<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | সাইফুন নেসা সীমা। | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/mehermehershima/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/mehermehershima/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for সাইফুন নেসা সীমা।.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 06 Jun 2026 17:58:10 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">51418f7fa8b1f79adb9b697bd7841d30</guid>
				<title>এক সময় মারুফের স্বপ্ন ছিল চাকরি করবে কিন্তু পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে ছিল, তার বাবা ইসমাইল খান মারা যাওয়ার পর তার চাচা ইসহাক তাদের পারিবারিক কাপড়ের ব্যবসা সামলাতেন কিন্তু বড় ভাই বেঁচে থাকাকালীন অবস্থায় তেমন একটা দোকানে বসতেন না এজন্য বুঝতে সমস্যা হচ্ছিল।তাছাড়া সে ব্যবসার মারপ্যাঁচ বুঝে কম। তাইতো অল্প দিনের মধ্যেই ব্যাবসায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মারুফ তা দেখে ব্যবসার হাল ধরেন। ছোট থেকে দেখে এসেছে এটার পিছনে তার বাবার পরিশ্রম তা নষ্ট হোক ছেলে হয়ে তা দেখার সাহস হয়নি তাইতো পারিবারিক কাপড়ের ব্যবসার বড় ডিলগুলো সাধারণত মারুফ নিজেই সামলায়। যাতে তাদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক কোনো কষ্ট করতে না হয়।
পরিবারে,তার মা,মায়া বেগম ছোট এক বোন, তার নাম,কোমল এবং ছোট ভাই রাশেদ খান ছাড়াও
 চাচা, ইসহাক খানের – দুই মেয়ে,রেশমা (বিবাহিত) ও ঝর্ণা।ও তাদের মা।
তাদের সবাইকে এক সুতোয় বেঁধেছে তার 
দাদু পরিবানু (দাদী), তিনি তাদের পরিবারের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। মারুফের দাদুর কারণে পরিবারের সবাই একসাথে আছে।

মারুফ বিয়ে করেছে দাদুর কথা রাখতে। তার বাবার ছোটবেলার বন্ধু জামিল তালুকদারের একমাত্র মেয়ে জেসমিন তালুকদার-এর সঙ্গে। 
জেসিকার মা সাথী খানম,ছোটবেলায় মেয়ের নাম 
রাখেন&quot;জেসমিন&quot; কিন্তু তার মেয়ের তা পছন্দ না।তাই সে নিজেকে &quot;জেসিকা&quot; নামে পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে নামে।
জেসিকা দেখতে যেমন সুন্দরী তেমনি অহংকারী,গায়ের রং কাঁচা হলুদের মতো, টানা চোখ, টকটকে লাল ঠোঁটে রূপবতী দেখায়। তার বয়স বিশ বছর,সে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ ২য়বর্ষে পড়ুয়া। ব্যারিষ্টার বাবা ও গৃহিণী মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় অতিরিক্ত আদরে আল্লাদে —বদমেজাজি, বেয়াদব এবং একরোখা হয়েছে। 

 এদিকে  কিছু সময়ের মারুফ মধ্যেই বুঝতে পারছে—জেসিকার বাবা তার মেয়ের এই আসল সত্য লুকিয়ে রেখে তার সাথে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। জেসিকা রূপে অপূর্ব হলেও, স্বভাবে অহংকার, অভদ্রতা ও দম্ভ। এই মেয়ের কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে,পরিবার বা বড়দের সম্মান করা শেখেনি। মারুফের জীবনে তুফান তুলে জামিল তালুকদার হয়তো নিশ্চিত হয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে।
কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিল না, মারুফের বিয়ে ঠিক করা ছিল তারেই মামাতো বোনের সাথে।মায়া বেগমের ইচ্ছে ছিল তার ভাইয়ের মেয়েকে পুত্রবধূ করবে,তার এই প্রস্তাবে মারুফের বা অন্য কারো সমস্যা ছিল না। মুখে মুখে বিয়ের কথা দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ের তারিখ ঠিক করতে যাওয়ার আগের দিন জামিল তালুকদার,খান বাড়িতে এসে হাজির হয়।
তাকে দেখে পরিবারের সবাই খুশি হয়। তিনি মাঝে মাঝে এসে খোঁজ খবর নিতেন। সেজন্য সবাই তার আসা স্বাভাবিক ভেবেছিল কিন্তু তা ভুল প্রমাণিত হয় যখন জামিল তালুকদার পরিবানু এর কাছে আবদার করলেন,  মারুফের সাথে তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিতে চায়।
পরিবানু তাকে জানান, তার মারুফের বিয়ে আগে থেকেই ঠিক করা আছে। পাত্রী তাদের পছন্দের।
সে সময়ে জামিল তালুকদার বলেন, আপনি কথা দিয়ে ছিলেন।আমি কিছু চাইলে ফিরিয়ে দিবেন না!
এত তাড়াতাড়ি অতীতের দেওয়া ওয়াদা ভুলে গেলেন?
ভুলিনি তো বাবা, এখনও বলব তুমি এটা ছাড়া অন্য কিছু চাও  ইনশাআল্লাহ তা পাবে।
খালাম্মা একদিন আপনার ছেলের জীবন আমি বাঁচিয়েছি আজকে না হয় আপনি আমার মেয়ের জীবন বাঁচান।
 জামিল তালুকদারের কথা শুনে মারুফ কি বলবে, বুঝতে পারছে না। তাছাড়া এই বাড়িতে সব সিদ্ধান্ত তার দাদু নেন। শাহেদ বিশ্বাস করে তার দাদু যা করবে তাতেই পরিবারের মঙ্গল হবে।
তাছাড়া সে যতটুকু জামিল তালুকদার কে চেনে তা তার চাচ্চুর বিষয়ে কথা বলতে গিয়েই।
ইসহাক খান কিছু খারাপ মানুষের পাল্লায় পড়ে ধোঁকা খায়।এতে রেগে তাদের সাথে মারামারি করেন।সে সময়ে তাদের মধ্যে একজন মারা যায় এতে তার চাচ্চু ফেঁসে গেলেন। যদিও আঘাত তিনি করেনি কিন্তু আদালতে তো প্রমাণ ছাড়া কিছুই বিশ্বাস করে  না। তাছাড়া এমন কেসে বড় উকিল দরকার হয়।সে সময় ভালো উকিললে খোঁজ করছিল। তখন বাবার এক পুরোনো বন্ধু, পেশায় একজন বিখ্যাত ব্যারিস্টার— জামিল তালুকদার—তাদের পাশে দাঁড়ান। তাঁর আইনি দক্ষতায় মারুফের চাচ্চু মামলা থেকে মুক্তি পান। কিন্তু এই মামলার লড়াইয়ে জন্য তিনি কোনো ফিস নেননি। যদিও মারুফের দাদু টাকা দিতে চেয়েছিলেন।
মিথ্যা খুনের মামলায় ছেলের ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল তা থেকে বেঁচে যাওয়ায় পরিবানু  আবেগে আপ্লুত হয়ে জামিল সাহেবকে কথা দেন।—
তুমি যদি কখনো আমার কাছে কিছু একটা চাও খালি হাতে ফেরাব না।আমি পরিবানু তোমাকে কথা দিচ্ছি। 
মারুফের দাদুর সেই কথা দেওয়ার কারণে জেসিকা আজ খান  বাড়িতে।
দাদুর কথা রাখতে মারুফকে বিয়ে করতে হয়েছে জামিল তালুকদারের একমাত্র মেয়েকে—যাকে সে চিনত না, যার সম্পর্কে কিছু জানতও না। না ছিল ভালোবাসা, না ছিল পারস্পরিক বোঝাপড়া।এই বিয়ে শুধুমাত্র এক কন্যা দায়গ্রস্থ পিতাকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে ছিল। কিন্তু উকিল সাহেবের মেয়ের কথা শুনে মারুফের মনে হচ্ছে তার সাথে ধোঁকা হয়েছে। 
কথাটা ভেবেই মারুফ বারবার ফোন করেও জেসিকার বাবাকে পাচ্ছে না। ফোনের ওপাশে বারবার ব্যস্ত সুর, অথবা স্রেফ নীরবতা। 
যেহেতু মারুফের যৌথ পরিবার। তাই রুমের বাইরে বেশি সময় এভাবে থাকা তার জন্য কঠিন। বাসর রাতে কেউ তাকে বাইরে দেখে  যদি প্রশ্ন করে—তখন কি বলবে সে? লজ্জা আর ভয় এ গলা শুকিয়ে আসে। মারুফের তো—সাধারণ, শান্ত একটা জীবন চেয়েছে, যেখানে ভালোবাসা থাকবে, সম্মান থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তার সম্পূর্ণ বিপরীত। 

অনেকক্ষণ বাইরে কাটিয়ে অবশেষে সে রুমে ঢুকে দেখে, জেসিকা খাটের সাথে হেলান দিয়ে হেডফোনে কারো সঙ্গে কথা বলছে। কথায় এমনভাবে মগ্ন আছে যেন এই ঘরে সে ছাড়া আর কেউ নেই। এমন হেসে হেসে কথা বলছে,  আশপাশে কি ঘটছে, তার কোনো খবরই নেই। 

মারুফ কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থেকে বোঝার চেষ্টা করলো—একটা মেয়ে যে কিনা সদ্য বিবাহিত, কিভাবে এমন উদাসীন হতে পারে!এতো রাতে মারুফ এই মেয়ের সঙ্গে কোনো ঝামেলায় যেতে চাচ্ছে না, তাই চুপচাপ বারান্দায় চলে গেছে। 
বারান্দায় দুটো চেয়ার একটা ছোট টেবিল রয়েছে। এখানে বসে সে প্রায় চাচার সঙ্গে দোকানের বিষয়ে আলোচনা করে, আবার একা একা বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে। ফুল-ফল গাছে ভরা উঠোন, রাতের আঁধারে আকাশে  চাঁদ আর তারার মেলা দেখে মনে—যেন  প্রশান্তি বয়ে যায়। অথচ আজ এই প্রশান্তির জায়গা রাতে থাকার আশ্রয় হয়ে দাঁড়াল। 

একটা চেয়ার লম্বা করে রেখে, আরেকটা চেয়ার তার পাশাপাশি রেখে বসে টেবিলের ওপর পা রেখে চোখ বন্ধ করে ঘুমের চেষ্টা করে। সারাদিনের ধকল, ক্লান্তি তাকে আচ্ছন্ন করে। 

এমন সময়ে  রুমের ভেতর থেকে ভেসে আসে হাসির শব্দ। কখনো আবার কানে আসে অদ্ভুত কিছু শব্দ—যা কোনো বিবেকবান মানুষের পক্ষে উপেক্ষা করা কঠিন। মাথা গরম হয় মারুফের। তার ইচ্ছে করে—এই মুহূর্তে  জেসিকা কে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে! কিন্তু পরিবারের মান-সম্মান, অতিথিদের উপস্থিতি, দাদুর মুখের দিকে তাকিয়ে সে নিজেকে শান্ত রাখল। 

মারুফ কান চেপে ধরে বিড়বিড় করে বলে,
“হে আল্লাহ, আমি আর পারছি না। যদি এটা আমার নিয়তি হয়ে থাকে তাহলে তুমি আমাকে ধৈর্য দাও। আর যদি মুক্তির পথ থাকে—তুমি সেই পথ খুলে দাও।” 

চোখ দিয়ে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। বাবার মৃত্যুর পর এই প্রথম মারুফের চোখে পানি। শত কষ্টের মাঝেও তার চোখে কখনো পানি আসেনি। আজ  এমন অবহেলা, অপমান আর শূন্যতায় হয়তো চোখের বাধ ভেঙে গেছে। 

চোখ মুছে  নিজেকে প্রবোধ দেয়:
“আল্লাহ যা করেন, বান্দার ভালোর জন্যই করেন।” 
এসব ভাবনায় ডুবে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল—তা বলতে পারবে না। 
 #চলবে 

 #নীরব_বন্ধন 
 #সাইফুন_নেসা_সীমা 
#২</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/235692/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Nov 2025 17:26:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এক সময় মারুফের স্বপ্ন ছিল চাকরি করবে কিন্তু পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে ছিল, তার বাবা ইসমাইল খান মারা যাওয়ার পর তার চাচা ইসহাক তাদের পারিবারিক কাপড়ের ব্যবসা সামলাতেন কিন্তু বড় ভাই বেঁচে থাকাকালীন অবস্থায় তেমন একটা দোকানে বসতেন না এজন্য বুঝতে সমস্যা হচ্ছিল।তাছাড়া সে ব্যবসার মারপ্যাঁচ বুঝে কম। তাইতো অল্প দিনের মধ্যেই ব্যাবসায় আর্থি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-235692"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/235692/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b43370bc5ac4d567059c353d8291c1f2</guid>
				<title>সাইফুন নেসা সীমা। changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/235565/</link>
				<pubDate>Tue, 18 Nov 2025 04:02:05 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9fa0c209d76e45664a0be40b247f1515</guid>
				<title>নেশা
পর্বঃ ২
লেখনীতেঃমেহের মেহের সীমা।
মারুফ খান চোখের সামনে ছেলের এমন অধঃপতন মানতে পারলেন না, ছেলের কর্মকাণ্ড দেখে তার  রাগে শরীর জ্বলছে। মেয়েটাকে সমাজের কথার চাবুকাঘাত থেকে রক্ষা করতেই তো রাজের সাথে তিনি বিয়ে দিয়েছেন। 
যাতে রাজ তার ভালোবাসা দিয়ে মেয়েটি ভালো রাখতে পারে, কারণ রাজের উপর তার অগাধ বিশ্বাস ছিল, সোশ্যাল (ফেসবুক)মিডিয়াতে   ছেলের সাথে যুক্ত রয়েছেন, কখনো দেখেন তার ছেলে রাস্তার টোকাই কে বুকে জড়িয়ে ধরে সেলফি তুলে আপটেড দিচ্ছে,তো কখনো কোনো অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে, কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দ্বিধা করছে না।
একজন গায়ক হওয়া সত্ত্বেও রাজের কোনো অহংকার নেই, তার সাহসী কর্মকান্ড ও গরীব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে সোশাল মিডিয়া  প্রায় সরগরম থাকত যা দেখে মারুফ খান ছেলেকে নিয়ে গর্ববোধ করে এসেছেন এতদিন। সেই সুবাদেই তো  নিশ্চিন্তে ছেলের   কাঁধে মেয়েটার দায়িত্ব  তুলে দিয়েছেন।
কিন্তু এখন এসব কি দেখছেন?
 রাজ কিনা তার দেওয়া দায়িত্ব পালন করা তো দূরের কথা পালনের চেষ্টা করতেও চাচ্ছে না। মেয়েটিকে এভাবে অপমান অপদস্থ করল, ধাক্কা মেরে ফেলে দিতেও পর্যন্ত দ্বিধা করেনি!
তাহলে এতদিন তার ছেলের সম্পর্ক সোশ্যাল মিডিয়াতে    যা দেখাত তা সব মিথ্যা।লোক দেখানো বা স্বস্তায় জনপ্রিয়তা অর্জন করার লক্ষ্যয় এগুলো করেছে। সরল সোজা মানুষকে মিষ্টি কথা বলে ঠকিয়েছে জনপ্রিয়তার লোভে।
কথাগুলো ভাবতেই মারুফ খানের মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছে,  এতটাই রেগে গিয়েছেন সোজা ছেলের সামনে গিয়ে রেগে সজরে ছেলের বাম গালে চর বসিয়ে দিলেন!
মূহুর্তের মধ্যেই আশেপাশের পরিবেশের নীরব হয়ে গেছে&quot;
এদিকে রাজ বাবার হাতে চর খেয়ে যতটা না হতভম্ব হয়েছে তার থেকে বেশি জেগেছে ক্রোধ।যে রাজের জন্য হাজার হাজার ভক্ত জীবন দিতে প্রস্তুত।আর তাকে কিনা সামান্য একটা গাইয়া মেয়ের জন্য তার বাবা  চর মেরেছে।
এই রাজ কে  তা কি মারুফ খান ভুলে গেছে!যার ফেসবুক ও ইউটিউব এ লাখ লাখ ফলোয়ার।
যার গানে কিনা হাজার হাজার মেয়ে দিওয়ানা হয়ে যায় তাকে অপমান করা?
না আর এক মুহূর্তও এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে মারুফ খানের সঙ্গে  আজ তার করুক্ষেত্র লেগে যাবে।
এতে তার মম ভীষণ কষ্ট পাবে, তা ভেবে হনহনিয়ে বাহিরের দিকে চলে গেল রাজ। 
কানিজ হতভম্ব হয়ে গেছে, মারুফের সাথে রাগ করে রাজ কে বাহিরের দিকে যেতে দেখে কয়েকবার রাজ বলে  ডেকে ছিলেন।
বাবার প্রতি ছেলের অভিমান এতটাই বেশি ছিল যে  মায়ের ডাক  শুনেনি।আর  ছেলের অভিমান হবে না কেন!
যে ছেলের গায়ে তারা দুজন বিশেষ করে সে ছোট থেকে কখনো হাত তুলেন নি এমনকি কখনো বকাঝকা করেনি সেই ছেলের গায়ে হাত তুলছেন তার স্বামী তাও কিনা বাহিরের একটা মেয়ের জন্য!
কিছুক্ষণ আগে যাও মেয়েটার মুখ দেখে  কানিজ এর মায়া লেগেছিল কিছুটা কিন্তু এখন রাগ উঠছে ।
এই মেয়ের জন্য তার স্বামী কিনা তাদের ছেলের গায়ে তুলেছেন কথাটা ভেবে কানিজ রেগে হুংকার দিয়ে বলল,কি হচ্ছে এসব আমার বাড়িতে?
মারুফ কে এই মেয়ে?
মারুফ খান নিজের ছেলেকে চর মেরে  মেয়েটার কাছে গিয়ে  তাকে মেঝেতে থেকে তুলে গেষ্ট রুমের দিকে যেতে নিয়েছেন হুট করে 
   স্ত্রীর হুংকার শুনে দাঁড়িয়ে যান, এরপর তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা সুরে বলেন, ওকে এই মেয়ে বলে ডাকবে না কানিজ,ওর সুন্দর একটা নাম আছে।
ওর নাম  উম্মে রেশমী। তুমি ওকে রেশমী বা বৌমা বলে ডাকবে।
বৌমা মাই ফুট, মারুফ তোমার সাহস হল কি করে আমাকে না জানিয়ে ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার!
তাছাড়া আমার জানামতে তুমি আর  রাজ তো তোমার কোন বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলে?
মারুফ খান তার স্ত্রীর কথা শুনে বললেন,হ্যাঁ গিয়েছিলাম।
আমার বন্ধু রাশেদের মেয়ের বিয়েতে।
কানিজ মারুফ খানের কথা শুনে বলে কোন রাশেদ?
আর রাশেদের মেয়ের বিয়ের সাথে এই মেয়ের সম্পর্ক কী?
মারুফ খান তার স্ত্রীর কথা শুনে বলে,কোন রাশেদ মানে?
আমার গ্রামের রাশেদ,আর রেশমী রাশেদের  মেয়ে।
আসলে হয়েছে কি কানিজ, রেশমীর বিয়েতে গিয়ে আমি তো হতবাক।
এতো সুন্দর পুতুলের মত মেয়েকে আগে দেখলে তো অন্য কোথাও বিয়ে দেওয়ার সুযোগ দিতাম না।
কানিজ চোখ গরম করে তার স্বামীকে বললো, ফালতু কথা রেখে এই মেয়ে এখানে কেন তাই বল?
আরে বাবা বলছি তো!
তো আমরা পৌঁছানোর পর দেখি সবাই  রেশমী কে যা নয় তাই বলছে,কেউ কেউ তো রেশমী কে মারতে  পর্যন্ত  গিয়েছে।
অনেক কষ্টে সবাইকে থামিয়ে জানতে চাইলাম কি এমন হয়েছে যে সবাই এতটুকু একটা মেয়েকে মারতে পিছুপা হচ্ছে না।
তখন ওখানে থাকা কয়েকজন বললেন, কোনো অপয়া অলক্ষীর   জায়গা তাদের গ্রামে হবে না।
আমি তো তাদের আচরণ দেখে হতভম্ব!!
তাদের আচরণ দেখে চুপ থাকতে পারিনি,
আমি তাদের কথার প্রতিবাদ করতে গেলে তারা বলেন, যেই মেয়ে বিয়ের আগে জামাই কে খেয়ে ফেলেছে তার মতো মেয়ের এই গ্রামে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।
বেশ কিছুক্ষণ সবার সাথে বাকবিতন্ডা শেষে তাদের কথা শুনে যা বুঝতে পারছি,তা হচ্ছে  বরযাত্রী  আসার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় বর এবং বরের বাবা মারা গেছে।
এতে গ্রামের মানুষ রেশমী কে দোষ দিচ্ছে ভাবতে পারছো কানিজ কিছু মানুষ কতটা খারাপ ও নির্দয় হলে  বাচ্চা একটা মেয়ের সাথে এমন করতে পারে?
জন্ম মৃত্যু বিয়ে তো আল্লাহর হাতে তা জেনেও কেন রেশমী কে অপদস্থ করছে,এই দুর্ঘটনার সাথে তো রেশমীর পরিবারের হাত নেই। তাহলে তারা কেন গ্রাম ছাড়বে?
 আমি তা বলায় গ্রামের মানুষ এক জোট হয়ে তাদের পরিবারের কাছে শর্ত জুড়ে দিলেন,হয় রেশমী এবং তার পরিবার গ্রাম ছাড়া হবে না হলে আজকের মধ্যেই রেশমীর বিয়ে দিতে হবে।
এমন পরিস্থিতি দেখে তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম,এই ফুলকে আমি ঝরে পরতে দিব না।
তাকে আমাদের ছেলের জীবনের সঙ্গী করে আনব।
তাই রাজ ও রেশমীর বিয়ে দিয়েছি।
কানিজ সবকিছু শুনে চিৎকার করে বলে, তুমি ভাবলে কি করে এমন অলক্ষী মেয়েকে আমার বাড়িতে জায়গা দিব!
ছেলের বৌ তো পরের বিষয় ।
কোনো চাষা ভোষার মেয়ে আমার ছেলের বৌ হতে পারে না।
এই মুহূর্তে  এই মেয়েকে বাড়িতে থেকে বের কর।
মারুফ তার স্ত্রীর কথা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেন,আহ কানিজ!
তুমি কি অবুঝ?
একজন শিক্ষিত মেয়ে হয়েও তুমি গ্রামের ঐ খারাপ লোকদের মত আচরণ করছো?
মারুফ তুমি ভুলে যাচ্ছ  বাড়িটা আমার,তাই  আমাকে ভাষা শেখাতে এসো না আর এখানে কে থাকবে না থাকবে তার সিদ্ধান্ত একমাত্র আমি নিব যেহেতু বাড়িটি আমার।কথাটা বলেই কানিজ রেশমীর হাত ধরে টানতে টানতে নিচে নিয়ে এসেছে।
টানাহেঁচড়ার কারণে মেয়েটার কয়েকবার পড়ে ব্যথা পেয়েছে সেদিকে কানিজের নজর নেই।
এদিকে মারুফ  খান বারবার অনুরোধ করছে রেশমীর হাত  ছেড়ে দিতে কিন্তু কানিজ যেনো আজকে পণ করেছে সে মারুফের কথা শুনবে না।
রেশমী কে টেনেহিঁচড়ে গেটের বাহিরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চিৎকার করে বললো, চাষার বাচ্চা, দূর হু এখান থেকে।
 #চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/137626/</link>
				<pubDate>Thu, 25 Aug 2022 10:41:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নেশা<br />
পর্বঃ ২<br />
লেখনীতেঃমেহের মেহের সীমা।<br />
মারুফ খান চোখের সামনে ছেলের এমন অধঃপতন মানতে পারলেন না, ছেলের কর্মকাণ্ড দেখে তার  রাগে শরীর জ্বলছে। মেয়েটাকে সমাজের কথার চাবুকাঘাত থেকে রক্ষা করতেই তো রাজের সাথে তিনি বিয়ে দিয়েছেন।<br />
যাতে রাজ তার ভালোবাসা দিয়ে মেয়েটি ভালো রাখতে পারে, কারণ রাজের উপর তার অগাধ বিশ্বাস ছিল, সোশ্যাল (ফেসবুক)মিডিয়াতে   ছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-137626"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/137626/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">41aa16a52a932adde48e6208b4d95b61</guid>
				<title>সাইফুন নেসা সীমা। changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/135903/</link>
				<pubDate>Mon, 22 Aug 2022 08:28:46 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6cf765aa1491a550e452523f20c263a7</guid>
				<title>#ছোট_গল্প
না_বলা_ভালোবাসা।
লেখনীতেঃ  #মেহের_মেহের_সীমা।

 #তৃতীয়_ও_শেষখণ্ড।

মেহেদী  রাগে গজগজ করতে করতে বলেন,সব সময় পন্ডিতী করবে ,এখন তো হলো!
কতবার করে বললাম, তোমাকে কিছু করতে হবে না, তুমি শুধু আমাকে কিভাবে রান্না করতে হবে তা দেখিয়ে দাও আমিই রান্না করতে পারবো।
তা কে শুনে কার কথা! মাতব্বরি করে অসুস্থ শরীরে তিনি এসেছে নিজে রান্না করতে!
এদিকে সাবিহা স্বামীর বকা খেয়ে মুখটা কাচুমাচু করে বলে, আপনি অযথা চিন্তা করছেন আমি এখন ঠিক আছি।
 মেহেদী সাবিহার কথাটা শুনে রেগে বলেন, কতটুকু ঠিক আছো তা তো নিজের চোখে দেখলাম!
সাবিহা মেহেদীর দিকে এক পলক তাকিয়ে চোখ নামিয়ে বিরবির করে বলে, ইস্ মাথাটা  ঘুরে ওঠার আর সময় পেল না।
 তার সামনে হুট করে মাথাটা ঘুরে ওঠার দরকার ছিল!
সাবিহা কে  একা কথা বলতে দেখে মেহেদী বলেন,এই তুমি তখন থেকে একলা একলা কি বিরবির করছ? 
সাবিহা  মেহেদীর কথা শুনে বললো, কি আর বলব, আপনি তো কোন কথা বুঝতে চাচ্ছেন না,
আচ্ছা আপনি বলেন, বাসায় একজন মানুষ এতটাই অসুস্থ যে বিছানায় থেকে উঠতে পারছে না আমি তা দেখেও নিজের সামান্য অসুস্থতার কারণে রুমে শুয়ে বসে থাকবো।
আর ওদিকে মিশু ভাই জ্বরের মধ্যেও বাহিরের খাবার খাবেন?
সাবিহার কথা শুনে মেহেদী মনে মনে ভাবছেন, তার ছোট ভাই যে কিনা  দুইদিন আগেও সাবিহাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলো সামান্য জ্বরে কি এমন হয় যে কাজ করতে পারবেন না!
আজকে আমার সেই ভাইয়ের জন্য আমার বৌ সাবিহা  নিজের কথা না ভেবে  অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও মিশুর জন্য সুপ তৈরি করতে ব্যস্ত।
আর তার ভাই এতদিন যেই নূহার উকালতি করছে সে কিনা ওকে এই অবস্থায় ফেলে রেখে গেছে।
আচ্ছা এটা ওদের কেমন ভালোবাসা?
ওদিকে 
সাবিহা মেহেদীকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে  বলে, এখন আমি এদিকটা সামলাতে পারব। আপনি গিয়ে মিশু ভাইয়ের শরীরটা মুছিয়ে দিন।
সারারাত যে জ্বর ছিলো দেখুন গিয়ে তার শরীর ঘেমেটেমে আঠা আঠা হয়ে গেছে মনে হয়।
সাবিহার কথা শুনে মেহেদী গতকাল রাতের কথা ভাবছে, গতকাল রাতে মিশুর জ্বর বেড়ে খুব খারাপ অবস্থা হয়েছিল।জ্বরের ঘোরে বেহুঁশ অবস্থা,
প্রায় ভোররাতে পর্যন্ত  ছোট ভাইয়ের হাত পা টিপে দেওয়া, মাথায় পানি ঢালতে মেহেদী ব্যস্ত ছিলেন।
অবশ্য মেহেদী একা জেগে ছিলেন না তার সাথে সাবিহা ও জেগে ছিলো।
এবং পানি বালতি সবকিছু এগিয়ে দিচ্ছিলো।
এই মেয়েটা মেহেদীর পরিবারের বিপদ দেখলে  নিজের শরীর খারাপের কথা ভুলে সাহায্য করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সাবিহা তার প্রতিটি কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয় এই পরিবার তো মেহেদীর  একার নয়।
 মেহেদী ও সে দুটো দেহ হলেও তাদের আত্মা এক।

মেহেদী সাবিহার কথামতো কুসুম গরম পানি দিয়ে মিশুর শরীর স্পঞ্জ করে দেয়।
অন্যদিকে নূহা  বেশ ভালো বিপাকে পরেছে।
কারণ তার ভাবীরা তাকে তার বাবার বাড়িতে রাখতে চাচ্ছে না।সে কিছুতেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না,
নূহা তার ভাবীদের উদ্দেশ্য বলল,
তোমরা আমার সাথে এমন করতে পারো না!
এটা তো আমারো বাড়ি নাকি?
তাছাড়া  কিছুদিন আগেও না সবসময় বলতে আমি তোমাদের বোনের মত, আমাকে তোমরা কত ভালোবাসো!
তাহলে আজ কোথায় গেছে আমার প্রতি তোমাদের সেই ভালোবাসা?
হ্যাঁ বলেছি তো তাতে কি হয়েছে।শুন, নূহা বড় কথা বলার আগে একটা কথা মাথায় রাখবে মেয়েরা বিয়ের পর বাবার বাড়িতে মেহমান হয়ে এলে তা ঠিক আছে।
কিন্তু সেই মেহমান বেশিদিন থাকলে বাড়ির বোঝা হতে সময় লাগে না।
তাছাড়া তোমার মতো মেয়ের মুখে ভালোবাসার কথা বেমানান।
নূহা তার বড় ভাবীর কথা শুনে অবাক হয়ে গেছে!
 নূহা কে হতভম্ব হতে দেখে আরো বলে,আমরা তোমাকে ভালোবাসি তা ঠিক কিন্তু তোমার জন্য তো নিজেদের ক্ষতি করতে পারি না।
তাছাড়া তুমি কিন্তু তোমার বরের জ্বর দেখে এক মুহুর্ত সময় সেখানে থাকতে চাওনি বরং সাথে এখানে এসে পড়েছিলে।
নূহা তার বড় ভাবীর কথা শুনে হতবাক!
এরমধ্যে
( নূহার ছোট ভাবী)কেয়া বললো,তুমিও তো তোমার বর কে ভালোবাসতে তবুও তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে এসেছিলে।
বরের দিক না দেখে নিজের কথাটা কিন্তু প্রথমে ভেবেছ।
তা শুনে লিজা (নূহার বড় ভাবী)বললো,আর আমরা দুজন তোমার মত হলে কিন্তু তোমার যেদিন জ্বর এসেছিলো‌ ,সেদিনই এখানে থেকে যেতে বলতাম।
আমি বা কেয়া কিন্তু তা করিনি,নূহা তার বড় ভাবী লিজার কথা শুনে অবাক হয়ে গেছে!
যে ভাবীরা সব সময় তাকে ছোট বোনের মতো ভালোবাসি বলে এসেছে  তারা দুজন আজ ওকে এখানে থেকে  চলে যেতে বলছেন।
কথাটা ভাবতে  কষ্ট হচ্ছে। লিজা ও কেয়ার কথা শুনে নূহার মা  বলেন,বৌমা মেয়েটা অসুস্থ ওর সাথে এভাবে কথা বলছো কেন?
লিজা শ্বাশুড়ির কথা শুনে বললো,আম্মা নূহার করোনা টেষ্টের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।
ওর জন্য তো আমরা নিজেদের ক্ষতি করতে পারি না।
বাসায় কেয়ার এবং আমার বাচ্চারা আছে ।
তাছাড়া আপনি ও  বাবা সুগারের রোগী ।
আপনার ছেলেরা তো আপনাদের নিয়ে চিন্তিত,
একা নূহার জন্য তো এতো গুলো মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করতে পারি না!
হয় ও কোন সরকারি হসপিটালে যাক নাহলে শ্বশুড় বাড়িতে ফিরে যাক।
কিন্তু সে এখানে থাকতে পারবে না।
কথাটা বলে লিজা চলে যায়।
এদিকে নূহার মা নূহাকে বললেন,দেখলি তো প্রত্যেকের নিজ নিজ কর্মের ফল ভোগ করতে হয়।
তুই নিজের স্বামীকে একা ফেলে এসেছিস তোর স্বামীর করোনা হয়েছে সেই ভয়ে।
 তুই কিন্তু মিশুকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলি।
সামান্য করোনার কাছে তোর ভালোবাসা ফিকে হয়ে গেছে।
তুই সেদিন স্বার্থপরের মত কাজ করেছিস।
আজকে দ্যাখ তোর সাথেও তাই হচ্ছে ।
তোর ভাবীরা ও নিজেদের কথা চিন্তা করে স্বার্থপর হয়েছে
দেখলি তো কর্মফল?
মায়ের কথা শুনে এবং ভাবীদের ব্যাবহার দেখে নূহার খারাপ লাগছে।
সে মিশুকে ছেড়ে এসেছিলো করোনা হয়েছে সেই ভয়ে।
এখন কিনা ওর নিজের সেই করোনা হলো।
হে আল্লাহ এখন সে কি করবে?
সেদিন স্বার্থপরের মতো চলে আসছিল ঠিক 
এখানে এসে সাত আট দিন ভালোই  ছিলো।
মাঝে মাঝে মিশুর জন্য খারাপ লাগলেও মন ভালো করতে ভার্সিটি যাওয়া বাসায় এসে ভাবীদের সাথে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি করে তার সময় চলে যাচ্ছিল।
 কিন্তু হঠাৎ করে দুইদিন আগে নূহার ভীষণ জ্বর এসেছে।
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তা দেখে ওর ভাইয়েরা করোনা হয়েছে সন্দেহ করে বোনের টেষ্ট করান।
টেষ্টের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে
ওর করোনা হয়েছে তা জানার পর থেকে দুই ভাবী ওকে এখানে রাখতে চাচ্ছে না।
নূহা আজ তার ভাবীদের ব্যাবহার দেখে মর্মাহত হয়েছে।
তার ভালো মন্দ কাজে সব সময় যে ভাবীরা সাপোর্টে দিয়েছেন তারা আজকে ওকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন।
নূহা আজ বুঝতে পারছে সেদিন মিশুকে ছেড়ে আসার মিশুর কাছে কেমন লেগেছে।
ইস্ কেন তখন সে বুঝতে পারল না।
অসুস্থ অবস্থায় নূহা চায় না হসপিটালে থাকতে কিন্তু ওর ভাবীরা ওকে এখানে থাকতে দিবে না,
নূহার কাছে এই মুহূর্তে মিশুর বাসা ছাড়া আর কোনো রাস্তা খোলা নেয়।
নূহাকে  নির্লজ্জের মত এখন মিশুর বাসায় যেতে হবে এটাকেই হয়তো ভাগ্যের খেলা বলে।
ওদিকে 
মিশু বিছানায় শুয়ে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবছে,
এতদিন যেই ভাই ভাবীর দিকে নজর দেয়নি এই কঠিন সময়ে  ওর  পাশে দাঁড়িয়েছে  তারা।
সেবা যত্ন করছেন।
আর সে যে মানুষটিকে সব সময় আগলে রাখত, সংসারের দায়িত্ব থেকে দূরে রেখেছেনষ ।
নিজের সব ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন।
সেই কিনা ওকে অসুস্থ অবস্থায় রেখে যেতে পারলো?
অন্যদিকে ওর বড় ভাবী  এতো অসুস্থ হয়েও ওর জন্য এটা ওটা রান্না করছে।
এসব দেখে অতীতের আচরণের জন্য আজ নিজেকে অনেক ছোট মনে হচ্ছে।
এতদিন ভাবীকে কষ্ট করতে দেখেও ফিরে তাকায়নি, চোখে যে তখন নূহা নামক পর্দায় ঢাকা ছিল।
 নূহাকে শুয়ে বসে কাটাতে দেখেও কখনো বলেনি ভাবীকে হেল্প করতে।
ছিঃ ছিঃ মায়ের মতো ভাবীকে নূহার কথা ভেবে সে কিনা এতদিন ভাবীর প্রতি অন্যায়  করেছে।
কথাগুলো ভাবছে আর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।

মিশু সুস্থ হয়েছে দুদিন হয়েছে।
সুস্থ হওয়ার পর মিশু আর ভুল করতে চায়নি তাইতো সাবিহার কাছে ক্ষমা চেয়েছে
এবং বলেছেন,এখন থেকে সময় পেলে সে তার ভাবীকে কাজে  সাহায্য করবে।
কারণ পরিবারের সবার দায়িত্ব আছে ভাবী কেন একা কষ্ট করবে।
দেরিতে হলেও মিশুর শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে এতেই মেহেদী খুশি।
মিশু সুস্থ হাওয়ার পর একবারও নূহাকে কল করেনি বরং নূহা কল দিলেও সে রিসিভ করেনি।
কেন করবে?
ভালোবাসার মানুষটিকে তার বিপদের সময়ে পাশে দরকার ছিল সেই  সময়ে নূহা তাকে একা ফেলে চলে গেছে।
মিশু ভাবছে আমার অসুস্থতা যার কাছে মূল্যহীন তাকে আমার সুস্থ হওয়ার খবর দেওয়াটা বেমানান।
কথাগুলো ভেবে মিশু নূহাকে আর কল করেনি।
তবে আজকাল মিশুর মধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
বাসায় এসে নিজের কাজগুলো নিজে করতে চেষ্টা করেন।
বন্ধের দিনে ভাবীকে টুকটাক সাহায্য করেন।
এক সপ্তাহ পর
নূহা শ্বশুড় বাড়িতে এসেছে আজ পাঁচদিন।
মিশু নূহার শরীরের অবস্থা দেখে কিছু বলতে পারেনি।
নূহা ভালো না বাসলে সে তো বেসেছে ।
তবে নূহাকে কড়াভাবে বলেছেন,যাতে সুস্থ হওয়ার আগে নূহা রুম ছেড়ে বের না হয়।
তার জন্য বাকিরা অসুস্থ হোক তা মিশু চাচ্ছে না।
আজকে প্রথম নূহা মিশুর কথা শুনে কষ্ট পেয়েছে।
যে মানুষটি একদিন শুধু ওর কথা ভাবতো আজ সবার জন্য চিন্তা করছে কিন্তু সেই সবার মধ্যে সেখানে নূহা নেয়।
এদিকে সাবিহা নূহার অবস্থা দেখে বসে থাকতে পারেনি।
নূহাকে খাওয়ানো, মাথায় পানি দেওয়া  ,তেল মালিশ করা থেকে শুরু করে তার ছোট ছোট কাজগুলো ও করে দিয়েছে।
তবে মাস্ক পরে।
নূহা সাবিহাকে তার প্রতি কেয়ার করতে দেখে অবাক হয়ে যায়!
যেখানে ওর আপন ভাবীরা ওকে এই অবস্থায় বাড়িতে থেকে বের করে দিয়েছে সেখানে সাবিহা তার বড় ভাসুদের বৌ হয়ে মায়ের মত করে সেবা যত্ন করছেন।
আর নূহা কিনা এই মানুষটার সাথে দিনের পর দিন খারাপ আচরণ করেছে তাকে ছোট করেছেন।
গল্পের ছলে অপমান অপদস্থ করেছেন।
এমনকি সাবিহা যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকতো তখনও নূহা কাছে গিয়ে বলেনি ভাবী তোমার খারাপ লাগছে?
আজ কিনা সে মানুষটি ওকে অসুস্থ দেখে এগিয়ে এসেছেন।
নূহা‌ অতীতের স্মৃতি মনে পড়ে অনুশোচনা ভুগছে।
অন্যদিকে
মেহেদী কে অবাক করে দিচ্ছে তার বৌয়ের এইসব কাজকর্ম!
যেই মেয়েটা কখনো সাবিহার সাথে ভালো আচরণ করেনি।
যে ভাইয়ের বৌ কিনা আর অসুস্থ ভাইকে  ফেলে স্বার্থপরের মত বাবার বেড়াতে চলে গেছে।
তাকে সুস্থ করতে তার বৌ দিন রাত এক করে দিচ্ছে।
নূহা এতো কিছু করার পরেও কেন সাবিহা তার সেবা করছে মেহেদী সাবিহাকে কথাটা জিজ্ঞেস করেছিলেন,
সাবিহা তার স্বামীর প্রশ্ন শুনে মুচকি হেসে বলল ,নূহা আপু যা করেছে তা যদি আমরা করি তাহলে তার আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য কী?
তাছাড়া এই সময়ে আপুর কাছে থাকলে সে নিজের ভুল গুলো বুঝতে পারবে।
এমনকি হয়তো ভবিষ্যৎ  নিজেকে শুধরে নিতে পারেন।
কিন্তু এই সময়ে আমরা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে সে কখনো তার ভুলগুলো উপলব্ধি করতে পারবে না।
তাছাড়া নূহা আপু আমার দেবরের বৌ হলেও আমি তো তাকে বোনের মত মনে করি।
একবোন কি কখনো অন্য বোনের বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে থাকতে পারে।
সাবিহার কথা শুনে মেহেদী আল্লাহ্ কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন।
এমন পবিত্র মনের একজনকে তার জীবনে সহধর্মিণী রূপে দেওয়ার জন্য।
মেহেদী গর্ববোধ করে সাবিহাকে নিয়ে।
একমাস পর
সাবিহা ও মেহেদী জীবনে ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো ডানা মেলে আকাশে উড়তে শুরু করেছে।
এখন তাদের বাড়ি সুখের জোয়ারে ভাসছে।
সাবিহা মা হতে যাচ্ছে এই খবরটি শুনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের আনন্দ চোখে পড়ার মতো।
 মেহেদী যে এই পর্যন্ত কতবার সাবিহা কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাকে বাবা হওয়ার সুখ অনুভব করার সুযোগ দেওয়ায়।
তাছাড়া এখন বাড়ির হাওয়া বদলে গেছে , এখন সাবিহা কে একা একা সব কাজ করতে হয় না।
আজ তাকে কাজে সাহায্য করার মানুষের অভাব নেয়।
এগুলো সম্ভব হয়েছে একমাত্র মিশুর জন্য।
নূহা সুস্থ হওয়ার পর থেকে মিশু নূহাকে বলে দিয়েছে এখন থেকে নূহাকে তার ভাবীর মতো করে সংসারে দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে।
আর সংসারের কাজগুলো ভাগ করে নিতে হবে।
তাছাড়া ভাবীকে দিয়ে ভারী কোন কাজ করানো যাবে না।
সেদিকে নূহাকে খেয়াল রাখতে হবে।
আজকে ভাবী রান্না করলে আগামীকাল নূহা করবে।
আর বন্ধের দিনে ভাইয়া ও ভাবীর ছুটি থাকবে তাড়া যেখানে খুশি ঘুরতে যেতে পারবেন।
এদিন সংসারে দায়িত্ব নূহা ও মিশু সামলাবে।
মেহেদী মিশুর কথা শুনে বলেছিলেন, নূহা হয়তো এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে।
আমাদের উচিত ওকে ক্ষমা করে দেওয়া।
আর তোদের তো এখনই ঘোরাফেরার সময়।
সেজন্য সপ্তাহে একদিন তুই ও নূহা ঘোরাঘুরি করবি বা কোথাও বেড়াতে যাবি।
বরাবরের মতো এদিকটা আমরা সামলে নিবো।
 ভাইয়ের কথা শুনে সেদিন মিশু বলেছে, ভাইয়া নূহাকে ক্ষমা না করলে আজকে তাকে এখানে দেখতে না।
তাছাড়া আমি এসব রাগ করে বলিনি।
আমরা বিয়ের পর থেকে প্রতি সপ্তাহে ঘুরতে বা বেড়াতে গিয়েছি কিন্তু তুমি  দায়িত্বে বেড়াজালে আবদ্ধ থাকায় যেতে পারোনি।তখন হয়তো এগুলো বুঝতে পারিনি।
কিন্তু এখন তোমার ভাই  দায়িত্ব বুঝতে চাচ্ছে এবং তা পালন করতে চেষ্টা করছে।
আচ্ছা ভাইয়া আমাকে দায়িত্ববান একজন মানুষ হতে তুমি আমার পাশে থেকে আমাকে সাহায্য করবে না?
ছোট ভাইয়ের কথা শুনে মেহেদীর চোখে পানি চলে এসেছে।
মেহেদী মিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরে হ্যাঁ বলেন।
সে দৃশ্য দেখে মেহেদীর বাবার চোখে পানি মুখে হাসি।
সে তো সব সময় এমন একটি পরিবারের স্বপ্ন দেখেছেন  যা ধীরে ধীরে পূরণের দিকে যাচ্ছে।
মেহেদীর বাবা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললেন, তোদের হৃদয়ে একে অপরের প্রতি না বলা ভালোবাসার ভান্ডার রয়েছে।
তোদের এই ভালোবাসা যেন চিরকাল থাকে সেই দোয়া করি।
তোদের এমন সুখে  দেখে এখন মরেও শান্তি পাবো।
ওদিকে সাবিহা মনে মনে বলছে, এমন পরিবারের একজন সদস্য হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।  আল্লাহ্ আমাদের ভালোবাসার বন্ধন যেন সারাজীবন  এভাবেই অটুট থাকে।
সমাপ্ত</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/135899/</link>
				<pubDate>Mon, 22 Aug 2022 08:25:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ছ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ছ</a>োট_গল্প<br />
না_বলা_ভালোবাসা।<br />
লেখনীতেঃ  <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ম" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ম</a>েহের_মেহের_সীমা।</p>
<p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ত" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ত</a>ৃতীয়_ও_শেষখণ্ড।</p>
<p>মেহেদী  রাগে গজগজ করতে করতে বলেন,সব সময় পন্ডিতী করবে ,এখন তো হলো!<br />
কতবার করে বললাম, তোমাকে কিছু করতে হবে না, তুমি শুধু আমাকে কিভাবে রান্না করতে হবে তা দেখিয়ে দাও আমিই রান্না করতে পারবো।<br />
তা কে শুনে কার কথা! মাতব্বরি করে অসুস্থ শরীরে তিনি এসেছে নিজে রান্না করতে!&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-135899"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/135899/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">53757a4b7c927d26ed615ca661734df2</guid>
				<title>নেশা
লেখনীতেঃ মেহের_মেহের_সীমা।
সূচনা পর্ব 
মম মম কোথায় তুমি?
রাজ সোনা কি হয়েছে? ছোট লোকদের মত এভাবে চেঁচামেচি করছ কেন!
চেঁচামেচি কি আর সাধে করছি! তোমার বর মারুফ খা..
ছিঃ রাজ  বাবাকে নাম ধরে বলতে হয়?
তোমার ভাষা শুনে আমি ভেবে অবাক হচ্ছি যে তুমি আমার ছেলে!
ছেলে হয়ে তোমার সাহস হয় কি করে নিজের বাবাকে নাম ধরে ডাকার?এই তোমার শিক্ষা!কোথায় কি বলতে হয় বা কাকে কি বলতে হবে তা জানো না?
মম তুমি শিক্ষার কথা বলছ!
আচ্ছা মম বলতে পারবে কোন বাবা সমাজের কাছে বড় হতে বা নাম কামাতে নিজের হাতে ছেলের জীবন ধ্বংস করে?
মারুফ খান আজকে নিজের হাতে আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে।মনের মধ্যে লালিত এতো এতো বছরের স্বপ্ন আশা ভরসা সব শেষ করে দিয়েছে।
রাজ এসব কি বলছ?
আচ্ছা কি এমন হয়েছে এতো রাগ যাচ্ছ!
তুমি না  তোমার বাবার সাথে তার বন্ধুর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলে, তাছাড়া তোমাদের না আগামীকাল আসার কথা ছিল কি এমন হয়েছে যে  এতো জলদি এসে পড়লে?এসেছ ভালো কথা, বিশ্রাম নিবে তা না করে চেঁচামেচি করে বাড়ি মাথায় তুলছো!
মম তুমি আমার জায়গায় থাকলে আরও ভয়ংকর কান্ড ঘটাতে।(উপরে যারা কথা বলেছে তারা কথা বলুক আমরা এই ফাঁকে আসুন তাদের পরিচয় জেনে নেয়।
রাজ, তার পুরো নাম ফারদিন খান রাজ।
বয়সঃ২৮ এর কাছাকাছি হবে।
দেখতে বাংলা ছবির প্রাত্তন নায়ক মান্নার মতো।
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ বিবিএ করেছেন।ব্যবসায় অনুষদে স্নাতক ডিগ্রী নিলেও তার ব্যাবসার প্রতি বিন্দু মাত্র টান নেই।
তার ধ্যান জ্ঞান হচ্ছে গান করা।
আরো ভালো ভাবে বলতে গেলে গান হচ্ছে রাজের নেশা।
অবশ্য  এই গানের নেশা তাকে সবার কাছে পরিচিত দিয়েছে।
 বাংলাদেশ ও বিদেশেও তার ভালোই নামডাক রয়েছে।
আরেকটি কথা রাজের একটা সুন্দরী প্রেমিকা আছে।
সে গান ও মডেলিং করেন।
রাজের মায়ের নামঃ কানিজ চৌধুরী।যিনি চৌধুরী কম্পানির বর্তমান মালিক।
কানিজ এর বাবা ছিলেন চৌধুরী কম্পানির মালিক আশরাফ চৌধুরীর,একমাত্র মেয়ে কানিজ চৌধুরী। তিনি 
ইংলিশে অনার্স করে তার বাবার ব্যাবসার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।
তার স্বামীর নাম মারুফ খান, অবশ্য সবার কাছে খান হলে আসল পদবী হচ্ছে মারুফ খাঁ।চাষী,আলী খাঁ এর পুত্র।
যা আজ অতীত।
চৌধুরী কম্পানির মালিক কানিজ চৌধুরীর স্বামী এখন সে।
চাষী মারুফ খাঁ নাম হলে সম্মান থাকবে!
কানিজের জেদের কাছে হার মেনে খাঁ  কেটে খান লাগাতে হয়েছে।
তবে এতে তার একটা লাভ হয়েছে।
(তার বৃদ্ধ মা বাবাকে  শেষ বয়সে ছেলেকে ছাড়া থাকতে হয়নি। কানিজের শর্ত মানায়)
মারুফ খান ছিলেন মেধাবী ছাত্র।
মারুফ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স  কমপ্লিট করে মাষ্টার্সে ভর্তি হয়ে চাকরির খোঁজে এক অফিস থেকে অন্য অফিস  ঘুরে ঘুরে যখন জুতার তলা ক্ষয় ইন্টারভিউ দিতেন।
কিন্তু ফলাফল শূন্য দেখে হতাশ হননি বরং মাষ্টার্সে ভর্তি হয়েছিলেন।
 মাষ্টার্সের ভর্তি হওয়ার মাস ছয় পর  হঠাৎ  একদিন  চৌধুরী কম্পানি থেকে তার ডাক আসে। সেদিন থেকে মারুফের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়।
কানিজের বাবার অফিসে চাকরি পান তিনি।
মারুফের সততা ও পরিশ্রম দেখে আশরাফ চৌধুরী মুগ্ধ হয়ে তার একমাত্র মেয়ে যে ভবিষ্যৎ এ এই অফিসের নতুন এমডি তার দায়িত্ব তুলে দেন।
সেই থেকে চৌধুরী কম্পানি তে আছেন।)
অনেক বকবক করলাম এবার আসুন মূল গল্পে চলে যাই।
আসমা,সুমি কোথায় তোরা?জলদি তোদের খালাম্মা কে ডাক।
কথাগুলো বলতে আবার  ডাক সোনা যাচ্ছে,এই কানিজ কোথায় তুমি বাহিরে এসে দেখে যাও কাকে নিয়ে এসেছি।
ওদিকে আসমা ও সুমি বাহিরে থেকে ভেসে আসা কথাগুলো শুনে তাদের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না তাদেরকে তাদের খালু এই বাসার মালিক মারুফ খান ডাকছেন। ওরা রান্নাঘরে কাজ করছিল মারুফের ডাক শুনে হাতের কাজ ফেলে তাড়াতাড়ি তাদের খালাম্মার কাছে এসে বলল, খালাম্মা খালু ডাকছেন। কানিজ ওদের দিকে গরম চোখে তাকালেন যার মানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাক। 
এরমধ্যে বাহিরে থেকে আবারো কানিজ কোথায় তুমি বল ডাকছে মারুফ খান।
কানিজ বিরক্ত হয়ে সদর দরজার কাছে গিয়ে স্বামীকে ধমকে বললো, তোমার জ্ঞান বুদ্ধি কখনো হবে না!
কি বুঝে তোমার মত লোকের কাছে বাবা আমায় বিয়ে দিলেন তা আদৌও বুঝতে পারলাম না।
স্ত্রীর ধমক শুনে মারুফ খান মুচকি হেসে বললেন, শ্বশুড় মশাই জানতেন তার বিগড়ে যাওয়া এই মেয়েকে আমি ছাড়া আর কেউ কন্ট্রোল করতে পারবে না।
কানিজ রেগে বললেন,রাখো তোমার ফালতু কথা, তোমাকে কতদিন বলেছি গন্ডমূর্খ আর চাষাদের মতো বাহিরে দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি করবে না?
মারুফ খান মুচকি হেসে বলেন,কি করব বল? চাষাবাদ তো আমার রক্তে মিশে আছে।
শত হলেও একজন চাষীর ছেলে তা তো তোমাকে বুঝতে হবে।
কানিজ তার স্বামীর কথা শুনে বিরক্ত হয়ে ঘুরে অন্যদিকে তাকাতে গিয়ে থমকে যান!
এতক্ষণ স্বামীর সাথে কথা বলতে গিয়ে রাগে আর কোনো দিক খেয়াল করেনি।
খেয়াল করলে,তার স্বামীর পিছনে লাল তাঁতের শাড়ি পড়া একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তা ঠিক দেখতেন।  পিছনের দিকে চোখ পরতেই কানিজ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে মারুফ কে বললেন, মারুফ তুমি যে কি কর না।
আসমা সুমি তো আছেই ওদের ছাড়া আরও দুজন আছে তাও তুমি আবারো কেন কাজের লোক আনতে গেলে?
মারুফ খান তার স্ত্রীর কথা শুনে চমকে উঠে বললেন, ছিঃ কানিজ এসব কি বলছ!
ও তো আমাদের রাজের বৌ।
কি রাজের বৌ! আমাদের রাজের বৌ!
এই মারুফ শেষ বয়সে পাগল হলে না তো?
আশ্চর্য পাগল হব কেন! যা সত্যি তাই বলছি।
সত্য বলছ না মিথ্যা তা পরে হবে।
আগে ভিতরে আসো তারপর তোমাকে আমি দেখছি&quot;
কথাটা বলে কানিজ ভিতরে এসে দেখে রাজ ড্রইং রুমে নেই।
কিন্তু উপরে থেকে  ভাংচুরের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।
আজ বাড়িতে হচ্ছেটা কি তা। তিনি বুঝতে পারছে না?
তার ভদ্র শান্ত ছেলেটা হুট করে এতো রেগে গেল  কেন!
কানিজ যখন এসব ভাবছে সে সময়ে রাজের রুমে থেকে বিকট শব্দ  আসে।
যা শুনে কানিজ দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ছেলের কাছে যাচ্ছে এদিকে মারুফ খানের কানেও শব্দটি পোঁছে তিনিও তড়িঘড়ি করে তার সাথে থাকা মেয়েটিকে ছেলের রুমের দিকে ছুটছেন।
এদিকে কানিজ ছেলের রুমে  গিয়ে হতবাক হয়ে গেছে রুমের মধ্যে কাচ ভেঙে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবুও রাজের রাগ থামেনি বরং রাজ হাতের কাছে যা পাচ্ছে তাই ভাংচুর করছে।
কানিজ দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে রুমে থেকে টেনে বের করে বলেন,রাজ সমস্যা কি!এভাবে ভাংচুর করছ কেন?
এরমধ্যে মারুফ খান ও রাজের সামনে উপস্থিত হন।
মেয়েটা এখনও তার হাত ধরে রয়েছে।
তা দেখে রাজের মাথায় রক্ত উঠে গেল।
রাজ তার বাবার কাছে গিয়ে মেয়েটিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চিৎকার করে বলে, ছোট লোকের বাচ্চা তোর সাহস হয় কি করে আমার রুমের সামনে আসার।
কানিজ হতভম্ব গেছে ছেলের এমন আচরণ দেখে।
কানিজ ভেবে পাচ্ছে না  বাচ্চা একটা মেয়ের সাথে তার ছেলে এমন আচরণ কেন করছে।
বাচ্চা মেয়ে বলার কারণ হচ্ছে, রাজের ধাক্কা খেয়ে মেয়েটা দূরে ছিটকে পড়ে সে সময়ে মেয়েটির মাথার ঘুমটা খুলে যায় যার দরুন মেয়েটাকে দেখা যাচ্ছে।
মেয়েটার বয়স চৌদ্দ কি পনেরো হবে  আপাতত মেয়েটাকে দেখে কানিজের তাই মনে হচ্ছে।
দেখতে পুতুলের মতো হলেও  চেহারার মধ্যে  ভয়ের ছাপ স্পষ্ট।আচ্ছা তখন যে মারুফ বললো,এই মেয়ে আমাদের ছেলের বৌ!
আবার রাজের ক্ষুদ্ধ  আচরণের কারণ সত্যি সত্যি এই মেয়ে না তো?যদি তাই হয় তো এবার মারুফ কে ছাড় দেওয়া হবে না।
 #চলবে
বিঃদ্রঃ লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন,আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও কমেন্ট করে জানাবেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/135209/</link>
				<pubDate>Sat, 20 Aug 2022 20:30:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নেশা<br />
লেখনীতেঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
সূচনা পর্ব<br />
মম মম কোথায় তুমি?<br />
রাজ সোনা কি হয়েছে? ছোট লোকদের মত এভাবে চেঁচামেচি করছ কেন!<br />
চেঁচামেচি কি আর সাধে করছি! তোমার বর মারুফ খা..<br />
ছিঃ রাজ  বাবাকে নাম ধরে বলতে হয়?<br />
তোমার ভাষা শুনে আমি ভেবে অবাক হচ্ছি যে তুমি আমার ছেলে!<br />
ছেলে হয়ে তোমার সাহস হয় কি করে নিজের বাবাকে নাম ধরে ডাকার?এই তোমার শিক্ষা!কোথায&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-135209"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/135209/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7cc348355bb43dcbb595eb927cbc1da2</guid>
				<title>ছোট_গল্প।
না_বলা_ভালোবাসা।

দ্বিতীয়_খন্ড

এই মেয়ে চুপচাপ বসে থাকতে পারো না,
সবসময় পন্ডিতী করতে হবে কেন।

সাবিহার মেহেদী হাসানের কথা শুনে মন খারাপ হয়ে গেছে,ও কখন পন্ডিতী করেছে!
তার তো বিছানায় শুয়ে বসে থাকতে ভালো লাগছে তাছাড়া ও বসে থাকলে চলবে কেমনে ও হচ্ছে এই বাড়ির বড় বউ।
 সাবিহা বিছানায় বসে কাঁচুমাচু করছে আর মনে মনে ভাবছে স্বামী নামক মানুষটি তাকে বুঝে না কেন?
 
সাবিহার ভাবনার অবসান ঘটাতে  মেহেদী হাসান তার স্ত্রীর দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলে উঠেন,
এক পাও  বিছানার থেকে নামলে তোমার ঠ্যাং ভেঙে
দরকার হলে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো।
কখনো কিছু বলি না বলে বেশি সাহস হয়ে গেছে তাই না?

মেহেদী হাসানের অগ্নিরূপ দেখে ও  ধমক শুনে সাবিহা ভয় পেয়েছে।
মানুষটাকে এতদিন ধরে ঠান্ডা স্বভাবের দেখে এসেছে,
আজ হঠাৎ করে এমন রেগে যেতে দেখে ভয়ে
মুখটি কাঁচুমাচু করে বললো,এখন তো আর জ্বর নেয়।
একজন মানুষ কতক্ষণ এভাবে কাজকর্ম ফেলে বসে থাকতে পারে বলুন আপনি?
তাছাড়া আমি তো জানি বাবার বাহিরের খাবার খেতে কষ্ট হয়।একটু তো বুঝতে চেষ্টা করুন।

সাবিহার কথা শুনে মেহেদী বলেন,চুপচাপ বসে থাকতে বলেছি শুনতে পাওনি?
আর এখন যে ফটর ফটর করছো গতকাল রাতে তো জ্বরে আসেপাশের হুঁশ ছিলো না।
সকাল হতে না হতে পাকনামি শুরু করে দিয়েছ।

স্বামীর কথা শুনে সাবিহা মুখ গোমড়া করে বসে আছে।

তা দেখে মেহেদী মনে মনে বলেন, তুমি এমন কেন বৌ?
আমাদের সবার খেয়াল রাখার কথা তোমার মনে থাকে কিন্তু তুমি নিজের খেয়াল একটুও রাখো না।
 তুমি তোমার নিজের প্রতি কেন এতো উদাসীন ?

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ইদানিং আমার মনে  হয় তোমাকে বিয়ে করে আমি এবং আমার পরিবারের লোকজন তোমার সরলতার সুযোগ নিয়েছি।
তা নাহলে তুমি যেমন এই বাড়ির বৌ তেমনি নূহাও তো এই বাড়ির বউ।
এই বাড়ির বউ হয়ে সে সব সু্যোগ সুবিধা পাচ্ছে আর তুমি সংসারের দায়িত্বের বোঝার নিচে চাপা পড়ে রয়েছো।
কখনো নিজের জন্য কোনো চাহিদা বা আবদার নেয়।
বিয়ের পর থেকেই নিজের সবটুকু  ভালোবাসা উজাড় করে দিচ্ছো সংসারের পিছনে।
অনেক হয়েছে আর নয় এভাবে তো চলতে পারে না।
তোমার দিক তুমি না দেখলে তো  আমাকে দেখতে হবে যেহেতু তুমি নিজের প্রতি উদাসীন।
মেহেদী যখন কথাগুলো ভাবছিলেন সে সময়ে সাবিহা বাচ্চাদের মত আবদার করে বলে উঠলো, একটু বাহিরে যাই না এমন করেন কেন?
এই যাবো আর আসবো।
বেশি সময় লাগবেনা।
কথাটা বলে মনে মনে ভাবছে,একটু জ্বর হয়েছে এজন্য রুমে বসে থাকতে হবে এটা কোনো কথা হলো?
কত বেলা হয়ে গেছে , সবাই নিশ্চয় না খেয়ে বসে আছে।
আর আমি এখানে শুয়ে রয়েছি কেমন লাগে।
নাস্তা বানাতে হবে।
কত কাজ বাকি আছে তা কি ওনি বুঝতে পারছে না!
উল্টো বর মহাশয় কিনা আমাকে রুমে থেকে বের হতে দিচ্ছে না।
মেয়ে মানুষকে এই সামান্য জ্বর বুঝি কাবু করতে পারে!আরে আমি ঠিক আছি তো তবুও তিনি কেন বুঝতে চাচ্ছে না।
এটা কোন কথা হলো?
আচ্ছা এই সময়ে না ওনি অফিসে চলে যায় আজ কি হল!আজ কি সে অফিসে যাবে না?

ওদিকে মেহেদী ‌তার স্ত্রী কে গোমড়া মুখে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে বলে উঠেন,তুমি কি চাও তোমার জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা অসুস্থ্য হয়ে যাক বা তাদের ক্ষতি হোক?
সাবিহা  যখন ভাবনার বিভোর সে সময়ে তার স্বামী বলা কথাটা শুনে আশ্চর্য হয়ে যায়!
ও ভুলে এটা চায়বে না। তা কি তার অজানা?
ওনি এসব কি বলছেন!
মেহেদী সাবিহাকে চমকে উঠতে দেখে মনে মনে সরি বৌ।
এই মুহূর্তে তোমার পর্যাপ্ত বিশ্রাম দরকার।
তোমার  রক্ত শূন্যতা সমস্যা রয়েছে  তা গতকাল আমার বন্ধু বলেছেন, তোমাকে কয়েকদিন বেড রেস্টে রাখতে, পুষ্টিকর ও আয়রন জাতীয় খাবার খাওয়াতে  হবে না হলে আবার যে কোনো মুহূর্তে তুমি মাথা ঘুরে পড়ে যাবে।
এখন তোমাকে এই কথাটা বললেও জানি তো লাভ হবে না।
তুমি বলবে ডাক্তার বাড়িয়ে বলেছেন।
সেজন্য আমাকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
যদি আমি মিথ্যা বলতে এবং শুনতে একদম পছন্দ করি না।
এদিকে সাবিহা মেহেদীকে চুপচাপ দেখে  আমতা আমতা করে বললো, আমি রুমের বাহিরে গেলে তারা অসুস্থ হবে কেন?
মেহেদী সাবিহার কথা শুনে গম্ভীর হয়ে বললেন, রাতে তোমার শরীরে তাপমাত্রা এতোটাই বেড়ে যায় তা দেখে আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।
আমার ডাক্তার বন্ধুকে ফোন দিয়ে বাসায় আসতে বলি। 
গতকালকে ও আমার ফোন পাওয়ার সাথে সাথে  এসে  তোমাকে চেকআপ করে।
তখন সন্দেহের বসে করোনা টেষ্ট করতে স্যাম্পল নিয়েছে।
সেই পরীক্ষার রিপোর্ট আজকে এসেছে।
তুমি ঘুম থেকে উঠার আগে ও ফোন করে বলেছে, তোমার‌ করোনা পজেটিভ এসেছে।
সাবিহা মেহেদীর কথাটা শুনে চমকে যায়!
তার পর ভয় ভয় কন্ঠে বলে, সত্যিয় আমার করোনা হয়েছে? 
মেহেদী সাবিহার কাঁধে হাত রেখে ইশারায় হ্যাঁ বোঝায়।

সেটা দেখে সাবিহা ছিটকে মেহেদীর কাছে থেকে দূরে সরে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে,প্লিজ আমার কাছে আসবেন না।
আমি চায় না আমার জন্য আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মেহেদী সাবিহার কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন,এই পাগলি ভয় পাচ্ছো কেন? আমার কিছুই হবে না।
তাছাড়া তোমার আলিঙ্গনে থাকাকালীন মৃত্যু হলে সে তো আমার বড় ভাগ্যে।
সাবিহা মেহেদীর কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে বলে, আপনি এসব কি বলছেন?
প্লিজ আমার কাছে আসবেন না।
মেহেদী সাবিহাকে অবাক করে দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য তার ওষ্ঠ দখল করে নেয়।
সাবিহা মেহেদীকে সরাতে চেষ্টা করছে।
কারণ সে চায় না তার জন্য তার স্বামীর ক্ষতি হোক মানুষটা অসুস্থ হোক।
কিন্তু মেহেদী ওর কথা শুনলে তো।
সাবিহার মুচড়ামুচড়ি দেখে
মেহেদী সাবিহার ওষ্ঠ ছেড়ে মুচকি হেসে বলেন,এই মেয়ে এতো ভয় পাচ্ছো কেন?
আল্লাহ ছাড়া আমাদের কেউ আলাদা করতে পারবে না।
আল্লাহ না চায়লে করোনার আর আর শক্তি
তুমিই বলো?
মেহেদী সাবিহাকে আরও কিছুক্ষণ বুঝিয়ে ওকে রুমে থাকতে বলে সে রুমে থেকে বাহিরে আসে।

মেহেদী আজকে এই মিথ্যে বলেছে শুধু নূহাকে শিক্ষা দিতে।
তার বৌ গতকাল জ্বরে কাতরাচ্ছিল  নূহা  উঁকি দিয়েও দেখেনি।
একটা পরিবারের মধ্যে  সবার সাথে থাকতে হলে এভাবে চলা যায় না।
এঁকে অপরের সুখ দুঃখে মুখ ফিরিয়ে থাকলে তো পরিবার  বলা চলে না।
পরিবারের সবাই একসাথে থেকে একে অন্যের প্রতি মায়া কাজ না করে তাহলে একসাথে থাকার দরকার নেই।
সেজন্যই মেহেদী চাচ্ছেন ওরা ওদের নিজেদের দায়িত্ব বুঝাতে।

মেহেদী বাহিরে আসতে আসতে কথাগুলো ভাবছিল।
 অন্যদিকে মেহেদী বাহিরে আসা মাত্র মিশু তার ভাইকে বললেন, ভাইয়া ভাবী কোথায়?
এখনও যে নাস্তা বানাচ্ছে না!
আমাদের অফিসে যেতে হবে তো নাকি?

মিশুর কথা শুনে মেহেদীর রাগ উঠলে নিজের রাগকে বহুকষ্টে নিয়ন্ত্রন করেন।
   শান্ত কন্ঠে তার ভাইকে বলেন,মিশু নূহাকে একটু ডেকে দে তো ভাই।
ওর সাথে আমার কথা আছে।
মিশু ভাইয়ের মুখে নূহাকে ডেকে দেওয়ার কথা শুনে বলেন,ভাই বেচারি বেশ রাতে ঘুমিয়েছে।
ওকে ডাকতে হবে না।
তুমি যা বলার আমাকে বলো।
ও ঘুম থেকে উঠলে আমি ফোনে বলে দিবো নে।
মেহেদী তার ভাইয়ের কথা শুনে এবার আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারলেন না।
কিছুটা রেগে বললেন,নূহার জন্য থ্রিপিস এনেছি তা ওকে না দিয়ে তোকে দিলেই তো মনে হচ্ছে ভালো হবে।
তুই পরে মাপ ঠিক আছে কিনা আমায় বলবি আইডিয়া খারাপ না।
কিন্তু ভাই তুই যে মেয়েদের ড্রেস পরিস তা তো জানতাম না?
মিশু তার বড় ভাইয়ের কথা শুনে লজ্জা পেয়ে বলেন, ছিঃ ভাইয়া আমি মেয়েদের ড্রেস পরব কেন!
কি যা তা বলছো!
মেহেদী মিশুর কথা শুনে বলেন,যা তা কোথায় বললাম।
আমি তোকে বললাম তো নূহাকে ডেকে দে কথা আছে।
তুই ওকে ডেকে না দিয়ে বলছিস তোকে বললেই নাক  হবে।
তো এখানে আমি কি বুঝবো?

মিশু তার ভাইয়ের কথা শুনে বুঝতে পারছে আজকে নূহাকে ডেকে না দিলে ওকে আরো কিছু শুনতে হবে।
সেজন্য তাড়াহুড়ো করে নূহাকে ডাকতে চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর নূহা ঘূমে ঢুলতে ঢুলতে মেহেদী সামনে এসে দাঁড়ায়।
মেহেদী নূহার থেকে চোখ সরিয়ে নিল।
এই মেয়ের মধ্যে লাজ লজ্জার বালাই  মোটেও নেই।
না হলে বড় ভাসুরের সামনে উড়না ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকে।
কথাটা ভেবে মেহেদী তার চোখ সরিয়ে সোফায় আরাম করে বসে বললেন,নূহা আমাদের জন্য জলদি করে কিছু নাস্তা তৈরি করে আনো তো বোন।
মেহেদীর কথা শুনে নূহার ঘুম ছুটে যায়!
ওদিকে মিশু তার বড় ভাইয়ের মুখে নূহার  নাস্তা বানানোর কথা শুনে বলেন, ভাইয়া ভাবী থাকতে নূহা কেন নাস্তা বানাবে?
তাছাড়া ও রাত জেগে পড়াশোনা করে এমনিতেই ক্লান্ত আর মেয়েটা ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই তুমি নাস্তা বানাতে বলছ!
মেহেদী মিশুর কথা শুনে বললেন, নূহা কেন নাস্তা বানাতে পারবে না।
ওকে নাস্তা বানাতে বলে কি হয়েছে! 
তাছাড়া তোর ভাবী পারলে ও কেন পারবে না।
তাছাড়া সাবিহা যেমন এই বাড়ির বৌ নূহা ও তো তাই।
আর পড়াশোনা তো সাবিহা কেও করতে হয়।
ওকে তো পড়াশোনার দোহাই দিতে শুনলাম না কখনো!

মেহেদীর কথা শুনে  মিশু বলেন, ভাইয়া তুমি বুঝতে পারছো না ভাবী গ্রামের মেয়ে।
আর নূহা শহরে মানুষ।
তাছাড়া নূহা কখনো এসব কাজ করেনি।

এদিকে নূহা মনে মনে ফুঁসছে ।
তাকে কি বোকা ভেবেছে।
ভাইয়া কি ভেবেছেন,রান্না করে সে তার সুন্দর হাত দুটো নষ্ট করবে কখনোই না।
রান্না করা ওর কর্ম নয় ওসব কাজ সাবিহা ভাবীর জন্যেই ঠিক আছে।

 ওদিকে মিশুর কথা শুনে মেহেদী বলেন,মিশু তুই হয়তো ভুলে গেছিস সাবিহা তার পরিবারের অনেক আদরের মেয়ে।
সবচেয়ে বড় কথা ওর মা বাবা বিয়ের আগে কখনো ওকে দিয়ে কিছু করাননি। এমনকি তাকে মুখে তুলে খাওয়াতে দেখেছি।
কিন্তু বাবা মায়ের সেই আদুরে মেয়েটা এখানে এসে সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।
ওর কাজ দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না সে কখনো বিয়ের আগে বাপের বাড়িতে কাজ করেনি।
এছাড়া আমার জানামতে নূহাদের থেকে আর্থিক অবস্থা সাবিহাদের বেশি ছাড়া কয় নয়।
মেহেদীর কথা শুনে মিশুর মুখ কালো হয়ে গেছে।
নূহা মেহেদীর কথা শুনে তাকে বলেন, ভাইয়া আমি তো রান্না করতে চাই কিন্তু বাবা তো ভাবীর রান্না ছাড়া খেতে পারেন না।
মেহেদী নূহার কথা শুনে বললেন, বাবাকে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না।
সেটা আমি দেখবো।
তুমি আপাতত এদিকে দেখো।
তাছাড়া তোমার ভাবী সুস্থ থাকলে তোমাকে কাজের কথা বলতাম না।
নূহা মেহেদীর কথা শুনে বললো,ভাবীর তো সামান্য জ্বর এসেছে।
এমন জ্বর নিয়ে  ভাবী তো সবসময় কাজ করে অভ্যস্ত।
নূহার স্বার্থপরের মত কথা শুনে   মেহেদী মনে মনে বললো, তোমাকে শায়েস্তা না করলে হচ্ছে না বোনটি।
আমার বৌয়ের অসুখ তোমার কাছে সামান্য লাগছে দাঁড়াও তাহলে।
কথাটা ভেবে মেহেদী নূহাকে বলল আসলে নূহা তোমাদের বলতে চাচ্ছিলাম না কথাটা।
কিন্তু এখন দেখছি না বলে উপায় নেয়।
আসলে সাবিহার এই জ্বর সামান্য নয়,ওর করোনা হয়েছে।
গতকাল আমার বন্ধু এলো না? সে কালকে টেষ্ট করেছিলো আজকে ভোরে ফোন করে জানিয়েছেন করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজেটিভ এসেছে।
নূহা কথাটা শুনে মেহেদীর থেকে দশহাত দূরে সরে যায়।
তা দেখে মেহেদী মুচকি হেসে দেয়।
এদিকে নূহা মেহেদীকে বললো, ভাইয়া ভাবীকে এখনো বাসায় রেখেছেন কেন?
হসপিটালে খবর দিন।
তাকে এসে নিয়ে যাক।
নাহলে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিন।
তার জন্য তো আমরা মরতে পারবো না।
মেহেদী নূহার কথা শুনে ধমকে বললেন, একটা চর মারব বেয়াদব মেয়ে।
ওকে কোথায় রাখবো বা পাঠাবো তা তোমাকে বলতে বলিনি।
আমার বৌয়ের বিষয় নিয়ে বাজে কথা বলবে না।
সাবিহা কোথায়ও যাবে না, বাসায় থাকবে।
ওর সব চিকিৎসা বাসায় বসে হবে।
তাছাড়া ওকে নিষেধ করেছি কিছুদিন রুমে থেকে বের না হতে।
আর ও যে কয়দিন অসুস্থ থাকবে সেই ক&#039;দিন তুমি সব দেখবে।
মেহেদীর কথা শুনে নূহার কান্না পাচ্ছে।
এ কোথায় ফেঁসে গেছে।

দুইদিন পর
মেহেদী সেদিন ভোরে তার পরিকল্পনার কথা তার বাবাকে জানান।
নূহা ও মিশুকে দায়িত্ব বোঝাতে সে এসব করছে।
তার বাবা সব শুনে খুশি হয়।
মেহেদী বাবাকে বলেন, কিছুদিন গ্রামে থেকে বেড়িয়ে আসতে।
কারণ নূহার বিশ্বাস নেয়।
এই মেয়ে তার বাবার যত্ন তো দূরের কথা ঠিকমত খাবার দিবে কিনা তা সন্দেহ।

মারুফের বাবা সবকিছু শুনে ছেলের কথায় রাজি হয়ে যায়।এমনিও অনেক দিন ধরে সাবিহার বাবা মানে তার বন্ধু তাকে যেতে বলছেন ।
সময় সুযোগ হয়নি এবার যেহেতু সুযোগ পেয়েছেন তাহলে কয়েকদিন বন্ধুর সাথে আড্ডা দিয়ে কাটানো যাবে।
সেদিন ভোরে মেহেদী তার সুমিন্ধকে ফোন করে তার বাবাকে নিয়ে যেতে বলেন।

এদিকে দুই দিনেয় নূহা হাঁফিয়ে উঠেছে।
এতো কাজ করতে করতে মাঝা বাথা হয়ে যাচ্ছে।
এতদিন নিজের রুমটা সে পরিষ্কার করেনি।
সাবিহা করে দিয়েছে।
কিন্তু দুই দিন ধরে ,সব কাজকর্ম করতে করতে তার নাজেহাল অবস্থা।
তবুও ভালো ওকে রান্না করতে হচ্ছে না।
মিশুকে দিয়ে খাবার বাহিরে থেকে আনিয়ে নিচ্ছে।
অবশ্য শ্বশুড় মশাই বাসায় নেই সেজন্যই মিশুকে দিয়ে বাহির থেকে খাবার আনাতে পারে।

ওদিকে মিশু এই দুইদিনে একটা কথা বেশ বুঝতে পারছে, তার সাবিহা ভাবী এই সংসারের জন্য কি!
 তার ভাবী সারাদিন কতো কাজকর্ম করেন।
কখনো বলে না আমার খারাপ লাগছে।
বা এটা করতে পারবো না ,ওটা করতে পারবো না।

দুইদিন ধরে ভাবী অসুস্থ হওয়াতে বাড়ি ঘর সব নোংরা হয়ে গেছে।
এদিকে  নূহা রান্না বান্না না করেও বলছে কাজ করতে করতে সে শেষ।
কি কাজ করে ওই ভালো জানে‌

মিশু নূহাকে ভয়ে একটা কথা বলতে পারছে না , তিন বেলা বাহিরে খাবার খেয়ে সে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে এই দুই দিন সাবিহা ভয়ে রুমে থেকে বের হয়নি।
তার জন্য কেউ অসুস্থ হোক তা সে কখনো চাইনি।
তবে রুমের মধ্যে একা একা বসে থাকতে খারাপ লাগছে।
এই দুইদিন নূহা সাবিহার রুমে খাবার দিতে আসেনি ভয়ে।

 ওদিকে মেহেদী অফিসে থেকে দুপুরে এসে পড়েছিল।
নিজের হাতে সুপ ,পাস্তা রান্না করে যত্ন করে তার বৌকে খাওয়াচ্ছে।
সে সাথে ডিম দুধ ও ফলমূল তো আছেই।
সাবিহা তার স্বামীর আদর যত্ন দেখে বোঝাতে পারছে  মানুষটা ওকে কতটা ভালোবাসেন।
সাবিহা মনে করেন,কখনো কখনো ভালোবাসি বলতে হয় না।
মন দিয়ে বুঝে নিতে হয়।

ওদিকে মিশু দুইদিন ধরে রাত পর্যন্ত অফিস করে এবং খাওয়া দাওয়া অনিয়ম করায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গতকাল বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় আসেন।
সকাল বেলা হঠাৎ করে বুঝতে পারে শরীরে বেশ জ্বর
খারাপ লাগছে, মাথা ভার হয়ে আছে।

মিশু নূহাকে কাছে ডাকছে তার কিছু ভালো লাগছে না।
এদিকে নূহা মিশুর জ্বর দেখে বললো,দেখো জান ভাবীর করোনা এরমধ্যে আবার তোমার জ্বর এসেছে।
আমার মনে হচ্ছে তোমার করোনা হয়েছে।
এখানে থাকলে আমিও অসুস্থ হয়ে পড়বো।
আমি জানি তুমি কখনো  চাও না যে আমি অসুস্থ হয়।
তোমার কথা ভেবে, আমি আমাদের বাসায় চলে যাবো ভাবছি । তুমি ভাইয়ার বন্ধুকে দিয়ে একটা টেষ্ট করিয়ে নিও।
রিপোর্ট নেগেটিভ হলে আমায় জানিও এসে পড়বো
মিশু নূহার কথা শুনে চমকে গেছে!
এই তার ভালোবাসা।
যার জন্য সব সময় স্বার্থপরের মত পরিবারের কথা ভাবেনি।
যে মানুষটিকে সে সব সময় আগলে রেখেছে সেই কিনা তাকে অসুস্থ রেখে চলে যেতে চাচ্ছে।
এটাই কি তার ভালোবাসার মানুষ।
  #চলবে
আগামী পর্বে সমাপ্ত।

  #না_বলা_ভালোবাসা ।
লেখনীতেঃ   #মেহের_মেহের_সীমা।

আগের পর্বের লিংক</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/112122/</link>
				<pubDate>Tue, 17 May 2022 10:07:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছোট_গল্প।<br />
না_বলা_ভালোবাসা।</p>
<p>দ্বিতীয়_খন্ড</p>
<p>এই মেয়ে চুপচাপ বসে থাকতে পারো না,<br />
সবসময় পন্ডিতী করতে হবে কেন।</p>
<p>সাবিহার মেহেদী হাসানের কথা শুনে মন খারাপ হয়ে গেছে,ও কখন পন্ডিতী করেছে!<br />
তার তো বিছানায় শুয়ে বসে থাকতে ভালো লাগছে তাছাড়া ও বসে থাকলে চলবে কেমনে ও হচ্ছে এই বাড়ির বড় বউ।<br />
 সাবিহা বিছানায় বসে কাঁচুমাচু করছে আর মনে মনে ভাবছে স্বামী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-112122"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/112122/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">be079b6d714e1669417984578d978626</guid>
				<title>সাইফুন নেসা সীমা। changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/111469/</link>
				<pubDate>Mon, 16 May 2022 07:03:52 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4ef0c99055df273094b6d0f3ac22ca58</guid>
				<title>এই নিন আপনার চা,

দেখছো না আমি রেডি হচ্ছি !সাইড টেবিলে ওপরে রেখে দাও।
 
আজ এতো তাড়াতাড়ি অফিসের জন্য রেডি হচ্ছেন যে?

অফিসে মিটিং আছে।

ও, তাহলে নাস্তা দিবো টেবিলে?

 টেবিলে দেওয়া লাগবে না ।
 বিস্কুট বা কেক থাকলে এখানে নিয়ে এসো।
টেবিলে বসে নাস্তা করার সময় নেয়।

  এতোক্ষণ  উপরে যারা কথা বললেন তার মধ্যে একজন হলেন মেহেদী হাসান । 
মেহেদী হাসান যার সাথে এতোক্ষণ কথা বলেছেন সে হচ্ছে  তার স্ত্রী সাবিহা।

মেহেদী হাসানের বয়সঃ ৩০ বছর। 
 গায়ের রং শ্যামলা  হলেও দেখতে শুনতে চমৎকার  ।
লম্বায় প্রায় পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি ‌
 মিডিয়াম তার দেহের গঠন।
মেহেদী হাসান বিবিএ শেষ  করে  একটা প্রাইভেট কম্পানিতে দুই বছর  জব করেন ।
তারপরে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ,
নিজেই ছোট একটি কম্পানি  খুলেছেন ।
ছোটো খাটো কম্পনি হলেও  ইনকাম ভালোয়  হচ্ছে ।
 
তাছাড়া তাদের ‌থাকার জন্য নিজেদের ফ্লাট ও গাড়ি আছে। 
ফ্লাটে তার বাবা,ভাই,ভাই এর স্ত্রী আর মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী  থাকেন।
তার স্ত্রীর নামঃ সাবিহা। 

সাবিহার সাথে তার  পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়েছে।
তাদের দুজনের বাবা  বাল্য বন্ধু ছিলো ।
 সেই বন্ধুত্ব পাকাপোক্ত করতেই এই বিয়ে হয়েছে।
  তবে বিয়ে এখন হলেও সাবিহার জন্মের পর থেকে মেহেদী হাসানের সাথে তার বিয়ের পাকা কথা দেওয়া হয়েছিলো।
 
সাবিহার গায়ের রং দুধে আলতা।
গোলাপি ঠোঁট ,খারা নাক , হরিণী চোখ।
 এক কথায় অপূর্ব সৌন্দর্য্যের অধিকারী। 

 গ্রামের সহজ-সরল ও লাজুক প্রকৃতির মেয়ে সাবিহা।
দুই ভাইয়ের এক বোন সে। 
সাবিহা অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে । তবে রেগুলার ভার্সিটি যাওয়া হয়ে উঠে না।
 বয়সঃ ১৯।
অনেক তো বকবক করলাম ।
তবে আর বিরক্ত করবো না  এবার গল্পে ফিরে আসি।

মেহেদী হাসান রেডি হতে হতে সাবিহা তার জন্য নাস্তা নিয়ে আসতে গেলেন।
পাঁচ মিনিটে নাস্তার ট্রে হাতে করে রুমে আসে।
এদিকে মেহেদী তৈরি হয়ে গেছে।

সাবিহা   তার সামনে কেক ,ডিম পোঁচ ও পানি দিয়ে যাওয়ার সময় মেহেদী ডাক দিলেন।
মেহেদীর ডাক শুনে সে পিছু ফিরলো।

মেহেদী সাবিহাকে পিছনে ফিরতে দেখে বললেন,এদিকে আসো।
সাবিহা মেহেদীর মুখে এদিকে আসো শুনে ধীরে ধীরে তার সামনে কাঁচুমাচু হয়ে এসে দাঁড়িয়েছেন ।
সাবিহার  চোখ  ফ্লোরের দিকে।

মেহেদী তাকে কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়াতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন,  সকাল থেকে এই পর্যন্ত  তুমি কিছু খেয়েছো ?

সাবিহা  মাথা নেড়ে খায়নি বুঝায়।

মেহেদী সাবিহাকে মাথা নাড়িয়ে জবাব দিতে দেখে বলেন, তোমার মুখে কি হয়েছে?
তোমাকে না বলেছি আমার সামনে কখনো ‌মাথা নেড়ে জবাব দিবে না যা বলার মুখে বলতে?

সাবিহা মেহেদী হাসানের কথা শুনে বললেন, জ্বী বলেছিলেন।

মেহেদী তাকে বলেন, তোমাকে কতবার বলতে হবে সকালে উঠার পর বা কাজ করার ফাঁকে হালকা কিছু খেয়ে নিবে!

সাবিহা মেহেদীর কথা শুনে  চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ।

মেহেদী সাবিহার হাত ধরে তার সামনে বসিয়ে বললেন, সাবিহা তুমি যেহেতু ভোরে উঠে ফযরে নামাজ পড়ে আর ঘুমাও না  ।
কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়।
 সেজন্যেয় তো কিছু না কিছু খেতে বলি না কি?

সাবিহা  জী বললো।

মেহেদীর দেরি হয়ে যাচ্ছিল ।
 তাই নাস্তার ট্রে কাছে এনে  তার জন্য আনা কেক থেকে  কিছুটা কেক ভেঙে সাবিহার মুখের সামনে ধরে বললেন,
  খাও।

তা দেখে সাবিহা তার স্বামীকে বললো, আরও আছে তো আপনি এটা খান আমি ওখান থেকে খেয়ে নিবো।

মেহেদী তার কথা শুনে বলেন, আজব তো!
 প্রতিদিন ঠিক মতো খাওনা দেখে কতবার খেতে বলেছি, তখন তো জী ছাড়া মুখে আর কোন কথা থাকে না।
আর মুখের সামনে খাবার ধরে আছি। 
  এখন সাবিহা ম্যাডামের  বুলি ফুঁঠেছে খারাপ না।
আমার কথার মূল্য নেয় এতেই বোঝা যাচ্ছে।

মেহেদী হাসানের কথা শুনে সাবিহার মনে হলো তার স্বামী রেগে গেছেন।
এখন সে কি করবে তা ভেবে পাচ্ছে না,
তাছাড়া সকাল বেলা ওর কিছু খেতে ভালো লাগে না।
তা বলবে কি করে মানুষটাকে।
কথাটা ভেবে সাবিহা ভয় ও লজ্জায় চুপচাপ বসে রয়েছে। 

মেহেদী তা দেখে বলেন,  এখন এমন ঘাপটি মেরে বসে আছো কেন?
একটা ‌কথা বলো তো?
খাবার দেখলে তোমার কি হয়?
তাছাড়া কেক আরও আছে কি নেয় তা কি আমি তোমার থেকে জানতে চেয়েছি?
হা করো আমি কোন কথা শুনতে চায় না। চুপচাপ খেয়ে নাও।

সাবিহা হা করে কেক মুখে নিয়ে লজ্জা আর অস্থিরতায় কাঁচুমাচু মুখ করে  বসে আছে

কি হলো মুখে জমা রাখতে দেয়নি  জলদি শেষ করো।

সাবিহা  চিন্তা করলো বকা  খাওয়ার চেয়ে   কেক খাওয়া উত্তম।
সাবিহার মুখের কেক শেষ না হতেয় মেহেদী তার মুখে অর্ধেক ডিম দিয়ে দেয়।
সাবিহা মেহেদীর কর্মকান্ডে হতভম্ব হয়ে যায়!
মেহেদী সাবিহাকে পার্তা না দিয়ে নিজে নাস্তা করতে থাকেন।
নাস্তা শেষ করে
মেহেদী সাবিহা কে বলল, ছোট কি রেডি হয়েছে?
 
সাবিহা মেহেদীর কথা শুনে বললো, আমি  উঠার পরে তো  মিশু ভাইয়াকে দেখিনি।

মেহেদীর  ছোট ভাইয়ের  নাম মিশু সে অনার্স কমপ্লিট করে একবছর হলো  মেহেদীর অফিসে জয়েন করছেন।
 মিশুর বউ এর নাম নূহা ।
মিশু যে ভার্সিটি থেকে একবছর আগে অনার্স কমপ্লিট করছে,
  তার বউ সেখানে অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ে।
তাদের লাভ ম্যারেজ।

মেহেদী সাবিহাকে বললেন,দেখো তো গিয়ে
ছোট রেডি কিনা? 
সাবিহা  জী বলে সেখান থেকে উঠে চলে যেতে নিলে, মেহেদী তাকে ডাক দিলেন।
সাবিহা দরজার কাছে গিয়ে থেমে মেহেদী দিকে তাকায়,
 
তা দেখে মেহেদী তাকে বলেন,শুনো ছোট এখনো  না উঠে তো ওকে ডেকে ওঠাবে আর  অফিসের জন্য তাড়াতাড়ি রেডি হতে বলবে।
আমি অফিসে চলে যাচ্ছি।

সাবিহা মেহেদীর  কথা মতো মিশু উঠছে নাকি তা দেখতে চলে গেলো।

সাবিহা মাত্র ড্রইংরুমে এসেছে এর মধ্যে মিশু বলে উঠলো, ভাবী ভাইয়া কি অফিসের জন্য রেডি?

সাবিহাঃ জ্বী ভাইয়া ওনি তো রেডি ।
এখনি বের হবে।

মিশু তার ভাবীর কথা শুনে বলেন, ও, তাহলে ঠিক আছে। আচ্ছা ভাবী নাস্তা কি রেডি আছে? খেয়ে যেতে পারবো?

সাবিহা মিশুকে বললো, আপনি টেবিলে বসেন ভাইয়া আমি খাবার দিচ্ছি।
সে সময়ে মেহেদী অফিসে যেতে নেয়।
তা দেখে মিশু বলে ভাইয়া পাঁচ মিনিট অপেক্ষা কর।
আমি নাস্তা করে আসছি।
মিশুর কথা শুনে মেহেদী বলেন, আমি গাড়িতে অপেক্ষা করছি তুই আয়।

মিশু নাস্তা করে ভাইয়ের সাথে অফিসে চলে গেলেন।

সাবিহা একগ্লাস পানি ও চা খেয়ে লেগে গেলো দুপুর রান্না করতে ও বিকালের জন্য কিছু আর রাতের কি রান্না হবে তা গুঁছাতে।

বিয়ের পরে সাবিহার কষ্ট কম হতো তখন বুয়া থাকায় 
এখন করোনার জন্য বাসায় বুয়া নেয় তাই তাকে সব কাজ একা হাতে করতে হয়।
 কিন্তু সেজন্য সাবিহার কোনো অভিযোগ নেয়।

এদিকে 
সকাল‌১১টায় নূহা ঘুম থেকে উঠে  মিশুকে না দেখে মোবাইল নিয়ে রুমের বাহিরে এলো।
নূহা বাহিরে এসে সাবিহাকে রান্না ঘরে দেখে  ডেকে বললো,ভাবী ও ভাবী  আমাকে এক কাপ কফি দিওতো।

সাবিহা নূহার আওয়াজ শুনে রান্নাঘরে থেকে উঁকি দিয়ে বললো আপু তুমি বসো আমি দিচ্ছি।

নূহা সাবিহার বয়সে বড় হওয়ায় সাবিহা নূহাকে আপু ডাকেন।
 
সাবিহা টেবিলে নূহার জন্য নাস্তা ও কফি দিলো।

নূহা মোবাইল হাতে নিয়ে চেয়ারে বসে নাস্তার ট্রে সামনে এনে   মিশুকে কল দেয়।
কল দিয়ে বললো,

 জান আমাকে না বলে  অফিসে যেতে পারলে?
ঘুম থেকে উঠে তোমাকে পাশে না পেয়ে কতটা কষ্ট লেগেছে যানো?

মিশু নূহার কথা শুনে বলেন, ওরে আমার বাবুটা।আর সোনা ময়না তুমি তো ঘুমে ছিলে, তাই ডাক দেয়নি।

নূহা বলে, জান তারপরেও  তুমি বলে যাবে না।
আর আজ যে আমায় মর্নিং  কিস ও হাগ কিছুই দিলে না। হুঁ তার কি হবে?

মিশু নূহার কথা শুনে আল্লাদি কন্ঠে বলেন, মন খারাপ করো না আমার কিউটি পায়।
অফিস এসেয় তোমার কিস ও হাগ পেয়ে যাবে।
তাছাড়া আমি তোমায় মর্নিং কিস ও হাগ দিয়েছি তো সোনা । তুমি ঘুমে ছিলে তাই টের পাওনি।

নূহা মিশুর কথা শুনে বললো, সত্যি জান ?
মিশু বলেন, হুঁ তিন সত্যি।
নূহা তা শুনে বলে, jan  miss you &#038; I love you ওম্মা ওম্মা।

মিশু নূহাকে I love you too Sona &#038; miss you ওম্মা দেয়।

নূহা খুশি হয়ে  ওকে বাই জান বলে।

মিশু বাই আমার সোনা ময়না  বলে ফোন রেখে দিলেন।

নূহা নাস্তা করছিলো আর মোবাইল লাউড স্পিকারে রেখে কথা বলছিলো, সাবিহা এসে ওদের কথা শুনে লজ্জা পেয়েছে।
 নূহা সাবিহাকে দেখে বলল কফিটা দারুন হয়েছে ভাবী ।
সাবিহা বললো, ধন্যবাদ আপু।

নূহা সাবিহাকে বলল, ভাবী এখানে বসো তো দুজনে একটু গল্প 
করি।

সাবিহা মনে মনে বলছে এখন গল্প করলে‌ রান্না করবো কখন?
কি হলো ভাবী এখানে বসো।

সাবিহা নূহার মন রক্ষা করতে একটু সময়ের জন্য বসলো।

  ভাবী তুমি সারাদিন বাসায় থেকে বোর ফিল করো না? আমি হলেতো  দমবন্ধ হয়ে মারা যেতাম।

 একা থাকি কোথায় ।বাবা তো বেশি ভাগ বাসায় থাকেন আর মাঝে মাঝে তুমি  তো বাসায় থাকো।

 হুঁ, আচ্ছা ভাবী তোমার মনে  কি ভাইয়াকে নিয়ে কোন অভিযোগ নেয়?

সাবিহা অভাগ হয়ে বললো, আপু তোমার ভাইয়া এতো ভালো মানুষ । 
তারপরও আমি ওনার ওপর অভিযোগ করবো কেন?

নূহা বললো, এমনি জানতে চাইলাম।আচ্ছা ভাবী   তোমরা হানিমুনে গেছো?
নূহার প্রশ্ন শুনে সাবিহা লজ্জা পেলো।

সাবিহা যে লজ্জা পেয়েছে নূহার  প্রশ্নে তা খেয়াল না করে আবার বলল,এই ভাবী তুমি বা ভাইয়া কি একে ওপর কে কখনো আই লাভ ইউ বলছো ?
প্লিজ বলো না ভাবী আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে?
কারণ তোমাকে তো কখনো আমাদের সামনে ভাইয়ার সাথে ঠিকমতো কথা বলতে দেখিনি!
আচ্ছা ভাবী তোমরা কখনো  রাতে দুজনে কোথাও ঘুরতে গেছো  ?
সাবিহা নূহার প্রশ্ন শুনে লজ্জা পেয়ে বললো, ছিঃ আপু এসব কি বলো!
আমার বর না তোমার বড় ভাসুর হয় । তাকে নিয়ে এসব প্রশ্ন করতে তোমার শরম করছে না। 
তাছাড়া তোমার কথা শুনে তো আমারি শরম করছে।

নূহা সাবিহার কথা শুনে চিন্তা ভাবনা করে বলে, শরম ইউ মিন লজ্জা।
তা ভাবী তুমি এত লজ্জা রাখো কোথায়?

সাবিহা নূহার কথা শুনে চুপচাপ হয়ে গেছে।

নূহা সাবিহাকে বললো, তোমার লজ্জা বেশি আজকের যুগে এতো লজ্জা হলে চলে না ভাবী।
তোমার তো বৃটিশ আমলে জন্ম নেওয়া দরকার ছিলো।
আধুনিক যুগের মেয়ে হয়ে তোমার কথা শুনে আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম।

আর ভাইয়া শহরের ছেলে হয়ে কিভাবে যে তোমার সাথে সংসার করছে আল্লাহ জানে?
 আর তোমাদের দেখলে বোঝা যায় যে,
তোমাদের মধ্যে ভালোবাসার ভ ও নেয়।
তাই হয়তো তোমাদের একে অপরকে ভালবাসার তিনটি ম্যাজিক্যাল শব্দ I Love You.
বলা লাগে নায়।
তোমরা দুজনে ভালোবাসা ছাড়া একসাথে থাকছো কি করে!
আমার তো তোমাদের কথা ভাবলে দমবন্ধ হয়ে আসছে।

নূহার  কথা শুনে সাবিহা মনে মনে অনেক কষ্ট পেয়েছে। সাবিহা গ্রামের মেয়ে ঠিক তবে বোকা না। নূহা যে তাকে কথার ছলে অপমান করে তা সে বুঝে। 
কিন্তু সাবিহার ইচ্ছে করে না তার কথার জবাব দিতে।
নূহা যে ঠোঁট কাটা স্বভাবের মেয়ে তা সাবিহা জানে।
সেজন্য ওর সাথে কথা বলে অশান্তি সৃষ্টি হোক তা চায় না।
যে মেয়ে শুশুড় ও ভাসুরের সামনে বরের সাথে অসভ্যদের মতো কথা বলে। সে মেয়ের থেকে সাবিহা এর থেকে ভালো কিছু আশা করেনা।

সে তো সবাইকে ভালোবাসে আপন মনে করে। এতো ভালোবাসার পরে বুঝি এই পাওনা ছিল ছোটো জায়ের কাছে। 

আজকে সাবিহা তার দেবরের বৌয়ের কথায়  অনেক কষ্ট পেয়েছে ।
তারপরও নূহাকে কিছু বললেন না।

কিন্তু নূহা তার বকবক থামলো না।
আবার বলে উঠলেন ,তোমরা একসাথে ভালোবাসাহীন থাকো কিভাবে তা আল্লাহ জানে!

সাবিহা মনে মনে বলল ,মুখে শুধু  ভালোবাসি ভালোবাসি বললেই কি? ভালোবাসা হয় । 
কিছু ভালোবাসা থাকে না বলা।
যে ভালোবাসা উপলব্ধি করতে হয়।
তাছাড়া প্রিয়জনের না বলা কথা বুঝে নেওয়া 
প্রিয়জনের সুখ-দুঃখের ভাগিদার  হওয়া। 
প্রিয়জনের  খেয়াল রাখা ,যত্ন নেওয়া
আমার কাছে তো এগুলোকে মনে হয় ভালোবাসা।
তাহলে বলতে হবে কেন!

কথাটা ভেবে সাবিহা নূহাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বললো, আমি তো  এ বাড়ির বড় বউ। 
সবার মতো খামখেয়ালিপনা  আমাকে মানায় না।
তাছাড়া সবাইকে ভালো রাখতে পারে কয়জন বলো তো আপু।
তোমার কাছে যেটা ভালোবাসা মনে হয় আমার কাছে সেটা মনে নাও হতে পারে।
  আমার অনেক দায়িত্ব আছে সে গুলো দেখতে হয়।
 আর রান্নার এখনও অনেক বাকি আছে সেটা সেরে আসি।

নূহার কাছে সাবিহার কথাগুলো ভালো লাগেনি।
এতদিন তো কত কথা বলেছে কখনো সাবিহা কথা শুনায়নি কিন্তু আজকে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলছে তা শুনে বললো, আচ্ছা যাও ভাবী রান্না করে নেও।
তোমার রাজত্ব ভাইয়ার হৃদয়ে না থাকলেও  রান্নাঘরে রাজত্ব তো তোমার।
সেটায় তুমি খুশি তা দেখে ভালোয় লাগছে।
আমি একটু মার সাথে ফোনে কথা বলে আসছি ।
 তারপর না হয় তোমাকে হেল্প করবো।
সাবিহা জানা আছে নূহা এখন আর এদিকে পা দিবে না খেতে যাওয়ার আগে। 
তাকে পরিবেশন করতে দেখা যাবে। মনে হবে সারাদিন সে কতো কাজ করেছ।
অবশ্য সাবিহা এসব বিষয়ে ভাবে না ।
সে যানে এ বাড়ির বড় বউ সে তার কাঁধে অনেক দ্বায়িত্ব।
ছোটদের সব ভুল ধরতে নেয়। এতে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়।
তাছাড়া সাবিহা সংসার করতে এসেছে ভাঙতে নয়।

সাবিহা রান্না ঘরে যেয়ে শ্বশুড়ের জন্য আপেল কেটে ও কমলার জুস বানিয়ে।
শ্বশুড়রে রুমে নিয়ে যেয়ে বললো,
বাবা জুসটা  আগে খেয়ে পরে আপেল খাবেন।

শ্বশুড় সাবিহাকে দেখে বললেন, মা জননী তোমার এমনিতেই সারাদিন কাজ করে অস্থির অবস্থা। বলতে গেলে একটু বিশ্রাম এর সময় পাও না । 
তারপরও নাস্তার পর আমার জন্য এটা ওটা নিয়ে হাজির হতে হবে ?
আর  তুমি কাজ করে দম ফেলার সময় পাও না।
ওদিকে ছোটো জনের সারাদিন বসে থেকে ও আমার জন্য কিছু বানানোর সময় নেয়।
সে  এতো ব্যস্ত একজন মানুষ।

সাবিহা তার শ্বশুড়ের কথা শুনে  বলে,
 আপনার কি লাগবে তা আমায় বলবেন।
আমি তো সব এনে দিচ্ছি বাবা।
আর নূহা আপু জানে আপনি আমার হাতের রান্না খেতে পছন্দ করেন তাই হয়তো কিছু করেনা।
শ্বশুড় বললেন, মা জননী নূহা বয়সে তোমার বড় হলে তোমার ছোটো জা হয় তাই ওর নাম ধরে ডাকবে।

আচ্ছা ঠিক আছে ডাকবো বাবা । আমি যায়  আপনার ছেলেদের জন্য অফিসে লাঞ্চ পাঠাতে  হবে । 
 চুলায় রান্না বসিয়ে এসেছি।
আমি দেখে আসি কতোদূর হলো।

সন্ধ্যায় দুই ভাই একসাথে বাড়ী ফিরেছে।
 বেল দেওয়ার সাথে সাথে দরজা খুলে সাবিহা মুচকি হেসে সরে দাঁড়ায়।
সাবিহার এই হাসি দেখলে মেহেদীর সব ক্লান্তি নিমেষে দূর হয়ে যায়।

 ভিতরে ঢুকে মেহেদী ও মিশু যে যার মত রুমে চলে গেলেন। 
নূহা তখন স্টার জলসা দেখতে ব্যস্ত ।
সাবিহা  গ্লাসে পানি নিয়ে  মেহেদীর পিছনে পিছনে গেলো।
 পানি সাইট টেবিলে রেখে মেহেদীর টাই, শার্ট  গুলো খুলে দিয়ে বললো 
এই নেন পানি।
মেহেদী পানির দিকে তাকিয়ে বললো,থাক ওখানে আগে ফ্রেস হয়ে আসছি। 

সাবিহা ঠিক আছে বলে  তাদের নাস্তা রেডি করতে যায়।

মেহেদী ফ্রেস হয়ে ড্রইং রুমে এসে বসেছে। 
সবাই একসাথে নাস্তা করবে সেজন্য।
এসে দেখে নূহা এখনও স্টার জলসা দেখতে ব্যস্ত আর তার ভাই এখনো ফ্রেস হয়ে আসেনি।

মেহেদী মনে মনে বললো ,
আমার ভাই যে এই নমুনাকে কোথায় পেলো আল্লাহ যানে?
মিশু এসে নূহার পাসে বসেয়,তার ভাবীকে  ডেকে বললো ভাবী পানি দাও তো। 
সাবিহা বলল বসেন ভাইয়া দিচ্ছি।

ও জান আস্তে কথা বলো।  ডিস্টার্ব হয়।
মিশু তা শুনে বলেন, ওকে সোনা।

মেহেদীর বাবা ওখানে একপাশে বসে ছিলেন।
  মিশুর দিকে তাকিয়ে সে বললেন,মিশু তুই কি দিন দিন ভেড়া হচ্ছিস?
নূহা শ্বশুড়ের কথা শুনে বললো, ওহ্ বাবা আমার সামনে জানুকে ভেড়া বলবেন না ।
আমার কষ্ট হয় না বুঝি?

মেহেদী এই কথা শুনে বলতে লাগলেন,আমার ভাই তোমার স্বামী হওয়ার  আগে থেকে মানে ওর জন্মের পর থেকে  বাবার ছেলে হয়। তাই বাবা তার ছেলেদের কি বলবে তা বাবাকে ঠিক করতে দাও।

মেহেদীর বাবা বললেন,একটা  হচ্ছে ভেড়া আর ভেড়ার সাথি‌ জুটিয়েছে একটা  নির্লজ্জ।
মেহেদীর বাবা রমিজ উদ্দিনের স্ত্রী মারা যাবার পর লোকটি কেমন যেনো দূর্বলচিত্তের  হয়ে গেছে।
এই বয়সে সঙ্গী ছাড়া  জীবন কাটানো অনেক কষ্টের।
আগের সেই থার্টবাট এখন আর নেই।
সে আগের মতো থাকলে ছোট ছেলে ও ছেলের বউকে সহ বাসায় থেকে কবেয় বের করে দিতেন ।
বলতেন কোথায় যেয়ে জামাই-বউ জমিদারি করবি কর।
এখানে এই সব চলবে না।
মেহেদীর বাবা যখন এসব ভাবছে সে সময়ে নূহা বলে উঠলো, আমি আমার জানুকে   বেশি ভালোবাসি তো তা কারো সহ্য হয় না।

মেহেদী একথা শুনে, বিরবির করে বললো,স্বামী বাসায় আসলেও যে মেয়ে  সিরিয়াল মিস হয়ে  যাওয়ার কথা ভেবে  টিভির কাছে থেকে সরে না ।

আর মুখে শুধু ভালোবাসি ভালোবাসি বুলি ফুটাতে পারে এটা  আদৌও কেমন ভালোবাসা?
তা না বোঝা আমার মন,
হায়রে অভাগা ভালোবাসা।

এক মাস পরের ঘটনা,

মেহেদী  সকালে অফিসে যাওয়ার আগে নাস্তা করতে টেবিলে গিয়ে দেখলো মিশু সাবিহাকে বলছে, ভাবী আজকে সকালের নাস্তার জন্য কলিজা ভুনা করতে বললাম না কাল রাতে?

সাবিহা আস্তে করে বলো।
ভাইয়া  কাল রাতের গরুর মাংস ভুনা বেশি রয়ে গেছে  তাইতো আপনার পছন্দের  চালের গুঁড়ি দিয়ে রুটি বানিয়েছি। 
আজকে একটু কষ্ট করে এগুলো খেয়ে নেন ।
রাতে কলিজা ভুনা করে দিবো।
এরমধ্যে মেহেদী টেবিলে গিয়ে বসে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে চোখ মুখের অবস্থা দেখছে।

ওদিকে মিশু দূর বলে রুটির প্লেটে সরিয়ে রাখলো।

মেহেদী সেটা দেখে বলতে লাগলেন, এখানে দূর বলার কি হলো !
তোর ভাবী তো তোকে বলছে  রাতে করে দিবে।

সাবিহা মেহেদীকে দেখে  তাড়াতাড়ি করে তার প্লেটে খাবার দেয়।

এদিকে মিশু ভাইয়ের কথা শুনে , খাওয়া শুরু করলেন।
মিশু ও মেহেদী খেতে খেতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছেন।
তা দেখে সাবিহা তাদের সামনে গ্লাসে পানি ঢেলে দিয়ে রান্না ঘরে চলে গেছে।

মেহেদী বলেন,কিরে মিশু নুহা কোথায়?
মিশু ভাইয়ের কথা শুনে বলে,ঘুমাচ্ছে।
অনেক রাত পর্যন্ত জেগে পড়াশোনা করছে তো সেজন্য ঘুম থেকে জাগায়নি।

মেহেদী মিশুর কথা শুনে ভাইকে বললেন,ওকে তো নিজের টুকটাক কাজের কথা বলতে পারিস ।
 ও   তো তোর ভাবীর কাজে একটু হেল্প করলেও পারে।
 বাসায় বুয়া নেয়  ওকে একটু বলে দিস তো তোর ভাবীকে হেল্প করতে।

মিশু তার ভাইয়ের কথা শুনে বলে,ভাইয়া ও তো হেল্প করতে চায়, কিন্তু পড়াশোনা নিয়ে এতোটাই  ব্যস্ত থাকে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পেরে ওঠে না।
একবার ভেবে দেখো, বেচারিকে রাত জেগে কতো পড়াশোনা করতে হয়।
মেহেদী মিশুর কথা শুনে , নিজের ভাইকে গাঁধা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারলো না।
সব পড়াশোনা মনে হয় নূহা একা করে।
ছোট ভাইয়ের কথা শুনে এই ব্যাপারে মেহেদীর আর কোন কথা বলতে ভালো লাগেনি।

মিশু নাস্তা করে  নিজের রুমের দিকে গেলেন।
সাবিহা মিশুর খাওয়া শেষ দেখে এসে টেবিলে গুঁছাচ্ছে। টেবিলে তখনো মেহেদী বসে ছিলো।
সাবিহাকে দেখে বললেন,
বাবা নাস্তা করেছে?
সাবিহা আস্তে বললো, হুঁ, বাবা নাস্তা করেছেন।
সাবিহার কথা শুনে মেহেদী তার বৌয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, এই তোমার মুখ এমন শুকনো লাগছে কেন?

সাবিহা তার কথা শুনে অবাক হয়ে গেছে!
তার শরীর অসুস্থ হলে না বললেও মানুষটা বুঝে ফেলেন যে কিভাবে!
তবুও সব সময়ের মতো বললো, এমনিতেই হয়তো মুখ শুকনো লাগছে ।

সে কথা শুনে মেহেদী বললেন, এমনি এমনি তো মুখ শুকনো লাগার কথা না । এদিকে এসো দেখিতো বলে,
সাবিহার কপালে হাত  হাত দিয়ে  দেখলো  মাথা গরম হয়ে আছে।

তা দেখে মেহেদী  চোখ রাঙিয়ে বললেন,তোমার তো মনে হচ্ছে শরীর ভালো না, হালকা জ্বরও তো রয়েছে। 

সাবিহা মিনমিন করে বললো,ও তেমন কিছু না। 
এমনিতে হয়তো গরম হয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পর ঠিক কমে যাবে আপনি চিন্তা করবেন না।

 মেহেদী সাবিহার  কথা শুনে বললেন, আমি চিন্তা করবো কি করবো না তা আমাকে ভাবতে দেও।
ও শুনো আজকে তোমাকে রান্না করতে হবে না।
আমি দুপুরের ও রাতের খাবার বাড়ির পাশের রেস্টুরেন্ট থেকে অর্ডার করে দিবো নে।

সাবিহা বলল,ইয়ে মানে বাহিরের খাবারের অতিরিক্ত তৈল ও মশলার কারণে আব্বা তো বাহিরের খাবার খেতে পারেন না।
এজন্য বলছি যে,
সমস্যা নেয় তো আমি রান্না করতে পারবো।

মেহেদী  কথাটি শুনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো।
হম,আরে টা কথা তোমাকে বলতে ভুলে গেছি।

সাবিহা মেহেদীর দিকে তাকিয়ে বলে, কি কথা।

মেহেদী বললেন,আমি আম্মু কে ফোন করে বলছিলাম  দেশে থেকে ভালো দেখে একজন কাজের মেয়ে পাঠাতে।
আমাদের বাসায় সব সময় থাকবে  এমন  একজন।

সাবিহা মেহেদীর কথা শুনে বললো,কি দরকার ছিলো ,
আমি তো সব সামলাতে পারতাম।

সাবিহার কথা শুনে মেহেদীর মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। কিন্তু তাও
মেহেদী  সাবিহাকে আর কিছু না বলে মিশুকে ডেকে অফিসের জন্য বের হয়ে যায়।

আর 
ওদিকে সাবিহা অসুস্থ শরীর নিয়েয় শাড়ীর আঁচল গুঁজে সংসারের কাজে লেগে যায়।

সন্ধ্যায়
বাসায় ডোর বেল বেজে চলেছে আর এদিকে নূহা মোবাইল এ ব্যস্ত।

তৃতীয়বার বেল বেজে উঠলে নূহা বিরক্ত হয়ে দরজা খুলতে গেলো।
এদিকে দরজার বাহিরে বিরক্ত হচ্ছে  মেহেদী ও মিশু।
দরজা খুলার আওয়াজ পেয়ে মিশু বলল ভাবী এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে।
 কথাটা বলে তাকিয়ে দেখলো নূহা তার দিকে কঁটমটিঁয়ে তাকিয়ে আছে।
মিশু নূহা কে দেখে ঢোঁক গিলে হেসে দিলো।
আর এদিকে ছোট ভাইয়ের বউকে গেট খুলতে দেখে  মেহেদীর  বুকে ধক করে উঠলো।
 মন বললো সাবিহা ঠিক আছে তো?

মেহেদী কোনোদিকে না তাকিয়ে তাড়াতাড়ি করে পা চালিয়ে তাদের রুমে ঢুকলো।

রুমে ঢুকে দেখলো  বেডে  চাদর দিয়ে ঢেঁকে  সাবিহা শুয়ে আছে।
তাড়াতাড়ি করে  ফ্রেস হয়ে এসে চাদর সরিয়ে সাবিহার কপালে হাত দিয়ে আঁতকে উঠলো মেহেদী।

না জানি মেয়েটা কখন থেকে জ্বরে  বেহুঁশ হয়ে আছে তা ঠিক নেই।
মেহেদী চটজলদি একটা বাটিতে পানি এনে  রুমাল ভিজিয়ে সাবিহার মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে।

মেহেদী তার এক ডাক্তার বন্ধুকে  ফোন দিলেন  
ফোন পেয়ে কিছুক্ষণ পর তার ডাক্তারর  বন্ধু এসে  কিছু ওষুধ লিখে দিলো আর জ্বর না সারা পর্যন্ত জলপট্টি দিতে বললেন ।

মেহেদী মিশুকে ডেকে তার বন্ধুকে এগিয়ে দিয়ে আসার সময় ওষুধ নিয়ে আসতে বললেন।

ওদিকে
সাবিহা বেহুঁশের মতো পরে আছে। তার আসে পাশে কি হচ্ছে  সে দিকে ওর হুঁশ নেই।
 বিরবির করে বলছে   আপনি কখন আসবেন।
 একটু জলদি কি আসতে পারেন না‌
 জ্বরের ঘোরে কথা গুলিয়ে যাচ্ছে বারবার।

মেহেদী   সাবিহা কি বলছে তা শুনতে, তার স্ত্রীর মুখের সামনে কান পাতলো। সে শুনতে পেলো সাবিহা বিরবির করে বলা কথাগুলো।

মেহেদী সাবিহার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল তুমি এতো অসুস্থ জানতে পারলে  তো আরও আগে আসতামরে পাগলি ।
তুমি এতো অসুস্থ সেজন্য হয়তো আমার সারাদিন এমন অস্থির লেগেছে।

মেহেদী সারাটা রাত  কখনও সাবিহার মাথায় পানি ঢাঁলছে, কখনও চুলে বিলি কেটে দিচ্ছেলেন।
আবার কখনও তেল মালিশ করছে। এভাবে অস্থিরতার মধ্যে রাত পার করলো মেহেদী ।

ভোরের দিকে স়াবিহার  কপালে হাত বুলিয়ে দেখলো জ্বর আর নেই।
তা দেখে মেহেদী সুস্থির নিঃশ্বাস ছাড়লো।
সাবিহা কে কাছে টেনে বুকে নিলো।
তারপর কল্পনায় ডুব দিয়ে অতিতে চলে গেলেন,

মেহেদী ভার্সিটিতে ভর্তি হলো যেদিন। তার এক সপ্তাহ পরেই তাকে জানানো হয় , তার  বাবার বাল্য কালের বন্ধুর মেয়ে সাবিহার সাথে বিয়ের পাকা কথা   দেওয়া হয়েছে ছোট বেলায়।
 এবং তার পড়াশোনা শেষ হলে  সাবিহাকে তার বিয়ে করতে হবে ।
তার কাছে আর কোন অপশন ছাড়েনি তার বাবা , মা।
মেহেদী ভালো করে বুঝতে পারছে তার বাবা ও মা এখন এমন কথা কেনো বলছে,
 কারণ ভার্সিটিতে পড়াশোনা সময় যদি কারো সাথে প্রেম ভালোবাসায় তাদের ছেলে জড়ায় তাই তারা মেহেদীকে আগেভাগে সতর্ক করে দিলেন বিয়ের কথা বলে।

অবশ্য  সাবিহাকে বিয়ে করতে মেহেদীর  কোনো আপত্তি ছিলো না । 
মেয়েটিকে দেখেছে কয়েক বার বয়সটা একটু কম এছাড়া দেখতে মাশআল্লাহ।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সাবিহা সহজ সরল।

ভালোয় চলছিলো তার জীবন। মায়ের আদর বাবার শাসন, পড়াশোনা,আড্ডা সাবিহার সাথে যোগাযোগ না হলেও তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা সব মিলিয়ে সুন্দরভাবে চলছে জীবন।
পড়াশোনা শেষ করে নিজের কর্ম জীবনে পদার্পণ করার স্বপ্ন পূরণ করে নতুন স্বপ্নে বিভোর হওয়ার সময় পায়নি।

  একবছর আগে হঠাৎ করে ঝড়োহাওয়ার এসে সব যেনো লন্ডভন্ড করে দেয়। 
একবছর আগে মেহেদীর মা  হঠাৎ করে মারা যান।
তিন বাপ ছেলে পড়ে যায় মাঝ দরিয়ায়।
 বাঁচার জন্য তারা তখন কিছু অবলম্বন খুচ্ছে। কিন্তু আদৌও কি তা পাবে?
এতদিন সম্পূর্ণ সংসার সামলাতো মেহেদীর মা সেজন্য বাপ ছেলেরা এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ।
মেহেদীর মা মারা যাওয়ার পর থেকে সে বাবা ভাইকে আগলে রাখবে না কাজে যাবে বুঝতে পারছিলো না।
ওরা তিনজন রান্নাবান্না জানতো না সেজন্য প্রথম দিকে বাহিরে থেকে খাবার কিনে এনে খেয়েছে।
এতে আবার ওদের বাবা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলেন।
মেহেদী কি করবে বুঝতে পারছিলেন না।

সময় বহমান নদীর মতো সে কারো জন্য অপেক্ষা করে না।
 তাইতো,
ছেলেরা নিজেদের সামলাতে পারলেও  রমিজ উদ্দিন স্ত্রীর বিয়োগ খাবার দাবার অনিয়ম সামলাতে পারলেন না। 
কেমন জেনো হয়ে গেল মানুষটা।

তাদের অবস্থা দেখে সাবিহার বাবা উদ্যোক নিলেন। 
সংসারের হাল ধরতে  সাবিহা ও মেহদীর বিয়ে  দিতে হবে।
তার মেয়েই পারবে এই সংসারের হাল ধরতে।

কিছুদিনের মধ্যেই,
সাদামাটা ভাবে তাদের বিয়ে হয়ে গেলো।
বিয়ের দিন থেকে এই পর্যন্ত মেহেদী, মিশু ও রমিজ উদ্দিন এর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় সাবিহা।
তার নিজের কোনো চাহিদা নেই বরং ওর প্রতিটি দিনই কাটে ওদের কিভাবে ভালো রাখা যায় সে চিন্তায়।

মাত্র আঠারো বছরের যুবতী নারীটি হয়ে গেল তার সহধর্মিণী।
একা হাতে  এই সংসারে দায়িত্ব পালন করতে করতে এখন সে পাকা গৃহিণী।
মেহেদী সব সময় মনে হয় আজ মা বেঁচে থাকলে    সংসারের জন্য এতো পরিশ্রম করতে হতো না সাবিহাকে।
ছোট ভাইয়ের মত সেও তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারতেন।
যা এখন দায়িত্ব নামক শব্দে চাপা পড়ে রয়েছে।

 মেহেদীর সাবিহাকে নিয়ে কখনো পার্কে যাওয়া হয়নি।
 কখনো রিক্সায় চড়ে শহর ঘুরে দেখানো হয়নি। ‌‌ 
   কখনো  বন্ধের দিনে বলা হয়নি চলনা ঘুরে আসি মন যেখানে চায়। 
মাঝ রাতে হাতে হাত রেখে হাঁটতে বেরিয়েছে কতবার কিন্তু কখনো বলেনি ভালোবাসি প্রিয়সি তোমায়।

কখনো বলা হয়নি তোমার লজ্জা মাখা মুখটা  দেখে কতোবার হয়েছি যে এই মনটা খুন।

তাই বলে কি সাবিহাকে সে কম ভালোবাসে?
কখনোই না তার কাছে সাবিহাকে ভালোবাসার মাপকাঠি পরিমাপের যন্ত্র নেয়।
ভালোবাসি এই কথা বার বার বলে মুখে ফেনা তুলে হবে কি ?
ভালোবাসা  বিষয় হচ্ছে উপলব্ধি করার ।

মেহেদী মনে মনে বললেন,সারাটা দিন পরিশ্রম করে যখন ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে তোমার মুখে হাঁসি দেখি।
সকল ক্লান্তি দূর হয়ে আমি  প্রাণবন্ত হয়ে যায়। 
কখনো তোমাকে বলা  হয়নি  তোমার বাস আমার হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
আর সব সময় ভালোবাসি তাবলতে হবে কেন!
তুমি না হয় আমার না বলা ভালোবাসা থাকলে।
যা শুধু দুজন উপলব্ধি করবো।

বর্তমানে
সাবিহা ভোরে উঠতে চাইছে কিন্তু মেহেদী উঠতে দিচ্ছি না।
সাবিহা  বুঝাতে চাচ্ছে অনেক কাজ আছে।
মেহেদীর এক কথা বেঁচে থাকলে জীবনের অনেক কাজ করতে পারবে,
এখন ভালো বউ এর মতো চুপচাপ শুয়ে থাকো।

সাবিহার মেহেদীর কথা অমান্য করার সাহস নেয়।
তাই সে মেহেদীর বুকে মাথা রেখে চুপচাপ শুয়ে মনে মনে বললো, আপনার বুকে মাথা রাখলে আমি বুঝতে পারি । আপনার হৃদয়ের এই রাজ্যে শুধু আমার দখলে । 
সেখানে শুধু আমার বাস।
আর যারা মনে করে,
 আমাদের মাঝে ভালোবাসা নেয়  তারা নিজেরায় আদৌও ভালোবাসা কী?
তা জানে কি না সন্দেহ আছে।

  আমাদের মধ্যে যদি ভালোবাসা না থাকতো তাহলে আমরা কি একজনের কষ্ট  আরেক জন ভাগকরে  নিতে  পারতাম!
আমার মনের খবর তো বলার আগে আপনি জেনে ফেলেন।
এটা কি ভালোবাসা নয়।
 ভালোবাসা না থাকলে শুধু দায়িত্বের খাতিরে সারারাত আমাকে বুকে নিয়ে আমার  সেবায় নির্ঘুম রাত কাটাতে পারতেন?
তাছাড়া মানুষের কথা শুনে বা লোক দেখাতে সবসময় ভালো বাসি বলতে হবে় কেন?
মাঝে মাঝে না বলেও বুঝে নেওয়া যায় প্রিয়জনের ভালোবাসা।

 #না_বলা_ভালোবাসা।
১ম পর্ব

লেখনীতে  #মেহের_মেহের_সীমা।

বিঃদ্রঃ লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আর আপনাদের গল্পটি ভালো লাগলে লাইক ও কমেন্ট করবেন।
আপনাদের অনুপ্রেরণা আমাদের লেখতে উৎসাহিত করে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/111466/</link>
				<pubDate>Mon, 16 May 2022 06:58:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এই নিন আপনার চা,</p>
<p>দেখছো না আমি রেডি হচ্ছি !সাইড টেবিলে ওপরে রেখে দাও।</p>
<p>আজ এতো তাড়াতাড়ি অফিসের জন্য রেডি হচ্ছেন যে?</p>
<p>অফিসে মিটিং আছে।</p>
<p>ও, তাহলে নাস্তা দিবো টেবিলে?</p>
<p> টেবিলে দেওয়া লাগবে না ।<br />
 বিস্কুট বা কেক থাকলে এখানে নিয়ে এসো।<br />
টেবিলে বসে নাস্তা করার সময় নেয়।</p>
<p>  এতোক্ষণ  উপরে যারা কথা বললেন তার মধ্যে একজন হলেন মেহে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-111466"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/111466/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ae39a0e45174a0d46adae5cae7c18402</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ২৮
মা&#039;কে আমি সেদিন বড় মুখ করে বলেছিলাম,আল্লাহর রহমতে তুমি অবশ্যই বাঁচবে মা।
একটা কিডনির সমস্যা হলেয় যে মারা যাবে তা ঠিক নয় কারণ।
তুমিই তো বলো, আল্লাহ না চায়লে কেউ মরে  না।
তাহলে আজকে ভয় পাচ্ছ কেন?
তুমি না আমার সাহসী মা।
মা আমার কথা শুনে মুচকি হেসেছে।
কিন্তু সেদিন কি জানতাম সামনে আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে!
দুই দিন পর
ডাক্তারের কথা মত দুইদিন পর মা&#039;কে যা যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছে তা করিয়ে সেই রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে ছোট ভাইয়া ও আমার বর যান।
রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলেছিলেন তার একটা কিডনি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
দ্রুত অপারেশন করে কিডনি ফেলে দিতে হবে।
নাহলে যেটা ভালো রয়েছে সেটাও নষ্ট হয়ে যাবে।
সেদিন শ্রাবণ ভাইয়া আমার বাসায় এসে ডাক্তারের বলা কথাগুলো বলার পর দুই ভাই বোন অনেক কেঁদেছি।
আমরা মায়ের কষ্ট সহ্য করতে পারছিলাম।
আমরা যেহেতু সাধারণ মানুষএতকিছু তো বুঝতে পারি না।
বাবা সব শুনে বললেন,ডাক্তার যা বলেন আমাদের সেই মতই কাজ করতে হবে।
তোরা চিন্তা করিস না,দুই একদিনের মধ্যেই টাকার ব্যাবস্থা  করে ফেলব।
সত্যি করে বাবা একদিনের মধ্যেই টাকা জোগাড় করে ফেলেন,
তাই  ভাইয়া ডাক্তারের কথা মত মা&#039;কে অপারেশন করানোর জন্য হসপিটালে টাকা জমা দেন।
ডাক্তার মায়ের জরায়ুতে টিউমারের অপারেশন নিজের প্রাইভেট ক্লিনিকে করালেও কিডনি অপারেশন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে করানোর কথা বলেন।
তাছাড়া প্রাইভেট ভাবে অপারেশন করানোর মত এতো টাকাও বাবার কাছে সেই মুহূর্তে ছিল না।
মায়ের যেদিন অপারেশন হয় সেদিন আমি হসপিটালে যেতে পারিনি।
কারণ মায়ের কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিল।
 মা&#039;কে অপারেশন  রুমে ঢোকানোর  পর অপারেশন করতে সাত ঘণ্টা লেগেছে ডাক্তারের। 
অপারেশন শেষ হলে ডাক্তার জানান মায়ের কিডনি ও পেশাবের থলি ফেলে দেওয়া হয়েছে।
কারণ মায়ের জরায়ুর টিউমারের জীবাণু পেটে জড়িয়ে পড়ছে।
বাম সাইডে কিডনিতে, জরায়ুতে ও পেশাবের থলিতে  ঘাঁ হয়ে গেছে সেজন্য তা কেটে ফেলে দিতে হয়েছে।
তবে প্রশাবের থলি বড়টা কেটে ফেলা হলেও ছোটটি রেখে দেওয়া হয়েছে।
তবে পেটের ভেতর কয়েক  জায়গায় ঘাঁ দেখা যাচ্ছে রোগীর অবস্থা দেখে বুঝা যাচ্ছে ক্যান্সারের লক্ষণ।
তাই  কিছু সেম্পল দিয়েছে পরীক্ষা করতে।
নার্সের সাথে গিয়ে যেনো টাকা জমা দিয়ে আসেন।
আর এই রিপোর্ট আসতে ১০-১৫ দিন লাগবে।
সেদিন ফোনে ভাইয়ার মুখে এসব শুনছিলাম।

ঢাকা মেডিকেল আমার বাসা থেকে অনেক দূরে তাছাড়া আমি ঢাকায় বড় হলেও আসেপাশের এলাকায় কখনো একা চলাচল করিনি।
আমার বাসা থেকে কচুক্ষেত মার্কেট যেতে দশ টাকা লাগে বিয়ের আগে  সেখানেও কখনো যাইনি।
আমার কিছু লাগলে বা ঈদে মা আমার জন্য পোশাক পছন্দ করে কিনে আনতেন আমি খুশি হয়ে যেতাম।
এমনকি বিয়ের পর কেনাকাটা ব্যাপারে ছিলাম অজ্ঞ।
আমার সবকিছু আমার বর কিনে আনতে।
এগুলো বলার কারণ হচ্ছে , আমার মায়ের এত বড় অপারেশন হয়েছে, আমার জন্মদাত্রী হসপিটালে ভর্তি কিন্তু আমি দেখতে যেতে পারিনি।
মায়ের নিষেধ তো ছিলই তার সাথে  ছোট ছোট  দুই বাচ্চা নিয়ে একা যেতে পারিনি।
বাসায় বসে মা&#039;কে এক নজর দেখার জন্য কান্নাকাটি করতাম কিন্তু কেউ আমাকে নিয়ে যায়নি।
এভাবে কেটে যায় ১০ দিন।
আমি মা&#039;কে একটু দেখার জন্য সবাইকে আমায় একটু হসপিটালে নিতে অনুরোধ করতাম।
কিন্তু কেউ নিচ্ছে না।
এরমধ্যে একদিন ,বড় মামা ফোন করেন।
আমি মামার ফোন পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করি তা  দেখে আমার বড় মামা  কাউকে না জানিয়ে  হসপিটালে যাওয়ার সময় বাচ্চাদের সহ আমাকে নিয়ে  হসপিটালে যান।
মামা জানতেন কাউকে বললে আমাকে নিতে নিষেধ করবেন।
সেদিন আমাকে দেখে মায়ের প্রথম কথা ছিল, আমি তার নাতি নাতনি কে নিয়ে এসেছি কেন?
এখন যদি তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে!
মা রিতিমত রাগ করে আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছিল কিন্তু আমার চোখে পানি দেখে কিছু মুহূর্ত থাকতে দিতে রাজি হন।
আমি আমার মায়ের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছি।
মায়ের শরীর নরম তুলতুলে থাকায় আমি সবসময় মা&#039;কে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতাম।
আজকে সেই মা&#039;কে ছুঁয়ে দেখতে পারছি না।
তার হাতে সেলাইন  লাগানো,পেটের কাছে একটা পাইপ সেট করা সেদিক দিয়ে দূষিত রক্ত বের হচ্ছে।
মুত্র নির্গতের জন্য নিচের দিকে আরেকটি ব্যাগ সেট করা।
কোথায় ধরব মা&#039;কে।
আমি ধরলে আমার মা তো ব্যথা পাবেন।
আমার মা&#039;কে এভাবে দেখতে বড্ড কষ্ট হচ্ছিল।
যে মা&#039;কে সবসময় হাসিখুশি দেখেছি তাকে এভাবে দেখব স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি।
আমি যখন অসহায়ের মত মায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।
তখন মা আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন,সীমা আমার কি ভাগ্য দেখছিস?
আমি মায়ের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি?
মা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন জানিস,ছয় মাস আগে মহরকে নিয়ে এই হসপিটালে আমার পাশের রুমেই ভর্তি ছিলাম।
সেদিন অসুস্থ ছিল আমার মেয়ের বুকের ধন।
আজকে সেই একই হসপিটালে পাশের ওয়ার্ডে ভর্তি আমি।
 জানিস মা তাতে আমার কষ্ট হচ্ছে না কষ্ট তো হচ্ছে আমার চোখের সামনে তোর মামার কোলে পরি কিন্তু আমি কোলে নিতে পারছি না, ছুঁতে পারছি না, চুমু খেতে পারছি না।
আমার বুকের মধ্যে অস্থির লাগছে।
তোরা চলে যা মা।
এদিকে পরি তার নানুর কাছে যেতে যুদ্ধ করছে মামার সাথে।
পরি আট মাস  থেকে কথা বলতে পারে।
এখন তো তার ২ বছর ৯ মাস।
সে এখন গুছিয়ে কথা বলে,তাই তার নানুমনি শুয়ে আছে কেন?
তাকে নানুমনির কাছে যেতে দিচ্ছে না কেন তা বলছে আর  কান্না করছে।
তা দেখে মায়ের কষ্ট হচ্ছে, তার চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে।
সেদিন মায়ের কষ্ট দেখে হসপিটালে থেকে চলে আসি।
ও আরেকটি কথা না বললেই নয়।
আমার তিন মামার মধ্যে মায়ের এই সময়ে বড় মামা আমার মায়ের সারাক্ষণ সাথে সাথে থেকেছেন।
মেঝো মামা মাঝে এসে দেখে যেতেন।
আর ছোট মামা একদিন এসেছে দেখতে।
তিনি বড়লোক মানুষ  ব্যস্ত থাকেন বেশি।
আর আমার বড় মামা তো গরীব তাই বোনের প্রতি ভালোবাসা বেশি ছিল।
বড় মামা   একটা ছোট খাটো দোকান করতেন।
মামার দুই ছেলে ছিলেন মামার অবর্তমানে তারাই দোকান করতেন।
আর আমার মামিও  এই সময়ে মায়ের পাশে ছিলেন।
হসপিটালে মায়ের সাথে বড় মামা,মামি ও ছোট ভাইয়া থাকতেন।
আমি তো মাত্র একদিন দেখা করার সুযোগ পেয়েছি।
তারপর আর হসপিটালে যায়নি।
আসলে আমার মধ্যে  মায়ের কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা ছিল না ।
অন্যদিকে
 সাব্বির ভাই ও বাবা ব্যস্ত ছিলেন দোকানের পিছনে।
কারণ মা&#039;কে চিকিৎসা করতে টাকা লাগবে তা জোগাড় করতে হলে তাদের কঠোর পরিশ্রম করতেই হবে।
তাছাড়া খাওয়া দাওয়া, সংসার খরচ তো আর কম নয়।
পরবর্তিতে আমি এবং শ্রাবণ ভাই মায়ের কাছাকাছি থাকার যতটা সুযোগ পেয়েছি সাব্বির ভাই তা কম পেয়েছেন।
কারণ সে প্রতিদিন সকাল ছয়টায় দোকানে যেতেন আর বাসায় আসতে রাত ১১-১২ পর্যন্ত বেঁজে যেত।
 তাকে যে ঢাকা থেকে আশুলিয়া যাওয়া আসা করা লাগত প্রতিদিন।
সেজন্য ভাইয়া মায়ের সাথে হসপিটালে থাকতে পারতেন না।

ছয়দিন পর
গতকাল রাতে মা&#039;কে বাসায় নিয়ে এসেছে।
খবর শুনে আমি সকালে বাসায় এসে পড়ি।
কারণ মায়ের অসুস্থতার সময়ে কাছে না থাকতে পারলে পরে আসার মানে নেয়।
তবে এখানে আসার পর যে খবর শুনেছি তা কখনো দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি।
ডাক্তার জানিয়ে দিয়েছেন আমার মায়ের শরীরে নাকি ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে।
এই সুন্দর পৃথিবীতে আমার মা মাত্র কয়েকদিনের মেহমান।
তাকে কেমো দিতে হবে যদি ভাগ্য ভালো থাকে তো বাঁচতে পারেন।
তবে তার বাঁচার চান্স ১৫% 
আর মৃত্যুর সম্ভাবনা ৮৫% 
যদি তার ভাগ্যে ভালো হয় তো বেঁচে যাবেন।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে প্রথমে পনেরো দিন পর পর দুইটা কেমো দেওয়া লাগবে।
যদি দু&#039;টো কেমো দেওয়া বিশ দিন টিকতে পারে তাহলে আমার মায়ের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর তার একমাস পর আরেকটি কেমো দিতে হবে।
কথাগুলো শুনে আমার বিশ্বাস হচ্ছে না,
আমার মা বাঁচবে না?
আমি আর মা বলতে পারব না।
মাত্র আঠারো বছর বয়সে আমার মাথায় উপর 
থেকে মায়ের মমতার হাত সরে যাবে,,,

নোটঃ আজকের পর্ব লেখতে গিয়ে আমার হাত বারবার থেমে গেছে।
বুকের মধ্যে অস্থির লাগছিল।
শত চেষ্টা করেও সাজিয়ে লেখতে পারছিলাম না।
কারণ এটা কোন গল্প, সিনেমা বা নাটক নয়।
এটা আমার মায়ের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা।
 এটা আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য  একটা অংশ।
আজৌও মায়ের জন্য বুকের মধ্যে হাহাকার করে।
এখনও মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে মা&#039;কে দেখার প্রবল ইচ্ছা জাগে।
চৌদ্দ বছর ধরে কেউ আর বলে না, সীমা তোর পছন্দের সেমাই করেছি , খেয়ে নে মা।
কেউ বলেনা তোকে না দেখলে থাকতে পারি না।
কেউ মাথায় চুমু দিয়ে বলে না, চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে আয় মা চুলে তৈল দিয়ে দেয়।

 #চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/96092/</link>
				<pubDate>Sun, 06 Feb 2022 18:42:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ২৮<br />
মা&#8217;কে আমি সেদিন বড় মুখ করে বলেছিলাম,আল্লাহর রহমতে তুমি অবশ্যই বাঁচবে মা।<br />
একটা কিডনির সমস্যা হলেয় যে মারা যাবে তা ঠিক নয় কারণ।<br />
তুমিই তো বলো, আল্লাহ না চায়লে কেউ মরে  না।<br />
তাহলে আজকে ভয় পাচ্ছ কেন?<br />
তুমি না আমার সাহসী মা।<br />
মা আমার কথা শুনে মুচকি হেসে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-96092"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/96092/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b45e56771d86e71f8284e007df4645fc</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।


পর্বঃ #২৭
সন্তানের প্রতি মায়েদের ভালোবাসা তুলনা হয় না।
মা এমন একটা মানুষ যে সন্তানের সুখের জন্য হাঁসি মুখে নিজের জীবন দিতে পিছু হটেন না।
এইজন্য হয়তো ,ইসলাম মাকে দিয়েছে অনন্য মর্যাদা। মাকে করা হয়েছে জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। বলা হয়েছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।
ইসলামের বিধান মতে, আল্লাহ তাআলার পরেই মাতা-পিতার স্থান। এ প্রসঙ্গে মহাগ্রন্থ আল কোরআনে বলা হয়েছে, &#039;তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত না করতে এবং মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। ... এ হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্টত বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে সন্তান জান্নাতে ঠাঁই পাবে কিনা তা মায়ের সন্তুষ্টির ওপর নির্ভরশীল।
যে মা নিজের অসুস্থতার কথা ভুলে মেয়ের চিন্তায় মশগুল ছিলেন।
আমার সেই মা আজকে এক মাস ধরে হসপিটালে ভর্তি।
কিন্তু আমি এমন এক সন্তান যে মায়ের কাছে থাকতে পারছি না।
দেখতে আসতে পারছি না।
কিন্তু তবুও মা আমার সাথে রাগ বা অভিমান করছে না।
বরং ফোন করলেই একটা কথায় বারবার বলবেন তুই ভুলে হসপিটালে আসবি না।
এখানে আসলে আমার নাতিরা অসুস্থ হয়ে যাবে।
তাছাড়া মহর এমনিতেই নরম।
হসপিটালে চারদিকে রোগ জীবাণু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
আমার নাতি অসুস্থ হয়ে পড়বে।
মায়ের কথাগুলো শুনে কান্না পায় কিন্তু কাঁদতে পারছি না।
আমি যে মেয়ে থেকে এখন মা হয়ে গেছি।
দুই সন্তানের মা।
তাদের ভালো রাখার দায়িত্ব রয়েছে আমার উপর।
ও আপনাদের তো বলা হয়নি মহর সম্পর্কে!
মহর হচ্ছে আমার ছেলে যাকে জন্ম আমি দিলেও‌ জন্মের পর বেশিক্ষণ ঠান্ডার মধ্যে থাকার জন্য নিউমোনিয়া ও এ্যজমার এটাক হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিরে চলে যায় ,ওর বাঁচা মরার প্রশ্ন এসে পড়েছিল।
মহরকে শিশু হসপিটালে থেকে  পর্যন্ত  ফিরিয়ে দিয়েছে ভর্তি করেনি।
কিন্তু আমার জন্মদাত্রী মা হার মানেনি সে তার নাতি কে নিয়ে ছুটে গেছে ঢাকা মেডিকেল।
সেখান থেকে ও যখন ফিরিয়ে দিচ্ছিল তখন আমার মা ডাক্তারদের হাতে পায়ে ধরে ভর্তি করিয়েছেন।
শুধু তাই নয় আমার ছেলের সুস্থতার জন্য , নামায,রোজ,দান সদকা কিছু বাকি রাখেনি।
  আমি বিশ্বাস করি মহর নতুন জীবন পেয়েছে আমার মায়ের উছিলায়।
সে সময়ে মা ভীষণ অসুস্থ ছিলেন কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয়নি।
এমনকি ছেলে হওয়ার পর চল্লিশ দিন মায়ের কাছে ছিলাম।
মা&#039;কে কখনো বলতে শুনেনি খারাপ লাগছে।
আমি তো জানতাম না আমার মা তার ভেতর অসুখ নিয়ে  চলাফেরা করছে।
মা তো আমাকে দুই মাস তার কাছে রাখতে চায়ছিলেন কিন্তু আমি রাজি হয়নি।
কারণ আমরা চারজন ছাড়াও ,লায়লা ও আমার শ্বাশুড়িকে মা সপ্তাহে তিন-চার দিন আমাদের বাসায় রাখতেন।
এতগুলো মানুষের খরচ তো কম নয়।
অবশ্য তারেক মাঝে দুই তিনদিন মাছ ও মুরগি কিনে আনেন।
কিন্তু মা সেজন্য তারেক কে রাগারাগী করেন এবং কড়া ভাষায় নিষেধ করেন বাজার করতে।
তারপর থেকে তারেক আর সাহস দেখায়নি।
তবে মা যায় বলেন না কেন আমি তো জানি আমার বাবার হাতের অবস্থা সূচনীয়।
কারণ বাবা যে মার্কেটে দোকান করতেন তা ভেঙে দিয়েছে
আমার সিজারের একদিন পরেই।
সিজারের টাকা বাবা না দিলেও হসপিটালে আসা যাওয়া এমনকি আমার ছেলের পিছনে চিকিৎসার টাকাটা বাবা ও ভাইয়েরা দিয়েছে।
হাতে যা টাকা রয়েছে তা দিয়ে নতুন করে বাঁচার লড়াই করতে হবে বাবাকে।
এখন আমি এতজন নিয়ে থাকলে বাবা তো সমস্যায় পড়বে তাই ভেবে চল্লিশ দিন থেকে বাসায় চলে আসি।
প্রথম দুই মাস মা নিয়মিত মহর আর পরিকে দেখতে এলেও এরপর থেকে আসতে পারতেন না।
আস্তে আস্তে মা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন এদিকে বাবার কাছে যা টাকা ছিল তা দিয়ে কচুক্ষেত দোকান নেওয়া সম্ভব ছিল না।
কারণ এখানে পনেরো লাখ টাকা এডভান্স দিতে হবে দোকান নিতে হলে।
আর বাবার কাছে ছিল সাত আট লাখ তাইতো খুঁজতে খুঁজতে ভাগ্য তাকে নিয়ে যায় আশুলিয়ায় জিরাবো বাজারে।
আমার বাবার একটা গুন ছিল তা হচ্ছে সে শূন্য থেকে বাঁচার মত সম্মান নিয়ে উপরে  উঠতে পারেন।
 বাবা জিরাবো গিয়ে ওখানে ছোট একটা বাজারে গিয়ে দেখে ওখানে বাঁশ গাছ ও দুই একটা টং দোকান।
বাবা যেহেতু ছোট থেকেই ব্যাবসা করতেন তাই কোথায় ব্যাবসা করলে টিকে থাকতে পারবে তা সহজেই বুঝতে পারতেন।
আব্বা জিরাবো এলাকাটা ঘুরে ঘুরে দেখলেন ওখানে কি কি রয়েছে।
বাবা ঘুরে ঘুরে দেখলেন অনেকগুলো গার্মেন্টসে ফ্যাক্টারি রয়েছে।
কিন্তু বড় কোন দোকান নেয়।
তারমানে এখানে মনোহারি মালপত্র ভালো চলবে।
বাবা আসেপাশের পরিবেশ দেখেশুনার পর জিরাবো বাজারে গিয়ে ওখানকার জায়গার মালিক এর সাথে কথা বললেন।
ওখানে প্রাই দুই বিঘা জায়গা যার মালিকানা তিন জনের।
বাবা তাদের সাথে কথা বলেন, তাদের জানান এই বাঁশ বাগানকে সে একটা মার্কেটে পরিণত করতে পারবে যদি এখানে তাকে দোকান করতে দেওয়া হয়।
জায়গার মালিকেরা বললেন, বাবাকে দোকান করতে হলে দোকান উঠানোর খরচ নিজে বহন করতে হবে।
এবং প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে।
২০০৮ সালে তিন হাজার টাকা মানে অনেক কিন্তু বাবা তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়।
এমনকি শুধু বাবা ওখানে দোকান নেয়নি তার সাথে চৌদ্দ নাম্বার বাজারের  আট দশজন  দোকানদার যাদের দোকান ভাঙা হয়েছে তাদেরকে  সেখানে দেখাতে আনলেন,
তারা বাঁশ বাগান দেখে  দোকান করতে রাজি হননি বাবা অনেক বুঝিয়ে তাদের নিলেন।
বাবা তাদের এটা বলেছেন লস হলে দরকার হলে সে তাদের কিছু ক্ষতিপূরণ ও দিবে
বাবার কথা শুনে ওখানে তারা দোকান করতে রাজি হয়।
ওখানে দোকান দেওয়ার এক মাস পর সবাই বুঝতে পারে বাবা তাদের এখানে দোকান দিতে জোর করে কত বড় উপকার করেছেন।
 দুই মাস হয়েছে বাবা ও বড় ভাই দোকান করছেন ওখানে।
আমাদের বাসা ঢাকা হওয়াতে বাবা ও ভাইয়া সকালে যেতেন আর রাত দশটায় ফিরতেন।
বাবা ছোট ভাইয়ের জন্য ওখানে দোকান ঠিক করার আগে মায়ের অপারেশন করানোর সিদ্ধান্ত নেন।
মা&#039;কে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার দায়িত্ব পড়ে ছোট ভাইয়ের উপর।
কিন্তু মা অসুস্থ তা আমি জানি না।

এদিকে
শ্রাবণ তার ছোট বোনের বরকে সাথে নিয়ে তাদের মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল,
তিনি ঢাকা মেডিকেল এর একজন সার্জন। তবে রাতে পান্থপথে তার প্রাইভেট চেম্বারে বসেন।
শ্রাবণ তার মা&#039;কে ওখানে নিয়ে দেখান ডাক্তার তাদের বলেন দুই দিনের মধ্যে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার কাছে নিয়ে আসতে।
আগের পরীক্ষা চলবে না।
দুইদিন পর সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার রিপোর্ট নিয়ে শ্রাবণ ডাক্তারের কাছে যায়।
ডাক্তার শ্রাবণ কে জানায় তার মায়ের জরায়ুতে টিউমার বেশ বড় হয়ে গেছে।
দ্রুত অপারেশন করতে হবে।
যদি সম্ভব হয় তো আগামীকাল বা পরেরদিন রোগীকে তার ক্লিনিক এ  ভর্তি করতে।
কারণ ঢাকা মেডিকেল এ ভর্তি করলে অপারেশন করতে দেরি হবে
শ্রাবণ ডাক্তারের কথা শুনে তাকে জানান বাসায় পরামর্শ করে তাকে ফোন করে জানাবে।
শ্রাবণ বাসায় এসে তার মায়ের বিষয়ে সবার সাথে কথা বলেন।
শ্রাবণের বাবা সিদ্ধান্ত নেন আগামীকাল তার স্ত্রীকে ভর্তি করবেন।
কারণ এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে আর দেরি করতে নারাজ।
সুমনা বেগমের অপারেশন হয়েছে এক সপ্তাহ হয়েছে।
কিন্তু অপারেশন হওয়ার পর থেকে তার ব্যথা বেড়েছে কয়েকগুণ।
শরীরে কেমন নিস্তেজ হয়ে থাকে তার।
সুমনা বেগমের কষ্ট হচ্ছে  তবে নিজের কষ্টের থেকে বেশি চিন্তা হচ্ছে মেয়ের জন্য।
সে অসুস্থ বলে আজ  তার মেয়েটাকে নাতিদের নিয়ে একা একা কষ্ট করতে হচ্ছে।
তার মেয়েটা ইদানিং কেমন শুকিয়ে গেছে গতকাল এসেছিল তাকে দেখতে।
এসেই কান্না করে দিয়েছে।
যা সুমনার কাছে ভালো লাগেনি।
মেয়েটা মনে হয় তার অসুস্থতার কথা শুনে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
এই জন্যই অপারেশন কথা ওকে বলতে নিষেধ করেছিলেন।
কিন্তু অপারেশন হওয়ার দুইদিন পর তারেক সীমাকে বলে দিয়েছে।
মেয়েটা শুনেই ছুটে যেতে চেয়েছিল হসপিটালে কিন্তু সে তারেক কে নিষেধ করায় হসপিটালে নিয়ে আসেনি।
বাসায় আসার পর তার মেয়েটা এসে তাকে জড়িয়ে ধরেছে, কোথায় কেটেছে তা খুঁজেছে।
সুমনা যখন মেয়েকে বলেছেন,তার পায়ুপথ দিয়ে মেশিনের সাহায্যে  টিউমার অপারেশন করেছেন।
তার মেয়ে আশ্চর্য হয়ে বলেছিল,মা এভাবে তো জরায়ুর অপারেশন হয় কখনো শুনিনি?
মেয়ের কথা শুনে সে মুচকি হেসে বলে,না হলে কি ডাক্তার করত!
তুই চিন্তা করিস না দেখবি আমি কিছুদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাব। 
সেদিন তার মেয়ে অনেক সময় মায়ের সাথে  কাটিয়ে গেছে।

ওদিকে
 সীমার কাছে মনে হতে থাকে তার মায়ের ভুল চিকিৎসা হয়েছে।
তবে সে কথা কাউকে বলতে পারছে না।
সবার এক কথা ডাক্তার  থেকে সে বেশি বুঝে কিনা?
তবে সীমা মনে কামড় দিচ্ছি কারণ অপারেশনের পর থেকে তার আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। 
অপারেশন এর দের মাস পর আমার মা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ডাক্তার জানান মায়ের একটা কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে।
তার অপারেশন করতে হবে।
নাহলে অন্যটা নষ্ট হয়ে যাবে।
আবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মায়ের অপারেশন করানোর।
আমার এখনো মনে আছে সেদিনের কথা, অসুস্থ মা&#039;কে দেখতে আসছি।
মা আমার হাত ধরে বলেছিল, আচ্ছা মা ডাক্তার যে আমার কিডনি ফেলে দিতে চাচ্ছেন।
কিডনি ফেলে দিলে আমি বাঁচব?
সেদিন মায়ের কথা শুনে কষ্ট বুকের ভিতরে তোলপাড় শুরু হলেও মাকে বুঝতে দেয়নি বরং মায়ের হাত ধরে জড়িয়ে বলেছিলাম ,এক কিডনি নিয়ে তোমার থেকে বুড়ো মানুষ বেঁচে আছে সেখানে তোমার তো এখনও চুল পাকে নি মা।
আল্লাহর রহমতে তুমি অবশ্যই বাঁচবে মা।
কিন্তু সেদিন কি জানতাম,,,,

 #চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/95306/</link>
				<pubDate>Wed, 02 Feb 2022 17:33:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।</p>
<p>পর্বঃ #২৭<br />
সন্তানের প্রতি মায়েদের ভালোবাসা তুলনা হয় না।<br />
মা এমন একটা মানুষ যে সন্তানের সুখের জন্য হাঁসি মুখে নিজের জীবন দিতে পিছু হটেন না।<br />
এইজন্য হয়তো ,ইসলাম মাকে দিয়েছে অনন্য মর্যাদা। মাকে করা হয়েছে জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। বলা হয়েছে, মায়ের পায়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-95306"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/95306/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f49bcf736df438ea39e9443d18ba0613</guid>
				<title>সাইফুন নেসা সীমা। changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/95305/</link>
				<pubDate>Wed, 02 Feb 2022 17:30:54 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2565f7bf35e9e63637071d2fb672d726</guid>
				<title>সাইফুন নেসা সীমা। and Kabi Doctor Mohammad Zakir Hossain Biplob are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/93675/</link>
				<pubDate>Wed, 26 Jan 2022 02:51:43 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">afdf3c78919ea431a4a5607dbe534c70</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ২৬
সুমনা ফোন করে তার মেয়েকে বললো, তোর শরীরের এখন কি অবস্থা?
তোর বাবা ফোন করে বললেন তুই নাকি কান্নাকাটি করছিস?
এমন করলে কেমন হবে রে মা?
সীমা তার মায়ের ফোন পেয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো।
তারপর ধীরে ধীরে বললো, কাঁদব না তো কি করব মা?
যে মায়ের সন্তান পৃথিবীতে আসার পর থেকে জীবন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
সে মায়ের কান্না ছাড়া কি আর আছে?
ওপাশে মেয়ের কথা ও কান্নার শব্দ  সুমনা অস্থির হয়ে বললো, এতো অল্পতেই ভেঙ্গে পড়লে চলবে?
কাঁদছিস কেন?
না কেঁদে আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে শেখ।
তিনি যা করেন ভালোর জন্যই করেন।
আর তুই কি ভুলে গেছিস তোর সন্তানের সাথে তোর মা রয়েছে।
তোর এই মা বেঁচে থাকতে তোর ছেলের অযত্ন হবে না।
তুই নিশ্চিন্তে থাকতে পারিস।
তোর ছেলে গত দুই দিনের তুলনায় আলহামদুলিল্লাহ এখন ভালো আছে।
আগামীকাল দুপুরের মধ্যেই বাবুকে রিলিজ দিবে।
রিলিজ হলেই বাবুকে নিয়ে আমি তোর হসপিটালে চলে আসব।
সীমা কথাটা শুনে চমকে বলেন,মা তুমি সত্যি বলছো!
বাবু ভালো আছে? ওকে কাল রিলিজ দিবে?
সুমনা ফোনের ওপ্রান্তে থেকেয় তার মেয়ের কথা শুনে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না তার মেয়েটা অস্থির হয়ে আছে তার অংশকে দেখতে।
আর অস্থির হবেই না কেন?
নয়মাস কষ্ট করে যে ছেলেকে পেটে রেখে জন্মের পর তার মেয়েটা নিজের সন্তানকে ভালো করে  চোখের দেখাটাও দেখতে পারেনি।
পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল।
কারণ সেই মুহূর্তে একটু দেরি করা মানে ভয়াবহ কিছু ঘটে যাওয়ার মতন ছিল।
তাইতো তারেক যখন ছেলের এমন নাজুক অবস্থা দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন এবং তার স্বামী পর্যন্ত বুকে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
তিনিও হয়তো নাতির এমন অবস্থা দেখে অসুস্থ হয়ে গেছেন।
এমনিতেই  শাহেদ বেপারি হার্টের রোগী।
আল্লাহ্ সুবহানাহু সহায় ছিল বলে দু&#039;বার মৃত্যুর কাছাকাছি থেকে ফেরত এসেছে।
ডাক্তার শাহেদ বেপারি কে সকল দুচিন্তা থেকে দূরে থাকতে বলেছেন।
  সেজন্য সুমনা  শাহেদ কে সাথে  নিয়ে হসপিটালে ছুটাছুটি করতে পারবে না।
আর তারেক তো কোন 
   সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত অবস্থায় নেই।
এই মুহূর্তে সেও যদি সাহস হারান তো তার মেয়েটা শেষ হয়ে যাবে।
 কথাটা ভেবে সে সময় সুমনা কোন দিকে না তাকিয়ে দুই ছেলেকে বললেন, আমার সাথে আয় তোরা।
ওকে নিয়ে শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখি।
সাব্বির ও শাওন মায়ের কথামত তার পিছু পিছু গেলেন।
 সুমনা বেগম নাতি কোলে নিয়ে নেমে যান যুদ্ধে।
এই যুদ্ধে যে তাকে জয় হতেই হবে।
আল্লাহ্ নিশ্চয় তাকে নিরাশ করবেন না।
আল্লাহর ওপর আস্থা ছিল তাইতো শিশু হাসপাতালে নেওয়ার পর তারা যখন ভর্তি করেনি তখন ভেঙে না পড়ে ছুটে যায় ঢাকা মেডিকেল।
সেখানে তারা ভর্তি করতে চায়নি কারণ তার নাতির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল।
তারা আশংকা করছিল ভর্তি করার পর বাচ্চার কিছু হয়ে গেলে হসপিটালে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে।
তাই তারা ভর্তি করতে চায়নি।
সুমনা  তাদের ব্যাপারটি বুঝতে পেরে বললেন,ম্যাডাম জন্ম মৃত্যু আল্লাহর হাতে।
কিন্তু আপনারা তো চেষ্টা করতে পারেন আমার নাতিকে বাঁচানোর?
আমি কথা দিচ্ছি আমার নাতির কিছু হয়ে গেলে আপনাদের দায়ি করা হবে না।
তবুও একবার চেষ্টা করে দেখুন।
অনেক কাকুতি মিনতি পর তার নাতিকে ভর্তি করেন।
তবে ভর্তির পর ২৪ ঘন্টা কেটেছে নিদারুণ মানসিক চাপে।
একদিকে তার মেয়ে অসুস্থ অন্যদিকে নাতি যায় যায় অবস্থা।
নাতির অবস্থা দেখে সুমনা নিয়ত করেন তার নাতি এ যাত্রায় সুস্থ হয়ে গেলে সে  নফল নামায,রোজা করে দিবে।
দরকার হলে জানের বদলে জান দিবে।
ভর্তির পর থেকে তার নাতিকে ইনকিউবেটর  এ রাখা হয়েছে।
রুমের বাহিরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তার দুই ছেলে।
অন্যদিকে সুমনা সিজদায় পড়ে আল্লাহ কাছে নাতির জীবন ভিক্ষা চাচ্ছেন।

গতকাল যে নাতি বাঁচা মরার অবস্থা ছিল এখন সে অনেকটা সুস্থ।
আল্লাহ্ তার দোয়া কবুল করেছেন।
কথাটা ভেবে সুস্থির নিঃশ্বাস ছাড়লো।
তার পর মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলেন,শুন মা তোর বাবাকে বলেছি রুনাকে দিয়ে মুরগি সাথে লাউ দিয়ে দিয়ে সাদা করে রান্না করে নিয়ে আসার জন্য।
তোর বাবা কিছুক্ষণের মধ্যেই তোর ওখানে খাবার নিয়ে এসে পড়বে।
মা তুমি শুধু শুধু আমার খাওয়া চিন্তা করছ!
এখন আমার মুখ দিয়ে খাবার যাবে না।
সুমনা কপট রাগ দেখিয়ে বললেন, যাবে কি যাবে না তা জানতে চাইছে কে?
আমি তোর জন্য তোকে খেতে বলিনি আমার নাতির জন্য বলেছি।
আমার নাতিটা ক্ষুধায় নিজের আঙ্গুল খাচ্ছে।
জানিস, এখানে একটা রুমে প্রায় ১৮-২০টা বাচ্চা রয়েছে।
যাদের কারো মা তাদের কাছে  নেই।
শুধু একজন বাচ্চার সাথে তার মা আছেন,
তাই ডাক্তার সেই মা&#039;কে অনুরোধ করে বলেছেন তার সন্তানের খাবার পর যেন কিছুটা দুধ এই বাচ্চাদের দেন।
যেহেতু এই বাচ্চা গুলোর সাথে তাদের মা নেয়।
এই সময়ে বাহিরের খাবারে ওদের ক্ষতি হবে।
মায়ের বুকের দুধ খেলে ওরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হবে।
মেয়েটা এতো ভালো যে তাদের কথা শুনে,সকালে ও রাতে  ছোট দুই বাটি দুধ দেয় বাচ্চাদের খেতে।
সব বাচ্চাদের দুই চামচ করে দিয়েছে খেতে কিন্তু তোর ছেলে দুই চামচ খেয়ে চিৎকার করে কেঁদেছে আরও খেতে।
সীমা তার মায়ের কথা শুনে বললো,মা ও খুব কাঁদছে খাওয়ার জন্য তাই না?
সুমনা তার মেয়ের কথা শুনে বললেন, তোর মা তোর ছেলেকে কাঁদতে দিবে ,তুই বল?
আর শুন তোর ছেলের জন্য মেয়েটাকে অনুরোধ করে বলেছি, তিনি যেন আমার নাতিকে কোলে নিয়ে খাওয়ান।
মেয়েটা এতো ভালো যে রাজি হয়েছে।
তোর ছেলে হয়েছে তার বাপের মত ক্ষধা সহ্য করতে পারে না।
তাইতো তোকে বেশি বেশি খেতে বললাম।
যাতে আমার নাতি তার হকের খাবার থেকে বঞ্চিত না হয়।
কথাটা বলে সুমনা ফোন রেখে দিলেন।
এদিকে সীমা ভাবছে তার যে মা শত অসুস্থে ও কখনো একা নিজের ডাক্তার কাছে য়ায়নি।
তার সেই মা ঢাকা মেডিকেলে ছুটে গেছে নাতিকে বাঁচাতে।
মায়েরা নিজের বেলায় অজ্ঞ হলেও সন্তানের বেলায় তাদের অভিজ্ঞতার শেষ নেই।
সীমা বিরবির করে বলছে,
নারী তুমি কখনো বাবার আদরের রাজকন্যা, 
কখনো স্বামীর সুখ দুঃখের সাথী সহধর্মিণী।
আবার কখনো নারী তুমি জননী।
কখনো তুমি ভাইয়ের আদরের বোন।
আল্লাহ্ নারীর মনকে কোমল ও সকল দুঃখ কষ্টের সহ্যের এক অনন্য ক্ষমতা দিয়েছেন।
বাবার বাড়িতে যে মেয়েটা ছিল ননীর পুতুল  কিন্তু বিয়ের পর সেই মেয়েটি স্বামীর বাড়িতে একা হাতে সম্পূর্ণ সংসার সামলায়।

আর সহধর্মিণী থেকে সন্তানের মা হয় তখন তার মাঝে দায়িত্ব,ত্যাগ ফুটে ওঠে।
 #চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/93653/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Jan 2022 19:03:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ২৬<br />
সুমনা ফোন করে তার মেয়েকে বললো, তোর শরীরের এখন কি অবস্থা?<br />
তোর বাবা ফোন করে বললেন তুই নাকি কান্নাকাটি করছিস?<br />
এমন করলে কেমন হবে রে মা?<br />
সীমা তার মায়ের ফোন পেয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো।<br />
তারপর ধীরে ধীরে বললো, কাঁদব না তো কি করব মা?<br />
যে মায়ের সন্তান পৃথিবীতে আসার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-93653"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/93653/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c9a61bf5741402698648028ed0bcbc06</guid>
				<title>সাইফুন নেসা সীমা। and Mahamudul Olive are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92271/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Jan 2022 03:14:43 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6e34be4772584a0cb155b015a98da37d</guid>
				<title>#কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে  #মেহের_মেহের_সীমা।

পর্বঃ #২৫

গল্পটা সত্যি ঘটনা অবলম্বনে
 আজকের পর্বটির প্রতিটি ঘটনা সত্য।

নোটঃ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ  গল্প দিতে পারিনি সেজন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি, এরমধ্যে ছেলের পরীক্ষা চলছে।
সুস্থ হলে আবার নিয়মিত গল্প দিব ইনশাল্লাহ।

  আমার সন্তানের কী হয়েছে আমায় বলছেন না কেন?
ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আপনারা।
 আমার বাচ্চাকে আমার কাছে দিন।
আমার কথা কেউ শুনছেন না কেন?
দেখুন আপনি ঘুমাতে চেষ্টা করুন।
 কিছুক্ষণ আগে আপনার সিজার হয়েছে।
এই সময়ে উত্তেজিত হলে আপনার ক্ষতি হতে পারে, একটু শান্ত হোন বাচ্চার কি  হয়েছে না হয়েছে তা  আমরা দেখছি তো!
 ডাক্তার আপা আমার দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে আমার সন্তানকে কোলে নিয়ে বাহিরে চলে যান।
হঠাৎ করে বাচ্চাটার কি হয়ে গেল তা বুঝতে পারছি না, গতকাল রাতেও তো আমার বাচ্চার সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।
এই ডাক্তার আপা তো তাই বলেছিলেন তাহলে এখন আমার বাচ্চাকে নিয়ে কোথায় গেলেন?
আমি ছটফট করছি আর গতকাল রাতের কথা ভাবছি।
গতকাল রাতে আমার শরীর ভীষণ খারাপ লাগছিল তারেক  তা দেখে বুঝতে পেরে ডাক্তার ইয়াসমিন হক এর কাছে নিয়ে গেলেন।
ইয়াসমিন হক হচ্ছেন  গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন বঙ্গবন্ধু (পিজি)মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
তাছাড়া তিনি  এই প্রাইভেট ক্লিনিকের গাইনি  সার্জারি বিভাগের সিনিয়র সার্জন।
এই হসপিটালে তিনি প্রতিদিন ১২-১৫ সিজার করেন। 
 হসপিটালে সিজারিয়ানে  তার বেশ সুনাম রয়েছে।
আমার বড় সন্তানের সময়  তিনিই  সিজার করেছেন।
 শুরু থেকেই সে আমার চেকআপে করেছেন।
গতকাল শরীর খারাপ লাগছিল সেজন্য তারেক আমাকে তার কাছে নিয়ে আসেন।
তিনি আসার সাথে সাথেই  আমার আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর পর বললেন, বাচ্চা আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে এবং বাচ্চার গ্রোথ ও যথেষ্ঠ ভালো।
 তবে সময়ের আগেই বাচ্চা বেশি নিচে নেমে গেছে যা রোগীর জন্য ক্ষতিকর।
তার প্রথম বাচ্চা যেহেতু সিজারিয়ান  তাই বাচ্চা নিচে নেমে যাওয়াতে যে কোন মূহুর্তে সেলাই ফেটে যেতে পারে।
তখন রোগী এবং বাচ্চার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
ডাঃ এর মুখে এমন কথা শুনে তারেক এবং আমি চমকে যাই!
তারেক কিছুক্ষণ সময় নিলেন নিজেকে সামলাতে তারপর ডাঃ  ইয়াসমিন হককে  বললেন,ম্যাডাম বিশ দিন আগে সিজার করলে বাচ্চার সমস্যা হবে না?
তারেকের কথা শুনে ডাঃ ইয়াসমিন হক বলেন,আমরা সাধারণ রোগীর সমস্যা হলে বাচ্চার বয়সের এক দুই মাস আগে অপারেশন করি।
সে সব বাচ্চাদের ওজন দুই কেজি বা তারও একটু কম থাকে।
বা যে বাচ্চাদের এখনো চোখ ফোটেনি তাদের সিজার করার পর  ইনকিউবেটরে রাখা হয়।
(এটা এই শিশুদের গর্ভের বাইরে বেঁচে থাকতে সাহায্য করার জন্য, তারা একটি ইনকুলেটর হিসাবে পরিচিত একটি যন্ত্রের মধ্যে স্থাপন করা হবে যা নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (NICU) সময় নবজাতককে উন্নত করার জন্য পরিবেশগত অবস্থার প্রয়োজন।)
সে সব বাচ্চাদের  তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রামের মধ্যে  আপনার বাচ্চাকে যথেষ্ট ভালো অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।
এমনকি বাচ্চার চোখও ফুটে গেছে।
এখন  আপনাদের বাচ্চা  ওজন প্রায় সাড়ে তিন কেজির মত।
তাই আমার মতে হচ্ছে এখন সিজার করলে  সমস্যা হবে না।
তাছাড়া এখন সিজার না করলে পরে সেলাই ফেটে গেলে আমি রোগীর ট্রিটমেন্টের দায়িত্ব নিতে পারব না।
আর যদি সিজার করতে রাজি থাকেন তো এখনই রোগীকে ভর্তি করুন।
আগামীকাল সকাল নয়টার মধ্যে সিজার করবো।
আপনারা সিজার করাবেন কিনা তা ভেবে দেখুন?
তারেক ডাঃ ইয়াসমিন হকের কথা শুনে ভয় পেয়ে যান।
কিছুক্ষণ ভেবে বলেন,ম্যাডাম সিজার করতে হলে করবেন কিন্তু এখন তো ভর্তি করতে পারব না।
আমার স্ত্রীর মা বাবাকে জানাতে হবে তাছাড়া আমাদের সাথে ছোট বাচ্চা আছে এবং আমার মা বয়স্ক মানুষ।
একা বাসায় রয়েছেন।
তাছাড়া আমরা প্রস্তুতি নিয়ে আসিনি।
ডাক্তার আপা, তারেকের কথা শুনে  বললেন, আগামীকাল ভোর ছয়টার মধ্যে ভর্তি করতে পারবেন?
তারেক ডাক্তার আপার কথা শুনে সাথে সাথেই বললেন,তা পারব সমস্যা হবে না।
ডাক্তার আপার সাথে কথা শেষ হলে  হসপিটালে থেকে বের হয়ে আসি আমরা।
রাতে বাসায় আসার পথে তারেক আমার মা ও  বাবাকে ফোন করে বাসায় আসতে বলেন।

এক ঘন্টা পর
আমরা বাসায় ফিরে দেখি
তারা দুজন, আমরা বাসায় আসার আগেই এসে পড়েছেন।
মা আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরলেন আর বাবা তারেকের কোলে থেকে পরিকে কোলে নিলেন।
পরির চোখে তখন ঘুম ঘুম ভাব।
তবুও নানা ভাই কে দেখে গলা জড়িয়ে ধরে হামি দিতে ভুললেন না।
পরিকে আমার বাবা কোলে নেওয়ায় তারেক হাতমুখ ধুতে চলে গেলেন ওয়াশ রুমে।

তারেক হাতমুখ ধুয়ে এসে  মা বাবাকে সব খুলে বলেন।
মা সব শুনে অস্থির হয়ে আমার কাছে বসে আমার শরীরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর জানতে চাচ্ছেন বেশি কষ্ট হচ্ছে কিনা।
আমি ঠিক আছি তা বোঝাতে  মুচকি হেসে মা&#039;কে আস্বস্ত করলাম।
রাতে সিদ্ধান্ত হলো ,মা বাবা  এখন বাসায় চলে যাবেন আগামীকাল ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে তারা আমার সাথে হসপিটালে যাবেন।
এবং আমার ভাইয়ারা আমার মেয়ে ও শ্বাশুড়িকে তাদের সাথে করে বাসায় রেখে তারপর হসপিটালে আসবেন।
রুনা আপা  ও তার মেয়েরা পরি এবং তার দাদুর খেয়াল রাখবেন।
সেই কথামত আজকে ভোরে আমি হসপিটালে ভর্তি হই।
নয়টার কিছুক্ষণ আগে আমার সিজার শুর করেন ডাঃ ইয়াসমিন হক।
ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি ঘুমাতে চাই কিনা।
আমি তাকে বলেছিলাম, আগেরবার যেহেতু ঘুমিয়ে ছিলাম তাই এবার জেগে থাকতে চাই।
যাতে আমার সন্তানকে আমি প্রথম দেখতে পারি।
আমার কথা শুনে ডাঃ মুচকি হাসেন।
এরপর তারা সিজারে প্রস্তুতি নেন।
আমার পেট বরাবর একটা কাপড় দেওয়া থাকলেও আমি ডান দিকে মাথা কাত করে ছিলাম। তবে আগের বার সিজার শুরু থেকে সিজার শেষ হওয়ার আধাঘণ্টা পর আমার ঘুম ভেঙ্গেছে।
সে সময়ে কিছু বুঝতে পারিনি।
তবে এবার তাদের হাতে কেচি তুলায় রক্ত সব কিছু দেখছিলাম।
সবচেয়ে বেশি বিরক্ত এবং ভয় লাগছিল ডাঃ আপা ও তার সহকর্মীর কথা শুনে।
সিজার রুমে ঢোকার পর থেকে টাকা নিয়ে তারা দুজন কথা বলেছেন।
ডাঃ ইয়াসমিন হক কার কাছে যেন অনেকগুলো টাকা পাবেন।
তা দিচ্ছে না এমনকি তাকে এড়িয়ে চলছেন এসব নিয়ে সেই কখন থেকে তারা কথা বলছেন আর কাজ করছেন।
আমার ভয় করছিল কারণ,তার টাকার শোকে সিজার করতে গিয়ে পেটে ভুল করে কিছু রেখে আসে কিনা তা ভেবে!
সে সময়ে আমি অনুভব করছিলাম আমার পেটে তারা কিছু করছে।
তাই ধরে নিয়েছি তারা পেট কাটছে। কোমড়ের নিচে থেকে অবশ করা হয়েছে।
সেজন্য ব্যথা অনুভব হয়নি বা পা নাড়াচাড়া করতে পারিনি।
হঠাৎ তাদের দুই হাত রক্তে মাখামাখি অবস্থা দেখে মাথা কেমন করে গুলিয়ে উঠে।
আমি ডাক্তার আপাকে বললাম,আপা আমি ঘুমাতে চাই।
আমি কিছু দেখব না।
ডাঃ আপা আমার কথা শুনে বললেন,ঠিক আছে আপনি চোখ বন্ধ করে থাকুন।
দেখবেন ঘুম এসে যাবে।
আমি তার কথা মত চোখ বন্ধ করে রাখি তবে চোখে তো আর ঘুম আসে না।
  কিছুক্ষণ পরপর পিটপিট করে তাকিয়ে দেখি আমার পেট থেকে একটা  বাচ্চা বের করে আনলেন।
বাচ্চাটা পিটপিট করে তাকিয়ে অপারেশন রুমের আলোর ঝলকানি দেখে  চিৎকার করে কেঁদে তার উপস্থিতি জানান দেয়।
আমার বাচ্চাটা তার উপস্থিতি বুঝাচ্ছে আর আমি কিনা তাকে কোলে নিতে পারছি না।
বাচ্চাটিকে দেখে আমার মনে এক ধরনের তৃপ্ততা অনুভব করি।
ডাঃ ইয়াসমিন হক  একজন নার্সের কাছে  আমার বাচ্চাকে দিয়ে পরিষ্কার করতে বলেন।
নার্স ট্রে তে করে আমার বাচ্চাকে নিয়ে একটা টেবিলের উপর রেখে আস্তে আস্তে পরিষ্কার করছিলেন।
আমি সে দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম।
এসি চালু থাকায় আমার শীত করছে
জানুয়ারি মাসের ৩০ তারিখ আজ।
এমনিতেই শীতের সময় তার মধ্যে এসি চলছে যার কারণে আমার শীত করছিল।
আমার হঠাৎ মনে হল আমার শীত করছে তার মানে আমার বাচ্চাটার ও শীত করছে।
তাছাড়া ওকে যে টেবিলে রেখে পরিষ্কার করছে তার উপরে এসি রাখা।
কথাটা ভেবে আমি আস্তে আস্তে বললাম,ওর শীত করছে তো,
এরমধ্যে হঠাৎ করে তাকিয়ে দেখি আমার বাচ্চাটার নিঃশ্বাস ঘন ঘন উঠানামা করছে।
এরমধ্যে নার্স ডাক্তার আপার কাছে ওকে নিয়ে আসলো।
এতক্ষণ ডাক্তার আপা মাত্রই আমার পেটের সেলাই শেষ করলেন।
নার্স তাকে কি যেন বলেন।
সে শুনে সাথে সাথে আমার বাচ্চাকে নিয়ে কি কি যেন করলেন।
তারপর দ্রুত  বাহিরে নিয়ে গেলেন
কতক্ষণ হয়ে গেছে আমার বাচ্চা আমার কাছে দিচ্ছে না।
তখন কোথায় নিয়ে গেছে তাও বলছে না।
কিছুক্ষণ পর দুইজন নার্স ও ওয়ার্ড বয় আসল।তারা স্টেচারে করে আমাকে কেবিনে দিয়ে আসবে।
আমি কয়েকবার জিজ্ঞেস করলাম আমার বাচ্চা কোথায়?
তারা কিছু বলছে না।
আমাকে কেবিনে দেওয়া হলো, আমার পাশের বেডে আমার স্বামী তারেক শুয়ে আছেন।
নার্স তার শিরা চেক করেছে আর বলছে আহারে লোকটা তার বাচ্চার অবস্থা দেখে জ্ঞান হারাচ্ছে বারবার।
আমি আসেপাশের দিকে তাকিয়ে আমার সন্তানকে না দেখে চমকে উঠি।
মা,বাবা ও ভাইয়াদের দেখতে পেলাম না।
আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে, পেটে ব্যথা করছে কিন্তু তার থেকে বেশি কষ্ট হচ্ছে বুকের মধ্যে।
আমার বাচ্চাকে তখন এক নজর দেখেছি তার পর তো ভালো করে দেখতে পারলাম।
কোথায় আছে আমার নাড়িছেঁড়া ধন।
আচ্ছা আমার বাচ্চাটা বেঁচে আছে তো?

 #চলবে
বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/91306/</link>
				<pubDate>Tue, 18 Jan 2022 06:02:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ক" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ক</a>িশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখনীতে  <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ম" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ম</a>েহের_মেহের_সীমা।</p>
<p>পর্বঃ #২৫</p>
<p>গল্পটা সত্যি ঘটনা অবলম্বনে<br />
 আজকের পর্বটির প্রতিটি ঘটনা সত্য।</p>
<p>নোটঃ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ  গল্প দিতে পারিনি সেজন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।<br />
এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি, এরমধ্যে ছেলের পরীক্ষা চলছে।<br />
সুস্থ হলে আবার নিয়মিত গল্প দিব ইনশাল্ল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-91306"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/91306/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">845aa0d5a464e174988c482776805169</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে  #মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ২৪
সীমা এই সীমা!
কোথায় গেলে?
 এই তো ,আসছি একটু অপেক্ষা কর।
চুলায় রান্না বসিয়েছে এরমধ্যে তারেক এর ডাক শুনে চুলার আঁচ কমিয়ে তড়িগড়ি করে কেন ডেকেছে জানতে গেলাম।
না হলে দেখা যাবে  রেগে যাবে।
কাজে ব্যস্ত আছি তা বুঝতে চায়বে না,
তাছাড়া হুটহাট রেগে যাওয়া তারেক এর স্বভাব।

রান্নাঘর থেকে বের হয়ে দেখি তারেক ডাইনিং রুমে ফ্রিজ এর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। 
তারেক কে ফ্রিজ এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চমকে উঠলাম!
তারেক আমার উপস্থিতি বুঝতে পেরে ফ্রিজ খুলে দুধের পাতিল বের করে জিজ্ঞেস করলেন,
পাতিল এ দুধ এলো কোথায় থেকে?
আমি আমতা আমতা করে বললাম, গতকাল খাওয়ার পর থেকে গেছে।
তারেক আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে দুধের পাতিল আছড়ে ফেলে দিলেন।
ইস্ রুমের ফ্লোর দুধে মাখামাখি অবস্থা।
এখন এগুলো পরিষ্কার করতে আমার জান বের হয়ে যাবে।
এই লোক রাগ হলে হাতের কাছে যা পাবে বা থাকবে তা ফ্লোরে আছড়ে  ফেলেন, একবারও ভাবে না এগুলো পরিষ্কার করতে আমার কতটা কষ্ট হয়।
আমি যখন এসব ভাবছি সে সময়ে তারেক বলেন, দুধ,ডিম খাওয়ার কথা তোকে কতবার বলতে হবে?
তুই মানুষ না গরু?
এই সময়ে দুধ ডিম খেতে হয় তা জানিস না?
প্রতিদিন দুধ নিয়ে বাহানা করবি পেয়েছিস কী?

আমি তার কথা শুনে বিরক্ত হয়ে বললাম, একবার তুমি একবার তুই না বলে সবসময় তুই বললেই হয়।
আর দুধ,ডিম খেলে আমার বমি হয়।
তাছাড়া কয়দিন আগে তো কোনো খাবারেই খেতে পারতাম না।
এখন তো বমি আসলেও তবুও অল্প হলেও সবকিছু খেতে পারছি।
কিন্তু দুধ ও ডিম খেলে বমি করতে করতে জান যাওয়ার মত অবস্থা হয়।
তার থেকে না খাওয়াই ভালো।
তুমি তো ডাক্তার!
তোমার কাছে সবসময় যত ফালতু কথা তৈরি থাকে।
দেখ, সীমা তোমার জন্য যদি আমার সন্তানের অপুষ্টি হয় না তাহলে খবর আছে।
আমি তার কথা শুনে বললাম, তুই তো ভালো ছিল আবার তুমি করে বলার দরকার কি!
আমার কথা শুনে তারেক বললেন, আজকাল সাহস বেড়ে গেছে না!
থাপ্পর খেলে ঠিক হয়ে যাবে।
কথাটা বলে সে অন্য রুমে চলে গেলেন।
আমি কষ্ট করে ফ্লোর মুছতে লাগলাম।
আজকাল আট মাসের পেট নিয়ে কাজ করতে কতটা কষ্ট  তা কি মানুষটি বুঝতে পারে?
তারেক কে মাঝে মাঝে আমার কাছে অপরিচিত লাগে।
এই ভালো তো এই মন্দ ।
কখনো আমার প্রতি তার কেয়ার  আবার কখনো ছোট খাটো ব্যাপার হুটহাট রাগ দেখে তাকে নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগতে হচ্ছে।
একবার মনে হয় আমার জন্য তার কত দরুদ,
আবার মনে হয় আমার তার  বিরক্তির কারণ।
ওদিকে,
 ব্যথা কী বেশি করছে?
ডাক্তারের কাছে যাবে?
সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে বললো, বেশি না,আপনি চিন্তা কইরেন না তো।
বিশ্রাম নিলে একটু পরেই ঠিক হয়ে যাবে।
শাহেদ বেপারির জানেন, বেশি ব্যথা করলেও সুমনা কখনো তা স্বীকার করবে না।
সুমনার ধৈর্য শক্তি দেখে  তিনি মাঝে মাঝে আবাক হয়ে যায়।
আবার কখনো মনে মনে গর্ভ করেন, জীবনে চলার পথে এমন একজন সহধর্মিণী পেয়ে।
আজকাল অতীতের কথা শাহেদ বেপারির মনে হানা দেয়, মায়ের মন রাখতে তিনি তার মায়ের পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে  করলে মন থেকে সে সময়ে সুমনা কে স্ত্রী হিসেবে মানতে ও ভালোবাসতে পারেনি।
 প্রথম প্রথম সুমনা কে দেখলেই বিরক্ত লাগতো কিন্তু তার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে কখনো তা প্রকাশ করতেন না।
 মায়ের সম্মানের দিকে তাকিয়ে বা জৈবিক চাহিদার কারণেই হোক সুমনা কে স্ত্রীর অধিকার দিতে কার্পণ্য করেননি কিন্তু মনের অধিকার দিতে নারাজ ছিলেন।
কিন্তু দিন দিন সুমনার ভদ্রতা, শান্ত আচরণ আর তার মায়ের প্রতি যত্ন নেওয়া দেখে এবং তার মা&#039;কে নিজের মায়ের মত ভালোবাসতে দেখে আস্তে আস্তে শাহেদ বেপারি  সুমনার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন।
তার পর তাদের বড় ছেলের জন্ম হলো।
 একজন স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যতই দুরত্ব থাকুক না কেনো,
সন্তানের আগমনে স্বামী স্ত্রীর মধ্যেকার সেই দূরত্ব টিকে না।
কারণ তখন যে তারা সন্তানের বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
তাইতো শাহেদ বেপারি বাবা হওয়ার পর থেকে
     সুমনার প্রতি আলাদা টান অনুভব করতে শুরু করেন।
কিন্তু তাদের কপালে সেই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ছেলের মৃত্যু  শাহেদকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেন।
একটা মৃত্যু সব কিছু উল্টাপাল্টা করে দেয়।
সে সময়ে ভালো মন্দের বিচার করতে ভুলে যান শাহেদ বেপারি।
জড়িয়ে পরে বাজে নেশায়,
নিজের মধ্যে গড়ে তুলেন আরেক পৃথিবী।
যেখানে সুমনার জায়গা নেয়, তার কাছে সুমনা অপরাধী হিসেবে গণ্য হয়।
সেই নতুন পৃথিবীর  আরেক নারীর আগমন ঘটে।
মোহে পড়ে করে ভুল, তার ভুলের কারণে  আলোর জগৎ থেকে ছিটকে পড়ে অন্ধকার জগৎ এ।
এক সময় ভুলে যান নিজের দায়িত্ব কর্তব্য।
যা দেখে তার মা মানতে পারেনি।
ছেলের চোখে আঙুল দিয়ে তার ভুলগুলো ধরিয়ে দেন।
মায়ের দিকে তাকিয়ে অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর খোঁজে বের হয়।
সে সময়ে আল্লাহর রহমত আর তার মায়ের দোয়া ও সুমনার মত স্ত্রী না থাকলে সেখানে থেকে  হয়তো কখনো বের হতে পারতো না।
কোনো নারীই তার স্বামীর জীবনে দ্বিতীয় নারীর আগমন সহ্য করতে পারে না।
কিন্তু সুমনা শুধু সহ্যই করেনি তাকে ক্ষমা করে আপন করে নিয়েছিল।
কতটা ধৈর্য্য থাকলে একজন স্ত্রী এমন করতে পারে তা ভেবে শাহেদ বেপারির বুক গর্ভে ভরে উঠে।
তার সেই স্ত্রী দিনদিন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে তা সহ্য করবে কিভাবে!
শাহেদ বেপারি ভেবেছে এই মাসের মধ্যে সুমনা কে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবেন।
অপারেশন করিয়ে ফেলবেন।
রানু তো আছেই।
সব কাজ করার জন্য ,দরকার হলে আরেকজন কাজের লোক রাখবেন মেয়ের জন্য।
শাহেদ রানুকে  কাজের লোক বলতে নারাজ।
কারণ রানু সব সময় নিজের মানুষের মতো কাজ করে।
তাছাড়া রানু সুমনা কে খালাম্মা বললেও তার মায়ের মতো ভালোবাসে।
আর সুমনা তো রানুকে মেয়ের মত আদর করে।
নতুন কেউ বাসায় আসলে রানুকে আমাদের একজনই মনে করেন।
রানু সারাদিন এখানে থাকলেও রাতে তার বাসায় চলে যায়।
রানু বিবাহিত, তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে।
রানু ভালো পরিবারের মেয়ে ও বৌ।
কিন্তু তার স্বামী ঠিকঠাক মত কাজ করেন না সেজন্য তাকে কাজ করতে হচ্ছে।
রানু এখানে কাজ করছে চার বছর ধরে।
রানু আছে বলেই শাহেদ বেপারি নিশ্চিত থাকতে পারেন।

কিছুদিন পর
গত সপ্তাহে তারেক সীমা কে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল।
ডাক্তার  সীমার চেকআপ করে জানাই, পেশেন্ট অনেক দুর্বল তাকে বেশি বেশি খাওয়াতে হবে।
আর  পেশেন্ট দুর্বল তবে বাচ্চার হার্টবিট ঠিকঠাক রয়েছে।
তারেক মনোযোগ দিয়ে ডাক্তারের কথা শুনছেন,
ডাক্তার বললেন, আপনার স্ত্রীর প্রথম বাচ্চা যেহেতু সিজার এ হয়েছে তাই দ্বিতীয় বাচ্চা সময়ে দশদিন আগেই সিজার করতে হবে।
না হলে মায়ের এবং বাচ্চার সমস্যা হতে পারে। 
পেশেন্ট কে ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখ এ সকালে হসপিটালে ভর্তি করবেন।
সব ঠিক থাকলে সন্ধ্যায় সিজার করব।
ডাক্তারের কথা শুনে তারেক ঠিক আছে বলেন।
যেহেতু প্রথম বাচ্চা তার কাছে সিজার করেছে তাই আর কিছু জানতে চায়নি।

সেদিন ডাক্তারের কাছে থেকে আসার পর থেকে আমার মন খারাপ।
আমার বয়স কম থাকায় এবং সে তুলনায় বাচ্চা বেশ বড় প্রায় ৪কেজি থাকার কারণে প্রথমবার সিজার করতে হয়েছিল।
তখন পাঁচদিন কত কষ্ট হয়েছে তা মনে হলেও ভয় লাগে।
আমার আসা ছিল এবার নরমাল এ বাচ্চা হবে।
কিন্তু ডাক্তারের মুখে সিজার শুনে ভয় করছে।
সেদিন ডাক্তারের কাছে থেকে আসার পর থেকে সব কাজকর্ম গুছিয়ে নিচ্ছি।
মা বাবা ঠিক করেছেন আমাকে তাদের কাছে নিবেন। সেই কথা আমার শ্বশুর শ্বাশুড়িকে আগেই বলে রেখেছেন।
ইদানিং মায়ের শরীর ভালো নেই।
এখন আর রোজ রোজ আসতে পারেন না।
মা&#039;কে খুব মনে পড়ছে।
আগামী সপ্তাহে মায়ের কাছে আমাদের বাড়িতে চলে যাব সেজন্য সবকিছু গোছগাছ করে রাখছি।
আল্লাহ যদি সব ঠিক রাখেন তো প্রায় এক মাসের বেশি সেখানে থাকা হবে।
তাই সবকিছু পরিষ্কার করে ঠিকঠাক করে রাখতে হচ্ছে যাতে জিনিসপত্র নষ্ট না হয়।
গতকাল থেকে কোমরে আঁচল বেঁধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে লেগে পরেছি।
 কিছুক্ষণ আগে পরির জামা কাপড়,বেড শিট,বেড কভার, পর্দা সহ অনেকগুলো কাপড় চোপড় ধুয়ে ছাদে দিয়ে এসেছি।
সকাল থেকে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি।
কিন্তু এখনও পরি কে এবং পরির দাদু কে গোসল করাতে হবে।
তাদের গোসল খাওয়া হলে   বিশ্রাম নেওয়ার জন্য ঘন্টা খানেক সময় পাওয়া যাবে।
কারণ খাওয়ার পর পরি দুই ঘণ্টার বেশি ঘুমায়।
কথাটা ভেবে দেরি না করে শ্বাশুড়ি মা&#039;কে ডাকলাম।
সে এলে তাকে সাবান,শ্যাম্পু দিয়ে ঢলে ঢলে গোসল করিয়ে দিলাম।
শ্বাশুড়ি মা বয়স্ক মানুষ তার ঠান্ডা যাতে না লাগে সেজন্য হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করিয়ে দেই।
তাকে গোসল করানোর পর শরীর মুছে দিয়েছি।
এরপর পরি কে গোসল করানোর জন্য বোলের পানির মধ্যে  গরম পানি দিলাম।
হাত দিয়ে চেক করে দেখি পানি কুসুম গরম আছে।
কয়েক ফোঁটা স্যাভলন  কুসুম গরম পানিতে দিয়ে পরিকে গোসল করিয়ে দিলাম।
পরির গোসল শেষে ওকে লোশন মাখিয়ে  দেই তারপর জামা কাপড় পরিয়ে ওর দাদুর কাছে দিয়ে আমি গোসল করতে এসেছি।
তাদের দুজনকে গোসল করাতে গিয়ে কাকভেজা হয়ে গেছি।
শ্বাশুড়ি আম্মা আমি পরিকে গোসল করানোর সময় নামায আদায় করেছেন।
আম্মা না থাকলে আমার জন্য পরিকে নিয়ে কাজ করতে কষ্ট হয়ে যেত।
আমার কাজের সময় আম্মায় তো পরিকে রাখেন।
সংসারে একজন মুরব্বি থাকা মানে তোমার উপর  কারো ছায়ার হাত থাকা।
আমার মা সবসময় এই কথাটা বলতেন।
মায়ের কথাটা ইদানিং বেশ উপলব্ধি করছি।
দশদিন হয়েছে,লায়লা ওর বোনের বাসায় বেড়াতে গেছে কয়েকদিন এর মধ্যে এসে যাবে।
ও আসলে আমার আরেকটু ভালো হবে।
গোসল শেষ হলে নামায পড়ার পর আমিও শ্বাশুড়ি আম্মার সাথে বসে খেয়ে নিলাম।
খাওয়া শেষ করে শ্বাশুড়ি আম্মা তার রুমে ঘুমাতে চলে গেছেন আমিও পরিকে নিয়ে আমাদের রুমে এসে পরলাম।
আজকে সকাল থেকে শরীর কেমন অস্থির লাগছিল এখন বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই পেটের ভেতর চিনচিনে ব্যথা অনুভব করছি।
শরীরে কোন বল শক্তি পাচ্ছি না,

তারেক বাসায় আসার পর থেকে আমার দিকে হয়তো খেয়াল করেছেন তাই কয়েকবার জিজ্ঞেস করলেন আমার চোখ মুখ এমন লাগছে কেন?
আমি তাকে প্রথমে আমার পেটে ব্যথার কথা বলতে চায়নি কিন্তু তখন মনে পড়ল তারেক অসুস্থতার কথা গোপন করা পছন্দ করেন না।
তার কথা হচ্ছে যে কোন অসুখের চিকিৎসা শুরুতে করালে তাতে সময় ও খরচ দু&#039;টো কম লাগে কিন্তু দেরি হলে, সময় ও খরচ যেমন লাগে সাথে কষ্ট তো আছেই।
কথাটা ভেবে তারেক কে আমার পেটে ব্যথার কথা জানাই।
তারেক রাগ হয়ে বললেন, এতক্ষণ বলিনি কেন?
আমি তার কথা শুনে  চুপ করে থাকলাম।
তখন বাজে রাত আটটার মতো।
তারেক পরি কে কোলে নিয়ে আমাকে রেডি হতে বলেন।
তার কথা রাত বাড়লে শরীর বেশি অসুস্থ হলে তখন কি করবে তার থেকে এখনেই ডাক্তাতের কাছে যাওয়া ভালো হবে।
পরের দিন সকালে
নার্স দ্রুত বাচ্চাকে অক্সিজেন মাস্ক লাগাও।
ম্যাডাম অক্সিজেন মাস্ক লাগানো হয়েছে তবুও কাজ হচ্ছে না।
ডাক্তার বললেন,হঠাৎ করে কি হল!
পেশেন্ট এর গার্ডিয়ানকে জানাও বাচ্চার অবস্থা ভালো না।
বাচ্চার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বাচ্চাকে  দ্রুত
 এনআইসিউ তে রাখতে হবে।
যা আমাদের হসপিটালে নেই।
এদিকে আমি নার্স ও ডাক্তারকে ফিসফিস করতে দেখে বললাম,আপনারা ফিসফিসিয়ে কি বলছেন?
 ম্যাডাম আমার বাচ্চা এমন করছে কেন?
তার কি হয়েছে?
ওকে আমার কাছে দিন।
ডাক্তার আমার কথা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেন,আহ্ আপনি একটু শান্ত হোন তো।
আমরা দেখছি আপনি ঘুমাতে চেষ্টা করুন।
নার্স দ্রুত করুন।
ম্যাডাম,,

 #চলবে
বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/90342/</link>
				<pubDate>Sat, 15 Jan 2022 17:50:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখনীতে  <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ম" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ম</a>েহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ২৪<br />
সীমা এই সীমা!<br />
কোথায় গেলে?<br />
 এই তো ,আসছি একটু অপেক্ষা কর।<br />
চুলায় রান্না বসিয়েছে এরমধ্যে তারেক এর ডাক শুনে চুলার আঁচ কমিয়ে তড়িগড়ি করে কেন ডেকেছে জানতে গেলাম।<br />
না হলে দেখা যাবে  রেগে যাবে।<br />
কাজে ব্যস্ত আছি তা বুঝতে চায়বে না,<br />
তাছাড়া হুটহাট রেগে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-90342"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/90342/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">83dabe9230a77d9967c1d57c1b34e746</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ #২৩

সীমার শ্বশুর শ্বাশুড়ির বৃদ্ধ মানুষ তারা তো নিজেরা কিছু করতে পারেন না।
আমার মেয়ের খেয়াল রাখবে কেমনে?
উল্টো মেয়েটাকেই তো তাদের গোসল করিয়ে দিতে হবে,যত্ন  করতে হয়।
সুমনার কথা শুনে তার স্বামী শাহেদ বেপারি ভাবছেন
তার মেয়েটা ছোট হলেও কাঁধে অনেক বড় দায়িত্ব নিয়েছে।
স্বামীকে চিন্তিত দেখে সুমনা বললেন,সাব্বিরের বাবা আপনি চিন্তা করে শরীর খারাপ করবেন না।
আপনার তো খুশি হওয়ার কথা আপনার মেয়ে নিজের দায়িত্বের অবহেলা করে না।
বরং খুশি মনে তা পালন করে।
তাছাড়া এই যুগে কয়জন মেয়ে তার শ্বশুর শাশুড়ির সেবা করে?
আর কয়জন মেয়েই পারে শ্বশুড় শাশুড়িকে মা বাবার মতো করে ভালোবাসতে।
আমাদের মেয়েটা অন্য সবার মত নয়, বরং নিজের সবটুকু উজাড় করে শ্বশুর বাড়ির সবাইকে ভালো রাখতে চেষ্টা করছে তা  দেখে  আমি খুব খুশি।
যা সবাই পারে না তা আমাদের মেয়েটা  অনায়াসে করছে।
এটা দেখে ওর মত মেয়ের মা হতে পেরে আমার গর্বে বুক ভরে গেছে।
সুমনার কথা শুনে শাহেদ বেপারি কি বলবেন তা ভেবে পেলেন না।
কারণ তার মনে অব্যক্ত কথাগুলো তার স্ত্রী বলে দিয়েছে।
শাহেদ বেপারি ভাবছে,এই মুহূর্তে তার স্ত্রীর অপারেশন করলে ভালো হতো তবে মেয়েটা যেহেতু আবারো মা হবে।
মেয়েটার দিক ভাবতে গেলে সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন।
কারণ সুমনা মা হয়ে মেয়ের খেয়াল যেভাবে রাখবে তার স্ত্রী নিজে অসুস্থ থাকলে মেয়েটার খেয়াল সেভাবে আর কেউ রাখতে পারবে না।
এসব ভেবে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন।
তা দেখে সুমনা বেগম তার স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনি চিন্তা করবেন না।
আল্লাহর দয়ায় যা হবে তা ভালোই হবে।
সাব্বিরের বাবা আরেকটি কথা, আমার জরায়ুতে  টিউমার  হয়েছে তা সীমাকে বলবেন না ।
কারণ সবাইকে বুঝাতে পারলেও আপনার মেয়েকে বুঝানো যাবে না।
দেখা যাবে অপারেশন করতে জোর করবে এটা ভাববে না আমি অসুস্থ থাকলে ওর দেখাশোনা কে করবে।
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর কথা শুনে বললেন, ঠিক আছে তা নিয়ে তুমি চিন্তা করো না।
আসলে সাব্বিরের মা তুমি মাঝে মাঝে ব্যথায় কেমন ছটফট কর তা দেখে ভয় হয়।
সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে কিছু বলেননি বরং স্বামীর বুকে মাথা রেখে চোখ বুজে বললেন, চিন্তা করবেন না সব ঠিক হয়ে যাবে।
সুমনা বেগম স্বামীর বুকে মাথা রেখে মনে মনে ভাবছে এই মানুষটার ভালোবাসা পেতে তাকে কত চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এই পর্যন্ত আসতে হয়েছে।
এখন নিজের জন্য স্বামীর চোখে ভালোবাসা দেখে অতীতের সব অবহেলা অবজ্ঞা ভুলে গেছে।
সুমনা মনে করেন একসাথে  সংসার করলে সব সময় মতের মিল হতে হবে তা নয়।
কখনো কখনো নীরব থেকেও স্বামীর অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায়।
ভাঙতে পারে সবাই গড়তে পারে কয়জন?
অতীতে শাহেদ বেপারির তার প্রতি  অবহেলা, অবজ্ঞা করেছিলেন।
 তাকে তার স্বামীর জীবনে দ্বিতীয় নারীর আগমন সহ্য করতে হয়েছে।
তখন সহ্য  না করলে আজকে তার ছেলে মেয়ে একটা সুন্দর পরিবেশ পেতেন না।
যখন শাহেদ বেপারি তাদের ছেলে ও মেয়ের সাথে লুডু খেলে,১৬ গুটি বা কেরাম খেলে তখন তার বাচ্চাদের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক দেখে মনটা আনন্দে ভরে উঠে সুমনার।
স্বামীকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত তার ভুল ছিল না।
সেদিন যদি স্বামীর ভুল ধরে বসে থাকতেন তাহলে তা ভুল হতো।
সেদিন সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের সন্তানদের জীবনে এই মুহূর্তগুলো হয়তো আসতো না।
তবে সুমনা কখনো চাইনি তার মত তার মেয়ের জীবন হোক।
সে প্রথম দিকে যে অবহেলা অবজ্ঞা পেয়েছে তার মেয়েটা তা পাক।
কিন্তু সবই কপাল না হলে তার শান্ত সৃষ্ট মেয়ের কপালে এমন রাগী স্বভাবের বর জুটে?
সুমনা মনে প্রাণে দোয়া করেন তার মেয়েটার জীবন সুখে শান্তিতে ভরে যাক।
তার মেয়ের জীবনে কোন কষ্ট না থাকুক।

কয়েক মাস পর
প্রিয়া তোমার কি হয়েছে?
আজকাল আমার সাথে ঠিকঠাক মত কথা বলছো না!
শ্রাবণের কথা শুনে প্রিয়া বলে,
 আমার আবার কি হবে!
এমনিতেই কথা বলতে ভালো লাগছে না।
প্রিয়ার কথা শুনে শ্রাবণ বললেন, তোমাকে এমন নীরব দেখলে বুকের বাম পাশে ব্যথা করে তুমি তা বুঝ?
তাছাড়া আজকাল মায়ের শরীর ভালো যাচ্ছে না।
কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলেও বলেন না।
আর তোমার কাছে এলে তোমাকেও কেমন নিষ্প্রাণ দেখায় 
শ্রাবণ আর কতদিন এভাবে চলবে?
তাছাড়া তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছ মা তোমাকে পছন্দ করলেও বাবা করে না।
তার কথা তুমি স্থির স্বভাবের না।
যেখানে তোমার বড় ভাই বাবার সাথে দোকান করে সেখানে তুমি টইটই করে ঘুরে বেড়াও সেজন্য আমার বাবা তোমাকে তেমন পছন্দ করেন না।
 বাবার কথা হচ্ছে,তোমার বাবার অবস্থা যতই ভালো হোক তা দিয়ে তো লাভ হবে না।
এছাড়া তোমার বাবা নিশ্চয় নিজের অবস্থান ভুলে আমার বাবার কাছে আমাকে চাইতে আসবে না?
যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ জানা তা বয়ে বেড়ানোর তো মানে হয় না।
থাপ্পর দিয়ে সব দাঁত ফেলে দিবো বেয়াদব মেয়ে!
বেশি ভালোবাসি তো সেজন্য মাথায় উঠে গেছে,
এই মেয়ে আমাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নেয় মানে কী?
আমাকে বুঝি মানুষ মনে হয় না!
তোমার মা ও দুলাভাই আমাকে যতটুকু বুঝে তুমিও তা বুঝতে চাও না।
শ্রাবণ রেগে কথাগুলো বলছিল।
প্রিয়া শ্রাবণের কথা শুনে বলে,মা ও বড় দুলাভাই আর কতদিন তোমার পক্ষ নিবে?
আমি আর পারছি না এসব সহ্য করতে।

ছিঃ তুই এতো লোভী?
যতদিন বাজারে আমার বড় দোকান ছিল ততদিন তো তোর বাবার সমস্যা হয়নি।
তখন তো শ্রাবণ বলতে তিনি পাগল ছিলেন।
এখন দোকান করি না সেজন্য তার কাছে খারাপ হয়ে গেছি।
তোর কথা শুনে তারিফ না করে পারলাম না।
তোদের কাছে ভালোবাসার দাম নেই টাকাই সব।
কথাটা বলে শ্রাবণ রাগ করে ওখানে থেকে চলে যায়।

এই ভাবী এই শরীর নিয়ে এতগুলো কাপড় চোপড় নিয়ে ছাদে একা যাচ্ছেন কেন?
কখন না কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়!

আল্লাহর রহমতে কিছুই হবে না।
কাজ করলে শরীর আরও ভালো থাকবে।
 ভাবী আপনি যাই বলুন না কেন এই সময়ে এত কাজ করা ঠিক নয়।
তাছাড়া আপনার প্রথম বাচ্চা সিজার   হয়েছে  সেদিকে একটু নজর দিতে হবে তো!
আমি মুচকি হাসলাম।
দুই হাতে  ভেজা কাপড় চোপড় এর বালতি নিয়ে আমি ছাদে যাচ্ছিলাম।
এরমধ্যে পাশের বাসার ভাবীর সাথে দেখা হয়ে যায়।
সে ছাদে থেকে নামছিলেন আমাকে বালতি হাতে ছাদের দিকে যেতে দেখেই উপরের কথাগুলো বলেন।
আসলে তারা সবাই আমার চিন্তা করে বুঝতে পারছি কিন্তু আমি চাই না আমার কাজগুলো আমার অসুস্থ মা এসে করুক।
আমার মা প্রতিদিন আছরের নামাজ পড়ে এসে আমার মেয়েকে রাখেন আর কোন কাজ বাকি থাকলে তা করে দেয়।
 ইদানিং মা&#039;কে কেমন ক্লান্ত  ও অসুস্থ দেখায়।
কি হয়েছে জানতে চাইলে বলেন কিছুই হয়নি।
 আর  মা এসে কাজ করলে আমার ভালো লাগে না।
তাই নিজের কাজগুলো নিজে করার চেষ্টা করি।
ছাদে কাপড় চোপড় মেলছি আর ভাবছি কাবিনের পর সময়গুলো আর এখনকার সময়ে কত ব্যবধান।
তখন আমার প্রতি তারেক এর ভালোবাসা ও খুনসুটি ছিল।
 আর এখন শুধু অভিযোগের ঢালা খুলেন।
আমি বোকা, কোনো কাজ পারি না, বাহিরের মেয়েদের মত টিপটিপ থাকি না।
কয়েকমাস আগে তো  খুব কাছের একজনের কাছে এটাও শুনলাম তারেক নাকি আমার বড় আপুর বরকে বলেছেন,আপনারা সবাই সুন্দরী বৌ পেয়েছেন আর আমি পেয়েছি সবার বাছাইয়ের পর থেকে যাওয়াটা।
কথাটা শুনে আমার হৃদয়ে কতটুকু রক্তক্ষরণ হয়েছে তা কাউকে বুঝাতে পারব না কখনো।
তারেক এমন কথা বলতে পারে তা আমি জানি,
কারণ তারেক সব সময় আমি দেখতে অসুন্দর তা আমার মুখের উপরে বলতে ছাড়েন না।
তাই বাহিরে কারো সামনে বলা কঠিন নয় তার জন্য।
তবে আমি ভেবে পায় না সবাই যে বলে, আমাকে দেখতে বিদেশীদের মত সুন্দর দেখায়, আমার বাদামী রঙের চোখের মণি জন্য আমাকে অন্য সবার থেকে আলাদা লাগে।
তা কি ভুল!
যদি ভুল নাই হবে তবে কেন তারেক কখনো আমার সম্পর্কে এমন কিছু বলে না।
আর সবার বলা দিয়ে আমার মন তো শান্ত হবে না।
যার মুখ থেকে প্রশংসা শুনতে চাই তার কাছে তো আমাকে ভালোই লাগে না।
ইদানিং মনের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত কাজ করছে।
নিজের নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগি।
মাঝে মাঝে মনে হয় কেন আমি তারেক এর পছন্দ মত রূপবতী হলাম না।
রূপবতী হলে হয়তো তারেক আমাকে ভালবাসতেন ছোট ছোট বিষয়ে রেগে থাকতেন না আমার সাথে।
আচ্ছা তারেক মাঝে মাঝে অভিযোগ,আমি পরিপাটি হয়ে থাকি না কেন?
কিন্তু কখনো কি এটা ভেবেছে নিজেকে পরিপাটি রাখার মত প্রয়োজনীয় সময় আমি পায় কিনা?
এই যে মাঝে মাঝে মেয়েকে নিয়ে রাত জাগতে হয় কখনো সে এক রাত জেগেছে।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমার কাজগুলো তো আমাকেই একা করতে হয়।
 সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কত কাজ করতে হয় আমাকে তা একবার ভেবে দেখেছে।
আর সে বাসায় আসার পর মেয়ের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটাবেন তারপর খাওয়া দাওয়া করে টিভিতে নাটক বা নিউজ দেখবেন।
রাত দশটা বাজার আগেই বিছানায় যাবেন।
সে সময়ে আমাকে তার পা টিপে দিতে হবে ২০ মিনিট বা আধাঘণ্টার বেশি।
সাড়ে দশটার মধ্যে সে গভীর ঘুমে তলিয়ে যাবে কিন্তু আমার যে তখন ঘুম আসে না।
মনে চায় তার সাথে গল্প করতে  তা কি কখনো বুঝতে চেয়েছেন?
এই কয়দিন তার সাথে সংসার করে এটা বুঝে গেছি সে বেশি কথা বলতে পছন্দ করে না।
হাতে গোনা কয়েকজন বন্ধুর সাথে শুধু গল্প করতে পছন্দ করেন।
তার সে বন্ধু তালিকায় আমি নেই তা বুঝতে পারছি।
তাইতো আমার সাথে গল্প করতে তার ভালো লাগে না।

ইস্ কতক্ষন হয়েছে ছাদে এসেছি উল্টাপাল্টা ভেবে সময় নষ্ট করলাম।
এজন্যই তো তারেক আমাকে বকা দেন।
তাছাড়া আমি অতিরিক্ত আবেগী যা ঠিক নয়।
আমাকে বুঝতে হবে ৩৪ বছরের পুরুষের মাঝে আবেগ থাকে না।
থাকে দায়িত্ব কর্তব্য।
তাই আমার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা শেখতে হবে না হলে সংসার জীবন কখনোই সুখময় হবে না।
কথাটা ভাবতে ভাবতে নিচে নেমে আসলাম।
বাসায় এসে দেখি আম্মার নামাজ আদায় হয়ে গেছে।
লায়লা বাড়িতে গেছে গত সপ্তাহে।
থাকলে আমার পরিশ্রম অনেকটাই কম হয়।
কারণ পরি কে ওর কাছে রেখে কাজ করা যায়।
তাছাড়া লায়লা আমাকে কাজেও সাহায্য করে।
তবে তার মন জুগিয়ে চলতে হয়।
কথাটা ভেবে  আম্মাকে নিয়ে খেতে বসছি এরমধ্যে মেয়েটা ঘুম থেকে উঠে কান্না করতে লাগলো।
হাত ধুয়ে খাবার রেখে উঠে এলাম।
মেয়েকে কোলে নিয়ে  চুমু খেয়ে বললাম,সোনা আরেকটু পরে উঠলে কি হত?
মেয়েটা আমার কথা শুনে ফোকলা দাঁতে হেসে দেয়।
মেয়েটার হাঁসি দেখে আমার বুকটা জুড়িয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর
শ্বাশুড়ি আম্মার খাওয়া শেষ হলে সে খাটে বসে পরি কে তার কাছে দিয়ে আমাকে খেয়ে নিতে বললেন।
আম্মা একাই হাঁটতে কষ্ট হয় তাই তার নাতনিকে নিয়ে বসেই খেলা করেন।
আমি পরি কে তার কাছে বসিয়ে দিয়ে খেতে আসি কিন্তু ভাত ততক্ষণে পানি ছেড়ে দিয়েছে।
তা দেখে খাওয়ার রুচি চলে গেছে।
কিন্তু খাবার নষ্ট করা আমার পছন্দ নয় তাই ডাল নিয়ে কোনরকমে ভাতগুলো খেয়ে উঠে গেলাম।
সন্ধ্যায়
তারেক বাসায় এসেছে তাকে হাতমুখ ধুতে ওয়াশ রুমে পাঠিয়ে বিছানায় তার জন্য তোয়ালে ও লুঙ্গি রেখে আমি রান্না ঘরে এলাম।
তার নাস্তার ব্যবস্থা করতে।
আম্মা মায়ের সাথে গল্প করছেন আর মা তার নাতনিকে কোলে নিয়ে হাঁটছে আর আম্মার কথা শুনছেন।
তারেক আসার সময় প্রায় হাফ কেজির মত জাম নিয়ে এসেছে আমি তা থেকে কিছু জাম পিরিজে নিলাম সাথে   নাস্তার জন্য ডিমের চপ করেছিলাম তাও নিলাম।
নাস্তার ট্রে খাটে রেখে তার দিকে তাকিয়ে বললাম, তোমাকে চা দিব?
তারেক নাস্তার ট্রের দিকে তাকিয়ে বলেন,
চা পরে দাও আর জাম এভাবে দিয়েছ কেন?
জাম কিভাবে খায় তা জানো না?
আমি তার কথা শুনে বললাম মেখে আনব?
তারেক কিছু না বলে চুপচাপ বসে পড়লেন।
আমি তা দেখে জামের পিরিজ নিয়ে আসি রান্না ঘরে।
আম্মা ও মাকে চা দিয়ে জাম মাখাতে ফ্রিজ থেকে কাঁচা মরিচ বের করলাম।
জাম মাখা শেষ হলে তা নিয়ে তারেক এর সামনে দিলাম।
 তারেক  দেখে বললেন, সামান্য জাম মাখাতে এতক্ষন লাগে?
 আমি খাবো না,নিয়ে যাও।
আমি তাকে বললাম, খেয়ে নেও রাগ কর না।
আমি কথাটা আরেকবার বলতে নেওয়ার আগেই তারেক জামের পাত্র হাতে নিয়ে  আছড়ে ফেলে দিলেন।
বিকট শব্দ হলো!
অন্য রুমে থেকে শব্দ পেয়ে মা দ্রুত এসে বললেন,কি হয়েছে?
ব্যথা পেয়েছিস?
মায়ের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললাম,মা অসাবধানতাবশত আমার হাত থেকে বাটিটা পড়ে গেছে।
মা আমার দিকে তাকিয়ে কিছু না বলে, পরি কে খাটে বসিয়ে ফ্লোর পরিষ্কার করতে নিলেন।
আমি তা দেখে মা&#039;কে বললাম, তুমি পরিকে রাখ আমি করছি।

মা বাসায় যাওয়ার আগে আমাকে বলে গেলেন,মা রে ধৈর্য্য ধর একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।
জানিস তোর বাবা কিন্তু তারেক এর থেকেও রাগী ছিলেন এখন তাকে দেখলে বিশ্বাস করবে কেউ সেই কথা?
আমি মাথা ঝাঁকিয়ে না বললাম।
দেখিস তারেক ও বদলে যাবে।
আমি মায়ের কথা শুনে মুচকি হেসে তাকে চিন্তা করতে নিষেধ করলাম।
রাতে
খাওয়া দাওয়া শেষ হয়েছে আরও আগেই।
মেয়েটা ঘুমিয়ে গেছে তারেক বসে বসে নিউজ দেখছিলেন আমি বিছানায় এসে মেয়েকে মাঝে শুয়াতে গেলে তারেক বললেন, আজকে পরি ওখানেই ঘুমাক।
আমি কিছু না বলে মশারী টাঙিয়ে তারেক ও পরির মাঝে শুয়ে পড়লাম।
তারেক আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে কখনো চুল নিয়ে নাড়াচাড়া করছে।
মাঝে মাঝে কপালে চুমু খাচ্ছে তার এই মুহূর্তেই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সন্ধ্যার করা ব্যাবহারে কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছি না।
এমন না যে আজ তার আচরণের সাথে মিল খুঁজে পাচ্ছি না ।
কখনোই মিল খুঁজে পায় না।
 তারেক এর স্পর্শ গুলো আস্তে আস্তে গভীর হচ্ছে ,
তার ভালোবাসার আহ্বান ফিরিয়ে দেওয়ার দুঃসাহস কখনো আমার হয়নি আর হবেও না।
তার ডাকে সাড়া দিয়ে হারিয়ে গেলাম অন্য জগৎ এ।
যেখানে রাগী তারেক এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।

নোটঃ ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় থেকে আমার আইডি ফেসবুক থেকে লক করে দেয়।
অনেক চেষ্টার পর গতকাল রাতে আইডি আনলক হয়েছে।
এতদিন এজন্য গল্প দিতে পারিনি।
আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত এতদিন গল্প দিতে পারিনি সেজন্য।

 

 #চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/89610/</link>
				<pubDate>Thu, 13 Jan 2022 17:32:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ #২৩</p>
<p>সীমার শ্বশুর শ্বাশুড়ির বৃদ্ধ মানুষ তারা তো নিজেরা কিছু করতে পারেন না।<br />
আমার মেয়ের খেয়াল রাখবে কেমনে?<br />
উল্টো মেয়েটাকেই তো তাদের গোসল করিয়ে দিতে হবে,যত্ন  করতে হয়।<br />
সুমনার কথা শুনে তার স্বামী শাহেদ বেপারি ভাবছেন<br />
তার মেয়েটা ছোট হলেও কাঁধে অনেক বড় দা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-89610"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/89610/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f36d7f4b96bbd8aa407abbc37af475ea</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ২২

আবার বাড়িতে গিয়ে তো দেখাও তোমাকে খুন করে ফেলব, কথাটা বলে শ্রাবণ প্রিয়াকে শক্ত করে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেন।
এমন করে জড়িয়ে ধরেছেন যাতে আর কোথাও হারিয়ে যেতে না পারে।
আর প্রিয়া তার ভালোবাসার মানুষটির বুকে মাথা রেখে চুপটি করে হৃদস্পন্দন শুনছে।
আসেপাশের কোনদিকে খেয়াল নেই  প্রিয়া এই মুহূর্তে তার ভালোবাসার আলিঙ্গনে বিভোর হয়ে রয়েছে।
শ্রাবণ আরও কিছুক্ষণ প্রিয়ার সাথে খুনসুটি করে  চলে যায়।

সীমা নাস্তা হয়েছে?
আমি আমতা আমতা করে বললাম,আর কিছুক্ষণ বস  হয়ে যাবে।
হয়ে যাবে মানে কী?
তারেক রেগে বলেন,তুমি জানো না নয়টার সময় আমি অফিসে যাই?
 আসলে উঠতে দেরি হয়ে গেছে, তুমি একটু বস আমি এখানেই দিচ্ছি।
আজ দুই সপ্তাহ হয়েছে তারেক দেশে থেকে এসেছে,
তার সাথে আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি ও লায়লা এসেছিলেন।
শ্বশুর ঢাকা এসে দশ পনেরো দিন এর বেশি থাকতে পারেন না।
তার দমবন্ধ হয়ে আসে।
সেজন্য দুইদিন আগে দেশে চলে গেছেন।
শ্বাশুড়ি আম্মা ও লায়লা রয়েছে।

এখন লায়লা পরির কাছে বসে আছে।
আমি তাড়াহুড়ো করে খাবার আনতে গেলাম ,ভাত,ডাল,দুই পদের ভর্তা তারেক এর সামনে দিয়ে ডিম ভাজতে যাচ্ছিলাম এরমধ্যে তারেক বাসায় থেকে বের যেতে নেয়
আমি তা দেখে তার সামনে এসে হাত ধরে বললাম,কি হলো না খেয়ে যাচ্ছ কোথায়?
তারেক আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বললেন,তোর খাবার তুই খা।
কথাটা বলে সে অফিসে উদ্দেশ্য চলে গেলেন।
আমি সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শ্বাশুড়ি আম্মার কাছে গিয়ে তাকে লায়লাকে নিয়ে খেতে আসতে বললাম।

শ্বাশুড়ি আম্মা মুখ ভার করে খেতে বসে বললেন,একটু তাড়াতাড়ি উঠলে কি হয়!
 দেরিতে উঠায় আমার ছেলেটাকে না খেয়ে যেতে হলো?
আমি তার কথা শুনে কিছু বললাম না যেহেতু দোষটা আমার সেহেতু চুপ থাকাই ভালো।
লায়লা খেতে বসে বললো,পাখি তুমি খাবা না?
আমি তার  কথা শুনে বললাম, তুমি খাও আমি পরিকে খাওয়ানোর পর খাব।
এরমধ্যে শ্বাশুড়ি আম্মা বিরবির করে বললেন,আমরা স্বামীকে সবসময় কত সম্মান করে এসেছি।
আপনি ছাড়া কখনো তুমি বলিনি আর এখনকার মেয়েরা স্বামীকে দাম দেয় না।
নির্লজ্জের মত তুমি তুমি করে বলে।
শ্বাশুড়ি আম্মার কথা শুনে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না কথাটা তিনি আমাকে বলছেন।
তাই তাকে আস্তে করে বললাম,আম্মা আমি কিন্তু আগে আপনি করেই বলতাম পরির বাবাকে।
আমি আপনি বললে নাকি আপনার ছেলে বন্ধুদের কাছে ছোট হয়ে যায়।
সেজন্য তার আদেশে তুমি করে বলি।

বন্ধুরা আপনাদের তো বলাই হয়নি আমাদের সম্পর্ক আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসেছে আরো আগেই।
তবে এই তুমি নিয়ে ঝামেলায় পড়েছি।
ঝামেলা বলছি তার কারণ,পরির বাবা আপনি বলে ডাকলে রেগে যান আর  পরির দাদু তুমি বলে ডাকলে। আমার হয়েছে যত জ্বালা।

কয়েকদিন পর
তোর মত অপদার্থ কে  দিয়ে কিছুই হবে না,
আর কিছু পারিস আর না পারিস ফুটানি মারতে ওস্তাদ।
শ্রাবণ মাথা নিচু করে তার বাবার বকা শুনে যাচ্ছে।
প্রতিবাদ না করে চুপচাপ তার বাবার বকাবকি হজম করার পাত্র সে নয়।
কিন্তু এখন ইচ্ছে করলেও কিছু বলতে পারছে না।
দোকানে লস হওয়াতে বাবাকে উত্তর দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না।
মালপত্র ফুরিয়ে এসেছে এখন দোকানের যে অবস্থা তাতে আর দুই মাস দোকান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
শ্রাবণ বুঝতে পারছে  আসলে সমস্যা কোথায় হয়েছে, কিন্তু বাবাকে সাহস করে বলতে পারছে না।
আর বলবে তো বলবে কী?
বাবা আমি প্রেম করতে এতটাই মুশগুল  ছিলাম যে দোকানের দিকে নজর দিতে পারিনি।
নাকি এটা বলবে,বাকি বেশি দেওয়াতে লস হয়েছে।
বাকির কথা বললে আজ নির্ঘাত কপালে শনি রয়েছে শ্রাবণের।
কারণ ওর বাবা আগেই বলে দিয়েছিলেন, পরিচিত ছাড়া কাউকে বাকি না দিতে।
শ্রাবণ মাথা নিচু করে যখন এসব ভাবছিল সে সময়ে শাহেদ বেপারি ধমকে বলে উঠলেন, তা আজ নবাব জাদার মুখে কথা নেই কেন?
এমনিতে তো খই ফোটে!
সাব্বিরের মা তোমার এই ছেলে এক নাম্বার বাদাইম্যা।
তার দ্বারা এই জীবনে কিছুই করা সম্ভব না।
তোমার এই ছেলের জন্ম হয়েছেই আমাকে জ্বালিয়ে মারতে।

তোর জন্য আমাকে আর কতো কথা শুনতে হবে?
তুই কি আমায় একটু শান্তি দিবি না?
তোকে বারবার বলেছি মনোযোগ দিয়ে দোকান কর আড্ডা ঘুরাঘুরি বন্ধু বান্ধব বাদ দে।
আমার কথা কখনো শুনলে তো এমন অবস্থা হতো না।
এবার শান্তি পেয়েছিস তো?
সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে শ্রাবণের কাছে গিয়ে রেগে উপরের কথাগুলো  বলেন।
শ্রাবণ তার মায়ের কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলেন।
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর কথা শুনে বললেন,থাক আমার সামনে অভিনয় করতে হবে না।
তোমার লাই পেয়ে আজ ওর এই অবস্থা হয়েছে।
শ্রাবণ তার বাবার কথা শুনে বলেন,বাবা যা বলার আমাকে বলেন।
মা&#039;কে কিছু বলবেন না।
কুত্তার বাচ্চা আমার সাথে বড় বড় কথা বলিস , বের হ আমার বাড়ি থেকে।
তোর মত ভাদাইম্যার জায়গা আমার এখানে নেই।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা ইনকাম করব আমরা।
আর সে টাকা উড়াবি তুই?
তা হবে না এক্ষুণি বের হয়ে যা।
শ্রাবণ তার বাবার কথা শুনে রেগে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।
তা দেখে সুমনা তার স্বামীকে বললেন, আপনি কথায় কথায় শাসনের নামে ওকে বাসা থেকে বের করে আরও নষ্ট করছেন।
বিষয়টি আপনাকে বুঝতে হবে।
আমার শাসনে নয় তোমার লাই পেয়েই তোমার ছেলে বিগড়ে গিয়েছে বুঝলে।
আরো আদর দিয়ে মাথায় তুলো।
সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে  বলেন,আপনি এই কথা বলতে পারলেন?
 আমি যদি লাই দিতাম তাহলে আপনি যখন শাসনের নামে ওকে মেরে রক্তাক্ত করেছেন তখন বাঁধা দিতাম।
যখন শাসন করতে গিয়ে  এক বেলা খেতে দিতে বারণ করেছেন তখন  মুখ বুজে আপনার কথা মানতাম না।
তবে হ্যাঁ এক সপ্তাহ পর ছেলেকে দেখলে দুর্বল হয়ে পড়তাম।
তাই বলে তা ওকে কখনো বুঝতে দেয়নি।
আপনি কেন বুঝতে চান না আমি একজন মা হয়ে
কিভাবে ছেলে মেয়ের কষ্ট সহ্য করব!
আমি মানছি ওর চলাফেরা কখনো ঠিক ছিল না।
কিন্তু তাই বলে আমি তো কখনো পক্ষ নিয়ে কথা বলিনি।
বরং শাসন করেছি।
এখন ওর হয়ে কথা বলছি কারন আমি চাই না ও আবারো বিপথে চলে যাক।
সেখানে থেকে ওকে ফেরাতে আপনার কম কষ্ট হয়নি।
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর কথা চুপচাপ শুনে রুমের মধ্যে চলে যায়।
এমনিতেই তার চিন্তার শেষ নেই মেয়েকে বড় অনুষ্ঠান করে তুলে দিয়েছে।
এরমধ্যে একটা মারামারির ঘটনায় বাজারের সবার সাথে শ্রাবণও ছিল।
কিন্তু একমাত্র শ্রাবণ ফেঁসে যায় ।
সবাই মারামারি করলেও নাম এসেছে শ্রাবণের।
এই মারামারি কে কেন্দ্র করে এক মাস্তান ওকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু শাহেদ বেপারির জন্য পারেনি।
শাহেদ বেপারি পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে সেটা ফেরায় এরপর আবার শ্রাবণের দোকানের পিছনে টাকা গিয়েছে।
শাহেদ বেপারি ভাবছে,আমাদের দোকানে যা কেনাবেঁচা হচ্ছে তা দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালো ভাবেই সংসার চলে যাচ্ছে তবে জমানো নেই কিছু।
এখন হাত সম্পূর্ণ খালি এরমধ্যে আবার  শ্রাবণ লস সব মিলিয়ে তার হাঁসফাঁস অবস্থা।
কয়েক মাস পর
আজকাল সুমনা বেগমের শরীর বেশি ভালো যাচ্ছে না।
মাঝে মাঝে তলপেটে  প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয় তাছাড়া অনিয়মিত ঋতুস্রাব রয়েছেই।
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর এমন অবস্থা দেখে বেশ কয়েকদিন ধরে ডাক্তারের কাছে যেতে বলেছেন।
কিন্তু টাকা পয়সার চিন্তা করে সুমনা ডাক্তারের কাছে যায়নি কিন্তু এখন দিনদিনই ব্যথা বাড়ছে না গিয়েও তার উপায় নেই।
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীর শরীর খারাপ দেখে জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন।
ডাক্তার সুমনা কে চেক আপ করার পর কয়েক হাজার টাকার টেষ্ট করতে দেয়।
সুমনা করতে চায়নি কিন্তু
শাহেদ বেপারি তা জোর করে করিয়েছে।
দুইদিন পর তার রিপোর্ট দেওয়ার কথা‌ রয়েছে।
এদিকে সুমনা ডাক্তারের কাছে থেকে এসেই মেয়ে আর নাতনিকে দেখতে রওয়ানা হলেন,
তার মেয়েটার ইদানিং শরীর বেশি ভালো যাচ্ছে না।
বারবার বমি করছে কিছু খেতে পারছে না তারমধ্যে আজকাল পরি যা চঞ্চল হয়েছে একদন্ড চুপচাপ বসতে চায় না।
সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করে খাওয়া নিয়ে।
পরিটা খেতেই চায় না।
তার মেয়েটা কত কষ্ট করে নাতনিকে খাওয়ায় তা দেখে সুমনা অবাক হন।
তার ছোট মেয়েটা কবে থেকে এতো বড় হলেন।
কয়েকদিন আগে যে কিনা নিজের হাতে খেতে চাইতো না।
মায়ের হাতে খাওয়ার বায়না ধরত আজ সে মা হয়ে তার মেয়ের খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত।
যে মেয়ে কথায় কথায় অভিমান করত তার সে অভিমান কোথায় গেল!
মেয়েটা তার নরম মনের কিন্তু তার মেয়ের জামাই রাগী স্বভাবের প্রায় সময় মেয়েটাকে বকাবকি করে।
কখনো তো তার সামনেই মেয়ের সাথে রাগারাগী করেন।
তার ছোট মেয়েটি কি সুন্দর করে  সে সময়ে জামাইয়ের দোষ ঢাকতে ব্যস্ত হয়ে যায়।
মেয়েটা  সবসময় সুমনার সামনে তার জামাইয়ের সুনামের ফুলঝুরি ফোঁটায় ।
তার মেয়েটা মনে করে  তার মা এসবের কিছু বুঝতে পারে না।
কিন্তু সব বুঝেও তার মা না বুঝার অভিনয় করেন।
মেয়েকে তার জীবনের অতীত শুনান,
একটা সংসার গড়তে ভালো লাগা, মন্দ লাগা কতকিছু ত্যাগ করতে হয় তা বলেন।
যাতে মেয়েটা মনে সাহস নিয়ে সামনে  এগিয়ে যেতে পারে।
সুমনা রিকসায় চড়ে মেয়ের বাসায় যাচ্ছে আর এসব ভাবছিল এরপর রিকসা মেয়ের বাসার সামনে এসে থামল।
সুমনা মেয়ের বাসায় আসতে আসতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে ।
তার মেয়ে ছাদে গিয়ে নাতনিকে রাতের খাবার খাওয়াচ্ছে।
কারণ বাসায় বসে তাকে খাওয়ানো যায় না।

সুমনা ছাদের একপাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নাতনি কে দেখছিল,এর মধ্যেই সীমা বমি করলো।
তা দেখে সুমনা দৌড়ে মেয়ের কাছে গিয়ে তাকে ধরে বললেন, তোকে না  সেদিন প্রেগনেন্সি টেষ্ট করতে বলেছিলাম?
সীমা তার মায়ের কথা শুনে লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে বললো,করেছি তো।
সুমনা নাতনিকে কোলে নিয়ে বলেন, তা রিপোর্ট কী এসেছে?
সীমা তার মায়ের কথা শুনে নিচের দিকে তাকিয়ে বলেন,আম্মু রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।
সুমনা পজেটিভ এসেছে শুনে হতাশ কন্ঠে বললেন,পরির মাত্র এক বছর তিন মাস এরমধ্যে তুই আবার অসুস্থ শুনে
আমার চিন্তা লাগছে রে মা।
কারণ পরি পেটে আসার পর তুই কিছু খেতে পারতি না  পানি খেলেও বমি করতি।
সাত মাস পর্যন্ত স্যালাইন  এর উপর চলেছিস এবারো তো প্রথম থেকেই বমি করছিস সামনে কি হবে আল্লাহ জানেন।
দুই দিন পর
শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীকে বললেন,সাব্বিরের  মা তা কবে অপারেশন করবে ঠিক করলে?
আমি এখন কোন অপারেশন করবো না।
আমার মেয়েটা নাতনিকে নিয়ে সংসার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে এরমধ্যে আবারও সে মা হবে।
তাছাড়া মেয়েটার বয়স কম তারমধ্যে দুইটা বাচ্চা!
ভাবতে পারছেন!
 তাছাড়া আমি প্রতিদিন গিয়ে জোর করে একটু আধটু খাওয়াই আপনার মেয়েকে।
কিন্তু আমি  অপারেশন করালে নিজের খেয়াল রাখব না মেয়ের?
তোমার জরায়ুতে টিউমার  হয়েছে সুমনা তা বুঝতে হবে।
  সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে বলেন,আমরা ছাড়া  সীমার খেয়াল রাখার আর কে আছে?
ওর শ্বশুর শ্বাশুড়ির বৃদ্ধ মানুষ তারা তো নিজেরাই কিছু করতে পারেন না।
আমার মেয়ের খেয়াল রাখবে কেমনে?
উল্টো মেয়েটা তাদের গোসল করায়,যত্ন আদ্ধি করে ।
সুমনা কথা শুনে তার স্বামী চিন্তা করে

 

 #চলবে
বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/89294/</link>
				<pubDate>Wed, 12 Jan 2022 18:48:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ২২</p>
<p>আবার বাড়িতে গিয়ে তো দেখাও তোমাকে খুন করে ফেলব, কথাটা বলে শ্রাবণ প্রিয়াকে শক্ত করে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেন।<br />
এমন করে জড়িয়ে ধরেছেন যাতে আর কোথাও হারিয়ে যেতে না পারে।<br />
আর প্রিয়া তার ভালোবাসার মানুষটির বুকে মাথা রেখে চুপটি করে হৃদস্পন্দন শুনছে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-89294"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/89294/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">81fd6acfbd0a40581c6e896ee811090f</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে  #মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ২১
আমার পুতুলটা ঘুম থেকে উঠে গেছে,
তাই এসব অতীত ভেবে সময় নষ্ট করতে বর্তমানকে অবহেলা করতে চাই না।
তারেক এর সাথে বিয়ে হয়েছে বলেই তো একটা জীবন্ত পুতুল আমার জীবনের এসেছে এটা কি কম পাওয়া!
এই পুতুলের মুখের হাসি দেখার জন্য আমি সব কষ্ট মেনে নিতে রাজি আছি।
কথাটা ভেবে মেয়েকে বুকের মধ্যে নিতেই সে তার  নিজের খাবার খুঁজে নিতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ল।
মেয়েটা আমার খুব লক্ষ্মী।
দিনে তেমন একটা না ঘুমালে ও রাতে বিরক্ত করে না।
ক্ষুধা লাগলে ঘুমের মধ্যেই খাবার খুঁজবে আর খাবার পাওয়ার পর তা খেয়ে দেরি না করে ঘুমিয়ে যায়।
তার খাবার তো আমার কাছে।
সেজন্য খুঁজতে দেরি হয় না।
আল্লাহ্ পাক এর অসীম রহমত রয়েছে প্রতিটি মায়ের উপর।
একটা নবজাতক শিশু পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার খাওয়া নিয়ে তাকে চিন্তা করতে হয়।
কারণ রাব্বুল আলামীন তাদের জন্য  খাবার হিসেবে মায়ের বুকের দুধ দিয়েছেন।
খেয়ে শিশুটি ক্ষুধা নিবারণ করতে পারবে,
যা গরম বা ঠান্ডা করতে হয় না।
আমার মেয়েটা খাওয়ার পর আবারো ঘুমিয়ে গেছে, তা দেখে আমার পুতুলটার কপালে চুমু দিলাম।

রাতে বাবা বাসায় আসার পর আমার মেয়েকে ঘুমে দেখে বললেন, ইস্ আরেকটু আগে আসলেই নানুমণিকে সজাগ পেতাম।
আমি বাবার কথা শুনে বললাম, বাবা আপনি আজ আগে এলেও কাজ হতো না।
সারাদিন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে আপনার নানুমনি সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে গেছে।
শাহেদ বেপারি তার মেয়ের কথা শুনে মুচকি হেসে বলেন,হম তা গত সপ্তাহে না জামাই দেশে থেকে আসলো আবার হঠাৎ করে দেশে  গেল?
আব্বা,আম্মাকে আনতে গিয়েছে,গত সপ্তাহে আম্মা আসতে রাজি হয়নি।
 তাছাড়া গত সপ্তাহে লায়লাকে দিতে গিয়ে ছিলেন।
 তাই এই সপ্তাহে গেছেন তাদের নিতে।
শাহেদ বেপারি তার মেয়ের কথা শুনে বললেন, ওহ্ ভালো।
জামাইয়ের মা বাবার প্রতি ভালোবাসা দেখে ভালো লাগছে।
প্রতিটি সন্তানের উচিত তার মা বাবার খেয়াল রাখা,
আর মা একটা কথা সব সময় মনে রাখবি তারেক এর মা মানে তোর ও মা।
তোর দ্বারা যেন তারা কখনো কষ্ট পায় না।
তুই তাদের কষ্ট দিলে তোর ভাইয়ারা যখন বিয়ে করবে তখন তারাও আমাদের এমন করবে।
আমি বাবার কথা শুনে বললাম,বাবা আমার দ্বারা কখনো এমন অভিযোগ শুনবেন না ইনশাআল্লাহ।
শাহেদ বেপারি তার মেয়ের  কথা শুনে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ।
আর বাসায় একজন মুরব্বি না থাকলে হয় না,তা বিয়ান এর সাথে লায়লা এবার আসবে না?
তোর ননাশ ও আসবে শুনলাম ?
বলতে পারছি না বাবা,
লায়লা এলে আপা আসার কথা না।
কারণ আপা এলে তো তাদের বাড়ি খালি থাকবে।
তাছাড়া আপা ঢাকায় এলে তার ছেলেদের খাওয়া দাওয়ার কষ্ট হয়।
সেজন্য আপা আসছে না, 
শাহেদ বেপারি মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,হম। মা নানুমণির পাশে পাশ বালিশ দিয়ে তুই খেতে আয় আমি  তোর জন্য অপেক্ষা করছি।
কথাটা বলে তিনি রুমে থেকে চলে গেছেন।
ও লায়লা সম্পর্কে আপনাদের তো বলাই হয়নি ।
আমার বড় ননাশের ছোট মেয়ের নাম হচ্ছে লায়লা।
আমার ননাশের চার মেয়ে দুই ছেলে।
আপার স্বামী বিদেশ কাজ করতে যাওয়ার তিন মাসের মাথায় বিদেশে মারা গেছেন।
অবশ্য তা আরও ১৪ বছর আগে।
আপার তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে তারা নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যাস্ত।
ছেলেরা তার দুই মেয়ের পরে হয়েছে।
তারা এখনো বিয়ে করেননি
আর লায়লা আমার থেকে বয়সে ছয় মাসের ছোট।
আমারা সমবয়সী হওয়াতে সম্পর্কটা মামী ভাগ্নীর থেকে বন্ধুর মত বেশি।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে বিয়ের আগেও লায়লা আমাকে তার ছোট মামী হিসেবে পছন্দ করেনি।
কিন্তু এখন আমাকে ছাড়া মেয়েটার মন টিকে  না।
লায়লা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিল তার পর আর  পড়াশোনা  করেনি।
ওর পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না,সেজন্য আপা ওকে বিয়ে দিতে চাচ্ছে ছেলেও দেখা হচ্ছে পছন্দ হলেই যে কোন সময় বিয়ে দিবে।
আমাদের লায়লা দেখতে শুনতে মাশআল্লাহ।
যেমন রূপ তেমন চুল।
ওর আমার মধ্যে পার্থক্য ওর চোখের মণি কালো এবং আমার থেকে লম্বায় দের ইঞ্চি ছোট,
পাকা সুন্দর।
এছাড়া আমরা কোথায় একসাথে গেলে সবাই আমাদের কাজিন ভাবে।
আরেকটি কথা লায়লা আমাকে মামী বলে ডাকে না সব সময় ময়না পাখি বলে।
আমি ওকে টিয়া পাখি বলি।
বিয়ের পর থেকেই ও আমার সাথে থাকে আপা আসেন বছরে দুই তিন বার।
ইস্ আপনাদের সাথে  বকবক করতে গিয়ে ভুলেই গেছি বাবা আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন।
খেয়ে আসি তারপর না হয় বকবক করব।

পরের দিন সকাল
 ঘুম থেকে উঠে পাশে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা গভীর ঘুমে।
এদিকে রান্না ঘরে থেকে টুং টাং শব্দ শুনে সেদিক গেলাম।
গিয়ে দেখি মা সকালের নাস্তা বানাচ্ছে , মা&#039;কে বললাম,মা তুমি একা কাজ করছো আমাকেও কিছু করতে দাও।
মা আমার কথা শুনে বলেন, তোকে কাজ করতে হবে না।
তুই যা মা , পরি ঘুমিয়ে রয়েছে এখন তুই ও একটু ঘুমিয়ে নে।
তুমি একা একা কাজ করবে আর আমি ঘুমাতে যাব এটা কোন কথা হলো!
মা আমার কথা শুনে বললেন,মারে আমার খারাপ লাগলে কাজ করে দেওয়ার লোক রয়েছে কিন্তু তোর তো সম্পূর্ণ সংসার একা সামলাতে হয়।
কাজের লোক নেই।
নাতিকে নিয়ে কাজ করতে কত কষ্টে হয় তা আমি বুঝি, এখানে আসলে একটু বিশ্রাম করবি তা না করে কাজ করতে চাস!
এখানে থেকে যা বলছি,পরি উঠলে তখন বাহিরে আসবি এখন যা।
ও আপনাদের হয়তো বলা হয়নি আমার পুতুলটা কে মা পরি বলে ডাকেন।
পরিকে একদিন না দেখে আমার মা থাকতে পারে না।
প্রতিদিন বিকালে একবার  হলেও আমাদের বাসায়  পরিকে দেখতে আসেন।
যেখানে আমাদের বাসায় আসতে প্রতিদিন রিকসায় আসতে সময় লাগত ২৫ মিনিট ।
মাঝে মাঝে মা হেঁটেও আসতেন।
বাসায় কাজ করে ক্লান্ত  হলেও তা প্রকাশ করতেন না বরং আমার বাসায় এসে কাজে লেগে যেতেন।
নিষেধ করলেও শুনেন না।
কিন্তু আমি এখানে এলে আমাকে কোন কাজ করতে দিবে না।
আমরা যারা মধ্যবিত্ত  পরিবারের সদস্য তাদেরকে প্রতিটি পদক্ষেপ হিসেবে নিকেশ করে চলতে হয়।
এতো হিসেবের জীবনেও মা তার পরিকে দেখতে আসতে ভুলতেন না।
মা নিজের শরীরের খেয়াল না করে আমাকে এবং পরিকে নিয়ে চিন্তিত থাকতেন সবসময়।
মায়েরা বোধহয় এমনেই কোন কিছুর সাথেই তাদের তুলনা হয় না।
কথাগুলো ভাবছিলাম এরমধ্যে মা ধমকে বিশ্রাম নিতে পাঠিয়ে দিলেন।

ওদিকে
শ্রাবণ সকাল থেকে দোকানে বসে রয়েছে, আজকে বেচাকেনা তেমন নেই।দুপুরে হয় এসেছে বাসায় খেতে যাবে।
কিন্তু যেতে ইচ্ছে করছে না, আজকাল খাবার প্রতি অরুচি ধরে গেছে।
কিছু ভালো লাগছে না।
প্রিয়ার  কথা কথা বার বার মনে উঁকি দিচ্ছে।
আর দিবে নাই কেন?
কতদিন পর গতকাল রাতে শ্রাবণ দোকান বন্ধ করার পর প্রিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও তার দেখা হয়নি।
আজ পনেরো দিন ধরে মেয়েটা ওদের দেশে গেছে।
তাই দেখা হচ্ছে না।
আচ্ছা প্রিয়ার কী আমার কথা মনে পড়ে ?
মেয়েটা বুঝে না কেন ওকে না দেখে আমি থাকতে পারি না।
এই মেয়েটা নির্ঘাত আমাকে পাগল বানিয়ে ছাড়বে।
আমাকে কষ্ট না দিলে শান্তি পায় না।
শ্রাবণ কথাগুলো ভাবছে এরমধ্যে হঠাৎ করে বিরবির করে বললে, আচ্ছা আজকে  প্রিয়া গ্রামে থেকে এসে পড়েনি তো?
গিয়ে একবার দেখে আসব?
যেই ভাবা সেই কাজ শ্রাবণ পাশের দোকানদার কে দোকানের খেয়াল রাখতে বলে বাহিরের বাজারে গেলেন।
বাহিরের বাজারে  তার বাবা ও বড় ভাই দোকান করেন।
আর ভিতরের দোকান সে নিজে করেন।
বাহিরে এসে শ্রাবণ তার ভাইকে দেখে বললো, ভাইয়া আমি খেতে যাচ্ছি তুমি একটু আমার দোকানে গিয়ে বসতে পারবে?
সাব্বির তার ছোট ভাইয়ের কথা শুনে বলেন, প্রতিদিন তো আমিই বসি তাহলে আজকে পারব না কেন!
যা তাড়াতাড়ি আসিস।
ঠিক আছে।
সাব্বির শ্রাবণের মুখে ঠিক আছে শুনে বলেন, মনে রাখিস তুই এলে আমি খেতে যাব তারপর বাবা।
তুই তো একবার গেলে আসতে চাস না।
শ্রাবণ বড় ভাইয়ের কথা শুনে বলেন,এই জন্যই তো তোমাকে দোকানে বসতে বলতে চাই না।
থাক তোমাকে বসতে হবে না এতো কথা শুনার থেকে আমি দোকান বন্ধ করে যাই।
সাব্বির তার ছোট ভাইয়ের কথা শুনে বললেন,আর কিছু পারিস আর না পারিস অকাজের  রাগ দেখাতে ভালো পারিস।
একবার ভাবিস না আমি কেন তাড়াতাড়ি আসতে বলি।
বাবা অসুস্থ মানুষ খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম নিতে হয় সেজন্য সে সবার পরে খেতে যান।
তুই দেরি করলে আমার দেরি হবে।
আর আমার দেরি হলে বাবার খেতে যেতে হয় অবেলায়।
শ্রাবণ তার বড় ভাইয়ের কথা শুনে বললো, ঠিক আছে ঠিক আছে  এবার একটু বিরতি দাও বলছি তো দেরি করব না।
শ্রাবণ চলে গেলে তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে সাব্বির মনে মনে বলেন,ও যে কোথায় যায় আল্লাহ জানে।
কারণ ওর দোকানে আসতে দেরি হলে  জিজ্ঞেস করলে বলে, খেতে দেরি হয়েছে।
মা&#039;কে জিজ্ঞেস করলে বলেন, খাওয়ার পর বাসায় দেরি করে না।
ও যে কি করে তাই বুঝতে পারছি না।
কথাটা ভেবে সাব্বির ভিতরে চলে গেলেন।
এদিকে শ্রাবণ প্রিয়াদের বাসায় এসে দরজায় টোকা দিচ্ছে।
তিনবার টোকা দেওয়ার পর ভিতরে থেকে একজন দরজা খুলে বলে,এই কেরে এতবার টোকা দিচ্ছে ?
দরজা খুলে কথাটা বলে থমকে যায় প্রিয়া।
কারণ বাহিরে যে শ্রাবণ দাঁড়িয়ে রয়েছে।
১৫ দিন পর তার প্রিয় মানুষটিকে দেখলো কিন্তু মনে হচ্ছে এক যুগ তাকে  দেখেনি।
অন্যদিকে শ্রাবণ তার প্রাণ পাখিকে দেখে আত্মায় পানি ফিরে পেয়েছে।
প্রিয়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই
শ্রাবণ প্রিয়াকে ঠেলে ভিতরে ঢুকে বললো,না এলেই তো পারতে?
প্রিয়া শ্রাবণের কথা শুনে অভিমান করে বলে,  মা অফিসে থেকে বাসায় এলে তাকে বলব আমাকে দিয়ে আসতে।
এবার গিয়ে তো দেখাও খুন করে ফেলব কথাটা বলে শ্রাবণ প্রিয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে,
 

 #চলবে
বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/86956/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Jan 2022 04:37:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখনীতে  <a href="https://toulot.com/my_bprs_activity_stream/?s=%23ম" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ম</a>েহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ২১<br />
আমার পুতুলটা ঘুম থেকে উঠে গেছে,<br />
তাই এসব অতীত ভেবে সময় নষ্ট করতে বর্তমানকে অবহেলা করতে চাই না।<br />
তারেক এর সাথে বিয়ে হয়েছে বলেই তো একটা জীবন্ত পুতুল আমার জীবনের এসেছে এটা কি কম পাওয়া!<br />
এই পুতুলের মুখের হাসি দেখার জন্য আমি সব কষ্ট মেনে নিতে রাজি আছি।<br />
কথ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-86956"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/86956/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">df5c7390a8bc65afa0212ac8dc5331b1</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ২০

সবাই আমার রান্নার প্রশংসা করলেও আমি নিজের রান্না খেয়ে বুঝতে পারলাম আমার রান্না মায়ের ধারের কাছেও ঘেঁষেনী।
সেদিন ক্লান্ত থাকায় রাতে মায়ের সাথে আর কথা বলিনি।
 সুমনা খুব কান্নাকাটি করেছিলেন কারণ সে চায়নি তার একমাত্র মেয়ে এভাবে শ্বশুড় বাড়ি যাবে।
তার কান্নাকাটি দেখে শাহেদ বেপারি তারেক কে ফোন করে তার শরীর কেমন আছেন, বাসার সবাই কেমন আছেন তা জানতে চায়।
তারপর তারেককে ফোন করে বলেন ঈদের পরের দিন যেনো তার মেয়েকে বাড়িতে দিয়ে আসেন।
কারণ অনুষ্ঠান করে সবাইকে জানিয়েই শাহেদ বেপারির ইচ্ছে তার মেয়েকে বিদায় করার।
তারেক শাহেদ বেপারির কথা শুনে রাজি হয়ে যান।
তবে মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন দুই এক মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠান করে তার কাছে তার বৌকে নিয়ে যাবেন।
তারেক এর সাথে আমার প্রথম ঈদ তেমন একটা মন্দ কাটেনি।
আমরা ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকা এসে পড়ি।
তারেক দুইদিন অফিসে ব্যস্ত ছিলেন সেজন্য আমাদের বাড়িতে আসেনি।
দুইদিন পর আমাদের বাসায় এসে তারেক আমার বাবার সাথে তার বড় ভাইয়ের কথা বলিয়ে দেন ফোনে।
কারণ তারা চাচ্ছেন আগামী মাসের মধ্যেই আমাকে ঘরে তুলে নিতে।
কিন্তু বাবার ইচ্ছে ছিল আমার এসএসসি শেষ করে অনুষ্ঠান করবে।
 তবে তারেক এবং তার পরিবারের আগ্রহে সে ইচ্ছে বাদ দিয়ে  তাড়াতাড়ি অনুষ্ঠান করতে রাজি হয়ে যায়।
এরমধ্যে তারেক আমাকে বুঝাতে থাকেন বিয়ের পর পড়াশোনা করে কি হবে?
 তোমাকে দিয়ে তো আর চাকরি করাবো না!
তাছাড়া অনুষ্ঠানের পর আমরা আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকব।
তখন  মা বাবাকেও আমাদের সাথে নিয়ে আসব।
তুমি সংসার সামলিয়ে পড়াশোনার সময় পাবে কোথায়?
আমি তার কথা শুনে বললাম,সময় বের করে নিব।
তা নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না।
তারেক আমার কথা শুনে বললেন, তুমি না বললেও চিন্তা করতে হয়।
 সীমা তুমি আমার কথা বুঝতে পারছ না।
তুমি পড়াশোনা না করে পরীক্ষা দিলে ধর ফেইল করলে তখন?
আশ্চর্য আমি ফেল করব কেন?
আমাদের অনুষ্ঠানের পর নিশ্চয় আমি তোমাকে দেশে রাখব না!
আর আমার সাথে এখানে থাকলে ক্লাস করতে পারবে না।
আর আমি বাসায় একা তোমার জন্য টিচার  রাখতে পারবো না,
তুমি ঠিকঠাক পড়াশোনা করতে সময় পেলে না।
কিন্তু পরীক্ষা দিয়ে ফেইল করলে তখন আমি আমার বন্ধুদের মুখ দেখাতে পারব?
তুমি চাও তোমার জন্য তোমার বর তার বন্ধুদের কাছে ছোট হোক?
আমি সেদিন তার কথা শুনে দমে যায়।
এরপর কয়েকদিন পড়াশোনার কথা বললে তারেক তা আমলে নেয়নি।
আমার মনের জোর হারিয়ে ফেলি।
এদিকে আমার বিয়ের পর সোহেল সর্দার বারবার আমাদের বাড়ির আসেপাশের ঘুরঘুর করতেন।
আমাকে দেখলে কথা বলতে চেষ্টা করতেন।
ব্যাপারটা তারেক এর নজরে আসে।
তার ধারণা হয় আমি তার সাথে প্রেম করতাম।
কিন্তু আমি তাকে অনেক ভাবে বুঝাতে থাকি সে যা ভাবছেন তা ভুল।
তবে তিনি আদৌও আমার কথা বিশ্বাস করছে কিনা বলতে পারব না।
 এরমধ্যে আমাদের অনুষ্ঠানের তারিখ ঠিক করা হয়েছে ২৫/১২/২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে।
 এরপর থেকে তারেক আমাকে নিয়ে  বিয়ের শপিং করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
দেখতে দেখতে অনুষ্ঠানের সময় ঘনিয়ে এলো।
মা বাবা আমাকে এবং ভাইদের রেখে সাত দিন আগেই গ্রামে জান অনুষ্ঠান যেহেতু গ্রামে হবে তাই সবকিছু গোছগাছ করতে সময় লাগবে।
অবশ্য দাওয়াত দেওয়া হয়ে গেছে আরও আগেই।
আর তারেক অনুষ্ঠানের তিনদিন আগে গ্রামে যাবেন এই কয়দিন আমাদের সাথে থাকবেন।
সে দেশে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন যাতে তার পরিবার সবকিছু ঠিকঠাক করতে পারেন।
এই তিন চার দিন আমাদের দিন আনন্দে কেটে যায়।
আমরা ঢাকা থেকে একসাথে গ্রামে আসি অনুষ্ঠানের দুইদিন আগে।
একসাথে এলেও আমি এবং ভাইয়ারা আমাদের বাড়িতে এবং সে তার বাড়িতে চলে গেলেন।
একটা বিষয় না বললেই নয় আমি বাড়িতে পা রেখে চরম লজ্জায় পড়লাম।
বিয়ে উপলক্ষে আমাদের বাড়িতে লোকে লোকারণ্য হয়ে রয়েছে।
কয়েকজন উঠানে বসে গীত গায়ছে কেউ কেউ গানের তালে নাচছিলেন।
আমাকে দেখে সবাই চিৎকার করে উঠলো।
তাদের কথা হচ্ছে গতকাল থেকে বিয়ের কনে ছাড়া তাড়া গীত গেয়ে যাচ্ছে কিন্তু বিয়ের কনের দেখা নেয়।
 আজকে কিনা বিয়ের কনে এসেছে।
বিষয়টি হচ্ছে এমন,যার বিয়ে তার খবর নেই কিন্তু বিয়ে উপলক্ষে পাড়া পড়শী ঘুম নেই।
বাবা অনুষ্ঠান উপলক্ষে এক হাজার লোকের আয়োজন করছেন সেজন্য স্টেজ করা হয়েছে দুটো।
তাছাড়া গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হবে বড় করে।
আর গায়ে হলুদ সহ পুরো অনুষ্ঠানের  ভিডিও করা হবে।
আর এই ভিডিও করবে তারেক এর ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ছোট ভাই রিফাত।
এতে করে বর ও কনের সম্পূর্ণ ভিডিও একসাথে থাকবে।
আমাদের বাড়িতে হলুদের ভিডিও করতে করতে রাত এগারোটা বেজে গেছে সেজন্যই তারেক ফোন করে যা তা ব্যাবহার করেন।
তারেক এর সাথে কথা শেষ হলে আমি মাথা ব্যথার অজুহাত দেখিয়ে রুমে গিয়ে লাইট অফ করে শুয়ে রইলাম।
সেদিন আমার দু চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল।
মনে হচ্ছিল কোন ভুল করলাম না তো?
সেদিন সারারাত আমার চোখে ঘুম হয়নি।
পরের দিন যথারীতি সকাল থেকে শুরু হলো বিয়ে বাড়ির জাঁকজমক।
আমাকে সাজিয়ে বসিয়ে রাখা হয় ঘরের ভেতর।

অন্যদিকে
 একশো আশি জন লোক আসার কথা বরযাত্রীতে ,
যোহরের নামাজের পর পর  তারেক বরযাত্রী নিয়ে আসেন।
একটি প্রাইভেট কার ও দুটি মাইক্রোবাস নিয়ে আসেন।
আরেকটি কথা সেদিন বরযাত্রীর সেরা আকর্ষণ ছিল তারেক এর  বন্ধুদের বাইক প্রদর্শন।
১২০ জন মিলে ৬০টি মটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে চালিয়ে আসেন তারা যা সেদিন সবার নজর কাড়েন।
সেদিন সবার মুখে মুখে ছিল  তাদের এই কর্মকাণ্ডের কথা।
আমার কানের কাছে এসে রিয়া কয়েকবার কথাটা বলেছে।
তা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই।
কিন্তু আমার মাথায় তো  তখন গতকাল রাতে তারেকের আমায় বলা কথাগুলো চলছিল।

বর যাত্রীরা খাওয়া দাওয়া শেষ করে আড্ডায় মেতে উঠেছে।
 একে একে মালা বদল, মিষ্টি মুখ ও আয়না দেখা শেষ হলো।
মালা বদলের সময় তারেক দুষ্টুমি করে তার হাতে পেঁচানো মালাটি আমার সামনেই তার মেঝো ভাইয়ের শালীকে পড়িয়ে দিলেন।
আমি তার এমন কান্ড দেখে কিছু বলতে পারলাম না।
তবে তার বিয়ান এর জামাই বলে উঠলেন,সীমা সবার সামনে তোমার বর আমার বৌয়ের গলায় মালা দিয়েছে এখন তুমি আমার গলায় মালা দিবে।
না হলে তুমি আমি এদের কাছে ছোট হয়ে যাব।
আমি তার কথা শুনে সত্যি করে তাকে মালা পড়িয়ে দেই।
তা দেখে ঘরে থাকা সবাই হইহুল্লোড় করে উঠেন।
সবশেষে আসে সবচেয়ে কষ্টের মূহুর্ত।
যা সব মেয়েদের বাবা মা&#039;কে কাঁদিয়ে ছাড়ে।
মানে বিদায় এর পালা।
আমার বেলায় ও তা ব্যতিক্রম হয়নি।
বিদায়ের সময় মা বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বেহুঁশ হবার মতো অবস্থা হয়েছিল আমার।
আমার বাবা তো আমাকে বুকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন।
মা বারবার আমাকে ঝাপ্টে ধরে কপালে, গালে চুমু দিচ্ছে আর কাঁদছেন।
আমার বড় ভাসুর তা দেখে মা বাবাকে স্বান্তনা দিলেন।
বুঝিয়ে শুনিয়ে আমাকে হাসি খুশি বিদায় দিতে বলেন।
আমার মনের মধ্যে একদিকে মা বাবাকে ছেড়ে আসার কষ্ট অন্যদিকে গতকাল রাতের তারেক এর আচরণের কারণে অভিমান।
সেদিন বিদায়ের পর আমাকে যখন গাড়িতে উঠানো হয় তারেক সাথে সাথে গাড়িতে বসে লোক চক্ষুর আড়ালে আমাকে হালকা করে জড়িয়ে আমার গালে তার  ওষ্ঠ ছুঁয়ে দিলেন।
তারপর আমার কাছে থেকে সরে বসলেন।
মুহূর্তের মধ্যেই আমার সব অভিমান পানি হয়ে গেল।
পবিত্র সম্পর্কগুলো বোধহয় এমনেই।

আমাদের বাড়িতে থেকে তারেক এর বাড়ি যেতে দুরত্ব গাড়িতে  মাত্র ১০ মিনিট।
সেজন্য আসতে সময় লাগেনি।
তারেক এর বাড়িতে এসে দেখি আমার জন্য বাসর সাজানো হয়েছে।
আমাকে প্রথমে সেখানে না নিয়ে সামনের বারান্দায় বসিয়ে রাখেন কয়েক ঘণ্টা।
আসে পাশের সবাই আমাকে দেখতে আসছেন।
সবার দেখাদেখি শেষ হলে আমাকে বাসর ঘরে দিয়ে আসেন।
তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে বাসর রাতে তিনি  নাক ডেকে ঘুমিয়েছে আমি জেগে জেগে গল্প শুনেছি।
তাও যে সেই গল্প নয় বরের গল্প।
 বিয়ান এবং তার বরের কাছে থেকে তারেক এর জীবনের সব গল্প শুনলাম।
এরমধ্যে তার প্রেম ভালোবাসার মানুষের কথাও শোনা হয়ে গেছে।
সেদিন রাত একটা পর্যন্ত তারা আমার সাথে  গল্প করেন আর আমার বর আমার পাশেই ফুলের বিছানায় গভীর ঘুমে রয়েছে।
আমি সেদিন এটাও জানতে পারলাম তারেক অনেক রাগী।
 তারা দুজন দুঃখ প্রকাশ করলেন গতকাল আমার সাথে তারেক খারাপ আচরণ করায়।
সেদিন থেকে আমি বুঝতে পারলাম তারেক এর মনটা ভালো হলেও সে মানুষটা ভীষণ বদরাগি

অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিন আমরা ঢাকা এসে পড়ি।
পহেলা জানুয়ারি থেকে শুরু হয় তারেক এর সাথে আমার নতুন জীবনের পথ চলা।
  দিন, সপ্তাহ মাসের পর মাস চলে গেছে এই সংসারে এসেছি।
সব বদলে গেছে তবে বদলায়নি শুধু একজন।
সম্পর্কের বয়স হতে থাকে আমি আস্ত আস্তে তাকে খেয়াল করে বুঝতে পারলাম তারেক অন্য রকম।
 ছোট খাটো বিষয়ে আমার উপরে রেগে যায়।
তার রাগ এতটাই ভয়াবহ যে আসেপাশের কে আছে বা সে কোথায় তা কখনো ভাবতেন না।
দেখা যেত আমার একটা ভুল হলে সবার সামনেই আমাকে বকা দিচ্ছেন।
 কিন্তু তারপর চার দেয়ালের মধ্যে ঠিকই আমাকে আদর করে কাছে টেনে নিচ্ছে।
তবে কখনো নিজের আচরণের জন্য সরি বলতেন না বরং আমার পছন্দের কিছু নিয়ে এসে আমাকে দিতেন।
 তার এমন আচরন আমাকে কষ্ট দিতো।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ছিল আমাকে তিনি তেমন পছন্দ করতেন না।
তার পছন্দের তালিকায় ছিলেন শ্যামলাবতী দের  ভীর।
এতদিনে আমার জানা হয়ে গেছে তার জীবনে প্রেম এসেছিল একবার  দুই বার নয়।
তিন তিন বার।
তার প্রেমিকারা সবাই ছিলেন শ্যামবর্ণের ।
আর তাদের বাড়ি তারেকদের আসে পাশেই। 
তার মা ও মেঝো ভাবীর অপছন্দের তালিকায় ছিলেন তার প্রেমিকারা।
সেজন্যই সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি ও আরেকটি কথা দুজনের বিয়ে হয়ে গেছে আরেকজন এখনো অবিবাহিত ‌
একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে,  আমি যখন তারেক এর সাথে গ্রামে যেতাম বেড়াতে।
তখন সে আমাকে নিয়ে তার এক প্রতিবেশী ছোট ভাইয়ের বাসায় নিয়ে যেতেন।
তবে তাদের পাশে থাকা বাড়ির মানুষের সাথে কথা বললেও কখনো নিয়ে যেতেন না।
ওখানে এক ভাবী ছিলেন আমাকে দেখলেই,ফাইট্টা যায় ফাইট্টা যায়।
আমার বাড়ির সামনে দিয়া বন্ধু যখন বৌ লইয়া হাইট্টা যায়।
আমার বুকটা ফাইট্টা ফাইট্টা যায় বলে গান গাইতেন তবুও এই দুই লাইন।
তার গান শুনে একটা মেয়ে ঘরে চলে যেত তখন গানের মানে বুঝতে না পারলেও ধীরে ধীরে বুঝতে পারি গানটি কেন গাওয়া হয়।
তার পর থেকে আমি ওদিকে কম যাওয়ার চেষ্টা করতাম।
এভাবেই চলছিল কিছুদিন।
বিয়ের কয়েক মাস পর কনসিভ করাতে আমি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ি।
তবুও সব সময় সতর্ক থাকতে হতো  তারেকের রাগী স্বভাবের জন্য।
কারণ সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা,বাসা পরিপাটি রাখা পছন্দ করতেন।
এবং খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে ছিলেন সচেতন।
রান্না মজা না হলে মুখের উপর বলে দিবে এটা এমন হয়েছে কেন?
তাছাড়া সবকিছু পারফেক্ট চাই তার যা আমার জন্য মাঝে মাঝে কষ্টের কারণ হয়ে যেত।
সংসারের ঝামেলা , খাবারের অরুচি সব মিলিয়ে আমার জান  যায় যায় অবস্থা।
তবে কনসিভ করার পর একটা বিষয় খেয়াল করি প্রতি মাসে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিতে ভুলতেন না তিনি।
তবে যখন আমার ছয় মাস চলছিল , পায়ে পানি এসে পরে, রাতে ঘুম হতো না শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিন্তু তারেক আমাকে পাশে শুয়ে নিশ্চিন্তে  গভীর ঘুমে  থাকতেন  তখন খুব খারাপ লাগতো।
আমার জন্য সব সময় খাবার দাবার এনে ফ্রিজ ভরে রাখতেন কিন্তু আমি খেতে না চাইলে কখনো আদর করে খাওয়াতেন না।
বরং বকা দিয়ে খাওয়াতেন।
মানুষটা আমার থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর।
এভাবে কেটে যাচ্ছে আমার দিনগুলো।
আমি যখন এসব ভাবছি সে সময়ে হঠাৎ আমার পুতুলটা কেঁদে ওঠে।
আমি দীর্ঘ অতীত কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরলাম।
পুতুলটা ঘুম থেকে উঠে গেছে  আমি মেয়েকে বুকের মধ্যে নিতেই সে নিজের খাবার বুঝে নিতে ব্যাস্ত।

 #চলবে
বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/82007/</link>
				<pubDate>Fri, 24 Dec 2021 17:00:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ২০</p>
<p>সবাই আমার রান্নার প্রশংসা করলেও আমি নিজের রান্না খেয়ে বুঝতে পারলাম আমার রান্না মায়ের ধারের কাছেও ঘেঁষেনী।<br />
সেদিন ক্লান্ত থাকায় রাতে মায়ের সাথে আর কথা বলিনি।<br />
 সুমনা খুব কান্নাকাটি করেছিলেন কারণ সে চায়নি তার একমাত্র মেয়ে এভাবে শ্বশুড় বাড়ি যাব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-82007"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/82007/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b0ec0335ceae8fe61733eed2e7b27da6</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১৯

এই সীমা তোর ফোন এসেছে নে ধর।
আসসালামু আলাইকুম,হ্যালো।
রাখ তোর হ্যালো ,ফুটানি মারাও?
ছোট লোকের গোষ্ঠী কোথাকার,
এই শীতের মধ্যে আমি গেঞ্জি পড়ে দাড়িয়ে থাকব,আর তুমি রঙ ঢঙ করে ভিডিও করবে?
রিফাত ছাড়া আর লোক ছিল না যে ওকেই লাগবে!
তোমাদের সমস্যা কি হ্যাঁ?
অসভ্য....
আরও অনেক খারাপ খারাপ কথা বলছিলেন,
আমার সেই মুহূর্তে বিশ্বাস হচ্ছিল না যে তিনি এসব কথা বলছেন।
বা তিনি এভাবে আদৌও কথা বলতে পারেন,
বরের এই রূপের সাথে আমি পরিচিত না।
তার কথাগুলো আমার হৃদয় চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিচ্ছিল,আমার দু&#039;চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে।
আজ প্রথম কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে কিন্তু কাউকে দেখাতে পারছিলাম না।

এই তিন মাস দশ দিনের মত সময় ধরে বরের  এতো কাছাকাছি থেকেও কখনো বুঝতে পারিনি তিনি এভাবে কথা বলতে পারেন।
সরকারি ভাবে রেজিস্ট্রি করার এক মাস পর
তার সাথে আবার ধর্মীয়ভাবে কবুল বলে বিয়ে হয়েছে।
তাও তিন মাস আগে,
এই তিন  বরের সাথে কাটানো সময়গুলো ছিল স্বপ্নের মত।
 একটু একটু করে নতুন জগৎ এ পদার্পণ করছিলাম,
সে সময়ে আমাকে আবিষ্কার করতে ব্যস্ত তিনি।
আমাদের প্রথম কাছাকাছি আসার পর আমি একটু অসুস্থ হয়ে পড়ি।
সে সময়গুলো এই মানুষটা দক্ষতার ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন।
আমার সুস্থির জন্য,
নিজেকে আমার সান্নিধ্যে থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন।
আমার প্রতি তার এই আদর যত্ন আমাকে বিমোহিত করছিল,
বর সাহেব আমার ভালো লাগা মন্দ লাগা বোঝার চেষ্টা করতেন।
অফিস ছুটি হলে কখনো ডিনার করতে বা শপিং নিয়ে যেতেন।
আমি ঢাকায় বড় হলেও সব সময় ঘরবন্দি থাকার কারণে আমার আসেপাশের মার্কেট বা রেস্টুরেন্ট কখনো চেনা হয়নি।
তাছাড়া ঈদ বা যে কোন অনুষ্ঠানে আমার জন্য জামা কাপড় মা কিনে এনেছেন।
মায়ের পছন্দ করে আনা যে কোন জিনিস  আমার অতি প্রিয় ছিল।
শহরে বেড়ে উঠা হলেও স্কুল এবং তার আসেপাশে রাস্তা ছাড়া বাহিরের জগৎ ছিল আমার জন্য সম্পূর্ণ অপরিচিত।
তারেক আমাকে একটু একটু করে বাহিরের জগৎ এর সাথে পরিচয় করিয়েছেন।
তার সাথে প্রথম যখন বসুন্ধরা সিটিতে গেলাম আমি এস্ক্যালেটার উঠতে পারছিলাম না।
আমার ভয় করছিল।
(এস্ক্যালেটার মানে চলমান  সিঁড়ি)
তারেক সেটা বুঝতে পেরে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে হাত ধরে এস্ক্যালেটার এ দাঁড়ায়।
এছাড়া  আমাদের বাড়িতে আসলে এবং ফোন করে আমার ভালো মন্দের খোঁজ খবর নিতেন।
একসাথে থাকলে আমাকে ছাড়া নাস্তা হোক বা লাঞ্চ তিনি করতেন না।
তার এমন ব্যাবহার আমাকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে দিনদিন আমার হৃদয়ে তার প্রতি ভালোবাসা  বেড়েছে বহুগুণ।
শুধু তার জন্যই কবুলের পর আমি গ্রামে থাকিনি  বই পত্র নিয়ে শহরে এসে পড়ি।
কারণ তার কথা হচ্ছে সে শহরে থেকে ইচ্ছে করলেই গ্রামে যেতে পারবে না আমার সাথে দেখা করতে।
অফিস ছুটি তো সব সময় হয় না।
বিয়ের পর আমাকে রেখে আলাদা থাকতে তার কষ্ট হচ্ছে।
আমার মা তাকে আমাদের বাসায় আসতে ও বেড়াতে বললেও সে আসতে চায় না, এলেও থাকেন না আমি ওখানে নেয় বলে।
আমি এলে সে ওখানে বেড়াত।
এছাড়া আমি শহরে আমাদের বাসায় এলে তার সাথে সময় কাটাতে পারতাম।
এমনকি সংসার জীবন শুরু করার আগে একজন অপরজনকে জানার সুযোগ পাওয়া যেত।
তার এসব কথায় বিমোহিত হয়ে আমি বই খাতা নিয়ে শহরে এসে পড়লাম।
শহরে আসার পর আমাদের দিনগুলি বেশ ভালো কাটছিল।
এরমধ্যে দেশে গিয়ে নবম শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে আসি।
পরীক্ষা শেষে ঢাকায় এলে শুরু হয় রোজা।
ছোট থেকে রোজা রাখতে আমার খুব ভালো লাগে।
সবচেয়ে বেশি পছন্দ রোজার দিনে ইফতারের সময় মায়ের হাতের পিঁয়াজু, আলুর চপ,ডিমের চপ,বেগুনি, পেঁপে নি ও ছোলা বুট।
আমার মায়ের রান্নার হাত ছিল ভীষণ ভালো।
এবার রোজায় মায়ের হুকুম তার একমাত্র মেয়ের জামাইকে আমাদের সাথে ইফতার করতে হবে।
তাছাড়া আমার মায়ের কথা ছিল তার মেয়ের জামাই যেহেতু ঢাকা একা থাকে তাই আমাকে উঠিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে যেন আমি আমাদের বাসায় আসতে বলি।
আমার বর মানে তারেক সাহেব শ্বাশুড়ির প্রস্তাবে বাক বাকুম অবস্থা।
তিনি শ্বাশুড়ির কথা শুনে সপ্তাহে  তিন চার দিন  আমাদের বাসায় আসতেন।
আর আমাকে ইনিয়ে বিনিয়ে বুঝাতেন আমাকে ছাড়া তার একা থাকতে কতটা কষ্ট হয়।
তারেক যখনই আমাদের বাসায় আসতেন  অনেক ফলমূল, মিষ্টি, কখনো মাছ, মুরগি আরও অনেক কিছু নিয়ে আসতেন।
মা  নিষেধ করলেও তিনি শুনতেন না। 
রোজার সময়ে গুলো মনে হচ্ছিল খুব দ্রুত চলে যাচ্ছিল।
আমার শ্বশুড়,শাশুড়ির এবং শ্বশুর বাড়ির সকলেই গ্রামে থাকতেন শুধু তারেক ছাড়া।
সেজন্য রোজার মধ্যে দুইবার বাড়িতে থেকে তারেক একাই ঘুরে এসেছিলেন।
তারমধ্যে একদিন মার্কেট নিয়ে  আমাকে ঈদের মার্কেট করে দিয়েছে, দেশের জন্য, রিয়ার জন্যও কিনেন।
আমার বাবাও তাকে ছয় হাজার টাকা দেন ঈদের জামাকাপড় কিনতে।
এবং আমার শ্বশুড়ি ও শ্বশুরের জন্য জামা কাপড় কিনেন।
 মা বাবার ইচ্ছে ছিল এবার আমি তাদের  সাথে ঢাকায় ঈদ করব।
কারণ এরপর তো এমন সুযোগ নাও হতে পারে।

মায়ের ইচ্ছের কথাটা আমি ওনাকে   বলি ।
তারেক তখন কিছু বলেননি।
তবে ঈদের পাঁচদিন আগে সে মাকে অনুরোধ করেন আমাকে তার সাথে যেতে দিতে।
কারণ তার নাকি একা একা ঈদ করতে ভালো লাগবে না।
মা তাকে বলেন, তুমি তো তোমাদের বাড়িতে ঈদ করবে।
ও থাকবে ওর চাচার ওখানে।
এমনিতেও তো একসাথে ঈদ করতে পারবে না।
তার থেকে ও আমাদের সাথে থাকুক।
তারেক মা&#039;কে বলেন,সে ঈদের দিন বিকালে আমাদের বাড়িতে এসে পড়বে।
তবুও সে একা যাবে না, তার কথা বিয়ের পর বৌ ছাড়া ঈদ নাকি পানসে হয়।
তারা আমাকে যেন তারেক এর সাথে যেতে দেন
কিন্তু মা আমাকে মনে মনে যেতে দিতে চাচ্ছিল না ।
মায়ের কথা হচ্ছে এবারের ঈদের পর থেকে তো আল্লাহ্ সুস্থ্য রাখলে তার মেয়ে সব ঈদ  স্বামীর সাথেই থাকবে আর আমাকে যেহেতু এখনও উঠিয়ে নেওয়া হয়নি তাই মা আরো যেতে দিতে চাচ্ছে না।
কিন্তু আমার বর বারবার মা বাবাকে অনুরোধ করছিল। তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল,সে যেহেতু একবার বলেছে আমাকে সাথে নিবে তো  এর নড়চড় হবে না।
মা&#039;কে অনুরোধ করাত মা শেষ পর্যন্ত নিষেধ করতে পারেনি।
তবে বাবার কথা হচ্ছে আমাকে নিতে চাচ্ছে ভালো কথা কিন্তু তাদের বাড়িতে নিতে পারবে না।
আমি দেশে আমাদের বাড়িতে চাচা চাচীর কাছেই থাকবো।
সে ওখানে এসেই যেনো আমার সাথে দেখা করে।
আমার বর সে কথায় রাজিও হয়ে যায়।
ঈদের পাঁচ দিন আগে আমি ওর সাথে দেশে আসি ।
ও আমাকে আমাদের বাড়িতে দিয়ে চাচা চাচীর কাছে থেকে বিদায় নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে যায়।
তার পরের দিন রাতে আমার সাথে দেখা করতে আসলে চাচা চাচী তাকে রেখে দিলেন।
পরের দিন সকালে উঠেই বর মশাই নিজের বাড়িতে চলে গেলেন।
আবার এলেন ঈদের দুইদিন আগে।
সেদিন রাত থেকে পরের দিন সকালে  আমাকে তার সাথে নিতে চাচ্ছেন তাদের বাড়িতে।
আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না!
এদিকে চাচা চাচী বাবার
ভয়ে
  রাজি হচ্ছিল না তাই আমার বর তাদের বলল, এখন নিয়ে যাবে বিকালে এসে আমাকে দিয়ে যাবেন।
আমি তখন অসহায়ের মত চাচা চাচীর দিকে তাকিয়ে আছি।
কিন্তু তারা আমার বরের কথা শুনে আর বাঁধা দেয়নি।
কারণ ইচ্ছে করলেও অনেক সময় কিছু করা যায় না,
সেদিন তিনি আমাকে তাদের ওখানে নিয়ে গেলেন।
নতুনদের ভীরে আমার তখন ভয়ে   জান যায় অবস্থা।
ওদিকে এই বাড়িতে আমাকে নিয়ে সবাই যখন আনন্দে মেতে উঠেছে ঠিক সে সময় খবর এলো আমার বড় ননাশের মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোক আসছে নারায়ণগঞ্জ থেকে।
মূহুর্তে মধ্যে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল  বড় লোক মানুষ তারা।
তাদের তো য্যান ত্যান  আপ্যায়ন করা  যাবে না।
আমার তিনি চলে গেলেন বাজার করতে।
আমি সবার ব্যস্ততা দেখছি আর কষ্ট পাচ্ছি সবাই কত কাজ করছে সেজন্য।
কিছুক্ষণ পর যা শুনলাম তাতে এখন নিজের কাছে নিজেকেই অসহায় লাগছিল।
কারণ সবার কথা হচ্ছে আজকে সবকিছু আমাকে রান্না করতে হবে ।
তখন সবার কথা শুনে আমার মনে হচ্ছে, আমি আকাশ থেকে ধপাস করে মাটিতে পরলাম।
কারণ ছোট বেলা থেকেই দুই ভাইয়ের এক বোন হওয়াতে আদরেই ছিলাম,মা, ভাইয়েরা মুখে তুলে খাওয়াতেন।
কখনো নিজে থেকে এক গ্লাস পানি নিয়েও খেতে হয়নি।
তারপর বাসায় কাজের লোক ছিল তারা আমার কাপড চোপড়় পর্যন্ত ধুয়ে দিতেন।
এমনকি গ্রামে আসার পরও কখনো আমাকে দিয়ে চাচী রান্না করাননি।
আর সেই আমি কিনা রান্না করবো সবাই এটা কি বলছে?
সবার  কথা শুনে আমি কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে তারপর আমার শ্বাশুড়ি ও বড় জাল কে এনিয়ে বিনিয়ে বললাম আমি রান্না করতে পারি না।
কিন্তু কেউ আমার কথা বিশ্বাস করলেন না।
আমার বড় জাল রেবা খালা আগে থেকেই আমাদের আত্মীয়।
তিনি সবার মধ্যে বলে উঠলেন, তোমাদের বাড়ির  দাদু এবং মা ,চাচীদের রান্নার সুনাম আছে পুরো গ্রাম জুড়ে।
তাদের হাতের রান্না একবার যারা খায় তারা আবার খেতে চায়।
তুমি সে বাড়ির মেয়ে হয়ে রান্না করতে পার না।
তা বললেই তো আমরা সবাই বিশ্বাস করবো না।
তোমাকে আজকে রান্না তো করতেই হবে।
কারণ সবাইকে তো দেখাতে হবে আমি তোমাকে এমনি এমনি পছন্দ করিনি।
তার কথা শুনে হঠাৎ রাগ উঠে গেল।
তবুও তা চেপে গেলাম।
আর মনে মনে বরেকে ইচ্ছে মত বকে যাচ্ছি বুইড়া ব্যাটা আমাকে ঢাকা থেকে ফুঁসলিয়ে দেশে এনে এখন ফাঁসিয়ে দিচ্ছে।
আর নিজে দূরে দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছে।
বরকে বকা শেষে রান্না করতে গিয়ে আমার জন্য আরেকটি চমক অপেক্ষা করছিল।
তাহলো আমি ছোট থেকে মাকে গ্যাসের চুলাতেই রান্না করতে দেখছি।
আর চাচী মাটির চুলায়  কত কষ্ট করে রান্না করতেন।
কিন্তু  মাটির চুলায় ‌নাকি আমাকে রান্না করতে হবে।
সেদিন আমার কান্না পাচ্ছিল।
কিন্তু আমি নতুন বৌ ইচ্ছে হলেই সব কিছু করতে পারব না।
তাই রান্না‌ করতে বসে খেলাম।
রান্না করার আগে মা&#039;কে ফোন করে জিজ্ঞেস করে নিয়েছি রোস্ট , পোলাও ,মাছ কিভাবে রান্না করতে হয়।
মা আমাকে রেসিপি বলছেন আর কাঁদছেন।
কারণ তিনি ভাবতে পারেনি তার মেয়ের জামাই আমাকে এভাবে নিয়ে আসবে।
মায়ের কাঁদার আওয়াজ শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল।
তবুও বাবা মায়ের সম্মান বাঁচাতে রান্নায় মনোযোগ দিলাম।
রান্না নামক যুদ্দ করতে করতে আমার বিকাল চারটা বেজে যায়।
যুদ্দ বললাম কারন রান্না করতে গিয়ে হাতের দুই তিন জায়গায় আগুনের সেঁকা লেগে ঠোস পড়ে গেছে।
কয়েক জায়গায় কেটে গেছে।
তবুও রান্না শেষ করতে পেরেছি এটাই ভালো।
তবে সেদিন মেহমান দেরিতে এসেছে তাই রান্না দেরিতে হওয়ার জন্য সমস্যা হয়নি।
রান্নার কথা না বললেই নয়, রোষ্ট বেশি ভেজেছি তাই একটু শক্ত হয়ে গেছে।
পোলাওয়ে পানি কম দিয়েছি তাই সেটা একটু শক্ত হয়ে গেছে।
বেগুন ভাজা,ইলিশ ভুনা, চিংড়ির দোপেঁয়াজা ,রুই মাছের কারি ও ডিম কোর্মা মোটামুটি ঠিকঠাক ছিল।
সবাই খেয়ে ভালো বলেছে ।
কিন্তু আমি খেয়ে বুঝতে পারলাম আমার রান্না মায়ের ধারের কাছেও ঘেঁষেণি।

 #চলবে
বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।

আগের পর্বের লিংক</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/67376/</link>
				<pubDate>Wed, 01 Dec 2021 18:47:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ১৯</p>
<p>এই সীমা তোর ফোন এসেছে নে ধর।<br />
আসসালামু আলাইকুম,হ্যালো।<br />
রাখ তোর হ্যালো ,ফুটানি মারাও?<br />
ছোট লোকের গোষ্ঠী কোথাকার,<br />
এই শীতের মধ্যে আমি গেঞ্জি পড়ে দাড়িয়ে থাকব,আর তুমি রঙ ঢঙ করে ভিডিও করবে?<br />
রিফাত ছাড়া আর লোক ছিল না যে ওকেই লাগবে!<br />
তোমা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-67376"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/67376/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>13</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8c55ef61ae5454952692db9c1267c92c</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১৮
আমার দুই দুলাভাই ব্যস্ত তাদের নতুন ভায়রা ভাইকে সমাদার করতে।
সেদিন আংটি বদল করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে সিদ্ধান্ত বদলে গেছে।
আংটি বদল নয় বরং আজ আমার বিয়ে হবে।
 তবে সম্পূর্ণ বিয়ে না অর্ধেক বিয়ে।
অর্ধেক বলছি তার কারণ  আজকে আংটি বদল হওয়ার কথা ছিল সেজন্য সকাল বেলা থেকেই রান্নার তোরজোর শুরু হয়েছে।
তাছাড়া আংটি বদল উপলক্ষে আমাদের এবং পাত্রের বাড়ি মিলে লোকসংখ্যা  প্রায় ৬০+ হবে।
এছাড়া আমাদের বাড়িতে যে কোনো ছোট খাটো অনুষ্ঠানেও  লোকজন বেশি হয়ে যায়।
সেখানে আমার আংটি বদল লোকতো হবেই
এছাড়া পাত্রের বাড়িতে থেকে আসবে ২৫ জনের মতো।
সব মিলিয়ে আমাদের বাড়িতে একটা জমজমাট অবস্থা।
তাদের তোরজোর দেখে আমার মনের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সামনে কি হবে তা ভেবে ভয় করছে।
ইচ্ছে করছে মায়ের কোলে মাথা রেখে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকতে।
কারণ মায়ের কোলে মাথা রাখলে আমার সকল ভয় ছুঁমন্তর হয়ে যায়।
তবে মায়ের আজ সময় কোথায়?
মা&#039;কে তো সব দিক দেখতে হচ্ছে সেজন্য আমর কাছে এসে বসতে পারছে না। রিয়া আমার পিছনে ঘুরঘুর করে গোসল করতে বলছে।
আমি ওর কথায় তেমন একটা পাত্তা দেয়নি।
সাব্বিরে  মা সকাল থেকে সবকিছু ঠিক আছে কিনা  তা দেখছিলেন,
কিন্তু  এরমধ্যেই সে হঠাৎ করে কাঁদতে  ঘরের ভেতর চলে যান।
এদিকে সাব্বিরের বাবা একটা কাজে ঘরে ঢুকেছিল স্ত্রীকে কাঁদতে দেখে বললেন,এই সাব্বিরের মা কি হয়েছে?
এতক্ষণ তো সব ঠিকই ছিল হঠাৎ করে তোমার কি হয়েছে?
মা আমার বাবার কথা শুনে বললেন, আপনি রিয়ার খালাকে ফোন করে আসতে নিষেধ করুন।
এখানে আমার মেয়েকে বিয়ে দিবো না।
বাবা আমার মায়ের কথা শুনে বললেন, কী?
সকালেও তো তুমি রাজি ছিলে হঠাৎ করে কি হয়েছে?
কেন বিয়ে দিবে না?
আমি এতকিছু বলতে পারব না বিয়ে হবে না এটাই মূল কথা।
সাব্বিরের মা পাগল হলে !সমস্যা কি তা তো বলবে?
তাছাড়া কাঁদার  মত কি হয়েছে?
 তাছাড়া আজ তো বিয়ে হচ্ছে না শুধু আংটি বদল হবে
কান্নাকাটি বন্ধ কর।
আপনি যাই বলুন না কেন এখানে সীমার বিয়ে দিব না।
যে ছেলে হিরোইন এবং  চোরাচালান এর ব্যাবসা করে তার সাথে আমার একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়ে তার জীবন নষ্ট করতে চায় না।
আমার বাবা সেদিন মায়ের কথা শুনে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন আসলে কী হয়েছে!
বাবা কিছুক্ষণ চুপ করে মা&#039;কে বলেন, এই সব কথা তুমি জানলে কোথায় থেকে?
সাব্বিরের বাবা আশ্চর্য কথা বলছেন তো আপনি? ছেলেটা খারাপ তা শুনেও কেন তাদের আসতে নিষেধ করছেন না?
উল্টো আমাকে জেরা করছেন।
আমি জানলাম কিভাবে!
 স্ত্রীর কথা  শুনে শাহেদ বেপারি বললেন, উল্টাপাল্টা কথা না বলে যা বলছি তার উত্তর দাও।

সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে  বলেন ,আপনার চাচাতো ভাইয়ের বৌ বলেছেন।
তাকে নাকি তার পরিচিত একজন বলেছেন।
বাবা কথাগুলো শুনে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলেন, সাব্বিরের মা মেঝো ভাবীর সাথে তোমার ছোট ভাইয়ের শ্বাশুড়ির বড় ভাব রয়েছে সেটা তো জানোই?
সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে বললেন, তাতে কী হয়েছে?
শাহেদ বেপারি বলেন,কি হয়েছে বুঝতে পারছো না,
এই গ্রামে আমার মেয়ের বিয়ে ভাঙ্গার সাহস কেউ করবে না।
শুধু একজন ছাড়া সে হচ্ছে তোমার ভাইয়ের শ্বাশুড়ি।
কারণ সে আমাদের আত্মীয়  এবং প্রতিবেশী হলেও আমাদের ভালো থাকাটা সে কখনো সহ্য করতে পারে না।
 তাই আমার মনে হচ্ছে আমাদের মেয়ের বিয়ে ভাঙতে তিনিই ভাবীকে এই কথা বলেছেন।
যাতে মেঝো ভাবী এসে আমাদের বলেন।
কারণ ছেলে খারাপ হলে তা আমার কানে এতদিন এসে যেতো।
আর তুমি চিন্তা করো না, আজকে তারা আসুক দরকার হলে খাওয়া দাওয়া করে চলে যেতে বলব,আমি এই বিষয়ে খোঁজ না নিয়ে মেয়েকে ওখানে দিব না।
সুমনা তার স্বামীর কথা শুনে কিছুটা শান্ত হলেও মনের মধ্যে তার খুঁত খুঁত থেকে যায়।
এদিকে রেবা  পাত্রকে রেখে আগেই এসে পরেন।
শাহেদ বেপারি রেবাকে  সবসময় নাম ধরে ডাকতেন ভাইয়ের শালী হলেও বয়সে বেশ ছোট হওয়াতে।
সেদিন রেবাকে দেখে শাহেদ বললেন, রেবা তুমি হচ্ছো এই বিয়ের মেইন তোমার তো গতকাল থেকে আমাদের এখানে থাকা উচিত ছিল।
সে মুচকি হেসে শাহেদ বেপারিকে বলেন, গতকাল আসিনি তো কি হয়েছে আজকে তো আগেই এসে গেছি।
তিনি শাহেদ বেপারির সাথে আরও কিছুক্ষণ গল্প করেন।
গল্পের মধ্যে রেবা  তার বোনকে বলতে লাগলেন,আপা একটা কান্ড ঘটে গেছে, ওখানে একজন আমার দেবরকে ও স্বামীকে বলেছেন সীমা একটা ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়েছিল।
ছেলেটা ওকে কিছুদিন নিজের কাছে রেখে ছেড়ে দিয়েছে ।
সেজন্যই ওকে শহর থেকে গ্রামের স্কুলে ভর্তি করেছে।
 আমার কথাটা শুনার পর থেকে  অস্থির লাগছিল সেজন্য তোমাদের এখানে আগে এসে পড়লাম।
রেবা যখন কথাগুলো বলছিলেন সেখানে সীমার চাচী ছাড়াও তার আপারা, দুলাভাইয়েরা এবং তার মা বাবাও উপস্থিত ছিলেন।
রেবার কথা শুনে কিছুক্ষণের জন্য সকলে থমকে গেছে।
তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না সীমা সম্পর্কে কেউ এমন কিছু বলতে পারেন।
মানুষ কতটা নিচে নামলে একটা মেয়ের নামে মিথ্যা বদনাম উঠাতে পারে।
সুমনা ভাবছে তার  মেয়েটা তাদের সম্মানের কথা চিন্তা করে গ্রামে কষ্ট করে থাকছে।
আর মানুষ কিনা তার মেয়েকে নিয়ে উল্টোপাল্টা কথা বলেছে।
সুমনা কষ্ট হচ্ছে মানুষের এসব কথা শুনে।
রেবার কথা শুনে তার বড় দুলাভাই বলেন,কার এতো সাহস আমার ভাতিজির নামে উল্টাপাল্টা কথা ছড়ায়?
তাকে জুতা মেরে গাল লাল করে দিব।
এরমধ্যে সীমার বড় দুলাভাই  বলে উঠেন,খালা এসব মিথ্যা কথা কে বলছে?
তার নাম ঠিকানা বলুন।
সীমাকে চোখের সামনে বড় হতে দেখেছি।
ওর মতো লক্ষী মেয়ে আর দুই একটা  খুঁজে পাবেন কিনা সন্দেহ।
ওকে ছোট বোন ছাড়া  কখনো শালীর নজরে দেখিনি।
তার  সম্পর্কে এতবড় কথাটা কে বলল?
এরমধ্যে সীমার বড় চাচী তার বোনকে বলে উঠলেন,তুই কিছু বলিসনি?
তুই তো জানিস আমাদের মেয়ে কেমন?
রেবা  তার বোনের কথা শুনে বললেন, তোমাদের বোন জামাই লোকটার কথা শুনে বলেছে, মেয়ে যেহেতু একবার ভেগে কষ্ট পেয়ে ফিরে এসেছে তাই এখন আর আমার ভাইকে রেখে পালানোর সম্ভাবনা নেই।
তাছাড়া আপনি হয়তো ভুলে গেছেন মেয়ের বড় চাচা  আমার আপন ভায়রা ভাই।
তাই মার কাছে মাসীর প্যাঁচাল না বললেই ভালো হয়।
তার কথা শুনে লোকটি মুখ কালো করে চলে গেছে।
রেবার কথা শুনে শাহেদ বেপারি তার স্ত্রীকে ফিসফিসিয়ে বললেন,দেখছো আমি বলিনি আমাদের মেয়ের বিয়ে ভাঙতে এসব কথা ছড়াচ্ছে।
আমাদের কাছে বলেছে ছেলের দোষ আর ওদের কাছে আমার মেয়ের চরিত্র নিয়ে কথা বলছে।
সাব্বিরের মা কিছু মানুষ চাই আমার মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাক।
কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে তাদের মনের আসা পূরণ করতে দিব না।
সেদিন পাত্র এবং তার বাড়ির লোকজন এখানে আসার পর তাদের সাথে কথা বলে শাহেদ বেপারি সিদ্ধান্ত নিলেন আজকে এবং এই মুহূর্তেই তার মেয়ের বিয়ে হবে।
পরে সীমার এসএসসি পর অনুষ্ঠানে করে তুলে দিবেন।
যাতে আর কেউ বিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করতে না পারে।
এরমধ্যে সীমার হবু শ্বাশুড়ি বলে উঠলেন এই মাসে তার ছেলের জন্ম তাই এই মাসে  বিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
এবং তিনি এই মাসে বিয়ে করাতে নারাজ।
সীমার হবু শ্বশুড়ি আগের যুগের মানুষ ছিলেন বিধায় সে যা বিশ্বাস করতেন তাই করতেন।
এটা যে একটা কুসংস্কার তা বুঝার চেষ্টা করতেন না।
কিন্তু উপস্থিত সকলে ভাবছিল অন্য কথা।
তারা সিদ্ধান্ত নেন আমাদের বিয়ে তো হবে তবে সরকারি খাতায়।
আর ধর্মমতে বিয়ে হবে আগামী মাসে।
তাহলে সীমার হবু শ্বাশুড়ির কথাও রাখা হবে আর বিয়েও।
আর ধর্মমতে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত একে ওপরের জন্য হারাম।
সেজন্য ধর্মমতে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত একে অপরের থেকে দূরে থাকতে হবে।
বিয়েতে তাড়াহুড়ো করার কারণ আজকে বিয়ে না হলে পড়ে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
শাহেদ বেপারি সবাইকে খাওয়া দাওয়া করতে বলেন।
খাওয়া দাওয়া শেষে রেজিস্ট্রি হবে।

খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ হলে শুরু হয় আমার নতুন জীবনে প্রবেশ করার প্রক্রিয়া।
সেদিন ছিল ১৯.৮.২০০৩ ।
 রেজিস্ট্রি করে আমার বিয়ে হয়ে গেল।
একটু পড়ে তারা চলে যাবে সেজন্য সওড়া কাবিনের ডেট ঠিক করলেন আগামী মাসের ১৯ সেপ্টেম্বর।
ডেট  ঠিক হলে তারেকের বাড়ির মুরব্বিরা আমার হাতে আংটি পরিয়ে দেয়।
সবাই যে যার মত কথা বলছেন, তারেককে সীমার দুলাভাইয়েরা অন্য ঘরে নিয়ে বসান।
এদিকে আমার বোনেরা আমাকে নিয়ে তার সামনে মানে তারেক এর সামনে নিয়ে বসান।
আমি মাথা নিচু করে বসে ছিলাম।
সে হঠাৎ করে বলেন, এমন সঙ সেজে আছো কেন?
আমার মেকআপ পছন্দ না এখুনি ধুয়ে আসো।
তার কথা শুনে আমি থমকে যায়!
প্রথম দিনে এমন রুড আচরণ মানতে কষ্ট হচ্ছে।
মনের মধ্যে ভয় এসে দানা বাঁধছে।
তার কথা শুনে আমার বোনেরা তো বলেই ফেললো বিয়ের দিন সাজবে না তো কখন সাজবে?
এরমধ্যে বড় দুলাভাই হেঁসে বললেন,ভায়রা ভাই বিয়ে যেহেতু করেছেন  সাজ সহ্য না হলেও এখন থেকে সহ্য করা শেখতে হবে।
কারণ মেয়েরা সাজবে না তো আমরা সাজব?
সে দুলাভাই এর কথা শুনে কিছু বলেননি।

 কিন্তু তার কথা আমার ইগুতে লাগে আমি রিয়াকে ফিসফিসিয়ে বললাম, আমাকে ভিতরে নিয়ে চল।
দশ মিনিট পর মুখ দিয়ে তার সামনে এলে সে আমার সামনে দাঁড়িয়ে তার গলায় থাকা আড়াই ভরির মোটা চৈইনটা খুলে আমাকে পরিয়ে দিয়ে
বলেন, মুরুব্বীরা তোমাকে আংটি পড়িয়েছে আমার তো উচিত তোমাকে কিছু দেওয়া।
তাই এটা আমার তরফ থেকে।
রুমের সবাই তার এমন কান্ড দেখে হতভম্ব হয়ে যায়।
সেদিন আরও কিছুক্ষণ কথা বলে তারেক যাওয়ার আগে আমার হাতে এক হাজার টাকা এবং একটা কার্ড গুঁজে বলেন,এটা আমার কার্ড।
এখানে আমার মোবাইল নাম্বার রয়েছে, আমি আজকে ঢাকা চলে যাচ্ছি।
 তুমি প্রতিদিন বিকালে আমাকে এই নাম্বারে ফোন দিও।
কথাটা বলে সেদিন তিনি চলে যায়।
এরপর দিনগুলো যেন স্বপ্নের মতো কাটছিল।
আমাদের বাজারেই একমাত্র ফোনের দোকান।
ঢাকা ফোন করতে তখন প্রতি মিনিটে ১৫  টাকা করে কাটে।
হয়তো তা সে জানতো তাইতো সেদিন টাকা দিয়ে যান।
তবে আমি প্রথমে টাকা নিতে চায়নি কিন্তু সে জোর করে দিয়েছে।
প্রথম দিকে আমি তার সাথে ঠিকঠাক গুছিয়ে  কথা বলতে পারতাম লজ্জা করতো।
তবুও প্রতিদিন ফোন করতে হতো।
তার সাথে কথা বলার সময় আমার সাথে থাকতেন আমার মেঝো আপা এবং রিয়া।
মেঝো আপ আমাকে শিখিয়ে দিতেন কিভাবে কথা বলতে হবে।
কি বলতে হবে,
ও আরেকটি কথা একমাস পর কাবিন হবে সেজন্য মেঝো আপা ডাকা যায়নি।
তবে বড় আপা চলে গেছেন তার বাচ্চারা এতদিন দেশে থাকতে পারবে না সেজন্য।
 প্রতিদিন মেঝো আপাকে আমার  সাথে করে নিয়ে যেতাম ফোন করতে।
তবে এরমধ্যে একদিন আপা যায়নি
তারেক তো সেদিন  আমার কথা শুনে বলেই ফেলেন, তোমার মাষ্টার আজকে আসেনি তাই না?
আমি তার কথা শুনে লজ্জায় কুঁকড়ে যেতাম।
  এই এক মাসে আমাদের সম্পর্কটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এরমধ্যে  হঠাৎ করে তিনি এক শুক্রবার আমাদের বাড়িতে আসেন।
মা বাবা ঢাকায় থাকলেও চাচা চাচী তার সমাদারের ত্রুটি রাখেননি।
সেদিনও আপা আমাদেরকে একা কথা বলতে সুযোগ করে দেয়।
চাচী প্রথমে রাজি হচ্ছিল না কারণ আমাদের এখনো কবুল বলে বিয়ে হয়নি সেজন্য।
কিন্তু আপা চাচীকে রাজি করায়।
সেদিন আমি তার সামনে বসে লজ্জায় কথা বলতে পারছিলাম না।
কিন্তু সে দিব্যি এটা ওটা জিজ্ঞেস করছিল।
আর আমাকে লজ্জা পেতে দেখে  মুচকি হাসছিল।
আপুর দেওয়া সময় শেষ হলে
 আমি  রুমে থেকে বের হতে যাচ্ছিলাম এরমধ্যে  তিনি পিছন থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার ঘাড়ে একটা  তার ওষ্ঠ ছুঁয়ে দিলেন।
 একদিকে তার প্রথম ছোঁয়ায় আমার ভিতরে শিহরণ খেলে গেল যায় ।
অন্যদিকে লজ্জায় ও ভয়ে আমি কাঁপতে থাকি।
সে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে তাড়াহুড়ো করে রুমে থেকে বের হয়ে যায়।
কিন্তু আমি বের হতে পারছিলাম না মনে হচ্ছিল আমার পা ওখানে জমে গেছে।
আমার সাথে কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণে মাথা শূন্য লাগছিল।
সেদিন পর থেকে ঘোরের মধ্যে ছিলাম কিছুদিন।
খেতে পারি না, পড়তে পারি না চোখের সামনে সেই দৃশ্য ভেসে বেড়ায়।
আমার বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না আমার কিশোরী  হৃদয়ের অনেকটাই দখল করে নিয়েছেন তারেক নামের লোকটা।

 #চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/61461/</link>
				<pubDate>Thu, 25 Nov 2021 09:41:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ১৮<br />
আমার দুই দুলাভাই ব্যস্ত তাদের নতুন ভায়রা ভাইকে সমাদার করতে।<br />
সেদিন আংটি বদল করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে সিদ্ধান্ত বদলে গেছে।<br />
আংটি বদল নয় বরং আজ আমার বিয়ে হবে।<br />
 তবে সম্পূর্ণ বিয়ে না অর্ধেক বিয়ে।<br />
অর্ধেক বলছি তার কারণ  আজকে আংটি বদল হওয়ার কথা ছিল স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-61461"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/61461/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">751a3823672b4ad45965533172c97b62</guid>
				<title>গল্পঃ কিশোরী বয়সের ভালোবাসা
লেখনীতেঃ মেহের মেহের সীমা।

১৭ পর্বের পরবর্তী অংশ

এই চুপ,বেয়াদব কোথাকার!
মামা কিসের?
এর আগে না তুই তাকে দেখেছিস আর না সে তোকে।
তাছাড়া ইসলামে তো কোথাও নেই যে চাচাতো বোনের খালার দেবরকে বিয়ে করা যাবে না!
নানু আমি যাচ্ছি না, আমাকে জোর করলে আমি কিন্তু ওখানে গিয়ে তাকে মামা ডাকব।
এতে আপনারা ছোট হবেন।
রিয়া আমার হাত ধরে রেখেছে যাতে আমি যেতে না পারি।
এই মেয়ে আমার সাথে এমন করবে ভাবতেই পারছি না।
আমার কথা শুনে নানু বলেন,ভুলেও এমন ভুল করিস না, তাহলে তোর বাপ চাচার কাছে বিচার যাবে।
কথাটা শুনে  থমকে গেলাম কারণ বাবা আমাকে ভালোবাসলেও আমার দ্বারা তার মাওয়মার অসম্মান মানবে না।
কারণ বাবা মুরব্বিদের অসম্মান সহ্য করতে পারেন না।
ভিতরে ভিতরে রিয়ার উপর মেজাজ খারাপ হচ্ছে।এই ফাজিল মেয়ে সব জানে।
আমাকে এজন্যেই সকাল থেকে ক্ষেপাচ্ছে আমি তা বুঝতে পারিনি।
আর  এখন বুদ্ধি করে এখানে এনেছে।
ঠিক আছে আমি মামা বলব না কিন্তু তাদের প্রতিটি কথার উত্তর হবে আমার স্টাইলে।
আমি ও  রিয়া নানু বাড়িতে গিয়ে টিভির রুমে বসেছিলাম।
সামনে ছবি চলছে সেদিকে আমার কোন খেয়াল নেই এর থেকে বেরিয়ে আসার বুদ্ধি ভাবছি।
এরমধ্যে নানুর ছোট মেয়ে রেবা খালা আমাকে ডেকে নিয়ে  একটা লোকের সামনে চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছে।
আমি নিচের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।
অবশ্য আমার সামনে একজন পুরুষের জুতা পড়ে পা নাচাচ্ছেন।
পুরুষ বললাম কারণ প্যান্ট আর বুট জুতো দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটা পুরুষের পা।
আমার বুঝতে সমস্যা হচ্ছে না সামনে বসে পা নাচাচ্ছেন যিনি সেই পাত্র।
আমি রাগে লোকটার দিকে তাকাচ্ছি না।
এরমধ্যে সামনে থাকা লোকটা বললেন, আপনার নাম কী?
আজব নাম না জেনেই দেখতে এসেছেন?
আমার কথা শুনে নানু পিছনে থেকে গুঁতা দিচ্ছে আমি সেদিকে নজর দিচ্ছি না।
লোকটা বললো,নাম জেনেই আসি বা না জেনে আসি সেটা ব্যাপার না।
আপনার মুখ থেকে নামটা শুনতে চাচ্ছিলাম।
তবে তার আগে আমার নামটা বলি, আমি তারেক রহমান।
আমরা তিন ভাই দুই বোন।
আমি সবার ছোট।
তা এবার তো নামটা বলুন?
আমি কাট কাট গলায় বললাম,সীমা।
তা কেমন আছেন সীমা?
আলহামদুলিল্লাহ।
তারেক বললেন,হম,তা আপনি রান্না বান্না পারেন তো?
ন আমি রাঁধতে পারি না, তবে খেতে ও ঘুমাতে পারি।
সে আমার কথা শুনে বলেন সমস্যা নেই আমি রান্না পারি আপনার রান্না করতে হবে না।
তা সীমা আপনার কি করতে ভালো লাগে?
মানুষের সাথে ঝগড়া করতে, আমি প্রচন্ড জেদি।
আমার রাগ উঠলে সব ভেঙেচুরে ফেলি।

হম, সমস্যা নেই আমি আবার রাগ করতেই জানি না।
আপনার রাগ উঠলে যা ভাঙতে ইচ্ছে করবে বলবেন এনে দিব।
আমার কথা শুনে তারেক এর মেঝো ভাবী বললেন, মেয়ে মানুষ হয়ে এমন চটাস চটাস করে কথা বলছো কেন?
তা মুখে যেমন ধার কাজে তো দেখি শূন্য।
যাই হোক একটু দাঁড়াও তো দেখি।
আচ্ছা তোমার কোমর সমান চুল তা কি আসল না কি নকল?
আমি তার কথা শুনে  রেগে পায়ের নখ দিয়ে মাটিতে আঁচড় কাটছি।
আর ইচ্ছে করে বাম পায়ের নখ বাঁকা করে রেখেছি যাতে দেখে বোঝা যায় আমার পায়ে সমস্যা।
তার কথা শুনে সেভাবে বসে রয়েছি এরমধ্যে রিয়া তারেক এর মেঝো ভাবীর কথা শুনে বললো, আমার বোনকে দেখতে এসেছেন।
কোন গরু ছাগল দেখতে আসেননি।
যে হেঁটে দেখাবে,চুল দেখাবে।
আর আপনার সুবিধার জন্য বলছি আমার বোন খোড়া নয় সে দাঁড়াতে এবং দৌড়াতে দুটোই পারে।
এবং  আমাদের বাড়িতে সবার থেকে ওর চুল সবচেয়ে বড়।
তবে আপনাদের দেখানোর দরকার মনে করছি না।
এরমধ্যে তারেক বললেন,আরে মাটিতে আঁচড় কাটতে গিয়ে তো নখ সহ আঙ্গুল ভেঙ্গে যাবে।
আমাদের দুই বোনের কথা তারেক এর মেঝো ভাবীর পছন্দ হয়নি তাইতো তিনি তারেক কে বললেন, ভাইজান কাদের কি বলছেন!
এই মেয়ে শহরে বড় হয়েছে এর কথার ঝাঁজ দেখছেন? চলেন তো এখানে থেকে।
তারেক তার কথা শুনে বললেন, আহ্ ভাবী , আচ্ছা সীমা আপনার কি ভালো লাগে?
শপিং করতে না ঘুরতে?
আমি রেগে বললাম পড়াশোনা ছাড়া আর কিছু ভালো লাগে না।
আচ্ছা ভালো।
তা স্কুল তো শুনলাম বন্ধ।
তো চলুন আমাদের বাসায় বেড়াতে।
আপনার বাসায় বেড়াতে যাব কোন দুঃখে?
যতসব।
সীমা আমি কিছু কথা বলি একটু খেয়াল করে শুনবেন, আপনার সাথে যদি আমার বিয়ে হয়।
তো আপনার সব ভালোলাগার খেয়াল রাখতে চেষ্টা করবো।
আপনাকে পড়াশোনা করাব।
পড়াশোনা করাবে কথাটা শুনে এই প্রথম তার দিকে তাকালাম।
গোলগাল চেহারা বড় বড় চোখ কালো সিল্কি ছোট ছোট চুল ফ্যানের বাতাসে দোল খাচ্ছে।
আমার চোখ আটকে গেল সেদিকে।
মেদহীন শরীর দেখতে খারাপ লাগছে না।
চেহারায় মধ্যে একটু ম্যাচয়ুটি ভাব ‌
এই প্রথম কোন ছেলেকে দেখে মনের মধ্যে অন্য রকম অনুভুতি হচ্ছিল।
লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে সামনে একটা নোটবুক ও কলম ধরে বললেন, আপনাদের বাসার ফোন নাম্বারটা লেখে দিন তো।
আমি বোকার মত লেখে দিলাম।
আমি অবাক হচ্ছি তারেক কিন্তু লম্বায় আমার সমান।
কিন্তু এই পর্যন্ত যতগুলো প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছি বা যারা আমার জন্য পাগল ছিলেন সবগুলো ছেলেই এমনকি সোহেল এবং জাভেদ তার থেকে অনেক লম্বা ও দেখতে সুন্দর।
কিন্তু তাদের দেখে কখনো মনে ধাক্কা লাগেনি।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তারেক আমার প্রতিটি তেড়া কথার ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিয়েছেন।
সেটা ভালো লেগেছে।
ওখানে থেকে আসার সময় মনে মনে বললাম, আমাকে তিনি পড়াশোনা করাবেন বলছেন,
তাছাড়া তাকে বিয়ে করলে, সোহেল ও জাভেদের কাছে থেকেও বাঁচতে পারব।
হে আল্লাহ ওনার সাথেই যেন আমার বিয়ে হয়।
আসলে সে সময়ে এটাও ভাবেনি আমার বয়স পনেরো তার ৩৪।
আমাদের বয়সের গ্যাপ অনেক যা ভবিষ্যৎ এ আমাদের মধ্যে দেওয়াল হতে পারে।
তবে ওনাকে দেখলে মোটেও তার বয়স বোঝা যায় না।

সেদিন বাসায় আসলাম তবে আমার চিন্তা ভাবনা সেখানে  আটকে রয়েছে।

দেখতে দেখতে কেটে গেছে কয়েকদিন এরমধ্যে জানতে পারলাম পাত্রের পছন্দ হলেও তার ভাবীর নাকি আমাকে পছন্দ হয়নি।
তাছাড়া আমার পায়ের সমস্যা রয়েছে।
সেজন্য পাত্রের বাড়ির অনেকেই রাজি না।
তবে পাত্রের নাকি আমাকে পছন্দ হয়েছে।

সেদিন আরেকটি কথা জানতে পারলাম,এই বিয়ের প্রস্তাব নাকি আমি ষষ্ঠ শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় এসেছিল।
আমার বয়স কম এবং পাত্র আমাদের আত্মীয় হয় সেজন্য আমার বাবা ও মা মানা করেছিলেন।
তার পর থেকে  তারা দুইশত  মেয়ের বেশি দেখা হয়েছে।
কোন না কোন কারণে বিয়ে হচ্ছে না।
এসব জানার পর আমার আর এই বিয়েতে আগ্রহ নেই।
আমি সব ভুলে পড়াশোনতে মনোযোগ দিলাম।

১৫ দিন পর গ্রামের বাড়িতে  হঠাৎ করে বাবা, মা  এসে উপস্থিত।
তবে শ্রাবণ ও সাব্বির ভাই আসেনি।
তারা আসলে দোকান বন্ধ রাখতে হবে সেজন্য।
মায়ের কাছে থেকে  জানতে পারলাম আগামী পরশু আমার আংটি বদল হবে।
আমি মায়ের কাছে এই কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেছি।
কারণ তারেক নামের লোকটাকে ক্ষণিকের জন্য ভালো লেগেছিল কিন্তু তাই বলে এতো তাড়াতাড়ি সব হচ্ছে,
তাছাড়া যেখানে তাদের বাড়ির সবাই আমাকে পছন্দ করেনি।
সেখানে বৌ হয়ে যাব বিষয়টি  মানতে কষ্ট হচ্ছিল।
কিন্তু মা বললেন এসব নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে না।
মা আমাকে আরও বললেন, তোকে আর কষ্ট করতে হবে না।
এই ছেলে ঢাকার বনানীতে চাকরি করেন।
আমাদের বাসায় থেকে তার অফিস বেশি দূরে নয় সবচেয়ে বড় কথা তুই আমাদের সাথে থাকতে পারবি।
এর থেকে ভালো আর কি আছে বল মা?
সেজন্য এই সমুন্ধ করতে আমি আর তোর বাবা এই বিয়েতে রাজি হয়েছি।
তোর বড় দুলাভাই বলেছে এই ছেলের কাছে তোকে বিয়ে দেওয়া যায়।
ছেলে কর্মমুখী,আর পড়াশোনা করছেন,
একেবারে মূর্খ নয়।
আর সবচেয়ে বড় কথা রিয়ার খালু মাটির মানুষ ।
তাকে কখনো রাগ করতে  দেখিনি তাই তার ভাই খারাপ হবে না।
নিশ্চয় তার মতই হবে।
মায়ের চোখের সেদিন আমাকে কাছে রাখার আনন্দ দেখেছি।
মায়ের দিকে তাকিয়ে সেদিন আর কিছু বলতে পারিনি।

দেখতে দেখতে চলে এল সে মাহেন্দ্রক্ষণ।
কিছুটা ভয়, লজ্জা নিয়ে খাটে  বসে আছি  আমার পাশে বড় আপা,মেঝো আপা, রিয়া বসে রয়েছে।
দুই দুলাভাই ব্যস্ত তাদের নতুন ভায়রাকে সমাদার করতে।
আংটি বদল করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে গেছে।
আজ আমার বিয়ে তবে অর্ধেক বিয়ে,,,

 #চলবে

আমার ফেসবুক আইডি লক হয়ে গেছিল সেজন্য এতদিন উধাও ছিলাম।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/60965/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Nov 2021 09:22:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ কিশোরী বয়সের ভালোবাসা<br />
লেখনীতেঃ মেহের মেহের সীমা।</p>
<p>১৭ পর্বের পরবর্তী অংশ</p>
<p>এই চুপ,বেয়াদব কোথাকার!<br />
মামা কিসের?<br />
এর আগে না তুই তাকে দেখেছিস আর না সে তোকে।<br />
তাছাড়া ইসলামে তো কোথাও নেই যে চাচাতো বোনের খালার দেবরকে বিয়ে করা যাবে না!<br />
নানু আমি যাচ্ছি না, আমাকে জোর করলে আমি কিন্তু ওখানে গিয়ে তাকে মামা ডাকব।<br />
এতে আপনারা ছোট হবেন।<br />
রিয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-60965"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/60965/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>14</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8e1f9929fddce693b3d6a59ee3284411</guid>
				<title>গল্পঃ কিশোরী বয়সের ভালোবাসা
লেখনীতেঃ মেহের মেহের সীমা।

১৭ পর্বের পরবর্তী অংশ

আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম কি!
কেন?
আর খালার দেবর মানে তো আমাদের মামা।
তো ঐ মামা আমাকে দেখতে আসবে কেন?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/48100/</link>
				<pubDate>Mon, 25 Oct 2021 18:23:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পঃ কিশোরী বয়সের ভালোবাসা<br />
লেখনীতেঃ মেহের মেহের সীমা।</p>
<p>১৭ পর্বের পরবর্তী অংশ</p>
<p>আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম কি!<br />
কেন?<br />
আর খালার দেবর মানে তো আমাদের মামা।<br />
তো ঐ মামা আমাকে দেখতে আসবে কেন?</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">41fbff478aac2ed4f191e00efe9c532f</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
(না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১৭
আমার জীবনের  ( সোহেল ও জাবেদ)  দুইজন সাপের মত কুন্ডলি পাকিয়ে বসে রয়েছে। কোথায় গেলে এদের থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?
আমার এই প্রশ্নের উত্তর পেতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি।
এরমধ্যে এক শুক্রবার আমি আর রিয়া বসে বসে বিটিভিতে বাংলা ছবি দেখছিলাম।

(বিটিভিতে এখন বাতাবি লেবু ও সবজির বাম্পার ফলন  দেখালেও সেই সময়ে বিভিন্ন নাটক, ছবি দেখাতো।
সে সময়ে বিটিভির নাটকের জনপ্রিয়তা ছিল।
এখন তো রিমোটে চাপ লেগে ভুলে বিটিভি এলে দেখার আগেই পাল্টাই।)
তো যা বলছিলাম বিটিভিতে ছবি দেখছি এরমধ্যে বিদ্যুৎ চলে যায়।
ছবিটি ছিল আমার প্রিয় নায়ক সালমান শাহ এর।
হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়াতে  মেজাজটা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল।
এর মধ্যে রিয়া কানের সামনে গুনগুন করেই চলছে,
তাও যে সে গুনগুন নয় , আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে রিতিমত গান গাচ্ছে।
সে যে কেন এলো না
দূর ছাই, কখন যে আসবে, কিচ্ছুই ভাল্লাগাছে না,
দেখা পেলেই হয়, আচ্ছা করে মজা দেখাবো।

সে যে কেন এলো না, কিছু ভালো লাগে না,
এবার আসুক তারে আমি মজা দেখাবো।
যদি ফুল গুলো হায়, অভিমানে ঝরে যায়,
আমি মালা গেথে বলো কারে পরাবো।

সে যে কেন এলো না, কিছু ভালো লাগে না,
না ভালো লাগে না—–

প্রজাপতি উড়ে গিয়ে বলনা,
আমি নই তার হাতের খেলনা, বলনা।
প্রজাপতি উড়ে গিয়ে বলনা,
আমি নই তার হাতের খেলনা।

সে যে যখন তখন, মোরে করে জ্বালাতন,
ভালোবাসা কারে বলে তারে সিখাবো।
এবার আসুক তারে আমি মজা দেখাবো।

সে যে কেন এলো না, কিছু ভালো লাগে না,
না ভালো লাগে না——

যারে পাখী তারে গিয়ে বলনা,
আমি কি এমনতর খেলনা।
যারে পাখী তারে গিয়ে বলনা,
আমি কি এমনতর খেলনা।

এই উতালা ফাগুন মনে জ্বেলেছে আগুন,
এই উতালা ফাগুন মনে জ্বেলেছে আগুন,
আমি কেমন করে বল তারে নিভাবো,
এবার আসুক তারে আমি মজা দেখাবো।

সে যে কেন এলোনা কিছু ভালো লাগে না,
না ভালো লাগে না—-

চিঠি নিয়ে ওরে মেঘ চলনা,
তার কানে কানে গিয়ে বলনা।
চিঠি নিয়ে ওরে মেঘ চলনা,
তার কানে কানে গিয়ে বলনা।
এই মেয়ের গানের গলা ভালো হলেও তেমন ভালো নয় যে মুগ্ধ হয়ে শুনবো।
তাছাড়া আমি খুব কম গান শুনি, হাতেগোনা কয়েকটি গান ছাড়া আমি তেমন একটা গান শুনি না।
আর এই মেয়ে সকাল থেকে আমার কান ঝালাপালা করছে।
ওকে থামাতে হবে ভেবে  রেগে বললাম, দাঁড়া চাচাকে বলছি তোর জন্য একজনকে এনে দিতে।
যেহেতু তোর আজকাল একা থাকতে ভালো লাগছে না।

রিয়া আমার কথাটা শুনে মুচকি হেসে বললো, তোর আসায় পানি ঢালতে তোর জামাইকে দুলাভাই না ডেকে আমি বিয়ে করছি না।
আমার আগে বিয়ে হলে তোর জামাই আমাকে শালী না বলে জেট্টেস বলবে তা তো হতে পারে না।
আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, তোর সে আশা আশায় থেকে যাবে।
ও আমার কথা শুনে বলে,দেখিস আমার মনের আশা জলদি পূরণ হবে তুই  দেখিস।
  এমন আছে আমার আশাটা  আজৌও পূরণ হতে পারে।
কথাটা শুনে আমি রেগে ওকে কিল দিলাম।
এই মেয়ে আজকে সকাল থেকে গুন গুন করে শুরু   করে গান করছে আর বাড়িঘর পরিষ্কার করছে।
আমি ওকে বললাম,তা আজ এতো ঝাঁড়পোঁচ   করছিস ব্যাপার কি?
তোকে দেখতে আসবে নাকি?
ফাজিলটা বলে কিনা আমাকে না তোকে দেখতে আসবে।
আমি ওর কথা তেমন আমলে নেয়নি কারণ রিয়া আমার সাথে সবসময় এমন মজা করে।
এখনও সেই গুনগুন আজ হলোটা কি ওর!
আমি  কথাগুলো ভাবছিলাম
এরমধ্যে রিয়া বলে উঠলো,এই সীমা চলনা ছবিটা দেখে আসি।
আশ্চর্য বিদ্যুৎ নেই ছবি দেখব কিভাবে?
আরে আমার নানু বাড়িতে তো ব্যাটারিতে টিভি চলে।
ওখানে যাব।
এই ছেমরি তোর মাথা খারাপ?
হাঁটু সমান পানি ভেঙে তোর নানু  বাড়িতে যাবো টিভি দেখতে!
এতো পাগল হয়নি।

আমার কথা শুনে রিয়া বললো, ঠিক আছে না গেলে নাই।
এই সীমা শুন না ?
কি হয়েছে চেঁচাতে শুরু করলি কেন?
আচ্ছা,  সালমান শাহ্ কি তার বোনকে খুঁজে পাবে?
সে তো জানেই না তার বোন চলে গেছে।
আহারে ওর বোনটাকে তমালিকা বের করে দিয়েছে।
বেচারি বোনটা বুকে হাত দিয়ে ছিলেন।

এই ছেমরি আমার মাথা না খেয়ে থামবে না,
এমনিতেই ছবি দেখতে পারছিলাম না তার জন্য খারাপ লাগছে এর  মধ্যে একটু পর পর ছবি সম্পর্কে প্রশ্ন করে কান ঝালাপালা করে দিচ্ছে।
আমি ওর কথা থেকে বাঁচতে বললাম চল তোর ছবি দেখার সখ মিটাই।
রিয়া তার সামনের দাঁত বের করে হেসে বলে,চল চল দেরি হয়ে যাচ্ছে।
আমি আর রিয়া ঘরে থেকে বের হচ্ছিলাম এরমধ্যে নানু বললেন,এই ছেরিরা দাঁড়া আমিও তো যামু!
আমি তার কথা শুনে চমকে বললাম,নানু পানির মধ্যে কষ্ট করে আপনি  যাবেন কোন দুঃখে?
তো কিছুক্ষণ আগেই  না এখানে এলেন?
বরং আমরা যাই আপনি মেয়ের জামাই বাড়ি কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে আসেন।

নানু আমার কথা শুনে বললেন, হুঁ সতিনদেরকে একা পাঠিয়ে আমার আলাভোলা স্বামীকে হারাই,
নানু আপনি চিন্তা করবেন না, আমাদের নজর যথেষ্ট ভালো।
আমরা আপনার বুড়োর দিকে নজর দিবো না।
যদিও আমাদের নানা দেখতে নায়ক সালমান শাহ্ এর মত তবুও আপনার দিকে চেয়ে সেদিকে নজর দিচ্ছি না।
নানু আমার কথা কানে তুললেন না।
বরং আমাদের সাথে সাথে যেতে লাগলেন।
পানি না থাকলে নানুদের বাসায় যেতে লাগে পাঁচ মিনিটের কম।
পানি থাকায় দশ মিনিট লাগল।
আমরা আগে আগে যাচ্ছিলাম আর নানু পিছনে পিছনে আসছিল।
পিছনে থেকে নানু হঠাৎ করে বলে উঠলেন, ওখানে গিয়ে সবাইকে সালাম দিবি,আর ফটর ফটর করবি না এবং তারা যা জিজ্ঞেস করবে তার উত্তর দিবি।
আমি অবাক হয়ে বললাম,কারা?
আর আপনাদের বাসায় মেহমান থাকলে আমি যাবো না।
এই রিয়া বাসায় চল ছবি দেখব না।
নানু আমার কথা শুনে বললেন, তুই না গেলে আমার মেয়ের সম্মান নষ্ট হবে।
রিয়ার ছোট খালার দেবর আসছে তোকে দেখতে।
 চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/48097/</link>
				<pubDate>Mon, 25 Oct 2021 18:19:51 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
(না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ১৭<br />
আমার জীবনের  ( সোহেল ও জাবেদ)  দুইজন সাপের মত কুন্ডলি পাকিয়ে বসে রয়েছে। কোথায় গেলে এদের থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?<br />
আমার এই প্রশ্নের উত্তর পেতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি।<br />
এরমধ্যে এক শুক্রবার আমি আর রিয়া বসে বসে বিটিভিতে বাংলা ছবি দেখছিলাম।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-48097"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/48097/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ab549a6ed623411cb14f9b364bc87550</guid>
				<title>সাইফুন নেসা সীমা। and আফরিন ইনায়াত কায়া are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/48038/</link>
				<pubDate>Mon, 25 Oct 2021 16:59:59 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ae19022852f93fb9880f3f7bf4ce3c80</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১৬
এই লোকের জন্য আমার চরিত্রে কালিমা না লেগে যায় সে চিন্তায় জান যায় যায় অবস্থা।
ছোট একটা মাথায় এত চিন্তা নিয়ে থাকা যায়!
কথায় আছে অভাগা যেখানে যায় সেখানে নদীও শুকিয়ে যায়।
আমার হয়েছে সে অবস্থা।
গ্রামে এসে যে একই সমস্যায় পড়তে পারি তা কখনো ভাবেনি।
সব মিলিয়ে আমার মনে প্রশ্ন জাগে গ্রামে এসে আমি ভুল করলাম না তো?
গ্রামে এসেছিলাম চোখে যে স্বপ্ন নিয়ে তা পূরণ করতে পারব তো?
 মনে জোর পাচ্ছি না।
এমনিতেই আমাদের বাড়িতে থাকা মুরব্বিরা পড়াশোনার প্রতি বরাবরই উদাসীন।
সেজন্য আমার ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তাদের পড়াশোনার মূল্য বুঝানো,
কিন্তু তা পূরণ করতে পারব বলে মনে হচ্ছে না।
কারণ আমি যেখানেই যাই না কেন  আমার পিছনে ফেউ লেগে যায়।

আমি একটা কথা ভেবে পাচ্ছি না এদের কি খেয়েদেয়ে আর কোন কাজ নেয়?
পৃথিবীতে মেয়ের অভাব পড়ছে যে ওদের আমার পিছনে পড়তে হবে!
এমনিতেই ছোট থেকে বাবা ভাই ছাড়া ছেলে মানুষের প্রতি প্রচন্ড অনিহা ছিল তার একটাই কারণ ছেলেদের মেয়েদের শরীরের প্রতি অতি উৎসাহী আচরণ।
একটা মেয়েকে কতবার কতভাবে  বাজে নজরের সম্মুখীন হতে হয় তা একজন মেয়ে হয়ে জন্ম না নিলে কখনো জানতাম না।
আমার প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টি যেমন অসংখ্য ছিল , কিছু কিছু  ছিল লোভাতুর দৃষ্টি।
লোভাতুর দৃষ্টিগুলো দেখলে মনে হত ফর্সা হওয়াটা অপরাধ।
কিন্তু দিন যেতে থাকে আমি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকি তখন বুঝতে পারি কিছু মানুষ রূপি জানোয়ারের জন্য কত ছোট বড় মেয়ে অকালে ঝরে গেছে।
সবাই কি সুন্দর ছিল?
সে সময়ে আমার মনে  হতো সুন্দর হওয়ার থেকে মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াটা অপরাধ।
কারণ যাদের দৃষ্টি খারাপ তাদের কাছে, ফর্সা, সুন্দর, ছোট,বড় বৃদ্ধা,শিশু হোক বা পরিনিত বয়সের তা দিয়ে কিছু আসে যায় না।
তাদের লোভাতুর দৃষ্টি থেকে কারোই নিস্তার নেই।
কিন্তু আস্তে আস্তে সময়ের ব্যাবধানে বুঝতে পারি মেয়ে হওয়াটা অপরাধ নয় বরং সম্মানের।

কেটে গেছে কয়েকদিন,
প্রতিদিন রিয়ার সাথে স্কুলে গেলেও আসতে হতো আমাকে একাই।
কারণ আমি নবম শ্রেণীতে পড়ি ও ৭ম শ্রেণীতে।
রিয়া আমার বড় হলেও পড়াশোনার গ্যাপ পরায় ৭ম শ্রেণীতে রয়েছে।
বড় আপা মানে রিয়ার বড় বোন ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।
এরপর দুই তিন বছরের মধ্যে স্কুলের মুখ তার দেখা হয়নি।
যখন তার নবম শ্রেণীতে উঠার বয়স সে সময়ে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়।
মেঝো আপা মানে রিয়ার মেঝো বোন  পড়াশোনা গ্যাপ না পড়লেও তাকেও নবম শ্রেণীতে ভর্তি হবার পর বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এমনকি রিয়ার  এখনও বিয়ের প্রস্তাব এলেও তাকে বিয়ে দেওয়া হবে এটাই বাস্তব।
আমাদের বাড়িতে মেয়েদের চৌদ্দ পনের বছর বয়সে বিয়ে দিয়ে দেই।
যদিও রিয়া দেখতে সুন্দর, লম্বা তবুও বড় চাচার মন মত তার মেয়ের বিয়ের ‌প্রস্তাব আসছে না।
বড় ও মেঝো আপা অনেক বড় এবং ভালো জায়গায় বিয়ে হয়েছে।
শ্বশুর বাড়িতে সুখে শান্তিতে রয়েছে।
রিয়ার জন্যেও এমন পাত্র চাচ্ছেন চাচা।
সেজন্য এখনো বিয়ে হয়নি।
প্রথমেই বলেছি আমার পরিবারের মুরব্বিরা পড়াশোনা ব্যাপারে উদাসীন।
এই বাড়ির ছেলেদের মধ্যে কেউ কেউ ইচ্ছে করে পড়াশোনা করেনি আবার কোনো ছেলেকে বাবার সাথে সংসারের হাল ধরতে পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছে।
এসব দেখে আমার খুব ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা করার।
আর আমার মা বাবাও হয়তো কিছুটা ইচ্ছে ছিল পড়ানোর।
নাহলে আমার বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু তো করেছিল আর আগে থেকেই।
ষষ্ঠ শ্রেণীতে থাকাকালীন একসাথে  সাত জায়গা থেকে প্রস্তাব আসে।
তখন বিয়ে সংসার মানে না বুঝলেও  আমার বিয়ের নিয়ে আলোচনা করতে দেখতাম।
গ্রামে এলে মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে সেজন্য বাবা মা আমাকে দুই বছর গ্রামে নিয়ে আসেননি।
কারণ সেবার তো গ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে এক বুড়ো দাদু আমাদের বাসে উঠে বাবার কাছে কাকুতি মিনতি করছিল যাতে বাবা তার নাতির সাথে আমার বিয়ে দিতে রাজি হয়ে যায়।
সেদিন লোকটার কথা শুনে রাগে মনে চাচ্ছিল বাসে থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই।
কিন্তু আমাকে তেমন কিছু করতে হয়নি।
কারণ বাবা রেগে লোকটাকে ধমকে বলেছিলেন,এই মিয়া কি পাইছেন হ্যাঁ?
আমার মেয়ে কি ফেলনা যে রাস্তা খাটে বিয়ের আলাপ করতে হবে।
তাছাড়া আপনাকে তো আগে বলেছি আমার মেয়েকে দেখতে লম্বা দেখালেও তার বয়স মাত্র ১২ বছর।
এই বয়সে আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দিবো না।
বাবা কথাগুলো কড়া সুরে বলাতে লোকটা মন খারাপ করে চলে যায়।
সেদিন বাবার কথা শুনে মন আনন্দে ভরে উঠেছিল।
তারপর থেকে এই পর্যন্ত ঢাকা থেকে এবং দেশে থেকে আসা অনেক বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
সেজন্যই বিয়ে নিয়ে আমার চিন্তা নেই বাবা মা নিশ্চয় আমাকে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দিবেন না।
কথাগুলো ভেবে মনে মনে শান্তি পাচ্ছিলাম।
তবে ভাগ্যে হয়তো অন্য কিছু ছিল।

  এরমধ্যে একদিন  স্কুল শেষে বাসায় আসতে নিলে   পাশের গ্রামের চেয়ারম্যান এর ছোট ভাই জাভেদ আমার হাত টেনে ধরেন।
আমি ভয় পেয়ে কাঁপতে থাকি।
কারণ এই জাভেদ নামের লোকটা  আমার হাত ধরেছে কেউ দেখলে আমার বাবা চাচার সম্মান মাটিতে মিশে যাবে।
তাছাড়া আমার চরিত্রে দাগ লাগবে তা ভিন্ন কথা।
কিন্তু এই লোকের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে এতে তার কিছু যাবে আসবে না।
 লোকটি মুচকি হেসে বললো, আমার ভালোবাসা মেনে নেও তোমার হাত ছেড়ে দিব।
এই জাভেদ যাকে একবার চায় তাকে হাসিল করেই ছাড়ে বুঝলে?
জাভেদ নামের লোকটা দুই মাস হচ্ছে আমার আসে পাশে ঘুরঘুর করছে।
এরমধ্যে নিজের এবং তার ভাইয়ের পরিচয় ক্ষমতা বলে আমাকে রাজি করাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
লোকটা অনেক লম্বা হওয়ার কারণে তাকে দেখলেই আমার ভয় লাগে
এরমধ্যে আজকে মনে হয় আঁটঘাট বেঁধে নেমেছেন।
কিন্তু তার আশা পূরণ হতে কখনো দিব না।
তার বকবক শুনে বিরক্ত হয়ে নিজের হাত ছাড়াতে ধস্তাধস্তি শুরু করেছি।
তবুও লোকটা আমার হাত ছাড়ছে না,
হাত ছাড়াতে এক পর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে দৌড় দেই।
সেদিনের পর থেকে আমি ভয়ে ভয়ে থাকতাম।
একা  স্কুল এ যেতাম না।
মন খারাপ করে থাকতাম।
তা দেখে বড় চাচা বাজারে থেকে ফোন করে বাবাকে জানান,
 বাবা এসব শুনে দুই দিনের মধ্যে বাড়িতে আসেন। বাবা এসে আমাকে তার সাথে ঢাকা নিয়ে যান।
কারণ আমাকে ছেড়ে তাদের থাকতেও কষ্ট হচ্ছিল।
তবে তারা সোহেলদের বাড়িতে থাকা কালীন সময়ে আমি ঢাকা আসতে পারব না।
সেজন্য বাবা ওদের  বাসা ছেড়ে নতুন বাসা ভাড়া নিয়েছেন
এবং আমাকে নিয়ে আসেন।
নতুন বাসায় এসে মনে মনে খুশি হয় যাক এবার বোধহয় সোহেল মামা ও জাভেদ থেকে বাঁচতে পরব।
কিন্তু আমার আসায় শেখরে বালি।
ঢাকা এসেছি দুই তিন দিন হয়েছে ,
আমি টিভি দেখছিলাম সেজন্য মা আমাকে বাসায় রেখে  পাশের বাসার আন্টির সাথে কথা বলতে গেছেন।
যেহেতু কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বে সেজন্য দরজা বন্ধ করে যায়নি।
আমি সেদিকে খেয়াল করিনি কারণ আমি  টিভি দেখতে ব্যস্ত ছিলাম।
এরমধ্যে হঠাৎ করে  পিছনে থেকে কে যেন আমাকে জড়িয়ে ধরেছে।
আমি চিৎকার করতে যাব জড়িয়ে ধরা লোকটা এক হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে বললেন,এই বিলাই চুপ!
তুই কি ভেবেছিল আমাকে ফাঁকি দিয়ে আমার কাছে থেকে বেঁচে যাবি  তা তো হতে পারে না।
বিলাই শুনেই আমি জমে গেছি।
কারণ আমাকে তো একজনই  বিলাই ডাকেন সে হচ্ছে সোহেল সর্দার।
এদিকে সোহেল মামা আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, তোকে আর আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সেই সুযোগে দিবো না।
এই মুহূর্তে তোকে আমি বিয়ে করবো।
তুই শুধু আমার।
আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে বললাম, আপনার সাহস হয় কি করে আমাকে জড়িয়ে ধরার?
কারো বাসায় এলে নক করে আসতে হয় তাও জানেন না?
আপনার আজকের  আচরণ প্রমাণ করে আপনি আমাকে না আমার শরীরটাকে ভালোবাসেন।
আপনাদের মত জঘন্য লোকের ছায়ায় পা মাড়ানো পাপ।
আমার কথা শুনে,সোহেল মামা হাঁটু গেড়ে বসে আমার হাত ধরে বলেন,সীমা তুই উল্টা পাল্টা এসব কি বলছিস।
আমার চার বছরের ভালোবাসার গায়ে দাগ লাগাতে তোর বুক কাঁপেনি?
তার কাছে থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে আমি তার কথা শুনে রেগে বললাম,ও আপনি খারাপ আচরণ করতে পারবেন আমি বলতে গেলে দোষ?
সেদিন মুখে যা আসে  তাকে তাই বলেছি।
এরা আমাকে কি পেয়েছে একজন মাঝ রাস্তায়  হাত ধরে ভালোবেসি বলবে অন্য জন একা পেয়ে জড়িয়ে ধরবে ।
আমি কি কোন পন্য!
 এদের কাছে আমাকে মানুষ মনে হয় না?
কথাটা ভেবে হাঁসফাঁস অবস্থা আমার।
সেদিন সোহেল মামা বললেন,তুই এসেছিস  সে খবর শুনে ঠিক থাকতে পারিনি জান।
সেজন্য ভুল করে তোকে জড়িয়ে ধরেছি।
বিশ্বাস কর আমার ভালোবাসার মধ্যে কোনো খাদ নেই।
আমি কোন খারাপ চিন্তা করে তোকে ধরিনি।
তুই দেশে চলে যাওয়াতে আমার হৃদয়ের গহীনে যে দহন শুরু হয়েছে তা তুই কখনো বুঝতে পারবি না।
আমি রেগে বললাম, আপনার দহন ফহন দিয়ে আমি কি করবো!
আপনি আমার সামনে থেকে চলে যান ‌
সোহেল মামা আমার কথা শুনে, বললেন এই মুহূর্তে আমি তোর সামনে থেকে চলে যাচ্ছি কিন্তু একটা কথা মনে রাখিস এইবার তোকে আমার বৌ করতে কেউ বাঁধা দিতে পারবে না এমনকি তুইও না।
কথাটা বলে সোহেল মামা চলে যায়।
আবার নতুন করে শুরু হয় আমার চিন্তা।
আচ্ছা আমি তো কখনো উশৃঙ্খল ছিলাম না।
সব সময় ফুল হাতা পোশাক পরিধান করি, মাথায় স্কাব দিয়ে স্কুলে যাওয়ার আসা করতাম।
কখনো বাহিরে ঘুরতে যাইনি তবু কেন এত মানুষের চোখ পরে আমার প্রতি।
মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়েছি বলে কি আমার স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার নেই?
তাছাড়া আমার জানামতে আমি তো কখনো কাউকে প্রশ্রয় দেয়নি তবুও কেন আমাকে এসব সহ্য করতে হচ্ছে।
আমার স্বপ্ন কি খুব বেশি?
যে তার পূরণ করতে পারব না।
যখন ভাবি সব ঠিক হয়ে যাবে তখন কেউ নেই কেউ সামনে এসে আরও বেশি করে সব পেঁচিয়ে দেয়।
এর শেষ কোথায়?
মা এসে সোহেল মামাকে আমাদের বাসায় থেকে বের হতে দেখেছেন।
মা আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন,ও এখানে কি করছিল?
মায়ের কথা শুনে সেদিন আমার মাথা ঠিক রাখতে পারছিলাম না, রেগে বললাম তোমার মেয়েকে বিয়ে করার হুমকি দিতে এসেছে।
আমার এসব ভালো লাগে না মা।
কোথায় গেলে এর থেকে মুক্তি মিলবে বলতে পার?
মা গো দিনের পর দিন এমন চলতে থাকলে আমার পাগল হতে সময় লাগবে না।
এরপর 
দেশের বাড়িতে যে  জাভেদ নামের লোকটা আমাকে বিরক্ত করছে তার কথাও বললাম।
আমার কথা শুনে মায়ের চোখে পানি টলটল করছিল।
মায়ের চোখে সেদিন আমার জন্য হতাশা দেখতে পেয়েছি।
হতাশ হবেই না কেন ?
নিজের সম্মান বাঁচাতে দেশে গেলাম সেখানেও একই অবস্থা।
তাছাড়া মা বাবা তো জানেই না, আমি ঢাকা ছেড়ে দেশে যাওয়াতে কিছু কিছু মানুষ মনে করছে আমি এমন কিছু করেছি যার শাস্তি স্বরূপ দেশে পাঠিয়েছেন।
মা&#039;কে এসব কথা বলিনি তাহলে সে বেশি কষ্ট পেত।
আমার জন্য মা কষ্ট পাচ্ছে।
তা দেখে আমার ভালো লাগছে না।
মা&#039;কে কষ্ট দেওয়া কথা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি।
কিন্তু এদের জন্য আমার মা কষ্ট পাচ্ছে।

দেশে এসেছি একমাস হয়ে গেছে, সেদিন মা আমার কথা শুনার সিদ্ধান্ত নেন।
যত দ্রুত সম্ভব আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার।
একদিনের মধ্যেই আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
অবশ্য দেশে পাঠানোর আগে বাবাকে জাভেদ নামের ছেলেটির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে বলেন।
বাবা আমাকে দিয়ে যাওয়ার সময় ঐ ছেলের ভাইকে বলে যান তার ভাই আমাকে রাস্তা ঘাটে বিরক্ত করছেন।
জাভেদ এর ভাই বাবার মুখে তার ভাই কর্মকান্ডের কথা  শুনে আমার বাবাকে আশ্বস্ত করেন তার ভাই আমাকে আর বিরক্ত করবেন না।
বাবা সরল মনে বিশ্বাস করে চলে যায় ঢাকা।

একমাস ধরে স্কুলে আসা যাওয়া করছি এরমধ্যে লোকটা আর বিরক্ত করেনি।
আমিও লোকটা কথা ভুলে গেছি।
ও আরেকটি কথা বাবা এবার আমাকে দিয়ে যাবার সময় একটা টিভি দিয়ে গেছেন যাতে খারাপ লাগলে দেখতে পারি।
টিভি দেখে রিয়া,বড় চাচা খুব খুশি হয়েছে।
কারণ আমার জন্য তারাও টিভি দেখতে পারছেন তাই।
বাবা চলে গেছে এক মাস হয়েছে।
সামনের মাসে আমার প্রথম সাময়িক পরীক্ষা সেজন্য আমি পড়াশোনা নিয়ে বাস্ত।
আগেই বলেছি, বেশি খড়ায় আমাদের বাড়ির পুকুর শুকিয়ে যায় ।
সেজন্য আরেক বাড়িতে গোসল করতে যেতে হয়।
আমারা যে পুকুরে গোসল করতে যায় সেটা প্রায় আড়াই বিঘা জমির মধ্যে খনন করেছেন।
পুকুরের দুইদিকে খাট এক ঘাটে ছেলেরা গোসল করে অন্য খাটে মেয়েরা।
গোসলের পর মেয়েদের জামা কাপড় পাল্টানোর জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে।
আমি আর রিয়া সেদিন গোসল করতে য়ায়।
গোসল করে আসার সময়ে জাবেদ আমার সামনে এসে দাঁড়ান।
আমি তাকে পাশ কাটিয়ে যেতে নিলে তিনি
আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ফুল দিয়ে ভালোবাসি বলেন।
আমি কিছু না বলে চলে আসতে নিলে বলেন, তুমি কি ভেবেছ!
চুপ করে থাকলে আমি সরে যাব?
কখনোই না তোমাকে আমার করেই ছাড়বো পরি।
জাভেদ এর কথা শুনে  রিয়া বলে,শুনুন ভাইয়া আপনি আর আমার বোনকে বিরক্ত করবেন না।
আমাদের শ্রাবণ ভাই যদি জানতে পারে না?
তাহলে আপনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন না।
 সেদিন রিয়ার কথা শুনে জাভেদ বলেন ,তা এই শ্রাবণ ভাইটা কে?
রিয়া তার কথা শুনে বলেন,শ্রাবণ হচ্ছে ওর ভাই।
ও আচ্ছা সমস্যা নেই বলে দাও।
আমিও চাই সবাই জানুক পরিটাকে আমি কত ভালোবাসি।
 সেদিনের পর থেকে আমার একা বের হতে ভয় করতো কারণ লোকটা সব  আমাকে ফলো করতেন।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে কখনো একা ফলো করতেন না  সাথে সব সময় সঙ্গপঙ্গ নিয়ে ঘুরতেন।
মেঝো ভাই মানে রিয়ার মেঝো ভাই জাভেদ কে কয়েকবার থ্রেট দিয়েছে তাতেও কাজ হচ্ছে না।
দেখতে চলে যায় আরও দুই মাস।
খালবিল পানিতে টয়টুম্বর   নিচু রাস্তায় পানি এসে গেছে।
আসেপাশে গাছ গাছালি সবুজ রঙ ধারণ করেছে।
পুকুর খালবিলে সাদা লাল শাপলার মেলা বসেছে।
চারদিকে কাঁদা মাটির ঘ্রাণ সব মিলিয়ে অপরুপ দৃশ্য।
এখন আমাদের স্কুলে যেতে হয় নৌকায় করে।
তবে নৌকায় চড়তে দারুন মজা  লাগলে চড়তে পারছি না।
আমাদের বাড়ির সামনে হাঁটু সমান পানি  সেই পানি পার করে নৌকায় উঠতে হয়।
জাভেদ ওখানে নৌকায় বসে আমার অপেক্ষা করেন।
আমার সাথে কথা বলার সুযোগ খুজতে প্রতিদিন নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে।
আমার জীবনের  ( সোহেল ও জাবেদ)  দুইজন সাপের মত কুন্ডলি পাকিয়ে বসে রয়েছে। কোথায় গেলে এদের থেকে মুক্তি পাওয়ার যাবে?

 #চলবে
বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/47607/</link>
				<pubDate>Sun, 24 Oct 2021 14:28:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ১৬<br />
এই লোকের জন্য আমার চরিত্রে কালিমা না লেগে যায় সে চিন্তায় জান যায় যায় অবস্থা।<br />
ছোট একটা মাথায় এত চিন্তা নিয়ে থাকা যায়!<br />
কথায় আছে অভাগা যেখানে যায় সেখানে নদীও শুকিয়ে যায়।<br />
আমার হয়েছে সে অবস্থা।<br />
গ্রামে এসে যে একই সমস্যায় পড়তে পারি তা কখনো ভাবেনি।<br />
স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-47607"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/47607/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>14</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4fc327542a281f96b1d402e0e2a991a9</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১৫

সেদিন রাতেই আমি একটা সিদ্ধান্ত নেই।
কারণ এভাবে আর কিছুদিন চললে আমার হৃদয় নিজের দখলে রাখতে কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।
আজকাল সোহেল মামার অসহায় মুখটা দেখলে মায়া হয়।
আমার ভয় হচ্ছে মায়া থেকে আবার ভালোবাসা হয়ে না যায়।
সেজন্য নিজেকে আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ভালোবেসে বিয়ে করে  মা বাবাকে ছাড়তে পারব না।
বরং মা বাবার জন্য এমন অনেক ভালোবাসা ত্যাগ করতে পারব।
সেদিন সারারাত আমি এসব  চিন্তা ভাবনা করেছি।
এছাড়া যেহেতু আমি মাত্র কিছুদিন হয়েছে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছি।
 দুই মাস ধরে ক্লাস করছি।
এখনও রেজিস্ট্রেশন হয়নি আমাদের।
তাই এখনই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিতে হবে।
দেরি করে কোন ভুল করতে  চাচ্ছি না।
যে ভাবা সেই কাজ।
পরের দিন স্কুল থেকে এসে গোসল করে খাওয়া দাওয়া করে ধীরে সুস্থ  মা&#039;কে বললাম,মা আমি কিছু কথা বলতে চাই। তুমি ঠান্ডা মাথায় কথাগুলো শুনবে?
শুধু শুনবে তা কিন্তু নয় ।
 তোমাদের উপর নির্ভর করবে আমার ভবিষ্যৎ।
মা আমার কথা শুনে বললেন, কি কথা শুনতে হবে! তাছাড়া এভাবে বলছিস কেন?
আমি তোর কথা শুনবো না তা তো বলিনি!
 আর এখনই বলতে হবে তা তো নয়।
পড়েও তো বলতে পারবি?
মা বুঝতে চেষ্টা কর।
মা আমার কথা শুনে বলেন,তোর তাড়া দেখে মনে হচ্ছে বাড়িতে ডাকাত পড়েছে।
মায়ের কথা শুনে আমি বললাম,মা বাড়িতে ডাকাত পড়েনি ঠিক কিন্তু আমার মনের ঘরে একজন ডাকাত  অনবরত শিক কাটতে চেষ্টা করছে।
কখন না সে আমার মনটা ডাকাতি করে ফেলে।

মা আমার কথা শুনে বলেন,হঠাৎ এসব কি বলছিস পাগল টাগোল হলি না তো?এই তোর কি হয়েছে ?
আমি মা&#039;কে সোহেল মামার ইদানিংকালে বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কথা বললাম।
মা আমিও তো একটা মানুষ রোবট নই।
তার সাথে এটাও বললাম।
আমার মধ্যে অনূভুতি বলে কিছু একটা রয়েছে মা। মানুষটাকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া সহজ কথা নয়।
তাছাড়া আমার মনে হচ্ছে, আমি তার সামনে থাকলে না সে আমাকে ভুলতে পারবে।
না আমি তাকে এরিয়ে যেতে পারব।
মা সেদিন আমার কথা শুনে ঠান্ডা শীতল কন্ঠে বললেন,তুই কি করতে চাচ্ছিস?
তবে তুই যা ভাবিস না কেন একটা কথা কান খুলে শুনে রাখ, আমি কখনো সোহেলকে আমার একমাত্র মেয়ের জামাই হিসেবে মানতে পারবো না।
আমি মায়ের কথা শুনে মুচকি হেসে বললাম, তোমাকে মানতে বলছে কে?
তাছাড়া মা আমি তোমাদের ইচ্ছে সম্পক্ষে  সব সময় অবগত ছিলাম।
সেজন্য ভুল করেও তার দিকে আগ্রহ দেখায়নি।
তবে মা এখন আর পারছি না সেজন্যই তোমাকে বলা।
মা গো আমার ভয় হচ্ছে মানুষটির পাগলামি দেখে ।
আমি না আবার তার প্রতি দুর্বল হয়ে না পড়ি।
তাহলে তো মা তীরে এসে তরী ডুবার মতো হয়ে যাবে।
সেজন্যই তো আমি এখানে থেকে দূরে চলে যেতে চাচ্ছি।
মূলত আমি এই শহর ছেড়ে যেতে চাই।
মা আমার কথা শুনে  অবাক হয়ে  বললেন!
কি!
 তোর মাথা খারাপ?
এই সময়ে আমরা কোথায় যাব?তোর বাবা এখানে ব্যাবসা করছে ইচ্ছে করলেই এখানে থেকে যেতে পারবে না।

মায়ের কথা শুনে বললাম,মা আমি তো তোমাদের যেতে বলিনি।
 একা যেতে চাই।
তা শুনি তুই কোথায় যেতে চাচ্ছিস?
সাহস বেশি হয়ে গেছে তাই না?
 তাছাড়া একবার ভাবলি না তো, আমরা একা কখনও তোকে কারো বাসায় যেতে দেয়নি।
আর সেই তুই শহর ছেড়ে যেতে চাস?
 উল্টাপাল্টা  কথা না বলে যা তো এখানে থেকে।
মা আমাকে তাড়িয়ে দিতে চাচ্ছেন।
আমি মায়ের দিকে তাকিয়ে বললাম,মা আমার সম্পূর্ণ কথাটা তো শুনবে নাকি?
এই কি শুনবো?
তুই পাগল হলেও আমি এখনও ঠিক আছি।
আমি মায়ের কথা শুনে বললাম, মা আমি দেশের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতে চাই।
আর ওখানে আমার দেখাশোনা করার জন্য তো বড় চাচা চাচী  রয়েছেই।
তাছাড়া বড় চাচার মেঝো ছেলে তো এখন বাড়িতেই থাকেন।
আমার কোন সমস্যা হলে মেঝো ভাইয়া ঠিক সামলে নিবে।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে রিয়া রয়েছে ওখানে।
রিয়া আমার থেকে ছয় মাসের বড় হলেও আমি আর ও তো ছোট থেকেই একসাথে থাকতাম।
আমার তেমন সমস্যা হবে না।
মা আমার কথা শুনে বললেন, তুই বাড়িতে থাকতে পারবি?
ওখানে কিন্তু ওয়াশ রুম দূরে তাছাড়া বেশি গরমে আমাদের পুকুরের পানি শুকিয়ে যায়।
তখন সফি দাদাদের পুকুরে গোসল করতে হবে।
এখন যত সহজ ভাবছিস দেশে থাকা কিন্তু ততটা সহজ হবে না।
এক সোহেলের থেকে বাঁচতে তোকে আরও বেশি কষ্টে পরতে হবে।
আর মা হয়ে আমার তা ভালো লাগবে না।
মা আমি সব বুঝতে পারছি তবে  তুমিই বলো তো?
একজন মানুষের কাছে থেকে কতক্ষণ  মুখ ফিরিয়ে থাকতে পাড়বে?
আমার কথা শুনে মা কিছু একটা ভেবে  সেদিন বলেন, তোর বাবার সাথে কথা বলে দেখি  তিনি কি বলেন।
সেদিন মায়ের সাথে কথা বলার পর আরও দুইদিন চলে যায়।
এরপর থেকে আমার জীবনের মোর অন্যদিকে ঘুরতে শুরু করে।
তখন জানতাম না সামনে আমার জীবনে কি ঘটতে যাচ্ছে।

বাবা হয়তো সেদিন আমার বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন।
সেজন্য এক সপ্তাহের মধ্যেই বাবা আমাকে নিয়ে গ্রামে যান।
আমাদের বাড়িতে থেকে বিশ মিনিটের রাস্তার দুরত্ব ছিল উচ্চ বিদ্যালয়। 
আমার বাবা আমাকে সেখানকার উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি করে দেন, এবং আগে থেকে  বাজারে আমাদের একটা দোকান  ছিল।
যা ভাড়া দেওয়া ছিল।
আমি বাড়িতে থাকব বিধায়  এখন থেকে  বাবা সেই দোকানের ভাড়া প্রতি মাসে  চাচাকে নিতে বলেন।
বই খাতা ঢাকা থেকে নিয়ে এসেছি সেজন্য গ্রামে এসে  আর কেনার প্রয়োজন হয়নি।
বাবা আমার সাথে বাড়িতে দুইদিন  থেকে ঢাকা চলে যায়।
তবে এতদিন যে বাবাকে শক্ত হৃদয়ের বলে জেনে এসেছিলাম।
এবার ভিন্ন এক বাবাকে দেখছিলাম।
 সেদিন  যাবার আগে  আমার সেই শক্ত হৃদয়ের বাবার দু&#039;চোখ এ ছিল জল।
যা দেখে আমার ভিতরে তোলপাড় শুরু হয়েছিল।
কারণ গ্রামে আসার সময়ে মা অনেক কান্না করেছিল
মায়ের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না।
আর  আজকে বাবার চোখেও পানি দেখলাম।
বাবা যাবার আগে অবশ্য বলেছেন,মা তোকে এখানে বেশিদিন থাকতে হবে না।
আমি চেষ্টা করবো তাড়াতাড়ি সোহেলদের ওখানে থেকে  সরতে।
অন্য বাসায় উঠে তোকে একবারেই নিয়ে যাব।
সে কয়দিন একটু কষ্ট করে থাক।
 বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে আমার শুধু কান্না পেত।
এর আগে  বাবা মাকে ছাড়া কখনো একা থাকিনি,
সেজন্য কষ্ট বেশি হচ্ছে।
 আমার এক একটা দিন যেন কাটতে চায়  না।
তাছাড়া মা বাবার কাছে থেকেও শহরে লেখা পড়ার পাশাপাশি টিভি দেখতাম।
আর এখানে না আছে মা বাবা আর না আছে টিভি।
সে সময়ে আমাদের গ্রামে টিভি ছিল না।
আর ঢাকায় থাকাকালীন সময়ে আমার  অবসর বিকেল কাটতো টিভি দেখে।
মাঝে মাঝে রাতেও টিভি দেখতাম অবশ্য সে সময়ে রাতে দশটার পর সনি টিভিতে সি আই ডি,আহাট ছিল আমার প্রিয়।
আর সালমান শাহ্, মৌসুমি, শাবনূর রাজ্জাক, সাবানা ,ববিতার ছবির ভক্ত  ছিলাম।
তাদের ছবি দেখার সময় খাওয়া দাওয়া ভুলে যেতাম।
কিন্তু গ্রামের বাড়িতে সে সময়ে আশেপাশে দশ বাড়িতেও টিভি ছিল না।
তবে আমার চাচীর বাবার বাড়িতে টিভি ছিল ।
আমাদের বাড়িতে থেকে তাদের বাড়ির দুরত্ব বেশি নয়।
কিন্তু যেখানে টিভি নেই সবার ঘরে সেখানে ডিসের সংযোগ কল্পনা করা দুঃস্বপ্ন বয় কিছু নয়।
আর ডিস ছাড়া  বিটিভি হচ্ছে একমাত্র সম্বল।
কিন্তু সমস্যা একটাই বিটিভিতে শুক্রবার ছাড়া ছবি দিত না।
আর নাটক দিত সন্ধ্যায়।
গোসল করতে যেতে হত অন্য বাড়িতে , টয়লেট দূরে তাছাড়া শহরের মত পড়াশোনাও এক রকম নয়।
সবদিক থেকে আমার নাজেহাল অবস্থা।
 এক মাস বাড়িতে থেকে হাঁপিয়ে যাচ্ছিলাম।
এরমধ্যে এখানে এসেও শান্তি নেই।
স্কুলে যাওয়ার পথে শুনতে হয় সুন্দরী চিঠি নিবে চিঠি?
এই ব্রাউন আই একটু ভালোবাসা দিবে?
এসব কথা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা আমার।
কয়েকজন তো আমার প্রেমে দিওয়ানা হয়ে পিছনে আঠার মত লেগে রয়েছে।
আমাদের  বাড়ির পর একটা বিশাল মাঠ রয়েছে।
যেখানে কাশফুল, ঘাসে ভরা রয়েছে ‌।
কেউ কেউ তো সেখানে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকত আমাকে এক ঝলক দেখতে।
 আমাদের গ্রামের মধ্যে বিবাহ বয়সী , এবং তার থেকেও বড় বড় অনেক মেয়ে রয়েছে যাদের বিয়ে হচ্ছে না।
কিন্তু আমাদের বাড়িতে মেয়েদের খুব দ্রুত বিয়ে হয়ে  যাওয়ার কারণে
  গ্রামের অনেকেই আমাদের বাড়ির মেয়েদের হিংসে করতেন।
তাইতো  ছেলেরা মাঠে বসে থাকলে কেউ কেউ আমার চাচীকে এসে বলতেন,চাচী আজকাল মাঠে ছেলেদের আনাগোনা বেড়ে গেছে।
চাচী তাদের কথা শুনে বলতেন,তা জেনে কি লাভ?
তারা বলতেন, আপনি বুঝেন না?
চাচী তাদের কথা শুনে বলতেন,কী বুঝবো?
 তারা  চাচীকে বলতেন এই ছেলেগুলো আমার জন্য আসে।
কারণ রিয়া তো আগে থেকেই গ্রামে তখন তো ওরা আসত না।
তাছাড়া তাদের ধারণা হচ্ছে আমি অতিরিক্ত ফর্সা হওয়াতে দেখতে বিদেশীদের মত তো সেজন্য ছেলেরা এমন ভীর করছে।
আমার চাচী তাদের কথা শুনে বলতেন,শুনো আমাদের মেয়ে কাউকে ডেকে আনেনি।
তাছাড়া সীমা কখনো বিকালে ঘর থেকে বের হয় না।
তাই কে এলো কে গেল এতো আমার ভেবে লাভ নেই।
আমাদের মেয়ের দোষ দেখলে তখন বলতে এসো।
তারা চাচীর কথা শুনে মুখ ঝামটা দিয়ে চলে যেতেন।
গ্রামে এসে আমার সমস্যা সমাধানের বদলে আরও বেড়ে গেছে।
এক সোহেলের থেকে বাঁচতে  আরেক পাগলের পাল্লায় পড়েছি।
পাগল বলছি তার কারণ হচ্ছে অনেক ছেলেরা পিছনে ঘুরঘুর করছে তার মধ্যে একজন হচ্ছে আমাদের পাশের গ্রামের চেয়ারম্যান এর ভাই।
লোকটা আমার থেকে নিচের পক্ষে দশ বছরের বড় হবে তবে আচরণ দেখে তা মনে হয় না।
স্কুলে যাওয়ার পথে এই লোক ছায়ার মতন আমার পিছনে পিছনে যায়।
লোকটার জন্য সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকত হতো আমার।
গ্রামে এসব ব্যাপার খারাপ চোখে দেখা হতো তা জানতেন বলেই ভয়টা বেশি ছিল।
এই লোকের জন্য আমার চরিত্রে কালিমা না লাগে সে চিন্তায় অস্থির।
সব মিলিয়ে আমার মনে প্রশ্ন জাগে গ্রামে এসে ভুল করলাম না তো?

 #চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/47357/</link>
				<pubDate>Sat, 23 Oct 2021 19:21:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ১৫</p>
<p>সেদিন রাতেই আমি একটা সিদ্ধান্ত নেই।<br />
কারণ এভাবে আর কিছুদিন চললে আমার হৃদয় নিজের দখলে রাখতে কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।<br />
আজকাল সোহেল মামার অসহায় মুখটা দেখলে মায়া হয়।<br />
আমার ভয় হচ্ছে মায়া থেকে আবার ভালোবাসা হয়ে না যায়।<br />
সেজন্য নিজেকে আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-47357"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/47357/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0624de5e296655bfe202e783987f7b4a</guid>
				<title>সাইফুন নেসা সীমা। changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/45825/</link>
				<pubDate>Tue, 19 Oct 2021 13:28:27 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">63c935f24c38ecf256e67070f3ba84c5</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১৩
আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে সোহেল মামা বললেন, কিরে উত্তর দিতে ভয় পাচ্ছিস?
 তুই তো বাঘিনী তোর আবার ভয় কিসের?
আসলেই কি সব প্রশ্নের উত্তর হয় ?
সবার কাছে যেই আমি ভীতু তার কাছে বাঘিনী।
কারণ সেদিন  তার হাতে ছুরি দেখেও আমার সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
সে কারণে আমাকে বাঘিনী বলছে তা আমার বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না।
আচ্ছা তার প্রশ্নের উত্তর দিলেই কি সব কিছুর সমাধান হবে।
না হবে না উল্টো তখন আরও  ভয়ে ভয়ে থাকতে হবে।
কিছু প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার মধ্যে যদি কারো মঙ্গল থাকে তো আমি মনে তা এরিয়ে যাওয়া ভালো।
যেমন আমি তাকে  কখনো বলতে পারবো না তার  অপরাধ হচ্ছে তার জন্ম শহরে এবং সে আমাদের বাড়ি ওয়ালার ছেলে।
তার এই পরিচয়ের কারণে আমি কখনো তার আকুলতা বুঝতে চেষ্টা করিনি।
কেন চেষ্টা করবো যেখানে জানা রয়েছে এটা দিবা স্বপ্ন।
তার ডাকে সাড়া দিয়ে মা বাবাকে হারানোর সাহস নেয় আমার মধ্যে।
আমার পরিবারে একটা কথা বা নিয়ম প্রচলিত  তা হচ্ছে মেয়ে গরীব ঘরে বৌ রূপে যাবে তাতে আপত্তি নেই।
তবে ছেলের  হতে হবে তাদের  আসেপাশের চেনা পরিচিতদের মধ্যে ।
আর  ছেলের  শহরে থাকলেও সমস্যা নেই তবে তার জন্মস্থান অবশ্যই হতে হবে আমাদের আসেপাশের গ্রামের মধ্যে।
  গ্রামের ছেলেরা জীবিকার তাগিদে  গ্রাম ছেড়ে বৌকে নিয়ে শহরে  আসলেও নাড়ীর টান কখনো ভুলে যাবে না।
এটা তাদের বিশ্বাস।
আর তাদের কাছে টাকার থেকে সম্মান বড়।

আমার পরিবার এক জেলা থেকে অন্য জেলায় তাদের সন্তানদের বিয়ে দেয় না।
সে হোক ছেলে বা মেয়ে।
 তাদের (সোহেলদের)পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমার পরিবারের সম্পর্ক যতই ভালো থাক না কেন ?
  যার বড় ভাই হচ্ছে নামকরা মস্তান তা জেনে  কোন বাবাই তার একমাত্র মেয়েকে কখনো সে বাড়িতে  বিয়ে দিবে না।
তাহলে আমার বাবাকে দোষ দেয় কিভাবে?
আর আমি  তো সবসময়  মা বাবার বাধ্য সন্তান।
 তাহলে এই আমি কিভাবে  তার ডাকে সাড়া দেয়?
তাই তো  মা বাবার কথা ভেবে  তাকে বারবার প্রত্যাক্ষান করেছি এই  কথা তো তাকে বলতে পারবো না।
কারণ সে আমাকে ভালোবাসে তাই হয়তো আমার ক্ষতি করবে না।
কিন্তু সত্য কথা বললে আমার মা বাবার ক্ষতি করবে না তার গ্যারান্টি কি?
আমার পরিবারের ক্ষতি করতে তার মধ্যে  দ্বিধা  কাজ নাও করতে পারে।
তাছাড়া সে সব সময় মনে করতেন, আমার বাবা মা তার পরিবারের কথা ফেলতে পারবে না।
যেখানে ভিতরের খবর অন্য।
বিশেষ করে তার বড় ভাইয়ের কথা।
কারণ লিটন সর্দার বাহিরে সবার জন্য মস্তান হলেও আমার বাবাকে বড় ভাইয়ের মত সম্মান করেন।
এই পর্যন্ত তিনি কখনো আমার বাবার সাথে  উঁচু গলায় কথা বলেনি।
বরং সব সময় আমার বাবার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখিয়েছেন।
অবশ্য বাবাও তাকে ছোট ভাইয়ের মত দেখতেন।
তবে লিটন সর্দার আমার বাবার সাথে যতই ভালো ব্যাবহার করুক না কেন তার একবার জেদ চাপলে সে আপন পর ভুলে যায় মুহূর্তের মধ্যে।
আমি বিশ্বাস করি সোহেল মামার পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তাব এলে আমার বাবা একমাত্র লিটন সর্দারের কথা ভেবে তাদের প্রস্তাবে রাজি হতেন না।

কারণ, যেখানে লিটন সর্দার ও সোহেল সর্দার একটু ঝগড়া লাগলে  নিজেদের মধ্যে রক্তারক্তি কান্ড ঘটায় ।
একবার তো লিটন সর্দারের রাগ এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে সোহেল সর্দার তার আপন ভাই হওয়া সত্ত্বেও তাকে খুর দিয়ে হাতে জখম করেছিল সুস্থ হতে কয়েক মাস লেগেছিল।
সেদিনের সেই দৃশ্য দেখে 
একজন বাবা কখনো জেনে শুনে তার মেয়েকে এমন পরিবারের সদস্য করতে চাইবে না।
যেখানে তার মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
 সোহেল সর্দার তার মেয়েকে যতই ভালোবাসুক জীবন না বাঁচলে ভালোবাসা দিয়ে কি হবে?
 সত্য সব সময় তিতা হয় যা শুনার সৎ সাহস অনেকের নেয়।
যেমন সোহেল সর্দার কখনো নিজের পরিবারের খুঁদ দেখবে না।
কেউ তাদের খুঁদ ধরেছে তা নিশ্চয় সহ্য করতে চাইবে না।
আর তাকে এসব বলেও লাভ হবে না।

কিরে বলছিস না কেন?
মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছিস কেন!
পুতুলটার কষ্ট হচ্ছে দে তোর মেয়েকে আমার কোলে দে,

না,
ও আমার কোলেই ঠিক আছে ।
আমি তার কথা শুনে কিছু সময়ের জন্য আঁতকে উঠে উপরের কথাটা বললাম,
 মনে মনে ভয় হচ্ছে এই লোক যদি আমার মেয়েকে কোলে নিয়ে  জিম্মি করে তার ভালোবাসার দাবি করেন?
তখন কি হবে?
মানুষ হিসেবে আমি তাকে বিশ্বাস করতে পারলেও একজন মা হিসেবে বিশ্বাস করতে পারছি না।
আসলে  মা বাবারা  সন্তানের সব বিষয়ে   পজেসিভ থাকেন।
আমিও তার ব্যাতিক্রম নয়।
আমার মুখে ভয় দেখে সোহেল সর্দার তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললেন, আসলে তুই আমাকে কখনো চিনিতে পারলি না আর না পারলি কখনো আমার ভালোবাসা  বুঝতে সারাজীবন এটাই আমার  সব চেয়ে দুঃখ থাকবে। 
আচ্ছা জান তুই ভাবলি কি করে আমি তোর পুতুলের ক্ষতি করবো?
আরে এই পুতুলটার শরীরের তো তোর রক্ত বয়ছে।
আমি নিজে মরতে রাজি কিন্তু তোর বিন্দুমাত্র ক্ষতি দেখতে রাজি না।
তুই আমাকে ভালোবাসতে না পারলেও আমি তো তোকে ভালোবাসি।
 তার কথা শুনে কিছুক্ষণ আগে আমি আমার উল্টা পাল্টা ভাবনার জন্য মনে মনে লজ্জিত হলাম। 
এটা সত্যি সোহেল ইচ্ছে করলে আমার বড় ধরনের ক্ষতি অনেক আগেই করতে পারতেন।
 বিয়ের পর চার মাস এই এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকতাম।
সে সময়ে আমার বরের ক্ষতি করা তার জন্য কোন ব্যাপার ছিল না।
কিন্তু তিনি তা করেননি।
আমি কথাগুলো ভেবে তার দিকে তাকিয়ে বললাম, আসলে আমি বিশ্বাস করি আপনার মধ্যে একজন ভালো প্রেমিক, বন্ধু, স্বামী হওয়ার সব যোগ্যতার আছে।
তবে জানেন তো ভালোবাসা জিনিসটা জোর করে হয় না।
এই যে দেখুন চার বছর ধরে আপনি আমাকে ভালোবাসতেন তবুও কেন যেন আপনার প্রতি আমার ভালোবাসা হয়নি।
আপনাকে দেখলে সম্মান করি তবে আপনার প্রতি  ভালোবাসার অনূভুতি হয় না।
মনের উপর তো জোর চলে না।
এখানে আমার কি দোষ?
 তাছাড়া আপনাকে দেখলে  মনে হয় আমার মায়ের আপন ছোট ভাই।
তাইতো আপনাকে মামা বলি।
মামা আপনি জানেন আমার না বড় ইচ্ছে ছিল আপনার  কোন বড় বোন থাকলে তার বরকে উকিল বাবা বানানোর।
যাতে আমি এবং আমার বর সব সময় আপনাকে মামা বলে ডাকতে পারি।
কিন্তু আফসোস তা আর হলো না।

মামা কথাটা একটু জোর দিয়ে বললাম যাতে আমার সামনে থেকে যাতে তিনি সরে যায়।
কারণ এই লোক আমাকে সব সময় বলতেন,তুই দরকার হলে আমার নাম ধরে ডাক তবুও মামা বলিস না।
তোর মুখে মামা ডাক শুনলে আমার হৃদয় জ্বলে।
প্রিয়সীর মুখে মুখে কেই বা মামা ডাক শুনতে চায়?
তুই আমাকে মামা ডাকলে আমি তোর সামনে নিজের ভালোবাসার কথা মেলে ধরতে পারি না কেমন লজ্জা করে।
তোর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না।
হঠাৎ করে অতীতে বলা তার কথাটা মনে পড়ায় তাকে মামা বলে ডাকলাম।

ফাজিল মেয়ে,বদের হাড্ডি, পাষাণ,ডাইনি।
ডাইনির কথা শুনে মনে হচ্ছে আমার ভাগ্নি হতে পারেনি সে দুঃখে মরে যাচ্ছে।
 আমার মুখে মামা ডাক  শুনে সে রাগে গজগজ করতে করতে সামনে থেকে চলে গেছেন।
আমি সুস্থির নিঃশ্বাস ছাড়লাম।
আমি জানি কয়দিন আমার সামনে আসবে না।
আসলে আমি তাকে কষ্ট দিতে মামা বলিনি।
আমি চাই সে আমাকে ভুলে যাক।
আমার আসায় না থেকে সামনে এগিয়ে যান।
জীবনে একজন ভালো জীবনসঙ্গী পেয়ে আমাকে ভুলে জীবনের নতুন মানে খুঁজে বের করুক।
তবে আদৌও তা হবে কিনা জানি না।

বাবার বাড়িতে বাবা মায়ের কাছে প্রতিটি মেয়ে রাজকন্যা।
আমিও তার ব্যতিক্রম নয়।
এখানে এসে আরামে আছি , আমার মা আমার পুতুলটাকাকে নিয়ে ব্যস্ত।
আমাকে কিছু করতে দিচ্ছে না মায়ের হুকুম খাওয়া দাওয়া করবে আর ঘুমাবে।
আমিও মায়ের লক্ষী মেয়ে হওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত হোক তা একদিনের।
রাতে আমার মেয়ে তার নানীর সাথে ঘুমাচ্ছে আমি বসে বসে মোবাইলে আমার বিয়ের ছবি দেখছিলাম।
কারণ বাবা ও ভাইয়েরা এখনো বাসায় ফেরেনি মা আমাকে খেয়ে ঘুমিয়ে যেতে বলেছিল।
অবশ্য মা জানে সে বললেও রাতে বাবা ও ভাইদের সাথে খাওয়া আমার ছোট বেলার অভ্যাস।
সেজন্য জোর করেনি।
এখন মাত্র নয়টা বাজে  দোকান বন্ধ করে তাদের আসতে অনেক দেরী আছে।
অন্যদিকে
 গ্রামের মানুষের কাছে এখন অনেক রাত হয়ে গেছে,
তারেক হয়তো এখন ঘুমিয়ে গেছেন।
কারণ ঢাকায় থাকলে যে মানুষ নয়টার মধ্যে ঘুমান গ্রামে তো আরও আগেই ঘুমানোর কথা।
তাই ফোন করে তাকে বিরক্ত না করিনি ।
মোবাইল নাড়াচাড়া করছি আর দুপুরে সোহেল মামার বলা কথাগুলো  ভাবছি।
ছোট থেকে বড় হয়েছি এই এলাকায়।
বিয়ের পর এখানে থেকে অন্য এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছে আমার বর।
তাতে আমার কখনো মন খারাপ হয়নি বরং সুস্থি অনুভব করছিলাম এই ভেবে সোহেল মামার থেকে দূরে থাকতে  পারছি এটা ভেবে।
কারণ আমার আসেপাশে তার ঘুরঘুর দেখে আমার বর ভাবছে তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল।
 তাছাড়া এখানে এলে তার আবেগপ্রবণ কথাবার্তা শুনলে কখনো কখনো নিজেকে খারাপ একজন মনে হয়।
আসলে আমি চাই না আমার জন্য কারো জীবন থেমে থাক।
কথাটা ভেবে চোখ বুঝলাম,
শহর মেতেছে আজ পহেলা বৈশাখের উল্লাসে।
চারপাশে বাজছে গানের সুর।
জেগেছে বাঙ্গালির ঘরে ঘরে এ কি মাতন দোলা
জেগেছে সুরেরই তালে তালে হৃদয় মাতন দোলা
বছর ঘুরে এলো আরেক প্রভাত নিয়ে
ফিরে এলো সুরের মঞ্জুরী
পলাশ শিমুল গাছে লেগেছে আগুন
এ বুঝি বৈশাখ এলেই শুনি

মেলায় যাইরে মেলায় যাইরে
বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে ললনারা হেটে যায়
ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই
মেলায় যাই রে মেলায় যাই রে

জেগেছে রমণীর খোপাতে বেলী ফুলের মালা
ভিনদেশী সুগন্ধী মেখে আজ প্রেমের কথা বলা
রমনা বটমূলে গান থেমে গেলে
প্রখর রোদে এ যেন মিছিল চলে
ঢাকার রাজপথে রঙের মেলায়
এ বুঝি বৈশাখ এলেই শুনি...

মেলায় যাইরে মেলায় যাইরে
বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে ললনারা হেটে যায়
ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই
মেলায় যাই রে মেলায় যাই রে।
প্রতিটি দোকানে দোকানে গানটি বাজছে,
তরুণ তরুণী হাতে হাত রেখে ঘোরাঘুরি করছে।
এরমধ্যে সোহেল বলেন,
এই বিলাই ফুসকা খাবি?
আমার বন্ধুরা ফুসকার স্টল দিয়েছে ওদিকে।
আমি রাগি চোখে তার দিকে তাকিয়ে বললাম,মামা আপনি আমাকে আর কখনো বিলাই বলবেন না।
থাপ্পর দিয়ে দাঁত ফেলে দিবো বেয়াদব , আমার কি চুল পেঁকেছে নাকি আমার বয়স বেশি?
মামা বলছিস কেন?
মামা কে মামা বলবো না তো কি বলবো?
এসেছেন একজন আমাকে থাপ্পর মারবেন।
আরে আমার ভুল হয়েছে এই বজ্জাত লোকের সাথে মেলাতে এসে।
আমি থাকবো না এখানে কথাটা  বিরবির করে  বলে আমি বের হয়ে যাচ্ছিলাম এরমধ্যে সোহেল মামা আমার হাত ধরে বললেন, এক পা সামনে এগিয়ে দ্যাখ পা হাতে ধরিয়ে দিব বেয়াদব কোথাকার।
এই মুহূর্তে তোর দায়িত্ব আমার তাই একা কোথাও যেতে পারবি না।
তাই চুপচাপ আমার পাশে দাড়িয়ে থাক।
তার কথা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছিল এরমধ্যে এরমধ্যে তন্দ্রা কেটে যায়।
চোখের সামনে একে একে ভেসে ওঠে অতীতের স্মৃতিগুলো,

আমি তখন সেনাপল্লী স্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়তাম।
আমাদের স্কুলের সামনে ছিল বিএন স্কুল।
সেখানে প্রতি বছর তিন দিনের পহেলা বৈশাখের মেলা বসতো।
টিকিট কেটে যাওয়া লাগতো তবে সেখানে  বহিরাগতদের যাওয়ার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিল।
তবে যারা মেলায় স্টোল দিবে তাদের  লোকজনের জন্য কিছু টিকেট দেওয়া হতো।
আমরা যেহেতু আর্মি স্কুলে পড়ি সে সুত্রে  আমাদের স্কুলে সব ছাত্র ছাত্রীদের টিকিট দেওয়া হতো বিনামূল্যে।
তবে তিনদিন মেলা হলেও উৎসব মুখর পরিবেশ থাকতো প্রথম দিন।
সে সময়ে মেলায় লাল সবুজ বাতি নজর কাড়ত আমাদের মন।
মেলায় যেতে উৎসুক হয়ে থাকতাম।
টিকেট পেয়ে খুশিতে বাক বাকুম হয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বললাম,আম্মু ও আম্মু মেলায় নিয়ে যাবে?
আম্মু আমার কথা শুনে বললেন,দেখি।
আম্মুর দেখি মানে যাওয়া হবে ভেবে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।
সেদিন বিকালে সোহেল মামা আমাদের বাসায় আসেন। কথায় কথায় মা তাকে বলেন, আমি মেলায় যেতে চাই। আমার মেলায় যাওয়ার কথা শুনে তিনি আমার মা&#039;কে বললেন,ভাবী আমিও তো তৃণাকে নিয়ে মেলায় যাচ্ছি।
আমার বন্ধুরা খাবারের স্টোল দিয়েছে  স্টোল  দেখতে যেতে বলেছে।
ভাবছি তৃণাকে নিয়ে যাব।
যদি আপনি বলেন তো আমাদের সাথে ওকে নিয়ে যেতে পারি।
আম্মু সোহেল মামার কথা শুনে বললেন,তৃণা যেহেতু যাচ্ছে তাহলে সীমাও যাবে।
ভাই যেহেতু ওদের সাথে তুমি যাচ্ছো তো  চিন্তার কিছু দেখছি না। 
ও আপনাদের তো বলা হয়নি তৃণা হচ্ছে সোহেল মামার একমাত্র বোন।

মা সরল মনে তাদের সাথে আমাকে পাঠান।
সে তো আর জানতেন না মেলায় এনে তার মেয়েকে  অপমান করবে কথাটা ভেবে আমার কান্না পাচ্ছিল।
তবুও কান্না আটকে তার পিছনে পিছনে হাঁটছিলাম।
কিন্তু হুট করে সোহেল মামা আমার আর তৃণার হাত ধরে হাঁটতে লাগলেন।
আমি হাত ছাড়াতে চেষ্টা করলে সে বললেন,সখে তোর হাত ধরিনি।
মেলায় মানুষের ভীড়ে হারিয়ে গেলে তোকে কে খুঁজবে?
হারিয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে সম্পূর্ণ মেলায় আমাদের হাত ধরে ছিলেন।
সেদিন একটা বিষয় ভেবে অবাক হয়েছিলাম , তার বন্ধুরা আমাকে দেখে ফিসফিস করছিল এবং তাকে কুচ কুচ হোতা হে বলে  খোঁচাচ্ছেন।
সে ওদের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছিলেন।
তার হাসির কারণ  আমার ছোট মাথায় বোধগম্য হলো না।
তবে সে সময়ে তার হাঁসির অর্থ না বুঝলেও তার কিছুক্ষণ পর আমার কাছে সব পরিস্কার হয়ে যায়।
মেলায় ঘুরাঘরি শেষে তিনি আমাকে একটা শোপিচ কিনে দেন।
আমি নিতে চায়নি সে জোর করে আমার হাতে ধরিয়ে দেয়।
দোলনায় একটা ছেলে ও একটা মেয়ে বসে রয়েছে।
ছেলেটার হাতে রয়েছে ফুল আর মেয়েটার হাতে ভালোবাসা।
শোপিচটা যেন কারো ভালোবাসা ব্যক্ত করেছিলেন।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ওখানে পুতুল, খরগোশ, মসজিদ, পাখির শোপিচ ছিল তা না দিয়ে আমাকে এটা দিয়েছে।
এটা দেখে আমার ছোট মনে তখন খটকা লাগলো।
কারণ আমার বয়স কম হলেও  দেখতে শুনতে ৯ম,১০ম শ্রণীর ছাত্রী মনে হতো যার দরুন ৪র্থ শ্রেণীতে থাকতে প্রথম গোলাপ ফুল ও প্রেমপত্র পাই।
ভয় পেয়ে ওগুলো ছুড়ে ফেলে দৌড়ে বাসায় এসে
সে সময়ে আম্মু&#039;কে সব বলে দেয়।
চলার পথে এমন প্রেমপত্র অনেকে দিবে সেদিকে নজর দিলে নিজের ক্ষতি হবে।
কারণ এদের মধ্যে কে ভালো কে খারাপ বোঝা কষ্টকর।
তুমি একজন খারাপ মানুষের হাতে পড়লে তোমাকে বিদেশে বিক্রি করে দিবে।
সেখানে তোমাকে মেরে তোমার শরীরের এক একটা কেটে বিক্রি করে দিবে।
সেদিন আম্মু  আমাকে একজন বান্ধবীর মতো  খুব সুন্দর করে উপরের কথাগুলো বুঝিয়ে বলেন 
এর পর থেকে এই পর্যন্ত অনেকের প্রেমপত্র পেয়েছি।
তবে তাদের দিকে ফিরেও তাকায়নি।
তাই এই মুহূর্তে আমাকে দেওয়া তার উপহার এবং আমার দিকে তার  তাকানো দেখে  আমার মনে সন্দেহ জাগে।
তাইতো সেদিন মেলায় থেকে আসার পর  আমার প্রতি তার কর্মকান্ড ফলো করতে থাকি।
কিছুদিন খেয়াল করে দেখলাম  আমার সব ব্যাপারে তার আগ্রহ বেশি।
তা দেখে আমি তার থেকে দূরে সরে থাকার চেষ্টা করতাম।
কারণ আমি চায়নি সামনে কোনো অসস্থিকর অবস্থায় পড়তে।
তাইতো সে আমাদের বাসায় এলে আমি ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকতাম তার সামনে আসতাম না।
সব সময় চেষ্টা করতাম তার সামনে না পড়ি।
সে যেখানে থাকতেন তার ত্রিসীমানায় আমার ছায়া পড়তে দিতাম না।
কিন্তু ভাগ্য বলেও তো একটা কথা আছে।
সোহেল মামা আমার আচরণে অধৈর্য হয়ে একদিন বিকালে সেদিন মা বাহিরে ছিলেন সূযোগ বুঝে আমাদের বাসায় এসে চকলেট ও গোলাপ ফুল দিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে বলেন, আমি জানি তুই এখনও অনেটা ছোট।
কিন্তু তোর বোঝার ক্ষমতা অন্য সবার থেকে ভালো।
কারণ এই বয়সে যে মেয়ে প্রেমে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার সাহস করতে পারে।
সে আর যায় হোক অন্য সবার মত নয়।
কিন্তু তুই কি জানিস তোর পিছনে থাকা ছেলেদের লাইন দেখে আমার ভয় হয়?
আমি তার কথা শুনে চমকে উঠি!
 সে আবারো বলেন,ভয় হয় তোকে হারিয়ে ফেলার।
তোকে আমি ভালোবাসি সুন্দরী।
আমার ভালোবাসা গ্রহণ করে
 আমাকে তোর সঙ্গী করে নিবি?
তোর প্রিয় একজন হওয়ার সুযোগ দিবি?
একবার শুধু সুযোগ দে তোকে আমার হৃদয়ের রাজরানী করে রাখবো।
এতদিন যাকে মামা বলে ডেকে এসেছি তার মুখে ভালোবাসার কথা শুনে তার থেকে ছিটকে দূরে সরে,
চলবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/45693/</link>
				<pubDate>Tue, 19 Oct 2021 07:59:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ১৩<br />
আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে সোহেল মামা বললেন, কিরে উত্তর দিতে ভয় পাচ্ছিস?<br />
 তুই তো বাঘিনী তোর আবার ভয় কিসের?<br />
আসলেই কি সব প্রশ্নের উত্তর হয় ?<br />
সবার কাছে যেই আমি ভীতু তার কাছে বাঘিনী।<br />
কারণ সেদিন  তার হাতে ছুরি দেখেও আমার সিদ্ধান্ত বদলায়নি।<br />
সে কারণে আমাক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-45693"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/45693/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6ebf568a9c5529103fbfdbe83cab4716</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১৪

এতদিন যাকে মামা বলে ডেকে এসেছি তার মুখে ভালোবাসার কথা শুনে তার থেকে ছিটকে দূরে সরে গেলাম।
অবশ্য আমি বুঝতে পারছিলাম এমন কিছুর মুখামুখি একদিন আমাকে হতেই হবে।
আমি যতই  পালিয়ে বেড়ায় না কেনো।
তবে সেইদিন যে এতো জলদি এসে পড়বে তা বুঝতে পারিনি বা বুঝতে চাইনি।
 এতদিন যে বিষয়টি থেকে পালিয়ে  বেড়াচ্ছি আজ হুট করে তা সামনে এসে দাঁড়াবে।
তাদের পরিবার সম্পর্ক যেহেতু সবকিছু জানতাম সেজন্য আমার ভিতরে ভয় কাজ করছিলো।
মনে হচ্ছিল তাকে ফিরিয়ে দিলে আমার ক্ষতি হতে পারে।
আবার তাকে মেনে নিলে আমার বাবা মা&#039;কে কষ্ট পাবেন।
যা আমার জন্য মঙ্গলজনক হবে না।
এই মুহূর্তে আমার একটু দুর্বলতা তার শক্তি হয়ে আমাকে আঘাত করতে পারে।
এতে আমার প্রতি মা বাবার বিশ্বাস ভেঙ্গে যাবে।
কথাটা ভেবে অস্থির হয়ে যাচ্ছিলাম।
এদিকে সোহেল মামা হাঁটু গেড়ে বসে রয়েছে।
আমি তার দিকে তাকিয়ে অসহায় বোধ করছি।
কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।
তাই হঠাৎ করে তাকে বললাম, দেখুন আপনাকে  আমি কখনো সে নজরে দেখি নাই।
দেখিস নাই তো এখন থেকে দেখবি।
তোকে ছাড়া আমার চলবে না,
এক সপ্তাহ সময় দিলাম
তবে আমি কিন্তু তোর মুখে হ্যাঁ শুনতে চাই অন্য কিছু না।
কথাটা বলে সেদিন চলে যান সোহেল মামা।
আমার ছোট মাথায় রাজ্যের চিন্তা দিয়ে নিজে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে।
এই জেদে নিজের মাথার চুল নিজে টেনে ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে।
কিন্তু চুল ছিঁড়তে পারছি না কারন আমার বাবার পছন্দের একটা হচ্ছে তার এই মায়ের চুল।
মা&#039;কে বলবো, না বলবো না তা ভেবে অস্থির লাগছিল।
চিন্তা করতে করতে কেটে যায় এক সপ্তাহ।

 তার দেওয়া সময় শেষ হতে দেরি তার আমার আসতে দেরি হয়নি।
সে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলেন, তোর উত্তর জানতে চাই।
যদিও জানি তোর উত্তর হ্যাঁ হবে।

আমি তার কথা শুনে  বললাম, দিবা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন।
 মামা আপনার লজ্জা করে না আমার মতো ছোট একটা মেয়েকে প্রেমের কথা বলতে?
 তাছাড়া আপনি পাগল বলে তো আমাকে হতে হবে না।
আর আপনি ভাবলেন কি করে  আপনার ফালতু বিষয়ে রাজি হবো।
আর  আমি মাত্র ক্লাস সিক্স এ পড়ি এই বয়সে প্রেম ভালোবাসার মত ফালতু বিষয়ে ভাবতে চাইও না।
তাছাড়া আপনাকে আমার মোটেও পছন্দ না।
আচ্ছা মামা আপনার লজ্জা করছে না ক্লাস সিক্সে পড়া ভাগ্নিকে প্রেম প্রস্তাব দিতে?
আপনার  এইসব কথা শুনে আমার তো মনে হচ্ছে আপনি একটা এল সি।
 থাপ্পর দিয়ে দাঁত ফেলে দিবো বেয়াদব একটা।
এই তুই আমার কোন জন্মের বোনের মেয়ে।
যে তোকে প্রেম প্রস্তাব দিতে পারবো না?
তোর সাথে আমার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই।
বুঝতে পারছিস।
আর এটা ভুলে গেলি কি করে তুই আমি এক হুজুরের কাছে এবং একসাথে কোরআন পড়েছি।
তুই যে হাদীস বলতে আসবি তা অমিও জানি।
তাই তো জ্ঞান তোর কাছেই রাখ।
আর এল সি মানে কী?
আমি তার কথা শুনে বললাম, বিয়ের আগে  প্রেমের সম্পর্ক হারাম এই হাদীস জেনেও তো প্রেম প্রস্তাব দিচ্ছেন।
আর এল সি হয়ে তার মানি জানেন না এটা কোন কথা হল?
তবুও যেহেতু আপনি জানেন না তো বলতে তো হবেই।
এল সি মানে হচ্ছে লুচ্চা।
 আমার কথা শুনে সোহেল মামা আমার দিকে তেড়ে আসতে নিলে আমি ভয় পাই।
চিৎকার দিতে নেই।

তা দেখে তিনি বলেন, এই চুপ চুপ আমি তোর থেকে দূরে আছি অযথাই চিল্লাচিল্লি করবি না।
কথাটা বলে কপাল চুলকাতে চুলকাতে বলেন,সবই আমার কপাল না হলে তোর মত বান্দরকে ভালোবাসতে গেলাম কেন?
পরিবারের লোকজন ছাড়া যেই আমি  আজ পর্যন্ত  কখনো অন্য নারীর দিকে চোখ তুলে তাকায় নি সেই আমি কিনা তোর প্রেমে আছড়ে পড়লাম।
পড়লাম তো পড়লাম এমন ভাবে যে উঠার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না।
আর তুই কিনা আমার ভালোবাসার মূল্য তো দিচ্ছেস না উল্টো লুচ্চা বলছিস।
আমি মুখ ঝামটা দিয়ে বললাম, হুঁ আপনাকে আমার প্রেমে পড়তে কে বলেছে ?
আমি তো বলিনি যত্তসব।
আর আমি নিশ্চিত  আপনি  লোক ভালো না।
আর শুনেন জোর করে হ্যাঁ শুনতে চায় তো গুন্ডা মাস্তান।
আপনি কি তাই?
আমার কথা শুনে সোহেল মামা রেগে বললেন,তুই আমার চোখের সামনে থেকে দূর হয়ে যা।
আশ্চর্য আমি ক্যান যাবো?
যাবেন তো আপনি,
আপনাদের বাড়িতে আমরা কি মাগনা থাকি নাকি!
আমার ভুল হয়েছে তোর কাছে প্রেম নিবেদন করে।
আমি ভুলে গেছিলাম হাত পায়ে বাড়লেও তোর ঘটে বুদ্ধি এখনো আসেনি।
তাই আমিই এখানে থেকে যাচ্ছি।
  তবে মনে রাখিস তোর হৃদয়ে একদিন আমার রাজত্ব হবে।
কথাটা বলে সোহেল মামা চলে যায়।
এরপর কেটে যায় অনেক দিন আমার সামনে পড়লেও তেমন কথা বলতেন না।
আমি আমার মত ছিলাম তাকে নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করতে চায়নি।
এভাবে কেটে  দুই বছর।
তবে এই দুই বছরে এমন একদিন যায়নি যে সোহেল মামা আমাকে ফলো করেনি।
তা আমি বুঝতে পেরেও চুপচাপ ছিলাম।

আমি যখন ক্লাস এইটে উঠলাম তখন থেকে তার অত্যাচার বেড়ে যায়।
আমাকে একা দেখলেই ভালোবাসার বয়ান দিতে শুরু করেন।
আমাকে ছাড়া বাঁচবে না, আমি চাইলে সে চাঁদ সূর্য এনে দিবে  আরও কতো কথা।
তার এসব কথা শুনে গলে যাওয়ার পাত্রি আমি নই। 
তবে দিনদিন তার পাগলামী বেড়ে চলছে।
এইতো সেদিন বললেন, আমি বুঝতে পারছি তোর সমস্যা।
আসলে আমার পরিবারের সদস্যদের তোর পছন্দ নয়।
তুই শুধু একবার আমার ভালোবাসা গ্রহণ করে নে আমি তোর জন্য সব ছাড়তে রাজি আছি।
আর শুন বিয়ের পর তোকে  এখানে আমার পরিবারের সঙ্গে থাকতে হবে না।
তোর যেখানে থাকতে ইচ্ছে করবে সেখানে থাকবো।
দরকার হলে আমার খালার বাড়িতে তোকে নিয়ে থাকবো।
তবুও তুই রাজি হয়ে যা জান।
আমি তার কথা শুনে কখনো কখনো ভাবতাম আচ্ছা মানুষটি আমাকে পাগলের মত ভালবাসে তবুও কেন আমি তাকে গ্রহণ করতে পারছি না।
আচ্ছা পারছি না নাকি ইচ্ছে করে চাচ্ছি না?
 আবার কখনো কল্পনায় ভেসে ভাবতাম, তার সাথে বিয়ে হলে সে সময়টা কেমন যাবে?
কখনো কল্পনা করতাম  তার সাথে ঘুরতে গিয়েছি।
তবে কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরলেই মনে মনে নাউজুবিল্লাহ বলতে ভুলতাম না।
এসব আজগুবি কল্পনা করার জন্য।
কারণ আমার বাবা মা কখনো এমন কিছু মানবে না।
মানবে না বলছি তার কারণ কিছুদিন আগে মা&#039;কে বলেছিলাম সোহেল মামার কর্মকাণ্ডের কথা।
কারণ মা আমার বান্ধবী, শুভাকাঙ্ক্ষী সব। 
 ছোট থেকে মায়ের কাছে সবকিছু সেয়ার করা আমার অভ্যাস।
তবে এতদিন সোহেল মামার বিষয়ে মা&#039;কে বলে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চায়নি ।
কিন্তু এখন না বলে উপায় নেই সেজন্য বাধ্য হয়েই বলেছিলাম।
মা আমার কথা শুনে বললেন,দেখ মা আমি তোকে বিশ্বাস করি।
আমি জানি ,তুই এমন কিছু করবি না যাতে তোর বাবার সম্মান নষ্ট হয় বা কষ্ট পায়।
আরেকটি কথা আমার একমাত্র মেয়ের বর কখনো কোন সন্ত্রাসীর ভাই হবে তা  আমি এবং তোর বাবা বেঁচে মানতে পারবো না।
আর তার বিষয়ে আমি জানি তা সোহেল কে বুঝতে দেবি না তাহলে সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
সেদিন মায়ের কথা শুনে বুঝতে বাকি ছিল না মা সোহেল মামাকে ব্যক্তি হিসেবে পছন্দ করলেও মেয়ের জামাই হিসেবে পছন্দ করবেন না।
সেজন্য মনে তার ভাবনা এলেও ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিতাম।
আমি যে  কখনো  মনের অজান্তে ও মা বাবাকে কষ্ট দিতে চাই না।
তবে তা কতদিন করতে পারবো তা জানি না।
 ইদানিং সোহেল মামার বেপরোয়া স্বভাব দেখে আমি ভয় পাচ্ছি।
কারণ তার চোখে  আমাকে পাওয়ার তৃষ্ণা দেখতে পাচ্ছি।
এরমধ্যে একদিন সোহেল মামা  ছুরি হাতে নিয়ে আমার সামনে এসে বললেন,তুই যদি আমাকে ভালো না বাসিস তো এই মুহূর্তে আত্মহত্যা করবো।
আমি তার কথা শুনে ভয় পেলেও তার সামনে সাহস দেখিয়ে বলি, আত্মহত্যা করবেন ভালো কথা।
তবে মামা আমাদের রুমের বাহিরে করবেন না।
করতে হলে নিজের ঘরে করুন।
নাহলে আপনি তো মরেই খালাস ।
আর এদিকে আপনার মৃত্যুর জন্য আমাদের থানায় দৌড়াতে হবে।
সেদিন আমার কথা শুনে সোহেল মামা কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকেন!
কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকার পর বললেন, আমি মরলে তুই কষ্ট পাবি না?
আমি সাথে সাথে বললাম একদম না।
আপনি মরলে পৃথিবীতে থেকে একটা আপদ দূর হবে।
সোহেল মামা আমার কথা শুনে বললেন,তুই একটা পাষাণী, নিষ্ঠুর।
তোর বুকে দয়ামায়ার লেশমাত্র নেয়।
আমি তার কথা শুনে বলি,তাও আপনার থেকে ভালো আছি।
যেই আমি কিনা আপনার ছায়াও পছন্দ করি না।সেই আমার জন্য আপনি স্বার্থপরের মত নিজের পরিবারকে ছাড়তে চেয়েছিলেন।
তাহলে নিষ্ঠুর কে?
আমার কথা শুনে সে আমাকে ঝাপ্টে ধরে বলেন, বিশ্বাস কর তোকে ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার।
অনেক চেষ্টা করেছি তোকে ভুলতে কিন্তু পারিনি।
আমি তাকে নিজের থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে চিৎকার করে বলি, আপনার সাহস হয় কি করে আমাকে ধরার?
কে হন আমার,কোন অধিকারে আমাকে ধরতে এসেছেন?
আর কখনো আমাকে ছোঁয়ায় চেষ্টা করলে, আমি নিজের জীবন দিয়ে দিবো।

সীমা?
কি যা তা বলছিস?

আমি যা বলছি ঠিক বলছি ‌
একটা কথা মনে রাখবেন আপনি আমাকে জোর করে করে বিয়ে করলেও আমার মন পাবেন না।
কারণ আপনি যেদিন আমাকে বিয়ে করবেন সেদিন হবে আমার জীবনের শেষ দিন।
আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন একমাত্র আপনি।
সেদিন আমার কন্ঠে এমন কিছু ছিল যে সে ভয় পেয়ে যায়।
সেদিন রাতেই আমি একটা সিদ্ধান্ত নেই।
কারণ এভাবে আর কিছুদিন চললে নিজের হৃদয়ের  দখল রাখতে কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।

চলবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/45672/</link>
				<pubDate>Tue, 19 Oct 2021 07:49:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ১৪</p>
<p>এতদিন যাকে মামা বলে ডেকে এসেছি তার মুখে ভালোবাসার কথা শুনে তার থেকে ছিটকে দূরে সরে গেলাম।<br />
অবশ্য আমি বুঝতে পারছিলাম এমন কিছুর মুখামুখি একদিন আমাকে হতেই হবে।<br />
আমি যতই  পালিয়ে বেড়ায় না কেনো।<br />
তবে সেইদিন যে এতো জলদি এসে পড়বে তা বুঝতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-45672"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/45672/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">316d2d52d6e582fb1d8f4e28f5115ee4</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/44626/</link>
				<pubDate>Sun, 17 Oct 2021 16:52:18 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ca8f3eeb8dd998a76639898f4feba93d</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১২

সামনে থাকা ব্যাক্তিটি বলে উঠল, তোর কোলে থাকা পুতুলটার বাবা কিন্তু আমার হওয়ার কথা ছিল?
নাওজুবিল্লাহ্  , কি সব কথাবার্তা ছিঃ।
লোকটার কথা শুনে বিরবির করে বলছিলাম এরমধ্যে সামনে থাকা লোকটা আবারও আমাকে বললেন,এই বিলাই কথা বলছিস না কেন?
চোখে দেখিস না ?নাকি ইচ্ছে করে না দেখার ভান করছিস?
যাতে আমার সাথে কথা বলতে না হয়?

আমি লোকটার কথা শুনে তার দিকে তাকিয়ে বললাম,আসসালামু আলাইকুম মামা।
আপনাকে না চেনার কি আছে!
আর দয়াকরে আমাকে বিলাই বলবেন না।
আমি মানুষ কোন জীবজন্তু না।
 তা মামা আপনি কেমন আছেন?
আমার মুখে মামা ডাক শুনে লোকটা বিরক্ত হয়ে বলেন,তুই আর শুধরালী  না বিলাই!
আমি তোর কোন জন্মের মামা হয়?

মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে লোকটার মুখে বিলাই শুনে।
আরে বাবা আমি মাছের মাথা খেতে পছন্দ করি দেখে আমাকে বিলাই বলতে হবে তার কোন মানে রয়েছে।
সেই ছোট থেকেই এই লোকটা আমাকে বিলাই বলে ক্ষ্যাপায় দূর ভালো লাগে না।
ও বারবার লোকটা বলছি কেন তার তো একটা নাম আছে।
তার নাম হচ্ছে , সোহেল সর্দার।
এই এলাকার নামকরা সর্দার বাড়ির সোহেল সর্দার হচ্ছে মেঝো ছেলে।
তার বড় ভাই লিটন সর্দার যাকে সবাই একনামে চিনেন।
আর চিনবে না কেন!
এলাকার মস্তান বলে কথা।
তবে সোহেল  সর্দার তার ভাইয়ের মত মস্তান নয়।
তারা তিন ভাই এক বোন।
তার ছোট বোন আমার দুই বছরের ছোট।
আমার ১৯৮৮‌ তে জন্ম তার বোনের ১৯৯০ সালে।
তার বোন আমার সমবয়সী হওয়াতে আমাদের মধ্যে বান্ধবীর মতো সম্পর্ক ছিল।
সোহেল সর্দার হচ্ছে আমাদের আগের বাসার বাড়ি ওয়ালার ছেলে।
তাদের বাড়িতে আমরা চৌদ্দ বছর ভাড়া ছিলাম।
সেই সুত্রে তার এবং তার পরিবারের সম্পর্কে সবকিছু  জানা।
তাছাড়া তাদের বাসা ছেড়ে এলেও  তাদের পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের ভালো সম্পর্ক রয়েছে ।
তাইতো আমরা অন্য বাসায় ভাড়া থাকলেও প্রতিদিন একবার হলেও  সোহেল বা তার পরিবার আমার মায়ের সাথে দেখা করতে আসেন।
আমার পরিবার এখন যেখানে ভাড়া থাকেন সেখানে  থেকে তাদের বাড়ির দুরত্ব তিন চার বাড়ি হবে ‌।
সোহেল এর গায়ের রং দেখতে হলদে ফর্সা ,যাকে বলে পাকা সুন্দর।
লম্বায় ৫&quot;৯&#039; ইঞ্চি খাড়া নাক বড় বড় চোখ সিল্কি চুল।
সব দিক থেকেই ভালো।
যে কোন মেয়ের হৃদয় হনন করার ক্ষমতা রাখেন এই লোক।
তার সম্পর্কে এতো কথা বলার একটাই কারণ তা হচ্ছে  তিনি আমাকে চার বছর ধরে ভালোবাসেন।
কিন্তু আমার মনে তার জন্য কোন অনুভূতি নেয়।
আচ্ছা অনূভুতি নেই না কখনো অনূভুতি সৃষ্টি হতেই দেয়নি?
 আমার  হৃদয় হনন করার কম চেষ্টা তো সে করেনি তবে ব্যর্থ হয়েছে বারবার।
বা বলতে হয় আমি তাকে ব্যর্থ হতে বাধ্য করেছি।
আমি যখন কথাগুলো  ভাবছি সে সময়ে সোহেল বলে উঠলেন,
তুই জানিস না আমি কেমন আছি?

তার কথা শুনে আমি বললাম, আশ্চর্য আপনি কেমন আছেন তা আমি জানবো কেমনে?
আমার কথা শুনে সে ক্ষেপে বললেন, তোকে ছাড়া আমি ভালো নেয় ,তা জানবি কেন?
তুই তো একটা পাষাণ মহিলা।
আমার কষ্ট,ব্যথা  শূন্যতা তোর চোখে আগেই কখন পড়েনি এখন তো আরও পড়বে না।
 তার উল্টাপাল্টা কথা শুনে মেজাজ খারাপ হচ্ছে কিন্তু কিছু বলতেও পারছি না।
 খুশি মনে মা বাবার কাছে এসেছি একদিন থাকবো বলে এই  লোকের সাথে দেখা হওয়ার কী খুব দরকার ছিল ?
আমি যখন এই কথাটা ভাবছিলাম এরমধ্যে সোহেল সর্দার বললেন,
আজৌও এই হৃদয়ের একমাত্র শূন্যতা  তুই।
শত চেষ্টা করেও তোকে ভুলতে পারছি না।
জানরে  আমার কাছে ফিরে আয় না।
তোকে কখনো অযত্ন করবো না ,জান।
আমার হৃদয় দিয়ে তোকে আগলে রাখবো আজীবন ভর।
তোর কোলে থাকা পুতুলটার বাবা হতেও আমার আপত্তি নেয়।
আমার শুধু তোকে চাই
ফিরে আয় না সোনা।

সোহেল সর্দার এর কথা শুনে রেগে বললাম,ছিঃ ছিঃ আপনি কি যা তা বলছেন!
একবার তা ভেবে দেখেছেন।
আমাকে পরকিয়া করতে বলছেন?
আপনার এতো নিচু  মন মানসিকতা হয় কি করে!
এই আপনার ভালোবাসা?
তাছাড়া  আপনি এসব ভাবলেন কোন সাহসে?
কান খুলে শুনুন,এই আমি মরে গেলেও আপনার কাছে যাবো না।
কখনোই না 
কথাটা মনে রাখবেন।
আমার কথা শুনে তিনি বলেন,শুন ছিঃ ছিঃ করার মত আমি তো কিছু বলিনি।
 যে তোকে ছিঃ বলতে হবে।
ভালোবাসার মানুষটিকে আপন করতে চাওয়া অপরাধ ?
 আর আমিও না, কাকে ভালোবাসার কথা বলছি!
তুই তো একটা পাষাণ আমার ভালোবাসা,এই হৃদয়ের রক্তক্ষরণ,কষ্ট কখনো বুঝিস নি।
চার বছর তোর পিছনে কুকুরের মত ঘুরে তোর হৃদয়কে জয় করতে পারিনি।
আর পারবো কিভাবে তোর বুকের ভিতরে তো হৃদয় নামক বস্তুটা নেয়।
সেখানে পাথর দিয়ে ঘেরা রয়েছে।
আমি  তো ভুলেই গেছি যে পাথরের দয়া মায়া ভালোবাসা থাকে না।
তার কথা শুনে ক্ষেপে বললাম,পথ থেকে সরে দাঁড়ান আমি বাসায় যাব।
আপনার  উল্টাপাল্টা কথা শুনার আমার ইচ্ছে নেই।
আমার কথা শুনে সে বলে উঠলো, পালিয়ে যাচ্ছিস?
যা যা তুই সেটাই ভালো পারিস।
আরে তুই তো সেই মেয়ে যে আমাকে ভালোবাসতে হবে সে ভয়ে পালিয়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গিয়েছিলি।
আপনি উল্টাপাল্টা কথা বললেই তো হবে না।  কথাটা বলে মনে মনে ভাবছি, আজকে এখানে আসায় ভুল হয়েছে।

এদিকে আমার কথা শুনে সোহেল বললেন, আচ্ছা সীমা বলতে পারিস আমার অপরাধটা কী?
কেন তুই আমাকে ভালোবাসতে পারলি না?
আমার মধ্যে এমন কি নেয় যার জন্য আমার ভালোবাসা বারবার ফিরিয়ে দিয়েছিস।

সোহেল সর্দার এর কথা শুনে বললাম,দেখুন আপনাকে আমি কখনো সে নজরে কখনো দেখিনি।
আর আমার কাছে ভালোবাসাটা নাটক সিনেমায় দেখতে ভালো লাগলেও বাস্তবে  তা পছন্দ নয়।
তা ছাড়া ছোট থেকে আমি আপনাকে মামা বলে এসেছি।
শুন তোর ভালোবাসা পছন্দ নয় তা না হয় বুঝলাম।
কিন্তু আমি তো তোকে বিয়েও করতে চেয়েছিলাম।
বিয়ে করতে রাজি তো হলি না বরং আমাকে হুমকি দিলি আমি তোকে জোর করে বিয়ে করলে আত্মহত্যা করবি।
আচ্ছা আমি মানুষটা কি এতোটাই খারাপ?
আমাকে একটু ভালোবাসা যেত না?
তার কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেছি।
তার কথার কি উত্তর দিব ভেবে পাচ্ছি না।
তাকে কি করে বলবো?
ঢাকার স্থানীয় ছেলে আমার মা বাবার কখনো পছন্দ ছিল না।
আর আমি তো আমার মা বাবার বাধ্য সন্তান।
তাই আমি কি করে তার ভালোবাসার ডাকে সাড়া দিতে পারি?
কারো চার বছরের ভালোবাসার কথায় মুগ্ধ হয়ে বাবা মায়ের ১৪ বছরের শ্রম ভালোবাসা ভুলে তাদের মনে কষ্ট দিতে পারি না।
 আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে সোহেল মামা বললেন, কিরে উত্তর দিচ্ছিস না কেন?
আমি তার কথা শুনে,,,,

চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/44621/</link>
				<pubDate>Sun, 17 Oct 2021 16:45:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ১২</p>
<p>সামনে থাকা ব্যাক্তিটি বলে উঠল, তোর কোলে থাকা পুতুলটার বাবা কিন্তু আমার হওয়ার কথা ছিল?<br />
নাওজুবিল্লাহ্  , কি সব কথাবার্তা ছিঃ।<br />
লোকটার কথা শুনে বিরবির করে বলছিলাম এরমধ্যে সামনে থাকা লোকটা আবারও আমাকে বললেন,এই বিলাই কথা বলছিস না কেন?<br />
চোখে দেখিস না ?&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-44621"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/44621/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e2e45a23317133754972ddca5eeaef48</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ #১১
আচ্ছা এই কি সেই লোক যার প্রথম উষ্ণ স্পর্শে একদিন আমার কিশোরী হৃদয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল?
না তার মুখের আদলে গড়া অন্য কেউ?
আজকাল তো কখনো কখনো মানুষটির এমন রাগ দেখে আমি ভয় পেয়ে যায়।
প্রথম দেখার মানুষটির সাথে এই মানুষটার অনেক তফাৎ।
তার সাথে প্রথমবার সাক্ষাৎকারের সময়  তার আচরণ আর এখনকার আচরণ বিস্তর ফারাক।
কারণ সেদিন তাকে বলেছিলাম আমি রান্না পারি না।
তা শুনে সে মুচকি হেসে বলেছিল সমস্যা নেই আমি তো রাঁধতে পারি।
কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা ডিম ভাজতে ও দেখলাম না।
আমি বলেছি, আমার রাগ বেশি সে হেসে বলেছিল , আমার রাগ নেই।
আমি বলেছিলাম , আমি কিন্তু কোন কাজ পারি না।
সে বলেছিল আমি শিখিয়ে দিব।
আজকাল কথাগুলো স্মৃতি ছাড়া আর কিছু নয়।
সেদিন  আমার বোকার মত কথাগুলো শুনে হেসে উত্তর দিয়েছিলেন ঠিকই তবে মনে মনে হয়তো বলেছেন,বোকা মেয়ে রাগ কত প্রকার ও কী কী তা তোমার এখনও বোঝার বাকি আছে।
মানুষটা কথায় কথায় রেগে যায়,
আর বিয়ের পর থেকে আমার সব রাগ অভিমান হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
তাছাড়া ছোট বেলা থেকেই আমার রাগারাগী,ঝগড়া করা পছন্দ ছিল না।
তবে তাই বলে আমি মোটেও সাধু ছিলাম না।
আমার মধ্যে অভিমান এবং জেদ  একটু বেশি ছিল।
তবে তা এখন আর খোঁজে পাই না।
এখনও মনে আছে ,আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি সে সময়ে গ্রাম থেকে আমাদের বাসায় রেনু আসে।
রেনু হচ্ছে আমার বড় চাচার ছোট মেয়ে।
রেনু আমার থেকে ছয় মাসের বড়।
আমরা সমবয়সী হওয়াতে আমাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি  ভালোবাসা একটু বেশি ছিল।
গ্রামে থাকতে ওর সাথে আমার গলায় গলায় ভাব ছিল।
আমরা একজন আরেকজনকে ছাড়া থাকতে পারতাম না।
এখন  দূরে  থাকলেও আমাদের মধ্যে ভালোবাসা একটুও কমেনি।
 রেনু আমাদের এখানে বেড়াতে এলে আমরা দুজন একসাথে ঘুমায়।
আরেকটি কথা ওর মাথায় চুলের থেকে উকুন বেশি।
দেখলে মনে হয় উকুনের চাষ করছে।
তো যা বলছিলাম ওর সাথে ঘুমানোর ফলে আমার মাথায় উকুন হয়েছে।
আর আমার মাথায় উকুন হলে আমি সহ্য করতে পারি না, শুধু মাথা চুলকাতে থাকি।
তো এবারো তাই করছিলাম।
তা দেখে আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাইজান দুষ্টমী করে আমার চুল ধরে টান দিয়ে বলে ছিঃ ছিঃ তোর মাথায় উকুন হয়েছে !
সর সর আমার কাছে থেকে দূরে সর ।
সে সময়ে  বড় ভাইয়ের দুষ্টুমি পূর্ণ কথা শুনে  আমার ইগোতে লাগে  আমি পাশের বাসায় গিয়ে এক আন্টিকে দিয়ে  চুল কেটে টাক করে ফেলি।
তা দেখে বাবা মন খারাপ করেছিল সেদিন।
কারণ বাবা বলতেন আমার চুল নাকি তার মায়ের মতো।
বাবা মন খারাপ করে জিজ্ঞেস করেন চুল কেটেছি কেন?
ভাইয়া আমার চুল টেনে মজা করেছে সেজন্য চুল কেটে ফেলেছি কথাটা বাবাকে বলতে ভুল হয়নি।।
বাবা আমার কথা শুনে বড় ভাইয়াকে কান ধরে সরি বলতে বলেছিল সেদিন।
আমার জেদ একটু অন্যরকম ছিলো।
আমার রাগ উঠলে চা পান করতাম না।
আর চা না হলে আমার প্রচন্ড মাথা ব্যথা করে।
বাবা মাও তা জানতেন।
তাইতো ভাইদের সাথে রাগ করে চা পান করা থেকে বিরত থাকতাম তা দেখে বাবা বুঝে যেতেন আমি রাগ করেছি।
আমার রাগ ভাঙাতে ভাইয়াদের শাস্তি দিতেন।
কোথায় হারিয়ে গেছে সেদিন গুলো!
এখন তো আমি অভিযোগ বা অভিমান করার সুযোগ পায় না।
উল্টো স্বামীর রাগ ভাঙাতে ভাঙাতে জান যায় যায় অবস্থা।
 বিয়ের পর আমার সেই আগের জেদ কোথায় হারিয়ে গেল! 
মাঝে মাঝে তা বসে ভাবি।
এই আমি জীবনের কত জনের প্রেমপত্র ফিরিয়ে দিয়েছি তার হিসেব নেই।
 বিদেশীদের মত  ফর্সা আমার গায়ের রং ও ব্রাউন কালার চোখের মনিতে কতজন ঘায়েল হয়েছে বা এখনও হচ্ছে।
তবে একজন ছাড়া সে হচ্ছে আমার স্বামী।
বিয়ের আগে ভাবতাম আমি তার পছন্দের একজন।
কারণ আমাকে  তারেক এবং তার মেঝো ভাবী ও বড় ভাই ভাবী  দেখতে এসেছিলেন।
তার মেঝো ভাবীর আমাকে পছন্দ হয়নি।
সে সময়ে তারেক তার মেঝো ভাবীকে যথেষ্ট সম্মান করতেন।
এবং তার কথায় মূল্যায়ণ করতে চেষ্টা করতেন।
আর তারেক এর মুখের কথা তার মেঝো ভাবী বেদবাক্যে মনে করতেন।
তাই তার মেঝো ভাবী যেহেতু আমাকে পছন্দ করেনি সেজন্য আমি ভেবেছিলাম এখানে বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তাছাড়া বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কথা মনে হতেই কেমন খুশি খুশি লাগছিল।
তবে আমরা যা চায় তাই হবে এমন কোন কথা নেই।
তার মেঝো ভাবীর মত না থাকা সত্ত্বেও তারেক এর সাথে কিভাবে যেন আমার বিয়ে হয়ে গেল।
আরেকটি কথা তারেক এর বাড়িতে আমাকে নিয়ে পজেটিভ হোক বা নেগেটিভ যে কোন কথা হলে তা আমাদের বাড়ি পর্যন্ত পোঁছে যেত।
কারণ তারেক এর বড় ভাবী হচ্ছে আমার বড় চাচীর আপন বোন।
বড় ভাই ভাবী আমাকে আগে থেকেই পছন্দ করতেন। আমাকে দেখে তারেক এর পছন্দ হয়েছে এবং বিয়ে করতে চাচ্ছে।
 তার বড় ভাবীর কাছে এমনটাই শুনেছি।
 সেটা তারেক তার পরিবারকে পছন্দের কথা বলেছেন। 
এদিকে তারা দেখে যাওয়ার পর বাবা ও বড় কাকা তারেকের সম্পর্কে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন।
তারপর বিয়ের কথা পাকাপাকি করেন।
তবে আমাকে তার বড় ভাই ভাবী ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা পছন্দ করেনি। 
২০০৩ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর তারেক এবং আমার কাবিন হয়।
কাবিনের পর সময়গুলো অন্য রকম ছিল।
  সে সময়ে  আমি এক মাস গ্রামে ছিলাম আমাদের বাড়িতে।
আর তারেক শহরে চাকরি করতেন।
আগে মাসে একবার যেতেন কিন্তু কাবিনের পর থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার তারেক গ্রামে আসতেন।
অবশ্য আমার সাথে দেখা করতে আসতেন শুক্রবার।
সে সময় গুলিতে তাকে রাগ করতে দেখিনি।
আমার সাথে তার ভালো লাগা পছন্দ অপছন্দ এবং তার পরিবারের সম্পর্কে গল্প করতেন।
আজৌও তার প্রথম স্পর্শের কথা মনে হলে শরীরে শিহরণ খেলে যায়।
কাবিনের এক সপ্তাহ পর প্রথম যেদিন  তার সাথে একান্তে কথা বলতে দেয় আমার পরিবার।
সে সময়টা তারেক সারাক্ষণ আমার হাত ধরে গল্প করছিল।
আমরা দুতলায় আমার রুমে বসে  গল্প করছিলাম।অনেকক্ষণ  গল্প করার পর তার যাওয়ার সময় হয়ে এলো।
আমি এবং সে রুম থেকে বের হয়।
আমি আগে সে আমার পিছনে ছিল।
আমি দুতলা থেকে নিচে নামাতে যাচ্ছিলাম সে সময়ে তারেক আমাকে পিছনে থেকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে আলতো করে তার ওষ্ঠ জোগল দিয়ে কয়েক সেকেন্ড চেপে ধরে উষ্ণ স্পর্শ দিয়ে তাড়াহুড়ো করে আমাকে পিছনে রেখে নেমে যান।
এদিকে আমার তখন জান যায় যায় অবস্থা।
শরীর থরথর করে কাঁপছে কিছুক্ষণ আগে কি ঘটেছিল তা ভেবে কেমন মাথা শূন্য হয়ে যাচ্ছিল।
তার প্রথম স্পর্শে আমি ঘোরের মধ্যে চলে গেছি।
এক নতুন অনূভুতি যা আগে কখনো হয়নি।
এই অনূভুতি সম্পর্কে সেদিন আমার জানা ছিল না।
সেদিন রাতে তারেক তাদের বাড়িতে চলে যায়।
কারণ পরের দিন সকালে তাকে ঢাকা যেতে হবে।
সেদিন তারেক তো চলে গেছে কিন্তু আমাকে অজানা এক ঘোরের মধ্যে রেখে গেছেন।
সেদিনের পর থেকে খেতে পারি না, ঘুমাতে পারি না ,পড়ায় মন বসে না কেমন অস্থির অনুভূতি ছিল।
খেতে বসলে বা কোন কাজ করতে গেলে চোখের সামনে ভেসে উঠতো সেদিনের সেই ছোঁয়া।
নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগছিল।
চরম অস্থিরতায় কেটে ছিলো সেই দিনগুলি।
 তারেক এর উষ্ণ স্পর্শ আমার কিশোরী মনে দাগ কাট।
তার প্রতি একটু একটু করে দুর্বল হতে থাকি।
পরের সপ্তাহে আবারো গ্রামে এলেন তারেক।
এইবার আমাদের বাড়িতে এলেন বিকালে।
তার চোখের দিকে সরাসরি  সেদিন তাকাতে পারছিলাম না লজ্জায়।
আমাকে আরও লজ্জা দিতে  সে মুচকি মুচকি হাসছিল।
লজ্জা থেকে বাঁচতে আমি তার থেকে দূরে দূরে ছিলাম।
তবে আমি তো আর জানতাম না পালিয়ে তার কাছে থেকে পার পাওয়া যাবে না।
 কারণ সে যে আজকে আমাদের বাড়িতেই থাকবে।

রাতে খাওয়া দাওয়ার পর আমাদের এক ঘরে ঘুমাতে দেওয়া হয়েছে।
সেদিন ছিল আমাদের বিয়ের পর প্রথম রজনী বা বাসর রাত।
এই রাত সম্পর্কে ধারণা ছিল না তেমন।
তবে  কেন যেন ভয় করছিল।
এক সময়ে আমার ভয়কে দূরে সরিয়ে তারেক আমাকে কাছে টেনে নেন।
আমি সেদিন নতুন এক জগৎ সম্পর্কে জানতে পারি।
আমাকে একটু একটু করে আবিষ্কার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারেক।
কিন্তু সে রাতে অসহনীয় ব্যথায় আমার চোখ দিয়ে পানি এসে যায়।
তারেক তার ওষ্ঠের উষ্ণ স্পর্শ দিয়ে আমার চোখের পানি গুলো শুষে নিতে ব্যস্ত।
পরের দিন
ভোরের দিকে তারেক আমাকে জাগিয়ে দেয়।
আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললেন, সবাই উঠে পড়ার আগে  গোসল সেরে নেও।
অবশ্য রাতে একবার বলেছিলেন খুব ভোরে গোসল করতে হবে।
এখন যেহেতু আবার বলেছেন, সেজন্য আমি তার কথা মতো গোসল করতে উঠতে নিলে আবিষ্কার করলাম প্রচন্ড ব্যথা কারণে হাঁটা তো দূরের কথা ঠিকঠাক দাঁড়াতে পারছি না।
তারেক সেদিন আমার অবস্থা দেখে আমাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেন।
তারপর  গোসল করতে আমাকে ধরে ধরে  নিয়ে যান।

সকালে নাস্তা করার পর তারেক আমাকে ব্যথার ওষুধ খেতে বলেন।

আমাকে তার মোহে ফেলে সেদিন নাস্তা করে চলে যায়।
আস্তে আস্তে তারেক হয়ে যায় আমার কিশোরী বয়সের ভালোবাসা।
আমি ভাবতাম আমার মত করে সেও আমাকে ভালোবাসে।
যা ছিল আমার মনের ভুল।
  তবে আমার মনের ভুল ভাঙতে বেশিদিন সময় লাগেনি।
কাবিনের তিন মাস পর বড় অনুষ্ঠান করে আমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
সেদিন রাতে আমি জানতে পারি ,আমার স্বামী ফর্সা পছন্দ করতেন না তার পছন্দের তালিকায়  সবসময় শ্যামলা রং।

ইস্ অনেক দেরি হয়ে গেছে রান্নাবান্না এখনও হয়নি।
ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে রান্না করতে যাব এরমধ্যে তারেক কল করেছে।
সে আজকে বাড়িতে যাচ্ছে শ্বাশুড়ি মা&#039;কে আনতে।
আমাকে নিতে ভাইয়াকে আসতে বলেছেন।
 আমি তার ফোন পেয়ে তাড়াহুড়ো করে হাতের কাজ শেষ করলাম।
ছোট ভাইয়া আসলে যেন দেরি না হয় সাথে সাথে যেতে পারি।
আসলে তারেক বাড়িতে না গেলে  বাবার বাড়ি বেড়াতে তেমন একটা যাওয়া হয় না আমার।
সে থাকলে শুক্রবার  সকালে তার সাথে করে নিয়ে যায় সারাদিন বাবার বাড়িতে থেকে আবার রাতে চলে আসতে হয়।
আর তারেক যখন বাড়িতে যায় তখন এক রাত বাবার বাড়িতে থাকার সৌভাগ্য হয়।
আমি আপনাদের সাথে বকবক করছি এরমধ্যে ছোট ভাইয়া এসে হাজির।

ছোট ভাইয়া আমাকে বাসার নিচে নামিয়ে দিয়ে দোকানে চলে গেছে।
আমি আমার মেয়েকে কোলে নিয়ে উপরে উঠতে নিলে সামনে একজনকে দেখে চমকে উঠলাম!
কিন্তু সামনে থাকা মানুষটিকে তা বুঝতে না দিয়ে সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে উপরে উঠতে নিলাম।
 এরমধ্যে সামনে থাকা ব্যাক্তিটি বলে উঠল,পুতুলটার বাবা কিন্তু আমার হওয়ার কথা ছিল?
  

চলবে


বিঃদ্রঃ লেখায় কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে দয়াকরে ধরিয়ে দিবেন না হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আর আমার লেখা ভালো লাগলে আপনার মূল্যবান মতামত দিয়ে জানাবেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/44050/</link>
				<pubDate>Sat, 16 Oct 2021 06:39:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ #১১<br />
আচ্ছা এই কি সেই লোক যার প্রথম উষ্ণ স্পর্শে একদিন আমার কিশোরী হৃদয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল?<br />
না তার মুখের আদলে গড়া অন্য কেউ?<br />
আজকাল তো কখনো কখনো মানুষটির এমন রাগ দেখে আমি ভয় পেয়ে যায়।<br />
প্রথম দেখার মানুষটির সাথে এই মানুষটার অনেক তফাৎ।<br />
তার সাথে প্রথমবার সা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-44050"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/44050/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">45bb8fd5cf4e0ac96842527b44a0d1df</guid>
				<title>নেশা
লেখনীতে মেহের মেহের সীমা।
নেশা নাকি বড্ড খারাপ!
আসলেই কি তাই?
কারো থাকে ধুমপানের নেশা,
কারো থাকে নারীর নেশা,
কারো থাকে টাকার নেশা,
কারো বা আড্ডার নেশা,
কারো থাকে বইতে নেশা।
কারো থাকে পাশের বাড়ির মুখরোচক খবরের নেশা।
কারো থাকে কাজের নেশা,
তবে  আমার তো ছিলো বই পড়ার নেশা।
নতুন করে পেয়েছে প্রকৃতির নেশা ,
ইদানিং আমি  নেশাগ্রস্ত  কি করব ভেবে না পাই।
সবুজের প্রতি নেশায় ধরছে আমার,
তাইতো গাছ গাছালির লাগাই।
ফুলের প্রতিও নেশা ধরছে তাই তো গোলাপ,পুর্তলিকা,মশ্রাইজ গাছ লাগাই।
 আমার  লাগানো গাছে ফুল এসেছে,
তা দেখে চোখে গাছ লাগানোর নেশা লেগেছে,
লাউ, বেগুন গাছে কুঁড়ি এসেছে,
তা দেখে নেশা আমায় মাতাল করেছে।
নেশা নেশা নেশা
প্রকৃতির নেশা আমায় গায়েল করেছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/43620/</link>
				<pubDate>Thu, 14 Oct 2021 17:04:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নেশা<br />
লেখনীতে মেহের মেহের সীমা।<br />
নেশা নাকি বড্ড খারাপ!<br />
আসলেই কি তাই?<br />
কারো থাকে ধুমপানের নেশা,<br />
কারো থাকে নারীর নেশা,<br />
কারো থাকে টাকার নেশা,<br />
কারো বা আড্ডার নেশা,<br />
কারো থাকে বইতে নেশা।<br />
কারো থাকে পাশের বাড়ির মুখরোচক খবরের নেশা।<br />
কারো থাকে কাজের নেশা,<br />
তবে  আমার তো ছিলো বই পড়ার নেশা।<br />
নতুন করে পেয়েছে প্রকৃতির নেশা ,<br />
ইদানিং আমি  নেশাগ্র&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-43620"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/43620/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>13</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">70a8879dccc877f2fe4a1e04a88e6f54</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ১০
সাব্বিরের মা আমি তো শেষ হয়ে গেছি ,এখন আমি কি করবো ?
আপনি ধৈর্য রাখেন সব ঠিক হয়ে যাবে।
আল্লাহ্ আমাদের বিপদ দিয়েছেন তিনিই এই বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।
আপনি দুশ্চিন্তা  করে শরীরের ক্ষতি  ছাড়া ভালো কিছু হবে না।
সাব্বিরের মা তুমি ভাবতে পারছো না সামনে আমাদের অবস্থা কি হবে,
আমরা পথে বসে যাবো।
আমি বুঝতে পারছি আপনার কথা তবুও আমাদের আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে।
শাহেদ বেপারি কপালে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে ভাবছে এই পরিস্থিতি থেকে বের হবে কি করে।

শাহেদ এতদিন তার দোকানের তাক গুলোতে  সাজানো নতুন বাক্সেগুলো দেখে ভেবেছিলো সব গুলোতে মালপত্র ভর্তি রয়েছে।
আর থাকার কথাও কারণ যে পরিমাণ মালপত্র দোকানে ছিলো তা তিন মাসে বিক্রি করলেও শেষ হবার কথা নয়।
শাহেদ এজন্যয় মালপত্র নিয়ে কিছুটা নিশ্চিত ছিলেন।
সে ভেবেছিল মালপত্র বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার চালানো এবং নতুন করে দোকানের জন্য আরও মালপত্র আনতে পারতেন।
কিন্তু হঠাৎ করে গত সপ্তাহে দোকানের কর্মচারী গুলো একসাথে  কাজ ছেড়ে দিয়েছে।
শুধু চাকরি ছাড়ছে তা নয় শহরে কাজ করবে সেজন্য চাকরি ছেড়ে সেদিনেয় তারা শহরে চলে গেছেন।
শাহেদ বেপারি হঠাৎ করে একা দোকান সামলাতে বিপাকে পড়েছেন।
শাহেদ বেপারি ভেবেছে হয়তো ওরা ভালো কাজের সন্ধান পেয়েছে  এছাড়া তার ব্যাবসায় লস দেখে হয়তো চলে গিয়েছে।
সেজন্য  তার দোকানের কাজ ছেড়ে দিয়েছে,
কিন্তু আসলে ঘটনা অন্যকিছু তা তো তিনি বুঝতে পারেননি।
বিপদের মধ্যে আরেক বিপদ এসে হাজির হয়েছে।
 দুইদিন আগে শাহেদ বেপারি দোকানে বসে ছিল এরমধ্যে যার কাছে থেকে দোকান কিনে ছিল তার ছোট ছেলে  বাদল খান দোকানে আসেন।
শাহেদ বেপারি তাকে দেখে সালাম দিয়ে দোকানে বসিয়ে চা নাস্তা আনিয়ে খাওয়ান।
কিন্তু তখন তো জানতেন না তার সামনে কি বিপদ ঘুরপাক খাচ্ছে।
তিনি চারপাশে পাশে দুধ কলা দিয়ে সাপ  পুষছেন।
শাহেদ বেপারি বাদল খানের সাথে কথা বলছে আর দোকানে লোক না থাকায় নিজে  টুকটাক কাজ করছেন।
এরমধ্যে বাদল খান বলেন,
কাজ রেখে আমার কথা শুন মামু তোমার সাথে আমার জুরুরী  কথা আছে।
বাদল খানের  কথা শুনে শাহেদ বেপারি হাতের কাজ রেখে তার দিকে মনোযোগ দিয়ে বলেন,কি কথা মামু?
তুমি তো জানো কয়েক মাস আগে বাবা মারা গেছেন।
আমাদের বাবা মারা যাওয়ার পর তার সব জায়গা জমি আমাদের ভাই বোনদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে।
আর আমার ভাগে আরও জমিসহ এই দোকান পরেছে।
শাহেদ বেপারি বাদল খানের কথা বুঝতে পারছে না।
কারণ এই দোকান তো তার।
বাদল খান বলে উঠল,দেখ মামু আমি চায় তুমি পনেরো দিনের মধ্যে আমার দোকান খালি করে দিবে।
শাহেদ বেপারি বাদল খানের কথা শুনে চমকে বলেন,এ কি বলছেন মামু?
দোকান খালি করব মানে কী?
বাদল খান শাহেদ বেপারির দিকে তাকিয়ে বলেন,মানে কি আবার কি কথা মিয়া!
আমার দোকান আমি নেব এখানে মানে টানি এলো কোথায় থেকে!

মামু এসব কি যা তা কথা বলছেন?
আমি আপনার বাবার কাছে থেকে এই দোকান সেই যুদ্ধের পর পর কিনে নিয়েছি।
সে কথা তো আপনিসহ  বাজারের কম বেশি সবাই জানেন।
শাহেদ বেপারি বাদল খানের কথা শুনে উপরের কথাটা বললেন।
শাহেদ বেপারির এই কথা শুনে বাদল খান রেগে বলেন,শুনো মিয়া কে কি জানে তা দিয়ে আমার দরকার নাই।
আমার সাফ কথা এটা আমার দোকান।
আমি তোমারে দিমু না।
তাছাড়া দোকান যদি তোমার হয় তো দলিল দেখাও।
ফাঁকা মাঠে আওয়াজ দিলে তো শুনবো না!
শাহেদ বেপারি বাদল খানের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেছে!
সে  এখন দলিল কোথায় পাবে!
কারণ বাদল খানের বাবা তো তাকে মুখে মুখে দলিল করে দিয়েছে।
শাহেদ খান সে সময়ে বাদল খানের বাবাকে বলেছিলেন,দাদা দলিল করে দিবেন না?
বাদল খানের বাবা সে সময়ে বলেছিলেন,আরে নাতি দলিল লাগবে কেন?
আমার মুখের কথা বিশ্বাস হচ্ছে না?
 তাছাড়া বাজারের সবার সামনে তোমার কাছে এই দোকান বিক্রি করে টাকা নিয়েছি সবাই তো সাক্ষী আছেন তাতেই হবে।
আজকে থেকে এই দোকানের  একমাত্র মালিক তুমি।

বাদল খানের বাবা একজন সম্মানিত মানুষ ছিলেন।
গ্রামের সবাই তাকে একনামে চিনেন।
সেখানে তাকে অবিশ্বাস করার প্রশ্নই আসেনি।
তাইতো এতদিন দলিল নিয়ে মাথা ব্যথা ছিল না।
কিন্তু তখন তো আর এটা জানতেন না আলেমদের ঘরে জালেম হয়।
সেদিনের ভুলের জন্য তাকে আজ পস্তাতে হচ্ছে।
আর এই লোক নিশ্চিয় তার অবস্থা বুঝতে পারছে সেজন্য এই সময়টা বেছে নিয়েছে।
কারণ টাকা না থাকলে কাউকে পাশে পাওয়া যাবে না।
তা এই কয়েকদিন ধরে ঠিক বুঝতে পারছে।
কারণ আগে বাজারে সবাই তাকে দেখলে সালাম দিতেন।
আর এখন তাকে দেখলে অদেখা করে চলে যায়।
এক সময় যাদের টাকা দিয়ে সাহায্য করেছিল আজ তারা শাহেদকে দেখলে না চেনার ভান করে এরিয়ে যায়।
শাহেদ বেপারি বসে যখন এসব ভাবছিল সে সময়ে
শাহেদ বেপারিকে দোকান ছাড়তে বলে বাদল খান  চলে যায়।
বাদল খান যাওয়ার পরে শাহেদ বেপারি  চিন্তা করছে এখন কি করে নিজের দোকান ফিরে পাবেন।
এরমধ্যে দোকানে একজন কাস্টমার এসে বাসর ঘর সাজানোর জন্য জরি ফিতা চমকি চান।
বাজারে একমাত্র তার দোকানে সবকিছু পাওয়া যায়।
কসমিক ,স্টিল, কাঁচের তৈজসপত্র থেকে বাসর ঘর সাজানোর জিনিসপত্র পর্যন্ত।
শাহেদ বেপারি আসে পাশে তাকিয়ে জরি ফিতা না পেয়ে বললেন,ভাই এগুলো হয়তো ভিতরে রয়েছে খুঁজতে হবে।
আপনি অন্য জায়গায় থেকে কিনে নেন।
লোকটা যাবার পর শাহেদ বেপারি ভাবছে বক্সগুলো থেকে মালপত্র বের করে গুছিয়ে রাখতে হবে।
নাহলে কাস্টমার এভাবে  ফেরত যাবে এতে দোকানের সম্মান নষ্ট হবে।
কথাটা ভেবে বক্সগুলোতে হাত দিয়ে  চমকে উঠল!
একটার পর একটা বক্স ধরছে আর ফেলছে।
এটা কি করে সম্ভব?
সবগুলো বাক্সে  খালি পরে রয়েছে।
এই তো গত সপ্তাহে কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করেছিলো সব মালপত্র আছে কিনা।
তারা বলেছিল আছে।
তাহলে কি ওরা আমাকে মিথ্যা বলেছে?
কিন্তু কেন?
শাহেদ বেপারি কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনা করে বিরবির করে বললেন,তারমানে হচ্ছে ওরা আমার দোকানের মালপত্র বিক্রি করে সেই টাকা চুরি করে পালিয়েছে।
আমাকে সর্বশান্ত করে দিয়েছে।
এসব চিন্তা করে অস্থিরতায় মাথা ঘুরে পড়ে যায়।
সেদিনের পর থেকে শাহেদ বেপারি হতাশায় ডুবে গেছে।
সুমনা তাকে সাহস দিচ্ছে তাতেও কাজ হচ্ছে না।
বড় ছেলে নবম শ্রেণীতে পড়ে,মেঝ ছেলে মাদ্রাসায়।
ছোট মেয়ে ক্লাস থ্রিতে পড়ে।
শাহেদ বেপারি ভেবে পাচ্ছে না তার সংসার চলবে কেমনে?
এখন দোকানে যে মালপত্র রয়েছে তা বিক্রি করলে সর্বোচ্চ বিশ হাজার টাকা হবে।
তা দিয়ে কি করবে?
এরমধ্যে তার বড় ভাই রাশেদ বেপারির কাছে  সে কিছু টাকা ধার চেয়েছিলেন।
কিন্তু তিনি দেয়নি অন্যদিকে এরমধ্যে এক সপ্তাহ না যেতে বাদল খান শাহেদ বেপারিকে অপমান করে দোকান নিয়ে যায়।
শাহেদ বেপারি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বিপাকে পড়েন।
শাহেদ বেপারি আত্মসম্মান বোধ বেশি ছিল।
সে চায়নি যে বাজারে এতদিন নৃতত্ত্ব দিয়েছেন সেখানে তাকে মানুষ সমবেদনা দেখাক।
শাহেদ বেপারি ঠিক করেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে শহরে এসে ছেলে এবং বাবা মিলে কাজ করবেন। ।
এতে গ্রামে তার সম্মান অক্ষুন্ন থাকবে।
শাহেদ বেপারি বড় ছেলে তা শুনে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়।
সে শহরে যেতে চায় না।
তার বাবাকে অনুরোধ করেন তাকে যেন তার ছোট মামার কাছে যশোরে পাঠিয়ে দেন।
কারণ ছোট মামা কয়েকবার বড় ভাগ্নেকে নিজের কাছে রেখে পড়াতে চেয়েছেন।
 শাহেদ বেপারির বড় ছেলে অসম্ভব মেধাবী ছাত্র।
প্রথম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত কখনো দ্বিতীয় হয়নি।
ছেলের কান্না দেখে শাহেদ বেপারির খারাপ লাগছে কিন্তু বাস্তব যে বড় কঠিন।
ছেলেকে বললেন,বাবারে তোকে পড়াতে পারলে সব চেয়ে বেশি খুশি আমার থেকে কেউ হতো না।
তবে আমার এই কঠিন মুহূর্তে  বাবা শ্রাবণ তোকে বড় প্রয়োজন।
বাবার কথা শুনে শ্রাবণ আর কোন উচ্চবাক্য করেননি।
ছোট বেলা থেকে শ্রাবণের দুটো স্বপ্ন ছিল।
এক লেখাপড়া করে চাকরি করা।
আরেকটি হচ্ছে ক্রিকেটার হওয়া।
ছোট থেকে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে কতবার আঘাত পেয়েছে তার ঠিক নেয়।
তবে দারুন খেলতো কয়েকবার গ্রামে ক্রিকেট খেলে ট্রফি জিতেছেন। 
  খেলতে গিয়ে হাতে, কপালের এক সাইডে  সেলাইয়ের দাগ এখনো জ্বলজ্বল করছে।
সাব্বির তার বাবার কথা শুনে ভাবছে তার লেখা পড়া আর হবে না, খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নয় রয়ে যাবে তা আর সত্যি হবে না।
যেখানে এই বয়সে  বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতে হয় সেখানে এই সব স্বপ্ন বিলাসীতা ছাড়া আর কিছু নয়।

সালটা ১৯৯৫ যখন শাহেদ বেপারি তার পরিবার নিয়ে শহরে আসেন।
যুদ্ধের পর যে দূর্ভিক্ষ্যে হয়েছে তাতে কম বেশি অনেক মানুষ কষ্ট করেছেন।
কিন্তু শাহেদ বেপারির অবস্থা সে সময়েও যথেষ্ট ভালো ছিলো।
নিজের টাকা দিয়ে কত মানুষকে সাহায্য করেছিল।
কিন্তু  এখন তিনি খুব সংকটের মধ্যে যাচ্ছেন।
ঢাকার  শহরে এসে ক্যান্টনমেন্ট পুরাতন কচুক্ষেতে এক রুমের ছোট একটা বাসা ভাড়া নেন।
এই পরিবেশে থাকতে তাদের খুব কষ্ট হচ্ছিল।
যেখানে গ্রামে থাকাকালীন সময়ে তাদের কাজের লোক ছিল।
নিজেদের দু&#039;তলা বাড়ি রয়েছে সেখানে ঢাকা এসে এক রুমে সবাই থাকা কষ্ট হয়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছিল যেখানে বাসা ভাড়া নিয়েছেন সেখানকার পরিবেশ খুব খারাপ।
সকাল হলে একজন আরেকজনের সাথে ঝগড়া শুরু করে ।
যা দেখে সুমনার দমবন্ধ হয়ে আসতে চায়।
কারণ সে কখনো এমন ঝগড়া দেখে অভ্যস্ত ছিলেন না।
এরমধ্যে শাহেদ বেপারি  মালপত্র কিনে সাব্বিরকে নিয়ে চৌদ্দ নাম্বার আর্মি কলোনির সামনে  কসমেটিক এর দোকান দেন।
এক মাস পর শাহেদ বেপারি আগের বাসা ছেড়ে  নতুন বাসা ভাড়া নেন।
কয়েকদিন পর শ্রাবণ মাদ্রাসায় থেকে পালিয়ে ঢাকা এসে পড়ে।
সে সময়ে শ্রাবণকে স্কুলে ভর্তি না করে সবজি বিক্রি করতে দেয়।
যাতে বাবা ভাইয়ের কষ্ট কিছুটা হলেও বুঝতে পারে।
দুই তিন মাস এভাবে চলছিল।
তারপর শাহেদ বেপারি শ্রাবণকে স্কুলে ভর্তি করে দেন তবে সাব্বিরের আর পড়াশোনা করার সুযোগ হয়নি।
সেদিন শূন্য হাতে ঢাকা আসার পর প্রতিটি মুহূর্ত টিকে থাকতে বাবা ছেলেকে যুদ্ধ করতে হয়েছে।
এক বছরে শাহেদ বেপারির অবস্থা ফিরতে শুরু করেছিল এরমধ্যে সরকার থেকে বলা হয় আর্মি কোলোনির সামনে দোকান বসা যাবে না।
আবার শুরু হয় নতুন করে যুদ্ধ।
শাহেদ বেপারি ওখানে থেকে দোকান সরিয়ে চৌদ্দ নাম্বার ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের সামনে ফুটপাতে দোকান দেন।
ওখানে আরো অনেকে দোকান দেন এক সময় ওখানে  ছোট খাটো একটা মার্কেট এর মতো হয়ে যায়।
অবশ্য সে সময়ে চৌদ্দ নাম্বারে  ফুটপাত ছাড়া রাস্তার উপর পাশে বড় মার্কেট ছিল।
যা এখন বাসস্ট্যান্ড।
তবে ফুটপাতে মার্কেট হলেও  শান্তি ছিলো না ।
সব দোকানদাররা পুলিশকে ভালো অংকের টাকা দিয়ে বসতে হতো।
ছয় মাস পর পর দোকান ভাঙচুর করতেন আবার বেশি টাকা নিয়ে বসতে দিতেন।
এভাবে চলছিল বাবা ছেলের যুদ্ধ।
তবে শাহেদ বেপারির আর্থিকঅবস্থা উন্নতি হতে থাকে।
এরমধ্যে  রাশেদ ঢাকা এসে ছোট ভাইয়ের বাসা খুঁজে বের করে।
 ছোট ভাইকে কয়েক বছর দেখেনি এখন বুঝতে পারছে তার ছোট ভাই যতদিন তার পাশে ছিল কেউ তার পিছনে লাগতে সাহস পেত না।
আর এখন তো বাজারের কেউ তাকে লেহাজ করে চলে না।
এছাড়াও রাশেদ বেপারির সব শেষ।
ছেলেরা দোকানে বসে তার ব্যাবসা লাঠে উঠিয়ে দিয়েছে।
নিজের টাকা পয়সা হারিয়ে এখন ভাইয়ের কাছে এসে নিজের কাজের জন্য লজ্জিত হচ্ছে।
শাহেদ বেপারি কানে এসব খবর আরও আগেই এসেছে।
সেজন্য তার বাসায় এলেও  বড় ভাইয়ের সাথে রাগ করে কথা বলেননি।
 
সুমনা তার স্বামীকে বোঝান বড় ভাই হচ্ছে বাবার মত।
তার ভুল ধরতে হয় না।
তাছাড়া এই মুহূর্তে বড় ভাইয়ের পাশে না দাঁড়ালে তার মাঝে আর বড় ভাইয়ের মাঝে পার্থক্য কী?
স্ত্রীর কথা শুনে শাহেদ বেপারি বড় ভাইকে ক্ষমা করে দেন।
তারপর থেকে যখন যা পেরেছে তা দিয়ে বড় ভাইকে সাহায্য করতে চেষ্টা করছেন।
এরমধ্যে
চার লাখ টাকা খরচ করে দেশে নতুন করে দোকান কিনেছেন।
সে সময়ে চার লাখ টাকায় ঢাকায়  জায়গা কিনতে পারতেন।
সুমনার ভাইয়েরা বলেছিল গ্রামে টাকা নষ্ট না করে শহরে জায়গা কিনতে।
এমনকি সুমনার মেঝ ভাই সে সময়ে কোনাবাড়ি জায়গা কেনে তখন শাহেদ বেপারি কেও কেনার কথা বলেছেন।
কিন্তু তা সে করেনি।
শাহেদ বেপারি জেদ চেপে ছিল বাজারে দোকান কেনার জন্য।
কারণ এই বাজার থেকে বাদল খান তার দোকান কেড়ে নিয়েছিল।
তাই এখানে দোকান না হলে তার সম্মান ক্ষুন্ন হবে তা তো সে হতে দিতে পারে না।
দোকান কেনার পর,
 বাড়িতে টিনের পরিবর্তে ইট দিয়ে পাকা করে ঘর দিয়েছে ঘরের সাথে  বাথরুমে গোসল খানা দিয়েছেন।
শাহেদ বেপারি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
কয়েক বছর পর
শাহেদ বেপারি এরমধ্যে দুইবার স্টোক করেন। তার  আশঙ্কাজনক অবস্থা ছিল।
আল্লাহর রহমত ছিল বিধায় বেঁচে ফিরেন।
তবে আগের মতো কষ্ট করতে পারেন না।
তাকে এক মাস সোহরাওয়ার্দী  হসপিটালে থাকতে হয়েছে।
পানির মত টাকা গিয়েছিল সে সময়ে।
সেখানে থেকে যুদ্ধ করতে করতে এই পর্যন্ত আসা।
বর্তমান
সুমনা  ভেবে পায় না শ্রাবণ কেন বুঝতে পারছে না তা বাবা ভাইয়ের কষ্ট।
তাছাড়া বড় ছেলে বাবার সাথে থাকতে থাকতে ব্যাবসা মোটামুটি ভালো বুঝে।
কিন্তু শ্রাবণ তো পড়াশোনা করলো না।
শ্রাবণের একটা অভ্যাস ছিল ঘরের জিনিসপত্র যেমন ফ্যান,টিভি,ফ্রিজ ব্লেন্ডার খুলে নষ্ট করতো আবার চেষ্টা করে ঠিক করতে পারতো।
নিজে একা একা ইলেকট্রিক কাজ শিখেছে কিন্তু তাও করে না।
তাইতো চৌদ্দ নাম্বারে বড় বাজারের মধ্যে দোকান নিয়ে দিয়েছে।
বাবা ভাই বাহিরে দোকান করে আর ওকে ভিতরে দোকান করতে দিয়েছে।
তবুও ছেলেটা এমন করছে কেন!
ইদানিং শ্রাবণ বেপোরোয়া হয়ে গেছে ঠিকঠাক দোকান করে না।
মাঝে মাঝে কয়েক ঘন্টার জন্য উধাও হয়ে যাচ্ছে এসব কিছু শাহেদ বেপারির কানে আসে।
রোজ রোজ বাসায় গিয়ে এসব নিয়ে চিল্লাচিল্লি শুরু হয়।
সুমনার এসব অশান্তি প্রতিদিন ভালো লাগে না ।
অন্যদিকে
শ্রাবণ একটা ফুলের তোড়া নিয়ে প্রিয়ার সাথে দেখা করতে যায়।
প্রিয়া শ্রাবণকে ফুল নিয়ে আসতে দেখে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়।
শ্রাবণ তার প্রিয়সীর মুখে হাসি দেখে বুকে হাত দিয়ে মুচকি হেসে বলল,
জান এই হাসির জন্য হাসতে হাসতে মরতে পারবো।
প্রিয়া শ্রাবণের কথা শুনে বললো,  যত্তসব ঢং
জান এভাবে বলো না দিলে লাগে তো।
শ্রাবণের কথা বলার ঢং শুনে প্রিয়া হেসে দেয়,
এক সময় দুজনে খুনসুটিতে মেতে ওঠে।

অন্যদিকে
সীমা এই সীমা নাস্তা দিবে কখন?
এই তো হয়ে গেছে, তুমি বসো আমি দিচ্ছি।
ধূর  আমি যে কি করি না!
আরেকটু আগে উঠলে তাড়াহুড়ো করতে হতো না।
আজকে উঠতে দেরি হয়ে গেছে রাতে ঘুমাতে পারিনি।
মেয়েটা কান্না করছিল।
রাতে কখন ও বিরক্ত করে না।
কিন্তু গতকাল রাতে মনে হয় মেয়েটার পেট ব্যথা করছিল।
সেজন্য এমন কান্না করেছে।
অর্ধেক রাত পর্যন্ত মেয়েকে কোলে করে রুমের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করতে হয়েছে।
অবশ্য। সাব্বির অফিস করবে সেজন্য তাকে জাগায়নি।
মেয়েটা বেশ রাতে ঘুমিয়েছে
সেজন্য আমার সকাল বেলা উঠতে দেরি হয়ে গেছে ।
সাব্বির সাড়ে আটটা বা নয়টার মধ্যে অফিসে যায়।
আমাকে সকাল সকাল উঠে নাস্তা বানাতে হয়।
কখনো রুটি, কখনো ভাত ।
আজকে রুটি বানাচ্ছি।
একটু পর রুটি এনে সাব্বিরের সামনে দিলাম।
সে না খেয়ে অফিসের জন্য বের হয়ে যাচ্ছিল।
আমি হাত ধরে তাকে খেয়ে যেতে বলি,
সাব্বির  রাগ হয়ে আমার হাত ঝাড়া দিয়ে রুটিগুলো ধাক্কা দিয়ে ফেলে বললেন, তোর রুটি তুই খা।
আমি গেলাম।
কথাটা শুনে তেমন কষ্ট পায়নি বললে ভুল হবে ।
তবুও কষ্টটা হাসি মুখে সহ্য করে নিলাম ‌
কারণ আমার তার সাথে বিয়ে হয়েছে ১৪ বছর বয়সে।
বিয়ের পর থেকে তার রাগ দেখে আসছি।
আচ্ছা মানুষটি কি একবারও ভেবেছে আমার সাথে এমন আচরন করলে আমার কেমন লাগে?
আমার বয়স কম আমি না হয় ভুল করি কিন্তু সে তো আমার থেকে ১৮বছরের বড় সে কি আমার সাথে রাগারাগী না করে  ভুলগুলো শুধরে দিতে পারে না?
নিজের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তার ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে পড়াশোনা করিনি।
তবুও সে কেন আমাকে বুঝতে চেষ্টা করে না।
এই তো পরশু সন্ধায় অফিস থেকে ফেরার সময়ে জাম নিয়ে এসেছে।
জাম আমাকে দিয়ে বললো মেখে দিতে আমি হাতের কাজ শেষ করে জাম মেখে দিলাম।
দেরি হয়েছে বলে জাম ভর্তি পাতিলসহ এমন আছাড় দিয়েছেন যে পাতিল ব্যাকা হয়ে গেছে।
আমার সবচেয়ে অপ্রিয় জিনিসগুলো প্রিয় মানুষটার মাঝে দেখলে কষ্ট লাগে।
আচ্ছা এই কি সেই লোক যার প্রথম উষ্ণ স্পর্শ আমার কিশোরী হৃদয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল?
 #চলবে

বিঃদ্রঃ লেখায় কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে দয়াকরে ধরিয়ে দিবেন না হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আর আমার লেখা ভালো লাগলে আপনার মূল্যবান মতামত দিয়ে জানাবেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/43112/</link>
				<pubDate>Wed, 13 Oct 2021 05:01:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ১০<br />
সাব্বিরের মা আমি তো শেষ হয়ে গেছি ,এখন আমি কি করবো ?<br />
আপনি ধৈর্য রাখেন সব ঠিক হয়ে যাবে।<br />
আল্লাহ্ আমাদের বিপদ দিয়েছেন তিনিই এই বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।<br />
আপনি দুশ্চিন্তা  করে শরীরের ক্ষতি  ছাড়া ভালো কিছু হবে না।<br />
সাব্বিরের মা তুমি ভাবতে পারছো না সামনে আমাদের অব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-43112"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/43112/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3debd58c22719f10d4f8e5df441e5f9c</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ৯
প্রকৃতি  তার নিজস্ব গতিতে চলে।
বাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে  রঙ বেরঙের ফুল ফুটে।
 সব ফুলের সুবাস থাকে না।
কিন্তু সারা বাগানে এতো এতো ফুল গাছের মধ্যে একটা  গাছের ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে সারা বাগানের আসেপাশে ।
তেমনি এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চাঁদনী বানু ছিলেন সেই ফুল।
যে শত কষ্টের মাঝেও পরিবারের সবাইকে ভালোবাসার বন্ধনে আগলে রেখেছিলেন।
কিন্তু মৃত্যুর স্বাদ তো সবাইকে একদিন গ্রহণ করতে হবেই।
দুই দিন আগে কি পরে,

সেদিন ভোররাতে সুমনা সাদা বস্তা ভেবে ধরতে গিয়ে জোরে চিৎকার দেয়।
তার চিৎকার শুনে চাঁদনী বানুর দুই ছেলে ,বড় ছেলের বৌ ,নাতি নাতনি সবাই বাহিরে আসেন।
কি হয়েছে তা দেখতে,
কিন্তু সবাই এলেও সেদিন চাঁদনী বানু আসেনি।
তাছাড়া তিনি আসবেন কি করে?
কারণ সে তো মৃত।
 মানুষটা তো পৃথিবীর মোহ ত্যাগ করে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছে অনেক দূরে।
যেখানে থেকে আর ফিরে আসা যায়।
তবে মৃত্যুর আগে ছেলেদের সুখের সংসার ও
বড় ও ছোট ছেলের  ব্যাবসার উন্নাতি দেখে গেছেন।
হ্যাঁ তিনি মারা গেছেন ‌
সুমনা যেটা  সাদা বস্তা ভেবেছিলেন সেটা বস্তা নয় চাঁদনী বানুর লাশ ছিলো।
কলপাড়ে উত্তর দক্ষিণ হয়ে শুয়ে আছেন তবে মুখটা কিবলা মুখী।
পাশে পিতলের বদনীতে ওযুর পানি ভরে রাখা ছিল।
ফজরের নামাজের জন্য ওযু করতে এসে আল্লাহর মেহমান হয়ে গেছেন চাঁদনী বানু।
সাজানো‌ গুছানো সংসার রেখে চলে গেছে আপন নীড়ে।
শাহেদ রাশেদ তো তাদের  মায়ের মৃত্যুতে মূর্ছা যাচ্ছেন।
নাতি নাতনিরা তাদের দাদীর জন্য কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে।
বড় বৌয়ের চোখেও পানি।
কারণ শ্বাশুড়ি যে কখনো তাকে কষ্ট দেয়নি।
আর সুমনা তো মা সমতুল্য শ্বাশুড়িকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন।
সুমনার কাছে মনে হচ্ছে তার মাথার উপর থেকে ছায়াটা চলে গেছে।
এখন কষ্ট পেলে আর কেউ তাকে শান্ত্বনা দিতে আসবে না।
কেউ খাওয়ার জন্য জোর করবে না।
সুমনা ভাবতে পারছে না এতো তাড়াতাড়ি তাদের একা করে চাঁদনী বানু চলে যাবেন।
শাহেদ এর দিকে তাকানো যাচ্ছে না।
রাশেদ জন্মের পর তার বাবাকে দেখেছেন,সাড়ে চার বছর বাবার আদর ভালোবাসা পেয়েছিলেন।
যা এখনও ভাসা ভাসা মনে রয়েছে তার।
রাশেদের কষ্ট হচ্ছে তবে রাশেদের থেকে শাহেদের কষ্ট 
বেশি ছাড়া কম হয়।
শাহেদ জন্মের পর তার বাবাকে দেখেননি।
সব সময় সে আফসোস ছিল।
বাবার আদর কেমন হয় তা শাহেদ জানেন না।
 তার সবকিছুই ছিল তার মা।
সেই মাও আজ তাকে ফাঁকি দিয়েছে।
শাহেদ কথাটা ভেবে ভেঙে পড়েছেন।
বাবার মৃত্যুর পর থেকে মায়ের ছায়াতলে আশ্রয়ে ছিলেন এতদিন।
কিন্তু আজ তাদের এতিম করে তাদের মা চলে গেছে অনেক দূরে।

মায়ের শেষ ইচ্ছে মত বাবার পাশের কবরে তাকে রেখে এসেছেন দুই ভাই।

সময় মানুষকে সব কিছু ভুলিয়ে দেয় সুমনা ছোট থেকে শুনে এসেছে। তবে আজ তা মানতে পারছে না।
শাহেদ আর সুমনা চাঁদনী বানু কে ভুলতে পারছে না।
মায়ের কথা মনে পড়লে এখনও শাহেদ বেপারির চোখে পানি এসে যায়।
 সুমনার তো প্রতিটি মুহূর্তে তার শ্বাশুড়ির কথা মনে করে কেঁদে ওঠে ।
দেখতে দেখতে কেটে গেছে কয়েক বছর।

 শাহেদ আমার ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে ।
এখন এক সাথে থাকা সম্ভব নয়।
তাছাড়া বাড়িতে তো জায়গার অভাব নেয় যে এক ঘরে ঠাসাঠাসি করে থাকতে হবে।
তোর কাজের লোক, কর্মচারী মিলিয়ে ছয় সাত জন।
তাদের খাওয়া দাওয়ার ঝামেলা  তোর ভাবী করতে পারবে না। 
শাহেদ বেপারি ভাইয়ের কথা শুনে চমকে উঠল!
কারণ তার জানামতে রান্নাবান্না সুমনা করেন।
আর অন্য সব কাজ করার জন্য তো লোক রাখা আছে।
তাহলে ভাবীর কষ্ট কেন হবে!
দুই ভাই এতদিন একসাথে থেকে এসেছে এখন হঠাৎ আলাদা হওয়ার কথা শুনে বিশ্বাস হচ্ছে না শাহেদ বেপারির।
এরমধ্যে রাশেদের বৌ শাহেদকে উদ্দেশ্যে করে বললেন, ভাইজান আপনার ব্যাবসা বাণিজ্য তো ভালোই চলছে।
তাহলে কেন এক ঘরে কষ্ট করে থাকতে হবে।
শাহেদ বেপারি বুঝতে পারছে তার ভাই ভাবী তার সাথে একসাথে থাকতে চাচ্ছে না।

তাছাড়া মন কালাকালি হবার আগে আলাদা হওয়ায় ভালো।
কথাটা ভেবে শাহেদ বেপারি তার ভাইকে বললেন, ঠিক আছে কোন সাইডে বাড়ি করে থাকবো তাই বলেন।
রাশেদ বেপারি তার ভাইয়ের কথা শুনে বললেন, আগামী শুক্রবার ভিটা বাড়ি ,জমি জমা ভাগ করা হবে।
তখন দেখানো হবে।
শাহেদ বেপারি তার ভাইয়ের কথা শুনে ঠিক আছে বলে দোকানে চলে গেলেন।

একমাস পর
চাঁদনী বানুর এতো কষ্টে গড়া সংসার ভাগ হয়ে গেছে পঁচিশ দিন হয়েছে।
শাহেদ বেপারি উপর আজকাল ভীষণ চাপ যাচ্ছে।
তার বড় ভাই আগের ঘর নিয়ে সেটার মেরামত করে নিয়েছে নিজের মত করে।
আর তাকে দিয়েছে খালি জায়গা।
এমনকি যেদিন ভাগ করা হয় সেদিন থেকে তার পরিবার সহ তাকে ঘরে থাকতে পর্যন্ত দেয়নি রাশেদের বৌ।
এক দিনের মধ্যে ছাপড়া তুলতে হয়েছে ছেলে মেয়েকে নিয়ে থাকার জন্য।
শাহেদ বেপারি মনের মধ্যে একটা চাপা কষ্ট হচ্ছিল ভাই ভাবীর এমন ব্যাবহারে।
তবুও তাদের কিছু বলেনি।
এক সপ্তাহের মধ্যেই টিন দিয়ে ২১ বন্দর দুতলা ঘর তুলেন ।
দু&#039;তলার মেঝেতে কাঠের পাটাতন দেন।
তবে এই ঘর তুলতে গিয়ে প্রায় রক্তারক্তি কান্ড ঘটার মতো অবস্থা হয়েছিল।
কারণ রাশেদ বেপারির মেঝো ছেলে চাচাকে এতো বড় ঘর তুলতে দেখে  সহ্য করতে পারছিল না।
সেজন্য চাচার সামনে রাম দা নিয়ে দাঁড়িয়ে হুমকি দেয় তার ঘরের বৃষ্টির পানি যেন ওদের জায়গায় না পড়ে।
সেদিন প্রিয় ভাতিজার এমন রূপ দেখে শাহেদ বেপারি বিচলিত হয়ে যায়!
যে ভাতিজাকে ছোট বেলায় এতো আদর যত্ন করে বড় করেছেন আজ কিনা সেই ভাতিজা রাম দা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
শাহেদ বেপারি ইচ্ছে করলে ভাতিজাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারতেন।
তবে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে লোক হাসাতে চায় না।
তাইতো বাড়ি তুলার সময় এমন ভাবে তুলেন যাতে বৃষ্টির পানি নিজের জায়গা পড়ে।
নতুন বাড়ি করা থেকে শুরু করে ঘরের সবকিছু কিনতে হয়েছে তাকে।
সেজন্য ইদানিং পরিশ্রম বেশি করতে হচ্ছে যাতে দোকানে চাপ না পড়ে।
ঘনঘন শহরে যাচ্ছেন  ঢাকা থেকে দোকানের মালপত্র ট্রলারে পাঠাতেন।
 রাশেদ বেপারি তো পুরাতন ঘর মেরামত করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ছয় বছর পর।
শাহেদ বেপারি দাপটের সঙ্গে ব্যাবসা করে যাচ্ছেন  কয়েক বছর ধরে।
তার কাছে থেকে কেউ সাহায্য চেয়ে খালি হাতে ফিরে যায়নি আজ পর্যন্ত।
বাজারের সভাপতি সে।
বিচার আচারে তাকে থাকতে হয়।
সবদিক সামাল দিতে বেশ দক্ষতার পরিচয় দেয়।
একটু অবসর পেলে স্ত্রী সন্তানদের সময় দিতে চেষ্টা করেন।
এভাবে ভালোই চলছিল তার জীবন।
অন্যদিকে রাশেদের ব্যাবসায় লাভ আগের থেকে আরো বেশি হচ্ছে।
টাকা পয়সার অভাব নেয় তার।
তবে ইদানিং ভাসা ভাসা খবর শুনে তার বড় ছেলেকে নিয়ে।
অবশ্য তাতে পাত্তা দেয়নি।

জীবনে চলার পথে অনেক হিসেব নিকেশ করে চলতে হয়।
কারণ একটা ভালো কাজ যেমন আমাদের উপরে তুলতে পারে তেমনি  একটা ভুল সব শেষ করে দিতে পারে।
জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ দেখে শুনে এগিয়ে যেতে হয়।
যাতে নিজের করা অপরাধের কারণে  নিঃশেষ হতে না হয়।
অপরাধ করলে সেই অপরাধের শাস্তি  আজ না হয় কাল পেতে হবে কথাটা চিরন্তন সত্য।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল হঠাৎ শাহেদ বেপারির অতীতে করা ভুল তার সামনে এসে পড়ে।
হ্যাঁ ভুল।
আর সে ভুলের নাম হচ্ছে রিটা ‌
রিটা  আবার ফিরে এসেছে তবে এবার একা আসেনি সাথে একটা বাচ্চা নিয়ে এসেছে।
এটা নাকি শাহেদ বেপারির বাচ্চা।
তবে আদৌও এই বাচ্চার পিতা শাহেদ বেপারি কিনা তার সন্দেহ রয়েছেন।
রিটা শাহেদ বেপারিকে  ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করছে।
শাহেদ বেপারি তার কাছে না এলে  বাজারের সভাপতি পদে থেকে যে সম্মান পাচ্ছেন   তা আর থাকবে না।
রিটা নালিশ করবে চেয়ারম্যান এর কাছে।
তাছাড়া পুলিশের কাছে তার বৌয়ের নামে মিথ্যা মামলা করবে।
শাহেদ বেপারি রিটার হুমকি শুনে দিশেহারা বোধ করেন।
রিটা শাহেদ বেপারির দুর্বলতা যে তার বৌ ,ছেলে মেয়ে তা জেনেই এমন চাল দিয়েছে।
শাহেদ বেপারি স্ত্রী সন্তানদের কথা ভেবে  আবারো রিটার ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হয়।

অন্যদিকে
সুমনা যখন জানতে পারলেন শাহেদ আবারো রিটা সাথে  জড়িয়ে পড়েছেন এবং রিতিমত সংসার করছেন।
তখন তার বুকের মধ্যে সতীন নামক আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে।
সুমনা ভাবছে  তার এখন কি করা উচিত?
কোথায় যাবে তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে।
আদৌও তার স্বামীকে  আর কোনদিন ফিরে পাবে?
কিন্তু সুমনা তো জানতো না রিটা সাহেদকে ব্লাকমেইল করে নিজের সাথে আটকে রাখছেন।
এভাবে আরও ছয় মাস কেটে যায়।
এদিকে শাহেদ ভিতরে ভিতরে গুমরে মরছে।
আদরের ছেলেদের কাছে যেতে না পেরে।
তার পুতুলের মতো মেয়েটার বাবা ডাক শুনতে ছটফট করছে।
কিন্তু রিটার এক কথা সুমনার কাছে গেলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিবে।
প্লাবন এলে বাঁচার জন্য যেমন খড়কুটে আঁকড়ে ধরে।
শাহেদ তেমনি করে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে প্রাণপণ চেষ্টা করছিল।
এরমধ্যে একদিন সুযোগ পেয়ে যায়।
শাহেদ এর অবর্তামানে একটা লোকের সাথে রিটার সম্পর্ক ছিল।
সেই ঘরে  রিটার মেয়ে।
লোকটা তার সন্তানের জন্য আবারো ফিরে আসতে চাচ্ছে।
কিন্তু রিটা তার কাছে যেতে চাচ্ছে না ।
 শাহেদকে ও তার কাছে থেকে মুক্তি দিতে চায় না।
কিন্তু রিটার কথাগুলো  লোকটা মানতে নারাজ।
লোকটা একবার একবার শুধু রিটার সাথে দেখা করতে চান।
একদিন গোপনে লোকটির সাথে রিটা দেখা করতে যায় ‌রিটা যাওয়ার পর  শাহেদ লোকজন নিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে।
সে সময়ে সমাজে  পরকীয়া করলে তার কঠিন শাস্তি দেওয়া হতো।
চুল কেটে আলকাতরা পর্যন্ত দেওয়ার নিয়ম কানুন আছে।
রিটাকে ও সেই শাস্তি দিতে চায়।
কিন্তু শাহেদ বেপারি এই শাস্তি চান না।
সে এই সম্পর্ক থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে চান।
সমাজের কাছে তার সেই  কথা জানান।
সেদিন থেকে রিটার কাছে  থেকে মুক্তি পেয়ে যায়।
শাহেদ তার স্ত্রী সন্তানদের কাছে আবারও ফিরে আসেন।
সুমনা মনের কষ্ট মনে চাপা রেখে স্বামীকে হাসি খুশি ভাবে মেনে নেন।
তবে এই হাসির  পিছনে কতটা অভিমান লুকিয়ে আছে তা শাহেদ বেপারির বুঝতে অসুবিধা হয়।
শাহেদ বেপারি এবার শক্ত হাতে নিজের দায়িত্ব বুঝে নিতে চান।
সে লক্ষ্যে সব সময় স্ত্রী সন্তানদের খেয়াল রাখেন।
তার সন্তানদের দেখাশোনা করার জন্য দুজন লোক ছিল।
তাদের ভালো মন্দের খোঁজ খবর নেন
এভাবে চলে যায় আরও কিছু মাস।
এরমধ্যে শাহেদ বেপারির ঢাকা থেকে দোকানের মালমত্র ট্রলারে আনার সময়ে ট্রলার ডুবে যায়।
সেখানে প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল ছিলো।
এতে শাহেদ বেপারি কিছুটা ধাক্কা খায়।
একটা কথা আছে বিপদ যখন আসবে চার পাশে থেকে আসবে।
শাহেদ বেপারির সাথেও সেটা হচ্ছিল।
আবারও নতুন করে করে মালপত্র  আনার ব্যাবস্থা করেন কিন্তু ট্রলারে থেকে মালপত্র ডাকাতি হয়ে যায়।
এর মধ্যে দুই  হাঁটে তার দুইটা দোকান ছিল।
যেখানে সপ্তাহে দুইদিন হাঁট করতেন।
দুই জায়গাতেই হাঁটগুলো ছিলো আড়িয়াল খাঁ ও পদ্মা  নদীর পাশে।
সে বছর নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শাহেদ বেপারির দোকান।
শাহেদ বেপারি যে দিকে তাকান সেদিকে অন্ধকার দেখেন।
এই কঠিন সময়ে সুমনা সবসময় তাকে সাহস দিতেন।
শাহেদ বেপারি ভাবে আল্লাহ্ তার পরীক্ষা নিচ্ছে সেজন্য সব দিক থেকে বিপদে ঘিরে রেখেছে।
শাহেদ বেপারি ভাবে দোকানে তো প্রায় লাখ দুয়েক টাকার মালপত্র আছে।
এই বিপদ থেকে কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
কিন্তু শাহেদ বেপারি তো জানেন তার জন্য কি অপেক্ষা করছে....</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/43060/</link>
				<pubDate>Tue, 12 Oct 2021 18:08:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ৯<br />
প্রকৃতি  তার নিজস্ব গতিতে চলে।<br />
বাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে  রঙ বেরঙের ফুল ফুটে।<br />
 সব ফুলের সুবাস থাকে না।<br />
কিন্তু সারা বাগানে এতো এতো ফুল গাছের মধ্যে একটা  গাছের ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে সারা বাগানের আসেপাশে ।<br />
তেমনি এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চাঁদনী বানু ছিলে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-43060"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/43060/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9d331cbde893676b5ad8ded1eb49f00c</guid>
				<title>কবিতাঃসাড়া।
লেখনীতে মেহের মেহের সীমা।


রাত দ্বিঃপ্রহর   চোখে নেই ঘুম।
আকাশটা আজ  কেন এতো নিঝুম। 
আকাশে আজ নেয় কোনো তারার মেলা,
ভেসে চলেছে মেঘের ভেলা।
আজ যেন নিস্তব্ধতায়  ছেয়ে গেছে আসেপাশে। 
বাতাস অভিমান করে দিচ্ছে নাকো সাড়া,
আজ ঝিঁঝিঁ পোকারা শুনাচ্ছে না ঝিঁঝিঁ সুরে মনোমুগ্ধকর ছড়া,
ফুলেরা দিচ্ছে না না দোলা,
চাঁদ মামা করছে লুকোচুরি খেলা,
প্রকৃতি তার মুগ্ধতা ছড়িয়ে আগের মত এখন আর মানুষের মনে  দেয় না নাড়া।
আগের মত কোন কাজে আমার মনটা দেয় না এখন সাড়া, 
আমার এই দুচোখে ঘুমেরা দেয় না কেন তাগড়া।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40957/</link>
				<pubDate>Wed, 06 Oct 2021 13:35:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতাঃসাড়া।<br />
লেখনীতে মেহের মেহের সীমা।</p>
<p>রাত দ্বিঃপ্রহর   চোখে নেই ঘুম।<br />
আকাশটা আজ  কেন এতো নিঝুম।<br />
আকাশে আজ নেয় কোনো তারার মেলা,<br />
ভেসে চলেছে মেঘের ভেলা।<br />
আজ যেন নিস্তব্ধতায়  ছেয়ে গেছে আসেপাশে।<br />
বাতাস অভিমান করে দিচ্ছে নাকো সাড়া,<br />
আজ ঝিঁঝিঁ পোকারা শুনাচ্ছে না ঝিঁঝিঁ সুরে মনোমুগ্ধকর ছড়া,<br />
ফুলেরা দিচ্ছে না না দোলা,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-40957"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/40957/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>17</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">70b963f6ecf564c1aa4bb0b3b68fd48b</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ৮

 সিগ্ধ সকালে  গ্রামের নির্মল পরিবেশ যে কারো  মন ভালো করে দেয়।
 রাতের আঁধার শেষে  ভোরের আলো ফোটার আগে মোরগের ডাকে।
ভোরের পাখির কিচিরমিচির শব্দ মনকে নাড়া দেয়।
চাঁদনী বানু যেহেতু ছোট থেকেই গ্রামে বড় হয়েছে।
সেহেতু এমন পরিবেশ প্রতিদিন দেখে সে অভ্যস্ত থাকা সত্বেও সব সময় মনে হয়েছে  গ্রামে না জন্মালে  তার এমন নির্মল পরিবেশ তার আজীবন অদেখা থেকে যেত।
কিন্তু আজ তা লাগছে না।
বরং আজ সবকিছু কেমন বিষাদময় লাগছে।
পাখির কিচিরমিচির শব্দে তার  মাথা ধরে যাচ্ছে।
যা আগে কখনো হয়নি। 
আজকে বাহিরের পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করার বদলে বিরক্ত করছে।
তা এতো কষ্ট গড়া সংসার  যে নষ্ট হওয়ার পথে।
গতকাল ছেলেকে  হেলেদুলে ঘরে ঢুকতে দেখে  কষ্টে তার বুক ফেটে যাচ্ছে।
অল্প বয়সে স্বামী মারা যাওয়ার পর কত কষ্ট করে তিনি ছেলেদের মানুষ করেছেন।
আসলেই কি তার ছেলেরা মানুষ হয়েছে?
যদি মানুষ হতো তো মধ্য রাতে নেশা করে বাড়িতে আসার সাহস পেত না।
এই দিন দেখার আগে তার মৃত্যু হলো না কেন?
এসব ভেবে ভেবে গতকাল রাতে থেকে চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
এটা তিনি কি দেখলেন তা ভেবে পাচ্ছে না।
ছেলের এমন অধঃপতন কোন মা যে মানতে পারে না।
প্রতিদিন ছেলেদের নামাযের জন্য ফজরের সময় ডেকে তুলেন তিনি।
কিন্তু আজকে রাগ হয়ে ছেলেদের ডাক দেননি।

অন্যদিকে
 শাহেদ বেপারি  ঘুম থেকে ছয়টার দিকে উঠে পড়েছেন।
আজকে ফজরের নামাজ মিস করেছেন।
সে যত নেশা করেই বাড়িতে ফেরেন না কেন।
বাড়িতে থাকলে ফজরের সময়  তার মায়ের এক ডাকে ঘুম থেকে জেগে যায়।
তাহলে কি মা আজকে তাকে ডাকতে আসেনি?
নাকি ঘুমের মধ্যে মায়ের ডাক সে শুনেনি।
কথাটা ভাবা মাত্র গতকাল রাতের কথা মনে পড়ে যায়।
রাতের কথা মনে পড়ায় শাহেদ বেপারির চোখে থেকে ঘুম ছুটে গেছে।
দৌড়ে মায়ের রুমে গিয়ে দেখে তার মা জানালা দিয়ে দূরে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।
শাহেদ বেপারির মনের মধ্যে কামড়ে উঠল।
তার মায়ের এই দৃষ্টিভঙ্গি বলে দিচ্ছে ছেলের এমন অধঃপতন দেখে তিনি কি পরিমান কষ্ট পেয়েছেন।
শাহেদ বেপারি মায়ের পা জড়িয়ে ধরে বললেন,মা আপনাকে এমন লাগছে কেন?
শরীর খারাপ?
ডাক্তারের কাছে যাবেন?
ছেলের কথা শুনে চাঁদনী বানু শান্ত তবে দৃর কন্ঠে বলেন,যে মায়ের ছেলে নেশা করে রাত বিরাতে ঘরে ফেরে তার তো বেঁচে থাকার কথা নয়।
কিন্তু দেখ তবুও বেঁচে আছি।
মা! আপনি এসব কি বলছেন?
আল্লাহ্ আপনাকে হাজার বছর হায়াত দান করুন।
চাঁদনী বানু ছেলের কথা শুনে বিদ্রুপ করে বললেন, কেন যাতে ছেলের বেহায়াপনা দেখতে পারি।
তোমার বাপ দাদার এতদিনের সঞ্চিত সম্মান  নষ্ট করবে তা দেখার জন্য বাঁচব?
শাহেদ তার মায়ের পা ধরে বললেন,মা আমার ভুল হয়েছে।
আপনি আমায় যা খুশি শাস্তি দেন তবুও আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন না।
তাহলে যে আমার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যাবে।
চাঁদনী বানু ছেলের কথা শুনে তাচ্ছিল্যের স্বরে বললেন,তা এখন বুঝি তুমি আলোতে আছো বাবা ?
যার পুরোটাই অন্ধকারে ডুবে গেছে  তার মুখে আলোর কথাটা যে শুনতে  বড্ড বেমানান লাগে।
তবে তোমাকে আমি এমনিতেও কথা বলতে ডাকতাম।
ভালো হয়েছে তুমি নিজে থেকে আমার সাথে দেখা করতে এসেছ।
শাহেদ একটা কথা কি জানো?
কি মা?
দুষ্টু গোয়াল থেকে শূন্য  গোয়াল অনেক ভালো।
তোমার অধঃপতন দেখে আমার আফসোস হচ্ছে সুমনার জন্য।
 তোমার সাথে ওর বিয়ে দিয়ে আমি ঠিক করিনি।
ওর জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে।
সেজন্য ভিতরে ভিতরে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি।
 মৃত্যুর পর আল্লাহর সামনে কিভাবে দাঁড়াব সেটাই ভাবছি।
শাহেদ মায়ের কথা শুনে বললেন,মা ওই মেয়ে আপনাকে উল্টাপাল্টা বুঝিয়েছেন।
ওর জন্য আমার ছেলেটা মারা গেছে।
ও একটা অপেয়া অলক্ষী।
চাঁদনী বানু তার ছেলের কথা শুনে রেগে বললেন, কোন মা ইচ্ছে করে কখনো নিজের সন্তানকে মারে না।
আর শাহেদ তুমি কি ভুলে গেছ জন্ম মৃত্যু বিয়ে আল্লাহর হাতে।
সেখানে সাইদুরের মৃত্যুর জন্য তুমি সুমনা কে দায়ী করতে পারো না!
দশমাস কষ্ট করে সন্তানকে পেটে রেখেছে সুমনা।
তাই তোমার থেকে ওর কষ্ট বেশি ছাড়া কম নয়।
সে যায় হোক তোমাকে যে জন্য ডেকছি।
মা আপনি  হুকুম দেন।

তোমাকে হুকুম দেওয়ার অধিকার আমার নেয়।
 আর শুনো শাহেদ বারবার মা বলবে না, আজকে থেকে আমি তোমার মা না।
তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেয়।
আর আজ থেকে তোমার দেওয়া বা কিনে আনা  কোন কিছু  আমি খাবো‌ না।
আজকে থেকে আমার একটাই ছেলে সে হচ্ছে রাশেদ।
শাহেদ বেপারি মায়ের মুখে এমন শক্ত কথা শুনে তার পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে বললেন,মা মাগো আপনার পায়ের নিচে আমার জান্নাত।
তা থেকে আমাকে বঞ্চিত করবেন না।
শাহেদ পা ছাড়ো তোমার নেশা করার আগে কথাটা ভাবা উচিত ছিল।
এখন এসব বলে লাভ নেয়।
আর শুন আজ থেকে তুমি সুমনার সাথেও তোমার কোন সম্পর্ক নেয়।
কারণ আমি যাকে পছন্দ করে ঘরে তুলেছি তাকে তো পায়ে পিষ্ট হতে দিতে পারি না।
আজকে থেকে সুমনা আমার সাথে আমার রুমে থাকবে।
এই বাড়িটি যেহেতু তোমার জন্ম দাতার ।
জন্ম  সুত্রে তার রেখে যাওয়া  বাড়িতে যেহেতু তোমার অধিকার আছে ।
সেজন্য বাড়ি থেকে বের হতে বলবো না।
তাই বলে তুমি তোমার রুমে যা ইচ্ছে করতে পারবে না।
আর এই মুহূর্তে আমার সামনে থেকে দূর হয়ে যাও।

সেদিনের পর থেকে কেটে এক মাস।
এই এক মাসে চাঁদনী বানু সুমনাকে শাহেদ এর সাথে কথা বলতে বা দেখা করতে দেয়নি এমনকি  নিজেও ছেলের সামনে আসেননি।
ছেলের তার কাছে এলে ভুলে কথা বলেননি।
শাহেদ বেপারি ছোট থেকেই  মা বলতে পাগল।
আর একমাস ধরে মায়ের সাথে কথা বলতে না পেরে তার পাগল পাগল অবস্থা।
অন্যদিকে সুমনা শ্বাশুড়ির হাতে পায়ে ধরেও স্বামীর কাছে যাওয়ার অনুমতি পায়নি।
চাঁদনী বানু মনে করেন,সে এখন নরম হলে  তার ছেলে কখনও ভালো হতে পারবে না।
তার ছেলে মানুষ হিসেবে তেমন খারাপ নয়।
কারণ তার বড় ছেলে কখনও কারও বিপদে এগিয়ে আসে না।
 কিন্তু শাহেদ সব সময় যে কারো বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
টাকা পয়সা দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।
যাদের বিয়ে হয় না তাদের বিয়ের জন্য টাকা দেয়।
হয়তো ছেলেটা সঙ্গ দোষে এমন নষ্ট হয়েছে।
সেজন্য সে নিজে ছেলের থেকে দূরে থেকে ছেলেকে শাস্তি দিচ্ছেন।
এভাবে কেটে যায় আরও ১৫ দিন।
মায়ের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণে দিন দিন শাহেদ বেপারির শরীর খারাপ হতে থাকে তা দেখে সুমনা শাহেদ বেপারিকে ক্ষমা করে দিতে বলেন তার শ্বাশুড়িকে।
শাহেদ অসুস্থ শরীর নিয়ে মায়ের পায়ের কাছে পরে থাকেন।
মাফ পাওয়ার আসায়।
চাঁদনী বানু তো একজন মা।
মা হয়ে ছেলের এমন করুন অবস্থা দেখতে পারেন না।
ছেলেকে মাফ করে দেন।
তবে তার আগে আর কখনো এমন কিছু দেখলে আমার মৃত্যুর পর আমাকে শেষবারে দেখার অধিকার কেড়ে নিতে আমার ভুল হবে না।
এটা বলতে ভুলেনি।
  শুধু এতটুকুই কথায় যথেষ্ট ছিলেন শাহেদ বেপারির জন্য।
শাহেদ বেপারি দীর্ঘ দুই মাস পর তার মায়ের পায়ে মাথা রেখে নিরবে কেঁদে যাচ্ছে।
 ভুলের চোরাবালিতে ফেঁসে মায়ের থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছিল।
মা বলার বা মায়ের জন্য কিছু করার অধিকার হারিয়েছিলেন।
কিন্তু তার মা তাকে আবারও মা বলার অধিকার দিয়েছেন।
সেজন্য সে তার মায়ের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেয়।
তবে এই অধিকার ফিরে পাওয়ার ব্যাপাটা তার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে।
এদিকে চাঁদনী বানু ছেলে দিকে তাকিয়ে বললেন, শাহেদ বাবা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করো। তোমাকে দ্বিতীয় বার বাবা হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।
কথাটা শুনে শাহেদ চমকে উঠে!
সে আবারো বাবা হচ্ছেন তা কি করে সম্ভব?
সুমনার সাথে প্রায় মাস খানেক এর বেশি সময় ধরে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক নেয়।
মা এসব কি বলছেন।
চাঁদনী বানু হয়তো ছেলের মনের কথা বুঝতে পারছেন।
সেজন্য বলে উঠলো।
তোমার সন্তানদের জন্য সুমনা পাঁচ মাস ধরে অসুস্থ।
কিছু খেতে পারছে না।
আর তোমার সেদিকে খবর নেয়।
আমি না বললে তো মনে হয় বাচ্চা হওয়ার পর জানতে।
তুমি কেমন বাবা?
আমার ছেলেকে তো এতটা উদাসীন  হওয়ার কথা নয়।

শাহেদ বেপারি মায়ের কথা শুনে বুঝতে বাকি থাকে না। তার স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

দেখতে দেখতে সব কিছু আগে মতে হয়ে গেছে তবে ভিতরে ভিতরে একটা কিন্তু থেকে যায় ।
রিটা কি চুপ করে থাকবে।
শাহেদকে পেতে যে মেয়ে এতো মারপ্যাঁচ করেছে।
দেখতে দেখতে কেটে যায় কয়েক বছর
এখন শাহেদ বেপারির ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
শাহেদ বেপারি বড় ছেলেটাও কম সুন্দর নয়। খাড়া নাক ফর্সা গায়ের রং শান্তশিষ্ট ।
তবে দেখতে সাইদুর এর মত নয়।
আর মেঝো ছেলেটার গায়ের রং পাকা সুন্দর,চোখ হালকা ছাই কালার ।
চেহারায় কেমন একটা মায়াবী।
আর তাদের ঘরে ছোট সদস্য হচ্ছে তাদের মেয়ে। পুতুলের মতো দেখতে।
বিদেশীদের মত ফর্সা, বাদামী চোখ যে কারো নজরে পরার মতো।
অবশ্য শাহেদ বেপারির ছোট মেয়েটিকে প্রথমে যে কেউ দেখলে বিদেশি ভাবে।
শাহেদ বেপারির, তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে  আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন।
তবে কতদিন এমন আনন্দে কাটবে বলতে পারছেন না।
ইদানিং মনটা অস্থির হয়ে আছে।
এদিকে
চাঁদনী বানু তো দুই ছেলের নাতি নাতনি নিয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে আছেন।
বড় ছেলের ঘরে দুই ছেলে তিন মেয়ে আর ছোট ছেলের ঘরে দুই ছেলে এক মেয়ে।
প্রতি রাতে তার নাতি নাতনি ঝগড়া শুরু করেন কে শুবে দাদুর কাছে।
এরমধ্যে বড় ছেলের ঘরে দুই নাতি বেশ বড় হয়েছে।
সেজন্য তারা আলাদা রুমে ঘুমান।
আর বড় ছেলের ছোট মেয়ের বয়স আট মাস সেজন্য সে মায়ের সাথে ঘুমায়।
আর ছোট ছেলের ঘরে ছোট মেয়ের বয়স দুই মাস সে তার মায়ের সাথে ঘুমায়।
বাকি চার নাতি নাতনি দাদুর কাছে ঘুমাতে যুদ্ধ বাঁধায় ।
নাতি নাতনি এর খুনসুটিতে সময় ভালোয় যাচ্ছে।
তাদের দিনগুলি বেশ আনন্দে কেটে যাচ্ছে।
কেটে যায় আরও কিছুদিন

এরমধ্যে হঠাৎ করে একদিন ভোর রাতে ওযু করতে গিয়ে সুমনা দেখেন  কলপাড়ে  সাদা কিছু পড়ে রয়েছে।
প্রথমে ভয় পেলেও পরে ভাবলেন তার বড় ঝা হয়তো চালের বস্তা রেখেছেন।
সেজন্য বস্তা ভেবে সরিয়ে রাখতে সাদা বস্তুতে হাত দিয়ে আল্লাহ বলে চিৎকার দিলেন

 #চলবে।

বিঃদ্রঃঃ লেখার ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
লেখাটা ভালো লাগলে আপনাদের মূল্যবান মতামত  জানাবেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/40799/</link>
				<pubDate>Tue, 05 Oct 2021 19:58:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ৮</p>
<p> সিগ্ধ সকালে  গ্রামের নির্মল পরিবেশ যে কারো  মন ভালো করে দেয়।<br />
 রাতের আঁধার শেষে  ভোরের আলো ফোটার আগে মোরগের ডাকে।<br />
ভোরের পাখির কিচিরমিচির শব্দ মনকে নাড়া দেয়।<br />
চাঁদনী বানু যেহেতু ছোট থেকেই গ্রামে বড় হয়েছে।<br />
সেহেতু এমন পরিবেশ প্রতিদিন দেখে সে অভ্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-40799"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/40799/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cf9fb7b3cf833853c0d3977e9c2fb0c5</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ  মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ৭
আল্লাহ্ তায়ালা এই মুহূর্তে তার কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছে।
হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে এই আসায় বুক বেঁধে রয়েছে।

কিছু কিছু সময় কষ্টগুলো সহ্যের সীমা অতিক্রম করে কিন্তু তা কাউকে দেখানো যায় না।
সুমনার হয়েছে সে অবস্থা।
স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তা সহ্য করতে পারছে না আবার এই সংসার থেকে বিতাড়িত হওয়ার ভয়ে  হোক বা চাঁদনী বানুর কথা ভেবেই হোক তাকে মুখ বুজে সব সহ্য করতে হচ্ছে।
মুখে সব সময় একটা মিথ্যা হাঁসি ঝুলিয়ে শ্বাশুড়িকে বোঝাতে হয় সে কতটা সুখী।
অন্যদিকে ভিতরে স্বামীর বিরহের দহনে বুকের মধ্যে ছারখার হয়ে যাচ্ছে।
একজন স্ত্রী কখনো স্বামীর সাথে অন্য মেয়েকে সহ্য করতে পারে না।
সেখানে তার স্বামী দিনের পর দিন  সতীনের কাছে যাচ্ছেন সুমনা সেই কথা জেনেও সহ্য করছেন।
কতটা মনের শক্তি হলে এই সব অনাচার  সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। 
এক বাড়িতে থেকে যখন সকালে বড় জা এবং ভাসুর এর খুনসুটিতে মেতে উঠতে দেখে ।
তখন কষ্টগুলো বেশি মাথা চাড়া দেয়।
তারও তো এমন খুনসুটিতে দিন কাটানোর কথা ছিল।
কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল।
তবে সুমনা তার স্বামী শাহেদকে দোষ দিতেও পারছে না।
লোকটার মাথা ঠিক নেয় কি থেকে কি করছে তার ঠিক নেয়।
তাইতো প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় স্বামীর জন্য বদদোয়া না দিয়ে তার হেদায়েত এর জন্য দোয়া করেন।
এভাবে চলছে দিনের পর দিন,
   কেটে যায় কয়েকমাস।
এরমধ্যে
হঠাৎ একদিন চাঁদনী বানু লক্ষ্য করেন ছেলের পরিবর্তন।
কারণ তার ছেলে আজকাল বাড়ি থেকে দূরে দূরে থাকছে।
তার ছেলে তো এমন ছিল না।
তাছাড়া আজকাল বেশ রাত করে ঘরে ফিরে শাহেদ।
চাঁদনী বানু ছেলের এমন পরিবর্তন দেখে মনে মনে নিজের উপর রাগ হচ্ছে।
এই পরিবর্তন তো আর একদিন বা দুইদিন এ হয়নি।
নিশ্চয় অনেক দিন হয়ে গেছে।
ছেলের পরিবর্তন সম্পর্কে কেন তিনি আগে অবগত থাকলেন না?
সেজন্য নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছে।
তার আরও আগে এদিকে নজর দেওয়া দরকার ছিল।
তবে এভাবে তো চলতে পারে না।
কথাটা ভেবে চাঁদনী বানু আজকে  অপেক্ষা করছেন ছেলে ঘরে ফেরার।
কারণ ইদানিং তিনি ঘুমানোর পর শাহেদ ঘরে আসেন।
যেখানে তার ছেলে আগে সব সময় রাতে মায়ের খোঁজ খবর না নিয়ে ঘুমাতেন না।
এখন সেই ছেলে কিনা রাতে এসে মায়ের সাথে দেখা করছে না।
আদৌও তার ছেলেটা ঠিক আছে তো?
চাঁদনী বানু রাতে সব সময় ছেলেদের জন্য অপেক্ষা করতেন।
কিন্তু সাইদুর  মারা যাওয়ার পর থেকে শরীর ভালো যাচ্ছিল না।
সেজন্য শাহেদ বেপারি তার মা&#039;কে ভাইয়ের সাথে খাওয়া দাওয়া করে শুয়ে পড়তে বলেছিলেন।
তাছাড়া শাহেদ শহরের ঘন ঘন যাওয়া আসা করতেন।
সেজন্য 
শাহেদ এর বাড়িতে আসতে দেরি হয় সেজন্য রাশেদ তার মা ও স্ত্রীকে নিয়ে রাতের খাবার খান।
চাঁদনী বানু পরে খাবে বললেও কাজ হয় না।
আজকে শাহেদ শহরে যায়নি ওকে তো বাড়িতে ফিরতে হবে ।
তাই চাঁদনী বানু  চালাকি করে ,আজকে বড় ছেলের বৌকে বলেছেন  রাতে সে খাবে না।
সে এখন ঘুমাতে যাচ্ছে তাকে যেন রাতে আর ডাকা না হয়।
কারণ চাঁদনী বানু যানে রাশেদ যদি যানে তার মা ঘুমিয়ে গেছে তাহলে সে বিরক্ত করবে না।
চাঁদনী বানু চুপচাপ শুয়ে রয়েছে।
রাশেদ বাড়িতে এসে বৌয়ের কাছ থেকে ঘরে মায়ের খোঁজ খবর নিয়ে  খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়লেন।
অন্যদিকে
চাঁদনী বানু চোখ বুজে তসবিহ পড়ছেন আর ছোট ছেলের জন্য অপেক্ষা করছেন।
এদিকে
সুমনা ভেবেছিল তার শ্বাশুড়ি ঘুমিয়ে গেছে সেজন্য নিশ্চিন্তে শাহেদ বেপারির জন্য অপেক্ষা করছিল।
রাত প্রায় সাড়ে বারোটা বা একটা হবে।
সবার এক ঘুম হয়ে গেছে শুধু সুমনা ছাড়া।
তবে সুমনা তো জানে না আজকে তার সঙ্গী হিসেবে শ্বাশুড়ি মাও জেগে রয়েছেন।
 সুমনা  তার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছে আর ঠোঙা তৈরি করছিল।
 দোকানের মালপত্র দেওয়ার জন্য বাশ কাগজ ও আটা দিয়ে আঠা বানিয়ে ঠৌঙা তৈরি করছেন।
অবশ্য এর মাঝে তাহাজ্জুদ এর নামাজ পড়ে নিয়েছেন।
সুমনা একমনে ঠোঙা তৈরি করছিল সে সময় হঠাৎ দরজায় টোকার আওয়াজ শুনে!

সুমনা তড়িগড়ি করে হাতে থাকা কাগজগুলো সরিয়ে দরজার কাছে গিয়ে আস্তে করে বললো,কে?
এই সময়ে কে আসে তা জানো না?
দরজা খোল বদমাইশ মহিলা।
শাহেদ বেপারি রেগে  যায় সুমনা কে জিজ্ঞেস করাতে।
সুমনা শাহেদ বেপারির রাগী কন্ঠ শুনে বুঝতে বাকি থাকে না তার স্বামী এসেছেন।
সুমনা তাড়াহুড়ো করে  দরজা খুলে দেয়।
শাহেদ বেপারি হেলেদুলে ঘরের মধ্যে ঢুকে সুমনা কে ধমক দিতে নেয়।
এরমধ্যে পিছনে চাঁদনী বানুকে দেখে চমকে যায়!
মা&#039;কে দেখে শাহেদ বেপারি মুখে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন।
চাঁদনী বানু ছেলের দিকে তাকিয়ে কিছু না বলে নিজের ঘরে চলে গেলেন।
বৌমা ওকে তোমাদের ঘরে নিয়ে যাও ‌
আর আমার কাছে বিষয়টি গোপন করে তুমি ভালো করনি।
অন্যায় করা  যেমন অপরাধ  অন্যায় সহ্য করাও তেমন অপরাধ।
আগের নিজের গোয়ালের গরু ঠিক করি।
তারপর তোমাকে  দেখছি।
আর কালকে সকালে ওর নেশা কাটলে কথা বলবো তার আগে না।
 নিজের ঘরে যাওয়ার আগে চাঁদনী বানু সুমনা কে কথাগুলো বলতে ভুললেন না, 
এদিকে
  সুমনা তার শ্বাশুড়ির কথা শুনে ভয়ে জমে গেছে।
কি হবে সকালে তা ভেবে অস্থির হয়ে গেছে।
শাহেদ বেপারি সুমনাকে থাপ্পর দিয়ে  রাগে হিসহিসিয়ে  বলে, সকাল হতে দে।
তারপর তোর ব্যাবস্থা করছি।

  #চলবে।

বিঃদ্রঃঃ লেখার ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
লেখাটা ভালো লাগলে আপনাদের মূল্যবান মতামত  জানাবেন।
পরের পর্ব আমি সুস্থ থাকলে আগামী কাল রাতে পাবেন ইনশাআল্লাহ।
 

আগের পর্বের লিংক

https://www.facebook.com/groups/371586494563129/permalink/396615475393564/</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/39765/</link>
				<pubDate>Fri, 01 Oct 2021 17:07:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ  মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ৭<br />
আল্লাহ্ তায়ালা এই মুহূর্তে তার কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছে।<br />
হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে এই আসায় বুক বেঁধে রয়েছে।</p>
<p>কিছু কিছু সময় কষ্টগুলো সহ্যের সীমা অতিক্রম করে কিন্তু তা কাউকে দেখানো যায় না।<br />
সুমনার হয়েছে সে অবস্থা।<br />
স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তা সহ্য করতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-39765"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/39765/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">534408f82a77aa3010ac85971333e449</guid>
				<title>জীবন
জীবন মানুষকে বাঁচতে শেখায়,
মানুষকে সহজ বা কঠিন,

দুই পথেই হাঁটতে শেখায়।
জীবনে চলার পথে ,
মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়।
জীবন আছে বলেই সুখে হাঁসতে জানি,
দুঃখ পেলে কেঁদে সুমদ্র নোনাজল ফেলে বুক ভাসাতে পারি।
আমাদের এই জীবন বড় বিচিত্রময়,
এই  জীবন হয়তো কাওকে অনেক কিছু দেয়,
আবার কারো কারো কাছে থেকে শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেয়।
জীবনের চলার পথে যা পাবে ক্ষণিকের মোহ্।
কিন্তু লোভ লালসা পিছনে ফেলে,
যদি প্রকৃত মানুষ হতে পারো তো,
তোমার জীবন হবে সার্থক।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/38830/</link>
				<pubDate>Tue, 28 Sep 2021 12:54:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জীবন<br />
জীবন মানুষকে বাঁচতে শেখায়,<br />
মানুষকে সহজ বা কঠিন,</p>
<p>দুই পথেই হাঁটতে শেখায়।<br />
জীবনে চলার পথে ,<br />
মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়।<br />
জীবন আছে বলেই সুখে হাঁসতে জানি,<br />
দুঃখ পেলে কেঁদে সুমদ্র নোনাজল ফেলে বুক ভাসাতে পারি।<br />
আমাদের এই জীবন বড় বিচিত্রময়,<br />
এই  জীবন হয়তো কাওকে অনেক কিছু দেয়,<br />
আবার কারো কারো কাছে থেকে শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেয়।<br />
জীবনের চলার পথ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-38830"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/38830/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c4060980bcd7953177ece82569b2f1da</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ  মেহের_মেহের_সীমা
পর্বঃ ৬
চাঁদনী বানু ছেলের অবস্থা দেখে নাতির মুখের দিকে  তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, বাবা  আমার একটা কথাই মনে হচ্ছে এটা কোন সাধারণ জ্বর নয়, সর্বনাশা জ্বর।
বয়স তো আর কম হলো না।
শাহেদ বেপারি মায়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,মা কী বলছেন?
  মানিক আমার জ্বরে ছটফট করছে।
মা গো আমি বাবা হয়ে কিছু করতে পারছি না।
এই কষ্ট কোথায় রাখবো।
আচ্ছা মা ওকে নিয়ে না হয়  শিবচরে ডাক্তারের কাছে যায়?
 শাহেদ বাবা তুই কি পাগল হয়ে গেলি?
শিবচর বলিস আর নলগোড়া  বলিস !
দুটোয় তো গ্রাম।
তাছাড়া গ্রামের বাড়িতে এতো রাতে ডাক্তার কোথায় পাবি?
এটা তো শহর না বাপ তোর বুঝতে হবে।
মা এখন তো মাত্র নয়টা এতো রাত কোথায়?
শাহেদ বেপারির কথা শুনে , তার মা বললেন,বাপ আমার কথা শুন,
  একটু ধৈর্য ধর।
আল্লাহ্ সব ঠিক করে দিবেন।
অন্যদিকে সুমনা ছেলের গায়ে সূরা পরে বারবার ফুঁ দিচ্ছে
আর কাঁদছে।
আজকের রাতটা অনেক বড় মনে হচ্ছে শাহেদের পরিবারের কাছে।
শাহেদ এর বড় ভাই রাতে ঘুম থেকে কয়েকবার উঠে দেখে গেছে ভাতিজার জ্বর কমেছে কিনা।
ফজরের আযান দিলে  বাড়ির পুরুষেরা মসজিদে নামায আদায় করতে বের হয়ে গেছে।
রাশেদ বেপারি ও শাহেদ বেপারি দুই ভাই ফজরের নামায ঠিকঠাক পড়ার চেষ্টা করে সব সময়।
কারণ তাদের মা আযানের সময় উঠে ছেলেদের ঘুম থেকে জাগিয়ে মসজিদে পাঠান।

সুমনা নামায পরে এসে ছেলের মাথার কাছে বসে আছে।
চাঁদনী বানু এবং রাশেদ বেপারির বৌ মানে সুমনার ঝা নামায পড়ছেন।
এরমধ্যে সাইদুর কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে।
যে সে কান্না নয় রিতিমত গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে বাচ্চাটা। 
রাশেদ ও শাহেদ বেপারি বাড়িতে এসে সাইদুরের কান্না দেখে  বুঝতে পারছে না কি হয়েছে!
ছেলের চিৎকারে শাহেদ বেপারি হৃদয় ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।
সুমনা ছেলেকে শান্ত করতে চেষ্টা করছেন।
শাহেদ বেপারি ছেলের অবস্থা সহ্য করতে না পেরে এই ভোর রাতেয়  ডাক্তারের বাড়িতে নিয়ে গেলেন।
কারণ ডাক্তার সরকারি হাসপাতালে দশটার পরে আসেন আর তার চেম্বারের বিকালে বসেন।
এতক্ষণ ছেলেকে নিয়ে ঘরে বসে থাকতে চায় না শাহেদ বেপারি।
এ ছাড়া ডাক্তারের বাড়ি তাদের বাড়ি থেকে দুই ঘন্টার দুরত্ব।
গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ তারমধ্যে যানবাহন বলতে শুধু ভ্যানগাড়ি।
তাও হাতে গোনা কয়েকটি।
অর্ধেক হেঁটে ও অর্ধেক ভ্যান গাড়িতে কোন রকমে ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারের বাড়িতে পৌঁছে শাহেদ বেপারি।
সেখানে পৌঁছে শাহেদ বেপারি চিৎকার করে ডাক্তার ডাক্তার বলে ডাকেন।
তার চিৎকার শুনে একজন বাহিরে এসে জিজ্ঞেস করলেন,কি হয়েছে?
সাত সকালে এমন চিৎকার করছ কেন?
লোকটার কথা শুনে শাহেদ বেপারি বলেন,ডাক্তার সাব গতকাল রাত থেকে আমার ছেলে কেমন যেন করছে।
ডাক্তার সাহেব শাহেদ বেপারি কে বাহিরে মাচা ছিলো সেখানে বসতে দিলেন। শাহেদ বেপারি কোলে সাইদুর বসা ছিলো।
ডাক্তার সাইদুরের নার্ভ চেক করে চোখ  দেখে বললেন, দেখো বাপু এতো অস্থির হলে চলে।
তাছাড়া বাচ্চাটার এতো ঠান্ডা লাগলো কিভাবে?
নিশ্চয় বাচ্চাটা পানিতে ভিজে ছিলো বেশিক্ষণ।
ছোট বাচ্চাদের প্রতি আরও যত্নবান হতে হয়।
তোমার ছেলের শরীর যে গরম দেখেয় বোঝা যাচ্ছে ঠান্ডা থেকে জ্বর হয়েছে ।
কমতে তো একটু সময় লাগবে।
তাছাড়া লক্ষণ বেশি ভালো না।
আমি কিছু ওষুধ লেখে দিচ্ছি ওখে খাওয়াতে থাকো।
আর দুইদিন পর ওর কি অবস্থা হয় তা এসে  আবার দেখিয়ে যাবে।

শাহেদ বেপারি সাইদুরকে নিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়িতে আসেন।
তবে মনে মনে সুমনার উপর রেগে রয়েছেন।
তার মনে হচ্ছে, সুমনা সাইদুরের ঠিকঠাক খেয়াল রাখেনি।
কারণ তার বাচ্চাটা একদম বাদ্য ছেলে।
সুমনা নিষেধ করলে সাইদুর তা কখনো করে না।
ছেলে পানি নিয়ে খেলেছে সুমনা তা খেয়াল করেনি।

অন্যদিকে
চাঁদনী বানু ছেলেকে দেখে জানতে চায় ডাক্তার কি বলেছেন?
শাহেদ বেপারি তার মায়ের কথা শুনে ডাক্তার যা বলেছেন তা তার মা&#039;কে বলেন।
চাঁদনী বানু ভেবে পাচ্ছে না তার নাতির এতো ঠান্ডা লাগলো কিভাবে?
কারণ সাইদুরকে তো সুমনা না সে নিজে গোসল করান।
আর সাইদুর তো পানি নিয়ে খেল না কখনো।

ওদিকে
শাহেদ বেপারি ছেলেকে আদর করে তার মা&#039;কে  ঠিকমতো ওষুধ খাওয়াতে বলে দোকানে চলে যান।
 আজকে দোকানে &#x200d;যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো না তার।
কিন্তু না গেলে চলছে না।
আজ যে বাজারে বড় হাট বসে।
এই বাজারে সপ্তাহে দুইদিন এই হাট বসে।
রবি ও বৃহস্পতিবার হচ্ছে হাটবার।
দূর দুর্দান্ত থেকে গৃরস্থরা জিনিসপত্র এই হাটে  নিয়ে আসেন  ।
বাজারের মাঠে নানা জিনিস পত্রের পর্সা বসে।
কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে মাছ,মাংস, ফলমূল শাকসবজি ,মাটির তৈজসপত্র, পাটের ব্যাগ,
মন্ডা মিঠাই কিছুই বাদ পড়ে না।
তাছাড়া বাজারের বড় দোকান হচ্ছে শাহেদ বেপারির তারপর রাশেদ বেপারির দোকান।
 বেচাকেনা সবার থেকে বেশিও তারা করেন।
চারজন কর্মচারী খাটেন শাহেদ বেপারির  দোকানে।
আর রাশেদ বেপারির দোকানে দুই জন।
শাহেদ বেপারি ছেলেকে ডাক্তার দেখিয়ে  দোকানে আসার সময় ছেলের কপালে  চুমু দিয়ে এসেছে ঠিক।
কিন্তু দোকানে এসে মন টিকছে না।
তবে বেচাকেনা বেশি থাকায় বাড়িতেও যেতে পারছে না।

সাতটার দিকে
রাশেদ বেপারি ও শাহেদ বেপারি  কর্মচারীদের দোকান বন্ধ করতে বলে।
বাড়ির উদ্দেশ্যে দোকান থেকে বের হয়ে আসেন।
বাড়ির কাছাকাছি আসতেই তাদের বাড়ির দিকে থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে।
রাত হওয়াতে আওয়াজ বেশি শোনা যাচ্ছে।
কান্নার আওয়াজ শুনে শাহেদ বেপারির মনে কামড় দিয়ে উঠলো।
ছেলেটার কিছু হয়নি তো?
কথাটা ভাবা মাত্র দ্রুত বেগে বাড়ির  দিকে পা চালায়
বাড়িতে ঢোকা মাত্র বাড়ির উঠানে খাঁটিয়া‌  দেখে চমকে উঠে!
রাশেদ বেপারি ও শাহেদ বেপারি দৌড়ে খাঁটিয়ার কাছে যান।
ওখানে চাঁদনী বানু আহাজারি করে কাঁদছেন রাশেদের বৌ এবং আরও দুই একজন তাকে শ্বান্তনা দিতে চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে তার পাশে  সুমনা বারবার  অজ্ঞান হচ্ছে ।
সুমনার মা বাবা বোন ও ভাইয়েরা আদরের বোনকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
শাহেদ বেপারি তার মা ও স্ত্রীর এমন অবস্থা দেখে।
খাঁটিয়ায় কে  শয়ে রয়েছে দেখার জন্য লাশের মুখের কাছে থেকে কাপড় সরিয়ে প্রিয় ছেলের মুখ দেখে
নিজেকে সামলাতে পারেন না।
ওখানে বসে পড়ে।
দোকানে যাওয়ার আগে যখন ছেলের কপালে চুমু খেলেন তখন ও ছেলেটা মুচকি হেসে তাকে বলেছেন,বাবা তাড়াতাড়ি আসবেন।
শাহেদ বেপারির ভাবছে তার আসতে কি এতটাই দেরি হয়ে গেছে ?
যে  যে তার ছেলে তার সাথে অভিমান করে না ফেরার দেশে চলে গেল।
সকালেও ছেলেটা তার দিকে মায়া ভরা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে ছিলো।
আর রাতে তার সেই ছেলে লাশ হয়ে গেছে।
এটা সে মানতে পারছে।

সময় মানুষকে সব ভুলিয়ে দেয়।
আসলেই সময় কী পারবে বেপারি বাড়ির প্রিয় ছেলের অকাল মৃত্যু ভুলে যেতে?
দিন যায় মাস যায় জীবন আপন গতিতে এগিয়ে চলছে।
সুমনা এখনও মাঝে মাঝে ছেলের জন্য কাঁদেন।
কিন্তু নিয়তি যে বড় নিষ্ঠুর।
তা মানতেই হবে।
মা বাবা বেঁচে থাকতে ছেলের লাশ দেখার চেয়ে কষ্ট আর কি আছে?
তবে আল্লাহ যা করেন এবং সামনে করবেন তা বান্দার ভালোর জন্য করেন।
এই কথাটা সুমনা জানেন কিন্তু তবুও ছেলের মৃত্যুতে তার কি ভালো রয়েছে বুঝতে পারছেন না ।
আল্লাহর কাছে প্রতি ওয়াক্ত সালাতের সময় অভিযোগ করেন, কেন তাকে বাঁচিয়ে রেখে আল্লাহ্ তার ছেলেকে নিয়ে গেলেন।  তার শ্বাশুড়ি তাকে বোঝানোর সব চেষ্টায় করেন।
এটা যে নিয়তি ছিল তা বৌমাকে মানতে বলেন।
ওদিকে শাহেদ বেপারি মাথাটা আজকাল বিগড়ে গেছে।
ছেলের শোক তাকে পাগল করে দিয়েছে।
তাছাড়া আসেপাশের কিছু মানুষ আছে যারা তাকে খরাপ হতে উস্কে দিচ্ছে।
শাহেদ বেপারির মতো ছেলের সাথে সুমনার মত মেয়ে মানায় না।
তাছাড়া তাদের ছেলেটা মারা গেছেন নিশ্চিয় শাহেদ বেপারির স্ত্রীর অবহেলায়।
এসব কথা বলে তাকে উস্কে দিচ্ছে।

শাহেদ বেপারি ভাবে সে তো সুমনাকে ভালোবাসতো না।
মায়ের কথা ভেবে বিয়ে করেছেন।
সাইদুর পেটে থাকা কালীন ও হওয়ার পর থেকে সুমনার প্রতি যত্ন নিয়েছেন।
তাতে হয়তো  মায়া হয়েছে তবে ভালোবাসা নয়।
  তাকে সাইদুর বাবা হওয়ার সুযোগ দেওয়াতে ছেলেটা বেঁচে থাকলে হয়তো একসময় ছেলের দিকে তাকিয়ে সুমনাকে ভালোবাসাতে চেষ্টা করতেন।

কিন্তু এখন আর তা সম্ভব নয়।
 সুমনা কেমন মা?
এমনিতেই তো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে ,ফরয নামায নফল নামায বাদ পড়েনা এই মহিলার।
তাহলে আল্লাহর কাছে কেন নিজের ছেলের জীবন ভিক্ষা চায়নি।
 তাদের ছেলেকে কেন বাঁচাতে পারেনি সুমনা?
সেজন্য সুমনার প্রতি শাহেদের বিতৃষ্ণা ধরে গেছে।
আর যায় হোক এর সাথে সংসার করা কোন মতে সম্ভব নয়।
নিছক শাহেদ বেপারি তার মা&#039;কে ভীষণ ভালোবাসেন । এবং তার  মা সুমনা বলতে অজ্ঞান।
সেজন্য সুমনাকে ত্যাগ করতে পারছেন না।
নাহলে আরও আগেই সে সুমনাকে ত্যাগ করতেন।
শাহেদ বেপারি কাছে আজকাল নিজেকে পাগল পাগল লাগে।
কি করেন কি বলেন তার ঠিক নেয়।
মাঝে মাঝে নিজেকে তার মানসিক রোগী মনে হয়।
কোথাও বেশিদিন থাকতে ইচ্ছে করে না।
কোথায় গেলে শান্তির খোঁজ পাবে তাও ভেবে পাচ্ছে না
তাইতো দোকানের মালপত্র আনার কথা বলে দোকানপাট কর্মচারীদের উপর ছেড়ে  ঢাকা এসে কিছুদিন হোটেলে থাকেন।
রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়।
মাঝে মাঝে মদ, সিগারেট খান, জুয়া খেলায় মাতেন।
আর তার মায়ের কথা মনে হলে শহরে মন টেকে না গ্রামে চলে আসেন ।
এভাবেই চলছে তার দিন ।
ও আরেকটি কথা শাহেদ বেপারি উপরে আগে থেকে কিছু খারাপ মেয়ের দৃষ্টি ছিল।
কিন্তু শাহেদ বেপারি আগে কখনো তাদের পাত্তা দিতেন না।
কিন্তু এরমধ্যে একজন শাহেদ বেপারি এখনকার অবস্থা জেনে তার পিছু নেয়।
মেয়েটার নাম স্বর্ণা ।
স্বর্ণা শাহেদ বেপারির দুর্বলতা সুযোগ নিয়ে তার কাছাকাছি আসেন।
শাহেদ বেপারিকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিয়ে করেন।
স্বর্ণা শাহেদ বেপারিকে বলেন, শাহেদ বেপারি তাকে নেশা অবস্থায় জোর করে বিয়ে করেছেন।
যেহেতু সেও শাহেদ বেপারিকে ভালোবাসেন সেজন্য বাদা দিতে পারেনি।
শাহেদ বেপারির মদ ও স্বর্ণাকে নিয়ে চলে যাচ্ছে দিন।
তবে ঢাকা এক সপ্তাহের বেশি কখনো শাহেদ বেপারির মন টেকে না।
এরমধ্যে
 দেশে এলেও সুমনার সাথে তেমন একটা কথা বলেন না সে।
সুমনা বুঝতে পারছে তার স্বামী যে বদলে গেছে।
শরীরের টানে হঠাৎ এক আধ দিন কাছে আসা হলেও সেখানে ভালোবাসার ছিঁটে ফোঁটা থাকে না।
 তার স্বামী নেশা করেন ,অন্য মেয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এসব ভাসা কথা তার কানে আসে।
এসব কথা সত্য না মিথ্যা তা ভাবতে ভাবতে পাগল হয়ে যাচ্ছে মেয়েটা।
তাইতো একদিন সাহস করে সুমনা শাহেদ বেপারির কাছে তার কানে আসা কথাগুলোর সত্যতা জানতে চান।
সেদিন শাহেদ বেপারি সরল স্বীকারোক্তি ছিলো,
হ্যাঁ সে মদ খায় এবং অন্য মেয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক রয়েছে।
 সুমনা তার স্বামীর মুখে অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে শুনে কষ্ট পায়।
তার  বুকের ভিতরে যন্ত্রনা হচ্ছে।
সুমনা কাঁপা কাঁপা গলায় বললো, বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক ঠিক নয়।
নেশা করা তো ভালো না।
শাহেদ বেপারি সুমনার কথা শুনে বললেন, বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক করছি তোমাকে কে বলেছে?
আমি ও স্বর্ণা বিয়ে করেছি।
কথাটা শুনে সুমনার দম আটকে আসতে চায়।
তারমধ্যে
 শাহেদ বেপারি সুমনাকে বলেন ,শুনো আমার মায়ের কানে এসব কথা যেন না যায়।
আমি মদ খায় বা বিয়ে আরেকটা করি তাতে তোমার সমস্যা নেয়।
কারণ তোমাকে তো আর আমাদের বাড়িতে থেকে তাড়িয়ে দেয়নি বা দিচ্ছি না।

তবে হ্যাঁ আমার মায়ের কানে যদি এসব কথা দিয়েছো তো , তোমাকে তালাক দিতে দ্বিতীয় বার ভাববো না।
তোমাকে এই বাড়িতে এখনও রেখেছি আমার মায়ের জন্য।
নাহলে যে মা তার সন্তানকে সামলে রাখতে পারে না।
তার কোন যোগ্যতা নেয় আমার বৌ হওয়ার।
স্বামীর কথা শুনে সুমনা বাকরুদ্ধ হয়ে যায়।
সেদিনের পর থেকে সুমনা ভিতরে ভিতরে কষ্টে জর্জ্জরিত হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু কাউকে দেখাতে পারেনা তার কষ্টগুলো।
একবার ভাবে মায়ের মত শ্বাশুড়িকে কথাগুলো বলে দিবেন।
কারণ একমাত্র তার শ্বশুড়ি পারবেন তার ছেলেকে নষ্ট হওয়া থেকে ফেরাতে।
কিন্তু ইদানিং চাঁদনী বানুর শরীর বেশি ভালো যাচ্ছে না।
বলতে গিয়েও  দিনশেষে চাঁদনী বানুর কথা ভেবে চুপ থাকেন।
সুমনার  ইদানিং এক একটা দিন বছরের মতো মনে হয়।
সাইদুরের মৃত্যুর পর থেকে
 আসেপাশের মানুষজনের ফিসফিসানি বেড়ে গেছে।
হয়তো কিছু দিনের মধ্যে তার গায়ে অলক্ষী অপেয়া তকমা  লেগে যাবে।
অবশ্য তাতে সুমনার কিছু আসে যায় না।
আল্লাহ্ তায়ালা এই মুহূর্তে তার কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছে।
হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে এই আসায় বুক বেঁধে রয়েছেন।
  #চলবে।

নোটঃ আন্তরিক ভাবে দুঃখিত এতদিন গল্প না দিতে পরায়।
আসলে ইদানিং শরীরের অবস্থা বেশি ভালো যাচ্ছে না।
হাত পা এতো ব্যথা করে যে
লেখার মতো শক্তি পায় না।
এরমধ্যে আবার দুইদিন আগে গ্রামের বাড়িতে এসেছি।
সব মিলিয়ে নাজেহাল অবস্থা।
তবে এরপর থেকে নিয়মিত গল্প দিতে চেষ্টা করব।

বিঃদ্রঃঃ লেখার ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
লেখাটা ভালো লাগলে আপনাদের মূল্যবান মতামত  জানাবেন।

  #চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/38625/</link>
				<pubDate>Mon, 27 Sep 2021 16:19:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ  মেহের_মেহের_সীমা<br />
পর্বঃ ৬<br />
চাঁদনী বানু ছেলের অবস্থা দেখে নাতির মুখের দিকে  তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, বাবা  আমার একটা কথাই মনে হচ্ছে এটা কোন সাধারণ জ্বর নয়, সর্বনাশা জ্বর।<br />
বয়স তো আর কম হলো না।<br />
শাহেদ বেপারি মায়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,মা কী বলছেন?<br />
  মানিক আমার জ্বরে ছটফট করছে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-38625"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/38625/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">77d0f906f6255dd6b8b2ef1ea23c9959</guid>
				<title>সাইফুন নেসা সীমা। and Mahmuda Sultana are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37916/</link>
				<pubDate>Fri, 24 Sep 2021 16:09:37 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b9ff016c57af1ee62acd7860a29525da</guid>
				<title>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ৫

যুদ্ধের পর পর শাহেদ এর বড় ভাইকে তাদের মা বিয়ে করান।
আচ্ছা বারবার বড় ভাই বলছি, এরথেকে  তার নামটাই বলি কি বলেন?
শাহেদ এর বড় ভাইয়ের নাম রাশেদ বেপারি।
রাশেদ তার বৌকে বাড়িতে রেখে   আদমজী জুট মিলে কাজে ফিরে আসেন।
শাহেদ বড় ভাইয়ের  আরো আগেই কাজে ফিরেছেন।
শাহেদ যতটা কাজের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে রাশেদ ততটাই উদাসীন হয়ে গেছে।
রাশেদের আজকাল ঢাকায় থাকতে ভালো লাগে না।
কারণ পাঁচ ছয় মাসে একবার সে  বাড়িতে যেতে পারে।
আগের মতো প্রতিমাসে আর বাড়িতে যাওয়া হয় না।
তবে দুই ভাই একসাথে কখনো বাড়িতে যায় না।
যাতে মায়ের ঠিকঠাক খবর নিতে সমস্যা না হয়।
রাশেদ একটু  স্বার্থপর টাইপ হলেও তাদের একটা দিক অনেক মিল।
তা হচ্ছে দুই ভাই তাদের মা&#039;কে ভীষণ ভালোবাসেন।
বিয়ের সাত বছর হয়ে গেছে।
এরমধ্যে দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা হয়েছেন রাশেদ বেপারি।
মা,বৌ,ছেলে মেয়েকে ছেড়ে এখানে থাকতে কষ্ট হচ্ছে।
অনেক বছর ধরে দুই ভাই ওখানে চাকরি করছেন।
আর চাকরি করতে ইচ্ছে করছে না তার।
দেশে গিয়ে দোকান করবেন ভেবেছেন।
এরমধ্যে 
শাহেদ বেপারি  জুট মিলের ইউনিয়ন লিডার ছিলেন।
তার নাম ডাক ভালোয় ছিলো।
আস্তে আস্তে জুট মিলে লোকসান হতে থাকে।
তাছাড়া শাহেদ বেপারির পিছনে বিপক্ষের অনেক শত্রু লেগে গিয়েছে।
যে কোন মুহুর্তে তার উপরে হামলা হতেও পারে।
তবে সে সব শাহেদ বেপারি পরোয়া করে না।
কিন্তু রাশেদ বেপারির  তাদের মা&#039;কে সবকিছু বলে দেন।
সব শুনে তাদের মা সিদ্ধান্ত নেয় সে আর ছেলেদের ঢাকা রাখবেন না।
নুন পানতা খাবে তাও ছেলেদের নিজের কাছে রাখবে।
যে চিন্তা সেই কাজ।
শাহেদ বেপারির মা চাঁদনী বানু  শাহেদ বেপারি কে চিঠি দিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে আনেন।
এবং চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন।
ও আপনাদের তো বলায় হয়নি।
রাশেদ ও শাহেদ বেপারির মায়ের নাম চাঁদনী বানু।
চাঁদনী চক দেখতে শ্যামলা তবে তার চোখে মুখে মায়ায় ভরপুর।
হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ঘনকালো চুল থাকায় তার স্বামী তাকে আদর করে কেশবতী ডাকতেন।
যা এখন শুধু স্মৃতি।
তো যা বলছিলাম, 
শাহেদ বেপারি ছিলেন মা ভক্ত ছেলে।
মায়ের এক কথায় তার সাধের চাকরি ছেড়ে দেয়।
ওদিকে 
আগে থেকে রাশেদ বেপারির  চাকরি করার ইচ্ছে ছিল না।
সে তাদের মায়ের এই সিদ্ধান্তে ভীষণ খুশি হন।
দুই ভাই দেশে এসে দোকান শুরু করেন।
শাহেদ বেপারি তার জমানো টাকা দিয়ে বাজারে  মৌখিক দলিল এ আলাদা একটা নতুন দোকান কিনেন।
আগে কাগজে কলমে থেকে মৌখিক দলিল বেশি হতো।
তো সে বাজারে নিজের কসমেটিক এর দোকান দেন।
সেই দোকানের জন্য ঢাকা থেকে মালপত্র টলারে করে নিতেন।
যখন দোকানের জন্য মালপত্র কিনতে ঢাকা আসতেন সে সময়ে তাদের মায়ের জন্য অনেক কিছু নিয়ে যেতেন।
তাদের মা পুরনো ঢাকার বাগরখানি পছন্দ করতেন।
শাহেদ বেপারি তার মায়ের জন্য ঢাকা থেকে প্রতিমাসে তা নিতেন।
এরমধ্যে কেটে যায় আরও কিছু সময়।
দুই বছর পর তাদের অবস্থা ফিরে যায়,
বাজারে সব চেয়ে বড় দোকান হয় তাদের ।
এদিকে শাহেদ বেপারি আরও কয়েকটি হাঁটে দোকান রাখেন।
দিন দিন ব্যাবসায় উন্নতি হতে থাকে।
এরমধ্যে শাহেদ বেপারি বিয়ে ঠিক হয় তার বড় ভাইয়ের মামাতো শালী  রেবার সাথে।
রেবা মেয়েটা দেখতে অপরুপা সুন্দরী।
অবশ্য রাশেদ এর বৌ ও অপরুপ সুন্দরী।
কিন্তু চাঁদনী বানু সুন্দর গায়ের রং নয় সুন্দর মন পছন্দ করেন।
এদিকে
শাহেদ তো তার হবু বৌয়ের প্রেমে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে।
বড় ভাইয়ের শালী হওয়াতে তারায় ওর জন্য রেবাকে পছন্দ করেছেন।
বড় ভাইয়ের শ্বশুর বাড়িতে গেলে রেবার সাথে মাঝে দেখা হতো।
বিয়ের কথা উঠার পরে এক  সময় মন দেওয়া নেওয়া হয়।
অন্যদিকে শাহেদ বেপারির মায়ের এই মেয়ে তেমন বেশি পছন্দ ছিল না।
তার কাছে মনে হয়েছে এই মেয়েকে দিয়ে সংসার হবে না
তার চেয়ে বড় কথা মেয়েটা বেশি চঞ্চল।
তিনি গোপনে গোপনে আশেপাশে ছোট ছেলের জন্য মেয়ে খুঁজতে থাকেন।
এক সময় সুমনা বেগমের খোঁজ পায়‌।
মেয়েটার হরিণী চোখ,গোলপি ঠোঁট ও খাড়া নাক তাকে যতটা মুগ্ধ করেছেন।তার থেকে বেশি মুগ্ধ করেছে সুমনা ও তার পরিবারকে।
মেয়েটা রেবার মত ফর্সা নয় তবে স্যামলা সুন্দরী বলায় যায়।
চেহারায় মায়ায় ভরপুর।
সুমনার পরিবার ছিলেন পহেজগার ধরনের।
যা শাহেদ বেপারির মায়ের মন কারে।
তাছাড়া বড় বৌ ভালো হলেও তারমধ্যে একটু অহংকার রয়েছে ।
তার যত্ন করেন ছেলের ভয়ে সেটা চাঁদনী বানুর বুঝতে সমস্যা হয় না।
তার মামাতো বোনের মধ্যে যে এই স্বভাবটা থাকবে না তার ঠিক নেয়।
শাহেদের মা সুমনাকে এতটাই পছন্দ করে ফেলেন যে ছেলের মতামত না নিয়ে তাদের পাকা কথা দিয়ে দেন।
এরমধ্যে  শাহেদ রেবার প্রেম মাখামাখি অবস্থা।
শাহেদকে রেবা বিয়ের জন্য তাড়া দেন।
তাদের বিয়ে ঠিক হয়েছে কতদিন হয়েছে এখনও বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোন তারিখ বা সময় ঠিক করা হচ্ছে না।
তাছাড়া শাহেদ নিজেও রেবাকে একান্তে কাছে পেতে চান।
ভালোবাসার মানুষটির থেকে দূরে থাকা যে বড় কষ্টকর।
সেজন্য শাহেদ বেপারি ঠিক করেন আজ রাতে দোকান থেকে এসেই রেবার ব্যাপারে মায়ের সাথে আলাপ করবেন।
 যে ভাবনা সেই কাজ।
রাতে দোকান থেকে আসার পর হাতমুখ ধুয়ে আসে দুই ভাই।
ছেলেরা ও মেয়ে তারা আসার আগেই খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।
শাহেদ বেপারি তার ভাবীকে সমীহ করে চলেন।
সেজন্য বিয়ের ব্যাপারে তাকে দিয়ে মা&#039;কে বলাতে চেয়েও পারছে না।
তবে শাহেদ বেপারি জানে সে মায়ের সামনে একবার বিয়ের তারিখ এর কথা তুললে তার ভাই ভাবী সবটা সামলাতে পারবে।
কারণ পাত্রী তো আর দূরের কেউ নয়।
ভাবীর আপন মামতো বোন।
খাওয়ার মাঝখানে শাহেদ তার মা&#039;কে বলেন,মা আপনার সাথে কিছু কথা ছিলো।
শাহেদ এর মা ছেলের দিকে তাকিয়ে বলেন,বাবা তুমি কি ভুলে গেছে, আমি খাওয়ার সময় কথা বলা পছন্দ করি না।
আগে খাওয়া শেষ করো।
শাহেদ মায়ের কথামত খাবারের দিকে মনোযোগ দিলেন।

চাঁদনী বানু ছেলেদের দিকে তাকিয়ে বললেন, খাবারের পর তোমরা সবাই আমার ঘরে এসো।
শাহেদ এর বিয়ের ব্যাপারে কথা বলবো।
আমি আমার ঘরে যায় এখানে আর বসে থাকতে পারছি না।
কথাটা বলে সে নিজের ঘরের দিকে গেলেন।
ঘর বলতে , সামনে, পিছনে ও পাশে বারান্দা দিয়ে দূচালা করে টিনের বাড়ি।
এখানে বারান্দা বলতে ব্যালকনি বোঝানো হয়নি।
দেশের বেশিরভাগ বাড়ি বারান্দা দিয়ে তৈরি।
এখন যেমন রুম করে বাড়ি করে তখন বারান্দা দিয়ে বাড়ি করা হতো।
আর তখন থাকার জন্য খাঁট খুব কম সংখ্যক মানুষ ব্যাবহার করতেন।
সে সময়ে চকির প্রচলন ছিল বেশি।
সামনের বারান্দায় চাঁদনী বানু নাতি নাতনি নিয়ে থাকেন, পিছনের বারান্দায় বড় ছেলে ও পাশের বারান্দায় ছোট ছেলে মানে শাহেদ থাকেন।
মাঝের রুমটা মেহমান এলে  থাকে।
ঘরের মধ্যে আসবাবপত্র বলতে, তিনটি চকি একটা খাঁট, সেগুন কাঠের আলমিরা, কাঠের খানাঢলি,ধানের গোলা, আর্মিদের দুটি ট্রাংক ও কম্বল, সিন্দুক,রেডিও, সিরামিকের কিছু প্লেট বাটি আছে।
তখন গ্রামে সিরামিকের প্লেটকে কইরা থালা বলতো।
কাঁসার থালা,বাটি,বড় বড় কয়েকটি পাতিল, কয়েকটা পাটি,লেপ,তোষক, বঁটি,শীল পাটা, কাঁথা বালিশ ইত্যাদি।
আসবাবপত্র রয়েছে।
যা গ্রামের বাড়িতে অনেক কিছু ধরা হতো।
এমনকি এসব হাতে গোনা কয়েকজনের পরিবারে ছিল।
তো যা বলছিলাম,
চাঁদনী বানু খাঁটে বসে তসবিহ পড়ছেন।
ছেলেরা খাওয়া দাওয়া শেষ করে মায়ের ঘরে এসে মায়ের পায়ের কাছে বসলো।
শাহেদ এর ভাবী তার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
শাহেদ মনে মনে উত্তেজনা অনুভব করছেন।
তার মা তার বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে চেয়েছেন।
তারমানে খুব শীঘ্রই রেবা বধূর ভেসে তার ঘরে আসছে।
ইস্ তার যে কি আনন্দ লাগছে।
 শাহেদ বাবা তোমার কাছে আমি যদি দামি কিছু চায়,
তুমি কি আমাকে দিতে পারবে?
শাহেদ বেপারি তার মায়ের কথা শুনে থমকে গেছে!
তার মা আজ এভাবে কথা বলছেন কেন?
আচ্ছা মা কি আমার বা রেবার পরিবারের আচরণের কোন না কোন ভাবে কষ্ট পেয়েছেন?
কিন্তু আমি জানা সত্ত্বে তো মা&#039;কে কখনো কষ্ট দিয়ে কথা বলিনি!
শাহেদ যখন এইসব চিন্তায় বিভোর তার মধ্যে চাঁদনী বানু বলেন,কি হলো বাবা?
আমার কথার উত্তর দিতেও তোমাকে ভাবতে হচ্ছে?
মায়ের কথা শুনে শাহেদ বেপারি তার মায়ের পা দুটো আলতো করে তার কোলে নিয়ে হালকা করে টিপতে টিপতে বললেন,মা আপনি এভাবে বলছেন কেন?
আপনি আমার কাছে চায়বেন কেন?
আমাকে তো আদেশ করবেন আমি তা আমার জীবন দিয়ে হলেও পূরণ করতে চেষ্টা করবো।
আচ্ছা মা আপনি কি  কোনভাবে আমার উপরে মনক্ষুণ্ণ?
চাঁদনী বানু ছেলের কথা শুনে বললেন,না বাবা,
তবে আমি যা চায়বো তার সাথে তোমার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে।
শাহেদ তার মায়ের কথা শুনে বললেন,মা আমার কাছে আল্লাহর পর আপনার চেয়ে দামী কিছু নেয়।
তাই আপনি নির্ধীদায় আমাকে আদেশ করুন।
এরমধ্যে শাহেদ এর বড় ভাই বললেন,মা আপনি শুধু বলুন।
আমরা দুই ভাই তা অবশ্যই পূরণ করবো।
চাঁদনী বানু ছেলেদের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি শাহেদ এর জন্য একটা মেয়ে পছন্দ করেছি।
মেয়েটাকে আমার এতটাই ভালো লেগেছে যে আমি তার বাবা মা&#039;কে কথা দিয়ে এসেছি ।
আগামী সপ্তাহে বিয়ে।
আর রেবা মেয়েটা খারাপ নয় তবে শাহেদ এর  বৌ হিসাবে আমার তাকে পছন্দ নয়।
শাহেদ মায়ের কথাটা শুনে চমকে উঠলেন!

তবে মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখে তার মা   উত্তরের অপেক্ষায় তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
শাহেদ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো।
রেবাকে ভালোবাসে তবে সেজন্য মা&#039;কে অসম্মান করতে পারবে না।
তার কাছে মা যে তার পৃথিবী।
জন্মের পর বাবাকে দেখেনি মা কত কষ্ট করে তাকে বড় করেছেন একা একা।
আজকের এই পরীক্ষায় তাকে
ভালোবাসা বিসর্জন দিয়ে হলেও মায়ের সম্মান বাঁচাতে হবে।
নিজের কষ্ট বুকে ভিতরে চেপে  ঢুক গিলে আস্তে করে বললেন,মা আপনি যাকে বলবেন আমি তাকেয় বিয়ে করবো।
 শাহেদ এর বড় ভাবী ভেবে ছিলেন শাহেদ বিয়ে করতে অস্বীকার করবেন।
কারণ সে তো তার বোন রেবাকে ভালোবাসেন ।
কিন্তু শাহেদ বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন ।
তা দেখে সে কিছুটা ভড়কে যান।
 শ্বাশুড়ির  দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললেন কিন্তু আম্মা ভাইজানের বিয়ে তো আরও আগেই রেবার সাথে ঠিক করেছেন।
তাহলে এখন আবার কেন নিষেধ করছেন।
রাশেদ বেপারি তার বৌয়ের কথা শুনে বৌকে ধমকে বললেন,এই চুপ।
মা কি বলছে শুনো নি।
মায়ের রেবা কে পছন্দ নয়।
এটায় শেষ।
তাছাড়া  মায়ের ইচ্ছেয় আমাদের কাছে বড় অন্য কিছু নয়।
এরপর দিনগুলো দেখতে দেখতে চলে যায়।
ঘটা করে সুমনা ও শাহেদ এর বিয়ে।
বিয়েতে সোনার অলংকার, বিখ্যাত মুসলিন শাড়ি কিছুই বাদ রাখেনি চাঁদনী বানু ছেলের বৌকে দিতে।
শাহেদ বেপারি করে বৌ নিয়ে আসে বাড়িতে।
তবে বৌয়ের মুখ দেখে তেমন একটা খুশি হয়নি।
শাহেদ এর কাছে মনে হয়েছে রেবার রূপের কাছে এই তুচ্ছ।
তবে তার মা যেহেতু এই মেয়েকে পছন্দ করেছেন।
সেখানে তার আর কোন কথা নেয়।

সুমনার আজৌও মনে আছে,বিয়ের প্রথম রাতে যা বাসর রাত বলে পরিচিত।
সেই রাতে তার স্বামীর প্রথম কথা ছিলেন, তুমি আমার মা&#039;কে যতটা ভালোবাসবে।
আমার কাছে থেকে ততটাই সম্মান পাবে।
তোমাকে আমার জন্য আমার মা  পছন্দ করেছেন কথাটা সব সময় মনে গেঁথে রাখবে।
তাছাড়া একটা কথা মাথায় রাখবে ,যদি কখনো তোমার দ্বারা আমার মায়ের অসম্মান হয় তো সেদিন তোমাকে ত্যাগ করতে আমার ভুল হবে না।
সেদিন কঠিন কথাগুলো শুনে সুমনার যতটা কষ্ট হয়ে ছিল তার থেকে এই ভেবে ভালো লেগেছিল।
স্বামী নামের মানুষটি তার  মা&#039;কে কতটা ভালোবাসে তা দেখে।
সেদিন সুমনা মনে মনে পন করেন,এই জীবনে যতদিন বেঁচে থাকবে  কখনো সে শ্বাশুড়ির কথার অবাধ্য হবে না।
সেদিনের পর থেকে কম চড়ায় উতড়ায় পার করতে হয়নি।
কারণ শাহেদ বেপারি মায়ের কাছে যতটা শান্ত ।
মানুষ হিসেবে তার থেকে অনেক বেশি রাগী, অশান্ত।
কথায় কথায় রেগে যাওয়া যার স্বভাব।
সুমনা বেগম  বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যে বুঝে যায়।
তার স্বামী অন্য কাউকে ভালোবাসেন।
তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন ঠিক তবে মনে জায়গা দেয়নি।
স্বামীর মনে অন্য জনের বাস তা বুঝতে পেরে সুমনা ভেঙে পড়ে তা চাঁদনী বানুর নজর এড়ায়নি।
সে সুমনাকে শক্ত হতে বলেন।
চাঁদনী বানু মায়ের মতো সুমনাকে আগলে রাখে সে সময়ে।
ছেলের পছন্দ অপছন্দ সবকিছু বলেন।
চাঁদনী বানুর রান্নার নাম ডাক ছিলো।
যে একবার তার হাতের রান্না খেয়েছে সে বারবার খেতে চাযবে।
আর চাঁদনী বানু তার বড় ছেলের বৌকেও রান্না নিজ হাতে শেখান।
তবে সে মোটামুটি ভালো রান্না শেখতে পেরেছে পুরোপুরি নয়।
চাঁদনী বানু  সুমনাকে নিজ হাতে যত্ন করে রান্না শেখায়।যাতে সুমনা তার ছেলের মন জয় করতে পারেন।
চাঁদনী বানুর চেষ্টা কিছুটা সফল হয়।
এক বছরের মধ্যে সুমনা হুবহু চাঁদনী বানুর মত রান্না শিখে যায়। 
এরমধ্যে সুমনা শ্বাশুড়ির  মাথায় তেল,দেয়া,তার কাপড় চোপড় ধুয়ে দেওয়া, সময় মতো খাবার দেওয়া।
সব করেন।
ধীরে চাঁদনী বানুর প্রতি সুমনার যত্ন শাহেদ বেপারির মনে দাগ কাটে।
এরমধ্যে শাহেদ বেপারি জানতে পারেন, সে বাবা হবে।
এই এ খবর শুনে সে খুশিতে সুমনাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেন।
চাঁদনী বানু খুশি দেখে কে?
বড় ছেলে  দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।
এখন তার ছোট ছেলেও বাবা হবে  ভাবতেই আনন্দে বুক ভরে গেছে।
দেখতে দেখতে চলে যায় নয় মাস ।
শাহেদ বেপারি ও সুমনা অনেকটা কাছাকাছি এসে যায়।
এরমধ্যে ,
সুমনার খুব সুন্দর একটা ছেলে হয়।
দেখতে বিদেশিদের মতো।
গ্রামের সবাই  বাচ্চাটার রূপ দেখে হতভম্ব!
এর আগে এতো সুন্দর নাক চোখ গায়ের রং কখনো দেখেনি তারা।
এদিকে শাহেদ ছেলেকে প্রথম কোলে নিয়ে চুমু দিয়ে ভরিয়ে দেন ছোট মুখটা।
স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির হাসি দেয় তা দেখে সুমনার হৃদয়ে সুখের পরশ বয়ে যায়।
হয়তো এখন সন্তানের উছিলায় স্বামীর মনে পুরোপুরি জায়গা করতে পারবে ভেবে।
সুমনা ও সাহেদের ছেলের নাম রাখা হয় সাইদুর ইসলাম।
ধীরে ধীরে সাইদুর বড় হতে থাকে।
দেখতে ছেলেটা যতটা সুন্দর তার থেকেও স্বভার চরিত্র মুগ্ধ করার মতো।
এই ছেলে কখনও জোরে জোরে চিৎকার করে কাঁদতো না ব্যথা পেলে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠতো।
চাচাতো ভাইদের কাছে কিছু দেখলেও তার জন্য বায়না ধরতো না।
কথা বলতে নরম সুরে।
শাহেদ বেপারি তো ছেলে বলতে পাগল।
ছেলের জন্য প্রতিদিন নিত্য নতুন খেলনা নিয়ে আসতেন।
অবশ্য প্রতিদিন দোকানে যাওয়ার আগে মায়ের কিছু খেতে ইচ্ছে করে কিনা, কিছু আনতে হবে কিনা তা জিজ্ঞেস করতে কখনো ভুল হতো না।
এদিকে,অন্য নাতি নাতনি থেকে সাইদুর আলাদা ছিল।
চাঁদনী বানু নাতির এমন স্বভাব দেখে হতভম্ব!
বাচ্চা মানুষ হয়েও কাজকর্ম বড়দের মতো। 
এই বয়সেও চাঁদনী বানুর খেয়াল রাখতে ভুলে সাইদুর।
দেখতে দেখতে কেটে যায় পাঁচটি বছর।
সাইদুরের যখন ছয় বছর সে সময়ে দেখতে দশ বারো বছর বাচ্চাদের মতো লাগতো।
মায়ের মতো খাটো হবে না দেখে বোঝা যেত।
এরমধ্যে হঠাৎ এক রাতে সাইদুরের জ্বর আসে।
ফর্সা মুখটা লাল টকটকে হয়ে যায়।
চাঁদনী বানু ও সুমনা সাইদুরের অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে যায়।
আর শাহেদ বেপারি তো ছেলের অবস্থা দেখে পাগলের মত বলতে থাকে ,মা আমার ছেলে এমন করছে কেন?
ও মা ওর কি খুব কষ্ট হচ্ছে।
চাঁদনী বানু ছেলের অবস্থা দেখে নাতির মুখের দিকে তাকিয়ে একটা কথায় মনে হচ্ছে এতো সাধারণ জ্বর নয় সর্বনাশা জ্বর।

চলবে</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37323/</link>
				<pubDate>Tue, 21 Sep 2021 14:39:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।<br />
 (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )<br />
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।<br />
পর্বঃ ৫</p>
<p>যুদ্ধের পর পর শাহেদ এর বড় ভাইকে তাদের মা বিয়ে করান।<br />
আচ্ছা বারবার বড় ভাই বলছি, এরথেকে  তার নামটাই বলি কি বলেন?<br />
শাহেদ এর বড় ভাইয়ের নাম রাশেদ বেপারি।<br />
রাশেদ তার বৌকে বাড়িতে রেখে   আদমজী জুট মিলে কাজে ফিরে আসেন।<br />
শাহেদ বড় ভাইয়ের  আরো আগেই কাজে ফিরেছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-37323"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/37323/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">dade95a75e43809fc343bd37d484dc1b</guid>
				<title>পুরুষ
।।।।।।।
 হে পুরুষ তুমি বাবা, তুমি যে  ভাই,

তুমি স্বামী , তুমিয় ছেলে।
এখানে ডাকার শব্দ ভিন্ন,
কিন্তু  সব চরিত্রে  নারীকে হেফাজতে রাখা,
 পুরুষের দ্বায়িত্ব  ,,
নিরাপত্তা দেওয়া তাদের ধর্ম।
কিন্তু আজকাল দ্বায়িত্ব ভুলে এ কোন রূপে তাদের আবির্ভাব।
তবে বলবো না কো সব খারাপ,
 তবে দুই চারজন  পুরুষ  নামে
জানোয়ারের জন্য   সেই নারীরা হচ্ছে লাঞ্চিত। 
কিছু  জানোয়ারদের বর্বরতার হাত থেকে , মা, বোন, বৃদ্ধ বা শিশু নিস্তার নাহি পায়।
 ছোট থেকে কুরআন ও হাদিস থেকে শুনে এসেছি,
মোদের প্রিয় নবী এই ধরাতে আসার আগে,
আরব দেশে মেয়ে শিশুদের আগুনছ পুরিয়ে মারত,
মেয়েদের কেনা বেচা করতেন সে সময়ে।
নারীদের ওপর  অত্যাচার করত্
সেই যুগ তো ছিল জাহেল বর্বরতার,

 আরবের সেদিন গুলোর নিষ্ঠুর বা বর্বরতা প্রিয় নবী করেছিলেন শেষ।
মোদের দিয়ে গেছেন জীবনকে গড়ার  শিক্ষা, মোদের প্রিয়  ও শেষ নবী
যেই নারীদের দিয়েছিলেন অগাত সম্মান।
আজ সেই নারীরা হচ্ছে কিছু পুরুষ নামে,
জানোয়ারদের লালোসার স্বীকার,

ভাবতে ও অবাগ লাগে।।
একজন নারী, মা বোন , স্ত্রী ,  মেয়ে।
চারটে রূপ।
 কিন্ত হোক  না সে মুসলমান বা হিন্দু তবুও তো সে নারী।
মোদের ধর্মে সব রূপেয় নারীকে দিয়েছে অগাত সম্মান ।
যেখানে মহান আল্লাহ ,
মায়ের পদতলে,
রেখেছেন সন্তানের বেহেস্ত।

কী ভাবে পুরুষ  নামে কিছু পশু

 সেই নারীকে করে
অসম্মান ।
তারা  কেন ভুলে যায়, 
তাদের ও তো জন্ম হয়েছে কোন না কোন নারীর গর্ভে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/37024/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Sep 2021 14:01:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পুরুষ<br />
।।।।।।।<br />
 হে পুরুষ তুমি বাবা, তুমি যে  ভাই,</p>
<p>তুমি স্বামী , তুমিয় ছেলে।<br />
এখানে ডাকার শব্দ ভিন্ন,<br />
কিন্তু  সব চরিত্রে  নারীকে হেফাজতে রাখা,<br />
 পুরুষের দ্বায়িত্ব  ,,<br />
নিরাপত্তা দেওয়া তাদের ধর্ম।<br />
কিন্তু আজকাল দ্বায়িত্ব ভুলে এ কোন রূপে তাদের আবির্ভাব।<br />
তবে বলবো না কো সব খারাপ,<br />
 তবে দুই চারজন  পুরুষ  নামে<br />
জানোয়ারের জন্য   সেই নারীরা হচ্ছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-37024"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/37024/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">aa4f796df10e99a7e63a324e490c8efa</guid>
				<title>বলবো না আজকের তারিখ বা দিনটি স্পেশাল। 
কারণ  এই তারিখে তুমি ‌আমার জীবনে এসে ছিলে,
তারপর থেকে তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি দিনেই আমার কাছে স্পেশাল।
বলবো না তোমাকে ভালোবাসি।
আমি বলতে চাই ,তোমার রাগ, হাঁসি,কান্না , দুষ্টুমি, অভিযোগ, অভিমান, খুনসুটি বলতে গেলে পুরো তুমিটাকেয়।
বড্ড ভালোবাসি প্রিয়।
 তোমার সাথে কাটানো সময়ের সংখ্যা যে মাস বছরের পর বছর ,
এভাবে কেটে গেছে  যুগ ।
কিন্তু মনে হয় এইতো সেদিন  তুমি ধরে ছিলে সারাজীবনের জন্য আমার দুটি হাত।
স্বামী বলো আর বন্ধু বলো সবেয় গো প্রিয় তুমি।
আমার হৃদয়ের প্রথম অনুভূতির  তুমি।
 আল্লাহর কাছে একটা চাওয়া মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত যেনো।
আমার হৃদয়ের প্রথম ও শেষ অনুভূতিতে থাকো  তুমি।

শুভ বিবাহ বার্ষিকী চাপতি ও পনুর বাবা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/36633/</link>
				<pubDate>Sun, 19 Sep 2021 03:46:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বলবো না আজকের তারিখ বা দিনটি স্পেশাল।<br />
কারণ  এই তারিখে তুমি ‌আমার জীবনে এসে ছিলে,<br />
তারপর থেকে তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি দিনেই আমার কাছে স্পেশাল।<br />
বলবো না তোমাকে ভালোবাসি।<br />
আমি বলতে চাই ,তোমার রাগ, হাঁসি,কান্না , দুষ্টুমি, অভিযোগ, অভিমান, খুনসুটি বলতে গেলে পুরো তুমিটাকেয়।<br />
বড্ড ভালোবাসি প্রিয়।<br />
 তোমার সাথে কাটানো সময়ের সংখ্যা যে মাস ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-36633"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/36633/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>14</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">eb2cab3b7d550b5d109c1c2aa52ef2d4</guid>
				<title>বন্ধন
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
 জীবন বড়  অদ্ভুত
তার চেয়ে রহস্যময় হচ্ছে বন্ধন ।
যে দুটো মানুষ আজ
একে অপরকে চেনেনা বা জানেনা
কিন্তু তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়&quot;&quot;
আর অচেনা মানুষটাই হয়ে যায় 
এক সময় বেশি আপন&#039;&#039;
আজ বাবার বাড়িতে যে মেয়েটা অবাধ্য !
হয়ত কাল সে কারো সাথে পবিত্র বন্ধনের 
পর হবে বাধ্য ।
একটা মেয়ে,
ছোট থেকে বড় হয় বাবা ও মায়ের 
ভালবাসার বন্ধনে ।
আবার যখন নতুন একটা  বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
তখন ভাবে মা ও বাবাকে ছাড়া 
থাববে কী করে নতুন এই বন্ধনে?
 দিন যায় ,মাস যায় ,
যায়  যে বছর   তখন  নতুন সেই বন্ধন
 যায় পুরানো হয়ে ।
 সাথে যোগ হয়  নতুন করে 
নাড়ির (ছেলে ও মেয়ের )বন্ধন।
অচেনা বা অজানা থেকে,
যে বন্ধনের শুরু  ।
তা হয়ত যুগের পর যুগ চলে যায়!
তাও ভালবাসা কমেনা এতটুকু ,
 বন্ধনের মাঝে ভালবাসা বেড়েই চলে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/36628/</link>
				<pubDate>Sun, 19 Sep 2021 03:32:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বন্ধন<br />
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।<br />
 জীবন বড়  অদ্ভুত<br />
তার চেয়ে রহস্যময় হচ্ছে বন্ধন ।<br />
যে দুটো মানুষ আজ<br />
একে অপরকে চেনেনা বা জানেনা<br />
কিন্তু তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়&#8221;&#8221;<br />
আর অচেনা মানুষটাই হয়ে যায়<br />
এক সময় বেশি আপন&#8221;<br />
আজ বাবার বাড়িতে যে মেয়েটা অবাধ্য !<br />
হয়ত কাল সে কারো সাথে পবিত্র বন্ধনের<br />
পর হবে বাধ্য ।<br />
একটা মেয়ে,<br />
ছোট থেকে বড় হয় বাবা ও মায়ের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-36628"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/36628/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e98668a470de6961f62db0bbc6620ff0</guid>
				<title>কবিতা
☆☆♡☆☆গোলোক ধাঁধা☆☆♡☆
লেখনীতে মেহের মেহের সীমা।

জীবনের গোলোক ধাঁধায়।
চেনাজানা বা অপরিচিত দুটি ,
নর-নারী বাঁধা পরে একটি  পবিত্র বন্ধনে ।
 শত বাঁধা অজস্র প্রতিকূলতা ,
পার করে দুজনে মিলে,
যা ছিল একসময় অপরিচিত তা হয়ে যায়,
 বেঁচে থাকার অংশ।
একজন আরেকজনের  প্রতি  যে,
বিশ্বাস,নির্ভরতা ও ত্যাগ দিয়ে   শুরু হয়েছিল যে বন্ধন।
তা একসময় পরিণত হয় দুটো হৃদয়ের না বলা অটুট ভালোবাসা ।
একসাথে দুজনে মিলেমিশে,
নতুন প্রজন্ম আনেন তাদের ঘরে।
নতুন অতিথি নিয়ে স্বপ্ন সাজায় তারা মিলেমিশে।
যুগের পর যুগ কাটিয়ে দেয় অনায়াসে।
একসময় ছেলে-মেয়েরা বড় হয় ,,
 স্মৃতিগুলো হয়ে যায় কুয়াশাছন্ন ,,
তবুও দুজনে মনে মনে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পাশে থাকার করেন প্রতিজ্ঞা।
 পবিত্র বন্ধনের জোরে ভালোবাসা যেন বেড়েয় চলে ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/36328/</link>
				<pubDate>Fri, 17 Sep 2021 13:41:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা<br />
☆☆♡☆☆গোলোক ধাঁধা☆☆♡☆<br />
লেখনীতে মেহের মেহের সীমা।</p>
<p>জীবনের গোলোক ধাঁধায়।<br />
চেনাজানা বা অপরিচিত দুটি ,<br />
নর-নারী বাঁধা পরে একটি  পবিত্র বন্ধনে ।<br />
 শত বাঁধা অজস্র প্রতিকূলতা ,<br />
পার করে দুজনে মিলে,<br />
যা ছিল একসময় অপরিচিত তা হয়ে যায়,<br />
 বেঁচে থাকার অংশ।<br />
একজন আরেকজনের  প্রতি  যে,<br />
বিশ্বাস,নির্ভরতা ও ত্যাগ দিয়ে   শুরু হয়েছিল যে বন্ধন।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-36328"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/36328/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e2e7a35d89bb391adfac5433f3581deb</guid>
				<title>কবিতা।
লেখনীতে, মেহের মেহের সীমা।
,নিঝুম রাত ,,,,,,,,,,
রাত্রি দ্বিপ্রহরে ব্যস্ত নগরীতে,
 এখন নেই কোলাহল,
শহরে শুনি না কো ঝিঁঝিঁ পোকার সুর,
দেখি না জোনাকীর আলো, 
    আসে পাসে কেও নেয় !
চারিদিকে  নেই কোন
   সাড়া  শব্দ ,,,,
নিঝুম রাতে মন চায় 
চায় সপ্ন কুড়াতে ,,,,
    কিন্তু চোখে যে নেয় ঘুম ,,
এদিকে রাত যে দ্বিপ্রহর ।
 নিঝুম রাতে চাঁদ করছে খেলা,
তাঁরাদের বসেছে মেলা
বাতাসের হালকা শীতল হাওয়া 
এ যেন মনকে দেয় দোলা ,
 রাতে ঘড়ির  কাঁটা  ঘোরে ,,,,
,,,,ঢং ,,,,ঢং ,,,,,ঢং
  শব্দ করে ,,,,
বলে যেন ঘুমকে 
চোখ থেকে তাড়া ,,,,
,,নিঝুম রাতে ,
আকাশে করুক খেলা !
ঐ চাঁদ  তাঁরা ,,,,
এবার বুঝি ঘুমাবে ,,,
সাড়া পাড়া ,,,</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/36209/</link>
				<pubDate>Thu, 16 Sep 2021 18:41:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা।<br />
লেখনীতে, মেহের মেহের সীমা।<br />
,নিঝুম রাত ,,,,,,,,,,<br />
রাত্রি দ্বিপ্রহরে ব্যস্ত নগরীতে,<br />
 এখন নেই কোলাহল,<br />
শহরে শুনি না কো ঝিঁঝিঁ পোকার সুর,<br />
দেখি না জোনাকীর আলো,<br />
    আসে পাসে কেও নেয় !<br />
চারিদিকে  নেই কোন<br />
   সাড়া  শব্দ ,,,,<br />
নিঝুম রাতে মন চায়<br />
চায় সপ্ন কুড়াতে ,,,,<br />
    কিন্তু চোখে যে নেয় ঘুম ,,<br />
এদিকে রাত যে দ্বিপ্রহর ।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-36209"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/36209/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>