?
আর রান্না, শাঁক আর ডাল তবে তোর প্রিয় মাছ ভর্তা হবে। 
রুমে ফিরে কেয়া দেখল মোবাইলে ম্যাসেজ এসেছে। রুবেল ভাইয়ের ম্যাসেজ- কল দিও। 
রেডি হয়ে বাবার রুমে গেল কেয়া। আজ বেশ ক বছর ধরে বাবা বিছানায়। বাবার রুম এড়াতে চায় কেয়া কিন্তু মাঝে মাঝে ভীষণ মনে পড়ে । বাবার আদরের তুলনা হয়না, কি আদরই না করেছেন বাবা। নিজেকে মনে হত রাজকন্যা । বাবা বিছানা নেয়ার পর থেকে সেই যে ঘুর্নিপাক শুরু হল তা আর যেন থামছেই না, সংসার যেন দিন দিন তলিয়ে যাচ্ছে। বাবা চোখ বন্ধ করে আছে। তবু আছে তো, এই বা কম কি? অন্তত চোখের দেখা তো হচ্ছে। ক দিন পর এই দেখাও তো হবেনা। বাবার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিতে ইচ্ছে হল কেয়ার। কিন্তু নিজেকে বড় ঘেন্না হয়, তার অপবিত্র হাত দিয়ে বাবাকে স্পর্শ করতে চায়না সে। বাবার কপালের কাছে গিয়ে হাত কাপতে লাগল, কেয়ার চোখে পানি আসল। টপ টপ করে পানি গড়িয়ে গেল। এই বাবা- বুকে আগলে রাখতেন, পৃথিবীর কোন ঝড় ঝাপটা যাতে সন্তানকে সইতে না হয় তার জন্য কি চেষ্টা। সবার চেয়ে বড় মেয়ে কেয়াকে যে বেশি  আদর করতেন তা বাড়ির সবাই জানে। এটা নিয়ে কেয়ার গর্বের শেষ ছিলনা। একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে কেয়া বাবার রুম থেকে বেড়িয়ে এল। রান্নাঘরে মা মাছ ভর্তা করছেন। বড় ভাবী ডাল চেখে দেখছেন। 
মা বললেন-আর একটু অপেক্ষা কর শাঁক হোক। 
নিজের প্লেটে ভাত নিতে নিতে কেয়া বললো- আমার হাতে সময় নেই মা। 
ভাবী বললেন- ফিরতে কি রাত হবে রে?
-কেন বল তো ভাবী? নিউ মার্কেট যাবে নাকি? 
-কি যে বলিস? এমনি রাস্তায় কোথাও ফুচকা খেতাম, সারাদিনে ঐ টুকুই তো বিনোদন। 
-দেখি তবে। চেষ্টা করবো। 
-শোন, তোর ভাই বললো- জাফরের সাথে নাকি কাল দেখা হয়েছে। 
-বাব্বা, জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে বুঝি। 
-তাছাড়া আর কি, একটু সাবধানে থাকিস। 
-আমার আর ক্ষতি করবে? আর কিছু বাকি আছে বলে মনে হয়না। 
-তারপরেও
-আচ্ছা।
বাসা থেকে বেড়িয়ে লেগুনা স্ট্যান্ডের দিকে এগুচ্ছে   কেয়া। ফাঁকা একটা জায়গায় দাড়িয়ে আগে রুবেল ভাইকে কল করা দরকার। প্রথম কল মিস হল। একটু অপেক্ষা করে আবার ফোন দিল কেয়া। 
-হ্যালো রুবেল ভাই। 
-হুম কেয়া, কই তুমি?
-ভাই বাসা থেকে বেরুলাম
-আচ্ছা শোন, প্রথম ক্লায়েন্ট ধানমন্ডির কিন্তু তিনি বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেছে। তুমি কি বাসায় যাবা?
-রুবেল ভাই, বাসায় যাওয়ার ক্লায়েন্ট আমাকে না দেয়ার জন্য বলেছিলাম আপনাকে। এই কদিন আগেই কি কাণ্ডই না হল। এরপরেও কেন ভাই এসব আমাকে দেন।
-আচ্ছা, কেয়া, তুমি তো সবই জান, ভাল ভাল ক্লায়েন্টরা নিজেদের বাসা ফাঁকা থাকলে বাসাতেই সার্ভিস নিতে পছন্দ করে, হোটেলে যেতে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনা , এখন কি করবে বল? 
-লোকটা কেমন? জানেন?
-আগে কখনো আমাদের সার্ভিস নেয়নি, অন লাইনে আমাদের খোঁজ পেয়েছে?
-এ ধরণের ক্লায়েন্ট ঝামেলা করে রুবেল ভাই, প্লিজ আপনি অন্য কাউকে পাঠান, আমি পারবনা। 
-কিন্তু উনি তোমাকে পছন্দ করেছেন?
-তাহলে আপনার ফ্ল্যাটে আসতে বলেন। দেখি কতখানি পছন্দ করে। এই বার দুই নম্বরে কে আছে সেটা বলেন। 
-দুই নম্বরে যে আছে, সে সময় দিয়েছে দুপুরের দিকে,১২ টার পর।
-ওমা, এতক্ষন আমি তাহলে কি করবো?’’
-তুমি চাইলে আমার ফ্ল্যাটে আসতে পারো।
বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরত যাবার উপায় নেই। লেগুনা করে মোহাম্মদপুর সেখান থেকে কলাবাগানের ফ্ল্যাট। কোম্পানিঘাটে আসতেই জাফরকে দেখল কেয়া। আজ যে কেয়াকে এত  নীচে নামতে হয়েছে তার জন্য যাকে দোষ দেয়া যায় সে জাফর। চায়ের কাপ হাতে সিগারেট ফুঁকছে। কেয়াকে দেখে দ্রুত এগিয়ে এল। কেয়া জানে জাফরকে এড়ানোর উপায় নেই। 
-কেমন আছো? জাফর পথ আগলে দাড়িয়ে আছে।
-এই আছি আর কি? রাস্তা থেকে সরে এল কেয়া। জাফর কিছুক্ষণ কথা বলবেই। 
-কই যাও?
-কাজে যাই? 
-ঐ লাইনে এখনও আছো?
-তাছাড়া উপায়?
-ও 
-আমি যাই, আমার হাতে সময় নেই। পা বাড়াতে চাইলো কেয়া। জাফর আবার পথ আগলে দাড়াল। 
-তোমাকে কিছু বলার আছে,কেয়া। 
-পরে সময় পেলে শুনবো,এখন যাই- বলে জাফরকে কাটিয়ে মোড়ের এক লেগুনায় গিয়ে বসল কেয়া। জাফর তাকিয়ে আছে, আজ কেন জানি জাফরকে শান্ত দেখাচ্ছে। শুকিয়ে গেছে অনেক। এক সময়ে তার ভালবাসার মানুষ যার জন্য জীবনের এত ক্ষতি করতেও বাঁধেনি। কিন্তু আজকের জাফর এত শান্ত কেন? জাফর কি বলতে চায়? আচ্ছা, রাগ করে নিজের এত বড় ক্ষতি করে ঠিক করলাম? জাফর যদি আবার ফিরিয়ে নিতে চায় সে পথ নিজেই তো বন্ধ করে রেখেছি। এই প্রথম বারের মত কেয়ার তোলপাড় শুরু হল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/154150/</link>
				<pubDate>Fri, 30 Sep 2022 11:49:51 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>উপন্যাসঃ শারদ বিষুব<br />
পর্ব-১<br />
ঘুম থেকে উঠে গা ঝাড়া দিয়ে চোখ কচলে কল পাড়ে গেল কেয়া। সকাল বেলা মেজাজ খারাপ হল। একটাই টয়লেট &#8211; ভাবী গিয়েছে মনে হয়। বেশি সকালে নারীরা ছাড়া কেউ ওঠে না। সকাল ৮ টার মধ্যেই সবাই বেড়িয়ে যাবে। কামরাঙ্গীড়গীর চরের বাসা, ভাড়া নয় নিজেদের কিন্তু দারিদ্র্য দাঁত চেপে বসে আছে এ বাড়িতে। সকাল বেলা একবার বাড়ির দিকে তাকিয়ে হতাশ হয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-154150"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/154150/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6194ec70abf956b396d0ce447c80407c</guid>
				<title>গল্পঃ অভিশাপ 
 



মোড়ে শুধু একটা চায়ের দোকান , ঠিক মোড়ে নয় বিশ পা এগিয়ে রাস্তার পাশে , দুটি অন্য ছোট দোকান অবশ্য মোড়েই। চায়ের দোকানের সামনে টং পাতা আছে। এলাকার বখাটে ছেলেরা এখানেই আড্ডা দেয়, কলেজের সুন্দরী মেয়েরা এ দিক দিয়েই হাটে।  শরীফ তার দলবল নিয়ে বসে থাকে, এলাকায় যথেষ্ঠ প্রভাব এই বয়সেই, উপরে কাউন্সিলর বাবা আর ব্যবসায়ী বড় ভাইয়ের আশির্বাদে- কলেজে যাওয়া মেয়েদের দিকে কিছু কটূক্তি করার শক্তি সে আর তার দল পেয়েছে। নিজে দারুন হ্যান্ডসাম আর নাম শরীফ হলেও তার কর্মকান্ড এসবের বিপরীত। আর এটা একটা বিনোদন বটে। এলাকায় বদনাম হয়ে গেল, বাবার কাছে যে নালিশ যায়নি তা নয় কিন্তু বাবাধন নিজেও তার বয়সে এমনি ছিলেন। তার ছেলে তার মতই হয়েছে দেখে তিনি মিন মিনিয়ে হাসেন। ফলাফল- নালিশের কোন ফল কেউ কখনো পায়নি। কেউ যে শরিফকে বুঝায় নি তা নয়, মাথায় হাত বুলিয়ে সামাজিক আচরণ শেখায়নি তাও নয়- কি করে যেন এই বখাটেপনাতেই সকল সুখ বলে তার মস্তিষ্কে গেঁথে গেছে। কিন্তু শক্তি কেবল তার চেয়ে বড় শক্তির কাছেই হার মানে কিন্তু শরিফকে রুখবার মত শক্তি অন্তত সে তল্লাটে নেই। তাই সে হল লাগামহীন আর লাগামহীন কোন কিছু সহসাই দুর্ঘটনা বা বিপত্তি আনে ।

একদিন একটি অনাচার আগের সবকিছুকে হার মানালো। কলেজের এক মেয়ের ওড়না ধরে টান দেয়া ছাড়াও বাদানুবাদের এক পর্যায়ে তাকে কষে চড় মেরে বসে শরীফ। মেয়েটি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।

 -শালী আবার কাঁদিস, বেশি ন্যাকামি করবি তো কি হবে কোন আন্দাজ নেই, ভাগ এখান থেকে।

এক নাগারে কেদেই যাচ্ছে মেয়েটা । এতগুলো মানুষ! ১৫-২০ জন তো হবেই, আরো কিছু মানুষ ছুটে আসছে কিন্তু কেউ এগুচ্ছেনা। কলেজের দিকে না গিয়ে নিজের হোস্টেলের দিকে রওনা দিল মেয়েটি। এই গলির রাস্তায় আর যাই হোক এর প্রতিকার নেই। অনেক দিন হলই দেখছে। পিছন থেকে শরীফ আর তার দলের বিশ্রী গালি শুনতে পাচ্ছে আর ভেসে আসছে কুৎসিত হাসির শব্দ। মেয়েটি ফুঁপিয়ে কাঁদছে আর দ্রুত পা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অক্ষম যারা তারা অভিশাপ দেন, আর অভিশাপ ক্ষেত্রবিশেষে কার্যকর হয়। মেয়েটি কি অভিশাপ দিয়েছিল বোঝার উপায় নেই।

কিন্তু দুপুরের পর থেকে শরীর কেমন জমে যাচ্ছে বলে মনে হল শরীফের, কণ্ঠটাও কেমন ফ্যাস ফ্যাস হয়ে আসছে। শাগরেদ বুলেট বলেই দিল

-গুরু, তোমাকে ঠিক সুবিধার মনে হচ্ছেনা, একটু শুকিয়ে যাচ্ছো মনে হচ্ছে আজকাল। গলার ভাষাও কেমন মিন মিন করছে, চোখ কেমন জানি হয়ে আছে, বাসায় যাও। রেস্ট নাও।

অন্যরাও তাতেই মত দিল।

ধুর , বাসায় কি রে? আজ সন্ধ্যায় বুফে তারপর গাঁজা অথবা ইয়াবা না হলে আর লাইফে মাস্তি কি। যা বেশি যত্ন দেখাস না।

গুলশানে বুফেতে কোন রকমে উতরে গেলেও শরীর বেশ অবশ হয়ে এল শরিফের। কেমন জানি হচ্ছে , তোলপাড়। ঠিক বোঝা যাচ্ছে কেমন, এমন বোধ আগে কখনো হয়নি। ইয়াবার আসরে বসে থাকা আর হলনা। সবার কাছেই বোধগম্য- শরিফের কিছু একটা হয়েছে।

দিদার বলে উঠলো-

বাসায় দিয়ে আসি গুরু। ঠিক সামলাতে পারবেনা মনে হচ্ছে।

সবাই এবার জোড় করার সুযোগ পেয়ে গেল।

শরীফ এবার না করলো না

-যাই তবে।

বাসায় এসে নিজের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে গেল শরীফ।

রাতে যখন ঘুম ভাঙ্গল তখন চোখ মেলে তাকিয়ে ঘড়ি দেখল-৩.২০ । চোখ কচলে বিছানায় দম নিয়ে বেশ ফ্রি লাগছে এখন। কিন্তু নিজের বুকের দিকে চোখ যেতেই চমকে উঠল শরীফ। ঠিক দেখছে তো! স্তম্ভিত অবাক হয়ে গা কাঁপতে লাগলো শরীফের । গায়ের কাপ যাচ্ছেনা। ভীষণ সাহসী সে কিন্তু ভয়ে যেন সব জমে গেছে ভিতরটা। গায়ের কাঁপুনি নিয়েই ওয়াশ্ রুমে  গিয়ে নিজের গোপন স্থানের দিকে তাকিয়ে শরীফ অজ্ঞান হবার মত হল- বিশ্বাস হচ্ছেনা কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছেনা। একি সম্ভব! কি হল আমার- কি হল আমার ! আমি মেয়ে হয়ে গেলাম কিভাবে! অবিশ্বাস্য নিজেকে ১৫-২০ মিনিট ধরে আয়নায় দেখলো, বিছানায় টিউব লাইটের নীচে নিজেকে বারংবার পরীক্ষা করলো শরীফ। সে শুধু মেয়ে নয় সুন্দরী একটা মেয়েতে রুপান্তরিত হয়ে গেছে। এক রাতেই চুল নেমে গেছে কোমরের কাছাকাছি। নিজের গলার স্বর খুঁজেই পেলনা , বদলে একটা সুরেলা মেয়েলি গলা চলে এসেছে। অবিশ্বাস্য কিন্তু বিশ্বাস না করে উপায় নেই শরীফের। সম্ভাব্য সব উপায়ে নিজেকে নিরীক্ষা করে নেওয়া শেষ। এখন উপায়? বেশিক্ষণ বাসায় থাকা যাবেনা। পালাতে হবে। সকাল হয়ে গেলে বাসার লোক, এলাকার লোক জানতে পারলে লজ্জার শেষ থাকবেনা। ড্রয়ারে টাকা আছে দেড় লাখের মত- নিজের বাইক কিছুদিন আগে বিক্রি করেছিল, নতুন একটা কেনার জন্য বাবার কাছ থেকে আরো টাকা নেওয়া হয়েছিলো । হাতে সময় নেই, নিজের ব্যাগে কাপড় চোপড় গুছিয়ে নিঃশব্দে ডাইনিং রুম থেকে নীচের গেট খোলার চাবি নিয়ে নীচে নামলো শরীফ। একটা জিন্স প্যান্ট আর শার্ট পড়া ছাড়া আর কোন উপায় পেলনা শরীফ। কিন্তু দেখলো বুক যথেষ্ট উঁচু হয়ে আছে। আপাতত কিছু করার নেই। গেট খুলে নীচে বেড়িয়ে যখন আসলো তখন ৪ঃ ২৫ বাজে। গলিতে আলো আধারি। গলিতে পা রেখেই শরীফ বুঝল সে এখন মেয়ে – এখন প্রতি পদক্ষেপ সাবধানে ফেলতে হবে। নিজের এলাকা দ্রুত ছাড়তে হবে। বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি আসতেই দেখতে পেল দুই চারজন আড্ডা দিচ্ছে । রাস্তা সুনসান । এলাকার সবচেয়ে সাহসী ছেলে কিন্তু মেয়ে হয়ে আর এগুতে চাচ্ছেনা সে। আর কোন সাধারণ মানুষ নেই রাস্তায়। অন্ধকার জায়গায় দাঁড়ালো শরীফ। সাহস করে এখনি যাওয়া ঠিক হবেনা। নারী হয়ে এই প্রথম পুরুষ যে আতঙ্কের বস্তু তা টের পেল শরীফ। একটু সময় না গড়ালেই নয়। গা কেমন ছমছম করছে- এখনো বেশ রাত। কেউ যদি বুঝতে পারে তাহলে আর রক্ষে নেই।  গলা শুকিয়ে এল শরীফের। চার পচান্ন নাগাদ রাস্তার মোড়ে একটা লোকাল বাস এল। ফজরের আযান হয়ে গেছে। সাহস এল এবার । হাটা শুরু করে স্ট্যান্ডে এসে দেখল আরো দুই তিন জন যাত্রী বাসের অপেক্ষায়- সবাই পুরুষ। এত সকালে এক নারীকে দেখে তারা কিভাবে যেন চেয়ে আছে। তাদের চোখ দেখে কেমন সিটিয়ে গেল শরীফ। চোখের ভাষা ঠিক কেমন যেন পশুত্ব আছে। নারী না হলে এই চাহনিতে কি আছে তা জানা যেতনা। কেমন গা গুলিয়ে আসে। ভয় লাগে, ভয় লাগে।  নিজেকে একটু তফাতেই রাখলো শরীফ। কোথায় যাবে বুঝে উঠতে না উঠতেই বাসটি চলে গেল।

একটু পরে একটি আরেকটি লোকাল বাস আসল। যে দুই একজন ছিল তারাও উঠে গেল। 

-আপা আসেন ।

কেমন অসস্ত্বির এই ডাক। সিটে বসে নিজের শরীরের দিকে তাকিয়েও যেন বিশ্বাস করতে পারছেনা- সত্যি সত্যি এ রকম কিছু হয়েছে! বাস মিরপুরের দিকে যাচ্ছে। মিরপুরে কাজ নেই কিন্তু মাথা কাজ করছেনা।

-আপা ভাড়া দেন।

হেল্পারের এমন ডাক যেন শুনতে পায়নি শরীফ।

-ও আপা কি হল – ভাড়া দেন।

এবার চমকে গেল শরীফ। তাকেই যে ডাকছে, একমাত্র সেই তো মেয়ে এই বাসে। নিজেকে কি এত সহজে এই অবিশ্বাস্য ঘটনার সাথে মানিয়ে নেয়া যায়!

মিরপুর দশে যখন নামলো তখন রেস্টুরেন্ট গুলিতে নাশতার ভিড় । কি বাস , কি রাস্তা , কি রেস্টুরেন্ট সব খানেই সে পুরুষের আগ্রহের বস্তু হয়ে গেছে। ওড়না ছাড়া শার্ট জিন্স পড়া মেয়ে দেখে অনেকেই বেশ সময় নিয়ে তাকিয়ে থাকছে। সকালের মচমচে পরাটার চেয়ে এই দৃশ্য কি কম উপভোগের! বেশ রসিয়ে দেখছে সবাই। 

ফাঁকা টেবিল দেখে বসে গেল। ওর্ডার নিয়ে গেল ওয়েটার। শার্টের উপরের বোতাম খুলে গেছে, ওয়েটার তার ফাঁক গলে কি দেখার চেষ্টা করলো কে জানে। শরীফ বোতাম লাগিয়ে দিল। কি করা উচিৎ তাই ভাবতে লাগলো শরীফ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে সে মেয়ে। রাত নামার আগেই সব ব্যবস্থা করে ফেলতে হবে না হলে বিপদে পড়তে হবে। বিপদের কথা চিন্তা করতেই গা শিউড়ে উঠলো শরিফের। এমন চিন্তা কি একটা মেয়ের জীবনভর বয়ে যেতে হয়! সে সব পরে ভাবা যাবে- এখন মেয়েদের কিছু ড্রেস কেনা দরকার, রাতে কোথায় থাকা যায় , টাকা ফুরিয়ে গেলে কি করবে তখন – নানা চিন্তায় মাথা কেমন ঝম ঝম করে এল শরীফের।

নাস্তা করে নিউ মার্কেট যাওয়ার বাস ধরার জন্য দাঁড়ালো শরীফ। মানুষ হুড়মুড় করে উঠছে এখন। বাসে উঠে গেল কিন্তু শরীফ কোন সিট পেলনা। বাসে একটু পরে ভিড় বেড়ে ফেটে পড়ার যোগাড় । আগারগাও আসার পর শরীফ বুঝল কেউ তার শরীরের বিশেষ জায়গায় হাত দিয়েছে। শরীর কেমন হিম হয়ে গেল এই ভীরে । কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছেনা। মাত্র গতরাতেই সে মেয়ে হয়েছে এই পরিস্থিতিতে কি করা উচিৎ তা বুঝে ওঠার আগেই অভ্যাসবশত শরীফ হাত চালিয়ে দিল লোকটির পেট বরাবর।

কাই করে উঠল লোকটি, এই ভিড়েও একটু ভাঁজ হয়ে গেল যেন। আশেপাশের লোক ‘’কি হয়েছে জানতেই চাই’’ দৃষ্টি দিতেই শরীফ বলে উঠল

-এরপর থেকে মেয়েদের গায়ে হাত দেয়ার আগে আমার কথা মনে রাখিস।

বাসে বেশ হট্টগোল হল। পক্ষে বিপক্ষে কথা গড়াতে লাগল এবং গড়িয়ে শরিফের চরিত্রে এসে ঠেকল। আর সামলাতে পারলোনা শরীফ- গলির গালি অভিধান বেশ মুখস্ত ,  অ থেকে চাঁদবিন্দু ছড়ার মত বেরিয়ে এল। বিপক্ষের তেনারা নির্বাক হয়ে একমত হলেন মেয়েটি ‘’ঐ টাইপের’’ অতএব কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।

রেডি মেইড থ্রি পিস কেনার পর মনে হল ব্রা প্যান্টিও তো লাগবে। হায় আল্লাহ, আমার সাথে এ কি করলে? চাঁদনী চকের দুইতলায় বেশ কিছু ব্রা প্যান্টির দোকান। কপাল ভাল এখানে মেয়েরাই বসে। একটু এগুতেই একদম জেঁকে ধরলো এপাশ ওপাশ থেকে।

-আপা আসেন, ভাল ভাল ব্রা আছে।

কানে যে কেমন ঘিন ঘিন করছিল তা শরিফের চিন্তার বাইরে। আগে কিনতো বাঘের খাঁচা আর আজ কিনতে হচ্ছে ব্রা-প্যান্টি।

একটা ব্রায়ের দোকানে ঢুকে গেল। না কিনে উপায় আছে?

সাইজ কত আপু? জিজ্ঞ্যেস করল মেয়ে দোকানী।
এই রে।এখন? নারী হবার সাথে তো সাইজ পালটে এখন কত? মনে মনে কি বলবে ভেবে পেলনা শরীফ। ওদিকে মেয়েটা হা করে তাকিয়ে আছে।
ছত্রিশ মনে হয়। শরীফের মনে পড়ে গেল এই মাপ খুব পপুলার। এটাই হবে হয়ত। 

মনে হয় মানে কি ? সিউর না? 

ইয়ে না না মানে জানিনা, একটু আন্দাজ করে দিন না কিছু একটা।

প্রথমবার কিনছেন নাকি?

জি আপু, প্রথমবার।

বলেন কি আপু, এতদিন কিভাবে ছিলেন?

মনে মনে শরিফ বললো- জাঙ্গিয়া পড়ে, বাঘের খাঁচা। মুখে অবশ্য বললো- ছিলাম আর কি।

আমার মনে হয় আপনার ৩৬ সাইজেই কাজ হবে।

দুই তিন সাইজ বড়ই দিন।

কিন্তু দেখে তো মনে হচ্ছে ৩৬-ই হবে।

হবে না আপু, ক্ষণে ক্ষণে কত কি হয়ে যাচ্ছে, রাত অবধি কি হবে কে জানে, রিস্ক নিয়ে কাজ নেই। 

মেয়েটি কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। মাথামুণ্ডু কিছু যে বোঝেনি তা স্পষ্ট। শরীফ আবার বলল,

বুঝেন নি তাই তো। অনেক কিছু আমি নিজেই বুঝতে পারছিনা। আপনার যা ভাল মনে হয় দিন। 

মেয়েটি মাথা এপাশ ওপাশ নাড়িয়ে ঠোটে হালকা হাসি মেখে বলল,

আচ্ছা আপনি যেহেতু বলছেন আমি ৩৮ দিচ্ছি। প্যাকেট করার সময়ও সেই হাসি লেগে আছে। 

ব্রা প্যান্টি কিনে , শরিফা ভাবল- মেয়ে যখন হয়েছি তবে তো প্যাডও কিনতে হবে। সেটাও কিনতে হল।

মেয়েটি এখনও মিন মিন করে হাসছে। তা সে কি আর জানে কাহিনী কি। নীচে নেমে ফুটপাতের উপর একটা টংয়ের দোকানে কিছু পুরুষের আন্ডারওয়্যার রাখা।একটু থমকে দাড়াল সে।   আর কি পরা হবে- আন্ডার ওয়্যার। চেয়ে থাকতে দেখে দোকানী জিজ্ঞ্যেস করল

আফা কিছু লাগবনি?

না না। ঢোক গিলে হাটা শুরু করল শরীফ। ও জিনিস আর তার জন্য নয়। 

দুপুর পেরিয়েছে। অস্টব্যঞ্জনে খেয়ে নিল শরীফ । মাথায় চিন্তা ঘুরছে- কি করা যায়? রাতে কোথায় থাকবো? খাওয়া শেষ করে নিজের পরিচিত এক মেয়েকে নিজের দুই নম্বর সিম থেকে ফোন দিল শরীফ। দুইবার রিং দিয়ে তাকে পেল শরীফ।

-হ্যালো আপু স্লামুয়ালাইকুম,
-ওয়ালাইকুম আসসালাম, কে বলছেন প্লিজ ?
-আমার নাম শরীফ- -আ , মানে শরিফা। আমি সাততলা এলাকার শরীফ ভাইয়ের পরিচিত। তিনি আপনার কথা বললেন। আপনি যে হোস্টেলে থাকেন সেখানে কি কোন সিট ফাঁকা আছে, শরীফ ভাই বললো আপনি নাকি ম্যানেজ করতে পারবেন।’’
-আমার হোস্টেলে  ফাঁকা নেই তবে সাততলা এলাকায়  আমার বান্ধবীর হোস্টেলে ফাঁকা আছে, , খাওয়া দাওয়া ভাড়া মিলিয়ে ৬ হাজার পরবে, চলবে?
-আপু এখনই ঠিক করুন আমি আজ সন্ধ্যায় আসবো। যদিও নিজের এলাকা এড়াতে চেয়েছিল শরীফা। তবে রিস্ক নেয়া ঠিক নয়।  
-আচ্ছা ঠিক আছে আপু। আমি ওকে জানাচ্ছি।

 সাততলা, মানে নিজের গলি। মেয়ে হয়ে যা সুন্দর হয়েছি , পল্টু বুলেট, দিদারদের সামনে পড়লে রক্ষা নেই কিন্তু উপায়ও নেই? ওদের সামন দিয়ে হেটে যাব কি করে? নিজের সামনে পিছনে তাকিয়ে শরীফার মনে হল- সে নিজেই এখন খাসা মাল।  হায় কপাল! ছেলেদের মাথা ঘুরে যাবার সব যোগাড়যন্ত্র হয়ে আছে।

সাততলার হোস্টেলের মেয়েটার নাম নাদিরা। নাদিরা আপুকে ফোন দিল শরিফা। যেতে বললো। 

সন্ধ্যা সাতটা। বাসে ভিড় গলিয়ে , পুরুষের ছোয়া বাঁচিয়ে বাস থেকে নামা অসম্ভব। ভীড়ে মেয়েদের শরীরের স্পর্শ পাওয়া পুরুষের নাগরিক অধিকার। নারীরা এমন স্বাদ দিতে যেন বাধ্য। তাই আর তেমন কিছু মনে হয়না। বাসের পিছন থেকে আসতে আসতে দুইজন পুরুষ নিতম্ভ স্পর্শ  করেছে। একজন বেশ শক্ত করেই হাত দিয়েছে।  তেড়ে উঠতে যাচ্ছিলো শরিফা, কিন্তু ততক্ষণে বাসের দরজায় থাকা হেল্পার, প্যাসেঞ্জার বেশ হাউকাউ শুরু করে দিল।
-কে নামবে, কে নামবে? আসেনা কেন? ঘুমাইছে নাকি? আরে ধুর ছাইড়া দেন-নামবেনা। 
-এই যে আসছি, ভাই সরেন না একটু, ভাই প্লিজ একটু।
কিন্তু এত সহজে কেউ সরার মাল নয়। যে ভাবে পারছে একটু ঘষা হলেও নিতে চাইছে। কেউ পা এমন ভাবে রেখেছে যাতে একটু হলেও উরুর ঘষা লাগে। যা দেখতে মেয়েটা, একটা ছোট স্পর্শ-আহ। নামতে নামতে শরিফা শুনলো- দেখেছিস সামনে পিছনে কেমন ঠিকরে আছে, মাল একটা। উফ। ড্রাইভারের বকুনির সাথে অবশ্য সেটা মিশে গেল- শালা, তোকে কত বলি মাইয়া চিজ পিছনে নিবিনা। 

নিজের এলাকা কিন্তু আজ সবকিছু আলাদা, অন্যরকম। প্রায় সবাইকেই চেনে। এলাকার ছেলেগুলো কেমন ঝোল্ পড়া  দৃষ্টি দিয়ে চেটে দেখছে। তবে শরিফা ভয়ে আছে পল্টু দিদারদের নিয়ে। ওরা এ বেলায় টং এ বসে আড্ডা দেয়। হাড় কেমন শিড়শিড় করছে -লজ্জায়,উত্তেজনায়। কি যে হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় বাঘ আসার বাগধারা প্রাচীন। সাততলা এলাকায় যাবার মোড়ে এসেই শরিফা দেখলো- তারা আছেন । কিন্তু এই পথ এড়ানোর উপায় নেই, বাঘের ডেরা ঘেষে যেতে বকরীর যে অবস্থা, শরিফারও তাই, সাথে লজ্জা তো আছেই। 

সন্ধ্যার আলোয় রাস্তা বেশ উজ্জ্বল। এমন আলোয় এমন রুপবতী কেউ হেটে আসবে তা পল্টুরা ভুলেও ভাবেনি। সবাই দাঁড়িয়ে গেল- ও মা গো, ও বাবা রে, বলে। এই চিজ কই যায়, এ মাল কে রে ইত্যাদি ইত্যাদি। দুই একটা শরিফার কানেও গেল। ফোনে নাদিরা আপুর সাথে কথা বলছে সে।

- আপনি একটু বাইরে আসেন না আপু। আমি চলে এসেছি। ফোন কেটে দিতেই শরিফা দেখলো তার প্রাক্তন শাগরেদ গ্রুপ তার পিছু নিয়েছে। হার্টবিট বেড়ে গেল। লজ্জা লজ্জা। এদিনও দেখতে হল!

- ও সুন্দরী , নাম কি?

- মন কাইড়া নিলো রে

- এত্তো সুন্দরী ক্যামনে

- সব জ্বলে গেলো রে, ফিউজ হয়ে গেল সব।

দ্রুত পা চালিয়ে মেয়েদের হোস্টেলের সামনে এল শরিফা। নাদিরা মেয়েটা দাঁড়িয়ে ছিল।

এ কে ? সেই মেয়েটা যাকে চড় মেরেছিলাম, সেই মেয়েই তো। হা কপাল।

গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকতে ঢুকতেও শুনলো- আমরা কিন্তু আছি, কিছু লাগলে বইলো টিয়া পাখি।

নাদিরা উপরের সিড়ি মারাতে মারাতে বললো- এখানে থাকার এই এক জ্বালা। এদের সহ্য করতে হয় নিত্য। কপাল ভাল যে এদের কুত্তা লিডারটা আজ নেই। তোমার যা চেহারা, তোমার ভারী বিপদ আছে যদি সেই কুত্তা তোমায় দেখে।

কুত্তাটার নাম কি শরীফ?

হ্যাঁ, তুমি জান কিভাবে?

 শুনেছিলাম আর কি।

একটা জাত কুত্তা, আমাকে এত জ্বালাতো তাই এই একদিন আগে  ক্ষেপে গিয়ে বলেছিলাম এসব তোর মাকে গিয়ে বল। এমন কষে একটা চড় দিল । সারাদিন কেঁদেছি আর মেয়ে জন্ম বলে আল্লাহকে যা তা বলেছি। আমি কেন মেয়ে ঐ কুত্তাটাকে মেয়ে বানালেই তো ভাল হত, বুঝতো মেয়ে হবার কি জ্বালা। এত্ত লজ্জা কাউকে বলিনি সেই কাণ্ড। একা একা কেঁদেছি আর অভিশাপ দিয়েছি। 

হার্ড ব্রেইক দিল শরিফা। সিড়ি ওঠা থামিয়ে হা করে চেয়ে আছে নাদিরার দিকে। ওরে, সমস্ত কিছুর গোড়া তবে এখানে। এমন অভিশাপ কেন দিয়েছিস বইন। তুই আমার মায়ের পেটের বইন- ফিরিয়ে নে তোর অভিশাপ, তুই জানিস না কি হয়েছে, তুই জানিস না। 

কি ব্যাপার হা করে চেয়ে আছো কেন? একদম ছয়তলায় উঠতে হবে। নাও, আসো।

শরিফা পণ করলো নাদিরার পায়ে সরিষার তেল, কেরোসিন তেল পাম অয়েল জোঁকের তেল সব মালিশ করে হলেও অভিশাপ ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু কি করে!

দরজা ঠেলে ভিতরে গেলে শরিফা দেখল দুই তিনটে মেয়ে উঁকি দিয়ে দেখল। নাদিরা ছোট একটা কক্ষে নিয়ে গেল যেখানে শুধু একটা বেড একটা টেবিল কোনমতে পাতানো।

দেখে নাও, তুমি আর আমি থাকব এখানে।

হ্যাঁ আপু পছন্দ হয়েছে।

ওকে, এডভাঞ্চের টাকা দিয়ে দিও আজ, আর তোমার জিনিসপত্র কোথায়?

কাল আনি, এখন জাস্ট শপিং করে আসলাম, আর রাতের বেলা ঐ ছেলেদের সামনে দিয়ে আর যেতে চাচ্ছিনা।

আর বলনা এই কুত্তা গুলোর জন্য জীবন শেষ, থাক দরকার নেই আজ। হাজার হলেও বান্ধবী তোমাকে রেকোমেন্ড করেছে।  ফ্রেশ হয়ে আসো , তোমাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। রাতে সবার সাথে গল্প করে ভালই লাগল শরিফার শুধু সাবধান করে দিল শরিফের গ্যাং সম্পর্কে। ওর নাম আসতেই তো দুই মেয়ে হাত তুলে নগদে মুনাজাত করে দিলঃ আল্লাহ ঐ শুয়োরটা যেন কুত্তা মরা মরে। ঢোক গিললো শরিফা।

পরদিন সকালে উঠে বাইরে যাবার জন্য রেডি হতে লাগলো নাদিরা, দেখে শরিফাও রেডি হতে শুরু করলো।

ওর সামনেই ব্রা পড়তে লাগলো নাদিরা , চট করে বুকের উপর বসিয়ে পিছনে হুক লাগিয়ে দিল। ছেলে হলে এই দৃশ্য দেখে  পরম একটা পুলক আসতো কিন্তু  আজ শুধু আফসোস হচ্ছে। কি লাভ?

নাদিরার ব্রা পড়া দেখে শরিফা ভাবল,আজ অন্তত ব্রা টা পড়তে হবে। বেশ কিছুক্ষণ নিজে থেকে ট্রাই করলো কিন্তু পিছনের হুক লাগাতে গিয়ে হিমশিম খেল। নাদিরা দেখে বললো,
আগে পড়নি নাকি। মিন মিনে হাসি নাদিরার মুখে। লাগিয়ে দিল নাদিরা।



যাবার আগে নাদিরা আবার সতর্ক করে গেল। বখাটেদের এড়িয়ে চলবে। কথার উত্তর দেয়ার দরকার নেই।

ঠিক আছে আপু।

১১ টার দিকে বের হবার জন্য রেডি হল শরিফা। ব্যাগ চাকুরীর বই আর ফটো আইডি না থাকলে যেকোন সময়ে বিপদ হবে। নীলক্ষেতে  নকল ডলার চাইলেও বানিয়ে দেবে- এতই দক্ষ তারা। যাওয়া দরকার।

 মোড়ে এসে বাক নিয়ে টং চায়ের দোকানে চোখ দিতেই তিন সাবেক শাগরেদকে দেখতে পেল শরিফা। আজ আর লজ্জা নেই তবে ঠোটের রেখায় মুচকি একটা হাসি মাখালো শরিফা। কপাল মেনে নেওয়াই ভাল। শরিফাকে দেখে তিড়িং বিড়িং দাঁড়িয়ে গেল দিদার পল্টু আর বুলেট।

টং থেকে একটু ফাঁকা রাস্তা পেতেই একদম গা ঘেষে এসে টিজিং শুরু করে দিল।

- এ রুপের রহস্য কি, একটু নামটা বললে মন ভরে ডাকা যায়, চুলের কি সুবাশ দেখেছিস-দামী শ্যাম্পু। 

চট করে পিছন ফিরলো শরিফা।

দিদার পল্টুরা একদমই প্রস্তুত ছিলো না।

বুলেট বললো- এই এই থাম , থাম তোরা, মনে হয় নাম বলবে, মুখে কুৎসিত হাসি।

বুলেটের দিকে শরিফা বললো- তুই বুলেট , বার্মা থেকে আসা ইয়াবার সাপ্লাই দিস গুলশান মহাখালী এরিয়ায়, সাথে পল্টু থাকে। তোদের নেতা শরীফ গায়েব হবার আগের রাতে তোদের সাথেই আড্ডা দিয়েছিল, তারপর থেকে সে হাওয়া, শরীফ গায়েব হলে কেইস তোদের উপর আসবে। পুলিশ খুঁজছে না পেলে রেডি থাক- এমন রাম কেলানি হবে না। 

এবার দিদারের দিকে নজর দিল শরিফা- এতক্ষণে তিনজনের চেহারা ছাইরঙা হয়ে আছে, পল্টু রীতিমত কাঁপছে, পুলিশে তার বেশ ভয়।

-দিদার, তাই তো? দিদার একবার কোন রকমে ঢোক গিললো কিন্তু কথা মুখে আসছেনা। 
একটা মেশিন বাসায় লুকিয়ে রেখেছিস, ভাবছিস পুলিশ কিছু জানেনা আবার চায়ের টং গুলিতে পুরিয়া দিয়ে রাখিস বিক্রির জন্য। থানায় নিয়ে জায়গা মত এমন শক দেবোনা শালা হিসু করার সময় কান্না করবি জীবনভর। আর যেন তোদের এই এলাকায় না দেখি, আর একবার দেখলে তোদের কেইস আমি নিজের হাতে নেব। তারপর কি হবে তার জন্য সারা জীবন আফসোস করবি। ভাগ শালারা।

শেষের কথা পুরো না শুনেই পল্টু হাওয়া, দিদার দ্রুত হেটে রাস্তা ছেড়ে পাশের এক গলিতে ঢুকে গেল , বুলেট হাফাতে হাফাতে দৌড়ে নিকেতনের দিকে গেল।

কদিন পর মেয়েদের হোস্টেলে  ঈদের আনন্দ। বড় আপু শেফালি সবাইকে ডেকে একাট্টা করলেন,

-জানিস এলাকায় কি খবর ছড়িয়েছে?

সবাই হা করে জানতে চাইলো,

-কি খবর কি খবর?

কুত্তা শরিফের নাকি কোন খোঁজ মিলছেনা, থানা পুলিশও জানেনা কোথায়। জোড় টাকা ঢালা হচ্ছে কিন্তু কোন খবর নেই। আবার কুত্তাটার সাগরেদরাও হাওয়া, কোথায় নাকি ভেগেছে। উফ বাবা এখন আরামে থাকা যাবে।

মেয়েরা হই দিল। আবার মুনাজাত- আল্লাহ ঐ কুত্তা যাতে কুত্তা মরা মরে। সবার এমন হুই গুল গুল খুশি দেখে বিমর্ষ হল শরিফা। কতগুলি মেয়ের জীবন সে অতিষ্ঠ করেছিল! আহা ছেলে থাকার সময় যদি এর বিন্দুমাত্র বুঝতে পারতাম। কতটা মনোকষ্টে মানুষ এরকম বদদোয়া করে। নিজের রুমে এসে আয়নার সামনে দাঁড়াল শরিফা।  সেখানে মুখ রাখল । নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবল- মেয়েদের এত কষ্ট হয়! নাহ, মেয়ে হয়েই থাকবো , আল্লাহর কাছে আর কান্নাকাটি করবোনা ছেলে বানিয়ে দেবার জন্য। দেখি এক জীবনে মেয়েরা কতটা সয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/153958/</link>
				<pubDate>Fri, 30 Sep 2022 02:14:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ অভিশাপ </p>
<p>মোড়ে শুধু একটা চায়ের দোকান , ঠিক মোড়ে নয় বিশ পা এগিয়ে রাস্তার পাশে , দুটি অন্য ছোট দোকান অবশ্য মোড়েই। চায়ের দোকানের সামনে টং পাতা আছে। এলাকার বখাটে ছেলেরা এখানেই আড্ডা দেয়, কলেজের সুন্দরী মেয়েরা এ দিক দিয়েই হাটে।  শরীফ তার দলবল নিয়ে বসে থাকে, এলাকায় যথেষ্ঠ প্রভাব এই বয়সেই, উপরে কাউন্সিলর বাবা আর ব্যবসায়ী বড় ভাইয়ের আশি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-153958"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/153958/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2de8da5bbb50ac2370ca424c7974366f</guid>
				<title>গল্পঃ বদনা 
করাইল বস্তির পাশের এক এলাকার টিনের শেড দেয়া ঘরে থাকে আবিদ। তিতুমীরে ইংরেজিতে পড়ে চাকুরীর জন্য বেশ হন্যে হয়ে ঘুরছে। আজ এক পরিচিত বড় ভাইয়ের অফিসে কম্পিউটার রিলেটেড একটা কাজের জন্য ভাইভা দিতে হবে। কাল রাতে ভাল করে ঘুম হয়নি। সাত সকালেই যেতে হবে। যারা বেকার তারা চাকুরীর ভাইভা দিয়েও মনে সুখ পায়। ভাবে কিছু একটা তো হচ্ছে। মনে আশা জাগে- যদি কিছু হয়ে যায়। বিছানায় শুয়ে মনে হয় যদি চাকুরি হয়ে যায় তাহলে কি কি করা যেতে পারে, কোন সুন্দরী মেয়ের ছবিও যে মাথায় আসে সেটাও স্বাভাবিক। আহ যদি একটা চাকুরী হত- কত মানুষেরই তো হচ্ছে!

নিজের রুম থেকে বেড়িয়ে, টয়লেটে বসে আবিদ দেখলো - পানি নেই। ততক্ষনে আবিদ পোয়েন্ট অফ নো রিটার্নে। ভাবা যায়! রাগে বদনায় একটা কষে আছাড় মারলো আবিদ। বদনায় পানি না থাকা জগতের এক নির্মম পরিস্থিতি। এ মানা যায়না , ভাবা যায়না। অনেক টেপ ঘুরিয়েও কোন ফায়দা হলনা। রাগে টয়লেট থেকে বের হয়ে এল। গেট খুলে একটু পরেই টি এন্ড টি মাঠ।

গুলশানের আলো চোখে আসছে। করাইল বস্তি আর গুলশানের মাঝে শুধু লেইক। ওপাশে আভিজাত্যের আলো আর এপাশে টিমটিমে নিষ্প্রভ আলো। আবিদের মনে হলে- ওদের বদনায় অনেক পানি। কি ভাগ্যবান ওরা। ওদের বদনার পানি কোনদিন ফুরায় না আর এখানে- টেপের মাথা ধরে হাজার ঘুরিয়েও কাজ হয়না। মানিক বাবুকে মনে পড়ে গেল। আজ যদি ওর জায়গায় মানিক বাবু থাকতেন তাহলে লিখতেন- ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্রপল্লীতে কারণ ওদের বদনায় পানি থাকে সব সময়। যেখানে বদনায় পানি থাকেনা সেখানে ঈশ্বর থাকেনা। পরে মনে পড়লো ওরা অনেক আগেই বদনা ব্যবহার করা ছেড়ে দিয়েছে। বদনার মত অত আন্সমার্ট খ্যাঁত জিনিস গুলশানের বাসায় নেই। এমন পরিপাটি জায়গাতেই তো ঈশ্বর থাকবেন তাতে আর অবাক হবার কি আছে।

রাগ কমানোর জন্য এই ভোরের বাতাসেও কাজ হচ্ছেনা। বদনা জনিত চিন্তায় মাথা ভারী হয়ে আসছে। ইংরেজিতে পড়ার এই এক জ্বালা। সব কিছুতেই দর্শন চলে আসে। বদনা দিয়েও মানুষের শ্রেনী বিভাগ করা যায় তা আজ উপলব্ধি করলো আবিদ।

খারাপ কিছু হলেই আজকাল আল্লাহর উপর রাগ পড়ছে। বদনায় পানি নেই – এই রাগও আল্লাহর উপর গিয়েই পড়ছে। তা সব কিছু যদি তোমার ইশারাতেই হয়- তাহলে আজ আমার বদনায় পানি নেই কার ইশারায়? আল্লাহর মহাবিশ্ব পরিকল্পনায় যে আবিদের বদনাও আছে – এটা আবিদকে বেশ বিরক্ত করলো। একটা হাদিসও মনে পরে গেল। যিনি গাছের একটি ছোট পাতাকেও তার পরিকল্পনা থেকে বাদ দেন নি তিনি যে আবিদের বদনাকে ভুলে যাবেন তা ভাবা যায়না।

‘’হা আল্লাহ, কেন এত ছোট ছোট বিষয়েও তোমার এত পরিকল্পনা? ’’ – এমন বিরক্তি নিয়ে মেসের দিকে হাটা দিল আবিদ। টিনের গেট সরিয়ে ভিতরে ঢুকতেই টয়লেটের দিক থেকে পানি ছড় ছড় করে পড়ার শব্দ কানে এল। খুশিতে দৌড় লাগালো আবিদ। বদনা উলটে আছে, পানি পড়ছে টেপ দিয়ে।

&#039;&#039;আল্লাহ তুমি মহান।&#039;&#039;  আবিদ আর দেরি না করে ভিতরে ঢুকল।

আল্লহর উপর রাগ আর নেই। শেইভ করে ক্লিন হয়ে নিজের পোশাক রেডি রাখলো আবিদ।

ময়নার মা আসতেই তাড়া দিল আবিদ। আজ তাড়াতাড়ি করতে হবে সব কিছু, ভাইভা আছে। ময়নার মা কথা কানের তোলার লোক না। পাত্তা দিয়েছে বলে মনে হলনা আবিদের। কি এক জীবন – কেউ পাত্তা দেয়না।

ময়নার মা কিন্তু আগেভাগেই সব রান্না করে ফেললো। আবিদ কে ডেকে বললো- নেন খায়া নেন। আপনি নাকি কই যাইবেন?

রেডি হয়েই ছিলো আবিদ। খেয়েই দৌড় লাগালো ওয়ারলেইস গেটের দিকে। পায়ে হেটেই গুলশানে যাওয়া যায়। আজ লোকাল বাসে চরে প্যান্ট নষ্ট করার কোন মানে হয়না। অফিসের সামনে এসে যখন দাঁড়ালো তখন ৯ টা বাজতে ২০ মিনিট বাকি। বড় ভাইকে ফোন দিল আবিদ। তিনি অফিসের ভিতরে ডাকলেন। যা ঝা চকচকে অফিস। চোখ ধাধিয়ে গেল আবিদের। মেঝে টাইলস আর দেয়ালগুলি দারুনভাবে রঙ করা। তিন তলায় এল আবিদ। বড়ভাইয়ের ডেস্কের কাছে একটি চেয়ার দেয়া হলে আবিদ বসে গেল। আশেপাশে নজর দিতেই দুই তিনটা সুন্দরী মেয়ের দিকে চোখ পড়লো। আহা বস্তিতে এদের দেখা মেলেনা। ভাল জায়গায় চাকুরী করলে শুধু বেতন না- সুন্দর মেয়েও দেখতে পাওয়া যায়। গরীব মানুষ সব সুবিধা থেকেই বঞ্চিত। আর যাই হোক অন্তত সুন্দরী মেয়েদের দেখেও তো একটা সুখ আছে- বস্তিতে থেকে শুধু ময়নার মা ছাড়া আর কিছু দেখার যো নেই। আল্লাহ শুধু বদনায় পানি নয় অনেক দিক থেকেই গরীব মানুষকে বঞ্চিত করেছেন। যাদের টাকা আছে তাদের ঘরেই সব সুন্দরী মেয়ে। অথচ উল্টোটা হলে কি ভালই না হত- অন্তত গরীব বাবারা মেয়ের বিয়েটা দিতে পারতেন। আবিদ দেখলো আবার আল্লাহর উপর রাগ উঠে যাচ্ছে। এ ভাল লক্ষণ নয়- অন্তত ভাইভার আগে আল্লাহর উপর রাগ দেখানো ঠিক হবেনা। বড় ভাই কথা বলায় এক দিক দিয়ে ভালই হল, চিন্তায় ছেদ পড়লো।

&#039;&#039;বুঝলি আবিদ , যে স্যারেরা আজ ভাইভা নিবেন তারা তিনজনই এখন মিটিং এ। আর প্রস্তুতি নিয়েছিস তো? সব প্রশ্ন কিন্তু কম্পিউটার নিয়ে। বেশি কিছুনা- ওয়ার্ড , এক্সেল আর কিছু টুকটাক বিষয়ে জানতে চাইবে।&#039;&#039;  

&#039;&#039;ওয়ারলেস গেটে তো একটা দোকানে তিন চার মাস ধরে এসবই শিখছি, দেখি কি হয়।&#039;&#039; 

সাথী কম্পিটার্স নামে এক দোকানে রশীদ ভাইয়ের কাছে কম্পিউটার শিখছিলো আবিদ। রুবাইদার কথা মনে পড়ে গেল। সেও ওখানে কম্পিউটার শেখে। একই সাথে একই রুমে বসে ওরা। প্রথম যেদিন রুবাইদাকে দেখেছিলো সেদিন ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে ছিলো কিছুক্ষণ। একটু কথাও হয়েছিলো। নাম জানতে চেয়েছিলো। অপরিচিত ভালো লাগার মেয়ে কিছু জানতে চাইলে ভালই লাগে। রাতে সপ্নে মরে যাওয়া নানু এসেছিলো। আবিদ অনৈতিক কিছু করলেই নানু আসেন, জেরা করেন। ছোট বেলায় ধর্মের গল্প নানুর কাছেই শুনতো আবিদ। কেন জানি মরে যাবার পর থেকে আবিদের সপ্নে তিনি আসেন।

&#039;&#039;ওমন ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে ছিলি কেন আজ ? ধর্মে ওভাবে তাকানো নিষেধ জানিস না? আকাশ থেকে নেমে এসে নানু মাটির একটু উপরে ভেসে থাকেন। সেখান থেকেই জেরা করেন নানু। পড়েন সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি।&#039;&#039;

&#039;&#039;আমার বয়স হয়েছে নানু, মেয়েদের দিকে চোখ তো যাবেই।&#039;&#039;

&#039;&#039;ছোটবেলার সব হাদিস তবে গুলে খেলি?&#039;&#039;

&#039;&#039;নানু , আমি রুবাইদার দিকে বিয়ের ন্যিয়তে তাকাই, অন্য কিছুনা। নানুর হাত থেকে বাঁচার এই এক শর্টকাট রাস্তা।&#039;&#039;

&#039;&#039;ঠিক বলছিস তো, ঝোপঝাড়ের কোন মতলব নেইতো?&#039;&#039;

&#039;&#039;কি যে বলনা নানু, তোমার কাছে শোনা হাদিসের গল্পের একটা শক্তি আছেনা? কোন মতলব নেই। তুমি নিশ্চিন্তে আসমানে যাও।&#039;&#039;

নানু মিলিয়ে গিয়েছিলেন। নানুর পক্ষে থাকলে নানু তাড়াতাড়ি জেরা শেষ করেন। আবিদ অনেকবার নানুকে সপ্নে দেখে শেষে এই বুদ্ধিই বের করেছে । নানু তখন জ্বালান না।

দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে ভাইভা শুরু হল। পদ দুটি কিন্তু ত্রিশ জনের মত হাজির। এই জনবহুল দেশে কোথাও শান্তি নেই। ভাইভা দেয়া শেষ করে , বড় ভাইয়ের সাথে দেখা করে মেসে ফিরে গেল আবিদ।

কদিন পর সকাল বেলা পেপার পড়ছিলো আবিদ। বড় ভাইয়ের ফোন এল। একটু উত্তেজনা ছিল আশা তো মানুষের থাকে- ভাইভা তো খারাপ হয়নি।

&#039;&#039;সাবাস , তোকে অভিনন্দন, চাকুরি হয়েছে, অফিসে জয়েন করার জন্য রওনা দিস কাল।&#039;&#039;

এত টুকু শুনে একজন মানুষ কত সুখী হতে পারে তা হয়ত আবিদকে না দেখলে বোঝা যাবেনা। খুশিতে কথাই বলতে পারলোনা কিছুক্ষণ। উল্টো বড় ভাই বললেন-

&#039;&#039;আগে আন্টি কে জানা, দোয়া নে, আর কাল আমাকে ট্রিট দেয়ার টাকা নিয়েই আসিস, না থাক বেতন পেয়ে খাওয়াস ।&#039;&#039;

পরের দিন অফিসে জয়েনিং সাড়া হল। নতুন কলিগদের সাথে গল্প হল সাথে দুই তিনজন সুন্দরী কলিগও ছিল। বেশ ভালই গেল দিন।

রাতে নানু সপ্নে এলেন।

&#039;&#039;কিরে তুই যে রুবাইদাকে বিয়ে করবি বলে সপ্নে দেখতিস তবে আজ অফিসের মেয়েদের ওভাবে দেখলি কেন?&#039;&#039;

&#039;&#039;উফ নানু, মানুষের স্বপ্ন বদলায়। বেকার থাকলে স্বপ্ন এক রকম আর চাকুরী পেলে আরেক রকম। বেকার সময়ের স্বপ্নগুলি সাদাকালো, চাকুরী পেলে রঙ্গিন । রুবাইদা আমার ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট আমলের স্বপ্ন নানু।&#039;&#039;

&#039;&#039;হাদিসগুলি তবে গুলে খেলি রে।&#039;&#039;

&#039;&#039;শোন নানু, রুবাইদাকে আমি এমনকি ভালো লাগার কথাও বলিনি। তাই আমি কোন সমস্যা দেখি না।&#039;&#039;

&#039;&#039;আগে তো ওকে নিয়েই স্বপ্ন দেখতি, চাকুরী পেলে ওকে বিয়ের কথা বলবি এমনটাই তো আমাকে বলেছিলি। নিজের সপ্নের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা মানুষের উচিত নয় রে।&#039;&#039; 

নানু বিষন্ন মনে আসমানে চলে গেলেন। আঠারো হাজার টাকা মাইনে। প্রথম কয়েক দিনের অফিস খুব দুর্দান্ত গেল। কম্পিউটারের কাজের এই এক সুবিধা- জানলে পানি- না জানলে গালে হাত । অভিজ্ঞতা আছে এমন কলিগরা হাতে ধরে শিখিয়ে দিলেন কি কি করতে হবে। খুব সহজ হয়ে গেল প্রথম কদিনেই। অফিসের সুন্দরী কলিগদের দেখে রাতে নানুর বিষন্ন মুখকে পাত্তা দিলোনা আবিদ। একটি সুন্দরী মেয়েকে পেতে হলে নানুর গোমড়ামুখে ওর কিছু যায় আসেনা। কোথায় প্যারিস ট্রয় ধ্বংস করিয়ে ছাড়ল কিন্তু তবু হেলেনকে ছাড়েনি। আর সে কিনা মরে যাওয়া এক নানুকে খুশি করতে যাবে। ধুর ধুর।

সন্ধ্যা হয়ে গেল টিনশেডের মেসে আসতে। আজ পরিকল্পনা আছে ওয়ারলেস গেইটে গিয়ে সাথি কম্পিউটার্সে যাবে। রুবাইদাকে জানানো দরকার – চাকুরী হয়েছে। দারুন লাগবে। কল্পনা করেই সুখ পাচ্ছে আবিদ।

সাথি কম্পিটার্সে পৌছে দেখলো রশীদ ভাই রুবাইদাদের শেখাচ্ছেন। জুতা খুলে রুমে ঢুকতে হয়। দরজা সরিয়ে ওকে দেখতে পেয়ে সবাই রে রে করে উঠলো। রশীদ ভাই বললেন,

&#039;&#039;আরে আবিদ , কয়েকদিন ধরে খবর নাই, রুবাইদা তোমার সম্পর্কে একটু আগেও জিজ্ঞ্যেস করেছিলো।&#039;&#039;

&#039;&#039;খুব ঝামেলায় ছিলাম, দুই এক জায়গায় ইন্টারভিউ দিলাম। তাই এ কদিন আসতে পারিনি।&#039;&#039;

এবার রুবাইদা বললো – &#039;&#039;এ কদিন তাহলে এই কারনে আসেন নি, আমরা ভেবেছিলাম আপনি আর আসবেন না।&#039;&#039;

কেমন জানি ভাল লাগলো । আবিদের মনে কে যেন টিউলিপ ফুলের সুবাস দিয়ে গেল। অফিসের সুন্দরী মেয়েদের কথা মনেই আসছেনা। উলটো মন খুশি হয়েছে শ্যামলা রঙের রুবাইদার এই এতটুকু কথাতে। মন আসলেই হারামি। 

&#039;&#039;না জাস্ট একটু বিজি ছিলাম আরকি। কেমন ছিলে তোমরা?&#039;&#039;  

মুসকানও হাসি মুখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।

&#039;&#039;আমরা ভাল আছি ভাইয়া, আপনি কেমন আছেন?&#039;&#039;  বললো মুসকান।

আমাদের আর ভাল, আমাদের বদনায় পানি থাকেনা ভাল থাকি কি করে এমন কিছু বলবে বলে মাথায় এল। সামলে নিল আবিদ। মাথাটা আর ঠিক নেই বলে মনে হচ্ছে। কবে যে এই বদনা সংক্রান্ত কারনে বিপদে পড়ে ঠিক নেই।

&#039;&#039;ভাল আছি মুসকান।&#039;&#039;

কিন্তু চাকুরী পাবার মত এত বড় একটা বিষয় কি করে বলা যায়! 

&#039;&#039;রশীদ ভাই, আজ ক্লাশের পর আপনি, মুসকান আর রুবাইদাকে ঘরোয়ার খিচুড়ি খাওয়াতে চাচ্ছি।&#039;&#039;

মুসকান চেয়ার আবার ঘুরিয়ে নিয়ে বললো – &#039;&#039;কি ব্যাপার ভাইয়া, আপনি মনে হয় চাকুরী পেয়েছেন, তাই না?&#039;&#039;

রুবাইদা আর রশীদ ভাইও সে রকম কথাই বলে দিল- কিছু একটা তো হয়েছে।

&#039;&#039;তা আমি আপনাদের ঘরোয়াতে বসেই বলি।&#039;&#039;

রুবাইদা এবার রশীদ ভাইকে বললো,

&#039;&#039;রশীদ ভাই, আজ আর ক্লাশ হবেনা, আর খিচুরির চেয়েও জানতে ইচ্ছে করছে আবিদ ভাইয়ার আসলে কিছু হয়েছে কিনা, চলেন আর দেরি নয়।&#039;&#039;

&#039;&#039;আরে সবে তো আটটা বাজে, এখন ক্ষুধা নেই। একটু পরেই যাই।&#039;&#039;

&#039;&#039;না রশীদ ভাই, এক্ষণই ।&#039;&#039; মুসকানকে উঠতে বলে দিল রুবাইদা।

রুবাইদার এমন উত্তেজনা খুব ভাল লাগলো আবিদের। কেন জানি মেয়েটাকে আজ আরো ভাল লাগছে। অফিসের কারো কথা মনে আসছেনা। কারো না। বরং এই শ্যামলা মেয়েটার হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে মন চাচ্ছে- খুব চাচ্ছে।

রশীদ ভাইও রাজি হলেন পাশের রুমের ছাত্রদের বলে দিলেন ।

রাস্তার ওপাশে ঘরোয়া। চারজনে বসে গেল। ওপাশে রুবাইদা আর মুসকান। রাতে খিচুড়ি নেই আজ। শিক কাবাব খাওয়ার ফরমায়েশ হল। 

রশীদ ভাই বললেন,&#039;&#039;এবার বলতো ভাই, কেইস টা কি?&#039;&#039;

মুসকান রুবাইদাও বেশ আগ্রহভরে তাকিয়ে আছে। আজকের মুল বক্তব্য শোনার জন্য সবাই উদগ্রীব।

&#039;&#039;রশীদ ভাই, আমার একটা চাকুরী হয়েছে।&#039;&#039;

এতটুকু শুনেই মুসকান ওয়াও ওয়াও করে উঠলো। রুবাইদা বললো- &#039;&#039;আগেই জানতাম এমন কিছু হয়েছে।&#039;&#039; রশীদ ভাই পিঠ চাপড়ে দিলেন। জানতে চাইলেন কোথায় আর স্যালারি কত।

নিজের কোম্পানির কথা জানালো আবিদ, স্যালারি নিয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিলো এমন সময় রুবাইদা বললো,&#039;&#039;স্যালারি শুনে কাজ নেই, চাকুরী পেয়েছেন এটাই খুশির খবর।&#039;&#039;

রশীদ ভাইও সায় দিল।

&#039;&#039;ঠিক বলেছো, রুবাইদা। আমার মনে ছিলোনা।&#039;&#039;

কাবাব এলে অন্য কথার ফাকে মুসকানই কথা তুললো।

&#039;&#039;ভাইয়া, এবার কিন্তু বিয়ে করে ফেলতে পারেন।&#039;&#039;

রশীদ ভাই, রুবাইদা হই দিয়ে উঠলো। 

রুবাইদা বললো,&#039;&#039;আর কোন অজুহাত নয়, বিয়ে করতে হবে আর আমরা যেন দাওয়াত পাই, গাইবান্ধা গিয়ে দাওয়াত খেয়ে আসবো।&#039;&#039;

এই শ্যামলা মেয়েকে কেন এত ভাল লাগে ওর! মেয়েটি কি  কিছু বুঝেনা!

রশীদ ভাই বললো, &#039;&#039;কি কোন মেয়ে হাতে আছে, নাকি দেখতে হবে?&#039;&#039;

&#039;&#039;না ভাই, দেখতেই হবে।&#039;&#039;

মুসকান বেশ আগ্রহ নিয়ে বললো,

&#039;&#039;কোন চিন্তা করবেন না, আমি আছি। কেমন মেয়ে লাগবে বলেন শুধু। উত্তরবঙ্গের লাগবে নাকি যে কোন জায়গার, তিতুমীরে সব আছে। ম্যানেজ করে ফেলবো।&#039;&#039;

এমন কথায় রুবাইদাকেও বেশ উতসাহী দেখালো। খাওয়া শেষ করে আড্ডা দিয়ে ওরা যখন উঠলো তখন প্রায় দশটার কাছাকাছি। রশীদ ভাই দোকানে গেলেন আর আবিদ রুবাইদাদের এগিয়ে দেয়ার জন্য ব্যাঙ্ক এশিয়ার সামনে এল। এখানেই গলির এক বাসায় রুবাইদা মুসকান একসাথে থাকে। এশিয়ার সামনে এসে মুসকানকে আলাদা করে সিঁড়ির কাছে নিয়ে গেল।

&#039;&#039;মুসকান তোমার সাথে কথা আছে।&#039;&#039;

&#039;&#039;কি ব্যাপার ভাইয়া? কি কথা?&#039;&#039;

&#039;&#039;তুমি না ম্যাচমেকার, কেমন মেয়ে লাগবে সেটা নিয়েই কথা আছে।&#039;&#039;

রুবাইদা বেশ কড়া গলায় বললো,

&#039;&#039;তাহলে আমি কেন শুনবোনা?&#039;&#039;

&#039;&#039;মুসকান একাই পারবে আর তুমি পারলে পরে ওকে হেল্প করে দিও।&#039;&#039;

&#039;&#039;রাগ করলাম কিন্তু ।&#039;&#039;

&#039;&#039;উপায় নেই শুধু মুসকানকেই বলতে হবে।&#039;&#039;

ব্যাঙ্ক এশিয়ার সিঁড়িতে একপাশে দাঁড়ালো আবিদ আর মুসকান। কিছু দূরে এক চায়ের দোকানের কাছে রুবাইদা পায়চারী করছে। একটু হলেও বিষন্ন সে।

&#039;&#039;কি ব্যাপার বলুন তো ভাইয়া? &#039;&#039;

নিজের ভাল লাগার কথা বলতে অনেক সাহসী পুরুষেরও বুকে কম্পন হয়। কেমন জানি জড়তা আসে কিন্তু তবুও না বলে আর উপায় কি!

&#039;&#039;&#039;আচ্ছা, রুবাইদার কি কোন পছন্দ আছে? তুমি কি কিছু জানো?&#039;&#039;

নিয়ন আলোয় মুসকানের মুখ বেশ হাসি হাসি হয়ে উঠলো,

&#039;&#039;ভা-ই-ইয়া কি ব্যাপার , মানে কি তবে রুবাইদা আপু , ঠিক তো?&#039;&#039;

বুক ঢিপ ঢিপ করছিলো আবিদের।

&#039;&#039;যদি কোন পছন্দ না থাকে আর কি।&#039;&#039;

ওয়াহ ওয়াহ করে নাচতে নাচতে রুবাইদার দিকে হাটা দিলো মুসকান।

&#039;&#039;এই এখনি কিছু বলোনা কিন্তু।&#039;&#039;

&#039;&#039;ইশ ভাইয়া এসব কথা না বলে আমি থাকতে পারিনা, এক্ষণই বলবো।&#039;&#039;



আবিদ দেখলো এখানে দাঁড়ানো আর সুবিধার নয়, বেশ লজ্জা লাগছে।

রাস্তা পেরিয়ে তিতূমীরের গেটের সামনে থেকে ওপাশে তাকাতেও রুবাইদা আর মুসকানকে রাস্তার দিকে আসতে দেখলো।

&#039;&#039;দাড়াতে হবে, যাওয়া যাবেনা। বেশ জোড়ে বললো রুবাইদা।&#039;&#039;

লজ্জায় পালানো ভাল কিন্তু আর গেল কই। দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে আবিদের সামনে দাঁড়ালো রুবাইদা। কোন ছেলে তাকে ভালবাসে এটা জানতে পারলে মেয়েরা এক ধরনের অধিকার পেয়ে যায়। 

&#039;&#039;পালাচ্ছিলেন কেন?&#039;&#039;

&#039;&#039;লজ্জা লাগছে তাই ।&#039;&#039;

&#039;&#039;বিয়ের দিন কি মুখে রুমাল লাগবে?&#039;&#039;

লজ্জায় অন্যদিকেই তাকালো আবিদ, মুসকান হেসেই যাচ্ছে।

&#039;&#039;আচ্ছা আর লজ্জা পেতে হবেনা, কাল আসলেই হবে।&#039;&#039;

লজ্জায় কিংবা স্বর্গীয় আনন্দে অথবা দুটোর কারনেই আবিদ বিদায় নিলো। মাঝে মাঝে পিছু তাকিয়েছে - রুবাইদা দাঁড়িয়ে আছে।

জীবনে মাঝে মাঝে বড় সমস্যার সমাধান অনেক সহজে মেলে। এই রুবাইদাকে পাওয়া কিছুদিন আগেও কল্পনাতেও সেভাবে ছিলোনা- এখন খুব সত্যি।

হৃদয়ে বেশ বুদ্বুদ উঠেছে আজ রাতে , ঘুম এল দেরীতে আর শেষ রাতে আসমান থেকে অবতরণ করলেন নানু। আজ তাকে বেশ সুখী দেখাচ্ছে। হাতে মিষ্টির প্যাকেট, একাই খাচ্ছেন তিনি।

&#039;&#039;খুব ভাল একটা কাজ করেছিস বুঝলি। আমি জানতুম তুই এমন কিছুই করবি।&#039;&#039;

&#039;&#039;দেখ নানু , জীবনে যদি কখনো সুন্দরী মেয়ে বিয়ে না করার জন্য আফসোস হয়, তাহলে কিন্তু তোমায় শাপ-শাপন্ত করবো।&#039;&#039;

&#039;&#039;বাদ দে দেখি, সুন্দরী মেয়ে রাজমুকুটের মত বুঝলি , অনেকেই মাথায় নিতে চায় কিন্তু মাথায় পরে শান্তিতে কেউ থাকেনা, রাজ্যের চিন্তা ভীড় করে। রুবাইদাই ভাল, দোয়া করে দিলাম- সুখে থাকবি। জানসই তো – চেহরে নে লাখো কো লুটা।&#039;&#039;

&#039;&#039;বলছো ?&#039;&#039;

&#039;&#039;তো আর  বলছি কি ?&#039;&#039;

&#039;&#039;তুমি দেখি মিষ্টি একাই খাচ্ছো, আমাকে দেবেনা?&#039;&#039;

&#039;&#039;ধুর, এ পরকালের মিষ্টি, তোদের জন্য হারাম। তোকে আর জ্বালাতে আসবনা। এখন রুবাইদাই তোকে লাইনে রাখবে।&#039;&#039;

নানু আসমানে উড়ে গেলেন।

ভোর রাতে উঠে আবিদ দেখলো আজ আবার পানি নেই। সেদিনের পর শিক্ষা হয়েছে, আজ টেপ আগে চালু করে দেখেছে- পানি আছে কি নেই। গেইট খুলে গুলশানের দিকে দৃষ্টি দিলো আবিদ। আজ আর আল্লাহর উপর রাগ আসছেনা। এই ঢাকা শহরে ভোরের আলো আসবে একটু পরেই, এই সময়ে পৃথিবীর অল্প কয়েকজন সুখী মানুষের মধ্যে আবিদ একজন। তার চিন্তায় শুধুই রুবাইদা আর ছোট একটা সংসার-বদনায় পানি নেই তো কি হইছে। না থাকুক।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/153040/</link>
				<pubDate>Wed, 28 Sep 2022 13:54:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ বদনা<br />
করাইল বস্তির পাশের এক এলাকার টিনের শেড দেয়া ঘরে থাকে আবিদ। তিতুমীরে ইংরেজিতে পড়ে চাকুরীর জন্য বেশ হন্যে হয়ে ঘুরছে। আজ এক পরিচিত বড় ভাইয়ের অফিসে কম্পিউটার রিলেটেড একটা কাজের জন্য ভাইভা দিতে হবে। কাল রাতে ভাল করে ঘুম হয়নি। সাত সকালেই যেতে হবে। যারা বেকার তারা চাকুরীর ভাইভা দিয়েও মনে সুখ পায়। ভাবে কিছু একটা তো হচ্ছে। মনে আশা জাগে- যদি কি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-153040"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/153040/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9d0e625753b29931abb300ff633bc5e8</guid>
				<title>গল্পঃ দূর পৃথিবীর সপ্নে
 

“জ্বরে যে গা পুড়ে যাচ্ছে, খালা ,” কলির মাথার উপর ভেজা রুমাল চেপে দিতে দিতে বললো সুলতানা।

“শালাটাকে বলেছিলাম,মেয়েটার ঠান্ডার সমস্যা আছে , ফ্যান জোরে চালাবি না,” গজ গজ করতে করতে রুমালি এসে কলির পাশে বসল।

“কলি,কেমন লাগছে রে এখন?&#039;&#039; 

“একই রকম খালা, শরীর আরো দুর্বল মনে হয়। নিশ্বাসে পেট ভরে যাচ্ছে, একদম খালি, কিছু নেই যেন”।

“খেতেও তো পারছিস না কিছু”।

“মুখটা তেতো হয়ে আছে, মুখে কিছু দিলে সব গুলিয়ে আসে”।

ছোট জেলা শহরের স্টেশনের পাশেই পতিতাপল্লী। ছোট গাদাগাদি করে তোলা বাঁশের কয়েকটি ঘর মাত্র। ঘরের কোন জানালা নেই, শুধু দরজা। দরজার দিয়ে ঢুকেই পাটি বিছানো খোলা স্থান, যেখানে ৬ জন মেয়ে রাতে ঘুমায় আর ডানে বামে ও সামনে দুটি করে খুপড়ি ঘর যেখানে খদ্দেররা এসে পুণ্য কামাই করে!  কলির মা এদিকে বিশেষ আসেন না। পাঁচ ছয়টা মেয়ে নিয়ে তিনি অন্যধারে । মেয়ের সামনা সামনি তিনি হতে চাননা তেমন।

পুরনো ফ্যানে তেমন বাতাস নেই, গুমোট আর স্যাঁতসেঁতে হওয়ায় কলি বিশেষ আরাম পাচ্ছেনা, শুধু মনে হচ্ছে রেল লাইনে গিয়ে একটু বাতাস খেতে পারলে ভাল হত, কিন্তু রুমালি খালার নিষেধ আছে।

মাথা টিপে দেওয়ায় বেশ আরাম পাচ্ছে কলি, চোখ খুলে রুমালির দিকে তাকিয়ে খুব ক্ষীণ স্বরে বললো,

&quot;আচ্ছা রুমালি খালা, আমার তো অনেক পাপ, আমি মরে গেলে কি দোযখে যাব?&quot;

&quot;তোর আবার পাপ কি রে? পাপ করার বয়স কি তোর হয়েছে? সবে আঠারো উনিশ। তুই তো এখানে এসেছিস তোর কপাল খারাপ সেই জন্য।&quot;

&quot;রুমালি খালা , আমার কপাল খারাপ কেন? কপাল খারাপ হবার মত কি এমন করেছিলাম জন্মের আগে? কি দোষে আমার এই জীবন, খালা?&quot;

অসুস্থ শরীর কিন্তু কলির গাল বেয়ে জল গড়িয়ে বিছানার চাদরে মিশে গেল।

রুমালি নিজেরও এই প্রশ্ন ছিল, নিজের বয়সে সে নিজেও সৃষ্টিকর্তার সাথে অভিমান করে অশ্রু বিসর্জন দিয়েছে। এই অভিমান তার খুব চেনা। বয়সের সাথে সাথে এই অভিমান শুধু দীর্ঘ নিঃশ্বাসে রুপ নেবে। রুমালির কেন জানি মনে হয় তার দীর্ঘ নিঃশ্বাস খোদার আরশ পর্যন্ত যায়। অভিমান করে করে একদিন কলিও ক্লান্ত হবে। 

&quot;কাঁদিস না এত, আল্লাহ কেন তোকে এখানে পাঠিয়েছে সে আমি কি করে বলি বল , সে তুই আল্লাহকে হাশরের মাঠে জিজ্ঞ্যেস করিস।&quot;

“মারা গেলেই মনে হয় বেঁচে যাব” বলে ফ্যানের দিকে তাকালো কলি। ফ্যানের ময়লা ধরা ব্লেডে কিছু নেই কিন্তু কলির দুনিয়ায় ফ্যান, ছেড়া পলিথিন আর পুরনো পেপারে ঠেসানো বাঁশের বেড়া দেওয়া ছোট এই খুপড়ি, বেড়ার ওপাশে প্যাতপেতে কাঁদার সোঁদা গন্ধ আর ভিতরে পুরুষের তরল নির্যাসের পুতিগন্ধ মিলিয়ে এই খুপড়িগুলির বমিভাব পরিবেশ – এর বাইরে আর কিছু নেই। তাই শুধু অসুখ নয়, সুখ খুঁজতেও এখানে চোখ বন্ধ করে থাকাই ভাল।

রুমালি জানে মেয়েটা ভীষণ ভাবুক। এ জীবন মেনে নিতেই পারছেনা। পারার কথা নয়। সময় এ জীবন ভাসিয়ে নেয়, তাই ভেসে যাওয়া না শেখাটা এখানে মানায় না। কিন্তু কেন জানি রুমালির মনে হয় এই মেয়ে মেনে নিতে পারবেনা। উঠে যাবার আগে আরো কয়েকবার কলির মাথায় হাত বুলিয়ে দিল রুমালি।

বান্ধবীর মেয়ে বলে কলি আলাদা আদর পায় তা অন্য মেয়েরাও জানে। কলি দেখতে সুশ্রী কিন্তু সবার ঐ এক অভিযোগ - হাড্ডিসার,প্যাকাটে।

কলি চোখ বন্ধ করে আছে আর পাশের সদর রুমে থাকা রুমালি খালার কথা মন দিয়ে শুনছে।

&quot;হারামজাদা কুত্তা, মেয়েটার জ্বর বাধিয়ে গেল আবার যাওয়ার সময় বলে কিনা- হাড্ডি খালি হাড্ডি, ধইরা মজা নাই, একটু খাওয়াও । কুত্তা গুলা এসে আগে কলিরেই খোঁজে আর যাওয়ার সময় বলে -হাড্ডি। কুত্তার কুত্তা।&quot;

কলির আর শুনতে ভাল লাগছেনা। মন চাচ্ছে রেল লাইনের ব্রিজে উঠে আইসক্রিম হাতে নিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত তাকিয়ে থাকি। মানুষ দেখতেও ভাল লাগে। ট্রেনে কে কোথায় চলে যায়। আহা, আপন জনের কাছে যাওয়া মনে হয় অনেক আনন্দের আর আমার কপাল দেখ আমার বাবা আমার মায়ের কোন খদ্দের তা মা নিজেই জানেনা। নিজের দুর্ভাগ্যের জন্য মাঝে মাঝে হাসি পায় কলির।

স্টেশনে মা বাবার কোলে শিশুদের দেখেও বুক কেমন করে কলির। বাচ্চাদের তাদের মা বাবারা কি সুন্দর আদর করে। এ জনমে, কে বাবা তাই জানা হলনা, আদর তো বহুদুর। হয়তো বোকামি কিন্তু তবু কলির স্বপ্ন একদিন তারও সন্তান থাকবে, একটা সংসার থাকবে।

কপালের হাতের স্পর্শ পেল কলি। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলো রুমালি খালা।

“তোর মা, আপেল আঙ্গুর পাঠিয়েছে। “ বলে পলিথিনের একটা ব্যাগ পাশে রাখল রুমালি ।

কলির আগ্রহ নেই, নিরাসক্ত দৃষ্টি আটকে থাকা ফ্যানের ব্লেডের ময়লায় বদ্ধ। বিদ্যুৎ খুব একটা থাকেনা দিনের বেলায়, গুমোট ঘর গুলিয়ে ওঠে। দিনের বেলায় খদ্দেররা আসেনা। ছোট শহর তাই সবাই সবাইকে চেনে , কেউ রিস্ক নেয়না ।

কলির চুলে হাত বুলিয়ে রুমালি বললো,“তোর কি শফিককে মনে পড়ছে, না?”

চোখের নীচে কেমন শিরশির করে উঠল, জ্বরের সময় কান্না পেলে সমস্ত অধর কেমন কেঁপে ওঠে।

“থাক অত মনে করিস না, আমাদের কারো জন্যে কাঁদা নিষেধ, তোকে কত বললাম, কেন যে ছাই বলতে গেলি।“ 

“কি করব খালা, এখান থেকে চলে যেতে মন চায়। কোথায় যাব কার কাছে যাব এমন ভাবনা এলে তার কথাই মনে আসে। কি ভদ্র একটা ছেলে, কেন যে এখানে আসে তাই বুঝিনা, আমাকে মনের সব কিছু খুলে বলতো, এমনও হয়েছে সারা রাত গল্প করতো, তোমাকে টাকা দিয়ে যেত কিন্তু আমাকে ছুয়েও দেখেনি। তুমিই তো বল খালা, আমার কি এমন বয়স, আমি কি মনের অত হিসাব বুঝি, আমি স্বপ্ন দেখি আর সপ্নে সে আসে, তাই তাকে বলেছিলাম, ভেবেছিলাম সে বুঝি আমাকে কিন্তু তাই কি হয় । জবাবও পেয়েছি হাতেনাতে।“

“খুব কষ্ট পাওয়ার মত কথা বলেছিল না রে?”

“তার আর কি দোষ, আমিই না ভুলে যাই আমি কে।“

“তোকে আর আমিই বা কি বলি,  তোর বয়সে আমারও দু একজন কে দেখে এমন মনে হয়েছিল। কষ্ট পাবি কিন্তু আস্তে আস্তে মেনে নিবি, নেয়া শিখে যাবি। তখন মাঝে মাঝে আফসোস হয়তো হবে কিন্তু কষ্ট পাবিনা।“

“মেনে নেয়া না হয় শিখলাম কিন্তু কিসের জন্য বেঁচে থাকবো, খালা? কি স্বপ্ন দেখবো? শুধু একটা জীবন পেয়েছি বলেই কি টেনে যাব? যে জীবনে এত লজ্জা, এত অপমান, কোন স্বপ্ন নাই সে জীবন কেন টেনে যাব, খালা?”

‘’স্বপ্ন সংসার সবার জন্য নয়, আমাদের জন্য তো নয়ই । কেন যে এসব ভেবে নিজের যন্ত্রণা বাড়াস, বুঝিনা আমি, এতটুকু মেয়ে এত ভাবিস কেন তুই?’’

“এসব যদি আমার জন্য নাই হয় তবে আমার জীবন দিয়ে কাজ কি? শুধু তিন বেলা খাব বলে দিনে নয় দশবার কাপড় খুলে নিজেকে অপমান করে বেঁচে থাকা কি জীবন, খালা?”

একটু দমে গেল রুমালি। সে নিজেই জীবন নিয়ে বেঁচে আছে কেন? জীবনে তো কিছুই নেই, শুধু আজরাইলের অপেক্ষায় আছে কবে ডাক পড়ে। একটা জীবন শুধু মরণের পথ চেয়ে কেটে গেল! দিন সে নিজেও গোনে, কবে শেষ হবে নরকের জীবন!

“তোর শক্ত কথার জবাব আমার কাছে নেই। তবে কি জানিস নিজেকে শেষ করে দেওয়া অনেক সাহসের কাজ। আমার অত সাহস নেই, তাই আজরাইলের আশায় বসে আছি। আমার এখানে খদ্দেররা আসে দেখে হয়তো আজরাইলের এখানে আসতে রুচিতে বাঁধে”, বলে হাসতে লাগলো রুমালি।

এ হাসির মানে জানে কলি, জীবন রহস্য নিয়ে ভাবতে গেলে ক্বচিৎ সৃষ্টিকর্তাকে কটাক্ষ করে আনমনে নিজেও এই হাসি হাসে কলি।

“আচ্ছা তুই ভাল হ, আমার যা টাকা আছে, তোকে ঢাকায় পাঠাবো। ওখানে গিয়ে কারো গলায় ঝুলে যাস, এ দিকে আর আসিস না। আমার এক জীবন চলেই গিয়েছে, যে টাকা আছে সে টাকা কাকে দিয়ে যাব, আপন কেউ তো নেই। তোকেই যখন আপন মনে হয় তাহলে অন্তত তুই বাঁচ”।

রুমালির খালার দিকে ভাল করে তাকিয়ে কলি বুঝল রুমালি খালা সত্যিই চান কলি এখান থেকে যাক। রুমালি খালার চোখ খুব চেনে কলি, যেন অন্তত কলিকে মুক্তি দিতে পারলে তার জীবনে কিছু একটা অর্জিত হয়েছে বলে মনে হবে।

“কিন্তু আমার অতীত যে আমার সাথে ছায়া হয়ে হাঁটবে। শান্তি কি পাব খালা? এ পাপ আমি ঢাকবো কিসে?”

রুমালির দিকে এমন শুষ্ক দৃষ্টিতে কলি তাকিয়ে আছে যেন এই উত্তর কলির খুব দরকার। রুমালি জানে এ লাইনের মেয়েদের কাছে এ এক ধাঁধা - সাধারণ জীবনে মিশে যাবার জন্য দু চোখে তীব্র স্বপ্ন আছে, কিন্তু যখন ডাক পড়ে তখন পা নড়ে না। এখন মেয়েটিকে পিছন থেকে ধাক্কা না দিলে পা ফেলার বল পাবেনা।

“শোন,সবার যেমন দেখানোর জন্য একটা মুখ আছে, তেমনই একটা মুখোশও আছে । যেখানে যেটা দরকার হয় মানুষ সেখানে সেটাই ব্যবহার করে। তুই মুখোশ পড়লে সমস্যা কি? আর এ জীবন তো আর তোর বেছে নেওয়া নয় যে পাপটা তোর। তুই আমার চোখে নিষ্পাপ। আর পাপ যদি মনেই করিস তবে বলি, ঢাকা অনেক বড় শহর, বড় শহর বড় বড় পাপ এমনভাবে গিলে ফেলে যে কেউ টেরও পায়না। তোরটাও ঢাকা শহর লুকিয়ে ফেলবে, তুই চিন্তা করিস না।’’

মন কেমন দুলে উঠল কলির। খুব আনন্দ হচ্ছে। খুব কষ্ট হলেও উঠে বসে রুমালি খালাকে জড়িয়ে কলি কাঁদল । আহ, এ রকম একটা দিনের অপেক্ষায় সে কতদিন ধরে- অবশেষে…

কলিকে জড়িয়ে রুমালির মনে হল শুধু এই একটি কারণেই হয়তো এতদিন বেঁচে থাকা। না হলে কলির মুক্তিতে তার কেন এত আনন্দ হবে? এত দিনের জন্মক্লেশ এই এক সিদ্ধান্তেই যেন সে সব ভুলে গেল। অন্তত একটা মেয়ে বাঁচুক ।

“ব্যস তুই আর কাঁদিস না, এখল আপেল আঙ্গুর খেয়ে সুস্থ হ। আমি সব ব্যবস্থা করে রাখছি। তুই সুস্থ তো ঢাকার টিকিট রেডি।“

রাত গড়িয়ে মাঝ রাতে আসতেই মনের সুখের সাথে শরীরের অসুখ পাল্লা দিয়ে শরীর আরো কাবু করে দিল। হাড্ডিসার মেয়ে কিছুতেই সুবিধা করতে পারছেনা। দ্রুত অবনতি হতে লাগলো হঠাত করে। রেল স্টেশনের সামনে থেকে একটা ভ্যানে করে যখন রুমালি, কলির মা আর রুমকিরা সদর হাসপাতালের দিকে রওয়ানা হল তখন অতি ক্ষীণ স্বরে কলি শুধু একটা কথাই বলেছে - ‘’খালা, আমি বাঁচতে চাই,শুধু একবার মানুষের মত করে বাঁচতে চাই।’’

হাসপাতালে গিয়ে স্যালাইন দেওয়া হলে যখন রুমালিরা ভাবছে এখন উন্নতি আশা করা যায়। সেই মুহুর্তেই, স্যালাইনের কাজ শুরুর আগেই আজরাইল তার কাজ শেষ করে গেলেন। আজরাইলের হাতযশ, এত নিখুঁত যে কেউ বুঝেই উঠতে পারলনা কিছুক্ষণের জন্য।

কলির মা, রুমকি সুলতানারা যখন হাউমাউ করে কাঁদছে, তখন রুমালি কাঁদতেও পারছেনা। শোকের চেয়ে সে অবাক হয়েছে বেশি। যার মরা দরকার সে মরেনা, যে বাঁচতে চাইলো তারই কিনা ডাক পড়লো! ঝিম ধরা মাথা আর বিস্মিতচিত্তে বারান্দায় দাঁড়িয়ে  রুমালির মনে হল স্যাঁতসেঁতে খুপরি ঘরে থাকলে আজরাইল আসতো না। এখানে আনতেই সুযোগ তিনি হাতছাড়া করলেন না। তার মনে হল আজরাইল এখনো কলির আত্মা নিয়ে উর্ধ্বাকাশে উড়ে চলেছে।আকাশের দিকে তাকিয়ে রুমালির  অভিমানী মনের বিলাপ - ‘’নিয়ে যাও আজরাইল নিয়ে যাও।’’</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/152420/</link>
				<pubDate>Tue, 27 Sep 2022 12:27:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ দূর পৃথিবীর সপ্নে</p>
<p>“জ্বরে যে গা পুড়ে যাচ্ছে, খালা ,” কলির মাথার উপর ভেজা রুমাল চেপে দিতে দিতে বললো সুলতানা।</p>
<p>“শালাটাকে বলেছিলাম,মেয়েটার ঠান্ডার সমস্যা আছে , ফ্যান জোরে চালাবি না,” গজ গজ করতে করতে রুমালি এসে কলির পাশে বসল।</p>
<p>“কলি,কেমন লাগছে রে এখন?&#8221; </p>
<p>“একই রকম খালা, শরীর আরো দুর্বল মনে হয়। নিশ্বাসে পেট ভরে যাচ্ছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-152420"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/152420/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f5ffc215ae626d3726aa66becf99a9fe</guid>
				<title>গল্পঃ এক জনমের দেখা
মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে গেল শামিম । ভ্যাপসা গরমে গা বেয়ে ঘাম নিংড়ে আসছে। গায়ের স্যান্ডো গেঞ্জি জব জব করছে। মোবাইল চেক করে দেখলো মোটে দুটো একত্রিশ। ঘাড়ের পিছনে পিন পিনে ব্যথা করেই যাচ্ছে। গতকাল সারাদিন এ অফিস থেকে ও অফিস হেটে হেটে কার্ড বিক্রির চেষ্টা করেছে। শরীর ভীষণ ক্লান্ত। আগামীকাল অনেক হাটা । শরীরের আরাম দরকার। স্যান্ডো গেঞ্জি খুলে আবার ঘুমিয়ে গেল শামিম। এ শহরে যাদের টেনে তোলার কেউ নেই, তাদের অনেক হাটতে হয়, ঘামতে হয়। আহামরি মেধাবীও নয় শামিম। ফলাফল- ত্রিশ পেরিয়েও আজো স্থায়ী কোন চাকুরী হয়নি। তার চেয়েও বেশি যাতনায় আছে মামিয়া। নেহাত কপাল খারাপ মেয়েটার। নইলে হত দরিদ্র এক প্রাইভেট টিউটরের প্রেমে কেউ পড়েনা। তা প্রায় আট বছর আগের কথা। এরপর থেকে মামিয়ার একটাই চাওয়া শুধু বলার মত ছোট কিছু একটা হলেই সে তার বাবাকে ম্যানেজ করতে পারবে। শামিম বলার মত কিছু একটা এখনো পায়নি। একটা প্রাইভেট ব্যাঙ্কের কার্ড ডিভিশনে চাকুরি ঠিক বলার মত কিছু নয়। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ৬০ জনের মধ্যে মাত্র ১৫ জনকে রাখবে ব্যাঙ্ক। বেশ শক্ত কাজ।

মাসের এই শেষ পাঁচ দিনে অন্তত দশজন ক্লায়েন্টকে কার্ড বিলাতে হবে। নইলে ছাটাই লিস্টে নাম পোক্ত হবার সম্ভাবনা জোড় বাড়বে। ওদিকে মামিয়ার নাকি বিয়ের কথা চলছে। সে কয়েক বছর ধরেই চলছে, ঠেকিয়ে রেখেছে সে, আর সব প্রেমিকারা যা করে কিন্তু অনেক তো হল। এখন অবস্থা এতদুর খোদ শামিম নিজেই বিরক্ত – একটা মেয়ে আর কত অপেক্ষা করে, আর কত করানো উচিৎ! শামিমের মনে হয় সরকারের যেমন ৫ বছরের সময় হাতে থাকে কিছু করে দেখানোর তেমনই প্রেমিকদেরও থাকা উচিৎ। শামিম সেখানে আট বছর পেয়েছে এবং সে ব্যর্থ । অর্থাৎ ৩ বছর ধরে সে অবৈধ প্রেমিক। এ সব শুনে মামিয়া হেসেছিল খুব। কিন্তু শামিম হাসেনি, মজা করে হলেও সে সত্যটাই বলেছে। তার ইদানিং বেশ ভাল করেই মনে হয়- ঢাকার মত শহরে টিকে থাকার মত যথেষ্ঠ ছলাকলা সে শেখেনি। আট বছর তো কম নয়। যেহেতু এই লম্বা সময়ে যে মানিয়ে নিতে পারেনি তবে আর দোষ ঢাকা শহরের নয়, দোষ তার।

সকাল।

আজ যাদের কাছে কার্ড অফার নিয়ে যাবার কথা তারা গুলশান এবং এর আশেপাশের অফিসে বসে।আজিমপুর থেকে উইনারে চেপে গুলশান-১। এখানে আসলে শামিম অবাক হয়। বাড়িগুলো কি দারুন দেখতে! বাস থেকে নেমে খচখচ আরম্ভ হল- পুরনো রোগ। মানুষকে ডিস্টার্ব দেয়া খুব জঘন্য কাজ, আর নিয়তি দেখ সে রকম কাজই কপালে জুটেছে।

প্রথম ক্লায়েন্ট&#039;র অফিস গুলশান ১’র ৮ নাম্বার রোডে। মোড় থেকে বেশি দূরে নয়। কিন্তু অফিস আওয়ারের শুরুতেই যাওয়া ঠিক নয়। আশরাফুল নামের সেই ভদ্রলোক ১১টার দিকে যেতে বলেছেন।

এই ফাঁকে গুলশানে অলিগলি ঘুরে বেড়ানো খারাপ না। দরিদ্র -অতি হতদরিদ্রও অভিজাত এলাকায় হেটে একটা সুখ অনুভব করে, তারপর সেই সুখ পরশ্রীকাতরতা তৈরি করে আর তারপর আসে দুঃখ , সবশেষে সে দুঃখ নিয়ে বাড়ি ফেরে।

১১টার কাছাকাছি সময়ে আশরাফুল নামের ভদ্রলোককে ফোন দিল শামিম। তিনি অফিসে আসতে বললেন। সিকিউরিটি, রিসেপশন পেরিয়ে লিফট বেয়ে তিন তলায় অফিস। কি দুর্দান্ত অফিসের ডিজাইন! তিন তলার গ্লাস ঠেলে ভিতরে ঢুকেই টিবয় গোছের একটি ছেলেকে বললো,

&#039;&#039;আচ্ছা, এখানে আশরাফুল স্যার কোথায় বসে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের?’’

ছেলেটি দেখিয়ে দিল &#039;&#039;সোজা যান , শেষের টেবিলটাই আশরাফুল স্যারের&#039;&#039;।

বেশ ঝকঝকে অফিস, বিশাল ফ্লোর, কম করে হলেও চল্লিশ জন কাজ করছে।


&#039;&#039;স্যার, সালাম আলাইকুম, আপনি মনে হয় আশরাফুল স্যার? আমি আপনাকে ফোন করেছিলাম।&#039;’ 

&#039;&#039;ও হ্যা, আপনি শামিম,  তাইতো?’’

&quot;ভাল আছেন স্যার&quot;

&#039;&#039;আছি আর কি, বলেন তো ভাই, কি বিষয়?’’

&#039;&#039;স্যার, আমাদের ব্যাংক যাদের স্যালারি ত্রিশের উপরে তাদের জন্য স্পেশাল ক্রেডিট কার্ড দিচ্ছে।&#039;’

কথা কেড়ে নিয়ে আশরাফুল সাহেব বললেন,

&#039;&#039;ভাই রে ভাই, ক্রেডিট কার্ড নিলে নাকি হাত চুলকায়, খরচ বেড়ে যায় কিন্তু নেওয়া তো একটা দরকার, কাজে লাগে।&#039;’

&#039;&#039;স্যার, স্যার, একদম ঠিক বলেছেন স্যার, একটু সামলে চললে ক্রেডিট কার্ড খারাপ না।&#039;’

&#039;&#039;কি করতে বলেন?’’

&#039;&#039;ছোট একটা ফর্ম পূরণ করলেই হবে স্যার।&#039;’

&#039;&#039;আচ্ছা দেন।&#039;’

একটা ফর্ম ব্যাগ থেকে বের করে টেবিলে রাখল শামিম। আশরাফুল নামের সেই ভদ্রলোক যতক্ষন ফর্ম পূরণ করছেন পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ক্রেডিট কার্ডের আরো কি কি সুবিধা আছে বলে যাচ্ছিল শামিম । এমন সময় শামিম দেখল ফ্লোরের সবাই দাঁড়িয়ে গেল। পাশের টেবিলের একজন ফিসফিস করে আশরাফুল ভদ্রলোককে বললো- &#039;&#039;এমডি আসছে, এমডি স্যার। ফ্লোর ভিজিট।&#039;’ সবাই সটান দাঁড়িয়ে সালাম দিচ্ছে। আর সেই এমডি উত্তর দিচ্ছেন। আশরাফুল সাহেবের ডেস্কের কাছে এসেও সালামের উত্তর দিলেন। আর শামিমের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন,

হু ইজ দিস ম্যান।? আগে কখনো দেখেছি বলে মনে হয় না।&quot;

আশরাফুল সাহেব কি যেন বলতে যাচ্ছিলেন তার আগেই শামিম বললো,

&#039;&#039;স্যার আমি ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড সেল করি।&#039;’

&#039;&#039;ইন্টাররেস্টিং, নাম কি ?’’

স্যার, শামিম মিয়া।

নামের শেষে এখনও মিয়া আছে শুনে স্যার হয়তো একটু হাসলেন, কিন্তু হার্ড ফেইস হয়ে গেল একটু পরেই,

&#039;&#039;ইউ আর ওয়েস্টিং মাই এম্পলয়িস&#039; অফিস টাইম, ডু ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড দ্যাট?’’

শামিম কোন উত্তর খুজে পাচ্ছেনা। ফ্লোরের সবাই কেমন করে তাকিয়ে আছে। খুব দিশেহারা লাগছে।

এক কর্তা পাশ থেকে শামিমের দিকে তাকিয়ে ঝাঁঝিয়ে উঠল- 

&quot; কিভাবে এখানে ঢুকলেন? কে ডেকেছে? কে ডেকেছে?&quot;

এত উচু স্বর! শামিম আবার ভাষাহীন, এত দ্রুত সবকিছু ঘটছে যে শামিম ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারছেনা কি বলা উচিত।

আশরাফুল সাহেব পরিস্থিতি সুবিধার নয় দেখে বললো,

&#039;&#039;স্যার আমাদের কোম্পানির জন্য ডিল আছে বলে জানিয়েছিল, পরে দেখি এই কান্ড। আমি স্যার ওনাকে বের হয়ে যেতেই বলছিলাম।&#039;’

&#039;&#039;আর ডাকবেন না।&#039;’ সেই কর্তার হুঙ্কার।

এমডি স্যার এবার পাশের সেই কর্তাকে বললেন,

&#039;&#039;দেখ ও কোন ব্যাংকে জব করে, সেখানে কথা বলে কমপ্লেইন কর। দিস ম্যান ইজ সিয়ার স্টুপিড।&#039;’

এ শুনে আশরাফুল সাহেব উৎসাহী হয়ে শামিমের পিঠে হাত দিয়ে ঠেলে বলতে লাগলো,

&#039;&#039;যান এখান থেকে যান ।&#039;’

গ্লাস ডোর পেরিয়েও আশরাফুল সাহেব লিফট পর্যন্ত এলেন। শামিমের শরীর অপমানে এতই অবশ যে আশরাফুল সাহেব যে পিঠে হাত দিয়ে গলা ধাক্কার ভঙ্গিতে এই এদ্দুর নিয়ে এলেন তার কিছুই যেন সে অনুভব করলো না। এতগুলো লোক তাকিয়ে ছিল!

লিফটের গোড়ায় দাঁড়িয়ে আশরাফুল সাহেব লবণ ঘষে দিলেন,

&#039;&#039;বলার দরকার ছিল ব্যাংকে জব করেন? আমি বলতেই গেছিলাম আপনি আমার ফ্রেন্ড, পাশের অফিসে জব করেন মার্কেটিং পারপাজে এসেছেন। আপনাকে দিয়ে কর্পোরেট জব হবেনা , সিএনজি চালান গিয়ে, আর স্যার যখন ক্ষেপেছে আপনার ব্যাংকের জব আজকেই শেষ।&#039;’

বলেই অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে ফিরে যাবার সময় একটু নীচু স্বরে বলদ সম্বোধন শামিমের কান পর্যন্ত এল।

এই কার্ড বিক্রির জেরে এর আগে যে ছোটখাট বাজে অবস্থায় পড়েনি তা নয়, কিন্তু আজ যেন সবকিছুর চূড়ান্ত । 

শামিম যখন রাস্তায় তখন অপমানে মাথা ভনভন করছে, মনে হচ্ছে পৃথিবী তার কক্ষপথ থেকে ছিটকে দিশাহীন ভেসে যাচ্ছে।

এমন সময়েই মামিয়ার ফোন এল।

মানুষের ক্ষোভ উর্ধমুখী, রাগ নিম্নমুখী; মানুষের রাগ তার অধীনের উপর দিয়ে যায়।


আট বছরে যা কোনদিন কল্পনায় ছিলনা, সে রকম অকথনীয় কথন উগড়ে শামিম গুলশানের নিকেতন ঘেষা পার্কে বসে একটু শান্তি পেল। পৃথিবীর সবাই তাকে অপমান করতে পারলে সেও পারে কাউকে ইচ্ছেমত কথা শোনাতে। এতে প্রকৃতিতে একটা ভারসাম্য থাকে। পার্কে বসে অবসন্ন মনে উদয় হল গুলশানের অভিজাত বাড়ী আর বহুতল বিল্ডিংগুলি যেন শামিমকে চিৎকার করে বলছে- গেট আউট অফ দিস সিটি, ইউ ডোন্ট ফিট হিয়ার। গেট লস্ট। যাওয়াই উচিৎ, আর কত? চোখ বন্ধ করে মনে হয় তার গ্রামের নদী ঘাঘট তাকে ডাকছে। মধুসুধন তো প্যারিস ছেড়ে কপোতাক্ষের ডাকে ফিরে এসেছিলেন তাহলে তার ঘাঘটের কাছে ফিরতে বাঁধা কি? আছে, বাঁধা- মামিয়া। কেটে দিলেই হয়। সম্পর্ক পাশাপাশি হলে একসাথে চলা যায়, কাঁধে নিলে তা ভার হয়ে যায়- তাতে চলা যায় তবে বেশিদূর যাওয়া চলেনা। মামিয়াকে এখন নামাতেই হবে। তারপক্ষে আর সম্ভব নয়।

সে রাতে সম্পর্কের ইতিটানার নিষ্ঠুর ঘোষণা দিয়ে নিজে কাঁদেনি শামিম, কান্নার কাজটা সে নিকেতন পার্কে বসেই করেছিল। মামিয়া শুধু দেখার করার জন্য বলেছে। শামিম জানে মামিয়া অন্তত ফোনে বিচ্ছেদকে বিশ্বাস করবেনা। আমাদের দেশের সরকারগুলি যেমন জনগণ রাস্তায় নেমে বিস্তর ভাংচুর না চালানো পর্যন্ত বুঝতে পারেনা জনগণ ক্ষুব্ধ, তেমনই বিচ্ছেদের সময় কষে গালাগাল না দিলে অপরপক্ষ বুঝতেই পারেনা বিষয়টা আসলেই চূড়ান্ত। কিন্তু সাক্ষাতে শামিমের চোখের ভাষা দেখেই মামিয়া বুঝে গেল- শামিম তার শেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। তার হাজার আকুতি মিনতি কোন ফল বয়ে আনবেনা। চোখের জল শুধু গড়াল শামিম যেন শেষ হিসাব নিকেশ করে নিয়েছে। সম্পর্কের ইতি এবং ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া শামিমের আর কিছু করার নেই। অনেক অপমান হজম করা হয়েছে, থাকলে আরো অপমান দেখতে হবে। একপদের লোক আছে যাদের ঢাকা শহর নিত্য অপমান করে, তবু তারা সয়ে যায়। শামিম আর পারছেনা।

শুধু আবেগী মেয়ে নয় মামিয়া, বাস্তব বোঝার মত যথেষ্ঠ বয়স তার।

-তাহলে তুমি গ্রামে ফিরে যাবে? 

-আর উপায় কি? আমাকে দিয়ে এই শহরে কিছু হবেনা।

-যাবার আগে আমার একটা কাজ করে যাও। মামিয়ার কন্ঠে নিজের ভাগ্যকে মেনে নেবার রেশ চলে এসেছে। এই সম্পর্কের আর কোন আশা নেই তা যেন মামিয়ার কণ্ঠে উচ্চারিত। শুধু শেষ করে দেবার টানটাই স্পষ্ট।


-তুমি না কার্ড বিক্রি করো, আমার কাছে তোমার জন্য একটা খণ্ডকালীন চাকুরী আছে। কাল আরেকটি ছেলে দেখতে আসবে। এবার আমি রাজি হব। আমি রাজি হলেই বাবা দুই একদিনের মধ্যেই কার্ড ছাপিয়ে ফেলবেন, বিয়েও হবে খুব দ্রুত। আমি চাই আমার বিয়ের কার্ড তুমি বিতরণ করো।একদিন অথবা দুইদিন লাগবে। বিনিময়ে পাবে বিশ হাজার টাকা। আমার জমানো টাকা। কাজটা খুব সহজ, কি পারবেনা?

শামিম ভাবল মেসে কিছু ধারদেনা আছে। সেসব না চুকিয়ে ঢাকা ছাড়া ঠিক নয়। অন্যের কাছে অপমানিত হবার চেয়ে মামিয়ার কাছে অপমানিত হওয়াই ভাল। আর যাই হোক এটাই ঢাকা শহরের শেষ অপমান।

-এত কি ভাবছ? এডভান্সড পাবে ৫ হাজার, আর এই কার্ডগুলিতে যে এড্রেসগুলি থাকবে সেই বাসাগুলিতে আমি নিজে ফোন দেব। এদের মধ্যে যদি একজনও বলে সে কার্ড পেয়েছে তাহলে তুমি পুরো টাকা পাবে।

শামিম দেখল মামিয়া পাঁচটি হাজার টাকার নোট তার সামনে নিয়ে বাতাস করছে।

-কি ভাবছ, আমার সাথে কিন্তু ভাব নিতে যেওনা, আমি জানি তোমার টাকা খুব দরকার, বিশ হাজার টাকায় অনেকদিন চলতে পারবে। বেশি চিন্তা না করে রাজি হও। আর আমাকে সরাসরি হ্যা রাজি বলতে লজ্জা লাগলে, আমি কার্ড তোমার মেসের রুমমেইটকে দিয়ে দেব।

-ঠিক আছে, কার্ড ছাপা হলে জানিও। আজ তাহলে যাও। তোমার কাজ করে দেব।

মামিয়া ঘাসের বিছানা ছেড়ে উঠে গেল। সন্ধ্যা হয়ে আসছে, তবুও দৃষ্টির সীমায় মামিয়াকে কয়েকবার চোখ মুছতে দেখল শামিম। যতদূর মামিয়াকে জানে আজ হয়ত সারা রাত মেয়েটি কাঁদবে।

৫-৬ দিন পর সকালে যখন খবরের কাগজে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছিল শামিম তখন বাইরে থেকে এসে রফিক একটা মোটা খাম ধরিয়ে বললো-

-শামিম ভাই, মামিয়া আপু দিয়ে গেল। বললো হাতে সময় নেই , তোমার ভাইকে দিও। 

রফিক ওয়াশ রুমে গেলে খাম খুলে কার্ড হাতে নিল শামিম। ‘’শুভ বিবাহ’’ বিস্কিট কালার ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর কি সুন্দর ফন্টে লেখা। চোখে জল আসতে চায়, হৃদয়হীন না হলে হৃদয় শাসন করা দুষ্কর। তবু দৃষ্টি জলাটে হলে শামিম চাঞ্চল্যকর কোন খবর আছে কিনা তা বের করার জন্য চেষ্টা করল। 

প্রথম কার্ড ইস্কাটনের এক বাসায়। আজিমপুর থেকে কাছে। বাসা বহুতল ভবনে, দারোয়ানের সওয়াল জবাব পেরিয়ে উপড়ে উঠে শামিম যে ফ্ল্যাটে এল, তার ভিতরে প্রবেশ করে শামীমের মনে হল আভিজাত্যের উদাহরণ কাকে বলে। এসব  বাসায় আসলে শামিমের খুব অসস্ত্বি হয়। কোথায় সে থাকে একটা বস্তি ঘরানার জায়গায় আর কোথায় এমন আলিশান ফ্ল্যাট। শামিম যখন আভিজাত্য উপভোগ করছিল সেই আন্টি ততোক্ষণে মামিয়াকে ফোন দিলেন-  

-হেলো মামিয়া, তোর বিয়ের কার্ড হাতে পেলাম রে, অনেক সুন্দর হয়েছে কার্ডটা, হ্যা হ্যা, যাব তো অবশ্যই,  কি যে বলিস, হ্যা, কি?  মানে ছেলেটা, আমার পাশেই আছে তো, কথা বলবি, আচ্ছা দিচ্ছি।

মামিয়ার সাথে এই মুহুর্তে কথা বলার ইচ্ছে ছিল না, এ রকম একটা সিচুয়েশনে পড়তে হবে ভাবেনি শামিম। 

কিন্তু সেই আন্টি ততক্ষনে ফোনটা তার সামনে ধরে রেখেছে। নিরুপায় হয়ে বলতেই হল-

-হেলো,

কি ডেলিভারি ম্যান, গ্রেইট জব। টাকা পেয়ে যাবে। ক্যারি অন। 

ফোন কেটে দিল মামিয়া।

নাশতা জোর করেই করালেন আন্টি। 

পনেরোটা বাসায় কার্ড দিয়ে যখন মেসে ফিরল শামিম তখন রাত প্রায় দশটা। মেসে ফিরে সে দেখল সে অনেকটাই অনুভুতিশুন্য। কোন বোধ নেই। ৮ বছরের সম্পর্ক অথচ শামিম মশারীর ভিতরে  মশা আছে কিনা সেটাই ভাল করে দেখতে লাগলো। দিনের বাসি পেপারটা একবার চোখ বুলিয়ে নিল। রুমমেইট রফিককে বলে দিল &#039;’আজ খাব নারে, ঘুমাব, সারাদিন ঘুরেছি।&#039;’

সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল হাতে নিতেই  শামিম দেখল ম্যাসেজ, 

&#039;&#039;সকালে দেখা করতে চাই, রয়ালের সামনে, ৯ টায় থাকবো।&#039;’ 



আজ আবার নতুন করে কি মামিয়া অপমান করবে?  করলে করুক। নিশ্চিত রয়ালে বসিয়ে নাশ্তা করাবে। এটাই কম কি!  

নটার একটু আগে গিয়েও শামিম দেখল মামিয়া রয়ালের অপোজিটে দাঁড়িয়ে আছে। শামিমকে দেখে কিছু না বলে রয়ালে ঢুকে দুই তলায়।

- কি খাবে বল? হয়তো এটা শেষবারের মত। তাই চান্স মিস কইরো না, ভাল কিছু বল। 

বমিভাবের মত করে প্রাচীনকালের সন্মানবোধটা জাগতে যাচ্ছিল, শামিম সামলে নিয়ে বললো,

- পরাটার সাথে কোন আইটেম হলেই হবে।

এই বলার সাথে সাথে আত্মিক বমিভাব উবে গেল।

-তা কাল মনে হয় তোমার বিস্তর খাওয়া দাওয়া হয়েছে। 

-হুম, তোমার রিলাটিভসরা অনেক অতিথিপরায়ণ আর সবার রান্নার হাতও চমৎকার।

-তবে খাওয়া দাওয়া কিন্তু এখানেই শেষ নয়, আমার বিয়ের দিন তোমায় থাকতে হবে, তোমার পছন্দের তিন চারটি ডিশ আমি রান্না করাব। তুমি খাবে আর দেখব । চিন্তা করনা, এর জন্য তুমি এক্সট্রা ১০ হাজার পাবে। সব মিলিয়ে ত্রিশ-চল্লিশ, খারাপ না কিন্তু। ভাব নিতে গিয়ে এত টাকা মিস কইরনা আর সাথে একবেলা খাবার, জানোই তো বিয়ের খাবার কি টেস্টি হয়। কি যাবে তো?

-দেখি, যেতেও পারি ।

-তোমার লজ্জা করেনা, লজ্জা করেনা তোমার, কুকুর, আট বছরের সম্পর্ক আর তুমি কিনা আমার বিয়েতে গিয়ে খাবার খাবে!

শামিম দেখল মামিয়ার চোখ বেয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে, শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে । দুইহাত টেবিলে, মুখ হাতের উপর রেখে কাঁদছে ।

চোখ দুটো কেমন করে উঠতে চায়। কিন্তু এ সময় কি করতে হয় জানা আছে শামিমের। চোখ দুটো আশেপাশে ঘোরাও আর পাতা খুব দ্রুত নাড়িয়ে ব্যস্ত রাখো আর যদি তাতেও সমস্যা হয় তবে ওয়াশরুমে যাবার ভান করে টেপ ছেড়ে মুখ ধুয়ে আসো। টেপের পানির সাথে কষ্ট মিশে পাইপ গড়িয়ে নালায় মিশে যায়, কেউ বোঝে না।

খাবার টেবিলে রাখার শব্দে মামিয়া স্বাভাবিক হবার জন্যে টিস্যু দিয়ে চোখ মুছে নিল।

-তোমার বিয়েতে না গেলে হয়না? 

-হাদারাম তুমি বোঝনা, আমি তোমাকে অপমান না করে থাকতে পারছিনা, বোঝোনা তুমি? এত কষ্ট সহ্য করতে পারছিনা কিন্তু তোমাকে অপমান করলে কিছু জ্বালা কমে, একটু শান্তি লাগে। তোমাকে অপমান করে বেঁচে আছি, বিয়ে অবধি অপমান করতে দাও।

শামিম জানে, নিজের ভাগ্যকে মেনে নিতে পারছেনা মামিয়া। টেস্টি খাবারের জন্য না হলেও অন্তত মামিয়ার জন্য ওর বিয়েতে যাওয়া উচিৎ। তার পরাজয়ে যদি মামিয়ার দুঃখ লাঘব হয়, তবে তাই হোক।

খাওয়া শেষে মামিয়া বললো-

-চল তোমার চুল কাটিয়ে দিই।

-থাক আমি কেটে নেব।

-গত ক বছর ধরে আমি অনেকবার  তোমার চুল কাটার সময় সাথে ছিলাম, আজো থাকবো, আমার জন্য সবকিছু শেষবারের জন্য। প্লিজ আসো।

ভাল একটা পশ সেলুন বকশীবাজার মোড়ে। চুল কাঁটা হলে শামিম বাইরে এসে দেখে, দুটি ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে মামিয়া।

-এই ব্যাগ গুলিতে তোমার জন্য জিন্স, টিশার্ট বেল্ট আর কেডস আছে। আর এগুলোই আমার শেষ গিফট, তাই না বলনা প্লিজ।, বলেই গাড়িতে উঠে চলে গেল মামিয়া।

ব্যাগ নিয়ে মেসে এল শামিম।


শামিম বিছানায় শুয়ে ভাবল, এক জীবনে এত অপমান! তা মামিয়ার জ্বালা যদি কমে তাহলে অপমানিত হতে দোষ কি? আজকাল প্রেমিকার শোকে কাউকে সেভাবে কাঁদতে দেখেনা শামিম। কিন্তু সে গায়ের ছেলে, ঢাকা শহর তাকে তেমন নির্মমতা শেখাতে পারেনি তাই সারল্য আগের মতই। মনের খচখচ অনুভুতি তাই ফিরেফিরে আসতে চায়। চোখের জলামুখীতে পাথর বসিয়ে, ঠেস দিয়ে বসে আছে শামিম।


বিয়ে সন্ধ্যায়। ভিকারুন্নিসা স্কুলের পাশের একটা কমিউনিটি সেন্টারে। কাছেই। শেভ করে শামিম শার্ট প্যান্ট পরে নিল। মামিয়ার দুটো ম্যাসেজ এসেছে। &#039;&#039;চলে আসো’’, &#039;&#039;কই?’’

শামিম নিজেকেই বোঝাল- এটা এই শহরের শেষ অপমান। কাল ভোরেই এই শহর ছেড়ে যাব। শুধু আজ শেষ বারের মত সয়ে যেতে হবে।

গেট বেশ ঝকমক করে সাজানো, যেমনটা হয়। ভিতরে ঢুকে শামিম দেখল সে বেশ তাড়াতাড়িই এসেছে বোধ হয়। কমিউনিটির সদর দরজায় মামিয়ার দুই বান্ধবী দাঁড়িয়ে। শামিমকে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হল দুইজনই।

স্বাভাবিক হওয়ার জন্য শামিমই জিজ্ঞ্যেস করলো,

-কি খবর তোমাদের? কেমন আছো?  জিজ্ঞাসার সাথে কমার্সল হাসি। এই হাসি কষ্ট চেপে রাখতে পারে।

-জি , ভাল ভাইয়া  উত্তর পজ দিয়ে দিয়ে এসেছে , মানুষ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লে যে স্বর নিয়ে আসে।

একধারে মঞ্চ আর সামনে আমন্ত্রিতদের বসার আসন আর তারপর খাবার টেবিল সাজানো। কর্নারের একটা চেয়ারে বসে গেল শামিম। বর-বধুর মঞ্চের আরেঞ্জমেন্ট নিয়ে দুই একজনকে ব্যস্ত দেখল শামিম। প্রথমবার পতিতাবৃত্তিতে নামার আগে একটা মেয়ের যতখানি অপমান হয় ঠিক তেমন অপমান বোধ হচ্ছে প্রতিটা মুহুর্তে । সয়ে যাও মন সয়ে যাও।

পিছন থেকে একটি মেয়ে বলে উঠলো,

শামিম ভাই।

শামিম পিছন ফিরে দেখলো একটি শাড়ি পড়া মেয়ে দাঁড়িয়ে। নীলিমা। মামিয়ার বান্ধবী।

-আরে নীলিমা, কি খবর তোমার।

-একটু আসেন প্লিজ।

মোটামুটি ফাঁকা একটা জায়গা।

-কি ব্যাপার নীলিমা ?

-শামিম ভাই,আমরা তিন জন বান্ধবী মামিয়াদের বাসায় আছি কদিন ধরে।  অনেক কেঁদেছে। আমরা জানি মামিয়া আপনাকে কত ভালবাসে, আপনি দয়া করে ওকে ক্ষমা করে দিয়েন। ও আপনাকে ডেকেছে কারণ এই কষ্টটা মনে হয় ও এবজর্ব করতে পারছেনা।ও আপনাকে দেখবে আর নিজের ভাগ্য নিয়ে পরিহাস করবে। না চাইতেই পরিবারের কাছ থেকে সব পেয়েছে , বিনিময়ে যে জিনিসটা নিজের করে চেয়েছে সেটার বলি দিতে হয়েছে পরিবারের কাছে।জানেনই তো মেয়েদের বলি হয়ে যাবার ইতিহাস বহু প্রাচীন।

-আমি বুঝি নীলিমা, তুমি কেঁদোনা। বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখের পাতা দ্রুত ওঠানামা করানোর কলা কাজে লাগালো শামিম, বেশ কাজ করে।

এরই মধ্যে পার্লার থেকে মামিয়া এসে পড়ায় বেশ একটা শোরগোল পড়ে গেল।

-আমি ও দিকে যাই শামিম ভাই। আপনি ভাল থাকবেন।

ঠিক আছে নীলিমা। যাবার আগে নীলিমা একটা প্যাকেট দিল। হাতে নিয়েই শামিম বুঝল ভিতরে টাকা আছে।

মঞ্চে পালা করে সবাই মামিয়ার সাথে ছবি তুলছে। মামিয়া বিয়ের সাজে আরো সুন্দর। শামিম অবশ্য আশেপাশের লোকেদের গল্পে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করলো। পাশের কেউ একজন বরের বায়োডাটা বলে যাচ্ছিল। আরেকজন মেয়ের ভাগ্য কত ভাল তার জন্য আফসোস করলো, এই মেয়ে কেন অযোগ্য আর তার এক শালী কত যোগ্য সেই গল্প শুনিয়ে দিল। এত সব গল্প, এত সব আয়োজন, এতসব হাকডাক- তবু মনের ভিতর কি যেন ঝিম ধরে আছে। বৃষ্টিতে ভেজা কাকের মত মন দুরে কোথায় তাকিয়ে আছে কখন বৃষ্টি থামবে এই আশায়।

ম্যাসেজ টোন বেজে উঠল।

&#039;&#039;তোমাকে এখানে ডেকে এনেছি তোমাকে অপমান করবার জন্য নয়। শুধু দেখার জন্য। আজকের পর থেকে তোমাকে দেখার আর কোন নৈতিক অধিকার থাকবেনা, আর তোমাকে যতদুর জানি তুমি আমাকে ছাড়া এই শহরে থাকবেনা, এমনও হতে পারে তুমি আর ঢাকাতেই আসবেনা। যে বিশ্বাসে বিশ্বাস সেখানে পুনর্জন্ম নেই, থাকলে পরজন্মে দেখা হবার একটা আশা থাকতো। এই দেখা হয়তোবা এক জনমের শেষ দেখা।&#039;’

খাওয়া পর্ব শুরু হলে শামিম দেখল ওর হাত-পা কাঁপছে। ভেবেছিল শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে কিন্তু এখন যদি দ্রুত এখান থেকে না বের হয় তবে অজ্ঞান হয়ে যাবার আশঙ্কা আছে, সেটা মামিয়ার জন্য বেশ লজ্জার হবে। উঠে দাঁড়াল শামিম , মামিয়াকে ঘিরে কিছু ছেলেমেয়ে ছবি তুলছে। শেষ দেখা!


বের হয়ে রাস্তায়। গলির রাস্তা ধরে হাটছে শামিম। আর ছলাকলা শেখার দরকার নেই, চোখের জন্য সুবিধা হল- সে এবার অঝরে কাঁদতে পারে।

আজ রাতেই ঢাকা ছাড়তে হবে। 

রাতের বাস যখন গাবতলী ব্রিজ পেরিয়ে যাচ্ছে তখন উঠে দাঁড়িয়ে বাসের পিছনের জানালা দিয়ে রাতের ঢাকাকে একবার দেখে নিল শামিম। এত যে নির্দয় শহর ঢাকা তবুও তাকে গালি দেওয়া যায়না, সবারই প্রিয় কেউনা কেউ এই শহরে থাকে, কারো কারো হৃদয়ের খুব কাছের কেউ থাকে, তার যেমন মামিয়া ছিল। থাক ঢাকা শহরও ভাল থাক।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/152145/</link>
				<pubDate>Mon, 26 Sep 2022 15:19:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ এক জনমের দেখা<br />
মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে গেল শামিম । ভ্যাপসা গরমে গা বেয়ে ঘাম নিংড়ে আসছে। গায়ের স্যান্ডো গেঞ্জি জব জব করছে। মোবাইল চেক করে দেখলো মোটে দুটো একত্রিশ। ঘাড়ের পিছনে পিন পিনে ব্যথা করেই যাচ্ছে। গতকাল সারাদিন এ অফিস থেকে ও অফিস হেটে হেটে কার্ড বিক্রির চেষ্টা করেছে। শরীর ভীষণ ক্লান্ত। আগামীকাল অনেক হাটা । শরীরের আরাম দরকার। স্যান্ডো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-152145"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/152145/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">266b9c1718956c9f9c626f0559093225</guid>
				<title>Md Joynul Abedhin changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/152139/</link>
				<pubDate>Mon, 26 Sep 2022 14:42:02 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">dccf2b433fb00e14fdb3c12c55aabd30</guid>
				<title>গল্পঃ পটল তোলা 
সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে উঠে বুকে শন শন শব্দ নিয়ে বাড়ির ধারের পুকুরের পাশে পাতানো টঙয়ে বসল আলিম উদ্দিন। অতি বৃদ্ধ তিনি। প্রতি নিঃশ্বাসে শন শন শব্দ হয় , আশে পাশের মানুষ সে শব্দ শুনতে পায়। আলিম উদ্দিন এই শব্দকে নিঃশ্বাস নেয়ার একটা অংশ হিসাবে ধরে নিয়েছেন। শীত আসছে। এবার শীতে টিকবেন কিনা তা নিয়ে তার সন্দেহ আছে। হয়ত টিকতেন কিন্তু ছেলের বৌয়ের কথায় যা ধার তাতে না টিকলেও অবাক হবার কিছু নেই। তার বয়সী যারা তারা সবাই মোটামুটি পটল তুলেছে, আর যারা হয়ত আর ক বছর উৎরে যেত কিন্তু ছেলের বৌরা ধরে বেঁধে পটল ক্ষেতে পাঠিয়েছে। মনে আছে ও পাড়ার রহমানের কথা। দুই বছর আগের কথা,  মরার আগে এসে নিজের ছেলের বউয়ের অত্যাচারের কাহিনী কাশতে কাশতে বলে গিয়েছিল। সে কি স্বাভাবিক কাশি! আলিম তখনই বুঝেছিল- আর বেশিদিন নেই। ছেলের বউ নাকি ঠাণ্ডা লাগিয়ে রাখে- ঠান্ডা পানি, ঠান্ডা পান্তা ভাত ইত্যাদি খাইয়ে নাকি কাশ বাড়িয়ে রাখে যাতে শীত না পেরোয়। তা ছেলের বৌয়ের চেষ্টা বৃথা যায়নি। শীতের শেষ দিকে রহমান গেল-কাশতে কাশতে, বুকে নাকি সাঁই সাঁই করছিল বেদম। বুড়ো শরীরে বেশি ক্ষণ টানাহেঁচড়া চলে নি। 

বুকের শব্দ বেড়ে যাচ্ছে ইনালার নেয়া দরকার। প্রতি মাসে আলিম উদ্দিনের এই একটাই খরচ। এটাই কিনে দেবার আগে রাজ্যের কথা শুনিয়ে দেয় ছেলের বৌ। এমন ভাবে তাকিয়ে থাকে যেন বেশিদিন বেঁচে থাকাটা মস্ত অপরাধ- বিশ্রী রকমের অপরাধ। ছেলে থাকে ঢাকায়। দুই তিন মাসে একবার বাড়ি আসে। টাকা অবশ্য প্রতি মাসেই পাঠায়। নিত্য খরচের মাঝে আলিম উদ্দিনের ইনহেলার একটি ঝামেলা মাত্র। আলিম উদ্দিন এই অঙ্ক বোঝেন। ভাত তিনি কম খান। ছেলের বৌকে তিনি দেখানোর চেষ্টায় থাকেন- এক ইনহেলার ছাড়া তিনি কিন্তু ভাত তেমন খান না, তার জন্য আসলে অত খরচ হয়না। কিন্তু ভাত কম খেলে বৌ আবার কথা শুনিয়ে দেয়।

‘’বেশি করেই খান, পাছে  মানুষকে আবার বলে বেড়াবেন ছেলের বৌ ভাত দেয়না। মানুষ আবার আপনার ছেলেকে বলবে- না খাইয়ে মেরেছে তোর বাপকে। সব চেনা আছে, নিন নিন বেশি করে নিন।’’

এরপর কেমন যেন টং টং শব্দ করে, ভ্রু কুঁচকে গজ গজ করে যেভাবে ভাত তুলে দেয় তাতে আলিম উদ্দিন বুঝেন- তার ভাত খাওয়া অন্ন ধ্বংস ছাড়া আর কিছু নয়। সংসার এক চিড়িয়াখানা,একই কাজের অর্থ একেক জনের কাছে একেক রকম। তাই চাইলেও তিনি ভাত কম করে খেতে পারতেন না। 

টংয়ে বসে বুকের দম সামলানোর বৃথা চেষ্টা করলেন। রোদ পেলে নিঃশ্বাসে একটু সুবিধা হয় কিন্তু আজ যেন ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। মনে হল মানুষের বেশি দিন বেঁচে উচিৎ নয়। একটা সময় পেরিয়ে গেলে তার বেশি দিন বাঁচা মানে নিজের উপর অত্যাচার ডেকে আনা। আশেপাশে তখন কিছু মানুষ আড় চোখে চেয়ে থাকে  ধেড়ে বুড়োটা  কখন পড়বে এই আশায়। 

তবে আলিম উদ্দিন তাদের দোষ দেননা। ঠিকই তো- তার আর কাজ কি? সে নিজেও কি আর বাঁচতে চায়? এই নিঃশ্বাসের যন্ত্রণা, ক্ষণে ক্ষণে দম ধরে আসা, বুকের হাড় ফুলে উঠা। এই বাঁচা আর কত! 

পুকুরের ধার ঘেষে সকাল বেলার আরাম রোদ আসে। আম আর নারিকেল গাছ দিয়ে পুকুরের চারিধার সুন্দরভাবে সাজানো।  এ বাড়ির ও বাড়ির কিছু ছেলে বুড়ো চুলার ছাই কিংবা সুপারির ছাল আবার একটু অবস্থা সম্পন্নদের  দুই একজন ব্রাশ নিয়ে পুকুরের ধারে আসে  রোদ পোহাতে পোহাতে দাঁত মাজার জন্য। এখানেই অনেকে গল্পে মেতে উঠেন। সবাই এই অল্প সময়টুকু উপভোগ করেন। আলিম উদ্দিনের টং একটু তফাতে। টঙয়ে বসে গল্প শুনছেন আলিম উদ্দিন। গল্প শুনে বুঝলেন আজকের গল্পের বিষয় তেলের দাম। আবার নাকি বেড়েছে। তা বাড়ুক। তার কাছে বরং আরাম করে নিঃশ্বাস নিতে পারাটাই বড় কথা। ১০ বছর বয়সি বিন্তিকে বললেন ইনহেলারটা  এনে দিতে। বৃদ্ধ মানুষের কষ্টের শেষ নেই- ইনহেলার নেয়ার জন্য একটু যে চাপ দিতে হয় সে শক্তিও তিনি পাচ্ছেন না। আবার দম ধরে রাখতে গেলে কাশ আসে, ইনহেলার তাই খুব একটা কাজ করেনা কিন্তু যতটুকু হয় তাতেই একটু আরাম হয়। বুকের সাঁই সাঁই কমে আসে কিন্তু মিলিয়ে যায়না। 

দুই ঘর পরের মাঝ বয়সী জব্বার আওয়াজ দিয়ে বললো- আলিম চা, ফির তো ত্যালের দাম বাল্লো?

কথা বলাটা তার জন্য কষ্টের, বুকে দড়াম দড়াম করে। বিরক্তি নিয়ে বললেন-

‘’বাল্লে বাড়ুক’’- বলতে গিয়ে দম লেগে গেল। তার কথা না বলাই ভাল।

জব্বার আর আগ্রহ পেল না কথা বলার।  

পুকুরে নানা জাতের কার্প মাছ খাবি খেয়ে যাচ্ছে- দেখতে বেশ লাগে হয়ত কিন্তু যার দমে কুলায় না তার কিছুই ভাল লাগেনা। আলিম উদ্দিনের দৃঢ় বিশ্বাস এই শীত পেরুবে না। বুড়ি রোজ ভোরের সপ্নে পান মুখে হাজির হয়, তার হাতে আরো একটি সাজানো পান থাকে-এর ইঙ্গিত তিনি কি বুঝেন না,বেশ পরিষ্কার ইঙ্গিত। 

পরের মাসে ছেলের বৌ বেশ গোলমালে পড়ে গেল। যে টাকা এসেছে তাতে নিত্য খরচই নাকি হচ্ছে না। উঠান ঝাড় দিতে দিতে পাশের বাড়ির আকুর মাকে উঁচু স্বরেই বলে যাচ্ছিল ছেলের বৌ। বাজার নাকি খুব চড়া । নিজের টিনের চালার ছোট ঘরে শক্ত বিছানায়  শুয়ে সব শুনলেন আলিম উদ্দিন। কাল সকালে ছেলের বৌকে চুলোর পাশে  গালে হাত দিয়ে  বসে থাকতে দেখেছে সে। 

রাতে শুবার আগে বিন্তির কাছ থেকে শুনলো- এ মাসে ইনালার কিন্যা দিব্যার পাবা লয় দাদু। মা কছে কম কম করে ইনালার ন্যাওয়ার জন্য। 

কি কস হে, মোড় ইনালার না শেষ হব্যার ধচ্ছে। এ মাসে না কিনলে হবা লয় তো, তোর মাক কস।

মা কছে, এ মাসত ম্যালা খরচ। 

বিন্তির খালা এসেছে। আর একটাই ঘর মাত্র। বড় টিনের ঘরে ছেলের বৌ বিন্তি আর ছোট ছেলে নোটন থাকে ।পুরুষ অথিতি আসতে পারেনা এটা নিয়ে বিন্তির মায়ের আফসোস কানে এসেছিল। একজন বৃদ্ধ মানুষ হরেক পদের ঝামেলা তৈরি  করে। তার বাড়ি, তার তোলা দুই ঘর অথচ তিনিই আজ ঝামেলা।  

বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই বুকের সাঁই সাঁই বেড়ে গেল। বিন্তির কথায় চিন্তা গেল বেড়ে। জন্ম নিতে কষ্ট হয় কি না জানা নেই তবে মরার কোন সহজ রাস্তা নেই। এই শীত পেরুবেনা তা নিশ্চিত হতেই যেন সব জিনিসের দাম বাড়তি। সেদিন পুকুর পারে দামের কথা শুনে ভাবতেও পারেন নি, এর জের তার বুকের পাঁজর ভেঙ্গে জেগে ওঠা নিঃশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত। দুচিন্তায় বুকের দম যেন ফুরিয়ে আসছে। ইনালার নিলে হয়ত ঠিক হবে কিন্তু এখন খুব মেপে ব্যবহার করতে হবে। 

বিন্তি ও বিন্তি, যা না একটু গরম পানি নিয়ে আয়। এই কথাটুকু বলতে তিনবার দম নিলেন আলিম উদ্দিন। 

বিন্তি কাঁথা গাঁয়ে সবে আরাম করে শুয়েছে।

ও মা শুতিছে, এখন পানি চাল্যে গাল্যাবি। 

যা এনা যা। 

বিন্তি উঠে গেল। খুব জানা এখনি গজ গজ শুরু হবে। হলও তাই। আলিম উদ্দিন গজ গজের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন কিন্তু বুঝতে পারছেন না। কিন্তু পানি এল। খেয়ে একটু আরাম হল কিন্তু ভোরে হাড় ভাঙ্গা টান উঠে গেল। কম কম ইনালার নিয়ে শীতের মাঝামাঝি পর্যন্ত এসে আলিম উদ্দিন বুঝলেন ভোরের নিঃশ্বাসে এখন জিভ বেড়িয়ে আসার জোগাড় হয়। 

পুকুরের ধারের গল্প থেকে বোঝেন- দাম কমছেনা কিছুতেই। আবার অনেকে নাকি শহরে টিকতে না পেরে গ্রামে ফিরে আসছে। তা অবশ্য ভাতের প্লেট দেখেই বুঝে যান আলিম উদ্দিন। আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খাচ্ছেন বেশ কদিন ধরে, আগে আর যাই হোক ডাল থাকত মাঝে মাঝে শাঁক ছোট মাছ । মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়- ছেলের বৌ বাজার দরের কথা তুলে তাকে না আবার পটল ক্ষেতে পাঠিয়ে দিচ্ছে। রহমানের ছেলের বৌ কি করত সে গল্প তো সে জানে। কিন্তু কিইবা করার আছে? 

উত্তরের শীত। এক ভোরে বুকের দম আর যখন কিছুই মানছেনা তখন ইনালার নেয়ার জন্য চাপ দিতে গিয়ে আলিম উদ্দিন দেখলেন- তিনি টান দিয়ে ভিতরে গ্যাস নেবার আগেই বেদম কাশ আসছে। এদিকে পাঁজর যেন খুলে আসছে, বুকে যেন দম দম করে গা ঘামিয়ে দিচ্ছে এই শীতেও । 

আলিম উদ্দিন বুঝলেন এই শেষ । বিন্তি সাথে নেই। দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে উলটো মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। আর উঠার শক্তি তো নেই,  মাথা যেন বন বন ঘুরছে।   মরার সময় কেউ কাছে থাকার সুখটুকুও জুটলোনা। মুখ দিয়ে শব্দ করার চেষ্টা করলে বুকের হাড় যেন চেপে ধরে। ইনহেলার হাতে নিয়ে আরেক চাপ দিতে গেলে হাত কাঁপছে শুধু। ইনহেলার মুখের ভিতর নিয়ে কামড়ে ধরে ডান হাতে চাপ দিয়ে বুঝলেন আর গ্যাস নেই। শক্তি প্রয়োগ করায় বুকের পাঁজর জমের আঘাত করল যেন। আলিম উদ্দিন অন্ধকারে আর বেশি প্রতিরোধ করতে পারলেন না।  

সকালে বিন্তি দাদুকে  মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তার মাকে ডেকে আনে। গ্রামবাসীও দেখল- আলিম উদ্দিন মাটিতে আর মুখে ইনহেলার যেন কামড় দিয়ে ধরে আছেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/152134/</link>
				<pubDate>Mon, 26 Sep 2022 14:29:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ পটল তোলা<br />
সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে উঠে বুকে শন শন শব্দ নিয়ে বাড়ির ধারের পুকুরের পাশে পাতানো টঙয়ে বসল আলিম উদ্দিন। অতি বৃদ্ধ তিনি। প্রতি নিঃশ্বাসে শন শন শব্দ হয় , আশে পাশের মানুষ সে শব্দ শুনতে পায়। আলিম উদ্দিন এই শব্দকে নিঃশ্বাস নেয়ার একটা অংশ হিসাবে ধরে নিয়েছেন। শীত আসছে। এবার শীতে টিকবেন কিনা তা নিয়ে তার সন্দেহ আছে। হয়ত টিকতেন কিন্তু ছেলের বৌ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-152134"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/152134/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>