<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | অভিমানী মন | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/ovimanimon/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/ovimanimon/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for অভিমানী মন.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 19 Jun 2026 11:35:01 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">8fe7f068fff8d2d1b2199355d70e9bef</guid>
				<title>চড়ুই মামা//

ছেলেবালায় আমরা ছোট্ট একটা পাহাড়ি শহরে থাকতাম। শহরটার নাম চন্দ্রঘোনা। পাহাড়ের গায়ে গায়ে সুন্দর পিচঢলা পথ; চুড়ায় চুড়ায় বাংলো-বাড়ি; আর লম্বা ট্রেইল জুড়ে বিশাল কলোনি। এখানেই চাঁদের মতো বাঁক নিয়ে সমতলের দিকে ছুটে গেছে খরশ্রোতা কর্নফুলি।
এমন শান্ত, গম্ভির শহর পৃথিবীর কোথাও দেখি নাই। এই শহরে পাবলিক বাস বা রিক্সা চলে না। সকাল বেলায় দলবেঁধে হেঁটে হেঁটে স্কুলে যেতাম। আমাদের সঙ্গে পথ চলতো পেপার ও রেওয়ান মিলের হাজারো শ্রমিক।
ছোট্ট শহরটায় সবাই সবাইকে চিনতাম, আর আনন্দ করতাম ভূবনহারা। আমরা যখন সেভেন/ এইটে পড়ি, এখানে নতুন একটা পরিবার দেখি; ওদের এক ছেলে, এক মেয়ে—আমাদের বয়সি। কিংবা ওরা হয়তো ডর্মেটরিতে থাকতো—আগে চোখে পড়ে নাই।
আমরা যখন স্কুলে যেতাম, ওরা বাসার বাউন্ডারি ওয়ালের উপর পা ঝুলিয়ে বসে থেকে তুত-ফল খেতো। ওরা ভিষণ ফর্সা আর সোনালি চুলের। আমরা উৎসুক হয়ে জানতে চাই—তোমরা স্কুলে যাও না?
ওরা বলে—না। আমরা বাসায় পাপার কাছে পড়ি।
কি পড়?
ইংরেজি, বাংলা দুটোই; অংকও শিখি।
তোমাদের বই আছে?
পাপার কাছে দুইটা বই আছে—ওল্ড টেস্টামেন্ট আর অরিজিন অফ স্পিসেস। বাকি পড়া পাপা শিখায়।
বাসায় ফিরে ওদের সম্পর্কে জানতে চাই। মা বলে—ও; ইলারুস সাহেবের বাচ্চাদের কথা বলতেছিস? ইলারুস সাহেব নামকরা ক্যামিস্ট। ওরাতো এংলো; ইংল্যান্ড থেকে এসে এদেশে থেকে গেছে। ওদের বাড়ি ফিরিঙ্গি বাজারে। আমি হাসতে হাসতে বলি—মা জানো, ওরা দাঁত মাজে না!
মা হাসে—মাজে। ওদের দাঁত হলদেটে।
অল্প দিনেই ওদের সাথে ভাব হয়ে যায়। রিকি খুব চাল্লু। ডেসি শান্ত টাইপের মেয়ে; মায়ের সাথে আখক্ষেতে কাজ করে। ওদের বাবা মাথায় হ্যাট পড়ে; ঠোটে চুরুট ঝুলে থাকে। টিনের ছোট্ট বোতল থেকে চুকচুক করে মদ খায়। ওদের মা নানা রকম কেক বানাতে জানে। আমরা গেলে হাঁক ছেড়ে বলে—মারিয়া, বাচ্চাদে কেক খেতে দাও; কয়েকটা স্টবেরিও দিয়ো। আমাদেরকে বলে—হাই বেবিস, কল থেকে পা ধুয়ে ঘরে ঢুকো।
আমরা তখন মোটেই বেবি নই; ক্লাস এইটে উঠে গেছি। স্টবেরিগুলো পকেটে নিয়ে রিকির সাথে বেরিয়ে পড়ি। ডেসি যখন ‘হাই’ বলে হলুদ দাঁত বের করে জানতে চায়—তোমরা কি সিতা-পাহাড়ে যাচ্ছো?—আমাদের মন ভরে যার; আর প্যান্টের ভিতরে নুনুটা তিড়িং করে লাফিয়ে ওঠে। আখক্ষেত থেকে ওদের মা বলে—তোমরা পাহাড়ের বেশি ভিতরে ঢুকবে না; পথ হারিয়ে ফেলবে…। রিকি বলে—দোন্ট ওরি, মারিয়া; আই এম এনাফ এডাল্ট।
আমরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করি—মাকে তোমরা নাম ধরে ডাকো?
হ্যাঁ। প্রতিটি মানুষ আলাদা ব্যক্তিত্ব; পাপাকে ইলারুস বলে ডাকি।
যেতে যেতে কয়েকটা বন-মোরগ দেখি। রিকি পকেট থেকে গুলতি বের করে এক-মারে একটা মোরগ ফেলে দিয়ে বলে—যাও, যাও; খপ করে ধরে ফেলো।
অন্য মোরগগুলো উড়ে যায়। আহতটাকে ধরে এনে বলি—তোমার হাতে এতো এইম!
রিকি যে পাহাড়ের এতোকিছু চেনে, বুনো গাছ, লতা পাতা, পাখ-পাখালির নাম—অবাক হয়ে যাই। রিকি বলে—ছুটির দিনে ছোটবেলা থেকে আমরা ফুল-ফ্যামিলি ট্রেকিং করি; তোমরা যাওনি কখনো?
রিকির সাথে বনে ঘুরার নেশা হয়ে গেছিলো আমাদের। ও-ই আমাদের চড়ুই মামার কাছে নিয়ে যায়। কোনো এক ছুটির দুপুরে আমরা মিথিঙ্গা ছড়ি পেরিয়ে সিতা-পাহাড়ের ট্রেইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটা টিলার উপর উঠে আসি। তাকিয়ে দেখি, চারদিকে গিরিসৃঙ্গ! কর্নফুলি যেনো বনোমধ্যে লুকিয়ে থাকা রূপালি সরু চাঁদ। চন্দ্রঘনা শহরটাকে বহুদূরের অচেনা লোকালয় মনে হয়। আমরা প্রানভরে শ্বাস নিয়ে বলে উঠি—আহা, ওহো; কি সুন্দর! কি নির্মল নীলাকাশ; কি সবুজ, কি গম্ভির…!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242870/</link>
				<pubDate>Fri, 03 Apr 2026 12:22:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চড়ুই মামা//</p>
<p>ছেলেবালায় আমরা ছোট্ট একটা পাহাড়ি শহরে থাকতাম। শহরটার নাম চন্দ্রঘোনা। পাহাড়ের গায়ে গায়ে সুন্দর পিচঢলা পথ; চুড়ায় চুড়ায় বাংলো-বাড়ি; আর লম্বা ট্রেইল জুড়ে বিশাল কলোনি। এখানেই চাঁদের মতো বাঁক নিয়ে সমতলের দিকে ছুটে গেছে খরশ্রোতা কর্নফুলি।<br />
এমন শান্ত, গম্ভির শহর পৃথিবীর কোথাও দেখি নাই। এই শহরে পাবলিক বাস বা রিক্সা চলে না। সকাল বেলায় দ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-242870"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/242870/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f1edc4ba4172211fddae4bbfe4406b38</guid>
				<title>* শ্লোক-১

যেতে যেতে পথে
 যত কিছু পাও
ঝরে পড়া ফুল
বাউলের ভুল
হোক তা তুচ্ছ
 হাতে তুলে নাও।
হতে পারে রাত
 মূর্খের আঘাত
মারী ও মড়কে
 চরাচর হায়
পুঁতিগন্ধময়!
কাল নয়, দেখ
পরশুও হতে পারে
শ্রেষ্ঠ সময়।

* মৃদঙ্গ

আমি বৃষ্টিতে ভিজি
কেউ যেন আমার অশ্রু না দেখে।
যেদিন হাসি না
 দিনটা পঁচা ফলের মতন
 নর্দমায় গড়ায়।
আমি হাসতে হাসতে
বৃষ্টি মাথায় ফুটপাত ধরে হাঁটি।
লোকে আঙ্গুল তুলে বলে—
 ঐযে, ঐ মানুষটা পাগল।  
আমি বৃষ্টিতে হাটি
কেউ যেন আমার কান্না না বোঝে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242193/</link>
				<pubDate>Wed, 01 Apr 2026 01:48:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>* শ্লোক-১</p>
<p>যেতে যেতে পথে<br />
 যত কিছু পাও<br />
ঝরে পড়া ফুল<br />
বাউলের ভুল<br />
হোক তা তুচ্ছ<br />
 হাতে তুলে নাও।<br />
হতে পারে রাত<br />
 মূর্খের আঘাত<br />
মারী ও মড়কে<br />
 চরাচর হায়<br />
পুঁতিগন্ধময়!<br />
কাল নয়, দেখ<br />
পরশুও হতে পারে<br />
শ্রেষ্ঠ সময়।</p>
<p>* মৃদঙ্গ</p>
<p>আমি বৃষ্টিতে ভিজি<br />
কেউ যেন আমার অশ্রু না দেখে।<br />
যেদিন হাসি না<br />
 দিনটা পঁচা ফলের মতন<br />
 নর্দমায় গড়ায়।<br />
আমি হাসতে হাসতে<br />
বৃষ্টি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-242193"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/242193/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3eafdc81e1ee78ab742f4317a7217980</guid>
				<title>সাহিত্য সন্দেশ
মনির জামান
শব্দই মোক্ষ
কবিতার মূল উপদান হলো ‘শব্দ’। 
কবির সাধনায় ‘শব্দ’ই মোক্ষ। কবি শব্দের অন্বেষী। চিন্তাকে প্রকাশের জন্য মোক্ষম শব্দটি খুঁজে খুঁজে হয়রান কবি; তখনি ক্ষান্ত হন যখন মুক্তার মতন শব্দটি বসাতে পারেন কাব্য মালায়।
মনে রাখা দরকার, যেকোন ভাষায় শব্দ সীমিত। সামান্য শব্দের ভান্ডার ঘেঁটে অসীম চিন্তাকে সজ্জিত করে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেন কবি। এ বড় কঠিন কাজ।
রবিন্দ্রনাথ বলেন—সত্য যে কঠিন/ কঠিনেরে ভালোবাসিলাম/ সে কখনো করেনা বঞ্চনা…।
এই শব্দের অন্বেষা মৌখিক যুগ থেকে আজকের লিখ্য-সাহিত্যের কালেও সমান সত্য।
অভিধানে খুঁজে খুঁজে হয়রান কবি অবশেষে দারস্থ হন প্রকৃতির কাছে। প্রকৃতির রুপ-রস, আলো-হাওয়া তাকে দেয় কাঙ্খিত শব্দের সন্ধান।
কবি সমাজ থেকেও শব্দ খুঁজে নেন। প্রার্থিত শব্দের কাছে তিনি ভিখারি। শব্দ তার কাছে অপ্সরি। শব্দের নৃত্যে তিনি পুলকিত হন।
অচল শব্দে কবি প্রান দেন। খুব চেনা শব্দকে করে তোলেন অনন্য।
আমি- তুমি- সে শব্দের ব্যঞ্জনায় আপ্লুত হয়; কবিকে জানায় অভিবাদন।#

সাহিত্য সন্দেশ/ । চলবে… 








সাহিত্য ছিলো শ্রুতিভাষ্য

আদিতে কবিতাই ছিলো সাহিত্য। শ্লোক, ধর্মকথা, রূপকথা, প্রেমকথা, জ্ঞানকথা—সবই  হতো কাব্যে।
কবিতা ছিলো মৌখিক। কবিরা বলতেন; আর জনে জনে মুখে মুখে বিস্তার ঘটতো সর্বত্র।ধরা যাক, পাঁচ হাজার বছর ধরে; পুরো সামন্ত যুগজুড়ে কবিতা ছিলো বাচনিক।
শুধু ভারতবর্ষে নয়; পৃথিবীব্যপি এই  মৌখিক সাহিত্য মানবসভ্যতার বিকাশ ঘটায়।
গুরুগৃহে, হাট-বাজারে, রাজদরবারে; উৎসব-পর্বনে কবিদের ডাক পড়তো। 
কবিরাই ছিলো জ্ঞানী; অথবা জ্ঞানীরাই ছিলেন মহৎ কাব্যের শ্রষ্টা।
বচন, গীত, কীর্তন থেকে শুরু করে মহাকাব্যের সৃষ্টি ও বিকাশ ঘটে মুখে মুখে।
ইলিয়ড, অডসি, মেটামর্ফসিস, রামায়ন, মহাভারত—সবই মৌখিক মহাকাব্য। এমন কী, তরাত, যবুর, ইঞ্জিল, কোরানের মতো ঐষী গ্রন্থও মুখে মুখে রচিত।
চিহ্ন ও লিপির আবিষ্কারের সাথে সাথে এগুলি গ্রন্থরূপ লাভ করে।
আগে সাহিত্য ছিলো শুধুই ঈশ্বর বন্দনা। শ্রষ্টা আর রাজার গুনকীর্তন ছিলো কবিদের ধ্যান-জ্ঞান।
প্রকৃতির বিবরণ, এমন কী অংকও কষা হতো কাব্যে।
আধুনিক যুগবিকাশের সাথে সাথে ব্যক্তির গুরুত্ব বাড়ে; আর কবিতার কেন্দ্রে আসে মানুষ। এ অতি সাম্প্রতিক ঘটনা; মুদ্রন যন্ত্রের আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায়; ফরাসি বিপ্লবের পর; দেশে দেশে রাজতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে।
সাহিত্য সন্দেশ/ ১। চলবে…






সাহিত্যের হাত ধরে ভাষা বিকশিত

বিদ্যালয় তোমাকে শুধুই ভাষা শিখাতে পারে। কী সেই ভাষা? জানার, বোঝার ভাষা।
গনিত একটা ভাষা, বস্তুকে বোকঝার। ধর্ম কিছু ভাষাসমষ্টি; যা শ্রষ্টাকে চিনতে শেখায়।
কিছু বর্ণ, কয়েকটি চিহ্ন এবং অনেকগুলো সূত্র তুমি জেনে নিতে পারো বিদ্যালয় থেকে; কিন্তু তা সবার সামনে তুলে ধরতে হলে আশ্রয় নিতে হয় সাহিত্যের। একারণে বলা হয়, সব ধরনের লেখাই সাহিত্য।
অষুধ কোম্পানির লিফলেট থেকে ধর্মগ্রন্থ, রাজনৈতিক ইস্তেহার, শ্লোক, উপদেশ; গান-বাজনা, চলচ্চিত্র—সবই ভাষ্য; সাহিত্যেরই নানা রূপ।
যেমন, আপনি যাখন লেখেন—পেপে; ওটা পেপে নয়—কয়েকটি বর্ণ মাত্র। কিন্তু ওই শব্দটি দেখা মাত্র পাঠকের মনে রসলো ফলটার নানা ছবি ভেসে ওঠে।
যখন লেখেন, ‘পাখি পাঁকা পেপে খায়’—উপলব্ধিতে শিশুরা হেঁসে ওঠে; আর বলে—আমিও পেপে খাবো।
এখানেই শব্দসমষ্টি সাহিত্যে রূপলাভ করে।
একারণে সাহিত্যিকের দায়িত্ব অনেক। প্রতিটি শব্দই তাকে যাচাই করে নিতে হয়; সৃষ্টি করতে হয় নতুন  শব্দমালা, যা পাঠককে আলোড়িত করে।#

সাহিত্য সন্দেশ/ ৩। চলবে…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241766/</link>
				<pubDate>Mon, 30 Mar 2026 02:04:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সাহিত্য সন্দেশ<br />
মনির জামান<br />
শব্দই মোক্ষ<br />
কবিতার মূল উপদান হলো ‘শব্দ’।<br />
কবির সাধনায় ‘শব্দ’ই মোক্ষ। কবি শব্দের অন্বেষী। চিন্তাকে প্রকাশের জন্য মোক্ষম শব্দটি খুঁজে খুঁজে হয়রান কবি; তখনি ক্ষান্ত হন যখন মুক্তার মতন শব্দটি বসাতে পারেন কাব্য মালায়।<br />
মনে রাখা দরকার, যেকোন ভাষায় শব্দ সীমিত। সামান্য শব্দের ভান্ডার ঘেঁটে অসীম চিন্তাকে সজ্জিত ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-241766"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/241766/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">271ae38f3f37d3e6da6adb402453575e</guid>
				<title>একজন ভদ্রলোক

মার্কসবাদী সাহিত্যে লুম্পেন শব্দটা খুব দেখা যায়। এরা মধ্যবিত্ত। চলে ধনীদের কৃপায়। ঠাঁট-বাটই এদের পুঁজি। পার্থ সাদিক তেমন কিনা জানিনা। তবে মার্কসবাদ তার পছন্দ। কথায় কথায় মিশেল ফুঁকোর উদ্ধৃতি ঝাড়ে। লোকজন তাকে পন্ডিত বলেই জানে। যারা ঘনিষ্ঠ হয়, তারা বলে--আরে থো; হেয় একটা বাটপার। আধঘন্টা কথা কবি, তারপর দেখবি, চুপচুপ কইরা টাকা চাইবো। একদম পাত্তা দিবি না...।
লোকটা অফিস করার মতন ভোরবেলায় এসে পাবলিক লাইব্রেরির কেন্টিনে বসে দুই/ তিনটা ইংরেজি,বাংলা পত্রিকায় চোখ বুলায়। ততক্ষণে পরিচিত কেউ এসে বলে--পার্থ দা, নাস্তা করছেন? 
বসেন, প্লিজ। হেডিংগুলা দেখেন; দেশের অবস্থা একদম যা তা! এতো মার্ডার, ভাবা যায়! 
হয়ে গেল ব্রেকফাস্ট। এরপর লোকটা লাইব্রেরিতে ঢোকে। যতনা পড়ার জন্য, তারচেয়ে বেশি দরকার ওয়াশরুম ব্যবহার। লাইব্রেরিতে ছাত্র-ছাত্রী বেড়ে গেলে রাস্তা পেরিয়ে পার্কে ঢুকে আমাকে খোঁজে। দেখা হয়ে গেলে বলে--শ্রেফ আপনার জন্য আসি। 
পার্থ দাকে আমি ভালোবাসি। ওনাকে দেখে ইউরোপীয় টকেটিভদের ধারণা পাই। লোকজন বেড়ে গেলে দেখনদারী ভঙ্গিতে ইংরেজি ফুটায়। 
আমি বলি--বাংলাতো মিষ্টি ভাষা। 
অল রাইট। বাট, ছোটলোকরা বাংলায় কথা বলে। 
দেশ নিয়ে লোকটা দুশ্চিন্তায় ভোগে। এটা কী নিউ-কলোনিয়াল যুগ চলছে না? 
আমি বলি--এজন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হবে। 
লোকটা হাসে--আপনি জ্ঞানি মানুষ। কিন্তু সমস্যা হইল, গরীব লোকদের সঙ্গে চলেন। কী লাভ বলেন তো! 
আমি বলি--আপনার কোটটা পুরান হয়ে গেছে। টাইটা ধোন না কেন! 
লোকটা ম্লান হেসে বলে--ম্যাসে থাকি। স্ট্রগল করতে হয়। মেয়েটা এইবার কলেজে উঠবে। একটা ছোট্ট বাসা ভাড়া করে ঢাকায় নিয়ে এসে একসঙ্গে থাকবো ভবতেছি। 
মানুষ এবং মুখোশ একাকার হয়ে থাকে বলে দুঃখি লোকদের চিনতে ভুল করি। আমি বলি--পার্থ দা, এক দিন সময় দিলে আপনাকে একটা সাফারি স্যুট বানিয়ে দেবো। খুব মানাবে। 
লোকটা হাসে--থ্যাঙ্কস ব্রাদার। কিন্তু সময় দিতে পারবো কিনা জানিনা। 
হাতঘড়ি দেখে পার্থ সাদিক উঠে দাঁড়ায়। মৃদু হেসে বলে--আপনার পাশে বসতে কেন ভালোলাগে জানেন? বিকজ, ইউ আর এ রিয়েল প্রলেতারিয়েত। 
আমি হাসি--এখন কোথায় যাবেন? 
মতিঝিলের একটা ব্যাংকে যাবো। একজন ব্যাংকারের সঙ্গে লাঞ্চ করবো। বাঙালি মধ্যবিত্তের মন এখনো বড় হয় নাই। আচ্ছা, দিবি যখন পাঁচশ কেন, দুই হাজার টাকা দে। একটা ভালো বই কিনতে কত লাগে আপনিতো জানেন! 
আরেক কাপ চা খাবেন? 
নো থ্যাঙ্কস। ছোটলোকদের সঙ্গে লোকাল বাসে চড়া বিরাট ঝামেলা; এইটুক পথ যেতে ঘাম ছুটে যাবে। 
লোকটার হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে বলি--মতিঝিলের ফুটপাতে দারুণ দারুণ টাই পাওয়া যায়..। 
লোকটা হাসে। যেতে যেতে ঘাড় ঘুরিয়ে টা টা দেয়।
এরাই কী লুম্পেন? ঠিক বুঝে উঠতে পারি না।পথের দিকে চেয়ে থাকি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/229375/</link>
				<pubDate>Tue, 20 May 2025 05:55:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একজন ভদ্রলোক</p>
<p>মার্কসবাদী সাহিত্যে লুম্পেন শব্দটা খুব দেখা যায়। এরা মধ্যবিত্ত। চলে ধনীদের কৃপায়। ঠাঁট-বাটই এদের পুঁজি। পার্থ সাদিক তেমন কিনা জানিনা। তবে মার্কসবাদ তার পছন্দ। কথায় কথায় মিশেল ফুঁকোর উদ্ধৃতি ঝাড়ে। লোকজন তাকে পন্ডিত বলেই জানে। যারা ঘনিষ্ঠ হয়, তারা বলে&#8211;আরে থো; হেয় একটা বাটপার। আধঘন্টা কথা কবি, তারপর দেখবি, চুপচুপ কইরা টাকা চাইবো। একদ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-229375"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/229375/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">06be99578458d68ea32cc57ecf23f27d</guid>
				<title>ওই কাউয়া যা ।। 

আমি আর রণো একবার সিদ্ধান্ত নিলাম—আর ঘরে ফিরবো না। ভূপেনের গান গাইতে গাইতে পথে পথে ঘুরছিলাম আর ভাবছিলাম, পথকেই ঘর বানিয়ে নেবো। পকেট খালি হয়ে গেছিলো, ধুলো-মলিন হয়ে যাত্রিছাউনির নিচে ঘুমোচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম, পথের মানুষ আপন হবে; কিন্তু কেউ ভিক্ষা দিচ্ছিলো না; উল্টো দূরদূর করছিলো সবাই। রণো বলছিলো—চলো বন্ধু, আত্মহত্যা করি।
ক্যামনে?
তখন রাত। হাইওয়ে দিয়ে ট্রাক ছুটছিলো শাঁই শাঁই করে। সিদ্ধান্ত নিয়েও ট্রাকের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস পাচ্ছিলাম না। উল্টো হতাশা আর ক্ষুধ-পিপাসায় ঘুম এসে গেছিলো। আধোঘুমে চোখমেলে দেখি—একটা মেয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসতেছে!
আমরা বলি—কি! কি চাও?
মেয়েটা হি হি করতে করতে বলে—খাবি?
কি! কি খাবো? তোর মাথা?
মেয়েটা বলে—কাচ্চি বিরানি।
মুহুর্তে পেট চোঁচোঁ করে ওঠে। তাকিয়ে দেখি আকাশ ফর্শা হয়ে এসেছে। রাস্তার ওপাড়ের ডাস্টবিনে গাড়ি থেকে ময়লা ফেলছে দুইটা লোক। ওরা চলে যাওয়ার পর মেয়েটা বলে—চল যাই।
মেয়েটার পিছে পিছে গিয়ে দেখি, অনেক রকম সুস্বাদু খাবার ডাম্প করে গেছে লোকদুটো। মেয়েটা কয়েকপ্যাকেট খাবার আমাদের হাতে তুলে দিয়ে বলে—চল, অইপারে গিয়ে আরাম কইরা খাই। এগুলা ফাইভস্টার হোটেলের খানা…।
যখন খেতে বসি, তখন কয়েকটা কাক উড়ে এসে আমাদের উপর হামলে পড়ে। মেয়েটা কিছু রাইস ছুড়ে দিয়ে বলে—ডিস্টার্ব করিস না; খা। আমাদেরকে বলে—এগো না দিয়া খাওন যায় না। তারপর চোখ নাচিয়ে বলে—ক্যমন? বাপের জনমে খাইছস কোনোদিন? খা; পেট ভইরা খিয়া ল; আল্লার দুনিয়ায় খাওনের অভাব নাই। হৈচৈ করে খেয়ে নিয়ে কাকগুলো উড়ে যায়। মেয়েটা বলে—পেটে মোচড় দিছে। চল হাগতে বসি।
মেয়েটার প্রতি রণো মোহগ্রাস্ত হয়ে পড়ে। ফুটপাতের পাশে জঙ্গলা জায়গায় তিনজন পাশাপাশি হাগতে বসি। রনো জানতে চায়—এই, তোমার নাম কি?
ববিতা।
কোথায় থাকো?
কোথায় থাকুম! এইখানে। বলতে বলতে মাটি দিয়ে পুটকু মুছে স্যলয়ারের ফিতা বেধে ববিতা বলে—চল; মেডিকেলের সামনে চা-দোকান খুলছে।
মেয়েটার সাথে ভোরের রাজপথ ধরে চায়ের দোকানের দিকে যেতে যেতে প্রবল আনন্দে গান ধরি—পথের মানুষ আপন হয়েছে/ আপন হয়েছে পর/ আমি এক যাযাবর…।
মেয়েটা হেসে উঠে জানতে চায়—তোর নাম বুঝি যাযাবর?
আমি জানতে চাই—নামটা ক্যামন?
মেয়েটা পাছা দিয়ে ঠেলা মেরে বলে—পোলাডাও তুই সেইরম।
রণো জানতে চায়—আমি?
আরে লাল্লুবুলু…বলে মেয়েটা রণোর গালে কিস মেরে দেয়। রণো ধরতে গেলে মেয়েটা ছুট লাগায়। আমরা তিনজন ছুটতে ছুটতে চা-দোকানে পৌঁছে যাই। কখন যে কাকগুলো এসে গেছে, বুঝতে পারি নি। আমরা চা খাই, আর কাকগুলো আমাদের চারপাশে লাফঝাঁপ দিয়ে ওড়াউড়ি করে; পাখি আর মানুষে তফাৎ বুঝি না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227055/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Mar 2025 08:27:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ওই কাউয়া যা ।। </p>
<p>আমি আর রণো একবার সিদ্ধান্ত নিলাম—আর ঘরে ফিরবো না। ভূপেনের গান গাইতে গাইতে পথে পথে ঘুরছিলাম আর ভাবছিলাম, পথকেই ঘর বানিয়ে নেবো। পকেট খালি হয়ে গেছিলো, ধুলো-মলিন হয়ে যাত্রিছাউনির নিচে ঘুমোচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম, পথের মানুষ আপন হবে; কিন্তু কেউ ভিক্ষা দিচ্ছিলো না; উল্টো দূরদূর করছিলো সবাই। রণো বলছিলো—চলো বন্ধু, আত্মহত্যা করি।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227055"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227055/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">02d6e2216bfd9a96fcbf950b6aea3110</guid>
				<title>দাম্পত্য/ ৭

আমার কাজিন সিস্টার, মানে মামাতো বোন আলো আপার চোর খ্যাতি আছে। আপার বয়স কম হয় নাই; ষাট ছুঁই ছুঁই; দুই মেয়ে, এক ছেলের মা;  অথচ মাতুলালয়ের সবাই আজো তাকে এই অপবাদ দেয়। ইদানিং শুনতেছি, মায়ের নিন্দা শুনতে শুনতে ছেলে অতিষ্ট হয়ে বিদেশে চলে গেছে। মেয়েরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে—তুমি যেন আমাদের শশুর পক্ষের কারো বাসায় না ঢোকো; আল্লার কিরা…। 
অথচ আলো আপা নির্বিকার! কিশোরী বয়স থেকে পাড়া, গ্রাম, শহর সর্বত্র এর-ওর বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। আপার যেমন রূপ, তেমন গুন—যেকারো বিপদ-আপদে সবার আগে আলো আপাকে দেখা যায়। হাসপাতালে আলো আপা; মরার ঘরে সাদা শাড়ি পরে কোরান পড়তে আলো আপাকেই দেখা যাবে। 
ভার্সিটিতে ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের ছাত্রি ছিলো; কিন্তু চাকরি-বাকরি কিছুই করে নাই। বান্ধবীদের পাত্তা দেয় না; বন্ধু বেসুমার। মামা, চাচা, খালু, ফুপা—বড়দের সবাই বলে—ও যে চুরি করে তোরা কেউ দেখছস?
না; শুনছি।
এইতো, তোরা অরে হুদাই দোষ দেস; অর মতো মাইয়া গুষ্ঠিতে একটাও আছে, ক দেখি?
আমি যখন স্কুলে পড়ি, তখন অফিসার্স ক্লাবে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রথম আলো আপার বদনাম শুনি। আপা গিফট  কাউন্টারে বসে উপহার নিচ্ছিলো; আর পাশে জটলা বেঁধে মহিলা-মহল ফিসফিস করে বলতেছিলো—কাম সারছে! এরে কে বসাইছে?
কনের বাবায় বসাইছে।
ও; তাইলেতো আর কিছু বলার নাই; দেইখো, একটা টাকাও পাইবো না; সব বেগে ঢুকাইয়া পাল্টি দিবো।
সত্যি তাই ঘটে। গিফটের নগদ টাকাগুলো নিয়ে অনুষ্ঠান থেকে হাওয়া হয়ে যায় তো যায়, কয়েক বছরেও ওই পরিবারটার কাছে ঘেষে না। আবার ওই বাসায় যায়, যখন চাচীর মৃত্যুর খবর পায়। মরার ঘরে কেউ কি এতো পুরানো চুরির ঘটনা উঠাবে! বোন আমাদের এতোই চতুর।
একবার খুব চাঞ্চল্যকর সংবাদ আমাদের ভাই-বোন মহলে ভাইরাল হয়ে যায়; সবাই বলাবলি করতে থাকে—আলো আপা নাকি জগলুর বউ’র কানের আর গলার সোনা ঘুমের মধ্যে খুইলা নিয়া গেছে; নতুন বউটা ঘুনাক্ষরেও টের পায় নাই!
এমন হাজারো কিচ্ছা ছোটবেলা থেকে শুনতে শুনতে আপাটাকে যথা সম্ভব সমঝে চলি। কিন্তু বোন আমার ভিষণ দরদীও বটে। মিথিলাকে বিয়ে করার সমায় সাক্ষি কোথায় পাই! তখন আলো আপাকেই মনে পড়ে। আপার একটাই কথা—একদম চিন্তা করবি না; আমিতো আইসা পড়ছি। আম্মা তখন চিটাগাং; খরচ-পাতি সব আপাই করে। আপা হেসে বলে—কামাই-রুজি কইরা ফেরৎ দিয়া দিস।
বিয়ের পরপর মিথিলার এপেন্ডিসের ব্যথা উঠলে রাতদুপুরে দেখি, আলো আপা হলিফ্যামিলি হাসপাতালে এসে হাজির। 
তুমি কার কাছে খবর পাইলা?
আপা হাসে—আর চিন্তা করিস না; যা, ফার্মেসি থেকে এই ঔষধগুলা নিয়া আয়; টাকা আছে?
সেই থেকে মিথিলা আলো আপার ভক্ত। কারণে অকারণে আপার সঙ্গে খুব কথা বলে। কিন্তু আপামনি বছরখানেকের মধ্যেও আমাদের বাসায় চরণধুলি ফেলার সময় পায় না। মিথিলাকে বলি—এতোযে ফোনে পিরিত করো; বাসায় আসলে চোখ-কান খোলা রাখবা।
মিথিলা রেগে যায়—কিযে বলো না! আপা ফেরেস্তার মতো মানুষ; এখনো কি মিষ্টি দেখতে; কি স্মার্ট। আপাকে নিয়া কুটনামী করবা না, বলে দিচ্ছি।
আমার কি দোষ! সবাইতো আপার ভয়ে টানটান।
একদিন হঠাৎ আপার ফোন পাই; আনকমন টাইমে; সকাল সাতটায়। আমি চমকে যাই—এই মিথিলা, ওঠো; আপা ফোন করছে।
কোন আপা?
আরে, আলো আপা। 
মিথিলা হুড়মুড় করে জেগে উঠে ঘর গুছাতে ব্যস্ত হয়ে যায়—তুমি নিচে গিয়ে রুটি আর জেলি নিয়ে আসো; যাও!
আলো আপা আসাতে দুজনেই খুব খুশি হই। প্রথমবার এসেই দারুন একটা আলুভাজি করে তাক লাগিয়ে দেয়। আমি বাজারে গিয়ে পাকিস্তানি কক আর বাতাসি মাছ নিয়ে আসি।
আপা বলে—আজকে থাকবো, মিথিলা; দেখবো, তুমি আমার ভাইটারে ফাঁসাইয়া কেমন সংসার পাতছো।
মিথিলা বলে—শাড়ি পাল্টে এই কাপ্তানটা পরে নেন।
আলো আপা শাড়ি পাল্টায় না। ফোনে কার সঙ্গে যেনো একটু পরপর কথা বলে। আমি আর মিথিলা রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই। এর মধ্যে আপা এসে বলে—চা করো; চা খেয়ে বেরিয়ে যাবো।
কেনো! এই না বললেন থাকবেন। অন্তত আমাদের সাথে লাঞ্চ করে যান। 
কিন্তু হঠাৎ আপা হাবভাব বদলে ফেলে বলে—না; আরেকদিন এসে থাকবো; আজকে পারতেছি না; স্যরি মিথিলা; তোমরাতো জানো আমার পায়ে চাক্কা লাগানো আছে।
নিচে নেমে আপাকে ট্যাক্সিতে তুলে দিয়ে বাসায় ফিরলে মিথিলা ব্যকুল হয়ে জানতে চায়—আপা চলে গেছে?
হ্যাঁ; কেনো?
না, মানে, আমার সোনার চেইনটা পাচ্ছি না।
পাচ্ছি ন মানে! কোথায় ছিলো?
এইতো, ড্রেসিং টেবিলের উপর। রাতে এসে খুলে এখানে রেখে দিছিলাম।
ভালো করে খুঁজেছো?
তন্ন তন্ন করেইতো খুঁজলাম। আপা নিয়ে গেলো না তো? তোমরা যে বলো, আপার ক্লেপ্টোমেনিয়া আছে।
এতো বছর পর বুঝে ফেলি, কেনো সবাই ওনার সম্পর্কে এতো কথা বলে। মিথিলা খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে  সিগারেট ধরায়। আমি বলি—থাক; আপার বয়স হইছে; তোমাকে আরেকটা চাইন কিনে দেবো নে।
আমরা হেসে ফেলি; দুজনে একসাথে বলে উঠি—আলো আপা একটা চিজ বটে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/215460/</link>
				<pubDate>Mon, 03 Jun 2024 05:23:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দাম্পত্য/ ৭</p>
<p>আমার কাজিন সিস্টার, মানে মামাতো বোন আলো আপার চোর খ্যাতি আছে। আপার বয়স কম হয় নাই; ষাট ছুঁই ছুঁই; দুই মেয়ে, এক ছেলের মা;  অথচ মাতুলালয়ের সবাই আজো তাকে এই অপবাদ দেয়। ইদানিং শুনতেছি, মায়ের নিন্দা শুনতে শুনতে ছেলে অতিষ্ট হয়ে বিদেশে চলে গেছে। মেয়েরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে—তুমি যেন আমাদের শশুর পক্ষের কারো বাসায় না ঢোকো; আল্লার কিরা…।<br />
অ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-215460"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/215460/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1eb0a7d9121eac464e636e7a09b5e213</guid>
				<title>সাহিত্য ছিলো শ্রুতিভাষ্য

আদিতে কবিতাই ছিলো সাহিত্য। শ্লোক, ধর্মকথা, রূপকথা, প্রেমকথা, জ্ঞানকথা—সবই  হতো কাব্যে।
কবিতা ছিলো মৌখিক। কবিরা বলতেন; আর জনে জনে মুখে মুখে বিস্তার ঘটতো সর্বত্র।ধরা যাক, পাঁচ হাজার বছর ধরে; পুরো সামন্ত যুগজুড়ে কবিতা ছিলো বাচনিক।
শুধু ভারতবর্ষে নয়; পৃথিবীব্যপি এই  মৌখিক সাহিত্য মানবসভ্যতার বিকাশ ঘটায়।
গুরুগৃহে, হাট-বাজারে, রাজদরবারে; উৎসব-পর্বনে কবিদের ডাক পড়তো। 
কবিরাই ছিলো জ্ঞানী; অথবা জ্ঞানীরাই ছিলেন মহৎ কাব্যের শ্রষ্টা।
বচন, গীত, কীর্তন থেকে শুরু করে মহাকাব্যের সৃষ্টি ও বিকাশ ঘটে মুখে মুখে।
ইলিয়ড, অডসি, মেটামর্ফসিস, রামায়ন, মহাভারত—সবই মৌখিক মহাকাব্য। এমন কী, তরাত, যবুর, ইঞ্জিল, কোরানের মতো ঐষী গ্রন্থও মুখে মুখে রচিত।
চিহ্ন ও লিপির আবিষ্কারের সাথে সাথে এগুলি গ্রন্থরূপ লাভ করে।
আগে সাহিত্য ছিলো শুধুই ঈশ্বর বন্দনা। শ্রষ্টা আর রাজার গুনকীর্তন ছিলো কবিদের ধ্যান-জ্ঞান।
প্রকৃতির বিবরণ, এমন কী অংকও কষা হতো কাব্যে।
আধুনিক যুগবিকাশের সাথে সাথে ব্যক্তির গুরুত্ব বাড়ে; আর কবিতার কেন্দ্রে আসে মানুষ। এ অতি সাম্প্রতিক ঘটনা; মুদ্রন যন্ত্রের আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায়; ফরাসি বিপ্লবের পর; দেশে দেশে রাজতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে।
সাহিত্য সন্দেশ/ ১। চলবে…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/212025/</link>
				<pubDate>Sat, 13 Apr 2024 05:23:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সাহিত্য ছিলো শ্রুতিভাষ্য</p>
<p>আদিতে কবিতাই ছিলো সাহিত্য। শ্লোক, ধর্মকথা, রূপকথা, প্রেমকথা, জ্ঞানকথা—সবই  হতো কাব্যে।<br />
কবিতা ছিলো মৌখিক। কবিরা বলতেন; আর জনে জনে মুখে মুখে বিস্তার ঘটতো সর্বত্র।ধরা যাক, পাঁচ হাজার বছর ধরে; পুরো সামন্ত যুগজুড়ে কবিতা ছিলো বাচনিক।<br />
শুধু ভারতবর্ষে নয়; পৃথিবীব্যপি এই  মৌখিক সাহিত্য মানবসভ্যতার বিকাশ ঘটায়।<br />
গুরুগৃহে, হাট-বাজ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-212025"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/212025/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ce7b2d7ba3809f144c686199717639db</guid>
				<title>ক্লান্তি/

কখনো কখনো চোখ বুজে আসে
পাপড়িতে পাথর গড়ায়
মনে হয় বসে পরি
রাস্তাই হয়ে যাই রাস্তায়
রবিবার দুপুরে
রোদের ঢেউয়ের তলায়
কখনো যখন চোখ বুজে আসে
পাপড়িতে পাথর গড়ায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/211577/</link>
				<pubDate>Sat, 06 Apr 2024 04:44:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ক্লান্তি/</p>
<p>কখনো কখনো চোখ বুজে আসে<br />
পাপড়িতে পাথর গড়ায়<br />
মনে হয় বসে পরি<br />
রাস্তাই হয়ে যাই রাস্তায়<br />
রবিবার দুপুরে<br />
রোদের ঢেউয়ের তলায়<br />
কখনো যখন চোখ বুজে আসে<br />
পাপড়িতে পাথর গড়ায়।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">db1c95d64d05c736d69126aee505fef9</guid>
				<title>মহান একটা দিনের জন্য/

আজকের দিনটা মহান—কেউ  একজন বলতে বলতে
পাশদিয়ে চলে যায়  
অনেকটা আমার মতো,  মৃত্যুর দিকে  
ক্রাচে ভর করে  বাস আসে ধীরে 
যেকোনো দিন বলে কথা
লোকটা আয়ু ভিক্ষা মাঁগে
শ্যামা মেয়েটা যেকোনো দিনের মতো সরল
রোদ খাঁখাঁ হয়, কিংবা ক্লান্তিতে 
গাছের তলায় দাঁড়াই  বৃষ্টি নামলেও
হয়তো দিনটা মহান এ কারণে
বেশিক্ষণ থাকতে পারি না 
কারা যেনো পাশদিয়ে চলে যায়!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/210889/</link>
				<pubDate>Fri, 29 Mar 2024 05:18:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মহান একটা দিনের জন্য/</p>
<p>আজকের দিনটা মহান—কেউ  একজন বলতে বলতে<br />
পাশদিয়ে চলে যায়<br />
অনেকটা আমার মতো,  মৃত্যুর দিকে<br />
ক্রাচে ভর করে  বাস আসে ধীরে<br />
যেকোনো দিন বলে কথা<br />
লোকটা আয়ু ভিক্ষা মাঁগে<br />
শ্যামা মেয়েটা যেকোনো দিনের মতো সরল<br />
রোদ খাঁখাঁ হয়, কিংবা ক্লান্তিতে<br />
গাছের তলায় দাঁড়াই  বৃষ্টি নামলেও<br />
হয়তো দিনটা মহান এ কারণে<br />
বেশিক্ষণ থাকতে পারি ন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-210889"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/210889/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c455d78c7624ebb69ec0e3afaf769af2</guid>
				<title>বন্ধুর জন্য শোক/

মৃত্যুকে আমরা মৃত্যু বলে জানি
অন্য প্রানীরা ফিরেও তাকায় না; আঁড় চোখে চেয়ে কিংবা
গন্ধ শুঁকে চলে গেলে শকুন ঝাঁপিয়ে পড়ে; যেনো
হারানোর বেদনা আপেলের মতো একটু
হয়তো গাঢ় রঙের হয়!
তখন অন্যরা, যারা যেকোনো প্রানীর মতো জড় হয়ে
ঐ লোকটাকে খায় না বটে; রসিয়ে রসিয়ে 
নানান ব্যঞ্জণ সহযোগে কাচ্চি বিরানি খায়; আর
বেঁচে থাকার আনন্দাশ্রুতে নিজেদের ভাসায়!
মৃত্যু তেমন কিছু না; আঁড় চোখে চেয়ে কিংবা
জীবনের গন্ধ শুকে চলে যাওয়া।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/209686/</link>
				<pubDate>Tue, 27 Feb 2024 12:12:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বন্ধুর জন্য শোক/</p>
<p>মৃত্যুকে আমরা মৃত্যু বলে জানি<br />
অন্য প্রানীরা ফিরেও তাকায় না; আঁড় চোখে চেয়ে কিংবা<br />
গন্ধ শুঁকে চলে গেলে শকুন ঝাঁপিয়ে পড়ে; যেনো<br />
হারানোর বেদনা আপেলের মতো একটু<br />
হয়তো গাঢ় রঙের হয়!<br />
তখন অন্যরা, যারা যেকোনো প্রানীর মতো জড় হয়ে<br />
ঐ লোকটাকে খায় না বটে; রসিয়ে রসিয়ে<br />
নানান ব্যঞ্জণ সহযোগে কাচ্চি বিরানি খায়; আর<br />
বেঁচে থাকার আনন্দাশ্রুতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-209686"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/209686/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8595ca30e395adea97b0dab04b3b6cc9</guid>
				<title>বৃষ্টি, বৃষ্টি/

এই বর্ষায় একজন মাতাল
রাস্তার পাশে হিস্যু করে, আর বলে—যীশু, যীশুকে তো
কোথাও দেখি না!
যীশু বড়ুয়া, আমার বন্ধু, সে ছিলো বাসায়
ডিম ভাজা দিয়ে পান্তা খাবে, এই আশায়
ডাইনিং টেবিলে বসে পেপার দেখতেছিলো
জানালার ওপাশে দুইটা ভেজাকাক
গোত্তা খেয়ে ইলেক্ট্রিক তারের উপর যেইনা বসে—
বিকট আওয়াজ তুলে বিদ্যুৎ চলে যায়
এই বর্ষা-দুপুরে!
আরাম কেদারায় বসে দেখতেছিলাম
হিন্দি সিনেমা
নায়িকা মেয়েটা বৃষ্টির নীচে চান্স পেয়ে ডান্স মারে
বউ এসে বলে—আন্ধারে বইসা আছো যে…
ভেজা কাক, স্নানরত নায়িকা—সব কী খোয়াব!
মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে বউ বলে— লও, ঝালমুড়ি খাও
এই বৃষ্টি থামবার না!
ঝমঝম শব্দের সঙ্গে শিৎকার মিশে যায়
জানালার কাছে এসে সিগারেট ধরাই
বৃষ্টিতে বৃষ্টির কথা মনে আসে;
তা বড় পুরাতন স্মৃতি
কচুপাতা মাথায় কারা যেনো দ্রুত পায়ে হেটে যায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205587/</link>
				<pubDate>Sat, 30 Sep 2023 13:40:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বৃষ্টি, বৃষ্টি/</p>
<p>এই বর্ষায় একজন মাতাল<br />
রাস্তার পাশে হিস্যু করে, আর বলে—যীশু, যীশুকে তো<br />
কোথাও দেখি না!<br />
যীশু বড়ুয়া, আমার বন্ধু, সে ছিলো বাসায়<br />
ডিম ভাজা দিয়ে পান্তা খাবে, এই আশায়<br />
ডাইনিং টেবিলে বসে পেপার দেখতেছিলো<br />
জানালার ওপাশে দুইটা ভেজাকাক<br />
গোত্তা খেয়ে ইলেক্ট্রিক তারের উপর যেইনা বসে—<br />
বিকট আওয়াজ তুলে বিদ্যুৎ চলে যায়<br />
এই বর্ষা-দুপুরে!&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-205587"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/205587/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">be18b3b91b499a6ebe402cfb931ca16b</guid>
				<title>দুধের মাছি/

মশার উপদ্রবতো আছেই; কয়েকদিন ধরে কয়েকটা মাছিকে  বসার ঘরের উইং-চ্যামে চুপটি মেরে বসে থাকতে দেখি। যখন খেতে বসি তখন ডাইনিং টেবিলে নেমে পিড়পিড় করে হাটে, আর ভনভন শব্দ করে ওড়াউড়ি করে। মিথিলা বিরক্ত হয়ে বলে—ইস; কি অসভ্যতা; মারো না কেনো, বর!
মাছি মারা সহজ কাজ না। এদের শত-চোখ। থাবড়া মারার আগেই উড়ে যায়। মাকে দেখতাম,  শলার ঝাড়ু দিয়ে মারতো। মা নাই। গুরুবিদ্যা কাজে লাগিয়ে বিছানার ঝাড়ুটা নিয়ে লেগে পড়ি। খুব পিটাপিটি করলে দুয়েকটা মরে বটে; বাকিগুল কোথায় জানি লুকিয়ে যায়। পরদিন আবার উইং-চ্যামের গোলাপি পাখিগুলোর গায়ে লেপ্টে থাকে।
কিন্তু বাবাজীদের আর নিস্তার দিই না; মিথিলা অফিসে চলে গেলে ঝাড়ু নিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে থাকি। ওরা নিচে নামলেই চটা চট বারি মারি। আর একটা-দুইটা করে ফ্লোরে পড়ে নড়াচড়া করতে করতে মরে যায়। ইদানিং বাসায় বসে এ আমার নতুন খেলা।
সেদিন দুপুরে কয়েকটা মাছি ঝাড়ুর বারি খেয়ে আধমরা হয়ে কোঁকাতে কোকাঁতে বলে—মানুষ হয়া দুনিয়াতে আইছেন বইলা ডাঁটে বাঁচেন না! উই হেইট ইউ…; বলতে বলতে কয়েকটা মরে যায়। একটা বেশ অভিমান দেখিয়ে বলে—বস; আমাগো আয়ু মাত্র আড়াই দিন; এমনিইতো কয়েকঘন্টা পর দুনিয়া ছাড়তে হইবো; শীতের পিঠার মিঠা ঘ্রান পাইয়া আইছিলাম; আত্মায় সইলো না; ছি, ছি, ছি।
সত্যিতো, জগত শুধু মানুষের না; সকল জীবের। কিন্তু এ-ও বুঝি, ক্ষুদ্র হলেও এরা সুবোধ না। আমি বলি-- ডাইরিয়ার জীবানুর লগে তোদের খুব খাতির; তোগো ছাড় দেওয়া মানে নির্ঘাৎ মরণ…।
মাছিটাকে দেখি, পিড়পিড় করতে করতে ডানা মেলে উড়াল দিচ্ছে। আমি আর ওকে আঘাত করি না। উড়তে উড়তে ‘বাই বাই, টাটা বলে হারিয়ে যায়।
পরদিন শাশুরি রসে ভিজানো চিতৈ পিঠা নিয়ে এলে মিথিলা খুশিতে নেচে ওঠে—মা, তুমি সত্যি আল্লার মেয়ে; থাঙ্ক ইউ, ডিয়ার মম…।
তোর জন্য না; শীতের পিঠা আনছি জামাই বাবাজীর লাইগা।
যেই না চামচ দিয়ে পিঠা উঠাতে যাবো, অমনি দেখি, প্লেটের কান্দায় নেমে এসে মাছিটা পাখা নাড়াচ্ছে, আর আমার দিকে লাজুক লাজুক তাকাচ্ছে! আমি বলি—তুই না কইছিলি আর আবি না?
মিঠার ঘ্রানে টিকতে পারলাম না, বস; কবি রবিন্দ্রনাথ তো কইছে—কেউ পন করে পন ভেঙ্গে হাপ ছেড়ে বাঁচার লাইগা।
আমি হাসি—খুব শেয়ানামী শিখছস, মনে হইতাছে! চামচ দিয়ে একফোঁটা রস টেবিলে ফেলে দিতেই মাছিটা উড়ে গিয়ে হামলে পড়েতো পড়ে, আরো কয়েকটা জুটে যায়। আমি জানতে চাই—এরা কারা?
আমার ছাও পোনা, নাতি পুতি।
কখন জন্ম দিলি!
মাছিটা মিটমিট করে হাসতে হাসতে বলে—বস, আড়াই দিনে আমাগো একটা পুরা জীবন; তোমরা এতো এতো বছর দুনিয়াতে করোটা কি! মাছি মারো?
ওর কথা শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। মিথিলা বলে—মাছিগুলোর দিকে তাকিয়ে আছো কেনো! এই লও ঝাড়ু; মারো।
আমি বলি—না, মিথিলা; এরা দুধের মাছি; মারলেও যাবে না।
খুব দার্শণিক হয়ে উঠেছো মনে হইতেছে! মিথিলা এক হাতে পিঠা খায়,অন্য হাতে মাছি তাড়ায়। দেওয়ালে দুইটা টিকটিকি সঙ্গমের লীলা করতেছে; তেলাপোকাগুলো স্টোর-রুমটা দখলে নিয়ে নিছে ; ঘুনপোকারা খাটটাকে দিনরাত কুড়কুড় করে খায়! সত্যি, এ জগত  শুধু মানুষের না; অনুপ্রাণ, ছোট প্রানি, বিশাল হাতি, গাছ, মাছ—সবার; এই কথাটা আমরা ইচ্ছে করে ভুলে থাকি। 
মিথিলা  ঘুমের মধ্যে দেখে, কোনো এক বিজন প্রান্তরে জড়াজড়ি করে শুয়ে আছি; আর চাঁদটা ধীরে ধীরে আকাশের মাথায় উঠে আসে। জ্যোৎস্না পেয়ে হাজারো প্রানী আমাদের মতো মায়াবী প্রান্তরে জড় হয়ে বলে ওঠে—আহা, কি মনোহর…; বলতে বলতে ছোট প্রানগুলো মরতে থাকে; আর এ-ওকে গিলে খায়। একটা বাঘ যখন আমাদের উপর হামলে পড়ে, তখন ঘুম ভেঙ্গে গেলে মিথিলা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁপতে থাকে।
আমি বলি—খারাপ স্বপ্ন দেখতেছিলা বুঝি? 
না, বর; খুব সুন্দর একটা স্বপ্ন। এর ভিতর জানোয়ারটা ঢুইকা পড়লো!
আমি বলি—ওঠো; দেখো, দারুন মিষ্টি একটা সকাল।
সোনালি আলো মেখে বারান্দার গ্রিলে লেজঝোলা পাখিদুটি মাথা নাড়ায়।
মিথিলা বলে—অনেকদিন পর ওরা এলো! কিরে, আমাদের ঘুলঘুলিতে ছানা ফোটাবি? 
আমি বলি--ওইতো আব্বা আর আম্মা; পাখি হয়ে ফিরে এসেছে। উড়ায়ে দিয়ো না, প্লিজ।
পাখিদুটি উড়ে যায়।মানুষ ওড়ে মনে মনে। মিথিলা ডাকে—আসো, ব্রেকফাস্ট দিছি।
ডাইনিং টেবিলে বসে চা খাই। উয়িং-চ্যাম থেকে মাছিগুলো নেমে আসে। মিথিলা বলে—আহা, মারো না কেনো, বর!
আমি হাসি—ওরা দুধের মাছি; মারলেও আবার আসবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205423/</link>
				<pubDate>Mon, 25 Sep 2023 17:37:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দুধের মাছি/</p>
<p>মশার উপদ্রবতো আছেই; কয়েকদিন ধরে কয়েকটা মাছিকে  বসার ঘরের উইং-চ্যামে চুপটি মেরে বসে থাকতে দেখি। যখন খেতে বসি তখন ডাইনিং টেবিলে নেমে পিড়পিড় করে হাটে, আর ভনভন শব্দ করে ওড়াউড়ি করে। মিথিলা বিরক্ত হয়ে বলে—ইস; কি অসভ্যতা; মারো না কেনো, বর!<br />
মাছি মারা সহজ কাজ না। এদের শত-চোখ। থাবড়া মারার আগেই উড়ে যায়। মাকে দেখতাম,  শলার ঝাড়ু দিয়ে মারত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-205423"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/205423/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e0a9335099a23af0616b62de26752e33</guid>
				<title>যুদ্ধ/
কী বলবো বলো, নদীতীরে এসে!
নীলিমায় ডানামেলা একজোড়া চিল
 জলে ফেলে ছায়া।
ছায়ার মায়ায় নাচে ঝাঁকেঝাঁকে মীন।
রূপালী আভাস পেয়ে জেলে ডিঙ্গি 
ভেসে ভেসে সেই দিকে যায়!
বুকে হাঁটা কাদামাখা মেছো উদ্গুলো
জেলেদের নাও দেখে গর্তে  লুকায়

বেপারীরা চেয়ে থাকে মেছোদের দিকে
 মরা মাছ কড়া করে ভেজে খেতে হয়।
কী বলবো বলো,
আমার বসতবাটি বেপারী পাড়ায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205294/</link>
				<pubDate>Sat, 23 Sep 2023 05:22:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যুদ্ধ/<br />
কী বলবো বলো, নদীতীরে এসে!<br />
নীলিমায় ডানামেলা একজোড়া চিল<br />
 জলে ফেলে ছায়া।<br />
ছায়ার মায়ায় নাচে ঝাঁকেঝাঁকে মীন।<br />
রূপালী আভাস পেয়ে জেলে ডিঙ্গি<br />
ভেসে ভেসে সেই দিকে যায়!<br />
বুকে হাঁটা কাদামাখা মেছো উদ্গুলো<br />
জেলেদের নাও দেখে গর্তে  লুকায়</p>
<p>বেপারীরা চেয়ে থাকে মেছোদের দিকে<br />
 মরা মাছ কড়া করে ভেজে খেতে হয়।<br />
কী বলবো বলো,<br />
আমার বসতবাটি বেপারী পাড়ায়।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">216a8fa6e9fe12cd47ec6bdca7ed7065</guid>
				<title>বাড়ি ফেরার গান/

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সবাই আসে পেট্রো-ডলার নিয়ে; সবুজ চাচা ফিরে এলো কব্জিতে পেজার লাগিয়ে। দুবাইয়ের ডাক্তার বলে দিয়েছে—যেকদিন টিক টিক, তারপর শেষ! 
সবুজ চাচাকে রাখা হয়েছে পিজি হাসপাতালে। বিলু ফুপি পিজির মেট্রন। তার প্রযত্নে দুসপ্তাহ ধরে আছে। বাড়ির মেয়েরা দুইবেলা সুপ নিয়ে যায়। মিথি আর দোলন বুঝে গেছে, ওদের বাবা বাঁচবে না। ওরা আমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে মৃত্যু নিয়ে আলাপ করে। তখন একটা রেলগাড়ি ঝমঝম করে চলে যায়। আমপাতার ঝরঝর শব্দ থেমে গেলে দোলন বালে—মৃত্যু হলো রেলগাড়ি; যে ওঠে সে চলে যায়।
মিথি জানতে চায়—কোথায় যায়?
আল্লার কাছে।
আল্লা কোথায় থাকে?
আকাশে।
মিথি হাসে—ভাই, তুই একটা বুদ্ধু। রেলগাড়ি টঙ্গি পর্যন্ত যায়। আকাশেতো বিমান চলে। হি, হি, হি।
ঘর থেকে বেরিয়ে মালা চাচি হাঁক ছাড়ে—এই, তোদের কতোবার বলেছি, রেললাইনে যাবি না! বাপের আগে মরতে চাস! হাসপাতালে যাবি? তোদের বাপ তোদেরকে দেখতে চায়।
মিথি বলে—আব্বু কথা বলে না; শুধু তাকিয়ে থাকে। আমরা যাবো না; কি বলিস, ভাই?
দোলন বলে—আম্মু, আমরা দাদীর সাথে পরে যাবো।
তাইলে বাসায় গিয়ে স্নান করে খেয়ে-দেয়ে ঘুমিয়ে নিয়ো। আমার ফিরতে রাত হয়ে যাবে।
আমি আর মালা চাচি রেললাইন পেরিয়ে পিজির উদ্দেশ্যে রিক্সায় চড়ি। টানা হরতাল-অবরোধে শহরটার যা-তা অবস্থা। বাচ্চাদের স্কুল কামাই যাচ্ছে। যখন তখন ককটেল ফুটছে; আর পুলিশের ধাওয়ায় ছন্দহারা হয়ে পড়ছে পথঘাট। এরশাদ হারামজাদাটা ইলেকশন ডিক্লার করে নেমে যাক; তা-না; মানুষ মারতেছে! আরে, মানুষ মেরে ক্ষমতায় টিকতে পারবি! মালা চাচি বলে—তোমার চাচা দিনে দিনে ফুলে নীল হয়ে যাচ্ছে; তাকাতে পারি না।
আমি চুপ করে থাকি। পিজির গেটে রিক্সা থামাই। চাচি বলে—নেমে যাচ্ছো যে?
আমি টিএসসিতে যাবো; জোটের মিটিং আছে। ফেরার পথে দেখে যাবো।
মালা চাচি দীর্ঘশ্বাস ফেলে—যাও। আমার দুনিয়াটা আন্ধার হয়ে আসতেছে।
সংহার আর সম্ভাবনার সুতোর উপর আমাদের প্রতিদিন বয়ে চলে। আমরা সামরিক একনায়কের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছিলাম; যদি গনতন্ত্রের আভাস মেলে; মৃত্যু যেখানে তুচ্ছ হয়ে যাচ্ছে। অথচ সবুজ চাচা অনেক স্বপ্ন নিয়ে দুবাই গিয়েছিলো—রেললাইনের পাশে আমাদের টিনের বাড়িটাকে দালান বানাবে বলে। চাচিও সায় দিয়েছিলো আরেকটু স্বাচ্ছন্দের আশায়। এখন ক্যামন মৃত্যু ক্রয় করে ফিরে এসেছে চাচাটা! ভাবতে গেলে পৃথিবীটা সত্যি অন্ধকার হয়ে আসে। 
টিএসসির দিকে হাটতে হাটতে সিগারেট ধরাবো, আশ্চর্য, হাতথেকে লাইটারটা পড়ে যায়; আর আমার চোখ ফেটে কান্না আসে। দেখি, একটা মিছিল আসতেছে। কেউ একজন, চেনা, ডাক দেয়—আয়, মিছিলে আয়…। আমি ওদের সাথে মিশে গিয়ে শ্লোগান ধরি—একদফা, এক দাবি/ এরশাদ তুই কবে যাবি…; আমার কান্না শ্লোগানে হারিয়ে যায়। মনে হয়, মৃত্যুর চেয়ে আগামী অনেক বড়।
বাবা সারাদিন বাড়ির ভিতরে ঘুরঘুর করে সন্ধ্যায় রেললাইনের উপর এসে দাঁড়ায়। তার এই দাঁড়ানোটা বহু পুরানো। ভিতর থেকে বেরিয়ে উপর থেকে দেখার আনন্দ আলাদা। পাশের লাইন ধরে একটা ট্রেন ঝমঝম করে চলে যায়। বাবা লাইন পেরিয়ে চানমিয়ার সুরিখানা থেকে একবোতল মদ কিনে এনে আবারো বাড়ির দিকে মুখকরে বসে কয়েকঢোক গিলে নেয়। জনি ছুটতে ছুটতে এসে পায়ের কাছে বসে লেজ নাড়তে থাকে। ওর পিঠে পা তুলে দিয়ে বাবা বলে—কিরে, সবুজের লাইগা মনখারাপ লাগতেছে?
জনি ওর মাথাটা রেলের পাথরে আরো নুইয়ে দেয়। বাবা বলে—জানিস রে জনি, সবুজ কইতো, দাদা, কমিশনার কইছে, আমাগো বাড়ির সামনে দিয়া রেললাইনের কুলুকুলু রাস্তা বানায়া দিবো; তখন তোমারে একটা গাড়ি কিন্যা দিমু; তোমার আর রেললাইন পার হয়া মদ কিনতে যাইতে হইবো না…বলতে বলতে বাবা জনির গলা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। বাবার কান্না জনির ভালো লাগে না। সে মোচড় মেরে বেরিয়ে গিয়ে ক্রসিং-এর দিকে ছুটতে থাকে। ‘কিরে, কই যাস’ বলে বাবা তাকিয়ে দেখে, মালা চাচি রেললাইন ধরে বাড়ির দিকে আসতেছে।
শহরতলির আকাশে চাঁদ ওঠে। চরাচর নীল হয়ে যায়। বাড়ির গেটে ঘৃতকুমারী লাল ফুল নিয়ে বাতাসে দোল খায়। বাবা গলা বাড়িয়ে বলে—মনিমালা, আমার পাশে একটু বইসা যাও।
মালা চাচি হাসপাতাল থেকে ফিরছে। তার হাতে জিনিসপত্রের ব্যাগ। তবু সে ভাশুরের পাশে রেললাইনের উপর বসে। বাবা বলে—খবর-টবর কি?
রকই রকম। কাউকে আর চেনে না, মনে হচ্ছে।
বাবা ইতোমধ্যে বোতলের অর্ধেকটা মদ খেয়ে নিয়েছে। সুখ, দুঃখতো আসে যায়। এখন বরং তার স্বপ্নচারী হতে মন চাইছে। সে বলে—শোনো মনিমালা, দালান উঠলে নিচ তলাটায় তোমার গানের স্কুল করবা। গভর্নমেন্ট পার্মিশন, ফান্ড সব আমি ব্যবস্থা কইরা দিবো। রিটায়ারর করছি বইলা ভাইবো না, কারো সাথে আমার যোগাযোগ নাই…।
মালা চাচির মন খারাপ হয়ে যায়। সে বলে—থাক দাদা, এখন এসব নিয়ে ভাবতে হবে না।
আরে বইনটা আমার, দুঃখের চাইতে আশার আয়ু বেশি হয়। আশা মরে না। ওই দেখ, কি সুন্দর চাঁদ। একটা গান শুনবা?
জনিকে কোনো এক শীতের রাতে সবুজ চাচা রেললাইন থেকে কুড়িয়ে এনে পুরানো কাঁথায় মুড়িয়ে বাঁচিয়ে তুলেছিলো। অথচ তাকে বাঁচাবার সাধ্য কারো নাই! জনি মালা চাচির কোলে মাথা তুলে দিয়ে চুপটি মেরে থাকে। একটা রেলগাড়ি ঝমঝম করে চলে যাওয়ার পর যে নিরবতা আসে, তা ভেঙ্গে দিয়ে আমাদের বুড়ো বাবা গেয়ে ওঠে—আপন দেশে যাইতে হবে রঙ্গমহল ছেড়ে/ বিধি তোমার লীলা বোঝার সাধ্য কি মেলে/ সাড়ে তিনহাত মাটির ঘর, কাঁচা বাঁশের ছাউনি/ সঙ্গে কেহো রইবে না আর ওগো প্রান-সজনী…। 
বাবার কন্ঠ যে এতো ভরাট, দরাজ—মনিমালা কোনোদিন শোনে নাই! সে হু হু করে কেঁদে ওঠে। মা এসে হাঁক দেয়—ও, সবাই মিল্যা এইখানে তামশা পাতাইছো!
জনি ঝপ করে বেরিয়া এসে বাড়ির দিকে ছুঁট লাগায়। গেটের উপর ঘৃতকুমারী লতা; তাতে লাল ফুল দোলে। জ্যোৎস্নার নিচে আনমনা হয়ে মালা চাচি বলে—তাই যেনো হয় দাদা, সুখ, দুঃখের চেয়ে আশা যেনো বড় হ্য।
দুপুরের দিকে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশ হামলে পড়ে। পাল্টা  ইট-পাটকেল ছুড়তে ছুড়তে মিছিলগুলি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আহতদের ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করিয়ে সন্ধ্যার মশাল মিছিলে যোগ দিই। প্রতিবাদী সমাবেশ থেকে সারা দেশে সর্বাত্বক হরতাল ঘোষণা করে নেতারা। রাত বাড়তে বাড়তে শহরটা ভূতুড়ে হয়ে ওঠে। স্টপেজে দাঁড়িয়ে থাকি অনেক্ষণ। বাস পাই না। কিছু পথ ভ্যানে চড়ে, বাকিটা হাটতে হাটতে যখন চান মিয়ার মদের দোকানের গলি দিয়ে রেললাইনের উপর উঠি, সারাদিনের সমস্ত কোলাহল দূরে সরে গিয়ে হেমন্তের হীম চেপে ধরে।
ছোট চাচা হাসপাতালে; কি অবস্থ্যা, একবারও মনে পড়ে নি; অথচ কৃত্রিম দুর্যোগ বানিয়ে সারাদেশ অচলের ঘোষোণা দিয়ে বাড়ি ফিরছি। রাজনীতিতো প্রাকৃতিক নয়; আমাদেরই বানানো সংকট থেকে নতুন পরিস্থিতিতে উত্তোরণের খেলা মাত্র! যে গনতন্ত্রের জন্য জনজীবন অচল করে দিচ্ছি, তা কতটা মঙ্গল বয়ে আনবে? আদৌ গনতন্ত্র বলে কিছু আছে? নাকি পুরোটাই গোষ্ঠী-বদলের খেলা, অবুঝের মতো খেলছি? 
সিগারেট টানতে টানতে রেললাইন ধরে ফিরছিলাম সতর্ক চোখ রেখে; কারণ, পুলিশ সর্বত্র ওঁৎ পেতে থাকে; তখনই দেখি, জনি ছুটে আসতেছে ক্ষিপ্র গতিতে। কুকুরটা এমনতো করে না! ছুটন্ত অবস্থায় ঝাঁপ দিয়ে আমার বুকে উঠে পড়ে। ছোট্ট প্রানীটাকে কোলে নিয়ে জানতে চাই—কি হইছে! কোনো সমস্যা?
জনি কোল থেকে নেমে গিয়ে বাড়ির দিকে ছোটে আর ফিরে ফিরে আমার দিকে চায়; যার অর্থ—এতো দেরি করলা কেনো! তাড়াতাড়ি আসো। আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে—তাইলে কি সবুজ চাচাকে বাড়ি নিয়ে এসেছে? চেয়ে দেখি, কদিনের ভরা চাঁদ আধভাঙ্গা হয়ে একপাশে হেলে গেছে! চাঁদ এতো টকটকে লাল হয় নাকি! যেন দূরের নদীতে রক্ত চুইয়ে পড়ছে! গনতন্ত্রে আমার একদম আস্থা নাই। সারা দেশে আজ যেসব ছেলে লাঠিপেটা হয়ে হাসপাতালে গেছে, গনতন্ত্র এলে তারা সবাই কি ভালো চাকুরি পাবে? 
সিগারেট ফেলে দিয়ে তাকিয়ে দেখি, এতো রাতেও গেট খোলা। ভিতর থেকে কোরানের সুর ভেসে আসতেছে। যে চাচাটা গ্রামে থাকে, তাকে দেখি, আমগাছের নিচে কয়েকজনের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কাছে গেলে বলে—শোন, কালকে হরতাল দিছে। কোথাও এম্বুলেন্স পাইতেছি না। লাশ বাড়ি  নিতে ট্রাক লাগবো। ট্রাকস্ট্যান্ডে গিয়া দেখ, পাস কিনা।
সবুজ চাচাকে উঠানে রাখা হয়েছে। খাটিয়ার পাশে দুইপায়ে ভর করে জনি বসে থাকে; কানদুটি নিচে নামানো। কেউ ওকে সরিয়ে দেয় না। খাটিয়ার কনায় আগর জ্বলে। বিলু ফুপি আর সবুজ চাচা পিঠাপিঠি ভাই, বোন। কোলাহলহীন মরার-বাড়িতে ফুপি হঠাৎ বিলাপ করে ওঠে—কইছিলি মালারে বিয়া করবি, দিলাম বিয়া করায়া; পোলাপান হইলো। কইলি, বইন, বিদেশ যামু; টাকা-পয়সা সব দিলাম। মরার আগেও জ্বালিয়া গেলি! এখন কি করবি ক? কথা কস না কেন, ভাই? কথা ক…। ভাইয়ের খাটিয়ায় আছড়ে পড়তে দেখে বুড়ো ভাইগুলো ডুকরে ওঠে। বাবা বলে—কান্দিস না, বইন; আমার শরীর খারাপ লাগতেছে।
মেয়েরা ছুটে এসে বিলু ফুপিকে ঘরে নিয়ে যায়। মাকেই দেখি শান্ত। একটা মাস বাড়ি-হাসপাতাল করেছে অক্লান্ত। আমাকে বলে—আকাশ ফর্শা হয়া আসতেছে; যা, ট্রাক নিয়া আয়। মাইয়ারা উঠানে নাইমো না; ঘরে বইসা খতম পড়ো…।
ভোররাতে ট্রাকস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি, হরতালের অজুহাতে কেউ যেতে চায় না। চারগুন ভাড়য় একজনকে রাজি করিয়ে আমি আর রিঙ্কু যখন রেলক্রসিং পর্যন্ত আসি, তখন পুলিশ আমাদেরকে থামায়। বিস্তারিত জানানোর পরও আমাদেরকে হরতালের পিকেটর বানিয়ে আটকে রাখে। পুলিশদুটো যখন বলে—পকেটে কি আছে বের কর, তখন আর মেজাজ ঠিক রাখতে পারি না। মুহুর্তে একজনের মুখে ঘুষি হাঁকিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠি—মার শালাদের। রিঙ্কুও দুমদুম ঘুষি হাঁকে। একজনের কাছে একটা গাদা-বন্দুক; আমি জানি, ওতে গুলি নাই; ছিনিয়ে নিয়ে দুটোকে পিটিয়ে শুইয়ে ফেলে কেউ বুঝে ফেলার আগে ক্রসিং পেরিয়ে ত্রস্ত পায়ে বাড়ি ফিরে আসি। তখন মসজিদে মসজিদে কোলাহলের মতো আজান হয়।
রিঙ্কু বলে—কাকু, ভয় ভয় লাগতেছে।
আমি হাসি—ভয় একটা রোগ। কোনো ভাবে কাবু হবি না। কেমন দিলাম?
সুপার।
আজানের পর পুরুষরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সবাই মিলে খাটিয়াটা কাঁধে তুলে নিয়ে রেললাইনে উঠে এলে বাড়ির ভিতর থেকে মেয়েদের কান্নার রোল শোনা যায়।  মিথি আর দোলনকে নিয়ে বাবা গেট পর্যন্ত আসে। জনিও ওদের পাশে এসে দাঁড়ায়। ওরা জানতে চায়—জ্যেঠু, আব্বুকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
তোমাদের আব্বুর নতুন ঘরে।
আমরা যাবো না?
সময় হলে আমরাও যাবো।
বুড়ো বাবাটার চোখে জল গড়ায়। তার মদ খেতে ইচ্ছে করে। আজ সে খাবে না। আর কখনই খাবে না—এমনটা ভাবে। ভাবনা আর বাস্তব কি এক হয়? তাইলে সবুজ  দুবাই থেকে মৃত্যু খরিদ করে এলো কেনো! 
হরতাল মাথায় নিয়ে লাল পতাকা উড়িয়ে আমরা গ্রামের দিকে ছুটে চলি। 
আমাদের গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুরের শিং পাড়ায়; ঢাকা থেকে চল্লিশ মাইল দূরে। সবাই ফিরে আসবো; শুধু সবুজ চাচা চিরকালের জন্য রয়ে যাবে। রেললাইনের পাশে আমাদের বাড়িটায় দালান উঠলে মনিমালার জন্য যে গানের স্কুল হবে, তা আর তার দেখা হবে না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205268/</link>
				<pubDate>Fri, 22 Sep 2023 05:50:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বাড়ি ফেরার গান/</p>
<p>মধ্যপ্রাচ্য থেকে সবাই আসে পেট্রো-ডলার নিয়ে; সবুজ চাচা ফিরে এলো কব্জিতে পেজার লাগিয়ে। দুবাইয়ের ডাক্তার বলে দিয়েছে—যেকদিন টিক টিক, তারপর শেষ!<br />
সবুজ চাচাকে রাখা হয়েছে পিজি হাসপাতালে। বিলু ফুপি পিজির মেট্রন। তার প্রযত্নে দুসপ্তাহ ধরে আছে। বাড়ির মেয়েরা দুইবেলা সুপ নিয়ে যায়। মিথি আর দোলন বুঝে গেছে, ওদের বাবা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-205268"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/205268/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e521126bbe29f3180485ac1e38f7bea9</guid>
				<title>ছুঁয়ে দাও কোমলতা 

ছুঁয়ে দাও কোমলতা, ছুঁয়ে দাও এই দুটি হাত। 
ছুঁয়ে দিয়ে মুছে ফেলো কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার
সমূহ নিপাত। ছুঁয়ে দাও এই ঠোঁট,খুব বেশি পিপাসা 
কাতর। কঙ্কাল পাজর ছোঁও, মুছে যাবে অনির্বাদ  
ঊদ্যায়ি অনুর মতো ভ্রান্তি-পাথর। কাছে  এসে বসো
একবার; চেয়ে দেখো কোমলতা, শরীরে আমার 
নিস্ফলা ঘাম; ক্লান্তিতে ছেয়ে আছে  আমার 
আনন। ভিষণ বেদনাহত  আশাহত  আমি;
হলুদ পাতার মতন ভাগাড়ে লুটাতে পারি।
ফিরে গেছে বাউলেরা, কুয়াশায় মুছে গেছে পথ। 
ছুঁয়ে দাও কোমলতা, ছুঁয়ে দাও এই দুটি হাত।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205145/</link>
				<pubDate>Tue, 19 Sep 2023 04:56:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছুঁয়ে দাও কোমলতা </p>
<p>ছুঁয়ে দাও কোমলতা, ছুঁয়ে দাও এই দুটি হাত।<br />
ছুঁয়ে দিয়ে মুছে ফেলো কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার<br />
সমূহ নিপাত। ছুঁয়ে দাও এই ঠোঁট,খুব বেশি পিপাসা<br />
কাতর। কঙ্কাল পাজর ছোঁও, মুছে যাবে অনির্বাদ<br />
ঊদ্যায়ি অনুর মতো ভ্রান্তি-পাথর। কাছে  এসে বসো<br />
একবার; চেয়ে দেখো কোমলতা, শরীরে আমার<br />
নিস্ফলা ঘাম; ক্লান্তিতে ছেয়ে আছে  আমার<br />
আনন। ভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-205145"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/205145/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">55ab1f8bded60414b76c2abf370d8067</guid>
				<title>*  আমি সেই অভিমানী/ আমি সেই হতভাগা মন/ কখনো পড়লে মনে/ লিখো তুমি যাখন তখন *
অভিমানী তোমার কাছে  চিঠি/

রাগ করেছো বুঝি? রাগ করো না।
এখনো ঘাসফুলে শিশির জমে
হাস্নাহেনা গন্ধ ছড়ায়
কালো কাক কার্নিশে বসে ডাক দেয় প্রত্যুষে
আমারো ঘুম ভাঙ্গে; তোমার কথা? সেও
মনে পড়ে ঠিকই; কিন্তু লেখা হয় না!
হ্যাঁ, আজই লিখলাম, অনেকদিন পর বলতে 
পারো। ভুলে গেছি ভেবেছো? অমনটা
ভেবো না; ফুলেরা দুঃখ পাবে।
তুমি কবিতা ভালোবাসো
কবিতা তোমার সত্ত্বা
কবিতা আমারো সত্ত্বা
আমরা যুগলবন্দি কবিতায়। 
তবুও টেলিফোন ডেড; পিয়ন আসে না
আজকাল;
বসন্ত পেরিয়ে ঝড় নামে
আমরা বিচ্ছিন্ন আজও।
রাগ করেছো বুঝি?
রাগ করো না।
 * আমার লেখা প্রথম কবিতা; প্রথম বইয়ের নাম কবিতা। রচনা কাল: ডিসেম্বর, ১৯৮২। বইটি বেরোয় ১৯৮৮ সালের বইমেলায়। এলোমেলো জীবনযাত্রার কারনে বইটির কোনো কপি আমার কাছে নাই। বন্ধুদের কারো সংগ্রহে থাকলে জানাবা; আমি কপি করে নেবো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/205012/</link>
				<pubDate>Sat, 16 Sep 2023 17:36:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*  আমি সেই অভিমানী/ আমি সেই হতভাগা মন/ কখনো পড়লে মনে/ লিখো তুমি যাখন তখন *<br />
অভিমানী তোমার কাছে  চিঠি/</p>
<p>রাগ করেছো বুঝি? রাগ করো না।<br />
এখনো ঘাসফুলে শিশির জমে<br />
হাস্নাহেনা গন্ধ ছড়ায়<br />
কালো কাক কার্নিশে বসে ডাক দেয় প্রত্যুষে<br />
আমারো ঘুম ভাঙ্গে; তোমার কথা? সেও<br />
মনে পড়ে ঠিকই; কিন্তু লেখা হয় না!<br />
হ্যাঁ, আজই লিখলাম, অনেকদিন পর বলতে<br />
পারো। ভু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-205012"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/205012/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">351bd145224dada8ef579d245979a634</guid>
				<title>চড়ুই মামা

ছেলেবালায় আমরা ছোট্ট একটা পাহাড়ি শহরে থাকতাম। শহরটার নাম চন্দ্রঘোনা। পাহাড়ের গায়ে গায়ে সুন্দর পিচঢলা পথ; চুড়ায় চুড়ায় বাংলো-বাড়ি; আর লম্বা ট্রেইল জুড়ে বিশাল কলোনি। এখানেই চাঁদের মতো বাঁক নিয়ে সমতলের দিকে ছুটে গেছে খরশ্রোতা কর্নফুলি।
এমন শান্ত, গম্ভির শহর পৃথিবীর কোথাও দেখি নাই। এই শহরে পাবলিক বাস বা রিক্সা চলে না। সকাল বেলায় দলবেঁধে হেঁটে হেঁটে স্কুলে যেতাম। আমাদের সঙ্গে পথ চলতো পেপার ও রেওয়ান মিলের হাজারো শ্রমিক। 
ছোট্ট শহরটায় সবাই সবাইকে চিনতাম, আর আনন্দ করতাম ভূবনহারা। আমরা যখন সেভেন/ এইটে পড়ি, এখানে নতুন একটা পরিবার দেখি; ওদের এক ছেলে, এক মেয়ে—আমাদের বয়সি। কিংবা ওরা হয়তো ডর্মেটরিতে থাকতো—আগে চোখে পড়ে নাই।
আমরা যখন স্কুলে যেতাম, ওরা বাসার বাউন্ডারি ওয়ালের উপর পা ঝুলিয়ে বসে থেকে তুত-ফল খেতো। ওরা ভিষণ ফর্সা আর সোনালি চুলের। আমরা উৎসুক হয়ে জানতে চাই—তোমরা স্কুলে যাও না?
ওরা বলে—না। আমরা বাসায় পাপার কাছে পড়ি।
কি পড়?
ইংরেজি, বাংলা দুটোই; অংকও শিখি।
তোমাদের বই আছে?
পাপার কাছে দুইটা বই আছে—ওল্ড টেস্টামেন্ট  আর অরিজিন অফ স্পিসেস। বাকি পড়া পাপা শিখায়।
বাসায় ফিরে ওদের সম্পর্কে জানতে চাই। মা বলে—ও; ইলারুস সাহেবের বাচ্চাদের কথা বলতেছিস? উনি নামকরা ক্যামিস্ট। ওরাতো এংলো; ইংল্যান্ড থেকে এসে এদেশে থেকে গেছে। ওদের বাড়ি ফিরিঙ্গি বাজারে। আমি হাসতে হাসতে বলি—মা জানো, ওরা দাঁত মাজে না!
মা হাসে—মাজে। ওদের দাঁত হলদেটে।
অল্প দিনেই ওদের সাথে ভাব হয়ে যায়। রিকি খুব চাল্লু। ডেসি শান্ত টাইপের মেয়ে; মায়ের সাথে আখক্ষেতে কাজ করে। ওদের বাবা মাথায় হ্যাট পরে; ঠোটে চুরুট ঝুলে থাকে। টিনের ছোট্ট বোতল থেকে চুকচুক করে মদ খায়। ওদের মা নানা রকম কেক বানাতে জানে। আমরা গেলে হাঁক ছেড়ে বলে—মারিয়া, বাচ্চাদে কেক খেতে দাও; কয়েকটা স্টবেরিও দিয়ো। আমাদেরকে বলে—হাই বেবিস, কল থেকে পা ধুয়ে ঘরে ঢুকো।
আমরা তখন মোটেই বেবি নই; ক্লাস এইটে উঠে গেছি। স্টবেরিগুলো পকেটে নিয়ে রিকির সাথে বেরিয়ে পড়ি। ডেসি যখন ‘হাই’ বলে হলুদ দাঁত বের করে জানতে চায়—তোমরা কি সিতা-পাহাড়ে যাচ্ছো?—আমাদের মন ভরে যার; আর প্যান্টের ভিতরে নুনুটা তিড়িং করে লাফিয়ে ওঠে। আখক্ষেত থেকে ওদের মা বলে—তোমরা পাহাড়ের বেশি ভিতরে ঢুকবে না; পথ হারিয়ে ফেলোবে…। রিকি বলে—ডোন্ট ওরি, মারিয়া; আই এম এনাফ এডাল্ট।
আমরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করি—মাকে তোমরা নাম ধরে ডাকো?
হ্যাঁ। প্রতিটি মানুষ আলাদা ব্যক্তিত্ব; পাপাকে  ইলারুস বলে ডাকি।
যেতে যেতে কয়েকটা বন-মোরগ দেখি। রিকি পকেট থেকে গুলতি বের করে এক-মারে একটা মোরগ ফেলে দিয়ে বলে—যাও, যাও; খপ করে ধরে ফেলো।
অন্য মোরগগুলো উড়ে যায়। আহতটাকে ধরে এনে বলি—তোমার হাতে এতো এইম!
রিকি যে পাহাড়ের এতোকিছু চেনে, বুনো গাছ, লতা পাতা, পাখ-পাখালির নাম—অবাক হয়ে যাই। রিকি বলে—ছুটির দিনে ছোটবেলা থেকে আমরা ফুল-ফ্যামিলি ট্রেকিং করি; তোমরা যাওনি কখনো?
রিকির সাথে বনে ঘুরার নেশা হয়ে গেছিলো আমাদের। ও-ই আমাদের চড়ুই মামার কাছে নিয়ে যায়। কোনো এক ছুটির দুপুরে আমরা মিথিঙ্গা ছড়ি পেরিয়ে সিতা-পাহাড়ের ট্রেইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটা টিলার উপর উঠে আসি। তাকিয়ে দেখি, চারদিকে গিরিসৃঙ্গ! কর্নফুলি যেনো বনোমধ্যে রূপালি সরু চাঁদ। চন্দ্রঘোনা শহরটাকে বহুদূরের অচেনা ছোট্ট লোকালয় বলে মনে হয়। আমরা প্রানভরে শ্বাস নিয়ে বলে উঠি—আহা, ওহো; কি সুন্দর! কি নির্মল নীলাকাশ; কি সবুজ, কি গম্ভির…!
সমতলের মানুষের কাছে পাহাড় এক রহস্যের ডিপো। গিরিখাদ বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে বানর দেখি অজশ্র। যেখানে বেজি থাকে, সেখানে সাপও থাকে বিষধর। গিরগিটিগুলো মাথায় রক্ত তুলে সাবধান করে—আর উপরে যাইস না! বুকে হাঁটা গুইসাপ দুটি একদম নির্বিকার। সেগুন গাছের শুকনো পাতা খসে পড়লে যে মর্মর শব্দ ওঠে—মনে হয়, পাহাড়টাই যেনো টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙ্গে পড়ছে!
উপরের দিকে উঠতে উঠতে আমাদের পা যখন অসাড় হয়ে আসে, তখন নীলাকাশ চোখে পড়ে; তারপর মাথার উপরে শুধুই দিগন্ত-জোড়া বিশাল আকাশ; পাঁজি পাঁজি মেঘ। 
দিগন্ত এতো সুদূর হতে পারে, ভাবি নাই। বিজয়ের আনন্দে আমরা যখন প্রানহারা, রিকি তখন বিশাল এক কাঠাল গাছের গোড়ায় গিয়ে বলে—চড়ুই মামা, ওঠো, দেখো কারা এসেছে! এগিয়ে গিয়ে দেখি—পুর্ণাঙ্গ মানুষের একটা কংকাল কাঠালতলায় কাঁৎ হয়ে শুয়ে আছে! আমরা বলি—আরে রিকি, কার সাথে কথা বলতেছো?
রিকি বলি—উনিই চড়ুই মামা।
আশ্চর্য, এ-তো মানুষের কংকাল!  এতো উঁচুতে কংকাল এলো কি করে! আমরা ভয়ে শিহোরিত হই। আর সাঁই সাঁই হাওয়ায় আমাদের গা কেঁপে যায়। রিকি বলে—ডাকো; ঘুম থেকে জাগাও।
আমরা একসঙ্গে বলি—চড়ুই মামা, ওঠো…। কংকালেরতো চোখ থাকে না, ‘চোখ মেলো’ বলবো ক্যামনে! ভাবতে গিয়ে পেছনের গাছগুলো থেকে শিশুর  হাসির শব্দ আসে—দুপুর পার হয়া গেছে, তা-ও গুরুর ঘুম ভাঙ্গে না!  তাকিয়ে দেখি, বড় বড় লেজঝোলা বানর, যারা লাল পাছা চুলকায়, দুষ্টূ ছেলেদের মতো খিক খিক হেসে আমাদের দিকে লটকন ছুড়ে মা্রে। এই অবসরে চারদিক থেকে শত শত চড়ুই এসে কাঠালতলার কংকালটাকে সম্পুর্ণ ঢেকে ফেলে ছোট ছোট ডানা এমনভাবে নাড়তে থেকে, যেনো ঝড় বইছে! বানরের হাসির সাথে চড়ুইয়ের কিচির-মিচির একাকার হয়ে গিয়ে এতোই বিভ্রান্ত করে ফেলে, আমরা বলে উঠি—রিকি, এটা কি সেই ভূতের পাহাড়?
রিকি হাসে—ওয়েট এন্ড সি; সম থিং মিরাকল; ইউ নেভার সিন।
সত্যি, চড়ুইগুলো হঠাৎ কংকালের উপর থেকে সরে গিয়ে ঘুর্ণির মতো পাঁক খেয়ে পুরো টিলাজুড়ে ওড়াউড়ি করতে করতে কাঠাল গাছটায় থিতু হয়; আর তখন দেখি, কংকালের স্থানে একজন এংলো মানুষ শুয়ে আছে—পুরো নাঙ্গা! 
ঘটনার ঘনঘটায় আমরা বিমূঢ় হয়ে থাকি। কংকাল থেকে রূপান্তারিত হওয়া লোকটার গায়ে শত দাগ, ফোটা ফোটা লাল তিল, মাথা ভরা সোনালি-সাদা চুল; কুঁচকির বালে নুনু ঢেকে আছে। রিকি বলে—দেখো চড়ুই মামা, কারা এসেছে।
দাঁড়াবার পর বুঝতে পারি, লোকটা সরু, আর বিরাট; উচ্চতার ভারে একটু নুয়ে পড়েছে যেনো। ঘুম থেকে জেগে গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা পাদ্রিদের সাদা জোব্বাটা গায়ে চাপিয়ে ক্রুশ লাগানো রোজরি-মালা গলায় পরে নিয়ে বলে—হোয়াই ইউ কেইম হেয়ার, বয়েজ?
আমরা কাঁপতে কাঁপতে বলি—তোমাকে দেখতে।
হা হা হা…। আমাকে দেখার কিছু নাই; আই এম এ ভ্যাগাবন্ড…। বলতে বলতে বুড়ো এংলোটা এদিক-ওদিক মরে পড়ে থাকা চড়ুইগুলো কুড়িয়ে এক জায়গায় স্তুপ করে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে রিকির বাপের মতো চুরুট ধরায়। গাছের তলায় রাখা একটা মাটির ভাড় থেকে পানি খেতে গিয়ে জামা ভিজিয়ে কাশতে শুরু করে। এরই মধ্যে গন্ধ ছুটে গেলে আগুন সরিয়ে পোড়া চড়ুইগুলো মচমচ করে খায় আর বলে—ল, খা; তোরাও খা; পৃথিবীতে খাদ্যের অভাব নাই; অথচ দেখ, কোনো একদিন খাবারের অভাবে ইংল্যান্ড থেকে আমাদের পুর্বপুরুষরা এদেশে এসেছিলো; হা হা হা…। অনলি গড নোজ, হোয়াট ইজ রং, হোয়াট ইজ রাইট!
রিকির দেখাদেখি আমরাও পোড়া চড়ুইয়ের পালক ছাড়িয়ে একটা, দুটো খাই। রিকিরা রবিবার শুকোরের মাংশ খায়; আমাদের পাশের বাসার মার্মাদের বাসায় নাপ্পির ডাল রান্না হয়—মাছ, মাংশ পঁচিয়ে বানানো, উৎকট গন্ধযুক্ত; পাহাড়িদের প্রিয় খাবার। পোড়া চড়ুই খেতে আমাদের বেশ লাগে। চড়ুই মামা বলে—সান ইজ ডাউন; এখন না গেলে তোরা পথ হারিয়ে ফেলবি। বয়েজ, গো ডাউন; খুব সাবধান।
পাহাড়ে চড়া যতো কঠিন, তার চেয়ে কঠিন নিরাপদে নেমে আসা। নামতে নামতে আমরা পথ খুঁজে পাই না। শান্ত পা ফসকে গড়িয়ে গেলে চড়ুই মামা পকেট থেকে একগাছি দড়ি ছুড়ে দিলে কোনো প্রকারে বিপদ থেকে রক্ষা পায়। নামতে নামতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসে।ঘন- অন্ধকারে আমরা সাপ-কোপের ভয় পাই।  চড়ুই মামা হাঁক ছাড়ে—বয়েজ, খুব খেয়াল; সূর্য ডুবে গেলে প্রেতরা জেগে ওঠে…।
নামতে নামতে চেনা পথের দেখা পেয়ে হাপ ছেড়ে বাঁচি। ঘুরে দেখি, চড়ুই মামা নাই! যে চড়ুইগুলো আমাদের সাথে সাথে নিচে নামছিলো, ওদেরও সাড়া পাই না। রিকি বলে—চড়ুই মামা চলে গেছে।
চোখের পলকে কোথায় গেলো?
জানি না; পাহাড়ের সবকিছু জানা যায় না।
চড়ুই মামার দেখা পাওয়ার পর থেকে পাহাড়ে চড়ার উৎসাহ বেড়ে যায়। বুঝতে পারি, বন-বনানীর স্তরে স্তরে বিচিত্র রহস্য লুকানো। কিন্তু আমাদের আর ভয় করে না। যখনি পথ হারিয়েছি, দুর্গম মনে হয়েছে, জোরে জোরে তালি বাজিয়ে  বলেছি—চড়ুই মামা, পথ দেখাও…; আর অমনি  লতা-পাতায়  জড়িয়ে থাকা ছোট পাখিরা কিচির-মিচির করে সাড়া দিয়েছে। আমরা বুঝে গেছি, ছোটপাখি যেদিকে যায়, সেদিকেই মানুষের পথ;  আর যেখানে প্রজাপতি ওড়ে, সেখানে সাপের বাসা। 
যেহেতু আমরা পাহাড়ি শহরের ছেলে, তাই পাহাড়টাকে চিনে নিতে চাই—যেমন গভির অরন্যে চিতা থাকে। রিকিকে চিতার মতই চৌকশ মনে হয়। ও স্কুলে যায় না; কিন্তু দারুন ফুটবল খেলে। চিতার মতো ছুটতে ছুটতে গোল সে দেবেই। ছুটির দুপুরে ঘুম বাদ দিয়ে আমরা ব্যাংকের মাঠে যাই, শুধু ওর খালা দেখতে। কিন্তু মাসখানেক হয়, কলোনির কোথাও খুঁজে পাই না। সকাল বেলায় কার্ডিগান পরে ডেসি একা বাউন্ডারি ওয়ালের উপর পা ঝুলিয়ে বসে ভুট্টা-পোড়া খায়। স্কুলে যাওয়ার পথে আমরা ওর দিকে হাত নাড়ি। হাসলে ওর গালদুটো আরো গোলাপি হয়ে ওঠে। কন্ঠ বাড়িয়ে জানতে চাই—রিকি কোথায়?
ও উত্তর দেয়—ওয়েন্ট টু প্লে।
কোথায়?
চিটাগং।
কবে আসবে?
গড নোজ।
ডেসি একদম হেয়ালি টাইপের। ওড়নাতো পড়েই না; কিছু জিজ্ঞেস করলে যা তা উত্তর দিয়ে দুধদুটো নাচাতে থাকবে। তা সত্বও আমরা ওকে বেশি পছন্দ করি। ‘গড নোজ’ মানে কি! রিকি আর কলোনিতে আসবে না? ইস্টার-সানডে’র সন্ধ্যায় ওদের বাসায় যাই। গেটের সামনে বাঁশের মাথায় লাল, নীল কাগজের বড় একটা স্টার ঝুলিয়ে দিয়েছে।  বসার ঘরের দেওয়ালে মাতা মেরির ছবিতে তাজা ফুলের মালা। ঢুকতেই দেখি, রিকির পাপা বারান্দার চেয়ারে বসে মদ খাচ্ছে। আমাদেরকে থামিয়ে বলে—ডু ইউ নো, রিকি চিটাং সান-রাইজারস ক্লাবে চান্স পেয়েছে?
নাতো; ডেসি বলে নাই।
কামিং সানডে স্টাইকার হয়ে মাঠে নামবে। হি ইস মাই সান…।
বসার ঘরের সোফায় বসে আমরা ইস্টারের কেক খাই। ডেসির পরনে নতুন জিন্স আর ফুলফুল জামা, মাথায় খরগোসের ব্যান্ড। আমাদের কাছে জানতে চায়—আমাকে কেমন দেখাচ্ছে?
আমরা চোখ বড় বড় করে বলি—ওয়াও; লাইক এন এনজল!
থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ। শোনো, তোমরা কি রিকির খেলা দেখতে যেতে চাও? 
হ্যাঁ, চাই।
ভেরি গুড। আমিও তোমাদের সাথে যাব। গ্যালারিতে বসে ছিটি বাজাবো। আমার কাছে টাকা থাকবে। আমরা আইসক্রিম খাবো।
রবিবার স্কুল ছুটি। আমরা ভোর বেলায় রিকিদের বাসার সামনে আসি। রিকির মা, বাবা গির্জায় গেছে প্রার্থণা করতে। এই সুযোগে ডেসি আমাদের সঙ্গে রওয়ানা দেয়। আমাদের শহরে রিক্সা নাই। আমরা পায়ে হেঁটে লিচু বাগান থেকে বাসে চড়বো। রোদের জন্য ডেসি একটা পালক লাগানো হ্যাট পড়েছে, চোখে গগলাস। ডেসি বলে—আমার কাছে জলের বোতোল আছে; চাইলে খেতে পারবে; কিন্তু সাবধান, মুখ লাগাবে না।
আমরা যখন কর্নফুলির পাড় ধরে ছবির মতো রাস্তাটা দিয়ে যাচ্ছি, সামনেই পাহাড়ের উপর কাঠের গির্জা, তাকিয়ে দেখি, সিঁড়ির একদম নিচ ধাপে পথের দিকে মুখ করে চড়ুই মামা বসে আছে—ওই ময়লা জুব্বাটা পরা, চুলে পাখির বিষ্ঠা ভরা; ওকে ঘিরে অনেক চড়ুই কিচির-মিচির করতেছে! ডেসিকে রেখে  ছুটে যাই—আরে চড়ুই মামা, তুমি এখানে!
লোকটা আমাদের দিকে ফিরেও তাকায় না।
আমরা অসহিষ্ণু হয়ে বলি—তুমি আমাদের চিনতে পারছো না! অই যে, তোমাকে দেখতে পাহাড়ে গেছিলাম?
বুড়ো এংলোটা তবু নির্বিকার বসে থাকে; আর গির্জায় প্রার্থণা করতে আসা যিশু-ভক্তরা ওর সামনে কয়েন রেখে যায়। আমরা ঝঁকি দিয়ে বিলি—চোখ তোলো, চড়ুই মামা।
লোকটা রেগে গিয়ে বলে—আই এম নট স্পেরো-আঙ্কেল।
পেছন থেকে ডেসি বলে—কি বলতেছো তোমরা! উনিতো ব্রাদার রিচার্ড; নাউ হি ইজ এ ভেগাবন্ড।
ডেসির কন্ঠ পেয়ে লোকটা আমাদেরকে একবার দেখে নিয়ে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি ভেঙ্গে পাহাড়ে উঠতে থাকে আর বিড়বিড় করে বলে—আই এম নো-বডি; আমি কেউ না…।
ডেসি আমাদেরকে তাড়া দেয়—আরে চলোতো; দেরি হয়ে গেলে বাস ফেল করবো।
না মানে, আমরা ওকে পাহারে পেয়েছি; কংকাল থেকে বেরিয়ে এসেছিলো।
ওকে বয়েজ, লেটস হারি।
লিচু বাগান থেকে আমরা বাসে উঠে যাই। ডেসি আমার পাশে বসে। ওর গা থেকে স্টবেরির ঘ্রান পাই। আমি বলি—তোমার হাতটা একটু ধরবো?
ডেসি হলুদ দাত বের করে হাসে—তুমি খুব ভালো; ধরো।
ডেসির পাশে বসে রিকির খেলা দেখতে যাই বটে; চড়ুই মামার কথা মাথা থেকে সরে না। কে সত্য—এই লোকটা, না কি পাহাড়ের কাঠালতলায় কংকাল থেকে বেরিয়ে আসা চড়ুই মামা? বুঝতে পারি, সত্য বলে কিছু নাই; যাকিছু সত্য, তা আংশিক; সময়ের  ব্যবধানে বাস্তবতা পাল্টে যেতে থাকে। সেদিন পাহাড় থেকে নামার সময় চড়ুই মামা বলেছিলো—ম্যান ইজ এ ভ্যাগাবন্ড এনিমেল; চলতে থাকো; পথ খুঁজে পাবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/204981/</link>
				<pubDate>Fri, 15 Sep 2023 05:03:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চড়ুই মামা</p>
<p>ছেলেবালায় আমরা ছোট্ট একটা পাহাড়ি শহরে থাকতাম। শহরটার নাম চন্দ্রঘোনা। পাহাড়ের গায়ে গায়ে সুন্দর পিচঢলা পথ; চুড়ায় চুড়ায় বাংলো-বাড়ি; আর লম্বা ট্রেইল জুড়ে বিশাল কলোনি। এখানেই চাঁদের মতো বাঁক নিয়ে সমতলের দিকে ছুটে গেছে খরশ্রোতা কর্নফুলি।<br />
এমন শান্ত, গম্ভির শহর পৃথিবীর কোথাও দেখি নাই। এই শহরে পাবলিক বাস বা রিক্সা চলে না। সকাল বেলায় দ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-204981"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/204981/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c1cc5e570b4444c7c839b94ed5d592c6</guid>
				<title>* বন্ধুরা, অনেকদিন পর তুলটে এলাম। সবাই ভালো তো?

বৃষ্টি, বৃষ্টি/ ২

এতো বৃষ্টি কেনো যে হচ্ছে—এমন অসহিষ্ণুতা
মানুষ কেনো, কোনো প্রানীকেই মানায় না!
বন্যায় চরাচর ভাসিয়ে নিলেও
যখন বৃষ্টি থাকে না, হা-হুতাস করে মরি
এসবের কোনো মানে হয়!
সহিষ্ণুতা আর অসহিষ্ণুতার মাঝখানে
স্লিপ খেয়ে পড়ে গেলেও
যখন ঝিরিঝিরি—বলি ইলশে-গুঁড়ি
শিমু রিক্সা থেকে নেমে ছাতি মাথায় দেয়!
বলি—বৃষ্টিতে ভেজো; না হয় ভিজলে আজ।
এতো বৃষ্টি কেনো যে হচ্ছে—এমন অসহিষ্ণুতা
মানুষ কেনো, কোনো প্রানীকেই মানায় না!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/204942/</link>
				<pubDate>Thu, 14 Sep 2023 08:23:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>* বন্ধুরা, অনেকদিন পর তুলটে এলাম। সবাই ভালো তো?</p>
<p>বৃষ্টি, বৃষ্টি/ ২</p>
<p>এতো বৃষ্টি কেনো যে হচ্ছে—এমন অসহিষ্ণুতা<br />
মানুষ কেনো, কোনো প্রানীকেই মানায় না!<br />
বন্যায় চরাচর ভাসিয়ে নিলেও<br />
যখন বৃষ্টি থাকে না, হা-হুতাস করে মরি<br />
এসবের কোনো মানে হয়!<br />
সহিষ্ণুতা আর অসহিষ্ণুতার মাঝখানে<br />
স্লিপ খেয়ে পড়ে গেলেও<br />
যখন ঝিরিঝিরি—বলি ইলশে-গুঁড়ি<br />
শিমু রিক্সা থেকে নেমে ছাতি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-204942"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/204942/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">722f207d1ef21ca7411f175eccc28c99</guid>
				<title>দাম্পত্য/
বহুবছর আমি একা ঘুমাতাম। ইদানিং একটা মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে থাকি। মেয়েটার আপনজনরা ঘটা করে ওকে আমার সঙ্গে দিয়ে দেয়। আমরা একসাথে খাই, ঘুমাই, টিভি দেখি; বিয়ে এবং জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বেড়াতে যাই।
আমরা যা যা কথা বলি তা হলো—খাইতে আসো; জ্বর কেমন দেখি; বাজার শেষ, ফর্দ দেইখা সদাই কিনবা; আমাকে কেমন লাগতেছে, দেখতো; মশারি খাটাও; এখনো কম্পিউটারে কি করো! 
দুজনে দুই অফিসে কাজ করি। আমাদের কাছে চাবি থাকে। ইচ্ছে মতো আসি-যাই। ফোনে আমাদের ওয়ান টু ওয়ান যোগাযোগ থাকে। ফোনে কথা হয় এইরকম—খবর-টবর কী? 
এইতো ভালো। খাইছো?
না; বাসায় গিয়া খাবো। তুমি কোথায়?
বাসে; জ্যামে বসে আছি।
স্যাকলো আর এইচ নিয়ে এসো।
ওকে।  
বাসর রাতে আমাদেরকে বেডরুমে রেখে সবাই সরে পড়েছিলো। সেই থেকে খাটটাকে কেন্দ্র করে দুজনের সময় কাটে। আদিতে মানুষ নাঙ্গা ছিলো। আধুনিক সমাজে সেরকম চলা অসভ্যতা। বেডরুমে কিন্তু আদি সভ্যতার চর্চা এখনো চলে; তবে দরজা বন্ধকরে নিতে হয়। একজন আরেকজনের সামনে কাপড়-চোপড় বদলাই। ও যখন গামছা দিয়ে চুল ঝড়ে, তখন স্তন দোল, আর আমি উঠে গিয়ে জড়িয়ে ধরলে ‘অসভ্য’ বলে গালি দেয় না।
খাট হলো দাম্পত্য চর্চার প্রধান কেন্দ্র। এখন বুঝতে পারি, শশুর মশাইরা কেনো কনের সঙ্গে খাট-পালঙ্ক দিয়ে দেয়। দাম্পত্য সভ্যতার এই যুগে মেয়েরা পুরুষ কোথায় পাবে, ধরাধরি-জড়াজড়ি করার জন্য! খাটে আমরা লুটোপুটি-ঝাঁপাঝাঁপি করি। এখানেই ঝাঁপি খুলি আনন্দের।
ও বলে—আমি তোমাকে ভালোবাসি।
আমি বলি—আমিও…।
ও আমার পেটের ভিতর ঢুকে শোয়। ঘুম এসে গেলে যখন উল্টদিকে ঘুরে যায় তখন আমি ওকে পিঠের দিক থেকে পেঁচিয়ে ধরে একদম কাছে টেনে নিই। এমন সুন্দর শয়ন-বিন্যাস দাম্পত্য জীবনের বড় অবদান। শয়ন কক্ষের মোহমায়ায় আরো আরো সম্পর্ককে আমরা রীতিমত  অবহেলা করি; হিংসুটে হই।
দুটি  বিষয়ে আমাদের ঝগড়া হয়, একটি হলো টাকা; ওর সন্দেহ, আমি হাজার হাজার টাকা বোনদের দিয়ে দিচ্ছি; অথচ বোনরা অহংকারে ওকে ‘ভাবি’ ডাকতে ভুলে যায়! 
অন্য বিষয় হলো, মনসার ছোবল। ওর ধারণা, আরো আরো মেয়েদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আছে। এই নিয়ে মারামারি করে ওর হাত মুঁচড়ে ভেঙ্গে দিয়ে স্ত্রী-নির্যতনের চিরস্থায়ী অপবাদে দন্ডিত হয়ে আছি। ফিরতে দেরি হলে প্রশ্ন করে—কোথায় তুমি?
বাসে; জ্যামে পড়ে আছি।
বাচ্চা কান্দতেছে কেনো!
বাচ্চা কোত্থেকে আসবে!
মিথ্যা কথার জায়গা পাও না; বাসায় আসো।তোমাকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি…।
আমাদেরকে বিয়ে করিয়ে দিয়ে বাবা, মা যেনো প্রানহারা হয়ে যায়। ওদের জীবন হয়ে ওঠে স্মৃতিচারণধর্মি। ওরা তীর্থ ভ্রমনে যেতে চায়। আমরা ওদের হজ্জ্বে পাঠাই। ফিরে এসে বছরখানেকের মধ্যে দুর্বল হয়ে গিয়ে ওরা মরে যায়। চার ঠেঙ্গার খাটে চড়িয়ে আমরা ওদের কবরে রেখে আসি।
হারানোর আগে গুরুজনদের গুরুত্ব আমরা বুঝতে পারি না। হারানোর কষ্টে আমরা কাঁদি। একজন আরেকজনকে সান্তনা দিই। বিদেহী আত্মার  আগমনের ভয়ে কয়েকদিন বেডরুমের বাতি নিভাই না। ছেলেবেলার হাজারো স্মৃতি মনে পড়ে যায়। তখন অনুভব করি, আমাদের একটা সন্তান দরকার; যে বলবে—তোমরা কেঁদো না। দাদা, দিদাতো স্বর্গে চলে গেছে;  বুড়ো হয়ে গেলে আমি তোমাদেরকে কবরে পাঠিয়ে দেবো; তোমরাও স্বর্গে চলে যেতে পারবে; আমি আছি না!
ভাবতে ভাবতে দুঃখের দোলায় ঘুমিয়ে পড়ি। সকাল বেলায় অফিসে যাওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত থাকি। কিন্তু আজকে দেখি, ও একটা ফুলফুল শাড়ি পড়ে আমাকে চা সাধছে! আমি বলি—ঘটনা কী! ছুটি নিছো?
ও হাসে—না। আজকে যাবো না!
কেনো?
লিটমাস পেপারে ডবল লাল দাগ দেখলাম।
ওয়াও! বলো কী! আমি লাফিয়ে উঠে ওকে জড়িয়ে ধরি।
ও হাসে—হ্যাঁ। তুমিও ছুটি লও; আমাকে নিয়ে গাইনী ডাক্তরের কাছে যাবা।	
সুখ আর দুঃখ যেনো পুরানো দম্পতি ; এভাবেই হাত ধরাধরি করে জীবনের ভিতর দিয়ে হেঁটে যায়;  আর নতুন আশায় আমরা জেগে উঠি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/199315/</link>
				<pubDate>Mon, 17 Apr 2023 06:58:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দাম্পত্য/<br />
বহুবছর আমি একা ঘুমাতাম। ইদানিং একটা মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে থাকি। মেয়েটার আপনজনরা ঘটা করে ওকে আমার সঙ্গে দিয়ে দেয়। আমরা একসাথে খাই, ঘুমাই, টিভি দেখি; বিয়ে এবং জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বেড়াতে যাই।<br />
আমরা যা যা কথা বলি তা হলো—খাইতে আসো; জ্বর কেমন দেখি; বাজার শেষ, ফর্দ দেইখা সদাই কিনবা; আমাকে কেমন লাগতেছে, দেখতো; মশারি খাটাও; এখনো কম্পিউটারে কি করো!&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-199315"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/199315/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f30db1a6eaa7615159fb5c2c2c8c8d6f</guid>
				<title>যুদ্ধে যাবো/

দামাল ছেলে, দামাল ছেলে
দামাল ছেলের দল
শক্তি সাহস আছে তোদের
যুদ্ধে এবার চল
যুদ্ধ এবার পাক-হানাদার
পাঞ্জাবীদের সাথে
হঠাৎ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে
পঁচিশে মার্চ রাতে
মারলো কতো ছাত্র-যুবক
মা-বোন যতো নারী
পুঁড়িয়ে দিলো হাট-বাজার আর
গরীব লোকের বাড়ি
চায় না ওরা বাঁচি মোরা
নিজের মতো করে
বাংলা ভাষায় কথা বলি
থাকি নিজের ঘরে
হিংসা ওদের পেট ভরা আর
খায় যে আটার রুটি
সুযোগ পেলেই চালাতে চায়
মানুষ মারার ঘুঁটি
দামাল ছেলে, দামাল ছেলে
দামাল ছেলের দল
লড়াই করে স্বাধীন হবো
যুদ্ধে এবার চল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/197510/</link>
				<pubDate>Sun, 26 Mar 2023 01:59:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যুদ্ধে যাবো/</p>
<p>দামাল ছেলে, দামাল ছেলে<br />
দামাল ছেলের দল<br />
শক্তি সাহস আছে তোদের<br />
যুদ্ধে এবার চল<br />
যুদ্ধ এবার পাক-হানাদার<br />
পাঞ্জাবীদের সাথে<br />
হঠাৎ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে<br />
পঁচিশে মার্চ রাতে<br />
মারলো কতো ছাত্র-যুবক<br />
মা-বোন যতো নারী<br />
পুঁড়িয়ে দিলো হাট-বাজার আর<br />
গরীব লোকের বাড়ি<br />
চায় না ওরা বাঁচি মোরা<br />
নিজের মতো করে<br />
বাংলা ভাষায় কথা বলি<br />
থাকি নিজ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-197510"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/197510/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8b0997ba57d67c16effb5f8c06a4bce4</guid>
				<title>ছুঁয়ে দাও কোমলতা 

ছুঁয়ে দাও কোমলতা, ছুঁয়ে দাও এই দুটি হাত। 
ছুঁয়ে দিয়ে মুছে ফেলো কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার
সমূহ নিপাত। ছুঁয়ে দাও এই ঠোঁট,খুব বেশি পিপাসা 
কাতর। কঙ্কাল পাজর ছোঁও, মুছে যাবে অনির্বাদ  
ঊদ্যায়ি অনুর মতো ভ্রান্তি-পাথর। কাছে  এসে বসো
একবার; চেয়ে দেখো কোমলতা, শরীরে আমার 
নিস্ফলা ঘাম; ক্লান্তিতে ছেয়ে আছে  আমার 
আনন। ভিষণ বেদনাহত  আশাহত  আমি;
হলুদ পাতার মতন ভাগাড়ে লুটাতে পারি।
ফিরে গেছে বাউলেরা, কুয়াশায় মুছে গেছে পথ। 
ছুঁয়ে দাও কোমলতা, ছুঁয়ে দাও এই দুটি হাত।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/185885/</link>
				<pubDate>Fri, 23 Dec 2022 05:02:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছুঁয়ে দাও কোমলতা </p>
<p>ছুঁয়ে দাও কোমলতা, ছুঁয়ে দাও এই দুটি হাত।<br />
ছুঁয়ে দিয়ে মুছে ফেলো কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার<br />
সমূহ নিপাত। ছুঁয়ে দাও এই ঠোঁট,খুব বেশি পিপাসা<br />
কাতর। কঙ্কাল পাজর ছোঁও, মুছে যাবে অনির্বাদ<br />
ঊদ্যায়ি অনুর মতো ভ্রান্তি-পাথর। কাছে  এসে বসো<br />
একবার; চেয়ে দেখো কোমলতা, শরীরে আমার<br />
নিস্ফলা ঘাম; ক্লান্তিতে ছেয়ে আছে  আমার<br />
আনন। ভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-185885"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/185885/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4e717fd10ff436fb05818e679321dd99</guid>
				<title>শিশুর হাসি

আজকাল গণহত্যা দেখি নির্বিকার
মহল্লার কুকুরগুলো মেরে ফেলা হচ্ছে মানুষকে  
আরো নিরাপদ রাখবে  বলে!
যেন পৃথিবীটা অন্য প্রানীদের নয়!
বাউল কী ভুল বলে—মানুষ মারার কল বসাইছে জগৎ জুড়িয়া! 
পাহাড়ে গিয়ে দেখি, গাছের গোড়ায় বসে আছে 
নিষ্ঠুর কাঠুরিয়া!
সাগর জলে ভাসে মৎস বিজ্ঞানী; অথচ অমার 
নানীর বিছানায় দেখেছি বিড়ালের নিরাপদ নিদ্রা; 
গ্রামে গেলে খালপাড়ের গুঁইসাপগুলো
খেজুরগাছে বেয়ে উঠে জিভ নেড়ে জানাতো অভিবদন!
কন্যা শিশুর মুখগুলো ঢেকে ফেলা হচ্ছে
নেকাব আর হিজাবে!
কোথাও দেখিনা লাল-ঠোঁট টিয়া; খোকার ময়নাটা
কথা ভুলে মূক ও বধির;
এতো কেনো গণহত্যা! 
কেনো ডেকে আনছো অন্ধকার! বলো দেখি, 
শিশুর হাসির চেয়ে কী আছে সুন্দর?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/174025/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Nov 2022 06:05:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শিশুর হাসি</p>
<p>আজকাল গণহত্যা দেখি নির্বিকার<br />
মহল্লার কুকুরগুলো মেরে ফেলা হচ্ছে মানুষকে<br />
আরো নিরাপদ রাখবে  বলে!<br />
যেন পৃথিবীটা অন্য প্রানীদের নয়!<br />
বাউল কী ভুল বলে—মানুষ মারার কল বসাইছে জগৎ জুড়িয়া!<br />
পাহাড়ে গিয়ে দেখি, গাছের গোড়ায় বসে আছে<br />
নিষ্ঠুর কাঠুরিয়া!<br />
সাগর জলে ভাসে মৎস বিজ্ঞানী; অথচ অমার<br />
নানীর বিছানায় দেখেছি বিড়ালের নিরাপদ নি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-174025"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/174025/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">db58a570f231602cc037d46a30a1ee0b</guid>
				<title>মৃদঙ্গ

আমি বৃষ্টিতে ভিজি
কেউ যেন আমার অশ্রু না দেখে।
যেদিন হাসি না
 দিনটা পঁচা ফলের মতন
 নর্দমায় গড়ায়।
আমি হাসতে হাসতে
বৃষ্টি মাথায় ফুটপাত ধরে হাঁটি।
লোকে আঙ্গুল তুলে বলে—
 ঐযে, ঐ মানুষটা পাগল।  
আমি বৃষ্টিতে হাটি
কেউ যেন আমার কান্না না বোঝে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/166852/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Oct 2022 11:27:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মৃদঙ্গ</p>
<p>আমি বৃষ্টিতে ভিজি<br />
কেউ যেন আমার অশ্রু না দেখে।<br />
যেদিন হাসি না<br />
 দিনটা পঁচা ফলের মতন<br />
 নর্দমায় গড়ায়।<br />
আমি হাসতে হাসতে<br />
বৃষ্টি মাথায় ফুটপাত ধরে হাঁটি।<br />
লোকে আঙ্গুল তুলে বলে—<br />
 ঐযে, ঐ মানুষটা পাগল।<br />
আমি বৃষ্টিতে হাটি<br />
কেউ যেন আমার কান্না না বোঝে।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cefd3641175a63cc8289204d63436a1e</guid>
				<title>ছুঁয়ে দাও কোমলতা 

ছুঁয়ে দাও কোমলতা, ছুঁয়ে দাও এই দুটি হাত। 
ছুঁয়ে দিয়ে মুছে ফেলো কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার
সমূহ নিপাত। ছুঁয়ে দাও এই ঠোঁট,খুব বেশি পিপাসা 
কাতর। কঙ্কাল পাজর ছোঁও, মুছে যাবে অনির্বাদ  
ঊদ্যায়ি অনুর মতো ভ্রান্তি-পাথর। কাছে  এসে বসো
একবার; চেয়ে দেখো কোমলতা, শরীরে আমার 
নিস্ফলা ঘাম; ক্লান্তিতে ছেয়ে আছে  আমার 
আনন। ভিষণ বেদনাহত  আশাহত  আমি;
হলুদ পাতার মতন ভাগাড়ে লুটাতে পারি।
ফিরে গেছে বাউলেরা, কুয়াশায় মুছে গেছে পথ। 
ছুঁয়ে দাও কোমলতা, ছুঁয়ে দাও এই দুটি হাত।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/154820/</link>
				<pubDate>Sun, 02 Oct 2022 02:55:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছুঁয়ে দাও কোমলতা </p>
<p>ছুঁয়ে দাও কোমলতা, ছুঁয়ে দাও এই দুটি হাত।<br />
ছুঁয়ে দিয়ে মুছে ফেলো কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার<br />
সমূহ নিপাত। ছুঁয়ে দাও এই ঠোঁট,খুব বেশি পিপাসা<br />
কাতর। কঙ্কাল পাজর ছোঁও, মুছে যাবে অনির্বাদ<br />
ঊদ্যায়ি অনুর মতো ভ্রান্তি-পাথর। কাছে  এসে বসো<br />
একবার; চেয়ে দেখো কোমলতা, শরীরে আমার<br />
নিস্ফলা ঘাম; ক্লান্তিতে ছেয়ে আছে  আমার<br />
আনন। ভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-154820"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/154820/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>20</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">00f0960efc4f72eee28af2223e55774b</guid>
				<title>শ্লোক-১

যেতে যেতে পথে
 যত কিছু পাও
ঝরে পড়া ফুল
বাউলের ভুল
হোক তা তুচ্ছ
হাতে তুলে নাও।
হতে পারে রাত
মূর্খের আঘাত
মারী ও মড়কে
চরাচর হায়
পুঁতিগন্ধময়!
কাল নয়, দেখ
পরশুও হতে পারে
শ্রেষ্ঠ সময়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/147719/</link>
				<pubDate>Fri, 16 Sep 2022 05:58:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শ্লোক-১</p>
<p>যেতে যেতে পথে<br />
 যত কিছু পাও<br />
ঝরে পড়া ফুল<br />
বাউলের ভুল<br />
হোক তা তুচ্ছ<br />
হাতে তুলে নাও।<br />
হতে পারে রাত<br />
মূর্খের আঘাত<br />
মারী ও মড়কে<br />
চরাচর হায়<br />
পুঁতিগন্ধময়!<br />
কাল নয়, দেখ<br />
পরশুও হতে পারে<br />
শ্রেষ্ঠ সময়।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e7d43a795ab3ccf3f1a621903b8f17af</guid>
				<title>*  আমি সেই অভিমানী/ আমি সেই হতভাগা মন/ কখনো পড়লে মনে/ লিখো তুমি যাখন তখন *
অভিমানী তোমার কাছে  চিঠি/

রাগ করেছো বুঝি? রাগ করো না।
এখনো ঘাসফুলে শিশির জমে
হাস্নাহেনা গন্ধ ছড়ায়
কালো কাক কার্নিশে বসে ডাক দেয় প্রত্যুষে
আমারো ঘুম ভাঙ্গে; তোমার কথা? সেও
মনে পড়ে ঠিকই; কিন্তু লেখা হয় না!
হ্যাঁ, আজই লিখলাম, অনেকদিন পর বলতে 
পারো। ভুলে গেছি ভেবেছো? অমনটা
ভেবো না; ফুলেরা দুঃখ পাবে।
তুমি কবিতা ভালোবাসো
কবিতা তোমার সত্ত্বা
কবিতা আমারো সত্ত্বা
আমরা যুগলবন্দি কবিতায়। 
তবুও টেলিফোন ডেড; পিয়ন আসে না
আজকাল;
বসন্ত পেরিয়ে ঝড় নামে
আমরা বিচ্ছিন্ন আজও।
রাগ করেছো বুঝি?
রাগ করো না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/136924/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Aug 2022 04:47:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*  আমি সেই অভিমানী/ আমি সেই হতভাগা মন/ কখনো পড়লে মনে/ লিখো তুমি যাখন তখন *<br />
অভিমানী তোমার কাছে  চিঠি/</p>
<p>রাগ করেছো বুঝি? রাগ করো না।<br />
এখনো ঘাসফুলে শিশির জমে<br />
হাস্নাহেনা গন্ধ ছড়ায়<br />
কালো কাক কার্নিশে বসে ডাক দেয় প্রত্যুষে<br />
আমারো ঘুম ভাঙ্গে; তোমার কথা? সেও<br />
মনে পড়ে ঠিকই; কিন্তু লেখা হয় না!<br />
হ্যাঁ, আজই লিখলাম, অনেকদিন পর বলতে<br />
পারো। ভু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-136924"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/136924/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>20</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7150016c53b2a4349a0cf278f61aee0f</guid>
				<title>যুদ্ধে যাবো/

দামাল ছেলে, দামাল ছেলে
দামাল ছেলের দল
শক্তি সাহস আছে তোদের
যুদ্ধে এবার চল
যুদ্ধ এবার পাক-হানাদার
পাঞ্জাবীদের সাথে
হঠাৎ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে
পঁচিশে মার্চ রাতে
মারলো কতো ছাত্র-যুবক
মা-বোন যতো নারী
পুঁড়িয়ে দিলো হাট-বাজার আর
গরীব লোকের বাড়ি
চায় না ওরা বাঁচি মোরা
নিজের মতো করে
বাংলা ভাষায় কথা বলি
থাকি নিজের ঘরে
হিংসা ওদের পেট ভরা আর
খায় যে আটার রুটি
সুযোগ পেলেই চালাতে চায়
মানুষ মারার ঘুঁটি
দামাল ছেলে, দামাল ছেলে
দামাল ছেলের দল
লড়াই করে স্বাধীন হবো
যুদ্ধে এবার চল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/131829/</link>
				<pubDate>Sat, 13 Aug 2022 04:20:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যুদ্ধে যাবো/</p>
<p>দামাল ছেলে, দামাল ছেলে<br />
দামাল ছেলের দল<br />
শক্তি সাহস আছে তোদের<br />
যুদ্ধে এবার চল<br />
যুদ্ধ এবার পাক-হানাদার<br />
পাঞ্জাবীদের সাথে<br />
হঠাৎ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে<br />
পঁচিশে মার্চ রাতে<br />
মারলো কতো ছাত্র-যুবক<br />
মা-বোন যতো নারী<br />
পুঁড়িয়ে দিলো হাট-বাজার আর<br />
গরীব লোকের বাড়ি<br />
চায় না ওরা বাঁচি মোরা<br />
নিজের মতো করে<br />
বাংলা ভাষায় কথা বলি<br />
থাকি নিজ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-131829"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/131829/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>14</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">70803f49fa514cb5641a572bb84be1bf</guid>
				<title>সাহিত্য ছিলো শ্রুতিভাষ্য

আদিতে কবিতাই ছিলো সাহিত্য। শ্লোক, ধর্মকথা, রূপকথা, প্রেমকথা, জ্ঞানকথা—সবই  হতো কাব্যে।
কবিতা ছিলো মৌখিক। কবিরা বলতেন; আর জনে জনে মুখে মুখে বিস্তার ঘটতো সর্বত্র।ধরা যাক, পাঁচ হাজার বছর ধরে; পুরো সামন্ত যুগজুড়ে কবিতা ছিলো বাচনিক।
শুধু ভারতবর্ষে নয়; পৃথিবীব্যপি এই  মৌখিক সাহিত্য মানবসভ্যতার বিকাশ ঘটায়।
গুরুগৃহে, হাট-বাজারে, রাজদরবারে; উৎসব-পর্বনে কবিদের ডাক পড়তো। 
কবিরাই ছিলো জ্ঞানী; অথবা জ্ঞানীরাই ছিলেন মহৎ কাব্যের শ্রষ্টা।
বচন, গীত, কীর্তন থেকে শুরু করে মহাকাব্যের সৃষ্টি ও বিকাশ ঘটে মুখে মুখে।
ইলিয়ড, অডসি, মেটামর্ফসিস, রামায়ন, মহাভারত—সবই মৌখিক মহাকাব্য। এমন কী, তরাত, যবুর, ইঞ্জিল, কোরানের মতো ঐষী গ্রন্থও মুখে মুখে রচিত।
চিহ্ন ও লিপির আবিষ্কারের সাথে সাথে এগুলি গ্রন্থরূপ লাভ করে।
আগে সাহিত্য ছিলো শুধুই ঈশ্বর বন্দনা। শ্রষ্টা আর রাজার গুনকীর্তন ছিলো কবিদের ধ্যান-জ্ঞান।
প্রকৃতির বিবরণ, এমন কী অংকও কষা হতো কাব্যে।
আধুনিক যুগবিকাশের সাথে সাথে ব্যক্তির গুরুত্ব বাড়ে; আর কবিতার কেন্দ্রে আসে মানুষ। এ অতি সাম্প্রতিক ঘটনা; মুদ্রন যন্ত্রের আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায়; ফরাসি বিপ্লবের পর; দেশে দেশে রাজতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে।
সাহিত্য সন্দেশ/ ১। চলবে…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/130155/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Aug 2022 12:03:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সাহিত্য ছিলো শ্রুতিভাষ্য</p>
<p>আদিতে কবিতাই ছিলো সাহিত্য। শ্লোক, ধর্মকথা, রূপকথা, প্রেমকথা, জ্ঞানকথা—সবই  হতো কাব্যে।<br />
কবিতা ছিলো মৌখিক। কবিরা বলতেন; আর জনে জনে মুখে মুখে বিস্তার ঘটতো সর্বত্র।ধরা যাক, পাঁচ হাজার বছর ধরে; পুরো সামন্ত যুগজুড়ে কবিতা ছিলো বাচনিক।<br />
শুধু ভারতবর্ষে নয়; পৃথিবীব্যপি এই  মৌখিক সাহিত্য মানবসভ্যতার বিকাশ ঘটায়।<br />
গুরুগৃহে, হাট-বাজ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-130155"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/130155/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8317876c697618f4b51507f55afff895</guid>
				<title>গোলাপ তুমি 

 ( ২৫ শে মার্চ কালো রাত্রিতে 
রোকেয়া হলে নির্যাতিতা ছাত্রীদের স্মরণে )
হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিই
ঝরে পড়ো কয়েকটি পাপড়ি 
ও মেয়ে, যেতে যেতে আঁড় চাও                           
নওতো সেই গোলাপ কুঁড়ি
ঝড়ো হাওয়া চাবুক চালায়
লণ্ডভণ্ড চরাচর 
হানাদার হামলে পড়ে 
বিশ্ববিদ্যালয় রক্তাক্ত প্রান্তর 
পত্রিকার ফিচার ফটো তুমি 
নির্লিপ্ত নয়না 
পড়ে থাকো পথে 
রক্তের ছোপগুলো 
না পাওয়া  স্বাধীনতা
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চাই
গোলাপ তুমি 
ঝরে পড়ো কয়েকটি পাপড়ি!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126384/</link>
				<pubDate>Thu, 28 Jul 2022 01:47:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গোলাপ তুমি </p>
<p> ( ২৫ শে মার্চ কালো রাত্রিতে<br />
রোকেয়া হলে নির্যাতিতা ছাত্রীদের স্মরণে )<br />
হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিই<br />
ঝরে পড়ো কয়েকটি পাপড়ি<br />
ও মেয়ে, যেতে যেতে আঁড় চাও<br />
নওতো সেই গোলাপ কুঁড়ি<br />
ঝড়ো হাওয়া চাবুক চালায়<br />
লণ্ডভণ্ড চরাচর<br />
হানাদার হামলে পড়ে<br />
বিশ্ববিদ্যালয় রক্তাক্ত প্রান্তর<br />
পত্রিকার ফিচার ফটো তুমি<br />
নির্লিপ্ত নয়না&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-126384"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/126384/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">38f4e825f977e9041ede9a7a157fbe88</guid>
				<title>শ্লোক/ ২

আমি এখন আর ‘দেশ’ বিশ্বাস করি না
স্বাধীনতা, গনতন্ত্র  মিথ্যা ধারণা—নামতা পাঠের মতো
 শুনিয়ে যাচ্ছে দিবানিশি কতিপয় মিডিয়া
এ অঞ্চলে জন্ম; নদীর পাড়ে চৌদ্দ-পুরুষের
ভিটে-মাটিতে ঘুঘু চড়ে বহুকাল 
ফিঙ্গে বাতাসে শিষ দেয়
যে শহরে থাকি তা নিজের মনে হয় না; কালো গাড়িতে
ঘুরে বেড়ায় লুটেরা-তষ্কর; আর পতাকা উড়িয়ে
বলে যায়—আমার সোনার বাংলা/ আমি তোমায়…
কতিপয় সুবিধাভোগি ওদের কুর্ণিশ জানায়!
আমি এখন আর ‘দেশ’ বিশ্বাস করি না
স্বাধীনতা, গনতন্ত্র  মিথ্যা ধারণা হয়ে
গড্ডালিকায় ভেসে যায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/125494/</link>
				<pubDate>Mon, 25 Jul 2022 02:44:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শ্লোক/ ২</p>
<p>আমি এখন আর ‘দেশ’ বিশ্বাস করি না<br />
স্বাধীনতা, গনতন্ত্র  মিথ্যা ধারণা—নামতা পাঠের মতো<br />
 শুনিয়ে যাচ্ছে দিবানিশি কতিপয় মিডিয়া<br />
এ অঞ্চলে জন্ম; নদীর পাড়ে চৌদ্দ-পুরুষের<br />
ভিটে-মাটিতে ঘুঘু চড়ে বহুকাল<br />
ফিঙ্গে বাতাসে শিষ দেয়<br />
যে শহরে থাকি তা নিজের মনে হয় না; কালো গাড়িতে<br />
ঘুরে বেড়ায় লুটেরা-তষ্কর; আর পতাকা উড়িয়ে<br />
বলে যায়—আমার সোনার বাংলা/ আমি ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-125494"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/125494/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">729e1bcedeac727469bdd46acac737b8</guid>
				<title>শব্দদূষণ

শহরে খুব আন্দোলন চলতেছিলো; ককটেল ফুটতেছিলো থেকে থেকে। ক্লাস টিচার বললো—এবার সামরিক সরকার বিদায় হবেই হবে; যা, তোরা বাড়ি যা গিয়া…।
আমরা হৈচৈ করতে করতে স্কুল থেকে বেরিয়ে দেখি, গাড়িঘোড়া নাই; দোকান পাট বন্ধ। গাব্বু বলে—চল, এই সুযোগে মেইনরোডে ফুটবল খেলি।
কিন্তু বেশিক্ষণ খেলা হয় না। পুলিশের গাড়ি বাঁশি বাজিয়ে ফুঁ ফুঁ করে ছুটে আসে। মহল্লার বড়রা বলে—এই পোলাপান, গলির মধ্যে যা গিয়া;  ককটেল ফুটবে…।
গলির মুখের চা দোকানে বসে বিলুফুপি গুলতানি মারতেছিলো; আঙ্গুলের ফাঁকে ব্যানসন সিগারেট। নিজে ইয়া মোটা, আর কিনা বলতেছে—ফার্মের মুর্গি খাইয়া এযুগের মাইয়াগুলা ক্যামন ধুমসী হয়া যাইতাছে! এগো কেডা বিয়া করবো!
বিলুফুপির কথা শুনে আমরা ফিক ফিক করে হাসি। রিপন বলে—বুঝছি, এর লাইগাই তোমার বিয়া হইতাছে না।
কী! কী কইলি! আমি মোটা! বিলুফুপি আমাদের দিকে তেড়ে আসে। আমরা বলি—না, ফুপি; তোমার স্বাস্থ্য ভালো; কি সুন্দর দেবীদের মত টানাটানা চোখ তোমার! টর্চ লাইটের মত জ্বলতে থাকে…।
পাম্প পেয়ে বিলুফুপি গলে যায়। সিগারেটে পাফ দিয়ে বলে—কি খাবি তোরা? রুটি, কলা? 
আমরা যখন কলা, রুটি খাচ্ছিলাম, তখনি বিকট শব্দ তুলে গলির মুখে অনেকগুলো ককটেল ব্লাস্ট হয়। মনে হচ্ছিলো, বোমাগুল যেনো আমাদের গায়ে এসে পড়তেছে। আমরা নিলডাউন হয়ে দোকানের সামনে বসে পড়ি। শব্দ থেমে গেলেও আমাদের কানে ঝিঁঝিঁ ডাকতে থাকে। তাকিয়ে দেখি, বিলু ফুপি কাৎ হয়ে পড়ে থেকে খুব গোঙ্গাচ্ছে; আর নাক-মুখ দিয়ে গ্যাজা বেরুচ্ছে!  আমরা হামলে পড়ি। বিলুফুপির মাথায় জল ঢেলে দিই। ফুপি তবু সহজ হয় না। অবস্থা বেগতিক দেখে এম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতেলে নিয়ে যাই।
কিন্তু হায়, পরিক্ষা করে ডাক্তার বলে—শি ইজ নো মোর!
আমরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি।
জ্বলজ্জ্যান্ত মানুষ ককটেলের শব্দে গোঙ্গাতে গোঙ্গাতে মরে গেলো—এ ছিলো আশ্চার্য ঘটনা আমাদের স্কুলজীবনের। আমরা মিনুমামাকে খুঁজি; কোথাও পাই না। বড়রা বলে—ওকে পাবি না; ও গেছে আন্দোলনে; এরশাদরে গদি থিকা নামাইয়া ছাড়বো; বোনটা যে মরছে, সেই খবর লওয়ার টাইম আছে ওর!
মিনু, ঝিনু, বিলু—তিন ভাইবোন। ওদের আরেক বোন আজিজ মহল্লার গাব্বুর মা। গাব্বু মামা ডাকে, তাই আমরাও বলি ‘মিনুমামা’—টারজানের মতো লম্বা ছিপছিপে, ঘাড় পর্যন্ত সিল্কি চুল; শহরের সেরা দৌঁড়বিদ; প্রেসিডেন্ট ম্যাডেল পাওয়া—বোন বলতে পাগল; কিন্তু সন্ধ্যায় যখন ফুপিকে কবরে নামিয়ে দিই, তখনো গুরুর দেখা পাই না। ইয়া মোটা দারোগা চাচা, যার নাম ঝিনু—বোনের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে বাচ্চাদের মতো করে কেঁদে উঠলে আমরাও ডুকরে উঠি। বড়রা বলে—কান্দিস না, ঝিনু; কান্দলে মুর্দার আজাব হয়…।
দারোগা চাচা কান্না থামিয়ে চিৎকার করে ওঠে—এই শহরে কারা ককটেল ফুটায়! সবগুলার পুটকি দিয়া ককটেল ঢুকামু…। বলতে বলতে পেটমোটা  দাপুটে লোকটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে!
এমন মৃত্যু দেখে রাতে আমাদের ঘুম হয় না।বিলু ফুপি রাগি ছিলো বটে, আমাদের কতোনা আদর করতো। পরদিন স্কুলে যাওয়ার পথে ফুল দিবো বলে কবরস্থানে গিয়ে দেখি, মিনুমামা দাঁড়িয়ে আছে। মাথার হ্যাটটা বোনের কবরের উপর রাখা। আমরা ওনার পিছে গিয়ে দাঁড়াই। প্রার্থনা শেষ করে আমাদেরকে বলে—এ শহর আর বাসযোগ্য নাই; আমি চলে যাচ্ছি; তোদের সঙ্গে আর দেখা হবে না…।
আমরা হৈচৈ করে উঠি—কোথায় যাবা তুমি?
যে শহরে বোন মরে যায়, সে শহরে কি করে থাকি!
মিনুমামা আমাদের দিকে একনজর তাকিয়ে রিক্সায় উঠে হ্যাটটা মাথায় দিয়ে সেই যে চলে যায়—তারপর আন্দলোন শেষ হয়ে গনতন্ত্র আসে; আমরা কলেজে উঠে যাই—গুরুর আর কোনো হদিস পাই না। দারোগা চাচা বাসায় ভাড়াটিয়া উঠিয়ে দিয়ে সরকারি কোয়ার্টারে চলে যায়। আমরাও ভুলে যাই বিলুফুপির আশ্চর্য মৃত্যুর ঘটনা। 
জানালায় দাঁড়ালে কখনো চোখে পড়ে বিলুফুপির এলসেশিয়ান কুকুরটাকে; অনাদরে, বয়সের ভারে গলির কোথাও কুন্ডুলি পাঁকিয়ে শুয়ে আছে। কিন্ত বড় হয়ে গেছি বলে মনের মধ্যে আবেগ আসে না। এমন এক শ্রাবন দুপুরে দরজায় বেল বাজে। গিয়ে দেখি—কুরিয়ারের হাতে বিদেশি টিকেট লাগানো একখানা খাম। খুলে দেখি লেখা—‘তোরা সবাই ভালো আছিস? ঠিকঠাক কানে শুনিস তো? এদেশে শব্দ দুষণ নাই।‘—সুডিশ মিনু।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/124814/</link>
				<pubDate>Thu, 21 Jul 2022 02:59:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শব্দদূষণ</p>
<p>শহরে খুব আন্দোলন চলতেছিলো; ককটেল ফুটতেছিলো থেকে থেকে। ক্লাস টিচার বললো—এবার সামরিক সরকার বিদায় হবেই হবে; যা, তোরা বাড়ি যা গিয়া…।<br />
আমরা হৈচৈ করতে করতে স্কুল থেকে বেরিয়ে দেখি, গাড়িঘোড়া নাই; দোকান পাট বন্ধ। গাব্বু বলে—চল, এই সুযোগে মেইনরোডে ফুটবল খেলি।<br />
কিন্তু বেশিক্ষণ খেলা হয় না। পুলিশের গাড়ি বাঁশি বাজিয়ে ফুঁ ফুঁ করে ছুটে আসে। মহল্লার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-124814"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/124814/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">887d5a0a1c40db7468be3a3312d4ef2c</guid>
				<title>চলো যাই নদীপথে
 
এখানে এখন আরকিছু নেই, মনিমালা
                          হাসি আলো শ্রবনের মেঘ
জমবে নোংরা আলোচনা ঋতুচক্র নিয়ে 
মহামারী আর বেকারত্ব হবে টকশোর খাদ্য
ক্রিয়াপদের আঞ্চলিক ব্যবহারকে বলা হবে দেশপ্রেম! 
এই ভরা বর্ষায়
দুবলার চর ডুবে গেছে কিনা জানিনা 
                                           চলো নদীপথে
যেতে যেতে জাল ফেলি
                  হতাশার কিছু নেই, মনিমালা 
বর্ষা দুপুরে বৃষ্টি আড়াআড়ি পড়ে 
নিশ্চিত পাতে পাবো দুয়েকটা ইলিশ ভাজা।
লকডাউন চলুক নগরীতে; এইতো সুযোগ
                                                    চলো যাই,
আনন্দ কুড়াই…
ভুলে যাও জীবাণু যুদ্ধের তাড়না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/124217/</link>
				<pubDate>Fri, 15 Jul 2022 03:13:51 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চলো যাই নদীপথে</p>
<p>এখানে এখন আরকিছু নেই, মনিমালা<br />
                          হাসি আলো শ্রবনের মেঘ<br />
জমবে নোংরা আলোচনা ঋতুচক্র নিয়ে<br />
মহামারী আর বেকারত্ব হবে টকশোর খাদ্য<br />
ক্রিয়াপদের আঞ্চলিক ব্যবহারকে বলা হবে দেশপ্রেম!<br />
এই ভরা বর্ষায়<br />
দুবলার চর ডুবে গেছে কিনা জানিনা<br />
                                           চলো নদীপথে<br />
যেতে যেতে জাল ফেলি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-124217"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/124217/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">088392980f4929eb4aae30c3be0ed574</guid>
				<title>ঈদ মুবারক

দুপুর বেলায় হঠাৎ ফোন পাই—নীচে আয়; আমি নূরুর দোকানে।
পঁচিশ বছর আগের কন্ঠ; চিনতে তবু  ভুল হয় না।শার্ট চাপিয়ে নিচে নেমে আসি ।
নূরুরও বয়স বেড়েছে। থুতনিতে একমুঠো পাকা দাড়ি।
রায়হান বলে—এইতো আমি; টাক্লু; চিনবি কী করে!
ছিপছিপে রায়হানের ছিল একমাথা ঝাকড়া চুল। দিন যায়; মানুষ বদলায়। 
আমি বলি—তুই না কানাডায় থাকিস?
হ্যাঁ পরশু এলাম। মা করনায় মারা গেছে। খবর পাস নি?
না। কেউতো বলে নাই।
দুইযুগ পর দুই বন্ধু শেষ রোজার দুপুরে পর্দা টাঙ্গানো মহল্লার চা দোকানে বসে চা সিগারেট খাই। রায়হান বলে—এখানে পোষাবে না। চল, শাকুরায় যাই।
বাসায় বলে আসি নি তো।
যা বাটা; ফোন করে দে।
ছোটোবেলা থেকে রায়হান নাছোড় বান্দা। আমার উপর ওর যত হম্বিতম্ব।
যেতে যেতে মান্নানকে ফোন করি।
তিনবন্ধু ছিলাম কলা ভবনের ডানপিটে ছেলে। আমি কবিতা লিখতাম; রায়হান ছবি আঁকতো; মান্নান তুখোড় ছাত্রনেতা—প্রগতির ঝান্ডা উড়াবেই উড়াবে!
আর এখন! পঁচিশটা  বছর যেন কর্পুরের মতন উবে গিয়ে শেষ রোজার বিকেলে আমাদেরকে মদের দোকানে নিয়ে আসে।এই গরমে আমরা ভদকা নিয়ে বসি।
রায়হান বলে—কিরে মান্না, তোর গায়ে মুজিব কোট কেন!
মান্নান হাসে—জানিস না! আমিতো এখন সরকারি দলের নেতা।
রায়হান ফিক করে হেসে ফেলে—ভাল; জামাতে যে যোগ দিস নি; এইটাই শুক্রিয়া।
ছাত্র জীবনের পর বহুদিন আমরা ছিলাম বদ্ধ বহেমিয়ান।
রায়হান ভ্যানগগ হতে চেয়েছিল।সেইমতে রাস্তার পাসে ক্যানভাস টাঙ্গিয়ে ছবিও আঁকতো। বিক্রিও হতো টুকটাক।চুমকি হঠাৎ বিদেশে যাওয়ার বায়না ধরে। আমরা বুঝাই—যা, বিদেশে ছবির কদর বেশি…।
ওরা কানাডায় যায় বটে; রায়হান কসাইখানায় শুয়োর কাটার কাজ নেয়।চুমকি পায় মেড সার্ভেন্টের চাকুরি। এরপর দুজনের আর দেখা হয়নি!
মান্নান মাতাল হয়ে জানতে চায়—চুমকি গেল কই?
গোল্লায়। তুই যেমন বিপ্লব ছাইড়া গোল্লায় গেছস…।
চাঁন-রাইতে ভরপুর মদ খেয়ে নব্য আওয়ামি নেতার গাড়িতে চড়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে আমাদের উপলব্ধি হয়—বৃহৎ-চিন্তাগুলো ক্ষুদ্র স্বার্থের কাছে হেরে যায়। আর আমরা গিনিপিগ হয়ে যাই!
নিরবতা ভেঙ্গে মান্নান বলে—তুই ঠিক আছস, খোকন; আগেও কবিতা লিখতি, এখনও লিখস; চালায়া যা…।
শব্দ আর বাক্যের প্রেমে পড়া এই আমিওযে আটচল্লিশ বছর বয়সে এসে তেল-নুন-মরিচের হিসাব-নিকাশের কাছে ধরা খেয়ে গেছি—এই কথা ওদের বোধগম্য হয় না।
গলির ভিতর ঢুকতেই ঝমঝম করে বৃষ্টি নামে।
রায়হানবলে—নাম। তোর বাসা এসে গেছে।যে পরিমান টালটক্কর হয়া আছস, যেতে পারবিতো?
নেতা বলে কথা; মান্নান হাজার টাকার চারটা নোট আমার হাতে দিয়ে বলে—করনার মধ্যে দেখা করাওতো কঠিন। ভাবিকে দিস। ওকে, বাই। ঈদ মুবারক, বন্ধু।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/123902/</link>
				<pubDate>Sun, 10 Jul 2022 01:40:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঈদ মুবারক</p>
<p>দুপুর বেলায় হঠাৎ ফোন পাই—নীচে আয়; আমি নূরুর দোকানে।<br />
পঁচিশ বছর আগের কন্ঠ; চিনতে তবু  ভুল হয় না।শার্ট চাপিয়ে নিচে নেমে আসি ।<br />
নূরুরও বয়স বেড়েছে। থুতনিতে একমুঠো পাকা দাড়ি।<br />
রায়হান বলে—এইতো আমি; টাক্লু; চিনবি কী করে!<br />
ছিপছিপে রায়হানের ছিল একমাথা ঝাকড়া চুল। দিন যায়; মানুষ বদলায়।<br />
আমি বলি—তুই না কানাডায় থাকিস?<br />
হ্যাঁ পরশু এলাম। মা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-123902"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/123902/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d5bfa395785730eca0050d9ffcae105b</guid>
				<title>এমন হত্যাকান্ড ভোলা যায় না  

যুদ্ধের মধ্যে আমরা চন্দ্রঘোনা ছেড়ে রাঙ্গুনিয়া কলেজের পিছনে তৈয়ব চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিই।
বনেদি তালুকদার বাড়ি। বড়ো উঠানের দুইপাশে দুইটা মাটির ঘর। পেছনে পুকুর আর সামনে টিনের কাচারী। 
পুরুষরা কাচারীতে থাকে। মহিলারা বড় বড় ঢেগে ভাত-সালুন রাঁধে। 
পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য বোঝাতে বাড়ির মাথায় চাঁনতারা পতাকা উড়িয়ে দেওেয়া হয়। কাচারীর সামনে বেঁধে রাখা হয় ইয়া বড় বলদ; যদি পাঞ্জাবিরা আসে, জবাই করে খাওয়াবে। 
কিন্তু যুদ্ধ কোনো আতিথ্য বোঝে না।
খবর পাই, পাঞ্জাবিরা রোয়াজার হাট পুড়িয়ে দিয়েছে। শ্রমিককের অভাবে আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে কর্ণফুলি পেপার মিল। গুজবের মতন খবর আসে, ফোরম্যানদের আটকে রেখে মিল চালু রাখার চেষ্টা করছে কতৃপক্ষ।
তালুকদার বাড়ির মাঠে খেলাধুলা করতে করতে আমরা কাপ্তাই রোডে মিলিটারি কনভয়ের আসা-যাওয়া দেখি। কল্পণাও করি না, এই দূরগ্রামে ওরা আসতে পারে। 
কিন্তু কবি বলেছেন, যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা/ আমার প্রতি তোমার অবহেলা। এই চরণযুগল আমাদের শৈশবে বাস্তবরূপে দেখা দিয়েছিল। 
সেদিন ছিল শুক্রবার। খরতপ্ত দুপুরে পুরুষরা জুমার নামাজ পরে বাড়ি ফেরে কেবল। শিশুরা মাত্র খেয়ে উঠেছি। এরপর পুরুষদের খাবার দেওেয়া হবে। 
এমন সময় কাপ্তাই রোড থেকে মুখ ঘুরিয়ে মিলিটারির সাজোয়া গাড়িটা চৈত্রের বাতাসে ধূলো উড়িয়ে গ্রামের দিকে ছুটে আসে। 
লোকজনের সঙ্গে মাঠের গরু-ছাগলও ভয়ে ছুটতে শুরু করে। 
ওরা গ্রামের মুখে এসে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে গাছের পাখপাখালি; চড়ে বেড়ানো হাঁস-মুরগিও ভয়ে আর্তনাদ করে ওড়াউড়ি জুড়ে দেয়। 
এ আমাদের দুচোখে দেখা। সবার মুখে একটাই আওয়াজ--পালাও, পালাও...। 
বাড়ির লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মায়া আপা একটা মুরগির খোয়াড়ে ঢুকে পড়ে। শহীদকে কোলে নিয়ে আম্মা জলশূন্য পুকুরের ঘাটলার নিচে লুকায়। 
আমি আর ছায়া বড়ঘরের মাঝখানে কিংকর্তব্যবিমূঢ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। ঘরের দুকোনায় বড়দুটি মটকায় ধান-চাল রাখা। উঠানে বুটের শব্দ আর উর্দু কথাবার্তা শুনতে পেয়ে দুজনে দুই মটকার আড়ালে লুকিয়ে পড়ি। 
গুলির শব্দের সময় আব্বাকে দেখি, উঠান থেকে লাফিয়ে উঠে &#039;সবায় পালাও, পালাও...বলে ঘরের মাঝদিয়ে পিছনের দিকে ছুটে গেল যেন। 
এরপর তৈয়ব চাচা ভিতর-ঘর থেকে সামনে এসে কয়েক মূহুর্তের স্তব্ধতা ভেঙ্গে বলে--আইয়ে সাহেব, হাম তৈয়ব তালুকদার হায়...। 
কথা শেষ না হতে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনি। একদম ঘরের মধ্যে। আমাদের কনের সামনে। 
তৈয়ব চাচা ছিটকে গিয়ে মাটির দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে মেঝের উপর মুখ থুবড়ে পড়ে গোঙাতে থাকে।
পুরো ঘর রক্তে ভেসে যায়। 
আমি আর ছায়া, দুইশিশু মটকার আড়াল থেকে এই অসম্ভব দৃশ্য দেখে ভয়ে শক্ত হয়ে যাই। #
*চলবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/123055/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Jul 2022 06:29:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এমন হত্যাকান্ড ভোলা যায় না  </p>
<p>যুদ্ধের মধ্যে আমরা চন্দ্রঘোনা ছেড়ে রাঙ্গুনিয়া কলেজের পিছনে তৈয়ব চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিই।<br />
বনেদি তালুকদার বাড়ি। বড়ো উঠানের দুইপাশে দুইটা মাটির ঘর। পেছনে পুকুর আর সামনে টিনের কাচারী।<br />
পুরুষরা কাচারীতে থাকে। মহিলারা বড় বড় ঢেগে ভাত-সালুন রাঁধে।<br />
পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য বোঝাতে বাড়ির মাথায় চাঁনতারা প&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-123055"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/123055/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">df0b0a70c7dc97c4c7a795e025459996</guid>
				<title>বৃষ্টিকে মনে হয় হানাদার 

যুদ্ধ কোনো সহজ ঘটনা না। অস্ত্রকারবারিদের নির্মম খেলা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিলো আমাদের উপর।
কর্ণফুলি পেপার ও রেওয়ান মিল অবাঙালী দাউদ কোম্পানির সম্পত্তি হওয়ায় যুদ্ধের শুরুতে সেনাবাহিনী চন্দ্রঘোনায় ঘাঁটি গাড়ে। 
মিলগেটের তল্লাশি এড়ানোর জন্য মা  আমাদের নিয়ে স্কুলের পিছনের পাহাড় ডিঙিয়ে নিস্তব্ধ বনপথে দোভাষী বাজারের দিকে  এগোয়। 
স্বচ্ছ জলের ছড়ির ভেজা বালুকায় পা ফেলে আমরা হাটতে থাকি। বসন্তের বাতাসে বুনোগন্ধ বহে আর হাজারো প্রজাপতি ওড়ে, ফড়িং লাফঝাপ দেয়। 
মিশন হাসপাতালের পিছন দিয়ে যখন নার্সদের কোয়ার্টার অতিক্রম করি তখন দেখি, চারপা বেঁধে বাঁশের ভাড়ে ঝুলিয়ে কয়েকজন পাহাড়ি একটা বুনো শুয়োর নিয়ে যাচ্ছে। আর  প্রানিটা বিকট শব্দ তুলে চরাচরের স্তব্ধতা এমন করুনভাবে ভেঙে দেয়, বুক কেঁপে ওঠে। 
আমাদের দেখে সাদা পোশাক পরা পরীদের মতন  কয়েকজন এ্যংলো নার্স এগিয়ে এসে জানতে চায়--তোমরা কোথায় চলিয়াছ? 
মা বলে--জানিনা। দেশের বাড়ি যাবো বলে বের হইছি।
নার্সরা বলে--ঈশ্বর তোমাদের সহায় হোক।
একজন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে যীশুর নামজপ করে। 
পাহাড়ঘেরা চন্দ্রঘোনা এক আশ্চর্য ছোট্ট শহর। শুধু ছবির মতন দেখতে নয়; এখানে ইংরেজ, এ্যংলো, চাকমা, মার্মা, নানান জেলার বাঙালি; ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে অভেদ-জ্ঞানে আপনজনের মতো বসবাস করছিলাম। 
যুদ্ধ এসে আমাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
যেপথ দিয়ে আমরা স্কুলে যেতাম; সাইরেণ শুনে শ্রমিক কর্মচারীরা মিলের দিকে ছুটতো; সেইসব পথঘাট দখলে নেয় পাঞ্জাবি হানাদার বাহিনী।
যুদ্ধের শুরুতে ওরা মিলের অনেক কর্মী ধরে নিয়ে যায়। শুনি, লিচুবাগানের দোকানপাট পুড়িয়ে দিয়েছে।
যুদ্ধের ভিতর জনজীবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া ছিলো হানাদারদের মোক্ষম কৌশল। এই ভয় থেকে আমরা যখন হাসপাতালের মাঠ পেরিয়ে দোভাষী বাজারে প্রবেশ করি, তখন চৈত্রের আকাশ কালোমেঘে ঢেকে গিয়ে ঝমঝম করে বৃষ্টি শুরু হয়।
বড়বড় ফোটার এমন তুমুল বর্ষণ! বৃষ্টিকেই মনে হয় হানাদার। 
পাঞ্জাবিদের ভয়ে শুনশান  নির্জন বাজার বৃষ্টির তোড়ে আরো বিষন্ন হয়ে যায়।
ইলেকট্রিক তারে কয়েকটি কাক ভিজে চুপসে থাকে।
জনহীন কাঁচা বাজারের আটচালালায় কয়েকটি কুকুর বৃষ্টির মধ্যে হুহু বিলাপ জুড়ে দেয়। 
আমরা একটু এগিয়ে বাবার এক বন্ধুর কাপড়ের দোকানে ঢুকে পড়ি। 
কর্ণফুলির তীরঘেঁষে বড়বড় খুঁটির উপর একসারি দোকান। পেছনের ঘরে হিন্দু কাকুটার বাসতঘর। ওনার একটা ছেলে আমার বয়সি। কাকীটা মিষ্টি দেখতে। কপালে লেপ্টানো সিঁদুর।
কাকী আমাদের পেছনের ঘরে নিয়ে গিয়ে গুড়মুড়ি খেতে দেয়। 
স্মৃতি এতো প্রতারক, আজ আর কারো নামধাম মনে পড়ে না। 
পেছনের জানালায় উঁকি দিয়ে দেখি, বৃষ্টি থেমে গিয়ে কর্ণফুলির  বুকে রোদ চিকচিক করছে। 
ওপারে রায়খালি বাজার।
*চলবে…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/121325/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Jun 2022 03:39:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বৃষ্টিকে মনে হয় হানাদার </p>
<p>যুদ্ধ কোনো সহজ ঘটনা না। অস্ত্রকারবারিদের নির্মম খেলা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিলো আমাদের উপর।<br />
কর্ণফুলি পেপার ও রেওয়ান মিল অবাঙালী দাউদ কোম্পানির সম্পত্তি হওয়ায় যুদ্ধের শুরুতে সেনাবাহিনী চন্দ্রঘোনায় ঘাঁটি গাড়ে।<br />
মিলগেটের তল্লাশি এড়ানোর জন্য মা  আমাদের নিয়ে স্কুলের পিছনের পাহাড় ডিঙিয়ে নিস্তব্ধ বনপথে দোভাষী বাজারের দিকে  এগ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-121325"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/121325/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>15</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">252a4bd91d4e2b0e1dc1e872936763d2</guid>
				<title>যে জীবন ফেলে এসেছি 
 
চন্দ্রঘোনা। অনন্য শৈশবের দেশ। 
যেখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে চাঁদের মতন বাঁক নেয় কর্ণফুলি।
 যেখানে কুয়াশারা শরীর ছুঁয়ে যায়;  অঝর ধারার বৃষ্টি আর উষ্ণ হাওয়া শৈশবকে করে প্রনবন্ত। 
নদীর ওপারজুড়ে সীতা পাহাড়ের ক্রমশ ধূসর হয়ে যাওয়া গিরিশ্রেনির অপরূপ শোভা 
আমি কী ভুলিতে পারি! 
আজ এই পঞ্চাশোর্ধ বয়সে মনে পড়ে আসাম লতার উৎকট ঘ্রাণ;
 কঁচি সেগুন পাতার গাঢ লাল রং; আর পাস্তা ফুলের উপর ছোট প্রজাপ্রতির ওড়াউড়ি।
স্কুল থেকে ফেরার সময় পথের পাশের লজ্জাবতীর ঝোঁপে হাত ছুঁইয়ে দিলে গাঢ সবুজ পাতাগুলোর নূয়েপড়া দেখে অনুভব করতাম, গাছেদের প্রাণ আছে; ওদেরও ভয় আছে মানুষে। 
আরো মনে পড়ে জলবতী পাহাড়ের কালচে শরীরের কথা; 
আঙ্গুলের ছোঁয়ায় যেখান থেকে নামে স্বচ্ছ জলের ধারা। 
বালুকা নূড়ির বুক বেয়ে টলটলে জলের ছড়িতে পা ভিজিয়ে হাটতে হাটতে জানতে চেয়েছি, 
কোথায় তোমার গন্তব্য? 
স্কুলের পেছনের পাহাড় টপকে দোভাষী বাজারের পথটা যেমন দূর্গম তেমনি গা ছমছম করা! 
তবু ঐপথে যেতেই ছিল যত আগ্রহ! 
যেতে যেতে উঁকি দিতাম টিলার উপরের পাহাড়ি পল্লীটার দিকে।
 থামি পরা ফর্সা মেয়েদের মুগ্ধ চোখে দেখতাম। 
অনুভব করতাম নাপ্পির প্রকট গন্ধ। 
ভয় করতো, যদিম মার্মা যুবকরা ধামা নিয়ে তেড়ে আসে! 
বনপথে কতযে বুনোফুল! শোদাঘ্রানে নেশা ধরে যায়। 
ঝিঁঝিঁ পোকার তীব্র শব্দে কানে তালা লাগে। 
হঠাৎ তাকিয়ে দেখি, একটা রক্তচোষা মাথা উঁচু করে দেহের সবরক্ত মাথায় এনে কেমন যেন রেগে তাকাচ্ছে আমার দিকে! 
বুকটা ধুকপুক করে ওঠে। 
তবুও সোনালী পোকা ধরার লোভে পা টিপেটিপে হাঁটি। 
তখনি কী গুঁইসাপটা ঝপ করে লাফ মেরেছিল! 
মধ্যদুপুরে স্কুল পালিয়ে পাহাড়ের চুড়ায় উঠে মুগ্ধচোখে দেখি, আমাদের এই জনপদের পাশদিয়ে চাঁদনী বাঁক নিয়ে ধেঁয়ে যাচ্ছে গিরিকন্যা কর্ণফুলি। 
তার বুকে ভাসছে দুয়েকটা সাম্পান আর সারি সারি বাঁশের ভেলা। 
এই বাঁশ দিয়ে তৈরি হয় কাগজ; এশিয়ার বিখ্যাত কর্ণফুলি পেপার মিলে। 
আজ ভাবতে ভালোলাগে, আমি চন্দ্রঘোনার সন্তান।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/119935/</link>
				<pubDate>Sun, 12 Jun 2022 02:29:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যে জীবন ফেলে এসেছি </p>
<p>চন্দ্রঘোনা। অনন্য শৈশবের দেশ।<br />
যেখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে চাঁদের মতন বাঁক নেয় কর্ণফুলি।<br />
 যেখানে কুয়াশারা শরীর ছুঁয়ে যায়;  অঝর ধারার বৃষ্টি আর উষ্ণ হাওয়া শৈশবকে করে প্রনবন্ত।<br />
নদীর ওপারজুড়ে সীতা পাহাড়ের ক্রমশ ধূসর হয়ে যাওয়া গিরিশ্রেনির অপরূপ শোভা<br />
আমি কী ভুলিতে পারি!<br />
আজ এই পঞ্চাশোর্ধ বয়সে মনে পড়ে আসাম লতার উৎকট ঘ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-119935"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/119935/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">24c8638d34b29572fc13021bbf23588e</guid>
				<title>বরেণ্য কবি

কাব্য তার আসে না তেমন 
তবু তাকে লিখতে হয় 
         বলতে হয় কাব্যকথা
কারণ তার কবি পরিচয়! 
হয়তো দামাল বয়সে 
ভর করেছিল দেবী বীনাপানি
আত্ম প্রচারার্থে বের করেছিল লিটলম্যাগ
দুঃখ উপায় করে 
                  সরু-নাক কিশোরীর থেকে
তখন কাব্য তাকে সান্ত্বনা দেয়।
সুখ আর দুঃখ টেবিলের দুই জোকার 
জীবন-জুয়ায় গলাগলি ধরে চলে। 
হয়তো সে আমলা বা মোক্তার 
চোরাই টাকার গ্লানিনাশে
মদের টেবিলে বেচারা কবিকে 
তিরস্কার ছুঁড়ে দেয় সংস্কৃত শ্লোকে।
হতে পারে সন্দেশ-বাহক 
একাডেমির চাকরিটা বাঁগিয়ে নিয়েছিল 
                                               মন্ত্রীর প্রস্রয়ে।
সুখী সুখী ভাব তার 
কাব্য তেমন আসে না 
বই তবু বের হয় বছর বছর! 
স্ত্রী বলেন, উনিতো লিখতে চান না 
                     একদম; সময় কোথায়! 
যাকিছু কাব্য সব আমার প্রেরণায়। 
ইদানিং গদ্য লেখেন
দুয়েকটা কাব্য তবু ছাপতে হয় 
                            কারণ তার কবি পরিচয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/118609/</link>
				<pubDate>Mon, 06 Jun 2022 01:26:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বরেণ্য কবি</p>
<p>কাব্য তার আসে না তেমন<br />
তবু তাকে লিখতে হয়<br />
         বলতে হয় কাব্যকথা<br />
কারণ তার কবি পরিচয়!<br />
হয়তো দামাল বয়সে<br />
ভর করেছিল দেবী বীনাপানি<br />
আত্ম প্রচারার্থে বের করেছিল লিটলম্যাগ<br />
দুঃখ উপায় করে<br />
                  সরু-নাক কিশোরীর থেকে<br />
তখন কাব্য তাকে সান্ত্বনা দেয়।<br />
সুখ আর দুঃখ টেবিলের দুই জোকার<br />
জীবন-জুয়ায় গলাগলি ধ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-118609"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/118609/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">094c14e0b6a0481fac21bac166908ee3</guid>
				<title>একটি তিনকোনা মাঠ

মাঠের স্বরূপ পাল্টে যাচ্ছে 
মাঠের  এখন ত্রিসীমানা
 একপাশে বন
গাছগুলো বেশ ভালোই আছে 
গাছগুলো বেশ নিরহংকার 
চাওয়া নাই, পাওয়া নাই 
একটা জায়গায় দাড়িয়ে  আছে 
 আত্মবিশ্বাস 
আমার এতো কিসের চাওয়া 
শ্যামল পাতা! 
টিক-টিক ঘড়ির কাটা ঘুরবেইতো  
মাঠের স্বরূপ পাল্টে যাচ্ছে 
মাঠের  এখন ত্রিসীমানা
 একপাশে বন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/116578/</link>
				<pubDate>Mon, 30 May 2022 04:51:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি তিনকোনা মাঠ</p>
<p>মাঠের স্বরূপ পাল্টে যাচ্ছে<br />
মাঠের  এখন ত্রিসীমানা<br />
 একপাশে বন<br />
গাছগুলো বেশ ভালোই আছে<br />
গাছগুলো বেশ নিরহংকার<br />
চাওয়া নাই, পাওয়া নাই<br />
একটা জায়গায় দাড়িয়ে  আছে<br />
 আত্মবিশ্বাস<br />
আমার এতো কিসের চাওয়া<br />
শ্যামল পাতা!<br />
টিক-টিক ঘড়ির কাটা ঘুরবেইতো<br />
মাঠের স্বরূপ পাল্টে যাচ্ছে<br />
মাঠের  এখন ত্রিসীমানা<br />
 একপাশে বন।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>15</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2f76f61aa195a7d964bdcfe272718b47</guid>
				<title>মুখোশ/ ২

জাতি আর সম্প্রদায় এক না। জাতি নৃতাত্বিক বা জেনেটিক। যেমন, বাঙালি, রুশ, তামিল, আরব ইত্যাদি। সম্প্রদায় তার পেশাগত পরিচয়। যেমন, জেলে, চাষি, তাতি, ইহুদি, মুস্লিম  ইত্যাদি।
ইদানিং সাম্প্রদায়িক পরিচয়কে জাতি পরিচয়ে চালানো হচ্ছে। এতে সঙ্ঘাত হচ্ছে নিজেদের মধ্যে।
বাংলাদেশি বা আমেরিকান কোনো জাতি পরিচয় না; বিরজমান রাষ্ট্র-কাঠামোয় বসবাসকারি মানুষের পরিচয়। এই কাঠামো যুগে যুগে বদলায়। সাম্প্রদায়িক পরিচয়ও বদলায়। রাজধর্ম বদলে আমরা এখন মুস্লিম।
রাজার পতনের পর ধর্ম এখন গৌণ হয়ে গেছে; টিকে আছে জাতি পরিচয়; তাও আন্তর্জাতিকতার বিকাশে পালটে যাচ্ছে। আমরা মানুষ—এই পরিচয়টা মূখ্য হয়ে উঠতেছে দিনে দিনে। মানি বা না মানি—সাম্য, মৈত্রি, স্বাধীনতা—এই চেতনাই আগামী দিনের পাথেয়।
গরিব জনগষ্ঠিগুলোর সাম্প্রদায়িক মুখোশ খসে পড়তেছে। সবচেয়ে পশ্চাৎপদ মুস্লিমরা অচিরেই হয়ে যাবে সাম্যবাদী; যা এদের অনিবার্য অগ্রগতি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/116576/</link>
				<pubDate>Mon, 30 May 2022 04:41:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মুখোশ/ ২</p>
<p>জাতি আর সম্প্রদায় এক না। জাতি নৃতাত্বিক বা জেনেটিক। যেমন, বাঙালি, রুশ, তামিল, আরব ইত্যাদি। সম্প্রদায় তার পেশাগত পরিচয়। যেমন, জেলে, চাষি, তাতি, ইহুদি, মুস্লিম  ইত্যাদি।<br />
ইদানিং সাম্প্রদায়িক পরিচয়কে জাতি পরিচয়ে চালানো হচ্ছে। এতে সঙ্ঘাত হচ্ছে নিজেদের মধ্যে।<br />
বাংলাদেশি বা আমেরিকান কোনো জাতি পরিচয় না; বিরজমান রাষ্ট্র-কাঠামোয় বসবাসকারি মানু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-116576"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/116576/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2486198e4bb248d91a8d0474397f6301</guid>
				<title>শ্যামল পাতা 

কোন ফাগুনে কখন যেন নেই তা মনে 
মনের মাঝে গোপন মনে ঠাঁই  নিয়েছো
ঠাঁই নিয়েছো ঘর বেধেঁছো শ্যামল পাতা। 
ঠোঁটের হাসি চোখের ভাষা তীরের ফলা
উড়াল পাখি মনের মাঝে খুন ঝরালো 
খুন ঝরালো ঘুন ধরালো বুকের মাঝে 
কোমলতার ছোঁয়া নেবার ইচ্ছেগুলো।  
মেঘলাকাশে রোদের মতো ঝিলিক তুলে 
যখন তুমি ক্ষণিক চেয়ে যাও লুকিয়ে 
যাও লুকিয়ে জড়িয়ে থাকো দাঁড়িয়ে থাকো
এই হৃদয়ে ব্যস্ত দুপুর মধ্যরাতে 
রিক্ত  আমার দুঃখ-সুখে পাথর যেনো। 
কষ্ট-ঘামে স্বপ্ন ঘোরে তখন  আমি 
তখন  আমি শ্যামল পাতা বুঝতে পারি
বুঝতে পারি রক্তে একোন  উলুধ্বনি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/115238/</link>
				<pubDate>Thu, 26 May 2022 02:22:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শ্যামল পাতা </p>
<p>কোন ফাগুনে কখন যেন নেই তা মনে<br />
মনের মাঝে গোপন মনে ঠাঁই  নিয়েছো<br />
ঠাঁই নিয়েছো ঘর বেধেঁছো শ্যামল পাতা।<br />
ঠোঁটের হাসি চোখের ভাষা তীরের ফলা<br />
উড়াল পাখি মনের মাঝে খুন ঝরালো<br />
খুন ঝরালো ঘুন ধরালো বুকের মাঝে<br />
কোমলতার ছোঁয়া নেবার ইচ্ছেগুলো।<br />
মেঘলাকাশে রোদের মতো ঝিলিক তুলে<br />
যখন তুমি ক্ষণিক চেয়ে যাও লুকিয়ে<br />
যাও লুকিয়ে জড়িয়ে থাকো দ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-115238"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/115238/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">41c154ad23306d8781adde3f0befcf12</guid>
				<title>মুখোশ/১

গ্রামীণ যুগে ডাকাতি ছিল ভয়ানক পেশা। এরা চিঠি পাঠিয়ে জোতদার বাড়িতে আসতো সর্বস্ব লুটে নিতে। আরো ছিল ঠগ, শিদেল চোর, জোচ্চোর। 
আধুনিক যুগে এসে এরা পিছে পড়ে গেছে। এদের জায়গায় দেখলাম চিটার, বাটপার, প্রতারক, দালাল, লুম্পেন।
 এদের দৌরাত্ম্যে শহর-বন্দরে লোকজন তটস্থ থাকতো। 
এরপর এলো ক্যাডাররা। 
মার্কসবাদী শ্রেনিসংগ্রামীদের ক্যাডার পদবী আত্মসাত করে নিয়ে বুর্জোয়াদের লুম্পেনগোষ্ঠী শুরু করে চাঁদা আদায়। 
একঢিলে দুইপাখি। মার্কসবাদীদের বদনাম আর পোটিবুর্জোয়াদের সর্বনাশ করা। 
সত্তুর থেকে নব্বই দশক জুড়ে এদের দাপটে প্রকম্পিত হতো ঢাকার বড়লোকদের প্রাণ। 
ক্যাডারদের অনেকে এখন রাজনীতির হোমড়াচোমড়া। 
দিন আরো পাল্টেছে। ঢাকায় এখন আলোচিত চরিত্র হচ্ছে দুর্নীতিবাজ। 
এটি এমন এক চরিত্র, যার সঙ্গে মিশে আছে পরস্পরবিরোধী গুণ। এরা মন্ত্রী, সচিব, ব্যবসায়ি, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী নানান পরিচয়ে সমাজে বিরাজ করে। 
এদের সরকারও ভয় পায়। 
এরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেশের টাকা লুটে নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। ভুল না করলে এদের ধরা কঠিন। 
এরাই এখন গণশত্রু।
 দুর্ভাগ্য হলো, এদের শায়েস্তা করার মতো কোনো রাজনীতি এদেশে নেই। 
এরা শহর থেকে গ্রাম; অফিস আদালত সর্বত্র বিরাজিত। 
এরা ধর্মপ্রাণ;  শিল্প-সাহিত্যেরও সমজদার! 
শশুর হিসাবে ছেলে/মেয়ে উভয়ের কাছে এরা সমান নন্দিত।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/113621/</link>
				<pubDate>Sat, 21 May 2022 08:01:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> মুখোশ/১</p>
<p>গ্রামীণ যুগে ডাকাতি ছিল ভয়ানক পেশা। এরা চিঠি পাঠিয়ে জোতদার বাড়িতে আসতো সর্বস্ব লুটে নিতে। আরো ছিল ঠগ, শিদেল চোর, জোচ্চোর।<br />
আধুনিক যুগে এসে এরা পিছে পড়ে গেছে। এদের জায়গায় দেখলাম চিটার, বাটপার, প্রতারক, দালাল, লুম্পেন।<br />
 এদের দৌরাত্ম্যে শহর-বন্দরে লোকজন তটস্থ থাকতো।<br />
এরপর এলো ক্যাডাররা।<br />
মার্কসবাদী শ্রেনিসংগ্রামীদের ক্যাডার পদবী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-113621"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/113621/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>14</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">546042d2ad080ebf268b50da67053516</guid>
				<title>বৃষ্টি বৃষ্টি

এই বর্ষায় একজন মাতাল
রাস্তার পাশে হিস্যু করে, আর বলে—যীশু, যীশুকে তো
কোথাও দেখি না!
যীশু বড়ুয়া, আমার বন্ধু
সে ছিলো বাসায়
ডিম ভাজা দিয়ে পান্তাভাত খাবে, এই আশায়
ডাইনিং টেবিলে বসে পেপার দেখতেছিলো
জানালার ওপাশে দুইটা ভেজাকাক
গোত্তা খেয়ে ইলেক্ট্রিক তারের উপর যেইনা বসে—
বিকট আওয়াজ তুলে বিদ্যুৎ চলে যায়
এই বর্ষা-দুপুরে
আরাম কেদারায় বসে দেখতেছিলাম
হিন্দি সিনেমা
 নায়িকা মেয়েটা বৃষ্টির নীচে চান্স পেয়ে ডান্স মারে
বউ এসে বলে—আন্ধারে বইসা আছো যে…
ভেজা কাক, স্নানরত নায়িকা—সব কী খোয়াব!
মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে বউ বলে— লও, ঝালমুড়ি খাও
এই বৃষ্টি থামবার না!
বৃষ্টিতে বৃষ্টির কথা মনে আসে;
তা বড় পুরাতন স্মৃতি
কচুপাতা মাথায় কারা যেনো দ্রুত পায়ে হেটে যায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/111334/</link>
				<pubDate>Mon, 16 May 2022 03:43:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বৃষ্টি বৃষ্টি</p>
<p>এই বর্ষায় একজন মাতাল<br />
রাস্তার পাশে হিস্যু করে, আর বলে—যীশু, যীশুকে তো<br />
কোথাও দেখি না!<br />
যীশু বড়ুয়া, আমার বন্ধু<br />
সে ছিলো বাসায়<br />
ডিম ভাজা দিয়ে পান্তাভাত খাবে, এই আশায়<br />
ডাইনিং টেবিলে বসে পেপার দেখতেছিলো<br />
জানালার ওপাশে দুইটা ভেজাকাক<br />
গোত্তা খেয়ে ইলেক্ট্রিক তারের উপর যেইনা বসে—<br />
বিকট আওয়াজ তুলে বিদ্যুৎ চলে যায়<br />
এই বর্ষা-দুপুরে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-111334"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/111334/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>15</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cd781204911d6de5992a32f1fe577212</guid>
				<title>চিহ্ন থাকে সাহিত্য

চিহ্ন বিজ্ঞান বিকশিত হতে হতে ছাপাখানার যুগ থেকে মানুষের হাতে হাতে চলে এসেছে। এখনতো সফট কপি সেল ফোনে হাতের মুঠোয় রেখে পড়ে ফেলা যায়। আজকের সাহিত্য হচ্ছে চিহ্ন-বিজ্ঞানের অনুপম সৃষ্টি। নানান চিহ্ন সাজিয়ে লেখকরা গড়ে তোলেন সাহিত্য সম্ভার; যা জ্ঞান ও কল্পনাকে সহজেই অপরের কাছে পৌঁছে দেয়।
মৌখিক সাহিত্যের যুগে এই চিহ্ন ছিলো ‘ধ্বণি খন্ড’; যা জণজীবনের কথোপকথন থেকে সংগ্রহ করে গুরুগৃহে  লালন করা হতো; যা পরবর্তিতে চিহ্নের দ্বারা সংরক্ষণ করা হয়; যা থেকে তৈরী হয় অভিধান। এভাবে গড়ে ওঠে ‘বর্ণ’ ও ‘শব্দ’; যা হয় লেখকের  ভাব প্রকাশের অবলম্বন।
বলা হয় ‘শব্দই ব্রহ্ম’। শব্দই চিন্তার উৎস। যিনি  শব্দের অর্থ ও ব্যঞ্জনা বোঝেন, তিনি সেগুলো সাজিয়ে গড়ে তোলেন ‘বাক্য’; যা সৃষ্টি।
আগে শুধু ঈশ্বরই ছিলেন অর্থময় বাক্যের শ্রষ্টা। সভ্যতা বিকাশের ধারাবাহিকতায় প্রমিথিউস যেমন জিউসের কাছ থেকে আগুন চুরি করে মানুষের হাতে তুলে দিয়ে জগত আলোকিত করে; তেমনিভাবে ঈশ্বরের ভান্ডার থেকে শব্দ ছিনিয়ে নিয়ে নিয়ে ‘কথাম্মৃত’ বানিয়ে তা মানুষকে পরমানন্দে ভাসিয়ে ত্রিনয়ন খুলে দেন কবিগন। এ কারণে কবিরা পাপী,  ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বি, কন্টকবিদ্দ্ব, সমাজ-বহির্ভূত। এরাই অন্ধ হোমার, ঋষি বাল্মিকী, সক্রেটিস, চন্ডিদাস, কার্ল মার্কস, হাফিজ, রবীন্দ্র-নজরুল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/110420/</link>
				<pubDate>Sat, 14 May 2022 00:29:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চিহ্ন থাকে সাহিত্য</p>
<p>চিহ্ন বিজ্ঞান বিকশিত হতে হতে ছাপাখানার যুগ থেকে মানুষের হাতে হাতে চলে এসেছে। এখনতো সফট কপি সেল ফোনে হাতের মুঠোয় রেখে পড়ে ফেলা যায়। আজকের সাহিত্য হচ্ছে চিহ্ন-বিজ্ঞানের অনুপম সৃষ্টি। নানান চিহ্ন সাজিয়ে লেখকরা গড়ে তোলেন সাহিত্য সম্ভার; যা জ্ঞান ও কল্পনাকে সহজেই অপরের কাছে পৌঁছে দেয়।<br />
মৌখিক সাহিত্যের যুগে এই চিহ্ন ছিলো ‘ধ্বণি খন্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-110420"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/110420/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>13</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a974e2c5ffa105a60d5df1aa23cce15c</guid>
				<title>* আমি সেই অভিমানী/ আমি সেই হতভাগা মন/ কখনো পড়লে মনে/ 
লিখো তুমি যাখন তখন *
অভিমানী তোমার কাছে  চিঠি

রাগ করেছো বুঝি? রাগ করো না।
এখনো ঘাসফুলে শিশির জমে
হাস্নাহেনা গন্ধ ছড়ায়
কালো কাক কার্নিশে বসে ডাক দেয় প্রত্যুষে
আমারো ঘুম ভাঙ্গে; তোমার কথা? সেও
মনে পড়ে ঠিকই; কিন্তু লেখা হয় না!
হ্যাঁ, আজই লিখলাম, অনেকদিন পর বলতে 
পারো। ভুলে গেছি ভেবেছো? অমনটা
ভেবো না; ফুলেরা দুঃখ পাবে।
তুমি কবিতা ভালোবাসো
কবিতা তোমার সত্ত্বা
কবিতা আমারো সত্ত্বা
আমরা যুগলবন্দি কবিতায়। 
তবুও টেলিফোন ডেড; পিয়ন আসে না
আজকাল;
বসন্ত পেরিয়ে ঝড় নামে
আমরা বিচ্ছিন্ন আজও।
রাগ করেছো বুঝি?
রাগ করো না।
* আমার লেখা প্রথম কবিতা; প্রথম বইয়ের নাম কবিতা। রচনা কাল: ডিসেম্বর, ১৯৮২। বইটি বেরোয় ১৯৮৮ সালের বইমেলায়। এলোমেলো জীবনযাত্রার কারনে বইটির কোনো কপি আমার কাছে নাই। বন্ধুদের কারো সংগ্রহে থাকলে জানাবা; আমি কপি করে নেবো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/108861/</link>
				<pubDate>Tue, 10 May 2022 00:53:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>* আমি সেই অভিমানী/ আমি সেই হতভাগা মন/ কখনো পড়লে মনে/<br />
লিখো তুমি যাখন তখন *<br />
অভিমানী তোমার কাছে  চিঠি</p>
<p>রাগ করেছো বুঝি? রাগ করো না।<br />
এখনো ঘাসফুলে শিশির জমে<br />
হাস্নাহেনা গন্ধ ছড়ায়<br />
কালো কাক কার্নিশে বসে ডাক দেয় প্রত্যুষে<br />
আমারো ঘুম ভাঙ্গে; তোমার কথা? সেও<br />
মনে পড়ে ঠিকই; কিন্তু লেখা হয় না!<br />
হ্যাঁ, আজই লিখলাম, অনেকদিন পর বলতে<br />
পারো। ভু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-108861"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/108861/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c1f3875419579d992e1e2f2431719497</guid>
				<title>শ্লোক-১

যেতে যেতে পথে
 যত কিছু পাও
ঝরে পড়া ফুল
বাউলের ভুল
হোক তা তুচ্ছ
 হাতে তুলে নাও।
হতে পারে রাত
 মূর্খের আঘাত
মারী ও মড়কে
 চরাচর হায়
পুঁতিগন্ধময়!
কাল নয়, দেখ
পরশুও হতে পারে
শ্রেষ্ঠ সময়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/107260/</link>
				<pubDate>Sun, 24 Apr 2022 06:44:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শ্লোক-১</p>
<p>যেতে যেতে পথে<br />
 যত কিছু পাও<br />
ঝরে পড়া ফুল<br />
বাউলের ভুল<br />
হোক তা তুচ্ছ<br />
 হাতে তুলে নাও।<br />
হতে পারে রাত<br />
 মূর্খের আঘাত<br />
মারী ও মড়কে<br />
 চরাচর হায়<br />
পুঁতিগন্ধময়!<br />
কাল নয়, দেখ<br />
পরশুও হতে পারে<br />
শ্রেষ্ঠ সময়।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>13</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">895d5001694b0b98c40c24eb411c6bbc</guid>
				<title>আমরা দু’টি ভাই, শিবের গাজন গাই

কল্লোল হঠাৎ ফোন করে বলে—ভাই, আর বাঁচতে পারবো না।
কেনো?
অফিস আমার বিরুদ্ধে দুর্ণীতির চার্জ আনতেছে;  কোনো বেনিফিট না দিয়ে ফায়ার করে দেবে…।
বলো কী!
হ্যাঁ, ভাই। চলেন তো, বিদেশে যাই গিয়া।
এইটা ভালো কইছো; ‘চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস আমার প্রানে বাজায় বাসি…’ বইলা এই গার্বেজে পইড়া থাকার মানে হয় না। দুনিয়াটা অনেক বড়।…।
কল্লোল বলে—প্লিজ, আপনে ভিসার ব্যবস্থা করেন।
পরিস্থিতির বিপাক সামলাতে না পেরে মানুষ অনেক সমায় অনেক কথা বলে। কিছুদিন পর ওসব ‘কথার কথা’ হয়ে যায়। একেই বলে মনো-বাস্তবতার উথাল-পাথাল খেলা। যখন কেউ বেশি টাকা কামাইতে থাকে তখন এমনটা হয়। 
কল্লোল নিশ্চয়ই দান মারতেছে—ভাবতে ভাবতে একদিন ওর অফিসে ঢুকি। ধনমন্ডির সুদৃশ্য অফিস। জানালা দিয়ে লেকের মনোহর শোভা দেখা যায়। কল্লোল বলে—কি খাইবেন, ভাই; কাচ্চি আনি?
ডাই বেড়ে যাওয়ায় রিচফুড  ছেড়ে দিয়ে হালকা-ফুলকা খেয়ে চলি।
কল্লোল বলে—প্রস্রাবে বিলোরুবিন বেড়ে গিয়ে আমারো গিটবাত দেখা দিচ্ছে। ইদানিং বাসা থেকে রুটি আর ছোট মাছ দিয়ে দেয়। চলেন যাই, দুই ভাই আগে খেয়ে নিই।
চেম্বারে এসে দুজনে দুইকাপ রঙ চা নিয়ে বসি। আমি বলি—চা কেনো! হুইস্কি হলে ভালো হতো না!
ভাই, এইটা অফিস! কল্লোল বলে—আপনিতো শুধু আমার বন্ধুই না, বড় ভাইও বটে; একটা পরামর্শ দেন…।
আমি চায়ে চুমুক দিই। কল্লোল বলে—পীরেরবাগে আট কাঠার উপর আমাদের তিনতলা বাড়ি; নিচতলা ভাড়া দেওয়া; দোতলায় মা থাকে এক বিধবা বোন নিয়ে; তিনতলার দুই ইউনিটে আমরা দুইভাই ফেমিলি নিয়া থাকি। এতদূর থেকে অফিসে যাতায়তে সময়তো যায়, শরিরের উপর চাপ পড়ে…।
বুঝতে পারি, কল্লোল স্টাটাস পালটে উপরে উঠতে চাচ্ছে। আমি বলি—তুমি ধানমন্ডিতে সাদা টাইলসের একটা ফ্লাট নেও; ভালো বেতন দিয়া ড্রাইভার রাখো; বাচ্চাদের ইংলিশ স্কুলে ভর্তি করিয়ে দাও…।
মা তো চায় না।
বউয়ের দাবির মূল্য দেবে না! নাকি পীরেরবাগের জলাবদ্ধতার মধ্যে বাচ্চাদের হাবুডুবু খাওয়াবে!
এইটাই ভাবতেছি, ভাই। চলেন, নিচে গিয়ে সিগারেট খেয়ে আসি।
এরপর কল্লোলের অফিসে যাওয়া হয় না। ওর ফোনও পাই না। ফেসবুকে দেখি, সরকারের খুব গুনগান করে। লইক-কমেন্ট দিই বটে, আমিও নানা কাজকর্মে মেতে থাকি। একদিন কলাবাগান মাঠের পাশদিয়ে যাওয়ার সময় একটা গাড়ি এসে থামে—ভাই, দাঁড়ান…।  ঘুড়ে দেখি—কল্লোল! পেছনের সিটে বউ আর ফুটফুটে দুই কিশোরী কন্যা। বউটা আমাকে চেনে। অনেক আগে একবার ওদের বাসায় গেছিলাম; কয়েকপদের ভর্তা-ভাজি দিয়ে খাওয়াইছিলো। বাচ্চারা বলে—আঙ্কেল, আচ্ছালামালাইকুম। কল্লোল বলে—তোমরা যাও; আমি ভাইয়ের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়া আসতেছি।
আমি জানতে চাই—কোথায় গেছিলা?
মায়ের বাসায়।
কোথায় থাকো? 
এইতো ধানমন্ডি চার নম্বর রোডে।
দুই বন্ধু বহুদিন পর কলাবাগান মাঠে গিয়ে বসি। চিনাবাদামঅলা এসে দাঁড়ায়। জানতে চাই—বাচ্চাদের কোথায় ভর্তি করাইছো?
স্কলাস্টিকায়।
চাকরির কী অবস্থা?
আমার প্রমশন হইছে।
আপনার খবর কী?
আমি চলে যাচ্ছি।
কোথায়?
কানাডায়।
এই বয়সে বিদেশে গিয়ে কী করবেন!
বোন কইছে, বেগম পাড়ার মেইন রোডের ফুটপাতে দাঁড়ায়ে পুতুল বেচতে পারবো; পুলিশে ডিস্টার্ব করবে না।
কল্লোল হাসে—রাস্তার ওপাড়ে ভালো একটা বার আছে।
জানি, অনেক গেছি।
চলেন যাই, মাঠে বইসা না থাইকা আজকে দুইভাই মন ভইরা পানাহার করি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/106874/</link>
				<pubDate>Thu, 21 Apr 2022 01:11:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমরা দু’টি ভাই, শিবের গাজন গাই</p>
<p>কল্লোল হঠাৎ ফোন করে বলে—ভাই, আর বাঁচতে পারবো না।<br />
কেনো?<br />
অফিস আমার বিরুদ্ধে দুর্ণীতির চার্জ আনতেছে;  কোনো বেনিফিট না দিয়ে ফায়ার করে দেবে…।<br />
বলো কী!<br />
হ্যাঁ, ভাই। চলেন তো, বিদেশে যাই গিয়া।<br />
এইটা ভালো কইছো; ‘চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস আমার প্রানে বাজায় বাসি…’ বইলা এই গার্বেজে পইড়া থাকার মানে হয় না। দুনিয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-106874"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/106874/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">191453068f65373090662e3094649b79</guid>
				<title>শিশুর হাসি

আজকাল গণহত্যা দেখি নির্বিকার
মহল্লার কুকুরগুলো মেরে ফেলা হচ্ছে মানুষকে  
আরো নিরাপদ রাখবে  বলে!
যেন পৃথিবীটা অন্য প্রানীদের নয়!
বাউল কী ভুল বলে—মানুষ মারার কল বসাইছে জগৎ জুড়িয়া! 
পাহাড়ে গিয়ে দেখি, গাছের গোড়ায় বসে আছে 
নিষ্ঠুর কাঠুরিয়া!
সাগর জলে ভাসে মৎস বিজ্ঞানী; অথচ অমার 
নানীর বিছানায় দেখেছি বিড়ালের নিরাপদ নিদ্রা; 
গ্রামে গেলে খালপাড়ের গুঁইসাপগুলো
খেজুরগাছে বেয়ে উঠে জিভ নেড়ে জানাতো অভিবদন!
কন্যা শিশুর মুখগুলো ঢেকে ফেলা হচ্ছে
নেকাব আর হিজাবে!
কোথাও দেখিনা লাল-ঠোঁট টিয়া; খোকার ময়নাটা
কথা ভুলে মূক ও বধির;
এতো কেনো গণহত্যা! 
কেনো ডেকে আনছো অন্ধকার! বলো দেখি, 
শিশুর হাসির চেয়ে কী আছে সুন্দর?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/106451/</link>
				<pubDate>Sun, 17 Apr 2022 02:50:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শিশুর হাসি</p>
<p>আজকাল গণহত্যা দেখি নির্বিকার<br />
মহল্লার কুকুরগুলো মেরে ফেলা হচ্ছে মানুষকে<br />
আরো নিরাপদ রাখবে  বলে!<br />
যেন পৃথিবীটা অন্য প্রানীদের নয়!<br />
বাউল কী ভুল বলে—মানুষ মারার কল বসাইছে জগৎ জুড়িয়া!<br />
পাহাড়ে গিয়ে দেখি, গাছের গোড়ায় বসে আছে<br />
নিষ্ঠুর কাঠুরিয়া!<br />
সাগর জলে ভাসে মৎস বিজ্ঞানী; অথচ অমার<br />
নানীর বিছানায় দেখেছি বিড়ালের নিরাপদ নি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-106451"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/106451/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e046b26cd04dfceffb8cb33cdf38b076</guid>
				<title>*  আমি সেই অভিমানী/ আমি সেই হতভাগা মন/ কখনো পড়লে মনে/ লিখো তুমি যাখন তখন *
অভিমানী তোমার কাছে  চিঠি

রাগ করেছো বুঝি? রাগ করো না।
এখনো ঘাসফুলে শিশির জমে
হাস্নাহেনা গন্ধ ছড়ায়
কালো কাক কার্নিশে বসে ডাক দেয় প্রত্যুষে
আমারো ঘুম ভাঙ্গে; তোমার কথা? সেও
মনে পড়ে ঠিকই; কিন্তু লেখা হয় না!
হ্যাঁ, আজই লিখলাম, অনেকদিন পর বলতে 
পারো। ভুলে গেছি ভেবেছো? অমনটা
ভেবো না; ফুলেরা দুঃখ পাবে।
তুমি কবিতা ভালোবাসো
কবিতা তোমার সত্ত্বা
কবিতা আমারো সত্ত্বা
আমরা যুগলবন্দি কবিতায়। 
তবুও টেলিফোন ডেড; পিয়ন আসে না
আজকাল;
বসন্ত পেরিয়ে ঝড় নামে
আমরা বিচ্ছিন্ন আজও।
রাগ করেছো বুঝি?
রাগ করো না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/106209/</link>
				<pubDate>Thu, 14 Apr 2022 08:45:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*  আমি সেই অভিমানী/ আমি সেই হতভাগা মন/ কখনো পড়লে মনে/ লিখো তুমি যাখন তখন *<br />
অভিমানী তোমার কাছে  চিঠি</p>
<p>রাগ করেছো বুঝি? রাগ করো না।<br />
এখনো ঘাসফুলে শিশির জমে<br />
হাস্নাহেনা গন্ধ ছড়ায়<br />
কালো কাক কার্নিশে বসে ডাক দেয় প্রত্যুষে<br />
আমারো ঘুম ভাঙ্গে; তোমার কথা? সেও<br />
মনে পড়ে ঠিকই; কিন্তু লেখা হয় না!<br />
হ্যাঁ, আজই লিখলাম, অনেকদিন পর বলতে<br />
পারো। ভু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-106209"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/106209/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">697207638a709fee7451e8eb3aeb57cf</guid>
				<title>গনতন্ত্র

শিক্ষক ব্লাক বোর্ডে লেখে—কলা।
ওটা কলা নয়। কয়েকটা চিহ্ন কেবল।
শিক্ষক এরপর হলুদ রঙের একটা পাঁকা কলার ছবি আঁকে।
ওটাও কলা নয়।
কলা গাছে ধরে।দোকানে কিনতে পাওয়া যায়।।
ছাত্ররা কলা খাওয়ার তুমুল বায়না ধরে।
শিক্ষক ওদের দিকে কলার স্বাদযুক্ত চকলেট ছুড়ে মারে।
ছেলেমেয়েরা কাড়াকাড়ি মারামারি জুড়ে দেয়।
আসল কলার কথা ওদের মনে থাকে না।।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/105644/</link>
				<pubDate>Sun, 10 Apr 2022 02:46:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গনতন্ত্র</p>
<p>শিক্ষক ব্লাক বোর্ডে লেখে—কলা।<br />
ওটা কলা নয়। কয়েকটা চিহ্ন কেবল।<br />
শিক্ষক এরপর হলুদ রঙের একটা পাঁকা কলার ছবি আঁকে।<br />
ওটাও কলা নয়।<br />
কলা গাছে ধরে।দোকানে কিনতে পাওয়া যায়।।<br />
ছাত্ররা কলা খাওয়ার তুমুল বায়না ধরে।<br />
শিক্ষক ওদের দিকে কলার স্বাদযুক্ত চকলেট ছুড়ে মারে।<br />
ছেলেমেয়েরা কাড়াকাড়ি মারামারি জুড়ে দেয়।<br />
আসল কলার কথা ওদের মনে থাকে না।।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5a3eaf2ed0a0cf9965dc06de70e7cc0a</guid>
				<title>সাহিত্য ছিলো শ্রুতিভাষ্য

আদিতে কবিতাই ছিলো সাহিত্য। শ্লোক, ধর্মকথা, রূপকথা, প্রেমকথা, জ্ঞানকথা—সবই  হতো কাব্যে।
কবিতা ছিলো মৌখিক। কবিরা বলতেন; আর জনে জনে মুখে মুখে বিস্তার ঘটতো সর্বত্র।ধরা যাক, পাঁচ হাজার বছর ধরে; পুরো সামন্ত যুগজুড়ে কবিতা ছিলো বাচনিক।
শুধু ভারতবর্ষে নয়; পৃথিবীব্যপি এই  মৌখিক সাহিত্য মানবসভ্যতার বিকাশ ঘটায়।
গুরুগৃহে, হাট-বাজারে, রাজদরবারে; উৎসব-পর্বনে কবিদের ডাক পড়তো। 
কবিরাই ছিলো জ্ঞানী; অথবা জ্ঞানীরাই ছিলেন মহৎ কাব্যের শ্রষ্টা।
বচন, গীত, কীর্তন থেকে শুরু করে মহাকাব্যের সৃষ্টি ও বিকাশ ঘটে মুখে মুখে।
ইলিয়ড, অডসি, মেটামর্ফসিস, রামায়ন, মহাভারত—সবই মৌখিক মহাকাব্য। এমন কী, তরাত, যবুর, ইঞ্জিল, কোরানের মতো ঐষী গ্রন্থও মুখে মুখে রচিত।
চিহ্ন ও লিপির আবিষ্কারের সাথে সাথে এগুলি গ্রন্থরূপ লাভ করে।
আগে সাহিত্য ছিলো শুধুই ঈশ্বর বন্দনা। শ্রষ্টা আর রাজার গুনকীর্তন ছিলো কবিদের ধ্যান-জ্ঞান।
প্রকৃতির বিবরণ, এমন কী অংকও কষা হতো কাব্যে।
আধুনিক যুগবিকাশের সাথে সাথে ব্যক্তির গুরুত্ব বাড়ে; আর কবিতার কেন্দ্রে আসে মানুষ। এ অতি সাম্প্রতিক ঘটনা; মুদ্রন যন্ত্রের আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায়; ফরাসি বিপ্লবের পর; দেশে দেশে রাজতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে।
*সন্দেশ। চলবে…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/105638/</link>
				<pubDate>Sun, 10 Apr 2022 01:41:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সাহিত্য ছিলো শ্রুতিভাষ্য</p>
<p>আদিতে কবিতাই ছিলো সাহিত্য। শ্লোক, ধর্মকথা, রূপকথা, প্রেমকথা, জ্ঞানকথা—সবই  হতো কাব্যে।<br />
কবিতা ছিলো মৌখিক। কবিরা বলতেন; আর জনে জনে মুখে মুখে বিস্তার ঘটতো সর্বত্র।ধরা যাক, পাঁচ হাজার বছর ধরে; পুরো সামন্ত যুগজুড়ে কবিতা ছিলো বাচনিক।<br />
শুধু ভারতবর্ষে নয়; পৃথিবীব্যপি এই  মৌখিক সাহিত্য মানবসভ্যতার বিকাশ ঘটায়।<br />
গুরুগৃহে, হাট-বাজ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-105638"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/105638/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>