<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Kanej-Roksana | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/kanej-roksana/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/kanej-roksana/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Kanej-Roksana.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 15 Jun 2026 02:48:29 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">d1ae4d7662a840bfd53ab054a035634d</guid>
				<title>বিশ্বজিৎ এর খোলা প্যান্ট 

বিশ্বজিৎ যদি প্যান্ট খুলে দেখাতে পারতো 
সবগুলো ক্যামেরা তার নিম্নাংগে তাক করতো।
একজন উপাচার্য এসে বলতেন
ওকে ছেড়ে দাও
প্রগতিতে কোন বাধা নাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/234388/</link>
				<pubDate>Tue, 21 Oct 2025 11:33:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিশ্বজিৎ এর খোলা প্যান্ট </p>
<p>বিশ্বজিৎ যদি প্যান্ট খুলে দেখাতে পারতো<br />
সবগুলো ক্যামেরা তার নিম্নাংগে তাক করতো।<br />
একজন উপাচার্য এসে বলতেন<br />
ওকে ছেড়ে দাও<br />
প্রগতিতে কোন বাধা নাই।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">be2e5f9bcf126a53fd063e6d5ca3525d</guid>
				<title>রোদ পরেছে বারান্দায় 
ঢেকির শাকের ঘুম ভাংগলো এবার
বেড়ার উপরে বিড়াল মিউ মিউ শব্দে ডেকে উঠলো।
চুলায় ঝাল ঝল সিম আলু রান্না হচ্ছে
গাছের সাথে আমার একটি গোপন কথা আছে
প্রিয় গাছ, আমি আবার একটি শৈশব চাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/233851/</link>
				<pubDate>Mon, 13 Oct 2025 14:24:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রোদ পরেছে বারান্দায়<br />
ঢেকির শাকের ঘুম ভাংগলো এবার<br />
বেড়ার উপরে বিড়াল মিউ মিউ শব্দে ডেকে উঠলো।<br />
চুলায় ঝাল ঝল সিম আলু রান্না হচ্ছে<br />
গাছের সাথে আমার একটি গোপন কথা আছে<br />
প্রিয় গাছ, আমি আবার একটি শৈশব চাই।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">13e9f383165e7e7f6b86c03a69bfb820</guid>
				<title>আসো ভালোবাসার কথা বলি
জানালার শিক গলা রোদ গড়ে বেড কাভারে আলোর নকশা।
আসো ভালোবাসার কথা বলি
দূর পাহাড়ের গা ঘেঁষে যে সহজ গ্রাম
সেখানে এখনো পাতার ঘরে শাক ভাতের স্বর্গ
আসো ভালোবাসার কথা বলি
অনেক বৃষ্টিতে কেপে উঠলে ঘরের চালা
দুজন মানুষ এক হয়ে মিশে গিয়ে বেচে থাকার স্বপ্ন দেখে।
স্বপ্নের মতো এক একটি দিন গড়ে
আসো ভালোবাসার কথা বলি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/233703/</link>
				<pubDate>Sun, 05 Oct 2025 14:44:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আসো ভালোবাসার কথা বলি<br />
জানালার শিক গলা রোদ গড়ে বেড কাভারে আলোর নকশা।<br />
আসো ভালোবাসার কথা বলি<br />
দূর পাহাড়ের গা ঘেঁষে যে সহজ গ্রাম<br />
সেখানে এখনো পাতার ঘরে শাক ভাতের স্বর্গ<br />
আসো ভালোবাসার কথা বলি<br />
অনেক বৃষ্টিতে কেপে উঠলে ঘরের চালা<br />
দুজন মানুষ এক হয়ে মিশে গিয়ে বেচে থাকার স্বপ্ন দেখে।<br />
স্বপ্নের মতো এক একটি দিন গড়ে<br />
আসো ভালোবাসার কথা বলি।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">647f5819b66503bd2437850bbb8f8a5f</guid>
				<title>বাচ্চাদের নিয়ে প্রথম লেখা। হারিয়ে গিয়েছিল। এগারো বছর পরে ফিরিয়ে দিল ফেইসবুক। লেখাটা কেমন ছিল জানাবেন।

প্রজাপতি ও টুকটুকি
সকাল থেকেই বাবা, মা ঝগড়া করছে। টুকটুকি একটা বই খুলে পড়ার ভান করছে। কিন্তু কিছুই পড়তে পারছে না। তার কানে ঝগড়ার কথাগুলো ছুটে ছুটে আসছে। বাবা মা’য়ের অনেক কিছুই তার ভালো লাগে না যেমন: এই ঝগড়াঝাটি। একটু পরে বাবা মা অফিসে চলে যায়। টুকটুকি ছবি আঁকতে বসে। বুয়া খাবার নিয়ে আসে। 
টুকটুকি বুয়াকে জিজ্ঞেস করে, ‘রহিমা কখন আসবে?’ 
বুয়া জবাব দেয়, “দুপুরে”। 
রহিমা বুয়া’র মেয়ে। সরকারি প্রাইমারি স্কুলে পড়ে। দুপুর বেলা তার স্কুল ছুটি হয়। টুকটুকি দুপুর পর্যন্ত বসে থাকে। মাঝে মাঝে টিভি দেখে। একটানা টিভি দেখতে তার ভালো লাগে না। উহ! রহিমা যদি আসতো! দু’জনে মিলে কার্টুন নেটওয়ার্ক দেখা যেত! টুকটুকি ঝিমুতে থাকে। হঠাত দরজায় কলিং বেলের শব্দে ঝিমুনি ছুটে যায় টুকটুকি’র। দৌঁড়ে গিয়ে দেখে দুধওয়ালা এসেছে। টুকটুকি মন খারাপ করে। এর একটু পরেই রহিমা চলে আসে। টুকটুকি বুয়াকে বলে দু’জন কে ভাত বেড়ে দিতে। 
বুয়া বলে, “দরকার নাই আপা আপনে খাইয়া লন”। 
টুকটুকি’র রাগ হয়। “আমি রহিমা’কে ছাড়া ভাত খাব না”। 
বুয়া বাধ্য হয়ে দু’জনের জন্য ভাত বাড়ে। টুকটুকি রহিমাকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু বাবা, মা রহিমাকে পছন্দ করে না। বাবা, মা চায় টুকটুকি ডাক্তার আঙ্কেলের মেয়ের সংগে মিশুক। কিন্তু ডাক্তার আঙ্কেলের মেয়ে সায়রা সারাক্ষণ পড়ালেখা করে, কখনো খেলে না। টুকটুকি ওর সংগে মিশতে পছন্দ করে না। সায়রা যে নিজেকে অনেক বড় ভাবে তা টুকটুকি বাচ্চা হলেও বুঝতে পারে। আর টুকটুকি তো এখন বড় হয়েই গেছে, এখন যে তার বয়স পাঁচ। অনেক কিছুই সে বুঝতে পারে যদিও বাবা, মা ভাবে সে একটা ছোট বাবু। আসলে সে অনেক অনেক কিছু বোঝে যেমন; রহিমাকে বাবা-মা  পছন্দ করে না। রহিমা ক্লাসে ফার্স্ট হয়। রহিমা কখনো তার খেলনাগুলো ধরে না, চুপচাপ শান্ত হয়ে বসে থাকে। তবুও বাবা-মা তাকে পছন্দ করে না। মুখে কিছু বলে না কিন্তু রাগ রাগ চোখে রহিমা’র দিকে তাকিয়ে থাকে। তাই বাবা, মা বাসায় ফিরলেই রহিমা তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যায়। টুকটুকি এখন আর কিছু ভাবে না। রহিমার সাথে খেলতে খেলতে সময় ফুরিয়ে যায়। কিছুতেই তাকে কাছ ছাড়া করতে চায় না। কিন্তু বাবা-মা এসে গিয়েছে। রহিমা তাই রন্নাঘরে বুয়ার কাছে চলে যায়। একটু পরে বুয়া আর রহিমা চলে যায়। টুকটুকি ঘরের বাইরে বাগানে গিয়ে দাঁড়ায়। বাগানের বেড়ায় একটি প্রজাপতি আঁটকে আছে। টুকটুকি প্রজাপতিটা ছাড়িয়ে দেয়। উড়ে যেতে উড়ে যেতে প্রজাপতিটা ফিসফিস করে বলে, “ধন্যবাদ।’’ 
টুকটুকি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, “তুমি কথা বলতে পার?’’ 
প্রজাপতি উড়তে উড়তে বলে, “হ্যা পারি, এখন বাসায় যেতে হবে, তাড়া আছে পরে তোমার সঙ্গে কথা বলব।’’
টুকটুকি প্রজাপতির সঙ্গে যে কথা বলেছে সে কথা বাবা, মা কে বলে না। সে তো জানেই বাবা মা তার কথা বিশ্বাস করবে না। সে ঘরে গিয়ে পড়তে বসে। আজ টিচার আসবে না। টুকটুকির ভীষণ ভালো লাগে। একা একা সে লিখতে থাকে, আঁকতে থাকে। 
পরের দিন টুকটুকির গায়ে জ্বর ওঠে। মা তাকে স্কুলে যেতে বারণ করে। টুকটুকি একা একা বিছানায় শুয়ে থাকে। হঠাত বিছানা’র পাশে কয়েকটি প্রজাপতি উড়তে থাকে। 
সবাই একসঙ্গে বলে ওঠে, “মন খারাপ কেন টুকটুকি”?
শব্দগুলো বাতাসে ভাসতে থাকে। ম-ন খা-রা-প কে-ন টু-ক- টু-কি।
টুকটুকি বলে, “তোমরা শুনে কি করবে?”
প্রজাপতিরা বলে, “আমরা নেচে গেয়ে তোমার মন ভালো করে দেব।”
“না, না, নাচ-গান দেখতে চাই না।”
“কি চাও টুকটুকি?” কালকের প্রজাপতিটা বলে ওঠে।
“পারবে  না, তোমরা আমার মন ভালো করতে।”
“আহা, বলেই দেখ না”, ছোট প্রজাপতিটা বলে উঠলো।
“দেখ না রহিমা আমার কাছে আসতেই চায় না, বাবা, মা যে ওকে পছন্দ করে না, তা ও বুঝতে পারে।”
“তুমি কি চাও।” মেঝ প্রজাপতি বলে উঠলো। 
“আমি চাই বাবা, মা ওকে ভালোবাসুক।”
“ঠিক আছে সোনা মেয়ে, আমরা তোমার বাবা, মা’য়ের মনে রহিমা’র জন্য ভালোবাসা বাড়িয়ে দেব অনেক অনেক গুন।” বড় প্রজাপতিটি বলে উঠলো। 
তারপরে প্রজাপতি’রা উড়ে গেল। 
এরপর থেকে রহিমা, টুকটুকিদের বাড়িতে অনেক রাত অবধি থাকতো, টুকটুকি আর রহিমা একসঙ্গে পড়ালেখা করতো। বাবা, মা রহিমা আর টুকটুকি’র জন্য একই রকমের কাপড় কিনতো, একই প্লেটে খেতে দিতো। শুধু প্রজাপতিরা আর কখনো কথা বলে নি টুকটুকি’র সংগে। কিন্তু টুকটুকি যখনই একটা প্রজাপতি দেখতো তখনই কথা বলার চেষ্টা করতো...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/233440/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Sep 2025 10:05:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বাচ্চাদের নিয়ে প্রথম লেখা। হারিয়ে গিয়েছিল। এগারো বছর পরে ফিরিয়ে দিল ফেইসবুক। লেখাটা কেমন ছিল জানাবেন।</p>
<p>প্রজাপতি ও টুকটুকি<br />
সকাল থেকেই বাবা, মা ঝগড়া করছে। টুকটুকি একটা বই খুলে পড়ার ভান করছে। কিন্তু কিছুই পড়তে পারছে না। তার কানে ঝগড়ার কথাগুলো ছুটে ছুটে আসছে। বাবা মা’য়ের অনেক কিছুই তার ভালো লাগে না যেমন: এই ঝগড়াঝাটি। একটু পরে বাবা মা অফিসে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-233440"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/233440/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b8835c0bf640b11e8e4ee6bb4ed6ccfb</guid>
				<title>সন্ধ্যা বেলা নৃত্যতসব হলো
তার কোন ছাপ নেই 
যেন তুমিই প্রথম এসেছ।
যেন তুমিই প্রথম নিজরূপ মুগ্ধ কুমারী 
চন্দন মেখে স্নান করে 
ফুলের রেণুতে টিপ পড়েছ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/233310/</link>
				<pubDate>Fri, 19 Sep 2025 10:11:01 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সন্ধ্যা বেলা নৃত্যতসব হলো<br />
তার কোন ছাপ নেই<br />
যেন তুমিই প্রথম এসেছ।<br />
যেন তুমিই প্রথম নিজরূপ মুগ্ধ কুমারী<br />
চন্দন মেখে স্নান করে<br />
ফুলের রেণুতে টিপ পড়েছ।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e5f9fade6aa9793d7217c804a1c0ec9c</guid>
				<title>ইদুর বিতং

সকালের খাবারের জন্য কী খাবে এসব ভাবতে ভাবতেই শফিক পিসির সামনে বসে পরলো। ঘন্টা খানেক ফেইসবুকে কাটিয়ে দেখে নেট নেই। কিছুক্ষণ নিজের বুদ্ধিতে এদিক সেদিক গুতাগুতি করলো না কোনভাবে ব্রডব্যান্ড এর কানেকশন পাওয়া যাচ্ছেনা। ব্রডব্যান্ড সরবরাহ করা প্রতিষ্ঠানটিতে ফোন করে সে  গেল রান্নাঘরে। ফ্রিজে থাকা দুধ গরম করে তাতে ওটস দিয়ে খেয়ে নিল। কিন্তু মনের মধ্যে তখনও কিছু খাই খাই করছিল। ফ্রিজ খুলে তেমন কিছু পাওয়া গেলনা। ফ্রিজের উপরে পাওয়া গেল এক ফানা সবরি কলা। কলাগুলো মজে গেছে। কবে এনে রেখেছে শফিকের মনে ছিলনা। কিছু না পেয়ে সেই মজা কলাই খেয়ে নিল শফিক। 

যেহেতু নেট নেই সেহেতু অলস শফিক কিছুক্ষণের জন্য ছুটি পেয়েছে বলে খুশি হলো। তার কাজ কম্মো বেশিরভাগই ঘরের পিসিতে। নেট নাই তাই সে কতোক্ষণ টিভিতে দিরিলিশ আরতুগ্রুল দেখতে থাকে। এরপর জমিয়ে একটা ঘুম দেয়। ঘুম থেকে উঠে কী রান্না করবে এসব ভাবতে ভাবতে দ্রুত ফ্রিজ থেকে ইলিশ মাছ বের করে ধুয়ে নেয়। এক চিলতে  রান্নাঘরের পাশেই একটা আলমিরায় এক বোতল শস্য প্রবর্তনার সর্ষে রাখা ছিল। সেই বোতলটা কী এখনো আছে নাকি বুয়া চুরি করে নিয়ে গেছে কে জানে? বুয়া মাঝে মাঝে তার ঘরের জিনিসপত্র চুরি করার জন্য বাজারের ব্যাগ নিয়ে আসে। শফিক চক্ষু লজ্জায় বুয়ার ব্যাগ হাতায়না। শফিক নানা সৌখিন জিনিস কিনে আনে সেগুলো খুঁজে পায়না এরপরে। ভাগ্য ভালো আলমিরায় সর্ষের বোতলটা আছে। শফিক চাল ধুয়ে এক চুলায় বসায় আরেক চুলায় সর্ষে ইলিশ বসিয়ে দেয়। রান্না হয়ে গেলে দ্রুত গরম ভাতের সঙ্গে সর্ষে ইলিশ দিয়ে ভাত খেয়ে নেয়। একাকি থাকার একটা ভালো দিক আবিষ্কার করে শফিক যখন যা ইচ্ছে তা রান্না করে খাওয়া যায়। অন্যের পছন্দ ও অন্যের রান্না খেতে হয়না। 

বিকেলে ব্রডব্যান্ড এর লোক এসে আবিষ্কার করে ব্রডব্যান্ড এর সংযোগের তারটি ইদুরেরা কেটে রেখেছে। লোকটি তার পালটে সংযোগ ঠিক করে ঠিকই কিন্তু শাসায় যে আর সে বিনা টাকায় তার ঠিক করবেনা। ইদুরের বংশকে শফিককেই নির্বংশ করতে হবে। শফিক কিছু বলে না। ইদুরের বাচ্চারা যখন তার পায়ে ছোয়া দিয়ে যায় তার খুব ভালো লাগে। একাকী ঘরে একটি প্রাণের স্পর্শ খুব ভালো লাগে তার।

ইদুরের কথায় অনেক কিছু মনে পরে তার। ছেলে যখন ছোট ছিল ছেলের সঙ্গে সেও টম এন্ড জেরি দেখতো। ছেলে অনেক খুশি হতো টম এন্ড জেরি দেখে। দুষ্ট জেরিকে মেরে ফেলা শফিকের পক্ষে সম্ভব না। ছেলে এখন বিদেশে অনেক দিন তার সঙ্গে দেখা হয়না। ছেলের সঙ্গে থাকা প্রতিটা স্মৃতিই সে খুব আদরের সঙ্গে লালন করে যেন একটি বহু মুল্যবান বইয়ে রাখা আছে সব স্মৃতি। খুব যতনের সঙ্গে প্রতিটা চরিত্রকে জমিয়ে রাখতে হবে তা নাহলে অনাদরে ছেলের সংগে থাকা সবকিছু হারিয়ে যাবে যা সে কখনো খুঁজে পাবেনা। 

ইদুরের বাচ্চাগুলোর দিকে সস্নেহে তাকায় শফিক। আহা! কি আদুরে ছানাগুলো। ইদুর নিয়ে তার ছোটবেলার কতোশত স্মৃতি! একটা দাত পড়লেই তারা ছোটরা সেটা নিয়ে ইদুরের গর্তে ফেলে বলতো:

ইদুর ভাই, ইদুর ভাই
মোর দাত তুই নিবি
তোর দাত মোরে দিবি।

ভাই- বোন, বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো সেই দিনগুলো কতোই না মধুর ছিল!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/233102/</link>
				<pubDate>Wed, 17 Sep 2025 07:26:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ইদুর বিতং</p>
<p>সকালের খাবারের জন্য কী খাবে এসব ভাবতে ভাবতেই শফিক পিসির সামনে বসে পরলো। ঘন্টা খানেক ফেইসবুকে কাটিয়ে দেখে নেট নেই। কিছুক্ষণ নিজের বুদ্ধিতে এদিক সেদিক গুতাগুতি করলো না কোনভাবে ব্রডব্যান্ড এর কানেকশন পাওয়া যাচ্ছেনা। ব্রডব্যান্ড সরবরাহ করা প্রতিষ্ঠানটিতে ফোন করে সে  গেল রান্নাঘরে। ফ্রিজে থাকা দুধ গরম করে তাতে ওটস দিয়ে খ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-233102"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/233102/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5ef83b5f903b27e38ba8995315dba001</guid>
				<title>হাসির নাটক

নীলের কেমন অস্থির অস্থির লাগছে। সে পাতিলে পানি গরম করতে দিয়ে গ্যাসের চুলা অন করে। চা না কফি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় নীল। চা&#039;ই তার পছন্দ। নীল চা নিয়ে বিছানায় বসে পা ঝুলায়। অস্থিরতা কমানোর চেষ্টায় সিগারেট টানে। একটু পরে ছাদে যায়। এই সেক্টরে একটা পার্ক আছে সেখানে লেখার প্যাড আর কলম নিয়ে গেলে কেমন হয় ভাবতে ভাবতে সে হাটতে থাকে। বারো নমবর সেক্টরে একটা দোকানে গরম গরম পুরি ভাজছে। পকেটে বেশি টাকা নেই তাও দুইটা পুরি সে খাবেই খাবে বলে ডিসিশান নেয়। নিজেকে একটু ট্রিট দেয়া আরকি!  গরম পুরিটাতে একটা কামড় বসিয়েই নীলের মনে হয় একেই বলে বেচে থাকা। গরম গরম ডাল পুরির এত্তো টেস্ট। একটু শশা, পিয়াজ কুচি আর কাচা মরিচ পেলে ভালো হতো কিন্তু এখনো জব্বর মজা। পুরি দুটি খেয়ে আবার ঘরে ফিরে আসে নীল।

নীল যার ভালো নাম আব্দুল কাদের। তার দাদা প্রথম ছেলে নাতি হওয়ায় নীলের নাম রাখেন আব্দুল কাদের। কিন্তু তার কবি স্বভাবের বাবা ছেলেকে নীল নামে ডাকতেন। নীল চিরকালই ভালো ছাত্র কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে খেই হারিয়ে ফেলেছে। বাবা মারা গেছেন দুই বছর হলো। মা অসুস্থ। বুকে চাপ চাপ ব্যাথা। মাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য নীলের টাকা দরকার। এক বড় ভাই নাটক পরিচালনা করেন। সে নীলকে বলেছে হাসির নাটক লিখতে পারলে স্কৃপ্ট কিনে নিবে। 

&quot;হাসির নাটক নিয়ে এসো। বড় বড় কথা আর ভাব এসব লোকে আর নেয়না। হুমায়ূন আহমেদ একটা ট্রেন্ড সেট করে গেছে। লোকে প্রচলিত বিষয়গুলো হেসে উড়িয়ে দিতে চায়। হুমায়ূন আহমেদ মারা যাওয়ার পরে  এই যায়গাটা ফাকা আছে। সবাই হাসির নাটক বানাতে চায় কিন্তু লোকে হাসেনা।&quot;

নীল কিছুই বলেনা। হুমায়ূন আহমেদ তার ভালোই পড়া আছে। আশা, ভালোবাসা আর হিউমারের মিকচার। প্রচলিত ভাবনার ব্যতিক্রম কিছু। সিগারেটের তামাক ফেলে স্টিক সাজায় নীল। টান দেয়। তার মাথায় লোককে হাসানো যায় এমন কোন ভাবনাই আসেনা। শুয়ে পরে নীল, বড় বড় শ্বাস নেয়। অনেক অনেক দিন আগে সে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফিরছিল গায়ে ছিল স্কুল ড্রেস। বড় বড় বৃষ্টির ফোটা তার মাথায় পরে মাখনের মতো গলে যাচ্ছিলো। কী এক অভূতপূর্ব আনন্দে তার মন ভরে উঠেছিল। 

যতোবারই নীল লিখতে বসে তার মাথায় এই বৃষ্টির দৃশ্য ভেসে ওঠে। কিছুই লিখতে পারেনা সে। হাসির নাটক লেখারতো প্রশ্নই আসেনা। শেষে সে রাতের ঢাকা দেখতে বেরিয়ে পরে। সেক্টরগুলোতে রাতের ঢাকা নেই। ঢাকা দেখতে তাকে কাওরান বাজার যেতে হবে। লম্বা লম্বা পা ফেলে হাটতে থাকে নীল। হাসির নাটক লেখা থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে এই আনন্দেই হাটতে থাকে সে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/232919/</link>
				<pubDate>Fri, 12 Sep 2025 04:35:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হাসির নাটক</p>
<p>নীলের কেমন অস্থির অস্থির লাগছে। সে পাতিলে পানি গরম করতে দিয়ে গ্যাসের চুলা অন করে। চা না কফি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় নীল। চা&#8217;ই তার পছন্দ। নীল চা নিয়ে বিছানায় বসে পা ঝুলায়। অস্থিরতা কমানোর চেষ্টায় সিগারেট টানে। একটু পরে ছাদে যায়। এই সেক্টরে একটা পার্ক আছে সেখানে লেখার প্যাড আর কলম নিয়ে গেলে কেমন হয় ভাবতে ভাবতে সে হাটতে থাকে। বারো নমবর সেক্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-232919"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/232919/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8022f3a0a1295cd5df4588a18e66790d</guid>
				<title>চাঁদ
মেঝেতে শুয়েছি আমি আজ
মনে মনে ডেকেছি চাঁদ।
ও চাঁদ আমার সাথে শুবি তুই রাতে
সারারাত জেগে থাকি
ঘুম হয়না আজকাল ঠিক মতোন
মার্বেল পাথরের মেঝেতে
জড়িয়ে শোব তোকে।
ঘুম ভেংগে গেলে তোর
চাঁদ মুখখানা দেখে হব পরম নিশ্চিন্ত।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/232834/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Sep 2025 02:11:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চাঁদ<br />
মেঝেতে শুয়েছি আমি আজ<br />
মনে মনে ডেকেছি চাঁদ।<br />
ও চাঁদ আমার সাথে শুবি তুই রাতে<br />
সারারাত জেগে থাকি<br />
ঘুম হয়না আজকাল ঠিক মতোন<br />
মার্বেল পাথরের মেঝেতে<br />
জড়িয়ে শোব তোকে।<br />
ঘুম ভেংগে গেলে তোর<br />
চাঁদ মুখখানা দেখে হব পরম নিশ্চিন্ত।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">df38d5e56837512c826f5d2606fbd277</guid>
				<title>বুনন
ও বাবুই বউ বুনন শেখাও
এক কাপড়ে এসেছি ছানা দুটি নিয়ে।
চড়ুইর সঙ্গে প্রবাদিত ঘটনা সকল
তুমি তুলে নিও তোমার ঘরেতে।
আমার সকল বুনে নিও শীতল পাটিতে
ছাউনিটুকু বুনতে পারি যদি আর
ছানা দুটি উড়তে শেখে
কিছু শান্তি হয় মনে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/232593/</link>
				<pubDate>Wed, 03 Sep 2025 14:07:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বুনন<br />
ও বাবুই বউ বুনন শেখাও<br />
এক কাপড়ে এসেছি ছানা দুটি নিয়ে।<br />
চড়ুইর সঙ্গে প্রবাদিত ঘটনা সকল<br />
তুমি তুলে নিও তোমার ঘরেতে।<br />
আমার সকল বুনে নিও শীতল পাটিতে<br />
ছাউনিটুকু বুনতে পারি যদি আর<br />
ছানা দুটি উড়তে শেখে<br />
কিছু শান্তি হয় মনে।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">49a509c707ede42553b339c2b678a5ee</guid>
				<title>প্রথম দিককার কবিতা। নাম দেয়া হয়নি।

অযথাই দোলনচাপা দোপাটি বনে চুল ছড়ায়ে বসো
আমি তাকে বলেছিলাম তোমার ব্যাপারগুলো নিয়ে বসব ছুটির দিনে।
জল ছড়ায়ে ছড়ায়ে ছুটে যায় নদী
সেও চোখ দিল জলে। 
নদী নিজেই ঘাটে ফিরছিল ছপ ছপ বৈঠায়।
তাকেও ফিরতে হলো দীর্ঘ দুই চোখে 
আজ সে গুছিয়ে বসেছে আমার পাশে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/232488/</link>
				<pubDate>Fri, 29 Aug 2025 06:25:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রথম দিককার কবিতা। নাম দেয়া হয়নি।</p>
<p>অযথাই দোলনচাপা দোপাটি বনে চুল ছড়ায়ে বসো<br />
আমি তাকে বলেছিলাম তোমার ব্যাপারগুলো নিয়ে বসব ছুটির দিনে।<br />
জল ছড়ায়ে ছড়ায়ে ছুটে যায় নদী<br />
সেও চোখ দিল জলে।<br />
নদী নিজেই ঘাটে ফিরছিল ছপ ছপ বৈঠায়।<br />
তাকেও ফিরতে হলো দীর্ঘ দুই চোখে<br />
আজ সে গুছিয়ে বসেছে আমার পাশে।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d32d03a3f2e63c1bd6347060a876618c</guid>
				<title>এক বিকেল

দুপুরে রান্না করে খেয়ে রশীদ সাহেবের কেমন যেন লাগছে। পুরো রান্নার সময়টাতে যোগানদার হিসেবে ছিলেন পাশের বাড়ি আকবর নামে এক বৃদ্ধ। আকবরের স্ত্রী রশীদ সাহেবের সঙ্গে লেগে থাকাটা পছন্দ করেনা। কিন্তু আকবর সারাক্ষণ রশীদ সাহেবের সঙ্গে ছিলেন। রান্নাটাও মূলত আকবর করেছেন। রশীদ সাহেব পাশে দাঁড়িয়ে একটু নেড়ে চেড়ে দিয়েছেন। মাছ কেটেকুটে দিলেন আকবর তারপর রশীদ সাহেব কড়াইয়ে তেল ঢেলে দিলেন। মাছের টুকরোগুলো আবার ভেজে দিলেন আকবর। মোটামুটি একটা পিকনিকের মতো ব্যাপার। কিন্তু রশীদ সাহেবের কেমন যেন লাগে ইদানিং। মন কেমন করে।

রশীদ সাহেবের স্ত্রী মারা গেছে সাড়ে চার বছর হলো। দুই মেয়ে বিয়ে করে সংসারী। বড় ছেলের বউ বাপের বাড়ির কাছে একটা স্কুলে চাকরি করে তাই সেখানে থাকে। মেঝ ছেলের নতুন বিয়ে হয়েছে। মেঝ ছেলের বউ  ছেলের কাছে ঢাকা বেড়াতে গেছে। রশীদ সাহেব বিছানায় শুয়ে উশখুশ করতে লাগলেন। পাশের ঘরে তার ছোট ভাইয়ের নাতি আরাফাত কাদছে। ইদানিং রশীদ সাহেবের কেমন কেমন লাগে শুধু মন উদাস হয়ে যায়। মৃত বাবা-মায়ের কথা মনে পরে। তার ছোট ভাই মারা গেছে তিন বছর হলো। ছোট ভাই, সবার বড় দুই ভাই যারা অনেক আগে মারা গেছে তাদের কথাও মনে পরে। 

রশীদ সাহেব বিছানা থেকে উঠলেন। আরাফাতকে ডাকলেন। 

&quot;চা খাবি?&quot;
&quot;হ&quot;
&quot;ল&quot;, আরাফাত দৌড়ে দাদার পিছন নেয়।

ব্রিজের ওপারে চায়ের দোকানের দিকে হাটতে থাকে দাদা ও নাতি। রশীদ সাহেব দোকানের সামনে বেঞ্চিটাতে বসে আরাফাতের হাতে বিস্কিটের প্যাকেট তুলে দেন। আরাফাত বিস্কিটের প্যাকেট খুলতে ব্যস্ত হয়ে পরে। দোকানের ছেলেটা চায়ের কাপে কনডেন্স মিল্ক আর চিনি দিয়ে প্রচন্ড বেগে চামচটা নাড়াতে থাকে। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে চুপচাপ বসে থাকেন রশীদ সাহেব। পাশের দোকানের সামনে কয়েকটা ছেলে ও দুইজন মাঝবয়সী রাজনীতির আলাপ করছে। 

রশীদ সাহেব এতোদিন রাজনৈতিক আলাপে বিজ্ঞ মতামত দিতেন কিন্তু এখন ওসব তাকে টানছেনা। কিছুদিন আগেও ছোট ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে জায়গা জমি নিয়ে ঝগড়া হয়েছে কিন্তু এখন তিনি অন্য মানুষ। উদাস দৃষ্টিতে দিগন্তের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আরাফাতকে জিজ্ঞেস করেন-

&quot; কিরে আর কিছু খাবি?&quot;
আরাফাত সলজ্জ দৃষ্টিতে মাথা নাড়ে।

রশীদ সাহেব চাওয়ালাকে আরেক কাপ চা দিতে বলেন। চাওয়ালা ছেলেটি দ্রুত গতিতে চা বানায়। যদিও আর কোন কাস্টমার নেই। পাশের দোকানী রাজনৈতিক আলাপ শুরু করে আজ সবাইকে তার দোকানে টেনে নিয়েছে। রশীদ সাহেব মনোযোগ দিয়ে আরাফাতের চা খাওয়া দেখেন। আরাফাত ফু দিতে দিতে ছোট ছোট চুমুক দিচ্ছে চায়ের কাপে। কী সুন্দর এইসব দেখতে! কখনো ভাবেননি রশীদ সাহেব। আজ আরাফাতের চা খাওয়া দেখে আরাফাত আর আশেপাশের সবার জন্য ভীষণ মায়া হয় তার। কী যেন বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বলতে পারেননা। তার মন বলে সময় আর বেশি নাই! চলে যাওয়ার দিন এসে গেছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/232311/</link>
				<pubDate>Thu, 21 Aug 2025 15:30:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এক বিকেল</p>
<p>দুপুরে রান্না করে খেয়ে রশীদ সাহেবের কেমন যেন লাগছে। পুরো রান্নার সময়টাতে যোগানদার হিসেবে ছিলেন পাশের বাড়ি আকবর নামে এক বৃদ্ধ। আকবরের স্ত্রী রশীদ সাহেবের সঙ্গে লেগে থাকাটা পছন্দ করেনা। কিন্তু আকবর সারাক্ষণ রশীদ সাহেবের সঙ্গে ছিলেন। রান্নাটাও মূলত আকবর করেছেন। রশীদ সাহেব পাশে দাঁড়িয়ে একটু নেড়ে চেড়ে দিয়েছেন। মাছ কেটেকুটে দিলেন আকবর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-232311"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/232311/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e98fa8bc309b0a86017bd09e19b9847e</guid>
				<title>হলুদ ফ্রিজ

ঘুম থেকে উঠেই বাবুই&#039;র এই কালো আর ছাই রংয়া ফ্রিজটা দেখে মন খারাপ হয়ে যায়। আজ শুক্রবার স্কুল নেই। বাবুই অনেক দিন থেকেই ভাবছে ফ্রিজের পাশের দেয়ালে একটা হলুদ রংয়ের ফ্রিজ একে লাগিয়ে রাখবে। বাবুই&#039;র এখন নয় বছর বয়স। আরো ছোট্ট বয়সে সে দেয়ালে আকাআকি করতো আর মা খুব বকতো। 

বাবুই কারো বাসায় হলুদ রংয়ের ফ্রিজ দেখেনি কখনো। হলুদ রংয়ের ফ্রিজ কেন হয়না আল্লাহই জানে। বাবুই কিন্তু মনে মনে একটা হলুদ রংয়ের ফ্রিজ আকে অনেক দিন ধরে। ফ্রিজের সামনের অংশটা হবে হলদে পাখির মতো হলুদ আর পাশের অংশটা হবে বাসন্তী রংয়ের। নানা বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হলদে পাখি দেখেছে বাবুই। নানা বাড়ির সামনে একটা গাছে হলুদ আর কালো রংয়ের পাখিটা উড়ে এসে বসে। পাখিটা এতো সুন্দর দেখতে যে চোখ ফিরাতে পারছিল না বাবুই। 

প্রথমে ড্রয়িং খাতায় ফ্রিজের ছবিটা আকে সে। তারপরে গাম দিয়ে দেয়ালে সেটা লাগাবে কি না তা নিয়ে ইতস্তত করে। মায়ের যে বকাবকি করার অভ্যাস। তাতে সাহস হয়না তার। সে ভাবলো যাই একবার ছবিটা বাবাকে দেখিয়ে আসি। বাবা বসার ঘরে বসে খবরের কাগজ পড়ছিল। বাবাকে ফ্রিজের ছবিটা দেখাতে বাবা উ: উ: অ: অ: করতে শুরু করে। বাবা খুশি হলে এসব শব্দ করে বিশেষ করে বাবুই&#039;র সঙ্গে এমন করে। 

&quot;আচ্ছা  বাবা হলুদ রংয়ের ফ্রিজ হয়না কেন?&quot;
&quot;হবে না কেন অবশ্যই হয়।&quot;
&quot;তাহলে একটা কিনে আনো&quot;

সেদিন বিকেলেই বাবুই একটা গাছে ভরা বারান্দার ছবি আকে। যেন তার বারান্দাটাতে রয়েছে মেনি প্ল্যান্টস আর ফুলের গাছ। সেইসব গাছের ডালে ডালে অনেক পাখি খেলছে। ফুল গাছের পাতায় বৃষ্টির ছাট এসে লাগছে। লাল, কমলা ও নানা রংয়ের ফুল ফুটে আছে গাছে গাছে। ছবিটা একে সত্যিই খুব ভালো লাগছিলো বাবুই&#039;র। ড্রয়িং খাতাটা টেবিলে খোলা রেখে ঘুমিয়ে যায় বাবুই। পরদিন সকালে ঘুম থেকে একটু দেরিতে ওঠে বাবুই। কী অবাক ব্যাপার তার বারান্দায় অনেক ফুলের গাছ আর মেনি প্ল্যান্টস। সত্যি সত্যিই পাখি আসে কিনা সেদিকটাতে খেয়াল রাখছিল বাবুই। এসব বাবার কাজ-তা সে জানে। 

তারো আরো অনেক দিন পরে যেদিন তার জন্মদিন সেদিন বাবা একটা ছোট হলুদ রংয়ের ফ্রিজ কিনে আনে। সেটা দেখে বাবুই&#039;র মনে এতো আনন্দ হয় যে বলার না। আর সেই ফ্রিজটা রাখা হয় বাবুই&#039;র ঘরে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে বাবুই যখন হলুদ ফ্রিজটা আর জানালা দিয়ে ব্যালকনিতে নানান গাছপালা দেখে তার মন খুব ভালো হয়ে ওঠে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/232060/</link>
				<pubDate>Wed, 13 Aug 2025 09:46:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হলুদ ফ্রিজ</p>
<p>ঘুম থেকে উঠেই বাবুই&#8217;র এই কালো আর ছাই রংয়া ফ্রিজটা দেখে মন খারাপ হয়ে যায়। আজ শুক্রবার স্কুল নেই। বাবুই অনেক দিন থেকেই ভাবছে ফ্রিজের পাশের দেয়ালে একটা হলুদ রংয়ের ফ্রিজ একে লাগিয়ে রাখবে। বাবুই&#8217;র এখন নয় বছর বয়স। আরো ছোট্ট বয়সে সে দেয়ালে আকাআকি করতো আর মা খুব বকতো। </p>
<p>বাবুই কারো বাসায় হলুদ রংয়ের ফ্রিজ দেখেনি কখনো। হলুদ রংয়ের ফ্রিজ কেন হয়না&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-232060"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/232060/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0340455c85695733a85abcf00fe683b1</guid>
				<title>জোমাত

গ্রামের শেষ প্রান্তে যে মোল্লা বাড়ি আছে সেখানেও দাওয়াত পৌঁছে দেয় হাবিব। বংশ তাদের এক। এখন বাড়িগুলো ছড়িয়ে গেছে শুধু। বাড়ির মেঝ বৌটা মারা গেছে আজ দুই দিন। সেই বৌয়ের নামে জোমাত খাওয়া। বড় ভাই একটা গরু জবাই করতে বলেছে। খরচ হিসেবে বিশ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। অন্য ভাইয়েরাও কিছু কিছু দেবে। হাবিব পান চিবুতে চিবুতে হালকা পায়ে হেটে চলে। শেষ পর্যন্ত সব কিছু ভালোয় ভালোয় শেষ হয়েছে। মেঝ বৌয়ের না ছিল কোন টান বা খিচুনি। উপজেলা থেকে সাগর ডাক্তার প্যারামেডিককে আনা হয়েছে দুই বার। শেষটা ভালোই ছিল মেঝ বৌয়ের। বাড়িতে বাড়িতে দাওয়াত পৌঁছে দেয় হাবিব। চাচিরা তাকে আবার আবার পান খেতে দেয়। সেও মনের আনন্দে পান চিবায়। 
 
পরের দিন খুব সকালে চার ভাই মিলে গরু জবাই দেয়। বাড়ির বৌরা চা করে পাঠায় ফ্লাস্কে। ফ্লাস্ক থেকে প্রথম চা ঢালে মেঝ ভাই। বৌ মরায় তারই আগে ভাগে এক কাপ চায়ের বেশি প্রয়োজন। বৌয়ের প্রতি তার রাগ ছিল অনেক। প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া লাগতো। বৌ একবার বিষও খেয়েছিল। সেই থেকে তার রোগটাও বেড়েছিল। কিন্তু শেষের দিনগুলোতে সে কম যত্ন করেনি। বরিশাল নিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছে। উপজেলা থেকে সাগর ডাক্তারকে নিয়ে এসেছে। দুপুর বেলা মাঝে মাঝে চুলায় রান্না বসিয়ে দিয়েছে। বউ যে বাচেনি তাতে তার কীইবা করার আছে। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। 

গরুটার বয়স অল্প। এক দেড় বছরের বাছুর। মাংস কাটতে বেশি সময় লাগলো না। বড় ভাইয়ের ছেলে করিম এক পিরিচ বিস্কুট নিয়ে আসছে। রক্ত মাখা আংগুল দিয়ে টুক করে ধরে ধরে সবাই ভাগাভাগি করে বিস্কুট খেল। ভাইয়ে ভাইয়ে মিল আছে। রহিমের মনে পরে চাচির কথা। মেঝ চাচিই সবচেয়ে ভালো ছিল। সবাইকে সবচেয়ে বেশি খাওয়াতো। ওই কবরে যেতে হবে থাকবে নাতো সাথী- &quot;রহিম কলিজার মাংস্টা ফ্রিজে নিয়ে রাখতো।&quot; মেঝ চাচার হুকুমে কবরের কথা ভুলে যায় রহিম। ছোট চাচা কয়েকদিন আগে একটা ফ্রিজ কিনেছে। টুকটুকে লাল ফ্রিজটার কথা মনে ভেসে ওঠে তার। দ্রুত সে কলিজার মাংস নিয়ে ছোটে। 

সবাই তিন চার মাস ধরে এই মৃত্যুর জন্য তৈরি ছিল। তাই কাউকেই তেমন দু:খিত দেখালো না। মেঝ বৌয়ের মেয়ে ডুমুর মাকে যতোটা পারে ফল ফলাদি খাইয়েছে। সেও দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে বসে আছে। চারদিকে চাচিরা কেউ মশল্লা বাটছে, কেউ সকালের রান্না বসিয়েছে। গত দুই দিন পাশের বাড়ি থেকে খাবার পাঠিয়েছে। বাড়ির সবার খাওয়া দাওয়া এক সাথে। বাড়ি জেগে উঠেছে শিশু আর বড়দের কথা বার্তায়। সবাই খুব ব্যস্ত। অনেক মানুষের জোমাতের রান্না। ডুমুরের ভাইটার বয়স কম। তার মন খারাপ। বোন এক কাপ চা দেয় ভাইকে। আস্তে আস্তে শোক সামলে উঠবে। মরতে তো সবাইকেই হবে।

মরতে সবাইকে হবে-এই কথাটা যদিও সবাই বলাবলি করছে। কিন্তু বাড়িতে যে উতসব উতসব ভাব তা চেপে রাখা যাচ্ছে না। যে বউগুলো এতোদিন জা&#039;য়ের তেমন খোঁজ খবর করেনি। তারাই সব দিকে মন দেয়। সব কিছুর পরে বাড়ির মান ইজ্জত। কোন কিছুতে যেন ত্রুটি না থাকে। ডুমুরের শাশুড়িকে চা বিস্কুট এনে দেয় এক চাচি। হু সবাইকে মরতে হবে একদিন। 

বাড়ির ছেলেরা মাংস ধুয়ে আনে কলপাড় থেকে। ডেকচিতে তেল ঢালে সেজ বৌয়ের বাপ। পাশেই বাড়ি তার। রান্না বান্না ভালো পারে। এ কর্তব্যের বোঝা তার। খুব সকালেই অসুস্থ শরীর নিয়ে হাজির সে। দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলা করার লোক না সে।

যে ছেলেটা মন খারাপ করে বসে ছিল। সেও এবার উদাস চোখে তাকিয়ে উঠানের রান্না দেখে। অনেক মানুষের জন্য জোমাতের রান্না। মায়ের পেটে যখন পানি জমতে জমতে অনেক ফুলে উঠেছিল তখন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা মনে ছিল না কারো। যখন নিয়ে গেছে তখন ডাক্তার জবাব দিয়ে দিয়েছে-ক্যান্সার। ক্যান্সার তার মায়ের ক্যান্সার আর বেশিদিন টিকবে না। সবাই তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে আকারে ঈংগিতে। মায়ের জন্য ঢাকা থেকে আপেল কমলা কিনে আনতো সে। মা খুশি হতো যদিও মুখে বলতো, &#039;তুই এইগুলা টাকা খরচ করে আনলি ক্যান&#039;।  মা, তার মা শুয়ে আছে কবরে-আর ফিরে আসবে না। দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে শুধু কয়েকবার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/231943/</link>
				<pubDate>Fri, 08 Aug 2025 06:07:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জোমাত</p>
<p>গ্রামের শেষ প্রান্তে যে মোল্লা বাড়ি আছে সেখানেও দাওয়াত পৌঁছে দেয় হাবিব। বংশ তাদের এক। এখন বাড়িগুলো ছড়িয়ে গেছে শুধু। বাড়ির মেঝ বৌটা মারা গেছে আজ দুই দিন। সেই বৌয়ের নামে জোমাত খাওয়া। বড় ভাই একটা গরু জবাই করতে বলেছে। খরচ হিসেবে বিশ হাজার টাকা পাঠিয়েছে। অন্য ভাইয়েরাও কিছু কিছু দেবে। হাবিব পান চিবুতে চিবুতে হালকা পায়ে হেটে চলে। শেষ পর্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-231943"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/231943/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d0b88378d8933bbe47d11b9215038101</guid>
				<title>শ্রোতা 

রিমি যাস্ট &quot;কিউরিওসিটি&quot; শব্দটা বলেছে। 
&quot;নাওয়ালের কিউরিওসিটি কম।&quot;
তখনই ঠিক তখনই শাহেদ শব্দটা পিক করে নিয়ে কথার তুবড়ি ছোটাতে লাগলো।
&quot;ইন্টারনেটের কারণেই লোকের এখন কিউরিওসিটি নাই। ইন্টারনেটে তারা যা দেখে তাই সত্যিই বলে মনে করে। আসলে কিন্তু সেটা সত্যি না। আসলে লোকে যা দেখাতে চায় তাই আমরা দেখি। লোকে ভাবে আরে সুইজারল্যান্ড! ইন্টারনেটে আমিতো সুইজারল্যান্ড দেখেছি। এসব ভেবে সে নিজেকে খুব চালাক মনে করে।&quot;

কিছুক্ষণ এইভাবে বলার পরে শাহেদ আরও বলতে থাকে, &quot;যে ইন্টারনেটে ৫ লাখ টাকা আয় করে সে ওইগুলা শিখানোর নামে ইন্টারনেটে আরও সময় খরচ করে। এই ভাবে চলতে থাকে। তার জীবনের অনেক সময় ইন্টারনেটের পিছনে চলে যায়।&quot;

রিমি আর মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু অলিখিত ও লিখিত নিয়ম হচ্ছে শাহেদ যখন কথা বলবে রিমিকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে তা সে যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন। রিমি হয়তো ঘর মুছতে মুছতে অর্ধেক ভিজে গেছে। তখন হয়তো শাহেদের রাজনৈতিক কোন কথা মনে পড়েছে যে বিষয়ে রিমির কোন আগ্রহ নেই। তখনও প্রয়োজনে তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা পূর্ণ মনোযোগে শাহেদের বক্তব্য শুনতে হবে।
না, শুনলে ভয়াবহ কিছু হবে। মারামারি -খুনোখুনি হয়ে যেতে পারে। শাহেদের কথা না শুনলে শাহেদ প্রচন্ড অফেন্ডেড হয়। রিমি বেচারা এতো মনোযোগ ধরে রাখা বা তেমন ভান করতে পারেনা। আর সেসব নিয়ে চরম অশান্তি শুরু হয়ে যায়।  

অনেক দিন আগে শাহেদের কোন এক বক্তব্যের মাঝে রিমির হাত ধুতে যাওয়ার খুব প্রয়োজন ছিল।
শাহেদই বললো, &quot;যাও!&quot;
রিমি: না, তাহলে তুমি মারবে।
শাহেদ: বুঝতে পেরেছ, তাহলে আর মারব না। যাও।

শাহেদ যে কখন কোন বিষয়ে তার দীর্ঘ এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরবে রিমি বেচারা তা আগে থেকে বুঝতে পারেনা। এক সময় শাহেদের ইন্টারনেট বিষয়ক বক্তব্য বন্ধ হলো।
কম্পিউটারের সামনে বসে শাহেদ রিমিকে তাড়া দিলো। &quot;যাও, যাও ভাত বাড়োতো, অনেক খিদা লাগছে।&quot;

রিমি ভাত বাড়ে, ভাত খায়। ট্যাবে &quot;পিতা ও পুত্র&quot; ডাউনলোড করে পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পরে। ঘুম থেকে উঠে ছাদে যায়। ফেরার সময় দেখে শাহেদ মনের আনন্দে ফেইসবুক চালাচ্ছে। রিমি কিছু বলেনা। ডাইনিং টেবিলে ভাত তরকারি ঢাকা পরে আছে। শাহেদ খায়নি। শাহেদকে ডাকলে বিরক্ত হবে ভেবে রাতেও রিমি একা একা খেয়ে নিয়ে &quot;পিতা ও পুত্র&quot; পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পরে। 

খুব ভোরে ঘুম ভাংগে রিমির। ডাইনিং এ ভাত তরকারি ঢাকা পরে আছে। কম্পিউটারের পিছনে চেয়ারে ঘুমিয়ে আছে শাহেদ। ডাকলে বিরক্ত হতে পারে ভেবে রিমি ওজু করতে বাথরুমে ঢুকে যায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/231843/</link>
				<pubDate>Sun, 03 Aug 2025 05:53:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শ্রোতা </p>
<p>রিমি যাস্ট &#8220;কিউরিওসিটি&#8221; শব্দটা বলেছে।<br />
&#8220;নাওয়ালের কিউরিওসিটি কম।&#8221;<br />
তখনই ঠিক তখনই শাহেদ শব্দটা পিক করে নিয়ে কথার তুবড়ি ছোটাতে লাগলো।<br />
&#8220;ইন্টারনেটের কারণেই লোকের এখন কিউরিওসিটি নাই। ইন্টারনেটে তারা যা দেখে তাই সত্যিই বলে মনে করে। আসলে কিন্তু সেটা সত্যি না। আসলে লোকে যা দেখাতে চায় তাই আমরা দেখি। লোকে ভাবে আরে সুইজারল্যান্ড! ইন্টারনেটে আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-231843"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/231843/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c46cfd2795bde2d1783094b63779ab03</guid>
				<title>অপেক্ষা

নুরুল হক সাহেবের জ্বরের দিনগুলোতে খুব কৈ মাছের দোপিয়াজি খাওয়ার ইচ্ছে হলো। তিনি জ্বরের দিনগুলোতে তেমন কিছুই খেলেন না। ফ্রিজে দুধ ছিল। বুয়াকে ব্রেড কিনে আনতে বলেছিলেন। জ্বরের দিনগুলোতে ব্রেড তাওয়ায় সেকে আর দুধ গরম করে সেই দুধে ব্রেড চুবিয়ে খেয়ে নিলেন।

অনেক দিন আগে তার বোনের কালা জ্বর হয়েছিল। কবিরাজ তাকে না খাওয়ার বিধান দিয়েছিলেন। বোনটি একটু মাছ-ভাত খাওয়ার জন্য খুব কাদতো। কবিরাজের বিধান ছিল খুব কঠোর। বোনটিকে কেউ কিছু খেতে দিল না। একদিন সেই বোন মরে গেল। 

নুরুল হক সাহেব জ্বর থেকে উঠে বাজারে গেলেন। উদ্দেশ্য কৈ মাছ কেনা। এই ভরা বর্ষায় বাজারে প্রায় সব মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু তার চোখ খুজছিল কৈ মাছ। একটু খুজেতেই পেয়ে গেলেন কৈ মাছ। চাষের কৈ না একেবারে আসল কৈ। এজন্যই তিনি বাজারে এসেছেন। ছোটবেলার মতো কৈ এর দোপিয়াজি খাবেন বলে এতো কষ্ট করে বাজার করছেন। 

আপাতত তিনি জ্বর বিষয়ক ছুটি কাটাবেন বলে ঠিক করেছেন। তাই নিশ্চিন্ত ছিলেন তিনি। কলেজ থেকে তার ছুটি নেওয়া হয়না বললেই চলে। তারপরেও তিনি সুযোগ পেলেই অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে থাকেন। অনেক ছাত্র ছাত্রী আসে তার বাসায়। অকৃতদার নুরুল হক সাহেবের সময় খুব ভালো কাটে।
 
বুয়ার জন্য অপেক্ষা না করে কাপড় বদলে মাছ কাটতে ও ধুতে শুরু করলেন তিনি। এই বর্ষায় বাড়িতে থাকলে অনেক মাছ ধরতেন। ঘন্টার পর ঘন্টা সিপ হাতে পুকুর পাড়ে বসে থাকতেন। কখনো কখনো মায়ের সঙ্গে বসে মাছ রান্নাও করতেন। বাড়িতে একটা উতসব উতসব আবহ তৈরি হতো। 

তাই মাছ কাটা ও রান্না করা তার কাছে নতুন কিছুই না। বেশ উৎসাহের সঙ্গে মাছ রান্না করার পরে বুয়া উকি দিল। ভাত রান্না বুয়ার হাতে ছেড়ে দিয়ে উঠে পরলেন তিনি। পেটের মধ্যে একটা খিদের ভাব ঘুরে বেড়াচ্ছিল। গোসল করে ভাত খেতে বসলেন কিন্তু কিছুই তেমন খেতে পারলেন না। হাত মুখ ধুয়ে উঠে পরলেন। 

তখন থেকে ব্যালকনিতে বসে সামনের মাঠের দিকে খেয়াল রাখছেন ক্ষুধার্ত কাউকে পেলে ভাত মাছ খেতে ডাকবেন। কিন্তু কাউকে তেমন দেখা গেল না। রাষ্ট্র ভিখিরি শুন্য হয়ে উঠেছে। এখন কেউ বাসা বাড়িতে ভিক্ষা নিতেও আসে না। বুয়াকে দেওয়া যাবে না। বুয়ারা তার চেয়ে ভালোই খায়। 

মুন্সির গ্যারেজের দিকে একজন অন্ধ ভিখিরি বসে। তার জন্য ভাত আর মাছ একটা বক্সে করে নিয়ে যাবেন ভাবলেন তিনি। মুন্সির গ্যারেজে গিয়ে অনেকক্ষণ হাটাহাটি ও চা খাওয়ার পরে ভিখিরিটিকে খুজে পেলেন তিনি। কিন্তু এই লোককে খাইয়ে কোন তৃপ্তি নেই। ভাবলেশহীন মুখ। নাটকীয় সংলাপ উচ্চারণ করে ভিক্ষা চায়। নুরুল হক সাহেব বক্স নিয়ে ফিরে আসলেন। 

এই মাছ তিনি কোন কিশোর বা কিশোরীকে খাওয়াবেন যারা খুব আহ্লাদের সঙ্গে মাছ-ভাত খাবে। 
সেরকম একজনের জন্য অপেক্ষা করে রইলেন তিনি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/231486/</link>
				<pubDate>Sun, 20 Jul 2025 11:07:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অপেক্ষা</p>
<p>নুরুল হক সাহেবের জ্বরের দিনগুলোতে খুব কৈ মাছের দোপিয়াজি খাওয়ার ইচ্ছে হলো। তিনি জ্বরের দিনগুলোতে তেমন কিছুই খেলেন না। ফ্রিজে দুধ ছিল। বুয়াকে ব্রেড কিনে আনতে বলেছিলেন। জ্বরের দিনগুলোতে ব্রেড তাওয়ায় সেকে আর দুধ গরম করে সেই দুধে ব্রেড চুবিয়ে খেয়ে নিলেন।</p>
<p>অনেক দিন আগে তার বোনের কালা জ্বর হয়েছিল। কবিরাজ তাকে না খাওয়ার বিধান দিয়ে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-231486"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/231486/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1e25e4b44ad96b20081e9e335592ad2e</guid>
				<title>মা

 &quot;ও আফা, আজকে না আব্দুর রহমান কী করছে জানেন?&quot; মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে মাহমুদা আমার দিকে তাকিয়ে আছে।  ছেলেটাকে আমার বিছানায় শুইয়ে দিয়ে আব্দুর রহমানের কীর্তি বর্ণনা করে মাহমুদা।
মাহমুদা আমার ফুপাতো বোন। বিয়ে হয়েছে আমার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে। 

&quot;আব্দুর রহমানরে জিগাই ও রহমান, তুই কোন জামাডা পরবি? ও দেহাইয়া দেয় লালডা। যেই আমি ওরে ছাপার জামাডা পরাইতে যাই, পোলায় কাইন্দ্যা ওঠে।&quot;
&quot;তাই না আব্দুর রহমান?&quot; 
আব্দুর রহমান কোন কথা বলে না। উপরের দিকে চেয়ে থাকে।

আমিও হাসি মুখে তাকাই। মাহমুদা প্রায়ই আব্দুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার ও বিভিন্ন ঘটনার কথা বর্ণনা করে। অন্য কাউকে হয়তো বলে না শুধু আমাকেই বলে। আমি হাসি মুখ করে শুনি।

একদা আমি যোগাযোগের ছাত্রী মন দিয়ে আব্দুর রহমানের গল্পগুলো শুনি। আব্দুর রহমান আমার কোলে আসতে চায়। হাতে প্রচন্ড ব্যাথা থাকায় কোলে নিয়ে রাখতে পারি না। 

&quot;আজকে কী হইছে শোনেন! পোলায় মামা মামা করে বইল্যা অরে ফোনে ওর মামারে ধরাইয়া দিছি। 
ও মামার লগে কতো কথা যে কইছে! আফা  বিশ্বাস করবেন না।&quot;

&quot;কী কইছে?&quot;

&quot;ও অর মামারে কয় &#039;মামা খাওন পাডাইয়া দাও। তারাতারি বাড়ি আও&#039;।&quot;

এমন আরো অনেক গল্প আমি মন দিয়ে শুনি। যেখানে আব্দুর রহমান অনেক কথা বলে। মায়ের কথার উত্তর দেয়। আমি বিশ্বাস নিয়ে শুনি আর ভুলে যেতে চাই আব্দুর রহমান কথা বলতে ও হাটতে পারবেনা। ও জন্ম থেকেই প্রতিবন্দ্বী। আর মাহমুদা তার মাতৃস্নেহ দিয়ে কতো সুন্দর বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা গল্প করছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/230725/</link>
				<pubDate>Sat, 28 Jun 2025 12:30:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মা</p>
<p> &#8220;ও আফা, আজকে না আব্দুর রহমান কী করছে জানেন?&#8221; মুখ ভর্তি হাসি নিয়ে মাহমুদা আমার দিকে তাকিয়ে আছে।  ছেলেটাকে আমার বিছানায় শুইয়ে দিয়ে আব্দুর রহমানের কীর্তি বর্ণনা করে মাহমুদা।<br />
মাহমুদা আমার ফুপাতো বোন। বিয়ে হয়েছে আমার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে। </p>
<p>&#8220;আব্দুর রহমানরে জিগাই ও রহমান, তুই কোন জামাডা পরবি? ও দেহাইয়া দেয় লালডা। যেই আমি ওরে ছাপার জামাডা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-230725"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/230725/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7f53e0663f8d1430aebb0d3cae0ca9d2</guid>
				<title>নবধারা জলে

লিপি তটস্থ হয়ে ওঠে। তার শিল্পী স্বামী বাথরুম থেকে চিৎকার করছে। একটু আগেই বাথরুম থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনা যাচ্ছিল। রবীন্দ্র সঙ্গীতের পরেই এই বেমানান চিৎকারের উৎস খুঁজতে খুঁজতে স্বামীর কাপড় নিয়ে হাজির হয় লিপি। খাবার টেবিলে আরেক দফা চিল্লাচিল্লি।
তুচ্ছ লবন নিয়ে চিৎকার করে খাবার না খেয়েই উঠে পরে নীল। এতক্ষণে বোধোদয় হয় লিপির। তার স্বামী ফের প্রেম করা শুরু করছে। 

এমনিতে নীল খুব ভালো ছেলে। লিপিকে ভারাবাসে, ছেলেকে ভালোবাসে। লিপিকে বোঝার চেষ্টা করে। মন্ডাই, মিঠাই থেকে শুরু করে শাড়ি, চুড়ি কিনে দেয়। ছুটির দিনে রাত জেগে ছেলের সঙ্গে কার্টুন দেখে। মাঝে মাঝে বেড়াতে যায় তারা। বাইরে খায়, সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখে।

সমস্যাটা হয় নীল কারো প্রেমে পড়লে। বাসায় যতোক্ষণ থাকে মেজাজ খারাপ করে রাখে। এই পর্বে চলবে কুৎসিৎ গালাগালি, চিৎকার চেচামেচি। প্রথম ধাক্কাটা সামলে নিতে পারলেই হলো। তারপরে প্রেমিকার সঙ্গে সেক্স করতে শুরু করলে নীলের মেজাজ ফুরফুরে হতে থাকে। 
একটু আনমনা হয় এই যা। এর কিছুদিন পর সেক্স পর্ব শেষ হলে নীল আবার আগের মতো। নিজেই সবকিছু বলে দেয় লিপিকে। মেয়েটাকে মানে ওর প্রেমিকাকে গালি দিতে থাকে। এক বস্তা বদনাম করে নীল আবার ফেইসবুকে ফিরে যায়। 

লিপির আর্টিস্ট স্বামী ফেইসবুকে কথার মালা চালায়। মাঝে মাঝে গান রেকর্ড করে ছেড়ে দেয়। মেয়েরা তার প্রতি আকৃষ্ট হয় আর বছর এক, দুই পরপর চলে এমন প্রেমপর্ব।
              
লিপি খুঁজতে থাকে এই কয়দিন সে কোথায় মুখ লুকাবে? বইয়ে? সেলাইয়ে? গানে?
নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে। “লিপ্পু তুমি কোথায় উড়বে?”
“মেঘে?”
“না, ডানা নেই আমার?”
“শৈশবে?”
“সেই ছোট মেয়েটি নেই আমি আর, বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়েছে ছেলে।”
“লিপ্পু তুমি স্বাধীন ছিলে?”
“হ্যা, ছিলাম, এখন আর নেই।”
“বাবা মায়ের আদরের ছিলে?”
“বাবা মরে গেছে, মা বৃদ্ধ।”
“তোমার আবার স্বাধীন হতে ইচ্ছে করে না?”
“অনেক কষ্টে ফ্রিজটা কিনেছি, দুবেলা জানালা মুছি। স্বাধীন হয়ে কোথায় যাব?”
“বৃষ্টিতে ভিজবে?”
লিপ্পু জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁয়ে দেখে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/230601/</link>
				<pubDate>Wed, 25 Jun 2025 07:54:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নবধারা জলে</p>
<p>লিপি তটস্থ হয়ে ওঠে। তার শিল্পী স্বামী বাথরুম থেকে চিৎকার করছে। একটু আগেই বাথরুম থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনা যাচ্ছিল। রবীন্দ্র সঙ্গীতের পরেই এই বেমানান চিৎকারের উৎস খুঁজতে খুঁজতে স্বামীর কাপড় নিয়ে হাজির হয় লিপি। খাবার টেবিলে আরেক দফা চিল্লাচিল্লি।<br />
তুচ্ছ লবন নিয়ে চিৎকার করে খাবার না খেয়েই উঠে পরে নীল। এতক্ষণে বোধোদয় হয় লিপির।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-230601"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/230601/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cca5a3a58faff697366cf12c63ab4093</guid>
				<title>ছবি

আমার বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার, ছেলের বউও ইঞ্জিনিয়ার, ছোট ছেলে বিসিএস ক্যাডার, ছোট বউমা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আসোসিয়েট প্রফেসর। ছেলে আট বছর ধরে আছে অস্ট্রেলিয়ায়, পিএইচডি করছে। বউমা ছয় বছর হলো গিয়েছে। এই নিয়ে কয়েকবার কথাগুলো বলে ফেলেছেন রবিন সাহেব। &quot;নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করলে বড় হওয়া যায়। আমিতো শুধু ছেলেদের পড়ালেখার উপর গুরুত্ব  দিয়েছি। এটাই ছিল আমার পুজি।&quot; এই কথা বলে রবিন সাহেব থামলেন।

রবিন সাহেবের সাথে হঠাৎ রাস্তায় দেখা হয়ে যায় মুন্না সাহেবের। এক রকম জোর করে মুন্না সাহেবকে তাজমহল রোডের এই বাসায় টেনে নিয়ে আসে রবিন সাহেব। অনেক দিন আগে এই শহরে তারা দু&#039;জন এক মেসে থাকতেন। চাকরি জীবনের শুরুতে অনেকটা হত দরিদ্র অবস্থায় রবিন সাহেব এই শহরে আসেন। বেসরকারি ব্যাংকে সামান্য চাকরি দিয়ে শুরু করেন কর্মজীবন। মুন্না সাহেবের অবস্থা ততোটা খারাপ ছিল না। মুন্না সাহেব তখন রবিন সাহেবকে কেরোসিনের স্টোভে চা করে খাওয়াতেন।

মুন্না সাহেব একটা প্রেসে কাজ করতেন। টুকটাক প্রচ্ছদ আকতেন, প্রুফ দেখতেন। তিনি তখনো বিয়ে করেননি। তার হাতে খুচরো টাকা থাকতো। তিনি প্রায়ই ভালো মন্দ রান্না করে খেতেন। রবিন সাহেবকে সেসব খাবার ডেকে খাওয়াতেন। আজ তাই অনেক বছর পরে দেখা হওয়ায় রবিন সাহেব মুন্না সাহেবকে তার বাড়িতে টেনে নিয়ে আসেন। রবিন সাহেব ছয় তলা বাড়ি করেছেন তাজমহল রোডে। 

মুন্না সাহেব চুপচাপ চা খেতে থাকেন। আপনার ছেলে কি করে? জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকান রবিন সাহেব। &quot;সুমন আর্ট কলেজ থেকে পাশ করেছে। একটা আড ফার্মে চাকরি করে।&quot;
&quot;আর্ট কলেজ ভালো, ইদানিং অনেক দাম।&quot; মুন্না সাহেব কিছু বলেন না। &#039;এবার আসি&#039; বলে বেরিয়ে পরেন।

চুপচাপ হাউজিং সোসাইটির ভাড়ায় বাসায় ফিরে আসেন মুন্না সাহেব। তার মাথায় একটা ছবি আকার আইডিয়া এসেছে। ছবিটা আকার খুব তাড়া অনুভব করছেন তিনি। ছোট বেলায় চাদের আলোতে উঠোনের দুই পাশে সারি বেধে তারা চোখ বেধে একটা খেলা খেলতেন। সেটাই তার মাথায় ঘুরছে, আলো আধারিতে এক দংগল কিশোরের কপালে টোক্কা টুক্কি খেলা। ছবি আকতে শুরু করবেন মাথায় একটা ভাবনা কাজ করছে, দ্রুত ছবিটা আকতে হবে এই ভাবনা তাকে আর রবিন সাহেবের বিসিএস পাশের উপর অত্যধিক গুরুত্ব আরোপের প্রচেষ্টার ব্যাপারটা কষ্ট দিল না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/230516/</link>
				<pubDate>Mon, 23 Jun 2025 03:24:51 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছবি</p>
<p>আমার বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার, ছেলের বউও ইঞ্জিনিয়ার, ছোট ছেলে বিসিএস ক্যাডার, ছোট বউমা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আসোসিয়েট প্রফেসর। ছেলে আট বছর ধরে আছে অস্ট্রেলিয়ায়, পিএইচডি করছে। বউমা ছয় বছর হলো গিয়েছে। এই নিয়ে কয়েকবার কথাগুলো বলে ফেলেছেন রবিন সাহেব। &#8220;নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করলে বড় হওয়া যায়। আমিতো শুধু ছেলেদের পড়ালেখার উপর গুর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-230516"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/230516/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e71ab0128c7cf67dceb4ead13c92169b</guid>
				<title>প্যাপিরাসের কালো মূর্তি

শাহবাগে যে আজিজ মার্কেট আছে তার কোনার ছোট গেট দিয়ে ঢুকে পাঠক সমাবেশের পরেই প্যাপিরাস। প্যাপিরাসের তখন মুখোমুখি দুটো দোকান ছিল। একটি দোকানে একজন ছেলে আরেকটি দোকানে এক মেয়ে বসতো। প্যাপিরাসের মালিক সজ্জন ব্যক্তি। প্রথমে মালিক ও ছেলে মেয়ে দুটি এক দোকানে ছিল। ছোট দোকানটিতে এতো মানুষ ছিল যে তখন প্যাপিরাসে যেতাম না। আমাদের কাজ ছিল আজিজ মার্কেটের এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে বেড়ানো। বই পত্তর পড়া। যেখানেই থাকি না কেন দিনের একটা সময় আজিজে কাটাতাম। দোতলার কোনায় চায়ের দোকান ছিল। সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতাম। 

একদিন সেই প্যাপিরাসে তখন নতুন এলইডি মনিটর এসেছে। বই দেখতে গিয়ে সেই মনিটরে হাতের ছোয়া লেগেছে। আর প্যাপিরাসের সেই কালো মেয়ে খেই খেই করে উঠেছে। মেয়েটা কালো না হয়ে ফর্সা হলে তাকে বেশ ভালো সুন্দরীই মনে হতো। কালো হয়ে বাজার দর কমে গেছে। আর সে খটখটে নীতিবাগীশ। হয়তো ছেলেরা তাকে এড়িয়ে চলে। সারাদিন তাকে বসে থাকতে হয়। হয়তো সেটাই তার জন্য সংগ্রাম। হয়তো না। হয়তো তাকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে পরিবারের জন্য। হয়তো এসব কিছুই না। তার স্বভাবটাই এমন।  আর আমার স্বভাবে হয়তো তাকে আকৃষ্ট করার কিছু নাই। 

মুহূর্তেই আমি তার প্রতি ঘৃণা অনুভব করলাম। আমার কেন যেন ধারণা হয়ে আছে লোকজন আমাকে পছন্দ করে না। বিশেষ করে মেয়েরা আমাকে একেবারে দেখতে পারে না। তার উপরে আমি কবি। কবি টবিদের সমাজে কেউ পছন্দ করে না তার উপরে মেয়ে কবি! একেবারেই ফালতু একটা ব্যাপার। সুন্দর কাপড় চোপড় পড়ে না। সাজে না, দেখতে আতেল আতেল। আমিও তাদের উপর বেশ খ্যাপ্পা। সামান্য মনিটরে ছোয়া লাগলে যে মেয়ে খ্যাক খ্যাক করে ওঠে তার নিচুতায় আমি তাকে ছুড়ে ফেলে দিলাম। প্রচন্ড ঘৃণায় আমি প্যাপিরাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম। এস্টাব্লিশমেন্টের এই ছোট কর্মীর চেয়ে দুটো ভালো কথা বলা যৌন কর্মীও ভালো।

ঘৃণা অনুভব না করলে বলা যেত ছোট ছোট কথা। কথারা উড়ে যেত তার দিকে। যেমন ধরোঃ এতো এতো দামি বইয়ের মাঝে আপনাকে বেশ মানিয়েছে। আজ তোমাকে বেশ সুন্দর লাগছে। আচ্ছা, তোমার কানের দুলটার রং খুব সুন্দর তো। তার তুচ্ছ তাচ্ছিল্যে ভরা দৃষ্টিকে ভালোবাসায় ফিরিয়ে দেওয়া যেত। অনেক কিছুই তাকে বলা যেত। কিন্তু আমাদের মাথা ফ্রয়েডের তত্ত্বে ভরা। মানুষের ব্যক্তিত্ব না কি দুই তিন বছর বয়সেই ঠিক হয়ে যায়। ও তাচ্ছিল্য ভরে চেয়েছে। ও নিশ্চিত নরকের কীট। এতো ছোট লোক মনিটরে হাত লেগেছে তাই খিট খিট করছে। ও খুব ছোট লোক। 

এই প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেই এসেছি চিরকাল। আজ আর ফিরে গিয়ে তাকে দুটো ভালোবাসার কথা বলা যাবে না। কেমন আছে সে, কি করে কাটছে তার জীবন। তার ছেলে মেয়েরা বই পড়ে কি না! কি হলো আজ তার কিছুই যাবে না জানা! আহ! সময় নিশ্চয়ই খারাপ একটা ব্যাপার। কিছুতেই তাকে ফিরিয়ে আনা যায় না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/230453/</link>
				<pubDate>Sat, 21 Jun 2025 11:54:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্যাপিরাসের কালো মূর্তি</p>
<p>শাহবাগে যে আজিজ মার্কেট আছে তার কোনার ছোট গেট দিয়ে ঢুকে পাঠক সমাবেশের পরেই প্যাপিরাস। প্যাপিরাসের তখন মুখোমুখি দুটো দোকান ছিল। একটি দোকানে একজন ছেলে আরেকটি দোকানে এক মেয়ে বসতো। প্যাপিরাসের মালিক সজ্জন ব্যক্তি। প্রথমে মালিক ও ছেলে মেয়ে দুটি এক দোকানে ছিল। ছোট দোকানটিতে এতো মানুষ ছিল যে তখন প্যাপিরাসে যেতাম না। আম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-230453"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/230453/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">246b11c103c56d16f5b1e7ac99327cf8</guid>
				<title>মিনিয়েচার কৃষক 

রিয়াজ সাহেবের অনেক দিনের ইচ্ছা তিনি কৃষি কাজ করবেন। পাথরঘাটায় তার নানার বিশাল জমিদারি ছিল। কৃষি কাজ বরাবরই তার কাছে অনেক ভালো লাগে। যখনই তিনি গ্রাফিক্সের কাজ করতে করতে বিরক্ত হয়ে যেতেন তখনই পিসিতে কৃষি বিষয়ক নানা ইউটিউব ভিডিও দেখতেন। এমনি করে মনে মনে তিনি কখনো মাল্টার চাষ করতেন, কখনো ড্রাগন ফলের চাষ করতেন। মনে কৃষক হওয়ার একটা বিশাল স্বপ্ন লালন করতে করতে তিনি বাথরুমে &#039;মনরে তুমি কৃষি কাজ জানো না বলে&#039; একটা টান দিতেন। রিয়াজ সাহেব একজন চিত্রশিল্পী গানটাও তিনি মাঝে মাঝে গাইতেন শখ করে। 

রিয়াজ সাহেব মনে মনে স্বপ্ন দেখেন একদিন তিনি সত্যিকারের কৃষক হবেন। নাগরিক যন্ত্রণা তার জীবনে থাকবে না। জ্যাম ধুলো বালি ও নোংরা ঢাকা শহরে একেবারেই তাকে বাস করতে হবে না। মাঠে ঘাটে খেতে খামারে কাজ করবেন। অর্গানিক সার ব্যবহার করে অর্গানিক ফসল ফলাবেন। তার শরিরে নোংরা কেমিক্যাল ঢুকতে দিবেন না। বলাই বাহুল্য তিনি ফরহাদ মাজহারের নয়া কৃষি আন্দোলনের একজন সমর্থক। কিন্তু ওই যে একটা ব্যাপার সঞ্চয় বলতে তার জীবনে কিছু নেই। যখনই আয় বাড়ে তিনি অনেক বেশি টাকা ভাড়ায় ও গাড়িতে খরচ করে ফেলেন। আয় অনুযায়ী ব্যয় করতে তো পারেনই না। তার উপরে যখন তখন লোকের কাছ থেকে টাকা ধার করে ফেলেন। ব্যাপারটা তার শিল্পী জীবনের সাথে খাপ খেয়ে গেছে। অনেকগুলো টাকা আয় করলে তা পূর্বের ধার দেনা শোধে চলে যায়। 

এভাবেই বছরের পর বছর চলে যাচ্ছিল। একদিন নিজের উপর রাগ করেই তিনি একটা মাটির টব কিনে সেটাতে মাটি ভরার ব্যবস্থা করে ফেললেন। তারপর কিছু মরিচের বিচি মাটিতে পুতে দিলেন। কিছুদিন পরে সেই টবে মরিচ গাছের চারারা উঁকি দিল। সূর্যের আলোর খোঁজে ইতিউতি তাকাতে লাগলো। তিনি নিয়ম করে চারা গাছে পানি দিতে লাগলেন। ওহ, একদিন দেখি গাছগুলোতে মরিচও ধরলো। আনন্দে খুশিতে রিয়াজ সাহেব একটা রিল বানিয়ে ফেইসবুকে আপলোড করে ফেললেন। আবেগে তিনি আরো কয়েকটি টব কিনে পুই ডাটা বুনে ফেললেন। এরপরে লাগালেন কয়েকটা সিমের চারা সিম গাছের লতা পাতা তার ব্যালকনি আকড়ে ধরে বাড়তে লাগলো। একদিন সেই ব্যালকনির গ্রিলে সীম গাছের বেগনি সাদা ফুলে ছেয়ে গেল। 

রিয়াজ সাহেবের নিজেকে একজন সফল কৃষক মনে হলো। কারণে অকারণে তিনি ব্যালকনির দিকে চেয়ে থাকতেন। তখন তার মনে ধারণাটি একেবারে পোক্ত হয়ে গেল যে কৃষি কাজ না করাই মানব জাতির দুঃখ দুর্দশার এবং তার দুঃখ কষ্টের একমাত্র কারণ। অবশ্যই অনতিবিলম্বে তাকে সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে একজন কৃষক হতে হবে। কিন্তু কী এক গোলযোগে তার আর ঢাকা ছাড়া হলো না। ব্যালকনির গাছগুলোই তার চোখের শান্তি হয়ে রইলো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/229875/</link>
				<pubDate>Fri, 30 May 2025 14:09:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মিনিয়েচার কৃষক </p>
<p>রিয়াজ সাহেবের অনেক দিনের ইচ্ছা তিনি কৃষি কাজ করবেন। পাথরঘাটায় তার নানার বিশাল জমিদারি ছিল। কৃষি কাজ বরাবরই তার কাছে অনেক ভালো লাগে। যখনই তিনি গ্রাফিক্সের কাজ করতে করতে বিরক্ত হয়ে যেতেন তখনই পিসিতে কৃষি বিষয়ক নানা ইউটিউব ভিডিও দেখতেন। এমনি করে মনে মনে তিনি কখনো মাল্টার চাষ করতেন, কখনো ড্রাগন ফলের চাষ করতেন। মনে কৃষক হওয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-229875"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/229875/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9da3b3437b227d6cbf881c5c03061484</guid>
				<title>সুখ

খুব সকালে দুই বাচ্চাকে বাথরুমে পাঠানোর পরে স্কুল ড্রেস পরে নিতে বলে। লুনা নিজেও ড্রেস বদলে ডাইনিং টেবিলে যায়। ডাইনিং টেবিলে স্যান্ডউইচ আর কফি দেওয়া আছে। গপাগপ খেয়ে টিফিনবক্স দুটোতে সসেজ ভরে নেয়। ইদানিংকালের বাচ্চারা ভেজিটেবল একদমই খেতে চায় না এসব কথা ভাবতে ভাবতেই জুতো পরে দরজা খুলে ও বন্ধ করে দুই বাচ্চা নিয়ে লিফটে উঠে পরে লুনা। 

বাচ্চাদের স্কুলে নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে অলস চোখে গাড়ির জানালা দিয়ে সকালের ঢাকা দেখে লুনা। একবার গাড়ি থেকে নেমে ধনে পাতা আর বেগুন কেনে রাস্তার পাশ থেকে। আবার লিফটে করে উঠে এসে স্বামীকে দেখতে পায় ডাইনিং টেবিলে। দু একটা টুকটাক কথা বলে লুনা বেড রুমে ঢুকে যায়। দুই জমজ বাচ্চা এখন তার সঙ্গে ঘুমায়। তাই স্বামী বেচারা অন্য একটি ঘরে থাকে। ছেলেটা এতো দিন নানা নানির সঙ্গে ছয় তলায় ঘুমাতো। কিন্তু কী এক জটিলতা তার মনে ভর করলো যে সে জেদ ধরলো অন্য দুইজনার মতো সেও রাতের বেলা তিন তলায় থাকবে। অন্য দুইজন যদি ঘরে ঘুমুতে পারে সে কেন নানা নানির সঙ্গে ঘুমাবে? তাই ছোট ছেলেটা ও মেয়েটাকে নিয়ে সে বেডরুমে শোয়। তারপর থেকে স্বামী বেচারা অন্য ঘরে থাকে। 

স্বামী চলে যাওয়ার পরে বড় ছেলেটা সকালের খাবার খেতে বসলে একটা ডিম ভাজতে রান্নাঘরে যায় লুনা। লুনা ছাড়া আর কেউ এই ডিম ভাজতে পারে না। প্রচুর পিয়াজ কুচি আর মরিচ দিয়ে ছেলের জন্য ডিম ভাজে সে। ঘরের কাজে দুইজন বুয়াই সিদ্ধহস্ত। তার এখন আর কিছুই করার নেই। 

দ্রুত বেডরুমের দরজা বন্ধ করে একা একা কথা বলতে শুরু করে লুনা। প্রথমে ব্যালকনিতে থাকা ফুলের টবের সঙ্গে কথা শুরু করে।  টবটাতে একটা জুই ফুলের গাছ। 
-এই জুই, শোন, আমার নাম জেসমিন। তোমার নাম জুই। তোমার রং সাদা। আমিও সাদা।
এরপর সেখানে একটা দোয়েল পাখি এসে বসে। পাখিটার সঙ্গে অনেক কথা বলে লুনা।

এই তার সুখ। আপন মনে বকবক করে চলে সে। এক অজানা সুখে মন ভরে যায় তার। এই অভ্যাসটা তার অনেক পুরানো। ঘর গুছায় সেই সাথে একা একা কথা বলে আবার ঘর গুছায়। মাঝখানে কিছুক্ষণ বাথরুমে গিয়ে হাই কমোডে বসে গুন গুন করে। আবার ঘরে এসে কথার তুবড়ি ছোটায়। একা একা কথা বলার পুরোটুকু সুখই উপভোগ করে সে। আহ! খুব ভালো লাগছে তার, জীবনটা মন্দ না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/229646/</link>
				<pubDate>Mon, 26 May 2025 07:24:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সুখ</p>
<p>খুব সকালে দুই বাচ্চাকে বাথরুমে পাঠানোর পরে স্কুল ড্রেস পরে নিতে বলে। লুনা নিজেও ড্রেস বদলে ডাইনিং টেবিলে যায়। ডাইনিং টেবিলে স্যান্ডউইচ আর কফি দেওয়া আছে। গপাগপ খেয়ে টিফিনবক্স দুটোতে সসেজ ভরে নেয়। ইদানিংকালের বাচ্চারা ভেজিটেবল একদমই খেতে চায় না এসব কথা ভাবতে ভাবতেই জুতো পরে দরজা খুলে ও বন্ধ করে দুই বাচ্চা নিয়ে লিফটে উঠে পরে লুনা। </p>
<p>ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-229646"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/229646/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fa34d1702a345290ef28c5f9dcc0aee5</guid>
				<title>গল্প
অভিরুচি সিনেমা হল থেকে বের হয়ে অনেক্ক্ষণ হাটলাম। সবুজ সিগারেটের জন্য উশখুশ করছিল। আমার অতো নেশা চড়েনি। আমার ভালো লাগছিল বরিশালের পুরানো বাড়িগুলো দেখতে। একেকটা বাড়ি সুচিত্রা সেনের মতো অভিজাত কিন্তু অনেক পুরানো যাকে বলে জীর্ণ। তাও তাদের এককালীন আভিজাত্য দেখার মতো। এসব বাড়ির সামনে আমার একটু দাঁড়াতে ইচ্ছে করে। রাতের বরিশাল হেটে হেটে দেখতে ইচ্ছে করে। যেমন আমি বাংলা সিনেমা আগ্রহ নিয়ে দেখি। বাংলা সিনেমা বরাবরই আমি আগ্রহ নিয়ে দেখি। এবার বরিশাল এসেও তাই হলে গেলাম। সবুজ অবশ্য যেতে চাচ্ছিল না। আমিই ওকে টেনে নিয়ে গেছিলাম। সবুজ একটা দোকানও খোলা পেল না। মুন্সির গ্যারেজের পরেই ওদের বাসা। আমি একা একা আস্তে ধীরে যাচ্ছি। পুরানো প্রাইমারি স্কুলটার সামনে দেখলাম একটা কুকুর কু কু করছে। কুকুরটার দিকে এগিয়ে গেলাম। কুকুরটাকে মনে হয় কেউ মেরেছে। ব্যাথায় কু কু করে অভিযোগ জানাচ্ছে। আমি কাছে গিয়ে একটু হাত বুলালাম। কুকুরটা আমার হাতের ছোয়ায় একটু আশ্বস্ত হলো। ছেড়ে চলে আসব তখন এমনভাবে তাকালো যে আমার অনেক মায়া লাগলো। একটা রিকশা ডেকে কুকুরটাকে রিকশায় তুললাম। রিকশায় উঠে কুকুরটাকে জড়িয়ে ধরে বসতেই মনে পড়লো আব্বা আমাকে পান নিয়ে যেতে বলেছিল। আব্বা মাঝে মঝে পান খায় তার দাত ও জিহ্বা টুকটুকে লাল হয়ে যায় দেখতে আমার ভালো লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রিকশা এসে বাসার সামনে দাঁড়ালো। আমি কুকুরটাকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে ভাড়া দিলাম। কুকুর কোলে বাসার সামনে গিয়ে বসলাম। দরজার কড়া নাড়তেই আব্বা দরজা খুলে দিলেন। আব্বা বেশ হাসি হাসি মুখ নিয়ে কুকুরটাকে দেখলেন। আমার স্বভাব অনেকটাই আব্বার মতোন। তাই অবাক হলেন না। আস্তে আস্তে আমার তিন বোন এসে দাড়ালো। সবার ছোট সুমন কুকুরটার কী হয়েছে জিজ্ঞেস করলো।

আমি জানি না। এতো রাতে পশু হাসপাতাল খোলা নাই মনে হয়। এখন গরম কিছু খাওয়ায়ে ঘুমের ঔষধ দেব।
কুকুরের ঘুমের ঔষধ কী তুমি কী তা জানো?
আমি না সূচক মাথা নাড়ালাম।
বাড়িওয়ালার বড় মেয়ে ডলি দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে আমাদের। বাড়িওয়ালারা আমাদের পাশের বাসায় থাকেন। তার বড় মেয়েটি প্রায়ই আমার দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

আমার বড় বোন রুনু এক বাটি ভাত আর মাংসের ঝোল নিয়ে আসলো। বাটির এক কোনায় এক টুকরো মাংসও দেওয়া আছে। কুকুরটা আগ্রহ নিয়ে ভাত খেল। কু কু বন্ধ করে নিজেই চোখ বন্ধ করলো। আমি ওর জন্য আরেক বাটিতে পানি নিয়ে আসলাম। কুকুরটা পানিতে জিব ডুবিয়ে রাখলো কিছুক্ষণ আর তারপর চোখ বন্ধ করলো। 

আমরা দরজা বন্ধ করে ভিতরে গেলাম। টিভি চালু ছিল। আব্বা নিশ্চিত টিভি দেখতে ছিল। খবর না দেখলে আব্বার পেটের ভাত হজম হয় না। আমি সাংবাদিকতায় পড়লেও কখনো টিভিতে খবর দেখি না। এমনকি সংবাদপত্রের সংবাদও আমারে টানে না। চ্যানেল ঘুরিয়ে আমি খেলা দেখতে শুরু করলাম। 
আব্বা মাই ডিয়ার টাইপের মানুষ। আমার সঙ্গে অতি উতসাহে ক্রিকেট নিয়ে আলাপ চালাতে লাগলো। 

রুনু আমার জন্য এক কাপ চা নিয়ে আসলো। আমি ঢাকা থেকে এবার এসে বেশ আদর আপ্যায়ন পাচ্ছি। সাধারণত আমিই বাসায় সবাইকে চা করে খাওয়াই। আম্মাকে প্রায়ই রান্নায় সাহায্য করি। সবার প্লেট ধুই। মাঝে মাঝে এটা ওটা রান্না করে খাওয়াই। আমার নারীবাদী বোনেদের রান্না বান্নায় আগ্রহ নেই। এবার তারা দেখি আমাকে চা করে খাওয়াচ্ছে। কিছুক্ষণ খেলা দেখার পরে আমি টমেটো আর শশা কেটে সালাদ বানিয়ে ফেললাম। দ্রুত একটা বেগুন পুড়িয়ে ভর্তা করে সবাইকে খেতে ডাকলাম। 

খাওয়া দাওয়ার পরে আব্বার সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট নিয়ে সামনের রুমে চলে গেলাম। কুকুরটার ঘুম ভাংগবে বলে দরজা খুললাম না। আমাদের সামনের ঘরে একটা বড় সোফা আর দুটো ছোট সোফা। একপাশে একটা বিছানা পাতা। সবকিছু নিট এন্ড ক্লিন। রুচিশীল মধ্যবিত্তের বাড়ি। এরা কখনো অশালীন ভাষায় কথা বলে না। তিন বোন পা মেপে পথ চলে, কথা বলে। সবকিছুতে আভিজাত্য ধরে রাখার চেষ্টা করে। আব্বা আম্মারও প্রেম ভালোবাসা ভালোই আছে। বাড়িওয়ালার মেয়ের অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে আমি নজর দেই না। আমিও মনে মনে অভিজাত মেয়েদেরই ভালোবাসি।
(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/229251/</link>
				<pubDate>Sat, 17 May 2025 03:44:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্প<br />
অভিরুচি সিনেমা হল থেকে বের হয়ে অনেক্ক্ষণ হাটলাম। সবুজ সিগারেটের জন্য উশখুশ করছিল। আমার অতো নেশা চড়েনি। আমার ভালো লাগছিল বরিশালের পুরানো বাড়িগুলো দেখতে। একেকটা বাড়ি সুচিত্রা সেনের মতো অভিজাত কিন্তু অনেক পুরানো যাকে বলে জীর্ণ। তাও তাদের এককালীন আভিজাত্য দেখার মতো। এসব বাড়ির সামনে আমার একটু দাঁড়াতে ইচ্ছে করে। রাতের বরিশাল হেটে হ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-229251"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/229251/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6ac52c4911c70407559ed9b749b5d195</guid>
				<title>রতন দা

&quot;আজকালকার মেয়েরা যে কি না! সেদিন কি হয়েছে জানেন?&quot; আমি রতনদার দিকে তাকালাম। রতনদা আমার পাশে এক কাপ চা নিয়ে বসেছিলেন উদ্যানে। চায়ে চুমুক দিয়ে বলতে শুরু করলেন-
&quot;আপনার বৌদি সেদিন না আমাকে পা ছুয়ে প্রণাম করলো। তারপরে যে কী হলো!&quot; এই কথা বলে রতনদা মুখটাকে রহস্যময় করে ঘুরিয়ে নিয়ে হাসতে লাগলেন। বৌদি যে এরপরে কি করলেন তা আমাকে কল্পনা করে নিতে হলো।

রতনদা আমাদের বছর দশেকের সিনিয়র। পড়তেন আইআর এ। নাট্যকলা ছিল তার সাবসিডিয়ারি। ভালো মিমিক্রি করতে পারেন। সারাক্ষণই লোক হাসাচ্ছেন। আর তার এটা সেটা নিয়ে গল্প। তবে সেই গল্পে আন্তরিকতার ছোয়া আছে। রতনদার গল্প উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত ছুটে যেত। কিন্তু গরুর গল্প যেভাবে নদীতে গিয়ে নামতো তার গল্পও সেভাবে বৌদিতে মিলে যেতো। 
 
নানা গল্পের সাথে বৌদির গল্পও শোনা যেত। কোনদিন বৌদি বাথরুমে কল ছেড়ে গান গাইতে শুরু করলে দাদাও বাইরে থেকে গান ধরতেন। কোনদিন বৌদির চোখে পানি দেখলে দাদাও চোখের পানি ছেড়ে দিতেন।
সব গল্পেই বৌদি অনন্য। বৌদি আর কারো মতো না। 

&quot;সেদিন রাতে আপনার বৌদিকে বললাম ধুপি পিঠা খেতে ইচ্ছে ক রছে। ওমা, সকালবেলা দেখি ধুপি পিঠা রেডি। কোথা থেকে চালের গুড়া এসেছে ভগবানই জানেন। এমন বউকে কি ভালো না বেসে পারা যায়।&quot; রতনদার ভালোবাসার গল্প দীর্ঘ হয়। আমি শুনতে থাকি।

রতনদার মুখে গল্পের তুবড়ি ছুটতে থাকে, &quot;একদিন আমি হুমায়ূন আহমেদকে ইন্টারভিউ করতে গেছি, তাকে বললাম, &#039;স্যার আপনি ক্ল্যাস করেন না, আবার বেতন নেন, হুমায়ূন আহমেদ রাগে তোতলাতে লাগলেন, &#039;তোমাকে কে বলেছে আমি ক্ল্যাস না করে বেতন নেই? এই ছেলে এই,&#039;। আমি বললাম, &#039;স্যার আপনি ধমকাবেন না, এই কথা বলে চলে আসলাম।&quot;

বৌদির গল্প আরো শুনেছি। বৌদি লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরে রবীন্দ্র সংগীত গাইতে গেছেন। কাল দাদাকে আম কেটে দিয়েছেন। তা দেখে দাদা বলেছেন, &#039;আমের চেয়েও তুমি মিষ্টি।&#039; পত্রিকা অফিসে সিভি জমা দিতে দাদার সঙ্গে পত্রিকা অফিসে যাচ্ছিলাম। দাদা বললেন, &quot;কাল সারাদিন ও আজ সারাদিনেও কিছু খাওয়া হয়নি।&quot;
&quot;কেন বৌদি?&quot;
&quot;সে তো সেই আট বছর আগেই চলে গেছে।&quot;

এই ধরনের ব্যাপারে আমি এতো অভ্যস্ত হয়েছিলাম যে আর&#x200d; কথা বাড়ালাম না।
বাসে দাদার পাশে বসে ঢাকার রাস্তাঘাট দেখতে লাগলাম।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/229166/</link>
				<pubDate>Wed, 14 May 2025 11:47:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রতন দা</p>
<p>&#8220;আজকালকার মেয়েরা যে কি না! সেদিন কি হয়েছে জানেন?&#8221; আমি রতনদার দিকে তাকালাম। রতনদা আমার পাশে এক কাপ চা নিয়ে বসেছিলেন উদ্যানে। চায়ে চুমুক দিয়ে বলতে শুরু করলেন-<br />
&#8220;আপনার বৌদি সেদিন না আমাকে পা ছুয়ে প্রণাম করলো। তারপরে যে কী হলো!&#8221; এই কথা বলে রতনদা মুখটাকে রহস্যময় করে ঘুরিয়ে নিয়ে হাসতে লাগলেন। বৌদি যে এরপরে কি করলেন তা আমাকে কল্পনা কর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-229166"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/229166/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4ca0886c4fd8553fb4405f2c1b7b7ed8</guid>
				<title>স্কার্টের সঙ্গে ঝগড়া 
স্কার্টটা দুই দিন হলো পরা শুরু করেছি। স্কার্টটা পরে অনেক আরাম পাচ্ছি। পিটন এন্ড পার্কারের স্কার্ট। ব্র&#x200d;্যান্ডের জিনিস পরার মজাই আলাদা। তবে স্কার্টটার সঙ্গে আমার ঝগড়া চলছেই। আমি তাকে বলেছিঃ

খুব ছোট দুইটা ফুটা থাকার কারণে তুমি ভদ্র হয়ে রাস্তায় এসে পরেছ। তোমার দাম অনেক কমে গেছে। সেজন্যই তোমাকে আমি ভালোবাসি। যদি তুমি থাকতে ইউরোপীয় বাজারে তোমার দাম দশ বা পনের গুণ বেড়ে যেত। তখন আর তোমাকে ভালোবাসতাম না।

সেও বলে দুইটা ছোট ফুটা না থাকলে আমি আমেরিকা চলে যেতাম। তোমার মতো লোক আমার নাগাল পেতনা।

আমি বলি শ্রেফ তোমার ওই ফুটা দুইটার কারণে বড়লোকের মেয়েরা তোমাকে চাচ্ছে না তাই তোমাকে এতো ভালোবাসি। যদি বড়লোকের মেয়েরা তোমাকে চাইতো তাহলে শ্রেফ তোমাকে ঘৃণা করতাম। আর ফুটা দুইটাই তোমাকে এতো সাধারণ করেছে যে তোমাকে অনেক সুইট লাগছে। যদিও গোলাপি রংটা আমার ভীষণ অপছন্দের। কী আর করা। বিভিন্ন রংয়ের সুতা দিয়ে কাথা স্টিচ দিয়ে নিয়েছি। যাই বলো পরে খুব আরাম পাচ্ছি। এখন থেকে রাস্তা থেকে ব্র&#x200d;্যান্ডের সব ফেলে দেওয়া কাপড় কিনব। 

দূর ছাই তাও স্বীকার করেছ যে আমাকে পরে আরাম পাচ্ছ! স্কার্টের জবাব।

হু খুব আরাম। এখন থেকে আভিজাত্য হারিয়ে যারা রাস্তায় নেমে আসে সেইসব লোকের সঙ্গেও মিশব। ওই যাদের দুইটা ছোট ছোট ফুটা থাকে আরকি!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227585/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Mar 2025 10:57:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্কার্টের সঙ্গে ঝগড়া<br />
স্কার্টটা দুই দিন হলো পরা শুরু করেছি। স্কার্টটা পরে অনেক আরাম পাচ্ছি। পিটন এন্ড পার্কারের স্কার্ট। ব্র&#x200d;্যান্ডের জিনিস পরার মজাই আলাদা। তবে স্কার্টটার সঙ্গে আমার ঝগড়া চলছেই। আমি তাকে বলেছিঃ</p>
<p>খুব ছোট দুইটা ফুটা থাকার কারণে তুমি ভদ্র হয়ে রাস্তায় এসে পরেছ। তোমার দাম অনেক কমে গেছে। সেজন্যই তোমাকে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227585"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227585/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">eadc9c190019e553ac15ae3587690069</guid>
				<title>রহস্য রোমাঞ্চ 

কালই চিঠিটা পেয়েছে শিউলি, একবার পড়ে বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে। এখন আর খুঁজে পাচ্ছে না। তার মা ও বাবা তার টেবিলের কাছে খুব একটা আসে না। চিঠিটা তাকে লেখা কি না তা সে নিশ্চত না। তারা যখন কমলা রংয়ের স্কুল ড্রেস পরে দল বেধে স্কুলে যায় তখন পিছন থেকে একটা ছেলে চিঠিটা ছুড়ে দিয়েছে। শিউলি চিঠিটা তুলে নিয়েছে। ছেলেটার স্কুল ড্রেস দেখে মনে হয় জিলা স্কুলে পড়ে। শিউলি চিঠিটা কুড়িয়ে নেওয়ার পরে সবাই মিলে হাসতে হাসতে পড়ে ফেলে সেটি। তারপর শিউলি সেটা রেখে দেয়। শিউলি প্রেম পত্র দিয়ে কী করবে? প্রেম ট্রেম বোঝার মতো বয়সই হয় নাই তার। তার খালাতো বোনের জন্য পাড়া সুদ্ধ সবাই পাগল। সবাই তাকে চিঠি লেখে। তার খালাতো বোন চিঠি রেখে দেয়। পিছনে কতো জন ঘুরছে প্রতিদিন সে তার একটি হিসেব দেয়। সংখ্যাটা পচিশ, ছাব্বিশ, সাতাশ ছাড়িয়ে যায়। খালাতো বোনের ভারি দেমাগ। শিউলিও তাই চিঠিটি রেখে দিয়েছিল। একবার পড়ে বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে এখন আর খুঁজে পাচ্ছে না।

স্কুলে সারাদিন শিউলি মনমরা হয়ে রইলো। ক্লাসে পড়া দিতে গিয়ে বারবার আটকে গেল। বাবা- মা চিঠির হদিস পেলে খারাপ কিছু হবে। স্কুল থেকে ফিরে ভালোভাবে খেতে পারলো না। গলায় ভাত বারবার আটকে যেতে লাগলো। এমন একটি সমস্যা যে সে কাউকে বলতেও পারছে না। খাওয়া শেষে বারবার বই খুঁজতে লাগলো। বিকেলে ভাইকে টিফিনের টাকা থেকে জমানো দশ টাকা দিয়ে জিজ্ঞেস করলো &#039;তার টেবিলে কিছু খুঁজে পেয়েছে কী না?&#039; ভাই জিজ্ঞেস করলো &#039;কী খুঁজে পাবে?&#039; শিউলি কিছু বলতে পারলো না। শিউলি একেবারে চুপচাপ হয়ে গেল। সারাক্ষণ ভয় বাবা-মা কিছু জানলো কি না! 

দুই দিন ধরে নামাজ পড়ছেশিউলি সেই সাথে সারাক্ষণ আল্লাহ আল্লাহ করে যাচ্ছে। কিছুতেই চিঠিটা খুঁজে পাচ্ছে না। একটা কথা ভেবে সে শান্ত ছিল যে তার বাবা-মা তার টেবিলে এসে তার বই খুঁজবে না। তাও সারাক্ষণ তার বুক ধুকপুক করতে লাগলো। কি এমন কথা লেখা আছে চিঠিটাতে। &quot;তোমাকে ভালোবাসি। স্কুলের পরে দাঁড়িয়ে থেক। তোমার ঠোঁটে চুমু দিলাম&quot; এইসব।

এই সব কথা পড়ে সবারই হাসি পায়। দুই একজন আবার এই চিঠি পেয়ে স্কুলের পরে দাঁড়িয়ে থাকে। ছুটির দিনে পড়তে যাই বলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। ক্লাসের ফাকে চিঠি চালাচালি চলে। এর মধ্যে প্রেম না কী বড়োদের ফাকি দিয়ে নিষিদ্ধ বিষয় উপভোগ তা বয়সন্ধি কাল বোঝে না। বয়সের একটা চাহিদা আছে। এই বয়স একটু লুকোচুরি রহস্য রোমাঞ্চ ভালোবাসে। শিউলিও তাই চিঠিটা রেখেছিল। কিন্তু একি জ্বালায় পড়া গেল। সবকিছুর মূলে এই নায়িকা নায়িকা চেহারার খালাতো বোনটা। ওর এইসব নায়িকাগিরি চালানো দেখেই শিউলিওতো চিঠিটা রাখতে চেয়েছিল। আহ! এখন সে কি করে। সানডে প্রেয়ারে যাবে নাকি গীর্জায়।  যীশুকে একবার বিষয়টা বলে দেখতে পারে।

খ্রিস্টান বান্ধবীদের সে বলে রাখে রোববার দিন সেও যাবে গীর্জায়। শিউলি&#039;র মিশনারি স্কুলের গ্রাউন্ডের মধ্যেই গীর্জা ছিল। তাই স্কুলের ড্রেস পরে সকাল সকাল সে বান্ধবীদের সাথে গীর্জায় যায়। মনে মনে চিঠিটা খুঁজে পাওয়ার প্রার্থনা করে। সানডে প্রেয়ারে যাওয়ার কয়েক দিন পরে একদিন ক্লাসে বসে অংক করার সময় অংক বইয়ের ভাজে চিঠিটা খুঁজে পায় শিউলি। উফ! কি বাচা যে বেচেছে সে এবারের মতো। আর কোন দিন সে আর কারো চিঠি ধরতে যাবে না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227371/</link>
				<pubDate>Sat, 15 Mar 2025 06:25:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রহস্য রোমাঞ্চ </p>
<p>কালই চিঠিটা পেয়েছে শিউলি, একবার পড়ে বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে। এখন আর খুঁজে পাচ্ছে না। তার মা ও বাবা তার টেবিলের কাছে খুব একটা আসে না। চিঠিটা তাকে লেখা কি না তা সে নিশ্চত না। তারা যখন কমলা রংয়ের স্কুল ড্রেস পরে দল বেধে স্কুলে যায় তখন পিছন থেকে একটা ছেলে চিঠিটা ছুড়ে দিয়েছে। শিউলি চিঠিটা তুলে নিয়েছে। ছেলেটার স্কুল ড্রেস দেখে মনে হয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227371"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227371/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c146a1ae6334423f13ad1b091da04661</guid>
				<title>শান্তা

ছেলেকে চুমু খেয়ে স্কুলে ঢুকিয়ে দিয়ে রিক্সা নিয়ে ইকবাল রোডের দিকে যাই। ইকবাল রোড এখন আর আগের মতো নেই। চারদিকে বিশাল সব বহুতল ভবন। শুধু শান্তাদের বাড়িটা আছে আগের মতো।
একতলা বাড়িটার সামনে একটা আম গাছ শান দিয়ে বাধানো। এই গ্রীষ্মে সেই গাছে অনেক আম এসেছে। শান্তা বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। বিয়ের পরেও বাবার পুরানো বাড়িতে থাকে।

শান্তার কথা খুব মনে পড়ছে গত কিছুদিন ধরে। শান্তা আর আমি চারুকলায় একসঙ্গে পড়তাম আবার ইকবাল রোডে পাশাপাশি থাকতাম। শান্তা সহজ সরল মেয়ে। আমাকে অনেক ভালোবাসতো আমিও  তাকে ভালোবাসতাম। শান্তা আমাদের বাসায় আসতো। আমি ওকে কাপড় খুলে দেখতাম কিন্তু কখনো কিছু করতাম না। বিয়ের আগে কিছু করা যাবে না শান্তার নিষেধ ছিল। ওর কথা শুনতাম। অনেক ভালো যাচ্ছিল  দিনগুলো।

শান্তার বাবার কাছে আমার বন্ধু রিহান প্রস্তাব তুলেছিল। শান্তার বাবা আমাদের নিয়ে বসলেন। বুঝিয়ে বললেন যে তার মেয়ে অনেক সহজ সরল, সেজন্য সমবয়সী ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেবেন না। এর কিছুদিন বাদে রঞ্জনা আমাকে বোঝালো যে ও বাড়িতে নারকীয় পরিবেশে আছে। আমি ওকে বিয়ে করলে ও এই পরিবেশ থেকে বের হয়ে আসতে পারে। রঞ্জনার বাবা মা খুব ঝগড়া করতো। রঞ্জনার মা কাজ করতে চাইতো না একদম। রঞ্জনার বাবা সকালে বাজার করে রান্না করে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে অফিসে যেতো।
অফিস থেকে ফিরলে পরে রঞ্জনাদের বাসায় তুমুল ঝগড়া শুরু হয়ে যেত। পাড়ার সবাই জানতো রঞ্জনাদের বাসায় আবার শুরু হয়ে গেছে। আমি রঞ্জনাকে উদ্ধার করতে চাইলাম। রঞ্জনার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়ে গেল।

আমার সঙ্গে রঞ্জনার বিয়ের কথা শুনে শান্তা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে অনেক দিন হসপিটালে ছিল। ধীরে ধীরে আমার সংসারে সেই নারকীয় পরিবেশ শুরু হয়ে গেল।

হঠাৎ হঠাৎ অনেক দিন পরে শান্তার কথা মনে পড়ে।  ওকে দেখার জন্য উতলা হয়ে উঠি । তখন শান্তাকে দেখার জন্য ঘন্টার পরে ঘন্টা ইকবাল রোডে দাঁড়িয়ে থাকি। চায়ের দোকানে চা খাই। রাস্তায় হাটতে থাকি। চাইলে ওদের বাসায় যাওয়া যায়। কিন্তু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগে। শান্তা মাঝে মাঝে বাইরে যাওয়ার জন্য বাইরে বেড়িয়ে আসে। এগিয়ে এসে দুই একটা কথা বলি। পরম মমতায় শান্তার দিকে চোখ তুলে তাকাই। তারপর বাসায় ফিরে আসি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/226749/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Feb 2025 14:06:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শান্তা</p>
<p>ছেলেকে চুমু খেয়ে স্কুলে ঢুকিয়ে দিয়ে রিক্সা নিয়ে ইকবাল রোডের দিকে যাই। ইকবাল রোড এখন আর আগের মতো নেই। চারদিকে বিশাল সব বহুতল ভবন। শুধু শান্তাদের বাড়িটা আছে আগের মতো।<br />
একতলা বাড়িটার সামনে একটা আম গাছ শান দিয়ে বাধানো। এই গ্রীষ্মে সেই গাছে অনেক আম এসেছে। শান্তা বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। বিয়ের পরেও বাবার পুরানো বাড়িতে থাকে।</p>
<p>শান্তার কথা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-226749"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/226749/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0f09b05f8234b702d09ba18cb76e106a</guid>
				<title>কুকুর ও পৃথিবী

আলগোছে দরজা ঠেলে বাইরে বেড়িয়ে আসে ইভান। আজ ডে অফ। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কতো ছেলে মানুষী ভাবনা মাথায় আসে। একটা আইসক্রীম কিনে খায়। একবার ভাবে বাসে উঠে বাস ভাড়া না দিলে কেমন হয়। পরক্ষণে ভাবনাটা মাথা থেকে তাড়িয়ে দেয়।
আজ হাঁটবে, হেঁটে হেঁটে হলে যাবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বসে থাকবে। 

হঠাৎ বৃষ্টি নামলো। বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে ইভান। রোদ উঠলে জামাটা গায়ে শুকাবে। হঠাৎ বৃষ্টি স্কুল জীবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। এভাবে স্কুল থেকে ভিজতে ভিজতে বাসায় ফিরতো ইভান।
হাঁটতে হাঁটতে ধানমন্ডি ছাড়িয়ে মিরপুর রোডে ওঠে সে। বালকের চোখ দিয়ে সবকিছু দেখতে চায়।

দুপুরে জগন্নাথ হলে খেতে যায় সে। পরিচিত কাউকে না পেয়ে ভাল লাগে তার। ক্যান্টিনে মানুষের শোরগোল, ব্যস্ততা দুই চোখ ভরে দেখে সে। খাওয়া শেষে সোহরাওয়ার্দীতে গিয়ে বসে থাকে ইভান। এক কাপ চা নিয়ে বসে। পরিচিত অনেকের সাথে হাই হ্যালো হয়। চা’য়ে লেবুর রস নেই। 
চিনিতে ঠাসা চা খেতে ভাল লাগে না। এক অদ্ভুত কষ্টে মন হাহাকার করে ওঠে। এক চিমটি লেবুর রসহীন চা  বিস্বাদ লাগে। 

একটা কুকুর এসে পায়ের কাছে বসে। কুকুরটাকে রুটি কিনে টুকরা টুকরা করে ছড়িয়ে দেয় ইভান। বারবার রুটি কিনে ছড়িয়ে দেয় সে। কয়েকটি কাক এসে রুটির টুকরোয় ভাগ বসায়। অলস চোখে দেখে ইভান।

এক সময়ের তুখোড় ছাত্র ইভানের জীবনে কুকুরকে খাওয়ানোর চেয়ে বড় কোন মহত্ব আর নেই। তাই অফডে’তে কুকুরকে খাওয়াতে সোহরাওয়ার্দীতে আসে সে।

মুখস্থবিদদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয় নি ইভান। সরকারি চাকরিতে ছিল অনীহা, ছাত্র অবস্থায় কবিতা লিখতে গিয়ে নেসায় আসক্ত ইভান জীবনের ট্র্যাক থেকে ছিটকে গেছে।
না পারছে সফলতার দৌঁড়ে দৌঁড়াতে, না পারছে জীবন থেকে পালাতে। বাবার মৃত্যু, নেশা আর হঠাৎ এক বিয়ে তার প্রতিবাদী জীবনকে চুনোপুটি বানিয়ে ছেড়েছে। এখন সে প্রতিবাদে আর সাহিত্যে আগ্রহ পায় না। রাষ্ট্র বদল সমাজ বদল কোন কিছুর খেই নেই তার কাছে।
 
সবাই যে আইএলটিএস দিয়ে বিদেশ যায় এই বুঝি মুক্তি! কিন্তু পরিক্ষা আর রেজাল্টের প্রতি অনীহায় সে তৃতীয় শ্রেণী পেয়েছে অনার্সে। কোথায় পালাবে ইভান। হঠাৎ জীবন খুব দীর্ঘ মনে হয়।

ইভান আবার কুকুরটার দিকে তাকায়। কুকুরটাকে দু’টো ভালবাসার কথা বলতে ইচ্ছে করে তার। কুকুরটার গায়ে হাত বুলায় সে। এইতো ভীষণ ভালবাসতে ইচ্ছে করছে পৃথিবীটাকে। শেষ বিকেলের মায়াবী আলো ছড়িয়ে অস্ত যাচ্ছে সূর্য।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/226633/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Feb 2025 01:27:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কুকুর ও পৃথিবী</p>
<p>আলগোছে দরজা ঠেলে বাইরে বেড়িয়ে আসে ইভান। আজ ডে অফ। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কতো ছেলে মানুষী ভাবনা মাথায় আসে। একটা আইসক্রীম কিনে খায়। একবার ভাবে বাসে উঠে বাস ভাড়া না দিলে কেমন হয়। পরক্ষণে ভাবনাটা মাথা থেকে তাড়িয়ে দেয়।<br />
আজ হাঁটবে, হেঁটে হেঁটে হলে যাবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বসে থাকবে। </p>
<p>হঠাৎ বৃষ্টি নামলো। বৃষ্টিতে ভি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-226633"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/226633/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">402875f68460de31859b6d0cca641406</guid>
				<title>ডাবওয়ালা মামা

রিনির কী এক অসুখ! খালি কান্না পায়। আর কাদতে বসলে দুই তিন ঘন্টায় তার কান্না থামে না। তখন তার দুই চোখ বেয়ে শুধু পানি পরে। শুধু বাবাকে দেখলে রিনির কান্না থামে। বাবা তার জন্য এতো বিশেষ আনন্দ  নিয়ে আসে যে রিনি আর কাদতে পারে না। বাবাকে খুব ভালোবাসে রিনি। 

সকালটা ভালোই যাচ্ছিল। সবে রুটি পরোটা খেয়ে পড়তে বসেছে রিনি। তখনই জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে চন্দ্রমল্লিকা গাছের ফুলগুলো উধাও। অনেক সাধ করে চন্দ্রমল্লিকা গাছটি লাগিয়ে ছিল রিনি। অনেক দিন ধরে গাছে সকাল বিকাল পানি দিয়েছে। আর যেই সেই গাছে ফুল ধরলো কে যেন সেই ফুলগুলো ছিড়ে নিয়ে গেছে। রিনির কান্না দেখে মা জানালো ফুলগুলো বড় আপা নিয়ে গেছে। বড় আপার মেয়ে রিমার স্কুলে কী একটা ফাংশন হবে সেজন্য তার ফুল লাগবে। টানা দুই ঘন্টা কাদলো রিনি।

পরের দিন আরেক সমস্যা দেখা গেল। রিনি সবে স্কুল থেকে এসেছে আর মেজ আপা শুরু করলো-&quot;ঘটনাতো ঘটে গেছে!&quot; ঘটনা কী? একটু পরে রিনি জানলো বাবা তাদের জন্য ঈদের জামা নিয়ে এসেছে কিন্তু রিনির জামাটা অনেক ছোট। রিনি কাদতে শুরু করলো। রিনির কান্না দেখে বাবা তাকে দোকানে নিয়ে গিয়ে তার জামাটা বদলে নিয়ে আসলো।

এভাবে রিনির জীবনে কান্নাকাটি চলতেই থাকলো। কিন্তু হঠাৎই একদিন রিনি স্কুল থেকে বের হয়ে দেখে এক মামা ভ্যানভর্তি ডাব নিয়ে হাসতে হাসতে চলে যাচ্ছে। ভ্যানওয়ালা ভ্যান চালাচ্ছে আর পিছনে অনেকগুলো ডাব নিয়ে পা ঝুলিয়ে বসে মামা হাসতে হাসতে ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে দূর থেকে দূরে। সেই মামার হাসি মাখা মুখ রিনি কখনো ভুলতে পারলো না। এরপর যখনই তার কান্না আসতো রিনি ডাব ওয়ালা মামার কথা মনে করে হেসে ফেলতো। না হাসলেই জীবনে লস-এতদিনে রিনি বুঝতে পেরেছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/226526/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Feb 2025 08:38:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ডাবওয়ালা মামা</p>
<p>রিনির কী এক অসুখ! খালি কান্না পায়। আর কাদতে বসলে দুই তিন ঘন্টায় তার কান্না থামে না। তখন তার দুই চোখ বেয়ে শুধু পানি পরে। শুধু বাবাকে দেখলে রিনির কান্না থামে। বাবা তার জন্য এতো বিশেষ আনন্দ  নিয়ে আসে যে রিনি আর কাদতে পারে না। বাবাকে খুব ভালোবাসে রিনি। </p>
<p>সকালটা ভালোই যাচ্ছিল। সবে রুটি পরোটা খেয়ে পড়তে বসেছে রিনি। তখনই জানালা দিয়ে বা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-226526"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/226526/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0894d07a7cc42bb257c52db16e692240</guid>
				<title>অধ্যাপক ‘ব’ ও ফেইসবুক

অধ্যাপক ‘ব’ আমার ফেইসবুক ওয়ালে একটি সেক্স ভিডিও পোস্ট করেছেন।আমি ভাবেছি এটি ছিল সরল অধ্যাপককে বোকা বানানোর একটি দুষ্ট ওয়্যার।ভুলে হয়তো অধ্যাপক ‘ব’ এটিতে ক্লিক করেছেন পরে এটি আমার ওয়্যালে পোস্ট হয়েছে।

এর কিছুদিন পরে অধ্যাপক ‘ব’ এর একজন এক্স কলিগের সঙ্গে ঘটনাচক্রে দেখা ‘ব’ প্রসংগ তুলতে তিনি জানালেন অধ্যাপক ‘ব’ প্রায়ই তার সহকর্মীদের নিয়ে দরজা বন্ধ করেন।

অধ্যাপক ‘ব’ আমার বড় বোনের সরাসরি শিক্ষক। থাকতেন আমাদের পাড়ায়।তার দোতলা বাড়ির বাইরের দেয়ালে কোন রং ছিল না।নীচতলাটা ছিল গুদাম ঘরের মতো আর দোতালায় দিনের বেলাও আলো জলতো।কুয়াশা ভেজা ভোরে অধ্যাপক ‘ব’ কে চশমা চোখে হাঁটতে দেখে ভাবতাম উনি হয়তো জীবনান্দ দাশ কে খুঁজে বেড়াচ্ছেন বা সাহিত্যের গোপন গভীর বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছেন।

কিছুদিন আগে আমি ফেইসবুক ফ্রেন্ড ফাইন্ডারে বরিশাল সার্চ দিয়ে অধ্যাপক ‘ব’ কে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই।তখন আমার ধারণা হয়েছিল উনি হয়তো আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আকসেপ্ট করবেন না।কিন্তু তিনি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আকসেপ্ট করলেন এবং আমার ওয়ালে সেক্স ভিডিও ট্যাগ করলেন।

অধ্যাপক ‘ব’ অধ্যাপনা ছেড়ে একটি ব্যক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয় চালিত দুই টাকার পত্রিকার সম্পাদক হওয়ার সুবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো নিজের কামনা নিবারণে চৌকষ হয়ে উঠেছেন তা আমার কল্পনায় ছিল না।
একেই বুঝি বলে আনালগ মাস্টারের ডিজিটাল হওয়া।এখন ভাবনা ভংগের দায় দুই টাকার পত্রিকার উপর চাপাতে ইচ্ছে করছে।এরপরে অধ্যাপক ‘ব’ সম্পর্কে আমার মনে যেসব ভাবনা আসছিলো তা হলো------
১।অধ্যাপক ‘ব’ এর মেনোপজ হওয়া স্ত্রী সটান হয়ে শুয়ে ঘুমুচ্ছেন,অধ্যাপক ‘ব’ তার উত্থিত শিশ্নকে রবীন্দ্র সংগীত শুনিয়ে ঘুম পাড়াচ্ছেন।
২।সম্পাদকের ঘরে বসে উনি সহকর্মী মেয়েদের দিকে শিশ্ন তাগ করে আছেন।
৩।বাথরুমে গোসল করার সময় অধ্যাপক ‘ব’ আঙুল দিয়ে ওটা মাপছেন।এখনো সাইজটা আগের মতো আছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন।
 

অধ্যাপক ‘ব’ কে শৈশবের কল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে আমার কষ্ট হয়েছিল।সকল কিছু বানিজ্যিকীকরণের এই যুগে আমার শৈশব ও কৈশরের দিনগুলোর কথা ভেবে আমি স্বস্তির নিঃশ্বাষ ফেলতাম।

আমার শৈশবে আমি অনেক পড়ুয়া দেখেছি,দেখেছি সাহিত্য শিল্পপ্রেমী মানুষদের।প্রতিদিন যখন সস্তা জনপ্রিয় কবি,সাহিত্যিক,শিল্পী দেখে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়তো।মন হয়ে উঠতো আসাড়।তখন শৈশবের দিনগুলোর কথা ভেবে মন আনন্দে এবং গর্বে ভরে উঠতো।
কিন্তু আমি তো নৈতিকতার পারাকাষ্ঠা নই।অধ্যাপক ‘ব’ যদি তার উত্থিত শিশ্ন নিয়ে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত দৌঁড়ে যান অথবা থার্টি ফার্স্ট নাইটে অর্ধ উলংগ এক মেয়ে নিয়ে নাচতে শুরু করেন তাতে আমার আন্ন্দিত হওয়া উচিত।

কারণ অধ্যাপকদের কঠীণ জ্ঞানের ভার এবং ভাণ দুটোই আমি সহ্য করতে পারি না।আমি ভাবছি ভবিষ্যতের কথা, হয়তো এমন দিন আসবে যখন পাজামা খুলতে খুলতে মেয়েরা অধ্যাপকদের রুমে ঢুকবে।

স্বচ্ছ জলের আঁধার আমার শৈশবের প্রতিচ্ছবিটুকু ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল।তবুও সত্যের প্রতি নিষ্ঠ থাকলে ফেইসবুকেরই ধন্যবাদ প্রাপ্য।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/226431/</link>
				<pubDate>Sun, 16 Feb 2025 12:20:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অধ্যাপক ‘ব’ ও ফেইসবুক</p>
<p>অধ্যাপক ‘ব’ আমার ফেইসবুক ওয়ালে একটি সেক্স ভিডিও পোস্ট করেছেন।আমি ভাবেছি এটি ছিল সরল অধ্যাপককে বোকা বানানোর একটি দুষ্ট ওয়্যার।ভুলে হয়তো অধ্যাপক ‘ব’ এটিতে ক্লিক করেছেন পরে এটি আমার ওয়্যালে পোস্ট হয়েছে।</p>
<p>এর কিছুদিন পরে অধ্যাপক ‘ব’ এর একজন এক্স কলিগের সঙ্গে ঘটনাচক্রে দেখা ‘ব’ প্রসংগ তুলতে তিনি জানালেন অধ্যাপক ‘ব’ প্রায়ই তা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-226431"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/226431/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8929f5dbff2936280d4388b3a2123217</guid>
				<title>কবি
সাজু সকাল থেকে এক কাপ চা খেয়েছে। চা টা সে বাকিতে খায় নাই। পকেটে পাচ টাকার একটা চকচকে নোট ছিল। প্রেস্টিজটা বেচেছে। দোকানদারের বাকা চাহনি তাকে দেখতে হচ্ছে না। এই ভরসা। আজ দিনটা সেই অর্থে ভালোভাবেই শুরু হয়েছে। সকালে চনমনে রোদ উঠেছিল। এখন আবার আকাশে মেঘ জমেছে। সাজু মাথা উচু করে আকাশ দেখলো। সোহরাওয়ার্দীর চায়ের দোকানের বেঞ্চেই তার সকালটা কাটে। রাতে গিয়ে পার্টি অফিসে ঘুমানো আর সকালে এসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বসে থাকা আবার রাতে পার্টি অফিসে ফিরে যাওয়া এমন নিত্য দিনকার রুটিন চলছে কয়েক বছর যাবত। সাজু চুপচাপ বসে থাকে। আজ মিতুল এসেছে পার্কে। দুপুরে কিছু টাকা নেওয়া যাবে। মাত্র বিশ টাকা হলেই আজকের মতো চিন্তা নাই। কবিতার খাতা খুলে বসে সাজু। তার মন বসে না। দুপুর বেলা পুলিশের ভাত আসবে পার্কে। ভাগ্য ভালো থাকলে পোলাউ মাংসও পাওয়া যেতে পারে। সপ্তাহে একদিন পুলিশের খাবারে পোলাও মাংস দেওয়া হয়। আজ কি বার মনে ক রার চেষ্টা করলো সাজু। শুক্রবারে ই মনে হয় পোলাও মাংস দেয়। একটু পরে মানে সাড়ে বারোটার দিকে আজান দিলে আজ শুক্রবার। 

আলসেমি লাগে সাজুর। এখন কোহিনুরে গিয়ে দুইটা গরম সিংগাড়া আর এক কাপ দুধ চা খেতে পারলে হতো। পার্কে মিতুল আছে। মিতুলের থেকে কিছু টাকা নিতে হবে। বিশ টাকা হলেই দুপুরে ভাত খাওয়া যাবে। মিতুল কিছুদিন আগে তার থেকে একটা গান কিনেছিল তিন হাজার টাকায়। এই ভরসা। মিতুলের আশেপাশে অনেকে আছে। ওখানে যেয়ে টাকা চাওয়াটা ভালো দেখায় না। আরো কিছুক্ষণ বসে থাকে সাজু। 

পার্কে রতন ভাই ঢুকেছে। রতন ভাই ডক্টর মুহাম্মদ রদিউল্লাহার নাতি। রতন ভাইকে একগুচ্ছ কবিতা শুনিয়ে, রতন ভাইয়ের সাথে একত্রে পার্কে যেখানে একটু গাছপালা ঘন হয়ে আছে সেখানে দাঁড়িয়ে দুজনে প্রস্রাব করলো। একটু আগেই আকাশ থেকে পানি পড়েছিল তাই লোকজন খুব একটা ছিল না। প্রায় ঘন্টা দুই রতন ভাইয়ের সাথে উপগ্রহের মতো ঘুরলো সাজু। সাজুর টাকা চাইতে খুব অস্বস্তি হচ্ছে তারপরেও ভয়ানক কঠিন কাজটা করে ফেললো সে। বিশটা টাকা রতন ভাইয়ের কাছে চেয়ে ফেললো সে। রতন ভাই সাজুকে না করে দিলেন, নরম ভাবেই করলেন তিনি কাজটা। 

একটু পরে রতন ভাই চলে গেলে পরে মিতুলের খোজে বের হয় সাজু। বিশটা টাকা পেলে পোলাও মাংস না হোক আজ অন্তত ভাত খাওয়া যাবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/226306/</link>
				<pubDate>Wed, 12 Feb 2025 05:11:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবি<br />
সাজু সকাল থেকে এক কাপ চা খেয়েছে। চা টা সে বাকিতে খায় নাই। পকেটে পাচ টাকার একটা চকচকে নোট ছিল। প্রেস্টিজটা বেচেছে। দোকানদারের বাকা চাহনি তাকে দেখতে হচ্ছে না। এই ভরসা। আজ দিনটা সেই অর্থে ভালোভাবেই শুরু হয়েছে। সকালে চনমনে রোদ উঠেছিল। এখন আবার আকাশে মেঘ জমেছে। সাজু মাথা উচু করে আকাশ দেখলো। সোহরাওয়ার্দীর চায়ের দোকানের বেঞ্চেই তার সকালটা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-226306"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/226306/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e5b97c032437f187d72724ca594ac29c</guid>
				<title>রনি ২

সকালে আমি বাজারে গিয়ে মাছ, সবজি, মুরগী ও মশল্লাপাতি কিনলাম। ঘরে যেয়েই দ্রুত রান্না বসাতে হবে। মাছটা দোকান থেকেই কেটে নিলাম। বাসায় গিয়ে বাজারের ব্যাগটা রেখে দ্রুত হাত মুখ ধুয়ে রান্নাটা বসালাম-আমাকে অফিসে ছুটতে হবে। মাছের পিসগুলো উলটে দিচ্ছি এমন সময় রনি আমার পাশ ঘেঁষে দাড়ালো, রনির স্তন আমার কাধ ছুয়ে যাচ্ছে। রনিকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে খেতে মাছগুলো উল্টাচ্ছি। চুলাটা বন্ধ করে রনিকে নিয়ে শোবার ঘরে গেলাম।

রনি এখন কয়েকদিন আমাকে কিছু বলবেনা। বিছানায় আমার সব অপারগতা সহজে মেনে নেবে। রনি রফিকের ঘনিষ্ঠতার কয়েক দিন পরে আমি অফিসে একটা প্রেম করতে শুরু করি। সবাইকে কেয়ার করার আমার অসাধারণ গুণ আছে। সেই সাথে আমার গান। আমার গান প্রেমে ফেলতে অব্যর্থ। মেয়েটাকে কয়েক দিন বাইরে খেতে নিয়ে গেলাম। আর ধানমন্ডিতে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে করুণ সব রবীন্দ্রসংগীত একের পর এক গাইছিলাম। ভালোই চলছিল। রনি সব শুনেছিল, আমি যেখানে যাই, যা করি সবই রনির কানে যায়। রনি উঠে পরে লাগলো। মেয়েটা চাকরি ছেড়েই চলে গেল। 

রনির সুডৌল স্তনে মুখ ঘষতে ঘষতে আমার মেয়েটার কথা একটু একটু মনে পড়ছে, তার সেই আহত মুখ। চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় ব্যথিত চোখের চাহনি। কিন্তু রনিকে ভালোবাসব না-তা আমি ভাবতে পারি না। রনির সব আবদার আমার পূরণ করতে হবে। রনি আমার উপর উঠবে না আমি রনির উপর উঠব এসব করে করে আরো অনেকক্ষণ চললো চুমোচুমি। রনি তোমাকে আমি ভালোবাসি, সবার চেয়ে ভালোবাসি। এই ভালোবাসার কাছে সবকিছু তুচ্ছ। আর আমার অপরাধ বোধের এতো কিছু নেই। যেই মেয়ে জেনেশুনে একটা বিবাহিত ছেলের সঙ্গে প্রেম করতে আসে তার নিশ্চিত কিছু ঝামেলা আছে। 

প্রথম দফা ভালোবাসাবাসির পরে আমি একটা সিগারেট ধরালাম। সিগারেটে এক টান দিতেই রনির সঙ্গে কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে গেল। আমি একটান দেইতো ও আমার থেকে সিগারেটটা টেনে নিয়ে যায়। তুই আলাদা একটা সিগারেট ধরা তা না, আমারটা ওর চাইই-চাই। খেতে বসলেও এসব করবে-আমার প্লেট থেকে ওর খাওয়া চাই। আমার অবশ্য এসব অনেক ভালো লাগে।

অনেকক্ষণ ভালোবাসাবাসি, গান গাওয়া গাওয়ি চললো। এই সময়টা পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর যখন আমি আর রনি একসঙ্গে গান গাই। আমি এক লাইন গেয়ে উঠতেই ও আরেক লাইন গেয়ে ওঠে। আমরা অনেকক্ষণ পাশাপাশি শুয়ে থাকি। এখন আর কিছু ভাববার সময় নেই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/226226/</link>
				<pubDate>Mon, 10 Feb 2025 10:06:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রনি ২</p>
<p>সকালে আমি বাজারে গিয়ে মাছ, সবজি, মুরগী ও মশল্লাপাতি কিনলাম। ঘরে যেয়েই দ্রুত রান্না বসাতে হবে। মাছটা দোকান থেকেই কেটে নিলাম। বাসায় গিয়ে বাজারের ব্যাগটা রেখে দ্রুত হাত মুখ ধুয়ে রান্নাটা বসালাম-আমাকে অফিসে ছুটতে হবে। মাছের পিসগুলো উলটে দিচ্ছি এমন সময় রনি আমার পাশ ঘেঁষে দাড়ালো, রনির স্তন আমার কাধ ছুয়ে যাচ্ছে। রনিকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-226226"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/226226/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8679d94032cb05f3fb9ef3469c4b4ab2</guid>
				<title>গরুর মাংস 

গরুর মাংসে ভিনেগার দিয়ে কি এক অখাদ্য রান্না করা হয়েছে। সবে মাত্র এক নলা ভাত মুখে দিয়েছেন মোতালেব সাহেব। মাংসটা মুখে যেয়ে মুখের মধ্যে কেমন এক অনুভূতি তৈরি করতেই রাগে গা কিড়মিড় করে উঠলো তার। ভীষণ রাগে থালা ছুড়ে ফেলতে ইচ্ছে করলো। কিন্তু তিনি সব কিছু হজম করে নিয়ে ধীরে ধীরে খেয়ে উঠে বেসিনে মুখ ধুয়ে ফেললেন।

সুখ কেউ কাউকে দেয় না-নিজেকে তৈরি করে নিতে হয়-এই বিশ্বাসে তিনি আজকাল চলেন। ঘর থেকে বের হয়ে রিকশা নিয়ে চললেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে। শাহবাগে রিকশা থেকে নেমে এক বাক্স আইস্ক্রিম কিনলেন। উদ্যানে আইসক্রিম বক্স খুলে এক কোনা থেকে কিছুটা খেলেন তারপর ঘুরে বেড়ানো এক পথশিশুকে ডেকে তার হাতে তুলে দিলেন বাক্সটা। শিশুটা কিছুটা বোকা বনে গেল। তারপর বক্সটা নিয়ে দ্রুত জায়গা ত্যাগ করলো।

মোতালেব সাহেবের মন ইদানিং খুব খারাপ থাকে। ছোট চাকরি করলেও তিনিই ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন। কিন্তু ছেলেমেয়েরা ইদানিং তার কোন কথায় আর গুরুত্ব দেয় না। তারা তাকে খুব একটা পাত্তা দেয় না। সংসারে থেকেও তিনি নেই যেন। খুব অসহায় মনে হয় নিজেকে। এখন অফিস না থাকায় ব্যাপারটা তাকে অনেক ভোগাচ্ছে। আজকে যেমন গরুর মাংসটা কিনেছেন মজা করে খাবেন বলে কিন্তু ভিনেগার দিয়ে মাংসটা নতুন রেসিপিতে রাধতে গিয়ে স্বাদের বারোটা বাজিয়েছে।

দশ টাকার বাদাম কিনলেন তিনি। খোসা ছাড়িয়ে দূরে একটা কাককে ছিটিয়ে দিলেন। কাকটা খাবে কি খাবে না ভেবে একটু এগিয়ে এসে বাদাম খেতে লাগলো। এরপর তিনি চায়ের দোকানে বসে এক কাপ চা খেয়ে ফেললেন। এখন একটু ঘুমিয়ে নিতে পারলে ভালো লাগতো। একটু নিরিবিলি জায়গা দেখে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। 

ঘুম থেকে উঠে তিনি মানিব্যাগ খুঁজলেন না। মানিব্যাগে তার এমন কিছু টাকা নেই যে তা হারাবার ভয় থাকবে। মহা আনন্দে তিনি উদ্যানে ঘুরতে লাগলেন। ফুচকা খেলেন এক প্লেট। একটা সেজেগুজে থাকা মেয়েকে দেখতে পেলেন। তার সাথে কিছুটা সময় কাটাতে ইচ্ছে করলো তার। কিন্তু সাহসে কুলালো না। মেয়েটার পাশে বসলে বউয়ের উপর এক হাত ভালোই নেয়া যেত।

আরো কিছুক্ষণ হাটাহাটি করে পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়লেন। ক্যানটিনে চা খেতে খেতে তার ভীষণ বাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছে করলো। মেয়েটা থানকুনি পাতার কথা বলেছিল। হাতিরপুল বাজারে গিয়ে থানকুনি পাতা খুঁজে কিনে রিকশা নিয়ে দ্রুত চললেন বাসার দিকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/225853/</link>
				<pubDate>Fri, 31 Jan 2025 03:41:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গরুর মাংস </p>
<p>গরুর মাংসে ভিনেগার দিয়ে কি এক অখাদ্য রান্না করা হয়েছে। সবে মাত্র এক নলা ভাত মুখে দিয়েছেন মোতালেব সাহেব। মাংসটা মুখে যেয়ে মুখের মধ্যে কেমন এক অনুভূতি তৈরি করতেই রাগে গা কিড়মিড় করে উঠলো তার। ভীষণ রাগে থালা ছুড়ে ফেলতে ইচ্ছে করলো। কিন্তু তিনি সব কিছু হজম করে নিয়ে ধীরে ধীরে খেয়ে উঠে বেসিনে মুখ ধুয়ে ফেললেন।</p>
<p>সুখ কেউ কাউকে দেয় না-নিজেকে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-225853"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/225853/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">40ef727e5b6a81766e26fd15a3fd74cd</guid>
				<title>বাজে গল্প-১

আমদের সুমনের বাবার হঠাৎ অনেক টাকা পয়সা হওয়ায় সে বেচারার ভারি কবি হওয়ার সাধ হলো। সুমনের জন্য বুয়েটে পড়া মেধাবী ছাত্র প্রাইভেট টিউটর রাখা হলো কিন্তু সে অংক করার বদলে লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা লেখে। প্রথমে ব্যাপারটা ছিল রাখ ঢাক করে। পরে শুরু হলো জাঁক করে। উঠতে বসতে সে শুধু কবিতা আওড়ায়। এহেন তার মধ্যবিত্ত বাবা মায়ের স্বপ্ন ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে ডাক্তার হবে। কিন্তু সুমন ওসব হতে ভালোবাসে না। তাই সে কবি হওয়ার নিমিত্তে বাবা মায়ের অবাধ্য হতে শুরু করলো। শিল্পের স্বার্থে এরকম হওয়াটা বেমানান না। কবিদের বাবা মায়ের এমনকি বউয়ের কথা শুনলে কবি হওয়া ব্যাপারটা কিভাবে হবে! তাই সে আর খেতে চাইতো না। মা যতোই মাংসের ঝোল রাধতো ততোই তার অরুচি হতো। এরপরে সে গোসল টোসল নিয়মিত করতো না কিন্তু নিয়মিত কবিতা লিখে যেত। তার মাও কম যান না। আধুনিক কবিতা ব্যঙ্গ করে তিনি বললেন আধুনিক কবিতা এমন:
&quot;ঘরের চালে বিলাইতে
মোতেতে মোতেতে”
এসব শুনে সুমন দমবার পাত্র না। সারাদিন তার হাতে থাকতো জীবনান্দ সমগ্র। আর সে উদাসীন হয়ে কবিতার রূপ, চিত্রকল্প আরো সব হাবিজাবি নিয়ে ভাবতো। বাবা মা, ভাই বোন কারো কাছে তেমন পাত্তা না পেয়ে সে ভাবলো ওরা কবিতার কি বোঝে! যাই শাহবাগে দাদারা তো অনেক ভালো কবিতা বেঝেন!
একদিন সে শাহবাগের পথ ধরলো। দাদা’রা তার পয়সায় চা খেয়ে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে তার কবিতা দেখলেন। কিছুটা শ্লেষ আর ব্যাঙ্গ বিদ্রুপের স্বরে পিঠ চাপড়ালেন। বেচারা পত্রিকা অফিসে কিছুদিন দৌঁড়াদৌড়ি করলো। তার কপালে তেমন কিছু জুটলো না। দাদাদের কাছে যায়। দাদারা কয়:
&quot;পুরানো পাগলের ভাত নাই
নতুন পাগলের আমদানি”
বাবার বুঝি অনেক টাকা। তা গাড়ি কিনে আমাদের নিয়ে ঘুরে বেড়া। জিপিএ-5 পাস নি পরীক্ষায়। তাই কবিতা লিখছিস। তা ভালো, তা ভালো।
শেষে সবাইকে জব্দ করতে এক বুদ্ধি আঁটলো। রবীন্দ্রনাথ ও জীবননান্দের কয়েক ছত্র লিখে দাদাদের কাছে গেল।
এবার দাদাদের সে বিরিয়ানির প্যাকেট ধরিয়ে দিল। দাদারা বিরিয়ানির মধ্যের ছাগলের হাড় চিবুতে চিবুতে বললেন, বাড়ি যাওয়ার পথে জীবনান্দ কিনিবে খান কয়েক ! আর রবীন্দ্রনাথ সেও কবি খাসা এক। তাহাকে পড়িলে বাড়িবে শব্দ জ্ঞান। দাদারা আরো অনেক কিছু বললন। 
এরপরে সুমনকে আর কেউ কবিতা লিখতে দেখে নি। সে বুয়েটের পড়া ছাত্রের কাছে মন দিয়ে অংক করে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/225499/</link>
				<pubDate>Thu, 23 Jan 2025 06:53:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বাজে গল্প-১</p>
<p>আমদের সুমনের বাবার হঠাৎ অনেক টাকা পয়সা হওয়ায় সে বেচারার ভারি কবি হওয়ার সাধ হলো। সুমনের জন্য বুয়েটে পড়া মেধাবী ছাত্র প্রাইভেট টিউটর রাখা হলো কিন্তু সে অংক করার বদলে লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা লেখে। প্রথমে ব্যাপারটা ছিল রাখ ঢাক করে। পরে শুরু হলো জাঁক করে। উঠতে বসতে সে শুধু কবিতা আওড়ায়। এহেন তার মধ্যবিত্ত বাবা মায়ের স্বপ্ন ছেলে ইঞ্জি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-225499"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/225499/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">33d2ca277e81c4f9ed7dd847a7d24ca1</guid>
				<title>রোজা
এই রোজার দিনে চিতকার চেচামেচি একদম ভালো লাগেনা রহমান সাহেবের। তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন রোজার দিনে সূর্য যতো হেলেতে থাকে ততো তেলে বেগুনে জ্বলতে থাকেন। কাজের মেয়ের সঙ্গে  চেচামেচি নিজের মেয়ের সঙ্গে চেচামেচি করতেই থাকেন। সেই সঙ্গে চলে মানুষের নামে গীবত। রহমান সাহেব সহ্য করতে না পেরে বাসা থেকে বের হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে চলে যান। আজ সতের রোজা চলছে। প্রতিবছরই রোজার মাসটা ভীষণ অশান্তিতে কাটে তার। এতো অশান্তি করে রোজা রাখার কী দরকার তিনি ভেবে পান না।

সোহরাওয়ার্দীতে সবাই যুবক যুবতী। তার বয়সীও কিছু আছে। ঢাকা শহরে এই একটা জায়গা যেখানে সবাই বসতে পারে। চারপাশের যুবক যুবতীরা তার মতোন বৃদ্ধদের দেখে বিরক্ত হয় না। অনেকেই চা খাচ্ছে। রহমান সাহেব চা খেতে খুব ভালোবাসেন। অন্যদের চা খেতে দেখে তারও ভীষণ চা খেতে ইচ্ছে করলো। 
 
ভীষণ মন খারাপ করে তিনি সোহরাওয়ার্দীর নিরিবিলি এক কোনা দেখে বসে পড়েন। রোজার ক্লান্তিতে কখন যে তিনি শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন নিজেই জানেন না। ঘুমের ঘোরে একের পর এক স্বপ্ন দেখতে লাগলেন। একবার দেখলেন তিনি তার গ্রামের বাড়ির পুকুরে সাতার কাটছেন। মাছ ধরছেন। শাপলা ফুল তুলছেন। একবার দেখলেন তিনি বাজারে গেছেন সব্জির দরদাম করছেন কিন্তু তার পকেটে এক টাকাও নেই। স্বপ্নের মধ্যেই তার মনে পড়লো বাজারে সবকিছুর অনেক দাম।

কিছুক্ষণ পরে দেখলেন মিষ্টিকে কোলে নিয়ে বসে আছেন। মিষ্টি তাদের ঘরের পোষা বিড়াল ছিল। গত বছর হারিয়ে গিয়েছে। তার মেয়ে মিষ্টিকে খুব ভালোবাসতো। মিষ্টির জন্য তাকে নিয়মিত মাছ কিনতে হতো। তার স্ত্রীও মিষ্টি কে ভালোবাসতেন। হঠাৎ একদিন মিষ্টি হারিয়ে যায়। তার মেয়ে সোমা অনেকদিন ভাত খেতোনা মিষ্টির জন্য। প্রায়ই কান্নাকাটি করতো। এখনো সে মিষ্টিকে দূর দূরান্তে খুজতে যায়। 

ঘুমের মধ্যেও তার মনে পড়লো মিষ্টি অনেক দিন ছিল না। পরম মমতায় তিনি মিষ্টিকে জড়িয়ে ধরলেন।  
মিষ্টি তার গালে গাল লাগিয়ে বসে রইলো। আহা, কি শান্তি। মনে মনে তিনি ভাবলেন মিষ্টিকে তিনি কোথাও যেতে দেবেন না। 

ইফতারির অনেক পরে ছোট একটি ছেলে তার গায়ে হাত দিয়ে দেখলো তিনি চির ঘুমে তলিয়ে গেছেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/225205/</link>
				<pubDate>Sat, 18 Jan 2025 13:10:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রোজা<br />
এই রোজার দিনে চিতকার চেচামেচি একদম ভালো লাগেনা রহমান সাহেবের। তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন রোজার দিনে সূর্য যতো হেলেতে থাকে ততো তেলে বেগুনে জ্বলতে থাকেন। কাজের মেয়ের সঙ্গে  চেচামেচি নিজের মেয়ের সঙ্গে চেচামেচি করতেই থাকেন। সেই সঙ্গে চলে মানুষের নামে গীবত। রহমান সাহেব সহ্য করতে না পেরে বাসা থেকে বের হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে চলে যান&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-225205"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/225205/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5ba8ab99020db433b1c46f7ce32d21cf</guid>
				<title>শিল্প
  আরিফের মেয়ে মুনা বাবার হাতে চায়ের কাপ তুলে দিতে গিয়ে কাপটাতে একটা চুমুক দিল। কনক কৌতুহল নিয়ে দেখছিল। মুনা কাপে চুমুক দিয়ে বললো ‘হ্যা, বাবা, পারফেক্ট, হয়েছে।’
এমন আহামরি কোন দৃশ্য না। কিন্তু কনকের চোখে লেগে রইলো। পারিবারিক জীবনে এমন ছোট খাটো ঘটনা সবসময়ই ঘটছে। কনক যখন উঠতে যাবে তখন আরিফের বউ এসে আরিফের পাশে বসলো। স্বামী স্ত্রী আলতোভাবে হাত ধরাধরি করে তাকে বিদায় জানালো।

 ফেইসবুকে কনক খানের বিশাল ফলোয়ার বাহিনী আছে। সে একটা পোস্ট দিলে ঘন্টাখানেকের মধ্যে দুই তিন হাজার লাইক ও অনেক শেয়ার পরে। বাসায় এসে কনক ফেইসবুক খুলে বসে। চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি লেখায় তিন হাজার বাইশটা লাইক ও চুয়াল্লিশটা শেয়ার পড়েছে। মেসেঞ্জারে
ষোল বছরের এক মেয়ে টপলেস ছবি পাঠিয়েছে। স্পষ্টতই আহবান। ফেইসবুকেই মেয়েটির সাথে পরিচয়। আরেকটি মেসেজে তার পুরানো বান্ধবী স্বপ্না তাকে তার বাড়িতে যেতে বলেছে। স্বপ্না নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করে। কনকের সঙ্গে বিছানায় তার দারুণ জমে। তরুণদের চেয়ে দুই সন্তানের জননী
স্বপ্না তাকে অনেক সন্তোষ দিতে পারে। স্বপ্নার সঙ্গে হার জিতের কোন ব্যাপার নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা সে আর স্বপ্না উলঙ্গ শুয়ে থাকে। খুব ধীরে খেলে তারা। স্বপ্নার একটি আঙ্গুল চোষা যায় ঘন্টা ধরে, সে তুলনায় নবীনদের এই টি টোয়েন্টি সেক্স তার ভালো লাগে না।

স্বপ্নার মেসেজ দেখে আরো কিছুক্ষণ চোখ রাখে ফেইসবুকে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা ছিল না মোটেও, ছেলেটা ক্যানাডা থাকে। কতো বছর দেখে হয় না, কথা হয় না। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও ছাড়াছাড়ি। ছেলের সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথা হয় মাঝে মাঝে। শিল্পী জীবনে আটপৌড়ে সংসারে মন ছিল না 
তার কখনো। ইদানিং তার মনে হয় সাদামাটা সাংসারিক জীবনই এক বড় শিল্প। চোখে ভাসে আরিফের কাপে মুনার চুমুক দেওয়ার দৃশ্য। মনে মনে বলে সে আ! আবার যদি শুরু করা যেত!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/225073/</link>
				<pubDate>Wed, 15 Jan 2025 12:20:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শিল্প<br />
  আরিফের মেয়ে মুনা বাবার হাতে চায়ের কাপ তুলে দিতে গিয়ে কাপটাতে একটা চুমুক দিল। কনক কৌতুহল নিয়ে দেখছিল। মুনা কাপে চুমুক দিয়ে বললো ‘হ্যা, বাবা, পারফেক্ট, হয়েছে।’<br />
এমন আহামরি কোন দৃশ্য না। কিন্তু কনকের চোখে লেগে রইলো। পারিবারিক জীবনে এমন ছোট খাটো ঘটনা সবসময়ই ঘটছে। কনক যখন উঠতে যাবে তখন আরিফের বউ এসে আরিফের পাশে বসলো। স্বামী স্ত্রী আলত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-225073"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/225073/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6433d73e52a64d71a81456ed8137a04c</guid>
				<title>মানি&#039;র এডভেঞ্চার 

আজ তিন দিন মানি স্কুলে যায় না। তার গায়ে জ্বর এসেছে। দুই দিন তীব্র জ্বর ছিল। আজ একটু জ্বরটা কমেছে। কিছুই ভালো লাগছে না। মা অফিসে চলে গেছে। মানি কম্পিউটার অন করলো। না, তার ভালো লাগছে না। ব্যালকনিতে একটা চেয়ার নিয়ে গিয়ে বসলো মানি। ব্যালকনিটা অনেক বড়। মা কয়েকটা পাটের শিকের মধ্যে মাটির পটে গাছ লাগিয়েছে। মানি গাছগুলো দেখতে লাগলো। তার গায়ে একটু রোদ পড়েছে। রোদের উষ্ণতাটুকু ভালো লাগলো মানির। জ্বরের পর মাথাটা কেমন হালকা হালকা লাগছে। একটু পরে রিনা আপু মানি&#039;র জন্য বড় এক বাটি নুডুলস নিয়ে আসলো। মানি&#039;র একেবারেই নুডুলস খেতে ইচ্ছে করছে না। নুডুলসের বাটি হাতে নিয়ে বসে থাকলো সে।

স্কুলে সোশ্যাল সায়েন্স মিস বলেছেন &quot;কারো সঙ্গে  কিছু শেয়ার করলে তোমাদের ভালো লাগবে। যেমনঃ ধরো যদি তোমরা একজন আরেকজনের টিফিন শেয়ার করো তোমাদের ভালো লাগবে।&quot; মানি টিফিন পিরিয়ডে খাবার শেয়ার করতে চাইছিল কিন্তু কাউকেই তেমন একটা আগ্রহী দেখা গেল না। এরপর মানি কথাটা নিয়ে অনেক ভেবেছে। মানির কোন ভাই-বোন নেই। কার সঙ্গে কি শেয়ার করবে বুঝতে পারছে না। এখন এই শরীর খারাপের সময় মানি চাইছিল কারো সঙ্গে কিছু শেয়ার করতে। মানিদের ব্যালকনির সামনে অনেককানি জায়গা জুড়ে মাঠ। এই এলাকায় এখনো অনেক বড় বড় ফাঁকা মাঠ আছে। অনেক দূরে কয়েকটা কুকুর রোদে দাঁড়িয়ে খেলছে, কেউ আবার চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। যাবে নাকী মানি! মানি&#039;কে তার মা একা একা ঘরের বাইরে যেতে দেয় না। স্কুলে ড্রাইভার দিয়ে আসে আর কোথাও গেলে মা তার হাত ধরে নিয়ে যায়। মা&#039;কে ছাড়া মানি কখনো বাইরে যেতে পারে না। মানি&#039;র খুব বাইরে যেতে ইচ্ছে করছিল। নিজেকে সে মোটিভেট করলো, &quot;যাও মানি যাও।&quot; রিনা আপু রান্নাঘরে আছে। দারোয়ান চাচা তাকে কিছু বলতে পারে । মানি&#039;র মনে হলো চুপ করে বসে না থেকে এবার সে যেতে পারে। মানির ড্রয়ারে দুই প্যাকেট হরলিক্স বিস্কিট আছে। দুই দিন আগে মামা তার জন্য বিস্কিট এনেছিল। মানি সেগুলো খায়নি।

মানি হরলিক্স বিস্কিটের প্যাকেট দুটি প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে ও নুডুলসের বাটি নিয়ে আস্তে দরজা খুলে লিফটের বোতামে চাপ দিল। লিফট চলে আসলে মানি হাফ ছেড়ে বাচলো। রিনা আপু দেখলে একশটা কথা বলতো। নিচে নামার পরে দারোয়ান চাচাও তেমন কিছু বললো না। মানি কিছুক্ষণ হেটে কুকুরগুলোর কাছে গিয়ে দাড়ালো। কুকুরগুলো তার হাতের খাবারের গন্ধ পেয়ে ছুটে আসলো তার দিকে। মানি নুডুলস মাঠে ঢেলে দেওয়ার পরে কুকুরদের মধ্যে হুড়োহুড়ি করে খাওয়া  শুরু হয়ে গেল। ততোক্ষণে বিস্কিটের একটা প্যাকেট খুলে তাদের দিকে বিস্কিট ছুড়ে দিতে লাগলো। এক প্যাকেট বিস্কিট খেতে কুকুরদের দুই মিনিটও লাগলো না। মানি অন্য প্যাকেটটিও খুলে কুকুরদের বিস্কিট দিল। এখন কুকুরগুলো আস্তে আস্তে খাচ্ছে। দ্বিতীয় প্যাকেট শেষ হওয়ার পরেও মানির ইচ্ছে করছিল ওদের আরো কিছু খাবার দিতে। মানি&#039;র খুব ভালো লাগছে। 

মানি&#039;র ড্রয়ারে একশ টাকার একটি নোট আছে। নানু তাকে অনেক দিন আগে দিয়েছিল। মানি বাসার দিকে রওয়ানা হলে কুকুরগুলো তার পিছু নিল। মানি আস্তে করে দরজা খুলে ঘরে ঢুকলো। রিনা আপু কিছু টের পায়নি মনে হয়। মানি টাকাটা নিয়ে বেরিয়ে গেল। কুকুরগুলো তার সামনে সামনে দৌড়াচ্ছে। মানি মাঠের পাশের রাস্তার অপজিটে দোকানে গেল। দোকানদার মানি&#039;কে দেখে হাসলো। অনেকক্ষণ থেকে তিনি মানি&#039;র কাজকর্ম দেখছিলেন। আরো চার প্যাকেট বিস্কিট কিনে মানি কুকুরদের খাওয়ালো। মানি&#039;র মন ভালো হয়ে গেল। দোকানের ককর্মচারী ছেলেটির গায়ে কোন শীতের পোশাক নেই। পায়ে একটা সাধারণ স্যান্ডেল। মানি&#039;র খুব ইচ্ছে হলো ছেলেটিকে তার একটি পুরানো জ্যাকেট আর একজোড়া কেডস দিতে। কে কী ভাববে সেসব ভেবে মানি খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো। দোকানদার যদি কিছু বলে! মা যদি শুনে ফেলে এসব ভেবে মানি কোন ডিসিশান নিতে পারছিল না। তারপরেও সে ভাবলো এক ফাঁকে সে ছেলেটিকে জ্যাকেট আর কেডস দিয়ে যাবে। ওগুলোতো পরেই আছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/224987/</link>
				<pubDate>Tue, 14 Jan 2025 01:39:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মানি&#8217;র এডভেঞ্চার </p>
<p>আজ তিন দিন মানি স্কুলে যায় না। তার গায়ে জ্বর এসেছে। দুই দিন তীব্র জ্বর ছিল। আজ একটু জ্বরটা কমেছে। কিছুই ভালো লাগছে না। মা অফিসে চলে গেছে। মানি কম্পিউটার অন করলো। না, তার ভালো লাগছে না। ব্যালকনিতে একটা চেয়ার নিয়ে গিয়ে বসলো মানি। ব্যালকনিটা অনেক বড়। মা কয়েকটা পাটের শিকের মধ্যে মাটির পটে গাছ লাগিয়েছে। মানি গাছগুলো দেখতে লাগলো।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-224987"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/224987/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f26a4cf8a2dd463f66e877f7e8d04aee</guid>
				<title>সিরিয়াল
ঠান্ডা ভাতগুলো গ্যাসে গরম করে নেয় মুন্নী। একটি রসুনের খোসা ছাড়িয়ে কোয়াগুলো ভাতের মধ্যে দিয়ে দেয়। দুই চামচ সব্জিও ভাতের মধ্যে দিয়ে গরম করে তাড়াতাড়ি করে খেয়ে নেয়।

 আজ সোমবার স্টার জলসায় পিকনিক সিরিয়ালটা আছে। প্রতি সোম থেকে বুধবার সিরিয়ালটা দেখে মুন্নী। সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হবে সিরিয়ালটা। দ্রুত পানি খেয়ে টিভির সামনে বসে যায় সে। সিরিয়ালে নায়িকা বাজার করে ফেরার পথে  রাস্তায় নায়কের সংগে দেখা হয়। মুন্নী আর থাকতে পারে না। পাশের বাসার ভাবীকে ডাকতে থাকে। একা একা এত রোমান্টিক সিরিয়াল দেখতে ভালো লাগে না তার। 

টিভি&#039;র সাউন্ড কমলেই পাশের বাসা থেকে ঝগড়ার শব্দ ভেসে আসে। আবার পাশের বাসায় ঝগড়া শুরু হয়ে গেছে। মুন্নী সাউন্ড বাড়িয়ে দিয়ে টিভি দেখতে থাকে। প্রেমের ডায়লগে সিরিয়াল জমে উঠেছে। মুন্নী সারা সপ্তাহ সিরিয়ালটার জন্য অপেক্ষা করে। সিরিয়াল দেখতে তার এত ভালো লাগে যে সে এইসব দিনগুলোতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে না। ছেলের পড়াশোনা নিয়ে চিল্লায় না। তার মন অজানা সুখে ভরে ওঠে। স্বামীর সঙ্গে কোমল গলায় কথা বলে। সিরিয়াল দেখা শেষে মুন্নী মাঝে সাঝে সাজতে বসে। স্বামী তাকে নিয়ে দু চারটা মিষ্টি কথা বলুক, সে চায়। স্বামী বেচারা মুন্নীর এইসব বদলে যাওয়ার খবর রাখে না। সে ব্যাপারটা স্বাভাবিকভাবেই নেয়। 

সিরিয়ালে ডুবে যেতে যেতে মুন্নীর পাশের বাসার কথা মনে থাকে না। সিরিয়াল শেষে টিভি বন্ধ করার পরে পাশের বাসা থেকে আসা চিৎকারে তার মনে পড়ে সুমী&#039;র কথা। সুমীকে কী আজ মেরেই ফেলবে নাকি তার স্বামী? মুন্নী ছুটে যায় পাশের বাসার দিকে। কেন যে এইসব লোক সিরিয়াল দেখে না মুন্নী ভেবে পায় না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/224841/</link>
				<pubDate>Sat, 11 Jan 2025 06:20:01 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সিরিয়াল<br />
ঠান্ডা ভাতগুলো গ্যাসে গরম করে নেয় মুন্নী। একটি রসুনের খোসা ছাড়িয়ে কোয়াগুলো ভাতের মধ্যে দিয়ে দেয়। দুই চামচ সব্জিও ভাতের মধ্যে দিয়ে গরম করে তাড়াতাড়ি করে খেয়ে নেয়।</p>
<p> আজ সোমবার স্টার জলসায় পিকনিক সিরিয়ালটা আছে। প্রতি সোম থেকে বুধবার সিরিয়ালটা দেখে মুন্নী। সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হবে সিরিয়ালটা। দ্রুত পানি খেয়ে টিভির সামনে বসে যায় সে। স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-224841"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/224841/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a29d897e61d53ea459143d20a0c8978f</guid>
				<title>চারুকলা 

মা ছবি আকতো, আমিও ছবি আকি ছোটবেলা থেকে। বিশেষ করে মা মরে যাওয়ার পরে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যেত ছবি আকতে। আর এখানে এই আইবিএ&#039;তে ভর্তি হওয়ার পরে আমি পিছনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রায়ই তাকিয়ে থাকতাম চারুকলার দিকে। আমার ভীষণ ভালো লাগে ওদের গল্প করা, হাটাহাটি ও ছবি আকা দেখতে। 

বাবা প্রায়ই বিদেশে যায়। তখন আমি একা একা থাকি। একা একা থাকলে আমার বেশি বেশি ছবি আকা হয়। চাচার মেয়ে ঝুম্পা আমার ছবি খুব পছন্দ করে। আমি ঝুম্পাকে পছন্দ করি। দেখি ঝুম্পা সেটা টের পায় কি না। অনেকগুলো ছবি একে আমি ঝুম্পার জন্য রেখেছি। কখনো দেয়া হয় নি। ঝুম্পা যদি আগে আমাকে ভালোবাসার কথা বলে তবে আমি ওকে এগুলো দিব। ঝুম্পা না বললে আমি হয়তো বলতে পারব না।

আইবিএ&#039;তে আমার ডেস্কে কাগজ, পেন্সিল, আক্রিলিক, জল রংয়ের টিউব আছে। বাবা বিদেশে গেলে আমার জন্য রং নিয়ে আসে। বাবা বরাবরই আমাকে ছবি আকতে উৎসাহ দেয়। মায়ের মৃত্যু&#039;র পরে বাবা আর বিয়ে করেনি। ঘরে প্রায় দিন রান্না করে বাবা। আমি ভেবে রেখেছি এখন থেকে বাবার থেকে দু&#039;একটা পদ রান্না করা শিখব। বাবা এমনভাবে মশল্লাপাতি নিয়ে রান্না করে মনে হয় যেন রং দিয়ে ছবি আকছে। 

সকালে বাবা আমাকে এক কাপ কফি বানিয়ে দিল। কফি খেতে খেতে আমি পুকুরে বৃষ্টি পড়ার একটা ছবি আকছিলাম। বৃষ্টির পানি পুকুরের পানিতে টুপ করে পরে মিলিয়ে যাচ্ছিল। বাতাসে ছোট ছোট বৃত্ত তোইরি হচ্ছে-এসব আঁকছিলাম। একটু পরে বাবার সঙ্গে সকালের খাবার খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলাম।

ক্লাস হচ্ছিল টানা, দুপুরে ক্যানটিনে খেয়ে আকতে বসলাম। ছবি আকতে আকতে ঘোর লেগে যায়। ভীষণ ভালো লাগছে পুকুরটাকে। এমন একটা শান্ত শ্যাওলা ভরা পুকুর নানী বাড়িতে আছে। নানি আমাকে অনেক ভালোবাসে। প্রায় প্রতিদিন ফোন করে আমার খোঁজ নেয়। নানিকে অনেক মিস করি। এবার ছুটিতে যাব নানির বাড়ি। নানি এখনো আমাকে মুখে তুলে খাওয়ায়। আমি না, না করি। নানি অবশ্য আমার কথা শোনে না। নানি বাড়িতে গেলে আমি একটা কাজ করি। ছিপ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পুকুর ঘাটে বসে থাকি। আমার অবশ্য মাছ ধরার ব্যাপারে উৎসাহ নাই, আমি পুকুরটাকে দেখি। মাঝে মাঝে একা একা বনে বনে ঘুরে বেড়াই। বাচ্চাদের ছবি একে দেই। বাচ্চারা মহা আনন্দে আমার সাথে কিচির মিচির করে। 

পুকুরটার চারপাশে বড় বড় গাছ আঁকছিলাম। নিজে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে আছি নিজের ছবির দিকে। একটু দূরে অভি&#039;রা বল খেলছিল। বলে কে যেন জোরে লাথি মারলো। বলটা গিয়ে পড়লো চারুকলার দেয়ালের ওপাশে। অভি বললো, &quot;এই শাওন বলটা একটু চা তো।&quot; আমি দেয়ালের ওপাশে উঁকি দিলাম। বলটা চারুকলার ক্যান্টিনের পাশ ঘেঁষে পরে আছে। দুইটা ভাইয়া সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ওনাদের কাছে বলটা চাইতেই একজন গজগজ করে উঠলো। খারাপ কিছু বললো। অভি তাড়া লাগালো আমি কিছু না বলে ছবি আকার কাগজটা নিয়ে চলে আসলাম।

এরপরেও মন খারাপ হলে পিছনের বারান্দা দিয়ে আমি চেয়ে থাকি চারুকলার দিকে। কেমন নির্জন একটা জায়গা। ওখানে নিশ্চয়ই অন্য ভুবনের মানুষেরা থাকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/224541/</link>
				<pubDate>Fri, 03 Jan 2025 04:20:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চারুকলা </p>
<p>মা ছবি আকতো, আমিও ছবি আকি ছোটবেলা থেকে। বিশেষ করে মা মরে যাওয়ার পরে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যেত ছবি আকতে। আর এখানে এই আইবিএ&#8217;তে ভর্তি হওয়ার পরে আমি পিছনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রায়ই তাকিয়ে থাকতাম চারুকলার দিকে। আমার ভীষণ ভালো লাগে ওদের গল্প করা, হাটাহাটি ও ছবি আকা দেখতে। </p>
<p>বাবা প্রায়ই বিদেশে যায়। তখন আমি একা একা থাকি। একা একা থাকলে আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-224541"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/224541/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7605554985fdd9c5099b3464ad6b52f6</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/224516/</link>
				<pubDate>Thu, 02 Jan 2025 08:51:43 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2c02f18621916737eb1b7fa0b4578228</guid>
				<title>বৃষ্টি, খিচুড়ি ও ভালবাসার গল্প

অফিস থেকে ফিরে রফিক সাহেব ছাতাটা রাখলেন ঘরের কোনে। মাংসের পলিথিন টা রান্নাঘরে নিয়ে রেখে দিলেন। মাঝে মাঝে একটা বিড়াল আসে। কিন্তু আজ বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। বিড়ালটা মনে হয় আজ আর আসবে না।  বিড়ালটা কি আশেপাশের কোন বিল্ডিং থেকে 
আসে? না কি রাস্তার বিড়াল এ কথা ভাবতে ভাবতে তিনি কাপড় বদলাতে বাথরুমে গেলেন। বাথরুমটা অনেক বড়। আজকের দিনের ফ্ল্যাটবাড়ির মত চিপা বাথরুম না। অনেক পানি খরচ করে গোসল করে ফুরফুরে মেজাজে রান্না করতে বসলেন।
আজ বৃষ্টি দেখে মাংস নিয়ে এসেছেন। মাংস খিচুড়ি রান্না হবে, ঝুম বৃষ্টিতে খেতে ভাল লাগবে। তার বন্ধু বাহারের আসার কথা আছে। বাহার খিচুড়ি খেতে ভালবাসে। মনে মনে তিনি চাইলেন বাহার যেন না আসে। বাহার বক বক করতে ভালবাসে। সেসব বক বকানি এতদিন তার ভাল লাগতো।
কিন্তু এখন তার নিজের মনে ডুব দিতে ইচ্ছে করছে।

তিনি একজন গোছানো মানুষ, জীবনে সব ঝামেলা এড়িয়ে থাকতে চেয়েছেন। বই কেনেন, পড়েন, ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগে তার। হালকা মেজাজে একটু ঘুরতে পারলেই খুব ভাল লাগে তার। সাহিত্য তার বিষয় না, কমার্সের ছাত্র ছিলেন কিন্তু সাহিত্য পড়তে ভালবাসেন।
রান্নায় খুব একটা তাড়া নেই। বিকালে অফিসের ক্যান্টিনে এক কাপ চা আর একটি সমুসা খেয়েছেন। খিচুড়ি খেতে হয় প্রচন্ড খিদে নিয়ে। এই পঁচ্চান্ন বছর বয়সে এত খিদে কোথায় পাবেন। এক গ্লাস লেবুর শরবত খেয়ে ফেললেন। বাহার কি আসবে? ফোন করবেন কি না ভাবলেন। 
না আসলে থাক। বাহারের মত সাংসারিক লোকের অনেক কাজ থাকে। পরে আরেকদিন বাহারকে ডাকা যাবে।

রান্না শেষে গরম গরম খিচুড়ি খেয়ে বারান্দায় বসে রইলেন। বাইরে বৃষ্টি দেখতে খুব ভাল লাগছে। শোবার ঘরে একটা বাতি জ্বলছে। বারান্দা অন্ধকার। এই বৃষ্টিতে মেয়েটিকে নিয়ে ভাবা যেতে পারে। মেয়েটি তার অফিসেই চাকরি করে। মাঝে মাঝে মেয়েটিকে নিয়ে ভাববার বিলাসিতা করেন তিনি।
তিনি বিয়ে করেননি। সারাজীবন নির্ঝঞ্জাট জীবন যাপন করেছেন। ইদানিং একটি মেয়েকে ভালবাসতে ইচ্ছে করে তার। ঐ পর্যন্তই। তিনি জানেন মেয়েটিকে তিনি কখনো ভালবাসা বা বিয়ের কথা বলতে পারবেন না। অফিসে তার সহকর্মী মেয়েটি। বয়স ত্রিশের বেশি না। মাঝে মাঝে তার চোখ
ফুলে থাকে। হয়তো কান্নাকাটি করে সে। হয়তো চোখের অসুখ আছে তার। মেয়েটিকে নিয়ে অনেক কিছু ভাবেন তিনি।
মেয়েটি যদি এক কাপ চা নিয়ে আসতো, তার সঙ্গে একটু গল্প গুজব করা যেত। এবার বই মেলায় একটা জোকসের বই কিনেছেন। ওটা থেকেই হয়তো পড়ে শোনানো যেত। আরো কিছুক্ষণ বসে রইলেন তিনি। তারপরে ঘুমাতে চলে গেলেন।

খুব এক ঘুম ঘুমিয়ে সকালে তার অফিসে যেতে ইচ্ছে করলো না। তারপরেও উঠলেন। চুলায় চা চাপিয়ে, ফ্রিজ থেকে খিচুড়ি বের করে গরম করে খেয়ে নিলেন। রিকশা করে অফিসে যেতে যেতে আকাশের দিকে তাকালেন একবার। আকাশ ঘন নীল। দুপুর বেলা ক্যান্টিনে গেলেন চা খেতে।
ঐতো মেয়েটি রহমান সাহেবের সঙ্গে কথা বলছে। তার বুকের মধ্যে চিনচিন করে উঠলো। রহমান সাহেবকে হিংসে হচ্ছে তার। এটাকেই বুঝি ভালবাসা বলে। উহ! থাকুক না একটু চিনচিনে ভাব।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/224110/</link>
				<pubDate>Sat, 21 Dec 2024 05:11:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বৃষ্টি, খিচুড়ি ও ভালবাসার গল্প</p>
<p>অফিস থেকে ফিরে রফিক সাহেব ছাতাটা রাখলেন ঘরের কোনে। মাংসের পলিথিন টা রান্নাঘরে নিয়ে রেখে দিলেন। মাঝে মাঝে একটা বিড়াল আসে। কিন্তু আজ বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। বিড়ালটা মনে হয় আজ আর আসবে না।  বিড়ালটা কি আশেপাশের কোন বিল্ডিং থেকে<br />
আসে? না কি রাস্তার বিড়াল এ কথা ভাবতে ভাবতে তিনি কাপড় বদলাতে বাথরুমে গেলেন। বাথরুমটা অনেক বড়। আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-224110"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/224110/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e82e77bbcf15f4a7b74345a9f16c0b04</guid>
				<title>বিরিয়ানি
পান্তা ভাত আর রাতের বাসী তরকারি রেখে ক্ষেতে গেছে মা। সুমাইয়া পাতিলে রাখা এই খাবার দেখে কাদতে বসে গেছে। সে কিছুতেই এখন পান্তা খাবে না। পাশের বাড়ির মাঠে গত রাতে বিরিয়ানি রান্না হয়েছে। চাদের আলো আর কারেন্টের আলোতে থান ইট দিয়ে বিরিয়ানি রাধতে দেখেছে তারা কাল। বিরিয়ানির মাংস কষানো আর তাতে সিদ্ধ চাল দিতে দেখেছে। বিরিয়ানির মশলার গন্ধ তাদের অনেক ভালো লাগছিল। আশা করেছিল তাদেরও খেতে ডাকবে। বরাবর তারা তাদের খেতে ডাকে কিন্তু কাল যেন কি হয়েছে। অনেক লোকজন এসেছে তাদের কেউ ডাকেনি।

সুমাইয়ার কান্না শুনে ভাই ইমরান তার খাতার পিছনে ছবি আকতে শুরু করে। দ্রুতই হাতের টানে একটা বক আর মাছের ছবি একে ফেলে। একের পর এক ছবি আকে সে। সুমাইয়া কান্না বন্ধ করে চোখ বড় বড় করে ভাইয়ের আকা ছবি দেখে। ভাই কিভাবে এক টানে বকের ছবি আকে আর কিভাবে ফুলের পাপড়ি আর পাতা আকে তা দেখলে এমনিতেই তার আর খিদে পায়না। মা লেবু বিক্রি করে ভাইকে খাতা কিনে দিয়েছে। ছবি আকতে দেখলে রাগ করবে। কিন্তু সুমাইয়ার কান্না বন্ধ করতে এটাই সবচেয়ে ভালো কাজ দেয়।

&quot;চল, খালে মাছ ধরতে যাই।&quot; ভাই তার অনেক কসরত করে এই খালে ঐ বিলে মাছ ধরে। সেও যায় সাথে। বর্ষাকালে যখন বিলে পানি থাকে তখন অনেক মাছ ধরে তারা। মাঝরাত পর্যন্ত ভাই আর চাচা মাছ মারে। সেই মাছে আলু দিয়ে রান্না করা হয় সালুন। অনেক সময় গভীর রাতে চুলা ধরানো হয়। চাচা খাজা বাবার গান ধরে। গরম ভাতের সঙ্গে মাছের সালুন চাঁদনি পসর রাইতে খাইতে বড় মজা লাগে।

ভাই-বোন অনেক চেষ্টা করেও তেমন কিছু ধরতে পারে না। দুপুর বেলা আবার কোন এক নিরামিষ সালুন  খাওয়ার কথা ভেবে সুমাইয়ার মনে ব্যাপক দুঃখ হয়। মা কালকের মতোই লাউ পাতা রান্না করছে। অনেক কষ্টে নিরামিষ লাউ পাতা ভাজি দিয়ে ভাত খায় সে। 

বিকেলে ইমরান মেলায় যায়। দোকান থেকে এ ফোর সাইজের অফসেট পেপার আগেই কিনে নিয়েছে সে। মেলার এক প্রান্তে উচু একটা জায়গায় বসে আশেপাশের লোকেদের ছবি আকে সে। প্রথমে ছোটরা পরে বড়রা ঘিরে ধরে তাকে। দ্রুত মানুষের মুখের স্কেচ করে দেয় সে। যে যা পারে তাই তাকে দেয়। শহর থেকে আসা এক মেয়ে তাকে পাচশ টাকার একটি নোট দেয়। গুনে দেখে এগারশ&#039;র মতো টাকা হয়েছে। রানীপুরের বাজারে আজকে মাংস পাওয়া যাবেনা। তার আর তর সয়না। সুজনের মটর সাইকেলে বেতাগী চলে যায় সে। ছাগলের মাংস আর বিরিয়ানির মসলা কিনে রাজার মতো ফিরে আসে বাড়িতে। 

রাত তখন আটটা। থান ইট দিয়ে পাতিলে বিরিয়ানি মাংস কষায় চাচা। একটু পরে চাঁদ ওঠে। চাদের এক টুকরো আলো কষানো মাংসের পাতিলে পরে। কলা পাতা কাটতে চায় ইমরান। মা বাধ সাধে। রাতের বেলা গাছের পাতা কাটতে নেই। আরো কিছুক্ষণের পরে বিরিয়ানির সেই সুবাশ সারা বাড়িতে ছড়িয়ে পরে। এই সুবাশই পাগল করে দিয়েছিল সুমাইয়াকে। আজ সে খুব ভালো করে বিরিয়ানির গন্ধ টেনে নেয় বুকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/224096/</link>
				<pubDate>Fri, 20 Dec 2024 06:27:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিরিয়ানি<br />
পান্তা ভাত আর রাতের বাসী তরকারি রেখে ক্ষেতে গেছে মা। সুমাইয়া পাতিলে রাখা এই খাবার দেখে কাদতে বসে গেছে। সে কিছুতেই এখন পান্তা খাবে না। পাশের বাড়ির মাঠে গত রাতে বিরিয়ানি রান্না হয়েছে। চাদের আলো আর কারেন্টের আলোতে থান ইট দিয়ে বিরিয়ানি রাধতে দেখেছে তারা কাল। বিরিয়ানির মাংস কষানো আর তাতে সিদ্ধ চাল দিতে দেখেছে। বিরিয়ানির মশলার গন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-224096"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/224096/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6198e399e213614960d4c8c2daeddd4d</guid>
				<title>আমেরিকা

তানিম ভয়ে ভয়ে পাশ ফিরে শোয়, রাতে নাইট ক্লাবে ডিউটি শেষ করে সকালটা ঘুমিয়ে কাটিয়েছে কোন ন্যাংটা মেয়েকে স্বপ্নে না দেখেই। ন্যাংটা মেয়েদের ইদানিং তার খুব আপন লাগে, বোন বোন মনে হয়। তানিমের কোন বোন নেই, মা মারা যাওয়ার পরে বাবা আবার বিয়ে করেছে। সে ঘরে দুই ছেলে হয়েছে। 

মা যখন ক্যান্সারে ভুগে মারা গেল তখন তানিম টিকেট কিনতে না পেরে দেখতে যেতে পারেনি মাকে।  একমাত্র স ন্তান তানিম কি মা&#039;কে ভালোবাসে না? হয়তো ভালোবাসে, আমেরিকা এসে সব কিছু অন্য রকম হয়ে গেছে। যেমন নাইটক্লাবের পুরো উলংগ মেয়েগুলোকে তার বোন বোন লাগে। আর যে চাচাতো বোন নীলার সাথে তার বিয়ে হয়েছে তাকে ভয় লাগে।

তানিম বিছানা থেকে উঠে কিচেনে গিয়ে দুধ, চিনি দিয়ে কফি বানায়। এখনো সে কালো কফিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠে নি। তার বউ নীলা অবশ্য কালো কফি খায়। বউ&#039;র জন্য এক কাপ কালো কফি বানাবে কি না সে ভাবতে থাকে। এক কাপ কালো কফি নিয়ে রাখে বউয়ের টেবিলের উপর। বউ কলেজে ভর্তি হয়েছে। বউ খুব ভালো, সহনশীল তারপরেও বউকে সে ভয় পায়, এড়িয়ে চলে।

বই থেকে মাথা তুলে নীলা জিজ্ঞেস করে, &quot;ঘুম ভালো হলো?&quot;
মাথা নেড়ে সে চলে আসে ব্যালকনিতে।

তানিম নাইট ক্লাবে চাকরি করে দুই বছর হলো। এর আগে সে রেস্টুরেন্টে চাকরি করতো। রেস্টুরেন্টে  বসের সাথে তার প্রায়ই খিটিমিটি লাগতো। ইন্ডিয়ানটার খারাপ ব্যবহার সে সহ্য করতে পারতো না। বাংলাদেশের এক আমলার ছেলে তানিম কথায় কথায় বাংলাদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা তার বসকে কিছু বলতে না পেরে একদিন চাকরি ছেড়ে দেয়। কিছুদিন বেকার থাকার পরে একদিন আহসান তাকে এই চাকরিটা দেয়। প্রথম প্রথম মেয়েগুলোকে দেখলে তার চরম উত্তেজনা হতো। কাজের ফাঁকে বাথরুমে গিয়ে মাস্টারবেট করতো তানিম। আস্তে আস্তে সেই উত্তেজনা কমে আসে তার। এখন কোন মেয়েকে দেখলেই তার উত্তেজনা হয় না আর।

মায়ের ইচ্ছে ছিল নীলাকে তার সঙ্গে বিয়ে দেয়ার। নীলা কেয়ারিং টাইপের, ভালো মেয়ে। নীলাকে বিয়ে করতে তার কোন আপত্তি ছিল না। ভালোই কাটছিল তাদের। বিশেষ করে মায়ের মৃত্যু আর বাবার বিয়ের পরে নীলা ছাড়া তার আপন কেউ ছিল না। সেই নীলাকে সে বলবে ডিভোর্সের কথা!

গত কয়েকদিন থেকে বিষয়টা তার মাথায় ঘুরছে। নীলার কামার্ত শরীরের প্রতি তার নিস্পৃহতা তাকে অপরাধ প্রবন করে তোলে। সংবেদনশীল তানিম নিজের জন্য নীলাকে কষ্ট দেওয়ার কথা ভাবতে পারে না। আবার, নীলাকে কিভাবে ডিভোর্সের কথা বলবে তাও ভাবতে পারে না। অলস ও বিষণ্ণ চোখে বাইরের দিকে তাকিয়ে ভাবে এবার সাহস করে বলে ফেলবে কথাটা।

নীলা কিচেনে পিয়াজ কাটছে, তানিমকে দেখে হাসি হাসি মুখে ফ্রিজ থেকে ডিম আনতে বললো। ডিম নিয়ে এসে তানিম ভাবলো এই শেষ, নীলাকে আর চান্স দেবে না। এক্ষুনি সে ডিভোর্সের কথাটা বলে ফেলবে। তখনই নীলার ফোনটা বেজে উঠলো। নীলা বাংগালী কমিউনিটির একজনের সাথে আসন্ন পিকনিকের আলাপে উত্তেজিত হয়ে উঠেছে। এই উচ্ছ্বাসের আনন্দটুকু নষ্ট করতে পারলো না তানিম। তখনই সে বুঝতে পারলো নীলাকে বুঝি তার এ জীবনে  ডিভোর্সের কথা বলা হবে না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223909/</link>
				<pubDate>Tue, 17 Dec 2024 04:17:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমেরিকা</p>
<p>তানিম ভয়ে ভয়ে পাশ ফিরে শোয়, রাতে নাইট ক্লাবে ডিউটি শেষ করে সকালটা ঘুমিয়ে কাটিয়েছে কোন ন্যাংটা মেয়েকে স্বপ্নে না দেখেই। ন্যাংটা মেয়েদের ইদানিং তার খুব আপন লাগে, বোন বোন মনে হয়। তানিমের কোন বোন নেই, মা মারা যাওয়ার পরে বাবা আবার বিয়ে করেছে। সে ঘরে দুই ছেলে হয়েছে। </p>
<p>মা যখন ক্যান্সারে ভুগে মারা গেল তখন তানিম টিকেট কিনতে না পেরে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223909"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223909/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a881ff690e5888ed65125bb4cff30e63</guid>
				<title>মুনিবা ও মানিজা

বেশ কয়েকদিন ধরে মুনিবা খেয়াল করেছে বাবা যেন মানিজাকে বেশি ভালোবাসে। এমনিই বাবা বলে যে মানিজা তার মতো দেখতে। এতেই মানিজা খুব আহ্লাদিপনা করে বেড়াচ্ছে। বাবা অফিস থেকে আসলে বাবার কোলে ঝাপিয়ে পড়ছে। মুনিবা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে। কিছু বলছে না। কিন্তু  বাবার সংগে তার আদুরে আদুরে ভাব বাড়তে বাড়তে সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

মুনিবা মানিজার চেয়ে দুই বছরের বড়। বাবা এতোদিন শুধু মুনিবা মুনিবা করতো। অফিস থেকে ফেরার পথে তার প্রিয় খাবারগুলো কিনে নিয়ে আসতো। কিন্তু এখন দেখি মানিজা&#039;র প্রিয় স্যান্ডউইচ ও বার্গার নিয়ে আসছে। মায়ের বেলায় মুনিবা নিশ্চিত ছিল যে ব্যাপারটা ঠিক ঠাক আছে। কিন্তু সেদিন দেখা গেল মা দুইটা স্কুল ব্যাগ নিয়ে এসে প্রথমেই মানিজাকে বাছতে দিল। আর মানিজা মেরুন রংয়ের ব্যাগটা বেছে নিলো। তার জন্য পরে রইলো নেভি ব্লু ব্যাগটা। নেভিব্লু রংটা মুনিবার কাছে তখন বিষের মতো লাগছিলো। কি আর করা সে কথায় কথায় কাদতেও পারেনা আর নালিশও করতে পারে না। 

সে কিছুক্ষণ ঝিম মেরে বসে থেকে ছবি আকতে বসলো। মানিজা আবার ছবি আকতে পারেনা। বোন ছবি আকতে বসলে সে শুধু চোখ বড় বড় করে দেখে। মুনিবা অনেক কিছু আকলো। মা যখন নুডুলস খেতে ডাকলো তাতেও সে আগ্রহ দেখালো না। মা বুঝুক যে সে কতো রাগ করেছে। মুনিবাও ছবি আকা দেখা ছেড়ে খেতে যেতে চাইলো না। মা তখন দুই বোনকে খাইয়ে দিল। 

পরের দিন সে বাবার হাতে একটা চিঠি দিল। অফিসে গিয়ে বাবা তার চিঠি খুলে পড়লো। তাতে লেখা ছিল।

প্রিয় বাবা,
তুমি এখন কাকে ভালোবাসো সেটা আমি জানি। সে হচ্ছে মানিজা। বাবা, তুমি আর আমাকে ভালোবাসো না। আমার কথা তোমার আর মনে থাকে না। সবসময় মনে রেখ মুনিবা তোমাকে অনেক ভালোবাসে। 
ইতি
মুনিবা

এর দুইদিন পরে বাবা তাকে নিয়ে চাঁদপুর গেল। লঞ্চে করে বেড়াতে যাওয়া। নদী আর নদীতীরের গাছপালা দেখা আর এটা সেটা খাওয়ার পরে যখন দাদি বাড়িতে গিয়ে পৌছালো তখন বারবার মানিজার কথা মনে পড়লো তার।

দাদি তার জন্য মুরগি রান্না করলো পিঠা বানালো আর অনেক আদর করলো। কিছুতেই তার মন বসছিল না। সারাক্ষণ মা আর মানিজার কথা মনে পড়লো তার। পোলাউ আর মুরগির মাংস তার প্রিয় খাবার। খেতে বসে মনে হলো এতো এতো খাবার সে কীভাবে শেষ করবে? ঢাকায় তার আর মানিজার মধ্যে মুরগির বুকের মাংস নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগে। এখানে এতো খাবার কিন্তু তার মোটেও খেতে ইচ্ছে করছে না।

দাদি এতো করে বলায় আরো একটা দিন থাকতে হলো চাঁদপুরে। শেষে যখন ঢাকার লঞ্চে উঠলো তখন সে হাফ ছেড়ে বাচলো। রিক্সা যখন বাসার সামনে এসে দাঁড়ালো তার আর তর সইলো না দ্রুত সিড়ি দিয়ে উঠে এসে কলিং বেল টিপলো। দরজা খুলে দিল বুয়া। ওইতো সোফার উপর বসে আছে মানিজা। হলুদ ফ্রকটায় কী সুন্দরই না লাগছে তাকে!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223653/</link>
				<pubDate>Mon, 09 Dec 2024 07:52:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মুনিবা ও মানিজা</p>
<p>বেশ কয়েকদিন ধরে মুনিবা খেয়াল করেছে বাবা যেন মানিজাকে বেশি ভালোবাসে। এমনিই বাবা বলে যে মানিজা তার মতো দেখতে। এতেই মানিজা খুব আহ্লাদিপনা করে বেড়াচ্ছে। বাবা অফিস থেকে আসলে বাবার কোলে ঝাপিয়ে পড়ছে। মুনিবা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে। কিছু বলছে না। কিন্তু  বাবার সংগে তার আদুরে আদুরে ভাব বাড়তে বাড়তে সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।</p>
<p>মুনিবা মানিজার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223653"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223653/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">43876a93d0ea601777f493f456909a7e</guid>
				<title>ঝগড়া দৈত্য

 মুসা ড্রইং রুমে একা একা খেলছিল। কতোক্ষণ পর পর শোবার ঘরে ঢুকে দেখছিল বাবা-মা আবার ঝগড়া শুরু করে কী না! প্রতিদিনের মতো মুসা আতংকেই ছিল যে এই হয়তো বাবা মায়ের ঝগড়া শুরু হয়ে যাবে। না, তা হয়নি। ঝগড়া দৈত্য এখনো এ বাড়িতে এসে পৌঁছায়নি। মুসা একা একা খেলতে থাকে। কিছুক্ষণ পরে রান্নাঘরে গিয়ে দেখে বাবা মাংস রান্না করছে। বাবা যখন আনন্দে থাকে তখন রান্না বান্না করে। মুসা ফিরে এসে একা একা খেলে। 

আজ ও কাল দুই দিন মুসার স্কুল নেই। এই দুই দিন তার বেশি বেশি আতংক হয়। কারণ ছুটির দিনগুলোতে বাবা ঘরে থাকে। অন্যদিন মুসা খুব সকালে স্কুলে যায়। সে যখন বাড়ি ফিরে আসে ততোক্ষণে বাবা অফিসে চলে যায়। বাবা ফিরে আসলে রাতেও অনেক দিন বাবা মায়ের ঝগড়া হয়। কিন্তু মুসার বেশি ভয় থাকে ছুটির দিনগুলোতে।

এ রকম অনেক হাসি খুশির দিনেও বাবা মা ঝগড়া করেছে। তাই মুসা আশ্বস্ত হতে পারেনা এখনও। সব কিছু সুন্দর, বাবা মা হাশি খুশি। হঠাৎ কোথা থেকে ঝগড়া দৈত্য এসে ঘরের সবকিছু তছনছ করে দেয়।

মুসা আবার রান্নাঘরে গিয়ে দেখে বাবা পোলাও চাপিয়েছে। পোলাওয়ের চালের গন্ধ ছড়িয়ে পরে সারা ঘরে। তিন তলা থেকে নানু এক বক্স মুরগির মাংস পাঠায় মুসার জন্য। মুসা মুরগির মাংস ছাড়া ভাত খেতে পারেনা। একটু পরে মা তাকে গোসল করিয়ে দেয়। তারও কিছুক্ষণ পরে তারা তিনজন খেতে বসে। খাওয়ার মাঝে মাঝে বাবা জোক বলে আর মুসা ও তার মা হেসে হেসে গড়িয়ে পরে।

খাওয়ার পরে বাবার পিসিতে মুসা টিনটিন দেখতে বসে যায়। বাবা মা দুজনে শোবার ঘরে। আজ ঝগড়া দৈত্য এ বাড়িতে আসবে না ভেবে মনের আনন্দে টিনটিন শেষ করে টিভি খুলে টম এন্ড জেরি দেখে মুসা। কার্টুন দেখার এক ফাকে বাসার সামনের দীর্ঘ গাছটিকে ধন্যবাদ দেয় মুসা। বাবা মা যখন ঝগড়া করে তখন গাছটির সঙ্গে মনে মনে অনেক কথা বলে মুসা। গাছটিকে বলে ঝগড়া দৈত্য যেন এ বাড়িতে আর না আসে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223583/</link>
				<pubDate>Fri, 06 Dec 2024 02:33:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঝগড়া দৈত্য</p>
<p> মুসা ড্রইং রুমে একা একা খেলছিল। কতোক্ষণ পর পর শোবার ঘরে ঢুকে দেখছিল বাবা-মা আবার ঝগড়া শুরু করে কী না! প্রতিদিনের মতো মুসা আতংকেই ছিল যে এই হয়তো বাবা মায়ের ঝগড়া শুরু হয়ে যাবে। না, তা হয়নি। ঝগড়া দৈত্য এখনো এ বাড়িতে এসে পৌঁছায়নি। মুসা একা একা খেলতে থাকে। কিছুক্ষণ পরে রান্নাঘরে গিয়ে দেখে বাবা মাংস রান্না করছে। বাবা যখন আনন্দে থাকে তখন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223583"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223583/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f2b6c1a8f84d8cf90f4e2f9aaff08035</guid>
				<title>পিউ&#039;র বৃষ্টি দেখা
সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। পিউ দাঁড়িয়ে আছে জানালার ধারে। বৃষ্টি দেখতে পিউ&#039;র খুব ভালো লাগে। খুব ইচ্ছে করছে ছাদে যেতে। পিউ&#039;র খুব অসুখ। জ্বর ঠান্ডা লেগেই থাকে। পিউ চাইলেই ছাদে যেতে পারেনা। তাই জানালার পাশে একটা চেয়ার টেনে বসে রইলো। পিউদের বাসা দোতলায়। এখান থেকে দূরের বিল্ডিংয়ের ছাদগুলোতে বৃষ্টি পরা দেখতে লাগলো সে। মা তার হাতে একটি মেলামাইনের প্লেটে পরাটা, সব্জি আর ডিম ভাজি দিয়ে গেল। পরাটা ছিড়ে সব্জি দিয়ে খেতে খেতে পাচ ফোড়নের গন্ধ পেল সে। মা সব তরকারিতে পাচ ফোড়ন দিবেই দিবে। পিউ&#039;র একটু চা খেতে ইচ্ছে করলো। দৌড়ে গিয়ে বললে মা তাকে চা করে দিবে কিন্তু পিউ&#039;র উঠতে ইচ্ছে করছে না। বৃষ্টিগুলো কেমন আঁকাবাকা হয়ে পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে পড়ছে। মা কী আজ খিচুড়ি রান্না করবে? বৃষ্টি হলে মা মাঝেমাঝে খিচুড়ি রান্না করে। বাইরে থেকে চোখ সরিয়ে প্লেটের দিকে চোখ দিল পিউ। এটা তার নিজের প্লেট। সাদা প্লেটের পাশে নানা রকম সোনালী আর কালো নকশা করা। গতবার জন্মদিনে বাবা তাকে এই প্লেট গিফট করেছে। বাবা এখন অফিসে।

পিউ খালি প্লেট রান্নাঘরে রাখতে গিয়ে মাকে একবার সাহস করে বললো &#039;মা ছাদে যাব।&#039; মা তাকে না করে দিল। তারপর থেকে সে বাবাকে বারবার ফোন করছে। বাবা রাজি হয়েছে। পিউ ফোন নিয়ে ছুটতে ছুটতে গেল মায়ের কাছে। বাবা মায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা হলো। পিউ আবার জানালার পাশে এসে বসলো। মনে হচ্ছে না মা তাকে নিয়ে ছাদে যাবে। পিউ আবার &quot;না&quot; শোনাটা একদম সহ্য করতে পারেনা। দুপুর পর্যন্ত জানালার কাছে বসে রইলো পিউ। আজ যে আবহাওয়া মা তাকে আর গোসল করতে বলবে না। পিউ একমনে বাইরে তাকিয়ে আছে। কতোক্ষণ বৃষ্টি হয়। আবার থেমে যায়। আবার হালকা বৃষ্টি হয়। স্কুলের বইয়ে সে রংধনুর কথা পড়েছে। রংধনু দেখার জন্য একবার জানালার শিকে মাথা চেপে ধরলো সে। না, রংধনু দেখা যাচ্ছে না। 

আরো কিছুক্ষণ পরে মা তার জন্য এক প্লেট খিচুড়ি নিয়ে আসলো। আনমনেই খিচুড়ি খেতে শুরু করলো পিউ। নিরামিষ খিচুড়িতে মা মিষ্টি কুমড়া আর আলু দিয়েছে। সংগে সেই পাচ ফোড়নও আছে কিছুটা। তবে খিচুড়িটা খেতে অনেক মজা। আজ বৃষ্টি বলে স্কুলে যায়নি সে। স্কুলে যেতেও পিউ&#039;র অনেক ভালো লাগে। তবে এই বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে বসে থাকতেই ভালো লাগে তার।

পিউ এবার তার টেবিল থেকে গল্পের বই নিয়ে আসে একটা। রূপকথার বইটি তাকে তার মামা উপহার দিয়েছিল। আস্তে আস্তে গল্পের ভুবনে হারিয়ে যেয়ে চেয়ারেই ঘুমিয়ে পরে সে। বাবার ডাকে সন্ধ্যার সময় ঘুম ভাংগে তার। বাবা বললো &#039;তোমার ছাতাটা নিয়ে এসোতো।&#039; বাবা কখন বাসায় এসেছে জানেনা পিউ। দৌড়ে ছুটে যায় ছাতা আনতে। বাবা আর সে দুটি ছাতা নিয়ে ছাদে গিয়ে দাঁড়ায়। তাদের মাথার উপরে টুপ্টাপ বৃষ্টির ফোটা পরছে। ছাদে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পায়ে লাগছে। খুব আনন্দ হচ্ছে পিউ&#039;র। এখন সন্ধ্যা হচ্ছে। চারপাশের বাড়ি আর মানুষগুলোকে বইয়ের পাতার আকা ছবির মতো লাগছে তার। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ বৃষ্টি দেখে সে। কোন এক অন্য ভুবনের আনন্দ পেয়ে বসে তাকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223393/</link>
				<pubDate>Thu, 28 Nov 2024 12:18:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পিউ&#8217;র বৃষ্টি দেখা<br />
সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। পিউ দাঁড়িয়ে আছে জানালার ধারে। বৃষ্টি দেখতে পিউ&#8217;র খুব ভালো লাগে। খুব ইচ্ছে করছে ছাদে যেতে। পিউ&#8217;র খুব অসুখ। জ্বর ঠান্ডা লেগেই থাকে। পিউ চাইলেই ছাদে যেতে পারেনা। তাই জানালার পাশে একটা চেয়ার টেনে বসে রইলো। পিউদের বাসা দোতলায়। এখান থেকে দূরের বিল্ডিংয়ের ছাদগুলোতে বৃষ্টি পরা দেখতে লাগলো সে। মা তার হাতে একটি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223393"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223393/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">490fb4242c03e165241c6d10313417cd</guid>
				<title>শিল্পী
আজ বাসা বদল হবে। গোছগাছ চলছে গত চার পাঁচ দিন ধরে। এ বাড়িটাতে শিল্পী অনেকদিন ধরে থাকছে। শিল্পীর স্বামী অস্থির স্বভাবের মানুষ। আজ এটা করছে তো কাল আরেকটা। কিন্তু শিল্পী কৌশল করে বাসা বদলাতে দেয় নি তাকে। বাড়িওয়ালার বউয়ের সঙ্গেও তার একটা
স্পেশাল খাতির আছে। শিল্পী এক কাপ চা খেতে খেতে পুরো ফ্ল্যাটটা ঘুরে ঘুরে দেখছে। বিকেলে ট্রাক আসবে। এখন তেমন কান ব্যস্ততা নেই। শিল্পীর স্বামী ও দেবর অফিসে চলে গেল।

রান্নাঘরে একটা মাটির মালসা পরে আছে। নতুন বাসায় ওটা নেওয়া চলে না। শিল্পীর খুব মায়া লাগে মালসাটার জন্য। ধুয়ে মুছে জিনিসপত্রের একটা ঝুড়িতে ঢুকিয়ে দিল সে মালসাটা। এ সংসারের প্রতিটা টুকরার জন্য শিল্পীর অনেক মায়া। শিল্পীর স্বামী মালসাটা দেখলে হাসাহাসি করতে পারে
আবার রেগেও যতে পারে।
 
বারান্দায় ফুলের টবগুলোর এক কোনায় কতগুলো ভাঙ্গা বাসন রাখা আছে। শিল্পীর বিয়েতে দেওয়া চাচার উপহার। সংসারে ভাঙ্গা জিনিস রাখলে অমঙ্গল হয়-এ বিশ্বাসে শিল্পী ওগুলো ফেলতে পারেনি। শিল্পী ভেবেছে বাসনগুলো সুপারগ্লু দিয়ে জোড়া দিয়ে ওগুলোতে গাছ লাগাবে।
দ্রুত শিল্পী ওগুলো ধুয়ে ফেলে কাপড় দিয়ে মুছে পেপার মুড়িয়ে নিজের কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে। সংসারে একটু লুকোচুরি খেলতে হয়। সব কথা সাইকে বোঝানো যায় না। দশটা ডিনার সেটের চেয়েও ভাঙ্গা বাসনগুলো শিল্পীর অনেক বেশি প্রিয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223207/</link>
				<pubDate>Sat, 23 Nov 2024 06:26:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শিল্পী<br />
আজ বাসা বদল হবে। গোছগাছ চলছে গত চার পাঁচ দিন ধরে। এ বাড়িটাতে শিল্পী অনেকদিন ধরে থাকছে। শিল্পীর স্বামী অস্থির স্বভাবের মানুষ। আজ এটা করছে তো কাল আরেকটা। কিন্তু শিল্পী কৌশল করে বাসা বদলাতে দেয় নি তাকে। বাড়িওয়ালার বউয়ের সঙ্গেও তার একটা<br />
স্পেশাল খাতির আছে। শিল্পী এক কাপ চা খেতে খেতে পুরো ফ্ল্যাটটা ঘুরে ঘুরে দেখছে। বিকেলে ট্রা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223207"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223207/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d868c79ccac62cfc16af754485b0c831</guid>
				<title>সুখ ও বিষণ্ণতা 

ঊর্মির ভারি একটি পা সুমনের পায়ের উপরে পরে ছিল। এতক্ষণ ঊর্মির দুই মোটা পা আর পুরুষ্ট স্তন খুব ভাল লাগছিল সুমনের। চরম রতিতে ডুবে যেতে যেতে ভীষণ ভালবাসছিল ঊর্মিকে। শুধু সেক্স সুমন কারো সঙ্গে করতে পারে না। ঊর্মিকে সে ভালবাসে, স্নেহ করে। বিশেষ করে এই উথাল পাতাল আবেগে ভাসা ঊর্মির জন্য তার মনে বিশেষ ভালবাসা আছে। ঊর্মি যখন তাকে দেখার জন্য পাগল হয়ে যায় সেও ছুটে যায় রোকেয়া হলে। ঊর্মির সেই সব ভালবাসার দাম শোধ করতে হয় চরম উত্তেজনাপূর্ণ যৌনতা দিয়ে।

আস্তে করে নিজের পা দুটো আলাদা করে নেয় সুমন। ঊর্মির স্তন দুটোর দিকে নির্লিপ্তভাবে তাকায়। একটা সিগারেট ধরাতে পারলে ভাল লাগতো। সমস্যা হচ্ছে সিগারেট ধরালেই ঊর্মির ঘুম ভেঙ্গে যাবে। ঊর্মির ঘুম ভাঙ্গলেই সুমনের শরীরে উঠে এমনভাবে চাপ দিতে শুরু করবে যে না চাইলেও উর্মি তাকে দিয়ে সেক্স করিয়ে নেবে। চরম উত্তেজনার পরে আসে অবসাদ। একটু হালকা বিষণ্ণ হয় মন। মনের এত সব অলিগলিকে ভালভাবে বুঝতে চায় সুমন। অনবরত সেক্স করা তার পক্ষে সম্ভব না।

ঊর্মির সঙ্গে ফেইসবুকে আলাপ সুমনের। সে বছর ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে ঊর্মি। ফেইসবুকে একটা গল্প লিখেছিল ঊর্মি। গল্পে এক কিশোরী স্কুল থেকে ফিরে দেখে বাবা কাজের মেয়ের সঙ্গে সেক্স করছে। গল্প লেখিকার জন্য মমতা অনুভব করে সুমন। নারায়নগঞ্জে একটি কারখানায় চাকরি করা সুমনের সঙ্গে ভার্সিটি পড়ুয়া ঊর্মির প্রেম হয়। বাড়িতে বউ আছে সুমনের। আট বছরের প্রেমের বিয়ে। ঊর্মির আবেগ আর যৌনতার কাছে সে প্রেম ম্রিয়মান।

বউকে ভালবাসে সুমন। বউয়ের সঙ্গে ভালবাসা থাকলেও সেক্স নেই খুব একটা, অনভ্যাসে ভালবাসা হ্রাস। বউ সব বোঝে। ঊর্মি তার বাড়িতে উপস্থিত হলে কিছু বলে না। চরম রতি শেষে ফুরফুরে মেজাজে সে বাড়িতে ফিরলেও বাঁকা চোখে তাকায় না। সস্তানহীনা রমনী আপন মনে সংসার করে।

সুমন চায় বউ অভিযোগ করুক, তাকে জোর করুক, ঊর্মির বলয় থেকে টেনে নিয়ে যাক। বউ একবারও নাকি সুরে কাঁদে না, কেন কাঁদে না? এসব ভাবতে ভাবতেই ঊর্মির স্তনে আলগোছে হাত রাখে সুমন। নিষিদ্ধ প্রেমের এক দুর্বিষহ টান। বউ চাইলেও সে হয়তো ফিরতে পারতো না।
বউয়ের ভালবাসায় আর যা হোক উত্তেজনা নেই। দুমড়ে মুচড়ে তার শরীর থেকে সুখ বের করতে পারে না বউ, বউ তাকে কাঁপিয়ে দিতে পারে না। বউ এখন নিত্যকার ভেজিটেবল। হঠাৎ ফিস্টের আনন্দ বউয়ের মধ্যে নেই।

ঊর্মির গায়ে, পাছায় হাত বুলাতে বুলাতে সুমন ভাবে তার কি হৃদয় নেই। বউয়ের দুঃখ কস্ট সে কি বোঝে না। বোঝে সে ভালোই বোঝে। ঊর্মি তার শরীরে ও মনে যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে, বউতো তা দিতে পারে না। এই ভালবাসা ও সুখকে অস্বীকার করবে সে কিভাবে।

ঊর্মির ঘুম ভেঙ্গে গেছে। সুমনের হাত দুটো নিয়ে খেলতে খেলতে সুমনের ঠোঁটে চুমু দিচ্ছে, জিহ্বা ঢুকিয়ে দিচ্ছে মুখের মধ্যে। সুমনের ট্রাউজার খুলে দুই পায়ের উপর উঠে পড়লো ঊর্মি। চরম রতিতে ডুবে যেতে যেতে সুমনের মনে পড়ে বউয়ের অভিযোগহীন, শান্ত চাহনির কথা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223175/</link>
				<pubDate>Thu, 21 Nov 2024 04:18:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সুখ ও বিষণ্ণতা </p>
<p>ঊর্মির ভারি একটি পা সুমনের পায়ের উপরে পরে ছিল। এতক্ষণ ঊর্মির দুই মোটা পা আর পুরুষ্ট স্তন খুব ভাল লাগছিল সুমনের। চরম রতিতে ডুবে যেতে যেতে ভীষণ ভালবাসছিল ঊর্মিকে। শুধু সেক্স সুমন কারো সঙ্গে করতে পারে না। ঊর্মিকে সে ভালবাসে, স্নেহ করে। বিশেষ করে এই উথাল পাতাল আবেগে ভাসা ঊর্মির জন্য তার মনে বিশেষ ভালবাসা আছে। ঊর্মি যখন তাকে দেখার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223175"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223175/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0193f1d65618ac6105bee6d6451d42d0</guid>
				<title>বাবা
লেখক আহসান আহমেদ খবর পেয়েছেন তার মেজ মেয়ে আসিফকে বিয়ে করার জন্য খেপেছে। সেই থকেই তিনি প্রচন্ড অস্থির হয়ে আছেন; একের পর এক সিগারেট টানছেন। আসিফকে তিনি ফোন করে নিষেধ করে দিতে পারেন। কিন্তু আহসান সাহেব আসিফকে সরাসরি বলতে চান। এসব কথা কি 
ফোনে বলা যায়! এই মেয়েটাকে তিনি খুব ভালবাসেন। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছে এই জেদেই মেয়ে হয়তো আসিফকে বিয়ে করতে চাইছে। আসিফ ভাল ছেলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায়। কিন্তু আসিফ বিবাহিত। 

লেখক সাহেব গত চার বছর ধরে উত্তরাতে একটি অ্যাপার্টমেনে্টে থাকেন। দু’মাস আগে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়েছে। প্রথম পক্ষের তিন মেয়ে ও এক ছেলে তাদের মায়ের সঙ্গে থাকে  ধানমন্ডিতে। কি আশ্চর্যে্যর ব্যাপার তার মেজ
মেয়ে বর্ষার সঙ্গে নাকি অনেকদিন ধরে আসিফের সম্পর্ক। আহসান সাহেবের স্ত্রী চা নিয়ে আসলেন। তিনি কোন কথা না বলে চায়ের কাপটা নিলেন। একটু চা ছলকে তার গায়ে পড়লো। তিনি বারান্দায় বসে সামনের মাঠটা দিকে তাকিয়ে রইলেন। সিনেমার রিলের মতো একের পর এক
স্মৃতি তার মাথায় হানা দিল। 

এই সমস্যার কথা কাকে বলবেন তিনি। তার মেয়ে একটা বিবাহিত লোকের বউ হবে। বাবার সঙ্গে জেদ করে নিজের জীবনকে সমস্যায় ফেলবে-তিনি ভাবতে পারছেন না। ভালোবাসা, প্রেম এইসব কী এতটুকুন মেয়ের বোঝার বয়স হয়েছে? যে কোনভাবে এই বিয়ে বন্ধ করতে হবে।
তিনি রাতে ভাত খেতে পারলেন না। প্রথম স্ত্রী বা বর্ষার সঙ্গে কথা বলতে পারলে ভাল হতো। বর্ষাকে তিনি সমস্যাটি বুঝিয়ে বলতে পারতেন। কিন্তু মেয়েতো তার সঙ্গে কথা বলে না।

হঠাৎ মনে পড়লো ভালবাসা ও প্রেম নিয়ে কি বলতেন বর্ষাকে? তার জীবনে এই নতুন বিয়ে, প্রেম ও ভালবাসা-এর উৎস বিছানা। বিছানা থেকেও শুদ্ধ প্রেমের উৎপত্তি হতে পারে। মেয়েকে তিনি এ সবের কি বোঝাবেন। মন থেকে প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলেন তিনি। 

সকাল হতেই ছোটেন শাহবাগে আসিফের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। পথে জ্যাম আর জ্যাম। প্রচন্ড বিরক্ত হলেন তিনি। ষোল বছরের বড় আসিফের সঙ্গে কি সম্পর্ক বর্ষার? এত ছোট একটা মেয়ে কিছুদিন আগেও যে বেনী দুলিয়ে স্কুলে যেত সে কিভাবে বিবাহিত একটি লোকের বউ হবে?

তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্ষার বয়সী। কিন্তু বর্ষার সঙ্গে তার আকাশ পাতাল পার্থক্য। এখনো বর্ষার মা তাকে মুখে তুলে খাওয়ায়। এসব ভাবতে ভাবতে চোখ ভিজে যায় আহসান আহমেদ নামক ঔপন্যাসিকের। বাইরে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। গাড়ির জানালা খুলে দিলেন তিনি। বৃষ্টির ঝাপটা লাগে তার গায়ে।

মনে মনে বলেন, ‘মামনি তুমি সুখি হও। সুখে থাক। বাবাকে কষ্ট দিতে গিয়ে নিজে কষ্ট পেও না।’</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/223024/</link>
				<pubDate>Mon, 18 Nov 2024 05:42:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বাবা<br />
লেখক আহসান আহমেদ খবর পেয়েছেন তার মেজ মেয়ে আসিফকে বিয়ে করার জন্য খেপেছে। সেই থকেই তিনি প্রচন্ড অস্থির হয়ে আছেন; একের পর এক সিগারেট টানছেন। আসিফকে তিনি ফোন করে নিষেধ করে দিতে পারেন। কিন্তু আহসান সাহেব আসিফকে সরাসরি বলতে চান। এসব কথা কি<br />
ফোনে বলা যায়! এই মেয়েটাকে তিনি খুব ভালবাসেন। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছে এই জেদেই মেয়ে হয়তো আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-223024"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/223024/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">dbf77fb3d18718316ed2a939313de09e</guid>
				<title>মিরাকল
আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই নীল ডিসাইড করে ফেলেছে যে সে আজ অনেক ভালো ভালো কাজ করবে। নীল যাকে সবাই দুষ্ট ছেলে হিসেবেই চেনে তার এমন ভালো ভালো কাজ করার ডিসিশানের পিছনে বিশাল এক ইতিহাস আছে। নীল সকাল বেলা বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে দাত মাজার সময় ডিসিশানটা নিয়ে ফেলে। সকালে নিচে নামার সময় দৌড়ে সিড়ি দিয়ে না নেমে আস্তে আস্তে হেটে নামে সে। ড্রাইভার ভাইয়া ময়লা বোতল খুলে পানি খাওয়ার সময় নিজের বোতল এগিয়ে দেয়। স্কুল ব্যাগ নিয়ে আস্তে ধীরে ক্লাসরুমে ঢুকে। ক্লাস চলার সময় কোন কাটাকুটি খেলা না খেলে টিচারদের কথা মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করে। 

বিপত্তি মানে ওই ডিফিকাল্টিজ শুরু হলো টিফিন পিরিয়ডে। এক ছেলে ইচ্ছে করে তাকে ঠেলা দিয়ে পায়ের উপর পারা দিয়ে চলে যায়। নীল খান সকাল থেকে ভালো ভালো কাজ করার চেষ্টাটা এবার আর চালিয়ে যেতে পারে না। সেও দুম করে ছেলেটার পিছনে এক কিল বসিয়ে দেয়। এমন মহত হওয়ার প্রচেষ্টাটা সে পানিতে ফেলে না দিয়ে আবার ট্রাই করে কিন্তু না চাইতেও এক মেয়ের সঙ্গে তার ধাক্কা লেগে যায়। আর মেয়েরা যেমন হয় এই ধাক্কার পিছনে আচমকা লেগে যাওয়ার বদলে তার পুর্বেকার নটি স্বভাবকে উল্লেখ করে অনেক কমপ্লেইন করে মিসকে। মিসও কোন সাধু লোক না। নীলের সারাদিনের ভদ্র হওয়ার এফোর্টের দিকে কোন নজর না দিয়েই সে কবে কী করেছে তার লিস্ট দিতে শুরু করে। নীল মনে মনে ভাবে এর চেয়ে দুষ্টু ছেলে হিসেবেই সে ভালো ছিল। তাও সে ভালো হওয়ার প্রাণপন চেষ্টা করে যেতে থাকে।

মাঠের কোনায় পরে থাকা কলার খোসা তুলে নিয়ে ময়লা ফেলার ডাস্টবিনে ফেলে নীল। ফেরার পথে গাড়ি থেকে নেমে টিফিনবক্সে পরে থাকা একটা আপেল একজন ভিক্ষুককে দেয়। আরো কয়েকজন এসে পরায় ড্রাইভার ভাইয়ার থেকে টাকা ধার করে তাদের দেয়। বাসায় এসে প্রায় ঠান্ডা হয়ে যাওয়া তরকারি দিয়ে ভাত খায়। অন্যদিন হলে এই খাবার সে ছুয়েও দেখতো না। কিন্তু আজ সবকিছু আলাদা। সে ভালো কাজ করার চেষ্টা করছে। আদি ভাইয়া তাকে বলেছে ভালো কাজ করলে অনেক মিরাকল হয়। 

আদি ভাইয়া তাকে সপ্তাহে একদিন ছবি আকা শেখায়। আদি ভাইয়া অসাধারণ সব ছবি আকে। নীল ফুল, সমুদ্র আর প্রজাপতি এসবের ছবি আকতে তাকে বেগ পেতে হয় না। মানুষ, খরগোশ আর বনের ছবি আকে সে। আর কি সব রং করে ফেলে যে চাদের আলো আর চাদের ছবি দেখলে নীলের মন কেমন করে ওঠে। তার বিষ্ময়ের ঘোর কাটে না। নীলও চায় আদি ভাইয়ার মতো ছবি আকতে। আদি ভাইয়া তাকে বলেছে ভালো ছবি আকতে হলে ভালো ভালো কাজ করতে হয়। ভালো কাজ করলে মিরাকল হয়। আকা ছবিগুলো জীবন পেয়ে যায়।

রান্নাঘরের এক কোনায় বসে বুয়ার ছেলে বই পড়ছিল। নীল তাকে তার ঘরে নিয়ে যায়। একটা চেয়ারে বসিয়ে স্টোরিবুকগুলো তার হাতে তুলে দেয়। বুয়ার ছেলে রাকিব নিজের সৌভাগ্যকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। বইগুলো হাতে নিয়ে সে নেড়েচেড়ে দেখতে থাকে। নীলের ব্যাপারটা অনেক ভালো লাগে। এটা এমন একটা ভালো কাজ যেটা করে সে সত্যিই অনেক খুশি হয়। তার চোখে পানি এসে যায়। তার ভীষণ ভালো লাগছে। ছবি সে আকতে পারুক আর না পারুক এরকম ভালো কাজ সে বারবার করতে চায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/222688/</link>
				<pubDate>Sun, 10 Nov 2024 07:15:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মিরাকল<br />
আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই নীল ডিসাইড করে ফেলেছে যে সে আজ অনেক ভালো ভালো কাজ করবে। নীল যাকে সবাই দুষ্ট ছেলে হিসেবেই চেনে তার এমন ভালো ভালো কাজ করার ডিসিশানের পিছনে বিশাল এক ইতিহাস আছে। নীল সকাল বেলা বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে দাত মাজার সময় ডিসিশানটা নিয়ে ফেলে। সকালে নিচে নামার সময় দৌড়ে সিড়ি দিয়ে না নেমে আস্তে আস্তে হেটে নামে সে। ড্রাইভার ভাই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-222688"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/222688/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bee6fe6076eb8635374e551f4ca5fbd9</guid>
				<title>বিশেষ 

বিকেলে যখন রায়ান টিভি দেখছিল ধপ করে টিভিটা বন্ধ করে দেয় রাইসা। এরপর রায়ান ড্রয়িং রুমে বল খেলতে থাকলে বলটা হাতে নিয়ে দৌড়ে চলে যায়। এগুলো রাইসার নিত্যদিনের কাজ। সকালে খালামণি আম্মুর সঙ্গে কথা বলছিল। হঠাৎই রাইসা গিয়ে খালামণির মাথা দেয়ালে ঠুকে দেয়। 

রাইসা স্কুলে ক্লাস চলার সময় ঘুমিয়ে পড়তো। ক্লাসে ছেলেমেয়েদের হঠাৎ হঠাৎ মারতো। এভাবে একেকদিন কমপ্লেইন আসাতে রাইসার স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। তারপরে বিশেষ বাচ্চাদের জন্য দেয়া কোচিংয়ে রাইসাকে নিয়ে কিছুদিন দৌড়ায় রাইসার আম্মু। সেখানে যাওয়াও আস্তে আস্তে বন্ধ হয়।

রায়ানকে &quot;বস্তির ছেলে&quot; বলে গাল দেয়। সকাল বেলা বাবা খেতে বসলে বাবার প্লেটে রান্নাঘর থেকে এক মুঠো মরিচের টুকরো এনে দেয় কিন্তু বড় ভাইকে খুব পছন্দ করে রাইসা। বড় ভাইও তার মতো ফর্সা আর ফর্সা লোকেরাই রাইসার কাছে ভালো মানুষ। আবার বাবার জন্যও তার মনে বিশেষ দরদ আছে। বাবা যখন সকালবেলা মেডিক্যালে যায় রাইসা তার জন্য জুতার শেল্ফ থেকে জুতা এনে দেয়। বাবার পায়ে মোজা পরিয়ে দেয়। আম্মু বাইরে গেলে বাবার প্রিয় খাবার নান রুটি ও কাবাব নিয়ে আসতে বলে। স্কুলে যাওয়ার পথে যখন কোন ভিখারি দেখে তখন তাকে সে নিজের ব্যাগ থেকে টাকা দেবেই দেবে। এজন্য কেউ টাকা দিলে রাইসা সেটা জমিয়ে রাখে।

দেখতে সুন্দর রাইসাকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে সে বিশেষ। শুধু হঠাৎ হঠাৎরেগে যাওয়াটাই সমস্যা। কখন যে রেগে গিয়ে চিৎকার করে ফেলবে আর কাকে মেরে বসবে তার ঠিক নেই। 

টিভি দেখতে খুব ভালোবাসে রাইসা। একদিন প্রিন্স চার্লি সিরিজটা দেখার পরে রায়ানের সঙ্গে খুব চিৎকার করছিল। আম্মু  এসে বললো, &quot;রাইসা, আস্তে কথা বলো। নাহলে প্রিন্স আসবে না।&quot;

পরের দিন রাইসা খুব আস্তে আস্তে কথা বলে। রাইসার গলা ভাংগা ভাংগা হওয়ায় কেউই ওর কথা প্রথমে বুঝতে পারছিল না। পরে আম্মু বুঝতে পারে প্রিন্স আসবে না এই ভয়েই রাইসা আস্তে কথা বলছে। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে আম্মুর মন এই বিশেষ সন্তানটির প্রতি অনেক অনেক মায়ায় ভরে ওঠে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/222436/</link>
				<pubDate>Sun, 03 Nov 2024 10:30:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিশেষ </p>
<p>বিকেলে যখন রায়ান টিভি দেখছিল ধপ করে টিভিটা বন্ধ করে দেয় রাইসা। এরপর রায়ান ড্রয়িং রুমে বল খেলতে থাকলে বলটা হাতে নিয়ে দৌড়ে চলে যায়। এগুলো রাইসার নিত্যদিনের কাজ। সকালে খালামণি আম্মুর সঙ্গে কথা বলছিল। হঠাৎই রাইসা গিয়ে খালামণির মাথা দেয়ালে ঠুকে দেয়। </p>
<p>রাইসা স্কুলে ক্লাস চলার সময় ঘুমিয়ে পড়তো। ক্লাসে ছেলেমেয়েদের হঠাৎ হঠাৎ মারতো। এভাবে একেক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-222436"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/222436/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>