<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | আবির হাসান সায়েম | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/abir-hassan-sayem/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/abir-hassan-sayem/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for আবির হাসান সায়েম.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 06 Jun 2026 08:34:14 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">71ddf73655eb9a5c69d33cc6cec2f8a4</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি ( শেষ পর্ব)
~ আবির হাসান সায়েম 

আমি প্রায় সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছি। ফরিদ জামা কাপড় নিয়ে চলে এসেছে। গায়ে হলুদে যাওয়ার জন্য শিলা গাড়ি পাঠিয়েছিলো কিন্তু আমি যাই নি। তাই ফরিদকে দিয়ে খাবার পাঠিয়ে দিয়েছে। তখন ফরিদকে সব বললাম। সে হাসি মুখে বলল,
&quot;তাগোরে ছাইড়া যাইতে খুব কষ্ট হইবো কিন্তু আপনের লগে যাইতে তার চেয়ে বেশি আনন্দ হইবো। &quot;
সে পরেরদিনই সবার চোখ ফাকি দিয়ে জামা-কাপড় নিয়ে চলে এলো।
আজ শিলার বিয়ে। আগামীকাল আমাদের যাওয়ার দিন। ট্রেন ছাড়বে সকাল এগারোটায়। বাসায় কেও এলে বুঝবে না যে আমি চলে যাচ্ছি। খুব কায়দা করে গোছানো হয়েছে যাতে কেও কিছু বুঝতে না পারে৷ আসতে হয় খুব হইচৈই করে কিন্তু বিদায় নিতে হয় নিরবে।
বিকেলের দিকে জানালার সামনে দাড়িয়ে আছি আকাশটা পরিষ্কার। আজ শুক্লাপক্ষ। খুব সুন্দর চাঁদ উঠবে। দোরজায় টোকা পরল। ফরিদ দোরজা খুলে দিয়েছে। নুপুরের ঝনঝন শব্দ হচ্ছে৷ শিলা ঘরে ঢুকল। আমি বললাম,
&quot;আরে তুই। &quot;
শিলা দৌড়ে এসে আমাকে ধরে কাঁদা শুরু করল। কান্নার তেজ দেখে বুঝলাম সহজে এই কান্না থামবে না। নিলয়ও এসেছে। ঘরের দোরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। আধ ঘন্টা পর কান্না থামল। আমি শিলাকে চেয়ারে বসেয়ে টিস্যু এনে দিলাম।
&quot;এতো কাদতে হয় না। বেশি কাদলে অপর মানুষেরও কান্না পায়। দুঃখ ছোয়াচে । &quot;
&quot;আমি তোর সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছি। তোকে অবিশ্বাস করেছি। আমি ওইদিন বাসায় যাবার পর অনেক্ষণ কেদেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমি এম সরি। &quot;
&quot; ক্ষমা চাওয়ার মতো কিছু হয় নি৷ আর কাদিস না। কান্না বন্ধ কর। &quot;
নিলয়ের দিকে ফিরে বললাম,
&quot;জামাই সাহেব, প্রথমবার বাসায় এসেছেন কিন্তু আপনাকে দেয়ার মতো কিছুই নেই৷ &quot;
&quot;না ইটস ওকে। কোনো প্রবলেম নেই। &quot;
আমি আর শিলা দু&#039;জনই একসাথে হেসে উঠলাম। নিলয় কিছুই বুঝল না, দাড়িয়ে দাড়িয়ে শুধু আমাদের হাসিতে ভেঙে পরার অমায়িক দৃশ্যটা দেখল।
রাত তখন বোধ হয় নয়টা বাজে। নাবিলা এসেছে। নাবিলা আসার কিছুক্ষণ পরই কারেন্ট চলে গেলো। সারা ঘর তন্নতন্ন করে খোজার পরও মোমবাতি পাওয়া গেলো না। শেষে ফরিদ মোমবাতি আনতে গেলো। নাবিলা আমার সামনে চেয়ারে বসে আছে। জানালা গলে জোছনা এসে পরেছে তার মুখে। তার মুখ ফকফকে সাদা মনে হচ্ছে। আচ্ছা জোছনার আলোতে কি সব মেয়েদের সাদা দেখায়? আমি নাবিলাকে বললাম,
&quot;তুমি আসবে আমি জানতাম। &quot;
&quot;কিভাবে জানলেন? &quot;
&quot;কিছু মানুষের আগমন আগে থেকে জানা যায়। কে কিভাবে জানায় তা জানি না কিন্তু জানা যায়। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। &quot;
&quot;তুমি এতো রাতে এইখানে এসেছো, তোমাকে সবাই খোজাখুজি করবে না? &quot;
&quot;শিলা আপাকে বিদায় দেয়ার পর খালা-খালু ঘোষণা দিলেন তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। সবার মাথায় যেনো বাজ ভেঙে পরল। কিভাবে কি হলো সবাই তা নিয়েই ব্যাস্ত। মা -বাবা যখন মারা গেলেম তখন আমার বয়স আট বছর। আমাকে পালার মতো কেও ছিলো না। খালা -খালু আমাকে তাদের বাসায় নিয়ে আসলেন। আমি কলেজ পর্যন্ত তাদের বাসায় থেকেই পড়েছি।
তারপর কুমিল্লা ইউনিভার্সিটিতে পড়তে গেলাম।জানেন,খালা-খালুর সম্পর্কটা ছিলো অদ্ভুত রকমের। কখনো তাদের ঝগড়া করতে দেখি নি। &quot;
&quot;পৃথিবীতে অদ্ভুত জিনিস মানেই কোন একটা বড় সমস্যা আছে। আর তুমি চাইলে আমাকে তুমি করেও ডাকতে পারো। &quot;
নাবিলা মাথা খানিকটা নীচে নামিয়ে বলল,
&quot;জ্বি আচ্ছা। &quot;
&quot; আচ্ছা একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা ছিলো তোমার সাথে। &quot;
&quot;বলো। &quot;
&quot;আমি কালকে চলে যাচ্ছি খুলনা। একেবারের জন্য। আমি আর ফরিদ। &quot;
নাবিলা চোখ বড়বড় করে আমার দিকে তাকালো।
&quot;আমি কি তোমাদের সাথে যেতে পারি?&quot;
আমি তার কথা উত্তর না দিয়ে বললাম,
&quot;তুমি না একটা ইংরেজি গান খুব ভালো পারো৷ আমাকে শুনাবে? &quot;
নাবিলা ক্ষিণ গলায় গান ধরল। সাধারণত বাইরের দেশের গান বাঙালি মেয়ের গলায় মানায় না। কিন্তু নাবিলার গলায় খুব সুন্দর মানিয়ে গেছে।
Country roads, take me home
To the place I belong
West Virginia, mountain mama
Take me home, country roads.



[ পুরো ধারাবাহিকটি পড়ে কেমন লাগলো জানাবেন। একটি রিভিউ কম্পিটিশান করলে কেমন হয়?]</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/116961/</link>
				<pubDate>Tue, 31 May 2022 04:32:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি ( শেষ পর্ব)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>আমি প্রায় সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছি। ফরিদ জামা কাপড় নিয়ে চলে এসেছে। গায়ে হলুদে যাওয়ার জন্য শিলা গাড়ি পাঠিয়েছিলো কিন্তু আমি যাই নি। তাই ফরিদকে দিয়ে খাবার পাঠিয়ে দিয়েছে। তখন ফরিদকে সব বললাম। সে হাসি মুখে বলল,<br />
&#8220;তাগোরে ছাইড়া যাইতে খুব কষ্ট হইবো কিন্তু আপনের লগে যাইতে তার চেয়ে বেশি আনন্দ হ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-116961"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/116961/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">716283c03966f7c6b92d0f8da9553735</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-২১)
~ আবির হাসান সায়েম 

ডায়েরিতে এরপর আর কিছু লেখা হয় নি। আমি ডায়েরি বন্ধ করে শিলার দিকে তাকালাম। সে একটা টুলে বসে আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। ডায়েরিটা আমার থেকে নিয়ে শিলা বলল,
&quot;আমি কাল রাতে ডায়েরিটা পড়েই বুঝেছিলাম কোনো একটা অঘটন ঘটবে। &quot;
&quot;শিলা দেখ, তুই যা ভাবছিস তেমন কিছুই হয় নি। নাবিলা রাতে একা ঘুমাতে পারে না বলে চেয়ারে বসে ছিলো। ভোরে হয়তো ঘুম এসেছে তাই পাশে শুয়ে ছিলো। &quot;
শিলা একটা বাকা হাসি হেসে বলল,
&quot;আর কত সাধু সাজবি? বাইরে থেকে সাধুগিরি দেখালেও ভিতরে তুই এতো নীচ ভাবতেও পারি নি। ছি!&quot;
&quot; তুই আমাকে বিশ্বাস করছিস না? যা বাসা থেকের বের হয়ে যা। তাড়াতাড়ি বের হ। নাহলে একটা চড় দিবো এখন তোকে। &quot;
&quot;চিল্লাস কার সাথে? আমার দয়াতেই তুই বেঁচে আছিস। এই কথা ভুলিস না। &quot;
এই কথা বলেই শিলা ঘর থেকে বের হয়ে গেলো। আমার অজান্তেই চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরতে লাগল। কথা তো শিলা ভুল বলে নি, আমি তোর দয়াতেই বেঁচে আছি। সে যদি ডাক্তার না দেখাতো, হাসপাতালের বিল না দিতো তাহলে কি আমি বাঁচতে পারতাম। কতদিন ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে তার বাসায় গিয়ে খেয়েছি৷ সামনেও ওর মা দেয়া চাকরি করে আমাকে বাঁচতে হবে। আমার কাছে সত্যি পৃথিবীটাকে খুব নির্মম মনে হচ্ছিল। যেকোনো কষ্টের থেকে আপনজনের দেয়া কষ্টের আঘাত অনেক গভীর,অনেক প্রশস্ত। এই কষ্ট সহ্য করা খুব মুশকিল। আমি অনেক্ষণ ঝিম মেরে বসে রইলাম। বিকেলে মামাকে ফোন দিলাম,
&quot;হ্যালো। আসসালামুয়ালাইকুম মামা। &quot;
&quot; ওয়ালাইকুম আইসসালাম। কেমন আছিস আবীর? &quot;
&quot;ভালো মামা। &quot;
&quot;পরশুদিন কাদেরের পরীক্ষা শেষ। সে তো সব গোছগাছ করে রাখসে৷ তোর কাছে যাবে। &quot;
&quot;ওর আসার লাগবে না মামা আগামী সপ্তাহে আমিই আসব।&quot;
&quot; তাইলে তো ভালোই হয়। কোনো কাজে আসবি নাকি এমনেই?&quot;
&quot;একেবারে চলে আসব। ওইখানে একটা চাকুরী খুজে দিতে পারবেন না মামা?&quot;
&quot;পারবো না কেন?অবশ্যই পারব। কলেজে মাস্টারি করবি। তোর মামী আর কাদেররে বললে তো তারা বেজায় খুশি হবে।আচ্ছা আবীর শোন। &quot;
&quot; জি বলেন মামা। &quot;
&quot;তোর মনটা কি খুব খারাপ। তো গলা এমন শুনাইতেসে কেন?&quot;
আমি ফোনটা কেটে দিলাম। সারাদিন মনটা খারাপ ছিলো। মামার সাথে কথা বলে মনটা ভালো হয়ে গেলো। ফজলুল সাহেবকে ফোন দিলাম,
&quot;আসসালামুয়ালাইকুম, স্যার। &quot;
&quot;ওয়ালাইকুমআসসালাম, আবীর সাহেব। বলুন। &quot;
&quot;আচ্ছা স্যার আজকে সন্ধ্যায় কি আমার বাসায় একটু আসতে পারবেন? কন্ট্রাক্ট পেপারটা নিয়ে আসবেন সাথে করে৷ &quot;
&quot;খুব জরুরী কিছু?&quot;
&quot;হ্যা খুব জরুরি স্যার।&quot;
&quot;আচ্ছা আসব। কিন্তু কাজটা কি জানতে পারি?&quot;
&quot;আপনি আসলেই না হয় বলব। আচ্ছা স্যার রাখি। &quot;
আমি ফোন নামিয়ে রাখলাম। কাগজ কলম নিয়ে একটা চিঠি লিখতে বসলাম।
শ্রদ্ধেয় খালাজান,
আশা করি ভালো আছেন। যখন আপনি এই চিঠিটা পড়ছেন তখন হয়তো আমি ট্রেনে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা করে দিয়েছি। ঢাকাতে আমার কোনো আত্মীয় স্বজন ছিলো না। প্রথমদিকে আমার খুব খারাপ লাগল। আপনি আমাকে সবসময় ছেলের চোখে দেখেছেন। আমি ঢাকা থেকে এতোদিন পড়াশোনা করতে পেরেছি আপনাদের সাহায্যেই। নানা বিষয়ে আপনাদের কাছে দারস্থ হয়েছি, কোনোবারই নিরাশ হয়ে ফিরে যাই নি। আপনি আমাকে একটা চাকুরী দিয়েছেন। খুব বড় চাকুরী। সে জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু খালা রাগ করবেন না। আমি এই চাকুরিটা করব না। আমি খুলনা চলে যাচ্ছি। সেখানে একটা যুতসই চাকরি খুজে নিবো। ঢাকা শহরের এই বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে প্রচুর কষ্ট হচ্ছে। আমার জন্য দোয়া করবেন।কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিবেন। আমি আমার মা&#039;য়ের ভালোবাসা না পেলেও দু&#039;জন মানুষ থেকে তার সমতুল্য ভালোবাসা পেয়েছি। একজন আমার মামী আর আপনি। নিজের খেয়াল রাখবেন।
ইতি,
আবীর হাসান
[পুনশ্চঃ ফরিদকে সাথে নিয়ে যাচ্ছি। আপনি চিন্তা করবেন না। ওকে একটা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিবো। ছেলেটার ব্রেন ভালো।]
সন্ধ্যায় ফজলুল সাহেব এলেন। আজকে বেশ গরম পরেছে। ফজলুল সাহেবের শার্ট ঘামে শরীরের সাথে লেগে গিয়েছে। আমি ফ্যান চালু করে দিলাম। ফজলুল সাহেব শার্টের একটা বোতাম খুলে দিয়ে শার্টটা পিছনে টেনে বললেন,
&quot;হঠাৎ আসতে বললেন। কি কাজ বলুন৷ &quot;
সাথে সাথে কারেন্ট চলে গেলো। আমি একটা মোমবাতি জ্বালালাম। আজকাল কারেন্ট খুব উৎপাত শুরু করেছে, ঘন্টা ঘন্টায় চলে যাচ্ছে।
&quot;স্যার কন্ট্রাক্টের কাগজটা এনেছেন?&quot;
&quot;হ্যা এনেছি। &quot;
ফজলুল সাহব ব্যাগ থেকে কাগজটা বের করে দিতে দিতে বললেন,
&quot; কি করবেন এইটা দিয়ে?&quot;
আমি কাগজটা নিয়ে বললাম,
&quot;আমি চাকরিটা করব না। &quot;
এই কথা বলেই কাগজটা আমি মোমবাতির জ্বলন্ত শিখার উপর ছেড়ে দিলাম। ফজলুল সাহেব শান্ত ভাবেই বসে রইলেন। তার চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ।
&quot;চাকরি না করলে কি করবেন? &quot;
&quot;জ্বি গ্রামে চলে যাবো। নিজের একটা জগৎ বানাবো। নিজের জন্য কিছু করব। এই বস্তুবাদিতার শহরে আমার কিছু হবে না। নিজের অম্বরে নিজের মতো বাস করব৷ সব মাছ তো আর পুকুরে ভাষ কর সম্ভব না। &quot;
ফজলুল সাহেব কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
&quot;ফ্যান্টাসটিক। &quot;
আমি বিষ্ময়ভরা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,
&quot;মানে?আপনার আশ্চর্য লাগছে না? &quot;
&quot;খনিকটা লাগছে৷ কিন্তু আপনি একটা সঠিক পথ বেছে দিয়েছেন। এই শহরে চাকরিজীবি আর গৃহপালীত পশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমরা সহজে বুঝি না, জীবন একটাই নিজের জন্যও কিছু করা দরকার৷ জীবন মানেই শুধু টাকা না। যখন আমরা এই ব্যাপারটা বুঝি ততদিন যাবার সময় হয়ে যায়। আপনার প্রতি আমার অশেষ দোয়া রইলো। &quot;
&quot;ধন্যবাদ। খুব ধন্যবাদ। আপনি আপাতত এই ব্যাপারে খালাকে কিছু বলবেন না। এই চিঠিটা রাখুন। শিলার বিয়ের পরেরদিন এইটা খালা কে দিবেন। প্লিজ স্যার।&quot;
ফজলুল সাহেব চিঠিটা নিলেন।

চলবে... 

ধন্যবাদ, যারা আমার লেখা পড়ছেন নিয়মিত। আকাশ সমান কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা আপনাদের জন্য!&#x2764;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/116045/</link>
				<pubDate>Sun, 29 May 2022 05:14:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-২১)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>ডায়েরিতে এরপর আর কিছু লেখা হয় নি। আমি ডায়েরি বন্ধ করে শিলার দিকে তাকালাম। সে একটা টুলে বসে আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। ডায়েরিটা আমার থেকে নিয়ে শিলা বলল,<br />
&#8220;আমি কাল রাতে ডায়েরিটা পড়েই বুঝেছিলাম কোনো একটা অঘটন ঘটবে। &#8221;<br />
&#8220;শিলা দেখ, তুই যা ভাবছিস তেমন কিছুই হয় নি। নাবিলা রাতে একা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-116045"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/116045/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ed0ad7cdde788932ad339d59b55f2466</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-২০)
~ আবির হাসান সায়েম 

ঘুম ভাঙল টুংটুং শব্দে। কে যেনো অনবরত বেল বাজাচ্ছে। আমি উঠে বসলাম। নাবিলা আমার পায়ের দিকে মাথা দিয়ে গোল হয়ে শুয়ে আছে। স্নিগ্ধ সূর্যের আলো এসে পরেছে তার মুখে। দেখে বুঝার কোনো উপায় নেই মেয়েটা শ্যামলা। আলোয় জ্বলজ্বল করছে তার মুখ। কপালে একটা টিপ পরলে বেশ লাগত। কি থেকে কি ভাবছি, নিজের উপর বিরক্ত লাগছে। আমি উঠে গিয়া দরজা খুললাম। শিলা দাড়িয়ে আছে। চোখের নীচে কালি পরেছে। বিয়ের আগে সব মেয়েরই চোখের নীচে কালি পরে৷ তারা বিয়ের আগের কয়দিন রাতে ঘুমুতে পারে না। তারপর পার্লারে দুই থেকে তিন ঘন্টা লাগিয়ে শুধু এই কালো দাগ ঢাকে। আমি একটু সড়ে গিয়ে বললাম,
&quot;ভিতরে আয়। &quot;
শিলা সোজা আমার ঘরে চলে গেলো। আমিও গেলাম শিলার পিছু পিছু। নাবিলা তখনো ঘুমুচ্ছে। শিলা আমার দিকে কঠিন চোখে একবার তাকিয়ে তারপর নাবিলাকে সজোরে একটা ধাক্কা দিয়ে বলল,
&quot; ওঠ। জন্মের ঘুম ঘুমিয়েছিস।&quot;
নাবিলা ধড়ফড় করে উঠে উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টিতে আমার আর শিলার দিকে তাকাচ্ছে। কিছুই বুঝতে পারছে না, ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে উঠলে চিন্তা জগৎ এলোমেলো লাগে। শিলা আমার দিকে ফিরে বলল,
&quot;তুই কি এইখানেই ঘুমিয়েছিলি?&quot;
&quot;হ্যা। &quot;
&quot;একই খাটে?&quot;
&quot;হু। কিন্তু তুই যা….
আমার কথা শেষ করার আগেই শিলা নাবিলার দিকে ফিরে শান্ত গলায় বলল,
&quot;তুই গিয়ে গাড়িতে বস, আমি আসছি৷ &quot;
নাবিলা চলে গেলো। শিলা গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। আমি চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বললাম,
&quot;বস। তুই যা ভাবছিস তেমন কিছুই হয় নি। &quot;
&quot; না বসব না। তোর সামনে দাড়াতেও আমার ঘিন্না করছে। অনেক কথা বলতে এসেছিলাম। কিন্তু এখন তাও বলতে ইচ্ছে করছে না। শুধু যতটুকু না বললেই নয়, ততটুকু বলছি। এইটা পড়, যতটুকি আন্ডালাইন করা অতটুকু পড়বি। &quot;
আমি আগে খেয়াল করি নি। শিলার হাতে একটা ডায়েরি ছিলো। ডায়েরিটা সে আমার দিকে এগিয়ে দিলো। খুব সুন্দর ডায়েরি, দেখেই বোঝা যাচ্ছে কারো পারসোনাল ডায়েরী। ডায়েরির কভারে লেখা, &quot; ডেইলি ওয়ার্ক -হাফিজা মেহজাবিন নাবিলা &quot;।আমি শিলাকে বললাম,
&quot; তোরে গোষ্ঠিতে সবাই ডায়েরি লিখে নাকি? আর আরেকজনের ডায়েরি আমি কেনো পড়ব?&quot;
শিলা কর্কশ গলায় উত্তর দিলো,
&quot;আমরা সব কাজিনরাই ডায়েরি লিখি। তোর সাথে অযথা বাক্য ব্যায় করতে ইচ্ছে করছে না৷ যা বলেছি তা কর। &quot;
আমি বাধ্য ছেলের মতো ডায়েরিটা খুললাম। গোটা গোটা হাতের লেখা। শিলা মাঝের দিকের একটা পেজ বের করে দিলো। উপরে তারিখ দিয়ে নীচে লেখা হয়েছে। এর মধ্যে আন্ডারলাইন করা কিছু লাইন। আমি পড়তে আরম্ভ করলাম।
&quot; আজ শিলা আপার সাথে তার একটা বন্ধুকে দেখতে হাসপাতালে গেলাম। লোকটা বরই অদ্ভুত। শিলা আপা যদিও কাজটা ঠিক করেননি, তারপরও এভাবে বকা দেয়াটা তার ঠিক হয় নি। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, শিলা আপা যখন রাগ করে কেবিন থেকে বের হয়ে গেলেন তখন আমার ইচ্ছে করল, লোকটার সাথে বসে কিছুক্ষণ কথা বলি। শিলা আপা চলে যাবার পরও আমি কিছুক্ষণ বসে ছিলাম। কিন্তু লোকটা আমাকে চলে যেতে বলায় আর বসতে পারলাম না। &quot;
আমি বেশ কয়েক পৃষ্ঠা উল্টানোর পর আবার আন্ডারলাইন করা লেখা পেলাম।
&quot;লোকটা বাসায় এসেছেন। শিলা আপা লোকটাকে বাসায় নিয়ে এসেছেন। ধুরু বারবার লোকটা লোকটা কেনো বলছি, লোকটার নাম আবীর। পুরো নাম জানি না। শিলা আপার মুখে শুধু আবীর নামটাই শুনেছি। শিলা আপা সারাক্ষণ তাকে নিয়ে গল্প করে। আবীর এইটা আবীর ওইটা। শিলা আপার কথা শুনে মাঝে মাঝে আমারও ইচ্ছে করে তার সাথে গিয়ে গল্প করতে। &quot;
এবার আর বেশি দূরে যেতে হলো না। পৃষ্ঠা উল্টেই আন্ডারলাইন করা লেখা পেলাম।
&quot;শিলা আপার সাথে হয়তো আবার তার ঝগড়া হয়েছে। এখন তিনবেলাই খাবার আমি নিয়ে যাই। বিকেলে তার সাথে গল্প করতে যাই। তার সাথে গল্প করতে আমার খুব ভাল্লাগে। কি সুন্দর করে হাসেন, ইচ্ছে করে ঠোটটা একটু ছুয়ে দেখি। আমি রাতে যখন তিনি ঘুমিয়ে যান তখন তার রুমে গিয়ে বসে থাকি। মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে যখন জোছনা এসে তার মুখের উপর পরে তখন দেখতে কি যে অপূর্ব লাগে। তিনবার আমার সাথে তার চোখাচোখি হয়েছে। আমার এতো লজ্জা লেগেছিলো। আমি পালিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গিয়েছি। জানি না কেন এমন হচ্ছে, আমার একটু পর পর তাকে দেখতে ইচ্ছে করে।আমি একটু পর পর এসে তার রুমে উঁকি দিকে যাই। এখন ভাইয়্যা বলে ডাকতে ইচ্ছে করে না। ইচ্ছে করে তুমি বলে ডাকি। বিয়ের পর নিশ্চয়ই ভাইয়্যা ডাকতে হবে না। ধুর ছাই কি ভাবছি এইসব। &quot;
দুই পৃষ্ঠা উল্টানোর পর আবার আন্ডারলাইন কথা লেখা পেলাম। কয়েকটা অক্ষর একটু ছড়িতে গেছে। চোখের পানি পরে হয়তো এমন হয়েছে৷
&quot; সে এমনটা কেনো করল? আমাকে বললেও তো হতো। তিনি কেনো শিলা আপাকে বললেন,আমি তার রুমে গভীর রাতে গিয়ে বসে থাকি? শিলা আপা আমাকে অনেক বকেছেন, থাপ্পরও দিয়েছেন, আমার ততটা খারাপ লাগে নি। কিন্তু যখন বললেন, আমি আর ওই ঘরে যেতে পারব। আমার বুক টুকরোটুকরো হয়ে গেলো। ইচ্ছে করেছে বলি যে, আমি তার কাছে যাবো না তো কে যাবে? আমার শুধু তাকে দেখতে ইচ্ছে করে। বিকেল হলেই তার সাথে গল্প করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কিছুই করার ছিলো না। আমি মাঝে মাঝে তার রুমে উঁকি দিতাম। প্রায় সময়ই দেখতাম জানালার সামনে তিনি বসে আছেন। উদাস মনে আকাশের দিকে চেয়ে আছেন। ইচ্ছে করে তার মাথাটায় হাত বুলিয়ে দেই। আমাদের যখন একটা বাবু হবে তখন তার কোলে বাবুটাকে বসিয়ে দিবো। দু&#039;জনে মিলে আকাশ দেখবে, জোছনায় ভিজবে৷ &quot;
পাতা উল্টাতে হলো না। নীচেই আন্ডারলাইন করা লেখা পেলাম।
&quot; তিনি তার বাসায় চলে গিয়েছেন। তাকে সারাক্ষণ দেখতে ইচ্ছে করে৷ মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে তার বাসায় চলে যেতে। আজ সেই সুযোগ হয়েছে। ফরিদ এসে তার জন্যে খাবার নিয়ে যেতো কিন্তু ফরিদ অসুস্থ। বেচারার অনেক জ্বর উঠেছে। দেখতেই মায়া লাগে। আজ আমি খাবার নিয়ে যাবো তার বাসায়। তাকে প্রাণ ভরে দেখব। আকাশটা খুব মেঘলা। আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে, আমি তার বাসায় গিয়ে আটকা পরব। ঝড়ের কারণে আর ফিরতে পারব না। যদি এখন হয় তাহলে প্রাণ ভরে সারা রাত তাকে দেখতে পারব। হয়তো মনের কথাটাও বলে ফেলব। কি জানি ঝড় হবে কিনা তাকে প্রাণ ভরে দেখতে পাবো কিনা। আমরা প্রায় সময়ই যা ভাবি তা হয় না। &quot;

চলবে..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/115623/</link>
				<pubDate>Sat, 28 May 2022 00:25:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-২০)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>ঘুম ভাঙল টুংটুং শব্দে। কে যেনো অনবরত বেল বাজাচ্ছে। আমি উঠে বসলাম। নাবিলা আমার পায়ের দিকে মাথা দিয়ে গোল হয়ে শুয়ে আছে। স্নিগ্ধ সূর্যের আলো এসে পরেছে তার মুখে। দেখে বুঝার কোনো উপায় নেই মেয়েটা শ্যামলা। আলোয় জ্বলজ্বল করছে তার মুখ। কপালে একটা টিপ পরলে বেশ লাগত। কি থেকে কি ভাবছি, নি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-115623"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/115623/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7e3e42d2ae4df41e2c64a4b5c326d7e2</guid>
				<title>#ধারাবাহিক
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৯)

সকালে গাড়ি এসে ফরিদকে নিয়ে গেছে। জ্বর হালকা কমেছিলো। একরাতের জ্বরেই মুখটা শুকিয়ে একদম রোগীদের মতো হয়ে গিয়েছিলো। দুপুরে বাসি ভাত -তরকারী খেয়ে চালিয়েছি। বারান্দায় বসে আছি। আকাশটা মেঘলা, বাতাস বইছে। বাতাসে একটা ভ্যাপসা গরম। বৃষ্টি ঘন আবহাওয়া হলেই রবি ঠাকুরের &quot;বাদর দিনে &quot; গানটা শুনতে ইচ্ছে করে। আমি শিলাকে ফোন দিলাম।
&quot;হ্যালো শিলা। ব্যাস্ত নাকি?&quot;
&quot; না রে। ভালো লাগছে না। কিছুই ভালো লাগছে না। &quot;
&quot;কেনো?&quot;
&quot;বিয়ে করতে ইচ্ছে করছে না। &quot;
&quot; কি করতে ইচ্ছে করছে? &quot;
&quot; পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে। বিয়ের আগেরদিন পালিয়ে গেলে কেমন হয়?&quot;
আমি হাসতে হাসতে বললাম,
&quot;হ্যা খুব ভালো হয়। আমি তোকে পালাতে সাহায্য করলাম তারপর দুরে কোথাও গিয়ে আমরা বিয়ে করে ফেললাম। কেমন হয়?&quot;
&quot; ফাইযলামু করবি না। &quot;
&quot;আচ্ছা ফাইযলামি করব না। সত্যি করে বল তো নিলয়কে এখন তোর কেমন লাগে?&quot;
শিলা মৃদু স্বরে বলল,
&quot;ওতোটা খারাপ না৷ এই তুই কি আর কিছু বলবি, এইসব বাদে?&quot;
আমি ঠিকই বুঝতে পারলাম ফোনের ওইপাশে শিলা লজ্জায় মরে যাচ্ছে। আমি বললাম,
&quot;হ্যা বলব৷ আকাশে মেঘ জমেছে দেখেছিস? &quot;
&quot; হু, গরম গরম লাগছে। ঝড় হবে হয়তো। কেমন থুম ধরে আছে। &quot;
&quot;তুই ওই গানটা শুনা তো &#039; আজি এই ঝরঝর মুখর বাদর দিনে। &#039;&quot;
&quot;আচ্ছা শুনাচ্ছি, আগে বল দুপুরে কি খেয়েছিস? খাবার তো পাঠানো হয় নি৷ &quot;
&quot; কালকের ভাত বেচে গিয়েছিলো তাই খেয়েছি। &quot;
&quot;রাতে খাবার পাঠাবো। কিন্তু কাকে দিয়ে যে পাঠাই।&quot;
&quot;নাবিলা কে দিয়ে পাঠিয়ে দে। &quot;
&quot; আচ্ছা দেখি কি করা যায়। &quot;
&quot; তুই নাকি ওকে বোকেছিস, আবার থাপ্পরও দিয়েছিস, আমার রুমে এসে বসে থাকত বলে? &quot;
&quot; ওইসব কথা বাদ দে….
শিলা গান ধরল,
&#124;&#124;আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে
আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে
জানি নে, জানি নে,
কিছুতে কেন যে মন লাগে না।
ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে
আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে&#124;&#124;
রাতে নাবিলা খাবার নিয়ে এলো। এতোক্ষণ পরিবেশ চুপচাপই ছিলো কিন্তু এখন বাইরে প্রচন্ড ঝড় হাওয়া আর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। নাবিলা সেই কখন থেকে মাথা নীচু করে বসে আছে। আমি বললাম,
&quot;চা খাবে নাবিলা? &quot;
&quot; না,ভাইয়্যা।&quot;
&quot; বাইরে ঝড় হচ্ছে। রাত তো অনেক হয়েছে।পাশের রুমটা পুরো খালি। তুমি ওইখানে আজ রাতটা থাকো। এই ঝড়ে তো যেতে পারবে না। আমি বাসায় ফোন করে দিচ্ছি। &quot;
নাবিলা কিছুই বলল না। আমি খালা(ইয়াসমিন সুলতানা) -কে ফোন দিয়ে ব্যাপারটা বললাম।
রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পরেছি। নাবিলা শুয়েছে পাশের ঘরে। ঘুমে চোখ লেগে আসছে এমন সময় নাবিলা দোরজায় টোকা দিয়ে বলল,
&quot;ভাইয়্যা আসতে পারি?&quot;
আমি উঠতে উঠতে বললাম,
&quot;আসো আসো। &quot;
&quot; আসলে ভাইয়্যা আমি একা ঘুমাতে পারি না ভয় করে৷ আমি এই চেয়ারে বসে থাকি? চুপচাপ বসে থাকব। &quot;
&quot;আচ্ছা বসে থাকো। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। আমি ঘুমালাম। &quot;
আমি হাই তুলতে তুলতে শুয়ে পরলাম৷ আর সাথে সাথেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম।

চলবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/115379/</link>
				<pubDate>Thu, 26 May 2022 22:54:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৯)</p>
<p>সকালে গাড়ি এসে ফরিদকে নিয়ে গেছে। জ্বর হালকা কমেছিলো। একরাতের জ্বরেই মুখটা শুকিয়ে একদম রোগীদের মতো হয়ে গিয়েছিলো। দুপুরে বাসি ভাত -তরকারী খেয়ে চালিয়েছি। বারান্দায় বসে আছি। আকাশটা মেঘলা, বাতাস বইছে। বাতাসে একটা ভ্যাপসা গরম। বৃষ্টি ঘন আবহাওয়া হলেই রবি ঠাকুরের &#8220;বাদর দিনে &#8221; গানটা শুনতে ইচ্ছে করে। আমি শিলাকে ফোন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-115379"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/115379/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3456c1f7861805441a2bc81576cb3ac7</guid>
				<title>#ধারাবাহিক
একমুঠো জোনাকি( পর্ব-১৮)
~ আবির হাসান সায়েম 

ফরিদের মুখটা সকাল থেকে শুকনো লাগছিলো, রাতে জেপে জ্বর এলো৷ মেপে দেখলাম ১০২°। বাসার পাশের ফার্মেসী থেকে একজন ডাক্তার এসে দেখে গেছেন। কয়েকটা ঔষধ খেতে দিয়েছেন। ফরিদ শুয়ে আছে, চোখ বন্ধ করে, গো গো শব্দ করছে। আমি ফরিদের পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললাম,
&quot; ফরিদ, খুব খারাপ লাগছে?&quot;
&quot;হু।&quot;
&quot; মাথায় পানি ঢেলে দেই? পানি ঢাললে ভালো লাগবে। &quot;
ফরিদ আচ্ছা শুচক মাথা নাড়ল। ফরিদের বালিশের নীচে পলিথিন রেখে মাথায় পানি দিচ্ছি।
&quot;ফরিদ, ভালো লাগছে আগের থেকে? &quot;
&quot; হ ভাইজান। &quot;
&quot;আচ্ছা। &quot;
কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর ফরিদ বলল,
&quot;ভাইজান। &quot;
&quot;হ্যা বলো। &quot;
&quot;কয়েকদিন আগে শিলা আপা না নাবিলা আপারে অনেক বকা দিসে, দুইডা থাপ্পরও দিসে। আপনের রুমে গিয়া রাইতে বইসা থাকে হেই লেইগা। &quot;
আমি বিষ্ময় ভরা কন্ঠে বললাম,
&quot; তাই?&quot;
&quot;হ। নাবিলা আপা অনেক্ষণ কাদছিলো। এরপর থেইক্কাই আপনের রুমে আর যায় না৷ তয় মাঝে মাঝে দেহি আপনের রুমে উঁকি দিতাসে।&quot;
&quot;ওহ আচ্ছা৷ তুমি একটু চোখটা বন্ধ করে চুপচাপ শুয়ে থাকো। &quot;
&quot; নাবিলা আপা খুব ভালা গান করে। তয় ভাই বাংলা গান না ইংরেজি গান। একটা গানই সারাদিন গায় । ভাই একডা কবিতা শুনান না। &quot;
&quot;কোন কবিতা? &quot;
&quot; খুকুমণি শুনাইসিলো না ওই কবিতাডা&quot;
&quot;কবিতার নামটা মনে আছে তোমার?&quot;
&quot;হ। ভালো থেকো। &quot;
&quot; ব্যাটা তোর স্মরণ শক্তি ভালো। কিন্তু কবিতার নাম ভালো থেকো না। কবিতার নাম হলো শুভেচ্ছা। &quot;
আমি কবিতা আবৃত্তি করতে শুরু করলাম।
শুভেচ্ছা –
হুমায়ুন আজাদ
ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা
ভালো থেকো পাখি, সবুজ পাতারা
ভালো থেকো চর, ছোটো কুঁড়েঘর, ভালো থেকো।
ভালো থেকো চিল, আকাশের নীল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো পাতা, নিশির শিশির
ভালো থেকো জল, নদীটির তীর
ভালো থেকো গাছ, পুকুরের মাছ, ভালো থেকো
ভালো থেকো কাক, ডাহুকের ডাক, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মাঠ, রাখালের বাঁশি
ভালো থেকো লাউ, কুমড়োর হাসি
ভালো থেকো আম, ছায়াঢাকা গ্রাম, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ঘাস, ভোরের বাতাস, ভালো থেকো।
ভালো থেকো রোদ, মাঘের কোকিল
ভালো থেকো বক, আড়িয়ল বিল
ভালো থেকো নাও, মধুমাখা গাঁও, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেলা, লাল ছেলেবেলা, ভালো থেকো।
ভালো থেকো, ভালো থেকো, ভালো থেকো।
আমার আবৃত্তি শেষ করতে করতে ফরিদ ঘুমিয়ে পরল। আমি ফরিদের মাথা মুছিয়ে দিয়ে, পানির বালতি রেখে দিয়ে এসে শিলাকে ফোন দিলাম।
&quot;হ্যালো, শিলা। &quot;
&quot;হ্যা আবীর। কেমন আছিস?&quot;
&quot; আমি ভালো কিন্তু ফরিদের প্রচুর জ্বর উঠেছে। আমি ডাক্তার দেখিয়েছি। এখন ঘুমুচ্ছে। ওকে কি তোদের বাসায় নিয়ে রাখতে পারবি না? জানি তোর বিয়ে, অনেক মানুষ অনেক ঝামেলা কিন্তু আমার এখানে থাকলে ভালো খেতে পারবে না কেও না কেও থাকবে ওর যত্ন নেয়ার জন্য আর আমার নিজের শরীরটা বেশি একটা ভালো না। &quot;
&quot;আমি কালকে সকালে গাড়ি পাঠিয়ে দিবো। আজ খুব ভালো জোছনা উঠেছে জানিস? &quot;
&quot;না, জানালা খোলা হয় নি। আর আজকে জোছনা দেখতেও ইচ্ছে করছে না৷ &quot;
&quot;আচ্ছা আবীর তোর সাথে পরে কথা বলব, মা ডাকছেন। &quot;
আমি কান থেকে ফোন নামিয়ে নিলাম৷ উঠে জানালা খুলে দিলাম। একফালি জোছনা এসে পরল ফরিদেএ ঘুমন্ত মুখের উপর। এই ছেলেটা আমি যখন অসুস্থ ছিলাম তখন আমার কতো সেবা যত্ন করেছে। আমাকে সুস্থ করে তুলেছে। এখন সে অসুস্থ আর আমি তাকে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমি চাইলে কি পারতাম না ছেলেটাকে আমার কাছে রেখে দিতে? নিজের একটু কষ্ট হবে বলে…মানুষ আসলেই খুব সার্থপর প্রাণি। আমি একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললাম।

চলবে..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/114750/</link>
				<pubDate>Tue, 24 May 2022 21:34:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি( পর্ব-১৮)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>ফরিদের মুখটা সকাল থেকে শুকনো লাগছিলো, রাতে জেপে জ্বর এলো৷ মেপে দেখলাম ১০২°। বাসার পাশের ফার্মেসী থেকে একজন ডাক্তার এসে দেখে গেছেন। কয়েকটা ঔষধ খেতে দিয়েছেন। ফরিদ শুয়ে আছে, চোখ বন্ধ করে, গো গো শব্দ করছে। আমি ফরিদের পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললাম,<br />
&#8221; ফরিদ, খুব খারাপ লাগছে?&#8221;&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-114750"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/114750/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8725a03da1fa3116e042f981d4123941</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৭)
~ আবির হাসান সায়েম 

সারাদিন শুয়ে থাকতে ভালো লাগে না। শরীরটাতে তেমন শক্তিও নেই যে বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসব। জ্বর সেড়ে গেছে কিন্তু রেখে গেছে একহ্রাস দুর্বলতা।
সকালে ফরিদ বই খাতা নিয়ে এসে খানিক্ষণ পড়ে যায়। ছেলেটা দারুণ মেধাবী। আধ ঘন্টায় কাজী নজরুল ইসলামের লেখা &#039;বিদ্রহী&#039; কবিতাটির আট লাইন মুখস্ত করে ফেলল। আর দুইদিনের মধ্যেই হয়তো পুরোটা মুখস্থ করে ফেলবে।
শিলা গত দুইদিন ধরে আসে না। তার জায়গায় এখন আসে নাবিলা। একটু ঘন ঘনই আসে। তিনবেলা খাবার দিয়ে যায়। মাঝে মাঝে বিকেলে গল্প করতে আসে। সেটা সমস্যা না। কিন্তু মেয়েটা প্রায়ই রাতে আমার ঘরে এসে চেয়ারে বসে থাকে।
একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ঘুমন্ত আমার দিকে। একদিন হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেলো। আমি চেয়ে দেখি একটা মূর্তি বসে আছে চেয়ারে। প্রথমে ভেবেছিলা শিলা। কিন্তু শিলার অবয়ব তো এইরকম না। আমার বুকটা ধক করে উঠল। অবয়বটা যদি না বলত,
&#039;আপনি ভয় পাবেন না। আমি নাবিলা। আপনাকে দেখতে এসেছিলাম। &#039;
তাহলে হয়তো চিৎকার দিয়ে উঠতাম৷ এরপর আরো দুইদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি নাবিলা বসে আছে। চোখে চোখ পরতে একটি মিষ্টি হেসে উঠে চলে যায় ।
যখন গল্প করতে আসে তখন কি স্বাবলিলভাবে কথা বলে যায়। মেয়েটার গলার সুর মিষ্টি। আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি, যে সব মেয়েরা গান করতে পারে না তাদের গলা ভারী মিষ্টি হয়।
শিলার সাথে নাবিলার ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলা দরকার। ফরিদকে দিয়ে আজ সকাল খবর পাঠিয়েছি। আজকে বিকালে নাকি আসবে।
আমি ইজি চেয়ারে জানালার দিকে মুখ করে বসে আছি। দিনের শেষ আলো এসে পরেছে গায়ে। কি ম্লান-স্নিগ্ধ আলো। উজ্জ্বল কিন্তু চোখে লাগে না, গরম কিন্তু গা পোড়ে না। দরজায় টোকা দিয়ে শিলা ভিতরে ঢুকল। তার হাতে একটা ব্যাগ।
শিলার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বললাম,
&quot;কিরে চশমা পরা শুরু করলি কবে থেকে? &quot;
&quot; আরে চোখে ঝাপসা দেখি তাই চশমা নিলাম। এই নে এইটা তোর জন্য। &quot;
&quot;কি এইটা? &quot;
&quot; পাঞ্জাবী। দেখ পছন্দ হয় কি না! &quot;
আমি ব্যাগ থেকে পাঞ্জাবী বের করলাম। একটা না দুইটা পাঞ্জাবী।
&quot;দুটো পাঞ্জাবী কেনো?&quot;
&quot;ফিরোজা রঙেরটা গায়ে হলুদে পরবি আর বাদামীটা বিয়েতে। পছন্দ হয়েছে? &quot;
&quot;হ্যা হয়েছে।&quot;
&quot;কোনটা বেশি পছন্দ হয়েছে? &quot;
&quot; ফিরোজা রঙেরটা। &quot;
&quot; ফিরোজাটা নাবিলা পছন্দ করেছে। আর আমি বাদামীটা। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। বাদামীটা যে কম পছন্দ হয়েছে তেমনটা না.. &quot;
শিলা মুচকি হেসে বলল,
&quot;হ্যা বুঝেছি। &quot;
&quot; আচ্ছা শোন তোর সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। বস এইখানে। &quot;
শিলা একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসল।
&quot;আজ তোর সাথে অনেক্ষন কথা বলব। গত দু&#039;দিনের হিসেব চুকিয়ে নিবো। বল কি বলবি। &quot;
&quot;আসলে কিভাবে যে বলি। নাবিলা প্রতিরাতে আমার রুম এসে বসে থাকে। আমার ধারণা, আমি ঘুমিয়ে গেলেই সে আসে আর ভোর হলে সে রুমে চলে যায়। &quot;
শিলার মুখভঙ্গি কিছুটা পরিবর্তীত হলো। কপালের চামড়া ভাজ করে বলল,
&quot; প্রতিরাতেই আসে? &quot;
&quot;আমার ধারণা তাই। আমার ঘুম রাতে যতবার ভেঙেছে ততবারই একই দৃশ্য দেখেছি। রকিং চেয়ারটাতে বসে আমার দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে। &quot;
&quot;আমি ওর সাথে কথা বলব এই ব্যাপারে। &quot;
&quot;রাগারাগি করিস না ওর সাথে। বুঝিয়ে বলিস। &quot;
&quot;আচ্ছা। &quot;
কিছুটা ইতস্তত করে শিলা উঠে পরল। আমি বললাম,
&quot; কি হলো উঠে যাচ্ছিস কেনো। বস কিছুক্ষণ কথা বলি। &quot;
&quot; মাথাটা ঝিম ধরে গেছে৷ কথা বলতে ইচ্ছে করছে না৷ &quot;
শিলা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।
আজ সকালে নিজের বাসায় চলে এসেছি। পাচ দিন পর শিলা&#039;র গায়ে হলুদ। আত্মীয়-স্বজন আসছে শুরু করেছে। এর মধ্যে একটা ঘর দখল করে থাকাটা মোটেই ভালো দেখায় না। শিলা আসতে দিতে রাজি হয় নি, শরীরটা এখনো পুরোপুরি ঠিক হয় নি। নিজে রেধে খাওয়ার মতো শক্তি নেই। আমিও এই ব্যাপারে খানিকটা চিন্তায় পরে গিয়েছিলাম। শেষে সিদ্ধান্ত হয়, ফরিদ তিন বেলা গিয়ে ওই বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসবে।
ঘর একদম চকচক করছে। শিলা, আমার আসার আগেই লোক পাঠিয়ে পরিষ্কার করিয়ে রেখেছে। ফজলুল সাহেব বিকেলে এসে খোজখবর নিয়ে গেছেন। মামা আর কাদেরের সাথেও কথা হয়েছে। কাদেরের পরীক্ষা চলছে। আর তিনটা বাকি।

চলবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/114072/</link>
				<pubDate>Mon, 23 May 2022 03:21:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৭)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>সারাদিন শুয়ে থাকতে ভালো লাগে না। শরীরটাতে তেমন শক্তিও নেই যে বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসব। জ্বর সেড়ে গেছে কিন্তু রেখে গেছে একহ্রাস দুর্বলতা।<br />
সকালে ফরিদ বই খাতা নিয়ে এসে খানিক্ষণ পড়ে যায়। ছেলেটা দারুণ মেধাবী। আধ ঘন্টায় কাজী নজরুল ইসলামের লেখা &#8216;বিদ্রহী&#8217; কবিতাটির আট লাইন মুখস্ত করে ফেলল। আর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-114072"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/114072/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9b472caff28419cfe07d72e74fa4e099</guid>
				<title>একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৬)
~ আবির হাসান সায়েম 

  #ধারাবাহিক

গাড়ি থেকে নামলাম। সাদা দু&#039;তলা ডুপ্লেক্স বাড়ি। বাংলোবাড়িও বলা যায়। ঢাকা শহরে এইরকম বাড়ি আরেকটা আছে নাকি কে জানে। শিলা এসে আমাকে ভিতরে নিয়ে গেলো। আমি বললাম,
&quot;আমার মাথাটা ঝিমঝিম করছে। আমি একটু শোব। &quot;
শিলা চঞ্চল চোখে বলল,
&quot;হ্যা তোর জন্যে ঘর রেডি করা আছে। দু&#039;তলায়। নিড়িবিলি একদম। &quot;
শিলা আমাকে দোতোলায় নিয়ে গেলো৷ রুমটা আলোতে গিজগিজ করছে৷ বাইরের আকাশে তেমন আলো নেই। তবে ঘরে এতো আলো এলো কত্থেকে? ঘরে তো কোনো বাত্বিও জ্বলছে না। আমি বিছানায় শুয়ে পরলাম।
&quot;শিলা ঘরে এতো আলো কেন?&quot;
&quot; বাবা জাপান থেকে অটো স্মার্ট হোম নামের কি যেনো এনেছেন। ঘরের আনাচে কানাচে লাইট লাগানো চোখে পরে না। কিন্তু ঘরের আলো কমে গেলে অটমেটিক লাইট জ্বলে উঠে। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। আলো কি কমিয়ে দেয়া যায়? আমার চোখে লাগছে। আর জানালাটা খুলে দে। &quot;
&quot; জানালা খুলে দিলে তো বৃষ্টির ছিটা তোর গায়ে এসে লাগবে। &quot;
&quot;লাগুক। তুই খুলে দে। &quot;
&quot; আচ্ছা৷ তুমি ঘুমো। &quot;
ঘরের পশ্চিম দিকে বিশাল একটা জানালা। কি দারুণ একটা ব্যাপার! দেখলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। জানালা খুলে দেয়ার সাথে সাথে এক সমুদ্র ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢুকে পরল। শিলা ঘরের আলো কমিয়ে দিয়ে চলে গেলো। হালকা বৃষ্টির ছাট এসে পরছে চোখে। কি ঠান্ডা৷ কি ঠান্ডা।
অতি মিষ্টি মৃদু একটা ডাকে ঘুম ভেঙে গেলো। আমি চোখ মেললাম না৷ কন্ঠটা আমার বেশ পরিচিত। শিলার কন্ঠ। আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আবার বলল,
&quot;আবীর ওঠ। কিছু খাবি না? আবীর। &quot;
আমি চোখ মেললাম। জানালার শিক গলে জোছনা এসে পরেছে আমার বিছানার অর্ধেকটা জুড়ে। বিকালে কি বৃষ্টি ছিলো,এখন কি সুন্দর চাঁদ উঠেছে আকাশে। জোছনা ঘরের অর্ধেকটা আলোকিত আর বাকি অংশটুকুতে নিকোষ কালো আধার।
শুয়ে থেকেই আমি বললাম,
&quot;কয়টা বাজে শিলা?&quot;
&quot; আড়াইটা বাজে। &quot;
&quot;এতো রাত হয়ে গেছে। তুই এতো রাতে এখানে বসে আছিস কেনো?&quot;
&quot; তুই রাতে কিছু খাস নি। আর ঘুম আসছিলো না তাই..&quot;
&quot; তোর সামনে বিয়ে এসব করলে খালা -খালু কি মনে করবে?&quot;
&quot;কেও কিছুই মনে করবে না। তারা একটু আগেই ঘুমাতে গিয়েছে। ফরিদ তাদেরকে বসিয়ে ছড়া, নামতা,গল্প সব শুনিয়েছে। ফরিদ তো তোর ভক্ত হয়ে গেছে ৷ &quot;
আমি হালকা হেসে বললাম,
&quot;হ্যা বেশ ভালো ছেলে ব্রেনও বেশ ভালো। &quot;
&quot;হ্যা। &quot;
&quot;অনেক্ষন ঘুমিয়েছি। শরীরটা লড়তে চাচ্ছে না। &quot;
&quot; হ্যা,বিশাল একটা ঘুম দিয়েছিস। ওঠ স্যুপ খেয়ে নে। &quot;
আমি হালকা একটু উঠে বসলাম। শিলা গরম স্যুপ চামচে নিয়ে ফু দিচ্ছে৷ আমি বললাম,
&quot;বাটি আমাকে দে। আমি নিজেই খেতে পারব। &quot;
&quot; আমি খাইয়্যে দিলে খুব সমস্যা? &quot;
&quot; না মানে….।&quot;
শিলা মুচকি হেসে বলল,
&quot;ওহ আচ্ছা,আমার ফু এর সাথে অনেকগুলো জীবাণু যাচ্ছে তাই না?&quot;
&quot;ঠিক, তুই তো নাগীন। তোর ফু এর সাথে বিষ বেড়ুবে। &quot;
আমি আর শিলা দু&#039;জনই হাসছি। শিলা স্যুপ মুখে তুলে খাইয়্যে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আমি বললাম,
&quot; কালকে সকালে আমি বাসায় চলে যাবো। &quot;
&quot;কেনো? &quot;
&quot;এইখানে থাকলে তুই বারবার আসবি। সারাদিন আমার কাছে বসে থাকবি। মায়ার হাত বারবার বাড়িয়ে দিবি। মেয়েদের এই মায়াকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা এই পৃথিবী&#039;র কারোর নেই। &quot;
&quot;তুই বাসায় গেলে খাবি কি? রাধবে কে? সময়মতো ঔষধ এগিয়ে দিবে কে?&quot;
&quot;জানি না। &quot;
&quot;তুই এখানেই থাকবি। আমি দিনে দু&#039;বার দুইঘন্টা&#039;র জন্য আসব৷ তাহলে চলবে?&quot;
একটু হাসলাম আমি কিছু বললাম না। শিলা স্যুপের খালি বাটি নিয়ে উঠে গেলো। চাঁদ আস্তে আস্তে পুরো ঘরটাকেই জোছনা দিয়ে ভাসিয়ে দিচ্ছে।
শিলা আমার পাশে এসে বসল। আমি মুখে কিছুটা গাম্ভীর্য আনার ব্যার্থ চেষ্টা করে বললাম,
&quot; তোকে একটা কথা বলা খুব দরকার। &quot;
&quot;কি বল৷ &quot;
&quot; মানুষ সবার মধ্যেই তার পছন্দের মানুষের ছায়া খুজে ফিরে। বারোদিন পরে তোর নিলয়ের সাথে বিয়ে হবে৷ বিয়ের পর তুই নিলয়ের মধ্যে আমার ছায়া খুজে বেড়াবি এবং একটা সময় পর হতাশ হয়ে পরবি কারণ ওর মধ্যে আমার ছায়া অনুপস্থিত। কারো মধ্যেই কারো ছায়া পাওয়া সম্ভব না৷ আমরা সবাই আলাদা আলাদা মানুষ। এইসব আমরা জানি। জেনেও কেনো জানি ভুলগুলো করে ফেলি। আমি চাই তুই যাতে এই ভুলটা না করিস। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা ঠিক আছে। &quot;
কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর শিলা কেদে উঠল। বিয়ের আগে মেয়েরা কারণে-অকারণে কাঁদে। শিলা মাথা নীচু করে কাদছে,আলগোছে চুলগুলো মুখের সামনে এলিয়ে পরেছে। জোছনার ছায়া ঠিক পরেছে শিলার মুখের উপর। চোখের জলও জোছনার আলোতে হীরে&#039;র মতো চকচক করছে৷ এতো রূপবতী দৃশ্য আমি আমার জীবনে দেখেছি কিনা জানি না৷ আমি শিল্পী হলে একটা পোর্ট্রেট একে ফেলতাম। আমি শিলাকে টেনে এনে পাশে বসালাম। শিলা মাথাটা আমার কাধে নুইয়ে দিলো। পৃথিবী জুড়ে এতো মায়া। এতো মায়া!

চলবে..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/113908/</link>
				<pubDate>Sun, 22 May 2022 06:58:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৬)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>  <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক</p>
<p>গাড়ি থেকে নামলাম। সাদা দু&#8217;তলা ডুপ্লেক্স বাড়ি। বাংলোবাড়িও বলা যায়। ঢাকা শহরে এইরকম বাড়ি আরেকটা আছে নাকি কে জানে। শিলা এসে আমাকে ভিতরে নিয়ে গেলো। আমি বললাম,<br />
&#8220;আমার মাথাটা ঝিমঝিম করছে। আমি একটু শোব। &#8221;<br />
শিলা চঞ্চল চোখে বলল,<br />
&#8220;হ্যা তোর জন্যে ঘর রেডি করা আছে। দু&#8217;তলায়। নিড়িবিলি একদম। &#8221;<br />
শিলা আমা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-113908"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/113908/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c7487f247a3951aa4d5383e4e13859cf</guid>
				<title>#ধারাবাহিক
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৫)
~ আবির হাসান সায়েম 

সুদীর্ঘ তেরোদিন পর আজ আমাকে রিলিজ দেয় হলো । কতগুলো দিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাবো।  সকালবেলা মনটা বেশ ভালোই ছিলো কিন্তু দুপুরেরদিকে আইনুল্লাহ আর হাফসা এসে মনটা একদম খারাপ করে দিলো। আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে করে কান্না করতে লাগল। আমার চোখও টলমল করে উঠল। তাদের ছেড়ে যাচ্ছি এই দুঃখে না, এতো ভালোবাসা পেয়ে -মনটা কেনো যেনো কেপে উঠল।  কিছু ভালোবাসা কাদায় কিছু ভালোবাসা হাসায় কিছু ভালোবাসা কাদতে কাদতে হাসায়। যে ভালোবাসায় মানুষ কাদতে কাদতে হাসে, সেসব ভালোবাসায় কোনো খাদ থাকে না৷ এই ভালোবাসা অগ্রাহ্য করা যায় না। 
আমি আর ফরিদ নীচে দাড়িয়ে আছি। ফরিদ একটা ছোট ব্যাগ নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আকাশটা মেঘলা। ঠান্ডা বাতাস বইছে। ইচ্ছে করছে রিক্সা নিয়ে কিছুক্ষণ ঘুরি। কিন্তু উপায় নেই। ফজলুল কাদির সাহেব গাড়ি নিয়ে আসছেন। ডাক্তার সাহেবের চরম মানা,&#039;কোনোরকমের অবহেলা করা যাবে না। আগামী দুই সপ্তাহ খুব ক্রিটিকাল। ঝাল খাবেন না, সময় মতো খাবার খাবেন,  ঠান্ডা লাগাবেন না। আপনার উচিত ছিলো আরও এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকা। কিন্তু আপনি তো একদম অস্থির হয়ে পরেছেন৷ দুই সপ্তাহ পর এসে দেখা করবেন৷ &quot;
গাড়ি এসে গেছে। আমি আর ফরিদ উঠে বসলাম। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, বেশ ভালো বৃষ্টি। গাড়ির জানালা সব বন্ধ। মনে হচ্ছে জেলখানাতে বসে আছি৷ আমি বললাম, 
    &quot; আচ্ছা গাড়ির জানালা কি খোলা যাবে? &quot;
ড্রাইভার বলল,
    &quot; জানলা খুললেই বৃষ্টি ঢুকে সিট ভিজে যাইবো৷ &quot;
ফজলুল সাহেব বললেন,
    &quot; আমরা কিন্তু আপাদের বাসায় যাচ্ছি৷ &quot;
আমি অবাক হয়ে বললাম, 
   &quot;মানে? &quot;
   &quot;আপনার বাসা অনেকদিন ধরে বন্ধ পরে আছে। সব ওলোপালোট। তাই আপা বললেন আপনাকে তাদের বাসায় নিয়ে যেতে। কালকের মধ্যে আপনার বাসা ফিটফাট করে দেয় হবে। &quot;

আমি আর কোনো কথা বললাম না। মাথাটা হঠাৎ ঝিমঝিম করছে। আমি চোখ বন্ধ করে কল্পনা করার চেষ্টা করছি।
আমি দাড়িয়ে আছি একটা রাস্তার মাথায়। সুপ্রসস্থ সোজা একটা রাস্তা আমার চোখের সামনে। হুহু করে বাতাস বইছে। মনে হচ্ছে 
শরীরে চামড়া ভেদ করে চলে যাচ্ছে৷ আমি দু&#039;হাত মেলে দিলাম। সাথে সাথেই গাড়ির হর্ণ বেজে উঠল। আমরা শিলাদের বাড়ি পৌছে গেছি। 


চলবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/86429/</link>
				<pubDate>Wed, 05 Jan 2022 02:17:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৫)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>সুদীর্ঘ তেরোদিন পর আজ আমাকে রিলিজ দেয় হলো । কতগুলো দিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাবো।  সকালবেলা মনটা বেশ ভালোই ছিলো কিন্তু দুপুরেরদিকে আইনুল্লাহ আর হাফসা এসে মনটা একদম খারাপ করে দিলো। আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে করে কান্না করতে লাগল। আমার চোখও টলমল করে উঠল। তাদের ছেড়ে যাচ্ছি এই দুঃখে না&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-86429"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/86429/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4335d3dbc03f9affae4d2756e7d87057</guid>
				<title>#ধারাবাহিক
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৪)
~আবির হাসান সায়েম

খাওয়া দাওয়া শেষ করে মাত্র বসেছি এর মধ্যেই একজন লোক এলেন৷ মাথাভর্তি টাক। মুখের চামড়া কুচকে গেছে। চোখে একটা পুরু চশমা। কঙ্কাসার শরীরে কোর্টটাকে বেশ স্বাস্থ্যবান মনে হচ্ছে। আমি সালাম দিলাম। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে বললেন,
&quot; আমার নাম ফজলুল কাদির৷ আমাকে ইয়াসমিন আপা পাঠিয়েছেন৷ &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। আসুন। &quot;
লোকটা বেডের পাশে রাখা টুলে এসে বসলেন।
&quot;আপনাকে ইয়াসমিন আপা সব বলেছে নিশ্চই। &quot;
&quot;হ্যা বলেছেন। কিন্তু আমার কিছু প্রশ্ন ছিলো। &quot;
&quot; জ্বি বলুন। &quot;
&quot; আপনি কত বছর ধরে চাকুরী করছেন? &quot;
&quot;জ্বি ষোল বছর। &quot;
&quot; আপনাকে দেখে মনে হয়, কাজের একটা বিরাট ঝড় গিয়েছে আপনার উপর দিয়ে। &quot;
&quot;জ্বি। আসলে আমার কোনো সেক্রেটারি ছিলো না। একাই তিনজনের কাজ করেছি। কাজের ধকলটা আমার উপর দিয়ে একটু বেশিই গেছে। আপনি চিন্তা করবেন না৷ আপনার আন্ডারে দু&#039;জন সেক্রেটারি থাকবে৷ &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা৷ বেতন কত?&quot;
&quot;জ্বি বাষোট্টি হাজার টাকা৷ বেসিক পয়তাল্লিশ হাজার টাকা। পুজা এবং ঈদে বোনাস দেয়া হবে। আপনার সাইন ছাড়া কারোর বেতন হবে না। গাড়ি আর ফ্লাট দেয়া হবে। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। এখন আমাকে কি করতে হবে? &quot;
কিছু বলার আগেই ফজলুল সাহেবের ফোন বেজে উঠল৷ তিনি ফোন কানে নিয়ে বললেন,
&quot;হ্যালো আসসালামু আলাইকুম আপা৷ হ্যা হ্যা আমি এসেছি। তার সামনেই বসে আছি। না না এখনো সাইন নেই নি৷ এখনি নিবো। জ্বি কথা বলবেন?আচ্ছা। &quot;
তিনি ফোনটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,
&quot;আপা আপনার সাথে কথা বলবেন। &quot;
আমি ফোন কানে নিয়ে বললাম,
&quot; আসসালামু আলাইকুম খালা। &quot;
&quot;ওয়ালাইকুম আসসালাম। তোমার শরীরটা এখন কেমন?&quot;
&quot; জ্বি ভালো। &quot;
&quot;আচ্ছা শিলার সাথে কি তোমার ঝগড়া হয়েছে? &quot;
&quot;না ঝগড়া হয় নি তো। কেন?&quot;
&quot;শিলা হাসপাতাল থেকে এসেই নিজের ঘরে দোরজা বন্ধ করে চিৎকার করে কেদেছে, তারপর শুকনো মুখে বেরিয়ে এসে বলল, এই মাসেই বিয়ে ঠিক করতে।&quot;
&quot;আপনি কি করলেন?&quot;
&quot;আমি নিলয়ের বাবাকে ফোন দিয়ে আমাদের বাসায় আসতে বললাম। তারা বিকেলে আসবেন। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। খালা আমাকে কি হাজার বিশেক টাকা দেয়া যায়? &quot;
&quot;হ্যা অবশ্যই। ফজলুল সাহেবকে কাছে ফোনটা দাও। &quot;
আমি ফোনটা ফজলুল সাহেবের দিকে এগিয়ে দিলাম। তিনি কানে ফোন চেপে শুধু জি জি বললেন। তারপর ফোন নামিয়ে রেখে তার ব্যাগ থেকে একটা টাকার বান্ডিল আর একটা কাগজ বের করলেন। কাগজটা আমার সামনে দিয়ে বললেন টার্মস এন্ড কন্ডিশনগুলো ভালো করে পড়ে এইখানে সাইন করে দিন। আমি ভালো করে পড়ে তারপর সাইন করে দিলাম। লোকটা আরেকবার দেখে টাকার বান্ডিলটা আমার হাতে দিলেন। আমি বললাম,
&quot; আপনার কাছে কি সবসময় টাকা থাকে নাকি?&quot;
&quot;না আজকে একটা ক্লায়েন্টের কাছ থেকে টাকাটা পেয়েছি। তাই দিতে পারলাম। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। &quot;
&quot; আজ তাহলে উঠি। &quot;
&quot; হ্যা উঠবেন কিন্তু আরেকটা সাহায্য করলে একটু ভালো হত।&quot;
&quot;কি সাহায্য বলুন। &quot;
আমি টাকার বান্ডিল থেকে আট হাজার টাকা বের করে বললাম,
&quot;এই টাকা দিয়ে একটা ফোন আর একটা সিম কিনে এই ছেলেটার কাছে দিয়ে দিবেন প্লিজ। আসলে আপনাকে বলাটা ঠিক হচ্ছে না কিন্তু আমার ফোনটা ভেঙে গেছে। একটা ফোন খুব দরকার। আশা করি আপনি রাগ করেননি।&quot;
&quot;জ্বি না। আমি কিনে দিয়ে দিচ্ছি ওর কাছে। &quot;
আমি ফরিদের দিকে তাকিয়ে বললাম,
&quot;একটু যা থুক্কু যাও তো স্যারের সাথে। &quot;
ফরিদ আর ফজলুল সাহেব বেরিয়ে গেলেন।
রাতে আমি শিলাকে ফোন দিলাম। প্রথম চেষ্টায় ব্যার্থ হলেও দ্বিতীয়বার সফল হলাম৷
&quot;হ্যালো, শিলা। &quot;
&quot;ফোন দিয়েছিস কেনো?&quot;
&quot;একটু কথা বলার জন্য। তোর কি রাগ এখনো কমে নি?&quot;
&quot; না কমে নি। যা বলবি তাড়াতাড়ি বল। &quot;
&quot; শুনলাম তোর বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছে?&quot;
&quot;হ্যা। এই মাসের সাতাশ তারিখ বিয়ে। &quot;
&quot;আজ কয় তারিখ?&quot;
&quot;আজ ছয় তারিখ। &quot;
&quot;ওহ তাহলে তো বেশি সময় নেই। হঠাৎ তারিখ ঠিক হয়ে গেলো। কিভাবে কি?&quot;
&quot;ভাবলাম বিয়েটা করেই ফেলি। যা কপালে আছে হবে। যে কপালে থাকে না তার জন্য স্বর্নের মাজার তৈরী করলেও তো আর লাভ নেই। &quot;
&quot; কথা তো ঠিক৷ আচ্ছা আজকে খাবার রান্না করেছে কে?&quot;
&quot;আমি রেধেছি &quot;
&quot; সব খাবার তুই একেবারে একা রেধেছিস?কেও সাহায্য করে নি?&quot;
&quot;হ্যা ডিম, খিচুড়ি রাধার সময় নাবিলা একটু সাহায্য করেছে৷ &quot;
&quot;নবিলা কে? &quot;
&quot; নাবিলা আমার খালাতো বোন৷ চট্টগ্রামে পড়ে। ছুটিতে বেড়াতে এসেছে। আজকে তোর ওইখানে আমার সাথে গিয়েছিলো না? &quot;
&quot;হ্যা চিনতে পেরেছি। গরুর মাংস -তে নাবিলা সাহায্য করে নি?&quot;
&quot; না গরুর মাংস আমি একাই রেধেছি। &quot;
&quot; ওহ আচ্ছা। বাসার কেও খেয়েছে গরুর মাংস?&quot;
&quot; হ্যা বাবা-মা খেয়েছেন৷ &quot;
&quot;খেয়ে প্রশংসা করেননি? &quot;
&quot;হ্যা করেছেন। আমার তো এলার্জি, নাহলে আমিও একটু খেয়ে দেখতাম। হাসছিস কেন?&quot;
&quot; হাসছি কারণ আমার খাওয়া সবচেয়ে কুখাদ্যগুলোর মধ্যে তো গরুর মাংস তিন নম্বর। &quot;
শিকা থমথমে গলায় বলল,
&quot;এক নম্বরে কি আছে?&quot;
&quot;এক নম্বেরে আছে আমার নিজের রাধা খিচুড়ি। &quot;
আমি শব্দ করে হাসলাম। আমার সাথে শিলাও হাসছে। আমি ফোনটা কেটে দিলাম। একটা আনন্দময় সমাপ্তি। আনন্দের পরই কষ্ট আসে। আনন্দঘন পরিবেশেই ইতি টেনে দেয়া ভালো। কিন্তু বেশিভাগ সময়ই শেষটা আমাদের হাতে থাকে না।

চলবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/54563/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Nov 2021 05:13:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৪)<br />
~আবির হাসান সায়েম</p>
<p>খাওয়া দাওয়া শেষ করে মাত্র বসেছি এর মধ্যেই একজন লোক এলেন৷ মাথাভর্তি টাক। মুখের চামড়া কুচকে গেছে। চোখে একটা পুরু চশমা। কঙ্কাসার শরীরে কোর্টটাকে বেশ স্বাস্থ্যবান মনে হচ্ছে। আমি সালাম দিলাম। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে বললেন,<br />
&#8221; আমার নাম ফজলুল কাদির৷ আমাকে ইয়াসমিন আপা পাঠিয়েছেন৷ &#8221;<br />
&#8220;ওহ আচ্ছা। আসু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-54563"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/54563/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">64149179b006cac3e093f0c5ba55c1c5</guid>
				<title>#ধারাবাহিক
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৩)
~ আবির হাসান সায়েম 

মনে হচ্ছে ভূমিকম্প হচ্ছে। সব কাঁপছে। আমি চোখ মেললাম৷ না সব কাপছে না শুধু আমি কাঁপছি। আইনুল্লাহ আমাকে বারবার কাপাচ্ছেন আর বলছেন,
&quot;ভাই উঠেন ভাই উঠেন। &quot;
আমি চোখ মেলে বললাম,
&quot;কি হয়েছে? &quot;
&quot;ভাই এমডি স্যার আইসেন। আপনের এক আত্মীয় বিচার দিসে। হেয় নাকি আপনের ফোন ভাইঙ্গা ফালাইসে। হাফসা আপার উপরে স্যার অনেক রাগ হইসেন , হের চাকরি মনে হয় আজ চইল্লা যাইবো।&quot;
&quot;আমার আত্মীয়?&quot;
&quot;হ, দুইজন আপা আইসেন। &quot;
&quot;আমাকে একটু ধরেন। ওইখানে নিয়ে চলেন। &quot;
আইনুল্লাহ আমাকে ধরে নামানোর সময় দেখলাম টেবিলের উপর একটা টিফিনক্যারী রাখা।
কেবিনের ঠিক বাইরেই একজন মোটা বেটে কোর্ট -টাই পরা লোক চিল্লাছেন। দেখেই বুঝা যায়, সেই এমডি৷ তার মাথা রগ দাড়িয়ে গেছে। হাফসা মাথা নীচু করে কাদছে৷ পাশে দাড়িয়ে আছে শিলা, ফরিদ এবং আরেকটা মেয়ে। মেয়েটাকে আমি চিনি না, আগে কখনো দেখিনি। মেয়েটার গায়ের রঙটা একটু ময়লা কিন্তু খুব সুন্দর টানা টানা চোখ। প্রথম দর্শনেই চোখ দুটো নজর কাড়ে।
আমি সামনে গিয়ে এমডি স্যারের দিকে তাকিয়ে বললাম,
&quot;আসসালামুয়ালাইকুম স্যার। কি হয়েছে? &quot;
&quot; ওয়ালাইকুম আইস সালাম। তেমন কিছু হয় নি। এই নার্স কি আপনার ফোন ফেলে ভেঙে দিয়েছেন?&quot;
&quot;হ্যা তিনি ভেঙেছেন কিন্ত এতে পুরো দোষ তার না। ইঞ্জেকশন দেয়ার সময় আমি হঠাৎ নড়ে উঠি। যার জন্যে তার হাতে লেগে ফোনটা পরে ভেঙে যায়। &quot;
&quot; তাহলে এইখানে আপনার দোষ আছে?&quot;
&quot;জ্বি স্যার। &quot;
&quot;কিন্তু তারা তো বললেন……
&quot; কোনো একটা মিস আন্ডার্স্টেন্ডিং হয়েছে স্যার। আপনাকে কষ্টের দেয়ার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। &quot;
এমডি সাহেব শিলার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বললেন,
&quot; ফারদার না জেনে শুধুই মানুষকে হেনস্থা করবেন না৷ &quot;
তারপর হাফসার দিকে তাকিয়ে বললেন,
&quot;তুমি এক ঘন্টা পর আমার কেবিনে এসো। &quot;
&quot;জ্বি আচ্ছা স্যার। &quot;
এই কথা বলেই এমডি সাহেব হনহন করে চলে গেলেন। আমি সবাইকে আমার কেবিনে আসতে বললাম। হাফসা বাদে সবাই এলো। দেখলাম ঘড়িতে -১১ঃ২২ am.।
আমি বেডে উঠে বসে বললাম,
&quot;আমি যাকে প্রশ্ন করব শুধু সেই উত্তর দিবে, বাকিরা বোবা সেজে থাকবেন। &quot;
ফরিদকে জিজ্ঞেস করলাম,
&quot;কি হয়েছে ফরিদ বল তো।&quot;
ফরিদ মাথা নীচু করে বলতে শুরু করল,
&quot;আপা আমারে জিজ্ঞাসা করসেন, আপনের ফোনের কি হইসে, আপনের ফোন বন্ধ কেন। এরপর আমি ঘটনাডা কইসি। আমি ভাই মানা করসিলাম কিন্তু আপা হুনা নাই। &quot;
শিলা চিল্লিয়ে বলে উঠল,
&quot; এই তুই কে আমাকে মানা করার? এখনো হাত-পা পেটের মধ্যে, সে আসছে আমাকে মানা করতে। &quot;
আমি ফরিদের দিকে তাকিয়ে বললাম,
&quot;ফরিদ, তুই একটু বাইরে হাটাহাটি কর। নার্স আপাকে একটু আসতে বল। এখনি আসতে বল। &quot;
ফরিদ বাইরে চলে গেলো। আমি শিলার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললাম,
&quot;তোর কি মনে হয় তুই যা করেছিস তা ঠিক করেছিস? &quot;
&quot;হ্যা যা করেছি ঠিক করেছি। &quot;
&quot;না তুই ঠিক করিসনি। রাগ কমা। রাগে মানুষের মাথা কাজ করে না। &quot;
&quot;আমার মাথা ঠিকই কাজ করছে৷ এতো দেবতা সাজার লাগবে না। ভুল করেছে শাস্তি পাবে না? &quot;
&quot; আমার জিনিস ভেঙেছে। ক্ষতি হলে আমার হয়েছে। শাস্তি দরকার হলে আই দিবো। তুই কে? &quot;
&quot;আমি কেও না? &quot; শিলার চোখ ছলছল করছে।
&quot;না তুই কেও না। তুই নার্স আপাকে সরি বলবি। &quot;
&quot;আমি ওই নার্সকে সরি বলব?হেহ&quot;
আমি চিৎকার দিয়ে বললাম,
&quot;হ্যা বলবি।আর তারপর আমার চোখের সামনে থেকে দূর হয়ে যাবি।&quot;
শিলা রক্তবর্ণ চোখে আমার দকে তাকিয়ে আছে।চিৎকারে, শিলার পাশে যে কালো কালো মতো মেয়েটা ছিলো সে খানিকটা আতকে উঠল। হাফসা কেবিনে ঢুকে আমার বেডের সামনে দাড়ালেন। শিলা কিছু না বলেই উঠে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলো। কালো মতো মেয়েটা বুঝছে না কি করবে। আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম,
&quot;ওর সাথে বাসায় যাও। ওর মাথা গরম হয়ে আছে। &quot;
মেয়েটা উঠে গেলো। আমি নার্সের দিকে তাকিয়ে বললাম,
&quot;আপু আপনার রান্নার হাত কিন্তু অসাধারণ। আমি ফরিদ আর ডাক্তার সাহেব তিনজনই পায়েস খেয়ে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি। &quot;
&quot;ওতোটুকু পায়েস তিনজনে খেয়েছেন?&quot;
আমি হেসে বললাম,
&quot; কম খেয়েছি বলেই স্বাদ আরো বেড়ে গেছে৷&quot;
&quot;ভাই আমি আপনের জন্য কালকে রান্না করে আনব। আমার খুব ইচ্ছা আপনেরে খাওয়াবো৷ আপনেরে খাওয়াইলেও একটা শান্তি আছে৷ আপনে খুব ভালো মানুষ। &quot;
&quot;ভালো তো আমরা সবাই। মাঝে মাঝে খারাপ হওয়ার অভিনয় করি। &quot;
দুপুরে আমার আর নুরুলের দারুণ পেট পূজো হলো৷ শিলা খিচুড়ি, ডিমের দোপেয়াজা , আলু ভর্তা, গরুর মাংস রেধে পাঠিয়েছে। আমার ধারণা শিলা নিজ হাতে শুধু গরুর মাংসটাই রেধেছে৷ কারণ বাকিগুলো খেতে অতিসুস্বাদু হলেও গরুর মাংসটা হয়েছে কু-স্বাদু। এক গাদা লবণ, একগাদা লাল মরিচ ঢেলে দিয়েছে।

চলবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/51866/</link>
				<pubDate>Thu, 04 Nov 2021 07:45:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৩)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>মনে হচ্ছে ভূমিকম্প হচ্ছে। সব কাঁপছে। আমি চোখ মেললাম৷ না সব কাপছে না শুধু আমি কাঁপছি। আইনুল্লাহ আমাকে বারবার কাপাচ্ছেন আর বলছেন,<br />
&#8220;ভাই উঠেন ভাই উঠেন। &#8221;<br />
আমি চোখ মেলে বললাম,<br />
&#8220;কি হয়েছে? &#8221;<br />
&#8220;ভাই এমডি স্যার আইসেন। আপনের এক আত্মীয় বিচার দিসে। হেয় নাকি আপনের ফোন ভাইঙ্গা ফালাইসে। হাফসা আপার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-51866"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/51866/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">21ecfc71b743ee20a8a2b9928959ba8b</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১২)
~আবির হাসান সায়েম

আমি চোখ মেললাম। ফরিদ বসে আছে সোফায়। ঘুমুচ্ছে নাকি কে জানে।চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। আমি ডাকলাম,
&quot;ফরিদ, এই ফরিদ। &quot;
ধড়ফড় করে উঠে বলল,
&quot;জ্বি ভাই বলেন। &quot;
&quot;মেয়েটাকে কি চকলেট দিসিলা? &quot;
&quot; হ ভাই দিসি। আপনেরটা টেবিলে রাইখা দিসি। &quot;
&quot;ওহ। ওই চকলেট তুমি খায়া ফালাও। &quot;
&quot;ভাই আপনের কি শরীরডা খারাপ লাগতেসে? &quot;
&quot;না তো।কেনো?&quot;
&quot; আমার বাপজান যখন অসুস্থ হইতো তখন আমারে &#039;তুমি&#039; কইরা ডাকত। &quot;
আমি হাসতে হাসতে বললাম,
&quot; না আমার শরীর ভালো। এখন থেকে তোকে &#039;তুমি &#039;বলেই ডাকব। &quot;
ফরিদ হেসে বলল,
&quot;আইচ্ছা। &quot;
আমি ইয়াসমিন সুলতানা&#039;র দেয়া চিঠিটি খুকে পড়তে শুরু করলাম।
প্রিয় আবীর,
আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে। আমি কিভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না। আমি সাধারণত খুব গুছিয়ে কথা বলি। যারা খুব গুছিয়ে করা বলে তারা গুছিয়ে লিখতে পারে না। আমিও পারি না।
আমি তোমার কাছে এসেছিলাম, কারণ আমি ভেবেছিলাম, তুমি শিলাকে বিয়ে করতে চাও কিন্তু কাওকে বলতে পারছো না। তোমার চোখ দেখে যে কেও বলে দিতে পারবে, তুমি শিলাকে ভালোবাসো। কিন্তু কেনো বারবার মানা করছো তা আমি জানি না।
মূল কথায় আসি - তুমি শুনে খুব অবাক হবে, আমার আর তোমার খালুর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। কিন্তু এই ব্যাপারে কেও কিছুই জানে না৷ আমরা কাওকে জানাইনি, এই কথা জানলে শিলার ভালো জায়গায় বিয়ে দেয়া দূরুহ হয়ে পরবে। শিলার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরপরই আমরা সবাইকে ব্যাপারটা বলব৷
তোমার খুব অবাক লাগছে না? যে মানুষদের কখনো রাগারাগিও করতে দেখলাম না, তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাচ্ছে? কিন্তু কোনো কিছুই এই পৃথিবীতে পরিপূর্ণ হতে পারে না। সংসার যেহেতু আছে তাহলে অবশ্যই ঝগড়া বিবাদ থাকবে৷ যে সংসারে দেখবে আমাদের মতো কোনো ঝগড়া -বিবাদ নেই তখনই ভেবে নিবে তারা নাটকে অভিনয় করছে৷ &#039;ট্রেজেডি&#039;র নাটক৷ একটা বিশেষ সময় পর তারা নাটক বন্ধ করে দিবে৷ দর্শকরা হতভম্ব হয়ে যাবেন। &quot;এ কি হলো, এ কি হলো।&quot;
আচ্ছা ওইসব বাদ থাকুক যেহেতু তুমি শিলাকে বিয়ে করবে না সেহেতু তুমি এমন কিছু কর যাতে নিলয়ের সাথে বিয়েটা হয়ে যায়। নিলয় ভালো ছেলে।
আর আরেকটা কথা, তোমার খালুর কোম্পানির ৪৯% শেয়ার আমার। আমার এই শেয়ারের যে দেখভাল করতেন - ফজলুল কাদির,উনি চারমাস পর রিটায়ার্ড করবে৷ আমি তোমাকে সেই দায়িত্বটা দিতে চাই। দিতে চাই না, তোমাকে দিচ্ছি। আগামীকাল ফজলুল সাহেব অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে তোমার কাছে আসবেন। তুমি সাইন করে দিও।
তুমি তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে উঠো। আমি তোমাকে কতটা স্নেহ করি তা তোমাকে বোঝাতে পারব না।
ইতি,
তোমার খালা -ইয়াসমিন সুলতানা



প্রকৃতি আমাকে নির্মমভাবে আমাকে ডাকছে। দেয়াল ঘড়িতে বাজে -৮ঃ৫০ p.m। আমি উঠে বাথরুমে গেলাম। মিনিট বারো পর বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখি, ডাক্তার সাহেব বসে আছেন।
&quot;আসসালামুয়ালাইকুম স্যার। এই অবেলায় এলেন। &quot;
&quot; আপনাকে দেখতে এলাম। &quot;
&quot; রাউন্ডে এসেছেন? &quot;
&quot; না শুধু আপনাকে দেখতে এসেছি৷ রাউন্ডে এলে তো আমার সাথে কিছু ডাক্তার, কিছু নার্স থাকত। আমি তো এসেছি একা। &quot;
&quot; আমাকে বিশেষভাবে দেখতে আসার কারণটা কি? আমার বড় কোনো রোগ হয়েছে নাকি? ক্যান্সার টাইপের কিছু ?&quot;
ডাক্তার সাহেব হাসতে হাসতে বললেন,
&quot;না না তেমন কিছুই না৷ আজকে হাসপাতালের মসজিদে আপনার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়েছে তা কি আপনি জানেন?&quot;
আমি অবাক চোখে বললাম,
&quot;মানে? আমাকে নিয়ে বিশেষ দোয়া কেনো হবে? &quot;
&quot;তা জানতেই তো আপনার কাছে এসেছি। দোয়ার ব্যাবস্থা করেছে - আইনুল্লাহ। আইনুল্লাহ বলল, আপনি নাকি মহাপুরুষ কাতারের লোক। আইনল্লাহ&#039;র সাথে একজন নার্সও তাকে সমর্থন করল। তাই ভাবলাম আপনার সাথে একটু দেখা করে যাই। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। আমি মহাপুরুষ-টুরুষ কিচ্ছু নই। তারা কেনো এমন ভাবল জানি না। &quot;
কিছুক্ষণ দু&#039;জনই চুপ করে রইলাম। ডাক্তার সাহেব বললেন,
&quot;উঠি তাহলে। &quot;
আমি তার কথার ধার না ধেরে বললাম,
&quot;স্যার আপনি কি গান গাইতে পারেন? &quot;
&quot;গান?&quot;
&quot;হ্যা গান। সঙ্গীত। &quot;
&quot;হালকা পাতলা রবিন্দ্রসংগীত গাওয়ার চেষ্টা করি মাঝে মাঝে। &quot;
&quot; স্যার, &#039; আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে &#039;-গানটা ধরুন তো স্যার। &quot;
ডাক্তার সাহেব ইতস্তত করে বললেন,
&quot; এই সময়ে এইখানে? আমি ডাক্তার মানুষ। হাসপাতালের স্টাফরা কি ভাববেন? &quot;
আমি দৃঢ় স্বরে বললাম,
&quot; হ্যা তা জনি, ডাক্তাররা রোগীর চিকিৎসা করবেন। গান শুনাবে না। না শুনাতে চাইলে সমস্যা নেই। কিন্তু শুনাতে চাইলে, কে কি বলল তাতে তো কিছু যায় আসে না। &quot;
ডাক্তার একটু গলা খাকরানি দিয়ে গান ধরলেন। কি ভরাট গলা। গানের শব্দ শুনে দরজা খুলে কয়েকজন নার্স, ওয়ার্ড বয় ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। ডাক্তার চোখ বন্ধ করে গান গাচ্ছেন৷
&#124;&#124;আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাই নি।
তোমায় দেখতে আমি পাই নি।
বাহির-পানে চোখ মেলেছি, আমার হৃদয়-পানে চাই নি&#124;&#124;

চলবে..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/51408/</link>
				<pubDate>Wed, 03 Nov 2021 05:14:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১২)<br />
~আবির হাসান সায়েম</p>
<p>আমি চোখ মেললাম। ফরিদ বসে আছে সোফায়। ঘুমুচ্ছে নাকি কে জানে।চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। আমি ডাকলাম,<br />
&#8220;ফরিদ, এই ফরিদ। &#8221;<br />
ধড়ফড় করে উঠে বলল,<br />
&#8220;জ্বি ভাই বলেন। &#8221;<br />
&#8220;মেয়েটাকে কি চকলেট দিসিলা? &#8221;<br />
&#8221; হ ভাই দিসি। আপনেরটা টেবিলে রাইখা দিসি। &#8221;<br />
&#8220;ওহ। ওই চকলেট তুমি খায়া ফালাও। &#8221;<br />
&#8220;ভাই আপনের কি শরীরডা খার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-51408"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/51408/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">277cf01cdeb49af43ba9774df6302501</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি (পর্ব -১১)
~ আবির হাসান সায়েম 

বিকেলে আইনুল্লাহ এলেন। পানি ভরতি বালতি আর ঘর মোছার লাঠি নিয়ে ঢুকলেন। সাথে সাথেই পুরো ঘর ভরতি হয়ে গেলো -ফিনাইলের গন্ধে। আমি বলেলাম,
&quot;কেমন আছেন?&quot;
&quot;ভালা আছি ভাই। আমার মাইয়্যাডারে আজকে নিয়ে আসছি। আপনে একটু দোয়া কইরা দেন। &quot;
আমি হেসে বললাম,
&quot; আমি তো পীর -ফকির না। আপনার মেয়ে কোথায়?&quot;
&quot; মাইয়্যাডারে নীচে রাইখ্যা আসছি। মাইয়্যার সামনে ঘর মুছতে আমার কোনো কষ্ট নাই কিন্তু মাইয়্যাডা তো কষ্ট পাইবো। গরিব হইলে কি হইসে, আমাগোও তো মন আছে। &quot;
আইনুল্লাহ&#039;র চোখ দুটি ছলছল করতে লাগল। সে ঘর মোঁছা শেষ করে বেড়িয়ে গেলন। খানিক্ষন পরে একটা ফুটফুটে মেয়েকে নিয়ে ঢুকলেন। মাথা ভরতি কালো চুল। একটা ফুলোয়ালা ফ্রক পরে এসেছে। খুব সুন্দর ফ্রেক। কোনো কোনো পোশাকে মানুষকে এতো মানায় যে মনে হয় পোশাকটা তার জন্যেই বানানো হয়েছে।
&quot;ভাই এইডা আমার মাইয়্যা -খুকুমণি। &quot;
আমি হাতের ইশারায় বললাম, আসো। মেয়েটা এসে আমার বেডের পাশের টুলে বসল। আইনুল্লাহ সাথে সাথে চিৎকার করে বলল,
&quot;এই বেয়াদব মাইয়্যা।ভাইয়ের পা ধইরা সালাম কর। &quot;
মেয়েটি আমার পায়ে&#039;র কাছে যেতেই আমি পা গুটিয়ে নিয়ে বললাম, এই এই থামো থামো। এরপর আইনুল্লাহ&#039;র দিকে তাকিয়ে রাগি গলায় বললাম, এইসব আমি পছন্দ করি না। দোয়া এমনেই করব।পা ধরার লাগবে কেনো?
আইনুল্লাহ খানিকটা নীচু গলায় বললেন, আমরা গরিব মানুষ। আমাগোর মন ছোট। কিন্তু আমরা গরিবরা ভালা মানুষের কদর করতে জানি। বড়লোকেরা তা করতে জানে না।
ফরিদ এতোক্ষন সোফায় বসে চুপচাপ নামতা পড়ছিলো। আইনুল্লাহ&#039;র কথা শুনে বলে উঠল, একদম ঠিক কইসেন চাচা।
আইনুল্লাহ ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
মেয়েটা আবার টুলে এসে বসেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম,
&quot;তুমি কেমন আছো?&quot;
&quot;ভালো।আপনি কেমন আছেন? &quot;
&quot;আমিও ভালো আছি। তোমার নাম কি?&quot;
&quot;আপনি তো অনেক বোকা। আব্বা না একটু আগে বললেন। &quot;
&quot;ওহ হ্যা তাই তো। আমি তাহলে আসলেই বোকা। &quot;
মেয়েটা হিহি করে হাসছে। এই হাসিতে কোনো কৃত্রিমতা নেই। নেই কোনো অভিনয়। এই প্রাচুর্যের পৃথিবীতে সবচেয়ে অভাব এই দূর্লভ জিনিস -নির্মল হাসি। অভিনয়ের হাসি হাসতে হাসতে, বাস্তব হাসির কথাই মানুষ ভুলে গেছে।
আমি বললাম,
&quot;তুমি কোনো ক্লাসে পড়? &quot;
&quot;ক্লাস ফাইভে। &quot;
&quot;তুমি ছড়া বলতে পারো?&quot;
&quot;হ্যা পারি।&quot;
&quot;আমাকে একটা ছড়া শুনবে?&quot;
&quot;শুনাবো। কিন্তু কোনটা?&quot;
&quot; কি কি পারো তুমি? &quot;
&quot; আমি হব,বীরবল, দেশদেশান্তর, ছুটি, শুভেচ্ছা….বাকিগুলা মনে নাই। &quot;
&quot;তুমি হুমায়ুন আজাদের &#039;শুভেচ্ছা&#039; কবিতা পারো?&quot;
&quot;হু পারি। গত বছর স্কুলের এক অনুষ্ঠানে আবৃতি করছিলাম। দ্বিতীয় হয়েছিলাম। &quot;
&quot;আচ্ছা। তাহলে এইটাই শুনাও। &quot;
খুকুমণি দম নিয়ে শুরু করল।আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছি। মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে মেয়েটা আবৃতি করছে। আমি দেখলাম,ফরিদও মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।
শুভেচ্ছা –
লিখেছেন হুমায়ুন আজাদ
ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা
ভালো থেকো পাখি, সবুজ পাতারা
ভালো থেকো চর, ছোটো কুঁড়েঘর, ভালো থেকো।
ভালো থেকো চিল, আকাশের নীল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো পাতা, নিশির শিশির
ভালো থেকো জল, নদীটির তীর
ভালো থেকো গাছ, পুকুরের মাছ, ভালো থেকো
ভালো থেকো কাক, ডাহুকের ডাক, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মাঠ, রাখালের বাঁশি
ভালো থেকো লাউ, কুমড়োর হাসি
ভালো থেকো আম, ছায়াঢাকা গ্রাম, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ঘাস, ভোরের বাতাস, ভালো থেকো।
ভালো থেকো রোদ, মাঘের কোকিল
ভালো থেকো বক, আড়িয়ল বিল
ভালো থেকো নাও, মধুমাখা গাঁও, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেলা, লাল ছেলেবেলা, ভালো থেকো।
ভালো থেকো, ভালো থেকো, ভালো থেকো।
আবৃতি শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমি আর ফরিদ তালি দিতে শুরু করলাম। আমি ভুলে গেলাম, আমার হাতে ক্যানোলার লাগানো। কই ব্যাথা করছে না তো। পরম সুখ শারীরিক কষ্টকে ভুলিয়ে দেয়। মেয়েটাও আমাদের সাথে হাত তালি দিচ্ছে। মেয়েটার চোখ জ্বলজ্বল করছে। আমি বললাম,
&quot; খুব ভালো আবৃতি করেছো। খুব ভালো।ভেরি গুড। &quot;
ফরিদও বলল,
&quot;হ, খুব ভালো। খুব ভালো ভেরি গুড। তয় ভাই, ওরে একটা &#039;উপহার &#039;দেয়া লাগে না?&quot;
&quot;হ্যা তাই তো।&#039;উপহার&#039; তো দেয়া লাগে। ফরিদ দৌড়ে গিয়ে ছয়টা চকলেট নিয়ে আয়। ভালো চকলেট। &quot;
&quot;ছয়ডা চকলেট কেন ভাই?&quot;
&quot; আমি তালি বাজিয়েছি তাই আমার একটা। তুই তালি বাজিয়েছিস আবার &#039;উপহার&#039;র কথা বলেছিস তাই তোর দুইটা। আর খুকুমণি সবচেয়ে কঠিন কাজটি করেছে তাই তার তিনটা। &quot;



ফরিদ সাথে সাথেই উঠে গেলো। ফরিদের প্রস্থানের কিছুক্ষণ পর সেই বিশালবক্ষা নার্সটা ঢুকল।
&quot;কেমন আছেন ভাই?&quot;
&quot;এইতো আপু আছি। &quot;
খুকুমণির দিকে তাকিয়ে নার্সটি বললেন,
&quot;আরে খুকুমণি নাকি!কখন আসলা?&quot;
&quot;একটু আগে।&quot;
তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
&quot;ভাইয়্যা আপনার এন্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন দেয়ার সময় হয়ে গেছে।&quot;
&quot;ওহ আচ্ছা।&quot;
নার্সের এক হাতে ঔষধের প্যাকেট আরেক হাতে একটা ছোট্ট বাটি। বাটিটা আমার পাশের টেবিলা রাখতে রাখতে বললেন,
&quot; আপনার জন্যে সামান্য একটু পায়েস রেধে আনসি। &quot;
&quot; ভালো করেছেন। পায়েস আমার খুব পছন্দ। আপু আপনার নামটা কি?&quot;
&quot;জ্বি আমার নাম হাফসা।&quot;
&quot; আমি পায়েস অবশ্যই খাবো এবং অবশ্যই আপনাকে জানাবো কেমন হয়েছে খেতে। আমি আবার খাবারের বিষয়ে খুব খুতখুতে ৷ ভালো না লাগলে, মুখের উপর বলে দেই।&quot;
হাফসা হাসতে হাসতে বললেন,
&quot;আচ্ছা ঠিক আছে বলবেন। &quot;
এন্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশনের একটা কুফল হলো প্রচন্ড ঘুম আসে। ঘুমে আমার চোখের পাপড়ি ভারী হয়ে যাচ্ছে।
আমি ঘুম থেকে উঠি নি, আমার ব্রেন সচল হয়ে গেছে। আচ্ছা মেয়েটা কি চকলেট পেয়েছিলো? নাকি ফরিদ আসার আগেই আইনুল্লাহ মেয়েটাকে নিয়ে গেছে? অযথা চিন্তা করা ব্রেনের একটা বদভ্যাস।

চলবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/49831/</link>
				<pubDate>Sun, 31 Oct 2021 01:24:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব -১১)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>বিকেলে আইনুল্লাহ এলেন। পানি ভরতি বালতি আর ঘর মোছার লাঠি নিয়ে ঢুকলেন। সাথে সাথেই পুরো ঘর ভরতি হয়ে গেলো -ফিনাইলের গন্ধে। আমি বলেলাম,<br />
&#8220;কেমন আছেন?&#8221;<br />
&#8220;ভালা আছি ভাই। আমার মাইয়্যাডারে আজকে নিয়ে আসছি। আপনে একটু দোয়া কইরা দেন। &#8221;<br />
আমি হেসে বললাম,<br />
&#8221; আমি তো পীর -ফকির না। আপনার মেয়ে কোথায়?&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-49831"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/49831/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6a982afc0aecc8a66061e1057e1061c2</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১০)
~ আবির হাসান সায়েম 

ডাক্তার সাহেব আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আমার গলায় এখনো ব্যাথা করছে, কোনো কথা বের হচ্ছে না গলা দিয়ে। ঘন্টা দেড়েক আগে একজন নার্স একটা হুইলচেয়ার নিয়ে এসে বললেন,
&quot;স্যার এন্ডোস্কপি করতে যেতে হবে। &quot;
&quot; টেস্ট কি খালি পেটে করতে হবে?&quot;
&quot;জি স্যার। &quot;
&quot; হুইলচেয়ার লাগবে না। আমি হেঁটে যেতে পারব।&quot;
&quot;না স্যার, আমাদের নিয়ম আছে। রোগীকে হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যেতে হবে। &quot;
আমি বেশি কথা না বাড়িয়ে হুইল চেয়ারে বসে পরলাম। দেখলাম আমার আগে আরোও দু&#039;জন এসে বসে আছেন। ১৫ মিনিট পর পর একেকজনকে ডেকে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ৩০ মিনিট পর আমারও ডাক এলো। একজন এসে আমাকে ঠেলে ভিতরে নিয়ে গেলো। রুমটায় বমির গন্ধ মনে হচ্ছে কেও কিছুক্ষন আগে বমি করে গেছে। আমারে একটা চেয়ারে বসানো হলো। ডাক্তার বললেন,
&quot; মুখ হাঁ করে উপরের দিকে তাকান।&quot;
আমি মুখ হাঁ করে উপরের দিকে তাকালাম। একটা লাইট আমার মুখের উপর জ্বলছে । নার্স ডাক্তারকে একটা পাইপের মতো কি যেনো দিলেন। ডাক্তার আমার মুখ দিয়ে পাইপটা আসতে আসতে ঢুকিয়ে দিলেন। আমার পেট উল্টে বমি আসছিলো। কি সাংঘাতিক।
ডাক্তার সাহবেকে ফ্যাসফ্যাসে গলায় জিজ্ঞেস করলাম,
&quot;স্যার আমাকে ছুটি হবে কবে?&quot;
&quot;আপনি বাসায় যাবার মতো এখনো স্টেবল নন। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। আনুমানিক আর কয়দিন থাকতে হনবে?&quot;
&quot;কমপক্ষে আরও দুই-তিনদিন। &quot;
&quot;আচ্ছা স্যার আমার কেবিনটা কি পাল্টানো যায়। ঘরটা খুব অন্ধকার। একটা জানালাও নেই৷ &quot;
&quot;আমি রিসিপশনের বলে যাচ্ছি যদি কেবিন খালি থাকে তাহলে আপনাকে জানানো হবে৷ &quot;
&quot;জি আচ্ছা স্যার। &quot;
ডাক্তার সাহেব চলে গেলেন। আমি যে ডাক্তারের আন্ডারে চিকিৎসা নিচ্ছি তার নাম -সোলেমান বিন কাদের। বয়স ৫০/৫১ হবে৷ চুল অর্ধেকের বেশি পেকে গেছে। এমনিতেই একটু খাটো, তার উপর একটু কুজো হয়ে হাটেন। ফরিদ আর ডাক্তার সাহেবকে পাশাপাশি দাঁড় করালে, ফরিদ ডাক্তারের থেকে দুই আঙ্গুল উঁচু হবে। কিন্তু ডাক্তার সাহেবের কন্ঠস্বর খুব ভারী। ভরাট গলা। এই গলায় রবীন্দ্র সংগীত খুব মানাবে। ডাক্তার সাহেব কি কখনো গান করেছেন। একবার জিজ্ঞেস করা যেতে পারে।
দুপুরের খাবার খেয়ে মাত্র হাত ধুয়ে বিছানায় শুয়েছি, এই সময় ঘরে ঢুকলেন শাহিন চৌধুরী ও ইয়াসমিন সুলতানা (শিলার মা-বাবা)। আমি একটু উঠে বসলাম। ফরিদ দৌড়ে গিয়ে দুইজনকে পা ধরে সালাম করল। শাহিন চৌধুরী ফরিদকে তুলে নিয়ে বললেন,
&quot; থাক থাক থাক। কেমন আছিস। &quot;
ফরিদ হেসে বলল,
&quot; ভালা আছি। &quot;
শাহিন চৌধুরী ও ইয়াসমিন সুলতানা সোফায় এসে বসলেন। আমি বললাম,
&quot;আসসালামুয়ালাইকুম। কেমন আছেন খালা-খালু?&quot;
তারা দু&#039;জনই বললেন,
&quot;ভালো। &quot;
শহিন চৌধুরী বললেন,
&quot;তুমি শুনলাম দুই রোগ এক লগে বাধায়া বসছো?&quot;
আমি হাসলাম কিছু বললাম না। ইয়াসমিন সুলতানা বললেন,
&quot;রোগ হবে না তো কি হবে। একা থাকে। কি খায় না খায়। কতবার বললাম,আমাদের সাথে এসে থাকো। কোনো কথাই শুনো না তুমি। এখন কে কষ্ট পাচ্ছে?&quot;
শাহিন চৌধুরী বললেন,
&quot;আরে থামো তো। বেছারা এমনেই অসুস্থ। এখন কি রাগ কইরা কোনো লাভ আছে?&quot;
শাহিন চৌধুরী আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
&quot; ডাক্তার সাহেব কি বলেছেন? &quot;
&quot;তিনি বলেছেন, কমপক্ষে আরও দুই -তিনদিন থাকতে হবে। &quot;
&quot; একেবারে সুস্থ হয়ে যাওয়াই ভালো। আমরা কিন্তু এসেছিলাম যেদিন রাতে তোমার জ্ঞান ফিরল, সেইদিন বিকালে।&quot;
&quot;হ্যা। শিলা বলেছিলো। &quot;
&quot;ভালো কথা। শিলার বিয়ে ঠিক হয়া গেছে তা তুমি জানো? &quot;
&quot; হ্যা আমাকে বলেছে। &quot;
&quot; হঠাৎ রাজি হয়ে গেলো। মেয়েটা এমন হয়েছে। কোন সময় যে কি করে বলা মুশকিল। আজকে নিলয়ের সাথে দেখা করতে যাইবার কথা। &quot;
আমি কিছুই বললাম না। মুচকি হাসলাম। শাহিন চৌধুরীকে বেশ উচ্ছ্বসিত মনে হচ্ছে। তার মুখে হাসি। কিন্তু ইয়াসমিন সুলতানা মুখ গম্ভীর করে বসে আছেন। শাহিন চৌধুরী উঠতে উঠতে বললেন,
&quot;আমি একটু বিলিং কাউন্টারে যাচ্ছি। তোমরা গল্প কর। &quot;
বলেই সে চলে যাচ্ছিলেন। ইয়াসমিন সুলতানা ফরিদকে বললেন,
&quot;তুইও তোর চাচার(ফরিদ শাহিন চৌধুরী কে &#039;চাচা&#039; বলে সম্বোধন করে) সাথে যা।&quot;
ফরিদ অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠে গেলো।
ইয়াসমিন সুলতানা উঠে আমার খাটের পাশে এসে বসলেন।
&quot;আবির, শিলা তোমাকে বিয়ের ব্যাপারে বলেছে?&quot;
&quot;হ্যা খালা বলেছে। &quot;
&quot;কি বলেছে? &quot;
&quot;সে বলেছে নিলয়ের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। &quot;
&quot; সে কি বলেছে যে, বিয়েটা সে একদমই করতে চায় না? বিয়ের আগেরদিন সে পালিয়ে যাবে?&quot;
&quot; বিয়ে করতে চায় না, তা বলেছে কিন্তু পালিয়ে যাবে এমন কিছু তো বলে নি। &quot;
&quot;তোমার এইখানে শিলা কবে আসবে? &quot;
&quot; আগামীকাল আসবে হয়তো। &quot;
&quot;তাহলে কালকে মনে হয় তোমাকে বলবে। &quot;
&quot;আপনাকে শিলা নিজে বলেছে, সে পালিয়ে যাবে?&quot;
&quot;না আমি ধারণা করছি। এমনি আকাশে ঢিল ছুড়ছি না। এইরকম ধারণা করার যথার্থ কারণ আছে। &quot;
&quot;কারণটা কি জানতে পারি খালা? &quot;
&quot;অবশ্যই পারো। কিন্তু আগে কিছু প্রশ্নের উত্তর দাও। &quot;
&quot;কি প্রশ্ন? &quot;
&quot; শিলা তোমাকে খুব পছন্দ করে তা কি তুমি জানো?&quot;
&quot;হ্যা জানি। &quot;
&quot; তুমি কি ওকে পছন্দ করো?&quot;
&quot; হ্যা করি। আপনিও আমাকে পছন্দ করেন। আমিও আপনাকে পছন্দ করি, শ্রদ্ধা করি।শিলা আমার খুব ভালো বন্ধু, তাকে পছন্দ না করার তো কোনো কারণ দেখছি না। &quot;
&quot;দেখো আবির। তুমি ভালো করেই বুঝতে পারছ আমি কেমন পছন্দের কথা বুঝাচ্ছি। না বুঝলে থাক। আমি সোজাসুজি প্রশ্ন করছি। তুমি কি শিলাকে ভালোবাসো?&quot;
&quot;খালা, ভালোবাসা তো অনেকরকমের। আপনি কোন ভালোবাসার কথা বলছেন বুঝতে পারছি না। &quot;
ইয়াসমিন চৌধুরী শব্দ করে হেসে উঠেলেন যেনো খুব হাসির কোনো কথা শুনলেন।
&quot;তুমি বুঝতে পারছো না কি রকম ভালোবাসার কথা জিজ্ঞেস করছি? বুঝেও না বুঝার অভিনয় না করে উত্তর দাও। &quot;
&quot;জি বোন হিসেবে ভালোবাসি। &quot;
&quot;আর কিছু না? &quot;
&quot;না আর কিছু না। &quot;
&quot; ঠিক আছে। কিন্তু তুমি ঘামছো কেনো? তুমি কি জানো,মিথ্যা বললে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়। ব্লাড প্রেশার বেড়ে গেলে মানুষ ঘামতে থাকে। &quot;
ইয়াসমিন চৌধুরী আমার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছেন। আমি মৃদু স্বরে বললাম,
&quot;ওহ আচ্ছা। &quot;
&quot;তুমি কি জানো শিলা ডায়েরি লিখে?&quot;
&quot;হ্যা জানি। &quot;
&quot; তুমি অসুস্থ হবার পর প্রথম কয়দিন, শিলা যখন হাসপাতালে ছিলো তখন আমি ওর ডায়েরি পড়েছি। প্রায় তিনশত পৃষ্ঠার ডায়েরি এক রাতে শেষ করেছি। শিলা এতো সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারে তা জানতাম না। সে তোমাকে পছন্দ করে তা জানতাম। কিন্তু পছন্দের মাত্রা এতো প্রবল তা ডায়েরি না পড়লে জানতাম না। &quot;
&quot; কারো ডায়েরি লুকিয়ে পড়া কি অপরাধ না? &quot;
&quot;হ্যা অনেক বড় অপরাধ। কিন্তু আমি মা। মা&#039;য়েদের অনেক কিছুই করতে হয়। কাল রাতে যখন শিলা ঘুমিয়ে ছিলো তখন আমি আবার ওর ডায়েরিটা পড়ি। সেখান থেকেই জানতে পারি, নিলয়ের সাথে বিয়েতে সে রাজি না। &quot;
আমি গম্ভীর মুখে তার দিকে তকিয়ে আছি। তিনি আবার শুরু করলেন,
&quot;ও বিয়ে ভেঙে দিতে পারছে না কারণ নিজেই রাজি হয়েছে। তাই আমার ধারণা সে বিয়ে থেকে পালাবে। &quot;
&quot;সে আত্মহত্যাও তো করতে পারে। পালাবে এইটা আপনি বুঝলেন কি করে?&quot;
ইয়াসমিন সুলতানা ঈষৎ হেসে বললেন,
&quot; শিলা একটু জেদী হলেও আত্মহত্যা করার মতো সাহস ওর নেই। &quot;
&quot; ওহ আচ্ছা। এখন আমি কি করতে পারি?&quot;
&quot;দেখো, আবীর আমি তোমাকে খুব বেশি পছন্দ করি। তোমাকে নিজের ছেলের চোখে দেখি। তোমার কাছে একট অনুরোধ, তুমি যদি শিলাকে ভালোবাসো তাহলে বল। আমি তোমাদের বিয়ের ব্যবস্থা করব। আর যদি না ভালোবাসো তাহলে শিলাকে বুঝিয়ে বল। আমার একমাত্র মেয়ে একটা অনিশ্চয়তার সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে, আমি সব জেনে কিভাবে……..
ইয়াসমিন সুলতানা কেদে ফেললেন। আমি কিছুক্ষণ পর বললাম,
&quot; আমি কাল শিলাকে বুঝিয়ে বলব। আপনি চিন্তা করবেন
না। &quot;
ইয়াসমিন সুলতানা আঁচল দিয়ে চোখ মুছে এক হেসে বললেন,
&quot;আমার বাবা পঞ্চাশউর্ধ্ব বয়স। মানুষের মনে কি চলছে তা হালকা হলেও আচ করতে পারি। তুমি শিলাকে ভালোবাসো তা আমি জানি। কিন্তু কেনো বারবার মানা করছ। তা বুঝতে পারছি না। &quot;
&quot; আমি বলব। কিন্তু আজ না। কিছু কথা সবসময় বলা যায় না।কিছু কথা বলার জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি প্রয়োজন। &quot;
ইয়াসমিন সুলতানা একটু ইতস্তত করে বললেন,
&quot; তোমার সাথে আরেকটা কথা ছিলো। কিভাবে বলব বুঝতে পারছি না। পরে ফোন দিয়ে কথাটা বলবনে।&quot;
&quot;খালা আমার ফোন ভেঙে গেছে। &quot;
&quot;সে কি! তাহলে তো এখনই বলতে হবে। আচ্ছা শোনো…..
তার কথা শেষ করার আগেই আমি বললাম,
&quot; খালা আমার মাথাটা ঝিমঝিম করছে। কথা শুনতে ইচ্ছে করছে না। ওইযে ওইখানে একটা খাতা কলম আছে। লিখে রেখে যান। আমি কিছুক্ষন শুয়ে থাকব।&quot;
&quot;আচ্ছা লিখে রেখে যাচ্ছি। রাতেই পড়ে ফেলো। &quot;
আমি শুয়ে আছি। মাথায় একটা ভোঁতা ব্যাথা শুরু হয়েছে। ইয়াসমিন সুলতানা খচখচ করে লিখেই যাচ্ছেন। একটু থামছেন আবার লিখছেন। মিনিট পনেরো পরে, লেখা বন্ধ হলো। আমি বুঝতে পারছি, ইয়াসমিন সুলতানা উঠে চলে যাচ্ছেন। আমি চোখ মেললাম না।

চলবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/49430/</link>
				<pubDate>Fri, 29 Oct 2021 23:07:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১০)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>ডাক্তার সাহেব আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আমার গলায় এখনো ব্যাথা করছে, কোনো কথা বের হচ্ছে না গলা দিয়ে। ঘন্টা দেড়েক আগে একজন নার্স একটা হুইলচেয়ার নিয়ে এসে বললেন,<br />
&#8220;স্যার এন্ডোস্কপি করতে যেতে হবে। &#8221;<br />
&#8221; টেস্ট কি খালি পেটে করতে হবে?&#8221;<br />
&#8220;জি স্যার। &#8221;<br />
&#8221; হুইলচেয়ার লাগবে না। আমি হেঁটে যেতে পারব।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-49430"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/49430/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0c1722b6c1e93985a049af5a2aa17e0e</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৯)
~আবির হাসান সায়েম 

ফরিদ হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরে ঢুকল। তার চুল ভেজা। ঘাম ঝরে পরছে মাথা থেকে। সে এসে সোফায় বসল।
&quot;এই তোর মাথা ভিজা কেনো? ঘামে তো একদম চুপসে গেছিস। যা হাত -মুখ ধুঁয়ে আয়। কাপড় পাল্টে নে। ঠান্ডা লেগে যাবে তো। &quot;
ফরিদ বাধ্য ছেলের মতো উঠে গেলো। হালকা ক্ষুধা অনুভূত হচ্ছে। আমি ঘড়িতে দেখলাম 9 p.m। থাক ক্ষুধাটা একটু জমুক। দশটার সময় খাবার দিতে বললেই হবে। নীচে একটা ক্যান্টিন আছে কিন্তু রোগীর খাবার হাসপাতাল থেকেই দেয়া হয়৷ বলার দশ মিনিটের মধ্যেই একটা লোক বড় ট্রেতে করে খাবার নিয়ে আসে। লোকটা মাথায় একটা জালি পড়ে থাকে আর গায়ে থাকে ফরমাল শার্ট। সবকিছুতেই রাজকীয় একটা ছাঁপ। শুধু খাবারটাতেই ছাঁপটা নেই।
ফরিদ এসে নিজ জায়গায় বসল।
“ফরিদ তোর ক্ষিধে পেয়েছে? ”
&quot;হ অল্প অল্প পাইসে। &quot;
&quot;অল্প পেলে থাক। একটু পরেই খাওয়া যাবে। ক্ষুধাটা বাড়লে খেতে ভাল্লাগবে। &quot;
&quot;আইচ্ছা। &quot;
&quot;ফরিদ খাবার তো শুধু আমার জন্য দিবে। তুই একটু বলে আয় যাতে একটা খাবার বেশি দেয়া হয়। &quot;
&quot;শিলা আপা বইল্লা দিয়া গেসে। আবার কইতে হইব?&quot;
&quot; না আর বলতে হবে না। আচ্ছা এইবার বল তোকে যা যা গুনতে বলেছিলাম গুনেছিস?&quot;
&quot; হ গুনসি। আমরা অহন নয় তালায় আছি। প্রত্যেক সিঁড়িতে সাতডা কইরা খাঁপ আছে। &quot;
&quot;এই হাসপাতাল কয়তলা গুনিস নি?&quot;
&quot;জ্বে না ভাই। বাইরে বৃষ্টি হইতাসিলো। উপরে তাকায়া গুনতে পারি নাই। চউক্ষে পানি ঢুইক্কা যায়। &quot;
&quot; বৃষ্টি কি বেশি হচ্ছে না কম?&quot;
&quot; একদম হালকা হইতাসে। &quot;
&quot; ফরিদ তুই কি একটা গান শুনেছিস কখনো? &#039;আজ এই ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে &#039;। &quot;
&quot;হ আপার ঘরে কেসেটপ্লেয়ারে প্রায়ই এই গান বাঁজে। &quot;
&quot;হ্যাঁ শিলার খুব প্রিয় গান এইটা। &quot;
&quot;ভাই খিদা লাগসে। &quot;
&quot; শুধু শুধু কাওকে এই সামান্য কাজের জন্য ডাকব? তুই একটু বলে আয়। &quot;
ফরিদ উঠে গেলো।
আজকের খাবারটা খুব ভালো লেগেছে। ভাত, রুই মাছ দিয়ে আলু-পটল তরকারি, সবজি আর ডাল। ফরিদের এখনো খাওয়া শেষ হয় নি। প্রথমে সে কাঁটা চামচ দিয়ে খাওয়ার ব্যার্থ চেষ্টা করেছিলো, শেষে চামচ বাদ দিয়ে হাত দিয়েই খাওয়া শুরু করেছে।
আমি শুয়ে আছি পেটে হালকা ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে। বাথরুমে গিয়েছে দুইবার তাও ব্যাথা কমছে না। নার্স ইঞ্জেকশন নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। এই শিফটে একজন বিশাল বক্ষা নার্স ডিউটি করছেন।
আমি চোখ বন্ধ করে আছি, নার্স ঔষধ মিলাচ্ছেন। হঠাৎ একটা শব্দ হলো। আমি চোখ মেললাম। নার্স আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে রাজ্যের ভয়। আমার কিছু বুঝে উঠার আগেই ফরিদ গলা উচিয়ে বলল,
&quot;এইডা আপনে কি করলেন? &quot;
আমি মেঝেতে তাকিয়ে দেখি, আমার ফোনে পরে আছে। টুকরো টুকরো হয়ে গেছে৷ নার্স ভয়ার্ত কন্ঠে বলল,
&quot;আমি আসলে ইচ্ছে করে করিনি। ঔষধটা রাখতে গিয়ে পরে গেছে। আমি আসলে….. &quot;
আমি বললাম,
&quot; না না আপু। আমি বুঝতে পেরেছি। ভুল মানুষদের দিয়েই হয়।
সমস্যা নেই। &quot;
&quot;বিশ্বাস করুন আমি আসলে… &quot;
&quot; বললাম তো আপু সমস্যা নেই। আপনি ইঞ্জেকশনটা দিন। আমার ব্যাথা ক্রমশ বাড়ছে। &quot;
নার্স ইঞ্জেকশনটা দিয়ে, সংকিত মুখে চলে গেলো।
ফরিদ বলল,
&quot;আপনে কিছু কইলে না কেন?&quot;
&quot; কিছু বলে কি হবে জিনিস ফিরে আসবে? &quot;
&quot;না ফিরলেও কিছু কইবেন না আপনে? &quot;
আমি হেঁসে বললাম,
&quot;আমার খুব ঘুম পাচ্ছে ফরিদ। আমি ঘুমালাম। তুইও ঘুমা। &quot;
আমি চোখ বন্ধ করলাম। ঘুমে তলিয়ে যাচ্ছি। ব্রেন এখনো সচল আছে। আচ্ছা মানুষের মৃত্যুর পর ব্রেন কতক্ষন সচল থাকে? জানা নেই আমার। জানাটা খুব দরকার।

চলবে.…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/48135/</link>
				<pubDate>Tue, 26 Oct 2021 00:53:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৯)<br />
~আবির হাসান সায়েম </p>
<p>ফরিদ হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরে ঢুকল। তার চুল ভেজা। ঘাম ঝরে পরছে মাথা থেকে। সে এসে সোফায় বসল।<br />
&#8220;এই তোর মাথা ভিজা কেনো? ঘামে তো একদম চুপসে গেছিস। যা হাত -মুখ ধুঁয়ে আয়। কাপড় পাল্টে নে। ঠান্ডা লেগে যাবে তো। &#8221;<br />
ফরিদ বাধ্য ছেলের মতো উঠে গেলো। হালকা ক্ষুধা অনুভূত হচ্ছে। আমি ঘড়িতে দেখলাম 9 p.m।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-48135"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/48135/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c7df780cb1d98bba440e87682adafbcc</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৮)
~ আবির হাসান সায়েম 

ফরিদ সোফায় বসে জ্যামিতি বক্স খুলে দেখছিলো। আমি বললাম,
&quot;ফরিদ, আমরা এখন কততম তোলায় আছি? &quot;
&quot; জানি না তো ভাই। &quot;
&quot;তুই গুনতে পারিস?&quot;
&quot;হ গুনতে পারি। &quot;
&quot;ভেরি গুড। তাহলে একটা কাজ কর। সিড়ি বেয়ে নীচে যা, দেখ কত তোলা উপরে আছি আমরা। তারপর নীচে যাওয়ার পর গুনবি পুরো বিল্ডিংটা মোট কয়তলা। তারপর উপরে উঠে আসার সময় গুনবি প্রতিটা সিড়িতে কয়টা করে থাক থাক আছে? এইটাই তোর আজকের পড়া। পারবি না? &quot;
ফরিদ কিছু না বলে উঠে পরল। তার চোখে চাপা আনন্দ। প্রথমদিনের পড়া মনে হচ্ছে তার বেশ পছন্দ হয়েছে৷
আমি ফোন নিয়ে শিলার নাম্বার ডায়াল করলাম।
&quot;হ্যালো শিলা। &quot;
&quot; হ্যা, আবির। কেমন আছিস? &quot;
&quot;খুব ভালো। একটু আগে ফুটবল খেলে এলাম, শরীরটা ক্লান্ত তাই শুয়ে আছি। &quot;
&quot;ঠাট্টা করবি না আবির। সবসময় ঠাঁট্টা ভালোলাগে না। &quot;
&quot;আচ্ছা করব না। &quot;
&quot;তুই আমার চিঠি পড়েছিস? &quot;
&quot;হ্যাঁ পড়েছি। তোর চিঠিতে কিছু সমস্যা আছে। যেমন তুই প্রথম সম্বোধন করেছিস শুধু &#039;আবির&#039; দ্বারা। তুই &#039;প্রিয় আবির&#039; লিখিস নি তারপর…….
আমার কথা শেষ করার আগে শিলা কঠিন গলায় বলল,
&quot;দেখ ফরিদ, এখন আমি ঠাঁট্টা সহ্য করার মতো অবস্থায় নেই। আরেকবার ঠাট্টা করলে আমি ফোন রেখে দিবো। এরপর শতবার কল দিলেও আমি ধরব না। &quot;
&quot; আচ্ছা। আমি পড়েছি তোর চিঠি। তুই কি খালাকে না খালুকে বলেছিস যে, তুই আসলে ভুলে বলে ফেলেছিস?
&quot;না বলি নি। কাওকেই কিছু বলি নি। বললেও কোন লাভ হবে না। এতোগুলো মানুষের সামনে আমি &#039;হ্যাঁ&#039; বলেছি।কেওই আমার কথা শুনবে না। &quot;
আমি খানিক্ষন চুপ থেকে বললাম,
&quot;তুই নিলয়ের সাথে কালকে দেখা কর। তারপর ওকে বুঝিয়ে বল, যে তুই এখন প্রস্তুুত না। নিজের পাঁয়ে দাঁড়ানোর পর বিয়ে করবি। এতে তুই হাতে কিছুটা হলেও সময় পেয়ে যাবি। আর আমার মনে হয় না, নিলয় এতে আপত্তি জানাবে। &quot;
&quot;আচ্ছা তাহলে তাই করব। তোর কি জ্বর এসেছিলো আবার?&quot;
&quot;না এখন শরীরটা বেশ ভালোই আছে। &quot;
&quot; বাবা -মা কালকে তোকে দেখতে যাবেন। ফরিদ কোথায়, কি করে ও?&quot;
&quot; ফরিদকে হাসপাতালের সিঁড়ি গুনতে পাঠিয়েছি। &quot;
&quot;মানে? &quot;
&quot;তুই এলে বুঝিয়ে দিবো। টেনশন করিস না ও বেশ ভালো আছে। তুই করে আসবি হাসপাতালে? &quot;
&quot;জানি না। এখনো ভাবিনি। &quot;
&quot; শিলা আমার খিঁচুড়ি খেতে ইচ্ছে করছে। আমার জন্য রেঁধে নিয়ে আসবি?&quot;
&quot; তুই জানিস না, আমি রাঁধতে পারি না? &quot;
&quot;কাল এবং পরশু দুইদিন সময় দিলাম তুই রাঁধা শিখবি। খিঁচুড়ি সাথে ডিম ভাজি আর আলু ভর্তা। আলু ভর্তায় ঝাল দিস না। এক চামচ ঘি ঢেলে দিবি উপরে। &quot;
&quot; কেন শিখতে যাবো তোর জন্য? কেনো রাঁধব৷ আমি পারব না।&quot;
আমি শিলার কথা কান না দিয়ে বললাম
&quot;ওহ বলতে ভুলেই গিয়েছি। আরকটা জিনিস লাগবে । &quot;
&quot;কি জিনিস?&quot;
&quot; শিলা চৌধুরীকে লাগবে। &quot;
&quot;তাই না? &quot;
&quot;হ্যাঁ তাই। চলে আসিস উইথ খিঁচুড়ি। &quot;
শিলা হাসতে হাসতে বলল,
&quot;আচ্ছা রাখি। ভালো থাক। &quot;
শিলার মনে যে ভালো হয়ে গেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আচ্ছা মানুষের মন ভালো করে দিলে কি সোয়াব হয়? কোনো এক হুজুরকে জিজ্ঞেস করতে হবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/47474/</link>
				<pubDate>Sun, 24 Oct 2021 03:32:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৮)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>ফরিদ সোফায় বসে জ্যামিতি বক্স খুলে দেখছিলো। আমি বললাম,<br />
&#8220;ফরিদ, আমরা এখন কততম তোলায় আছি? &#8221;<br />
&#8221; জানি না তো ভাই। &#8221;<br />
&#8220;তুই গুনতে পারিস?&#8221;<br />
&#8220;হ গুনতে পারি। &#8221;<br />
&#8220;ভেরি গুড। তাহলে একটা কাজ কর। সিড়ি বেয়ে নীচে যা, দেখ কত তোলা উপরে আছি আমরা। তারপর নীচে যাওয়ার পর গুনবি পুরো বিল্ডিংটা মোট কয়তলা।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-47474"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/47474/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">151e96d963f03086cfac063708a3b4f0</guid>
				<title>#ধারাবাহিক
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৭)
~ আবির হাসান সায়েম 

ফরিদ চলে যাবার কিছুক্ষণ পর একটা লোক বালতি আর একটা লাঠি নিয়ে ঢুকল। লাঠির মাথায় কাপড় লাগানো। ঘর মুছতে এসেছে। পুরো ঘরটা লাইজলের বোটকা গন্ধে ভরে গেলো। কি বাজে একটা গন্ধ। লোকটা কোনো দিকে না তাকিয়ে ঘর মুছতে শুরু করল। লোকটার মুখ ভর্তি দাড়ি, মাথায় টুপি। পান খেয়ে মুখ একদম লাল হয়ে আছে। বয়স কত হবে আন্দাজ বেয়াল্লিশ -তেঁতাল্লিশ। শক্ত সমর্থ্য শরীর। আমি বললাম,
&quot;আসসালামু আলাইকুম, ভাই। ভালো আছেন?&quot;
লোকটা কোনো কথা বলছে না।চুপচাপ নিজের ঘর মুছে যাচ্ছে। আমি গলার স্বর খানিকটা উঁচু করে বললাম,
&quot;আসসালামু আলাইকুম, ভাই। ভালো আছেন?&quot;
এইবারও সে কোনো উত্তর দিলো না। লোকটা কি বধির নাকি? আমি বললাম,
&quot;ভাই আমার খুব শীত করছে, এসিটা একটু কমিয়ে দিবেন?&quot;
সে সোফা থেকে এসির রিমোট নিয়ে এসির পাওয়ার বাঁড়িয়ে দিলো। তার মানে সে বঁধির না। আমি আবার বললাম,
&quot;ধন্যবাদ ভাই। আপনি আমার সাথে কথা বলছেন না কেনো?রোগীদের সাথে কি কথা বলা মানা? &quot;
লোক আমার দিকে তাকালো। তার চোখে পানি এসে জমে আছে। কান্নার ঠিক আগ মুহুর্তে চোখ যখন পানি দিয়ে ভরে যায়, তখন এমন দেখায়। আমি মাথার দিক দিয়ে বেডটা হালকা উঁচু করে দিতে দিতে বললাম,
&quot;কি হয়েছে ভাই? আমাকে বলুন। আমিও তো আপনার ছোট ভাইয়ের মতো তাই না?&quot;
&quot;আমি আসরের নামায পইড়া আপনের পাশের কেবিনে মুছতে ঢুকসি। আচানক আমার কনুই লাইগা একটা টেবিল ঘড়ি পইরা ভাংগা গেলো। একটা সামান্য টেবিল ঘড়ি। এর লেইগ্যা আমারে মাইয়্যাডা যা তা কইলো। আমার ছোট মাইয়্যার সমাইন্যা একটা মাইয়্যা আমারে কয়, ছোটলোকের বাচ্চা।&quot;
লোকটা কাঁদতে শুরু করল। আমার ডান হাতে কেনোলার লাগানো আমি বাম হাত দিয়ে লোকটাকে ধরে এনে আমার বেডের পাশের বসালাম। পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললাম,
&quot; দুঃখ পাবেন না ভাই। যে আপনাদের দুঃখ দিয়েছে সে আপনার থেকেও বেশি দুঃখ পাবে৷ পৃথিবী তাকে কোনো না কোনোভাবে তাকে ফেরত দিবে। পৃথিবী কারো কাছে ঋণী থাকে না। কান্না থামান ভাই। চোখ মুছেন।&quot;
আমি টিস্যু এগিয়ে দিলাম তার দিকে। সে চোখ মুছলো। তারপর বলল,
&quot;ভাই আপনের কি হইসে? &quot;
&quot;জি যতদূর শুনেছি, নিয়মোনিয়া আর আলসার একসাথে ধরেছে। &quot;
&quot;আপনে খুব ভালা মানুষ ভাই। আমি আল্লাহর দরবারে আপনের লেইগ্যা দোয়া করুম। &quot;
আমি হালকা হেসে বললাম,
&quot; আপনি যদি বিশেষ ব্যাস্ত না থাকেন তাহলে বসুন একটু গল্প করি। &quot;
&quot;না ভাই ব্যাস্ত না আপনের ঘর মুছলেই কাম শেষ। &quot;
&quot;থাক আমার ঘর আজ মুছার লাগবে না। একদিন না মুছলে কিছু হয় না। আপনার নাম কি ভাই?&quot;
&quot; আমার নাম আইনুল্লাহ। মোহাম্মদ আইনুল্লাহ। &quot;
&quot; আমার দাদার নামও ছিলো -আইনুল্লাহ। আইনুল্লাহ অর্থ জানেন?&quot;
&quot; না ভাই। এতো জ্ঞান আমার নাই। গরিব মানুষের জ্ঞানের খুব অভাব। জ্ঞান থাকলে কেও গরিব হয় না। &quot;
&quot; গরিব মানুষের জ্ঞান কম কথাটা ঠিক না। গরিব-ধনী সবার জ্ঞানই এক। কিন্তু গরিবরা তাদের জ্ঞানটা ফোলানোর সুযোগ কম পায়৷&quot;
&quot;খুব ভালা একটা কথা কইসেন৷ মনে ধরসে খুব৷ আইনুল্লাহ নামের অর্থটা কী ভাই?&quot;
&quot;আইনুল্লাহ নামের অর্থ হলো-আল্লাহর চোখ। &quot;
&quot;নিজের নামের অর্থ জাইনা খুব ভাল্লাগলো। ভাইসাব আপনে কি করেন?&quot;
&quot;টিউশনি করতাম কিন্তু এখন কিছুই করছি না । দেখি কি করা যায়। &quot;
&quot;আপনের আব্বা-আম্মা কই? দেশেরবাড়িতে থাকে? &quot;
&quot;না, তারা খুব সম্ভবত জান্নাতে থাকেন। &quot;
&quot;আমি তাদের জন্যও দোয়া করব। মৃত মানুষেরা আমাগোর থেইক্যা দোয়া ছাড়া কিছুই তো আশা করে না। তয় ভাই আপনে কিছু করেন না, তাইলে এই হাসপাতালে আইলেন কেমনে? এইহানে তো মেলা ট্যাকার কারবার। &quot;
&quot;দুঃসম্পর্কে এক আত্মীয় টাকা দিচ্ছে। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। হাসপাতালে কেও থাকে না আপনের লগে?&quot;
&quot; থাকে, ফরিদ থাকে। &quot;
নাম বলতে না বলতেই ফরিদ ঘরে ঢুকল। আমি বললাম,
&quot;এইতো ফরিদ। &quot;
ফরিদ কিছুই বুঝতে পারল না। আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
&quot;এই লোকডা কেডা?&quot;
আমি বললাম,
&quot;তার নাম আইনুল্লাহ। আমার বড় ভাইয়ের মতো। &quot;
ফরিদ আইনুল্লাহ দিকে তাকিয়ে সালাম দিলো।
&quot;আসসালামুয়ালাইকুম। &quot;
আইনুল্লাহ বললন,
&quot;ওয়ালাইকুমআসসালাম। কেমন আছো?&quot;
&quot;জ্বে ভালো। &quot;
আমি বললাম,
&quot;ফরিদ খুব কাজের ছেলে। আর তার ব্রেনও খুব শার্প। যা বলবেন তাই মনে রাখতে পারে। &quot;
আইনুল্লাহ আনন্দিত গলায় বললেন,
&quot;আমার ছোট মাইয়্যাডাও খুব ভালা ইয়াদ রাখতে পারে। এইবার ক্লস পাইভে উঠসে। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। &quot;
&quot;ভাই আজকে যাই। আমার ডিউটি শেষ। &quot;
&quot;আচ্ছা ভাই যান। দোয়া করবেন আমার জন্য। &quot;
&quot;কি যে কন না ভাই৷ আপনের লেইগ্যা দোয়া করমু না তো কার লেইগ্যা করমু? আপনে আমারে বড় ভাই বুলাইসেন। &quot;
আমি কিছু বললাম না মুচকি হাসলাম। আইনুল্লাহ উঠতে উঠতে বললেন,
&quot;খোঁদা হাফেজ ভাই। &quot;
আইনুল্লাহ চলে যাচ্ছিলো, আমি বললাম,
&quot;আচ্ছা ভাই একটু শুনুন।&quot;
আইনুল্লাহ ছুঁটে আমার বেডের পাশে এসে বলল,
&quot;জি ভাই বলেন। &quot;
&quot;আজকে ডাক্তার সাহেব দেখতে আসবেন না?&quot;
&quot; না ভাইজান, আজকে তো শুক্কুরবার। শুক্কুরবার ডাক্তার সাব হাসপাতালে আসেন না। কাইল সক্কালবেলা বেলা আসবেন। সে আমারে খুব ভালা পায়৷ আমি তারে আপনার ব্যাপারে নিশ্চয়ই বলমু। &quot;
&quot;আচ্ছা। আরেকটা কথা আপনি ঘর মোছার জিনিসপত্র না নিয়েই চলে যাচ্ছেন৷ &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা, খেয়ালই নাই। আহারে, ঘরটা মুছা হইলো না&quot;
&quot;আজকে দরকার নেই। কালকে মুছলেই হবে৷ &quot;
আইনুল্লাহ হাসিমুখে ঘর থেকে চলে গেলো। মানুষ খুব অল্পতেই খুব খুশি হয়। কিন্তু খুশি করার জন্য একটা আলাদা গুন লাগে। আমার মনে হয় আমার মধ্যে সেই গুনটা আছে। আবার মাঝে মাঝে কিছু মানুষকে রাগাতেও বেশ ভালো লাগে। বিশেষ করে শিলাকে। বেশি রাগ করলে তার নাক লাল হয়ে যায়। এইটা রাগের প্রাথমিক লক্ষণ তারপর তা গিয়ে শেষে কান্নায় পরিণত হয়। শিলাকে একটা ফোন দেয়া দরকার।

চলবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/47023/</link>
				<pubDate>Fri, 22 Oct 2021 15:35:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৭)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>ফরিদ চলে যাবার কিছুক্ষণ পর একটা লোক বালতি আর একটা লাঠি নিয়ে ঢুকল। লাঠির মাথায় কাপড় লাগানো। ঘর মুছতে এসেছে। পুরো ঘরটা লাইজলের বোটকা গন্ধে ভরে গেলো। কি বাজে একটা গন্ধ। লোকটা কোনো দিকে না তাকিয়ে ঘর মুছতে শুরু করল। লোকটার মুখ ভর্তি দাড়ি, মাথায় টুপি। পান খেয়ে মুখ একদম লাল হয়ে আছে। বয়স কত হবে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-47023"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/47023/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e2eb6a3f79687bb783f464fba66fad9c</guid>
				<title>#ধারাবাহিক
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৬)
~আবির হাসান সায়েম

একটা শব্দ হচ্ছে। শব্দটা পর্যায়ভিত্তকভাবে কমছে। আমি চোখ মেললাম। ফরিদ কি যেনো তুলল মেঝে থেকে। একটা স্টিলের বাটি। সে বাটিটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। একটা সামান্য স্টিলের বাটিকে মানুষ এতো আগ্রহ নিয়ে দেখতে পারে, তা আগে জানতাম না। ফরিদকে নিশ্চয়ই শিলা পাঠিয়েছে। ফরিদ শিলাদের বাগান মালীর ছেলে। ছোটবেলায় মা মারা গেছে, দুইবছর আগে বাবাও মারা গেছে। বয়স কম তাই শিলাদের বিশাল বাড়িতেই সে থাকে। তার কোন নির্দিষ্ট কাজ নেই। সে কাজ করার সুযোগ খুজতে থাকে। কিন্তু যে বাড়িতে তিনটা কাজের লোক সবসময় বিদ্যমান, সেখানে কাজ খুজে পাওয়াটাও তো মুশকিল। মোটামুটি অলস জীবন যাপন করে সে। আমি যতবার গিয়েছি ততবারই ফরিদের সঙ্গে বসে গল্প করেছি। সে অনেক গল্প জানে। যখনি জিজ্ঞেস করি, এতো গল্প সে কোত্থেকে জানল,তখন একটা দারুণ হাসি হেসে বলে,
&quot; আব্বায় কইসে। সে নাকি তার নানা&#039;র থেইক্কা শুনসে। প্রেত্যেকদিন একটা কইরা গল্প কইতো আমারে৷ যেদিন মইরা গেলো তার আগেরদিনও একটা গল্প কইসিলো আমারে। মৃত্যু নিয়া গল্প। গল্পডা বড়ই দুঃখের। গল্পডা শুনবেন?&quot;
আমি কোনো বারই তার দুঃখের গল্প শুনি না৷ তেরো-চৌদ্দ বছরের ছেলের কাছে দুঃখের গল্প শুনতে ইচ্ছে করে না।
ফরিদকে চমকে দেয়ার জন্য হঠাৎ বললাম,
&quot;কি ফরিদ কেমন আছিস? &quot;
ফরিদ নির্বিকার ভঙিতে বলল,
&quot;জ্বে ভালো। &quot;
&quot;আমি হঠাৎ কথা বললাম তুই চমকে গেলি না কেনো?&quot;
ফরিদ বাটি থেকে মুখ সড়িয়ে বলল,
&quot; বাটির মইধ্যে আপনার চেহারা দেখা যায়। আমি আগেই দেখসি, আপনে আমার দিকে তাকায়া ছিলেন। &quot;
আমি হাসতে হাসতে বললাম,
&quot;ওহ আচ্ছা। তোর তো দেখি অনেক বুদ্ধি। কখন এসেছিস? &quot;
&quot; দুই ঘন্টা আগে। &quot;
&quot;শিলা এসেছিলো? &quot;
&quot; হ, আপা অনেক্ষণ বয়া আসিলো। এক ঘন্টা অপেক্ষা কইরা চইল্লা গেসে। আর একটা খাম দিয়া গেসে। খামের মইধ্যে মনে হয় চিডি। &quot;
আমি খামটা নিলাম না৷ খামটা নিতে ইচ্ছে করছে না৷
&quot;ফরিদ, এখন রেখে দে পরে পড়ব। এখন পড়তে ইচ্ছে করছে না৷ &quot;
&quot;কিন্তু আফা তো কইসে, আপনে জাগলেই এইডা পড়তে। &quot;
&quot;আচ্ছা ফরিদ, তুই পড়ে শুনা, আমি শুনছি। &quot;
&quot;ভাই, আমি তো পড়তে পরি না। &quot;
&quot; সে কি তুই পড়তে পারিস না কেনো? স্কুলে যাস না?&quot;
&quot;না।&quot;
&quot;পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না? &quot;
&quot;না পড়তে ভাল লাগে কিন্তু স্কুলে যাইতে ভাল্লাগে না। আর স্কুলে যাই না বইল্লা পড়াও হয় না। &quot;
&quot; যতদিন আমার সাথে থাকবি ততদিন আমি তোকে পড়াবো। পড়বি না? &quot;
&quot;পড়মু কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু &#039;বই -খ্যতা&#039; পাইবেন কই?&quot;
&quot;বই লাগবে না কিন্তু &#039;খ্যাতা&#039;র ব্যবস্থা করতে হবে। আচ্ছা তুই একটি চিঠিটা আমার মুখের সামনে খুলে ধরতে পারিস? আমার হাতে কেনোলার লাগানো, উঠালেই ব্যাথা করে। &quot;
&quot;ওই জিনিসটার নাম ক্যনুলার?&quot;
&quot;ক্যনুলার না ক্যানোলার। আমার সাথে বল ক্যানোলার। &quot;
&quot;ক্যা..ক্যা.. ক্যানোলার। &quot;
&quot;ভেরি গুড। শাবাশ। &quot;
ফরিদ হাসি মুখে খাম থেকে চিঠি বের করে মুখের সামনে ধরল।
খুব তাড়াহুড়ো করে লেখা হয়েছে। টানা টানা লেখা । কিছু জায়গায় কালি ছড়িয়ে গেছে। চিঠি লেখার সময় কি শিলা কাঁদছিলো?
আবির,
আশা করি ভালো আছিস। একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছি। আজ সকালে তোর সাথে ঝগড়া হবার পর আমি দাওয়াতে যাই। দাওয়াতে নিলয় আর তার পরিবারও আসে। আমি বাবা-মা কে আগেই বলেছিলাম নিলয়কে আমার পছন্দ হয় নি। কিন্তু নিলয় এবং তার পরিবারের আমাকে খুব পছন্দ হয়েছে। নিলয়ের বাবা আমাকে বললেন,
&quot;মা, আমি চাই তোমার মতো লক্ষ্মী একটা মেয়ে আমার ঘরের বউ হয়ে আসুক। তুমি কি রাজি মা?&quot;
তোর সাথে রাগ তখনো কমে নি, সব কথা আমার কান দিয়েও বোধ হয় ঢুকে নি। শুধু বুঝতে পারলাম, কোনো এক ব্যাপারে তারা আমার মতামত চাচ্ছে। আমি কোনোরকম বললাম,
&quot;জ্বি আচ্ছা। &quot;
নিলয়ের বাবা বরকতউদ্দিন পুরো হলরুম কাঁপিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে চিৎকার করে উঠলেন। তখন আমার মাথার টনক নড়ল। এ আমি কি করলাম। এ আমি কি করলাম? তোর উপর রাগ করে আমি আমার জীবনের সাথে এতো বড় একটা অমানবিক কাজ করলাম।কেন করলাম কে তুই? তুই কে?
আবির আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। তুই কি……..
ভালো থাকিস।
ইতি,
শিলা চৌধুরী
[পুনশ্চঃ- ফরিদের কাছে পাঁচশ টাকা দিয়েছি। কিছু লাগলে আনিয়ে নিস। আমি কবে আসব জানি না। আমি আসলেও যা না আসলেও তা। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠ। ]
পুনশ্চ এর লেখাটা পরে লেখা হয়েছে। খুব সুন্দর করে লেখা। বুঝাই যাচ্ছে সময় নিয়ে লেখা হয়েছে। আমি ফরিদকে বললাম,
&quot;তোর কাছে শিলা টাকা দিয়েছে? &quot;
&quot;হ দিছে। পাঁচশ ট্যাকা। &quot;
&quot;একটা কাজ কর। নীচে গিয়ে আমার নাম্বারে একশো টাকা দিবি আর একটা স্পাইরেল কথা খাতা কিনবি আর জ্যামিতি বক্স কিনবি। পারবি না? &quot;
ফরিদ বিষন্ন গলায় বলল,
&quot;আচ্ছা। &quot;
&quot;আমার কাছে এখন টাকা নেই। বাসায় গেলে তোর টাকা ফেরত দিয়ে দিবো। পাঁচশ টাকা পুরোই তোর। তুই এখন বড় হচ্ছিস। তোর হাত খরচের একটা ব্যাপার আছে না। &quot;
&quot;আইচ্ছা ভাই আমি যাই। &quot;
&quot;আমার ফোনে আগে টাকা দিবি। আমার নাম্বার লিখে নিয়ে যা। &quot;
&quot; আপনের ফোন নাম্বার আমার মুখস্থ আছে। শিলা আপা কয়েকবার আপনের ফোনে ট্যাকা পাঠাইতে দোকানে পাঠাইসিলো। তখন মুখস্ত হয়া গেসে। শুন্য ষোল চুহাত্তুর…………। ভাই হইসে না?&quot;
আমি হালকা হেসে বললাম,
&quot;হয়েছে। তোর তো ব্রেন খুব ভালো রে ফরিদ। ফটোকপি ব্রেন পুরো। &quot;
ফরিদ হয়তো প্রশংসা শুনে খানিকটা লজ্জা পেলো। লজ্জা ঢাকার জন্য হনহন করে বেরিয়ে গেলো। কিছু জিনিস শত চাইলেও লুকিয়ে রাখা যায় না। তার মধ্যে লজ্জা একটা। যতই চেষ্টা করা হোক না কেনো, কোনো না কোনোভাবে বেরিয়ে আসবেই।


চলবে..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/46302/</link>
				<pubDate>Thu, 21 Oct 2021 00:55:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৬)<br />
~আবির হাসান সায়েম</p>
<p>একটা শব্দ হচ্ছে। শব্দটা পর্যায়ভিত্তকভাবে কমছে। আমি চোখ মেললাম। ফরিদ কি যেনো তুলল মেঝে থেকে। একটা স্টিলের বাটি। সে বাটিটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। একটা সামান্য স্টিলের বাটিকে মানুষ এতো আগ্রহ নিয়ে দেখতে পারে, তা আগে জানতাম না। ফরিদকে নিশ্চয়ই শিলা পাঠিয়েছে। ফরিদ শিলাদের বাগান মালীর ছেলে। ছোটবে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-46302"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/46302/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4ed41c59cb4ca55579886159a2efd6b9</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৫)

রাতের খাবার দিয়ে গেছে। ভাত, ডাল, মুরগির মাংস সাথে সালাদ। সালাদটা বানানো হয়েছে বিন দিয়ে। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, শিমের বিচি। পরে নার্স বললেন,
&quot;এইটা বিন। পেটের জন্য খুব ভালো। &quot;
এক চামচ সালাদ মুখে দিলাম। কি বিচ্ছিরি স্বাদ। ক্ষিদে মরে গেছে একদম। প্রায় সারাদিনই ঘুমিয়েছি, রাতে ঘুম আসবে না নিশ্চয়ই। একটা গল্পের বই থাকলে পড়া যেত। আমার বেডের পাশে রাখা টেবিলে একটা খবরের কাগজ রাখা। খবরের কাগজটা পড়েই সময় পার করতে হবে। শিলাকে একটা ফোন দেয়া যেতো। কিন্তু ফোনে টাকা নেই। টেবিলে একটা টেলিফোন আছে ঠিকই কিন্তু মনে হয় না বাইরে ফোন করা যাবে। টেলিফোন হোল্ডারের উপরে একটা কাগজে নাম্বার লিখে টেপ দিয়ে আটকানো। বিলিং অফিসের নাম্বার। বিলিং অফিসে একটা কল করা যায়। কত টাকা বিল হলো জানতে খুব ইচ্ছে করছে।
আমি রিসিভার তুলে নাম্বার ডায়েল করলাম।
&quot;হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম স্যার। বিলিং অফিস থেকে বলছি। বলুন কিভাবে আপনার সাহায্য করতে পারি? &quot;
&quot; ওয়ালাইকুম আসসালাম। এখন পর্যন্ত আমার কত বিল হয়েছে,তা কি জনতে পারি?&quot;
&quot; স্যার একটু অপেক্ষা করুন আমি চেক করে বলছি। &quot;
&quot;জ্বি।&quot;
&quot;এখক পর্যন্ত আপনার মোট বিল হয়েছে তেতাল্লিশ হাজার টাকা স্যার। আজ সকালে ত্রিশ হাজার টাকা পে করা হয়েছে। আর ডিউ আছে তেরো হাজার টাকা। &quot;
&quot; কে টাকা জমা দিয়েছে বলতে পারেন? &quot;
&quot;জ্বি স্যার, শাহিন চৌধুরী নামক একজম ব্যাক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে৷ &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। ঠিক আছে ধন্যবাদ। &quot;
&quot;জ্বি স্যার। শুভ রাত্রি। &quot;
আমি খুটিয়ে পুরো খবরের কাগজটা পড়লাম। রাজনৈতিক চপর চপর আর অর্ধউলঙ্গ কয়েকটা নায়িকার সম্পর্কে লেখা কয়েকটা কলাম ছাড়া আর কিছুই নেই। বিরক্তি ধরে গেছে একদম। বরক্তি আসতে আসতে নীচে নামছে মনে হয়। আচ্ছা বিরক্তি কি প্রবাহমান? পেটে হঠাৎ খুব ব্যাথা শুরু হয়েছে। পুরো ঘর ঘুরছে। আমি লাল বাটনটাতে চাপলাম। কয়েকবার চাপলাম। কেও আসছে না।
ঘুম ভাঙ্গল মাথায় একটা সূক্ষ্ম ব্যাথা নিয়ে। শিলা বসে আছে বেডের পাশে একটা টুলে। আমাকে বলল,
&quot;ঘুম ভাঙ্গেছে তোর? কাল নাকি ব্যাথা উঠেছিলো?&quot;
&quot; হ্যা। পেটে অনেক ব্যাথা হচ্ছিলো। &quot;
&quot; নার্স বলেছেন আমাকে। ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়েছিলো। আলসার হলে নাকি হঠাৎ হঠাৎ ব্যাথা উঠে, কিছু না কিছু খেতে থাকতে হয়। &quot;
&quot; ওহ আচ্ছা। ঘরটা খুব অন্ধকার,একটু বাতিটা জ্বালিয়ে দে তো। &quot;
শিলা উঠে গিয়ে বাতি জালিয়ে দিলো। এতক্ষণ চোখে পরেনি, শিলা শাড়ি পরেছে। কালো রঙের শাড়ি। শিলা বেশি ফরসাও না আবার কালোও না বাদামী বর্ণের একটা মেয়ে। আজ তাকে বেশিই বাদামী লাগছে। বাদামী রঙের সাথে কালো -খুব ভালো মানিয়েছে। কপালে একটা টিপ থাকলে ষোলকলা পূর্ণ হত।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
&quot; কোথাও যাবি নাকি?শাড়ি পরেছিস যে?&quot;
&quot; হ্যাঁ বাবা একটা দাওয়াত আছে। তোর খবর নিতে আসলাম আর ব্যাগটা রেখে যেতে আসলাম। ব্যাগ সাথে নিয়ে তো আর দাওয়াতে যাওয়া যায় না। &quot;
আমি দেখলাম একটা কালো রঙের ব্যাগ রাখা সোফার উপরে।
&quot;ব্যাগে কি আছে?&quot;
&quot;ব্যাগে আমার জামা কাপড়। এক কাপড়ে কতদিন থাকব?&quot;
&quot;তুই কি এইখানে থাকবি?&quot;
&quot;আশ্চর্য, আমি না থাকলে কে থাকবে? &quot;
&quot;কিন্তু তুই কীভাবে থাকবি?ঘুমাবি কোথায় তুই?&quot;
&quot;সোফায় ঘুমাবো। আমার কোনো সমস্যা হবে না। &quot;
&quot; তোর থাকার লাগবে না। &quot;
&quot;কেনো? &quot;
&quot; কারণ জেনেও না জানার ভান করছিস কেনো?&quot;
&quot; তুই চিল্লাশিস কেনো? &quot;
&quot;আমি তো চিল্লাছি না। তুই চিল্লাচ্ছিস। আমার সামনের থেকে যা শিলা। &quot;
শিলা হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। চোখের কাজল গাল বেয়ে গড়িয়ে নীচে নেমে যাচ্ছে। অদ্ভুত এক বক্ররেখার সৃষ্টি হয়েছে। শিলা ব্যাগ ফেলে যাচ্ছে, চাইলে ডাক দিয়ে বলতে পারতাম। কিন্তু ইচ্ছে করল না। ব্যাগটা নিতে হলেও তো সে আরেকবার আসবে৷ ঘুমের ঔষধের ডোজ এখনো কাজ করছে মনে হয়। চোখ ভেঙ্গে রাজ্যের ঘুম নেমে আসছে চোখে। এখন ঘুমুতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু উপায় নেই,ইচ্ছে ছাড়াই অনেক কাজ করতে হয়।

চলবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/45187/</link>
				<pubDate>Mon, 18 Oct 2021 20:34:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৫)</p>
<p>রাতের খাবার দিয়ে গেছে। ভাত, ডাল, মুরগির মাংস সাথে সালাদ। সালাদটা বানানো হয়েছে বিন দিয়ে। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, শিমের বিচি। পরে নার্স বললেন,<br />
&#8220;এইটা বিন। পেটের জন্য খুব ভালো। &#8221;<br />
এক চামচ সালাদ মুখে দিলাম। কি বিচ্ছিরি স্বাদ। ক্ষিদে মরে গেছে একদম। প্রায় সারাদিনই ঘুমিয়েছি, রাতে ঘুম আসবে না নিশ্চয়ই। এক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-45187"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/45187/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c0d4b9184f60a159658e82f182e0a4b4</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৪)
~ আবির হাসান সায়েম 

&quot;এই আবির ওঠ। আবির স্যার এসেছেন। ওঠ। &quot;
আমি চোখ মেললাম। আমার চোখের উপর আলোর বর্জ্যপাত হলো। মাথায় সূক্ষ্ম ব্যাথা হচ্ছে। পুরো ঘর আলোতে ঝলমল করছে। আমি চোখ বন্ধ থাকা অবস্থাতেই বললাম,
&quot;আলো নিভিয়ে দাও। &quot;
ডাক্তারের সাথে আসা নার্স গিয়ে বাতি নিভিয়ে দিলেন । আমি চোখ মেললাম।
ডাক্তার সাহেব আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। খুব সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে।
&quot;কেমন আছেন? &quot;
&quot;জ্বি ভালো। &quot;
&quot;জ্বর কি এসেছিলো আর?&quot;
&quot;না আসে নি। কিন্তু স্যার আমার আসলে হয়েছে কি একটু বুঝিয়ে বলবেন?&quot;
&quot; আপনার নিউমনিয়া হয়েছে। এবং টেস্ট করে দেখা গেছে আলসারও আছে- তেমন ছড়ায় নি কিন্তু নিউমনিয়া আপনাকে বেশ ভালোভাবে জড়িয়ে ধরেছে। ষোলটা ইঞ্জেকশন দেয়ার লাগবে। &quot;
&quot; আমি এখন মোটামুটি সুস্থ। আমি কি বাসায় যেতে পারি?এসে এসে ইঞ্জেকশন দিয়ে যাবো?&quot;
&quot;না, মোটেই না। আপনাকে আরোও তিন দিন অবজারভেশনে রাখতে হবে। কালকে রাতে মাত্র আপনার জ্ঞান ফিরেছে, আপনি কিভাবে বাড়ি যেতে চান বলুন তো?&quot;
আমি কিছুই বললাম না। ডাক্তার সাহেব যাবার আগে বললেন,
&quot;আপনি খুব ভাগ্যবান। এইরকম ফ্রেন্ড পাওয়া আজ-কাল কার যুগে খুবই কঠিন…….
ডাক্তার সাহেব হয়তো আরোও কিছু বলতেন কিন্তু আমি তাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম,
&quot;স্যার অন্যসময় কথা কথা হবে, এখন আমার ঘুমে চোখ ফেঁটে যাচ্ছে। &quot;
ডাক্তার সাহেব তাড়াতাড়ি ফাইলে নার্সের কাছে দিয়ে চলে গেলেন। একটু লজ্জাই হয়তো পেয়েছেন। আমি চোখ বন্ধ করতেই একহ্রাস আঁধার নেমে এলো চোখে৷
ঘুম ভেঙে গেলো তীব্র ব্যাথায়৷ একটা নার্স আমার পাশে দাঁড়ানো। আমি বললাম,
&quot;হাতটা খুব ব্যাথা করছে৷ &quot;
&quot;জ্বি, সেলাইনের মাধ্যমে ইঞ্জেকশন দেয়া হচ্ছে৷ আমি স্পিডটা কমিয়ে দিচ্ছি। &quot;
নার্স সেলাইনের পাইপে লাগানো একটা সাদা গোল কি যেনো ঘুরালেন।
&quot;এখন আরাম পাচ্ছেন? &quot;
&quot;কিছুটা। না অনেকটা। &quot;
নার্স হাসি মুখে বললেন,
&quot;আপনার বান্ধুবী বাসায় গিয়েছেন৷ আজ আর আসবেন না। কাল আসবেন বলেছেন। &quot;
&quot;ওহ আচ্ছা। ধন্যবাদ। &quot;
দেয়াল ঘড়িতে বাজে -৯ঃ৪৫ p.m। নার্স যাবার আগে একটা সুইচ দেখিয়ে দিয়ে গেলেন। আমার মাথার পাশেই বেডের সাথে লাগানো একটা সুইচ। এই সুইচে চাপ দিলেই কোন না কোন নার্স বা ওয়ার্ড এসে পরবে। আমার তো চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা। রাজকীয় কারবার সব। এইসব হস্পিটালের বিলটাও বেশ রাজকীয় হয়। আমার কাছে সব মিলিয়ে হয়তো পনেরোশত টাকা আছে৷ টাকা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই, শিলা নিশ্চই জানে আমার আর্থিক অবস্থার কথা। মামা -মামীকে একটা ফোন করার দরকার। সমস্যা হলো মামাতো ভাই কাদেরের সামনে এস.এস.সি পরীক্ষা। সে আমাকে খুব পছন্দ করে৷ সে যদি শুনে যে, আমি হাসপাতালে তাহলে, পরীক্ষা বাদ দিয়ে আমাকে দেখতে রওনা দিবে৷ সাথে রওনা দিবেন মামী। মামা চেষ্টা করবেন আটকাতে কিন্তু না পেরে সেও তাদের সাথে যোগ দিবেন। কাদের পরীক্ষা না দিলে বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে। যে পরিবারটা আমাকে এতো ভালোবাসে, তাদের জন্য হলেও কিছু মিথ্যা বলতে হবে। কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে মিথ্যা,সত্যার চেয়েও বেশি উত্তম।
&quot;হ্যালো, মামা। আসসালামু আলাইকুম। &quot;
&quot;ওয়ালাইকুম। শেষমেষ মনে পরল আমাদের কথা?&quot;
&quot; মামা রাগ করবেন না। আপনারা কেমন আছেন?&quot;
&quot; সবাই ভালো, তোর কি অবস্থা?&quot;
&quot; জ্বি ভালো। &quot;
&quot; কেমন ভালো? &quot;
&quot;জি বেশ ভালো। &quot;
&quot;তোর না পেটে ব্যাথা উঠত, ওইটাও চলে গেছে? &quot;
&quot;হ্যা, আমার বাসার পাশে একটা ফার্মেসী আছে। ওইখানে একটা ডাক্তার বসেন - ডা. মতিয়ূর রহমান। আমাকে এক ফাইল ঔষধ দিলেন। খাওয়ার তিন-চার দিনের মধ্যেই ব্যাথা একদম সেঁড়ে গেলো। &quot;
মামার হাসির শব্দ শোনা গেলো। তিনি হাসতে হাসতে বললেন,
&quot; ভালোই মিথ্যা বলতে শিখেছিস। &quot;
আমি আমতা আমতা করে বললাম,
&quot; মানে?&quot;
&quot;আমি কাল দুপুরে তোর নাম্বারে ফোন করেছিলাম। একটা মেয়ে ধরল। সবকিছু আমাকে বলল। ধরা খেয়ে গেলি, আবির?&quot;
মামার হাসির শব্দ আরো বেড়েছে। আমি কিছুই বললাম না। মিথ্যা বলা পাপ আর মিথ্যা বলে সাথে সাথে ধরা পরে যাওয়া আরোও বড় পাপ। এতে মিথ্যারও সম্মান হানি হয়৷
মামা হাসি কিছুটা থামিয়ে বললেন,
&quot; এখন তোর শরীরটা কেমন? &quot;
&quot;এখন আগের চেয়ে ভালো। আচ্ছা মামা, আপনি কি মামি আর কাদেরকে আমার অবস্থার কথা বলেছেন? &quot;
মামা গলা নীচে করে বললেন,
&quot;না, কিছু বলি নাই। কাদেরের সামনে পরীক্ষা। তুই তো জানিস ওর পাগলামি, তাই বলি নাই। &quot;
&quot;ভালো করেছেন। এখন কিছু বলার দরকার নেই। &quot;
&quot; টাকা পাঠানোর একটা ব্যবস্থা করছি।তুই চিন্তা করিস ন। &quot;
&quot;না, মামা এখন টাকা লাগবে না। আমার কছে আছে ।&quot;
&quot;আচ্ছা। কালকে যে ফোন ধরেছিলো ওই মেয়েটা কে? &quot;
&quot;মামা সে আমার বান্ধুবী। আমার সাথে ইউনিভার্সিটিতে পড়ত।&quot;
&quot;শুধুই বান্ধবী নাকি আবার তোদের মধ্যে ইটিস-পিটিদ আছে?&quot;
&quot;না মামা তেমন কিছুই না। মামা আমার প্রচুর মাথা ধরেছে পরে কথা বলবো। দোয়া করবেন। &quot;
&quot;তুই ভালো কইরা খাওয়া-দাওয়া করিস। নিজের খেয়াল রাখিস।&quot;
[প্রিয় পাঠক, যেহেতু মামা খুলনায় থাকেন তাই তার ভাষা এতোটা প্রমিত হবার কথা না। আমিও প্রথম খুলনার ভাষায় মামার সংলাপগুলো লিখেছিলাম। কয়েকজনকে পড়তে দিয়েছিলাম। তাদের কাছে কয়েকটা শব্দ বুঝতে সমস্যা হবার কারণে, সংলাপ গুলো কথ্য ভাষায় লিখলাম। যাতে আপনাদের পড়তে এবং কল্পনা করতে সহায়তা হয়।]

চলবে.....</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/44336/</link>
				<pubDate>Sat, 16 Oct 2021 18:34:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৪)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>&#8220;এই আবির ওঠ। আবির স্যার এসেছেন। ওঠ। &#8221;<br />
আমি চোখ মেললাম। আমার চোখের উপর আলোর বর্জ্যপাত হলো। মাথায় সূক্ষ্ম ব্যাথা হচ্ছে। পুরো ঘর আলোতে ঝলমল করছে। আমি চোখ বন্ধ থাকা অবস্থাতেই বললাম,<br />
&#8220;আলো নিভিয়ে দাও। &#8221;<br />
ডাক্তারের সাথে আসা নার্স গিয়ে বাতি নিভিয়ে দিলেন । আমি চোখ মেললাম।<br />
ডাক্তা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-44336"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/44336/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">83b091a4ccfad6ad548980262428eaf5</guid>
				<title>#ধারাবাহিক 
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৩)
~আবির হাসান সায়েম 

অদ্ভুত পুরোনো একটা বাড়ি, দেয়ালে শেওলা ধরে সবুজ হয়ে আছে। রাস্তার ঠিক পাশেই বাড়িটা। সূর্যের আলো এসে পরে ঠিক বাড়িটার উপর। কিন্তু তাও বাড়িটাকে খুব অন্ধকার লাগে। বলা হয় মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বাড়িতে অনেক মানুষকে একসাথে হত্যা করেছে পাকিস্তানিরা। বাড়িটা নাকি ভূতের বাড়ি। আবির এইখানে আসার আগে শিলা বারবার মানা করেছিলো। কোনো ভাড়াটিয়া নাকি এই বাড়িতে একমাসের বেশি টিকতে পারে না৷ কিন্তু আবির গত দিব্যি দুইবছর ধরে এই ভূতুরে বাড়িতেই থাকে। রাজকীয় কায়দায়ই আছে । বাড়ির ভিতর প্রকান্ড দুইটা রুম। একটাতে আবির ঘুমায়, আরেকটা বলতে গেলে খালিই থাকে। এই বাড়ির ভুতুড়ে কাহিনী শুনে, কেও আবিরের সাথে থাকতে চায় না। সে একাই শাসন করে এই ভূতুরে সাম্রাজ্য।
আঁধ ঘন্টা ধরে দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে শিলার হাত ব্যাথা হয়ে গেছে। খুব রাগ হচ্ছে। আবার ভয়ও হচ্ছে। গত দুইদিন ধরে আবিরের কোনো খবর নেই। শিলা বার বার ফোন করেছে কিন্তু আবির ধরে নি। হয়তো জ্বর বাঁধিয়ে বসেছে। বৃষ্টি আবিরের অনেক প্রিয়। প্রিয় জিনিসগুলোই মানুষকে বারবার কষ্ট দেয়। বাড়িটাতে একটা দারোয়ানও নেই৷ শিলা কি করবে বুঝতে পারছে না। দরজা ভেঙে ফেলবে? সে গাড়ি নিয়ে এসেছে৷ ড্রাইভার চাচাকে বললে হয়তো সে দরজা ভাঙ্গার ব্যবস্থা করতে পারবেন।
ড্রাইভার করিম মোল্লা এলেন কিন্তু দরজা ভাঙার প্রয়োজন পরল না৷ দরজার পাশেই ছোট্ট একটা জানালা আছে। ওইটা ভেঙে কিভাবে যেনো হাত ঢুকিয়ে ড্রাইভার করিম মোল্লা দরজা খুলে ফেললেন। শিলা ঘরের ভিতরে ঢুকল। আবির শুয়ে আছে বিছানার উপর। ঘুমুচ্ছে মনে হয়। শিলা আবিরের গায়ে হাত রেখে আতকে উঠল। জ্বরে গা পুরে যাচ্ছে। একটা কেতলিতে পানি নিয়ে ওর শরীরের উপর রাখলে, কিছুক্ষণের মধ্যেই পানি ফুটতে শুরু করবে।
[]
[]
[]
টুং টুং শব্দ হচ্ছে। এইরকম শব্দ আগে কোথাও শুনেছি। কিন্তু কোথায়? না, মনে পরছে না। চারপাশ একদম নিরব৷ চোখ মেললাম। পুরোপুরি মেলতে পারলাম না। অনেকগুলো আলো এসে চোখ বন্ধ করতে বাঁধ্য করল। ঘরে তেমন আলো নেই কিন্তু তাও অনেক আলো মনে হচ্ছে। অনেক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকার অর চোখ খুললে এমনটা হয়। আমি কি অনেক্ষণ চোখ বন্ধ করে ছিলাম? ঠান্ডা লাগছে। গায়ের উপর একটা চাদরের মতো আছে বুঝা যাচ্ছে কিন্তু এতে শীত মানছে না। যেই বিছানার উপর শুয়ে আছি, তা খুব আরামদায়ক।কোথায় আছি আমি? কিছুই মনে পরছে না। আমি ধীরে ধীরে চোখ খুললাম । একটা ঘর। মাঝারি সাইজের। এইটা কোন জায়গা? আমার গায়ে একটা সাদা চাদড় দেয়া। আমি একটা খাঁটে শুয়ে আছি। এইটা কি হাসপাতাল? আমি হাতে ভর দিয়ে উঠতে চেষ্টা করলাম অমনি আবার &quot;উঁ উঁ &quot; করে শুয়ে পরতে হলো। হাতে সেলাইনের সূঁচ ঢুকানো। শব্দে ধড়মড় করে শব্দ হলো৷ আমি পাশে তাকিয়ে দেখি শিলা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে। বোধহয় ঘুমাচ্ছিলো। মাথার চুল অলোট- পালোট হয়ে আছে। চোখের নীচে মোটা কালি পরেছে। সে ঘুমাচ্ছিলো সোফায়৷ আমার বেডের পাশে একটা ডাবল সোফা রাখা আছে ওইটাতে। আমি হালকা হেসে বললাম,
&quot; ঘুমটা ভাঙ্গিয়ে দিলাম। &quot;
শিলা কিছুই বলল না। নিষ্পলক তাকিয়ে আছে। ঘরে আলো কম বলে বুঝা গেলো না, তার চোখে বিন্দু বিন্দু জল জমতে শুরু করেছে। আমি আবার বললাম,
&quot; আমার খুব পানির পিপাসা পেয়েছে, একটু পানি দিবি?&quot;
শিলা উঠে আমার বেডের পাশে রাখা একটা বোতল থেকে পানি ঢেলে দিলো। আমি কনুইয়ের উপর ভর উঠতে চেষ্টা করতেই শিলা কঠিন গলায় বলল,
&quot; উঠতে হবে না। শুয়ে থাক। &quot;
এই কথা বলেই সে কি যেনো করল আমার মাথার দিকের বিছানাটা আস্তে আস্তে উপরে উঠতে শুরু করল। এইটা কিভাবে হলো। আমি পানির গ্লাস হাতে নিলাম। এক চুমুকেই পানি শেষ করলাম। শিলা বলল,
&quot; কিছু খাবি? মুখটা এমন করে রেখেছিস কেনো?&quot;
&quot; না কিছু খাবো না। নাকে ব্যাথা করছে। &quot;
&quot;ওহ নাকের ভিতর পাইপ ঢুকিয়ে তারপর খবার দেয়া হয়েছিলো আজ বিকেলে। &quot;
আমি হঁকচকিয়ে গিয়ে বললাম,
&quot;আমার নাকে পাইপ ঢুকানো হয়েছিলো?&quot;
&quot;হ্যাঁ, প্রায় আটত্রিশ ঘন্টা পর তোর জ্ঞান ফিরল। &quot;
&quot;আমার কি খুব বড় কিছু হয়েছে,শিলা?&quot;
&quot;টাইফয়েড আর নিউমনিয়া একসাথে হয়েছে। ষোলোটা ইঞ্জেকশন দেয়া লাগবে৷ একটা আজ দেয়া হয়েছে আরো পনেরোটা বাকি আছে। &quot;
&quot; আমাকে হাসপাতালে তুই নিয়ে এসেছিস?&quot;
&quot;হ্যাঁ।&quot;
&quot;কি হয়েছিলো একটু বল তো। আমার মনে আছে,আমি আমার বাসায় ঘুমালাম, উঠে দেখি এইখানে শোয়া। বুঝছি না কিছুই।&quot;
শিলা আমাকে সব বলল। বারবার গলা জরিয়ে যাচ্ছিল। শেষটায়, কেঁদেই ফেলল।
আমি অবাক হয়ে বললাম,
&quot; কাঁদছিস কেনো? &quot;
&quot; এমনি। &quot;
&quot;এমনি কি মানুষ কাঁদে? &quot;
&quot;আমার এমনি কাঁদতে ভাল্লাগে।&quot;
&quot;এই আটত্রিশ ঘন্টা কি তুই হাসপাতালেই ছিলি?&quot;
&quot;হ্যা। &quot;
&quot;খালা -খালু কে জানিয়েছিস তুই এইখানে?&quot;
&quot; হ্যাঁ জানিয়েছি। আজ দুপুরে এসেছিলো তারা। তোকে দেখে গেছে। &quot;
শিলা চোখ মুছল। আমি দেখলাম ডান পাশের দেয়ালে একটা ঘড়ি ঝুলছে। ডিজিটাল ঘড়ি। সেখানে লিখা ২am, মানে রাত দুইটা বাজে। আমি শিলাকে বললাম,
&quot; একটা গান শুনাবি শিলা? &quot;
&quot;আমি গান পারি না। &quot;
শিলা কারো কাছে গান না শিখলেও, তার গানের গলা অসাধারণ।অনেক কঠিন কঠিন সুরও খুব সহজে সে আয়ত্ব করে ফেলে।
আমি তার কথাকে অগ্রাহ্য করে বললাম,
&quot;ওইযে রবি ঠাকুরের &#039;খোলা হাওয়া &#039;গানটা গা।&quot;
শিলা খোলা গলায় গান ধরল,
&#124;&#124; আমি তোমার সঙ্গে
বেঁধেছি আমার প্রাণ
সুরের বাঁধনে--
তুমি জান না, আমি তোমারে
পেয়েছি অজানা সাধনে&#124;&#124;
নিজের প্রতি খুব হিংসা হলো। রাত দুইটায় প্রিয় মানুষের গলায় গান শুনতে ভাগ্য লাগে। এই সৌভাগ্য সবার হয় না।

চলবে..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/43910/</link>
				<pubDate>Fri, 15 Oct 2021 18:22:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৩)<br />
~আবির হাসান সায়েম </p>
<p>অদ্ভুত পুরোনো একটা বাড়ি, দেয়ালে শেওলা ধরে সবুজ হয়ে আছে। রাস্তার ঠিক পাশেই বাড়িটা। সূর্যের আলো এসে পরে ঠিক বাড়িটার উপর। কিন্তু তাও বাড়িটাকে খুব অন্ধকার লাগে। বলা হয় মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বাড়িতে অনেক মানুষকে একসাথে হত্যা করেছে পাকিস্তানিরা। বাড়িটা নাকি ভূতের বাড়ি। আবির এইখানে আসা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-43910"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/43910/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c2084ce8bf17ab02e63f50763c902012</guid>
				<title>আবির হাসান সায়েম and Jewel hazari are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/43729/</link>
				<pubDate>Fri, 15 Oct 2021 01:28:43 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6af991b9176c2b2eea7dcccfd67fad70</guid>
				<title>#ধারাবাহিক
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০২)
~আবির হাসান সায়েম

আমার দুইদিন যাবৎ প্রচন্ড জ্বর। ওইদিন বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর এসেছে। শিলাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমি আরো দু&#039;ঘন্টা বৃষ্টিতে ভিজেছি। যেদিন ভিজেছি, সেদিন কিছু হয় নি। পরেরদিন সকাল থেকে জ্বর জেপে ধরেছে।
আমি ঢাকায় একা থাকি।একবছর হলো মাস্টার্স শেষ করেছি। এতোদিন টিউশনি করে খেয়েছি । কিন্তু এখন আর টিউশুনি করতে ইচ্ছে করে না। আমার মনে হয়,বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ানো নেহাতেই ঠেকে পরা কাজ। শিলার বাবা শহীন চৌধুরীর কম্পানীতে সিভি জমা দিলেই চাকরি হয়ে যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করেন৷ তিনি যেমন করেন, শিলার মা ইয়াসমিন সুলতানাও আমাকে অনেক স্নেহ করেন৷ আমি তাদের খালা-খালু বলে ডাকি। আমার মনে হয়, আমার প্রতি তাদের স্নেহ থেকে সহানুভূতিই বেশি। আমার বাবা -মা সাত বছর আগে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। আমি ওইসময় ক্লাস টেনে পড়ি মাত্র। তারপর মামা বাড়ি -খুলনা থেকে ইন্টার পরীক্ষা দেই। ইন্টারে রেজাল্ট ভালো করায় মামা -মামি ঢাকায় পড়াশোনা করতে পাঠান। আমি ভর্তি হই প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে। কি সুন্দর পরিবেশ। বড় বড় হল, বড় বড় ল্যাব। প্রথম যেদিন কার্জন হল দেখি চোখ কোটর থেকে বের হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছিলো।
প্রথমদিকে ইউনিভার্সিটিতে তেমন কারো সাথে বন্ধুত্ব ছিলো না । আমি তাদের সাথে মোটেই মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। ক্লাসে যেতাম, লেকচার শুনতাম বাসায় চলে আসতাম। বাসায় এসে বই নিয়ে বসতাম। বিনোদনের একটাই মাধ্যম ছিলো -গল্পের বই। আমি যখনকার কথা বলছি, তখন হুমায়ুন আহমেদ ছিলেন অধিকাংশ তরুণ পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যেমণি। আমারও খুব প্রিয় লেখক ছিলেন তিনি। একদিন প্রিয় লেখকটাকে দেখতে গিয়েছিলাম। অটোগ্রাফের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। আমার সামনে না হলেও ৬০-৭০ জন মানুষ তো হবেই। পুরো মেলা জ্যাম হয়ে গেছে৷ আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি, মানুষের ঢ্ল নেমেছে। যতদূর তাকানো যায় মানুষ আর মানুষ। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে। এই যাদুকরটা যেনো তার বইয়ের একটা পাতায় একটু পরশ দিয়ে দেয়। অনেক ধাক্কাধাক্কি, পুলিশ সামাল দিতে পারছে না।
আমার সামনে আর সাতজন আছে৷ ওইতো তাকে দেখা যাচ্ছে চশমা খুলে বইয়ের দিকে ঝুকে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন৷ একটু পরপর চেঁচিয়ে বলছেন,
&quot;এই হট্টগোল করবা না। &quot;
কয়েকজনকে ধমক দিয়ে লাইন থেকে বের করে দিলেন। অটোগ্রাফ তো দূরের কথা বইও দিলেন না। আমি এতো কাছে গিয়েও অটোগ্রাফটা নেই নি। লাইন থেকে বেড়িয়ে এসেছি। আমি জানতাম,তিনি আমাকে যদি কোনো কারণে ধমক দিতেন তাহলে আমার প্রচুর অভিমান হতো৷ হয়তো তার বই কক্ষনও আর পড়তাম না। অতি প্রিয় মানুষদের অপ্রিয় কাজ করার সুযোগ দেয়া উচিত না।
দিনের শেষ আলো এসে পরেছে বিছানায়। আমার মাথা ভোন ভোন করছে। প্রচন্ড ঘুম আসছে। আযান দিচ্ছে। এইটা কোন সময়ের আযান মাগরিবের না আসরের? না আযান না, কে যেনো দরজার কড়া নাড়ছে। কিন্তু কড়া নারা শব্দের সাথে আযানের সম্পর্ক কি? কে এসেছে বাইরে? আজরাইল? এখন কি আমার মৃত্যু হবে? আমি তো সুখী, বেশ সুখী। মৃত্যু হবার জন্য দুঃখী মানুষ হতে হয় । আমি বুঝতে পারছি,আমার চিন্তা ভবনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে৷
আমি গভীর শুন্যে তলিয়ে গেলাম।যে শুণ্য হতেই হয়তো এই পৃথিবীর সৃষ্টি।

চলবে..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/43605/</link>
				<pubDate>Thu, 14 Oct 2021 15:53:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০২)<br />
~আবির হাসান সায়েম</p>
<p>আমার দুইদিন যাবৎ প্রচন্ড জ্বর। ওইদিন বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর এসেছে। শিলাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমি আরো দু&#8217;ঘন্টা বৃষ্টিতে ভিজেছি। যেদিন ভিজেছি, সেদিন কিছু হয় নি। পরেরদিন সকাল থেকে জ্বর জেপে ধরেছে।<br />
আমি ঢাকায় একা থাকি।একবছর হলো মাস্টার্স শেষ করেছি। এতোদিন টিউশনি করে খেয়েছি । কিন্তু এখন আর টিউশুন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-43605"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/43605/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>14</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ab903ba6aabc37de30d17721952675f5</guid>
				<title>#ধারাবাহিক
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০১)
~আবির হাসান সায়েম 
 
কফিটা একদম ঠান্ডা হয়ে গেছে। ঠান্ডা কফি আর নুন ছাড়া খাবার , দুটো একই জিনিস। বাইরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। শ্রাবণ মাসের বৃষ্টি। মনে হয় না খুব তাড়াতাড়ি থামবে। রেস্টুরেন্টের একটা পাশ পুরো কাঁচ দিয়ে দেয়াল বানানো । ভিতরে বসে বৃষ্টি দেখা যায়।
আমার ইচ্ছে করছে এক দৌঁড়ে রাস্তায় নেমে যেতে।বৃষ্টি হলে বাইরে গিয়ে ভিজতে যে মানুষের ইচ্ছে করে না সে আর যাই হোক বাঙালী না। সে ভুলে বাঙালীর ঘরে জন্মেছে। সাধারণত এতো বৃষ্টি নামে না। আজ মনের তৃষ্না মিটিয়ে ভেজা যাবে। কিন্তু যাবার উপায় নেই সামনে শিলা আর একটা ছেলে বসে আছে। কি যেনো ছেলেটার নাম? ওহ হ্যাঁ মনে পরেছে -নিলয়। ছেলেটা অনরগল কথা বলে যাচ্ছে। শিলা যে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কথাগুলো গিলছে তা যে কেও তার মুখের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবে। কিন্তু ছেলেটা বুঝছে না, বুঝবার কথাও না। আকাশ মেঘে মেঘে কালো হয়ে আছে। রেস্টুরেন্টের আলোও বেশ কম। এর মাঝেও ছেলেটা কালো চশমা পরে আছে। তার সামনে রাখা রাখা খাবারে যদি কেও দু-চারটে আরশোলা রেখে দেয় তাও সে দেখবে না। সালাদ দিয়ে মেখে মুখের পুরে দিবে। আমার বিশ্বাস, কিছুক্ষণ চিঁবিয়ে তারপর শিলার দিকে তাকিয়ে বলবে,
&quot;দিস ফুড ইজ রিয়েলি আমেজিং। টেস্টটা খুব ডিফারেন্ট। এইরকম টেস্টি ফুড অনেক আগে একবার খেয়েছিলাম। সেইবার কি হলো শুনো………..।&quot;
বাংলিশ বলাটা হয়তো ছেলেটার মূদ্রাদোষ। কোনো কথাই সে সম্পূর্ণ বাংলায় বলে না। আমি যখন রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম, আমার দিকে হাত বারিয়ে দিয়ে বলল,
&quot; ব্রো,কেমন আছেন?&quot;
আজব একটা প্রাণী। পৃথিবীর যত পাপ আছে তার মধ্যে অন্যতম পাপ হলো -সংকর ভাষা ব্যবহার করা।
গল্প বলছে নিলয় আর হাঁপিয়ে উঠছে শিলা। একটু বিরতি পাওয়ার জন্যই হয়তো শিলা আমাকে বলল,
&quot;আবির তোর কফি তো বোধ হয় ঠান্ডা হয়ে গেছে। আরেকটা দিতে বলব?&quot;
&quot;না, কফি খেতে ইচ্ছে করছে না। &quot;
কফি হলো শীতপ্রধান দেশের জন্য। যেখানে বরফ পরে। কফি খেতে খেতে বরফ দেখা একটা বিলাশীতার ব্যাপার। কফি খেতে খেতে বৃষ্টি দেখতে ভালো লাগে না। বৃষ্টি দেখতে হয় গরম এক কাপ চায়ে চুমুক দিয়ে।
নিলয়ের ফোন বাজছে। শিলাকে কেমন যেনো বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। আমার খুব হাসি পেলো। একটা ছবি তুলে রাখলে ভালো হতো। মেয়েটার ধৈর্যশক্তি খুবই বেশি। নিলয় যদি আরোও একঘন্টা কথা বলে, তাহলেও সে শুনবে৷ একবারও বলবে না,
&quot; কথা শুনতে ভাল্লাগছে না। একটা মানুষ এতো কথা কিভাবে বলে?আপনি জানেন, যারা কথা বেশি বলে তাদের মাথায় বুদ্ধি কম থাকে। &quot;
এইটা শুধু নিলয়ের ক্ষেত্রে নয়। সব মানু্ষের ক্ষেত্রেই।
নিলয় ফোন কান থেকে নামিয়েই উঠে পরল।
&quot;সরি গাইজ, আমাকে একটু যেতে হবে। একটা আরজেন্ট কাজ পরে গেছে। সরি তোমাদের টাইম দিতে পারলাম না। &quot;
আমি কিছু বলার আগেই শিলা বলে উঠল,
&quot;হ্যাঁ হ্যাঁ যান। কাজ সবার আগে। অন্য কোনোদিন আবার দেখা হবে। &quot;
&quot; তোমরা চাইলে আমি তোমাদের আমার গাড়ি দিয়ে ড্রপ করে দিতে পারি।&quot;
আমি বললাম,
&quot;না না,সমস্যা নেই। আপনি কাজে যান। &quot;
&quot;ওকে দেন, হ্যাভ আ নাইস ডে। &quot;
নিলয় বেরিয়ে গেলো। শিলার মুখ হাসিতে ভরে উঠেছে।
আমি বললাম,
&quot; ছেলেটা খুব ভালো কিন্তু শিলা। তোর সাথে খুব মানাবে। &quot;
&quot; ভালো আমার ছাই৷ মানুষ না মেশিন। আমার মাথা ধরে গেছে। আজ প্রথমবার দেখা হলো, কি লজ্জা পাবে তা না সে শুরু করল কাহিনী শুনানো। আজব সব কাহিনী। আবার এই অন্ধকারে কালোচশমা পরে আছে। দেখে মনে হয় কানা। &quot;
&quot; হয়তো সামনের মানুষ বিরক্ত হচ্ছে কি না তা যাতে চোখে না পরে, তাই এই ব্যবস্থা। একদল মানুষ আছে পৃথিবীতে যারা নিজের কথা বলেই ছাড়বে। সামনের মানুষটা মরে গেলেও তাদের কিছু আসে যায় না। মরার পরও মানুষটাকে তুলে তারপর কথা শুনাবে।&quot;
আমি হাসতে শুরু করলাম, শিলাও আমার সাথে হাসছে। আবছা আলোতে তার হাসি গ্রীষ্মকালের আইস্ক্রিমের মতো লাগছে। মায়া যেনো টপটপ করে গলে পরছে। কালো টিপে তাকে বেশ মানিয়েছে। টিপ হলো সবচেয়ে সস্তা সৌন্দর্য বর্ধনকারী বস্তু যা প্রত্যেক বাঙালী মেয়ের মুখে একটা &#039;মায়াবী, মায়াবী&#039; ছাঁপ ফেলে।
আমি বললাম,
&quot; তুই আমাকে নিয়ে এসেছিস ব্যাপারটা কেমন যেনো হয়ে গেলো না। &quot;
&quot;কেনো কেমন লাগবে আবার। তুই আমার অনেক ভালো বন্ধু তাই তোকে সাথে নিয়ে এসেছি। একটা ছেলেকে চিনি না জানি না, তার সাথে একা দেখা করতে আসব বুঝি?&quot;
&quot;খালু তো ছেলে দেখেছেই, তো চিনা না চিনার তো কোনো প্রশ্নই আসে না৷&quot;
&quot;ঘোড়ার ডিম দেখেছে ।আমাকে এসে বলে, ছেলে খুব শান্ত। পাঁচটা প্রশ্ন করলে একটা উত্তর দেয়। দেখলাম তো কতো চুপচাপ ছেলে। আর আমার ভুল হয়েছে তোকে আসতে বলেছি। আর কখনো বলব না। &quot;
এই কথা বলেই শিলা কাঁদতে শুরু করল। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
&quot; তুই কাঁদছিস কেনো? &quot;
&quot;তুই কথা বলবি না। তুই…তুই একদম চুপ।&quot;
&quot; না আমি চুপ করব না, নিলয়ের মতো বলব, আমি কি ফল্ট করলাম? তুমি আমার কারণে হার্ট হয়ে থাকলে আ&#039;ম সরি…..&quot;
শিলা হেসে ফেলল। কান্না মাখানো হাসি। গাল দিয়ে গড়িয়ে কয়েক ফোঁটা নোন্তা পানি মুখে প্রবেশ করল।
আমি টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বললাম,
&quot;চোখের পানি সব খেয়ে ফেলার আগে মুছে নে৷ &quot;
চোখ মুছে আহ্লাদিত গলায় শিলা বলল,
&quot;আবির দোস্ত, বাসায় যেতে ইচ্ছে করছে না। &quot;
&quot;তাহলে কি করবি এইখানে বসে থাকবি?&quot;
&quot;না, কি করব বুঝতে পারছি না। বৃষ্টিতে ভেজা যেতো কিন্তু কাঁদা আমার সহ্য হয় না। &quot;
আমি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে তারপর বললাম,
&quot;চল হাওয়াই গাড়িতে চড়ে বৃষ্টিতে ভিজি। তাহলে, পায়ে কাঁদা লাগবে না। &quot;
&quot;হাওয়াই গাড়ি কি জিনিস?&quot;
&quot;তুই আয়, আমি দেখাচ্ছি। &quot;
আমি আর শিলা বাইরে বেরিয়ে এলাম। বৃষ্টি কমে এসেছে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সাথে ঠান্ডা বাতাস বইছে। ঠান্ডা বাতাস চামড়া ভেদ করে আত্মার গায়ে গিয়ে লাগছে।
একটা রিক্সা ঠিক করে শিলা আর আমি উঠে পরলাম। কিছুক্ষণ যাবার পর হতাশ গলায় শিলা বলল,
&quot;কোথায় তোর হাওয়াই গাড়ি?&quot;
&quot; এইতো। হাওয়াই গাড়িতেই তো বসে আছিস। &quot;
শিলা আরও হতাশ গলায় বলল,
&quot; এইটা তো রিক্সা৷ &quot;
&quot; এইটাই হাওয়াই গাড়ি হয়ে যাবে। কিন্তু এর জন্য কয়েকটা কাজ করার লাগবে। &quot;
&quot;কি কাজ?&quot;
&quot;তোর চোখ বন্ধ করার লাগবে। আমি যা বলব তা কল্পনা করার চেষ্টা করার লাগবে৷ পারবি না? &quot;
শিলা খানিকটা ভ্রু কুঁচকে বলল,
&quot;হ্যাঁ, পারব। কিন্তু এইটা যদি কোনো ফাইযলামি হয় তাহলে তোকে একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবো। &quot;
&quot;আচ্ছা দিস। এখন চোখ বন্ধ কর। &quot;
শিলা চোখ বন্ধ করল। আমি গলার স্বর কিছুটা গাঁঢ় করে বললাম,
&quot; ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। তোর মুখে এসে পরছে বারবার। তুই বসে আছিস একটা টিলার উপর। তোর সামনে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ। দেখতে পারছিস? &quot;
&quot;হ্যাঁ পারছি।&quot;
&quot; তুই হালকা গা এলিয়ে দিয়েছিস। নরম ঘাসের উপর ভর করে, আস্তে আস্তে টিলা থেকে নীচে নেমে যাচ্ছিস। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সাথে ঠান্ডা বাতাস মুখে এসে লাগছে। শিলা শুনছিস? শিলা?&quot;
শিলা আমার কাঁধে মাথা নুইয়ে দিলো। তার শ্বাস ভারী হয়ে আসছে। অনেকগুলো চড়ুই পাখি মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেলো। আচ্ছা চড়ুই তো দল বেঁধে চলে। এরা দল বেঁধে উড়ছে কেনো? বৃষ্টির তেঁজ আস্তে আস্তে বাড়ছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/43193/</link>
				<pubDate>Wed, 13 Oct 2021 08:32:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ধ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ধ</a>ারাবাহিক<br />
একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০১)<br />
~আবির হাসান সায়েম </p>
<p>কফিটা একদম ঠান্ডা হয়ে গেছে। ঠান্ডা কফি আর নুন ছাড়া খাবার , দুটো একই জিনিস। বাইরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। শ্রাবণ মাসের বৃষ্টি। মনে হয় না খুব তাড়াতাড়ি থামবে। রেস্টুরেন্টের একটা পাশ পুরো কাঁচ দিয়ে দেয়াল বানানো । ভিতরে বসে বৃষ্টি দেখা যায়।<br />
আমার ইচ্ছে করছে এক দৌঁড়ে রাস্তায় নেমে যেতে।বৃ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-43193"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/43193/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2b98d570c33a0662266b5c75da0fd0bd</guid>
				<title>আবির হাসান সায়েম and Md.Khaladur Rahman (অনল) are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/42690/</link>
				<pubDate>Mon, 11 Oct 2021 18:58:25 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f47da3b4bee434a35470730fce44cd10</guid>
				<title>মানুষ আমি, আমার চোখে চোখ রেখে  
যদি বলো, ‘তুমি একান্ত আমার’,
কী করে থাকবো নির্বাক?  
তারায় তারায় রটিয়ে দেবো, ‘আমি তোমার, তুমি আমার’। 
  ~ উত্তর(শামসুর রাহমান)

রোদে খাঁ খাঁ করতে থাকা এক দুপুরে তোমার সাথে দেখা হোক। পকেটে টাকা না থাকায় হেটে আসতে হলো। ঘামে ভেজা শার্ট লেগে গেছে গায়ের সাথে। আমি তোমার পাশে গিয়ে বসলাম। রুমাল বা টিস্যু বের করে ঘামে ভেজা মুখ মুছছি। তুমি পাশে চুপচাপ বসে আছো। কথা বলছো না। বড্ড রাগ আমার উপর। প্রতিবারই এমনটা হয়, তবুও রাগ তোমার করতেই হবে। আমি বললাম, 
 &quot;বেশি দেরী হয় নি। মাত্র পনেরো মিনিট।&quot;
তুমি কোনো কথা বললে না। আমি আবার বললাম, 
  &quot;আর হবে না দেরী। &quot;
তুমি তাও কিছু বললে না। রাগ ভাঙানোর জন্য কি করা যায় তা বুঝতে না পেরে মাথা চুলকাই। নাহ চুলকানোতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। একটা বাদামওয়ালা সামনে দাড়িয়ে বালু নেড়ে চেড়ে বাদাম ভাজছে। দশ টাকার বাদাম কিনে দিলে হতো। কিন্তু খরচ করবার মতো দশ টাকা নেই। আর মতো কচ্ছপ টাইপ বুদ্ধিওয়ালা মানুষকে কি বিপদে ফেলেছো বুঝতে পারছো?
হতাশ হয়ে বসে থাকি। কিছুক্ষণ পর তুমিই বলে উঠলে, 
 &quot;থাকবে কতক্ষণ?&quot;
আমি তোমার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলাম, 
 &quot; যতক্ষণ চাও। আমার আজ কোথাও যাবার কোনো তাড়া নেই। শুধু এক ঘন্টা পর কাজে একটা জায়গায় যেতে হবে। &quot; 
এই বলে অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে হাসলাম। তোমার চোখ আরও সরু হয়ে গেছে। গলা ভারী করে তুমি বললে, 
 &quot; ওহ আচ্ছা।&quot;
 &quot;কোথাও যাবে?  চলো সামনের দিকে যাই?&quot;
তুমি ধমকের স্বরে বললে,
 &quot; চুপ একদম। এখনে চুপচাপ বসে থাকো। &quot;
আমি বাধ্য ছেলের মতো বসে রইলাম। পায়ের নীচ দিয়ে অনেকগুলো কালো পিপড়া ঘোড়াঘুড়ি করছে। ছোট বেলায় ভাবতাম, কালো পিপড়া ভালো আর লাল পিপড়া দুষ্টু। কথাটা মনে পরায় আনমনেই সুক্ষ্ম হাসি ফুঁটে উঠে। তুমি বললে,
  &quot; হাঁসছো কেনো?&quot;
আমি আবার অপ্রস্তুত হয়ে তোমার দিকে তাকালাম। কিছু বললাম না। তুমি আবার বললে, 
 &quot; তোমার জড়তা কাটছে না কেনো? তুমি আমাকে ভয় পাও? নাকি অন্য কিছু?&quot;
 &quot; না তেমন কিছু না। &quot;
 &quot;আমার দিকে তাকাতেও তুমি লজ্জা পাও। তাকিয়ে সাথে সাথে মাথা নীচু করে ফেলো। আর কতবার দেখা হলে এই অপ্রস্তুতভাবটা কমবে তোমার?&quot;
আমি কিছু বললাম না। তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে -এই কথাটুকু বলতে খুব ইচ্ছে করলেও, বলতে পারি না কোনোবারই। হঠাৎ আকাশ ডেকে উঠল। আকাশে কালো মেঘেরা জমা হয়েছে। শ্রাবণ মাসে এই রোদ এই বৃষ্টি ব্যাপারটা ভালোই লাগে। 
কয়েকবার দমকা বাতাস দিয়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নামল। বাতাসে তোমার চুল উড়ছে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। ইচ্ছে করে, গালে এসে পরা আলগোছে চুলগুলো টেনে কানের পিছনে দিয়ে দেই। কিন্তু পারি না। নিজের উপর রাগ উঠে।  কেনো এতো দ্বিধা?
বৃষ্টি জোরে পরতে শুরু করলে, তুমি বললে, 
 &quot;বৃষ্টিতে ভিজলে তোমার কোনো সমস্যা আছে? &quot;
 &quot; নাহ নেই। &quot;
 তুমি আলতো হেসে বললে, 
 &quot; চলো ভিজি। &quot;
জানো তুমি হাসলে মাঝে মাঝে তোমার গালে সামান্য টোল পরে। অনেক সাহস সঞ্চার করে আজ ছুঁয়েই ফেলি তোমার গাল। লজ্জা খানিক্কটা তুমিও পাও। দেখাও না। 
বৃষ্টির তেজ বাড়ে। আমার হাতে তোমার হাত। হেটে যাই,   ফাঁকা পথ দিয়ে। কোথায়? জানি না। অজানা গন্তব্যে।
   কবে থাকবো? কবে ছাড়বো এই হাত?  
 ~ কখনো না। কখনো না।

মেঘচিঠি/ আবির হাসান সায়েম</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/42615/</link>
				<pubDate>Mon, 11 Oct 2021 15:28:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মানুষ আমি, আমার চোখে চোখ রেখে<br />
যদি বলো, ‘তুমি একান্ত আমার’,<br />
কী করে থাকবো নির্বাক?<br />
তারায় তারায় রটিয়ে দেবো, ‘আমি তোমার, তুমি আমার’।<br />
  ~ উত্তর(শামসুর রাহমান)</p>
<p>রোদে খাঁ খাঁ করতে থাকা এক দুপুরে তোমার সাথে দেখা হোক। পকেটে টাকা না থাকায় হেটে আসতে হলো। ঘামে ভেজা শার্ট লেগে গেছে গায়ের সাথে। আমি তোমার পাশে গিয়ে বসলাম। রুমাল বা টিস্যু বের ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-42615"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/42615/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c31cd1dd394a153d8af626ae36643834</guid>
				<title>শীতের বাতাসে (ছোটগল্প)
~ আবির হাসান সায়েম 

শীতকাল , জানালার শিক গলে কুয়াশা এসে ঢুকছে । গত এক সপ্তাহ ধরে শীত ঝেপে নেমেছে। সন্ধ্যার পর কেও বাইরে বের হয় না। সালেহ শেখ  শুয়ে আছেন বিছানায়। তার গায়ে  পাতলা কম্বল দেয়া। পুরো শরীর অবশ তাই শরীরে শীতের আঁচ টের পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু নাক ,চোখের পাপড়ি দিয়ে ঠিকই টের পাওয়া যায় শীতের প্রকটতা কত বেশি।  সালেহ শেখের বাসার আশেপাশে তেমন কোনো ঘড়বাড়ি নেই। সবচেয়ে কাছে করিমের বাড়ি। করিমের বউ ছেলে প্রসব করতে গিয়ে মারা যায়, তার কয়েকদিন পরে বাচ্চাটাও মারা যায়। সালেহ শেখের বাসায় করিম সারাদিন থাকে, প্রায় সময় রাতেও থেকে যায়। কিন্তু আজ  নিজের বাড়ি যাবার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠলো। সালেহ শেখ করিমকে জিজ্ঞেস করলেন, 
 “আজ এইহানে থাকবা না?”
করিম হেসে উত্তর দিলো,
 “ না, একটু বাড়িত যামু। একটা কাম আছে । সব  কইরা দিয়া যাইতাসি। ভোর বেলা আইসা পরুম।”    
করিম বেরিয়ে পড়লো । তাড়াহুড়ার কারণে করিম  জানালা বন্ধ করতে ভুলে গেছে।  এই তীব্র শীত সালেহ শেখকে সারা রাত সহ্য করতে হবে। চার পাশ একদম স্তব্ধ, একটা টু শব্দও নেই।। বাড়ির পিছনে বন-জঙ্গল , রাত হলেই নানা পশু পাখি, পোকার ডাক শোনা যায় কিন্তু এই অসহ্যকর শীতের দাপটে তারাও আজ নিশ্চুপ। সালেহ শেখের ইচ্ছে করছে ,উঠে গিয়ে জানালাটা বন্ধ করে দিয়ে আসতে , মাথার পাশের টেবিলে রাখা হারিকেন টিমটিম করে জ্বলতে থাকা আগুনের তেজ বাড়িয়ে দিতে । কিন্তু তা কি আর সম্ভব ? 
রইজুদ্দিনের কথা বারবার মনে পরছে। মানুষ  একা থাকলে  নানান কিছু নিয়ে ভাবে । বেশি ভাবে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের নিয়ে। রইজউদ্দীন গত পরশু মারা গেছেন। মারা যাওয়ার খবরটুকু পাওয়া গেছে কিন্তু শেষ দেখা আর হয় নি।  হাটাচলা করতে পারে না এমন মানুষকে কোথাও নিয়ে যাওয়া খুব কষ্টের। এই কষ্টের কাজ কেও করতে চায় না।

সালেহ শেখের বয়স তখন সতেরো । শোনা গেছে , গ্রামে মিলিটারিরা এসেছে । ভয়ে কেও ঘর থেকে বের হচ্ছে না।  গ্রামের সব ঘরে খবর পাঠানো হলো , ঘরের সকল পুরুষদের আছরের আযানের পর স্কুল মাঠে উপস্থিত থাকার জন্য। সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে । না গেলে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে। তখন সালেহ শেখের পাশের বাড়িতে  রইজউদ্দিনদরা থাকত । তাদের দুইজনের বাবা মিলে পরামর্শ করলেন, 
 “ পোলাগোরে নেওনের দরকার নাই। ওরা ধান ক্ষেতের মইধ্যে পলায়া থাকবো। আর এমনেও  কয়ডা প্রশ্ন কইরা ছাইড়া দিবো। ওগোরে নিয়া যাওনের দরকার নাই ।“
আছরের আযান পরলো । বাবারা বের হবার সাথে সাথেই সালেহ ও রইজউদ্দিন লুকিয়ে পরে ধান ক্ষেতের আড়ালে। তারা ধীরে ধীরে ধান ক্ষেতের মাঝ দিয়ে স্কুল মাঠের দিকে আগাতে লাগল। 
সবগুলো মানুষকে এক লাইনে দাঁড় করানো হলো । একটা লোক এসে সবার নাম বয়স লিখে নিয়ে গেলো। কিছুক্ষণ পর খাকি জামা পরা একটা লোক এলো। তাকে দেখে আশে পাশের সব মিলিটারি স্যালুট দিলো। কোনো কথা বললেন না ,লাইনের এই মাথা থেকে ওই মাথা দুইবার হাঁটলেন। তারপর কয়েকজনের কাঁধে হাত রেখে চলে গেলেন। তাদের নিয়ে যাওয়া হলো নদীর পাড়ে। পাঁচ মিনিটে তাদের রক্তে লাল হয়ে গেলো নদীর পানি। দূর থেকে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখলো সালেহ ও রইজউদ্দীন। যাদের রক্ত ঐ নদীতে লাল করেছে তার মধ্যে তাদের দুইজনের বাবা ছিলো।
   এর সপ্তাহ দুইয়েক পর গ্রামে মুক্তি বাহিনী এলো। খবর পেয়ে সবার প্রথম যে দুজন মানুষ গ্রাম থেকে তাদের কাছে গিয়েছিলেন তারা হলেন  সালেহ শেখ আর রইজউদ্দিন। একসাথে কত মিলিটারি ,বেস ক্যাম্প উড়িয়ে দিয়েছে তারা এর হিসেব নেই। যুদ্ধের শেষের দিকে , আর মাত্র একটা অপারেশন বাকি। চারপাশে তখন জোরো গুঞ্জন, পাকিস্তানিরা যেকোনো সময় আত্মসমর্পন করে কাথা- কম্বল নিয়ে পালাবে। অপারেশনের নাম দেয়া হলো &quot;অপারেশন লাস্ট। দুটোদল করা হলো। একদলে সালেহ শেখ, অন্য দলে রইজউদ্দীন। সালেহ শেখের দলে তিনজন এবং রইজউদ্দীনের দলে চারজন সদস্য। পাশের গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে মিলিটারি ক্যাম্প বানানো হয়েছে। দুটো দলের কাজ আলাদা আলাদা।  সালেহ শেখের দলের দ্বায়িত্ব মিলিটারিদের মনোযোগ তাদের দিকে নেয়া। যখনই মিলিটারিরা ওইদিকে খেয়াল করবে ঠিক তখনই রইজউদ্দীনের দল ঝাপেয়া পরবে তাদের উপর। 

মিলিটারি ক্যাম্প দেখা যাচ্ছে। রাইজউদ্দীনের দল লুকিয়ে আছে ঝোপের আড়ালে। সালেহ শেখের দল জয় বাংলা বলে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে নদীতে ঝাপ দিবে৷  মিলিটারিদের মনোযোগ চলে আসবে এই দিকে আর ঠিক তখনই রইজউদ্দীনের ঝাপিয়ে পরবে। সালেহ শেখ ইশারা দেয়ার সাথে সাথেই তিনজন জয় বাংলা বলে উঠল। বলেই দৌড় দিলো নদী দিকে। মিলিটারিরা শব্দ শুনে বন্দুক তাক করে এগিয়ে এলো। ফাকা গুলি ছুড়তে শুরু করল। সালেহ শেখ যখন নদীর ঠিক কাছাকাছি তখন  মিলিটারিদের একটা বুলেট এসে লাগে সালেহ শেখের পিঠে। নদীর পাড়েই পরে গেলেন তিনি। পিছন থেকে গোলাগুলির শব্দ আসছে। কিচ্ছুক্ষণ পর গুলির শব্দ থেমে গেলো। আকাশ কাঁপিয়ে একদম মানুষের উল্লাসধ্বনি &quot; জয় বাংলা&quot;। সালেহ শেখ কোনো ব্যাথা অনুভব করতে পারছেন না। তার সারা শরীর জুড়ে স্বাধীনতার ফুল। তার মনে হলো, মরে গেলেও ক্ষতি নেই। দেশের জন্য জীবন দেয়াটাই অনেক বড় ব্যপার। নিজেকে এক নিমিষেই স্বার্থক মনে হয়। সালেহ শেখের খুব ঘুম পাচ্ছে। তিনি অতল ঘুমে তলিয়ে গেলেন। যখন ঘুম ভাঙল তখন তিনি সদর হাসপাতালের একটা বিছানায় শোয়া। চোখ মেলেই দেখলেন রইজউদ্দীন দাড়িয়ে। হাসি মুখে বলল, 
 &quot; কিরে সালেহ, ঘুম ভাঙল তোর। দেশ তো স্বাধীন হয়া গেসে রে। এখন থেইক্কা এই দেশের নাম বাংলাদেশ। আমরা দেশ স্বধীন করসে রে দোস্ত।&quot;
এই কথা বলতে বলতে চোখে পানি এসে পরল রইজুদ্দীনের।  গুলি এসে লেগেছে সালেহ শেখের মেরুদন্ডতে। হাত পা কিছুই নাড়াতে পারছেন না। প্রায় ছয় মাস হাসপাতালে পরে থাকতে হয়েছে। এই ছয়মাস প্রতিটা মুহুর্তে সাথে ছিলেন রইজউদ্দীন। এই অবশ শরীর নিয়েই বেঁচে আছেন তিনি।

এইসব ভাবতে ভাবতে সালেহ শেখের চোখ বেয়ে পানি পরতে লাগলো । হঠাৎ জানালার দিকে চোখ যেতেই দেখলেন রইজউদ্দীন দাঁড়িয়ে। তার দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলছে ,” অনেক তো হলো এইবার চল।যাবি আমার লগে?” 
সালেহ চারপাশের নিস্তব্ধতা ভেঙে দিয়ে  বলতে লাগলেন ,   “ যাবো যাবো।&quot; ঠিক কিছুক্ষণ পর সব চুপ। হারিকেনের মৃদু আলো এসে পরেছে  শত ভাঁজ পরেছে  নিথর মুখটার উপর।
কুয়াশাগুলো চাদরের মতো করে জড় হয়েছে শরীরের উপর। যেনো সাদা শ্বতপাথরের চাদর গায়ে শুয়ে আছেন। 

~ শীতের বাতাসে / আবির হাসান সায়েম</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/42013/</link>
				<pubDate>Sat, 09 Oct 2021 14:48:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শীতের বাতাসে (ছোটগল্প)<br />
~ আবির হাসান সায়েম </p>
<p>শীতকাল , জানালার শিক গলে কুয়াশা এসে ঢুকছে । গত এক সপ্তাহ ধরে শীত ঝেপে নেমেছে। সন্ধ্যার পর কেও বাইরে বের হয় না। সালেহ শেখ  শুয়ে আছেন বিছানায়। তার গায়ে  পাতলা কম্বল দেয়া। পুরো শরীর অবশ তাই শরীরে শীতের আঁচ টের পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু নাক ,চোখের পাপড়ি দিয়ে ঠিকই টের পাওয়া যায় শীতের প্রকটতা কত বেশি।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-42013"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/42013/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b5ce664474640590a03efb69f2c5b983</guid>
				<title>অদূরে কোথাও কোন রেডিওতে
এই পথ যদি না শেষ হয়
আর বৃষ্টির রং হয়ে যাবে নীল
আর আকাশের রংটা ছাই
একদিন, বৃষ্টিতে একদিন …
~অঞ্জন দত্ত।

বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি বহুদিন। আসবো আসবো বলেও সে আসছে না। শেষ বিকেলে দমকা হাওয়া বইছে, ভুলে দু&#039;এক ফোঁটা জলও পরছে কিন্তু সেই ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে না। কতদিন হলো বৃষ্টির জলে মন ভিজাই না। ওই দুই এক ফোটাতে মন কি বাসার সামনের বড় দালানগুলোর চাপে সরু হয়ে যাওয়া রাস্তাটাও ঠিক মতো ভিজছে না।
কয়েকবছর আগের কথা। বিকেলবেলা বসে আছি বারান্দায়। আকাশের মন খারাপ, মুখ কালো করে রেখেছে সে। একটু পর  পর &quot;ধ্রুম ধ্রুম&quot; শব্দ করে মন খারাপের কথা জানান দিচ্ছে। শব্দের সাথে আলোর ঝলকানি। যেকোনোভাবেই হোক তার মন খারাপের কথা সবাইকে জানাতেই হবে। কিছুক্ষনের মধ্যেই কান্না শুরু হলো তার। কান্নার জলকে আমরা আদর করে বলি &quot;বৃষ্টি&quot;। মন খারাপের মাত্রা বেশি ছিলো, তাই কাঁদছেও অনেক, ঝুম বৃষ্টি।  আমি বারান্দায় বসে হতাশ মুখে কান্না দেখি, আকাশের দিকে তাকাই। মন কালো থাকে অনেক্ষণ। বাড়ি নীচের রাস্তায় দু&#039;জন ছোট ছেলে ভিজছে বৃষ্টিতে। দেখে খানিকটা হিংসে হয় আমার। ইচ্ছে করে আমিও ছুট দেই কিন্তু না সম্ভব না। মাত্র উঠেছি অসুখ থেকে। সপ্তাহ দুই থেকে আসতে হয়েছে হাসপাতালে। প্রতিদিন একবার করে সুঁই এসে কামড়ে গেছে হাতে। খুব ব্যাথা। এখনই এই বৃষ্টিতে নেমে পরা চলে না। মন খারাপ করে বসে থাকি। ইচ্ছে করে কিছু লিখতে বৃষ্টি নিয়ে। আমার আবার মন খারাপ হলে লিখতে বেশ লাগে। আমি লেখি। লেখাটার নাম দিয়েছিলাম &quot; বর্ষাবিচ্যুতি&quot;। লেখাটি দেয়া হলোঃ-
মহাবিপদে পড়েছি। প্রকৃতির মায়া বড় ডাকছে কিন্তু আমি যেতে পারছি না। কিছু জিনিস শিকল দিয়ে হাত বেধে রেখেছে, ছুটাতে পারছি না। কথাগুলো ঘোলাটে লাগছে না?আমার কাছেও লাগছে। একটু খুলে বলি,
কাল রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। এখন বৃষ্টির তেজ খানিকটা কম। কিন্তু মেঘ যেহেতু কাটেনি তাই আশা করা যায় বিকেলে কিংবা রাতে আবার বৃষ্টি হবে।আজ সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টিতে ভিজতে অনেক ইচ্ছে করছে। বৃষ্টি তে ভিজতে ভিজতে রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে গেলে মানুষ যেভাবে তাকায়,  তাতে নিজেকে পাগল কম মনে হয় না। কিন্ত এখন আমি বৃষ্টি তে ভিজতে পারছি না। ব্যাপক মনঃকষ্টে ভুগছি।
ডাক্তার নামের অদ্ভুত প্রাণীটি বলেছে, 
বৃষ্টি পানি গায়ে লাগানো যাবে না। বৃষ্টির পানি গায়ে লাগালে নিয়মোনিয়া হবে।
 অসময়ে অসুখ হলে নিজের উপর খুব বিরক্ত লাগে। আচ্ছা এমন করলে কি হয় না? ঢাকার কোন একটা জায়গায় ঘর তৈরী করা হবে। ঘরটি হবে সম্পুর্ণ কাচের সবসময় ঘরটি বন্ধ থাকবে। শুধু যেদিন বৃষ্টি পরবে সেদিন সবার জন্য ঘরটি খুলে দেয়া হবে। সবাই বৃষ্টি তে উপভোগ করবে। ঐ ঘরটির একপাশে থাকবে লাইব্রেরি যার যে বই ইচ্ছে পরতে পারবে। যেখানে চা বা কফির ব্যাবস্থা থাকবে। যেদিন মুশলধরে বৃষ্টি পরবে সেদিন খিচুড়ি রান্না করা হবে। এই সব কিছুই করা হবে বৃষ্টির পানি দিয়ে। 

এমন একটা ঘর বানালে ভাল হতো। আমার মত সব শিকল পরা মানুষরা বৃষ্টি উদযাপন করতে পারত।

~অনা-বৃষ্টি/ আবির হাসান সায়েম</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/41664/</link>
				<pubDate>Fri, 08 Oct 2021 14:44:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অদূরে কোথাও কোন রেডিওতে<br />
এই পথ যদি না শেষ হয়<br />
আর বৃষ্টির রং হয়ে যাবে নীল<br />
আর আকাশের রংটা ছাই<br />
একদিন, বৃষ্টিতে একদিন …<br />
~অঞ্জন দত্ত।</p>
<p>বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি বহুদিন। আসবো আসবো বলেও সে আসছে না। শেষ বিকেলে দমকা হাওয়া বইছে, ভুলে দু&#8217;এক ফোঁটা জলও পরছে কিন্তু সেই ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে না। কতদিন হলো বৃষ্টির জলে মন ভিজাই না। ওই দু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-41664"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/41664/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">141773021c9af04b4908e5cb406abc47</guid>
				<title>ছোটগল্প

আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,  
 রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।  
 বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,  
 একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
~~ আসমানী( জসীমউদ্দিন) 

এপ্রিল মাস। ঝড় হওয়া শুরু হয়নি তখনও তবে বিকেল আকাশের মন ভার হয়। মুখ গুমড়ে রাখে কিছুক্ষণ তারপর এক পশলা কান্না। তপ্ত দুপুর শেষে শীতল কান্না শান্তি দেয়। এমনি একদিনে সকালে, ঘুম থেকে উঠে পড়ার বই নিয়ে বসেছি। মন বসছে না। সামনে পরীক্ষা তাই বই নিয়ে বসে থাকা, যদি একটু মন বসে। সকালটা  শীতল, সূর্য উত্তাপ ছড়ানো শুরু করে নি তখনও। মিহি রোদ পরেছে বারান্দায়। তেছড়াভাবে, ঠিক যেখানটায় আমাদের খরগোশগুলোর উপর। তারা রোদ খুব পছন্দ করে। বিশেষ করে টুনা। টুনা মেয়ে খরগোশটার নাম। যদিও কোনটা ছেলে কোনটা মেয়ে ঠিক বুঝে উঠতে পারি না কেওই। তাই ধরে নিয়েছি, যেটা আকারে লম্বা সে ছেলে তার নাম টুন, আর যে আকারে গোলগাল সে মেয়ে তার নাম টুনা। দিনের অধিকাংশ সময় তাদের ছেড়েই রাখা হয়। প্রচন্ড ব্যস্ত তারা। তাদের জ্বালায় ঘরে কোনো পোকা থাকতে পারে না। লাফিয়ে লাফিয়ে ঘরের সব আনাচে কানাচে ঢুকে পরে, খুব সরু জায়গায়ও কিভাবে জানি শরীর গলিয়ে ঢুকে যায়। দেখতে মন্দ লাগে না তাদের। আজকাল হাত বাড়িতে নাম ধরে ডাকলে কাছে আসে, আদর করি। আদরে চোখ বন্ধ করে তারা। টুনার আদর বেশি পছন্দ৷ হাত বাড়ালে আদর পাওয়ার লোভে সেই বেশি আসে। তবে টুনের সবকিছু নির্ভর করে মুডের উপর। মুড না থাকলে হাত দিতে হাজারবার ডাকলেও আসে না। আবার আদর পেতে চাইলে না ডাকতেই এসে বসে হাতের কাছে।  আদর পাওয়া শেষ হলে ফিরে যায় পূর্বের সেই কাজে। লাফালাফি-ছোটাছুটি, আনাচে -কানাচে।  রোদটা যে দিকটায় তীব্র সেদিকে গিয়ে বসে আছে টুনা। রোদ পোহাচ্ছে। কি আয়েশ করে বসেছে। কানটা একটু পর পর এদিক ওদিক লড়ছে। আরামে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে তার। আমি পড়ার বই সামনে রেখে এসব দেখছি। এমন সময় মা ঘরে এলেন। আমি তড়িঘড়ি করে বইয়ের দিকে তাকালাম। আমি পড়ছি, তাই যেনো চোখে পরে তার। মা। বললেন, 
  “ একটা অনুষ্ঠান আছে ছোটদের। যাবি?ফাহিমকে(আমার ছোট ভাই) নিয়ে তো তেমন বের হওয়া হয় না।  ”
আমি বললাম, 
 “অনুষ্ঠান কোথায়? কখন?” 
 “ শাহাবাগে। বারোটার দিকে শুরু হবে। আধ ঘন্টার মধ্যে বেরিয়ে পরলে সময় মতো পৌঁছে যাবো।  ”
আমি বললাম, 
 “চলো। ”
গোসল সেড়ে তৈরী হয়ে বেরুতে বেরুতে ঘড়িয়ে বেলা এগারো। সি.এন.জি ঠিক করে উঠে পরা হলো। রোদের তেজ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সি.এন.জি তেই বসে সিদ্ধ হচ্ছি। ঘামে ভিজে গেছে শার্ট। অর্ধেক রাস্তা যাবার পর আর ইচ্ছে করছে না যেতে। কিন্তু ফিরে যাবার উপায়ও নেই। সেখানে পৌঁছলাম যখন তখন বাজে বারোটা পনেরো। অনুষ্ঠানের ব্যানার চোখে পরলো। বেলুন- ফেস্টুন-রঙ বেরঙের কাগজ দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো। রঙিন, দেখতে ভালো লাগে। ঘামে জর্জরিত অবস্থা ঢুকলাম হল রুমে  যেখানে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছে।  অনুষ্ঠান শুরু হয়নি তখনো। তবে হবে হবে ভাব।হলরুম তুলনামূলক ঠান্ডা কিন্তু ওতোটা না যতটা আশা করেছিলাম চারপাশে তাকিয়ে দেখি ছয়টা এসি চলছে। তবুও এতো গরম। রুমে অনেক মানুষ তাই বোধহয়। খালি দেখে মাঝের দিকের চেয়ারে বসে পরলাম৷ মিনিট পনেরো পর শুরু হলো অনুষ্ঠান। মনে হচ্ছে গরম বেড়েছে। পিছনে তাকিয়ে দেখি যতগুলো চেয়ার ছিলো সব ভরে গেছে। 
অনুষ্ঠান শুরু হলো জাতীয় সংগীত দিয়ে। সবাই দাড়িয়ে একসাথে গাইলাম। এ অনুভূতি সবসময়ই অসাধারণ।  তারপর কিছু মানুষ এসে বক্তব্য রাখলেন। ঘুম পাড়ানি বক্তব্য সব।  কেও শুনলো না। তবু কি মনোযোগ নিয়ে বলছেন তারা। এই গরমে ঘুমপাড়ানি বক্তব্য শুনতে ইচ্ছে করছিলো না। সব মিলিয়ে খুব বিরক্ত আমি। যাক আরও মিনিট পনেরো শেষে শুরু হলো মূল অনুষ্ঠান। স্টেজে প্রদর্শিত হলো শিশুদের নাটক, গান, নাচ। দেখতে ভালো লাগে। এমন চলছে হঠাৎ খুব ঠান্ডা লাগতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ পর &quot;ধ্রুম ধ্রুম&quot; শব্দ পেলাম। মনটা ভালো হয়ে গেলো। বুঝলাম বৃষ্টি হবে। ঠান্ড লাগছে। এর পরপরই বৃষ্টির ঝম ঝম আওয়াজ কানে আসলো। স্টেজে তিনটা মেয়ে উঠেছে। খুব সুন্দর করে সেঁজেছে ওরা। কি করবে বুঝা যাচ্ছে না। মাইকের সামনে এসে দাড়ালো, গান করবে বোধহয়। না, গান করলো না আবৃত্তি করা শুরু করলো। আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম। কি সুন্দর!  কি সুন্দর! তুড়ি বাজাতে বাজাতে আবৃতি করছে তারা। চেয়েও চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। আবৃতির সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড হিসেবে কাজ করছে বৃষ্টির ঝিমিঝমানি শব্দ। এখনো চোখে ভাসছে সেই তুড়ি বাজিয়ে আবৃতি, 

  আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,  
  রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।  
  বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,  
  একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।  
  একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,  
  তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।  
  পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের ক-খান হাড়,  
  সাক্ষী দিছে অনাহারে কদিন গেছে তার।  
  মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি  
  থাপড়েতে নিবিয়ে দেছে দারুণ অভাব আসি।  
  পরনে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস,  
  সোনালি তার গা বরণের করছে উপহাস।  
  ভোমর-কালো চোখ দুটিতে নাই কৌতুক-হাসি,  
  সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু রাশি রাশি।  
  বাঁশির মতো সুরটি গলায় ক্ষয় হল তাই কেঁদে,  
  হয় নি সুযোগ লয় যে সে-সুর গানের সুরে বেঁধে।  
  আসমানীদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে  
  ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা কিল্-বিল্-বিল করে।  
  ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ গুলিছে জলে,  
  সেই জলেতে রান্না-খাওয়া আসমানীদের চলে।  
  পেটটি তাহার দুলছে পিলেয়, নিতুই যে জ্বর তার,  
  বৈদ্য ডেকে ওষুধ করে পয়সা নাহি আর। 
  ~ আসমানী( জসীমউদ্দিন) 

সে দিনটি স্মরণীয় হয়ে গেলো। প্রায়সই খুব গরম লাগলে মনে পরে সেদিনের কথা। যেমনটি আজ মনে পরে গেলো। তাই  লিখে ফেললাম। ভালো থাকুক স্মৃতিগুলো। ভালো থাকুক আসমানীরা। ভালো থাকুক ওই তিনটি ফুল। আকাশ ভালো না থাকুক। মন খারাপ হোক একটু তার। একটু কাঁদুক। গরম লাগে। বড্ড অপেক্ষায় আছি তার কান্নার -বৃষ্টির।

~আসমানী/ আবির হাসান সায়েম</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40682/</link>
				<pubDate>Tue, 05 Oct 2021 11:39:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছোটগল্প</p>
<p>আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,<br />
 রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।<br />
 বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,<br />
 একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।<br />
~~ আসমানী( জসীমউদ্দিন) </p>
<p>এপ্রিল মাস। ঝড় হওয়া শুরু হয়নি তখনও তবে বিকেল আকাশের মন ভার হয়। মুখ গুমড়ে রাখে কিছুক্ষণ তারপর এক পশলা কান্না। তপ্ত দুপুর শেষে শীতল কান্না শান্তি দেয়। এম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-40682"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/40682/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f461f2e2374224c6b18c517e9ee8411b</guid>
				<title>তোমার দেহে লতিয়ে ওঠা ঘন সবুজ শাড়ি।  
 কপালে ওই টকটকে লাল টিপ।  
 আমি কি আর তোমাকে ছেড়ে  
 কোথাও যেতে পারি?  
 তুমি আমার পতাকা, আমার কৃষির বদ্বীপ।   
~ সৈয়দ শামসুল হক 

শীতকালে গরম কাপড় জড়িয়ে ফাঁকা রাস্তায় একা হাঁটতে আলাদা রকমের একটা মজা আছে। অনেকটুকু পথ হাঁটলেও ক্লান্ত লাগে না একদমই। তবে গরমকালে ব্যাপারটা পুরো উল্টো। একটু হাঁটলেই ঘামে গা ভিজে যায়। এসব ভাবতে ভাবতে রাস্তা পার হয় সুমন। অনেকক্ষণ ধরে মাথার উপর প্রখর সূর্য নিয়ে হাঁটছে সে। সূর্যের তেঁজ আজ একটু বেশিই বেশি। এর গরমের মধ্যে কেও বিয়ে করে, ভেবে বিরক্ত লাগে সুমনের। এই মুহুর্তে গরম বড় কথা নয়, বড় কথা হলো কি উপহার কেনা যায়। সুমন বাস স্ট্যান্ডের শেডের নীচে দাঁড়ায়। ভাবে, কিছুই আসে না মাথায়। অদ্ভুত সব জিনিস উপহার দিতে ইচ্ছে করে। ফিডার দিলে কেমন হয়? আজ নয়তো কাল বাচ্চা হবে সেসময় কাজে দিবে। না বিয়েতে এসব দেয়া যায় না। আচ্ছা, বিয়েতে কেও গল্প বা কবিতার বই উপহার হিসেবে দেয় না কেনো? দিলে মন্দ হতো না তখন উপহার নিয়ে এতো চিন্তা করার লাগতো না। পকেটে তেমন টাকাও নেই। পকেট থেকে উল্টাপাল্টা ভাঁজ করা টাকাগুলো বের করে সুমন। গুণে দেখে তিনশ আছে। এর মধ্যে একটা বিশ টাকার নোট মাঝের দিক দিয়ে ছিঁড়ে গেছে। বেশিই ছেঁড়া, চালানো যাবে কি না কে জানে।  এসব ভাবতে ভাবতে একটা গিফট শপে ঢুকে পরে সুমন। বিশাল গিফট শপ। শো-পিস দেখা যেতে পারে।  নাহ, সাধ্যের মধ্যেরগুলো একদম গো-বেচারা টাইপ লাগে। সুমন পুরো দোকান ঘুড়ে দেখতে লাগলো। দোকানের শেষের দিকে একটা দেয়াল ঘড়ি চোখে পরলো তার। জাহাজের মতো দেখতে ঘড়িটা পছন্দ হলো তার। দাম দেখার জন্য ঘড়ির সামনে গেলো সুমন। দাম দেয়া নেই। যেখানে দাম দেয়া থাকে সেখানের কাগজ উঠে উঠে গেছে। বুঝা যাচ্ছে না কত লেখা আছে। দোকানদারকে ডাক দিয়ে বলে সুমন, 
 “ ঘড়িটার দাম কত ভাই?”
 &quot; সাড়ে তিনশো টাকা।&quot;
 &quot; তিনশো রাখা যায় ভাই?&quot;
 &quot; কম নাই। &quot;
মন খানিকটা খারাপ হয় সুমনের। মাত্র পঞ্চাশ টাকার জন্য কেনা গেলো না ঘড়িটা। মেখে এক হ্রাস বিষন্নতা নিয়ে দোকান থেকে বের হয় সুমন। দোকানের সামনের ফুতপাত দিয়ে হাঁটতে লাগলো। আশেপাশে আর কোনো দোকান দেখা যাচ্ছে না। বিয়েতে যাওয়া দরকার তবে উপহার ছাড়া গেলে ভালো দেখাবে কি? এসব ভাবতে ভাবতে হাঁটে সুমন। হঠাৎ, পিছন থেকে একজন চিৎতকার করতে করতে  দৌঁড়ে দেয়, 
   &quot;এই যে ভাই শুনেন. দাঁড়ান ভাই। &quot;
সুমন পিছনে তাকায়। থ্রি কোয়াটার প্যান্ট, লাল গেঞ্জি পরা কম বয়সী একটা ছেলে। সুমন দাঁড়ায়, জিজ্ঞেস করে, 
 &quot;আমাকে ডাকছো।&quot;
ছেলেটা &quot; হ্যাঁ &quot; সূচক মাথা নাড়ে। কথা বলতে পারে না। দৌঁড়ে হাঁপিয়ে গেছে। বড় বড় শ্বাস নেয়। তারপর বলে, 
 &quot;খালু আপনারে ডাকে।&quot;
সুমন অবাক হয়। ফিরে প্রশ্ন করে, 
 &quot; কোন খালু? আমাকে ডাকছে কেনো?&quot;
 &quot; ওইযে একটু আগে দোকানে ঢুকসিলেন না?  হেইডার মালিক। &quot;
 &quot; ওহ আচ্ছা। আমাকে ডেকেছেন কেনো?&quot;
 &quot; জানি না। আপানারে নিয়া যাইতে বলসে। &quot;
&quot; আচ্ছা চলো&quot; বলে দোকানের দিকে হাঁটা শুরু করলো সুমন। হাঁটতে হাঁটতে ছেলেটিকে প্রশ্ন করলো, 
 &quot; তোমার নাম কি?&quot;
     &quot; রাতুল।&quot;
 &quot; তুমি কি ওই দোকানে কাজ করো? &quot;
 &quot; হ। &quot;
 &quot; স্কুলে যাও না?&quot;
 &quot; নাহ, দোকানে মানুষ নাই আমি আর খালু ছাড়া। খালু একলা পারে না, সারাদিন আমারই দেখতে হয়। তয় খালু কইসে আগামী বছর লোক রাখবো। আমারে স্কুলে ভর্তি করায় দিবো। &quot;
 &quot; বাহ। &quot;
আর কোনো কথা বললো না দু&#039;জনে। সুমন দোকানে ঢুকলো। ঢুকতেই দেখা গেলো, দোকানের লোকটা ঘড়ি বক্সে ঢুকাতে ব্যস্ত। সুমন লোকটার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 
 &quot; আমাকে ডেকেছেন ভাই?&quot;
লোকটা সুমনের দিকে না তাকিয়ে বললো, 
 &quot; হ্যাঁ, আঁড়াইশো টাকা দেন।&quot;
সুমন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
 &quot; আঁড়াইশো টাকা দিবো কেনো?&quot;
 &quot; ঘড়িটা না পছন্দ হইসেন,নিবেন না?&quot;
 &quot; আপনি না বললেন সাড়ে তিনশ টাকা আমি বললাম তিনশো। তাও দিলেন না। এখন আঁড়াইশো চাচ্ছেন। ঠিক বুঝতে  পারছি না। &quot;
লোকটা মুখ তুলে সুমনের দিকে তাকালো। কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর বললো, 
 &quot; অনেক কাস্টমার আসে দোকানে। অনেকে কিনে অনেকে কিনে না। অনেকের পছন্দ হয় না, অনেকে টাকার জন্য কিনে না।  এসব দেইখা অভ্যস্ত। কিন্তু আপনারে বিদায় করে দেয়ার পর হঠাৎ খারাপ লাগলো। মনে হইলো যে দামে কিনসি সেই  দামেই দিয়ে দেই। তাই আপনারে ডাকায় আনলাম। &quot;
সুমন চুপ করে রইলো। লোকটা আবার বললো, 
 &quot; টাকা দেন তাড়াতাড়ি। প্যাকেট করা শেষ।&quot;
সুমন পকেট থেকে বের করে টাকা দিলো। সুমনের ইচ্ছে করলো, লোকটাকে জড়িয়ে ধরতে। সংশয়, লজ্জা এসে বাঁধা দিলো । শুধু একটা &quot; ধন্যবাদ&quot; দিয়ে প্যাকেটটা নিয়ে বেরিয়ে পরলো সুমন। পকেটে পঞ্চাশ টাকা আছে। চাইলে রিক্সা দিয়ে যাওয়া যায়।  যে চিন্তা সে কাজ, একটা রিক্সা ডাক দিয়ে উঠে পরলো সুমন। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর রিক্সাওয়ালা বললো, 
 &quot; ভাই ডাকনা উঠায় নেন। যে গরম পরসে ভাই। &quot;
সুমন কিছু বললো না। হুড উঠিয়ে নিলো। গরমটা আজ আসলেই বেশি। কিছুক্ষণ পর রিক্সাওয়ালা আবার বললো, 
 &quot; আজাব, বুঝলেন ভাই আল্লাহর আজাব। মানুষ এতো খারাপ হইয়্যা গেসে, আল্লাহ আর কতদিন সহ্য করবো। দূর্নীতি দিয়া দেশটা ভইরা গেসে। &quot;
সুমন কিছু বললো না। বেশিরভাগ সময় রিক্সাওয়ালারা কিছু শুনতে চায় না, তাদের বলার কাজ বলে যায়। 
 &quot; আজকে মনে হয় বৃষ্টি পরবো ভাই। যে গরম পরসে।&quot;
সুমন বললো, 
 &quot; হতে পারে। &quot;
রিক্সা গিয়ে থামলো, &quot;এপোজি&quot; কমিউনিটি সেন্টারের সামনে। গেটের সামনে অনেকে ঘুড়াঘুড়ি করছে। কেও পাঞ্জাবী, কেও কোর্ট পরে। সুমনও ভেবেছিলো পাঞ্জাবী পরে আসবে কিন্তু যে লন্ড্রিতে আয়রন করতে দিয়েছিলো সে লন্ড্রি গত দুইদিন ধরে বন্ধ, ফোনও বন্ধ। 
রিক্সা থেকে নামলো সুমন। গেটে ঢুকতেই কয়েকজন অল্প বয়সী ছেলে মেয়ে গোলাপ জল ও গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দিলো। ব্যাপারটা ভালো , মন চাঙ্গা করে দেয়ার ভালো কৌশল। গেটের শেষ প্রান্তে হলে ঢুকার মুখে দাড়িয়ে হাসিমুখে কোলাকুলি, হ্যান্ডসেক করে সবাইকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন রোমেল এজাজ সাহেব। সুমনকে দেখে খুশিতে জ্বলজ্বল করতে থাকা চোখ হঠাৎ নিষ্প্রাণ হয়ে গেলো। আঁধার নেমে এলো মুখে। হাসির ভান করেও ঠিক হাসতে পারছেন না। সুমন রোমেল এজাজ সাহেবকে সালাম দিলো, 
 &quot; আসসালামুআলাইকুম আংকেল।
রোমেল এজাজ সাহেব আমতা আমতা করে উত্তর দিলেন,
 &quot; ওয়ালাইকুমআসসালাম। তুমি আমার সাথে একটু এদিকে আসো তো। &quot;
এই কথা বলেই এজাজ সাহেব সুমনের হাত ধরে কোণার দিকে চলে গেলেন। সেদিকে মানুষ নেই। 
 &quot; দেখো বাবা, আমার একটাই মেয়ে। আজ ওর বিয়ে। তোমাদের সম্পর্ক ছিলো তা ঠিক আছে কিন্তু আজ ওর বিয়ে। সংগত কারণেই তোমাদের বিয়েটা আমি দিতে পারি নি। তুমি জানো বাবা। যার সাথে ওর বিয়ে হচ্ছে, সে ছেলে ভালো। ওরা সুখেই থাকবে।  বিয়েতে ব্যাঘাত ঘটে এমন কিছু করো না বাবা। তোমার কাছে অনুরোধ। প্লিজ আমার এই অনুরোধটা রাখো। &quot;
হড়বড় করে কথাগুলো বললেন রোমেল এজাজ সাহেব। কপালে অসংখ্যা বিন্দু ঘাম। সুমন ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি নিয়ে বলল, 
 &quot; দেখুন আপনি উত্তেজিত হবেন না। আমি ওমন কিছু করতে আসি নি করবোও না। আমি নীলা &#039;র সাথে একটু দেখা করবো, একটা কথা বলবো তারপর চলে যাবো। দুই মিনিট সময় লাগবে। &quot;
 &quot; কি কথা বলবে?&quot;
 &quot; সেটা আপনাকে এখন বলা যাবে না। কথাটা সবার প্রথমে নীলাকে জানাবো। টেনশান নিবেন না কোনোরকমের ঝামেলা হবে না। আমি কথা দিচ্ছি। আমি কথা দিলে কথা রাখি, তা আপনি ভালো করেই জানেন। নিন গিফটটা ধরুন, আমি নীলার সাথে দেখা করেই চলে যাবো। দুটো মিনিট মাত্র।&quot;
ঘড়ির বাক্সটি এজাজ সাহেবের হাতে দিয়ে সুমন চলে গেলো হলের ভিতর। সেখানে স্টেজে দুটো চেয়ারে বসে আছে নীলা ও তার হবু বর। ছেলেটার নাম কি যেনো। সুমন অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারে না।  সুমনে স্টেজে উঠে। সুমনকে দেখে বসা থেকে উঠে পরে নীলা, চেয়ারের সাথে শাড়ি আটকে মাথা থেকে কাপড় পরে যায়। দুইজন তরুণী ব্যস্ত হয়ে পরে মাথার কাপড় ঠিক করতে। নীলা কাঁপা গলায় বলে, 
 &quot; তুমি এখানে?&quot;
 &quot; হ্যাঁ, তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।&quot;
 &quot; বলো শুনছি। &quot;
সুমন কিছু বলবার আগেই হাসিমাখা কন্ঠে নীলার পাশে বসে থাকা লোকটি বলে উঠল, 
 &quot; ইনি কে নীলা?  পরিচয় করিয়ে দিবে না? &quot;
নীলা বলল, 
 &quot; ওর নাম সুমন। &quot;
লোকটা খানিক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,  
 &quot; আপনিই কি সেই…?&quot;
সুমন বলল, 
 &quot; আমিই সেই। &quot;
লোকটি শঙ্কিত ভঙ্গিতে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, 
 &quot; আমি হাবিব।&quot;
সুমন হাত মিলালো। নীলার মাথার কাপড় ঠিক করে দিয়ে দুইজন নেমে গেলো স্টেজ থেকে। সুমন নীলার দিকে ফিরে বলল,
 &quot; আমি চাকরি পেয়েছি বুঝলে নীলা। যে পত্রিকায় ফিচার লিখতাম সেখানে এডিটরের চাকরি।আগামী মাসে জয়েন করবো।  বেতন মোটামুটি আমার ভালোই চলে যাবে। মেস ছেঁড়ে দিবো আগামী মাসে, এক রুমের বাসা নিবো। &quot;
নীলা বলল,
 &quot; এই কথা বলতে এসেছো?&quot;
 &quot; হ্যাঁ।আসলে, গত পাঁচ বছরে বড় কোনো ঘটনা ঘটলেই তোমাকে প্রথমে জানিয়েছি। এতো তাড়াতাড়ি কি অভ্যেস ছাঁড়ে বলো? আর এই হয়তোবা শেষবার তোমাকে বলতে পারছি। &quot;
নীলার চোখ ছলছল করছে। কিছু বলছে না সে। সুমন বলল, 
 &quot; এটাই বলতে এসেছিলাম নীলা। যাই এখন। &quot;
সুমন চলে যেতে নেয়, নীলা সুমনের হাত ধরে। ছলছল চোখ, কাঁপাকাঁপা গলায় বলে, 
 &quot; কিন্তু….।&quot;
কথা শেষ করতে দেয় না সুমন।নিজে বলে উঠে, 
 &quot; কিন্তু কিছু না। তুমি যে ট্রেনের আশায় আছো সেটি গন্তব্য ছেঁড়ে বহুদূর চলে গিয়েছে। সব কিছু জীবনে মন মতো হয় না, কিছু জিনিস মেনে নিতে হয়। এটাই জীবন। আর যা হয় ভালোর জন্যই হয়। যাই নীলা। &quot;
নীলার হাত ছাঁড়িয়ে নেয় সুমন। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা বরের কাঁধে হাত রেখে বলে, 
 &quot; অনেক শুভ কামনা তোমাদের জন্য। আসি। &quot;
স্টেজ থেকে নেমে পরে সুমন। হাঁটতে থাকে গেটের দিকে। ইচ্ছে করে পিছু ফিরে দেখতে আরেকটাবার। কিন্তু না। মনকে এতো পশ্রয় দেয়া যাবে না। একটু সুযোগ পেলেই মন দুঃসাহসিক কাজ করে বসে।
কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে বের হয় সুমন। রোদ ঢাকা পরেছে। ধূসর মেঘ ছেয়ে দিয়েছে আকাশ। ঠান্ডা বাতাস বইছে সাথে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে থাকে সুমন। মাথায় বৃষ্টির ঠান্ডা পানি। হাঁটতে মন্দ লাগছে না। এই বিষাদগ্রস্থ শহরের কিছু ঘটনা অসম্ভবরকমের সুন্দর। যেমন শীতের সকাল, শ্রাবণের বৃষ্টি। সুমনের হাসি পায়। সে হাসে। গাল গঁড়িয়ে গরম পানি পরছে, টের পায় সে। হাত দিয়ে দেখে। সে কাঁদছে। কি আশ্চর্য সে কাঁদছে। সুমনের হাসির মাত্রা আরও বাড়ে। হাসির সাথে আকাশে উড়ে যায় বিষাদ, হাহাকার কষ্ট। মেঘেরাও কাঁদে সুমনের সাথে।

লোহিত জোছনা / আবির হাসান সায়েম</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40153/</link>
				<pubDate>Sat, 02 Oct 2021 16:45:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তোমার দেহে লতিয়ে ওঠা ঘন সবুজ শাড়ি।<br />
 কপালে ওই টকটকে লাল টিপ।<br />
 আমি কি আর তোমাকে ছেড়ে<br />
 কোথাও যেতে পারি?<br />
 তুমি আমার পতাকা, আমার কৃষির বদ্বীপ।<br />
~ সৈয়দ শামসুল হক </p>
<p>শীতকালে গরম কাপড় জড়িয়ে ফাঁকা রাস্তায় একা হাঁটতে আলাদা রকমের একটা মজা আছে। অনেকটুকু পথ হাঁটলেও ক্লান্ত লাগে না একদমই। তবে গরমকালে ব্যাপারটা পুরো উল্টো। একটু হাঁটলেই ঘামে গ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-40153"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/40153/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>19</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">832e959c8f5aeb0f95306e858dae6177</guid>
				<title>ছোটগল্প

একদিন কোনো এক কারণে তোমার মনটা খারাপ। একটু বেশিই খারাপ। বাসায় বসে আছো নিরিবিলি। কাজের মাঝে খানিক সময় পাই আমি। ফোন দেই তোমায়। প্রথমবার ফোন ধরো না , দ্বিতীয়বারে সফল হই। ফোন ধরে তুমি বললে, 
 &quot; হ্যালো।&quot;
&quot;হ্যালো&quot; - এই কথাটুকু শুনেই বুঝে ফেললাম মনের অবস্থা। আপন মানুষগুলোর কন্ঠস্বর শুনেই মনের অবস্থা আঁচ করা যায়। আমি বললাম, 
 &quot; শুনো, তোমাকে নিয়ে একটা জায়গায় যাবো। আধঘন্টার মধ্যে তোমাকে পিক করবো। তৈরী হয়ে নাও।&quot;
তুমি খানিক্ষন চুপ করে থেকে উত্তর দিলে, 
 &quot; নাহ, আজ ইচ্ছে করছে না। অন্যদিন যাবো।&quot; 
 &quot; প্লিজ? &quot;
তুমি আবার খানিক্ষণ চুপ করে রইলে তারপর বললে, 
 &quot; আচ্ছা। &quot;
কখনো আমার অনুরোধ ফেলতে পারো না তুমি, আমি জানি। সুযোগের হালকা স্বদব্যবহার করলাম। 
তোমাকে নিয়ে গেলাম শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে। চারপাশ নিঃস্তব্দ। নদীর ঘাটে কয়েকটা নৌকা বাঁধা। জেলেদের কি না বোঝা গেলো না। গাছের ছায়ায় ঝিমুতে থাকা ঘাটে বসলাম আমরা দু&#039;জন। কিছুক্ষণ কোনো কথা হলো না। দু&#039;জনই তাকিয়ে রইলাম শান্ত নদীর দিকে। একটু পরপর বালু উঠানোর স্টিমার যাচ্ছে সেখান দিয়ে। আকাশে রোদ নেই। অল্প মেঘ করেছে। থেমে থেমে বাতাস দিচ্ছে। নিঃস্তব্ধতা ভেঙে আমি বললাম, 
 &quot;তোমার জন্য একটা জিনিস এনেছি। তোমার খুব পছন্দের। &quot;
 &quot; কি জিনিস?&quot;
আমি ব্যাগ হাত দিয়ে বেলী ফুল বের করে তোমার হাতে দিলাম আর বললাম,
 &quot; আজ সকালে বারান্দায় গিয়ে দেখি এগুলো ফুটেছে। ভাবলাম  তোমার এতো পছন্দ বেলী, তোমার জন্য আনলে খুশি হবে। তাছাড়া একটা অদ্ভুত দৃশ্যও দেখা যাবে। &quot;
 &quot; কি অদ্ভুত দৃশ্য?&quot;
 &quot;এই যে একটা ফুল অন্য ফুলকে হাতে নিয়ে বসে আছে, এই দৃশ্য।&quot;
 &quot; তাই না? তুমি পারোও খুব... &quot;,তুমি খিলখিল করে হেসে উঠলে। 
আমি মুগ্ধ চোখে তোমার হাসি দেখলাম। বললাম, 
 &quot; বিশ্বাস হয় না তোমার? দাঁড়াও একটা ছবি তুলে দেখাই। &quot;
ফোনতা বের করে তুলে ফেললাম ছবি। তোমাকে দেখালাম। সত্যিই ফুলগুলো থেকে তোমাকে বেশি সুন্দর লাগছিলো।  তুমি খানিকটা লজ্জা পেলে। মন খারাপ অনেকটা কমে এসেছে, মুখ দেখে বুঝা যায়। তুমি ফুলগুলোকে হাতে নিয়ে নাড়তে চাড়তে লাগলে। 
একটা লোক নৌকায় উঠে বসেছে। ডিঙি দিয়ে ঘাট থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে নৌকা। আমি লোকটিকে জোরে ডেকে বললাম, 
 &quot; ওপারে যাবেন নাকি?&quot;
 &quot; হ। &quot;
 &quot; আমাদের নেয়া যায় আপনার সাথে?&quot;
     &quot; নাহ, মানুষ নেই না। &quot;
 &quot; নিয়ে চলেন, যত লাগে দিবো।&quot;
লাইনটা ম্যাজিকের মতো কাজ করলো। ভাড়া নির্ধারণ করা হলো একশো টাকা। বেশি হলেও পড়োয়া নেই। &#039;খানিক সুখের লাগি, কিছু অর্থ নৌকায় যাক। &#039;
উঠে পরলাম দু&#039;জনে। নৌকা চলতে লাগলো। কাজে দিয়েছিলো নৌকায় উঠা। মন তোমার অনেকবেশি ভালো হয়ে গিয়েছিলো। হাসি লেগেই ছিলো তোমার মুখে। হাসিই তোমার মুখে মানায়। 
নৌকা নদীর মাঝপথে আসতে না আসতেই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। বাতাস নেই তেমন, শুধু বৃষ্টি। ফোনগুলো ঢুকিয়ে ফেলা হলো ব্যাগে। ব্যাগটা ওয়াটারপ্রুফ হওয়াতে বাঁচা গেলো। হুট করে তুমি বললে, 
 &quot; চলো নাচি। &quot; 
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 
 &quot; কি করবে? &quot;
তুমি খানিকটা চিৎকারের সুরে বললে, 
 &quot; নাচব। তুমি আর আমি। অঞ্জন দত্তের গানিটা আছে না? &#039;বৃষ্টিতে একদিন&#039;! সেটা গাইবো দু&#039;জনে আর নাচব।&quot;
কথাটুকু বলেই দাঁড়িয়ে গেলে তুমি, হাত ধরে উঠালে আমায়।  তোমার একহাতে বেলী ফুল আর একহাত আমার হাতে। নাঁচছি দুজনে। গাইছি বেসুরে গলায় গান। গানের সুর নিয়ে তখন থোড়াই না কেয়ার করেছি দু&#039;জনে। মনে হয়েছে এই জগত শুধু তোমার আর আমার। আর আমরা দু&#039;জনার। 
এতোদিন পর আজও সেই বেসুরে গলায় দু&#039;জনের শুনা গান কানে ভেসে আসে। চোখ বন্ধ করলে আজও শুনতে পাই দু&#039;জনে গাইছি, 
 একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে
 থাকবে না সাথে কোনো ছাতা
 শুধু দেখা হয়ে যাবে মাঝ রাস্তায়
 ভিজে যাবে চটি, জামা, মাথা

 থাকবে না রাস্তায় গাড়িঘোড়া
 দোকানপাট সব বন্ধ
 শুধু তোমার আমার হৃদয়ে
 ভিজে মাটির সোঁদা গন্ধ…..

~একদিন বৃষ্টিতে দু&#039;জনে/আবির হাসান সায়েম

 #সন্ধ্যে_তুমি_বলতে_পারো_আমায়</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/39783/</link>
				<pubDate>Fri, 01 Oct 2021 17:33:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছোটগল্প</p>
<p>একদিন কোনো এক কারণে তোমার মনটা খারাপ। একটু বেশিই খারাপ। বাসায় বসে আছো নিরিবিলি। কাজের মাঝে খানিক সময় পাই আমি। ফোন দেই তোমায়। প্রথমবার ফোন ধরো না , দ্বিতীয়বারে সফল হই। ফোন ধরে তুমি বললে,<br />
 &#8221; হ্যালো।&#8221;<br />
&#8220;হ্যালো&#8221; &#8211; এই কথাটুকু শুনেই বুঝে ফেললাম মনের অবস্থা। আপন মানুষগুলোর কন্ঠস্বর শুনেই মনের অবস্থা আঁচ করা যায়। আমি বললাম,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-39783"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/39783/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>