<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Shah Kamal | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/kuriparahs112384/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/kuriparahs112384/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Shah Kamal.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 06 Jun 2026 23:45:05 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">feaa78f051b3520f3c869320a3a4c4f6</guid>
				<title>Shah Kamal and Rakib Rakib are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/224085/</link>
				<pubDate>Thu, 19 Dec 2024 17:21:52 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b926ed401bfd0cb8a9acaeaa0ac38e0a</guid>
				<title>হালের পদ্য
—শাহ্ কামাল

কার কাছে কই মনের কথা
সব মনে পরবাসী
স্বার্থের টানে অপবাদ আনে
নীতির গলে ফাঁসি।

যে টাকা তোমার চলার গতি
সে টাকা আনে জম,
সব টাকা তোমার ক্ষইবে শীঘ্র
ধুলিতে ধূসিবে দম।

মন্দে মন্দে কত ভালোবাসা
ভালো কিছু কী হবে?
নিজের গলে কলঙ্ক তিলক
দেখবে এ ভবে সবে।

মুখে রচিছো অমিয় বদন
হাসিছো ভদ্র বেশে,
জ্ঞানীর তন্ত্রে মজিছো মন্ত্রে
যাবে কী টেকা শেষে?

ভালো বলে যারে জেনেছে সবে
জানে কী সে ভালো কিছু?
তার চোখে শুধু স্বার্থের গান
কেন মজিছো তার পিছু?

গোয়ার গোবিন্দ বলে অনিন্দ্য
মূল্য জানে না কাজের,
নিজের মতোই অন্যকে ভাবে
ধার ধারে না লাজের।

এমনি এখন চলছে জগৎ
কিসের নিয়ম নীতি,
পিঠ বাঁচাতেই পা চাটতে হয়
মুখ জুড়ে তার গীতি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/191249/</link>
				<pubDate>Sat, 28 Jan 2023 03:09:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হালের পদ্য<br />
—শাহ্ কামাল</p>
<p>কার কাছে কই মনের কথা<br />
সব মনে পরবাসী<br />
স্বার্থের টানে অপবাদ আনে<br />
নীতির গলে ফাঁসি।</p>
<p>যে টাকা তোমার চলার গতি<br />
সে টাকা আনে জম,<br />
সব টাকা তোমার ক্ষইবে শীঘ্র<br />
ধুলিতে ধূসিবে দম।</p>
<p>মন্দে মন্দে কত ভালোবাসা<br />
ভালো কিছু কী হবে?<br />
নিজের গলে কলঙ্ক তিলক<br />
দেখবে এ ভবে সবে।</p>
<p>মুখে রচিছো অমিয় বদন<br />
হাসিছো ভদ্র বেশে,<br />
জ্ঞানীর তন্ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-191249"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/191249/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3c1d0302d1cd95dadf5b29b79b853c5e</guid>
				<title>এ হত্যা থামাও
—— শাহ্ কামাল

ধুলির গালিচায় হারালো কী জীবনের উচ্ছ্বসিত ছন্দ?
ধুলিপাতের কুয়াশায় খাবি খায় দুরন্ত প্রকৃতির গতি,
বেহুশ উপত্যকায় পড়ে থাকে ভারাক্রান্ত ফুসফুস।
ব্রঙ্কিওলের ঘুপচি এখন অণুজীবের নিরাপদ আশ্রয়
এই যে মানুষ! তারা কী তবে টাকাধারী স্বপ্নবাজের চালের গুটি?
ওরা কেন জীবনকে বাজি ধরে?
এতো এতো জীবন শেষ হলে তার মেশিনে কে ঘুরাবে চাকা?
পথের বাঁকে বাঁকে যত্রতত্র ভাগাড়; জীবন্ত ভ্রুণের বীভৎস শ্মশান।
গন্ধ! বিশ্রী একটা বিষাক্ত গন্ধ! 
যেন গলিত লাশের খসে খসে পড়া পঁচা মাংসের পোড়া গন্ধ চারিদিকে।
ওরা হত্যা করছে জীবন,
গলা টিপে টিপে অবরুদ্ধ করছে প্রজন্ম ভবিষ্যৎ,
নিঃশ্বাসের ভাঁড়ার কী ওদের কাছে ঠিকা দিয়েছে কেউ?
ডোবা, পুকুর, নদী-হ্রদ, প্রমত্ত সাগর হতে বাতাসের ঘর ওদের থাবায় ক্লান্ত।
সবুজ বনের পাখি, নদীর স্বচ্ছ জল, ডুবো-ভাসা ডলফিন, কাশের নরম ফুল তবে কী আমরা
চিড়িয়াখানা কিংবা কোন সনাতন পার্কে গিয়ে দেখবো?
ভূমি দখলের পর কী এবার পরাধীন হবে আমার ফুসফুস?
আমার প্রজন্ম কী নিজ ঘরে ছোট্ট জানলার পাশে বসে নিঃশ্বাস নিবে না?
আর কতো টাকা চাই ওদের?
রুখে দাঁড়াও জীবনের বাজিকর!
গুড়িয়ে দাও মানুষরূপী আজরাইলের গর্দান,
স্বাধীন করো বিশুদ্ধ সবুজ, স্বচ্ছ পানি, অবারিত বিশুদ্ধ বাতাস।
ওদের গলুই থামুক জীবন থেকে দূরে
নয়ত হেরে যাবে অনন্ত যৌবনা অদম্য সব নতুন জীবন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/189465/</link>
				<pubDate>Sat, 14 Jan 2023 09:11:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এ হত্যা থামাও<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>ধুলির গালিচায় হারালো কী জীবনের উচ্ছ্বসিত ছন্দ?<br />
ধুলিপাতের কুয়াশায় খাবি খায় দুরন্ত প্রকৃতির গতি,<br />
বেহুশ উপত্যকায় পড়ে থাকে ভারাক্রান্ত ফুসফুস।<br />
ব্রঙ্কিওলের ঘুপচি এখন অণুজীবের নিরাপদ আশ্রয়<br />
এই যে মানুষ! তারা কী তবে টাকাধারী স্বপ্নবাজের চালের গুটি?<br />
ওরা কেন জীবনকে বাজি ধরে?<br />
এতো এতো জীবন শেষ হলে তার মেশিনে কে ঘুরাবে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-189465"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/189465/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3ae0dabe05f231110253662e5224751c</guid>
				<title>ভ্যাম্পায়ার ও শীতের কুয়াশা
—— শাহ্ কামাল

থেঁতে এক সুখে তৃপ্ত জীবন
হাহাকারের শ্মশানে পুড়ছে স্বপ্নের সঞ্চয়।
উদরের খিদে রোজ রোজ মিটে যায়
ভগ্ন কামাইয়ের উত্তাল ঢেউ অথবা ভবিষ্যৎ চিবিয়ে চিবিয়ে।
তাপের কোন উত্তাপ নেই,
বাতাসে কেবল বিষাক্ত ভ্যাম্পায়ারের ছোবল।
ঘুমের ক্লান্ত চোখে ঘুম নেই
ভাঁড়ারের টাকায় চৌকাঠ ভরে না;
ধাপ্পাবাজ হিসেবীর কাড়ি কাড়ি তহবিলে মজুরের শ্রম।
গ্রীনহাউজের সূর্য মুখ থুবড়ে পড়ে আছে নিরুত্তাপ,
কনকনে চপেটাঘাতে রিক্সার প্যাডেল চলে না,
অজানা হরতালে থমকে আছে সবুজ প্রকৃতি,
পথের সান্ত্রী সাক্ষী হয় খবরের কাগজে।
যে শিশু জীবন বোঝে না সে বোঝে এ পৃথিবী হয়ত এমনই—
কেউ খাবে না, কেউ খাবে,
কেউ গাড়িতে চড়বে, কেউ গাড়ির দুয়ারে হাত পেতে খাবে।
কেউ রাস্তায় ধুলোমেখে শোবে, কেউ আকাশচুম্বী আলিশান অট্টালিকায়।
নিস্তেজ খড়ের বুকে দাউ দাউ আগুন জ্বলে,
বিষন্ন জীবনের ভঙ্গুর মূর্তি পাড় করে বিরূপ সময়।
জিহ্বার প্রতিবাদ কারার লৌহ কপাটে স্তব্ধ
সহ্য করার এখন ঐতিহ্য শাসনের শেকলে বন্দী,
সাহসের নিথর কফিন স্বার্থের কবরে সমাহিত নিশ্চুপ।
ক্ষমতার দাপটে শীতের বাহাদুরী নীরবে হত্যা করে দরিদ্রের শেষ চাওয়া,
ভোজবাজি শকুনের কামড়ে নিঃস্ব এখন উত্তরের শীত, বনের পাখি আর বইয়ে লেখা সাধারণ জীবন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/188113/</link>
				<pubDate>Fri, 06 Jan 2023 01:37:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভ্যাম্পায়ার ও শীতের কুয়াশা<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>থেঁতে এক সুখে তৃপ্ত জীবন<br />
হাহাকারের শ্মশানে পুড়ছে স্বপ্নের সঞ্চয়।<br />
উদরের খিদে রোজ রোজ মিটে যায়<br />
ভগ্ন কামাইয়ের উত্তাল ঢেউ অথবা ভবিষ্যৎ চিবিয়ে চিবিয়ে।<br />
তাপের কোন উত্তাপ নেই,<br />
বাতাসে কেবল বিষাক্ত ভ্যাম্পায়ারের ছোবল।<br />
ঘুমের ক্লান্ত চোখে ঘুম নেই<br />
ভাঁড়ারের টাকায় চৌকাঠ ভরে না;<br />
ধাপ্পাবাজ হিসেবীর কাড়ি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-188113"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/188113/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b5bc2baa761801ec04808772c6ebbd15</guid>
				<title>একটি বাসি ফুল অথবা তুমি
— শাহ্ কামাল 

একটি জারবারা, দুটো চকলেট,
কাগজের ঠোঙায় ঝালমুড়ি নিয়ে শেষ কবে তোমার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম, বলতে পারো?
আমার সামর্থ্যের দৈন্যতা আমায় নীরব করেছে চিরতরে
তবুও তোমার জন্য মুঠো মুঠো জমানো আবেগ এনেছি
ফুলের বোঁটায়, চকলেটের নরম মোড়কে।
শুকনো ছাতিম গাছের তলায় গন্ধরাজ হাতে
একাকী দাঁড়িয়ে ছিলাম কতো দিন,
সাহস হয়নি তোমার সামনে আসতে।
যেদিন মুচকি হেসে বলেছিলে, রোজ রোজ কার জন্য দাঁড়াও?
সেদিন নিজেকে রাজপুত্তুর ভেবে ভেবে ঘুমুতেই পারিনি আমার শান্ত বিছানায়,
তুমি আমার সাথে কথা বলেছ-
এই ভাবনাটুকু আমাকে মর্তের পৃথিবী হতে স্বর্গে নিয়ে গেছে।
যেদিন তুমি হাঁটতে হাঁটতে শিমুল গাছের নিচে আমায় ডেকেছিলে,
আমি আমার নতুন জন্ম সেদিনই অনুভব করেছি এ স্বার্থবাজ শুভ্র ধরায়।
স্নিগ্ধ বেদনার রেখা মুছে গেছে তোমার কোমল স্পর্শের টানে,
একা একা নিজেকে আবিষ্কারের মাঝে নিজের মধ্যে কাউকে আবিষ্কার করাই পরাধীন হওয়া, প্রেমে পড়া, ভালোবাসাবাসি করা।
আমি আমার আমাকে হারিয়ে তোমার দাসত্ব করে নিজেকে সঁপেছি,
নিজের অস্তিত্ব তোমার রাজপথে মিছিলে মিছিলে হারিয়েছে কবেই,
ভিতরের ছোট্ট হৃদয়টা নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে তোমার গলিতে ভালোবাসা চেয়ে মরে,
তোমার হতে হতে কারোই হতে পারিনি শেষ পর্যন্ত।
আমার হাসি তোমার বেদনায় ম্লান,
আমার কান্না তোমার স্মৃতির জলোচ্ছ্বাস মেশে,
আমার স্বাধীন ভূখন্ডে পরাজিত পাখির আর্ত চিৎকার।
তুমি কী জানো তোমাকে না পেয়ে আমি আমাকেই পাইনি?
এক টুকরো স্বচ্ছ্ব বেদনার কঠিন যন্ত্রণা আমাকে ঘিরে আছে পুরোপুরি।
আমাকে খুঁজতে গেলে আমি শুধু তোমাকেই খুঁজে পাই।
অথচ তুমি তোমার শহরে তার হাত ধরে দিব্যি ঘুরছো উপত্যকার পাড় ঘেঁষে,
আমি তোমার স্মৃতির কফিনে
আমার স্বপ্নের মমি যত্নে রেখেছি।
আমার হাত কাউকে ধরতে চায় না আর,
মৌলিক একটি  হৃদয় কিভাবে পর হয় তার
হিসেব মেলে না আমার ছেঁড়া খাতায়।
মধ্যবিত্তের সাদাসিধে গোরস্থানে দাফন হয় এভাবেই হাজারো যুবকের কামনার লাশ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/187254/</link>
				<pubDate>Mon, 02 Jan 2023 16:28:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি বাসি ফুল অথবা তুমি<br />
— শাহ্ কামাল </p>
<p>একটি জারবারা, দুটো চকলেট,<br />
কাগজের ঠোঙায় ঝালমুড়ি নিয়ে শেষ কবে তোমার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম, বলতে পারো?<br />
আমার সামর্থ্যের দৈন্যতা আমায় নীরব করেছে চিরতরে<br />
তবুও তোমার জন্য মুঠো মুঠো জমানো আবেগ এনেছি<br />
ফুলের বোঁটায়, চকলেটের নরম মোড়কে।<br />
শুকনো ছাতিম গাছের তলায় গন্ধরাজ হাতে<br />
একাকী দাঁড়িয়ে ছিলাম কতো দিন,<br />
সাহস&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-187254"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/187254/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7f8a090fe2094daba8f9bc955822df60</guid>
				<title>অভিশাপ দিলাম
—— শাহ্ কামাল

আমি তোমায় অভিশাপ দিলাম
তুমি এমন একজন “তুমি” পাবে
যে “তুমি” তে বিষাক্ত হয়ে কবল
এই আমাকেই খুঁজবে ঝলসানো
মনের উন্মুক্ত বালুচর অথবা প্রশান্ত যন্ত্রণায়

আমি তোমায় অভিশাপ দিলাম
একদিন তোমার ঘুম ভাঙবে কোন
এক বেশ্যার অভিনয়ের গোংগানি শুনে
তুমি শুধু দুরন্ত যৌবন হারাবে পড়ন্ত
কোন এক বহুগামী নর্তকীর জলসায়

আমি তোমায় অভিশাপ দিলাম
তুমিও মানবিক-নিঃস্ব হবে শীঘ্রই
কাকতাড়ুয়ার মতো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবে
কেউ তোমার খোঁজ নেবে না একাগ্রে
তুমি শুধু সাঁতরাবে ঢেউহীন একাকীত্বের মৃত-সমুদ্রে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/138398/</link>
				<pubDate>Sat, 27 Aug 2022 02:38:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অভিশাপ দিলাম<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>আমি তোমায় অভিশাপ দিলাম<br />
তুমি এমন একজন “তুমি” পাবে<br />
যে “তুমি” তে বিষাক্ত হয়ে কবল<br />
এই আমাকেই খুঁজবে ঝলসানো<br />
মনের উন্মুক্ত বালুচর অথবা প্রশান্ত যন্ত্রণায়</p>
<p>আমি তোমায় অভিশাপ দিলাম<br />
একদিন তোমার ঘুম ভাঙবে কোন<br />
এক বেশ্যার অভিনয়ের গোংগানি শুনে<br />
তুমি শুধু দুরন্ত যৌবন হারাবে পড়ন্ত<br />
কোন এক বহুগামী নর্তক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-138398"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/138398/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">59f8fde14a6bc0ccab349810ac911880</guid>
				<title>একা এবং একা
—— শাহ্ কামাল 

এন্টিলোপ ক্যানিয়নের অপার মুগ্ধতা ভাসে চোখের উপকূলে,
আমি হারাই না প্রিয়। তোমার দু’চোখ নির্ঘুম স্বপ্ন আমায় কাছে ডাকে। একা এবং একা।

শব্দহীন নিস্বর্গের প্যাংগং লেকে বিচ্ছুরিত মোহমায়া আমার নিঃশ্বাসের বারান্দায়,
আমি হারাই না প্রিয়। তোমার দু’চোখের না বলা কথা আমায় সিদ্ধ করে হিম জলে। একা এবং একা।

সালার দে ইয়ুনিতে অঝর বর্ষায় অপরূপা স্বচ্ছ বরফের আয়না আমার সন্তুষ্টির দুয়ারে উঁকি দেয়,
আমি হারাই না প্রিয়। তোমার নাড়ীর প্রতিটি স্পন্দনে আমার শিরা মহাশিরার গন্তব্য খুঁজে পাই। একা এবং একা।

বারোস আইল্যান্ডের সুনীল সমুদ্র-আকাশ আর সবুজের চির সৌন্দর্য্য আমায় নিমেষেই অবশ করে দেয়,
আমি হারাই না প্রিয়। তোমার শান্ত পদচারণায় আমি জীবনের আবহ কান পেতে শুনি। একা এবং একা।

কিউকেনহফের টিউলিপে টিউলিপে সুন্দরের কারিগর রঙ মেখে সাজে বসন্ত যৌবনে,
আমি হারাই না প্রিয়। তোমার স্বপ্নের বাসর সাজাই হৃদয়ের অফোটা কলির বোঁটা মথে মথে। একা এবং একা।

হা লং বে-র চুনাপাথর আর স্বচ্ছ পানির কোল ঘেঁষে গ্রামগুলো অবিরাম সাজে তোমার আশায়। 
আমি হারাই না প্রিয়। তোমার ঠোঁটের জল ভেজা স্পর্শ আমায় প্রদীপ্ত করে। একা এবং একা।

অরোরা’র মন ভোলানো রঙের বাহাদুরি তাবৎ পৃথিবীর যন্ত্রণার ফুলকি নেভায় মুহুর্তেই।
আমি হারাই না প্রিয়। তোমার দৃষ্টির সম্মোহন আমায় কত নগর শহর হতে নিয়ে যায় ফি ফি দ্বীপপুঞ্জ হতে পালওয়ান দ্বীপে। একা এবং একা।

পোখারার ফেওয়া লেকে কী এক মুগ্ধতায় জীবনের বেদনা ঝরে লীলার বসন্ত বসনে।
আমি হারাই না প্রিয়। তোমার প্রেমময় শিহরত সান্ত্বনা আমায় বারবার নিঃস্ব করে । একা এবং একা।

তোমায় চোখের স্নিগ্ধ বিষ আমি পান করি চিলেকোঠার গলিতে। আমি হারাই না প্রিয়। তোমার নিখুঁত অভিনয় আমায় একা করে, পরিপূর্ণ একা।

আমি বিশ্বাস হারাই, নিঃশ্বাসের অবসরে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126072/</link>
				<pubDate>Tue, 26 Jul 2022 13:53:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একা এবং একা<br />
—— শাহ্ কামাল </p>
<p>এন্টিলোপ ক্যানিয়নের অপার মুগ্ধতা ভাসে চোখের উপকূলে,<br />
আমি হারাই না প্রিয়। তোমার দু’চোখ নির্ঘুম স্বপ্ন আমায় কাছে ডাকে। একা এবং একা।</p>
<p>শব্দহীন নিস্বর্গের প্যাংগং লেকে বিচ্ছুরিত মোহমায়া আমার নিঃশ্বাসের বারান্দায়,<br />
আমি হারাই না প্রিয়। তোমার দু’চোখের না বলা কথা আমায় সিদ্ধ করে হিম জলে। একা এবং একা।</p>
<p>সালার দে ইয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-126072"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/126072/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0259baf2af191316bc3a46c8a28ebebf</guid>
				<title>ইচ্ছে ছিলো
—শাহ্ কামাল 

ইচ্ছে ছিল দু’হাত ধরে
শিশির ভোরে হাঁটবো
নরম ঘাসে তোমার পাশে
মন ছুঁয়ে বসবো

গরম কাপে দু’জন ভাঁপে
এক চুমুকে ভাসবো
চোখে চোখে মন হারিয়ে
দু’জন কাছে আসবো

মনের চাওয়া দেহের পাওয়া
তোমার সাথেই থাকবো
ঝিনুক যেমন মুক্তো লুকোয়
তেমনি তোমায় রাখবো

বলুক লোকে মুখে মুখে
তোমায় নিয়ে যা বলার
তুমি আমার হৃদয় পথে
এক সারথি পথ চলার

যেদিন আমি হারিয়ে যাব
থাকবো তোমার থাকবো
হয়ত কেহ রবে পাশে
দূর হতে এই আমি যে ডাকবো

হবে না কেউ আমার মতো
বুঝবে সেদিন বুঝবে
আমিই শুধু তোমার ছিলাম
খুঁজবে আমায় খুঁজবে

ভেলায় ভেসে হেসে হেসে
তোমার সাথে ভাসবো
তোমার ঠোঁটে ঠোঁট মাড়িয়ে
তোমার কাছে আসবো</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/113523/</link>
				<pubDate>Fri, 20 May 2022 22:19:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ইচ্ছে ছিলো<br />
—শাহ্ কামাল </p>
<p>ইচ্ছে ছিল দু’হাত ধরে<br />
শিশির ভোরে হাঁটবো<br />
নরম ঘাসে তোমার পাশে<br />
মন ছুঁয়ে বসবো</p>
<p>গরম কাপে দু’জন ভাঁপে<br />
এক চুমুকে ভাসবো<br />
চোখে চোখে মন হারিয়ে<br />
দু’জন কাছে আসবো</p>
<p>মনের চাওয়া দেহের পাওয়া<br />
তোমার সাথেই থাকবো<br />
ঝিনুক যেমন মুক্তো লুকোয়<br />
তেমনি তোমায় রাখবো</p>
<p>বলুক লোকে মুখে মুখে<br />
তোমায় নিয়ে যা বলার<br />
তুমি আমার হৃদয় পথে<br />
এক সারথি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-113523"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/113523/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f5f241f3ca7d4ae4c78704d88a5e427b</guid>
				<title>পরিবর্তন
—— শাহ্ কামাল

তামাটে শরীরের নোনা গন্ধ সবাই শুনতে পায়, নিমেষে, সহজেই, অবাধে
ভেতরের নক্ষত্র ঝল ঝল করে জ্বলে ধপ করে নিভে গেলে তার শব্দ কেউ কী শুনতে পায়?

আজকাল শরীরের লেনদেন বড্ডো সহজ, রুচির বদলে বদলে যায় মগজের বোঝা
ক্ষণিকের ক্লান্ত-সফেদ অনুভূতি শ্রান্তি চায় যেভাবেই হোক

ভোরের যাত্রীরা থেমে নেই, চলছে অবিরাম যাত্রা দূর পথে অজানায়, অনন্তপুর
সুখ কী আর সস্তায় বিকোয়? হয়ত কচকচা টাকা অথবা দেহের জোরে কোমরের তাগদে

পছন্দ কিংবা মনের পারাপারে এখন জীবনের হিসেব মিলে না খসড়ায়
শিরা-ধমনীর দগ্ধ চিতায় বোধের বিসর্জনে কত মন দেউলিয়া হয় পরকীয়ার নিলামে
ঘুমোট বিবেক আবছা আলোয় ভুলে যায় রাত আর দিনের তফাৎ

দেহের চাওয়ার কাছে মনের চাওয়া পরাজিত হয় কাছে আর দূরের ব্যবধানে,
ভালবাসা আর মোহের বাজারে বিশ্বাস বড়ো সস্তায় বিকিকিনি হয়; সময়, অসময়ে

নর্তকীর দহলিজে খদ্দেরের আনাগোনা কম, একেকটা শরীর এখন নর্তকীর বালাখানা
জীবনের জলসা ঘরে হতাশার গর্ভবতী কিছু আহত প্রাণ নিঃশব্দে ঝরে যায়

কয়েক ফোঁটা নোনতা জলের অত্যাচার অথবা তৃপ্তিতে কেউ কেউ হয়ে যায় প্রাক্তন
কেউ আবার তাসবীহর দানা গুনে ভুলে অ-পাওয়ার বেদনা, তার শুধু হৃদয় পোড়ে চাপা যন্ত্রণার রোষে

সুখ পেতে পেতে ডাস্টবিনে জমে যায় দু’দেহের ব্যবধান অথবা প্রণয়ের অবশিষ্ট, 
শরীরের ভাষার কাছে আজকাল মনের দাবির স্মারকলিপি অসহায়, মূল্যহীন

হিসেবে হিসেবে চামড়ার ভাঁজ ঢিলে হলে পরে মনের ভাঁজে আর মিল ধরে না
চোখের জল নাবে নীরবে, বোধের পঞ্জিকায় নিথর স্মৃতির লাশ অপেক্ষায় থাকে চিতা অথবা দাফনের যাত্রী হয়ে
মনের চন্দন গড়া হৃৎপিন্ডের পোড়া গন্ধ বাস ছাড়ে না, শেষ করে দেয় দেহ, আস্ত একটা শরীরে বাস করা আগামী….</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/112397/</link>
				<pubDate>Tue, 17 May 2022 22:55:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পরিবর্তন<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>তামাটে শরীরের নোনা গন্ধ সবাই শুনতে পায়, নিমেষে, সহজেই, অবাধে<br />
ভেতরের নক্ষত্র ঝল ঝল করে জ্বলে ধপ করে নিভে গেলে তার শব্দ কেউ কী শুনতে পায়?</p>
<p>আজকাল শরীরের লেনদেন বড্ডো সহজ, রুচির বদলে বদলে যায় মগজের বোঝা<br />
ক্ষণিকের ক্লান্ত-সফেদ অনুভূতি শ্রান্তি চায় যেভাবেই হোক</p>
<p>ভোরের যাত্রীরা থেমে নেই, চলছে অবিরাম যাত্রা দূর পথে অজানায়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-112397"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/112397/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fbb86bfe0bbb17ec876af5a8bb5117c8</guid>
				<title>ইথারের প্রিয়জন
— শাহ্ কামাল

চেনা নাই জানা নাই কোনখানে বাড়ি?
পথপানে চেয়ে থাকি শুধু আমি তাঁরই
রক্তে আপন নয়, বাঁধনেও হারা
ভাল যে লাগে না মোর, শুধু তারে ছাড়া
ইথারের টানে টানে শুধু কথা হয়
এইটুকু ওছিলাতে তাঁর পরিচয়
সে জানে না আমারে, আমিও তো না
অচেনা সে প্রাণ কেন লাগছে চেনা?
কবে তুমি হেঁটেছিলে এ আমার পথে?
কখনো কি চড়েছিলে দুজনায় রথে?
তবে কেন চেনা লাগে, খুঁজি বারে বার
মাঝে মাঝে মনেহয় সে শুধু আমার।
হাত ধরে কতো হাঁটি অলীক কল্পনায়
তাঁর ছবি আঁকি শুধু মোর আলপনায়</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/99980/</link>
				<pubDate>Sat, 05 Mar 2022 23:34:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ইথারের প্রিয়জন<br />
— শাহ্ কামাল</p>
<p>চেনা নাই জানা নাই কোনখানে বাড়ি?<br />
পথপানে চেয়ে থাকি শুধু আমি তাঁরই<br />
রক্তে আপন নয়, বাঁধনেও হারা<br />
ভাল যে লাগে না মোর, শুধু তারে ছাড়া<br />
ইথারের টানে টানে শুধু কথা হয়<br />
এইটুকু ওছিলাতে তাঁর পরিচয়<br />
সে জানে না আমারে, আমিও তো না<br />
অচেনা সে প্রাণ কেন লাগছে চেনা?<br />
কবে তুমি হেঁটেছিলে এ আমার পথে?<br />
কখনো কি চড়েছিলে দুজনায় রথে?<br />
তবে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-99980"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/99980/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1de0d35d7991991b5f9eff9606851d14</guid>
				<title>মহার্ঘ
— শাহ্ কামাল 

ওপাড়ার মজিদের ছোট্ট মেয়েটা কী স্কুলে যায়?
নাকি ছেড়ে দিয়েছে বাজার দরে বেচাকেনার শিক্ষা?
ঘড়ির কাঁটায় সময় মেপে যে মাস্টার মশায় রোজ রোজ স্কুলে আসতো
তিনি কী এখনো মানুষের ছেলেপুলে নিয়ে জীবনের গল্প বেচে কাগুজে মুদ্রায়?
নাকি তিনি ফেরী করে সবজি বেচেন ভ্যানের চাকায় ভর করে হেঁকে হেঁকে?
কমর আলী খক খক করে কাশতে কাশতে বিকেলে কী বালুর মাঠে বাদাম বেচতে আসে?
নাকি ফুসফুসের অণুজীব তাঁর কপাল খেয়েছে রক্ত শুষে?
আবুল মাঝির নায়ে উঠে কী বসার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয় আগের মতোই?
নাকি মানুষের ভীর কমে মুদ্রার হিসাব মিশে গেছে আবোল তাবোল খসড়ায়?
ময়নার মা কী শেষ বিকেলে ভিক্ষের টাকা গুনে হাসি মুখে ঝুপড়িতে ফেরে?
নাকি ছেঁড়া আঁচলের পাড় টেনে চোখের জল মুছে শুয়ে পড়ে আধ- পেটে?
মোল্লা বাড়ির বড় মেয়েটা পড়ার খরচ যোগাতে এখনো কী টিউশনি করে?
নাকি লোকেদের আর পড়ার দরকার হয় হয় না একটি সার্টিফিকেট কিনতে?
ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে এখনো কী মান্তির চাঁদা চায় পথের পুলিশ?
নাকি ছেড়ে দেয় যানজটে নিজের সম্মান বাড়াতে ফেসবুকের পাতায়?
ইটের পরে ইট গেঁথে শহরের বাড়িগুলো কী এখনো বাড়ে আকাশের দিকে?
নাকি থেমে গেছে কংক্রীটের চিৎকারে উল্লাসের নগ্ন আস্ফালন?
সব চলছে, সবাই চলছে, থেমে গেছে জীবনের তীব্র গতি চুপ থেকে থেকে
একজন পুরুষ আর দায়বদ্ধ নারী জানে করোনার থাবা কতো নির্মমভাবে
হত্যা করেছে এককেটা জীবন।
একটা জীবন্ত দেহ একটা লাশের মতো চুপ হয়ে সহ্য করে মূল্যবৃদ্ধির অত্যাচার,
ক্রমেই পকেটগুলো শূন্য হয়ে নতুন সভ্যতার সাক্ষী হয় নীরবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/98957/</link>
				<pubDate>Sat, 26 Feb 2022 00:36:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মহার্ঘ<br />
— শাহ্ কামাল </p>
<p>ওপাড়ার মজিদের ছোট্ট মেয়েটা কী স্কুলে যায়?<br />
নাকি ছেড়ে দিয়েছে বাজার দরে বেচাকেনার শিক্ষা?<br />
ঘড়ির কাঁটায় সময় মেপে যে মাস্টার মশায় রোজ রোজ স্কুলে আসতো<br />
তিনি কী এখনো মানুষের ছেলেপুলে নিয়ে জীবনের গল্প বেচে কাগুজে মুদ্রায়?<br />
নাকি তিনি ফেরী করে সবজি বেচেন ভ্যানের চাকায় ভর করে হেঁকে হেঁকে?<br />
কমর আলী খক খক করে কাশত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-98957"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/98957/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">eb2f860670342a605611fd88d461591b</guid>
				<title>আমি একা রই
— শাহ্ কামাল

সব নীরবতা শেষে আমি হাঁটব নক্ষত্রের তলে
হেলেঞ্চায় ওস ঝরে মিলাবে নীরবে শ্যাওলা জলে
কোন এক পুকুর পাড়ে ভেজাবো আমার এ নিথর হাত
অস্তাচলের ক্লান্ত মোহনায় ভেসে যাবে যাক গ্রহণের রাত
বাসরে রোমাঞ্চের হাসি আমি কান পেতে শুনে দেখবো চেয়ে
নেবে যাবে হাঁটু জলে ষোড়শী কুমারী কে তারে দেখবে নেয়ে
সব পিপাসার জল তৃষ্ণার হাটে বিকাবে জল দরে পসরায়
আমি দূর হতে বসে দিন গুনে প্রতীক্ষায় রবো কোন এক বরষায়
কোষা নায়ে শাপলার ফুল গাইবে না গান, ঝরবে কেবল অশ্রুবারি
হৃদয়ে ব্যবচ্ছেদ হবে প্রাপ্তির লাশ, ক্ষয়ে যাবে অক্ষয় তরবারি
না ফুটুক ফুল আর ঝরুক স্বপ্নের মিছে মায়াজাল
তুমি হীন সমুদ্রে ভীষণ নোনা, দুঃখ-মায়া চির উত্তাল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/98866/</link>
				<pubDate>Fri, 25 Feb 2022 05:02:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমি একা রই<br />
— শাহ্ কামাল</p>
<p>সব নীরবতা শেষে আমি হাঁটব নক্ষত্রের তলে<br />
হেলেঞ্চায় ওস ঝরে মিলাবে নীরবে শ্যাওলা জলে<br />
কোন এক পুকুর পাড়ে ভেজাবো আমার এ নিথর হাত<br />
অস্তাচলের ক্লান্ত মোহনায় ভেসে যাবে যাক গ্রহণের রাত<br />
বাসরে রোমাঞ্চের হাসি আমি কান পেতে শুনে দেখবো চেয়ে<br />
নেবে যাবে হাঁটু জলে ষোড়শী কুমারী কে তারে দেখবে নেয়ে<br />
সব পিপাসার জল তৃষ্ণার হাটে বিকাবে জল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-98866"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/98866/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8560ed8f102aa3173acb6497c8c2a3c5</guid>
				<title>চল বাঙালি হই
- শাহ্ কামাল

ইংরেজ হতে ভূমিষ্ঠ পাকি’র দ্বৈত সত্তা সীমান্তের বেড়া ঠেলেঠুলে
কী চেয়েছিল?
কাঠ ঠোকরার ঠক ঠক হতে চাষীর ফলায় যে বাঙাল ধ্বনি
ওরা কী তা হত্যা করতে চেয়েছিল?
হাজার বছরের বাংলা ভাষাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে
ওরা কী চেয়েছিল?
মাথা নোয়াবার সংস্কৃতি ভুলে, অদম্য যুবার রক্ত ঢেলে যে বাঙালি সাম্যের গান গায়,
তারে কী জোর করে উর্দুভাষী-আরব বানানো যায়?
টুটি চেপে গর্দানে পা দিয়ে ওরা বাংলা ভুলাতে চেয়েছিল,
ইংরেজ প্রভুদের দিন শেষে কায়েমী স্বার্থ হাসিলে ওরা মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল।
পদ্মা, মেঘনার রূপোলী ঢেউয়ের বাঙাল স্পন্দন হত্যা করতে চেয়েছিল,
শাপলার মুচকি হাসি, দোয়েলের শিস, মাছরাঙার সুখের স্বপ্ন কেড়ে নিতে চেয়েছিল,
ডাহুকের কান্না, অবুঝ শিশুর না বলা কথা গলা টিপে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল ওরা।
পারেনি,
ওরা কবিতার স্লোগান থামাতে পারেনি,
রাজপতে একশো চুয়াল্লিশ দিয়ে শাসন করতে পেরেছে এদেশের দামাল ছেলেদের?
রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরের বুকের তাজা রক্তে থামেনি পাষাণের গুলির শব্দ;
রিক্সাচালক আউয়াল আর ছোট্ট অলিউল্লাহ মানেনি বাঁধন,
অশুভ হায়েনার হাতে ঝরেছে রক্ত; বর্ণমালার সীমান্ত ওরা বিধ্বস্ত হতে দেয়নি,
নগ্ন পায়ঁতারার কাছে হারেনি এ বাংলার তরুণ-যুবা।
রক্তে কেনা একুশের চেতনায় পেয়েছি স্বাধীন পতাকা,
সত্তর বছর পরেও পথ হতে পথের প্রান্তে, অলি গলি আর বড় বাজারের দোকান ঘরের কতো হরেক নাম;
বিদেশী বর্ণমালায়।
প্রভাতফেরীর উদোম পা হতে মগজের অস্তিত্বে তবে কী ভিন-ভাষার ঝনঝনানি!
কেন আদালতের রায়ের পাতায় এখনো চলছে দাপুটে ইংরেজি?
লেবাস ছিঁড়ে কেন বাংলা ভাষার চাদর পরে হাঁটি না নদী পাড়ের বাঙাল পথে, মেঠো পথে?
অনন্ত স্বপ্নগুলো বাংলায় লিখে কেউ গেঁয়ো হয় না,
মাতৃভূমির বুকে হেঁটে অন্যের হাত ধরে ছলম বদলানো দেশভোলা মীর জাফরের শিরায় শিরায় গেঁয়োর গন্ধ।
ছক কাটা সূচি ধরে বছরে একবার বাঙালি না হয়ে
রোজ রোজ বাঙালি হবো  স্নিগ্ধ চাঁদের আলোয় বাঁশ বাগানে,
অথবা ধান খেতের আলে, নাহয় শত নদী পাড়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/98534/</link>
				<pubDate>Tue, 22 Feb 2022 12:49:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চল বাঙালি হই<br />
&#8211; শাহ্ কামাল</p>
<p>ইংরেজ হতে ভূমিষ্ঠ পাকি’র দ্বৈত সত্তা সীমান্তের বেড়া ঠেলেঠুলে<br />
কী চেয়েছিল?<br />
কাঠ ঠোকরার ঠক ঠক হতে চাষীর ফলায় যে বাঙাল ধ্বনি<br />
ওরা কী তা হত্যা করতে চেয়েছিল?<br />
হাজার বছরের বাংলা ভাষাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে<br />
ওরা কী চেয়েছিল?<br />
মাথা নোয়াবার সংস্কৃতি ভুলে, অদম্য যুবার রক্ত ঢেলে যে বাঙালি সাম্যের গান গায়,<br />
তারে কী জোর করে উর্দুভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-98534"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/98534/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">31b7338457cd8abe384e15a0068b5a92</guid>
				<title>আবার উঠুক রৌদ্র

—শাহ্ কামাল 

যে ফুল ফুটেছে শত সংগ্রাম শেষে তাঁর গন্ধে কী আমার অস্তিত্ত্ব টের পাও, বন্ধু?

একটি লেবু ফুলের পাকানো পাপড়িতে কতো বেদনার লিপি চিৎকার করে জান?

অমবস্যায় কোন এক গহীন নিশার ঘোর স্বপ্নের পথে হেঁটে হেঁটে হাস্না হেনার কান্নার শব্দ শুনেছ?

গন্ধরাজের চোখ বেয়ে গড়াতে দেখেছ নিষ্প্রাণ অশ্রুর অভিশাপ কিংবা তিরষ্কার?

দেখনি, তুমি দেখেছ হাজার প্রাণ; যেখানে মৃতরা কেঁদেছে জীবন্ত লাশের ছায়ার ক্যানভাসে।

মধ্যবিত্ত নম্র একটি ছেলে হাওয়ায় ভাসা স্বপ্নগুলো সোনামুখী সুইয়ে সেলাই করে জোড়া দিতে দিতে
ভাড়ার টাকা জমিয়ে প্রিয়ার জন্য যে গোলাপ কিনেছে তা কী ঝরতে দেখেছ, বন্ধু?

আধ-পেটা খেয়ে বড় হওয়া মেয়ে একটু ভালবাসা পেতে যে স্বপ্ন গড়েছে কারো ঘরে আলো ফোটাতে
প্রাগৈতিহাসিক জন্তুর হিংস্র থাবায় পরিত্যাক্ত কোন দালানের ভগ্ন পাঁচিলে তাঁর বাঁচার আকুতি মিশে গেছে পলেস্তারের ঝুলে

বন্ধু, তাঁর আহত মনের নির্বাক ভাষা কত নির্মম তা কী বুঝতে পারো?

একটি বোধ আর স্বার্থহীন স্বচ্ছ একটু মানবতা তুমি কী দিতে পার আমায়?

তোমায় কথা দিলাম,
তোমার মানবতার নতুন পতাকায় আমি মুড়িয়ে দেবো বিবস্ত্র বিবেকের নিষ্ঠুর কঙ্কাল।
আমার বারান্দার খোলা জানালায় আমি দাঁড়িয়ে আছি তোমার অপেক্ষায়..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/97992/</link>
				<pubDate>Fri, 18 Feb 2022 01:55:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আবার উঠুক রৌদ্র</p>
<p>—শাহ্ কামাল </p>
<p>যে ফুল ফুটেছে শত সংগ্রাম শেষে তাঁর গন্ধে কী আমার অস্তিত্ত্ব টের পাও, বন্ধু?</p>
<p>একটি লেবু ফুলের পাকানো পাপড়িতে কতো বেদনার লিপি চিৎকার করে জান?</p>
<p>অমবস্যায় কোন এক গহীন নিশার ঘোর স্বপ্নের পথে হেঁটে হেঁটে হাস্না হেনার কান্নার শব্দ শুনেছ?</p>
<p>গন্ধরাজের চোখ বেয়ে গড়াতে দেখেছ নিষ্প্রাণ অশ্রুর অভিশাপ কিংবা তিরষ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-97992"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/97992/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8fd3fa109c08f1f5c63ff4a5c99ae327</guid>
				<title>বোধ অথবা নির্বোধের কাব্য
— শাহ্ কামাল 

মোল্লা বাড়ির ছোট ছেলেটা ক্লাস থ্রি হতে এবার সিক্সে ভর্তি হয়েছে হাই ইশকুলে,
দফায় দফায় লকডাউনে মাথার মগজে বিদ্যে না ঢুকলেও শরীরের পুষ্টি তাকে ভালোই রেখেছে,
সেদিন জিগ্যেস করেছিলাম, বলো তো আমাদের জাতীয় কবির নাম কী?
একটুও না ভেবে হর হর করে বলে দিলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
তাঁর এ উত্তরে আমি অবাক হইনি।
বঙ্গবন্ধু কবি, তবে রাজনীতির।
ছেলেটার মগজে যে গেল দু বছর স্কুলের পাঠ ঢুকেনি তা দিব্যি ভুলে ছিলাম।
প্রাইভেট স্যার গুনে গুনে কড়কড়া নোট নিয়ে দু’চার লাইন শিখিয়েছে বটে;
তবে তা পকেটে আর কান পর্যন্ত আওয়াজ তুলেছে।
কচি কচি মুখগুলো ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকর্তা হবে বলে
তাদের জীবন সুরক্ষায় বছরের পর বছর জুড়ে লক ডাউনের রক্ষা নীতি,
তবে স্বাস্থ্যবিধির লাগার ধরে ঘরে বসে নেই কেউ,
মাঠ, হাট, বাজার, পার্ক আর সর্বত্রই যেখানে নীতির শ্রাদ্ধ সেখানে কোন সমস্যা নেই;
সমস্যা হলো গিয়ে মাষ্টারবাবুদের নীতি ঘরে,
যেখানে থাকলেই ওরা ভাল থাকতো।
অনলাইন অফলাইন করে করে শিশুরা যে বই-পত্তর ভুলে কতো লাইনের দরজা খুলেছে তার হিসেবের ফিরিস্তি নেই,
ইশকুল বন্ধের দেদার নোটিশ জমতে জমতে মগজের খিলে ঝং ধরছে দিনকে দিন।
চার পাঁচা ছাব্বিশ হয় বলে বলে নামতা পড়ছিলাম সেই দিন
সিক্সে উঠা কচি কাচারাও ছাব্বিশ বলে বলেই চেঁচাচ্ছিল,
আমি ভাবলাম ধমকে কী আর শিক্ষে হবে?
ওদের কী আর দোষ! প্রজন্মের মূর্খতা কী কারো দায়ে পড়ে?
মাঝি মাল্লা আর তাঁতী মুটেরা কী দেশ চালাতে পারবে না?
বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ক’জন্ম নাহয় চাষ হবে মুলো আর লালশাক!
ক্ষমতার নীতির কাছে জীবনের নীতির কোন মূল্য আছে?
সময় গুনে টাকার দরে কেজি আর গ্রামে শিক্ষা এখন বিক্রি হয় চার দেয়াল হতে অনলাইনে!
কত চাই! সাদা কাগজে কালো কালির ব্যথার চিৎকারে যে সার্টিফিকেট তাতে মানুষ হবার কথা তো আর লেখা থাকবে না,
চাকরী বাজারে তার চেয়ে ঢের দাম কাগুজে নোটের,
সার্টিফিকেটে অক্ষরের কান্না চুপসে যাবে টাকার নোটের কোণায় লেখা সংখ্যার ভারে,
নীরবে নীতির দেনা বেড়ে যাবে কোন এক দিন জাতির ঘাড়ে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/95798/</link>
				<pubDate>Sat, 05 Feb 2022 02:02:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বোধ অথবা নির্বোধের কাব্য<br />
— শাহ্ কামাল </p>
<p>মোল্লা বাড়ির ছোট ছেলেটা ক্লাস থ্রি হতে এবার সিক্সে ভর্তি হয়েছে হাই ইশকুলে,<br />
দফায় দফায় লকডাউনে মাথার মগজে বিদ্যে না ঢুকলেও শরীরের পুষ্টি তাকে ভালোই রেখেছে,<br />
সেদিন জিগ্যেস করেছিলাম, বলো তো আমাদের জাতীয় কবির নাম কী?<br />
একটুও না ভেবে হর হর করে বলে দিলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,<br />
তাঁর এ উ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-95798"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/95798/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cbbb929e6e8293c2d22233a1a0cb53a7</guid>
				<title>আমি তারে ভালবাসি
—— শাহ্ কামাল

তারে আমি ভালবাসি বলে দিও
গ্রহ নক্ষত্রের সীমান্তে তাঁর হৃদ-মধ্য ছবি এঁকেছি
রাতের স্তব্ধ নীরবতাকেও বলে দিয়েছি
ভোরের শিশির কিংবা ফাগুনের ঝরাপাতাও জানে
আমি তারে ভালবাসি। সে আমার বর্তমান, সে অতীত, সে আমার আজীবন সম্ভাবনা
ঝড়ো হাওয়া বেল পাতা অথবা দূরের তারার কান্নায়
আমি চিৎকার করে বলেছি,
আমি তারে ভালবাসি।
জ্বলন্ত অঙ্গারে ঝলসানো হৃৎপিন্ডের খড়কুটো জ্বলতে জ্বলতে বলেছিল,
আমি তারে ভালবাসি
সহস্র অভিমান পুষুক সে চার দেয়ালে
ভাবুক হাজার অবলা সংলাপ কিংবা ভাবনারা গর্ভাশয়ে বাড়ুক অগোচরে।
তবু তারে বলে দিও শীতের বাতাস,
আমি তারে ভালবাসি
আমি তারে রোজ রোজ ভালবাসি
আমি তারে অনন্তকাল ভালবাসি
কদম বনের জোড়া শালিক, দোলনচাঁপার শুভ্র পাপাড়ি অথবা
ছাতিমের ঘ্রাণ মন ভরে উচ্ছ্বাস নিয়ে তারে বলে দিও,
আমি মরতে মরতে তারে ভালবাসি
এই বুকে যতটুকু জমি  পুরোটাই তাঁর প্রেমের বীজে উর্বর জনপদ, 
হোক সে দূরের, হোক সে কাছের
দেখা হলে তাঁর সাথে বলে দিও কুয়াশা মেয়ে,
আমি তারে ভালবেসেই ভালবাসি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92391/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Jan 2022 13:47:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমি তারে ভালবাসি<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>তারে আমি ভালবাসি বলে দিও<br />
গ্রহ নক্ষত্রের সীমান্তে তাঁর হৃদ-মধ্য ছবি এঁকেছি<br />
রাতের স্তব্ধ নীরবতাকেও বলে দিয়েছি<br />
ভোরের শিশির কিংবা ফাগুনের ঝরাপাতাও জানে<br />
আমি তারে ভালবাসি। সে আমার বর্তমান, সে অতীত, সে আমার আজীবন সম্ভাবনা<br />
ঝড়ো হাওয়া বেল পাতা অথবা দূরের তারার কান্নায়<br />
আমি চিৎকার করে বলেছি,<br />
আমি তারে ভালবাসি।<br />
জ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-92391"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/92391/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">195b6efd2e44f28cbe3d5ced5d3a0a6e</guid>
				<title>সহ্য করার সময়
—— শাহ্ কামাল

মাস মাইনের টাকাগুলো বাড়ি আসতে চায় না
মুদির দোকানে ধার দেনা শোধ করে কতোই বা থাকে,
মাছ-মাংসের জমিদার পল্লীতে মেলা দিন যাওয়া হয় না,
গয়লার দুধ গোহালে পুষ্টি বিক্রি হলেও তা আর ঘর পর্যন্ত আসে না,
মাঝে মধ্যে পোল্ট্রি মুরগির দু’চারটা ডিম খাওয়া হয়;
ক্ষয় হওয়া আমিষ পূরণ হবার আগেই দেহের শক্তি বিরামহীন ক্যালরি অপচয় করে ভাড়ার বোঝা হালকা কমাতে।
ছেলে মেয়ে মাংসের কথা বললেও সব সময় হয়ে ওঠে না,
একটা সময় ব্রয়লারে অনীহা থাকলেও পকেটের সীমান্তে ছিট মহলের চাপে এখন সব খাওয়া হয় অলিখিত রুটিনে।
বোধের কঙ্কালে বেদনার জেরক্স বার বার ছিঁড়ে যায় পেটের হিসাব মাথায় মেলাতে মেলাতে,
ভিনেগারে বিবেক চুবিয়ে কত দিন রাখলে অন্যের বিবেক জাগ্রত হবে একটু সুস্থ্য চিন্তা করতে?
জীবনভর শুনেছি মধ্যবিত্ত মুখ বুজে সব সহ্য করে; বুক ফাটে তো মুখ ফাটে না।
এখন সবাই মুখ বন্ধ করে শুধু দেখে,
সবাই কী মধ্যবিত্ত হয়ে গেল নাকি মধ্যচিত্তের চাপে বোবা দর্শক?
যারা কথা বলে তারা কী উচ্চ বিত্তের ভদ্র লোক নাকি নিম্নবিত্তের উদ্বাস্তু?
সময়ের তীব্র চাপে, বাজারের ঊর্ধ্বতাপে আমি নীরব হয়ে গুনি আর ক দিন গেলে মাস মাইনে পাব,
গত মাসে একটা ওষুধ আনা হয়নি, এবার অন্যটা বাদ দিয়ে সমন্বয় করতে হবে তো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/90384/</link>
				<pubDate>Sat, 15 Jan 2022 18:23:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সহ্য করার সময়<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>মাস মাইনের টাকাগুলো বাড়ি আসতে চায় না<br />
মুদির দোকানে ধার দেনা শোধ করে কতোই বা থাকে,<br />
মাছ-মাংসের জমিদার পল্লীতে মেলা দিন যাওয়া হয় না,<br />
গয়লার দুধ গোহালে পুষ্টি বিক্রি হলেও তা আর ঘর পর্যন্ত আসে না,<br />
মাঝে মধ্যে পোল্ট্রি মুরগির দু’চারটা ডিম খাওয়া হয়;<br />
ক্ষয় হওয়া আমিষ পূরণ হবার আগেই দেহের শক্তি বিরামহীন ক্যালরি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-90384"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/90384/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e939cbc0613cfb2d83f3ba831ea457ac</guid>
				<title>জীবন চলছে
—— শাহ্ কামাল

জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
সরকারি হাসপাতালের তেল চিট চিটে শয্যায় জীবন যুদ্ধে পা হারানো সবুর আলী আবার ব্যস্ত রাস্তায় বাদাম বিক্রি করবে বলে দাঁড়াতে চায়।
রুনু খালা গলির মোড়ে পলি মোড়ানো ঝুপড়িতে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায়,
শাড়ির ছেঁড়া আঁচলে চুলের খোপাটা বের হয়ে থাকলেও একটা নতুন শাড়ি কিনে না;
ছোট ছেলের পড়ার মাইনে শোধ করবে বলে।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
লেকু মাঝি নৌকায় বসে যৌবনের দিনগুলো পার করেছে,
খক খক করে কাশতে কাশতে রক্ত বেরুলেও থামে না তাঁর বৈঠা,
ভাঙা পাটাতনের নৌকার গলুই সামনেই চলে বিরামহীন;
ধার দেনা শোধ না হলে খাওয়ার দেনা বোঝা বইবে অনন্তকালের।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
বড় বাবুদের মাছ কেটে পেটি আর ফুসফুস রেখে দেয়া জমির মিয়া তা বেচেই জীবিকার বন্দোবস্ত করে রোজ রোজ;
বটির ধারে জীবনের স্বপ্ন তাঁর কাছে আরো ধারালো, মিশে থাকে স্বপ্নময় মগজে।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শুক্কুরবী কাঁপতে কাঁপতে লাঠি ভর করে এখনো আসে সভ্য পাড়ার দুয়ারে দুয়ারে;
দু’ছেলে বিয়ে করে সংসার পেতে সংসারী হয়েছে ভব-তল্লাটে।
মায়ের ভার তাঁর কাছে অনেক বেশি,
সংসারে সবগুলো মুখে খাবার তুলে দিতে তাঁর কষ্ট না হলেও
মায়ের উদরের কথা তাঁর মনে পড়ে না,
তাকে জন্ম দিয়ে যে উদর শূন্য হয়েছে তা পূর্ণ করার দায় বিধাতার!
তাঁর দায় স্বপ্ন ছোঁয়, অবরুদ্ধ বিবেক না।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
জীবনভর বিদ্যে-বেচা মাষ্টারবাবু অবসরের পরেও থেমে থাকে না।
দু’জন ছাত্র পড়িয়ে ওষুধের টাকা যোগার করতে শেষ দিনও কাঁপা কাঁপা হাতে কলম ধরে।
দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যে নিজের প্রজন্ম বাঁচাতে সঞ্চয়ের বীজ বোনে
তাঁর কামাইতে ভাগ বসাতে চাঁদার দরদাম করে উলঙ্গ বোধের ধূর্ত চাঁদাবাজ;
তাঁর ছেলেকেও তো মানুষ করতে হবে!
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
আদুল পায়ে ফুলের মালা বেচা অনাথ শিশুটি দু’টো টাকার জন্যই পাঠশালার সময়টা বিক্রি করে দেয় ক্ষুধার দামে।
লাখ টাকা বেতন পাওয়া মেম সাহেবের দশ তলা বাড়ির মেঝে মুছে হত দরিদ্র্য ছালেহা বাপ ছাড়া ছেলে মেয়ের মুখে খাবার তুলে দেয়।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
ফাইল বন্দী সার্চিফিকেটের কালো বর্ণমালার চিৎকারে অতিষ্ট বেকার ছেলেটা তিন চাকার যানে উদ্বোধন করে জীবিকার কঠিন দুয়ার,
মেহেদীর রঙের পরিবর্তে তাঁর তাগড়া হাতে অভাবের চাপে ছাপ পড়ে তরতাজা ঠোসার,
প্রিয়তমার বিয়ে হয়ে যায় অজানা গন্তব্যের কোন এক উচ্চবিত্তের ঘরে।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
পরের বাড়ির দোতলা ছাদের রড সাজাতে সাজাতে ক্লান্ত আজগর মিয়া,
ঘামের দামে বিক্রি করে জীবনের উচ্ছ্বাস,
টাকার নোটে তাঁর ঘরে ছাদ হয় না
ভগ্ন স্বপ্নেরা আনাগোনা করে ইট-বালু-সিমেন্টের চারপাশে,
অভাবের গর্দানে পা টিপে জীবন সংগ্রামে এগিয়ে চলে নিরন্তর।
জীবন চলছে!
থামবে কী? থামবে না।
এভাবেই চলে যাবে সবার দিন
ক্লান্ত জীবনের ফুলদানিতে সবাই তো ফুল রাখে না;
কেউ কেউ মোমও জ্বালায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/88340/</link>
				<pubDate>Mon, 10 Jan 2022 12:41:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জীবন চলছে<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>জীবন চলছে!<br />
থামবে কী? থামবে না।<br />
সরকারি হাসপাতালের তেল চিট চিটে শয্যায় জীবন যুদ্ধে পা হারানো সবুর আলী আবার ব্যস্ত রাস্তায় বাদাম বিক্রি করবে বলে দাঁড়াতে চায়।<br />
রুনু খালা গলির মোড়ে পলি মোড়ানো ঝুপড়িতে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায়,<br />
শাড়ির ছেঁড়া আঁচলে চুলের খোপাটা বের হয়ে থাকলেও একটা নতুন শাড়ি কিনে না;<br />
ছোট ছে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-88340"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/88340/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">44ba3a00ef3fab258c678bfc6fa5819f</guid>
				<title>বিংশ পদ্য
—— শাহ্ কামাল

১। পুরুষের কাঁধে যতো অবদান 
প্রেরণায় আছে নারী,
কতোই ঝরে চোখের পানি
ভিজে না তাঁর শাড়ী।

আঁচল পাড়ে কতো ইতিহাস
বেদনা মাখা জল,
তাতেই পুরুষ পেয়েছে শক্তি
প্রেরণার যতো বল। 

(সমাজ সেবিকা নার্গিস মাকসুদকে)

২। কারে আমি ভাবলাম কী!
সে আমার ভাবনার অতীত,
সে ভাবে হাজার ভাবনা
আমি শুধু রয়েছি পতিত

৩। সে কয় না কথা সয় না ব্যথা
তার পঞ্জিকাতে আমি অতীত
সে যাতনায় ভোগে জানি না কী শোকে
আমি তাঁর স্মৃতির পতিত

৪। অস্তিত্বের হাড়ে ঠুকি
শেষ প্রজন্মের খুঁটি
সে থাকুক তাঁর মতো
চালুক যতো গুটি।

৫। লেখকে লেখকে রাজ্য সয়লাব
আমি গ্রহণবেলার কবি
তৃষিত বুকের নিশিথ বন্দরে
এ কোন লেখকের ছবি?

৬। নীরবে ঘুমাও কবরে আবরার
জল্লাদ হাসে হাসুক
তোমার মায়ের অশ্রুর মতো
ওদের হৃদয় ভাসুক

(বুয়েট ছাত্র আবরারকে)

৭। ভালবাসা ছাড়া তো 
ভালবাসা বাঁচে না
ভালবাসা কখনোই 
জাত পাত যাচে না

৮। আমার স্মৃতির শ্মশানে পুড়ছে
তোমার প্রেমের দেহ
হয়ত তোমার কেউ ঝুটেছে
রইলো না মোর কেহ……

৯। যদি শ্রাবণের ধারা নামে চোখের কোণে
যদি ব্যথা ভরা কোন স্মৃতি ভাসে এ মনে
আমি রইবো নীরবে সখা তোমার আশায়
রাখো বা না রাখো ওগো ভালবাসায়॥

১০। যদি ফুল ফোটে শেষ বর্ষায়
যদি গ্রহণ লাগে কোন অমাবস্যায়
যদি সে না আসে তবে একা বসে
ঝরাবো অশ্রু শুধু তারই আশায়
সে হোক বা না হোক আমার 
তবু ভেবে যাব আমি শুধু তার

সে আশায় বসে থাকি একা নিরালায়
সে নাই বা আসুক, আমি তো আছি, হায়

১১। সেদিন তোমায় যেন দেখেছি কোথায়
হরিণী দু চোখে মায়াভরা মুখে
তুমি ছিলে একা লাজে আখি ঢাকা
মিশে আছো বুকে অনন্ত সুখে

যায় না তোমারে ভোলা

১২। মৃত্যুর পাঁচিল খুঁড়ে মরু ক্যাকটাসের জীবন্ত ফসিলে তোমার স্মৃতির মমি চীৎকার করে,

আমি কান পেতে শুনিঃ
“ভাল নেই। আমি ভাল নেই। হাজার সুখের পালঙ্কেও কেবল তোমায় মনে পড়ে।”

১৩। ভাবছো তুমি ভালোই আছি
থেকো বন্ধু সুখে
তোমার ভালো থাকা টুকু
রাখব ধরে বুকে

আমায় ছেড়ে দিব্যি আছো
একটুও নেই টান
জানতে চেয়ে বেড়ে যাবে
বুকের অভিমান

১৪। বেলা শেষে কেউ রবে না
ফিরে যাবে সবে
হাতের কামাই ভুগতে হবে
এই এ সাধের ভবে

জোর করে ভাই কদিন খাবে
জোর তো রবে না
যার জোরে ভাই করছো এসব
তারে পাশে পাবে না

১৫। ছায়ার নগরে বিনিদ্র রাত
তুমি শয্যাশায়ী
কন কনে শীতে কাঁপছি আমি;
ভালবেসে পরাজয়ী

১৬। সুখ বলে সুখী আমি
তোমার কী খবর?
দুঃখ বলে দুঃখী নই
ভাল আছি অষ্ট প্রহর

সুখ বলে সুখের নগরে
আমার বসবাস
দুঃখ বলে ঢের জানি
সেখানেই আমার ফাঁস

১৭। মন বলে কাছে এসো
ভালবাসা দেই
তুমি বলো কেন ডাকো
তোমার তো ভালবাসা নেই

দু’জনেই পাশাপাশি
তবু কতো দূর
চোখে চোখে কথা হয়
হৃদয়টা বড়ো নিষ্ঠুর

১৮। বাড়ছে আয়েশ কমছে খায়েশ
নেই তো স্নায়ুর ঘাত
চলছে সবই আগের মতোই
কাটছে না তো রাত

১৯। তোমারেই বলি নারী শোন
দু্র্বিপাকের মহা দুর্দিনে ভয় নাই তব কোন
তোমার সাহসে কাঁপছে ত্রাসে
জয় তব নিশ্চয়
দুর্বার চল তুমি নির্ভয়

(নাসিক মেয়র আইভীকে)

২০। পিপাসার ঘামে মিটেনি ক্ষুধা
বেড়েছে শুধু দীর্ঘশ্বাস
অভিমানের চাদের ব্যর্থ সুতো
কমেছে অন্তরের বিশ্বাস।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/87514/</link>
				<pubDate>Sat, 08 Jan 2022 03:09:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিংশ পদ্য<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>১। পুরুষের কাঁধে যতো অবদান<br />
প্রেরণায় আছে নারী,<br />
কতোই ঝরে চোখের পানি<br />
ভিজে না তাঁর শাড়ী।</p>
<p>আঁচল পাড়ে কতো ইতিহাস<br />
বেদনা মাখা জল,<br />
তাতেই পুরুষ পেয়েছে শক্তি<br />
প্রেরণার যতো বল। </p>
<p>(সমাজ সেবিকা নার্গিস মাকসুদকে)</p>
<p>২। কারে আমি ভাবলাম কী!<br />
সে আমার ভাবনার অতীত,<br />
সে ভাবে হাজার ভাবনা<br />
আমি শুধু রয়েছি পতিত</p>
<p>৩। স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-87514"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/87514/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e8306478294872128da3d9281c2f8c24</guid>
				<title>জাগুন! 
— শাহ্ কামাল 

জ্বলে গেল অভিযান। পুড়ল অর্ধশত দেহ। হাড়গোড় ছাই হয়ে পড়ে আছে। মগজের সমীকরণ ধোঁয়াশায়। দগদগে আগুনে পুড়ে ছারখার সব। কী ভাবছেন? আইন নেই দেশে? সব আছে। আইন, আদালত, উকিল-জজ, ব্যারিষ্টার, পুলিশ, নেতা। সব আছে। তদন্তের ময়না তদন্তের জন্য অপেক্ষা করুন। শোক প্রস্তাবে হয়ত স্তব্ধ হবে সংসদ। শোকে শোকে বিহ্বল হবে জাতি, পাতি, উঠোন, মিনার অথবা জীবন্ত শ্মশান।

এক দিন, দু দিন করে মাস বছর শেষে ধুলোর স্তুপে পড়ে থাকবে লাশের হিসাব। আত্মার ভস্ম উড়ে যাবে বাতাসে। বেদনার খামে কাগুজে নোটের চেকে স্টাপলার সেঁটে জীবনের দাম চুকে যাবে দায়ের সান্ত্বনায়।

কক্সবাজারে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষনের বলি যে নারী তাঁর ছেদ কেড়ে নেবে স্বপ্নের আলজিভ। পাপ জমে জমে কী গড়াবে না? আইনের কতটুকু দুর্বলতায় একজন মেয়ে ধর্ষিত হয় তা কী বলতে পারেন? আট মাসের শিশু কী তাঁর মাকে খোঁজেনি? কবুল পড়া স্বামীর নির্বাক স্নায়ু কী ধুক ধুক করেনি? ধর্ষক মহান তবিয়তে জামাই ষষ্ঠীর খাবার খাচ্ছে কোন পতিত কুটিরে। ধর্ষিতার খবরে সরগরম খবুরে পাড়া। কেন ধর্ষকের আদ্যপান্ত ক্যামেরার সাঁটারে বন্দী হয় না?

ক’দিন তাজা খবরে ব্রেকিং নিউজ শুনতে শুনতে আপনি ত্যক্ত হয়ে যাবেন। নথিতে নথিতে ফাইল উঁচু হবে। পুলিশের হিসাবী প্রশ্নের বেড়াজালে ধর্ষিতার ডায়রী গর্ভবতী হবে। হাজার হাজার ঘটনারা সয়ে যাবে অবিচার আর বৈষম্য।

কাকে দুষবেন? সরকারকে? সরকার আইনের গতিতে চলে। সংবিধানের বিধানে গোসল করে পবিত্র সরকার আপনার জন্যই। আপনি যদি ঠিক থাকতেন তবে সরকারকে দোষ দিতেন না। আপনার মূল্যবোধের শ্রাদ্ধ করে সরকারকে দোষ দিয়ে কী লাভ বলেন? সব সরকররা জনগণের কথাই বলে প্রমিত রাজনৈতিক ভাষায়। কেউ পতাকার মান রক্ষা করে, কেউ নিজের উদর পূর্ণ করে। বর্ষা জলের কচু পাতার জল ফোটার অবস্থা হতে আপনি বাইরে আসুন। বিবেকের ঘোলা জলে সাঁতার না দিয়ে সজাগ হোন।

আজকের সরকার কাল থাকবে না। আপনি তো পারেন মোহের নদী হতে উঠে এসে বিবেকবান হতে। না হয় দেয়ালের ছবি হতে হতে শূন্য হয়ে যাবেন আগ্রাসী সংস্কৃতির বখাটে প্রজন্মের হাতে। সব অবিচার আপনাকে অভিশাপ দিতে দিতে  চলে যাবে নিঃসঙ্গ খেজুর তলায়। চুপ থেকে সহ্য না করে গড়ুন অটুট বন্ধনের মহা প্রাচীর।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/82247/</link>
				<pubDate>Sat, 25 Dec 2021 03:05:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জাগুন!<br />
— শাহ্ কামাল </p>
<p>জ্বলে গেল অভিযান। পুড়ল অর্ধশত দেহ। হাড়গোড় ছাই হয়ে পড়ে আছে। মগজের সমীকরণ ধোঁয়াশায়। দগদগে আগুনে পুড়ে ছারখার সব। কী ভাবছেন? আইন নেই দেশে? সব আছে। আইন, আদালত, উকিল-জজ, ব্যারিষ্টার, পুলিশ, নেতা। সব আছে। তদন্তের ময়না তদন্তের জন্য অপেক্ষা করুন। শোক প্রস্তাবে হয়ত স্তব্ধ হবে সংসদ। শোকে শোকে বিহ্বল হবে জাতি, প&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-82247"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/82247/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1e20df5a909889c8694605b42a7ef6a5</guid>
				<title>যদি শ্রাবণের ধারা নামে চোখের কোণে
যদি ব্যথা ভরা কোন স্মৃতি ভাসে এ মনে
আমি রইবো নীরবে সখা তোমার আশায়
রাখো বা না রাখো ওগো ভালবাসায়॥</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/82246/</link>
				<pubDate>Sat, 25 Dec 2021 03:04:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যদি শ্রাবণের ধারা নামে চোখের কোণে<br />
যদি ব্যথা ভরা কোন স্মৃতি ভাসে এ মনে<br />
আমি রইবো নীরবে সখা তোমার আশায়<br />
রাখো বা না রাখো ওগো ভালবাসায়॥</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">58aa9bf88b63e27f5811c8cd63fc85cc</guid>
				<title>বিভেদ
—— শাহ্ কামাল

নির্বাচনের ঝড়ো মিছিলের পাশে 
ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে দরিদ্র মানুষের ক্ষুধাতুর চাহনি,
গাছে, খুঁটিতে, দেয়ালে নেতার ছবি ঝুলে থাকে ছাপা কাগজে,
সাধারণ অভুক্ত ভোটারের হাতে মাপ করা ছবি;
ভাতার ফরমে প্রমাণের সাক্ষী সাঁটানোর জন্য।
নিরন্ন মানুষের ছবি তুলে প্রদর্শনী হয়,
লোকে দেখে অভুক্ত কঙ্কালের থ্যাবড়ানো চিত্র।
আলোকচিত্রী পায় শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার,
অথচ সেই ভুক্তভোগী মানুষগুলো আশাহত জীবনের স্বপ্ন কাঁধে এগোয় মহাকালের স্রোত।
নজরুলের মোল্লা-পুরুত এখনো হেসে কুটি কুটি হয়,
জয়নুলের মতো দুর্ভিক্ষের ছবি কেউ আঁকে না আর,
এখন রাস্তায় লাশ থাকে না কাক-কুকুরের পাশে,
জীবন্ত লাশগুলো বোবা হয়ে সয়ে যায় দম্ভের কষাঘাত,
ডাস্টবিনে অথবা ভুতুড়ে ভাগাড়ে আবর্জনার স্তুপে পড়ে থাকে জীবন্ত নবজাতক নাহয় নিষিক্ত ভ্রণ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/77782/</link>
				<pubDate>Sun, 19 Dec 2021 12:09:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিভেদ<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>নির্বাচনের ঝড়ো মিছিলের পাশে<br />
ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে দরিদ্র মানুষের ক্ষুধাতুর চাহনি,<br />
গাছে, খুঁটিতে, দেয়ালে নেতার ছবি ঝুলে থাকে ছাপা কাগজে,<br />
সাধারণ অভুক্ত ভোটারের হাতে মাপ করা ছবি;<br />
ভাতার ফরমে প্রমাণের সাক্ষী সাঁটানোর জন্য।<br />
নিরন্ন মানুষের ছবি তুলে প্রদর্শনী হয়,<br />
লোকে দেখে অভুক্ত কঙ্কালের থ্যাবড়ানো চিত্র।<br />
আলোকচ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-77782"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/77782/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7ade4aa1e2b695d9e9efe233aa891344</guid>
				<title>গল্প
———
মাস্ক
— শাহ্ কামাল

শেষ বিকেল। ক্ষীণ হয়ে যাওয়া সূর্য ডুবলো কি ডুবলো না তা বোঝবার উপায় নেই। ইটের শহরে সূর্যের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, উদয়োস্ত বোঝা দায়। বন্ধুদের চায়ের আড্ডা কলেজ রোডে সমাপ্তি করে সান্ত্বনা মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সোয়াদ।

কারো জন্য একটু সামনেই অপেক্ষা করছে ছোঁয়া। সালোয়ার-কামিজ পরা ছোঁয়ার হাতে একটা পার্স। ওড়নাটা ঘোমটা করা হলেও ভাব-ভঙ্গি দেখে সহজেই অনুমান করা যায় সে শহুরে। হাতের কব্জি পর্যন্ত ঢাকা কামিজ। হাত ঘড়িটা তাঁর চলার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। মুখে মাস্ক পরা বলে চেহারার পূর্ণ সৌন্দর্য না বোঝা গেলেও কপাল, চোখ আর ভ্রুর দিকে তাকালে বোঝা যায় সে অপরূপা সুন্দরী।

সোয়াদ বার বার ছোঁয়ার দিকে তাকাচ্ছে। রাষ্ট্র বিজ্ঞানে এ বছর তাঁর অনার্স শেষ হবার কথা। ক্লাস নাইনে পড়ার সময় এক মেয়েকে প্রেমপত্র দিয়ে নাজেহাল হবার পর কাউকে ভাল লাগলেও সাহস করে তা আর বলা হয়নি কখনো। ছোঁয়াকে দেখে আজ তাঁর পা সড়ছে না। পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের সোয়াদ দেখতে মন্দ না। জিম করার অভ্যেস না থাকলেও সে আপাদমস্তক ফিটফাট। মোবাইল দিয়ে সেলফি তোলার ফুরসতে সে ছোঁয়ার ছবি তোলার চেষ্টা করছে। পারছে না। মেয়েটি ওদিক ওদিক তাকাচ্ছিল। করোনার ধকল শেষে জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও মাস্ক পরার জন্য সরকারি বিধি নিষেধ আছে। কিন্তু সোয়াদ মাস্ক পরেনি। ছোট বাচ্চাদের লোলদানির মতো গলায় তাঁর মাস্ক ঝোলানো।

হাঁটি হাঁটি পা পা করে সোয়াদ একটু এগিয়ে ছোঁয়ার কাছাকাছি দাঁড়ালো। পাশে না, পিছনে। তাঁর মনে নানান ভাবনা। মেয়েটিকে আগে কখনো দেখিনি। এ শহরেই থাকে মনেহয়। চোখ বলছে সে খুব সুন্দর। কী মায়াবী চোখ! মন দিয়ে দেখলে যে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে। 
ছোঁয়া কাউকে খুঁজছে মনে মনে। বার বার এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। পিছনে ফিরে তাকাতেই চোখ পরলো সোয়াদের দিকে। দুজনের চোখ দুজনের দিকে। ভাব বিনিময়ের চাহনি না হলেও এ চাহনি ভাবের সাগরে তৃষ্ণার্তকে ডোবায়। ছোঁয়া চোখ ঘুরিয়ে সামনে দৃষ্টি দিয়ে দাঁড়ালেও সোয়াদ সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে। তাঁর ভাবনার বিস্তৃতি মগজে ছড়াচ্ছে। সাগর বেলায় ঢেউ যেমন আছড়ে পড়ে তেমনি বার বার ছোঁয়ার তাঁর বুকে আছড়ে পড়ছে। এ জীবনে কতো মেয়ে চোখের সামনে পড়লো। কারো জন্যই এমন লাগেনি। আজ কী হলো? তাঁর নামটা অন্তত জানা চাই। কিভাবে? কাউকে ভাল লাগলে হুট করে তো আর বলা যায় না। চোখের একটা ভদ্রতা আছে। আগে নামটা জানতে হবে। সাহস করে সে ছোঁয়ার পাশাপাশি দাঁড়ালো। এমন সময় ছোঁয়ার মোবাইলে একটা কল এলো। সে কলটা রিসিভ করে বলল, ওয়ালাইকুম আসসালাম। 
সে কার সাথে কথা বলছিল বোঝা যাচ্ছিল না। পরক্ষণেই ছোঁয়া বলল, আমি সান্ত্বনা মার্কেটের সামনে। তোর জন্য অপেক্ষা করছি। জলধি আয়।

মোবাইল রেখে সে দাঁড়িয়ে। সোয়াদ ওর কথা শুনে ভাবলো ও কোন বন্ধু-বান্ধবের জন্য অপেক্ষা করছে। ওর কণ্ঠও চোখের মতো মায়াবী। বুকে লাগে। অবশ্য বিয়ের পূর্বে ভাল লাগার মানুষের সবকিছুই বিশেষভাবে ভাল লাগে। সোয়াদ হিসেব কষছে কিভাবে ছোঁয়ার সাথে একটু কথা বলা যায়। উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। এ উপায় যে একা খোঁজবার নয় তা ও জানে না। ছোঁয়ার সৌন্দর্যে সব ভুলে আছে। প্রেমের শহরে পছন্দ নিজের কিন্তু উপায়ের চাবি বন্ধু-বান্ধবের হাতে। একা প্রেমে মৌলিকতা আছে, যন্ত্রণার ভার বেশি। সোয়াদের হিসাব মিলছে না। সে ডান হাতে মোবাইলটা উপরের দিকে তুলে সেলফি তুলতে চেষ্টা করলো। সেলফিতে পূর্ণরূপে না হলেও ছোঁয়া আংশিকভাবে থাকবে বলেই সেলফি তোলার চেষ্টা। পারলো না। ছোঁয়া বিষয়টি বুঝতে পেরে অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়ালো।

রিক্সা থেকে একজন মেয়ে নামলো ছোঁয়ার সামনে। বয়স হবে আঠারো মতো। আড়ং এর একটি শপিং ব্যাগ ওর হাতে। চুলগুলো লম্বালম্বি ঝুলছে। মাথায় ঘোমটা নেই। ওড়না একদিকে সামনে পিছনে ভাজ হয়ে ঝুলছে। মুখে মাস্ক। রিক্সা হতে নেমেই সে ছোঁয়ার পাশে এসে দাঁড়ালো। ছোঁয়া বলল, এতো দেরী কেন, তোর? চল, সামনের দিকে।
- চা খাবে না? তুমি তো এখানে তেঁতুল চা খাও।
তাঁরা দুজনে পাশে চায়ের দোকানের দিকে যাচ্ছে।

সোয়াদ কিছু বুঝতে পারছে না। একজন বলছে তুই আরেক জন তুমি করে। ওর ভাবনায় যেন ছেদ পড়ে। ও তাদের পিছু পিছু এগুতে থাকে। চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে ছোঁয়া যখন মাস্ক খুলল ওর দিকে তাকাতেই সোয়াদের মাথায় বাজ পড়লো। এতক্ষণ সে যার ভাবনা ভেবে কল্প-সমুদ্রে সাঁতার কাটছিল সে তো তার মায়ের সমবয়সী। মাস্কের জন্য বয়স বোঝার কোন উপায় ছিল না।

পাশের মেয়েটি চা দোকানদারকে বলল, আম্মু ঝাল বেশি খায়। মরিচটা বাড়িয়ে দিয়েন।

মেয়েটির কথা শুনে সোয়াদের ধোঁয়াশা কাটলো। ছোঁয়া তাঁর মেয়ের সাথে তেঁতুল চা খাচ্ছে। 

সোয়াদ মুচকি হেসে তাঁর মাস্কটা মুখে আটকে ডান হাতে মাথার চুল ভাঁজ করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/75756/</link>
				<pubDate>Fri, 17 Dec 2021 05:40:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প<br />
———<br />
মাস্ক<br />
— শাহ্ কামাল</p>
<p>শেষ বিকেল। ক্ষীণ হয়ে যাওয়া সূর্য ডুবলো কি ডুবলো না তা বোঝবার উপায় নেই। ইটের শহরে সূর্যের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, উদয়োস্ত বোঝা দায়। বন্ধুদের চায়ের আড্ডা কলেজ রোডে সমাপ্তি করে সান্ত্বনা মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সোয়াদ।</p>
<p>কারো জন্য একটু সামনেই অপেক্ষা করছে ছোঁয়া। সালোয়ার-কামিজ পরা ছোঁয়ার হাতে একটা পার্স। ওড়ন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-75756"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/75756/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">87c8f8603169de74124a1595bf3f1f27</guid>
				<title>সুবর্ণজয়ন্তী এবং
—— শাহ্ কামাল 

আমার স্বাধীনতা আমার নয়;
আমার স্বাধীনতা লোবানের জলে সাঁতার কাটে দানবের পাহাড়ায়।
আমার স্বাধীনতার ময়না তদন্ত করে রাজাকারের দোসর,
পতাকা ব্যবসায়ী লালন করে আমার দেশপ্রেম উদোম পায়ে রাজপথে, অনাহারে।
দুর্বার বাংলাদেশ শোধ করেনি রক্ত ঋণ, কাগজে কাগজে ভুল ইতিহাসের খসড়ায় হায়েনার উলঙ্গ থাবা।
দুদকের ঘাড়ে দুর্নীতির দুর্নাম, লোভাতুর চোখে অন্যকে ফাঁসানোর মিঠে স্বপ্ন।
মন্ত্রীর লালায় ভিজে অচেনা চিবুক, ধর্ষনের নগ্ন বাসনায় মগ্নতার রেষ।
সন্তানের সামনে মায়ের ধর্ষন, স্বামীর সামনে স্ত্রীর ধর্ষন নীরবে চাপা পড়ে বিবেকের ক্যাকটাসে।
বিচারের দীর্ঘ সারিতে ক্লান্ত নথির আহাজারি ঘুপচি ফাইলের অলি গলি মোড়ে।
চাঁদাবাজ শুষে নেয় পরিশ্রমীর ঘাম, রশিদের ছোট্ট স্লিপে লিখে দেয় চাঁদার অঙ্ক।
বিচারপতির বিচার করে ন্যায় হাতুড়ির বিচারক,
স্বাধীন ভূমির তৃষ্ণা মিটাতে এখনো পড়ে রয় কত লাশ; অবিচারের ভয়ে বিচার প্রার্থী অপেক্ষা করে বিবেকের বারান্দায়।
বেঁচে থাকার স্বপ্ন, বড় হবার বাসনা সহপাঠীর নৃসংশতায় লেপটে যায় হঠকারি বড় ভাইয়ের মগজে।
নিরাপদে পারাপারের দাবি করার কেউ নেই, শিক্ষার্থীর কলম ধরা হাত মুষ্ঠিবদ্ধ হয়ে রাজপথে, পড়ার টেবিলে বইগুলো এলোমেলো।
মাদকে মাদকে সয়লাব যুব সমাজের স্নায়ুতন্ত্র, স্বাধীন বাংলাদেশ কেন এতো স্বাধীন?
সংবিধানের ধারায় ধারায় কানুনের মিছিল, তবু কেন শ্রদ্ধার ভারে কাঁপে না গর্দান?
টাকার ভাঁজে চাপা পড়ে সহস্র অপরাধ, অযোগ্যের কলমে লেখা হয় জনতার ভাগ্যলিপি।
সব বৈষম্যের ভার সয়ে সুবর্ণজয়ন্তীতে ওরে শান্তির পায়রা,
দেশপ্রেমের গান বাজে অভিনয়ের মঞ্চে দূষিত বায়ুর উত্তাল তরঙ্গে, অবলীলায়।
ছবির ফ্রেমে কতো দেশপ্রেম! অথচ বোধের  শহরে নির্বাক মূর্তির অনশন।
সবুজ বাংলাদেশ সব ষড়যন্ত্রের স্তুপে বঙ্গবন্ধুর মতো আঙ্গুল উঁচিয়ে দাঁড়াবে বলেই আমার কবিতার শব্দেরা স্বপ্ন দেখে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/75335/</link>
				<pubDate>Thu, 16 Dec 2021 05:04:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সুবর্ণজয়ন্তী এবং<br />
—— শাহ্ কামাল </p>
<p>আমার স্বাধীনতা আমার নয়;<br />
আমার স্বাধীনতা লোবানের জলে সাঁতার কাটে দানবের পাহাড়ায়।<br />
আমার স্বাধীনতার ময়না তদন্ত করে রাজাকারের দোসর,<br />
পতাকা ব্যবসায়ী লালন করে আমার দেশপ্রেম উদোম পায়ে রাজপথে, অনাহারে।<br />
দুর্বার বাংলাদেশ শোধ করেনি রক্ত ঋণ, কাগজে কাগজে ভুল ইতিহাসের খসড়ায় হায়েনার উলঙ্গ থাবা।<br />
দুদকের ঘাড়ে দুর্নীতির দুর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-75335"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/75335/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">aab5508828ddb2405761c23dbee4a808</guid>
				<title>Shah Kamal and Md Hujaifa Towhid are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/74931/</link>
				<pubDate>Wed, 15 Dec 2021 09:38:11 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7107f27f47010ab8deb387afa7afce6e</guid>
				<title>Shah Kamal and রেনেসাঁ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/71183/</link>
				<pubDate>Wed, 08 Dec 2021 07:37:42 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fc9755252db85e4636107c75b2a462bc</guid>
				<title>ছোট গল্প
---------
বুবি(শেষপর্ব)
--- শাহ্ কামাল

শামীমের সংসারে বুবি’র দিন খারাপ কাটার সুযোগ নেই। জবেদা সারাদিন বকবক করে। ‘দুনিয়া বড় সেয়ানা। সবাই নিজেরডা ভালাই বোঝে। এই দিন দিন না। উপরে একজন আছে। মানুষরে ঠকায়া কেউ বড় হয় না। আল্লা বিচার করব। আমি আল্লার কাছে কই। আমি সই, আল্লা যে সয় না।’ এই রেকর্ড করা বয়ানটা সে সারাদিনই ঝেরে যায়। বাবার জমি জিরাত ভাগের সময় তাকে ঠকানো হয়েছে। সে জ্বালা মনে পড়লেই এ রেকর্ড বাজতে শুরু করে। বুবিকে সংসারের টুকিটাটি শেখায় জবেদা। এসব সে মায়ের কাছ থেকে বহু আগে শিখলেও খাবার শিষ্টাচার বুবি’র ভাল লাগে না। বুবি সবাইকে খাওয়ায় কিন্তু সে পরে খায়। জবেদা ওকে একত্রে খেতে নিষেধ করেছে। সংসারের ধর্ম এটাই। শামীমের ভাল লাগে না। সে মাঝে মাঝে অল্প খেয়ে উঠে যায়। বুবি’র শ্বশুর আব্দুল খালেক বিষয়টা লক্ষ্য করেছে কয়েকবার কিন্তু কিছু বলে না সে। এ বাড়িতে কুঁড়ি বছর ধরে ঘর জামাই খালেক। তাঁর কথা বলা বারণ। জবেদার হাক ডাক বহু শুনেছে এ পাড়ার মানুষ; খালেকের টু শব্দটাও কেউ শোনেনি কোন দিন। ইদানীং ছেলের না খেয়ে উঠে যাওয়াটা তাঁর ভাল লাগছে না। সে জবেদাকে জানিয়ে দেয়, শিল্পীরে কইয়ো ওরা যেন অগো খাওন নিজের ঘরে নিয়া যায়। দুই জনে মিল্লা খাইবো।’ কথাগুলো শামীমের কানে যেতেই তাঁর চেহারায় একটা তৃপ্তির রোশনাই দেখা যায়। জবেদা তো রেগে আগুন।’আমার ঘরে ভাগাভাগি চলব না।’ বলে সে রাগ দেখায়। খালেক তাঁরে বোঝায়,’ দিনকাল বদলাইছে। বুঝতে হইবো, জবেদা। এইডা ভাগ না; স্বাধীনতা। দেইখো তুমি, অরা খুশি হইবো। আরো সংসারী হইবো। আমাগো একটা পোলা। ভাগাভাগি হইতে দিমু না।’ খালেকের মুখের কথাগুলো জবেদার দিলে লাগে। সে বুঝতে পারে। বাবার কথা শুনে শামীম কতো যে খুশি হয় তা ভাষার বর্ণনায় অনন্ত; চোখের দেখায় বুক জুড়ানো।
বাড়ির উত্তর দিকের কাঁঠাল গাছের তলায় বিকেলে বসে আছে শামীম। বন্ধু-বান্ধব কেউ এলে লুডুর আড্ডা বেশ জমে এখানে। আজ কেউ আসেনি।শামীম একা বসে আছে খেজুর পাতার চাটাইয়ের উপর। বুবি শ্বাশুড়ির কথা মতো বাড়ির পাশ হতে শাক-পাতা তুলতে পা বাড়াতেই শামীমকে দেখে চুপি চুপি তাঁর পিছনে গিয়ে চোখ দুটো ঝাপটে ধরে। শামীম প্রথমে বুঝতে না পারলেও বুবির ঘোমটা তাঁর কপালে ঠেকলে সে আঁচ করে এটা শিল্পীর কাজ। পিছন দিকে হাত বাড়াতেই চুড়ি স্পর্শ করে সে নিশ্চিত হয়, ও শিল্পীই। ক’ দিন পাশে থেকে বুবি’র একটা ঘ্রাণও বুঝেছে নীরবে। চোখ হতে হাতটা সড়াতে ওর হাত বাড়াতেই বুবি তাকে ঝাপটে ধরে। ঝাপটে ধরার সুযোগে শামীম বুবিকে কাঁধে তুলে দাঁড়িয়ে যায়। বুবি খুশিতে আটখানা। বিপত্তি হলো বাহাদুরের। বুবিকে শামীমের কাঁধে দেখে বাহাদুর লেজ নাড়তে নাড়তে জোর গলায় ডাক দেয়, মিউ, মিউ।
বুবির সাথে সাথে শামীমও যায় শাক তোলতে। বিকেলের বিদায়-সূয্যি’র মিঠে আলো বুবির চোখে পড়ে। শামীমকে পাশে পেয়ে তাঁর আনন্দের কোন সীমান্ত থাকে না। বাতাস ওকে ছুঁয়ে যায়। প্রজাপতি উড়তে উড়তে ওর হাতে বসে। মাথার উপর গঙ্গাফড়িং বসে আর ওঠে। পুকুর হতে সাঁতরে আসা হাঁসগুলো ডানা ঝাপটে দেয় ওর কাছে এসে। সুপারী গাছ থেকে কাঠ বিড়ালী দাঁত দেখায়। নিজ এলাকায় ভাগের গাছের ফলের খোঁজে বেড়িয়ে পড়া বাঁদুড়গুলোও ওকে দেখে যায়। বাহাদুর সব কিছু লক্ষ্য করলেও তাঁর বলবার ভাষা নেই বুবি’র মতো; ওর স্বাধীন ভাষায় নিজ মনে ডেকে যায়। মিউ মিউ।মোমেলা রোজ বিকেলে কাজ শেষে শামীমদের বাড়ির পাশ দিয়ে যেতো। মেয়ের বিয়ের পর এ রাস্তা দিয়ে আর যায় না।মানুষের ভাবনার কোন ঠিকঠিকানা নেই। কখন কে কী বলে বসে। আজ হাতে সময় কম বলে এ রাস্তা দিয়েই এসেছে। ঘোমটা বড় করে সামনের দিকে টেনে জোর কদমে হাঁটলেও তাঁর চোখ পড়ে বুবি-শামীমের দিকে। মেয়ের মুখের হাসি দেখে বুকটা ভরে যায় তাঁর। দু’জনে মানিয়েছেও ভাল। বিধাতার গড়া ঝুটি সব সময়ই অনিন্দ্য সুন্দর। বুবি’র শাক তোলা শেষ হয়।
এশার পর এ তল্লাটে গভীর রাত। সবাই খেয়ে ঘুম দেয়। অবশ্য পরিবর্তনের ছোঁয়াও লেগেছে। অনেক বাড়িতে টেলিভিশন চলে মেলা রাত পর্যন্ত। বৌ-ঝিয়েরা ভারতীয় সিরিয়ালের জন্য বেতালা পাগল। কত ঝগড়া হয় ঘরে ঘরে। ঘর সংসারে বিভাজন সৃষ্টির ভিনদেশী সিরিয়াল জবেদার ঘরে চলে না। টিভি দেখলে জাহান্নামে যেতে হবে। এ বাড়ি এশার পর তাই বেশি রাত জাগা হয় না কারোই। শামীম আর বুবি খেতে বসেছে চাটাইয়ের উপর। বাহাদুরও তাঁর জায়গা নিয়ে বসে গেছে। বুবি শামীমকে একটা থালা দেয়; নিজে একটা নেয়। শামীম বুবির থালাটা সরিয়ে বুবিকে ইশারায় কাছে ডাকে। বুবি এগিয়ে পাশে বসে। শামীম শাক দিয়ে ভাত মেখে বুবির মুখে তুলে দেয়। বুবির চোখে মুখে ভরা পূর্ণিমার চাঁদের আলো ঠিকরে পরে যেন। ওর বুকের সকল অপূর্ণতা শামীমের কাছে এসে ঘুচে গেছে। স্বয়ং বিধাতা তাকে সুখের সাগরে নিজ হাতে পাঠিয়েছেন। বাহাদুর চেয়ে চেয়ে দেখে ওদের। ঘরের দরজাটা পুরোপুরি আটকানো ছিল না। ভিতর থেকে বাল্বের সামান্য আলো বাইরে যায়। বাইরে থেকে সেই আলোতে তোতা শামীম আর বুবির ভাত খাওয়া দেখছিল একমনে। নাত জামাই’র সোহাগ দেখে তোতার চোখে জল আসে। বয়স কম হলেও বউয়ের কদর বোঝে ভালোই। সে একটা শুকনো কাশি দেয় বাইরে থেকে। শামীম দরজা খুলে তোতাকে দেখে ঘরে বসতে বলে। তখনো ওদের খাওয়া শেষ হয়নি। নানাকে দেখে বুবির খুশি ধরে না যেন। তোতা বুবিকে ইশারায় বলে, ‘তোর লাইগা তোর মা রাতা মোরগের ঝাল কষা পাঠাইছে। তোরা খা।’ বুবি তোতার কথা বুঝতে পারে। সে জবেদাকে ডেকে আনে। জবেদা তোতাকে জোর করে খেতে বসায়। তোতা না খেয়ে পারে না। বুবি একটা বাটিতে কয়েক টুকরা মাংস দেয় শামীমকে। রাতা মোরগের ঝাল কষা বুবির খুব পছন্দের। ওকে ছাড়া মোমেলার গলায় নামবে না বলেই পাঠিয়ে দিয়েছে। মেয়ের প্রতি জামাই’র ভালবাসা মোমেলাকে এতোই মুগ্ধ করেছে যে সে পারে না নিজের কলজেটাই দিয়ে দেয়; রাতা মোরগ তার জন্যই জবাই দিয়েছে সে।
তোতা খাওয়া শেষে চলে যায়। জবেদারও বড্ডো ঘুম চোখে। দরজা আটকে বুবি মাংস খায় চেটে পুটে। শামীম চেয়ে চেয়ে দেখে। বাহাদুর রাতা মোরগের হাড়ের আশায় ঠায় বসে থাকে বুবির সামনা সামনি। 

দেখতে দেখতে চার মাস চলে গেল। সলিমুল্লা’র মনটা ছটফট করে। অনেক দিন মেয়েকে দেখে না। মেয়ে বোবা হবার কারণে সে কতো কথা বলতো মোমেলাকে। আজ সে বোবা মেয়ে অন্যের ঘরে। সে কথা বলতে পারে না; সকলকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা তীব্র। রোজ দুপুরে সলিমুল্লাকে ভাত বেড়ে দিতো সে। ভাত খাবার সবকিছু সামনে দিয়ে বাবার সামনে বসে থাকতো । বাবার দিকে তাঁর একটা টান বরাবরই কাজ করতো। বাবার সাথে মেয়ের হৃদ্যতা যুগ যুগান্তরের। সেই মেয়েটা আজ অন্যের ঘরে। তাঁর জন্য মনটা কেমন হু হু করে উঠে। মোমেলা ক’দিন লক্ষ করছে ব্যাপারটা। তাই সে তোতাকে পাঠায় বুবিকে আনতে।
হাজী সাহেবের মিষ্টান্ন ভান্ডার হতে এক কিলো রসগোল্লা নিয়ে তোতা এসেছে বুবিকে নিয়ে যেতে। কিন্তু সমস্যা বেঁধে গেছে মহা একটা। পুকুর ঘাট হতে এসেই বুবি কাঁধতে শুরু করেছে। জবেদা সে কান্নার রহস্য উদঘাটন করতে পুকুর ঘাটে গেছে। শামীমও বাড়ি নাই; কাজে গেছে। বুবি কেঁদেই চলেছে। তোতা কাছে যেতেই তাঁর কান্নার রোল বেড়ে যায়। মুখ ফুটে সে বলতে চায়, মানুষগুলো এমন ক্যান নানা ভাই? আমি তো কারও ক্ষতি করি নাই। আমাকে এতো কথা শুনতে হয় ক্যান অন্য মানুষের? মানুষের কি খেয়ে কোন কাজ নাই? আমার সুখের সংসার কি ওদের সহ্য হয় না?
তোতা মাথায় হাত বুলিয়ে বুবিকে শান্ত করতে চেষ্টা করে। ও কাঁদতেই থাকে। জবেদা বকবক করতে করতে বাড়ি ফিরে। মহিলারা পথে ঘাটে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এমন বকবক প্রায়শই করে থাকে। তোতার কানে জবেদার বকাকানি এসে পৌঁছায়। আমার পোলার বউ দামড়া না ক্যাচরা তা দিয়া তোর কী দরকার, খ্যাপার বউ? গেরামের সবার পিছনে লাইগা থাকে মাগী। আমার পোলা ছোড, বউ বড়— তাতে তগো কী সমস্যা? বোবা মাইয়া। ঘাটে একলা পাইয়া অপমান করস। ভাবছোস আমার বউ কিছু বোঝে না? আবার পাইয়া লই, হারামজাদী।
কথাগুলো শুনে তোতার চোখ বেয়ে জল গড়ায়। তাঁর বুঝতে বাকি থাকে না কিছুই। ঝুড়িতে মাছ নিয়ে মেম্বারে পুকুরে ধুতে গিয়েছিল বুবি। তাকে দেখে এ তল্লাটের খ্যাপার বউ অনেক কথা বলেছে। বুবি কানে শোনে না, বুঝতে পারে সবকিছুই। তাই তাঁর বুক ফাটা আর্তনাদ চোখের জল হয়ে অঝোরে ঝরছে।
তোতাকে দেখে শান্ত হয়ে যায় জবেদা। ধীরে ধীরে শান্ত হয় বুবি। ফোঁপানো বন্ধ হয় নি। তোতা’র কাছে বুবিকে দিতে চায় না জবেদা। দু’দিন বাদে এসে নিয়ে যেতে বলে। তোতাকে দেখে আশে পাশে ঘুর ঘুর করে বাহাদুর। নিরীহ প্রাণী চতুর মানুষের স্নেহ সহজে ভুলে না। বাহাদুরও ভোলে নি। জবেদা তোতার খাওয়ার ব্যবস্থা করে। তোতার খাওয়া দাওয়া শেষ না হতেই বুবি তাঁর সাথে যাওয়ার জন্য রেডি হতে থাকে। জবেদা’র বারণ শোনে না। তাঁর মনটা ভাল নাই। বার বার মায়ের কথা মনে পড়ছে তাঁর। শেষমেষ বাঁধা দেয় না জবেদা। ঘর হতে বেড়িয়ে উঠোন মাড়াতেই রোদে শুকোতে দেওয়া শামীমের লুঙ্গির একটা কানির স্পর্শ লাগে বুবির মাথায়। ঘোমটাটা মাথা থেকে পড়ে যায় তাঁর। স্পর্শটা যেন লুঙ্গির ছিল না, শামীমের। আচমকাই থেমে যায় সে। শামীমের মুখ তাঁর চোখে বারবার ভেসে ওঠে। স্বামীর প্রতি তাঁর অবিচার হচ্ছে। তাকে বলে যাওয়া দরকার। নাহয় সে কষ্ট পাবে। ইশারায় সে তোতাকে বোঝায়, শামীম কাজ থেকে ফিরলে তাকে বলে যাবে। ওর আসার সময় হয়ে গেছে। একটু পর শামীম এসে বুবি আর তোতাকে এগিয়ে দেয়।
আদম ব্যবসায়ী সুরত আলী জবেদার আত্মীয় হয়।খাতির খুব পোক্ত নয়, ফেলনাও নয়। এ অঞ্চলে তাঁর খেতাব ডেলিকেটার। সুরত আলী বললে কেউ চিনবে না। পুঁচকে হতে বুড়ো পর্যন্ত সবাই এক নামেই চিনে; ডেলিকেটার। এ পর্যন্ত কত মানুষজন যে বিদেশ পাঠিয়েছে তার কোন ঠিকঠিকানা নেই। শামীমকে ভাল ভিসার জন্য এখনো পাঠায় নি। এবার একটা ভাল ভিসা পাওয়া গেছে। এক বছর আগে শামীম পাসপোর্ট বানিয়ে রেখেছে। পাসপোর্ট বানাতে গিয়ে দাঁড়ি-গোঁফ মা উঠতেই কত বার খুর-কাঁচি চালাতে হয়েছে। দাঁড়ি-গোঁফ ছাড়া পুরুষকে পুরুষ লাগে না। বিদেশ তো আর ছোট বাচ্চা কাজের জন্য পাঠানো যায় না। পাসপোর্টের ছবিতে বয়স বেশি দেখাতে ডেলিকেটার সুরত আলীর পরামর্শে আগে ভাগেই দাঁড়ি-গোঁফ গজাতে খুর-কাঁচি চালাতে হয়েছে শামীমকে। সুরতকে দেখে জবেদা খুশি। মনেহয় ভাল ভিসা পেয়েছে। তাই তাঁর খুশি আর ধরে না। আগামী দু’মাসের মধ্যে চার লাখ টাকা দরকার শামীমকে বিদেশ পাঠাতে। জবেদা তেমন কোন টেনশন করে না। বিয়ের সময় শামীমের শ্বাশুড়ি মোমেলা বলেছে একটা ব্যবস্থা করবে।

চোখের পলক না পড়তেই সপ্তাহ চলে গেল। বুবি’র শ্বশুর বাড়ি যাওয়া হয়নি। রোজ বিকেলে শামীম আসে। জীবনের গত বসন্তগুলো পানসে কাটলেও বুবি’র এখন প্রভাতী ফাগুন। আজ চলে যাবে বলে নিজ থেকেই জানিয়েছে মোমেলাকে। ডিম দেওয়া বুড়ো হাঁসের গোশত আর আতপ চালের সেমাই পিঠা বুবি’র পছন্দ। মোমেলার চারটে হাঁস ডিম দেয়। বেছে বেছে ওজনদার একটা হাঁস জবাই করেছে মোমেলা। বিকেলে শামীমের আসার কথা থাকলেও জবেদা মধ্য দুপুরে হাজির হয়েছে। ওর ভাবগতিক আন্দাজ করতে পারে মোমেলা। হয়তো কিছু বলবে। কিন্তু মোমেলা জিগ্যেস করে না। দুপুরে তোতা, সলিমুল্লা আর জবেদা এক সাথে খেতে বসে। বুবিকে ডাকলেও সে আসে না। ও ভাত খাবে না। শামীমের সাথে সেমাই পিঠা খাবে। সে পাশে বসে সবাইকে এটা ওটা এগিয়ে দিচ্ছে। বাহাদুর তাঁর সাথেই। খাওয়া শেষ করে পান চিবুতে চিবুতে জবেদা মনের কথা প্রকাশ করে- আপনেগো জামাইর বিদেশের বাও হইছে।চাইল্লাক টেকা লাগবো। সময় নাই বেশি দিন। বিয়াইন কইছিলেন ব্যবস্থা করবেন।
তোতার মাথায় বাজ পড়লো যেন। মোমেলা মুষড়ে না পড়লেও গভীর একটা ভাবনার ছাপ তাঁর চোখে স্পষ্ট। বর্ষাকালে বজ্রপাত আর বিজলীর মিশেল আবহাওয়া তাঁর মনের। এতগুলো টাকা ব্যবস্থা করা ওর জন্য সহজ কাজ না। মোমেলা কিছু না বলতেই সলিমুল্লা জিগ্যেস করে, ‘বিয়াইন আপনে কিছু দিবেন না?’
- হ দিমু। আপনেরা তিন লাখ দ্যান। বাকীটা আমরা যোগার করি।
মোমেলা কিছু বলে না। কী বলবে? বোবা মেয়ের বিয়ে হয়েছে। মেয়ের সুখ তাঁর চোখে উঁকি দেয় বার বার। গরীবের সুখ বেশি দিন সয় না। তাঁর মাথায় অনেক হিসেব চক্কর খায়। সলিমুল্লা বাবার ওয়ারিসে পাওয়া সহায় সম্পদ আনেনি। ভাগ বাটোয়ারা হয়েছে বছর তিনেক আগে। ওসব বিক্রি বাট্টা করলে লাখ তিনেক যোগার হবে। ইচ্ছা করলে বসত ভিটা বেচে তোতাও দিতে পারবে। নিজে তোড়জোড় করলে লাখ টাকা ব্যবস্থা হবে। নানান চিন্তা ভর করে মোমেলার মাথায়।
জবেদা’র কাজ শেষ। জোহরের পর শামীমের আসার কথা থাকলেও সে আসতে পারেনি। আসরের আজানের আগে আসে সে। হাঁসের গোশত দিয়ে আতপ চালের সেমাই পিঠা খায় বুবি-শামীম। বাহাদুর চেটেপুটে ঝুটা হাড্ডি খাচ্ছে চোখ বন্ধ করে। মোমেলা’র বিমর্ষ চেহারায় বুবি চৈতালী খরতাপ দেখে বলতে চায়— মা, কী হইছে তোমার? শরীর খারাপ? নাকি অন্যকিছু? 
কিন্তু সে প্রকাশ করতে পারে না। মায়ের চিন্তার কারণ তাঁর এখনো অজানা।
টাকার যোগার হলো। সুরত আলীর মুখে হাসি। জবেদাও স্বপ্ন পূরণের আশায় খুশির সওদা করে সফল হলো। মোমেলা-সলিমুল্লা সবকিছু খোয়ালো যে মেয়ের জন্য তাঁর শরীরটা ভাল নাই। শামীম তাকে বলতে না চাইলেও চারদিকের রাখডাকে তাঁর বুঝতে বাকি রইলো না। মাথার উপর দিয়ে জন্মের পর হতে উড়োজাহাজ বহু উড়তে দেখেছে সে। নিজের আপন জনও যে এভাবে হাওয়ায় উড়ে দূর দেশে যাবে তা সে কখনোই ভাবে নি। তাঁর মনে বার বার উড়োজাহজ গোত্তা খায়; মনের ভাবনা চোখের দর্শনে বারবার খাবি খায়। হৃদয়ের তলানিতে জমা শামীমের স্পর্শ চোখের কোণে জল হয়ে জমে। শামীম দেখে।মাথায় হাত বুলিয়ে বুবিকে সান্ত্বনা দেয়—কি অত ভাবো? আমি তোমায় ছাইড়া কই যামু?
ওই যে আসমান দ্যাহো তুমি আমি তাঁর নিচেই থাকমু। আমাগো একটা জমি লাগবো, বাড়ি লাগবো। আমাগো পোলাপানের ভবিষ্যৎ আছে না? ওইসব আমাগোই দ্যাহোন লাগবো। তোমার লগে আমি সব সময় কথা কমু। মন খারাপের কিছু নাই।
শামীমের কথা বুবি বোঝে না; অনুভবে ভিতরে গাঁথে। শামীমকে জড়িয়ে কান্না জুড়ে দেয় সে। সামনের রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় শামীমের ফ্লাইট। কেনা কাটা শেষ হয়েছে। কাগজপত্রও হাতে পেয়েছে সে। বুবি ভাল নেই। শরীর ভাল না তাঁর। শুয়ে থাকে আর ফুঁপিয়ে কাঁদে। সবাই সান্ত্বনা দেয়। পুরো জীবনের না বলা কথা বুক চাপটে সে বলতে চায়। আমার জীবনটা এমন ক্যান? কেউ আমারে ধইরা রাখে না ক্যান? সবাই একলা কইরা দেয়।
বাহাদুর বুবি’র ভাবসাব দেখে এদিক ওদিক পায়চারী করে। শামীমের গোছগাছ শেষ। কাল রবিবার। মোমেলা, সলিমুল্লা, তোতা বুবির শ্বশুর বাড়ি। শামীমকে বিদায় দিতে হবে। ও সকাল সকাল রওনা দিবে। কাছে থাকার দরকার আছে। ফজরের আযানের আগে উঠে রান্না করছে জবেদা-মোমেলা। বুবি চুপচাপ। শামীমের বন্ধু শফি এসেছে ওর সাথে যাবে বলে। শফির সাথেই শামীমের সম্পর্ক একটু ভাল। নাস্তা সেড়ে সব কিছু গুছিয়ে শামীম বের হতে চায়। উঠোনে সবার থেকে সে বিদায় নেয়। বাড়ি ভরা মানুষজন। আশে পাশের অনেকেও এসেছে। বুবি একপাশে চুপচাপ দাঁড়ানো। শামীম তাঁর কাছে যেতেই সে বিমর্ষ হয়ে পড়ে। ওকে সে বিদায় দিতে চাইছে না। ওর দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। শামীমও চেয়ে থাকে। আজ সেও নির্বাক। নীরবতার ভাষা এখানে স্পষ্ট হলেও দু’জনের ভাবনা এক চিন্তায় সরব। বুবি ফিট হয়ে পড়ে যাবার উপক্রম হলো। শামীম তাকে চিৎকার করে জড়িয়ে ধরে। চোখের কান্না নিমিষেই মিলিয়ে যায়। শামীম বুবিকে ঘরে শুইয়ে পাশে বসে। শফি দৌঁড়ে গিয়ে বাজার হতে ডাক্তার নিয়ে আসে। মোমেলা মেয়ের জন্য অস্থির হলেও জবেদার ভিতরে ভিতরে রাগ বাড়ে। সে মনে মনে বলে, শুভকামে কুফা লাগায়া দিলো বউডা। আল্লায় জানে পোলাডার কপালে কি আছে!’
নাড়ীর গতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ তল্লাটের নামীদামী পল্লী চিকিৎসক হোসেন আলীর মুখে হাসি। বুবি চোখ মেলে তাকায়।’জবেদা, সুসংবাদ। তুমি দাদী হইবা। শামীম বাবা, তুমি আব্বা হইবা।’ ডাক্তারের মুখে এ কথা শুনে হাসতে হাসতে কেঁদে দেয় শামীম। তাঁর এ কান্না আনন্দ-বেদনার বিরহ আমোদ। তোতা উপরের দিকে দু’হাত তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘খোদা, এইডা কেমন বিচার তোমার! ‘ তোতার চোখে জল গড়ায়। তাঁর কোন অভিযোগ নাই, নাতনি একা হয়ে যাবে এ সময়। এটা সে মেনে নিতে পারছে না। ডাক্তার চলে যাবার পর বুবি উঠে দাঁড়াতে চায়। শামীম তাকে উঠতে দেয় না। জবেদা’র মুখে হাসির রেখা। ছেলে থাকবে না তাতে কী। ক’দিন গেলেই নতুন মেহমান আসবে ঘরে।
শামীমের দেরী হয়ে যাচ্ছ। কিন্তু তাঁর মনটা ছটফট করছে। বুবি তাঁর হাত ছাড়ে না। বুবির হাত সরিয়ে চলে যাবে তা হয় না। ঘর হতে সবাই বাইরে যায়। বুবিকে শামীম ইশারা দিয়ে বোঝায়—‘তোমার নতুন আসবো। আমাগো মেহমান। তাঁর খেয়াল রাইখো। নিজের যত্ন নিও’। বুবি শক্ত করে শামীমের হাত ধরে। কী একটা ভয় তাকে তাড়া করে। খাটের কোণায় বসে বাহাদুর ডাকছে। মিউ…মিউ। বুবি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর মনের ক্ষুধা চোখের ধারায় ঝরতে চাইলেও সে আটকাতে চায়; পারে না। শামীমকে বিদায় দেয় চোখের জলে। শামীমও সামনে এগোয় চোখ মুছতে মুছতে। মোমেলার বুকটা ফেটে যায়। চীৎকার করে তাঁর কাঁদতে ইচ্ছা করলেও সে কাঁদে না; নীরবে চোখের জল মোছে। প্রাপ্তি আর বিয়োগের অধ্যায় শেষে কেটে যায় মাসের পর মাস।
জবেদা বুবিকে ডাক্তার দেখায় না। এ সময় ডাক্তার না দেখালে সমস্যা। আল্লার মাল আল্লায় রক্ষা করবো। ডাক্তার দেখায়া কী লাভ। আগের দিনে কী পোলাপান হয় নাই? ডাক্তারের কাছে নিলেই সিজার করো, পেট কাটো। নিমু না ডাক্তারের কাছে, আল্লা ভরসা। কিছু হইব না, ইনশাল্লাহ। আল্লাহর উপর ভরসা করে জবেদা ডাক্তার না দেখিয়ে টাকার থলে বড় করে। মাসে মাসে শামীম টাকা পাঠায়। ও চায় ধীরে ধীরে শ্বশুর বাড়ির টাকা ফিরিয়ে দিতে। জবেদা সায় দেয় না তাতে। বোবা মেয়ে বিয়া করা চারটেখানি কথা নয়। টাকা ফেরতের কি আছে। নানান যুক্তিতে জবেদা শামীমকে বোঝায়।
বিদেশের চাকচিক্যে শামীম বদলায় না। কাজের পরে বিশ্রামে এলেই তাঁর বুবির কথা মনেপড়ে। অনাগত সন্তানের হাসিমাখা মুখ তাঁর চোখে ভাসে। বুবি সবকিছু সামাল দিতে পারবে কিনা সে চিন্তাও করে সে। বিদেশ থেকে মন খুলে সে বুবির সাথে কথা বলতে পারে না। বহুবার চেয়েছে একটা স্মার্টফোন দেশে পাঠাতে। জবেদাকে কোনভাবেই রাজি করানো যায়নি। ফোন পাইলে মাইয়া-বেটি নষ্ট হইয়া যাইবো-এই যুক্তিতে ফোন দিতে না করে জবেদা। তাই আর ফোন পাঠানো হয়নি। জবেদা কথা বলে শফির ফোন দিয়ে। শামীমের শখ ছিল ভিডিয়ো কলে বুবির সাথে কথা বলার। শফি অনেকবার চেষ্টা করেছে বুবির সাথে ভিডিয়ো কলে শামীমকে কথা বলাতে। পারে নি।
দেখতে দেখতে ফুরিয়ে এলো সময়।বুবি সকাল থেকে প্রসব বেদনায় কাতর। বাইরে বসে মাথায় ঘোমটা টেনে তাসবীহ পড়ছে জবেদা। বালা মসিবতে এমন তাসবীহ পড়ার অভ্যাস তাঁর নতুন নয়। মাসুমের মা নামকরা ধাত্রী। মোমেলা তাকে নিয়ে এসেছে বুবির কাছে। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নাগাদ ঘর হতে কান্নার আওয়াজ পাওয়া গেল। মোমেলা বাইরে খবর দিতে যেতে চাইলেও পারেনি। মাসুমের মা তাকে আটকে দেয়,’ একটু সবুর করো বইন। আমি ওর পেটে হাত দিয়া বুঝছি বাচ্চা দুইডা। একটু সবুর কর।’ মোমেলা নিজেকে সামলে বুবির মাথায় হাত বুলিয়ে পাশে বসে আছে। কিছুক্ষণের ব্যবধানে বুবি যমজ শিশুর মা হলো। এক পোলা আর এক মেয়ের মা বুবি। সবার মুখে আনন্দের বন্যা।
জবেদা খুশি হলেও দুই বাচ্চা সামলানোর পেরেশানিতে হা হুতাশ করলো। নির্বাক পৃথিবীতে নির্বাক বুবি অনেক কিছু বলতে চাইলেও বলতে পারে না। তাঁর চোখের জল কথা বলে— ‘শামীম পাশে থাকলে কী ভাল হতো’। শফি শামীমকে যময শিশু জন্মাবার খবরটা সাথে সাথেই জানিয়েছিল। বিদিশের মাটিতে তাঁর খুশি আর ধরে না। বুবির জন্য সে একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন পাঠায়। মায়ের বারণ তাকে আটকায় না। শফি মোবাইলটা এনে দেয় বুবির হাতে। দুই সন্তানকে দুই পাশে শুইয়ে সে মাঝে বসেছিল। খাটের এক পাশে বুবির নিত্য সঙ্গী বাহাদুর। মোবাইলটা হাতে পেয়ে বুবির বুকটা জুড়ায়। নিশ্চয়ই শামীম এ মোবাইলটা হাতে নিয়ে কিনেছে ওর জন্য।মোবাইলে শামীমের স্পর্শ থাকা বুবির জন্য অনেক পাওয়া। সে বারবার মোবাইলটা ধরে শামীমের কথা মনে করে।বুবির চোখ বেয়ে জল গড়ায়। সে জল বেদনার নয়; প্রশান্তির। বাহাদুর বুবির চোখের যেন ভাষা বোঝে। ডেকে ডেকে সান্ত্বনা দেয়- কেঁদো না, শামীম ভাল আছে। সময় হলে সে ঠিকই ফিরবে।
মোবইলের দেওয়ালে শফি শামীমের ছবি সেঁটে দিয়ে গেছে। বুবি হাতে নিয়ে মোবাইলে শামীমকে দেখছিল। হঠাৎ মোবাইলের পর্দটা নড়ে উঠলো। শামীম কল করেছে। ভিডিয়ো কল। শফির শেখানো কথামতো বুবি শামীমের কলটা ওঠায়। মোবাইলের পর্দায় শামীমকে দেখে উচ্ছ্বসিত বুবি আঁ আঁ করে শামীমকে বলতে চায়- কেমন আছো তুমি? অনেক কাল তোমারে দেহি না। কবে আইবা তুমি? আমারে কি তোমার মনেপড়ে না? তোমারে ছাড়া ভাল্লাগে না আমার।
বুবি কেঁদে দেয়। সে বাচ্চাদের দেখায়। বাচ্চাদের হাতে ধরে দেখতে না পারার কষ্টে শামীম কেঁদে ফেলে। শামীমের কান্না দেখে বুবি ঠিক থাকতে পারে না। তাঁর হৃদয়ে কোটি দিনের আর্তনাদ। জগতে কতো মানুষ আপন হয়, কথা না বলা মানুষের আপন জন সবাই হয় না। ইথারের তরঙ্গে ভালবাসার বিনিময়ে বুবির মন শান্ত হয়। দরজায় দাঁড়িয়ে জবেদা সব দেখে। মোবাইলে সে ছেলের ছবি দেখে কাঁদে। ছেলেকে নিজের চোখে দেখে সেও স্বর্গের শান্তিতে নিজেকে জড়ায়। বুবির মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে বুকে টেনে নেয় সে।
বুবির ছোটবেলার সঙ্গী বাহাদুরের মাথায় হাত বুলায় বুবি। বাহাদুর বুঝতে পারে মনের তৃপ্তিতে অন্তরে যে ভালবাসা সৃষ্টি হয় তার প্রকাশ হাতের করতলে অনেক যত্নের।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/64217/</link>
				<pubDate>Sat, 27 Nov 2021 23:36:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছোট গল্প<br />
&#8212;&#8212;&#8212;<br />
বুবি(শেষপর্ব)<br />
&#8212; শাহ্ কামাল</p>
<p>শামীমের সংসারে বুবি’র দিন খারাপ কাটার সুযোগ নেই। জবেদা সারাদিন বকবক করে। ‘দুনিয়া বড় সেয়ানা। সবাই নিজেরডা ভালাই বোঝে। এই দিন দিন না। উপরে একজন আছে। মানুষরে ঠকায়া কেউ বড় হয় না। আল্লা বিচার করব। আমি আল্লার কাছে কই। আমি সই, আল্লা যে সয় না।’ এই রেকর্ড করা বয়ানটা সে সারাদিনই ঝেরে যায়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-64217"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/64217/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d46cfed70a3a51897e70f9973032b14b</guid>
				<title>Shah Kamal and Romanul Nadim are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/59805/</link>
				<pubDate>Mon, 22 Nov 2021 15:04:32 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bf793b217767e984942399a41fd530a2</guid>
				<title>ছোট গল্প
======
বুবি
—— শাহ্ কামাল

তোতা ফকির উঠোনের একপাশে একটা ভাঙাচোরা চেয়ারে ছোট্ট আয়না রেখে বাবরি চুলে সরষের তেল মাখাচ্ছে। গড়ন হালকা পাতলা নয়; রোগাও নয়। কপালে ভাজ পড়েছে। চেহারাটা শ্যামলা। তেলতেলে ভাবটা সবসময় লেগে থাকে তোতা ফকিরের।কোন বড়দুস্তর কেরামতি দেখানোর ফকির সে নয়; মাজারে মাজারে ঘুরে ঘুরে “বাবার” ছবক পাওয়া ফকির। ঘর সংসারের কোন খোঁজ খবর তাঁর কাছে নেই। জমিদারী হালতের চালচলন দেখে কেউ তাকে এ পাড়ার ফকির মনে না করলেও পাতিলের তলায় ফকিরেরই আলামত।

তাঁর বড় মেয়ে মোমেলা এ বাড়িতেই থাকে। ভিনদেশী ছেলের হাতে তোতা তাকে তুলে দিয়ে বড় মছিবতে আছে। বিয়ের পর থেকেই ঘর জামাই মোমেলার স্বামী সলিমুল্লা। ঠাটেবাটে সে নবাব সলিমুল্লা না হলেও রসে বসে শরীরের মেদ বলে জগতের সবচেয়ে সুখী মানুষ সে। সকাল বিকাল রুটিন করে সাহেবালী’র বাড়ি দু’বেলা গাঁজার কল্কিতে টান না দিলে তাঁর নাকি ঘুম আসে না। এ জগতে বিচিত্র মানুষের জ্ঞান গরিমা। মাথার জ্ঞান বিবেকের ঘরে দরজা না খুললেও চোখের শাসনে সবাই নবাবী বংশধর।

উনিশ বছর ধরে তোতার বাড়িতে ঘর জামাই সলিমুল্লা। কাজের বেলা ঠনঠনা ঠন তবে জ্ঞান বিতরণের সময় মোল্লা নাসিরও তার কাছে পাত্তা পাবে না। মোমেলার রোজগারে চলে সংসার। বড় রাস্তার মোড়ে সাদা খোরশেদের তুলার মেশিনে তুলা ভাঙানোর কাজ করে সে। সপ্তাহ গেলে সাতশো, কখনো আটশো টাকা তাঁর মাইনে। সে টাকায় টেনেটুনে সংসার চলতে চায় না তাঁর। দু ছেলেমেয়ে নিয়ে তাঁর সংসারে মোটমাট চারটে মুখ। মেয়েটা বড়। আঠারো বছর বয়স হলেও বিয়ের কোন কূল কিনারা করতে পারছে না মোমেলা। দেখতে শুনতে খারাপ না মোমেলার মেয়ে শিল্পী।তাকে দেখলে কেউ আঠারো বছর বলবে না, ওকে দেখতে একটু বয়স্ক বয়স্ক লাগে। ঘরের মেঝেতে সামনে একটা বালিশে সে কোরআন শরীফ নিয়ে দুলে দুলে তিলোয়াত করছে। তোতা উঠোন থেকে মাঝে মাঝে শিল্পীর দিকে তাকায়। অবশ্য বাইরে থেকে পুরোপুরি দেখা যায় না ওড়নার ঘোমটার জন্য। তোতা বারবার শিল্পীর দিকে তাকালেও তাঁর মতিগতি বোঝা যাচ্ছে না। সে জানে শিল্পীর তিলোয়াত সে শুনবে না। জন্মগতভাবেই শিল্পী কথা বলতে পারে না; সে বোবা। স্বার্থের দুনিয়ায় কতো প্রকৃতই বদলে যায় লোকের মুখে মুখে। তেমনি শিল্পীর নামটাও বদলে গেছে। সবাই তাকে বুবি বলেই ডাকে। 

বুবি ছোট বেলায় মক্তবে যেতো আর সবার মতোই। হুজুর যখন আলিফ, বা, তা, ছা পড়াতেন তখন সে তাঁর মতো বোঝার চেষ্টা করেছে; তবে তা গন্তব্যের কতটা কাছাকাছি তা কেউ জানে না। সে পড়ে। পড়তে পড়তে সে কুরআন শরীফও নিয়েছে। হুজুরের সামনেও সে বহুবার পড়া দিয়েছে ঝুঁকে ঝুঁকে। শিল্পীর বর্ণহীন ভাষা আর চোখের নেশা তাকে শিক্ষিত বানিয়ে তুলেছে পুরোদমে। তাঁর পড়ায় বিরতি হয়নি। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত সে হাই স্কুলেও পড়েছে। হাতে বই পেলেই সে আঙ্গুল টেনে পুরো বই পড়ে ফেলে। বইয়ের নির্বাক বর্ণমালা আর তাঁর নির্বাক ভাষা একাকার হয়ে মিশে যায় দূরের আকাশে, দখিনা বাতাসে। সাদা কাগজ কলম দিয়ে ইশারা ভঙ্গিতে কেউ তাঁর লিখতে বললে সে নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম লিখতে পারে। জীবনের খাতায় তাঁর অঙ্কে গড়বড় থাকলেও, গণিতের খাতায় সে যোগ-বিয়োগ করতেও জানে।

সলিমুল্লা প্রায়ই মোমেলাকে বকাবকি করে। মোমেলার পাপের জন্য আজ শিল্পী বোবা। কথা বলতে পারে না। মোমেলা কাঁদে; তাঁর চোখের জল চোখ থেকে বুক পর্যন্তও গড়ায়। কিন্তু কিছু বলে না। কাকে বলবে? কিইবা বলবে। ছাল নাই কুত্তার বাঘা নাম। সলিমুল্লার এত বকাবকিকে তোয়াক্কা করে না মোমেলা। জন্মের পর থেকে শিল্পীর দুধের খরচা দিতে পারেনি যে তাঁর মুখে বড় বড় কথা। মেয়ের ভবিষ্যৎ মাথায় রেখে মোমেলা টাকা জমাচ্ছে। ভাল একটা ছেলে দেখে বিয়ে দিতে পারলেই রক্ষে।

বাহাদুর। শিল্পীর বিড়াল।পোষ মানা বিড়াল। সারাক্ষণ ওর সঙ্গী। দু’ বছর হয় বাহাদুরের সাথে ভাব অনেক গভীরের। বাহাদুরকে ও ডাকে না। পাশেই থাকে। শিল্পী খেতে বসলে পাশে বসে থাকে। একটা মাটির খোড়া বাহাদুরের সামনে দেওয়া হয়। শিল্পীর আবদার মেটানোর পাশাপাশি বাহাদুরের বায়না মেটাতে মোমেলা বাজার হতে আধ-পঁচা মাছ কিনে লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে দেয়। বাহাদুর এ ঘরেরই একজন। শিল্পীর কাছের সঙ্গী। ও মাথায় হাত বুলালে সোহাগ পেয়ে চোখ বন্ধ করে দেয় বাহাদুর। সমবয়সী বান্ধবীদের সাথে শিল্পীর খাতির নাই, কারো কারো বিয়ে হয়ে গেছে। শিল্পীর মুখে রা নাই তাই কারো সাথেই তাঁর খুব একটা ভাব জন্মে না। সলিমুল্লা’র চোখের বিষ সে। মা আর বাহাদুর শিল্পীর আপন জন। শিল্পীর না বলা অনেক কথা বোঝে বাহাদুর। ম্যাও ম্যাও করে সে শুধু নিজের ভাষাই জাহির করে না; শিল্পীর সাথে ওর সখ্যতার প্রমাণও দেয়। ও বলতে চায়, তোমার সঙ্গী লাগবে না; আমি মরন পর্যন্ত  তোমার কাছেই থাকব। শিল্পীও ওর ভাষা বুঝে ওকে কাছে টেনে নেয়।

খালপাড়ের মেয়ে নুন্না। নুন্না ডাকনাম। বাপমা আকীকা করে নাম রেখেছিল নুরুন্নাহার। কেটেছেঁটে নুরুন্নাহার হয়ে গেছে নুন্না। ঘটকালি করে। মহিলা ঘটক। রোজগার খারাপ না। এক বিয়েতে কমছে কম পাঁচ হাজার তাঁর চাহিদা। বেশিও ইনকাম হয়। এ পর্যন্ত কুড়ি জোড়া বর কনের হাত এক করেছে। একুশ জোড়া হতো। একুশ নম্বর বিয়েতে ঝামেলা হয়ে গেছে। খাওয়া দাওয়া শেষে ইজাব-কবুলের সময় দেখা গেল কনে নেই। পছন্দের ছেলের সাথে ভেগে গেছে। কনে ছাড়া তো বিয়ে হবে না। কেউ নুন্নার দোষ না দিলেও এমন ঘটনা নুন্নার সুনাম নষ্ট করেছে। তাই সে ঘটকালি ছেড়েই দিয়েছে বলা যায়। হাসমত শিকদারের মেঝো মেয়ে জবেদা তাঁর একমাত্র ছেলে শামীমের জন্য কনে খুঁজছে। ভাল বংশ খুঁজতে খুঁজতে এক বছর কেটে গেল। কনে আর পাওয়া গেল না। জবেদা তাই নুন্নার কাছে এসেছে। নুন্না জবেদার পীড়াপীড়িতে রাজি হয়। তবে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে।’ বিয়া করাবি ভাল তয় তর পোলা কি লায়েক হইছে? অয় না ছোড?’
‘ কী যে কছ না বইন; পোলা কী আজকা ডাঙর হইছে!’
‘ কত বস তর পোলার?’
‘ এত জানি না। আমারে একডা মাইয়া বাও কইরা দে বইন। তরে পোষাইয়া দিমু।’
নুন্নার মাথায় শিল্পীর কথা বারবার ঘুরপাক খায়। শিল্পীর কথা মনে মনে ভেবে সে জবেদাকে বলে,’ মাইয়া বোবা হইলে সমস্যা আছে তর?’
বোবা শুনে জবেদার মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। তাঁর ছেলের জন্য মেয়ে চাই। অনেক দেখেছে; মেলে না। নুন্নার কথায় সে সোজাসুজি জবাব দেয়,
‘বোবা! নাহ সমস্যা না। বোবা তো আল্লায় বানাইছে। সমস্যা নাই। তয় কিছু না দিলে চলত না। পোলারে বিদেশ পাডাইতে হইব।’
নুন্না স্বস্তি পায় জবেদার কথায়। জবেদা তাঁর কথা চালিয়ে যায়, ‘মাইয়াডা কেডা?’
‘ মোমেলার মাইয়া শিল্পী।’
‘ অ। চিনছি। দেখতে খারাপ না। কথা কন।’
নুন্নার ভাবনায় মোমেলার চিন্তা কমল। তোতাও রাজি, সলিমুল্লাও খুশি। মোমেলার মনে নতুন চিন্তা। শামীম কম করে হলেও শিল্পীর দুই বছরের ছোট।

বয়সের নিকেশ চোখে পড়ে না কারোই। মোমেলার মাথায় থাকলেও সে চিন্তা মিলিয়ে যায়; মেয়ের হিল্লে হবে এই বা কম কিসে? দেখাদেখির পালা চুকিয়ে অনেকদূর এগিয়েছে নুন্না। লেনদেনের হিসেবটা বরাবর মোমেলার দিকে। শামীমকে বিদেশ পাঠিয়ে দিবে। দেড় ভরি সোনার গহনা দিতে হবে। মোমেলার জমানো টাকায় এসব কুলোবে না। আপাতত কোন সমস্যা না। সমস্যা হবে বিদেশ পাঠানোর সময়। সে হিসেবটাই মোমেলাকে ভাবায়। তবে সে দমবার নয়। ব্যবস্থা একটা হয়ে যাবে। জগতে কারো বিপদ আটকে থাকে না, মনে থাকে কিছু মানুষের ব্যবহার শুধু। মেয়ের বিবাহ নিয়ে সলিমুল্লা’র কোন ভাবনা নেই। সে জন্মেছে নির্ভাবনার বর্ষা দিনে। টিপটিপ বর্ষার জলে সবকিছু যেমন কাদায় মাখো মাখো তেমনি মোমেলার কামাইয়ে তাঁর জীবনও সুখে মাখো মাখো। জগতে সবার সুখ এক রকম নয়; কারও সুখ অঢেল টাকার বান্ডেলের ভাজে ভাজে। কারও সুখ কাজ-কর্ম না করে উদোরপূর্তিতে। কাঁচা মরিচের কামড়ে কামড়ে পান্তা ভাতের জলে কারও সুখ টলমল করে। কারোই তেমন কোন চাহিদা নাই; দু’বেলা পেট পুরে খেয়ে শান্তিতে ঘুমুতে পারলেই তার সুখ। সলিমুল্লা সে সুখেই কোন টেনশনে নাই। 

মোমেলার ব্যস্ততা বুবি’র চোখে পড়ে। দু’বার তাকে দেখতে এসেছে জবেদা। শামীমও এসেছে একদিন। সেদিনের কথা বারবার মনে পড়ে তাঁর। শামীম নিরীহ গোছের সাদাসিধে ছেলে। বুবি’র মতো সেও নানার বাড়ি থাকে। সবাই তাকে ভাল ছেলে বলেই জানে। এলাকায় দু এক জন এমন ছেলে থাকে; যাদের নাম করে বাপমায়েরা নিজের ছেলেপুলেকে শাসায়। বুবি’র চোখে শামীমের চোখ পড়তেই  ওর মনে শামীমের জন্য একটা আলাদা খুপরি তৈরি হয়েছে। সেখানে অন্য কারো স্থান নাই, তা মৌলিক। সে তাঁর এই কথাটুকু কাউকে বলতে পারে না, তাঁর মনের কথা চেহারায় ফুটে ওঠে। মোমেলা বুঝতে পারে। ও মা। মায়েরা সব বোঝে। বাহাদুরও বুঝতে পারে তার কদর বেড়েছে বুবি’র কাছে। মাথায় হাত বুলানোর ধরন বদলেছে সে। আগে হাত বুলালে বাহাদুর মিউ মিউ করত; এখন ঘুমিয়ে যায়। বুবি’র কাজে একটা উদাস উদাস ভাব লক্ষ্য করে মোমেলা। কিন্তু কিছু বলেল না। বলে লাভ নাই, বলার দরকারও নাই। যাকে নিয়ে এতো এতো ভাবনা ছিল চিন্তা নগরে দু’দিন পর তাঁর বিয়ে। মেয়ের চোখে যে তৃপ্তির রেখার আঁকিবুকি তা মোমেলাকে নতুন প্রাণ দিয়েছে। আজন্মের কষ্ট বুঝি ঘুচল এবার।

বুবি’র বিয়েতে মোমলা আর তোতা মিলে সত্তর জনকে দাওয়াত করেছে। বর যাত্রী আসবে বিশ জনের মতো। বাবুর্চির ফর্দ ধরে কেনা কাটাও শেষ। দেখতে দেখতে বিয়ের দিন চলে এলো। লোকে গমগম তোতার বাড়ি। বুবি’র বিয়ে। দাওয়াত না পেলেও অনেকে এসে দেখে যাচ্ছে। ছোট খাটো একটা গেটও করা হয়েছে তোতার বাড়ি। যে কেউ দেখলেই বুঝবে এটা বিয়ে বাড়ি। সবকিছু ঠিকঠাক মতোই এগুলো।
বুবিকে সুন্দর করে সাজিয়েছে মাতবর বাড়ির ছোট মেয়ে জরিনা। জরিনার সাথে বুবি’র ভাবের খাতির না থাকলেও চোখের মায়ার একটা টান আছে। সেই টানেই বুবি’র পাশে জরিনা।
কাজী সাহেব বিবাহের এন্তেজামে ব্যতি-ব্যস্ত। নীল রঙের নিবন্ধন বইতে নাম-ধাম লেখা শেষ। সমস্যা হলো বুবি’র ইজাব কবুল নিয়ে। কাজী সাহেব যা যা বলবে তা তো বুবি শুনবে না; ও কবুল বলবে কিভাবে?

কাজী সাহেব আসলে মূল কাজী নন। তাঁর শাখা প্রশাখা থাকে এলাকা ভিত্তিক। সরকারি হিসাব-কিতাবের ধার ধারে না তাঁরা।এলাকা ভিত্তিক আত্মীয় পরিজন নিয়োগ দেওয়া থাকে বিবাহ নিবন্ধনের জন্য।অনেকে অনেক বিষয়ে অভিজ্ঞ থাকে না; কেউ কেউ দিনকে দিন সমস্যায় পড়তে পড়তে অভিজ্ঞ হয়। তবে এ অভিজ্ঞতা অরজনের কথা কাউকে তেমন বলতে চায় না কেউ। বুবি’র বিবাহে আসা কাজী বোবা মেয়ে বা ছেলের বিয়ে দেয়নি আগে কখনো।বিষয়টা নিয়ে বেশি মাথা না ঘামিয়ে কাজী সাহেব পাঞ্জাবির পকেট হতে মোবাইল ফোন বের বড় মসজিদের খতীব মাওলানা রশিদ সাহেবকে ফোন দিয়ে জেনে নিলেন। বুবি’র মুখে কবুল বলতে হবে না। ইশারা করলেই হবে। তাছাড়া সে তো গন্ড মূর্খ নয়। স্কুলে যেতে যেতে সে নাম দস্তখত শিখেছে। 

বুবি’র বিবাহ সম্পন্ন হলো। মোমেলার চিন্তা ঘুচলো। শামীমের হাতে বুবিকে সঁপে দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সে। তাঁর কা্ন্না দেখে স্থির থাকতে পারে না তোতা, সলিমুল্লা। বুবি সলিমুল্লাকে কখনো কাঁদতে দেখেনি। মেয়ের প্রতি সলিমুল্লা কখনো তেমন দায়িত্ব পালন না করলেও বাপ-মেয়ের সম্পর্কে একটা পোক্ত ভাঁজ ছিল। সলিমুল্লা বাড়ি ফিরলে রোজ রোজ তাঁর হাতের মুঠো হতে কিছু না কিছু বের করে বুবিকে দিতো। কখনো দু’টাকা দামের চকলেট, কখনো কটকটি, কখনো বা নারকেল ভাজা। বুবি’র কাছে বাবার এই সামান্য উপহার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি মনে হতো। মায়ের চোখের আড়ালে বাবার এই ভালবাসা পৃথিবীর কোন কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না। নীরবে নিভৃতে যে বাবা তাকে ভালবাসতো আজ সে কান্নায় ম্রিয়মান। বাবার সাথে কাটানো সময়গুলো তাঁর চোখে বারবার ভেসে ওঠে। একবার বুবির খুব জ্বর হয়ে ছিল। কাঁপতে কাঁপতে দাঁতে খিল পড়ে যেতো। মোমেলার সাথে ডাক্তারখানা যাবার সময় সলিমুল্লার অস্থিরতার ছবি চোখে ভাসে তাঁর। সে পুকুর জলে সাঁতার কাটা বাবার কাছেই শিখেছে। আজ সে বাবা’র চোখে জল তাঁর সয় না। বাবা মাকে জড়িয়ে সে অঝোরে কাঁদতে থাকে। তোতা দূরে দাঁড়িয়ে ফোঁপাতে থাকে। 

জগৎ ভালবাসার স্থান । এখানে ভালবাসায় সব হয়।মানুষে মানুষে যত হানাহানি তাঁর পাছে এই ভালবাসাই দোষী। পরস্পরের ভালবাসায় সম্মান না থাকলে তা আর ভালবাসা থাকে না।তখনই নানা অনাচারের কথা শোনা যায়। ভালবাসার বন্ধন না থাকলে এতকাল এ জগৎ টিকতো না। তবে সব ভালবাসা মধুর হয় না। কিছু কিছু বিয়োগের ভালবাসা বর্ণনার বাইরে, ছলনার ঊর্ধ্বে। সবার কান্নার রোল বাহাদুর বোঝে না। তবে বুবি যে কোথাও চলে যাচ্ছে তা সে ঠিক বুঝতে পেরেছে। পিছন দিক হতে বুবির শাড়ির আঁচল মুখ দিয়ে টানছে সে। বুবির চোখে পড়ে বাহাদুরের টানাটানি। কত দিনের সর্ম্পক যেন তাদের এক করে রেখেছিল। আজ কি তা মিটে যাবে? বাহাদুরের জন্য বুবির ভেতরটা ফেটে যায়। এই বাহাদুর তাঁর একাকীত্ব দিনের সঙ্গী; নীরব রাতের সহচর। বুবি বাহাদুরকে কোলে তুলে নেয় সাথে নিয়ে যাবে বলে। মোমেলা বাহাদুরকে রেখে দেয়। বুবি যাত্রা করে শ্বশুরবাড়ি।

এশার পর শ্বশুরবাড়ি পা রাখে বুবি।বুবিকে দেখতে এ বাড়ি, ও বাড়ি হতে বৌ ঝিয়েরা আসতে থাকে। বুবিকে সবাই চিনে। সাধারণ চেনা জানা আর বউ হবার পর চেনা জানায় তেমন তফাৎ না থাকলেও একটা ভাল সুবোধ ছেলের জন্য বোবা মেয়ে পছন্দ করার মধ্যে একটা কিন্তু থাকে। বুবি সবাইকে পা ধরে সালাম করে। জবেদা সালামের আদবটা প্রথমেই শিখিয়ে দিয়েছে ইশারায়।মকবুল বুড়োর বোন ছলেমা একগাল শুনিয়ে গেল জবেদাকে। ‘দুন্নাই ভইরা মাইয়ার কী আহাল লাগছে নি? কী সোনা তোলা পোলাডার লাইগ্গা একটা বুবি ধইরা আনলি। তর এত লোভ ক্যান শুনি? এই বোবা মাইয়া দিয়া করবি ডা কী! সংসারে কত কাম কাইজ। বুঝবি, বুঝবি কয় দিন পরে। আমাগো একবার জিগাইলিও না।’ জবেদা কান পেতে শুনে সহ্য করে। তেমন কিছু বলে না।

শামীমের দু’বন্ধু মিলে বাসর ঘর সাজিয়েছে জরি আর রজনীগন্ধা দিয়ে।বুবি চারপাশটা ভাল করে দেখছে। তাঁর মনের মধ্যে কী এক সুখভাব বারবার দোলা দেয়। সে ধরে ধরে রজনীগন্ধার কলি দেখে। তাঁর জীবন কলি আজ ফুটেছে; রজনীগন্ধার কলি ফোটার আগেই বাসর ঘরে নিজেকে বিলীন করেছে। বাহাদুরকে দেখে বুবি আতকে ওঠে। বাহাদুর খাটের একপাশে চুপটি করে বসে আছে। সে বুবির উচ্ছ্বাসে উচ্ছ্বসিত। মাঝে মধ্যে মিউ মিউ ডাক দিয়ে জানান দেয় সে এখানেই আছে। মোমেলা তাকে আটকে রাখতে পারেনি। প্রকৃতির নীরব বন্ধন কেউ রুখতে পারে না; কেবল তাঁর ধরন বদলায়। শামীম দরজার খিল এঁটে বুবি’র পাশে বসে। বুবি চুপ হয়ে যায়। ঘোমটা টেনে সে মাথা নুইয়ে থাকে কিছুক্ষণ। ওর আদব কায়দার কমতি নেই। খাট হতে নেমে সে উঠে দাঁড়াতেই শামীমও পাশে দাঁড়ায়। বুবি তাকে পা ধরে সালাম করে। শামীমের বয়স বুবির চেয়ে কম। সে অনেক কিছু কম বুঝলেও দায় নেয়া বউয়ের প্রতি তাঁর করতব্য সে বুঝে নিয়েছে। বুবিকে খাটে বসিয়ে সে জীবনের বিচিত্র পাঁচালি ইশারায় বোঝায় বুবিকে। বুবি শামীমের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বুঝতে পারে তাকে তার দায়িত্ব বোঝানো হচ্ছে। তাঁর দৃষ্টিতে ভেসে ওঠে স্বামী-স্ত্রীব সম্পর্কের মায়াজালের বিচিত্র খসড়ার নকশা। বাহাদুর বুবির কোলে বসতে চাইলেও শামীমের জন্য পারে না। বাহাদুরের প্রতি স্বামীর কিছুটা বিরক্তি সে আঁচ করতে পেরে বোঝায়। স্বামীর ঘরের দায় বোঝার পর বুবি শামীমকে ইশারায় বোঝায় বাহাদুর তাঁর কতটা কাছের। শামীম আর কিছু বলে না। দু’জনের নতুন সংসারে বাহাদুরের ঠিকানা হলো।
 (চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/59396/</link>
				<pubDate>Sun, 21 Nov 2021 13:07:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছোট গল্প<br />
======<br />
বুবি<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>তোতা ফকির উঠোনের একপাশে একটা ভাঙাচোরা চেয়ারে ছোট্ট আয়না রেখে বাবরি চুলে সরষের তেল মাখাচ্ছে। গড়ন হালকা পাতলা নয়; রোগাও নয়। কপালে ভাজ পড়েছে। চেহারাটা শ্যামলা। তেলতেলে ভাবটা সবসময় লেগে থাকে তোতা ফকিরের।কোন বড়দুস্তর কেরামতি দেখানোর ফকির সে নয়; মাজারে মাজারে ঘুরে ঘুরে “বাবার” ছবক পাওয়া ফকির। ঘর সংসারের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-59396"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/59396/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bbf8d99e049f9ab1cd61c409f526b8b6</guid>
				<title>১৯শে নভেম্বর। বিশ্ব পুরুষ দিবস। বিশ্বের সকল পুরুষদের জন্য আমার নিবেদন।

পু রু ষ

— শাহ্ কামাল 

ছেলে হয়ে জন্মানো এক ছেলের খবর কে রাখে বল
যখন সে জন্মায় , দু হাত উঁচু করে কিছু স্বপ্ন নিয়ে।
আর দশ জনের মতোই সে বড় হয় ঠেলে ঠুলে
অথবা স্বচ্ছলতায় পায়ের উপর পা তুলে
বিদ্যে যা জোটে তাই নিয়ে সে বড় হয়। বড় হয় তার পৃথিবী।
একটু একটু করে ভদ্রতা অথবা দস্যিপনায় সে বড় হয়
আসলে ছেলেরা এমন না হলে একেবারে ছেলে আর হওয়া যায় না।
এরই মাঝে রোল এক হয় কারো আবার একশো এক
সবাই শিক্ষিত হবে। রোলে তো জীবন থেমে থাকে না।
মার্কস একটু বেশি সবাই খুশি। আর কম হয়ে গেলে
সে তো এক নতুন ইতিহাস কটাক্ষের তোপে
এভাবে বড়ো হতে হতে একটু করে স্বপ্ন বড় হয় একটি ছেলের।
কেঊ আবার স্বপ্নটা গোছাতে পারে না আড্ডার ছলে
কারো বা স্বপ্ন হয় ফার্স্ট ছেলের সাথে যদি একটু ভাব হতো
কারো স্বপ্ন থাকে শেষ বেঞ্চের সুন্দরী মেয়েটাকে পটাতে
এক্সামে আবার এ ছেলেটাই টেনশনে থাকে পাস নম্বর উঠবে তো?
কোন কোন ছেলে বুধ হয়ে যায় বইয়ের পাতায়
ফলাফল যাই হউক পাস নম্বরেই খুশি অনেকে
কলেজের গন্ডি পেরুতে পেরুতে কিছু ছেলে কল কারখানায়
কেউ আবার সিগারেট ফুঁকে ফ্যাশনের মহিমায়
তবে একটি ছেলে; ছেলে হতে হতে পুরুষ হয়ে যায় বাস্তবতার হরমোনে
ঠেলা গাড়ি ঠেলে কেউ সংসারে হাল ধরে
কেউ সভ্যতার উৎকর্ষের স্টীল মিলে আগুন সয়ে,
কেউ হাজার হাঁকে ফেরী করে বিক্রি করে দু মুঠো চানাচুর
কেউ কলমের দাগে দাগে টাকা কামায় পকেটের আন্দোলনে
কেউ কাক ডাকা ভোরে চলে যায় ফিরে আসে নীড়ে ফেরা বকের সাথে
কেউ চেয়ারে বসে গাড়ি চড়ে এসির হাওয়া খেয়ে
একটি ছেলের স্বপ্ন থাকে: টুকটুকে লাল শাড়িতে
একটি পরিচিত অপরিচিত মেয়ে তার বউ হবে
একটি সুখের বাসর অথবা একটি ছিমছাম ছোট্ট বাসা
একটি ছেলে একটু শান্তি অথবা স্বস্তির জন্য 
দূর অথবা কাছের কোন মেয়েকে মন দিয়ে দেয়
কখনো আবার সেই দেয়া মন চুরি করে মেয়েটা
বাবার আবদারে চলে যায় অন্য মনের সন্ধানে
আর মধ্যবিত্ত ছেলে হলে তো কথাই নেই
একটি ছেলে তার সব দুঃখ চেপে যায় বুকে পাথর চেপে
কোন ছেলে আবার জিপার আটকাতেই ভুলে যায়;
সে একটি মেয়েকে নিঃস্ব করেছে ভালবাসা বলে বলে।
একটি ছেলে সারাদিন মেশিন হয়ে মাস শেষে
মাইনের টাকা নিজে রেখে খরচ করলে সে অবাধ্য
এই ছেলেটাই মায়ের আচঁল ঘেঁষে তাকে ভালবেসে মাইনেটা 
হাতে তুলে দিলে লক্ষ্মী ছেলে হয় কখনো
বউকে দিলে বাবা মা তাকে হারিয়ে ফেলে।
সে বুঝতে পারে না কার কাছে ভাল আর কার কাছে সে মন্দ
এই ছেলেটাই বোনের মুখের হাসি রাখতে রিক্সার ভাড়া বাঁচিয়ে
পাড়া গলি হতে চটপটি এনে বোনের হাতে তুলে দেয়
এই একটি ছেলেই এক ঘণ্টা ওভার টাইম করে করে
সেই টাকায় ভাইয়ের জন্য ব্রান্ডের ঘড়ি কিনে সে বন্ধুদের সাথে চলবে বলে
এই একটি ছেলে ছেড়া প্যান্টে আরেকটা সিলি টানে রাতের আঁধারে,
নতুন প্যান্ট না কিনে সে টাকায় মায়ের প্রেসারের ওষুধ কিনবে বলে
এই একটি ছেলেই চাইনিজে আড্ডা না দিয়ে বাবার জন্য পান্জাবি কেনে
লুকিয়ে লুকিয়ে না জানিয়ে টাকা জমিয়ে এই ছেলেটাই 
বঊয়ের মুখে একটু অনাবিল হাসির জন্য গয়না গড়ে
সবার মুখে হাসি ধরে রাখতে রাখতে সে হারায়,
সব হারায়ঃ বন্ধু আড্ডা অবসর আর দিনের আলো।
সেই ছোট্ট কচি মুখের ছেলেটা আর ছেলে থাকে না
তার দায় তাকে অনেক বড় করে তোলে
দুটো হাত । একই উপার্জন। তবুও ঈদ পূজো পার্বণে
এই ছেলেটাই নিজের জন্য কিচ্ছু না কিনে উৎসর্গ করে সব
এটিএম মেশিনের মতোই তার থেকে টাকা বেরোয় দিন দিন
তার প্রয়োজনে সে নিশ্চুপ থাকে কারো চিন্তা না বাড়িয়ে
একটি ছেলে বুঝতেই পারে না সে কখন পুরুষ হয়ে গেছে
তার বোধ নেই তার অভাব নেই তার কান্না নেই
সবার হাসি আর প্রয়োজনে তার বেশি আর
তার প্রয়োজন সভ্যতার কাছে অচেনা রয়ে যায়
তার বিরুদ্ধে সবার অভিযোগ কিন্ত তার কোন অভিযোগ নেই
এইতো একটি ছেলে, একজন পুরুষ
এ সভ্যতা তার হাতে এগিয়ে যায় একজন মমতাময়ী
নারীর নরম দুটি হাত ধরে।
অথচ সে অবিরাম চলে চিরন্তন একাকী।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/58622/</link>
				<pubDate>Fri, 19 Nov 2021 09:10:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>১৯শে নভেম্বর। বিশ্ব পুরুষ দিবস। বিশ্বের সকল পুরুষদের জন্য আমার নিবেদন।</p>
<p>পু রু ষ</p>
<p>— শাহ্ কামাল </p>
<p>ছেলে হয়ে জন্মানো এক ছেলের খবর কে রাখে বল<br />
যখন সে জন্মায় , দু হাত উঁচু করে কিছু স্বপ্ন নিয়ে।<br />
আর দশ জনের মতোই সে বড় হয় ঠেলে ঠুলে<br />
অথবা স্বচ্ছলতায় পায়ের উপর পা তুলে<br />
বিদ্যে যা জোটে তাই নিয়ে সে বড় হয়। বড় হয় তার পৃথিবী।<br />
একটু একটু করে ভদ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-58622"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/58622/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">406849aa736da4c5c4dcefe06dd3170f</guid>
				<title>একগুচ্ছ অণুকাব্য
—— শাহ্ কামাল 

১। গর্ভাশয়ের সুপ্ত বীজে
আগামী দিনের প্রাণ,
তারে না মেরে আগলে রাখো
গাও নব জীবনের গান।

২। অট্টালিকার উচ্চতা বাড়ে
বাড়ে না মনের টান।
ইটের শহরে দূরত্ব কেবল
বাজে একাকীত্বের গান।

৩। মিলনের আগে যেই প্রেম জাগে
মিলনের পরে কেন তা রয় না,
প্রেমের চাওয়া কী মিলনেই শেষ
চোখের নজর মনে কী আর লয় না?

৪। আমার বিশ্বাস পোয়াতি এখন
সন্দেহে ভরা দিঠি
ভাবনার জরায়ুতে আপত্য ভ্রুণ
লিখব কারে চিঠি?

৫। ইচ্ছেরা অনশনে স্বপ্নেরা ক্লান্ত
চাওয়াগুলো ঢুলছে কিছু কথা বলছে
হতাশার জংশনে এলো যে হেমন্ত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/58269/</link>
				<pubDate>Thu, 18 Nov 2021 10:23:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একগুচ্ছ অণুকাব্য<br />
—— শাহ্ কামাল </p>
<p>১। গর্ভাশয়ের সুপ্ত বীজে<br />
আগামী দিনের প্রাণ,<br />
তারে না মেরে আগলে রাখো<br />
গাও নব জীবনের গান।</p>
<p>২। অট্টালিকার উচ্চতা বাড়ে<br />
বাড়ে না মনের টান।<br />
ইটের শহরে দূরত্ব কেবল<br />
বাজে একাকীত্বের গান।</p>
<p>৩। মিলনের আগে যেই প্রেম জাগে<br />
মিলনের পরে কেন তা রয় না,<br />
প্রেমের চাওয়া কী মিলনেই শেষ<br />
চোখের নজর মনে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-58269"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/58269/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">762eec31e5d2c0b70c112ec9334b2663</guid>
				<title>মানুষ কেন এমন হয়?
—— শাহ্ কামাল

প্রয়োজন শেষ হলে কেউ পাশে থাকে না,
স্বার্থটুকু শেষ হলে কেউ পাশে রাখে না।

মানুষ কেন এমন হয় বোঝে না হৃদয়,
কলিজা কেটে দিলেও সে হয় না সদয়।

মানুষগুলো রঙ পাল্টে মানুষ থাকে না,
বিপদে ডাকলে তো কেউ পাশে আসে না।

মানুষগুলো এমন কেন পশুর মতো হয়,
দেখতে তো সব মানুষ লাগে মানুষ তো সে নয়।

নিজকে নিয়ে ব্যস্ত মানুষ কাউকে চিনে না,
নিজের জন্য কাউকে লাগে তা মনে করে না।

ভাললাগা মানুষগুলোও নিজের না রয়,
একটু খানি সুযোগ পেলে হাজার কথা কয়।

সইতে সইতে মানুষগুলো মানুষ থাকে না,
প্রয়োজনে চুপ হয়ে যায় কাউকে ডাকে না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/57702/</link>
				<pubDate>Tue, 16 Nov 2021 17:31:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মানুষ কেন এমন হয়?<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>প্রয়োজন শেষ হলে কেউ পাশে থাকে না,<br />
স্বার্থটুকু শেষ হলে কেউ পাশে রাখে না।</p>
<p>মানুষ কেন এমন হয় বোঝে না হৃদয়,<br />
কলিজা কেটে দিলেও সে হয় না সদয়।</p>
<p>মানুষগুলো রঙ পাল্টে মানুষ থাকে না,<br />
বিপদে ডাকলে তো কেউ পাশে আসে না।</p>
<p>মানুষগুলো এমন কেন পশুর মতো হয়,<br />
দেখতে তো সব মানুষ লাগে মানুষ তো সে নয়।</p>
<p>নিজকে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-57702"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/57702/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4dfeeb46ede62126946916a9dd91e32a</guid>
				<title>ভালবাসি দূরত্ব আমি 
—— শাহ্ কামাল

গল্পটা এমনো হতে পারতো
আমার হাজার দোষ ভালবেসে 
তুমি ভালবাসতে আমায়,
দূরত্ব হোক না যতোই
তুমি কেন বোঝনি 
তোমাকে আমি রেখেছি কোথায়।
ঐ আকাশ অনেক দূরে
হাতে ছুঁয়ে যায় না ধরা
তবুও তাকে ভালবাসা যায়,
কান পেতে শোন
এই বুকে এসে
তুমি ছাড়া আর কি পাবে, হায়।
আমি তোমাকেই ভালবাসি
বাসবো ভাল দূর থেকেই,
তুমি ভুলে গেছো এই আমায়।
যতো দূরে থাকো তুমি
ভালবাসি দূরত্ব আমি
ভালবাসি শুধু যে তোমায়।
একদিন হাত ধরে
ভালবাসবো প্রাণ ভরে,
জানি তুমি ভালবেসে দেবে আমায়।
আমি ছুঁয়ে দেবো সেদিন
ভরিয়ে দেবো উচ্ছ্বাসে তোমায়,
মিশে যাবো চিরতরে তোমার ছায়ায়।
ভালবাসি, ভালবাসি,
আমি শুধু ভালবাসি যে তোমায়,
ফিরে এসো, ফিরে এসো, ভালবাস আমায়।
তুমি আমার, শুধু আমার
যতো অবিশ্বাস যাক না সরে
আমি চিরকাল ভালবাসি যে তোমায়।
আমি কাছে পেতে চাই
শুধু আমার করে চাই,
তোমার গন্ধে মিশে যাবো তোমায়।
দূরত্ব যতো হোক না দূরের
তুমি আমি এক আকাশের নিচে
জানি তোমার সাগরে তুমি ভাসাবে আমায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/57171/</link>
				<pubDate>Mon, 15 Nov 2021 09:53:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভালবাসি দূরত্ব আমি<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>গল্পটা এমনো হতে পারতো<br />
আমার হাজার দোষ ভালবেসে<br />
তুমি ভালবাসতে আমায়,<br />
দূরত্ব হোক না যতোই<br />
তুমি কেন বোঝনি<br />
তোমাকে আমি রেখেছি কোথায়।<br />
ঐ আকাশ অনেক দূরে<br />
হাতে ছুঁয়ে যায় না ধরা<br />
তবুও তাকে ভালবাসা যায়,<br />
কান পেতে শোন<br />
এই বুকে এসে<br />
তুমি ছাড়া আর কি পাবে, হায়।<br />
আমি তোমাকেই ভালবাসি<br />
বাসবো ভাল দূর থেকেই,<br />
তুমি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-57171"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/57171/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>16</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">428f9547147f6f6bdbd70706b0610f86</guid>
				<title>Shah Kamal and Babul Miah are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/56738/</link>
				<pubDate>Sun, 14 Nov 2021 14:04:24 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">959f196b99ebbe9eedc57eb703349865</guid>
				<title>বন্ধুত্ব
—— শাহ্ কামাল

তারে আমি চেয়ে পরে পাইনি তো তারে,
মন মাঝে সযতনে রেখেছিনু যারে।

জাত পাতে খুঁজিনি মন যারে চায়,
সে শুধু চেয়েছিল এই এ আমায়।

কতো কথা কতো ব্যথা বুকে বয়ে আছি,
তবু তারে রেখেছি যে মোর কাছাকাছি।

সুখে দুঃখে ভুলি নাই ছিনু ভাই ভাই,
তারে ছাড়া কারে কই মোর কেহ নাই।

এক সাথে এক পাতে গেছে কতো দিন,
দোহে মিলে করেছি যে ভালবাসা ঋণ।

হিন্দু না মুসলিম খুঁজি নাই ভেদ,
চলে গিয়ে এই বুকে রেখে গেল ছেদ।

মহাকাল সাক্ষী থাকো, ভুলি নাই তারে,
ওপাড়ে কী বন্ধু আমার মোরে মনে করে?

আমার সোনার স্বর্গ, তারে ছাড়া লীন,
সে আমারে বুঝল না, আছি তারে হীন।

পড়ে রবে স্মৃতি সব, তুমি নাই, তুমি নাই
তুমি মোর বন্ধু ছিলে? তুমি মোর ভাই।

ভালবাসা পড়ে আছে, মিছে মায়া মোহ,
তোমার এ চলে যাওয়া পোষাবে কি কেহ?

কত জন প্রিয়জন আসে আর যায়,
শূন্য এ ধূ ধূ বুক শুধু করে হায় হায়।

আমার যাবার বেলা কে রবে মোর পাশে,
তোমায় যে পড়বে মনে শেষ নিঃশ্বাসে।

( কুমিল্লার গুনবতী বাজারের আমির সওদাগর ও সুধীর বাবুর বন্ধুত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য আমার এ কবিতাটি উৎসর্গ করছি)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/56401/</link>
				<pubDate>Sun, 14 Nov 2021 01:12:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বন্ধুত্ব<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>তারে আমি চেয়ে পরে পাইনি তো তারে,<br />
মন মাঝে সযতনে রেখেছিনু যারে।</p>
<p>জাত পাতে খুঁজিনি মন যারে চায়,<br />
সে শুধু চেয়েছিল এই এ আমায়।</p>
<p>কতো কথা কতো ব্যথা বুকে বয়ে আছি,<br />
তবু তারে রেখেছি যে মোর কাছাকাছি।</p>
<p>সুখে দুঃখে ভুলি নাই ছিনু ভাই ভাই,<br />
তারে ছাড়া কারে কই মোর কেহ নাই।</p>
<p>এক সাথে এক পাতে গেছে কতো দিন,<br />
দোহে মিলে করেছি যে ভালব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-56401"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/56401/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3f2f07cf4d057e7f630ee576c8704792</guid>
				<title>আমার হেমন্ত এবং
—— শাহ্ কামাল

কোন এক হেমন্তে এমন বিকেলবেলা
তোমার দু’হাত ধরে হেঁটেছি অনন্ত পথ।
জীবনের গল্পে শান্ত পায়চারি থামেনি চঞ্চলতায়,
সব মিথ্যে স্বপ্নগুলো প্রেম হয়ে এসেছিল,
হিম হিম বাতাসে শান্ত হয়ে জমে গেছে ভনিতার ভালবাসা।
গরম জল সেদ্ধ হতে হতে তোমার ঠোঁটের স্পর্শে হয়ে গেল চা,
পান করে প্রশান্তিতে তুমি ভুলেছে আমায়।
হাত বদলের নেশায় ও-হাত জোড়া বেহাত হয়ে
ডুবেছে নেশার পাড়ে মাতালের শয্যায়,
আমি ভাবের কামুকপান করি স্মৃতির শরাব।
ডগা হতে খসে পড়া শেষ শিউলি বোঁটা ঘষে লিখি আমি ছন্দহীন কবিতার পান্ডুলিপি।
আমার কঙ্কালে ঝরে কামিনীর অবরুদ্ধ শুভ্র নিবৃত্ত ঘ্রাণ,
আমি কান পেতে শুনি ভোরের খেতে পাকা ধানের উন্মুক্ত হাসির উচ্ছ্বাস-ধ্বনি।
তুমি ছাড়া আমার হেমন্ত চাদর মুড়ি দিয়ে হেঁটে চলে নীরব শহরে; পিচঢালা রাজপথে,
একা একা রাতের আঁধারে আমি প্রহর গুনি আগামী ভোরের,
চৌকাঠে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় স্বপ্নের দেহ,
আহত মনের হেমন্ত এখন ঝুলছে ফাঁসির কাষ্ঠে একাকী; অসহ্যের নগরে, অচেনা গলিতে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/55949/</link>
				<pubDate>Sat, 13 Nov 2021 02:27:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার হেমন্ত এবং<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>কোন এক হেমন্তে এমন বিকেলবেলা<br />
তোমার দু’হাত ধরে হেঁটেছি অনন্ত পথ।<br />
জীবনের গল্পে শান্ত পায়চারি থামেনি চঞ্চলতায়,<br />
সব মিথ্যে স্বপ্নগুলো প্রেম হয়ে এসেছিল,<br />
হিম হিম বাতাসে শান্ত হয়ে জমে গেছে ভনিতার ভালবাসা।<br />
গরম জল সেদ্ধ হতে হতে তোমার ঠোঁটের স্পর্শে হয়ে গেল চা,<br />
পান করে প্রশান্তিতে তুমি ভুলেছে আমায়।<br />
হাত বদলের নেশায়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-55949"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/55949/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">57dffe6b19d6ad84fea7412e46b6d407</guid>
				<title>Shah Kamal and Pritam Biswas are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/55873/</link>
				<pubDate>Fri, 12 Nov 2021 17:29:47 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e8f9054c97c0227c509ee321df298903</guid>
				<title>Shah Kamal and A M Bappy are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/55550/</link>
				<pubDate>Fri, 12 Nov 2021 08:07:02 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fdab80fd9b1b70275a7ae09047dfbc29</guid>
				<title>আমায় ছেড়ে যেও না
—— শাহ্ কামাল

তোমার জন্য ঘর বানাবো, ছোট্ট একটা ঘর,
উপরে টিনের চালা দিবো, বৃষ্টি হলে শব্দ শুনবো,
তোমার হাত ধরে ছোট্ট একটা বেঞ্চে বসে বসে বৃষ্টির শব্দ শুনবো।

তোমার জন্য ঘর বানাবো, ছোট্ট একটা ঘর,
শনের বারান্দা দেব, চৈতালি খরতাপে মাদুর পেতে
তোমার কোলে শুবো, তুমি তাল পাতার বাতাসে জুড়বে আমায়।

প্রিয়তমা,
তুমি কি আমায় ছেড়ে থাকতে পারবে ঐ টাকার পাহাড়ে গড়া
ইট পাথরের বহুতল প্রাসাদের জৌলুসে?
একটি বার বলো,
তুমি কি থাকতে পারবে আমায় ছেড়ে?
সাতটি বছর এক সাথে হেঁটে, এই হাত ধরে,
হেঁটেছি কত নগর, শহর, জনপদ, নদীপাড়,
তোমার হাতের মায়াবী স্পর্শ আমার যে আঙ্গুল জুড়ে,
সে আঙ্গুলে আমি নিকোটিন তুলিনি।
ঘুমের শহরে ভালবাসার মাতাল হয়ে আমি শুধু তোমাকেই দেখি।
আর একটু সময়, কয়েকটা দিন,
থাকতে পারবে না অপেক্ষা করে?
একদিন সব হবে, প্রিয়তমা।
আমায় ছেড়ে যেও না কারো হাত ধরে,
আমি তোমায় গোলাপ দেব না,
এক মুঠো বকুলের ঘ্রাণে মিশে যাব তুমি-আমি।
বুকভরা ভালবাসার ছাদে আগলে রাখবো তোমায়,
তোমার জন্য দাস হবো,
মজুর হবো কলের লাঙ্গলে,
চাষী হবো উদোম দুপুরে।
আমায় ছেড়ে যাবে?

আমি তোমার জন্য ঘর বানাবো, ছোট্ট একটা ঘর,
হিজল ফুলে বাসর সাজাবো, লাল টুকটুকে বেনারসীতে তোমায় জড়াবো,
তোমার হাতে চুমু খেয়ে আমি অনন্তে হারাবো চোখ বুজে।

ওরা ওদের টাকায় গড়ুক ঐশ্বর্য আর আভিজাত্যের ইমারত,
আমি তোমার জন্য ঘর বানাবো, চির শান্তির ঘর,
আমি সে ঘরে তোমায় নিয়ে রবো অনন্তকাল, মহাকাল।
আমায় ছেড়ে যেও না, প্রিয়তমা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/55527/</link>
				<pubDate>Fri, 12 Nov 2021 06:40:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমায় ছেড়ে যেও না<br />
—— শাহ্ কামাল</p>
<p>তোমার জন্য ঘর বানাবো, ছোট্ট একটা ঘর,<br />
উপরে টিনের চালা দিবো, বৃষ্টি হলে শব্দ শুনবো,<br />
তোমার হাত ধরে ছোট্ট একটা বেঞ্চে বসে বসে বৃষ্টির শব্দ শুনবো।</p>
<p>তোমার জন্য ঘর বানাবো, ছোট্ট একটা ঘর,<br />
শনের বারান্দা দেব, চৈতালি খরতাপে মাদুর পেতে<br />
তোমার কোলে শুবো, তুমি তাল পাতার বাতাসে জুড়বে আমায়।</p>
<p>প্রিয়তমা,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-55527"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/55527/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ce25f7080bb62053537e7f5a9b41cd1e</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/55241/</link>
				<pubDate>Thu, 11 Nov 2021 15:10:58 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d63d86d9818bc5bffc64177ce055f9ce</guid>
				<title>সন্দেহে
—শাহ্ কামাল

একদা এক সখা      খাইত শুধু বকা
          খুঁজিত সে মনের মানুষ
তাহার মনে ব্যথা      কইত অল্প কথা
         তাইতো সে সাজিল ফানুস

যন্ত্রণা কত তার     বিশাল বোঝা ভার
             পাইল সে কাছের হৃদয়
সন্দেহ ভরে মনে      খুঁজিল জনে জনে
              হইলো না কেহ যে সদয়

জন্মিল কত আশা    ক্ষরিল এতো বাসা
                মুদিল সে নয়ন পিঞ্জর
মিটিল মন ব্যথা          বাড়িল প্রশ্ন সেথা
                মারিল সে বিষের খঞ্জর

বুকেতে বেঁধে গেল     আপনা ব্যথা পেল
            উড়িল যে ঝুটিল তাঁহার
বিশ্বাসে ডাকে তারে    সন্দেহ বারে বারে
          ফিরবে কী কাটিলে আঁধার?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/54864/</link>
				<pubDate>Thu, 11 Nov 2021 00:22:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সন্দেহে<br />
—শাহ্ কামাল</p>
<p>একদা এক সখা      খাইত শুধু বকা<br />
          খুঁজিত সে মনের মানুষ<br />
তাহার মনে ব্যথা      কইত অল্প কথা<br />
         তাইতো সে সাজিল ফানুস</p>
<p>যন্ত্রণা কত তার     বিশাল বোঝা ভার<br />
             পাইল সে কাছের হৃদয়<br />
সন্দেহ ভরে মনে      খুঁজিল জনে জনে<br />
              হইলো না কেহ যে সদয়</p>
<p>জন্মিল কত আশা    ক্ষরিল এতো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-54864"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/54864/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">38fd612c3c67d8725e15c213e08aa03b</guid>
				<title>দুঃসহ স্মৃতি
কামাল হোসেন

কী ভেবেছো ভুলে গেছি তোমায়?
অখন্ড হৃৎপিন্ডের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে
তোমায় আমি নিরাপত্তার বলয়ে রাখতে পারিনি,
তবে চোখের নোনা সমুদ্রের মোহনার বসত ভিটের উঠোনে
উত্তপ্ত পেরেক গেড়ে তোমার স্মৃতির এ্যালবাম ঝুলিয়ে রেখেছি।
তোমাকে ভোলা যায় না
শত শতাব্দীর কবর-চিতায় অবশিষ্ট নেই হাড়গোড়,
আমার বুকের জীবন্ত কবরে চিতার দাহন,
বুকচাপা কষ্টদের বীভৎস চিৎকার,
সহস্র প্রতিজ্ঞার বুকফাটা আর্তনাদ,
সেই সব স্মৃতির কঙ্কাল অঝোর কান্নায় 
বিলাপ করে মিছিলে যায় মৌনতার কাল-পথে।
পোড়া বারুদের ঘর্ষণে সিগারেটের বিষাক্ত নিকেটিন আমায় বিক্ষত করেনি,
পার্কের বেঞ্চিতে আমার স্মৃতির প্রজাপতিরা দলবেঁধে আসে
আমি বসি সেখানটায়; তুমি যেপাশে বসতে,
আমার জায়গাটা খালি থাকে।
তোমার স্থান আমি শূন্য করি না
অথচ আমার পুরো জীবন কাফনে মুড়িয়ে তুমি আমায় জীবন্ত লাশ করে দিলে।
তুমি বলতে আমার হাত ধরে বাসর চৌকাঠ হতে স্বর্গের সিঁড়িতে হাঁটবে,
অথচ যৌবনের আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের দগ্ধ লাভায় তুমি স্বর্গের মোহিনী সারগামে বিভোর।
আমি? তোমার দেয়া পাঁচটি বছর কফিনে করে বয়ে বেড়াই শহর-নগর-গলিপথে।
রিক্সায় বসেই বা হাতটা এখনো বাড়াই,
কেউ নেই
ফাঁকা রাস্তা
আমাদের ভালবাসাগুলো খুব বেশি একা হয়ে নিপীড়িত আজ।
কতো বসন্ত পলাশ-শিমুলে অফোটা আম বোলে ঝরেছে পানসে বিকেলে,
জানলার গ্রীলে জোড়া হাত রেখে নিঃশ্বাসে বিষ নেই একাকীত্ব মন্থনের।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/54493/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Nov 2021 00:06:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দুঃসহ স্মৃতি<br />
কামাল হোসেন</p>
<p>কী ভেবেছো ভুলে গেছি তোমায়?<br />
অখন্ড হৃৎপিন্ডের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে<br />
তোমায় আমি নিরাপত্তার বলয়ে রাখতে পারিনি,<br />
তবে চোখের নোনা সমুদ্রের মোহনার বসত ভিটের উঠোনে<br />
উত্তপ্ত পেরেক গেড়ে তোমার স্মৃতির এ্যালবাম ঝুলিয়ে রেখেছি।<br />
তোমাকে ভোলা যায় না<br />
শত শতাব্দীর কবর-চিতায় অবশিষ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-54493"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/54493/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>13</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">065546de62abe3eda87069858bc97408</guid>
				<title>খালাস
— শাহ্ কামাল 

এই পথে আমি হেঁটেছি অনেক
দুর্বা মাড়ানো পথ,
আমি তো শুধু একাই হেঁটেছি
জীবনের মহারথ।

তুমি কী বন্ধু পারতে না,
আমার হাতটি ধরে,
মহাকাল পার হয়ে 
রাখতে জীবন ভরে?

তোমার হেলার অপমান সয়ে
তোমায় বেসেছি ভালো,
তোমার দু’চোখে স্বপ্ন দেখেছি
কেড়ে নিলে তুমি আলো।

আমি হেঁটে যাব গিরিখাত
দুর্গম পথে একা, 
তুমি শাসনে বারণে অবসান হও
নাই বা হল দেখা।

কত সাধনার কত বাসনার
ভালবাসা পড়ে রয়
লক্ষ প্রেমিক নীরবেই ঝরে
বল কার পরাজয়?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/54155/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Nov 2021 07:37:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>খালাস<br />
— শাহ্ কামাল </p>
<p>এই পথে আমি হেঁটেছি অনেক<br />
দুর্বা মাড়ানো পথ,<br />
আমি তো শুধু একাই হেঁটেছি<br />
জীবনের মহারথ।</p>
<p>তুমি কী বন্ধু পারতে না,<br />
আমার হাতটি ধরে,<br />
মহাকাল পার হয়ে<br />
রাখতে জীবন ভরে?</p>
<p>তোমার হেলার অপমান সয়ে<br />
তোমায় বেসেছি ভালো,<br />
তোমার দু’চোখে স্বপ্ন দেখেছি<br />
কেড়ে নিলে তুমি আলো।</p>
<p>আমি হেঁটে যাব গিরিখাত<br />
দুর্গম পথে একা,<br />
তুমি শাসনে বারণে অবস&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-54155"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/54155/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c204c24bf33714ea8d243ffa8f0b072f</guid>
				<title>হে তরুণ, জাগো
— শাহ্ কামাল 

হে তরুণ!
আর কত ঘুমোবে বলবে?
আর কত চুপ থেকে সইবে হতাশা?
তোমার পাওনা তোমাকেই বুঝে নিতে হবে।
তুমি নিরন্ন ভুখা থাকো কেউ খবর নিবে না
তালাশ করবে না তোমার উদরে কত যন্ত্রণা
তুমি পরিশ্রম করে ভাগ্য বদলে দেখ,
কত সামাজিক প্রাণী হবে তুমি,
তোমার নামে পোস্টার হবে,
তোমার ছবি লটকাবে সুনামের জলসায়
তোমার পকেট কেটে ফায়দা লুটবে লুটেরার দল,
রাজস্বের হিসেব দিতে দিতে ক্লান্ত হবে তুমি,
অথচ তোমার পাকস্থলীর হিসেব নেই রাষ্ট্রের খাতায়,
তোমার হিসেবে কত আঁকিবুকি টালির পাতায় পাতায়।
অধিকার চাও?
কিসের অধিকার?
অধিকারের কঙ্কাল পোস্টমর্টেমে দোষী হয়ে  তেরো শিকের শোষণে বন্দী;
লাশ হয়ে ফিরবে বলে অপেক্ষায় জনগণ।

হে তরুণ!
তুমি কী জেগে আছ বৈশ্বিক উষ্ণতার তপ্ত বালুচরে?
নাকি ঘুমিয়ে গেছ সাত সমুদ্র তেরো নদী সেঁচে আনা ঘুমন্ত ঝিনুকের মুক্তো দেখে?
একবার জাগো,
শতবার জাগো,
মার খেয়ে জাগো,
কথা বল গর্দান উঁচু করে।
কেন নারীর জরায়ুতে জন্ম নিয়ে নরপিশাচ-অসভ্য-বর্বর ঐ দোপেয়ে জানোয়ার নারীর সম্ভ্রম লোটে যত্রতত্র?
ওদের টুটি চেপে হত্যা করো।
রাতের আঁধারে কোটিপতি মজা লোটে দামী ফ্লাটের মখমলে,
নিজ ঘরে টাকার মসনদে বান্ডেলের ঘ্রাণে সুখ খোঁজে বউ-বাচ্চা;
আর আয়েশের খায়েশে কত আশাহত জীবন সুখ বিলায় এসব নর হায়েনা-খোক্ষসদের;
ভোগ শেষে লাশ হয়ে কেউ মরে; কেউ জীবন্ত লাশ হয়ে হেঁটে চলে অনন্ত দোযখের নিসীম জীবনে,
ভূ-স্বর্গের এসব হিংস্র জানোয়ারেরা সংবিধানের ফাঁক-ফোঁকরে খোঁজে বাঁচার অক্সিজেন।

হে তরুণ!
তুমি উঠে এসো,
তোমার প্রতীক্ষায় আগামীর বাংলাদেশ।
তুমি কি জানো কেউ কারো কাজ করতে চায় না,
সবাই শুধু উপরে উঠার সিঁড়ি খোঁজে
অথচ নিজের কাজ নিজে করে না,
সমস্যা হতেই সমাধানের চেষ্টা না করে
অতি সচেতন বোদ্ধারা ছুটে চলে আদালতে।
মানুষের বিবেক নষ্ট হতে হতে নীতিহীন নীতির শিকড়ে উদ্ভট মস্তিষ্কে কেবল স্বার্থের খেলামেলা।

হে তরুণ! তুমি এসো স্বাধীন ধরিত্রীর উর্বর বারান্দায়।
দেখ, এ পৃথিবী কতো অসুস্থ্য আজ।
বিবেকের দূষণে স্বার্থের দেনায় বিপুলা এ সবুজ পৃথিবী কুলষিত কার্বনে,
মহাসমুদ্রেও বিষাক্ত ছোবল ঢেউয়ের তালে তালে,
নিথর হয়ে পড়ে থাকে তিমি-ডলফিন-কত জীবন।

হে তরুণ!
তুমি কী জাগবে না?
তোমার বাহু দু’টি আবার জাগাও,
তোমার মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে আবার আওয়াজ তোল,
মানবতার জয় হোক, মানুষগুলো মানুষ হোক।
তুমি অগ্নিগর্ভ হতে উঠে এসো স্বার্থের উপত্যকায়, তপ্ত মরু হতে সবুজ গ্রামে।
তুমি পাল তোল তোমার তরীতে,
উত্তাল মহাসমুদ্রে তোমার মাস্তুল আবার জাগাও।

হে তরুণ!
নষ্ট সমাজে ভ্রষ্টদের টুটি চেপে 
তুমি হত্যা কর ঐ হিংসুকদের; যারা বিনা পরিশ্রমে টাকা কামানোর স্বপ্ন দেখে দেখে পরিশ্রমী মানুষগুলোর গর্দানে পিস্তল রেখে ধনী হতে চায়।
তুমি উঠে এসো প্রতিবাদের কবিতা নিয়ে;
মাঠে-ঘাটে-পথে-প্রান্তরে-রাজপথ আর অলি-গলিতে তোমার বড্ডো প্রয়োজন।
তুমি তোমার শক্তিতে জানিয়ে দাও;
বৈষম্যের এ পৃথিবী কারো উত্তরাধিকার সম্পত্তি নয়,
এ পৃথিবীর পুরো মালিকানা অসহায় আর বঞ্চিত পদদলিতের।

হে তরুণ!
তুমি উঠে এসো; তুমি উঠে এসে দাঁড়াও
গার্মেন্টসের বদ্ধ বারান্দায়।
কতো শত নর-নারীর হাত ধরে মেশিনে মেশিনে রেমিট্যান্সের ঘ্রাণ পাওয়া যায়,
অথচ তাঁরা বঞ্চিত শ্রমের মূল্য হতে।
তাদের মূল্য কাগজের নোটে নেই
তাঁরা ঐ কোটিপতিদের স্বপ্নের বলি হয়ে বিলিয়ে দিচ্ছে রক্ত ফোঁটায় বিন্দু বিন্দু করে জীবনে-যৌবন-সর্বস্ব।
রাষ্ট্র পাচ্ছে উন্নত হবার রসদ, শীতাতপে বসে বসে নীরব খেকো পাচ্ছে ডলার,
মাস শেষে পরিবারের অনাথ মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দিতে গার্মেন্টসের শ্রমিক পাচ্ছে বেঁধে দেওয়া হিসেবের ছকে কয়েকটা মুদ্রার দাক্ষিণ্য।
হে তরুণ! তুমি তাদের জন্য গর্বের সমাজ গড়ে দাও।

হে তরুণ!
তুমি কী জান মানুষগুলো কেন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে?
তুমি কী বলতে পার উন্মুক্ত যৌনাচারে কেন মানুষের লজ্জা নেই?
তুমি কী জান সর্বত্রই কেন এতো বিশৃঙ্খলা?
দিনকে দিন অসভ্যতা খাবলে খাচ্ছে নৈতিকার পাকস্থলী,
মানুষগুলো অন্যায়কে অন্যায় ভাবে না,
বিচারের রায় টাকার ওজনে উঠানামা করে দাঁড়িপাল্লার স্নায়ুতে।
তুমি ভেঙ্গে দাও বিচারহীনতার এই সমাজ,
বুল ডোজারে পিষে ফেলো প্রজন্ম-খেকো দস্যুদের অন্যায় দর্প,
তুমি ভেঙ্গে ফেলো বৈষম্যের লৌহ-কারাগার। 

হে তরুণ!
তোমার নব যৌবনের উন্মাদনায় তুমি ভেঙ্গে দাও যত বিভেদের দেয়াল,
তুমি চূর্ণ কর মুখোশধারী দানবের হাত,
তুমি পিষে মিসমার করে দাও ভন্ডদের মসনদ।
চির বৈষমের পাঁচিল আর বাড়তে দিও না;
তোমার নতুন স্বপ্নে ছড়িয়ে দাও এ পৃথিবীর দহলিজ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/53366/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Nov 2021 00:09:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হে তরুণ, জাগো<br />
— শাহ্ কামাল </p>
<p>হে তরুণ!<br />
আর কত ঘুমোবে বলবে?<br />
আর কত চুপ থেকে সইবে হতাশা?<br />
তোমার পাওনা তোমাকেই বুঝে নিতে হবে।<br />
তুমি নিরন্ন ভুখা থাকো কেউ খবর নিবে না<br />
তালাশ করবে না তোমার উদরে কত যন্ত্রণা<br />
তুমি পরিশ্রম করে ভাগ্য বদলে দেখ,<br />
কত সামাজিক প্রাণী হবে তুমি,<br />
তোমার নামে পোস্টার হবে,<br />
তোমার ছবি লটকাবে সুনামের জলসায়<br />
তোমার পকেট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-53366"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/53366/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f70904511761142911fcd71199259bb2</guid>
				<title>Shah Kamal and দালান জাহান are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/53251/</link>
				<pubDate>Sun, 07 Nov 2021 13:17:52 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1f38dcee889e8821d1e2d702c48aa855</guid>
				<title>সে আমারই থাক
— শাহ্ কামাল 

আমার না বলা কথাগুলো না বলাই থাক
এভাবেই দিন শেষে সব মুছে যাক

সে থাকুক তাঁর মতো স্বর্গ সুখে,
তাকে যেন না ছোঁয় অদেখা দুঃখে।

তাকে আমি বাসি ভাল বেসেই যাব
জানি বুক ভরা ছলনার ব্যথাই পাব

তবুও সে হাসিমুখে তাঁর মতো থাক।

সব আশা হয় না পূরণ, তবু আশা থাকে
সে আশাই দূর থেকে কাছে যে ডাকে,

কতো ভরসার টানে চুপিচুপি কানে কানে,
তাঁর কথা বাজে প্রাণে এ কোন মধুর গানে,

যতোই থাক না দূরে, সে আমারই থাক।

আমার না বলা কথাগুলো না বলাই থাক
এভাবেই দিন শেষে সব মুছে যাক।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/53006/</link>
				<pubDate>Sun, 07 Nov 2021 05:26:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সে আমারই থাক<br />
— শাহ্ কামাল </p>
<p>আমার না বলা কথাগুলো না বলাই থাক<br />
এভাবেই দিন শেষে সব মুছে যাক</p>
<p>সে থাকুক তাঁর মতো স্বর্গ সুখে,<br />
তাকে যেন না ছোঁয় অদেখা দুঃখে।</p>
<p>তাকে আমি বাসি ভাল বেসেই যাব<br />
জানি বুক ভরা ছলনার ব্যথাই পাব</p>
<p>তবুও সে হাসিমুখে তাঁর মতো থাক।</p>
<p>সব আশা হয় না পূরণ, তবু আশা থাকে<br />
সে আশাই দূর থেকে কাছে যে ডাকে,</p>
<p>কতো ভরসার টানে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-53006"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/53006/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ee1d13399b448b8d973875485d374ef5</guid>
				<title>হালচাল
—শাহ্ কামাল 

এক করোনায় রক্ষে নাই
বাড়ছে কতো শতো,
না থামালে যাবে বেড়ে 
আরো যে ভাই কতো।

‘লাইকি’এসে কেড়ে নিলো
কচি কাঁচার ঘুম,
‘টিকটকে’ভাই সবই গেলো
তারেই  নিয়েই ধুম।

‘ফ্রি ফায়ার’ জ্বালিয়ে দিল
বইয়ে সকল পাতা,
‘পাবজি’রে ভাই খেয়ে দিল
উঠতি সবার মাথা।

যে পোলাপান কয়নি কথা
‘ম্যাসেঞ্জার’ সে বোঝে,
অলি গলির মোড়ে এখন
মনের মানুষ খোঁজে।

‘ইউটিউব’আর ‘ফেসবুকে’ ভাই
বউঝিরা সব থাকে,
অন লাইনে সব করবে অর্ডার
আঙ্গুল টানা ফাঁকে।

বাপে-পোলা-মেয়ে-মায়ে
মোবাইল নিয়ে বিজি,
লক ডাউনে করে দিলো
দূর রিলেশন ইজি।

অনলাইনে ক্লাসের নামে 
বাড়লো মোবাইল কেনা,
ঘরে ঘরে হাজার বিবাদ
বাড়ছে শুধুই দেনা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/52323/</link>
				<pubDate>Sat, 06 Nov 2021 00:06:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হালচাল<br />
—শাহ্ কামাল </p>
<p>এক করোনায় রক্ষে নাই<br />
বাড়ছে কতো শতো,<br />
না থামালে যাবে বেড়ে<br />
আরো যে ভাই কতো।</p>
<p>‘লাইকি’এসে কেড়ে নিলো<br />
কচি কাঁচার ঘুম,<br />
‘টিকটকে’ভাই সবই গেলো<br />
তারেই  নিয়েই ধুম।</p>
<p>‘ফ্রি ফায়ার’ জ্বালিয়ে দিল<br />
বইয়ে সকল পাতা,<br />
‘পাবজি’রে ভাই খেয়ে দিল<br />
উঠতি সবার মাথা।</p>
<p>যে পোলাপান কয়নি কথা<br />
‘ম্যাসেঞ্জার’ সে বোঝে,<br />
অলি গলির&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-52323"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/52323/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4fd276cf3dea8d9e05ab2a19eaa8c3c8</guid>
				<title>স্বেচ্ছায় নির্বাসন
—- শাহ্ কামাল

তোমার শহরে নামুক অমাবস্যায় গ্রহণ
বৃষ্টি ঝরুক অশ্রুপাতের মেঘ মল্লারে
কামুক পথিক সাঁতার কাটুক মনখুলে
তোমার বন্দরে নোঙর করুক মনমাঝি
অগ্নুৎপাতে নির্গত লাভা ছড়িয়ে পড়ুক
পুড়ে যাক অলি গলি বিস্তৃত রাজপথ
অশ্রুপাতের স্রোতে ভাসুক স্বপ্নের ডিঙা
আশার থলি হাতে ঘুরুক স্বপ্নবাজ তরুণ
কাঁদুক অনাহারী শিশু অথবা মৃত্যু-বুড়ো
তুমি গলা টিপে হত্যা কর সব জীবন্ত প্রাণ
তোমার শহরে জারি করো একশোচুয়াল্লিশ ধারা
বন্ধ হোক চঞ্চল জীবনের তীব্র গতির বাঁক
আমি চলে যাই কোন শরনার্থী শিবিরে
নিবন্ধন ছাড়া এক অভিবাসী থাকুক ক্যাম্পে
তোমার শহরে বন্ধি থাকার চেয়ে ঢের ভাল
পরাধীন জনপদে স্বাধীন মননে ব্যর্থ চিৎকার</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/52131/</link>
				<pubDate>Fri, 05 Nov 2021 11:33:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্বেচ্ছায় নির্বাসন<br />
—- শাহ্ কামাল</p>
<p>তোমার শহরে নামুক অমাবস্যায় গ্রহণ<br />
বৃষ্টি ঝরুক অশ্রুপাতের মেঘ মল্লারে<br />
কামুক পথিক সাঁতার কাটুক মনখুলে<br />
তোমার বন্দরে নোঙর করুক মনমাঝি<br />
অগ্নুৎপাতে নির্গত লাভা ছড়িয়ে পড়ুক<br />
পুড়ে যাক অলি গলি বিস্তৃত রাজপথ<br />
অশ্রুপাতের স্রোতে ভাসুক স্বপ্নের ডিঙা<br />
আশার থলি হাতে ঘুরুক স্বপ্নবাজ তরুণ<br />
কাঁদুক অনাহারী শিশু অথবা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-52131"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/52131/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b76e8b6a702ffe057530fcdfc2f3b54b</guid>
				<title>শেষে
——শাহ্ কামাল

নিঃসঙ্গ কোন এক বিকেলে তুমি দাঁড়াবে এই নীরব চৌকাঠ ঘেঁষে
আমায় যদি মনেপড়ে নিরিবিলি কোন একদিন
উত্তরের জানলা খুলে নিমগ্ন মেদুর সন্ধ্যায় চোখ বন্ধ করে শুঁকে নিও দোলনচাঁপার মিষ্টি মৌ মৌ ঘ্রাণ
তোমার রোপিত দোলনচাঁপা ছাদ হতে এ বারান্দায় ডাকবে আমায়, তোমায়
তুমি একা পারবে কি কাটাতে সময় অথবা একটু রোমাঞ্চিত বেলা?

পুবের বারান্দায় দখিনা হাওয়ায় দাঁড়াবে যখন কোন এক বৃষ্টিময় দুপুরবেলা
জোড়া বুলবুলি গ্রিলের-বাসা হতে চেঁচাবে কেবল অবিরত
তোমার ভীতু মন খুঁজবে আমায় নিভৃত এই মৃদমন্দ উচ্ছ্বাসে
আমায় পাবে না তুমি শত ডেকেও তোমার পাশে বেলা-অবেলায়
তুমি একা পারবে কি কাটাতে সময় অথবা একটু রোমাঞ্চিত বেলা?

একে শুয়ে শুয়ে যখন নাকে লাগবে হাস্না হেনার গন্ধ অথবা হিজলের ঘ্রাণ
এই মায়াহীন আমার কথা অবলীলায় ভীষণ মনে পড়বে তোমার
তুমি আমায় খুঁজে খুঁজে না পেয়ে ক্লান্ত হয়ে যাদু ফোনে খুঁজবে আমায়
গ্যালারি প্রথম ছবিটা রঙিন ফ্রেমে সাঁটা তোমার-আমার সেলফিতে
অথচ সেদিন শেষ ছবিতে এই রাগচটা আমি থাকবো না কালের পরিক্রমায়
তুমি একা পারবে কি কাটাতে সময় অথবা একটু রোমাঞ্চিত বেলা?

শেষ বিকেলে দোলনায় দোল খেতে খেতে তুমি যখন তাকাবে সোফায়
তোমার উদাসী মন বার বার বলবে ডেকে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ লেবু চা’য়ে 
শুকনো বেলি আর সবুজ পুদিনা দিই? তুমি তো ভালবাসো
সেদিন চায়ের ধোঁয়া হয়ত থাকবে অথবা হারাবে অপেক্ষার শূন্যতায়
তুমি একা পারবে কি কাটাতে সময় অথবা একটু রোমাঞ্চিত বেলা?

ইলিশের পানি-খোলায় আরেকটা কাঁচা মরিচ বাড়তি ভেঙে দিয়ে
যখন লবণ চাখবে ফু দিতে দিতে খুন্তির ডগা দিয়ে আলতো করে
তোমার পিছনে চুপি চুপি এসে খোঁপার কাছে চুপটি করে টোকা দিবে না কেউ
তোমার ভাতের থালায় নিজের আধ-খাওয়া মাছের টুকরো যখন কেউ দিবে না
তখন তুমি খুঁজবে আমায় স্মৃতির বদ্ধ ঘরে কালের অন্ধকারে বুকের সীমানায়
তুমি একা পারবে কি কাটাতে সময় অথবা একটু রোমাঞ্চিত বেলা?

আবারো কোন দিন অসময়ে কোন এক ক্ষণে পরম মমতার ডান হাতের
বুড়ো আঙ্গুলের নখ কাটতে গিয়ে যদি রক্ত বেরোয় ফিনকি মতো 
তোমার হাতে কাপড়ের পট্টি বেঁধে কেউ বলবে না, বেঁধে দিলাম, মনে রেখ
সেদিন খেতে বসে কত বার অনায়াসেই তুমি মনে করবে আমায়
সেদ্ধ কাঁচা মরিচ ডলে কাগজি লেবুর রস চেপে পোড়া ডালে মেখে কে তোমায় ভাত খাইয়ে দেবে?
তুমি একা পারবে কি কাটাতে সময় অথবা একটু রোমাঞ্চিত বেলা?

বধু, শেষ বয়সে তোমার নীরব নিষ্ঠুর একাকীত্বে আমি থাকব না
সবার মতোই চলে যাব শূন্যহাতে দূরে অসীম এক অনন্তকালের দেশে
তবে তোমার মথিত মনের ঘোলা জলে সাঁতার কাটব আমিই 
স্মৃতির ভেলায় ভেসে———
তুমি একা পারবে কি কাটাতে সময় অথবা একটু রোমাঞ্চিত বেলা?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/51887/</link>
				<pubDate>Thu, 04 Nov 2021 10:27:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শেষে<br />
——শাহ্ কামাল</p>
<p>নিঃসঙ্গ কোন এক বিকেলে তুমি দাঁড়াবে এই নীরব চৌকাঠ ঘেঁষে<br />
আমায় যদি মনেপড়ে নিরিবিলি কোন একদিন<br />
উত্তরের জানলা খুলে নিমগ্ন মেদুর সন্ধ্যায় চোখ বন্ধ করে শুঁকে নিও দোলনচাঁপার মিষ্টি মৌ মৌ ঘ্রাণ<br />
তোমার রোপিত দোলনচাঁপা ছাদ হতে এ বারান্দায় ডাকবে আমায়, তোমায়<br />
তুমি একা পারবে কি কাটাতে সময় অথবা একটু রোমাঞ্চিত বেলা?</p>
<p>পুবের বারান্দায় দখ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-51887"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/51887/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b7d4e13e3dcb8cf13b22f4e51944e194</guid>
				<title>ধারাবাহিক গল্প
:::::::::::::::::::::

 #জমশেদ আলীর মেহমানদারী

—— শাহ্ কামাল

(শেষপর্ব)

মসজিদে জুমা’র দিন আগে না গেলে জায়গা হয় না। ভিতর-বাহির মুসল্লীতে ভরপুর। সামনের খোলা জায়গাতে মাদুর বিছিয়েও বসেছে অনেকে। জমু শ্বশুরকে ভিতরে যেতে বলে,
- আব্বা, আপনে ভিত্রে চইলা যান। ভাল্লাগবো।
- নাহ। মানুষের গর্দান ঠেইলা যামু না। এইডা ভালা কাজ না। এনেই বইসা পরি।
এ কথা বলে জমুর শ্বশুর দেরী করে না। বসে পরে। শফি আর জমুও বসে। সামনের সারিতে জমুর বরাবর বসেছে ইমদাদ। পিছনে ফিরে সে জমুকে চুপিরাসে জিজ্ঞেস করে হাঁসটা শেষ পর্যন্ত ধরতে পেরেছে কিনা। জমু মাথা নেড়ে জানিয়ে দেয়, না।
নামাজ শেষে জমু দেরী করে না। বাড়ি চলে আসে। সাথে সাথে ইমদাদও আসে। বারান্দায় মাদুর পাতা হয়েছে। কিছু নেক ঘরেও বসতে পারবে। অবশ্য অনেকে জানে জমু’র হাঁস জবাই হয়নি। ও গরীব মানুষ। অন্য কোন ব্যবস্থা করেছে কিনা এমন কথাও ভাবছে কেউ কেউ। অনেকে আসবে না বলে ভাবছে। এক্টা সমস্যা হয়েছে তাতে কী? তাঁর বাড়িতে এক ঢোক জল খেয়ে আসলেও সে খুশি হবে— এ ভাবনা থেকে এসেছে অনেক জন। তাদের বসতে দিতে ব্যস্ত হয় জমু-ইমদাদ।চেয়ারম্যান সাহেব এসেছেন। তিনি গ্রামের মাথা। না আসলে মন্দ দেখায়। ঘোড়াটা বাড়ির পাশে বেঁধে মোকলেসও আসে। মৌলভী সাহেবও চলে এসেছেন। আসতে আসতে প্রায় বিশ-পঁচিশ জন মানুষ এসেছে। বারান্দার একটা পাশে গেদু পাগলা বসে আছে। বরুন, আজমত, 
কবিরাজ ডাক্তার, দাদন মিয়া, তোতা মিয়া, কাদির মিয়া,কালা আজগর, কাসু দাদা, হরিহর, আকরাম খাঁ আর ছিদ্দিক মিয়াকে দেখে জমু খুশি হলেও তাঁর মুখে প্রফুল্লতা নেই।
খানদানি চেয়ারে বসেছে চেয়ারম্যান। পাশে শফি। চেয়ারম্যান জমুকে সান্ত্বনা দেয়,
- হাঁস ধরতে পারো নাই এতে মন খারাপের কিছু নাই। আল্লাহ যা করেন ভালর জন্যই করেন। হুজুর কি বলেন?
বারান্দা হতে মৌলভী সাহেব জবাব দেয়,
- আল্লাহর ইশারা ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। আল্লাহপাক যা করেন বান্দার মঙ্গলের জন্যই।
জমুকে কাছে ডেকে ফিসফিসিয়ে চেয়ারম্যান জিজ্ঞেস করে,
- এনাগো খাওয়ানোর ব্যবস্থা আছে?
- চম্পার মা লাউ রান্না করছে।
- আলহামদুলিল্লা। চলবে। যাও তুমি।বস যাইয়া।
চেয়ারম্যান মৌলভীকে দোয়া করতে বলে। দোয়া শেষে গরম ভাত আর লাউ তরকারি দিয়ে শেষ হয় জমুর মেহমানদারী। সরল ভঙ্গিতে জমু সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে,
- আমি আপনাগো কষ্ট দিলাম। ভালা কইরা মেহমানদারী করাইতে পারলাম না।
জমুর কথা শেষ না হতেই দু’হাত উঁচিয়ে হ্যাৎ মাওলা! বলতে বলতে গেদু পাগলা চলে যায়। 
- আপ্নেরা ত সবোই জানেন। কিছু মনে নিয়েন না।
এ কথা বলে জমুর কথা শেষ হয়। একে একে সবাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। জমুকে সান্ত্বনা দেয়। ইমদাদ পান সুপোরী এনে দেয় মেহমানদের। ধীরে ধীরে মেহমান চলে যেতে থাকল। যাবার সময় দিঘীর জলে চোখ পড়ে সবার। 
বিশাল দিঘীতে হাঁসটা সাঁতার কাটছে।
বারান্দায় বসে আছে কালা আজগর আর জমুর শ্বশুর। চেয়ারম্যান যায়নি এখনো। শফি বসে আছে জমুর সাথে কথা বলার জন্য। চেয়ারম্যান তাকে বলে,
- চলেন যাই। আর ত কাজ নাই।
- কী বলেন! আমি তো নিউজই নিলাম না। 
- চিকন চালের গরম ভাত আর হাঁসের গোশত দিয়া মেহমানদারী হয় নাই। তাইলে নিউজ করবেন কিসের?
- চেয়ারম্যান সাহেব। আমি সাংবাদিক। নিউজ করতে এসেছি; করব। চিকন চালের গরম ভাত আর হাঁসের গোশত দিয়া মেহমানদারী হয় নাই তো কি হয়েছে? জমু ভাইয়ের স্বপ্ন ভঙ্গের নিউজ করব আমি। আপনি যান। মোকলেসকে রেখে যান।
- ঠিক আছে।আপ্নে থাকেন। মোকলেসের সাথে আইসেন।
মোকলেসকে রেখে চেয়ারম্যান চলে যায়। শফিকে কাছে ডাকে শফি। উঠোনে পা রেখে এক্টা খুঁটিতে হেলান দিয়ে বসে জমু।
ঘরের ভেতর খাটে বসে গোলাপজাম ফুপিয়ে কাঁদছে। জমুর জন্য তাঁর মনটা কাঁদছে। পাশে মায়ের সাথে হেলান দিয়ে বসে চম্পা।বাতাসার নানী বোঝায় গোলাপজামকে,
- এমন করিস না বইন। কি করবি সব ত উপরওলার ইচ্ছা।
শফি জমুকে প্রশ্ন করে,
- আচ্ছা জমু ভাই, আপনি গরীব মানুষ। এতোগুলা মানুষের মেহমানদারী করাতে ইচ্ছা হলো কেন?

শফির প্রশ্ন শুনে জমুর মনটা কেমন যেন বেতালা হয়ে উঠে। মনের অজানা গহিনে চাপ লাগে তাঁর। কী একটা চাপা কষ্ট বারবার তাড়া করে তাকে। মানুষের হাজার ভাবনা, হাজার বাসনা। সব কী পূরণ হয়? হয় না। তবুও মানুষ স্বপ্ন দেখে; মানুষের আশার শেষ নেই। জমুর মনেও স্বপ্ন ছিল। সে বড়ো স্বপ্ন দেখে না। সে জানে এ দুনিয়া বেশি দিনের নয়। টাকা পয়সা কিছুই না; আবার সব কিছু। তবে চাহিদার মাপকাঠিতে টাকার উঠা নামার গল্প নেই তাঁর জীবনে। আকাশের দিকে চেয়ে চোখে পানি জমে তাঁর। বিরবির করে কিছু বলতে চায় সে। ইমদাদ, শফি তার দিকে তাকিয়ে আছে। জমুর চোখের কোণে পানি জমেছে। চাপা কষ্টে যেমনটা হয়। সে বিরবির করে বলে,
-ছোট বেলা বাবা মরছে। বাবার কোন আদর পাই নাই। কয়েক বছর আগে মাটাও আমারে ছাইড়া চিরদিনের জন্য গেছে। আমি অধম সন্তান। মা-বাবার লাইগা দুইডা হুজুর ডাইকা দোয়া করাইতে পারি নাই। অনেক লাখ লাখ টেকা খরচ করে। আমি গরীব। আমি ক্যামনে করমু? তয় মনডায় চায়। পারি না। কয়দিন আগে বাবারে খোয়াবে দেখছি। আমার বাবা কষ্টে আছে; মেলা কষ্টে। হের লাইগা চাইছি ময়-মুরব্বীদের মেহমানদারী করাইতে।সব আল্লার ইচ্ছা। গোশত দিয়া হয় নাই; এই আর কি! সবার সব আশা পূরণ হয় না।
জমুর চোখ বেয়ে জল গড়ায়। তাঁর কথাগুলো গোলাপজামের দিলে লাগে। ও ফুপিয়ে কাঁদে। বাতাসার নানী চুপ হয়ে যায়; তাঁর চোখেও পানি। ইমদাদ চুপচাপ জমুর পাশে বসে। শফির কলম চলছে। 
কালা আজগর মনটা খারাপ করে উঠে যায়। তাঁর গলায় গানের সুর,

দুই দিনের দুনিয়াদারী
আছে যত বাহাদুরী
ভবে কিছুই তো রবে না 
আশা পূর্ণ হবে না……….

দিঘীর জলে সাঁতার কাটছে জমুর মেহমানদারীর হাঁসটা।

সমাপ্তি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/51339/</link>
				<pubDate>Tue, 02 Nov 2021 23:41:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ধারাবাহিক গল্প<br />
:::::::::::::::::::::</p>
<p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23জমশ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#জমশ</a>েদ আলীর মেহমানদারী</p>
<p>—— শাহ্ কামাল</p>
<p>(শেষপর্ব)</p>
<p>মসজিদে জুমা’র দিন আগে না গেলে জায়গা হয় না। ভিতর-বাহির মুসল্লীতে ভরপুর। সামনের খোলা জায়গাতে মাদুর বিছিয়েও বসেছে অনেকে। জমু শ্বশুরকে ভিতরে যেতে বলে,<br />
&#8211; আব্বা, আপনে ভিত্রে চইলা যান। ভাল্লাগবো।<br />
&#8211; নাহ। মানুষের গর্দান ঠেইলা যামু না। এইডা ভালা কাজ না। এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-51339"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/51339/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>