-
আমার শহর
স্টেশনে মাল্ গাড়ি এসে কিচকিচ করে থামে
বগি থেকে ডিমগুলি গড়িয়ে যায়!
গড়াতে গড়াতে বাচ্চা ফুটে শহরে ছড়ায়ে পড়ে।
স্টেশনে মালগাড়ি এসে
কিচকিচ করে থেমে যায়।10 Comments -
একটি তিনকোনা মাঠ
মাঠের স্বরূপ পাল্টে যাচ্ছে
মাঠের এখন ত্রিসীমানা
একপাশে বন
গাছগুলো বেশ ভালোই আছে
গাছগুলো বেশ নিরহংকার
চাওয়া নাই, পাওয়া নাই
একটা জায়গায় দাড়িয়ে আছে
আত্মবিশ্বাস
আমার এতো কিসের চাওয়া
শ্যামল পাতা!
টিক-টিক ঘড়ির কাটা ঘুরবেইতো
মাঠের স্বরূপ পাল্টে যাচ্ছে
মাঠের এখন ত্রিসীমানা
একপাশে বন।-
@ovimanimon আমাদের বাংলাদেশ ?
-
@ovimanimon অসাধারণ লেখনী লেখন ,মুগ্ধতায় মুগ্ধ মনচয়ন।
-
শিশুর হাসি
আজকাল গণহত্যা দেখি নির্বিকার
মহল্লার কুকুরগুলো মেরে ফেলা হচ্ছে মানুষকে
আরো নিরাপদ রাখবে বলে!
যেন পৃথিবীটা অন্য প্রানীদের নয়!
বাউল কী ভুল বলে—মানুষ মারার কল বসাইছে জগৎ জুড়িয়া!
পাহাড়ে গিয়ে দেখি, গাছের গোড়ায় বসে আছে
নিষ্ঠুর কাঠুরিয়া!
সাগর জলে ভাসে মৎস বিজ্ঞানী; অথচ অমার
নানীর বিছানায় দেখেছি বিড়ালের নিরাপদ নি…Read More11 Comments -
গনতন্ত্র
শিক্ষক ব্লাক বোর্ডে লেখে—কলা।
ওটা কলা নয়। কয়েকটা চিহ্ন কেবল।
শিক্ষক এরপর হলুদ রঙের একটা পাঁকা কলার ছবি আঁকে।
ওটাও কলা নয়।
কলা গাছে ধরে।দোকানে কিনতে পাওয়া যায়।।
ছাত্ররা কলা খাওয়ার তুমুল বায়না ধরে।
শিক্ষক ওদের দিকে কলার স্বাদযুক্ত চকলেট ছুড়ে মারে।
ছেলেমেয়েরা কাড়াকাড়ি মারামারি জুড়ে দেয়।
আসল কলার কথা ওদের মনে থাকে না।।13 Comments -
মৃদঙ্গ
আমি বৃষ্টিতে ভিজি
কেউ যেন আমার অশ্রু না দেখে।
যেদিন হাসি না
দিনটা পঁচা ফলের মতন
নর্দমায় গড়ায়।
আমি হাসতে হাসতে
বৃষ্টি মাথায় ফুটপাত ধরে হাঁটি।
লোকে আঙ্গুল তুলে বলে—
ঐযে, ঐ মানুষটা পাগল।
আমি বৃষ্টিতে হাটি
কেউ যেন আমার কান্না না বোঝে।12 Comments -
জীবীকা
আবু মিয়ার সঙ্গে আবার দেখা হয় ডেমরা থানার মোড়ে। গলায় মাফলার পেঁচিয়ে লোকজনের ভিড়ে ঘুরঘুর করতেছিলো। ফুটপাতের দোকানে বসিয়ে জোর করে চা খাওয়ায়। কুশল জানতে চাইলে মিষ্টি হেসে বলে—মাশাল্লা, ভালো আছি স্যার। বহুত শান্তিতে আছি…।
এতদিন দেখি নাই যে! গ্রামের বাড়িতে গেছিলা নাকি?
আবু আক্ষেপ করে—গেরামের বাড়ি! হাসাইলেন স্যার। গেরাম আছে, বাড়ি নাই…Read More13 Comments -
কেউ জানে না
কথা ছিলো সন্ধ্যায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আসবে; আর শিল্পী সবাইকে বলবে—সে অনিকে ভালোবাসে। কিন্তু অনি আসে না। কেনো এলো না! তবে কী ওকে অনি ভালোবাসে না! বিচিত্র দূর্ভাবনায় মাকে সব খুলে বলে। মা বলে—আজ আসে নি; পরে আসবে।
শিল্পী কাঁদে—ওর ফোনটাও বন্ধ পাচ্ছি।
মা সান্তনা দেয় বটে, জন্মদিনের আনন্দটা মাটি হয়ে যায়। শিল্পী ঘুমিয়ে পড়ে এই আশা ন…Read More12 Comments-
অতুলনীয় @ovimanimon
-
শুরু হয় বাঁচার সংগ্রাম
১৬ ডিসেম্বর হানাদাররা আত্মসমর্পণ করে। দেশ স্বাধীন হয়। মানচিত্রের কতৃত্ব পায় বাঙালি।
হাজার বছরের ইতিহাসে এটা অনেক বড় ঘটনা।
কিন্তু তখন তখনি শুরু হয়ে যায় নতুন ধরণের সংগ্রাম; পুনর্গঠনের; পুনর্বাসনের।
৭২ এর ফেব্রুয়ারিতে আমরা লঞ্চ ট্রেন বাসে চেপে আবারো চন্দ্রঘোনায় আসি।
এই প্রত্যাবর্তনে আনন্দ ছিল বটে; তবু ছিল করুন।
ন…Read More-
মরণকে বরণ করে নিয়েছিল এ ভূখণ্ডের মানুষ, তারপরই স্বাধীনতা ও বিজয়। এর সুখে কেউ হেসেছিল আবার কেউ কেঁদেছিল…..কি নির্মম পরিহাস! তোমরা দেখেছো, আমরা শুনেছি, যুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম আমরা অনুধাবন করেছি জীবন ও সম্পদ হারানোর হাহাকার। সত্যিই অবশেষে নিস্ব অসহায়ের মতন শুরু হয় আমাদের স্বাধীনতার বিজয়। সুন্দর লিখুনীর মাধ্যমে সঠিক ইতিহাস ব্যক্ত করার জন্য ধন্যবাদ প্রিয়।
-
বর্ণমালার সাথে আমার প্রেম
কাউখালী, হুলারহাট, পিরোজপুরে যদিবা যুদ্ধের দামামা বাজে; দূরপ্রান্তের জোলাগাতী গ্রামে তার আঁচ দেখি না। শুধু দেখি, কচানদী দিয়ে হানাদারদের গানবোট ছুটে যায়। আর একটা ডুবে যাওয়া বড় লঞ্চ ভেসে যেতে দেখেছি।
বড়রা আমাদের নদীর পাড়ে যেতে দিতো না। বাড়ি এসে আমরা খেলাধুলায় মেতে থাকি।
বর্ষায় খুব কৈমাছ ধরা পড়ে। রোজা আর ঈদ হয় গা…Read More11 Comments -
নিরাপদ নিবাসে ফেরা
লঞ্চ থেকে নেমে দেখি, বৈঠা হাতে নদীতীরে দাঁড়িয়ে আছে মোদাচ্ছের মাঝি; শক্তপোক্ত চাপদাড়িঅলা; বাবড়ী চুল;
আমাকে আর শহীদকে দুইবগলে ধরে নৌকায় তুলে নেয়।
যুদ্ধ আমাদেরকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে বিপদে না ফেলে শেষপর্যন্ত বাড়িতে নিয়ে এসেছে; মা এজন্য মনে মনে দোয়া পড়ে।
জ্যৈষ্ঠের দুরন্ত হাওয়ায় কচানদী থৈথৈ করে।
যুদ্ধের আতঙ্ক ভুলে মায়া…Read More -
কোথাও মুক্তাঞ্চল ছিলো না
যুদ্ধ একটা ব্যবসা; অস্ত্র কারবারিদের।
আমেরিকা, রাশিয়া, চীন; এমনকি নব্য ভারতও এই ব্যবসায় পক্ষ-বিপক্ষকে সহায়তার নামে সামিল হয়।
হানাদারদের অস্ত্রের দাপটে অসহায় মানুষ ছিটকে বেরিয়ে যায় সীমান্তের ওপারে।
আমরা নগর ছেড়ে মুক্তাঞ্চলের খোঁজে নিজগ্রামে ফিরে যাওয়ার বাসনা পোষণ করি। জানিনা, জুনের তপ্ত মৌসুমে আমাদের গ্রা…Read More13 Comments -
লুঙ্গি খুলে দেখে নিতো হিন্দু না মুসলমান
৭১এর চিটাগাং ছিল ছোট্ট শহর। সদরঘাট থেকে বহদ্দার হাট পযর্ন্ত এর দৈর্ঘ্য। খুলশী, পাহাড়তলী, শোলোশহর, হালিশহর, পতেঙ্গা ছিল শহরতলীর জনপদ।
যুদ্ধ শুরুর পর বন্দরের কাজকর্ম কমে আসে। পথঘাট সৈন্যদের দখলে চলে যায়। শহরে চেপে বসে গুজব আর আতঙ্ক।
এরিমধ্যে আমরা মাদারবাড়িতে মামার বাসায় আসি।
তিনটা দোতলা ভবনের মা…Read More10 Comments -
যেনো নরকের কোনো স্থান
যুদ্ধের মধ্যে প্রতিটি দিন ছিল হতাশা আর অনিশ্চয়তার।
তৈয়ব চাচাকে কবর দিয়ে রাতের অন্ধকারে নদী পেরিয়ে শরফভাটার আরো গহীনে ঢুকে আমরা একটা পরিত্যক্ত মাটির ঘরে আশ্রয় নিই।
মেঝেতে ছন বিছিয়ে তার উপর তৈয়ব-চাচীর দেওয়া চাদর পেতে ঘুমিয়ে পড়ি। রাতে খেয়েছিলাম কিনা আজ তা মনে নেই।
বৈশাখের রৌদ্রোজ্জ্বল সকলে জেগে উঠে দেখি, অপূর্ব এক টিলার…Read More14 Comments -
অশ্রুপাতের সময় ছিলো না
যুদ্ধের শুরুটা ছিল কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক প্রাদেশিক জনগণের উপর জাতিগত নিধন।
এই নিষ্ঠুরতা শুরু করে আয়ুব খান; পঞ্চাশের দশকে পাঠান এবং বালুচদের নির্বিচার হত্যার মধ্য দিয়ে।
৭১ সালে ইয়াহিয়া একই পথ বেছে নেয় বাঙালিদের সর্বশান্ত করে দেওয়ার জন্য।
মনে রাখা দরকার, সেনাবাহিনীও পরিচালিত হয় কোন না কোনো গোষ্ঠীস্বার্থে।
কে…Read More11 Comments -
এমন হত্যাকান্ড ভোলা যায় না
যুদ্ধের মধ্যে আমরা চন্দ্রঘোনা ছেড়ে রাঙ্গুনিয়া কলেজের পিছনে তৈয়ব চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিই।
বনেদি তালুকদার বাড়ি। বড়ো উঠানের দুইপাশে দুইটা মাটির ঘর। পেছনে পুকুর আর সামনে টিনের কাচারী।
পুরুষরা কাচারীতে থাকে। মহিলারা বড় বড় ঢেগে ভাত-সালুন রাঁধে।
পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য বোঝাতে বাড়ির মাথায় চাঁনতারা প…Read More12 Comments -
ঐ পাঞ্জাবি, গেলি
যুদ্ধ এসে তছনছ করে দেয় আমাদের সাজানো জীবন। চন্দ্রঘোনায় বসবাস করা বিভিন্ন জেলার বাঙালিরা প্রণভয়ে পালাতে শুরু করে।
মিলের উৎপাদন চালু রাখা দূরুহ হয়ে যায়।
পাঞ্জাবিদের অস্ত্রের মুখে রয়ে যায় শুধু অকুতোভয় তরুণরা। দূর্গম টিলা-টংয়ে অবস্থান নেওয়া গেরিলাদের হদিস পাওয়া পাকসেনাদের পক্ষে ছিল কঠিন।
আমরা দোভাষী বাজার থেকে বেরি…Read More8 Comments -
বৃষ্টিকে মনে হয় হানাদার
যুদ্ধ কোনো সহজ ঘটনা না। অস্ত্রকারবারিদের নির্মম খেলা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিলো আমাদের উপর।
কর্ণফুলি পেপার ও রেওয়ান মিল অবাঙালী দাউদ কোম্পানির সম্পত্তি হওয়ায় যুদ্ধের শুরুতে সেনাবাহিনী চন্দ্রঘোনায় ঘাঁটি গাড়ে।
মিলগেটের তল্লাশি এড়ানোর জন্য মা আমাদের নিয়ে স্কুলের পিছনের পাহাড় ডিঙিয়ে নিস্তব্ধ বনপথে দোভাষী বাজারের দিকে এগো…Read More12 Comments -
জীবন জুড়ে যুদ্ধ
সত্তুর সালের শুরুতে আব্বা আমাকে কেপিএম স্কুলের উল্টোদিকের পাহাড়ের উপরের শিশু স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়। কিন্তু তিন/ চার দিনের বেশি গেছি বলে মনে পড়ে না।
খুব উঁচু আর খাড়া সিড়ি ভেঙে উঠতে উঠতে কাঁদতাম।
এটুকু মনে আছে, স্কুলটা ছিল টিনের আর সামনে মিনারের মতো একটা স্থাপত্য ছিল।
ঐ সময়টায় চন্দ্রঘোনায় খুব মিছিল মিটিং লেগে থাকতো। বিহারী…Read More15 Comments -
যুদ্ধে যাবো/
দামাল ছেলে, দামাল ছেলে
দামাল ছেলের দল
শক্তি সাহস আছে তোদের
যুদ্ধে এবার চল
যুদ্ধ এবার পাক-হানাদার
পাঞ্জাবীদের সাথে
হঠাৎ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে
পঁচিশে মার্চ রাতে
মারলো কতো ছাত্র-যুব…Read More13 Comments -
চিহ্ন থেকে সাহিত্য

চিহ্ন বিজ্ঞান বিকশিত হতে হতে ছাপাখানার যুগ থেকে সাহিত্য মানুষের হাতে হাতে চলে এসেছে। এখনতো সফট কপি সেলফোনে হাতের মুঠোয় রেখে পড়ে ফেলা যায়। আজকের সাহিত্য হচ্ছে চিহ্ন-বিজ্ঞানের অনুপম সৃষ্টি। নানান চিহ্ন সাজিয়ে লেখকরা গড়ে তোলেন সাহিত্য সম্ভার; যা জ্ঞান ও কল্পনাকে সহজেই অপরের কাছে পৌঁছে দেয়।
মৌখিক সাহিত্যের যুগে এই চিহ্ন ছি…Read More16 Comments - Load More Posts
Friends
Kishor Kanok
@kishorkanok-2
Shahajahan Tapu
@shahajahantapu
জুলহাজ আলী জীবন
@julhaj
গোলাম রাব্বানী
@rabbi-2
Reazul Kabir
@reazul-kabir
পিপীলিকা
@abujubair
আজহারুল ইসলাম তালহা
@ajharul
Rashed Rahman Abir
@rashed-rahman-abir
নতুন করে শুরু
@amrin-shimu




Nice