<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | mahamuda khaun | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/mahamuda/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/mahamuda/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for mahamuda khaun.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 22 Jun 2026 14:14:35 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">6d33a088f074e5e0f0b3bba343f0bc18</guid>
				<title>mahamuda khaun changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/217451/</link>
				<pubDate>Thu, 11 Jul 2024 17:28:09 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cd970e903b8817c5129707260e803381</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য
পর্ব_আটাশ 
হোটেলটায় মোট ছয়টা তলা আছে। নীচতলাটা সম্পূর্ণ জুড়ে গ্যারেজ হিশাবে রাখা হয়েছে। দোতলা তিনতলা রেস্তরাঁ। চারতলা থেকে ছয় তলা পর্যন্ত আবাসিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উপরের ঘরগুলোতে যাওয়ার জন্য তালহার মন আনাচান করছে। কিন্তু কীভাবে এতগুলো মানুষের চোখকে ফাঁকি দিয়ে উপরে যাবে। 
এখানে আর এক মুহূর্ত থাকতে ইচ্ছা করছেনা। মিউজিকের শব্দের কারণে একজন অন্যজনের কথা ঠিকমত শুনতে পারছেনা। একজন যুবক এসে তালহাকে কিছু খাবারের নাম বলে সেগুলো তিনতলার সভাকক্ষে নিয়ে যেতে বলল। তালহা এমনই একটা সুযোগ খুঁজছিলো। তালহা খাবারগুলো নিয়ে তিনতলায় চলে গেলো। সভাকক্ষের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে খাবারাটা রাখার সময় আড় চোখে রুমের মানুষগুলোকে দেখে নিলো। কাউকেই পরিচিত মনে হলোনা। খাবারের ট্রেটা একটা টি টেবিলের উপর রেখে সবার পাশে নাস্তা আর চায়ের কাপ রাখতে রাখতেই ওদের আলোচনা শুনতে থাকলো তালহা। মিটিং বাংলায় হচ্ছিলো, তালহাকে দেখে ইংরেজিতে কথোপকথন শুরু করে দিলো। কিন্তু তালহার ওদের কথা বুঝতে একদমই অসুবিধা হলোনা। নাস্তা পরিবেশন শেষে রুমটা থেকে বের হয়ে আসলো। ওদের আলোচনা পুরাটাই ছিলো ব্যবসা সংক্রান্ত। এই হোটেলের মালিকের একটা পোশাক ইন্ডাস্ট্রি আছে। মুলত নুরজাহান ফ্যাশন ডিজাইন কোম্পানি থেকে এখানখার সব পোশাকের ডিজাইন নির্বাচন করা। এ বছরের প্রায় একশটা নতুন ডিজাইন ইউরোপের দেশগুলোতে পাঠায় তারা। অন্যান্য আরও দশটা ডিজাইন কোম্পানির সাথে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম হয়েছে। সেই সুবাদে আজ পার্টির ব্যবস্থা করা হয়ছে। পাঁচটা দেশের পাঁচজন প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছে। এক সপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবে তারা। তাইতো তাদের বিনোদনের জন্য নারীর ব্যবস্থা করেছে তারা। পুজিবাদি  বিশ্ব নারীকে একরকম পণ্য হিশাবেই দেখে। আরও কিছুক্ষণ সভাকক্ষে থাকার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু কাজ শেষে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা শোভনীয় হবেনা। একটা ব্যাপার এখনও তালহার মাথায় কিছুতেই ঢুকছেনা যে এখানে যদি মেয়েটাকে  আনা হয় তাহলে লিটন আর আজাদ সাহেবই বা কোথায়? তালহা সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে খুব সাবধানে চার তলায় চলে গেলো। সবগুলো ঘরের দরজা বন্ধ। তালহা করিডোর ধরে হাঁটতে লাগলো এবং প্রতিটি দরজায় কান পেতে ভেতরের কেউ আছে কিনা বা থাকলেও কোন আওয়াজ পাওয়া যায় কিনা শোনার চেষ্টা করলো। বেশিরভাগ ঘরের   ভেতরের শুনশান নীরবতা ধরা দিলেও একটা ঘরের দরজায় কান পেতে চমকে উঠলো তালহা। একটা মেয়ের কান্নার শব্দ সাথে ধস্তাধস্তির শব্দ কানে এসে বিঁধল তালহার। আর একটু ভালো করে কান পাতলো তালহা। একটা নারী কন্ঠ কানে আসলো। তালহা নিচে গিয়ে একটা ট্রেতে করে কিছু বাদাম, ওয়াইন এবং স্নাক্স জাতীয় খাবার নিয়ে আসলো। ঐ ঘরের কাছে এসে দরজা নক করতে লাগলো। বেশ কয়েকবার শব্দ করে ধাক্কানোর পরে এখন মাঝ বয়সী লোক এসে দরজাটা খুলে দিলো। দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিদেশী। তালহা ইংরেজিতে তাকে খাবারটা নিতে বললো। লোকটা খাবারটা নিয়ে ভেতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করতে গেলে তালহা বাঁধা দিয়ে বলল সে রুমের বিছানার চাদরটা বদলে দিতে চায়। লোকটা তাকে ভেতরে আমন্ত্রণ জানালো। কাজ করতে করতে লোকটার সাথে আলাপ জুড়ে দিলো তালহা। ঘরে ঢুকেই সে অরিনকে দেখতে পায়। একটা খোলামেলা নাইটি পরে কাঁচুমাচু হয়ে সোফার উপর বসে আছে। তালহা খুব বিব্রত বোধ করলো। মেয়েটাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে ও এসব পোশাকে অভ্যস্ত না। তালহা আসার সময় খুব সাবধানে ওর হাতে একটা কাগজ গুজে দিয়ে বেরিয়ে আসলো। কথা বলে লোকটার নাম জানতে পারে তালহা। হেনরি, হলান্ডের বাসিন্দা। বাকি রুমগুলোর দিকে আর গেলোনা তালহা। অরিনকে বের করে নিয়ে যাওয়াই ওর মূল উদ্দেশ্য। তালহা অরিনের দিকে আর একবার তাকিয়ে ওকে আশ্বস্ত করে সেখান থেকে বের হয়ে নিচে নেমে গেলো। নিচে এখন আগের তুলনায় মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে মনে হলো। ফুল ভলিউমে ইংরেজি গান চলছে তার সাথে নাচতো আছেই। গানের  তালে তালে নাচতে নাচতে সবাই বেহুঁশ হয়ে দামী মখমলের কার্পেটের উপর এবড়ো থেবড়োভাবে শুয়ে পড়লো। কিছুক্ষণের মধ্যেই নাক ডাকার শব্দ ঘরময় ছড়িয়ে পড়লো। তালহা যায়িদ এবং মুসায়েবকে এদিকটায় খেয়াল রাখতে বলে আবার উপরে চলে গেলো। আসা সময় একটা বোরকা সাথে করে নিয়ে এসেছিলো যাতে করে অরিনকে খুব সহজেই বের করে নেয়া যায়। তালহা অরিন যে রুমটায় ছিলো সেখানে মৃদু টোকা দিতে থাকলো। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে যাওয়ার অরিন দরজা খুলে বের হতে গেলে তালহা ওর হাতে বোরকার ব্যাগটা ধরিয়ে দিলো। অরিন জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালে বলল, এর ভেতর একটা বোরকা আছে পরে তারপর বের হন। অরিন মাথা কাত করে সাঁয় দিয়ে ভেতরে চলে গেলো। মিনিট পাচেক পরে বোরকা, হিজাব নিকাব পরে বেরিয়ে আসলো। তালহা ওকে নিয়ে নেমে আসলো। নিচের হল রুমটায় পা রাখার জায়গা নেয়। একজন অন্যজনের গায়ের উপর পড়ে আছে। নাক ডাকার বিদঘুটে আওয়াজ আর গরম নিঃশ্বাসে বেহাল অবস্থা হলঘরটার। ওরা ছাড়া বাকি যে চারজন ওয়েটার ছিলো তাদেরকে হাত পা বেঁধে রান্নাঘরে ফেলে রাখা হয়েছে। কাজটা মুসায়েব এবং যায়িদ করেছে। সব বাতি বন্ধ করে হলঘরটাকে অন্ধকার করে ফেললো তালহা। যাতে করে ওদের বের হয়ে যাওয়া কারোর নজরে না পড়ে। যদিও সে সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবুও সতর্ক থাকা ভালো। বের হতে গিয়ে গেটের দারোয়ানকে কোনরকম প্রশ্ন করতে না দিয়ে দ্রুত অরিনকে নিয়ে রাস্তার অন্যপাশে দাঁড়ানো গাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়লো। 
অরিনকে ওর বাসায় পৌঁছে দিয়ে খুব সাবধানে থাকতে বলল  তালহা।  
আমরা এখন কোথায় যাবো? 
যায়িদের কথায় উত্তরে তালহা এখন মাদ্রাসাগুলোতে গিয়ে আরাফের খোঁজ করবো। আমার ধারণা আরাফের খোঁজ পেলে আনিসের খোঁজও পাওয়া যাবে। 
এখন কয়টা বাজে সে খেয়াল আছে? নিজের হাত ঘড়িটা তালহার সামনে মেলে ধরে কথাটা বলল যায়িদ।  
ভোর চারটা। খেয়াল থাকবেনা কেন?
এসময় তোর জন্য কে জেগে বসে থাকবে?
আমাদের যাপিত জীবনের সাথে মাদ্রাসার যাপিত জীবন যাপনের মধ্য বিস্তর ফারাক আছে। এসময় বাচ্চার উঠে তাহাজ্জুত পড়ে কোরআন পড়তে বসে। পোড়োবাড়ির কাছের বড় বড় মাদ্রাসাগুলোতে খোঁজ করেও কোথাও আরাফ বা আনিসের সন্ধান পেলোনা তালহারা। সকাল দশটা পর্যন্ত এক নাগাড়ে ছোট বড় মিলে দশটা মাদ্রাসা এবং এতীমখানায় তল্লাশি চালিয়ে তবেই ক্ষান্ত হলো তালহা। 
মাদ্রাসাগুলোতে ওদেরকে পাওয়া গেলোনা। এখন কোথায় খুঁজবি?
যায়িদের প্রশ্ন শুনে মুসায়েব বলল, কীসের খোঁজাখুঁজি? আমার পক্ষে আর ঘোরাঘুরি করা সম্ভব না। এখন আগে খাওয়া দাওয়া করবো, তারপর অন্যকিছু নিয়ে ভাববো। 
মুসায়েবের কথার সাথে তাল মিলিয়ে তালহা বলল, আজকে এই মূহুর্তে আর কোথাও যাবোনা। এখন বাসায় ফিরে যাবো। কাল আনিসের নানুবাড়ি কালিগঞ্জ যাবো।
সেখানে আমাদের কি দরকার?
আমার ধারনা সেখানে গেলে আমি আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পারো। তাছাড়া আমার কেন যেন মনে হচ্ছে আরাফ এবং আনিস দুজন ওখানেই আছে। তবে তার আগে ওখানকার ঠিকানা যোগাড় করতে হবে। কাজটা আমি আজকেই করবো। তোদের ইচ্ছা হলে আমার সাথে যোগ দিতে পারি অথবা বিশ্রাম নিতে পারিস। 
যায়িদের এখন আর কোথাও যাওয়ার ইচ্ছা নেই। তালহার শেষের বাক্যটাকে পাত্তা না দিয়ে ওর সন্দেহের কারণ জানতে চেয়ে বলল, তোর এরকম মনে হওয়ার কারণ কি?  
শুধু এটা নয়, আমার আরও অনেক কিছু মনে হয়।
কি মনে হয়? 
আমার এসব কাজের মূলে এমন একজনকে সন্দেহ হয় যার কথা তোরা ভাবতেও পারবিনা।   
কে সে? যায়িদ উৎসুক দোখে তালহার দিকে তাকালো। 
এখন কিছু বলবোনা কারণ আমি আন্দাজ করেছি। তবে আন্দাজ করলেও আমার বিশ্বাস আমি ভুল ভাবিনি। চল এখন নানুবাড়ি চলে যাই। আমি আর একটু গবেষণা করে নেই তারপর সব জানতে পারবি। 
মুসায়েব এখন তালহার নানুবাড়ি যেতে চায়না। ওখানে গেলে এখন সকালের নাস্তা পাওয়া যাবে। কিন্তু ওর এখন মানে এখুনি খুব ভাত খেতে ইচ্ছে করছে। তালহাকে ওর ইচ্ছার কথা জানালো। 
তালহা বলল, তাহলে চল কোন রেস্তোরাঁ থেকে খেয়ে তারপর যাই। ছোট মামা আমার বিকাশে টাকা পাঠিয়েছে। খাওয়া দাওয়া করতে এখন অসুবিধা হবেনা।  
খাওয়া দাওয়ার আলাপ একদমই ভালো লাগছেনা যায়িদের। ওর মাথায় এখন তালহার বলা কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে। তালহাকে সেই ব্যাপারে আবারও কিছু জিজ্ঞাসা করতে গেলে ওকে থামিয়ে দিয়ে তালহা বলল, এ বিষয়ে পরে কথা  হবে। এখন বরং চল আমরা একটা ভালো রেস্তোরাঁ দেখে সেখানে গিয়ে আগে ক্ষুধা নিবারণ করি। এখনই না খাওয়ার ব্যবস্থা করলে মুসায়েবের মার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কথা বলেই মুসায়েবের দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসলো।
মুসায়েব কপট রাগ নিয়ে তালহার দিকে তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে নেয়।   
তালহা ঠোঁটের কোণায় হাসি ঝুলিয়ে রেখে মনে মনে ভাবে মুসায়েবের এই স্বভাবটা ওর বেশ লাগে। একটা রেস্তোরাঁ  গিয়ে পেট পুড়ে খেয়ে নিলো ওরা। রেস্তোরাঁর খাবারটা ভালোই ছিলো। তবে সেখানে নানারকম ছোট মাছ আর ভত্তা ছাড়া কোনরকম গোস্ত বা বড় পাওয়া গেলোনা। এটাই নাকি এই রেস্তোরাঁর বৈশিষ্ট্য। তালহা এ ধরণের খাবার খেলেও যায়িদ আর মুসায়েবের এগুলো মুখে রোচেনা। তারপরও নানারকম ভত্তা আর ছোট মাছ দিয়ে গোগ্রাসে উদর পূর্তি করলো তিনজনে। আসলে ক্ষুধা লাগলে তখন সব খাবারই অমৃত লাগে। 
খাওয়াটা মনে হচ্ছে বেশি হয়ে গেছে। এখন বাসায় গিয়ে একটা ঘুম দিতে হবে। 
মুসায়েবের সাথে তাল মিলিয়ে যায়িদও একই কথা বললো।   
গাড়ি বাড়ির গেটে পৌঁছানোর সাথেই কালক্ষেপণ না করে মুসায়েব দৌড়ে দোতলায় উঠে গেলো। ঘুম কাতুরে মুসায়েবের এমন আচরণের সাথে বেশ পরিচিত তালহা আর যায়িদ। ঘুম এবং ক্ষুধা এই দুইটার সাথে কোন আপোশ করতে চায়না ছেলেটা। এখন টানা দুই তিন ঘণ্টা ঘুমিয়ে উঠার পর স্বাভাবিক হবে ও। যায়িদও উপরে চলে গেলো। তালহা ড্রাইভারের সাথে ওর পরবর্তী কাজ সম্পর্কে আলোচনা করে দুই ঘণ্টার জন্য ছুটি দিয়ে দিলো। ওরও এখন বিশ্রামের প্রয়োজন। গতকাল রাতে কিছুক্ষণ ঘুমালেও বেশিরভাগ সময়ই নির্ঘুম কেটেছে তালহার। বাসায় ঢুকে একটা শাওয়ার নিয়ে কিছুক্ষণ ঘুমানোর জন্য দুই বন্ধুর পাশে গিয়ে শুয়ে পড়লো।  

চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/174896/</link>
				<pubDate>Mon, 14 Nov 2022 09:46:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_আটাশ<br />
হোটেলটায় মোট ছয়টা তলা আছে। নীচতলাটা সম্পূর্ণ জুড়ে গ্যারেজ হিশাবে রাখা হয়েছে। দোতলা তিনতলা রেস্তরাঁ। চারতলা থেকে ছয় তলা পর্যন্ত আবাসিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উপরের ঘরগুলোতে যাওয়ার জন্য তালহার মন আনাচান করছে। কিন্তু কীভাবে এতগুলো মানুষের চোখকে ফাঁকি দিয়ে উপরে যাবে।<br />
এখানে আর এক মুহূর্ত থাকতে ইচ্ছা করছেনা। মিউজিকের শ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-174896"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/174896/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e3a4cd356f323eb722914e62e672cf62</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য
পর্ব_ছাব্বিশ +সাতাশ  

ছেলেটি উপর থেকে মৃদু চিৎকার করে দারোয়ানকে বলল, আসগর চাচা! আংকেলটাকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না কেন?
বড় সাবের বারণ আছে। আসগর চেহারায় গম্ভীর ভাব রেখে উত্তরটা দিলো। 
উনিতো বাবার কাছে এসেছে। বাবা উনাকে আধঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলেছে। তাহলে কি উনি রাস্তায় বসে অপেক্ষা   করবেন? কথাটা বলেই কালক্ষেপণ না করে দ্রুত গতিতে নিচে নেমে আসলো ছেলেটা।  আজাদ চৌধুরীর কাছে এসে তাকে সালাম দিয়ে বলল, আংকেল আপনি আমার সাথে ভেতরে চলেন। 
আজাদ চৌধুরী কোমলতার সাথে ছেলেটার সালামের উত্তর দিলো এবং ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলল, আমি একটু আসছি। গাড়িতে আমার সহকারী বসে আছে। ওর সাথে একটা প্রয়োজনীয় কথা বলা দরকার।  
অয়ন মুচকি হেসে বলল, ঠিক আছে আংকেল, আপনি কথা বলে আসেন, আমি আপনার জন্য এখানে অপেক্ষা করছি। আজাদ চৌধুরী একটা বিনিময় হাসি দিয়ে গাড়ির কাছে চলে গেলেন। লিটনকে কিছু একটা বলে গেটটা ঠেলে ভেতরে ঢুকে বলল, চল যাওয়া যাক। তার আগে আমাদের নিজেদের মধ্যে পরিচিত হওয়া দরকার, কি বল? আজাদ চৌধুরী আসার সময় ক্যাটবেরী চকলেট আর আইস্ক্রিম আনতে ভোলেনি। ছেলেটার দিকে চকলেটের বক্সটা এগিয়ে দিয়ে বললো আমি আজাদ চৌধুরী। তোমার নামটা কি বাবা? এই নাও এটা তোমার জন্য। 
চকলেটের বক্স হাতে নিয়ে গাল ভরে হেসে দিলো ছেলেটা। হাসিটা ধরে রেখেই বলল, আমার নাম অয়ন শেখ।
আজাদ চৌধুরী সবটাই জানে, তবুও জিজ্ঞাসা করলো তুমি কি একা নাকি আরও ভাইবোন আছে?
অয়নের আজাদ চৌধুরীকে খুব পছন্দ হয়েছে। উচ্ছ্বাসের সাথে বলল, আমরা তিন ভাইবোন। সবার বড় ভাইয়া আয়মান শেখ, আপু অরিন মেহজাবিন আর আমি অয়ন শেখ।  
কথা বলতে বলতে তারা বসার ঘরে ঢুকলো। বসার ঘরের পাশেই ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা আছে। বসার ঘরে কিছুক্ষণ  বসে অয়ন, আজাদ চৌধুরীকে সেখানে নিয়ে গিয়ে বলল, আংকেল আসেন টি টি খেলি। বেশ কিছু সময় ধরে অয়নের খেলার পর আজাদ চৌধুরী ওকে জিজ্ঞাসা করলো, অয়ন তোমার আজকে স্কুল নেই? 
হ্যা আছেতো! 
তবে তুমি এখন বাসায় কেন? আজকে স্কুলে যাওনি? 
না যাইনি। আপুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ তাই আমারও স্কুলে যাওয়া বন্ধ।  
কেন তোমার আপুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ কেন?
আপুকে অপহরণকারীরা ধরে নিয়ে গিয়েছিলো। তারপর কারা যেন উদ্ধার করে বাসায় দিয়ে গেছে আমি জানিনা। আব্বুকে বলে গিয়েছে আপু যেন একদমই বাইরে না বের হয় এবং আপুর ফিরে আসার কথা যেন কেউ জানতে না পারে। জানেন সেদিন আমি স্কুলে গেলে আমাকেও ধরে নিয়ে যেতো। কিন্তু আমার জ্বর ছিলো তাই আমি সেদিন স্কুলে যাইনি। আপুকে না পেয়ে আব্বু আম্মু সে কি কান্না! 
তোমার আব্বুও জানেনা কারা উদ্ধার করলো বা কারা ধরে নিয়ে গিয়েছিলো?
না তা জানেনা। তবে সবার ধারণা আব্বু অনেক বড় ব্যবসায়িতো! তাই হয়তো কেউ মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবী করার জন্য ধরে নিয়ে গিয়েছিলো।
তাও হতে পারে। আচ্ছা তোমার বাবা বলেছিলো আধঘণ্টার মধ্যেই চলে আসবে। কিন্তু এখনও আসলোনা। 
বাবা খুব ব্যস্ত মানুষ। রাত দশটার আগে বড় ভাইয়া আর বাবাকে দেখাই যায়না।
আর মা? তোমার মা নিশ্চয় তোমাদের সাথে থাকেন?
না, মাওতো চাকরি করে। তবে মা সন্ধ্যার আগেই চলে আসে। তবে আজকে মামনিরও দেরি হবে। 
তাহলে তোমাদের কে দেখাশোনা করে?
রিমা খালা, পুতুল আপু আর নানুমনি এই তিনজন আমাদের দেখাশোনা করে।
ও আচ্ছা। কথা বলতে বলতে আজাদ চৌধুরি সামনের দিকে হাঁটতে থাকে। বসার ঘরের সাথে একটা গোল বারান্দা আছে। আজাদ চৌধুরী সেখানে গিয়ে দাঁড়ালো। তারপর অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল, বাড়িটার নকশাটা খুব সুন্দর! 
নিচের থেকে উপরটা বেশি সুন্দর। উপরে যাবেন?  
না সেটা ঠিক হবেনা। 
কিছু হবেনা আংকেল। কথাটা বলে আজাদ চৌধুরীকে একপ্রকার টেনেই উপরের দিকে নিয়ে যেতে লাগলো। বাড়িটা ঠিক ডুপ্লেক্স না, আবার ডুপ্লেক্স। দোতলায় উঠার সিঁড়িটা বসার ঘরের সাথে যে করিডোরটা আছে সেখানকার দেয়াল ঘেঁষে বানানো হয়েছে। আজাদ চৌধুরী অয়নের সাথে সিঁড়ির ধাপগুলো পেরিয়ে উপরে চলে আসে। উপরে ডাইনিং রুমের সাথে একটা ছোট বসার ঘর আছে। অয়ন তাকে নিয়ে সরাসরি খাওয়ার ঘরে গিয়ে বসালো। রিমা খালাকে ডেকে বললো এই আংকেলটা আব্বুর সাথে দেখা করতে এসেছে। আব্বু অপেক্ষা করতে বলেছে। তাই আমি উপরে নিয়ে আসলাম। কিছুক্ষণ পর অরিনকে ডেকে নিয়ে এসে বলল আংকেল এই যে আমার আপু। আজাদ চৌধুরী অয়ন এবং অরিনের সাথে অনেকক্ষণ ধরে নানারকম গল্প করলো। গল্পের এক পর্যায়ে ওদেরকে জিজ্ঞাসা করলো, তোমারা নলডাংগার রাজবাড়িটা দেখেছো?
ওরা দুজনেই বললো, নাতো! আসলে আব্বু আম্মু এতোটাই ব্যস্ত থাকে আমাদের তেমন সময় দিতে পারেনা। তবে ঘুরতে নিয়ে যায়না তা কিন্তু না। প্রতি বছরই আমরা ঘুরতে যাই। তবে সেটা কাছের কোন জায়গা না, দূরে কোথাও।  যেমিন গত বছর আমরা দার্জিলিং গিয়েছিলাম। একটানে কথাগুলো থামলো অয়ন। 
আজাদ চৌধুরী খেয়াল করল অরিন কোন কথাই বলছেনা। ওকে উদ্দেশ্য করেই বলল, অরিন তোমার কি মন খারাপ?
ও মুচকি হেসে বলল, না তেমন কিছুনা।
আমার তোমার মত একটা মেয়ে আছে। তবে ওর বয়স মাত্র দশ। কথা বলার ফাঁকে লিটনকে মেসেজ পাঠিয়ে বলল; ‘ আমাকে ফোন কর।’ 
কিছুক্ষণের মধ্যেই বিরস শব্দ করে আজাদ সাহেবের ফোনটা বেজে উঠলো। ‘এক্সকিউজ মি’, অরিন এবং অয়নের উদ্দেশ্যে কথাটা বলে আজাদ চৌধুরী ফোনটা রিসিভ করে বলল, হ্যালো কে বলছেন? ও স্যার! এটা কার নাম্বার? ও আপনি সিঙ্গাপুরে চলে গেছে। এই সপ্তাহটা ওখানেই থাকবেন? তাহলেতো আজকে আর দেখা হবেনা। আমি কি করছিলাম এতক্ষণ? অয়ন আর অরিনের সাথে কথা বলছিলাম। স্যার আপনার বাচ্চা দুইটা না খুব মিষ্টি। কথাগুলো বলে আজাদ চৌধুরী কিছুক্ষণের জন্য থামলেন। মনে হচ্ছে ওপাশের কথা শুনছেন মনোযোগ দিয়ে। প্রায় মিনিট তিনেক চুপ থাকার পর আবার কথা বলা শুরু করলেন। স্যার, আপনি একদমই চিন্তা করবেননা। আমি ওদেরকে বুঝিয়ে বলে মিটিংটা পরের মাসে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করবো। ধন্যবাদ স্যার বলে ফোনটা রেখে দিলো আজাদ চৌধুরী।
সরি, তোমরা কি খুব বিরক্ত বোধ করছিলে? আজাদ চৌধুরী ফোনটা রেখে অরিন ও অয়নকে জিজ্ঞাসা করলো।
নাতো! বিরক্ত হবো কেন? আপনি কি বাবার সাথে কথা বলছিলেন? এতক্ষণ পর নিজে থেকে এতো বড় বাক্য উচ্চারণ করলো অরিন।
হ্যা, স্যারের সাথে কথা বলছিলাম।
বাবা সিঙ্গাপুর গেছে, আপনি জানতেননা?
নাহ্‌। উনিইতো সকালে আমি যখন ফোন করে জানালাম আজকে একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে, সেজন্য আমি এখন আপনার বাসায়, তখন উনি আমাকে অপেক্ষা করতে বললেন। বললেন, ‘আধঘণ্টার মধ্যে আমি চলে আসবো’ 
অরিনের এতক্ষণ লোকটাকে সন্দেহ হচ্ছিলো। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আব্বু যে সিংগাপুর গেছে এটাতো ঠিক কথা। যদি লোকটাকে নাই জানাতো তবে জানলো কীভাবে? 
তাহলে আমি এখন আসি। লোকটার কথা শুনে অরিনের ভাবনায় ছেদ পড়লো। হাসি দিয়ে বলল, ঠিক আছে আসুন। ঘর থেকে বের হয়েই যাচ্ছিলো আজাদ চৌধুরী। যাওয়া থামিয়ে বলল, আজকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার হাতে সময় আছে। তোমরা যদি নলডাংগা রাজবাড়ি দেখতে চাও আমি তোমাদের ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে পারি। আমার সাথে গাড়ি আছে।
তাহলেতো খুব ভালো হয়। আপু তুই যাবি? সোৎসাহে কথাটা বলল অয়ন। 
অরিনের লোকটাকে আবার সন্দেহ হতে লাগলো। অপহৃত হওয়ার পর ওর অচেনা মানুষ দেখলেই সন্দেহ হয়। আর তাছাড়া যতই আব্বুর পরিচিত হোকনা কেন, একজন স্বল্প পরিচিত মানুষের সাথে কোথাও যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। অয়নের স্বভাবটাই এমন। সহজে মানুষের সাথে মিশে যাবে। অয়নকে মৃদু ধমক দিয়ে বলল, না অয়ন, আমরা কোথাও যাচ্ছিনা। আংকেল আপনি মন খারাপ করবেন না।  
কেন আপু আম্মুকে ফোন করে অনুমতি নিয়ে নিলেইতো হয়। কথাটা বলতে দেরি কিন্তু কর্ডলেসটা হাতে নিয়ে মাকে ফোন করতে দেরি হয়না অয়নের। দুই তিনবার ফোন করার পর মায়ের ফোন বন্ধ পেয়ে হতাশ হয়ে বলল, ফোন বন্ধ আপু!
অরিন আজাদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলল, আংকেল আজ থাক। আপনি অন্যদিন আসেন, আমরা সবাই মিলে আপনার সাথে রাজবাড়ি দেখার জন্য যাবো। 
আজাদ চৌধুরী স্মিত হেসে বললেন, ঠিক আছে , অন্যদিন নিয়ে যাবো। মনে মনে খুব হতাশ হলো। এই পদ্ধতিতে কাজ হলোনা তাতে কি? ব্যাগ থেকে একটা ক্যাটবেরির বক্স বের করে অরিনকে দিয়ে বলল, এটা তোমার জন্য। দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। স্পেশাল করে বানানো। মুখে নিলে একদম গলে  যায়। একটা খেয়ে দেখো। 
চকলেট অরিনের খুবই প্রিয়। চকলেট পেলে আর মাথা ঠিক থাকেনা। বক্স থেকে একটা চকলেট নিয়ে মুখের মধ্যে পুরে চোখ বন্ধ করে ফেললো। অরিন চকলেটটা শেষ করে বলল, আংকেল ধন্যবাদ। 
আজাদ চৌধুরী পাল্টা ধন্যবাদ দিয়ে বলল, তাহলে আমি এখন আসি। অরিন এবং অয়ন তাকে বিদায় দেওয়ার জন্য নিচ পর্যন্ত আসলো। গেট দিয়ে ঢুকে একটা লন পেরিয়ে একটা করিডোর। লম্বা করিডোরের পরেই বসার ঘর। করিডোরে ঢোকার মুখে একটা কেচি গেট লাগানো। অরিন এবং অয়ন আজাদ চৌধুরীকে বিদায় দেওয়ার জন্য লন পর্যন্ত চলে আসলো। হঠাৎ আজাদ চৌধুরী পকেটে হাত দিয়ে বলল, অয়ন আমার মোবাইলটা বোধহয় উপরে রেখে এসেছি। পকেটেতো পাচ্ছিনা। 
আপনি দাঁড়ান আমি নিয়ে আসছি বলে অয়ন দৌড়ে উপরে চলে গেলো। ঠিক তখনই চারজন লোক এসে দুইজন দারোয়ানকে ধরে রাখলো এবং দুইজন মুখে রুমাল চেপে অরিনকে ধরে নিয়ে গেলো। আজাদ চৌধুরী কেচি গেটে তালা লাগিয়ে অয়ন আসার আগেই সেখান থেকে চলে গেল। সব কাজ মুহূর্তের মধ্যে করে ফেললো তারা। অয়ন উপরে গিয়ে  কিছুক্ষণ ফোনটা খুঁজতে থাকে। সেই সময়টাতেই কাজটা সম্পন্ন করে অপহরণকারীরা। অয়ন যখন ফোন পাচ্ছেনা এই কথাটা বলার জন্য নিচে নামলো তখন ও দেখলো সেখানে আজাদ চৌধুরী বা তার আপু কেউই নেই। আর গেটের সামনে চেতনাহীন অবস্থায় দারোয়ান আংকেল পড়ে আছে। ও চিৎকার করে বলতে থাকলো, আপু আপু.........।

পর্ব_সাতাশ
 #পোড়োবাড়ির_রহস্য
 #মাহামুদা_খাতুন
 #পর্ব_সাতাশ
তালহার হিশাব অনুযায়ী বিকাল চারটায় নলডাংগা বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তালহাদের বাস যখন বাস স্ট্যান্ডে এসে থামলো তখন ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় পাঁচটা বাজে। বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করে একটা অটো নিয়ে কাজিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হল ওরা। নামজ পড়া শেষ করে অটো খুঁজতে গিয়ে আরও  আধঘণ্টা ব্যয় হলো। তালহা ড্রাইভারকে জোরে চালাতে বলে দিলো। কাজিপাড়া এসে ‘ আপন নীর’ এর সামনে যখন পৌছালো তখন প্রকৃতিতে সন্ধ্যার ঘণ্টা বেজে গেছে। তালহা অটোটা ছেড়ে দিয়ে দারোয়ানের সাথে কথা বলার জন্য  গেটের কাছে গেলো। গিয়ে দেখলো দারোয়ান কাঁচুমাচু ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে আছে আর তার সামনে একজন লোক দাঁড়িয়ে তাকে উত্তেজিতভাবে বকে যাচ্ছে। 
ওরা একটু ভেতরের দিকেই ছিলো। তালহা গেটটা খোলাই পেলো। আরও সামান্য ফাঁকা করে ভেতরে ঢুকে পড়লো তালহা। কি হয়েছে বিনয়ের সাথে লোকটার কাছে জানতে চাইলো। 
তাদের কথার মধ্যে অযাচিতভাবে তালহার অনুপ্রবেশ একদমই পছন্দ হয়নি লোকটার। আসগরের সাথে তালহাকেও ধমক দিয়ে বললেন, এই ছেলে কে তুমি? এমন করে মানুষের বাসায় ঢুকে পড়তে হয় নাকি? ঢোকার আগে অনুমতি নিতে হতে সেটা জানা নেই তোমার।
তালহা ওর আচরণের কারণে লজ্জিত হলো। ক্ষমা চেয়ে বিনয়ের সাথে বলল, আমি তালহা, অরিনকে আমিই উদ্ধার করে এনেছিলাম। অপহরণকারিদের আজকে ওকে নিয়ে বিদেশী ডেলিগেটসদের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিলো। ওরা যখন অরিনকে পাবেনা তখন ওরা ওকে আবার অপহরণ করতে চাইতে পারে। সেই কারণে সতর্ক করার জন্য আমি আংকেলকে অনেকবার ফোন করেছিলাম। কিন্তু প্রতিবারই উনার ফোন বন্ধ পাই। তাই ছুটে আসলাম। অরিন ঠিক আছেতো! কোন ভণিতা না করে এক নিঃশ্বাসে দরকারী কথাটা বলে ফেললো। 
লোকটা তার ভুল বুঝতে পেরে তালহার দিকে নিজের হাতটা বাড়িয়ে বলল, আমি রাজন চৌধুরী, অরিনের মামা। পরিচয় দেওয়ার পর সকাল থেকে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা তালহাকে খুলে বলল।  
ঘটনাটা শুনে তালহার মনে হলো আর এক মুহূর্ত এখানে দাঁড়ানো উচিৎ হবেনা। উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল, আমাদের তাহলে  এখুনি যেতে হবে। কাজটা সফলভাবে শেষ করে আসবো ইনশাআল্লাহ্‌। তখন নিশ্চয় আপনার সাথে আবার দেখা হবে? 
ইনশাআল্লাহ্‌ আআমদের আবার দেখা হবে খুদে গোয়েন্দা! তখন তোমাদের সাথে খোশ আমেজে গল্প করা যাবে। এখনকার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ অরিনকে উদ্ধার করা। আমিও তোমাদের সাথে যেতে চাই। আর পুলিশেও খবর দেওয়া উচিৎ। 
কিন্তু মামা, আমরা যেখানে যাচ্ছি তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কোন প্রমাণ নেই। তাই পুলিশ দেখলে ওরা সতর্ক হয়ে অরিনকে লুকিয়ে ফেলবে। তখন আমাদের আর কিছুই করার থাকবেনা। তাছাড়া এসব পুলিশ টুলিশে কোন কাজ হবেনা। ওদের আরও উঁচু দরের মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক আছে। আমি আপনাকে জানাবো। আর তাছাড়া এখানকার পুলিশ সুপার আর অসির সাথে আমার কথা হয়েছে। উনারা আমাদের যেকোন প্রয়োজনে পাশে থাকবেন বলে কথা দিয়েছেন। দুজনই খুব সৎ। এই প্রফেশনে এমন সৎ ও বিনয়ী মানুষ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। 
তাহলে তোমার উপর ভরসা করতে পারি?
জ্বি, আল্লাহ্‌র রহমতে আপনি আমাদের উপর ভরসা করতে পারেন। মামা আমি এবার আসি। বাইরে আমার বন্ধুরা অপেক্ষা করছে। এই যে আমাদের কার্ড, পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে রাজন চৌধুরীকে দিয়ে কথাটা বলল তালহা।  
এই যে আমার কার্ড। নিজের কার্ডটা তালহাকে দিলো রাজন চৌধুরী। 
তালহা কার্ডটার দিকে তাকিয়ে বলল, আপনি সাইন্টিস্ট! 
হ্যা।
আপনার সাথে আমার আবার দেখা করতেই হবে। এখন তবে আসি বলে তালহা রাজন চৌধুরীর কাছ থেকে বিদায় নিলো। 
ঠিক আছে এসো। আল্লাহ্‌ তোমাদের সহায় হোক। পেছন থেকে চিৎকার করে কথাটা বলল রাজন চৌধুরী। 
কিছুদূর গিয়ে আবার ফিরে আসলো তালহা। দারোয়ানের সাথে কথা বলা দরকার। মুখটা পাংশু করে বসে লোকটা। একটু আগে রাজন মামার কাছ থেকে খাওয়া ধমকটা এখনও হজম করতে পারেনি। এখনও চোখে-মুখে তার রেশ রয়ে গেছে। বসে বসে ঝিমাচ্ছে। এসব বসা কাজে ঘুমানো ছাড়া আর কোন কাজ থাকেনা। তালহা আসগর চাচা বলে ডাক দিতেই লোকটা ধড়ফড় করে উঠলো। তালহার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে বলল, আমাকে কিছু বলছো বাবা? 
তালহার মনে হলো লোকটা এখনও ঘোরের মধ্যে আছে। লোকটা ওর দিকে তাকিয়ে থাকলেও মনে হচ্ছে মনযোগটা নেই। তালহা তুড়ি বাজিয়ে বলল, চাচা আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। 
বল বাবা কি কথা? 
তালহা মোবাইল থেকে আযাদ চৌধুরীর ছবিটা দেখিয়ে বলল, চাচা দেখনতো এই লোকটাকে চিনেন নাকি? এই লোকটাইতো এসেছিলো, তাইনা?
হ্যা এই লোকটাই আমাগো অরিনরে ধইরা নিয়ে গেছে।  
ধন্যবাদ চাচা, আমার এটাই জানার দরকার ছিলো। একটা হাসি দিয়ে তালহা গাড়িতে গিয়ে বসলো। ওদেরকে এখন  ‘অরণি ফাইভ স্টার হোটেলে’ যেতে হবে। গুগলে সার্চ করে আগেই ঠিকানাটা যোগাড় করে রেখেছে তালহা। তাদের গাড়িটা নিয়েই যাওয়ার ইচ্ছা। ড্রাইভারকে গাড়িটা নিয়ে নলডাংগা তিন রাস্তার মোড়ে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। অটোর ড্রাইভারকে তিন রাস্তার মোড়ে যেতে বলে দিলো। 
এতক্ষণ পর্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলো যায়িদ আর মুসায়েব। তালহা কিছু বলছেনা দেখে মুসা ওর হাত ধরে ঝাঁকি দিয়ে বললো কিরে ওদিকটার কি খবর বললিনাতো। অরিন ঠিক আছে?
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তালহা বলল, নাহ্‌ ঠিক নেই। যায়িদের কথাই ঠিক হয়েছে। ওরা অরিনকে আবার অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
তাহলে আমরা এখন কোথায় যাবো? মুসা আবারও জিজ্ঞাসা করলো।
এখন অরণি ফাইভ স্টার হোটেলে যাবো। তিন রাস্তার মোড় থেকে নানু বাড়ির গাড়িতে উঠবো। এইসময় নিজেদের গাড়ি থাকার দরকার। এসব ভাড়া গাড়ি দিয়ে কাজ হবেনা। ড্রাইভারকে গাড়ি নিয়ে আসতে বলেছি। উনি বলেছে উনি আশেপাশেই আছেন। গাড়ির চাকা পাল্টানো ছাড়াও গাড়ির আরও কিছু সার্ভিসিং করানো হয়েছে। তাই এতো সময় লেগেছে। আমাদেরকে ওখানে ছদ্মবেশে যেতে হবে। বন্ধু দুজনকে দুইটা মাস্ক দিয়ে পরে নিতে বললো এবং নিজেও একটা পরে নিলো। মাস্ক, মাথায় ক্যাপ দিয়ে মোটামোটি মুখটাকে ভালো করে ঢেকে রাখার চেষ্টা করলো যাতে চট করে কারোর নজরে না পড়তে না হয়। চল্লিশ মিনিট লাগলো তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছাতে। গাড়ি নিয়ে ড্রাইভার আংকেল আগেই থেকেই ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলো।
গাড়িটাকে নিয়ে ওরা প্রথমে একটা জেন্স সেলুনে ঢুকে সামান্য মেকআপ করে হোটেলের উদ্দেশে রওনা দিলো। 
গাড়িতে বসেই হোটেলে ঢুকে কি করবে সেই পরিকল্পনা করে ফেললো তালহা। বন্ধুদেরকে তার পরিকল্পনার কথা জানালো। নলডাংগা বাসস্ট্যান্ড থেকে তিন কি মি বামে গিয়েই হোটেলটার সন্ধান মিললো। ভেতরে নিশ্চয় অনেক মানুষের ভিড় থাকবে। এসব হোটেলগুলোতে দেশি বিদেশী ব্যবসায়ীদের মিলনমেলা ঘটে। 
গটগট করে হোটেলের মধ্যে ঢুকতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হলো ওরা। গেটে থাকা লোকটার গুরুগম্ভীর স্বরে বলল, কোথায় যাচ্ছেন?
দোতলায় যে অফিসিয়াল অনুষ্ঠানটা হচ্ছে সেখানে যাবো।
দাওয়াত পত্র দেখান।  
কথাটা শুনে থমকে গেলো তালহা। মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিলো। অবশ্য ঐ বা কীভাবে জানবে যে এসব জায়গায় ঢুকতে দাওয়াত পত্র লাগে। মুখে খানিকটা গাম্ভীর্জ টেনে বলল, আমরা গোয়েন্দা, একটা ইনভেস্টিগেশান এসেছি। এই যে দেখেন আমাদের কার্ড। 
লোকটা কার্ডটা হাতে নিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখে বলল, সেতো বুঝলাম। কিন্তু আমার উপর কড়া আদেশ আছে দাওয়াত পত্র ছাড়া যেন কাউকে যেন ঢুকতে না দেই। আর তাছাড়া যার অনুষ্ঠান এই হোটেলটাও উনার।  
হ্যা সেটা ঠিক আছে। উনাদের অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে হওয়ার জন্যইতো এই ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু উনি জানেনা যে উনার শত্রু উনার কাছের লোকরাই। পুলিশ দিয়ে কাজ হবেনা বিধায় উনি গোয়েন্দা লাগিয়েছে। আমাদের আসার কথা কাউকে  জানাবেননা বলেই আপনাকেও বলে রাখতে পারেনি। আমাদেরকে খবর না দিলে আমরা জানবোই কোথা থেকে? আপনার নামটা চাচামিয়া?
সাগর। 
কতদিন ধরে এখানে আছেন?
ছয়মাস হয়ছে আইছি। 
আসলে এখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। যার ফলে এসব জায়গায় একজনের সাথে অন্যজনের শত্রুতা থাকা অমূলক নয়। ইদানিং আপনাদের বসের.........কথাটা সম্পূর্ণ না করে তালহা জিজ্ঞাসা করলো আচ্ছা আপনাদের বসের নাম কি আপনি জানেন?
না স্যার আমি কারোর নাম জানিনা।
আমরাও জানিনা। আমরা একটা ফোন পেয়ে এসেছি এখানে। পুলিশে না জানিয়ে গোয়ান্দাকে জানিয়েছে কেন তাই মনে হচ্ছে আপনার? 
লোকটা কোন কথা না বলে  মাথা নেড়ে ‘হ্যা’ বোঝালো।
পুলিশ আসলেও ছদ্মবেশে আসতে হতো। কারণ পোশাক পরা দেখলেইতো সবাই সতর্ক হয়ে যাবে। ব্যাপারটা অনেক জটিল, মাথা খাটিয়ে বের করতে হবে। তাইতো উনি গোয়েন্দাদেরকেই বেছে নিয়েছেন।
তালহার দীর্ঘ লেকচারে লোকটা কি বুঝলো বোঝা গেলোন। কিন্তু মাথা নেড়ে তালহাদের ঢুকতে দিলো, কারণ ছেলেগুলোকে তার খুব ভালো লেগেছে, সৎ মনে হয়েছে, ধান্দাবাজ মনে হয়নি। 
অনুমতি পেয়ে খুশি হয়ে গেলো তালহারা। দোতলায় যাবে বিধায় লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। তাছাড়া সিঁড়ি ব্যবহার করে যাওয়ার অন্যতম কারণ সিঁড়িটা পেছেনের দিকে হওয়ায় ওরা সহজে কারোর চোখে   পড়বেনা। পেছনের দিকের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়লো ওরা। যেখানে ঢুকলো সেটা একটা ঘরের বর্ধিতাংশ। থাই কাঁচ দিয়ে আলাদা করে রাখা হয়েছে। একটা বড় টেবিল জুড়ে নানারকম বিদেশী ব্র্যান্ডের মদ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এর  বাম পাশেই রান্নাঘরে বাবুর্চিদের বারবিকিউ বানানোর ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে। তালহা চারপাশটা ভালো করে দেখে নিচ্ছে। ডানপাশে একটা দরজা বন্ধ ঘর দেখতে পেয়ে সেখানে গেলো। দরজায় কোন তালা নেই। হ্যাজবল ধরে ঘুরাতেই দরজাটা খুলে গেলো। ভেতরটা অন্ধকার। একটা গুমোট গন্ধ নাকে এসে বিঁধল। দেওয়াল হাতড়ে সুইচবোর্ডটা খুঁজে আলো জ্বেলে দিলো। খুব ছোটও নয় ঘরটা। ঘরটা খোলা অবস্থায় রেখে রান্নাঘরের দিকে গেলো তালহা। যাওয়ার সময় বন্ধুদেরকে ওকে অনুসরণ করতে বলে দিলো। চারজন বাবুর্চি রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত। ওয়েটাররা এসে এসে খাবার নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন টেবিলে পরিবেশন করছে। তালহারা রান্নাঘরের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। একটা ওয়েটারকে রান্নাঘরের দিকে আসতে দেখে মুসায়েব এবং যায়িদকে আড়ালে চলে যেতে বলল। ওয়েটারটা রান্নাঘরে ঢুকতে গেলে তালহা ওর নাকে মুখে রুমাল চেপে ধরে ওকে নিয়ে স্টোর রুমটাতে ঢুকে গেলো। কিছুক্ষণ পরে যখন লোকটার শরীর নিস্তেজ হয়ে আসলো তখন ওকে স্টোর রুমে শুইয়ে রেখে দিলো। যায়িদকে দ্রুত লোকটার পোশাক, এবং গলায় ঝুলানো পরিচয়পত্রটা পরে নিতে বলে তালহা আবারও রান্নাঘরের দিকে চলে গেলো।  তিনজন ওয়েটারের সাথে তিনজন পোশাক পরিবর্তন করে নিলো ওরা।  এক্ষেত্রে ওয়েটারদে সাথে ওদের উচ্চতা মিলিয়ে রাখতে গিয়ে ভীষণভাবে হিমশিম খেতে হয়েছে ওদের। অন্য ওয়েটারদের সাথে ওরা তিনজনও ফুট-ফরমায়েশ খাটতে লাগলো। খাবার পরিবেশনের ফাঁকে তালহারা সতর্ক দৃষ্টি রেখে চারিদিকে দেখে যাচ্ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আজাদ বা লিটনের ছায়াটাও চোখে পড়েনি। তাহলে কি ওরা ভুল জায়গায় এসে পড়েছে? 
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/164547/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Oct 2022 10:40:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_ছাব্বিশ +সাতাশ  </p>
<p>ছেলেটি উপর থেকে মৃদু চিৎকার করে দারোয়ানকে বলল, আসগর চাচা! আংকেলটাকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন না কেন?<br />
বড় সাবের বারণ আছে। আসগর চেহারায় গম্ভীর ভাব রেখে উত্তরটা দিলো।<br />
উনিতো বাবার কাছে এসেছে। বাবা উনাকে আধঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলেছে। তাহলে কি উনি রাস্তায় বসে অপেক্ষা   করবেন? কথাটা বলেই কালক্ষেপণ না করে দ্রু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-164547"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/164547/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">76190454d05ea0a4b0d999bf56045236</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য 
পর্ব_পঁচিশ 
তালহারা থানা থেকে সোজা ওর চলে গেলো। নানুবাড়ি ঢোকার পর কোনমতে সকালের খাওয়া খেয়ে তালহা   বিছানায় শরীর এলিয়ে দেয়। দুই ঘণ্টা টানা ঘুমিয়ে উঠে দেখে ঘড়িতে এগারোটা বেজে গেছে। উপরের ঘরের কোথাও মুসায়েব এবং জায়িদকে না পেয়ে নিচে নেমে আসলো। পুকুরপাড়ে এসে থ হয়ে গেলো তালহা। বন্ধু দুজন মনের সুখে পুকুরের মধ্যে দাপাদাপি করছে। তালহারও লোভ হলো। কোন কিছু না ভেবেই ও পুকুরে নেমে গেলো।
তিনজন মিলে অনেকক্ষণ ঝাপাঝাপি করে উঠে গেলো। অনেকদিন পরে পুকুরে গোসল করলাম, তাইনারে?
যায়িদের কথার সাথে সুর মিলিয়ে মুসাইয়েবও বলল, এখন আফসোস হচ্ছে এতোদিন ধরে এখানে আছি, এর আগে কেন পুকুরে নামলামনা? আমি কিন্তু এরপর যতদিন থাকবো প্রতিদিন পুকুরে গোসল করবো। 
ঠিক আছে করবি, এখন চল অনেক কাজ আছে আজকে, কোনটা রেখে কোনটা করবো বুঝতে পারছিনা। এখন না বের হলে সব হযবরল পাকিয়ে যাবে। তার আগে একটা নোট তৈরি করতে হবে। শেষের কথাটা যায়িদকে উদ্দেশ্য করে বলল তালহা। 
উপরে গিয়ে নোটবইটা নিয়ে বসলো যায়িদ।
তালহা বলল, আমার কাছে টুকরো টুকরো অনেক তথ্য আছে। কিন্তু আমি কীভাবে এগুলোর একটার সাথে অন্যটাকে জোড়া লাগাবো বুঝতে পারছিনা। আলোচনা করি নিশ্চয় তোদের মাথা থেকে কোন না কোন বুদ্ধি বের হবে। 
এক) আমরা পোড়োবাড়ির ৩ নং ঘরে একটা নারীর পোট্রেট দেখছিলাম মনে আছে? যেটাকে দেখে আমদের মনে হয়েছিলো কেউ যত্ন করে প্রতিদিন ছবিটা মুছে রাখে। নাহলে ঐ ঘরের অন্য ছবিগুলোর মত ওটাও ধুলায় ঢাকা পড়ে  যেতো। ঐ একই নারীর সাথে একজন যুবকের পাশাপাশি তোলা একটা ছবি আমি ‘বারের’ কম্পিউটারে দেখতে পেয়েছি। যুবকের চেহারার সাথে আমি একজনের চেহারার ভীষণ মিল খুঁজে পাচ্ছি। আবার একই নারীর ছবি পোড়োবাড়ির দোতলার একটা গ্রুপ ছবির মধ্যে দেখতে পাই। ছবিতে মহিলাটার পাশে একটা চল্লিশোর্ধ লোক দাঁড়িয়ে আছে। একটা দশ বারো বা এর বেশিও হতে পারে এমন একটা ছেলে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। 
বারের ঐ ছবির মানুষটার চেহারার সাথে কার চেহারায় মিল পাচ্ছিস বললিনাতো? 
তালহা ছবিটা দেখিয়ে বলল, দেখতো আমার যা মনে হচ্ছে তোদের তাই মনে হচ্ছে কিনা। 
দুজনেরই চোখ চকচক উঠলো। মুসা উত্তেজনার সাথে বলল, তা কীভাবে সম্ভব? 
আমিও তাই ভাবছি, উদ্বিগ্নের সাথে বলল যায়িদ।
তারপর কাজের কথা শেষ করি আগে। তালহা আবার বলা শুরু করল।
দুই) এই নারীর সাথে লোকটার কি সম্পর্কে? যদি আত্মীয় হয় তাহলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে পোড়োবাড়ির সাথে তার একটা সম্পর্ক আছে। তাহলে আমাদের কাছে দেওয়া তার তথ্য পুরাটাই মিথ্যা। উনি যে প্রথম থেকে পোড়োবাড়ির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। উনার সব কার্যক্রমই মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য ছিলো। 
তিন) এতিম খানায় খবর গিয়ে আরাফ এবং আনিসের খবর নিতে হবে।  
চার) কনসার্টের সাথে আদৌ অপহরণগুলোর সংযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।  এইতো, আপাতত এই  পয়েন্টগুলো মাথায় রেখে কাজ করলে আশা করি রহস্য সমাধান সহজ হবে। কথাগুলো বলে হাত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে কি যেন চিন্তা করলো তালহা তারপর বলল, এখন বারোটা বেজে গেছে। আমরা দুপুরের খাবার খেয়ে তারপর বের হবো।
বের হয়ে কোথায় যাবো আমরা? যায়িদ জানতে চাইলো। 
বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত আমরা মাদ্রাসায় খোঁজ নিবো। পাঁচটায় আমরা পাঁচতারা হোটেলে নাইট পার্টিতে যাবো। 
সেখানে কি দরকার?
সেখানে গেলে গডফাদারের সন্ধান মিলে যাতে পারে। 
কিন্তু আমার একটা ব্যাপার মনে হচ্ছে, এতটুকু বলে তালহার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো যায়িদ।
যায়িদের কথা শুনে তালহা ওকে জিজ্ঞাসা করলো কি মনে হচ্ছে?
আজকে যে মেয়েটিকে ওদের বিদেশী ডেলিগেটসদের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিলো তাকেতো আমরা উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি। এখন ওরা নিশ্চয় চুপ করে থাকবেনা। যেহেতু ঐ নির্দিষ্ট মেয়েটার ছবি ওদের কাছে পাঠানো হয়েছে, ওরা নিশ্চয় ওদের নিজেদের ইমেজের কথা চিন্তা করে ওকেই দিতে চাইবে। সেক্ষেত্রে ওরা আবারও মেয়েটাকে অপহরণ করা চেষ্টা করবে। 
যায়িদের কথাটা শুনে তালহার টনক নড়লো। এই ব্যাপারটা কীভাবে তার মাথা থেকে বের হয়ে গেলো ভাবতেই নিজেকে খুব বোকা মনে হতে লাগলো। যায়িদের পিঠে পরপর কয়েকটা চাপড় দিয়ে বলল, এই কথাটা আমার মাথায় আসেনি। তাহলে আজকে আমরা আর মাদ্রাসায় যাবোনা। এখনই মেয়েটার বাসায় যেতে হবে। তার আগে আংকেলকে ফোন করে দেখি। প্রায় দশবারের উপরে ফোন করলো তালহা। প্রত্যেকবারই সংযোগ দেওয়া সম্ভব না বলছে। তালহা মনে কু ডাকতে লাগলো। বিপদের আশঙ্কায় অস্থির লাগা শুরু করলো। বন্ধুদের নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। 
গাড়িতে গেলে বড়জোর বিশ মিনিট লাগবে। কিন্তু তালহার মনে হলো যেন কত যুগ লেগে যাচ্ছে। এমনিতেই রাস্তাটা দীর্ঘ মনে হচ্ছে তার উপর অর্ধেক পথ যাওয়ার পর গাড়ি থেমে গেলো। ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করে জানা গেলো চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। স্পেয়ার চাকা লাগাতে সময় লাগবে।
কথাটা শুনে তালহার মন খারাপ হয়ে গেলো। এখন প্রায় দুই ঘণ্টার মামলা। ড্রাইভার আঙ্কেলকে বলল, আমরা বরং দেখি কাছাকাছি কোন গ্যারেজ পাওয়া যায় কিনা। তাহলে আপনাকে গাড়িসহ ওখানে রেখে আমরা অন্য কোন বাহনে চড়ে চলে যাবো। আশেপাশের কোন গ্যারেজ আছে কিনা আপনার কি জানা আছে? 
এদিকটায় আমি কখনও আসিনি। তাই গ্যারেজ আছে কিনা আমি বলতে পারবোনা। তবে ভালো করে খোঁজ নিলে ঠিকই পাওয়া যাবে।  
যেই কথা সেই কাজ। ওরা তিনজন গ্যারেজের খোঁজে ছড়িয়ে পড়লো। ওদের গাড়িটা যেখানে নষ্ট হয়েছ সেটা একটা তিন রাস্তার মোড় ছিলো। তিনজন তিন পাশের রাস্তায় চলে গেলো। বেশিদূর যেতে হলোনা। কয়েক কদম হাঁটার পর মুসায়েব একটা বেশ বড় গ্যারেজে দেখতে পেল। বিষয়টা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুদের ফোন করে জানিয়ে দিলো। গ্যারেজ থেকে লোক এসে গাড়িটা ঠেলে নিয়ে গেলো। গাড়িটা নিয়ে চলে গেলে তালহারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলো কোন অটো বা সি এন জি পাওয়ার আশায়। 
দাঁড়িয়ে থেকে চারিদিকে তাকিয়ে জায়গাটার নাম দেখার জন্য রাস্তার কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা রেস্তরাঁগুলোর দিকে তাকালো। জায়গাটা দেখে বোঝা যাচ্ছে শহরের সম্ভ্রান্ত এলাকা। রাস্তার বাম পাশে পাশাপাশি একটা প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এবং একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে। দলে দলে ছেলে মেয়েরা সেখানে প্রবেশ করছে। আজকাল শিক্ষাক্ষেত্রগুলোর উন্নতি হলেও শিক্ষার সেরকম কোন উন্নতি হয়নি। বরং দিনকে দিন তা আরও অবনতির দিকে হাঁটছে। ব্যস্ত এলাকা, প্রধান সড়কের সাথে সংযুক্ত বিধায় বাহনের অভাব নেই। নানারকম বাহনের আসা যাওয়ায় মুখরিত সড়কের পাশে প্রায় আধঘণ্টা দাড়িয়েও একটাও খালি বাহনের সন্ধান পেলোনা তালহারা। সিদ্ধান্ত নিল একটা বাসে চেপে বড় রাস্তা পর্যন্ত গিয়ে তারপর রিকশা নিয়ে যাবে। জায়গাটা কাউন্টার থেকে বেশ দূরে বিধায় প্রতিটা বাসই যাত্রী বোঝাই করে আসছে। মোটামোটি ফাঁকা দেখে একটা বাসে উঠে পড়লো তিনজন। একেতো মধ্য দুপুরের অসহনীয় গরম তার উপর ঘাড়ের উপর গা ঘেঁষে দাঁড়ানো সহযাত্রীর গরম নিঃশ্বাস, সব মিলিয়ে জান বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। এসবকিছুকে ছাপিয়ে যে বিষয়টা বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে তা হলো বাসের গতি। তালহার মনে হলো ও হেঁটে রওনা দিলেও এর থেকে বেশি দূর চলে যেতে পারতো। প্রতি দশ মিনিট পরপর যাত্রী নামানো এবং উঠানো নিয়ে প্রায় পাঁচ মিনিট ব্যায় করছে। একঘণ্টা পার হওয়ার পর তালহার টনক নড়ল। রাস্তার আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো বাস ঝিনেদা শহর পার হচ্ছে। দ্রুত পাশের যাত্রীকে জিজ্ঞাসা করলো বাসটা কোথায় যাচ্ছে। লোকটা জবাব দিল  বাসটা কুষ্টিয়া যাচ্ছে। কথাটা শুনে তালহার মাথা ঘুরে গেলো। তাড়াতাড়ি করে বন্ধুদের নিয়ে বাস থেকে নেমে পড়লো। রাস্তার পাশে একটা মাঠের উপর মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো।  
যায়িদ বললো, তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে আরও দেরি হয়ে গেলো। এর থেকে গাড়িটার জন্য অপেক্ষা করলেই ভালো হতো।
মাথায় হাত দিয়ে বসে মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলো তালহা। ছিঃ এমন একটা বোকামীর কাজ করলো ও। এখান থেকে যে একটা সি এন জি নিয়ে যাবে তার উপায় নেই। চড়া দাম হাকাবে। পকেটে যথেষ্ট টাকাও নেই। এদিকে বারোটার দিকে খেয়ে বের হলেও মুসার পেটে ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি করা শুরু করে দিয়েছে। তিন জনের পকেট হাতড়ে মোট এক হাজার ত্রিশ টাকা পাওয়া গেলো। সেখান থেকে একশ টাকা খরচ করে তিনজনের জন্য নাস্তা কিনে  ঝিনেদাগামী একটা সিটিং সার্ভিসে চড়ে বসলো ওরা। বাসটা নলডাংগা বাস স্ট্যান্ড হয়ে কেশবপুরের দিকে চলে যাবে। এখান থেকে নলডাঙ্গা যেতে দেড় ঘণ্টা মত লাগবে। ওখান থেকে একটা ওটো নিয়ে কাজিপাড়া চলে যেতে হবে। প্রথমে মন খারাপ হলেও তালহার পরে মনে হলো সবকিছুতেই কল্যান আছে। নিশ্চয় তাদের এই বোকামীর পেছনে কল্যাণ আছে। বাসটা এসি করা তাই এতক্ষণ ঘামে চটচট করা শরীরটা এসির ঠাণ্ডা বাতাসে শীতল হতে শুরু করছে। আবেশে ওদের চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। যে যার যার সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠলো তালহা। দুইটা বেজে গেছে। মাত্র আধঘণ্টা হয়েছে। এখনও আরও এক ঘণ্টা লাগবে নলডাংগা বাস স্ট্যান্ডে পৌছাতে। ওখান থেকে অটো নিয়ে কাজিপাড়া পোঁছাতে আরও কমপক্ষে এক ঘণ্টা লাগবে। চারটা বেজে যাবে। ততক্ষণে যদি কোন অঘটন ঘটে যায়। মেয়েটার বাবার নাম্বার ছাড়া আরও কারও নাম্বার নেওয়া হয়নি। তালহার মনে হলো ওর ছোট মামাকে ফোন করলে কাজ হরে পারে। মামার কাছে মেয়েটার মায়ের নাম্বার থাকতে পারে।
ওমর ফারুককে ফোন করলো তালহা। ওপাশ থেকে ফোনটা রিসিভ হতেই সালাম দিয়ে বলল, মামা তোমার কাছে অরিনের মায়ের নাম্বারটা আছে?
ওমর ফারুক অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো কোন অরিন?
ঐ যে অপহরণ করা হয়েছে যে মেয়েগুলোকে , তাদের মধ্যে যে মেয়েটা একটু লম্বা। তালহা আরও ভালোভাবে বোঝানোর জন্য বলল, যে মেয়েটাকে সবার আগে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, সেই মেয়েটাই অরিন।
ওমর শরিফ বলল, ও আচ্ছা মনে পড়েছে। ওর বাবার নাম আরমান শেখ, তাইনা? 
হ্যা হ্যা চিনতে পেরছো?
হ্যা পেরেছি। কিন্তু ওকে নিয়ে আবার কি সমস্যা?
ওর অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ করার দরকার। ওর বাবার নাম্বারটা আছে আমার কাছে। কিন্তু নাম্বারটা বন্ধ দেখাচ্ছে। তোমার কাছে কি ওর মায়ের নাম্বারটা আছে?
না, আমি সেদিন শুধু ওর মায়ের নাম্বারটা নিয়েছিলাম। ওদের ব্যাপারটাতো মিটে গেছে। তাহলে আবার এই ব্যাপারটা নিয়ে পড়লি কেন?
তালহা ওমর শরিফকে সম্পূর্ণ বিষয়টা বুঝিয়ে বললো।
তালহার কাছ থেকে কথাগুলো শুনে ওমর শরিফেরও দুশ্চিন্তা হতে লাগলো। কিন্তু সে এখন ব্যবসার কাজে নলডাংগার বাইরে আছে। তাই তার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব না। মন খারাপ করে তালহাকে বলল, আমি যে কিছু করবো তারওতো উপায় নেই। দোয়া করি সব যেন ভালোভাবেই মিটে যায়। 
তালহা বললো দোয়া করা ছাড়া আমাদের কখনোই কোন কিছু করার উপায় থাকেনা। আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি। 
আসলেই তাই!
ঠিক আছে ছোট মামা এখন রাখি। ফোন রেখে বন্ধুদের দিকে তাকালো তালহা। দুজনেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে।  ও জানালা উপর দুই হাত ভাঁজ করে রেখে তার উপর শুয়ে বাইরেটা দেখতে লাগলো। ওরা যেটা ভাবছে সেটা যদি না হয় তাহলে মেয়েটার বিপদ কেটে গেছে। এমনও হতে পারে ওরা অন্য কোন মেয়ে দিয়ে ওদের ওয়াদা পুরণ করতে পারে। সেক্ষেত্রে আবার নতুন চিন্তা। সেই মেয়েকেও উদ্ধার করতে হবে। ঘটনা যাই ঘটুক আজ রাতে তাদেরকে পার্টিতে উপস্থিত থাকতেই হবে। 
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/162117/</link>
				<pubDate>Thu, 13 Oct 2022 16:15:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_পঁচিশ<br />
তালহারা থানা থেকে সোজা ওর চলে গেলো। নানুবাড়ি ঢোকার পর কোনমতে সকালের খাওয়া খেয়ে তালহা   বিছানায় শরীর এলিয়ে দেয়। দুই ঘণ্টা টানা ঘুমিয়ে উঠে দেখে ঘড়িতে এগারোটা বেজে গেছে। উপরের ঘরের কোথাও মুসায়েব এবং জায়িদকে না পেয়ে নিচে নেমে আসলো। পুকুরপাড়ে এসে থ হয়ে গেলো তালহা। বন্ধু দুজন মনের সুখে পুকুরের মধ্যে দাপাদাপি করছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-162117"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/162117/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4e5b5ebdc40e7dfcc84dcc3344a85995</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য 
পর্ব_তেইশ _চব্বিশ 

নিচে আজাদ চৌধুরীকে ভয় দেখিয়েই দ্রুত উপরে চলে আসে তালহা। উপরটায় তারা সেইযে প্রথমদিন এসেছিলো তারপর আর যতবারই এই বাড়ি এসেছে উপরে আর একবারও আসা হয়নি ওদের। ওর মনে হলো এতোদিন ওরা   বোকার মত কাজ করেছে। এই বাড়িটা সম্পর্কে যদি কোন ডকুমেন্টস থাকে তাহলেতো উপরেই থাকবে। উপরের ঘরগুলো পরিপাটী করে গোছানো থাকলেও সব জায়গায় ধূলার আস্তরণ পড়ে গেছে। তালহার মনে পড়লো প্রথম যেদিন ও এই বাসাটায় ঢুকেছিলো সেদিন কতগুলো ছবি একজায়গার স্তুপ করে রাখা দেখেছিলো। তালহা উপরে উঠেই প্রথমে ছবিগুলোর কাছে চলে গেলো। ছবিগুলোর পিছনের ফ্রেমের উপর ধূলার আস্তরণ পড়ে গেলেও উপুড় করে ফেলে রাখার কারণে ছবির উপর তেমন ধূলা পড়েনি। পাশে পড়ে থাকা এক টুকরা কাপড় দিয়ে ছবির ফ্রেমগুলো মুছে নিলো। মোট পাঁচটা ছবি আছে সেখানে। একটা গ্রুপ ছবির মধ্যে চারজন মানুষকে দেখা যাচ্ছে। একজন চল্লিশোর্ধ পুরুষ আর একজন পঁচিশ কি আটাশ অর্থাৎ অনুর্ধ্ব ত্রিশের একজন মহিলার ছবির সাথে একটা সতেরো আঠারো বছরের একটা তরুণ দাঁড়িয়ে আছে। মহিলাটার ছবিটা দেখে তালহা চিনতে পারলো এই মহিলাই ঐ মহিলা যাকে বারের কম্পিউটার এবং এই বাড়ির তিন নং ঘরে দেখেছিলো। তালহা বাকি ছবিগুলো দেখা শুরু করলো। একটা ছবিতে একজন বৃদ্ধা এবং একজন বৃদ্ধের সাথে একটা আনুমানিক বারো থেকে পনেরো বছর হবে এই বয়সের একটা ছেলে দাড়িয়ে আছে। তালহা আগের ছবিটার সাথে মিলিয়ে দেখলো ওর ধারণাই ঠিক। এই ছবিটা ঐ চল্লিশোর্ধ ব্যক্তিটার কৈশর বয়সের ছবি। অন্য একটা ছবিতে সতেরো বছরের যে ছেলেটাকে প্রথম ছবিটাতে দেখেছিলো ওর সাথে একটা এক বছরের বাচ্চা ছেলে আছে। একইভাবে বাকি ছবিগুলোও দেখলো তালহা। একটা কাবা শরিফের ছবি এবং অন্যটা একটা গ্রুপ ছবি। তালহার সব কিছু তালগোল পাকিয়ে গেল। ছবিগুলো প্রমাণের জন্য নিজের মোবাইলে ওগুলোর ছবি তুলে নেয়। ছবি তোলার কাজ শেষ করে দ্রুত বাকি ঘরগুলো দেখতে লাগলো। একটা কাঠের আলমারির ভিতর ঘাটাঘাটি করে কাপড় চোপড় ছাড়া তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি। বাকি আলমারি ওয়ার ড্রপ ঘেটেও কিছু পাওয়া গেলোনা। নোটবুক টাইপের কিছু পাওয়ার আশা করছিলো তালহা কিন্তু তেমন কিছুই পাওয়া গেলোনা। স্টিলের আলমারিটা দেখতে গিয়ে দেখে ঐটার ভেতরটা সব লন্ডভন্ড হয়ে আছে। তালহা দেখতে গিয়ে বুঝলো কাছাকাছি কোন একটা সময়  এটার উপর দিয়ে বড় রকমের ঝড় বয়ে গেছে। তালহা আর এক মুহূর্ত সেখানে না থেকে ওখান থেকে বের হয়ে আসে। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় নীচতলার ঘর থেকে কথোপকথনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তালহা দ্রুত গতিতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসতেই লিটনের সাথে আসা অপরিচিত লোক দুজনের সামনে পড়ে গেলো। তালহাকে দেখে চিৎকার করতে যাবে তখনই তালহা একজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে অন্যজনের মুখ চেপে ধরে সে অবস্থায় বাকি সিঁড়িগুওলো নেমে গেলো। যে লোকটাকে ফেলে দিয়েছিলো সে আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তালহা ওকে পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে আবার ফেলে দিলো। ওদের ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে ভেতর থেকে লিটন চৌধুরী বাইরে বেরিয়ে আসে। তালহা তখনও এক হাত দিয়ে লোক দুইজনের একজনকে ধরে  রেখেছে। লিটন ওর কাছে পৌঁছানোর আগেই লোকটার বুক বরাবর একটা ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দিয়ে এক লাফে সিঁড়ির শেষ ধাপে নেমে দৌড় দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ে।  লিটন লোক দুইজনকে ওকে অনুসরণ করতে বলে কালক্ষেপণ না করে তালহার পেছন পেছন দৌড় দিলো। 
তালহা আগেই মুসায়েবকে ফোন করে গাড়িটাকে একেবারে গলির ভেতর দেবদারু গাছঘেরা ঘন জঙ্গলটার কাছে রাখতে বলেছিলো যাতে করে ও বিপদে পড়লে খুব সহজেই গাড়িতে উঠে যেতে পারে। ওরা কথামতো গাড়িটা কাছেকাছি রাখা হয়েছিলো। তালহা বের হয়েই গাড়িতে উঠে পড়ে। 

লিটন তালহার পিছু নিয়ে যখন গলিটার কাছে আসে তখন গলির মধ্যে কাউকে দেখতে পেলোনা, শুধু দেখলো একটা মাইক্রো দ্রুত বেগে সেখান থেকে চলে যাচ্ছে। মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো লিটন। ওদেরকে ধরতে না পারলে ওর পরিণতি কি হবে ও বেশ বুঝতে পারছে। অপরাধ জগৎটাই এমন। এখানে টাকা আর স্বার্থ ছাড়া আবেগের কোন দাম নেই। লিটন উঠে আবার পোড়োবাড়িটার ভেতর চলে গেলো। আজাদ চৌধুরীকে সবটা বলল।

লিটনের কথা শুনে আজাদ চৌধুরী তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বললেন, তুমি ওখান থেকেই আমাকে ফোন করতে। আমি গাড়িটাকে আসতে বলতাম। 

স্যার তাতেও দেরি হয়ে যেতো।

মাইক্রোটার নাম্বার রেখেছো?

জ্বি স্যার এই কাজটা করতে ভুলিনি। আমরা যখন এসব কাজে আসি তখনই আমাদের বলে দেওয়া হয়েছে কোন গাড়ি অনুসরণ করতে চাইলে প্রথমে বুদ্ধিমানের কাজ হলো গাড়ি নাম্বারটা টুকে রাখা। স্যার গাড়ি নাম্বার হলো গ-৫৮৫২।

চল তাহলে আমরা গাড়িটাকে অনুসরণ করি। কথা বলে আজাদ তার ড্রাইভারকে খুব দ্রুত গাড়ি নিয়ে হাজির হতে বলে। 

পোড়োবাড়িটার এরিয়া পার হওয়ার সাথে সাথে গাড়ির নকল নাম্বার তা খুলে ফেলে তালহা। আপাতত তালহারা ওর নানি বাড়ি যাবে। ওখানে গিয়ে কিছু খাবার খেয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে বসবে। ড্রাইভারকে গাড়ির গতি বাড়াতে বলে চোখ বন্ধ করে সিটে হেলান দিয়ে বসলো। 

কিরে তেমন কিছু বের করতে পারলি?  

অনেকগুলো ছড়ানো ছিটানো ক্লু পেয়েছি যেগুলোকে এখন জোড়াতালি লাগাতে হবে। খুব ক্লান্ত লাগছে। আমার ২ ঘণ্টা টানা ঘুম দরকার। 

গতকাল চাচী ফোন করে তোর ছোট মামাকে বলেছে আমাদের যেন আজকেই বাসায় পাঠিয়ে দেয়। কলেজ শুরু হয়ে গেছে সে খেয়াল আছে? শ্লেষের সাথে বলল মুসা। আর তাছাড়া আন্টি বলেছে তোর বড় চাচা এসেছে এসময় তোর বাইরে বাইরে থাকাটা একদমই ঠিক হচ্ছেনা। 

বড় চাচা আরও বিশদিন মত থাকবে। আমি আশা করছি আর দুই তিন দিনের মধ্যেই আমরা রহস্য উদঘাটন করতে  সক্ষম হবো। তারপর আমাদের আর পিছন ফিরে তাকাতে হবেনা। 

এখনও পর্যন্ততো কাজের কোন অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছিনা। 

মুসায়েবের কথার উত্তর দেয়ার জন্য চোখ খুলে সোজা হয়ে বসলো তালহা। মাথাটা সোজা করতেই আয়নার দিকে চোখ চলে গেলো। পেছনে ধেয়ে আসা গাড়িটা চিনতে একটুও কষ্ট হলোনা। ড্রাইভারকে গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দিতে বলল।  

ড্রাইভার গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ওরা কি আমাদের গাড়ি চিনতে পারবে? আমরা নাম্বারটা বদলে ফেলেছিতো। 

তালহা বলল, তবুও কোন ঝুঁকি নিতে চাইনা।  

আজাদ চৌধুরী খুব দ্রুতই গাড়ি নিয়ে শান্ত কুটির থেকে বের হয়ে এসেছে। সামনের বড় রাস্তাটা কোন বাঁক নেওয়া ছাড়াই অনেক দূর পর্যন্ত চলে গেছে। তাই তার মনে হলো গাড়ি একটু জোরে চালালে ঠিক ঐ গাড়িটার নাগাল পেয়ে  যাবে। কিন্তু ওদের গাড়ির সামনে এখন চারটা মাইক্রো সামনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে তিনটাই সাদা। লিটনের কথা অনুযায়ী জুব্বা পরা লোকটা যে মাইক্রোতে করে চলে এসেছে সেটা সাদা রঙয়ের। সবথেকে বড় ব্যাপার লিটনের নাম্বারের সাথে একটা গাড়ির নাম্বারও মিলছেনা। সামনে আর কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তাটা দুই দিকে ভাগ হয়ে গেছে। আজাদ চৌধুরী লিটনকে বলল, এবার কোনদিকে যাবো? দুইটা সাদা গাড়ি ডানে গেছে এবং একটা সাদা আর একটা কালো গাড়ি বামে চলে গেছে। আজাদ চৌধুরী ড্রাইভারকে বামে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। তার বামে যাওয়া সাদা গাড়িটাকেই সন্দেহ হচ্ছে। কারণ সে খেয়াল করেছে গাড়িটার গতি অন্য গাড়িগুলোর তুলনায় বেশি আবার মাঝে মাঝে  গতি অত্যাধিক মাত্রায় বেড়ে যাচ্ছে। এরকমটা হয় সাধারণত যখন কোন গাড়ি অন্য কোন গাড়ির দৃষ্টিগোচর হতে চায়না  সেসব ক্ষেত্রে। 
তালহাদের ডানেই যাওয়ার দরকার। তবুও পিছনের গাড়িটাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য বাম দিকে বাঁক নিয়েছিলো। কিন্তু তার সব প্রচেষ্টা ভন্ডুল করে য়াজাদ চৌধুরীর গাড়িটা বাম দিকে ওদের গাড়ির পেছনে পেছনে আসতে লাগলো দেখে তালহা কি করবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে লাগলো। কিছুক্ষণ ভেবে ড্রাইভারকে বলল, চাচা এখান থেকে থানা করদূর?

বেশিদূর না। আধগণ্টা সময় লাগবে। 

আপনি গাড়িটা নিয়ে সোজা থানায় চলে যাবেন। 

থানায় কেন? উৎকণ্ঠার সাথে মুসায়েব আর যায়িদ জিজ্ঞাসা করলো।  

তালহা শীতল কণ্ঠে বলল, পেছনের গাড়িটাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য এর থেকে উত্তম পন্থা আমার কিছুই মনে আসছেনা।  আমার ধারণা আমাদের থানায় ঢুকতে দেখলে ওরা নিশ্চয় ভড়কে যাবে। কারণ ওরা সবাই ক্রিমিনাল।  

আর যদি না ভয় পায়?  

তাহলেও অসুবিধা নেই। আমরা সোজা ভেতরে চলে যাবো।  

ওরাও যদি ভেতরে যায়? 

দেখি কি হয়? 

ওরা কথা বলতে বলতে ড্রাইভার গাড়িটাকে থানার মধ্যে প্রবেশ করালো।  

তালহাদের গাড়ি থানার ভিতর ঢুকতে দেখে আজাদ চৌধুরী তাজ্জব বনে গেলো। লিটনের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি ড্যাম শিউর এটাই ওদের গাড়ি। দেখি ওরা কতক্ষণ ভেতরে থাকে। ড্রাইভার জুয়েলকে বলল, জুয়েল গাড়িটা একপাশে রাখো। আমার ধারণা ওরা আমাদের ধোঁকা দেওয়ার জন্যই থানায় ঢুকে গেছে। 

তালহা গাড়ি থেকে নেমে থানার ভেতরে ঢোকার সময় গাড়ির লুকিং গ্লাস দিয়ে আজাদ চৌধুরীর গাড়িটা রাস্তার পাশে দাড় করানো অবস্থায় দেখে ভাবলো প্রতিপক্ষকে এতোটা হালকাভাবে নেওয়া ঠিক হবেনা। তালহা বিপাকে পড়ে গেলো। এখনই পুলিশকে পোড়োবাড়ির ব্যাপারে কিছু বলার ইচ্ছে ছিলোনা তালহার। কিন্তু থানা থেকে এখনই বের হয়ে গেলে লিটনদের সন্দেহ আরও বেড়ে যাবে। কিন্তু থানার ভেতরে ঢুকে কি বলবে তা চিন্তা করতে লাগলো। হঠাৎ একটা বুদ্ধি মাথায় আসাতে খুশি হয়ে গেলো। দুই বন্ধুকে নিয়ে থানার ভেতরে ঢুকে গেলো।  ওসি রফিকুল ইসলামের রুমে ঢুকলো ওরা তিনজন।  

এতো সকালে তিনজন কিশোরকে রুমের  মধ্যে ঢুকতে দেখে একটু বিস্ময়ের সাথে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো রফিকুল ইসলাম। কিছু সময় পর বিস্ময়তা কাঁটিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, কি চাই? 

তালহা নিজেদের কার্ডটা দেখিয়ে বললো, আমরা ক্ষুদে গোয়েন্দা। আনন্দ স্কুলের অপহরণের ঘটনার ব্যাপারে আমরা আগ্রহী ছিলাম। অপহৃতদেরকে কি উদ্ধার করতে পেরেছেন স্যার?
না এখনও পারিনি। তাছাড়া যাদের সন্তান তাদেরও তেমন কোন আগ্রহ দেখছিনা। এতোদিন বারবার থানায় ফোন করে তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাগাদা দিয়েছে। হঠাৎ গতকাল থেকে তাদের মধ্যে একটা শৈথিল্য লক্ষ্য করছি। অবশ্য আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়া যাচ্ছি।

তালহা খুব আগ্রহ দেখিয়ে বললো স্যার কি কোন তথ্য পেয়েছেন? 

না তেমন কোন তথ্য যোগাড় করতে পারিনি। 

তাহলে কাজের অগ্রগতি কীভাবে হচ্ছে? 

আসলে আমরা চেষ্টা করেও কোন সুরাহা করতে পারিনি। তোমরা কি কোন তথ্য যোগাড় করতে পেরেছো।  

মিথ্যা কথা বলা ঠিক হবেনা। তাই তালহা বুদ্ধি খাটিয়ে উত্তর দিলো, স্যার এখন আপনাকে কিছু বলতে পারবোনা। তবে আপনাদের সাথে দেখা করে জানিয়ে রাখলাম যাতে করে প্রয়োজনে আপনাদের দারস্থ হলে সঠিক সেবা ও সাহায্য পেতে পারি।


পর্ব_চব্বিশ 

প্রায় চল্লিশ মিনিট মতো অপেক্ষা করার পর তালহাদের বের হতে না দেখে লিটন বলল, স্যার খুবতো ওদের ধরার আশায় বসে আছেন! এখন যদি দেখেন ওরা পুলিশ নিয়ে আমাদেরকে ধরতে আসে তখন কি করবেন? 

লিটনের কথাটা একদমই উড়িয়ে দিতে পারলোনা আজাদ চৌধুরী। আর এভাবে অপেক্ষা করাটাও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ওদেরকে ধরতে না পারলে মেয়েটার খবর বের করা যাবেনা। আজকে সন্ধ্যায় যে পার্টি আছে সেখানে যদি মেয়েটাকে উপস্থিত করতে না পারি তাহলে আমাদের কপালে কি আছে কে জানে? আজকে ওদেরকে ধরতেই হবে এখন থেকে আমাদের প্রধান কাজ হবে ওদের গতবিধি লক্ষ্য রাখা। আমরা বরং গাড়িটা একটু আড়ালে রেখে অপেক্ষা করি।

সে নাহয় করলাম। কিন্তু স্যার আমার দেওয়া নাম্বারের সাথে ঐ গাড়ির নাম্বার যে মেলেনি সেটাও উড়িয়ে দেওয়ার মতনা। 

উড়িয়ে দিচ্ছিনা বলেইতো পিছু নিয়েছি। কারণ আমার ধারণা ওটা নকল নাম্বার সম্বলিত প্লেট ছিলো। কিছুদূর যাওয়ার পর তা খুলে ফেলা হয়েছে।  

হ্যা এখন আমারও মনে হচ্ছে সেটাই করেছে ওরা। স্যার বুঝতে পারছি আমাদের প্রতিপক্ষ খুব বিচক্ষণ।

আজাদ চৌধুরী মুচকি হেসে বলল, বুঝতে দেরি হয়ে গেছে। জুয়েল, ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য বললেন, গাড়িটা বাম পাশে গলির কিনারাটাতে রেখে দাও যাতে চট করে কারো নজরে না পড়ে কিন্তু আমারা ঠিকঠাকভাবে রাস্তাটা নজরে রাখতে  পারি।  
ঠিক আছে স্যার বলে জুয়েল গাড়িটা রাস্তার বামপাশে একটা গাছের আড়ালে এমনভাবে রাখলো যেন চট করে কারো নজরে না পড়ে। গাড়ির লুকিং গ্লাসটা একটু বাঁকা করে রেখেছে। ফলে বড় রাস্তাটা সহজেই নজরে রাখতে পারছে তারা। 
আরও আধঘণ্টা কেটে গেলো তবুও ছেলেগুলো বের হচ্ছেনা দেখে আজাদ চৌধুরী বিরক্ত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে হনহন করে থানার ভেতরে ঢুকে গেলো। লিটন হতভম্বের মত তাকিয়ে আজাদ চৌধুরী চলে যাওয়া দেখতে লাগলো। থানায় ঢুকেই একজন কনস্টেবলকে সামনে পেয়ে যায় আজাদ চৌধুরী। লোকটার ইউনিফর্মের গায়ে লাগালো নেমপ্লেট থেকে    নামটা দেখে নিলো। লোকটাকে নাম ধরে ডেকে বলল, এই বদিউজ্জামান শুনেন। বদিউজ্জামান কাছে আসলে বলল, এখানে যে তিনটা ছেলে এসেছিলো ওরা কোথায় গেছে জানেন। আমি ওদের সকাল থেকে হন্যে হয়ে খুজছি। পরে জানতে পারলাম ওরা নাকি থানায় এসেছে। বাইরে ওদের ড্রাইভারের সাথে দেখা হলো। কিন্তু ওরা কোথায়? 

ওরা তিনজন স্যারের সাথে বের হয়ে গেছে। 

স্যারের সাথে বের হয়ে গেছে  মানে? ওদের নিজেদের মাইক্রোটা রেখে তোমাদের স্যারের মাইক্রোতে গেছে কেন?

কারা নাকি ওদেরকে অনুসরণ করছে। ওদের মাইক্রো নিয়ে বের হলে ওদের পিছু নিবে। তাইতো স্যারকে বলল, ‘ আপনিতো ওদিকেই যাচ্ছেন, আমাদেরকেও নামিয়ে দিবেন’।
কথাটা শুনে আজাদ চৌধুরীর খুব রাগ হলো। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলোর কাছে এভাবে ধোঁকা খাবে ভাবতেও পারেনি। হঠাৎ একটা কথা মাথায় আসতে বলল, ওরা তিনজন হোস্টেল থেকে পালিয়েছে। ওরা ঠিকমত পড়ালেখা করতোনা  বিধায় গত মাসে ওদেরকে হোস্টেলে ভর্তি করে দিয়ে গেছে ওদের অভিভাবকেরা। আমাদেরকে অনুরোধ করে গেছে আমরা যেন ওদের উপরে কড়া নজর রাখি। ইদানিং পড়ালেখা বাদ দিয়ে ওরা নাকি কোন জঙ্গি সংস্থার সাথে যোগ দিয়েছে। আমি ওদের হোস্টেল সুপারভাইজার। 

কি বলেন? আমারও সন্দেহ হয়েছিলো। তা না হলে এ বয়সেই ছেলেগুলো দাড়ি রাখবে কেন? স্যারকে বিষয়টা জানানোর দরকার। বেশ ব্যস্ত হয়ে কথাটা বলল বদিউজ্জামান। লোকটার কথা বলার ঢঙে বোঝাই যাচ্ছে লোকটা একটু বোকাসোকা গোছের। আজাদ চৌধুরী সুযোগটা লুফে নিয়ে বলল, আপনার স্যারকে ফোন করে কথাটা বলেন।
ঠিক আছে বলেই ওসিকে ফোন দিলো বদিউজ্জামান। ওপাশ থেকে ফোনটা ধরলে বলল, স্যার ছেলেগুলো কোথায়? ওরা কলেজের হোস্টেল থেকে পালিয়েছে।  
কি বলছো বদিউজ্জামান? কে বলেছে তোমাকে এসব? 
স্যার যে ছেলেগুলো থানায় এসেছিলো ওরা নাকি হোস্টেল থেকে পালিয়ে এসেছে। ছেলেগুলো পড়ালেখা বাদ দিয়ে জঙ্গি সংস্থায় যোগ দিয়েছে। তাই ওদের অভিভাবক ওদেরকে হোস্টেলে রেখেছে। কিন্তু ওরা কি বেপরোয়া দেখেছেন। ঠিকই হোস্টেল সুপারকে ফাঁকি দিয়ে হোস্টেল থেকে বের হয়ে একটা মাইক্রো ভাড়া করে এদিকে আসছিলো। যখন বুঝতে পারে হল সুপারের গাড়ি ওদেরকে অনুসরণ করছে তখনই উপায়ান্ত না দেখে থানায় ঢুকে পড়ে। তারপর আপনাকে ধোঁকা দিয়ে কি সুন্দর আপনার সাথে চলে গেলো! স্যার ওদেরকে হাতছাড়া করবেন না।   
কে বলল তোমাকে? যে বলেছে তার পরিচয় কি? 
বদিউজ্জামান ফোনটা হাত দিয়ে চেপে ধরে আজাদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলল, স্যার আপনার পরিচর জানতে চায়।
আজাদ চৌধুরী এক্ষেত্রে আবারও মিথ্যা কথা বলে। বলেন অধ্যাপক আজাদ চৌধুরী ওদের খোঁজে থানায় এসেছে।
বদিউজ্জামান ওসিকে ফোনে কথাটা বললে ওপাশ রফিকুল ইসলাম তাকে বলল, অধ্যাপককে আমার রুমে বসাও। আমি আসছি।
ঠিক আছে বলে ফোনটা কেটে দেয় বদিউজ্জামান।
বদিউজ্জামান ফোন রাখার সাথে সাথে আজাদ চৌধুরী জিজ্ঞাসা করলো, কি বলল আপনার স্যার?
স্যার আপনাকে উনার রুমে বসতে বলেছে, উনি এখনই এসে পড়বে।
ছেলেগুলোকে কি সাথে করে নিওয়ে আসছে?
সেটাতো বলতে পারবোনা।
আজাদ চৌধুরী কি করবে বুঝতে পারছেনা। তবে তার মনে হলো এখন থানায় বসে থাকাটা একদমই বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা। এটা একটা ফাঁদ হতে পারে। ঠিক আছে আমি একটু আমার গাড়ির কাছ থেকে আসছি বলে থানা থেকে বের হয়ে নিজের গাড়ির কাছে চলে আসলো। তাকে দেখার সাথে সাথে লিটন গাড়ি থেকে বের হয়ে বলে স্যার এইমাত্র ওদের মাইক্রোটা চলে গেছে। আপনাকে রেখে গাড়ি নিয়ে মাইক্রোটাকে অনুসরণ করবো কিনা বুঝতে পারছিলাম না। তারপরইতো আপনি বের হয়ে আসলেন। স্যার আমার মনে হয় বেশিদূর যেতে পারেনি। আমাদের এখনই পিছু নেওয়া উচিৎ।
আজাদ চৌধুরী হতাশার সাথে বললেন তাতে কি লাভ? গাড়িতেতো আর ওরা ছিলোনা। 
ওরা ছিলোনা মানে? তাহলে কি ওরা এখনও থানায়?
আজাদ চৌধুরী বিষণ্ণতার সাথে বললেন, ওরা ওসির মাইক্রোতে করে চলে গেছে। 
মানে?
ওসিকে বলেছে ‘ আমাদের কারা যেন অনুসরণ করছে। তাই আমরা আমাদের আনা মাইক্রোতে যেতে চাচ্ছিনা । আপনি যদি আমাদের ড্রপ করে দিতেন।’ তারপর আরকি? আমাদের ধোঁকা দিয়ে আমাদের সামনে দিয়েই চলে গেলো।  
ছেলেগুলোর বুদ্ধি আছে বলতে হবে।

লিটনের বলা কথাটা একদমই সত্যি কিন্তু তবুও লিটনকে ধমক দিয়ে বলল, ওদের এই বুদ্ধিমত্তাইতো আমাদের জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে।
 
স্যার এখন কি করবেন?

কি আর করবো? সন্ধ্যার জন্য আপাতত একটা মেয়ে দরকার।

কিন্তু স্যার ওরাতো ঐ মেয়েটার ছবি দেখেছে ওর বদলে অন্য মেয়ে দিলে ওরা সেটা মানবে কেন? আর তাছাড়া এখন মেয়ে পাবেনই বা কোথায়?

আরে এটা কোন ব্যাপার? ধনী ঘরের কত সুন্দরী মেয়ে আছে যারা মোটা অঙ্কের টাকার কথা শুনলে যেকোন কাজ করতে পারে।
 
তাহলে স্যার আমরা কেন এসব ভালো ভালো মেয়েদের ধরে নিয়ে এসে এদের জীবনটা নষ্ট করি।

এই কাজটাতো আমরা করিনা। আমরা অন্যের হয়ে করি। তবে অন্য যেকোন সমাজবিরোধী কাজ করতে গেলে আমার  অতটা খারাপ লাগেনা কিন্তু এই কাজটা মোটেও পছন্দ করে করিনা। এই কাজটা করতে গেলেই আমার আমার দশ বছরের ছোট মেয়েটার মুখটা মনে পড়ে যায়।
  
স্যার আমি ভাবছি এসব কাজ ছেড়ে দিবো। তালহা ছেলেটা একটা কথা বলেছে। কথাটা আমাকে খুব ভাবাচ্ছে। এতো ছোট একটা ছেলে জীবনবোধ সম্পর্কে এতো গভীর ধারণা দেখে আমি ভীষণভাবে অবাক হয়েছি।

কি বলেছে?

আমাকে বলেছে, ‘ যে কাজ রাতের অন্ধকারে সবার অগোচরে করতে হয় সেরকম কাজ কেন করেন? এমন কাজ করবেন যেন সবার সামনে সিংহের মত বাঁচতে পারেন। আর একটা কথা মনে রাখবেন রাতে অগোচরে সবার অলক্ষ্যে করার সময় হয়তো আপনার সামনে, পিছনে, ডানে, বামে কোন মানুষ থাকেনা কিন্তু উপরে যিনি আছেন তিন কিন্তু আপনার সব কাজের সাক্ষি থাকছে, যার কাছে আপনাকে একদিন দাঁড়াতেই হবে।’

কথাটা শুনে আজাদ চৌধুরী কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেও খুব দ্রুত নিজেকে ধাতস্থ করে বলল, এখান থেকে ফিরে যাওয়ার কোন পথ নেই। যেই ফিরে যেতে চাইবে তাকে নির্ঘাত মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হবে। চল এখন এসব বলার সময় না। কর্কশ স্বরে আজাদ চৌধুরীর ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনটা ধরতে ইচ্ছা না করলেও ধরে বলল, শুভ সকাল স্যার?
 
তুমি কোথায়? আজকের অনুষ্ঠানেরে কথা মনে আছেতো?
 
আজাদ চৌধুরী কপট উচ্ছ্বাস দেখিয়ে বলল, জি স্যার ঢের মনে আছে।

কোন মেয়ে জোগাড় করতে পেরেছো?

স্যার এটা কোন ব্যাপার? ডাকলেই একটা কেন দশটা মেয়ে এসে হাজির হবে।

কথাটা শুনেই ক্ষেপে গেলেন ফোনের ওপাশের মানুষটা। রাগতস্বরে বললেন, কি বলছো এসব? উনারা কুমারি এবং অনুর্ধ্ব বিশ এর মেয়ে না হলে প্রস্তাবে রাজী হবেনা। আমি ওতোকিছু জানিনা, আমার ঐ মেয়েটাকেই লাগবে। আমি রাখছি। সময়মত ওকে নিয়ে হাজির হতে দেখি যেন। বলেই খট করে ফোনটা কেটে দিলেন।

আজাদ চৌধুরী বিপাকে পড়ে গেলেন। মাথা কাজ করছেনা তার। ঐ মেয়েটাকেই নাকি তাদের লাগবে। তাহলেতো মেয়েটাকে আবার কিডন্যাপ করতে হবে। ‘আচ্ছা মেয়েগুলোকে নিয়ে ছেলেগুলো কি ওদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে? কিন্তু গতকাল থেকে এমন একটা খবরও দেখলাম না যেখানে বলা হয়েছে অপহৃত মেয়েগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।’ ভাবনাটা মাথায় আসতেই আজাদ চৌধুরী গাড়িতে উঠে জুয়েলকে গাড়ি চালাতে বলে নিজে নিউজ চ্যানেলগুলো দেখতে লাগলো। কি আশ্চর্য গতকাল থেকে আজকের একটা খবরেও এই বিশেষ খরটা বললো না দেখে খুব অবাক হলো সে। মনে মনে ভাবলো তাহলে ছেলেগুলোও পাচারকারী নাকি? ওরা কালকে মেয়েগুলোকে নিয়ে ওদের বাবা  মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়নি? লিটনকে প্রশ্নটা করলেন আজাদ চৌধুরী। 

কেন তা মনে হচ্ছে স্যার? নিশ্চয় দিয়েছে।
 
তাহলে একটা নিউজ চ্যানেলে এই খবরটা শোনা গেলোনা কেন? 
খুব সাধারণ বিষয়! ওরাই ওদের পরিবারদেরকে ব্যাপারটা সবাইকে জানাতে নিষেধ করে দিয়েছে নিশ্চয়। কারণ বিষয়টা জানাজানি হয়ে গেলে ওদের কাজের ব্যাঘাৎ ঘটতে পারে।

লিটনের কথা শুনে আজাদ চৌধুরী বললেন, ইশ এমন করে আমি কেন ভাবতে পারলামনা। বসতো আগের মেয়েটাকেই চাচ্ছে। তাহলে চলো ওকেই আবার অপহরণ করতে হবে।

ওকে কোথায় পাবেন? আমরাতো ওদের বাড়িটা চিনিনা।
 
বাড়িতে যাবো কেন? মেয়েটা স্কুলে আসেনা?
 
স্যার এখন স্কুলে পাঠানোর কথা না। কারণ স্কুলে পাঠালে লোক জানাজানি হতো, খবরেও আসতো।

তাহলে কি উপায়?

স্যার আমার মাথা কাজ করছেনা।
  
চল আমরা আনন্দ স্কুল থেকে ঐ মেয়েটার বাড়ির ঠিকানাটা সংগ্রহ করি তারপর দেখি কি করা যায়?

স্যার ঠিকানা সংগ্রহ করবেন কীভাবে?
 
সেটা নাহয় আমার উপরেই ছেড়ে দাও। 

গাড়ি নিয়ে সোজা আনন্দ স্কুলের সামনে চলে গেলো ওরা। সকাল এগারোটা বাজে। ছোট ক্লাসগুলো ছুটি হওয়ার কারণ গেটের সামনে অভিভাবকদের ভিড় জমে গেছে। ওদেরকে ঠেলে কোনমতে স্কুলের ভেতরে ঢুকে গেলো আজাদ চৌধুরী এবং লিটন।
খবর নিয়ে জানা গেলো মেয়েটা এখনও স্কুলে আসা শুরু করেনি। অফিস সহকারিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মেয়েটার নাম ঠিকানা যোগাড় করলো আজাদ চৌধুরী। মেয়েটার নাম আগে থেকেই জানা ছিলো। ওর নাম অরিন মেহজামিন।  এখন ঠিকানাটা জানা গেলো।  ঠিকানা অনুযায়ী বাসার সামনে গিয়ে উপস্থিত হলো ওরা। সাধারণের তুলনায় একটু বেশি উঁচু পাঁচিল ঘেরা একটা  দোতলা একটা বাড়ি। চওড়া ফটকের উপরটা জুড়ে বাগান বিলাসের বাহারি গাছ শোভা পাচ্ছে। বাড়িটার নামও ‘বাগান বিলাস’। দোতলার ঝুলন্ত বারান্দায় একটা আলসেশিয়ান কুকুরের বাচ্চা নিয়ে একটা দশ বছরের বাচ্চাকে খেলা করতে দেখা যাচ্ছে। আজাদ চৌধুরী লিটনকে গাড়িতে বসিয়ে গেটের কাছে গিয়ে মৃদু আওয়াজে টোকা দিতে লাগলেন।  
বসে বসে ঝিমাচ্ছিলো দারোয়ানটা। গেটে অনবরত শব্দ হওয়ায় টনক নড়ে। শরীরটাকে নাড়াচাড়া করে ঘুমটাকে বিদায় করে গেট খুলে মাথা বের করে দিয়ে কেতাদুরস্ত একজন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সালাম ঠুকে জিজ্ঞাসা করলো, কার কাছে এসেছেন? 

মেয়েটার আদ্যন্ত জেনে আসায় উত্তর দিতে অসুবিধা হলোনা। বলল, আমি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আরমান শেখের সাথে একটু  দেখা করতে চাই। 

কিন্তু উনিতো এখন বাসায় নেই। 

হ্যা আমি জানি। উনার এসময় থাকার কথা ছিলো। আমার সাথে সাথে উনার একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে। আমি এসে গেছি বিধায় উনি আমাকে ভেতরে অপেক্ষা করতে বলেছেন। আধঘণ্টার মধ্যেই উনি এসে যাবেন। 

কিন্তু স্যার, স্যারের সাথে আমি কথা না বলে আপনাকে ভেতরে ঢুকতে দিতে পারবোনা। 

আজাদ চৌধুরী খবর নিয়ে এসেছে আরমান শেখ গুরুত্বপূর্ণ কাজে সিঙ্গাপুর গেছে। তাই এখন তাকে ফোনে পাওয়া যাবেনা। ব্যাপারটা হয়তো বাসার দারোয়ান জানেনা। নিরাপত্তার খাতিরেই হয়তো দারোয়ানের কাছ থেকে বিষয়টা গোপন করা হয়েছে। মেয়েটার মাও এসময় বাসায় থাকেনা। তিনি একটা কর্পোরেট অফিসে চাকরি করেন। অরিনের বড় একটা ভাই আছে সেও এখন ব্যবসায়িক কাজে বাবার সাথে সিঙ্গাপুরের পথে। বাসায় পরিচারিকা আর মেয়েটা এবং ওর ছোট ভাই ছাড়া আর কেউ নেই। স্মিত হেসে দারোয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলল, ঠিক আছে ফোন করেন। তবে আমার সাথে কথা বলার পর উনার একটা মিটিং এ অংশগ্রহণ করার কথা। তাই এখন উনার ফোন বন্ধই থাকবে। আমি এতো দূর থেকে এসেছি যে কাজটা সেরে তারপর যেতে 
চাই।

বাসায় ম্যাডামও নেই। আমি আপনাকে ঢুকতে দিতে পারবো।  

আজাদ চৌধুরীর কাছে লোকটাকে বেশ ঘাওড়া প্রকৃতির মনে হলো। টাকা দেখিয়ে লোভ দেখাবে কিনা বুঝতে পারছেনা। তাকিয়ে দেখলো দশ বছরের ছেলেটা অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। আর ছোট কুকুরটা ঘেউ ঘেউ করা শুরু  করেছে। ছেলেটা দারোয়ানকে ডেকে বলছে, আজগর আংকেল, কি হয়েছে?

ভাইজান এই ভদ্রলোক বলছে স্যার নাকি তাকে বাসার ভিতরে গিয়ে বসতে বলেছে। উনার সাথে কি নাকি প্রয়োজনীয় মিটিং আছে। স্যারের ফোনে ফোন করে দেখি ফোন বন্ধ। বড় ভাইজানের ফোনও বন্ধ। খালাম্মারটাও বন্ধ পেলাম। আমি বলেছি পরে আসতে, কিন্তু লোকটা কিছুই শুনছেনা। 

দারোয়ান কথা বলার সময় দরজা থেকে একটু সামনে সরে গিয়ে কথা বলছিলো। গেটটা খোলা পেয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে আজাদ চৌধুরী। ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলে আমার বাসাটা একটু দূরে, তাই স্যার আমাকে বাসায় ঢুকে অপেক্ষা করতে বলেছে। ঠিক আছে আমি ভেতরে না ঢুকে এখানে অপেক্ষে করি। অসুবিধা আছে তাতে? 

না না ঠিক আছে, আপনি আমাদের নিচতলার বসার ঘরটাতে অপেক্ষা করতে পারেন। আমি দারোয়ান চাচাকে বলে দিচ্ছি। 

চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/160656/</link>
				<pubDate>Tue, 11 Oct 2022 12:57:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_তেইশ _চব্বিশ </p>
<p>নিচে আজাদ চৌধুরীকে ভয় দেখিয়েই দ্রুত উপরে চলে আসে তালহা। উপরটায় তারা সেইযে প্রথমদিন এসেছিলো তারপর আর যতবারই এই বাড়ি এসেছে উপরে আর একবারও আসা হয়নি ওদের। ওর মনে হলো এতোদিন ওরা   বোকার মত কাজ করেছে। এই বাড়িটা সম্পর্কে যদি কোন ডকুমেন্টস থাকে তাহলেতো উপরেই থাকবে। উপরের ঘরগুলো পরিপাটী করে গোছানো থাকলেও স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-160656"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/160656/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">db63e2922b053a2d9adbe48906558e73</guid>
				<title>এতোদিন পরে পোস্ট করছি মানে এই নয় যে এতোদিন লিখিনাই। আসলে থ্রিলার গল্প লেখা বেশ কঠিন। জানিনা এক্ষেত্রে আমি কতটুকু সফল হতে পেরেছি। ছাব্বিশ পর্ব পর্যন্ত লেখা শেষ। এখানে এক সাথে একুশ ও বাইশ পোস্ট করলাম। বাকি পর্বগুলো রিভিশান দিচ্ছি। রাতে আরও দুই পর্ব দিবো ইনশাআল্লাহ্‌। কালকে সকালে দিবো আরও দুই পর্ব। ছাব্বিশ পর্বে শেষ করতে পারবো ভেবেছিলাম কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। শেষ করতে হলে হয়তো ত্রিশ পর্ব পর্যন্ত যেতে হবে। 

পোড়বাড়ির_রহস্য
পর্ব_একুশ_বাইশ 

মেয়েটা তালহাকে ড্রিঙ্ক করার জন্য সাধলো কিন্তু তালহা বিনয়ের সাথে ওকে ‘না’ বলে দিলো। কথার ফাঁকে ফাঁকে তালহা মেয়েটার নাম ঠিকানা, এখানে কীভাবে আসলো, থাকে কোথায় ইত্যাদি কথা জেনে নিলো। মেয়েটার নাম অনিতা। ওর বাবা একজন বড় মাপের ব্যবসায়ী।ওর বাবার রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা আছে। তালহা মেয়েটার বয়স ১৮ ভাবলেও মেয়েটার বয়স আসলে একুশ।অনেক কথা হলো অনিতার সাথে ওর। হঠাৎ করে অনিতা দাঁড়িয়ে তালহার  হাত ধরে টেনে নাচের স্টেজের দিকে নিয়ে যেতে লাগলো। এতক্ষণ প্রায় ছয় গ্লাস ওয়াইন খেয়েছে মেয়েটা, তারপরও এতোটা স্বাভাবিক আছে দেখে তালহা রীতিমত অবাক হয়ে গেলো। তালহা অনেক কষ্টে অনিতার কাছ থেকে নিজেকে  ছাড়িয়ে নিলো। অনিতা বায় বলে অন্য একজনের সাথে নাচা শুরু করলো। রাত বাড়ার সাথে বারের পরিবেশ বদলে যেতে লাগলো। এখানে বাইরে থেকে যারা আসে তাদের অনেকে কিছু সময়ের জন্য আনন্দ ফূর্তি করতে আসে। রাত এগারোটা বারোটা পর্যন্ত থেকে চলে যায়। তাদের সবারই হয়তো বাসায় স্ত্রী পরিজন আছে। শুধু যে বিবাহিতরাই আসে তা কিন্তু না, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও এখানে আসে। অনেকে চলে যায়, অনেকে রাতটা কাটানোর জন্য থেকে যায়। তালহার একটা কথা ভেবে খুব অবাক লাগলো। যখন পরবর্তী প্রজন্মকে নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা অগ্রজদের গুরু দায়িত্ব তখন তারা নিজেরাই নানারকম অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে।

রাত বাড়ছে আর ধীরে ধীরে বারের নীচ তলাটা ফাঁকা হতে থাকছে। যারা যাবার তারা চলে গেছে। বাকিরা এক একজন মেয়েকে বগল দাবা করে উপরের তলাগুলোতে চলে যেতে লাগলো। তখন যে লোকটাকে দেখেছিলো, সেই লোক বা লিটন কাউকেই আর দেখতে পেলোনা তালহা। হঠাৎ একটা মেয়ে এসে তালহার হাত ধরে টানাটানি শুরু করে দিলো। তালহা  মেয়েটার কাছ থেকে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে দ্রুত বেগে দোতলায় চলে গেলো। নিচতলাটা এখন ফাঁকা হয়ে গেছে। যে যার মত উপরের ঘরগুলোতে চলে গেছে। তালহা সব ঘরগুলোর কাছে গিয়ে কান পেতে শোনার চেষ্টা করলো। ঘুরে ঘুরে দেখতে দেখতে হঠাৎ একটা ঘরের সামনে এসে তালহা থেমে যায়। দরজার উপরে লেখা কনফারেন্স রুম। বারের মধ্যে কর্পোরেট অফিসের মত সভা কক্ষ দেখে তালহার মনে সন্দেহ জন্মালো। ধীরে ধীরে দরজার নব ঘুরাতে লাগল তালহা।  দরজাটা খুলে গেলো। তালহা ভেতরে ঢুকে পড়লো। চারটা বড় বড় বই এর আলমারি, একটা গোল টেবিল, একটা কম্পিউটার ও একটা তিন সিটের সোফা দিয়ে ঘরটা সাজানো।

তালহা ভেবেছিলো এ ঘরটাতেই পাওয়া যাবে লোকটাকে কিন্তু না, ঘরটাতে কাউকে পাওয়া গেলোনা। দোতলা, তিনতলার বাকি ঘরগুলো সব বন্ধ। সবাই এখন অনৈতিক আদিম কাজে মগ্ন। তালহা দ্রুত নিচে চলে আসলো । জুয়েলকে চারিদিকে খেয়াল রাখতে বলে ও কাউন্টারের পাশের ছোট কাঁচের ঘরটার কাছে চলে গেলো। ভেবেছিলো খোলাই পাবে। কিন্তু দরজাটা বন্ধ। অবশ্য এসব তালা খোলা খুব সহজ কাজ। তালাটা খুলতে তালহার খুব একটা বেগ পেতে হলোনা। তালহা যা ধরণা করেছিলো তাই। এটাই ওদের সেন্ট্রাল ঘর। চারটা কম্পিউটার আছে ঘরটাতে। চারটা কম্পিউটারই চালু করলো তালহা। সবগুলোই পাসওয়ার্ড চাচ্ছে। কি পাসওয়ার্ড হতে পারে? তালহা আন্দাজে কি পাসওয়ার্ড দিবে বুঝে উঠতে পারলোনা। হঠাৎ মনে হলো বারের নামটা পাসওয়ার্ড হিশাবে ব্যবহার করলে কেমন হয়?

যেই ভাবা সেই কাজ। পাসওয়ার্ডের জায়গায় n-u-r-j-a-h-a-n অক্ষরগুলো লিখে এনটার চাপার সাথে সাথে  কম্পিউটারগুলো খুলে গেলো। তালহা কাঙ্ক্ষিত ফাইল খুঁজে পাওয়ার জন্য সার্চ অপশনে গিয়ে নানারকম শব্দ লিখে চেষ্টা করতে থাকে। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর নুরজাহান কথাটা লিখতেই ঐ নামেই একটা ফোল্ডার ওপেন হয়ে গেলো। শান্ত কুটিরের একটা ঘরের দেওয়ালেও যে ছবিগুলো টানিয়ে রাখা হয়েছে ঠিক সেই ছবিগুলোই এই ফোল্ডারের মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে এখানে প্রতিটা ছবির সাথে ব্যক্তির বৃত্তান্তও দেওয়া আছে। তালহা ভালো করে সব পড়ে একটা নোট তৈরি করে ফেললো। নুরাজাহানের ফোল্ডারটার মধ্যে বিভিন্ন নামে আরও কতগুলো ফোল্ডার আছে। সেগুলো ঘাটাঘাটি করতে করতে একটা অনেক আগের আর্কাইভ নামে একটা ফোল্ডার খুলে যায়। অনেকগুলো ছবি আছে এমন একটা ফাইল বের হয়ে আসে। প্রথম ছবিটাতেই তালহার চোখ আঁটকে যায়। পছিশ বছরের এক যুবকের সাথে সতেরো বছরের একটা যুবতীর ছবি। দুজনের মুখে ভুবনভুলানো হাসি। লোকটাকে চিনতে তালহার অসুবিধা হলো কিন্তু মহিলাটা কে? মহিলাটার ছবির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকেই তালহা বুঝতে পারলো এই ছবিটা ও শান্তকুটিরেও দেখেছে। শান্ত কুটিরের সবগুলো ছবির ছবি ও ওর মোবাইলে তুলে রেখেছে। মোবাইলের ছবিটা বের করে মিলিয়ে দেখলো ও  যা ভেবেছিলো তাই। শান্ত কুটিরে যে ছবিটা বাধাই করে বিশেষভাবে রাখা ছিলো সেই ছবির মানুষ আর  এই ছবির মানুষ যে এক তা বুঝতে একদমই বেগ পেতে হয়নি তালহার। লোকটার সাথে মহিলাটার কি সম্পর্ক?ইত্যাদি হরেকরকম প্রশ্ন তালহার মনের কোণে উড়াউড়ি করা শুরু করলো। ও আরও ঘাটতে লাগলো। এরপর আর তেমন কোন কিছু খুঁজে পেলোনা। যে তথ্যগুলো পেয়েছে ওগুলো মেজোচাচ্চুর ই-মেইলে পাঠিয়ে দিয়ে মেজো চাচ্চুর মোবাইলে একটা মেসেজ দিয়ে রাখলো। কাজ শেষ হয়েছে মনে হলে ঘরটা থেকে বের হয়ে গেলো। আপাতত এখানে বসে থেকে তেমন কোন  কাজ হবেনা। এখানে এখন ওর আর কোন কাজ নেই। বরং লোকগুলো এখানে  থাকাকালীন সময়ে যদি শান্ত কুটিরটাতে ভালোভাবে তল্লাশি চালানো যেতো তাহলে হয়তো অনেককিছু জানা যেতো। কিন্তু এখন এই রাতের বেলায় এখান থেকে বের হয়েও লাভ নেই। এখান থেকে এতো রাতে গাড়ি ছাড়া যাওয়া সম্ভব না। রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ নিরিবিলি। রাত দুইটা বাজে এসময় গাড়ি নিয়ে আসতে বলাটাও শোভনীয় হবেনা। তালহা তবুও ভেতর থেকে বের হয়ে বাইরের লনে এসে দাঁড়ালো। বারটার আশেপাশের জায়গাটা বেশ নির্জন। তালহা বাইরের লনে রাখা হেলানো চেয়ারে বসে সকালের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো।

বসে থাকতে থাকতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে তালহা। আজানের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। সাথে সাথে ওখান থেকে বেরিয়ে পড়ে। সবাই মাতলামি ঘরে আমোদ ফুর্তি করে অনেক রাতে ঘুমিয়েছে। এতো সকালে কারোর ঘুম ভাঙবে বলে মনে হয়না। এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চায় তালহা। ফোন করে গাড়িটাকে আসতে বললে জানা যায় ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে ইতিমধ্যে এখানে আসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। তথ্যটা একদমই ভুল না। কিছুদূর হাঁটার পরই গাড়িটা পেয়ে গেলো তালহা। গাড়ি নিয়ে সোজা পোড়োবাড়িতে চলে গেলো ও। এই সময় এখানে কেউ আসেনা তা এই কয়দিনের আসা যাওয়াতে বেশ বুঝতে পেরেছে তালহা। বাড়িটাকে ওরা শুধুমাত্র ওদের সমাজবিরোধী বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। তালহা বাড়ির প্রতিটা ঘরে তল্লাশি শুরু করলো। দিনের বেলা হলেও ঘরগুলোতে আলোর অভাবে অন্ধকার ছেয়ে গেছে। ওর কাছে থাকা ছোট টর্চ দিয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেনা। প্রথমে ভৌতিক শব্দটা কোথা থেকে আসে তা খতিয়ে দেখার জন্য শব্দের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করলো। শব্দটা যেহেতু সব জায়গা থেকে সমানভাবে শোনা যায় তাই তালহার মনে হলো শব্দযন্ত্রটা নিচে নতুবা ছাদের সাথে লাগানো আছে। তিন নং ঘর থেকে একটা ড্রাম নিয়ে  এসে সেটার উপরে দাঁড়িয়ে ওর বরাবর ছাদের যে জায়গাটা গোল করে কাঁচের ঢাকনা দিয়ে আটকানো তালহা সেইটা বরাবর দাঁড়ালো। ওর আন্দাজই ঠিক হলো। এখানেই রাখা আছে শব্দ তৈরির যন্ত্রটা। তালহা হাত দিয়ে কাঁচের ঢাকনাটা  খুলে ফেললো। সঙ্গে সঙ্গে বিকটভাবে শব্দটা কানে এসে ধাক্কা লাগালো। একটা ম্যাগনেটিক টেপ রেকোর্ডার চোখে পড়লো। বেশ বড় টেপ রেকর্ডারটা। ছাদের সাথে টেপ রেকর্ডাকে আঁটকে দিয়ে একটা ইউ পি এসের  মাধ্যমে এটাকে কারেন্টের লাইনের সাথে সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে।তালহা তারটা টেনে ছিড়ে ফেলার সাথে সাথে শব্দটা বন্ধ হয়ে গেলো। টেপ রেকর্ডারটা স্ক্রু দিয়ে ভালো করে লাগানো বিধায় ওটা খোলা সম্ভব হলোনা। ঐ ঘরের পাশের যে করিডোরটা আছে ওখানকার দেয়ালে একটা স্পেয়ার মেশিন লাগানো দেখলো তালহা। মেশিনটা কেন এখানে এভাবে লাগানো প্রথমে সেটা বোঝার জন্য যন্ত্রটার কাছে গেলো ও। পোড়োবাড়িতে ঢোকার পর যে বাজে গন্ধটা নাকে অনুভূত হয়, মেশিনটার কাছাকাছি যাওয়ার কারণে সেই গন্ধটা আরও প্রকটভাবে নাকের মধ্যে এসে ঢুকলো। শুধু গন্ধ না মেশিনটার কাছাকাছি আসার সাথে  সাথে একটা বাতাসের ঝাপটা এসে ওর নাকে মুখে লাগলো। তালহা বুঝলো এটা একটা অটোমেটিক স্পেয়ার মেশিন যার কাজ অনবরত বাতাস স্প্রে করা যার সাথে একটা বাজে গন্ধযুক্ত দ্রব্য মিশানো আছে। মেশিনটা একটা প্লাগের মাধ্যমে কারেন্টের সাথে যুক্ত আছে। তালহা সুইচটা বন্ধ করে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে বাতাস বের হওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। গন্ধের প্রকটতাও কমতে লাগলো। এই জায়গাটা ঢোকার মুখে হওয়ায় বাইরের আলো কিছুটা হলেও এখানে পাওয়া যায়। কিন্তু ভেতরের দিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। পোরোবাড়িতে নেমেই মুসায়েব  এবং যায়িদকে নিয়ে আসার জন্য গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। আসার সময় চার্জার টিউব লাইট আনতে বলে দিয়েছে।  এতক্ষণ চলে আসার কথা। তালহা ফোনটা নিয়ে মুসায়েবকে ফোন করে ওর ফোনটা বন্ধ পেল। যায়িদকে করতে যাবে তখনই ওরা দুজন হুড়মুড় করে প্রবেশ করলো।

তালহা কপট রাগ দেখিয়ে বললো, কিরে এতো দেরি করলি কেন?

যায়িদ মুসায়েবকে দেখিয়ে বলল, তোর ঘুম কাতুরে বন্ধুটাকে জিজ্ঞাসা কর। বাব্বাহ মানুষ কেমন করে এতো ঘুমায়!

ইশ তোদের কি আরাম! আর আমি একটার সাথে আরেকটা ঘটনা জোড়া লাগাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। ঠিক আছে বাদ দে সেসব, কাজের কথায় আসি। মেয়েগুলোকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে ওদেরকে আপাতত খবরটা গোপন রাখতে বলা হয়েছেতো?

যায়িদ বলল, ছোট মামা বলেছে অপহৃত মেয়েগুলোকে উদ্ধার করা গিয়েছে এ সংক্রান্ত কোন খবর যেন তাদের পরিবারের মানুষ ছাড়া বাইরের কাক-পক্ষীও না জানে সেদিকে যেন তারা খেয়াল রাখে। উনারা এ ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে।

যাক বাঁচা গেলো। কথাটা বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল তালহা। বন্ধুদের উদ্দেশ্য করে বলল, চল ভেতরের ঘরগুলো ভালোভাবে তল্লাসি করি।

যায়িদ আর মুসায়েব একসাথে বলে উঠলো চল।

তিনজন তিনটা চার্জার লাইট নিয়ে বাড়ি একপ্রান্ত থেকে শুরু করে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সবগুলো ঘর ভালোভাবে দেখা শুরু করলো। দুইটা ঘর থেকে বিভিন্ন ধরণের মাদক এবং প্রচুর পরিমাণ সোনার গহনা আবিষ্কার করলো ওরা।

এতো গহনা দেখে মুসায়েব জিজ্ঞাসা করলো এগুলো ব্যাঙ্কের লকার ডাকাতি করে আনা হয়নিতো? 

তালহা বলল না, এগুলো দেখে মনে হচ্ছে বাইরে থেকে চোরাই পথে আনা হয়েছে।
আচ্ছা আগের মত সেই ভৌতিক শব্দটা শোনা যাচ্ছেনা কেন? অবাক হয়ে প্রশ্নটা করলো মুসায়েব।

শুধু শব্দের কথা কেন বলছিস এতোদিন যে বাজে একটা গন্ধ পাওয়া যেতো সেটাওতো দেখছিনা। কিরে তালহা তুই কিছু করেছিস?

তালহা বলল, সবার মধ্যে যে ভয়টা কাজ করতো তা যে একদম অমূলক ছিলো আজ আমি তা প্রমাণ করে দিবো।

কীভাবে? উৎসুক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মুসায়েব কথাটা জিজ্ঞাসা করলো।

তালহা বলল, একটা দুষ্টু চক্র বাড়িটাকে খালি পেয়ে তাদের সমাজবিরোধী কাজে ব্যবহার করছে। ওরাই এসব কৃত্রিম শব্দ ও গন্ধ তৈরি করে বাড়িটাকে ভীতিকর বানিয়ে রেখেছিলো যাতে মানুষ এর মধ্য প্রবেশ করতে না পারে। চল তোদেরকে দেখাই কীভাবে কাজগুলো করেছে। তালহা একে একে ওদেরকে দেখাতে লাগলো কীভাবে ভৌতিক শব্দ এবং বাজে গন্ধ সৃষ্ট করা হয়েছিলো।

এই যে এই ম্যাগনেটিক টেপ রেকোর্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন ভৌতিক শব্দ তৈরি করা হয়। ভৌতিক্ শব্দ রেকর্ড করা একটা ক্যাসেট ঢুকিয়ে তা যেন বারবার বাজতে থাকে সে ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিলো। রাত বাড়ার সাথে সেই ভৌতিক শব্দটা বাড়তে থাকতো। এর একমাত্র কারণ রাতের নিস্তব্ধতা। দিনের বেলায়ও যাতে কেউ ঢুকতে না পারে এজন্য সারাক্ষণ যেন ক্যাসেটটা বাজতে থাকে তার জন্য একটা কারেন্টের সাথে টেপ রেকর্ডারটার একটা প্লাগের সাহায্যে সংযোগ করে রাখা হয়েছিলো। এদিকে আয় বলে তালহা যায়িদ আর মুসায়েবকে নিয়ে অটোমেটিক স্প্রেয়ার  মেশিনটা যেখানে লাগানো ছিলো সেখানে গেলো। মেশিনটা তখনও দেওয়ালের সাথে লাগানো ছিলো। মেশিনটা দেখিয়ে তালহা বলল এই যে এই মেশিনটা দেখছিসনা? এটা ব্যবহার করে বাতাসের মাধ্যমে গন্ধের উৎপত্তি করা  হতো। এটা এমনভাবে সেট করে রাখা হয়েছিলো যেন সেটা থেকে সারাক্ষণ বাজে গন্ধযুক্ত বাতাস বের হয়ে পরিবেশটাকে মানুষ প্রবেশের অনুপযুক্ত করে তোলে। আমি কারেন্টের সাথে এই মেশিনের সংযোগ লাইনটা কেটে দিয়েছি। তাই এখন এটা কাজ করছেনা।

এই বাসাটা মূলত গহনা, নারী এবং মাদক পাচারে ব্যবহৃত হয়। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে মাদক ও গহনা পাচারকারী এবং নারী পাচারকারী একই লোক না।যাই হোক আমি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত না। তালহা প্রসঙ্গ পাল্টে বন্দুদের বলল, তোদেরকে যে তালা আনতে বলেছিলাম, এনেছিস?

যায়িদ ওর ব্যাগের থেকে তিনটা তালা বের করে তালহাকে দিলো। তালহা ৩ নং ঘর এবং সন্দেহের জায়গা থেকে আরও দুইটা ঘর তালা মেরে দিলো। বন্ধুদেরকে বলল চল উপরটা ভালো করে তল্লাশি চালাতে হবে। নিচ থেকে বের হয়ে উপরে উঠতে যাবে তখনই শব্দগুলো ওদের কানে গেল। সামনের মানুষগুলোকে দেখে থমকে দাড়িয়ে পড়লো তিনজনই।

পর্ব_বাইশ

সামনের মানুষগুলোকে দেখে থেমে গেলো ওরা। বের না হয়ে আবার ভেতরে ঢুকে গেলো। দূর থেকে দেখলেও লিটন এবং আজাদ সাহেবকে চিনতে কষ্ট হলোনা তালহার। কিন্তু বাকি দুইজনকে একেবারেই নতুন মনে হলো ওর কাছে। ওরা কথা বলায় ব্যস্ত ছিলো বিধায় তালহারা ওদের দেখলেও ওরা তালহাদের খেয়াল করেনি। 

এতো সকালে লোকগুলো পোড়োবাড়িতে আসবে তালহা ভাবতেই পারেনি। তাহলে কি লিটন সাহেব রাতের বেলা বারে ছিলোনা? তালহা ভেবেছিলো সব মাতাল হয়ে রাতে গভীর ঘুম দিয়েছে, নিশ্চয় সহজেই ঘুম ভাঙবেনা। কিন্তু তালহার ধারণা ভুল প্রমাণ করে সকাল আটটার আগেই এরা শান্ত কুটিরে এসে উপস্থিত হলো! ভেতরে ঢুকলেও লোকগুলো এখনও ওদেরকে দেখেনি। ওরা ঢোকার আগেই তিনজন তিনটা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েছে তালহারা। তালহার মনে হলো এবার ওরা ধরা পড়ে যাবে। আর যদি ধরা পড়ে তাহলে মনে হয়না বেঁচে ফিরতে পারবে। তাই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ওর কাছে সতর্কতা মানেই আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। বন্ধুদেরকে দোয়া পড়তে বলে নিজে অনবরত দোয়া পড়তে লাগলো। 

লিটন এবং আজাদ চৌধুরীসহ মোট চারজন লোক এসেছে। বাকি দুইজনকে এর আগে কখনও দেখেনি তালহা। ভেতরে ঢুকেই লিটন আর আজাদ চৌধুরী থমকে দাঁড়ালো। আজাদ চৌধুরী বলে উঠল কি ব্যাপার, এমন নির্জন লাগছে কেন বাড়িটাকে?   

বুঝতে পারছেন না? এটার শব্দ ও গন্ধ তৈরির উৎস নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমার ধারণা কাজটা যারা করেছে তারা এখনও ভেতরেই আছে। খুব সাবধানে ঢুকতে হবে। প্রত্যুত্তরে কথাটা বলল লিটন। 

মুসায়েব একটা তক্তপোষ হাতে নিলো ওদের মারবে বলে, তালহা ওকে হাত টেনে বাঁধা দিলো। একদম পিনপতন নীরবতা পালন করতে হবে। লিটন সাহেবের হাতে একটা ছুড়ি এবং অন্য একজনের হাতে রিভলভারটা দেখে ভয়ে তালহাকে জড়িয়ে ধরে মুসায়েব। ও কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো, তালহা ওর মুখ চেপে ধরলো। 
চারিদিকে দৃষ্টি রেখে লোকগুলো ভেতরে ঢুকে গেলো। সাথের লোকদুটোকে নিয়ে চারিদিকে দেখতে লাগলো লিটন। দেখতে দেখতে ভেতরের দিকে চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর এসে বলল, স্যার কাউকে পেলাম না। আমার মনে হচ্ছে এগুলো ঐ বিচ্ছুগুলোর কাজ। 

লিটনের কথাটা শুনে গর্জে উঠলো আজাদ চৌধুরী। ক্রোধের স্বরেই বললেন, ছেলেগুলোর কোন ব্যবস্থা করতে পারলেনা তোমরা? বাচ্চা ছেলে কয়টা। তাদের কাছে আমাদের নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে! তাহলে তোমাদের কাজ দিয়ে আমাদের লাভটা কি? 

স্যার ছেলেগুলো অনেক ধূর্ত। ওরা যখন একবার এই বাড়ির ভিতর ঢুকেছে, তখন আবারও যে ঢুকবে এটাতো জানা কথা। ওরা সহজে হাল ছেড়ে দেবে বলে মনে হয়না। আমাদের এরপর থেকে এখানে আরও বেশি সিকিউরিটি জোরদার করতে হবে। স্যার আমাদের পক্ষ থেকে আমারা করতে পারি যদি আপনারা আমাদের সেরকম পারিশ্রমিক দেন। 

তোমাদের একমাত্র কাজই ছিলো এই জায়গাটা পাহারা দেওয়া আর জায়গামত মালামাল পৌঁছে দেওয়া।

না স্যার। আপনাদের সাথে আমাদের শুধু মালামাল পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি হয়েছিলো। এর মাঝে ছেলেগুলো এসে পড়ায় কাজ বেড়ে গেলেও আপনারা আমাদের পারিশ্রমিক বাড়াননি।
 
ঠিক আছে আমি স্যারের সাথে কথা বলে দেখবো। মানুষটাও সম্পূর্ণ ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। 

স্যার ভেতরটা কেমন ওলট পালট লাগছে। উত্তেজনার সাথে কথাটা বলল লিটন।
পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে একটু আগেও কেউ এখানে ছিলো। ভালো করে খোঁজ কর। চারিদিকে ছড়িয়ে যাও। তাহলে ওরা আর পালাতে পারবেনা।  

ঠিক আছে স্যার। ওদের সঙ্গে আসা লোক দুইজনকে ঘুরে ঘুরে দেখতে বলে লিটন তিন নম্বর ঘরের কাছে চলে গেলো। দরজার লাগানো তালা খুলতে গিয়ে সেখানে অন্য তালা দেখে উত্তেজিত হয়ে গেলো লিটন। দ্রুত সবগুলো ঘরের তালা পরীক্ষা করতে লাগলো। সবকটা তালা বদলে ফেলা হয়েছে স্যার! চিৎকার করে কথাটা আজাদ চৌধুরীকে বলল লিটন।

কথাটা শুনে আজাদ চৌধুরী বোকা বনে গেলেন। প্রতিপক্ষকে দূর্বল ভাবার জন্য নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলেন। লিটনকে বললেন সি সি ক্যামেরাগুলো ঠিক আছে কিনা দেখেনতো। 

লিটন তালার বিষয়ে আজাদ চৌধুরীকে জানিয়ে লোক দুইজনকে শান্ত কুটিরে ঢোকার মুখে যে মোটা মোটা পিলারগুলো আছে তার পেছনে কেউ লুকিয়ে আছে কিনা খুঁজে  দেখতে বললো। লিটনের নির্দেশ মোতাবেক যেখানে পিলারের পাশে গুটিশুটি হয়ে তালহারা তিনজন বসে ছিলো ওদের দুজনের একজন মাত্রই সেদিকে আসা শুরু করেছিলো। তালহা তখনই ওর বন্ধু দুজনের হাত ধরে টান দিয়ে বাইরের দিকে দৌড় মারলো। 

ওদেরকে দৌড়ে বের হতে দেখে লোকটা চিৎকার করে উঠলো। লোকটার চিৎকার শুনে বাকিরাও পিছন ফিরে তালহাদের বের হয়ে যেতে দেখলো। সঙ্গে সঙ্গে আজাদ চৌধুরী  ওদেরকে ধরার জন্য আদেশ করেলো। লিটন লোক দুইজনকে সঙ্গে করে নিয়ে পোড়োবাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো। 

তালহাদের গাড়ি রাজবাড়ির কাছে দাড় করিয়ে রাখার কথা। ওরা সেদিকে গিয়ে গাড়িতে না উঠে রাজবাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়লো। ভেতরে বেশ কতগুলো দল এসেছে পিকনিক করার জন্য। তালহারা দৌড়ে গিয়ে মানুষের মধ্যে মিশে গেলো। 

লিটন ওর বাকি দুইজন সঙ্গীকে নিয়ে কিছুক্ষণ দিশেহারার মত তালহাদের খুঁজতে থাকে। চারিদিকে নজর বুলিয়েও যখন ওদের দেখতে পেলোনা তখন উপায়ান্ত না দেখে লিটন লোকগুলোকে নিয়ে রাজবাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো। 

লিটন ওর দুই সঙ্গীকে নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে তালহারা বের হয়ে আসলো। তালহা মুসায়েব এবং যায়িদকে গাড়িতে অপেক্ষা করতে বলে ওর জুব্বা টুপি পরে আবার শান্ত-কূটিরের উদ্দেশে রওনা দিলো। লিটনদের পাশ দিয়ে চলে গেলো অথচ ওরা ধরতেই পারেনি। তালহা দ্রুত পায়ে এমনভাবে হেঁটে গেলো যাতে করে ও লিটনদের আগেই পোড়োবাড়িতে পৌঁছাতে পারে। তালহা লিটনদের পিছনে ফেলে দ্রুত গতিতে পোড়োবাড়ির ভেতর ঢুকে পড়লো। 

তালহা বেশভূষা পরিবর্তন করেছে বলে ওকে লিটন চিনতে পারেনি। ও ঢুকেই দেখলো আজাদ চৌধুরী ভীতসন্ত্রস্ত চেহারা নিয়ে চারিদিকে অস্থির দৃষ্টিতে দেখছে । সদর দরজার দিকে মুখ করে দাড়িয়ে ছিলো লোকটা। তালহার মনে হলো লোকটা ভয় পাচ্ছে। তাই সদর দরজা পেরিয়ে একটু ভেতরে ঢুকে লোকটার দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো ও। সাদা জুব্বা, মাথার উপরে সাদা ওড়না ঝুলানো তালহাকে দেখে লোকটা রীতিমত কে কে বলতে বলতে  কাঁপতে থাকলো। ঠিক সেই মুহূর্তে লিটন ও তার সঙ্গীদের আসার পদশব্দ শুনে তালহা একটা ভালো জায়গা দেখে লুকিয়ে পড়লো। লিটন তার দুই সঙ্গীকে নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে শান্তকুটিরে ঢুকে পড়লো। আজাদ চৌধুরী তালহা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো সেদিকে হাত দেখিয়ে ওদেরকে বললো ভু----উ—ত ভু--------উ----ত। 

আজাদের হাত অনুসরণ করে সদর দরজার দিকে তাকিয়ে লিটন দেখল সেখানে ফাঁকা, কেউ নেই। কারণ ততক্ষণে তালহা উপরে চলে গেছে। 

লিটন অবাকের সাথে চারিদিকে তাকাতে তাকাতে বলল ভুত! কোথায় ভুত? স্যার আপনি ভুত বিশ্বাস করেন।

আজাদ চৌধুরী তোতলাতে তোতলাতে কি বলল তা লিটনের বোধগম্য হলোনা। ঠিক তখনই একটা বিরস আওয়াজে আজাদ চৌধুরীর ফোনটা বেজে উঠলো। নিজেকে ধাতস্থ করে ফোন ধরতে সামান্য দেরি হওয়াতেই ক্ষেপে গেলো ওপাশের মানুষটা। রেগে গিয়ে বলল, ফোন ধরতে এতক্ষণ লাগলো কেন? 

আসলে স্যার ...............।

কি তখন থেকে আসলে আসলে করছো। তোমরা এখন কোথায়? 

স্যার আমরা এখন শান্ত কুটিরে। 

তাহলেতো ভালোই হলো। শান্ত কুটিরের সি সি ক্যামেরেগুলোর কি হয়েছে? সব ত্রুটিপূর্ণ দেখাচ্ছে কেন?  

তাই নাকি ! কপট বিস্ময় নিয়ে কথাটা বলল লিটন। এ বাসায় যে কেউ ঢুকে সব এলোমেলো করে দিয়ে গেছে তা বোঝা যাচ্ছে। 

কারা করেছে এসব? 

কারা হবে আবার? ঐ বিচ্ছুগুলো নিশ্চয়। ওরা নিশ্চয় সি সি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। 

কথাটা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলো আজাদ চৌধুরী। বলল, আর এদিকে আর এক কাণ্ড ঘটেছে। অরিন্দম লাহিড়ীকে তার দুই সঙ্গীসহ আমাদের গোডাউনে পাওয়া গেছে। 
আমাদের গোডাউনে! কথাটা বলে লিটনের দিকে তাকালো আজাদ চৌধুরী। 
হ্যা আমাদের গোডাউনে। তোমরাতো কোন কাজ ঠিকমত করোনি। এখন তিনটা মেয়ে আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেলো। আমরা ওদের কাছে কি জবাব দিব? 

স্যার ঐদিন বারে আমি উপস্থিত ছিলাম না। আমি আপনার নির্দেশ মোতাবেক ফরহাদ সাহেবের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।  

সেটাতো আমি জানি। তুমি এতো বাড়তি কথা কেন বলো? কাজের কথায় আসো। লিটনকে জিজ্ঞাসা করো ও কার কাছে মেয়ে তিনটাকে হস্তান্তর করেছে। আজকে সকালে শুভাশিস দত্ত ফোন করে জানালো অরিন্দম লাহিড়ী ফিরে যায়নি এবং ওকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছেনা। আমি অবাক হয়ে গেলাম। তারপরেইতো কি একটা কাজে হাসানকে গোডাউনে পাঠিয়েছিলাম। ও এসে বলল, লাহিড়ী এবং তার দুই সঙ্গীকে কারা যেন বেঁধে গোডাউনে ফেলে রেখেছে। লিটনকে ফোনটা দাও। 

আজাদ মোবাইলটা লিটনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, স্যার কথা বলবে।
লিটন ফোন ধরতেই ওপাশের মানুষটার চিৎকার শুনে ওর কান ফেটে যাওয়ার যোগাড় হলো। 

ক্রোধের সাথেই লিটনকে জিজ্ঞাসা করলো, তুমি গতকাল মেয়ে তিনজনকে কার কাছে হস্তান্তর করেছো?

কেন, অরিন্দম লাহিড়ী?

তুমি অরিন্দম লাহিড়ীকে চিনতে? ফোনের ওপাশের মানুষটা বাজখাঁই কণ্ঠে লিটনকে কথাটা জিজ্ঞাসা করলো। 

না স্যার উনাকে আমি চিনিনা মানে কোনদিন চোখের দেখাও দেখিনি। কেন স্যার কি হয়েছে? 

যাকে দিয়েছো এখন সে অরিন্দম লাহিড়ী ছিলোনা। অরিন্দম লাহিড়ীকে বেঁধ আমাদের গোডাউনে ফেলে রেখে লোকটা ওর পোশাক পরে নেয়। এসময় গোডাউনে আঁটকে রাখা গোয়েন্দা দুজনকেও বের করে নিয়ে যায়। আমার ধারণা ওদের দলনেতা কি যেন নাম তালহার কাজ এটা।  একটা বাচ্চা ছেলে এভাবে ধোঁকা দিলো আর তুমি ধরতে পারলেনা। 

হঠাৎ কথার মাঝখানে ফোনটা কেটে দিয়ে লিটন আজাদকে জিজ্ঞাসা করলো স্যার ভুত কোথায় দেখেছেন?

আজাদ হাত দিয়ে সদর দরজার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলে ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলো। ভুতনা আমি বলতে গিয়েছিলাম ভুতের বেসে একজন দাঁড়িয়ে ছিলো। আমি জীন বিশ্বাস করি এবং ভীষণভাবে জীনকে ভয়ও পাই।  

বুঝেছি, আচ্ছে স্যার বলেনতো ভুতের বেসে দাঁড়িয়ে ছিলো বলতে লোকটার পোশাকের কথা বলছেন?

হ্যা, সম্পূর্ণ সাদা ইয়া বড় একটা জামা পড়া ছিলো। আবার মাথায় উপর একটা ওড়না ঝুলিয়ে দেওয়া ছিলো। যার কারণে মুখটা ভালো করে বোঝা যাচ্ছিলোনা। 
লিটনের মনে পড়ে গেলো। আজাদ সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল, আমরা যখন রজবাড়ি পর্যন্ত গিয়েও বিচ্ছু তিনটাকে খুঁজে পেলামনা তখন আবার এই বাড়ির উদ্দেশে হাঁটা শুরু করলাম। তখন একজনকে এমন পোশাকে দেখলাম আমাদেরকে ছাড়িয়ে খুব দ্রুত সামনের দিকে হেঁটে চলে যাচ্ছে। এবং এই পোশাক পরা লোকটাকে আমি গতকাল রাতে  বার কাউন্টারে দেখেছি। দাঁড়ান জুয়েলকে জিজ্ঞাসা করলে ওর বৃত্তান্ত জানা যাবে। তবে আমার মনে হচ্ছে সে আমাদের আশেপাশেই আছে। কামাল আর রতন তোমরা বাড়িটাতে ভালো করে খোঁজ লাগাও। কথাটা শেষ করতে পারেনি আজাদ সাহেবের ফোনটা আবার বেজে উঠলো। 

আজাদ সাহেব ফোনটা না ধরে লিটনের হাতে দিয়ে বলল নিশ্চয় কথার মাঝে ফোন কেটে দেওয়ার জন্য এখন আর এক দফা বকা শুনতে হবে। কাজটা যেহেতু তুমি করেছো। তাই বকাটাও তুমিই শুনো।

লিটন ফোন কানে নিয়ে সালাম দিলো। 

সালামের উত্তর না দিয়ে ওপাশ থেকে মানুষটা ধমক দিয়ে বলল, কথার মাঝখানে ফোন কেটে দিলে কোন সাহসে?

আসলে একটা কথা মনে হওয়াতে আজাদ স্যারের সাথে আলোচনা করার জন্য না বুঝেই কেটে দিয়েছি। আসলে একটা ক্লু মনে পড়লো তাই উত্তেজনায় ফোনটা কাটা হয়ে গেছে। তারপর একটু আগে যেসব ক্লু বের করেছে সে ব্যাপারে লোকটাকে জানালো। একটু থেমে আবার বলল, স্যার আর একটা সমস্যা হয়ে গেছে।

কি সমস্যা ওপাশের লোকটা কর্কশ কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলো। 

স্যার আজকে যে মেয়েটাকে বিদেশী ডেলিগেটসদের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিলো তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা। আমরা ওকে একদিন অবচেতন থাকে এমন ঘুমের ইঞ্জেকশান দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখে গিয়েছিলাম। যে ঘরে রেখে গিয়েছিলাম সে ঘরের দরজায় আমাদের দেওয়া তালা নেই। তার বদলে নতুন তালা ঝুলছে। নতুন তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখি ঘরটা ফাঁকা, কেউ নেই।  এখানে গুরুত্বপূর্ণ চারটা ঘরের তালা বদলে ফেলা হয়েছে।  
 
কি বল? চিৎকার করে বলে উঠলো লোকটা। তোমাদের আমি দেখে নিবো। এই তোমাদের পেশাদারিত্বের নমুনা! তিনটা বাচ্চা ছেলে তোমাদেরকে ধোঁকা দিয়ে গেলো, আর তোমরা কিছুই করতে পারলেনা! আমার যে কত বড় ক্ষতি হলো! এরপর এরা আর আমার সাথে কোনরকম চুক্তিতে যাবেনা। এখন আমাকে ক্ষতিপূরন হিশাবে ওদের কাছ থেকে  নেওয়া টাকাতো দিতে হবেই সাথে আরও লাখ টাকা দিতে হবে। সেটা তোমাদের পারিশ্রমিক থেকে দিবো। কথাটা বলেই ফোনটা কেটে দিলো।  
লিটন ফোনটা আজাদ চৌধুরীকে দিতে গিয়ে বলল, স্যার এবার ধরা খেয়েছি। এখন বিচ্ছুগুলোকে ধরতে পারি তাহলে হয়তো বেঁচে যাবো। নইলে বস যে পরিমাণ রেগে আছে, তাতে পারিশ্রমিকতো পাবোইনা  আরও আর্থিক গচ্চা যেতে পারে। 
মানে কি? কি বলছো এসব তুমি?
স্যার এ ধরণের কাজ আমি আর করবোনা। কার হয়ে কাজ করছি জানিনা। তাকে কখনও দেখিওনি। আমাদের সবসময় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় আর তারা আড়ালে বসে কলকাঠি নাড়তে থাকে। আবার তারা নিরাপদেও থাকবে। আজাদ চৌধুরীকে কোন কথা বলছে না দেখে লিটন আবার বলল, স্যার, এখন কি করবো? সবতো কেমন গোলমেলে ঠেকছে। 
আজাদ চৌধুরী চিন্তিত ভঙ্গীতে বলল, হ্যা সেটাইতো দেখছি। আচ্ছা তুমি কি যেন বলছিলে? জুব্বা পরা যাকে বারে দেখেছিলে তাকে এখানেও দেখেছো? 
এতক্ষণ নানারকম কথার ভিড়ে লিটন ভুলেই গিয়েছিলো কথাটা। আজাদ চৌধুরীর কথা শুনে মাথাটা ঝাঁকি দিয়ে  বলল, হ্যা হ্যা, আমিতো বেমালুম ভুলে খেয়েছি। আমার ধারণা আপনি যাকে ভুত ভেবেছেন সে আর কেউ না, সেও ঐ জুব্বা পরা লোকটা। এবং আমার ধারণ সে এখন এখানেই আছে।
তাহলে তুমি কি ধারণা করছো ঐ তিন বিচ্ছু ছাড়া আরও অন্য কেউ আমাদের কাজের পেছনে লেগেছ?
হ্যা স্যার আমার তাই মনে হচ্ছে। কারণ ঐ জুব্বা পরা লোকটাকে সেদিন ওখানে একাই দেখেছি আবার একটু আগেও একা হেঁটে আসতে দেখেছি। কামাল এবং রতনের দিকে তাকিয়ে বলল, কি তোরা দুইজন এমন হা করে তাকিয়ে আছিস কেন? বললাম না বাড়িটাতে ভালো করে তল্লাশি চালা। 
স্যার কখন বললেন? আপনি তখনতো কথাই শেষ করেননি। তার আগেইতো আপনার ফোন চলে আসে। 

লিটনের মনে পড়লো সে কথা শেষ করার আগেই তাদের বসের ফোন চলে আসে। যার কারণে ও কথাটা শেষ করতে পারেনা। কামাল এবং রতন তখনও দাঁড়িয়ে আছে দেখে বলল, তখন বলিনি ঠিক আছে, কিন্তু এখনতো বললাম, তারপরেও এমন সঙয়ের মত দাঁড়িয়ে আছিস কেন?

স্যার কোথায় খুজবো?

কোথায় খুজবো মানে? এখানে খুঁজে দেখবি। 

কামাল এবং রতন নিচ তলাটার তালাবদ্ধ ঘরগুলো ছাড়া সব জায়গায় ভালো করে তল্লাশি চালিয়ে কাউকে না পেয়ে ওরা ফিরে আসে। 

চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/158804/</link>
				<pubDate>Sun, 09 Oct 2022 04:30:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এতোদিন পরে পোস্ট করছি মানে এই নয় যে এতোদিন লিখিনাই। আসলে থ্রিলার গল্প লেখা বেশ কঠিন। জানিনা এক্ষেত্রে আমি কতটুকু সফল হতে পেরেছি। ছাব্বিশ পর্ব পর্যন্ত লেখা শেষ। এখানে এক সাথে একুশ ও বাইশ পোস্ট করলাম। বাকি পর্বগুলো রিভিশান দিচ্ছি। রাতে আরও দুই পর্ব দিবো ইনশাআল্লাহ্‌। কালকে সকালে দিবো আরও দুই পর্ব। ছাব্বিশ পর্বে শেষ করতে পারবো ভেবেছিলাম কিন্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-158804"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/158804/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">48b9e03ad2afea1b27bf232c3c5abd88</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য
পর্ব_বিশ
তালহার কথা মত গাড়ি থেকে মেয়েগুলোকে নামিয়ে ভেতরে নেওয়ার পর মুসায়েব আর যায়িদও চুপিচুপি ভেতরে ঢুকতে গিয়েছিলো। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলোনা। ওদের লোকের হাতে ধরা পড়ে গেলো। ওদেরকে ধরে নিয়ে এসে একটা অন্ধকার ঘরের মধ্যে আঁটকে রেখে গেছে। ঘরটার মধ্যে জানালাতো দূরের কথা বাতাস ঢোকার জন্য কোন সামান্য ঘুলঘুলিও নেই যে সেটা দিয়ে ওরা বাইরে  বের হওয়ার চেষ্টা করবে। দুজনেরই কাধের ব্যাগ গাড়িতে রেখে এসেছে। টর্চটা ব্যাগের মধ্যে থাকার কারণে আলো জ্বালাতে পারছেনা। প্যান্টের গুপ্ত পকেটা থেকে ফোনটা বের করে আলো জ্বাললো যায়িদ। মুসায়েব ওর মোবাইলটা বের করে তালহার নাম্বারে ফোন করলো।
আচমকা একটা চেনা কণ্ঠস্বর শুনে অবাক হয়ে নিচে তাকালো তালহা। সে লিটনের সাথেই লোকটাকে ভেতরে ঢুকতে দেখলো। লম্বা, চওড়া, কন্ঠস্বর সবই চেনা মনে হলেও মুখের চওড়া মাস্ক আর মাথার ক্যাপের জন্য ঢেকে থাকা অবয়বের সামান্য কিছু অংশ দেখে তালহা শিওর হতে পারছেনা ও যার কথা ভাবছে লোকটা সে কিনা। তালহা পিলারের আড়ালে দাঁড়িয়ে নিচটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। হঠাৎ পকেটের ফোনটা কেঁপে উঠলো। শব্দ যাতে না হয় সেজন্য ভাইব্রেশান দেওয়া ছিলো।  ফোনটা বের করে দেখলো মুসায়েব করেছে। এতক্ষণ ওদের কথা মাথাতেই ছিলোনা তালহার। করিডোরের অন্যপাশে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করলো। একটু আড়ালে গিয়ে মুখে হাত দিয়ে বলল, মুসায়েব তোরা কোথায়?
আমরা ধরা পড়েছি। এই বাড়ির ভেতরেই একটা ঘরে আমাদের আঁটকে রেখেছে। তুই কোথায়?
আমি দোতলায় আছি। ঘরটা কোথায়?
নিচতলাতে, তবে তুই যেই ভবনে আছিস সেখানে না। ঐ ভবনের ঠিক পেছনে একটা একতলা গোডাউন মত আছে, ওখানে।
যায়িদ কোথায়?
আমার সাথেই আছে। চারিপাশে দেখছে বের হওয়ার উপায় পাওয়া যায় কিনা।
তোদের আশেপাশের ঘরগুলো দ্যাখ কোন ক্লু পাস কিনা। আমি দেখি কি করা যায়? কথাটা বলেই ফোনটা কেটে দিল। বন্ধুদের সাথে কথা বলে আবার আগের জায়গায় এসে লোকটাকে দেখার চেষ্টা করলো কিন্তু ব্যর্থ হলো। লোকটা ইতোমধ্যে ঐ জায়গা থেকে চলে গেছে। তালহা মাস্ক আর চোখে সানগ্লাস পড়ে নিচে নেমে গেলো।
নিচে নেমে কাছে ধারে কোথাও লিটন বা তার সাথে থাকা লোকগুলো টিকিটা দেখতে পেলোনা। বার কাউন্টারে বসা লোকটার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, এমন একটা জায়গায় এই বারটা কে বানিয়েছে?
স্যার সেটাতো আমি জানিনা। আমি এখানে চাকরি করি বেতন পাই, ব্যাস।
ছেলেটা ওর থেকে কম করে ছয় সাত বছরের বড় হবে। তবু তালহা একটু বড়দের মত ভাব নিয়ে বলল,
মালিক কখনও এখানে আসেনা? মানে আপনি কখনও মালিককে দেখোনি?
না আমি এখনও দেখিনি। ছয়মাসের চুক্তিতে এসেছি। শুধু এতোটুকু জানি এই বারে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কাউকে কাজে রাখা হয়না।
আপনার এখন চাকরির বয়স কত?
চার মাস চলে গেছে, আর মাত্র দুই মাস আছে চুক্তির। আমি এখান থেকে গেলে আমি আর এ মুখো হবোনা।
কেন চাকরিটা ভালো লাগেনি?
না স্যার। মায়ের অসুস্থতার সময় এক বন্ধু এখানে ঢুকিয়ে দিয়েছিলো। মা বেঁচে নেই তাই এখন আর কোন বাঁধা নেই। কিন্তু স্যার আপনাকেতো চিনলামনা।
তালহা নিজের পরিচয় দিয়ে বলল, আমার মনে হচ্ছে এখানে সমাজবিরোধী কাজকর্ম হয়। আমার আপনার সাহায্য দরকার। তার আগে বলেন এই ভবনটা ছাড়া ওদের কি আর কোন একতলা ভবন আছে কিনা?
স্যার আমি এই চার মাস এই কাউন্টারের বাইরে ভেতরে ঢোকারও কোন অনুমতি নেই। এর আগে একজনকে নিয়ম ভঙ্গের জন্য জীবন দিতে হয়েছে।
কেন সে কি করেছিলো?
যতটুকু শুনেছি ও নাকি ওদের ভেতরের কি খবর শুনে ফেলেছিলো। স্যার আপনি এখন এখান থেকে যান। কেউ দেখে ফেললে আমার জীবন নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে।
ঠিক আছে আপনি শুধু আমাকে বলেন বারে যারা এসেছে আপনার কাজতো তাদের নাম এন্ট্রি করা তাইনা? আমাকে আজকে এখন পর্যন্ত যতজন এখানে এসেছে তাদের একটা তালিকা ঝটপট বের করে দেনতো।
স্যার আমি আজকেরটা ছাড়া অন্য দিনেরগুলো দিতে পারবোনা। কারণ ওগুলো হাইড করে ফেলা হয়।
তালহা হতাশ হয়ে বলল, ঠিক আছে আজকেরটাই দিন না।
ছেলেটা তালিকার কাগজটা বের করে দেওয়ার সাথে সাথে তালহা সেটা নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে আসতে গেলো। ছেলেটা তালহাকে ডেকে থামালো। ওর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালে ও নিঃসংকোচে বলল, স্যার অরিন্দম লাহরী নামে এক ভদ্রলোকের আসার কথা। স্যার বলে গেছে আমি যেন তাকে ঠিকমত বসতে দেই।
তথ্যটার জন্য ছেলেটাকে ধন্যবাদ জানালো তালহা। তালহা ভাবল আপাতত যায়িদদের কাছে না গিয়ে  মেয়েগুলোকে উদ্ধার করার চেষ্টা করতে হবে। স্টেজের দিকে তাকিয়ে দেখলো একটা মহিলা মেয়েগুলোকে খোলামেলা পোশাক পরিয়ে নিয়ে এসে স্টেজের কাছে রেখে গেছে। এতো বেশি খোলামেলা পোশাক তালহার তাকাতে সংকোচ লাগলো। মেয়েগুলোর জন্য খারাপ লাগলো। আদৌ কি ওরা এ ধরণের পোশাক পরে অভ্যস্ত কিনা কে জানে? তবে ওদের চোখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তালহা মাথার ক্যাপটা টেনে দিয়ে কোণার একটা টেবিলে বসে ছিলো। গোয়েন্দা হওয়ার জন্য সেই সপ্তম শ্রেণি থেকে ও নানারকম কৌশল শিখে আসছে। পঞ্চম শ্রেণিতে থাকতেই কারাতের ব্লাক বেল্ট অর্জন করেছে। বাংলা ভাষার বাইরে উর্দু, হিন্দি এবং আরবী ভাষা রপ্ত করেছে। মুখে মাস্ক, পরনে হাঁটু অব্দি জুব্বা, চোখে কালো চশমা, মাথায় পাগড়ি পরার কারণে তালহাকে একেবারেই চেনা যাচ্ছেনা। ঢোকার দরজার কাছাকাছি একটা  টেবিলে বসে লোকটার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো তালহা। দরজা খুলে একজন লোককে ঢুকতে দেখলো। লোকটার বেশভূষা দেখে শিখ মনে হচ্ছে। কাউন্টারের ছেলেটার বর্ণনানুযায়ী মনে হলো এই লোকটাই অরিন্দম লাহরী হবে। লোকটার পেছনে আরও দুজন ঢুকলো। তালহা দ্রুত গিয়ে লোকগুলোর সামনে গিয়ে করমর্দনের হাত এগিয়ে দিয়ে বলল, আপনাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বসে আছি। আসুন আমার সাথে। ভবনটার পশ্চিমদিকে একটা লম্বা করিডোর আছে যেটা দিয়ে ভবনের পেছনের দিকে অনায়াসেই বের হয়ে যাওয়া যায়। মুসায়েবের সাথে কথা বলার সময় দোতলা থেকেই ব্যাপারটা খেয়াল করেছে তালহা। লোকটার সাথে কথা বলে তালহা ওদেরকে নিয়ে কাউন্টারের সামনে দিয়ে না গিয়ে পেছনের করিডোরের দিকে নিয়ে গেলো। কিছুদূর যাওয়ার পর তালহা কালক্ষেপণ না করে তিনজনের নাকে মুখে চেতনানাশক ছিটিয়ে দিলো। মুহূর্তে লোকগুলো ঢলে পড়লো। অচেতন লোকগুলোকে কোথায় রাখবে ভাবছে তালহা। হঠাৎ নিজের বন্ধু দুজনের কথা মনে পড়লো। এই ভবনের পেছনে কোন একটা ঘরে ওদের আঁটকে রেখেছে। তালহা একজন একজন করে তিনজনকেই করিডোরের সাথে লাগোয়া মাঠে নামিয়ে রাখলো। তারপরের কাজগুলো খুব দ্রুততার সাথে করলো। মাঠে নামতেই পাঁচিল ঘেঁষে একটা একতলা বাড়ি দৃষ্টিগোচর হয়। বাড়িটার কাছে গিয়ে দেখলো সেটা একটা বদ্ধ গোডাউনের মত।  তালহা টর্চ জালিয়ে দরজা খুঁজে বের করলো। মাল্টি নাইফ দিয়ে খুলে ফেললো। আলো জ্বেলে যায়িদ আর মুসায়েবকে খুঁজল। এক কোণায় ওদের দুজনকে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকাতে দেখলো। কাছে গিয়ে দেখলো দুজনেরই নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তালহা দ্রুত ওদেরকে বের করে নিয়ে আসলো। আর ঘণ্টা খানেক থাকলেই ওদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতো। চেতনা ফিরিয়ে আনার জন্য ওদের দুজনকে ঝাঁকাতে লাগলো। আশেপাশে পানির কোন হদিস মিললোনা যে ওদের নাকে মুখে ছিটিয়ে দিবে। তালহা এবার আতঙ্কিত হলো। অরিন্দম লাহিড়ীর ব্যাপারে খোঁজ করলে কাউন্টারের ছেলেটা কতক্ষণ ওদেরকে মিথ্যা কথা বলে আঁটকে রাখতে পারবে কে জানে? ছেলেটাকে দেখে ওতোটা বুদ্ধিদীপ্ত মনে হয়নি তালহার। তালহা ভেবেছিলো ওরা তিনজন এদের তিনজনকে গোডাউনের মধ্যে  রেখে নিজেরা ওদের পোশাক পরে তারপর ভেতরে যাবে। কিন্তু যায়িদ আর মুসায়েবের যা অবস্থা তাতে ওর পরিকল্পনা কাজে দিবেনা। তাছাড়া এই অবস্থায় ওদের দুজনকে রাখবেই বা কোথায়? এই অবস্থায় গেট দিয়ে বের হতে গেলে যদি ধরা পড়ে যায়? যদিও ওদের গেটে কোন দারোয়ান নেই। তালহা ড্রাইভারকে ফোন করে জানতে পারলো তার আসতে আধ ঘণ্টা লেগে যাবে। এখন আর সময় নষ্ট করা যাবেনা। নিজের আনা তালাটা গোডাউনের দরজায় লাগিয়ে দিলো। মুসায়েব আর যায়িদকে করিডোরে উঠিয়ে একটু আড়াল করে শুইয়ে রেখে ও ভেতরা চলে গেলো।
তালহা নিজের পাগড়ি এবং জুব্বাটা ব্যাগে রেখে অরিন্দম লাহরির ফতুয়া আর পাগড়িটা পরে নিলো।  কাউন্টারের বসা ছেলেটার কাছ থেকে জেনে নিলো ওরিন্দম লাহিড়ীকে খুঁজতে এসেছিলো কিনা। সাথে ছেলেটার নামও জেনে নিলো। ওর নাম জুয়েল। জুয়েলের মুখে অরিন্দম লাহিড়ীকে এখনও খুঁজতে আসেনি শুনে খুব স্বস্তিবোধ করলো তালহা। পরে মনে হলো এটা কোন ফাঁদ নয়তো। মাথা থেকে ভয় আর দুশ্চিন্তা কাটিয়ে জুয়েলকে বলল, আমি  যে এসেছি এটা ভেতরে জানিয়ে দাও।
ঠিক আছে বলে জুয়েল ফোনটা হাতে নিলো।
তালহা হলরুমটার ঠিক মাঝামাঝি একটা টেবিলে বসলো। লোকটা পাঞ্জাবী ভাষায় কথা বলে। উর্দু হিন্দি পারলেও পাঞ্জাবী ভাষা ও ভাসা ভাসা পারে। আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। হিন্দি পাঞ্জাবী মিলে কথা বলবে দেখা যাক কি হয়?
কিছুক্ষণ পর একজন প্রায় ছয় ফুট লম্ব লোক এসে তালহার সামনে দাঁড়িয়ে হাতটা বাড়িয়ে বলল, আপনি নিশ্চয় মিষ্টার লাহিড়ী?
তালহা নিজের হাতটা বাড়িয়ে পাঞ্জাবী হিন্দি মিলিয়ে বললো জি আমিই লাহিড়ী। লোকটার কন্ঠটা ভীষণ চেনা লাগছে তালহার। কিন্তু মনে করতে পারছেনা। সামনে দাঁড়ানো লোকটাকে তার একজন চেনা মানুষের মতো মনে হলো আবার কন্ঠ অন্য একজনের সাথে মিলে যাচ্ছে। গোলক ধাঁধায় পড়ে  গেলো তালহা। লোকটার অবস্থা ওর মতোই। তালহার একটা দারুণ গুন আছে তা হলো নিজের কন্ঠ বদলে কিছুটা হলেও অন্য কণ্ঠে কথা বলতে পারে। তালহা ওর কণ্ঠ পরিবর্তন করে বললো, এই নিন আপনার চুক্তিপত্র। অরিন্দম লাহিড়ীর ব্যাগটা ও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলো। সেখান থেকে অনেক তথ্য জানতে পারে তালহা । সমস্ত লেনদেন শেষে ওরা মেয়ে তিনজনকে তালহার হাতে হস্তান্তর করে দিলো।
কাঁচুমাচু করে দাড়িয়ে আছে মেয়েগুলো। ড্রাইভারকে গাড়ি নিয়ে আসতে বলেছে তালহা। বারটা লাইসেন্স করা তাই এখন পুলিশ ডেকে খুব একটা সুবিধা করা যাবেনা। কাজ শেষ এখন লোকগুলো সব মদে মত্ত হয়ে কুকাজে লিপ্ত হবে। তাই এদিকে কারোর আসার সম্ভাবনা নেই। তালহা মেয়েগুলোকে ড্রাইভার চাচার সাথে গাড়িতে পাঠিয়ে মাঠে চলে গেলো। মুসায়েব আর যায়িদের  এখনও চেতনা ফেরেনি দেখে খুব অবাক হলো। ভেতর থেকে আনা পানিভর্তি বোতলটা থেকে পানিয়ে ওদের চোখে মুখে ছিটিয়ে দিলো। কয়েকবার পানি ছিটানোর পর দুজনই নড়েচড়ে উঠলো। মুসায়েব উঠতে গিয়ে হড়হড় করে বমি করে দিলো। বদ্ধ ঘরে আঁটকে থাকার কারণে যে অক্সিজেনের স্বল্পতা  অনুভূত হয়েছে এতক্ষণ তার কারণেই ওদের এমন দুরবস্থা। ওদেরকে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে ড্রাইভারকে বাসায় নিয়ে যেতে বলল তালহা। পোড়োবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওর ছোট মামাকে ফোন করে ওখানে থেকে মেয়েটাকে উদ্ধার করতে বলেছিলো। আগামীকাল মেয়েটাকে নিয়ে একটা হোটেলে যাওয়ার কথা সে কারণ ওকে আজ পোড়োবাড়িতে আঁটকে রাখা হয়েছিলো। তালহা একবার ভেবেছিলো আজকে মেয়েটাকে উদ্ধার করলে আগামীকাল ওদের করা পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে। তাতে করে ওর অপরাধী সনাক্ত করতে পারবেনা। কিন্তু পরে মনে হয়েছে মেয়েটাকে ওখানে একা রাখলে ও  ভয় পেতে পারে। আবার দুষ্টচক্রের কারো দ্বারা শারীরিকভাবে অ্যাবিউজ হতে পারে। এর মধ্যে এক ফাঁকে ওমর ফারুককে ফোন করে মেয়েটার খবর জেনে নিয়েছে ও। ওর বাবাকে সঙ্গে করেই ওমর ফারুক ওকে  উদ্ধার করেছে। কিন্তু প্রচণ্ড ভয়ের কারণে মেয়েটা এখনও অস্বাভাবিক আচরণ করছে।
এরকম প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরণের একটা বার থাকাটা তালহার কাছে খুব আশ্চর্যের মনে হলো। ঝিনেদা শৈলকূপার এই জায়গাগুলোতে চোরাচালানকারী, নারী ও মাদক পাচারকারীর উপদ্রপ খুব বেশি। তাছাড়া ভারত সীমান্তের কাছে হওয়ার কারণে বর্ডার পার হয়ে অনায়াসেই এসব রাষ্ট্রবিরোরোধী কাজ করা যায়। তালহার ধারণা শান্ত কূটির এমন কোন দুষ্ট চক্রের খপ্পরে পড়েছে। এসব কাজের জন্য বাড়িটা একেবারে উপযুক্ত জায়গা। নানারকম ভাবনার মধ্যে হঠাৎ মনে পড়লো অরিন্দম লাহিড়ীকে তার দুই সাগরেদসহ পেছনের ঘরটাতে আঁটকে রেখেছে। চেতনানাশকের রেশ কেটে গেলে ওরা তাণ্ডব শুরু করতে পারে ভেবে গোডাউনে গিয়ে ওদের মুখে টেপ আর হাত পা দড়ি দিয়ে বেঁধে আবারও দরজায় তালা আঁটকে দিলো তালহা। কাজটা শেষ করে তালহা  আবার বারের ভিতর প্রবেশ করলো। রাত বাড়ার সাথে সাথে বারের উন্মাদনা যেন বেড়েই চলছে। মেয়েগুলো সব সতেরো থেকে উনিশ বা বিশের মধ্যেই হবে। এরা সবাই এখানকার বারবণিতা বনে গেছে। এদেরকে  এখানে কিছুদিন রেখে বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়, কাউকে কাউকে দেশীয় ব্যবসায়ীদের মনোরঞ্জনের জন্য বিভিন্ন জমকালো পার্টিতে পাঠানো হয়। একটা প্রবীণ ওয়েটারের কাছ থেকে কৌশলে এসব কথা জেনে নিলো তালহা। এখানে কারোর চেহারা বোঝার উপায় নেই। সবার মুখ  নানারকম মুখোশে ঢাকা। এতক্ষণ স্টেজের জায়গাটায় আলো আধারির খেলা চললেও এখন সম্পূর্ণ হল ঘরটাতেই আলো আধারির খেলায় ডুবে গেলো। তালহা জুয়েলের কাছ থেকে একটা মুখোশ নিয়ে পরে নিলো। অরিন্দম লাহিড়ীর ফতুয়া খুলে শার্ট পরে মোটামোটি নিজেকে বারের উপযোগী করে তুললো। মুখোশের কারণে দাড়িগুলো ঢেকে যাওয়ায় আর কোন সন্দেহের অবকাশ থাকলোনা। কিছুক্ষণ পরে এক অষ্টাদশী নারী একটা ট্রেতে করে একটা ওয়াইনের বোতল আর কিছু বাদাম নিয়ে এসে বলল,
মে আই সিট উইথ ইউ?
এমন খোলামেলা পোশাকের একটা অষ্টাদশী নারীর সাথে বসে ওয়াইন পান করার কথা ভাবনাতেই আনতে পারেনা তালহা। কিন্তু তার গোয়েন্দা কাজের জন্য হলেও এই মেয়েটার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলা দরকার মনে হলো তার। তবে আলো আধারির কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে কমই পড়তে হচ্ছে।
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/147235/</link>
				<pubDate>Wed, 14 Sep 2022 17:06:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_বিশ<br />
তালহার কথা মত গাড়ি থেকে মেয়েগুলোকে নামিয়ে ভেতরে নেওয়ার পর মুসায়েব আর যায়িদও চুপিচুপি ভেতরে ঢুকতে গিয়েছিলো। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলোনা। ওদের লোকের হাতে ধরা পড়ে গেলো। ওদেরকে ধরে নিয়ে এসে একটা অন্ধকার ঘরের মধ্যে আঁটকে রেখে গেছে। ঘরটার মধ্যে জানালাতো দূরের কথা বাতাস ঢোকার জন্য কোন সামান্য ঘুলঘুলিও নেই যে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-147235"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/147235/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">135b861545fa57e7dc83c85d2153e948</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য

পর্ব_উনিশ 
তিনজন লোক তিনটা মেয়েকে নিয়ে শান্ত কুটির থেকে বের হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে কি যেন আলাপ করছিলো। লোকগুলোকে দেখে চিনতে না পারলেও মেয়ে তিনজনকে তালহা ঠিকই চিনতে পেরেছে। গত পরশু যে চারটা মেয়ে অপহৃত হয়েছিলো তাদের মধ্যকার তিনজন এরা। তাহলে গতকাল যে বলেছিলো তিনজনকে নিষিদ্ধ পল্লিতে আর একজনকে বিদেশী ডেলিগেটসদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে; এই চারজনকে নিয়েই কথা বলছিলো? তিনজন লোকের মধ্যে একজনের পেছন পাশ দেখা যাচ্ছে। পেছন পাশ দেখা গেলেও তালহার মনে হলো লোকটাকে সে চিনে। হ্যা মনে পড়েছে। এইতো সেই লিটন নামের লোকটা। তারমানে ও ভুল পথে এগোয়নি। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া লোকগুলোর সাথে পোড়োবাড়ির যে গভীর সংযোগ আছে বলে ওর মনে হয়েছিলো তা অমূলক না। বাকি দুজনকে স্পষ্ট দেখা না গেলেও ওদেরকে যে কখনও দেখেনি তা ঠিক বুঝতে পারছে। লোকগুলো কি নিয়ে কথা বলছে তা শোনার চেষ্টা করেও শুনতে পারছেনা তালহা। ওদিকে যায়িদের কি খবর কে জানে? মুসায়েব নিশ্চয় ওর কাছে খবর পাঠিয়েছে। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে একটা লোক দৌড়ে এসে বললো, স্যার ছেলেটাকেতো কোথাও খুঁজে পেলামনা। মনে হয় পালিয়েছে।
আমার মনে হয়না পালাবে। এবং ও একা আসেনি, দল বেঁধেই এসেছে। ওদেরকে খুঁজে বের করতে না পারলে আমাদের কাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। গতবার পেয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু এবার পেলে আর ছাড়াছাড়ি নেই। ভালো করে খুঁজে দ্যাখ। 
কিন্তু আমি একা কীভাবে খুঁজে বের করবো?
তুমি এদিকটায় দেখতে থাকো আমি ড্রাইভারটাকেও পাঠাচ্ছি। 
আমরা কি কোন সাহায্য করতে পারি। সাথের লোক দুজন বলে উঠলো। 
এক কাজ করা যায় মেয়েগুলোকে মাইক্রোতে লক করে রেখে আমরা সবাই মিলে খুঁজি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে না খুঁজলে বিচ্ছুগুলোকে পাওয়া যাবেনা।
কিন্তু স্যার মেয়েগুলোকে গাড়িতে রেখে এসে আমরা সবাই এদিকে চলে আসলে ওরা যদি মেয়েগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়?
না, তা করবেনা। কারণ ওদের উদ্দেশ্য আমাদের ঘাঁটি আবিষ্কার করা। শুধু মেয়েগুলোকে নিয়ে চলে গেলে ওদের পক্ষে সেটা সম্ভব হবেনা। তোমরা ছড়িয়ে পড়। 
দুইজন লোক ভেতরে থেকে খোঁজা শুরু করলো আর লিটন আর বাকি লোকটা মেয়েগুলোকে নিয়ে বাইরের দিকে ওদের গাড়ি যেখানে আছে সেখানে চলে গেলো। তালহা ঠিক ওদের কয়েক কদম পেছনে আছে। ঘুরে ভেতরের দিকে আসলেই ওকে দেখে ফেলবে, কথাটা ভেবে ও তৎপর হয়ে উঠলো। কোন নড়াচড়া না করে কথাগুলো যায়িদ আর মুসায়েবকে মেসেজ করে দিলো। লোক দুজন তার টর্চটা জালিয়ে নিলো। তালহা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার থেকে কয়েক কদম ডানে গেলেই সীমানা পাঁচিল। পাঁচিল ঘেঁষে লাগানো আছে নানারকম গাছপালা। নারিকেল, সুপারি, আর তাল গাছের   মত উঁচু গাছের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন ধরণের ফল আর জংলী ফুলের গাছ। তালহা সন্তপর্নে একটা লতানো গাছে আড়ালে চলে গেলো। একটা আলোক রশ্মি এদিকে আসতে দেখে তালহা বুঝলো লোকটা এদিকেই আসছে। অল্প আলোতে যতটুকু দেখেছে তাতে তালহার মনে হয়েছে লোকটা একটু ভিতু গোছের। খুঁজতে হবে শুনে যে প্রতিক্রিয়া দেখালো তখন তাতে ওর ধারণ আরও স্পষ্ট হয়েছে। আলোক রশ্মিটা ধীরে ধীরে কাছে আসতে থাকলো। তালহার মনে হলো এবার বুঝি ধরা পড়ে যাবে। ওর সাথের লোকটা খুঁজতে খুঁজতে একদম ভেতরে চলে গেছে। ওর দিকে আসা লোকটা এখন ওর  থেকে মাত্র দুই কদম দূরে দাঁড়িয়ে আছে। মাথা ঘুরিয়ে পেছনে তাকালেই ওকে দেখতে পাবে। তালহা যে লতানো গাছটার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলো তা দিয়ে ওর শরীর ঢাকলেও পা দুইটা ঠিক বের হয়ে ছিল। নিজেকে আর একটু আড়াল করে মুখ দিয়ে একটা বিদঘুটে আওয়াজ করলো। দুইবার আওয়াজ করার পর লোকটা দিশেহারার মত চারিদিকে তাকাতে থাকলো। তালহা আবারও শব্দট করলো। লোকটা তালহার দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। সেই অবস্থাতেই সামনের দিকে তাকিয়ে ভীত পদক্ষেপে এক পা এক পা করে পেছনের দিকে হাঁটা শুরু করলো। অবশেষে তালহার সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে গেলো। তালহা সেটাই চাচ্ছিলো। ক্লোরোফর্মের মিশ্রণটা বের করে ওর নাকে মুখে স্প্রে করে দিলো। লোকটা অজ্ঞান হয়ে গেলে টেনে আড়ালে শুইয়ে দুইটা নারিকেল পাতা দিয়ে ঢেকে দিলো তালহা। কাজটা করে আবার আগের জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। যে লোকটা ভেতরের দিকে চলে গিয়েছিলো সে এতক্ষণে ফিরে আসছে। মজিদ, মজিদ বলে ডাকতে এগিয়ে আসছে। যে লোকটাকে অজ্ঞান করা হয়েছে সেই যে মজিদ বুঝতে পারলো তালহা। একটা শিস বাজিয়ে আড়ালে চলে গেলো ও। এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজতে লাগলো লোকটা আর বলতে লাগলো মজিদ তুমি কি আমার সাথে মশকরা করছো?  
তালহা ওর রেকর্ডারে করে কিছু উদ্ভট শব্দ রেকর্ড করে নিয়ে এসেছিলো। ওগুলো ছেড়ে দিলো। এতক্ষণ লোকটা বেশ সাহস দেখালেও এখন পড়িমরি করে বাইরের দিকে দৌড় দিলো। তালহা আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে আড়াল থেকে বের হয়ে আসলো। চারপাশ সতর্ক চোখে দেখে নিয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকে। তবে এখন কেউ এসে পড়লে ধরা নির্ঘাত পড়ে যাবে তালহা। কারণ  এখান থেকে লুকিয়ে যাওয়ার কোন জায়গা নেই। খুব সহজেই জায়গাটা পার হয়ে শান্ত নীর থেকে বের হয়ে দেবদারু গাছের মধ্যে ঢুকে পড়ে তাহলা। মুসায়েবকে ম্যাসেজ করতে গিয়ে খেয়াল করলো তার ফোনে ১৫ টা মিস কল। সবগুলোই যায়িদ আর মুসায়েবের করা। একটা মেসেজ দেখে খুলে পড়লো। ‘ আমরা বড় রাস্তার মাথায় গাড়ি নিয়ে তোর জন্য অপেক্ষা করছি।’
মেসেজটা পড়ে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো তালহা। যাক তার বন্ধুরা নিরাপদে আছে। তালহা দেবদারু গাছ ঘেরা ঝোপের মধ্যে দিয়ে এগোতে লাগলো। কিছুদূর গিয়ে রাস্তার উপর মাইক্রোটা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো। ওদের মধ্যকার কথা শুনে দাড়িয়ে পড়লো। রিশাদ সাহেব মজিদ কোথায়? 
কেন ও এদিকে আসেনি? আমিতো ভেতরে সুইমিং পুলের আশপাশ দিয়ে বাড়িটার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত খুঁজেও যখন কাউকে পেলামনা তখন আমি চিৎকার করে মজিদ মজিদ বলে ডাকতে থাকি কিন্তু কিন্তু কোন সাড়া পেলামনা। হঠাৎ কেমন সব শব্দ শুনতে পেলাম। মনে হলো এজন্যই এ বাড়িতে কেউ আসতে চায়না। আমার পক্ষে আর ঐখানে দাঁড়ানো সম্ভব হলোনা। তাই ছুটে বাইরে চলে এসেছি। আমি ধারণা করেছিলাম মজিদ আমার আগেই ওখান থেকে পালিয়াছে। কিন্তু এখন দেখছি আমার ধারণা ভুল। ওকে বোধহয় জীনে ধরেছে।
চুপ করুন! আর একটাও বাজে কথা বলবেননা। এই রকম চড়ুই পাখির প্রাণ নিয়ে এসব সমাজবিরোধী কাজ করেন কীভাবে। অবশ্য আপনিতো আর হোতা না, সামান্য একজন কর্মচারি। এখানে ড্রাইভারটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। তার মানে বিচ্ছুগুলো আশেপাশেই আছে। ওরা ছাড়া ে কাজ আর কে করবে? এদিকে সব জায়গা খোঁজা শেষ । এখানেও নেই ভেতরেও নেই, তাহলে গেলো কোথায়? আচ্ছা এই ঝোপের মধ্যেতো খোঁজা হলোনা! 
কথাটা শুনে তালহা তটস্থ হয়ে কেউ আসলে কি করবে তা প্লান করে ফেললো। ওরা মানুষ মাত্র তিনজন। লিটন নামক লোকটা রিশাদকে দেবদারু গাছের ভিতর ঢুকে তল্লাশি চালাতে বললো। কিন্তু লোকটা ভয়ে এদিকে এগোচ্ছেনা। অন্য লোকটাকে উদ্দেশ্য করে বলল, হুমায়ুন শাহ্‌ আপনি যান।
দেখুন লিটন এসব আপনাদের ব্যাপার স্যাপার, আপনারাই দেখেন। আমদের সাথে আপনাদের সম্পর্ক  শুধু লেনদেন। সেটা শেষ হয়ে গেছে। আমরা অন্যের কাজ করি। এখন আমাদের ড্রাইভারটার জ্ঞান ফিরলে আমরা চলে যাবো। এসব উটকো ঝামেলার মধ্যে যেতে চাইনা। কথা বলেই লোকটা গাড়িতে উঠে বসলো। 
লিটন সাহেব বেকায়দায় পড়ে গেলেন প্রথমে সাহস দেখালেও পরে বললেন আমিও আপনাদের মত অন্যের কাজ করে খাই। আজ পর্যন্ত স্যারের টিকিটাও দেখিনি। তবে আপনাদের সাথে আমাদেরকেও যেতে হবে। ডিলিংস এর সম্পূর্ণ টাকাটাতো এখনও হাতে পাইনি।  
এসব কাজে এমনই হয়। উপরের লোকদের নাগাল সহজেই পাওয়া যায়না। আচ্ছা আপনারা ছাড়া অন্য একজনের সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে সে কে? উনিই কি আপনাদের বস।
আরে না না। উনিও আমাদের মত একজন, তবে উপরের পদে আছেন। এখন এই ছেলেটাকে আমি  কোথায় খুজবো? কথাটা বলতে দেরি কিন্তু মজিদের আসতে দেরি হলোনা। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে স্যার এই ভূতুড়ে বাড়িতে আমি আর আসতে চাইনা। 
লিটন একটা ধমক দিয়ে বলল, চুপ কর গর্ধব। ঐ বিচ্ছু ছেলেগুলো এখানে আছে। ওদেরকে খুঁজতে হবে। 
না বাবা আমি এই বাড়ির ভেতরে ঢুকতে পারবেনা। আর তাছাড়া আমার মনে হয়না ওখানে কেউ আছে। থাকলেও ওদের বুদ্ধি আমাদের থেকে ঢের বেশি। এতক্ষণে চলেও গেছে।
ওদের কথা বলায় ব্যস্ত দেখে তালহা ধীরে ধীরে পা চালিয়ে বড় রাস্তায় উঠে গেলো। একটু সামনে এগিয়েই গাড়িটা দেখতে পেল। কালক্ষেপণ না করে গাড়িতে উঠে পড়লো তালহা। দশ মিনিট পর লিটনদের মাইক্রোটা আসতে দেখা গেলো। তালহাদের ড্রাইভারকে দশ -মিনিট অপেক্ষা করে তবেই মাইক্রোটাকে অনুসরণ করতে বললো তালহা। 
তালহাদের গাড়ি থেমে থেমে মাইক্রোটাকে অনুসরণ করতে লাগলো। আধগণ্টা পর একটা বিলাসবহুল  বাড়ির সামনে গাড়িটা থামলো। তালহা একটু অবাকই হলো। ও ভেবেছিলো গাড়িটা সরাসরি কোন নিষিদ্ধ পল্লীতে যাবে কিন্তু এখানে থামলো কেন বুঝতে পারছেনা। ভেতরে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। ওদেরকে ধোকা দিচ্ছেনাতো?  বাড়িটা বেশ বড় জায়গা জুড়ে বানানো হয়েছে। তবে এমন জায়গায় এরকম একটা বাড়ি দেখে অবাক না হয়ে পারলোনা ওরা। শহর থেকে বেশ দূরে জায়গাটা। বাড়ির চারপাশে অনেক গাছপালা থাকলেও কেমন জঙ্গলের মত হয়ে আছে। গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে গাড়িটা আড়ালে নিয়ে যেতে বললো। খুব সাবধানে গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে জংলা গাছগুলোর মধ্যে লুকিয়ে পড়লো। লিটনদের গাড়িটা গেট দিয়ে ঢুকে একদম ভেতরে চলে গেলো। একে একে সবাই  গাড়ি থেকে নেমে পড়লো। লিটন সাহেবকেও দেখতে পেলো। গাড়ি থেকে নেমে ওরা গটগট করে ভেতরে চলে গেলো। 
কি ব্যাপারে মেয়েগুলোকে দেখছিনা যে? উৎকণ্ঠার সাথে কথাটা বলল যায়িদ। 
আমার মনে হয় ওরা আমাদের ধোকা দিয়েছে। মাঝখানে কোথাও ওদেরকে রেখে আসেনিতো? সর্বনাশ! এখন কি হবে? তোকে বলেছিলাম আমরা আগেই মেয়েগুলোকে উদ্ধার করি। কিন্তু তুই শুনলিনা। এখন দেখলিতো ওরা কতটা ধুরন্ধর! ওদের সাথে পারা এতোটা সহজ! কি জানি...............
এই থামতো। সেই কখন থেকে বকে যাচ্ছিস। মুসায়েব আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলো কিন্তু তালহার ধমকে চুপ হয়ে গেলো। 
কিছুক্ষণ চুপ থেকে তালহা আবার বললো, মেয়েগুলো গাড়িতেই আছে। এতক্ষণ না, ওরা এখুনি আমাদের ধোকা দিতে চাচ্ছে। তোরা এখানে থাক আমি ভেতরে যাব। কথাটা বলেই উঠে দাঁড়ালো তালহা। খুব দ্রত গাড়িটার কাছে চলে ও। ওর কথাই ঠিক মেয়েগুলো গাড়ির মধ্যেই আছে তবে অচেতন। গাড়ির দরজা বন্ধ। তালহা কয়েকটা টোকা দিলো। না তিনটাই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তালহা ভেতরে ঢুকে গেলো। দরজায় কোন দারোয়ান নেই, তবে একটা ক্যাশ কাউন্টারে দাঁড়িয়ে একটা নাম এন্ট্রি করছে। তালহা মাস্ক পড়ে নিলো। বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিলোনা কিন্তু ভেতরে ঢুকে তালহার চোখ চড়কগাছ। এটা দেখি একটা অত্যাধুনিক বার। শব্দ-নিরোধক কাঁচের  কারণে এতক্ষণ দরজা ভেদ করে শব্দ বাইরে শোনা যায়নি। সম্পূর্ণ বাড়িটা তিন তলা। এক তলার  এক পাশটায় যে নাচের স্টেজটা রাখা আছে তার সবটা জুড়ে নানারকমের স্বল্প-বসনা নারীদের দেখা যাচ্ছে। তাদের সাথে প্রমত্ত লিলায় মেতে আছে বড় লোকের বখে যাওয়া ছেলেগুওলো। নাচের স্টেজের প্রায় সবগুলোই ছেলের বয়স যে ১৯ থেকে ২১ এর বেশি হবেনা তা হলফ করে দিতে পারে তালহা। সম্পূর্ণ পরিস্থিতিটা বন্ধুদের মেসেজ করে জানিয়ে দিলো। সাথে বলল, ‘মেয়েগুলো এখনও গাড়িতেই আছে। ওদের ভেতরে না আনা পর্যন্ত তোরা সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে গাড়িটা খেয়াল রাখবি।  মেয়েগুলোকে ভেতরে নিয়ে আসলে তোরাও ভেতরে চলে আসবি।’ মেসেজটা পাঠিয়ে দোতলায় উঠে গেলো তালহা। বাড়িটা গোল করে বানানো। দোতলাটার ঘুরানো বারান্দার রেলিঙ এ ঝুঁকে দাঁড়ালে মাঝখানের গোল ফাঁকা অংশটা দিয়ে নিচটা ভালোভাবেই দেখা যায়। উপরে মোট আটটা ঘর।  তিনতলাটাও নিশ্চয় একইভাবে বানানো। রাতের আধারের সাথে এখানে প্রতিটা ঘরেই আধার নেমে আসবে। নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষগুলো মেতে উঠবে আদিম খেলায়। দোতলার সব ঘর তালাবদ্ধ। রেলিঙ এর উপর ভর দিয়ে বারের সদর দরজার দিকে তাকিয়ে থাকলো তালহা। কিছুক্ষণ পর মেয়ে তিনটাকে সঙ্গে করে লোক চারটা বারের মধ্যে প্রবেশ করলো। ওরা ঢোকার পর বন্ধুদের ঢুকতে  বলেছে তালহা। কিন্তু অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও যখন বন্ধুদের দেখতো পেলোনা, তখন অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠলো ওর। দ্রুত মেসেজ করলো ওদের। দশ মিনিট কেটে যাওয়ার পরও যখন  মেসেজের উত্তর পেলোনা তখন নানা ভাবনায় পেয়ে বসলো। একট ভরাট কন্ঠ শুনে কন্ঠের চমকে ভাবনা থেকে বাস্তবে ফিরে আসলো তালহা।  
চলবে 
 #পোড়োবাড়ির_রহস্য
 #মাহামুদা_খাতুন
 #পর্ব_উনিশ 
তিনজন লোক তিনটা মেয়েকে নিয়ে শান্ত কুটির থেকে বের হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে কি যেন আলাপ করছিলো। লোকগুলোকে দেখে চিনতে না পারলেও মেয়ে তিনজনকে তালহা ঠিকই চিনতে পেরেছে। গত পরশু যে চারটা মেয়ে অপহৃত হয়েছিলো তাদের মধ্যকার তিনজন এরা। তাহলে গতকাল যে বলেছিলো তিনজনকে নিষিদ্ধ পল্লিতে আর একজনকে বিদেশী ডেলিগেটসদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে; এই চারজনকে নিয়েই কথা বলছিলো? তিনজন লোকের মধ্যে একজনের পেছন পাশ দেখা যাচ্ছে। পেছন পাশ দেখা গেলেও তালহার মনে হলো লোকটাকে সে চিনে। হ্যা মনে পড়েছে। এইতো সেই লিটন নামের লোকটা। তারমানে ও ভুল পথে এগোয়নি। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া লোকগুলোর সাথে পোড়োবাড়ির যে গভীর সংযোগ আছে বলে ওর মনে হয়েছিলো তা অমূলক না। বাকি দুজনকে স্পষ্ট দেখা না গেলেও ওদেরকে যে কখনও দেখেনি তা ঠিক বুঝতে পারছে। লোকগুলো কি নিয়ে কথা বলছে তা শোনার চেষ্টা করেও শুনতে পারছেনা তালহা। ওদিকে যায়িদের কি খবর কে জানে? মুসায়েব নিশ্চয় ওর কাছে খবর পাঠিয়েছে। কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে একটা লোক দৌড়ে এসে বললো, স্যার ছেলেটাকেতো কোথাও খুঁজে পেলামনা। মনে হয় পালিয়েছে।
আমার মনে হয়না পালাবে। এবং ও একা আসেনি, দল বেঁধেই এসেছে। ওদেরকে খুঁজে বের করতে না পারলে আমাদের কাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। গতবার পেয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু এবার পেলে আর ছাড়াছাড়ি নেই। ভালো করে খুঁজে দ্যাখ। 
কিন্তু আমি একা কীভাবে খুঁজে বের করবো?
তুমি এদিকটায় দেখতে থাকো আমি ড্রাইভারটাকেও পাঠাচ্ছি। 
আমরা কি কোন সাহায্য করতে পারি। সাথের লোক দুজন বলে উঠলো। 
এক কাজ করা যায় মেয়েগুলোকে মাইক্রোতে লক করে রেখে আমরা সবাই মিলে খুঁজি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে না খুঁজলে বিচ্ছুগুলোকে পাওয়া যাবেনা।
কিন্তু স্যার মেয়েগুলোকে গাড়িতে রেখে এসে আমরা সবাই এদিকে চলে আসলে ওরা যদি মেয়েগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়?
না, তা করবেনা। কারণ ওদের উদ্দেশ্য আমাদের ঘাঁটি আবিষ্কার করা। শুধু মেয়েগুলোকে নিয়ে চলে গেলে ওদের পক্ষে সেটা সম্ভব হবেনা। তোমরা ছড়িয়ে পড়। 
দুইজন লোক ভেতরে থেকে খোঁজা শুরু করলো আর লিটন আর বাকি লোকটা মেয়েগুলোকে নিয়ে বাইরের দিকে ওদের গাড়ি যেখানে আছে সেখানে চলে গেলো। তালহা ঠিক ওদের কয়েক কদম পেছনে আছে। ঘুরে ভেতরের দিকে আসলেই ওকে দেখে ফেলবে, কথাটা ভেবে ও তৎপর হয়ে উঠলো। কোন নড়াচড়া না করে কথাগুলো যায়িদ আর মুসায়েবকে মেসেজ করে দিলো। লোক দুজন তার টর্চটা জালিয়ে নিলো। তালহা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার থেকে কয়েক কদম ডানে গেলেই সীমানা পাঁচিল। পাঁচিল ঘেঁষে লাগানো আছে নানারকম গাছপালা। নারিকেল, সুপারি, আর তাল গাছের   মত উঁচু গাছের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন ধরণের ফল আর জংলী ফুলের গাছ। তালহা সন্তপর্নে একটা লতানো গাছে আড়ালে চলে গেলো। একটা আলোক রশ্মি এদিকে আসতে দেখে তালহা বুঝলো লোকটা এদিকেই আসছে। অল্প আলোতে যতটুকু দেখেছে তাতে তালহার মনে হয়েছে লোকটা একটু ভিতু গোছের। খুঁজতে হবে শুনে যে প্রতিক্রিয়া দেখালো তখন তাতে ওর ধারণ আরও স্পষ্ট হয়েছে। আলোক রশ্মিটা ধীরে ধীরে কাছে আসতে থাকলো। তালহার মনে হলো এবার বুঝি ধরা পড়ে যাবে। ওর সাথের লোকটা খুঁজতে খুঁজতে একদম ভেতরে চলে গেছে। ওর দিকে আসা লোকটা এখন ওর  থেকে মাত্র দুই কদম দূরে দাঁড়িয়ে আছে। মাথা ঘুরিয়ে পেছনে তাকালেই ওকে দেখতে পাবে। তালহা যে লতানো গাছটার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলো তা দিয়ে ওর শরীর ঢাকলেও পা দুইটা ঠিক বের হয়ে ছিল। নিজেকে আর একটু আড়াল করে মুখ দিয়ে একটা বিদঘুটে আওয়াজ করলো। দুইবার আওয়াজ করার পর লোকটা দিশেহারার মত চারিদিকে তাকাতে থাকলো। তালহা আবারও শব্দট করলো। লোকটা তালহার দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। সেই অবস্থাতেই সামনের দিকে তাকিয়ে ভীত পদক্ষেপে এক পা এক পা করে পেছনের দিকে হাঁটা শুরু করলো। অবশেষে তালহার সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে গেলো। তালহা সেটাই চাচ্ছিলো। ক্লোরোফর্মের মিশ্রণটা বের করে ওর নাকে মুখে স্প্রে করে দিলো। লোকটা অজ্ঞান হয়ে গেলে টেনে আড়ালে শুইয়ে দুইটা নারিকেল পাতা দিয়ে ঢেকে দিলো তালহা। কাজটা করে আবার আগের জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। যে লোকটা ভেতরের দিকে চলে গিয়েছিলো সে এতক্ষণে ফিরে আসছে। মজিদ, মজিদ বলে ডাকতে এগিয়ে আসছে। যে লোকটাকে অজ্ঞান করা হয়েছে সেই যে মজিদ বুঝতে পারলো তালহা। একটা শিস বাজিয়ে আড়ালে চলে গেলো ও। এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজতে লাগলো লোকটা আর বলতে লাগলো মজিদ তুমি কি আমার সাথে মশকরা করছো?  
তালহা ওর রেকর্ডারে করে কিছু উদ্ভট শব্দ রেকর্ড করে নিয়ে এসেছিলো। ওগুলো ছেড়ে দিলো। এতক্ষণ লোকটা বেশ সাহস দেখালেও এখন পড়িমরি করে বাইরের দিকে দৌড় দিলো। তালহা আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে আড়াল থেকে বের হয়ে আসলো। চারপাশ সতর্ক চোখে দেখে নিয়ে সামনের দিকে এগোতে থাকে। তবে এখন কেউ এসে পড়লে ধরা নির্ঘাত পড়ে যাবে তালহা। কারণ  এখান থেকে লুকিয়ে যাওয়ার কোন জায়গা নেই। খুব সহজেই জায়গাটা পার হয়ে শান্ত নীর থেকে বের হয়ে দেবদারু গাছের মধ্যে ঢুকে পড়ে তাহলা। মুসায়েবকে ম্যাসেজ করতে গিয়ে খেয়াল করলো তার ফোনে ১৫ টা মিস কল। সবগুলোই যায়িদ আর মুসায়েবের করা। একটা মেসেজ দেখে খুলে পড়লো। ‘ আমরা বড় রাস্তার মাথায় গাড়ি নিয়ে তোর জন্য অপেক্ষা করছি।’
মেসেজটা পড়ে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো তালহা। যাক তার বন্ধুরা নিরাপদে আছে। তালহা দেবদারু গাছ ঘেরা ঝোপের মধ্যে দিয়ে এগোতে লাগলো। কিছুদূর গিয়ে রাস্তার উপর মাইক্রোটা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো। ওদের মধ্যকার কথা শুনে দাড়িয়ে পড়লো। রিশাদ সাহেব মজিদ কোথায়? 
কেন ও এদিকে আসেনি? আমিতো ভেতরে সুইমিং পুলের আশপাশ দিয়ে বাড়িটার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত খুঁজেও যখন কাউকে পেলামনা তখন আমি চিৎকার করে মজিদ মজিদ বলে ডাকতে থাকি কিন্তু কিন্তু কোন সাড়া পেলামনা। হঠাৎ কেমন সব শব্দ শুনতে পেলাম। মনে হলো এজন্যই এ বাড়িতে কেউ আসতে চায়না। আমার পক্ষে আর ঐখানে দাঁড়ানো সম্ভব হলোনা। তাই ছুটে বাইরে চলে এসেছি। আমি ধারণা করেছিলাম মজিদ আমার আগেই ওখান থেকে পালিয়াছে। কিন্তু এখন দেখছি আমার ধারণা ভুল। ওকে বোধহয় জীনে ধরেছে।
চুপ করুন! আর একটাও বাজে কথা বলবেননা। এই রকম চড়ুই পাখির প্রাণ নিয়ে এসব সমাজবিরোধী কাজ করেন কীভাবে। অবশ্য আপনিতো আর হোতা না, সামান্য একজন কর্মচারি। এখানে ড্রাইভারটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। তার মানে বিচ্ছুগুলো আশেপাশেই আছে। ওরা ছাড়া ে কাজ আর কে করবে? এদিকে সব জায়গা খোঁজা শেষ । এখানেও নেই ভেতরেও নেই, তাহলে গেলো কোথায়? আচ্ছা এই ঝোপের মধ্যেতো খোঁজা হলোনা! 
কথাটা শুনে তালহা তটস্থ হয়ে কেউ আসলে কি করবে তা প্লান করে ফেললো। ওরা মানুষ মাত্র তিনজন। লিটন নামক লোকটা রিশাদকে দেবদারু গাছের ভিতর ঢুকে তল্লাশি চালাতে বললো। কিন্তু লোকটা ভয়ে এদিকে এগোচ্ছেনা। অন্য লোকটাকে উদ্দেশ্য করে বলল, হুমায়ুন শাহ্‌ আপনি যান।
দেখুন লিটন এসব আপনাদের ব্যাপার স্যাপার, আপনারাই দেখেন। আমদের সাথে আপনাদের সম্পর্ক  শুধু লেনদেন। সেটা শেষ হয়ে গেছে। আমরা অন্যের কাজ করি। এখন আমাদের ড্রাইভারটার জ্ঞান ফিরলে আমরা চলে যাবো। এসব উটকো ঝামেলার মধ্যে যেতে চাইনা। কথা বলেই লোকটা গাড়িতে উঠে বসলো। 
লিটন সাহেব বেকায়দায় পড়ে গেলেন প্রথমে সাহস দেখালেও পরে বললেন আমিও আপনাদের মত অন্যের কাজ করে খাই। আজ পর্যন্ত স্যারের টিকিটাও দেখিনি। তবে আপনাদের সাথে আমাদেরকেও যেতে হবে। ডিলিংস এর সম্পূর্ণ টাকাটাতো এখনও হাতে পাইনি।  
এসব কাজে এমনই হয়। উপরের লোকদের নাগাল সহজেই পাওয়া যায়না। আচ্ছা আপনারা ছাড়া অন্য একজনের সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছে সে কে? উনিই কি আপনাদের বস।
আরে না না। উনিও আমাদের মত একজন, তবে উপরের পদে আছেন। এখন এই ছেলেটাকে আমি  কোথায় খুজবো? কথাটা বলতে দেরি কিন্তু মজিদের আসতে দেরি হলোনা। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে স্যার এই ভূতুড়ে বাড়িতে আমি আর আসতে চাইনা। 
লিটন একটা ধমক দিয়ে বলল, চুপ কর গর্ধব। ঐ বিচ্ছু ছেলেগুলো এখানে আছে। ওদেরকে খুঁজতে হবে। 
না বাবা আমি এই বাড়ির ভেতরে ঢুকতে পারবেনা। আর তাছাড়া আমার মনে হয়না ওখানে কেউ আছে। থাকলেও ওদের বুদ্ধি আমাদের থেকে ঢের বেশি। এতক্ষণে চলেও গেছে।
ওদের কথা বলায় ব্যস্ত দেখে তালহা ধীরে ধীরে পা চালিয়ে বড় রাস্তায় উঠে গেলো। একটু সামনে এগিয়েই গাড়িটা দেখতে পেল। কালক্ষেপণ না করে গাড়িতে উঠে পড়লো তালহা। দশ মিনিট পর লিটনদের মাইক্রোটা আসতে দেখা গেলো। তালহাদের ড্রাইভারকে দশ -মিনিট অপেক্ষা করে তবেই মাইক্রোটাকে অনুসরণ করতে বললো তালহা। 
তালহাদের গাড়ি থেমে থেমে মাইক্রোটাকে অনুসরণ করতে লাগলো। আধগণ্টা পর একটা বিলাসবহুল  বাড়ির সামনে গাড়িটা থামলো। তালহা একটু অবাকই হলো। ও ভেবেছিলো গাড়িটা সরাসরি কোন নিষিদ্ধ পল্লীতে যাবে কিন্তু এখানে থামলো কেন বুঝতে পারছেনা। ভেতরে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। ওদেরকে ধোকা দিচ্ছেনাতো?  বাড়িটা বেশ বড় জায়গা জুড়ে বানানো হয়েছে। তবে এমন জায়গায় এরকম একটা বাড়ি দেখে অবাক না হয়ে পারলোনা ওরা। শহর থেকে বেশ দূরে জায়গাটা। বাড়ির চারপাশে অনেক গাছপালা থাকলেও কেমন জঙ্গলের মত হয়ে আছে। গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে গাড়িটা আড়ালে নিয়ে যেতে বললো। খুব সাবধানে গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে জংলা গাছগুলোর মধ্যে লুকিয়ে পড়লো। লিটনদের গাড়িটা গেট দিয়ে ঢুকে একদম ভেতরে চলে গেলো। একে একে সবাই  গাড়ি থেকে নেমে পড়লো। লিটন সাহেবকেও দেখতে পেলো। গাড়ি থেকে নেমে ওরা গটগট করে ভেতরে চলে গেলো। 
কি ব্যাপারে মেয়েগুলোকে দেখছিনা যে? উৎকণ্ঠার সাথে কথাটা বলল যায়িদ। 
আমার মনে হয় ওরা আমাদের ধোকা দিয়েছে। মাঝখানে কোথাও ওদেরকে রেখে আসেনিতো? সর্বনাশ! এখন কি হবে? তোকে বলেছিলাম আমরা আগেই মেয়েগুলোকে উদ্ধার করি। কিন্তু তুই শুনলিনা। এখন দেখলিতো ওরা কতটা ধুরন্ধর! ওদের সাথে পারা এতোটা সহজ! কি জানি...............
এই থামতো। সেই কখন থেকে বকে যাচ্ছিস। মুসায়েব আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলো কিন্তু তালহার ধমকে চুপ হয়ে গেলো। 
কিছুক্ষণ চুপ থেকে তালহা আবার বললো, মেয়েগুলো গাড়িতেই আছে। এতক্ষণ না, ওরা এখুনি আমাদের ধোকা দিতে চাচ্ছে। তোরা এখানে থাক আমি ভেতরে যাব। কথাটা বলেই উঠে দাঁড়ালো তালহা। খুব দ্রত গাড়িটার কাছে চলে ও। ওর কথাই ঠিক মেয়েগুলো গাড়ির মধ্যেই আছে তবে অচেতন। গাড়ির দরজা বন্ধ। তালহা কয়েকটা টোকা দিলো। না তিনটাই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তালহা ভেতরে ঢুকে গেলো। দরজায় কোন দারোয়ান নেই, তবে একটা ক্যাশ কাউন্টারে দাঁড়িয়ে একটা নাম এন্ট্রি করছে। তালহা মাস্ক পড়ে নিলো। বাইরে থেকে বোঝা যাচ্ছিলোনা কিন্তু ভেতরে ঢুকে তালহার চোখ চড়কগাছ। এটা দেখি একটা অত্যাধুনিক বার। শব্দ-নিরোধক কাঁচের  কারণে এতক্ষণ দরজা ভেদ করে শব্দ বাইরে শোনা যায়নি। সম্পূর্ণ বাড়িটা তিন তলা। এক তলার  এক পাশটায় যে নাচের স্টেজটা রাখা আছে তার সবটা জুড়ে নানারকমের স্বল্প-বসনা নারীদের দেখা যাচ্ছে। তাদের সাথে প্রমত্ত লিলায় মেতে আছে বড় লোকের বখে যাওয়া ছেলেগুওলো। নাচের স্টেজের প্রায় সবগুলোই ছেলের বয়স যে ১৯ থেকে ২১ এর বেশি হবেনা তা হলফ করে দিতে পারে তালহা। সম্পূর্ণ পরিস্থিতিটা বন্ধুদের মেসেজ করে জানিয়ে দিলো। সাথে বলল, ‘মেয়েগুলো এখনও গাড়িতেই আছে। ওদের ভেতরে না আনা পর্যন্ত তোরা সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে গাড়িটা খেয়াল রাখবি।  মেয়েগুলোকে ভেতরে নিয়ে আসলে তোরাও ভেতরে চলে আসবি।’ মেসেজটা পাঠিয়ে দোতলায় উঠে গেলো তালহা। বাড়িটা গোল করে বানানো। দোতলাটার ঘুরানো বারান্দার রেলিঙ এ ঝুঁকে দাঁড়ালে মাঝখানের গোল ফাঁকা অংশটা দিয়ে নিচটা ভালোভাবেই দেখা যায়। উপরে মোট আটটা ঘর।  তিনতলাটাও নিশ্চয় একইভাবে বানানো। রাতের আধারের সাথে এখানে প্রতিটা ঘরেই আধার নেমে আসবে। নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষগুলো মেতে উঠবে আদিম খেলায়। দোতলার সব ঘর তালাবদ্ধ। রেলিঙ এর উপর ভর দিয়ে বারের সদর দরজার দিকে তাকিয়ে থাকলো তালহা। কিছুক্ষণ পর মেয়ে তিনটাকে সঙ্গে করে লোক চারটা বারের মধ্যে প্রবেশ করলো। ওরা ঢোকার পর বন্ধুদের ঢুকতে  বলেছে তালহা। কিন্তু অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও যখন বন্ধুদের দেখতো পেলোনা, তখন অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠলো ওর। দ্রুত মেসেজ করলো ওদের। দশ মিনিট কেটে যাওয়ার পরও যখন  মেসেজের উত্তর পেলোনা তখন নানা ভাবনায় পেয়ে বসলো। একট ভরাট কন্ঠ শুনে কন্ঠের চমকে ভাবনা থেকে বাস্তবে ফিরে আসলো তালহা।  
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/143897/</link>
				<pubDate>Wed, 07 Sep 2022 04:38:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য</p>
<p>পর্ব_উনিশ<br />
তিনজন লোক তিনটা মেয়েকে নিয়ে শান্ত কুটির থেকে বের হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে কি যেন আলাপ করছিলো। লোকগুলোকে দেখে চিনতে না পারলেও মেয়ে তিনজনকে তালহা ঠিকই চিনতে পেরেছে। গত পরশু যে চারটা মেয়ে অপহৃত হয়েছিলো তাদের মধ্যকার তিনজন এরা। তাহলে গতকাল যে বলেছিলো তিনজনকে নিষিদ্ধ পল্লিতে আর একজনকে বিদেশী ডেলিগেটসদের কাছে বিক্রি করে দিয়ে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-143897"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/143897/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0f6e22e9dde5b7dc83895be90aea6823</guid>
				<title>ছোট গল্প 
মাহামুদা খাতুন 
বৃষ্টি_বিলাস

শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময় চলছে এখন। শ্রাবণ মানেই লাগামছাড়া বৃষ্টি। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ করে বারি বর্ষণ।কিন্তু বিগত তিনদিন ধরে বৃষ্টির কোন পাত্তাই
নেই। 
 
পড়ার টেবিলে মন খারাপ করে বসে আছে যায়িদ। পড়ায় তার একদম মন বসছেনা।বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে সে ক্লান্ত। কিন্তু তার আসার কোন খবরই নেই। বড় রাস্তায় কিছু বাচ্চা ছেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে গান গেয়ে যাচ্ছে

আয় বৃষ্টি ঝেঁপে, ধান দেবো মেপে,  
লেবুর পাতা করমচা, যা বৃষ্টি ঝরে যা।   

উদাস মনে বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ রাস্তার পাশের তাল গাছটা তার নজর কাড়ল। গাছের সাথে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির বাসাগুলো বাতাসে দোল খাচ্ছে। কি অসাধারণ শিল্প! পাখির বাসাগুলো দেখে ছোটবেলায় 
পড়া একটা ছড়া মনে পড়ে গেল যায়িদের। 

বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়ায়,   
“কুড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই, 
আমি থাকি মহা সুখে অট্টালিকা পরে
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টির ঝড়ে।” 
বাবুই হাসিইয়া কহে, “সন্দেহ কি তাই?
কষ্ট পাই তবু থাকি নিজের বাসায়,
পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোড়, কাঁচা ঘর, খাসা।” 

কবিতাটার নাম স্বাধীনতার সুখ। রজনীকান্ত সেনের লেখা এই কবিতাটা পড়ার পর যায়িদের  অন্যরকম একটা অনুভূতি হয়েছিল। বাবুই পাখিকে তার খুব ব্যক্তিত্ববান মনে হয়েছিল। যদিও  ব্যক্তিত্ববান কথাটা ব্যক্তির  সাথে যায় তবু এইখানে ব্যবহার করার জন্য এর থেকে ভাল কোন শব্দ আপাতত যায়িদের থলিতে নেই।তার মনে হয়েছে নিজের জীর্ণতা নিয়ে বাবুই পাখির মধ্যে বিন্দুমাত্র জড়তা নেই।

এটা শুধু একটা ছড়া না, এখান থেকে শেখারও আছে।অর্থাৎ নিজের  অবস্থা নিয়ে কখনও লজ্জা পাওয়া উচিৎ না। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে যায়িদদের সবকিছুতে মধ্যবিত্ত্যের ছাপ স্পষ্ট। স্কুলের বন্ধুদের বাড়িতে হাল ফ্যাসনের আসবাব,তাদের চটকদার পোশাক আর অর্থনৈতিক ভাল অবস্থা দেখে যায়িদের মধ্যে যে হীনমন্যতা ছিল তা এই কবিতাটা পড়ার পর কেটে অনেকটাই গেছে।নিজের  অবস্থা নিয়ে হীনমন্যতা থাকা মুসলিমের জন্য শোভনীয় না। হাদিসে এসেছে, 

মুমিন এতো চমৎকার চরিত্রের অধিকারী, যে কিনা সুখে থাকলে শোকর করে এবং দুঃখে থাকলে সবর করে।  

 কবিতাটা পড়ার পর থেকে যায়িদের মনে আর কোন হীনমন্যতা কাজ করেনা। কবিতাটায় আর একটা চমৎকার শিক্ষা আছে তা হল চড়ুইয়ের  মিথ্যা অহমিকা। অহঙ্কার ইসলামে নিষিদ্ধ। অহঙ্কারী কখনও জান্নাতে যাবেনা। অবশ্য অন্যভাবে দেখলে চড়ুয়ের দিকটা খেয়াল করলে তারও একটা ভালো ব্যাখ্যা দেওয়া যায় তা হলো তার অপরিসীম অভিযোজন ক্ষমতা। যেকোন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার তাদের যে ক্ষমতা তা থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছু আছে।  

দুপুর থেকে সে একভাবে বসে আছে আর তার মন ভাবনার ডানায় ভর করে উড়ে বেড়াচ্ছে। নানা ভাবনার মাঝেও বৃষ্টির জন্য যে আকুলতা তা থেকে কিছুতেই বের হতে পারছেনা। 

সকাল থেকে মেঘেদের খেলা শুরু হয়েছেতো হয়েছে আর থামার নাম নেই। সূর্যটা আলো আঁধারের খেলায় মেতেছে যেন। গুরু-গম্ভীর কালো মেঘের মুহুমুর্হু গর্জনে মনে হচ্ছে এখনই বুঝি বৃষ্টি নামবে কিন্তু পরক্ষণেই গর্জন  থেমে  আলোকিত হয়ে ওঠছে চারিদিক। ঝিরঝির বৃষ্টি একদমই পছন্দ না  যায়িদের। ঝুম বৃষ্টি হবে আর সে দুই হাত মেলে বৃষ্টিতে ভিজবে অথবা পাশের মাঠে গিয়ে পাড়ার ছেলেদের সাথে বল খেলবে তবেই না বৃষ্টিতে ভেজার সার্থকতা।   
 
বর্ষা তার প্রিয় ঋতু কিনা জানেনা তবে বর্ষাকাল  তার পছন্দ। অবশ্য সব ঋতুরই আলাদা আলাদা সৌন্দর্য আছে।  

তার কাছে মনে হয় বৃষ্টির আলাদা একটা ছন্দ আছে। বৃষ্টিতে ভেজা তার নেশা।স্কুল থেকে আসার সময় বৃষ্টিতে ভিজে এসে মায়ের বকুনি খাওয়া তার নিত্যদিনের ব্যাপার। বাড়িতে থাকলে মায়ের বকুনি খাওয়ার ভয়ে চুপিচুপি বৃষ্টিতে ভিজতে হয় তাকে। তিনদিন আগে হওয়া বৃষ্টিতে  ভিজে ঠাণ্ডা লেগেছে তাই আজকে তার মায়ের কড়া আদেশ একদমই বৃষ্টিতে ভেজা যাবেনা। আর তাই জানালার কাছে বসে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা। বৃষ্টিতে ভিজতে না পারুক জানালায় বসে বৃষ্টির ছন্দ শুনতে নিশ্চয় মন্দ লাগবেনা।আর জানালা দিয়ে হাত দুটো বের করে ভিজিয়ে নিতেতো কোন অসুবিধা নেই। 

কিন্তু সেই সকাল থেকে অপেক্ষার পর বিকাল হয়ে গেল তাও বৃষ্টির দেখা মিলছেনা।এতক্ষণ  আলো থাকলেও আবারও  চারিদিক ঘন অন্ধকারে ঢেকে গেল। চারিদিক থেকে আসরের আজানের সুললিত আওয়াজ ভেসে আসছে। ওজু করে মসজিদের উদ্দেশে বের হয়ে গেল যায়িদ। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় আকাঙ্খিত ঘটনাটা ঘটল। ঝুম করে বৃষ্টি পড়া শুরু করল। সারাদিনের বিষণ্ণতা বৃষ্টির পানিতে মিশে অজানা আনন্দে মন নেচে উঠল। মনে পড়ল বাবা বলেছে বৃষ্টির পানি গায়ে লাগানো হারিয়ে যাওয়া একটা সুন্নাহ। হাদিসে এসেছে, 

একবার সাহাবীদের সাথে থাকা অবস্থায় বৃষ্টি নামলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর কাপড়ের কিয়দংশ উন্মোচন করলেন যেন শরীরে বৃষ্টির পানির স্পর্শ লাগে। এবং সাহাবীদের বললেন এই রহমতের বৃষ্টি মহান রবের কাছ থেকে মাত্রই এসেছে”। [সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: সালাতুল ইস্তিসকা বা বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত। হাদিস নং ৮৯৮] 

এই বৃষ্টির মধ্যে যেমন কল্যাণ আছে তেমনি এই বৃষ্টি দিয়ে এক জাতিকে নিশ্চিন্ন করে দেয়া হয়েছে। আদ জাতিকে তাদের অবাধ্যতার কারণে টানা সাত রাত এবং আট দিন ধরে ঝড়োবৃষ্টি  দিয়ে তাদের শাস্তি দিয়েছেন আল্লাহ্। তাই কল্যাণকর বৃষ্টির জন্য দুয়া করতে ভোলেনা যায়িদ। 

বৃষ্টির আর একটা কল্যাণকর দিক হল এসময় দুয়া কবুল হয়।তাই বৃষ্টির সময় সে তার মনের যত আর্জি আছে সব তার রবের কাছে প্রেরণ করে। 

কাক ভিজা হয়ে বাসায় ঢুকতেই মায়ের বকুনির কবলে পড়তে হলো তাকে। অগ্নিশর্মা হয়ে পারভিন আক্তার বললেন,    
তোকে না বৃষ্টিতে ভিজতে বারণ করেছি।

আমি নামাজে যাওয়ার সময় বৃষ্টি ছিলনা মা। নামাজ থেকে আসার সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে আমার কি করার আছে? ঝটপট উত্তর দিল যায়িদ। 

এরকম আবহাওয়ায় বের হওয়ার দরকার কি ছিল?

সকাল থেকেইতো এমন চলছে।আমি কি জানতাম এখন বৃষ্টি আসবে?  

ছাতা নিয়ে যাসনি কেন?

ছাতা বহন করতে ভাল লাগেনা। 

আমি জানি তুই এটা ইচ্ছা করেই করেছিস যাতে আমাকে অজুহাত দেখাতে পারিস। 

যায়িদ মুচকি হেসে বলল, আচ্ছা মা তুমি সব বুঝে যাও কেন? আমার মায়ের অনেক বুদ্ধি। তাইতো আমারও অনেক বুদ্ধি। তারপর পোশাক পাল্টে মাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করল, মা বৃষ্টির পানি  গায়ে লাগানোও সুন্নাহ।যায়িদ পারভিন আক্তারকে হাদিসটা শুনিয়ে দিল।  
 
পারভিন আক্তার বললেন, জানি। জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়েও বৃষ্টির পানি শরীরে লাগানো যায়। এরজন্য সম্পূর্ণ ভিজা লাগেনা। কিন্তু তুইতো কাকভেজা হয়ে এসেছিস।  

কি করব বল? ছাতা নেইনি, ভিজেতো যাবোই। তারপর বলল, আসলে মা বৃষ্টিতে ভেজার মজাই আলাদা। মা তুমি কখনও বৃষ্টিতে ভেজনি? 

যায়িদের কথায় পারভিন আক্তার মুচকি হাসল। মনে মনে ভাবল, শুধু বৃষ্টিতে ভেজা? আমরাতো  কাদায় গড়াগড়ি খেতাম, ছিপ বা খাঁচা দিয়ে মাছ ধরতাম, আরও কত কিছু করেছি। কিন্তু ছেলেকে সেসব বলা যাবেনা। তাই একটু ক্ষীণস্বরে বলল, বৃষ্টিতে আবার কে না ভিজে?  

যায়িদ মায়ের ঘুরিয়ে দেওয়া উত্তরটা ঠিকই বুঝতে পারল। ছেলের কাছে নিজের বৃষ্টিতে ভেজার গল্প করতে চাননা, তাহলে ছেলেকে বৃষ্টিতে ভিজতে বারণ করতে পারবেনা। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে মুচকি হাসি দিল যায়িদ। মায়ের সাথে কিছুক্ষণ খুনসুটি করে নিজের ঘরে চলে গেল।

আসার সময় পাশের মাঠে লাগানো কদম গাছ থেকে কয়েকটা কদম ফুল নিয়ে এসেছে সে। কদমের সাথে তার আলাদা একটা সখ্যতা আছে। কদমের পাপড়ি ছিঁড়ে নানা রূপ দিতে তার ভীষণ মজা লাগে। কিন্তু এখন সে ফুলগুলো সাজিয়ে রাখবে। টেবিলে রাখা ফুলদানিটায় ফুলগুলো  সাজিয়ে রাখল। বৃষ্টি এখনও থামেনি। পড়ার টেবিলটায় বসে  আবারও বৃষ্টি উপভোগ করতে লাগল। 

পড়ন্ত বিকাল। কাকভিজা হয়ে পাখিরা সব বাড়ি ফিরছে। গোধূলির সাজে সেজেছে পশ্চিমাকাশ।এ সময়টায় প্রকৃতি একটা অসাধারণ রূপ নেয়। বৃষ্টির তেজ কমতে লাগলো। আস্তে আস্তে বৃষ্টি থেমে গেল। আকাশের বুকে জেগে উঠল মন ভালো করে দেয়া সাত রঙে রাঙ্গানো রংধনু। দীর্ঘ এক বছর পর রঙ ধনুর দেখা পেল যায়িদ। তার অপেক্ষা সফল হল।  

আজ এতো এতো ভালো লাগার ঘটনা ঘটায় মন ভালো হয়ে গেল যায়িদের। দিনের আলো শেষ হয়ে রাতের আঁধারে ঢেকে যাচ্ছে চারিদিক। মাগরীবের নামাজ পড়ে মন দিয়ে পড়তে বসল সে। রাতের সব কাজ শেষ করে ঘুমাতে গেল আর অপেক্ষায় থাকল এর একটা নতুন দিনের।

সমাপ্ত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/141099/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Sep 2022 11:12:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছোট গল্প<br />
মাহামুদা খাতুন<br />
বৃষ্টি_বিলাস</p>
<p>শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময় চলছে এখন। শ্রাবণ মানেই লাগামছাড়া বৃষ্টি। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ করে বারি বর্ষণ।কিন্তু বিগত তিনদিন ধরে বৃষ্টির কোন পাত্তাই<br />
নেই। </p>
<p>পড়ার টেবিলে মন খারাপ করে বসে আছে যায়িদ। পড়ায় তার একদম মন বসছেনা।বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে সে ক্লান্ত। কিন্তু তার আসার কোন খবরই নেই। বড় রাস্তা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-141099"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/141099/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b52004aa1b19aa3a8a8a6e358ab931fa</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য 
পর্ব_আঠারো
নলডাঙ্গার এতিমখানাগুলোর ঠিকানাসহ মোটামোটি একটা তালিকা নির্ণয় করলো যায়িদ। তারপর কিছু শুকনা খাবার নিয়ে বেরিয়ে পড়লো ওরা তিনজন। বের হওয়ার আগ মুহূর্তে তালহার ছোট মামা তিনজনকে তিনটা মোবাইল দিয়ে বললেন, এখন থেকে এগুলো সঙ্গে রাখবি। কালকে তোদের চিন্তায় আমাদের রাতে ভালো ঘুমই হয়নি। তোদের নাম দিয়ে তোদের নাম্বারগুলো সেভ করে দিয়েছি। আমাদের সবার নাম্বার আর সব ধরণের প্রয়োজনীয় নাম্বারও সেভ করা আছে। কোনরকম বিপদে  পড়লে জানাতে ভুল করবিনা। এসময় তোমাদের সাথে এটা থাকা জরুরী। ফোন ছাড়া কি গোয়েন্দার কাজ হয়? যেকোন প্রয়োজনে আমাকে বা অন্যকাউকে, নির্দ্বিধায় ফোন করবে। আকস্মিক এমন ঘটনায় তালহারা তিনজনই খুব খুশি হয়ে গেলো। এটা ওদের খুব দরকার ছিলো। কয়েকদিন ধরে তালহাও ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছিলো। কারণ ওরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে যোগাযোগের কোন উপায় থাকেনা। আজকে ওরা সেই ফোন সাথে করে নিয়ে যাচ্ছে। 
তালহার নানু বাড়ির পুরানো গাড়িটা নিয়েই বের হয়েছে ওরা। সবথেকে কাছের এতিমখানাটার নাম  ‘রাহমানিয়া এতিমখানা’। ত্রিশ মিনিটের মাথায় মাদ্রাসাটায় পৌঁছে গেলো ওরা। অনেকখানি জায়গা জুড়ে বানানো হয়েছে মাদ্রাসাটা। স্থাপিত হওয়ার তারিখটা ফটকের পাশের দেওয়ালে খোঁদাই করে লেখা আছে। ১৯৭০ সালে স্থাপিত হয়েছে। তার মানে পুরানো আমলের মাদ্রাসা এটা। গেট পেরিয়ে ঢোকার সময় দারোয়ানের সাথে দেখা হলেও তেমন কোন জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। শুধু জিজ্ঞাসা করেছে কোথায় যাবেন? এই এতটুকুই। অধ্যক্ষের সাথে দেখা করবে শুনে ওদেরকে এগিয়ে গিয়ে অধ্যক্ষের ঘরটা দেখিয়ে দিয়ে আবার নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে বসে পড়লো। 

দারোয়ানের দেখিয়ে দেওয়া ঘরের সামনে গিয়ে দাড়লো তালহারা। দরজার পাশে দেওয়ালে লাগানো নেমপ্লেটের দিকে চোখ গেলো তালহার। ‘শেখ মহিউদ্দিন ভুঁইয়া’ অধ্যক্ষ। ভেতরে তাকিয়ে দেখলো একজন ষাটোর্ধ্ব ব্যাক্তি টেবিলের উপর ঝুঁকে কি একটা কাজ করছে। তালহা একটু এগিয়ে গিয়ে বিনয়ের সাথে বলল, আমরা একটু আসতে পারি? মহিউদ্দিন ভুঁইয়া মাথা তুলে দরজার দিকে তাকিয়ে  কপাল কুঁচকে বলল, কে তোমরা?

দয়া করে ভিতরে আসার অনুমতি দিলে ভেতরে এসেই কথাগুলো বলতাম।  
ওদের ঢোকার অনুমতি দিলেন মহিউদ্দিন ভুঁইয়া। ওরা তিনজন ভেতরে ঢুকলে ওদেরকে বসতে বললেন।
 উনার বিপরীত পাশে রাখা চেয়ারগুলো টেনে তাতে বসে পড়লো ওরা তিনজন। 
এবার তোমাদের পরিচয় দিয়ে বল আমার কাছে কি দরকারে এসেছো?  
তালহা ওদের বানানো কার্ডটা এগিয়ে দিয়ে বললো; আমরা গোয়েন্দা। এইযে আমাদের কার্ড। আমার কিছু তথ্য দরকার। তত্যগুলো এতিমখানা সংক্রান্ত কিন্তু আমরা এতিমখানাটার সঠিক ঠিকানা জানিনা।  তাই প্রায় সব এতিমখানার নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে এনেছি। আগে বড়গুলোতে খোঁজ করবো। না পেলে তারপর ছোটগুলোতে যাবো। 
মহিউদ্দিন তালহার কাছ থেকে কার্ডটা নিয়ে দেখলো। তারপর ওদেরকে লক্ষ্য করে বলল, তা খুদে গোয়েন্দারা আমার কাছে কি জানতে চাও? মানে আমি তোমাদের কীভাবে সাহায্য করতে পারি? 
প্রথমে কীভাবে কথা শুরু করবে বুঝতে পারছেনা তালহা। ফাতিমা আনজাম নাকি আনিসের কথা দিয়ে কথা বলা শুরু করবে তা নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবলো। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলো আনিসের কথা দিয়েই শুরু করবে। কারণ ফাতিমা আনজামের নামটা তার নাও মনে থাকতে পারে।  
ওদেরকে চুপ থাকতে দেখে মহিউদ্দিন আবার বললেন, কি হলো, বললেনা তোমাদের কীভাবে সাহায্য করতে পারি? কি ধরণের তথ্য দরকার তোমাদের? 
মহিউদ্দিনের কথা শুনে তালহার ভাবনার সুতা কেটে গেলো। বলল, আমরা আপনার এখানে পড়তো এমন একজন পুরানো ছাত্রের খোঁজে এসেছি। ওর সম্পূর্ণ নামটা কি জানিনা। তবে ছোট একটা নাম জানি সেটা হলো আনিস। আপনার এখানে পড়াকালীন সময়ে আপনি ওকে এক ধনী পরিবারে দত্তক দিয়ে দেন। সম্পূর্ণ আন্দাজে ঢিল ছুড়লো তালহা। কারণ এটাই যে সেই মাদ্রাসা এ ব্যাপারে ও শিউর না। 
কত দিন আগের ছাত্র? 
সম্ভবত ১৯৯৯ সালের দিকের কথা।
মহিউদ্দিন ঐ সালের ভর্তির রেজিস্টার ঘেটে এরকম কোন তথ্য না পাওয়ায় নিরাশ হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে অন্য মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা দিলো। এভাবে আরও দুইটা বড় মাদ্রাসা ঘুরেও একইভাবে হতাশ হলো ওরা। চারটা বেজে গেছে। বিকাল থেকে শান্ত কুটিরের কাছে থাকার ইচ্ছা। তাই আজকের মত খোঁজার ইস্তফা দিয়ে ওরা তালহার নানু বাড়ি ফিরে গেলো। সকালে খেয়ে বের হয়েছিলো ওরা। ঘুরতে ঘুরতে দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেছে এখনও দুপুরের খাবার পেটে পড়েনি ওদের। হাত-মুখ ধুয়ে দুপুরের খাবার খেতে বসে গেলো। খাওয়া দাওয়া শেষ করে আরও কিছু শুকনা খাবার, তিনটা চেতনানাশক ওষুধ ভর্তি বোতল, একটা রেকর্ডার, আরও টুকিটাকি ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ওরা পোড়োবাড়ির উদ্দেশে রওনা হলো। তালহার নানার মান্ধাতা আমলের গাড়িটা এখন ওদের কাজের সঙ্গী হবে। 
সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে ওরা পোড়োবাড়িতে পৌঁছালো। মাগরিবের নামাজ আদায় করে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করে দেয়। গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি পাশের গলিটাতে ঢুকে পড়ে। ড্রাইভারকে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি রেখে ওদের কলের জন্য অপেক্ষা করতে বলে। দেবদারু গাছ ঘেরা ঝোপের মধ্যে দিয়ে ওরা সামনের দিকে এগোতে থাকে। রাস্তার মোড়ে যেখানে রাস্তাটা বাঁক নিয়েছে সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে আশপাশটা বোঝার চেষ্টা করে। চারিদিক শুনশান, কোন মানুষের সারাশব্দ নেই। প্রায় বিশ মিনিট অপেক্ষা করার পর তালহা বলল, প্রথমে আমি বের হয়ে শান্ত কুটিরে ঢুকে পড়বো। আমার যাওয়ার দশ মিনিট পর যায়িদ বের হবি। তুই ঐ একতলা বাড়িটার কাছে গিয়ে দেখবি ওখানে কেউ আছে কিনা। খুব সাবধানে যেতে হবে। ওরা আমাদের যদি আমাদের গুরুত্ব দিয়ে  থাকে তাহলে আমাদের জন্য অবশ্যই ফাঁদ পেতে রাখবে। আর যদি ছোট ভেবে গুরুত্বহীন মনে করে তাহলে তাহলে সেটা আমাদের স্বস্তির কারণ হবে। আমরা চলে গেলে মুসায়েব রাস্তার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখবি। ওদের আজকেই মেয়েগুলোকে নিষিদ্ধ পল্লীর লোকদের কাছে হস্তান্তর করার কথা। আমার ধারণা ওরা এখনও আসেনি। কারণ ওরা আসলে ওদের সাথে কোন গাড়ি থাকবে নিশ্চয়। গাড়ি নিয়ে আসলে ওদেরকে এই রাস্তাটাই ব্যবহার করতে হবে, এর বিকল্প কোন রাস্তা নেই। ওরা আসলেই তুই আমাদের সতর্ক বার্তা পাঠাবি। কথাগুলো বলে ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ভেতরে চলে গেলো তালহা।
খুব সাবধানে নিঃশব্দে শান্ত কুটিরের ভেতর প্রবেশ করলো ও। সিঁড়ি দিয়ে সোজা নিচে নেমে গেলো।  আজকে আগের দিনগুলোর মতো কোন মিউজিক শোনা গেলোনা। তবে গন্ধটা আছে। ও যত নিচে  নামতে থাকে ততই গন্ধটা প্রকট হতে থাকে। তালহা একেবারে ভেতরে না ঢুকে পিলারের পেছনে থেমে থেমে ঢুকতে থাকে। আজকে আসার সময় ও একটা তালা সাথে করে নিয়ে এসেছে। ৩ নং ঘরের তালাটা বদলে এটা লাগিয়ে দিবে। করিডোরের মাঝ বরাবর একটা মোটা পিলারের পেছনে দাঁড়িয়ে চারিদিকে সতর্ক দৃষ্টি ফেলে দেখতে লাগলো কিন্তু বেশি সময় নিলোনা। যেকোন সময় লোকগুলো এসে পড়বে। পিলারের পেছন থেকে বের হয়ে ৩ নং ঘরটাতে যেখানে যায়িদ আর মুসায়েবকে আঁটকে রেখেছিলো সেটার সামনে চলে গেলো। দরজাটার তালাটা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়লো। ঢোকার সময় দরজার উপরে লাগালো সিসি ক্যামেরাটা তালহার নজর এড়ায়নি। আগেই  আন্দাজ করতে পেরেছিলো এমন কিছু করবে ওরা। কারণ তথ্য-প্রযুক্তির এই অবাধ প্রসারের যুগে এসে ওরা যখন বুঝতে পেরেছে ওদের আস্তানায় মানুষ ঢুকে পড়েছে তখন এই ধরণের সতর্কতা অবলম্বন না করাই বোকামী। তালহা একটা রঙিন কাগজ লাগিয়ে ক্যামেরাটা ঢেকে দিলো।  লোকগুলো আজকে মেয়েগুলোকে নিয়ে যাবে তাই আজকে ওদের এদিকে আসার কথা না। এই ঘরটার বিপরীত দিকে করিডোরের শেষ মাথার কোন একটা ঘরে মেয়েগুলোকে আঁটকে রাখা হয়েছে সম্ভবত। সদর দরজা দিয়ে ঢুকে এদিকে তাকিয়ে দরজাটা খোলা দেখলে সন্দেহ করবে। তাই তালহা দরজাটা ভেতর থেকে আঁটকে দিলো। অন্ধকারে এদিকে তাকালে দরজাটা বাইরে না ভেতর থেকে বন্ধ সহসা বুঝতে পারবেনা। আর তাছাড়া মুসায়েবতো আছেই। ওরা আসলেই ওদেরকে সতর্ক করে দিবে। তখনই এখান থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাবে তালহা। তাছাড়া এই ক্যামেরা যদি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে থাকে তাহলে খুব সহজেই ওরা ওর অবস্থান টের পেয়ে যাবে। তখন ওকে ধরে ফেলার জন্য লোক চলে আসবে। তাই তালহাকে খুব দ্রুত কাজ সারতে হবে। 
ঘরটার ভিতর ঢুকে মেলামাইন বোর্ডের দরজাটা খুলে ওর সাথে লাগোয়া ঘরটাতে ঢুকে পড়ে তালহা। সম্পূর্ণ ঘর জুড়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার বিরাজ করেছে। পিঠে ঝোলানো ছোট ব্যাগটা থেকে টর্চ লাইটগুলো বের করে ঘরের চারদিকে চারটা সেট করলো। আজকে এই ঘরের ঢোকার পরিকল্পনা করেছে বিধায় এতোটা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে ও। ক্যামেরাটাও সেকারণে সাথে করে নিয়ে আসা। ঘরের চারিদিকে চোখ মেলে দেখলো কোন হিডেন ক্যামেরা লাগানো আছে কিনা। না তেমন কিছুই চোখে পড়লোনা। টর্চের আলোয় ঘরটা মৃদু আলো আলোকিত হয়ে উঠলো। দেওয়াল ভর্তি ছবিগুলো দেখতে লাগলো    তালহা। সবগুলোর ছবি তুলে নিলো। গত পরশু অপহৃত মেয়েগুলোর ছবি সম্বলিত পেপার কাটিং সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলো তালহা। দেওয়ালের ছবিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখলো। নাহ্‌ এখানে এদের কারোর ছবি নেই। তাহলে এই মেয়েগুলো কারা? কেনইবা এদের ছবি তারিখ সহ এই ঘরের দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে? এমন নানা প্রশ্ন তালহার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো। ঘরের এক কোণে হেলান দিয়ে রাখা রাখা দুইটা পোট্রেট চোখে পড়লো। দুইজন রমণীর ছবি। ওগুলোরও ছবি তুলে নিলো তালহা। খুব দ্রুত কাজগুলো সেরে ওখান থেকে বের হয়ে দরজায় তালা লাগাতে যাবে তখনই মোবাইলে টুং করে আওয়াজ হলো। নিশ্চয় মুসায়েব সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছে। মোবাইলটা  চেক করে দেখলো ওর ধারণাই ঠিক। দ্রুত মেসেজটা পড়ে নিলো। একটা মাঝারি আকারের মাইক্রো ভাড়া করে নিয়ে এসেছে লোকগুলো। তালহা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত দরজাটায় তালা মেরে একটা পিলারের পিছনে ঘাপটি মেরে বসে থাকলো। পিলারের আড়াল থেকেই চারটা লোককে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখলো। একজন লোককে হন্যে হয়ে ৩ নং ঘরটার দিকে যেতে দেখা গেলো। উৎকণ্ঠা নিয়ে লোকটা ঘরটার কাছে গিয়ে দরজায় তালা লাগানো দেখে আবার ফিরে এসে কাউকে ফোন করলো। ওপাশ ফোনটা রিসিভ হলে বলল, স্যার ৩ নং ঘরের দরজাটাতো তালা লাগানো, কেউ ঢোকেনি।  আপনি অকারণ চিন্তা করছেন। ঐ ছোট ছোট বাচ্চাগুলো কীইবা করবে আমাদের?  হঠাৎ হাসি বিলীন  হয়ে লোকটার মুখটা চ-এর মত হয়ে গেলো। বলল, আচ্ছা স্যার দেখছি। কথাটা বলে লোকটা দৌড়ে গিয়ে ক্যামেরাটা দেখতে লাগল। হাত দিয়ে ক্যামেরার গায়ে লাগানো খুলে দিলো। আবার কাউকে ফোন  করে  বলল, স্যার ক্যামেরার গায়ে একটা কাগজ লাগানো ছিলো। ওটা খুলে দিয়েছি। এখন ছেলেটাকে খুঁজে বের করবো? ঠিক আছে বলে ফোনটা রেখে দিলো লোকটা। দৌড়ে করিডোরের শেষ মাথায় অন্য লোকদের কাছে চলে গেলো। লোকটা আবার ফিরে আসবে। তাই এই অল্প সময়ের মধ্যেই  তালহাকে এখান থেকে পালাতে হবে। চারিদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে তালহা পিলারের আড়াল থেকে বের হয়ে দ্রুততার সাথে বাইরে চলে আসলো। ড্রাইভার চাচাকে বার্তা পাঠিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলে মুসায়েবকে গলির রাস্তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করে একটা মেসেজ পাঠালো। ‘আপাতত মাইক্রো ড্রাইভার ছাড়া এখানে কেউ নেই। আমি ওকে চেতনানাশক দিয়ে সাময়িক  অজ্ঞান করে রেখেছি।’ মেসেজটা পড়ে তালহা ভাবলো ভিতরের লোকগুলো বের হওয়ার আগেই ওদেরকে এখান থেকে চলে যেতে হবে নইলে ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যেই ভাবা সেই কাজ। গলির দিকে এগোবে তখনই ভেতর থেকে লোকগুলোর কথা কানে আসলো। তার মানে ওরা এখন বের হচ্ছে। তালহা খুব দ্রুত দেবদারু গাছের আড়ালে ঢুকে পড়লো। 
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/140631/</link>
				<pubDate>Wed, 31 Aug 2022 12:33:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_আঠারো<br />
নলডাঙ্গার এতিমখানাগুলোর ঠিকানাসহ মোটামোটি একটা তালিকা নির্ণয় করলো যায়িদ। তারপর কিছু শুকনা খাবার নিয়ে বেরিয়ে পড়লো ওরা তিনজন। বের হওয়ার আগ মুহূর্তে তালহার ছোট মামা তিনজনকে তিনটা মোবাইল দিয়ে বললেন, এখন থেকে এগুলো সঙ্গে রাখবি। কালকে তোদের চিন্তায় আমাদের রাতে ভালো ঘুমই হয়নি। তোদের নাম দিয়ে তোদের নাম্বারগুলো সেভ করে দিয়েছি।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-140631"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/140631/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">98413f0845d0c55ff07279e32aa66fd5</guid>
				<title>প্রিয় তনয়া   
আমার অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হোক তোমার হৃদয়। তোমার কাছ থেকেই আমি পেয়েছি প্রথম মা হওয়ার স্বাদ। আমার শরীরে তোমার অনুপ্রবেশের ক্ষণ থেকে শুরু করে তোমার বেড়ে উঠার প্রতিটা মুহূর্ত আমি গভীরভাবে অনুভব করেছি। দুনিয়ার বুকে তোমার পদার্পণের আগ মুহূর্ত পর্যন্তও আমি জানতামনা তুমি তনয় নাকি তনয়া। কিন্তু প্রথম সন্তান হিশাবে একজন কন্যার মা হওয়ার বাসনা হৃদয়ে লালন করতাম। তোমার আব্বুদের তিন ভাইয়ের কোন বোন না থাকায় তোমার দাদু বাড়ির সবাই উৎকণ্ঠার সাথে একটা রাজকুমারীর আশায় দিন গুনছিলো। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণটা আসলো। তুমি দুনিয়ার আলোতে আত্মপ্রকাশ করলে। ডাক্তার যখন বলল, আমি একটা ফুটফুটে রাজকুমারীর মা হয়েছি তখন আমি আবেগে কেঁদে দিয়েছিলাম।
দাদু এবং নানু দুই পরিবারেই তুমি ছিলে প্রথম নাতনী। দুই পরিবারের অগ্রজদের সীমাহীন আদর ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে ক্রমান্বয়ে তুমি বেড়ে উঠতে থাকো। এখন তুমি একজন চৌদ্দ বছরের কিশোরী। ছোটবেলা থেকে তোমাকে ইসলামিক স্কুলে পড়িয়েছি। বাসায় বইয়ের পাহাড় বানিয়েছি। জেনারেল লাইনে পড়লেখা করেও মাত্র বারো বছর বয়সে তুমি নিজে নিজেই সম্পূর্ণ কোরআন আত্মস্থ করেছো অথচ এখন সেই কোরআনের প্রতি তোমার কত অনীহা! কোরআনকে রাসুল (সা) হৃদয়ের বসন্ত বলেছেন। মরে যাওয়া অন্তরকে জাগ্রত করার ব্যাপারে বুঝে কোরআন পড়ার কোন জুড়ি নাই। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে যেমন শীতের রুক্ষতা দূর হয় তেমনই আমাদের মরে যাওয়া অন্তরকে জাগিয়ে তুলতে কোরআন পাঠ অনস্বীকার্য।
ছোট বেলা থেকে তোমাকে সিরাতের গল্প শুনিয়েছি। সালমান ফারসির ইসলাম গ্রহণের সেই রোমহর্ষক কাহিনী তুমি ভুলে গেলে কীভাবে? ইসলামের জন্য মুসআব ইবনে উমায়েরের আত্মত্যাগের কথাতো ভোলার মতনা। খালেদ বিন ওয়ালিদ, যাকে রাসুল (সাঃ) আল্লাহ্‌র তরবারী উপাধিতে ভুষিত করেছেন তার কথা মনে আছে তোমার? সালাউদ্দীন আইয়ুবি, আর উমর মুখতারের মত সাহসী যোদ্ধাদের বীরগাথা কাহিনী শুনতে একদমই পছন্দ করনা তুমি।
তোমার হাতে এখন শোভা পায় হ্যারিপটারের বানোয়াট কাহিনীর বই। বি টি এস আর্মিরা তোমার স্বপ্নপুরুষ। তোমার এই অধঃপতন আমি কীভাবে মেনে নিবো? এসব অনর্থক জিনিসের সাথে থাকতে থাকতে কোরআনের প্রতি তোমার এমন অনীহা তৈরি হয়েছে যে তুমি ভুলেই গেছো তুমি একজন হাফেজা। কোরআনের শিক্ষিকা আসলে নাক মুখ কুঁচকে প্রতিদিন আমাকে  একই প্রশ্ন কর; মা আজকেও উস্তাদা কেন এসেছে? কিন্তু তুমি জানো কোরআন পড়া বন্ধ করলে তোমার হৃদয় একসময় মরুভুমির আকার ধারণ করবে। পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। তাইতো আমি তোমাকে কোরআন চর্চা থেকে কখনোও বিরত হতে দেইনা।
চটুল কথাবার্তা আমার বরাবরই অপছন্দের। স্কুল কলেজ নাহয় বাদই দিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও বন্ধু বান্ধবীদের আড্ডাতে আমার মুখ ফসকে কখনও কোন অশোভন শব্দ বা বাক্য নিঃস্বৃত হয়নি । অথচ তোমার মুখে এখন হরহামেশা এসব চটুল আর চটকদার কথা শুনতে পাই। রাজকন্যা তুমি জানোনা তোমার মায়ের তখন কেমন কষ্ট হয়?
প্রিয় আত্মজা তুমি এখন যে বয়সটা পার করছো এটা যেমন পথ হারাবার বয়স তেমনই নতুন পথ তৈরিরও বয়স। বই পড়া আমি পছন্দ করি। তাইতো নানারকম বই দিয়ে দুইটা আলমারি ভরে দিয়েছি। এ যেন ছোট খাট একটা লাইব্রেরী। টিভি নেই। ডিভাইস ধরতে দেইনা, তোমাদের একমাত্র বিনোদন শুধু বই। তারপরও তোমাকে দূষিত হাওয়া থেকে বাঁচাতে পারলামনা। আসলে আমি একা একটা সমাজ না। আমার মত অসংখ্য পরিবারের সমন্বয়ে সমাজ তৈরি হয়। ব্যক্তিজীবনের  উপর সমাজের একটা প্রভাব থাকবেই। তাই বলে কি তুমি তোমার আদর্শ থেকে সরে যাবে? সবসময় স্রোতে গা ভাসিয়ে দিলে হয়না। ক্ষয়ে যাওয়া সমাজের আবর্জনা থেকে তোমাদের বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে আমাদের দুজনকে অনবরত স্রোতের বিপরীতে সাঁতরাতে হচ্ছে।
প্রিয় কন্যা, বিশ্বায়নের কারণে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। তোমার সামনে অসংখ্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়ে আছে। যখন গবেষণা আর আবিষ্কারের পেছনে মনোনিবেশ করার কথা তখন বস্তা পচা নাটক সিনেমা দেখে প্রেম নামক সস্তা এক নামহীন সম্পর্কে জের ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য সম্ভাবনাময়ী জাতির কর্ণধার। তুমি যখন বাসায় এসে তোমার সহপাটিদের ক্রাশ  খাওয়ার গল্প বল তখন আমি আতঙ্কিত হই।
আমার অনন্যা, তুমি কি জানো মেয়ে মানে বাবা মায়ের জন্য জান্নাত। আবার রাসুল (সাঃ) জাহান্নামীদের মধ্যে সবথেকে বেশি নারীকেই দেখেছেন। সাহাবায়ে কেরামদের ধন সম্পদ নিয়ে যতটানা সাবধান করেছেন তার থেকে বেশি সাবধান করেছেন নারী জাতি থেকে। তুমি আমার আল্লাহ্‌র থেকে প্রাপ্ত অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে সবথেকে মূল্যবান নিয়ামাত। সেই নিয়ামাতের সামান্যতম খেয়ানত আমার দ্বারা ঘটলে কাল কেয়ামতের ময়দানে কি জবাব দিব আমি? তাইতো তোমার ব্যাপারে আমি এতোটা সচেতন। আদর আর ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে রাখা তোমার প্রতি মাঝে মাঝে করা আমার কঠোর আচরণটাও আমার ভালোবাসার অন্যরকম প্রকাশ। খুব শীঘ্রই তুমি আমার মনের মতো হবে এই প্রত্যাশায় আজকের চিঠির সমাপ্তি টানলাম।
তোমার মা
সমাপ্ত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/139370/</link>
				<pubDate>Sun, 28 Aug 2022 15:30:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় তনয়া<br />
আমার অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হোক তোমার হৃদয়। তোমার কাছ থেকেই আমি পেয়েছি প্রথম মা হওয়ার স্বাদ। আমার শরীরে তোমার অনুপ্রবেশের ক্ষণ থেকে শুরু করে তোমার বেড়ে উঠার প্রতিটা মুহূর্ত আমি গভীরভাবে অনুভব করেছি। দুনিয়ার বুকে তোমার পদার্পণের আগ মুহূর্ত পর্যন্তও আমি জানতামনা তুমি তনয় নাকি তনয়া। কিন্তু প্রথম সন্তান হিশাবে একজন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-139370"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/139370/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">30706e1be7320075664a0e25103f0efa</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য 
 পর্ব_সতেরো 
সারা রাত দেবদারু গাছের আড়ালেই কাটিয়ে দিলো তালহারা। ফজরের আজানের সময় সাহস করে ওখান থেকে বের হয়ে আসে। চারিদিকে সজাগ দৃষ্টিতে পরখ করে বড় রাস্তাটা পেরিয়ে রাজবাড়ি মসজিদটায় ঢুকে পড়ে। রাস্তা দিয়ে আসার সময় বড় রাস্তার ডান পাশের গলিতে একটা মাইক্রো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয় তালহা। এটাতো মনে হচ্ছে ওর নানু বাড়ির মাইক্রোটা। মসজিদে ঢুকে ড্রাইভার চাচাকে দেখার পর শতভাগ নিশ্চিত হলো ঐটা ওর নানু বাড়িরই মাইক্রোই ছিলো।  ড্রাইভারের কাছে গিয়ে কখন এসেছে সে জিজ্ঞাসা করলো জানা যায় গত রাতেই এসেছে সে। ওমর শরিফ জোর করে তাকে পাঠিয়েছে। আসার সময় এও বলে দিয়েছে গাড়িটা নিয়ে যেন সরাসরি পোড়োবাড়ির সামনে যাওয়া না হয়।  

নামাজ পড়েই তালহারা ওর নানু বাড়ি চলে যায়। নানু বাড়িতে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করলো। তারপর তিন বন্ধু মিলে রসস্যঘেরা বাড়িটা থেকে আনা নোটবুকটা নিয়ে বসল। পৃষ্ঠা উলটানো শুরু করলো তালহা। প্রথম পৃষ্ঠাতে বড় করে লেখা ‘ফাতিমা আনজাম’, ২২-০৪-১৯৭২। ঐ পৃষ্ঠায় আর কিছু লেখা নেই। তালহা পরের পৃষ্ঠাটা উল্টিয়ে পড়া শুরু করলো। পরপর ২০ টা পৃষ্ঠা পর্যন্ত তারিখ দিয়ে রোজনামচা ছাড়া কিছুই চোখে পড়লোনা। ২১ নং পৃষ্ঠায় গিয়ে ভিন্ন কিছু চোখে পড়লো। এই লেখাটাও তারিখ দিয়ে শুরু করা হয়েছে। জোরে জোরে লেখাটা পড়া শুরু করলো তালহা। ১৬- ০৯- ১৯৯৯  তারিখে লেখা হয়েছে। 

আমি ‘ ফাতিমা আনজাম’। আর কিছুদিনের মধ্যেই আমার জীবনের জবানিকা টানতে যাচ্ছি। মাত্র  আট বছর বয়সে আপন চাচার হাতে বাবা মাকে খুন হতে দেখেছি। বাবা মারা যাবার পর দাদুবাড়িতে  ঠায় হয়নি আমার। আর হবেইবা কেন? দাদুর রেখে যাওয়া অঢেল সম্পত্তির জন্যইতো আমার তিন  চাচা আর দুই ফুপ্পি মিলে ষড়যন্ত্র করে আমার বাবা-মাকে মেরে ফেলেছে। বাবা মাকে ওরা নিজ হাতে খুন করেনি আমার গলায় ছুরি ধরে আব্বু আম্মুকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা করে। আমি শুধু তাকিয়ে দেখলাম আমাকে বাচানোর জন্য তারা দুজনেই কত অবলীলায় গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে  পড়লো। চিৎকার করছিলাম। আমার চিৎকার করা দেখে তারা আমার গলা টিপে ধরলো। আমার ছোট মামা এসে আমাকে নানু বাড়ি নিয়ে যায়। এরপর থেকে নানু বাড়িতেই আমার বেড়ে উঠা। ভালোই চলছিলো আমার দিনগুলো। মা ছিলো নানুর একমাত্র মেয়ে। নানু আর দুই মামা আমাকে খুব  ভালোবাসতো। মামীরাও আমাকে স্নেহ করতো। আমার বড় মামার এক একটা বন্ধু ছিলো। প্রায় আমাদের বাসায় আসতো। আমাকে খুব স্নেহ করতো। আমি তাকে আমার আর একজন মামা হিশাবে জানতাম। আমি তখন ১৭ বছরে পদার্পন  করেছি। আবেগের বয়স। চোখে পৃথিবী ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করার রঙ্গিন স্বপ্ন। কিন্তু মামারা ব্যস্ত থাকায় আমার সে স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। 
একদিন বড় মামা তার বন্ধুকে আমাকে বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য বললেন। উনি স্বচ্ছন্দে রাজী হয়ে গেলেন। একদিন সময় করে আমাকে ঘুরতে নিয়ে যান। বড়লোকের একমাত্র ছেলে ছিলেন। বাবা মায়ের রেখে যাওয়া অঢেল সম্পদ, নানারকম ব্যবসা আছে তার। মাঝে মাঝে দেখাশোনা করা ছাড়া তেমন কোন কাজ ছিলোনা উনার। উনার গাড়িতে করে ঘুরতে বের হলাম আমরা। বিকাল পর্যন্ত  এলোপাথাড়ি ঘুরে বেড়ালাম। এরপর আমরা বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটা হোটেল ভাড়া করলাম। ঘুরতে ঘুরতে আমি উনার প্রেমেও পড়ে গেলাম। সেই সুযোগটাই উনি নিয়েছিলেন। আমার আবেগের সুযোগ নিয়ে নিলেন। আমি নিজেকে সমর্পণ করলাম। সেটাই আমার জীবনের কাল হলো। ঐ ঘটনার  তিন মাস পরে আমি আমার মধ্যে অন্য একটা জীবনের অস্তিত্ব অনুভব করলাম। নিজের প্রতিই নিজের ঘৃণা হতে লাগলো। একদিন উনি আমাদের বাসায় আসলে আমি উনার সাথে বাড়িতে ঘুরতে যেতে চাই। উনি রাজী হয়ে যান। সেদিন রাজ্য দেখার সৌভাগ্য হয় আমার। উনার বাবা মা অনেক  আগেই মারা গিয়েছিলেন। তাই বাড়িতে একাই থাকতো। আমি আমার ভেতরের নতুন নতুন প্রাণের কথা জানিয়ে উনাকে, আমাকে বিয়ে করতে বললাম। কথাটা শুনে উনি অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন। আমাকে তখনই বাসা থেকে বের করে দেয়। অকূল পাথারে পড়ে গেলাম আমি। নানুবাড়ি ফিরে যেতে  ইচ্ছা করলোনা। দুইদিনের জন্য এক বান্ধবীর বাড়ি বেড়ানোর নাম করে থেকে গেলাম। বান্ধবীকেও কিছু বললাম না। কারণ কে কীভাবে নেয় তার কোন ঠিক নেই। নানু বাড়ি সবাই আমাকে মেনে  নিলেও বাচ্চাটাকে এবোরেশান করতে বলবে বিধায় আমি অন্য কোন পন্থা খুঁজতে থাকি। আবারও লোকটার কাছে যাই। অনুনয় করে বলি আপনি শুধু আমাকে বিয়ে করেন কিন্তু কোন স্বীকৃতি দেওয়া লাগবেনা। অন্তত আমার সন্তানটার কোন বাজে পরিচয়ে যেন বাচতে না হয়। আমি প্রতিজ্ঞা করছি এই বিয়ে কথা কেউ জানবেনা। লোকটার মনে হয়তো আমার জন্য দয়া জন্মায়। সে তার দুইজন  বিশ্বস্ত বন্ধুকে নিয়ে বেশ দূরে, যেখানে কেউ তাকে চিনেনা সেখানে গিয়ে আমাকে বিয়ে করে। প্রথম দিকে আমার থাকা খাওয়ার সব খরচ সে বহন করতো কিন্তু আমার সাথে কোনরকম দেখাসাক্ষাৎ করতোনা। তবে আমি কখনও তার দক্ষিণা নিজের পেছনে খরচ করতামনা। তার পাঠানো সমস্ত টাকা একটা এতিম খানায় দান করে দিতাম। তার ভাড়া করা বাড়িতে এক মাস থেকে আমি একটা অতি সাধারণ জায়গায় থাকা শুরু করলাম। আমার মত একজন অসহায় মা, যার সন্তানেরা সবাই তাকে ছেড়ে নিজ নিজ জীবন প্রতিষ্ঠার জন্য দেশ ছেড়ে চলে গেছে, তার সাথে থাকা শুরু করলাম। উনার  বাসাটাও অনেক বড়। সম্পূর্ণ বাড়িটায় আমাদের অধিকার আছে বলে খালাম্মা প্রায়শই বললেও আমি তা হেসে উড়িয়ে বলতাম একদিন দুদিন আরাম করে আমি খারাপ অভ্যাসে অভ্যস্ত হতে চাইনা। 
ঐ বাসাটার নিচে একটা ঘরে আমরা মা ছেলে থাকি। বিনিময়ে উনার বাসার রান্নার কাজটা করে দেই,  উনাকে সঙ্গ দেই। উনার অবস্থাও খুব ভালো না। ডাক্তার বলেছেন উনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন। যেকোন সময় দুনিয়ার পাঠ চুকিয়ে পরপারে চলে যাবেন। আমি ভাবলাম এটাতো যে কারোর সাথেই হতে পারে। এই যেমন আমার সময় ফুরিয়ে আসছে। বিয়ে হলেও সেই মানুষটার কোন খবর আমার আর জানা হয়নি। বেলায় বেলায় অনেক সময় পার করেছি। আমি একটা পুত্র সন্তানের মা হয়েছি। এখন আমার সন্তানের বয়স ৯ বছর। আমি এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত। সময় শেষ হয়ে আসছে। ছেলেকে একটা একটা এতিম খানায় ভর্তি করে দিয়েছি। আজকে ওখানে থেকে আমাকে ডেকে  পাঠানো হয়েছে। কোন এক ধনী দম্পত্তির সন্তান না হওয়ার কারণে তারা এতিমখানা থেকে বাচ্চা দত্তক নিতে এসেছে। কতৃপক্ষ আমার ছেলেকে দত্তক হিশাবে তাদের হাতে তুলে দিতে চায় বিধায় আমাকে সেখানে যেতে বলেছে। আমি তাকে অনুমতি দিয়ে বলেছি আমার থাকার দরকার নেই। আপনি আমাকে চিন্তামুক্ত করেছেন। শর্ত ছিলো যার বাচ্চা দত্তক নেওয়া হবে  সে আর কোনদিন বাচ্চাকে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারবেনা। আমার নোটবুকটা আমার কাপড়ের সাথে রেখে গেলাম। যদি কোনদিন আমার ছেলে এটা খুঁজে পায় তবে যেন সে তার বাবার মুখোমুখি দাঁড়ায়। সে যেন আমার বাবা-মায়ের হত্যার প্রতিশোধ নেয়। আমি চাই ও আমার সাথে করা সমস্ত অন্যায়ের প্রতিশোধ নিক। 

চিঠিটা পড়ে কিছুক্ষণ দম নিলো তালহা। এরপর আবার পৃষ্ঠা উল্টাতে শুরু করে। এরপর পরপর দশটা পৃষ্ঠার পর আবার লেখা শুরু হয়েছে।
০৬-০৭-২০০৭  
প্রিয় মা,
তুমি ছাড়া আমার আপন কেউ ছিলোনা। আমার মনের কথা বলার মত কেউ নেই। তাই সব এই নোটবইতে লিখে রাখি। জানি তুমি কখনোই দেখবেনা এটা তাও মনের খোঁড়াক জোগানোর জন্য লিখি। 
মা তোমার সাথে আমিতো ভালোই ছিলাম। কেন হঠাৎ একদিন তুমি আমাকে এতিম খানায় ভর্তি করে দিলে? তারপর সেখান একজন নিঃসন্তান দম্পতি আমাকে দত্তক নিয়ে গেলো। সেই যে কবে তোমাকে দেখেছি আর দেখাও হয়নি, দুনিয়াতে আর দেখাও হবেনা। আমি তোমাকে চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি। যারা আমাকে দত্তক নিয়েছে তারা অনেক ধনী। রাজাদের বাড়ির মত তাদের বাড়ি। চারিপাশে ফুটফরমায়েশ খাটার জন্য চাকর বাকরের অভাব নেই। তবু কেন যেন আমি তোমার সাথে যে   ঘরটাতে থাকতাম সেটাই অনেক প্রিয় ছিলো। এরা আমাকে তাদেরকে বাবা, মা বলে ডাকতে বলে। কিন্তু আমার পক্ষে অন্য কাউকে মা ডাকা সম্ভব না। আরা বাবা! এই শব্দটা আমার কাছে একটা ঘৃণিত সম্পর্কের নাম। মানুষটাকে সামনে পেলে আমি নিজ হাতে তাকে খুন করবো। না তাও পারবোনা। তুমি বলেছো আইন নিজের হাতে তুলে নিতে হয়না। ঠিক আছে আমি নিজে মারবোনা কিন্তু এমন  অবস্থা করবো যেন মানসিকভাবে দগ্ধ হয়ে লোকটা নিজেই আত্মহননের পথ বেছে নেয়। মা এদেরকে আমি সহ্য করতে পারিনা। এরা তোমার মৃত্যুর পরও তোমার সাথে আমাকে দেখা করতে দেয়নি। গত  সপ্তাহে এতিম খানা থেকে একজন এসে একটা বাক্সটা আমাকে দিয়ে গেছে। সেখান থেকে এই নোটবইটা পেয়েছি আমি। আমি তোমার সাথে হওয়া প্রতিটা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিবোই ইনশাআল্লাহ্‌। তবে তুমি কোন নাম ঠিকানা রেখে না যাওয়াতে আমার একটু অসুবিধা হবে। নানা বাড়ির ঠিকানা দিয়ে ঠিকই বের করে আনতে পারবো।
তোমার আদরের আনিস। 

চিঠিটা পড়ে জানা গেলো লোকটার নাম আনিস। চিঠি পড়া থামিয়ে তালহা কথাটা বললো।
নোটবইটা ঐ লোকটারই হবে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হলি কীভাবে? 
নিশ্চিত হচ্ছিনা কারণ বেহাত হতে পারে কিন্তু আমাদের প্রথমে স্বাভাবিকভাবে যা হওয়া উচিৎ সেটা ভেবে আগানো উচিৎ আর অন্যান্য সম্ভাবনাকে মাথায় রাখা উচিৎ। তালহা আবার নোটবইটা পড়া শুরু করলো। 
০৭-০৫-২০০৮ 
আমার পালক মায়ের একটা ছেলে হয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে বাবা আর মায়ের মধ্য সারাক্ষণ দ্বন্দ্ব চলছে। বাবা বলছে এটা নাকি তার ছেলে না। কারণ একটা দূর্ঘটনা পর ডাক্তারের রিপোর্ট অনুযায়ী  সে নাকি কোনদিন বাবা হতে পারবেনা। বাচ্চাটাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমার পালক মায়ের সাথে কথা না বললেও পালক বাবাটা বাচ্চাটাকে খুব আদর করে।  
১২-০৭-২০১০
আজ সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে আমি এরকম একটা দৃশ্য দেখবো ভাবতেও পারিনি। আরাফ মানে আমার ছোট ভাইটার চিৎকার শুনে সেই ঘরে গেলাম। দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে আমি থ মেরে গেলাম। আমার বাবা-মা রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছে। আমি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে  ফেললাম। আরাফকে নিয়ে সেখানে থেকে বের হয়ে আসলাম।
এরপর নোটবই টায় সব পৃষ্ঠা ফাঁকা পড়ে আছে।  
তালহা নোটবই বন্ধ করে বলল, আসলেই কি ঐ লোকটা নোটবইটার মালিক? আমার মনে হয়না।  কারণ যার ডায়রি লেখার অভ্যাস তার থেমে যাওয়ার কথা না। হিশাব অনুযায়ী আনিসের বয়স এখন ৩২ বছর হওয়ার কথা। কিন্তু ঐ বাড়িতে যে লোকটাকে দেখেছি তার বয়স ৩২ এর বেশি হবে। জটিল রহস্য আছে এখানে। আর একটা বিষয় আমার কাছে মনে হচ্ছে আনিসকে যারা দত্তক নিয়েছে তারাই ঐ পোড়োবাড়ির মালিক। কারণ ছোট মামার বর্ণনা অনুযায়ী সব মিলে যাচ্ছে। আমাদের এখন আনিসকে খুঁজে বের করতে হবে। উনাদের যে ছেলেটা ছিলো সেওতো ওর কাছে থাকার কথা। কি যেন নাম আরাফ। ওর বয়স এখন ১৪ বছর। আচ্ছা এক কাজ করলে কেমন হয়? আমরা এখানকার  এতিমখানাগুলোতে ঢু মেরে দেখতে পারি। 
হ্যা আমারও সেটাই মনে হচ্ছিলো, যায়িদ বলল। কারণ এতিমখানার কতৃপক্ষের কাছে অনেক খবর পাওয়া যাবে। চল আজকেই যাই। 
এখন সকাল ১০টা। বিকাল পর্যন্ত যে কয়টা এতিমখানা দেখা যায় দেখবো তারপর আবার পোড়োবাড়িতে যাবো।
আজকে আবার পোড়োবাড়িতে কি?
আজকে তিনজন মেয়েকে পতিতালয়ে পাচার করা হবে। এসব কাজ সাধারণত রাতে হয়। কিন্তু আমারা সন্ধ্যা থেকে ওখানে থাকবো ইনশাআল্লাহ। যদি কোন গাড়ি আসে সেগুলো নাম্বার টুকে নিতে হবে। এবং আজকে আমরা কিছুটা ছদ্মবেশ ধারণ করবো।
কেমন ছদ্মবেশ? 
ভাবছি আমাদের জুব্বাটা পরে চোখে সানগ্লাস দিয়ে তারপর যাবো। চল এখন নানুকে বলে আমরা বেরিয়ে পড়ি
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/138331/</link>
				<pubDate>Fri, 26 Aug 2022 18:50:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
 পর্ব_সতেরো<br />
সারা রাত দেবদারু গাছের আড়ালেই কাটিয়ে দিলো তালহারা। ফজরের আজানের সময় সাহস করে ওখান থেকে বের হয়ে আসে। চারিদিকে সজাগ দৃষ্টিতে পরখ করে বড় রাস্তাটা পেরিয়ে রাজবাড়ি মসজিদটায় ঢুকে পড়ে। রাস্তা দিয়ে আসার সময় বড় রাস্তার ডান পাশের গলিতে একটা মাইক্রো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয় তালহা। এটাতো মনে হচ্ছে ওর নানু বাড়ির মাইক্রো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-138331"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/138331/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c477f3b7690452ea75aaeaa319652896</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্
 পর্ব_ষোল

যায়িদদের থেকে আলাদা হয়ে তালহা লম্বা করিডোর ধরে একেবারে শেষের ঘরটার কাছে চলে  গেলো। প্রথমদিন শব্দ আর গন্ধের জন্য ভয় পেয়ে করিডোর থেকেই ফিরে গিয়েছিলো ওরা। আজকেও সেদিনের মত শব্দ এবং গন্ধ বিরাজ করছে, তবুও আজ আর ভয় করছেনা তালহার।  কিছুটা অস্বস্তি ভর করলেও তা উপেক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো ও। একদম শেষের ঘরটার দরজার কাছে গিয়ে ধাক্কা দিতে গিয়ে ভেতরের কথার আওয়াজ শুনে থেমে গেলো। পুরানো আমলের বাড়ি বিধায়  চারিপাশটায় এবং মাঝখানে মোটা পিলার দিয়ে মজবুত করা হয়েছে। করিডোরের শেষ প্রান্তের দুইটা মোটা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়লো তালহা। মনোযোগ দিয়ে ভিতরের কথা শুনতে থাকলো। ভেতরে কয়জন আছে এগুলো কিছুই ওর বোধগম্য হলোনা। সেসব না বুঝলেও কথাগুলো শুনলেও সেখান থেকে ক্লু বের করা যাবে ভেবে মনযোগ দিয়ে কথাটা শোনার চেষ্টা করলো।
আগামী রবিবারের মধ্যে মালগুলো জাহাজে উঠিয়ে দিতে হবে। তাহলে আমাদের হাতে আছে আর মাত্র তিনদিন সময়। মেয়েগুলো থেকে মাত্র একটা মেয়েকে বিদেশী ডেলিগেটসরা পছন্দ করেছেন। ওদের মোট চারজন দরকার। এই মেয়েটার জন্য ৫ লাখ টাকা দিতে রাজী হয়েছে। এই ডিলের ব্যাপারে বাকি কথা ওরা বসের সাথে বলে নিবে।
ওকে কোথায় রেখেছো?
১ নং ঘরে। আর বাকিগুলো এই পাশের ঘরটায় আছে।
বাকি তিনজনকে পতিতালয়ে বিক্রী করে দিয়েছি। ওরা ওদেরকে কালকেই নিয়ে যাবে। ডিলগুলোর ব্যাপারে বসের সাথে কথা বলতে হবে। কথা বলতে বলতে লোকগুলো বেরিয়ে আসলো। পিলারে আড়ালে থাকার কারণে ওকে দেখতে পায়নি। লোকগুলো করিডোর ধরে ওরা যেদিক দিয়ে ঢুকেছে সেদিকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তালহা পিলারের পেছন থেকে বের হয়ে সামনের দিকে যেতে গেলেই দৃশ্যটা তার দৃষ্টিগোচর হয়। দূর থেকে দেখলেও বুঝতে পারলো লোকদুজন মুসায়েবকে ধরে একটা ঘরের সামনে দাঁড় করালো। ওরা পেছনে তাকালেই তালহা সেখান থেকে দ্রুত পিলারের আড়ালে সরে পড়ে। সেখান থেকেই ঘরের ভেতরটা দেখতে পায় ও। লোক দুইজনের হাতে টর্চের আলো ছিলো তাই ভেতরের সবকিছু অনায়াসেই দেখা যাচ্ছিলো। দুজনেরই মুখটা এমনভাবে মাস্ক দিয়ে মোড়ানো যে তাদের চেহারা দেখার উপায় নেই। ঘরের ভেতরকার দৃশ্য দেখতে পেলেও ওদের কথোপকথনের ছিটেফোঁটাও কানে আসছেনা ওর। যায়িদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে তারপর মুসায়েবকে যায়িদের সাথে রেখে  ঘরটা বাইরে থেকে তালা মেরে দিলো। তারপর চারিদিকে তাকাতে তাকাতে করিডোর ধরে এদিকেই এগোতে লাগলো। ওদের আসতে দেখে তালহা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়লো। কিছুক্ষণ পর লোকগুলোকে আবার ফেরত যেতে দেখে তালহা পিলারের আড়াল থেকে মুখ বের করে ওদের কার্যকলাপ দেখতে লাগলো। মশার কামড়ে  তালহার প্রাণ বের হয়ে যাওয়ার যোগাড়। কিন্তু নড়াচড়া করছেনা যদি কোন শব্দ হয় তাহলে ও ধরা পড়ে যেতে পারে। পিলারের সাথে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পড়লো।। লোকগুলো ওকে পার হয়ে সামনে যাওয়ার সময় বলতে লাগলো, ঐ চালাক ছেলেটাকে নিশ্চয় এখানে কোথাও আছে। ওকে খুঁজে বের করতে হবে।
ওদের মধ্যে একজনের ফোন বেজে উঠলো। লোকটা থেমে গিয়ে ফোনটা ধরে বলল, হ্যালো স্যার? অন্য লোকটাও পাশে দাঁড়িয়ে গেলো। ওপাশ থেকে কি বলল তা জানা গেলোনা। কিন্তু কথাটা শুনে লোকটা আগের তুলনায় একটু বেশি জোরে বলে উঠলো, কি বলেন স্যার। তাহলে ঐ বিচ্ছুগুলাই বোধহয় এ কাজ করেছে। দুইটাকে ঘরের মধ্যে  আঁটকে রাখছি। কিন্তু সবথেকে চালাক যেইটা, ঐ যে  তালহা, যেটারে আগের বার ধরছিলাম, ওকে খুঁজে পাইনি। আমার মনে এদের দুইজনকে এখানে রেখে তালহা আপনার অফিসে গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। তাহলে ছেলেটা ঐ বাসার আশেপাশেই আছে। ঠিক আছে আমরা এখুনি আসছি বলে ফোটনা কেটে দিলো। ফোনটা কান থেকে সরিয়ে সাথের লোকটাকে বলল, স্যারের বাড়ি নাকি কারা ঢুকে স্যারের ডায়েরি আর একটা পাসপোর্ট আকারের ছবি নিয়ে চলে গেছে। আমার ধারণা তালহা ছেলেটা ঐ বাসাটার আশেপাশেই আছে। এখানে থেকে আরা লাভ নেই। স্যার আমাদের ডেকে পাঠিয়েছেন। কথা বলতে বলতে লোকগুলো চলে গেলো।
লোকগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ আড়ালে থাকলো তালহা। তারপর যখন মনে হলো  ওরা আর কাছে ধারে নেই তখন বের হয়ে আসলো। যে ঘরটায় যায়িদ  আর মুসায়েবকে আটকে রাখা হয়েছে সে ঘরের সামনে চলে গেলো। মাল্টি নাইফটা বের করে তালাটা খুলে ফেললো। ভেতরে ঢুকে যায়িদ আর মুসায়েবকে টান টান হয়ে শুয়ে থাকতে দেখলো। কাছে গিয়ে ওদেরকে ডাক দিলো।
বাইরের দরজা খোলার শব্দ শুনে যায়িদরা ভেবেছিলো লোকগুলোই আবার ফিরে এসেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব মুসায়েবকে নিয়ে শুয়ে পড়েছিলো যায়িদ। তালহার কন্ঠ শুনে তড়াক করে উঠে পড়লো।  মুসায়েব চোখ বড় বড় করে বললো, তুই! আমরাতো ভেবেছিলাম ঐ লোকগুলোই আবার ফিরে এসেছে। ওরা তোকে খুঁজে পায়নি?
তোদের এখানে তালা মেরে রেখে আমাকেই খুজছিলো; একটা ফোন আসাতে ওদের চলে যেতে হয়েছে। এসব ব্যাপারে পরে কথা হবে। এখন আমাদের হাতে একদমই সময় নেই। লোক দুইজন আবার ফিরে আসার আগেই আমাদের এখান থেকে চলে যেতে হবে।
তাহলে রহস্যের কি হবে? আমার ধারণা সব রহস্য এই ঘরটাতেই আছে।
এই ঘর মানে? অবাকের সুরে বলল তালহা।
যায়িদ মেলামাইন বোর্ড দিয়ে আটকানো ঘরটা দেখিয়ে বলল, এই ঘরটার দেয়াল জুড়ে অনেকগুলো মেয়ের ছবি। এছাড়া ...........................
ওকে কথাটা শেষ করতে না দিয়ে তালহা বললো, এসব কথা বাসায় গিয়ে আলাপ করবো। এখন এখানে আর এক মুহূর্তও থাকা সম্ভবনা। প্রায় টানতে টানতে বন্ধু দুজনকে বাইরে বের করে নিয়ে এসে ঘরটাতে আর তালা লাগিয়ে দিলো। দ্রুততার সাথে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লো ওরা। দেবদারু গাছের ফাঁকে রাখা ব্যাগগুলো নিয়ে এক প্রকার দৌড়ে বড় রাস্তায় উঠে গেলো।
গাড়িটাতো ছেড়ে দিলি এখন কীভাবে যাবো আমরা? কপট রাগ দেখিয়ে কথাটা বলল মুসায়েব।
সেটা যে আমি ভাবিনি তা কিন্তু না। কিন্তু গাড়িটা এখানে দাঁড় করিয়ে রাখাটাও ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। এখনও কিন্তু বেশি রাত হয়নি। মাত্র এগারোটা বাজে। আমি এখনই এখান থেকে যেতে চাইনা। চল আমরা এ পাশটায় লুকিয়ে থাকি। লোকগুলো এখনও বের হয়নি। আরও কিছুক্ষণ থেকে দেখি কি হয় এখানে?
বেশি রাত হলে আমরা যাবো কি করে? 
এতো অস্থির হচ্ছিস কেন? দরকার হয় যাবোনা। আশেপাশেই থেকে যাবো। একটু থেমে আবার বলল,
এবার ভাবছি মাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে একটা ফোন কিনে নিবো। এসব কাজে নেমেছি অথচ কারো সাথে আমাদের যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা নেই। এখন একটা ফোন থাকলে সবার সাথে যোগাযোগ করতে পারতাম! ছোট মামাকে গাড়িটা পাঠিয়ে দিতে বলতে পারতাম!
ছেলেটাকে খুঁজে বের করতে পারলেনা? আমার ধারণা ও আশে পাশেই আছে। আমার ধারণা ছেলেটা শান্ত কুটিরে আবার ঢুকবে। ওর বন্ধুদের না নিয়ে ওর এখান থেকে যাওয়ার কথা না।
কিন্তু সেদিনওতো ওরা তিনজন ছিলো। বাকি দুজন ওকে না পেয়ে একবারও কি খোঁজ করেছে?
নিশ্চয় করেছে। তবে আজকের পরিস্থিতিটা অন্যরকম। ওরা এখন এই ব্যাপারে অনেকটা এগিয়ে গেছে। এখন  ওদের ভয়টাও কমে গেছে। যেহেতু ভেতরটা গতদিনের থেকে আজকে বেশি পরিচিত হয়ে গেছে তাই তালহা অবশ্যই ওর বন্ধুদেরকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। তোমরা বরং ভেতরটা আবার দেখে আসো।  রাস্তার পাশে লাগানো দেবদারু গাছে আড়ালে লুকিয়ে ছিলো তালহারা। বড় রাস্তা থেকে শান্ত কুটিরে যাওয়ার সময় গুঞ্জন শুনতে পেয়ে বুঝতে পারে লোকগুলো এদিকটায় আসছে। তাই আর সামনে না এগিয়ে তালহা বন্ধুদের নিয়ে গাছগুলোর আড়ালে দাঁড়িয়ে পড়ে। তখনই কথাগুলো ওদের কানে যায়।  মশা আর পোকামাকড়ের অত্যাচার সহ্য করে কোন শব্দ না করে ওদেরকে দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।  কারণ একটু নড়াচড়া করলেই ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এতক্ষণ শুধু কথা শুনতে পেলেও এখন স্পষ্ট তিনজনকে এদিকে হেঁটে আসতে দেখা যাচ্ছ। রাস্তায় কোন লাইট না থাকলেও বড় রাস্তায় লাগানো সোডিয়াম বাতি থেকে আসা আবছায়া আলোতে লোক তিনজনকে চিনতে অসুবিধা হলোনা  ওদের। ওদের মধ্যে দুইজন শান্ত কুটিরে যে দুজনকে দেখেছিলো তারা আর তৃতীয় জন হলো  গতকাল রহস্যজনক বাড়িটাতে যাকে ঢুকতে দেখেছিলো সে। তৃতীয় লোকটার সাথে বাকি দুজনের কথা বলার ধরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে এই লোকটাই ওদের বস। লোকটার মধ্যে একটা কেতাদুরস্ত ভাব আছে যেটা দেখে সহজেই তার অবস্থান আঁচ করা যায়। অবশ্য এদের বসের কোন ঠিক নেই। বসের উপরে বস তার উপরে বস, বসেরই কয়েকটা স্তর থাকে।
তিনজনই মাস্ক দিয়ে এমনভাবে মুখ ঢেকে রেখেছে দেখার উপায় নেই। শুধু কপাল আর চোখ দুইটা দেখা যাচ্ছে। একজনকে দেখে তালহার কাছে খুব সেদিনকার সেই লিটনের মতো মনে হচ্ছে এবং কণ্ঠস্বরও ঐ লোকটার কথাই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে তালহাকে। বন্ধুদেরকে বলেও ফেললো ওর মনের কথাটা। ওর কথা শুনে যায়িদ আর মুসায়েব দুইজন একসাথেই বলে উঠলো হ্যা ঐ লোকটাতো লিটনই। আমাদের যখন ধরেছে তখন অন্যজন ওকে লিটন বলে ডেকেছে।
ওদের কথা শুনে তালহা নিশ্চিত হলো। কিছু একটা জয় করে ফেলেছে এমন একটা হাসি দিয়ে বলল, ও তাহলে এরাই আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো!
বসের কথামত লোক দুইজন ওদের খোঁজার জন্য আবার শান্তকুটিরের দিকে চলে গেলো। ওরা চলে গেলে লোকটা কাকে যেন ফোন করলো। ফোনটা কানে ধরে রেখেছে কিন্তু কোন কথা বলছেনা। বোঝায় যাচ্ছে ওপাশ থেকে রিসিভ হয়নি। কান থেকে ফোনটা নামিয়ে আবার কল করলো। প্রথমবার রিসিভ না হওয়ার কারণে কেটে গেছে বিধায় আবার করতে হলো। এবারো অনেকক্ষণ কানে ধরে রাখার পর কোন কথা না বলে আবার ডায়াল করলো। এভাবে ছয়বার কল করার পর ফোনটা রিসিভ হলো। এবার অবশ্য ফোনটা কানে না দিয়ে স্পিকারে কথা বলছে লোকটা। তাই সব কথা শোনা যাচ্ছে। চার কি পাঁচবার রিং হওয়ার ঐ পাশ থেকে গমগমে কন্ঠস্বরে একজন লোক বলল হ্যালো ফরহাদ স্পিকিং।
হ্যালো আমি আজাদ চৌধুরী বলছিলাম। আপনাদের সাথে আমাদের সবরকম আর্থিক লেনদেল শেষ। আপনারা আমাদের ক্লাইন্ট তাই আপনাদের সবরকম সুবিধা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমাদের এখানে সব কাজ শেষ। পরশু আপনাদের কাছে আমাদের মাল পৌঁছে যাবে তখন বাকি টাকাটা দিয়ে দিবেন। অরণি ফাইভ স্টার হোটেলে হবে লেনদেনটা।  কাল আমার অন্য এক জায়গায় প্রোগ্রাম আছে এজন্য কালকের দিনটা ফাঁকা রেখেছি, নইলে কালকেই আপনার সাথে দেখা করতাম।
ঠিক আছে। স্পিকার দেওয়া থাকায় কথাগুলো তালহাদের কানেও গেলো। কিছুক্ষণ পর  বাকি লোকদুটো ঝড়ের বেগে ছুটে এসে বলল, স্যার সর্বনাশ হয়ে গেছে!
কি সর্বনাশ?
ছেলে দুইটা পালিয়েছে। আমরা প্রথমে গিয়ে দেখলাম সব ঠিকঠাক আছে। যে ঘরটায় ওদের বন্দী করে রেখেছি ওখানে তালাটা ঠিকমত ঝুলতে দেখে ভাবলাম যাক ছেলে দুইটা আঁটকে আছে। ওদের আরেকজন নিশ্চয় আমাদের শব্দ শুনতে পেয়ে পালিয়েছে। এসব ভেবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে চলে আসতে গিয়ে আবার ফিরে গিয়ে দরজাটা খুলে দেখি ভেতরে কেউ নেই।
তোমাদের দুজনের একসাথে আমার কাছে যাওয়াটা ঠিক হয়নি। তালহা ছেলেটা ওখানেই ছিলো তোমরা বের হওয়ার পরে ও ওদেরকে বের করে নিয়ে যায়।
কিন্তু তালাটা খুললো কি করে ?
একটা বুদ্ধুর মতো কথা বললে! একটা তালা খোলা কি এমন ব্যাপার?
তাহলে স্যার আপনার অফিসে কারা হানা দিলো?
লোকটা কোন উত্তর না দিয়ে চিন্তিত মুখে তার চ্যালা দুইজনকে নিয়ে বের হয়ে গেলো।
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/135518/</link>
				<pubDate>Sun, 21 Aug 2022 11:24:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> পোড়োবাড়ির_রহস্<br />
 পর্ব_ষোল</p>
<p>যায়িদদের থেকে আলাদা হয়ে তালহা লম্বা করিডোর ধরে একেবারে শেষের ঘরটার কাছে চলে  গেলো। প্রথমদিন শব্দ আর গন্ধের জন্য ভয় পেয়ে করিডোর থেকেই ফিরে গিয়েছিলো ওরা। আজকেও সেদিনের মত শব্দ এবং গন্ধ বিরাজ করছে, তবুও আজ আর ভয় করছেনা তালহার।  কিছুটা অস্বস্তি ভর করলেও তা উপেক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো ও। একদম শেষের ঘরটার দরজার কাছে গিয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-135518"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/135518/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cda722252b329fa61df21959019f8bdd</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির রহস্য 
পর্ব_পনেরো
শব্দটা শুনেই তালহা সতর্ক হয়ে গেলো। খুব দ্রুত সেখান থেকে সরে পাশের ঘরের বারান্দায় চলে গেলো। সেই লোকটাই এসেছে বোধহয়, একটু আগে যে এসেছিলো। তালহা বারান্দার ভেতরে দিকে চলে গেলো। মনে হলো অনেকগুলো পায়ের শব্দ। গা শিউড়ে উঠলো তালহার। ‘ যদি ধরা পড়ে যায়!’ পায়ের শব্দ শুনে তালহা নিশ্চিত ঘরটাতে একজন নয় একাধিক লোক ঢুকেছে। ও আর একটু  আড়ালে ঢুকে যায়। কিছুক্ষণ পর কথাবার্তার আওয়াজ শোনা যায়। তালহা কান পেতে কথা শোনার চেষ্টা করে।  কিছুক্ষণ শোনার পর বুঝতে পারে অন্য কেউ নয় তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের জন্য তালা খুলে ঢুকে পড়েছে। আড়াল থেকে বের হয়ে আসে তালহা। তিনজনে মিলে আরও কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটি করে তেমন কিছু পেলোনা। আর বেশীক্ষণ থাকাটা বিপদজনক হতে পারে ভেবে বেরিয়ে যেতে গিয়ে  আবার দাঁড়িয়ে পড়লো তালহা। এতক্ষণ নজরে পড়েনি জিনিসগুলোর উপর। ঘরের একটা কোণায়  চাদর দিয়ে ঢাকা পড়ে আছে ওগুলো। চাদর দিয়ে ঢাকা থাকলেও পিয়ানোটা চিনতে অসুবিধা হলোনা তালহার। কাছে গিয়ে চাদর তুলে থ মেরে গেলো ও।

পিয়েনো, গীটার, ভায়োলিন, বেস গীটার, সাউন্ড বক্স, কংগা, ড্রাম সব মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট একটা চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তালহা আবার চাদর দিয়ে সেগুলো ঢেকে দিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে গেলো। বের হওয়ার সময় দরজায় তালা মারতে ভুললোনা। ওর দেরি দেখে যায়িদ একবার উঁকি দিয়ে দেখেছে ও কি করছে তারপর দুজনে দরজার কাছে পাহারাদারের মত দাঁড়িয়ে ছিলো। তালহা  বের হতেই ওরা দ্রুত সেখান থেকে প্রস্থান করলো। যেতে তালহা বলল, ভেতরের ঘরটাতে অনেকগুলো মিউসিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট দেখলাম। সাধারণত এই ধরণের ইনস্ট্রুমেন্ট ব্র্যান্ডের দলের কাছেই থাকার কথা। ব্যাপারটা খতিয়ে দেখার মতো। ডায়েরীটাও মনে হচ্ছে কোন কাজে দিবে। 
আজকে আর পোড়োবাড়িতে ঢুকবোনা? মুয়ায়েব তালহাকে জিজ্ঞাসা করলো।
ঢুকবো, বাড়িটা থেকে বের হয়ে সামনের দিকে এগোতে গিয়ে ডান পাশে একটা সরু গলি দেখতে পেলো তালহা। একমনে হেঁটে যাচ্ছিলো যায়িদ আর মুসায়েব। পেছন থেকে জামা টেনে ধরলো তালহা। তালহা টান দেওয়াতে ওরা দুজনেই দাঁড়িয়ে পড়লো। অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো কীরে দাঁড়িয়ে পড়লি কেন?  
হাত দিয়ে ডান পাশটা দেখিয়ে বললো, দ্যাখ এই গলিটা ওদিকে চলে গেছে। আমার ধারণা এটা পোড়োবাড়িটার সাথে গিয়ে মিশেছে। চল ওদিকটায় গিয়ে দেখি। তিনজন মিলে পথ পরিবর্তন করে গলিটার মধ্যে ঢুকে গেলো। প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটার পর দেখা গেলো গলিটা সত্যিই পোড়োবাড়ির সাথে মিশেছে। ভেতরে ঢুকতে গিয়ে মানুষের আওয়াজ শুনে থেমে গেলো ওরা। রাস্তাটার দুইপাশে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি দেবদারু গাছ। শব্দটা শুনে গাছের আড়ালে চলে গেলো ওরা। আড়ালে থেকে একটু মাথা বের করে দেখলো দুজন লোক বের হয়ে যাচ্ছে। একেতো অন্ধকার তার উপর দুজনই মাস্ক আবৃত থাকায় চেহারা দেখতে পারা গেলোনা। লোক দুজন বের হয়ে যাওয়ার পর তালহারা ভেতরে ঢুকে পড়লো। সিঁড়ি দিয়ে সোজা নিচে নেমে গেলো ওরা। নিচের দিকটা ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকার। নামতে নামতে আবার সেদিনকার মত সেই ঘ্রাণ নাকে এসে নাকে এসে লাগলো। ঘ্রাণের সাথে সাথে অদ্ভুত শব্দটাও কর্ণকুহরে ঢুকে আবেশ সৃষ্টি করতে লাগলো। সময়ের সাথে সাথে শব্দটা জোরালো হতে থাকে। নিচে নেমে লম্বা করিডোর ধরে হাঁটতে লাগলো তালহা। যায়িদ ও মুসায়েবের একজনকে সিড়ির কাছে এবং অন্যজনকে বাম পাশের ঘরগুলো দেখতে বলে তালহা একাই করিডোর ধরে একেবারে শেষ প্রান্তে চলে গেলো। 
মুসায়েবকে সিঁড়ির গোড়ায় বসিয়ে বাম পাশের ঘরগুলোতে চলে গেলো যায়িদ। অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না। তবে কিছুক্ষণ পর চোখ সওয়া হয়ে গেলে চারিদিকটা দেখতে পেলো। ঢোকার মুখের ঘরটা   ফাঁকা। একটা ফাইল কেবিনেট আর একটা খাট ছাড়া আর কিছুই নেই ঘরটাতে। তার পরের ঘরটা দেখেও হতাশ হতে হলো। কিন্তু ৩ নাম্বার রুমে গিয়ে যায়িদের চোখ ছানাবড়া। কতগুলো ড্রাম  সারিবদ্ধ করে রাখা আছে। যায়িদ একটা ড্রামের ঢাকনা তুলে দেখলো বিকট গন্ধ বের হচ্ছে। হাত দিয়ে তাতে আঠেলো তরল বস্তু দেখতে পেলো। এর পরের ড্রামের ঢাকনা তুলে দেখা গেলো কতগুলো প্যাকেট স্তরে স্তরে সাজানো রয়েছে। একটা প্যাকেট হাতে নিয়ে দেখে ভেতরে সাদা রঙয়ের পাউডার। পর দুইটা ড্রাম ভর্তি করে সাদা প্যাকেট রাখা আছে। এর পরের ড্রামেও অনেকগুলো প্যাকেট স্তরে স্তরে সাজিয়ে রাখা আছে। এসব প্যাকেটে্র ভেতর পাউডারের বদলে আছে ছোট ছোট ট্যাবলেট দিয়ে। মোট পাঁচটা ড্রাম রাখা আছে ঘরটাতে। পঞ্চম ড্রামটার ঢাকনা খুলতে গিয়ে দেখলো বেশ শক্ত করে আটকানো। দুই হাত দিয়ে টেনে ঢাকনা খোলার চেষ্টা করেও কাজ হচ্ছে না। 
এভাবে সারাদিন টানাটানি করলেও ঢাকনা খোলা তোমার পক্ষে সম্ভব হবেনা। 
তুই জানিইই...............কে কে কথা বলে? তোতলাতে তোতলাতে কথা বলে পেছনে ফিরেই লোকটাকে দেখতে পেলো যায়িদ। শুধু চোখ ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছেনা লোকটার। অবাক হয়ে লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকলো যায়িদ। মনে মনে ভাবলো এখানে আসলো কি করে? মুসায়েবের সংকেত পাঠানোর কথা ছিলো কিন্তু ওতো কোন সংকেত শুনতে পায়নি। ঘুমিয়ে গেলো নাকি ছেলেটা।
কি ভাবছো? বন্ধুর কথা? সেও আমাদের হেফাজতে আছে। লিটন ওকে নিয়ে আয়তো। কিছুক্ষণ পরে একটা লোক হাত পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় মুসায়েবকে নিয়ে আসলো। লোকটার নাম লিটন। হ্যা  এই নামটাই তালহার কাছে শুনেছে। যায়িদের মনে পড়ে গেলো। প্রথম লোকটা মুসায়েবকে ভেতরে  ঢুকিয়ে যায়িদকে বলল, এখন দুই বন্ধু এখানে বসে বসে পরিকল্পনা কর। কথাটা বলতে বলতে ওদেরকে ঘরের মধ্যে আঁটকে রেখে বাইরে থেকে দরজাটা বন্ধ করে দিলো। কিছুক্ষণ পর দরজাটা আবার খুলে গেলো। যায়িদ আর মুসায়েব ঘরটার চারিদিক চোখ বুলিয়ে বের হওয়ার পথ খুজছিলো। দরজা খোলার শব্দে তটস্থ হয়ে যায়। আবার আগের জায়গায় গুটিশুটি হয়ে বসে থাকে।
এবার শুধু লিটন নামের লোকটা ভেতরে আসে। তোমাদের বন্ধু কই? ঢুকেই প্রশ্নটা ওদের উদ্দেশে ছুড়ে দিলো। 
প্রশ্নটা শুনে নিশ্চিত হওয়া গেলো যে তালহা ধরা পড়েনি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো যায়িদ।  
লিটন ধমকের সুরে আবার জিজ্ঞাসা করলো, বললেনা তোমাদের চালাক বন্ধুটা কোথায়?
চালাক বন্ধু? আপনি কার কথা বলছেন?
কি যেন নাম? কিছুক্ষণ মনে করার চেষ্টা করে বলল, মনে পড়েছে তালহা, তাইনা? 
মিথ্যা বলাটা ঠিক হিবে কিনা বুঝতে পারছেনা যায়িদ। একটু ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা করলো তালহা কে?
কেন চিনোনা তোমরা? ন্যাকামী না? 
মুসায়েব বলল, আপনি কেমন করে চিনেন?
লিটন বুঝতে পারলো মুসায়েবরা চালাকি করছে। রেগে গিয়ে বললো চালাকি না করে ভালোই ভালো বলে দাও। নইলে কি করে কথা বের করতে হয় আমার জানা আছে। ওর মুখে তোমাদের নাম শুনেছি।
যায়িদ বলল, হ্যা আমরা তিন বন্ধু। কিন্তু এখানে ঢোকার পর আমরা তিনজন আলাদা হয়ে যাই। ও কোথায় গেছে আমরা জানিনা। মুসায়েবও যায়িদের সাথে সুর মেলালো।
ওদের দুজনের কথা বলার ভঙ্গী দেখে লিটন ওদের কথা বিশ্বাস করলো এবং দরজাটা আঁটকে দিয়ে চলে গেলো। 
তালহা তাহলে ওদের হাতে ধরা পড়েনি? মুসায়েবের দিকে তাকিয়ে যায়িদ বলল কথাটা। তারপর ড্রামগুলো দেখিয়ে বললো, আমার ধারণা এই ড্রামগুলো সব নেশাজাতীয় পদার্থ দিয়ে ভরা। 
তার মানে এরা মাদক পাচারের সাথে জড়িত। 
হ্যা এবং এই বাসাটা এই কাজেই ব্যবহার করা হয়।  
তাতো বুঝলাম কিন্তু রহস্য উদঘাটন করতে হলে আগে আমাদের এখান থেকে বের হওয়ার উপায় বের করতে হবে। 
চল দেখি কীভাবে বের হতে পারি। যায়িদ আর মুসায়েব উঠে ঘরটার চারিদিকে নজর বুলাতে থাকে। একটাও জানালা নেই আর না আছে কোন বাথরুম। আশ্চর্য এরকম একটা ঘরে আমাদের রেখে গেলো যেখানে একটা ওয়াশরুমও নেই। রাগতস্বরে কথাটা বলল মুসায়েব।  
যায়িদও বেশ রেগে গেলো। এরকম একটা বদ্ধ ঘরে আটাকে রাখার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে আসছে। যায়িদ ঘরটার চারপাশ পায়চারি করতে লাগলো। হঠাৎ একটা দেওয়ালের একটা জায়গা দেখে ওদের সন্দেহ হলো। কাছে গিয়ে টোকা দিয়ে দেখলো ফাঁপা আওয়াজ করছে। মনে হলো পারটেক্স বা মেলামাইন বোর্ড জাতীয় কিছু একটা। একটু জোরে ধাক্কা মারতেই ঠিক দেওয়ালের মতো শক্ত মনে হলোনা জায়গাটাকে। দুইজন মিলে ধাক্কা দিতে লাগলো। প্রায় দশবার একাধারে ধাক্কা দেওয়ার ফলে জিনিসটা দেওয়াল থেকে আলাদা হয়ে পড়ে গেলো। অবশ্য পড়ার সময় ওদেরকে নিয়েই পড়লো। কিছুক্ষণ সেভাবেই থেকে দুজনেই উঠে দাঁড়ালো। যেখানে পড়েছে সেটাও আর একটা ঘর। অন্ধকারে  কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। মুসায়েব চোরা পকেট থেকে মিনি টর্চটা বের করলো। ব্যাগগুলো বেহাত হওয়ার ভয়ে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস বের করে রেখে ব্যাগগুলো দেবদারু ঘেরা ঘন বনের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে তালহা। এন্টিকার্টার, মাল্টি-নাইফ, মিনি টর্চ প্রতিটা একটা করে নিজে নিয়েছে এবং বন্ধুদের দিয়ে বলেছে, প্রয়োজনে কাজে লাগাতে ভুলবিনা কিন্তু।
মুসায়েব ছোট টর্চটা জ্বেলে চারিদিক দেখতে লাগলো। দেওয়ালে টর্চের আলো ফেলার সাথে সাথে ও আঁতকে উঠলো। চারিপাশের দেওয়াল জুড়ে অসংখ্য মেয়েদের ছবি। সবার চেহারাই খুব সুন্দর। যায়িদ একটা পেইন্টিং এর দিকে অপলক তাকিয়ে ছিলো। মুসায়েব ওকে ডেকে বলল, এদিকে এসে দ্যাখ।
পেইন্টিংটা হাতে নিয়েই মুসায়েবের কাছে চলে গেলো যায়িদ। কিরে কি দেখার জন্য ডাকলি?
মুসায়েব টর্চটা জ্বেলে দেওয়ালগুলো দেখিয়ে বলল, ছবিগুলো দ্যাখ। 
যায়িদও অবাক হয়ে গেল। চারিপাশের দেওয়াল জুড়ে তিন সারিতে প্রায় একশটার উপরে ছবি আছে। প্রত্যেকটা ছবির নিচে নাম এবং সাল লেখা আছে। প্রথমে জন্মসাল ভাবলেও পরে দেখা গেলো ঐটা জন্মসাল না। সবগুলো ছবি বিশ্লেষণ করে ভালো করে পরখ করে দেখা গেছে ২০১৫ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত সময়টাকে বোঝাতে চেয়েছে। একটা ব্যাপার খেয়াল করছিস? মুসায়েবের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা করলো যায়িদ। 
কি ব্যাপার?
প্রতিটা ছবি দেখে আমার মনে হচ্ছে সবাই একই বয়সের। মানে সবার বয়সই ১৭ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। অপহরণ কেসের সাথে মিলে যাচ্ছে না?
আরে না ঐটার সাথে এখানকার ছবির সংযোগ আছে বলে আমি মনে করিনা। তাচ্ছিল্যের সাথে বললো মুসায়েব। 
আমি সেটা বলিনি। কিন্তু ভাবতে দোষ কী? রহস্য উদঘাটনের জন্য অনেক কিছুই ভাবতে হয়। এই পেইন্টিংটা দ্যাখ। সমসাময়িক কালের না। কম করে হলেও ৩০ বছর আগেরতো হবেই। অথচ একটুও ধূলা জমেনি। আমার ধারণা এটা সবসময় মুছে রাখা হয়। সারা ঘরে ধূলা, আর ঝুল মাখামাখি হয়ে আছে। ধূলিমলিন ঘরটাতে যেখানে সবকিছুতে ধূলার আস্তর পড়ে মলিন হয়ে আছে সেখানে এক কোণায় সযত্নে রাখা এই ছবিটায় সামান্য পরিমাণ ধূলা জমতে দেওয়া হয়নি। এ থেকে বোঝা গেলো কেউ একজন এই ছবিটা প্রতিদিন মুছে রাখে। খট করে একটা শব্দ হলো। যায়িদ কোনকিছু না ভেবে পেইন্টিংটা আগের জায়গায় রেখে একটানে মুসায়েবকে আগের ঘরটাতে ঢুকিয়ে বোর্ডটা আবার লাগিয়ে দিয়ে ঘরের এক কোণে সটান হয়ে দুজনে শুয়ে পড়লো। 
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/133317/</link>
				<pubDate>Wed, 17 Aug 2022 10:10:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির রহস্য<br />
পর্ব_পনেরো<br />
শব্দটা শুনেই তালহা সতর্ক হয়ে গেলো। খুব দ্রুত সেখান থেকে সরে পাশের ঘরের বারান্দায় চলে গেলো। সেই লোকটাই এসেছে বোধহয়, একটু আগে যে এসেছিলো। তালহা বারান্দার ভেতরে দিকে চলে গেলো। মনে হলো অনেকগুলো পায়ের শব্দ। গা শিউড়ে উঠলো তালহার। ‘ যদি ধরা পড়ে যায়!’ পায়ের শব্দ শুনে তালহা নিশ্চিত ঘরটাতে একজন নয় একাধিক লোক ঢুকেছে। ও আর এক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-133317"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/133317/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">924e124fd9815deac5e3d20742164ac8</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য
পর্ব_চৌদ্দ
তালহাদের থেকে চোখ সরিয়ে বজ্রকন্ঠে সিকদার সিকদার বলে ডাকতে থাকলেন রওশন চৌধুরী।
জ্বি স্যার, সিকদার দৌড়ে এসে ভীতকণ্ঠে বলল।
এরা কারা?
কেন স্যার আপনি না বললেন আমার কাছে তিনজন লোক আসবে। তাদেরকে আমি যেন বসার ঘরে বসাই।
উহ্‌, তোমাকে নিয়ে আর পারিনা। আমি তোমাকে তাদের নাম জিজ্ঞাসা করতে বলেছি না? এদের বসানোর সময় নাম জিজ্ঞাসা করেছিলে?
না স্যার? যারা আসবে তাদের নাম কি? 
এখন আর নাম শুনে কি করবে। এখন আমিই দেখছি। তারপর তালহাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা আবার এসেছো কেন? ঐ বাড়িটা নিয়ে যে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম সেটা তুলে নিয়েছি। সেই ব্যাপারে এসে থাকলে কোন লাভ নেই। 
সেই ব্যাপারেই এসেছিলাম। কিন্তু স্যার বিজ্ঞাপনটা তুলে নিয়েছেন কেন বুঝলামনা। 
আর বলোনা বিজ্ঞাপনটা দেওয়ার পর থেকে কে বা কারা আমাকে রাতদিন ফোন করে শাসাতে থাকে। একদিন পরেই আমি একই পত্রিকাতে ঐ বাড়ির ব্যাপারে আগ্রহী না এই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন ছাপানোর পর ফোন আসা বন্ধ হয়। 
কিন্তু স্যার, কে আপনাকে এমনভাবে শাঁসালো তা জানতে ইচ্ছা করেনি?
দেখো আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। তাই কোন রকম ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছিলাম না। দেশে অনাদরে পড়ে থাকা মালিকবিহিন পুরানো বাড়িগুলোর মেরামত সংক্রান্ত একটা সভায় সরকারী প্রতিনিধি হিশাবে উপস্থিত ছিলাম।  ঝিনেদায় আটটা পরিত্যক্ত বাড়ি খুঁজে বের করি আমরা। নলডাঙ্গার ঐ বাড়িটা ছাড়া বাকিগুলো নির্বিঘ্নে সরকারের আয়ত্বে আনা গেছে। আটটা বাড়ির মধ্যে শান্তকুটির ছাড়া দুইটা শুধু ব্যক্তি মালিকাধীন ছিলো আর বাকিগুলো সব পুরানো আমলের জমিদার বাড়ি। মালিকাধীন বাড়িগুলো  আমরা মালিকের সাথে সমঝোতা করে নিয়ে নিয়েছি আর বাকিগুলো সরকারী দপ্তর হিশাবে ব্যবহার করা হবে। সরকার অবশ্য পরে বাড়ি উদ্ধারের কাজটা ‘সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সংস্থা’ কে 
রওশন বাসায় আছো নাকি? বলতে বলতে একজন মধ্যবয়স্ক লোক এবং সাথে দুইজন সুদর্শন যুবক সেখানটায় প্রবেশ করলো। রওশন মজুমদার উনার কথা আর শেষ করতে পারলেননা
আরে কাইয়ুম তোমার কথায় হচ্ছিলো। এতো দেরি করলে যে আসতে? দুপুর থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। কাইয়ুম চৌধুরী বসার ঘরে ঢুকে যায়িদদের দেখে বললেন, আরে তোমরা এখানে? কি ব্যাপার রওশন ওরা তোমার এখানে?
কেন, তুমি ওদের চিনো নাকি?
হ্যা চিনিতো। তবে তালহার সাথে পরিচিত হওয়া বাকি ছিলো। তালহার দিকে হাত বাড়িয়ে বললো, আমি কাইয়ুম চৌধুরী। তালহাও নিজের হাতটা বাড়িয়ে কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে করমর্দন করলো।  আমার ছেলেদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই, উনার সাথে আসা সুদর্শন যুবক দুইজন যুবককে দেখিয়ে কথাটা বলল কাইয়ুম চৌধুরী। মিনহাজ চৌধুরী, এবং মারুফ চৌধুরী, আমার দুই ছেলে। ওরা ক্যানাডায় থাকে,  একমাসের ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছে। রওশন আমার ছোট বেলার বন্ধু। আমাদের  স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় সব একই সাথে ছিলো। দুইজনই ম্যাথে পড়াশোনা করেছি। এরপর ও বি সি এস দিয়ে সরকারের খাস আমলা হয়ে গেলো আর আমি গোয়েন্দাগীরি শুরু করলাম। এবার বল তোমাদের কাজ কতদূর? 
তালহা বলল, আমাদের কাজের তেমন কিছুই হয়নি। প্রথমবারতো একটু অগোছালো হয়ে যাচ্ছে। 
তোমাকে সেদিন কারা ধরে নিয়ে গিয়েছিলো? সেখান থেকে পালালে কীভাবে?
তালহা তার সাথে হওয়া সব ঘটনা বর্ণনা করলো। 
রওশন চৌধুরী এতক্ষণ চুপ করে ওদের কথা শুনছিলো। এবার কথা না বলে পারলেননা। অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি বুঝতে পারছিনা কাইয়ুম, তুমি এদের কেমন করে চিনো?
আরে তাইতো, সেই মজার ঘটনাটাতো তোমাকে বলা হলোনা। তারপর উনি রসিয়ে রসিয়ে কীভাবে উনার সাথে যায়িদ আয় মুসায়েবের দেখা হলো সেই ঘটনা বর্ণনা করলেন। ঘটনাটা শোনার পর সবাই একচোট হেসে নিলো।  
এর মধ্যে কাইয়ুম চৌধুরীর ফোন আসলে উনি কথা বলার জন্য বাইরে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর এসে বললেন, থানার বড় কর্তা ফোন করেছিলো। আনন্দ বিদ্যাপীঠে গতকাল যে অপহরণের ঘটনাটা ঘটেছে তার সুরাহার সময় পুলিশের পাশে থাকতে বলছে। এতো করে বললাম আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কেস নিয়ে আছি। এখন অন্যকিছুতে মনযোগ দেওয়া যাবেনা। কিন্তু তাও শুনছেনা। বারবার একই কথা বলে যাচ্ছে, ‘ আপনি ছাড়া এই কেস কেউ সমাধান করতে পারবেনা।’
আমি সেই কথাই বলতে চাচ্চিলাম। সরকারও মনে করে পোড়োবাড়ির রহস্যের সমাধান তুমি ছাড়া আর কেউ পারবেন। সেটাই ওদেরকে বলতে গিয়েছিলাম কিন্তু ঠিক তখনই তুমি আসাতে কথাটা শেষ করতে পারিনি। 
সরকারের কাজটার ব্যাপারে আমি নিষেধ করে দিয়েছি। 
স্যার বেয়াদবী 
এক মিনিট। তালহার কথা থামিয়ে দিয়ে রওশন মজুমদার বলল, মারুফ এবং মিনহাজ তোমরা দুজন এখানে বসে শুধু শুধু বোর হোচ্ছ কেন? 
আংকেল রেদোয়ানকে দেখছিনা তাই এখানে বসে আছি। 
এর আগে এসে তোমরা কখনোও বসার ঘরে ঢুকেছো? তোমরাতো এ বাসায় এসে কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা রেদোয়ানের ঘরে চলে যাও। তাহলে আজ আবার কি হলো। যাও নবাবের ঘুমটা  ভাঙাও। তোমরা ঠেলেঠুলে ঘুম না ভাঙালে ঐ কুম্ভকর্ণের ঘুম সহজে ভাঙবে? তারপর তালহাদের দিকে তাকিয়ে বলল, রেদোয়ান আমার একমাত্র ছেলে। 
মিনহাজ আর মারুফের এতক্ষণ খুব এক ঘেয়ে লাগছিলো। অনুমতি পেয়ে সোজা ভিতরে চলে গেলো  ওরা। 
ওরা দুইজন চলে যাওয়ার পর রওশন চৌধুরী তালহাকে বললেন, এবার বলো কি বলতে চাচ্ছিলে? 
তালহা বলল, স্যার আমি আনন্দ বিদ্যাপিঠের কিডন্যাপ নিয়ে আমি কিছু কথা বলতে চাই। 
কাইয়ুম চৌধুরী তালহার কথা শুনে ওর দিকে বিস্ময়ের সাথে তাকালেন। বিচক্ষণতার সাথে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, তোমারা কি এই কেসটা নিয়েও কাজ করছো?
না স্যার, ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। একটা ঘটানার সাথে অন্য ঘটনার কোন সংযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি। 
সেটা কীরকম?
তারপর ওদের তৈরি করা প্রতিবেদন কাইয়ুম চৌধুরীর হাতে দিয়ে বলল, স্যার এটা একটু দেখতে পারেন। বিগত দশ বছরে ঝিনেদায় ঘটে যাওয়া অপহরণের উপর একটা প্রতিবেদন তৈরি করেছি  আমরা। 
কাইয়ুম চৌধুরী তালহার হাত থেকে কাগজটা নিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়ে বললেন, প্রতিবেদনটা ভালো বানিয়েছো। কিন্তু এ ঘটনাগুলোর সাথে পোড়োবাড়ির সংযোগ থাকতে পারে সেটা মনে হচ্ছে কেন  তোমার? তারপর একটু থেমে বললেন, অবশ্য এসব ক্ষেত্রে কোন কিছুই বলা যায়না। দেখা যাবে   যাকে সন্দেহের বাইরে রাখা হয় সে প্রধান ভিলেন হিশাবে পরে ধরা পড়ে। তোমরা এখন কি করতে চাচ্ছ?
আমাদের পরবর্তি পদক্ষেপ ড্যানিয়েল সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা। প্রথমে ঢাকা এবং ঢাকার আশেপাশে যেসব ব্র্যান্ডের দল আছে তাদের আদ্যপন্ত জানবো তারপর দেখবো রিসেন্ট কোথাও কনসার্টের অনুষ্ঠান আছে কিনা। যদি আজকে বা কালকে না থাকে তবে আমরা আজ রাতে আর একবার পোড়োবাড়িতে ঢুকবো। স্যার প্রথমবারতো তাই আমাদের কাজ একটু অগোছালো হবে। পরে অভিজ্ঞ হয়ে গেলে আশা করি সব পরিকল্পনামাফিক হবে। 
কিন্তু কনসার্ট হওয়া বা ব্র্যান্ডের দলের সাথে অপহরণের কি সম্পর্ক? 
কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু কেমন যেন কাঁকতলিয়ভাবে যেখানে কনসার্ট হচ্ছে সেখানেই কিছুদিন পরে অপহরণের ঘটনা ঘটছে। আর একটা ব্যাপার খেয়াল করেছি সেটা হলো ওদের প্রধান লক্ষ্য ১৭ থেকে ১৯ বছরের মেয়েরা। কারণ শুধু ঐ বয়সের মেয়ে ছাড়া বাকিদের ওরা ধরলেও ছেড়ে দিচ্ছে। এবং আমার ধারণা অপহরণকারীরা হয় নারী পাচারকারীদের সাথে যুক্ত অথবা দেশেই নারীদেরকে জোর করে বিভিন্ন পতিতালয়ে তাদেরকে বন্দি করে যৌন ব্যবসা করে।  
আর একটা বিষয় বলা হয়নি সেটা হলো আমি একজনকে সন্দেহ করছি। সে বিভিন্ন বেশে বিভিন্ন ব্র্যান্ড দলের সাথে কনসার্টে অংশগ্রহণ করে। স্যার আপনাকে ছবি দেখাই তাহলে আপনিও বুঝতে পারবেন। 
তালহা তার ডাউনলোড করা ছবিগুলো বের করে দেখিয়ে বলল, স্যার এই ছেলেটাকে ভালো করে দেখেন, ড্যানিয়েলকে দেখিয়ে বলল তালহা। 
কাইয়ুম চৌধুরী বলল, তুমি বাম হাত এবং কনিষ্ঠ আঙুলের তিলটার ব্যাপারে সন্দিহান?
জি স্যার।
আমিও নিশ্চিত এই চারজন প্রকৃতপক্ষে একজন। তুমি পারবে। 
কাইয়ুম চৌধুরী তালহা পিঠে চাপড় মেরে বলল, চালিয়ে যাও কোন সাহায্য লাগলে বলো। 
অবশ্যই স্যার, আপনার কাছ থেকে অনেক কিছুর শেখার আছে আমাদের। স্যার আমরা আবার আসবো ইনশাআল্লাহ্‌; এখন যাই। আমাদের এখন অনেক কাজ বাকি। তালহারা ঐ বাড়ি থেকে বের হয়ে আসলো। গাড়িতে যেতে যায়িদকে উদ্দেশ্য করে তালহা বলল, 
যায়িদ দেখতো আজকে কোন জায়গায় কোন কনসার্টের খবর আছে কিনা। যায়িদ গুগলে ঢুকে দেখলো এই মাসে এবং আগামী মাসে চারটা কনসার্টের শিডিউল করা আছে। একটাতেও এই চারটা ব্র্যান্ডের নাম নেই। আগামী পরশু ‘সায়মন’ ব্র্যান্ডের কনসার্ট ঢাকার উত্তরাতে।
ঢাকায়? উৎকণ্ঠার সাথে বলল মুসায়েব। ঢাকায় আমাদের যেতে দিবে?
তালহা বলল, ঝিনেদার আশেপাশে আছে কিনা দ্যাখ।
যায়িদ ঝিনেদার টুকিটাকি খবরের একটা পেজে ঢুকে সেখান থেকে খোঁজ নিয়ে দেখলো তিনদিন পর আগামী বৃহস্পতিবার নলডাংগা বালিকা বিদ্যালয়ে একটা সংস্কৃতিক অনষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ওখানে ওরা প্রজাপতি ব্র্যান্ড দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে। 
প্রজাপতি ব্র্যান্ড দলের সদস্যদের নিয়ে একটা ছবি বের করতো।
যায়িদ খুব দ্রুত প্রজাপতি ব্র্যান্ড দলের সদস্যদের একটা গ্রপ ছবি বের করলো। দলের মোট সদস্য আটজন। ওদের সম্পর্কে খবর নিয়ে জানা গেলো ২০২১ সালে ওরা এই দলটা গড়ে তুলেছে। দলের প্রধানের নাম ইশতিয়াক আহমেদ। দল গঠনের পর ওরা শুধু মাত্র দুইটা কনসার্টে অংশগ্রহণ করেছে। এটা হবে ওদের তৃতীয় আয়োজন। 
তাহলে আমরা আজ রাতে নলডাংগায় ফিরে যাই? 
তোর ছোট মামা আবার তোর মাকে ফোন করে ঝিনেদা আসার কথা বলে দেয়নিতো? ভয়ের চোটে কাজ 
আরে না , বলল তালহা, মামাকে আমি নিষেধ করে এসেছি। বড় মামা মাকে আমাদের কাজে বাঁধা দিতে নিষেধ করেছেন। আর আমার সাথে থাকলে তোদেরও কোন পারিবারিক চাপ থাকবেনা। ড্রাইভারকে নলডাংগা ফিরে যাওয়ার কথা বলে আবার বন্ধুদের সাথে কথা বলায় মনযোগ দিলো তালহা। শোন বন্ধুদের উদ্দেশে বলল তালহা, আমরা কিন্তু আজকে আবার পোড়োবাড়িতে ঢুকবো ইনশাআল্লাহ্‌।  
কিন্তু যদি আবার ধরা পড়ি?
এবার আমাদের আরও সাবধান থাকতে হবে। শান্ত কুটিরে এসে গাড়িটা ছেড়ে দিলো তালহা। সবে সন্ধ্যা সাতটা বাজে। রাস্তার নিয়ন বাতির স্মিত আলোতে পোড়োবাড়িটাকে ভূতুড়ে বাড়ি ভাবলে অত্যুক্তি হবেনা। তালহা বলল, আমরা এখুনি ভেতরে ঢুকবোনা। এর আশপাশটা ঘুরে ঘুরে দেখবো এখন। 
শান্ত কুটিরের সামনে দাঁড়িয়ে চারিপাশটা খেয়াল করলো তারা। বাড়িটার ডানপাশে বাড়িঘর থাকলেও বামপাশে বড় রাস্তা অব্দি কোন বাড়িঘর নেই। তবে গাছগাছালিতে ভরপুর একটা মাঠ আছে যাকে দেখলে ছোট খাটো একটা অরণ্য মনে হচ্ছে। জমিটা লম্বালম্বিভাবে বড় রাস্তার সাথে মিশে গেছে। দুই পাশে সারি বেঁধে লাগানো হরেক রকমের গাছের মাঝখান দিয়ে একটা সরু রাস্তা চলে গেছে। রাস্তাটা কতদূর গেছে বোঝা যাচ্ছেনা তবে দূর থেকে ক্ষীণ হয়ে আসা কিছু আলোক রশ্মি দেখা যাচ্ছে। চলতো সামনের দিকে এগিয়ে দেখি। 
সরু রাস্তা ধরে তিনজন সামনে হাঁটা শুরু করলো। যত কাছে যাচ্ছে আলোটা তীব্র হচ্ছে। বেশ কিছুদূর যাওয়ার বোঝা গেলো ঐটা লাইটের আলো ছিলো। আলো বরাবর আর একটু কাছে গিয়ে একটা ছিমছাম নিস্তব্ধ একতলা বাড়ি চোখে পড়লো। বাড়িটার সামনের দিকে লাইট জ্বললেও পেছনের  দিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ঘরটার সদর দরজার কাছে গিয়ে দেখা গেলো বিশাল বড় একটা তালা  ঝুলছে। 
হঠাৎ পায়ের শব্দ শোনা গেলো। সময়ের সাথে সাথে শব্দটাও বাড়তে লাগলো। তালহা বন্ধুদের নিয়ে খুব দ্রুত পাশের ঝোপের আড়ালে চলে গেলো। লোকটা তালাটা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়লো। তালহা বন্ধুদেরকে আড়ালে থাকতে বলে বাড়িটার দরজার সামনে চলে গেলো। লোকটা দরজা খোলা রেখেই ভিতরে ঢুকে গেলো। লোকটা ভিতরে চলে গেলে তালহাও ঘরটার মধ্যে ঢুকে পড়লো। ঢুকেই বারান্দায় গিয়ে আড়ালে দাঁড়িয়ে পড়লো। প্রায় আধঘণ্টা পর লোকটা বেরিয়ে গেলো। যাওয়ার সময়  বাইরে দিয়ে তালা মেরে গেলো। ব্যাপারটায় তালহা উদ্বিগ্ন হলোনা। লোকটা আবার আসার আগে বাড়িটা সার্চ করতে হবে। 
তালহা আড়াল থেকে বের হয়ে আসলো। ভালোভাবে তাকিয়ে চারিদিকটা তাকিয়ে দেখতে লাগলো। দুইটা ঘর, একটা বারান্দা, ছোট একটা রান্নাঘর, একটা টয়লেট নিয়ে ছোট খাটো একটা  বাড়ি। কিন্তু এমন একটা জায়গায় এ বাড়িটা কে করেছে মাথায় আসলোনা তালহার। ঐ লোকটাই বা কে? লোকটার পরিচয় জানতে হবে। পাশের ঘরটাতে চলে গেলো তালহা। এক পাশের দেওয়াল জুড়ে  ছোট বড় বিভিন্ন রঙয়ের উইগ ঝুলানো আছে। লোকটাকে ভালো করে দেখতে পারেনি তারা। দেওয়ালের কোণায় একটা ওয়ারড্রব রাখা আছে। ড্রয়ারটার উপরের দরজাটা খোলা। দেখে মনে হচ্ছে লোকটা কিছু একটা খুঁজছিলো। তালহা ওয়্যারড্রপটার কাছে গিয়ে খোলা ড্রয়ারটা দেখতে লাগলো। নানারকম কাগজের ফাঁকে একটা ডায়রি পেলো। ডায়রিটা খুলে দেখলো তাতে তারিখ অনুযায়ী বিভিন্ন ঘটনা লেখা আছে। ডায়েরিটা নিয়ে নিল তালহা, সময় করে পড়বে। ড্রয়ারটা আরেকটু ঘাটাঘাটি করে একটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি পেলো তালহা। ছবিটা মনোযোগ দিয়ে দেখলো। নাহ্‌ চেনা জানার মধ্যে পড়েনা। ছবিটা পকেটে ঢুকিয়ে ড্রয়ারটা আবার দেখতে যাবে তখনই দরজা খোলার শব্দ শুনতে পেলো। 
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/131120/</link>
				<pubDate>Thu, 11 Aug 2022 07:18:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_চৌদ্দ<br />
তালহাদের থেকে চোখ সরিয়ে বজ্রকন্ঠে সিকদার সিকদার বলে ডাকতে থাকলেন রওশন চৌধুরী।<br />
জ্বি স্যার, সিকদার দৌড়ে এসে ভীতকণ্ঠে বলল।<br />
এরা কারা?<br />
কেন স্যার আপনি না বললেন আমার কাছে তিনজন লোক আসবে। তাদেরকে আমি যেন বসার ঘরে বসাই।<br />
উহ্‌, তোমাকে নিয়ে আর পারিনা। আমি তোমাকে তাদের নাম জিজ্ঞাসা করতে বলেছি না? এদের বসানোর সময় নাম জিজ্ঞাসা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-131120"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/131120/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">dc96abd97e0461add500d8c5c5bb72e0</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য  
পর্ব_তেরো

যায়িদ একটা অসাধারণ কাজ করেছে। বিগত দশ বছরের অপহরণের উপর ও  একটা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রথমে শুধুমাত্র ঝিনেদা জেলার বিভিন্ন স্কুলে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে একটা পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে তারপর ঐ সময় অন্য জেলায় ঘটে যাওয়া অপহরণের ঘটনাগুলো তুলে ধরা  হয়েছে।   

তালহা মন দিয়ে পড়া শুরু করলো। এবারের ঘটে যাওয়া ঘটনা সহ গত দশ বছরে ঝিনেদায় মোট চারবার অপহরণের ঘটনা ঘটে। তবে এর আগে সবোর্চ্চ ছয় জনকে অপহরণ করা হয়েছিলো। এবার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই চার বারের মধ্যে আনন্দ বিদ্যাপীঠেই দুইবার অপহরণের ঘটনা ঘটে। পাঁচ বছর আগে এমন অপহরণের ঘটনা ঘটেছিলো। তবে সেবার মাত্র চারজন বাচ্চা অপহৃত হয়েছিলো। দুইজন মেয়ে আর দুইজন ছেলে। থানায় জিডি করার পাশাপাশি বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থাও নিয়োগ করা হয়েছিলো। ওরা  চারজন স্কুল ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলো। একজন ছাড়া বাকি তিনজনকে পরদিনই স্কুলের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু নবম শ্রেণির যে ছাত্রী অপহৃত হয়েছিলো তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

আনন্দ স্কুল ছাড়া বাকি দুইটা অপহরণের ঘটনার একটা ঘটে একটা নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে এবং অন্যটি একটা নাচের স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে। সেবার ইংরেজী মাধ্যম স্কুল থেকে তিনজন এবং নাচের স্কুল থেকে দুইজন  অপহৃত হয়। এরা সবাই ছিলো নবম শ্রেণির ছাত্রী। এই দুই ক্ষেত্রেই অপহরণকারীরা অভিভাবকদের কাছে থেকে মোটা টাকা দাবী করেছিলো। এই দুইটা অপহরণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোন দোষ ছিলোনা। কারণ ঘটনাগুলো ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে। পরে টাকা দিলেও মেয়েগুলোকে আর ফেরৎ পায়নি তাদের পরিবার। 

দেখা গেছে প্রতিটা অপহরণের ঘটনার আগে স্কুলগুলোতে গানের কনসার্টের আয়োজন করা হয়। ব্যাপারটা কাকতলীয়ও হতে পারে। অবশ্য সবগুলো কনসার্টে একই ব্র্যান্ড দল গান গেয়েছে তা কিন্তু না। চারটা কনসার্টে চারটা আলাদা আলাদা ব্র্যান্ডের দল অংশগ্রহণ করেছিলো। মেঘমালা, ক্লান্ত-পথিক, সারগাম এবং শেষ যেটা আনন্দ বিদ্যাপীঠে হয়েছে সেটা হলো রক শিল্পীগোষ্ঠী। 

ঝিনেদার বাইরে ঢাকা শহরে হরহামেশেই অপহরণের ঘটনা ঘটে। কিন্তু একসাথে বেশি বাচ্চা অপহরণের ঘটনা এই দশবছরে মাত্র দুইবার ঘটেছে। এটাও ঘটেছে নামকরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের বাচ্চাদের সাথে যাদের সবাই ছিলো ধনী পরিবারের। ঐ স্কুলগুলোতে অপহরণের আগে কোন কনসার্ট হয়নি। তবে এক সপ্তাহ আগে ধানমন্ডি লেকে একটা সার্কাসের আয়োজন করা হয়। বারোটা স্কুল ঐ সার্কাসে অংশগ্রহণ করে। সার্কাসটা প্রায় এক সপ্তাহ চলে। তার ঠিক এক সপ্তাহ পরে ঢাকার দুইটা নামকরা স্কুল থেকে আটটা বাচ্চা অপহৃত হয়। এই হচ্ছে বিগত দশ বছরের অপহরণ সংক্রান্ত ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন।

কনসার্টগুলোর কোন ছবি পাসনি? তালহা যায়িদকে জিজ্ঞাসা করলো। 

হ্যা পেয়েছি, কিন্তু ছবিগুলো স্পষ্ট না। কনসার্টের ছবিতো স্কুল এ্যালবামেই থাকার কথা। আমরা ওখান থেকে সংগ্রহ করতে পারি।

কিন্তু অনেক আগে হওয়া অনুষ্ঠানের ছবি কি পাওয়া যাবে? যদি ম্যাগাজিন থাকে তাহলে হয়তো পাওয়া যেতে পারে। পুরানো ম্যাগাজিন অনেক সময় বিক্রিও করে দেওয়া হয়। 

আচ্ছা আমরা একটা কাজ করতে পারি। ব্র্যান্ডগুলোর নাম লিখে সার্চ দিতে পারি। তাহলেতো ওদের ছবিও নিশ্চয় বের হয়ে আসবে। 

মুসায়েবের কথাটা শুনে ওকে বাহবা দিলো তালহা। তারপর জায়িদ আর মুসায়েবকে এই সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতে বলে ও কিডন্যাপ সংক্রান্ত শেষ খবর  জানার জন্য নিউজ চ্যানেলগুলো ঢু মারলো তালহা। সব চ্যানেলে  মোটামোটি কিডন্যাপের খবর প্রচার করছে। খবর থেকে জানা গেলো যে দশটা বাচ্চা অপহৃত হয়েছে তারা সবাই স্কুলের মাইক্রোতে করেই যাওয়া আসা করে। মাইক্রোর ড্রাইভারকে অচেতন অবস্থায় পালবাড়ি ঝোপের মধ্যে পাওয়া গেছে। ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে একটা মাইক্রো এসে ওদের পথরোধ করে দাঁড়ায়। তারপর দুইজন এসে ওর নাকের কাছে কি একটা ধরে। এরপরের ঘটনা ওর অজানা। স্কুলের মাইক্রোটাও ওখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

মাত্র সংবাদ পাওয়া গেলো নবম এবং দশম শ্রেণির চারটা ছাত্রী ছাড়া বাকিদেরকে স্কুল গেটের সামনে হাত পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে কেউ একজন স্কুল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছি। ফোন কেটে গেলে পুণরায় ফোন করে নাম্বারটা বন্ধ পাওয়া যায়।   

এই সংবাদটা পড়ার পর তালহা আবার জায়িদের বানানো প্রতিবেদনটায় চোখ বুলালো। একটা ব্যাপার ওর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেলো তা হলো অপহরণকারীদের মূল ফোকাস মেয়েদের উপর। অর্থাৎ ১৭ থেকে ১৮ বছরের মেয়ে। 

যায়িদ সবগুলো ব্র্যান্ড দলের ছবি বের করে একটা ফোল্ডার তৈরি করলো। তারপর তিনজন মিলে ছবিগুলো নিয়ে গবেষণা করতে বসলো। প্রতিটা দলে আটজন করে সদস্য। প্রতিটি দলের সাতজন সদস্যকে আলাদা মনে হলেও একজনকে কেন যেন প্রতিটা দলে একই মানুষ মনে হচ্ছে তালহার। অবশ্য তার  পোশাক এবং সাজ সজ্জা দেখে কারোরই ধরার উপায় নেই চারটা ব্র্যান্ড দলে বিভিন্ন রূপে থাকা এই মানুষটি আসলে একজন লোক। কোনটাতে গাঁয়ের রঙ কালো এবং বড় চুল, কোনটাতে ফর্সা এবং ছোট চুল, কোনটাতে সানগ্লাস এবং  মাস্ক পড়া অবস্থায় আছে আবার কোনটিতে মাথা নিচু থাকায় চেহারা ঢেকে আছে। বন্ধুদেরকে উদ্দেশ্য করে বলল, আমার কেন যেন এই লোকটাকে একজন মনে হচ্ছে। প্রতিটা দলে একজন লোককে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলল তালহা। যায়িদ আর মুসায়েব ভালো করে দেখে তালহার সাথে দ্বিমত পোষন করলো। 

তালহা বলল, চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই। যে দুইটা দিক দেখে আমার এই চারজনকে একই মানুষ মনে হয়েছে তার একটা হলো চারজনই বাম হাত দিয়ে গীটার ধরে ডান হাতে বাজাচ্ছে এবং প্রত্যেকের বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের নখের নিচের একটা তিল আছে। কথাটা বলে ওদের দুজনকে ছবিটা জুম করে  তিলটা দেখালো তালহা। চারজনের এমন মিল থাকাটা অস্বাভাবিক মনে হয়না?

মুসায়েব অবাক হয়ে বলল, এই তিলটা তোর চোখে পড়লো? তোকেই গোয়েন্দা হওয়া মানায়। এবার বল আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

আপাতত এই ব্র্যান্ড দলগুলোর সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব খোঁজ নেই। তারপর দেখি কি করা যায়। যায়িদ তুই দেখতো ওদের প্রতিটা দলের কনসার্টের শিডিউল বের করতে পারিস কিনা। 

যায়িদ বেশ কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটি করে বলল, নাহ্‌ এমন কোন তথ্য কোথাও দেওয়া নেই। 

আচ্ছা থাক দেখতো দলের সবার নাম আলাদাভাবে পাওয়া কিনা। তালহার কথা  অনুযায়ি প্রতিটা দলের নাম লিখে আবার সার্চ দিলো যায়িদ। দলগুলোর সদস্যদের নাম বের হয়ে আসলো। প্রতিটা দলেই সবার আলাদা নাম। সেখান থেকে কোনটা কার নাম বের করা সম্ভব না। আরও কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটি করে আলাদা আলাদা ছবিসহ নাম বের করা গেল। দেখা গেলো ছদ্মবেশ ধারণকারী ছেলেটার নাম কোথাও জন, কোথাও পল, কোথাও টগর আর রক ব্র্যান্ডে ওর নাম ড্যানি। 

যায়িদ বলল, ছেলেটা কি বিদেশী নাকি সব বিদেশী নাম রেখেছে। দেখেতো খাস বাঙ্গালী মনে হচ্ছে। 

আরে সবগুলোই ছদ্মনাম। সেকারণের এমন বিদেশী নাম বেছে নিয়েছে। এর একটাও আসল নাম না। যায়িদ এবার তুই রক ব্র্যান্ডের খুঁটিনাটি বের কর। 

যায়িদ রক ব্র্যান্ডের বিস্তারিত বের করে পড়া শুরু করলো। এই ব্র্যান্ড দলের উৎপত্তি বেশি দিনের না। ২০১৮ তে এরা দল গঠন করে। তখন দলের সদস্য ছিলো পাঁচজন ২০২০ সালে সাতজন আর ২০২২ এ গিয়ে সদস্য সংখ্যা আট এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালে ওদের সাথে যোগ দেয় তুখোড় গীটারিস্ট ড্যানিয়েল। 

তালহাকে খুব চিন্তিত দেখালো। একটা ঘটনার সাথে অন্য ঘটনার কোন সংযোগ আছে কিনা তা মিলানোর চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা কাজে যোগদান করা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো যায়িদকে নোটবুকে নোট করতে বলল তালহা। 
১। রওশন মজুমদার কেন পোড়োবাড়িতে গোয়েন্দা নিয়োগ করতে চেয়েছেন? তার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিতে হবে।
২। তালহাকে কারা ধরে নিয়ে গেছে ? তাদের সাথে পোড়োবাড়ির কি সম্পর্ক? 
৩। অপহরণের সাথে ঐ বাড়ির কোন সম্পর্ক আছে কিনা। ড্যানিয়েলের খুঁটিনাটি জানা। 

প্রথমে আমরা রওশন মজুমদারের ব্যাপারে খোঁজ নিবো। এখনই আমরা ঝিনেদা চলে যাবো। 

তালহার কথা শুনে মুসায়েব অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো, ঝিনেদায় যাবো কেন? পোড়োবাড়ির ব্যাপারটা সুরাহা না করে অন্য একটা কেস নিয়ে লাফালাফি করছিস কেন?  

আমাদের পোড়োবাড়ির ব্যাপার নিয়েই আছি। আপাতত দুদিন আমরা ঝিনেদা থাকবো। কারণ এখন আমাদের যা কাজ আছে সব ঝিনেদাকেন্দ্রিক। 

নানুবাড়ির গাড়ি করেই ওরা তিনজন একাই ঝিনেদা চলে আসে। এতো তাড়াহুড়ো করাতে তালহা নানু বাড়ির সবাই অবাক হয়েছে কিন্তু সেটা দেখার সময় নেই এখন ওদের। 

বিকালের মধ্যে ঝিনেদা চলে আসে ওরা। গাড়ি নিয়ে সোজা রওশন মজুমদারের বাড়ির কাছে চলে যায়। ভেতরে ঢুকতে চাইলে দারোয়ানের কাছ থেকে সহজেই অনুমতি পাওয়া যায়। দারোয়ান ওদেরকে নিয়ে বসার ঘরে বসালো। তারপর ওদেরকে উদ্দেশ্য করে বলল, তোমরা বস, আমি স্যারকে খবর দিচ্ছি।

দারোয়ান চলে গেলে মুসায়েব অবাক হয়ে তার গমন পথের দিকে তাকিয়ে থাকে বলল, ব্যাপার কি? এতো সহজেই ভেতরে ঢুকতে দিলো!

আমার মনে হয় কারোর আসার কথা ছিলো। দারোয়ান আমাদেরকে তারা ভেবে ভুল করেছে, নির্লিপ্ত ভাব নিয়ে তালহা বললো।

সিকদার ওরা এসেছে?

জি স্যার আমি বসার ঘরে বসিয়েছে। বাইরে থেকে দারোয়ান আর রওশন মজুমদারের কথা শুনতে পেলো ওরা।

কিছুক্ষণ পর পদশব্দ শুনতে পেয়ে বুঝতে পারলো লোকটা এদিকেই আসছে। নড়েচড়ে বসলো ওরা। বসার ঘরে 

ঢুকে রওশন মজুমদার ওদের দেখে অবাক হলেন। বজ্রকন্ঠে সিকদার সিকদার বলে ডাকতে লাগলো।

চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/130278/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Aug 2022 22:52:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_তেরো</p>
<p>যায়িদ একটা অসাধারণ কাজ করেছে। বিগত দশ বছরের অপহরণের উপর ও  একটা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রথমে শুধুমাত্র ঝিনেদা জেলার বিভিন্ন স্কুলে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে একটা পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে তারপর ঐ সময় অন্য জেলায় ঘটে যাওয়া অপহরণের ঘটনাগুলো তুলে ধরা  হয়েছে।   </p>
<p>তালহা মন দিয়ে পড়া শুরু করলো। এবারের ঘটে যাওয়া ঘটনা সহ গত দশ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-130278"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/130278/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">079ce4784508001811bb7d0bc5916e8c</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য 
পর্ব_বারো 
তালহা অবাক চোখে তাকিয়ে বলল, কাইয়ুম চৌধুরীর সাথেও দেখা করে আসলি? তোরা দেখি আমার থেকে এক ধাপ এগিয়ে আছিস। 
আপাতত উনি অন্য একটা কেস নিয়ে ব্যস্ত। তাই এই ব্যাপারটা নিয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। কিন্তু উনার সহকারী খায়রুল আলমের এই ব্যাপারে খুব আগ্রহ। সব রকম গোয়েন্দা কাজে ওকে নেন না উনি। খায়রুলের গোয়েন্দা  হওয়ার ইচ্ছা। তাইতো বাহবা পাওয়ার জন্য পোড়োবাড়ির কাছে গিয়েছিল। তারপর আমাদের পেয়ে ওদের মনে হয়েছিল সমস্যার সমাধান করে ফেলেছে। কিন্তু পরে যখন আমাদের আসল পরিচয় জানলো তখন মুখের অবস্থা যা হয়েছিলো না! বলেই হেসে দিল যায়িদ। হাসতে হাসতেই বললো, আমাদের যখন  ধরেছে তখন মনে হচ্ছিল যেন কতো বড় গোয়েন্দা এসেছে...............কিন্তু অফিসে গিয়ে দেখলাম একদম ভিজে বিড়াল। 
কাইয়ুম চৌধুরীকে কেমন লেগেছে? ভাব গাম্ভীর্য বজায় রেখে তালহা বলল। 
মানুষটাকে বেশ লেগেছে আমার। উনি আমাদেরকে উনার সাহায্য লাগলে বলতে বলেছে। সাধ্যমত সাহায্য করার চেষ্টা করবেন। তবে আমি মনে করি কারো সাহায্য ছাড়াই আমাদের কাজ করা উচিৎ। তুই কি বলিস তালহা? আমাদের কারোর সাহায্য নেওয়া উচিৎ? 
তাতো অবশ্যই না। দৃড়তার সাথে যায়িদের প্রশ্নের উত্তর দিলো তালহা। একটু থেমে বলল, আমার কি মনে হয় জানিস?
খাইয়রুলের কথা মনে করে যায়িদ আর মুসায়েব দুজনেই খুব হাসছিল, তালহার প্রশ্ন শুনে ওর দিকে তাকালো। অবাক হয়ে দুজনেই একসাথে জিজ্ঞাসা করলো কি মনে হয়?
আমাকে যারা ধরে নিয়ে গেছে তাদের সাথে এই বাড়িটার কোন যোগসাজশ আছে। নইলে আমাকে ধরে নিয়ে যাবেই বা কেন? সেদিন আমরা যখন ঐ বাড়িতে ঢুকেছিলাম তখন ওরাও ওখানে ছিল। ওরা আমাদেরকে চোখে চোখে রাখছিল। আমি শিওর ঐ ভূতুড়ে শব্দ আর দম বন্ধ হয়ে যাওয়া গন্ধগুলো ওদেরই তৈরি। এসব শব্দ আর গন্ধের কারণে বেশিরভাগ মানুষ ভেতরে ঢোকার সাহস হারিয়ে ফেলে যেমনটি আমরা প্রথমদিন করেছিলাম। সেদিন আমি ভেতরে ঢোকার সাথে সাথে কেউ একজন আমাকে আঘাত করে এবং আমার মনে হচ্ছে সে আমার নাকে কিছু একটা শুকিয়ে আমাকে চেতনাহীন করে ফেলে। তারপর তাদের আস্তানায় নিয়ে যায়। 
যায়িদ বলল, তাহলে আমরা ওখানে গেলেইতো ওদের ধরে ফেলতে পারি। 
মুসায়েব বলল, কিন্তু ঐ ঠিকানাটাইতো জানেনা তালহা।  
কেন তালহা বললোনা ও চোখের কাপড়টা একটু ফাঁক করে দেখেছে জায়গাটা  শৈলকূপা। আবার ওর সাথে আসা হাশমতও বলেছে ওকে যেখান থেকে উঠানো হয়েছে সেটাও শৈলকূপা। অতএব আমাদের আপাতত পোড়োবাড়ি না গিয়ে শৈলকূপায় যাওয়া উচিৎ। 
জায়িদের কথাটা শুনে মুসায়েব বলল, কি! স্বাভাবিকের থেকে একটু জোরেই  বলল কথাটা। তালহা তো ভালো করে ঠিকানাই জানেনা। তাছাড়া চোখও বন্ধ ছিল।  ওখানে গিয়ে কি আমরা অন্ধের মত হাতড়াবো? 
বুদ্ধু গোয়েন্দাগিরি করতে গেলে ছোট খাটো ক্লু নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তোমাকে মাথা খাটিয়ে কাজ করতে হবে। শৈলকূপা নিশ্চয় খুব বড় কোন জায়গা না যেখানে দশ বারোটা ঘন জঙ্গল থাকবে। তুই কি বলিস তালহা?
তালহার নানুবাড়ি দুইটা পেপার রাখে। একটা লোকাল পত্রিকা আর অন্যটি  জাতীয়। ঝিনেদার লোক্যাল পত্রিকা পড়তে পড়তে কথা বলছিলো তালহা। হঠাৎ লোকাল পত্রিকাটায় একটা খবরে চোখ আঁটকে যায় ওর। যায়িদের প্রশ্নের উত্তরে বলল, তাতো বটেই। আপাতত ঐ আলোচনা বাদ দিয়ে আমি একটা খবর পড়বো সেটা মনযোগ দিয়ে শুনবি। তারপর, বন্ধুদের শুনিয়ে জোরে জোরে খবরটা পড়া শুরু করলো তালহা।
ঝিনেদায় আবারও স্কুল থেকে বাচ্চা উধাও। আনন্দ বিদ্যাপীঠ থেকে বিভিন্ন ক্লাস মিলে দশ জন ছেলে মেয়ে অপহৃত হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর পর আবার ঘটনাটা ঘটলো। এর আগের অপহরণগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে প্রতি দুই বছর  পর পর বিভিন্ন স্কুলে এই অপহরণের ঘটনা গটে। এই ঘটনা যে ঝিনেদা জেলার  মধ্যে সীমাবদ্ধ তা কিন্তু না। সারা বাংলাদেশ জুড়েই ঘটনাটা ঘটছে। তবে ঝিনেদার আশেপাশের শহরগুলোতে ঘটনাটা বেশি ঘটতে দেখা যায়। একটা অপহরণের সাথে অন্যটার যোগসূত্র আছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। এই ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে তাও এখনও জানা যায়নি।  
খবরটা থেকে মুখ তুলে বন্ধুদের দিকে তাকালো তালহা। যায়িদের উদ্দেশে বলল, ল্যাপটপটা চালু কর। তারপর বিগত দশ বছরের অপহরণের উপর একটা প্রতিবেদন তৈরি কর। আপাতত এটাই তোর কাজ। কাজটা খুব মনযোগের সাথে করতে হবে। এই ফাঁকে আমি আর মুসায়েব একটু আনন্দ স্কুল থেকে ঢুঁ মেরে আসি। 
যায়িদ কম্পিউটারটা নিয়ে বসে গেলো। তালহা আর মুসায়েব আনন্দ স্কুলে যাবে। বের হওয়ার আগে নেট ঘেটে স্কুলটা সম্পর্কে তথ্য জেনে নিলো তালহা। 
কেন? এ ব্যাপারে তথ্য নিতে হবে কেন? এখন পোড়োবাড়ি বাদ দিয়ে  আবার নতুন কেস নিয়ে এগোতে চাস নাকি? উৎকণ্ঠার সাথে বলল মুসায়েব।
আরে না। এ ধরণের অপহরণের কেসগুলো থেকে দেখা গেছে যারা এ কাজে যুক্ত তারা এসব পুরানো বাড়িগুলোকে তাদের আস্তানা হিশাবে ব্যবহার করে। তাই বলে আমি বলছিনা এক্ষেত্রেও তেমনটা হয়েছে। কিন্তু উপেক্ষাও করতে পারছিনা। চল বেরিয়ে পড়ি। 
ঝিনেদা শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্কুলটা অবস্থিত। বেশ পুরানো স্কুল। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শোনা যায় এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধ ছিলেন। সদ্য স্বাধীন দেশের মানুষের মধ্যে শিক্ষার শিখা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বদিউজ্জামান তার পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমি সম্পূর্ণটাই স্কুলের জন্য দান করে দেন। ঠিকানাটা নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লো। বাড়ির গাড়িটা নিয়েই রওনা হলো তারা দুজন। খুব বেশি সময় লাগলোনা। ২০ মিনিটেই পৌঁছে গেলো। অনেক পুরানো হলেও স্কুলটা তার আভিজাত্য ধরে রেখেছে। প্রধান ফটকটা দেখে রীতিমত অবাক তারা দুজন। সাধারণের তুলনায় বেশ চওড়া ফটকটা। ফটকের বাইরের দিকে একটা টুলের দারোয়ান বসে আছে। লোকটার হাতে একটা মোট লাঠি শোভা পাচ্ছে। তালহারা ভেতরে ঢুকতে চাইলে নাকের নিচের বাহারি গোঁফে হাত বোলাতে বোলাতে বলল, কি চাই?
প্রধান শিক্ষিকার সাথে দেখা করতে চাই? ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো মুসায়েব।
এখনতো দেখা হবেনা। খবর জানোনা? গতকাল এই স্কুল থেকে ১০ জন ছেলেমেয়ে অপহৃত হয়েছে। ম্যাডাম তাদের অভিভাবকদের সাথে মিটিং এ আছেন। আজকে আর দেখা হবেনা।
অপহৃত হল কীভাবে? ওদের অভিভাবকরা ওদের নিতে আসেনা? মুসায়েব জিজ্ঞাসা করলো। 
আপনি অভিভাবক দেখে বাচ্চা বের করেন নি? মুসায়েবের সাথে তালহাও যোগ করলো প্রশ্নটা। 
ছুটির সময় এতো এতো বাচ্চা বের হয়, সবাইকে দেখে দেখে বের করানো কেমন করে সম্ভব?
এসব বলে,..............................। 
আচ্ছা ঠিক আছে আমরা ভেতরে গিয়ে অপেক্ষা করি। উনি ফ্রি হলে নাহয় কথা বলবো। মুসায়েব কিছু একটা বলা শুরু করতে যাচ্ছিলো, ওকে থামিয়ে দিয়ে কথাটা বললো তালহা।
লোকটা কিছু বলছেনা দেখে লোকটাকে একপ্রকার পাত্তা না দিয়ে ওরা ভেতরে ঢুকে পড়লো। আজকে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী আসেনি। গতকালের ঘটনার কারণে আজকে স্কুল বন্ধ দেয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকার সাথে অভিভাবকদের মিটিং চলছে। মাঝে মাঝে বেশ উত্তেজনাপূর্ণ বাক্য শোনা যাচ্ছে। টানা এক ঘণ্টা মিটিং এর পর অভিভাবকরা বিরস বদনে বের হয়ে আসে। এই এক ঘণ্টা তালহারা স্কুলটা ঘুরে ঘুরে দেখেছে। প্রায়  ১০০ একর জমির উপর স্কুল ভবনটা দাঁড়িয়ে আছে। সম্পূর্ণ স্কুলের চারিদিকটা নানারকম গাছগাছালিতে ভরপুর। স্কুল ভবনের দুইপাশ জুড়ে আছে দুইটা চওড়া খেলার মাঠ। টি-শেপের স্কুল ভবনটা নিচতলার ডানপাশটায় বিশাল অডিটরিয়াম। অডিটরিয়ামটা স্টেডিয়ামের আদলে করা হয়েছে। অডিটরিয়ামের ভেতরে ঢুকে পড়লো ওরা দুজন। গত সপ্তাহে হওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যানার এখনও দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে। ছাদ থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ বেলুন ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো এখনও তেমনভাবেই আছে। অবশ্য বেলুনগুলো চুপসে যাচ্ছে। বেঞ্চগুলোও ওলোট পালোট হয়ে আছে। অডিটরিয়াম থেকে বেরিয়ে আসলো ওরা। ততক্ষণে মিটিং শেষ হয়ে গেছে। তালহারা অফিস ভবনের সামনে দাঁড়ালো। 
এখন আমাদের মূল কাজ পুলিশ স্টেশন যাওয়া। স্কুলের নামে জিডি করে আসতে হবে। কথাগুলো বলতে বলতে ওদের সামনে দিয়ে অভিভাবকরা বের হয়ে গেলেন। 
তালহারা প্রধান শিক্ষিকার রুমের দিকে এগোলে পিয়ন দ্বারা বাধাগ্রস্থ হয়। তালহা পকেট থেকে কার্ড বের করে দেখালে বড় চোখে তাকিয়ে বলল, গোয়েন্দা! এইবার তোমরা পালাবে কোথায়? আসেন আসেন, ম্যাডাম আপনাদের আসতে বলছে না?
তালহারা কিছু না বলে মুচকি হাসি দিয়ে বলল, আমরা উনার সাথে কথা বলবো। ঢুকতে পারি?
হ্যা হ্যা ঢোকেন।
অনুমতি পেয়ে কালক্ষেপণ না করে প্রধান শিক্ষিকার রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো তালহারা। জামিলা আক্তার, দরজার উপর লাগানো নেমপ্লেটে লেখা নামটার দিকে তাকিয়ে একটু শব্দ করে পড়লো মুসায়েব। তালহাও চট করে নামটা দেখে নিলো। দরজা জুড়ে লাগানো ভারি পর্দাটা সরিয়ে বলল, ম্যাডাম আসতে পারি?
কিচু একটা ভাবছিলেন জামিলা আক্তার। তালহার কন্ঠ শুনে দরতজার দিকে তাকালেন। চোখে -মুখে বিস্ময় নিয়ে বললেন, আসুন । তারপর কি মনে করে আবার ওদের দিকে তাকালো। ততোক্ষণে ওরা টেবিলের অন্যপাশে মুখোমুখি রাখা চেয়ারগুলোতে বসে পড়লো। মিসেস জামিলা চোখের চশমা নেড়েচেড়ে বললো কোন ক্লাসের ছাত্র তোমরা? 
আমরা এই স্কুলে পড়িনা, বিনয়ের সূরে বলল তালহা। আমরা গোয়েন্দা। বলতে পারেন খুদে গোয়েন্দা। আজকের পত্রিকায় সংবাদটা পড়ে কৌতূহল ধরে রাখতে না পেরে খোঁজ নিতে আসলাম। 
গোয়েন্দা! ও! তা বল তোমদের কি জানার কৌতূহল জেগেছে?
গতকালের অপহরনের ঘটনাটা সম্পর্কে একটু জানতে চাই। 
ঘটনাটা সবাই যা জানে আমিও তাই জানি। 
আচ্ছা পত্রিকায় পড়লাম মোট দশ জন বাচ্চা অপহৃত হয়েছে। আমাকে যদি কোন সংখ্যা জানাতেন? অর্থাৎ কোন ক্লাসের কয়টা বাচ্চা মিসিং হয়েছে।
মিসেস জামিলা একটা কাগজ এগিয়ে দিলো তালহার দিকে। 
তালহা কাগজটা নিয়ে সেখানে চোখ বুলিয়ে দেখলো বড় যে চারজন শিক্ষার্থী অপহৃত হয়েছে তারা সবাই ছাত্রী। নবম শ্রেণির একজন আর দশম শ্রেণির তিনজন। বাকি ছয়জনের মধ্য দুইজন মেয়ে ও চারজন ছেলে। এর মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণির দুইজন মেয়ে দুইজন ছেলে এবং তৃতীয় শ্রেণির দুইজন ছেলে। 
মুসায়েব বলল, এই হিশাবে দিয়ে কি কোন কাজ হবে?
তালহা বলল, গোয়েন্দা কাজে কোন কিছুঁই ফেলনা না। তারপর প্রধান শিক্ষাকাকে উদ্দেশ্য করে বলল,  এরকম ঘটনা কি আপনাদের স্কুলে প্রথম?
না, প্রথম না। পাচ বছর আগে একবার হয়েছিলো। 
ও আচ্ছা আপনাদের এখানে কয়দিন আগে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে না? অনুষ্ঠান না ঠিক, একটা কনসার্ট অনুষ্ঠান। রক শিল্পী গোষ্ঠীদের আয়োজনে অনুষ্ঠানটা হয়েছে। প্রতি বছর এই সময় ওরা কোন না কোন স্কুলে কনসার্টের আয়োজন করে। 
এবারের  আগে কি ওরা আর কখনোও আপনাদের এখানে কনসার্টের আয়োজন করেছে? 
হ্যা প্রথম আমাদের স্কুলেই করে ২০০৭ এর দিকে। 
তালহা এবের বিজ্ঞের মত করে বলল, মোট দুইবার কনসার্ট করেছে তাইনা? এর আগেরবারও কি রক শিল্পী গোষ্ঠি ছিলো?
সেটাতো মনে নেই। 
আপনি বলছিলেন, এর আগে একবার বাচ্চা মিসিং হয়েছে সেটা কত সালের  ঘটনা?
সেটা কি আর মনে আছে?
মুসায়েব ভ্রু কুঁচকে বলল, কেন থানায় জি ডি করেননি?
হ্যা করা হয়েছিলো।
সেই জিডির কাগজটা দেখে আমাকে বলেন। আচ্ছা দরকার নেই আমি সার্চ দিয়ে বের করছি। 

কিছুক্ষণ পর তালহা বলল, দূর্ভাগ্যক্রমে অপহরণের ঘটনাটা ঐ সালেই ঘটেছে। আমাকে আর একটা তথ্য দিতে পারবেন? আগের কথার রেশ ধরে তালহা বলল।
কি তথ্য?
প্রথমবার অপহৃত সব বাচ্চাকে ফিরে পাওয়া গেছে কি? কতদিন পরে পাওয়া গেছে? প্রথমবার আর এবার এই দুইবার যারা অপহৃত হয়েছে আর্থিকভাবে তারা কি স্বচ্ছল?
এই স্কুলে যারা পড়ে তারা সবাই স্বচ্ছল পরিবারেরই। তালহার প্রশ্নের উত্তরে বলল মিসেস জামিলা। 
যারা অপহৃত হয়েছে তাদের সব তথ্য আমার দরকার। দয়া করে যদি দিতেন। 
মিসেস জামিলা বললেন, তাহলে তোমরা কালকে এসো। আমি তৈরি করে রাখবো। 
ঠিক আছে বলে তালহারা বের হয়ে গেলো।  
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/129796/</link>
				<pubDate>Sun, 07 Aug 2022 13:01:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_বারো<br />
তালহা অবাক চোখে তাকিয়ে বলল, কাইয়ুম চৌধুরীর সাথেও দেখা করে আসলি? তোরা দেখি আমার থেকে এক ধাপ এগিয়ে আছিস।<br />
আপাতত উনি অন্য একটা কেস নিয়ে ব্যস্ত। তাই এই ব্যাপারটা নিয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। কিন্তু উনার সহকারী খায়রুল আলমের এই ব্যাপারে খুব আগ্রহ। সব রকম গোয়েন্দা কাজে ওকে নেন না উনি। খায়রুলের গোয়েন্দা  হওয়ার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-129796"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/129796/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2e509936641956336dbcf51171aecce3</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য
পর্ব_এগারো 
তালহাকে একটা মাইক্রোতে উঠিয়ে দিয়ে লিটন সাহেব চলে গেলো। যাওয়ার সময় ড্রাইভারকে তালহার কাছে থেকে ওর ঠিকানাটা নিয়ে ঠিকমত পৌঁছে দিতে বলল। গাড়িতে ড্রাইভার ছাড়া হাশমত নামে অন্য একজনও আছে। সে তালহার পাশেই বসে আছে। যদিও চোখ বাঁধা থাকার কারণে কিছুই দেখতে পারছেনা তালহা, তবুও মনে হচ্ছে লোকটা একভাবে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ও শুনেছে লিটন যাওয়ার সময় ওকে আদেশ করে গেছে তালহার দিক থেকে চোখ যেন না সরায়। সেকারণেও মনে হতে পারে।   
গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে তালহা। তিন প্রস্থ কাপড় দিয়ে তার চোখ বাঁধা। একটু ঢিলা করে যে জায়গাটার নাম দেখে নিবে তার কোন উপায় নেই। পাশে বসা হাশমতকে উদ্দেশ্য করে বলল, হাশমত আমার থেকে চোখ সরাননিতো। 
না না, একদমই সরায়নি। 
কিন্তু আমি যে দেখলাম আপনি বাইরের দিকে তাকিয়ে আছেন। আসলে এতো সুন্দর প্রকৃতি রেখে আমার দিকে আর কতক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায়? কথাটা অনুমান করেই বললো তালহা। 
রাগে তোতলাতে শুরু করলো হাশমত। এইই ছেছেলে তোতোমাকে কে বলল যে  আমি বাইরে তাকিয়ে ছিলাম? তুমি দেখতে পাচ্ছো। দাঁড়াও এবার এমন টাইট দেবোনা! কথাটা বলেই চোখের বাঁধন খুলতে শুরু করলো হাশেম। সম্পূর্ণ খুলে আবার যখন বাধতে যাবে তখন তালহা আকুতি করে বললো পাঁচ মিনিট খোলা রাখা যায়না? একটু বাতাস খেয়ে নেই।
না না একদমই না। কথাটা বলে আবার তালহার চোখ বেঁধে দিল। ওর হাত  দুইটা বাঁধা। পিছমোড়া করে বাঁধতে চেয়েছিলো। ওর অনুরোধে সামনের দিকে রেখে বেঁধেছে। সেই অবস্থায় কষ্ট করে দুইটা মার্বেল নাকের দুইপাশ দিয়ে ঢুকিয়ে দিলো। ফলে বাঁধনটা অনেকটাই ঢিল হল। কাজটা খুব দ্রুত করলো যাতে হাশমত না দেখে ফেলে। লোকটাকে একটু মাথা মোটা মনে হয়েছে তালহার। না দেখলে ওর কৌশল ধরতে পারবেনা। তালহা দেখলো হাশমত আবারও বাইরেটা দেখছে। এই সুযোগে কাপড়টা ফাঁক করে ও বাইরেটা দেখার চেষ্টা করলো। হাত বাঁধা থাকায় কাজটা করতে বেগ পেতে হচ্ছে। রাস্তার পাশের দোকানপাটগুলো থেকে জায়গাটার নাম জেনে নিলো তালহা। জায়গাটা শৈলকূপা। আশেপাশের পরিবেশ দেখে বোঝা যাচ্ছে এটা ঝিনেদার গ্রাম এলাকা। তালহাকে যে গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সেটা একটা মাঝারি আকারের মাইক্রো। ড্রাইভারের সিটের এক সারি পরে একদম মাঝামাঝি যে সিটটা, সেটার ভেতরের দিকে তালহাকে বসিয়ে বাইরের দিকটায় হাশমতকে বসানো হয়েছে যাতে তালহা চট করে নেমে  যেতে না পারে। ড্রাইভার সেই যে কানের মধ্যে একটা এয়ার ফোন লাগিয়েছে আর খোলার নাম নেই।  এমনিতেই চলন্ত মাইক্রোর ড্রাইভিং সিটে বসে পেছনের কথা শোনা যাওয়ার কথা না। আর যদি কানে এয়ার ফোন গুজে রাখে তাহলেতো শুনতে পারার প্রশ্নই ওঠেনা। তালহা চোখের কাপড়টা সরিয়ে যতটুকু ফাঁকা করতে পেরেছে তা দিয়ে আশপাশটা ভালোই দেখতে পারছে। গ্রামের মেঠো পথ ধরে স্কুলগামী ছেলে-মেয়েরা একেবেকে হেঁটে চলছে। হাশমত হা করে সেইদিকে তাকিয়ে আছে। 
জায়গাটার নাম জানা হয়ে গেছে। এখন আর কিছু দেখার ইচ্ছা নেই তালহার। হাশমতের কাণ্ড দেখে লোকটাকে হ্যাংলা মনে হলো। মধ্য বয়স্ক একটা লোক এভাবে বাচ্চা মেয়েগুলোকে দেখছে ব্যাপারটা তালহার কাছে দৃষ্টিকটু লাগলো। তালহা কণ্ঠে কাঠিন্যতা নিয়ে বলল, কি হাশমত সাহেব, ওদিকে তাকিয়ে কি দেখেন?
কোনদিকে তাকিয়ে কি দেখি? আমিতো শুধু তোমাকে দেখি। 
কিন্তু আমি আপনার দিকে তাকিয়ে দেখলাম আপনি দিব্বি বাইরে তাকিয়ে স্কুলগামী বালিকাদের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। দৃষ্টি সংযত করতে শিখুন।  মেয়ের বয়সী কতগুলো বাচ্চা বাচ্চা মেয়ের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে বিবেকে বাঁধা উচিৎ। 
লজ্জায় মিইয়ে গেলো হাশমত। পরক্ষণেই চেহারার মধ্যে কাঠিন্যতা এনে বলল, বললাম না কথা না বলে চুপচাপ আমার সাথে চল। কথাটা বলে আবার আপন মনে বাইরেটা দেখতে লাগলো। হঠাৎ চমকে উঠে বললো, এই তুমি কীভাবে জানলে আমি কি দেখছি? তোমার চোখ কি আবার খুলে গেছে? 
আরে না। যে টাইট করে বেঁধেছেন তাতে নাভিশ্বাস অবস্থা। আচ্ছা হাশমত ভাই। হাশমতই তো নাম আপনার, তাইনা? কথা ঘুরিয়ে প্রশ্নটা করলো তালহা। 
হ্যা হাশমত। বল, কি বলবে? 
আচ্ছা এখন আমরা কোন জায়গায়?
তা দিয়ে তোমার দরকার কি?
জায়গাটার নাম জানলে আমার বাড়ি যেতে আর কতক্ষণ লাগবে তা আমার আন্দাজ করতে সুবিধা হতো।  
এটা শৈলকূপা।
এখনও শৈলকূপাতেই আছি?
এখনও শৈলকূপাতে আছি মানে?
না  মানে আমাকে যেখান থেকে মাইক্রোতে উঠিয়ে দিয়েছিলো ওটাওতো শৈলকূপা, তাইনা?  
হ্যা ওটাও শৈলকূপা। তাতে কী হয়েছে?
না ভাবছি এতক্ষণেও শৈলকূপা পার হতে পারলামনা! কতক্ষণে বাড়ি পৌঁছাবো কে জানে? ওদিকে পেটের মধ্যে ছুঁচো ডিগবাজি খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। আপনারা খাবারতো দূরের কথা একটু পানি পর্যন্ত খেতে দেননি। সেকথা বাদ দেন। মায়া দয়া থাকলেইনা অন্যের কথা ভাববেন। আচ্ছা একটা কথা বলেনতো শৈলকূপায় জঙ্গলও আছে, না?  
আছে। শুধু শৈলকূপায় না একটু বেশি গ্রাম এলাকাগুলোতে এমন জঙ্গল অহরহ দেখতে পাওয়া যায়। 
হ্‌ বেশতো! অন্যগুলো দরকার নেই। তবে বন্ধুদের নিয়ে আমার এখানে একবার আসার ইচ্ছা। আহা জায়গাটা যদি একবার দেখতে পারতাম! লিটন সাহেবকে একবার বলতে চেয়েছিলাম চোখটা খুলে দিয়ে আমাকে জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করাতে। কিন্তু সাহসে কুলায়নি।
তাহলে আমাকে এতো কথা জিজ্ঞাসা করার সাহস কে দিলো?
আপনাকে না দেখেও আমার খুব আপন আপন লাগছে। তাই একটু বেশি আবদার করে ফেলছি। ভাববেননা, এতে আপনার কোন অসুবিধা হবেনা। তবে লিটন সাহেব যখন বড় রাস্তার দিকে নিয়ে আসছিলো, তখন দেখতে না পারলেও   বড় বড় জংলী গাছের মধ্যে দিয়ে যে হাঁটিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছিলো এটা বেশ বুঝতে  পেরেছি। আচ্ছা হাশমত ভাই, ঐ জঙ্গলে আবার সাপ টাপ নেইতো? টুকুস করে পায়ে যদি একটা কামড় বসিয়ে দিতো?  
জঙ্গলে সাপ থাকবে না কি বাসায় থাকবে? চুপচাপ বসে থাকো। 
হ্যা সেইতো।
আচ্ছা তুমি এতো কথা বলো কেন?
কথা বলবোনা! কথাইতো সম্বল। আমরাতো অস্ত্র না, কথা দিয়েই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করি। আমার কথা বলাতে আপনার বেশ অসুবিধা হচ্ছে বুঝতে পারছি। আমি বরং একটু ঘুমিয়ে নেই ।  
সেটাই কর। পৌঁছে গেলে ডেকে দিবো।
তালহা সত্যিই ঘুমিয়ে পড়েছিলো। হাশমতের ধাক্কায় ধরফরিয়ে উঠলো। মুচকি হাসি দিয়ে বলল, কি ব্যাপার, ডাকলেন যে? আমরা চলে এসেছি?  ঘুমিয়ে  গিয়েছিলাম, তাইনা?  
ওত কথা না বলে গাড়ি থেকে নেমে পড়। তালহা গাড়ি থেকে নেমে পড়ল। হাশমত তার হাত এবং মুখের বাঁধন খুলে দিল। এতক্ষণ বেঁধে রাখার কারণে  চোখ খুলতে খুব অস্বস্তি লাগছে তালহার। হাত দিয়ে চোখ রগড়ে আস্তে আস্তে যখন ধাতস্থ হল তখন চোখ খুলল। প্রথমে জায়গাটা না চিনলেও পরে বুঝলো জায়গাটা তার নানী বাড়ির আশেপাশেই। ক্ষুধা আর পিপাশায় জান যাওয়ার অবস্থা। তাকিয়ে দেখলো ততক্ষণে গাড়িটা হাওয়া হয়ে গেছে। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। ও ভেবেছিলো গাড়ির নাম্বারটা টুকে নিবে। কিন্তু তা আর হলো কই। কি আর করা? বাসার উদ্দেশে রওনা দিলো। বাসায় ঢুকে আগে তাকে ফ্রেশ হতে  হবে, তারপর ক্ষুধা মিটিয়ে বন্ধু দুজনের খোঁজ করতে হবে। টেম্পু স্ট্যান্ডে এসে একটা টেম্পুতে উঠে পড়ল সে। বাসায় ঢুকেতো চোখ চড়কগাছ। মুসায়েব আর  যায়িদ কবজি ডুবিয়ে খাওয়াতে ব্যস্ত আর তার ছোট মামা, মেজো মামা পেছনে হাত দিয়ে পায়চারি করছে। ওকে ঢুকতে দেখে চিৎকার করে উঠল ওমর শরীফ। 
তালহা তুই কোথায় ছিলি কাল রাতে? কারা ধরে নিয়েছিল তোকে? তোর চিন্তায়  মা সেই যে বিছানায় শুয়েছে, আর উঠার নাম নেই। রাত থেকে কিছুই খায়নি। আমিতো এখুনি বড় আপাকে ফোন করতে যাচ্ছিলাম।
কথাটা শুনে আঁতকে উঠল তালহা। মাকে ফোন করলে তার আর গোয়েন্দাগিরি করে হবেনা। ফোন করেনি শুনে জানে পানি আসল তার। তারপর বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল, কিন্তু আমার জন্য তো আমার বন্ধুদের কোন চিন্তা নেই। কেমন গোগ্রাসে খাচ্ছে!
তালহার কথা শুনে মুসায়েব বলল, আগে খেয়ে নেই তারপর কথা হবে।
এমনভাবে খাচ্ছিস যেন কতদিন খাসনি। 
সে অনেক কথা। সকালে নাস্তা করেছি। কিন্তু যতটা আগ্রহ নিয়ে নাস্তা করা শুরু করেছিলাম খেতে গিয়ে ততটা আগ্রহ পাইনি। বাসি পরাটা। এমন শক্ত ছেড়াই যাচ্ছিলোনা। ঐ খাবারের কাছে এটা যেন অমৃত। আহ্‌ কিজে মজা! বসে পর। তোর পেটেওতো মনে কিছু পড়েনি। আগে খাওয়া তারপর কাজ। পেট খুশিতো, মন খুশি। কথাগুলো বলেই আবার তৃপ্তি সহকারে খাওয়া শুরু করলো মুসায়েব।   
ওমর শরীফ বলল, ওরাও তো মাত্র বাসায় এসেছে।
তালহা অবাক চোখে তাকালো ওদের দিকে। এখন এসেছে মানে! কোথায় ছিল সারা রাত?
আগে খেয়ে নে, ওমর শরিফ বলল। তারপর আরাম করে বসে নিজেদের মধ্যে আলাপ করবি। 
তালহার বিস্ময় এখনও কাটেনি। বলল, তোরা খা আমি নানুকে নিয়ে খাবো।  
আগে বল, তুই কোথায় ছিলি?
আর বলিসনা। কাচ দেওয়া দরজাটা দিয়ে ভিতরে ঢোকার পর কিছুদূর গিয়ে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলাম, তারপর আর কিছু মনে নেই। সকালে ফজরের আজানের সময় ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল। নিজেকে একটা বদ্ধ ঘরে আবিষ্কার করলাম। তারপর একে একে সব ঘটনা বর্ণনা করলো তালহা। যায়িদদের দিকে তাকিয়ে বললো, এবার বল তোরা সারা রাত কি করেছিস? 
মুসায়েব বলা শুরু করলো। তোকে না পেয়ে আমরা পোড়ো বাড়িটা থেকে বের হয়ে যাই। তারপর...............
আরে তুই চুপ কর ঘুম-পুত্র। মুসায়েবের কাছ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বলল যায়িদ। 
ঘুমপুত্র! অবাক চোখে যায়িদের দিকে তাকালো মুসায়েব। সেটা আবার কি?
কি বুঝিসনি না? তোকে বললাম তুই একটা ঘুম-পুত্র। 
ঘুমকন্যা শুনেছি, কিন্তু ঘুমপুত্র এমন শব্দ কখনও শুনেছি বলে মনে পড়েনা।
এখন শুন......
থামবি তোরা। সবসময় ঝগড়া করা তোদের স্বভাব হয়ে গেছে। এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে তার মাঝেও ঝগড়া করতে হবে? যেকোন একজন বল। ঠিক করে নে কে বলবি? 
আমিই বলবো, যায়িদ বললো। ওতো ঘুমেই কাঁতর ছিলো তখন। তারপর যায়িদ গত রাতে তাদের সাথে হওয়া সব ঘটনা খুলে বলল।
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/129188/</link>
				<pubDate>Sat, 06 Aug 2022 04:06:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_এগারো<br />
তালহাকে একটা মাইক্রোতে উঠিয়ে দিয়ে লিটন সাহেব চলে গেলো। যাওয়ার সময় ড্রাইভারকে তালহার কাছে থেকে ওর ঠিকানাটা নিয়ে ঠিকমত পৌঁছে দিতে বলল। গাড়িতে ড্রাইভার ছাড়া হাশমত নামে অন্য একজনও আছে। সে তালহার পাশেই বসে আছে। যদিও চোখ বাঁধা থাকার কারণে কিছুই দেখতে পারছেনা তালহা, তবুও মনে হচ্ছে লোকটা একভাবে ওর দিকে তাকিয়ে আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-129188"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/129188/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">53a9cabc5e69728eced85ba76f89beab</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য  
পর্ব_দশ 
গত রাতে যায়িদ আর মুসায়েব যখন ধরা পড়েছিল তখন একটা গাড়িতে করে তাদেরকে একটা বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। গাড়িতে উঠার সাথে সাথে মুসায়েব  ঘুমিয়ে পড়লেও এক ফোঁটাও ঘুমায়নি যায়িদ। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখতে দেখতে এসেছে সে। কিন্তু এদিককার রাস্তাঘাট চেনা না থাকার কারণে তাদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারেনি। তবে বাসাটায় ঢোকার পর বুঝতে পারে এটা একটা অফিস। কিসের অফিস সেটা জানার জন্য নামের ফলকটা পড়তে গিয়েও কালো পোশাক পড়া লোকটার ধমকের জন্য পড়তে পারেনি। রাতের বেলা চেয়ারে বসে আবারও শব্দহীন ঘুম দিয়েছে মুসায়েব। আল্লাহ্‌ ওকে এই বড় নিয়ামাতটা দিয়েছেন। কিন্তু সামান্য সময়ের জন্য যায়িদের দুই চোখ  লাগলেও ধরতে গেলে নির্ঘুম কেটেছে রাতটা তার। ফজর নামাজ পড়ার পর এক ঘণ্টার জন্য ঘুমিয়ে গিয়েছিল। 

ঘুম থেকে উঠে মনোযোগ দিয়ে আজকের পত্রিকা পড়ছিল যায়িদ। 

কই কোথায় তারা? খায়রুল আমার রুমে ওদেরকে নিয়ে আসো। কর্কশ আওয়াজ শুনে সামনে তাকিয়ে হন্তদন্ত হয়ে একজন মধ্যবয়স্ক লোককে ঢুকতে দেখল যায়িদ। কিছুক্ষণ পরে রাতের কালো পোশাক পড়া লোকটা এসে তাদেরকে বলল, চল স্যার তোমাদেরকে ডেকেছে। মুসায়েব তখনো ঘুমে কাতর। কয়েকবার ডাকার পরে উঠল। লোকটাকে অনুসরণ করে একটা রুমের সামনে গিয়ে দাড়ালো তারা। কালো পোশাক পড়া লোকটা বলল, স্যার এইযে ওদেরকে নিয়ে এসেছি।  

টেবিলের উপর রাখা কিছু একটা মনোযোগ দিয়ে পড়ছিল লোকটা, আওয়াজ শুনে দরজার দিকে তাকালেন। ও খায়রুল এসেছো? তাহলে লোকটার নাম খায়রুল তা জানা গেল। ওদেরকে রুমে এনে বসাও। রুমের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রুমের দরজায় লাগানো নেম-প্লেটের নামটা চোখে পড়েছিল যায়িদের। সেখান থেকেই লোকটার নাম জানা হয়ে গেছে তার। কাইয়ুম চৌধুরী, প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সংস্থা। লেখাটা পড়েই চোখ জ্বলজ্বল করে উঠেছিল তার। মুসায়েবকে এখনও বলা হয়নি। শুনলে কিরকম উত্তেজিত হবে ছেলেটা তা খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। পাশে তাকিয়ে দেখে মুসা এখনও চোখ রগড়াচ্ছে। ওর মাথায় একটা চাটি মেরে যায়িদ বলল, তোর এতো ঘুম আসে কোথা থেকে। খায়রুল নামের লোকটি তাদেরকে ভেতরে ঢুকতে বলল। 

তাদেরকে ঢুকতে বলে লোকটা আবারও টেবিলের রাখা জিনিসটার দিকে মনোযোগ দিল। 

বসে বসে রুমের চারিদিক দেখছিল যায়িদরা। রুমে চারটা বইয়ের আলমারি। চারটাই বই দিয়ে ঠাসা। লোকটার চেহারাও বেশ জ্ঞানী জ্ঞানী। 

নিজের হাতের কাজটা রেখে ওদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে করমর্দন করতে করতে বলল, আমি কাইয়ুম চৌধুরী, প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সংস্থা। নাম শুনেছো নিশ্চয়?

জায়িদ উচ্ছ্বাসের সাথে বলল, হ্যা গত পরশুইতো পেপারে দেখলাম। আপনাদের সম্পর্কে সব জানি আমরা।

ওমা তাই নাকি? ভালো, সব বিষয়ে জ্ঞান রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু আমিতো তোমাদের সম্পর্কে কিছুই জানিনা। এবার তোমাদের পরিচয় বল।   

যায়িদ পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে কাইয়ুম চৌধুরীর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, এখানে আমাদের পরিচয় আছে। 

হাত বাড়িয়ে যায়িদের এগিয়ে দেওয়া কার্ডটা নিল কাইয়ুম চৌধুরী। চশমা নেড়েচেড়ে পড়া শুরু করলেন। আপন মনেই বলে উঠলেন গোয়েন্দা? মাথা তুলে যায়িদদের দিকে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। চোখ তুলে খায়রুল আলমের দিকে তাকালেন। তারপর যায়িদদের  দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন তোমরা গোয়েন্দা?

জ্বী ছোট করে উত্তর দিল যায়িদ। মুসায়েব কিছু একটা বলতে গেলে ওর হাত টেনে ধরলো যায়িদ।

কিসে পড়?

এবার এস এস সি দিয়েছি। উত্তরটা যায়িদই দিল। 

এই লাইনে কবে থেকে এসেছো?
 
আসলে...... কথাটা যায়িদ শুরু করতে গেলেও তার মুখার কথা কেড়ে নিয়ে মুসায়েব বলা শুরু করল। খুব বেশিদিন হয়নি আমারা এই লাইনে এসেছি। মাত্র শুরু করেছি। নলডাংগা রাজবাড়ী ঘুরতে গিয়ে শখের বসে পোড়ো বাড়িটাতে ঢুকে পড়েছিলাম। তারপর ওখানে নানারকম আজগুবি ঘটনা ঘটতে দেখে আমার বন্ধু তালহার শখ হল ঐটার রহস্য বের করা। পত্রিকার দেখলাম সরকার এবার কাজটার দায়িত্ব আপনাদের 
দিয়েছে। এক নাগাড়ে কথাগুলো বলল মুসায়েব।

ও আচ্ছা এই কথা। প্রথমেই তোমাদের দেখে বুঝেছিলাম খায়রুল কোন একটা গোলামাল করেছে।  তোমাদের দেখে আমার একদমই কালপ্রিট মনে হয়নি। কিন্তু তোমাদের কার নাম কি নাম সেটাতো জানা হল না। আর এখানেতো তিনজনের নাম লেখা আছে। তাহলে তোমাদের আর একজন সহযোগী কোথায়?

যায়িদ বসা থেকে উঠে গিয়ে কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে য়ারেক দফায় করমর্দন করে নিজের নাম বলল। ওর দেখাদেখি মুসায়েবও একই কাজ করল।

তাহলে আর একজন তালহা ? ও এখন কোথায়? কাইয়ুম পূণরায় করলেন প্রশ্নটা।

আমরা তিনজন বাড়িটার ভেতরে ঢুকলেও বাইরের দিকেই ছিলাম। ঐ ঘরটায় কিছু রহস্যজনক জিনিস ছিল যা আমরা দুজন মনোযোগ দিয়ে দেখছিলাম। সেই মুহূর্তে একটু সময়ের জন্য দেখলাম তালহা একটা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েছে। ও যাওয়ার পরও আমরা ওখানেই দাড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করার পর যখন দেখলাম ও আসছেনা তখন ভয় লাগতে শুরু করলো। একবার ভাবলাম ভেতরে ঢুকি কিন্তু পরে মনে হল সবাই একসাথে ধরা পড়াটা ঠিক হবেনা। তাই ওখান থেকে বেরিয়ে আসলাম। আসার পথে উনাদের খপ্পরে পরে গেলাম। তারপর আরকি? এইযে আপনার সামনে বসে আছি।

এতক্ষণ যায়িদের কথা মনোযোগ সহকারে শুনছিল কাইয়ুম চৌধুরী। কথা শেষ হলে তিনি খায়রুল আলমের দিকে তাকিয়ে বললেন, খায়রুল ওদেরকে কোথা থেকে ধরে এনেছো?

স্যার পোড়োবাড়ির সামনে থেকে ধরে এনেছি।

তারমানে তোমরা বাড়ির ভেতর ঢোকনি?

খায়রুল হাত কচলাতে কচলাতে বলল, আসলে স্যার ঢোকার আগেই ওদেরকে ওখান থেকে বের হতে দেখে আমি ভেবেছিলাম এরাই প্রধান কালপ্রিট।

তোমাকে ওখানে যেতে নিষেধ করার পরও কেন গেলে তুমি। তারপর যায়িদদের দিকে ফিরে বলল, তোমরা কিছু মনে করোনা। আমাকে কাজটা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু আমার হাতে এখন কাজ থাকায় আমি ঐ কাজটায় হাত দিতে পারছিনা। এর মাঝে ওদের  গোয়েন্দাগিরি ফলানোর শখ হয়েছে। তাই আমাকে না জানিয়েই রহস্য উদঘাটন করতে গেছে। কাল রাতে আমাকে যখন ফোন করে তোমাদের কথা বলেছে তখনই আমি বুঝতে পেরেছি ওরা কোন একটা অঘটন ঘটিয়েছে এবং হয়েছেও তাই। সম্পূর্ণ কথাটা তিনি খায়রুল নামক লোকটার দিকে তাকিয়েই বলল। কথাটা শেষ করা তাদের দিকে তাকিয়ে বলল, এখন বল তোমাদের প্লান কি? বন্ধুকে খুজে বের করবেনা? আমি চাই কাজটা তোমরাই কর। আমি তোমাদের সাথেই আছি কথাটা বলে তাদের দিকে একটা কার্ড এগিয়ে দিল। এই নাওম আমাদের প্রতিষ্ঠানের কার্ড। ওখানে ফোন নাম্বার দেওয়া আছে। যেকোন প্রয়োজনে আমাকে ফোন করতে পারো, তবে তা যেন বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই হয়।  

জি আচ্ছা যোগাযোগ করবো। আজ তাহলে উঠি। 

এখনই যাবে? সকালের নাস্তা করে যাও। আমার ছোট মাইক্রোটা পড়ে আছে। ভাবছি কয়দিন তোমাদেরকে দিবো। তবে তার আগে তোমাদের সম্পর্কে খোজ খবর নিয়ে নিশ্চিত হওয়া দরকার তোমরা যা বলেছো তা সব সত্যি। কথাটা বলে নিজের চশমাটা নাগের ডগায় ঝুলিয়ে গোঁফে হাত বুলাতে বুলাতে যায়িদদের দিকে তাকিয়ে বলল, কি আমি কি ঠিক বললাম?

মুসায়েব বলল, হ্যা ঠিকই বলেছেন। তবে এখন আমাদের আপনার সাহায্য করা দরকার। তালহাকে কীভাবে খুজে বের করবো আমরা? আমরাতো এই কাজে নতুন। ওরা যদি ওর কিছু করে ফেলে!

উহু, এই ব্যাপারে কোন সাহায্য.....................

দুঃখিত স্যার আপনার কথার মাঝে কথা বলার জন্য। আমি বলতে চাচ্ছিলাম এখন আমরা কারও সাহায্য ছাড়াই কাজটা করতে চাই।  

হ্যা আমিও সেটাই বলতে চাচ্ছিলাম। তোমাদের এখন মাথা খাটিয়ে কাজ করতে হবে। কীভাবে কোথা থেকে শুরু করবে তা তোমাদেরকেই বের করতে হবে। 

স্যার আমরা তালহাকে খোজ করবো ঠিকই কিন্তু আমার কি মনে ও ঠিকই বের হয়ে আসবে। ওর সাথে দেখা হলে বুঝতেন কি তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি। একদিন ওকে নিয়ে আপনার সাথে দেখা করবো। স্যার, আপনি দোয়া করবেন। 

হ্যা চলে আসবে। তোমাদের জন্য আমার অফিসের দরজা সবসময় খোলা।

ততক্ষনে নাস্তা চলে এসেছে। মুসার পেটে অনেক আগে থেকেই ছুঁচো ঘুরে বেড়াচ্ছিল। খাবার দেখে তা আরও দ্বিগুণ বেগে দৌড়াতে লাগলো। নাস্তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়তে ইচ্ছা করছে কিন্তু লজ্জায় তা করতে পারছেনা। কিছুক্ষণ পর কাইয়ুম চৌধুরীর ডাকে তার সাথে নাস্তা করতে বসে গেলো। খাওয়ার সময় কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে অনেক কথা ওদের। বেশিরভাগই ওদের লেখাপড়া নিয়ে। খাওয়া শেষ করে ওরা ওখান থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিলে কাইয়ুম চৌধুরী ওরা এখন কোথায় যাবে জিজ্ঞাসা করলো। ওরা তালহার নানু বাড়ির ঠিকানা বললে ড্রাইভারকে ওদেরকে পৌঁছে দিতে বলে দিলেন।

তোর কি মনে হয়? তালহা এতক্ষণে নিজেকে মুক্ত করতে পেরেছে? মাইক্রোর জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখতে দেখতে যায়িদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলো মুসায়েব। 
কিছুই বুঝতে পারছিনা। কারা ওকে ধরে নিয়ে গেছে সেটাইতো বুঝতে পারছিনা। নির্লিপ্ততার সাথে কথাটা বলল যায়িদ। আগে বাসায় গিয়ে দেখি তালহা ওখানে আছে কিনা। যদি না থাকে তাহলেতো আমাদেরকে কিছু একটা করতেই হবে। 
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/127574/</link>
				<pubDate>Mon, 01 Aug 2022 17:35:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_দশ<br />
গত রাতে যায়িদ আর মুসায়েব যখন ধরা পড়েছিল তখন একটা গাড়িতে করে তাদেরকে একটা বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। গাড়িতে উঠার সাথে সাথে মুসায়েব  ঘুমিয়ে পড়লেও এক ফোঁটাও ঘুমায়নি যায়িদ। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখতে দেখতে এসেছে সে। কিন্তু এদিককার রাস্তাঘাট চেনা না থাকার কারণে তাদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারেনি। তবে বাসাটায় ঢোকার পর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-127574"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/127574/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0a17a05f94635f771b190f1d7bc38fe1</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য
পর্ব_নয়  

পাখির কিচির-মিচির শব্দে তালহার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সবে সকাল হচ্ছে। এখনও  অন্ধকার কাটেনি। একটা বদ্ধ ঘরে তাকে রাখা হয়েছে। উঠে দাড়াল তালহা। একটা মাত্র জানালা আছে তাও আটকানো। ফাঁকফোকর দিয়ে বাইরের যে কিঞ্চিৎ আলো ঘরে এসে পড়েছে তাতে সবকিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ঘরটার চারিদিকে দেওয়াল থাকলেও সামনের দিকের সম্পূর্ণটাই লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা। কয়েদখানার মত করে বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে কেমন করে আসলো সে, মনে করার চেষ্টা করলো। কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর তার সব মনে পড়ে গেল। 
গতকাল পোড়োবাড়িতে আয়না কাম দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ে তালহা। একটা সুরঙ্গের মত রাস্তা ধরে যেইনা সামনে এগোতে যায় তখনই কিছু একটার সাথে ধাক্কা লেগে জ্ঞান হারায় তারপর আর কিছু মনে নেই। সেতো পোড়োবাড়িতে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এই জায়াগাটাকে কোনভাবেই পোড়োবাড়ি মনে হচ্ছে না। 
জানালাটার কাছে গিয়ে দাড়ালো তালহা। ধাক্কা দিয়ে খোলার চেষ্টা করেও কোন সুরাহা করতে পারলোনা সে। চারিদিকে চোখ ঘুরিয়ে বের হওয়ার উপকরণ খুজতে লাগলো সে। গায়ের সব শক্তি দিয়েও খোলা সম্ভব হলোনা। তবুও চেষ্টা করে যেতে লাগল সে। যখন দেখল কোন মতেই আর জানালা খোলা সম্ভব না, তখন চারিদিকে চোখ ঘুরিয়ে অন্য উপায় খুঁজতে লাগলো। জানালার থেকে বেশ উপরে একটা ঘুলঘুলি চোখ পড়লো। একজন মানুষের বের হওয়ার জন্য ঘুলঘুলিটা বেশ বড়। কিন্তু ঘুলঘুলি নাগাল পেতে উঁচু কোন টুল বা চেয়ারের সাহায্য নিতে হবে। ঘরে তেমন কোন আসবাব নেই যার সাহায্য সে ঐ পর্যন্ত পৌঁছাবে। চারিদিকে  চোখ বুলাতে লাগলো তালহা যদি কোন উপায়  বের করা যায়। নাহ্‌ কোন কিছুই খুজে পাওয়া গেলনা। উপায়ান্ত না দেখে হতাশ হয়ে মেঝেতে বসে পড়লো তালহা। কয়েক মিনিট বসে আবার উঠে পড়লো সে। ঘরের চারপাশে আবারও চোখ বুলাতে লাগলো। নাহ্‌ এবারও কিছু চোখে পড়লো না। হঠাৎ ঘরের সাথে লাগোয়া ওয়াশরুমের কথা মনে পড়তেই তালহার চোখ চকচক করে উঠল। বিলম্ব না করে ওয়াশরুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো তালহা। ওয়াশরুমের জানালাটা বেশ বড়। কমোডের উপর উঠে অনায়াশেই জানালাটার কাছে চলে যাওয়া যাবে। কমোডে এক পা রেখেছে জানালা ধরবে বলে আর তখনই ধরাম করে শব্দ হল। তালহা বুঝতে পারল, কেউ একজন ঘরের দরজাটা খুলে ভেতরে কেউ প্রবেশ করেছে। তড়িঘড়ি করে নীচে নেমে ওয়াশরুমের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসল তালহা। 
দরজাটা খোলার কারণে বাইরের আলো এসে ঘরটাতে প্রবেশ করলো। সেই আলোয় লোকটাকে দেখতে পেল তালহা। লোকটার দিকে তাকিয়ে তাকে মনে করার চেষ্টা করলো তালহা। কিন্তু লোকটাকে আগে দেখেছে কিনা সে ব্যাপারে কিছুই মনে করতে পারলোনা সে। 
লোকটা তার একদম কাছে চলে এসেছে। একটা হাত তালহার ঘাড়ে রেখে বলল, কি হে ধরা পড়ে গেলে? চল তোমাকে স্যার নিয়ে যেতে বলেছে। 
ঠিক আছে চলুন। কিন্তু তার আগে একটা ব্যাপার আমি কিছুতেই বুঝতে পারছিনা আমাকে এখানে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে কেন?
বুঝবে বুঝবে, দুই চারটা বেতের ঘা পিঠে পড়লে তখন ঠিকই বুঝতে পারবে। এখন আমার সাথে আসো। তালহাকে নিয়ে সেই ঘর থকে বের হয়ে গেল লোকটা। একটা গলি ধরে তারা এগোতে লাগলো। দেওয়ালের দুই পাশে নানারকম বাতি লাগিয়ে জায়গাটি আলোকিত করে রাখা হয়েছে। লম্বা গলিটা পেরিয়ে তাকে একটা ঘরে নিয়ে আসল লোকটা। এই ঘরে দুইটা বড় বড় জানালা আছে। জানালা দুইটাই খুলে রাখা হয়েছে বলে বাইরের আলো এসে পড়েছে ঘরটাতে। বাইরের দিকে তাকিয়ে জায়গাটা চেনার চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হল তালহা। তালহাকে বসিয়ে রেখে লোকটা সেই যে গেছে আর আসার নাম নেই। তালহা সুযোগটা কাজে লাগাতে চাইলো। জানালাগুলোতে ঘিজিমিজি গ্রিল দেওয়া আছে। সেখান দিয়ে বের হওয়া একদমই অসম্ভব। কিন্তু যে করেই তাকে বের হওয়ার পথ বের করতে হবে। এভাবে ধরা পড়ে থাকলে তার আর গোয়েন্দা হওয়া হবেনা। হঠাৎ যায়িদ আর মুসায়েবের কথ মনে পড়ল তার। নিজের মাথায় নিজেই একটা চাটি মারলো। কীভাবে ওদের দুজনের কথা ভুলে থাকলো ও। আচ্ছা ওরা দুজনও ধরা পরেনিতো? ওদের কোন বিপদ হয়নিতো? মুসাটা  মাঝে মাঝে যে পাগলামী করে তাতে যায়িদ ওকে ঠিকমত সামলাতে পারবেতো? দুজনে ঝগড়া করবে, না সমস্যার সমাধান করবে?  
রহস্যের কোন সমাধান করতে পারলে?  
মোটা গলায় করা প্রশ্নটা শুনে ধ্যান ভেঙ্গে গেল তালহার। খুব কাছ থেকে কণ্ঠটা শুনলেও রুমের মধ্যে কাউকে দেখতে পেলোনা সে। এই যে ক্ষুদে গোয়েন্দা, এদিকে তাকাও। আবার কণ্ঠটা অনুসরণ করে সামনে তাকালো। না এবারও কাউকে দেখলো না। তালহা বুঝতে পারলো লোকটা অন্য রুম থেকে তার সাথে কথা বলছে। ঠিক সেই মুহুর্তে রুমের এক কোণে লাগানো ক্যামেরাটা দেখতে পেল  তালহা। বুঝতে বাকি নেই তার, লোকটা অন্য কোন ঘরে বসে তাকে পর্যবেক্ষণ করছে আর তার সাথে কথা বলছে। শোন, লোকটা আবার বলা শুরু করলো। তোমরা বাচ্চা বাচ্চা ছেলে। যদি  নিজেদের কোন ক্ষতি করতে না চাও তবে ঐ বাড়িটার ব্যাপারে আগ্রহটা কমাও। ওটা যেমন আছে তেমন থাকুক। তোমাদের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। আমি চাইনা তোমাদেরকে নিয়ে তোমাদের বাবা মায়েরা যে স্বপ্ন দেখেছে তা শেষ হয়ে যাক। আমি তাদের বুক খালি করতে চাইনা। আমার লোকেরা.........
লোকটা কথাটা শেষ করতে পারলোনা তার আগেই তালহা বলে উঠল, ঐ বাড়ির সাথে আপনার কি সম্পর্ক? 
আগ্রহ থাকা ভালো, তবে সেটা বেশি হলে বিপজ্জনক। 
 কিন্তু এই বাড়িটা নিয়ে আগ্রহী মানুষের অভাব নেই। আর আমিও মনে করি বাড়িটা রহস্য খুব শীঘ্রই বের করা উচিৎ। বাড়িটার আসল মালিক কে? কে বাড়িটাতে এরকম ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি করেছে? এরকম হাজারটা প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে বাড়িটাতে যাওয়া খুবই জরুরী। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিনা একাজে বাঁধা দিয়ে আপনার কি লাভ? 
সেটা তোমাকে না জানলেও হবে। তোমাকে আমার লোকেরা চোখ বেঁধে এখান থেকে বের করে তোমার বাসার আশেপাশে রেখে আসবে। মনে রাখবে তোমাদের সবকিছুই আমাদের নখদর্পনে। বাড়ি গিয়ে মন দিয়ে লেখাপড়া করবে। আর কখনও এমুখো হবেনা।
আমার বন্ধুদের কোথায় রেখেছেন? কিছুটা ক্রোধের সাথে প্রশ্নটা করলো তালহা। 
তোমাদের বন্ধুদের কোন খবর আমার কাছে নেই। তুমি ভেতরে ঢোকার সাহস  দেখিয়েছো তাই ধরা পড়েছো। ওরা বুদ্ধিমান, তাই হয়তো বাড়ি ফিরে গেছে।
কিছুক্ষণ পরে একটা লোক এসে একটা মোটা কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে দিল। তারপর তার হাত ধরে কোথাও নিয়ে যেতে লাগলো। তালহা বুঝতে পারলো এভাবে চোখ বেঁধে নিয়ে গেলে সে জায়গাটা চিনে যেতে পারবেনা। আর জায়গাটা না চিনতে না পারলে পরে আসতে পারবেনা। কিন্তু জায়গাটা চিনে রাখা তার জন্য জরুরী। তাকে জানতে হবে কে এই লোক? কেনইবা সে তাদেরকে পোড়োবাড়িতে ঢুকতে নিষেধ করছে? চোখ বাঁধা থাকায় তালহা বুঝতে পারছেনা ঠিক কতজন লোক তাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একজন তাকে শক্ত হাতে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তার সাথে আর কেউ আছে কিনা বোঝা যাচ্ছেনা। তবে তালহার মন বলছে আর কেউ নাই তাদের সাথে। যদি থাকতো তাহলে তারা নিশ্চয় নিজেদের মধ্যে কথা বলতো। তারপরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য লোকটাকে উদ্দেশ্য করে বলল, আমারনা খুব ক্ষুধা পেয়েছে। তালহার সত্যিই ক্ষুধা লেগেছিল কারণ গতকাল সন্ধ্যায় বাসা থেকে খেয়ে বের হওয়ার পর পেটে আর কিছু পড়েনি। 
হঠাৎ তালহার এমন আবদারে লোকটা থমকে গেল। কথাটা শুনে অবাক হলেও পরক্ষণেই তার মনে হলো ছেলেটার ক্ষুধা লাগাটাই স্বাভাবিক। কাল সন্ধ্যায় ওকে ধরে আনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত খাবারতো দূরে থাক এক গ্লাস পানিও দেওয়া হয়নি। এখন সকাল দশটা। ছেলেটার যে ক্ষুধা লেগেছে সেটা খুবই স্বাভাবিক। লিটন নিজেও ক্ষুধা অনুভব করছে। কিন্তু এখানে আশেপাশে কোন হোটেল নেই যে সেখান থেকে ওরা খাবারটা খাবে। ওকে চুপ থাকতে দেখে তালহা বললো আপনার নামটা কি জানতে পারি? 
বসের দেওয়া নিয়ম ভুলে গেছে লিটন। তাছাড়া ভাবল নাম বললে কিই বা হবে? কোনকিছু না ভেবে বলল, আমার নাম লিটন।
তালহা বলল, বাহ্‌ বেশতো নামটা। আচ্ছা আমাকে কি একটু পানি খাওয়ানো যাবে। তেষ্টায় প্রাণ যায় যায় অবস্থা। 
লিটন কি বলবে বুঝতে পারলো না। লিটনকে চুপ থাকতে দেখে তালহা বলল, কি ব্যাপার লিটন সাহেব আপনি চুপ হয়ে আছেন যে? আপনাদের বস কি আমাকে পানি খাওয়াতেও নিষেধ করেছে। ঠিক আছে দরকার নেই চলেন। লিটন আবারও তালহাকে নিয়ে হাটতে শুরু করলো। 
বুঝছেন লিটন সাহেব, একটা বিষয় ভেবে আমি খুব মজা পাচ্ছি।
লিটনকে পাঠানোর সময় তার বস বারবার করে বলে দিয়েছে ছেলেটা কিন্তু খুব চালাক। ওর সাথে বেশি কথা বললেই ও তোমার মুখ থেকে কথা বের করে নিবে। 
লিটনকে চুপ থাকতে দেখে তালহা আবার বলল, শুনবেন না কি বিষয়ে মজা পাচ্ছি? লিটনকে তবুও চুপ থাকতে দেখে তালহা বলল, ঠিক আছে আপনাকে কিছু বলতে হবেনা, আপনি শুধু শুনুন। সবাই বক্তা হলে শ্রোতা হবে কে? কারো না কারোর তো শ্রোতা হতে হবে। এখানে আমি বক্তা আর আপনি শ্রোতা। আজকে আমার একটা দারুন অনুভূতি হচ্ছে তা হল আমার মনে হচ্ছে আমি একজন অন্ধ মানুষ আর আপনি আমার পথ প্রদর্শক। আচ্ছা আমরা কত দূর এসেছি? আচ্ছা এখন কয়টা বাজে? লিটন সাহেব আপনি কি ঘড়ি পড়ে এসেছেন? ঘড়ি না থাকলেও রোদের তেজ অনুভব করে আমার মনে হচ্ছে এখন সকাল এগারোটা কি বারোটা হবে, তাই না? আচ্ছা এতো বেলা হয়েছে রাস্তায় কোন গাড়ি বা পথচারীর আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছেনা কেন? শহরে কি হরতাল চলছে নাকি? তালহা ইচ্ছা করে অনবরতঃ কথা বলে যাচ্ছিল যাতে লোকটা দিশেহারা হয়ে রেগে যায়। তার জীবনে সে এতো কথা একসাথে বলেছে কিনা সন্দেহ। 
তালহার কথার তোপে মাথা ধরে গেছে লিটনের। ছেলেটাকে একটা কষে ধমক দেওয়া দরকার। 
কিছুক্ষণ থেমে তালহা আবার বলল, আচ্ছা আমার মনে হচ্ছে আমরা অনেক খানি পথ হেটে ফেলেছি। আমার ভীষন পা ব্যাথা করছে। তালহাকে লোকালয় দিয়ে নিয়ে যেতে নিষেধ করেছে। তাই পেছনের জঙ্গল দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বড় রাস্তায় গাড়ি অপেক্ষা করছে। ওখানে পৌছালে তালহাকে গাড়িতে উঠিয়ে তবে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু সেসব কথা ছেলেটাকে বলা যাবেনা। তালহা আবার কথা বলতে শুরু করল। আচ্ছা লিটন ভাই এটা কোন জায়গা? 
লিটন এবার বিরক্ত হয়ে বলল, তুমি এতো কথা বল কেন? এবার থামো, আর একটা কথাও বলবেনা। 
আসলে আমার কৌতূহল অনেক বেশি। আর তাছাড়া আমি যেখানে যাই সেই জায়গাটা খুটে খুটে দেখি। আল্লাহ্‌র সৃষ্টি খুঁটে খুঁটে দেখি, উপলব্ধি করি আর ঈমান বৃদ্ধি করি। আল্লাহ্‌ বলেছে বোদ্ধারা তার সৃষ্টির রহস্য খুঁজে তাঁর দিকে ঝুঁকে আর বুদ্ধুরা অহমিকা দেখিয়ে তাঁর থেকে দূরে সরে যায়। আচ্ছা লিটন ভাই আপনি নামাজ পড়েন?
লিটন এবার ক্ষেপে গিয়ে বলল, চুপ, আর একটাও কথা বলবেনা।
না বলছিলাম কি আমার মনে হচ্ছে আপনি অনৈতিক কাজে জড়িয়ে গেছেন। এর থেকে বের হতে চাইলে নামাজ পড়েন। নিশ্চয় বের হতে পারবেন। কারণ আল্লাহ্‌ বলেছে, ‘ নিশ্চয় নামাজ মানুষকে সকল পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।
হঠাৎ লিটনের ভেতরে অপরাধবোধ জেগে উঠলো। ও আসলে এ কাজ করতে চায়নি। অভাবে পড়ে কাজের খোঁজে বের হয়ে একটা চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে এখানে আসলে তাকে এই কাজ করতে বলা হয়। এখানে একবার ঢুকলে আর বের হওয়া যায়না। লাশ হয়ে বের হতে হবে। তারা বড় রাস্তার একদম কাছে চলে এসেছে। লিটন মুখটা শক্ত করে তালহাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিল। 
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/127032/</link>
				<pubDate>Sat, 30 Jul 2022 20:26:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_নয়  </p>
<p>পাখির কিচির-মিচির শব্দে তালহার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সবে সকাল হচ্ছে। এখনও  অন্ধকার কাটেনি। একটা বদ্ধ ঘরে তাকে রাখা হয়েছে। উঠে দাড়াল তালহা। একটা মাত্র জানালা আছে তাও আটকানো। ফাঁকফোকর দিয়ে বাইরের যে কিঞ্চিৎ আলো ঘরে এসে পড়েছে তাতে সবকিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ঘরটার চারিদিকে দেওয়াল থাকলেও সামনের দিকের সম্পূর্ণটাই লোহার গ্র&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-127032"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/127032/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">37b78afba43441920d5a3a6671cf56b4</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য
পর্ব_আট

অনেকক্ষণ হয়ে গেল কিন্তু তালহা ফিরে আসলনা। ভয় পেয়ে গেল যায়িদ আর মুসায়েব। কি হয়েছে কে জানে? তালহা যখন কাচের দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকছিল তখন ওরা টেপ রেকর্ডারটা দেখায় ব্যস্ত ছিল। বেশ পুরানো ছিল মেশিনটা। একেকবার একেক রকম সুর শোনা যাচ্ছিল। মুগ্ধ হয়ে সেটাই দেখছিল তারা দুজন। তালহা যখন দরজাটা ঠেলে প্রায়ই ঢুকে গেছে তখন তারা তাকে দেখতে পায়। কিন্তু তখনও বুঝতে পারেনি তালহা ফাঁদে পড়েছে। যায়িদ বুঝতে পারছেনা তালহার খোঁজে ওদের যাওয়া উচিৎ কিনা।   
তালহা কি ধরা পড়ে গেল নাকি? চোখমুখে ভয়ার্ত ভাব নিয়ে বলল মুসায়েব।
চিন্তিত দেখাল যায়িদকে। মুসায়েবের কথার জবাবে বলল, কি জানি এটা বোধহয় ওদের গুপ্ত পথ। ও বোধহয় বিপদে পড়েছে। আমাদের যত দ্রুত সম্ভব জায়গাটা ত্যাগ করা উচিৎ। নাহলে আমাদেরও ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে। সবাই একসাথে ধরা পরলে তখন আর রহস্য আর উদঘাটন করা সম্ভব হবেনা।  
আর রাখ তোর রহস্য উদঘাটন! আমি আর এ পথ মাড়াবোনা। তবে চলে যাওয়ার কথাটা খারাপ বলিসনি। কিন্তু ওকে ছাড়া চলে যেতেও আমার খুব খারাপ লাগছে?  
খারাপ লাগার কিছু নেই। এখানে এভাবে থাকলে আমরাও ধরা পড়তে পারি। তখন কে কাকে উদ্ধার করবে শুনি? এখন চলে গেলেও আমরা আবার আসব ইনশাআল্লাহ্‌।  
কিন্তু ওর যদি কোন বিপদ হয়! শঙ্কিত দেখাল মুসায়েবকে।  
ও অনেক বুদ্ধিমান। ঠিক বুদ্ধি বের করে ফেলবে। চল এখন আমরা এখান থেকে বেরিয়ে যাই।
যথা আজ্ঞা জাহাঁপনা। 
কিরে টিটকারী মারলি নাকি?  
ওমা তা কেন হবে? তুমি একজন বড় মাপের গোয়েন্দা হবে একদিন। আমার মত চুনোপুঁটিরা তখন কি আর আপনার সাথে কথা বলার সাহস পাবে? 
ঠিক আছে বুঝেছি। তোমাকে আর পাম দিতে হবেনা। এখন চল এখান থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়ি। তারপর আর কোন কথা না বলে ঘরটা থেকে বেরিয়ে পড়ল তারা দুজন। কিন্তু পাঁচিলের কাছে এসে বিপাকে পড়ল। কে আগে পাঁচিল টপকাবে তা নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত যখন যায়িদ আগে টপকাতে চাইলো তখন আবার বাগড়া বাঁধালো মুসায়েব। এই পাশেও সে এক মুহুর্তও একা থাকতে পারবেনা। উপায়ান্ত না দেখে দুজন একসাথেই পাঁচিল টপকানোর সিদ্ধান্ত নিল।  
পাঁচিল টপকে এক নিঃশ্বাসে বড় রাস্তায় চলে আসল তারা দুজন। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে আছে চারিপাশ। অন্ধকারে পাশের মানুষকেও ঠিকমত দেখা যাচ্ছেনা। এমনকি যায়িদ আর মুসায়েব দুজন দুজনকে দেখতে পাচ্ছেনা। ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে আছে মুসায়েব। যায়িদের গা ঘেঁষে হাটছে সে। কিছুদূর হাঁটার পর পেছেনে খসখস আওয়াজ শুনতে পেল তারা। শব্দটা কানে যেতেই যায়িদের হাত শক্ত করে চেপে ধরল মুসায়েব। পেছনে তাকানোর সাহস হলোনা তার। 
মুসায়েবের আচরণে রেগে গেল যায়িদ। ধমক দিয়ে বলল, তুই এমন উদ্ভট আচরণ করছিস কেন?
পাল্টা রেগে গিয়ে মসায়েব বলল, উদ্ভট মানে? তুই উদ্ভট আচরণ করছিস। দেখছিস না আমাদের পেছনে কেমন একটা শব্দ হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ আমাদের পিছু নিয়েছে। আমাদের এখান থেকে যত দ্রুত সম্ভব পালানো উচিৎ নইলে ধরতে পারলে দেখবি আমাদের ঘাড় মটকে দিবে।
আমিতো শব্দ শুনে পেছন ফিরে দেখতে চাচ্ছি আমাদের পেছনে কেউ আসছে কিনা। কিন্তু তোর জন্য তাও পারছিনা। তোকে আনাটাই ভুল হয়েছে। 
আনলি কেন? আমারতো গোয়েন্দা ফোয়েন্দা হওয়ার ইচ্ছা কখনই ছিলোনা। তোদের চাপে পড়েইতো আসতে হল। 
আমরা তোকে রেখে আসলে তোর ভালো লাগতো? কিছুটা শ্লেষের সাথে জিজ্ঞাসা করলো যায়িদ। 
তা ভালো লাগতোনা...। কিন্তু এখানে এসেওতো ভালো লাগছেনা। মনে হচ্ছে আমি ভয়ে মরে যাবো। আমি কিছু.........    
শব্দটা ক্রমশ কাছে আসছে। মুসায়েবকে কথার মাঝে থামিয়ে দিয়ে ওর পিঠ চাপড়ে বলল,এবার তুই একটু শান্ত হ। আমি দেখি আমাদের কেউ অনুসরণ করছে কিনা। মুসায়েব কিছুটা শান্ত হলে যায়িদ পেছনে ফিরে তাকালো কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলোনা। শব্দটাও ততক্ষণে থেমে গেছে। আবার সামনের পথ ধরে হাঁটা শুরু করল দুজনে। কিছুদূর যাওয়ার পর আবার শব্দটা শুনতে পেল তারা। চট করে আবার পেছনে ফিরল যায়িদ, কিন্তু এবারও কাউকেই দেখতে পেলনা তারা। আবার হাটার শুরু করল দুজনে। এতক্ষণ মুসায়েবকে কথা শুনালেও এখন বেশ অস্বস্তি লাগছে যায়িদের। ভয়ে হাত পা হিম হয়ে আসতে লাগলো। দুজন দুজনের হাত শক্তভাবে চেপে ধরল। একটা দৌড় মারতে পারলে ভালো হতো কিন্তু দৌড় দিয়ে কোনদিকে যাবে তারা? জায়গাটাইতো তাদের পরিচিত না। কিছুক্ষণ থামার পর আবারও আওয়াজটা শুনতে পেল। যায়িদের এবার মনে হল কেউ তাদেরকে অনুসরণ করছে। কিন্তু পেছনে তাকিয়ে এবারও নিরাশ হল, কাউকেই দেখতে পেলনা। মুসায়েবের হাতটা আরও শক্ত করে চেপে  ধরে বলল,এই মুসায়েব, আমার মনে হচ্ছে কেউ আমাদের অনুসরণ করছে। চল আমরা দৌড় লাগাই। 
আমারতো প্রথম থেকেই মনে হচ্ছিল কেউ আমাদের অনুসরণ করছে, কিন্তু তুইতো বিশ্বাস করছিলিনা। একদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার তারউপর রাস্তাটাও অপরিচিত। দৌড় দিলেও খুব একটা সুবিধা হবে বলে মনে হচ্ছেনা মুসায়েবের। যায়িদের দিকে তাকিয়ে বলল, দৌড়েই বা কোথায় যাবো? এদিকটার রাস্তাঘাটতো আমাদের চেনা না। 
এবার শব্দটা একেবারে তাদের কাছাকাছি কোথাও থেকে আসছে বলে মনে হচ্ছে। সাহস সঞ্চয় করে দুজন মিলে আবার পেছনে তাকাল।  স্পষ্ট দেখতে পেল লোকটাকে। কালো শার্ট-প্যান্ট পড়া। তাদের থেকে বড়জোর দুই হাত দূরে দাড়িয়ে আছে। গা হিম হয়ে আসল মুসায়েবের। যায়িদের হাত শক্ত করে চেপে ধরল। লোকটা ওদের দিকে এগিয়ে আসল। কিছু বুঝে উঠার আগে রাস্তার অন্যপাশ থেকে আরও একজন এসে ওদেরকে ঘিরে দাঁড়ালো। মুসায়েব অতিরিক্ত ভয়ে চুপসে গেল। 
কালো পোশাক পড়া লোকটা কাছে এসে বললো, একদম নড়চড়া করবেনা। যেখানে আছো সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকো। 
আপনারা কারা? কাঁপা কাঁপা গলায় প্রশ্নটা করল মুসায়েব। 
আমরা কারা? জায়গামত নিয়ে যাই তখন বুঝবে আমরা কারা। একটা বাড়ি দখল করে বসে আছে? এই পুঁচকে পুঁচকে ছেলেগুলোর সাহস কত! জসিম এদেরকে বেঁধে গাড়িতে তোল। স্যারকে বলেছিলাম এই কাজট আমাদের দুই আঙ্গুলের ব্যাপার। তখনতো স্যারের সাথে তুইও বিশ্বাস করিসনি। এখন দেখলিতো কয় মিনিটেই অপরাধীদের ধরে ফেললাম!   
জ্বি স্যার। আমিতো জানি এসব কাজ আপনার কাছে মামুলী ব্যাপার। কিন্তু বাড়িটার ব্যাপারে যা শুনেছি তাতে আমার সন্দেহ হয়েছিল আসলে আপনি পারবেন কিনা। কিন্তু স্যার আমারনা এদেরকে দেখে অপরাধী মনে হচ্ছেনা। বাচ্চা বাচ্চা দুইটা ছেলে। হয়তো কৌতুহলবসত এখানে ঢুকে পড়েছে।
জসিমের মাথায় একটা গাট্টা মেরে কালো পোশাক পড়া লোকটা বলল, তুই একটা আস্ত হাদারাম। যেখানে ভয়ে এর আশপাশ কেউ মাড়াতে চায়না সেখানে এরা আসবে কৌতুহল মেটাতে! তোকে যা বলেছি তাই কর। গাড়ি থেকে মোটা একটা দড়ি নিয়ে এসে ওদেরকে বেঁধে ফেল। 
ফিসফিসিয়ে কথাগুলো বললেও যায়িদের তা বুঝতে অসুবিধা হলোনা এরাও ওদের মত রহস্য উদঘাটন করতে এখানে এসেছিল। ওদেরকে ধরতে পেরে লোকগুলো মহা খুশি। ভেবেছে রহস্য  উদঘাটন করে ফেলেছে। যায়িদের পেট খিচে ভীষণ হাসি পাচ্ছে। মুসায়েবের এখনও ভয় কাটেনি। ওর দিকে তাকিয়ে দেখল এখনও শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুসায়েবকে একটা ঝাঁকি মারলো যায়িদ। কোন কাজ হলোনা, একভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। আরও দুই তিনবার ঝাঁকি মারার পর হুঁশে ফিরল মুসায়েব। ওকে সবটা বুঝিয়ে বলতে যাবে তখনি দেখে একটা মোটা দড়ি নিয়ে হাজির জসিম নামক লোকটা। 
এতক্ষণ মজা পেলেও এখন আত্মসম্মানে আঘাত লাগলো যায়িদের। হাত দেখিয়ে বাঁধা দিল লোকটাকে। কর্কশ কণ্ঠে বলল, আমাদের বাঁধার দরকার নেই। গাড়িটা দেখিয়ে দিন। আমরা একাই উঠতে পারবো। আর একটা কথা, আমাদের ধরতে পেরে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে লাভ নেই। কিছুক্ষণ পরে যখন বুঝতে পারবেন  আপনারা যা ভাবছেন আমরা তা না, তখন আপনাদের মুখের অবস্থা কেমন হবে তা ভেবে আমার এখনই হাসি পাচ্ছে। 
এই চুপ। চালাকি করা হচ্ছে আমাদের সাথে তাইনা? নানান কথা বলে আমাদের সম্মোহিত করতে চাও। ওতো বোকা ভেবোনা আমাকে। এসব কথা বলে আমদের মনোযোগ নষ্ট করে পালানোর পাঁয়তারা করছো, তাইনা? হুহু ঘুঘু দেখেছো ফাঁদ দেখোনি।
উহু, ঘুঘুও দেখিনি, ফাদেও পড়িনি। কিছুটা শ্লেষ মাখিয়ে বলল যায়িদ।
যায়িদের কথায় রেগে গেল কালো পোশাক পড়া লোকটা। ওর কান টেনে ধরে বলল, মশকরা করছিস কেন?  
এতক্ষণ চুপ থাকলেও যায়িদের কান ধরে টানা মেনে নিতে পারলোনা মুসায়েব। লোকটাকে মারবে বলে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে এগিয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু যায়িদের চোখের ইশারায় থেমে দাড়াল। নিসপিস করা হাতটা কাজে লাগাতে না পেরে মুখ  দিয়েই কাজ সারল সে। গলার আওয়াজ চড়া করে বলল, আহাম্মকের দল! খবরদার আমাদের বাধার জন্য যদি একপাও এগিয়েছেন তবে হাড়গোড় নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবেনা, পোড়োবাড়ির ভুতেদের সাথেই বসবাস করতে হবে। 
কথাটা বেশ জোরে আর রাগের সাথেই বলেছে মুসায়েব। লোকগুলো খানিকটা হকচকিয়ে গেল। হাত দেখিয়ে মুসায়েবকে শান্ত করে বলল, ঠিক আছে বাধবোনা। ভদ্রভাবে এসো আমাদের সাথে।   
মুসায়েব আরও কিছু বলতে গেল কিন্তু যায়িদ তাকে বাঁধা দিল। কথা না বাড়িয়ে ওদের সাথে গাড়িতে উঠে বসল
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126566/</link>
				<pubDate>Fri, 29 Jul 2022 01:25:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_আট</p>
<p>অনেকক্ষণ হয়ে গেল কিন্তু তালহা ফিরে আসলনা। ভয় পেয়ে গেল যায়িদ আর মুসায়েব। কি হয়েছে কে জানে? তালহা যখন কাচের দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকছিল তখন ওরা টেপ রেকর্ডারটা দেখায় ব্যস্ত ছিল। বেশ পুরানো ছিল মেশিনটা। একেকবার একেক রকম সুর শোনা যাচ্ছিল। মুগ্ধ হয়ে সেটাই দেখছিল তারা দুজন। তালহা যখন দরজাটা ঠেলে প্রায়ই ঢুকে গেছে তখন তারা তা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-126566"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/126566/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7716cba89731e001a49fda3b0b5bc995</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য 
পর্ব_সাত

চারিদিকে এখনও ঠিকমত অন্ধকার হয়নি। এখনও পাশের পথচারীদেরকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আজকে রাতের বেলায় বাড়িটাতে ঢুকবে বলে তালহা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সকালের বাসে নলডাঙ্গায় এসেছে তারা। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আশেপাশের বিভিন্ন জায়াগাগুলো ঘুরে দেখেছে। ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে তারা বিকালের দিকে পোড়োবাড়ির কাছে এসেছিল বাড়িটা সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য সংগ্রহ করার জন্য। আশেপাশের মানুষের কাছে বাড়িটা সম্পর্কে জানতে চেয়ে খুব একটা লাভ হয়নি। সবাই যেন মুখে কুলুপ এটে বসে আছে। তালহার ছোট মামার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বাইরে একটা নতুন তথ্য যোগ হয়েছে তা হল, বেশিরভাগ মানুষের ধারণা বাড়ির মালিক আত্মহত্যা করেছে। তাই তার আত্মা ভুত হয়ে বাড়ির মধ্যে ঘুরে বেরাচ্ছে। ঐ বাড়ির পালিত ছেলে সম্পর্কে জানতে চাইলে কেউ কোন তথ্য দিতে পারেনি। আগে থেকেই বাড়িটার আশেপাশে তেমন বাড়ি ছিলনা। যা দুই একটা ছিল তারা বাড়িটার রহস্যময় পরিবেশের কারণে নিজেদের বাড়ি ফেলে অন্যত্র গিয়ে ভাড়া থাকছে অথবা নতুন বাড়ি বানিয়েছে। বাড়ির সামনের রাস্তাটাও না পারতে কেউ ব্যবহার করেনা। তথ্যগুলো সংগ্রহ করে বিকালের মধ্যে তারা বাসায় ফিরে আসে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যার নামাজের পর পোড়োবাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় তারা।

শান্ত কুটিরের সামনে যখন পৌঁছায় তারা তখন চারপাশের ঘুটঘুটে অন্ধকার। একদিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় কোন বাতি নেই অন্যদিকে আকাশে ঘোর অমাবস্যা। বাড়ির আশপাশের ঘন গাছে ঢাকা ছোট ছোট অরণ্যগুলো থেকে পিটপিট করে জ্বলতে থাকা জোনাকির আলোগুলো যেন একমাত্র ভরসাস্থল। ছোট বড় গাছগুলো দখল করা অসংখ্য জোনাকির গা থেকে আসা লাল-সবুজ আলোতে একটা মোহময় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। চারিদিকে চোখ ঘুরিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে মুসায়েব বলল, কি নিরামিশ তোরা। এমন একটা পরিবেশে কোথায় প্রকৃতি বিলাস করব তা না গোয়েন্দাগিরি করে সময় পার করছি।

হয়েছে, সারাদিন শুধু আছে তোর প্রকৃতি-বিলাস। এসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে এখন যা করতে এসেছি সেদিকে মন দে। কপট রাগ দেখিয়ে কথাটা বলল যায়িদ।

হুহ্‌, আসছে একজন গোয়েন্দা! মুখ ভেংচি দিয়ে বলল মুসায়েব।

মুসায়েবের কথায় পাত্তা না দিয়ে তালহারা বাড়ির সদর দরজাটার কাছে চলে আসল। গতদিন এই দরজাটা দিয়ে ঢুকলেও আজ আর ঢুকতে সক্ষম হলনা। তিনজন মিলে চেষ্টা করেও দরজাটা খুলতে পারলনা তারা। মনে হচ্ছে দরজাটা শক্ত করে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পাশ দিয়ে ঢোকার কোন উপায় নেই। হতাশার সুরে বলল তালহা।
অন্যপাশ দিয়ে কি ঢোকার জায়গা আছে? যায়িদ জিজ্ঞাসা করল।

থাকবেতো অবশ্যই। এখানে কেউ থাকলে তাদের চলাচলের জন্য পথ থাকতে হবেনা? চল ওপাশটায় দেখি বলে তালহা বন্ধুদের নিয়ে ডান পাশ ধরে হাটা শুরু করল। এদিকটায় কোন দরজা না থাকলেও ঘরের দেওয়ালের সাথে একটা তিন ফুট উঁচু পাচিল আছে যাকে বাড়ি ঘিরে থাকা উঁচু পাচিলের সাথে লাগিয়ে দিয়ে ঢোকার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জোনাক পোকার আলো আর চোখ সওয়া অন্ধকারে কিছুক্ষণ পর দেওয়ালের গায়ে একটা মোটামোটি একজন লোক ঢুকতে পারবে এমন একটা ছোট দরজা আবিষ্কার করল তালহা। কিন্তু ধাক্কা দিয়ে দেখল এটাও বেশ শক্তভাবে আটকানো।
দরজা একটা আছে এখানে, কিন্তু এটাও আটকানো। এখন আমাদের আর কোন কিছু করার নেই, এই পাচিল টপকেই ঢুকতে হবে। বন্ধুদের উদ্দেশে বলল তালহা। কিন্তু মুসায়েবের দিকে তাকিয়ে তাকে খুব চুপচাপ মনে হল তালহার কাছে। কোন কথা বলছেনা সে। সারাদিন ভালই হাসিখুশি ছিল। একটু আগেও কথা বলেছে আর এখন মুখটা ভুতুম পেঁচার মত করে আছে। যেইনা পোড়োবাড়ি ঢোকার সময় হল আর অমনি মুখ গোমড়া করে ফেলল। ওর দিকে তাকিয়ে তালহা বলল,
কিরে মুসায়েব? এতক্ষণতো ভালই ছিলি। এখন আবার এতো গোমড়ামুখো হয়ে আছিস কেন?

তালহার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে বলল, আমার খুব ভয় করছে। বেঁচে ফিরতে পারব কিনা কে জানে?

যায়িদ অবাক হয়ে মুসায়েবের দিকে তাকাল। স্মিত হেসে বলল, কিরে কি বলিস এগুলো? এখানে বাঁচা মরার কথা আসছে কেন? তুইতো দেখি গ্রাম-গঞ্জের মানুষের মত ভুত-প্রেতে বিশ্বাস করিস। দোয়া শিখেছিস কোন কামে? আহাম্মক কোথাকার!

হে আসছে আমার বুদ্ধিমান! তোর কোন ধারণা আছে এসব বাড়ি সম্পর্কে? এই বাড়িতে নির্ঘাত জীনেরা বসতি গড়েছে। ওরা আমাদের উপস্থিতি সহ্য করবেনা। সেজন্যই ওরা আমাদের মেরে ফেলবে।

চুপ করতো তোরা। একটু ধমকের সুরেই বলল তালহা। দুইটা সারাদিন এত ঝগড়া করিস কীভাবে? আবারতো একজন আরেকজনকে ছাড়া থাকতে পারিসনা। আজাইরা প্যাচাল বাদ দিয়ে চল দেখি দেওয়াল টপকানো যায় কিনা।

ওরেব্বাবা! আমি পারবোনা। বলল মুসায়েব। লং জামে তুই সবাইকে হারাস, এটা তোর পক্ষে সম্ভব।

আবার সটকে যাওয়ার ধান্দা খুঁজছিস, তাইনা? তোকেই সবার আগে উঠতে হবে, বলল তালহা।
না মোটেও তা না। আমার সত্যিই ভয় করছে। আমি ঢুকবো, তবে আগেনা। ঐ অন্ধকারে আমি একা গেলে ভয়ে মরেই যাব।

কিচ্ছু মরবিনা। তোকেই আগে ঢুকতে হবে। তুই শুরু কর, আমি সাহায্য করব।

না, তুই আগে ওঠ। আমি মাঝে উঠব।

ঠিক আছে আমিই আগে উঠি,বলল তালহা।

গাট্টাগোট্টা শরীরের কারণে পাচিল টপকানোর সময় মুসাকে একটু বেগ পেতে হয়েছে। তাছাড়া বাকি দুজন খুব সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়ল।

গলি ধরে ভিতরের দিকে হাটা শুরু করল তিনজন। অনেক চিকন হলেও এই গলিতে যে মানুষ হাটাচলা করে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। গলির শেষ প্রান্তে পৌঁছে একটা বাগান দেখতে পেল তালহা। বাগানের পাশেই একটা একতলা টিনের বাড়ি।

এই বাড়ি এবং রাস্তা দুইটাই মনে হচ্ছে পরেবানানো হয়েছে এবং বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে, বলল তালহা।

কেমন করে বুঝলি? মুসায়েব জিজ্ঞাসা করল।

প্রকৃত বাড়ির মালিকের রুচির সাথে এগুলোর কোন মিল নেই।

কি জানি বাপু, আমি ওত বুঝতে পারিনা।

তুই যে বুঝিসনা সেতো আমরা জানি। ওহো তুইতো আবার প্রকৃতি-প্রেমিক। যা দেখিস সবই ভালো লাগে।

তাকি তোর মত নি............ কথাটা আর শেষ করতে পারল তার আগেই তালহার ধমকে চমকে উঠল মুসায়েব।

একতলা বাড়িটায় তালা ঝুলছে। বাড়িটা পেরোলেই একটা খেলার মাঠ, সুইমিং পুল ইত্যাদি দেখতে পেল যায়িদরা। সুইমিং পুলের পানিটাও নোংড়া হয়ে গেছে। সুইমিং পুল পার হতেই সেই মোহনীয় গন্ধটা তাদের নাকে এসে লাগল। এটা দোতলা বাড়িটার দক্ষিণ দিক। বাড়িটার নিচতলায় ঢোকার দরজা দেখতে পেল তারা। সামনে একটা লন যেখানে বসার নানারকম চেয়ার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল তিনজন।

হঠাৎ কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেল মুসায়েব। ভয়ে অন্তরাত্মা শুকিয়ে আসল তার। কাঁপা হাতে নিজের পকেট থেকে টর্চটা বের করে আলো জ্বেলে দেখতে পেল জিনিসটা। চিৎকার করে সরে দাড়াল।

কিরে কি হল? এতো জোরে চিৎকার করছিস যে?

দ্যাখ কি এটা?

মুসায়েবের কথামত তাকিয়ে কঙ্কালটা দেখতে পেল তালহা। মুসায়েবের দিকে তাকিয়ে বলল, আরে শান্ত হ, এটা কি কোন ভয়ের কারণ হতে পারে?

কি বলিস? আমার খুব ভয় লাগছে। কঙ্কাল আসল কীভাবে এখানে? এরা মানুষ মারে নাকি? আমি বলেছিলামনা এখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারবোনা। কয়দিন পরে আমাদের কঙ্কালও এমনভাবে ঝুলে থাকবে।

আরে একটা কঙ্কাল জোগাড় করা আর এমন কি ব্যাপার? এর জন্য মানুষ মারতে হবে কেন?

এভাবে কঙ্কাল ঝুলিয়ে রেখেছে কেন?

ঘরটাতে একটা ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য করতে পারে কাজটা। ওরা বুঝে গেছে এই বাসাটা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এতো মাত্র একটা কঙ্কাল। অথচ তোরা কি জানিস চেক প্রজাতন্ত্রের সেডলেকে একটা গীর্জা আছে যা ৭০০০০ কঙ্কাল দিয়ে সাজানো?

তাই!.৭০০০০ কঙ্কাল! মাথায় হাত দিয়ে জিয়ে জিজ্ঞাসা করল মুসায়েব।

তালহা আবার বলল, উইকোপিডিয়ায় গেলেই দেখতে পাবি। আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে সার্চ দিয়ে পড়ি। তাই অনেক মজার খবর অনেক সময় জানা হয়ে যায়।

কঙ্কাল দিয়ে সাজানো? কেমন অমানবিক মনে হচ্ছে।

অমানবিক ছাড়া আবার কি? গির্জাটার সম্পর্কে জানতে চাইলে পড়ে নিস।
পড়তে পারবোনা। এখন তোর কাছ থেকে জানতে চাই।

কি বলিস?এখন এখানে বসে গির্জার গল্প বলব? তাহলে আমাদের আসল কাজে মনোযোগ বিঘ্নিত হবে।

তাহলে পরে বলবি কিন্তু।

ঠিক আছে, বলব ইনশাআল্লাহ।

কথা বলতে বলতে দেওয়ালে একটা বড় অয়েল পেইন্টিং এর দিকে চোখ আটকে গেল তালহার। ছবিটার চোখ দুটোকে জীবন্ত লাগছে তার কাছ্র। প্রায় পাঁচ মিনিট তাকিয়ে থাকার পরও চোখের পলক পড়তে না দেখে মনের ভুল ভেবে চোখ সরিয়ে নিল সে। অন্যদিকে হাঁটা শুরু করল সে।

মুসায়েবের জামা টেনে ধরে যায়িদ বলল, ছবিটার দিকে দ্যাখ মুসা য়েব। যায়িদের কথামত ওয়েল পেইন্টিংটার দিকে তাকিয়ে মুসায়েব বলল, মনে হচ্ছে চোখ দুইটা গুলি করে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেমন বিধঘুটে লাগছে।

ওদের কথায় ছবির দিকে আবার তাকিয়ে চমকে গেল তালহা। তার ধারণাই ঠিক। ওটা কোন মানুষের চোখ ছিল। পাশের ঘর থেকে আগুন্তকদের উপর চোখ রাখার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঘরে পূর্ব দিকের দেওয়াল জুড়ে একটা ১২/৮ ফুট আয়না শোভা পাচ্ছে। আয়নাটা বেশ স্বচ্ছ। আয়নার কাছে চলে আসল তালহা। একটু চাপ দিতেই মনে হল সরে যাচ্ছে। ভয়ে হাতটা সরিয়ে নিল। ঘুরে মুসায়েবদের দিকে ফিরল। তারা দুজনে একটা টেপ রেকর্ডার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সাহস করে জোরে চাপ দিতেই সরে গেল আয়নাটা। বুঝল তালহা এটা একটা গোপন পথ। ঢুকবে কিনা বুঝতে পারছেনা। হঠাৎ একটা ধোঁয়ার মত এসে তালহার চোখমুখ ভরে গেল। চোখ জালা করতে শুরু করল তার। তালহার বুঝতে বাকি থাকলনা যে তাকে ঢুকতে বাধা দেওয়ার জন্যই এ ব্যবস্থা। কিন্তু আজ কিছুতেই ফিরে যেতে চায়না তালহা। তাকে জানতেই হবে কি হচ্ছে বাড়িটায়। মুসায়েব আর যায়িদকে এখানে থাকতে বলে সে আয়না ঠেলে ভিতরে ঢুকে গেল। কিছুদূর যাওয়ার পর কিছু একটায় বেঁধে পড়ে গেল তালহা। তারপর আর কোনকিছু মনে নেই তার। 
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126294/</link>
				<pubDate>Wed, 27 Jul 2022 13:10:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_সাত</p>
<p>চারিদিকে এখনও ঠিকমত অন্ধকার হয়নি। এখনও পাশের পথচারীদেরকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আজকে রাতের বেলায় বাড়িটাতে ঢুকবে বলে তালহা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সকালের বাসে নলডাঙ্গায় এসেছে তারা। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আশেপাশের বিভিন্ন জায়াগাগুলো ঘুরে দেখেছে। ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে তারা বিকালের দিকে পোড়োবাড়ির কাছে এসেছি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-126294"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/126294/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">027cb51916c40be8dccf62172c0c07b8</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য 
 পর্ব_ছয় 
বুধবার রাতেই ওমর শরীফ এসে হাজির হলো।তাদেরকে নিয়ে বৃহস্পতিবার নলডাংগায় যাবে। এখনও কলেজ জীবন শুরু হয়নি। তাই ব্যস্ততাও অনেকটা কম। তালহা ফজরের নামাজ পড়ে কখনও ঘুমায়না। মসজিদ থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণ হাটাহাটি করে বাসায় চলে আসে। তারপর পড়ার টেবিলে বসে কোরআন পড়ে। আজও ফজরের নামাজ পড়ে পড়ার টেবিলে বসে আছে তালহা। একটা বই পড়ছিল কিন্তু তাতে মন বসাতে পারছেনা। পোড়োবাড়িটা মাথা জুড়ে বসে আছে। আনমনে জানালা দিয়ে উঠানের তাকিয়ে আছে তালহা। যৌথভাবে থাকার কারণে এমনিতেই বাড়িটা সবসময় জমজমাট হয়ে থাকে। জমজমাট রাখার জন্য তালহার ছোট চাচার ছেলে আলিই যথেষ্ট। সারাদিন বাড়িটা মাতিয়ে রাখে। দুই বছর বয়স। ঘরে থাকতেই চায়না। সুযোগ পেলেই উঠানে চলে যায়। তালহার পড়ার ঘর থেকে উঠানটা খুব ভাল দেখা যায়।পড়ার টেবিলে বসে মাঝে মাঝে ওর দুষ্টুমি উপভোগ করে তালহা। আজকে ভোরেই ঘুম থেকে উঠে গেছে সে। উঠানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বই বন্ধ করে ওর কান্ড-কারখানা দেখছে তালহা। উঠানে এ মাথা থেকে ঐ মাথা দৌড়ে বেড়াচ্ছে সে। ওর পেছনে ছোট চাচীর খাদেমাটাও দৌড়াচ্ছে। বড় চাচারা এখনও ঘুমাচ্ছে। জেট ল্যাগ কাটিয়ে উঠতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগে। পড়ার ঘর থেকে বেড়িয়ে অফিস রুমে চলে গেল তালহা। কম্পিউটারটা চালাল। বসে না থেকে  গোয়েন্দাগিরির জন্য একটা ই-মেইল আইডি খুলে ফেলল। নামটা আগেই সিলেক্ট করা ছিল। তাই কার্ডে আগেভাগেই দিয়ে রেখেছে। কাল নলডাংগায় যাবে। তিনদিন থাকবে সেখানে। তালহা ভাবল মুসায়েব আর যায়িদকে নিয়ে কিছুক্ষণ পরামর্শ করলে ভাল হত। যেই ভাবা সেই কাজ। নাস্তা না খেয়েই বেরিয়ে গেল তালহা। আজ শুক্রবার। যায়িদদের বাসায় গিয়ে ঘিয়ে ভাঁজা পরাটা খাবে বলেই নাস্তা করলনা। সাইকেলে গেলে যায়িদদের বাসায় যেতে ১০ মিনিট লাগে আর হেঁটে গেলে আধঘণ্টা।তালহা হেঁটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।সকালের শীতল বাতাসে হাঁটতে খারাপ লাগবেনা। একটু জোরেই হাটল তাই আধঘণ্টার আগেই পৌঁছে গেল যায়িদদের মহল্লায়। এই এলাকাটা খুব গোছানো। আবাসিক গোছের। সব প্রকৃতি প্রেমিকরা যেন এখানে বাস করে। সবার বাড়িতেই বাগান। যায়িদদের গেট জুড়ে লাগানো কামিনী গাছটা থেকে মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। বিকাল নেমে সন্ধ্যা এলেই এই ফুল ফোঁটা শুরু করে। গত রাতের ফোঁটা ফুল এখন গন্ধ বিলোচ্ছে।
কলিং বেল টিপল তালহা। যায়িদের ছোট ভাই জুনায়েদ এসে দরজাটা খুলে দিল। খুব দুরন্ত ছেলে। তবে বুদ্ধিদীপ্তও বটে। এই বয়সেই কোরআনে হাফেজ। আন্তর্জাতিক খেতাবও ছিনিয়ে এনেছে। বাসায় দুষ্টামী করলেও বাইরের লোকের সামনে সে খুব ভদ্র। ওর যত দুষ্টামীর গল্প যায়িদের কাছে শোনা যায়। তালহাকে দেখে কোনমতে সালাম দিয়ে পড়িমরি করে দৌড় দিল। তালহা যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ ও এদিকে পা মাড়াবে না। বসার ঘরটা যায়িদই খুলে দিল। ঘরে ঢুকে বসল তালহা।
কিরে এতো সকালে কি মনে করে? জিজ্ঞাসা করল যায়িদ
কেন হঠাৎ আসতে নেই নাকি?
তা কেন হবে? কিন্তু কখনও এভাবে আসিসনি তাই।
তুই চমকে যাবি তাই আসলাম। 
সকালের নাস্তা করেছিস?
না, চাচীর হাতের পরাটা খাব বলে না খেয়েই এসেছি। 
তুই জানলি কিভাবে আমরা আজকে পরাটা খাব।
গোয়েন্দাগিরি করে।
হেঁয়ালি করিসনা। বলনা কিভাবে বুঝলি মা আজকে পরাটা বানাচ্ছে।
তালহা নাক টেনে ঘ্রাণ নেওয়ার মত করে দেখাল।
ততক্ষণে যায়িদের নাকেও ঘিয়ে ভাঁজা পরাটার ঘ্রাণ চলে এসেছে। ও এই তাহলে কারণ। কিন্তু বাসা থেকেতো আর ঘ্রাণটা পাসনি।
কিরে তোর পরাটায় ভাগ বসাবো তাই এতো জেরা করছিস?
আরে তা কেন হবে?
তাহলে বারবার এককথা বলছিস কেন?
কৌতূহল। শ্রেফ কৌতূহল। গোয়েন্দা হয়েছিনা? তাই কৌতূহলও বেড়ে গেছে। চল, আগে নাস্তা করি তারপর শোনা যাবে তুই কেন এসেছিস।
যায়িদের মায়ের যেকোন রান্নাই অসাধারণ। তালহার নিজের মার রান্নাও অনেক প্রিয়। মায়েদের রান্নাই মনে হয় এমন হয়। ওদের আজকের নাস্তা ঘিয়ে ভাঁজা তুলতুলে পরোটা, সাথে আলু ভাজি আর ডিম ভাজি। তালহার কাছে অসাধারণ লাগল খাবারটা।
নাস্তা করেই বেরিয়ে গেল তালহা আর যায়িদ। মুসায়েবদের বাসায় যাবে। যায়িদদের বাসার কাছেই ওদের বাসা। দুই মিনিটের রাস্তা। তালহাদের মত মুসায়েবরাও দাদী বাড়ি থাকে। ওর দুই চাচা আর এক ফুফু।ওর ফুফুও এবাড়িতেই থাকে। দাদী বাড়ির পাশেই মুসায়েবের নানি বাড়ি।মুসায়েবের মা-বাবা খালাতো ভাই বোন। বিশাল জায়গা নিয়ে ওর দাদী বাড়ি। সবই টিনের একতলা ঘর। বাড়ির চারপাশে উঁচু পাচিল। পাচিল ঘেঁসে নানারকম গাছ শোভা পাচ্ছে। বাড়ির গেটে সবসময় একজন দারোয়ান থাকে। গেটের সাথেই তার ঘর।পরিবার নিয়ে থাকে। দারোয়ানের বউ ভিতরে খাদেমা হিসাবে নিয়োজিত। কলিং বেলের শব্দ পেয়ে দরজা খুলে দিল দারোয়ান জহিরউদ্দিন। তালহাদের দেখেই একগাল হাসি উপহার দিল। সবসময় মুখের মধ্যে একটা হাসি লেগেই থাকে। জহিরউদ্দিন চাচাকে হাসি ছাড়া কোনদিন দেখেনি তালহা। তালহা ভাবল, লোকটার কি কোন দুঃখ নাই নাকি। তবে হাসতে পারাটাও একটা নিয়ামত। হাসি একটা সাদাকাও বটে।
সালাম দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল তালহারা। জহিরউদ্দিনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, কেমন আছেন জহির চাচা? শরীর ভালো?
হ্যা আলহামদুলিল্লাহ। তা বাবারা তোমরা কেমন আছো?
আমরাও আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো আছি? মুসায়েব আছে বাসায়? 
হ্যা বাসাতেই আছে। ভেতরে যাবেনা তোমরা? না-কি ডেকে দিব?
তালহা বলল, ডেকে দিলেই ভালো হত। এই সাত সকালে বাসার ভিতর ঢুকতে ইচ্ছা করছেনা। লজ্জা লাগছে।
লজ্জা কীসের? ঠিক আছে, তোমরা এই চেয়ারটায় বস। আমি ডেকে দিচ্ছি বলে জহির চাচা মুসায়েবকে ডাকতে চলে গেল।
দারোয়ান হলে কি হবে জহির চাচা কিন্তু খুব পরিপাটী হয়ে থাকে, তাইনারে তালহা?
অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিল তালহা। নানারকম চিন্তা খেলছে তার মাথায়। পোড়ো বাড়িটা মাথা থেকে যাচ্ছেইনা। এর পরের বার গিয়ে কি করবে তা নিয়ে মনে নানারকম পরিকল্পনা ভিড় জমাচ্ছে তার মাথায়। 
কিরে আমার কথা শুনতে পাসনি? সকাল থেকে দেখছি বারবার অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছিস। কি এতো ভাবছিস?
বাড়িটার রহস্য বের না করা পর্যন্ত আমার শান্তি পাচ্ছিনা। 
হয়েছে সারাক্ষণ এসব নিয়ে চিন্তা করতে হবেনা। চল মুসায়েব না আসা পর্যন্ত ঐ চেয়ারটাতে বসি।
ঠিক আছে চল।
বাগানের পাশে অনেকগুলো সিমেন্টের চেয়ার পাতানো আছে, তার একটাতে বসে পড়ল তারা দুজন।
কিছুক্ষণ পরে চোখ ডলতে ডলতে মুসায়েবের আগমন ঘটল। বাগানের বেঞ্চে বন্ধুদ্বয়কে দেখে চোখ কপালে উঠে গেল। এতো সকালে ওরা এখানে কি করছে? জহিরউদ্দিন চাচা ঘুম থেকে ডেকে তুলে নিয়ে আসার সময় কি বলেছে ঘুমের জন্য ঠিকমত বুঝতে পারেনি মুসায়েব। চোখ রগড়ে ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল, কিরে কোন সুসংবাদ আছে নাকি?
সুসংবাদ? কিসের সুসংবাদ? নাক মুখ কুঁচকে যায়িদ জিজ্ঞাসা করল।
না এত সকালে তোদের দেখে ভাবলাম কোন সুসংবাদ নিয়ে এসেছিস।
না এমনিই এসেছি। তালহা বলল। কালকে পড়োবাড়ি যাবো সেই ব্যপার নিয়ে কিছু কাজ আছে । তোরা দুজন এখন আমার সাথে অফিসে যাবি।
এ্যা, আমি এখনও খাইনি।
যা, খাওয়ার জন্য দশ মিনিট সময় দিলাম।
তোরা খাবিনা।
আমরা খেয়ে এসেছি। তোর মত অলস নাকি! খোঁচা দিয়ে মুসায়েবকে কথাটা বলল যায়িদ। যা খেয়ে আয়। 
মুসায়েবের খাওয়া শেষ হলে তারা সোজা তাদের গোয়েন্দা অফিসে চলে আসে।
গত রাতে ‘ সিকিউরিটি ইনটেলিজেন্স সংস্থা’ সম্পর্কে কিছু তথ্য ডাউনলোড করে রেখেছিল। রবিনকে সেটা থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো টুকে নিতে বলল। ও আর মুসা মিলে প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যাগে ভরে নিল। 
‘ সিকিউরিটি ইনটেলিজেন্স সংস্থা’ নিয়ে নোট করা শেষ হলে নোটবুকটা নিয়ে তালহার দিকে ঘুরে বসল যায়িদ। তারপর জোরে জোরেই পড়া শুরু করল। তথ্য অনুযায়ী এই সংস্থা দেশে বিদেশে গোয়েন্দা কাজে বেশ সফলতা অর্জন করেছে, বলল যায়িদ। এদের সাথে টেক্কা দেওয়া অত সহজ হবেনা। এদের চাহিদাও অনেক। এই সংস্থাকে নিয়োগ দিতে গিয়ে সরকারকে বেশ মোটা অংকের টাকা গুনতে হবে। বাংলাদেশের বাইরে বিদেশে বিভিন্ন রকম গোয়েন্দা কাজে এদের সফলতা চোখে পড়ার মত। শেষ কাজটা ওদের বাংলাদেশেই ছিল। এখানেও তারা বেশ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। গত বছর ধানমন্ডির একটা স্কুলে বাচ্চা হারানো সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে সেখানে হুলুস্থুল পড়ে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষের সতর্কতা সত্ত্বেও প্রতিদিন কোন কোন বাচ্চা নিখোঁজ হচ্ছিল। উপায়ান্ত না দেখে এই সংস্থাকে নিয়োগ দেয়। এক সপ্তাহের মধ্যে তারা রহস্য উৎঘাটন করে। শর্ত ছিল সব বাচ্চা ফিরিয়ে আনতে পারলে মোটা অংকের টাকা দিবে। পেরেছেও তারা। হারিয়ে যাওয়া বিশটা বাচ্চাকেই তারা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। কাজ শেষে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা দাবি করে বসে। ধনীদের স্কুল বলে টাকাটা দিতে কারোরই বেগ পেতে হয়নি। অভিভাবকরা সবাই মিলেই টাকাটা পরিশোধ করে দেয়। পড়া থামিয়ে বলল, এতটুকুই পেলাম।
তালহাকে একটু চিন্তিত দেখাল। চোখে মুখে চিন্তার রেখা ফুটিয়ে বলল, ঠিক আছে এতেই হবে।
একটা তথ্য পেলে ভাল হত। বেশ আগ্রহের সাথে বলল মুসায়েব।
কি তথ্য? অবাকের স্বরে যায়িদ বলল।
পোড়োবাড়িতে ওরা কবে থেকে কাজ শুরু করে করবে এই তথ্য।
ওটাতো সিক্রেট, বলল তালহা। আমাদের গোছগাছ শেষ। কাল সকালেই আমরা রওনা হচ্ছি ইনশাআল্লাহ্‌।

চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126139/</link>
				<pubDate>Tue, 26 Jul 2022 17:31:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
 পর্ব_ছয়<br />
বুধবার রাতেই ওমর শরীফ এসে হাজির হলো।তাদেরকে নিয়ে বৃহস্পতিবার নলডাংগায় যাবে। এখনও কলেজ জীবন শুরু হয়নি। তাই ব্যস্ততাও অনেকটা কম। তালহা ফজরের নামাজ পড়ে কখনও ঘুমায়না। মসজিদ থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণ হাটাহাটি করে বাসায় চলে আসে। তারপর পড়ার টেবিলে বসে কোরআন পড়ে। আজও ফজরের নামাজ পড়ে পড়ার টেবিলে বসে আছে তালহা। একটা বই পড়ছিল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-126139"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/126139/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3f6cfddd4228b6c2b8df16bb6fb0ceec</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির_রহস্য
পর্ব_পাঁচ
জমজমাট হয়ে গেছে আয়েশা ভিলা। বড় বড় দশটা স্যুটকেস নিয়ে বিদেশ থেকে এসেছে তালহার বড় চাচা। এবার সবাইকে অবাক করে দিবে বলে আগে থেকে না জানিয়ে হুট করে চলে এসেছে। প্রতিবারই আত্মীয়, প্রতিবেশী সবার জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসেন তিনি। তালহার বড় চাচার চার ছেলেমেয়ে। মেয়ে দুজন বড়, তারপর দুই ছেলে। বড় মেয়ে খাদিজার বিয়ে হয়ে গেছে বছরখানেক হবে। মেয়ে জামাইকেও সাথে নিয়ে এসেছেন। জামাই বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত হলেও জন্ম আমেরিকাতে। জন্মের পর কখনও বাংলাদেশে আসা হয়নি। নিজের শেকড়ের সন্ধান কখনই নেওয়া হয়নি। তবে অদ্ভুদ টান অনুভব করত। বাংলাদেশে আসতে পেরে তাই সে খুব খুশি। বাকিদের কথা নাহয় বাদই দিলাম। তারা এমনিতেই আনন্দে আছে। সকালের দিকে এয়্যারপোর্টে পৌঁছেছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বাসায় পৌঁছাতে দুপুর হয়ে যায়। খাওয়া দাওয়া আর কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে এখন বসেছে উপহার বিলি করতে। স্যুটকেসগুলো খুলে প্রত্যেককে ডেকে উপহার দিচ্ছে তালহার মামা আবু বাকর। তালহাকেও ডেকে পাঠিয়েছেন। তালহার খুব লজ্জা লাগে কারোর কাছ থেকে কিছু নিতে। তবুও নিতে যেতে হবে কারণ তার ডাক পড়েছেে। 
তালহা এসে বড় চাচার পাশে বসল। নাম দেখে দেখে জিনিস বের করে পাশে রাখছে আবু বাকর সাহেব। তালহাকে দেখে পাশে বসতে বলল। তারপর একরাশ ভালো লাগার হাসি দিয়ে জিজ্ঞাসা করল, বলত তোর জন্য কি এনেছি?
জানিনা বড়চাচা। 
তা ঠিক তুই জানবিই বা কীভাবে? কিন্তু এটা বলত, তুই কি পেলে বেশী খুশি হবি?
স্মিত হেসে তালহা বলল, তুমি যা দেবে তাই পেলেই আমি খুশি হব। উপহার মাত্রই খুশির কারণ। তা যেমনই হোক। 
তালহার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন আবু বাকর। হাতে একটা প্যাকেট নিয়ে তালহার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন,এই নে তোর উপহার।
প্যাকেটটা হাতে নিয়ে ওখানেই খুলে ফেলল তালহা। উপহারগুলো দেখে তালহার চোখ ছানাবড়া। এগুলোতো তাদের গোয়েন্দা কাজে অনেক সহায়তা করবে। কিন্তু বড় চাচারতো জানার কথা না তারা গোয়েন্দার কাজ করছে। তাহলে কি বড় চাচা তাদের গোয়েন্দা হওয়ার খবর জেনে গেছে?
কিরে চুপ করে বসে আছিস যে, খুশি হোসনি? ছোটকু বলল কি নাকি গোয়েন্দাগিরি শুরু করেছিস? তাইতো তোর জন্য এগুলো নিয়ে আসলাম।
হ্যাঁ...............। অনেক খুশি হয়েছি। কিন্তু ছোট চাচা কি জানতো তুমি আসবে?
হ্যা, শুধু ওকেই জানিয়েছিলাম।
কিন্তু ছোট চাচ্চু আমাদের কিছু বলেনিতো! 
সবাইকে অবাক করে দিব বলে আমিই ওকে বলতে বারণ করেছিলাম। কি, কেমন অবাক করলাম?
অনেকটাই অবাক হয়েছি, তবে খুশি হয়েছি তার থেকেও বেশি।
এবার কিন্তু তোকে দেখে আমি অবাক হয়েছি।
কেন বড়চাচা?
তুই দেখতে অবিকল তোর বাবার মত হয়েছিস। দাড়ি রেখে তোকে কিছুটা তোর দাদার মতোও লাগছে। তোদের কি ভাগ্য যে তোরা ছোট থেকেই ইসলাম বুঝেছিস। সেজন্য প্রথম থেকেই দাড়ি রাখতে পারার সৌভাগ্য অর্জন করতে পেরেছিস। কিন্তু আমরা কতবার দাড়ি কাটার মত অন্যায় করেছি তার ইয়ত্তা নেই। বুয়েটে তখন আমাদের ক্লাসে মাত্র তিনজনের দাড়ি ছিল। কত তাদেরকে নিয়ে হাসি তামাশা করেছি। তখন মনে হত এরকম জংলী হয়ে মানুষ কীভাবে থাকে। আর এখন সেসব দিনের কথা মনে পড়ে শুধু চোখ ভিজে আসে। দাড়ি ছাড়া আবার পুরুষ হয় নাকি? বাদ দে সেসব কথা, তোর লেখাপড়ার কি খবর?
এবার এস এস সি শেষ করলাম। কলেজে ভর্তি হয়েছি । এখনও ক্লাস শুরু হয়নি। তাই আপাতত ছুটির আমেজ চলছে। 
তো হঠাৎ গোয়েন্দা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিস কেন?
নানারকম গোয়েন্দার বই পড়ে অজান্তেই নিজেকেই গোয়েন্দা ভাবা শুরু করেছি । ইচ্ছা আছে শখের গোয়েন্দা না হয়ে এই কাজের মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। মানুষের পাশে দাড়াবো, ভালো কাজে সাহায্য করব আর মন্দ কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।
মন্দ কাজে বাধা দেয়া কিন্তু সহজ না। তবে আমার সমর্থন ও দোয়া থাকল। সাবধানে থাকিস। আর বুঝে বুঝে কাজ করবি। 
ঠিক আছে চাচা। তোমরা বিশ্রাম নাও আমি এখন আসি।
ঠিক আছে যা, পরে কথা হবে।
বড় চাচার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে জিনিসগুলো আবার দেখল তালহা। বাইনোকুলার, সুইচ-নাইফ, ল্যাপটপ, ছোট একটা টেপ রেকর্ডার আর একটা টর্চ লাইট। খুব কাজে লাগবে তাদের। কাজের রিপোর্ট তৈরির জন্য ল্যাপটপটা অনেক কাজে দিবে।জিনিসগুল বন্ধুদের না দেখানো পর্যন্ত তালহা শান্তি পাচ্ছেনা। মুসায়েব আর যায়িদকে অফিসে আসার জন্য ফোন করল তালহা। নয়টার মধ্যেই ওদের আসার কথা। তালহার আর তর সইছেনা। ওরা আসলে জিনিসগুলো দেখিয়ে অবাক করে দিবে ওদেরকে। তালহার দাদার আমলের ঘড়িতে ঢং ঢং করে নয়টা বাজার সংকেত দিল। তালহা আরও দশ মিনিট বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করে যখন অফিস থেকে বের হতে যাবে তখন হুড়মুড় করে তালহাকে ঠেলে যায়িদ আর মুসায়েব অফিসরুমে ঢুকে পড়ল। 
কপট রাগ দেখিয়ে তালহা জিজ্ঞাসা করল, এতো দেরি করলি কেন তোরা? 
দেরী হয়ে গেল। তা হঠাৎ জরুরী তলব কেন? ঘরে পা দিয়ে দুজনেই একসাথে জিজ্ঞাসা করল তালহাকে। 
আমার বড় চাচা এসেছে, বলল তালহা। আমার জন্য অনেক দরকারী জিনিস নিয়ে এসেছে। সেগুলো দেখানোর জন্য আসতে বলেছি।
তাই! দেখিতো কি কি এনেছে?
তালহা ওদেরকে জিনিসগুলো দেখাল।
জিনিসগুলো হাতে নিল মুসায়েব আর যায়িদ। জিনিসগুলো দেখে খুশি হয়ে গেল দুজনে। উচ্ছাসের সাথে বলল, যাক আমাদের এখন সত্যিকার গোয়েন্দা মনে হবে।
জিনিসগুলো দেখে যায়িদ বলল, আমারনা মাঝেমাঝে খুব বিজ্ঞানী হতে ইচ্ছা করে।
মুসায়েব বলল, হঠাৎ বিজ্ঞানীর হওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে কেন?
নতুন নতুন আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিব আর মানুষ বাহাবা দিবে। ক্লাস এইটে থাকতেই আমি আইনস্টাইনের জীবনী পড়ে ফেলেছিলাম। তখন বাসার কোন জিনিস আমার জন্য ঠিক রাখা যেতনা। আবিষ্কারের নেশা পেয়ে বসেছিল। বাবার একটা পুরানো আমলের ট্রানসিস্টর ভেঙ্গে কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ফলাফল কিছুই দাড় করাতে পারিনি। কয়েকবার এরকম করার পর হাল ছেড়ে দিয়েছি। বুঝতে পেরেছিলাম আমার দ্বারা একাজ হবেনা। তারপর আর ঐকাজে এগোইনি। আর তাছাড়া যত বিজ্ঞানীর নাম জেনেছি সবাইতো অমুসলিম। মুসলিম হিসাবে আমাদেরও এসব কাজে এগিয়ে আসা উচিৎ। দেখিসনা আমরা যখন প্রযুক্তির উপর নির্ভর করি ইসলামবিদ্বেষীরা কেমন ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে।
তালহা বলল, সবার একই কাজ করতে হবে কেন? কিছু মানুষ বিজ্ঞান নিয়ে অনেক জ্ঞানগর্ভ কথা বলে। তারা মুসলিমদের নিয়ে ঠাট্টা করে, অজ্ঞ বলে। তাতে অনেক মুসলিম মন খারাপ করে। আমার কিন্তু একটুও খারাপ লাগেনা।
একটু থেমে তালহা আবার বলল, বিজ্ঞানকে আমি এমনিভাবে পাওয়া কোন খেলতামাশা ভাবিনা। এটা আমাদের জন্য আল্লাহ্‌র দেওয়া যেমন নিয়ামত, তেমন পরীক্ষাও। আল্লাহ্‌র এই নিয়ামত তিনি যাকে দিয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করবে তাতে আমাদের এতো শঙ্কিত হবার কিছু নেই। আমাদের দায়িত্ব হবে এসব সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। আর অনেক বিজ্ঞানী বিজ্ঞানচর্চা করতে গিয়ে মুসলিম হয়ে গেছে সে খবর আমাদের নিশ্চয় অজানা নয়। 
মুসায়েব বলল, তারমানে কি দাড়াল? বিজ্ঞান এখন শুধু অমুসলিমদের নয়, মুসলিমদেরও সম্পদ।
যায়িদ বলল, তাইতো! এভাবেতো কখনো ভাবিনি।
ভাবিসনি তবে এখন থেকে ভাববি। মুসলিমদের হীনমন্যতা আর জ্ঞানের অভাবের কারণেই অন্যরা তাদের অবজ্ঞা করতে সাহস পায়। এসব বাদ দে, আসল কথায় আসা যাক। আমরা আবার নলডাঙ্গায় যেতে চাই। ছোট মামা কালকে আসবে। বৃহস্পতিবার আমাদের নিয়ে যাবে।
আমি যাবনা। মুসায়েব বলল।
যাবিনা মানে কি? এই না বললি আমাদের পাক্কা গোয়েন্দা মনে হচ্ছে। কোন কথা না, বৃহস্পতিবার সকালে আমার বাসায় হাজির দেখতে চাই।
আমাদের ওখানে গিয়ে কোন লাভ হবেনা।
লাভ হবেনা কেন?
মুসায়েব কোন উত্তর না দিয়ে তালহার দিকে একটা কাগজ এগিয়ে দিল।
কি এটা, অবাকের সুরে জিজ্ঞাসা করল তালহা।
আজকের পত্রিকার একটা অংশ, পড়েই দ্যাখ কি লেখা আছে?
কাগজটা নিজের সামনে তুলে ধরল তালহা। চমকে বলল,। আরে এতো দেখছি শান্ত কুটির নিয়ে বিজ্ঞাপন।
শুধু বিজ্ঞাপন দেখেই এতো অবাক, ভেতরে পড়লে না জানি কি করবি।
মুসায়েবের কথায় পাত্তা না দিয়ে তালহা বিজ্ঞাপনটা পড়া শুরু করে,
‘দীর্ঘদিন পর গত মঙ্গলবার শান্তকুটিরে তিনজন কিশোরকে ঢুকতে এবং বের হতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন মালিকবিহীন পড়ে থাকা পরিত্যক্ত এই বাড়িটার প্রতি সরকারের নজর অনেক আগেই পড়েছে। নানাভাবে বাড়িটা হস্তগত করতে চাইলেও বারবারই সরকারের নিয়োযিত গোয়েন্দাবাহিনী ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা বাড়িটা দখলের চেষ্টা করলেও এত বছরেও সফলতার মুখ দেখতে পারেনি কেউ। মনে হচ্ছে বাড়িটার উপর আবার কুনজর পড়েছে। এতবড় একটা জায়গা সরকার কোনভাবেই হারাতে চায়না। বাড়িটা উদ্ধারের জন্য সরকার এবার নামকরা গোয়েন্দা সংস্থা ‘ সিকিউরিটি ইনটেলিজেন্স সংস্থা’ কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে তারা পুরাদমে কাজ শুরু করেবে’।
এতক্ষণ জোরে জোরে বিজ্ঞপ্তিটা পড়ে দম নিল তালহা। তারপর দুই বন্ধুর উদ্দেশে বলল, আর দেরি করা যাবেনা। খুব দ্রুতই ওখানে যেতে হবে আমাদেরকে।
এতোকিছু জানার পরেও তোর ওখানে যাওয়ার শখ আছে? আমার কোন শখ নেই। আমি এই ব্যাপারে ভীষণ ভীতু। এসব করতে গিয়ে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার খপ্পরে পড়ে জেলের ভাজ খেতে হয় কি ন কে জানে।
মুসলিমদের এতো ভীতু হলে চলবে? মুসিলিমদের ইতিহাস পড়ে দ্যাখ। দেখবি তারাই সব থেকে সাহসী জাতি।
আমি জানি ওসব।
তাহলে আর কোন কথা নয়। বৃহস্পতিবারেই আমরা যচ্ছি। কি যাবিনা? 
কিছুক্ষণ চুপথেকে মুসায়েব বলল, ঠিক আছে আমি যাব ইনশাআল্লাহ্‌।
তাহলে বৃহস্পতিবার আমরা যাচ্ছি?
হ্যা ইনশাআল্লাহ্‌, বলল যায়িদ। তাহলে এবার আমরা বাসায় গিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেই। তালহার বাসা থেকে তারা বিদায় নিয়ে নিজের বাসার উদ্যেশে বেরিয়ে গেল।

চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/125371/</link>
				<pubDate>Sun, 24 Jul 2022 12:36:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির_রহস্য<br />
পর্ব_পাঁচ<br />
জমজমাট হয়ে গেছে আয়েশা ভিলা। বড় বড় দশটা স্যুটকেস নিয়ে বিদেশ থেকে এসেছে তালহার বড় চাচা। এবার সবাইকে অবাক করে দিবে বলে আগে থেকে না জানিয়ে হুট করে চলে এসেছে। প্রতিবারই আত্মীয়, প্রতিবেশী সবার জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসেন তিনি। তালহার বড় চাচার চার ছেলেমেয়ে। মেয়ে দুজন বড়, তারপর দুই ছেলে। বড় মেয়ে খাদিজার বিয়ে হয়ে গেছে বছর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-125371"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/125371/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ffdcc69a8a3c385ba006426b1af8ce52</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির রহস্য
পর্ব-চার 
মুসায়েব যায়িদের কাছ থেকে হাত ছাড়িয়ে বলল, আমি যাবনা।
ওর কথায় পাত্তা না দিয়ে সামনে এগোতে শুরু করল তালহা। কি আর করা, ওকে অনুসরণ করল ওরা দুজন। উপর থেকে সিঁড়ি দিয়ে আসা আলোয় সিঁড়ির সামনের কিছু জায়গায় আধো আলো থাকলেও সবগুলো ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। ভালো করে ঘরগুলোর দরজাও দেখা যাচ্ছেনা। আবার সেই শব্দ শুনতে পেল ওরা। গা ছমছম করে উঠল ওদের। একটা ঘরের দরজা খুলে ফেলল তালহা। মনে হল শব্দটা বেড়ে গেছে। কেমন একটা মোহনীয় গন্ধ নাকে এসে লাগল। মাথাটা ভোঁ ভোঁ করা শুরু করল মুসায়েবের।
না তালহা, আমি আর একমূহুর্তও এখানে থাকবোনা, বলল মুসায়েব। 
তালহারও কেমন ভয় ভয় লাগছে, তবুও মুসায়েবের কথায় পাত্তা না দিয়ে করিডোর ধরে আরও সামনের দিকে হাঁটা শুরু করল। 
যায়িদের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে মুসায়েব বলল, তোরা থাক আমি গেলাম। কোন দিকে না তাকিয়ে একছুটে রাস্তায় গিয়ে পড়ল । 
কি করবে? থাকবে না যাবে, ভাবতে ভাবতে যায়িদও মুসায়েবের মত একই কাজ করে বসল। 
করিডোর ধরে হাঁটতে হাঁটতে তালহা অনেক ভেতরে ঢুকে গেছে। ভৌতিক একটা শব্দ আর সেই সাথে ধোঁয়ার মত কি দিয়ে যেন ঘর ভরে যেতে লাগল। পেছনে তাকিয়ে বুঝতে পারল তার সঙ্গীরা ভয়ে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তালহার অস্বস্তিটা বাড়তে লাগল। আর একমুহূর্ত না দাঁড়িয়ে সেও বের হয়ে গেল বাড়িটা থেকে। কোনদিকে না তাকিয়ে এক দৌড়ে নদীর পাড়ে এসে থামল। ওখানেই তাদের মাইক্রোটা দাঁড়ানো ছিল।
কিরে তুইও চলে আসলি যে? তালহাকে প্রশ্ন করল মুসায়েব।
আবার যাব ইনশাআল্লাহ।
আবার! অবাক হয়ে মুসায়েব বলল। আমার ধারণা ওখানে মানুষ থাকেনা বিধায় জিনেরা বসতি গেড়ে বসেছে।
তুই আছিস তোর ভুত আর জীন নিয়ে, যায়িদ বলল। তারপর তালহার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, তালহা তোর কি মনে হয় এসব শব্দ আর গন্ধের ব্যাপারে?
এখনও তেমন কিছু মনে হচ্ছেনা। তবে বাড়িটাকে রহস্যময় মনে হচ্ছে। এবং এরকম রহস্যময় পরিবেশের পিছনে কোন মানুষের হাত আছে সে ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই। তবে তার উদ্দেশ্য কি তা আমি জানিনা। আর সেটাই আমাদের বের করতে হবে।
তোর কি মনে হয় ওখানে মানুষ আছে?
মুসায়েবের কথার উত্তরে তালহা বলল, অসম্ভব কিছুনা।
ওরকম একটা অন্ধকার গুহায় মানুষ বাস করে? অসম্ভব! তাইনা যায়িদ? গোয়েন্দাগিরির জন্য আর কি কোন কাজ নেই। এখানে বেড়াতে এসে এসব করার কি মানে? তুই এমন করবি জানলে গোয়েন্দা হওয়ার সিদ্ধান্ত কখনই নিতামনা আমি।
এখন এরকম মনে হচ্ছে তোর কিন্তু রহস্য উৎঘাটন করতে পারলে নিজেকে নিয়ে অন্যরকম করে ভাবতে ইচ্ছা করবে। গোয়েন্দা হিসাবে আমাদের নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। তাইনারে যায়িদ?
তাতো বটেই, যায়িদ উত্তরে বলল।
না মানে আমি বলতে চাচ্ছি যে, আমাকে বাদ দেওয়া যায়না? প্রথমবার তুই আর যায়িদ যা। পরেরবার থেকে আমি তোদের সাথে থাকব ইনশাআল্লাহ।
আমরা গোয়েন্দা টিম বানাবো বলে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যখন তখন থেকে তুই এমন করছিস। আমরা সবসময় একসাথে থেকেছি। এখনও যাই করব, আমরা তিনজন মিলেই করব।
তালহার কথার উপরে আর কথা বলে লাভ নেই ভেবে মুসায়েব চুপ হয়ে গেল। মসজিদ থেকে আসরের আজান ভেসে আসছে।
মুসায়েব বলল, বিকাল হয়ে গেছে। নামাজ পড়েই চলে যেতে হবে। তালহার জন্য সব মাটি হয়ে গেল।
মন খারাপ করনা বন্ধু, বলল তালহা, আমরা আবার আসব ইনশাআল্লাহ্‌। এখন আয় চুপ করে আজানের উত্তর দেই।
তুই কি সবসময় পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের আযানের উত্তর দিস? জিজ্ঞাসা করল মুসায়েব।
চেষ্টা করি, কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‘তোমরা যখন মুয়াযযিনের আযান শুনতে পাও তখন সে যা বলে তোমরাও তাই বল। অতঃপর আমার উপর দরূদ পাঠ কর। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ্‌ তাআ’লা তার উপর দশবার সালাত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্য ওয়াসীলা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় তা জান্নাতের একটি স্থান যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শুধু একজন বান্দার জন্যই নির্ধারিত।আর আমি আশা করি যে আমিই হব সেই ব্যক্তি। আর যে ব্যক্তি আমার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে ওয়াসীলা প্রার্থনা করবে, তার জন্য শাফায়াত নির্ধারিত হবে।’
এটা সহীহ মুসলিমের একটি হাদিস।
হাদিসটা আমি জানি তারপরও সবসময় আমল করা হয়না। কিন্তু এবার থেকে সবসময় উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্‌।যায়িদ বলল।
তিনজন মিলে আজানের উত্তর দিল তারপর নলডাঙ্গা জামে মাসজিদ থেকে আসরের নামাজ আদায় করল।
শান্ত কুটির থেকে এসে রাতে তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়েছিল তালহা। সকালে ঘুম থেকে জেগেই পোড়োবাড়িটার  কথা মনে পড়ে গেল। বাড়িটা তাকে খুব টানছে। ওখানকার সবকিছুই তার কাছে খুব রহস্যময় লাগছে। একবার একটা কাজ করে প্রামাণ করতে পারলে মানুষই তাদের কাছে আসবে এটাই তার বিশ্বাস। পোড়োবাড়ির রহস্য উৎঘাটন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে হবে। আজকের দিনটা কাজে লাগাতে পারতো কিন্তু মুসায়েবটা এতো ভীতু। আজকে ও কিছুতেই ঐ বাসায় যেতে রাজি হবেনা। তাছাড়া আজকে বাকি জায়গাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখার ইচ্ছা ওদের। তিনদিনের জন্য আসা। এবার আর বাড়িটার রহস্য জানা সম্ভব হবেনা। নলডাংগায় তাড়াতাড়িই আবার আসবে তারা। তবে এবার তার ছোটমামার কাছ থেকে বাড়িটার ব্যাপারে জেনে নিতে হবে, ভাবল তালহা। রাতে এ ব্যাপারে তার ছোটমামাকে কিছু জিজ্ঞাসা করা হয়নি।
ফজর নামাজ পড়ে কখনই ঘুমায়না সে কিন্তু আজকে চোখদুটো মেলে রাখতে পারলোনা। পাখির কিচিরমিচিরে ঘুম ভেঙ্গে গেল । আড়মোড়া ভেঙ্গে উঠে বসল। দোতলার জানালা দিয়ে পুকুর পাড়টা দেখা যায়। যায়িদ আর মুসায়েবকে দেখতে পেল। পুকুর পাড়ে তার ছোট মামার সাথে  বেশ গল্পের আসর বসিয়েছে। নীচে নেমে আসল তালহা।
পায়ের শব্দে মুখ তুলে তালহাকে দেখেই মুসায়েব বলল, কিরে তুইতো আজকে আমাকে অবাক করে দিলি।
মুসায়েবের কথা শুনে অবাক হয়ে প্রশ্ন করল তালহা, কেন কি কারণে অবাক হয়েছিস?
ফজরের পরে ঘুম? তাও তুই? একটু মজা করেই বলল মুসায়েব। ওটাতো আমার অভ্যাস।
মুচকি হাসল তালহা। তারপর বলল, আজকে আমাদের অভ্যাস বদল হল আর কি। তারপর কি নিয়ে এতো গল্প হচ্ছিল শুনি।
তোদের পোড়োবাড়ি ঢোকার গল্প শুনছিলাম। শুনলাম তোরা নাকি কালকে ঐ পোড়বাড়িটাতে ঢুকেছিস? কালকেতো কিছু বললিনা। 
হ্যা ঢুকেছিলাম। তোমাকে বলতে ভুলে গেছি। বাড়িটা সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছু জানা দরকার।
বাড়িটা সম্পর্কে আমি তেমন কিছুই জানিনা। বলল, ওমর ফারুক। শুনেছি ঐ বাড়ির মালিক বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছে। এখন নাকি কেউ থাকেনা। বাইরে থেকেও সচারচর কেউ ঢোকেনা ঐ বাড়িতে। যদিওবা ঢোকে, কিন্তু বেশিক্ষণ থাকতে পারেনা।
তারা বেশিক্ষণ থাকতে পারেনা কেন? সে ব্যাপারে কি কিছু জানা আছে তোমার? তুমি নিজে ঢুকেছো কখনও?
আরিব্বাবা, একসাথে এতো প্রশ্ন? আমি ঢুকবো? মাথা খারাপ! লোকমুখে শোনা যায় ওখানে নাকি প্রেতাত্মা ঘুরে বেড়ায়। আমি এসব খুব ভয় পাই।
প্রেতাত্মা! সে আবার কি?
প্রেতাত্মা চিনিসনা? মানে খারাপ আত্মা।
এসবে বিশ্বাস কর তুমি?
সবাই বলে তাই আমিও বললাম। তবে প্রেতাত্মা না বিশ্বাস করলেও আমি জীন বিশ্বাস করি।
জীন আমিও বিশ্বাস করি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে ঐ বাড়ি ঘিরে কোন রহস্য আছে। এখন তুমি আমাকে ঐ বাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত বল।
বাড়িটা সম্পর্কে আমি তেমন কিছুই জানিনা। কারণ ঐ বাড়িটাতে আমি কোনদিন ঢুকিনি। বাড়িটা রমিজ সাহেবের। উনাদের একটা পালক ছেলে ছিল। বাচ্চা ছিলনা দত্তক নিয়েছিল। পরে একটা ছেলে সন্তান হয়েছিল। লোকটার নাকি ইটের ভাটা আর নানারকম ব্যবসা ছিল। অঢেল সম্পত্তির মালিক। উনারা নিজেদের মত থাকতেন, প্রতিবেশীদের সাথে মিশতেননা বিধায় ভেতরের ব্যাপার কারোর জানা নেই।
তারপর? উৎসুক হয়ে যায়িদ জানতে চাইল।
এছাড়া আর কিছুই আমার জানা নেই।
উনারা কীভাবে মারা গিয়েছিল? মুসায়েব জিজ্ঞাসা করল, কেউ সম্পত্তির লোভে মেরে ফেলেনি তো?
এটা কেউ বলতে পারেনা।
তার মানে বাড়িটা এখন ফাকাই পড়ে আছে। জিজ্ঞাসা করল তালহা।
ফাকা থাকবে কেন? আমিতো প্রথম থেকেই তোকে বলছি তালহা, বাড়িটা খালি পেয়ে জীনেরা বসতি শুরু করেছে। তাইনা মামা? উত্তরটা মুসায়েবই দিল।
মুসায়েবের কথায় পাত্তা না দিয়ে তালহা বলল, মামা তুমি আর কিছু জান?
না আমি এর থেকে বেশি কিছুই জানিনা। তবে লোকে যেহেতু বাড়িটাকে খারাপ বলে তাই আমি তোদের সেখানে যাওয়া পছন্দ করছিনা।
উনারা মারা যাওয়ার পর ঐ বাড়িতে কেউ ঢোকেনি?
লোকেতো তাই বলে। কেউ নাকি ওদিকে পা বাড়ায়না। এদিকে এতো বড় বাড়ি এভাবে পড়ে থাকতে দেখে অনেকেরই লোভ হয়, দখল করার চেষ্টা করে, কিন্তু বাড়ির ভেতরে ঢুকে কেউ টিকতে পারেনি। ভয়ে সবাই দৌড়ে পালায়। ধীরে ধীরে ভৌতিক বাড়ি হিসাবে চারিদিকে বাড়িটার কথা ছড়িয়ে পড়ল। এরপর ইচ্ছা থাকলেও ভয়ে ঐ বাড়ির পথ কেউ মাড়ায়নি। এভাবে প্রায় টানা দশ বছর বাড়িটি একইভাবে পড়ে ছিল। গতবছর বাড়িটা প্রশাসনের নজরে পড়ে। তারপর থেকে তারা বাড়ি উদ্ধারের চেষ্টা করে। এতো বড় জায়গা মালিকবিহীন এমনি পড়ে থাকবে তা কেমন করে হয়? কিন্তু কয়েকবার চেষ্টা করেও তারা উদ্ধার করতে পারেনি। যাকেই পাঠায় তারা আর দ্বিতীয়বার ওখানে যেতে চায়না। একটু থামল ওমর শরীফ।
তারপর, বলল তালহা। চালিয়ে যাও মামা। রহস্য আছে। আমাদের জন্য এই বাসাটাই দরকার।
ওমা কি বলে? তোর মাথা খারাপ হয়েছে? আমাকে কিন্তু তোদের সাথে পাবিনা। পাংশু মুখে মুসায়েব বলল।
মুসায়েবের কথায় কোন কান দিলনা তালহা।
একটু থেমে আবার বলা শুরু করলেন ওমর শরীফ। পুলিশ, বেসরকারি গোয়েন্দা দিয়েও কোন সুরাহা করতে পারেনি সরকার। তারপর থেকে এরকমই পড়ে আছে। শুনলাম মাঝে দুএকজন নাকি নিজ উদ্যোগে বাড়ির রহস্য বের করে বাহাদুরি দেখাতে চেয়েছিল কিন্তু বাড়ির প্রধান ফটক পার হতে না হতেই পড়িমরি করে দৌড়ে পালিয়েছে।
তালহা জিজ্ঞাসা করল, উনাদের ছেলের কি খবর? উনি আসেননা?
এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। ওখানকার আশাপাশের লোকজন ভাল জানবে। কে একজন নাকি বলেছে এই বাড়ি সম্পর্কে কেউ কোন তথ্য জিজ্ঞাসা করলে এই এলাকার যে বলবে সে রক্তবমি হয়ে মারা যাবে।
তুমিও কি সেই ভয় পাচ্ছ? তালহা তাঁর মামার কাছে জানতে চাইলো।
তা কেন হবে? আমি যতটুকু জানি তাতো বললাম। বাড়িটাতে ঢুকে তোরাই বা কি দেখলি?
বাড়িটা অনেক আগের তৈরি। তালহা বলা শুরু করল। বাইরের দিকটা আর ওপর তলাটা সুন্দর হলেও নিচতলাটা একটু ঘিঞ্জি টাইপের। 
ওখানে যে ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে তার পেছনে অবশ্যই কোন মানুষের হাত আছে । আমি এটা ইনশাআল্লাহ প্রমাণ করব। আমি আবার যেতে চাই ওখানে। সামনের মাসে আমাদের এক সপ্তাহের ছুটি আছে। ঐ ছুটিতে আমরা এখানে আবার আসতে চাই। আমি বাড়িটার রহস্য বের করব ইনশাআল্লাহ। তাই আমাকে এখানে আবারও আসতে হবে। 
আবার আসবি এটাতো আনন্দের। কিন্তু আমি বুঝলাম না ঐ বাসার এতো বিস্তারিত খবরে তোর লাভ কি? এসব ব্যাপার নিয়ে যত ঘাটাঘাটি করবি তত বিপদ বাড়বে। যদি কোন মানুষের কারণে এমন হয় তবে তারা কখনও চাইবেনা কেউ তাদের কাজের ক্ষতি করুক। তোর এ ধরণের কাজের ব্যাপারে আমি রাজি না। এসব গোয়েন্দাদের কাজ। তোরাতো আর গোয়েন্দা না।
তালহা মুখে কিছু না বলে তাঁর ছোট মামার দিকে তাদের কার্ডটা এগিয়ে দিল।
কার্ডটা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে গেল তালহার ছোট মামা। গোয়েন্দা! তোরা আবার গোয়েন্দা হলি কবে?
হলাম কোথায়? হওয়ার ইচ্ছা। কিন্তু এভাবে বাধা দিলে তা আর সম্ভব হবেনা।
কিন্তু।
কোন কিন্তু নয় মামা, আগামী মাসে আমরা আবার আসব ইনশাআল্লাহ্‌। তুমি শুধু মা-বাবাকে রাজি করাবে।
ঠিক আছে, রাজি করাবো ইনশাআল্লাহ্‌।

চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/124867/</link>
				<pubDate>Thu, 21 Jul 2022 06:56:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> পোড়োবাড়ির রহস্য<br />
পর্ব-চার<br />
মুসায়েব যায়িদের কাছ থেকে হাত ছাড়িয়ে বলল, আমি যাবনা।<br />
ওর কথায় পাত্তা না দিয়ে সামনে এগোতে শুরু করল তালহা। কি আর করা, ওকে অনুসরণ করল ওরা দুজন। উপর থেকে সিঁড়ি দিয়ে আসা আলোয় সিঁড়ির সামনের কিছু জায়গায় আধো আলো থাকলেও সবগুলো ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। ভালো করে ঘরগুলোর দরজাও দেখা যাচ্ছেনা। আবার সেই শব্দ শুনতে পেল ওর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-124867"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/124867/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c3941d0f9e9e0a045096c072052a906f</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির রহস্য
তিন
আধঘণ্টার মধ্যে তারা রাজবাড়ি এসে পৌঁছাল। গাড়ি থেকে রাজবাড়ির সামনে এসে মুসায়েব থ বনে গেল। তালহাকে উদ্দেশ্য করে বলল, এটাকেতো আমার রাজবাড়ি মনে হচ্ছেনা। কেমন মনে হচ্ছে একটা পিকনিক স্পট। ব্যবসা করার জন্য কেউ বানিয়েছে, না?
আরে না, এটাই নলডাঙ্গা রাজবাড়ি। এর শেষ রাজা ছিলেন প্রমথ ভূষণ রায় বাহাদুর। একসময় এখানে সৈন্যবাহিনী ছিল, পরিখা ছিল, ভবন ছিল। 
সেগুলো কোথায়? যায়িদ আর মুসায়েব উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করল। 
তার কিছুই এখন আর অবশিষ্ট নেই, তালহা বলল। পাশের এই বেগবতী নদীটাই দেখনা, এর সাথে এখানে একটা সুড়ঙ্গ করা হয়েছিল, তাও মাটির সাথে মিশে গেছে। এখন শুধু এই সাতটি মন্দির রাজবাড়ীর সাক্ষ্য বহন করে দাঁড়িয়ে আছে।
তাহলে এই বিল্ডিংটা নতুন তৈরি করা হয়েছে, না? বলল যায়িদ।
হ্যা, পুরানো রাজবাড়ীর দালান ভেঙ্গে রাজবাড়ীর আদলে তৈরি করা হয়েছে এই রিসোর্ট ও গবেষণা কেন্দ্র। সাথে এই বিনোদন পার্কও। 
কথা বলতে বলতে তারা রাজবাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল। জানুয়ারী মাস হলেও এখানে শীতের প্রকোপ খুব একটা নাই। তবে আবছা কুয়াশায় ঢেকে আছে প্রকৃতি। সম্পূর্ণ রিসোর্ট যেন সবুজে মুড়ে রাখা হয়েছে। দূরে রয়েছে দু-একটা দৃষ্টিনন্দন বাগান। ডালিয়া, গাদা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস হরেকরকম শীতের ফুল ফুটে আছে বাগানে।
পিকনিক করার জন্য আরও অনেক মানুষ এসেছে। চারিদিকে সবাই আনন্দে লাফালাফি করছে। অনেকে এই শীতেও পুকুরে নেমে গোসল করছে। তাদের দেখে তালহাদের গোসল করার ইচ্ছা জাগলেও এই শীতে তাদের শরীর অনুমতি দিলনা।
রাজবাড়িটা ঘুরে দেখছে আর অবাক হচ্ছে যায়িদ। সারিবদ্ধ করে বাঁশ, মেহগনি, আরও কতরকমের গাছ দিয়ে যে বাড়িটা সাজিয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।
মুসায়েব বলল, এদিকটায় এতো গাছ! মনে হচ্ছে যেন অরণ্যে হেটে বেড়াচ্ছি।
গাছের প্রতি আমার আলাদা একটা ভালো লাগা আছে ,বলল তালহা। আর তোরাতো জানিস ইসলামে গাছ লাগানোকে একটা ইবাদাত হিসাবে গণ্য করা হয়। গাছ লাগানো নিয়ে একটা অসাধারণ হাদিস আছে,
‘কিয়ামাত কায়েম হয়ে গেলেও, তোমাদের কারো হাতে যদি কোন গাছের চারা থাকে এবং সে তা এর আগেই রোপন করতে সক্ষম হয়, তবে যেন তা রোপন করে ফেলে’।
রাজবাড়ির ভেতরটাতো দেখা হল সেখান বের হয়ে বাইরে বেগবতী নদীর কাছে চলে আসল তারা। রাজবাড়ি ঘুরতে আসবে বলে গতরাতেই তালহা রাজবাড়ি ও এর চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে পড়াশুনা করে এসেছে। তার মেজোচাচা তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে।
তালহার এই স্বভাব মুসায়েবের অজানা নয় তাই নদীর দিকে তাকিয়ে বলল, তালহা রাজবাড়ির পর এবার আমরা নদী সম্পর্কে তোর কাছ থেকে জানতে চাই।
প্রায় একজন গম্ভীর শিক্ষকের মত তালহা বলা শুরু করল, এই নদীর দৈর্ঘ্য ৫৩ কিলোমিটার আর প্রস্থ ৩২ মিটার। খেয়াল করে দেখেছিস নদীটা কিন্তু সর্পিলাকার। নদীটি কুমারবাড়ির বিলাঞ্চল হতে উৎপত্তি হয়ে, বিভিন্ন উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ফটকি নদীতে গিয়ে মিশেছে। এখন শীতকাল, তাই পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কম আছে। কিন্তু বর্ষাকালে এই নদীর কারনে এখানে রীতিমত বন্যা হয়।
নদীর পানি কমে যাওয়ায় জায়গায় জায়গায় চর তৈরি হয়েছে। ওদের থেকে কিছু দূরে একটা চরের উপর প্রায় ৪ ফুট লম্বা চারটা পাখি দাঁড়িয়ে আছে। 
পাখিগুলোকে দেখিয়ে তালহা বলল, এই পাখির নাম কে বলতে পারবে?
যায়িদ বলল, পাখি! আমি পাখি টাখি চিনিনা। তুই বলতে পারবি মুসায়েব? তুইতো আবার পাখি বিশারদ।
পাখি বিশারদ বললে বেশি হবে। আমি পাখির সম্পর্কে পড়তে পছন্দ করি। তাই নানারকম পাখি সম্পর্কে মোটামোটি একটা ধারণ আছে বলা যায়। কিন্তু পাখি বিশারদ বললে অত্যুক্তি হবে। এই পাখিটা অবশ্য আমার চেনা পাখির মধ্যেই পড়ে। এগুলো হল ‘সাদা মানিকজোড়’। এটা একটা বিরল প্রজাতির পারিয়াযী পাখি। বাংলাদেশে এরা আসে শীতকালে। তবে সংখ্যায় খুব বেশী নয়, দু-চার জোড়া দেখা যায়। একা বা জোড়ায় জোড়ায় ঘুরতে পছন্দ করে এরা।
বাহ্‌! তোরতো দেখছি পাখির উপর ভালোই জ্ঞান। মুগ্ধ হয়ে তালহা বলল।
অতিথি পাখির উপর একটা বই পড়েছিলাম। সেখান থেকে জেনেছি শীতকালে বাংলাদেশে প্রচুর বিরল প্রজাতির পাখি আসে। কিন্তু মানুষের অসাধুতার কারণে বছর বছর অতিথি পাখির পরিমান হ্রাস পাচ্ছে।
নাদীর তীরে বসে বেশ কিছু সময় কেটে যাওয়ার পর যায়িদ বলল, আমরা কিন্তু এক জায়গায় অনেকক্ষণ বসে আছি। জায়গাটা বেশ সুন্দর। তাই বলে এই জায়গায় বসে সময় কাটালে হবে? চল আশপাশটা ঘুরে দেখি। বিকালের আগেই শেষ করতে না পারলে আর দেখাই হবেনা। তাছাড়া শীতের বেলা। সন্ধ্যাও তাড়াতাড়ি হয়। সন্ধ্যা হলে ঘোর অন্ধকার নেমে আসবে। তারপর অন্ধকারে হাতড়ে মরতে হবে। আর গাড়ি থাকলেও আমাদের একা ঘোরাঘুরি করা ঠিক হবেনা।
যায়িদ ঠিকই বলেছে, বলল মুসায়েব। সন্ধ্যা হলে আমাদের আর কিছুই দেখা হবে না।
তালহা বলল, আমার এখানে ভালই লাগছে। আবার জায়গাটাও ঘুরে দেখার দরকার। চল সামনে এগোই।
নদীর তীর থেকে উঠে সামনের দিকে হাটা শুরু করে দিল তালহারা। আশেপাশে পুরানো আমলের বেশ কয়েকটি পুরানো বাড়ি দেখা গেল। কোন কোনটার এমনই ভগ্নদশা অবস্থা যে ভেতরে ঢুকে কিছুই দেখতে পেলনা তারা। ঘুরতে ঘুরতে তারা আরও একটা পুরানো বাড়ির সন্ধান পেল যা আগেরগুলো থেকে অনেকটাই অন্যরকম। সামনের দিক থেকে যতটা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে প্রায় এক একর জমি জুড়ে বাড়িটার বিস্তৃতি।বাড়িটার একপাশ ধ্বসে পড়ছে। বাইরের পাঁচিলটাও ভাঙ্গা। পলেস্তারা খসে পড়লেও বাড়ির নামটা জ্বলজ্বল করছে, &#039;শান্ত কুটির&#039;। 
তালহা বলল, অন্য বাড়িগুলো থেকে এই বাড়ির অবস্থা এখনও বেশ ভালই আছে। ভেতরে কেউ থাকে বলে মনে হয়না। তবে এটার বয়সও কম হবেনা। এসব পুরানো বাড়ি দেখতে আমার খুব ভাল লাগে। যদি কোন জমিদারের বাড়ি হয় তাহলেতো কথা নেই। এসব বাড়িতে জমিদারদের ব্যবহৃত পুরানো আমলের জিনিসপত্র দেখতে পাওয়া যায়। এগুলোর দেওয়াল জুড়ে নানারকম চিত্রকর্মও থাকে যা তাদের অতীত ঐতিহ্য বহন করে। এ-ধরণের বাড়ি ঘিরে নানারকম রহস্যও থাকতে পারে। 
ওরে বাবা! এতক্ষণতো ভালো ভালো কথা বলছিলি এখন আবার কিসব রহস্যের কথা বলা শুরু করলি। এরকম হলে আমি এর ভিতরে ঢুকবোনা। মুসায়েবের পা কাঁপা শুরু হয়ে গেল। আর তাছাড়া দেখছিসনা এটা একটা পোড়ো বাড়ি। হয়তো কোন একসময় মানুষ ছিল কিন্তু এখন সেসব মানুষ মরে নিশ্চয় ভুত হয়ে বসবাস করছেবাড়িটাতে। 
কি বলিস এসব? যায়িদ বলল। ভুত বলে কিছু আছে নাকি! তুই আবার কবে থেকে ভুতে বিশ্বাস করা শুরু করলি?
ভুত না থাক, জীনতো আছে। কেন তুই জীন বিশ্বাস করিসনা? না করলে না করিস কিন্তু আমি যাবনা। তোদের ইচ্ছা হলে তোরা যা।
আমরা তিনজনই যাব, বলল তালহা। আমাদের মনে রাখা উচিৎ আমরা গোয়েন্দা হতে যাচ্ছি। তাই আমাদের ভয়কে জয় করতে হবে। আর রহস্য টহস্য থাকলেতো আমাদের পোয়াবারো। আমরা ঘুরতে এসেছি যখন এখানকার সবই ঘুরে ঘুরে দেখব। 
তালহার কথার মধ্যে সবসময় একরকম দৃঢ়তা থাকে। মুসায়েবের না বলার সাহস হলনা।
বাড়ির মূল ফটকটা ভেঙ্গে পড়ে আছে। ফটক পেরিয়ে বাড়িটার ভেতরে ঢুকে পড়ল তারা। দোতলা একটা বাড়ি। ভেতরে যাওয়ার জন্য দুইটা কাঠের দরজা আছে। দুইটারই ভগ্নদশা। পলেস্তারা বিহীন দেয়ালগুলো অশ্বত্থ গাছ আর আগাছায় ভরে গেছে। বাড়ির কোল ঘেঁসে দাঁড়ানো কৃষ্ণচূড়া গাছের অর্ধেকটাই বাড়ির ছাদ জুড়ে ছড়িয়ে আছে। ডানপাশের দরজাটা কাঠের। হ্যাঁচকা টান দিতেই সেটা খুলে গেল। ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই বিকালের আলোয় ঘরটি সামান্য আলোকিত হয়ে পড়ল।
ঘরে প্রবেশ করতেই একরাশ মাকড়শার জাল ওদের মাথা-মুখ সব জড়িয়ে ধরল।
মুসায়েব বলল, এই ঘরের জানালা যে কতদিন খোলা হয়নি তা আল্লাহই ভালো জানেন। বিকট গন্ধে নাক ধরে আসল ওদের। বের হয়ে যেতে ইচ্ছা করল মুসায়েবের। কিন্তু তালহাকে বলার সাহস হলনা। তালহার দিকে তাকিয়ে দেখল নির্বিকারভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতরের দিকের একটা দরজা খুলে ফেলল তালহা। দরজা খুলতেই একটা লম্বা বারান্দা চোখে পরল। বারান্দার সামনেই বড় একটা উঠান। পাতার কারণে উঠানের মাটি দেখা যাচ্ছেনা। সাঁই করে একটা কি যেন মুসায়েবের কান ঘেঁসে চলে গেল। ভয়ে ফ্যাঁকাসে হয়ে গেল মুসায়েবের মুখ। খুজতে লাগল চারিদিকে। চিউ চিউ আওয়াজ শুনে মাথার উপর তাকিয়েই দেখতে পেল চড়ুইটাকে। জনমানবহীন বাড়িটা এখন ওদের দখলে। তাই কারও অনুপ্রবেশ পছন্দ করছেনা তারা। বাড়ির ঘুলঘুলি এখন ওদের রাজত্বে। হাসি পেল মুসায়েবের। তার মত ভীতুর পক্ষে গোয়েন্দা হওয়া কীভাবে সম্ভব?
উঠানের পাশেই একটা পরিত্যক্ত কুয়া। উঠান পার হয়ে সামনেই আর একটা দোতলা দালান দেখতে পেল তারা। সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে গেল তালহারা। এটার দোতলার অবস্থা আরও শোচনীয়। বারান্দা জুড়ে পড়ে আছে ভাঙ্গা কতগুলো চেয়ার। ঘরের মধ্যে পুরানো আমলের খাট বিছানো আছে। একপ্রস্থ ময়লা জমে আছে তাতে। ঘরের দেয়ালে নানারকম ছবি টানানো আছে। ধূলার কারণে কোন ছবি স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছেনা। বারান্দা থেকে ভেতরের দিকে একটা সিঁড়ি একতলায় নেমে গেছে। দোতলার সব ঘরে ঘুরে ঘুরে দেখল তালহারা। সবগুলো ঘরই অগোছালো পড়ে আছে। মনে হচ্ছে দীর্ঘদিন এখানে কারোর পা পড়েনি, বলল তালহা। অনেকদিন আগে হয়তো কেউ বাস করত। তবে একটা ব্যাপার আমার ভাবনায় ফেলছে তা হল এতো জায়গা জুড়ে থাকা একটা বাড়ি এভাবে পড়ে আছে কেন?
মুসায়েব বলল, কেন তুই কি এখানে কোন রহস্যের গন্ধ পাচ্ছিস? এই পোড়োবাড়ি দিয়ে কি আমাদের গোয়েন্দাগিরির অভিষেক ঘটাতে চাস?
তা মন্দ হয়না। তিনদিন হয়ে গেল ভদ্রলোকের কাছ থেকে কোন খবর পেলামনা। বোঝাই যাচ্ছে ঐ কাজটা আর পাবনা। আমাদের মত অনভিজ্ঞ গোয়েন্দাদের কেউই কাজ দিবেনা। এখন নিজেদের প্রচারের জন্য নিজেদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। কি বলিস তোরা, বলল তালহা।
হয়েছে আর প্রচারে কাজ নেই। আমি এখন এখান থেকে বের হতে চাই।
তালহা বলল, তোর ভয় দূর করতে চাই মুসায়েব। এখনও অন্ধকার হয়নি। আর তুই ভয়ে কাবু হয়ে যাচ্ছিস। 
এরকম করছিস কেন? ওর একটা হাত টেনে ধরে যায়িদ বলল, এখনও বাড়ির বেশিরভাগই দেখা হয়নি। চল আগে দেখে নেই, তারপর যদি কি করব না করব তা নিয়ে আলোচনা করা যাবে। মুসায়েবের হাত ধরেই তালহার পেছন পেছন সিড়ি দিয়ে নামা শুরু করল যায়িদ। সিড়ি দিয়ে তারা প্রথম যে ঘরটায় নামল সেটা একটা হলঘরের মত। একটু সামনে এগোতেই অনেকগুলো পাশাপাশি ঘর চোখে পড়ল।
ঘরগুলো কেমন স্কুলঘরের আদলে তৈরি করা, তাইনারে? পুরানো বাড়িগুলোতে এরকম ঘর দেখা যায়, বলল তালহা।
হ্যা। দোতলটা যেমন সুন্দর নীচটা কিন্তু তেমন আকর্ষণীয় না। যায়িদ উত্তর দিল।
সামনের দিকে হাটা শুরু করল তালহারা। তখনও মুসায়েবের হাত শক্ত করে ধরে আছে যায়িদ। শেষ প্রান্তের ঘরগুলোর কাছাকাছি আসতেই শোনা গেল আওয়াজটা। ঠিক কোথা থেকে আওয়াজটা আসছে বোঝার চেষ্টা করল তালহা।
কীসের শব্দ?
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/124674/</link>
				<pubDate>Tue, 19 Jul 2022 14:46:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির রহস্য<br />
তিন<br />
আধঘণ্টার মধ্যে তারা রাজবাড়ি এসে পৌঁছাল। গাড়ি থেকে রাজবাড়ির সামনে এসে মুসায়েব থ বনে গেল। তালহাকে উদ্দেশ্য করে বলল, এটাকেতো আমার রাজবাড়ি মনে হচ্ছেনা। কেমন মনে হচ্ছে একটা পিকনিক স্পট। ব্যবসা করার জন্য কেউ বানিয়েছে, না?<br />
আরে না, এটাই নলডাঙ্গা রাজবাড়ি। এর শেষ রাজা ছিলেন প্রমথ ভূষণ রায় বাহাদুর। একসময় এখানে সৈন্যবাহিনী ছিল, পরিখা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-124674"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/124674/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1b384837860e2a0f2b5b6ee198e86acc</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির রহস্য 
পর্ব-দুই 

তালহার বাড়িয়ে দেওয়া হাত থেকে বিজ্ঞাপনের কাগজটা নিল রওশন মজুমদার। ভালো করে লেখাটা আবার পড়ল। তারপর তালহাদের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি দুঃখিত। আসলে আমি বুঝিনাই এই বিজ্ঞাপন দেখে কোন বাচ্চা ছেলেরা কাজটা নিতে আসবে। তাহলে আমরা সেভাবেই বিজ্ঞাপনটা লিখতাম। তোমরা এখন আসতে পার। জায়গাটা সম্পর্কে যা শুনেছি তাতে তোমাদের ওখানে পাঠানো একদমই ঠিক হবেনা। 
স্যার সবসময় শুধু অভিজ্ঞতা দিয়ে কাজ হয়না। এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার সাথে বুদ্ধিটাও জরুরী। অনেকক্ষণ পরে কথা বলল মুসায়েব। 
তোমাদের কি ধারণা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকেও তোমাদের অনেক বুদ্ধি? 
মুসায়েব উত্তর দিতে যাচ্ছিল কিন্তু ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে যায়িদ বলল, জ্বি মনে করি।
আমিও মনে করি তোমাদের অনেক বুদ্ধি আছে কিন্তু বুদ্ধির সাথে অভিজ্ঞতাও লাগে। তোমাদের কোন অভিজ্ঞতাই নেই। কিছুক্ষণ চুপ থাকল রওশন মজুমদার। তারপর আবার বললেন, ঠিক আছে আমাকে একদিন ভাবতে দাও। 
আমরা কি তবে কালকে আসব? নিঃসংকোচে জিজ্ঞাসা করল তালহা। 
এতো তাড়াহুড়োর কি আছে? 
মনে হচ্ছে কাজটা করতে যথেষ্ট সময় লাগবে। এখন আমাদের অবসর সময়। আবার পড়ালেখা শুরু হয়ে যাবে। তাই এই সময়টাকে কাজে লাগাতে চাই, বলল তালহা। 
ঠিক আছে তোমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানাটা দিয়ে যাও। আমি জানাবো।
তালহা বলল, কার্ডটাতে আমাদের বিস্তারিত লেখা আছে। একটু থামল তালহা। কিছুক্ষণ পর আবার তাকাল রওশন মজুমদারের দিকে। বিজ্ঞের মত করে বলল, একটা ব্যাপার জানার লোভ সামলাতে পারছিনা। 
কি ব্যাপার?
বিজ্ঞাপনে বাড়িটা সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা ছিলনা। নিরাপত্তার জন্যই কি এমন করা হয়েছে? 
হ্যা সেরকমটাই। কার্ডটা নিজের পকেটে রেখে দিলেন তিনি। তারপর ওদেরকে লক্ষ্য করে বলল, তোমরা এখন আসতে পার। 
ভারাক্রান্ত মনে তালহারা সেখান থেকে বেরিয়ে গেল। 
কি, বললাম না, একাজ আমাদের জন্য না। বিশ্বাস হয়নি তখন, এখন দেখলিতো আমার কথা কেমন ঠিক। সুযোগ পেয়ে মুসাও খোঁচা মারতে ভুললনা। 
যায়িদ আর তালহা ওর কথায় কোন উত্তর দিলনা। কিছুক্ষণ পর মুসায়েব আবার বলা শুরু করল, এগুলো বাদ দে। কয়দিন পরেই কলেজ শুরু হবে। তার আগে আবার কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেওয়ার ব্যস্ততা। সেই ছকবাধা জীবনে প্রবেশ করতে হবে। ছুটি মাত্র পনের দিনের। ছুটির এই সময়টা বরং আমরা ঘোরাঘুরি করে কাটাই। মনও দেখবি ভাল হয়ে যাবে। 
তালহা মুসার দিকে তাকাল। মুচকি হাসল। ভাবল ছেলেটা আসলেই খুব সহজ সরল। একটুও রাগলনা। বলল, তোর খুব ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করছে, তাইনা? ভাবছি এবার তোদেরকে আমার নানুবাড়ি নিয়ে যাব। 
একসাথে যায়িদ ও মুসায়েব দুজনেই হৈ হৈ করে উঠে বলল, সত্যি তালহা? আগে বলিসনিতো। কবে যাবো আমরা? 
আগামী পরশু ছোটমামা আসবে আমাদের নিতে। কালকেই আসতে চাচ্ছিল কিন্তু আমি একদিন পরে আসতে বলেছি। তোরা যাবি আমার সাথে? 
যাবোনা মানে? 
তোদের বাসা থেকে অনুমতি পাওয়া যাবে? ওখান থেকে ছোটমামা সহ সম্পূর্ণ ঝিনেদাটা ঘুরে ঘুরে দেখব।
একদিন পর কেন? মুসায়েব জিজ্ঞাসা করল। 
জানি কাজটা পাবনা। তাও একদিন অপেক্ষা করে দেখব ভদ্রলোক আমাদের ডাকে কিনা। 
পাগল! ওই কাজ পাওয়ার আশা করা আমাদের ঠিক হবেনা। দেখলিনা ভদ্রলোক আমাদের পাত্তাই দিলনা। 
দেখাই যাকনা। এখন বল তোরা যাবি কি না?
দূরে যাওয়া যাবেনা? উৎসুক হয়ে মুসায়েব বলল। আমার খুব পাহাড়ে ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করছে। 
পাহাড়! সেতো অনেক দূরের পথ। আমাদের বাসা থেকে কি এত দূরে যেতে দিবে? বলল তালহা। 
যেতে দিলেও আমি যাবনা। বলল যায়িদ। 
কেন তোর কি সমস্যা? 
দ্যাখ মুসায়েব ঘোরাঘুরি থেকেও যে ব্যাপারটায় আমি বেশি আগ্রহ পাচ্ছি তা হল বাড়িটার রহস্য উদ্ধার।
উহ্‌ খুব একজন গোয়েন্দা হয়ে গেছিস। ভেংচি কাটলো মুসায়েব। তোকে ঐ কাজ দেওয়ার জন্য যেন বসে আছে! 
কি একটা বলতে গেল যায়িদ তালহা থামিয়ে দিল। আবার ঝগড়া শুরু করেছিস তোরা দুজন। আমার কথার উত্তর দিলিনা তোরা।
কোন কথা? মুসায়েব জিজ্ঞাসা করল। 
আমার নানুবাড়ি ঘুরতে যাবি কিনা? 
যায়িদ বলল, তোর সাথে যাওয়ার ব্যাপারে আমার বাসা থেকে আটকাবেনা ইনশাআল্লাহ্‌। তোর সাথে যতই সময় কাটাই আমার মায়ের কোন আপত্তি নেই। 
মুসায়েব, তুই অনুমতি পাবি?
তালহা বলেছে আর অনুমতি পাবনা? সকালেই মার সাথে তোকে নিয়ে আলাপ করলাম। 
ও। ছোট করে উত্তর দিল তালহা। 
কি আলাপ করলাম শুনতে চাইলিনা?
বলার মত হলে নিজেই বলবি। খামোখা জিজ্ঞেস করতে যাব কেন? 
তোর এই নির্লিপ্ততা আমার সবসময় ভাল লাগেনা। 
শুনতে চাইলেইতো কতগুলো প্রশংসা করে বসবি। প্রশংসার কথা এতো বেশি শুনতে হয়না। তাহলে অহংকার হয়। তারপর কথার মোড় ঘুরিয়ে বলল, তাহলে এটাই ঠিক হল যে, এবার আমরা আমার নানুবাড়ি নলডাঙায় বেড়াতে যাবো। 
তালহার মুখে ওর নানিবাড়ির অনেক গল্প শুনে রীতিমত মুগ্ধ মুসায়েব আর যায়িদ।তাই সেখানে বেড়াতে যাওয়ার আনন্দে তারা দুজন আত্মহারা। 
মুসায়েবের কথাই ঠিক। একদিন অপেক্ষা করার পরও বাড়িটার ব্যাপারে কোন ফোন না পাওয়ায় বেশ মন খারাপ যায়িদের। 
সকাল সাতটায় বাসে করে নলডাংগার উদ্দেশে রওনা দিল তালহারা। শীতের সকাল, তাই রোদটাও বেশ মিষ্টি। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে তালহা। ওর একটা চমৎকার অভ্যাস আছে, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় যতরকম লেখা আছে তা পড়তে পড়তে যাওয়া। বড় রাস্তার পাশের স্কুলগুলোর দেওয়ালে বড় বড় মনিষীদের উক্তি লেখা আছে, সাথে অনেক হাদিস ও কোরআনের বাণীও।
দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ, শিক্ষার জন্য সুদূর চীনে যাওয়া যায় ইত্যাদি সমাজে প্রচলিত যেসব হাদিস এসব জায়গায় লেখা থাকে, তালহার মেজচা বলেছে এসবের বেশীরভাগই নাকি জাল হাদিস। 
এক ঘণ্টা লাগল তাদের নলডাঙায় পৌঁছাতে। এটা ঝিনাইদাহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রাম। নলডাংগা থেকে তালহার নানিবাড়ি পৌঁছাতে ২০ মিনিট লাগল। ঠিক ২০ মিনিট পর নারিকেল , সুপারি আর নানারকম ফল আর ফু্ল গাছ দিয়ে ঘেরা একটা দোতলা বাড়ির সামনে এসে দাড়াল। বাড়িটার নাম &#039;আপন নিবাস&#039;। বাড়িটা যেমন সুন্দর বাড়ির নামটাও তেমন সুন্দর। 
সদরগেটে দাড়িয়েই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকল যায়িদ আর মুসায়েব। দুজনেই একসাথে বলে উঠল, এতো সুন্দর! 
কিরে এমন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছিস কেন? চল ভেতরে ঢুকি। 
তালহার কথায় সম্বিৎ ফিরে পেল যেন তারা । যায়িদ বলল, ও আচ্ছা। আসলে কল্পনার মত সাজানো মনে হচ্ছে বাড়িটাকে। বাড়িটা ঘুরে দেখতে ইচ্ছা করছে।
আগে বিশ্রাম নে। তারপর সব ঘুরে দেখা যাবে।
ঠিক আছে। 
কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর মুসায়েব আর যায়িদকে নিয়ে নানিবাড়ি ঘুরে দেখতে বের হল তালহা। বাড়িটা দেখতে তেমন কোন আহামরি না হলেও বেশ আকর্ষনীয়। স্রেফ কাঠের তৈরি একটা দোতলা বাড়ি। দোতলায় উঠার সিঁড়িটা বাড়ির বাইরের দিকে। সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে তৈরি বাড়িটা সাধারণ হলেও মুসায়েব আর যায়িদের কাছে তা অসাধারণ লাগল। পুকুর পাড়ে এসে দাঁড়াল তালহারা। শীতকাল তাই পুকুরের পানিও কমে গেছে। 
সবাই মিলে পুকুর পাড়ে বসে সকালের রোদ পোহাল। সেখানে বসেই তিনজনে তাজা খেজুরের রস আর তালহার নানীর বানানো মজার মজার পিঠা খেল। 
আমরা কি শুধু এখানেই বসে থাকব? বলল মুসায়েব। শুনেছি ঝিনাইদাহে দেখার অনেককিছু আছে। আমার খুব সব ঘুরে ঘুরে দেখার ইচ্ছা হচ্ছে। 
বড় মামার গাড়িটা পাঠিয়ে দিয়েছে। তাহলে চিন্তা কি? যেখানে খুশি, যতক্ষণ খুশি ঘোরাঘুরি করা যাবে, কি বলিস তোরা? কাছেই নলডাঙ্গা রাজবাড়ি আছে। চল আজকে আমরা সেখানে যাই, বলল তালহা।
রাজবাড়ি? আমি আগে কখনও রাজবাড়ি দেখিনি, বলল যায়িদ। বইতে রাজবাড়ির বর্ণনা পড়ে আমার খুব রাজবাড়ি দেখার ইচ্ছা। 
তালহার ছোট মামা বলল, রাজবাড়িগুলো এখন আর রাজবাড়ি নেই। সব সরকারের দখলে চলে গেছে। এর অনেকগুলোই সরকারি অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
তবে এটা একটু অন্যরকম। আমি একবার গিয়েছি, বলল তালহা।
কেমন শুনি, উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করল যায়িদ।
গেলেই দেখতে পাবি। তারপর তার ছোট মামাকে উদ্দেশ্য করে বলল, মামা তুমি কি আমাদের সাথে যেতে পারবে? 
ঠিক আছে তোমরা তৈরি হয়ে নাও। আমি তোমাদের সাথে রাজবাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাব কিন্তু রাজবাড়ি ঢুকবোনা। পাশেই আমার এক বন্ধুর বাড়ি। ওর সাথে আমার ব্যবসায়িক কাজ আছে। তাহলে চল যাওয়া যাক। 
ঠিক আছে চল বলে সবাই মিলে রাজবাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল তারা।
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/124421/</link>
				<pubDate>Sun, 17 Jul 2022 03:37:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পোড়োবাড়ির রহস্য<br />
পর্ব-দুই </p>
<p>তালহার বাড়িয়ে দেওয়া হাত থেকে বিজ্ঞাপনের কাগজটা নিল রওশন মজুমদার। ভালো করে লেখাটা আবার পড়ল। তারপর তালহাদের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি দুঃখিত। আসলে আমি বুঝিনাই এই বিজ্ঞাপন দেখে কোন বাচ্চা ছেলেরা কাজটা নিতে আসবে। তাহলে আমরা সেভাবেই বিজ্ঞাপনটা লিখতাম। তোমরা এখন আসতে পার। জায়গাটা সম্পর্কে যা শুনেছি তাতে তোমাদে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-124421"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/124421/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fb6015043a02ec21f0bf4bd8de5134ab</guid>
				<title>পোড়োবাড়ির রহস্য
 পর্ব_এক 
পাচিলঘেরা বাড়িটার সামনে এসে থামল মুসায়েব। মুসায়েবকে দেখেই গেটটা খুলে দিল দারোয়ান। সাইকেল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল সে। এটা তালহার দাদীবাড়ি। এ বাড়িতেই তালহারা চাচাদের সাথে যৌথভাবে বাস করে। প্রায় ২০ কাঠা জমি জুড়ে বাড়িটা বানিয়েছেন তালহার দাদা। তার দাদীর নাম আয়েশা ছিল, তাই বাড়ির নামও দিয়েছে আয়েশা ভিলা। 
তালহার ইদানিং গোয়েন্দা হওয়ার ইচ্ছা জেগেছে। তার শখের কথা শুনে মুসায়েব একটু গাঁই গুঁই করলেও যায়িদের তাতে বেশ আগ্রহ আছে। গোয়েন্দা হওয়ার প্রাথমিক সবরকম কাজ সেরে ফেলেছে তালহা। তার দাদুবাড়ির সামনের দিকে অনেকগুলো ঘর খালিই পড়ে ছিল। সেখান থেকে দুইটা ঘর নিয়ে একটা অফিসও দিয়েছে তালহা। নামটাও দিয়েছে চমৎকার। ‘গোধূলি গোয়েন্দা সংস্থা’। 
গেট পেড়িয়ে কোনদিকে না তাকিয়ে অফিসে ঢুকে পড়ল মুসায়েব। ঢুকেই যায়িদকে দেখতে পেল। একটা টেবিলের উপর খুব মনযোগ দিয়ে কি যেন করছে। খুব বুদ্ধিমান ছেলে। চেহারাটাই বুদ্ধিদীপ্ত। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। বাবা একজন কৃষিবিদ। পায়ের শব্দে মুখ তুলে তাকিয়ে মুসায়েবকে দেখতে পেল যায়িদ। ওমনি টিপ্পনী কাটল। 
কিরে, আসতে এতো দেরী করলি কেন? ঘুম থেকে দেরী করে উঠেছিস, না? 
আর বলিসনা, ঘুম থেকে উঠে দেখি ১১ টা বেজে গেছে। মা এখানে আসার কথা বলতে ভুলেই গেছে। যখন বলল তখন দেখি ১১:৩০ বেজে গেছে। কী আর করা সাইকেল নিয়ে ছুটে আসলাম। 
দ্যাখতো মুসায়েব, এটা কেমন হয়েছে? একটা ভিজিটিং কার্ড দেখিয়ে তালহা জিজ্ঞাসা করল। 
কার্ডটা হাতে নিল মুসায়েব। অবাক হয়ে বলল, কার্ড! আমাদের নামে কার্ড ছাপিয়েছিস? 
পড়ে দেখ কোন পরিবর্তন লাগবে কিনা।
তালহার দিক থেকে চোখ ঘুরিয়ে কার্ডটা পড়া শুরু করল মুসায়েব। রহস্য সমাধানে আমরা- তালহা বিন জুবায়ের, মুসায়েব বিন আসাদ, যায়িদ বিন ইয়াসির। এক নিমিষেই কার্ডের লেখাটা পড়ে ফেলল মুসায়েব।
কেমন হয়েছে? যায়িদ জিজ্ঞাসা করল।
মাশাআল্লাহ, খুব ভাল হয়েছে। 
এখন থেকে কারও সাথে পরিচয় হলে এই কার্ডটা দিব আমরা, বলল তালহা। 
তাতে কি কোন লাভ হবে? মানুষ কার্ডটা নিয়ে কিছুদূর গিয়ে ফেলে দিবে। ভাববে এই বাচ্চাছেলেগুলো আবার কি রহস্য সমাধান করবে।
দেখাই যাকনা, বলল তালহা। কাজে নামার আগে নিগেটিভ ধারণা ঠিকনা। হতাশা মুমিননকে মানায়না। 
মুসায়েব বলল, কাজ শুরু করার আগেই কার্ড বানানো কি ঠিক হল?
যায়িদ বলল, প্রস্তুতি নিয়েই কাজে নামতে হয়। খুশির কথা হল আমরা খুব শীঘ্রই কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।
কাজ শুরু করতে যাচ্ছি?
কাগজের বিজ্ঞাপনটা মুসায়েবের দিকে এগিয়ে দিল তালহা। 
বিজ্ঞাপনটা পড়ে কপাল কুঁচকে ফেলল মুসায়েব। বলল, বাড়ি উদ্ধার সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন? এগুলো আমাদের জন্য না তালহা। সরকারী, বেসরকারি কত গোয়েন্দা সংস্থা আছে। ওরাই পাবে কাজটা। এখানেতো দেখছি পুরস্কারের কথাও লেখা আছে। পুরষ্কারের কথা জানলে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়বে। আমাদের মত পুচকেরা ওখানে ঢোকার চান্স পাবে কিনা সন্দেহ।
তোর এই এক বাতিক। আগেই নিগেটিভ ধারণা করে বসিস। গোয়েন্দা হিসাবে পরিচয় পাওয়ার জন্য এটাই আমাদের মোক্ষম সুযোগ। বেশ কড়া করেই বলল তালহা। তোকে দশটার সময় আসতে বলেছি আর তুই দুই ঘণ্টা দেরী করলি। সাড়ে দশটার সময় বের হওয়ার ইচ্ছা ছিল। এখন বারোটা বেজে গেছে। কাজটা হাতছাড়া হয়ে গেল কিনা কে জানে। আর দেরী নয় আমাদের এখনই বের হতে হবে। সাইকেল একটু জোরে চালালে আধঘণ্টার মধ্যে অফিসটাতে পৌঁছে যাব ইনশাআল্লহ। কথা না বলে চল আমরা এখুনি রওনা হই। 
সেটা নাহয় বুঝলাম, কিন্তু তার আগে আমার পেটে যে ছুচো দৌড়াচ্ছে তার কি হবে?
নাস্তা করে আসিসনি? তালহা জিজ্ঞাসা করল।
তার আর সময় কোথায় পেলাম। ঘুম থেকে উঠেইতো চলে আসলাম।
ঠিক আছে দাড়া তোর জন্য খাবার নিয়ে আসছি। কিছুক্ষণ পর তালহা দুইটা স্যান্ডউইচ নিয়ে বলল, নে, যেতে যেতে খাবি চল। 
স্যান্ডউইচ দুইটা হাতে নিল মুসায়েব। সাইকেল চালাতে চালাতেই গপাগপ খেয়ে ফেলল। 
তালহারা যখন পেপারে দেওয়া ঠিকানাটায় পৌঁছা্ল তখন দুপুর দুটা বাজে। ঠিকানা অনুযায়ী তারা একটা দোতলা বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াল। বাড়ির চারপাশ উঁচু পাচিল দিয়ে ঘেরা। পাচিলটা সাধারনের তুলনায় একটু বেশিই উঁচু। প্রধান ফটকের সামনে এসে দাড়ালো তালহারা। কয়েকবার টোকা দিতেই ফটকটা একটু ফাঁক হয়ে গেল। ফাঁক গলে দারোয়ানের মুখ বেরিয়ে আসল। 
কপাল কুঁচকে ওদেরকে দেখতে লাগল লোকটা। তারপর কর্কশ কণ্ঠে করে জিজ্ঞাসা করল, কি চাই? 
আমরা পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে এসেছি।
পত্রিকার বিজ্ঞাপন? কিসের বিজ্ঞাপন? 
পকেট থেকে কাগজটা বের করে ঠিকানাটা দেখাল তালহা।
কাগজটা হাতে নিল লোকটা। বিজ্ঞাপনটা পড়ল। তারপর কিছুক্ষণ তালহাদের দিকে তাকিয়ে দরজাটা খুলে দিল। 
প্রধান ফটক পেড়িয়ে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করল তালহারা। তাদেরকে দাড় করিয়ে রেখে দারোয়ান ভিতরে চলে গেল। 
বাড়ির ভেতরে ঢুকে অবাক হয়ে গেল তালহা। বলল, ভেবেছিলাম লম্বা লাইন থাকবে কই কেউইতো আসলনা। 
আমিও তাই ভাবছি ? পুরষ্কারের লোভেও কেউ আসলনা? যায়িদও সুর মেলাল। 
মুসায়েব বলল, আমি ভেবেছিলাম এই কেস নেওয়ার জন্য লোকের অভাব হবেনা। এখন দেখি কারোরই আগ্রহ নেই। মনে হচ্ছে খামোখাই আসা। নিজেকে বোকা বোকা লাগছে। 
বোকাদের আবার কি চালাক লাগে নাকি? খোঁচা দিয়ে বলল, যায়িদ। 
যায়িদের কথায় রেগে গেল মুসায়েব। ছেলেটা সবসময় ওর পেছনে লেগে থাকে। মৃদু ধমক দিয়ে যায়িদকে বলল, একথা বললি কেন তুই? 
বলবো না? লোক থাকলে বলতি এতো লোক! এখানে আমরা পাত্তা পাবোনা। আর এখন বলছিস কেউ আসেনি বলে তোর লজ্জা করছে। 
মুসায়েব বলল, ঠিকইতো খবরটা আরও অনেকে দেখেছে। কিন্তু কই কেউ কি আসল? একমাত্র আমরাই বোকার মত আসলাম। আমার মনে হচ্ছে খবরটাই একটা ধোঁকা। 
তালহা ক্ষেপে গেল। কখন থেকে ঝগড়া করছিস তোরা।এবার একটু থাম । 
প্রায় আধঘণ্টা পর দারোয়ান লোকটা ফেরত আসল। ওদেরকে উদ্দেশ্য করে বলল, এসো, স্যার তোমাদের ভেতরে নিয়ে যেতে বলেছে। 
দারোয়ানের সাথে একটা কার্পেট মোড়া রুমে প্রবেশ করল তালহারা। সাধারণ মানের কিছু আসবাব দিয়ে ঘরটা সাজানো। একপাশে একটা বেতের ডিভান আর দেওয়াল ঘেঁসে চারিপাশে অনেকগুলো মোড়া সাজানো আছে। কয়েকরকমের পাতাবাহারের গাছ শোভা পাচ্ছে ঘরের কোণাগুলোতে। দেওয়ালে ঝুলানো আছে মানিপ্লান্টের নানারকম গাছ। একটা দেওয়াল আলমারিও আছে। নানারকম বই আছে তাতে। 
মানুষটার রুচি আছে। ঘরের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে তালহা বলল।
মুসায়েব বলল,আসলেই। 
বইয়ের আলমারির কাছে এগিয়ে গেল তালহা। বইগুলোর উপর চোখ বুলাল। প্রবন্ধ, গল্প আর ইতিহাসের বই দিয়ে ঠাসা আলমারিটা। 
আর কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকব? বিরক্ত হয়ে মুসায়েব জিজ্ঞাসা করল।
অপেক্ষাতো করতে হবে। চল বসি। তিনজন তিনটা মোড়ায় বসে পড়ল। 
তোমরা বিজ্ঞাপন দেখে এসেছো? 
তিনজনই তিনটা বই নিয়ে পড়ায় ব্যস্ত ছিল। কণ্ঠটা শুনে ঘুরে তাকাল তারা। দরজার কাছে বুকে হাত গুজে মাঝবয়সী একজন লোক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। লম্বায় প্রায় ছয় ফুট। গায়ের রঙ শ্যামলা। মুখে সাদা-কালো দাড়ি। কথা বলতে বলতে একটা মোড়া টেনে তাদের পাশে বসে পড়ল লোকটা। চোখ ঘুরিয়ে তাদের তিনজনকে একবার ভাল করে দেখে নিল। নিজের হাতটা বাড়িয়ে একে একে তিনজনের সাথে করমর্দন করে বলল, আমি রওশন মজুমদার। তারপর ভ্রু নাচিয়ে আবারও জিজ্ঞাসা করল, বিজ্ঞাপন দেখে এসেছো তোমরা? 
তালহাই উত্তর দিল, জ্বি আমরা পত্রিকায় আপনার দেওয়া বিজ্ঞাপনটা দেখেই এসেছি। 
লোকটা জিজ্ঞাসা করার আগেই তালহার কথার মাঝখানে যায়িদ বলল, আমরা গোয়েন্দা তারপর নিজেদের কার্ডটা এগিয়ে দিল সে। 
কার্ডটা হাতে নিল লোকটা।তারপর ওদের দিকে তাকিয়ে বলল, 
গোয়েন্দা? লেখাপড়া কতটুকু? 
এবার এসএস সি পরীক্ষা দিয়েছি। কিছুক্ষণ চুপ থেকে যায়িদ উত্তর দিল। 
তা পড়ালেখা বাদ দিয়ে হঠাৎ গোয়েন্দা হওয়ার শখ জাগলো কেন? 
বাদ দিয়েছি কে বলল? পড়ালেখার পাশাপাশি করবো। বেশ দৃঢ় চিত্তে উত্তর দিল যায়িদ। 
এর আগে কোথাও কোন কাজ করেছো? 
না, এখনও কোথাও কোন কাজ করিনি। মাত্র পরিকল্পনা করেছি। বিজ্ঞাপনটা দেখে আমরা খুবই আনন্দিত। আমাদের হাতে খড়ির একটা সুযোগ হল। 
তালহার কথাটা শুনে তার দিকে ফিরল রওশন মজুমদার। কপাল কুঁচকে বেশ অবাকের শুরে বলল, হাতে খড়ি? বাঘা বাঘা অভিজ্ঞ গোয়েন্দারা হার মেনে গেল আর তোমরা বলছ তোমরা হাতে খড়ি নিবে। বিজ্ঞাপনে অনেক টাকা পুরস্কার দেখে লোভ সামলাতে পারনি, না? তাই একটা কার্ড বানিয়ে এখানে চলে এসেছো। 
যা ইচ্ছা ভাবতে পারেন? 
দেখেতো ভদ্র ছেলে মনে হচ্ছে। এ বয়সে মুখে বেশ দাড়িও রেখেছো । 
স্যার আপনিওতো দাড়ি রেখেছেন, বলল তালহা। 
তোমাদের বয়সেতো আর রাখিনি। 
আসলে যখন থেকে দাড়ি উঠবে তখন থেকে রাখাই নিয়ম। 
তোমাদের দেখে কিন্তু আমি মুগ্ধ।
আমরা তাহলে কাজটা পাচ্ছি, তাইনা? বেশ দৃঢ়তার সাথে বলল তালহা।
তোমার স্বভাবে বেশ দৃঢ়তা আছে। কিন্তু এখনও তোমরা বয়সে অনেক ছোট। 
ছোট বলে অবজ্ঞা করা ঠিকনা। 
ঠিক অবজ্ঞা না। কাজটা আমি আরও দক্ষ কাউকে দিয়ে করাতে চাই। আর বিজ্ঞাপন দেখে তোমাদের মত ছোটরা আসবে এটা ভাবতে পারিনি। 
কেন স্যার? এইযে এটা দেখেন। বিজ্ঞাপনের কাটা অংশটা এগিয়ে দিল তালহা।
কি এটা?
আপনার বিজ্ঞাপনটা।
এটা দিয়ে কি করব?
পড়ে দেখেন এতে কি লেখা আছে। কোন ধরণের লোক যোগাযোগ করবে এমন কোন কথা বিজ্ঞাপনে লেখা ছিলনা বলে বিজ্ঞাপনটা লোকটার দিকে বাড়িয়ে দিল তালহা। 
চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/124238/</link>
				<pubDate>Fri, 15 Jul 2022 14:04:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> পোড়োবাড়ির রহস্য<br />
 পর্ব_এক<br />
পাচিলঘেরা বাড়িটার সামনে এসে থামল মুসায়েব। মুসায়েবকে দেখেই গেটটা খুলে দিল দারোয়ান। সাইকেল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল সে। এটা তালহার দাদীবাড়ি। এ বাড়িতেই তালহারা চাচাদের সাথে যৌথভাবে বাস করে। প্রায় ২০ কাঠা জমি জুড়ে বাড়িটা বানিয়েছেন তালহার দাদা। তার দাদীর নাম আয়েশা ছিল, তাই বাড়ির নামও দিয়েছে আয়েশা ভিলা।<br />
তালহার ইদানিং গোয়েন্দা হওয়া&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-124238"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/124238/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c8517ccf1b1ac3c3a82b65485309c303</guid>
				<title>#অনুগল্প_গুপ্তচর
   #মাহামুদা_খাতুন 

বাড়ির কাজে হাত লাগিয়েছি বিধায় গতকাল ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আলমারিতে রেখেছিলাম। সকালে ঠিকাদারকে দেওয়ার সময় গুনে দেখি একটা টাকার বান্ডিল কম আছে। নীলা কোন টাকা নেয়নি। ছেলেকে এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তুলকালাম কান্ড ঘটাবে।
এখন ঝন্টু ছাড়া আর কাউকে পাচ্ছিনা যে টাকাটা নিতে পারে। ছেলেটা দুই মাস হয় কাজে যোগদান করেছে। আচরণ বেশ রহস্যজনক। ডেকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমার আলমারি থেকে টাকা নিয়েছিস?
ঝন্টু নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিল, আমি কোন টাকা নেইনি।
রেগে বললাম, স্বীকার না করলে চৌদ্দ শিকের ভাত খাওয়াবো।
চৌদ্দ শিকের ভাত ওকে নয়, আপনাদেরকে খেতে হবে।
হঠাৎ অপরিচিত কন্ঠ শুনে সামনে তাকিয়ে দেখলাম দুইজন পুলিশের লোক আর তাদের সাথে হাত বাঁধা অবস্থায় আমার ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে।
বুকটা ধক করে উঠলো। জিজ্ঞাসা করলাম, ওকে এভাবে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন কেন?
ক্যাসিনোতে লাখ টাকা হেরে গিয়ে ও বারের সবাইকে মারধোর করেছে। অন্য একটা কাগজ দেখিয়ে বলল, আপনার নামেও দুদকের অভিযোগ আছে। প্রকল্পের নাম করে করে গত অর্থ বছরে বিরাট অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আপনাকেও আমাদের সাথে যেতে হবে।
আমার সাথে কথা বলা শেষ করে পুলিশ অফিসার দুইজন সামনে এগিয়ে ঝন্টুর সাথে করমর্দন করে বলল, কনস্টেবল রাকিব, আমাদেরকে সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। তারপর আমাকে বলল, চলুন যাওয়া যাক।
কনস্টেবল রাকিব! তার মানে ও ঝন্টু না। বেরিয়ে যাওয়ার সময় ওকে দেখলাম ঠোঁটে একটা বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে ভাবলাম, এজন্যই ছেলেটার আচরণ এতো রহস্যময় লাগতো আমার!
সমাপ্ত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/122744/</link>
				<pubDate>Mon, 27 Jun 2022 14:54:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>   <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23অন" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#অন</a>ুগল্প_গুপ্তচর<br />
   <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ম" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ম</a>াহামুদা_খাতুন </p>
<p>বাড়ির কাজে হাত লাগিয়েছি বিধায় গতকাল ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আলমারিতে রেখেছিলাম। সকালে ঠিকাদারকে দেওয়ার সময় গুনে দেখি একটা টাকার বান্ডিল কম আছে। নীলা কোন টাকা নেয়নি। ছেলেকে এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তুলকালাম কান্ড ঘটাবে।<br />
এখন ঝন্টু ছাড়া আর কাউকে পাচ্ছিনা যে টাকাটা নিতে পারে। ছেলেটা দুই ম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-122744"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/122744/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c507d7e25489b86a1e880dbaae61b164</guid>
				<title>ভোরের শিশির 
মাহামুদা খাতুন

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতে একদম ইচ্ছা করছেনা আমার, কিন্তু উঠতেই হবে। ফজরের সালাত মিস একদমই সহ্য   করবেনা বাবা। মসজিদে যাওয়ার সময় বাবা ডেকে দিয়ে গেছে। এরপর মা এসে কয়েকবার ডেকে গেছে। কিন্তু আমার কিছুতেই উঠতে মন চাইছেনা। লেপ টেনে আবার আয়েশ করে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। শীতের সকালে ঘুম যেন আরও জেঁকে বসতে চাচ্ছে। হঠাৎ লেপে টান অনুভব করলাম। ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল। নিশ্চয় বাবা মসজিদ থেকে ফিরে এসে আমাকে এভাবে দেখে রেগে গিয়ে এমন করছে। লেপ থেকে মুখ বের করার সাহস হলোনা।  

কি ব্যাপার বাইরে আলো হয়ে যাচ্ছে আর তুমি এখনও ফজর না পড়ে শুয়ে আছো?

বাবার দরাজ কন্ঠ শুনে প্রাণ বের হবার যোগাড়। এক লাফে উঠে পড়লাম।

রাকিব, কাল থেকে তুমি আমার সাথে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করবে।

বুঝলাম আমার আরাম করার দিন শেষ। কাল থেকে আরও ভোরে উঠে এই শীতের সকালে ঘরের বাইরে যেতে হবে। ভাবতেই আমার গা শিউড়ে উঠলো। 

এই শীতে ছেলেটাকে টেনে আবার মসজিদে নিয়ে যাওয়ার কি দরকার।  মায়ের আদুরে কন্ঠ শোনা গেল। মাত্রতো ১২ বছর, সাবালক হোক তখন নাহয় সবসময় যাবে।  

সাত বছর থেকে এসব অভ্যাস করার কথা। আর তুমি বলছো সবে ১২ বছর। এখন থেকে মসজিদে না গেলে অভ্যাসটা কীভাবে হবে শুনি? তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, যাও, আর মাত্র ১২ মিনিট আছে। নামাজটা পড়ে নাও। 

কলপাড়ে অজু করতে গিয়ে মায়ের উষ্মা টের পেলাম। একভাবে বাবার উপর রাগ ঝাড়ছে। একমাত্র ছেলের উপর বাবার  এহেন অত্যাচার মেনে নিতে পারছেনা। অজু করে বারান্দা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম বাবা একটা চেয়ারে বসে বই পড়ছে। বইয়ের আড়াল থেকে বাবার চিরাচরিত স্নিগ্ধ হাসিটা আমার চোখ এড়ালোনা।বাবার এই একটা অসাধারণ গুণ। মা  যখন রেগে যায় উনি একটা স্নিগ্ধ হাসি মুখের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখে। রুমে গিয়ে নামজ পড়ে বাবার পাশে গিয়ে বসলাম। মা এখনও কথা বলে যাচ্ছে। বাবার হাসিটার কারণে মা আরও বেশি রেগে যায়। আরও কিছুক্ষণ এমন চলবে তারপর কোন উপায় না দেখে মা থেমে যাবে। আমাকে নিয়ে বাবা মায়ের ঝগড়াটা আমি বেশ উপভোগ করি। 

রাতে পড়ার টেবিলে বসে আছি। বাবা এসে বলল, আজকে ১০ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়বে রাকিব। কালকে আজানের সময় উঠে মসজিদে যেতে হবে। 

ঠিক আছে বলে স্কুলের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে শুয়ে পড়লাম। বাবা এসে ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে মাথার কাছে রেখে গেল। ঘুম আসতে কিছুটা সময় লাগল। এলার্মের কটকটা আওয়াজে সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেল। মসজিদের আজান কানে আসল।  বাবা এসে ডাকার আগেই উঠে পড়লাম। সুন্নাত পড়ে ভালভাবে শীতের পোশাক পড়ে বাবার সাথে বেরিয়ে পড়লাম। সদর দরজা  খুলে বের হওয়ার সাথে সাথেই একটা মন ভালো করা বাতাস এসে গায়ে-মুখে পরশ বুলিয়ে গেল। অন্য ওয়াক্তে গেলেও ফজরের নামাজের জন্য জীবনে প্রথম মসজিদে যাচ্ছি। এর আগে অনেকবার বাবা নিতে চাইলেও মায়ের বাঁধার কারণে ফজরে আমার কখনও মসজিদে যাওয়া হয়নি। বাবার পাশে হাটছি। রাস্তা দিয়ে আরও কিছু মানুষকে মসজিদে যেতে দেখলাম। নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ দোআ পড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে পড়লাম।বাইরে এসে দেখি এক অসাধারণ সকাল আমার জন্য অপেক্ষা করছে।আলো আধারির একটা খেলা চলছে বাইরের জগতে। কনক্রিটের রাস্তা দিয়ে না হেঁটে মাঠের মধ্যে  দিয়ে হাটা শুরু করলাম।মাঠের ঘাসের শিশিরের শীতল স্পর্শ পেলাম। মনে হচ্ছে ঘাসের উপরের শিশিরগুলো আমাকে কিছু বলতে চাইছে। আমি বসে পড়লাম। ঘাসগুলোর উপর থেকে একটা শিশিরের ফোঁটা নিয়ে বললাম, এই তুমি এমন করে  হাসছো কেন? কি বললে? ফজরের নামাজ পড়ে আমার অবয়বের স্নিগ্ধতা বেড়েছে। দুই হাত দিয়ে ঘাস থেকে শিশির নিয়ে  সমস্ত মুখে পরশ বুলিয়ে দিলাম।না, এমন সৌভাগ্য থেকে আমি আর নিজেকে বঞ্চিত করবেনা। এখন প্রতিদিনই ভোরের শিশিরে স্নাত হবো আমি। 

 আমাকে রেখে বাবা একটু সামনে চলে গিয়েছিল। পেছনে তাকিয়ে আমার এহেন কাজ দেখে মিষ্টি হাসি দিয়ে আবার হাঁটা শুরু করলেন। উঠে দাঁড়ালাম, দৌড়ে বাবাকে ধরলাম। বাবার হাত জড়িয়ে বললাম, এখন থেকে প্রতিদিনই তোমার সাথে ফজরের সালাত আদায় করবো।

মুখে কিছু বললেন না বাবা, সেই স্নিগ্ধ মন কাড়ানো হাসি দিয়ে জানিয়ে দিলেন আমি এতোদিন এই দিনের অপেক্ষাতেই ছিলাম।

বাবার এই হাসিটা আমার খুব প্রিয় কিন্তু সচরাচর দেখা যায়না। ভোরের শিশিরের শীতল পরশে সিক্ত হওয়া আমার হৃদয় অজান্তেই আমার বাবার হৃদয়কেও স্পর্শ করেছে। অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করলাম। নিচু হয়ে ছুঁয়ে নিলাম ঘাসের উপর চকচক করতে থাকে শিশির বিন্দুটাকে। শিশিরে ভেজা আঙ্গুলের ডগা ঠোঁটে স্পর্শ করলাম। মনে মনে বললাম, ধন্যবাদ  তোমায় ভোরের শিশির। তার জন্যই তো বাবাকে খুশি করতে পারলাম।
সমাপ্ত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/122049/</link>
				<pubDate>Thu, 23 Jun 2022 10:25:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভোরের শিশির<br />
মাহামুদা খাতুন</p>
<p>সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতে একদম ইচ্ছা করছেনা আমার, কিন্তু উঠতেই হবে। ফজরের সালাত মিস একদমই সহ্য   করবেনা বাবা। মসজিদে যাওয়ার সময় বাবা ডেকে দিয়ে গেছে। এরপর মা এসে কয়েকবার ডেকে গেছে। কিন্তু আমার কিছুতেই উঠতে মন চাইছেনা। লেপ টেনে আবার আয়েশ করে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। শীতের সকালে ঘুম যেন আরও জেঁকে বসতে চাচ্ছে। হঠাৎ ল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-122049"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/122049/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5efe38704e85165c908f82f14a437fee</guid>
				<title>হারিয়ে যাওয়া হীরকযুগল  
মাহামুদা খাতুন 
বাড়িছাড়া সেই কবে থেকে। প্রয়োজনের তাগিদে নিজের শহর ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয়েছে অন্য শহরে। নাড়ির টানে প্রতি বছরান্তে আসা হয়। 
পলেস্তারা খসে পড়া একতলা বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে পুরানো স্মৃতির খাতাটা খুলে ধরলাম।  চারিপাশের পরিবর্তনের মাঝে পুরানো দিনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেন বাড়িটা। দেওয়ালে ছোপ ছোপ লেগে থাকা সবুজ শ্যাওলার আধিপত্য বলে দিচ্ছে বাড়িটার বয়স নেহায়েত কম না। একসময় লোকজনে ভরা বাড়িটা আজ নির্জনতার বোঝা বহন করছে।শৈশব থেকে কৈশোর হয়ে যৌবন পর্যন্ত অসংখ্য ছোট বড় স্মৃতি মিশে আছে এই জরাজীর্ণ বাড়িটার প্রতিটা ইটের সাথে। সরু সিঁড়ি বেয়ে উঠা উদোম ছাদের সাথে স্মৃতি হয়ে আছে অসংখ্য জ্যোৎস্না রাত। নারিকেল আর সুপারি গাছে ঘিরে থাকা প্রশস্ত উঠোনটা সাক্ষী হয়ে আছে খেলায় মেতে থাকা অগণিত বিকেলের।  মনের কোণে উঁকি দিচ্ছে কড়া রোদে টিনের ছাদে বসে থাকা ঘুম ফাঁকি দেওয়া খাঁ খাঁ দুপুর, বৃষ্টিস্নাত বর্ষার দিনগুলো। 
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই চোখ কুঁচকে গেল। ধাতস্থ হয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লাম।পূর্ব দিকের ঘরটা খুলে ভেতরে ঢুকতেই গুমোট ভাবটা জেঁকে বসল। জানালা খুলে দিয়ে গুমোট ভাবটা দূর  করলাম। দরজা দিয়ে ঢোকার মুখে মাকড়সার জাল এসে মাথা-মুখ জড়িয়ে ধরল। ধূলার আবরণে ঢেকে থাকা খাটটাতে বসতেই ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করে তার দুর্বলতার প্রমাণ দিল।মনের পর্দায় জেগে উঠল প্রিয় দুজন মানুষকে ঘিরে ফেলে আসা অসংখ্য স্মৃতি। 
ক্ষণিকের জন্য মন নাড়া দিল হারিয়ে যাওয়া সোনালী অতীত। প্রতিদিনের বাঁধাধরা রুটিন মেনে বড় হওয়া জীবনে নিয়ম ভাঙ্গার মজাই যেন ছিল আলাদা। তবুও কড়া ব্যক্তিত্বের দুজন মানুষের নিশ্চুপ চাহনী উপেক্ষা করে নতুন নিয়ম গড়ার সুযোগ পাওয়া ছিল রীতিমত দূর্লভ ব্যাপার।  
আমাদের ছিলনা কোন পোশাকের জৌলুস। ছিলনা হালফ্যাশনের আসবাব, মান্ধতা আমলের যা কিছু ছিল তাও আবার নিত্যান্ত প্রয়োজন মেটানোর জন্য। বিলাসিতার ছিটেফোঁটাও স্পর্শ করতে পারেনি আমাদের। আশেপাশের পরিবেশ যে একদমই প্রভাব ফেলতে পারেনি তা কিন্তু না।মাঝে মাঝে নিয়ম ভাঙ্গার নেশা ধরতো। শাসনের প্রাচির ভাঙ্গার অনিয়ম হয়েছে বহুবার। কড়া শাসনের বলয় টপকে নর্দমায় ঝাঁপ দিয়ে পচা শামুকে পা কেটেছে অসংখ্যবার। 
নিয়ম করে ঘুম থেকে উঠা আবার নিয়মের মধ্য থেকেই ঘুমাতে যাওয়ার মত নিত্যদিনের অভ্যাসে  মাঝে মাঝে চিড় ধরাতে যে ইচ্ছা জাগতো তাও হজম হয়ে যেত। মায়ের বকুনি আর বাবার শীতল  চাহনী উপেক্ষা করে এসব করাকে দুঃসাহসিকতা মনে হত। তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া এবং ফজরের সময় পড়তে বসা নিয়মের অন্যথা করার সাধ্যি কারোরই  ছিলনা। জাগতিক শিক্ষা বঞ্চিত  গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী স্বশিক্ষিত মায়ের বুদ্ধিদীপ্ত শাসন এবং স্বল্প শিক্ষিত, স্বল্পভাষী আর রাশভারী বাবার জ্ঞানের কদর তখন না বুঝলেও এখন তা হাড়ে হাড়ে অনুভূত হয়। 
মানুষ কানে শুনেনা, চোখে শুনে। কথাটা একদম ঠিক। হাজার বার মুখে বলা একটা কথার  থেকেও অনেক দামী যদি নিজের ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন সন্তানের মধ্যে ঘটানো যায়। তারা তাই   করেছিলেন। তাইতো আজও তারা অমলিন।হৃদয়ের আকাশের নক্ষত্র তারা। মানুষ তাই করতে পছন্দ করে যা সে চোখে দেখে। সন্তানের সামনে নিজেকে তেমনভাবেই উপস্থাপন করার উচিৎ যেমনটা তার কাছ থেকে আশা করা হয়। এই কঠিন সত্যটার অদ্ভুত প্রতিফলন ঘটেছিল তাদের মধ্যে। নিয়মের কথা যতটা মুখে বলতো তার থেকে বেশী নিজেদের আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ করত। বাড়াবাড়ি মনে হলেও মনের অজান্তেই কখন মন মননে সেইসব আচরণের স্থায়ী প্রভাব পড়ে গেছে তা যেন বুঝতেই  পারিনি।একদিনের ঘটনা আজ খুব মনে পড়ছে। 
রাত দশটার মধ্যে ঘুমিয়ে ভোরে উঠে ফজরের নামাজ পড়ার নিয়মটা যে কখনও ভাংগতে মন চায়নি তা কিন্তু না। সকালবেলার ঘুমটাকে দুনিয়ার সবথেকে দামী মনে হত। জানালা দিয়ে আসা  ভোরের বাতাসের ছোঁয়ায় ঘুমিয়ে কাটতে ইচ্ছা করত সহস্র জনম। কিন্তু বেতের বাড়ির ভয়ে শত ইচ্ছাকে পাশ কাটিয়ে অনিচ্ছা নিয়েই উঠতে হত। 
এমনই  এক কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমানো শীতের রাতে খটখট শব্দে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। পাশ  থেকে ঘড়িটা হাতে নিয়ে দেখলাম রাত তিনটা বাজে। নাহ্ এখনতো সবাই ঘুমে, ফজরের আগেতো কারোর উঠার কথানা। তাহলে শব্দ হচ্ছে কোথা থেকে। বিড়ালের কথা মনে হলেও দেখার জন্য বিছানা থেকে উঠার ইচ্ছা হলোনা। কিছুক্ষণ থেমে শব্দটা আবার হতে লাগল। না পেরে উঠেই গেলাম। ঘর থেকে বের হয়ে দেখলাম আব্বু-আম্মুর ঘরে আলো জ্বলছে। তাছাড়া কলতলায় যাওয়ার দরজাটাও খোলা। ভয়ে শিরশিরে অনুভূতিতে শরীর অবস হয়ে যেতে লাগল।মনে হল ডাকাত ঢোকেনিতো? এখন বোধহয় আব্বু  আম্মুর দিকে বন্দুক তাক করে আছে। কি করবো তখন বুঝতে পারলামনা। চিৎকার করা যাবেনা। ডাকাতটাকে ধরতে হলে সাবধানে সবকিছু করতে হবে।পাশে ঘুমানো আপুকে ডাকতে থাকলাম। ওকে জাগানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলাম কিছুক্ষণ।এতক্ষণে ঐদিক থেকে  আসা শব্দটাও থেমে গেছে। জানালা দিয়ে বাইরেরটা দেখার চেষ্টা করলাম। দেখলাম  বাইরের দরজাটা আটকানো। বাইরে যাওয়ার করিডরটায় এতক্ষণ আলো জ্বললেও এখন সেখানে অন্ধকার বিরাজ করছে। আব্বু-আম্মুর ঘরের বাতিটাও নিভানো। সেখানে এখন ডিম লাইটের মৃদু আলো শোভা পাচ্ছে। 
কি হচ্ছে বুঝতে পারলামনা। দেওয়াল ঘড়িতে ঢংঢং করে চারটা বাজার সংকেত দিল। ফজরের  আজানের এখনও একঘণ্টা বাকি। আবার শুয়ে পড়লাম। কিন্তু ঘুম আসলোনা। মনে কু ডাকছে।   চোখ লেগে আসার সাথে সাথে এক ভয়ানক স্বপ্ন দেখে দশ মিনিটের মাথায় আবার ঘুম ভেঙ্গে গেল। ভয়ানক স্বপ্নটা দেখে থরথর করে কাঁপতে থাকলাম। আস্তে আস্তে আব্বু আম্মুর রুমের  দিকে এগিয়ে গেলাম। গিয়ে কি দেখবো জানিনা তবুও এগোতে লাগলাম। বুকে ফুঁ দিয়ে পর্দা সরিয়ে ঘরটার দিকে তাকিয়ে থ হয়ে গেলাম। এক অসম্ভব ভালো লাগায় মনটা ভরে গেল। গভীর রাতে শুভ্রতায় মোড়ানো দুজন মানব মানবীর রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দৃশ্যটা সত্যিই মোহনীয় ছিল। নিজেকে ধিক্কার দিলাম। এরপর পর পর কয়েক রাত একই দৃশ্য উপভোগ করলাম।  
দুইজন ষাটোর্ধ মানবের কাছে নিজেকে তখন তুচ্ছ মনে হতে লাগল। মনে পড়ল, হাদিসে এসেছে  যৌবন বয়সের ইবাদাত শ্রেষ্ঠ ইবাদত। যে পাঁচটি উত্তর না দিয়ে হাসরের মাঠে এক পাও সামনে যাওয়া যাবেনা তার মধ্যে একটা প্রশ্ন হবে মানুষ তার যৌবন কি কাজে ব্যয় করেছে।    
আর এক মূহুর্ত সময় নষ্ট করতে মন চাইলোনা। ধীরে ধীরে রাতের নামাজের সাথে সখ্যতা গড়ে তুললাম। প্রতিদিন নামাজের শেষে সন্তানের জন্য হাত তুলে দুআ করার যে অভ্যাসটা বাবার মধ্যে দেখেছি নিজের মধ্যে তাও রপ্ত করে ফেললাম। অত্যন্ত আবেগ দিয়ে মহান রবের কাছে সন্তানের হিদায়াতের জন্য বাবার মধ্য যে আকুতি দেখেছিলাম তা এ জনমে আর ভুলবো না।
স্বল্পভাষী বাবার কাছে সবথেকে প্রিয় বই ছিল কুরআন। তার জীবনে অবসর বলে আদৌ কিছু ছিল কিনা জানিনা। সময় পেলেই তিনি কুরআন নিয়ে বসতেন। কুরআনকে ভালোবাসাটাও আমার তার কাছ থেকে শেখা।  
অত্যন্ত সাধারণ জীবনে অভ্যস্ত মানুষটা সামাজিক অবস্থান আর অর্থের মানদণ্ডে হেরে গেলেও আদর্শিক দিক থেকে আজও দখল করে রেখেছে আমার মনের অলিগলি। অজ্ঞানতার কারণে মূল্যবান সেই হীরকযুগোল থেকে মুখ ফিরিয়ে ভঙ্গুর কাঁচের আঘাতে জর্জরিত জীবনের নষ্ট হওয়া   মূল্যবান সময়গুলো যে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে তা কখনই শুকাবার নয়। 
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝেনা মানুষ। বিত্তের আকাঙ্ক্ষা থেকে বের হয়ে আসল আর নকলের  পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয় অধিকাংশ মানুষ। সময়ের আবর্তনে খুব কম মানুষেরই বোধোদয় হয়।  ভুলের সমুদ্রে ডুবতে ডুবতে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলোর জীবনের বাকি সময় কাটে আফসোস আর আত্মগ্লানিতে।  
কবি সত্যই বলেছেন, প্রভু ভুল ভেঙ্গে দাও, যে ভুলে তোমাকে ভুলে-হীরা ফেলে কাঁচ তুলে, ভিখিরি সেজেছি আমি। 
সমাপ্ত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/121354/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Jun 2022 06:33:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হারিয়ে যাওয়া হীরকযুগল<br />
মাহামুদা খাতুন<br />
বাড়িছাড়া সেই কবে থেকে। প্রয়োজনের তাগিদে নিজের শহর ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয়েছে অন্য শহরে। নাড়ির টানে প্রতি বছরান্তে আসা হয়।<br />
পলেস্তারা খসে পড়া একতলা বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে পুরানো স্মৃতির খাতাটা খুলে ধরলাম।  চারিপাশের পরিবর্তনের মাঝে পুরানো দিনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেন বাড়িটা। দেওয়ালে ছোপ ছোপ লেগে থাকা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-121354"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/121354/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">17f3f09efabf7271c161c3b43b72d19a</guid>
				<title>অনুর প্রেম-বিলাস  
বাবার ডাকাডাকিতে সকালের ঘুম ভাংলো।চোখ কচলাতে কচলাতে বাবার দিকে তাকিয়ে বললাম, কি সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিলাম, দিলেতো আমার স্বপ্নের বারোটা বাজিয়ে।
আর ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবেনা উঠে আসো। 
তা বলবেতো এভাবে ঘুম থেকে উঠানোর হেতুটা কি?
কোথায় কোন আকাম করে এসেছিস?
ওমা তোমার এই ভদ্র ছেলেটা আবার আকাম করতে পারে? কে বলেছে তোমাকে?
যদি কিছু না করিস তবে এবাড়িতে পুলিশ কেন এসেছে?
পুলিশ! কোথায় চলতো দেখি। বসার ঘরে ঢুকে দেখলাম ভুঁড়ি বাগিয়ে দুজন ওসি বসে আছে।ইতোমধ্যে আমার মায়ের হাতের নাস্তাও সাবার করে ফেলেছে।দাঁত খোঁচাচ্ছে আর তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে। মেজাজ চড়কগাছ হয়ে গেল।ব্যাটাদের মনে  হল চিবিয়ে খাই। ওদের জন্য আমার আরামের ঘুমটা নষ্ট হলো। আর উনারা আরাম করে খাচ্ছে! ওদের বরাবর সামনের সোফায় বসলাম।
আপনারা নাকি আমার নামে ওয়ারেন্ট নোটিস নিয়ে এসেছেন? আমার অপরাধটা কি জানতে পারি?
আপনি দেশের আইন ভঙ্গ করেছেন। 
কীভাবে?
একটা ষোল বছরের বাচ্চা মেয়েকে তেইশ বছরের একটা লোকের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। অপরাধ শুধু বিয়ে পর্যন্ত হলে হতো। একেতো বাল্যবিবাহ তারউপর এবয়সে মেয়েটা মা হতে যাচ্ছে। 
আমি হা করে তাকিয়ে থাকলাম। তাদের কথা শেষ হলে বললাম,
কি বলছেন এসব? আপনাদের কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছিনা। আমি আবার কোন ষোল বছরের মেয়েকে বিয়ে দিলাম। আরে আমারতো বিয়েই হয়নি যদি হতও তাও ষোল বছরের মেয়ে থাকার সম্ভবনা ক্ষীণ। আমি আপনাদের কথার কিছুই বুঝতে পারছিনা। 
কেন আপনি অনু আর অনুপমের বিয়ে দিয়েছেননা যেখানে অনুর বয়স ষোল আর  অনুপমের বয়স তেইশ।  
কারা এই অনু আর অনুপম? আমিতো এমন কাউকে চিনিইনা।   
কেন এরা আপনার উপন্যাসের প্রধান দুই চরিত্র। আপনার ‘অনুর বিয়ে’ উপন্যাসে আপনি অনুকে ষোল বছর আর অনুপমকে  তেইশ বছর দেখিয়েছেন না? বিয়ে পর্যন্ত যাওয়ার দরকার কি ছিল? প্রেম দেখাতেন, চুটিয়ে প্রেম দেখাতেন, পাঠকের মজা  দেওয়ার জন্য যত রোমান্স দরকার সব প্রেমের মধ্যেই দেখাতেন তাহলেতো এতো সমস্যা হতোনা। বিয়ে দিয়েইতো ঝামেলা পাকিয়েছেন।রাত দুইটা সময় মানবতাবাদী কর্মী শায়লা হক থানায় ফোন করে আপনার সম্পর্কে অভিযোগ জানায়। বাল্য বিবাহ এবং মাতৃত্ব এই দুই ব্যাপারেই আপনার এই লেখা সন্দেহাতীত ভাবে উস্কানিমূলক। তাই আপনাকে অবিলম্বে এরেস্ট করে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। 
ঝট করে আমার উপন্যাসটার কথা মনে পড়ে গেল। এটা ছিল আমার টাইম লাইনে লেখা চলমান উপন্যাস। কালকে রাত বারোটার সময় ষোলতম পর্ব পোস্ট করে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। পাঠক প্রতিক্রিয়া দেখা হয়নি।মোবাইলটা নিয়ে টাইমলাইনে ঢুকলাম। প্রায় একহাজারের মত কমেন্টস যার বেশিরভাগই নিগেটিভ এটিচিউট।অনেক গালাগালিও আছে।শায়লা হক নামটা  চোখে পড়লো। কি বিশ্রী ভাষায় গালাগালি করেছে যা মুখে আনা যাচ্ছেনা। আমি পুলিশ দুজনের দিকে তাকিয়ে বললাম এখন কি করা যায়? 
এখন আর কিছু করার নেই। আপনাকে আমাদের সাথে থানায় যেতে হবে। 
আর একবার সুযোগ দেওয়া যায়না। পোস্টটা অনেক রাতে দিয়েছি, খুব বেশি মানুষ রিচ করেনি। আমি যদি বিয়ের বদলে প্রেম দেখাই তাহলে কি আমার উপর থেকে ওয়ারেন্ট আদেশ উঠে যাবে? 
সেটা আপনি থানায় গিয়ে বলবেন। ওখানে শায়লা হক থাকবে। আপাততঃ পোষ্টটা ডিলিট করে দিন। 
তা আপনি বলার আগেই করে ফেলেছি।
অনেক অনুরোধের পরে শায়লা হককে ফোন করে আজকের মত  ক্ষমা চেয়ে নিলাম তবে শর্ত হলন গল্প এডিট করতে হবে। 
আমি সম্মতি দিলাম। তারপর এডিট করে পুণরায় পর্বটা পোস্ট করলাম।  
‘পার্কের চিপায় বসে প্রেম করছে অনু আর অনুপম। স্কুল ফাঁকি দিয়ে এখানে এসেছে অনু। একটা বোরকা বানিয়ে নিয়েছে এসব করার জন্য।ব্যপারটা মেসের মেয়েদের কাছ থেকে শিখেছে। ওদের সাথে গ্রামের যে মেয়েগুলো পড়তে এসেছে তাদের  পরিবার না থাকায় একটা ফ্লাটে অনেকে মিলে থাকে। বান্ধবীদের সাথে মাঝে মাঝে মেসে ঘুরতে যায় অনু। মেসে ওদের সাথে কলেজের মেয়েরাও থাকে। অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ে কবিতা আপু হিন্দু হওয়া সত্বেও উনার কয়েকটা বোরকা আছে। উনি ওগুলো পড়ে ছেলেদের মেসে যায়। এক এক মেসে এক রঙয়ের বোরকা পড়ে যায়।
অনু চারিদিকে দৃষ্টি মেলে দেখল সমস্ত পার্কে জায়গায় জায়গায় সব যুগলবন্দী হয়ে আছে। স্কুলে পড়ে এমন মেয়ের সংখ্যা কম না। অনুপমের সাথে তার পরিচয়ের দুইমাস চলছে। এর মধ্যে অনুপমের সাথে তার দুই তিনবার রুম-ডেট করা হয়ে গেছে। অনুপম একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। 
অনু অনুপমকে বলল, এভাবে প্রেম করতে ভালো লাগছেনা চলোনা বিয়ে করে ফেলি।
তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে অনু? তোমার সবে ১৬ বছর। এখন বিয়ে করলে বাল্য-বিবাহের দায়ে আমাকে জেলের ভাত খেতে হবে। 
অনু আর কঠোর হতে পারেনা। কঠিন ভাষায় বলতে পারেনা, যখন বিয়ে করতে পারবে তখনই আমার সাথে মিশবে। অনুপমের অন্যায় আবদারগুলোতে বাঁধা দিতে পারেনা পাছে হারিয়ে ফেলে। তাই চলতে থাকে তাদের প্রেমলীলা। 
আজকে ভালোবাসা দিবস। আজ সারাদিনের জন্য একটা হোটেল বুক করেছে অনুপম। অনু বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশে রওনা দিয়ে সেখানে না গিয়ে অনুপমের সাথে হোটেলে চলে গেল।ব্যাগে করে শাড়ি আর গহনা-গাটি নিয়ে গিয়েছিল। ওখানেই পাল্টে ফেলল। সারাদিনই হোটেলে মধুর সময় কাটিয়ে সন্ধ্যার আগেই বাসায় ফিরে আসল অনু। 
এভাবে কেটে গেল অনু অনুপমের প্রেমের আরও দুই মাস। আজকে সকালে উঠে অনুর মাথাটা খুব ঘুরছে, বমি বমি লাগছে। এ মাসে পিরিওডের ডেট মিস করায় তার মনে সন্দেহ জাগলো। ফার্মেসি থেকে একটা কিট কিনে নিয়ে এসে পরীক্ষা করে দেখল সে যা ভাবছে তা ঠিক কিনা। ফলাফল দেখে তার মাথা ঘুরে উঠল। সে কনসিভ করেছে। দিক্বিদিক অবস্থা তার। অনুপমের সাথে দেখা করে ব্যাপারটা জানিয়ে বলল,
চল আমরা বিয়ে করে ফেলি অনুপম।
তোমার কি মাথা ঠিক আছে অনু? তোমাকে এ বয়সে বিয়ে করলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তোমার বাবা মা আমাকে জেলের ভাত খাওয়াবে।
কিন্তু বিয়ে ছাড়া বাচ্চা হলে সমাজ আমাকে ছিঃ ছিঃ করবে।
বাচ্চাটা হওয়ানোর দরকার কি? এখন বিজ্ঞান অনেক উন্নত হয়েছে। তোমার কোন ক্ষতি ছাড়াই এই উটকো ঝামেলা থেকে তোমাকে মুক্তি দিতে পারবে। চল আমরা একটা ক্লিনিকে গিয়ে বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলি।
তুমি কি বলছো এসব? আমি এমন পাপ করতে পারবোনা।দরকার হয় বাচ্চা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে কাউকে দত্তক দিয়ে দিব তবুও জীবন নষ্ট করতে পারবোনা।
তোমার যা ইচ্ছা তাই কর, আমাকে আর এর এ ব্যাপারে কিছু বলবেনা।
এ সময়টা তুমি আমার পাশে থাকবেনা?
না আমার পক্ষে সম্ভব না। অনুকে রেখেই অনুপম চলে গেল।
সামনের দিনগুলো এখন অনুকে একাই লড়তে হবে।’
এভাবে এডিট করে পর্বটা পোস্ট করলাম। এক ঘণ্টায় সবাই হা হা রিয়াক্ট করল। শায়লা হক একটা লাভ ইমোজ দিল। এরপর গল্পের নামটাও বদলে রাখলাম ‘ অনুর প্রেম-বিলাস’</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/121253/</link>
				<pubDate>Sun, 19 Jun 2022 13:14:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অনুর প্রেম-বিলাস<br />
বাবার ডাকাডাকিতে সকালের ঘুম ভাংলো।চোখ কচলাতে কচলাতে বাবার দিকে তাকিয়ে বললাম, কি সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিলাম, দিলেতো আমার স্বপ্নের বারোটা বাজিয়ে।<br />
আর ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবেনা উঠে আসো।<br />
তা বলবেতো এভাবে ঘুম থেকে উঠানোর হেতুটা কি?<br />
কোথায় কোন আকাম করে এসেছিস?<br />
ওমা তোমার এই ভদ্র ছেলেটা আবার আকাম করতে পারে? কে বলেছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-121253"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/121253/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">94a98ad6cedcc7bcd55b3b22bdafb5a7</guid>
				<title>ফিরে চল অরণ্যে
মাহামুদা খাতুন 

১
রাত ফুঁড়ে সকাল হয়েছে অনেক আগেই। গরম কাল বলে কথা। সাতটা মানে অনেক বেলা। সাড়ে পাঁচটাতেই সূর্য উঠে পূব আকাশ দখল করে বসে থাকে। সকালের দিকে স্নিগ্ধতা থাকলেও সাতটা বাজার সাথে সাথে গরমের তেজ ছড়াতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে সকালের নিস্তব্ধতা কেটে নানারকম শব্দে মুখরিত হতে থাকে চারিদিক। সেই সাথে বাড়তে থাকে নানা পেশার মানুষের ব্যস্ততা। 
সেই ব্যস্ততার ছোঁয়া লেগেছে অফিস পাড়ার মীর ভিলাতে। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ার কারণে অস্থির হয়ে ছোটাছুটি করছে মেহরাব মুনতাসির। ফজরের নামাজ পড়ে বিশ মিনিট ঘুমাবে বলে বিছানায় গিয়েছিল। বিশ মিনিটের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর তার ঘুম ভেঙ্গেছে। কেউ ডেকে তোলেনি বলে কারো সাথে কথা বলছেনা। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ায় ঘড়ির কাটা সাড়ে সাতটায় দেখে মেজাজ চড়ে যায়।সকাল সাড়ে আটটায় অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে তাকে। নতুন একটা প্রজেক্ট শুরু করতে যাচ্ছে তার কোম্পানী। আজকে সেই উদ্দেশে সভা ডেকেছে চেয়ারম্যান স্যার।
কোনমতে সকালের নাস্তা করে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে হয়ে গেল সে। আজকে আর বাসে উঠার চেষ্টা করে লাভ নেই। ভাগ্য ভালো যে বাসা থেকে বের হয়েই একটা সি এন জি পাওয়া গেছে। গতরাতের ঘুমের অনিয়ম হওয়ার কারণে আজ এমন বিপাকে পড়তে হলো তাকে। এখন এর খেসারতের জন্য গুনে গুনে তিনশো টাকা দিতে হবে সি এন জি ওয়ালাকে।
সি এন জি থেকে নেমে লিফটের অপেক্ষা না করে সিঁড়ি বেয়েই উপরে উঠে গেলো। দুই মিনিট বাকি থাকতেই সভা কক্ষে পৌঁছালো সে। সিঁড়ি বেয়ে ছয় তলায় উঠার কারণে নিঃশ্বাস অনবরত উঠা নামা করছে বলে বেহাল অবস্থা তার। কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হলে সামনে রাখা প্রজেক্টের কাগজগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখে নিলো। একটা নতুন কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে তাদের কোম্পানী। নানারকম ইলেকট্রনিকস ডিভাইস বানানো হবে সেখানে। সাভার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জায়গাটা। আজকে জায়গাটা দেখার জন্য কাদেরকে পাঠানো হবে এবং কি করতে হবে এই ব্যপারে আলোচনা হবে।
মিটিং এ নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেহরাব মুনতাসিরকে জায়গাটা পরিদর্শন করতে পাঠানো হল।
২
কারখানা স্থাপন করা নিয়ে আবীর চৌধুরীর উৎকণ্ঠার শেষ নেই। মেহরাব একজন প্রকৌশলী হলেও প্রশাসনিক কাজে ভীষণ দক্ষ। এর আগে একটা প্রজেক্টের কাজ ওর হাত দিয়েই ভালোভাবে শেষ হয়েছে। অল্প বয়সেই ছেলেটা অনেক উন্নতি করেছে। গতকাল মেহরাবকে সাভারে জমিটা দেখতে পাঠানো হয়েছিল। জমির প্রকৃত মালিক এখানে থাকেনা। তার এক আত্মীয়ের ঠিকানা দিয়েছে। মেহরাবের তার সাথে কথা বলে গতকালই কেনার ব্যাপারটা পাকা করে আসার কথা। পিয়নকে দিয়ে মেহরাবকে ডেকে পাঠালেন তিনি।
সকাল বেলা অফিসে আসলেও এখনও কাজ শুরু করেনি মেহরাব। গতকাল সাভারের জমিটা দেখে আসার পর থেকে তার মন অস্থির হয়ে আছে। প্রায় ১০ একরের মত জমি আছে ওখানে।একটু ভেতরে এবং মালিক প্রতিষ্ঠিত বিধায় তুলনামূলক কম দামেই জায়গাটা বিক্রি করে দিচ্ছে। জমিটার আশেপাশে ফসলি জমি আছে এবং জায়গাটা আবাসিক এলাকার একেবারেই কাছে। ওরকম একটা জায়গায় কারখানা স্থাপন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। গত রাতে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ ব্যাপারে তার স্যারকে বোঝাবে। গতকালের ফাইল হাতে আবীর চৌধুরীর রুমে ঢুকল মেহরাব। ওর জন্যই অপেক্ষা করছিলেন যেন তিনি। ঢোকা মাত্রই জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাজ কতদূর মেহরাব?
স্যার, প্রজেক্টের বিষয়ে আলাপ করার আগে জায়গাটা নিয়ে আমার কিছু কথা ছিল আপনার সাথে।
কথা! কী কথা?
জায়গাটা শিল্প কারখানা বানানোর জন্য একদমই অনুপযোগী।
কথাটা শুনে হোঁচট খেলেন আবীর চৌধুরী। চোখে মুখে বিস্ময় নিয়ে বললেন, কেন? কি সমস্যা ওখানে?
ওটা একটা আবাসিক এলাকা। ওখানে কারখানা স্থাপন করলে আশেপাশের পরিবেশ দূষিত হবে। কারখানার বর্জ্য ওখানকার জলাশয়ের পানিতে মিশে পানিকে বিষাক্ত করে দিবে। আর তাছাড়া আবাসিক এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপনের উপর নিষেধাজ্ঞা আছে।
তুমি কি বলছো, ভেবে বলছো তো? আমার এতো বড় প্রজেক্ট, কত টাকার ব্যাপার তুমি বুঝতে পারছো?
কিন্তু স্যার অনিয়ম করেতো কিছু করা যাবেনা।
এসব নিয়ম কেউ মানে নাকি? আমাকে দেখতে হবে কোথায় কারখানা স্থাপন করলে লাভ হবে। দশের কথা ভাবলে এত বড় পাওয়ার কোম্পানীর মালিক হয়ে উঠা হতোনা আমার। এতো কম দামে এতো ভালো জায়গা আমি কোথাও পাবো না। এসব আবেগের কথা বাদ দিয়ে কাজের কথায় আসো।
কেউ মানুক আর না মানুক আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করবো। শুধু নিজের কথা ভেবে কাজ করা স্বার্থপরতা। দশের কথা ভেবে কিছু করলে তাতে কল্যাণ ও বরকত থাকে। একজন মুসলিমের কাজ করার সময় অবশ্যই শুধু নিজের না, অন্যের কথাও ভাবতে হবে। নইলে নিজের কারণে সৃষ্ট অনিষ্ট একদিন তার নিজেরই অকল্যাণের কারণ হবে। মানুষের অকল্যাণগুলো তাদের নিজের হাতেরই কামাই। 
এমন করে তো কখনও ভাবিনি। তুমি ওখানে ঠিক কি করতে চাচ্ছো?
স্যার জমিটা আমরা কিনবো, এতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আমারা ওখানে শিল্প কারখানা না করে পরিবেশবান্ধব কোন কিছু করতে পারি।
সেটা কীরকম?
এই ধরেন জমিটা আমরা কিনে ওখানে বহুমুখী প্রকল্প গড়ে তুলতে পারি।
কি ধরণের প্রকল্প? তাতে আমাদের কেমন লাভ হবে সেসবও মাথায় রাখতে হবে।
আমি গত রাতে বসে সব পরিকল্পনা করে ফেলেছি।
ঠিক আছে তোমার পরিকল্পনাটা শুনি।
ওখানে ১০ একরের মত জমি আছে। আমরা চাইলে জায়গাটাকে লাভজনকভাবে ব্যবহার করতে পারবো।
তাহলে আমার এত টাকার প্রজেক্টটার কি হবে? এই প্রজেক্টের ব্যাপারে নেদারল্যান্ডসের একটা পাওয়ার কোম্পানির কাছে সহযোগিতা চেয়ে পাঠিয়েছিলাম। ওরা সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। এই কারখানা স্থাপনের প্রায় অর্ধেক টাকা ওরা ব্যয় করবে। জায়গাটা আমাদের প্রধান অফিসের কাছে এবং ওখান থেকে ঢাকার বাইরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো বিধায় আমি ঐ জমিটার ব্যাপারে এতোটা আগ্রহী। আমাদের হাতে আর বেশি সময়ও নেই। এই সময়ের মধ্যে যদি জায়গা নির্বাচন না করতে পারি তবে ‘রায়মারিন মেরিন ইলেকট্রনিক্স’ আমাদের সাথে চুক্তি বাতিল করে নতুন কোন কোম্পানীকে সুযোগ দিবে বলে জানিয়েছে। হাতে আর সময় আছে মাত্র পনেরো দিন। 
স্যার, আমরা শুধু আমাদের কাজের ধরণটা পাল্টে ফেলবো। আগে আমাদের পরিকল্পনা ছিল যন্ত্র তৈরির কারখানা বানাবো, এখন আমারা যন্ত্রের জায়গায় দক্ষ জনবল তৈরির কারখানা বানাবো। আপনি অনুমতি দিলে আমি আমার পরিকল্পনাটা আপনাকে বলতে পারি।
আবীর চৌধুরী কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন, তারপর বললেন, ঠিক আছে বল তুমি কি পরিকল্পনা করেছো।
জায়গাটা বেশ বড়। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওটাকে চারটা জোনে ভাগ করে নিবো। একটা জোনে আমরা সামাজিক বনায়ন করবো। এ বনায়ন তৈরির মূল উদ্দেশ্য হবে কর্মসংস্থান, খাদ্যের ঘাটতি দূরিকরণ, পশুখাদ্য, জ্বালানী, আসবাবপত্র, নার্সারি সৃজন, পতিত এবং অব্যবহৃত জমিগুলোতে গাছ লাগানোর মাধ্যমে বনজ সম্পদ সৃষ্টি করা। এর সুদূরপ্রসারী ফলস্বরূপ আমরা যেমন একদিকে মরুময়তা রোধ করতে পারবো অন্যদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সফল হবো।
একটা জোন আমরা শুধুমাত্র কৃষি বনায়ন ও খামারের জন্য বরাদ্দ রাখবো। এটা আমাদের আয়েরও উৎস হবে।
একটা জোনে আমরা কারিগরি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাই। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার পর নানারকম কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে সেখানে। কৃষি ও সামাজিক বনায়নের উপরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দুস্থ, অসহায় নারী পুরুষদেরকে সামাজিক বনায়নের প্রশিক্ষণ দিয়ে সাবলম্বী করে তুলবো আমরা। কৃষি বনায়নের ক্ষেত্রে যুবকদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। তাদের কৃষি বনায়নের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। এছাড়া সেলাই কাজ, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার, হস্তশিল্প ইত্যাদি নানারকম প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা দক্ষ জনবল তৈরি করবো। সামনের একেবারে দক্ষিণ পশ্চিম পাশটায় আমরা আবাসিক ভবনের জন্য বরাদ্দ রাখবো। এই অংশের পরিকল্পনা কাজ শুরু করার পর করবো। এই অংশটাতে নানারকম ছোট বড় মৌসুমী ফুলের গাছ থাকবে। পরিকল্পনাটা কেমন স্যার?
কিন্তু এতে খরচ কেমন হবে?
খরচ আপনার কারখানা করতে যা লাগতো তার অর্ধেকও লাগবে না।
কারখানা করার ক্ষেত্রে আমাকে ‘রায়মারিন মেরিন ইলেকট্রনিক্স’ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চেয়েছে। কিন্তু এখন ওরা যদি আর সাহায্য করতে না চায়।
তার দরকার নেই। আমরা কারো দক্ষিণা ছাড়াই সবকিছু করতে পারবো ইনশাআল্লাহ্‌। সেক্ষেত্রে আমাদেরকে বুদ্ধি খাটিয়ে এগোতে হবে।
তোমার পরিকল্পনা শুনে মনে হচ্ছে নিশ্চয় ভালো কিছু হবে। আমার পছন্দ হয়েছে। কিন্তু এটা স্বপ্ন থেকে যাবেনা তো? তাছাড়া এতো টাকার যোগান দিতে পারবো আমি?  
আমরা ধাপে ধাপে কাজ করবো। প্রথমে আমরা আয়ের উৎস তৈরি করবো। সেক্ষেত্রে আমারা কৃষি বন ও খামারের দিকে নজর দিবো। এভাবে ধাপে ধাপে কাজ করলে আমরা নিশ্চয় সফল হবো। আপনি অনুমতি দিলে কালকে থেকেই আমি কাজ শুরু করে দিতে পারি।  
৩
বড় রাস্তা থেকে নেমে তিন ফুট চওড়া ইটের রাস্তা ধরে দুই কিলো পথ পেরিয়ে গেলেই চোখে পড়ে  অনিন্দ্য সুন্দর ‘সবুজ কানন’। প্রায় দশ একর জমির উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এটি। একপাশ খোলা রেখে অর্ধ বৃত্তাকারে নারিকেল আর সুপারির গাছ লাগিয়ে সম্পূর্ণ জায়গাটা ঘিরে রাখা হয়েছে। নামকাওয়াস্তে দেড় ফুট উঁচু বাশের বেড়া দেওয়া হয়েছে চারপাশে। ‘ সবুজ কানন’ লেখা কাঠের ফলকটি ঢোকার মুখে দুইটা বাঁশ দিয়ে মাটিতে গেঁড়ে রাখা হয়েছে। ভেতরে ঢুকতে গিয়েই  ডান পাশের বাগানটাতে চোখটা আঁটকে যায়। সেখানে শোভা পাচ্ছে হরেক রকম গ্রীষ্মকালীন ফুল গাছ  আর নানারকম সৌন্দর্যবর্ধক গাছ। ঠিক মাঝখানটায় জায়গা করে নিয়েছে একটা দোতলা বাংলো গোছের কাঠের বাড়ি আর এর পাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচটা পাঁচতলা ভবন। বাম পাশটায়   চোখে পড়ে একটা দৃষ্টিনন্দন সামাজিক বাগান। সেখানে আছে ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছ। এর ঠিক পেছনেই আছে চোখ জুড়ানো কৃষি-বন ও খামার। বাংলোর পেছনটাতে আছে বর্ণমালা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিদ্যাপীঠ। 
একদিকে বনায়নের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে অন্যদিকে একটা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিদ্যানিকেতন স্থাপনের কারণে করে দুস্থ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং শিশুদের জন্য প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা গ্রহণের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতি বছর কয়েকশ দরিদ্র পুরুষ ও মহিলাদের স্বাবলম্বী হয়।
৪
দশ বছরে পা দিয়েছে ‘সবুজ কানন’। দশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘আবীর পাওয়ার কোম্পানী’ থেকে ‘ সবুজ কাননে’ সারাদিন ব্যাপি মেলা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। দেশী ও বিদেশী পাঁচটা  এনজিও ও বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অভ্যর্থনা জানানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে ফুলেল গালিচা। বড় রাস্তার মাথাতে কাঠের ফলকে বড় করে লিখে দেওয়া হয়েছে ‘ এসো সবুজ কাননে, ফিরে চল অরণ্যে’। মেলাতে হস্ত ও কুটির শিল্পের তৈরি পণ্য, বিভিন্ন ধরণের চারাগাছ, নানারকম ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও খামারি পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়। সেমিনারের উদ্দেশ্য মানুষকে সামাজিক ও কৃষি বনায়নের প্রতি আগ্রহী করা। আগ্রহীদেরকে পাঁচটা করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উপহার হিশেবে প্রদান করা হয়। 
আকাশে শুক্লপক্ষের চাঁদ। অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার কেটে ধীরে ধীরে জ্যোৎস্নার আগমন ঘটছে।  রাতচরা পাখিগুলোর আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। পেছনের ঘন জঙ্গল থেকে শিয়ালের হাকডাক শোনা যাচ্ছে। বাঁশের বেড়া ঘেঁষে লাগানো লতানো গাছগুলো এখন জোনাক পোকার দখলে। রাতে ফোঁটা ফুলের গন্ধে মোহময় চারিদিক। অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। ছাদে দাঁড়িয়ে খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতি বিলাস করছে মেহরাব। দশ বছর আগে সবুজ কাননের দায়িত্ব নেয় সে। আবীর চৌধুরীই তাকে এ দায়িত্বটা দেয়। জমিটা নিয়ে মেহরাবের পরিকল্পনার কথা শুনে সেদিন মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। মেহরাব সেদিন একটা আবাসিক এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপনের কুফল এবং এর উপর যে আইনি নিষেধাজ্ঞা আছে সেই ব্যাপারটাও আবীর চৌধুরীকে বোঝাতে সক্ষম হয়। এখানেই স্থায়ীভাবে থাকার জন্য এই বাংলোগোছের দোতলা বাড়িটা বানিয়ে দেন তিনি মেহরাবকে। উত্তরার ফ্লাটটা ছেড়ে দিয়ে বাবা, মা এবং ছোট বোনকে নিয়ে স্থায়ীভাবে সাভারে চলে আসে মেহরাব।
দশ বছরে সে তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছে। সাথে সাথে আবীর চৌধুরীও মুগ্ধ হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লেও ছোটবেলা থেকে গাছের প্রতি তার আলাদা একটা ভালোবাসা ছিলো। উদ্বানতত্ব কিংবা ফরেস্ট্রি, কোন একটাতে পড়ার তীব্র ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু বুয়েটে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্সে চান্স হওয়ায় আর অন্য কোথাও পড়ার ব্যাপারে কেউ সায় দেয়নি। পাশ করেই ভালো কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে যায়। চাকরিটাকে ভালোই উপভোগ করছিল সে। তবে গাছের প্রতি তার ভালোবাসা একটুও কমেনি। কোম্পানির প্রজেক্ট প্রতিনিধি হিশেবে সাভারের বিস্তীর্ণ খোলা জায়গাটা পরিদর্শন করতে এসে তার মনের সুপ্ত ইচ্ছাটা আবার জেগে উঠে। তাইতো দশ বছর অক্লান্ত শ্রম দিয়ে মোহময় ‘ সবুজ কানন’ গড়ে তুলতে পেরেছে।  
পিঠে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে আসলো মেহরাব। পেছনে ঘুরে আবীর  চৌধুরী, তার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন মানুষটিকে দেখতে পেলো।
অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, স্যার আপনি? আপনাকে না বিদায় দিয়ে আসলাম।
চলে গিয়েছিলাম। হঠাৎ এটার কথা মনে পড়তেই আবার ফিরে আসলাম। আবীর চৌধুরী তার হাতে রাখা সাদা খামটা দেখিয়ে বলল। 
এটা কি স্যার?
তোমাকে আমি অত্যন্ত ভালোবাসি ও ভরসা করি। তাইতো সেদিন তোমার কথা অকপটে মেনে নিয়েছিলাম। দশ বছরে তুমি তোমার কাজ দিয়ে শুধু আমার নয় অগণিত মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছো। তুমি সামাজিক বনায়ন সৃষ্টি করে পরিবেশের উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সামাজিক ও কৃষি বনায়নের মাধ্যমে দরিদ্র, দুস্থ নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান, খাদ্য ঘাটতি নিরসন, কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যে অবদান রেখেছো তা সত্যিই ইর্শনিয়। ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই পনেরো বছরে জাতিসঙ্ঘ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সতেরোটি গোল নির্ধারণ করেছে। তুমি তোমার অভিনব পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও সতেরোটি গোলের মধ্যে পাঁচটি গোল বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছো। নেদারল্যাণ্ডের একটা এন জি ও তে তোমার এই বহুমুখী উদ্যোগ নিয়ে একটা প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলাম। ‘টেকসই উন্নয়নে বিশ্ব’ শীর্ষক একটা সেমিনারে যোগদান করার জন্য তোমার কাছে ওরা এই চিঠিটা পাঠিয়েছে। 
বিস্মিত চোখে একবার চিঠি আর একবার আবীর চৌধুরীকে দেখতে লাগলো মেহরাব। তার কাছে সবকিছু স্বপ্নের মত লাগছে। আবেগে আবীর চৌধুরীর হাতটা জড়িয়ে ধরে বলল, স্যার সব আপনার জন্যই সম্ভব হয়েছে।
আমি তো শুধু টাকা দিয়েছি, কিন্তু তুমি তোমার মেধা আর শ্রম দিয়ে অসাধারণ একটা কাজ করেছো। এখানে এসে যে শান্তি আমি পাই, শিল্প কারখানা তৈরি করলে কি সেটা পেতাম? 
সকল প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহ্‌র যিনি আমাকে আপনার মত একজন মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ দিয়েছেন।
আমারও সৌভাগ্য যে, তোমার সাথে দেখা হয়েছিল। আজ আসি, আগামী সপ্তাহে নেদারল্যান্ডে যাওয়ার সময় দেখা হবে। শুভ কামনা থাকলো।
জ্বি ইনশাআল্লাহ্‌ বলে মেহরাব মুগ্ধ আর কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তার প্রিয় স্যারের গমন পথের দিকে তাকিয়ে থাকলো। 
সমাপ্ত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/117946/</link>
				<pubDate>Thu, 02 Jun 2022 17:05:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফিরে চল অরণ্যে<br />
মাহামুদা খাতুন </p>
<p>১<br />
রাত ফুঁড়ে সকাল হয়েছে অনেক আগেই। গরম কাল বলে কথা। সাতটা মানে অনেক বেলা। সাড়ে পাঁচটাতেই সূর্য উঠে পূব আকাশ দখল করে বসে থাকে। সকালের দিকে স্নিগ্ধতা থাকলেও সাতটা বাজার সাথে সাথে গরমের তেজ ছড়াতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে সকালের নিস্তব্ধতা কেটে নানারকম শব্দে মুখরিত হতে থাকে চারিদিক। সেই সাথে বাড়তে থাকে নানা পেশার মানুষের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-117946"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/117946/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">61c8aabc54163ce3cede0672894dc94c</guid>
				<title>#লাল_মোরগের_আপ্যায়ন
 #মাহামুদা_খাতুন    
আব্দুর রহমান একজন গরীব স্কুল মাস্টার। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সে। তার বাবা আব্বাস আলি একজন দীনদার ব্যক্তি ছিলেন। ছোটবেলা থেকে তাকে সততার উপর বড় করেছেন। বলতেন কখনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করবিনা। কারণ অন্যায়কে সমর্থন করাও একধরণের অন্যায়। 
আব্বাস আলির অবস্থা ভালই ছিল। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে মৌসুমি ফসল যা হত তা দিয়েই তার দিন ভাল ভাবেই চলে যেত। গরীব আত্মীয় ও দুস্থ প্রতিবেশিরাও তার দয়া থেকে বঞ্চিত হতোনা। হঠাৎ  জমিদারের নজর পড়ল তার জমির উপর। সহজ সরল আব্বাস আলির সরলতার সুযোগ নিয়ে মসজিদ সহ মাদ্রাসা করবে বলে প্রায় ১০ বিঘা জমির মধ্যে অর্ধেক জমিই লিখে নিল। নেওয়ার সময় বলল, আল্লাহ্‌র ঘরের পেছনে খরচ করলে আল্লাহ্‌ই চালাবে, সাথে দুনিয়া ও আখিরাতের নেকী হাসিল হবে। সরল মনা আব্বাস তার কথা বিশ্বাসও করলো। কিন্তু বছর ঘুরলেও নির্ধারিত মসজিদের দেখা মিলল না। এদিকে নির্বুদ্ধিতার কারণে এতোগুলো জমি হারিয়ে আর্থিক অনটনে পড়ে গেলেন তিনি। এস এস সি পাশ করার পরে আব্দুর রহমানের লেখাপড়া চালানোই কষ্টকর হয়ে দাড়ালো। আব্বাস আলি অতি শোকে  তিনি পাথর হয়ে গেলেন। তারপর হঠাৎ একদিন হৃদ-রোগে আক্রান্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমালেন। 
বাবার মৃত্যুর পর তার মা হোসনে আরা নিজের বোনের মেয়ে তাহেরা সুলতানার সাথে আব্দুর রহমানের বিয়ে দেয়। তখন তার বয়স সবে উনিশ বছর। ছাত্র পড়িয়ে যে টাকা উপার্জন করতো তা দিয়েই সে তার এইস এস সির পড়ালেখা শেষ করে ডিগ্রী ভর্তি হয়েছে। সম্পদের মধ্যে বাবার রেখে যাওয়া পাঁচ বিঘা  জমি আর তাদের মাথা গোঁজার ভিটে বাড়িটাই অবশিষ্ট ছিল। দুই বছরের মাথায় তাদের কোল জুড়ে  ফুটফুটে  একটা মেয়ে হল। আব্দুর রহমানের চোখ পানিতে ভরে গেল। মনে পড়ে গেল তার বাবার কথা। তার বাবা আব্বাস আলি মেয়ে খুব পছন্দ করতেন। বলতেন আমদের সমাজে কন্যাসন্তান হলে মানুষ মুখ মলিন করে অথচ কোরআনে আল্লাহ্‌ তা’আলা কন্যা সন্তান হওয়াকে সুসংবাদ বলেছেন। (সূরা নাহল,আয়াত : ৫৮-৫৯)  
আব্বাস আলি বলত, ‘আমার যদি একটা নাতনি হয় তার নাম রাখব ফাতিমা’ 
আব্দুর রহমান তাই মেয়ের নাম রেখে দিলেন ফাতিমা।
হোসনে আরা বেগমের দুই চোখের মণি যেন নাতনি ফাতিমা। কিছুতেই চোখের আড়াল করতে চাননা।
দেখতে দেখতে তিন বছরে পা দিল ছোট ফাতিমা। তখন তাহেরা সুলতানার কোল জুড়ে একটা ছেলে সন্তান আসলো। আব্দুর রহমান তার নাম রাখল আব্দুল্লাহ্‌ কারণ তার বাবা বলেছেন ছেলে হলে অবশ্যই নাম রাখবি ‘ আব্দুল্লাহ’। কারণ নামসমূহের মধ্যে আল্লাহ্‌র কাছে প্রিয় নাম প্রিয় হচ্ছে- আবদুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ্‌র বান্দা ও আব্দুর রহমান অর্থাৎ রহমানের বান্দা
এজন্য তার বাবা তার নাম আব্দুর রহমান রেখেছে এবং নাতির নাম আব্দুল্লাহ রাখার  নির্দেশ দিয়েছেন।  
স্ত্রী, মা আর দুই সন্তান ফাতিমা আর আব্দুল্লাহকে নিয়ে ভালই কাটছিল আব্দুর রহমানের দিন।   
ফাতিমা আর আবদুল্লাহ্‌ এখন স্কুলে যায়। ফাতিমা প্রথম এবং আবদুল্লাহ্‌ শিশু শ্রেণিতে পড়ে।  
হঠাৎ একদিন ফাতিমা দাদুর কাছে বায়না ধরলো, ‘ দাদু আমাকে একটা পাখি কিনে দাওনা, আমি পাখি পুষবো’  
নাতনীর কোন বায়না তার কাছে ফেলনা না। সঙ্গে সঙ্গে আব্দুর রহমানকে দিয়ে বাজার থেকে ছয়টা মুরগীর বাচ্চা এনে দিল।
পড়লেখার বাইরে এখন ওদের কাজ মুরগীদের দেখাশুনা করা।
একদিন আব্দুল্লাহ একটা মুরগীর বাচ্চা আদর করতে গিয়ে একটা বাচ্চা মেরেই ফেলল। ফাতিমা তো  কাঁদতে কাঁদতে অস্থির গেল। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে তারপর ঠাণ্ডা করা হল। 
দেখতে দেখতে শেষপর্যন্ত অসুখে মরে, বিড়ালে খেয়ে আর মাত্র একটা লাল মোরগের বাচ্চা বেচে থাকল।   
দিন দিন লাল মোরগটা তাদের দুই ভাইবোনের চোখের মণি হয়ে দাড়ালো।
দুজনেই স্কুলে যাওয়ার সময় মোরগের সাথে দেখা করে, স্কুল থেকে এসে মোরগের সাথে দেখা করে আর যেদিন ছুটি থাকে সেদিনতো কথাই নাই,  মোরগের সাথেই কাটে দিনের বেশিরভাগ সময়।
বাড়ির উঠানে মোরগটার সাথে খেলাধুলা করতে আবদুল্লাহর খুব পছন্দ। মাঝে মাঝে মোরগটাও ওদের সাথে মজা করার জন্য লুকিয়ে থাকে।   
একদিন তো কি অবস্থা!
কোথাও মোরগটাকে পাওয়া যাচ্ছেনা। কেঁদে কেটে দুই ভাইবোন নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দিল। মোরগ না পাওয়া পর্যন্ত তারা খাওয়া দাওয়া করবেনা বলে জানিয়ে দিল।
হোসনে আরা বেগম তো চিন্তায় পড়ে গেলেন। কোথায় খুঁজবেন মোরগটাকে? মোরগ না পেলে তো তার আদরের নাতি নাতনি খাওয়া দাওয়া করবেনা। 
খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে গেল সবাই। শেষমেশ মোরগটা পাওয়া গেল ফাতিমার বিছানার কাঁথার নীচে। 
এভাবেই চলছিল আব্দুর রহমানের সুখের সংসার। এদিকে দিন দিন হোসনে আরা বেগমের শরীর খারাপ হতে শুরু করেছে। প্রতিদিন রাতে গাঁ কাপিয়ে জ্বর আসে। গ্রামের ডাক্তারের পাঠ চুকিয়ে শহরে নিয়ে যাওয়া হল। চিকিৎসা করতে গিয়ে বাবার কাছ থেকে পাওয়া শেষ ধানি জমিটাও বিক্রি করে দিতে হল তাকে। কিন্তু শেষ অব্দি হোসনে  আরা বেগমকে আর বাঁচানো গেল না। মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে ক্যানসার ধরা পড়ল, যখন আর করার কিছুই ছিল না।   
ধানি জমি থেকে প্রতি বছর যা ধান পেত আব্দুর রহমান, তা দিয়েই তাদের বছর চলে যেত, আবার বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা অনুযায়ী তার থেকে গরীবদেরকেও দিতে ভুলতনা। কিন্তু মায়ের চিকিৎসার জন্য জমিটা বিক্রী করার পর এখন শুধু সামান্য বেতনের টাকাই সম্বল।
এখন আর বাচ্চাদের আগের মত ভাল খেতে দিতে পারেনা আব্দুর রহমান। স্ত্রী তাহেরা সুলতানার চরিত্র তাকে অবাক করে। এত কষ্টেও তার মুখ থেকে কখনও হাসি বিলীন হয়না।
একদিন আব্দুর রহমান স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, তাহেরা, আমি যে ঠিকমত বাচ্চাদের আর তোমাকে  খাওয়াতে পারিনা, তুমি কি আমার উপর রাগ হওনা? তুমি সারাক্ষণ এতো হসিখুশি থাকো কীভাবে?
তাহেরা সুলতানা বলল,রাগ করবো কেন? এ অবস্থার জন্য তো তুমি বা আমি দায়ী না। এটাই আমাদের জন্য বরাদ্দ তাকদীর। সকল অবস্থায় শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ।
‘মু’মিনের অবস্থা ভারী অদ্ভুত। সকল কাজই তার জন্য কল্যানকর। মু’মিন ছাড়া অন্য কেউ এই কল্যান লাভ করতে পারেনা। তারা সুখ-শান্তি লাভ করলে শুকরিয়া আদায় করে আর অস্বচ্ছলতা বা বিপদে মুসীবতে সবর করে। সবই তার জন্য কল্যাণকর। এটা হাদিসের কথা। 
ফাতিমার এখন বয়স সাত বছর শেষ হয়ে আট চলছে। প্রতিদিন ভোরে তার বাবা তাকে সালাত আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয়। কিন্তু মাঝে মাঝে সে নিজেও মোরগের ডাক শুনে ঘুম থেকে উঠে পড়ে
অভাবের কারণে ছেলেমেয়েদের তেমন ভাল কিছু খাওয়াতে না পারলেও ওদের কোন অভিযোগ নেই। তার স্ত্রী তাহেরা বেগম সন্তানদের সবসময় সবরের শিক্ষা দেয়। 
এইতো সেদিন আব্দুল্লাহর খুব ইচ্ছা হল গোস্ত খাওয়ার কিন্তু আব্দুর রহমানের সাধ্যে কুলালোনা। ধার করে খাওয়ানো তার একদমই পছন্দ না তাই ধারও করলেননা। আব্দুর রহমান বললেন,তাহলে মোরগটার তো বয়স হয়ে গেছে, ওকে জবাই করে দেই। পরে না হয় সুযোগ হলে আর একটা কিনে দিব। 
দুই ভাইবোন একসাথে বলে উঠলো থাক আমাদের গোস্ত খাওয়া লাগবেনা। আমরা আমাদের প্রিয় মোরগের গোস্ত খেতে পারবোনা।ওর যখন মরার সময় হবে মরে যাবে।
 
একদিন রাতের ঘটনা। বাচ্চারা খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে।আব্দুর রহমান আর তাহেরা সুলতানা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমনসময় তাদের বাসায় মেহমান এসে হাজির। যেন তেন মেহমান না খোদ আব্বাস আলি অর্থাৎ আব্দুর রহমানের বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
এসেই ডাকল, আব্দুর রহমান, বাড়িতে আছো নাকি?
জি আছি, আপনি কে বলছেন? 
আমি তোমার বাবার বাল্যবন্ধু, গিয়াস উদ্দিন।
আব্দুর রহমান দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসল। অন্ধকারে সামনে দাঁড়ানো লোকটা চেনার চেষ্টা করলো। 
গিয়াস উদ্দিন হেসে বলল, কি অবাক হলে কোনদিন দেখনি বলে? চিনতে পারছোনা তো? তোমার চেনার কথাও না। তুমি তখন অনেক ছোট, এই ধর সাত কি আট বছর তখন আমি এই গ্রাম ছেড়ে চলে বিদেশ চলে যাই। তারপর আর তোমার বাবার সাথে আমার দেখা হয়নি। আব্বাস আমার খুব ভাল বন্ধু ছিল। এখন গ্রামে আমাদের কেউ থাকেনা। সবাই জমিজমা বিক্রি করে কেউ শহরে, আবার কেউ বিদেশে স্থায়ী নিবাস  গড়েছে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললো, 
দেশে এসে খুব গ্রামের জন্য টান অনুভব করলাম তাই চলে এলাম। ভাবলাম আব্বাসের সাথেও দেখা হবে আবার গ্রামও ঘোরা যাবে। কিন্তু এখানে এসে আব্বাসের মৃত্যুর খবর শুনে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। তোমরা যদি কিছু মনে কর তাহলে আমি রাতটা এখানে কাটিয়ে সকালেই চলে যেতাম।
আব্দুর রহমান কিন্তু গিয়াস উদ্দিনকে ঠিকই চিনেছে। সাত আট বছর বয়সে দেখা মানুষকে মনে থাকে।  তাছাড়া তার স্মরণশক্তিও আলহামদুলিল্লাহ্‌ প্রখর। একবার কাউকে দেখলে আর সহজে ভোলেনা। 
আব্দুর রহমান বলল, না চাচা আমরা বিরক্ত হব কেন? আপনাকে দেখে খুব খুশি হয়েছি। বাবা-মা মারা গেলে তার আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে সদাচার করা সন্তানের কর্তব্য। বলতে পারেন এক প্রকার আদেশ। আমি অন্য কথা ভাবছিলাম। তারপর বিনয়ের সাথে বলল, আপনি নিশ্চয় ক্ষুধার্ত। কিন্তু আমাদের রাতের খাবার শেষ হয়ে গেছে। আপনি  যদি আমাদের কিছু মনে না করতেন তাহলে আমরা চটজলদি আপনার খাবারটা তৈরি করে দিতে পারতাম। 
না না আমার খাবারের জন্য তোমাদেরকে ব্যস্ত হতে হবেনা।
কি বলেন চাচা, আপনি হলেন আমার বাবার বন্ধু, আপনার সর্বোচ্চ যত্ন করা আমাদের দায়িত্ব। আপনি বিশ্রাম নেন। আমাদের বেশিক্ষণ লাগবেনা। 
আব্দুর রহমান স্ত্রীকে এসে বলল, বাসায় তো রান্না করার মতো কিছুই নেই, চল আমরা মোরগটা জবাই করে ফেলি কারণ এ ছাড়া আমদের আর কোন উপায় নেই। 
তাহেরা বলল, আমিও তোমাকে তাই বলব ভাবছিলাম। কারণ মেহমানদারী ইসলামের এক অনন্য সৌন্দর্য।
তারপর তারা দুজন আলাহ্‌র নাম নিয়ে মোরগটাকে জবাই করে ফেলল।
খাবার পেয়ে গিয়াস উদ্দিন এমন গোগ্রাসে খেল মনে হয় অনেকদিন তিনি খাবার খাননি।খাওয়া শেষে বললেন নিশ্চয় বাড়ির পোষা মুরগী? গোস্তটা খুবই সুস্বাদু। রান্নাটাও খুব মজা হয়েছে। তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। 
সকালে ঘুম থেকে উঠে মোরগের ডাক শুনতে না পেয়ে ফাতিমা তার মাকে জিজ্ঞাসা করল, মা, আজকে আমার মোরগের কোন ডাক শুনলামনা। ভাবলাম হয়তো আগে ডেকেছে, এখন চুপ আছে। কিন্তু ওর খোপে গিয়ে দেখি দরজা খোলা আর ভেতরে মোরগটা নেই। চোরে নিয়ে গেল নাকি?   
মেয়ের উদ্বেগ দেখে তাহেরা তার মাথায় হাত দিয়ে শান্ত করলেন। তারপর মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন, এখন আমি তোমাকে এমন একটা কথা বলবো তা শোনার পর তুমি মন খারাপ করবেনা কিন্তু। 
মায়ের কথা শুনে তার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলো ফাতিমা। 
মেয়ের কপালে একটা চুমু দিয়ে বললেন, জানো কাল রাতে আমাদের বাসায় তোমার দাদা ভাইয়ের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এসেছে। উনি ক্ষুধার্ত ছিলেন। বাসায় উনাকে রান্না করে খাওয়ানোর মতো কিছু ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে তোমার আদরের মোরগটা জবাই করে রান্না করে তাকে আপ্যায়ন করেছি।
মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো ফাতিমার। তার শখের মোরগটা এখন খাদ্য। কীভাবে থাকবে সে মোরগটা ছাড়া। কান্নায় তার চোখ ভিজে আসছে কিন্তু মাকে বুঝতে দিতে লজ্জা করছে।
নামাজের বিছানায় বসে ভাবছে ফাতিমা, তার দাদীর স্মৃতিটা আর থাকলোনা। মাথায় মায়ের হাতের স্পর্শে পেছন ফিরে তাকাল।
মোরগটার জন্য মন খারাপ না? বাসায় মোরগটা ছাড়া আর কিছু ছিলনা। এমন অবস্থায় মেহমানকে খাওয়ানোর জন্য তুমি কি করতে? মেহমানদারিতা ইসলামের সৌন্দর্য। তারপর আবার বললেন, দেখ মা মোরগটা তো একদিন মরতই। কিন্তু তুমি তোমার প্রিয় মোরগের মাধ্যমে কত সুন্দর আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্টু করতে পারলে।
আজকে তোমাকে মেহমানদারীতা নিয়ে এক অসাধারণ গল্প শোনাই, শুনবে? 
ফাতিমা কিছুটা ধাতস্থ হলো। বলল, শুনবো।  
একদিন একজন লোক রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে। তিনি তার স্ত্রীদের নিকট খাবারের সন্ধানে লোক পাঠালেন। তারা বলল, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন। আমাদের নিকট পানি ব্যতীত অন্য কোন খাদ্য নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে এর মেহমানদারী করবে? আল্লাহ তার প্রতি দয়া করবেন। তখন আনছারী সাহাবী আবু তালহা (রাঃ) বললেন, আমি করব। অতঃপর তিনি তাকে সাথে নিয়ে তার স্ত্রীর নিকট  গেলেন  এবং বললেন, রাসূলুল্লাহর মেহমানকে সম্মান কর। কোন খাদ্য জমা রাখবে না। স্ত্রী বলল, আল্লাহর কসম! শিশুদের জন্য রাখা খাদ্য ব্যতীত আমাদের নিকট কোন খাদ্য নেই। আবু তালহা স্ত্রীদের না খাইয়ে ঘুমা পাড়িয়ে দিতে বললেন। তিনি মেহমানকে নিয়ে খেতে বসার সময় কৌশলে বাতি নিভিয়ে ঘর অন্ধকার করে দিলেন এবং নিজেও তার সাথে খাওয়ার ভান করলেন। কিন্তু সে রাতে তারা সবাই  ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত্রি যাপন করল। অতঃপর সকালে সে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট গমন করলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, গত রাতে মেহমানের সাথে তোমাদের উভয়ের কর্মকান্ড দেখে আল্লাহ হেসেছেন  বা অবাক হয়েছেন এবং আয়াত নাযিল করেছেন।  (হাশর ৫৯/৯)। (বুখারী হা/৩৭৯৪)। 
ফাতিমা মুগ্ধ হয়ে তার মায়ের কথা শুনলো। তার চোখ দিয়ে পানি পড়ে গেল। আল্লাহকে শতবার ধন্যবাদ দিতে লাগল এমন বাবা মায়ের জন্য।
সকাল বেলা নাস্তা করে গিয়াস উদ্দিন চলে গেছে। ফাতিমা উঠানে বসে বসে আদরের ছোট ভাইকে  মায়ের কাছে থেকে শোনা অসাধারণ মেহমানদারীর গল্পটা যখন আবদুল্লাহ্‌কে শোনালো সেও মূহুর্তের  মোরগের শোক ভুলে গেল।
ফাতিমার মনে এক অসাধারণ অনুভূতি কাজ করছে। যখনই তাদের মন খারাপ হয় বাবা-মা ঠিক সময়ের উপযোগী একটা গল্প শুনিয়ে তাদের মন ভালো করে দেয়। এতো অপূর্ব তাদের ধর্ম। নাহ্‌ ধর্ম বলা যাবেনা মা বলেছে ইসলামকে ধর্ম না বলে দ্বীন বললে এর সঠিক মর্যাদা হয়।  
কি নেই ইসলামে !স্কুল খুললে এই মেহমানদারীতার গল্প সবাইকে শোনাতে হবে। 
সমাপ্ত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/117665/</link>
				<pubDate>Thu, 02 Jun 2022 00:13:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a target="_blank" href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ল" rel="nofollow ugc">#ল</a>াল_মোরগের_আপ্যায়ন<br />
 <a target="_blank" href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ম" rel="nofollow ugc">#ম</a>াহামুদা_খাতুন<br />
আব্দুর রহমান একজন গরীব স্কুল মাস্টার। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সে। তার বাবা আব্বাস আলি একজন দীনদার ব্যক্তি ছিলেন। ছোটবেলা থেকে তাকে সততার উপর বড় করেছেন। বলতেন কখনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করবিনা। কারণ অন্যায়কে সমর্থন করাও একধরণের অন্যায়।<br />
আব্বাস আলির অবস্থা ভালই ছিল। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে মৌসুমি ফসল যা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-117665"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/117665/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0c26d50199a2635d0284449f3a98d96e</guid>
				<title>বিষয়ঃ চিঠি
লেখনীতে মাহামুদা খাতুন

প্রিয় পুত্র
লোকে বলে বার্ধক্য নাকি দ্বিতীয় শৈশব। সে অনুযায়ী আমি এখন দ্বিতীয় শৈশব পার করছি। তবে তা প্রথম শৈশবের মত সবার কাছে বাঞ্ছিত না। শুনেছি আমার দুনিয়াতে আগমনের মুহূর্তে পরিবারের মানুষদের খুশির অন্ত ছিলনা। পর পর তিনটা কন্যা সন্তান হওয়ার কারণে দাদীমার কাছে মাকে অনেক কটু কথা শুনতে হয়। বাবাকে দ্বিতীয় বিয়ে করানোর জন্য তার চেষ্টার অন্ত ছিলনা। অনেক কষ্টে বাবা তা থেকে নিজেকে নিবৃত করেছেন। কত নির্ঘুম রাত আমার মাকে জায়নামাজ ভিজাতে হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। কষ্টের পরে স্বস্তি আসে, কথাটা মোটেই মিথ্যা না। তাইতো দীর্ঘ নয় বছরের সাধনা শেষে তিন মেয়ের পর মায়ের কোল আলো করে আমার আগমন ঘটে। সেসময় বাচ্চা হওয়ার জন্য হাসাপাতালে শুধু বনেদী ঘরের লোকেরা যেত। তোমার তিন ফুফুর জন্ম বাড়ির আঁতুড় ঘরে পারিবারিক দাঈমার হাতেই হয়েছে। কিন্তু আমার সময় বাবা কোনরকম ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না। তাই শহরের সবথেকে নামী হাসপাতালে মাকে ভর্তি করানো হয়। আমার আগমনকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সমস্ত বাড়িটা লাল-নীল মরিচবাতি দিয়ে সাজানো হয়।
বংশের বাতি হিশাবে বেহিসাবী আদরে কেটেছে আমার শৈশব, কৈশর এমনকি যৌবনকালও। সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রেও বাবার ছিল একচোখা নীতি। তার সমস্ত সম্পত্তি আমার নামে লিখে দিলেন। বোনেরা তাতে আপত্তি করেনি। কারণ আমি যে তখন তাদেরও চোখের মণি ছিলাম।
একদিকে আমার বিত্ত-বৈভব আর অন্যদিকে আমি ছিলাম বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তাই মান বজায় রাখতে বাবা শহরের নামকরা ব্যবসায়ীর মেয়েকে পুত্রবধূ হিশাবে বাড়িতে আনলেন। বাবা-মা আর স্ত্রী নিয়ে ভীষণ রঙিন ছিল জীবনটা। তারপর আস্তে জীবনের আকাশে মেঘ জমতে শুরু করল। বাবা-মাকে নিয়ে তোমার মায়ের সাথে দ্বন্দ্ব বেঁধে গেল। বাবা-মাকে বাদ দিয়ে আমাকে নিয়ে আলাদা সংসার পাতল। তাদের দুজনের জন্য আমার দরজা বন্ধ হয়ে গেল। আমার বোনদের কাছে ঠায় হল তাদের। যাদেরকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল তারাই ছিল তাদের একমাত্র ভরসাস্থল। কাছে না থাকলেও প্রথমদিকে তাদের যাবতীয় খরচাপাতি আমিই দিতাম। তখন বাধ না সাধলেও তোমার জন্মের পর ব্যাপারটা পছন্দ করেনি তোমার মা। সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য হলেও এসব বাজে খরচ বন্ধ করার জন্য আমাকে চাপ দিতে লাগল। তখন কি বুঝেছিলাম জানিনা, তোমার মায়ের কথায় বাবা-মাকে মাসোহারা পাঠানো বন্ধ করে দিলাম। কিন্তু মজার ব্যাপার কি জানো? বাবা-মায়ের মৃত্যর পর জানতে পারলাম আমার পাঠানো কোন টাকাই তাদের পিছনে খরচ করেনি আমার বোনেরা। সব টাকা তোমার নামে ব্যাংকে রেখে দিয়েছিল তারা। তবুও আমার প্রতি তাদের কোন অভিযোগ ছিলনা। একই শহরে বাস করলেও তাদের সাথে আমার কালে-ভাদ্রে দেখা হত।
আমাদের সমস্ত মনযোগ ছিল তোমাকে ঘিরে। তোমার যাতে একরত্তিও অযত্ন না হয় তার জন্য চারটা পরিচারিকা রাখা হয়। আমাদের মূল্যবান সময় দিয়ে তোমাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করি। দেখতে দেখতে তুমিও পরিণত বয়সে পা রাখলে। তোমাকে বিয়ে দিয়ে একটা ফুটফুটে বউ নিয়ে আসলাম। ভেবেছিলাম ছেলে-বউ না, মেয়ে হিশাবে দেখব তাকে। মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক। আমরা মেয়ে ভাবলেও তোমার বউ আমাদের একদমই সহ্য করতে পারেনি। এক মাসের মাথায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে তোমাকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। যাওয়ার সময় একমাত্র উত্তরাধিকারী হিশাবে আমার সব সম্পত্তি তোমার নামে লিখে দেওয়ার আবদার করে বসলে তুমি। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানাই বলে তুমি সেই যে আমাকে ছেড়ে গেলে আর ফিরে আসলেনা।
গত বছর আমি ৭৫ বছরে পা দিয়েছি। প্রাচুর্য আমাকে শান্তি দিতে পারেনি। যে কথা জানাতে তোমাকে এই দীর্ঘ চিঠি লেখা, তা হল আমার এই প্রতিদিনকার রঙহীন জীবন কিছুটা সময়ের জন্য হলেও রঙিন হয়ে ওঠে রায়হানের আগমনে। অনেক ভাগ্যগুণে এমন ছেলের বাবা হয়েছ। ও আমাদের মত কুলাঙ্গার হয়নি। দাদাভাই আমার যেমন অন্যকে সম্মান দিতে জানে তেমন নিতেও জানে। প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া এবং আসা, এই দুই সময় ও আমার কাছে আসে। তখন আমার সব কিছুর তদারকি সেই করে। বাকি সময়গুলো আমার দেখশোনার জন্য দুইজন পারিচারক নিয়োযিত আছে। তারাও আমার খুব খেয়াল রাখে।
আমার সকল সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী ছিলে তুমি। তারই সূত্র ধরে আমার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রায়হানের নামে লিখে দিতে চাইলেও ও তাতে আপত্তি জানায়। সে বলে, তোমার বাবা মেয়েদের ফাঁকি দিয়ে তোমাকে যে সম্পদ দিয়ে গেছে সময় থাকতে এখনই তা নিয়মানুযায়ী তাদের মাঝে বণ্টন করে দিয়ে দায়মুক্ত হওয়া উচিৎ তোমার। অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে আগুন দিয়ে উদর পূর্তি করার কোন ইচ্ছা নেই ওর। তারপর আমার অপেক্ষা না করে উকিলের সাহায্যে সবার মাঝে তাদের ন্যায্য সম্পদ ফিরিয়ে দিয়ে তবেই ক্ষ্যান্ত হয়েছে।
ওকে দেখলে মনে হয় ও যেন আল্লাহ্‌র তরফ থেকে আমাদের জন্য পাঠান এক সতর্কবার্তা। ঘোর অমানিশায় ও এক চিলতে পূর্ণিমাও বটে।
দীর্ঘ ১৮ বছর তোমার আমার সাক্ষাৎ হয়না। কিন্তু দাদাভাই ঠিকই তার শেকড়ের সন্ধানে এখানে এসে পড়েছে। আমরা দুজনে বাবা-মায়ের হতভাগা সন্তান। কিন্তু রায়হান তোমার সোনার টুকরা সন্তান। ওকে আগলে রাখতে কার্পণ্য কর না। পারলে একবার এস।
তোমার হতভাগা বাবা</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/117354/</link>
				<pubDate>Wed, 01 Jun 2022 04:15:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিষয়ঃ চিঠি<br />
লেখনীতে মাহামুদা খাতুন</p>
<p>প্রিয় পুত্র<br />
লোকে বলে বার্ধক্য নাকি দ্বিতীয় শৈশব। সে অনুযায়ী আমি এখন দ্বিতীয় শৈশব পার করছি। তবে তা প্রথম শৈশবের মত সবার কাছে বাঞ্ছিত না। শুনেছি আমার দুনিয়াতে আগমনের মুহূর্তে পরিবারের মানুষদের খুশির অন্ত ছিলনা। পর পর তিনটা কন্যা সন্তান হওয়ার কারণে দাদীমার কাছে মাকে অনেক কটু কথা শুনতে হয়। বাবাকে দ্বিতীয় বিয়ে ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-117354"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/117354/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e6a89818e356c46a1c56781012a9e8ad</guid>
				<title>mahamuda khaun changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/116575/</link>
				<pubDate>Mon, 30 May 2022 04:15:47 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f3db6d0ba44ab6e93deb237374e298f6</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/116571/</link>
				<pubDate>Mon, 30 May 2022 04:01:41 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8c367353efb3fb32fb0de58668713f8f</guid>
				<title>গল্প- অব্যর্থ অপেক্ষা
লেখনীতে মাহামুদা খাতুন

১
এবার কিন্তু বার্ষিকীতে তোমার যাওয়াই চাই দাদুমনি। জানো যে ছবিটা এঁকে আমি প্রথম হয়েছি তার বিষয়বস্তু কি? 
নাতো!    
&#039;অব্যর্থ অপেক্ষা&#039;। ছবি এঁকে তার নীচে বর্ণনা দিতে হয়। আমার বর্ণনা নাকি এতোটাই অসাধারণ হয়েছে যে কেউ কোন নিগেটিভ মন্তব্য করতে পারেনি। আমি সেখানে প্রাণের স্ত্রীকে রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা সদ্য বিবাহিত বীর মুক্তিযোদ্ধার লুকিয়ে রাখা দীর্ঘশ্বাস আর তারই জন্য তার প্রেয়সীর অপেক্ষার প্রতিটি মূহুর্ত এমনভাবে তুলে ধরেছি যে সবাই তাতে মুগ্ধ হয়ে গেছে। তুমি জানো আমার গল্পের মূল চরিত্রে কারা আছে? 
বুঝতে পেরেছি।
খুশি হয়েছো?   
অ-নে-ক।
২ 
তারার আলো স্কুলটাকে আজ ফুলে ফুলে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। বিকাল চারটার দিকে মূল আয়োজন শুরু হয়েছে। সামনের বেশ কয়েকটা সারি অভিভাবক আর অতিথিদের জন্য রেখে পেছনের সারিগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সামনে থেকে দুই নম্বর সারিতে বসেছে   ফাতিমা। তার সাথে আছে তার ছেলে আর ছেলের বউ। একমাত্র নাতনী রোদেলার স্কুলের বার্ষিকীতে এসেছে তারা। প্রতি বছর রোদেলার বাবা মাই শুধু আসে। এবার রোদেলার অনুরোধে ফাতিমাকে অনুষ্ঠানে আসতেই হলো। অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তৃতা পর্ব চলছে। চোখ বন্ধ করে সিটে  হেলান দিয়ে বসে ছিল ফাতিমা। আলোচনার কিছুই তার কানে ঢুকছিলনা। কিন্তু বিশেষ অতিথির নামটা শুনে চমকে স্টেজের দিকে তাকাল। সেই চোখ, সেই ভরাট কন্ঠ।  মানুষটাকে চিনতে তার একদমই ভুল হলনা। অপলক নয়নে বক্তৃতা শুনতে লাগল।  
আসসালামু আ’লাইকুম। আজকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিশাবে আসতে পেরে আমি বিমোহিত। আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার প্রেরণা আমি কোথায় পেলাম। উত্তরটা একটা গল্পের মাধ্যমে দিতে চাই।   
জুলাইবিব নামে রাসুল (সাঃ) এর একজন প্রিয় সাহাবী ছিলেন। তার বাহ্যিক গড়নের জন্য কেউ তাকে পছন্দ করতনা।  একদিন জুলাইবিব রাসুল (সাঃ) এর কাছে এসে বললেন, নবীজি (সাঃ) আমার কি কখনও বিয়ে হবেনা? কথাটা শুনে নবীজি (সাঃ) কাল-বিলম্ব না করে মদিনার এক সম্রান্ত পরিবারের সুন্দরী বিবাহযোগ্যা কন্যার সাথে জুলাইবিবকে বিয়ে দেওয়ার জন্য মেয়ের বাবার কাছে প্রস্তাব পেশ করলেন। পাত্রের নাম শুনে লোকটি মনঃক্ষুন্ন হলেও তা প্রকাশ না করে স্ত্রীর সাথে পরামর্শের অনুমতি চাইলেন। জুলাইবিবের নাম শোনামাত্রই লোকটির স্ত্রী তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে। সে কিছুতেই তার সুন্দরী মেয়েকে অমন কুৎসিত ছেলের সাথে বিয়ে দিতে রাজি না। পাত্রীপক্ষের অমত জেনে রাসুল (সাঃ) সেখান থেকে ফিরে গেলেন। আড়াল থেকে রাসুল (সাঃ) এর সাথে বাবা মায়ের কথপকোথন শুনে ফেলে মেয়েটা। স্বয়ং রাসুল (সাঃ) এর আনা প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার মত ধৃষ্ঠতা দেখানোর কারণে বাবা মায়ের উপর সে ক্ষুব্ধ হয়ে বলল, ‘ আমার যদি কারো সাথে বিয়ে তবে সে জুলাইবিব ছাড়া আর কেউ হবেনা।’  
বিয়ের দিনই সদ্য বিবাহিত সুন্দরী স্ত্রীকে রেখে জিহাদের ডাকে সারা দেয় জুলাইবিব (রাঃ) এবং শহিদ হন। একজন মুসলিমের জন্য এর থেকে ভাল মৃত্যু আর কি হতে পারে। ঘটনাটা পড়ার পর এমন জীবনের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছিলাম। আমি জানি ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য যে জিহাদের ময়দান সাহাবীরা বেছে নিয়েছিল তার সাথে মুক্তিযুদ্ধের  তুলনা অবান্তর। তবুও সদ্য বিবাহিত একজন যুবকের জন্য নববধুকে রেখে যুদ্ধে যাওয়ার মত হিম্মত কজনাই দেখাতে পারে। আমার এই যুদ্ধে যাওয়ার অনুপ্রেরণাই ছিল জুলাইবিব (রাঃ) এর ঐ ঘটনাটা। ইসলামের জন্য যুদ্ধ না হলেও মুক্তিযুদ্ধে আমার অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। বিয়ের এক মাসের মাথায় আমি আমার ষোড়শী প্রেয়সীকে রেখে যুদ্ধে যোগদান করেছিলাম শুধুমাত্র জালিমের অত্যাচার থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য। যুদ্ধ…………….. 
মুগ্ধ নয়নে বক্তৃতা শুনছিল ফাতিমা। শেষের কথাগুলো আর শোনা হলনা তার। অতীতে ডুব দিল তার অবুঝ মন।  
সবে তখন স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছে সে। কৈশরে পা দেওয়া টগবগে তরুণী। আকাশসম স্বপ্ন তার। স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে যখন আকাশ ছুতে যাবে তখনই থমকে গেল তার রঙিন পৃথিবী। যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল চারিদিকে।  ফাতিমা তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল। যুদ্ধের কারণে ঘরের বাইরে বের হওয়া একদমই বন্ধ হয়ে গেল তার। সারাদিন একটা আতঙ্ক বিরাজ করতে থাকল সবার মধ্যে।  
ঢাকার পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হওয়ার কারণে ঢাকা ছেড়ে অনেকেই গ্রামে আসতে শুরু করল। দুদিন হল ফাতিমার মায়ের খালাত বোন কবিতা ঢাকা ছেড়ে তাদের বাড়ি এসে উঠেছে। স্বামী এবং একমাত্র ছেলে আবিরকে নিয়ে ঢাকা রায়ের বাজার নিজ বাড়িতে থাকত তারা। আবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে মাস্টার্স পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেও এসেছে বাবা মায়ের সাথে। 
৩ 
প্রায় এক মাস হয়ে গেছে ঢাকা ছেড়ে রাজবাড়ি এসেছে আবির। ঢাকাতেই তার জন্ম, বেড়ে ওঠা। এই  বাড়িটাতে সে আগেও অনেকবার এসেছে। এখানকার প্রতি তার আলাদা একটা টান আছে। এখানে আসলেই ঘুরে ঘুরে গ্রাম দেখে। গ্রামের দিকে এখনও পাক বাহিনীর আক্রমণ শুরু হয়নি।  
ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতে বের হল আবির। সকালের সূর্যটাকে আজ ভীষণ আবেগী লাগছে তার  কাছে। হাঁটতে  হাঁটতে বাড়ির পেছনের মাঠটাতে চলে আসে সে। মাঠের চারপাশ ঘিরে রাখা আইলটার উপর বসে। চারিদিকে এখন  শরতের তান্ডব চলছে। মাঠের প্রান্তে ঘন হয়ে গজিয়ে উঠা কাশফুলগুলো বাতাসে  দুলছে। সে ভাবে, অপরূপ সৌন্দর্যের এই দেশকে যে করেই হোক রক্ষা করতে হবে। হাতে করে আনা রেডিওটা টিউন করে যুদ্ধের খবর শুনতে লাগল  আবির। পাকবাহিনীর একের পর এক তাণ্ডবলীলার খবরে দিশেহারা হয়ে পড়ল। জালিম শাসকের বিরুদ্ধে রুখে  দাঁড়ানো সবথেকে বড় জিহাদ। এই মূহুর্তে যুদ্ধে যাবার তাগিদ অনুভাব করল। তার মত একজন নওজোয়ান যুদ্ধে না গিয়ে বসে থাকলে অন্যায় হবে।    
৪  
ছেলের মতিগতি অনেক আগেই আঁচ করতে পেরেছে কবিতা। একমাত্র ছেলেকে যুদ্ধে পাঠনোর কোন ইচ্ছা তার নেই। তাই সিদ্ধান্ত নিল ফাতিমার সাথে ওকে বিয়ে দিয়ে দিবে। নতুন বউ রেখে তখন আর যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা জাগবেনা। 
খাওয়ার টেবিলেই ফাতিমা আর আবিরের বিয়ের কথাটা তুলল কবিতা। 
আবির অবাক হয়ে বলল, কি বল মা? ফাতিমা একটা বাচ্চা মেয়ে। ওর সাথে আমার বয়সের পার্থক্য কি ভুলে গেছো  তুমি? আর তাছাড়া এখন আমি এরকম কোন সম্পর্কে জড়াতে চাচ্ছিনা। দেশের এই পরিস্থিতিতে বিয়ের কথা ভাবা আর বিলাসিতা এক জিনিস মনে হচ্ছে। আমার এখন বিয়ে করা না, যুদ্ধে যাওয়া প্রয়োজন।   
আবিরের কথা কানে যেতেই সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। নিরবতা ভেঙ্গে কবিতা বলল, কি বলছিস তুই এসব? আমি তোকে কোন যুদ্ধে যেতে দিবনা।
এটা কেমন কথা মা? এটাতো তোমার আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক। জালিম পাকবাহিনীর অত্যাচারে মানুষের জীবন  দূর্বিষহ। এদের বিরুদ্ধে রুখে না দাড়ালে আল্লাহর কাছে কি জবাব দিব?    
ঠিক আছে গেলে যাবি, তাতে বিয়ে করতে কি সমস্যা? কথাটা মুখে বললেও কবিতা মনে মনে ভাবল, একবার বিয়ে দিয়ে নেই তারপর ঠিকই জালে আটকা পড়বি।  
মানুষ বিয়ে করে সংসার করার জন্য। কিন্তু আমাকে যে বিয়ে করবে তার সংসার করার স্বপ্ন বাদ দিতে হবে। আমার যুদ্ধে যাওয়াটাকে খুশি মনে গ্রহণ করতে হবে। যদি এসবে তার কোন আপত্তি না থাকে তবে তাকে বিয়ে করতে আমারও কোন আপত্তি নেই।  
নিজের ঘর থেকে সব কথাই শুনে ফাতিমা। বিয়েতে তার অমত নাই। আবিরের যুদ্ধে যাওয়া নিয়েও তার কোন আপত্তি নেই। তাই সে বিয়েতে সম্মতি দিয়ে দিল। সম্পূর্ণ ঘরোয়া আয়োজনে নিকটাত্মায়ীদের উপস্থিতে তাদের বিয়ের কাজটা সেরে ফেলা হল।  
৫ 
গ্রিল জুড়ে লতানো গাছে ঢাকা বারান্দায় পাশাপাশি বসে আছে ফাতিমা আর আবির। পূর্ণিমার আলোতে মোহময় হয়ে আছে চারিদিক। চোখ তুলে আবিরের দিকে তাকানোর সাহস না থাকলেও ফাতিমার দিকে আবির স্থির নেত্রে তাকিয়ে আছে। পূর্ণিমার আলোতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে। সদ্য কৈশরে পা দেওয়া মেয়েটা এখন তার স্ত্রী। এই বাসায়  এর আগে অনেকবার আসলেও কখনও তেমনভাবে খেয়াল করা হয়নি ফাতিমাকে। মায়ের মতই রুপবতী হয়েছে মেয়েটা। এই অপরূপ সুন্দর মেয়েটাকে ফেলে যুদ্ধে যেতে ইচ্ছা করছেনা আবিরের। কিন্তু দেশের প্রতি নিজের দায়িত্বের কথা ভেবে আবেগটাকে পাত্তা দিলনা। ফাতিমার হাতটা নিজের হাতে মুষ্টীবদ্ধ করে বলল, তুমি কি জানো আমি তোমার থেকে কত বড়?
ফাতিমা ছোট করে উত্তর দিল ‘হু’, দশ বছর। 
নিজের থেকে এতো বড় একটা লোককে বিয়ে করতে খারাপ লাগেনি তোমার?
না। 
তুমি কি চাও আমি যুদ্ধে যাই?
জ্বি চাই।
আর ফিরে নাও আসতে পারি। তবুও কি চাও? 
জ্বি আমি চাই। কবে যাবেন? 
এবার ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর কয়েক জনের সাথে পরিচয় হয়েছে আমার। উনাদের কাছে আমার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি।  উনারা আমার ঠিকানা রেখে দিয়েছে। যেকোন সময় আমার ডাক পড়তে পারে।  
ঠিক আছে ডাক পড়লে যাবেন। আপাতত আজকের রাতটাকে উপভোগ করি!! যতদিন আপনি থাকবেন ততদিন আমি আমার প্রতিটা মুহুর্তকে আপনার রঙে রাঙিয়ে তুলতে চাই। কথাগুলো আবিরের দিকে না তাকিয়েই বলল ফাতিমা। 
কথাগুলো শুনে এক অদ্ভুদ শিহরণ খেলে গেল আবিরের মধ্যে। চাদের আলোতে মোহনীয় লাগা ছোট্ট প্রেয়সির দিকে  তাকিয়ে আবির বলল, তবে তাই হবে। 
আবারও স্বপ্নের রাজ্যে বিচরণ শুরু হল ফাতিমার। আবিরের সাথে তার দিনগুলো ভালই কাটছিল। কিন্তু বিয়ের একমাসের মাথায় আবির ফাতিমাকে রেখে যুদ্ধে চলে গেল। যাওয়ার সময় ফাতিমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, আমি না ফিরে আসলে কি নতুন জীবন শুরু করবে?  
ফাতিমার উত্তর ছিল নতুন করে কারো সাথে নিজেকে জড়াতে চাইনা,। জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত আপনার  অপেক্ষায় থাকব ইনশাআল্লহ্‌।  
৫
আবির চলে যাওয়ার দুইমাস পরে ফাতিমা বুঝতে পারে সে মা হতে চলেছে। গ্রামের পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হতে  থাকলে পাকবাহিনীর আক্রমন থেকে বাঁচার জন্য ফাতিমারা তার নানু বাড়ি চলে যায়। দেশ স্বাধীন হয়ে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হলে তারা সবাই ঢাকায় চলে আসে। রায়ের বাজারে শ্বশুরের বাড়িটা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় সেখানে আর থাকা হয়না তাদের। ধানমণ্ডি বাড়ি ভাড়া নেয় তারা। বছর দুই পর একটা সড়ক দূর্ঘটনায় সবাইকে হারিয়ে আড়াই বছরের ফয়সালকে নিয়ে যখন দিশেহারা তখনই আল্লাহ্‌র রহমতে স্কুলের চাকরীটা তার ভাগ্যে জোটে।   
নানুমনি দেখ কাকে নিয়ে এসেছি! রোদেলার ডাকে স্মৃতির পাতা থেকে যখন বাস্তবে ফিরে আসল ফাতিমা তখন অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। রোদেলার হাত ধরে দাড়িয়ে থাকা কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে দেখে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল ফাতিমা।  দূরত্ব ঘুচিয়ে ফাতিমার কাছে এসে দাড়াল আবির। দুই হাতে ফাতিমার মুখটা তুলে ধরে বলল, এখনও আগের মত লজ্জা পাও। বক্তৃতা দেওয়ার সময়ই তোমাকে খেয়াল করেছি। চিনতে একদমই ভুল হয়নি। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সাথে সাথে চলে এলাম। 
আবিরের দিকে না তাকিয়েই জিজ্ঞাসা করল ফাতিমা, কেমন দেখলেন সবাইকে?                                                   
আমিতো শুধু তোমার অপেক্ষাতে ছিলাম। কিন্তু তুমি আমাকে তার থেকেও বেশি কিছু দিয়েছো। ছেলে, পুত্রবধূ, সাথে এই ফুটফুটে নাতনিটাকে। আমার অপেক্ষা স্বার্থক। 
আমারও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল। 
মুচকি হেসে আবির বলল, তাহলে এত বছরের অপেক্ষা বিফলে যায়নি? 
এতক্ষণে ফাতিমা প্রিয় মানুষটার দিকে মুখ তুলে তাকাল। তারপর স্নিগ্ধ হাসি দিয়ে বলল, একদমই না। রোদেলার ভাষায় যাকে বলে, ‘অব্যর্থ অপেক্ষা’</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/116565/</link>
				<pubDate>Mon, 30 May 2022 03:31:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প- অব্যর্থ অপেক্ষা<br />
লেখনীতে মাহামুদা খাতুন</p>
<p>১<br />
এবার কিন্তু বার্ষিকীতে তোমার যাওয়াই চাই দাদুমনি। জানো যে ছবিটা এঁকে আমি প্রথম হয়েছি তার বিষয়বস্তু কি?<br />
নাতো!<br />
&#8216;অব্যর্থ অপেক্ষা&#8217;। ছবি এঁকে তার নীচে বর্ণনা দিতে হয়। আমার বর্ণনা নাকি এতোটাই অসাধারণ হয়েছে যে কেউ কোন নিগেটিভ মন্তব্য করতে পারেনি। আমি সেখানে প্রাণের স্ত্রীকে রেখে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা সদ্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-116565"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/116565/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">60f154865fdfa8687183d1a0c4dbc479</guid>
				<title>চিঠি

প্রিয়তমেষু   

অনেকদিন পর তোমার চিঠি আবার পড়লাম। আমার গোলাপী যে টিনের বাক্সটা নানুভাই আমাকে বিলেত থেকে এনে দিয়েছিল তার মধ্যে যত্ন করে তোমার চিঠিগুলো রেখে দিয়েছিলাম।আজ প্রায় পাঁচ বছর পর বাসা গোছানোর সময় ব্যাগটাও নামানো হয়। চিঠিগুলো অক্ষতই আছে তবে  কিছু  চিঠির লেখা মুছে গেছে। এই পাঁচটা বছর একবারও ব্যাগটা খুলে দেখলামনা ভেবে অবাকই  হলাম।

চিন্তা করা যায় এই এক একটা চিঠি আগে কতবার করে পড়তাম। আমরা একসাথেই থাকতাম, তাও প্রতিদিন তোমার আমাকে চিঠি লিখতে হতো। পাশে তুমি আছো, তাও তোমার একটা চিঠি পাওয়ার জন্য কত আকুল থাকতাম!  তুমি মাঝে মাঝে আমাকে অবাক করার জন্য অফিসে গিয়ে চিঠি কুরিয়ার করতে। আমাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে তোমার দেওয়া উপহারটা পেয়ে আমি  কতটা আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম, মনে পড়ে? বিয়ের দিন থেকে শুরু করে এক বছর ধরে তোমার মনের অনুভূতিগুলো নিয়ে লেখা একটা ডায়েরী সেদিন আমাকে উপহার দিয়েছিলে। তাও আবার কুরিয়ার করে।   

আমাকে চিঠি লেখা যেমন তোমার নেশা ছিল তেমনি তোমার চিঠি পড়ার নেশা ছিল আমার। আমি বাসার সব কাজ শেষ করে ব্যালকনির ডিভানটায় আরাম করে বসে তোমার চিঠি পড়তাম আর  হাসতাম। 
একদিনের কথা মনে আছে? চিঠি পড়তে দেরী হয়েছিল বলে তুমি রাগ করে আমার সাথে কথা বন্ধ করে দিয়েছিলে। তুমি রাগ করে বললে  অফিসের কাজে ফাঁকি দিবনা বলে অফিস শেষে বসে তোমায় লিখি আর তোমার তা পড়ার সময় হয়না? তুমি কিছুতেই বুঝলেনা যৌথ পরিবারে সবার মন জুগিয়ে একটু সময় বের করা কতটা কঠিন। সেদিন বাড়িতে  মেহমান এসেছিল বলে এতটুকূও ফুরসৎ পাইনি। পরে অবশ্য তুমি বুঝেছিলে। ঐদিনের পর থেকে হাজার কষ্ট হলেও  চিঠি পড়া বাদ দেইনি।  আসলে চিঠিগুলো না পড়তে পারলে আমারও যে দম আঁটকে আসত।   
তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর চিঠির ব্যাগটা আঁকড়ে শুয়ে থাকতাম। তোমাকে কবরে  শুইয়ে সবাই যখন ফিরে আসল তখন আমার দিশেহারা অবস্থা। পাগলের মত এক বসায় একটা  ডায়েরী শেষ করে ফেলতাম। প্রতি রাত নির্ঘুম কাটাতাম আর তোমার চিঠি পড়তাম। যেই চিঠি আমার মনে আনন্দের বারি ঝরাত তা তোমার অনুপস্থিতে কিছুতেই আমার কষ্ট লাঘব করতে  পারছেনা। অসহায় মনে হল নিজেকে।নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছা করছিল।কিছুতেই শান্তি পাচ্ছিলামনা। চারিদিকে সব ফাঁকা লাগছিল।    

  এমনি নির্ঘুম এক রাত।জোছনার মিষ্টি আলোতে মোহময় হয়েছিল চারিদিক। সবাই ঘুমিয়ে  পড়লেও আমার কিছুতেই ঘুম আসছিলনা। ব্যালকনিতে বসে পুরানো দিনের গান শুনছিলাম। যে  গান শুনে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিয়েছি, যে গান আমার মন ভালো করার রসদ ছিল সেদিন সেই প্রিয় গানগুলোও আমার কাছে অসহ্য লাগছিল। গান বন্ধ করে চোখ বুজে বসেছিলাম। হঠাৎ পাশের বাড়ি থেকে কোরআন  তিলওয়াতের আওয়াজ কানে আসল। তখন বাজে রাত তিনিটা।  শীতের রাত তিনটা মানে গভীর রাতই বলা চলে। আমাদের ঘুরানো  বারান্দায়  থেকে পাশের বাসাটা স্পষ্ট দেখা যায়। জানালা দিয়ে তাকিয়ে এক অদ্ভুদ দৃশ্য দেখলাম। জলিল কাকার একমাত্র নাতি সবুজ নামাজে দাঁড়িয়ে মৃদু স্বরে কিরাআত পাঠ করছে আর অঝোর ধারায় তার  চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। আমাদের রাজনের বয়সি হবে ছেলেটা। জন্ম থেকে ওকে দেখছি। বাবা  মায়ের বাধ্য ছেলে। কোন বদ অভ্যাস নেই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে আদায় করে। গত বছর মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। বোধহয় পূজার ছুটিতে বাড়ি এসেছে।  ছোট বয়সে  দাড়ি রেখেছে বলে মাঝে মাঝে ওকে অপদস্ত হতে হয়। আমাদের রাজন ওকে নিয়ে কত হাসাহাসি করেছে। দোষটা আমাদেরই। আমরা ওকে  দুনিয়া শিখিয়েছি, কীভাবে সবার থেকে ভালো ফলাফল করতে হবে তা শিখিয়েছি কিন্তু কখনও ওকে একজন মুসলিম হিশাবে বড় করিনি।  তাইতো দুনিয়ার বুকে উপরে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে তোমার চলে যাওয়ার পরে এক মাসের মাথায় আমাকে একা ফেলে স্বপ্নের দেশে পাড়ি দিয়েছে। ও এখন অনেক বড় একজন গবেষক।   মাকে ফোন করার সময় নেই তার। বিয়ে করেছে। নতুন জীবন নিয়ে ভালোই আছে। আমার আবেগী কথা শোনার সময় কোথায় তার। প্রথম প্রথম খুব খারাপ লাগতো। কিন্তু এখন আমি নিজেকে বদলে ফেলেছি। 

তারপর যা বলছিলাম। সবুজকে দেখে এক অদ্ভুত ইচ্ছা জাগল আমার। আমিও অজু করে নামাজে  দাঁড়িয়ে পড়লাম। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো তখন যখন দেখলাম কোন সুরাই ঠিকমত পারিনা। ছোটবেলায় যা শিখেছিলাম তাও ভুলে গেছি। ভুলভাল সুরা দিয়ে দুই রাকআত নামাজ শেষ করলাম। কিছুটা প্রশান্তি আসলেও মনটা খচখচ করছিল। সবুজের মত কোরআন পড়ার ইচ্ছা জাগল মনে।  

 দীর্ঘদিন মলাটবদ্ধ ধূলিমলিন অবস্থায় অবহেলায় ফেলে রাখা আমার সবথেকে প্রিয় সত্ত্বার পাঠানো চিঠিটা খুলে বসলাম। পড়তে গিয়ে দেখলাম কিছুই পারিনা। আরবী না পারলেও অর্থ পড়া শুরু করলাম।যতই গভীরে যেতে থাকলাম ততই অবাক হলাম। আর দিন দিন নিজের মধ্যে একটা  প্রশান্তি অনুভব করতে লাগলাম। আবার কিছুটা লজ্জিতও হলাম।  

কোরআন শুদ্ধ করে পড়ার প্রয়োজন অনুভব করলাম। সে ব্যবস্থাও আল্লাহ্ করে দিলেন। এখন এটা আমার অনেকটা আয়ত্বে চলে এসেছে। এখন কোরআন পড়ে আমারও কান্না পায়। যখন  তোমার জন্য ব্যকুলতা অনুভূত হয় তখনই নামাজে দাঁড়িয়ে যাই।অশ্রুসজল নয়নে দুই হাত তুলে তোমার জন্য দু’আ করি, রাজনের জন্য কেঁদে ভাসাই, নিজের ও সবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর মৃত্যুর পর তোমাকে পাওয়ার আর্জি পেশ করি। 

তারপর থেকে ধীরে ধীরে এই আসমানি চিঠির সাথে সখ্যতা গড়ে উঠল।আর কমতে থাকল তোমার দেওয়া চিঠি পড়ার নেশা। নিশ্চয় তুমি রাগ করেছো। একবার ভাবোতো দুনিয়ার বুকে ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া একটা চিঠি আমাদের কাছে কত মূল্যবান।তোমার চিঠির গুরুত্ব না দিলে তোমার খারাপ লাগতো।তাহলে ভাবোতো আমাদের প্রিয় সত্ত্বা আমাদের জন্য যে চিঠি পাঠিয়েছেন তা যে আমরা অবহেলায় ফেলে রেখেছি তা কি আমদের সৃষ্টিকর্তাকে ক্রোধান্বিত করেনা? 
আমাদের এতো উদাসীনতায় আমার প্রিয় স্রষ্টা কেমন করে আমাদের উপর খুশি থাকবেন? 

তোমার প্রিয়তমাসু

সমাপ্ত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/116372/</link>
				<pubDate>Sun, 29 May 2022 13:07:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চিঠি</p>
<p>প্রিয়তমেষু   </p>
<p>অনেকদিন পর তোমার চিঠি আবার পড়লাম। আমার গোলাপী যে টিনের বাক্সটা নানুভাই আমাকে বিলেত থেকে এনে দিয়েছিল তার মধ্যে যত্ন করে তোমার চিঠিগুলো রেখে দিয়েছিলাম।আজ প্রায় পাঁচ বছর পর বাসা গোছানোর সময় ব্যাগটাও নামানো হয়। চিঠিগুলো অক্ষতই আছে তবে  কিছু  চিঠির লেখা মুছে গেছে। এই পাঁচটা বছর একবারও ব্যাগটা খুলে দেখলামনা ভেবে অবাকই  হলাম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-116372"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/116372/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">12e568b71df903f662d6ed1afeea4c2e</guid>
				<title>আমার এক আকাশ জোছনা তুমি   

ফাগুনের শীতলতা শেষে শুরু হয়েছে চৈত্রের উন্মত্ততা। চৈত্রের খরতাপে অস্থির যাপিত জীবন। মাঝে মাঝে জানান দিচ্ছে কালবৈশাখীর আগমন বার্তা। সকালের ট্রেনে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছি।    আমার খুব প্রিয় একজনের কাছে যাচ্ছি। বিদেশে পি এইচ ডি করতে যাওয়াতে পাঁচ বছর তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। দেশে ফিরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষে এক মূহুর্তও অপেক্ষা না করে ছুটে যাচ্ছি আমার জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির কাছে। সিটে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে আছি আমি।  
গরীব ভূমিহীন কৃষকের ছেলে আমি। অন্যের জমি চাষ করে মাসে মাত্র বারো থেকে চৌদ্দ হাজার টাকা আয় করতো, তা দিয়েই আমাদের সংসার চালাতো বাবা। পড়ালেখায় ভালো ছিলাম বিধায়  স্কুলের সব স্যারই আমাকে খুব পছন্দ করতেন। তবে যেই মানুষটা সবসময় আমার পাশে ছায়ার মত ছিলেন তিনি হলেন আমার সুজন স্যার। তার বলা প্রতিটা কথা আমাকে বারংবার নতুন জীবনের স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে। 
স্যার সবসময় বলতেন, ‘কখনোই নিজের অবস্থার জন্য সংকোচবোধ করবেনা। মানুষকে নয়, সব সময় আল্লাহ্‌কে খুশি করার চেষ্টা করবে। কারণ তুমি কখনই মানুষকে খুশি করতে পারবেনা।’   
বিজ্ঞানে পড়লেও কোন স্যারের কাছে পড়ার সামর্থ্য ছিলোনা আমার। স্যার একদিন আমাকে ডেকে   বললেন, ‘মাহির আমি তোমাকে পড়িয়ে আমার জ্ঞানের পরিসীমা বাড়াতে চাই।’  
কথাটা শুনে আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো উনার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। অবাক হয়ে গিয়েছিলাম উনার  শব্দচয়নে। উনি বলতে পারতেন তোমার আর্থিক সংকোটের কথা চিন্তা করে আমি তোমাকে ফ্রি পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু না, উনি আমার আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে  এতো সুন্দর করে কথাটা বলেছিলেন।  
অতীতের নানা ভাবনার মাঝে চট্টগ্রাম পৌঁছে গেলাম। বাস থেকে নেমে গ্রামের মেঠো পথ ধরে যখন হাঁটা শুরু করলাম তখন অতীত স্মৃতিগুলো আমার চোখের পাতায় ভেসে উঠতে শুরু করলো। নামাজ  পড়ার জন্য মসজিদে ঢুকলাম। ফরজ নামাজের পরে একটা জানাজার নামাজও পড়ানো হলো। নামাজ শেষে জানতে পারলাম আমি আর কেউ নয়, আমার প্রিয় সুজন স্যারের জানাজা পড়েছি। কথাটা শুনে মনে হলো কেউ যেন আমার গলা চেপে ধরেছে আর আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মসজিদে ঢোকার সময় ভেবেছিলাম স্যারের সাথে দেখা হবে, কিন্তু এমন দেখা হওয়া কাম্য ছিলোনা। পরিচিত  অনেকের সাথে দেখা হলেও কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করলোনা। কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা  খাটিয়ার কাছে চলে গেলাম। সাদা কাপড়টা সরিয়ে অপলক প্রিয় মানুষটার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ। তারপর আদবের সাথে তার কপালে একটা ভালোবাসার স্পর্শ এঁকে দিলাম। আমি নিজ হাতে তাকে কবরে নামালাম। কবর দেওয়ার পর সেখানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নিরবে চোখ ভিজিয়ে  দোয়া করলাম। তারপর স্যারের বাসার উদ্দেশে রওনা দিলাম।     
স্যারের বাসায় ঢুকে ছোটবেলার বন্ধু তুষারের সাথে দেখা হল। আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম কি দিয়ে কি হলোরে?  
আমাকে নিয়ে একটা চেয়ারে বসিয়ে ও বলা শুরু করলো। চার মাস আগে চাচীর ক্যান্সার ধরা পড়ে। উনার চিকিৎসা করতে গিয়ে স্যার ঋণের কবলে পড়ে যায়। এসময় উনি কাউকে পাশে পাননি।  এমনকি উনার একমাত্র ছেলে জুবায়েরকেও না। গত দুই বছর ধরে জুবায়ের স্যারের সাথে কোন যোগাযোগ করেনা। স্যারের মৃত্যুর একমাস আগে মেয়ে জায়নাবের স্বামী মারা যায়। মেয়ের ঘরে দুই  বছরের একটা নাতিও আছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর শ্বশুর বাড়ির লোকেরা চায়নি জায়নাব ঐ বাড়ি  থাকুক। তাই ওদের দেওয়া গহনা এবং দামী জিনিসপত্র রেখে ওকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।  চাচীকে শেষ পর্যন্ত বাচানো যায়নি। চাচী মারা যাওয়ার এক মাস পর স্যার সবার সাথে কথা বন্ধ করে দেয়। গতকাল রাতে ঘুমের মধ্যেই মারা যান উনি।   
আমি অসহায়ের মত করে বললাম, আমি একটা অপদার্থ। আমি কীভাবে এতদিন উনার খোঁজ না নিয়ে থাকলাম! পি এইচ ডি করতে ক্যানাডায় গিয়েছিলাম। বাবা মা ছাড়া আর কারোর সাথে কথা  বলা হতোনা আমার। কিন্তু তুষার, আমি কীভাবে অকৃতজ্ঞের মতো আমার জীবনে তার অবদানের  কথা ভুলে গিয়েছিলাম! আমার অবহেলার কারণে আল্লাহ্‌ আমাকে তার শেষ স্পর্শটুকু থেকেও বঞ্চিত করলো।  
অশান্ত মনে মাথা নিচু করে বসে আছি, ভেতর থেকে দুই বছরের একটা বাচ্চা এসে আমার হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে দিলো।   
এটা যে স্যারের নাতি তা বুঝতে পারলাম। ওকে কোলে বসিয়ে ওর হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে পড়া শুরু করলাম। 
প্রিয় মাহির, 
ইদানিং তোমার কথা খুব মনে পড়ছে। জানিনা আমাদের আর দেখা হবে কিনা। এই মুহুর্তে তোমাকে  আমার ভীষণ প্রয়োজন। এই কথাগুলো লিখতে গিয়ে নিজেকে খুব স্বার্থপর মনে হচ্ছে। কিন্তু আমি নিরুপায়। আমার একমাত্র ছেলেকে আমি মানুষ করতে পারিনি। ও আমদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন  করেছে। আজ তিন দিন হয় তোমার চাচী মারা গেছে। উনার চিকিৎসা করতে গিয়ে আমি কিছু ঋণ করে ফেলেছি। বিলকিসের অসুখে ওকে হারিয়ে ফেলার চিন্তায় আমি যখন মরিয়া হয়ে আছি, তখন  আমার একমাত্র মেয়ে যায়নাব বিধবা হয়ে আমার কাছে চলে আসে। সবরকম চেষ্টা করেও বিলকিসকে বাচাতে পারলামনা। আমার এই কঠিন সময়ে আমি কাউকে কাছে পাইনি বলে আমার কোন আক্ষেপ নেই কিন্তু আমার মেয়েটাকে নিয়ে আমি শঙ্কায় আছি। আমার ঋণের অংকটা লিখে  গেলাম। তুমি অনেকদিন আসোনা, তা নিয়ে আমার কোন কষ্ট নেই। কারণ আমি জানি তুমি ব্যস্ততা কমলে ঠিকই আমার কাছে ছুটে আসবে। আমার বাড়ির দলিলটা আমার মেয়ের কাছে রেখে গেলাম।  বাড়ির অর্ধেকটা বিক্রি করে ঋণটা শোধ করে দিও। বাকি অংশটাতে আমার মেয়েটা অনায়াসেই থাকতে পারবে। পারলে কাউকে বলে মেয়েটার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিও। স্বার্থপরের মতো তোমার দারস্থ হলাম কারণ তুমিই যে আমার একমাত্র ভরসাস্থল।  
তোমার সুজন স্যার  
চিঠিটা পড়ে আর কান্না ধরে রাখতে পারলামনা। আশেপাশের যারা এসেছিলো তারা সবাই চলে গেছে। আমি মুহূর্তেই একটা অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। মনে হলো স্যারের ঋণ শোধ এবং  নিজের অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে হলে এর থেকে ভালো সিদ্ধান্ত আর কি হতে পারে? তুষারকে বললাম, আমি জায়নাবকে বিয়ে করতে চাই।  
আমার কথা শুনে তুষার অবাক হয়ে বললো, তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে, নাকি মেয়ের অভাব  পড়েছে? এই পাড়া গাঁয়ের এক বাচ্চাওয়ালা বিধবা মেয়েকে বিয়ে করতে চাচ্ছিস কোন দুঃখে? এই আমাকেই দেখনা? তোর নখেরও যোগ্য না। কিন্তু বিয়ের কনেরা সব আমার জন্য লাইন ধরে  দাঁড়াতো। আমিও দেখে শুনে রূপে, গুনে ও ধনে এগিয়ে আছে এমন মেয়েকেই বিয়ে করেছি।   
আমি স্মিত হেসে বললাম, যেকোন সময় যেকোন মানুষের জন্য বিয়ে করাটা আসলেই কোন ব্যাপার  না। যাদের কাছে বিয়ে কেবল একটা সামাজিক ও শারীরিক দায়বদ্ধতা, তাদের যেকোন একটা বিয়ে করলেই চলে। কিন্তু আমার কাছে বিয়ে সামাজিক আর শারীরিক প্রয়োজনের গন্ডি পেরিয়ে একটা বড় রকমের এবাদতও বটে। যেকোন মুহূর্তেই আমি সুন্দরী, ধনী, জ্ঞানী একজন নারীকে জীবনসঙ্গী করতে   পারি। কিন্তু আমি এমন একজনকে বিয়ে করতে চাই যার আমাকে খুব দরকার। যায়নাবকে এখানে একা রাখা সম্ভব না। স্যারের ঋণ আমি কখনোই শোধ করতে পারবোনা। স্যারকে হারিয়ে আমার যে  পীড়ন হচ্ছে যায়নাবকে বিয়ে করলে তার অনেকটাই লাঘব হবে। আর তাছাড়া এতিম এবং বিধবাদের দেখাশোনার দায়িত্ব নেয়া অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ। তারপর খুব সাধাসিধে আয়োজনের মাধ্যমে আমি যায়নাবকে বিয়ে করে ঢাকায় নিয়ে আসি।    
ওকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তটা ছিলো আমার জীবনে নেওয়া সবথেকে সুন্দর এবং বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। যায়নাবকে বিয়ে করার পর আমাকে অনেকের অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে। কোন কিছুই আমি গায়ে মাখিনি। অসীম ভালোবাসার সাথে আমাদের বিবাহিত জীবনের দশ বছর পার করেছি।   
অফিস থেকে বাসায় এসে দেখলাম ছেলেমেয়েরা খেলছে। রুমে যায়নাবকে দেখতে না পেয়ে ছাদে  চলে গেলাম। রেলিঙয়ে ভর দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলো যায়নাব। কাছে গিয়ে ঘাড়ে হাত  দিতেই চমকে আমার দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। চোখের কোণে জমে থাকা পানি দেখে বুঝলাম কান্না করছিলো। আঙুলের ডগা দিয়ে পানি মুছে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, মন খারাপ কেন তোমার?  
ও আমার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে বলল, আমার মত একটা মেয়েকে বিয়ে করে আপনি যে দয়া দেখিয়েছেন, তার ঋণ আমি কখনও শোধ করতে পারবোনা।     
এক হাতে ওকে জড়িয়ে কাছে টেনে বললাম, তোমাকে দয়া দেখানোর মত সাহস কোথায় আমার? তোমাকে বিয়ে করে আমি তোমাকে নয়, আমাকে দয়া করেছি। তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষের রেখে যাওয়া আমানত, যাকে ভালোবাসা যায় , আগলে রাখা যায়, কিন্তু করুণা করা যায়না।                                                                           
তোমাকে বিয়ে করে আমি শুধু দুনিয়া না, আখিরাতের পাথেয়ও কামিয়েছি। আমার জীবনে তোমার আগমন চৈত্রের খরায় অতিষ্ট জীবনে আগত বৃষ্টির মত। শুক্লপক্ষের ঘোর অমানিশা কাটানো আমার এক আকাশ জোছনা তুমি।   
সমাপ্ত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/112821/</link>
				<pubDate>Wed, 18 May 2022 15:06:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার এক আকাশ জোছনা তুমি   </p>
<p>ফাগুনের শীতলতা শেষে শুরু হয়েছে চৈত্রের উন্মত্ততা। চৈত্রের খরতাপে অস্থির যাপিত জীবন। মাঝে মাঝে জানান দিচ্ছে কালবৈশাখীর আগমন বার্তা। সকালের ট্রেনে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছি।    আমার খুব প্রিয় একজনের কাছে যাচ্ছি। বিদেশে পি এইচ ডি করতে যাওয়াতে পাঁচ বছর তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। দেশে ফিরে কিছু গুরুত্ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-112821"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/112821/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>