Profile Photo

আনোয়ার পারভেজ নূর শিশিরOffline

  • Anwar-Parvez-Nur-Shishir
  • একটি গান, সহস্র মুগ্ধতা – ‘মারগ্যারিটা’ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​
    এলভিস প্রিসলির সুরের ইন্দ্রজাল

    — পারভেজ শিশির
    ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার
    ​
    সংগীত জগতের এক অবিসংবাদিত রাজমুকুটহীন সম্রাট এলভিস প্রিসলি (Elvis Presley)। ১৯৩৫ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি মহাগায়ক, রক অ্যান্ড রোল ধারার জনক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তাঁর অসামান্য কণ্ঠস্বর, মঞ্চের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ক’রে দেয়া পারফরম্যান্স এবং রোমাঞ্চকর ব্যক্তিত্ব কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়েছে। ১৯৬৩ সালের জনপ্রিয় মিউজিক্যাল কমেডি চলচ্চিত্র ‘ফান ইন আকাপুলকো’ (Fun in Acapulco)-এর জন্য ডন রবার্টসনের লেখা ও এলভিসের গাওয়া ‘মারগ্যারিটা’ (Marguerita) গানটি এমনি একটি সম্মোহিত করা সৃষ্টি।
    ​
    গানের আবহ, সুর ও ছন্দ নিয়ে যদি বলতে হয়, তাহলে ‘মারগ্যারিটা’ গানটিতে ল্যাটিন আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী মেলোডি এবং আধুনিক পপ ধারার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে। গানের শুরুতেই দেখা যায় একটি কিশোরী মেয়ের কাছে দাঁড়িয়ে এলভিস তাঁর আঙুলের অদ্ভুত ছন্দিত তুড়িতে একটি রিদম দিচ্ছেন, পরক্ষণেই কিশোরী তার হাতের ক্ল্যাপিং প্যাডে ঠিক একই ছন্দ তুলছে, যেটি দারুণ উপভোগ্য একটি দৃশ্য…! গানটির ছন্দ অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও রোমান্টিক। মৃদু গিটারের স্ট্রিংয়ের দ্যোতনা, ভায়্যোলার দারুণ রিদম এবং ড্রামের মায়াবী ছোঁয়া শ্রোতাকে নিমেষেই মেক্সিকোর রোদোজ্জ্বল সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যায়। এর ভিডিওগ্রাফি ও চলচ্চিত্র দৃশ্যধারণে প্রিসলির প্রাণখোলা উপস্থিতি এবং আকাপুলকোর রমরমা পরিবেশ গানটিকে এক অনন্য দৃশ্যমান রূপ দেয়।
    ​
    এক্সপ্রেশ্যন ও ভিডিওগ্রাফির বিচারে
    চলচ্চিত্রের এই পার্টির দৃশ্যে এলভিস প্রিসলির মুখের অভিব্যক্তি ছিল দেখার মতো। তাঁর চোখের পলক ফেলা, দুষ্টু মিষ্টি হাসির ঝিলিক এবং গানের কথার সাথে মিল রেখে ঠোঁটের নিখুঁত নড়াচড়া ফুটিয়ে তোলে এক অচেনা প্রেমের আকুলতা। গাওয়ার সময় তাঁর শারীরিক ভাষা, মারগ্যারিটা নামটি উচ্চারণের সময় তার কণ্ঠের আবেগ ও রোমান্টিক চাহনি পুরো পরিবেশকে জীবন্ত করে তোলে।
    ​
    গানের সম্পূর্ণ লিরিক্স ইংরেজি উচ্চারণে ভাবানুবাদ-সহ দেয়া হলো —
    ​
    হু মেইকস মাই হার্ট বিট লাইক থান্ডার?
    হু মেইকস মাই টেম্পরেচার রাইজ?
    হু মেইকস মি ট্রিম্বল উইথ ওয়ান্ডারফুল র‍্যাপচার,
    উইথ ওয়ান বার্নিং গ্ল্যান্স ফ্রম হার আইজ?
    মারগ্যারিটা…
    ​
    ওয়ান্স আই ওয়্যজ ফ্রি অ্যাজ এ জিপসি,
    আ ক্রিয়েচার ঠু ওয়াইল্ড টু টেম,
    দেন সাডেনলি আই স মারগ্যারিটা,
    অ্যান্ড আই ওয়্যজ কট লাইক এ মথ ইন দ্য ফ্লেম।
    মারগ্যারিটা ইজ হার নেম…
    ​
    হার লিপস হ্যাভ মেড মি হার প্রিজনার,
    এ স্লেইভ টু হার এভরি কম্যান্ড,
    শি ক্যাপটিভেইটস মি অ্যান্ড ইনটক্সিকেইটস মি,
    উইথ ওয়্যন লিটল টাচ অব হার হ্যান্ড,
    মারগ্যারিটা, সুইট মারগ্যারিটা…
    ​
    ভাবানুবাদ:
    ❝হৃদয়কে সে করেছে বিজলি চমকিত
    আমার দেহ করেছে সে দারুণ শিহরিত,
    থরথর ক’রে কাঁপিয়েছে সে আমায়
    তাঁর মায়াবী চোখের জ্বালাময়ী ইশারায়,
    মারগ্যারিটা… …
    ​
    ছিলাম আমি যাযাবরের মতো স্বাধীন
    কারো কাছে যে পোষ মানেনি কোনদিন,
    সহসা দেখেছি তাঁর রূপরঙ তুলনাহীন
    পতঙ্গ যেমন ছুটে যায় অগ্নিশিখায়
    আমিও মরেছি মারগ্যারিটার মায়ায়,
    মারগ্যারিটা… …
    ​
    আমি মুগ্ধ হয়ে শুনেছি যে তাঁর গান,
    তাঁর প্রাণের উপর রেখেছি আমার প্রাণ
    আমি ভেসেছি যে তাঁর প্রেমের মোহনায়,
    তাঁর হাতের অল্প ছোট্ট একটু ছোঁয়ায়,
    মারগ্যারিটা, আমার মিষ্টি মারগ্যারিটা…❞
    ​
    সংগীতের কোনো ভৌগোলিক সীমানা বা দেয়াল নেই; সুরের জাদুকরী স্রোত এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে অনায়াসে ছড়িয়ে পড়ে। এর একটি চমৎকার নিদর্শন হলো ১৯৬৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এলভিস প্রিসলির গাওয়া বিশ্বখ্যাত ‘মারগ্যারিটা’ (Marguerita) গানটি, যার অনবদ্য ও প্রাণবন্ত সুর পরবর্তীতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতকে। ভারতের কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক জুটি শঙ্কর-জয়কিষণ ১৯৬৮ সালে রাজেন্দ্র কুমার ও সায়রা বানু অভিনীত ‘ঝুক গায়া আসমাঁ’ (Jhuk Gaya Aasman) চলচ্চিত্রের জন্য এই পশ্চিমা সুরের আদলেই তৈরি করেন অমর সৃষ্টি ‘কৌন হ্যায় জো স্যপনো মেঁ আয়া’ (Kaun Hai Jo Sapno Mein Aaya)।
    ​
    এলভিসের গানে যেখানে রোমান্টিক আকুলতায় ‘মারগ্যারিটা’ নামটি উচ্চারিত হয়েছিল, ঠিক তেমনি হুবহু একই ছন্দের আবহে ভারতীয় এই গানে কিংবদন্তি প্লেব্যাক শিল্পী মোহাম্মদ রফি সাহেবের জাদুকরী কণ্ঠ ও রোমান্টিক গায়কী গানটিকে এক অনন্য উচ্চতা দিয়েছিল। সুরের এই অপূর্ব রূপান্তর ও দুই মহাদেশের দুই দিকপালের মেলবন্ধন বিশ্ব সংগীতের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও স্মরণীয় সাংস্কৃতিক সেতু হয়ে রয়েছে…
    ​
    বিশ্বের সংগীতপ্রেমীদের জন্য এলভিস প্রিসলির এই রত্নতুল্য ল্যাটিন ইনফ্লুয়েন্সড গানটি সিনে-প্লেব্যাকে উপভোগ না করা একটি বিশেষ অপূর্ণতা। গানটি ১৯৬৩ সালের ২২ জানুয়ারি হলিউডের ‘রেডিও রেকর্ডারস’ স্টুডিওতে রেকর্ড করা হয় এবং গানটিতে গিটার বাজিয়েছিলেন কিংবদন্তী গিটার প্লেয়ার স্কটি মুর (Scotty Moore) ও বার্নি কেসেল (Barney Kessel), বেজ গিটারে ছিলেন রে সাইগল (Ray Siegel) এবং ড্রামসে ছিলেন ডি.জে. ফন্ট্যানা (D.J. Fontana) ও হ্যাল ব্লেইন (Hal Blaine. ​ বছর দুয়েক আগে গানটি প্রথমবারের মতো শুনে আমি ইউটিউবে মন্তব্য করেছিলাম, “This masterpiece was recorded 61 years ago and I am listening to it only after 48 years… Where the hell I’d go…!” এই মন্তব্যটির প্রত্যুত্তরে অনেকেই আমার মতোই আফসোস করেছেন এবং অনেকে আবার সান্ত্বনাও দিয়েছেন এই ব’লে যে ‘Better late than never’…
    ​
    সুরের মূর্ছনা, ছন্দের দোলা এবং প্রিসলির জাদুকরী এক্সপ্রেশনের এই অপূর্ব সৃষ্টি আপনাকে এক অন্য মাত্রার ঘোরে নিয়ে যাবে। তাই আজই সময় বের করে একবুক মুগ্ধতা পেতে ‘মারগ্যারিটা’ গানটি অন্তত একবারের জন্য হলেও শুনে দেখুন! এবং অবশ্যই গানটি নিয়ে একটা মন্তব্য জানিয়ে যেতে ভুলবেন না… সবারই শুভ ও কল্যাণ হোক…
    ​
    ___________________________________________________________________
    দ্রষ্টব্যঃ কপিরাইটের জন্য তুলটে প্রকাশিত প্রতিটি সাহিত্যকর্মই আংশিক আকারে প্রদর্শিত
    [Copyright © 2026 | Anwar Parvez Nur Shishir – All Rights Strictly Reserved]

    3
    4 Comments
    • সুরের সীমানা পেরিয়ে এলভিসের কণ্ঠে মারগ্যারিটা আজও মুগ্ধতার এক অমর সেতু হয়ে বাজে……🖤🖤

    • অসাধারণ একটি পোষ্ট, কবি প্রিয়। চমৎকার, মনোমুগ্ধকর। লেখাটি পরেই গানটি শুনতে ইচ্ছে করছে।

    • এলভিস প্রিসলির এই গানটা নিয়ে আপনার লেখাটা পড়ে পুরনো দিনের দারুণ একটা নস্টালজিয়া কাজ করছে। আমাদের গ্রুপের বাকি সবার লেখাগুলোতেও আপনি একটু সময় নিয়ে রিঅ্যাকশন আর সুন্দর কমেন্ট করবেন, তাহলে আমাদের এই আড্ডাটা আরও জমে উঠবে।

    • আপনার লেখনীতে এলভিস প্রিসলির গাওয়া এই গানটির প্রেক্ষাপট এবং এর মিষ্টতা অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে, যা সংগীতের প্রতি আপনার গভীর অনুরাগ ও মননশীলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। আমাদের এই গ্রুপের প্রাণচঞ্চলতা বজায় রাখতে আপনি যদি অন্যান্য সদস্যদের লেখায় নিয়মিত লাইক ও মন্তব্য প্রদানের মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন, তবে আমাদের এই আড্ডা আরও অনেক বেশি আনন্দময় হয়ে উঠবে।

"চোখের জলের তবে এত ছিল রঙ
এত ছিল প্রেম...! তার এত প্রকরণ "

পারভেজ শাহনূর

আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির

সেই স্পর্শ, সেই উষ্ণতার উৎস অনুসন্ধানের সমাপ্তি কোথায় জানা নেই... জানা নেই

পারভেজ শিশির মঞ্চ
  তুলট পাঠকবন্ধুর প্রেম
মুক্তমঞ্চ
*
সংগীত আয়োজন



*

সূচীপত্র

কবিতা
'মা'
আব্বা 
ঘুঁড়ি
হাত
তিল
স্পর্শ
পাঁজর
২০২২
ফেরারি
পরিচয়
শাশ্বতী
স্বপ্নপথ
স্থানান্তর
তেলাপোকা
ভবিতব্য
আত্মগর্ভা
সইনামা
দিগন্তিকা
চুড়ান্তিকা
অবগাহন
অতুলনীয়
বাংলাদেশ
সৃষ্টি বিলাস
আশা পরশ
জীবন জল
চৈত্রের গল্প
প্রলাপনামা
কাব্য ভাষ্য
মায়াকাঞ্চণ 
অন্তর্লীণ
প্রাত্যহিকী
কাব্য দীক্ষা
অনিশ্চিহ্ন
চন্দ্রগ্রহণ
কালান্তিক
ইথার নির্বাণ
কথোপকথন
জীবনদ্রোহী
শূন্য বিভক্তি 
অন্তিম স্পর্শ
মেঘলা বিরহ
সন্ধি বিচ্ছেদ
চির প্রার্থনীয়া
বিদায় স্বরলিপি
নগরে অরণ্য
কুয়াশা মোহন
'প্রণয় আরতি'
প্রণয় আরতি
বসন্ত আনন্দ
সহসা সম্বিত
প্রার্থনা-গীতি
হৃদয়-হৃতিকা
প্রত্যন্ত প্রতীক্ষা
সায়াহ্নের গান
মানসী মহুয়া
তিনটি প্রশ্ন
রেডিও সংবাদ
জীবন্ময়ের পাঠ
প্রণয় ক্ষণিকা
শূন্যগর্ভা প্রলাপ
আগুন জোনাকি
নির্ঘুম আততায়ী
মুহূর্তের দুর্ভাবনা
নির্বাণ উপপাদ্য
স্বাধীনতার দন্ড
জলরঙের গান
রূপোলি রঙ্গিনী
নিরন্তর নৈবদ্য
রজনীগন্ধা ব্যথা
প্রেমপুরের চিঠি
বিপ্রতীপ অরণ্যে
পরবাসে নিজ গৃহ
প্রিয়ম পিঞ্জিরা
বিমূর্ত বিস্ময়
নিশ্চিহ্ন নিখোঁজ
৩৭ নং এপিটাফ
প্রিয় কল্যানীয়াসু
জগত সমান্তরাল
অত্যাগসহন বন্ধু
বেখবর বায়সনামা
আমার কিছু নেই
আসামী গ্রেফতার
নৈর্ব্যক্তিক নির্বাসন
নিখোঁজ আলোকচিত্র
পরিযায়ী প্রতিশোধ
দ্বান্দ্বিক ক্যানভাস
সুদূরতমার উষ্ণতা
প্রতিধ্বনি নিরুত্তর
অনামিকা অরণ্যে
জীয়ন বিভীষিকা
সনির্বন্ধ নিবেদন
মহাশূন্যের শব্দিতা
মহাকাশের ডায়েরি 
পায়ের নিচে কার্নিশ 
অহর্নিশি ভালোবাসি
২০২৩ – শুভাশীর্বাদ
বহু কথায় প্রকাশ
দ্বারা দিয়া কর্তৃক
সর্বনাশের সিম্ফোনি
রিভার্সিব্যল রিয়্যাক্‌শ্যন
দূরত্ব ২৭৪ কিলোমিটার
স্বাধীনতার স্বগতোক্তি
অন্ধের আরশি দর্শন
ইয়্যেসেনিনের বেহালা
রাহুমুক্তির ইশ্‌তেহার 
কোথায় তুমি, হিরণ্ময়ী?
একদিন মিলনোৎসব হবে
কবি’র প্রেম/প্রেমের কবি

________________________

প্রকাশিত কাব্য সংকলন
"কাব্য শতদল"
শিমুল শুভ্র সম্পাদিত
প্রকাশকালঃ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭
প্রকাশকঃ দাঁড়িকমা প্রকাশনী
ISBN: 978-984-92828-1-5
________________________
Contact: [email protected]

Skip to toolbar