<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | হাসনাত সৌরভ | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/hasnat21/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/hasnat21/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for হাসনাত সৌরভ.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 04 Jun 2026 23:14:35 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">065c78dec1be575cdd4dced2e6e5d4df</guid>
				<title>হাসনাত সৌরভ changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/228259/</link>
				<pubDate>Sat, 19 Apr 2025 04:59:32 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">61bdebbeb37bce090a51a106104fa746</guid>
				<title>একটা কোথাও গিয়ে আটকে আছে সব। এতদিনের যত হারিয়ে ফেলা পেনের ঢাকনা, সব জমে আছে কোনো একটা টেবিলের তলায়। শীতল অন্ধকার সেখানে। সমস্ত পেনের ঢাকনা এলোমেলো ছড়িয়ে কার্তুজের খোলের মতো।

বাবা কোনো এক  ঈদে একবার হাতঘড়ি কিনে দিয়েছিল একটা। অনেক ছোট তখন আমি। সাদা হাতঘড়ি, খেলনা। প্লাস্টিকের কাঁটা থমকে আছে দশটা দশে। কোথাও একটা দিনে দুবার করে ঠিক টাইম দিচ্ছেই ঘড়িটা। ধুলো পড়ে গেছে হয়তো, বেল্ট ছিঁড়ে গেছে। কিন্তু প্লাস্টিকের কাঁটাগুলো আছে ঠিকই। 

কোথাও একটা আছে সব। খাতার শেষ পাতায় যেসব নাম লিখে ঘিজিমিজি করে কেটে দেওয়া ছিল। সেই সব নাম দিব্যি সেই অদ্ভুত নীলরঙের জালের ভেতর মানিয়ে গুছিয়ে আছে, যেন সদ্য জল থেকে তোলা অলীক সমুদ্রজীব, ডাঙায় তার থাকার কথাই নয়। 

কোথাও একটা সব আছে। ছোট হয়ে যাওয়া, রংচটা লাল গেঞ্জিটা আছে, প্রথম সাইকেলটা আছে &#039;হোয়ার ইজ মাই ফ্রেন্ডস্ হোম&#039;এর জানলা বানাতে জানা বুড়োটার মতো কোথাও। প্রথম কবিতার ওপর জমেছে অবসন্নতার পলিমাটি। বন্যা হয়ে গেছে গেলবছর কোথাও। জল নিয়ে চলে যায় সবকিছু। জল তো পৃথিবীর আদিমতম দ্রাবক, সব গুলে মিশিয়ে নিয়ে সরে যায় সহজে। 

সব লুকানো থাকে জলের ভেতর। জল সুযোগ মতো চোখ চিনে এসে ফিরিয়ে দেয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/228247/</link>
				<pubDate>Fri, 18 Apr 2025 18:11:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটা কোথাও গিয়ে আটকে আছে সব। এতদিনের যত হারিয়ে ফেলা পেনের ঢাকনা, সব জমে আছে কোনো একটা টেবিলের তলায়। শীতল অন্ধকার সেখানে। সমস্ত পেনের ঢাকনা এলোমেলো ছড়িয়ে কার্তুজের খোলের মতো।</p>
<p>বাবা কোনো এক  ঈদে একবার হাতঘড়ি কিনে দিয়েছিল একটা। অনেক ছোট তখন আমি। সাদা হাতঘড়ি, খেলনা। প্লাস্টিকের কাঁটা থমকে আছে দশটা দশে। কোথাও একটা দিনে দুবার করে ঠিক ট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-228247"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/228247/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a35b2d6c185f7451b12aed56a6218182</guid>
				<title>নতুন জামা যদি একটি আবরণ হয়, তবে নতুন মন সেই আবরণের অন্তরস্থ আলো। নববর্ষের শুভেচ্ছা তাই শুধু একটি শব্দ নয়—সে যেন একটি চেতনা, এক অন্তর্গত আন্দোলন, যা আমাদের মনোজগতকে একটু আলোড়িত করে, নতুন করে ভাবতে শেখায়—আমি কে? এই সমাজে আমার অবস্থান কোথায়? কীভাবে আমি অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি ধর্ম, জাতি, শ্রেণি, লিঙ্গের বাইরেও? এই প্রশ্নগুলোই নববর্ষের মূল উৎসব—যা কেবল আলোকিত নয়, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নও।

শুভ নববর্ষ। 
আলোক না হোক শুধু বাইরের, বরং অন্তরেরও।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/228099/</link>
				<pubDate>Mon, 14 Apr 2025 15:33:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নতুন জামা যদি একটি আবরণ হয়, তবে নতুন মন সেই আবরণের অন্তরস্থ আলো। নববর্ষের শুভেচ্ছা তাই শুধু একটি শব্দ নয়—সে যেন একটি চেতনা, এক অন্তর্গত আন্দোলন, যা আমাদের মনোজগতকে একটু আলোড়িত করে, নতুন করে ভাবতে শেখায়—আমি কে? এই সমাজে আমার অবস্থান কোথায়? কীভাবে আমি অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি ধর্ম, জাতি, শ্রেণি, লিঙ্গের বাইরেও? এই প্র&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-228099"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/228099/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">80c54a88eb55cb27ee0b630a433fed28</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/226533/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Feb 2025 10:50:49 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8ab8e3b8e69d9961ba38dc778bab1bdf</guid>
				<title>সলিটারি সেলের চিঠি
হাসনাত সৌরভ
-------------------------------
প্রিয় আলোকলতা, 
শোনো, কাল আমার ফাঁসি। সুতরাং আজ আমি তোমায় এরকম একটা অতিকাব্যিক নামে ডাকব, যাতে তুমি বাকি জীবনটা মনে রাখতে পারো যে ছেলেটা কিছু উদ্ভট ছিল বটে! যাই হোক, এ চিঠি তোমার হাতে ওঠার আগেই আমার ফাঁসিকাঠে ওঠা হয়ে যাবে। তাছাড়া এ চিঠি তোমার হাতে ওঠার আগে আরো কয়েকজনের হাতে উঠবে; কারণ নিশ্চই তোমার মনে আছে সেই সহজ সংজ্ঞাটা - দুটো মানুষের মাঝে যখন রাষ্ট্র ঢুকে পড়ে তখন তাকেই ফ্যাসিবাদ বলে। 

আচ্ছা আজ আর তত্ত্বকথা কপচাবো না। হাজার হোক, শেষ চিঠি তো, একটু অন্যরকম কিছু লিখে যাই। &#039;আজকে দাদা যাবার আগে/ বলব যা মোর চিত্তে লাগে/ নাইবা তাহার অর্থ হোক/ নাইবা বুঝুক বেবাক লোক।&#039; শোনো না, একটা অদ্ভুত খেলা শিখেছি জানো। মাঝেমধ্যেই বেশ স্পষ্ট উচ্চারণে &#039;ভালোবাসি&#039; বলি। আর দেখি চারপাশটা কেমন বদলে যাচ্ছে। মানে কী রকম বলো তো, ধর এই একটু আগে দুপুরের খাবারটা গেটের নিচের ছোট কুঠুরি দিয়ে ওরা দিয়ে যাওয়ার পর বলে উঠলাম &#039;ভালোবাসি।&#039; সাথে সাথে নাকে আলুভাজার গন্ধ এল। কড়া কড়া করে আলু ভাজছে মা। সাথে ময়দার রুটি। টিফিন নিয়ে যেতাম আমি। টিফিন বক্সের হালকা ভ্যাপসা গন্ধ আর আলু ভাজার তেল মেখে থাকা ফরসা রুটিগুলোর ভেতর স্কুলটা রয়ে গেল জানো। &#039;ভালোবাসি&#039; বলামাত্র সব একদম স্পষ্ট দেখতে পেলাম। 

আসলে হয়েছে কী, বহুদিন তো এই সলিটারি সেলে বন্দী; আস্তে আস্তে ভয় করছিল, যা যা দেখেছি সব ভুলে যাব না তো! রিসেন্ট স্মৃতি বলতে তো শুধু ইন্টেরোগেশনের নামে ধর্ষন, নুনছাল, ঘাম, রক্ত আর মাথার একটু ওপরে ঝুলতে থাকা বেল্ট। এর বাইরে যে স্মৃতিগুলো, ফাঁসির আগে সব ভুলে যাবো না তো! মৃত্যুর পরে তো আর মেমরি তৈরি হবে না বলো! 

তাই টুক করে একদিন &#039;ভালোবাসি&#039; বলে ফেললাম। আমার সেলের বাইরের সিকিউরিটিগুলো ভাবলো এইবার আমি পুরোপুরি পাগল হলাম। অথচ আমি ভালোবাসি বলামাত্র তোমায় দেখতে পেলাম জানো। দেখলাম আমার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছো তুমি, তোমার কপালে বসন্তের ছোট্ট দাগটা মজা পুকুরের মতো জেগে আছে, তার ওপর ছায়া পড়েছে আমার। নিজের ছায়াকে জোছনা মনে হয়েছে কখনো তোমার? আমার তখন মনে হয়েছিল জানো। আর তোমায় কী অজ পাড়াগেঁয়ে শীতকাল মনে হয়েছিল। তোমার তো আমায় দেখতে আসা বারণ, ভাগ্যিস সাহস করে &#039;ভালোবাসি&#039; টুকু বলে পেরেছিলাম!। 

তারপর থেকে ব্যাপারটা বেশ লেগে গেল। একদিন তোমাদের ঠিক করে দেওয়া  উকিল এসে শেষবারের মতো দেখা করে যাওয়ার পর আমি আবার বলে উঠলাম, &#039;ভালোবাসি।&#039; ওমা! দেখি বাবা আসছে অফিস থেকে! বাবার হাতে মোরব্বা। তুমি জানো আমি চালকুমড়োর মোরব্বা খেতে দারুণ ভালোবাসতাম ছোটবেলায়। বাবা অফিস থেকে ফেরার পথে রোজ নিয়ে আসত আমার জন্য। ওরা যেদিন বাবাকে কুপিয়ে খুন করল, আর আমরা সবাই ছুটে গেলাম খবর পেয়ে, আমি না বাবার ডেডবডিটার পাশে একটা মোরব্বার প্যাকেট খুঁজছিলাম। 

আমি সেদিন বাবাকে চোখ ভরে দেখেই যাচ্ছিলাম জানো। আমার বাবার হাইট তো বেশি না, কিন্তু কেন জানি না, ছেলে মেয়ে বাবার চেয়ে মাথায় লম্বা হয়েও বাবাকে কখনো বেঁটে হিসেবে কল্পনা করতে পারে না। 

আমার হাত অবশ হয়ে আসছে এইবার। আজ রাতে একটু ঘুমোবো শান্তি করে। কাল ভোর ভোর ফাঁসি। কী শান্তির ঘুম হবে ভাবো! আর কোনো দায় নেই, এই পৃথিবীর কী হবে তাতে আর কোনো মাথাব্যথা নেই আমার। আমি এখন থেকেই কেমন মৃতের মতো চিন্তা করতে আরম্ভ করে ফেলেছি দেখ! এই জন্যই মাঝেমাঝে &#039;ভালোবাসি&#039; বলাটা দরকার। &#039;ভালোবাসি&#039; বলব আর আমার অন্ধকার কুঠুরির জানলাটা বড় হতে হতে ঘরটাকে ছেয়ে ফেলবে আলো, হাওয়া দেবে, পাতা উড়ে এসে পড়বে পায়ের সামনে, পাখিরা ভুল করে ঢুকে আসবে হঠাৎ, তারপর বাসা বানাবে কিনা চিন্তা করতে করতে উড়ে যাবে দিগন্তের দিকে। আমি &#039;ভালোবাসি&#039; বলব, আর শাসক হাসতে হাসতে নিজের উর্দি খুলে নেমে যাবে ফুল বাগানে, শরীর ছেড়ে দেবে মাটির ওপর, আমি দেখব আমার হত্যাকারি কাঁদছে মাটিতে উপুর হয়ে। আমি &#039;ভালোবাসি&#039; বলব আর তুমি, তোমরা, আমরা সব্বাই এমন ভীষন যুদ্ধ জিতে যাব যে পৃথিবীতে আর যুদ্ধই থাকবে না।
 
 এই শেষকটা লাইন আলাদা করে রেখো। বেশ লিখলাম। যাই হোক, এইবারের মতো এতটাই। কাল ঠিক করেছি শেষবারের মতো &#039;ভালোবাসি&#039; বলব। ঠিক যখন ফাঁসির মঞ্চে তুলবে আমায়। সামনে অনেকদিন পর মানুষ দেখতে পাবো, ওদের শুনিয়ে শুনিয়ে চিৎকার করে বলব, &#039;ভালোবাসি।&#039; দেখি কী দেখতে দেখতে মরি। 
                           বিদায়, 
                          ভালোবাসি।

ইতি
তোমার আমি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/208359/</link>
				<pubDate>Wed, 03 Jan 2024 07:19:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সলিটারি সেলের চিঠি<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;-<br />
প্রিয় আলোকলতা,<br />
শোনো, কাল আমার ফাঁসি। সুতরাং আজ আমি তোমায় এরকম একটা অতিকাব্যিক নামে ডাকব, যাতে তুমি বাকি জীবনটা মনে রাখতে পারো যে ছেলেটা কিছু উদ্ভট ছিল বটে! যাই হোক, এ চিঠি তোমার হাতে ওঠার আগেই আমার ফাঁসিকাঠে ওঠা হয়ে যাবে। তাছাড়া এ চিঠি তোমার হাতে ওঠার আগে আরো কয়েকজনের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-208359"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/208359/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">94678dac01dd6b00db63f8bfa1d84ecb</guid>
				<title>বিরলে বালুকাতীরে
হাসনাত সৌরভ
=========================================

গঙ্গামতির চরে সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া এক ফিশিং ট্রলার ফিরে এল প্রায় দীর্ঘ কুড়ি বছর পর। দীর্ঘদিন বাদে জাহাজ নাহয় স্রোতে ভাসতে ভাসতেই ফিরে এল কিন্তু গ্রামের লোকজন, বিশেষত যে জেলে পরিবার এতদিন ধরে তাদের বাড়ির কারোর স্বামী বা কারোর ছেলের জন্য একদিন শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল তারা যেন অনেকদিন পর একটু নড়েচড়ে বসল।  

‘কী করে বুঝলে এটা সেই জাহাজ?’ পাড়াপড়শিরা বলল। 

ধুলাসার গ্রামের সবচেয়ে দক্ষ মাছ ধরিয়ে পুনিশের বউ জুহি আঁচলের খুঁট দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলল, ‘আমি জানতাম আমার ভগবান আছেন তাই এখনও সিঁদুর পরি আমি, আর জাহাজটায় সেই চিহ্নটা এখনো আছে।’

এখন সে মধ্যবয়সি। তবুও চেহারায় বেশ জৌলুস, জুহি নিজের কুঁড়ের মধ্যে ঢুকে আরো খানিকটা সিঁদুর পরে সমুদ্দুরের পাড়ে এসে দাঁড়াল। ফিরে আসা জাহাজটার অবস্থা কিন্তু শোচনীয় নয়। কুড়িবছর বাদে তার রংচং একটুআধটু টসকালেও সেই যে পুনিশের জাহাজ সে বিষয়ে সন্দেহ নেই বিন্দুমাত্র জুহির। হাতে তেলের কুপি আর একটু জাহাজ বরণের সামগ্রী নিয়ে সে প্রস্তুত হল। 
  
পুনিশ যখন মাছ ধরতে গেছিল তখন জুহি পোয়াতি ছিল। সেই ছেলে বিনিত এখন বছর উনিশের। বাবা কে চোখেই দেখেনি। এক পড়শির কাছে ছবি দেখেছিল। জুহি তাকে মাছ ধরতে দেয়নি, শেখায়‌ওনি জাল ফেলা। তবে পড়াশুনাটা শিখিয়েছে। জুহির শ্বশুরের একটু ধান জমি ছিল। সেখানে সে উচ্চমানের ধান ফলিয়ে বিক্রি করে। বিনিত এখন শহরের কলেজে ভর্তি হয়েছে সবে। মাছের জন্যই বাবা ফেরেনি ঘরে তাই মাছের ওপর জুহি আর বিনিতের বড় রাগ। ওরা মাছ মুখে তোলেনি আর কোনোদিন ।    
 
যে জাহাজটি নিয়ে পুনিশ সেবার পাড়ি দিয়েছিল তার নাম ছিল সমুদ্রসুর। সেই ঘটনার পর থেকে আর কেউ মাছ ধরার জাহাজের নামও সমুদ্রসুর রাখেনি। সমুদ্রসুরের কাঠের রংচঙে শরীরে ছিল শাঁখের চিহ্ন। জুহির মনে পড়ে পুনিশ মাছ ধরে ফিরেই খুব অভিলাষী হয়ে উঠত। সমুদ্রের গহন জমাট বাঁধা অন্ধকারেই এক দিন পেটে এসেছিল বিনিত। সে দিন সাক্ষী ছিল কাউয়ারচরের ঝাউবন আর আকাশের একফালি চাঁদ। 

গঙ্গামতীর সমুদ্র তটে ঢেউ নেই মোটে। নির্জনতা ভেঙে জোয়ার আসে শব্দ করে। তখনই সোনালি বালিতে আসর বসায় মুঠো মুঠো রকমারি শাঁখ। সে দিন ছিল বিনিতের উচ্চমাধ্যমিক পাশের খবরের দিন। বাবার জন্য বড় মন কেমন করে উঠেছিল তার। 

সাগরপাড়ে দাঁড়িয়ে বিনিত একদৃষ্টে চেয়েছিল দূর দিগন্তপারে। বাবা হারিয়ে গেছিল যেখানে। পাশের খবর পেয়ে মায়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেই মনে হয়েছিল বাবার কথা। তাই দৌড়ে চলে এসেছিল সমুদ্রের কাছে। বাবার আশীর্বাদ নিতে। জোয়ারের জল সরে গিয়ে তখন ভাটার সময়। বালির চরে তখন আপনমনে ঘুরে বেড়াচ্ছে অগুন্তি লাল কাঁকড়ার সারি। চকিতে পায়ের শব্দে ঢুকে পড়ছে গর্তে।     

সমুদ্রবুক ধরে হেঁটে চলেছিল বিনিত। হঠাৎ করেই পৌঁছে গেছিল যত্রতত্র বালির সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হরেক কিসিমের শাঁখের গালিচায়। ওখানকার মানুষেরা রেখে গেছে কুড়িয়ে কুড়িয়ে। দুবেলাই ওই সমুদ্রতটে অমন শাঁখেদের আসা যাওয়া। জোয়ারের জলের তোড়ে ভেসে আসে। ভাটায় জল সরে গেলেই তাদের দেখা যায়। ততক্ষণে শাঁখের মধ্যেকার সামুদ্রিক প্রাণীটি আত্মারামের খাঁচাখোলস ছেড়ে হয় বেরিয়ে গেছে নয় তার মৃত্যু হয়েছে। কিংবা সে শঙ্খের মধ্যেই ঘাপটি মেরে বসে আছে। নোনাজলের স্বাদ নিচ্ছে চুপটি করে।  

বিনিত নিজের মনে বেশ বড়সড় একটা শঙ্খ কুড়িয়ে নেয়। কী সুন্দর শাঁখটা। বাকিদের থেকে আলাদা গড়নের। গায়ে আবার বাদামি ছিট ছিট। এবার সে প্রাণপনে সেই শাঁখটি হাতে আরও এগিয়ে চলে সমুদ্রবুকে বালির পথ ধরে। সূর্যদেব তখন মেঘের আড়ালে। বৃষ্টি হলেও হতে পারে সেদিন। হলে তার মায়ের মনে সুখ হবে। ধানের ফলন ভাল হবে। হঠাৎ কী মনে হল বিনিতের। অনেকটা দূর চলে এসে  শাঁখটির কুন্ডলী পাকানো দেহের মধ্যে শান্ত হয়ে বসে থাকা জলপ্রাণীটির উপস্থিতি বুঝতে পারল সে। 

নিজের মনে সে কথা বলতে লাগল শাঁখটির সঙ্গে। যেন কত চেনা তার সেই সামুদ্রিক প্রাণীটি। কেমন করে খায় তাদের গ্রামের লোকজন, এই নিরীহ, অবলা জন্তুগুলোকে? খুব রাগ হল বিপিনের। পকেট থেকে তার সস্তার মোবাইল বের করে শাঁখটির ছবিও তুলে নিল সে। তারপর দুহাতের মধ্যে শাঁখটিকে ধরে সে বলল, আমার বাবাকে গিয়ে বলবে তুমি? জন্তুটা যেন শুনতেই পেল না। 

তারপরে আবারও বলল, কী হল শুনতে পেলে? এবার সেই জন্তুটি যেন সাড়া দিলো। সে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বুঝি। আবারও বিনিত বলল, আমার বাবা কে গিয়ে বলবে তুমি, আমি আজ উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছি, বায়োলজিতে এপ্লাস পেয়েছি। বাবা শুনে খুব আনন্দ করবে। জন্তুটি তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নেড়েচেড়ে অবশেষে বেরিয়ে আসবে এমন সময় বিনিত তার মায়া ত্যাগ করে সজোরে ছুঁড়ে দূর সমুদ্রে ফিরিয়ে দিল তাকে। 

গাঁয়ের মানুষের এমনকি জুহিরও বিশ্বাস সমুদ্র দেবতা বিনিতের কথা শুনতে পেয়েছে ওই শাঁখের মাধ্যমে। তাই এক সপ্তাহের মধ্যেই ফিরে এসেছে বিনিতের বাবা পুনিশের মাছ ধরার জাহাজখানি। বিনিত অবিশ্যি বিশ্বাস করেনি। প্রমাণ আছে কিছু? বাবা যখন ফিরে আসেনি তখন আর কী হবে? খালি জাহাজ ধুয়ে আমরা জল খাব বুঝি? বিনিত রেগেমেগে উত্তর দিয়েছিল। 

জুহি বলেছিল, নাম, ছবি সব মিলে গেছে যখন। 

এতদিন পরেও কাঠের গায়ে রং দেখে তুমি চিনতে পারলে মা? 

মা বলেছিল রং চটে গেছে বটে কিন্তু সেই রং আমার চোখে এখনো লেগে রয়েছে রে। এ দিন বাদে অতটাও রয়েছে বলেই তো...

ছেলে বলেছিল, তো? বাবা ফিরে এল না যে। রং নিয়ে, নাম নিয়ে, চিহ্ন নিয়ে কী হবে আমাদের? 

সেদিন গ্রামের সব জেলে পরিবার ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে প্রস্তুত আগন্তুক ফিশিং ট্রলারটির দিকে। বিনিত তার মা’কে নিয়ে জাহাজের সামনে গিয়ে একটা প্রণাম করল। জুহি ধূপ, দীপ জ্বেলে বরণ করল সমুদ্রসুরকে। ঠিক যেমন সব স্ত্রী আচার পালন করত, তার স্বামী পুনিশ এক পক্ষকাল পর মাছ বোঝাই জাহাজ নিয়ে ফিরলে। শাঁখ বাজালো। নিরুদ্দিষ্ট স্বামীর প্রতি প্রণাম জানালো। মনে মনে বলল, দেখ আমি এখনো তোমার জন্য সিঁদুর শাঁখা পরে আছি। ততক্ষণে বিনিত একলাফে জাহাজের মধ্যে ঢুকে পড়ল। আঁতিপাতি করে খুঁজতে লাগল বাবার শেষ চিহ্ন। যদি পায় কিছু সে। মা বলেছিল অনেকদিন আগে এক বিদেশি নাবিক নাকি পুনিশকে দিয়েছিল একটি নৌকম্পাস। যদি সেই মহার্ঘ্য বস্তুটি কোনোক্রমে পড়ে থাকে জাহাজের মধ্যে। তার বাবা সেটি নিয়েই সমুদ্র যাত্রা করত সর্বদা।
 
সেটি খুঁজতে গিয়ে বিনিত যা পেল তা আরও বিস্ময়কর। বিনিতের সেদিনের শাঁখটি পড়ে রয়েছে জাহাজের মধ্যে, এক কোণায়। অবিকল সেই শাঁখ। হাতে নিয়ে দেখল তার মধ্যের প্রাণীটি নেই আর।

বিনিত শাঁখ হাতে নিয়ে বাইরে এসে মা’কে ডেকে দেখাল, মা দেখ সেই শাঁখটা। দেখ, দেখ আমি জানি সেটাই। মা বলল, ধুস! বিনিত পকেট থেকে মোবাইল বের করে তার নিজের হাতে তোলা শাঁখের ছবিটা মা কে দেখাতে গিয়ে দেখে সেটি নেই আর। তার বদলে পুনিশের ছবি সেখানে... তোলপাড় হল বিনিতের মন। কেঁদে ফেলল সে। বাবা সত্যিই এসেছে তবে!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/203532/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Aug 2023 06:09:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিরলে বালুকাতীরে<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=========================================</p>
<p>গঙ্গামতির চরে সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া এক ফিশিং ট্রলার ফিরে এল প্রায় দীর্ঘ কুড়ি বছর পর। দীর্ঘদিন বাদে জাহাজ নাহয় স্রোতে ভাসতে ভাসতেই ফিরে এল কিন্তু গ্রামের লোকজন, বিশেষত যে জেলে পরিবার এতদিন ধরে তাদের বাড়ির কারোর স্বামী বা কারোর ছেলের জন্য একদিন শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল তারা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-203532"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/203532/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6847a9c238f42cf96d99b5e18e419ee0</guid>
				<title>প্রবহণ
হাসনাত সৌরভ
=============================

আয় আয় আয় …

জাহেক পায়রাগুলোকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে ডাকে। ওর ডাক শুনে এক ঝাঁক পায়রা পাঁচ তলার ছাদের উপর থেকে ঘুলঘুলির ফোকর গলে, এসি মেশিনের পিছন থেকে মাটিতে নেমে আসে। গম হাতে উড়ন্ত পায়রাদের ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ আর বাতাসে গা ভাসিয়ে নীচে নেমে আসার দৃশ্য দেখে দিনের শুরু হয় জাহেকের।

বহুকাল আগে এই বাড়িটা বানিয়েছিলেন জাহেকের দাদা। উনি এই অঞ্চলের নাম করা অ্যাডভোকেট ছিলেন। লোকের মুখে মুখে ঘুরত জমিনুদ্দীনের নাম। সারাটা দিন বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা চলত। জাহেকের বাবাও ওকালতি পাশ করে একই পেশায় মনোনিবেশ করেছিলেন। বাড়িটা জাহেকের দাদা বিখ্যাত অ্যাডভোকেটের নামেই। সেটাই বংশানুক্রমিক ভাবে চলে আসছে। যদিও জাহেকের সময় এসে সেই বাড়ির লালিত্য কিছুটা ম্লান হয়েছে।

সকাল থেকে সাহারা কান পেতে থাকে। বিছানায় শুয়েই শুনতে পায় ‘আয় আয় আয়’  ডাক। পায়রাবাবুর ডাক শোনার অপেক্ষাতেই যেন ও বিছানা আঁকড়ে থাকে। এই ডাক কানে এলে ও বিছানা ছেড়ে জানালার সামনে এসে দাঁড়ায়। সাহারাদের ফ্ল্যাট থেকে জয়তুদের বাড়ির পিছনের অংশের সামান্যটুকু দেখা যায় মাত্র। ও ডাক শুনে উঠে জানালা দিয়ে পায়রাদের দেখে।

সাহারার বিয়ে হয়েছে প্রায় সাত বছর। সংসারে সদস্য সংখ্যা বাড়েনি। এ বাড়িতে মানুষ বলতে ওরা স্বামী-স্ত্রী দুইজন। কিন্তু সারাটা বছর সাহারা একাই থাকে এই ফ্ল্যাটে। স্বামী ব্যবসার কাজে দুবাই-সিঙ্গাপুর-হংকং চষে বেড়াচ্ছে। সাহারার আঠারশো স্কোয়্যার ফিটের অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট দামী দামী কিউরিওতে ভরে উঠেছে। ওয়ারড্রোব উপচে পড়ছে পোশাকে। কিন্তু তার সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। যতটা মনোযোগ ওর এই পায়ারাগুলোর প্রতি।  আঠাশ বছরের যৌবন প্রতিদিন একটু একটু করে বিফলে যায়। টাকাপয়সা, গয়নাগাঁটি, বিলাসিতায় মোড়া হয়েও সাহারার কাছে সে সব মূল্যহীন।

কী গো ভাবী, তোমার পায়রা দেখা হল?

কাজের মেয়ে পলির ডাকে চমক ভাঙ্গে সাহারার।

সাহারা ম্লান হাসি উপহার দেয় পলিকে। সেই হাসিতে ধরা থাকে বিষাদ। শরীর আর মনের যন্ত্রণার কথা।

ও পলির মুখে ‘পায়রাবাবু’র গল্প শোনে। জাহেক’র বৌ রাজশাহী গমনের পরে আর এ বাড়িতে ফেরেনি। শপিং করতে যাচ্ছি বলে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। কী কেচ্ছা, কী কেচ্ছা!

মাথা হেঁট করে ফিরে আসে জাহেক। পলির কথায় সাহারার মনে হয় তাই হয়তো পায়রাগুলোর প্রতি নিবেদিত প্রাণ। পলি বলে, ‘জাহেকের শরীরের দোষ দিয়ে বৌটা ভেগেছে।’

জাহেক পায়রাগুলোকে খেতে দিতে দিতে ভাবে জোর করে কারো কাছ থেকে ভালোবাসা কিংবা শ্রদ্ধা কোনোটাই আদায় করা যায় না। প্রথমটা স্বতঃস্ফূর্ত হলেও দ্বিতীয়টা অর্জন করতে হয়। বাবা রাগী মানুষ ছিলেন আর দাদু ছিলেন রাশভারী স্বভাবের। লোকে দাদুকেই কেন জানি বেশি ভালোবাসত এবং সম্মান-শ্রদ্ধা করত। দাদু একটা কথা বলতেন জাহেককে, ‘দ্যাখো ভাই, যে তোমাকে ভালোবাসবে তাকেই তুমি ভালোবেসো। জোর করে কারো কাছ থেকে কিছু আদায় করার চেষ্টা কোরো না।’ এখন বুঝতে পারছে কত মূল্যবান কথা তিনি বলে গিয়েছিলেন জাহেককে।

জাহেক পারতপক্ষে সেইভাবে কখনো কোনো মেয়েদের দিকে তাকায় না। সেও দাদুর চেম্বারে প্র্যাকটিস করে। তবে প্র্যাক্টিসে মন বসে না। কী হবে এতো টাকাপয়সা দিয়ে? কিছুই তো সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারবে না। তাছাড়া কার জন্যে টাকা ইনকাম করবে! একটা হতাশা জাপটে ধরে। ও কাজ কর্ম শিকেয় তুলে ছাদে উঠে বাগান, পাখি, কাঠবেড়ালি আর বেজিদের লুকোচুরি খেলা দেখে। ভোরের আকাশ দেখে, পশ্চিম আকাশে বৈরাগ্যের রং দেখে। দিনান্তে পাখিদের বাসায় ফেরা আর সন্ধ্যাতারাটিকে দেখে। তখন খুব মায়ের কথা মনে পড়ে। মা এখন দূর-স্মৃতি। পূর্ণিমা সন্ধ্যায় চাঁদ উঠলে জাহেক আস্তে আস্তে ছাদে চলে আসে। তখন খুব মনে পড়ে তিন রাতের বৌটিকে। বুকের ভিতরটা পুড়ে খাক হয়।

দাদি বলেন, ‘পুরুষ মানুষের এতো বৈরাগ্য ভালো নয়। কে দোষ করল, তার জন্যে সারাটা জীবন ব্রহ্মচারী হয়ে থাকতে হবে? সে তো নাগরের সঙ্গে দিব্যি সুখে ঘরকন্না করছে। আর তুই? খালি চাঁদ তারা দেখে বেড়াচ্ছিস।’ গ্রহ দোষ কাটাতে দাদী কী না করছেন জাহেকের জন্যে।

এমনই একটা রাতে জাহেক ছাদে উঠেছিল। সে জেনেছিল বিশ্বব্রহ্মান্ডের এক গভীর রহস্যের কথা। এই সপ্তাহে তিনটি গ্রহ খুব কাছে চলে আসছে। পৃথিবী থেকেই দেখা যাবে মঙ্গল, শনি আর বৃহস্পতিকে। আর শুক্রকে তো প্রতিদিন দেখা যায়।

সাহারার মন ভালো নেই। কিছুদিন ধরে একটা সন্দেহ তার মনের ভিতরে উঁকি দিচ্ছিল। তাদের হোটেল ব্যবসা। স্বামী বিপ্লবকে তাই সারাটাবছর বাইরে ব্যস্ত থাকতে হয়। যখন বাড়িতে আসে তখন যেন অন্য এক মানুষ মনে হয়। যেন দূর আকাশের কোনো গ্রহ। যতক্ষণ থাকে মোবাইল নিয়েই কাটিয়ে দেয়। সেদিন মোবাইলে একটা ফটো দেখেছিল, সুন্দরী এক বিদেশিনীর। রাত জেগে মেয়েটির সঙ্গে প্রতিদিন রাতে চ্যাট করে। এতোদিন বাদে এসেও সাহারার সঙ্গ কামনাতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই বিপ্লবের। সাহারা কাছে এসে গান-গল্প করতে এলে বিপ্লব রাগত স্বরে বলে, ‘কী এসব ছেলেমানুষী করছ শুনি? আমার অনেক কাজ পড়ে গেছে। যাও, পাশের ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।’

সাহারা পরাজিতের হাহাকার বুকে নিয়ে দ্বিধা টলোমলো পায়ে পাশের ঘরে এসে শুয়ে পড়ে। এক বুক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জানালা দিয়ে দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। জ্যোৎস্না এসে পড়ছে ওর বিছানার উপরে। নরম জ্যোৎস্নায় ভিজে যাচ্ছে বিছানা বালিশ। ও চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলেছে, আয় ঘুম আয়…।

সেদিন বিপ্লবের মোবাইলে দেখেছে হোটেলের বিছানায় অন্তরঙ্গ ফটো বিপ্লবের সঙ্গে। গ্যালারিতে বেশ কিছু ছবি আছে মেয়েদের। দেখে কল গার্ল বলে মনে হয়েছে। সাহারা যা বোঝার বুঝে নিয়েছিল। বিপ্লব এবারে খুব বেশিদিন থাকতে পারেনি। সাহারাকে বলেছিল এটিএম থেকে টাকাপয়সা যা লাগে তুলে খরচ করতে। মৌনিমা শুনে ঠোঁট  কামড়াতে লাগল, আর  বলল, ‘ আমার কিছুই দরকার নেই। তুমি শুধু আমায় মুক্তি দাও।’

আজকাল সাহারার কিছুই ভালো লাগে না। যার জন্যে ঘরবাড়ি গুছিয়ে রাখবে, সেই মানুষটা কোথায়? এই ধনসম্পত্তিতে আদৌ কি তার কোনো অধিকার আছে। যে পুরুষ তার নিজের স্ত্রী’র প্রাপ্য দাবিটুকু পর্যন্ত পূরণ করতে পারে না, তার জিনিসে কীসের অধিকার? তার এইসব জিনিসপত্র ছুঁতে আজকাল ঘেন্না করে।

সেদিন বিষণ্ণ মনে সন্ধ্যের পরে ছাদে উঠেছিল। কলেজ লাইফের বান্ধবি ঝিলম দুপুরে বলেছিল আজ রাতে ছাদে উঠে দেখবি মহাজাগতিক এক দৃশ্য। সাহারা পারতপক্ষে কখনো ছাদে ওঠে না। আর সন্ধ্যের পরে তো নাই।  আকাশের দিকে তাকিয়ে খুঁজছে সেই মহাজাগতিক দৃশ্য। এমন সময়ে ঝিলাম ফোন করল, ‘কিরে, দেখলি?’ সাহারা ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক সেদিক তাকিয়ে বলে, ‘হ্যাঁ, শুক্র, মঙ্গল আর শনিকে দেখছি কিন্তু বৃহস্পতিকে তো দেখছি না।’ ঝিলম যেমন ডিরেকশান দেয় সেইভাবে সাহারা ঘুরতে ঘুরতে ছাদের কার্ণিশে চলে আসে। ওদের আর জাহেকদের বাড়ির মাঝে যে নারকেল গাছটা আছে তার পাতাগুলো দুইদিকের ছাদেই ঝুঁকে পড়েছে। সাহারা খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়। ঝিলম বলে, ‘আমি যেমনটা বলছি শোন, দেখতে পাবি। আমি তো ছাদে উঠেই দেখছি, কী সুন্দর দৃশ্য!’ সাহারা বলে, ‘আমি কিন্তু এখনো খুঁজে পাইনি। এবারে আমি নীচে নেমে যাচ্ছি।’  

ঝিলমের সঙ্গে কথা শেষ হতেই একজনের গলা শুনতে পায় সাহারা, ‘এই যে ম্যাডাম, এই, এই দিকে তাকিয়ে দেখুন, ওই যে ভেনাসের পাশে জুপিটার।’ সাহারা ঘাড় ঘোরায়। দেখে উল্টো দিকের ছাদে একটি যুবক ছাদের কোণে এসে ওকে আঙুল দিয়ে আকাশের বুকে বৃহস্পতির অবস্থান চেনাচ্ছে। সাহারা এগিয়ে যায়। যুবকের নির্দেশ মতো আকাশের বুকে সেই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে থাকে। সাহারা আর জাহেক দুই ছাদের কার্ণিশে এসে দাঁড়িয়েছে। মাঝে হাত চারেকের ব্যবধান মাত্র।

‘আরো একটু ডান দিকে, এই যে আমার দিকে কিছুটা এগিয়ে আসুন, দেখুন এবারে তিনটি গ্রহকেই দেখা যাচ্ছে।’ জাহেকের গভীর আবেগভরা কথাগুলো সাহারার হৃদয় স্পর্শ করে। একটা উত্তাল ঢেউ সহসা আছড়ে পড়ে বুকে। তোলপাড় হচ্ছে বুকের ভিতর। মুহূর্তের ভিতরে হাত চারেকের ব্যবধান তুচ্ছ হয়ে যায়। আস্তে আস্তে ওরা দুইজনে নক্ষত্র বনে হারিয়ে যায়।

ঠিক এমন সময়ে জাহেকদের পায়রার খোপে দুটি পায়রা মিহি সুরে প্রেমালাপ করে ওঠে, বক-বকম, বক…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/201708/</link>
				<pubDate>Wed, 07 Jun 2023 08:34:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রবহণ<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=============================</p>
<p>আয় আয় আয় …</p>
<p>জাহেক পায়রাগুলোকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে ডাকে। ওর ডাক শুনে এক ঝাঁক পায়রা পাঁচ তলার ছাদের উপর থেকে ঘুলঘুলির ফোকর গলে, এসি মেশিনের পিছন থেকে মাটিতে নেমে আসে। গম হাতে উড়ন্ত পায়রাদের ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ আর বাতাসে গা ভাসিয়ে নীচে নেমে আসার দৃশ্য দেখে দিনের শুরু হয় জাহেকের।</p>
<p>বহুকাল আগ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-201708"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/201708/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f91dd48db841d7ad8c8e629272e2ed12</guid>
				<title>আলাপের আয়না
হাসনাত সৌরভ
===================================

একটা বুড়ো লোক একদিন নৌকো হয়ে গেল। একটা পুরোনো কাঠের নৌকো। নীচের দিকে শক্ত আলকাতরা মাখানো কাঠগুলোতেও ঘুণ ধরেছে যেন। লোকটার হৃদপিন্ডটা রইল নৌকার একদম গভীরে, যেখানে প্রায়শই জল ঢোকে, যেখানে সবসময়ই কিছুটা কালো জল জমে থাকে। লোকটার শক্তপোক্ত শিরা উপশিরা বের করা হাত পা হয়ে গেল নৌকার দুটো ধার। আর দুটো ছুঁচলো শেষ দিকে রইল লোকটার মাথা আর পায়ের শেষটুকু। একটা দাঁড় রইল, লোকটার পাঁজরের একটা বড় হাড় বের করে এনে ঘষে ঘষে বানানো। 

ঘুণপোকা রইল সব জায়গায়। রং উঠে রইল সব জায়গায়। সমস্ত দিন সে একা একা বাঁধা থাকে ঘাটে। বুড়ো হয়েছে বলে বাকি জোয়ান নৌকোগুলো সাগরে যাওয়ার সময়ে তাকে নেয় না। বুড়ো নৌকাটা তাদের দু একদিন যাওয়ার আগে হেঁকে বলার চেষ্টা করেছে, &#039;বড় ঢেউ থেকে দূরে থেকো বাছারা। এ বড় ঝড়ের সময়।&#039; জোয়ান নৌকোগুলো হাসতে হাসতে বলেছে, &#039;হে বুড়ো তোমার হাড়ে জোর নেই, তাই তোমার ভয়।&#039; তারপর তারা ঢেউের পর ঢেউ কাটতে কাটতে চলে গেছে গটগটিয়ে। 

আর রাত্রে যখন ঘাটের থেকে একটু উঠে বড়ো বাড়িটাকে সেই বিরাট দৈত্যটার ফেলে যাওয়া বাক্সভর্তি অন্ধকার মনে হত, সেইসব রাতে লোকটা কাঠের মধ্যে বাসা বেঁধে থাকা ঘুণপোকাদের সাথে গল্প করত। ওরা এক একজন এক একটা দুঃখের গল্প জানতো। কেউ বলত কীভাবে বন্যায় ঘর ভেসে গেল, হাঁড়িটা ভাসতে ভাসতে একদম মায়ের কাছে চলে গেল এক বুক জলে। আর একজন গল্প করত সেই পাগলটার, যে একটা আয়না কিনবে বলে দারুন সুরক্ষিত আলমারিটা বিক্রি করে দিয়েছিল। 

এইসব গল্প শুনতে শুনতে নদীর ঢেউ মাঝেমধ্যে উঠে আসত লোকটার কোলে। সে সব নরম কচি ঢেউ। এখনো কচুরিপানা বয়ে নিয়ে যেতে পারে না উল্টোদিকের তীরে। এই বুড়ো নৌকাটার এইসব দুঃখের গল্প শুনতে তাদের ভারী ভালো লাগতো। সেইসব রাতে চাঁদটা টুপ করে জলে নেমে একবুক জলে সাঁতার কাটতে কাটতে চলে আসতো একদম সামনে। তার রুপোলী উড়নীটা বুড়ো নৌকাটার পাঁজর ছুঁয়ে যেত আলতো। বুড়ো নৌকাটার মধ্যে থাকা ঘুণপোকাটা একটা আশ্চর্য ময়ূরপঙ্খীর গল্প বলত সেইসব রাতে। সদ্য উড়তে শেখা ঢেউ গুলো অবাক হয়ে শুনত, ময়ূরপঙ্খী জলের একটু ওপর দিয়ে ভেসে যায়, তার পালে রাজ্যের শ্রেষ্ঠতম কারুকার্য, সূর্যের আলো পড়ে তার মুখের সামনেরটা জ্বলজ্বল করে যেন গর্বে এক্ষূণি ফেটে পড়বে। বুড়ো নৌকাটা অল্প অল্প দুলত গল্পের তালে তালে। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল বেশ। 

তারপর একদিন যুদ্ধ এল। সে ভয়ংকর যুদ্ধ। আকাশে আগুন লাগল, পাখিরা নেমে এল গাছে। গাছে আগুন লাগল, পাখিরা নেমে এল জলে। জলে তুফান এল, সব জোয়ান নৌকো মাঝরাস্তায় ভেঙে পড়ল সমুদ্রের গভীরে। অনেক অনেক নীচে উপকথার মত শ্যাওলারা হাঁ করে গিলে নিল তাদের। সেই রাতে আর গল্প হল না, ঘুণপোকারা খোঁদলে ঢুকে রইল পাঁজরের। চাঁদটা মেঘের উলে বোনা একটা বর্ম দিয়ে নিজেকে ঢেকে ঘুমিয়ে রইল আকাশের উল্টোদিকের জানলায়। বুড়ো নৌকাটা সমস্তরাত দেখছিল আগুনের পর অন্ধকার, তার মাঝে আর্তনাদ, তারপর একদম নিস্তব্ধতা, তারপর আবার আগুন। সেই রাতেই সব শেষ। স্পষ্ট বুঝেছিল বুড়ো নৌকাটা। ঘুণপোকাগুলোর জন্য মনখারাপ করছিল তার। সে চোখ বুজে অপেক্ষা করছিল কখন একটা বড় আগুন পুরো ঘাটটাকে পুড়িয়ে নেমে আসবে জলে। তারপর ছোট্ট জানলাকে যেভাবে গিলে নেয় বিরাট অমাবস্যা, সেভাবে তাকে গিলে নেবে আগুন। বুড়ো নৌকাটা অবাক হয়ে ভাবছিল একবার পুড়ে গেলে আর নিজের কোন টুকরোটার ছাই কোথায় পড়ল জানাই যাবে না। 

চোখ বুজেই ছিল বুড়ো নৌকাটা। হঠাৎ চেঁচামেচিতে যেন সম্বিৎ ফিরল তার। আগুনের ছায়ায় দেখল কটা কালো লোক। কাঁপা কাঁপা হাতে দড়িটা খুলছিল ওরা। &#039;বুড়ো চল শিগগির। ভোর হওয়ার আগে পালাতে পারলে তাও আশা আছে।&#039; বলে নৌকায় লাফিয়ে উঠল ওরা। বুড়ো বহুদিন পর পায়ের নীচে ঢেউ পেল। কচি ঢেউগুলো হইহই করে কাঁধে তুলে নিল ওকে। পার করে দিল সবাই মিলে। চাঁদটা আড়াল থেকেই মাঝেমধ্যে পথ দেখিয়ে দেবে কথা দিল। বুড়ো মাঝসমুদ্রে দাঁড় বাইতে বাইতে চিৎকার করে উঠল, &#039;তাড়া কীসের তোমাদের?&#039; লোকগুলো আগুন থেকে দূরে এসে একটু হাঁপ ছেড়ে বলে উঠল, &#039;ভোর হওয়ার আগেই ওই পাড়ে যেতে পারলে আমরা সবাই গাছ হয়ে যেতে পারব। তীরে নেমে কাদায় পা ডুবিয়ে পুব দিকে তাকিয়ে দুহাত তুলে দাঁড়ালেই ব্যাস।&#039;

বুড়ো এগোতে এগোতেই জিজ্ঞেস করল চনমনে গলায়, &#039;আর যুদ্ধ?&#039; কিছুক্ষণ পরে গাছ হতে চলা লোকগুলো হেসে বলল, &#039;যুদ্ধ তো শেষ হয় বুড়ো, গাছ শেষ হয় না। গাছ মরলে সেটা থেকে নৌকো। নৌকো মরলে আবার মাটি। মাটি বাঁচলে মানুষ। মানুষ যুদ্ধ পেরোতে পারলেই আবার গাছ।&#039; 

ঠিক তখনই সমুদ্রের ওপারে দ্বীপটা দেখা গেল আবছা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/200611/</link>
				<pubDate>Tue, 16 May 2023 11:36:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আলাপের আয়না<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
===================================</p>
<p>একটা বুড়ো লোক একদিন নৌকো হয়ে গেল। একটা পুরোনো কাঠের নৌকো। নীচের দিকে শক্ত আলকাতরা মাখানো কাঠগুলোতেও ঘুণ ধরেছে যেন। লোকটার হৃদপিন্ডটা রইল নৌকার একদম গভীরে, যেখানে প্রায়শই জল ঢোকে, যেখানে সবসময়ই কিছুটা কালো জল জমে থাকে। লোকটার শক্তপোক্ত শিরা উপশিরা বের করা হাত পা হয়ে গেল নৌকা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-200611"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/200611/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">693c5f987ad599831f9523f0679571ce</guid>
				<title>রবীন্দ্রনাথঃ ‘‘শক্তির অশেষ উৎস, জীবনের চির অবলম্বন’’
হাসনাত সৌরভ
=================================================

কাগজের নৌকা কতদূর যায়? যেতে পারে? হয়তো বেশিদূর নয়। হয়তো একটু গিয়েই সে টুপ করে ডুবে যায়। কিন্তু নৌকা না যাক, আমাদের মন তো যায়। যেখানে আমরা যেতে পারি না, সেখানে আমাদের মন ভেসে যায় ঠিকই। রবীন্দ্রনাথ আমাদের এমনটাই তো কল্পনা করতে শিখিয়েছেন। আমাদের ভাবনাকে, আমাদের কল্পনাকে এমন করে উসকে দিতে, তিনি ছাড়া আর কে-ই বা পেরেছেন আমাদের ছেলেবেলায়! এমনকি আমাদের বড়োবেলাতেও! তাই কল্পনাপ্রবণ যে মনটা আমি আজও আমার ভিতর বয়ে বেড়াই, তা আসলে রবীন্দ্রনাথেরই শিক্ষা। যা পেয়েছি তাঁর সৃষ্টিকে ছুঁয়ে এবং তাঁর ভাবনাকে অনুভব করে। জেনেছি, কল্পনা সুন্দর। মানুষের জীবনে সেই সুন্দরের আরাধনা করা চাই। তবেই জীবনকে সম্পূর্ণ রূপে গ্রহণ করা যাবে।

সহজপাঠের দিনগুলোয় আমার সঙ্গে তাঁর পরিচয়। তাই সেই ছোট্টবেলা থেকে রবিঠাকুরের সঙ্গে আমার এক সহজ বন্ধুতা তৈরি হয়েছিল। যিনি সৌন্দর্যের ভিতর দিয়ে সারাটা জীবন খুঁজেছেন মুক্তি। বলেছেন, ‘সৌন্দর্য এবং সুব্যবস্থা মনের জিনিস। সেই মনকে মুক্ত করা চাই।’ শুধু স্কুল নয়। বাড়ির পরিবেশেও ছোটোবেলায় আমি খুঁজে পেয়েছিলাম আমার এই বন্ধুটিকে। কত কত দুপুর আমার খোলা জানলার পাশে ‘ডাকঘর’ পড়তে পড়তে কেটে যেত…। জানলা দিয়ে অমলের মতো শুধুই অপেক্ষা করতাম। ভাবতাম, এই বুঝি এলো দইওয়ালা!

কিন্তু ছেলেবেলায় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের যে চেহারা ছিল, বড়োবেলায় দেখলাম তার অনেকটা বদলে গেছে। ছেলেবেলায় তাঁর লেখা, গান, ভাবনা সব যে বুঝতাম এমনটা নয়। কিন্তু বড়ো হলাম যখন, মনে হল তাঁকে হয়তো আরও বেশি করে বুঝতে পারছি। অনুভব করতে পারছি। তাঁর লেখার ভিতর দিয়ে আবিষ্কার করলাম একটা নতুন মানুষকে। যে শুধু বন্ধু নয়। যে আমার আশ্রয়।

আমার এই বড়োবেলার অনেকটা জুড়ে আছে তাঁরই গীতবিতান। সেখানে আমি দেখেছি অন্য এক রবীন্দ্রনাথকে। যে ভালবাসতে শেখায়। শেখায় আত্মত্যাগ। তাই তো বিরহে বিলীন হয়েও বলেছেন ‘যদি আর-কারে ভালোবাস, যদি আর ফিরে নাহি আস, / তবে তুমি যাহা চাও তাই যেন পাও, আমি যত দুখ পাই গো।’ নিজের ভাগে দুঃখ থাক, সুখ থাক অন্যের ভাগে। এ কথা এত সহজে আর কেউ বলেনি আমাকে। তাই আমার সুখের দিন ছাপিয়ে যত আঁধার এসেছে জীবনে, তত আমি একা একা ফিরে গেছি তার গানের ভিতর। গীতবিতানের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে জীবনের না-পাওয়ার দিকে চেয়ে কতবার যে বলেছি, ‘বড়ো বেদনার মতো বেজেছ তুমি হে আমার প্রাণে…’ তবু ভরসা থেকেছে রবীন্দ্রনাথেই। জীবনে কত কিছুই না আমরা হারাই! ফুরোয় মুহূর্ত, ছেড়ে যায় মানুষ। কিন্তু এক রবীন্দ্রনাথই আছেন, যার যাওয়া নেই। যে শুধুই থাকতে আসেন। বিজন রাতে আজও তাই অস্ফুটে বলে উঠি, ‘জানি জানি বন্ধু জানি / তোমার আছে তো হাতখানি।’

বিকেলের নিভে আসা আলোয় এক একদিন অকারণেই আমার সঙ্গী হয়েছে ‘শেষের কবিতা’। কতবার যে নিজেকে মনে মনে ভেবেছি অমিত! লাবনীর সঙ্গে যার চলার পথ বন্ধনহীন গ্রন্থি দিয়ে বাধা। যে ভালবাসাকে কোনও প্রতিষ্ঠানে বা চিহ্নে আটকে রাখতে চায় না। সে কেবল বলে যায়, ‘আমার প্রেম থাক নিরঞ্জন। বাইরের রেখা বাইরের ছায়া তাতে পড়বে না।’ গল্প উপন্যাসের বাইরেও যেন রবীন্দ্রনাথকে পড়তে পড়তে কখনোবা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে পড়েছি! ‘জীবনস্মৃতি’র পাতায় দেখেছি তাঁর ছেলেবেলা। তাঁর বড়োবেলা পড়ে জেনেছি কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যুই না এসেছে জীবনে! তবু ভেঙে পড়েননি তিনি। মৃত্যুকে জয় করতে করতেই রবীন্দ্রনাথের এগিয়ে যাওয়া। সে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র বারেবারে শেখাতে চেয়েছেন আমাদের। বলেছেন, জীবনে ভালো আর মন্দ, যাই আসুক না কেন, সত্যকে যেন সহজে গ্রহণ করতে পারি।

আসলে রবীন্দ্রনাথ নেই বলেই বোধহয় তিনি আজও বেশি করে আছেন আমাদের মাঝে। তাই আজও যখন তাঁর লেখায় নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাই অথবা যখন আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে একমাত্র তাঁরই লেখা, তখন তাঁকে বন্ধু বলে ভাবতেই বেশি ভালো লাগে। এই বন্ধুতার কাছে আমি বড়োবেলায় চুপ করে বসি, আর মনে মনে শুধুই বলি, ‘চিরসখা হে, ছেড়ো না মোরে।’

সার্বিকভাবে দেখতে গেলে আজীবন সুন্দরের পূজারি মানুষটির ব্যাপ্তি বা বিস্তৃতি ছিল সীমাহীন। অসাধারণ ছিল তাঁর তিতিক্ষা, তাঁর ক্ষমা, তাঁর করুণা, তাঁর মৈত্রী। রবীন্দ্রনাথ  থেকে গেছেন আমাদের কাছে, হয়ে উঠেছেন নির্ভর এক আশ্রয়, অফুরান এক আশ্বাস। বুদ্ধদেব বসু  কবিতায় বলেছেন-

&quot;রবীন্দ্র ঠাকুর শুধু আজি হতে শতবর্ষ পরে
কবি রূপে রহিবেন কুমারীর প্রথম প্রেমিক,
প্রথম ঈশ্বর বালকের, বৃদ্ধের যৌবনঋতু,
সকল শোকের শান্তি, সব আনন্দের সার্থকতা,
শক্তির অশেষ উৎস, জীবনের চিরাবলম্বন। &quot;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/200256/</link>
				<pubDate>Mon, 08 May 2023 07:54:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রবীন্দ্রনাথঃ ‘‘শক্তির অশেষ উৎস, জীবনের চির অবলম্বন’’<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=================================================</p>
<p>কাগজের নৌকা কতদূর যায়? যেতে পারে? হয়তো বেশিদূর নয়। হয়তো একটু গিয়েই সে টুপ করে ডুবে যায়। কিন্তু নৌকা না যাক, আমাদের মন তো যায়। যেখানে আমরা যেতে পারি না, সেখানে আমাদের মন ভেসে যায় ঠিকই। রবীন্দ্রনাথ আমাদের এমনটা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-200256"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/200256/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">dbba485bd2219763d9aa45e5c4b419e7</guid>
				<title>নয়নপথগামী
হাসনাত সৌরভ
=======================

কচুরিপানা আর কলমিশাকে মোড়া একটা নীচুমতো জমিন দেখিয়ে জুহিকে বলি, ওই দ্যাখো ওইটা ধানসিদ্ধ নদী, জীবনানন্দের ধানসিঁড়ি। এখন মজে গেছে কিন্তু আগে জাহাজ চলত নাকি। ধান-চালের বস্তাভর্তি জাহাজ।

জুহির চোখে সানগ্লাস। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। নাকে রুমাল চাপা দেয়। আমিও পাচ্ছি মনুষ্যবিষ্ঠার গন্ধ।

হা হা করে হাসি— আরে রুমাল চাপা দাও কেন? এটা ন্যাচারাল পারফিউম।

ধানসিঁড়ির বুকে ধানের বীজতলা। বর্ষার জল জমেছে কোথাও কোথাও। একটা মাছরাঙা বসে আছে সেই জলের দিকে চেয়ে। জুহির গাল লাল হচ্ছে রোদে। রোদে পুড়লে জুহিকে ভীষণ আকর্ষিক লাগে। চুমু খেতে ইচ্ছা করে ভীষণ।

–চলো আমবাগানটা দেখিয়ে আনি। বাপ-দাদার আমলের আমবাগান। কত পুরানো গাছ আছে জানো!

‘ডিসগাস্টিং!’ জুহি মনে মনে বললেও আমি শুনতে পাই। শুনেও ইগনোর করি। বিয়ের পর প্রথম এসেছি গ্রামের বাড়িতে। একবার অন্তত ঘুরে দেখুক শ্বশুরের ভিটা। আর হয়তো কখনওই আসা হবে না। গ্রামের সব বাগান ভিটা বেচার পরিকল্পনা চলছে। মোটামুটি সব ঠিক হয়ে গেছে। পরের মাসে রেজিষ্ট্রি। সেই টাকাই ভরসাতেই শহরে নতুন  ফ্ল্যাটের বুকিং। কী করার আছে! কত কষ্টে ছুটি জোগাড় হয় আমাদের। আমার হয় তো, জুহির হয় না। জুহির হয় তো, আমার হয় না। গ্রামের বাড়ি জমি থাকা না থাকা এক ব্যাপার। তার থেকে নতুবা ফ্ল্যাটে কাজে লাগুক।

মা শেষমেশ রাজী হয়েছেন শহরে গিয়ে থাকতে, এটাই ভাগ্যি।

–কিগো লতিফুলের ব্যাটা লয়? ল্যাংড়া আমগাছের পেছন থেকে ভূতের মতো বেরিয়ে এল কিরন শেখ।

কোমরটা টানটান করে দাঁড়িয়ে বলল— চোখে আর জ্যোতি নাই রে দাদো। কিন্তু ঠিক চিনছি লতিফুলের ব্যাটা। ঠিক য্যানো লতিফুল দাঁড়ায় আছে। আহারে! বুড়া চাচা পড়ি রইল, ব্যাটা চলি গেল আগুতে। সবই নসিব!

কিরন শেখ সেই দাদোর আমল থেকে আমাদের আমবাগানের জোগালদার। আমে বোল এলেই খড়ের ছাউনির মাচায় কাটায় দিনরাত। কোন গাছে কত আম হবে, আগে থেকে বুঝতে পারে সব। যেন গাছেদের ভাষা জানে।

–কদিন থাকবা বাপ? পুকুরপাড়ে আর কটি আম আছে। পরশু পাক ধরবে অল্প। ল্যাংড়াতে মিষ্টি বসতে আরও কদিন। তুমি তো গাছপাকা ল্যাংড়া ভালোবাসো।

বুকের মধ্যে একটা ছোট ধানসিঁড়ি।
শুকিয়ে যায়। মজে আসে অল্প অল্প করে।

বুকের ভেতর একটা ছোট ধানসিঁড়ি।
যে নদীতে আর নৌকা চলে না। সুর ওঠে না ভাটিয়ালি।

বুকের ভেতর একটা ছোট ধানসিঁড়ি।
মরে যায় একটু একটু করে।

দিন বিকালের ট্রেন। বাতানুকূল কামরা। বাইরের বাতাস আসে না। জুহির গাল রোদে পোড়ে না, লালও হয় না। জানলার দিকে মুখ করে জুহি আমাকে বলে— কিরনচাচা যতদিন আছে ততদিন না হয় জমিবাড়ি বিক্রিবাটা বন্ধ থাক। গাছপাকা ল্যাংড়া খাওয়া যাবে।

আমি জুহির দিকে তাকিয়ে থাকি। বুকের ভেতর ছোট ধানসিঁড়িতে হঠাৎ কোথা থেকে জল থইথই করে। পালতোলা নৌকা বয়। সেই নৌকার পাল যেন জুহির আঁচল। বিকালের পড়ন্ত আলোয় জুহির গাল সূর্যের মতো লাল। আমি তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠি।
-------------------------------------</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/199875/</link>
				<pubDate>Sat, 29 Apr 2023 10:26:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নয়নপথগামী<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=======================</p>
<p>কচুরিপানা আর কলমিশাকে মোড়া একটা নীচুমতো জমিন দেখিয়ে জুহিকে বলি, ওই দ্যাখো ওইটা ধানসিদ্ধ নদী, জীবনানন্দের ধানসিঁড়ি। এখন মজে গেছে কিন্তু আগে জাহাজ চলত নাকি। ধান-চালের বস্তাভর্তি জাহাজ।</p>
<p>জুহির চোখে সানগ্লাস। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। নাকে রুমাল চাপা দেয়। আমিও পাচ্ছি মনুষ্যবিষ্ঠার গন্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-199875"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/199875/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c3463f46f19cb5c9f4fa0e1f2c580e79</guid>
				<title>শঠতা
হাসনাত সৌরভ
=======================

একটা দোয়েল সকাল হলেই জানলার বাইরে পাঁচিলে এসে বসে। ডাকে। হাঁটে। উড়ে যায়। আমার ঘরেও অনেক মানুষ এসে বসে। কথা বলে। কথা শোনে। চলে যায়। 

মানুষ পাখি নয়। কিন্তু অনেক গানে কবিতায় মানুষ পাখি হতে চেয়েছে। উড়ে যেতে চেয়েছে। মাটি যেন বাঁধন। আকাশ যেন মুক্তি। মানুষ আর পাখি দুজনেই বাতাসের সমুদ্রে বাঁচে। পাখি সমুদ্রের উপরিতলে উড়ে বেড়ায়, যেমন মাছেরা জলে ভেসে বেড়ায়, মানুষ বাতাসের সমুদ্রের তলদেশে হামাগুড়ি দিয়ে, হেঁটে চলে। মানুষ আর সব পাখির মধ্যে একটা গভীর পার্থক্য হল মানুষ পাখি হতে চায়, পাখি কিচ্ছু চায় না। 

মানুষ চায়। পাখি চায় না। পাখি ওড়ে, বাসা বাঁধে, ডাকে, প্রজনন করে – এগুলো তার চাওয়া নয়, এগুলো তার প্রকৃতি। মানুষ চায়। মানুষের চাওয়াটা পাখির মত তার বুকের মধ্যে বাসা করে। কানে শোনা, চোখে দেখা, কল্পনা করা – এ সব কুড়িয়ে বাসা বানায় বুকে। তারপর আশা ফুটে চাওয়ার পাখি জন্মায়। আশা কোথা থেকে জন্মায়? মানুষের জন্মলগ্ন থেকেই আশার বীজ তার মধ্যে। সব আশা চাওয়ায় অঙ্কুরিত হয় না। সব আশাকে মানুষ জানেও না। ধাক্কা খেলে, তেষ্টা পেলে, আবছা আলোয় মাঝপথে ঘুম পেলে মানুষ বুকের মধ্যে আশা হাতড়ায়। আশারা স্বপ্নের মধ্যে মঞ্চ তৈরি করে। অভিনয় করে। মানুষ ঘুমের মধ্যে অন্য মানুষ হয়ে যায়। এক একটা মানুষ রক্তবীজ। এক মানুষের অনেক মানুষ। যেন সন্ধ্যেবেলা ঘরে ফেরা শয়ে শয়ে পাখি। ওরা মানুষ বৃক্ষতে বাসা বেঁধে আছে। 

আশা ফুটে চাওয়া জন্মালো। চিঁচিঁ ডাকে মানুষকে বলল, ওঠো। মানুষ জানলো না কখন তার বুকে সে জন্মালো। চাওয়া আকাশ চাইল, খাদ্য চাইল, সুরক্ষা চাইল। মানুষ দৌড়ালো। মানুষ ছুটল। চাওয়া ডানা ঝাপটালো। 

সব পাখি খাদ্য পেল না, আকাশ পেল না, সুরক্ষা পেল না। দিনের শেষে অনেক পাখি মৃত। তাদের পালকের গায়ে গায়ে ব্যর্থতা। মানুষ বলল, আমি ব্যর্থ হলাম। হাতে গোনা কয়েকটা পাখি উড়ে আকাশে গেল। তারাও পর হল। চাওয়া তৃপ্ত হলে পাখি পর হয়ে যায়। উড়ে যায়। চাওয়ার তৃপ্তি মানুষ পায় ক্ষণিকের জন্য, একটা ডানার ঝাপট যেন। তারপর শূন্য নীড়। 

মৃত পাখির শাবক আর উড়ে যাওয়া পাখির হিসাব রাখতে রাখতে মানুষ বৃদ্ধ হয়। হতাশার ঝুরি নামে বৃক্ষের গা থেকে। ওরা মাটি চায়, আকাশ চায় না। মাটি চাওয়া ঝুরি আর আকাশ চাওয়া পাখির কথা শোনে মানুষ। মানুষ নিজেকে প্রশ্ন করে - সে মাটির, না আকাশের? 

সমস্ত ঝুরি মাটি পায় না। তারা অলীক ঝুরি। অলীক হতাশা। মানুষ ত্রিশঙ্কুর মত দিগন্তরেখায় সৃষ্টিকর্তাকে খোঁজে। তার চোখেমুখে বাতাস খেলে যায়। বাতাসের শীতলতায় সৃষ্টিকর্তার গল্প। অনঙ্কুরিত আশাদের সেই বাতাসে ভাসিয়ে দিয়ে মানুষ মৃত্যুর জন্যে অপেক্ষা করে। মৃত পাখি, উড়ে যাওয়া পাখিদের কথা মনে পড়ে। সবটাই যেন খেলা; খেলার নাম - প্রবঞ্চনা। গোটা বিশ্বকে ক্ষমা করতে করতে, গোটা জীবনের আঁশ ছাড়িয়ে একা হতে হতে মৃত্যুকে বলে, আমি একটা গভীর ডুব দেব, সমস্ত শ্বাস বন্ধ করে দাও। মানুষ মৃত্যুর দিকে তাকিয়ে দেখে কোনো পাখি উড়ে মৃত্যুর কাঁধে বসেছে কিনা। তার চেনা কোনো পাখি, যারা উড়ে গিয়েছিল। কেউ তার মৃত্যুর সাক্ষী হয় না। মানুষ সব শ্বাস সমুদ্রের পাড়ে রেখে একা অবগাহনে নামে। আর ওঠে না। মাটিতে তখন অন্য একটা চারা জন্মাচ্ছে, বৃক্ষ হতে পারে যে, আবার নাও হতে পারে। তার মাথার উপর পাখিদের চক্রব্যূহ, বুকের ভেতর আশার বালি চিকচিক করছে।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/198784/</link>
				<pubDate>Mon, 10 Apr 2023 08:15:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শঠতা<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=======================</p>
<p>একটা দোয়েল সকাল হলেই জানলার বাইরে পাঁচিলে এসে বসে। ডাকে। হাঁটে। উড়ে যায়। আমার ঘরেও অনেক মানুষ এসে বসে। কথা বলে। কথা শোনে। চলে যায়। </p>
<p>মানুষ পাখি নয়। কিন্তু অনেক গানে কবিতায় মানুষ পাখি হতে চেয়েছে। উড়ে যেতে চেয়েছে। মাটি যেন বাঁধন। আকাশ যেন মুক্তি। মানুষ আর পাখি দুজনেই বাতাসের সমুদ্রে বাঁচে। পাখি সম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-198784"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/198784/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">74f772af17f59342c0f84c260f5ec111</guid>
				<title>মকবরা
হাসনাত সৌরভ
=====================

কংক্রিটের বিশাল বিশাল ফ্ল্যাটবাড়ি ঘেরা দীর্ঘ একখানা কবরখানা। যতদূর চোখ যায় নাম গোত্র ফলকহীন এক একটা কবর। এসব কবর দেখে সনাক্ত করা যাবে না কার আদরে কোন শরীর দাফন করা আছে। এই কবরখানায় গাছ-গাছালি আছে। মৃতের পরিবার চারা লাগিয়ে যায় বড় ভালোবেসে। তা দেখেই শরীর চেনে পরিবার। ওই গাছেই প্রাণ রেখে যায় আব্বুর, আম্মির, ফুফার, দাদির। নতুন হাওয়া আসে চারপাশে, ওটাও তো প্রাণ, নতুন নিশ্বাস। কত না ফিসফাস, ফোঁপানি, অনুযোগ অগোছালো পড়ে থাকে গাছের ছায়ায়। কবরের জন্য।

বসন্তে এরকমই কোন সাতমহলা থেকে দেখা দৃশ্য দাঁড়িয়ে থাকে দেখার অপেক্ষায়। ওখানে মৃতদেহ সযত্নে নরম মাটি চাপা দেওয়া, আতর চাপা দেওয়া, ফুল, পুরনো দারিদ্র্য স্মৃতি চাপা দেওয়া। বড় অনাদরে। ওখানে মাটি জোটে, ফলক জোটেনা, এপিটাফ নৈব নৈবচ!

এখন বসন্ত এই শহর জুড়ে। রোদ্দুর জ্বলা দুপুরবেলা বসন্ত হেঁটে যায় গান গাইতে গাইতে সজনে গাছের নিচে যুবতি ছায়ায়। কবরখানার ছায়ায়। ওখানে আরো গাছ আছে। নাম জানিনা। তবে মাথা উঁচু করে আছে ওই ফ্ল্যাটবাড়িগুলোর সাথে পাল্লা দিতে।

রোববারের এই অলস দুপুরবেলায় এখানে ছাগলের পাল ঘাস খেতে আসে। কবরের শক্ত পাথরের নিচে যে নরম ঘাস । ফ্যাকাশে সবুজ। কাঁচা বাতাবির মতো সবুজ ঘাস, তার সুঘ্রাণ যেটুকু ছিল তা মৃত শরীর শুষে নিয়েছে তার হাড়ে মজ্জায়, করোটিতে। এখন এখানে প্রায়মৃত কিছু সবুজ। এখানে কেউ রোজ জল দিতে আসেনা গোড়ায়।

ছাগলের দল কিলবিল করে ঘাস খেয়ে যায়। কবরের একোণ-ওকোণ থেকে যতটুকু সবুজ খেয়ে নেওয়া যায় পেট ভরে। ফলকহীন, নামহীন সবুজ। ছাগলগুলো কসাইদের। বাজারে তাদের মাংসের দোকান আছে। জবাই করে রোজ তিনখানা খাসি । অনেকটা মাংস গোটা দিন ধরে আয়েস করে বিক্রি করে।

ছাগলগুলোকে প্রতি রোববার এই কবরখানায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ঘন্টা দেড়েকে পেট পুরে ঘাস খায় কবরখানার, কোতল হোওয়ার আগে।

সিরিয়াতে ও তো এরকম নাম ফলকহীন অনেক কবর আছে। ওখানে গাছ পোতা হয়? কাশ্মীরে ও তো কবর আছে। ওখানে বরফের চারপাশে ঘাস দেখা যায়? আর রাষ্ট্রসংঘে? ওখানে শুনেছি অনেক ভেড়া খেলা করে। প্যালেস্টাইনে ও সবুজ আছে বোধহয়। ওখানেও কি ছাগল কিংবা ভেড়া খোঁজ নিয়ে যায় কবরের?

তাদের কেউ বারন করে না আদরের গাছগুলোকে না খেতে। গাছ খেয়ে ওদের তন্দুরস্তি আসে, পুষ্টি পায় ওরা জবাই হবার আগে। কোন গাছের ছায়ায়।

ভেড়া বা ছাগলের কবর হয় না। কোতল হয়। 

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/198120/</link>
				<pubDate>Sun, 02 Apr 2023 06:15:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মকবরা<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=====================</p>
<p>কংক্রিটের বিশাল বিশাল ফ্ল্যাটবাড়ি ঘেরা দীর্ঘ একখানা কবরখানা। যতদূর চোখ যায় নাম গোত্র ফলকহীন এক একটা কবর। এসব কবর দেখে সনাক্ত করা যাবে না কার আদরে কোন শরীর দাফন করা আছে। এই কবরখানায় গাছ-গাছালি আছে। মৃতের পরিবার চারা লাগিয়ে যায় বড় ভালোবেসে। তা দেখেই শরীর চেনে পরিবার। ওই গাছেই প্রাণ রেখে যায় আব্বুর,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-198120"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/198120/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">967aa98a2a25f4ef7bd01dac77cfde23</guid>
				<title>সংস্রবশূন্য
হাসনাত সৌরভ
========================

পুরনো অ্যাকোয়েরিয়ামটা বদলে নতুনটা এসেছে সপ্তাখানেক হলো। আগেরটার তুলনায় এটা আকার আয়তনে বেশ খানিকটা বড়। সাতশো স্কোয়্যার ফিটের ফ্ল্যাটের ছিমছাম সাজানো ড্রয়িংরুমের পক্ষে কিছুটা বেমানান তো বটেই। বাড়িতে আনা ইস্তক তাই কুহেলি গজগজ করেই চলেছে— নিজেদেরই হাত-পা মেলার জায়গা পাওয়া যায় না ঠিকমতো, উনি মেতেছেন মৎস্যবিলাসে! নিজে তো এসব উৎপাত কিনে এনেই খালাস… এদের খেদমত খাটার জন্য তো এই একজন মুফতের দাসিবাঁদি রয়েছে কিনা…

আমি জানি কুহেলির এই রাগ যতটা না অ্যাকোয়েরিয়ামের ওপর, তার চেয়ে অনেক বেশি আমার ওপর। তাই কুহেলি যখন অশান্তি করে, যা মুখে আসে তাই বলে, আমি সেসব তেমন গায়ে মাখি না। আসলে ওর এই রাগীমুখটা বাইরের খোলস ছাড়া কিছুই নয়, ভেতরে-ভেতরে বড্ড মায়া মেয়েটার। এই তো গত মাসের শেষের দিকেই, যখন গাপ্পিজোড়ার একটা হঠাৎই মরে গেল, খুব কান্নাকাটি করেছিল কেয়া। মরা মাছটাকে অ্যাকোয়েরিয়াম থেকে বের করে জল পাল্টে দিচ্ছিল যখন, পচা আঁশটে গন্ধে আমার গা গুলিয়ে উঠেছিল। অদ্ভুত ব্যাপার হল, কুহেলি কিন্তু একটুও ঘেন্না পাচ্ছিল না কাজটা করতে। একবারের জন্য নাকে আঁচল চাপাও দেয়নি দুর্গন্ধ আড়াল করতে। মরা মাছটার স্থির পলকহীন চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল খানিকক্ষণ। তারপর ঠান্ডা গলায় বলেছিল— যাক, বেঁচে গেলি তবে… একজনের অন্তত বন্দিদশা ঘুচল চিরতরে…

কথাটা যে আমাকে শুনিয়েই বলেছিল তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই আমার। কোনও প্রতিবাদ করিনি সেদিন। শুধু আঙুলের সামান্য ভুলে সুদৃশ্য চায়ের কাপটা টেবিল থেকে ছিটকে মেঝেতে পড়ে টুকরো-টুকরো হয়ে গেছিল। আরেকটা সুন্দর জোড়াও একলা হয়ে গেল এই ঘটনার সঙ্গে-সঙ্গেই। কুহেলির খুব পছন্দের ছিল কাপদুটো। নষ্ট হয়ে গেল, আমারই জন্য।

অন্য সময় হলে কুহেলি হইচই করত, রাগের মাথায় হয়তো আরও দুটো কাচের জিনিস ভাঙত। কিন্তু সেদিন একদম থমথমে গলায় বলে উঠেছিল— এত হিংসে! এখনও! এবার শান্তি পেয়েছ তো!

আমি মাথা নিচু করে ভাঙা কাপের টুকরোগুলো কুড়োতে লাগলাম। বলা যায় না, বেখেয়ালে হয়ত কেয়ারই পায়ে বিঁধে একটা রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে গেল…!

কুহেলিকে ভালোবাসার কথা বললে মুখ বেঁকিয়ে বলে— আদিখ্যেতা…।

তবু আমি রোজই কুহেলিকে কানে-কানে বলি, ভালোবাসি। ওর ঘুমন্ত মুখটা তখন অদ্ভুত নরম দেখায়। সামান্য খোলা ঠোঁটদুটোতে চুমু দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু একতরফা চুমু আমার একটুও ভালো লাগে না। কেমন যেন বাসি মাংসের গন্ধ এসে লাগে নাকে।

সরে আসি ওর ঘুমের পাশ থেকে। আমি জানি ও এখন স্বপ্নে জয়ন্তর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে রেখেছে আরামে। জয়ন্ত ওর কাছের বন্ধু, তবে আমার কাছে এরচেয়ে বেশি লাগে। 

ড্রয়িংরুমে এসে রকিং চেয়ারটায় গা এলিয়ে দিই। ডিমলাইটের নীলচে আলোয় অ্যাকোয়েরিয়ামটাকে সমুদ্রের মতো দেখাচ্ছে এখন। ছটফটে মলিটা তার সঙ্গীর সঙ্গে খুনসুটিতে মত্ত। জয়ন্ত বাড়িতে এলে কুহেলিও ঠিক এরকমই কিশোরীর মতো উচ্ছল হয়ে উঠত। বিরক্ত লাগত আমার ওদের হাহাহিহি দেখে। আড়ালে কেয়ার মতোই মুখ বেঁকিয়ে বলতাম— আদিখ্যেতা…

–বড্ড বাড়াবাড়ি করছ কিন্তু, এখনও ঘুমোওনি কেন শুনি?

কুহেলির গলা। আমাকে পাশে দেখতে না পেয়ে উঠে এসেছে বিছানা ছেড়ে…

–ঘুম আসছে না আমার।
–আসবে ঠিক। মাথায় হাত বুলিয়ে দেব, চলো…
–আর জয়ন্ত?
–আহ, আবার! জয়ন্ত আর আসবে না, জানো না তুমি?

কুহেলি পেছন থেকে আমার গলা জড়িয়ে ধরেছে। জুঁইফুলের গন্ধ ভেসে আসছে ওর গা থেকে এখন। নরম বুকের ভাপ। বুঝতে পারছি ক্রমশ ডুবছি ভালোলাগায়। চোখ বন্ধ করে ফেলি। অ্যাকোয়েরিয়ামের নীল জলে বুদবুদ ওঠে। ঢেউয়ের শব্দ। দেখি সেই একলা গাপ্পিটা! ঠোঁট হাঁ করে এগিয়ে আসছে আমারই দিকে। চিৎকার করে ডাকতে যাই— জয়ন্ত…!

পারি না। কুহেলির ঠোঁট ততক্ষণে গিলে নিয়েছে আমায়। দমবন্ধ লাগছে খুব।

গাপ্পিটা আমার দিকেই তাকিয়ে। ওর চোখে চোখ রাখতেই আমাকে চোখ মেরে বলে উঠল—

–ডুবে মর শালা…


@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/197769/</link>
				<pubDate>Tue, 28 Mar 2023 06:42:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সংস্রবশূন্য<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
========================</p>
<p>পুরনো অ্যাকোয়েরিয়ামটা বদলে নতুনটা এসেছে সপ্তাখানেক হলো। আগেরটার তুলনায় এটা আকার আয়তনে বেশ খানিকটা বড়। সাতশো স্কোয়্যার ফিটের ফ্ল্যাটের ছিমছাম সাজানো ড্রয়িংরুমের পক্ষে কিছুটা বেমানান তো বটেই। বাড়িতে আনা ইস্তক তাই কুহেলি গজগজ করেই চলেছে— নিজেদেরই হাত-পা মেলার জায়গা পাওয়া যায় না ঠিকমতো, উ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-197769"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/197769/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">41b1c07d172bdb6f92666db85cc431e6</guid>
				<title>অমেয়তা
হাসনাত সৌরভ
=========================

দৃষ্টি অবরুদ্ধ তবু বৃষ্টি নামে ছাদে
বুকের ভেতর বইতে থাকে খরস্রোতা নদী

কাদের বাড়ি মুখ লুকিয়ে বেড়ালছানা কাঁদে
অপেক্ষাহীন ঘড়ির কাঁটা জানায় নিরবধি 

এমনই কোনো রহস্যময় বিকেলবেলার শেষে
নিখোঁজ কিছু মানুষ আবার আসতে পারে ফিরে

চিনতে পারে সুরের আদল বিষণ্ণ আবেশে
মিশতে পারে একলা হয়ে অসংখ্যের ভিড়ে

তখন তুমি ইচ্ছে হলে ভেবো আমার কথা
ছুঁইয়ে দিয়ো ডানার পালক বিমুগ্ধ এই শোকে

খরস্রোতা নদীর বুকে বাড়ছে ব্যাকুলতা 
দৃষ্টি অবরুদ্ধ তবু বৃষ্টি নামে চোখে ...

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/196968/</link>
				<pubDate>Tue, 21 Mar 2023 11:56:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অমেয়তা<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=========================</p>
<p>দৃষ্টি অবরুদ্ধ তবু বৃষ্টি নামে ছাদে<br />
বুকের ভেতর বইতে থাকে খরস্রোতা নদী</p>
<p>কাদের বাড়ি মুখ লুকিয়ে বেড়ালছানা কাঁদে<br />
অপেক্ষাহীন ঘড়ির কাঁটা জানায় নিরবধি </p>
<p>এমনই কোনো রহস্যময় বিকেলবেলার শেষে<br />
নিখোঁজ কিছু মানুষ আবার আসতে পারে ফিরে</p>
<p>চিনতে পারে সুরের আদল বিষণ্ণ আবেশে<br />
মিশতে পারে একলা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-196968"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/196968/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">78c908abbf07932262b97e0475a51d45</guid>
				<title>ঐন্দ্রজালিক 
হাসনাত সৌরভ
===========================

বাসের ভীড়টা যেন গায়েই লাগছে না থানেশের। এই যে ওর পাশেই একটা লোক কোলে একটা মোরগ নিয়ে বসে আছে, এই যে আর একটা ময়লাটে সাদা জামা পরা লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই অন্তত চারবার ওর গায়ে ঢলে পড়ে গেল, এই যে ওর পায়ের নীচে কার একটা বড় টিনের বাক্স এমনভাবে রাখা যার ফলে পা তেছড়া করে বসে থেকে থেকে ওর পায়ে বেশ ব্যথা করছে - এই সব কিছু ওর যেন গায়েই লাগছে না। থানেশের চোখে শুধু একটাই দৃশ্য এখন - গ্রামের বড় পুকুরটার ওপর ভেসে আছে ও! পুকুর পাড়ে এসে জড়ো হয়েছে গোটা গ্রাম, আশেপাশের গ্রাম থেকেও লোকজন এসেছে। স্কুলের হেডমাস্টার এসেছেন, থানার বড়বাবু উঁকি দিয়ে গেছেন একবার। আর সবাই অবাক হয়ে দেখছে থানেশ পুকুরটা থেকে হাত চারেক ওপরে বাতাসে ভাসছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সব্বার চোখের সামনে কোনো রকম লুকিয়ে রাখা চোখ ধাঁধানো কারিকুরি ছাড়াই খালি হাতে জল থেকে উঁচুতে ওর শরীরটা ভাসছে। ঠিক যেমন পনেরো বছর আগে সেই জাদুকরের শরীরটা ভাসছিল। 

ঠিক যেমন পনেরো বছর আগে একদিন ভোরবেলা  গ্রামের লোক আবিষ্কার করেছিল পুকুরটার ওপরে জাদুকরের শরীরটা হাওয়ায় ভাসছে। আর থানেশ, সবে স্কুল পালাতে শেখা বন্ধুদের সাথে ভীড় ঠেলে ছুট্টে এসেছিল সেই আজব লোকটাকে দেখতে। এসে দেখেছিল গোটা গ্রাম ভেঙে পড়েছে পুকুরপাড়ে। ঘোরলাগা গলায় হেডমাস্টার ঘোষণা করেছিলেন, &#039;আজ স্কুল ছুটি।&#039; 

তিনদিন তিনরাত এইভাবে ভেসেছিল লোকটা  আকাশের দিকে মুখ করে। গ্রামের লোক কত ডেকেছে, ফুল ছুঁড়েছে, সাঁতরে ঠিক জাদুকরের নীচে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছে এটাসেটা (আর পরীক্ষা করে এসেছে নীচে লাঠিসোটা দিয়ে ঠেকনা দেওয়া আছে নাকি কিছু); এমনকি গ্রামের চেয়ারম্যান নিজে নৌকা করে জাদুকরের সামনে এসে জিজ্ঞেস করেছেন সে কোথায় থাকে, এই গ্রামে কী করে এলো বা তার কিছু দরকার লাগবে কিনা। কিন্তু জাদুকর কথা বলেনি কোনো। 

তারপর একদিন ভোরবেলা, সবে চাঁদ ডুবে গেছে, লোকটা চোখ খুললো। আর সেই স্বচ্ছ কাচের মতো জলের পুকুরটার ওপর দিয়ে হেঁটে পাড়ে উঠলো। বাসের জানলা দিয়ে বাইরেটা দেখতে দেখতে নিজের মনেই বলে উঠল থানেশ। ওর গ্রাম আসতে এখনো আধঘন্টা বাকি। এখনো পিচ রাস্তার দুধারে ছোট ছোট বাড়ি, দোকানঘর পিছলে পিছলে যাচ্ছে। সন্ধে হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। একটা কালচে রঙের পোঁচ যেন থানেশের চোখের সামনে ঢেকে দিচ্ছে পনেরো বছর পরে ওর গ্রামে ফেরার রাস্তা, যে গ্রামের সবার সামনে ও একদিন ঘোষণা করেছিল একদিন জাদুকরের থেকে এই বিদ্যা শিখবে, তারপর ফিরবে। জাদুকর হারিয়ে যাওয়ার ঠিক পরেরদিন।
 
বাসটা ব্রেক কষে থামল হঠাৎ। ময়লাটে জামা পরা লোকটা আবার ঢলে পড়ল ওর গায়ে। লোকটার মুখ থেকে কী যেন একটা মশলার গন্ধ পেল থানেশ। পাশের লোকটার কোল থেকে মোরগটা ডেকে উঠল হঠাৎ। বাসটা থেমে যাওয়ায় গরমটা যেন চারগুণ বেড়ে গেল সাথে সাথে। থানেশের মনে হলো ও একটা গরম উনুনের পেটের ভেতর আরো কটা রুটির সাথে বসে আছে। আর মালকিন কী একটা গল্পে বিভোর হয়ে উনুন ভর্তি রুটির কথা ভুলেই গেছে। 

গ্রামের লোক অবশ্য ভোলেনি থানেশকে। এই তো বছর চারেক আগেও আবিল চিঠি লিখেছিল, সবাই নাকি অপেক্ষা করে আছে কবে থানেশ গ্রামে ফিরবে। ও চলে আসার পর জন্মানো গ্রামের সমস্ত বাচ্চা নাকি অবাক হয়ে মা বাবাকে প্রশ্ন করে, সত্যিই লোকটা জলের ওপরে হাওয়ায় ভাসবে? লোকটার ডানাও থাকবে না? আবিল নাকি ওদের সবার কাছে গর্ব করে বলে, &#039;যে লোকটা ভাসবে হাওয়ায়, সে আমার জিগরি দোস্ত, সে আর আমি তো একসাথেই দেখতে গেছিলাম জাদুকরকে। আমার হাত থেকে জাদুকর প্রথম গম আর আলু নিয়েছিল জানিস! তারপর তো থানেশ সটান লোকটার পায়ে পড়ে গেল!
 
পায়ে পড়ে অবশ্য কোনো লাভ হয়নি থানেশের। জাদুকর কোনোভাবেই ওকে এই বিদ্যা শেখাতে রাজি হয়নি। শুধু হেসে বলেছিল, &#039;বেরিয়ে আয়, নিজে শিখে নে!&#039;
 
এই কথাদুটো আজো কানে বাজে ওর। সত্যি সত্যিই বেরিয়ে এসেছে থানেশ। পনেরো বছর আর গ্রামের ফেরেনি গ্রামে। সেই প্রথমবার শহরে এসে যে সস্তা হোটেলটায় উঠেছিল, আবিলের কাছে সেটার ঠিকানা রয়ে গেছে এখনো। মাঝেমধ্যে শহরে এসে হোটেল মালিকের থেকে চিঠি নিয়েছে থানেশ। বছরে একটা কী দুটো চিঠি। পাল্টা আবিলকে কখনো কিছু লেখেনি ও। আবিল লিখে গেছে, ওর বিয়ে হয়েছে, গ্রামে নতুন পানিরকল বসেছে, নতুন সরকারের আমলে রাস্তা হয়েছে। কখনো লিখেছে গ্রামের অবস্থা ভালো না, মাঝেমধ্যেই আজকাল দাঙ্গা বাধছে। গ্রামের লোক যে গ্রামের লোককেই খুন করবে এইভাবে, ভাবা যাচ্ছে না। আবিল আফশোষ করেছে, মানুষ বদলে যাচ্ছে থানেশ, ছেলেরা সবাই যন্ত্র হয়ে যাচ্ছে, কীসের জন্য যেন একটা রেগে থাকছে সবাই সারাক্ষণ। আর মেয়েরা বন্দি হয়ে যাচ্ছে। ওরা ঠিক করে দিচ্ছে কে কী খাবে, কী পোশাক পরবে, কী দেখবে, কী দেখবে না। শুধু এই সবের মধ্যেও নাকি গ্রামের বাচ্চাকাচ্চাদের এখনো গল্প শোনানো হয় - একদিন দেখবে এক জাদুকর এসে এই পুকুরটার ওপরে হাওয়ায় ভেসে আছে। বাচ্চারা অবাক হয়ে প্রশ্ন করে, &#039;এই পুকুরটায়?&#039; ওদের টলটলে চোখে ভাসে ক্রমশ কচুরীপানায় বুঁজে আসা, কালচে দুর্গন্ধ জলের পুকুরটা, যেটার এক কোণে এই সেদিনও একটা বিদ্রোহীর গলাকাটা লাশ পড়েছিল। 

আবিলের চিঠিগুলো যত্ন করে রেখে দিয়েছে ও। এই ক&#039;বছরে যতবার ভেবেছে এক্কেবারে হারিয়ে যাবে, পাহাড়ের কোলে সেই নির্জন গুহাটায় সেই আশ্চর্য শ্রমণের কাছে কাটিয়ে দেবে বাকি জীবনটা, তার পায়ের তলায় বসে বলে উঠবে, &#039;ফিরিয়ে নিন আপনার দেওয়া বিদ্যা, আমার সমস্তটুকু নিয়ে নিন, আর আমায় আপনার মতো, এই বাতাসের মতো, এই তুষারকণার মতো, এই পরাগরেণুর মতো ভাসতে শিখিয়ে দিন অনন্তকাল নিশ্চিন্তে&#039;, তবু আবিলের চিঠিগুলো টেনেছে ওকে। গ্রাম অবধি টেনেছে। বারবার মনে পড়েছে সবকিছু। বারবার ইচ্ছে হয়েছে একবারের জন্য হলেও গ্রামের পুকুরটার ওপরে ভেসে উঠতে। ইচ্ছে হয়েছে গ্রামের সবাই, সব্বাই একসাথে এসে পুকুরপাড়ে দাঁড়াক, আর অবাক হয়ে দেখুক পনেরো বছর আগে হারিয়ে যাওয়া একটা লোক জাদুকর হয়ে ফিরে এসেছে। 

বাসটা থামার একটু পরে যেন হুঁশ ফিরলো থানেশের। কন্ডাকটার বেশ কর্কশ গলাতেই ডেকে উঠলো, &#039;নামবেন তো? লেট করছেন কেন ভাই? এমনিতে শালা সন্ধেবেলা এইসব জায়গা ভালো না!&#039; 

কোনোরকমে হুড়মুড়িয়ে বাস থেকে নামল থানেশ। সাথে সাথেই চারপাশের সমস্ত আলো আর শব্দ আর উষ্ণতা নিয়ে বাসটা যেন মিশে গেল অন্ধকারে। থানেশ সেই বিশাল নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রইল একা। ওর বিশ্বাসই হচ্ছিল না এই নিঃশব্দ নিরেট পাথুরে অন্ধকারটাই ওর গ্রাম। 
 
পরদিন ভোরবেলা গ্রামের সবাই, গ্রামে যার সাথে যার ঝামেলা, যাদের সাথে যাদের দাঁড়ানো বারণ, যাদের ছায়া মাড়ালে যাদের জাত যায়, যাদের বাইরে বেরোনো নিষিদ্ধ, যাদের সামনে আসা মানা, যাদের ভয়ে যারা লুকিয়ে থাকে অন্ধকারে আর যারা এই গ্রামের মানুষ আর অন্ধকার নিয়ন্ত্রণ করে, সবাই অবাক হয়ে দেখল গ্রামের কচুরিপানায় প্রায় ঢেকে যাওয়া, নোংরা কালচে দূর্গন্ধ জলের পুকুরটার হাত চারেক ওপরে ভোরের বাতাসে ভেসে আছে জাদুকর থানেশ।


@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/196111/</link>
				<pubDate>Sun, 12 Mar 2023 12:39:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঐন্দ্রজালিক<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
===========================</p>
<p>বাসের ভীড়টা যেন গায়েই লাগছে না থানেশের। এই যে ওর পাশেই একটা লোক কোলে একটা মোরগ নিয়ে বসে আছে, এই যে আর একটা ময়লাটে সাদা জামা পরা লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই অন্তত চারবার ওর গায়ে ঢলে পড়ে গেল, এই যে ওর পায়ের নীচে কার একটা বড় টিনের বাক্স এমনভাবে রাখা যার ফলে পা তেছড়া করে বসে থেকে থেকে ও&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-196111"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/196111/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>15</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d9419299cc089a06c08a5e221ddb8f63</guid>
				<title>নিষ্প্রভ
হাসনাত সৌরভ
===================================

শিশির দুশোটা কবিতার বই ছাপিয়েছিল। বইমেলার শেষে দেখল বিক্রি হয়েছে আটত্রিশটা। এক এক বইতে তিরিশটা কবিতা। বন্ধুর ছাপাখানা থেকে ছাপিয়েছে,  একদম সাধারণ ছাপা।  

শিশির প্রাইমারি স্কুলে পড়ায়। পঁয়ত্রিশ বছর বয়েস। বউ, প্রেমাও আসে প্রতি বছর। দুজনেই সারা মেলায় হেঁটে হেঁটে বই বিক্রি করে। বই কেনে। একদিন কি দুদিন একটু ভালো খাবার কেনে, খায়। এবারে কিচ্ছু হল না। প্রেমার ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ল। কেমো শুরু হয়েছে। প্রেমার শরীরটা বদলে যাচ্ছে। সাথে সে নিজেও
 
বাড়ি ফিরে গেলেও হতো। ইচ্ছা করল না। শিশির আবার মেলার মাঠে এলো। স্টল ভেঙে দিচ্ছে একে একে। তার বইগুলো আজও কাঁধের ব্যাগে। এইটা নিয়ে তার এগারো নম্বর বই। 
  
প্রেমার ফোন। 
খেয়েছ? 
হ্যাঁ, তুমি? 
এই খেলাম। আজ ফিরছ? 
হ্যাঁ আজই। 
এখন নিশ্চয়ই মেলায়। মন খারাপ। 

শিশির কথা বাড়ালো না বেশি। গ্রামের বাড়িটার কথা ভাবছে। ফেলে আসা জীবনটার কথা ভাবছে। এত ভুল এত ভুল। যদি গোটা মন দিয়ে সংসার করত? যদি অনেক টাকা জমাতো? এখন অনেক টাকার দরকার। প্রেমার চিকিৎসায় লাগবে। প্রেমা চলে যাবে? থাকবে না? 

শেষ অবধি তা আর হলো কই। প্রেমা চলে গেল। শিশিরের হাতে প্রেমার সাজগোজ করা একটা ছবি, কোনকালে সমুদ্রে বেড়ানোর। এবছর আবার বইমেলা শুরু হয়ে গেছে। এবার কিন্তু নতুন বই নেই। পুরোনো বইগুলো নিয়েই শিশির মেলায় যাবে।

বইমেলায় প্রচণ্ড ভিড়। শেষ শনিবার। সকাল থেকে কিছু খায়নি শিশির। ইচ্ছা করেনি। একটু জটলা দেখলে, সামনে দাঁড়িয়েছে, বই কিনতে বলেনি এবারে, ডায়েরি খুলে কবিতা শুনিয়েছে। এই কবিতাগুলো সব প্রেমার শেষের কদিনে লেখা। মাথার কাছে বসে। টয়লেটের বাইরে প্রেমার জন্য অপেক্ষায়। হাসপাতালের সিঁড়িতে বসে। রাতে ছাদে বসে, মোবাইলে লিখেছে। নীচ থেকে গোঙাচ্ছে প্রেমা। জানলার ধারে খাট তো। ডায়েরিটার নাম দিয়েছে গোঙানি। সেই ডায়েরির পাতা থেকে কবিতা শোনাচ্ছে। 

একজন কি দুজন শুনছে। কিন্তু কেউ না শুনলেই ভালো লাগছে, কেউ শুনলে, কারোর চোখেমুখে কবিতার ব্যথাটা ফুটে উঠলে, গলার কাছে শ্বাস আটকিয়ে কান্না জমে আসছে। যেন গুঁড়োদুধের দলা আটকিয়েছে গলায়। হলো তো কয়েকবার। কবিতা সম্পূর্ণ না করেই পালিয়ে এসেছে। ভিড়ে কাঁদা যায় নাকি?

তবু বিক্রি হলো বই। চোদ্দোটা। খুব অল্প দামে বিক্রি করে দিল। আর তো আসবে না বইমেলায়। কবিতা লিখবে। এরপর লিখবে উদাসীন কবিতাগুচ্ছ। মৃত্যু অবশেষে উদাসীন করে। যত গভীর ভালোবাসার শিকড়, মৃত্যুর পরে তত অভিযোগহীন মানুষ। তত অভিযোগহীন উদাসীনতা। উদাসীন কবিতা কত টাকায় বিক্রি করবে? থাক, তার চাইতে একা একা পড়বে। বইমেলা শেষ হলে, কোনো মানুষ যদি উদাসীন বসে থাকে মাঠে এসে, তাকে শোনাবে। যদি না শুনতে চায়, তার কথা শুনবে।  

বাস থেকে নেমে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে শিশির। বসন্তকালের গরমে পুড়ছে মাটি, গাছ, পুকুর। শিমুল, পলাশে ভরে আছে গাছ। তাদের এই গ্রামটার নাম টুরিস্ট লিস্টে নেই, তাই শহুরেদের ভিড়ও নেই। 

একটা পুকুরের ধারে দাঁড়ালো শিশির। পলাশের ছায়া পড়েছে জলে। টলটল করছে। কতগুলো পানকৌড়ি জলে নেমে আসা একটা ডালের উপর বসে। শিশির বসে পড়ল। শীতঘুম ছেড়ে গ্রীষ্মে জাগছে জগতসংসার। শিশির আর ঘুমাবে না। অপেক্ষা করবে সে উদাসীনতার কবিতাগুচ্ছের। আসবেই, জানে শিশির। শিশির প্রেমাকে ধারণ করবে। প্রেমা আর তার আদরে জন্মাবে কবিতাগুচ্ছ। উদাসীন। তারা এ পৃথিবীর কবিতা না। প্রেমা যেখানে গেছে, সে পৃথিবীরও না। তারা তৈরি করবে তাদের পৃথিবী, যেখানে শিশিরের ছায়া সবুজ পুকুরের জলে পড়ে, অপেক্ষা করবে পূর্ণিমার চাঁদের। সাদা বক হয়ে উড়ে যাবে প্রেমা আর সে, পালকের মত নরম কবিতাদের ছড়িয়ে দিয়ে, এই প্রেমহীন, ধৈর্যহীন মানুষগুলোর জন্য।


@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/195475/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Mar 2023 13:15:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নিষ্প্রভ<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
===================================</p>
<p>শিশির দুশোটা কবিতার বই ছাপিয়েছিল। বইমেলার শেষে দেখল বিক্রি হয়েছে আটত্রিশটা। এক এক বইতে তিরিশটা কবিতা। বন্ধুর ছাপাখানা থেকে ছাপিয়েছে,  একদম সাধারণ ছাপা।  </p>
<p>শিশির প্রাইমারি স্কুলে পড়ায়। পঁয়ত্রিশ বছর বয়েস। বউ, প্রেমাও আসে প্রতি বছর। দুজনেই সারা মেলায় হেঁটে হেঁটে বই বিক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-195475"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/195475/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3d803647a97b1a28afa64c3c593cf4fb</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/194672/</link>
				<pubDate>Sat, 25 Feb 2023 06:02:52 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">039904c204dad441d8ed4618f5ab653e</guid>
				<title>মাখদুম
হাসনাত সৌরভ
-----------------------------------------
(প্রকাশিতব্য উপন্যাস, বইমেলা ২০২৩)

গ্রামে মাঝে মাঝে দেখা দেয় দরবেশ। তাকে কেউ বলে হিন্দু, কেউ বলে মুসলমান। কেউ কেউ বলে, দরবেশের আবার জাত কি? সিদ্ধপুরুষের জাতের বালাই নাই। কেউ কেউ আবার তত্ত্বকথাও বলে। কিন্তু যে সে পাগল নয়! পরশমণির পরশ পেয়েছে, তাই পাগল হয়ে গেছে। সোনাদানার কোনো মূল্য তার কাছে নেই। আর জাতকুল তো তার কাছে সবই অলীক। সবই মায়ার খেলা।

সকলেই তাকে ভয় পায়। ছেলেবুড়ো সকলের কাছে তার একটাই পরিচয়, পাগলা দরবেশ। কেউ কেউ বলে ‘রজত দরবেশ’। তার কোনো পরিচয় নেই, কোথায় বাড়ি, কোথায় ঘর কেউ জানে না। অথচ রজত নামটি কারা দিলো, কিংবা কি করে জানলো, সেটাও কেউ বলতে পারে না। 
এই নিয়ে মাঝে মাঝে তর্ক ওঠে। পঞ্চাশ বছরের বুড়োও বলে, সেই ছোটবেলা থেকে আমি তাকে একই রকম দেখে আসছি। ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা অবাক হয়ে যায় পঞ্চাশ বছর ধরে কেমন করে একই রকমের রয়ে গেছে!

কেউ জানে না, নিজের পরিচয় দরবেশ নিজেই ভুলে গেছে। কেউ জিজ্ঞেস করলে মাঝে মাঝে এড়িয়ে যায় সে, মাঝেমধ্যে আনমনা হয়ে ওঠে। নামের একটা আওয়াজ কানে ভেসে আসে। কোনো এক সুদূর অতীতের ছবি ভেসে ওঠে চোখে। কিছুই মনে পড়ে না। অনেকক্ষণ কান খাড়া করে চুপ করে বসে থাকে । তারপর মাথাটা ঝাড়া দিয়ে ওঠে।

হ্যাঁ, নাম একটা ছিল বৈকি! ওরা যার যা খুশি তাই বলে ডাকে- দরবেশ, আউলিয়া, পাগলা ফকির, সাধুবাবা। সকলেরই নাম আছে। নাম? এ যে এক একটা ছাপ! নামের ছাপেই মানুষের পরিচয়। তার কি কোনো নাম নেই! নাম আছে বলেই সুনাম আর দুর্নাম।

বিকট শব্দে হাসে দরবেশ, বেশ হয়েছে। তার কোনো নাম নেই। জাগতিক সুনাম আর দুর্নামের বাইরে সে! তাতেই ভালো হয়েছে। আপন মনে ভাবতে থাকে দরবেশ, সত্যি কি সে সিদ্ধপুরুষ? লোকগুলো বড় বিরক্ত করে। এক একবার রাগে ফেটে পড়ে দরবেশ। ওরা তার দয়া চায়! তার দয়ায় না কি সব বিপদ কেটে যায়?

&quot;দূর! দূর! সব হট্ যাও!&quot;

রাতের অন্ধকারে তার হুঙ্কার শোনা যায়। নদীর বাঁকে বড় শহর। শহর থেকে মুরারিচাঁদ কলেজের দিকে একটা সড়ক চলে গেছে। সেই সড়কের দুপাশের বাড়িগুলোর লোকজন রাত্রে দরবেশের চিৎকার শুনতে পায়, &quot;সব ঝুট্ হ্যায়, সব ঝুটা হ্যায়! গর্দান লেয়েঙ্গে, হাম দুনিয়াকা মালেক, দিল্লীর বাদশা, খবরদার! খবরদার!&quot;

ঘুমন্ত শিশু আঁতকে ওঠে। মায়েরা হাত জোড় করে প্রণতি জানায়। মুসলমানেরা হাত তুলে খোদার দয়া ভিক্ষা করে। দরবেশের আগমনবার্তা এই হুঙ্কার। বিশ্বাসীরা বলে, জবরদস্ত সাধু, সিদ্ধপুরুষ। অমঙ্গল দূর করতেই দেখা দিয়েছে দরবেশ। কোথায় থাকে আর কোথা থেকে আসে কেউ জানে না। মাঝে মাঝে আসে, মাস দুয়েক থাকে, আবার কোথায় উধাও হয়ে যায়। 

দরবেশের সম্পর্কে নানা জনে নানা কথা বলে, অবিশ্বাস্য-আজগুবি সব গল্প। 

সুবহান উকিলের মুহুরি গিরিলাল সরকার দরবেশের নাম শুনলেই হাত জোড় করে প্রণাম জানায়, &quot;ওরে বাবা! যে সে মানুষ নয় এই দরবেশ! বহু ভাগ্যে এমন মহাপুরুষের দর্শন মেলে! সেবার কী হলো, জানো? সুনামগঞ্জে লাগল ওলাউঠার মড়ক। ঘরে ঘরে লোক মরছে। বৈঠাখালি ঘাট আর টেকেরঘাটে নদীর ধারে চিতার পর চিতা জ্বলে। মড়ার পর মড়া। শেষকালে এমন ছাড়াল যে কোনো কোনো বাড়িতে রোগীর মুখে জল দেবার পর্যন্ত লোক নেই। মড়া দেখতে দেখতে সবাই কাঠ মেরে গেছে। এমন কি ছেলে চোখের সামনে মরে যাচ্ছে, মায়ের চোখে জল নেই। কাঁদবে কি করে? ডাক্তার কবিরাজ সব নাজেহাল। কোর্ট কাছারি বন্ধ। স্কুল মক্তব বন্ধ। এমনি এক নিশুতি রাতে রজত দরবেশের জিগির শোনা গেল, হুশিয়ার! সব ঝুটা হ্যায়, বিলকুল সব ঝুটা হ্যায়, হাম দুনিয়াকা মালেক! আজব কাণ্ড! অমনি পরদিন থেকেই মড়ক বন্ধ হলো। চিতার আগুন নিভলো। লোকের মুখে হাসি ফুটলো।&quot;

হাটবাজারে-মজলিসে এমনই গল্প চলে। গিরিলালের গল্প দিনে কম করে তিনবার করে সবাই শোনে আর ভয়ে বিস্ময়ে তাদের গা যেন কাঁটা দিয়ে ওঠে।

কোন ভূতকে কোন দিন জব্দ করেছিলো, কোন ব্রহ্মদৈত্যর সঙ্গে তার হাকালুকি হাওরে নিশীথ রাতে মুলাকাত হয়েছিল, তার গল্প ফাঁদে। সেই নৌনিহাল রায় গিরিলালের গল্প শুনে মন্তব্য করে, &quot;যা বলেছো সরকার মশাই! দরবেশবাবা যে সে মানুষ নয়। এক্কেবারে পরমহংস, কিছুতেই ধরাছোঁয়া দেন না।&quot;

গিরিলাল সরকার বলেন, ‘তা আর কি বলবো। সুনামগঞ্জের ঘটনা তো আমার স্বচক্ষে দেখা। সুকমল ডাক্তারের জোয়ান ছেলেটা তো একপ্রকার মরেই গিয়েছিলো, শুধু ঘর থেকে বের করা বাকি! অমনি শোনা গেল, দরবেশের জিগির! আর যায় কোথায়? সেই মরা ছেলে তৎক্ষণাত ধড়মড় করে উঠে বসলো। নিজের চোখে দেখলাম নৌনিহাল! সে তো অবিশ্বাস করতে পারব না হে!&quot;

নৌনিহাল রায় গদগদ হয়ে মাথা নাড়ে।

গিরিলাল সরকার আরো বলতে থাকেন, &quot;আর এক কথা। জানো তো, দরবেশ কিন্তু বেশিদিন এক জায়গায় থাকে না। আজ হয়তো জিন্দাবাজারে, কাল দেখবে হাওয়াপাড়ায়। পরশু শ্রীমঙ্গল, এরপর কলকাতায়, তার পরের দিন দিল্লি। হিল্লিদিল্লি উনি চোখের নিমেষে পরিক্রমা করে আসতে পারেন।&quot;

নৌনিহাল রায় মাথা নেড়ে সায় দেয়, &quot;আমার ভায়রাভাইও একথা বলে। কলকাতার সাহেবরাও দরবেশকে দেখলে মাথার টুপি খুলে সেলাম জানায়।&quot;

&quot;তা জানাবে না? রেসের টিপ বলে দেয় যে! জানো শীতকালে দরবেশ কলকাতায় উধাও হয়। সেখানে বড়দিনে রেস খেলা হয় কিনা?&quot;

&quot;রেস? সে আবার কি সরকার মশাই?&quot;

&quot;আরে ঘোড়দৌড়। যে ঘোড়া জিতবে তার নাম বলে দেয়।&quot; উত্তেজিত গলায় বলে গিরিলাল।
দেখতে দেখতে আরো দুচারজন জমায়েত হয়। আড্ডা বড় হয়। ব্যবসায়ী মতিলাল বাড়ুয্যে বলে, &quot;হ্যাঁ শুনেছি বটে, ঘোড়দৌড় খেলে অনেকে ফতুর হয়। আবার অনেকে একদিনে রাজা হয়ে যায়।&quot;

এমনি কত কথা কত গল্প কাহিনি চলে দরবেশের নামে! দরবেশকে কেউ তার নাম জিজ্ঞেস করলে হো-হো করে হেসে ওঠে। তারপর ক্ষেপে গিয়ে গায়ে থু-থু দেয়, ধুলোবালি তুলে ছুঁড়ে মারে, &quot;কী বললি আমার নাম? নাম কীরে হতভাগা? নামটা কি তোর সঙ্গে যাবে? দেখবি, সব ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে।&quot; রাগে গরগর করে ওঠে সে। তারপর সেই বিকট হাসি হাসে, রজত দরবেশ! আচ্ছা নাম দিয়েছে সব হারামির দল!

দিনের বেলায় দরবেশ বড় রাস্তায় তেমন বের হয় না। কোথায় লুকিয়ে থাকে কেউ জানেও না। সকলেরই ধারণা টিলাগড়ের জঙ্গলে দরবেশের আস্তানা। কোনো কোনো দিন ছায়াবীথির রাস্তার ধারে যে বটগাছটা আছে তার তলায় তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। তারই খানিকটা দূরে সাদা রঙের একটা পাকা বাড়ি। ওই বাড়িটার দিকে দরবেশ এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। আর আপন মনে বিড় বিড় করতে থাকে। দরবেশের কাছে বড় কেউ ঘেঁষে না। সকলে ভয় করলেও ভয় করে না শুধু এক বুড়ি, দীপনের মা। কিন্তু দীপন বলে কেউ ছিল কিনা কেউ জানে না। বুড়িই দরবেশকে ভাত এনে দেয়, কাছে বসে খাওয়ায়।

শহরের উত্তর অঞ্চলে নতুন নতুন ঘরবাড়ি উঠেছে। এখানে আগে একটা জঙ্গল ছিল। ওটা সোজা টিলাগড়ের দিকে চলে গেছে। জঙ্গলের পরই টিলার পর টিলা। ফাঁকে ফাঁকে ঘর। ছায়াবীথিপল্লী নাম দেওয়া হয়েছে এর।

ঠিক মাঝখানে সাদারঙের একটা বাড়ি। তার আশেপাশে আরো কয়েকখানি বাড়ি গড়ে উঠেছে। এক সময়ে বনেদি জমিদার কল্লোল রায়বাহাদুর এই পল্লীর পত্তন করেছেন। এখানে বাড়ি করা বড় গর্বের কথা। যে সে লোক এখানে বাড়ি করতে পারে না, পয়সাকড়ি আর হিম্মতওয়ালা হতে হয়। সত্যিই ছায়াবীথির বাহার আছে! আয়তক্ষেত্রের মত চারপাশে চওড়া রাস্তা। রাস্তার পাশে কদম, নিম আর দেবদারু গাছ। ঠিক দক্ষিণ ঘেঁষে মিউনিসিপ্যালিটির বড় পাকা রাস্তা। 

সাদারঙের বাড়িটার একটা ইতিহাস আছে। এক বিধবার পুরনো বাড়ি ভেঙে তৈরি করা হয়েছে এই রাজকীয় ভবন। বাইরে থেকে দেখলেই বোঝা যায় এর আভিজাত্য। শহরতলীতে এরকম বাড়ি সহজে চোখে পড়ে না। চারপাশে অনেকখানি খোলা জায়গা, নানা ফলফুলের গাছভর্তি বাড়ির প্রশস্ত আঙিনা, বিলেতি কায়দায় সাজানো। মাঝখানটায় ত্রিকোণ ক্ষেত্রের ভেতরে নানারঙের গোলাপের টব বসানো। নানা ধরনের মোটর গাড়ি প্রায়ই এ বাড়ির আঙিনায় এসে থামে।

দরবেশ সমস্ত শহরটায় উন্মত্তের মত ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু এখানে এলেই তার উগ্র কঠিন চোখদুটো কেমন যেন শান্ত ও সজল হয়ে পড়ে। রাস্তার ধারের বিরাটকায় বটগাছের কাছে এসেই থেমে যায় সে। বাড়িটার দিকে তাকায়, তারপর গাছের তলায় বসে পড়ে। বাড়ির ভেতর থেকে কখনো রেডিও, কখনো পিয়ানোর মূর্ছনা ভেসে আসে। বাড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে দরবেশ কখনো বা হাসে, কখনো বা বিড়বিড় করতে থাকে। তাকে এমন শান্তভাবে অন্য কোথাও বসে থাকতে দেখা যায় না।

অবশ্য আরেকটি জায়গা আছে, পীরের দরগা। তীর্থস্থানের মতই পুণ্যভূমি। নদীর ধার থেকে পাহাড়ের দিকে এগিয়ে গেছে একটা বড় রাস্তা। রাস্তার পাশে বড় বড় গাছ, একপাশে খেলার মাঠ। মাঠ পেরিয়ে সরকারী স্কুল, তারপরই পীরের দরগা। বড় বড় ঝোঁপঝাড় দরগাকে গ্রহরীর মত ঘিরে রয়েছে। সাদা চৌকোণা উঁচু পাকা চত্বরের উপর সাদা পাথরের তৈরি মস্ত বড় বেদি। পাঁচটা বেদি। ছায়াঘেরা বনের মাঝখানটা আলো করে যেন পাঁচজন সাধু ধ্যানমগ্ন। দিনের বেলায়ও এখানে কেমন নির্জনতা।

পীরের দরগায় সন্ধ্যা থেকেই জ্বলে আলো। সারি সারি মোমবাতি জ্বেলে দেয় খাদেম ইছাদ মিয়া। পাশেই তার দোকান। তারই দোকানে মোমবাতি কিনতে পাওয়া যায়। অনেকেই মোমবাতি কেনে, জ্বেলেও দিয়ে যায়, কেউবা পয়সা জমা দিয়ে যায়। যারা বাতি দেয় তাদের মনে ভক্তির চেয়ে আতঙ্কই বেশি। এখানে এলেই গা ছমছম করে। অজানা আতঙ্কে শিউরে ওঠে গা। অনেকেই একথা বলে। তবে সেখানেও দরবেশ এমন চুপ করে বসে থাকে না। দরগার বেদির চারদিকে উন্মাদের মত ঘোরে হাতে জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে।

লোকের ধারণা, পীরের দয়ায় সাফল্যমণ্ডিত হবে জীবন। সবারই যে কামনা-বাসনা কিংবা প্রার্থনা থাকে তা নয়, অনেকে ভয়েও মোমবাতি জ্বেলে দেয়, পাছে পীর তাদের অনিষ্ট করেন! এ যেন ভাবে নয়, ভয়েই ভক্তি। হিন্দু-মুসলিম কেউ বাদ যায় না। বড় সাহেবরা পর্যন্ত দরগার সামনে মাথার টুপি খুলে হাতে নেয়। জবরদস্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাস বিলেতি সিভিলিয়ান, তিনিও নাকি পীরের দরগার পাশ দিয়ে যেতে মাথা নুইয়ে সেলাম জানাতেন। তাঁর মেমসাহেব তো রোজ দশটা করে মোমবাতি নিজের হাতে জ্বেলে দিতেন, যদিও ভক্তিতে না, ভয়ে। স্বামীর মঙ্গলের জন্য। 
এমনি কত গল্প শোনা যায়। হয়তো এখানে এককালে কোনো পীরের আস্তানা ছিল, কিংবা সমাধি। তারই যদি এতো মাহাত্ম্য হয়, তাহলে রায়েক দরবেশের অলৌকিক শক্তিকে উড়িয়ে দেবার উপায় নেই। ইনি মহান পীর, আউলিয়া। পাগলের ভান ধরে লোকের চোখে ধুলো দিয়ে বেড়ান।

সাধারণত কেউ দরগায় ঢুকতে সাহস করে না। যারা বাতি দিতে আসে, ইছাদ মিয়ার হাতেই বাতি জ্বেলে দিয়ে চলে যায়। দরগার গাছে গাছে ভূতপ্রেতের আখড়া। তারাই নাকি পাহারা দেয়। কিন্তু দরবেশের ভয়ডর নেই। গভীর রাত পর্যন্ত বড় বকুল গাছটার তলায় বসে থাকে সে। আর মাঝে মাঝে হাতে মোমবাতি নিয়ে চক্কর দেয়।

রাত বাড়লে লোকজনের যাতায়াত কমে যায়। ঝপাঝপ পটাপট আওয়াজ শোনা যায় গাছের পাতায় পাতায়, ডালে ডালে। ঝুপঝাপ করে কারা যেন এগাছ-ওগাছ লাফিয়ে বেড়ায়। জ্যোৎস্নারাতে কেউ কেউ তালগাছের মাথায় ধবধবে দাড়িওয়ালা মূর্তিও নাকি দেখেছে। কচি ছেলের কান্না তো প্রায়ই শোনা যায়। 

জিন্দাবাজারের যুকিতন মহাজনের অগাধ ভক্তি পীরের প্রতি। তার এই জমজমাট কারবারি নাকি পীরেরই কৃপায়! সেখানে প্রায়ই এই দরগার বিস্তৃতি নিয়ে আলোচনা বা তর্কবিতর্ক চলে। একজন বলে ওঠে, কচি শিশুর কান্না নয়, ওটা প্যাঁচার ডাক। আর একজন উত্তেজিত হয়ে উত্তর দেয়, কে বলে প্যাঁচার ডাক? আমার যে স্বচক্ষে দেখা। তালগাছের মাথা থেকে বাচ্চাগুলোকে ছুঁড়ে দেয়।

যুকিতন মহাজন হঠাৎ হাতজোড় করে কপালে ঠেকিয়ে বলতে থাকেন, &quot;এ নিয়ে তর্কবিতর্ক চলে না। শরনপালের বেত্তান্তটা মনে করে দেখুন। তার এ অবস্থা কেন? আজ তাকে রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখছেন, পঙ্গু, অন্ধ, ভিক্ষা চাইছে। কিন্তু আসল বেত্তান্ত সকলে জানে না। এই এলাকার কুখ্যাত ডাকাত ছিল সে। এক রাতে ডাকাতি করে বাড়ি ফেরার সময় দরগার সামনে আসতেই শুনল দরবেশের হুঙ্কার। তৎক্ষণাৎ মূর্ছা গেল সে। ভোরবেলায় বেহুঁশ অবস্থায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ল। সেই থেকে কেমন যেন পঙ্গু হয়ে গেল শরনপাল, মুখে আর রা নেই। কেমন যেন বোবা-কালা হয়ে পড়েছে। এখন চোখেও আর দেখতে পায় না।&quot;

শরনপালের গল্প শুনে অনেকেই আঁতকে ওঠে। যুকিতন আরো বলেন, &quot;ন্যায় অন্যায় কোনো কিছুই দরবেশ বাবার চোখ এড়ায় না! শাস্তি পেতেই হবে। শরনপাল গর্হিত কর্ম করেছে, তাই তার এ শাস্তি।&quot;

সামান্য মুদির দোকান ছিল যুকিতনের। যুদ্ধের সময় সৈন্যদের জন্য চাল সরবরাহ করতেন। পাঁচশো মণ চালের জন্য বিল তৈরি হতো পাঁচ হাজার মণের। তার উপর সেই পঞ্চাশের মন্বন্তর, মহা আকাল। তার চালের কণা সোনার দামে বিক্রি হয়েছে। সবই দরবেশ বাবার কৃপায়। বারবার কপালে করজোড় ঠেকিয়ে চেহারায় কৃতজ্ঞতা ফুটিয়ে আনেন যুকিতন মহাজন। 

এখন তার ব্যবসার ভোল পাল্টে গেছে। নানামুখী কারবার। আছে কফি হাউজও। সেখানে কলেজের ছাত্রদের ভিড় জমে। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প, সাহিত্য ইত্যাদি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলে। শহরে সিনেমা হল ছিল না। যুকিতন মহাজন সে অভাবও পূরণ করে দিয়েছেন। তার সিনেমার ঘর “ছায়াছবি” সন্ধ্যায় ঝলমল হয়ে ওঠে। 

মাঝেমধ্যে এক পাগলকে দেখা যায়। লোকে বলে এটা যুকিতন মহাজনেরই চাচাতো ভাই। চাচা মারা যাবার সঙ্গে সঙ্গে ভাইকে ঠকিয়ে যুকিতন মহাজন সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে করে নেয়। ছেলেটাকে লেখাপড়া ছাড়িয়ে দোকানের কাজে লাগায়। দিনরাত অমানুষিক অত্যাচার আর নির্যাতনে সে এমন পাগল হয়ে গেছে।

দরবেশ শহরের পথে টহল দিতে দিতে যুকিতন মহাজনের গদির সামনে এসে দাঁড়ান। গায়ে তালি দেওয়া লম্বা আলখাল্লা। হাতে ত্রিশূলের মত একটা লাঠি। মাথায় জটাজটা চুল। মুখে লম্বা গোঁফদাড়ি। দেখলে ভয়ই হয়। হুঙ্কার ছাড়েন তিনি, &quot;হুঁশিয়ার, হুঁশিয়ার!&quot; যুকিতন মহাজন ঠকঠক করে কাঁপতে থাকেন।

--------------------------------------------------------
 #উপন্যাসের টুকরি
@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/192585/</link>
				<pubDate>Mon, 06 Feb 2023 06:30:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মাখদুম<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
(প্রকাশিতব্য উপন্যাস, বইমেলা ২০২৩)</p>
<p>গ্রামে মাঝে মাঝে দেখা দেয় দরবেশ। তাকে কেউ বলে হিন্দু, কেউ বলে মুসলমান। কেউ কেউ বলে, দরবেশের আবার জাত কি? সিদ্ধপুরুষের জাতের বালাই নাই। কেউ কেউ আবার তত্ত্বকথাও বলে। কিন্তু যে সে পাগল নয়! পরশমণির পরশ পেয়েছে, তাই পাগল হয়ে গেছে। সোনাদানার কোনো মূল্য ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-192585"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/192585/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6944fdfe6f6eaba9e641600f82833ebd</guid>
				<title>টোপ
হাসনাত সৌরভ
============

প্রতিদিন মানুষটাকে ঠিক একইভাবে জোড়াদিঘির পাড়ে বসে থাকতে দেখে শোভন। ছিপ ফেলে একদৃষ্টে তাকিয়ে জলের দিকে। অবিচল। অল্প দূরে বসে থাকা অন্যান্য অত্যুৎসাহী শখের মৎসসন্ধানীদের গল্পগুজব, হাসিঠাট্টা কিছুই যেন স্পর্শ করে না তার একাগ্রতাকে। শোভন মুগ্ধ হয়। ভাবে, জীবনের আসল সময়ে যদি সে এই লোকটার মতো আরেকটু কনসেন্ট্রেট করতে পারত তাহলে হয়তো এমন বেচুবাবু হয়ে সেলস ডিপার্টমেন্টে পঁচে মরতে হতো না, আর রুমেলাও তাকে ছেড়ে… হয়তো!

মোড়ের মাথায় বিনুদার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে একটা গোটা সিগারেট পুড়িয়ে খরচ করা অব্দি তার এই আত্মদর্শনের বিলাসিতা চলে। তারপর আবার যে কে সেই ঘোড়দৌড়। বাস ধরার তাড়া… ক্লায়েন্ট মিট… ক্লান্ত লাগলেও দম ফেলার উপায় নেই।

টার্গেট আর টার্গেট। এই একটা শব্দ বিষাক্ত তিরের মতো সারাক্ষণ বিঁধে থাকে মাথার ভেতরে, যতই সেই তিরের পেছনে ‘ইনসেনটিভ’ নামক রঙিন পালকটি গোঁজা থাকুক না কেন…

সিগারেটের শেষটুকু ঝকঝকে পালিশ করা বুটের পেছনে ফেলে পিষতে পিষতে শোভন জিজ্ঞেস করে—

–এই বিনুদা, মালটা কে গো, চেনো? রোজ এরকম গেঁড়ে বসে থাকে একই জায়গায়, আদৌ মাছটাছ কিছু পায়? নাকি সবটাই দেখনদারি?

বিনুদা খুচরো পয়সার বদলে একটা হাজমোলা ক্যান্ডি ধরিয়ে দেয় হাতে। তারপর মাথা নেড়ে বলে— মাছের খবর জানি না, তবে মাছের চার কিনতে ভোলে না কখনও।

শোভন আর কথা বাড়ায় না। হাঁটতে হাঁটতে লোকটার ঠিক পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়। কোনও হেলদোল নেই ভদ্রলোকের! যেন পৃথিবী ওলটপালট হয়ে গেলেও তিনি ওই ফাতনাতেই আটকে থেকে যাবেন শেষ পর্যন্ত!

জেদ চেপে যায় শোভনের। চুলোয় যাক বাস, আজ সে দেখবেই শেষ পর্যন্ত কী হয়। জুতো ছেড়ে সে বসে পড়ে লোকটার পাশেই।

লোকটা যদিও ঘাড় ঘুরিয়ে তাকে দেখে না একবারও।

শোভন ছিপের দিকে তাকিয়ে থাকে। নড়ে উঠল কি একটু! না না, মনের ভুল… নাকি চোখের?

দু-একটা বোলতা এদিকে থেকে-থেকেই কানের কাছে এসে বোঁ বোঁ করে ঘুরপাক খেয়ে যাচ্ছে। ঘাটের গা বেয়ে সরসর করে জলের মধ্যে মিলিয়ে যাচ্ছে হিলহিলে ঢোঁড়া সাপ।

কতক্ষণ সময় পেরিয়েছে খেয়াল নেই শোভনের। বোধহয় ঝিমুনি আসছিল অল্প। এমন সময় জলের মধ্যে একটা যেন হালকা আলোড়ন টের পেল সে…

এই তো, টোপ গিলেছে মনে হয় একটা…!

অদ্ভুত ব্যাপার! লোকটা তবু চুপচাপ বসেই রইল! বিন্দুমাত্র নড়নচড়ন নেই। শুধু অপেক্ষা করার জন্যই যেন তার এই নিয়মিত আয়োজন…

শোভন অধৈর্য হয়ে ওঠে। বিরক্তি ছুড়ে দিয়ে বলে,

–আরে ও মশাই, এটা কী হল! মাছটা তো পালাল… আপনার টোপ কোন কারে লাগল শুনি?

শোভনের প্রশ্নে এই প্রথম মানুষটা সাড়া দিল। শান্ত গলায় বলল,

–প্র্যাকটিস করছি তো…
–কী…!

ছিপ গোটাতে গোটাতে মুচকি হেসে লোকটা উত্তর দিল,

–ছেড়ে যেতে দেখা…


@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/189249/</link>
				<pubDate>Thu, 12 Jan 2023 11:27:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>টোপ<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
============</p>
<p>প্রতিদিন মানুষটাকে ঠিক একইভাবে জোড়াদিঘির পাড়ে বসে থাকতে দেখে শোভন। ছিপ ফেলে একদৃষ্টে তাকিয়ে জলের দিকে। অবিচল। অল্প দূরে বসে থাকা অন্যান্য অত্যুৎসাহী শখের মৎসসন্ধানীদের গল্পগুজব, হাসিঠাট্টা কিছুই যেন স্পর্শ করে না তার একাগ্রতাকে। শোভন মুগ্ধ হয়। ভাবে, জীবনের আসল সময়ে যদি সে এই লোকটার মতো আরেকটু কনসেন্ট্রেট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-189249"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/189249/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">09f8d32d1ae305a50da25e22f3ad51cb</guid>
				<title>যাপিত জীবনের ঝাঁপি থেকে.......
==========================

একটা বছর কেমন গেলো তার মাপজোক করতে বসলে জ্যামিতির বদলে স্মৃতির দরকার পড়ে। খুব কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায় ঘুমন্ত শিশুর সঙ্গে এর তফাৎ নেই বিশেষ। হাজার ভালোবাসা সত্ত্বেও সামান্য খুঁত এলেই যে কেঁদে ভাসিয়ে দেবে ঘর। যে কান্নার শব্দ কতদিন শোনা যাবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই শিশুকে ভুলিয়ে রাখতে চাই রূপকথা। আলো। দ্যা পাস্ট ইজ জাস্ট আ স্টোরি উই টেল আওয়ারসেল্ফ। গল্প বদলালে শিশু হেসে উঠবে আবার৷ লজ্জা পাবে সূর্যও...

কত কী হলো না। কতজন চলে গেলো হাত ছেড়ে। এমনদিনে দরকার পড়বে একটা খাতা পেনের। আমরা লিখবো কী কী রয়ে গেলো কাছে এযাবৎ, যা যা চেয়েছিলাম কখনও। বসের গালাগালি। প্রোজেক্টের এক্সালেশান। ক্লায়েটের হেডেকের মধ্যেও কাছাকাছি কোনও মাঠে গিয়ে হেঁটে নেবো সবুজের উপর। খালি পায়ে। ভূমিকে স্পর্শ করে একবার তাকাবো আকাশের দিকে। এই অন্তত সীমানার সামনে নিজের ক্ষুদ্রতাকে স্বীকার করবো নির্দ্ধিধায়। দেখবো একটা ছেলে আপনমনে ফুটবল খেলছে মাঠে। গায়ে প্রিয় দলের জার্সি। মাথায় মুকুট। আলোর। প্রথমে সমস্যা হলেও, নিজেকে চিনতে ভুল হবে না এবার 

তবুও ভুল বোঝাবুঝি থাকবে। থাকবে ঝগড়া। মনখারাপ। যন্ত্রণা। আমরা সহ্য করবো সব। একা ছাদে দাঁড়িয়ে চাঁদের দিকে তাকাবো। প্রতিদিন। দেখবো ভাঙা একটা মানুষ। আস্তে আস্তে আস্তে আবার সম্পূর্ণ করছে নিজেকে। আলোয়। মায়ায় ভরিয়ে দিচ্ছে আকাশ। আবার ভাঙছে। আবার গড়ছে। নিজেকে নিয়ে নিজের সঙ্গে খেলছে। আমরা প্রাণভরে সেই খেলা দেখবো। আমরা খেলোয়াড় হতে শিখবো। আমরা ভালোবাসতে শিখবো...

তারপর এই শিক্ষাকে আত্মস্থ করবো নিজের ভিতর। দেখবো যত মলিনতা। দুঃখ৷ ক্লান্তি। ঘৃণা। ক্ষোভ। ভয়। ধীরে ধীরে আমাদের ছেড়ে মেঘের মতো উড়ে চলে যাচ্ছে। দূরে। অনেক। অনেএএএক দূরে। আর আমাদের চারপাশে গড়ে উঠছে এক অনন্ত স্বপ্নের বাগান। আর কেউ অস্ফুট স্বরে বলছে, 

Out beyond ideas of wrongdoing and rightdoing, there is a field. 

I&#039;ll meet you there 

একটা নতুন বছরে কত কিছু নতুন করা যায়! কী পাইনি সেটা না ভেবে কী পেয়েছি সেটাকে ফিরে দেখা যেতে পারে।  আসল চ্যালেঞ্জ হল পাওয়াটাকে রাখা, তাকে যত্ন করা। আমরা করি না বলেই না পাওয়াটাকেই আঁকড়ে ধরি। আফশোসে বাঁচি। 

নতুন বছর মানে নতুন নয়, পুরানো সম্পর্কগুলোকেই নতুন করে তোলা। হঠাৎ করে করে ফেলা একটা ফোন, দুম করে নোটিশ না দিয়ে বেরিয়ে পড়া কোন অচেনা জায়গায় অথবা আলাদা করে বলা - &#039;মিস করছি, একটু আসবি?&#039; বলেই দেখতে পারো। দেখবে এই প্রচন্ড গরমেও একটা ঠান্ডা হাওয়া এসে লাগবে প্রাণে। 

নতুন বছরে প্রিয়জনকে একটু সময় দাও। শুধু প্রেম নয়, অন্য অনেক সম্পর্ক আছে, যা তোমার নিজের। তাকে যত্ন কর। আমাদের জীবন থেকে ছায়া চলে যাচ্ছে। এই যে দৌড়টা আমরা দৌড়াচ্ছি, একদিন দেখবে বিশ্রাম দরকার, ছায়া দরকার। গাছ যদি যত্নের অভাবে মরে যায়, সেদিন খাঁ খাঁ রোদে তুমি একা দাঁড়িয়ে থাকবে।

তাই আঙ্গুল ছেড়ো না। শক্ত করে ধরে রাখো। যে চলে গেছে তাকে ফিরিয়ে আনো। বা এতদিনেও যাকে বলতে পারোনি, তাকে বলেই দাও।  ভালোবাসার কথা উচ্চারণ করো সজোরে। ভালোবাসার ডাক অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কারোর নেই। এই নতুন বছরে আমাদের ছায়ারা ফিরে আসুক।

নতুন বছরে ভালোবাসা হোক...

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/187035/</link>
				<pubDate>Sun, 01 Jan 2023 09:52:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যাপিত জীবনের ঝাঁপি থেকে&#8230;&#8230;.<br />
==========================</p>
<p>একটা বছর কেমন গেলো তার মাপজোক করতে বসলে জ্যামিতির বদলে স্মৃতির দরকার পড়ে। খুব কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায় ঘুমন্ত শিশুর সঙ্গে এর তফাৎ নেই বিশেষ। হাজার ভালোবাসা সত্ত্বেও সামান্য খুঁত এলেই যে কেঁদে ভাসিয়ে দেবে ঘর। যে কান্নার শব্দ কতদিন শোনা যাবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই শিশুকে ভুলিয়ে রাখত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-187035"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/187035/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2e0aacf1b4cc1de964986d64bcfcc6f2</guid>
				<title>অবলম্বন
হাসনাত সৌরভ
===========================

সাইকেলে ভর দিয়ে হাঁটতেন। সাইকেল চালাতেনও। 

রাস্তার পাশে মাঠ। কিছু বাচ্চা ফুটবল খেলছিল। বল এসে লাগল সাইকেলে। টাল সামলাতে না পেরে পড়লেন রাস্তায়। কনুই ছিলে রক্ত বেরোলো। কোমরে চোট পেলেন। ছেলেগুলো ভাবল উঠে যখন বসেছেন তখন নিশ্চয়ই দাঁড়িয়েও পড়বেন। উঠে সাইকেল চালিয়ে চলে যাবেন। তাই তারা হইহই করে &quot;সরি দাদু…সরি সরি&quot; বলতে বলতে মাঠে নেমে গেল। 

কিন্তু উনি উঠবেন কি করে? উঠতে তো একটা অবলম্বন লাগে। যেমন ওনার জুতো সারাইয়ের দোকানে একটা বাঁশ আছে। কালো। তার মাথায় একটা বাল্ব জ্বলে। একদিকে একটা ধর্মীয় ছবি আটকানো। উনি কাঁপতে কাঁপতে ওঠেন। হাত বাড়িয়ে দোকানে ঠেস দেওয়া সাইকেলটাকে ধরেন। উঠে পড়ে প্যাডেলে দেন চাপ।

খেলা হচ্ছে। উনি বসে দেখছেন রাস্তার পাশে। সাইকেলটা ছেলেগুলো স্ট্যাণ্ড করে দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেছে রাস্তার পাশে। কেউ কেউ তাকাচ্ছে। হয় তো ভাবছে উনি খেলা দেখছেন বসে বসে রাস্তার পাশে। কাকে ডাকবেন?

  বলটা আবার এসে পড়ল। 
  ওরা চীৎকার করছে, দাদু শট মারো…মারো….

উনি হাসলেন। হাতে করে বলটা দিয়ে ছুঁড়ে মারলেন। জোরে। বললেন, ওরে আমি দাঁড়াতে পারি না রে নিজে নিজে…সাইকেলটা এগিয়ে দে না রে কেউ… আমি দাঁড়াই। বাড়ি যাব। 

ছেলেগুলো তাকালো এ ওর দিকে। তারপর হইহই করে এসে ওনাকে সাইকেলটা এনে ওনাকে চড়িয়ে দিল। কেউ পায়ের দিকে তাকালো। কেউ কোমরের দিকে তাকালো। 

পরের দিন ফিরছেন। একই রাস্তা। মাঠটা যত এগিয়ে আসছে মনের মধ্যে একটা অজানা শঙ্কা কাজ করছে। কেন? সঙ্কোচ, নাকি ভয়? 

মাঠটা এলো। ছেলেগুলো খেলায় মত্ত। কেউ খেয়াল করল না। 
মাঠ পেরিয়ে গেলেন। কেউ খেয়াল করল না। ডাকলও না।

অস্বস্তিটা কেটে গেছে। এবার কষ্ট হচ্ছে একটা।


@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/182473/</link>
				<pubDate>Tue, 06 Dec 2022 09:30:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অবলম্বন<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
===========================</p>
<p>সাইকেলে ভর দিয়ে হাঁটতেন। সাইকেল চালাতেনও। </p>
<p>রাস্তার পাশে মাঠ। কিছু বাচ্চা ফুটবল খেলছিল। বল এসে লাগল সাইকেলে। টাল সামলাতে না পেরে পড়লেন রাস্তায়। কনুই ছিলে রক্ত বেরোলো। কোমরে চোট পেলেন। ছেলেগুলো ভাবল উঠে যখন বসেছেন তখন নিশ্চয়ই দাঁড়িয়েও পড়বেন। উঠে সাইকেল চালিয়ে চলে যাবেন। তাই তারা হইহই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-182473"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/182473/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">44828de76c447b187dbdd3ef73932bd7</guid>
				<title>উপাখ্যান
হাসনাত সৌরভ
======================

চায়ের উনুনে আঁচ। পাশে রুটির দোকানেও আঁচ। গনগন করে জ্বলছে। এদিকে চায়ের দুধ ফুটছে। ওদিকে গরম তাওয়ায় রুটি সেঁকা হচ্ছে। মাঝে মাঝে ডিম ফাটিয়ে প্যানে করে আগুনের মধ্যে দিয়েই অমলেট হচ্ছে। কখনও একটা ডিমের। কখনও দুটো ডিমের। যেমন খদ্দেরের খিদে, পকেটের স্থুলতা। 

একটা সাদা বেড়াল এ দোকানের ছাদ থেকে সে দোকানে যাতায়াত করছে। লোকেদের ভিড় নীচে। চায়ের দোকানের ভিড়, রুটির দোকানের ভিড়। বেড়ালটা স্বস্তি পাচ্ছে না। তার গায়ের উপর দিয়ে আটকে আছে আকাশে মেলা চাঁদ। আধখাওয়া রুটির মত। বেড়ালটার যদিও চাঁদ নিয়ে মাথাব্যথা নেই, সে নীচে তাকাচ্ছে বারবার। 

এগুলো সব রেলকলোনির দোকান। সামনেই লাইন পেরোলে ওদিকে রেল কারখানা। এদিকে কলোনি। বেশির ভাগ কোয়াটার্স ফাঁকা। গাছ হয়েছে, সব ঝোপঝাড়ে ভর্তি। একপাশে কিছু শ্রমিকের অস্থায়ী বাসা। সন্ধ্যে হলেই ভাত রাঁধা হয়। হলুদ ডুমের আলোয় ভেসে যাওয়া ভাতের ধোঁয়া হিমেল হাওয়ায় উড়ছে। কিছু শ্যামাপোকা উড়ছে। একজোট হওয়া মানুষ গায়ে গায়ে বসে। ভীষণ কাছাকাছি। ঠাণ্ডা পড়েছে। এদিকে শীতের কামড়টাও তীক্ষ্ম। 

ভাত হয়ে গেল একটু পর। থালায় থালায় বেড়ে দেওয়া হল। কেউ বসে, কেউ দাঁড়িয়ে। ভাতের থালা কেঁপে কেঁপে উঠছে হাতের তাড়নায়, আঘাতে আঘাতে। চোয়ালের পেশী শক্ত হয়ে উঠছে। মোবাইলগুলো কিছুক্ষণের জন্য শান্ত। পাশে রাখা। একটু পরে নামবে ঘুম।
 
চায়ের দোকানের পাশে কয়েকটা কুকুর। উল্টোদিকে কয়েকটা ঘর। বস্তি। বস্তির এক বউ গার্গেল করছে উঠানে বসে। মাথাটা আকাশের দিকে তুলে, চোখদুটো বিস্ফারিত করে, যেন গোটা আকাশ গিলে নেবে, সঙ্গে দেহ কাঁপানো ঘড়ঘড় আওয়াজ। টুলে বসে আছে শাড়িটাকে শক্ত করে ধরে। শালীনতা বড় স্পর্শকাতর জিনিস। একবার ফসকালে কতদিন ধরে কত মুখে যে গড়াবে কেউ জানে না। পাশে বসে তার আদুরে কুকুর। সারা গা ঘা। মালকিনের গার্গেল করা দেখছে। হাওয়া বদলাচ্ছে, এই সময় সর্দিগর্মি হবে না? 

হবে তো। পাশে ছোটো একটা হোমিওপ্যাথি চেম্বার। সেখানে দুবেলা বসে কোনো প্রতিষ্ঠানে পাশ না করা ডাক্তার। বয়েস হয়েছে। ওষুধের দাগের চেয়ে দরদের দাগ বেশি। জ্বরটা হলে, কোনো বাচ্চার বমিপায়খানা হলে বাড়ি গিয়েও দেখে। বস্তির নোংরা কাপড়ের পর্দাটা সরিয়ে, মাথা নীচু করে, একগাল হেসে ভাঙা চেয়ারে বসে। কখনও সে জায়গাও জোটে না। ঝুঁকে দাঁড়িয়ে রুগীকে দেখে। ওষুধ দেয়। স্নেহ দেয়। আশ্বাস দেয়। যদি না সারে, বলে দেয় কখন ডাক্তার দেখাতে হবে। আসল ডাক্তার। 

একবার রেললাইনের ধারে পাওয়া গেল এক মৃতদেহ। খুন। চায়ের দোকানে, রুটির দোকানে চাপা স্বরে কথা। শান্তি নেই। কৌতুহল বেড়ালের মত এ মুখ, সে মুখ, জিভ ডিঙিয়ে, চোখ ডিঙিয়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। লুকিয়ে লুকিয়ে পুলিশের গাড়ি দেখছে। পুলিশের সঙ্গে চোখাচোখি হলে অন্যদিকে তাকাচ্ছে। বাচ্চাগুলো পুলিশের কাছাকাছি এলে মায়েরা ত্রস্ত পায়ে এসে ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে। 

দুদিন গেল। ভয় গেল। কৌতুহল গেল। আবার শীত এলো। শ্যামাপোকা বাড়ি যাব যাব করছে। লালুভুলুরা ছেঁড়া বস্তা খুঁজছে। আগুনের আঁচের কাছাকাছি লোকের জমায়েত হচ্ছে। হাত ঘষার আওয়াজ। হাত ঘষে, গালে ঠেকানোর তৃপ্তিসূচক শব্দ আসছে - আহ! 

নতুন চপের দোকান খুলল। সেও আবার একজন মহিলা। প্রথম প্রথম নিন্দে হল। সংশয়বেশি নিন্দে। পারবে? তারপর হল আরো নিন্দে। কেউ বলল, তেল বেশি। কেউ বলল, নুন কম। কেউ বলল, আরো ভাজা হত। কেউ বলল, দাম বেশি।  

এদিকে ভিড় বাড়ল। রোজ বাড়ে। চায়ের দোকানে চপের স্বাদ এলো। রুটির দোকানে চপের স্বাদ এলো। মুড়ির দোকানে চপের স্বাদ এলো। মিষ্টিওয়ালার সিঙ্গাড়া বিক্রি কমল। সে অভিমান করে বলল, বেইমান। কয়েক মাস যেতে না যেতেই চপের দোকান বন্ধ। সবার রাগ হল। এরকম করলে ব্যবসা টেকে? কি ভালো স্বাদ ছিল। দারুণ ব্যালেন্স সব। দামও বা আজকালের বাজারে এমন কি! 

বন্ধ দোকানের টেবিলে এদিকে ওদিকে পোড়া তেলের দাগ। কুকুর বেড়ালগুলোও ভুলেছে একদিন এখানে চপ ভাজা হত। লোকেরা তাকায়, কাউকে না জানিয়ে। নিজেদের বঞ্চিত লাগে। কেউ কেউ ভাবে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছে। 

একদিন খুলল চপের দোকান। প্রথম প্রথম ভিড় হলো কম। ইতস্তত ভাব। আজকেই যেতে হবে? হ্যাংলা নাকি? যাবো দুদিন পর। 

সে হলুদ শাড়ি পরে, ঘোমটা মাথায় বসে থাকে টুলে। ঝুড়িতে রাখা খবরের কাগজের তেল মাখানো বেগুনি, আলুর চপ, ডালের বড়া। ধীরে ধীরে লোক বাড়ল আবার। অভিমান গেল লালরসের তাগিদে ভেসে। কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করেই ফেলল, এতদিন আসোনি কেন? গলায় চাপা অভিমান। 
  
সে হাসল। লজ্জা ঘোমটা ঢাকা মুখের উপর আলতো পা ফেলে চলে গেল। বেড়ালের মত। ধরা দিলো না। 

মিষ্টির দোকানি সিঙ্গাড়া সাজিয়ে আবার বলল, ধ্যাত্তেরিকি! 

চায়ের দোকানের আঁচের ধোঁয়া, রুটির দোকানের আঁচের ধোঁয়া আকাশে মিশে যেতে লাগল সব গল্প শুনতে শুনতে মানুষের। মানুষের গল্পের আর শেষ হয় না। বাচ্চারা ব্যাডমিন্টন খেলছে। ভাঙা ব্যাটে ক্রিকেট খেলছে। বড়রা খালি গল্প করছে। গল্পের পর গল্প জমছে। ভেসে যাচ্ছে হাওয়ায়। যে গল্প লেখা হয় না। লেখা যায় না।

বেড়ালটা ছাদে ঘুমিয়ে পড়েছে। রোদে শুকাতে দিয়ে তুলতে ভুলে যাওয়া হাফপ্যান্টের উপর। যে প্যান্ট পরে কাল সকালে আবার লোকটা ভাজতে বসবে কচুরী। আবার গল্প জমবে। ভাঙবে। ভাসবে। মানুষ মানেই গল্প। আঁচের গল্প। ধোঁয়ার গল্প। ধোঁয়ায় চোখ কটকটিয়ে, চোখের কোল গড়ানো জলের গল্প।


@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/179620/</link>
				<pubDate>Sun, 27 Nov 2022 11:08:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>উপাখ্যান<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
======================</p>
<p>চায়ের উনুনে আঁচ। পাশে রুটির দোকানেও আঁচ। গনগন করে জ্বলছে। এদিকে চায়ের দুধ ফুটছে। ওদিকে গরম তাওয়ায় রুটি সেঁকা হচ্ছে। মাঝে মাঝে ডিম ফাটিয়ে প্যানে করে আগুনের মধ্যে দিয়েই অমলেট হচ্ছে। কখনও একটা ডিমের। কখনও দুটো ডিমের। যেমন খদ্দেরের খিদে, পকেটের স্থুলতা। </p>
<p>একটা সাদা বেড়াল এ দোকানের ছাদ থেকে সে দোক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-179620"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/179620/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0a792a2c82fedc845569cd1c2108be54</guid>
				<title>অবান্তর 
হাসনাত সৌরভ
=================

মায়মুনা জানত আজ না হয় কাল হবেই। যখন সাবানটা কনুই থেকে কাঁধের দিকে টানছিল, তখনই টের পেয়েছিল, ভাঙবে, আজ না হয় কাল। সাবান ভাঙার আগে সাবান জানান দিয়ে যায়। মাঝখানটা দুর্বল হয়। আঙুল বলে, ভাঙবে। ভাঙার পর দুটো টুকরো। তারপর কখন কিভাবে হারিয়ে যায় মায়মুনা হিসাব পায় না। দুটো টুকরো, অসম্পূর্ণ টুকরো, আধখানা, একে অন্যের দিকে তাকিয়ে। নির্বাক। 

মায়মুনা ভাঙা সাবান দুটো সোপকেসে রেখে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। সারা গায়ে ভাঙা সাবানের ফেনা। জলের অপেক্ষায়। জল ঢালল। সব ধুয়ে গেল। সোপকেসের ঢাকাটা বন্ধ করে রাখল। জানে থাকবে না বেশিদিন। ভিতরে চিড় ধরলে কোনো ঘরই বেশিদিন একসাথে রাখতে পারে না কাউকে। তারাও পারেনি। এক শহরেই দু&#039;জনে থাকে। তবু চায় না দেখা হোক। তবু অপেক্ষায় থাকে দেখা হোক। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কোনো একজনের বাইকের অপেক্ষা। সব বাইকই চমকে দেয়। সব নীল টি-শার্ট চমকে দেয়। চমক ভালো লাগে না আর যদিও। এবার স্থিতি আসুক, চায়। কিন্তু পারে না। 

মায়মুনা দাঁড়িয়ে ব্যাংকের সামনে। রিকশা বা টেক্সি এলেই চলে যাওয়া যায়। ব্যাংকে এসে খবর পেয়েছে, শোভন এ শহরে নেই। বদলি হয়ে এখন অন্যশহরে। দাবিহীন অভিমান রাস্তার ফেলে যাওয়া বিস্কুটের টুকরো খাওয়া কুকুরের মতো মায়মুনা মুখের দিকে তাকিয়ে। আস্কারা চাইছে। নিজের মন যখন নিজের কাছে আস্কারা চায় নিজেকে বড় অসহায় লাগে। ভয় করে। কার সঙ্গে বাস করে একলা মানুষ? এ কোন মনের সঙ্গে!

দুটো টেক্সি চলে গেল। ডাকাই যেত। তবু না ডাকার ইচ্ছাটুকুকে সরানো গেল না। বেলা বারোটা বেজে কুড়ি। রোদে শীতের আবেশ। কারোর কিছু আসে যায়নি সংসারে। মানুষই নিজের জালে নিজে আটকে যায়। হৃদয় জাল বোনে। ঝড়ের পর জালে ধুলোবালি, ঝরাপাতা, মড়াকাঠি সব আটকে যায়। মাকড়সাটা নিজেকে গুটিয়ে একপাশে পড়ে থাকে। একা। শিকার নেই। সব নষ্ট।
 
মায়মুনা হাঁটতে শুরু করল। স্টেশন হাঁটাপথ। কানদুটো গরম হয়ে যাচ্ছে। মাথার ভিতর অনেকে একসঙ্গে কথা বলছে। মা, বাবা, ছোটোবেলার বন্ধু তমা, আরমান…  আরো অনেকে। সবাই যুগ যুগ ধরে কথা বলেছে। মায়মুনাও বলেছে। শুনেছে। সব হারিয়ে গেছে। মনের অধ্যায় থাকে। এক অধ্যায়ের ভাষা আরেক অধ্যায়কে ছোঁয় না।
 
মায়মুনার ঘাম বগল বেয়ে গড়িয়ে নামছে। ঠাণ্ডা হিমেল স্রোত। শ্বাস দ্রুত। কপালে হাত ঠেকালে জ্বর। স্টেশনে এসে বসল। নীলসাগর এক্সপ্রেস বেরিয়ে গেল। পরবর্তী লোকালের ঘোষণা হলো। বগি সাত। সব শব্দ কানে আসছে। মায়মুনা কাউকে পাবে না জেনেও তাকাচ্ছে। কত অবান্তর মানুষ। চোখ ফেটে জল আসবে মনে হচ্ছে। এলো না। মাথা ঘুরে পড়ে যাবে মনে হচ্ছে। কিছু হলো না। 

মনের অনেকগুলো অধ্যায় থাকে। মায়মুনা বসে বসে পুরোনো অধ্যায়গুলোর পাতা উল্টালো। টাটকা শব্দগুলো মাছের কানকো সরানো রক্তের মতো লাল। দগদগে। মায়মুনার মাথা, ঘাড়, পিঠ, কোমর, পা বেয়ে বিষাদ নামছে। অবসন্ন শরীর। যেন এখনই একটা ঝড়ে উড়ে গিয়ে পড়বে সামনের রাস্তায়।
 
ঘাম শুকিয়ে গেছে। খিদে পাচ্ছে। মায়মুনা উঠে দাঁড়ালো। স্টেশনের বাইরে এসে একটা মুদির দোকানের সামনে দাঁড়ালো। মন, শরীর কেউ আসেনি সঙ্গে। একা দাঁড়ালো।
 
নতুন সাবানের প্যাকেট ব্যাগে ভরে টেক্সিতে উঠল। একটু পর শরীর, মন ফিরে আসবে। ওরা সময় নিক। মায়মুনার নিজেরও সময় দরকার কিছুটা। একা। এমনকি নিজের থেকেও একা।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/174921/</link>
				<pubDate>Mon, 14 Nov 2022 10:57:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অবান্তর<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=================</p>
<p>মায়মুনা জানত আজ না হয় কাল হবেই। যখন সাবানটা কনুই থেকে কাঁধের দিকে টানছিল, তখনই টের পেয়েছিল, ভাঙবে, আজ না হয় কাল। সাবান ভাঙার আগে সাবান জানান দিয়ে যায়। মাঝখানটা দুর্বল হয়। আঙুল বলে, ভাঙবে। ভাঙার পর দুটো টুকরো। তারপর কখন কিভাবে হারিয়ে যায় মায়মুনা হিসাব পায় না। দুটো টুকরো, অসম্পূর্ণ টুকরো, আধখানা, একে অন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-174921"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/174921/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fb3e0a148f6d625587808d120abb2ae8</guid>
				<title>বিধুনন
হাসনাত সৌরভ
=================================

- বাঁশিটা দেবে? 
- নাও
- তুমি বাঁচবে কি নিয়ে? 
- সুর
- বাঁশি ছাড়া সুর উঠবে কোথায়? তুমি তো বোবা! 
- প্রাণে। 
- বাজাবে কিসে? গাইবে কিসে? 
- প্রাণে

বাঁশিওয়ালার কাছে বাঁশিটা সত্যিই বিক্রি করে দিল হুরমত। সেই পয়সায় মেয়েটার জন্য নতুন জামা কিনে আনল। সস্তা, ভীষণ সস্তা, কিন্তু নতুন। পরেরদিন সকালে উঠে নদীর ধারে গিয়ে বসল। তার বাঁশি নেই। কণ্ঠ নেই। প্রাণে ঢেউ লাগছে সুরের। কি করে সে? বাঁশি বাজিয়ে ভিক্ষা করেই তো দিন চলত তার। 

একটা হোটেলে বাসন মাজার কাজ পেলো। রাতে বাসন মাজা শেষ করে সবাই যখন ঘুমায় সে হোটেলের টেবিলে তাল দেয়। চোখে জল ভরে আসে। 

মালিক বলল, তুমি কি গান গাও?

সে মাথা নাড়ল। বলল ইশারায়, ‘‘আমি জন্ম বোবা নই। রোগে বোবা। আগে গাইতাম গান। পরে বাজালাম বাঁশি, যখন গলা গেল। মেয়েটার নতুন জামা কিনতে গেল বাঁশিও। তাই এখন প্রাণে জাগে সুর। হাতে দিই তাল।’’ 

মালিক বলল, বেশ। আমি দেখি যদি পাই সস্তায় কোনো বাঁশি।

হুরমত তাড়াতাড়ি হাত বাড়িয়ে বলল, না না। ওনি দেবে। উপরের দিকে ইশারা করে!

একদিন এক বাঁশিওয়ালা এলো দোকানে। ভাত খেল। বাঁশির ঝোলা থেকে বাঁশি বের করে দেওয়ালে হেলান দিয়ে বাজাতে লাগল। 

হুরমত এসে বসল সামনে। তাল দিল। সুর উঠল জমে। দোকানের বাইরে লোক গেল দাঁড়িয়ে। মালিকের চোখে জল। কে এই কুহকী?
 
বাঁশির সুর থামল। লোকে অনেক টাকা দিয়ে গেল। মালিক সব হুরমতকে দিয়ে বলল, ‘নাও, কিনে নিও নতুন বাঁশি।’ সে ইশারায় বলল, না। উল্টো বাঁশিওয়ালাকে নেয়ার অনুরোধ করল। বাঁশিওয়ালা বলল, ‘তবে তুমি আমার থেকে একটা বাঁশি নাও!’
   
হুরমত  নিলো না। বলল প্রভু যখন বুঝবেন, দেবেন। 

সে কাজ করতে করতে বুড়ো হলো। তার দোকানের মালিকও  বুড়ো। এখন তার যাওয়ার সময় এলো ঘনিয়ে। একদিন মালিক এসে বসল শিয়রে। বলল, ‘কই, তিনি তো দিলেন না বাঁশি!’ 

হুরমত হাসল। ইশারায় বলল, ‘‘দিয়েছে প্রাণে। আমায় করেছেন বাঁশি। তিনি বাজিয়েছেন সুখে দুঃখে। আমি শুধু দিয়ে গিয়েছি তাল। আজ বাঁশি ভাঙার সময় হলো। আমি আসি। মনে রেখো তাঁর দেওয়া নেওয়ার হিসাবে ভুল হয় না। আমরাই তাল কেটে ফেলি। সুর যায় এগিয়ে। আমরা যাই পেছিয়ে।’’

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/169494/</link>
				<pubDate>Sun, 30 Oct 2022 10:22:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিধুনন<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=================================</p>
<p>&#8211; বাঁশিটা দেবে?<br />
&#8211; নাও<br />
&#8211; তুমি বাঁচবে কি নিয়ে?<br />
&#8211; সুর<br />
&#8211; বাঁশি ছাড়া সুর উঠবে কোথায়? তুমি তো বোবা!<br />
&#8211; প্রাণে।<br />
&#8211; বাজাবে কিসে? গাইবে কিসে?<br />
&#8211; প্রাণে</p>
<p>বাঁশিওয়ালার কাছে বাঁশিটা সত্যিই বিক্রি করে দিল হুরমত। সেই পয়সায় মেয়েটার জন্য নতুন জামা কিনে আনল। সস্তা, ভীষণ সস্তা, কিন্তু নতুন। পরেরদ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-169494"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/169494/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">082bca708aa38e4dfd2ea499fdab1e27</guid>
				<title>জীবনের পথ-পরিক্রমায় জীবনানন্দ
হাসনাত সৌরভ
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

রবীন্দ্রোত্তর কবিদের মধ্যে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম জীবনানন্দ দাশ। আজ জীবনানন্দের কবিতা স্কুলে পড়ানো হয়। তাঁর কাব্য বিশ্ব বিদ্যালয়ে পাঠ্য, আবৃত্তি সভায় আবৃত্তিকারদের  পছন্দ জীবনানন্দের কবিতা। বিভিন্ন ভাষায় তাঁর কবিতা অনুদিত হয়েছে। বিদেশে তাঁর জীবন ও কাব্য নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। নবীন কবিদের শতকরা আশিভাগ এখন জীবনানন্দ-অনুসারী। জীবনানন্দের এই যে খ্যাতি, এই যে সম্মান, তাঁর জীবিতকালে কিন্তু এসব কিছুই ছিলনা। সে সময়ে  তাঁকে জীবনের বেশিরভাগটাই কর্মহীনতার দৈনন্দিন বিড়ম্বনায় বিধ্বস্ত হতে হয়েছে । নিদারুণ দারিদ্র ও পরামুখাপেক্ষিতার কারণে হতাশাগ্রস্ত, অপমানাহত,বিক্ষুব্ধ, আত্মধিক্কার পীড়িত, অসহনীয় কষ্টের জীবন কাটাতে হয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের জন্ম অবিভক্ত বাংলার বরিশালে। বাবা সত্যানন্দ ছিলেন একজন আদর্শবাদী শিক্ষক, মা  কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন  ধর্মপ্রাণা মহিলা এবং কবি।  যাঁর লেখা কবিতা - &quot;আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?/কথায় না বড় হ&#039;য়ে কাজে বড় হবে।&quot; কথা রেখেছিলেন জীবনানন্দ।  মানুষের কাছে তিনি কবি  হিসাবে পরিচিত হয়েছিলেন। জীবনানন্দের শৈশব,  কৈশোর এবং প্রথম যৌবন কেটেছিল বরিশালে। এখানে ব্রজমোহন স্কুল ও কলেজ থেকে যথাক্রমে ম্যাট্রিক এবং আই.এ. পাশ করেন। কলকাতায় এসে প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে ইংরেজি অনার্স সহ বি.এ. এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ.পাশ করেন। এরপর তিনি ওকালতি করার বাসনায় আইন নিয়ে পড়াশানা করেন কিন্তু সিটি কলেজে অধ্যাপকের চাকরী পাওয়ায় আইন পরীক্ষা দেন নি।

চাকরী অবশ্য স্থায়ী হয়নি। কয়েক বছর পরেই সিটি কলেজে  কর্তৃপক্ষ জীবনানন্দকে ছাঁটাই করে। অশ্লীল কবিতা লেখার দায়ে আর তিনি চাকরী ফিরে পান নি। সাহিত্যে অশ্লীলতার প্রথম বলি হলেন জীবনানন্দ। বেকার অবস্থায় টিউশন করে হাত খরচ চালাতে হত।  মাসতিনেক খুলনা জেলার বাগের হাট কলেজে কাজ করেছিলেন। তারপর তিনি দিল্লিতে রামযশ কলেজে চাকরী পান। কাজে যোগ দেওয়ার প্রায়  ছমাস পরে ফিরে এসে বিয়ে করেন খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামের রোহিনীগুপ্তের কন্যা লাবন্য গুপ্তকে । বিয়ে করার পর তিনি আর দিল্লির কাজে যোগ দেন নি। হয়তো বা ফিরে যেতে দেরী করায় তাঁর চাকরী চলে গিয়েছিল।

বিয়ের পর জীবনানন্দ সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েন। কিন্তু কবিতা লেখার কাজ বন্ধ হয়নি। কিন্তু যিনি কবি তাঁকেও তো জীবনধারণ করতে হয়, সংসার প্রতিপালন করতে হয়,। বাড়িভাড়া গুনতে হয়, জামাকাপড় কিনতে হয় মুদি দোকানের ধার মেটাতে হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর তিনি কোন কাজ জোগাড় করতে পারেন নি। চাকরীর জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছেন, কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে দরখাস্ত করেছেন কিন্তু কাজ মেলেনি। খরচ চালাবার জন্য বন্ধু-বান্ধবে, আত্মীয় -স্বজন সকলের কাছে হাত পেতছেন,টাকা ধার করছেন।  ধীরে ধীরে টাকা শোধ করেছেন। মাঝে কিছুদিন ইনসিরেন্স কোম্পানিতে দালালির কাজ করছেন। আবার ভাই এর কাছ থেকে টাকা নিয়ে বন্ধুর সঙ্গে ব্যবসায় নেমেছেন। কিন্তু দুটি কাজই তাঁর স্বভাবের সঙ্গে খাপ না খাওয়ায় তিনি সফল হননি। ফলে দারিদ্রও ঘোচেনি।

দীর্ঘদিন বেকার থাকার পর অবশেষে বরিশালের বি.এম.কলেজে অধ্যাপনার কাজ পেলেন। বরিশাল তাঁর প্রিয় জায়গা। কিন্তু এখানে অধ্যাপনার কাজে তিনি আনন্দ পাচ্ছিলেন না। তাঁকে  সবচেয়ে নীরস  ও কঠিন বিষয়গুলি পড়াতে দেওয়া হত। তাই ছাত্রছাত্রীদের প্রিয় হতে তিনি পারেন নি। এখান থেকে ছুটি নিয়ে কলাকাতায় এসে কাজের চেষ্টা করতে লাগলেন।  মনে করেছিলেন কাজ না পেলে তিনি আবার বরিশালে কলেজের কাজেই ফিরে যাবেন। কিন্তু ফিরে যাওয়া আর হল না। ১৯৪৭ এর দেশভাগ সব হিসাব বদলে দিল। তিনি কলকাতায় থেকে গেলেন, আর কোনদিন তিনি বরিশালে যান নি।

সিটি কলেজে অধ্যপনাকালে জীবনানন্দ তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ &#039;ঝরা পালক&#039;প্রকাশ করেছিলেন, তেমনি বি.এম.কলেজে অধ্যাপনাকালে তিনি তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ &#039;ধূসর পান্ডুলিপি&#039; এবং তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ &#039;বনলতা সেন&#039; প্রকাশ করেন। পরের কাব্যগ্রন্থগুলি হল &#039;মহাপৃথিবী&#039;, &#039;সাতটি তারার তিমির&#039;।  &#039;রূপসী বংলা&#039; এবং &#039;বেলা অবেলা কালবেলা&#039; তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নি। কাব্যজীবনের শুরু থেকেই জীবনানন্দ সমালোচনার মুখে পড়েন। তাঁর কবিতা নিয়ে সহকর্মীরা হাসাহাসি করতেন, ব্যঙ্গবিদ্রূপ করতেন। তবে সবচেয়ে তীব্র নির্মম, কঠোর ভাষায় আক্রমন করতেন &#039;শনিবারের চিঠি&#039;-র সজনীকান্ত দাস। শুধু মাত্র তাঁর কবিতা নয়, ব্যক্তি জীবনানন্দকেও মাতাল, পাগল বলে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করতেন। জীবনানন্দ বয়সে বড় হলেও তাঁর চেয়ে ছোট বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তীরা বেশী পরিচিত এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে জীবনানন্দের কবিতা পত্রপত্রিকা থেকে ফেরত আসে, নতুন কবিতা সংকলনে তাঁর স্থান হয় না। এই অনাদর, এই অবহেলা প্রভাব ফেলে তাঁর সংসার জীবনেও।

কলকাতায় আসার পর  জীবনানন্দের ব্যক্তিগত জীবন তখন অসহনীয় অবস্থায় পৌঁছেেছে। থাকেন কলকাতায় এক ভাড়া বাড়ীতে। সংসার বলতে  স্ত্রী ছেলেমেয়ে এবং মা, একজন ঠিকে ঝি,একজন বাজার করার লোক। তার খরচই বা কম কী? কবি, তখন উপার্জনহীন সম্পূর্ন বেকার। কবিতা লিখে আর যাইহোক সংসার চালানো যায় না। তখন কবিতার জন্য পয়সা দেবার রেওয়াজও ছিল না বললেই চলে। একটা চাকরীর জন্য তিনি &#039;কুকুর বেড়ালের কাছেও মাথা নুইয়েছেন&#039;। কিন্তু চাকরী জোগাড় করতে পারেন নি। &#039;

 জীবনানন্দের এই অসহায় অবস্থায় বন্ধু সঞ্জয় ভট্টাচার্য &#039;স্বরাজ&#039;নামে এক নতুন দৈনিক পত্রিকায় একটা চাকরী করে দেন।  কিন্তু স্বরাজ&#039; পত্রিকার চাকরীতেও তাঁর স্বস্তি ছিল না। নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তীর কথায় জানা যায়, &quot;কিছুদিনের মধ্যেই রটে যায় রবিবাসরীয় বিভাগের সম্পাদক হিসাবে তিনি একেবারই অযোাগ্য।&quot;. কিছু লোক &quot;তাঁকে লক্ষ করে ছুঁড়তে থাকে চোখা চোখা ব্যঙ্গ বিদ্রূপের বাণ&quot;। জীবনানন্দ সবই বুঝতে পারতেন, সংবেেদনশীল মানুষ বলে বুকে তাঁর  আরও বেশীকরে বাজত। কিন্তু মুখে তিনি কিছুই বলতেন না। কয়েক মাস পরে সে পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে জীবনানন্দের চাকরীটিও চলে যায়। তিনি আবার বেকার হয়ে পড়েন। দু-একটি টিউশনি করে কোনরকমে তাঁর দিন চলে।

১৯৫০ খ্রীষ্টাব্দের শেষ দিকে জীবনানন্দ খড়্গপুর কলেজে অধ্যাপনার কাজ পান। কলকাতায় স্ত্রীপুত্রকে রেখে তিনি খড়্গপুরে কলেজ হস্টেলে থাকতেন। এইভাবে পাঁচ-ছ মাস কাটল। ঐ সময় জীবনানন্দ একদিন খড়্গপুর থেকে এসে দেখলেন স্ত্রী অসুস্থ হয়ে শয্যাগত। স্ত্রীকে দেখার কেউ নেই। অসুস্থ  স্ত্রীর পরিচর্যার জন্য চাকরী ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেন।

জীবনানন্দ আবার কর্মহীন হয়ে পড়লেন। বন্ধুদের বলে কলকাতার কাছাকাছি চাকরীর চেষ্টা করতে লাগলেন। বিজ্ঞাপন দেখে আবার দরখাস্ত করতে লাগলেন কিন্তু কোথাও কিছু হল না। এইসময় আর্থিক অবস্থা এমন শোচনীয় হয়ে পড়েছিল যে তিনি ভাড়াঘরের একটি ঘর এক ইনসিওরেন্স কোম্পানীর এক বিধবা মহিলা এজেন্টকে ভাড়া দিয়েছিলেন। যা ছিল কবির চরম ভুল। কিছুদিনের মধ্য্যেই ঐ মহিলার কদর্য চেহারাটা বেরিয়ে পড়ে-যা কবির মানসিক স্থৈত্য নষ্ট হবার এবং মানসিক শান্তি অন্তর্হিত হবার পক্ষে যথেষ্ট। মধ্যবয়সী মেয়েটি একা থাকতেন থাকতেন বটে কিন্তু দিবারাত্রি তার কাছে &#039;জটিল জনসমাগম&#039; হত। কবির পড়ার এবং লেখার পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছিল মেয়েটি। বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে মেয়েটিকে ওঠানোর চেষ্টা করেও পারেন নি। তিনি মানসিকবাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

চাকরীর চেষ্টায় আবেদন করে জীবনানন্দ বার বার ব্যর্থ হচ্ছিলেন। এদিকে সংসারে ঘোর অনটন।  তখন আবার বন্ধুর সঙ্গে ভাগে ব্যবসা করবেন বলেই মনস্থির করেছিলেন। পারমিটের জন্য রাইটার্স বিল্ডিং এ যাতায়াত শুরু করেন। কিন্তু পারমিট পাননি। কারণ তদ্বির করার কায়দাকানুন, রীতি পদ্ধতি তিনি জানতেন না। এই সময় দৈবক্রমে বড়িষা কলেজে একটি চাকরী পেয়ে যান। কিন্তু চার মাস পরেই তাঁর চাকরী চলে যায়। চাকরীটি খালি থাকা সত্বেও, পড়াতে না পারার অজুহাতে তাঁকে চাকরী থেকে ছাঁটাই করা হয়।

বড়িষা কলেজের চাকরী চলে যাওযায় ঘোর সমস্যার মধ্যে পড়লেন জীবনানন্দ। আবার চাকরীর চেষ্টা করতে থাকেন। বন্ধুদের একটা কাজে দেখে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানালেন,তাদের পরামর্শ চাইলেন।  এসময় তিনি মনে প্রানে চাইছিলেন কবি- স্বীকৃতি, একটু আর্থিক নিশ্চয়তা, একটুকু ভালো বাসা-যেখানে বসে শান্তিতে লেখালেখি করতে পারেন। এইজন্য তিনি একাডেমী পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু যখন জানতে পারলেন প্রার্থী তালিকায় একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠ সাহিত্যিকের নাম-যিনি আবার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও বটে, তখন সমস্ত আশা ছেড়ে দিলেন।

জীনানন্দের সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। সমালোচকদের আক্রমনে জীনানন্দ যখন অত্যন্ত বিব্রত, অর্থিক অনটনে তাঁর সংসার জীবন যখন প্রায় বিপর্যস্ত, ভাড়াটিয়া মেয়েটির অভদ্র আচরণে রাতের ঘুম উধাও, লেখা লেখি বন্ধ, ঠিক সেই সময় হ্ওড়া গার্লস কলেজে এক হিতৈষী বন্ধুর চেষ্টায় অধ্যপনার কাজ পেলেন জীবনানন্দ। এখানে সহকর্মীদের সহৃদয় ব্যবহারে এবং ছাত্রীদের তাঁর প্রতি অসীম শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় জীবনানন্দ মনে প্রাণে সত্যিকারের এক অপার আনন্দ লাভ করেছিলেন।

হাওড়া মহিলা কলেজের পরিবেশ, শান্ত, নম্র, শ্রদ্ধাবান ছাত্রীরা, সহকর্মীদের আত্মীয়ের মত ব্যবহার জীবনানন্দকে অত্যন্ত প্রীত করেছিল। এতদিন নানা দুর্যোগের মধ্যে পড়ে তাঁর সাহিত্য সাধনায় ভাঁটা পড়েছিল, তা আবার নতুন উদ্যমে শুরু হল। ইতিমধ্যে বন্ধু বুদ্ধদেব বসু অবিরাম প্রবন্ধ ও আলোচনায় জীবনানন্দকে লোকসমক্ষে এনেছেন। &#039;বনলতা সেন&#039; প্রকাশের পর জীবনানন্দকে নিয়ে মানুষের ওৎসুক্য বেড়েছে। সাধারণ মানুষ তাঁকে চিনতে শুরু করেছে। বিভিন্ন সমালোচক তাঁকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করেছেন, কেই বলেছেন &#039;নির্জনতম কবি, কেউ বলেছেন &#039;শুদ্ধতম কবি&#039;, কারো কাছে তিনি &#039;হেমন্তের কবি&#039;, কারো কাছে &#039;প্রকৃতির কবি&#039;। রবীন্দ্রনাথের কাছে তাঁর কবিতা &#039;চিত্ররূপময়&#039;। কেউ কেউ আবার তাঁকে &#039;পলায়নবাদী&#039; &#039;নিঃসঙ্গ কবি&#039;মনে করেন। কিন্ত এর অর্থ যদি করা হয়  জনজীবনের সঙ্গে তাঁর চিত্তের কোন যোগ ছিল না তাহলে ভুল হবে। 

জীবনানন্দের জীবনবোধ ছিল  গভীর - জীবন সম্পর্কে এমন সদাজাগ্রত কৌতূহল,এমন পরিপূর্ণ ইতিহাস চেতনা সমকালীন অন্য কবির মধ্যে নেই। প্রকৃতি সম্পর্কে এত বড় মুখর কবি রবীন্দ্রনাথের পরে আর নেই। আসলে বরিশাল ছিল কবির মন জুড়ে। বরিশালের প্রকৃতি,  নদী, বন, বন-জৎস্না বর্ণ- গন্ধ-ঘ্রাণ, আম, জাম, নিম, হিজল, অশ্বত্থ, বট,পাখিদের অজস্র রকমের সাড়াশব্দ , হাঁক ডাক, ডাহুক-ডাকা নিরালা দুপুর, গাঙচিল, শালিখের পাখার ঝটপট, মৌমাছির গুঞ্জরণ -ছাপ ফেলেছিল তাঁর গহন চেতনায়। নিজের কবিতায় বর্ষার মত ঝরিয়ে দিয়েছেন সেইসব। দেবার পরও ফুরোয়নি। কিছু ছিল উদ্বৃত্ত, অবশিষ্ট। সেগুলো ছড়িয়ে দিয়েছেন ইতস্তত তাঁর গদ্যের ভিতরে, অন্যান্য লেখাগুলোয়।

হাওড়া গার্লস কলেজে অধ্যাপনা কালে জীবনানন্দের &#039;শ্রেষ্ঠ কবিতা&#039; প্রকাশিত হয়। এর পরই  তাঁর কবি খ্যাতি বেড়ে যায়। পাঠকমহলে আলোচিত হতে থাকে জীবনানন্দের নাম। &#039;সবাই তখন জীবনানন্দ দাশে আচ্ছন্ন। কফি হাউসে তরুণ কবিদের আডাডার বিষয় হিসাবে বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে ক্রমশ স্থানচ্যুত হয়ে সেখানকার সিংহাসনে বসানো হয় জীবনানন্দ দাশকে। জীবনের এই পর্বে এসে জীবনানন্দ কিছুটা সহজ ও স্বভাবে স্থিত হবার চেষ্টা করছিলেন সেইসঙ্গে সবকিছু গুছিয়ে তোলার চেষ্টা কর ছিলেন, আর তখনি ঘটল বিপর্যয়।

জীবদ্দশায় জীবনানন্দের পরিচিতি  মূলত কবি হিসাবে।  তিনি আপাদমস্তক কবি। কিন্তু তাঁর  মৃত্যুর  পর বোঝা গেল তিনি শুধু কবি নন। অন্য পরিচয়ও আছে।  তিনি কম করেও চৌদ্দটি উপন্যাস এবং প্রায় একশো কুড়িটি গল্প লিখেছেন।  তাঁর জীবদ্দশায় এগুলির একটিও প্রকাশিত হয়নি।  তাঁর মৃত্যুর পর  এগুলি বই আকারে প্রকাশিত হয়। এতগুলি উপন্যাস এবং গল্প  রচনা বেশ সমসাপেক্ষ পরিশ্রমসাধ্য কাজ। কোনরকম পাঠক প্রত্যাশা না  করে জীবনানন্দ কেন করেছিলেন-এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া আজ আর সম্ভব নয়।

জীবনানন্দের জীবনীকারগন  এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা বললেও অনেকে একে কবির আত্মহত্যা বলেই মনে করেন। কবির বন্ধু সঞ্জয় ভট্টাচার্য বলেেন, &quot;আমার মনে হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন।&quot; কবির মরণেচ্ছার বাস্তব কারণ হিসাবে তাঁরা দাম্পত্য কলহকে সামনে এনেছেন। সঞ্জয ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেই লিখেছেন-&quot;আমি জীবনানন্দের পারিবারিক অনেক কথাই জানি;যা খুব একটা সুখের ছিল না। ওর বউর সাথে প্রতিদিন একটা দ্বন্দ্ব-আমাকে বলতো।&quot; অনেকের মতে &#039;মাল্যবান&#039; উপন্যাসখানি কবির ছদ্ম আত্মজীবনী। কবির মৃত্যুর বিশ বছর পরে লবান্য দাশের ছাড়পত্র পাওয়া  &#039;মাল্যবানে&#039;র উপজীব্য দাম্পত্য কলহ।, -&quot;সারা উপন্যাসটি স্ত্রী-কর্তৃক স্বামী নির্যাতনের -গালিগালাজে ও কাজে -এক অসম্ভব শ্বাসরোধ-করা, বুক-চাপা গলা-টেপা আলেখ্য: উৎপলা তার স্বামীকে তো পাত্তাই দেয় না, ঘৃণা না, তারো বেশি, করুণা করে।&quot; 

হায় জীবনানন্দ, তুমি যে কী অসাধারণ কাব্য-প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলে সেকথা হয়তো তুমি নিজেও জানতে না, আর তোমার কোন শুভানুধ্যায়ী তোমাকে মনে করিয়েও দেয় নি। &#039;বনলতা সেন&#039; তোমার কলম থেকেই বেরিয়েছিল -&quot; সব পাখি ঘরে আসে--সব নদী ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন; থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।&quot; তুমি তো বেশি কিছু চাওনি,চেয়েছিলে বেঁচে থাকার জন্য একটু নিশ্চিত  জীবন আর লেখালেখির জন্য ছোট্ট একটা  নিরিবিলি ঘর -তাও আমরা দিতে পারিনি। তাই  কি রিক্ততার বোঝা বুকে নিয়ে অভিমান ভরে  চলে গেলে মৃত্যুর হিমশীতল অন্ধকারে? কিন্তু তোমাকে আমরা ভুলিনি। ভুলিনি তোমার কবিতার লাইনগুলো। আমাদের মনে জাগে প্রত্যয়। বাংলাকে ভালোবেসে তুমি যখন বলো...
 &quot;আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়- হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল ছায়ায়...&quot;

-------------------------------------------------
@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/165670/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Oct 2022 07:09:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জীবনের পথ-পরিক্রমায় জীবনানন্দ<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~</p>
<p>রবীন্দ্রোত্তর কবিদের মধ্যে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম জীবনানন্দ দাশ। আজ জীবনানন্দের কবিতা স্কুলে পড়ানো হয়। তাঁর কাব্য বিশ্ব বিদ্যালয়ে পাঠ্য, আবৃত্তি সভায় আবৃত্তিকারদের  পছন্দ জীবনানন্দের কবিতা। বিভিন্ন ভাষায় তাঁর কবিতা অনুদিত হয়েছে। বিদেশে তাঁর জীবন ও কাব্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-165670"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/165670/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">357fe5ca0af69ba4d06d9936d2c5c16a</guid>
				<title>এক বিন্দু বিষ
হাসনাত সৌরভ
=============

শূন্য খাঁচায় পাখি ডাকে না। কিন্তু পাখির ডাকের স্মৃতি? 

হরিদেব বসে আছে শূন্য খাঁচাটার দিকে তাকিয়ে। রাতে রোজ একটা পাখি আসে। হরিদেবকে জানলা দিয়ে ডাকে, ও হরিদেব, হরিদেব…জানলা খোলো…আমায় দেখো…ক্ষেতে যাবে না? বীজ বুনবে না?…মাটিতে দেবে না? হরিদেব…ও হরিদেব..এই তো আমি….তোমার খাঁচায়। এসো এসো। বাইরে এসো। 

হরিদেবের বুকটা হাঁ হয়ে যায়। সমুদ্রের মত উথালপাতাল শুরু হয়। হরিদেব কানে হাত দেয়। মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে বলে, মা ও আবার এসেছে। ওকে বারণ করো। মা, ওকে চলে যেতে বলো। ও আবার তোমায় কষ্ট দেবে। আবার তোমায় জ্বালাবে। ও মা, মা….আমি.. এই যে আমি…এই আমি হরিদেব…তোমার নয়নের মণি…তোমার চাঁদ….তোমার সব কিছু..মা…ও মা…আবার এসেছে ওই নষ্ট পাখিটা…মা…ওকে তাড়াও…..

মা ছবি থেকে হাই তোলে। তারপর ছবির ফ্রেমের থেকে বাইরে আসে। হরিদেবের মাথায় হাত রাখে। মায়ের মুখের পানের গন্ধে হরিদেব ঈশ্বরের গন্ধ পায়। মায়ের শাড়ির আঁচলের গন্ধে হরিদেব ঈশ্বরের আঁচলের স্পর্শ পায়। মা ডান বাঁ দুই হাতের আঙুলগুলো তার কোঁকড়ানো চুলের মধ্যে দিয়ে দেয়। হরিদেব দেখে ঈশ্বর বিশ্বরূপ ধারণ করে তাদের কলাবাগানের মধ্যে বসে আছে। 

মা ধীরে ধীরে, পা টিপে টিপে রান্নাঘরে আসে। তাকে ইশারায় ডাকে। তারপর একটা দা হাতে নিয়ে বাইরে আসে। পাখিটা হরিদেবকে ডাকতে ডাকতে ঘুমিয়ে পড়েছে। হরিদেব পাখিটার যত কাছে যায় তত তার সে উথাল-পাতাল বাড়ে। তার তলপেট জুড়ে ব্যথা শুরু হয়। ক্রমশ তার পুরুষাঙ্গ আর হৃদয় গোঙাতে শুরু করে। যে গোঙানির ডাক শুনে পাখিটার ঘুম ভেঙে যাবে। সে এসে হরিদেবের হাঁ হয়ে যাওয়া বুকটার মধ্যে বসবে। তারপর কি হবে হরিদেব জানে। তার মা ঈশ্বরের মত বধ করবে তার হৃদয়কে, চালকুমড়োর মত বলি দেবে, দু আধখানা করে। মা বলি চায়। হৃৎপিণ্ড চালকুমড়ো তার। পাখিটা মরে পড়ে থাকবে তার বুকে। তার পালকগুলো উড়িয়ে দেবে হাওয়ায়। রক্তগুলো ভাসিয়ে দেবে নদীতে। হাড়গুলো পুঁতে দেবে মাটিতে। পুঁইশাক লাগাবে সেখানে। হাড়গুলো পুঁইশাকের ডালের মত বেঁকে বেঁকে উঠবে। হাত বাড়াবে হরিদেবের দিকে। তার মা আসবে ঈশ্বরের মত। ছিনিয়ে নেবে ডাল। বলবে, হাটে এসো বেচে। 

হরিদেব হাটে বেচতে যাবে। মায়ের তৃতীয় নয়ন যাবে তার সঙ্গে। ওজন দেখবে। পয়সা গোনা দেখবে। অপলক। বেচা শেষ হবে। তৃতীয় নয়ন বলবে বাড়ি আয়, বাড়ি আয় খোকা। তোর জন্যে পায়েস আর মুড়ি বানিয়ে রেখেছি। মা মুড়ি ভাজতে বসেছে। পাশের উনুনে ফুটছে পায়েসের দুধ। আকাশ থেকে মধু আনিয়ে মিষ্টি করছে মা। মা পৃথিবীর সব মধুর খোঁজ জানে। পাখিটা জানত শুধু বিষের খোঁজ। তাই সে রাতে ডাকে। রাতে বিষের ঢাকনা খোলে বুকে আর তলপেটের নীচে। মা খিল দিয়ে দেয়, মন্ত্র পড়ে শুদ্ধ করে দেয় সব বিষ।

হরিদেব এখন একা বসে। মা ঢুকে গেছে ছবির ফ্রেমে আবার। পাখিটা নেই। পাখিটার ডাক ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরের ভিতর, ওঠানামা করছে সামনের তালগাছটা বেয়ে। কিন্তু হরিদেবের কাছে আসতে পারছে কই? মায়ের তৃতীয় নয়ন পাহারা দিচ্ছে হরিদেবকে। মায়ের তৃতীয় নয়ন ঘিরে উঠছে চাঁদ, সূর্য। 

তবু হরিদেব তাকিয়ে আছে চিলের দিকে। মাঝে মাঝে তার নেশা হয়। তখন সে চায়, প্রাণপণে চায় একটা চিল আসুক পাতাল ফুঁড়ে, ঠুকরে দিয়ে যাক তৃতীয় নয়ন। ওই যে চিলটা উঠেছে পাতাল ফুঁড়ে। আসছে তার বাড়ির দিকে। তৃতীয় নয়ন স্থির তাকিয়ে তার দিকে। পুঁই মাচায় এক বিষাক্ত সাপ। হরিদেব চায় না সাপটাকে ধরুক চিল। সে চাইছে ঠুকরে দিক তৃতীয় নয়ন শুধু। 

কিন্তু সব গুলিয়ে গেল। ঘুমিয়ে পড়ল হরিদেব। ঘুম ভাঙল যখন ঘন অন্ধকার। হরিদেব ডুকরে কাঁদল। কেউ কোথাও নেই। হরিদেব ভীষণ ক্লান্ত। উঠে দাঁড়ালো। হাঁটতে শুরু করল। সামনে নদী। ওর নীচে গিয়ে শোবে হরিদেব। সব ক্লান্তি ধুয়ে যাবে। হরিদেব নদীর নীচে এসে শুলো। পা, হাত টানটান করে। এখানে কেউ নেই। মাছের দল এসে হরিদেবের গা থেকে সব শোক টেনে টেনে নিয়ে গেলো। হরিদেব চাইছে তার সর্বাঙ্গ ঘিরে জন্মাক পুঁইশাক। তাকে গিয়ে কেউ বেচে আসুক হাটে। বিনা পয়সায়। মুড়ি উড়ে যাক বাতাসে। দুধের মধ্যে পড়ুক পাখিটার ঠোঁট থেকে এক বিন্দু বিষ। 

হরিদেব ঘুমালো। শরীরটা তুলোর মত ভেসে থাকল জলের উপর। একটা কাক এসে বসল তার পুরুষাঙ্গের উপর। ডাকল কা..কা…কা….
নেই...নেই.. নেই
না বিষ, না অমৃত....

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/159689/</link>
				<pubDate>Mon, 10 Oct 2022 12:18:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এক বিন্দু বিষ<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=============</p>
<p>শূন্য খাঁচায় পাখি ডাকে না। কিন্তু পাখির ডাকের স্মৃতি? </p>
<p>হরিদেব বসে আছে শূন্য খাঁচাটার দিকে তাকিয়ে। রাতে রোজ একটা পাখি আসে। হরিদেবকে জানলা দিয়ে ডাকে, ও হরিদেব, হরিদেব…জানলা খোলো…আমায় দেখো…ক্ষেতে যাবে না? বীজ বুনবে না?…মাটিতে দেবে না? হরিদেব…ও হরিদেব..এই তো আমি….তোমার খাঁচায়। এসো এসো। বাইরে এসো। </p>
<p>হ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-159689"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/159689/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">00b08168ce59eb1a723926c127e61c41</guid>
				<title>অনধিগম্য
হাসনাত সৌরভ
=============================

লোকটা যেখানে যেত পকেটে করে আরশোলাটাকে নিয়ে যেত। আরশোলাটার বাঁদিকের দুটো ডানাই ভাঙা। ডান দিকের দুটো পা-ও ছিল না। ফলে না ভালো করে উড়তে পারত, না তো ভালো করে হাঁটতে পারত। সে লোকটার বুক পকেটে, প্যাণ্টের পকেটে করে ঘুরে বেড়াত। লোকটা আরশোলাটার নাম রেখেছিল গুমশুম। 

আরশোলাটা লোকটার পকেটে কবে থেকে আছে বলতে পারব না। মনে হয় লোকটাও মনে করতে পারবে না। আরশোলাটার গান শুনতে পেত। আরশোলাটার মন খারাপ হলে বুঝতে পারত। 

একদিন আরশোলাটা বলল, সে আত্মহত্যা করতে চায়। জীবনের উপর সব আশাভরসা তার চলে গেছে। 

লোকটা শুনে অবাকই হল। আশাভরসা তো তার অনেক আগেই চলে যাওয়ার কথা। হঠাৎ কি এমন হল যে সে আত্মহত্যা করতে চায়? 

লোকটা ঘরের সব টিকটিকি তাড়িয়ে দিল। কে জানে কখন তাদের সামনে গিয়ে হাজির হয়। অনেক ভালো ভালো বই এনে তাকে পড়ে পড়ে শোনালো। অনেক ভালো ভালো মোটিভেশনাল স্পিচ শোনালো। এমনকি জগতে যত রকম দার্শনিক তত্ত্ব আছে, সব শোনালো। 

 বলল, জগতটা শূন্য। আরশোলা চুপ। 
 বলল, জগতটা সত্যে আধারিত। আরশোলা চুপ। 
 বলল, জগতটা অ্যাবসার্ড। আরশোলা চুপ। 
 বলল, জগতটা ভালোমন্দ মেশানো। 

আরশোলা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। 

একদিন অনেক রাত। লোকটার হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। পাশেই একটা মাজনের খাপে আরশোলাটা ঘুমাতো। সে নেই। খুঁজতে লাগলো। 
  
অবশেষে পাওয়া গেল। ছাদে। জ্যোৎস্না এসে পড়েছে তার গায়ে। এমনিতে জৌলুস কিছু নেই। তবু বাদামী গা বেশ লাগছে দেখতে। লোকটা কাছে গেল। অনেকক্ষণ দাঁড়ালো। আরশোলাটা নড়ে না। কেমন সন্দেহ হল। 

ঠিক। মারা গেছে। সাধারণত মরা আরশোলা চিৎ হয়ে পড়ে থাকে। কিন্তু এ দাঁড়িয়ে। শুঁড়দুটো পায়ের কাছে গোটানো। লোকটা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার মৃতশরীরকে নিয়ে নীচে এলো। খবরের কাগজের স্তূপ বানিয়ে দাহ করল। 

দুদিন পর থেকে একটা আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। লোকটা যাকেই দেখে, দেখে তার গায়ে বা মাথায় একটা আরশোলা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাকে স্থির থাকতে দিচ্ছে না। ডানা ভাঙা, পা ভাঙা, শরীর মোচড়ানো। অনেক রকম আরশোলা দেখতে দেখতে সারাটা দিন কেটে যায় তার। পার্কে গিয়ে বসে। স্টেশানে গিয়ে বসে। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকে। জেটিতে বসে থাকে। চারদিকে আরশোলা আর তাকে বয়ে বেড়ানো মানুষ। 

 অনেক রাত। ঘুম আসছে না। লোকটা ছাদে উঠল। আজ অমাবস্যা। তারার আলো ছাদে। লোকটা বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ মনে হল তার পায়ের কাছে কিছু ঠেকছে। মাথাটা ঝুঁকিয়ে দেখল। কি অদ্ভুত তো! আরশোলাটার ভাঙা ডানা দুটো আর পা দুটো! কি অদ্ভুত! কোথা থেকে এলো! 

লোকটা হাতে নিতেই চারদিকে সব বদলে যেতে শুরু করল। তারাগুলো তীর বেগে তার দিকে ছুটে আসতে শুরু করল। আকাশটা একটা গামলার মত হয়ে তাকে কোলে তুলে নিল। সে চীৎকার করে বলতে চেষ্টা করল, কি হচ্ছে এ সব? কি হচ্ছে?

এক খণ্ড মেঘ তার বুকে ঢুকে, এক পশলা বৃষ্টি দিয়ে পাঁজরগুলো ভিজিয়ে একটা লাল পাথর তুলে নিল। আর বলল, তুমি যে বাকি পা আর ডানা পেয়ে গেলে, এবার তোমার এখানে কোনো কাজ নেই! সবাই তাই-ই খুঁজছে। পেয়ে গেলেই সবাই চলে যাবে। এসো।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/151927/</link>
				<pubDate>Mon, 26 Sep 2022 10:25:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অনধিগম্য<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=============================</p>
<p>লোকটা যেখানে যেত পকেটে করে আরশোলাটাকে নিয়ে যেত। আরশোলাটার বাঁদিকের দুটো ডানাই ভাঙা। ডান দিকের দুটো পা-ও ছিল না। ফলে না ভালো করে উড়তে পারত, না তো ভালো করে হাঁটতে পারত। সে লোকটার বুক পকেটে, প্যাণ্টের পকেটে করে ঘুরে বেড়াত। লোকটা আরশোলাটার নাম রেখেছিল গুমশুম। </p>
<p>আরশোলাটা লোকটার পকেটে কবে থ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-151927"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/151927/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2d03392d6042c78df25321edea9ae284</guid>
				<title>বোকা উইয়ের ঢিবি
হাসনাত সৌরভ
================

মানিয়ে তো নিতেই হবে। চ্যালেঞ্জটা হল নিজস্বতাকে হারাতে দেওয়া যাবে না। সেকি সম্ভব? নিজেকে না বদলে বদলকে মেনে নেওয়া যায়? 

দর্জির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই সব ভাবছিল জনাই। তার ছিটটা আস্ত জামা হয়ে গেল। অথচ তার জীবনটা… নাহ্, ভালো দর্জি সে হতে পারল না। এখন আশা ছেলেটাকে নিয়ে। স্বপ্ন। ছেলেটা অঙ্ক করতে এসেছে। ক্লাস নাইনে পড়ে। রাত দশটায় ছাড়বেন স্যার। অর্ধেক বেতন নেন। 

নিজের সিএনজির দিকে তাকালো। মানুষ কত কি বানায়! লোহা পিটে, টিন পিটে, কাপড় কেটে। সামনের বড় বড় ফ্ল্যাটগুলোর দিকে তাকালো। সিমেন্ট, ইট দিয়েই তো বানিয়েছে। মানুষের মাথায় কত কি ভাবনা! অথচ জীবনটা যেমন চায় বানাতে পারে না। কেন? 

দোকানে টিভি চলছে। কত হিংসা, মারামারি, চালাকি। জনাই শার্টটা নিয়ে, টাকাটা দিয়ে সিএনজিতে এসে বসল। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। ন&#039;টা চল্লিশ। দেরি আছে। 

সব কই মেনে নিতে পেরেছে? ভাইরা ঠকিয়ে জমিটা নিল। বউটা ফেসবুকে রাত জেগে কাদের সঙ্গে গল্প করে। মেয়েটা, সিক্সে পড়ে, কিন্তু সারাদিন যা বলে, কি সব ভাষা! এ সব মেনে নিতে নিতে নিজেকে কেমন যেন ঘুমিয়ে আছে মনে হয়। কিন্তু বলবে কাকে? সবাই তাকে বুঝিয়ে দেয় সে-ই ভুল, বাকিরা সবাই ঠিক। ছেলেটাই যা একটু বোঝে। কিন্তু ছেলেটাকে নিয়েই তো ভয়। পড়াশোনায় ভালো। কিন্তু চালাক চতুর নয়। তার মত হয়েছে।

&quot;বাবা, কাল তোমায় স্যার সিএনজি নিয়ে সকালবেলা আসতে বলেছেন। স্যারের বউ আর মা বেড়াতে যাবেন।&quot; ছেলে  তার পাশে বসে বলল।

মানে সারাটা সকাল ভাড়া নেওয়া যাবে না। ভাড়াও নিতে পারবে না। ছেলেকে অর্ধেক টাকায় পড়ান। ভালো মানুষরা কেমন বাস্তব মানুষ হয়। 

পরেরদিন পার্কের সামনে সিএনজি নিয়ে বসে। ভীষণ গরম। ভ্যাপসা। বৃষ্টি নেই। মেঘ আছে।
 
মেয়ে স্কুলের ড্রেস পরে একটা ছেলের বাইকে বসে চলে গেল। বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠে মিলিয়ে গেল। বুকের মধ্যে চোরাবালি একটা। সব ডুবে যায়। বউয়ের ফোনে ফোন করলেই এখন ব্যস্ত বলবে। বউ কল ব্যাক করবে না। সবাই জানে, জনাই ভালো মানুষ। বোকা মানুষ।

কিন্তু বোকা মানুষ তো সে থাকতে চায় না। মেয়েটাকে চড় মারতে চায়। বউকে যা নয় তাই বলতে চায়। ঝগড়া করতে গেলেই সে আর ভাষা পায় না। যতটা রাগ হয়, দুঃখ আর ভয় হয় তার চাইতে বেশি। কথা হারিয়ে যায়। সব হারিয়ে যায়।

একদিন মারল চড়। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে। হাতটা মরিচবাটার মত জ্বলে উঠল। মেয়েটার চোখের দিকে তাকাতে পারল না। কানে একটা খিস্তি এলো। মেয়ের না, মায়ের। 

প্রায় এক সপ্তাহ মেয়েটার দিকে তাকায়নি। সিএনজির হাতল ধরতে জ্বালা করত। 

একদিন বউয়ের মোবাইলও ঘেঁটেছিল। হোয়াটসঅ্যাপে গিয়ে অবাক হয়েছিল। তার বউয়ের অনাবৃত স্তনের ছবি। তার ছোটো ভাইয়ের নাম্বারে পাঠানো। বুকের ভিতর একটা ভয় শ্রাবণের মেঘের মত কালো করে এসেছিল। একবার মনে হয়েছিল ভাইয়ের, বউয়ের পা ধরে কাঁদে। বলে তারা যেন এরকম না করে তার সঙ্গে। পারেনি। মানুষকে ঠকানো অত সোজা না। সে পারে না। সে বোকা। তার ঠকালে ঘুম হয় না। বুকের মধ্যে চামচিকে ডানা ঝাপটায়। কিন্তু তার বউয়ের দিকে তাকিয়ে আশ্চর্য হয়। কি অনায়াসে তার পাশে শোয়! দরকার পড়লে আদর করে। আদর নেয়। আবার ভাইয়ের সঙ্গেও… কি করে? এত সহজে শরীরের ভাষা বদলে বদলে ভালোবাসা দেওয়া যায়? নেওয়া যায়? যায় হয় তো। 

এরপর শুরু হল রাতদিন স্বপ্ন দেখা। জনাই স্বপ্ন দেখে তার মেয়েকে কারা যেন ধর্ষণ করে পুকুরে মেরে ফেলে গেছে। তার বাড়ির উঠানে তার ভাই আর তার বউ সঙ্গম করছে। পাড়ার লোকেরা হাঁ করে তাকিয়ে দেখছে। জনাইকে বলছে, জনাই তুমি মরো… মরো...

জনাই মরল না। কিন্তু সব স্বপ্নগুলো একদিন মাথার মধ্যে তুবড়ির মত ফেটে গেলো। ডাক্তার বলল আর কোনোদিন সে নড়তে চড়তে পারবে না। কথা বলতে পারবে না। 

আঠারো বছর গড়িয়ে গেল। জনাই সারাদিন ছাদের দিকে তাকিয়ে শুয়ে থাকে। ভাই তার বউকে নিয়ে সংসার পেতেছে। মেয়েটা গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে। ছেলেটা শহরে চাকরি করে। আলাদা থাকে। 

জনাই দেখে শুধু ঝুল চারদিকে। সেই ঝুলে সৃষ্টিকর্তা আর বোকা লোকগুলো আটকে। যত ছাড়াতে যাচ্ছে তত জড়িয়ে যাচ্ছে। 

&quot;মামা কেমন আছ?&quot;

সুতপা। তার ভাগ্নী। সে-ই একমাত্র সংসারে যে তার ভাষা বোঝে। জনাই জড়িয়ে উচ্চারণ করল, বিষ…

গোটা সংসারে এখন বিষের চাইতে দামী তার কাছে কিছু নেই। যখন হাত-পা নাড়িয়ে চলতে পারত, তখন কেন যে বিষ নিজে নিয়ে খেল না! আসলেই বোকা তো সে। এখন কে এনে দেবে হাতে করে বিষ? 

ভাগ্নী বালিশের ভাঁজে টাকা গুঁজে দিয়ে যায়। যাওয়ার সময় কাঁদে। বোকা মেয়ে বলেই কাঁদে। জনাইয়ের চোখের কোল বেয়ে জল গড়ায়। ভাগ্নী বলে, কি পাপ যে করেছিলে মামা!

পাপ? পাপ কেন হবে রে? বোকা ছিল। আছেও। বোকামি মানেই পাপ। আজ আর ইচ্ছা করে না ওসব ভাবতে। ঝুল জড়ানো চোখে, ঝুল জড়ানো মাথায় নিজের বুকের কোনায় কোনায় টিপে টিপে দেখে। এখনও উইপোকার মত ভালোবাসা কিলবিল করছে। ঘরে যখন কেউ থাকে না, তখন তার শরীর থেকে নেমে বেড়ায়। তার কাছে কেউ আসে না। সারা শরীরে শুয়ে শুয়ে ঘা। দুর্গন্ধ ছাড়ে। লোকে নাকে কাপড় দিয়ে দেখতে আসে। একবেলা খায়। খাইয়ে দেয় কেউ কেউ। আবার দেয়ও না। দুর্গাপুজোর সময় দু&#039;দিন তার কথা মনেই পড়েনি। জনাই উইপোকাদের হাঁটা দেখেছে। নিজেকে বলেছে, আর কত খাবি রে শুয়ে শুয়ে? 

ভাগ্নীকে বলেছে, ডাক… আমাকে তুলে নিতে বল উপরে…

চিতায় আগুন জ্বালানো হল যখন জনাই তখন পাশেই দাঁড়িয়ে, একটা ঘেয়ো কুকুরের পাশে। কুকুরটা তার সদ্য শরীর ছাড়া শরীরটাকে চাটছে। জনাই দেখছে উইপোকার দল শরীর থেকে বেরিয়ে তার দিকে উড়ে উড়ে আসছে। জনাই দৌড় লাগালো। পারল না। ঝুলে আটকে হোঁচট খেলো। সে আর উইপোকা চায় না। সে আর ভালোবাসা চায় না। সে চায় তার হৃদয়টা রাস্তার মত হোক। সবাই যাক। কিন্তু সে যেন কোথাও না যায়। কাউকে না চায়। কাউকে না ডাকে। কাউকে না যেতে বলে। রাস্তা কাউকে মনে রাখে না। রাস্তাকেও কেউ মনে রাখে না পেরিয়ে গেলে। সে-ই ভালো। জনাইকে নিজেকে বলে, সেই ভালো। 

ভাগ্নীটার মাথায় হাত রাখল। মেয়েটা কাঁদছে। স্বস্তির কান্না। ভালোবাসার মানুষের দুর্ভোগ শেষ হলে স্বস্তির কান্না আসে। তার ছেলে আসেনি। সময় পায়নি। তার গ্রামের পানিতে পেট খারাপ হয়। তার ছেলেরও হয়। 

জনাই উইপোকার ঢিবি হয়ে পুকুরধারে থেকে গেলো। উইপোকাগুলো মাটি চিবিয়ে চিবিয়ে পৃথিবীর বুকের কাছে যাচ্ছে। পৃথিবীর বুকের কাছে নাকি এখনও ভালোবাসার স্তন্যধারা বয়। তাই নাকি সূর্যের আলো আজও পৃথিবীকে ছেড়ে যায়নি। সৃষ্টিকর্তা বলে গেল তাকে, একটা কাক হয়ে।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/148149/</link>
				<pubDate>Sat, 17 Sep 2022 08:19:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বোকা উইয়ের ঢিবি<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
================</p>
<p>মানিয়ে তো নিতেই হবে। চ্যালেঞ্জটা হল নিজস্বতাকে হারাতে দেওয়া যাবে না। সেকি সম্ভব? নিজেকে না বদলে বদলকে মেনে নেওয়া যায়? </p>
<p>দর্জির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই সব ভাবছিল জনাই। তার ছিটটা আস্ত জামা হয়ে গেল। অথচ তার জীবনটা… নাহ্, ভালো দর্জি সে হতে পারল না। এখন আশা ছেলেটাকে নিয়ে। স্বপ্ন। ছেলেটা অঙ্ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-148149"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/148149/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">23bd9e83401b0ea2f73908d8c24c2ea1</guid>
				<title>আপনজন
হাসনাত সৌরভ
==================

কথাটা ঠিক মাছ ধরা না। কথাটা হলো সময় কাটানো। নইলে এই পুকুরে কি এমন মাছ হয় যে সকাল আটটা থেকে বেলা দুটো অবধি বসে থাকা যায়? 

নীলোৎপল চৌধুরী ছিপ ফেলে বসে থাকে। ঘাসের উপর বসা প্রজাপতি দেখে। পুকুরের ওপারে ঘন বাঁশঝাড়ে বসা মাছরাঙা, পানকৌড়ি, বক দেখে। মাঝে মাঝে ছিপে আটকানো মাছ জলে ছেড়ে দেয়। ছিপটা মাথার কাছে রেখে শোয়। আকাশ দেখে। মেঘ দেখে। বুকের ভিতর কাকে যেন খোঁজে। খুঁজতে খুঁজতে খেই হারিয়ে যায়। যেমন তার আশেপাশে সব মানুষ হারিয়ে গেছে। দুঃখও হয় না, দুঃখ পেতে মন লাগে। তার মনই নেই। শুকিয়ে মরে গেছে। 

শরৎ আসছে। নীলোৎপল শুয়ে শুয়ে সাদা মেঘের উড়ে যাওয়া দেখছে। আচমকা ওপারের বাঁশঝাড়ে খড়মড় আওয়াজ হতে ফিরে তাকালো । একটা বেশ ঢ্যাঙা লোক। সরু সরু হাত-পা। একটা নীল প্যান্ট আর হলুদ ফতুয়া গায়ে দাঁড়িয়ে। 

নীলোৎপল ভ্রুটা কুঁচকে তাকালো। গ্রামের এদিকে একে কেউ আসেটাসে না। আর একে তো দেখেইনি কোনোদিন এ গ্রামে। 

ও বাব্বা! একি একি! লোকটা একটা পা বাড়িয়ে দিল, পা-টা ইয়া লম্বা হয়ে পুকুরের এই ঘাটে এসে পড়ল। নীলোৎপল থেকে দশ হাত দূরে হবে। নীলোৎপল ধড়মড় করে উঠে বসল। ততক্ষণে আরেকটা পা ইলাস্টিকের মত লম্বা করে লোকটা এদিকে এসে দাঁড়িয়েছে। কানের পাশ থেকে একটা বিড়ি বের করে তাতে বাঁশির মত ফুঁ দিয়ে বলল, মাচিস আছে? 

মাচিস মানে দেশলাই। আছে। কিন্তু এ কে রে বাবা? 

নীলোৎপল লুঙ্গির প্যাঁচ খুলে দেশলাই বের করতেই লোকটা আবার ইলাস্টিক হাতে ছোঁ মেরে নিয়ে, ফস্ করে বিড়িটা ধরিয়েই, আবার ধাঁ করে তার লুঙ্গির মধ্যে পেঁচিয়ে রেখে দিল। 
কি ঠাণ্ডা হাতের আঙুলগুলো রে বাবা! 

লোকটা পাশে বসে পড়ল। বলল, মাছ উঠেছে? এদিকের পুকুরে মাছ হয় না তেমন…আগে হতো… বঙ্কিম তখন ছোটো… ওর এক খালার বাড়ি ছিল এখানে… সেই যখন আসত… আহা কি আনন্দ…! এই পুকুর থেকেই কত মাছ উঠত…।

নীলোৎপলের মুখটা হাঁ হয়ে গেছে। এটা হয়। ও বুঝল জিভে ঠাণ্ডা হাওয়া লাগতেই। সে বলল, বঙ্কিম? 

লোকটা বলল, বাঙালি তো?

হ্যাঁ…
বইটই পড়া হয়?
হ্যাঁ… ওই কিছু কিছু…

এসব মাস্টারি কথা ভালো লাগে না নীলোৎপলের… সত্যি বলতে স্কুলে যেতেই ভালো লাগত না… কি জানে না সেই নিয়ে মাস্টারদের এতো উৎসাহ তার ভালো লাগত না… সাপের গর্ত, ইঁদুরের গর্ত চেনে না… ওদিকে নাকি গ্রহ-নক্ষত্রের হিসাব কষছে… না পারলে কান মুলে দিচ্ছে… দূর দূর…

ঢ্যাঙা লোকটা বলল, আরে মশায় বঙ্কিমচন্দ্রের নাম শোনেননি? লিখতেন…

ও হ্যাঁ হ্যাঁ… মানে আপনি…?

হ্যাঁ হ্যাঁ… আমি মানুষটানুষ নই… ওসব পাট অনেক দিন হলো চুকিয়েছি… মেলা দিন কারোর সঙ্গে কথাটথা হয় না… তা আপনাকে রোজ দেখি মাছ ধরার ঢং করে এখানে পড়ে থাকেন… তাই ভাবলাম আপনার নিশ্চয়ই সাতকূলে কেউ নেই… তাই আমায় দেখে অক্কা পেলেও কারোর খুব একটা ক্ষতিটতি হবে না…তাই না? 

নীলোৎপলের ভয় লাগতে শুরু করছিল… কিন্তু এমন একটা দুর্বল জায়গায় আঘাত পড়ল… ভয় কেটে অভিমান হলো। কার উপর হলো জানে না। কিন্তু হলো। নকুড় বলল, তা আমার কেউ নেই বটে… তা আপনারও তো কেউ আছে বলে মনে হয় না…

লোকটা তার দিকে তাকালো। হাসল। বলল, মনে লেগেছে কথাটা না? লাগবেই তো… তা যাক… সত্যিটা মেনে নেওয়াই ভালো… নইলে রাস্তা বেড়ে যায়… না? 

নীলোৎপল &#039;হ্যাঁ&#039; বা &#039;না&#039; কিছুই বলল না। সামনে একটা নীলকণ্ঠ এসে বসেছে। কি রঙ! 
লোকটা বলল, আমার নাম যুবেন। যুবেন বুজেন্দ্রে। জন্ম আঠারোশো তিরিশ, মৃত্যু বিষ খেয়ে আঠারো শো বাহাত্তর। নিবাস নৈহাটি। 

নীলোৎপল চুপ করে থাকল। দিনদুপুরে এমন আলাপি ভূতের সঙ্গে বসে থাকাটা কেমন হচ্ছে বুঝতে পারছে না। তার কি ভয় পাওয়া উচিৎ? সৃষ্টিকর্তার নাম নেওয়া উচিৎ? আসলে কোনোদিনই যখন যেটা দরকার সেটা অনুভব হয় না তার। ফুলশয্যার রাতে বউকে গোপালভাঁড়ের গল্প শুনিয়ে রাত কাবার করে দিয়েছিল। বউ তো রেগেমেগে বাপের বাড়িই চলে গিয়েছিল মাস তিনেকের জন্য। ভেবেছিল সে পাগল বুঝি! পরে অবশ্য বুঝেছিল পাগল নয় সে, তবে আর পাঁচটা লোকের মতোও নয়। 

দু&#039;জনেই চুপ করে বসে। ভূত হোক আর যাই হোক, একেবারে কথা না বলাটা অভদ্রতা, সে যখন যেচে এসে আলাপ করেছে। নীলোৎপল গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, তা আপনার থাকা হয় কোথায়? 
যুবেন সামনের বাঁশঝাড়টা দেখিয়ে বলল, ওর পিছনে একটা জলা আছে না? তার পাশে যে মীরদের বাড়ি… তার দোতলায়, ভাঙ্গা ঘরে। 

নীলোৎপলের কথা শেষ। এমনিতেই বহুদিন হল কথা বলার অভ্যাসটাই চলে গেছে। কেউ তার সঙ্গে তেমন একটা কথা বলে না, সেও বলে না। মানুষের সঙ্গেই যখন কথাটথা নেই, তখন আবার ভূতের সঙ্গে…

যুবেন বলল, চলো একটা জিনিস দেখাই তোমায়…।

এই বলে নীলোৎপল কিছু বোঝার আগেই যুবেন ধাঁ করে তাকে তুলে সামনের বটগাছটার একদম মগডালে বসিয়ে দিল। নিজেও বসল পাশে। বলল, দেখো, কি দারুণ দেখায় না এখান থেকে? … ওই দেখো  নদী… ওই দেখো ট্রেন লাইন… ওই দেখো বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ…

নীলোৎপল এত হতভম্ব হয়ে গেছে যে সে কথাই বলতে পারছে না। রাগ হওয়া উচিৎ ছিল তার। হলো না। বরঞ্চ ভীষণ হাসি পেল। এই এত বয়সে কেউ তাকে কোলে নিতে পারে ভাবতেই ভীষণ হাসি পেতে শুরু করল। হাসা তো যায় না। কি মনে করবে যুবেন। নীলোৎপল বলল, বাহ! দারুণ সত্যি। আচ্ছা আপনি আমায় এইভাবে সমুদ্রে নিয়ে যেতে পারেন? আমার আসলে…।

বলতে বলতে একরাশ লজ্জা এসে তার গলা চেপে ধরল। তার মধ্যে যে এখনও কোনো ইচ্ছা এইভাবে ঘাপটি মেরে তাকে লুকিয়ে জীবিত আছে জেনেই লজ্জায় মাথাটা নীচু হয়ে গেল নীলোৎপলের। 

যুবেন বলল, সে হতেই পারে। কিন্তু আপনি অসুস্থ হয়ে যাবেন। অতটা রাস্তা ঝোলাপথ…মানে ঝুলে ঝুলে যাওয়া ঠিক নয়… তাই না? 

নীলোৎপল বলল, তা তো ঠিক। 

কতক্ষণ গেল সময় বলতে পারবে না নীলোৎপল… হঠাৎ দেখে কই, যুবেন নেই তো? চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখল। নেই। এদিকে আর খানিক বাদেই সন্ধ্যে হয়ে যাবে। এইবার? কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল সে। আর অপেক্ষা করা যায় না। কিন্তু এই এতবড় গাছে তো ওঠেইনি কোনোদিন, নামবে কি করে? 

কান্না পেল নীলোৎপলের। দুটো হাতে দুটো গাছের ডাল ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে দিল। আবারও আশ্চর্য হলো। এত কান্না আছে তার মধ্যে জমে? যত কাঁদে তার মনটা তত তাজা হয়ে যায়। কি আশ্চর্য! সবার কথা মনে করে করে ডাক ছেড়ে কাঁদতে শুরু করল সে। যত কাঁদে তত মনের মধ্যে কি একটা উৎসাহ ভরে ওঠে। এই তো বেঁচে আছে সে…এই তো বেঁচে আছে… 

এদিকে এত কান্নাকাটির চোটে খেয়ালই করেনি কখন অন্ধকার হয়ে গেছে চারদিক। ঝিঁঝিঁ ডাকছে। জোনাকি জ্বলছে। শিয়াল ডাকছে। এইবার? 

কিছু বোঝার আগেই ঠাণ্ডা দুটো হাত তাকে জাপটে ধরল। নীলোৎপল ভয়ে চোখ বন্ধ করে দিল। চোখ খুলেই দেখে সে তার বাড়ির উঠোনে শুয়ে। তার মুখের উপর ঝুঁকে পড়ে আছে যুবেন। বলছে, এক ঘন্টা পরে উঠো, কোমরটা টাটাবে নইলে… আর শোনো, বুঝেছ তো এখনও অনেক কাজ বাকি… যা করতে হবে শুরু করে দাও…

নীলোৎপল মাথা নাড়ল। মনের মধ্যে এমন মিহি সুখ কদ্দিন পায়নি। ঘুম চলে আসছে। 

এরপরের গল্প তেমন কিছু নেই। নীলোৎপল একটা ট্র্যাভেল এজেন্সি খোলে। নাম দেয় যুবেন ট্র্যাভেল। তীর্থযাত্রী নিয়ে যায়। লাভ যত না হয় তৃপ্তি হয় তার চাইতেও বেশি। লোকে বলে নীলোৎপলের সঙ্গে যাওয়া মানেই তীর্থ সার্থক। 

নীলোৎপল বুঝেছে, সংসারে চলতে চলতে পরিজন বাড়লেও আপনজন বাড়ে না। আপনজনের খোঁজেই মানুষ তীর্থে পা বাড়ায়। সবাই কি আর পুণ্য খোঁজে? বুকের ভিতর সৃষ্টিকর্তাকেও আপনজন করে চায় মানুষ। আপনজনের স্পর্শ জগতের পবিত্রতম স্পর্শ। সেই স্পর্শে লোহা সোনা হয়। মানুষের আসল খোঁজ সেই আপনজনের খোঁজ। 

মাঝে মাঝে অবশ্য উদাস হয় নীলোৎপল। যুবেনকে খোঁজে। পায় না। যুবেনকে মনে পড়লেই বঙ্কিমচন্দ্র পড়ে । ভালো লাগে। মন খারাপের মধ্যেও সুখ হয়। কেউ যেন তার আছে। কোথায় আছে তা জানে না। কিন্তু কেউ একজন যে আছে সে জানে। আর সেই জানাতেই কি শান্তি!

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/145146/</link>
				<pubDate>Sat, 10 Sep 2022 11:27:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আপনজন<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
==================</p>
<p>কথাটা ঠিক মাছ ধরা না। কথাটা হলো সময় কাটানো। নইলে এই পুকুরে কি এমন মাছ হয় যে সকাল আটটা থেকে বেলা দুটো অবধি বসে থাকা যায়? </p>
<p>নীলোৎপল চৌধুরী ছিপ ফেলে বসে থাকে। ঘাসের উপর বসা প্রজাপতি দেখে। পুকুরের ওপারে ঘন বাঁশঝাড়ে বসা মাছরাঙা, পানকৌড়ি, বক দেখে। মাঝে মাঝে ছিপে আটকানো মাছ জলে ছেড়ে দেয়। ছিপটা মাথার কাছে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-145146"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/145146/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b53c95d02e599a812744cbdd34e0a446</guid>
				<title>ফুলমণি
হাসনাত সৌরভ
=======================

গত তিনদিন ধরে মাছ কেন প্রায় কিছুই পেটে পড়েনি ফুলমণির। তিপ্পানোর বি বাড়ি থেকে যা রোজকার উচ্ছিষ্ট পেত তাতে পেট না ভরলেও মনকে চুপ করিয়ে রাখা যেত। কিন্তু তিন দিন ধরে ওরা নেই। সম্ভবত বিয়েবাড়ি গেছে। বাজারের যা আগুন দাম, গেরস্থের কলাটা মুলোটা যে পড়ে থাকবে তার জো নেই। অগত্যা ডাস্টবিন!

কিন্তু যেগুলো পড়ে আছে সেগুলো সব খাবার অযোগ্য! সত্যিই পেলাস্টিকের দৌরাত্ম্যে বাদবাকি কিছুই আর ডাস্টবিন সাজায় না। হঠাৎ ঝুপ করে একটা শব্দ হতেই ঘোলাটে চোখ তুলে তাকালো ফুলমণি আওয়াজের দিকে।

গলি পেরিয়েই বড় রাস্তাটার মোড়ে কী যেন একটা পেলাস্টিকের মতো ঝুপ করে পড়ল। চোখ সরু করে দেখেই কেমন যেন একটা মনে হতে লাগল, পেলাস্টিকটা নড়ছে! আলো! আলো! আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে! মাছ না? হ্যাঁ মাছই তো! এখনও নড়ছে! ছুট লাগাল ফুলমণি, ওই ধ্বসে যাওয়া পাঁজর বের করা শরীর নিয়েই ছুট লাগাল ফুলমণি।

আহা মাগুর বা কই হবে! গহনের মা কালোজিরে কাঁচামরিচ দিয়ে একটা মাগুরের ঝোল বানাতো! অমিত্তোর থেকে কম নয় সেটা! গহনের মা গেছে তা প্রায় ছমাস হলো! তার সঙ্গে মাগুরের ঝোলও চলে গেছে ফুলমণির।

আর চার কদম! রাস্তাটা এসেই গেল। চিলে ছোঁ মেরে নিলে, বা কুকুরে মুখে তুললে আর দেখতে হবে না! রাস্তাঘাটে ভিখিরির সংখ্যাও তো কম নয়! হেই খোদা! আর পাঁচ সাত সেকেণ্ড যেন কেউ দেখতে না পায়! উত্তেজনায় হাঁপাতে হাঁপাতে পেলাস্টিকটাকেই পাখির চোখ করে বড় রাস্তায় ঝাঁপাল ফুলমণি!

একটা মোটরবাইক ডানদিক দিয়ে আর একটা ভ্যানরিক্সা বাঁদিক দিয়ে তেড়ে আসছিল। দেখতেও পায়নি ফুলমণি, শুনতেও পায়নি! কিন্তু কে কাকে ছাড়বে এই করতে গিয়ে দুজনেই জট পাকিয়ে গিয়ে তেড়ে গালাগাল লাগাল! ভ্যানের চাকাটা ডান হাঁটুর কাছটায় ঠুকল! লাগল বোধহয়, অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় পাস কাটিয়ে পড়ন্ত মোটবাইকের হ্যাণ্ডেলের উপর দিয়ে লাফ দিয়ে গিয়ে পৌঁছল প্যাকেটটার কাছে। খুব বাঁচান বেঁচে গেছে বোধহয়! কিন্তু সেসব দেখার সময় নেই তার। পেলাস্টিকটা তখনও খলবল করছে। পিছনে বাইকটা আর ভ্যানওলাটার গলা আর পাঁচটা জিজ্ঞাসু নজরের আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে এসে সবুজ রঙের পেলাস্টিকটাই সারসত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য ফুলমণি পেলাস্টিকটা তুলতেই বুঝতে পারল মাছ নয় ইঁদুর। ইঁদুর? এ পাড়ায় ইঁদুর আছে নাকি? জানত না তো আগে! কিন্তু তাই সই। এ দুর্মূল্যের বাজারে ইঁদুরই রাজভোগ। পেলাস্টিকটা তুলে ঘুরতেই সম্বিত ফিরে পেল! কোমরের কাছটায় অসম্ভব ব্যথা। অত ভ্রূক্ষেপ করলে কি চলে? খুব খুব জোর বাঁচান বেঁচেছে বটে! কিন্তু তাতে কী? ইঁদুরটাকে এক ঝটকায় মেরে পেলাস্টিকটা তুলে নিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে গলির দিকে হাঁটা লাগাল ফুলমণি! বেড়ালদের যেন কটা জান থাকে?

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/139136/</link>
				<pubDate>Sun, 28 Aug 2022 06:58:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফুলমণি<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=======================</p>
<p>গত তিনদিন ধরে মাছ কেন প্রায় কিছুই পেটে পড়েনি ফুলমণির। তিপ্পানোর বি বাড়ি থেকে যা রোজকার উচ্ছিষ্ট পেত তাতে পেট না ভরলেও মনকে চুপ করিয়ে রাখা যেত। কিন্তু তিন দিন ধরে ওরা নেই। সম্ভবত বিয়েবাড়ি গেছে। বাজারের যা আগুন দাম, গেরস্থের কলাটা মুলোটা যে পড়ে থাকবে তার জো নেই। অগত্যা ডাস্টবিন!</p>
<p>কিন্তু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-139136"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/139136/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">19deaaec47e00e6d4820c0507038b031</guid>
				<title>উভমুখী 
হাসনাত সৌরভ
===================

কারাগার কি শুধু শিকলের হয়? মন নিজে যখন নিজেই নিজের কারাগার হয়ে ওঠে? কিছুতেই নিজেকে ঠেলে নিজের বাইরে যাওয়া যায় না? তখন? সেও এক দুঃসহ কারাগার।

সজল আহমেদ। গ্রামের প্রথম মুদির দোকান তার বাবার বাবার। এখন চলে না। শীতলা ভাণ্ডারের খদ্দের কমেছে। গ্রামই নেই আর। দেখতে দেখতে সব বদলে গেল। এখন তো আধা শহর। এত আলো, তার দোকানের টিমটিমে ডুম কার চোখে পড়বে? ছেলেটাকে বলেছে, চাকরি কর। আর দোকান না। বিক্রি করে দেবে। লোকও দেখছে। 

আজ সকাল থেকে আকাশ ভার। সজল দোকান খুলে, ধুলো ঝেড়ে বসেছে সবে। পত্রিকাটা আনা হলো না বাড়ি থেকে। পত্রিকা না থাকলেই মাথায় রাজ্যের চিন্তা বাসা বাঁধে। গোটা অতীতটা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে সামনে এসে দাঁড়ায়। সব ভুল করেছে। অতীতটা দেখলেই গা শিউরে ওঠে। এতো ভুল মানুষ করে কি করে? হয়তো এখনো কিছু না কিছু ভুল করেছে, আজ থেকে দশ বছর পর বেঁচে থাকলে মনে হবে হয়তো। 

পঞ্চাশের দোরগোড়ায় সজল। কিন্তু আর ভালো লাগে না বয়েসটাকে বাড়িয়ে নিয়ে যেতে। বেঁচে থাকার কোনো তাগিদ অনুভব করে না। সমস্ত সত্তা জুড়ে যেন ঘুণপোকা। 

‘সজল ভাই, কাগজ আনোনি?’ 

রত্না। সেলাই শেখায়। বিয়ে হয়েছিল। সংসার হয়নি। আর বিয়ে করবে না। সজলের থেকে দশ বছরের ছোটোই হবে। 

সজল বলল, ‘না রে…’

বলতে বলতে হুড়মুড় করে বৃষ্টি নামল। এদিকে বাইরে রোদ। রত্না দোকানের মধ্যে ঢুকে এলো। বসল। এ রত্নার রোজকার নিয়ম। পত্রিকা পড়তে আসে। 

রত্না বলল, ‘কি সব ভাবছিলে? এখনো কপালে দাগ মেলায়নি….’

সজল বলল, ‘ভালো লাগে না রে রত্না…. কিচ্ছু ভালো লাগে না… জীবনটা মাটি করলাম নিজের হাতে….’

রত্নার মুখের সহজ ভাবটা কেটে গিয়ে গম্ভীর হলো। বলল, ‘‘তুমি কিন্তু আবার ডিপ্রেশানে যাচ্ছ। গতবার বিষ খেয়ে কি কাণ্ডটা করেছিলে.. আর না। কেন ওসব ভাবো বলো তো? যারাই জীবনকে নিয়ে ভাবে তারাই তোমার মত বিষাদগ্রস্ত হয়। ভাবো কেন? জীবন কি ভাবার জিনিস? বাঁচার জিনিস। আমি যদি ভাবতাম তবে গলায় দড়ি দিয়ে দিতাম। ভেবো না।’’
 
সজল বলল, ‘না ভেবে আমি যে থাকতে পারি না রে… তাছাড়া ভাবার কি আছে বল… এতো স্পষ্টই যে আমি কিচ্ছু করতে পারলাম না জীবনে…. কিচ্ছু না।’ 

সজলের কান্না পেল। চোয়াল, নাক, চোখ কান্নায় টাটিয়ে উঠল। অভিমানের কান্না বড় চড়া। 

রত্না বলল, ‘‘তুমি মরবে … এতো অভিমান ভালো না… সে মানুষের উপরেই বলো আর সৃষ্টিকর্তার উপরে…. আখেরে নিজেরই ক্ষতি…. আমি এই সার বুঝেছি… আমার নিজেকে নিয়েও কোনো অভিমান নেই…. কি হবে বলো… ভাগ্য বলো… কর্মফল বলো… ভবিতব্য বলো… অদৃষ্ট বলো… সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা বলো…. এসবেরই কোনো মানে নেই। আসল কথা হলো জীবনের ওদিকে বসে আরেকজন কেউ চাল দেয়। তাকে দেখা যায় না। কিন্তু তার চাল এত পাকা যে তার সঙ্গে বোঝা খুব কঠিন… হারজিতের হিসাব খতালে সে-ই জেতে বেশি।’’ 

এতক্ষণে আকাশ কালো করে এসেছে। রত্না বাইরের দিকে তাকিয়ে। যেন নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলছে। 

‘‘আমার যখন সংসার গেল… একা এসে দাঁড়ালাম.. আমার খুব অভিমান হতো.. খুব…তারপর কি এক রোগ হল প্রায় মরো মরো হলাম… জানো তো সব…. মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে সেই সময় মনে হচ্ছিল আসলে আমি ছাড়া আমার কি আছে সংসারে বলো… কিচ্ছু নেই…’’

সজল রত্নার কথা শুনতে শুনতে কখন নিজেকে ছাড়িয়ে এসেছে। রত্নাকে বলল, ‘‘তোর আবার বিয়ে করতে ইচ্ছা করে না রে…কাউকে ভালো লাগেনি?’’ 

রত্না তাকালো না। চুপ করে থাকল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, ‘‘যে নিজেকে নিয়ে একবার বাঁচতে শিখেছে সে আর সমাজের ভালোবাসায় ডোবে না, না শরীরের জন্য ডোবে। না শরীর, না সমাজ। দুটোর ডাকই বাইরের। প্রাণের ভিতর ডাক পাঠাতে পারে এমন তো কাউকে দেখলাম না….’’

সজল হো হো করে হেসে উঠল। রত্নাও হেসে উঠল। 

সজল বলল, চা খাই চল। 

রত্না বলল, চলো। 

বৃষ্টি ধরে গেছে। রত্না আর সজল বিপুলের চায়ের দোকানে বসে। কেউ কথা বলছে না। কিন্তু বুকটা কি হাল্কা। মানুষ কথা বলবে বলেই তো কথার আবিষ্কার। কথা দিয়ে মনের মেঘ কাটে। কথা দিয়ে বৃষ্টি হয়। কথা দিয়ে ফসল বোনে। কথাতেই মানুষ বাঁচে। চিন্তা মানে তো একমুখী কথা। বন্ধু মানে উভমুখী। রত্নার দিকে সকৃতজ্ঞ তাকালো সজল। রত্না। বড় ভালো মানুষ। বন্ধু।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/134864/</link>
				<pubDate>Sat, 20 Aug 2022 08:28:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>উভমুখী<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
===================</p>
<p>কারাগার কি শুধু শিকলের হয়? মন নিজে যখন নিজেই নিজের কারাগার হয়ে ওঠে? কিছুতেই নিজেকে ঠেলে নিজের বাইরে যাওয়া যায় না? তখন? সেও এক দুঃসহ কারাগার।</p>
<p>সজল আহমেদ। গ্রামের প্রথম মুদির দোকান তার বাবার বাবার। এখন চলে না। শীতলা ভাণ্ডারের খদ্দের কমেছে। গ্রামই নেই আর। দেখতে দেখতে সব বদলে গেল। এখন তো আধা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-134864"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/134864/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fc9168ed1e971107b1b6d25964c3ccda</guid>
				<title>অবিদ্যমানতা
হাসনাত সৌরভ
=====================

একদিনের জন্য ছেলেটাকে বিক্রি করে দিয়ে রুমানার খারাপ লাগছে না। যেই সময় যাচ্ছে, এরকম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিজে থাকে সেটা কোনো বিষয় না। কিন্তু ছেলেটার বয়স সাত। তাকে এভাবে রাখতে রুমানার কষ্ট হয়। রুমানা যেই বাড়িতে কাজ করে সেখানকার গৃহকর্ত্রী হঠাৎ করে আজ এরকম প্রস্তাব পেশ করল। একদিন বাচ্চাটা দিতে হবে। বিনিময়ে আট হাজার টাকা দেওয়া হবে। রুমানা আসলে ফ্রি-ই দিত। এ ধরনের বড়লোকের সঙ্গে মিশে যদি একবেলা খাওয়া যায়, কিছু ভালো পোশাক পরা যায় তাতে ক্ষতি কী?

রুমানা টাকার ব্যাপারে আর উদারতা দেখায় নি। স্বামী অন্য জায়গায় বিয়ে করলেও মাঝেমাঝে এসে টাকা চায়। এ জন্যেই হয়তো এখনও আসে। রুমানার ইচ্ছা করে না সে চলে যাক।

দুপুর থেকে রুমানার কেমন খালি খালি লাগতে লাগল। খুপরিতে মাত্র দুইজনেরই জায়গা হয় না তবুও তার খালিখালি লাগছে। অন্য সময়ে ছেলেটা নিজে শোয়ার জন্য মার কাছে আবদার করত। আজ নিজে ভালো জায়গা নিয়ে শুয়েও ভালো লাগছে না। বিকেলবেলা ছেলের দলবল এসে ওর খোঁজ করল। আজ মার্বেল টুর্নামেন্ট। রুমানার ছেলে টপ স্ট্রাইকার। রুমানার মনই খারাপ হয়ে গেল।

রাত দশটার দিকে গাড়ি এসে বস্তির সামনে থামল। রুমানা দেখল গাড়ি খুলে দিতেই তার ছেলে তার দিকে দৌড়ে আসছে। ছেলে এসেই রুমানার পা জড়িয়ে ধরল। রুমানার সারাদিনের একাকিত্ব নিমেষে কেটে গেল। ছেলেটার গায়ের দামি শার্ট আর প্যান্টও কোনো বিলম্ব সৃষ্টি করল না।

ভদ্রমহিলা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে এসব দেখছিলেন। এইবার বললেন— তোমার ছেলেটাকে আমার আজ খুব ভালো লেগেছে। ওকে পুরোপুরি বিক্রি করবে? আমি ভালো পেমেন্ট করব।

ছেলে অতকিছু বুঝে না। সে এর মধ্যেই তার সঙ্গের ছেলেপেলেদের খুঁজে বের করে নিজের পরনের জামা দেখাচ্ছে। রুমানা একটুও দেরি না করে বলল— এক্কারে না। প্রতি মাসে ভালো করে দেওন লাগবি।

ছেলেটার বাবা পরের সপ্তাহেই যে আসবে। হাত একদম খালি।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/133001/</link>
				<pubDate>Tue, 16 Aug 2022 11:29:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অবিদ্যমানতা<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=====================</p>
<p>একদিনের জন্য ছেলেটাকে বিক্রি করে দিয়ে রুমানার খারাপ লাগছে না। যেই সময় যাচ্ছে, এরকম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিজে থাকে সেটা কোনো বিষয় না। কিন্তু ছেলেটার বয়স সাত। তাকে এভাবে রাখতে রুমানার কষ্ট হয়। রুমানা যেই বাড়িতে কাজ করে সেখানকার গৃহকর্ত্রী হঠাৎ করে আজ এরকম প্রস্তাব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-133001"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/133001/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">88220403ad772247a688519812b12fa2</guid>
				<title>রুপোলি আঁশ
হাসনাত সৌরভ
=======================

সামনে ল্যাপটপ খোলা। একটা লেখা নিয়ে ভাবতে ভাবতে জলের গ্লাস হাতে তুলে নেয় রূপম। হঠাৎ দমকা বাতাসের মতো হাসি ছড়িয়ে পড়ে তার ঘরে। হকচকিয়ে যায় সে। কে হেসে উঠল! ঘরে তো কেউ নেই! আচমকা চোখ পড়ল আয়নায়। তারই প্রতিবিম্ব, অথচ চোখে কৌতুক, মুখে হাসির আলখাল্লা!

তুমি কে?

কোনও জবাব না-দিয়ে শুধু তার চোখে চোখ রাখে প্রতিবিম্ব। তারপর নিজের চুলে হাত বোলায়, জামার কলার ঠিক করে। রূপমের উপস্থিতিকেই যেন অগ্রাহ্য করতে চাইছে সে।

আমার কথা শুনতে পাচ্ছ না? কে তুমি? বিরক্ত হয় রূপম।

একই কথা ব্যঙ্গকণ্ঠে বলে প্রতিবিম্ব। দাউদাউ রাগে রূপম হাতের গ্লাস থেকে জল ছুঁড়ে দেয় আয়নায়। সেই জল ছিটকে আসে তার গায়ে। বুক-পেট-হাত-মুখ সর্বত্র জলের ছিটে লাগে। প্রতিবিম্ব হো হো করে হেসে বলে, তাকিয়ে দেখো নিজের দিকে।

রূপম আবিষ্কার করে, তার সারা শরীরে রুপোলি আঁশ ভরে গেছে। চেষ্টা করেও তুলতে পারছে না সে!

–উঠবে না, যতই মেহনত করো।
–মানে?
–তুমি তো আঁশের আড়ালেই থাকতে চাও সারাক্ষণ। সবকিছু দেখেও দেখো না, শুনেও শোনো না। নিজের বৃত্ত ছাড়া কিছু বোঝো?

দমবন্ধ হয়ে আসে রূপমের। প্রবল অস্বস্তি কাটাতে ছুটে বাইরে বেরিয়ে এসে দেখে, রাস্তায় চলাচল-করা লোকজনের গায়েও রুপোলি আঁশে ভরা। তার মতোই। খানিকটা দূরে একজনকে দেখতে পায় সে, যার গায়ে কোনও আঁশ নেই। সম্মোহিতের মতো তার দিকে এগিয়ে যায় রূপম। কাছাকাছি এসে লোকটাকে চিনতে পারে সে। প্রতিবাদী এই লোকটা গতমাসেই খুন হয়েছে না? যাকে সে একসময় খুব পছন্দ করত!

থমকে দাঁড়ায় রূপম। ক্রমশ অদৃশ্য হয়ে যায় লোকটা। রূপম তাকিয়ে থাকে নিজের শরীরময় রুপোলি আঁশের দিকে।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/131253/</link>
				<pubDate>Thu, 11 Aug 2022 11:52:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রুপোলি আঁশ<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=======================</p>
<p>সামনে ল্যাপটপ খোলা। একটা লেখা নিয়ে ভাবতে ভাবতে জলের গ্লাস হাতে তুলে নেয় রূপম। হঠাৎ দমকা বাতাসের মতো হাসি ছড়িয়ে পড়ে তার ঘরে। হকচকিয়ে যায় সে। কে হেসে উঠল! ঘরে তো কেউ নেই! আচমকা চোখ পড়ল আয়নায়। তারই প্রতিবিম্ব, অথচ চোখে কৌতুক, মুখে হাসির আলখাল্লা!</p>
<p>তুমি কে?</p>
<p>কোনও জবাব না-দিয়ে শুধু তার চোখে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-131253"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/131253/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6e881f62bece1fac2963f574cba1b0a2</guid>
				<title>অণুগল্প
হাসনাত সৌরভ
========================

‘‘মুক্তি’’
-----------------
ছয় বছরের সম্পর্ক। দুই বাড়িতে ধীরে ধীরে চার হাত এক করার কথা চলছে। কলেজ-প্রেম-ইউনিভার্সিটি ছাড়িয়ে এখন চাকরি জীবনে। দেখতে বাইরে থেকে ভারী মিষ্টি মিষ্টি সম্পর্ক।

কিন্তু মেয়েটির একটিই সমস্যা— বড্ড ভালোবাসে, বড্ড পজেসিভ। এই নিয়ে বর্তমানে  চাকুরিসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকা ছেলেটির জীবন ওষ্ঠাগত। বড্ড ভালোবাসায় দু’জনেই হাঁপিয়ে উঠছে। মেয়েটি বুঝতে পারছে ছেলেটি আর তার এক  কলিগ খুব কাছে চলে আসছে। ইনট্যুশন, কিন্তু পুরোটা কিছু ঘটনার ডালপালা মেলালে অঙ্কটা খুব সহজে মিলছে।  মন কখনো তাকে মিথ্যা বলেনি।

দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। ছোটোবেলাকার প্রেম-গ্রিটিংস কার্ড যা যা জ্বালানো যায় জ্বলছে। একটা আগুনে এত মুক্তির স্বাদ কোনোদিন মেয়েটি পায়নি। অ্যাত্ত ভালোবাসা থেকে মুক্তি...


‘‘ভাঙন’’
----------------
বউভাতের পরের দিন। প্রচুর গিফট-তত্ত্ব সব ঘরের এদিক-ওদিক ছড়িয়ে। ঘরের মধ্যে বাসি ফুলের গন্ধ। একটু আগে ননদেরা, শাশুড়িরা আর যত আত্মীয়া আছে কোনটা কে হয় এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি নন্দিনী।

সবার মধ্যে গিফট-তত্ত্ব বিলিবাটোয়ারা হয়ে গেছে। বাকি যেগুলো পড়ে আছে শাশুড়ি বললেন আলমারিতে তুলে রাখতে। কিন্তু কিছুতেই আলমারি খুলছে না। নতুন আলমারি নন্দিনীর বাড়ি থেকে দেওয়া। সবাই চেষ্টা করছে নন্দিনীর বরও পারল না। অবশেষে নন্দিনীর শ্বশুর এলেন তিনিও পারলেন না। হঠাৎ করে একঘর লোকের মাঝে উনি বলে বসলেন, ‘আলমারিটা অরজিনাল ব্র্যান্ডের তো!’

নন্দিনীর বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। চোখের কোণটা ভিজছে। ও বুঝতে পারছে পড়াশোনায় এতো ভালো, এতো ভালো চাকরি করে সে কোথায় এসে পড়ল। হঠাৎ নন্দিনীর শাশুড়ি ঘরে এসে বললেন, ‘চাবিটা ভুল করে এক্সচেঞ্জ হয়ে গেছে’। সবাই বলল, ‘এ বাবা দেখো কি কাণ্ড’। আবার সবাই আগের মতো আনন্দে মেতে উঠল।

কিন্তু এক জায়গায় ভাঙন ধরল সবার অগোচরে। সেই ভাঙন মনে হয় না কোনোদিন জোড়া লাগবে...


‘‘অপয়া’’
-------------------
আজ আগস্টের চার। তনিমার বিয়ের দিন। না বিয়েটা হচ্ছে না। কত কেনাকাটা, ক্যাটারার বুকিং, হল বুকিং, বিউটিশিয়ান বুকিং, ক্যামেরাম্যানের অগ্রিম টাকা সব জলে।

ছাপোষা মধ্যবিত্ত বাড়ির মেয়ে তনিমা। বি. এ পাশ করতেই বাবা বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে শুরু করেছিল। অবশেষে দু’ বছর পর পাওয়া গেছে উপযুক্ত পাত্র। সরকারি চাকরি করে। মধ্যবিত্ত মানুষদের মনে হয় ছেলে সরকারি চাকরি মানেই জীবনে দাঁড়িয়ে গেছে। পাত্র রাতুল দেখতেও বেশ। তবে তনিমা দেখেছে একটু আঁতেল টাইপ। কী করবে তানিমা। সরকারি চাকুরে, পৈতৃক বাড়ি, দেখতে শুনতে ভালো, শুধু আঁতেল হবার কারণে এই পাত্র হাতছাড়া করবে না বাবা।

বিয়ের কার্ডগুলো পড়ে রয়েছে। এখনও কিছু বিলি করা বাকি ছিল।  ২০ শে জুলাই তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস ধরা পড়লো। তখনো তনিমা ভেবেছিল চার তারিখে বিয়ে তার আগে সব ঠিক হয়ে যাবে। হলো না কিছু ঠিক। শুধু তনিমা একটা দারুণ তকমা পেল। অপয়া। ছেলের মা, চাচি সবাই বলেছে  এ জনমে  তারা শোনেনি এরকম ঘটনা। তনিমার বাবাও গজগজ করছে কোনো অ্যাডভান্স টাকা ফেরত না পেয়ে। শুধু কোনো দোষ নেই সরকারি চাকুরে রাতুলের।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/128622/</link>
				<pubDate>Thu, 04 Aug 2022 12:03:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অণুগল্প<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
========================</p>
<p>‘‘মুক্তি’’<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
ছয় বছরের সম্পর্ক। দুই বাড়িতে ধীরে ধীরে চার হাত এক করার কথা চলছে। কলেজ-প্রেম-ইউনিভার্সিটি ছাড়িয়ে এখন চাকরি জীবনে। দেখতে বাইরে থেকে ভারী মিষ্টি মিষ্টি সম্পর্ক।</p>
<p>কিন্তু মেয়েটির একটিই সমস্যা— বড্ড ভালোবাসে, বড্ড পজেসিভ। এই ন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-128622"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/128622/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0a75ed830967010925f87bfb42901fef</guid>
				<title>হাসনাত সৌরভ and মৌসুমী আহমেদ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/127750/</link>
				<pubDate>Tue, 02 Aug 2022 04:48:41 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e23bfb33f3e1ccd7370f46f614c463a0</guid>
				<title>নিরুদ্দেশ
হাসনাত সৌরভ
======================

গওহরের এই নিয়ে তিনটে রাত ঘুম হলো না। ক্ষেতে যায়। গরুকে জাব দেয়। সন্ধ্যেবেলা তাস খেলতে বসে মাঠে। সব ঠিক আছে। কিন্তু মেয়েটাকে নিয়ে চিন্তা। বাঁ হাতের কব্জীর উপর এমন একটা ফুলো উঠছে। টিউমার। এই মাস গেলে বিয়ে। সবকিছু ঠিকঠাক হবে? কি যে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। 

গওহরের বউ নিরুদ্দেশ হয়েছে বছর এগারো হলো। মাথায় গোলমাল ছিল। লোকে বলে ননদ বাণ মেরেছে। ননদের অনেক ঝাড়ফুঁক জানা আছে। বাড়িতে বিরাট দরবারখানা। অর্শের মাদুলি দেয়। কত মানুষ যে অর্শের হাত থেকে বেঁচে গেল ওই মাদুলি পেয়ে সে মা&#039;ই জানেন। কিন্তু ও কেন শম্পাকে বাণ মারবে? 

লোকে কারণ বলে। কেউ বলে, শম্পার কুষ্ঠিতে নাকি লেখা ছিল সে গওহরকে বিষ খাইয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে পালাবে। কেউ বলে, শম্পাও নাকি তুকতাক জানত। সে নাকি আগে তার ননদকে বাণ মারতে চেয়েছিল। কাজ হয়নি। 

গওহর সব শোনে। বিশ্বাস করে না। আবার করেও। গওহর দেখেছে কৃষ্ণপক্ষে তার যা না বিশ্বাস হয়, শুক্লপক্ষে তা-ই বিশ্বাস হয়। কি করে হয় গওহর বুঝতে পারে না। কিন্তু জুঁইকে নিয়ে কি করবে? বোন, অনুলেখাকে বলতে সাহস পায় না। পাছে হিতে বিপরীত করে বসে। এদিকে দুশ্চিন্তায় নিজের ঘুম-খাওয়া মাথায় উঠছে। টিউমার কমাতে না পারলে মেনে নেবে শ্বশুরবাড়ি? 

গওহর ক্ষেত থেকে ফিরছে, রাস্তায় বাল্যবন্ধু পরিতোষের সঙ্গে দেখা। গৌরীপুরের স্টেশন মাস্টার। গ্রামে ছ&#039;মাসে কি ন&#039;মাসে এক-আধবার আসে। ওদের অনেক জমি-জায়গা এদিকে। থাকে না। 

গওহরের মন বলল, পরিতোষই এর বিধান দিতে পারবে। না হয় গৌরীপুর গেলেই হবে। অচিন্তপুর থেকে আর  কদ্দূর? অবশ্য তাদের গ্রাম থেকেই তো প্রায় দেড় ঘন্টার রাস্তা। গওহর বাইকে যাতায়াত করে। 

পরিতোষকে নিয়ে পাশের মসজিদের চাতালে বসল। এ কথা সে কথা বলল। কিন্তু আসল কথাটা বলতে পারল না। কথা কানে হাটে। কে জানে যদি ছেলের বাড়ির কানে যায়? শেখরগাঁও অচিন্তপুরের কাছে? কে জানে বাপু! 

পরিতোষ উঠে গেল। গওহর বসে থাকল। বড় একটা নিমগাছ পাশে। হাওয়া দিচ্ছে বেশ। চোখটা জুড়িয়ে আসছে। খিদে পাচ্ছে যদিও। এগারোটা তো হবে। 

হঠাৎ ডাক আসলো… ‘‘ভাইজান”…

গওহর দেখে অনুলেখা দাঁড়িয়ে। লাল শাড়ি। কপালে বিরাট টিপ। কালো ছোটো মতন মানুষটা। চোখে চশমা।  

গওহরের বুকটা ধক্ করে উঠল। বললো,  ‘তুই এখানে’….

টুম্পু এসেছিল। অনুলেখা জুঁইকে টুম্পু বলে ডাকে। ওর হাতটা দেখালো। দেখ ভাই সামনেই ওর বিয়ে, ও জিনিস এসবে গলবে না, আমি দেখলাম। এই নিয়ে হুজ্জুতি হওয়ার আগে তুই ওকে হাসপাতালে নিয়ে যা আজই। 

গওহর আমতা আমতা করে বলল, কিন্তু সেখানে অনেক লোক… যদি জানাজানি হয়ে যায়? 

অনুলেখা এতক্ষণ দাঁড়িয়েছিল। যেন কথা কটা বলেই চলে যাবে। এই কথাটা শুনে বসল গওহরের পাশে। বলল, আরে বাবারও হাতে ওরকম হয়েছিল, মনে নেই? তারপর মাইতি ডাক্তারের পুরিয়া খেয়েই তো সেরেছিল। মনে নেই তোর? ভালো হোমিওপ্যাথি দেখাবি? 

গওহর বলল, তোর নিজের কিছু জানা নেই?

হঠাৎ চোখমুখের ভাব বদলে গেল অনুলেখার। রাগবে না কাঁদবে বোঝা যাচ্ছে না। গওহরের মুখ শুকিয়ে গেল। অনুলেখাকে সে ভয় করে। কেন করে জানে না। বউ নিরুদ্দেশ হওয়ার পর থেকে আরো ভয় পায়। অনুলেখা একাই থাকে। জমিদার পরিবারের গিন্নীর অর্শ সারিয়ে দেওয়ার পর তারাই জমি দিয়ে, দরবারখানা বানিয়ে দিয়েছে। ওরা ঠিক এখন জমিদার নয়, তবু মজুমদার বাড়িকে সবাই জমিদারবাড়িই তো বলে।

অনুলেখা বলল, ‘বউমণিকে আমি পাগল করিনি ভাই। সে নিজেই হয়েছে। গ্রামশুদ্ধ লোকে যখন বলে, আমি চুপ করে থাকি। কেন জানিস? কারণ ওই মিথ্যের ভয়ে লোকে আমার কাছে ঘেঁষে না। লোকে জানে আমি যেমন অর্শ সারাতে পারি তেমন বাণ মারতেও পারি। 

গওহর বড় বড় চোখ করে বলল, পারিস না বোন? 

অনুলেখার চোখ ফেটে জলের স্রোত নামলো। বলল, বাণ মারতে জানলে আমি নিজেকেই আগে মারতাম ভাই। তোর সুজনভাইকে মনে আছে? বাবার কাছে আসত পান কিনতে?

গওহরের মনে আছে। তাদের পানের বরজ ছিল। এখন নেই। মায়ের মুখটা মনে পড়ল। লাল ঠোঁট। পানে। 

ওই মানুষটাকে আমি চেয়েছিলাম। ওই আমাকে বলেছিল। আমি নিজে বলতে পারিনি। বাবা দেননি, আমাদের কুষ্ঠি মেলেনি বলে। কি হলো বল, সে-ই তো মানুষটা রাস্তায় গাড়ি চাপা পড়ে অকালে চলে গেল। 

গওহর বলল, বাবা হয় তো জানতেন….

বাজে বকিস না ভাই। আমি থাকলে মানুষটা যেত না ওভাবে…. তুই জানিস আমি গৌরীপুর হাসপাতালে একা গিয়েছিলাম ওকে শেষ দেখা দেখতে? জানিস না। কেউ জানে না। আমি সে রক্তমাখা মুখ আজও ভুলতে পারি না। ভুলতে চাইও না। তাই আমিও আর মানুষ থাকলাম না। কারোর কাছে হলাম পীর, কারো কাছে ডাইনি। 

অনুলেখার চোখে এতো জল? অবাক হয়ে দেখতে দেখতে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসছে গওহরের। বোনের হাতটা ধরল। যেন কত যুগ পর মাকে ছুঁলো। বলল, চল, জুঁইকে নিয়ে হাসপাতালে যাই। যাবি? 

অনুলেখা তাকালো গওহরের চোখের দিকে। তার নীচের ঠোঁটটা কেঁপে উঠল। বলল, না ভাই, তুই যা। আমার কপালের সঙ্গে আর নিজেকে জড়াসনি। আমার ভাগ্যের রাস্তা আমিই ঠিক করে নিয়েছি। অমন সোনার মানুষটাই যখন রাস্তায় পড়ে মরে গেল, আমার জন্যে এই রাস্তাই সব। কোথাও থাকব মরে পড়ে…. তোরা ভালো থাক। ওর একটা ছোটো অপারেশানে সব ঠিক হয়ে যাবে। 

অনুলেখা উঠতে যাবে, গওহর হাতটা ধরে নিল। হাতে এত জোর আগে ছিল না তো! অবাক হল গওহর নিজের জোর দেখে। তার আটকাবার ক্ষমতা আছে?

তুই বিয়েতে আসবি না? 

অনুলেখা হাতটা ছাড়াবার চেষ্টা করল না। ভাইয়ের হাতের উপর হাতটা রেখে বলল, দরবারের প্রসাদী ফুল পাঠিয়ে দেব। জুঁইয়ের মাথায় ঠেকিয়ে দিস। ওইতেই সব হবে। 

অনুলেখা চলে যাচ্ছে। জুঁই চলে যাবে। মা, বাবা, বউ সব চলে গেছে। গওহর একবার মাথা ঘুরিয়ে মসজিদের দিকে তাকালো। হাত জোড় করে বলল, আমাকেও নিয়ে যাও খোদা। 

গওহরের চোখের থেকে কয়েক বিন্দু জল মাটিতে এসে পড়ল। মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে বলল, অনুলেখা আর জুঁইকে দেখো খোদা। 

এই প্রথম তার মনে হল বউকে খুঁজতে যাওয়া তার দরকার। জুঁইয়ের বিয়ে হলেই সে বউকে খুঁজতে বেরোবে। না পেলে সে-ও না হয় নিরুদ্দেশ হবে! ক্ষতি কি?

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/127470/</link>
				<pubDate>Mon, 01 Aug 2022 10:32:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নিরুদ্দেশ<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
======================</p>
<p>গওহরের এই নিয়ে তিনটে রাত ঘুম হলো না। ক্ষেতে যায়। গরুকে জাব দেয়। সন্ধ্যেবেলা তাস খেলতে বসে মাঠে। সব ঠিক আছে। কিন্তু মেয়েটাকে নিয়ে চিন্তা। বাঁ হাতের কব্জীর উপর এমন একটা ফুলো উঠছে। টিউমার। এই মাস গেলে বিয়ে। সবকিছু ঠিকঠাক হবে? কি যে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। </p>
<p>গওহরের বউ নিরুদ্দেশ হয়েছে বছর এগারো হলো। মাথা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-127470"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/127470/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">89e6e21e5f613a16a8dec701ff8918ae</guid>
				<title>মায়াশহরে সূর্যাস্ত
হাসনাত সৌরভ
=======================

অনেক ঝড় ঝাপটার পর সৈকত আর মৌলির বিয়েটা হয়েই গেল, বিয়ের দ্বিতীয় দিন সৈকত একটু চেষ্টা করেছিল মৌলির মুখের দিকে তাকাতে। কিন্তু ওমন ভার মুখ দেখে নিজেই কেমন চুপসে যায় ও। পাছে আত্মীয়রা ওর ভেতরটা বুঝে ফেলে তাই কপট গাম্ভীর্যে অহেতুক কাজে ডুবে ছিল। বড়মামা বারবার ওকে লক্ষ্য করছিলেন। সন্ধে বেলা বোমাটা ফাটালেন। বললেন ‘সৈকত এদিকে আয়, তোদের বিয়ের গিফটটা মৌলির হাতেই দেব কিন্তু তুইও সামনে থাক!’ সৈকত না করতে চেয়েছিলো কিন্তু কেউ কিছু ভেবে বসে ঐ আশঙ্কাতেই ওদের শোবার ঘরে গিয়ে দাঁড়ালো।

মৌলি এ বাড়িতে এসে অবধি কারো সাথেই কোনো কথা বলেনি, কেউ তাকে ঘাটায়ওনি। এমনিতে উত্তরবঙ্গের তার ওপর আবার চাকুরিজীবী। আর সৈকত ছাপোষা চট্টগ্রামের! বনেদীয়ানা রক্তে, যদিও সফল আই.টি প্রফেশনাল তবু স্বভাবে সেই দেখনদারিটা নেই। সযত্নে আগলে রাখা কিছু বিশ্বাসই ওর সম্বল। ঘরের কোণে দাদার হারমোনিয়ামটা, বাবার ঝর্ণা কলম, মায়ের লালপাড় গরদের শাড়িটা-সবই সে মৌলির জন্য বা ওর জায়গায় যে আসত সেই কল্পনার মানসীর জন্য যত্নে লালন করত। কিন্তু মৌলি সেদিন পরিষ্কার জানিয়ে দিল চুক্তি ফুরালেই ও নাকি মুক্তবিহঙ্গ !

আজ দুদিন হল ওরা দার্জিলিং এসেছে। বড়মামা সেদিন হানিমুনে যাবার যাবতীয় বন্দোবস্ত করে সব কাগজপত্র মৌলির হাতে তুলে দিয়েছিল। মৌলির জোড়া ভ্রু আরো কাছে চলে আসতে দেখেছিল সৈকত আড়চোখে।  এখানে আসছে থেকে হোটেলের চৌকাঠ মাড়িয়ে বাইরে যায়নি মৌলি। তাই আজ সৈকত একাই বেরিয়েছে। ম্যাল থেকে সোজা নেহেরু রোড ধরে গ্লেনারিজ এর দিকে এগিয়ে গেল ও। এক পাশে ক্যাপিটাল সিনেমাকে রেখে আর একটু এগিয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে খানিকটা এগিয়ে গেলে বিখ্যাত কিউরিও শপ পেনাং। ভেতরে ঢুকল সৈকত। কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ, ম্যাল, ইতিহাসের ভগ্নাংশে সাজানো এক আশ্চর্য ম্যাজিক পৃথিবীতে ঢুকে কেমন আবিষ্ট হয়ে পড়ল সৈকত। মৌলির কথা মনে করে ওর বুকের ভিতরটা নগ্ন ল্যাম্পের আলোর মত দপ করে জ্বলে উঠল ! হঠাৎই ফিরতে শুরু করল ও। পিছনে পড়ে রইল মনাস্ট্রীর প্রার্থনা হুইল, ড্রাগন, হরিণ, লতাপাতা দিয়ে সাজানো নকশাকাটা একটা জীবন।

পরদিন সকালটার আবহাওয়া বেশ মনোরোম! আজ ওরা ভুটানঘাট চলে যাবে চিলাপাতা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে। মৌলিও রেডি হয়েছে তাড়াতাড়ি। আচমকা সৈকতের লাগেজ গোছাতে শুরু করছে দেখে অবাক হয় সৈকত ! ভালোলাগাটা তৈরি হতে দেয়নি ভেতরে, কি হবে।

ভুটানঘাট পৌঁছোতে ওদের সন্ধ্যা হয়ে গেল। ক্লান্ত শরীরটা টেনে হোটেলের পথে নিতেই নাকে আসল সসেজ ভাজার মোহিনী সুঘ্রাণ। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল একটা নেপালি কিশোর কড়াই এর ফুটন্ত তেলে বিঘত খানিক লম্বা সসেজ  ভেজে চলেছে, তবে গোটা নয় খণ্ডকারে। এছাড়া ভাজা হচ্ছে ওয়াফেল। এ জিনিস আগে খেয়েছে ও, ইচ্ছে করছিল একটু চেখে দেখার কিন্তু হুঁশ হলো যখন দেখল মৌলি একাই লাগেজ টানছে। ভিতরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো সৈকত।

আসার পথে দেখল পাহাড়ের কোল বেয়ে ছোট্ট নদী রায়ডাক। কুমারী মেয়ের মত নৃত্যছন্দ তার। ফরেষ্ট বাংলো থেকে চোখে পড়ল ঢেউ এর মতো পাহাড়ের সারি। শুনেছে ওই পাহাড় ভেঙে নেমে আসে বুনো হাতির দল। নদীর জলে গা ডুবিয়ে খেলা করে। সে দৃশ্য ভারী মনোরম। ইচ্ছে হলো মৌলিকে ডেকে নিয়ে নদীর পাড় বরাবর হেঁটে আসে, কিন্তু ও জানে তা হবার নয়। নদী, পাহাড় আর অরণ্যের এই আদিমতায় সৈকত নিজেকে কেমন মোহগ্রস্ত সন্ন্যাসীর মত মনে করল। রাতে খুব ড্রিংক করে একাই হাঁটতে থাকে নদীর পাড় ধরে। মৌলি তখন অতল ঘুমের দেশে। নদীর উত্তাল হাওয়ায় ওরও চোখ জড়িয়ে আসে।

বাতানুকুল কটেজ বন্ধ দরজা ঠেলে বাইরে এসেছে মৌলি। নিজের ভিতরের আমিটার সাথে ওর যোজন বোঝাপড়া। তবু এই প্রকৃতি রাজ্যে এসে অনুযোগহীন অনাবিল পার্বত্য সমাজকে দেখে মনটা যেন বুদ্ধের বাণী হৃদয়ঙ্গম করছে। হঠাৎ খেয়াল হল সৈকতকে দেখছে না, বরাবরই দেরিতে ওঠা মৌলি মনে করেছিল সৈকতকে বোধহয় বাইওে দেখতে পাবে। বাইরের টানা বারান্দায় বেতের চেয়ারটায় বসে আশপাশটা দেখছিল ও। কাল খেয়াল করেনি একটা লেক আছে এখানে। চারপাশের ঘন জঙ্গলের ছায়া পড়ে জলের রং পান্না সবুজ। দূরে পাহাড়ে ধাপ চাষের খেত দেখলে মনে পড়ে অবনীন্দ্রনাথের বুড়ো বাংলায় বর্ণিত শতরঞ্জ খেলার ছকের উপমার কথা। এসময় ফাইফরমাশ খাটা ছোট ছেলেটা কফি দিতে এলে জিজ্ঞেস করল সৈকতকে দেখেছে কিনা? ওর উত্তর শুনে এই প্রথম কেমন কাঁপুনি ধরল ভিতরে। ছেলেটা বললো- ‘‘গতকাল রাতে সে সৈকতকে বাইরে যেতে মানা করেছিল কিন্তু সৈকত কিছু না শুনে বাইরের অন্ধকারে পা বাড়িয়েছিল।’’

বেলা গড়ালে মৌলি বুঝতে পারল সৈকত কোথাও নেই। প্রথমেই মনে হল এভাবে ডিচ করল।  কিন্তু ও তো সব জেনেই বিয়ে করেছিল, বলেছিল ওর বুড়ো মায়ের শেষ ইচ্ছা। কিন্তু কেয়ারটেকার ও ম্যানেজার ভয়টা দেখালো। বললো এমন ভাবেই বছর দুয়েক আগে এক টুরিস্ট নদীর ধার থেকে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিল। যদিও তারাই একলা মৌলিকে অভয় দিল ওরা বিষয়টা দায়িত্ব নিয়ে দেখছে। স্থানীয় থানায় একটা জি.ডি করল ওরা মৌলিকে নিয়ে গিয়ে।

সন্ধ্যাবেলা ম্যানেজার খবর দিলেন লোকাল থানার একজন অফিসার এসেছেন। মৌলিকে নিয়ে পাশের আদিবাসী গ্রামে যেতে চান। গতকাল নদীর ধারে বোল্ডারের ওপর রক্তের দাগ দেখে ওরা পাশের আদিবাসী গ্রামে খোঁজখবর নিয়েছিল কিন্তু এখনো কোনো খবর পায়নি তবু শেষবারের মতো মৌলিকে নিয়ে একবার তল্লাশি চালাতে চায়।

পা দুটো যেন হিমশীতল কোন গ্লেসিয়ারের ভিতর থেকে টেনে তুলে উঠে দাঁড়াল মৌলি। খেয়াল করেনি গতরাতের পোষাক এখনও পাল্টানো হয়নি। এভাবেই বেরিয়ে গেল। গাড়িতে যেতে যেতে বুঝল দুপুরের মত বেড়াল পায়ে বিকেলগুলোও চলে গেছে ওর দীর্ঘশ্বাসগুলো ছেড়ে। ঘাসের ওপর খোলস ছাড়ানো ভয়ংকর গোখরাটারও এমন উথালপাথাল যন্ত্রণাময় মন আছে। ধোঁয়ার মত ধূসর শূন্যতায় ভরা নির্জনা রাত্রির দিকে এগুতে এগুতে মৌলি দেখল ভিতরের অসহ্য যন্ত্রণারা অতৃপ্ত কোরাস গাইছে।

গাড়ি থামল একটা আদিবাসী বাড়ির সামনে। ভিতরের ভাঙা খাটিয়ায় যেন স্মৃতি ভুলে যাওয়া অলস দুপুর, নীলাকাশ বিকেল, গৌধুলি, হারিয়ে ফেলা জোছনারা হলুদ হরফে লেখা প্রথম যৌবনের আবেগ নিয়ে ওর দিকে শূন্য চোখে মৌলির রুদ্ধকরে রাখা সব আবেগ অজান্তেই উগরে এলো সৈকতের বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফেরার পথে অফিসার জানালেন গতরাতের ড্রাঙ্ক আহত সৈকতকে নদীর ধারে পড়ে থাকতে দেখেছিল গ্রামবাসিরা। ওরাই শুশ্রুষা করেছিল সৈকতের। খবরও দিয়েছিল বিকালের দিকে থানায়। এসব কথা কিছুই কানে যাচ্ছিলনা মৌলির, ও জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়েছিল। বিজলীবাতির আলোগুলো এই পাহাড়ি জনপদের ঘুমটি দোকানঘরে, বাড়িগুলোতে বড্ড কৃত্রিম মনে হচ্ছিল। অন্ধকারটাই ভালোলাগছিল তার!

টপটপ করে মৌলির চোখ থেকে পড়া জলগুলো সৈকত নিজের উষ্ণ হাতে ছুঁয়ে দিচ্ছে যে এখন।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/125225/</link>
				<pubDate>Sat, 23 Jul 2022 11:03:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মায়াশহরে সূর্যাস্ত<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=======================</p>
<p>অনেক ঝড় ঝাপটার পর সৈকত আর মৌলির বিয়েটা হয়েই গেল, বিয়ের দ্বিতীয় দিন সৈকত একটু চেষ্টা করেছিল মৌলির মুখের দিকে তাকাতে। কিন্তু ওমন ভার মুখ দেখে নিজেই কেমন চুপসে যায় ও। পাছে আত্মীয়রা ওর ভেতরটা বুঝে ফেলে তাই কপট গাম্ভীর্যে অহেতুক কাজে ডুবে ছিল। বড়মামা বারবার ওকে লক্ষ্য করছিলেন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-125225"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/125225/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8ffa93b97f45b1bf6cfd19144674a9c2</guid>
				<title>আলাপের আয়না
হাসনাত সৌরভ
=========================

পাশাপাশি দুটো রেললাইন। একই কারখানায় তৈরি হলেও আগে দুজনের তেমন আলাপ ছিল না। লাইন পাতার পর একসাথে থাকতে থাকতে দিব্যি আলাপ হয়ে যায়, একসাথের অভ্যেস হয়ে যায়। তার ওপর দুজনকে যখন একসাথে কাজ করতে হয়, তখন তো একটা ঘনিষ্ঠতা হতে বাধ্য। তাই গরমের দুপুরে ট্রেন আসার টুটুক টুটুক শব্দটা ভেসে এলে একজন আরেকজন কে হাঁক দেয়, ‘চল রে, তৈরি তো?’ আর একজন পাল্টা হাঁকে, ‘হ্যাঁ ভাই। তবে গরমে পা পুড়ে যাচ্ছে।’ ট্রেন এগিয়ে আসে আরো, এদিকের জন হাঁক ছাড়ে, ‘ওসব বলে লাভ নেই ভাই, দে কাঁধ দে।’ ওদিকের লাইন নিজেকে গুছিয়ে নিতে নিতে বলে, ‘তাও তো তোর দিকে পুকুর আছে, আমার তো শালা ঝলসে দিচ্ছে পুরো।’ ট্রেন চলে আসে একদম সামনে। ঠিক চাকার মাপে-মাপে বসে যায় দুজনে সাথেসাথে। বিরাট দাম্ভিক লোহার শুঁয়োপোকাটা ঝনঝনিয়ে চলে যায় দিব্যি। নীচ থেকে কাঁধ দিতে দিতে এদিকের লাইন বলে ওঠে, ‘পুকুর শুধু দেখতেই ভাই, কচুরিপানা যা ভরেছে না, হাওয়ার হ টুকুও নেই আর।’ ট্রেনের আওয়াজে স্পষ্ট শোনা যায় না সবটা, তবে মনে হয় ওপারের লাইনটা বলে ওঠে, ‘দেখ কদিন পর পুকুর বুজিয়ে ফ্ল্যাট উঠল বলে।’ 

এইবার গরমে অবশ্য একটু ছুটি। ট্রেন কম। মানুষ আরো কম। কাজ শুরুর পর থেকে এমন অবসর দুজনে কক্ষনো পায়নি। বেশ সারাদিন রোদের মধ্যে গা সেঁকে এটাসেটা গল্প করে দুজন। গল্পের মধ্যে চলে আসে গাঁয়ের কথা, সেই যে বুড়োটা কিচ্ছু খেতে পেত না কিন্তু একশো বছর বেঁচে ছিল, তার গল্প করে এই লাইনটা উল্টোদিকের লাইনটাকে। এ আবার নিজের দেশের কথা বলে, মেয়েটা কত বড় হয়েছে কে জানে, বিয়ের জন্য তো কিছুই জমানো হল না। একটা দীর্ঘশ্বাস ভেসে আসে দমবন্ধ পুকুরটার থেকে। 

খুব দেশে ফিরতে ইচ্ছে করে দুজনের। রেললাইন দুটোর ভীষণ ইচ্ছে করে দেশে ফিরতে। দেশে ফিরলে সব ঠিক হয়ে যায়। মায়ের সামনে পাত পেড়ে বসলে ঠিক খুদকুঁড়ো জুটে যাবেই। রেল লাইন দুটো হাঁটতে শুরু করে রাতের দিকে। ওরা শুনেছে নাকি গোটা দেশে যত রেললাইন আছে সব পরপর জোড়া লাগালে এই দেশের ম্যাপটাকে দু তিনবার মুড়ে ফেলা যাবে। হাঁটতে হাঁটতে ওরা ভাবে এইভাবে সত্যিই সব রেললাইন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গোটা দেশটা মুড়ে দিয়েছে একদিন, একটা গোটা দেশ, তার সমস্ত কচুরিপানা ঢাকা পুকুর নিয়ে অবাক হয়ে ভাবছে, এত বড় রেললাইন এতদিন কোথায় ছিল! 

হাঁটতে হাঁটতে রাত গভীর হয় আরো। বাড়ির দিক থেকে হাওয়া আসে একটা। চোখ জুড়িয়ে আসে দুজনের। পা দুটোও বিশ্রাম চায়। গামছা বিছিয়ে শুয়ে পড়ে ওরা। তারপর ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যায়, গরম ভাতের থালা এগিয়ে দেয় বউ, ছেলেটা গা ঘেঁষে থাকে, মেলা বসে ফসল ওঠার পর। ঘুমের মধ্যে একটা দারুন জমজমাট গ্রামের মেলায় ঘুরতে থাকে দুটো রেললাইন। বাঁশি বাজে, খুব খুব বাঁশি বাজে। বাচ্চাকাচ্চার হাসি, হইহই চিৎকার, কলরবে ডুবে যায় ওরা ঘুমের মধ্যেই। 

ফলে ট্রেনটা কখন ওদের বুকের ওপর দিয়ে চলে যায় ওরা জানতেই পারে না।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/124454/</link>
				<pubDate>Sun, 17 Jul 2022 06:32:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আলাপের আয়না<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=========================</p>
<p>পাশাপাশি দুটো রেললাইন। একই কারখানায় তৈরি হলেও আগে দুজনের তেমন আলাপ ছিল না। লাইন পাতার পর একসাথে থাকতে থাকতে দিব্যি আলাপ হয়ে যায়, একসাথের অভ্যেস হয়ে যায়। তার ওপর দুজনকে যখন একসাথে কাজ করতে হয়, তখন তো একটা ঘনিষ্ঠতা হতে বাধ্য। তাই গরমের দুপুরে ট্রেন আসার টুটুক টুটুক শব্দটা ভেসে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-124454"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/124454/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bc34b57ceb3c397077092e8db515b4ad</guid>
				<title>প্রতীক্ষা
হাসনাত সৌরভ
===========================

বিরাট বটগাছটা ছড়িয়েছে অজস্র ঝুরি। একটাই গাছেতে যেন এক অরণ্য। গাছটার গুঁড়িটা হাতির পেটের মতো মোটা। আর সেইখানেই আস্তানা পীর সাহেবের। অনেকে বলে, ইনি নাকি মহা জাগ্রত। খালি হাতে কেউ নাকি ফিরে যায় না।

শবরীর শূন্য চোখ মাঝেমধ্যে ইতিউতি চলে যাচ্ছে। তারপর ফিরে আসছে পীরসাহেবের কাছেই।

সব বিশ্বাস সত্যি হয় না। অথচ কত মানুষ শুধু বিশ্বাসের বলে বলীয়ান হয়ে এসে বসে আছে এইখানে। দু দণ্ড শান্তি চায় কেউ। কেউ চায় ছেলের চাকরি। কেউ বা অন্য কিছু। শবরী কী চায়, সে বুঝতে পারে না। বা, বুঝতে চায় না। মাসে একটা করে দিন সে এখানে আসে। সকাল-সকালই। হাতব্যাগে সামান্য কিছু খাবার। পানির বোতল। সাজগোজ ততটাই, যতটায় ভিড়ে মিশে যাওয়া খুব সহজে। সারাটা  দিন সে শুধু বসে থাকে। পীরসাহেবের চারপাশের ভিড় থেকে সামান্য দূরে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামলে ফের চলে যায়। কাউকে কিছু বলে না, কোনও তাগা বাঁধে না বটগাছে। তার আসা-যাওয়ায় নৈঃশব্দ্য লেগে থাকে।

আজকেও দিনটা এমনভাবেই কেটে যাচ্ছিল। সন্ধে হয়-হয়। অন্যান্য দিনের মতোই দুই হাঁটুর মাঝে ক্লান্ত মাথাটা গুঁজে শবরী অপেক্ষা করছিল আলো একেবারে মুছে যাওয়ার। এমন সময় কে যেন তার পেছন থেকে নরম গলায় বলে উঠল, আপা, পীরবাবা ডাকছেন।

শবরী চমকে তাকিয়ে দেখল, পীরের এক সাগরেদ। অবাক হল। আজ কি তাহলে সত্যি হবে বিশ্বাস?

একটুখানিই পথ, অথচ পেরোতে লাগল যেন এক জীবন। দূরত্ব পেরিয়ে পীরের সামনে শবরী বসল এসে। দূরত্ব বজায় রেখেই।

হাতের ইশারায় সাগরেদকে চলে যেতে বলে হাসিমুখে পীরসাহেব বললেন, কেমন আছো?

শবরীর চোখ ভিজে। কিন্তু সে হাসিমুখেই বলল, ভালোই আছি।

একটু যেন ইতস্তত করে পীরসাহেব বললেন, ওরা সবাই… ভালো আছে তো?

শবরী এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞেস করল, তুমি কবে আসবে…?

পীরসাহেব তাঁর ধূসর দু চোখে আরেকটু নির্লিপ্তি সাজিয়ে বললেন, যবে নির্বাণ লাভ হবে… তুমি তো জানোই সব…

শবরী হাসল। উঠে দাঁড়াল। পীরসাহেবের পা ছুঁয়ে সে হাত বুলিয়ে নিল নিজের মাথায়। চলে যেতে-যেতে সে শুধু বলল, আচ্ছা… আমি অপেক্ষা করব, কেমন…? আসি?

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/124032/</link>
				<pubDate>Tue, 12 Jul 2022 14:38:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রতীক্ষা<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
===========================</p>
<p>বিরাট বটগাছটা ছড়িয়েছে অজস্র ঝুরি। একটাই গাছেতে যেন এক অরণ্য। গাছটার গুঁড়িটা হাতির পেটের মতো মোটা। আর সেইখানেই আস্তানা পীর সাহেবের। অনেকে বলে, ইনি নাকি মহা জাগ্রত। খালি হাতে কেউ নাকি ফিরে যায় না।</p>
<p>শবরীর শূন্য চোখ মাঝেমধ্যে ইতিউতি চলে যাচ্ছে। তারপর ফিরে আসছে পীরসাহেবের কাছেই।</p>
<p>সব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-124032"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/124032/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">aab8437fc87b48d175695b5c87ca5b56</guid>
				<title>রক্তমণি
হাসনাত সৌরভ
========================

মোবাইলটা অফ্ করে চার্জে বসিয়ে, এসিটা অফ্ করে ঝুল বারান্দায় এসে বসল মল্লিকা। আঁচলে মুখটা মুছে বলল, উফ্...। 

রাত এগারোটা। সারাদিন বৃষ্টি। কেটেছে খানিক আগে। গোটা আকাশ যেন মুছে গেছে কেউ ন্যাতা দিয়ে, যত্ন করে। সবক&#039;টা তারা বসার ঘরের শৌখিন সাজানো জিনিসের মত জ্বলজ্বল করছে। 

তারা দেখলেই এই তিয়াত্তর বছর বয়সটা একটা বাইরের ঘটনা মনে হয়। সমস্ত ছেলেবেলা যেন বুক আঁকড়ে বসে আছে। লুকিয়ে। তারারা ওদের বাসা জানে। ঠিক বার করে আনে। স্কুলের ব্যাগ, ভাত মেখে খাওয়ানোর সময় মায়ের চুড়ির আওয়াজ, বাড়ির সামনের পুকুর, রাস্তা... সব মনে পড়ে যায়। 

ছেলে বাইরে থাকে। ফোন করে। আবার করেও না। আগে কষ্ট হত। এখন হয় না। মানুষের কাছে মানুষ হাত পাতে। ক্রমে হাতটা গুটিয়ে নিতে শেখে। আবার ভুলে যায়, আবার হাত পাতে। হাতের চেটোর এক কোণে পড়ে থাকে দান। অতি সামান্য। লজ্জা দেয়। হাত ফিরে আসে।মল্লিকার হাত পাতার বয়েস নেই আর। বরং হাত জড়ো করে সব স্বীকার করে নিলেই শান্তি। নাড়ি ছিঁড়ে দশমাস পর বেরিয়েছে বলেই কি সব অধিকার তার? 

প্লেন যাচ্ছে। আলোর দবদবানি দেখতে ভালোই লাগে। ওঠা হয়নি। হার্টের অসুখ। ছেলের কাছে চাইলেও যেতে, উপায় নেই। এই ভালো যদিও। অবাঞ্ছিত হয়ে বাঁচা বড় দায়। দেখে শিখেছে। 

 কি করবে এখন? ঘুম তো দুটোর আগে আসবে না। তবে? 

মল্লিকা জীবনের মানে বোঝার চেষ্টা করল আবার। প্রথম থেকে। দুঃখ ছাড়া কিছু তেমন করে সত্য নয় কেন? মানুষ দুঃখকে কি বেশি গুরুত্ব দেয়? মল্লিকা রবীন্দ্রনাথের গানের কথা মনে করল--- &quot;তুমি কোন্ ভাঙনের পথে এলে সুপ্তরাতে….&quot;

 ভাঙছে তো। ভেঙেছে তো। বিশ্বাস। মনে হয়েছিল সব গেল। স্বামী বিয়ে ভাঙল। ছেলে বাইরে গেল। সবারই নিজের অনেক কিছু করার। নিজেদের জন্য। মল্লিকারই যেন কিছু কাজ ছিল না। সে শুধুই তাদের সিদ্ধান্তে রাজী হবে। এই রাজী হওয়াটাই তার কাজ। কর্তব্য। তাও আবার হাসিমুখে নাকি। 

 একদিন নিজেকে জিজ্ঞাসা করেছিল মল্লিকা, এত বড় জীবনে কি আয়ত্ত করেছে? কি অ্যাচিভমেন্ট তার? 

 সগর্বে উত্তর দিয়েছে, যখন মনে হয় মোবাইলটা অফ্ করে দেওয়ার সাহস। শান্তি। স্থিরতা। নিজের সঙ্গে নিজে বাস করার সততা। এই তার অ্যাচিভমেন্ট। 

মল্লিকা গান গাইছে। রবীন্দ্রনাথের গান। নিস্তব্ধ চারদিক--- &quot;আমি রাখব গেঁথে তারে, রক্তমণির হারে&quot;....

রক্তমণি। পেয়েছে। নিজেকে নিজের কাছ থেকে ছাড়িয়ে, নিজের হাতে তুলে দিয়ে। সবটুকু দিয়ে যে নিজেরটা গড়া সেখানে অপূর্ণতা আছে, কিন্তু সংকোচ নেই। কুণ্ঠা নেই। ভিক্ষার অনিশ্চয়তা নেই। তাই শান্তি আছে। 
     &quot;আমার ভাঙল যা তা ধন্য হল চরণপাতে…&quot;

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/122828/</link>
				<pubDate>Thu, 30 Jun 2022 09:49:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রক্তমণি<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
========================</p>
<p>মোবাইলটা অফ্ করে চার্জে বসিয়ে, এসিটা অফ্ করে ঝুল বারান্দায় এসে বসল মল্লিকা। আঁচলে মুখটা মুছে বলল, উফ্&#8230;। </p>
<p>রাত এগারোটা। সারাদিন বৃষ্টি। কেটেছে খানিক আগে। গোটা আকাশ যেন মুছে গেছে কেউ ন্যাতা দিয়ে, যত্ন করে। সবক&#8217;টা তারা বসার ঘরের শৌখিন সাজানো জিনিসের মত জ্বলজ্বল করছে। </p>
<p>তারা দেখলেই এই তিয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-122828"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/122828/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">88b066fda0a182bb7f3fedb0517973db</guid>
				<title>ডানা
হাসনাত সৌরভ
========================

শেষমেষ মেয়েটা রাজি হল। ছুটন্ত ট্রেনটার ভারী চাকাগুলোকে বেছে নিল। পায়ের কাছে রাখা ব্যাগ, আটপৌরে শাড়িটা দুরন্ত ঢেউয়ে ঢেউয়ে লেপটে, প্ল্যাটফর্মটার একেবারে ধার ঘেঁষে অল্প ঝুঁকে দাঁড়ানো।

ট্রেনটা ঢুকছে।

বডিটা ক-টুকরো হতে আর ক-সেকেন্ড।

কিন্তু না। লাইনটার উপর যেই ঝাঁপাতে যাবে, এক হেঁচকায় পিছন থেকে টেনে নিল একটা লোক। তারপর প্ল&#x200d;্যাটফর্মটার উপর ছিটকে পড়ে একেবারে বুকের ভেতর। এত ভেতরে কে থাকে! তার সঙ্গে দেখা হয় না? তো সেখান থেকে মুখ তুলেই সপাটে একটা চড় কষাল মেয়েটি। তারপর সশব্দ ফণা ওঠাল,

–কেন বাঁচালেন আমায়?

লোকটা নিরুত্তর। হাঁপাচ্ছে।

মেয়েটি শান্ত হল। গেল-রাতে ফের রেপড হয়ে গেছে। কোল্ডড্রিঙ্কসের বোতলের ভেতর পাইপ ঢুকিয়ে সবটুকু টেনে নেওয়ার মতো মেয়েটা খালি হয়ে গেলে স্বামীটি মুখ মোছে। তারপর গলা তোলে। পাল্টা স্বরে খেপে যায়। গলা-ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় মাঝরাতে।

এভাবে মাঝেমধ&#x200d;্যেই ছিটকে বাপের বাড়ি।

তবে বেরোতে পারে না।

ক-দিন বাদে ফের মাথা নামিয়ে স্বামীগৃহে।

কিন্তু বাপের বাড়িটি এবার থুম। হয়তো আগেভাগেই পাকাপাকি আসার খবরটা পেয়ে গিয়েছিল। এত ডাকাডাকি, কড়া নাড়া— কিছুতে কারও ঘুম ভাঙে না। মেয়েটি আপাদমস্তক কেঁপে ওঠে। কান্না পায়। শেষমেশ রাজি। কিন্তু কে এই লোকটা! পথে এইরকম কেউ পড়ে? পড়ার কথা?

প্ল্যাটফর্মটা থেকে বেরিয়ে এসেছে। লোকটার পাশে পাশে হাঁটছে। শাড়ির ভাঁজটা আস্তে ভাঙছে পায়ের কাছে। হঠাৎই পাশে প্রশ্ন ঠেলল,

–কী করেন?
–বাঁচি।
–মানে!
–বাড়ি বাড়ি পাখি কিনি।
–কেন?
–উড়িয়ে দিই।

মেয়েটির চোখে জল।

–মানুষ ওড়াতে পারেন?

লোকটা থমকাল। ফের হাঁটতে লাগল। শহরটা থেকে এখন অনেকটা দূর। দূরে সীমানা ছাড়িয়ে এক মাঠ, আকাশ, অন&#x200d;্য জীবন। লোকটা সেখানে পাখি ওড়ায়।

দুজনে সেদিকে হাঁটছে।

দূরে সরে যাচ্ছে চুড়ি, ঘোমটা, একটা রেললাইন…

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/121959/</link>
				<pubDate>Wed, 22 Jun 2022 12:23:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ডানা<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
========================</p>
<p>শেষমেষ মেয়েটা রাজি হল। ছুটন্ত ট্রেনটার ভারী চাকাগুলোকে বেছে নিল। পায়ের কাছে রাখা ব্যাগ, আটপৌরে শাড়িটা দুরন্ত ঢেউয়ে ঢেউয়ে লেপটে, প্ল্যাটফর্মটার একেবারে ধার ঘেঁষে অল্প ঝুঁকে দাঁড়ানো।</p>
<p>ট্রেনটা ঢুকছে।</p>
<p>বডিটা ক-টুকরো হতে আর ক-সেকেন্ড।</p>
<p>কিন্তু না। লাইনটার উপর যেই ঝাঁপাতে যাবে, এক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-121959"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/121959/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f3968eb6e5b2d6c8f1f730d28f480f2c</guid>
				<title>নিষুতি দুপুরে
হাসনাত সৌরভ
=======================

টিফিন ছুটির আগেরটায় একটা আনচান ভাব থাকে। আইঠাই করে ওঠে মন। কখন ঠং-ঠং, ঠং-ঠং করে চারটে ঘন্টা বাজাবে হারুনকাকা অফিসঘরের সামনে, আর কখন ওরা দুদ্দাড় করে দৌড়ে মাঠে গিয়ে নামবে।

আজ গিয়াস রবারের বল এনেছে। দেওয়ালে আটকানো ব্লাকবোর্ডের পাশের ফাঁকাটায় বলটা ছুঁড়ে ফিরতি বল ধরার খেলাটা জমেও গিয়েছিল বেশ। মনিটর রাতুল খালি গজগজ করছিল, খাতা বের করে এক এক করে সবার নাম লিখবে বলে ভয়ও দেখাচ্ছিল। অগত্যা গিয়াসকে ব্যাজার মুখে বলটা লুকোতে হয়েছে। রাতুলটাকে আদৌ বিশ্বাস নেই। হেডমাস্টারের ঘরে বিনে কথায় ফরফর করে ঢুকে পড়ে। পাজি একটা। ক্লাসে মনিটর বলে গুমর কত ব্যাটার!

সুমনস্যারের ইতিহাস ক্লাস শুরু হলো। মানিক ভাবছিল ইঁটের পাঁজার মধ্যে গুঁজে মুজে লুকিয়ে রাখা নারকেল বাকলের ব্যাটটা নিশ্চয় ওখানেই আছে। আজ খেলাটা জমবে ভালো। যদিও বল এনেছে বলে গিয়াস আজ প্রথমে ব্যাট ধরবেই, আর গোটা দুই নিশ্চিত আউট ফাউ নেবে, তবুও ওর হাতে একবার তো ব্যাট আসবেই...তখন......।

‘‘মানকে..., এ্যাই মানকে তুই দাঁড়া তো দেখি,... দাঁড়া। বল...’’

মানিক, যাকে বলে, থতমত খেয়ে কেঁপেই উঠল সটান। কিছুই তো কানে ঢোকেনি এতক্ষণ! 
হঠাৎ বাইরে হৈ হৈ করে একটা শোরগোল উঠল। ক্লাস ফাইভের দিক থেকেই আওয়াজটা আসছে। সুমনস্যারও খানিক থমকে গেছেন। মশমশ করে হারুনকাকা নোটিশ খাতাখানা হাতে গম্ভীর মুখে দরজা দিয়ে ঢুকলো। মানিক মূর্ধন্যর মতো ঘাড়গুঁজে তখনও ঠায় দাঁড়িয়েই।

সুমনস্যার ভ্রু কুঁচকে নোটিশখাতাখানা পড়ে গম্ভীর মুখে বললেন, ‘‘এই সবাই মন দিয়ে শোন, এই স্কুলের এক প্রাক্তন মাস্টারমশাই, শ্রদ্ধেয় বজলুর রহমান গতকাল দেহত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকপালনের জন্য আজ স্কুল অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করা হলো। চতুর্থ, মানে এই পিরিয়ডের পর আর কোনো ক্লাস হবে না, বুঝলি। আর শোন হল্লা করবি না একদম। সব শান্তভাবে বেরোবি।’’ আহা.... মানুষটা চলে গেল গো, এই কদিন আগে... শেষের কথাগুলি মৃদু হয়ে এলো সুমনস্যারের।

মানিক এদিকে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। মনে মনে খুশি খুশি একটা ভাব এলেও একটু দুঃখও হচ্ছিল। বজলু মশাইকে  সে কখনো দেখেনি। তবুও জানে মরে যাওয়া খুব খারাপ। 

ওর দাদু যখন মারা গেল, তখন সে বেশ ছোট। তবুও তার মনে আছে, দাদু কেমন কাঠ হয়ে শুয়েছিল দলিচের বড় খাটটায়। তোবড়ানো গাল দুটো যেন আরো তুবড়িয়ে ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। আলতো ফাঁক হওয়া ফোকলা মুখের মধ্যে জিভটা যেন শক্ত হয়ে স্থির। দাদু আর কথা বলেনি, ওকে ডাকেনি। মা কাঁদছিল, কাকিমা কাঁদছিল, কাকু শুকনো মুখে দাদিকে জড়িয়ে বসেছিল উঠোনে উনুনের পাশে, মাটিতে। বাবা ওকে দাদুর পায়ের কাছে নিয়ে গিয়ে মাথা ঠেকিয়ে দিয়েছিল, বলেছিল, ‘‘সেলাম কর।’’ তারপর সবাই মিলে কাঁচা বাঁশের খাটিয়ায় দাদুকে তুলে নিয়ে চলে গিয়েছিল। আর কোনোদিন দাদুকে দেখেনি মানিক। ফুফি বলেছিল, দাদুর গায়ে আগুন লেগিছিল। আজও কত সন্ধ্যায় সামনে বই খুলে রেখে হারকিনের কাঁচের মধ্যে তিরতির করতে থাকা আগুনের শিখাটার দিকে তাকিয়ে কেঁপে ওঠে মানিক। আগুনের তাতে কত ফোস্কাই না জানি পড়ে গেছে দাদুর সারা গায়ে।

ওরা হৈ চৈ না করলেও, দুদ্দাড় করে ব্যাগ বগলে বেরুলো। গেট পেরিয়েই চিৎকার। মানিক অবশ্য চেঁচামেচি-টেচি করে নি। খটখটে রোদ থেকে মাথাটা বাঁচাতে ব্যাগটা মাথায় ছাতার মতো ধরে সারেংবাড়ির পুকুরপাড়ের শর্টকাট রাস্তাটা ধরেছিল। খানিকটা এগোনোর পর কজন পাঁই পাঁই কওে দৌড়ে পেরুলো। জানাপাড়ার ঘোঁতনাকে জিগাতে সে বলল, হেডমাস্টারমশাই নাকি সবাইকে ডাকছেন আবার। স্কুল মাঠে নাকি বজলু মাস্টারের স্মরণে শোকসভা হবে। যারা ইতিমধ্যে বেরুতে পারেনি তারা আটকা পড়েছে। যারা গেটের সামনাসামনি ছিল তাদেরকেও ডেকে-টেকে ঢোকাচ্ছে আবার। শুনে মানিক পড়ল দোটানায়, ফিরে যাবে কি যাবে না! পুকুরের দিক থেকে হালকা হাওয়া বয়ে আসছে। হাওয়ায় যেন গরম ভাপ। মানিক নারকেল গাছের তলায় থমকে দাঁড়িয়ে রইল খানিকক্ষণ। পুকুরের পাড়জুড়ে অজস্র কচুগাছ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে। হাওয়ায় তারা মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে যেন ‘না না’ বলছে। মানিকও ভাবল, ধুর গিয়ে আর কি হবে! 

বাঁশের বেড়ার তৈরি দরজাটা ঠেলে ঢুকল মানিক। চারিদিক চুপচাপ, নিস্তব্ধ। পুকুরপাড়ের কলাগাছগুলো রোদের তাতে ঝুপসে ঢুলছে। মানিকের পাও যেন শ্লথ হয়ে এলো। মনটা কেন যে খারাপ হলো হঠাৎ কে জানে! বেজায় ঘুম পাচ্ছে ওর।  

ভোলু উঠোনের পাশে ছাইকাঁড়ির ধারে ঘুমিয়ে আছে। তবুও তার কানদুটো ওর পায়ের শব্দে ওর পানে তাকাল যেন। মুখে মৃদু শব্দ করল, ‘ভুক্’। লেজখানা তিনবার নাড়িয়ে থামল। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল মানিক। ব্যাগখানা বেঞ্চের গায়ে রাখতে সেটি আলস্যিতে গড়িয়ে শুল মেঝেতে। চপ্পল জোড়া বেঞ্চের তলায় ছুঁড়ে জামাটা মাথা গলিয়ে খুলে ও ছুঁড়ে দিল জানালার পাশে আলনায়। 

ওদিকের ঘরটা থেকে ভোঁস ভোঁস করে আওয়াজ আসছে। কাকিমার নাক ডাকছে। পা টিপে টিপে ও রান্নাশালের দিকে এগুলো। কলসি গড়িয়ে একবাটি জল খেতে খুব ইচ্ছে করছে। তেষ্টায় বুকটা চড়চড় করছে। খিড়কির বারান্দায় মাদুর পেতে দাদি চিৎ হয়ে ঘুমোচ্ছে। মুখটা হাঁ হয়ে আছে। ছড়ানো বাঁহাতের পাশে হুলোটাও পেটিয়ে ঘুমোচ্ছে। দাদিমার ডানদিকে কোলকুঁজো হয়ে ওর মা ঘুমিয়ে। আলতা পরা পা দুখানি শুধু শাড়ির তলা দিয়ে বেরিয়ে আছে। মাথার কাছে পানের বাটায় জাঁতি চাপা হয়ে দুখিলি পান শুয়ে আছে। 

ও রান্নাশালে ঢুকল। মাটির কলসিটার মুখে পেতলের বাটির চাপা। কেমন একটা মিঠে গন্ধ ভুরভর করছে জায়গাটায়। ওপরের শিকের মাটির সরায় কি আছে! পিড়া একটা টেনে, তার ওপর দাঁড়িয়ে শিকা থেকে সাবধানে নামাল ও সরাটা। ওফ্! কি সুন্দর ঘিয়ে রঙা পাটিসাপটাগুলো শুয়ে আছে সরাটায়। একটার ওপর একটা গা এলিয়ে ঘুমোচ্ছে সব আলস্যে। 

‘‘মানিক, মানিকরে..... দেখছ ছেলের কাণ্ড! রান্নাশালে কেউ কি ঘুমোয়! মাটিতে ঘুমোচ্ছে কেমন দেখো নিঃসাড়ে! ওরে একটাও পাটিসাপটা রাখেনিরে ছেলেটা! কি কাণ্ড, দেখবি আয় বউমা।’’

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/120284/</link>
				<pubDate>Mon, 13 Jun 2022 11:19:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নিষুতি দুপুরে<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=======================</p>
<p>টিফিন ছুটির আগেরটায় একটা আনচান ভাব থাকে। আইঠাই করে ওঠে মন। কখন ঠং-ঠং, ঠং-ঠং করে চারটে ঘন্টা বাজাবে হারুনকাকা অফিসঘরের সামনে, আর কখন ওরা দুদ্দাড় করে দৌড়ে মাঠে গিয়ে নামবে।</p>
<p>আজ গিয়াস রবারের বল এনেছে। দেওয়ালে আটকানো ব্লাকবোর্ডের পাশের ফাঁকাটায় বলটা ছুঁড়ে ফিরতি বল ধরার খেলাটা জমেও&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-120284"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/120284/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fef1bfce9615c614cf9b00f95291a44a</guid>
				<title>ছায়ারূপ
হাসনাত সৌরভ 
==================

হাসপাতালের দোতলায় বসে আছি। ফাঁকা বেঞ্চ। রাত আড়াইটে হবে। পাশের কেবিনের একজন বয়স্ক মানুষের জন্য এসেছি। ওনার ছেলে নীচে গেছে ওষুধ কিনতে। একাই বসে মোবাইল ঘাঁটছি, হঠাৎ পাশে এসে মনে হল কেউ দাঁড়াল। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম। কেউ নেই। টানা বারান্দা। ফাঁকা। আবার মোবাইল ঘাঁটছি, হঠাৎ আমার পিঠে যেন কেউ হাত রাখল। আমি লাফিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে পিছনে ঘুরেই দেখি একজন ঢ্যাঙা লম্বা লোক। আমার দিকে ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে। যেন এখনই ঘুমিয়ে পড়বে। আমায় বললো, আমায় একটু মর্গের রাস্তাটা দেখিয়ে দেবেন?

আমি বললাম ইয়ার্কি হচ্ছে...ভয় দেখানো....ফাজলামি?

সে একটা বড় হাই তুলে বলল, চলুন না প্লিজ, মর্গটা দেখিয়েই চলে আসবেন..

কেন, আপনি কি ওখানে কাজ করেন নাকি?

ধুর, বেঁচে থেকে কাজ করে করে হাড়গুলো খড়খড়ে হয়ে গেল..আবার মরেও কাজ?...

অ্যাঁ! মানে আপনি....

তা ভূত বলুন, আত্মা বলুন, যা হয় কিছু একটা বলুন, কিন্তু আমায় প্লিজ পৌঁছে দিন...

তা বেরিয়েছিলেন কেন?

আরে ভাই ডায়াবেটিস ছিল তো যখন বেঁচে ছিলাম, তা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ চাপত.....অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল....তা সেই অভ্যাসেই বাইরে বেরিয়েছিলাম.. অনেকক্ষণ হাইড্রেনের ধারে দাঁড়িয়ে রইলাম....হল না। তারপর মনে পড়ল, যা, আমি তো এই প্রস্রাব করতে যেয়েই মাথায় নারকেল পড়ে গতকালই মারা গেলাম.. তা আত্মার আবার লিঙ্গ হয় নাকি!

বুঝলাম...তারপর রাস্তাটা হারালেন.....

হুম...চলুন না প্লিজ...আমি পড়তে জানি না...নইলে আপনাকে এত রাতে বিরক্ত করি? ভূত বলে কি ভদ্রতাবোধ নেই...

আমি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে। হঠাৎ দেখি ছেলেটা ওষুধ নিয়ে ফিরছে.....

আমার ধড়ে প্রাণ এলো...আমি ওকে কিছু বলতে যাব হঠাৎ দেখি ওর পিছনে পিছনে স্টেথো ঝোলানো একজন মানুষ আসছেন....বুঝলাম ডাক্তার...নিশ্চয় ছেলেটার বাবার অবস্থা খারাপ তাই.....

ছেলেটা আমাকে বলল, আপনি দাঁড়ান....আমি ওষুধটা ওয়ার্ডে দিয়ে আসছি....

চলে গেল। ডাক্তার হঠাৎ আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন, আপনি এই পাগলটার পাল্লায় পড়েছেন বুঝি....

ডাক্তারের ডান হাতের তর্জনীর ইঙ্গিত ঢ্যাঙা ভূতের দিকে...

ধুর ...ও ভূতটুত কিছু নয়...মাঝরাতে কাউকে একা পেলেই বলে চলুন আমায় মর্গে ছেড়ে দিয়ে আসুন, আমি ভূত রাস্তা হারিয়েছি....তাই শুনেই অনেকে অজ্ঞান হয়ে যায়.. অনেকে সাহস করে মর্গ অবধি যেই যায় অমনি এ নানা অঙ্গভঙ্গী করে ভয় দেখায়....যা ভাগ....

ঢ্যাঙা লোকটা ডাক্তারের ধমক খেয়ে পালালো....আমার এবার সত্যিই ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মত অবস্থা...আমি বললাম, আপনি...

উনি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন, আমি ডাক্তার মাহতাব.. দুহাজার দশ সালের চৌদ্দই ফেব্রুয়ারী ওই নীচের ফ্লোরে সুইসাইড করেছিলাম...আসলে একটা মেয়েকে ভালোবাসতাম...সেও এই হাসপাতালের নার্স ছিল...অ্যাক্সিডেন্টে মারা যায়....এখন আমরা দুজনেই এই হাসপাতালে রাত্রিতে ঘুরে বেড়াই...কার কখন কি দরকার লাগে...কই গো এসো.....

আমার সামনে একটা ছায়া এগিয়ে আসছে...কিন্তু আমার চোখ অন্ধকার হয়ে আসছে....

©হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/118896/</link>
				<pubDate>Mon, 06 Jun 2022 16:48:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছায়ারূপ<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
==================</p>
<p>হাসপাতালের দোতলায় বসে আছি। ফাঁকা বেঞ্চ। রাত আড়াইটে হবে। পাশের কেবিনের একজন বয়স্ক মানুষের জন্য এসেছি। ওনার ছেলে নীচে গেছে ওষুধ কিনতে। একাই বসে মোবাইল ঘাঁটছি, হঠাৎ পাশে এসে মনে হল কেউ দাঁড়াল। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম। কেউ নেই। টানা বারান্দা। ফাঁকা। আবার মোবাইল ঘাঁটছি, হঠাৎ আমার পিঠে যেন কেউ হাত রাখল। আমি লাফিয়ে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-118896"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/118896/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8937467b176c29400555012eb627a405</guid>
				<title>অন্তর্দর্শন
হাসনাত সৌরভ
=====================

দীঘির জলের উপর ভাসছে চাঁদের ছায়া। পাশে ঝোপেঝাড়ে জোনাকির পাড়া। বাচ্চা এক জোনাকি তার মাকে জিজ্ঞাসা করল, মা, জলের উপর জোনাকি ওটা? 

 মা জোনাকি বলল, হ্যাঁ তো।

 বাচ্চা জোনাকি তার দলবল নিয়ে জলের উপর ওড়ে, একটু করে ছোঁয় জল, চাঁদ ওঠে দুলে। তারা বলে, বাহ, এই তো দিচ্ছে সাড়া। ওর নাম সাদা জোনাকি। 

এমন সময় এক প্যাঁচা বলে উঠল, ওরে মূর্খের দল, আকাশের দিকে তাকা, ও চাঁদ, এ তার ছায়া, যেমন পড়েছে ওই নারকেল গাছের ছায়া, বটগাছের ছায়া, এও তেমন! খালি বোকার মত খেলা!

সবাই তাকালো আকাশের দিকে। তাই তো। ওই তো চাঁদ। এ তো শুধু ছায়া। মন খারাপ করে জোনাকির দল ফিরে এসে বসল ধানক্ষেত জুড়ে। দেখতে দেখতে আকাশ জুড়ে করল মেঘ। ঝমঝমিয়ে নামল বৃষ্টি। জোনাকির দল, এ পাতা, সে পাতার নীচে নিল আশ্রয়। 

 বৃষ্টি থামল। মেঘ কাটল। তখন মধ্যরাত। সারা মাঠ এখানে সেখানে জমে জল। সব জলে চাঁদের ছবি। জোনাকির দল হইহই করে নামল মাঠে। জলে দেয় দোলা, চাঁদ ওঠে দুলে। খেলতে খেলতে তারা ভুলেই গেল সে আকাশের চাঁদ। 

প্যাঁচা খালি শুকনো মুখে বসে রইল গাছের ডালে একা। আকাশের চাঁদ রইল ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর জলের প্রতিচ্ছবি রইল তার সাধ-কল্পনার বাইরে। সজল বাতাস খালি তাকে ঘিরে বয়ে যেতে যেতে বলে গেল...হায় হায়।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/114158/</link>
				<pubDate>Mon, 23 May 2022 07:21:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অন্তর্দর্শন<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
=====================</p>
<p>দীঘির জলের উপর ভাসছে চাঁদের ছায়া। পাশে ঝোপেঝাড়ে জোনাকির পাড়া। বাচ্চা এক জোনাকি তার মাকে জিজ্ঞাসা করল, মা, জলের উপর জোনাকি ওটা? </p>
<p> মা জোনাকি বলল, হ্যাঁ তো।</p>
<p> বাচ্চা জোনাকি তার দলবল নিয়ে জলের উপর ওড়ে, একটু করে ছোঁয় জল, চাঁদ ওঠে দুলে। তারা বলে, বাহ, এই তো দিচ্ছে সাড়া। ওর না&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-114158"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/114158/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">04c3d306e937a24c5d5bf975ea6e07ec</guid>
				<title>মিঠে শাস্তি
হাসনাত সৌরভ
======================

পেচ্ছাপ পেয়েছে। তলপেট টনটন করছে। খাটো লুঙ্গিখানা গুটিয়ে শওকত উঠেই পড়ল। ভোরের আলো ফুটতে দেরি আছে। ঝিঁঝিঁর ডাকে কান পাতা দায়। বাঁশের দরজাটা সাবধানে ঠেলে উঠোনে বেরুবে। ঘোঁ-ঘোঁ, ফুরুর ফুৎ করে নাক ডাকার আওয়াজ আসছে ওর বাপের। উঠোনে নামতে গিয়ে বুকটা মশারির দড়িতে আটকে গেল। আর তৎক্ষনাৎ ‘‘ফুরুর-ফুৎ’’ বন্ধ হয়ে গেল। 

‘‘কে রে ওখেনে? কেডা?’’ 

বাপের ফাটা বাঁশ গলায় কালো মেঘের গর্জন। শওকত কেশো গলায় মিনমিন করে বলে, 
‘‘মুই গো, আব্বা।’’ 

বাপের বোধহয় ঘুমের ঘোর কাটেনি। 

‘‘মুই বলে ত! মাথাডা ফাটিয়া রাখি দুব, মুইডা কেডা? চিনুস ত আকবর আলিকে।’’ 

চেনা শোনা তো জন্ম থেকে, শওকত ভাবে। মুখে বলে, 

‘‘মুই শওকত গো আব্বা। জোর পিসাব লাগে।’’ 

বাপ মশারির ভেতর উঠে বসেছে এবার মালুম হয়। 

‘‘অ, তা উঠছু যখন উনানশাল থিকা লণ্ঠনখান আনিয়া দিস ত।’’ 

বাপের বিড়ির নেশা পেয়েছে। শওকত তখন উঠানের বাঁদিকে খড়গাদার পাশে জল ছাড়ছে। আঃ কি আরাম! আঁধারে এখন চোখ সয়ে এসেছে। উনানশাল থেকে টিমটিমে লণ্ঠনটা তুলে এনে বাপের মশারির পাশে রেখে ঘরে ঢুকতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায় শওকত। মাথায় খেলে যায়, উঠেই যখন পড়েছে, আজ তবে বিশ্বাসদের তাল কুড়োনোই যায়। ওরম ধামা ধামা কালোপানা মিঠে তাল এ চত্বরে কোথাও নেই। তালের পিঠা বড় ভালো লাগে খেতে। পিঠা করতে যদিও তেল লাগে। পিঠা না হলে তালের রুটিও কিন্তু বেশ লাগে খেতে। রেশনে গম নিজেই এনেছে এ হপ্তায় তিন কেজি। যেমন ভাবা তেমনি কাজ।

আকবর আলির সেই যে ঘুম ভেঙেছিল, আর ঘুম আসেনি। বিড়ি টানতে টানতেই বড়র ডাক এলো। সেসব মিটিয়ে টিটিয়ে একেবারে গোসল করে মালুম হল বহুদিন মসজিদে গিয়ে ফযরের নামাজ পড়া হয়নি। মনটা বেশ ভালো হয়ে গেল ভেবেই। ধোয়া লুঙ্গি আর একটা পরিষ্কার ফতুয়া গলিয়ে দাড়িতে হাত বুলোতে বুলোতে আকবর চলল মসজিদের পানে। নামাজ আদায় করে বাড়ি ফিরছে যখন, তখন দেখে শওকতের আম্মা হন্ডদন্ড হয়ে আসছে। 

‘‘আর ঘরকে যাতি হবে নি, বিশ্বাস বাড়ি চলেন। তুমার ব্যাটাকে নাকি তারা বাঁধিয়া রাখছে।’’

‘‘বাঁধিয়া রাখছে? কেনে বাঁধিয়া রাখছে? কিডা করছে মোর বেটা?’’

‘‘চল না কেনে? এসতে বলছি আসবা না ইখানপরেই চিল্লাইবা?’’

‘‘হাঁ হাঁ, চল চল। আরে ও মাতিন, অই শাহিন, অ শানিউর চল না কেনে। শওকতকে বিশ্বাসবাড়ির লোকে বাঁধিয়া রাখিছে শুনি। কিডা করিছে কি জানি!’’

‘‘এই যে আকবর, দলবল নিয়ে চলে এসেচিস যে দেখি, এ্যাঁ! বলি ছেলেকে রাত্রিতে চুরি করতে পাঠিয়ে দিস, তাপ্পর সক্কাল সক্কাল দলবল নিয়ে ছাড়াতে চলে আসিস, তোদের দিনকাল তো খুব ভালোই চলছে, এ্যাঁ!’’ বিশ্বাসবাড়ির মেজকর্তা রোয়াকে বসে তারিয়ে তারিয়ে কথাকটি যখন বলছেন, আকবর দেখল সামনের পুকুর পাড়ের লাগোয়া নারকেল গাছে শওকতকে পিছমোড়া করে বেঁধে রেখেছে।

‘‘কি চুরি করছে মোর বেটায়?’’ প্রশ্ন করে শতকতের আম্মা। 

‘‘তুই থাম শওকতের আম্মা। মেয়েছেলা মেয়েছেলার মত থাকবি। বাবুর সাথে মুই কথা কইতিছি। তুই রা কাড়বিনি, এই বলে দিনু। অ, মেজকত্তা ইবারের মত ছাড়ি দাও। মোর বেটা কুনদিন এমন কাজ করতে পারেনা। কিরে মাতিন, কুনদিন শুনছু শওকত কারো কুনো জিনিসে হাত দিছে, ক না কেনে।’’

‘‘হ্যাঁ, হ্যাঁ.... একদম ধর্মপুত্র তোর বেটা। বলি পাঁচিল ডিঙোয়ে ঢুকেছিল কি হাওয়া খেতে? নারকেল গাছে না উঠলে ওকে ধরত কার সাধ্যি! গণেশ...গণেশ....এই গনশা, ব্যাটা কালা....ইদিকে আয়, ওটার হাতদুটো খুলে দে তো। শোন আকবর, তোর ব্যাটাকেই জিজ্ঞেস কর, কি করতে এয়েছিল। আর শোন, আমরা ভদ্রলোক। তোদের মতো কথা নেই বার্তা নেই বেধাড়াক্কা মারধর করিনি। ও স্বীকার করুক, ছেড়ে দেব।’’

শওকত এবার ফোঁপাতে ফোঁপাতে শুরু করল, ‘‘না না মোকে ছাইড়বেননি, মারেন, মোকে মারেন। মুই দোষ করছি। তাল কুড়–ইতে কুড়–ইতে কি হইল কে জানে, নারকেলের কথা মনে হইল। লোভে পইড়ে এমন কাজ করছি মুই, মোরে মারেন কর্তা। তালের পিঠা আর কখুনো খাইতে মন করবনি।’’

‘‘এই তো, ঘরের লোকজন দেখে বুলি ফুটেছে! তা বল, কদ্দিন এসব চলছে, এ্যাঁ, কদ্দিন চুরি চামারি করছিস?’’ মেজকর্তার মুখের কথা শেষ হবার আগেই ধপধপে সাদা কাপড়ে তুলতুলে চাঁপাবরণ বেঁটেখাটো একটি মানুষ বেরিয়ে এলেন। হাতে একটি কাটারি। ইনি বিশ্বাস বাড়ির বড়মা। গড়নে খাটো হলেও আওয়াজ বড়ই তীক্ষ্ণ। 

‘‘এ্যাই মেজ, বলি সকাল সকাল কি ক্যাঁচর ম্যাচর লাগিয়েচিস রে এ্যাঁ? আজ জন্মাষ্টমীর দিনে একটা বাচ্চা ছেলেকে নাকি তুই বেঁধে রেখেচিস, গণশা বলল।’’

এবার বড়মার চোখ পড়ল শওকতের ওপর। ছুটে গিয়ে তার মাথায় গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন বড়মা। 

‘‘আহারে, কি নির্মল, আদুরে গো! বলি তুই ভেবেচিসটা কি বল দেকি মেজ? তাল কুড়োতে পাঁচিল টপকেচে তো কি এমন মহাভারতটা অশুদ্ধ হয়েছে, এ্যাঁ! বৌমা সকাল থেকে বলছে, পুকুরের পাড়ে কাঁঠালিকলার কাঁদিটা পেড়ে আনতে, তার বেলা মুরোদ নেই, এখানে উনি বাচ্চাছেলের উপর কর্তাগিরি ফলাচ্ছেন। বলি ও বাবারা, তোমরা কি পশ্চিম পাড়ার? তা বাবারা এয়েছ যখন, এ বেলা খেয়ে যেও। আজ অবিশ্যি নিরামিষ। তা আমার ছেলের কথায় কিছু মনে করিওনা তোমরা, কেমন? এ্যাই গণেশ, বলি এদের ভেতরে নে গিয়ে বসা।’’

মেজকর্তা কি একটা বলতে যাচ্ছিলেন। তাকে থামিয়ে বড়মা হাতে কাটারিটি ধরিয়ে দিয়ে বললেন, 

‘‘যা আগে কলা কাঁদিটা কেটে আন দিকি। আমি দেখচি এদিকটা।’’

আকবর ছুট গিয়ে বড়মার হাত থেকে কাটারি নিয়ে বলল, 

‘‘কত্তারে কাটতে হবেনি, মুই কাটিয়া দিতিছি, মোকে দাও কাটারি। কলাকাঁদির কষ মেলা। কাপড়ে চোপড়ে দাগ লাগি যাবে।’’ 

বড়মা খুশি হয়ে বলেন, ‘‘বাবা, তোমার গায়েও তো পরিষ্কার জামা, খুলে রেখে যাও। আর মোচাটাও বের করে দিও। নারকেলও কটা পেড়। নারকেল দিয়ে মোচার ঘন্ট হয়ে যাবে আজ তবে। তোমার ছেলের জন্য আমি নিজে তালের পিঠে বানাতে বসব এখন। এ্যাই ছেলে চল, তাল মেড়ে দিবি। খাবি যখন, একটু খাটবি না, বল?’’

সবাই হৈ হৈ করে উঠল, ‘‘ঠিক ঠিক, এই হল গে চুরির শাস্তি’’ তালের পিঠে, বড়ই মিঠে।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/110712/</link>
				<pubDate>Sat, 14 May 2022 11:00:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মিঠে শাস্তি<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
======================</p>
<p>পেচ্ছাপ পেয়েছে। তলপেট টনটন করছে। খাটো লুঙ্গিখানা গুটিয়ে শওকত উঠেই পড়ল। ভোরের আলো ফুটতে দেরি আছে। ঝিঁঝিঁর ডাকে কান পাতা দায়। বাঁশের দরজাটা সাবধানে ঠেলে উঠোনে বেরুবে। ঘোঁ-ঘোঁ, ফুরুর ফুৎ করে নাক ডাকার আওয়াজ আসছে ওর বাপের। উঠোনে নামতে গিয়ে বুকটা মশারির দড়িতে আটকে গেল। আর তৎক্ষনাৎ ‘‘ফুরুর-&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-110712"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/110712/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a3b6a217bad0ae0abcc2df8807ba6643</guid>
				<title>কাজরি
হাসনাত সৌরভ
======================

বৃষ্টি এলো হঠাৎ। বেমানান লাগল না। যেন আসারই ছিল। ছোটো স্টেশান। ঘাস উঠেছে নেড়া হয়ে সদ্য চুল গজানো মাথার মত এখানে সেখানে অল্পস্বল্প। মুখোমুখি দুটো প্ল্যাটফর্ম ভিজছে। দিগন্ত ছোঁয়া সবুজ মাঠ উৎফুল্ল হয়ে আকাশকে ডাকছে বুকের উপর, এসো। 

ট্রেনের জানলার উপর হাত রেখে জাহিয়াও বলেছে, এসো তবে, ভালো থেকো, সাবধানে যেও।

ট্রেন চলে গেছে। জাহিয়ার হাতে লেগে জানলার লোহার গন্ধ। জাহিয়া ভিজছে। আটত্রিশ বছরের শরীরটাকে চেনার নতুন করে কিছু নেই। কিন্তু মনটা? উনুনের মাটির মত পোড়ে, আবার নতুন করে লেপতে হয়, যাতে আবার পুড়তে পারে। জাহিয়া বাজারি। যে চলে গেল, তার পরিবার আছে। সে গেলো, ছট কাটাবে তাদের সঙ্গে। এখানে থাকা তো কামাইয়ের জন্য। বউবাচ্চা তো সেখানে, শহরে, যেখানে জাহিয়ার যেতে নেই। 

জাহিয়া ভিজতে ভিজতে বেঞ্চে বসে পা দুলাচ্ছে। কাজরি গাইতে ইচ্ছা করছে। জাহিয়া কাজরি গাইছে। বিরহের গান। বর্ষা আগুন। জাহিয়া আগুন নিয়ে খেলেছে আজীবন। পুড়েছে, পুড়িয়েছে। পাঁচিল তুলে ঘর গড়েনি। ভালোবেসে ভেসেছে। ভাসিয়েওছে। 

বাজ পড়ল। কানে তালা লেগে গেল জাহিয়া। গান থামালো। বৃষ্টির আওয়াজে কান ফেটে যাচ্ছে। শরীরটা মাটির মত গলে শুয়ে পড়ল বেঞ্চির উপর। হাতের লাল কাঁচের চুড়ির গোছা একবার নেচে থেমে গেল। জাহিয়ার খোলা চোখের সামনে বর্ষা ভাসাচ্ছে প্ল্যাটফর্ম, রেললাইন, মাটি, ঘাস, বন। জাহিয়ার খোলা চোখ দেখছে না। সে উড়ে আছে অনেক দূরে। ওই আকাশে। দূরে চলে যাচ্ছে তার হৃদয়, তার ভালোবাসা। ওই দেখা যাচ্ছে খানিক আগে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাওয়া সেই ট্রেন। মেঘ বলল, যাবি? সজল হাওয়া বলল, চল। জাহিয়া বলল, না, সে আসুক। আমি যাব না। আমি যাই না কোথাও। সে আসে। তার শহরে বর্ষা হোক। তার পাকা ছাদের উপর শুকনো কাপড় ভিজুক বারবার। সে বর্ষা কাটিয়ে আমার কাছে ফিরুক। আমি কাজরি গাইব। আমার গান এখনও শেষ হয়নি। 

জাহিয়া মিলিয়ে গেল। সূর্য উঠল। কিন্তু সে পশ্চিমাকাশে পড়ন্ত। গ্রামের লোকে ঘেন্না মেশা দরদে নিতে এলো যাকে, সে জাহিয়ার দেহ নয়। সে ভেলা। জাহিয়া রেখে গেছে মাটিতে মিশেয়ে দেওয়ার জন্য। সে পার হয়ে গেছে। ভালোবাসার অপেক্ষা থেকে ভালোবাসার মজলিসে। যেখানে কাজরি শেষ হয়েও শেষ হয় না। মাটির জল আবার আকাশে উঠে কাজল মেঘ হয়, জাহিয়াকে খুঁজবে বলে। প্ল্যাটফর্ম একা একা ভেজে কোনো জাহিয়াকে নিয়ে, কদমের সৌরভের মত, যে বাতাসে ভেসেও বাতাসের হয় না।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/108646/</link>
				<pubDate>Mon, 09 May 2022 07:52:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কাজরি<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
======================</p>
<p>বৃষ্টি এলো হঠাৎ। বেমানান লাগল না। যেন আসারই ছিল। ছোটো স্টেশান। ঘাস উঠেছে নেড়া হয়ে সদ্য চুল গজানো মাথার মত এখানে সেখানে অল্পস্বল্প। মুখোমুখি দুটো প্ল্যাটফর্ম ভিজছে। দিগন্ত ছোঁয়া সবুজ মাঠ উৎফুল্ল হয়ে আকাশকে ডাকছে বুকের উপর, এসো। </p>
<p>ট্রেনের জানলার উপর হাত রেখে জাহিয়াও বলেছে, এসো তবে, ভালো থেকো, সাবধানে যে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-108646"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/108646/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">67fbdf4b12a77836446c60f4c598dd4e</guid>
				<title>নির্বাপিত স্তব্ধতা
হাসনাত সৌরভ
===================================

বৈশাখ মাস, শুকনো বাতাসে শুধুই ঝরে আমের মুকুল, সেই কবে শুকিয়ে গেছে হাতে গোনা টবের কয়েকটি ফুল। আকাশের মেঘ ঘুরে ফিরে উড়ে যায় দিশাহীন অস্পষ্ট নিরুদ্দেশ। দোলের রং এখন ফ্যাকাশে। এখন প্রায় মধ্য দুপুর। অসহ্য ভ্যাপসা গরম। এই দুপুরেও লোকটা বসে আছে একটা টং দোকানে। যেখানটায় বসে আছে, সেখানে তার মাথার উপর কোন ছাউনি নেই। কোন একসময় হয়তোবা ছিল। বৃষ্টি কিংবা ঝড়ে সেটার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। যার কারণে দুপুরের ঝাঁঝালো রোদ সরাসরি তার মাথার উপর পড়ছে। সরিষার তেল দেয়া টাক মাথায় রোদ পড়ে বেশ দূর থেকেই জায়গাটা অল্প অল্প ঝিলিক দিচ্ছে। সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই তার। তিনি আনমনে চা পান করে যাচ্ছেন। রং চা। প্রত্যেকবার বেশ আয়েশ করেই চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন। কেউ দেখলে ভাববে চা’টা বেশ ভালো হয়েছে। অথচ এলাকার সবচে বাজে চা তৈরির দুর্নাম আছে এই টং দোকানটার।

মজিদ মেম্বার বর্তমানে তেমন কিছু করেন না। দীর্ঘদিন এলাকায় মেম্বার ছিলেন, এখন সেটাও করছে না। শুধু মাতব্বরিটাই বাকি আছে - এই যা। বেশ নামকরা মাতব্বর। আশপাশের দশ গ্রামের মানুষ এক ডাকে চেনে। লোকটা আর যাই হোক, বিচারের কাজটায় খুব সৎ। কোন প্রকার ছলচাতুরি করেন না তিনি। যার কারণে নিজ গ্রাম বাদেও আশপাশের কোন গ্রামে বিচার হলে তার ডাক পড়বেই। এটা যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে গেছে। লিখিত নিয়মের চেয়ে অলিখিত নিয়মগুলো বেশি করে পালিত হয়। মানুষ অলিখিত নিয়ম মানতেই বেশি পছন্দ করে। দোষের ভিতর তেমন কিছুই নেই মজিদ মাতব্বরের। শুধু একটু যেটা আছে, সেটা হল কৃপণতা। তবে এটাই দিনদিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। হঠাৎ কিভাবে কৃপণতা তাকে পেয়ে বসল, তার সঠিক কারণ পরিবারের কেউ জানে না। এই যে তিনি এখন এই দোকানে বসে চা পান করছেন, এটার মাঝেও রয়েছে কৃপণতা। অন্যান্য টং দোকানের চেয়ে এখানে এক টাকা কম মূল্যে চা বিক্রি হয়।

বৈশাখের এই দুপুরে তার বাড়ি থেকে বের হবার কথা না। তিনি এই সময় বাড়িতে থাকেন। খালি গায়ে বসে থাকেন একটা আম গাছের নিচে। বেশি গরম লাগলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে শরীর জুড়িয়ে নেন। আজ সবকিছু বাদ দিয়ে এই দুপুরে বাজারে বসে চা পান করার কারণ হলো শহর থেকে তার মেয়ে আর নাতনী আসছে। তাদেরকে নেয়ার জন্য এখানে এসে বসে আছেন। তবে আশপাশের কিছু মানুষ না জানার কারণে ধারণা করছে, কৃপণতা করতে করতে শেষ পর্যন্ত তিনি দুপুরের খাবার ত্যাগ করেছেন। বেলা দেড়টায় যে লঞ্চ ঘাটে ভিড়ে, তাতে তার মেয়ে আর নাতনীর আসার কথা ছিল। কিন্তু লঞ্চ আসে নি। এখন আরো বেশ কিছুক্ষণ তাকে অপেক্ষা করতে হবে - ভাবতেই মেজাজটা খিচড়ে গেল মজিদ মাতব্বরের। সাথে দুশ্চিন্তাও হলো, পথে কিছু হলো নাতো আবার? কেননা মহেশখালি- কক্সবাজারের এই চ্যানেল এলাকায় কখন কী হয়ে যায়, তার কিছুই বলা যায় না। 

তার মেয়ে আর নাতনী যখন লঞ্চ থেকে নামল, তখন বাজে বিকেল সাড়ে তিনটা। মজিদ মাতব্বরের ইচ্ছে হলো, ঘাটেই মেয়ে নাতনীকে কিছুক্ষণ ঝাড়বেন। কিন্তু নাতনীর ভয়ে লাল হয়ে যাওয়া চেহারা দেখে একেবারেই দমে গেলেন তিনি। সবেমাত্র বারোতে পা দিয়েছে মেয়েটা। ভয়ে এখনো থরথর করে কাঁপছে। মেয়ের মুখে শুনলেন, চ্যানেল দিয়ে আসার সময় বাতাস উঠেছিল, লঞ্চ খুব দুলছিল সে বাতাসে। তাতেই ভয় পেয়েছে সুষমা।

(দুই)
সকাল থেকে এ পর্যন্ত মজিদ মাতব্বরের সাথে তিনবার ঝগড়া হল শাহানা বেগমের। ঝগড়ার মূল বিষয় নৌকা আর সুষমা। মজিদ মাতব্বরের বাড়ির পাশ দিয়ে একটি খাল চলে গেছে। মাঝেমধ্যে সেই খালে মাছ ধরেন তিনি। মাছ ধরার জন্য ছোট্ট একটি নৌকা বানিয়েছেন। তবে সেটা অনেক বছর আগের। এখন নৌকার অবস্থা ভাল নেই। নৌকার এক পাশের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। খুব সাবধানে নৌকা চালাতে হয়। একটু এদিক-সেদিক হলেই নৌকা ডুবে যাওয়ার ভয় আছে। সুষমা এ বাড়িতে আসার কিছুক্ষণ পরেই ছুটে গিয়েছে নৌকার কাছে। নৌকায় চড়ে ঘুরতে চেয়েছিল পুরো খাল। শাহানা বেগমের জন্য সেটা পারে নি। ভাঙা নৌকা দেখে একমাত্র নাতনীকে নৌকায় উঠতে দেননি তিনি। নাতনীর আগ্রহ দেখে সেদিন রাতেই খাওয়ার পরে স্বামীকে নৌকা ঠিক করানোর কথা বলেছে। তিনি দেখবেন বলেছিলেন। আজ তিনদিন হয়ে গেল সুষমারা এসেছে। সবমসময় মেয়েটা নৌকায় চড়ে ঘুরতে চায়। কোনবারই শাহানা বেগম তাকে অনুমতি দেন না। মনে কষ্ট পান ঠিকই। কিন্তু কি করবেন? স্বামীকে এই নিয়ে বিশ বারের উপর বলা হয়ে গেছে। প্রতিবারই তিনি দেখবেন বলেছেন। আজ সকালে যখন মজিদ মাতব্বরকে আবারো বললেন ‘‘নৌকা ঠিক করানোর কথা বলছ তো? ঠিক আছে, আমি দেখবো।’’ তখন আর ঠিক থাকতে পারলেন না শাহানা বেগম। মুখের উপরেই শুনিয়ে দিলেন ‘‘আপনি এতো টাকা দিয়ে কী করবেন, শুনি? কবরে নিয়ে যাবেন?’’

‘‘কি বলছো এসব? আমি টাকা কবরে নিয়ে যাব মানে?’’

‘‘তো টাকা জমিয়ে করবেনটা কি আপনি? নাতনী এই প্রথম আমাদের কাছে এসেছে। কত করে শখ করেছে নৌকায় চড়ে ঘুরবে। আর আপনি তার শখ পূরণ করছেন না! আর ক’দিনই বা থাকবে ওরা?’’ বড় ধরণের ঝগড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মজিদ মাতব্বর। তবে সেটা পারলেন না। ধলঘাটা থেকে তিনজন লোক এসেছে তাকে নিয়ে যাবার জন্য। ধলঘাটায় এক নৌকা চোর ধরা পড়েছে, তার বিচার করার জন্য ডাক পড়েছে মজিদ মাতব্বরের।

দুপুর হয়ে গেলো, বৈশাখের দুপুর মানে ঝিমিয়ে পড়া প্রকৃতি। সবকিছুতেই কেমন একটা অলসতা ভাব আসে। খাওয়া-দাওয়া শেষ হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। সবাই শুয়ে পড়েছে। সুষমার মা বেশ শব্দ করে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন। শাহানা বেগমের নাক ডাকার শব্দ হচ্ছে না। তবে বোঝা যাচ্ছে, তিনিও ঘুমিয়ে পড়েছেন। মজিদ মাতব্বর ধলঘাটা থেকে এখনো ফেরে নি। সুষমা শোয়া থেকে উঠে বসল। তার চোখে ভেসে ওঠছে বাড়ির পাশের খালে জামগাছের সাথে বেঁধে রাখা নৌকার ছবি। নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো সে। উঠোনে এসে চারদিকে সতর্ক চোখে দেখল আশপাশে কেউ নেই। এমন দুপুরে অবশ্য কেউ বাইরে থাকেও না। ছোটো ছোটো পা ফেলে সুষমা এগিয়ে যায় নৌকার দিকে।

বেলা পড়ে ভরতি সন্ধ্যা নামছে, খানিক পরেই চারদিকটা ঝুপ করে অন্ধকার হয়ে যাবে। আকাশটা এখন গাঢ় কুসুম রঙে ছেয়ে আছে। রুচিশীল মানুষের মন কাড়তে বাধ্য এমন দৃশ্য। এতো সুন্দর পরিবেশটা মজিদ মাতব্বরের বাড়ির সাথে ঠিক মানাচ্ছে না। সেখানে এখন কান্নার রোল। একপাশে সুষমা শুয়ে আছে। শাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে তার শরীর। মুখটা এখনো কেমন হাসি হাসি করে রেখেছে। দেখে মনে হচ্ছে এখনই আড়মোড়া ভেঙে উঠে দাঁড়াবে মেয়েটা!

এইতো, কিছুক্ষণ আগে নৌকার মিস্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে মজিদ মাতব্বরের। খাল থেকে আগামীকাল ডুবে যাওয়া নৌকা তুলে ঠিক করে দেবে বলেছে।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/106633/</link>
				<pubDate>Mon, 18 Apr 2022 09:14:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নির্বাপিত স্তব্ধতা<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
===================================</p>
<p>বৈশাখ মাস, শুকনো বাতাসে শুধুই ঝরে আমের মুকুল, সেই কবে শুকিয়ে গেছে হাতে গোনা টবের কয়েকটি ফুল। আকাশের মেঘ ঘুরে ফিরে উড়ে যায় দিশাহীন অস্পষ্ট নিরুদ্দেশ। দোলের রং এখন ফ্যাকাশে। এখন প্রায় মধ্য দুপুর। অসহ্য ভ্যাপসা গরম। এই দুপুরেও লোকটা বসে আছে একটা টং দোকানে। যেখানটায়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-106633"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/106633/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">03b5e8d83ab6b03e203bede693f673c7</guid>
				<title>মায়াছত্র
হাসনাত সৌরভ
===========================

তপন দেওয়ালে ঠেস দিয়ে বসে। নার্স এসে জিজ্ঞাসা করল, কেমন আছো তপন? 

তপন বলল, দিদি আমি বাড়ি যাব, না মারা যাব?

নার্স বলল, বাড়ি যাবে। 

তপন বলল, জানো কাল যখন ভীষণ বৃষ্টি হচ্ছিল, তোমাদের হাসপাতাল মনে হচ্ছিল ভাসিয়ে নিয়ে যাবে…আমি তখন একটা স্বপ্ন দেখলাম…তোমার চড়াই পাখির মত একটা বাচ্চা হয়েছে…
নার্স কপট ধমকের সুরে বলল, ওই, আমার তিপ্পান্ন বছর বয়স…সাতকূলে কেউ নেই…আমার কি করে বাচ্চা হবে শুনি?..তাও চড়াই!

তপন বলল, আরে শোনোই না….সে তোমার বাড়ির সামনে পেয়ারা গাছে থাকে….

আমার বাড়ির সামনে ধুধু মাঠ…কোনো গাছ নেই…নার্স তাকে থামিয়ে বলল।

তপন শুনল না…সে বলে চলল..সেই মাঠে একটা পেয়ারা গাছ। সেই গাছে একটা চড়াই পাখি…আসলে ও তোমার ছানা…তুমি যেই না তালা লাগিয়ে রাস্তায় নামো হাসপাতালে আসবে বলে, অমনি সে বলে, মা…তাড়াতাড়ি চলে এসো…আমরা বেড়াতে যাব….

নার্স হাসতে হাসতে, বলতে বলতে চলে গেল.. শেষে কিনা চড়াইয়ের সঙ্গে বেড়াতে যাব! তপন নার্স যাওয়াটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চাদরটা ঢেকে শুয়ে পড়ল। তার পায়ের কাছে জানলায় এসে বসল একটা চড়াই।
 
পরেরদিন সকালে আবার নার্স এলো। তপনকে জিজ্ঞাসা করল, কেমন আছো ?

তপন বলল, আমি বাড়ি যাব, আবার ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করব? না তোমাদের গাড়ি করে কবরে যাব গো?

নার্স বড় বড় চোখ করে বলল, ফের বাজে কথা। তোরও সাতকূলে কেউ নেই, আমারও নেই। আমি ওসব ছাইভস্ম বকি? 

তপন বলল, তোমার তো ক্যান্সার নেই পেটে…
নার্সের মুখটা কালো হয়ে গেল। 

তপন বলল, আমি আবার একটা স্বপ্ন দেখেছি জানো…এবার তোমার একটা বেড়াল ছানা হয়েছে…তুমি যেই তালা লাগিয়ে তাকে বাড়িতে একলা ফেলে আসো…তোমার হুস করে মন খারাপ হয়ে যায়….এখন যেমন হল…তুমি জানো আমি বেশিদিন বাঁচব না…কিন্তু তোমার চড়াই আর বেড়াল অনেকদিন বাঁচবে দেখো….

নার্স ঝাপসা চোখে অন্য বেডের পাশে এসে দাঁড়ালো। বলল, কি যে বলে পাগলের মত।

তপনের বেডের নীচে একটা বেড়াল ডাকল, ম্যাও। তপন চাদরটা ভালো করে ঢেকে নিল। তার জ্বর আসছে আবার।
 
পরেরদিন সকালে আবার নার্স এলো। আবার একই কথা হল। তবে আজ তপন নিজের মারা যাবার কথা জানতে চাইল না। সে নার্সকে বলল, আমার কাছে এসে আমার হাতটা ছোঁও….

নার্স ছুঁলো। তপন বলল, আমি আজ স্বপ্ন দেখলাম, ভোররাতে দেখলাম, আমি তোমার পেটে জন্মেছি…আমি এমন বিশ্রী দেখতে হয়নি গো…তোমার মত ফর্সা, সুন্দর দেখতে হয়েছি….তুমি আমায় কোলে নিয়ে দোলা খাওয়াতে খাওয়াতে বলছ, আমি হাসপাতালে যাচ্ছি, তুমি খুব লক্ষ্মী হয়ে থাকবে হ্যাঁ…চড়াই আর মিনি তোমার সঙ্গে খেলা করবে….হাসপাতালে একজন তপনকাকু আছে…সে আজ বাড়ি যাবে..আমি ওকে এগিয়ে দিয়ে আসি? তোমার কোলে যে আমি, তার নাম তখন তো তপন না…তুমি নতুন নাম দেবে আমার …দেবে না?

হাসপাতাল থেকে ফিরে সুনন্দা বাড়ির দরজা খুলল। সারাটা ঘর এত ফাঁকা লাগেনি কোনোদিন। আজ ভোরে তপন মারা গেল। সুনন্দা খেল না কিছু। শুয়ে পড়ল তাড়াতাড়ি। এত ফাঁকা লাগেনি কোনোদিন সব কিছু। অসহ্য লাগছে সব।

রাতে তুমুল বৃষ্টি শুরু হল। ঘুম ভেঙে গেল। বৃষ্টির ছাঁট আসছে। জানলাগুলো ধুমধাম পড়ছে। আলো জ্বালল সুনন্দা। অবাক হয়ে দেখল, একটা চড়াই আর একটা বেড়াল ভিজে চাপ হয়ে একজন পাখার উপর আর একজন তার সোফার উপর বসে। সুনন্দা মাটিতে বসে পড়ল। 

ফোয়ারার মত কান্না এলো গলা চিরে। এত এত কান্না সে মা, ভাই কেউ মারা যাওয়াতে কাঁদেনি। চুপ করে সহ্য করেছে। মনে হয়েছে সব কান্নাকে চেপে পিষে শেষ করে দিয়েছিল এতদিন। ছেলেটা সব জেনে গেল কি করে? এত এত কান্না? 

ঝড়ের আওয়াজে কান্নার আওয়াজ গেল ঢেকে। সুনন্দা দেখল তার কোলের কাছে এসে তার মুখের দিকে তাকিয়ে বেড়ালটা…যেন বলছে…মা…আমায় কাছে নাও। 

সুনন্দা চোখের জল মুছে বলল, দাঁড়া দুধ গরম করি…

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/105804/</link>
				<pubDate>Mon, 11 Apr 2022 06:32:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মায়াছত্র<br />
হাসনাত সৌরভ<br />
===========================</p>
<p>তপন দেওয়ালে ঠেস দিয়ে বসে। নার্স এসে জিজ্ঞাসা করল, কেমন আছো তপন? </p>
<p>তপন বলল, দিদি আমি বাড়ি যাব, না মারা যাব?</p>
<p>নার্স বলল, বাড়ি যাবে। </p>
<p>তপন বলল, জানো কাল যখন ভীষণ বৃষ্টি হচ্ছিল, তোমাদের হাসপাতাল মনে হচ্ছিল ভাসিয়ে নিয়ে যাবে…আমি তখন একটা স্বপ্ন দেখলাম…তোমার চড়াই পাখির মত একটা বাচ্চা হয়েছে…<br />
নার্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-105804"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/105804/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bec246e63027a8a0bb7e734c7f6c42b8</guid>
				<title>শহরের উষ্ণতম দিনে
         হাসনাত সৌরভ
=======================

~ উফ আবার লোডশেডিং, এই নিয়ে চারবার হলো পুরোদিনে। দিনশেষে যে একটু জিরবো তার জো নেই। বুবাই কে স্কুল থেকে এনে বাড়ি ফিরেও দেখি কারেন্ট নেই। কি গো শুয়েই ঘুমিয়ে পড়লে নাকি?

~ হমমম
 
~ কি হুম, আর যে পারা যাচ্ছে না। বুবাইটা না আবার ঘুম থেকে না উঠে পড়ে। বড়রাস্তার উল্টো দিকের বাড়িগুলোতে আলো জ্বলছে, এ পাশের লাইনটাই গেছে মনে হয়। আমরা কি পাপ করেছি বলতো ? কেন আমাদেরটাই খালি খালি যায়। কি গো কিছু বল... 

~ হমমম 

~ ধুত। পনেরো মিনিট হয়ে গেল। এখনো কারেন্ট আসার কোনো নাম ঘন্ধ নেই। আজ সারারাত ঘুমোতে দেবে না। 

বিড়বিড় করতে করতে নুজাত হাত-পাখাটা নাড়তে লাগলো। মাথায় জমে থাকা বিন্দু-বিন্দু কিছু ঘাম বাস্প হয়ে উড়ে গেল বটে সাথে উড়ে গেল নুজাত&#039;র ঘামে ভিজে একসা হয়ে যাওয়া হাসফাস করা মনটা।

সেদিনও খুব গরম পড়েছিল, বোন বাড়িতে না থাকায় একা দোতলার ঘরে বিছানায় শুয়ে সমস্ত উত্তেজনা আর বুক ধুকপুকানি একা সামলাচ্ছিল নুজাত। অমি আজ ওকে বলে বসেছে এমন এক কথা যা ওর রাতভর তর্জমা করা ছাড়া উপায় নেই। নিম্ন-মধ্যবিত্ত বাড়িতে একটা দোতলা ঘর থাকতে পারে বড়জোর কিন্তু ভাবনা সেই দোতলার ছাদ পেরিয়ে উড়ে যেতে যে সহজে পারে না, তা সে গ্রীষ্মের ঘামেও স্বপ্নে ভেজা রাতই প্রমাণ করে দিচ্ছিল।

সেদিন বিকেলে অফিস ফেরত দেখা করার সময় ঘামাক্ত শরীর ছুঁয়ে যখন সন্ধ্যে নেমে আসছিল সারা শহর জুড়ে, অমি দুম করে বলে বসল, কক্সবাজার যাবে নুজাত? সমুদ্র দেখব দুজনে একসাথে ? নুজাত তখন সবে বসেছে হাত দুটোতে পিছন দিকে হেলান দিয়ে, মাথাটা সবে হেলিয়েছে মাথার ওপর বেগুনি আকাশ দেখবে বলে। তেতাল্লিশ ডিগ্রী গরম আর অফিসের অমোঘ ক্লান্তিতে শহরের বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত মানুষ তো এভাবেই জুড়িয়ে নেয় প্রাণ। অমির কথায় কোনো উত্তর না দিয়ে আকাশের দিকেই তাকিয়ে থেকেছিল নুজাত।

অমি বলে চললো, সমুদ্র কেমন করে তাকে টানে। তার কাছে আসা, দূরে যাওয়ার নিরন্তন এপিসোড মানুষ কে কেমন যেন শিখিয়ে দিয়ে যায়, চলে যাওয়া বলে আদতে কিছু হয় না। কেমন করে জীবনের সব না পাওয়াগুলোকে পায়ের পাতা থেকে টেনে নিয়ে চলে যায় বহুদূরে, রেখে দিয়ে যায় গোপন ধাঁধার মত কিছু ঝিনুক। যাদের জল ছেচে দুহাতে তুলে নিলেই বলে ওঠে, বেঁধে রাখতে গেলে, বেঁধে থাকতেও শিখতে হয়। জীবনে যেখানে কিছুই চিরকালীন নয় সেখানে কেন জানিনা সমুদ্রের ধারে বালির ওপর গিয়ে দাঁড়ালে মনে হয়, আবহমান শব্দটা মিথ্যে নয়, অস্তিত্বহীন নয়। যতবার সমুদ্র দেখেছি মনে হয়েছে, চোখের সামনে যুগ যুগ ধরে রয়ে যাওয়া আবহমান উপন্যাস, কতটুকু তার পড়ে ওঠা হয়েছে, সে ভাবনাতেই দাঁড়িয়ে থাকা যায় বহুক্ষণ, কাটিয়ে দেওয়া যায় সন্ধ্যে থেকে রাত্রির অথবা রাত্রি থেকে আরো অনেক রাত্রি। 

অমি বলে চলে আর নুজাত তখনও একই ভাবে আকাশের কোনো একটা দিকে তাকিয়ে থাকে। শহরের এমন উষ্ণতম দিনে তার শরীর অনুভব করছে সমুদ্রের গা ছুঁয়ে আসা ঠান্ডা হওয়া, চোখে এসে পড়ছে দু একটা বালির কণা। একটু দূরে রাস্তা দিয়ে চলে যাচ্ছে মানুষের ভিড়, ব্যস্ত বাস-ট্রেন, আর শুধু নুজাত আটকে পড়েছে এক সমুদ্রের বালিয়াড়িতে। আসলে সুমদ্র বলতে নুজাত যা মনে করতে পারে, তা হলো ক্লাস ফোর থাকাকালীন একদিনের পতেঙ্গা সী-বিচ বেড়াতে যাওয়া। মা, বাবা, বোন আর ছোট মামার সাথে। কিন্তু অমি যে সমুদ্রের কথা বলছে, এ তো সে কোনোদিনও দেখেনি। সমুদ্রকে উপন্যাস ভাবার থ্রিল তো সে কোনো দিনও অনুভব করেনি।

এবার এতক্ষনে আকাশ থেকে চোখ সরিয়ে সে ঘাসের দিকে তাকিয়ে অমিকে জিজ্ঞেস করলো, ‘‘দিনের কোন সময়টাতে সমুদ্র দেখতে সবচেয়ে ভালো লাগে?’’  অমি তড়িঘড়ি জিজ্ঞেস করলো, ‘তাহলে যাবে বলছ?’ ও কিছু উত্তর না দিয়ে বলল, বলো না কোন সময়টা সব থেকে সুন্দর। 
অমি বলল, ‘‘ সব থেকে সুন্দর রূপে সমুদ্র তো আমি এখনো দেখিনি। দেখব, যদি তুমি যাও আমার সাথে। সারারাত ধরে তোমাকে পাশে বসিয়ে দেখব কালো সমুদ্র। যারা সহজে বোর হয়ে যায়, তাদের সমুদ্র দেখতে যাওয়া উচিত নয়, সি-বিচ আর সমুদ্রের মধ্যে পার্থক্য আছে। একজন ভিড় বাড়ায় আর অন্যজন ভিড় সরায়। তোমায় নিয়ে বসব ভিড় সরানো বালিতে। আকাশের তারারা সমুদ্রের বুকেই ফুটে উঠেছে বলে ভুল করব দুজনেই। দুজনে মিলে একই ভুল করার মজাই আলাদা। তবে কোনো কথা বলব না, আসল মুহূর্তগুলোতে কথা না বলাই ভালো। সবই তো আসলে শেখা শব্দ। এদিক ওদিক করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলে যাওয়া। কোনো কবিতাও শোনাবনা তোমাকে, সে ও তো বলা হয়ে গিয়েছে না জানি কত হাজার &#039;দুজনের&#039; মধ্যে। বরং গভীর রাতে দূরে চলে যাওয়া সমুদ্রের শব্দ শুনব আমরা, হলফ করে বলতে পারি সে শব্দ তোমার আমার কারো শোনা হয়নি এ যাবত। এভাবেই কেটে যাবে সারারাত। ততক্ষণে তোমার গালের ওপর পড়ে যাবে হালকা বালির প্রলেপ, ঠোঁটের ওপর জমে যাবে নোনা আস্তরণ। ভোর হতে যখন মাত্র আর কিছুটা সময় বাকি থাকবে, শুধু তখন তোমায় একটা চুমু খাব, মিষ্টি জলের চুমুক ছাড়া বাঁচব কি করে।

হঠাৎ করে মধ্যবিত্তের গ্রীষ্মকালীন বিলাসিতার একমাত্র সম্বল সিলিং ফ্যানটা ঘুরতে শুরু করলো। কারেন্ট এল। নুজাত খেয়ালই করেনি আজ কি গরমটাই না পড়েছে, অথচ সে যেন ভুলেই গিয়েছিল যে এতক্ষণ কারেন্ট ছিল না। পাশে অমি ঘুমোচ্ছে, ঘেমে গেছে। নুজাত শাড়ির আঁচল দিয়ে ওর মাথা, কাঁধ মুছে দিল। ঘড়িতে তখন প্রায় রাত সাড়ে তিনটে। ওর মাঝেমাঝে ইচ্ছে করে একবার সমুদ্রের ধারে গিয়ে বসতে, একটা গোটা রাত বসতে।

এই গরমের লোডশেডিং এর রাতগুলোতে ঘুমোতে না পারলে এমন অনেক ফেলে আসা জলছবি ফুটে ওঠে, যা মাথার ওপর ফ্যান ঘুরে উঠতেই শুকিয়ে যায়। আর তখন মিষ্টি জলের গ্লাসে চুমুক দিয়ে ওপাশ ফিরে শুয়ে না পড়লে, বাঁচা যায় না।

@হাসনাতের হস্তাক্ষর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/103334/</link>
				<pubDate>Wed, 30 Mar 2022 11:54:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শহরের উষ্ণতম দিনে<br />
         হাসনাত সৌরভ<br />
=======================</p>
<p>~ উফ আবার লোডশেডিং, এই নিয়ে চারবার হলো পুরোদিনে। দিনশেষে যে একটু জিরবো তার জো নেই। বুবাই কে স্কুল থেকে এনে বাড়ি ফিরেও দেখি কারেন্ট নেই। কি গো শুয়েই ঘুমিয়ে পড়লে নাকি?</p>
<p>~ হমমম</p>
<p>~ কি হুম, আর যে পারা যাচ্ছে না। বুবাইটা না আবার ঘুম থেকে না উঠে পড়ে। বড়রাস্তার উল্টো দিকের বাড়িগুল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-103334"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/103334/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4fe49efe3743fd73173ca3e46ee56bfc</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/102094/</link>
				<pubDate>Wed, 23 Mar 2022 06:31:22 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>