<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | রাহেনা বেগম | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/rahena-begum/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/rahena-begum/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for রাহেনা বেগম.</description>
	<lastBuildDate>Sun, 20 Sep 2026 06:25:17 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">58574dca9ee62d37e37be675ab34d752</guid>
				<title>“ছেলেরা কাঁদে না।”

এই একটি বাক্য দিয়েই আমরা অনেক ছেলে শিশুর Life Script লিখে দিই—
এটা কি কখনো ভেবেছি?

হয়তো আপনার ছোট্ট ছেলেটা পড়ে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা পেল।
চোখে পানি চলে এলো।

মা বললেন - 
“কিচ্ছু হয়নি! তুমি ছেলে তো! ছেলেরা কাঁদে না।”

Be Strong.

বাবা হয়তো বললেন-
“পুরুষ মানুষ হয়ে এতটুকু ব্যথায় কাঁদছ?”

Be Strong.

শিশুটি হয়তো তখন চোখের পানি মুছে ফেলল।

শুধু ব্যথাটা নয়—
সেদিন সে হয়তো আরও একটি বিষয় শিখে ফেলল—

“আমি ছেলে। আমাকে শক্ত হতে হবে।”
“কষ্ট পেলেও তা প্রকাশ করা যাবে না।”
“কাঁদলে আমি দুর্বল।”

শিশুর কাছে বাবা-মায়ের স্বীকৃতি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আবার যখন একটু বড় হলো—

খেলার মাঠে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেল। বন্ধুরা বলল-“কী রে, তুই মেয়ের মতো কাঁদছিস নাকি?”

সে আবার চোখের পানি আটকে ফেলল।

কারণ তার ভেতরে তখন একটি message বেশ শক্ত হয়ে বসে গেছে—

“Strong boys don’t cry.”

Be Strong.

আরও একটু বড় হয়ে সে যখন জীবনের প্রথম বড় কষ্ট পেল—

প্রিয় কাউকে হারাল,
প্রেমে ব্যর্থ হলো,
চাকরি হারাল,
অপমানিত হলো—

তখনও হয়তো তার চোখে পানি এলো।

কিন্তু সে কাঁদল না।

কারণ ছোটবেলায় সে বারবার শিখেছিল—

কাঁদলে সে দুর্বল।
চুপ থাকলে সে ভালো ছেলে।
কষ্ট সহ্য করতে পারলে সে সাহসী।

Transactional Analysis-এর ভাষায়, শিশুরা তাদের চারপাশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অসংখ্য messages, responses এবং strokes-এর মধ্য দিয়ে নিজের সম্পর্কে এবং পৃথিবী সম্পর্কে নানা সিদ্ধান্ত তৈরি করতে থাকে। সময়ের সঙ্গে এগুলোর পুনরাবৃত্তি,অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত life script-এর pattern-এর অংশ হয়ে উঠে।

TA Today ও Born to Win-এ script, strokes, ego states, drivers ও injunctions—এসব ধারণার গুরুত্ব আলোচিত হয়েছে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—

“Be Strong” Driver এবং “Don’t Feel” ধরনের Injunction এক জিনিস নয়। তবে শিশুকে বারবার অনুভূতি প্রকাশ না করতে বলা হলে, তার মধ্যে নিজের অনুভূতিকে চেপে রাখার একটি স্থায়ী pattern তৈরি হতে পারে।

তাই সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে—
কোন আচরণ করলে আমি প্রশংসা পাব, আর কোন অনুভূতিটা লুকিয়ে রাখলে আমি ‘ভালো ছেলে’ হয়ে থাকব।

এভাবেই ছোট ছোট ম্যাসেজ , নিষেধ, প্রত্যাশা আর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তৈরি হতে থাকে তার Life Script।

আজ সেই ছোট্ট ছেলেটি হয়তো বড় হয়েছে।

ব্যথা পেলে বলে—
“আমি ঠিক আছি।”

মন খারাপ হলে বলে—
“কিছু হয়নি।”

ভেঙে পড়লেও কাউকে জানায় না।

সম্পর্কে কষ্ট পেলেও চুপ থাকে।
অপমানিত হলেও হাসে।
ভয় পেলেও সাহসী হওয়ার অভিনয় করে।

কারণ তার ভেতরে কোথাও হয়তো এখনও সেই শিশুটি বসে আছে—
যে শিখেছিল,

“ছেলেরা কাঁদে না।”

কিন্তু সত্যিই কি তাই?

কান্না কি দুর্বলতার পরিচয়?
নাকি কান্না মানুষের স্বাভাবিক আবেগ প্রকাশের একটি ভাষা?

একটি ছেলে শিশুকে আমরা যদি বলি—
“ব্যথা পেয়েছ? কাঁদতে ইচ্ছে করলে কাঁদো। আমি তোমার পাশে আছি।” Allower.

তাহলে সে হয়তো অন্য একটি Life Script নিয়ে বড় হবে—

“আমার অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ।”
“কষ্ট হলে সাহায্য চাইতে পারি।”
“কাঁদা মানে দুর্বল হওয়া নয়।”
“আমি ছেলে বলেই আমাকে সবসময় শক্ত থাকার অভিনয় করতে হবে না।”

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুদের কাঁদা বন্ধ করা নয়; বরং তাদের অনুভূতিকে চিনতে, গ্রহণ করতে এবং সুস্থভাবে প্রকাশ করতে শেখানো।

কারণ আমরা কখনো জানি না—
আজ যে শিশুকে বলছি “কাঁদবে না”,
আগামী দিনের সেই বড় মানুষটি হয়তো কতটা কষ্ট বুকের ভেতর জমিয়ে বয়ে বেড়াবে।

একটু ভাবুন তো—

আপনার ছোটবেলায়ও কি এমন কোনো কথা বারবার বলা হতো—যা আজও অজান্তে আপনার আচরণ, সম্পর্ক কিংবা অনুভূতি প্রকাশকে প্রভাবিত করে?

আপনার উত্তরটি হয়তো শুধু আপনার নিজের গল্পটাকেই বুঝতে সাহায্য করবে না—
অন্য একজন মানুষকেও তার নিজের গল্পটা বুঝতে সাহায্য করবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/274083/</link>
				<pubDate>Mon, 14 Sep 2026 17:51:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“ছেলেরা কাঁদে না।”</p>
<p>এই একটি বাক্য দিয়েই আমরা অনেক ছেলে শিশুর Life Script লিখে দিই—<br />
এটা কি কখনো ভেবেছি?</p>
<p>হয়তো আপনার ছোট্ট ছেলেটা পড়ে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা পেল।<br />
চোখে পানি চলে এলো।</p>
<p>মা বললেন &#8211;<br />
“কিচ্ছু হয়নি! তুমি ছেলে তো! ছেলেরা কাঁদে না।”</p>
<p>Be Strong.</p>
<p>বাবা হয়তো বললেন-<br />
“পুরুষ মানুষ হয়ে এতটুকু ব্যথায় কাঁদছ?”</p>
<p>Be Strong.</p>
<p>শিশুট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-274083"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/274083/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">963ae9df233a5ae894c12c7095acf1bf</guid>
				<title>সমুদ্র বিলাস—একটা পুরোনো নেসক্যাফের ক্যানের ভেতর জমে থাকা সমুদ্র...
আমার বাসায় একটা পুরোনো নেসক্যাফের ক্যান আছে। ক্যানটা খুব সাধারণ।কিন্তু আমার কাছে মোটেই সাধারণ নয়। ক্যানটার গায়ে খুব সুন্দর করে নিজের হাতে লিখে রেখেছি—
“সমুদ্র বিলাস”। 
প্রতি মাসে এই ক্যানটায় টাকা জমাই।১০ টাকা।২০ টাকা। কখনো ১০০ টাকা।কখনো ২০০ টাকা। যখন যেটুকু পারি।

আমি একজন নিম্নবিত্ত পরিবার-প্রধান।
আমাকে আয় করতে হয়, ব্যয় করতে হয়, সংসারের হিসাব মেলাতে হয়। আর সেই হিসাব সবসময় মেলে না।
বেশিরভাগ সময় মাসের শেষে দেখা যায়, রিকশা ভাড়া দেওয়ার টাকাটাও নেই।

তখন কী করি? “সমুদ্র বিলাস” থেকে টাকা ধার নিই। কোনো মাসে সেই ধার শোধ করতে পারি।
কোনো মাসে পারি না। তারপরও আবার টাকা জমাই।
কারণ জীবনে কিছু জিনিস প্রয়োজন,
আর কিছু জিনিস প্রয়োজনের চেয়েও বেশি প্রয়োজনীয়।যেমন—একটু আনন্দ, একটু ঘোরাঘুরি,
আর মাঝে মাঝে একটু সমুদ্র দর্শন।

“সমুদ্র বিলাস”-এর আইডিয়াটা অবশ্য আমার নিজের না। অপলার মামার কাছ থেকে নেওয়া।
তবে আইডিয়াটা ধার করলেও,স্বপ্নটা একেবারেই আমার নিজের। 
২০২৩ সালে বড় পুত্র এসএসসি পরীক্ষা দিলো।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বললাম—
“চলো, সমুদ্রে যাই।”

আপনারা হয়তো ভাবছেন, ছেলেটা অনেক পড়াশোনা করে মাথা জ্যাম করে ফেলেছিল, তাই তাকে একটু রিফ্রেশ করাতে সমুদ্রে নিয়ে গিয়েছিলাম।

নাহ্, নাহ্!
একজন পড়াশোনা না করে পরীক্ষা দিলো—
এইটা দেখতে দেখতে আমার মাথাই জ্যাম হয়ে গিয়েছিল।
তাই মূলত ছেলেকে নয়,
নিজের মাথা ঠান্ডা করতেই সমুদ্রে পালিয়েছিলাম। 

ফিরে আসার পরের মাস থেকেই আবার “সমুদ্র বিলাস”-এ টাকা জমাতে শুরু করলাম।

কারণ আমি বৈষম্যবাদী মা নই।

আমার কাছে দুই পুত্রই সমান।

বড় পুত্র সমুদ্র পেয়েছে,
ছোট পুত্র কেন পাবে না?

তাই ছোট পুত্রের এসএসসি শেষ হওয়ার আগেই আবার শুরু হলো আমার ছোট ছোট সঞ্চয়।
১০ টাকা।২০ টাকা।১০০ টাকা।২০০ টাকা।
তিন বছর ধরে।
সংসারের হাজারো প্রয়োজনের ভেতর থেকে একটু একটু করে সরিয়ে রাখা টাকা।
তিল তিল করে।
হয়তো এই তিন বছরে অনেক কিছু কিনতে পারিনি।
কিন্তু একটা স্বপ্ন কিনেছি—

দুই পুত্রকে নিয়ে আবার সমুদ্র দেখার স্বপ্ন। 

ছোট পুত্র এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

তাই মনের ভিতর আনন্দের নাড়ু কুটছে! 

মাইকিং শুরু করলাম।

পেপার-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলাম—

অর্থাৎ,
ফেসবুকে পোস্ট দিলাম। 

সাথে যদি সহযাত্রী পাওয়া যায়!

কিন্তু হিতে বিপরীত হলো।

আমার এক সমকর্মী বললেন—

“আপা, আপনার আয়ের উৎস কী?”

কথা সত্য।

আমার মতো সামান্য বেতনের একজন মানুষ যখন সমুদ্রে যাওয়ার মতো বিলাসিতা দেখায়, তখন এমন প্রশ্ন আসাটা খুবই স্বাভাবিক।

আমি বললাম—

“উৎস খুঁজতে FBI-কে লাগান।” 

ইচ্ছে ছিল সবাই মিলে যাবো।

কিন্তু আমার পালক পুত্র যাবে না।

তার কথা—

সেন্ট মার্টিন হলে যাবে, কক্সবাজারে যাবে না।

তারপর সে বহু দেন-দরবার করে বড় পুত্রকেও বোঝাতে শুরু করলো।

বললো—

“একজন ইউনিভার্সিটিতে পড়া ছেলে মায়ের সঙ্গে বেড়াতে যায়?”

বড় পুত্রও দেখি দোটানায় পড়ে গেল।

আমি তখন বললাম—

“না গেলে নাই।
আমি ছোট পুত্রকে নিয়েই যাবো।

যেহেতু তুমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ো, মায়ের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া যদি তোমার কাছে ঠিক না হয়, তাহলে তুমি তোমার বেড়ানোর টাকা নিজে রোজগার করে যাবে।”

শেষ পর্যন্ত বড় পুত্র সিদ্ধান্ত নিলো—

ইউনিভার্সিটিয়ান হওয়ার চেয়ে মায়ের সঙ্গে যাওয়াটাকেই সঠিক মনে হলো। 

এইটুকু সুখ কি আর কম?
রাজশাহী থেকে পালক পুত্রের মাকে নিয়ে আসলাম, পালক পুত্রের সাথে থাকার জন্য।

অনেক সাধ্য-সাধনা করে বাসের টিকিট কাটলাম।

ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছেটা ইচ্ছেই রয়ে গেল।

হয়তো কোনো একদিন আবার একটা নতুন ক্যান খুলবো যেখানে লেখা থাকবে- 

“ট্রেন বিলাস”। 

তারপর ১০ টাকা, ২০ টাকা করে সেখানে জমাবো।

দেখা যাক, সেই ক্যান থেকে আরেকটা গল্প বের হয় কি না!

আর আমাদের জন্য গতবারের মতো এবারও হোটেলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন আমার প্রাক্তন সহকর্মী রওশন ভাই।

রওশন ভাইকে কী বলে ধন্যবাদ দেবো, সত্যিই তার ভাষা আমার জানা নেই।

তিনি কি শুধু আমাদের হোটেলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন?

না। তিনি খোঁজ নিয়েছেন—ঠিকমতো পৌঁছালাম কি না,কোনো সমস্যা হলো কি না,কোথাও কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না।
দূরে থেকেও যেন আমাদের সঙ্গে ছিলেন।

কিছু মানুষের উপকারের প্রতিদান আসলে “ধন্যবাদ” শব্দ দিয়ে দেওয়া যায় না।

রওশন ভাই,আল্লাহ আপনাকে এর উত্তম প্রতিদান দিন।
আর আমি কিন্তু বারবার আপনার কাছে আবদার করবো।
কারণ কিছু মানুষের কাছে আবদার করতে ভালো লাগে।
তারা বিরক্ত হন না, বরং নিজের মানুষ মনে করে পাশে দাঁড়ান। আপনিও তেমন একজন। 

২৬ তারিখ রাতে রওনা দিয়েছিলাম।২৮ তারিখ রাতে ফিরে এসেছি।
দুই রাত, তিন দিন। সমুদ্রের নোনা বাতাস,
ঢেউয়ের শব্দ, দুই পুত্রের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা, একসঙ্গে খাওয়া, একসঙ্গে ঘোরা—কত ছবি! কত গল্প! আর কত আনন্দ!

কিন্তু সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা সঙ্গে করে নিয়ে ফিরেছি, সেটা হলো— তৃপ্তি।
মনে হচ্ছে, তিন বছর ধরে “সমুদ্র বিলাস”-এর ক্যানটায় যে ছোট ছোট টাকা জমিয়েছিলাম, তার প্রতিটি টাকার হিসাব সমুদ্রের ঢেউ এসে মিটিয়ে দিয়েছে।
যারা আমার এই “সমুদ্র বিলাস”-এর বিলাসিতায় কোনো না কোনোভাবে সহযোগিতা করেছেন, পাশে থেকেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন—

তাদের প্রত্যেকের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। 

বিশেষ করে আমার পুত্রদের ছোট আংকেল ও আন্টিকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

তারা সবসময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।

সমুদ্রে স্পিডবোটে ওঠার সময় সাবধানে থাকতে বলেছেন।

কোনো বিপজ্জনক জায়গায় যেন না যাই—
বারবার সতর্ক করেছেন।

দূরে থেকেও যেন আমাদের সঙ্গে ছিলেন।

আল্লাহ আপনাদের এই ভালোবাসার উত্তম প্রতিদান দিবেন, ইনশাআল্লাহ।
ধন্যবাদ বড় ভাবিকে কষ্ট করে রাজশাহী থেকে ঢাকায় এসে আমার পালক পুত্রের সাথে থাকার জন্য। 

আর সবশেষে—আমার সেই পুরোনো নেসক্যাফের ক্যানটার কথা মনে পড়ছে।

একটা পুরোনো ক্যান।

গায়ে লেখা—

“সমুদ্র বিলাস।”

কতবার যে সেই ক্যান থেকে টাকা ধার নিয়েছি!

কতবার সংসারের প্রয়োজন এসে আমার সমুদ্রের স্বপ্নটাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছে!

কতবার ভেবেছি,
এবার আর হবে না।

তবুও আবার ১০ টাকা জমিয়েছি। ২০ টাকা জমিয়েছি। ১০০ টাকা জমিয়েছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি—

স্বপ্ন শুধু বড়লোকের জন্য নয়।

স্বপ্ন দেখার জন্য বড় ব্যাংক ব্যালান্স লাগে না।
লাগে শুধু—একজন মায়ের একটু জেদ,
দুই সন্তানের জন্য অনেকখানি ভালোবাসা,
আর প্রতি মাসে ১০ টাকা করে জমিয়ে রাখার মতো একটু সাহস। আমি ধনী নই। আমার জীবন বিলাসী নয়।

মাসের শেষে অনেক সময় রিকশা ভাড়ার টাকাও থাকে না।

তারপরও আমি সমুদ্রে যাই।

কারণ—সমুদ্র শুধু টাকাওয়ালাদের জন্য নয়।

সমুদ্র তাদের জন্যও,
যারা সারাবছর সংসারের হিসাব মেলায়,
আর জীবনের কোনো এক কোণে নিজের জন্য একটু আকাশ রেখে দেয়।

আমার “সমুদ্র বিলাস” তাই কোনো ক্যানের ভেতর জমে থাকা টাকা নয়। এটা তিন বছরের অপেক্ষা।
এটা একজন মায়ের জেদ।এটা দুই পুত্রের প্রতি সমান ভালোবাসা।
এটা জীবনের হাজারো হিসাব-নিকাশের মাঝেও একটু আনন্দ বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা।

আর আজ বুঝলাম—আমি আসলে টাকা জমাইনি।

আমি সমুদ্র জমিয়েছিলাম। 

আর সেই জমিয়ে রাখা সমুদ্রের কাছেই এবার দুই পুত্রকে নিয়ে গিয়ে—একটু বিলাস করে এলাম। 

জীবন আবার তার নিজের হিসাব শুরু করবে।

আবার মাসের শেষে হয়তো রিকশা ভাড়ার টাকা থাকবে না।

হয়তো আবার “সমুদ্র বিলাস” থেকে ধার নিতে হবে।

তবুও ক্যানটা আমি রেখে দেবো।

কারণ ওই ক্যানটা আমাকে মনে করিয়ে দেবে—

অভাবের সংসারেও স্বপ্ন দেখা যায়।
১০ টাকা করেও স্বপ্ন জমে।
আর কোনো কোনো স্বপ্ন একদিন সত্যিই সমুদ্র হয়ে যায়। 
ভালো থাকবেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/267563/</link>
				<pubDate>Sun, 30 Aug 2026 15:37:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সমুদ্র বিলাস—একটা পুরোনো নেসক্যাফের ক্যানের ভেতর জমে থাকা সমুদ্র&#8230;<br />
আমার বাসায় একটা পুরোনো নেসক্যাফের ক্যান আছে। ক্যানটা খুব সাধারণ।কিন্তু আমার কাছে মোটেই সাধারণ নয়। ক্যানটার গায়ে খুব সুন্দর করে নিজের হাতে লিখে রেখেছি—<br />
“সমুদ্র বিলাস”।<br />
প্রতি মাসে এই ক্যানটায় টাকা জমাই।১০ টাকা।২০ টাকা। কখনো ১০০ টাকা।কখনো ২০০ টাকা। যখন যেটুকু পারি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-267563"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/267563/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ad68029769feca36c2d19e22437400b8</guid>
				<title>বউ ভাতের  পরের মজার গল্প

আপনারা নিশ্চয়ই মনে করতে পারছেন আমার বড় পুত্রের বিয়ে আর বউ ভাত কথা! ঐ যে চান্দের চরে বিয়ের গল্পটা। 
আজ হাজির হলাম বউ ভাতের পরের গল্প নিয়ে। 
লেগুনায় ফেরা
বউ ভাত শেষে সদরঘাট থেকে ফিরবো আমরা… কিসে জানেন?
লেগুনাতে! ( লেগুনা কি? নিজ দায়িত্বে দেখে নিবেন)।
রসো বন্ধু , রসো।
সেই লেগুনার সামনে বসবে নববধূ আর তার বান্ধবী।
আর হেল্পার হবে কে?
আমার পুত্র—বর!

সান্ডো গেঞ্জির উপর গোলাপি শার্ট (সব বোতাম খোলা), থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরে হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে থাকবে সে। আর &quot;ওস্তাদ বায়ে প্লাস্টিক, ডানে... করবে।&quot;
 লেগুনায় বাজবে সেই গানটাঃ 
 “হালুগাডত্তুন ছাইজ্জি গাড়ি লই আল্লার নাম…”( এই গানটি বাদ দিয়ে অন্য গান দিতে হবে, বান্ধবী রেশমি বলেছে)
হোসনে আরা দিলরুবা..  হলে কেমন হয় রেশমি? 

পুত্র গুরুজনদেরকে তাঁদের বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে নিজ ডেরাতে ফিরবে।

কোলে নিয়ে উঠার (সিঁড়ি )চ্যালেঞ্জ

বাসায় ঢুকে আমি বলবো—
“তোমরা লিফটে ওঠো, কিন্তু পুত্র তার বউকে কোলে  করে ৫ম তলায় তুলবে।”
ছোট পুত্র থাকবে পাহারাদার হয়ে। যদি বড় ভাই নামিয়ে দেয়, সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার—
“আম্মু, মটু আপু মনিকে নামিয়ে দিচ্ছে!”( ছোট বেলায় রাশিয়ান একটা গল্পের বই ছিলো আমার, বইটার নাম ছিলো- মাশা এবং ভাল্লুক।সেখানে মাশা , একটা বড় বক্সের মধ্যে লুকিয়ে ছিলো।ভাল্লুক জানতো যে, বক্সের মধ্যে মাশা তার দাদা- দিদিমার জন্য পিঠে বানিয়ে দিয়েছে।সে পিঠা খাওয়া জন্য পিঠ থেকে যখনই নামায়, তখনই মাশা চিৎকার করে বলতে থাকে- বসিস নে, বসিস নে, পিঠেতে হাত দিস নে। ) 

এই পর্ব দেখে আমার ছোট পুত্র হয়তো বলবে- আম্মু বিবাহ করবো না, লইজ্জা লাগে।

নববধূকে কোলে নিয়েই উঠতে হবে পাঁচ তলায় , আমার বড় পুত্রকে!

শ্বশুরবাড়িতে বর ভাত

পরদিন হবে আসল অনুষ্ঠান—বর ভাত।(যার মাস্টারমাইন্ড হলো-  মা...   আরে নাহ্, মাস্টারমাইন্ড হলাম আমি)
ওহ্ , রেহানের বউ আমাকে কি বলে ডাকবে?
সে আমার নাম ধরে ডাকবে, রুনা বলে ডাকবে। কারণ আমি মনে করি- শাশুড়ী কখনো মা বা মায়ের মতো  হতে পারেন না।
তবে কেন শুধু শুধু নাটক করা বাবা?
তার চেয়ে আমাকে নাম ধরেই ডাকুক।
এতে আমার সন্মানহানী হবে না, আমি রুনা ই থাকবো।

বর ভাতের নিয়ম হলো—
 ১.মেন্যু বানাবে নববধূ।
 ২.বাজার, রান্না, পরিবেশন—সব করবে বর!

এরপরই হলো পরীক্ষার আসল ধাপ

খাওয়া শেষে বরকে সবার সামনে দিতে হবে পরীক্ষা:
 জুতার ফিতা বাঁধা
  টাইয়ের নট করা
  সূচে সুতা পরানো
  বোতাম লাগানো
  মাথা টিপে দেওয়া
 মন খারাপ হলে মন ভালো করার কৌশল/মশারী টানানো 

আগত অতিথিরা নাম্বার দেবেন।
যেখানে দুর্বলতা ধরা পড়বে, সেখানেই এক মাসের ডেডলাইন!
এইবার বুঝ, বিয়ে করা কত সহজ! 

বিঃদ্রঃ মাত্র ৩০ মিনিট এ ছেলের জীবনের এত্ত বড় সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।হাতে সময় থাকলে আরও কিছু যোগ করতাম।
এখন আমি ভাত ঘুম দিবো।প্রয়োজনে ঘুম থেকে উঠে আরও কিছু যোগ করবো।
শুভ বিকাল।
১৬/০৮/২৬
 #রি-পোষ্ট 
# বিঃদ্রঃ এর বিঃদ্রঃ শাশুড়ি হিসেবে আমার ১০ নম্বর কাটা।
কারণ আমার কন্যা নেই, তাই আমি অন্যের কন্যার মর্ম ও বুঝতে পারবো না।
এই ভেবে আমার রে, রো এর কাছে কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে চাইবে না।
শাশুড়ির যোগ্যতা হিসেবে কন্যা সন্তান থাকা বাঞ্চনীয়, কিন্তু পুত্রের বিয়ের আগে সেই কন্যাকে &quot;কালা পানিতে রেখে আসতে হবে&quot;! 

যাক, ১০ নম্বর বাদ দিয়ে ই দেখি শাশুড়ি কেমন হই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265453/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 04:01:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বউ ভাতের  পরের মজার গল্প</p>
<p>আপনারা নিশ্চয়ই মনে করতে পারছেন আমার বড় পুত্রের বিয়ে আর বউ ভাত কথা! ঐ যে চান্দের চরে বিয়ের গল্পটা।<br />
আজ হাজির হলাম বউ ভাতের পরের গল্প নিয়ে।<br />
লেগুনায় ফেরা<br />
বউ ভাত শেষে সদরঘাট থেকে ফিরবো আমরা… কিসে জানেন?<br />
লেগুনাতে! ( লেগুনা কি? নিজ দায়িত্বে দেখে নিবেন)।<br />
রসো বন্ধু , রসো।<br />
সেই লেগুনার সামনে বসবে নববধূ আর তার বান্ধবী।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265453"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265453/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2f7539c4ecbbb61e8d87adc770f7f394</guid>
				<title>নূর মহল ভিলার সেই রাত… 

অতিপ্রাকৃত গল্প শুনবেন?

আমার শৈশবের একটা বড় অংশ কেটেছে “নূর মহল ভিলা”-তে।

রাজশাহী শহরের রামচন্দ্রপুরের কালুমিস্ত্রীর মোড়ে ছিল আমাদের সেই প্রিয় বাড়ি—নূর মহল ভিলা। আমার যত লেখা তখন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতো, সবকিছুর ঠিকানায় লেখা থাকত-

“রুনা, নূর মহল ভিলা।”

আমরা যখন বাড়িটিতে উঠি, তখন সেটা ছিল দ্বিতল। পরে আমাদের থাকাকালীন সময়ে বাড়িটি তৃতল হয়।

দ্বি তলায় থাকতেন বাড়ির মালিক—আমাদের সবার প্রিয় নূর মহল খালাম্মা। তবে তিনি কখনো নিজেকে বাড়িওয়ালা ভাবতেন না, আমরাও তাঁকে কোনোদিন বাড়িওয়ালা ভাবিনি। তিনি ছিলেন আমাদের খালাম্মা।

খালাম্মা-খালুর তিন মেয়ে—রোজি আপা, রুমা আর তুলি, আর এক ছেলে মিঠু।
(খালাম্মা, তাঁর সব ছেলে-মেয়ে—সবাই এখনো আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড! &#x1f60a;)

বোয়ালিয়া থানা কোয়ার্টার ছেড়ে আমরা নূর মহল ভিলায় উঠেছিলাম। আর আব্বা একা চলে গিয়েছিলেন গুরুদাসপুর থানায়।

বড়ভাই তখন রাজশাহী মেডিকেলে লেকচারার, মেজভাই, আপা ও ছোটভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। আর আমি তখন পিএন স্কুলের ক্লাস ফাইভের ছাত্রী।

নূর মহল ভিলা ঠিক করেছিলেন আমার মেজভাই। তবে বাড়িটা পছন্দ করার পেছনে তাঁর একটা বিশেষ কারণ ছিল—খালাম্মার বছর দুয়েকের ছোট্ট, ফুটফুটে পরীর মতো মেয়ে - তুলি। 

তুলিকে নিয়ে অবশ্য একটা মহাকাব্য লেখা যায়। সে গল্প আরেকদিন হবে।

এবার আসল গল্পে আসি…

আমরা বাড়িতে ওঠার কিছুদিন পর এক প্রতিবেশী আম্মাকে এসে বললেন—

“আপনারা যে বাড়িতে উঠেছেন, সেখানে তো একটা মেয়ে—নাম বেবী—আত্ম/হত্যা করেছিল। এরপর আর কেউ নাকি এই বাড়ি ভাড়া নিতে চায়নি। আপনারা কেন এই বাড়িতে উঠলেন? ওর আত্মা নাকি এখনো ঘুরে বেড়ায়!”

আম্মা খবরটা শুনে ভীষণ ভয় পেলেন।

তবে ভূতের ভয়ে নয়—আমার আপার ভয়ে! &#x1f602;

কারণ আপা যদি কথাটা জানতে পারে, তাহলে একদিনও ওই বাড়িতে থাকবে না। আর আমার মেজভাইয়ের কী অবস্থা করবে, সেটা ভাবাই যায়!

এমনিতেই সারাবছর আমার ভাইরা আপার ভয়ে তটস্থ থাকত। পান থেকে চুন খসলেই আপা ভাইদের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিতেন। &#x1f604;

তাই আম্মা বিষয়টা আপার কাছ থেকে সম্পূর্ণ গোপন রাখলেন।

আর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো—যে ঘরে আম্মা আর আমি থাকতাম, বলা হলো সেই ঘরেই বেবী মেয়েটি আত্ম/হত্যা করেছিল।

এরপর থেকে রাত হলেই আমাদের মনে কেমন একটা ভয় কাজ করত।

গভীর রাতে হঠাৎ মনে হতো, উপরতলায় কেউ যেন মার্বেল খেলছে—

টুপ… টুপ… টুপ…

কখনো মনে হতো কেউ যেন কয়েন ফেলছে।

আমি আর আম্মা ঘুম থেকে উঠে বসতাম।

আম্মা খুব স্বাভাবিকভাবে বলতেন—

“কিছু না। মিঠু মনে হয় মার্বেল খেলছে। কালকে তোর খালাম্মাকে বলব।”

ব্যস! &#x1f636;

এইভাবেই রাতগুলো কাটত।

কিন্তু আসল ঘটনা ঘটল এক গভীর রাতে…

আমরা যখন বাড়িতে উঠেছিলাম, তখন থেকেই আমাদের ঘরের একটা টিউব লাইট নষ্ট ছিল। শুধু টিউব লাইট নয়, সেই লাইনের ইলেকট্রিক কানেকশনও নষ্ট ছিল। হোল্ডারসহ সবকিছুই অকেজো।

তাই আমরা অন্য একটি হোল্ডারে ১০০ ওয়াটের ফিলিপ্স বাতি লাগিয়ে নিয়েছিলাম। আরেকটি হোল্ডারে ছিল জিরো পাওয়ারের লাইট।

এভাবেই দিন কাটছিল।

আব্বা মাঝেমধ্যে গুরুদাসপুর থানা থেকে আসতেন। সেদিনও সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিল।

গভীর রাত।

হঠাৎ আম্মা-আব্বা জেগে উঠলেন। ঘরের দরজা খুলে বাইরে বের হলেন।

আমরাও ঘুম থেকে উঠে কী হয়েছে দেখতে বের হলাম।

তারপর—

ওমা!

এ কী কাণ্ড!

যে টিউব লাইটটা বছরের পর বছর নষ্ট, যে লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগই নেই, যে সুইচ বন্ধ—

সেই টিউব লাইট হঠাৎ জ্বলে উঠেছে!

পুরো ঘর আলোয় ঝলমল করছে! &#x1f633;

আম্মা তাড়াতাড়ি উপরে গিয়ে খালুকে ডেকে আনলেন।

খালাম্মা-খালু সবাই নিচে এসে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।

খালু টিউব লাইটের ব্যালাস্ট খুলে ফেললেন—তবুও আলো জ্বলছে!

খালাম্মা কিছুতেই খালুকে লাইটে হাত দিতে দিতে রাজি নন।

খালু শেষ পর্যন্ত একটু ধমক দিয়ে বললেন—

“আরে, চুপ করো! দেখি কী হয়েছে!”

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়—লাইট তখনো জ্বলছে।

শেষ পর্যন্ত খালু আম্মাকে বললেন একটা কাপড় আনতে। কারণ লাইটটা এত গরম হয়ে গিয়েছিল যে খালি হাতে ধরা সম্ভব নয়।

আম্মা আব্বার একটা লুঙ্গি এনে দিলেন।

খালু খুব সাবধানে কাপড় দিয়ে জ্বলন্ত টিউব লাইটটি খুলে নামিয়ে ফেললেন।

আমরা ছোটরা তখন ভয়ে প্রায় চিৎকার করছি।

কিন্তু…

টিউব লাইটটা হাতে নামানোর পরও সেটা জ্বলছে! 

আম্মা তখন প্রায় কেঁদেই ফেললেন।

বললেন—

“আমি এই লাইট আর বাড়িতে রাখব না। আপনি নিয়ে যান!”

খালু লাইটটা হাতে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে শুরু করলেন।

আর ঠিক তখনই…

লাইটটা নিভে গেল।

একেবারে নিভে গেল।

তারপর?

সেই রাত আর কেউ ঘুমাইনি।

আমরা সবাই—আম্মা, আব্বা, ভাই-বোন, এমনকি খালাম্মা-খালুরাও—প্রায় সারারাত জেগে কাটালাম।

আজ এত বছর পর ভাবি—

নিশ্চয়ই এই ঘটনার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে।

হয়তো বিদ্যুতের কোনো অদ্ভুত সমস্যা ছিল। হয়তো অন্য কোনো কারণ।

কিন্তু…

শৈশবের কিছু ঘটনা যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়, আবার কিছু ঘটনা স্মৃতির অন্ধকার কোণে রহস্য হয়েই থেকে যায়।

“নূর মহল ভিলা”-র সেই রাতটা আমার কাছে আজও তেমনই এক রহস্য।

হয়তো সত্যিই তার কোনো ব্যাখ্যা আছে…

কিন্তু কিছু কিছু রহস্যকে রহস্যই থাকতে দেওয়া ভালো। 

শুভ রাত্রি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265005/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Aug 2026 17:10:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নূর মহল ভিলার সেই রাত… </p>
<p>অতিপ্রাকৃত গল্প শুনবেন?</p>
<p>আমার শৈশবের একটা বড় অংশ কেটেছে “নূর মহল ভিলা”-তে।</p>
<p>রাজশাহী শহরের রামচন্দ্রপুরের কালুমিস্ত্রীর মোড়ে ছিল আমাদের সেই প্রিয় বাড়ি—নূর মহল ভিলা। আমার যত লেখা তখন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতো, সবকিছুর ঠিকানায় লেখা থাকত-</p>
<p>“রুনা, নূর মহল ভিলা।”</p>
<p>আমরা যখন বাড়িটিতে উঠি, তখন সেটা ছিল দ্বিতল। পরে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265005"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265005/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">97ba3de6ec810c24626af27a3a7d94bb</guid>
				<title>পর্ব–২: Stockholm Syndrome নাকি Trauma Bonding?—পার্থক্য কোথায়?

গত পোস্টে আমরা একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করেছিলাম—

“সে কেন সম্পর্ক ছাড়তে পারে না?”

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই একটি শব্দ ব্যবহার করেন—Stockholm Syndrome।

কিন্তু বর্তমান মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় আরেকটি ধারণা ক্রমশ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—Trauma Bonding (ট্রমা বন্ডিং)।

দুটি কি একই?

না, পুরোপুরি নয়।

Stockholm Syndrome কী?

এই ধারণার উৎপত্তি ১৯৭৩ সালে সুইডেনের স্টকহোমে ঘটা একটি ব্যাংক ডাকাতি থেকে। সেখানে ডাকাতরা ৪ জন ব্যাংক কর্মীকে ৫ দিন জিম্মি করে রেখেছিল। কিন্তু মুক্তির পর দেখা গেল, জিম্মিরা ডাকাতদের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং উল্টো তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করে!

এভাবে যদি বলি- যখন কোনো ভুক্তভোগী (Victim) তাকে বন্দি বা জিম্মি করে রাখা নির্যাতনকারীর প্রতি এক ধরণের সহানুভূতি, ভক্তি বা মানসিক টান অনুভব করতে শুরু করে, তখন তাকে স্টকহোম সিন্ড্রোম বলে। তীব্র ভয়ের মুহূর্তে নির্যাতনকারী যখন হঠাৎ একটু দয়া দেখায় (যেমন: ক্ষতি না করা), তখন ভুক্তভোগীর অবচেতন মন তাকেই &quot;রক্ষাকর্তা&quot; ভাবতে শুরু করে। আমি পাচার থেকে ফিরে আসা কারো কারো মধ্যে এই বিষয় টা পেয়েছি। 
একজনকে পেয়েছিলাম, সে অপেক্ষা করে ছিলো যে- পাচারকারী এসে তাকে বিয়ে করবে এবং তারা একসাথে একটা সুখের সংসার করবে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—

Stockholm Syndrome কোনো আনুষ্ঠানিক মানসিক রোগের নির্ণয় নয়। এটি DSM-5-TR বা ICD-11-এ স্বতন্ত্র রোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত নয়। একইভাবে Trauma Bonding-ও কোনো আনুষ্ঠানিক রোগনির্ণয় নয়, বরং এটি ট্রমা ও সম্পর্কের গতিশীলতা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ মনোবৈজ্ঞানিক ধারণা।

Trauma Bonding কী?
আমাদের পরিচিত বা ভালোবাসার সম্পর্কের মধ্যে (যেমন: সঙ্গী, পরিবার বা কর্মক্ষেত্রে) যখন নির্যাতন ও ভালোবাসার একটি চক্র তৈরি হয়, তখন তাকে ট্রমা বন্ডিং বলে। এটি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক ও রাসায়নিক ফাঁদ।
কেন এই ফাঁদ থেকে বের হওয়া এত কঠিন:--

অবিরাম নির্যাতনের চক্র (The Cycle of Abuse): সম্পর্কটা শুরু হয় &quot;লাভ বম্বিং&quot; (Love Bombing) বা অতিরিক্ত ভালোবাসা ও মনোযোগ দিয়ে। এরপর ধীরে ধীরে শুরু হয় অবহেলা, মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন। আর সবশেষে আসে নির্যাতনকারীর মিথ্যা অনুশোচনা ও ক্ষণিকের ভালোবাসা।

মস্তিষ্কের রাসায়নিক আসক্তি (Chemical Addiction): সম্পর্কের এই চরম ভালো আর চরম খারাপের রোলারকোস্টার রাইড আমাদের মস্তিষ্কে কর্টিসল (মানসিক চাপের হরমোন) এবং ডোপামিন ও অক্সিটোসিনের (আনন্দের হরমোন) এক অদ্ভুত মিশ্রণ ঘটায়। ভুক্তভোগী তখন ড্রাগসের মতো ওই ক্ষণিকের ভালোবাসার নেশায় আটকে যান।

কগনিটিভ ডিসোনেন্স (Cognitive Dissonance): ভুক্তভোগীর মাথায় একই সাথে দুটি বিপরীত চিন্তা চলে। সে জানে মানুষটা তার ক্ষতি করছে (বাস্তবতা), আবার সে বিশ্বাস করে মানুষটা তাকে ভালোবাসে (আবেগ)। এই দ্বন্দ্বে ক্লান্ত হয়ে মন একসময় নির্যাতনকারীর মিথ্যা সান্ত্বনাকেই সত্য বলে মেনে নেয়।

 আইসোলেশন ও নিয়ন্ত্রণ: নির্যাতনকারী, ভুক্তভোগীকে তার পরিবার, বন্ধু ও সাপোর্ট সিস্টেম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, যাতে সে নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

ট্রমা বন্ডিংয়ের কিছু বাস্তব লক্ষণ (Red Flags):
১. নির্যাতনকারীর খারাপ আচরণকে অন্যের সামনে আড়াল করা বা যুক্তি দেওয়া (&quot;ও আসলে মানুষ খারাপ না, ও একটু রেগী&quot; )।
২. সবকিছুর জন্য নিজেকেই দোষী ভাবা (&quot;আমি বোধহয় একটু বেশি কথা বলে ফেলেছিলাম, তাই ও রেগে গেছে&quot; )।
৩. সবসময় আতঙ্কে থাকা  (Hypervigilance), যেন সঙ্গী কখন রেগে যায় সেই ভয়ে তটস্থ থাকা।
৪. পরিবর্তনের মিথ্যা আশা করা যে, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।

এই দুটোর পার্থক্য কোথায়?

সংক্ষেপে বলা যায়—

Stockholm Syndrome সাধারণত জিম্মি বা অপহরণের মতো পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে Trauma Bonding বেশি দেখা যায়-

নির্যাতনমূলক দাম্পত্য সম্পর্কে,
পারিবারিক সহিংসতায়,
শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে,
মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে,
এবং এমন সম্পর্কগুলোতে, যেখানে ভালোবাসা ও নির্যাতন বারবার একই সম্পর্কে ফিরে আসে বা চলতে থাকে

সিনেমা কি আমাদের কিছু শেখায়?

Highway সিনেমাটি দেখলে অনেক দর্শক বলেন, “এটি তো Stockholm Syndrome।”

আবার অনেক ট্রমা বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভীরার অভিজ্ঞতাকে শুধু Stockholm Syndrome দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট নয়। সেখানে ট্রমা, নিরাপত্তার অনুভূতি, শৈশবের নির্যাতনের প্রভাব এবং জটিল আবেগীয় সম্পর্ক—সব মিলিয়ে একটি গভীর মানসিক যাত্রা রয়েছে।

অর্থাৎ, বাস্তব জীবন এবং মানুষের মন—দুটিই সিনেমার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা

আমরা যেন কোনো ভুক্তভোগীকে দেখে সহজে কোনো “লেবেল” না দিই।

কারণ একজন মানুষের আচরণ বোঝার জন্য শুধু একটি শব্দ নয়, তার জীবন, তার ট্রমা, তার সম্পর্ক এবং তার বেঁচে থাকার লড়াই—সবকিছুই বিবেচনা করতে হয়।

একজন মানুষকে বিচার করার আগে, তার গল্পটি শোনার চেষ্টা করি।

হয়তো তখন বুঝতে পারব—যা বাইরে থেকে দুর্বলতা মনে হয়, সেটিই ছিল তার বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়।
পরিশেষে - 
মানুষকে বিচার করার আগে, তার গল্পটি শোনার চেষ্টা করি।কারণ অনেক সময় যে আচরণ আমাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হয়, সেটিই ছিল তার বেঁচে থাকার মানসিক কৌশল।
মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার শুরু হয়—
বিচার নয়, বোঝাপড়া থেকে।

— ড. রাহেনা বেগম
মনোবিজ্ঞানী , TA &#038; EMDR Practitioner</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/258140/</link>
				<pubDate>Sun, 19 Jul 2026 05:28:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পর্ব–২: Stockholm Syndrome নাকি Trauma Bonding?—পার্থক্য কোথায়?</p>
<p>গত পোস্টে আমরা একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করেছিলাম—</p>
<p>“সে কেন সম্পর্ক ছাড়তে পারে না?”</p>
<p>এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই একটি শব্দ ব্যবহার করেন—Stockholm Syndrome।</p>
<p>কিন্তু বর্তমান মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় আরেকটি ধারণা ক্রমশ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে—Trauma Bonding (ট্রমা বন্ডিং&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-258140"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/258140/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d2f1b2d9666e3e5ddb0c0c1459682599</guid>
				<title>“সে কেন চলে যায় না?”

এটি নির্যাতনের শিকার একজন মানুষকে নিয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি করা প্রশ্ন।

“এত মারধর করে, তবুও কেন স্বামীর কাছে ফিরে যায়?”

“এত অপমানের পরও কেন সম্পর্কটা ছাড়ে না?”

“যে মানুষটি এত কষ্ট দিয়েছে, তাকে এখনও কেন ভালোবাসে?”

বাইরে থেকে প্রশ্নগুলো খুবই যৌক্তিক মনে হয়।

কিন্তু ট্রমার ভেতরে থাকা একজন মানুষের কাছে বাস্তবতা অনেক ভিন্ন।

ট্রমা শুধু শরীরে ক্ষত তৈরি করে না; এটি মানুষের নিরাপত্তাবোধ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং সম্পর্ককে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

তাই অনেক সময় যে সম্পর্কটি আমাদের কাছে বিষাক্ত মনে হয়, সেই সম্পর্কই ভুক্তভোগীর কাছে নিরাপত্তার একমাত্র পরিচিত জায়গা হয়ে ওঠে।

এটি দুর্বলতা নয়।

এটি বোকামিও নয়।

অনেক ক্ষেত্রেই এটি দীর্ঘদিনের ভয়, নিয়ন্ত্রণ, নির্ভরশীলতা এবং ট্রমার ফল।

তাই কাউকে দেখে যদি কখনো মনে হয়—

“সে কেন বেরিয়ে আসছে না?”

তাহলে হয়তো প্রশ্নটি বদলে এভাবে বলা যেতে পারে—

“কী এমন ঘটেছে, যার কারণে বেরিয়ে আসাটা তার জন্য এত কঠিন?”

কখনো কখনো একটি প্রশ্ন ধরন বদলে দিলে, মানুষের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়।

তাই আসুন- 

“মানুষের আচরণকে বিচার করার আগে, তার অভিজ্ঞতাকে বোঝার চেষ্টা করি। কারণ প্রতিটি আচরণের পেছনে একটি না-শোনা গল্প থাকে।”

আগামী পোস্টে আলোচনা করব—কেন অনেক সময় একজন ভুক্তভোগী তার নির্যাতনকারীর প্রতিই সহানুভূতি অনুভব করতে শুরু করেন? 
এই প্রসঙ্গে বহুল আলোচিত একটি ধারণা—Stockholm Syndrome।

পর্ব–১: “সে কেন সম্পর্ক ছাড়তে পারে না?”

— ড. রাহেনা বেগম
মনোবিজ্ঞানী ,TA &#038; EMDR Practitioner</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/257996/</link>
				<pubDate>Sat, 18 Jul 2026 03:34:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“সে কেন চলে যায় না?”</p>
<p>এটি নির্যাতনের শিকার একজন মানুষকে নিয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি করা প্রশ্ন।</p>
<p>“এত মারধর করে, তবুও কেন স্বামীর কাছে ফিরে যায়?”</p>
<p>“এত অপমানের পরও কেন সম্পর্কটা ছাড়ে না?”</p>
<p>“যে মানুষটি এত কষ্ট দিয়েছে, তাকে এখনও কেন ভালোবাসে?”</p>
<p>বাইরে থেকে প্রশ্নগুলো খুবই যৌক্তিক মনে হয়।</p>
<p>কিন্তু ট্রমার ভেতরে থাকা একজন মানুষের কাছে বাস্ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-257996"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/257996/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">10460d0c91d1ef8beda59525aac318ab</guid>
				<title>আচ্ছা, আপনারা কি আমাকে সাহায্য করতে পারেন? 
আমি জানতে চাই- বাংলাদেশ এ কি এমন কোন গ্রাম আছে, যেখানে ইলেক্ট্রিসিটি নেই , ইন্টারনেট সংযোগ নেই, যাতায়াত ব্যবস্থা বলতে গরুর গাড়ি , ঘোড়া গাড়ি বা নৌকা চলাচল করে?
আমি একটা &quot;ডেস্টিনেশন বিয়ে” এর প্ল্যান করতে চাই।ইন শা আল্লাহ যেটি আজ থেকে দশ বছর পরে হবে।
পাত্র-পাত্রী কে?
আরে আমার বড় পুত্র হলো পাত্র আর পাত্রী অজ্ঞাত। 
আমি হয়তো সেই সময়ে থাকবো না, তাতে কি?
পাত্রের ফুফু,চাচী, মামী,খালারাতো থাকবে।তাদের দায়িত্ব হলো, পাত্রের আম্মুর প্ল্যানকে বাস্তবায়ন করা।
 গায়ে হলুদসহ পুরো আয়োজন।
বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিলাম আপনাদেরকে।
আপনারা যতক্ষণ খোঁজ পাচ্ছেন না , ততক্ষণে আমি কল্পনায় প্ল্যান টা করে ফেলি।


কাল্পনিক ডেস্টিনেশন ওয়েডিং প্ল্যান – চান্দের চরে বিয়ে
স্থান: চান্দের চর, একটি নির্জন দ্বীপ

যাতায়াত: ছোট নৌকা, ডিঙ্গি বা বাঁশের ভেলা

সুবিধা: নেই বিদ্যুৎ, নেই ইন্টারনেট, মোবাইল সিগন্যালও আসে না।
 পরিবেশ: গ্রামের  মাঝি ভাই, কৃষক , গাড়িয়াল ভাইদের মুখে থাকে  গান।আর সাথে থাকছে ঢেউয়ের শব্দ, পাখির ডাক, রাতে ঝিঁঝিঁ পোকা।

১ম দিন: 
আগমন ও গায়ে হলুদ

অতিথি আগমন
ঢাকা থেকে একটি বড় নৌকায় বর-কনের আত্মীয়রা যাত্রা শুরু করবে।
ড্রেসকোড
সবাই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক , যেমন -পাঞ্জাবি- লুঙ্গী , শাড়ি( বাংলা করে পরে আসবে),গায়ে লাল-হলুদ গামছা।

 গায়ে হলুদ আয়োজন
খোলা মাঠে, বিভিন্ন গাছের পাতায় সাজানো প্যান্ডেল
বসার জন্য পাতা থাকবে হাতে বোনা পাটি, কলাগাছ দিয়ে গেট, হলুদ গা্ঁদা ফুলের মালা
কলা পাতার  থালায় হলুদ বাটা   মেহেদী বাটা। খাওয়ার জন্য থাকবে দই - খই,  মিষ্টি, চিড়া-মুড়ি আর নানা রকমের পিঠা পুলি
লাল কাঁসার একটা বড় থালায় থাকবে  পান-সুপারি, হুক্কা
গান: ঢোল আর খঞ্জনির তালে  গ্রামের মহিলাদের কণ্ঠে থাকবে- হলদি বাটো, মেন্দি বাটা এবং লিলাবালি গান

              রাতের খাবার

মাটির চুলায় , মাটির হাঁড়িতে রান্না করা খিচুড়ি, হাঁসের মাংস, বেগুন ভাজি, নানা পদের আচার
মাটির হাঁড়িতে দই ও রসগোল্লা, মন্ডা মিঠাই 

২য় দিন: বিয়ে

          বিয়ের মঞ্চ
নদীর পাড়ে প্যান্ডেল, পেছনে দূর্বল সূর্য ( কারণ বিয়েটা হবে শীত কালে)
বিয়ের আসর মেঝেতে, লাল-সাদা শাড়ি ও গামছা দিয়ে সাজানো
পাত্র-পাত্রীর গলায় গাঁদা ফুলের মালা
স্থানীয় মৌলভী বিয়ে পড়াবেন
মাইকে বাজবে মালকা বানুর  দেশেরে বিয়ার বাদ্য আলা বাজেরে, মনু মিয়ার দেশে রে বিয়ার বাদ্য আলা বাজেরে

        সন্ধ্যার আয়োজন
নদীর পাড়ে “আলপনা দিয়ে সাজানো
গল্পের আসর
 মালা শাড়ি , তিব্বত স্নো  দিয়ে কনেকে  সাজানো হবে—চুলে ফুল, হাতে আলতা

৩য় দিন: বৌভাত ও বিদায়

        গ্রামীণ ভোজ
খাওয়ার আয়োজন খোলা মাঠে—কলাপাতায় পরিবেশন
খাবার: সাদা ভাত, ইলিশ মাছ ভাজা, পেঁপে ভর্তা, মুগ ডাল, পায়েশ, দই

       উপহার ও স্মৃতি

অতিথিদের দেওয়া হবে হাতে বানানো পাটি, মাটির হাঁড়ি , ইত্যাদি  উপহার
বিদায়ের আগে বর-কনে নৌকায় উঠে চর ঘুরে দেখে, বিদায়  নিবে  “চান্দের চর” থেকে

বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
ইলেক্ট্রিসিটি নেই, তাই হারিকেন, হ্যাজাকের আলোতেই সব আয়োজন
 কেউ মোবাইল বা ক্যামেরা নিয়ে আসতে পারবে না তাই, ছবি তোলার কোন অপশন নেই।সবাই মনের মাঝে ই বিয়ের স্মৃতি নিয়ে ফিরবেন। সিনেমাটোগ্রাফি করার টাকা ও সময় দুই ই বাঁচবে। সবাই ঢাকায় ফিরে এই বিয়ের গল্প করবে।পুত্র তার পুত্রকে এই বিয়ের গল্প শোনাবে, কিন্তু ছবি নাই জন্য তার পুত্র বলতে পারবেনা - তোমাদের বিয়েতে আমাকে নিয়ে যাও নাই কেন? ভ্যা ভ্যা&#x1f61c;
অতিথিদের ফোন দূরে রেখে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ

   আমন্ত্রণ

সুন্দর সম্পর্কের বাঁধনে
গ্রামীণ সৌন্দর্যের ছোঁয়ায়
আপনাকে জানাই সাদর নিমন্ত্রণ

বর: রেহান মল্লিক

বউ:.... 

স্থান: চান্দের চর, ধলেশ্বরী নদীর পাড়
তারিখ:.... বঙ্গাব্দ &#124; ১৪ ডিসেম্বর ২০৩৫
সময়: বিকাল ৩টা থেকে চাঁদ ওঠা পর্যন্ত

বিশেষ অনুরোধ:
ফোন, ইন্টারনেট নয় –
এই দিনটি কাটুক নদীর ঢেউ আর মানুষের হাসিতে 
আপনার উপস্থিতিই আমাদের কাম্য/আনন্দ।

বিঃদ্রঃ আপনারা নিশ্চয় ভাবছেন আমার.... খারাপ হয়ে গেছে।
আরে নাহ, এতদিন অন্যের ছেলে/ মেয়ের বিয়ের আইডিয়া মাথায় নিয়ে ঘুরেছি। ফলাফল বিগ জিরো।
তাই এখন থেকে শুধু নিজ পুত্রের বিয়ের নানা রকম আইডিয়া বের করবো। সেই সময়ে তো আর থাকবো না, তাই প্ল্যানগুলো লেখে রাখছি। 
পুত্র আমার সাথে ফেসবুকে নেই, এটা কোন সমস্যাই না। কারণ আমার ফোনটা বারোয়ারী। যার ইচ্ছে সেই নেয়, শুধু নেয় না! আমার ফেসবুকে ঢুকে আমার বন্ধুদের পোস্টে হ্য হা দেয়। তিন পুত্রই এই কাজ করে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/257793/</link>
				<pubDate>Thu, 16 Jul 2026 06:31:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আচ্ছা, আপনারা কি আমাকে সাহায্য করতে পারেন?<br />
আমি জানতে চাই- বাংলাদেশ এ কি এমন কোন গ্রাম আছে, যেখানে ইলেক্ট্রিসিটি নেই , ইন্টারনেট সংযোগ নেই, যাতায়াত ব্যবস্থা বলতে গরুর গাড়ি , ঘোড়া গাড়ি বা নৌকা চলাচল করে?<br />
আমি একটা &#8220;ডেস্টিনেশন বিয়ে” এর প্ল্যান করতে চাই।ইন শা আল্লাহ যেটি আজ থেকে দশ বছর পরে হবে।<br />
পাত্র-পাত্রী কে?<br />
আরে আমার বড় পুত্র হলো পাত্র আর পাত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-257793"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/257793/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7224caa6ddac5335ab29c1ed60fa3ab0</guid>
				<title>পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগ: আমরা কি সত্যিই একে অপরের খোঁজ রাখি?

গত কয়েকদিনের কয়েকটি সংবাদ আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

মিরপুরে এক প্রবীণ নারী, আজিজ মার্কেটের একজন চিকিৎসক, আরও কয়েকজন একাকী মানুষের মৃত্যুর খবর আমরা জেনেছি। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়টি মৃত্যু নয়; বরং মৃত্যুর কয়েক দিন পর দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

একজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে আমি এসব ঘটনাকে শুধু সংবাদ হিসেবে দেখি না; আমি দেখি—এগুলো আমাদের সমাজের নীরব আর্তনাদ।

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন যোগাযোগের মাধ্যম অসংখ্য। মুহূর্তেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে খবর পৌঁছে যায়। অথচ পাশের ফ্ল্যাটে থাকা একজন মানুষ কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ থাকলেও আমরা অনেক সময় তা জানতে পারি না।

আমরা কি সত্যিই একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত, নাকি শুধু অনলাইনে উপস্থিত?

একাকীত্ব হঠাৎ তৈরি হয় না। এটি ধীরে ধীরে জন্ম নেয়—ব্যস্ততা, অভিমান, সম্পর্কের দূরত্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা আর “পরে কথা বলব” বলতে বলতে।

মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু খাবার, ঔষধ বা চিকিৎসা নয়; প্রয়োজন একজন মানুষ- যিনি আন্তরিকভাবে জিজ্ঞেস করবেন—
“আপনি কেমন আছেন?”
আজ আমাদের নিজেদের কাছেই কয়েকটি প্রশ্ন রাখা দরকার—

শেষ কবে বাবা-মাকে শুধু গল্প করার জন্য ফোন করেছি?
 শেষ কবে একা থাকা কোনো আত্মীয় বা প্রতিবেশীর দরজায় কড়া নেড়েছি?
শেষ কবে কোনো বন্ধুকে শুধু বলেছি—“তোমার কথা মনে হলো, তাই ফোন করলাম।”

হয়তো একটি ফোনকল কোনো মানুষের সব সমস্যা দূর করবে না, কিন্তু সেই মানুষটিকে অনুভব করাবে—“আমি একা নই।”

আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে মৃত্যুর খবর দুর্গন্ধে নয় বরং জীবনের প্রয়োজনে ও আন্তরিক যোগাযোগে আসবে।

আজই একজন মানুষের খোঁজ নিন। আপনার একটি ফোনকল হয়তো কারও কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হয়ে উঠবে।

আপনি শেষ কবে কোনো একা থাকা আত্মীয়, বন্ধু বা প্রতিবেশীর খোঁজ নিয়েছেন?

— ড. রাহেনা বেগম
মনোবিজ্ঞানী</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/256283/</link>
				<pubDate>Wed, 01 Jul 2026 15:46:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগ: আমরা কি সত্যিই একে অপরের খোঁজ রাখি?</p>
<p>গত কয়েকদিনের কয়েকটি সংবাদ আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।</p>
<p>মিরপুরে এক প্রবীণ নারী, আজিজ মার্কেটের একজন চিকিৎসক, আরও কয়েকজন একাকী মানুষের মৃত্যুর খবর আমরা জেনেছি। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়টি মৃত্যু নয়; বরং মৃত্যুর কয়েক দিন পর দুর্গন্ধের উৎস&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-256283"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/256283/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d391a84af3752420164ad82a1de123a7</guid>
				<title>&quot;নিম্ন বংশের ছাগল&quot;

আমার আব্বা একজন সরকারি চাকুরীজীবি ছিলেন। 
আব্বা তাঁর মাসিক বেতন এনে আম্মার হাতে তুলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতেন।এই  স্বল্প বেতনে আম্মা তাঁর সংসার চলাতে হিমশিম খেতেন।
তাই আম্মা বাসায় গরু, ছাগল , মুরগী পালতেন।যাতে করে সন্তানদের প্রাণীজ প্রোটিন এর অভাব দূর করতে পারেন। গৃহপালিত পশু এবং রেশন দিয়েই তিনি কোন রকমে সংসার চালাতেন।
আমার বড় ভাই রাজশাহী মেডিকেল  এ , মেজভাই এবং বোন রাজশাহী ববিশ্ববিদ্যালয়ে , ছোট ভাই রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করতেন।
বড়ভাই এর মেডিকেল এর খরচ চালানো (বড়ভাই স্কলারশিপ নিয়েই পড়াশোনা করতেন) , মেডিকেল এর বই সহ আরও আনুসঙ্গিক খরচ চালানো খুব কষ্টকর ছিলো। 
বলা চলে ডাক্তারি পড়ানো আর হাতি পোষা একই কথা।

সেই সময় আমার বড় বাবা(আব্বার বড় ভাই) এসেছিলেন বড় ভাই এর জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। আম্মা -আব্বাকে বড় ভাই এর পড়াশোনার খরচ দিতে হবে না, মেয়ের বাবা-মা ই লেখা পড়া করাবেন। মেয়েদের বাড়ির ছাদে সুইমিংপুল আছে( সেটা কি, আমরা তখন জানতাম না।বড় বাবা বলেছিলেন - আরে ছাদের উপর পুকুর আছে)।
আসলে সেই সময়ে এমনই হতো- মেয়েপক্ষরা ছেলের লেখা পড়ার দায়িত্ব নিতো, বিয়ের বিনিময়ে। 
আমার আম্মা ,বড় বাবাকে নিজ পিতার মতই দেখতেন। আমার এখনো মনে পড়ে একবার বড়বাবা ভীষণ অসুস্থ হয়ে এসেছিলেন। আম্মা তাঁকে নিজ পিতার মতই সেবা করে সুস্থ করেছিলেন। 
যাক , আসি বিয়ের বিষয়ে। আম্মা খুব ভদ্র ভাবে বড় বাবাকে বলেছিলেন - আমার ছেলেকে ওই বাড়িতে বিয়ে দিলে আমরা কখনো মাথা উঁচু করে সেখানে যেতে পারবো না।ছেলেকে এক কথায় বিক্রি করে দেওয়া হবে, আমি সেটা কখনো হতে দিবো না।

আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান। 

আমার আব্বা এমনি কোন এক  গ্রীষ্ম কালে তাঁর ব্যবহারের বাইসাইকেল বিক্রি করে সন্তানদের জন্য আম কিনে এনেছিলেন। আম্মা , আব্বার সাথে অনেক রাগারাগি করেছিলেন। কারণ সাইকেল ছাড়া আব্বা কিভাবে মফস্বলে যাবেন? 
আব্বা নাকি বলেছিলেন - &quot;আমি সাইকেল ছাড়া যাবো, কিন্তু ছেলে মেয়েদেরকে বছরের ফল খাওয়াতে পারবো না এটা কি হয়?&quot;

আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান , যে সরকারি কর্মচারীকে সন্তানদেরকে আম খাওতে সাইকেল বিক্রি করতে হয়।

যে সরকারি কর্মচারী তাঁর বড় ছেলেকেই গৃহ শিক্ষক দিতে পেরেছিলেন এবং বড় ছেলেকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বাকী সন্তানদের লেখা পড়া করানোর। আমার বড় ভাই সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছিলেন। আর সে জন্য WHO এর স্কলারশিপ পেয়েও ভাইবোনদের জন্য , পড়াশোনা করতে আমেরিকায় যাননি। 
আমার বড় ভাই এর জামা, জুতো পরে মেজভাই বড় হয়েছেন। 

আমি একজন সরকারি ডাক্তারের বোন(বিসিএস ক্যাডার )।

যে ডাক্তার জীবনে কখনো প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন নাই,কোর্টে মিথ্যা সাক্ষী দিতে বাধ্য করবে জন্য।

আমি একজন সরকারি কর্মচারীর বোন, যার গৃহশিক্ষক ছিলো বড় ভাই। আমি মনে করি আমাকে যেভাবে বড়ভাই পড়িয়েছেন ,তেমন করে কোন শিক্ষক ই পড়াতে পারবেননা।

আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান, বোন যাদের জীবনে অর্থনৈতিক কষ্ট থাকলেও কখনো আদর , যত্ন ভালোবাসার অভাব ছিলো না। 

আমরা বিলাসী জীবন যাপন করি নাই।আমরা জামা কাপড় এর জন্য বায়না ধরলে আম্মা আমাদের বলেছিলেন  শেখ সাদির গল্প।
আম্মা বলেছিলেন পোশাক মানুষের পরিচয় না, তার পরিচয় তার আচার ব্যবহার। 

আম্মার পালিত ছাগল দিয়ে আমাদের কুরবানী হতো।
আজকের মতো তখন যদি মোবাইল থাকতো তাহলে আমার ছোট ভাই সেই ছাগলের সাথে সেল্ফি তুলে বলতো- এই হলো আমার উচ্চ বংশীয় ছাগল, যা টাকা  দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। আমার আব্বার সৎ পথে উপার্জনের টাকায় কেনা, আমার আম্মার আদর যত্নে পালিত এবং আমার কেটে আনা ঘাস খেয়ে বড় হওয়া।

ইচ্ছা করলেই আম্মা পুলিশদেরকে দিয়ে গরু ,ছাগলের ঘাস কাটাতে পারতেন অথবা আমার আব্বা কাউকে আমের কথা বললে যে কেউ আমের বাগান তুলে এনে দিতেন।
কিন্তু নাহ্ , আমরা আমার আব্বার  বেতনের বাহিরে কখনো কারো উপহার ও আমার আব্বা আম্মা গ্রহন করেন নি।
আমার আব্বা আম্মা চলে গেছেন , ওপারে তাঁদের হিসেব সহজ , কারণ তাঁদের সম্পদ নেই।

আমি গর্বিত এই জন্য যে আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান এবং বোন।
মজার বিষয় হলো আমার সরকারি কর্মচারী আব্বা আমাদের সব ভাই বোনের মধ্যে একটি জিনিস খুব ভালো ভাবে দিয়ে গেছেন, সেটা হলো - সততা।
যার ফলে আমাদের সব ভাই বোনের ভোগান্তির অন্ত নেই।
তারপরেও আমরা গর্বিত , আনন্দিত। 
কিছু &quot;নাই &quot; এর ও একটা কিছু আছে, যা দূর্লভ। 

বিঃদ্রঃ লেখাটি ব্যক্তিগত স্মৃতি চরণ।
ইহার সাথে কারো বর্তমান ,চলমান, অতীত ,ভবিষ্যৎ এর সাদৃশ্য করতে যাবেন না।
শুভ রাত্রি।
 #রি-পোষ্ট 
২৩/০৬/২০২৪</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255339/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 13:41:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;নিম্ন বংশের ছাগল&#8221;</p>
<p>আমার আব্বা একজন সরকারি চাকুরীজীবি ছিলেন।<br />
আব্বা তাঁর মাসিক বেতন এনে আম্মার হাতে তুলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতেন।এই  স্বল্প বেতনে আম্মা তাঁর সংসার চলাতে হিমশিম খেতেন।<br />
তাই আম্মা বাসায় গরু, ছাগল , মুরগী পালতেন।যাতে করে সন্তানদের প্রাণীজ প্রোটিন এর অভাব দূর করতে পারেন। গৃহপালিত পশু এবং রেশন দিয়েই তিনি কোন রকমে সংসার চালাতেন।<br />
আমার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255339"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255339/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a5cbd59a0f1c9cb13a80d497133afbad</guid>
				<title>&quot;প্রিয় তুহিন&quot;

শুনো, আমার যদি অনেক অনেক টাকা থাকতো! তবে আমি ঢাকা শহরের সব কৃষ্ণচুড়া গাছ কিনে ফেলতাম। 

কি হাসছো কেন? সত্যি সত্যিই কিনে ফেলতাম। আর এই প্রচন্ড রোদ্রুরে তোমাকে নিয়ে একেক দিন, একেক জায়গার কৃষ্ণচুড়া গাছের তলায় বসে থাকতাম। না,না শুধু বসে থাকতাম না, আমাদের দুজনের হাতে থাকতো আইস্ক্রিম। আইস্ক্রিম খেতে খেতে গল্প করতাম। ওহ্ ,তুমিতো আবার গল্প করতে না, বলতে &quot;তুমি বল আমি শুনছি&quot;
 তুমি এমন কেন?  শুধু আমাকে গল্প করতে  বলতে।
কিন্তু আমি যে তোমার গল্প শুনতে চাইতাম। আর তো কখনও শোনা হবে না তোমার গল্প।আর তো কখনও কৃষ্ণচুড়ার তলে বসে আইস্ক্রিম খাওয়া হবে না। 
হবে না ঘন্টা হিসাবে রিক্সভাড়া করে নিজশহরে ঘুরে বেড়ানো।হবে না ঘুরে বেড়ানো নতুন ,নতুন জায়গায়। 
তুমি বলেছিলে ছেলেরা বড় হলে আমরা দুজন ঘুরে বেড়াবো।
ইন শা আল্লাহ ছেলেরা বড় হবে , কিন্তু আমাদের আর ঘুরে বেড়ানো হবে না। 
মে মাস টা আর সবার জন্য শুধু ই মে মাস। কিন্তু আমার জন্য??  এটা শুধু মে মাস না। এই মাসেই আমার শুরু এবং এই মে মাসেই আমার সব হারানো। ভেবে দেখো তো- এই মাসের প্রথম দিনে আমি এই পৃথিবীতে এসেছি , ৩ তারিখে আম্মাকে হারিয়েছি, ১১ তারিখটা ছিলো আমাদের যুগলবন্দীর ,২৩ তারিখে তুমি চলে গেলে আর ৩১ তারিখে আব্বা। এই মাসের ভার বহন করার শক্তি কি আমার আছে, তুমিই বলো?
তবু্ও তো কোন কাজ বন্ধ নেই, সব চলছে ঠিক একই ভাবে, শুধু আমিই খুঁজে ফিরি তোমাদেরকে।জাগরণে, স্বপ্নে।
নিজেকে ইচ্ছে করে ব্যস্ত রাখি, যেন ফুরসৎ না পাই তোমাদের কথা ভাববার। এই মাসে আমি একটা মুহূর্তও নিজের জন্য রাখি নাই। যেন ছুটেই চলেছি, ছুটেই চলেছি।
কিন্তু এতই কি সহজ? 
অকারণে রেগে যাই, খিটমিট করি সবার সাথে, মুড সুইং হয়।
ইচ্ছে করে তোমার সাথে ঝগড়া করি, কেন, কেন আমাকে একা এত দায়িত্ব দিয়ে চলে গেলে।কেন আমাকে বলে গেলে না , বুঝতে দিলে না যে বাকী পথটা শুধু আমাকে একলাই চলতে হবে? 
হাতটা ছেড়ে দিলে? আমার কোন কিছুই তো তোমাকে না বলা ছিলো না।যে কথা বললে তুমি রাগ হবে, সেটাও তোমাকে না বলা পর্যন্ত শান্তি পেতাম না, কিন্তু তুমি তো আমাকে কিছু ই বলে গেলে না? 
নতুন কিছু দেখলে যে এখনো আমি তোমাকেই প্রথমে বলি, কিন্তু সেটা মনে মনে। তুমি কি আমার চোখ দিয়ে সেগুলো দেখতে পাও?
আমিতো তোমাকে পাশে নিয়ে ই দেখতে চাই, তোমার হাত ধরেই পথ চলতে চাই।

&quot;তোমার হেনা&quot;
৩১.০৫.২০২৩
 #রি-পোস্ট</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/252704/</link>
				<pubDate>Mon, 01 Jun 2026 17:47:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;প্রিয় তুহিন&#8221;</p>
<p>শুনো, আমার যদি অনেক অনেক টাকা থাকতো! তবে আমি ঢাকা শহরের সব কৃষ্ণচুড়া গাছ কিনে ফেলতাম। </p>
<p>কি হাসছো কেন? সত্যি সত্যিই কিনে ফেলতাম। আর এই প্রচন্ড রোদ্রুরে তোমাকে নিয়ে একেক দিন, একেক জায়গার কৃষ্ণচুড়া গাছের তলায় বসে থাকতাম। না,না শুধু বসে থাকতাম না, আমাদের দুজনের হাতে থাকতো আইস্ক্রিম। আইস্ক্রিম খেতে খেতে গল্প করতাম। ওহ্ ,তুমিতো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-252704"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/252704/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ac1eefee1a368772c11f13ebfc766bc8</guid>
				<title>প্রিয় তুহিন,
আজ ঢাকার তাপমাত্রা ৩৬ডিগ্রি।
২০০১সালের আজকের দিনের তাপমাত্রা কত ছিলো সেটা আমার মনে নেই। তবে এটা খুব ভালো ভাবে মনে আছে যে, প্রচন্ড গরম ছিলো , কিন্তু ১২টার সময়ে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছিল।রাজশাহীতে তো এমনিতেই প্রচন্ড গরম থাকে।
আগের রাতে অর্থাৎ ১০ তারিখ রাতে বড় ভাই আমাকে একটা লো ডোজের সিডেটিভ দিয়েছিলেন, কারণ গত কয়েক রাত ঘুম হচ্ছিলো না।
ঘুম হবে কি করে তুহিন? বাসা ভর্তি লোক , আব্বা এতটাই অসুস্থ যে হাই ডোজের পেন কিলার দিয়ে তাঁকে রাখা হচ্ছিলো। বাসার কেউ রাতে ঘুমাতাম না, জেগে থাকতাম।
তাই বড় ভাই আমাকে ঘুমের ঔষধ দিয়েছিলেন।এবং বলেছিলেন যে, তোমার সাউন্ড স্লিপ দরকার। 
এটাও মনে নেই যে, সে রাতে আমার ঘুম কেমন হয়েছিলো। 
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেছিলাম। রাতে আমার সাথে স্বপ্না ছিলো। স্বপ্নার সাথেই পার্লারে গিয়েছিলাম। আজকে যে আমার বিয়ে , তাই সাজতে নিয়ে গিয়েছিলো।
পার্লার থেকে আসার সময়েই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। 
বাসায় আসার পরে সবাই বলছিলেন যে , বিয়ের দিনে বৃষ্টি হওয়া সৌভাগ্যের ইঙ্গিত বহন করে।
হায় এটা কি সৌভাগ্য! মাত্র ১৯ বছরের সংসার ছিলো আমাদের!
তুমি থাকলে এবছরের শুরুতেই তোমার সাথে আমার ঝগড়া হতো। কারণ তুমি ক্যালেন্ডার দেখে, খুশিতে ১১তারিখে বাহিরে যাওয়ার প্লান শুরু করে দিতে। আমি বলতাম- কি বলো? দুদিন পরে তোমার ছেলের পরীক্ষা , আর আমরা বেড়াতে যাবো, ওকে নিয়ে?
তোমার উত্তর কি হতো তা আমি বলে দিতে পারি। তুমি বলতে- পরীক্ষা হয়েছে তো কি হয়েছে? দুই/ তিন দিন না পড়লে কিছু ই হবে না। আর সাথে করে বই নিয়ে যাবে।
তুমি হ্যাঁ আর আমি না, এই ভাবেই শুরু হয়ে যেত আমাদের ঝগড়া। 
অবশেষে প্রতিবারের মতো তুমিই জিতে জেতে , আর আমি হাজার বিরক্তি নিয়ে যেতাম বেড়াতে তোমার সাথে। 
তুহিন ,
আমার, তোমার সাথে ঝগড়া করে হেরে যেতে খুব ইচ্ছে করে।
সবাই মিলে ঘুরে বেড়াতে খুব ইচ্ছে করে।
প্রতিদিনের সব কিছু তোমাকে বলতে খুব ইচ্ছে করে। 
তোমার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে খুব ইচ্ছে করে।
আমার সমস্যাগুলো তোমাকে বলতে খুব ইচ্ছে করে।
তোমার মতো সাহসী হতে খুব ইচ্ছে করে।
খুটিনাটি  সব কিছু তোমাকে বলতে খুব ইচ্ছে করে।
তোমার ছেলেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে খুব  ইচ্ছে করে। 
এমন হাজার হাজার ইচ্ছে আমার পূরণ হয় না। আমি কষ্টে থাকি তখন।
আমি শুধু আমার কথাটা বললাম।
তোমার ছেলেরাও এমন কষ্ট বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।
স্কুলে , কলেজে , ডাক্তারের কাছে, শপিং এ, ঈদে গ্রামের বাড়িতে না যেতে পেরে। এমন হাজারটা ইচ্ছা ওদের ও পূর্ণতা পায় না।  
আজ আমাদের বিয়ের ২৪ বছর। 
আর তুমি নেই ৫ বছর। 
তোমার হেনা
১১/০৫/২০২৫
 #রি-পোষ্ট</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247433/</link>
				<pubDate>Mon, 11 May 2026 12:35:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় তুহিন,<br />
আজ ঢাকার তাপমাত্রা ৩৬ডিগ্রি।<br />
২০০১সালের আজকের দিনের তাপমাত্রা কত ছিলো সেটা আমার মনে নেই। তবে এটা খুব ভালো ভাবে মনে আছে যে, প্রচন্ড গরম ছিলো , কিন্তু ১২টার সময়ে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছিল।রাজশাহীতে তো এমনিতেই প্রচন্ড গরম থাকে।<br />
আগের রাতে অর্থাৎ ১০ তারিখ রাতে বড় ভাই আমাকে একটা লো ডোজের সিডেটিভ দিয়েছিলেন, কারণ গত কয়েক রাত ঘুম হচ্ছিলো না।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247433"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247433/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">09966d0b4c31264c58c1d5102d40924c</guid>
				<title>রাহেনা বেগম and MD.RAKIB HASAN ONTO are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246542/</link>
				<pubDate>Sat, 02 May 2026 08:25:44 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">716e5f94f1eeeed0c36b3481ce4574dc</guid>
				<title>প্রিয় পুত্র আমার,

লিখতে চেয়েছিলাম— প্রিয় বড় পুত্র আমার।
কিন্তু আমি চাই না, এই “বড়” শব্দটা তোমার ওপর কোনো চাপ তৈরি করুক।
তুমি যে আমার বড় পুত্র— এটা তোমার নিজের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। আমার রব চেয়েছেন বলেই তুমি এই জায়গায় এসেছো।

আমি যেমন আমাদের পরিবারের সবচেয়ে ছোট— সেটাও তো আমার নিজের পছন্দে হয়নি।
আমার রব যদি সুযোগ দিতেন, হয়তো আমিও বড় হতে চাইতাম।
কারণ, তোমার বড় মামা আমার শৈশব আর কৈশোরকে ভাজাভাজা বা বলতে পারো- বেশ কড়াভাবে গড়ে দিয়েছেন।

আমি যদি বড় হতাম— হয়তো ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে শুধু হাসি-আনন্দে দিন কাটাতাম, পড়াশোনার জন্য এতটা চাপ দিতাম না।
তখন হয়তো দেখা যেত— কেউ হাল চাষ করছে, কেউ দোকান দিচ্ছে, কেউ অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত। যে কাজ করতে লেখা পড়ার প্রয়োজন হয় না।
আর আমি আর তোমার খালামনি কোনো এক গ্রামে, কোমরে শাড়ি পেঁচিয়ে, গরুর গোবর দিয়ে ঘর লেপছি।

মন্দ কি?
এত পড়াশোনা করে আমরা এমন কী হয়ে গেছি?

যাই হোক, “বড় পুত্র” তর্কটা থাক।

তুমি হয়তো ভাবছো— আজ হঠাৎ আম্মু এমন চিঠি লিখছে কেন? আজ তো আমার জন্মদিনও না!

চিঠির কারণ খুব সহজ—
তুমি তোমার জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে যাচ্ছো।
তোমাকে অভিনন্দন, আমার রেহান। 

আজ তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই।
তুমি যদি “হিমু” হতে— তাহলে এগুলো হয়তো “হিমুর মায়ের কথামালা” নামে বই হয়ে যেত!
এখন আপাতত এগুলো— “রেহানের আম্মুর একগুচ্ছ কথাবীথি” &#x1f604;

রেহান,

১. নিজেকে ভালোবাসবে।
সবসময়, সবক্ষেত্রে— নিজের থেকে কোনো মানুষ, বস্তু বা পেশাকে বেশি ভালোবাসবে না।
নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখবে।

ধরো, সামনে একটা বড় সুযোগ এলো— কিন্তু তুমি ভাবলে, “আমি গেলে আম্মুর কী হবে? রোহানের কি হবে?”
না, এমনটা কখনো করবে না।
তুমি সেই সুযোগ নেবে— আমি কখনোই এতে কষ্ট পাবো না।

আবার, যদি কাউকে ভালো লাগে— আর সে তোমাকে না পছন্দ করে, বা পছন্দ করলেও পরে মত বদলায়—
তাহলে জীবন থেমে থাকবে না।
কষ্ট হবে, কিন্তু সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই জীবন।
প্রয়োজনে পেশাদার কারো সাহায্য নিতেও দ্বিধা করবে না।

আল্লাহ প্রত্যেককে একটি উদ্দেশ্য নিয়ে পাঠিয়েছেন।
জীবন একটাই— তাই প্রতিদিন পূর্ণভাবে বাঁচবে।

২. লক্ষ্য স্থির করো।
পড়াশোনা শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য নয়।
তুমি যে বিষয়েই পড়ো— সেটার গভীরে যাও।
ভাসা-ভাসা জ্ঞান কখনোই সত্যিকারের কাজে লাগে না।

৩. ব্যর্থতাকে ভয় পেও না।
জীবনে সবকিছু প্রথমবারেই ঠিক হবে না।
হেরে যাওয়া মানে শেষ হয়ে যাওয়া না— বরং শেখার সুযোগ।
যতবার পরে যাবে, ততবার উঠে দাঁড়াতে শিখবে— এটাই তোমার শক্তি।

৪. সময়ের মূল্য বুঝো।
সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না।
তাই সময়কে সম্মান করতে শিখো— এটাই তোমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।

৫. পর্যবেক্ষণ করতে শেখো।
কারো সম্পর্কে মত দেওয়ার আগে তাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করো।
একটা দিক দেখে কাউকে বিচার করো না।

৬. সম্পর্ককে সম্মান দাও— কিন্তু নিজেকে হারিয়ে নয়।
যে সম্পর্ক তোমাকে ভেঙে দেয়, সেটাকে ধরে রাখার প্রয়োজন নেই।
নিজের সম্মান আর মানসিক শান্তি সবসময় আগে রাখবে।

৭. অন্যকে সাহায্য করো— কিন্তু সীমার মধ্যে।
নিজে নিরাপদে থেকে যতটা সম্ভব, ততটাই সাহায্য করবে।
বাস্তব জীবন সিনেমা না— এখানে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া ঠিক না।

৮. সত্য কথা বলো।
মিথ্যা না বললে জীবন অনেক সহজ হয়।
সত্য বললে কখনো কখনো বিপদ আসতে পারে, কিন্তু সেই বিপদ থেকে বের হওয়াও অসম্ভব না।

৯. নিজের ভুল স্বীকার করতে শিখো।
ভুল করাটা স্বাভাবিক।
কিন্তু ভুল বুঝে সেটাকে ঠিক করার মানসিকতাই মানুষকে বড় করে।

১০. আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।
সবকিছু সবসময় তোমার ইচ্ছামতো হবে না।
তবুও বিশ্বাস রাখবে— তোমার জন্য ভালো কিছুই লেখা আছে।

১১. কৃতজ্ঞ হতে শিখো।
যা আছে, তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলো।
কৃতজ্ঞতা মানুষকে শান্তি দেয়।

শেষে একটা কথা—
তোমাকে বড় হতে দেখাটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।
আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত, রেহান।

তোমার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা, ভালোবাসা আর দোয়া রইলো।

তোমার আম্মু 
০২/০৫/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246530/</link>
				<pubDate>Sat, 02 May 2026 07:04:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় পুত্র আমার,</p>
<p>লিখতে চেয়েছিলাম— প্রিয় বড় পুত্র আমার।<br />
কিন্তু আমি চাই না, এই “বড়” শব্দটা তোমার ওপর কোনো চাপ তৈরি করুক।<br />
তুমি যে আমার বড় পুত্র— এটা তোমার নিজের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। আমার রব চেয়েছেন বলেই তুমি এই জায়গায় এসেছো।</p>
<p>আমি যেমন আমাদের পরিবারের সবচেয়ে ছোট— সেটাও তো আমার নিজের পছন্দে হয়নি।<br />
আমার রব যদি সুযোগ দিতেন, হয়তো আমিও বড় হতে চাই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246530"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246530/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b80a35275853d78167f8ec531d47afbd</guid>
				<title>অনেক অনেক বছর পরেও আমরা কোন উদাহরণ দেওয়ার সুযোগ পেলাম না।কোন অপরাধী ই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেলো না।

&quot;হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!
             মানুষের অধিকারে
             বঞ্চিত করেছ যারে,
সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান,
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।&quot;
-------
রোহান আমার ছোট ছেলে সে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। তাকে আমি নাগরিক অধিকার পড়াছিলাম। সামাজিক  অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার,এই গুলো পড়াচ্ছিলাম। প্রত্যেক অধিকার বুঝাতে তাকে বাস্তব উদাহরণ দিয়ে আমি বুঝিয়ে থাকি। যেমন- &quot;বেঁচে থাকার অধিকার সকল অধিকারের মধ্যে অন্যতম।&quot;
 তুমি যেখানে যে পেশায়, যে অবস্থায় থাকো না কেন তোমার বেঁচে থাকার অধিকার আছে।
তবুও আমরা মানুষ,  তাই অনেক সময় আমরা আমাদের নিজেদের জীবনকে না বাঁচিয়ে অন্যকে বাঁচিয়ে রাখি।
যেমন ফায়ার ফাইটার সোহেল। তিনি কিন্তু নিজের জীবন এর কথা চিন্তা না করে অন্যদেরকে বাঁচিয়েছেন।

আমি রোহানকে আইনের অধিকার বোঝাতে গিয়ে দ্বিধা দ্বন্দে পড়েছি। বই এ লিখা আছে- আইনের চোখে সবাই সমান।
আমি ওকে বলেছি- সে যেই হোক, অপরাধ করলে সে শাস্তি পাবেই। গরীব,  বড়লোক,  সবারই সমান বিচার। 
&quot;ধরো তুমি যদি শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ করো আইনে তার জন্য যে শাস্তি আছে তাই তুমি পাবে, আমি তোমাকে অপরাধী হিসেবে আইনের হাতে তুলে দিবো। কারণ আমি এদেশের নাগরিক,  এ দেশের জন্য আমার দ্বায়িত্ব আছে। আমার দ্বায়িত্ব আমি সঠিক ভাবে পালন করবো।&quot;
 
একথা শুনে রোহানের চোখের কোনে দেখি পানি টলমল করছে, সে আমার কাছে জানতে চাইলো &quot;সত্যিই কি আমি ওকে আইনের হাতে তুলে দিবো কি না?&quot; 

আমি উত্তর দিলাম - অবশ্যই দিবো।
কারণ আমি কোন অপরাধীকে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দিতে পারিনা।

তখন সে বললো&quot; সবার আম্মুরাইকি তাই করে?&quot; এবার আমার গলার আওয়াজ নেমে গেলো, তবে থেমে গেলাম না। আমি ওকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম- তোমার মতে সবার আম্মুর কি করা উচিৎ? 
ও আস্তে আস্তে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বললো- &quot;তোমার মতই করা উচিৎ।&quot;
 
না আমি রোহানের কাছে জিতে যাইনি, আমি জিতে যেতাম যদি ওকে একটিও সঠিক উদাহরণ দিতে পারতাম। 
আজকাল পত্র- পত্রিকা, টেলিভিশন, মোবাইল এর সুযোগে দেশের কোথায় কি ঘটছে তা সবাই ইচ্ছা না থাকলেও জেনে যায়। প্রতিটি হত্যা,দূর্ঘটনা খুন সবকিছুই এই শিশুরা জানতে পারে, কিন্তু তারা জানতে পারেনা এই অপরাধ গুলো যারা ঘটাচ্ছে তাদের কেউই   কি শাস্তি পাচ্ছে? 
যদি তারা এদের ভয়ংকর শাস্তির কথা জানতে এবং দেখতে পেত তবে কখনোই অপরাধ করার কথা চিন্তা করতে পারতো না। 
আমি চাই এই শিশুদের বই এ  নাগরিক অধিকার নিয়ে যখন তারা পড়ছে, তখন সাম্প্রতিক কোন অপরাধের শাস্তির কোথাও উল্লেখ থাকুক তাতে। যাতে ওদের ছোট বেলা থেকেই আইনের উপর শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং সন্মান গড়ে উঠে।

আমি খুব আশাবাদী একজন, তাই আশা করে থাকলাম নূসরাত এর বিচার দিয়েই শুরু হোক। 
দ্রুত ট্রাইবুনালের মাধ্যমে নুসরাতের হত্যাকারীর বিচার কায্যকর করে তার শাস্তি হোক, আমি রোহানকে একটা সুন্দর, সত্যি বাস্তব উদাহরণ দেই।
আগামী বছর যারা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়বে তারা তাদের বইয়ে এই উদাহরণ দেখবে।

 #রি -পোস্ট 
১২/০৪/২০১৯</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/244531/</link>
				<pubDate>Mon, 13 Apr 2026 07:29:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অনেক অনেক বছর পরেও আমরা কোন উদাহরণ দেওয়ার সুযোগ পেলাম না।কোন অপরাধী ই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেলো না।</p>
<p>&#8220;হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,<br />
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!<br />
             মানুষের অধিকারে<br />
             বঞ্চিত করেছ যারে,<br />
সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান,<br />
অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।&#8221;<br />
&#8212;&#8212;-<br />
রোহান&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-244531"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/244531/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">165eb106924fbfe6e4f387478beb4fd0</guid>
				<title>প্রিয় তুহিন ,
তোমার মনে আছে নিশ্চয়ই , বিয়ের অনেক বছর পরে আমার হটাৎ খুব শখ হলো যে আমি নাক ফুঁটো করবো?
সাথে করে দুই ছেলে এবং তোমাকে নিয়ে পার্লারে গিয়ে নাক ফুঁটো করলাম, পার্লার থেকে নাক ফুল পরিয়ে দিলো।এবং বলে দিলো কিছু দিন পরে এই নাকফুল খুলে সোনার নাকফুল পরতে পারবো। তুমি খুব সুন্দর ছোট্ট একটি নাকফুল বানিয়ে দিলে।কিন্তু আমি সেই নাকফুল পরলেই নাক একদম টুক টুকে লাল হয়ে যায়।এরপর একে একে অনেকগুলো নাকফুল বানিয়ে , কিনে দিলে তুমি।যেটাই পরি না কেন, একই অবস্থা। শেষে তুমি বললে বাদ দেও পরতে হবে না। কিন্তু আমার মন সেটা মানতে চায় না, আমি শুনেছি যে নাক ফুঁটো করার পরে নাক ফুল না পরলে স্বামীর অমঙ্গল হয়।এই আশংকায় আমি নাক ফুল পড়ে থাকি, এদিকে নাক টুকটুকে লাল হয়ে থাকতো। তুমি খুলে দিলে, আমি তখন বাধ্য হয়ে আমার আশংকার কথা তোমাকে বললাম।শুনে তুমি হেসে বলেছিলে এগুলো কুসংস্কার। কোন গহনা কারো জীবন বাঁচাতে বা রক্ষা করতে পারে না। 
তোমার মধ্যে কোন কুসংস্কার আমি কখনও দেখি নাই, বিয়ের পরেও সবাই বলতো বিবাহিত মেয়েদের সব সময়ে হাত, কান খালি রাখতে হয় না, এতে স্বামীর অমঙ্গল হয়। 
আমার অভ্যাস ছিলো না হাতে কানে সব সময়ে পড়ে থাকার , তাই অস্বস্তি বোধ করতাম।তুমি তখনও বলেছিলে পড়তে হবে না এগুলো কুসংস্কার। 
কুসংস্কার মুক্ত তোমাকে আমার ভালো লাগতো, সেটা তোমাকে কখনো বলা হয়নি।
তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে তুহিন যে আমি বিয়েতে কবুল বলতে অনেক বেশী সময় নিয়েছিলাম? আমি ব্যাকুল হয়ে কাঁদছিলাম, আমার আব্বা, ডাক্তারদের বেঁধে দেওয়া  তাঁর জীবনের শেষ সময় গুনছিলেন বাসায়। আব্বাকে ছেড়ে আম্মাও কমিউনিটি  সেন্টারে আসতে পারেন নি।আমার মেজভাই, ভাবি, আমার আদরের দুই ভাস্তি, আমার বিয়েতে আসতে পারেনি সুদূর আমেরিকা থেকে।
যেদিন আমার গায়ে হলুদ হচ্ছে ,মেজভাই ফোন করে অঝোরে কাঁদছে। ফোনের দুই প্রান্তে আমরা দুই ভাই বোন অঝোরে কাঁদছি।পাশের রুমে অসুস্থ আব্বা আমার কান্না শুনে অস্থির হয়ে বড় ভাবির কাছে জানতে চাচ্ছেন, কি হয়েছে আমার মা মনির? আমার মা মনি কাঁদছে কেন?
এমন এক পরিস্থিতিতে কবুল শব্দটা বলা কি অনেক সহজ ছিলো তুহিন? 
আমার শুধু আম্মাকে তখন দেখতে ইচ্ছে করছিলো। আমি আম্মা আম্মা করে নাকি কেঁদেছিলাম। লুতফর ভাই আমার সেই কান্নার অডিও করে রেখেছিলেন এবং বিয়ে পরে অডিও বাজিয়ে সবাইকে শোনাতেন।
হ্যাঁ ,তুমি বিষয় টা বুঝতে পেরেছিলে এবং সবাইকে বলেছিলে আমার কবুল বলতে দেরী হওয়ার কারণ। যদিও তোমার পক্ষের অনেকেই অনেক কথা বলেছিলো তোমাকে, যেমন- মেয়ে মনে হয় বিয়েতে রাজি ছিলো না ,ইত্যাদি ইত্যাদি। 
তুহিন আমাদের বিবাহিত জীবন ছিলো ১৯ বছর ১২ দিন।
এরমধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সময় আমরা কাটিয়েছি ২০২০ এর এপ্রিল ৮ থেকে ২২শেমে&#039;২০২০ এর সময়টাই।এতটা সময় আমরা আর কখনও একসাথে কাটানোর সুযোগ পাই নি।
আমি ব্যস্ত ছিলাম আমার লেখা পড়া নিয়ে, তুমি তোমার চাকরি নিয়ে।
এই করোনাকালীন সময়ে যখন লকডাউনে সব বন্ধ, সেই সময়ে আমরা পেয়েছিলাম একান্ত ভাবে দুজনকে।
কত কথা, কত গল্প, কত রান্না! এতটুকু সময় তুমি আমাকে একা ছাড়তে না, সারাক্ষণ শুধু আমাকে ডাকতে।আমরা চারজন যেন এই কয়েকটি দিন একসঙ্গে লেপ্টে থাকতাম।
প্রতিদিন নতুন নতুন আইটেম বানিয়ে প্রতিবেশীদেরকে ইফতার পাঠাতে , আমার নিষেধ করা স্বত্বেও বাজারে যেতে। 
এরপর কোথা থেকে কি হয়ে গেলো তুহিন? 
আমাদের বিয়ের ২১ দিনের দিন আব্বা চলে গেলেন।আমি আমার জীবনের প্রথম মৃত্যু দেখলাম, তাও আবার সেটা আমার  প্রিয় আব্বা। আমি ব্যাকুল হয়ে কান্নাকাটি করছিলাম।আম্মা এসে আমার মাথায় হাত দিয়ে বলেছিলেন -লায়লা, কাঁদিস না মা, আব্বার জন্য দোয়া কর!&quot;
আমি নির্ভরতায়, আম্মার কাঁধে মাথা রেখে আব্বার চলে যাওয়ার শোক ভুলার চেষ্টা করেছিলাম।
আবার যেদিন  আম্মা চলে গেলেন সেদিন তুমি নওগাঁ থেকে পৌঁছানোর আগেই আম্মা চলে গেলেন। আমি ফোন করে তোমাকে জানালাম, তুমি বললে- তুমি চলে এসেছো প্রায়। ছেলেদেরকে বললে আম্মুকে দেখে রাখো।
তুমি এসে আমার হাত ধরলে আমি পরম ভরসায় তোমার কাঁধে মাথা রেখে আম্মার চলে যাওয়ার শোক ভুলার চেষ্টা করলাম।
কিন্তু তুহিন তুমি যখন চলে গেলে একদম অপ্রত্যাশিতভাবে  তখন কিন্তু আমি কোন ভরসার হাত, স্বন্তনা দেওয়া , কান্না করার জন্য একটা কাঁধ পাইনি তুহিন। 
এমন সময় যখন কেউ কারো কাছে ইচ্ছে করলেই আসতে পারে নাই। আমিও পারিনি আমার বাচ্চাদের জড়িয়ে ধরতে।
তুমি আমি আমরা সবাই নির্দিষ্ট হায়াত নিয়ে/ রিজিক নিয়ে  এই পৃথিবীতে এসেছি , এর বাহিরে যাওয়ার সাধ্য আমাদের নেই।
তবু্ও কতজনের কত কথা আমাকে শুনতে হয়েছে। 
আমি জানি তুমি থাকলে এর উত্তর তুমি দিতে।
আজ ২৯শে রমজান। ২০২০ সালের ২৯শে রমজান ভোরে তুমি আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছো তোমার নির্দিষ্ট গন্তব্যে। 
আমরা তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি মূহুর্তের স্মৃতি বুকে নিয়ে একে একে চার বছর পার করলাম।
মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে এই দোয়া করি যেন তিনি তোমাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান করে নেন।আমিন।
তোমার হেনা।
০৯/০৪/২০২৪</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/244048/</link>
				<pubDate>Thu, 09 Apr 2026 15:40:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় তুহিন ,<br />
তোমার মনে আছে নিশ্চয়ই , বিয়ের অনেক বছর পরে আমার হটাৎ খুব শখ হলো যে আমি নাক ফুঁটো করবো?<br />
সাথে করে দুই ছেলে এবং তোমাকে নিয়ে পার্লারে গিয়ে নাক ফুঁটো করলাম, পার্লার থেকে নাক ফুল পরিয়ে দিলো।এবং বলে দিলো কিছু দিন পরে এই নাকফুল খুলে সোনার নাকফুল পরতে পারবো। তুমি খুব সুন্দর ছোট্ট একটি নাকফুল বানিয়ে দিলে।কিন্তু আমি সেই নাকফুল পরলেই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-244048"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/244048/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f96e8aeb6030e3912c7be18a4e7f584c</guid>
				<title>পরিবার মানে আমার ছেলেরা জানতো- বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার আগে চারজনের ৫ সেকেন্ডের &quot;হাগ&quot;।পরিবার মানে আব্বুর  শাসন মেশানো ভালোবাসা- একসপ্তাহের জন্য ডাইনিং টেবিলের নির্দিষ্ট চেয়ারে কে বসবে তার লটারি কিংবা টিভির রিমোট আজ কার হাতে থাকবে তার লটারি। আম্মু আব্বুর ঝগড়া হলে আব্বুর লেবুর শরবতটা আম্মুর বদলে ওদের ই দিতে হবে আব্বু বাহির থেকে আসলে, কিংবা আব্বু বাহির থেকে এলে কলিং বেলে হাত দেওয়ার আগেই আম্মু বুঝতে পেরে ওদেরকেই দরজা খুলতে পাঠাবে এবং আব্বুও দরজা খুলে দেওয়ার সাথে সাথেই বলবে- তোমার আম্মু কোথায়? 
পরিবার মানে আমার ছেলেরা দেখেছে- অফিস থেকে আসার আগেই আব্বু  রান্না করে আম্মুর  কাজ কমিয়ে রাখা।বৃহঃষ্পতিবার মানেই চারজন মিলে মুভি দেখা, মুভি দেখতে দেখতে কখনো আব্বুর ফুঁপিয়ে কান্না করা, সেটা নিয়ে আম্মুর হাসাহাসি করা। পরিবার মানেই- দাদার বাড়ির বা নানার বাড়ির আত্মীয় স্বজন আসা এবং আম্মু, আব্বু  মিলে তাঁদের আপ্যায়ন করা। 
পরিবার মানেই- ছুটির দিনে ঘুরতে বের হওয়া, পরিবার মানেই ভীতু আম্মুর হাত  ধরে আব্বুর রোলার কোস্টারে চড়া। 
পরিবার মানে আম্মুকে অফিস ট্যুরে যাওয়ার সময় খুব ভোরে এবং আসার সময় গভীর রাতে নিতে যাওয়া। পরিবার মানেই ভীতু আম্মুকে বুঝিয়ে ক্রিকেট বা ক্যারাটে তে ভর্তি করে দেওয়া। পরিবার মানে পরীক্ষার আগে আব্বুর কম্পিউটার রে প্রশ্ন তৈরী করা এবং আম্মুর পড়ানো। পরিবার মানেই ঈদের টিকিট কাটার জন্য আব্বুর সারারাত স্টেশন এ থাকা, পরিবার মানেই কষ্ট করে ঈদ করতে যাওয়া। 
পরিবারের এই মানেটা ওদের জীবন এ ১৪ এবং ১১ বছর পর্যন্তই পেয়েছে ওরা।
কিন্তু আমি বিশ্বাস করি ওরা এই মানেটা নিয়েই ওদের বাকীজীবন কাটাতে পারবে, ইনশাআল্লাহ ।
 #রি-পোষ্ট 
০৮/০৪/২০২২</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/243904/</link>
				<pubDate>Wed, 08 Apr 2026 18:11:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পরিবার মানে আমার ছেলেরা জানতো- বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার আগে চারজনের ৫ সেকেন্ডের &#8220;হাগ&#8221;।পরিবার মানে আব্বুর  শাসন মেশানো ভালোবাসা- একসপ্তাহের জন্য ডাইনিং টেবিলের নির্দিষ্ট চেয়ারে কে বসবে তার লটারি কিংবা টিভির রিমোট আজ কার হাতে থাকবে তার লটারি। আম্মু আব্বুর ঝগড়া হলে আব্বুর লেবুর শরবতটা আম্মুর বদলে ওদের ই দিতে হবে আব্বু বাহির থেকে আসলে,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-243904"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/243904/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9a140bc886989dd82faab68c6e1aca70</guid>
				<title>প্রিয় তুহিন,
শুনো, এই রমজানে তোমার বড় ছেলে প্রতিদিন সেহেরিতে খাবার রেডি করে আমাকে ডেকে তুলেছে। আমি উঠে সেহেরি খেয়ে নামাজ পড়ে ঘুমিয়েছি। আর তোমার পুত্র আমার প্লেট সহ সব কিছু পরিষ্কার করে রেখে দিয়েছে। 
প্রথম প্রথম আমার একটু লজ্জা , লজ্জা লাগতো।পরে লজ্জা বাদ দিয়ে এটাকে ই অভ্যাস করেছি।
বরং ডিম পোজ করার সময় যেন ডিমের কুসুম আস্ত থাকে সেই বিষয় এ সর্তক করে দিয়েছি, আমাকে ডাকার সময় যেন ধীরে ধীরে ডাকে সেই বিষয় এ ও সর্তক করে দিয়েছি।( প্রথম দিকে এমন ভাবে আমাকে সেহেরিতে ডাকতো, যেন ভূমিকম্প হচ্ছে)
বুঝুক ঠ্যালা, হুম। ওদের ডিম পোজ করে দিলে ডিমের কুসুম ভেঙে গেলে খেতো না। দোয়া ,দরুদ পড়ে ওদের জন্য রান্না করতে হয় আমার।
তুহিন জানো, রমজান মাস আসলেই আমি অনেক আতঙ্কে থাকি। আমি এর থেকে বের হতে পারি না বা হয়তো আমি বের হতে চাই না।
এই রমজানেও আমি এত বিপদে পড়েছি, যার থেকে উদ্ধার পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিলো। 
কিন্তু , আল্লাহ তালা আমাকে অকল্পনীয় ভাবে প্রতিটি বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। 
না পেরেছি কাউকে সেই বিপদের কথা বলতে , না পেরেছি সাহায্য নিতে। কিন্তু রাব্বুল আলামিন , তাঁর এই অধম বান্দাকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই উদ্ধার করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। 
অফিস করে , অফিস ,বাসার হেন, তেন, জটিল সমস্যায় জর্জরিত হয়ে যখন মেজাজ সপ্তম আকাশে তখন একদিন টুং করে ম্যাসেজ আসলো। ম্যাসেজ খুলে দেখি, ছোট পুত্রের উদ্ভাস থেকে রেজাল্ট। পরীক্ষা চলছে , আর প্রতিটি পরীক্ষার রেজাল্ট আমাকে ম্যাসেজে দিয়ে দেয়।এটাই উদ্ভাসের নিয়ম। বরাবরের মতো ই আমি ওদের রেজাল্ট নিয়ে হাউকাউ করি না।আগে যাওবা করতাম এখন আর সেটাও করি না। ওদের বকাবকি করলে ওদের পক্ষে পরে কথা বলার জন্য তুমি ছিলে, এখন যে কেউ নেই। 
তাই পড়াশোনা করলে কি কি সুবিধা আর না করলে কি কি অসুবিধা সেগুলো তোতাপাখির মতো বুঝিয়ে দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেছি।
লেখা পড়া না করে কি করবে, সেই সিদ্ধান্ত টাও, বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি, সেটাও ওদেরকেই নিতে হবে।
ভুল সিদ্ধান্ত বা সঠিক সিদ্ধান্ত তাদেরকেই নিতে হবে। পরবর্তীতে আমাকে দোষ দিয়ে কোন লাভ নাই। 
যাক, যেটা বলছিলাম। ম্যাসেজে দেখলাম তোমার ছোট ছেলে বায়োলজিতে ফুল মার্কস পেয়েছে এবং প্রথম স্থান পেয়েছে।  তোমাকে বলি যে, উদ্ভাসের সব ব্যাচ মিলে ও প্রথম হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। ঠিক ইফতারের আগে ম্যাসেজ টা আসে, খুশিতে আমি  মুখ দিয়ে শুধু আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে লাগলাম। আমার হৃদয় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো, রোহানের রেজাল্টে। শুধু মনে হচ্ছিলো- আমার রব আমাকে কত সুন্দর ভাবে আনন্দিত করলেন! আমি যেন, আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করা থেকে কিছুতেই থামতে পারছিলাম না। যেন - আমাকে আমার রব, উজাড় করে দিয়েছেন এই সুখ। 
হয়তো অনেকের কাছে  এটা কিছুই না, তাছাড়া এটা তো বোর্ড পরীক্ষার রেজাল্ট ও না।কিন্তু আমি তোমাকে বোঝাতে পারবোনা , আমার যে কি ভালো লেগেছে। 
এর কয়দিন পরে অফিস থেকে ফিরে দেখি টেবিলের উপরে উদ্ভাসের খাম। ছোট পুত্রকে জিজ্ঞেস করলাম কি আছে খামে?( মনে মনে ভাবছিলাম- আমিতো উদ্ভাসে ফুল পেমেন্ট করেই ভর্তি করেছি, আবার কেন টাকা চায়? মাথায় শুধু টাকা পয়সার , সংসার চালানোর চিন্তাই ঘুরে তো, তাই &#x1f606;)
তোমার স্বল্প ভাষী পুত্র ধীরে করে উত্তর দিলো- আমার পুরষ্কার , প্রথম হয়েছি তাই।
আলহামদুলিল্লাহ। আমার চোখে পানি চলে এসেছিলো। 
আমার রবের কাছে শুকরিয়া আদায় করেছিলাম, অনবরত। 

তুহিন জানো, ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। 
আর আমি রান্না করতে করতে শুধু স্বপ্ন যাবে বাড়ি এই  গানটি শুনছি। এই গানটা শুনলে বুকের ভিতর কেমন যেন করে! যে কষ্ট টা বুঝানোর মতো কোন ভাষা আমি খুঁজে পাই না।
এই গানটা শুনলে আমি তোমাকে দেখতে পাই।যে কিনা- ইফতার করে বিছানার চাদর নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে চলে যেতে ঈদের টিকিট কাটতে।সারারাত জেগে পরের দিন দুপুরে ফিরে আসতো টিকিট কেটে নিয়ে , যেন বিশ্ব জয় করে ঘরে ফিরে আসতে।
প্রতিবার টেলিভিশনে তোমার ইন্টারভিউ দেখাতো, ঈদের টিকিট কাটতে যারা স্টেশন এ থাকতো তাদের মধ্যে। 
আমার স্বপ্ন আর বাড়ি যায় না তুহিন।আমার স্বপ্নপুরের স্বপ্নরা আমার জন্য আর অপেক্ষা করে থাকে না। আব্বা থাকলে বাঁধের উপর দাঁড়িয়ে থাকতেন তাঁর মা-মনির বাসের অপেক্ষায় , আম্মা দরজায় বসে থাকতেন- তাঁর লায়লা কখন আসবে তাই।আর আমার যে স্বপ্ন আমাকে সাথে করে স্বপ্ন পুরে নিয়ে যেত, সেইতো নেই।
আমি আমার স্বপ্নদেরকে ওভাবে দেখতে চাই না, যেভাবে তারা আছে, আমি অচিনপুরে যেতে চাই না তুহিন।
২০২০ সালের ২৩ শে মে ২৯ রমজান, তুমি চলে গেলে , সাথে করে নিয়ে গেলে আমার সব স্বপ্ন গুলো। 
আজ ২০২৬ এর ১৯ শে মার্চ,২৯ রমজান।
এখন গভীর রাত। আমি তোমাকে এই চিঠি লেখার পরে সংগোপনে অঝোরে কাঁদবো।
তুহিন, আমার কান্না থামাবার, মাথায় হাত রাখার জন্য আব্বা, আম্মা বা তুমি কেউ আসবে না জানি, কিন্তু তোমরা কি আমার কষ্টগুলো বুঝতে পারবে? জানি না, কারণ তোমরা যেখানে চলে গেছো, তার সম্পর্কে কেউ বলতে পারে না। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। 
তবু আমি এই চিঠিটা ঈদের পরেই তোমাকে দিতে চাই, যেন আমার কষ্টের কথা জেনে তুমি কষ্ট না পাও।
ইতি,
তোমার হেনা
১৯/০৩/২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/242035/</link>
				<pubDate>Tue, 31 Mar 2026 09:30:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় তুহিন,<br />
শুনো, এই রমজানে তোমার বড় ছেলে প্রতিদিন সেহেরিতে খাবার রেডি করে আমাকে ডেকে তুলেছে। আমি উঠে সেহেরি খেয়ে নামাজ পড়ে ঘুমিয়েছি। আর তোমার পুত্র আমার প্লেট সহ সব কিছু পরিষ্কার করে রেখে দিয়েছে।<br />
প্রথম প্রথম আমার একটু লজ্জা , লজ্জা লাগতো।পরে লজ্জা বাদ দিয়ে এটাকে ই অভ্যাস করেছি।<br />
বরং ডিম পোজ করার সময় যেন ডিমের কুসুম আস্ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-242035"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/242035/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a31f76b49b3d24dbf9d4d9a9aa74feff</guid>
				<title>আমার ফেসবুকের পোস্টগুলো দেখে মাহিন বলে-&quot; মা- মনি, তুমি এতবড় পোস্ট না দিয়ে একটা উপন্যাস লেখে ফেল&quot;
আমি উত্তর দেই- টাইপ রাইটার নেই জন্য উপন্যাস লেখতে পারছিনা। (এখানে আমি Ulterior transactions ব্যবহার করেছি। Ulterior transactions সম্পর্কে অন্য কোন দিন আপনাদেরকে বললো, আজ শুধু এইটুকুই বলি,Ulterior transactions এ দুটো ম্যাসেজ থাকে, ১টি হলো- Overt or social - level &#038; other is covert or psychological - level message. )
মাহিন এ যুগের ছেলে, টাইপ রাইটার সম্পর্কে ধারণা তেমন নেই, ঠিক যেমন আমার&quot; টরে টক্কা&quot; সম্পর্কে ধারণা ছিলো না। সে যাইহোক - মাহিন আমাকে মেকানিক্যাল কি বোর্ড(Mechanical Keyboard) কেনার পরামর্শ দেয়। সে বলে - মা-মনি, একদম টাইপ রাইটার এর মত শব্দ হয়। 
ওর পরামর্শ আমাকে তেমন অভিভূত করে না, আমার কাছে মনে হয় - বিষয় টা &quot;অন্ধের দুগ্ধ দর্শণ&quot; এর মত না হয়!ওকে বললাম - তুই নিবি নাকি? ও বললো- নিতেতো চাই,কিন্তু..! আমি তখন ওর বয়োজ্যেষ্ঠ বোনকে জানালাম। বয়োজ্যেষ্ঠ বোন সংগে সংগে নিউইয়র্ক থেকে অর্ডার দিয়ে ফ্লোরিডায় মাহিনের বয়োজ্যেষ্ঠ ভ্রাতার কাছে পাঠিয়ে দিলো। সেই ভ্রাতা গত ডিসেম্বরে নিয়ে আসলো, এর পরে আমি  সেটা নাড়াচাড়া করে বললাম - বড্ড বাঁচা বেঁচে গেছি! কোথায় টাইপ রাইটার এর খটাখট শব্দ আর কোথায় মেকানিকাল! 
এখন মাহিন &quot;দারাজ &quot; এ টাইপ রাইটার এর দরদাম দেখছে। আমি অপেক্ষায় আছি কে আমাকে টাইপ রাইটার গিফট করবে,তার জন্য।
এবার আসি আমার ফেসবুকে বিশাল বিশাল পোস্ট  লেখার বিষয় এ। 
১. যখন আমাকে কেউ বলে উপন্যাস লেখার কথা, তখন আমি জিহবায় কামড় দিয়ে কান ধরি( চোখ বন্ধ করে আমাকে এই অবস্থায় চিন্তা করুন)। কারণ মোল্লার দৌড় যেমন মসজিদ পর্যন্ত আমার দৌড় ঠিক তেমনি জাকারবার্গ এর ফেসবুক পর্যন্ত।জাকারবার্গ ভাইজানের ফেসবুকের বদৌলতে আমার কিছু আপনজন আছেন, যারা আমার ধৃষ্টতাকে প্রশ্রয় দেন, সেই সাহসেই আমি এলেবেলে ধরনের কিছু লেখি, উপন্যাস লেখার যোগ্যতা আমার নেই।তাই টাইপ রাইটার এর বিষয় টা হলো একটা &quot;ভাব ধরা&quot;। যাতে করে সবাই ভাববে, সারারাত টাইপ রাইটার এর খটাখট শব্দ করে আমি &quot;মহাভারত &quot; লেখবো আর ছিড়ব। 
২. আমার কোন &quot;ভাবি গ্রুপ&quot;, &quot;বন্ধু গ্রুপ &quot; নেই। সত্যি বলতে কি আমি গল্প করতে পারিনা, তাছাড়া  দ্রুত কাজ শেষ করে আমার ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করে,সেই ছোট বেলা থেকেই। আম্মাকে ছাড়া আমি বেশি সময় বাহিরে থাকতে পারতাম না। ঘরে ফিরেই কি কি করলাম সারাদিন তা আম্মাকে না বলা পর্যন্ত আমি স্বস্তি পেতাম না। বিয়ের পরে দ্রুত ঘরে ফিরে সারাদিন কি কি করলাম তা তুহিন কে না বলা পর্যন্ত স্বস্তি পেতাম না। জানতাম অনেক কিছু শুনে রাগ করবে,তবুও বলতাম। তুহিন খুব ভালো শ্রোতা যে ছিলো, তা না, তবুও আমি ওকে শোনাতাম। ওর চোখ থেকে চশমা খুলে, হাত থেকে পেপার নিয়ে ময়লার বাক্সে, অথবা রাগে চশমা ভেঙে, পেপার কুচিকুচি করে ছিঁড়ে ফেলতাম। কত চশমা যে ভেঙেছি! শেষের দিকে তুহিন বলতো- শুনছি,শুনছি, বলো বলো।
এখন তুহিন নেই, আমার অফুরন্ত সময়, কারো সাথে যোগাযোগ করতে ভালো লাগে না তাই বিশাল বিশাল পোস্ট দেই।
৩. তাছাড়া আমার প্রফেশনে আমাকে যা করতে হয় তা হলো - ক্লায়েন্ট এর কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়, তাকে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। Big eyes, Big ears, Small mouth.এটাই প্রয়োজন একজন কাউন্সেলর এর। এই কারণেও আমি কথা বলি কম, শুনি বেশী। কথা বলা কমটা পুষিয়ে দেই বিশাল, বিশাল পোস্ট দিয়ে, এই হলো আমার বিশাল বিশাল পোস্ট এর কারণ।
রি-পোষ্ট 
২০/০২/২০২২</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/237910/</link>
				<pubDate>Fri, 20 Feb 2026 13:21:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার ফেসবুকের পোস্টগুলো দেখে মাহিন বলে-&#8221; মা- মনি, তুমি এতবড় পোস্ট না দিয়ে একটা উপন্যাস লেখে ফেল&#8221;<br />
আমি উত্তর দেই- টাইপ রাইটার নেই জন্য উপন্যাস লেখতে পারছিনা। (এখানে আমি Ulterior transactions ব্যবহার করেছি। Ulterior transactions সম্পর্কে অন্য কোন দিন আপনাদেরকে বললো, আজ শুধু এইটুকুই বলি,Ulterior transactions এ দুটো ম্যাসেজ থাকে, ১টি হলো- Ov&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-237910"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/237910/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a8dc9ef10d576c04579367bfef4ccefa</guid>
				<title>২০০১ সালের শেষের দিকে  যখন গবেষণার  এর কাজে ঢাকা আসলাম, তখন আমি ঢাকা শহরের কিছুই চিনিনা( এখনো চিনিনা)।এসেছি গোছানো ছিমছাম শহর রাজশাহী থেকে, যার বিশ্ববিদ্যালয় টাও বিশাল পরিসর নিয়ে, কিন্তু গোছানো।আমাকে কাজকরতে হবে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর হামিদা আক্তার ম্যাডামের সাথে।তাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমাকে যেতে হতো। journal খোঁজার জন্য BANSDOC  এ প্রতিদিন ই যেতে হতো। কিন্তু কি উপায়! রাস্তা ঘাট কিছুই চিনিনা। বিয়েও হয়েছে নতুন, মনে অনেক আশা যে আমার husband আমাকে সাথে করে নিয়ে যাবে। কিন্তু তুহিন রাতে বসে খুব সুন্দর করে ম্যাপ এঁকে দিলো( তখন smart phone আমার ছিলো না) । পরের দিন সকালে আমাকে ম্যাপ দিয়ে বললো &quot;সব এঁকে দিয়েছি, কোথায়, কিভাবে যেতে হবে ম্যাপ দেখলেই বুঝতে পারবে।&quot; আমার চোখে পানি টলমল করে, আমি ভেবেই পাইনা কিভাবে ও আমাকে অপরিচিত এই শহরে একা ছেড়ে দিচ্ছে!! যে আমাকে বাড়ির কেউ কোথাও একা যেতে দিতো না, সেই আমি কি না একা একা যাবো!  তারমানে তুহিন আমাকে একটুও ভালোবাসে না?  কি নিষ্ঠুর! রাগ, অভিমানে ফুঁসতে থাকি আমি। বাধ্য হয়ে একাই যাই। এভাবেই আমার শুরু একা বের হওয়া। তুহিন বলতো - কেন পারবেনা তুমি? কোন সমস্যা হলে ফোন দিবে। একা যেখানেই যেতাম ম্যাপ এঁকে বুঝিয়ে দিতো ও। 
জীবনের  প্রথম সেন্টমার্টিন যাত্রা, সমুদ্রের কাছে যাওয়া, সমুদ্রের পানি ছোঁয়া। সমুদ্র আমার ভীষণ পছন্দের, কিন্তু পানিতে নামতে ভয় পেতাম, সাঁতার জানিনা জন্য।
জাহাজে করে যাওয়ার পরে জাহাজ থেকে নামার জন্য একটা মই দেওয়া হতো তখন। মই দিয়ে নামার অভ্যাস আমার নেই, তার উপর নীচের দিকে তাকালেই পানি দেখা যায়।  আমি ভয়ে অস্থির,  তুহিন কে বললাম - আমাকে ধরো, আমি ভয় পাচ্ছি। ও বললো- কিসের ভয়? এই বলে সে নীচে নেমে অনেক দূরে যেয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। কিন্তু আমি কিছুতেই  নামতে পারছিলাম না, থরথর করে কাঁপছিলাম। আমার জন্য অন্যরাও নামতে পারছিলো না।আমার পিছনে একজন দম্পতি ছিলেন, তিনি তার স্ত্রীকে বললেন - উনি ভয় পাচ্ছেন, তুমি ওনাকে ধরে নামিয়ে দেও। মহিলা আমাকে ধরে নামিয়ে দিয়েছিলেন। আমি রাগে, দুঃক্ষে তুহিনের সাথে কথাই বলিনি। 
এই ঘটনার বেশ অনেক বছর পরে আমি যখন অফিসের কাজে পাথরঘাটা, বরগুনায় যাই, তখন কিন্তু আমি একাই গিয়েছিলাম। এবং বিষখালী নদীতেও মই দিয়েই উঠেছিলাম,এবং নেমেছিলাম।
তুহিনের সাথে ঢাকার মধ্যেই হয়তো কোথাও যাচ্ছি বাসে করে, বাসে সিট নেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছি। একটা সিট খালি হলো ও আমাকে বসতে বললো, কিন্তু পাশে একজন পুরুষ যাত্রী। কি যে রাগ হতো আমার! এ কেমন স্বামী আমার! একজন পুরুষের পাশে আমাকে বসতে বলছে? 
এরপর কিন্তু আমি গণপরিবহনেই যাতায়াত করি। 
বানিজ্য মেলা,  বই মেলায় তুহিন আমাকে নিয়ে গেছে, কিন্তু আমি যেতে চাইতাম না, কারণ প্রচন্ড ভীড়, ধাক্কাধাক্কি আমার একদম ভালো লাগতোনা। তবু্ও ও নিয়ে যাবেই, রাগ করে বলতাম- আমি যাবো না, তুমি আমাকে রেখে আগে হেঁটে ঢুকে যাও! ও বলতো- কেন, ভীড়ের মধ্যে হাঁটতে হবে না? এরপর আমার আর অসুবিধা হতোনা।
তিনমাসের রেহানকে নিয়েও বইমেলায় গিয়েছিলাম,যে পুলিশ দ্বায়িত্বে ছিলেন তিনি ভীড়ের মধ্যে আমার দূরঅবস্থা দেখে ভিতরে ঢুকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। 
তুহিনের এই সব কিছু দেখে আমি সব সময় ভাবতাম, ও আমাকে একটুও ভালোবাসেনা। 
আমাদের বিবাহিত জীবনে রাগ,অভিমান হতো, কিন্তু কখনো তুহিন আমার রাগ ভাংগাতো না। রাগ করে না খেলে কখনো খেতে বলতো না। আমি কিন্তু একবেলাও ওকে না খেয়ে থাকতে দিতাম না, প্রথমে ছেলেদেরকে দিয়ে খেতে ডাকতাম। ও আসতো না, তারপর আমি যেয়ে আগে ওর চোখ থেকে চশমা খুলে নিতাম, মোবাইল নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়ে হাত ধরে টেনে নিয়ে এসে টেবিলে বসাতাম। ও মিটমিট করে হাসতো, ছেলেরাও হাসতো। ও খেয়ে উঠে যেতো, কিন্তু আমাকে একবারের জন্যও খেতে বলতো না।
ও অন্যভূবনে চলে যাওয়ার পরে আমি উপলব্ধি করলাম- এই পরিস্থিতিতে আমাদেরকে খেতে বলার কেউ নেই আমাদের পাশে। আমরা নিজেরাই বেঁচে থাকার জন্য খেয়েছি। বাহিরের দরজায় খাওয়ার রেখে গেছে, আমরা নিয়ে এসে খেয়েছি। তুহিন যদি আমাকে সবসময় ডেকে আদর করে খাওয়াতো, তবে হয়তো আমি ওর ডাকার অপেক্ষায় থাকতাম।

আসলে মাথার উপরে একজন আছেন যিনি সবকিছুর পরিকল্পনাকারী।তিঁনি তুহিন, আর আমাকে নিয়ে  আগেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। আমার মতো একজন ভীতু, বোকা, দূর্বল, ভীষণ অভিমানী, মেয়েকে কঠিন পরিস্থিতিতে একা চলতে হবে জন্যই  তুহিনের জীবনে আমাকে দিয়েছিলেন তিঁনি। 
আমি যেটাকে তুহিনের অবহেলা মনে করতাম আসলো সেটাই ছিলো আমার জন্য ওর সত্যিকারের ভালোবাসা। ও আমাকে বলতো - &quot;তুমি আমার সম্পত্তি না, তুমি আমার সম্পদ।&quot; আমি মুখ ভেংচিয়ে বলতাম- পড়েছোতো জীবনে ওই একটাই গল্প! পড়তে অপলার মামার লেখা, তাহলে বুঝতে আমি কি পছন্দ করি। 

তুহিন আমি তোমার &quot;সম্পদ&quot;, তোমার এই বিশ্বাসটা যেনো সত্যি করে দেন সৃষ্টিকর্তা এই কামনাই করি। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, আমিন।
রি-পোষ্ট 
১৬/০২/২০২১</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/237826/</link>
				<pubDate>Tue, 17 Feb 2026 06:00:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>২০০১ সালের শেষের দিকে  যখন গবেষণার  এর কাজে ঢাকা আসলাম, তখন আমি ঢাকা শহরের কিছুই চিনিনা( এখনো চিনিনা)।এসেছি গোছানো ছিমছাম শহর রাজশাহী থেকে, যার বিশ্ববিদ্যালয় টাও বিশাল পরিসর নিয়ে, কিন্তু গোছানো।আমাকে কাজকরতে হবে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর হামিদা আক্তার ম্যাডামের সাথে।তাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমাকে যেতে হতো। journal খোঁজার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-237826"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/237826/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f54ba874b87a8cb5260c966bdd77c0b9</guid>
				<title>প্রিয় তুহিন ,
শোন, আমি না দিনে দিনে তুমি হয়ে যাচ্ছি।
তুমি খুব মুভি দেখতে এবং একই মুভি ঘুরে ফিরে দেখতে। 
এটাতে  কোন সমস্যা নেই কারণ এটা আমিও করতাম।কিন্তু তুমি করতে কি, মুভি দেখে কাঁদতে। শুধু চোখ দিয়ে পানি পড়তো তা নয়, একদম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে। 
আমি আর তোমার ছেলেরা এটা নিয়ে খুব হাসাহাসি করতাম।যেহেতু আমি অফিস থেকে ফেরার পরে ছেলেদের লেখা পড়া এবং সংসারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম, তাই তোমার সাথে বসে মুভি দেখার সুযোগ হতো না।শুধু বৃহস্পতিবার রাতে আমরা একসাথে চারজন মুভি দেখতাম।
তবে তোমার দেখা মুভিগুলোর ডায়ালগ আমার প্রায় মুখস্ত হয়ে গিয়েছিলো।
তোমার অনেকগুলো পছন্দের মুভির মধ্যে Sooryavansham মুভির একটা দৃশ্যের কথা আমার মনে পড়ে যেখানে অমিতাভ বচ্চন নায়িকাকে খাইয়ে দিচ্ছিলো, এমন সময়ে নায়িকার বাবা চলে আসেন।তিনি জানতে চান- হাতে কি হয়েছে? 
উত্তরে নায়িকা দেখায় যে সে হাতে মেহেদী পরেছে জন্য তাঁকে খাইয়ে দিচ্ছে।এই দৃশ্য দেখে তুমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে। আমি তোমাকে বলতাম- এই দৃশ্য দেখে কাঁদার কি হলো? তুমি কি আমাকে খাইয়ে দেও? আমারও তো মেহেদী হাতে লাগিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। নিজের বউয়ের জন্য দরদ নেই, মানুষের বউ এর কষ্ট দেখে দরদ লাগে?
তুমি উত্তর দিতে না, শুধু কাঁদতে।
এখন আমি এই মুভিটার সেই দৃশ্য  দেখে কাঁদি। কারণটা কি অভিনয় নাকি তুমি কাঁদতে তাই?
আমি , তুমি হয়ে যাচ্ছি তুহিন।
তোমার ছোট্ট ছেলে যখন ১ম জন্মদিনে পড়ে গিয়ে ভ্রুর কাছে কেঁটে গিয়েছিলো , তখন তুমি নিয়ে গিয়ে সেলাই করিয়েছিলে।আমি বাহিরে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম।আমার মনে হয়েছিলো নিষ্ঠুর তুমি।
সেই তুমি ,রেহানের ৩য় শ্রেণীর ভর্তির প্রশ্নের উত্তর ছোট্ট রোহান দিয়ে দিতো, যে কিনা তখন পড়াশোনা শুরু ই করে নাই, সেটা শুনে কাঁদতে। 
আমি এবার তোমার ছোট ছেলের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতায় গিয়ে দেখি তোমার ছেলে স্ট্যাচু হয়ে হাতে ৫ কেজি ওজনের ব্যানার নিয়ে ৪৫মিনিট দাঁড়িয়ে আছে।আমার চোখে একটুও পানি আসে নি তুহিন, কিন্তু যখন ও প্যারেড করে মঞ্চের সামনে দিয়ে এগিয়ে আসছিলো এবং মাইকে তোমার ছেলের নাম বলছিলো।এবং আরও বলছিলো যে- এই একমাস নিরলস পরিশ্রম করেছে সবাই, আজকের দিনটার জন্য তখন আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। 
আমি , তুমি হয়ে যাচ্ছি তুহিন।
তুমি প্রোজেক্ট নিয়ে যখন প্রচন্ড দুঃশ্চিন্তায় থাকতে, তোমার হাতে যখন টাকা পয়সা থাকতো না, তখনও তুমি গান শুনতে। আমি হা হুতাশ করতাম।
আমি এখন ফাঁকা মানিব্যাগ নিয়েও বিন্দাস ফু্ঁরফুঁরে হয়ে গান শুনি।গান বন্ধ হয়ে গেলে তোমার বড় ছেলেকে ডেকে বলি &quot;তোমার বিয়ের গানটা ছেড়ে দেও তো&quot;। সে এসে ছেড়ে দেয় &#x1f600;(তোমার মতই বুদ্ধু হয়েছে )!
আমি ,তুমি হয়ে যাচ্ছি তুহিন।
তুমি প্ল্যান করতে তোমার ছেলেদের বউকে কি কি গহনা দিবে।
আমি বসে বসে প্ল্যান করি আমার মেয়েদেরকে নিয়ে তোমার ছেলেদেরকে কিভাবে শায়েস্তা করবো।
তোমার মনে আছে তুহিন?  তুমি চাইতে আমি যেন প্রতিদিন শাড়ি পরে অফিসে যাই।তুমি বলতে- আমি যদি প্রতিদিন একটা করে শাড়ি পরে অফিসে যাই তাহলে তিনমাসেও আমার প্রতিটি শাড়ি পরে শেষ হবে না। 
হ্যাঁ, তুমি প্রচুর শাড়ি কিনে দিতে আমাকে। তোমার দেওয়া প্রতিটি শাড়ির এক একটি ঘটনা আমার মনে আছে।
আমি ঠিক করেছি যখন আমার মেয়েরা আসবে তখন শাড়ি গুলোর সাথে সাথে ঘটনাগুলোও বলবো।
আমার মেয়েদের জন্য লটারির ব্যবস্থা করবো- সকাল , দুপুর রাতের রান্নার দায়িত্ব সপ্তাহের কোন কোন দিন তোমার ছেলেরা করবে এবং কোন, কোন দিন আমার মেয়েরা করবে।ঠিক যেমন তুমি ডাইনিং টেবিলের নির্দিষ্ট চেয়ার নিয়ে বা টিভির রিমোট নিয়ে মারামারি করলে করতে, ঠিক তেমন।
আমি ,তুমি হয়ে যাচ্ছি তুহিন।আমি জানি না, আমি তোমার ছেলেদের বিয়ে পর্যন্ত থাকতে পারবো কি না? তারপরও স্বপ্ন দেখি তোমার মতো। 
প্রিয় তুহিন , এই পৃথিবীতে অনেক ধরনের ব্যাংক আছে।যেখানে টাকা জমা রাখা যায় , প্রয়োজনে টাকা তোলা যায়, ধার নেওয়া যায়, শোধ করা যায়। কিন্তু এই পৃথিবীতে &quot;এমপ্যাথি&quot; ব্যাংক থাকার খুব দরকার ছিলো। যে কারো প্রয়োজন এ সেখানে যেয়ে বিনা সুদে এমপ্যাথি নিয়ে নিয়ে আসতে পারতো।
আর সেই এমপ্যাথি ব্যাংকের একজন নিয়মিত কাস্টমার হতাম আমি।
আজ এ পর্যন্তই
তোমার হেনা।
১০/০২/২০২৫
রি-পোষ্ট</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/237706/</link>
				<pubDate>Wed, 11 Feb 2026 02:57:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় তুহিন ,<br />
শোন, আমি না দিনে দিনে তুমি হয়ে যাচ্ছি।<br />
তুমি খুব মুভি দেখতে এবং একই মুভি ঘুরে ফিরে দেখতে।<br />
এটাতে  কোন সমস্যা নেই কারণ এটা আমিও করতাম।কিন্তু তুমি করতে কি, মুভি দেখে কাঁদতে। শুধু চোখ দিয়ে পানি পড়তো তা নয়, একদম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে।<br />
আমি আর তোমার ছেলেরা এটা নিয়ে খুব হাসাহাসি করতাম।যেহেতু আমি অফিস থেকে ফেরার পরে ছেলেদের লেখা পড়া&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-237706"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/237706/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fbfc03b5b39bcbbe0b7e6a9a36f92d56</guid>
				<title># আমার মন খারাপ #
রাহেনা বেগম 
গত ০৬/১১/২২ তারিখে চতুর্থ শ্রেণীর একছাত্র ছুটির আবেদন পত্রে কারণ দিয়েছে - ৩/১১/২২ তারিখে তার মন খারাপ ছিলো জন্য আসতে পারেনি। 
চিঠি টা অনেকের টাইম লাইনে ঘুরছে। 
নাহ্, আমি চিঠি টা সংযুক্ত করবো না, তার নাম এবং স্কুলের নামও দিবো না। 
তার মনখারাপ এর কারণের সাথে যেন দরখাস্ততের কারণ টা আবার নতুন করে মন খারাপ ( বুলিং) এর কারণ না হয়। 
আমি শুধু শিশু টির সত্য প্রকাশকে সেলুট জানাই।
আমরা যারা মানসিক স্বাস্থ সেবা দিয়ে থাকি তারা কি কখনো এভাবে ছুটির দরখাস্ত দেওয়ার কথা চিন্তা করেছি? 
উত্তর বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই না।  কারণ মন খারাপ এর কারণে বা আমি মানসিক ভাবে ভালো বোধ করছি না জন্য আমার ছুটির প্রয়োজন,  বা আমি এখন  মুড সুইং স্টেজ এ আছি, ডিপ্রেশনে, মানসিক চাপ বোধ করছি, আমার ছুটির প্রয়োজন এধরণের কথা আমরা ভাবতেই পারি না 
যেন এই করণে ছুটি চাইলে, চাকরি থেকে হাত ধুয়ে তারপর চাইতে হবে।
যদিও বা &quot;পাগল&quot; শব্দটা ব্যবহার নিষিদ্ধ, তবুও সবাই আপনার আড়ালে বলবে- পাগল হয়ে গেছে, এখন অফিসে না পাগলা গারদে যেতে হবে।
আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি।সম্ভবত  ২০১৬ সালে আমি শারীরিক এবং মানসিক ভাবে অসুস্থ বোধ করেছিলাম, তাই ছুটির দরখাস্তে কারণের জায়গায় লেখেছিলাম-&quot; Physically and Mentally unstable &quot;.
যেহেতু আমি অনেকগুলো প্রজেক্ট এর সাথে জড়িত তাই ছুটির দরখাস্ত টাHR সহ  সব সেক্টর এই পাঠাতে হয়।
আমাকে একজন ( অবশ্যই শুভাকাঙ্ক্ষী)  
ফোন করে বললেন - আপা, মানসিক কারণটা বাদ দেন। আমি খুবই অবাক হয়ে জানতে চেয়েছিলাম কেন?
আপা আপনার এই দরখাস্ত দেখে আপনারকে চাকরি থেকে ছাটাই ও করতে পারে। 
নাহ্, আমি বাদ দেই নি মানসিক বিষয় টা। 
তবে আমার মনে প্রশ্ন আছে&quot;-Physically &quot;
বিষয় টা থাকার কারণে ই হয়তো আমার ছুটি মঞ্জুর হয়েছিল। কারণ মানসিক কারণে যে ছুটি নেওয়া যায় সেটাতো পলিসি তেই নেই।
Eric Berne  এর থিউরি অনুযায়ী বলা যায় শিশুটি &quot;Free Child Ego state &quot; থেকে দরখাস্ত টা লেখেছে। আজ কাল তো আমদের ভুল ভাল parenting এর কারণে Free Child Ego state এর  কাউকে দেখতেই পাই না। 
আমি জানি না কে শিশুটির দরখাস্ত টা ফেসবুকে দিয়েছেন। 
আমি শুধু বলতে চাই- শিশুটি কিন্তু আপনার ( স্কুলের, পরিবারের) কাজ কমিয়ে দিয়েছে। ফেসবুক, পেপার পত্রিকায় প্রকাশিত না করে প্লিজ ওর মন খারাপের শেকড় টা খুঁজে বের করতে ওকে সাহায্য করুন।
ভালো থাকো বাবা- আশা করছি সবাই তোমার মন ভালো করতে তোমার পাশে থাকবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/237239/</link>
				<pubDate>Wed, 21 Jan 2026 14:44:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># আমার মন খারাপ #<br />
রাহেনা বেগম<br />
গত ০৬/১১/২২ তারিখে চতুর্থ শ্রেণীর একছাত্র ছুটির আবেদন পত্রে কারণ দিয়েছে &#8211; ৩/১১/২২ তারিখে তার মন খারাপ ছিলো জন্য আসতে পারেনি।<br />
চিঠি টা অনেকের টাইম লাইনে ঘুরছে।<br />
নাহ্, আমি চিঠি টা সংযুক্ত করবো না, তার নাম এবং স্কুলের নামও দিবো না।<br />
তার মনখারাপ এর কারণের সাথে যেন দরখাস্ততের কারণ টা আবার নতুন করে মন খারাপ ( বুলিং) এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-237239"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/237239/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">34c28d0fc03237ec2931107bd6fa8a8f</guid>
				<title>আমি রুনা। 

আমার পরিচিতজনেরা কি কখনো আমাকে দাঁত বের করে হাসতে দেখেছেন? নাহ্ দেখেননি। তাই বলে কি আমি রামগরুড় এর ছানা? আরে নাহ্, আমি হাসিখুশি একজন মেয়ে। কিন্তু ছোট বেলা থেকে কিভাবে যেন মাথায় ঢুকে গেছে দাঁত বের করে হাসলে আমাকে ভালো লাগে না। কারণ আমার দুইপাশে দুটো গজদন্ত আছে। শুধু কি দাঁত নিয়ে আমার সমস্যা ছিলো? নাহ্, চেহারা, গায়ের রং সব কিছু নিয়েই আমার প্রচুর সমস্যা। নিজের কোন কিছু নিয়েই আমি সন্তুষ্ট ছিলাম না। তাই সবকিছুতেই অন্তরালে থাকতাম। 
বান্ধবীদের সাথেও প্রাণখুলে গল্প করা, ঘুরে বেড়ানো, কোনটা ই করতাম না।
বাড়িতে তিনজন বড়ভাই এবং একবড়বোনের কঠোর নজরদারিতে আমার দিন কাটতো। শৈশবে ছেলেমেয়েরা কত দুষ্টমি করে! গাছে উঠে, পুকুরে ঝাপায় আমি এগুলো করার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারতাম না। স্কুলে High Jump, Long Jump এ অংশগ্রহণ করার কথা চিন্তার অতীত ছিলো আমার জন্য। কারণ এগুতে অংশগ্রহণ করলে আমার  Humerus, Radius, Ulna, Femur, Fibula, Tibia etc, ( ধুৎতরি ছাতা! এত নাম কি আর এই বৃদ্ধ বয়সে মনে আছে?) কত টুকরো হবে, তার জন্য আমাকে সারাজীবন কি ভোগান্তি পোহাতে হবে এগুলো স্মরণ করিয়ে দেওয়া হতো। দৌঁড় প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করার অনুমতি কোন রকমে দিয়েছিলেন, তবে তাতেও শর্ত ছিলো - কেউ যেন আমাকে খেলায় ধাক্কা দিয়ে না ফেলে তাই সবার সাথে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এটা হলো কিছু,  আপনারাই বলেন?
আমিও পরিবারের সব আদেশ বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে চলতাম( Adapted Child)।
সবাই আমাকে লক্ষীমেয়ে, শান্ত মেয়ে, পড়ুয়া মেয়ে বলতো, এগুলোতেই আমি সন্তুষ্ট থাকতাম। আমার নিজের সম্পর্কে খুব খারাপ ধারণা ছিলো (Low self esteem)।  এভাবে চলতে চলতে কখন যেন আমি Cinderella Complex এ  আক্রান্ত হই। নাহ্ নাহ্ প্রেম করবো এধরণের কোন চিন্তাই আসার সুযোগ ছিলো না, আর ঐ যে আগেই বলেছি নিজের চেহারা নিয়ে সন্তষ্টু ছিলাম না। &quot;Prince charming &quot; আসবে আর আমি তার উপর নির্ভর করে থাকবো।
বিয়ের পরে আমি আমার Prince charming এর উপর সব ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিত থাকতে চাইতাম। কিন্তু আমার Prince charming সম্পর্ণ উল্টো ছিলো। 
সে আমাকে দেখে হতবাক হয়ে যেত! একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী রাজশাহী  থেকে ঢাকা একা আসতে পারেনা? তাও আবার রাজশাহীতে কেউ বাসে তুলে দিবে এবং ঢাকায় ও নামিয়ে নিবে!
আমার নৌবাহিনীতে এডুকেশন কোরে পরীক্ষা ছিলো।  আমার বড়ছেলে রেহানের তখন মাত্র তিনমাস বয়স।যারা নৌবাহিনীতে পরীক্ষা দিয়েছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন প্রসেসটা। অনেক ধরনের পরীক্ষা দিতে হয়। আমি একে একে সব পরীক্ষায় সিলেক্ট হতে থাকি। আমি ভিতরে পরীক্ষা দেই আর রেহানকে নিয়ে আমার সাহায্যকারী বাহিরে অপেক্ষা করে। যেহেতু তার বয়স তিনমাস তাই নির্দিষ্ট সময় পর পর আমাকে ওনারা ছেড়ে দেন বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য। বাহিরে এসে আমি কান্নাকাটি করি, কারণ যে মেয়ে আমি জোরেহাঁটতে পারিনা, তাকে বিভিন্ন কসরত করতে হচ্ছে। প্রত্যেক পরীক্ষার পরেই আবার ভাইভা দিতে হয়। ভাইভার সময় ব্যক্তিগত বিষয় জানতে চান ওনারা, আমি আমার বাচ্চার কথা বলি। পরিবারে বাচ্চাকে রাখারমত কে, কে আছেন জানতে চান। বলি কেউ নেই আমার ঢাকাতে। 
প্রত্যেক দিন বাড়িতে আসার পরে আমার Prince charming, আমাকে বোঝান - এটা কোন বিষয় না, বাচ্চারাও পারবে দড়ি ধরে উঠতে, সাঁতার কাটতে। 
প্রাথমিক ভাবে সিলেক্ট হলাম। এবার ঢাকাতে ১৫ দিন ওদের নির্ধারিত ক্যাম্পাসে ট্রেনিং চলবে। এই ১৫ দিনের মধ্যে আমি বাড়িতে যেতে পারবোনা, কিন্তু সপ্তাহে একদিন আমার সাথে দেখা করতে আসতে পারবে। তারপর চট্টগ্রাম এ ৬ মাসের ট্রেনিং, সেখানে দেখা করতেও যেতে পারবেনা। ঢাকায় ট্রেনিং এ টেকার জন্য তুহিন আমাকে ফার্মগেটে এক কোচিং সেন্টারে নিয়ে গিয়ে  ভর্তি করে দিলো। বাসায় এসে আমি কান্নাকাটি শুরু করে দিলাম, ছেলেকে ছেড়ে আমি থাকতে পারবোনা। আমার prince charming বললো- কিচ্ছু হবে না, রেহানকে রাজশাহীতে ওর মামী, নানীর কাছে রেখে আসবে। এটা শুনে আমি আরো কান্নাকাটি শুরু করলাম। পরের দিন আবারও নৌবাহিনী অফিসে বিভিন্ন কাগজ পত্র নিয়ে ডেকেছিলো। আবারও পরীক্ষা এবং ভাইভা। ভাইভার সময় ভাইভা বোর্ডের একজন আমাকে সবকিছু বুঝিয়ে বলছিলেন। চাকরিতে কি কি করতে হবে। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন - আপনার জায়গায় যদি আমার বোন থাকতো তবে তাকে আমি এখন এই চাকরিতে ঢুকতে নিষেধ করতাম। আপনার বাচ্চা ছোট, এখন আপনার এই চাকরিতে ঢোকা উচিৎ হবেনা। 
আপনি পিএইচডি করেছেন, লম্বা, সব দিক দিয়েই পারফেক্ট, ভবিষ্যতে আপনি আরো ভালো কিছুতে ঢুকতে পারবেন, চাকরির বয়সও আছে।
জানি না তিনি কেন তখন আমাকে এভাবে বলেছিলেন?  তাঁর বাড়ির ঠিকানা, ফোন নাম্বারও দিয়েছিলেন। বলেছিলেন - ছেলে, ছেলের বাবাসহ আমাদের বাড়িতে আসবেন। 
সেই সময় ওনার মধ্যে আমি আমার বড় ভাইয়ের প্রতিকৃতি খুঁজে পেয়েছিলাম। 
বের হয়ে এসে তুহিনকে কেঁদে কেঁদে ওনার কথাগুলো বলছিলাম। এবং বলেছিলাম আমি এই চাকরি করবো না। বছরে ৬ মাস থাকতে হবে সমুদ্রে। 
হ্যাঁ, আমি আর যাইনি, সাঁতারও শিখিনি। 

আমি ডঃরাহেনা
আমাকে তুহিন ছেড়ে চলে গেছে এক এলোমেলো সময়ে।
কোথা থেকে শুরু করবো,আর কিভাবে শুরু করবো, এসব ভাবার সময় পর্যন্ত পাইনি। সন্তানদের কাছে আমি এখন মা এবং বাবা। নিজের কাজ, তুহিনের অসমাপ্ত কাজ, সংসারের খুটিনাটি সব কিছু সামলাতে হচ্ছে আমাকে। 
হঠাৎ এতকাজের দায়িত্ব এসে পড়ায় মাঝেমধ্যে আমি দিশেহারা হয়ে পড়ছি। তবে আল্লাহর অসীম রহমতে আবারও সামলে নিতে পারছি।
একসময় আমি কিছু ই পারতাম না, আলহামদুলিল্লাহ এখন আমি সামলাতে পারি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও পাড়বো। 
তাই আজ আমি নিজেকে কিছু positive affirmation দিতে চাই, তা হলো-- 

I am capable.
I accept myself as I am.

শুভ রাত্রি।
রি -পোস্ট</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/236786/</link>
				<pubDate>Tue, 06 Jan 2026 19:09:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমি রুনা। </p>
<p>আমার পরিচিতজনেরা কি কখনো আমাকে দাঁত বের করে হাসতে দেখেছেন? নাহ্ দেখেননি। তাই বলে কি আমি রামগরুড় এর ছানা? আরে নাহ্, আমি হাসিখুশি একজন মেয়ে। কিন্তু ছোট বেলা থেকে কিভাবে যেন মাথায় ঢুকে গেছে দাঁত বের করে হাসলে আমাকে ভালো লাগে না। কারণ আমার দুইপাশে দুটো গজদন্ত আছে। শুধু কি দাঁত নিয়ে আমার সমস্যা ছিলো? নাহ্, চেহারা, গায়ের রং সব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-236786"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/236786/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cc99f8ab6035dc68efd28a33d9b6ba73</guid>
				<title>আমার দুই পুত্রের স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা, বন্ধুদের মায়েদের সাথে আমার পরিচয় নেই। স্কুলে বা কোচিং-এ যেয়ে আমি বসে থাকিনা। কোচিং থেকে ছেলেদের আনতে গেলেও মা&#039;রা যেখানে বসে, সেখানে আমি কোনো দিনও বসার জায়গা পাইনা। কারণ আমি পরে, অর্থাৎ ছুটির সময় আমার সন্তানকে নিয়েই চলে আসি। তাই আমার জন্য তাঁদের জায়গা বরাদ্দ নেই।

তারপরেও যদি ২/১দিন একটু আগে যাই তবে মা&#039;দের মধ্যে তাঁদের বাচ্চার পড়ানোর ধরণ শুনে আমার ভিতরে চাপবোধ হয়। যেমন- তাঁরা তাঁদের সন্তানদেরকে সূয্যি মামা জাগার আগে উঠিয়ে teacher-এর বাসায় নিয়ে যান, প্রাইভেট শেষে তারপর সেখান থেকে মা স্কুলে নিয়ে যান, স্কুল শেষ করে আর এক teacher এবং তারপর কোচিং। এরপর বাচ্চার কোচিং শেষ হয় রাত ৯.৩০ মিনিটে। তারপর বাসায় ফেরেন মা এবং বাচ্চা। স্কুল ড্রেস পড়ে সেই যে কাক ডাকা ভোরে বের হয় আর সব  কাজ শেষে বাসায় ফিরে ড্রেস খোলার সময় সেই রাতে। মাঝে বাচ্চার খাওয়া চলে যানবাহনে, শুধু বাচ্চা কেন মা ও খেয়ে নেন রাস্তায়। সবচেয়ে করুণ অবস্থা হয় যদি তাঁর ছোটো ভাইবোন থাকে, কারণ তাঁকে সাথে নিয়েই এসব কিছু করেন মা। এসব শুনে আমার দমবন্ধ হয়ে আসে। কি করে সম্ভব!! এটা কি কোন জীবন হলো?
 
এই মারা  কি কখনো শুনার বা জানার চেষ্টা করেন যে তাঁদের সন্তান কি চায়? এই মা কি একবারও ভেবে দেখেন তাঁর সন্তানের শৈশবটা কিভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে, পড়াশুনা নামক দানবের হাতে পড়ে। 

যাক, প্রত্যেকটা বাবা-মা- ই চান তাঁর সন্তান যেন ভালো রেজাল্ট করে। তাঁর সন্তান যেন জীবনে একজন সফল ব্যাক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
 
১৯৭১ সালে এ দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য পাকিস্তানীরা এবং তাঁদের এ দেশীয় দোসররা সব বুদ্ধিজীবীদেরকে মেরে ফেলার মত জঘন্য কাজ করেছিল। আর আজ এই স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধাশুন্য করার জন্য মেতে উঠেছে পাকিস্তানীদের পেতাত্মারা। যারা আমাদের সন্তানদের মেধা বিকাশে  বাঁধা দিচ্ছে। 

তাঁদের এই কৌশল ধরতে পারছি কি আমরা? যদি পারতাম তবে তাঁরা তাঁদের জাল বিছাতে পারতোনা আমাদের মাঝে। এই যে মা&#039;দের কিছু ঘটনা বল্লাম, যিনি সকাল, বিকাল, রাত কাঁটাচ্ছেন রাস্তা, স্কুল আর কোচিং সেন্টারে।  

এত কিছু সন্তানের জন্য করার পরেও মা, বাবার সন্তানের উপর আস্থা নেই। আস্থা নেই এই কারণে বলছি যে, তাঁরা পিইসি পরীক্ষার মত এত ছোট ক্লাশের পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে সন্তানদেরকে দেন। কেন দেন? কেন তাঁরা ছুটছেন? গ্রেডের জন্য? কি লাভ এই গ্রেড দিয়ে? তাঁরা কি একবারের জন্য ভেবে দেখেছেন সন্তানের চোখে তাঁদের অবস্থান কোথায় নেমে যাচ্ছে? 

এই সন্তানকে তিনি হয়তো ভালো রেজাল্ট কিনে দিচ্ছেন, কিন্তু চিরদিনের জন্য সন্তানের ভিতরে বপন করে দিচ্ছেন দূর্নীতির বীজ। তাঁকে মেধাশুন্য করে দিচ্ছেন। আস্তে আস্তে সে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে, সে অপেক্ষা করে থাকবে পরীক্ষার পূর্বরাতের আশায়। আমি জানি এরকম মা বাবার সংখ্যা বেশী নয়। তারপরেও জানি এটা অল্পও নয়। 

আমরা যদি আমাদের সন্তানের জন্য মাদককে &quot;না&quot; বলতে পারি তবে কেন আমরা শ্লোগান হিসেবে বলতে পারিনা - 
&quot;তোমার মেধায় তুমি ধন্য, 
ফাঁস হওয়া প্রশ্নের দরকার নেই
আমাদের কারো জন্য।&quot; 

আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের সন্তানদের সঠিক ও সুন্দর পথে মেধা বিকাশে সাহায্য করি। আমাদের দেশকে যারা মেধাশুন্য করার জন্য চেষ্টা করছে তাঁদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই এবং তাঁদের মুখোশ উন্মোচন করি।
০৭/১২/২০১৭</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/236057/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Dec 2025 07:45:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার দুই পুত্রের স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা, বন্ধুদের মায়েদের সাথে আমার পরিচয় নেই। স্কুলে বা কোচিং-এ যেয়ে আমি বসে থাকিনা। কোচিং থেকে ছেলেদের আনতে গেলেও মা&#8217;রা যেখানে বসে, সেখানে আমি কোনো দিনও বসার জায়গা পাইনা। কারণ আমি পরে, অর্থাৎ ছুটির সময় আমার সন্তানকে নিয়েই চলে আসি। তাই আমার জন্য তাঁদের জায়গা বরাদ্দ নেই।</p>
<p>তারপরেও যদি ২/১দিন একটু আগে যাই তবে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-236057"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/236057/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3ac762f9ab0ebb283d1317b7f0ced9d2</guid>
				<title>আজ ভোরে জেগে উঠেছি বৃষ্টির শব্দে। ঝুম বৃষ্টির শব্দে মনে হলো - আজ স্কুলে যাবো না, কম্বল খুব ভালোমত গায়ে জড়িয়ে ঘুমানোর পায়তারা করলাম।হঠাৎ  মনে হলো - আরে! কিসের স্কুল! আমিতো স্কুলে পড়িনা,তাহলে কে পড়ে স্কুলে। ও আচ্ছা - আমার দুই গুনধরপুত্র পড়ে স্কুলে। আর আজ তাদের কোভিড- ১৯ ভ্যাকসিন এর ২য় ডোজ। কি আর করা আরামের ঘুম বাদ দিয়ে নাস্তা বানাতে চলে গেলাম, দ্রুততার সাথে নাস্তা বানিয়ে,  দুপুরের খাবার রেডি করে, রেনকোট গায়ে জড়িয়ে ঝুমবৃষ্টির মধ্যে ভ্যাকসিন দিতে রওনা দিলাম। যথারীতি রিক্সা নেই, হেঁটেই গেলাম টীকাকেন্দ্রে। প্রচন্ড বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে।এরমধ্যে মাইকে ঘোষণা এলো-যারা নাস্তা করে আসেনি,তারা নাস্তা করে টীকা নিবে।প্রায় সবমায়েদের মধ্যে উৎকন্ঠা দেখা গেল,কারণ ছেলেরা এবং মারা ঘুম থেকে উঠেই চলে আসছে। নাস্তা বানানোর সময় পাননি। 
The best super Mom award goes to Rehan &#038;Rohan&#039;s Mom..
তালিয়া..

আর আমি নিজেকে ট্রফি হাতে দেখতে পাচ্ছি,পাশে দুটো মাশা আল্লাহ নাদুস, নুদুস পুত্র। 
যাক, ছেলেরা আমায় লেখা পড়ায় মেডেল না দিলেও অন্যকিছুতে তো দিয়েছে? 
লেখা পড়াতে তাদের উন্নতি করাতে না পারলেও স্বাস্থের বিষয়ে যে কোন ত্রুটি রাখিনি, তার প্রমাণ এতসকালেও তাদের নাস্তা করিয়েই নিয়ে গেছি।
I love you, I love you mommy 
শব্দে হঠাৎ খেয়াল হলো, আমার মোবাইল  বাজছে, I love you, I love you mommy এটি হলো আমার রিংটোন, যা পুত্ররা কল দিলে বাজে। 
আলহামদুলিল্লাহ ছেলেদের ২য় ডোজ সম্পূর্ণ হলো আজ।
রি-পোষ্ট
০৬/১২/২০২১</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/236028/</link>
				<pubDate>Sat, 06 Dec 2025 05:39:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজ ভোরে জেগে উঠেছি বৃষ্টির শব্দে। ঝুম বৃষ্টির শব্দে মনে হলো &#8211; আজ স্কুলে যাবো না, কম্বল খুব ভালোমত গায়ে জড়িয়ে ঘুমানোর পায়তারা করলাম।হঠাৎ  মনে হলো &#8211; আরে! কিসের স্কুল! আমিতো স্কুলে পড়িনা,তাহলে কে পড়ে স্কুলে। ও আচ্ছা &#8211; আমার দুই গুনধরপুত্র পড়ে স্কুলে। আর আজ তাদের কোভিড- ১৯ ভ্যাকসিন এর ২য় ডোজ। কি আর করা আরামের ঘুম বাদ দিয়ে নাস্ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-236028"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/236028/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">00b3a59da1ca0916c6afc71ec530911b</guid>
				<title>প্রিয় তুহিন,
আজ তোমার বড় ছেলের রেজাল্ট দিয়েছে। 
যেদিন থেকে রেজাল্টের তারিখ ঘোষণা করেছে, সেদিন থেকেই আমি অসুস্থ হয়ে গেছি।বারবার শুধু মনে হচ্ছিলো , তুমি থাকলে আমার এমন দুঃশ্চিতা হতো না।
তুমি থাকলে রেহান ঠিক মতো পড়াশোনা করতো।
তুমি থাকলে আমাকে সাহস দিতে। অসুস্থ 
হবো নাই বা কেন বল? 

তার পুরো এইচএসসি জার্নিতে সে একনাগারে ১৫ মিনিট ও পড়াশোনা করে নাই। এইচএসসি ভর্তির ৬/৭ মাস পরে একদিন এসে বলে কি জানো?- সে কলেজ পরিবর্তন করবে। 
আমার মাথা গেলো গরম হয়ে, বললাম- আমি বাসায় এসে যেন দেখি, তুমি সব বই পত্র তোমার রুমের বাহিরে রেখে দিয়েছো। তোমাকে আর পড়াশোনা করতে হবে না। যেহেতু পড়াশোনা করবে না, তাই ১৮ বছর পর্যন্ত আমি তোমার খরচ দিবো।এরপর নিজের পথ নিজে বেছে নিবে। 
অফিস থেকে এসে দেখি বই পত্র ঘরেই আছে, এই প্রসঙ্গে আর কখনো কথা বলি নাই।
এরপর ১ম বর্ষ থেকে ২য় বর্ষে উঠার আগে এমন বিতিকিচ্ছিরি রেজাল্ট করলো এবং সে রেজাল্ট ও আমাকে জানায় নাই।কলেজ থেকে ওর শিক্ষক ফোন দিয়ে জানালো। বাসায় এসে লুব্ধক , মাহিন সহ ওর সাথে মিটিং এ বসলাম। জানতে চাইলাম এমন রেজাল্ট এর পরে ওর বক্তব্য কি?

উত্তর দিলো- সাইন্স বুঝি না/ ভালো লাগে না, সাইন্স নিয়ে পড়বো না। (গাধার গাধা! সাইন্স ছাড়া কিছু হয় রে! 
আর আমি তো রেহানকে সাইন্স নিতে বলি নাই, নিজের ইচ্ছায় নাচতে নাচতে নিয়েছে। 
আমি সারাজীবন সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছি, তবু্ও ওকে ভুলেও বলি নাই সাইন্স নিতে।আমি ওমন মা নই যে, জোর করে চাপিয়ে দিবো)

লুব্ধক , মাহিন উত্তর দিলো- ওতো ১ম বর্ষের পড়াই শেষ করতে পারে নাই, কিভাবে ২য় বর্ষে র পড়া পড়বে? ওকে আবার রেজিষ্ট্রেশন করে আর্টস এ ভর্তি করে দেও।
লুব্ধককে বললাম- ওর শিক্ষকের সাথে কথা বল। 
উনি বললেন- নাহ্, এটা করার দরকার নাই ও পারবে। ওর যেকোনো প্রয়োজন এ আমি ওর পাশে আছি।আমি চির কৃতজ্ঞ ওনার কাছে, এভাবে আমার ছেলেকে সাহস দেওয়ার জন্য।

তোমার ছেলেও বললো- সে পারবে। যথারীতি ২/১ দিন পড়লো, তারপর আবার যেই লাউ সেই কদু।

তাছাড়া সারাবছর ধরে কলেজে চলে মারামারি। আমি অফিসে বসে সংবাদ পাই, প্রচন্ড মারামারি হচ্ছে কলেজে। 
অশান্তি , অশান্তি। 

তোমার ছেলেতো তোমার কাছ থেকে ২৩ টা জিন পেয়েছে , আর আমার কাছ থেকে ২৩ টা। কিন্তু আমার জিন গুলোর কোন বৈশিষ্ট্য তোমার ছেলের মধ্যে নেই, তোমার সব বৈশিষ্ট্য নিয়ে বেড়ে উঠছে সে।
তাই কোথাও মারামারি গন্ডগোল হলে সে ছুটে যায় সাহায্যকারী হিসেবে। বলতে পারো পুরো কলেজ জীবন কেটেছে আহত বন্ধুদের নিয়ে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করে।
পরীক্ষা সামনে আর সে গভীর রাতে ছুটছে অপরিচিত কাউকে রক্ত দিতে।যেহেতু আমি রাতে একা যেতে দিবো না, তাই সাথে করে আমাকেও নিয়ে গেছে।
পরীক্ষা যত এগিয়ে আসতে থাকলো আমার ভয় তত বাড়তে থাকলো। বাসায় রেখে যাই, কিন্তু বাসায় থাকে না।
ওর পড়াশোনার ধরন দেখলে , অসুস্থ মানুষও সুস্থ হয়ে দুই চার ঘা লাগিয়ে দিয়ে আবার বিছানায় যেয়ে শুয়ে পরবে।

কিন্তু আমি তোমার পুত্রকে কিছু ই বলি নাই, নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছিলাম।

অবশেষে পরীক্ষার দিন চলে আসলো।প্রতিটি পরীক্ষায় আমি নিয়ে যেতাম, সারা রাস্তা আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে। আর উনি বিনদাস ভাবে যেত। ওর বন্ধুরা ওকে দেখে বলতো - কি রে, তোর টেনশন হচ্ছে না!? ও বলতো- কিসের টেনশন(একদম তোমার মতো করে বলতো)?

প্রিয় তুহিন,
পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় শুধু একটা কথাই তোমার ছেলেকে বলেছিলাম, বরাবরের মতো - পরীক্ষার খাতা সাদা জমা দেও কোন সমস্যা নেই, কিন্তু কোন অনৈতিক পন্থা অনুসরণ করবেনা। তোমার ফেল করাটা আমি গ্রহণ করবো, কিন্তু অনৈতিক ভাবে ভালো রেজাল্টকে নয়।
এমন কিছু করবে না, যেন নিজের কাছেই সারাজীবন ছোট হয়ে যাও।

প্রিয় তুহিন, 
বাবা ছাড়া  এই বয়সের একজন ছেলেকে সঠিকভাবে মানুষ করা যে, কত কঠিন, সেটা আমি প্রতি নিয়ত অনুভব করছি।
আমার টাকা পয়সা নেই, আমার মাথার উপর তুমি নেই, বাবা-মা , শশুড় -শাশুড়ী কেউ নেই।
ওদেরকে শাসন করা, আদর করার জন্যও কেউ নেই, এই বয়সে যেটা খুব জরুরী। 
আল্লাহ এর মধ্যে ই ভালো কিছু রেখেছেন আমাদের জন্য,আমার বিশ্বাস। 
অবশেষে আজ রেজাল্ট এর দিন।অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় থাকলাম।কারণ যত সাহসী ই হোক না কেন এই সময়ে বাবা- মাকে পাশে থাকা জরুরী। 
তাই আমিই মা, আমিই বাবা হয়ে ওর পাশে থাকলাম।
আলহামদুলিল্লাহ তোমার ছেলে পাস করেছে।
আলহামদুলিল্লাহ। সে A+ পায় নি, A পেয়েছে। 
এটাই আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। 
গতকাল ভেবেছিলাম তোমার ছেলেকে বলবো-I accept you, as you are. Unconditionally I love you my dear Rehan.
মুখে না বললেও , বহুবার মনে মনে বলেছি।
আল্লাহ আমার সন্তানদেরকে আমার চক্ষু শীতলকারী করুন, আমিন।
আজ এই মুহূর্তে  আমি এবং তোমার ছেলে (যদিও প্রকাশ করে না) তোমাকে প্রচন্ডভাবে  অনুভব করছি।
আল্লাহ তোমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুণ , আমিন।

ইতি 
তোমার হেনা
১৬/১০/২৫</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/234413/</link>
				<pubDate>Wed, 22 Oct 2025 09:41:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় তুহিন,<br />
আজ তোমার বড় ছেলের রেজাল্ট দিয়েছে।<br />
যেদিন থেকে রেজাল্টের তারিখ ঘোষণা করেছে, সেদিন থেকেই আমি অসুস্থ হয়ে গেছি।বারবার শুধু মনে হচ্ছিলো , তুমি থাকলে আমার এমন দুঃশ্চিতা হতো না।<br />
তুমি থাকলে রেহান ঠিক মতো পড়াশোনা করতো।<br />
তুমি থাকলে আমাকে সাহস দিতে। অসুস্থ<br />
হবো নাই বা কেন বল? </p>
<p>তার পুরো এইচএসসি জার্নিতে সে একনাগারে ১৫ মিনিট ও পড়াশোনা করে ন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-234413"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/234413/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">898578db09bb91c18745b9063c98fc40</guid>
				<title>প্রিয় রেহান,

তুমি যখন এই পৃথিবীতে এলে, আমি প্রথমবারের মতো জীবনের মানে নতুন করে বুঝেছিলাম।
তোমার প্রথম হাসি, প্রথম কথা, প্রথম হাঁটা — সবকিছু আমার মনের ক্যামেরায় আজও জ্বলজ্বল করে।
সেই ছোট্ট রেহান এখন ১৯-এর তরুণ, নিজের জীবন, ভাবনা আর স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক নতুন পথে।

জানো রেহান, এই বয়সটা জীবনের এমন এক সময়, যখন মন চায় নিজেকে বুঝতে, পুরনো দিনের ভুলগুলোকে ক্ষমা করতে, আর নতুন করে নিজেকে গড়ে তুলতে।
Pam Levin একে বলেন  “Recycling Stage” — মানে, পুরনো অভিজ্ঞতাগুলোকে নতুন আলোয় দেখা, যা রেখে দিতে হয়, তা রেখে দেওয়া, আর যা ছাড়তে হয়, তা ছেড়ে দেওয়া।
তুমি এখন সেই সুন্দর পথে হাঁটছো।

তুমি হয়তো ভাবো, মা সব বোঝে — কিন্তু সত্যি বলতে কি আমি এখন তোমাকে নতুন করে চিনছি।
তোমার চোখে এখন প্রশ্ন, সিদ্ধান্ত, স্বপ্ন, আর কখনো কখনো একটু ভয়ও দেখি।
এই ভয়টুকু খারাপ না, রে বাবা — এই ভয়ই তোমাকে সত্যিকারের শক্তি শেখাবে।

ভুল করতে ভয় পেও না।
তুমি যে ভুল করবে, তা তোমাকে ভেঙে দেবে না — বরং নতুন করে গড়ে তুলবে।
তুমি প্রতিদিন একটু একটু করে আগের সেই রেহানকে পেছনে ফেলে আসছো, আর নিজের ভেতরের নতুন রেহানকে জন্ম দিচ্ছো — এটাই “Recycling”-এর আসল সৌন্দর্য।

আমি জানি, সামনে অনেক পথ, অনেক সিদ্ধান্ত, অনেক প্রশ্ন।
তবুও আমি চাই, তুমি সবসময় তোমার হৃদয়ের কথাটা শোনো।
তোমার ভেতরে যে আলো আছে — সেটাই তোমার আসল দিশা।

রেহান, আমি তোমায় ভালোবাসি নিঃশর্তভাবে।
তুমি সফল হও বা ব্যর্থ, তুমি হাসো বা কাঁদো—তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা একই থাকবে।
তুমি আমার প্রথম সন্তান , আমার বড় ছেলে, আমার গর্ব, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

চলো, নতুন পথের শুরু হোক এক নতুন রেহানের হাতে।
নিজেকে বারবার চিনে নাও, বারবার ভালোবেসো, আর বারবার উঠে দাঁড়াও।

তোমার জন্য সব ভালোবাসা নিয়ে,
তোমার আম্মু
১৯/১০/২৫</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/234362/</link>
				<pubDate>Mon, 20 Oct 2025 15:39:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় রেহান,</p>
<p>তুমি যখন এই পৃথিবীতে এলে, আমি প্রথমবারের মতো জীবনের মানে নতুন করে বুঝেছিলাম।<br />
তোমার প্রথম হাসি, প্রথম কথা, প্রথম হাঁটা — সবকিছু আমার মনের ক্যামেরায় আজও জ্বলজ্বল করে।<br />
সেই ছোট্ট রেহান এখন ১৯-এর তরুণ, নিজের জীবন, ভাবনা আর স্বপ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক নতুন পথে।</p>
<p>জানো রেহান, এই বয়সটা জীবনের এমন এক সময়, যখন মন চায় নিজেকে বুঝতে, পুরনো দ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-234362"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/234362/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">eca6b250f55a93915b7ca260d89f3677</guid>
				<title>আমার আজকের এই লেখাটি সকলের জন্য।বিশেষ করে হবু  বাবা-মা এবং নব্য বাবা-মা কে উদ্দেশ্য করে।

এ বিষয় এ যদি আপনারা আরও কিছু জানতে আগ্রহী হন,  অবশ্য ই কমেন্ট করবেন।

লাইফ পজিশন: 

আমরা সবাই জন্মাই এক রাজপুত্র বা রাজকন্যা হয়ে — এরিক বার্ন (Eric Berne) তাই বলেন। তাঁর মতে, প্রত্যেক শিশুই জন্মগ্রহণ করে এক আশাবাদী ও স্বাভাবিক মনোভাব নিয়ে। কিন্তু পরবর্তী বিশেষত শৈশবের লালন- পালন পদ্ধতি , স্নেহ-মমতা, অভিজ্ঞতা, অবহেলা বা শাসনের ধরনই নির্ধারণ করে যে শিশু বড় হয়ে কীভাবে নিজেকে ও অন্যকে দেখবে।

এরিক বার্ন তাঁর Transactional Analysis তত্ত্বে চারটি “লাইফ পজিশন” বর্ণনা করেছেন। এগুলো আমাদের নিজের প্রতি ও অন্যের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে।

১.” I’m OK, You’re OK “ বাংলা করলে  “আমি ঠিক আছি, আপনি ঠিক আছেন”
এটাই সবচেয়ে সুস্থ এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।প্রত্যেক শিশুই এই অবস্থানে জন্মগ্রহণ করে।
এই অবস্থায় থাকা মানুষ আত্মবিশ্বাসী ও সহানুভূতিশীল হয়। তারা নিজেদের দুর্বলতাকে স্বীকার করতে পারে এবং অন্যের মতামতকে সম্মান করে, এমনকি দ্বিমত পোষণ করলেও।
সহজ ভাবে উদাহরণ দেই- 
শৈশবে যখন মা সন্তানের কান্না শুনে আদর করে কোলে নেয়, তখন শিশুর মনে জন্ম নেয় এই অনুভব —
“আমি ঠিক আছি, তুমি ও ঠিক আছো।”
এই অনুভব থেকেই গড়ে ওঠে এক শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু সম্পর্ক।

&#x2666;আত্মবিশ্বাসী, সহযোগী
&#x2666;ছোটবেলায় ভালোবাসা পেয়েছে
 &#x2660;অপারেশন: Get-On-With

২. &quot;I’m OK, You’re not OK&quot; বাংলায় এভাবে বলতে পারি  “আমি ঠিক আছি, আপনি ঠিক নন” 

যেমন: সন্তান কান্না করলেও মা যদি বলেন, “ওর তো কিছু হয়নি, কাঁদুক!”, তখন শিশুটি শেখে —
“আমি ঠিক, মা বুঝলো না, মা ঠিক নয়।”
এই ধারণা নিয়েই সে বড় হয় এবং ভবিষ্যতে অন্যকে দোষ দিয়ে বেড়ায়।
এই দৃষ্টিভঙ্গিতে থাকা মানুষ অন্যকে দোষারোপ করতে ভালোবাসে। তারা নিজেদের সবসময় ঠিক মনে করে এবং অন্যের ভুল খুঁজে বেড়ায়। এরা রাগান্বিত, আক্রমণাত্মক ও প্রতিযোগিতাপ্রবণ হয়।

&#x2666;রাগী, সমালোচনামূলক
&#x2666;অন্যের ভুল খোঁজে
&#x2660; অপারেশন: Get-Rid-Of

৩. &quot;I’m not OK, You’re OK&quot; “আমি ঠিক না, আপনি ঠিক”
শৈশবে সন্তানের কান্না উপেক্ষা করা হলে, কিংবা সামান্য ভুলে বকা খেলে সে ভাবে —
“ভুলটা আমার, আমি ভালো না। মা রেগে গেছে, তাই মা ঠিক।”
এই অবস্থার মানুষ নিজেকে সবসময় ছোট মনে করে। তারা নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে পারে না, অন্যকে সবসময় শ্রেষ্ঠ মনে করে। তারা চায় সবাই খুশি থাকুক, নিজেকে বিসর্জন দিয়ে হলেও।
এভাবেই গড়ে ওঠে আত্মবিশ্বাসহীন, নিজেকে অবমূল্যায়নকারী এক মন।

&#x2666;আত্মবিশ্বাসহীন, “pleaser”
&#x2660; অপারেশন: Get-Away-From

৪. &quot;I’m not OK, You’re not OK&quot; “আমি ঠিক না, আপনি ও ঠিক নন”

সবচেয়ে হতাশাজনক অবস্থান। এই মানুষগুলো ভাবে —
“আমি ভালো না, আপনার মধ্যেও ভালো কিছু নেই।”
এরা জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, হতাশায় ডুবে যায়। শৈশবে যদি শিশু বারবার অবহেলার শিকার হয়, কারও কাছ থেকে ভালোবাসা না পায়, তাহলে তার মনে জন্ম নেয় এক ভয়াবহ শূন্যতা —
“আমি অপ্রিয়, তুমিও নিষ্ঠুর।”

এই অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের আচরণে যা দেখা যায়:

 আত্মবিনাশী প্রবণতা:
তারা নিজেদের জীবনের কোনো মূল্য খুঁজে পায় না। নিজেকে তুচ্ছ ও অপ্রয়োজনীয় মনে করে, যার কারণে আত্মহত্যার ঝুঁকি থাকে অত্যন্ত বেশি। তারা ভাবে –
“আমি ভালো না, অন্য কেউও না। এই জীবন রেখে কী হবে?”

আক্রমণাত্মক বা সহিংস হয়ে ওঠা:
এদের মধ্যে কখনো কখনো হিংস্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা অন্যকে ক্ষতি করার (অন্যকে হত্যা করা, নিপীড়ন করা বা ধ্বংসাত্মক আচরণ করা) দিকে ধাবিত করে। অনেক সময় তারা সমাজ, পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রতিশোধ নিতে চায়।

সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা:
তারা সম্পর্ক, সমাজ, দায়িত্ব, এমনকি নিজের অস্তিত্ব থেকেও নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। 

 &#x2666;হতাশ, আত্মঘাতী চিন্তা
&#x2660; অপারেশন: Get-Nowhere-With

লাইফ পজিশন বুঝলেই বোঝা যায় মানুষটির ভেতরের গল্প!

কাউন্সেলিংয়ের সময় আমরা এই ধারণাগুলোকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই বুঝতে পারি – একজন মানুষ নিজের ও অন্যের প্রতি কেমন মনোভাব পোষণ করেন, এবং তার শৈশব কীভাবে তার মানসিক গঠনকে প্রভাবিত করেছে।

মনে রাখবেন, কেউ যদি ভুল লাইফ পজিশনে বেড়ে ওঠে, তাও ঠিক করা সম্ভব। সঠিক সহানুভূতি, সমর্থন ও সচেতনতায় মানুষ আবারও ফিরে পেতে পারে সেই প্রথম অবস্থান —

” I’m OK, You’re OK “</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/231862/</link>
				<pubDate>Mon, 04 Aug 2025 06:13:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার আজকের এই লেখাটি সকলের জন্য।বিশেষ করে হবু  বাবা-মা এবং নব্য বাবা-মা কে উদ্দেশ্য করে।</p>
<p>এ বিষয় এ যদি আপনারা আরও কিছু জানতে আগ্রহী হন,  অবশ্য ই কমেন্ট করবেন।</p>
<p>লাইফ পজিশন: </p>
<p>আমরা সবাই জন্মাই এক রাজপুত্র বা রাজকন্যা হয়ে — এরিক বার্ন (Eric Berne) তাই বলেন। তাঁর মতে, প্রত্যেক শিশুই জন্মগ্রহণ করে এক আশাবাদী ও স্বাভাবিক মনোভাব নিয়ে। কিন্তু পরবর্ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-231862"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/231862/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9ab4378217065b1788340669daf481c2</guid>
				<title>প্রিয় সোনামণিরা,

কি দিয়ে শুরু করবো জানি না আমি।
স্কুল ছুটির পরে অনেক অনেক কথার ঝুঁলি নিয়ে হয়তো তোমরা বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলে।যে কথাগুলো আর কোন দিনও শোনা হবে না, তোমাদের আব্বু -আম্মুর। 
তোমাদের অনেক অনেক বায়না, আবদার  , অভিমানের কথা  আর কখনো শুনতে পাবে না তাঁরা।
তোমার ১৪ তম জন্মদিন এর দাওয়াত দিয়েছিলে হয়তো বন্ধুদের  , সে দাওয়াতে আসতে হবে না আর কারো।
আম্মু, আব্বুর খরচ হবে জন্য শেষ মুহুর্তেও বইয়ের ব্যাগটা সাথে করে নিয়ে এসেছিলে। সেই বই খাতার আর কোন প্রয়োজন হবে না বাবা।
আমাদের ক্ষমা করে দিও তোমরা। দুই হাত তুলে তোমাদের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাচ্ছি। 
অনেক সাধনা করে  , আল্লাহর  কাছে থেকে তোমাদেরকে আমরা পেয়েছিলাম। তোমরা ছিলে আল্লাহ আমানত। 
কিন্তু আমরা আল্লাহর আমানতের রক্ষা করতে পারি নাই।
পারি নাই ঘরে, স্কুলে ,রাষ্ট্রে তোমাদের নিরাপত্তা দিতে।
আমাদের ডানার তলে তোমাদের ঢেকে রেখেছিলাম। কিন্তু  পেরেছি কি? না পারি নাই, চিলের মতো এসে ছো মেরে নিয়ে গেছে।সেটা বাড়িতেই হোক, রাস্তায় হোক কিংবা  স্কুলে।
ক্ষমা চাই তোমাদের কাছে। আমরাতো জানতাম এই সমাজের, এই দেশের পরিস্থিতি। তারপরও কেন মা হওয়ার আকুতি করেছিলাম সৃষ্টিকর্তার কাছে?
জানতাম তো এইদেশে চিল, শকুন , হায়েনারা তৈরি হয়েই আছে আমাদের কলিজার টুকরোকে ছিঁড়ে কুরে খাবার জন্য।
ক্ষমা করো না সোনামণিরা, সেই সকল মানুষরুপী অমানুষ দের, যারা তোমাদের জ্বলন্ত শরীরে পানি ঢালার বদলে ব্যবসার জন্য ভিডিও করছিলো। ক্ষমা করনো না সেই সকল মানুষরুপী অমানুষকে, যারা পানির দাম, রিক্সা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছিলো। ক্ষমা করো না তাদের, যারা এম্বুলেন্স যাওয়ার জায়গা রাখে না রাস্তায়। ক্ষমা করো না তাদের যারা মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে।
সোনামণিরা আল্লাহর কাছে বিচার দিও তাদেরকে যেন কখনো ই ক্ষমা করা না হয়, যারা তোমাদের মৃত্যুকে নিয়ে ব্যবসা/ রাজনীতি করে। 
আর আল্লাহকে বলে দিও যতদিন পর্যন্ত আমরা তাঁর আমানতকে নিরাপত্তা দিতে না পারি, ততদিন পর্যন্ত যেন আর কোন সন্তান কোন মায়ের গর্ভে এই দেশের মাটিতে না জন্মায়। 
সোনামণিরা, এই বাংলাদেশ এর কোন মা-বাবাই ২১শে জুলাই এর পর থেকে ভালো নেই।সকল মা-বাবারা তোমাদের জন্য দুই হাত তুলে দোয়া করছে।তোমাদের বন্ধুরা যারা হাসপাতালে যন্ত্রণা ভোগ করছে, তাদের জন্য সবাই আল্লাহর দরবারে দোয়া করছে। এমন অবস্থায় কি ভালো থাকা যায়?
তোমাদের শরীরের মিষ্টি সৌরভে যাদের দিন শুরু হতো , আজ সেই শরীরের পোড়া গন্ধ যে আমাদেরকে মরার আগেই মেরে ফেলেছে।
আমরা কেউ ভালো নেই সোনামণিরা, কেউ না।
ওপারে আল্লাহর বাগানের মেহমান হয়ে ভালো থাকো তোমরা। 
আবার যদি এই পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে আসো তবে অন্য কোন দেশে নেক হায়াত নিয়ে এসো।

 তোমাদের অভাগী মা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/231660/</link>
				<pubDate>Sun, 27 Jul 2025 08:02:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় সোনামণিরা,</p>
<p>কি দিয়ে শুরু করবো জানি না আমি।<br />
স্কুল ছুটির পরে অনেক অনেক কথার ঝুঁলি নিয়ে হয়তো তোমরা বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলে।যে কথাগুলো আর কোন দিনও শোনা হবে না, তোমাদের আব্বু -আম্মুর।<br />
তোমাদের অনেক অনেক বায়না, আবদার  , অভিমানের কথা  আর কখনো শুনতে পাবে না তাঁরা।<br />
তোমার ১৪ তম জন্মদিন এর দাওয়াত দিয়েছিলে হয়তো বন্ধুদের  , সে দাওয়াত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-231660"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/231660/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">df5d1d7de8abd04de2e5e029eacc4eb4</guid>
				<title>আচ্ছা, আপনারা কি আমাকে সাহায্য করতে পারেন? 
আমি জানতে চাই- বাংলাদেশ এ কি এমন কোন গ্রাম আছে, যেখানে ইলেক্ট্রিসিটি নেই , ইন্টারনেট সংযোগ নেই, যাতায়াত ব্যবস্থা বলতে গরুর গাড়ি , ঘোড়া গাড়ি বা নৌকা চলাচল করে?
আমি একটা &quot;ডেস্টিনেশন বিয়ে” এর প্ল্যান করতে চাই।ইন শা আল্লাহ যেটি আজ থেকে দশ বছর পরে হবে।
পাত্র-পাত্রী কে?
আরে আমার বড় পুত্র হলো পাত্র আর পাত্রী অজ্ঞাত। 
আমি হয়তো সেই সময়ে থাকবো না, তাতে কি?
পাত্রের ফুফু,চাচী, মামী,খালারাতো থাকবে।তাদের দায়িত্ব হলো, পাত্রের আম্মুর প্ল্যানকে বাস্তবায়ন করা।
 গায়ে হলুদসহ পুরো আয়োজন।
বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিলাম আপনাদেরকে।
আপনারা যতক্ষণ খোঁজ পাচ্ছেন না , ততক্ষণে আমি কল্পনায় প্ল্যান টা করে ফেলি।

&#x1f389;&#x1f389;&#x1f389;&#x1f389;&#x1f389;&#x1f389;&#x1f389;&#x1f389;&#x1f389;&#x1f389;&#x1f389;&#x1f389;&#x1f389;&#x1f38f;
কাল্পনিক ডেস্টিনেশন ওয়েডিং প্ল্যান – চান্দের চরে বিয়ে

&#x1f4cd;স্থান: চান্দের চর, একটি নির্জন দ্বীপ

&#x1f6f6; যাতায়াত: ছোট নৌকা, ডিঙ্গি বা বাঁশের ভেলা

&#x1f50c; সুবিধা: নেই বিদ্যুৎ, নেই ইন্টারনেট, মোবাইল সিগন্যালও আসে না।

&#x1f3b5; পরিবেশ: গ্রামের  মাঝি ভাই, কৃষক , গাড়িয়াল ভাইদের মুখে থাকে  গান।আর সাথে থাকছে ঢেউয়ের শব্দ, পাখির ডাক, রাতে ঝিঁঝিঁ পোকা।

&#x1f7e1; ১ম দিন: 
আগমন ও গায়ে হলুদ

&#x26f5; অতিথি আগমন
• ঢাকা থেকে একটি বড় নৌকায় বর-কনের আত্মীয়রা যাত্রা শুরু করবে।
ড্রেসকোড
• সবাই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক , যেমন -পাঞ্জাবি- লুঙ্গী , শাড়ি( বাংলা করে পরে আসবে),গায়ে লাল-হলুদ গামছা।

&#x1f33c; গায়ে হলুদ আয়োজন
• খোলা মাঠে, বিভিন্ন গাছের পাতায় সাজানো প্যান্ডেল
• বসার জন্য পাতা থাকবে হাতে বোনা পাটি, কলাগাছ দিয়ে গেট, হলুদ গা্ঁদা ফুলের মালা
• কলা পাতার  থালায় হলুদ বাটা   মেহেদী বাটা। খাওয়ার জন্য থাকবে দই - খই,  মিষ্টি, চিড়া-মুড়ি আর নানা রকমের পিঠা পুলি
• লাল কাঁসার একটা বড় থালায় থাকবে  পান-সুপারি, হুক্কা
• গান: ঢোল আর খঞ্জনির তালে  গ্রামের মহিলাদের কণ্ঠে থাকবে- হলদি বাটো, মেন্দি বাটা এবং লিলাবালি গান

              &#x1f525; রাতের খাবার

• মাটির চুলায় , মাটির হাঁড়িতে রান্না করা খিচুড়ি, হাঁসের মাংস, বেগুন ভাজি, নানা পদের আচার
• মাটির হাঁড়িতে দই ও রসগোল্লা, মন্ডা মিঠাই 


&#x1f534; ২য় দিন: বিয়ে

          &#x1f492; বিয়ের মঞ্চ
• নদীর পাড়ে প্যান্ডেল, পেছনে দূর্বল সূর্য ( কারণ বিয়েটা হবে শীত কালে)
• বিয়ের আসর মেঝেতে, লাল-সাদা শাড়ি ও গামছা দিয়ে সাজানো
• পাত্র-পাত্রীর গলায় গাঁদা ফুলের মালা
• স্থানীয় মৌলভী বিয়ে পড়াবেন
.  মাইকে বাজবে মালকা বানুর  দেশেরে বিয়ার বাদ্য আলা বাজেরে, মনু মিয়ার দেশে রে বিয়ার বাদ্য আলা বাজেরে

        &#x1f3b6; সন্ধ্যার আয়োজন
• নদীর পাড়ে “আলপনা দিয়ে সাজানো
• গল্পের আসর
• মালা শাড়ি , তিব্বত স্নো  দিয়ে কনেকে  সাজানো হবে—চুলে ফুল, হাতে আলতা

&#x1f7e2; ৩য় দিন: বৌভাত ও বিদায়

        &#x1f372; গ্রামীণ ভোজ
• খাওয়ার আয়োজন খোলা মাঠে—কলাপাতায় পরিবেশন
• খাবার: সাদা ভাত, ইলিশ মাছ ভাজা, পেঁপে ভর্তা, মুগ ডাল, পায়েশ, দই

       &#x1f381; উপহার ও স্মৃতি

• অতিথিদের দেওয়া হবে হাতে বানানো পাটি, মাটির হাঁড়ি , ইত্যাদি  উপহার
• বিদায়ের আগে বর-কনে নৌকায় উঠে চর ঘুরে দেখে, বিদায়  নিবে  “চান্দের চর” থেকে

&#x1f4dd; বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
• ইলেক্ট্রিসিটি নেই, তাই হারিকেন, হ্যাজাকের আলোতেই সব আয়োজন
• কেউ মোবাইল বা ক্যামেরা নিয়ে আসতে পারবে না তাই, ছবি তোলার কোন অপশন নেই।সবাই মনের মাঝে ই বিয়ের স্মৃতি নিয়ে ফিরবেন। সিনেমাটোগ্রাফি করার টাকা ও সময় দুই ই বাঁচবে। সবাই ঢাকায় ফিরে এই বিয়ের গল্প করবে।পুত্র তার পুত্রকে এই বিয়ের গল্প শোনাবে, কিন্তু ছবি নাই জন্য তার পুত্র বলতে পারবেনা - তোমাদের বিয়েতে আমাকে নিয়ে যাও নাই কেন? ভ্যা ভ্যা&#x1f61c;
• অতিথিদের ফোন দূরে রেখে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ



        &#x1f6f6; আমন্ত্রণ

সুন্দর সম্পর্কের বাঁধনে
গ্রামীণ সৌন্দর্যের ছোঁয়ায়
আপনাকে জানাই সাদর নিমন্ত্রণ

বর: রেহান মল্লিক

বউ:.... 


&#x1f4cd; স্থান: চান্দের চর, ধলেশ্বরী নদীর পাড়
&#x1f4c5; তারিখ:.... বঙ্গাব্দ &#124; ১৪ ডিসেম্বর ২০৩৫
&#x1f552; সময়: বিকাল ৩টা থেকে চাঁদ ওঠা পর্যন্ত

বিশেষ অনুরোধ:
ফোন, ইন্টারনেট নয় –
এই দিনটি কাটুক নদীর ঢেউ আর মানুষের হাসিতে &#x1f49b;
আপনার উপস্থিতিই আমাদের কাম্য/আনন্দ।

AI কে দিয়ে ছবিও বানিয়েছি। দেখুন তো রেহানের মতো লাগে কি না?
বিঃদ্রঃ আপনারা নিশ্চয় ভাবছেন আমার.... খারাপ হয়ে গেছে।
আরে নাহ, এতদিন অন্যের ছেলে/ মেয়ের বিয়ের আইডিয়া মাথায় নিয়ে ঘুরেছি। ফলাফল বিগ জিরো।
তাই এখন থেকে শুধু নিজ পুত্রের বিয়ের নানা রকম আইডিয়া বের করবো। সেই সময়ে তো আর থাকবো না, তাই প্ল্যানগুলো লেখে রাখছি। 
পুত্র আমার সাথে ফেসবুকে নেই, এটা কোন সমস্যাই না। কারণ আমার ফোনটা বারোয়ারী। যার ইচ্ছে সেই নেয়, শুধু নেয় না! আমার ফেসবুকে ঢুকে আমার বন্ধুদের পোস্টে হ্য হা দেয়। তিন পুত্রই এই কাজ করে।
শুভ রাত্রি 
১৫/০৭/২০২৫</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/231350/</link>
				<pubDate>Wed, 16 Jul 2025 10:23:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আচ্ছা, আপনারা কি আমাকে সাহায্য করতে পারেন?<br />
আমি জানতে চাই- বাংলাদেশ এ কি এমন কোন গ্রাম আছে, যেখানে ইলেক্ট্রিসিটি নেই , ইন্টারনেট সংযোগ নেই, যাতায়াত ব্যবস্থা বলতে গরুর গাড়ি , ঘোড়া গাড়ি বা নৌকা চলাচল করে?<br />
আমি একটা &#8220;ডেস্টিনেশন বিয়ে” এর প্ল্যান করতে চাই।ইন শা আল্লাহ যেটি আজ থেকে দশ বছর পরে হবে।<br />
পাত্র-পাত্রী কে?<br />
আরে আমার বড় পুত্র হলো পাত্র আর পাত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-231350"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/231350/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bdc63a66435008ccfed638fb499fbe27</guid>
				<title>“স্মার্টনেস মানেই সবসময় মুখ গম্ভীর রাখা নয়—আসল স্মার্ট তারাই, যারা রসবোধে ভরপুর!”

গত ১জুলাই এর ঘটনা। ছোট পুত্রের জন্মদিন উপলক্ষে বেশ কিছু কেনাকাটা করেছি।বিভিন্ন সাইজের ব্যাগ হাতে।সাথে আছে পুত্রের জন্য জন্মদিনের কেক।
দুই হাতে এত ব্যাগ নিয়ে হাঁটা অসম্ভব। তাই একটি রিক্সায় উঠে বসলাম, যদিও দূরত্ব খুব সামান্য।
কিন্তু কিছুদূর সামনে গিয়ে দেখি পীপিলিকার সারির মতো লাইন দিয়ে আছে শুধু রিক্সা আর রিক্সা।চুপ চাপ হাতে , পায়ের কাছে জিনিস নিয়ে বসে আছি।কোলের উপর কেকের প্যাকেট। এভাবে প্রায় ৩০ মিনিট বসেই আছি, অথচ বাসা প্রায় এসেই গেছি।একটা চিৎকার দিলেও শুনতে পারবে(কথার কথা বললাম)। 
আমি একজন মুরব্বির রিক্সায় উঠেছি।
চাচা মিয়া পাশের রিক্সাওয়াকে বললেন- &quot;রিক্সায় চড়িয়া ময়না হাঁটিয়া চলিলো।&quot;
আমার এত মজা লাগলো চাচামিয়ার রসবোধ দেখে, যে কি বলবো!
আজকাল কাউকে মজা করে কিছু  বললে সে এমন সরু চোখে তাকিয়ে থাকে যে, ভয়ে সংগে সঙ্গে বলে দিতে হয় মজা করছি অথবা ফেসবুকে কিছু লেখলে বলে দিতে হয় - ইহা একটি ফান পোস্ট। 
চাচার রসবোধ দেখে আমার কিছু লেখতে ইচ্ছে করলো, তাই লেখে ফেললাম। আগে এমন কিছু লেখলে পত্রিকায় দিতাম, এখন পত্রিকায় দেওয়ার পদ্ধতি জানি না।(কেউ চাইলে , আমাকে সাহায্য করতে পারেন।অগ্রীম ধন্যবাদ দিয়ে রাখলাম।)

সেন্স অফ হিউমার – হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে!

এক সময় মানুষ মজার কথা শুনে প্রাণ খুলে হাসতো। ঠাট্টা-মশকরা ছিল সম্পর্কের রঙ। কিন্তু এখন? এখন কেউ একটু রসিকতা করলেই সবাই সিরিয়াস! হালকা হাস্যরসেও খুঁজে পায় অপমান, বিদ্বেষ অথবা ব্যক্তিগত আক্রমণ।

আমরা কি ধীরে ধীরে সেন্স অফ হিউমার হারিয়ে ফেলছি?

সেন্স অফ হিউমার বা রসবোধ, মানুষের এক দারুণ গুণ। এটি শুধু হাস্যরস নয়, বরং জীবনকে হালকা করে দেখার, কঠিন সময়েও আশার আলো খোঁজার এক প্রজ্ঞা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সমাজে এই রসবোধের অভাব যেন দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।

বর্তমান সময়ে মানুষ হয়ে উঠছে আগ্রাসী, বিরক্তিকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল। ছোট্ট একটি রসিকতাকেও ভুল বোঝে, হাসির পেছনেও খোঁজে অপমান। ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা নিরীহ তামাসাও কখনো কখনো হয়ে ওঠে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এক সময় যে পাড়া /মহল্লা/ চায়ের দোকানে বা টং ঘরে গল্প-আড্ডায় মুখর থাকত বিভিন্ন হাসি-ঠাট্টায়, আজ সেখানে স্থান পেয়েছে রাগ, হতাশা আর তিক্ততা।

রসবোধ মানে কিন্তু কারও অনুভূতিতে আঘাত করা নয়। বরং রসবোধ মানে হলো জীবনকে একটু হালকা করে দেখা, সমস্যার মাঝেও একটু হাসতে শেখা, মানসিক চাপকে সামলানোর এক চমৎকার উপায়। যার মাঝে সেন্স অফ হিউমার আছে, সে সহজেই চারপাশকে আনন্দ দিতে পারে, সম্পর্কগুলো সহজ করে তুলতে পারে।

আমাদের ব্যস্ত জীবন, প্রযুক্তিনির্ভরতা এবং মানসিক চাপ হয়তো আমাদের হাসতে ভুলিয়ে দিচ্ছে। অথচ, সেন্স অফ হিউমার শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মননের একটি দিক—বুদ্ধিমত্তা ও সহনশীলতার প্রকাশ। যার মধ্যে রসবোধ আছে, সে সহজেই মানুষের মন জয় করতে পারে, সংঘাত এড়াতে পারে, সম্পর্ককে করে তুলতে পারে গভীরতর।

সুতরাং, রসবোধকে অবহেলা নয়, বরং এটি চর্চা করা দরকার। হাস্যরসকে শুধু হালকা বিনোদন না ভেবে, এটিকে মননশীল জীবনের অংশ হিসেবে দেখা উচিত।

এই কঠিন সময়েও যে মানুষ রসিক, সে বড় সৌভাগ্যবান। কারণ সে জানে—হাসি একরকম আত্মরক্ষা, একরকম বেঁচে থাকার কৌশল।

আসুন, আমরা আবার শিখি—হাসতে, হাসাতে। কারণ এই কঠিন সময়েও একটু হাসি বাঁচিয়ে রাখতে পারে সম্পর্ক, মুছে দিতে পারে মন খারাপ।

হাসুন, অন্যকে হাসতে দিন। জীবনটা অনেক সুন্দর! &#x1f60a;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/231226/</link>
				<pubDate>Sun, 13 Jul 2025 10:48:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“স্মার্টনেস মানেই সবসময় মুখ গম্ভীর রাখা নয়—আসল স্মার্ট তারাই, যারা রসবোধে ভরপুর!”</p>
<p>গত ১জুলাই এর ঘটনা। ছোট পুত্রের জন্মদিন উপলক্ষে বেশ কিছু কেনাকাটা করেছি।বিভিন্ন সাইজের ব্যাগ হাতে।সাথে আছে পুত্রের জন্য জন্মদিনের কেক।<br />
দুই হাতে এত ব্যাগ নিয়ে হাঁটা অসম্ভব। তাই একটি রিক্সায় উঠে বসলাম, যদিও দূরত্ব খুব সামান্য।<br />
কিন্তু কিছুদূর সামনে গিয়ে দেখি পীপ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-231226"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/231226/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e4f326dd0bcf5a8bc5d6f60665f11a45</guid>
				<title>প্রিয় রোহান,

শুভ জন্মদিন, আমার প্রিয় আব্বু! 
এই মুহূর্তে তোমার বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হলো।
আজ তুমি  ১৬ বছর ১ দিনে  পা দিলে—জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়ালে তুমি। এই সময়টুকু শুধু বয়সের বৃদ্ধি নয়, মানসিক, আবেগিক এবং আত্ম পরিচয় নির্মাণের এক সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল অধ্যায়।

একজন মা হিসেবে আমি তোমার প্রতিটি হাসি, কান্না, দ্বিধা, সাফল্য—সবকিছুর অংশীদার। আবার একজন মনোবিজ্ঞানী হিসেবে জানি, এই বয়সে মনে অনেক প্রশ্ন আসে, নিজের ভিতরটা অচেনা মনে হয়, বাইরের দুনিয়াটাও অনেক সময় কঠিন বা বিভ্রান্তিকর লাগতে পারে। তোমাকে বলি শোন, এটা স্বাভাবিক। এই দ্বন্দ্ব, এই খোঁজ, এই সংগ্রাম—সবই তোমাকে গড়ে তুলবে নিজের ভিতরের  এক অদ্বিতীয় রোহানে।

রোহান, তুমি যেমন সফল হতে চাও, তেমনি মানবিক হওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের অনুভব বুঝতে শেখো, নিজের আবেগকে চেনো, তাকে সম্মান করো। মনে রেখো, দুর্বলতা প্রকাশ করা লজ্জার নয়, বরং সেটি হলো সাহসের প্রথম ধাপ। তোমার মধ্যে সহানুভূতি, মনোযোগ আর আত্মবিশ্বাস—এই তিনটি গুণ গড়ে তুলতে পারলে, তুমি জীবনে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

তোমাকে কখনো নিখুঁত হতে হবে না। ভুল করবে, শিখবে, আবার চলবে—এই তো জীবন। শুধু খেয়াল রেখো, নিজের প্রতি সদয় থেকো। মনে রেখো, তুমি নিজেই তোমার সবচাইতে আপন সঙ্গী।

তুমি যেমন বেড়ে উঠছো, আমিও প্রতিদিন এক নতুন রোহানকে চিনে নিচ্ছি—একটু একটু করে আরও পরিপক্ব, আরও অনুভবী। এই দেখা, এই জানা—আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা।

তোমার জন্য আমার নিরন্তর ভালোবাসা, শুভ কামনা আর দৃঢ় বিশ্বাস রইল। সামনে যা-ই আসুক, তুমি প্রস্তুত থাকবে—এই বিশ্বাস রাখি।কখনো নিজের কাছে হেরে যাবে না।

শুভ হোক তোমার ১৬ বছর পূর্ণ করার  এই বিশেষ দিনটি।

অনেক অনেক ভালোবাসায় ভরা,
তোমার আম্মু
০১/০৭/২০২৫</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/230848/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Jul 2025 03:32:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় রোহান,</p>
<p>শুভ জন্মদিন, আমার প্রিয় আব্বু!<br />
এই মুহূর্তে তোমার বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হলো।<br />
আজ তুমি  ১৬ বছর ১ দিনে  পা দিলে—জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়ালে তুমি। এই সময়টুকু শুধু বয়সের বৃদ্ধি নয়, মানসিক, আবেগিক এবং আত্ম পরিচয় নির্মাণের এক সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল অধ্যায়।</p>
<p>একজন মা হিসেবে আমি তোমার প্রতিটি হাসি, কান্না, দ্ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-230848"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/230848/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4f0268f6d6ad737bdaf01c975c4b2787</guid>
				<title>আমার আব্বা একজন সরকারি চাকুরীজীবি ছিলেন। 
আব্বা তাঁর মাসিক বেতন এনে আম্মার হাতে তুলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতেন।এই  স্বল্প বেতনে আম্মা তাঁর সংসার চলাতে হিমশিম খেতেন।
তাই আম্মা বাসায় গরু, ছাগল , মুরগী পালতেন।যাতে করে সন্তানদের প্রাণীজ প্রোটিন এর অভাব দূর করতে পারেন। গৃহপালিত পশু এবং রেশন দিয়েই তিনি কোন রকমে সংসার চালাতেন।
আমার বড় ভাই রাজশাহী মেডিকেল  এ , মেজভাই এবং বোন রাজশাহী ববিশ্ববিদ্যালয়ে , ছোট ভাই রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করতেন।
বড়ভাই এর মেডিকেল এর খরচ চালানো (বড়ভাই স্কলারশিপ নিয়েই পড়াশোনা করতেন) , মেডিকেল এর বই সহ আরও আনুসঙ্গিক খরচ চালানো খুব কষ্টকর ছিলো। 
বলা চলে ডাক্তারি পড়ানো আর হাতি পোষা একই কথা।

সেই সময় আমার বড় বাবা(আব্বার বড় ভাই) এসেছিলেন বড় ভাই এর জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। আম্মা -আব্বাকে বড় ভাই এর পড়াশোনার খরচ দিতে হবে না, মেয়ের বাবা-মা ই লেখা পড়া করাবেন। মেয়েদের বাড়ির ছাদে সুইমিংপুল আছে( সেটা কি, আমরা তখন জানতাম না।বড় বাবা বলেছিলেন - আরে ছাদের উপর পুকুর আছে)।
আসলে সেই সময়ে এমনই হতো- মেয়েপক্ষরা ছেলের লেখা পড়ার দায়িত্ব নিতো, বিয়ের বিনিময়ে। 
আমার আম্মা ,বড় বাবাকে নিজ পিতার মতই দেখতেন। আমার এখনো মনে পড়ে একবার বড়বাবা ভীষণ অসুস্থ হয়ে এসেছিলেন। আম্মা তাঁকে নিজ পিতার মতই সেবা করে সুস্থ করেছিলেন। 
যাক , আসি বিয়ের বিষয়ে। আম্মা খুব ভদ্র ভাবে বড় বাবাকে বলেছিলেন - আমার ছেলেকে ওই বাড়িতে বিয়ে দিলে আমরা কখনো মাথা উঁচু করে সেখানে যেতে পারবো না।ছেলেকে এক কথায় বিক্রি করে দেওয়া হবে, আমি সেটা কখনো হতে দিবো না।
আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান। 

আমার আব্বা এমনি কোন এক  গ্রীষ্ম কালে তাঁর ব্যবহারের বাইসাইকেল বিক্রি করে সন্তানদের জন্য আম কিনে এনেছিলেন। আম্মা , আব্বার সাথে অনেক রাগারাগি করেছিলেন। কারণ সাইকেল ছাড়া আব্বা কিভাবে মফস্বলে যাবেন? 
আব্বা নাকি বলেছিলেন - &quot;আমি সাইকেল ছাড়া যাবো, কিন্তু ছেলে মেয়েদেরকে বছরের ফল খাওয়াতে পারবো না এটা কি হয়?&quot;

আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান , যে সরকারি কর্মচারীকে সন্তানদেরকে আম খাওতে সাইকেল বিক্রি করতে হয়।

যে সরকারি কর্মচারী তাঁর বড় ছেলেকেই গৃহ শিক্ষক দিতে পেরেছিলেন এবং বড় ছেলেকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বাকী সন্তানদের লেখা পড়া করানোর। আমার বড় ভাই সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছিলেন। আর সে জন্য WHO এর স্কলারশিপ পেয়েও ভাইবোনদের জন্য , পড়াশোনা করতে আমেরিকায় যাননি। 
আমার বড় ভাই এর জামা, জুতো পরে মেজভাই বড় হয়েছেন। 
আমি একজন সরকারি ডাক্তারের বোন(বিসিএস ক্যাডার )।
যে ডাক্তার জীবনে কখনো প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন নাই,কোর্টে মিথ্যা সাক্ষী দিতে বাধ্য করবে জন্য।

আমি একজন সরকারি কর্মচারীর বোন, যার গৃহশিক্ষক ছিলো বড় ভাই। আমি মনে করি আমাকে যেভাবে বড়ভাই পড়িয়েছেন ,তেমন করে কোন শিক্ষক ই পড়াতে পারবেননা।
আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান, বোন যাদের জীবনে অর্থনৈতিক কষ্ট থাকলেও কখনো আদর , যত্ন ভালোবাসার অভাব ছিলো না। 
আমরা বিলাসী জীবন যাপন করি নাই।আমরা জামা কাপড় এর জন্য বায়না ধরলে আম্মা আমাদের বলেছিলেন  শেখ সাদির গল্প।
আম্মা বলেছিলেন পোশাক মানুষের পরিচয় না, তার পরিচয় তার আচার ব্যবহার। 

আম্মার পালিত ছাগল দিয়ে আমাদের কুরবানী হতো।
আজকের মতো তখন যদি মোবাইল থাকতো তাহলে আমার ছোট ভাই সেই ছাগলের সাথে সেল্ফি তুলে বলতো- এই হলো আমার উচ্চ বংশীয় ছাগল, যা টাকা  দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। আমার আব্বার সৎ পথে উপার্জনের টাকায় কেনা, আমার আম্মার আদর যত্নে পালিত এবং আমার কেটে আনা ঘাস খেয়ে বড় হওয়া।

ইচ্ছা করলেই আম্মা পুলিশদেরকে দিয়ে গরু ,ছাগলের ঘাস কাটাতে পারতেন অথবা আমার আব্বা কাউকে আমের কথা বললে যে কেউ আমের বাগান তুলে এনে দিতেন।
কিন্তু নাহ্ , আমরা আমার আব্বার  বেতনের বাহিরে কখনো কারো উপহার ও আমার আব্বা আম্মা গ্রহন করেন নি।
আমার আব্বা আম্মা চলে গেছেন , ওপারে তাঁদের হিসেব সহজ , কারণ তাঁদের সম্পদ নেই।

আমি গর্বিত এই জন্য যে আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান এবং বোন।
মজার বিষয় হলো আমার সরকারি কর্মচারী আব্বা আমাদের সব ভাই বোনের মধ্যে একটি জিনিস খুব ভালো ভাবে দিয়ে গেছেন, সেটা হলো - সততা।
যার ফলে আমাদের সব ভাই বোনের ভোগান্তির অন্ত নেই।
তারপরেও আমরা গর্বিত , আনন্দিত। 
কিছু &quot;নাই &quot; এর ও একটা কিছু আছে, যা দূর্লভ। 

বিঃদ্রঃ লেখাটি ব্যক্তিগত স্মৃতি চরণ।
ইহার সাথে কারো বর্তমান ,চলমান, অতীত ,ভবিষ্যৎ এর সাদৃশ্য করতে যাবেন না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/230523/</link>
				<pubDate>Mon, 23 Jun 2025 05:34:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার আব্বা একজন সরকারি চাকুরীজীবি ছিলেন।<br />
আব্বা তাঁর মাসিক বেতন এনে আম্মার হাতে তুলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতেন।এই  স্বল্প বেতনে আম্মা তাঁর সংসার চলাতে হিমশিম খেতেন।<br />
তাই আম্মা বাসায় গরু, ছাগল , মুরগী পালতেন।যাতে করে সন্তানদের প্রাণীজ প্রোটিন এর অভাব দূর করতে পারেন। গৃহপালিত পশু এবং রেশন দিয়েই তিনি কোন রকমে সংসার চালাতেন।<br />
আমার বড় ভাই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-230523"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/230523/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a33da3d007bd0683628a4fa0c11b9023</guid>
				<title>আজ সকাল থেকে আমার ছোট ছেলে কি নিয়ে যেন খুব ব্যস্ত। আমাকে বল্লো- &quot;আম্মু আমি একটা মুভি তৈরি করবো&quot;। আমি বল্লাম আচ্ছা। রাত ৯ টার সময় সে আমাকে আর তার বাবাকে টিকিট দিল, যার মূল্য ১০/- টাকা করে। রাত ৯ টা ১০ মিনিটে মুভি শুরু হবে। ওদের ঘরে যেয়ে দেখি, আমাদের দু&#039;জনের জন্য দু&#039;টো চেয়ার। 

ওদের রুমের বাহিরের বারান্দায় ওরা দু&#039;জন, ঘরের জানালার গ্লাস বন্ধ, জানালার গ্লাসের উপর একটা ডলফিন এর ছবি সাঁটানো। ছবিটা ওর ভাই রেহানকে দিয়ে তৈরি করিয়েছে। ডলফিন তৈরি করা বাবদ ২ টাকা মজুরী দিবে বলে। যে টাকা টিকিট বিক্রি করে পাবে, সেই টাকা থেকে তাঁর ভাইকে ডলফিন তৈরির মজুরি দিবে।

যাক, কাঁটায় কাঁটায় ঠিক রাত ৯ টা ১০ মিনিটে তাঁর মুভি শুরু হলো। মুভির নাম &quot;The end&quot;. আমরা ঘরের ভেতর থেকে জানালার গ্লাসের ভেতর দিয়ে দেখতে পাচ্ছি সমুদ্রের বুক চিড়ে দু&#039;টো নৌকা সজোরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে (কাগজ দিয়ে তৈরি নৌকা দু&#039;টো লাঠির মাথায় ধরে আছে জানালার ওপাশ থেকে, রোহানকে দেখা যাচ্ছেনা, ঠিক পাপেট শো-এর মতো। এদিকে সাউন্ড বক্সে তাঁদের নিজ কন্ঠে রেকর্ড করা মুভির Dialog তথা কথা হচ্ছে) দু&#039;টো নৌকাতে করে একই ক্লাসের বন্ধুরা মিলে সমুদ্রে বেড়াতে যাচ্ছে, এর মধ্যে শুরু হলো প্রবল ঝড়, তখন রোহান নৌকা দু&#039;টোকে দ্রুত নড়াতে শুরু করলো, ঠিক ঝড় এলে নৌকা যেভাবে দুলতে থাকে ঠিক সেভাবেই। ঝড়ের তোড়ে দু&#039;টো নৌকাই সমুদ্রে ডুবে গেল। এই সময় দূরে একটা জাহাজ নৌকার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল (জাহাজ বানাতে পারে নাই। রেকর্ড করা Dialog/কথা থেকে আমরা জানতে/বুঝতে পারলাম) যারা সাঁতার জানতো তারা সাঁতার কেঁটে জাহাজে উঠল, আর যারা সাঁতার জানেনা সেই বাঁকি বন্ধুরা সমুদ্রে ডুবে মারা গেল। বেঁচে যাওয়া বন্ধুরা মারা যাওয়া বন্ধুদের জন্য খুব কষ্টো পেল। এই ভাবেই শেষ হলো &quot;The end&quot; মুভি। 

আসলেই মুভিটা অনেক সুন্দর হয়েছে। কঁচি হাতের (মাত্র ৭+ বাচ্চার তৈরি মুভি) তৈরি মুভির Idea/কাহিনী, মুভির নামকরণ  ও রেকর্ডকৃত ধারা বর্ননা/Dialog যে এত সুন্দর এবং নিখুঁত হতে পারে তা ভাবতে অবাক লাগে। সবাই দোয়া করবেন।
১৬ ই জুন&#039; ২০১৭</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/230263/</link>
				<pubDate>Mon, 16 Jun 2025 09:03:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আজ সকাল থেকে আমার ছোট ছেলে কি নিয়ে যেন খুব ব্যস্ত। আমাকে বল্লো- &#8220;আম্মু আমি একটা মুভি তৈরি করবো&#8221;। আমি বল্লাম আচ্ছা। রাত ৯ টার সময় সে আমাকে আর তার বাবাকে টিকিট দিল, যার মূল্য ১০/- টাকা করে। রাত ৯ টা ১০ মিনিটে মুভি শুরু হবে। ওদের ঘরে যেয়ে দেখি, আমাদের দু&#8217;জনের জন্য দু&#8217;টো চেয়ার। </p>
<p>ওদের রুমের বাহিরের বারান্দায় ওরা দু&#8217;জন, ঘরের জানালার গ্ল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-230263"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/230263/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">24a51ca9d3476a47a7f1f10f8361dcd0</guid>
				<title>এই লেখাটি পোস্ট করেছিলো  ছেলেদের বাবা, আমার তুহিন &#039; ২০১৭ সালে।
তুহিন ,২০২০ সালের ২৩&#039;মে আমাদেরকে একা করে , দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেছেন। 
&quot;তুলট&quot; মঞ্চে লেখাটি রেখে দিলাম।
------------------------------------------

আমার ছোট ছেলে মোঃ রোহান আবরার মল্লিক &quot;হাতি আর মাছির গল্প&quot; লিখেছিল। সেই গল্পটা ওর মা তাঁর ফেসবুক পেইজে পোষ্ট করেছিল। সে ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ হাইস্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। তাঁর বয়স ৭+। সেই লেখাটা ফেসবুক পেইজে পোষ্ট করার পর অনেকে গল্পটিতে লাইক দিয়েছিল এবং অনেক অনেক ভালো ও অনুপ্রেরণামূলক মন্তব্য লিখেছিল। 

আমার বড় ছেলে মোঃ রেহান আবরার মল্লিকও আমার ছোট ছেলের ন্যায় &quot;হাতি ও তাঁর বন্ধুদের ক্রিকেট খেলা&quot; নামে একটি গল্প লিখে নিয়ে এসে আমাকে বলে, &quot;দ্যাখো আব্বু, আমি একটা গল্প লিখেছি। গল্পটা তোমার ফেসবুক পেইজে পোষ্ট কর।&quot; আমার বড় ছেলেও ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ হাই স্কুলে ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। তাঁর বয়স ১০+। আমি আশা করি তাঁর কচি হাতের লেখা গল্পটিও আপনাদের খুব  ভালো লাগবে। গল্পটি নীচে আপনাদের জন্য আমার ফেসবুক পেইজে হুবুহু পোষ্ট করলাম। 

       &quot;হাতি ও তাঁর বন্ধুদের ক্রিকেট খেলা&quot;

এক বনে ছিল এক হাতি। হাতিটি বনে খুব সুখে-শান্তিতে বন্ধুদের সাথে বাস করত এবং খুব আনন্দে দিন কাঁটাতো। বনের ছোট-বড় সবার সাথে তাঁর খুব ভাব ছিল। সবাই হাতিকে খুব ভালবাসতো এবং তাঁদের সুখ-দুঃখের সকল কথা মন খুলে বলতো। 

একদিন হাতিটি তাঁর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল। আড্ডার এক পর্যায়ে হাতি তাঁর বন্ধুদের বল্লো- বন্ধু আমি শুনেছি, শহরের মানুষেরা একটা খেলা খেলে। সেই খেলা খেলতে বল লাগে, ব্যাট লাগে, ষ্ট্যাম্প লাগে আরও কি কি যেন লাগে। শুনেছি সেই খেলাটার নাম ক্রিকেট খেলা। আর সেই ক্রিকেট খেলা তাঁদের নাকি খুব প্রিয় খেলা। চলো আমরা সবাই মিলে ক্রিকেট খেলি। তখন এক শহুরে পাখি ভ্রূ কুচিকয়ে বল্লো- চাইলেইতো আর ক্রিকেট খেলা যায় না। শহুরে পাখির কথা শুনে শিয়াল পন্ডিতের খুব রাগ হলো। রাগ হয়ে বল্লো- বন্ধুগণ হ্যাঁ, সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে ক্রিকেট খেলার সব জিনিষ যোগার করে খেলাটা আমরাও খেলতে পারি। 

শিয়াল পন্ডিত বল্লো-ক্রিকেট খেলা আমি চুপি চুপি লুকিয়ে ঝোপের আড়াল থেকে অনেক বার দেখেছি। খুব ভালো খেলা। ব্যাট দিয়ে বল মারার খেলা, বল ধরার খেলা, বল ছুড়ে মারার খেলা, দৌঁড়া-দৌঁড়ির খেলা, খুব মজার খেলা। ভল্লুক মামা বল্লো- তাই নাকি, শিয়াল পন্ডিত? শিয়াল পন্ডিত বল্লো- হ্যাঁ, ভল্লুক মামা, ক্রিকেট খেলা খুব মজার খেলা। হাতি বল্লো- তাহলে চলো, আমরা আজ সবাই মিলে ক্রিকেট খেলবো। বুদ্ধিমান শিয়াল পন্ডিত উঠে বল্লো- হাতি ভাই, ক্রিকেটতো এমনি এমনি খালি হাতে খেলা যায় না। তুমিতো আগেই শুনেছো। ক্রিকেট খেলার জন্য দরকার ব্যাট, বল, ষ্ট্যাম্প, মাঠ, আরও কত কি। আবার তার সাথে সাথে ক্রিকেট খেলায় একজন আম্পায়ারও লাগে। সে খেলা পরিচালনা করে।

শিয়াল পন্ডিত বল্লো- আমি অনেক খেলা দেখেছি। আম্পায়ার কিভাবে খেলা পরিচালনা করে টচ কিভাবে করতে হয়, খেলোয়াড়রা কিভাবে আউট হয়, কিভাবে বল করলে নো বল আর ওয়াইড বল হয়, তাঁর সবই মনোযোগ সহকারে দেখেছি। আমি না হয় আম্পায়ার হয়ে খেলা পরিচালনা করতে পারবো। বাঘ মামা উঠে বল্লো- পন্ডিত মশাই আপনি না হয় আম্পায়ার হলেন, কিন্তু আর অন্য সব জিনিসগুলো কিভাবে যোগার হবে? তখন বানর ভাইয়া বল্লো- আমি ব্যাট আর ষ্ট্যাম্প তৈরী করে দিব। শিয়াল পন্ডিত বল্লো- বানর ভাইয়া, আমি তোমাকে ব্যাট আর ষ্ট্যাম্প বানানোর কাজে সাহায্য করবো। 

হাতি বল্লো- আমাদের মাঠতো আছে। তাহলে চলো খেলা শুরু করা যাক। শিয়াল পন্ডিত বল্লো- খেলা শুরু করতে গেলে বল লাগবে। বলটা পাবে কোথায়? আর বল তৈরী করা এত সহজ ব্যাপার নয়। সবাই চিন্তায় পড়ে গেল। এমন সময় শহুরে পাখি বল্লো- চিন্তার কিছু নেই। আমি দেখছি, বলে শহুরে পাখি ফুরুৎ করে উড়ে গেল শহরের দিকে। শহুরে পাখি দেখতে পেলো শহুরে মানুষরা মাঠে ক্রিকেট খেলছে। শহুরে পাখি মাঠের পাশের বিল্ডিংয়ে বসে খেলা দেখা শুরু করলো। আর বলের অপেক্ষায় রইলো। হটাৎ এক খেলোয়াড় ছক্কা মারলো। বলটি পাখির মাথার উপর দিয়ে ছাদে এসে পড়লো। পাখি এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো, আশে-পাশে কেউ নেই। শহুরে পাখি এক মুহুর্ত অপেক্ষা না করে ঠোঁটে বল নিয়ে উড়াল দিল বনের দিকে। ক্ষানিক সময়ের মধ্যে শহুরে পাখি বনে এসে পৌঁছালো। শহুরে পাখির ঠোঁটে বল দেখেই সবাই আনন্দে মেতে উঠলো।

সবাই মিলে খেলার আয়োজন সম্পন্ন করলো। সবার সুবিধার কথা চিন্তা করে খেলার দিন ধার্য করা হলো ছুটির দিন শক্রবারে। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বনের সকল পশু-পাখিকে খেলা দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলো। অবশেষে কাঙ্খিত খেলার দিন এলো। খেলা দেখার জন্য মাঠে সবাই দলে দলে উপস্থিত হলো। ১১ জন করে দু&#039;দলে ভাগ করা হলো। এক দলের ক্যাপ্টেন হাতি ভাইয়া। আর একদলের ক্যাপ্টেন ভল্লুক মামা। 

শিয়াল পন্ডিতের আম্পায়ারিংয়ে অবশেষে খেলা শুরু হলো। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং নিল ভল্লুক মামার দল। ভল্লুক মামার দল সব উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান তুললো। এবার ব্যাটিংয়ের পালা হাতি ভাইয়ার দলের। খেলা আবারও শুরু হলো। খেলায় টান টান উত্তেজনা। হাতি ভাইয়া একদিকে শুধু ছক্কা আর চার মেরেই চলেছে। আর অন্যদিকে হাতি ভাইয়ার দলের খেলোয়াড়রা কেউ ৪, কেউ ৬ আবার কেউ ০ রানে আউট হয়ে যাচ্ছে। অবশেষে হাতি ভাইয়ার সাথে শেষ ব্যটসম্যান হরিণ ব্যাট করতে নামলো। খেলার আর মাত্র ৪ বল বাকি, রান দরকার ৭। প্রথম দুই বলে কোন রানই হলো না। পরের বলে হরিণ বল স্কয়ারে ঠেলে দিয়ে কোনমতে ১ রান নিল। খেলার আর ১ বল বাকি। সবার দৃষ্টি মাঠের দিকে। হাতি ব্যাটিংয়ে আর ভল্লুক বোলিংয়ে। ভল্লুক সজোরে বল করলো হাতি বলের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখে সজোরে ব্যাট চালালো। বল চোখের নিমিষে একষ্ট্রা কভার দিয়ে মাঠের বাহিরে গহীন বনের ভেতর গিয়ে পড়লো। ছক্কা ছক্কা করে সবাই উল্লাসে ফেঁটে পড়লো। শেষ বলে ছক্কা মেরে হাতির দল বিজয়ী হলো।

ভল্লুকের দল হেরে যাওয়াতে ভল্লুক ও তাঁর দলের খেলোয়াড়রা দুঃখ পেলেও ক্রিকেট খেলতে পেরে তাঁরা সকলে খুব খুশি হলো। হাতি ও হাতির দলের খেলোয়াড়রাও ক্রিকেট খেলতে পেরে ও জয়লাভ করে খুব খুশি হলো। তাঁর সাথে সাথে দর্শকরাও নতুন একটি খেলা দেখতে পেরে খুশি হলো। অবশেষে সবাই নেচে-গেয়ে মনের আনন্দে বাড়ি ফিরলো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/230156/</link>
				<pubDate>Thu, 12 Jun 2025 04:29:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এই লেখাটি পোস্ট করেছিলো  ছেলেদের বাবা, আমার তুহিন &#8216; ২০১৭ সালে।<br />
তুহিন ,২০২০ সালের ২৩&#8217;মে আমাদেরকে একা করে , দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেছেন।<br />
&#8220;তুলট&#8221; মঞ্চে লেখাটি রেখে দিলাম।<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;</p>
<p>আমার ছোট ছেলে মোঃ রোহান আবরার মল্লিক &#8220;হাতি আর মাছির গল্প&#8221; লিখেছিল। সেই গল্পটা ওর মা তাঁর ফেসবুক পেইজে পোষ্ট করেছি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-230156"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/230156/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">634aafc7932cbc8ed71e5418529f6191</guid>
				<title>সন্তান যখন ছোটবেলায় কোন খেলনার জন্য বায়না ধরে তখন আমরা কি করি?
উত্তর হলো - কিনে দেই।
না কিনে দিয়ে কি উপায় আছে! কেঁদে কেটে বাড়ি মাথায় তুলবে যে।
মনে মনে ,কখনো প্রকাশ্যে ই বলি- আমার ছেলে!/ মেয়ের কি যে জেদ! 
সেদিন শপিং মলে যেয়ে একটা পুতুল /গাড়ি দেখে সেটা না নিয়ে আর বাড়িতে আসবেই না। অথচ একসপ্তাহও হয়নি ঠিক এই রকম ই একটা গাড়ি /পুতুল কিনে দিয়েছি।
কিন্তু কি করবো বলেন - শপিং মলের মেঝেতে গড়াগড়ি দিয়ে কান্না শুরু করে দিয়েছে। আমারতো লজ্জায় মাথা কাটা যায়, শেষে বাধ্য হয়েই কিনেই দিলাম।
আপনাকে বলছি- আপনার সন্তান কি চিরকাল ছোট ই থাকবে?
ওমা! তা কেন? সে বড় হবে না?
সে যখন বড় হবে তখনও কি খেলনা গাড়ি //পুতুল এর জন্য জেদ করবে?  নাকি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চাহিদাও  বাড়তে থাকবে?
খেলনা গাড়ির বা পুতুলের জায়গায় সত্যিকারের গাড়ি বা ম্যাক বুক হবে। তখন হয়তো শপিংমল এর মেঝেতে গড়াগড়ি দিবে না কিন্তু ততদিনে তো অন্য উপায় খুঁজে পেয়েছে সে। 
যখন প্রথম জেদ করে তার পছন্দের খেলনাটা সে আপনার কাছ থেকে আদায় করে নিলো , তখন কি আপনি আপনার ছেলে বা মেয়ের বিষয়ে কোন মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কর্মী সাথে কথা বলেছিলেন? 
নাহ্!  এই সামান্য বিষয় এর জন্য কেন শুধু শুধু কাউন্সেলর এর কাছে যাবো।
আজ কি সমস্যার নিয়ে এসেছেন?- আজ কয়দিন সে (ছেলে বা মেয়ে)খায় না, ঘুমায় নাহ্, বাড়ির জিনিস পত্র ভাংচুর করছে। ওর জন্য বাড়ির কেউ শান্তিতে থাকতে পারছিনা। 
কারণ কি?- সে গাড়ি নিবে, তার নিজের জন্য। বাড়িতে ওর বাবার গাড়ি আছে, সেটায় ওর হচ্ছে না। কতবার করে বলছি যে &quot;লেখা-পড়া শেষ করো আগে, তারপর দিবো।কিন্তু তাকে এখনোই দিতে হবে। ছোট বেলা থেকেই এমন জেদি। কিছু করেন , এভাবে চলতে থাকলে আমাদের বাড়িতে টেকা মুশকিল হয়ে যাবে।&quot;
আমাদের কাছে ক্লায়েন্ট আসেন তাঁদের বর্তমান সমস্যা নিয়ে। কিন্তু আমরা শুধু তাদের বর্তমান নিয়ে কাজ করি না। তাদের বর্তমানের সমস্যার শিকড় আছে তাদের অতীতে, তাই তাদের অতীত জানাটা আমাদের জন্য খুব ই দরকার। এরপর ক্রমান্বয়ে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করি।
অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি যে- আমাদের কাছে ৩ দিন, ৫দিন, ৭ দিন বা ২১ দিনের এন্টিবায়োটিক ডোজ নেই। বা নেই কোন জাদুর কাঠি। অতীত এর আগাছা ছাফ করতে কত সময় লাগবে সেটা নির্ভর করবে আপনি কতটা অযত্ন এবং অবহেলা করেছেন তার উপর। 
আচ্ছা বলুন তো- মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত আপনার আপনজনকে , যে কিনা নিরাময় যোগ্য নয় , জেনেও আপনি আপনার শেষ সম্বল দিয়ে হলেও কি চেষ্টা করেন না?
তাহলে আপনার আপনজন,যে মানসিকভাবে সুস্থতার জন্য আপনার সহযোগিতা ,সমানুভূতি  চাচ্ছে ,তার পাশে থাকায় কেন এত অবহেলা?
তাঁর সমস্যা টা কি  তিলে তিলে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে না? ক্যান্সার ডায়াগনোসিস হওয়ার পরে আপনি আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তাঁকে যমের বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনতে ,কিন্তু  মানসিক রোগ ডায়াগনোসিস হওয়ার পরেও আপনি সেটা লুকিয়ে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যেন কেউ না জানতে পারে। যেন কেউ না জানতে পারে যে,  সে একজন সাইকোথেরাপিস্ট বা সাইক্রিয়াটিস এর চেম্বারে যাতায়াত করছে।
সন্তান হতে হবে টপার, তানাহলে সমাজে আপনার কোন কদর থাকবে না, অন্যের সাথে গল্প করার আপনার কোন রসদ থাকবে না।
কখনো &quot;টপার&quot; সন্তানের মনের খবর নিয়ে দেখেছেন কি?
আসলে সে কতটা নিজের জন্য আর কতটা আপনাদের জন্য বেঁচে আছেন।
আমরা ডাক্তারদের মতো বলতে পারি না যে-রুগীকে  একদম শেষ মুহূর্তে নিয়ে এসেছেন। 
আসলে তাঁর মনের মৃত্যু যে অনেক আগেই হয়েছে , সেটা  আমরা বুঝতে পারলেও আপনাদেরকে বলতে পারি না। 
কারণ মনের খবর রাখার মত আপনাদের সময় এবং ধৈর্য্য কোনটা ই নেই এবং এর প্রয়োজনীয়তাও আছে বলে আপনারা মনে করেন না।
বিঃদ্রঃ উপরের উদাহরণগুলো মিথ্যে হলে খুশী হতাম, কিন্তু এগুলো সত্য।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/230022/</link>
				<pubDate>Thu, 05 Jun 2025 05:16:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সন্তান যখন ছোটবেলায় কোন খেলনার জন্য বায়না ধরে তখন আমরা কি করি?<br />
উত্তর হলো &#8211; কিনে দেই।<br />
না কিনে দিয়ে কি উপায় আছে! কেঁদে কেটে বাড়ি মাথায় তুলবে যে।<br />
মনে মনে ,কখনো প্রকাশ্যে ই বলি- আমার ছেলে!/ মেয়ের কি যে জেদ!<br />
সেদিন শপিং মলে যেয়ে একটা পুতুল /গাড়ি দেখে সেটা না নিয়ে আর বাড়িতে আসবেই না। অথচ একসপ্তাহও হয়নি ঠিক এই রকম ই একটা গাড়ি /পুতুল কিনে দিয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-230022"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/230022/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e7e3e5fbf9c32468eff4c0bba1fafd28</guid>
				<title>অপলার মামার কোন বইয়ে যেন পড়েছিলাম - হিমুর একজন বন্ধু ছিলো ,( বন্ধুর নাম মনে নেই) যাকে প্রশ্ন করলে সে উত্তর দিতো না। 
গতকাল থেকে ছোট পুত্র, পালক পুত্র, সবাইকে জিজ্ঞেস করলাম , কেউ গল্পের বইটার নাম বলতে পারলো না। পালক পুত্র বললো- আমাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ পাঠক হলো রোহান, কাজে কাজেই ওরই নামটা মনে রাখা উচিৎ ছিলো।  
ছোট পুত্র কিঞ্চিত লজ্জিত হলো( কারণ সে আমার গল্পের বইগুলো একবার না, বহুবার পড়ছে। আমার ধারণা তার যখন বান্ধবী হবে তাকে সে অপলার নামার বইগুলো মুখস্ত করে শোনাবে&#x1f61c;)
বড়পুত্র গল্পের বইয়ের নাম মনে করার চেষ্টাই করলো না( সে এখন প্রতিটি মুহূর্ত নিজের ইচ্ছে মত খরচ করছে)&#x1f607;।
তবে রোহান আমাকে ক্লু দিলো যে- সে উত্তর দিতো না এই কারণে যে- ছোট বেলায় স্কুলে যতবার উত্তর দিতো ,সেটা ভুল হতো এবং এর জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হতো।
যাক, আর বইয়ের নাম খোঁজা, খুঁজি করে সময় নষ্ট না করি। 
দায়িত্বটা বান্ধবী মুক্তির উপর ছেড়ে দিলাম, সে বলে দিতে পারবে আশা করি।

এবার আসি যে কারণে এত হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দিলাম, সেটায়।
তো আমারও হিমুর বন্ধুর মত সমস্যা আছে। বুঝিয়ে বলি- আমাকে যদি কেউ আদেশ করে তবে আমি সেটা করি না। কিছুতেই করি না , যদিও বা করি তবে সেটা নেহাৎ বাধ্য হয়ে। যে কেউ দেখলেই বুঝতে পারে, আমি এটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে করেছি।
আদেশ ভঙ্গিতে না বলে অন্যভাবে বললে আমি সেটা একদম পার্ফেক্টভাবে করি।
 
আমার বর্তমানটা সম্পূর্ণভাবে অতীত নির্ভর হয়ে গেছে। আমার ভালো থাকা , মন্দ থাকা সবটাই চলছে অতীত হাতড়ে। 
অতীত এর প্রতিদিনের  সবকিছুই স্মৃতি হিসেবে ফেসবুকে আসে, আমি সেইদিনটার সাথে আজকের দিনটাকে মিলিয়ে দিন শুরু করি। আমাদের প্রত্যেকটি ছবি আমাকে সুখস্মৃতি দেয়, ভুলিয়ে দেয় কষ্ট। 

তুহিন চলে যাওয়ার পরেও আমার মনে হয় না, তুহিন নেই আমাদের সাথে। যেহেতু আমরা দুজনেই অফিসের কাজে ঢাকার বাহিরে যেতাম, তাই এখনো মনে হয় তুহিন ট্যুরে গেছে। ( নিজেকে ভুলিয়ে রাখার কৌশল। ) 
হোকনা কৌশল ,তবুও তো ভালো থাকা যায়, এটাই বা কম কিসে?!

তুহিন চলে যাওয়ার পরে অনেকে বাসায় এসে বলেছিলেন - তুহিনের ছবিগুলো সরিয়ে ফেলতে। কিন্তু আমি তা করতে পারিনি। 
ধর্ম বিষয় এ আমার জ্ঞান একদম ই নেই। তবে আমি এটা বিশ্বাস করি যে- আমি স্বজ্ঞানে বা অবচেতন ভাবেও কোন অন্যায় কখনো করি নাই এবং ইন শা আল্লাহ করবোও না।
আমাদের সৃষ্টিকর্তা সকলকিছুই অবগত ( গোপন এবং প্রকাশ্য) , তিনি ই ভালো জানেন আমাদের প্রত্যেকের সম্পর্কে। 
আমি সত্যিই খুব ভাগ্যবান যে আমার জীবন এ অনেক ভালো বন্ধু পেয়েছি। 
তারা আমাকে খুব ভালোভাবে বুঝে এবং বোঝাতেও পারে। 
আমার বান্ধবীরা আমাকে অনেক সুন্দর ভাবে ( আদেশ করে না। ) বুঝিয়ে বলেছে যে আমার প্রিয় জন যারা আমার সঙ্গে নেই তাদের ছবি যেন আমি না দেই। তারা জানে তাদের কথা আমি রাখবো, এবং তারা এও জানে যে - স্মৃতিগুলো ই আমার চালিকা শক্তি।  
তারা বলেছে- তুই তোর প্রিয়জনদেরকে নিয়ে লেখবি, কিন্তু ছবি দিবি না।
তাই আজকের এই লেখা।২০১৯  সালের আজকের এইদিনে আমরা রাজশাহীতে ছিলাম, ঘুরে বেড়িয়েছিলাম রাজশাহী ইউনিভার্সিটির প্যারিস রোডে, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর এর আনাচে-কানাচেতে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/229347/</link>
				<pubDate>Mon, 19 May 2025 08:45:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অপলার মামার কোন বইয়ে যেন পড়েছিলাম &#8211; হিমুর একজন বন্ধু ছিলো ,( বন্ধুর নাম মনে নেই) যাকে প্রশ্ন করলে সে উত্তর দিতো না।<br />
গতকাল থেকে ছোট পুত্র, পালক পুত্র, সবাইকে জিজ্ঞেস করলাম , কেউ গল্পের বইটার নাম বলতে পারলো না। পালক পুত্র বললো- আমাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ পাঠক হলো রোহান, কাজে কাজেই ওরই নামটা মনে রাখা উচিৎ ছিলো।<br />
ছোট পুত্র কিঞ্চিত লজ্জ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-229347"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/229347/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">67281c9711b5156b8d9972e1dc673231</guid>
				<title>“Gabbar is back” মুভিটা তুহিন, ছোট ভাই এবং মেজভাই এর খুব পছন্দের মুভি ছিলো। তাই মুভিটা বহুবার ব্যাকগ্রাউন্ড মুভি(কাজের ফাঁকে ফাঁকে ) হিসেবে আমারও শোনা হয়ে যেত।ফলে আমার সংলাপগুলো প্রায় মুখস্থের পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো এবং বেশ ভালো লাগতো।(আমার এবং আমার পরিবারের হিন্দি মুভির প্রতি এই  প্রীতি শুনে যদি কেউ নাক উঁচু করেন , তবে তাদের জন্য এই পোস্ট টা না। কারণ আমার শুধু হিন্দি মুভি না, তার গানগুলোও অনেক পছন্দের )
।
নিকট অতীতের যে বিশাল উত্থান ঘটছে , তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বিশাল আশা করেছিলাম যে, বাংলাদেশ এর প্রতিটি যুবা, তরুণ এক একজন গাব্বার হয়ে প্রতিটি সেক্টর এ বিরাজ করবে।তাদের ভয়ে কেউ দূর্নীতি করার সাহস দেখাবে না।
কিন্তু নাহ্!  বর্তমান সেটা বলছে না।

&quot;ও মা তোর বদন খানি মলিন হলে , আমি নয়ন জলে ভাসি&quot;

শুভ দুপুর</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/229304/</link>
				<pubDate>Sun, 18 May 2025 08:16:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“Gabbar is back” মুভিটা তুহিন, ছোট ভাই এবং মেজভাই এর খুব পছন্দের মুভি ছিলো। তাই মুভিটা বহুবার ব্যাকগ্রাউন্ড মুভি(কাজের ফাঁকে ফাঁকে ) হিসেবে আমারও শোনা হয়ে যেত।ফলে আমার সংলাপগুলো প্রায় মুখস্থের পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো এবং বেশ ভালো লাগতো।(আমার এবং আমার পরিবারের হিন্দি মুভির প্রতি এই  প্রীতি শুনে যদি কেউ নাক উঁচু করেন , তবে তাদের জন্য এই পোস্ট টা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-229304"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/229304/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2ad488bad23efe394e66028768e27653</guid>
				<title>প্রিয় তুহিন,
আজ ঢাকার তাপমাত্রা ৩৬ডিগ্রি।
২০০১সালের আজকের দিনের তাপমাত্রা কত ছিলো সেটা আমার মনে নেই। তবে এটা খুব ভালো ভাবে মনে আছে যে, প্রচন্ড গরম ছিলো , কিন্তু ১২টার সময়ে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছিল।রাজশাহীতে তো এমনিতেই প্রচন্ড গরম থাকে।
আগের রাতে অর্থাৎ ১০ তারিখ রাতে বড় ভাই আমাকে একটা লো ডোজের সিডেটিভ দিয়েছিলেন, কারণ গত কয়েক রাত ঘুম হচ্ছিলো না।
ঘুম হবে কি করে তুহিন? বাসা ভর্তি লোক , আব্বা এতটাই অসুস্থ যে হাই ডোজের পেন কিলার দিয়ে তাঁকে রাখা হচ্ছিলো। বাসার কেউ রাতে ঘুমাতাম না, জেগে থাকতাম।
তাই বড় ভাই আমাকে ঘুমের ঔষধ দিয়েছিলেন।এবং বলেছিলেন যে, তোমার সাউন্ড স্লিপ দরকার। 
এটাও মনে নেই যে, সে রাতে আমার ঘুম কেমন হয়েছিলো। 
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেছিলাম। রাতে আমার সাথে স্বপ্না ছিলো। স্বপ্নার সাথেই পার্লারে গিয়েছিলাম। আজকে যে আমার বিয়ে , তাই সাজতে নিয়ে গিয়েছিলো।
পার্লার থেকে আসার সময়েই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। 
বাসায় আসার পরে সবাই বলছিলেন যে , বিয়ের দিনে বৃষ্টি হওয়া সৌভাগ্যের ইঙ্গিত বহন করে।
হায় এটা কি সৌভাগ্য! মাত্র ১৯ বছরের সংসার ছিলো আমাদের!
তুমি থাকলে এবছরের শুরুতেই তোমার সাথে আমার ঝগড়া হতো। কারণ তুমি ক্যালেন্ডার দেখে, খুশিতে ১১তারিখে বাহিরে যাওয়ার প্লান শুরু করে দিতে। আমি বলতাম- কি বলো? দুদিন পরে তোমার ছেলের পরীক্ষা , আর আমরা বেড়াতে যাবো, ওকে নিয়ে?
তোমার উত্তর কি হতো তা আমি বলে দিতে পারি। তুমি বলতে- পরীক্ষা হয়েছে তো কি হয়েছে? দুই/ তিন দিন না পড়লে কিছু ই হবে না। আর সাথে করে বই নিয়ে যাবে।
তুমি হ্যাঁ আর আমি না, এই ভাবেই শুরু হয়ে যেত আমাদের ঝগড়া। 
অবশেষে প্রতিবারের মতো তুমিই জিতে জেতে , আর আমি হাজার বিরক্তি নিয়ে যেতাম বেড়াতে তোমার সাথে। 
তুহিন ,
আমার, তোমার সাথে ঝগড়া করে হেরে যেতে খুব ইচ্ছে করে।
সবাই মিলে ঘুরে বেড়াতে খুব ইচ্ছে করে।
প্রতিদিনের সব কিছু তোমাকে বলতে খুব ইচ্ছে করে। 
তোমার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে খুব ইচ্ছে করে।
আমার সমস্যাগুলো তোমাকে বলতে খুব ইচ্ছে করে।
তোমার মতো সাহসী হতে খুব ইচ্ছে করে।
খুটিনাটি  সব কিছু তোমাকে বলতে খুব ইচ্ছে করে।
তোমার ছেলেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে খুব  ইচ্ছে করে। 
এমন হাজার হাজার ইচ্ছে আমার পূরণ হয় না। আমি কষ্টে থাকি তখন।
আমি শুধু আমার কথাটা বললাম।
তোমার ছেলেরাও এমন কষ্ট বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।
স্কুলে , কলেজে , ডাক্তারের কাছে, শপিং এ, ঈদে গ্রামের বাড়িতে না যেতে পেরে। এমন হাজারটা ইচ্ছা ওদের ও পূর্ণতা পায় না।  
আজ আমাদের বিয়ের ২৪ বছর। 
আর তুমি নেই ৫ বছর। 
তোমার হেনা
১১/০৫/২০২৫</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/229063/</link>
				<pubDate>Mon, 12 May 2025 10:16:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় তুহিন,<br />
আজ ঢাকার তাপমাত্রা ৩৬ডিগ্রি।<br />
২০০১সালের আজকের দিনের তাপমাত্রা কত ছিলো সেটা আমার মনে নেই। তবে এটা খুব ভালো ভাবে মনে আছে যে, প্রচন্ড গরম ছিলো , কিন্তু ১২টার সময়ে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছিল।রাজশাহীতে তো এমনিতেই প্রচন্ড গরম থাকে।<br />
আগের রাতে অর্থাৎ ১০ তারিখ রাতে বড় ভাই আমাকে একটা লো ডোজের সিডেটিভ দিয়েছিলেন, কারণ গত কয়েক রাত ঘুম হচ্ছিলো না।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-229063"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/229063/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b34e717c65de67622a0702c0e4e18e1d</guid>
				<title>&quot;আত্মকথন &quot;
আমি যখন বয়ঃসন্ধিতে, তখন আমার মুখে প্রচুর ব্রণ হতো।সেটাই স্বাভাবিক, কিন্তু আমার সমস্যা ছিলো আমি সেই ব্রণগুলো নখ দিয়ে টেপাটেপি করতাম।ফলে মুখ ভর্তি কালো কালো দাগ।কালো মুখে, কালো ছোপ ছোপ দাগ।
এই কারণে আমি কোথাও বের হতাম না, ছবিও তুলতাম না। আর হাতে সময় থাকলেই আয়না(আব্বার মটর সাইকেল এর রিজেক্ট আয়না) নিয়ে টেপাটেপি করতাম।
আমার কারণে বাসায় ড্রেসিং টেবিল এর আয়না ছাড়া আর কোন আয়না রাখা হতো না। বাসায় সবাই খুব বকাবকি করতো ব্রণ টেপার জন্য। সবচেয়ে বেশী বকা দিতো ছোট ভাই। বলতো- তুই তো রিক্সাওয়ালাদের মতো সুযোগ পেলেই ব্রণ টিপিস।(আমি অবশ্য কোন রিক্সাওয়ালাকে কখনও ব্রণ টিপতে দেখি নাই)
যেহেতু সেই বয়সটা ছিলো নিজেকে সুন্দর দেখেনোর, তাই এমন কিছু নাই যে ব্রণের জন্য করি নাই। যে যা বলতো সেটাই করতাম, তখনতো আর ইউটিউব ছিলো না।
আমার স্কিন ছিলো ওয়েলি, ঘুম থেকে ওঠার পরে মুখে এত্ত তেল বের হতো যে , চাইলে অনায়াসে একটা পরোটা সেই তেল দিয়ে বানানো যেত।
মুখে শ্বেত চন্দন ঘষে( খুব সুন্দর একটা পাথরের পাত্র ছিলো যেটাতে চন্দন ঘষা হতো) লাগাতাম।
আর একটা জিনিস লাগাতাম, আমি ১০০% শিয়র যে এটার নাম কেউ শুনে নাই। সেটা হলো- বেল গাছের কাঁটা। কেউ কি দেখেছেন ,বেল গাছের কাঁটা?
আব্বা দেশের বাড়ি থেকে বেলের কাঁটা নিয়ে আসতেন, আমি সেই কাঁটা পানি দিয়ে ঘষে ঘষে মুখে লাগাতাম।
আমার মনে হয় আমি সব বেলগাছের কাঁটা মুখে মেখেই গাছগুলোকে কাঁটা শূন্য করে ফেলেছিলাম &#x1f600;&#x1f606;।
কি করবো?  যেই দেখতো সেই বলতো- তোমার মুখে এত ব্রণ? কি যে কষ্ট পেতাম, সেই বয়সে সেটা কেউ বুঝতো না!
এবার আসি আমার চুলের গল্পে।
পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আমাকে টাক্কু করে দিতেন আম্মা। কারণ আম্মার বক্তব্য হলো- চুল যত বড় হতো আমার রাগও ততো আকাশচুম্বি হতো। আমাকে বশে রাখার একটাই উপায় ছিলো মাথা নাড্ডু করে দেওয়া। 
এরপর যখন থেকে চুল বড় রাখাতে আম্মা বাধ্য হলেন তখন থেকে আম্মা শুরু করলেন আমার কেশ চর্চা।
মাথায় আমলকি, মেথি , সিকাকাই বেটে লাগিয়ে দিতেন। তারপর কালো রংয়ের গোড়া কষা ফিতে দিয়ে টাইট করে টেনে বেনী করে দিতেন, বেনীর শেষে রংগীন ফিতা দিয়ে ফুল করে দিতেন। আর একটা মোটা ফিতে দিয়ে সেই বেনী মুড়িয়ে দিতেন, যেন বালিশে না লাগে, তেল , মসল্লা।
এভাবে টেনে বাঁধতে বাঁধতে আমার কপালটা বিশাল বড় হয়ে গেছে। 
মাসে ২বার পিঁয়াজ বেঁটে ,সেই রস কাপড়ে ছেঁকে মাথায় দিয়ে দিতেন।
আপনারা কি ম্যাডোনা এগ শ্যাম্পু দেখেছেন? দেখার কথা না, কারণ সেটা ১৯৪৭ সালে পাওয়া যেত। কি সুন্দর কাঁচের বোতল, মাঝখানে চাঁপা। সেই শ্যাম্পু দিয়েই চুল ধুতাম। 
কিন্তু আমি যখন ক্লাস এইট এ পড়ি, তখন দেখা গেলো আমার মাথার প্রায় অর্ধেক চুল পেঁকে গেছে।  নাহ্ শ্যাম্পুর কারণে নাহ্। এটা জেনেটিক। আমার বড়ভাইয়েরও একই অবস্থা ছিলো। 
তখন আমি যেটা করেছি এবং তার ফল ভোগ করছি এখনো। সারারাত রিঠা( একটা ফল) , আমলকি, সিকাকাই, পানিতে ভিজিয়ে রাখতাম, সকালে সেই পানি হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করলে ফেনা হতো। সেই ফেনা দিয়ে 
চুল পরিষ্কার করতাম। 
এটা একদম ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে।  এখন এই ৬৩ বছর বয়সেও আমার খুব অল্প কিছু ই চুল পাকা।
আমি আমার মাথায় আম্মা ছাড়া কাউকে হাত দিতে দিতাম না।এখনো কেউ আমার মাথায় হাত দিলে আমার খুব বিরক্ত লাগে। 
আগেই তো বলেছি আমাকে সবাই এপি কেশ তেল বলে ডাকতো। সুন্দর কেশের জন্য বিভিন্নজন গিফটও দিতো, যেমন - মেজভাই এর বন্ধু যার বোন তখন দেশের বাহিরে থাকতেন,সেই ভাই দারুণ সুন্দর একবক্স চিরুনী গিফট করেছিলেন আমাকে। কি যে সুন্দর ছিলো সেই চিরুনীগুলো!
এরপর যখন ইউনিভার্সিটিতে উঠলাম তখন ছোট ভাই কেয়োকার্পিন নামে একটা ইন্ডিয়ান তেল নিয়ে আসতো আমার জন্য সেটা ব্যবহার করতাম।
এরও পরে জনসন বেবি ওয়েল ব্যবহার করতাম। নারিকেল তেল চিপচিপে হয় জন্য সেটা কখনো ব্যবহার করি নাই।
এইতো গেলো আমার ব্রণ এবং কেশ সমাচার। 
এবার আসি আমি কিভাবে এই যাতাকল থেকে মুক্তি পেলাম।
বিয়ের পরে মুখে ব্রণের জন্য তুহিনের সাথে কোথাও বেড়াতে যেতে চাইতাম না। বিভিন্ন বাহানা দিতাম, ও নাছোড়বান্দা। তখন ওকে বলতাম- আমি যাবো না, আমার মুখ ভর্তি ব্রণ।
একটা কথা, তুহিন কিন্তু আমার ব্রণের জন্য কখনো কিছু বলে নাই। এটাও বলে নাই যে এত ব্রণ কেন, দেখতে খারাপ লাগে।
ও বলতো- ব্রণ হয়েছে তো কি হয়েছে?  ব্রণ হলে বেড়াতে যাওয়া যাবে না?
এরপর আমি আর কখনো ব্রণ নিয়ে মন খারাপ করি নাই।
আর চুল? সেটা আমি নিজেই ছোট করে ফেলেছি রাগ কমানোর জন্য। আম্মাতো নেই যে, মাথায় তেল দিয়ে মাথা ঠাণ্ডা করবেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/228896/</link>
				<pubDate>Wed, 07 May 2025 05:35:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;আত্মকথন &#8221;<br />
আমি যখন বয়ঃসন্ধিতে, তখন আমার মুখে প্রচুর ব্রণ হতো।সেটাই স্বাভাবিক, কিন্তু আমার সমস্যা ছিলো আমি সেই ব্রণগুলো নখ দিয়ে টেপাটেপি করতাম।ফলে মুখ ভর্তি কালো কালো দাগ।কালো মুখে, কালো ছোপ ছোপ দাগ।<br />
এই কারণে আমি কোথাও বের হতাম না, ছবিও তুলতাম না। আর হাতে সময় থাকলেই আয়না(আব্বার মটর সাইকেল এর রিজেক্ট আয়না) নিয়ে টেপাটেপি করতাম।<br />
আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-228896"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/228896/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">218c3e02c36dcc20034da55119a81d3b</guid>
				<title>রাহেনা বেগম changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/228795/</link>
				<pubDate>Sun, 04 May 2025 14:10:34 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7c4725d3bf9d248500a9c5e358920b5a</guid>
				<title>আমার মা ছিলেন খুবই সাধারণ একজন। আব্বা পুলিশ অফিসার ছিলেন। তাই আমাদের &quot;Orderly&quot; ছিল। কিন্তু আমার আব্বা এবং আম্মা পারতঃপক্ষে তাঁদের দিয়ে কাজ করাতেন না। বাজার করত আমার মেজ ভাই। আম্মা গরু ছাগল পালতেন। এ সবের খড় কাঁটা থেকে শুরু করে সব কিছুই আমার ভাইরা করত। (আমার মেজ ভাই প্রতি বৃহষ্পতিবার আমেরিকা থেকে আমাকে ফোন দেয়। কারণ এই দিন তার লন্ড্রি করার দায়িত্ব। সে ফোন করেই বলে &quot;রুনা, কি করছিস্।&quot; তাঁর পর শুরু করে &quot;আম্মা আমাকে দিয়ে গরুর ছাগলের ঘাস কাঁটাতো, আব্বার কোথাও বদলী  হলে আমাকে গরু নিয়ে হেঁটে ২ দিন আগেই পাঠিয়ে দিত। সেই কাজ আমেরিকায় আসার পর এখনও চলছে। তোঁর ভাবী  আমাকে দিয়ে লন্ড্রি করায়।&quot; আমি তখন বলি - আপনিতো এই কাজ করতে পছন্দ করেন, ভাবীতো সব কাজ করতে পারে আর এই কাজ পারবেনা?)। আব্বার  
&quot;Orderly&quot; যারা ছিলেন তাঁদের সাথে আম্মা কখনোই খারাপ ব্যবহার করেন নি, তাঁরা আম্মাকে ভাবী বলে ডাকতেন, আর আমরা তাঁদের কাক্কু বলে ডাকতাম। কখনোই বিলাসী জীবন যাপন করতে দেখিনি আমার আম্মাকে। থানা কোয়ার্টার থেকে যখন পাড়ায় (কোয়ার্টারের বাহিরের বাসায়) আসলাম তখনও আম্মার সবার সাথে অনেক অনেক ভাব ছিল। সময় পেলেই তিনি সবার বাসায় যেতেন, কিন্তু কখনও কারো বাসায় কিছুই খেতেন না তিনি। তবে কেউ আমাদের বাসায় আসলে তাঁকে আম্মা না খাইয়ে ছাড়তেন না। আমরা যদি খেতে দেরী করতাম তাহলে আম্মা অস্থির হয়ে যেতেন। বাড়িতে কেউ এলেই আম্মা তাঁকে খাওয়ানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়তেন আর আব্বা মশাড়ি টাঙ্গানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন মানে যে এসেছেন তাঁকে রাতে যেতে দেওয়া হবে না থাকতে হবে। এই ছিলেন আমার আম্মা আর আব্বা।
আমার এখনও মনে আছে, আব্বা আম্মার জন্য নতুন শাড়ী কিনে নিয়ে এসেছেন, এরপর আম্মা এবং আমাকে নিয়ে কল্পনা হলে (রাজশাহীর) সিনেমা দেখতে গেছেন। শুধু তাই না থানার দায়িত্বে যারা থাকেন তাঁদের জন্য ফ্রি বক্সের টিকিট, কিন্তু আমার আব্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেঁটেছেন। এই দেখে সিনেমা হলের একজন এসে বলেছিল- স্যার, আপনি কেন লাইনে দাঁড়াবেন? আপনি বসেন, আপনার জন্য সিনেমার টিকিট ফ্রি। এ কথাগুলো শুনে আব্বা তাঁকে বলেছিলেন- আমাকে টিকিট কাঁটতে দাও, না হলে তোমাকে ধরে নিয়ে জেলে ঢুকাবো ঘুষ দেওয়ার অপরাধে। সিনেমার (Movie) নাম ছিল - &quot;দিন যায় কথা  থাকে।&quot; নায়ক নায়িকা কে কে ছিল তা মনে নেই কিন্তু আব্বা আম্মার এ ঘটনাগুলো ছবির মত এখনও চোখের সামনে ভাসছে।

আম্মা আমাকে লায়লা বলে ডাকতেন, কিন্তু মাঝে মাঝে &quot;তোতন&quot; বলেও ডাকতেন। আজ  আম্মার মৃত্যুবাষির্কী। এ মাসের ৩১ তারিখে আব্বার। আল্লাহ্ তালা তাদের বেহেস্ত নসিব করুন। 
আমিন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/228731/</link>
				<pubDate>Sat, 03 May 2025 09:18:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার মা ছিলেন খুবই সাধারণ একজন। আব্বা পুলিশ অফিসার ছিলেন। তাই আমাদের &#8220;Orderly&#8221; ছিল। কিন্তু আমার আব্বা এবং আম্মা পারতঃপক্ষে তাঁদের দিয়ে কাজ করাতেন না। বাজার করত আমার মেজ ভাই। আম্মা গরু ছাগল পালতেন। এ সবের খড় কাঁটা থেকে শুরু করে সব কিছুই আমার ভাইরা করত। (আমার মেজ ভাই প্রতি বৃহষ্পতিবার আমেরিকা থেকে আমাকে ফোন দেয়। কারণ এই দিন তার লন্ড্রি করার দ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-228731"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/228731/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">abde825749e0969a7ffe8f766ca609aa</guid>
				<title>অপলার মামার বই, মনে হয় নামটা &quot;মন্দ্রসপ্তক&quot; পড়ে আমি গভীর রাতে (লেখাপড়া শেষ করে) হিঃ হিঃ করে হাসছিলাম। পাশের রুম থেকে আম্মা উঠে এসে জানতে চাইলেন আমি এত রাতে কেন হাসছি? আম্মাকে উত্তর পর্যন্ত দিতে পারছিলাম না। হিঃ হিঃ, হিঃ হিঃ করে হেসেই যাচ্ছি। আম্মা রাগ করে চলে যেতে যেতে বলেছিলেন - &quot;কি লিখে লোকটা? যেটা পড়ে তুই রাত দুপুরে হিঃ হিঃ করে হাসিস?&quot; 

বই-এ লিখা ছিলো - ভাই তার বোনের ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করেছে। ভাই প্রায়ই এই কাজ করে। কারণ ভাই মনে রাখতে পারে না কোনটা তার ব্রাশ, আর কোনটা তার বোনের ব্রাশ। একদিন বোন এটা বুঝে ভাইয়ের সাথে গন্ডগোল শুরু করে। আর তার সাথে কান্নাকাটি করে শেষ। এ রকম ঘটনা মাঝে মাঝে আমারও ঘটে।

যাই হোক, গল্পটা আমি ঠিক মত গুছিয়ে লিখতে পারলামনা। তাই হয়তো কারো হাসি আসছেনা। না আসুক আমিতো কাউকে হাসানোর জন্য লিখছিনা। আমি অন্য কারণে লিখছি। কারণটা হলো আমিও গত রাতে ঠিক এই কাজ করেছি। এ রকম ঘটনা মাঝে মাঝে আমারও ঘটে। আগে এরকম ঘটনা ঘটলে আমি সারারাত ধরে বমি করতাম। পারলে মুখের মধ্যে লবণ- গরম পানি দিয়ে, পারলে......... দিয়ে পরিষ্কার করতাম। কিন্তু আমি আসলেই এখন &quot;Senior Citizen&quot; এর দলে চলে গেছি। তাই চুপচাপ হজম করে থেকে গেলাম। (আমার ভাই ও বোনের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেরা প্রায় বলে তারা নাকি Senior Citizen-দের জন্য Facebook-এ শান্তি মত ঢুকতে পারে না)। 

আমি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠি। উঠেই দুই চুলার ১টাতে চা-এর পানি অন্যটাতে রুটি সিদ্ধ করার পানি তুলে দেই। পরবর্তীতে দেখা যায়, রুটির পানিতে চা- পাতা, আর চা-এর পানির মধ্যে আটা দিয়ে দিয়েছি। 
এছাড়াও আমার দুই পুত্র - রেহান, রোহান দু&#039;জন ঝগড়া করে নালিশ নিয়ে এলো আমার কাছে। দেখা গেল আমি যে দোষ করেছে তাকে না বকে অন্য জনকে বকা দিচ্ছি। তখন সে বলে- আম্মু আমি রোহান, তুমিতো রেহানকে বকা দিবে। এই হলো আমার ইদানিং কালের অবস্থা। কিন্তু আমি যখন ক্লায়েন্ট-এর সাথে সেশনে বসি, তখন তার সবকিছুই আমার মনে থাকে। ৬ মাস পরে ক্লায়েন্ট আসলেও আমি তার History না দেখেই সব বলতে পারি। 

ক্লায়েন্ট যখন সেশন শেষে বলে - ম্যাডাম, আমি যে হাসতে পারি এটাই ভুলে গিয়েছিলাম, আপনি আবার আমাকে হাসতে শেখালেন। এই প্রাপ্তির কাছে বাঁকি সব মিথ্যা মনে হয়। 

ধন্য আমার জীবন, আমি পরিপূর্ণ প্রাপ্তিতে।
২৯/০৪/২০১৯</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/228627/</link>
				<pubDate>Tue, 29 Apr 2025 16:22:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অপলার মামার বই, মনে হয় নামটা &#8220;মন্দ্রসপ্তক&#8221; পড়ে আমি গভীর রাতে (লেখাপড়া শেষ করে) হিঃ হিঃ করে হাসছিলাম। পাশের রুম থেকে আম্মা উঠে এসে জানতে চাইলেন আমি এত রাতে কেন হাসছি? আম্মাকে উত্তর পর্যন্ত দিতে পারছিলাম না। হিঃ হিঃ, হিঃ হিঃ করে হেসেই যাচ্ছি। আম্মা রাগ করে চলে যেতে যেতে বলেছিলেন &#8211; &#8220;কি লিখে লোকটা? যেটা পড়ে তুই রাত দুপুরে হিঃ হিঃ করে হাসিস?&#8221; </p>
<p>বই-&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-228627"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/228627/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">03bcd0bb73a0ebae53ab676fcec0d31e</guid>
				<title>আমার ছোট বেলায় ঈদে আম্মা কি রান্না করবেন, সেটা যেন নির্ধারিত ই থাকতো। দুই পদের সেমাই, পায়েস আর বুটের হালুয়া। যদিও সবাই শবেবরাত এ বুটের হালুয়া বানায়, আমাদেরও বানাতেন। কিন্তু দুই ঈদে অবশ্যই পালনীয় হিসেবে আম্মা বুটের হালুয়া বানাতেন। আম্মার বুটের হালুয়া অনেক ,অনেক মজা হতো।
এর বাহিরে কখনো কিছু নতুন আইটেম বানানোর কথা যে বলা যায় এটাই আমরা জানতাম না , প্রয়োজন ও মনে করতাম না।আম্মা এই সব নাস্তাই ঈদের দিন সকালে বানাতেন।আমরা যেমন একদিন আগে থেকে বানিয়ে ফ্রিজে রাখি, সেরকম করতেন না আম্মা। 
কিন্তু এখন ইন্টারনেট এর অবদানের ফলে বিশ্বের কোথায় কে ঈদে কি কি রান্না করছেন সব জানা যায়। এরই খেসারত দিতে হয় আমার মত অকর্মার ঢেকি কে।
ছোট তনয় কিছু দিন থেকেই বলছে- আম্মু তুমি কাবুলি পোলাও রান্না জানো? বললাম- বাবা, আমি জীবন এ সোনার বাংলার বাহিরে কোথাও যাই নাই। কাবুল তো দূরের কথা।কাবুল গেলে ,ফিরে এসে লেখে ফেলবো- কাবুলের দিনগুলো অথবা কাবুলের পথে, প্রান্তরে।আর যদি খাদ্য বিষয়ক বই লেখি তবে লেখবো- কাবুলি ওয়ালার খাদ্য বিলাস। 
তনয় বললো- ইউটিউবে দেখে নেও।
উল্লেখ্য ইউটিউব দেখে দেখে হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি রান্না শিখেছি এবং খুব সফল ভাবে &quot;ওয়ান ও ওয়ান &quot;(101) সার্টিফিকেট ও অর্জন করেছি তনয়দের কাছ থেকে।
এবার ছোট তনয় কাবুলি পোলাও এর জন্য আগুন ধরালো আর বড় তনয় তাতে বাতাস দিলো।অর্থাৎ  কাবুলি পোলাও জয়লাভ করলো মানে আমাকে ঈদে এটাই রান্না করতে হবে , একদম ফাইনাল। কি আর করা! মোবাইল হাতে ,ইউটিউব দেখে দেখে রান্না করলাম। ঠিক পরীক্ষা হলে ঢুকে প্রশ্ন পত্র পাওয়ার আগ মুহুর্তের মত দুরু দুরু বক্ষে অপেক্ষায় থাকলাম। দেখা যাক রেজাল্ট কি বের হয়? ঝু্ঁটি নাই, উজ্জ্বলতম তারা( লুন্ধক) সেও তার খুচরা পাপের জন্য &quot;তওবা &quot; করা নিয়ে ব্যস্ত(মুরগি বসন্ত হয়েছে , তার মার মন্তব্য - খুচরা পাপ করেছিস, তাই ঈদের সময় তোর মুরগী বসন্ত হয়েছে।  তওবা করতে থাক)।কাজেই সে আসতেও পারছেনা, আবার আমার তনয়দেরকে যেতেও নিষেধ করে দিয়েছেন ভাবি।পাছে মুরগি বসন্ত আমাদের বাসাতেও মেহমান হিসাবে চলে আসে।
উজ্জ্বল তারা আবার ফেরদৌসীর রান্নার পরে আমার রান্না খেতে পছন্দ করে।
রান্না হলো শেষ , এবার তেনাদের খাদ্য ভক্ষণ এবং দুরু দুরু বক্ষে আমার অপেক্ষা। ছোট তনয় বললো- ১০ এ ৯ দিলাম।এক নাম্বার কম দিলাম যেন পরের বার আরও ভালো হয়। বড় তনয় বললো- ভালো হয়েছে। শিহাব ২য় বার( সে সাধারণত একবারই নেয়) নিয়ে বললো ভালো হয়েছে। 
যাক, আমি পাস করেছি,আমি পাস করেছি।
মনে মনে বললাম- ইন শা আল্লাহ আমার দুই কন্যা আসুক আগে। ঈদের আগে দুই কন্যাকে নিয়ে পার্লারে যেয়ে অক্সিজেন , হাইড্রোজেন করে , আমি ইন্দ্রিয়া গান্ধীর মত আর আমার মেয়ে দুইজন কে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মত হেয়ার কার্ট দিবো। তারপর তিন মা, মেয়ে মিলে ফুরুৎ করে উড়ে যাবো। তনয়রা দেখবে- পক্ষী উড়ে গেছে ,পড়ে আছে তার ছায়া। তখন আর ঈদের মেন্যু দিতে হবে না, বরং আমাদেরকে খুঁজতে , খুঁজতে অবস্থা নাস্তানাবুদ হবে&#x1f923;&#x1f600;&#x1f603;।
আহ কি মজা টাই না হবে!!

বিঃদ্রঃ খাবারের ছবি দিলাম এই কারণে যে, আমার কন্যারা যখন আসবে তখন তো আমার এগুলো মনে থাকবে না।ছবি আমাকে মনে করিয়ে দিবে।
২২/০৪/২০২৪</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/228376/</link>
				<pubDate>Tue, 22 Apr 2025 05:08:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার ছোট বেলায় ঈদে আম্মা কি রান্না করবেন, সেটা যেন নির্ধারিত ই থাকতো। দুই পদের সেমাই, পায়েস আর বুটের হালুয়া। যদিও সবাই শবেবরাত এ বুটের হালুয়া বানায়, আমাদেরও বানাতেন। কিন্তু দুই ঈদে অবশ্যই পালনীয় হিসেবে আম্মা বুটের হালুয়া বানাতেন। আম্মার বুটের হালুয়া অনেক ,অনেক মজা হতো।<br />
এর বাহিরে কখনো কিছু নতুন আইটেম বানানোর কথা যে বলা যায় এটাই আমরা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-228376"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/228376/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6b59baf1ac9a07d4304787fbf771dff5</guid>
				<title>ঘটনা -১
রিদওয়ান (২ বছর ৫ মাস)।
রিদওয়ান তার  দাদীকে মাস্ক ও নিজের জুতা এনে দেয় এবং পড়িয়ে দিতে বলে। দাদী তার কথা মতই কাজ করেন। এরপর রিদওয়ান বলে - চলো বাহিরে বেড়াতে যাই।
দাদীর উত্তর - নাহ্ ভাইয়া বাহিরে যাওয়া যাবে না!
এরপর রিদওয়ান তার দাদীকে ব্যাগ দিয়ে বলে - যাও তুমি চলে যাও (দাদী তাদের কাছে মাঝে, মাঝে থাকে, রিদওয়ান তার দাদীকে খুব ভালোবাসে। দাদী চলে যেতে চাইলে সে কান্নাকাটি করে)। 
এরপর সে প্রচন্ড কান্নাকাটি করে, দাদীকে মারে।
রিদওয়ান এর আব্বু, আম্মু দু&#039;জনই জব করে। সে &quot;ডে কেয়ার&quot; সেন্টারে থাকতো। দাদী যখন তাদের সাথে থাকে তখন, বিকাল বেলায় যেয়ে রিদওয়ানকে ডে কেয়ার  সেন্টার থেকে নিয়ে আসতো।
সূত্রঃ রিদওয়ানের দাদী (আমার বড় বোন)।

ঘটনা - ২
রাওনাফ (১ বৎসর ৭ মাস)
সে তার প্রতি বেলার খাওয়ার মার সাথে তাদের Apartment এর নীচে পার্কে যেয়ে খেতো। এখন করোনার কারণে বাড়ির বাহিরে যেতে পারে না। খাওয়ার সময় হলেই সে তার আম্মুকে দরজা খুলে দিতে বলে। প্রথম কিছু দিন তাকে ভুলিয়ে রাখা গেলেও বর্তমানে সে দরজাতে গিয়ে ধাক্কা দেয়, খুলে না দিলে দরজাতে মাথায় আঘাত করে।
সূত্রঃ রাওনাফের নানা এবং আম্মু (আমার ভাই এবং ভাস্তি)।

ঘটনা  - ৩
সময়ঃ রাত্রি ১.৩০
স্থানঃ রাজিয়াসুলতানা রোড
এক কিশোর (১৩/১৪ বৎসর), ব্যালকনিতে এসে প্রচন্ড চিৎকার করছে- আমাকে ছেড়ে দেও, আমি এভাবে থাকতে পারবোনা, আমি মরে যাবো, আমাকে ছেড়ে দেও। ছেলেটার বাবা- মা তাকে জোর করে চেপে ধরে রেখেছে এবং ঘরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। 
মোহাম্মদপুর এর বেশ কয়েকটি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। নিজ নিজ বাড়ি মালিকগণ মেইন গেট তালা দিয়ে রেখেছেন সবার নিরাপত্তার জন্য। 
সূত্রঃ মাহিন, শিহাব, (আমার ভাই এবং বোনের ছেলে) যারা ওই এলাকায় আছে, ওদেরই সামনের ফ্ল্যাটের ঘটনা। 

ঘটনা - ৪
রেহান, রোহান (বয়স যথাক্রমে ১৩ এবং ১১) 
আমাদের বাড়িতে দুটো দরজা, তারা প্রতিদিন একবার খুব গোপনে (আমি যখন রান্না করি) অন্য দরজা দিয়ে গিয়ে মেইন দরজায় কলিং বেল বাজাচ্ছে। কারণ তারা অনেক দিন থেকে কলিং বেলের আওয়াজ পায় না। কলিং বেল দিয়ে তাদের প্রিয় মানুষরা (ভাইয়ারা) আসতো। এখন তাদের আসার শব্দটাই তারা শুনতে চায়, বিকল্প হিসেবে নিজেরা বাজিয়ে অনুভূতিটা পেতে চাচ্ছে।
সূত্রঃ রেহান, রোহানের আম্মু।

এরকম হাজারটা, রেদওয়ান, রাওনাফ, রেহান, রোহানদের ঘটনা ঘটছে প্রতিটি বাড়িতে, প্রতিদিন। কোয়ারেন্টিনে থেকে তারা মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।
যেটার প্রভাব তাদের শারীরিক সুস্থ্যতাকেও ব্যহত করছে। 
আসলে আমরা কেউই এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এই অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। তাই আমরা বড়রাই নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে পারছিনা, এটাই স্বাভাবিক। এ সময় আমরা Anxiety-তে ভূগছি। ভালোভাবে নিজের যত্ন নিতে পারছিনা, পাশাপাশি বাড়িতে থাকা শিশু কিশোরদেরকেও সাহায্য করতে পারছিনা। 
নিজেদের (বাবা- মার) Anxiety ছড়িয়ে পড়ছে সন্তানের উপর। আসুন নিজের যত্ন নেই, নিজে ভালো থাকি এবং শিশু, কিশোরদের ও ভালো রাখি।

কি করতে পারি??

# শিশুদেরকে প্রচুর সময় দেইঃ
তাদের নিয়ে পুরনো এলবাম দেখি। তাদের ছোট বেলায় তারা কি করতো? তাদের জন্মটা আমাদের কাছে কত গুরুত্ব বহন করে, তা তাদের জানাই। আমাদের ছোট বেলা কেমন কেটেছে? কিভাবে সময় কাটাতাম। ছবি দেখিয়ে পরিবারের সবার সাথে আমার সম্পর্ক, কাটানো সময়, আনন্দের স্মৃতি গুলো বলি। (আমার ছেলেরা ছবি দেখতে দেখতে একটা খেলা বের করেছে- সেটা হলো - আমি আমার বাবা, দাদা... এভাবে কয় প্রজন্মের নাম জানি)।

# পরিস্থিতিকে মেনে নেওয়াঃ আমরা একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। সবাই ভয় পাচ্ছি, আতঙ্কিত হচ্ছি। এটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা বেশ কিছু জিনিস ইতিমধ্যে জানতেও পেরেছি, যেগুলো পালন করলে আমরা নিরাপদ থাকতে পারি। আর সেগুলো আমরা মেনেও চলছি। (আমি রেহান, রোহানকে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আসার আগেই কিছু মুভি দেখিয়েছি,যেমন- Parasite,  Contagion, The Flu etc).
Parasite - দেখিয়ে বলেছিলাম কি বুঝলে? উত্তর - &quot;টয়লেট এর উপরে উঠলে WiFi  পাওয়া যায়।&quot;
আর কিছু? হ্যাঁ - ছেলেটা খুব চালাক, তাদের পরিবারের সবাইকে চাকরিতে ঢুকিয়েছে! 
আর?  
নাহ্ তুমিই বলো।
আমি- একজন যে দীর্ঘদিন ব্যজমেন্টে ছিলো, সে তার অল্প খাবার, নিয়ে একটা ঘরে কাটিয়ে দিয়েছিল। সে সেখানে শুধু তার জীবন কাটায়নি অনেক কিছু তৈরিও করেছে। তার মালিককে খুশী করার জন্য লাইট অন করতো, মালিক বাড়িতে আসলে, কোড ওয়াডে ম্যাসেজ ও দিত।
সে ওখানে ছিল বাঁচার জন্য, কিন্তু সে তার সেই জীবনকে মেনে নিয়েছিল বলেই বেঁচে থাকতে পেরেছিলো
Contagion, The Flu, Pandemic-এ আমরা কি দেখলাম? 
ভ্যাকসিন খুব সহজে বানানো যায় না। অনেক টেস্ট করানোর প্রয়োজন হয়। Antibody তৈরি করতেও একই ব্যাপার। তাই আমাদেরকে জানতে হবে এবং মানতে হবে এই ভাইরাসকে কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়। আমাদের সৌভাগ্য আমরা তা জানি, এখন আমাদের দ্বায়িত্ব হলো এগুলো মেনে চলা।

# পছন্দের কাজ খুঁজে বের করাঃ
আমরা এখন  আমাদের পছন্দগুলো পূরণ করার সময় পেয়েছি। দিনের সময়কে ভাগ করে নিয়ে পছন্দের কাজগুলো করবো। হতে পারে সেটা - ছবি আঁকা, গল্প লিখা, গল্পের বই পড়া, গান শোনা, দাবা খেলা, লুডু খেলা, ঘর গোছানো ইত্যাদি ইত্যাদি। পছন্দেরতো শেষ নেই! 
রিদওয়ান এবং রাওনাফ এর আম্মুও কিন্তু এই সময় অনেক মজার মজার কাজ করতে পারে ওদের নিয়ে। ঘর গোছানো, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, মাকে আলু, পটল, পিয়াজ এগিয়ে দেওয়া, চশমা এনে দেওয়া। প্লেটে ভাত দিয়ে এক সাথে বসে খেতে পারে, খাওয়ার পরে বেসিনে সেগুলো রেখে আসা। এগুলো করতে শিশুরা পছন্দ করে। 
মাঝে মাঝে মা, বাবারা শিশুদের সাথে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে, বিভিন্ন মজার খেলায়। 

# দূরত্ব সেটা শুধু ই শরীরেরঃ 
সন্তানদের বোঝাতে হবে এ দূরত্ব শুধুই শরীরের,  মানে একজনের কাছে যাওয়া যাবে না, তার মানে কিন্তু আমাদের মনের দূরত্বের উপর কোনই বাঁধা নেই। 
আমরা আমাদের সব প্রিয়জনের সাথে ভিডিও কলে, অডিও কলে এখন আগের থেকে অনেক বেশী কাছে আছি, কারণ আমাদের হাতে এখন আগের চেয়ে অনেক সময়।

# পড়াশোনার জন্য চাপ দেওয়া যাবে নাঃ
এই অস্বাভাবিক সময় যেনো শিশুদের জন্য আরো বিভিষিকাময় না হয়। আগে সময় পাইনি, &quot;এখন পাইছি তোদের&quot; এমন ভাবা যাবে না। মনে রাখতে হবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সব সময়ই আগে, পরে তাদের গ্রেড।

# পুষ্টিকর খাদ্যঃ করোনা মোকাবেলায় আমাদের পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেতে হবে।
যেহেতু, বাড়িতেই আছি আমরা তাই নিয়ম করে ভিটামিন ডি এর জন্য রোদে বসতে পারি।

# শরীরচর্চাঃ ভাইরাস মোকাবেলায় আমরা পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শরীর চর্চাও করবো। ছাদে সন্তানদের নিয়ে গিয়ে প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি করবো। ব্রিদিং এক্সারসাইজ,  মাইন্ডফুলনেস এক্সারসাইজ করবো এবং সন্তানদেরও করাবো।
যার যার ধর্ম পালন করবো।
রেহান, রোহান এবং তার বাবা তিন জনে জামাত করে নামাজ পড়ে। আলহামদুলিল্লাহ্। 

আসুন আমরা আমাদের প্রিয়জনদের নিয়ে খুব সুন্দরভাবে নিয়ম মেনে,আতঙ্কে নয়, ভয়ে নয়, আনন্দে সময় কাঁটাই। যেনো এই মহামারী থেকে যখন আমরা আল্লাহ্ তালার রহমতে মুক্তি পাবো তখন যেনো বলতে পারি - আল্লাহ্ আমাদের একসাথে থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন এবং আলহামদুলিল্লাহ্ আমরা তার স্বদব্যবহার করেছি।
রেহান, রোহান এখন গান শুনছে, কি গান শুনছে জানেন? - 

&quot;আমরা করবো জয়&quot;
সবাই বাড়িতে থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন।
১৩/০৪/২০২০</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/228170/</link>
				<pubDate>Wed, 16 Apr 2025 06:48:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঘটনা -১<br />
রিদওয়ান (২ বছর ৫ মাস)।<br />
রিদওয়ান তার  দাদীকে মাস্ক ও নিজের জুতা এনে দেয় এবং পড়িয়ে দিতে বলে। দাদী তার কথা মতই কাজ করেন। এরপর রিদওয়ান বলে &#8211; চলো বাহিরে বেড়াতে যাই।<br />
দাদীর উত্তর &#8211; নাহ্ ভাইয়া বাহিরে যাওয়া যাবে না!<br />
এরপর রিদওয়ান তার দাদীকে ব্যাগ দিয়ে বলে &#8211; যাও তুমি চলে যাও (দাদী তাদের কাছে মাঝে, মাঝে থাকে, রিদওয়ান তার দাদীকে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-228170"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/228170/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7fdde6b764bda6ab4908cb1da49bdaaa</guid>
				<title>রোহান আমার ছোট ছেলে সে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। তাকে আমি নাগরিক অধিকার পড়াছিলাম। সামাজিক  অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার,এই গুলো পড়াচ্ছিলাম। প্রত্যেক অধিকার বুঝাতে তাকে বাস্তব উদাহরণ দিয়ে আমি বুঝিয়ে থাকি। যেমন- &quot;বেঁচে থাকার অধিকার সকল অধিকারের মধ্যে অন্যতম।&quot;
 তুমি যেখানে যে পেশায়, যে অবস্থায় থাকো না কেন তোমার বেঁচে থাকার অধিকার আছে।
তবুও আমরা মানুষ,  তাই অনেক সময় আমরা আমাদের নিজেদের জীবনকে না বাঁচিয়ে অন্যকে বাঁচিয়ে রাখি।
যেমন ফায়ার ফাইটার সোহেল। তিনি কিন্তু নিজের জীবন এর কথা চিন্তা না করে অন্যদেরকে বাঁচিয়েছেন।

আমি রোহানকে আইনের অধিকার বোঝাতে গিয়ে দ্বিধা দ্বন্দে পড়েছি। বই এ লিখা আছে- আইনের চোখে সবাই সমান।
আমি ওকে বলেছি- সে যেই হোক, অপরাধ করলে সে শাস্তি পাবেই। গরীব,  বড়লোক,  সবারই সমান বিচার। 
&quot;ধরো তুমি যদি শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ করো আইনে তার জন্য যে শাস্তি আছে তাই তুমি পাবে, আমি তোমাকে অপরাধী হিসেবে আইনের হাতে তুলে দিবো। কারণ আমি এদেশের নাগরিক,  এ দেশের জন্য আমার দ্বায়িত্ব আছে। আমার দ্বায়িত্ব আমি সঠিক ভাবে পালন করবো।&quot;
 
একথা শুনে রোহানের চোখের কোনে দেখি পানি টলমল করছে, সে আমার কাছে জানতে চাইলো &quot;সত্যিই কি আমি ওকে আইনের হাতে তুলে দিবো কি না?&quot; 

আমি উত্তর দিলাম - অবশ্যই দিবো।
কারণ আমি কোন অপরাধীকে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দিতে পারিনা।

তখন সে বললো&quot; সবার আম্মুরাইকি তাই করে?&quot; এবার আমার গলার আওয়াজ নেমে গেলো, তবে থেমে গেলাম না। আমি ওকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম- তোমার মতে সবার আম্মুর কি করা উচিৎ? 
ও আস্তে আস্তে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বললো- &quot;তোমার মতই করা উচিৎ।&quot;
 
না আমি রোহানের কাছে জিতে যাইনি, আমি জিতে যেতাম যদি ওকে একটিও সঠিক উদাহরণ দিতে পারতাম। 
আজকাল পত্র- পত্রিকা, টেলিভিশন, মোবাইল এর সুযোগে দেশের কোথায় কি ঘটছে তা সবাই ইচ্ছা না থাকলেও জেনে যায়। প্রতিটি হত্যা,দূর্ঘটনা খুন সবকিছুই এই শিশুরা জানতে পারে, কিন্তু তারা জানতে পারেনা এই অপরাধ গুলো যারা ঘটাচ্ছে তাদের কেউই   কি শাস্তি পাচ্ছে? 
যদি তারা এদের ভয়ংকর শাস্তির কথা জানতে এবং দেখতে পেত তবে কখনোই অপরাধ করার কথা চিন্তা করতে পারতো না। 
আমি চাই এই শিশুদের বই এ  নাগরিক অধিকার নিয়ে যখন তারা পড়ছে, তখন সাম্প্রতিক কোন অপরাধের শাস্তির কোথাও উল্লেখ থাকুক তাতে। যাতে ওদের ছোট বেলা থেকেই আইনের উপর শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং সন্মান গড়ে উঠে।

আমি খুব আশাবাদী একজন, তাই আশা করে থাকলাম নূসরাত এর বিচার দিয়েই শুরু হোক। 
দ্রুত ট্রাইবুনালের মাধ্যমে নুসরাতের হত্যাকারীর বিচার কায্যকর করে তার শাস্তি হোক, আমি রোহানকে একটা সুন্দর, সত্যি বাস্তব উদাহরণ দেই।
আগামী বছর যারা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়বে তারা তাদের বইয়ে এই উদাহরণ দেখবে।
১২/০৪/২০১৯</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/228053/</link>
				<pubDate>Sat, 12 Apr 2025 11:19:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রোহান আমার ছোট ছেলে সে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। তাকে আমি নাগরিক অধিকার পড়াছিলাম। সামাজিক  অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার,এই গুলো পড়াচ্ছিলাম। প্রত্যেক অধিকার বুঝাতে তাকে বাস্তব উদাহরণ দিয়ে আমি বুঝিয়ে থাকি। যেমন- &#8220;বেঁচে থাকার অধিকার সকল অধিকারের মধ্যে অন্যতম।&#8221;<br />
 তুমি যেখানে যে পেশায়, যে অবস্থায় থাকো না কেন তোমার বেঁচে থাকার অধিকার আছে।<br />
তবুও&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-228053"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/228053/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">04198fed13e0dedad7635de385ac81ea</guid>
				<title>প্রিয় তুহিন ,
তোমার মনে আছে নিশ্চয়ই , বিয়ের অনেক বছর পরে আমার হটাৎ খুব শখ হলো যে আমি নাক ফুঁটো করবো?
সাথে করে দুই ছেলে এবং তোমাকে নিয়ে পার্লারে গিয়ে নাক ফুঁটো করলাম, পার্লার থেকে নাক ফুল পরিয়ে দিলো।এবং বলে দিলো কিছু দিন পরে এই নাকফুল খুলে সোনার নাকফুল পরতে পারবো। তুমি খুব সুন্দর ছোট্ট একটি নাকফুল বানিয়ে দিলে।কিন্তু আমি সেই নাকফুল পরলেই নাক একদম টুক টুকে লাল হয়ে যায়।এরপর একে একে অনেকগুলো নাকফুল বানিয়ে , কিনে দিলে তুমি।যেটাই পরি না কেন, একই অবস্থা। শেষে তুমি বললে বাদ দেও পরতে হবে না। কিন্তু আমার মন সেটা মানতে চায় না, আমি শুনেছি যে নাক ফুঁটো করার পরে নাক ফুল না পরলে স্বামীর অমঙ্গল হয়।এই আশংকায় আমি নাক ফুল পড়ে থাকি, এদিকে নাক টুকটুকে লাল হয়ে থাকতো। তুমি খুলে দিলে, আমি তখন বাধ্য হয়ে আমার আশংকার কথা তোমাকে বললাম।শুনে তুমি হেসে বলেছিলে এগুলো কুসংস্কার। কোন গহনা কারো জীবন বাঁচাতে বা রক্ষা করতে পারে না। 
তোমার মধ্যে কোন কুসংস্কার আমি কখনও দেখি নাই, বিয়ের পরেও সবাই বলতো বিবাহিত মেয়েদের সব সময়ে হাত, কান খালি রাখতে হয় না, এতে স্বামীর অমঙ্গল হয়। 
আমার অভ্যাস ছিলো না হাতে কানে সব সময়ে পড়ে থাকার , তাই অস্বস্তি বোধ করতাম।তুমি তখনও বলেছিলে পড়তে হবে না এগুলো কুসংস্কার। 
কুসংস্কার মুক্ত তোমাকে আমার ভালো লাগতো, সেটা তোমাকে কখনো বলা হয়নি।
তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে তুহিন যে আমি বিয়েতে কবুল বলতে অনেক বেশী সময় নিয়েছিলাম? আমি ব্যাকুল হয়ে কাঁদছিলাম, আমার আব্বা, ডাক্তারদের বেঁধে দেওয়া  তাঁর জীবনের শেষ সময় গুনছিলেন বাসায়। আব্বাকে ছেড়ে আম্মাও কমিউনিটি  সেন্টারে আসতে পারেন নি।আমার মেজভাই, ভাবি, আমার আদরের দুই ভাস্তি, আমার বিয়েতে আসতে পারেনি সুদূর আমেরিকা থেকে।
যেদিন আমার গায়ে হলুদ হচ্ছে ,মেজভাই ফোন করে অঝোরে কাঁদছে। ফোনের দুই প্রান্তে আমরা দুই ভাই বোন অঝোরে কাঁদছি।পাশের রুমে অসুস্থ আব্বা আমার কান্না শুনে অস্থির হয়ে বড় ভাবির কাছে জানতে চাচ্ছেন, কি হয়েছে আমার মা মনির? আমার মা মনি কাঁদছে কেন?
এমন এক পরিস্থিতিতে কবুল শব্দটা বলা কি অনেক সহজ ছিলো তুহিন? 
আমার শুধু আম্মাকে তখন দেখতে ইচ্ছে করছিলো। আমি আম্মা আম্মা করে নাকি কেঁদেছিলাম। লুতফর ভাই আমার সেই কান্নার অডিও করে রেখেছিলেন এবং বিয়ে পরে অডিও বাজিয়ে সবাইকে শোনাতেন।
হ্যাঁ ,তুমি বিষয় টা বুঝতে পেরেছিলে এবং সবাইকে বলেছিলে আমার কবুল বলতে দেরী হওয়ার কারণ। যদিও তোমার পক্ষের অনেকেই অনেক কথা বলেছিলো তোমাকে, যেমন- মেয়ে মনে হয় বিয়েতে রাজি ছিলো না ,ইত্যাদি ইত্যাদি। 
তুহিন আমাদের বিবাহিত জীবন ছিলো ১৯ বছর ১২ দিন।
এরমধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সময় আমরা কাটিয়েছি ২০২০ এর এপ্রিল ৮ থেকে ২২শেমে&#039;২০২০ এর সময়টাই।এতটা সময় আমরা আর কখনও একসাথে কাটানোর সুযোগ পাই নি।
আমি ব্যস্ত ছিলাম আমার লেখা পড়া নিয়ে, তুমি তোমার চাকরি নিয়ে।
এই করোনাকালীন সময়ে যখন লকডাউনে সব বন্ধ, সেই সময়ে আমরা পেয়েছিলাম একান্ত ভাবে দুজনকে।
কত কথা, কত গল্প, কত রান্না! এতটুকু সময় তুমি আমাকে একা ছাড়তে না, সারাক্ষণ শুধু আমাকে ডাকতে।আমরা চারজন যেন এই কয়েকটি দিন একসঙ্গে লেপ্টে থাকতাম।
প্রতিদিন নতুন নতুন আইটেম বানিয়ে প্রতিবেশীদেরকে ইফতার পাঠাতে , আমার নিষেধ করা স্বত্বেও বাজারে যেতে। 
এরপর কোথা থেকে কি হয়ে গেলো তুহিন? 
আমাদের বিয়ের ২১ দিনের দিন আব্বা চলে গেলেন।আমি আমার জীবনের প্রথম মৃত্যু দেখলাম, তাও আবার সেটা আমার  প্রিয় আব্বা। আমি ব্যাকুল হয়ে কান্নাকাটি করছিলাম।আম্মা এসে আমার মাথায় হাত দিয়ে বলেছিলেন -লায়লা, কাঁদিস না মা, আব্বার জন্য দোয়া কর!&quot;
আমি নির্ভরতায়, আম্মার কাঁধে মাথা রেখে আব্বার চলে যাওয়ার শোক ভুলার চেষ্টা করেছিলাম।
আবার যেদিন  আম্মা চলে গেলেন সেদিন তুমি নওগাঁ থেকে পৌঁছানোর আগেই আম্মা চলে গেলেন। আমি ফোন করে তোমাকে জানালাম, তুমি বললে- তুমি চলে এসেছো প্রায়। ছেলেদেরকে বললে আম্মুকে দেখে রাখো।
তুমি এসে আমার হাত ধরলে আমি পরম ভরসায় তোমার কাঁধে মাথা রেখে আম্মার চলে যাওয়ার শোক ভুলার চেষ্টা করলাম।
কিন্তু তুহিন তুমি যখন চলে গেলে একদম অপ্রত্যাশিতভাবে  তখন কিন্তু আমি কোন ভরসার হাত, স্বন্তনা দেওয়া , কান্না করার জন্য একটা কাঁধ পাইনি তুহিন। 
এমন সময় যখন কেউ কারো কাছে ইচ্ছে করলেই আসতে পারে নাই। আমিও পারিনি আমার বাচ্চাদের জড়িয়ে ধরতে।
তুমি আমি আমরা সবাই নির্দিষ্ট হায়াত নিয়ে/ রিজিক নিয়ে  এই পৃথিবীতে এসেছি , এর বাহিরে যাওয়ার সাধ্য আমাদের নেই।
তবু্ও কতজনের কত কথা আমাকে শুনতে হয়েছে। 
আমি জানি তুমি থাকলে এর উত্তর তুমি দিতে।
আজ ২৯শে রমজান। ২০২০ সালের ২৯শে রমজান ভোরে তুমি আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছো তোমার নির্দিষ্ট গন্তব্যে। 
আমরা তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি মূহুর্তের স্মৃতি বুকে নিয়ে একে একে চার বছর পার করলাম।
মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে এই দোয়া করি যেন তিনি তোমাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান করে নেন।আমিন।
তোমার হেনা।
০৯/০৪/২০২৪</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/228003/</link>
				<pubDate>Wed, 09 Apr 2025 10:55:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রিয় তুহিন ,<br />
তোমার মনে আছে নিশ্চয়ই , বিয়ের অনেক বছর পরে আমার হটাৎ খুব শখ হলো যে আমি নাক ফুঁটো করবো?<br />
সাথে করে দুই ছেলে এবং তোমাকে নিয়ে পার্লারে গিয়ে নাক ফুঁটো করলাম, পার্লার থেকে নাক ফুল পরিয়ে দিলো।এবং বলে দিলো কিছু দিন পরে এই নাকফুল খুলে সোনার নাকফুল পরতে পারবো। তুমি খুব সুন্দর ছোট্ট একটি নাকফুল বানিয়ে দিলে।কিন্তু আমি সেই নাকফুল পরলেই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-228003"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/228003/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f8003e35a50b951536d98323b81dab49</guid>
				<title>পরিবার মানে আমার ছেলেরা জানতো- বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার আগে চারজনের ৫ সেকেন্ডের &quot;হাগ&quot;।পরিবার মানে আব্বুর  শাসন মেশানো ভালোবাসা- একসপ্তাহের জন্য ডাইনিং টেবিলের নির্দিষ্ট চেয়ারে কে বসবে তার লটারি কিংবা টিভির রিমোট আজ কার হাতে থাকবে তার লটারি। আম্মু আব্বুর ঝগড়া হলে আব্বুর লেবুর শরবতটা আম্মুর বদলে ওদের ই দিতে হবে আব্বু বাহির থেকে আসলে।কিংবা আব্বু বাহির থেকে এলে কলিং বেলে হাত দেওয়ার আগেই আম্মু বুঝতে পেরে ওদেরকেই দরজা খুলতে পাঠাবে এবং আব্বুও দরজা খুলে দেওয়ার সাথে সাথেই বলবে- তোমার আম্মু কোথায়? 
পরিবার মানে আমার ছেলেরা দেখেছে- অফিস থেকে আসার আগেই আব্বু  রান্না করে আম্মুর  কাজ কমিয়ে রাখা।বৃহঃষ্পতিবার মানেই চারজন মিলে মুভি দেখা, মুভি দেখতে দেখতে কখনো আব্বুর ফুঁপিয়ে কান্না করা, সেটা নিয়ে আম্মুর হাসাহাসি করা। পরিবার মানেই- দাদার বাড়ির বা নানার বাড়ির আত্মীয় স্বজন আসা এবং আম্মু, আব্বু  মিলে তাঁদের আপ্যায়ন করা। 
পরিবার মানেই- ছুটির দিনে ঘুরতে বের হওয়া, পরিবার মানেই ভীতু আম্মুর হাত  ধরে আব্বুর রোলার কোস্টারে চড়া। 
পরিবার মানে আম্মুকে অফিস ট্যুরে যাওয়ার সময় খুব ভোরে এবং আসার সময় গভীর রাতে নিতে যাওয়া। পরিবার মানেই ভীতু আম্মুকে বুঝিয়ে ক্রিকেট বা ক্যারাটে তে ভর্তি করে দেওয়া। পরিবার মানে পরীক্ষার আগে আব্বুর কম্পিউটার রে প্রশ্ন তৈরী করা এবং আম্মুর পড়ানো। পরিবার মানেই ঈদের টিকিট কাটার জন্য আব্বুর সারারাত স্টেশন এ থাকা, পরিবার মানেই কষ্ট করে ঈদ করতে যাওয়া। 
পরিবারের এই মানেটা ওদের জীবন এ ১৪ এবং ১১ বছর পর্যন্তই পেয়েছে ওরা।
কিন্তু আমি বিশ্বাস করি ওরা এই মানেটা নিয়েই ওদের বাকীজীবন কাটাতে পারবে, ইনশাআল্লাহ ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227976/</link>
				<pubDate>Tue, 08 Apr 2025 14:54:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পরিবার মানে আমার ছেলেরা জানতো- বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার আগে চারজনের ৫ সেকেন্ডের &#8220;হাগ&#8221;।পরিবার মানে আব্বুর  শাসন মেশানো ভালোবাসা- একসপ্তাহের জন্য ডাইনিং টেবিলের নির্দিষ্ট চেয়ারে কে বসবে তার লটারি কিংবা টিভির রিমোট আজ কার হাতে থাকবে তার লটারি। আম্মু আব্বুর ঝগড়া হলে আব্বুর লেবুর শরবতটা আম্মুর বদলে ওদের ই দিতে হবে আব্বু বাহির থেকে আসলে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227976"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227976/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4a7a2c54aaf1da7883642960d5238008</guid>
				<title>গিনিপিগ 

পাত্রী চাইঃ
পাত্র ৫ ফিট ৪ ইঞ্চি। ঢাকার ধানমন্ডিতে পাত্রের নিজস্ব বাড়ি আছে। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান পাত্রের জন্য লম্বা, সুন্দরী, সুশিক্ষিতা, রন্ধন বিষয়ে পারদর্শী,ইংরেজি ভালো জ্ঞান সম্পন্ন পাত্রী চাই। ছেলে সাময়িক ভাবে খানিকটা মানসিক ভারসাম্যচ্যুত।পাত্র বিশিষ্ট মানসিক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসাধীন।

পাত্রী নিজে অথবা পাত্রীর অভিভাবক বিভিন্ন পোজের ৪ কপি ছবি, বায়োডাটা, মেডিকেল রিপোর্ট সহ সরাসরি নিম্নলিখিত ঠিকানায় অতিসত্ত্বর যোগাযোগ করুন।   যোগাযোগ সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
যোগাযোগের ঠিকানা -
ঘটক উট ভাই 
মোবাইলঃ ০১৭১২০০০০০...

বিজ্ঞাপন দেখে ঘাবড়াবেন না। এ ধরনের বহু বহু বিজ্ঞাপন আপনি পত্রিকা খুললেই দেখতে পারবেন।  

যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানের যে কোন পরীক্ষা করার জন্য পরীক্ষণ পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় গিনিপিগ, ইঁদুর, বানর, খরগোশ, শিম্পাঞ্জি। কিন্তু আপনারা কি জানেন, এর চেয়ে অনেক কঠিন, কঠিন পরীক্ষায় পরীক্ষণ পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় মেয়েদেরকে? 
মনে করা হয় তারা গিনিপিগ। তাদের জন্মই হয়েছে অন্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে।

ব্যাখ্যাঃ ধরুন কোনো ছেলে মানসিক ভাবে অসুস্থ। ডাক্তারের পরামর্শেই হোক আর ছেলের দশজন শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শঃ ছেলেকে বিয়ে দেন সব ঠিক হয়ে  যাবে।
 ছেলে পক্ষের সবাই দল বেধে ছুটলো মেয়ে দেখতে। পাত্র মানসিক রুগী হয়েছে তো কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়েছে নাকি! পাত্রী নিতে হবে লক্ষ্মী  প্রতিমার মতো। যাতে পাত্রী দেখেই পাত্রের রোগ অর্ধেক সেরে যায়। তাই কখনো পাত্রী  পক্ষের অমতে বা না জানিয়ে, কখনো বা জানিয়ে বিয়ে দেয়া হলো, সেই মানসিকভাবে  অসুস্থ পাত্রের সঙ্গে। 

এরপর পাত্রের বাবা,মা অথবা পাত্রীর বাবা মা কি একবারের জন্যও ভাবেন- যে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে সর্বোপরি একজন মানসিক অসুস্থ রোগীকে কিভাবে বসে আনবে পাত্রী ? সে তো ডাক্তার বা ওই রোগ সম্পর্কে তার সামান্যতম জ্ঞান, প্রশিক্ষণ, ধারণাও নেই।  তবু্ তাকে এটা মেনে নিতে হবে। কারণ সে মেয়ে, এটাই তার পাপ।
আবার কোন পাত্র মাদকাসক্ত। বাবা মা পাড়া প্রতিবেশীর ধারণা, ছেলের (পাত্র) বিয়ে দেন সব ঠিক হবে।  

কি ঠিক হবে? আপনার ছেলে আপনার ঘরে ফিরে আসবে? 

ঢাকঢোল বাজিয়ে দেয়া হলো বিয়ে। বাসর রাতে বৌকে বসিয়ে রেখে মাদক নেওয়ার জন্য চলে গেলো। ফিরে এলো দুই দিন পরে। বৌ আস্তে আস্তে বুঝতে পারলো তার এটাই ভাগ্য। বাবা, মা পাড়া প্রতিবেশী কেউ কি এগিয়ে আসবে মেয়েটার সমস্যা সমাধান করতে?

 
ছেলে পরকীয়ায় আসক্ত বা অবৈধ প্রেমে পড়েছে?  চিন্তা কি? খোঁজ করো একটা গিনিপিগ। বাবা, মা চেষ্টা করেন- কোন ভাবে যদি বিয়ের পিঁড়িতে বসাতে পারি তাহলে ছেলের সব মোহ কেটে যাবে। লজ্জাবতী গিনিপিগের সঙ্গে জোর করে হোক বা কথার মারপ্যাঁচেই হোক, দেয়া হলো বিয়ে। পাত্র প্রতিটি মুহূর্তে তার প্রেমিকার সঙ্গে তুলনা করবে নতুন  বৌ- এর। নাহ! তোমার নাকটা বোঁচা, তোমার গালে টোল পড়ে না। ওর গায়ের রং দুধে আলতা, ওর কণ্ঠে মধু ঝরে, তুমি কিছু কিছু পারো না!
এত কিছু শোনার পরেও বৌ যদি বাবার বাড়ির কষ্টের কথা  ভেবে যেতে না পারে তবে তার একমাত্র পথ আত্মহত্যা। এর এই মৃত্যুর দায় বহন করবে কে? ছেলের বাবা মা? আর একটা উপায় অবশ্য আছে, দেনমোহরের টাকার জন্য স্বামী নামের ওই নরকের কীটের পিছনে ছোটাছুটি করা এই তো জীবন গিনিপিগের?
 আবার বৌ এমন ধারণাও করতে পারে,দেনমোহরের টাকা দেয়ার ভয়ে তার স্বামী তাকে কাছে  টেনে নেবে এটাই বা কি কম গিনিপিগের! আরে বোকা মেয়ে এর চেয়ে তোকে টানবাজারে নিয়ে বেচে দিয়ে অনেক টাকা পাবে তোর ওই নরকের কীট। 

কোনো ছেলেকে কোনো  মেয়ে প্রতারণা করেছে। সেই ছেলে তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বেছে নিল আর একজন মেয়েকে। তার সংগে প্রেমের অভিনয় করে তার প্রতি আসক্ত করে ছুড়ে ফেলে দিয়ে প্রতিশোধ নিল তার উপরে  প্রতারণার।

এতো কিছু ঘটনা সত্ত্বেও মেয়েদের বিয়ে করতে হয় আর ছেলেরা মেয়েদের বিয়ে করে উদ্ধার করে। যতো উচ্চ শিক্ষিত,  অল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মেয়ে হোক তাকে যে বিয়ে করতেই হবে।  কারণ যাকে সে বিয়ে করবে সে তার থেকে যতোই অযোগ্য হোক তবুও সে পুরুষ। সে তাকে আশ্রয় দেবে,নিরাপত্তা দেবে,আরো অনেক অনেক  কিছু দেবে।আবার সেই স্বামীই সুযোগ পেলে স্ত্রীকে ছেড়ে পালাতেও দ্বিধা করবে না। তবুও সে একজন স্ত্রীর নিরাপত্তার লাইসেন্স। সে তোমাকে পার্টিতে, বসের চেম্বারে নিয়ে একটার পর একটা উন্নতির শিখরে উঠবে তবুও সে তোমার স্বামী। এই হলো আমাদের সমাজ। 

এইসব  নিরাপত্তা, বিয়ে নামের সার্টিফিকেটের জন্য মেয়ের বাবা,মা মেয়ের বিয়ের বয়স হলে বা না হলেও যোগ্য পাত্র খোঁজে। কারণ সৎ পাত্রে কন্যা দান করতে হবে। এখনো তো গ্রামে মেয়ে দেখতে এসে কোরবানির গরু দেখার মতো করে দেখা হয়। শহরের শিক্ষিত মেয়েদের ওভাবে না পারলেও দুই একটা প্রশ্ন যে করে না এমন নয়। যেমন - মা বলো তো কোন শহরকে বিগ আপেল(Big Apple)বলা  হয়? আর অল্প শিক্ষিত কুলসুমকে বলা হয় - মা বলো তো ডাক্তার আসার পূর্বে ই রোগী মারা গেলো এর ইংরেজি কি হবে?

খোঁজ খবর নিয়ে বাবা, মা ই বিয়ে দিক বা সাত / আট বছর প্রেম করে নিজেই বিয়ে করুক, বিয়ের পর যখন জানতে পারবেন পাত্রের নানা গুনকীর্তন তখন মেয়েরতো শুধু চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। 
আর বাবা, মা বলবেন,  কি আর করবে মা! মেয়ে হয়ে জন্মেছিস ভাগ্যে যা আছে তাতো মানতেই হবে। আর আপনিও নিজেকে গিনিপিগ হিসেবে ধরে নিয়ে চেষ্টা করতে থাকবেন মানসিক রোগীকে, মাদকাসক্তকে বশ করে সংসারি করতে। না পারলে ঘাবড়াবেন না, আছে তো আরো গিনিপিগ। 
আবারও খোঁজা শুরু হবে পাত্রী চাই.....
পাত্রী চাই বিজ্ঞাপন।

বিঃদ্রঃ লেখাটি ৯/১১/১৯৯৯ এর যায়যায়দিন  পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো । ২২ বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ এ এখন বাস করি। এখন নারীকে উন্নত প্রযুক্তির &quot;পরীক্ষণ পাত্র &quot; / &quot;গিনিপিগ &quot; হিসেবে ব্যবহার করা হয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227483/</link>
				<pubDate>Mon, 17 Mar 2025 18:07:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গিনিপিগ </p>
<p>পাত্রী চাইঃ<br />
পাত্র ৫ ফিট ৪ ইঞ্চি। ঢাকার ধানমন্ডিতে পাত্রের নিজস্ব বাড়ি আছে। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান পাত্রের জন্য লম্বা, সুন্দরী, সুশিক্ষিতা, রন্ধন বিষয়ে পারদর্শী,ইংরেজি ভালো জ্ঞান সম্পন্ন পাত্রী চাই। ছেলে সাময়িক ভাবে খানিকটা মানসিক ভারসাম্যচ্যুত।পাত্র বিশিষ্ট মানসিক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসাধীন।</p>
<p>পাত্রী নিজে অথবা পাত্রীর অভিভাবক বিভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227483"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227483/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3ee6cc4096a02dc39ccd34a99cd40caf</guid>
				<title>কয়েক দিন থেকে আমার মাথায় একটা গান ভাংঙ্গা রেকর্ডের মতো বেজেই চলেছে। নাহ এটা নতুন রোগ না , অনেক পুরাতন রোগ।আগেও এমন হতো। তবে এবারের এই গানটির সাথে আমি চাই আমার বড় পুত্র তার বিয়েতে নাচবে।কি খুব হাসি পাচ্ছে? হাসাহাসি করা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। 
তো হয়েছে কি, আমি গানটি রেডি করে রেখে দিলাম।বড় পুত্র যখন বাসায় আসলো, তখন আমি রান্নাঘর এ থাকি।সেখানেই গানের ব্যবস্থা করা আছে।ও আসা মাত্র আমি গান ছেড়ে দিলাম। যথারীতি পুত্র রান্না ঘরে এসে জানতে চাইলো- কি খাবো?
বললাম শুনো- যে গানটি এখন বাজছে, সেটা তুমি তোমার বিয়েতে নাচবে। পুত্র মনে হলো কিন্চিৎ লজ্জা পেলো।রান্নাঘর থেকে বের হয়ে যাবার প্রস্তুতি নিলো।
বললাম- শুনো, পিকচার তো আভি বাকী হে! 
তুমি যখন এই গানের সাথে নাচবে, তখন সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়বে নেট দুনিয়ায়। 
পাব্লিক জানতে চাবে কে এই যুবক?  যে কিনা আজ থেকে ১২ বছর আগের গানের সাথে নাচতে নাচতে চলেছে বিয়ে করতে! 
তখন কমেন্ট এ লেখা থাকবে উনি হলেন বিশিষ্ট...... , রেহান আবরার মল্লিক (আদিত্য)! তিনি শুধু এত্ত সুন্দর নাচতেই পারেন না, তিনি যখন...... দেখেন তখনও এমনই cool থাকেন এবং জটিল জটিল.... হেঁসে খেলেই.....!  তিনি শুধু আমাদের দেশেই পরিচিত নন বরং দেশের বাহিরেও তার এই সুনাম ছড়িয়ে গেছে।
আর কনেও কম যান না, তিনিও বিশিষ্ট....!  
বরের সঙ্গে যারা নাচে অংশ গ্রহণ করছেন তারাও এক এক জন.....! &quot;
পুত্রকে বললাম- এখন যাও, শূন্য স্থানে কি বসবে সেটা ঠিক করার জন্য পড়তে বসো। 
পুত্র একবুক হতাশা নিয়ে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে গেলো।আর আমি! বাকী রান্না করতে করতে কল্পনায় ছেলের বিয়ের নাচ দেখছি। পুত্র আমার মহিষের পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাবে, মহিষের পিঠ থেকে নেমে নাচ শুরু করবে।আমিতো আগেই আমার কন্যার কাছে চলে যাবো! আমারা মাতা কন্যা, ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুত্রের নাচ দেখবো। আমি আমার কন্যাকে বলবো- কি একটা জামাই তোর দেখ! ১২ বছর ধরে এই নাচ শিখেও ভুল করছে। তোর জামাই হলো গাধার সর্দার, সাথের গুলোও হলো এক একটা গাধা।
কত সুন্দর নাচটা , কিভাবে করছে? কন্যা বলবে- ছোট্ট আম্মু আমি যাই, যেয়ে শিখিয়ে দিয়ে আসি? 
অবশ্য ই যাবি, আর কানে কানে বলবি- কোন কিছু তেই মনোযোগ নেই, শুধু মোবাইল আর মোবাইল। ও হলো একটা বিশ্ব গাধা।
কন্যা বলবে- ছোট্ট আম্মু তুমি কথায় কথায় ওকে গাধা বলবে নাতো। 
ইস রে! কত দরদ! তুই হলি গাধার সর্দারনী, যা যেয়ে সুন্দর করে নাচটা শেষ কর।
যাক বাবা , রান্না শেষ। এর চেয়ে বেশী কল্পনা করলে দেখা যাবে আমাকে বাচ্চার খিচুড়ী রান্না করতে হচ্ছে।
১২/০৩/২০২৪</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227298/</link>
				<pubDate>Wed, 12 Mar 2025 13:30:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কয়েক দিন থেকে আমার মাথায় একটা গান ভাংঙ্গা রেকর্ডের মতো বেজেই চলেছে। নাহ এটা নতুন রোগ না , অনেক পুরাতন রোগ।আগেও এমন হতো। তবে এবারের এই গানটির সাথে আমি চাই আমার বড় পুত্র তার বিয়েতে নাচবে।কি খুব হাসি পাচ্ছে? হাসাহাসি করা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।<br />
তো হয়েছে কি, আমি গানটি রেডি করে রেখে দিলাম।বড় পুত্র যখন বাসায় আসলো, তখন আমি রান্নাঘর এ থাকি।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227298"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227298/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c22027816136053c2a44b95a77c69c52</guid>
				<title>আসাদ গেটে একজন মহিলা সার্জেন্ট বেশ অনেকদিন ছিলেন। আমার বাসা মোহাম্মদপুরে। তাই অফিস যেতে আসতে আসাদ গেট পেরুতেই হয়। আমি বাসা থেকে বের হই ৭.৪৫ - এ। কারণ আসাদগেটে যেতে বেশ কয়েকটা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পার হতে হয়। সে কারণে রাস্তায় যানজট একটু বেশিই থাকে।মোহাম্মদপুরে আমি ৩ বছর আছি, আগে একজন পুরুষ ট্রাফিক সার্জেন্ট ছিলেন। 

মোহাম্মদপুর বাস ষ্ট্যান্ড থেকে বাস ছাড়ার পর, বাস প্রায় কচ্ছপের গতিতে এগোয়। যাওয়ার সময় এমনভাবে যাত্রীদের ডাকাডাকি করে, মনে হয় বাসা থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে আসবে। বাস ঠিক যখন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে আসে, তখন তাঁদের তাড়া শুরু হয়ে যায়। যাত্রীরা তখন মহাবিরক্ত হয়। কারণ অফিসের দেরী হয়ে যাবে সে জন্য। ড্রাইভার তখন মহিলা ট্রাফিক সার্জেন্টকে বকা বকি শুরু করে দেয়। বলে দেখেন &quot;মহিলা মানুষকে দিয়েছে ট্রাফিক জ্যাম কন্ট্রোল করতে, সে কি পারে? তাঁর কারণেই এত গিট্টু লেগে গেছে। দেখেন মহিলা আবার কপালে টিপ দিয়েছে, সাজ-গোজ করেছে!&quot; আমি অবাক হয়ে প্রতিদিন ড্রাইভারদের এই কথাগুলো শুনতাম। আমি পুরুষ ট্রাফিক সার্জেন্ট থাকা অবস্থায়ও গিয়েছি, তখনও ঠিক জ্যাম একই অবস্থা ছিল। কিন্তু কেন যেন ড্রাইভার এবং বাসের অনেক পুরুষ যাত্রী শুধু ঐ মহিলা ট্রাফিক সার্জন্টকেই ট্রাফিক জ্যামের জন্য দোষ দিত।

আমার খুব ইচ্ছে হতো মহিলা সার্জেন্টকে গিয়ে বলি- আপা আপনি কি নাস্তা করে এসেছেন? নাকি বাসার সবার জন্য সবগুছিয়ে নিজে আর নাস্তা করার সময় পাননি। কথাটা বলা হয়নি তাকে। আবার এ ও বলতে ইচ্ছে করত- আপনি রাতে কত ঘন্টা ঘুমান? সারাদিনের এই ক্লান্তি নিয়ে কিভাবে সংসারের সব কাজ করেন? আমার তাঁকে বলা হয়নি এই কথাগুলোও।

আজ নারী দিবসে আমি সব নারীদেরর কাছে জানতে চাই- আপনারা ভালো আছেনতো? আপনাদের ভালো থাকাটা সবচেয়ে বেশী জরুরী, কারণ আপনারাইতো ভালো রাখবেন পরিবার, সমাজ এবং দেশকে। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।
০৮/০৩/২০১৮</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227126/</link>
				<pubDate>Sat, 08 Mar 2025 08:17:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আসাদ গেটে একজন মহিলা সার্জেন্ট বেশ অনেকদিন ছিলেন। আমার বাসা মোহাম্মদপুরে। তাই অফিস যেতে আসতে আসাদ গেট পেরুতেই হয়। আমি বাসা থেকে বের হই ৭.৪৫ &#8211; এ। কারণ আসাদগেটে যেতে বেশ কয়েকটা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পার হতে হয়। সে কারণে রাস্তায় যানজট একটু বেশিই থাকে।মোহাম্মদপুরে আমি ৩ বছর আছি, আগে একজন পুরুষ ট্রাফিক সার্জেন্ট ছিলেন। </p>
<p>মোহাম্মদপুর বাস ষ্ট্যান&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227126"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227126/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>