Profile Photo

আনোয়ার পারভেজ নূর শিশিরOffline

  • Anwar-Parvez-Nur-Shishir
  • আজ ২৮শে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ বুধবার

    আমি দুপুরের রোদের সোনা খানিক গায়ে মেখে একটু বিছানাতে গা এলিয়েছিলাম। স্বপ্নটা যেন অবাক আবেশে আমাকে কোথায় নিয়ে চললো। তবে এটা স্পষ্টই দেখতে পেলাম স্বপ্নমঞ্চটা আমার ঘরের লাল মেঝের উপর তৈরি হলো… আমি বিবশ চোখে শুধু দেখলাম, আমার কুহুকিনী আমার কাছে এসেছে। ওর সারাটা অবয়বে একটা উদ্বেলিত নিরবতার সাদা ছাপ ছিল। আমি ওকে হাত ধরে আমার পাশে বসিয়ে বললাম, “আচ্ছা পাগল হয়ে গেলে তুমি…! এতকাল কোথায় হারিয়ে ছিলে আমায় ফেলে, একবারও আমাকে দেখতে ইচ্ছে হয়নি তোমার?

    ‘আমার প্রাণপুষ্প কুহুকিনী
    আমায় অনুক্ষণ অবহেলা করলেও
    আমি জানি তাঁর ব্যথা, তাঁর ক্ষত
    নিজের ব্যথায় বিনামূল্যে কষ্ট আর
    এক এই জীবনে কত পাবো কত পাবো…!’


    ও আমার চোখে চেয়ে ম্লান হাসলো… আমি মনে মনে কত যে খুশি হয়েছি ও আমার কাছে আসাতে তা বুঝলাম ও আমার চোখে চেয়েই বুঝতে পেরেছে। আমি স্বপ্নমঞ্চের বেদীতে বসেই অনুভব করলাম আমার কাছে আমারই প্রাণফুল চিরকালের জন্যে চ’লে এসেছে। বললাম, “আমাকে ফেলে আর চ’লে যেও না তুমি…” আমি চেয়ে চেয়ে দেখলাম, কুহুকিনী নিজের হাতে আমার ঘরখানি সাজিয়ে তুলছে… তারপর কুহুকিনী আমার, ​ হঠাৎ করেই আড়াল হয়ে গেল…!

    ‘অনেক অনেক আগে, কুহুকিনীর প্রেম
    যে সমস্ত অপরূপ কাব্যের সুত্রপাত করেছিল
    সে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছে তাঁর শব্দমালা
    তাঁর অভিসম্পাতে যেন এই পৃথিবীর
    সব কাব্যগ্রন্থের পৃষ্ঠা সাদা হয়ে যাচ্ছে…!’


    আমি ওরই দুহাত দিয়ে সাজিয়ে তোলা ঘরে বসেই রইলাম ওর অপেক্ষাতে… অবাক একটা কান্ড ঘটলো এর পর… আমার শিয়রের বাতায়ন খুলে গেল, দেখলাম একটা ছোট্ট বালক আমার গলায় একটা বেলি ফুলের মালা পরানোর জন্যে আমার দিকে দুই হাত বাড়িয়ে রয়েছে… বাতায়নের সবগুলো শিক তাকে আমার কাছে আসতে দিল না, আমি তার হাত থেকে ফুলের মালা’টা নিতে পারলাম না, খুব ধীরে ধীরে যেন সে শূন্যে মিলিয়ে গেল…

    ‘আজকাল এত ভীষণ অপরাধবোধে ভুগি
    শুধু মনে হয়, তোমার সোনার জীবন থেকে
    এমন অধম শূন্যপাত্র আমি থেকে থেকে
    শুধু শুধুই শান্তি শিহরণ কেঁড়ে নিয়েছি
    তোমার প্রেমের জন্যেই এই পথে নামা
    অথচ আমি তোমাকে কোনোদিনও বুঝিনি
    এত তো গ্লানি নয় কুহুকিনী, এ যে পরম বিষ’


    চোখ ফিরিয়ে নিয়ে দেখি লাল মেঝের উপর বেলি ফুলের মালা’টা পড়ে রয়েছে… ওটা যেন কেমন একটা অপার্থিব দ্যুতি ছড়াচ্ছে চারিদিকে… আমি মালা’টা মেঝে থেকে ওঠানোর জন্যে একটু ঝুঁকতেই, আমার চোখে একটা অদ্ভূত অন্ধত্ব ছড়িয়ে ওটা রুপালি রঙের ধুলো হয়ে খুব ধীরে ধীরে বাতাসে মিশে যাচ্ছে… কেন এই বিবর্ণ ফুলমালার ছলনা, এমন কেন নিশ্চিহ্ন হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যাওয়া…! আমার কুহুকিনী কোথায়? সে কেন বার বার এসে ফিরে চলে যায়…! স্বপ্নমঞ্চে আমি একাই দাঁড়িয়ে রইলাম… স্বপ্নটা এখনো ভাঙেনি, আরও যে কি দেখার বাকি রয়ে গেল… স্বপ্নের মেঘ আমার চোখে মুখে আর কিসের আবীর ছড়াবে…! সে কেবল স্বপ্নেই মাত্র আসে, কিছু সময় থাকে, কথাও বলে না, আমার হাতের আঙুলগুলোও ছুঁয়ে দেখে না… কেন সে তবে আসে, চলে যেতে হবে জেনেও সে কেন আসে?

    ‘তুমি নিরন্তর অদৃশ্য হয়ে গিয়েছো
    জন্ম দিয়ে মনে মনে অসম্ভব এক স্পৃহা
    এসো তোমাকে খুনের সাগরে ভাসিয়ে দিই
    তোমাকে না বোঝার তবু গ্লানি দূর হোক…!
    যখন আমার রুক্ষ শরীর ঘেষে বসে থাকলেও
    আমি তোমাকে পাইনে, আর পাইনে কিছুতেও…’

    ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ [ খয়েরি সন্ধ্যের গান / পারভেজ শিশির ] ​ ​ ​ ​ ​ ​
    ____________________________________________
    ঝিম নোটঃ
    সাময়িক অতীতের লেখা আমার আমাদের জীবনে কি কখনও কখনও বিষাক্ত হয়ে ওঠে? না উঠলেই সমুহ ভালোর রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে নদীর স্রোতে রুপালি তরঙ্গ দেখা যায়… কুহুকিনী’রা বার বার ফিরে এলেই বরং ক্ষতি, যে ক্ষতি অহেতুক সামনের পথ রুখে দেয় আর বিড়ম্বিত মনে বার বার উচ্চারিত হয়, তুমি আর ফিরে এসো না… ভালোবাসিনে… ভালোবাসিনে…!

    _______________________________________________________
    দ্রষ্টব্যঃ কপিরাইটের জন্য এখানে প্রকাশিত প্রতিটি সাহিত্যকর্মই আংশিক আকারে প্রদর্শিত
    N.B.: Some stanzas here have been masked to avoid copyright infringement
    [Copyright © 2022-2023 | Anwar Parvez Nur Shishir – All Rights Strictly Reserved]

    11
    7 Comments
    • তুমি নিরন্তর অদৃশ্য হয়ে গিয়েছো
      জন্ম দিয়ে মনে মনে অসম্ভব এক স্পৃহা…..excellent

    • অদ্ভুত সুন্দর লাগলো আপনার কবিতার এই প্যাটার্ন, যেন কোথা থেকে কোথায় নিয়ে গেল… মুগ্ধতা জানিয়ে গেলাম প্রিয় কবি

    • প্রায় ২৮ বছর আগের লেখা, কিভাবে সম্ভব, এখনও এত প্রাসঙ্গিক মনে হয়…! কুর্নিশ প্রিয় কবি, আপনাকে কুর্নিশ জানাই

    • @ANWAR-PARVEZ-NUR-SHISHIR
      আমি বিবশ চোখে শুধু দেখলাম, আমার কুহুকিনী আমার কাছে এসেছে। ওর সারাটা অবয়বে একটা উদ্বেলিত নিরবতার সাদা ছাপ ছিল। আমি ওকে হাত ধরে আমার পাশে বসিয়ে বললাম, “আচ্ছা পাগল হয়ে গেলে তুমি…! এতকাল কোথায় হারিয়ে ছিলে আমায় ফেলে, একবারও আমাকে দেখতে ইচ্ছে হয়নি তোমার?
      পল্লীর ধোয়া উঠা খড়ের ওম
      একটু একটু সরে যাচ্ছে কুয়াশার জমাট চাদর
      সমস্ত চিত্রকল্পনায় ধীরে ধীরে মূর্ত হয়ে উঠো কেন ?
      স্বপ্নের স্বর্গদ্বার খুলে ভোরের পবিত্র হাওয়ার মতো
      তোমার কি ফিরে আসতে ইচ্ছে হয় না ?
      অদ্ভুত সুন্দর এই বিষাদিত সপ্ন ! আজ থেকে ২৮ বছর আগে অথচ চিরতরুণ , চিরকালের চেনা এই শব্দ ভেতরের নীল কুয়াশায় স্পর্শ দিয়ে গেলো। কতটুকু ভাল লাগলো ঠিক জানিনা তবে অনেক ক্ষণ মোহাচ্ছন্ন হয়ে চুপচাপ আকাশের দিকে শুন্যতা দেখেছি !

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 28 November 2023 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • শুভকামনা রইল

"চোখের জলের তবে এত ছিল রঙ
এত ছিল প্রেম...! তার এত প্রকরণ "

পারভেজ শাহনূর

আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির

সেই স্পর্শ, সেই উষ্ণতার উৎস অনুসন্ধানের সমাপ্তি কোথায় জানা নেই... জানা নেই

পারভেজ শিশির মঞ্চ
  তুলট পাঠকবন্ধুর প্রেম
মুক্তমঞ্চ
*
সংগীত আয়োজন



*

সূচীপত্র

কবিতা
'মা'
আব্বা 
ঘুঁড়ি
হাত
তিল
স্পর্শ
পাঁজর
২০২২
ফেরারি
পরিচয়
শাশ্বতী
স্বপ্নপথ
স্থানান্তর
তেলাপোকা
ভবিতব্য
আত্মগর্ভা
সইনামা
দিগন্তিকা
চুড়ান্তিকা
অবগাহন
অতুলনীয়
বাংলাদেশ
সৃষ্টি বিলাস
আশা পরশ
জীবন জল
চৈত্রের গল্প
প্রলাপনামা
কাব্য ভাষ্য
মায়াকাঞ্চণ 
অন্তর্লীণ
প্রাত্যহিকী
কাব্য দীক্ষা
অনিশ্চিহ্ন
চন্দ্রগ্রহণ
কালান্তিক
ইথার নির্বাণ
কথোপকথন
জীবনদ্রোহী
শূন্য বিভক্তি 
অন্তিম স্পর্শ
মেঘলা বিরহ
সন্ধি বিচ্ছেদ
চির প্রার্থনীয়া
বিদায় স্বরলিপি
নগরে অরণ্য
কুয়াশা মোহন
'প্রণয় আরতি'
প্রণয় আরতি
বসন্ত আনন্দ
সহসা সম্বিত
প্রার্থনা-গীতি
হৃদয়-হৃতিকা
প্রত্যন্ত প্রতীক্ষা
সায়াহ্নের গান
মানসী মহুয়া
তিনটি প্রশ্ন
রেডিও সংবাদ
জীবন্ময়ের পাঠ
প্রণয় ক্ষণিকা
শূন্যগর্ভা প্রলাপ
আগুন জোনাকি
নির্ঘুম আততায়ী
মুহূর্তের দুর্ভাবনা
নির্বাণ উপপাদ্য
স্বাধীনতার দন্ড
জলরঙের গান
রূপোলি রঙ্গিনী
নিরন্তর নৈবদ্য
রজনীগন্ধা ব্যথা
প্রেমপুরের চিঠি
বিপ্রতীপ অরণ্যে
পরবাসে নিজ গৃহ
প্রিয়ম পিঞ্জিরা
বিমূর্ত বিস্ময়
নিশ্চিহ্ন নিখোঁজ
৩৭ নং এপিটাফ
প্রিয় কল্যানীয়াসু
জগত সমান্তরাল
অত্যাগসহন বন্ধু
বেখবর বায়সনামা
আমার কিছু নেই
আসামী গ্রেফতার
নৈর্ব্যক্তিক নির্বাসন
নিখোঁজ আলোকচিত্র
পরিযায়ী প্রতিশোধ
দ্বান্দ্বিক ক্যানভাস
সুদূরতমার উষ্ণতা
প্রতিধ্বনি নিরুত্তর
অনামিকা অরণ্যে
জীয়ন বিভীষিকা
সনির্বন্ধ নিবেদন
মহাশূন্যের শব্দিতা
মহাকাশের ডায়েরি 
পায়ের নিচে কার্নিশ 
অহর্নিশি ভালোবাসি
২০২৩ – শুভাশীর্বাদ
বহু কথায় প্রকাশ
দ্বারা দিয়া কর্তৃক
সর্বনাশের সিম্ফোনি
রিভার্সিব্যল রিয়্যাক্‌শ্যন
দূরত্ব ২৭৪ কিলোমিটার
স্বাধীনতার স্বগতোক্তি
অন্ধের আরশি দর্শন
ইয়্যেসেনিনের বেহালা
রাহুমুক্তির ইশ্‌তেহার 
কোথায় তুমি, হিরণ্ময়ী?
একদিন মিলনোৎসব হবে
কবি’র প্রেম/প্রেমের কবি

________________________

প্রকাশিত কাব্য সংকলন
"কাব্য শতদল"
শিমুল শুভ্র সম্পাদিত
প্রকাশকালঃ একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭
প্রকাশকঃ দাঁড়িকমা প্রকাশনী
ISBN: 978-984-92828-1-5
________________________
Contact: [email protected]

Skip to toolbar