Profile Photo

আনোয়ার পারভেজ নূর শিশিরOffline

  • Anwar-Parvez-Nur-Shishir
  • 📌 বিলম্বিত জবানবন্দী

    আত্মহত্যার দায়ভার কাউকে দিয়ে যাওয়া যায় না, এ দায় নিজের। মানুষ কেন আত্মহত্যা করে? তার কী জীবনকে ভয় লাগে? সে তবে কিভাবে এমন দুঃসাহসী হয়ে ওঠে? সে কোন্‌ আকাঙ্খা অথবা স্বপ্ন নিয়ে আত্মহত্যা করে? এর উত্তর একমাত্র ঐ ব্যক্তিই দিতে পারে যে আত্মহত্যা করেছে, তাই এগুলো উত্তরাতীত প্রশ্ন… আত্মহত্যাকৃত ব্যক্তি আসলে না থাকে মাটিতে, না পাতালে আর না থাকতে পারে আকাশে…অতএব… …হে বন্ধু, বিদায়…আমার সর্বনাশ সেই যে আমি আমার মধ্যে নেই…

    আমি কেন আত্মহত্যা করলাম, তার জবাব দিতে আমি বাধ্য নই তারপরও না বলে পারবো না। আমি আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতই জীবনযাপন করছিলাম, শুধু একজন মানুষ আমার এই পরিণতির জন্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে দায়ী। তাকে ঠিক দায়ী করা যায় কিনা তা নিয়ে আমার যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে, কারণ তাকে আমি বড় ভালোবেসেছিলাম কিন্তু সে আমার দিকে ফিরেও তাকায়নি, তবে একেবারে যে জন্মের মত অবহেলা করেছে তাও না। সে যার ভক্ত ছিলো আমিও তার ভক্ত হতে চাইতাম কিন্তু সে যাকে ভালোবাসতো আমি তাকে ঘৃনা করতাম, আমি তাকে শুধু আমার করে পেতে চেয়েছিলাম, এই ছিল আমার অপরাধ, আর এই জন্যে আমি আত্মহত্যা করলাম ।

    আমি কলেজ পাশ দেবার প্রথম বছরের মাথায় স্থানান্তরিত হলাম রাজধানীতে কিন্তু বেশি বেশি আলো আমার বেশি দিন সহ্য হয়নি, বেশি প্রাণ চাঞ্চল্য আমাকে হাঁপিয়ে তুলতো, আমাকে আমার জন্মশহরই টানতো বরাবর, কিন্তু সেখানে গিয়ে যে আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে তা জানা ছিলো না। যখন বলবো বলে ঠিক করেছি তখন কিছুই গোপন করবো না।

    আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলেও আমার মন কিন্তু মধ্যবিত্ত ছিলো না, আমি স্বপ্ন দেখতাম আমার বাবা মা ভাই বোন কে নিয়ে সচ্ছল একটা আধুনিক জীবনের। আধুনিকতার প্রথম ধাপ হিসেবে পোষাক, প্রসাধনী আর প্রণয়ী আমার কাছে প্রাধান্য পেল… প্রথম যেদিন মদ গিললাম, আমার কিছু মনে নেই, শত হলেও রাজধানীর হাওয়া বলে কথা তার উপর বন্ধুদের অনুরোধ, সাথে নুতন অভিজ্ঞতার শিহরণ, কৈশোরে দাদির পানের বাটা থেকে জর্দা সহযোগে পান যেমন লেগেছিল। প্রণয়ীর কাছে কুমারিত্ব অবসান তেমন অত্যাশ্চর্যের বিষয় না হলেও কিছুটা খটকা লেগেছিল বৈকি, হাজার হোক মফস্বলের মেয়ে আমি…! নিরবে অশ্রু বিসর্জন দিলাম শুধু প্রণয়ীর সান্তনা বাক্যে, আমার তার সংসার হবে, ভালো কথা। শিহরণের পর শিহরণ বয়ে যেতে লাগলো শরীরের উপর দিয়ে, আর সেই শিহরণের শেষ হলো আমার জঠরে কিছু একটার জান্তব উপস্থিতিতে। রাজধানীর বেশি বেশি আলোর মধ্যেও চোখে অন্ধকার দেখতে লাগলাম। যথারীতি প্রণয়ীর প্রত্যাক্ষ্যান এবং স্বপ্ন-ভ্রুণভঙ্গ আর তারপর জন্মশহরে প্রত্যাগমন।

    সময়ের মতো এমন পাষন্ড সন্ত্রাসী বোধহয় এ জগতে খুব কমই আছে যা সব কেড়ে নেয়, মস্তিষ্ক পর্যন্ত ধুয়ে ফেলে। যাকে বন্ধু বা সাথী বলে পাবো বলে সেই আশাহত মুহূর্তে কল্পনাও করিনি সেই বিস্মৃত কলেজ সহপাঠী আমাকে নুতন জীবনে আহবান জানালো, কিন্তু বন্ধু হয়ে, প্রনয়ী নয়…আমি যেন সমস্ত অন্তর দিয়ে তাকে আশা করলাম, “বন্ধু নও তুমি আমার জীবন-বন্ধু হও…” , যে আমি, নজরুল সঙ্গীত কোনোদিনও বুঝিনা…তার ভালোলাগার বিশ্লেষণে আর স্বকন্ঠের গায়কীতে আমার সেই গান অনন্তের মনে হলো, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি মোনালিসাকে খুশি করতে যে অর্কেস্ট্রেশ্যনের আয়োজন করতো যেন সে আমাকে সেই ভাবে উদ্ভাসিত করে তুললো…কিন্তু মোনালিসা থোড়াই মৃত কাঠ-ফলক থেকে নিংড়ে বেরিয়ে আসতে পারতো তার স্রষ্ঠার কাছে সমস্ত সপ্নীল রঙ সহ…! আমার যেন সেই অপারগ মোনালিসা দশা হলো…আমার হৃদয়তন্ত্রী গেয়ে উঠলো…

    “তুমি কিছু বোঝো? কিচ্ছু বোঝো না;
    বুকের ভেতর বাঁজো, হয়ে পাঁজর ভাঁঙা বাঁজনা”

    তার বন্ধু মহলে রব উঠলো…দুজনকেই আজকাল একসাথে দেখা যায়, গভীর কোনো খাল খনন হচ্ছে নিশ্চয়…আমি ভাবলাম, খাল নয় নিদেনপক্ষে যদি একটা নালাও কাঁটতে পারি তাহলেই খুশি। কেমন করে নিজেকে সমর্পণ করি তার উপর এই ভাবনা আমাকে তাড়া করতে লাগলো প্রতি মুহূর্তে কিন্তু যখন সময় এলো তাকে বলার, সে বন্ধুদের প্রতিনিয়ত হাস্যরস, কটাক্ষ আর দূরগতা স্বপ্রণয়ীর ভাবনায় এতই ক্ষিপ্ত যে আমার উপর তার কোনো ভ্রুক্ষেপমাত্র হলো না, আমি স্পষ্টতঃই প্রত্যাক্ষ্যাত হলাম আবার…কোনো পার্থক্য চোখে পড়লো না আমার জীবনের দুই দুটো প্রত্যাক্ষ্যানের মধ্যে। তার চোখে চেয়ে শীতল অগ্নিদৃষ্টিতে বললাম,”তুমি তো কবি, আমার কথা যেন কোথাও লিখো না আর শোনো আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সময় হলে জানতে পাবে”।

    এত বড় শাস্তি আমি তাকে দিতে চাইনি কিন্তু স্বপ্ন-ভঙ্গের দুঃখ আমাকে বললো,”তুই কোথায় দাড়িয়ে আছিস? তাকিয়ে দেখ, তোর পায়ের তলায় কোনো মাটি নেই”… সত্যিই, যখন আত্মহত্যা করলাম, আমার পায়ের নিচে শুধুই শূন্যতা… অথৈ… …
    ____________________________________________
    আসে আর চলে যায় পাশের মানুষটিও
    রেখে যায় শুধুমাত্র কিছুকালের স্মৃতি
    আকাশগঙ্গায় হারিয়ে যায় অন্ধকার গৃহ
    নিঃসীমে পাখা মেলে অন্ধ প্রতিকৃতি…

    কারো কারো নিজেকে পৃথিবীর সবথেকে
    বেশি অচেনা মানুষ মনে হয়,
    শুধু আসা আর যাওয়া মানেই জীবনপ্রবাহ নয়…
    বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন কালে, অভিন্ন পাত্র
    নিজেকেই বয়ে নিয়ে বেড়ায় শেষবেলা অবধি অথচ
    কোনভাবেই নিজেকে আবিষ্কার করতে অপারগ…
    “কেউ কী আমাকে বুঝলো…!”

    _______________________________________________________________
    পূনশ্চঃ লেখাখানি সুইডেনের উমিও থেকে প্রকাশিত মনিকাঞ্চন এর সাহিত্য পত্রিকা “অনুশীলন”-এ Excuse Me শিরোনামে প্রথম ইংরেজি ভাষায় মুদ্রিত হয় পরবর্তীতে বন্ধুদের উৎসাহে বিভিন্ন বাংলা ব্লগেও প্রকাশিত হয় তবে “আত্মহত্যা” শিরোনামে; “আত্মহত্যা” শব্দটি অনেকের মনে স্বভাবতই নেতিবাচকতার উদ্রেক করে তাই শিরোনাম পরিবর্তন করতে ইচ্ছে হলো যদিও এ লেখাখানি আত্মহত্যার বিরুদ্ধে একটি সুনীরব বিপ্লব।

    9
    6 Comments
    • আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়, জীবনের কাছে পরাজয়। কাজেই আমাদের সবাইকেই এই নেতিবাচক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সমর্থন ও সাহস দিতে হবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে।

    • হত্যা যদি করতেই হয় কিছু ভুল আবেগকে করা উচিত! জীবনের পরে জীবন আছে কিনা জানিনা তবে, যে জীবন বহু সাধনার ফল তার এমন অপচয় না করাই ভালো!

      সুন্দর গল্প! জীবনকে নতুন করে ভালোবাসতে শেখায় এমন অসাধারণ গল্পগুলো! ভালোবাসা নেবেন লেখকপ্রিয়!

      • আবেগকে হত্যা করার ক্রমাগত অক্ষমতা থেকেই এই অপরাধের সুত্রপাত… পারস্পরিক সহনশীলতার মাত্রা সমাজে যতটুকু আছে সেটা যথেষ্ট নয়… অনুপম মন্তব্যের জন্য সাধুবাদ ও প্রীতিমুগ্ধতা রইলো প্রিয়…

"চোখের জলের তবে এত ছিল রঙ
এত ছিল প্রেম...! তার এত প্রকরণ "

পারভেজ শাহনূর

আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির

সেই স্পর্শ, সেই উষ্ণতার উৎস অনুসন্ধানের সমাপ্তি কোথায় জানা নেই... জানা নেই

পারভেজ শিশির মঞ্চ
  তুলট পাঠকবন্ধুর প্রেম
মুক্তমঞ্চ
*
সংগীত আয়োজন



*

সূচীপত্র

কবিতা
'মা'
আব্বা 
ঘুঁড়ি
হাত
তিল
স্পর্শ
পাঁজর
২০২২
ফেরারি
পরিচয়
শাশ্বতী
স্বপ্নপথ
স্থানান্তর
তেলাপোকা
ভবিতব্য
আত্মগর্ভা
সইনামা
দিগন্তিকা
চুড়ান্তিকা
অবগাহন
অতুলনীয়
বাংলাদেশ
সৃষ্টি বিলাস
আশা পরশ
জীবন জল
চৈত্রের গল্প
প্রলাপনামা
কাব্য ভাষ্য
মায়াকাঞ্চণ 
অন্তর্লীণ
প্রাত্যহিকী
কাব্য দীক্ষা
অনিশ্চিহ্ন
চন্দ্রগ্রহণ
কালান্তিক
ইথার নির্বাণ
কথোপকথন
জীবনদ্রোহী
শূন্য বিভক্তি 
অন্তিম স্পর্শ
মেঘলা বিরহ
সন্ধি বিচ্ছেদ
চির প্রার্থনীয়া
বিদায় স্বরলিপি
নগরে অরণ্য
কুয়াশা মোহন
'প্রণয় আরতি'
প্রণয় আরতি
বসন্ত আনন্দ
সহসা সম্বিত
প্রার্থনা-গীতি
হৃদয়-হৃতিকা
প্রত্যন্ত প্রতীক্ষা
সায়াহ্নের গান
মানসী মহুয়া
তিনটি প্রশ্ন
রেডিও সংবাদ
জীবন্ময়ের পাঠ
প্রণয় ক্ষণিকা
শূন্যগর্ভা প্রলাপ
আগুন জোনাকি
নির্ঘুম আততায়ী
মুহূর্তের দুর্ভাবনা
নির্বাণ উপপাদ্য
স্বাধীনতার দন্ড
জলরঙের গান
রূপোলি রঙ্গিনী
নিরন্তর নৈবদ্য
রজনীগন্ধা ব্যথা
প্রেমপুরের চিঠি
বিপ্রতীপ অরণ্যে
পরবাসে নিজ গৃহ
প্রিয়ম পিঞ্জিরা
বিমূর্ত বিস্ময়
নিশ্চিহ্ন নিখোঁজ
৩৭ নং এপিটাফ
প্রিয় কল্যানীয়াসু
জগত সমান্তরাল
অত্যাগসহন বন্ধু
বেখবর বায়সনামা
আমার কিছু নেই
আসামী গ্রেফতার
নৈর্ব্যক্তিক নির্বাসন
নিখোঁজ আলোকচিত্র
পরিযায়ী প্রতিশোধ
দ্বান্দ্বিক ক্যানভাস
সুদূরতমার উষ্ণতা
প্রতিধ্বনি নিরুত্তর
অনামিকা অরণ্যে
জীয়ন বিভীষিকা
সনির্বন্ধ নিবেদন
মহাশূন্যের শব্দিতা
মহাকাশের ডায়েরি 
পায়ের নিচে কার্নিশ 
অহর্নিশি ভালোবাসি
২০২৩ – শুভাশীর্বাদ
বহু কথায় প্রকাশ
দ্বারা দিয়া কর্তৃক
সর্বনাশের সিম্ফোনি
রিভার্সিব্যল রিয়্যাক্‌শ্যন
দূরত্ব ২৭৪ কিলোমিটার
স্বাধীনতার স্বগতোক্তি
অন্ধের আরশি দর্শন
ইয়্যেসেনিনের বেহালা
রাহুমুক্তির ইশ্‌তেহার 
কোথায় তুমি, হিরণ্ময়ী?
একদিন মিলনোৎসব হবে
কবি’র প্রেম/প্রেমের কবি

________________________

প্রকাশিত কাব্য সংকলন
"কাব্য শতদল"
শিমুল শুভ্র সম্পাদিত
প্রকাশকালঃ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭
প্রকাশকঃ দাঁড়িকমা প্রকাশনী
ISBN: 978-984-92828-1-5
________________________
Contact: [email protected]

Skip to toolbar