Profile Photo

আনোয়ার পারভেজ নূর শিশিরOffline

  • Anwar-Parvez-Nur-Shishir
  • ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ⌠পঞ্চপত্রী প্রেমের গান⌡
    *বোক্যেটো’য় নিমগ্ন হতে গিয়ে
    যেন স্বশব্দ-বিড়ম্বিত হয়ে বিস্ময়বিমুগ্ধ হলেম
    তোমার ইথারবাহী স্বাভিমানী ছত্রে…
    তুমি এখন কিছুটা ভালো রয়েছো জেনে
    নিশ্চিন্ত হলে’ও তোমার
    সর্বস্ব পাথর হয়ে যাওয়ার ভাবনায়
    তড়িতাক্রান্ত হতেছি দেহমনে…

    আমি কখনো মেরুদন্ডে ইনজ্যেকশ্যন নিইনি
    তাই তোমার কি অপানুভূতি হলো,
    সে আমি কইতে পারছিনে…
    কিন্তু তুমি বেশি বেশি নড়াচড়া ক’রো না
    তাহলে আবার কি হতে কি হবে, বলা যায়…!
    তোমার সোনালী রোদ্দুরের কথা শুনে
    জানতে ইচ্ছে হয়েছে,
    আমি যেমন বিলেতে দেখেছিলেম
    সূর্যদেব প্রায় সারা বছরই দখিনের আকাশে
    হেলান দিয়ে ঘুড়ির মত উড়ে যেতে থাকতো,
    তুমি’ও কি তেমন দেখতে পাও?
    ওয়্যেস্ট বেল্ট পরে তাই রে নাই রে
    ক’রে বেড়িয়ো না বেশি, কেমন তো?
    আমি জানি, থেকে থেকেই
    “কোথাও তোমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা” দশা হয়…
    তাই সাবধান থাকতে মনে করিয়ে দিলেম…

    ভাবছি, তুমি কী ভাই বর্ডার পেরিয়ে
    কোনোদিন কৃষ্ণনগর বা
    শান্তিপুরের দিকে গিয়েছিলে?
    জলঙ্গি নদীটা দেখেছো? চুর্ণী নদী দেখেছো?
    সেই যে ‘দেবতার গ্রাস’ কবিতায় কবিগুরু লিখেছিলেন,
    “দাঁড়ায়ে রহিল ঘাটে যত কুলনারী
    অশ্রুচোখে। হেমন্তের প্রভাতশিশিরে
    ছলছল করে গ্রাম চূর্ণী নদীতীরে।”

    প্রভাত শিশিরে?

    আমি বর্ডার পেরিয়ে একবারই
    শুধু মিঠাইজান’কে নিয়ে বনগাঁ রেল স্টেশ্যন থেকে
    ট্রেন ধরে শিয়ালদহ গিয়ে নেমেছিলাম,
    কৃষ্ণনগর বা শান্তিপুর আমি যাইনি
    তাই আমার জলঙ্গী ও চূর্নী নদী দেখা’ও হয়ে ওঠেনি…
    তবে তুমি যখন বর্ডার পেরোনোর কথা কইলে
    তখন আমার বুকের মধ্যে
    বেশ খানিকটা রক্ত ছল্‌কে উঠেছিল, কেননা… !

    কিন্তু সেকি আর এখেনে কওয়া ঠিক হবেনে…!
    তবুও বলতে ইচ্ছে ক’রছে জানো…!
    যশোর থেকে বেনাপোল হয়ে
    সড়কপথে পেট্রাপোল পেরিয়ে
    লোক্যেল ট্রেনে বনগাঁ, ঠাকুরনগর, মধ্যমগ্রামসহ
    আরও অনেক দারুন অতি সাধারণ
    সব স্টেশ্যন পার হয়ে শিয়ালদহ…
    দু’দিন পর যোধপুর এক্সপ্রেসে করে
    হাওড়া জাঙ্কশ্যন থেকে অনেক
    অনেক স্বপ্নের মত মাঠ পাহাড় প্রান্তর পেরিয়ে
    আগ্রা, তাজ মহল, সোনার কেল্লা
    একদিন পরে স্লিপার বাসে ক’রে আজমীর শরীফ…

    ঠিক এই র‍্যুট নিয়ে ২০১৩ সালের পরে
    কত কতবার যেতে চেয়েছি বর্ডার পেরিয়ে, জানো…!
    ওপারের সেইসব দিনরাত্রি’র প্রতিটি মুহূর্ত,
    কত কথা, কত চোখ চাওয়া, কত ছোটখাটো খুনসুটি
    এই ছোট্ট একটা জীবনে অন্ততঃপক্ষে
    একবার হ’লেও ফিরে গিয়ে ছুঁয়ে আসতে ইচ্ছে হয়…
    জানিনে আর ক’বে হবে, দশটা বছর পেরিয়ে গেল…
    এখানে কিছুই কি বলা হলো? হলো না…
    হয়তো কোনো একদিন বলা হবে, হয়তো হবে না…
    কার কীই বা তাতে যাবে আসবে…
    হয়তো ‘চূর্ণী’ নদীর তীরে গিয়ে
    মন খারাপ ক’রে বসেই থাকতে হবে শুধু…

    যদি তোমার পিছ-বাগানের
    পঞ্চপত্রী নীললোহিত ফুল হতেম
    আরও তোমায় চোখের মায়ায় ঘিরে
    রোদ্দুর সুধায় ভরিয়ে দিতেম…
    আমি কি জানি ছাই কিভাবে মানুষ থেকে ফুল হতে হয়…
    কিভাবে কতভাবে কত সুদূ্রে গেলে
    “কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা”
    সুখ সুখ বোধ অপরিমেয় হবে,
    কোন বেলোয়ারি চুড়িধারী
    রমনীয় কায়দায় আমার চোখের আগে এসে
    ঝিলমিল করলে হাসলে
    আমার আর হাঁটতে এতটুকুও ক্লেশ হবে না…

    আঁধারে মনছায়া ক্ষণিকে বিলীন
    ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ব্যথা তবু জেগে থাকে সুপ্ত মিহিন
    ধু ধু মরু বুকে তুমি জলের স্মরণ
    ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ চোখের জলের তবে এত ছিল রঙ…!


    আমি কেবল স্বপ্নেই ভাবি,
    ‘তোমার’ সাথে যদি আমার এ জন্মে
    দেখাশোনা হয় তবে কি আর কোনো কথা হবে…!
    “কি কথা তাহার সাথে? তার সাথে !”
    দেখে নাও মন জুড়িয়ে,
    শুনে নাও সেই মিলনের সুগন্ধি বাতাস কি বলে…!
    কি রক্তবীজ তারা যেতে চায় রেখে
    বাতাসে ঘাসে নীলিমার প্রতিভাসে…
    এ জীবনে কি আসলেই ‘তুমি’ ছাড়া আমার কিছু আছে…!

    [*বোক্যেটো (Boketto) একটি জ্যাপনিজ শব্দ যেটার অর্থ নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্কে সত্যিই চিন্তা না করে দূরত্বে খালি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা, শূন্যচিন্তার শিল্প ]
    _____________________________________________
    যে কথা বলতে’ই হবে…
    ‘শাহ্‌নূর’ আমার ওহাইয়্যো’র ষাট পেরোনো কবিবন্ধু… বেশ কিছুদিন যাবৎই ওর মেরুদন্ডে প্রচন্ড ব্যথা… সে কবিতা পড়তে রিডিং টেবিলে বসলে আর কিছুতেই নিজে নিজে উঠে দাড়াতে পারে না… লাগাতার ওর বাগানের ম্যাজেন্টা ওয়্যেভ প্যেটুনিয়া, ক্রিসেনথেমাম, বেগ্যোনিয়া আরও কি কি ফুলকুমারীদের পরিচর্যা ক’রে ক’রে হঠাৎ এই দশা হয়েছে… ডাক্তার তাকে শুধু ফলমূল আর শাক-সবজি খেতে পরামর্শ দিয়েছে… আর বিছানা বিশ্রাম’ও মনে হয় …

    ওকে কিছুটা ভালো রাখতে আমি ওকে রেখাচিত্র সংযুক্ত ক’রে কবিতা লিখে দিই, সুরময়ী সব গানের ছত্র মনে পড়াই, প্রতিটি চিঠিরই উত্তর লিখি আর ও শুধু বলে “কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা”… আসলে “পঞ্চপত্রী প্রেমের গান” কোনো কবিতা নয়, শাহ্‌নূর এবং আমার মধ্যে কথোপকথনের কিছুটা অংশ… কিছু একটা বয়স হলে’ই মানুষ শুধু হারিয়ে যাওয়ার কথা বলে এটা যেমন বড্ড ব্যথার আবার এই ফুল ফসল নদী পাহাড় সমুদ্রের পৃথিবী থেকে আমাদের সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে এটাও অনস্বীকার্য, পার্থিব একমাত্র পরম সত্য …! জন্ম-বিন্যাস-মৃত্যু এ তিন পর্বই আমাদের জীবনে আসে আসবে, পর্বত ইমারত দৌলত কিছুই স্থায়ী নয়… শুধু একটা শব্দ শেষমেষ ইথারে ঘোরাফেরা করতে থাকে… ভালোবাসি ভালোবাসি…

    ______________________________
    সাম্প্রতিকতম – ⌠নিসর্গে নোঙর⌡
    _______________________________________________________
    দ্রষ্টব্যঃ কপিরাইটের জন্য এখানে প্রকাশিত প্রতিটি সাহিত্যকর্মই আংশিক আকারে প্রদর্শিত
    N.B.: Some stanzas here have been masked to avoid copyright infringement
    [Copyright © 2022-2023 | Anwar Parvez Nur Shishir – All Rights Strictly Reserved]

    13
    3 Comments
    • আমি কেবল স্বপ্নেই ভাবি,
      ‘তোমার’ সাথে যদি আমার এ জন্মে
      দেখাশোনা হয় তবে কি আর কোনো কথা হবে…!
      “কি কথা তাহার সাথে? তার সাথে !” কবি প্রিয় আপনার লেখায় কি মাদকতা।

    • সত্যিই খুব দারুন লাগলো আপনার এবং আপনার কবিবন্ধু মন ছুঁয়াছুঁয়ি কাব্য। মুগ্ধ হয়েছি প্রতিটা স্তবক পড়তে গিয়ে, সত্যিই কত বিস্ময় আর মুগ্ধতা নিয়ে যে পড়লাম সেটা হয়তো বোঝানো যাবেনা। আপনাকে এবং কবিবন্ধু’কে শুভেচ্ছা জানিয়ে গেলাম।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 21 June 2023 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

"চোখের জলের তবে এত ছিল রঙ
এত ছিল প্রেম...! তার এত প্রকরণ "

পারভেজ শাহনূর

আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির

সেই স্পর্শ, সেই উষ্ণতার উৎস অনুসন্ধানের সমাপ্তি কোথায় জানা নেই... জানা নেই

পারভেজ শিশির মঞ্চ
  তুলট পাঠকবন্ধুর প্রেম
মুক্তমঞ্চ
*
সংগীত আয়োজন



*

সূচীপত্র

কবিতা
'মা'
আব্বা 
ঘুঁড়ি
হাত
তিল
স্পর্শ
পাঁজর
২০২২
ফেরারি
পরিচয়
শাশ্বতী
স্বপ্নপথ
স্থানান্তর
তেলাপোকা
ভবিতব্য
আত্মগর্ভা
সইনামা
দিগন্তিকা
চুড়ান্তিকা
অবগাহন
অতুলনীয়
বাংলাদেশ
সৃষ্টি বিলাস
আশা পরশ
জীবন জল
চৈত্রের গল্প
প্রলাপনামা
কাব্য ভাষ্য
মায়াকাঞ্চণ 
অন্তর্লীণ
প্রাত্যহিকী
কাব্য দীক্ষা
অনিশ্চিহ্ন
চন্দ্রগ্রহণ
কালান্তিক
ইথার নির্বাণ
কথোপকথন
জীবনদ্রোহী
শূন্য বিভক্তি 
অন্তিম স্পর্শ
মেঘলা বিরহ
সন্ধি বিচ্ছেদ
চির প্রার্থনীয়া
বিদায় স্বরলিপি
নগরে অরণ্য
কুয়াশা মোহন
'প্রণয় আরতি'
প্রণয় আরতি
বসন্ত আনন্দ
সহসা সম্বিত
প্রার্থনা-গীতি
হৃদয়-হৃতিকা
প্রত্যন্ত প্রতীক্ষা
সায়াহ্নের গান
মানসী মহুয়া
তিনটি প্রশ্ন
রেডিও সংবাদ
জীবন্ময়ের পাঠ
প্রণয় ক্ষণিকা
শূন্যগর্ভা প্রলাপ
আগুন জোনাকি
নির্ঘুম আততায়ী
মুহূর্তের দুর্ভাবনা
নির্বাণ উপপাদ্য
স্বাধীনতার দন্ড
জলরঙের গান
রূপোলি রঙ্গিনী
নিরন্তর নৈবদ্য
রজনীগন্ধা ব্যথা
প্রেমপুরের চিঠি
বিপ্রতীপ অরণ্যে
পরবাসে নিজ গৃহ
প্রিয়ম পিঞ্জিরা
বিমূর্ত বিস্ময়
নিশ্চিহ্ন নিখোঁজ
৩৭ নং এপিটাফ
প্রিয় কল্যানীয়াসু
জগত সমান্তরাল
অত্যাগসহন বন্ধু
বেখবর বায়সনামা
আমার কিছু নেই
আসামী গ্রেফতার
নৈর্ব্যক্তিক নির্বাসন
নিখোঁজ আলোকচিত্র
পরিযায়ী প্রতিশোধ
দ্বান্দ্বিক ক্যানভাস
সুদূরতমার উষ্ণতা
প্রতিধ্বনি নিরুত্তর
অনামিকা অরণ্যে
জীয়ন বিভীষিকা
সনির্বন্ধ নিবেদন
মহাশূন্যের শব্দিতা
মহাকাশের ডায়েরি 
পায়ের নিচে কার্নিশ 
অহর্নিশি ভালোবাসি
২০২৩ – শুভাশীর্বাদ
বহু কথায় প্রকাশ
দ্বারা দিয়া কর্তৃক
সর্বনাশের সিম্ফোনি
রিভার্সিব্যল রিয়্যাক্‌শ্যন
দূরত্ব ২৭৪ কিলোমিটার
স্বাধীনতার স্বগতোক্তি
অন্ধের আরশি দর্শন
ইয়্যেসেনিনের বেহালা
রাহুমুক্তির ইশ্‌তেহার 
কোথায় তুমি, হিরণ্ময়ী?
একদিন মিলনোৎসব হবে
কবি’র প্রেম/প্রেমের কবি

________________________

প্রকাশিত কাব্য সংকলন
"কাব্য শতদল"
শিমুল শুভ্র সম্পাদিত
প্রকাশকালঃ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭
প্রকাশকঃ দাঁড়িকমা প্রকাশনী
ISBN: 978-984-92828-1-5
________________________
Contact: [email protected]

Skip to toolbar